শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৬১. শ্রীরাঘব পন্ডিতের ঝালি(১) 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori61.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৬১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *শ্রীরাঘব পন্ডিতের ঝালি(১)*
    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺গ্রন্থকারের উক্তি, আমাদের ব‍্যারাকপুর নিতাই গৌরাঙ্গ সেবাশ্রমে প্রতি বৎসর শ্রীরাঘবের ঝালি উৎসবটি পালিত হয়, এর বিস্তৃত বিবরণ আপনারা যদি কেউ শুনতে আগ্রহী তাঁদের বাসনা পূর্ণ করা হবে। কিন্তু অদ‍্য এই ঝালি প্রসঙ্গে অধমের মনে যে ভাবোদয় হয়েছে তার কিঞ্চিৎ পরিবেশন করা হবে আশাকরি সুধী শ্রোতৃবৃন্দ তা উপভোগ করবেন।*
*🌳ঝালি কীর্তনের আনুসঙ্গিক ক্রিয়াকর্মের পর আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় গুরুদেব শ্রীসনাতন দাস বাবাজী গুণগ্রাহী এবং শিষ্য ভক্তগণ সমভিব‍্যাহারে মন্দির সমক্ষে দাঁড়িয়ে থেকে ঝালি কীর্তন আরম্ভ করলেন এবং প্রথমেই পদ ধরিলেন=*
*🌷আজু হবে শ্রীরাঘবের ঝালি সমর্পণ।*
*🌷হেন দিনে কোথা প্রভু শ্রীরাধারমণ।।*
*🌷আজ কার সঙ্গে যাব মোরা।*
*🌷প্রাণ গৌর লীলা গাইতে গাইতে,*
*🌷আজ কার সঙ্গে যাব মোরা।।*
*🙌অর্থ‍্যাৎ এই কীর্তন শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজের রচিত বলিয়া তিনি সর্বপ্রথম গুরু বিরহে আক্ষেপ করেছেন যে আজ সব থেকেও যেন কিছু নেই।এত লোক,এত ভক্ত,এত শিষ্য,এত গুণগ্রাহী সব সঙ্গে রয়েছে তথাপি বাবাজী মহারাজের অন্তর যেন শোক সাগরে ডুবে আছে, অর্থ‍্যাৎ গুরু নিষ্ঠা কাকে বলে তার আদর্শ চরিত্র।নিজে সাধন ভজন জগতে এত উচ্চে আসীন হলেও নিজ গুরুদেবের মর্য‍্যাদা সবার আগে দান করেছেন এবং একেই বলে আদর্শ শিষ্য এবং প্রকৃত বৈষ্ণবতা।সেইজন‍্য আমাদের গুরুদেব যখন কীর্তনের এই পদটি ধরলেন তখনই তাঁর অন্তরেও অনুরূপ গুরুবিরহের শেল বিদ্ধ হল।তারউপরে সামনে মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্রীগুরুদেবকে দর্শন করে ভাবাবেশে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করতে লাগলেন--, কারণ এই জগতে যার ব‍্যথা সেই বুঝে।বাবাজী মহারাজ কেঁদে ভাসিয়েছেন রাধারমণের বিরহে আর আমাদের গুরুদেবও নিজ গুরুদেবকে হারিয়ে আক্ষেপ করে নয়নজলে ভেসে যেতে লাগলেন এবং তদ্দর্শনে সমাগত শিষ্য ভক্তগণও অশ্রুসিক্ত নয়নে অনুষ্ঠানের প্রকটত্ব অনুভব করতে লাগলেন।এ জ্বালা যে কি জ্বালা,এ অন্তর্দাহ যে মানুষকে কিভাবে তুষানলে দগ্ধ করে তা একমাত্র ভুক্তভোগী ব‍্যক্তি ছাড়া অন‍্য কেউ হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন না।সেইজন‍্য বাবাজী মহারাজের সূচক কীর্তনে একটি পদ আছে যে=*
