শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *শ্রীখন্ডের•••••••••মহিমা*
            °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀এই প্রসঙ্গটি প্রেমবিলাস গ্রন্থে যেভাবে বর্ণিত আছেন তা সামান্য নিচে দেওয়া হল।*
*🌷শ্রীখন্ডেতে নরহরির অন্ত‍্যোষ্টি উৎসবে।*
*🌷মহাসংকীর্তন আসি করিলেন সবে।।*
*🌷হেনকালে রামাই নামে অন্ধজন।*
*🌷দেখিতে আইল সেই কীর্তন নর্তন।।*
*🌷গান শুনে নৃত্য কিছু দেখিতে না পায়।*
*🌷দুই চক্ষু ধরি তখন করে হায় হায়।।*
*🌷কৃষ্ণ সংকীর্তনে নৃত্য দেখিতে নারিল।*
*🌷কোন অপরাধে মোর চক্ষু হরি নিল।।*
*🌷এত বলি তিঁহ করেন বহুৎ ক্রন্দন।*
*🌷বীরচন্দ্র প্রভু তারে চক্ষু দিল দান।।*
*🌷চক্ষু ধরি কহে,প্রভু দেখহ রামাই।*
*🌷এই সংকীর্তনে নৃত্য করিছে সবাই।।*
*🌷চক্ষু পেয়ে রামাই পড়ে প্রভু পদতলে।*
*🌷প্রভু পদ দিল তাঁর মস্তক উপরে।।*
*🌺সারারাত্রি ব‍্যাপি এই সংকীর্তন মহাযজ্ঞ চলতে লাগিল। রজনী অবসানে প্রভু পরিকরগণ ক্রন্দন করতে করতে কেউ বা ভূমিতলে লোটাচ্ছেন,কেউ বা মৃতপ্রায় স্তব্ধভাবে স্মরণ-মনন করছেন,কেউ বা অগ্নিসম নিশ্বাস-প্রশ্বাস ফেলছেন আবার কেউবা প্রেমাশ্রু বরিষণে ধরণী সিক্ত করছেন। সে এক অপূর্ব স্বর্গীয় দৃশ্য, ভাগ‍্যবান জনেই তা দেখলেন এবং দ্বাদশীর দিনে পারণের আগে গোপীনাথের নিবেদিত মহাপ্রসাদ শ্রীরঘুনন্দন তাঁর গুরুদেব নরহরি ঠাকুরকে সমর্পণের জন্য সমাধি মন্দিরে প্রবেশ করলেন। এই উপলক্ষ্যে যে অচিন্ত‍্যনীয় অভাবনীয় দৃশ‍্যের অবতারণা হয়েছিল তা বৈষ্ণব জগতের ইতিহাসে কোন তিরোভাব তিথিতেই সংঘটিত হয় নাই। প্রিয় শিষ্য রঘুনন্দনের সমর্পিত সেই ভোগ প্রসাদ ঠাকুর নরহরি শিষ‍্যের আনুগত‍্য এবং নিষ্ঠায় প্রীত হয়ে সশরীরে পুনরাগমন করে তা গ্রহণ করেছিলেন এবং একমাত্র রঘুনন্দন ছাড়া আর কারও পক্ষে তা দর্শন সম্ভব হয়নি।এই প্রসঙ্গটি কি ভাবে বর্ণিত আছে তা কৃপা করে শুনুন।*
*🌷তথা হইতে শ্রীভোগ মন্দি শীঘ্র গিয়া।*
*🌷এক ভোগ লইলেন পৃথক করিয়া।।*
*🌷শ্রীঠাকুর নরহরি ছিলা যে নির্জনে।*
*🌷তথা শ্রীপ্রসাদ লইয়া গেলেন আপনে।।*
*🌷তিঁহ যে আসনে বসিতেন তাহা লইয়া।*
*🌷তাহে বসাইল ধ‍্যানে দৈন‍্যে মগ্ন হৈয়া।।*
*🌷আসন সম্মুখে নানা দ্রব‍্য সাজাইল।*
*🌷জল পাত্রে প্রসাদি বাসিত জল দিল।।*
*🌷এক পাত্রে প্রসাদি তাম্বুল দিল আর।*
*🌷অন‍্য পাত্রে দিল গৌরাঙ্গের পুষ্পহার।।*
*🌷ধ‍্যানে ভক্ষ‍্য দ্রব‍্য আদি সমর্পণ কইল।*
*🌷করিয়া প্রার্থনা,ঘর দ্বার আচ্ছাদিল।।*
*🌷বাহিরে আসিয়া রহিলেন কতক্ষণ।*
*🌷সময় জানিয়া চলে দিতে আচমন।।*
*🌷দ্বার ঘুচাইয়া দেখে প্রভু নরহরি।*
*🌷আসনে বসিয়া আছেন দিব‍্য রূপ ধরি।।*
*🌷দেখিতেই মাত্র আত্মবিস্মৃরিত হইল।*
*🌷অদর্শন হইতে দুঃখ সমুদ্রে ডুবিল।।*
*🌷কতক্ষণে স্থির হইয়া দিয়া আচমন।*
*🌷ভূমে পড়ি প্রণময়ে সজল নয়ন।।*
*🌷আসন লইয়া সাথে রাখি পূর্ব স্থানে।*
*🌷গেলা শীঘ্র মহান্তগণের সন্নিধানে।।*
*🌻এই প্রসঙ্গে জানা দরকার যে আদি শ্রীখন্ডের গ্রামে মন্দির প্রাঙ্গণে এই তিরোভাব তিথি উদযাপিত হয় না। এই উৎসব পালিত হয় গ্রামের নিকটবর্তী মুক্ত প্রান্তরের মধ্যে একটি বহু পুরাতন বটবৃক্ষতলে, বড়ডাঙ্গায় যেখানে আবার একটি মন্দির নির্মিত আছেন। সেখানে এই উৎসব উপলক্ষ্যে নিতাই-গৌরাঙ্গ এবং সেই নাড়ুহাতে গোপীনাথ বিগ্রহকে সাময়িক ভাবে সেখানে আনা হয়। মুক্ত পরিবেশের মধ্যে নির্জন প্রান্তরে সুশীতল বৃক্ষছায়ায় এই উৎসব পালিত হয়। এই উপলক্ষ্যে এক বিরাট মেলাও হয়।কারণ জনশ্রুতি অনুযায়ী ঠাকুর নরহরি এই বটবৃক্ষ তলেই তাঁর সাধন ভজন করতেন, এই পবিত্র স্থানে তিনি অদর্শন হন।*
*🍀এর পর ধীরে ধীরে শুরু হল বিদায়ের পালা এবং রঘুনন্দন ও আচার্য‍্য প্রভু সকলকে যথাযোগ্য মর্য‍্যাদার সঙ্গে বিদায় দিলেন।শ্রীখন্ডের এই নির্জন পরিবেশে ভগ্ন হৃদয়ে রঘুনন্দন তাঁর গোপীনাথের সেবা এবং স্মরণ মননের মধ‍্য দিয়ে জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলি কাটাতে লাগলেন।এর পর ধীরে ধীরে মদনাবতার রঘুনন্দনের ভক্তিময় জীবনেরও অবসান ঘটে।এইভাবে পুণ‍্যভূমি শ্রীখন্ডে যে ত্রিবেণী সঙ্গম হয়েছিল, যার ফল্গুধারায় দিগ্ দিগন্তের সাধক ভক্তগণ স্নান করে মনেপ্রাণে মহাপ্রভুর লীলাতত্ত্ব আস্বাদন করেছিলেন তা যেন চিরতরে অবসান হল।অবশিষ্ট রইল বা যা, থাকে শুধু স্মৃতিকে নিয়ে বেঁচে থাকা, সেই স্মৃতির সমুদ্র মন্থন করে যিনি যত অমৃত আহরণ করতে করতে পারবেন তিনি ততই তা আস্বাদন করতে পারবেন। কারণ ভক্তি জগতে মহাপুরুষ বা অবতার তো আর রোজ রোজ অবতীর্ণ হন না, তাঁরা সময়োচিত কালে ঠিক আসেন। হতভাগ‍্য জীবকে দেন অমৃতের সন্ধান, যাঁদের সেই সুকৃতি থাকে তাঁরা তাঁর বিশেষ পরিকররূপে সেই ভাবধারা বাঁচিয়ে রাখার যথাসাধ‍্য চেষ্টা করেন।যেমনটি দেখা যায় স্বামী বিবেকানন্দের জীবনে যিনি পরমপুরুষ রামকৃষ্ণের ভাবধারা সারা বিশ্বে প্রচার করে শ্রীগুরু মহিমা বিস্তার করে গিয়েছেন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
            *🌻সুদামার কথন🌻*
*বহু অন্বেষণ পরে,হেরে মুনি দু'জনারে,*
     *অত‍্যন্ত কাতর দোঁহে না সরে বচন।*
*তবে করি সম্বোধন,আমাদের গুরু কন,*
    *মোর লাগি বহু ক্লেশ সয়েছ দু'জন।।*
*নিজ আত্মা প্রিয় যত,নহে কেহ প্রিয় অত,*
   *মোর তরে আত্মসুখ দিলে বিসর্জন।*
*বিপদে পড়িয়া তবু,ত‍্যজনি বিশ্বাস কভু,*
    *দোঁহা প্রতি তুষ্ট তাই হইনু এখন।।*
👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *শ্রীপাদ্ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর*
     ***************************
*🍀আমরা বৈষ্ণবগ্রন্থে যে পঞ্চতত্ত্বের সন্ধান পাই,সেই পঞ্চতত্ত্বের ভক্ত‍্যাখ‍্য বা শ্রীবাস পন্ডিতের জ‍্যেষ্ঠভ্রাতা নলিন পন্ডিতের দুহিতা হচ্ছেন নারায়ণীদেবী। ইনি মহাপ্রভুর অতি প্রিয় ছিলেন, মহাপ্রভুর কৃপা করে তাকে তাঁর চর্বিত তাম্বুল প্রসাদ দিতেন।তখন তাঁর বয়স যখন চার বৎসর মাত্র,তখন এই শিশুকালেই মহাপ্রভুর কৃপায় তাঁর কৃষ্ণপ্রেমের বিকাশ সাধিত হয়েছিল। তিনি "হা কৃষ্ণ,কোথা কৃষ্ণ" বলে অঝোর নয়নে কাঁদতেন।এই প্রেমাশ্রু যে কিরকম ছিল তার কিঞ্চিৎ পরিচয় আমরা একটি প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলী হতে পাই, যথা=*
*🌷অঙ্গ বহি পড়ে ধারা পৃথিবীর তলে।*
*🌷পরিপূর্ণ হইল স্থল নয়নের জলে।।*
*🍀এহেন যে নারায়ণী দেবী, যাঁর অতি শৈশবেই বিবাহ হয়েছিল, কুমারহট্ট নিবাসী একজন অতি সজ্জন ব্রাহ্মণের সঙ্গে,যার নাম ছিল শ্রীবৈকুন্ঠদাস বিপ্র। কিন্তু এই নারায়ণী দেবী বিয়ের স্বল্পকালের মধ্যেই বিধবা হন,তাঁর স্বামীর অকাল মৃত‍্যুতে। তখনকার দিনে এই জাতীয় বাল‍্যবিবাহ প্রথা প্রচলিত ছিল যা বর্তমান কালে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়।*
*🍀কথিত আছে এই সময় নিত‍্যানন্দ প্রভু কিছু সময়ের জন্য শ্রীবাস পন্ডিতের গৃসে বাস করেন, এই সময় বাল‍্যবিধবা নারায়ণী দেবী একদিন নিত‍্যানন্দ প্রভুকে প্রণাম করলে তিনি তাঁকে "মা পুত্রবতী হও" এই বলে আশীর্বাদ করেন।এইরকম আশীর্বাদ বাণী শুনে নারায়ণী দেবী অতীব সঙ্কুচিতা ও অসুস্থ বোধ করলেন এবং করজোড়ে বললেন,প্রভু একি সংশয়াকুল আশীর্বাদ করলেন, আমি যে বাল‍্যবিধবা, আমি কিভাবে পুত্রবতী হব? মহাশক্তিধর নিতাইচাঁদ তখল কহিলেন,বৎসে!কোন ভয় নেই, কেউ তোমায় অসতী বলতে পারবে না। কোনরকম কুৎসা রটাতেও পারবে না। আমার আশীর্বাদে এবং মহাপ্রভুর ভুক্তাবশেষ গ্রহণে তোমার গর্ভসঞ্চার হবে এবং সেই সন্তান দ্বিতীয় বেদব‍্যাস তুল‍্য গুণাবলীর অধিকারী হবে।*
*🌺এর কিছুদিন পরে মহাপ্রভুর কৃপায় তাঁর গর্ভসঞ্চার হয় এবং সেই গর্ভে ১৪২৯ শকে (ইং--১৫০৮ সালে) অষ্টাদশ মাস গর্ভবাসের পর বৈশাখী কৃষ্ণদ্বাদশী তিথিতে সেই মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়। এইভাবে অপ্রাকৃত শক্তিপ্রভাবে অতি অলৌকিক ভাবে শ্রীচৈতন‍্যলীলার বেদব‍্যাস শ্রীশ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুরের জন্ম হয়। সত‍্য কথা বলতে কি মহৎ কৃপায় কি না সম্ভব? তুলনামূলক হিসাবে বলা যেতে পারে যে পিতামাতার অতি বৃদ্ধবয়সে মহাপ্রভু ও জগন্নাথ দেবের কৃপায় শ্রীনিবাস প্রভুর জন্মও এইভাবে হয়েছিল।*
*🍀কথিত আছে যে নারায়ণী দেবীর যখন ৭|৮ মাসের গর্ভ, তখন তদানীন্তন মুসলমান কাজী এই অলৌকিক গর্ভসঞ্চার কাহিনী শুনে তাঁকে তার কাছারীতে নিয়ে যান।নিতাইচাঁদ এই সংবাদ শোনামাত্রই তৎক্ষণাৎ কাজীর গৃহে উপস্থিত হয়ে কাজীকে ক্রোধান্বিত ভাবে অত‍্যন্ত ভর্ৎসনা করলেন এবং বললেন, "অবোধ তুমি স্বেচ্ছায় কেন প্রজ্বলিত আগুনে হাত দিতে অগ্রসর হচ্ছ কেন?মাতা নারায়ণী দেবীর গর্ভে স্বয়ং বেদব‍্যাস উদিত।তুমি কি তা প্রত‍্যক্ষ করতে চাও? অবধূত নিত‍্যানন্দ শ্রীমুখ হতে এই বাণী নিঃসৃত হতে না হতেই গর্ভস্থ শিশু হরিধ্বনি করে উঠিল এবং কাজী খুবই ভয়ে ভীত হয়ে নিজেকে অপরাধীজ্ঞানে নারায়ণী দেবীকে শিবিকাযোগে (পালকি করে) শ্রীবাস পন্ডিতের গৃহে পাঠিয়ে দিলেন। এর কিছুদিন পর তিনি সন্তানের মাতা হন।*
*🍀যদিও এই পুত্র বরপুত্র তবুও নারায়ণী দেবী লোকলজ্জা এবং সমালোচনার হাত হতে রেহাই পাবার জন্য সুদূর শ্রীহট্টে মাতুলালয়ে বেশ কিছুদিন বাস করেন। পরে স্বগৃহে ফিরে আসেন।তৎকালে গৌরাঙ্গ পার্ষদ শ্রীপাদ্ বাসুদেব দত্ত মহাপ্রভুর পরম ভক্ত ছিলেন এবং তিনি নবদ্বীপের কাছেই মামগাছীতে একটি দেবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মহাপ্রভুর ইঙ্গিতে নারায়ণী দেবীর হাতে এর সেবার ভার অর্পণ করেন।দীনহীন কাঙ্গালিনীর বেশে নাবালক এই শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তিনি মামগাছির এই নির্জন পরিবেশে দেবসেবা করে যেতে লাগলেন। এই জায়গায় থাকাকালীন তাঁর সন্তানের বিদ‍্যাশিক্ষার সূচনা হয়।*
*🍀যাইহোক,এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসা যায় যে,মহাপ্রভু তখন প্রকট ছিলেন,তাঁর সন্ন‍্যাস গ্রহণ বৃন্দাবন বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের বাল‍্যকালে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে পুনঃ পুনঃ যেসব খেদোক্তি পাওয়া যায় তা হতে সাধারণভাবে ইহাই প্রতীয়মান (প্রমাণিত) হয় যে মহাপ্রভুকে দর্শন করবার সুযোগ বা সৌভাগ্য তাঁর জীবনে হয়নি। অর্থ‍্যাৎ শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুরের আবির্ভাব ১৪২৯ শকে ইং ১৫০৮ খ্রীঃ এবং শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন‍্যাস গ্রহণ ১৪৩১ শকে ইং ১৫১০ খ্রীঃ, মহাপ্রভুর তিরোধানের সময় বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের বয়স আনুমানিক ২৬ বৎসর হবে।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
          *সুদামার কথন*
*হেরি দোঁহা শুদ্ধমতি,হই আমি তুষ্ট অতি,*
   *তোমাদের মনোবাঞ্জা হোক পূরণ।*
*সর্ববিধ বিদ‍্যা এবে,দুই জনা জ্ঞাত হবে,*
   *দোঁহা প্রতি আশীর্বাদ রবে অনুক্ষণ।।*
*কহিল সুদাম সখা,ধন‍্য আমি পেয়ে দেখা,*
    *তুমি যে জগদ্ গুরু সব মূলাধার।*
*সত‍্যকাম হরি তুমি,কত লীলা কর স্বামী,*
   *শিক্ষা দিতে গুরুগৃহে বাস যে তোমার।।*
*সখার বিনীত কথা, শ্রদ্ধা আর হেরি সেথা,*
    *তার প্রতি জনার্দন অতি তুষ্ট হন।*
*তবে সহাস‍্য বদনে,কন তারে সম্বোধনে,*
    *মোর লাগি কিবা তুমি আনিলে এখন।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *শ্রীপাদ্ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর*
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀সুতরাং এই বয়স অবধি মহাপ্রভুর সঙ্গ পাবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তে কেন এই জাতীয় খেদোক্তি করেছেন তা বুদ্ধির অগম‍্য।*
*🌷হইল পাপিষ্ঠ জন্ম না হইল তখনে।*
*🌷হইলাম বঞ্চিত সে সুখ দরশনে।।*
*🌻অন‍্য আরেক জায়গায় লিখেছেন=*
*🌷হইল পাপিষ্ঠ জন্ম তখন না হইল।*
*🌷হেন মহামহোৎসব দেখিতে না পাইল।।*
*🌻এই উপলক্ষ্যে প্রাচীন বৈষ্ণব গ্রন্থে কোন সদুত্তর বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।তবে একথা ঠিক যে তিনি নিত‍্যানন্দ প্রভুর মন্ত্রশিষ‍্য ছিলেন এবং তাঁরই কৃপায় তিনি বৈষ্ণব মহিমা এবং মহাপ্রভুর অবতারতত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছিলেন যা তাঁর স্বরচিত বিভিন্ন পদাবলী হতে প্রকাশ পায়, যথা=*
*🌷ইষ্টদেব বন্দো মোর নিত‍্যানন্দ রায়।*
*🌷চৈতন‍্য কীর্তন স্ফূরে যাঁহার কৃপায়।।*
                  *এবং*
*🌷নিত‍্যানন্দ স্বরূপের আজ্ঞা ধরি শিরে।*
*🌷সূত্রমাত্র লিখি আমি কৃপা অনুসারে।।*
                *এবং*
*🌷নিত‍্যানন্দ প্রভু মুখে বৈষ্ণবের তথ‍্য।*
*🌷কিছু কিছু শুনিলাম সবার মাহাত্ম্য।।*
*🌻তখনকার দিনে প্রথা ছিল যে, শিবানন্দ সেন সমস্ত গৌড়দেশী ভক্তদের নিয়ে নীলাচলে মহাপ্রভু দর্শনে যেতেন ও সমস্ত ব‍্যয়ভার তিনি একাই বহন করতেন।*
*🌺১৫২২ সালে যখন বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের বয়স ১৪ বৎসর, নিত‍্যানন্দ প্রভু একবার গৌড়দেশী ভক্তদের সাথে নীলাচল যাত্রা করেন।তখন মহাপ্রভুকে দর্শন করবার জন্য বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের আর্তি দেখে নিত‍্যানন্দপ্রভু কৃপা পরবশ হয়ে তাঁকে সঙ্গে নেন।যাত্রাপথে বর্দ্ধমান জেলার অন্তর্গত দেনুড় গ্রামে এসে বিশ্রাম করবার জন্য নীলাচল যাত্রা স্থগিত করেন, কারণ উক্ত দেনুড় গ্রামের পূর্বাংশে "ধরার পুষ্করিণী" নামক একটি মনোরম সরোবর ছিল, ঐ পুষ্করিণীর চারিদিকে নানারকম সুশীতল বৃক্ষ থাকাতে সেইসময়ের পথিকদের বিশ্রামের জন্য এটি খুবই আকর্ষণীয় ছিল। সুতরাং নীলাচল যাত্রীগণ এই মনোরম জায়গায় বিশ্রাম করবার জন্য সমাগত হলে রামহরি দাস নামক এক গ্রামবাসী পরমভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে যাত্রীদলের সেবার ব‍্যবস্থাদি করতেন।এখানে উল্লেখযোগ্য যে নিত‍্যানন্দপ্রভু আগের রাত্রে স্বপ্নের মাধ‍্যমে এই রামহরি দাসকে কৃপা করে তাঁদের আগমন বার্তা জানিয়েছিলেন।কি সৌভাগ্য রামহরি দাসের যে তিনি এই সেবার সুযোগ পেয়েছিলেন।কত জনমের সুকৃতি যে তাঁর ছিল তা ভাবলেও গৌরভক্তগণের মনে আনন্দ সঞ্চার হয়।আহারাদি সমাপনের পর নিতাইচাঁদ প্রিয়শিষ‍্য বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের কাছে কিছু মুখশুদ্ধি হরিতকী চাইলেন।আজ্ঞাবহ শিষ্য প্রভুকে দিবার জন্য একটি হরিতকী এনে তখনই দিলেন এবং নিত‍্যানন্দপ্রভু তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এই হরিতকী তুমি কোথায় পেলে"? সরলমতি বৃন্দাবন বললেন যে, এটি গতকালের সঞ্চিত।তখন লীলাময় প্রভু কোন গূঢ় উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাঁকে "সঞ্চয়ী" আখ‍্যা দিয়ে, বৈষ্ণবোচিত গুণাবলীর অনধিকারী বলে বাহ‍্যিক ভর্ৎসনান্তে ঘোষণা করলেন যে তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীধাম নীলাচলে যাবেন না। অর্থ‍্যাৎ পথমধ‍্যে তাঁকে পরিত‍্যাগ করলেন।বালক বৃন্দাবন শ্রীগুরুদেবের এই বিচারে খুবই মর্মাহত হলেন এবং অনেক অনুনয় বিনয় করে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করলেন। কিন্তু নিত‍্যানন্দ প্রভু তাঁর সঙ্কল্পে অনড়, কারণ তিনি চান তাঁর শিষ‍্যের দ্বারা অনেক মহৎ কাজ করাতে, যা অন‍্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়।*
*🌻তখন নিতাইচাঁদ বৃন্দাবনকে দেনুড়ে রামহরি দাসের সহচর্য‍্যে থেকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর শ্রীচরিত্র বর্ণনে এবং শ্রীগ্রন্থ রচনা ও রামহরি দাস মহাশয়কে অঙ্গীকার করে তাঁর গৃহে থেকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি প্রকাশ এবং শ্রীপাট স্থাপনের আদেশ করে যান।শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর তাঁর গুরুদেবের আদেশে সমস্ত আদেশই পালন করেছিলেন।কৃপাময় নিত‍্যানন্দ তখন সেই হরিতকীটি ধরার পুষ্করিণীর তীরে রোপন করেন।নিত‍্যানন্দ কৃপাশক্তি সঞ্চারে, একসময় সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে এক মহতীবৃক্ষে পরিণত হয়। কালপ্রভাবে সেই বৃক্ষটি ধ্বংস হয়ে গেলে,শ্রীপাটের অন‍্যতম প্রধান সেবাইত নিত‍্যগোলোকধামগত প্রভুপাদ শ্রীল পঞ্চানন মহান্ত মহারাজ (রামহরি বংশজাত) সেই জায়গাটিতেই যে চারাবৃক্ষটি রোপন করেন তা বর্তমানে মহতী-বৃক্ষে পরিণত হয়ে অদ‍্যাপি বিরাজমান। শ্রীধাম দেনুড়ে চিন্ময়ী এই জায়গাটি "শ্রীহরিতকীতলা" নামে সুবিখ‍্যাত এবং অদ‍্যাপি ভক্তগণ তা দেখতে যান।শ্রীমন্ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শ্রীহস্ত টিপ্পনীধৃত তেরিজ পত্রে লিখিত শ্রীমদ্ ভাগবতের দশম স্কন্ধের অনুলিপি যা নিত‍্যানন্দপ্রভুর আদেশে শ্রীগদাধর পন্ডিত নীলাচলে লিখেছিলেন।তা নিতাইচাঁদ তাঁর অশেষ কৃপাপাত্র প্রিয়শিষ‍্য বৃন্দাবন দাসকে পাঠ করবার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন। ভক্তগণের দর্শনের জন্য ঠাকুর বৃন্দাবনের শ্রীপাটে সেই "শ্রীগ্রন্থ" অর্থ‍্যাৎ শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতের "পান্ডুলিপি", তিনি যে স্থানে বসে শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত রচনা করেছিলেন, সেই "সিদ্ধাসন" অদ‍্যাপি এই শ্রীপাটে বিরাজমান।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
              *সুদামার কথন*
*চিপিটক সাথে যাহা,গোপনে সে রাখে তাহা,*
   *না করে বাহির দ্রব‍্য লজ্জায় তখন।*
*অন্তর্য‍্যামী নারায়ণ, সব তিনি জ্ঞাত রন,*
   *সখারে ডাকিয়া তবে কহেন বচন।।*
*যাহা করিয়া যতন,করিয়াছ আনয়ন,*
   *কেন সখা মোরে নাহি দিতেছ এখন।*
*ভক্ত যাহা ভক্তিভরে,নিবেদন করে মোরে,*
   *প্রীত মনে করি আমি সেসব গ্রহণ।।*
*ভক্তিশূন‍্য কোন জন,দিলেও প্রচুর ধন,*
   *তাহে নাহি তৃপ্ত মোর অন্তর কখন।*
*ভক্তের সামান্য দান,তুষ্ট করে মোর প্রাণ,*
  *সেই দ্রব‍্য করি আমি পর্য‍্যাপ্ত গ্রহণ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪৪) বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
        *শ্রীপাদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর*
        **************************
*🌴শ্রীমন্মহাপ্রভু কর্তৃক স্বহস্তে প্রোথিত (পোঁতা)শ্রীজগন্নাথদেবের দন্তধাবন কাষ্ঠ হতেও ঠিক অনুরূপ এক মহতী বকুলবৃক্ষ প্রকাশ পেয়েছিলেন যা সিদ্ধ বকুল নামে প্রসিদ্ধ। যার সুশীতল ছায়ায় ঠাকুর হরিদাস বাস করতেন।গৌরভক্তগণের অবগতির জন্য বলতে চাই যে অনুরূপ একটি হরিতকী প্রদানের অপরাধে মহাপ্রভু তাঁর একান্ত সেবক গোবিন্দকেও পরিত‍্যাগ করেছিলেন, যার ফলে সাক্ষাৎ গোপীনাথের কৃপা পেয়েছিলেন বাৎস‍্য সেবার মাধ‍্যমে।যার নিদর্শন অদ‍্যাপি ভক্তগণ দেখতে পাবেন অগ্রদ্বীপে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে একটি চোদ্দ বৎসর বালকের উপর যেন লঘুপাপে গুরুদন্ড হল, কিন্তু মহাপুরুষদের সব কাজের মধ্যেই একটা গূঢ় উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, যথা মহাপ্রভু কর্তৃক ছোট হরিদাস বর্জন, হৃদয় চৈতন‍্য কর্তৃক শ‍্যামানন্দের উপর তিলক নিয়ে নিষ্ঠুর ব‍্যবহার, অগ্রদ্বীপের গোবিন্দ ঘোষকে মহাপ্রভু কর্তৃক পরিত‍্যাগ ইত্যাদি বৈষ্ণব জগতের নানারকম প্রসঙ্গ আছে যা আপাতদৃষ্টিতে শ্রুতিমধুর না হলেও তার শেষ ফলাফল বিচারে দেখা যায় যে সত‍্যই এটি তাঁদের ভক্তিময় জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনে সম্পূর্ণ সহায়তা করেছিল। এ ক্ষেত্রেও বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের জীবনী পর্য‍্যালোচনা করলে দেখা যায় চৈতন‍্যলীলার বেদব‍্যাস বলে আমরা যাঁকে জানি,তাঁর পরিচয়ের প্রকৃত স্বার্থকতা বিকাশ যদি ঘটিত না, যদি নিত‍্যানন্দপ্রভু তাঁকে দেনুড়ে পরিত‍্যাগ না করতেন।নরোত্তম ঠাকুর যে ঝাঁটার আঘাত রামচন্দ্র কবিরাজকে করেছিলেন তার দ্বারাও রামচন্দ্রের মহিমা পূর্বদিগন্তে উদিত উষার আলোকচ্ছটার ন‍্যায় তাঁর জীবনকে উদ্ভাসিত করেছিল।*
*🌻এইভাবে বৃন্দাবনদাস ঠাকুরকে দেনুড়ে স্থায়ী করে সকলে মিলিতভাবে পুরীধামে চলে যান। বৃন্দাবনদাস ঠাকুর শ্রীগুরু কৃপা সম্বল করে ধীরে ধীরে সাধন ভজনে নিজেকে নিয়োগ করেন।তখন তাঁর বয়স আনুমানিক ১৪ বৎসর হবে এবং মহাপ্রভুর অপ্রকট কালে তাঁর বয়স ২৬ বৎসর ছিল। অর্থ‍্যাৎ এই ১২ বৎসরের মধ‍্যেও তিনি গুরু আজ্ঞা পালনের জন্য কখনও দেনুড় ছেড়ে মহাপ্রভু দর্শনে পুরীধামে যাননি।সেজন‍্য শ্রীমন্মহাপ্রভুকে স্বচক্ষে কখনও দেখতেও পাননি। এখানে একটি প্রশ্ন মনে নিজে থেকেই জাগরিত হয় যে, যিনি মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ সেবক যিনি চৈতন‍্যলীলার বেদব‍্যাস, যিনি আবার শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত রচয়িতা তিনি কেন বারবার মহাপ্রভুর অদর্শন জনিত এইরকম খেদোক্তি এবং হা-হুতাশ করেছেন।এর প্রকৃত অর্থ এই মনে হয়, যে আজীবন তাঁর মনে মহাপ্রভুকে অদর্শনজনিত ক্ষোভ ছিল এবং তদুপরি ভক্তিময় জীবনের প্রকৃত উন্মেষ না ঘটায় এই শ্রীগ্রন্থে মনে হয় তিনি এইরকম খেদোক্তি করেছেন। কিন্তু যখন তিনি পরিপূর্ণভাবে মহাপ্রভুর অবতারতত্ত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম তখন মহাপ্রভু অপ্রকট।*
*🌺এই প্রসঙ্গে উপমাচ্ছলে বলা যায় যে,পরম করুণ শ্রীরামদাস বাবাজী মহাশয় যখন প্রকট ছিলেন তখন হয়ত অনেকে তাঁর নাম শুনেছিলেন। কিন্তু ভাগ‍্যদোষে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করবার সুযোগ হয়নি।পরে তাঁর অপ্রকটের পর যখন এই বৈষ্ণব ধর্মের রসমাধুর্য‍্য উপভোগ করবার সুযোগ তাঁদের জীবনে এসেছে, তখন তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড আক্ষেপ বা অনুশোচনার সৃষ্টি হয়েছে যে জীবিতকালে সঙ্গ করবার সুযোগ পেয়েও তা ভাগ‍্যে জুটে নাই।তার অর্থ এই নয় যে তাঁরা তখন জন্মগ্রহণ করেননি কিন্তু বাস্তবে তা সত‍্য নহে।এ জন্ম যেন দ্বিতীয় জন্ম, যা শ্রীগুরু কৃপায় দীক্ষার পর শিষ‍্যের মধ্যে এক নবযুগের সূচনা করে, যখন শিষ‍্যের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হয়। যেমনটি হয়েছিল গৌরপরিকরগণের জীবনে।*
*🌻যে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ বেদব‍্যাস যেরকম কৃষ্ণকথাময় শ্রীমদ্ভাগবত রচনা করেছিলেন, শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুরও সেইরকম শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুকে উপলক্ষ্য করে শ্রীচৈতন‍্যভাগবত রচনা করেছিলেন। এজন্য তিনি তদানীন্তন বৈষ্ণব সমাজের নিকট হতে শ্রীচৈতন‍্যলীলার ব‍্যাস অর্থ‍্যাৎ বেদব‍্যাস আখ‍্যা প্রাপ্ত হয়েছেন।তাঁর এই রচনার প্রশস্তি করে কৃষ্ণদাস কবিরাজ মহাশয় বলেছেন, যে=*
*🌷মনুষ‍্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন‍্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন‍্য।।*
*🌷বৃন্দাবন দাস পদে কোটি নমস্কার।*
*🌷ঐছে গ্রন্থ করি তিঁহো তারিলা সংসার।।*
*🔥সব থেকে চরম আশ্চর্য‍্য এই যে যিনি মহাপ্রভুর প্রকটকালে আবির্ভূত হয়ে, মহাপ্রভুকে কখনও দর্শন না করে,তাঁর সঙ্গসুখ না পেয়ে এই মহানগ্রন্থ কিভাবে রচনা করলেন! এটি একমাত্র গুরুকৃপা ছাড়া কোনমতেই সম্ভব নহে।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত রচনাকার শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর জীবনেও ঠিক অনুরূপ ঘটনা দেখা যায়।বৈষ্ণব জগতের এই দুইটি অমূল‍্য গ্রন্থের প্রণেতাদ্বয় কিভাবে যে ইহা রচনা করলেন তা মানব বুদ্ধির অগম‍্য।কারণ এই দুই মহাপুরুষের কেউই শ্রীমন্মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ দেখা পাননি।*
*🌹কথিত আছে যে বৃন্দাবনদাস ঠাকুর যখন তাঁর এই গ্রন্থ প্রণয়ন করেন তখন তিনি এই গ্রন্থের নাম দিয়েছিলেন "শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গল"। কিন্তু তৎকালে সুপ্রসিদ্ধ পদকর্তা লোচনদাসও অনুরূপ এক গ্রন্থ রচনা করেন, যার নামও শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গল, রেখেছিলেন,এতে কিছু সমস‍্যার সৃষ্টি হয়,কারণ উভয় গ্রন্থের নাম একই ছিল। পরে বৃন্দাবন জননী নারায়ণী দেবীর মধ‍্যস্থতায় তিনি এই গ্রন্থের নাম পরিবর্তন করে শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত আখ‍্যা দেন।এই শ্রীগ্রন্থে তিনটি খন্ড আছে, আদিখন্ড,মধ‍্যখন্ড ও অন্তখন্ড।শেষ জীবনে তিনি নিজ শ্রীপাটের সেবাভার প্রিয় শ্রীরামহরি দাসকে অর্পণ করে জাহ্নবা মায়ের সঙ্গে শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা করেন এবং সেখানেই শ্রীরাধারাণীর শ্রীচরণতলে চিরশান্তি লাভ করেন।এই ভাবেই পরম ভাগবদ্ শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর বৃন্দাবনে ইহলীলা সাঙ্গ করে নিজ নামের যথার্থ পরিচয় দিয়াছেন।এটিই সংক্ষেপে এই মহাবৈষ্ণবের ভক্তিময় জীবনের পরিচয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*পত্র,পুষ্প,ফলে মোরে,পূজে যদি ভক্তি ভরে,*
    *সে সকল দ্রব‍্য করি সাদরে গ্রহণ।*
*ভগবান এই মত,কন তারে কথা যত,*
    *তবু বিপ্র অধোমুখে না সরে বচন।।*
*কৃষ্ণের ঐশ্বর্য‍্য হেরি,সঙ্কুচিত হৃদি তারি,*
   *তাই দ্বিজ চিপিটক না দিল তখন।*
*তার যে কৃষ্ণের কাছে,কামনা কিছু না আছে,*
    *পত্নী অনুরোধে তার হেথা আগমন।।*
*দিতে তাঁরে এ সময়,সাহস মনে না হয়,*
    *তুচ্ছ দ্রব‍্য নিবেদিতে লজ্জিত পরাণ।*
*তবে দেব নারায়ণ,চিন্তিলেন নিজ মন,*
   *দুর্লভ সম্পতি দ্বিজে করিবেন দান।।*
*ভক্তাধীন ভগবান,*বুঝি তবে ভক্ত প্রাণ,*
    *বস্ত্রে বাঁধা চিপিটক ত্বরা কাড়ি লন।*
*সখা কিছু প্রীতি ভরে,আনিয়াছ মোর তরে,*
    *তাতে আমি অতি তুষ্ট হইনু এখন।।*
*এইরূপ বিপ্রে বলি,চিপিটক নিয়া তুলি,*
     *এক মুষ্ঠি তাহা হতে করেন ভক্ষণ।*
*ভোজনার্থ পুনরায়,নিতে পুনঃ যবে যায়,*
    *রুক্মিণী আসিয়া হস্ত করিল ধারণ।।*
*ভোজন নিষেধ করি,কন বালা শোন হরি,*
     *চিপিটক আর তুমি না কর গ্রহণ।*
*তোমাকে যে তুষ্ট করে,পায় সুখ এ সংসারে,*
    *পরলোকে স্বর্গবাসে রহে সেই জন।।*
*এক মুষ্ঠি চিপিটকে,যে সম্পত্তি দিবে তাকে,*
     *তাহার অভাব আর না হবে কখন।*
*অধিক পাবার তার,প্রয়োজন নাহি তার,*
     *ভোজনে বিরত তাই করিনু এখন।।*
*🙏এই বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী প্রথম খন্ড এখানেই বিরাম দিলাম, দ্বিতীয় খন্ডটি আমার কাছে এসে এখনো পৌঁছয়নি, দ্বিতীয় খন্ডের কৃপা হলে পুনরায় লিখনী শুরু হবে।বানান, ভুল ভ্রান্তি নিজজন মনে করে ক্ষমা করবেন।*
*🙏জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds