🆕 👉 ১. ভক্তি-ধর্ম ভারতবর্ষে নূতন নহে। অতি প্রাচীন কাল হতেই ভক্তিবাদ এদেশে প্রাধান্য লাভ করেছিল 👉 প্রেমধর্ম 🌹 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা*
*পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র*
*🌻প্রেমধর্ম🌻*
******************************
*🍀ভক্তি-ধর্ম ভারতবর্ষে নূতন নহে।অতি প্রাচীন কাল হতেই ভক্তিবাদ এদেশে প্রাধান্য লাভ করেছিল।উপনিষদে সাধারণত জ্ঞানমার্গের উপদেশ আছে।অবিদ্যার জন্য,মায়ার জন্য জীব মৃত্যুর অধীন হয়,বিদ্যা--, ব্রহ্মবিদ্যা লাভ করলেই অমৃত বা অমরত্ব ভোগ করা যায়, এটিই উপনিষদের সার কথা।সত্য কি,ব্রহ্ম কি,আত্মা কি---,জানতে পারলেই মোক্ষ হয়।সংসারে আর ফিরে আসতে হয় না,আর জন্ম হয় না। এটির নাম জ্ঞানমার্গ।জ্ঞান অপেক্ষা ভক্তির প্রাধান্য যাঁরা স্বীকার করেন,তাঁরা বলেন,সেই পরম পুরুষ রস-স্বরূপ।তাঁকে শুধু জানলে হয় না,তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে,তাঁকে হৃদয়ের স্নেহপ্রীতি দিয়ে আস্বাদন করতে হবে।*
*🌷আধ্যাত্মিকং হৃদয়াতনমুপাসনম্।*
*(শান্ডিল্য সূত্র)*
*🍀খ্রীষ্ট ধর্ম হতে ভক্তিধর্ম উৎপন্ন হয়েছে --, ডাক্তার বেবার প্রমুখ পন্ডিতগণের এই মতবাদ সম্পূর্ণরূপে খন্ডিত হয়েছে। সুতরাং তার সম্বন্ধে আলোচনা নিষ্প্রয়োজন।*
*🍀হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর উপাসনা করতে হবে।শান্ডিল্য সূত্র কত প্রাচীন তা জানা যায় না।যে সব শাস্ত্রে ভক্তিবাদ প্রতিষ্ঠিত ও প্রচারিত হয়েছে, তাদের মধ্যে শান্ডিল্য সূত্র, নারদ সূত্র,নারদ পঞ্চরাত্র,মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবত ইত্যাদি প্রধান।পদ্ম ও ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণেও ভক্তিধর্ম সুপ্রথিত হয়েছে।শান্ডিল্য সূত্র ও নারদ সূত্রের মূল উপনিষদে পাওয়া যায়। সুতরাং ভক্তিধর্ম আধুনিক নহে,অতি অতিপ্রাচীন।*
*🍀সাধারণতঃ শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ভক্তিধর্মের গ্রন্থ বলে মনে করা হয়।ভগবদ্ গীতা উপনিষদ নামে কথিত হয়ে থাকে।এটি সমগ্র পুরাণের শিরোমণি মহাভারতে অন্তর্গত। বিশেষ করে গীতা মহাভারতের কোনও অধ্যায়ের অন্তর্গত হোক বা না হোক,এটিকে উপনিষদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক বা না হোক, এটির প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ নেই।গীতার ভক্তিবাদ এক অপূর্ব বস্তু।এতে জ্ঞানমার্গ ও কর্মমার্গের ব্যাখ্যা করে তার উপরে ভক্তিমার্গের সৌধ নির্মিত হয়েছে।বিচার ও যুক্তির সাহায্যে,তুলনামূলক সমালোচনার পরে,যেরকম ভাবে ভক্তিধর্মের ভিত্তি স্থাপিত হল, পূর্বে কখনও সেরকম হয়নি। গীতা হতে ভক্তিধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদক শ্লোকগুলি তুলতে গেলে প্রবন্ধ বেড়ে যায়, সুতরাং আমি দুই-একটি শ্লোকের দ্বারা দিগদর্শন মাত্র করব।গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বললেন=*
*🌷শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং স মে যুক্ততমো মতঃ।*
*🌺হে অর্জুন! যোগী, তপস্বীদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ; জ্ঞানী অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ ; কর্মী অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ ; আবার যে যোগী আমাতে সমস্ত হৃদয়-মন সমর্পণ করে শ্রদ্ধাপূর্বক ভজনা করেন, তিনি যোগীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।*
*🍁এই তরতম নির্দেশ হতে নিঃসংশয়ে বুঝা যায় যে, গীতার ধর্মমতের তাৎপর্য্য কি।আত্মসর্পণ কাকে বলে, সে সম্বন্ধেও গীতা উপদেশ করেছেন।=*
*🌷মন্মনা ভব মদভক্তো মদযাজী মাং নমস্করু। ১৮ অধ্যায়।*
*🌻মদগতচিত্ত হও,আমার প্রতি ভক্তিপরায়ণ হও,আমার উদ্দেশ্যে সমস্ত যজ্ঞ কর এবং আমাকেই প্রণাম কর।তাহলেই আমাকে তুমি অবশ্যই পাবে। এর নাম প্রপত্তি বা শরণাগতি।*
*🌷যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।*
*☘যে যে ভাবে আমাতে প্রপন্ন (শরণাগতি) হয়,আমি তাকে সেইভাবেই কৃপা করি। (আরও পরিস্কার ভাবে বললেন)=*
*🌷সর্ব্বধর্ম্মান পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।*
*🌷অহং ত্বাং সর্ব্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচ।।*
*🍀ধর্ম কি,অধর্ম কি,তা বললাম। যদি সেসব আয়াসলভ্য সাধনে অপারগ হও,তবে শেষ কথা বলছি-- সমস্ত পরিত্যাগ করে আমাতেই শরণ নাও।আমি তোমাকে সমস্ত পাপ হতে মুক্ত করিব।কোন দুঃখ নাই।*
*🌹এই যে প্রপত্তি বা শরণাগতি ভক্তিযোগেরচরম লক্ষ্য বলে বর্ণিত হল, এমনটি পূর্বে আর দেখা যায় না।শান্ডিল্য সূত্র বলেছেন= "সা পরানুরক্তিরীশ্বরে" অর্থ্যাৎ ভগবানে প্রগাঢ় প্রেমই ভক্তি। কিন্তু এই প্রেমের মধ্যে প্রপত্তির কোন প্রসঙ্গ আছে বলে মনে হয় না।শান্ডিল্য সূত্রের এই ভক্তি-সূত্র সম্ভবতঃ গীতার বহু পূর্বে গ্রথিত হয়েছিল।কারণ গীতার পরে যেসব ভক্তিশাস্ত্র প্রণীত হয়েছে, তাদের মধ্যে শরণাগতির ভাব সুস্পষ্ট।*
*🌺শরণাগতির কথা অবশ্য বৌদ্ধধর্মে প্রচারিত হয়েছিল। "বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি,ধর্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি"। হয়ত লোকের মন বৌদ্ধধর্ম হতে আকর্ষণ করে ফিরিয়ে আনবার জন্য গীতা বললেন=*
*🌷ঈশ্বরঃ সর্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি।*
*🌷তমেব শরণং গচ্ছ সর্ব্বভাবেন ভারত।।১৮অঃ।।*
*🍀হে অর্জুন! যে ঈশ্বর সর্বভূতের হৃদয়ে অবস্থান করে তাদেরকে চালাচ্ছেন,তুমি তাঁরই শরণাপন্ন হও।এখানে এইই অভিপ্রেত যে,অন্য কারো শরণ নিতে হবে না, "মামেকং শরণং ব্রজ"---একমাত্র আমারই শরণ নাও।*
*🌳গীতার এই দার্শনিক ভক্তিবাদ শ্রীমদ্ভাগবতে এক অপূর্ব লীলা-রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।মনে হয়,গীতা যেন সূত্র করলেন,ভাগবত তার ভাষ্য।শরণাগতি কাকে বলে গোপীপ্রেম তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।তত্ত্বের দিক দিয়ে যে ভক্তিযোগ গীতায় বিঘোষিত হল,লীলার দিক দিয়ে তা ভাগবতের কাব্য-কথায় ফুটে উঠল।সেই সচ্চিদানন্দঘন বিগ্রহ ভগবান সর্বলোকের প্রেম আস্বাদন করছেন, সকলের হৃদয়ে অবস্থান করে তিনি যন্ত্রারূঢ় পুতুলের মত সকলকে শুধু মায়ায় ঘুরাচ্ছেন না ; তিনি সকলের হৃদয়ের মধু আহরণ করে নিজে মধুর হচ্ছেন।বংশীরবে তিনি গোপীদেরকে আকর্ষণ করছেন, তাঁরা সব ভুলে, সব ফেলে পাছে তাঁকে লাভ করবার জন্য।অগণিত গোপী সেই পরম পুরুষকে লাভ করবার জন্য বাঁশীর মৃদুমন্দ স্বর অনুসরণ করে ছুটছেন, তাঁদের হৃদয় অনুরাগে ভরপূর, কেউ কাউকেও দেখতে পাচ্ছেন না। এরই নাম "মন্মনা"=যা গীতায় উক্ত হয়েছে।*
🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ২. প্রেমধর্ম-বাংলার প্রেমধর্ম 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা*
*প্রেমধর্ম-বাংলার প্রেমধর্ম*
*************************
*🍀তিনি তাঁদেরকে বলছেন=*
*🌷ময়ি ভক্তির্হি ভূতানামমৃতত্বায় কল্পতে।*
*🌷আমার প্রতি ভক্তি সর্বভূতের মোক্ষসাধনী।*
*🌷অবিদ্যয়া মৃত্যুংতীর্ত্ত্বা বিদ্যয়াহমৃতমশ্নুতে।*
*🌺উপনিষদের সেই স্মরণ করুন।সেখানে তত্ত্ব-জ্ঞানের দ্বারা,পরাবিদ্যার দ্বারা জীব অমৃতের আস্বাদন লাভ করে।এখানে আমাতে ভক্তি করলেই মুক্তি ; তত্ত্বজ্ঞানীদের যে মোক্ষ= সার্ষ্টি, সাযুজ্য,সারূপ্য,সামীপ্য--, তা প্রকৃত শুদ্ধভক্ত কামনা করেন না।শ্রীকৃষ্ণ সেবা ছাড়া শুদ্ধভক্ত আর কিছুই চাহেন না।মোক্ষের অভিসন্ধি পর্যন্ত তাঁরা হৃদয় হতে দূর করে দেন।এর দৃষ্টান্ত ব্রজের গোপীগণ।শ্রীকৃষ্ণের শ্রীবদনকমল দর্শন করবার সময় তাঁরা নয়নের পলক বা নিমেষকেও ধিক্কার দিতেন।মনে হয় যেন মীনের মত নিমেষশূন্য নয়ন পেলে মন শান্তি করে দর্শন করতাম।*
*🌲এখানে স্মরণ রাখা আবশ্যক যে,ভগবদ্ গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণকে অবলম্বন করে ভক্তিধর্ম গড়ে উঠেছে। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণই ভক্তিধর্মের একমাত্র অবলম্বনীয় নহেন ; বৈষ্ণবরাই একমাত্র ভক্তিপন্থার পথিক নহেন।বহু প্রাচীনকাল হতে শৈবধর্মেও ভক্তিবাদের প্রভাব বর্তমান।শৈব ও বৈষ্ণবদের মধ্যে সময়ে সময়ে প্রবল শত্রুতা দেখা দিত। কিন্তু তা হলেও শৈবেরা ভক্তির পথে অনেকদূর অগ্রসর হয়ে ছিলেন।বিষ্ণুর অবতার শ্রীরামচন্দ্রকে কেন্দ্র করে যে ধর্ম গড়ে উঠেছে, ভক্তি তারও প্রধান উপজীব্য।এইরকম শাক্ত ধর্মের মধ্যেও ভক্তিবাদের প্রভাব সুস্পষ্ট ভাবে দেখতে পাওয়া যায়।*
*🍀প্রাচীনকালে দক্ষিণ ভারতে ভক্তিবাদ প্রচারিত হয়েছিল কতকগুলি সাধুর দ্বারা।ইঁনাদেরকে "আলওয়ার" নামে অভিহিত করা হয়।ইঁনারা অনেকে খ্রীষ্টের জন্মের সমকালে বা সামান্য কিছু পরবর্তীকালে ভক্তিধর্মের মাহাত্ম্য প্রচার করেছিলেন।তাঁদের মধ্যে অনেকেই যে "শ্রী-সম্প্রদায়ের" প্রবর্তক রামানুজাচার্য্যের পূর্ববর্তী, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই।রামানুজ খ্রীষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত হয়ে ছিলেন।এই সাধু মহাত্মাদের রচিত সঙ্গীত মন্দিরে মন্দিরে গীত হয়।এই সঙ্গীত বা প্রবন্ধম্ গুলি "তামিল বেদ" নামে অভিহিত হয়।ইঁনাদের মধ্যে কারও কারও সঙ্গীতে ভগবানকে পতিরূপে ভজনা করবার বিধান আছে।*
*🌺ভগবানকে পরম পতি ও নিজেকে তাঁর দাসী বা নায়িকা বোধে ভজন করা শ্রীচৈতন্য-প্রবর্তক বৈষ্ণবধর্মের একটি অঙ্গ বলে গণ্য হয়।*
*🌷অতএব গোপীভাব করি অঙ্গীকার।*
*🌷রাত্রি-দিনে চিন্তে রাধা-কৃষ্ণের বিহার।।*
*আমরা দেখতে পাই যে,এই গোপীভাবের ভজন শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রবর্তিত করেছিলেন।মহাপ্রভু ১৫০৯ খ্রীষ্টাব্দের মাঘ মাসের শুক্লপক্ষে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন।ফাল্গুন মাসে তিনি নীলাচলে চলে আসেন।চৈত্রমাসে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে উদ্ধার করে বৈশাখমাসে দক্ষিণদেশে যাত্রা করেন।প্রকাশ্যে বললেন, অগ্রজ বিশ্বরূপের সন্ধানে যাই ; কিন্তু নিগূঢ় উদ্দেশ্য ছিল হরিনাম দিয়ে দক্ষিণদেশ উদ্ধার করবেন। সার্বভৌম বললেন,নিতান্তই যদি যাবে, তবে বিদ্যানগরে (বর্তমান রাজমাহেন্দ্রী) গিয়ে রায় রামানন্দের সঙ্গে দেখা করবে।*
*🌷তোমার সঙ্গের যোগ্য তেঁহো একজন।*
*🌷পৃথিবীতে রসিক ভক্ত নাহি তাঁর সম।।চৈঃচঃ।।*
*🌳তাঁর যেমন পান্ডিত্য, তেমনই ভক্তি।আমি পূর্বে তাঁকে "বৈষ্ণব" বলে অনেক ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিলাম।আগে তাঁকে চিনতে পারি নাই, এখন তোমার কৃপায় বুঝেছি,তিনি কত বড় মহান।*
*🍀মহাপ্রভু বিদ্যানগরে গিয়ে রামানন্দের সাক্ষাৎ পেলেন এবং সাধ্যসাধনতত্ত্ব সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন।রামানন্দ বলেন ; প্রভু বলেন----*
*🌷এহ বাহ্য আগে কহ আর।*
*🍁স্বধর্মাচরণ হতে আরম্ভ করে রামানন্দ বহু তত্ত্বের কথা বললেন। কিন্তু মহাপ্রভু ---*
*🌷প্রভু কহে এহ বাহ্য আগে কহ আর।*
*☘তখন রায় রামানন্দ চরমতত্ত্বে উপনীত হয়ে বললেন=*
*🌷কান্তাপ্রেম সর্বসাধ্য সার।*
*🍀মহাপ্রভু পুনরায় বললেন, কৃপা করি কহ যদি আগে কিছু হয়। তখন=*
*🌷রায় কহে ইহার আগে পুছে হেন জনে।*
*🌷এতদিন নাহি জানি আছয়ে ভুবনে।।*
*☘এই কান্তাপ্রেমের উপরে কি আছে, এই প্রশ্ন করতে পারে জগতে এমন লোক তো দেখি নাই।যাইহোক, যখন শুনতে চাইছ,তখন বলি, এই যে কান্তাপ্রেম=*
*🌷ইহার মধ্যে রাধার প্রেম সাধ্য শিরোমণি।*
*🌷যাঁহার মহিমা সর্বশাস্ত্রেতে বাখানি।।*
*🌳রামানন্দ রায়ের মুখ হতে কোন এক শুভ মুহূর্তে শ্রীরাধার নাম স্ফুরিত হয়েছিল।এই রাধাপ্রেমই মহাপ্রভুর জীবনের সুপ্ত নির্ঝরকে জাগিয়ে দিল এবং সেই প্রেমবন্যায় বঙ্গদেশ ভেসে ছিল।*
*🌹রাধা-নাম নুতন নয়, নারদপঞ্চরাত্রে রাধার নাম আছে।শান্ডিল্য সূত্রে "বল্লবী" বা "গোপী" শব্দ পাওয়া যায়।মহাভারতে "গোপীজনপ্রিয়" এই বিশেষণ পাওয়া যায়।ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, জয়দেব গোস্বামী, বিদ্যাপতি-চন্ডীদাসের পদাবলীতে রাধানাম অনেকবার উল্লিখিত হয়েছে। সুতরাং রাধানাম নূতন নহে, গোপীপ্রেমও নূতন নহে। কিন্তু গোপীভাব অঙ্গীকার করে যে ভজন,বঙ্গদেশে সম্ভবত তা এই প্রথম প্রবর্তিত হল।*
*🌷গোপী অনুগত বিনা ঐশ্বর্য্যজ্ঞানে।*
*🌷ভজিলেহ নাহি পায় ব্রজেন্দ্রনন্দনে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷রাগানুগা মার্গে তারে ভজে যেইজন।*
*🌷সেইজন পায় ব্রজে ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
*🌻শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে রামানন্দ মিলনের এটিই মুখ্য এবং চরম ফল।কবিরাজ গোস্বামী স্বরূপ দামোদরের কড়চা দেখে এটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪔🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ৩. প্রেমধর্ম -বাংলার প্রেমধর্ম 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা*
*প্রেমধর্ম -বাংলার প্রেমধর্ম*
**************************
*🌷দামোদর স্বরূপের কড়চা অনুসারে।*
*🌷রামানন্দ-মিলন-লীলা করিল প্রচারে।।*
*🌺গৌরহরি দক্ষিণদেশ হতে নীলাচলে ফিরে ভক্তগোষ্ঠীসহ কয়েক - দিন তীর্থযাত্রার সমস্ত কথা বলে কাটালেন বা অতিবাহিত করলেন।*
*🌷সার্বভৌম সঙ্গে আর লইয়া নিজগণ।*
*🌷তীর্থযাত্রা-কথা কহি কৈলা জাগরণ।।*
*🌻সম্ভবতঃ সেই সময়ে স্বরূপ দামোদর গোস্বামী মহাপ্রভুর শ্রীমুখে শোনা সমস্ত কথা,রামানন্দ মিলন-প্রসঙ্গ বিস্তারিত ভাবে লিখে রেখেছিলেন।শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাইই পয়ার প্রবন্ধে গ্রথিত করেছেন।*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভুর অন্তরে এই রামানন্দ-সংবাদ কিরকম গভীর রেখাপাত করেছিল,তা বুঝতে পারা যায় মহাপ্রভুর পরবর্তী ব্যবহার হতে। মহাপ্রভু বিদ্যানগর হতে রামেশ্বর সেতুবন্ধ হয়ে কন্যাকুমারী পর্যন্ত আসিলেন।সেখান হতে পূর্বঘাট পর্বতমালা পার হয়ে নর্মদা,তাপ্তী প্রভৃতি ছাড়িয়ে উজ্জয়িনী নগরের কাছে গেলেন।তথা হতে ফিরে সপ্তগোদাবরী হয়ে মহাপ্রভু পুনরায় বিদ্যানগরে আসিলেন। (উজ্জয়িনীর পথে পুরীতে ফিরে গেলে কি ক্ষতি ছিল?) উজ্জয়িনী হতে তিনি মথুরা বৃন্দাবন হয়েও ফিরতে পারতেন। কিন্তু তাঁর মন পড়ে ছিল রায় রামানন্দের কাছে। বিদ্যানগরে ফিরে =*
*🌷প্রভু কহে এথা মোর এ নিমিত্ত আগমন।*
*🌷তোমা লৈয়া নীলাচলে করিব গমন।।*
*🌹আরও এক লক্ষ্য করবার বিষয় এই,মহাপ্রভু ব্রহ্মসংহিতা ও কৃষ্ণকর্ণামৃত নামক দুইটি পুঁথি এই দাক্ষিণাত্য দেশে সংগ্রহ করেছিলেন।রামানন্দকে পুঁথি দুইটি দিয়ে তিনি বললেন=*
*🌷প্রভু কহে তুমি যেই সিদ্ধান্ত করিলে।*
*🌷এই দুই পুঁথি সেই সব সাক্ষী দিলে।।*
*🌻পয়স্বিনী-তীরে আদিকেশবের মন্দিরে পেয়েছিলেন ব্রহ্মসংহিতা।*
*🌷সিদ্ধান্তশাস্ত্র নাহি ব্রহ্মসংহিতার সম।*
*🌻কৃষ্ণবেন্বা বা কৃষ্ণনদীর তীরে এক মন্দিরে কৃষ্ণকর্ণামৃত পেয়েছিলেন। এই কৃষ্ণকর্ণামৃত গ্রন্থ সম্বন্ধে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন=*
*🌷কর্ণামৃত সম বস্তু নাহি ত্রিভুবনে।*
*🌷যাহা হৈতে হয় শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম জ্ঞানে।।*
*🌹দক্ষিণদেশ পর্য্যটনে মহাপ্রভু বিভিন্ন তীর্থে যে সব প্রসঙ্গে কালক্ষেপ করেছিলেন,তার মধ্যে কৃষ্ণকথা ও রামসীতার চরিত্রই প্রধান।কিন্তু কৃষ্ণকথায় হয়েছিল বেশী।রঙ্গনাথে বেঙ্কট-ভট্টের ভবনে চাতুর্মাস্য করে মহাপ্রভু কৃষ্ণপ্রেম সম্বন্ধেই আলোচনা করেছিলেন। তিনি সেখানে বলেছেন=*
*🌷ব্রজলোকের ভাবে যেই করয়ে ভজন।*
*🌷সেই জন পায় ব্রজে ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
*🌷সুতরাং দেখা যাচ্ছে, তিনি সেই দেশের সুরে সুর মিলিয়ে কৃষ্ণভজনের ব্যাখ্যা করেছেন।*
*🍀সেখান হতে শ্রীশৈলে (নীলগিরি) এসে মহাপ্রভু এক ব্রাহ্মণের সঙ্গে নিভৃতে বসে গুপ্তকথা বলছেন। এই ইষ্টগোষ্ঠীতেও যে কৃষ্ণপ্রেম সম্বন্ধে আলোচনা হয়েছিল,তা অনুমান করা অসঙ্গত নহে।অতএব দেখা যাচ্ছে যে, দাক্ষিণাত্য ভ্রমণে মহাপ্রভু যেমন একদিকে হরিনাম প্রচার করেছিলেন, অন্যদিকে তেমনি সেই দেশের ধর্মমতের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এসেছিলেন,(অন্তরঙ্গ ভক্ত এই কথাগুলি হয়ত গ্রহণ করবেন না, কারণ তিনি যে একমাত্র কলিযুগের উপাস্য বা আরাধ্য তা সকলে জানতে পারেন নাই)।যাইহোক, এই কথা বললে তাঁর অপূর্ব অলৌকিক, প্রেম-সম্পদের মর্য্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় না। যে মেঘ বারি বর্ষণ করে পৃথিবী শীতল করে দেয়,সেই মেঘ সমুদ্রের বারি শোষণ করেই পরিপুষ্ট হয়।*
*🌹এক্ষণে প্রশ্ন এই যে,বঙ্গদেশ যদি দাক্ষিণাত্য দেশের কাছে ঋণী হয়,তবে সে দেশে গোপীভজন প্রণালী আসিল কোথা থেকে?আগেই বলেছি দক্ষিণ ভারতের সাধু-মহান্তগণের পদাবলী বা সঙ্গীতে গোপীভজনের সংবাদ পাওয়া যায়।ইঁনাদের একজন প্রণয়ার্থিনী রমণীরূপে ভগবদ্ ভজন করবার উপদেশ দিয়েছিলেন। মানবাত্মা ভগবৎ-প্রেমের জন্য যদি লালায়িত হয়,তবে সে লালসার উদাহরণ কেবল নায়কের প্রতি নায়িকার আকুলতাপূর্ণ প্রেম ছাড়া আর কি হতে পারে? দক্ষিণ দেশের এই সব প্রাচীন আলওয়ারদের মধ্যে একজন রমণী ছিলেন। তিনি গোপীর ভাবে ভাবিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করতেন।ইঁনার কর্ম ছিল,প্রতিদিন প্রভাতে প্রতিবেশিনীকে নিয়ে শ্রীরঙ্গনাথের মন্দিরে গিয়ে ঠাকুরের ঘুম ভাঙ্গানো।শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে পাবার জন্য তাঁর একান্ত আকুতি ছিল এবং তাঁর রচিত বহু সঙ্গীতে এই আকুতির পরিচয় পাওয়া যায়।এইসব সঙ্গীত এখনও সেখানে দেবমন্দিরে এবং ঘরে ঘরে ভজনের সময় গীত হয়ে থাকে। পরবর্তীকালে মীরাবাঈ যেমন গিরিধারীলালকে পতিত্বে বরণ করেছিলেন, তামিলকামিনী আন্ডালও তেমনি শ্রীরঙ্গনাথে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।কথিত আছে, এ রমণী পরিশেষে শ্রীবিগ্রহে লীন হয়ে গিয়েছিলেন। শ্রীরঙ্গমে রঙ্গনাথের মন্দিরে এখনও ইঁনার বিগ্রহ পূজিত হয়ে থাকে।*
*🌺বৈষ্ণবদের মতে শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ সব পুরাণের সার। কিন্তু পন্ডিতেরা স্থির করেছেন যে, বতর্মান আকারে ভাগবত বহু পুরাতন নহে।(কৃষ্ণদাসের ভক্তমালে "বোপদেব গোস্বামী" দ্রষ্টব্য)। সুতরাং দক্ষিণ ভারতের মহাজনগণ যে ভাগবত হতে তাঁদের ভক্তিবাদ গ্রহণ করেছেন, তা বলা চলে না।হরিবংশ এবং বিষ্ণুপুরাণ অবশ্য এটি অপেক্ষা প্রাচীন।কালিদাস তাঁর মেঘদূতে শ্যামসুন্দরের যে বর্ণনা দিয়েছেন,তা এই শেষোক্ত পুরাণদ্বয় হতে গৃহীত বলে মনে হয়।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ৪. প্রেমধর্ম ও বাংলার প্রেমধর্ম 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা*
*প্রেমধর্ম ও বাংলার প্রেমধর্ম*
*****************************
*🍀পূর্বমেঘের সেই অনুপম বর্ণনা স্মরণীয়=*
*🌷রত্নচ্ছায়া ব্যতিকর ইব,*
*প্রেক্ষ্যমেতৎ পুরস্তাদ্।*
*🌷বল্মীকাগ্রাৎ প্রভবতি ধনুঃ,*
*খন্ডমাখন্ডলস্য*
*🌷যেন শ্যামং বপুরতিতরাং,*
*কান্তিমাপৎস্যতে তে।*
*🌷বর্হেণেব স্ফুরিত রুচিনা,*
*গোপবেশস্য বিষ্ণোঃ।।*
*🌻মেঘের গায়ে ইন্দ্রধনুর স্পর্শ লাগলে শিখিপুচ্ছধারী গোপবেশ বিষ্ণুর মত দেখাবে!*
*🌺কালিদাসেরও পূর্বে ভাসের বালচরিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনী পড়লে ভাগবতের জন্ম খন্ডই মনে পড়ে। সুতরাং বুঝা যায় যে,খ্রীষ্টের জন্মের পূর্বে শ্রীকৃষ্ণলীলা ভারতবর্ষে প্রচলিত ছিল।সেইসব উপাদান হতে দক্ষিণ ভারতীয়েরা তাঁদের ভজন প্রণালী গঠন করেছিলেন। আলওয়ার সাধুদের দ্বারা, বিল্বমঙ্গল প্রভৃতি বৈষ্ণব মহাজনের দ্বারা এই ভজন প্রণালী পরিপুষ্ট হয়।*
*🍀এরই ধারায় রামানন্দ রায়ের মধ্য দিয়ে শ্রীমন্মহাপ্রভুর জীবনে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গদেশকে প্লাবিত করেছিল।ভক্তিবাদ সেই হতে নূতন আকার ধারণ করিল।এটি শুধু ভগবানে প্রীতি বা অনুরাগ মাত্র রইল না,মানবীয় প্রেম-নিকষে কষিত হয়ে বিশুদ্ধভাবে ভগবানে অর্পিত হল।রসশাস্ত্রে এই প্রেম মধুর,শৃঙ্গার বা উজ্জ্বলরস নামে অভিহিত হয়।উন্নত অর্থ্যাৎ বিশুদ্ধ উদার রসে পরিণত ভগবদ্ ভক্তি প্রচারের জন্য শ্রীগৌরাঙ্গ করুণাবশে অবতীর্ণ হয়েছিলেন,এটিই বৈষ্ণব দার্শনিকদের অভিমত।এই ভক্তিসম্পদ পূর্বে কেউ কখনও প্রচার করেননি।(🌳অনেকেই জানেন যে,বঙ্গদেশীয় কথকেরা "অনর্পিতচরীং চিরাৎ" এই প্রসিদ্ধ শ্লোকটি বৃত্তি না করে পাঠ বা কথকতা আরম্ভ করেন না।ভিন্নদেশীয় পাঠকেরা কিন্তু এই শ্লোক বৃত্তি করেন না।এই হতেই অনুমান হয় যে,শুদ্ধ শৃঙ্গার-রস-সমন্বিত ভক্তিধর্মের প্রচার মহাপ্রভু হতেই বঙ্গদেশে প্রথম প্রবর্তিত হয়)।*
*🌻বস্তুত গোপীপ্রেম এরকমভাবে আর কখনও পরাকাষ্ঠা প্রাপ্ত হয়নি। বাঙ্গালীর ঠাকুর প্রেমভক্তির এই যে নূতন ধারা প্রবর্তিত করলেন,এটি নিজের মাধুর্য্যে বৈশিষ্ট্য লাভ করল।*
*🌺প্রেম,প্রীতি,অনুরাগের অগ্নিপরীক্ষা বিরহে।বিরহের তীব্রতার দ্বারা প্রেমের গভীরতা যেমন বুঝতে পারা যায়, এমন আর কিছুতেই নাই।বিরহের ঘোর নৈরাশ্য, মিলনের দুরন্ত আকাঙ্ক্ষা হতেই প্রেমের পরিমাণ বুঝা যায়।মহাপ্রভুর জীবনে এই বিরহ এবং আকাঙ্ক্ষা যেমন জীবন্ত ও জ্বলন্তভাবে ফুটে উঠেছিল,এমন আর কখনও দেখা যায় না।এই অভিনবত্ব তিনি দক্ষিণদেশ থেকে পাননি। এটি বাংলার নিজস্ব।প্রধানতঃ বাঙ্গালী মহাজনগণের পদাবলী হতে তিনি প্রেমের এইরকম অপূর্ব উন্মাদনা লাভ করেছিলেন।চন্ডীদাস, বিদ্যাপতি শ্রীরাধার প্রেমের যে চিত্র একেঁছিলেন, মহাপ্রভু জীবন্তভাবে চোখের সামনে সেই চিত্র উদঘাটিত করলেন। সেই যে==*
*এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর,*
*শূন্য মন্দির মোর।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*বিদ্যাপতি কহ কৈসে গোঙাইব,*
*হরি বিনে দিন রাতিয়া।।*
*😭বিরহিনী শ্রীরাধার এই চিত্রই মহাপ্রভু অঙ্গীকার করলেন।বাদল ধারার মত অশ্রু বহে মুখ বুক ভাসিয়ে দিচ্ছেন,এটিই মহাপ্রভুর চিত্র।*
*🌷যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্।*
*🌻বাংলার প্রেমধর্মে এটিই মর্মকথা।*
*🍁চন্ডীদাসের ====*
*এমন পিরীতি কভু দেখি নাহি শুনি।*
*পরাণে পরাণ বাঁধা আপনি আপনি।।*
*দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*তিল আধ না দেখিলে যায় যে মরিয়া।।*
*🌹প্রেমের এ এক অপূর্ব ছবি! এমন ছবি আর কেউ জগতে এঁকেছেন কিনা জানি না।বিচ্ছেদের আশঙ্কায় প্রাণ-প্রিয়কে কাছে পেয়েও নেত্রনীর উছলিয়া উঠছে।এই মূর্ত্ত প্রেমই বাংলার বৈষ্ণব সাধনার আদর্শ। এই ধর্মে কৃষ্ণ পরম আরাধ্য।প্রেম সেই আরাধনার সাধন বা উপায়।উচ্চগ্রামে বাঁধা যন্ত্রের মত তনু-মন যখন প্রেমের মোহন স্পর্শে ঝঙ্কার কোরে উঠে, তখনই উপাস্য উপাসকের মধ্যে এক অনির্বচনীয় পরম মধুর সম্বন্ধ স্থাপিত হয়।সমস্ত হৃদয়-মন-ইন্দ্রিয় দিয়ে তাঁকে আস্বাদন করা যায় বলেই তাঁর হৃষিকেশ নাম সার্থক।*
*🌷হৃষীকেণ হৃষীকেশ সেবনং ভক্তিরুচ্যতে।*
*🌻সর্বেন্দিয়গ্রাম যখন সব রকম উপাধি বর্জিত হয়ে কেবল তাঁতেই বিলগ্ন হয়,তখন সেই নির্মল সেবার নাম হয় ভক্তি।এটিই বাংলার প্রেমধর্ম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ৫. ভক্তি---ধর্ম ও রাধাভাব 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা*
*ভক্তি---ধর্ম ও রাধাভাব*
************************
*মনের স্মরণ প্রাণ,মধুর মধুর ধাম,*
*যুগল-বিলাস-স্মৃতি সার।*
*সাধ্য সাধন এই,ইহা পর আর নেই,*
*এই তত্ত্ব সর্ব্বসিদ্ধি-সার।।*
*🍀প্রেমভক্তি-চন্দ্রিকায় শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর এইভাবে ভক্তিধর্মের মর্ম্মকথা ব্যক্ত করেছেন। স্মরণ মনের প্রাণস্বরূপ।দেহ যেমন প্রাণ বিনা বৃথা,মনও তেমনি স্মরণ বিনা নিরর্থক।স্মরণের মধ্যে সার বস্তু মধুর হতেও সুমধুর বৃন্দাবনধামে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা।এটিই সাধ্য, এটিই সাধন ; ইহা ছাড়া অন্য কোনও সাধ্য-সাধন নাই।এই তত্ত্বই সর্ববিধ বিধি-উপদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।*
*🍀বাংলার এই প্রেমভক্তি এক অপূর্ব বস্তু।এর সম্বন্ধে সাম্প্রদায়িক আলোচনা যথেষ্ট রয়েছে। কিন্তু সাধারণ কৌতূহলী পাঠকের পক্ষে সে সকল সব সময়ে সুলভ নহে।আমি পূর্ব প্রবন্ধে কিছু আলোচনা করেছি।*
*(১)বাংলার প্রেমধর্ম এক অভিনব বস্তু।শান্ডিল্য সূত্র,নারদ পঞ্চরাত্র,ভগবদ্ গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতের মধ্য দিয়ে যে ভক্তিধর্মের সূত্র পাওয়া যায়,শ্রীচৈতন্যের প্রেমধর্ম তারই পরিণতি।*
*(২)শ্রীচৈতন্য এই অভিনব প্রেমধর্ম দাক্ষিণাত্য হতে ফিরে প্রচার করেছিলেন।এই প্রেমধর্মের বৈশিষ্ট্য গোপীভাব বা রাধাভাব।*
*(৩)এই রাধাভাবের ব্যাখ্যা দেখতে পাই রামানন্দ-মিলন সংবাদে রামানন্দ যে কান্তাভাবকে সাধ্য শিরোমণি বলে বর্ণনা করলেন,তাইই অঙ্গীকার করে মহাপ্রভুর প্রেমধর্ম গড়ে উঠিল।*
*(৪)রায় রামানন্দ যে কান্তাভাবের কথা বলেছিলেন,তার মূল দাক্ষিণাত্য দেশেই পাওয়া যায়--, যথা,শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত এবং আলওয়ারদের সঙ্গীতে।*
*(৫)মহাপ্রভুর হৃদয়ে প্রেমের যে বীজ দাক্ষিণাত্যদেশে উপ্ত (বোনা বা বপণ) হল তা বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ গীতিকবি চন্ডীদাসের ও বিদ্যাপতির রস প্রপাতে ফলবান্ বৃক্ষে পরিণত হল।*
*🍀শান্ডিল্যসূত্র যে আকারে আমরা পেয়েছি, তা সম্ভবতঃ খুব প্রাচীন না।তবে শান্ডিল্য যে একজন প্রাচীন ঋষি,তা ছান্দোগ্য উপনিষৎ হতে জানা যায়। শান্ডিল্য পাঞ্চরাত্র মতের প্রবর্তক, এটি শঙ্করাচার্য্যও বলেছেন।*
*🌹দ্বিতীয়তঃ ভগবদ্ গীতা ভক্তিধর্মের প্রাধান্য স্থাপন করেছেন। ভাগবতগীতারও যে একটি জ্ঞানপরা ব্যাখ্যা হতে পারে, শঙ্করমতাবলম্বী বা যোগদর্শনের পক্ষপাতী পন্ডিতগণ ভগবদ্ গীতা হতে তত্ত্বজ্ঞানের প্রাধান্য আবিষ্কার করতে চেষ্টা করেছেন, তা সকলেই জানেন।এখনও কোনও কোনও নবীন মঠাধিকারী জ্ঞানের মুখ্যত্ব ও ভক্তির গৌণত্ব প্রচার করতে তৎপর।বস্তুতঃ গীতায় কি জ্ঞানের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?একবার বিষয়টি ভাল করে বুঝতে চেষ্টা করা হোক।*
*🌷শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং,*
*স মে যুক্ততমো মতঃ।*
*🍀আমি ঐ শ্লোকের মর্ম্ম যেরকম বুঝেছি তা এই, জ্ঞানী হ'তে ভক্ত শ্রেষ্ঠ, সুতরাং জ্ঞান হতে ভক্তি শ্রেষ্ঠ।*
*🌷বহূনাম্ জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্ মাং প্রপদ্যতে।*
*🌹গীতার সপ্তম অধ্যায়ের প্রথম দুইটি শ্লোক এই=*
*ময্যাসক্তমনাঃ পার্থ যোগং যুঞ্জন্মদাশ্রয়ঃ।*
*অসংশয়ং সমগ্রং মাং যথা জ্ঞাস্যসি তৎ শৃণু।।*
*জ্ঞানং তেহহং সবিজ্ঞানমিদং বক্ষ্যাম্যশেষতঃ।*
*যজজ্ঞাত্বা নেহ ভূয়োহন্যজ্ জ্ঞাতব্যমবশিষ্যতে।।*
*🌻অর্থ্যাৎ=হে পার্থ! আমাতে মন আসক্ত হ'লে (অর্থ্যাৎ আমাতে চিত্ত সমর্পণ করিলে) এবং একান্তভাবে আমার শরণাপন্ন হলে,আমাকে নিঃসন্দেহে এবং সম্পূর্ণভাবে কেমন করে জানতে পারবে, তা শ্রবণ কর।আমি তোমাকে বিজ্ঞানসহকৃত জ্ঞান কিরকম,তা অশেষপ্রকারে বলব,তা জানলে আর জানবার কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।*
*🌹এখানে কথা এই যে,ভক্তি আর জ্ঞান তো পরস্পর বিরুদ্ধ না।যে ভক্তির দ্বারা আমাতে চিত্ত সমর্পণ করেছে,আমাকে আশ্রয় করেছে, সেই আমাকে জানতে পারে এটিই অভিপ্রেত।এখানে ভক্তই যে উত্তমাধিকারী এবং ভক্তিশূন্য জ্ঞানে যে ভগবানকে জানা যায় না, তাই বলা হচ্ছে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ৬. ভক্তিধর্ম ও রাধাভাব 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা*
*ভক্তিধর্ম ও রাধাভাব*
*********************
*🍀উপনিষদ্ বলেছেন=*
*তমেব বিদিত্বাহতিমৃত্যুমেতি,*
*নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেহনাই।*
*🌹এই কথার সঙ্গে যে কোন, বিরোধ নাই,এটি দেখাবার জন্যই গীতায় শ্রীভগবান্ বলেছেন যে, আমাতে একান্তভাবে মনোনিবেশ করলে তবেই আমি তোমাকে সেই দুর্লভ জ্ঞান প্রদান করতে পারি,যার পরে আর জানবার কিছুই থাকতে পারে না।*
*🌷ভক্ত্যা মামভিজানাতি যাবান্ যশ্চামি তত্ত্বতঃ।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷তেষাং সততযুক্তানাং ভজতাং প্রীতিপূর্বকম্।*
*🌷দদামি বুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপযান্তি তে।।*
*🌹যে সকল ব্যক্তি আমাতে মনপ্রাণ সমপাণ করেন, (মচ্চিত্তা মদ্ গতপ্রাণা) আমি তাঁদেরকে বুদ্ধি প্রদান করে থাকি,যারদ্বারা তাঁরা আমাকে পেয়ে থাকেন।*
*🌳দ্বাদশ অধ্যায়ের প্রথমেই অর্জুন এই প্রশ্নটি করেছিলেন=*
*🌷এবং সততযুক্তা যে ভক্তাস্তাং পর্য্যুপাসতে।*
*🌷যে চাপ্যক্ষরমব্যক্তং তেষাং কে যোগবিত্তমাঃ।।*
*🌻যে সকল ভক্ত তোমাতে সর্বদা তদগতচিত্ত হয়ে তোমার উপাসন করে, আর যারা তোমাকে অব্যক্ত ও অব্যয় ব্রহ্ম ভেবে উপাসনা করে,এদের মধ্যে কারা শ্রেষ্ঠ যোগী?*
*🌺এই প্রশ্নের ভূমিকাস্বরূপ শ্রীধর স্বামী বলেছেন=*
*পূর্বাধ্যায়ান্তে 'মৎকর্মকৃৎ মৎপরমো মদ্ ভক্তঃ' ইত্যেবং ভক্তিনিষ্ঠস্য শ্রেষ্ঠত্ব মুক্তং, "কৌন্তেয় প্রতিজানীহি " ইত্যাদিনা চ, তত্র তস্যৈব শ্রেষ্ঠত্বং নির্ণীতং তথ "তেষাং জ্ঞানী নিত্যযুক্ত একভক্তির্বিশিষ্যতে" ইত্যাদিনা, সর্বং জ্ঞানপ্লাবেনৈব "জিনং সন্তরিষ্যসি" ইত্যাদিনা চ জ্ঞাননিষ্ঠস্য শ্রেষ্ঠত্বম্ উক্তম্, এবমুভয়োঃ শ্রেষ্ঠ্যেহপি বিশেষজিজ্ঞাসয়া ভগবন্তং প্রতি অর্জুন উবাচ।*
*🌹অর্থ্যাৎ জ্ঞানী ও ভক্ত উভয়কেই কোনও কোনও শ্লোকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে, কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে বস্তুতঃ শ্রেষ্ঠ যোগী কে, এটিই অর্জুন ভগবানকে জিজ্ঞাসা করেছেন। ভগবান তার উত্তরে বলেছেন=*
*🌷ময্যাবেশ্য মনো যে মাং নিত্যযুক্তা উপাসতে।*
*🌷শ্রদ্ধয়া পরয়োপেতাস্তে মে যুক্ততমামতাঃ।।*
*🍁ভগবান এই যে "পরা শ্রদ্ধা" বললেন, এটিরই নাম ভক্তি ; যদি কোন সংশয় থাকে,তা নিরসনের জন্য ভগবান পুনঃ বলেছেন=*
*🌷যে তু সর্বাণি কর্মাণি ময়ি সংন্যস্য মৎপরাঃ।*
*🌷অনন্যেনৈব যোগেন মাং ধ্যায়ন্ত উপাসতে।।*
*🌷তেষামহং সমুদ্ধর্ত্তা মৃত্যসংসারসাগরাৎ।*
*🌷ভবামি ন চিরাৎ পার্থ ময্যাবেশিতচেতসাম্।।*
*🌹এইরকম অসংশয়িত ভাবে ভক্তিযোগের প্রাধান্য স্থাপন করা হয়েছে বলে দ্বাদশ অধ্যায়ের নাম "ভক্তিযোগ"।*
*🌷শ্রদ্ধধানা মৎপরমা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷ভক্ত্যা মামভিজানাতি যাবান্ যশ্চামি তত্ত্বতঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ ভক্তির প্রভাবে আমার স্বরূপ ও সর্বব্যাপিত্ব জানতে পারে*।
*🌺জ্ঞান ও ভক্তি সাধনার দুইটি পথ।একান্ত পৃথক না হলেও মুখ্যত্ব ও গৌণত্ব ভেদে তাদেরকে স্বতন্ত্র বলে স্বীকার করা যায়।জ্ঞান ও ভক্তির প্রাধান্য নিয়ে মতভেদ আছে, থাকবেও। কিন্তু গীতার অভিপ্রায় স্থিরভাবে বিচার করলে "ভক্তির" প্রাধান্যই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত।*
*🌳শ্রীধর স্বামীপাদ জ্ঞান ও ভক্তির সমন্বয় করতে গিয়ে তাঁর সুবোধনী সাকার উপসংহারে বলেছেন=*
*🌷ভগবদ্ ভক্তিযুক্তস্য তৎপ্রসাদাত্মবোধতঃ।*
*🌷সুখং বন্ধবিমুক্তিঃ স্যাদিতি গীতার্থসংগ্রহঃ।।*
*☘যিনি ভগবানে ভক্তিযুক্ত, ভগবানের প্রসাদে তাঁর আত্মতত্ত্ববোধ হয় এবং আত্মতত্ত্ববোধ হলে অনায়াসে তিনি মোক্ষ লাভ করেন।*
*🌳একথা বলবার তাৎপর্য্য এই যে, যাঁরা মোক্ষকেই একমাত্র কাম্য বলে মনে করেন এবং আত্মজ্ঞান তার সাধনস্বরূপ বলে স্বীকার করেন,তাঁদের মতের সঙ্গে গীতার কোনও বিরোধ নাই। কারণ ভক্তিমান ভগবানের অনুগ্রহে আত্মজ্ঞান লাভ করেন এবং তার যে অবশ্যম্ভাবী ফল মোক্ষ, তাও অনায়াসে প্রাপ্ত হন।ভাবার্থ এই যে, ভক্ত কোনদিনই মোক্ষ চাহেন না, কিন্তু ভক্তিযোগের ফলে মোক্ষ আপনি করতলগত হয়।*
*☘এখানে প্রধান কথা এই যে, মহাপ্রভুর ধর্মমতে ভক্তির যে অভিনব এবং স্বতন্ত্র অভিব্যক্তি দেখতে পাই,অন্যত্র তা দেখতে পাওয়া যায় না।মহাপ্রভু যে নূতন প্রণালীতে সাধ্য নির্ণয় করলেন এবং রাধাভাব অঙ্গীকার করে এক অপূর্ব প্রেমধর্মের প্রচার করলেন,তাইই আমার প্রতিপাদ্য। কেউ কেউ বলেন,এতে নূতনত্ব কিছুই নাই ; (যারা বলেন যে এতে কোনও নূতনত্ব নাই, এককথায় বলা যায় তারা ভক্তিহীন) আবার বলেন যে ভাগবত হতে এই চৈতন্যপ্রচারিত ধর্মের ধারা এসেছে। (রায় বাহাদুর রমাপ্রসাদ চন্দের সমালোচনা দ্রষ্টব্য)*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ৭. প্রেম-ধর্ম্ম 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*প্রেম-ধর্ম্ম*
******,***************
*🍀ভাগবত হতে এই চৈতন্যপ্রচারিত ধর্মের ধারা এসেছে,(এটি রায় বাহাদুর রমাপ্রসাদ চন্দের সমালোচনার দ্রষ্টব্য-- উদয়ন,পৌষ ১৩৪১)।*
*🌷স্বীকৃত্য রাধিকাভাবকান্তী পূর্ব্বসুদুষ্করে।*
*🌷অন্তর্বহীরসাম্ভোধিঃ শ্রীনন্দনন্দনোহপি সন্।।*
*(গৌরগণৌদ্দেশদীপিকা)*
*🍀শ্রীচেতন্য মহাপ্রভুর ধর্মমত কি, তা নিম্নলিখিত শ্লোক হতে বুঝতে পারা যায়।*
*🌷আরাধ্যো ভগবান্ ব্রজেশতনয়স্তদ্ধাম বৃন্দাবনং,*
*🌷রম্যা কাচিদুপাসনা ব্রজবধূবর্গেণ যা কল্পিতা।*
*🌷শাস্ত্রং ভাগবতং প্রমাণমমলং প্রেমা পুমর্থো মহান,*
*🌷শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভোর্মতমিদং তত্রাদরো নঃ পরঃ।।*
*🌻মহাপ্রভুর মতে শ্রীকৃষ্ণই উপাস্য, তাঁর ধাম শ্রীবৃন্দাবন ; সেই বৃন্দাবন বিলাসিনীগণ যে মধুরভাবে তাঁকে ভজনা করেছিলেন,তাইই শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা ; এই ধর্মের বিশুদ্ধ প্রমাণ শ্রীমদ্ভাগবত, এবং শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থ প্রেম।*
*🌹এই মতের বৈশিষ্ট্য বুঝতে হলে শ্রীমন্ধ্বাচার্য্যের মতের সঙ্গে পরিচিত হওয়া আবশ্যক।মধ্বাচার্য্য শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের একজন আদিগুরু বলে কথিত হন।খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তিনি প্রাদুর্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর মত নিচের শ্লোকের পাওয়া যায় =*
*শ্রীমন্ধ্বমতে হরিঃ পরতরঃ সত্যং জগৎ তত্ত্বতো।*
*ভেদো জীবগণহরেরনুচরাঃ নীচোচ্চভাবং গতঃ।।*
*মুক্তির্নৈজসুখানুভূতিরমলা ভক্তিশ্চ তৎসাধনং।*
*হ্যক্ষাদি ত্রিতয়ং প্রমাণমখিলাম্নায়ৈকবেদ্যো হরিঃ।।*
*🌻মাধ্বাচার্য্য মতে হরি আরাধ্য, (শ্রীচৈতন্য মতে শ্রীকৃষ্ণ); মধ্বাচার্য্য মতে পুরুষার্থ বা কাম্য নিজ সুখানুভূতিরূপ মুক্তি, তাঁর সাধন বিশুদ্ধ ভক্তি (শ্রীচৈতন্যমতে পুরুষার্থ বা একমাত্র কাম্য প্রেম এবং তাঁর সাধন গোপীর ভাবে ভজন)। মধ্বমতে ভগবৎসম্বন্ধীয় জ্ঞানের প্রমাণ বেদ (শ্রীচৈতন্যমতে শ্রীমদ্ভাগবত)।*
*🍀সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পূর্বাচার্য্য হতেও মহাপ্রভু এক নূতন পন্থা বা পথ প্রবর্তিত করলেন।সেই পন্থার স্বরূপ কি, তাইই আমার পূর্ব প্রবন্ধে দেখাতে চেষ্টা করছি। "রম্যা কাচিদুপাসনা" এখানে "রম্য" অর্থ্যে--,যা আমাদের রসানুভূতি বা Aesthetic sentiment কে পরিতৃপ্ত করে! "কাচিৎ" বলবার তাৎপর্য্য এই যে,এটি অনির্বচনীয়। ব্রজবধূগণ কি ভাবে ভজন করতেন, তা মুখে বলে বুঝানো যায় না।তাঁদের দাসীর-দাসীর পদাঙ্গ অনুসরণ করে সাধন-পথে অগ্রসর হতে হলে জানতে পারা যায় যে,গোপীদের ভজন কি বস্তু।এটিই বৈষ্ণব আচার্য্যগণের অভিপ্রায়।🌹প্রেমকে পুরুষার্থ বলায় বুঝতে হবে যে,এক নূতন রাজ্যের বার্তা শ্রীমন্মহাপ্রভু জগতে প্রচার করলেন। "মুক্তি" "মুক্তি" এইকথা আবহমানকাল হতে আমাদের দেশ আমাদের শুনাচ্ছেন। হঠাৎ এক নূতন সংবাদ আসিল "প্রেম"। সম্ভবতঃ শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী এই "প্রেম" তত্ত্বের আগমনী গেয়েছিলেন, তাঁর শিষ্য শ্রীঈশ্বর পুরীকে তিনি দীক্ষা দিয়ে --*
*👌বর দিলা কৃষ্ণে তোমার হউক প্রেমধন।*
*🌻আপানারা সকলেই জানেন শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর শিষ্য। বৈষ্ণবগণ যখন প্রেমকে অঙ্গীকার করলেন,তখন খ্রীষ্টানরা বলে উঠিল, এ তো আমাদেরই বস্তু ভারতবর্ষ এই প্রথম তা আত্মসাৎ করল। মহাভারতে নারদের শ্বেতদ্বীপ গমন এই চৌর্য্যাপরাধের প্রমাণস্বরূপ উদ্ধৃত হল।*
*🍀কিন্তু ব্যাপার এত সহজ নহে।মহাপ্রভুর ভাষায় যে "প্রেম" মূর্ত্ত হল,তা সাধারণ প্রেম নহে। এ প্রেমের কষ্টিপাথর, বিরহ।বিরহের তীব্রতা যতই বাড়বে প্রেমের গভীরতা সপ্রমাণ হয়। নয় তো প্রেম প্রেমই নয়। মুরারি গুপ্ত বললেন=*
*খাইতে শুইতে রৈতে, আন নাহি লয় চিতে,*
*বঁধু বিনা আন নাহি ভায়।*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুও বললেন=*
*যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্।*
*শূন্যায়িতং জগৎ সর্ব্বং গোবিন্দবিরহেণ মে।।*
*🌻গোবিন্দ-বিরহে এক নিমেষ যুগযুগান্ত বলে মনে হয়,সমস্ত জগৎ শূন্য বলে বলে হয়!এটিই প্রেমের আদর্শ।যে প্রেমে ভগবানকে লাভ করা যায়,যে দুর্লভ প্রেম ভগবানেরও আস্বাদ্য, সে প্রেম কোথায় দেখতে পাওয়া যায়?*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
*সেই প্রেম নৃলোকে না হয়।*
*যদি হয় তার যোগ,না হয় তার বিয়োগ,*
*বিয়োগ হইলে কেহ না জীয়য়।।*
*🌺বিরহে হোস্তস্মি ণ কো জীঅই--, এমন প্রেম হলে তার বিরহে কেউ বাঁচতে পারে না।এটিই গোপীপ্রেমের আদর্শ।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ৮. প্রেমধর্ম 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙏*
*🌻🌻প্রেমধর্ম🌻🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু নিজের জীবনে সেই আদর্শ দেখিয়ে গিয়েছেন=*
*শ্রীরাধার ভাব সার,আপনে করি অঙ্গীকার,*
*সেই তিন বস্তু আস্বাদিলা।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*এই গুপ্তভাব সিন্ধু,ব্রহ্মা না পায় যায বিন্দু,*
*হেন ধন বিলাইল সংসারে।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*কহিবার কথা নহে,কহিলে কেহো না বুঝয়ে,*
*হেন চিত্র চৈতন্যের রঙ্গ।*
*সেই সে বুঝিতে পারে,চৈতন্যের কৃপা যারে,*
*হয় তার দাসানুদাস সঙ্গ।।*
*(শ্রীচৈঃচঃ মধ্যলীলা)*
*🌻আবার কবিকর্ণপুর মহারাজ প্রতাপরুদ্রের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।*
*🌷আদ্যঃ কোহপি পুমান্,*
*নবোৎসুক-বধূকৃষ্ণানুরাগব্যথা-*
*🌷স্বাদী চিত্রমহো বিচিত্র-,*
*মহহো চৈতন্যলীলায়িতম্।*
*🍀এই যে "নবোৎসুক-বধূকৃষ্ণানুরাগব্যথা", এটিই "রম্যা কাচিদুপাসনা ব্রজবধূবর্গেণ যা কল্পিতা"।*
*🌺শ্রীমদ্ভাগবতে "প্রেম" আছে। গোপীদের প্রেমের পরাকাষ্ঠা আছে। কিন্তু নাই রাধাভাবের ভজন।সেই আত্মহারা প্রেমের অর্ঘ্য সাজিয়ে ভগবচ্চরণে অর্পণ করবার পন্থা প্রদর্শন করলেন শ্রীচৈতন্যদেব। তিনি যে এই প্রেমকেই পরম পুরুষার্থ বললেন,এটিই ভক্তিধর্মের ইতিহাসে একটি নূতন অধ্যায়ের সূচনা।আমার প্রতিপাদ্য এই যে,সেই নূতন তত্ত্ব, বিশেষ কোরে কান্তাভাবের ভজন সম্বন্ধে মহাপ্রভু দাক্ষিণাত্যদেশের ভাবধারার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।দাক্ষিণাত্য ভ্রমণকালে তিনি অনেক সময়ে এই ভাব আস্বাদন করবার সুযোগ পেয়েছিলেন।প্রথতমতঃ রায় রামানন্দ সাধ্য সাধনতত্ত্ব নির্ণয় প্রসঙ্গে এই সুন্দর ভাবটির মর্মোদঘাটন করেন=*
*🌷রায় কহে কান্তাপ্রেম সর্বসাধ্যসার।*
*🍀যাইহোক,ভক্তিধর্মের প্রভাব যে দাক্ষিণাত্যদেশ হতে এসেছিল।সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই।এই ভক্তিধারা বৃন্দাবনের পথে বাংলায় পৌঁছিলেও ইহার মূল প্রস্রবণ বোধ হয় দাক্ষিণাত্যে।সমালোচকও স্বীকার করেন "শ্রীমদ্ভাগবত রচনার সময় অন্যান্য দেশে শুদ্ধাভক্তিসম্পন্ন লোক যখন অল্পসংখ্যক ছিল এবং তাম্রপর্ণী এবং কাবেরীর তীরে দ্রবিড়দেশে বহুসংখ্যক ছিল,তখন অনুমান করা যেতে পারে,এই ভক্তির জন্মস্থান দ্রবিড়দেশ।কান্তাভাবের উপাসনাও দাক্ষিণাত্য হতে এসেছে। "রাধানাম" পূর্বে থাকলেও, রামানন্দ-মিলনের আগে "রাধাভাব" নিয়ে এমন প্রেমভক্তির ধর্ম গড়ে উঠে নাই।এটিই লেখকের বক্তব্য!চৈতন্যভাগবতে দেখা যায়,মহাপ্রভু "গোপী" "গোপী" বলিয়া এক সময়ে কেঁদে উঠেছিলেন। কিন্তু শ্রীচৈতন্যভাগবতে রাধাভাবের কোনও উল্লেখ দেখা যায় না।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ৯. প্রেমসম্পুট 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*প্রেমসম্পুট*
*******************
*🍀আঁধারের নিতল নীল বুকের মাঝে তারাগুলি নিমিখ-শূন্য দৃষ্টিতে জেগে থাকে, রহস্যাচ্ছন্ন কালের বক্ষেও তেমনি কতকগুলি উজ্জ্বল চরিত্র অম্লান জ্যোতিতে দেদীপ্যমান থাকে।শ্রীরাধা সেইরকম একটি চরিত্র। শ্রীরাধা বিশুদ্ধ প্রেমের আদর্শ।তিনি কৃষ্ণময়ী।কৃষ্ণ-প্রেম বলতে যা বুঝায় তিনি তাঁর মূর্তিমতি প্রতিমা।তিনি সর্বাংশে কৃষ্ণ-স্বরূপিনী।*
*🌷সর্বাংশৈঃ কৃষ্ণসদৃশী তেন কৃষ্ণ-স্বরূপিনী।*
*(ব্রহ্মবৈবর্ত্তে।)*
*প্রেমের স্বভাব এই যে,সেটি দুইটি হৃদয়কে গলিয়ে এক করে দেয়।যতক্ষণ এই একত্ব সাধিত না হয়, ততক্ষণ প্রেম হল না।শ্রীরাধা উক্তি*
*🌷কৃষ্ণ প্রাণাধিকা কৃষ্ণপ্রিয়া কৃষ্ণস্বরূপিনী।ঐ*
*☘কৃষ্ণ হতে অতিরিক্ত কোনও সত্তা তাঁর নাই।তাই তাঁকে পন্ডিতগণ বলেন "প্রেম-শিরোমণি" "মহাভাবস্বরূপিনী" "প্রেমরসের সীমা"।কল্পনাপ্রেমের এতদপেক্ষা কোনও উজ্জ্বলতর চিত্র অঙ্কিত করতে পারে নাই। সাংসারিক প্রেমের কলঙ্ক-কালিমাময় নিকষে সোনার রেখাটির মত এই প্রেমের চিত্র।এই প্রেম-চিত্রের সামনে স্বকীয়া পরকীয়া প্রভৃতি প্রশ্নউঠতে পারে বলে আমি মনে করি না।প্রেম যেখানে পাগলা ঝোরার মত শত শত ধারায় ছুটে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়,সেখানে নীতিবাদীদের সমস্ত সংশয় বিতর্ক স্তব্ধ হয়ে যায় না কি?গোষ্পদ বা পুষ্করিণীর গভীরতা ও দৈর্ঘ্য সমালোচনার বিষয় হয় বটে, কিন্তু মহাসমুদ্রের কুলে দাঁড়িয়ে কেউ কি সে সব কথা একবারও ভাবে? রাধাপ্রেম ঐ পাগলা ঝোরার ন্যায় সব বাধাকে উপেক্ষা করে,গভীরতায় সমুদ্রকেও নিন্দা করে, নিঃস্বার্থতায় সমস্ত উপমাকে হার মানায়।*
*🌹এই প্রেমের ছবি ফুটে উঠেছিল পদাবলী সাহিত্যে,পদাবলী সত্যই প্রেমসম্পুট বা প্রেমের রত্নকৌটা। শ্রীজয়দেব গোস্বামী,চন্ডীদাস, বিদ্যাপতি প্রেমের যে ছবি এঁকেছেন, তা বর্ণে ও বৈচিত্র্যে অতুলনীয়। শ্রীচৈতন্যদেব এই প্রেমের পরিমলে পাগল।বৈষ্ণবগণ বলেন তিনি ভগবানের অবতার।*
*🍀কিন্তু এ এক নূতন অবতার, এ প্রেমের অবতার। তিনি প্রেমের ঠাকুর।এমন অবতারের কথা পূর্বে কেউ কখনও শুনে নাই।মহাপ্রভু সন্ন্যাসী, কিন্তু প্রেমিক।প্রেমিক কখনও সন্ন্যাসী হতে দেখা যায় না, সন্ন্যাসী কখনও প্রেমিক হয় না। কিন্তু গোরাচাঁদ কখনও প্রেমে অজ্ঞান, কখনও বিরহে ব্যাকুল।*
*কি ভাব উঠিল মনে,কান্দিয়া আকুল কেনে,*
*সোনার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।*
*🌹এই যে চিত্র,এটির সঙ্গে শ্রীরাধা-চিত্রের সাদৃশ্য বড় সুস্পষ্ট।সেইজন্য শ্রীগৌরসুন্দরকে বলে "রসরাজ মহাভাব"।তিনি প্রেমিক,রসিক-শেখর, এইজন্য তিনি রসরাজ।তিনি প্রেমের চরম অভিব্যক্তি,এইজন্য মহাভাব। এই যে প্রেম ও রসে মাখামাখি,এটিই বৈষ্ণবধর্মের সর্বাপেক্ষা নিগূঢ় ও পরমাস্বাদ্য রহস্য।এটি হতে মধুর ও উপভোগ্য আর কিছুই নাই।অন্য সমস্তই বাহ্য।প্রেম-যমুনার মূলপ্রপাত খুঁজতে গিয়ে মহাপ্রভু যখন উর্দ্ধ হতে উর্দ্ধতর শিখর অতিক্রম করে রাধা-প্রেমরূপ যমুনোত্রীর স্বচ্ছ ধারায় অবগাহন করলেন, তখন আর কোনরকম বিচার রইল না।এইখানে সমস্ত জিজ্ঞাসা,সমস্ত কৌতূহল মুহূর্তে নিরস্ত হয়ে গেল।*
*☘শ্রীচৈতন্যের পরে এই রাধাপ্রেমের মাধুর্য্য কাব্যে ও ছন্দে আরও বিকসিত হয়ে উঠিল।গোবিন্দ দাস,জ্ঞানদাস, নরোত্তমদাস প্রভৃতির কাব্যে এই প্রেমের মাহাত্ম্য নানা ছন্দে, নাধা ভাবে বর্ণিত হল।নরোত্তম দাস ঠাকুর তাঁর একটি প্রসিদ্ধ প্রার্থনার পদে বললেন=*
*🌷হরি হরি আর কবে হেন দশা হব।*
*কবে বৃষভানুপুরে, আহিরী গোপের ঘরে,*
*তনয় হইয়া জনমিব।।*
*🍀
*এর পরেও, পন্ডিত প্রবর শ্রীবিশ্বনাথ চক্রবর্তী তাঁর গ্রন্থে এই রাধা-প্রেমের একটি সুন্দর বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তাঁর বর্ণনা ভঙ্গীটি এরকম চিত্তাকর্ষক যে,সেটি একটু বিস্তৃত ভাবে উল্লেখ করলে বোধ হয় অসঙ্গত হবে না।*
*🌻শ্রীরাধার মন পরীক্ষা করবার জন্য একদিন শ্রীকৃষ্ণ মোহিনী-বেশ ধারণ করে বৃষভানু রাজার অন্তঃপুরে প্রবেশ করলেন।রাধিকা সেই অবগুন্ঠনবতী যুবতীকে দেখে তাঁর সখীদের বললেন, জেনে আই তো, ঐ রমণী কি প্রয়োজনে এসেছেন। সখীগণ যুবতীকে ঐরকম প্রশ্ন করলে তিনি মৌনী রইলেন,কোনও উত্তর করলেন না।তখন রাধা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন=*
*🌹অয়ি শুভে!আপনি কে? এবং কি প্রয়োজনে এখানে এসেছেন? আপনার রূপ দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোন সম্ভ্রান্ত ঘরের কুলবধূ ; আপনার আগমনের উদ্দেশ্য জ্ঞাপন করে আমাকে কৃতার্থ করুন। এইভাবে পুনঃপুনঃ জিজ্ঞাসিত হয়ে রমণী বেশধারী শ্রীকৃষ্ণ বললেন, আমি দেবী, স্বর্গে আমার নিবাস।আমি যে জন্য ব্যাকুল হয়ে তোমার কাছে এসেছি তা শোন। তোমাদের এই বৃন্দাবনে যে বেণুধ্বনি হয়,তার বিক্রম স্বর্গপুরে প্রবেশ করে চিরযৌবনা দেবাঙ্গনাগণকেও বিভ্রান্ত করেছে।আমি সেই বংশীধ্বনির অনুসরণ করে এখানে এসেছি।কয়েকদিন বংশীবটে থেকে তোমাদের অনুপম নানান বিলাসও দেখলাম।অবশ্য কোন পরপুরুষ আমাকে দেখতে পাই নাই। এইকথা শুনে শ্রীরাধা পরিহাস করে সেই নবীনা যুবতীকে বললেন "গোপনে আপনি যখন শ্রীহরির লীলা প্রত্যক্ষ করেছেন,তখন আপনার আর পরপুরুষের প্রয়োজন কি? দেবাঙ্গনাবেশী শ্রীকৃষ্ণ বললেন,সখি! তোমার সঙ্গে পরিহাসে কে পারবে? তুমি সর্বগুণযুক্তা। তুমি মানবী হলেও,সুরাঙ্গনাগণ তোমার গুণকথা নতমস্তকে শুনেন।বৈকুন্ঠেও তোমার মত প্রেমবতী কেউ নাই।আমি কৈলাসে হৈমবতীর সভায় তোমার অনেক গুণ-বর্ণনা শুনলাম।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১০. প্রেমসম্পুট 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*প্রেমসম্পুট*
. *******************
*🍀কিন্তু আমি এসে যা প্রত্যক্ষ করলাম,তাতে আমার দুঃখের অবধি নাই।আমি দেখলাম সুচতুরশিরোমণি শ্রীকৃষ্ণ তোমাকে বঞ্চনা করে অন্য রমণীর প্রেমে মুগ্ধ হয়েছেন।তোমাকে সঙ্কেত স্থানে আসতে বলে তিনি নিতান্ত নিষ্ঠুরভাবে তোমাকে উপেক্ষা করে অন্য নায়িকার কুঞ্জে নিশিযাপন করলেন।এইরকম কপটচারী শঠের প্রতি তোমার এত অনুরাগ দেখে আমি আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে গিয়েছি। শ্রীমতী রাইধনি ধীর ভাবে সমস্ত কথা শুনে, "কুমারসম্ভবের পার্বতীর পার্বতীর মত ক্রোধে স্ফুরিতাধর হলেন না।ছদ্মবেশী শিবের মুখে শিবনিন্দা শুনে পার্বতী ধৈর্য্য ধারণ করতে পারেন নাই। একবার তিনি যে কারণে দেহত্যাগ করে কর্ণযুগলকে শাস্তি দিয়েছিলেন, আবারও প্রায় তেমনি দশা ঘটবার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু শ্রীরাধিকা জানতেন যে,তাঁর প্রেমের মর্ম বুঝতে পারা সকলের পক্ষে সম্ভব না।তাই তিনি প্রতিবাদরূপে কেবল বললেন, সুন্দরী!শ্রীকৃষ্ণের মত তোমারও এই একটি গুণ দেখছি যে,তুমি আমার সমক্ষে আমার প্রিয়তমের এত নিন্দা করলেও আমি তোমার প্রতি ক্রমশ অনুরক্ত হয়ে পড়ছি।তোমার উপর আমার ক্রোধ হচ্ছে না, এটিই আশ্চর্য্য। রাধা বলছেন, তবে তুমি যখন জিজ্ঞাসা করলে,তখন শোন। আমার প্রিয়তম যে সঙ্কেতকুঞ্জে আমাকে আহ্বান করে নিজে আগমন করতে পারলেন না,এতে তাঁর দোষ কিছুমাত্র নাই।অন্যের দ্বারা প্রতারিত হয়েই তিনি ঐরকম করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে সুখী হতে পারেন নাই। আমি যে সজল নয়নে নিশিজাগরণে তাঁর প্রতীক্ষা করেছি, এই চিন্তা সর্বদা মনে হওয়াতে তিনিও সেই রজনী অতিকষ্টে অতিবাহিত করেছিলেন।পরদিন প্রভাতে তিনি আমার কাছে আসিলে আমি যে অভিমান করেছিলাম,তা কেবল প্রিয়তমের দুঃখ স্মরণ করে।আমার সেই সকোপ তিরস্কার তিনি অত্যন্ত উপভোগ করেছিলেন।*
*আর যে রাসমন্ডল হতে আমাকে বনান্তরে নিয়ে গিয়ে হঠাৎ পরিত্যাগ করে যাবার কথা বলিলে, ওগো সখী! তাতে প্রাণাধিকের কিছুমাত্র দোষ নাই। কেন তা বলছি=*
*☘তিনি আমাকে নিয়ে যখন অন্যত্র চলে গেলেন,তখন আমার অন্য সখীরা আমার প্রতি স্বভাবতই ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছিল।সেইজন্য প্রিয়তম আমাকে নানাপ্রকারে আনন্দ প্রদান করে অন্তর্হিত হলেন। অভিপ্রায় এই যে, অন্য সখীরা আমাকে তদবস্থায় দেখলে তাদের ঈর্ষ্যা তো দুর হবেই,অধিকন্তু কৃষ্ণবিরহে আমার কি দশা হয়,তা দেখে তারা আমার প্রেমের শ্রেষ্ঠতা অনুভব করবে। সুতরাং হে সুন্দরী! আমার প্রাণবল্পভের কোনও অপরাধ নাই। তিনি "প্রেমাম্বুধি র্গুণমণিখনিঃ", তাঁর তুলনা নাই।*
*🌻শ্রীমতীর এই সব যক্তি শুনে সেই যুবতী বললেন=*
*🌷দোষা অপি প্রিয়তমস্য গুণা যতঃ স্যুঃ,*
*তদ্দত্তকষ্টশতমপ্যমৃতায়তে যৎ।*
*তদ্দুঃখলেশকণিকাপি যতো ন সহ্যা,*
*ত্যত্ত্বাত্মদেহমপি যং ন বিহাতুমীষ্টে*।
*যোহসন্তমপ্যনুপমং মহিমানমুচ্চৈঃ,*
*প্রত্যায়য়ত্যনুপদং সহসা প্রিয়স্য।।*
*প্রেমা স এব •••••••••••••••••••*
*🌺যাতে প্রিয়তমের দোষগুলিও গুণের মত প্রতীত হয়, যাতে তাঁর দেওয়া শত শত কষ্টকেও অমৃত বলিয়া মনে হয়,যাতে প্রিয়তমের দুঃখলেশকণিকাও সহ্য করতে পারা যায় না, যার জন্য নিজের দেহপাত হলেও প্রিয়তমকে ত্যাগ করতে ইচ্ছা হয় না, যা প্রিয়তমের মহিমা না থাকলেও পদে পদে অনুপম মহিমা অনুভব করিয়ে থাকে, তারই নাম প্রেম।*
*🍀রাধে!বুঝলাম এটিই তোমার প্রেমের রহস্য।সত্যই তুমি প্রেমবতী। হৈমবতীর সভায় যা শুনেছিলাম যে, তোমার মত প্রেমিকা জগতে আর নাই, আজ তার সত্যতা প্রত্যক্ষ করলাম। কিন্তু একটি বিষয়ে আমার সন্দেহ যাচ্ছে না ; কৃষ্ণের মনের কথা তুমি জানলে কেমন করে? তিনি যে কারণে তোমার কাছে আসতে পারেন নাই অথবা যে অভিপ্রায়ে তোমাকে পরিত্যাগ করেছিলেন,তা তুমি কি করে জানলে? তোমার কি "অচ্যুত-যোগ সিদ্ধ আছে, যার দ্বারা অন্যের মনের কথা জানতে পারা যায়?*
*🌳তখন রাধিকা বললেন, হে সুন্দরী!তোমরা দেবাঙ্গনা, অচ্যুত-যোগ-সিদ্ধিতে তোমাদের প্রয়োজন থাকতে পারে ; আমি মানবী, আমরা সেটি কোথায় পাব?প্রিয়তমের মনের ভাব জানতে আমার কি কোনও যোগের প্রয়োজন হয়? আমরা যে পরস্পরের মনোভাব জানতে পারি,এ আবার বেশী কথা কি?*
*🌷একাত্মনীহ রসপূর্ণতমেহত্যগাধে,*
*একাসুসংগ্রথিতমেব তনুদ্বয়ং নৌ।*
*কস্মিংশ্চিদেক সরসীব চকাসদেক-*
*নালোত্থমব্জযুগলং খলু নলপীতম্।।*
*🌻সখি!একটি সরোবরে নীলপীত দুইটি পদ্ম একনাল হতে উত্থিত হলে যেমন হয়,তেমনি অতি অগাধ রসপূর্ণতম একটি আত্মা হতে আমাদের দুই তনু আবির্ভূত হয়ে একই প্রাণসূত্রে তা গ্রথিত আছে। এইজন্যই একের মনের ভাব অপরের মনে তৎক্ষণাৎ প্রতিফলিত হয়।*
*🌺তখন সেই মোহিনী বললেন, প্রিয় সখি! তুমি যা বললে তা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি এর প্রত্যক্ষ কোন প্রমাণ না পেলে নিঃসন্দেহ হতে পারছি না। রাধিকা জিজ্ঞাসিলেন, কি প্রত্যক্ষ প্রমাণ তোমার চাই বল? তখন সেই সুন্দরী কৌতূক সহকারে বললেন, আচ্ছা, কৃষ্ণ কাছেই থাকুন বা দূরেই থাকুন, তুমি তাঁকে একটি বার স্মরণ কর। তিনি যদি তোমার ডাক শুনে তোমার কাছে এই মুহূর্তে আগমন করেন, তাহলে আমার সংশয় দূরীভূত হবে।হে কৃষ্ণপ্রিয়ে! এ সময়ে গুরুজনের এখানে আগমনের সময় না, অতএব তুমি নিঃসঙ্কুচিত চিত্তে তাঁকে একবার স্মরণ কর, কৃষ্ণ এখানে আসুন,আমরা তাঁকে দেখে আনন্দলাভ করি।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*🍀এইরকমভাবে অনুরুদ্ধ হয়ে বৃষভানু-নন্দিনী নেত্রযুগল নিমীলিত করে নিজ কান্তের ধ্যান করতে লাগলেন এবং সমস্ত ইন্দ্রিয়বৃত্ত নিরোধ করে যোগিনীর মত মৌন অবলম্বন করলেন।যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ নারীবেশ পরিত্যাগ করে "ধ্যানস্তিমিত নয়না গলদশ্রুবয়না" শ্রীরাধিকাকে মুহুর্মুহু চুম্বন করলেন।*
*🌹মহামহোপাধ্যায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ১৬০৬ শকে এই প্রেমসম্পূট কাব্য প্রণয়ন করেন।এই কাব্যে কবি যে প্রেমের বিশ্লেষণ দিয়েছেন,তা অত্যন্ত উপভোগ্য।অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজনগণও শ্রীরাধা-প্রেমের চিত্রাঙ্কনে যথেষ্ট নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন।মা যশোমতী যেরকম বাৎসল্যের প্রতিমূর্তি, শ্রীরাধিকা তেমনই প্রেমের প্রতিমূর্তি।বৈষ্ণব কবিগণ যেন হৃদয়ের শোণিত বিন্দু দিয়ে এই প্রেমের ছবি এঁকেছিলেন। জ্ঞান দাস,গোবিন্দ দাসের পদাবলী হতে এই প্রেম-পরিকল্পনার একটু নমুনা দিচ্ছি।*
*🌳কিশোরী কৃষ্ণপ্রেমের আস্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু লজ্জাবিজড়িত নবোঢ়ার মত সখীগণকে কিছু বলতে পারছেন না। সখীরা একদিন অনুযোগ করে বলছেন=*
*লহু লহু মুচকি,হাসি চলি আওলি,*
*পুন পুন হেরসি ফেরি।*
*জনু রতি পতি সঞে,মীলল রঙ্গভূমে,*
*ঐছন কয়ল পুছেরি।।*
*ধনি হে বুঝলুঁ এ সব বাত।*
*এতদিনে তুহুঁক, মনোরথ পূরল,*
*ভেটলি কানুক সাথ।।*
*🌻রাধে!তুমি মৃদু মৃদু মুচকি হেসে চলে আসছ এবং পুনঃপুনঃ পিছনে ফিরে চাইছ।তোমার রঙ্গ দেখে মনে হচ্ছে যেন রঙ্গমঞ্চে রতি মদনের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন।মদন অনঙ্গ বলিয়া তাঁকে দেখা যায় না, কিন্তু রতির অভিনয় দেখে যেমন অনঙ্গের অস্তিত্ব অনুমান করতে হয়, তোমার হাসি হাসি ভাব ও পুনঃ পুনঃ ফিরে ফিরে চাওয়া দেখে তোমার প্রেমাস্পদের সঙ্গে মিলনের কথাও বুঝতে পারা যাচ্ছে। বুঝলাম যে, এতদিনে তোমার মনোরথ পূর্ণ হয়েছে এবং নাগরেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তোমার দেখা হয়েছে।*
*হাম সব নিজ জন,কহসি রাতিদিন,*
*সো সব বুঝলুঁ আজে।*
*জ্ঞান দাস কহ, সখি তুঁহু বিরমহ,*
*রাই পায়ল বহু লাজে।।*
*🌹সখীগণ বলছেন,আমরা তোমার একান্ত আপনার জন,একথা রাত্রিদিন বলে থাক। কিন্তু আজ সে সব বুঝা গেল। অর্থ্যাৎ তোমার প্রেমের কথা আমাদের কাছে গোপন করতেই ব্যস্ত।রাধে!একে কি আপন জন বলে? জ্ঞানদাস বলছেন,সখি তুমি আর বলিও না, রাইধনি অত্যন্ত লজ্জা পেয়েছেন।*
*🌺সখীগণ শ্রীরাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার সঙ্গিনী মাত্র নহেন,তাঁরা এই প্রেমের কারিকর।এই পিরীতিরত্ন ভাঙ্গলে তা জোড়া লাগাতে তাঁরাই পটু। বস্তুতঃ সখী নহিলে এই প্রেমলীলা অসম্পূর্ণ থাকত।🔵রবীন্দ্রনাথ শকুন্তলার সম্বন্ধে বলেছেন যে,শকুন্তলা-চিত্র অনুসূয়া ও প্রিয়ম্বদার দ্বারা সম্পূর্ণ হয়েছে,তেমনি আমরা বলতে পারি,সখী ছাড়া শ্রীরাধার চিত্র কখনও পূর্ণ,সর্বাঙ্গসুন্দর হতে পারত না।সখীগণ শ্রীরাধার পরিপূর্ণ আস্থা।সখীগণের অনুযোগের উত্তরে রাধিকা বলছেন=*
*🌷দরশনে লোর নয়ন যুগ ঝাঁপ।*
*🌷করইতে কোর দুহু ভুজ কাঁপ*।।
*🌷দুর কর এ সখি সো পরসঙ্গ।*
*🌷নামহি যাক অবশ করু অঙ্গ।।*
*🌷চেতন না রহ চুম্বন বেরি।*
*🌷কো জানে কৈছে রভস-রস-কেলি।।*
*🌹সখি! তোমরা আমাকে মিছাই দোষ দিচ্ছ।আমি ইচ্ছা করে তোমাদের কাছে কিছুই গোপন করি নাই।শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে আমার প্রণয়ের কথা তোমরা জানতে চাইছ, কিন্তু আমি কি বলব?যাঁকে দেখলে নয়নযুগল অশ্রুতে ভরে যায় (ভাল করে দেখবার পক্ষে বাধা জন্মায়) যাঁকে আলিঙ্গন করতে গেলে ভূজদ্বয় কম্পিত হয়,তাঁর সঙ্গে প্রেম-ক্রীড়ার কথা কি বলব? সখী সে সব প্রসঙ্গ আর তুলিও না। সখী সত্যি কথা বলছি,যাঁর নাম মনে হতেই অঙ্গ অবসন্ন হয়ে আসে,যিনি চুম্বন করলে আমার চেতনা লুপ্ত হয়,তাঁর রভস-কেলি কেমন তা কি আমি জানি?আমি নিজেই জানি না, তা তোমাদেরকে বলব কি ভাবে?*
*🌷কানুক পরশে যতহুঁ অনুভাব।*
*🌷অনুভবি আপে পরক সমুঝাব।।*
*👥শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শে যে সব বিচিত্র অনুভাব উদিত হয়,তা আমি নিজে বুঝলে তো পরকে বা তোমাদের বুঝাব?*
*🌷তবহু জগত ভরি অকিরিতি এহ।*
*🌷রাধা-মাধব অবিচল নেহ।।*
*🌹আমার তো ব্যাপার এই, অথচএর মধ্যে জগতে এই কলঙ্ক রটেছে যে,রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে অত্যন্ত প্রণয়।*
*🌷এ কিয়ে সুদঢ় কিয়ে পরিবাদ।*
*🌷গোবিন্দ দাস কহ না ভাঙ্গে বিবাদ।।*
*🌹এই যে লোকে বলে এটা কি, সুনিশ্চিত অর্থ্যাৎ সত্য কথা,অথবা মিছাই কলঙ্ক?গোবিন্দ দাস বলছেন যে,এ সন্দেহ কোন দিন ঘুচবে না।*
🦚🙏🪷🪔🌷🦜🌸🦋🌸🦜🌷🪔🦋
🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