*🌷শ্রীগুরু বিরহে তুমি কাঁদিত যখন।*
*🌷তখন বুঝিনি তব বেদন কেমন।।*
*🌷দাঁড়াবার স্থান নাই যখন বলিতে।*
*🌷কেউ নাই বলি যবে ফুকারি কাঁদিতে।।*
*🌷মোরা কাঁদিতাম শুধু কাঁদা মুখ চাহি।*
*🌷সে দশা মোদেরও হবে কভু ভাবি নাহি।।*
*🌹সেইরকম ঝালি কীর্তনের সর্বপ্রথম এই পদটি কীর্তিত হলে ক্ষণকালের মধ্যেই স্তব্ধতা,শুচিতা এবং অনুষ্ঠানের প্রকটত্ব অনুভূত হল।এইভাবে গ্রন্থের হিসাবে বিভিন্ন পদ গাওয়া হতে লাগল সকলেই যেন মানসে পুরীধামে উপস্থিত--, সকলেই যেন ঝালি মাথায় করে কাঁদতে কাঁদতে চলেছেন।একেই বলে লীলা মাহাত্ম্য, স্থান মাহাত্ম্য, পরিবেশের মাহাত্ম্য। মানুষকে ক্ষণিকের মধ্যেই যেন এক সম্মোহনী শক্তি প্রভাবে ভাবরাজ‍্যে নিয়ে যায় এবং মন তখন আত্মার খাদ‍্য পেয়ে সারা দেহমনে পুলক অনুভব করে।এককথায় একেই বলে লীলা প্রকট।*
*🍀রাঘবের স্বরূপে শ্রীগুরুদেব কীর্তনের পদগুলি গান করে নীরস পাষাণকেও যেন বিগলিত করে দিতেন এবং সামনে মন্দিরের মধ্যে মহাপ্রভু, নিজ পরম গুরুদেব চরণদাস বাবাজী মহারাজ, নিজ গুরুদেব রামদাস বাবাজী মহারাজ সকলেই যেন উপস্থিত, সকলেই যেন এই ঝালি কীর্তনে যোগদান করেছেন অর্থ‍্যাৎ এ যেন খেতুরি মহোৎসব প্রকট অপ্রকট সকলেই উপস্থিত আর আমাদের মত হতভাগ‍্যের দল এইরকম এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের মাধ‍্যমে যেন অমৃত ভোজন করছি কারণ মনের ক্ষুধা মিটলে আর দেহের ক্ষুধা থাকে না।* 
*🙏শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজের হিসাবে গুরুদেব কাতর কন্ঠে আক্ষেপ করে বলছেন যে,হে দয়াময় মহাপ্রভু!হে করুণাময় মহাপ্রভু!হে ভক্তবৎসল মহাপ্রভু!তুমি একবার কৃপা করে আমাদের দরশন দাও।তোমার অনুগত ভক্তগণ কত আশা করে,কত কষ্ট স্বীকার করে তোমার কাছে এসেছে একবার গম্ভীরার নির্জন কক্ষ হতে বাইরে এসে দর্শন দিয়ে তাদের ব‍্যথিত হৃদয়কে সান্ত্বনা দাও। আমরা একটিবার শুধু তোমায় দর্শন করতে চাই, তোমার ভজন বিঘ্ন আমরা করতে চায়না কারণ হে দয়াময়! তুমি যেন ভুলে যেও না যে ভগবানের সর্বপ্রধান গুণ হচ্ছে যে তিনি ভক্তবৎসল, ভক্তের চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে আর কেউ নাই।কতদিন তোমায় দেখিনি, কত আশা করে কত কষ্ট স্বীকার করে তোমার কাছে এসে এই ভিক্ষা জানাই যে একটিবার সেই হরিবোলা রসের বদনখানি দরশন দাও, আর একবার সেই সন্ন‍্যাস মূরতিতে এসে আমাদের সামনে দাঁড়াও ইত‍্যাদি সব আক্ষেপযুক্ত পদগুলি কীর্তন হতে লাগল।বাবাজী মহারাজ যখন এই কীর্তন রচনা করেছিলেন তখন সকলেই তো অপ্রকট কিন্তু বাবাজী মহারাজ নিশ্চিত তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টির দ্বারা সকলের উপস্থিতি অনুভব করতেন খেতুরির উৎসবের মত,কারণ তা না হলে কি করে তিনি এসব পদগুলি রচনা করলেন?নিজের অনুভূতি বোধ না হলে কি এইসব ব‍্যথাভরা প্রাণ কাঁদানো ছন্দগুলি রচনা করা যায়?*
*🌹যেকথা আগেই বলা হয়েছে এই কীর্তন রচনা কালে সেই অতীত যুগের কেউই প্রকট ছিলেন না,সর্বথা শূন‍্য সবদিকে,কি নীলাচলে,কি নবদ্বীপে, কি বৃন্দাবনে, সব জায়গায় যেন পাষাণের নিস্তব্ধতা এবং সেই ভাঙ্গা মঠ মন্দিরগুলি অতীত ঐতিহ্য বহন করে নীরবে অশ্রু বিসর্জন করছে। কিন্তু অশ্বত্থ বৃক্ষ যেরকম নীরস পাষাণ হতেও রস সংগ্রহ করতে পারে, সেই হিসাবে অনেক সাহিত‍্যিক অনেক লেখক এই অশ্বত্থ বৃক্ষকে বড়ই রসিক বলে আখ‍্যা দিয়েছেন যে কিভাবে সে এই নীরস পাষাণ হতে রস সংগ্রহ করতে পারে?কৈ অন‍্য কোন বৃক্ষ তো পারে না। সেইরকম শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজও যে কি কৌশলে এই সব প্রসঙ্গকে এমন মধুময় এবং প্রাণবন্ত করে তুলতে পেরেছিলেন তা ভাবলেও অবাক লাগে। অর্থ‍্যাৎ এ যেন যাদুকরের খেলা। তাঁরই রচিত এইসব কীর্তন, সূচক ইত‍্যাদি যখন পাঠ হয় তখন শ্রোতা ভক্তগণ যেন অনুভব করেন যেন তাঁরা সেই সুদূর অতীতের পরিবেশে বসে একমনে শুনছেন, এই যাদুকরের শক্তি একমাত্র বাবাজী মহারাজেরই ছিল এবং তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে সর্ব সাধারণের পক্ষে বোধগম্য  এবং উপভোগ‍্য। বাংলা সাহিত‍্যে যেরকম দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম আর হবে না। মহাপ্রভুর পার্ষদগণের অপ্রকটের পর আমারও সেইরকম মনে হয় যে দ্বিতীয় রামদাস আর হবেন না।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*জল মধ্যে বিশ্বরূপ,নিরখিয়া অপরূপ,*
   *ভক্তিতে অক্রূর কৃষ্ণে করিল স্তবন।*
*তুমি দেব নারায়ণ,সবাকার মূলাধার,*
  *মায়াময় সর্বাশ্রয় জগত কারণ।।*
*ওগো দুঃখ বিমোচন,নমি তোমা নারায়ণ,*
    *অপার মহিমা তব না হয় গোচর।*
*নমঃ অখিলের পতি,তুমি সর্বজনের গতি,*
     *প্রণমি তোমারে প্রভু দেব গদাধর।।*
*তব মহিমা অনন্ত,কেহ নাহি পায় অন্ত,*
   *অসীম যে হও তুমি বেদ অগোচর।*
*করে তব আরাধনা,নানা মতে নানা জনা,*
   *কেহ বা তোমায় পূজে করি আড়ম্বর।।*
*আমি যে অজ্ঞান অতি,কৃপা কর মোর প্রতি,*
   *তব পদে ভক্তিভরে নমি বার বার।*
*যত দৈত‍্য দুরাচার,সমূলেতে নাশিবার,*
   *কল্কিরূপে ধরাধামে আসিবে আবার।।*
        🔥🔥🔥🔥🔥🔥
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds