শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
*🌹পদরজঃ প্রার্থী সেবকাধম শ্রীরাধাবিনোদ সরকার প্রণীত।নিত‍্যানন্দবংশাত্মজ অনাদি মোহন গোস্বামী,পঞ্চতীর্থ,সম্পাদক,শ্রীশ্রীশ‍্যামসুন্দর পত্রিকা।*

*🙏🙏🙏🙏নিবেদন🙏🙏🙏🙏*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

*🌷বন্দে নন্দব্রজস্ত্রীনাং নাদ রেণুমভীক্ষ্ণশঃ।*
*🌷যাসাং হরিকথোদগাৎ ভুবনত্রয়ম্।।*
*🍀যাঁদের হরিকথা গীতালাপনে এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করেছেন,আমি সেই নন্দব্রজের পত্নী মাত্রেরই অসংখ্য চরণরেণুর মধ্যে একটা রেণুকেই প্রতিক্ষণই বন্দনা করি।*
*🙏মূর্তিমতী করুণারূপিণী শ্রীরাধারাণীর অপার করুণায় এবং তদ্ভাবাচ‍্য শ্রীগৌরসুন্দরের শ্রীচরণ কৃপায় ও নিষ্কিঞ্চন ভক্তমহতের চরণরেণুর প্রসাদে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত "প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব" রসগ্রন্থটি প্রকাশিত হল।প্রায় পনের বৎসর আগে "মনুষ‍্যত্বের ক্রমবিকাশে আদর্শ বৈষ্ণব" নামে আরও একটি তথ‍্যপূর্ণ রসগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।এক্ষণে দীর্ঘকাল পরে হৃদয়ের উচ্ছ্বসিত ও উদ্দাম গতিতে এবং প্রেমরস পিপাসার আকুল আবেগে এই রসগ্রন্থ রচিত হল। শ্রুতি বলেছেন--শ্রীভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্ব-স্বরূপ আস্বাদনের জন্য সতত ব‍্যাকুল।তাঁর স্বরূপে অনির্বচনীয় আনন্দ,রূপমাধুর্য‍্যে সমগ্র বিশ্ব বিমোহিত, মনোরম বংশী রবে মর্মস্পর্শী মাদকতায় ভরপুর, হৃদয় প্রেম-রসের হিল্লোলে উচ্ছ্বসিত।শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,মাধুর্য‍্যাদি আস্বাদনের ভক্তপদ হতে শ্রেষ্ঠ শুভ-পদ আর জগতে নাই।শ্রীকৃষ্ণ ব্রজবাসীগণের সেবায় মুগ্ধ হয়ে তাঁদেরকে পিতা,মাতা,ভাই,সখা-সখী,প্রেয়সী প্রভৃতি সম্বোধন দ্বারা অপার আনন্দ অনুভব করতেন। শ্রীনন্দনন্দনের বৃন্দাবন-লীলারস আস্বাদনকারী ভক্ত বিনা এই প্রেমের মাধুরিমা কেউই জানেন না।অন‍্যের কথা কি!রসিকেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণ স্বমাধুর্য‍্য আস্বাদনের জন্য ভক্তভাব অঙ্গীকার করে শ্রীধাম নবদ্বীপে অর্ন্তকৃষ্ণ বর্হিগোরা রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।নায়ক শিরোমণি রসমৌলি শ্রীকৃষ্ণের সবই রসে ভরপুর,একদিকে ব্রজদেবী নায়িকাগণ পরবধূ তাতে, "কভু মিলে কভু কভু না মিলে--দৈবের ঘটনা।অন‍্যদিকে পৌর্ণমাসী যোগমায়াদেবী দ্বারা নায়কনায়িকাগণের স্বরূপ আবরিত ও বন‍্য বেশভূষায় ভূষিত হয়ে প্রাকৃত জগতের নায়ক-নায়িকার মত এই ভৌমবৃন্দাবনে সর্বোত্তম নরলীলায় উচ্ছ্বসিত প্রেমরসমাধুর্য‍্যের হিল্লোল বা হুড়াহুড়ি এখনও নিত‍্যলীলায় চলছে।সেটি শ্রুতিগণও অন্বেষণ করেন, কিন্তু নির্দেশ করতে পারেন না।এই মধুর লীলার রসাস্বাদনের জন্য ভগবান গোলোক ত‍্যাগ করে গোকুলে প্রকটাপ্রকট উভয় অবস্থাতেই বেণুকর শ্রীকৃষ্ণ রাখালবেশে গো-চারণাদি লীলা ও বিদগ্ধরাজ রূপে ব্রজাঙ্গনাদের সঙ্গে ঝুলন,জলকেলি,মান,দান প্রভৃতি লীলা করেছেন।এতে ভাবোৎকর্ষ,প্রেমোৎকর্ষ ও বৎসাৎকর্ষ প্রকটিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ নিজ মুখ বলেছেন--এই ভূতলে আমার বৈধী ও অনুরাগী আমার বহু সংখ্যক ভক্ত আছে, কিন্তু গোপীগণ আমার প্রাণাধিক প্রিয়তমা।অহো!যে গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের সুখের জন্য দেহ,গেহ,স্বজন,দুস্ত‍্যজ‍্য,আর্য‍্যপথ,বেদধর্ম ও লোকধর্ম প্রভৃতি ত‍্যাগ করে গাঢ় প্রীতিময় তৃষ্ণার আবেগে উদভ্রান্ত চিত্তে শ্রীকৃষ্ণ কাছে উপনীত হতেন।যারা শ্রীকৃষ্ণের বুকের উপর মুখখানি রেখেও অনুরাগের চরমাকাঙ্খা, প্রেমবৈচিত্র‍্যভাব বিরহমত্তা হয়ে কত দৈন‍্য,কত বিলাপ,কত প্রলাপ করে থাকেন,তাদের অপেক্ষা আর শ্রেষ্ঠ অনুরাগী এই জগততলে কেউ নাই।এতে শৃঙ্গাররসের পরম উৎকর্ষতা প্রতিপন্ন হয়েছে।*
*ব্রজবিলাসে এই পরকীয়া পরমা রতির পরমোৎকর্ষতাই শ্রীরাধার মহাভাব এবং এটি ব্রজ ছাড়া অন‍্য কোন ধমাএ নেই। পূর্বরাগ হতে আরম্ভ করে মোহনাখ‍্য মহাভাবে দিব‍্যোন্মাদ দশা পর্যন্ত এই ব্রজলীলা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীব্রজলীলা প্রায় অপ্রকট,তখন রসময় শ্রীকৃষ্ণের তিনটি অভিলাষ,তন্মধ‍্যে শ্রীরাধার মহাভাব বাসিত মাধুর্য‍্যাস্বাদনই মুখ‍্য অন্তরঙ্গ কারণ,যা গ্রন্থের ভূমিকায় নিত‍্যানন্দ বংশাত্মক পূজ‍্যপাদ শ্রীঅনাদিমোহন গোস্বামী মহোদয় শ্রীগৌরাঙ্গ মাধবের আবির্ভাবের কারণ সম্বন্ধে বিশদ ভাবে পর্য‍ালোচনা করেছেন।গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা উত্তমা,প্রেমে সর্বাধিকা।শ্রীরাধা মহাভাবস্বরূপিণী,কৃষ্ণপ্রেয়সী শিরোমণি,সর্বসৌন্দর্য‍্যের আধার স্বরূপা।যে কৃষ্ণ নিজ রূপ মাধুর্য‍্যে সর্বজগতকে মুগ্ধ করেন,সেই গোবিন্দকেও যিনি মুগ্ধ করেছেন তিনিই শ্রীরাধা। যথা---*
*🌷না জানি রাধার প্রেমে আছে কত বল।*
*🌷যে বলে আমায় করে সর্বদা বিহ্বল।।*
*🌷যার সৎ গুণ গণের কৃষ্ণ না পায় পার।*
*🌷তাঁর গুণ গণিবে কেমতে জীব ছার।।*
*🍀শ্রীউজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে কান্তাগণের ক্ষোভকারিতার দৃষ্টান্তে--শ্রীকৃষ্ণ হতে শ্রীরাধার প্রেমাধিক‍্য ও পট্টমহিষীগণ হতে শ্রীরাধার প্রেমাতিশয‍্য এবং কৃষ্ণানুরাগের পরাবধিত্ব প্রদর্শিত হয়েছে।আনন্দ মুখরিত শ্রীদ্বারকাধামে দেবাদিদেব মহাদেব ও ব্রহ্মা ইন্দ্রাদি দেবগণ,দিগ্ পল‍্যগণ শ্রীকৃষ্ণ চরণে প্রণাম করে চলে গেলে শ্রীকৃষ্ণ মহিষীগণের সান্নিধ্যে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আনন্দধারার সিক্ত করতে প্রয়াসী হলেন। কৃষ্ণপ্রাপ্তির উৎকণ্ঠায় শ্রীমতী রুক্মিণীদেবী রাত্রি জাগরণের পর প্রভাতে শ্রীকৃষ্ণ তার ঘরে গমন করলে পতিব্রতা রুক্মিণীদেবী আনন্দে অধীর হয়ে সোনার ভৃঙ্গারের সুবাসিত জলে প্রিয়তমের চরণপদ্ম প্রক্ষালন করে ভব-বিরিঞ্চি বাঞ্জিত চরণকমল বিরহব‍্যকুল বক্ষে ধারণ করে  আনন্দে অশ্রু বিসর্জন করতে লাগলেন। আনন্দাশ্রু ক্রমে বিরহাশ্রুতে পরিণত হল।স্বীয় বা নিজ কুসুমকোমল কুচযুগে শ্রীকৃষ্ণের পদারবিন্দ পেয়ে কেন বা দেবী অবিরত অশ্রু বিসর্জন করছেন?রসমৌলি শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীকে বললেন, প্রিয়ে! কি জন্য তুমি নয়নজলে বক্ষ ভাসাচ্ছ?উত্তরে দেবী বললেন,প্রিয়তম! তুমি সর্বজ্ঞ হয়েও জান না যে তোমা হতেও তোমার চরণকমল যুগলকে আমি বেশী ভালবাসি। তোমার মধুর যুগল পাদপদ্মের মধুগান আমি বঞ্জিতা হব, এই আশা করে আমি কাঁদছি। কেন না, দ্বারকার মন্দিরে এক নিশিযোগে আমার বক্ষে আলিঙ্গিত হলে তোমার অঙ্গে পুলক উদ্গম হচ্ছিল,এমন সময় কালিন্দীকুলে মহাভাবময়ী শ্রীরাধাসহ নিভৃত নিকুঞ্জলীলার কথা স্মরণ হওয়ায়, তুমি মূর্ছিত হয়েছিলে।(কান্তালিঙ্গিত শ্রীকৃষ্ণের মূর্ছা সম্বন্ধে পদাবলী গ্রন্থ দ্রষ্টব‍্য), তুমি শ্রীমতীর নাম শুনলেই তোমার পদ্মপলাশলোচন ছল্ ছল্ করে ওঠে। আমার হৃদয়ে থেকেও তুমি রাধানাম জপ করে থাক, মহাভাবময়ীর অনুরাগের আকর্ষণে আমার প্রেম সঙ্কুচিত হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তোমাকে শীঘ্রই হারাতে হবে, এই আশঙ্কায় আমি দিনরাত্রি কাঁদছি।রুক্মিণীর মুখে শ্রীমতী রাধার প্রেমাতাশয‍্যের কথা শুনে শ্রীমাধবের অন্তর প্রফুল্লিত হয়ে রক্তিম আভা ধারণ করল।শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীক‍ে আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে সিংহাসনে আরূঢ় হয়ে বললেন,দেবী! তোমার মুখে আজ এক অদ্ভুত কথা শুনলাম।আমি শীঘ্রই রাধাপ্রেম আস্বাদনের জন্য জগতীতলে অবতীর্ণ হব।তাই আমার ভাবী বিরহে তুমি কাঁদছ।দেবীর মুখে রাধা-প্রেমের কথা শুনে রাধাপ্রেম আস্বাদনের জন্য শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়ের লালসা তীব্রতম হয়ে উঠিল।সমস্ত অন্তর কেবল রাধাময় হয়ে উঠিল এবং মহাভাবময়ী শ্রীরাধার প্রেমানুরাগের কথা স্মরণ করে তাঁর রাঙ্গা আঁখি দুইটি ছল্ ছল্ করে অশ্রুসিক্ত হল।*
*🍀এমন সময় দেবর্ষি নারদ বীণার ঝঙ্কারে হরি গুণগান করতে করতে দ্বারিকাধামে প্রবেশ করলেন।নারদকে দেখে উত্তম আসনে বসিয়ে রুক্মিণীদেবী সিংহাসন ত‍্যাগ করে দেবর্ষিকে পাদ‍্যার্ঘ‍ প্রদান করে কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। তারপর শ্রীকৃষ্ণ সিংহাসন হতে উঠে ভক্ত মুনিপুঙ্গবকে নিবিড় আলিঙ্গন প্রদান করে বললেন, দেবর্ষি! তোমার হরিগুণগান মুখরিত প্রফুল্ল বদন আজ মলিন ও অশ্রুসিক্ত কেন?দেবর্ষি বললেন,  🌹এই আগত কলিতে জগতের লোকগণ বিষয় মদে মত্ত,একবারের জন‍্যও কৃষ্ণ গুণগান করে না। প্রভো!জীবের এই দুর্দশা দেখে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হচ্ছে।দেবর্ষির কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণ কহিলেন--নারদ! তুমি কি বিস্মৃত হয়েছ যে একদিন তুমি আমার ভুক্তাবশেষ প্রসাদ গ্রহণ করে আনন্দে নৃত্য করতে করতে কৈলাসে গিয়েছিলে,সেখানে তোমার আঙ্গুল সংলগ্ন এক রঞ্চ বা একবিন্দু কৃষ্ণপ্রসাদ পেয়ে শঙ্করের আনন্দ নৃত্যে পৃথিবী কম্পিত হয়েছিল!সেই উচ্ছিষ্টের সামান্য কিছুও মহেশ ঘরণীকে না দিয়ে শঙ্কর একাকী ভোজন করেছিলেন।পরমা বৈষ্ণবী বিষ্ণুভক্তি প্রদায়িনী,লীলাশক্তি দূর্গা তখন এক ভীষণ প্রতিজ্ঞা করলেন যে,তিনি কলিযুগে পরমপ্রভু শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীধাম নদীয়ায় অবতীর্ণ করাবেন এবং মানুষ,পশু,কীট,পতঙ্গাদি ইতর প্রাণীগণকেও শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃত প্রসাদ ভোজনের অধিকারী করাবেন। সুতরাং পরমাবৈষ্ণবী লীলাশক্তি কাত‍্যায়নীর ভীষণ প্রতিজ্ঞা বাক‍্যে আমি কলিযুগে শচীগৃহে আবির্ভাব হব। শ্রীকৃষ্ণ দেবর্ষিকে আরও বললেন, আমি শ্রীমতী রুক্মিণীদেবীর মুখে রাধাপ্রেমের কথা শুনে আমিও প্রতিজ্ঞা করছি--*
*🌻আমি মহাভাবময়ী শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তি নিয়ে শ্রীধাম নবদ্বীপে শচীগৃহে অবতীর্ণ হয়ে রাধাপ্রেম আস্বাদন করব ও কলিহত জীবগণকেও সেই প্রেম আস্বাদন করাইব।বাইরে ভক্তগণ নিয়ে নাম সংকীর্তন ও অন্তরে রসাস্বাদন করব।শ্রীকৃষ্ণ দেবর্ষি নারদকে এই কথা কহিতে কহিতে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীগৌরাঙ্গরূপ ধারণ করলেন।শ্রীকৃষ্ণের এই শ্রীগৌরাঙ্গ রূপ দর্শন করে নারদমুনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গের অপরূপ লাবণ‍্য ও অঙ্গজ‍্যোতি বেশীক্ষণ আর দর্শন করতে পারলেন না।*
*🌷ঝলমল অঙ্গতেজ দেখিতে না পারি।*
*🌷আঁখি মুদি রহে মুনি কাঁপে থরথরি।।*
                   *ক্রমাগত*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)👣প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
               *🙏নিবেদন🙏*

*🍀নারদ মুনির প্রতি কৃপা পরবশ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গতেজ সম্বরণ করে বললেন, দেবর্ষি!তুমি ব্রহ্মলোক,শিবলোক প্রভৃতি লোকে গিয়ে ঘোষণা কর, আমি শীঘ্রই শ্রীগৌরাঙ্গ রূপে কলিযুগে অবতীর্ণ হব। গৌর তনু হৃদয়ে ধারণ করে বীণার ঝঙ্কারে হরিগুণগান করতে করতে নৈমিষারণ‍্যে প্রস্থান করলেন।*
*🍀অন‍্য মহাবিষ্ণুর অবতার শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য কলির মানুষের সীমাহীন তমঃ,পাপ বাসনা,ভগবৎ বিমুখতা,দুরন্ত অবিদ‍্যা দেখে শ্রীঅদ্বৈতের প্রাণ কেঁদে উঠিল। তিনি ভীষণ প্রতিজ্ঞা করলেন,*
*🌷করাইমু কৃষ্ণ সর্ব নয়ন গোচর।*
*🌷তবেত অদ্বৈত নাম কৃষ্ণের কিঙ্কর।।*
*🍀শ্রীঅদ্বৈত সুরধূনি তীরে গিয়ে সুগন্ধি পুষ্প,তুলসী,গঙ্গাজল দ্বারা সাশ্রুনয়নে কাতর হুঙ্কারে শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীনবদ্বীপধামে অর্ন্তকৃষ্ণ বর্হিগোরা রূপে আবির্ভূত হলেন।"রাধা গোবিন্দ দোঁহে যুগল মাধুরী। সেই দুই এক তনু শ্রীগৌরাঙ্গ হরি।।"*
*🌷জয় জয় অদ্ভুত সপহু আদ্ধত সুরধূনি সন্নিধানে।*
*🌷আঁখি মুদি রহে প্রেমে নদী বহে বসন তিতিল ঘামে।।*
*🌷সপহু মনে ঘন গর্জনে উঠে জোরে জোরে লম্ফ।*
*🌷ডাকে বাহু তুলি কাঁদে ফুলি ফুলি দেহে অপরূপ কম্প।।*
*🌷অদ্বৈত হুঙ্কারে সুরধূনি তীরে আইলা নগররাজ।*
*🌷তাঁহার পিরীতে আইলা ত্বরিতে উদয় নদীয়া মাঝ।।*
*🌻কৃষ্ণ ভক্তগণ সিদ্ধ দশায় মঞ্জুরীর চরণ আশ্রয় করে রাধাভজন করে থাকেন।যে প্রেমালাভ বিনা শ্রীভগবৎ সাক্ষাৎকার হয় না,সেই প্রেমই হ্লাদিনী শক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীরাধার সদয় প্রসাদ ভিন্ন সুদুর্লভ।প্রত‍্যেক রসিকভক্তের মনে রাখতে হবে যে,যে পরিমাণে ভক্তের চিত্ত গৌররসাভিষিক্ত হবে,সেই পরিমাণে তার চিত্ত শ্রীরাধার চরণ কমলে যুক্ত হবে।গৌরলীলা রসিক শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতে বলেছেন----*
*🌷যথা যথা গৌর পদারিবন্দে বিন্দেতে ভক্তের কৃতপুন‍্যবাশিব।*
*🌷তথাতথোৎ সর্পিত হৃদৎকস্মদ্রারী-- পদাম্ভোবা সুধাম্বুরশিঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যে পরিমাণে ভক্ত কৃপায় এবং বহু ভাগ‍্যফলে সাধক, শ্রীগৌর চরণকমলে ভক্তি লাভ করবেন সেই পরিমাণে তার হৃদয় রাধা পাদপদ্ম সুধা সাগরে লীন হবে। অতএব ভক্তরসিক রাধাভজন কালে শ্রীরাধার রহোদাস‍্য প্রাপ্ত হেতু শ্রীগৌরাঙ্গ চরণে শরণাগত হয়ে শ্রীরাধা চরণ কমলের পরাগকে আরাধনা করে শ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত হয়ে শৃঙ্গার রসার্ণবে নিমগ্ন হন।এই প্রসাদে শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয় বলেছেন--*
*গৌর প্রেম রসার্ণবে,যে তরঙ্গে যেবা ডুবে,*
           *সেই রাধামাধব অন্তরঙ্গ।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
       *🙏গুর্ব্বাদি-বন্দনা ও মঙ্গলাচরণ,* *(গুরু আদি বন্দনা)*
     *🙏শ্রীগৌরাঙ্গ নমস্কার রূপ মঙ্গলাচরণ,*
     *🙏শ্রীরাধাকৃষ্ণ নমস্কার রূপ মঙ্গলাচরণ।*

*🍀গুর্ব্বাদি বন্দনঃ --------------*
*🌷বন্দেহহং শ্রীগুরোঃ শ্রীযুত পদকমলং শ্রীগুরূন্ বৈষ্ণবাংশ্চ।*
*🌷শ্রীরূপং সাগ্রজাতং সহগণ রঘুনাথান্বিতং তং সজীবম্।।*
*🌷স্বাদ্বৈতং সাবধূতং পরিজন সহিতং শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবং।*
*🌷শ্রীরাধাকৃষ্ণ পাদান্ সহগণ ললিতা শ্রীবিশাখান্বিতাংশ্চ।।*

*🌷বাঞ্জাকল্পতরুভ‍্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ‍্যোঃ এব চ।*
*🌷পতিতানাং পাবনেভ‍্যোঃ বৈষ্ণবেভ‍্যোঃ নমোনমঃ।।*

*🌷সংসার সিন্ধু তরণে হৃদয়ং যদি স‍্যাৎ,*
*🌷সংকীর্ত্তিনামৃতরসে রমতে মনশ্চেৎ।*
*🌷প্রেমাম্বুবৌ বিহরণে যদি চিত্ত বৃত্তি----,*
*🌷 শ্চৈতন‍্যচন্দ্র চরণে শরণং প্রয়াতু।।*
                       *(শ্রীচৈতন‍্য চন্দ্রামৃত)*

*🌷বিগলিত নয়ন কমল জলধরং।*
*🌷ভূষণ নবরস ভাব বিকারং।।*
*🌷গতি অতি মন্থর নিত‍্যবিলাসং।*
*🌷ত্বং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ম্।।*
                  *(শ্রীল সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য)*

*🙏পঞ্চতত্ত্বের প্রণাম------*
*🌷পঞ্চতত্ত্বাত্মকমং কৃষ্ণং ভক্তরূপ স্বরূপকম্।*
*🌷ভক্তাবতারং ভক্তাখ‍্যাং নমামি ভক্তিশক্তিকম্।।*

*🌷বন্দে নন্দব্রজস্ত্রীনাং পাদরেণুমভীক্ষ্ণশঃ।*
*🌷যাসাং হরিকথোদ্গাতং পুণাতি ভুবনত্রয়ম্।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌷প্রেমাঞ্জুনচ্ছুরিত ভক্তি বিলোচনেন,*
*🌷সন্তঃ সদৈব হৃদেয়েহপি বিলোকয়ন্তি।*
*🌷যং শ‍্যামসুন্দরমচিন্ত‍্য গুণস্বরূপং,*
*🌷গৌবিন্দামাদি পুরুষং ত্বমহং ভজামি।।*
                              *(ব্রহ্ম-সংহিতা)*
*🌻🌻অথ মঙ্গলাচরণঃ -----*
*🌷অনর্পিতচরীং চিরাৎ করুণয়াবতীর্ণ কলৌ,*
*🌷সমর্পয়িতমুন্নতোজ্জ্বল রসং স্বভক্তি শ্রিয়ম্।*
*🌷হরিঃ পুরট সুন্দর দ‍্যুতি কদম্ব সন্দীপিতঃ,*
*🌷সদা হৃদয় কন্দরে স্ফুরতু বঃ শচীনন্দনঃ।।*

*🌻অন্বয়=চিরাৎ (বহুকাল পর্যন্ত ); অনর্পিতচরীং (পূর্বে যা অর্পণ করা হয়নি) ; উন্নতোজ্জ্বলং রসাং (উন্নত এবং উজ্জ্বল অর্থ‍্যাৎ মধুর রসময়ী) ; স্বভক্তশ্রিয়ং (নিজের ভক্তি সম্পত্তি) ; সমর্পয়িতুং (দান করবার জন্য ) ; কলৌ (কলিযুগে) ; করুণয়া (কৃপাবশত) ; পুরটসুন্দর-দ‍্যুতিকদম্বসন্দীপিতঃ (স্বর্ণ হতেও অতি সুন্দর দ‍্যুতি সমন্বিত) ; শচীনন্দনঃ হরিঃ(শচীনন্দনরূপী শ্রীহরি) ; সদা বঃ হৃদয়-কন্দরে স্ফুরতু (আপনাদের হৃদয়রূপ গুহায় সর্বদা প্রকাশিত হন।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ=বহুকাল পর্যন্ত পূর্বে যা অর্পণ করা হয়নি,সেই উন্নত-উজ্জ্বল রসময়ী নিজস্ব ভক্তি-সম্পদ দান করবার জন্য যিনি কৃপা করে এই কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন,সোনার থেকেও অতি উজ্জ্বল দ‍্যুতিসম্পন্ন সেই শচীনন্দন আপনাদের হৃদয় কন্দরে সর্বদা প্রকাশিত হন।*
*🌹তাৎপর্য‍্য=সত‍্য,ত্রেতা,দ্বাপরের মত বহু বহুকাল পর্যন্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্তি-সম্পদ দান করেননি। স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এক কল্পে (অর্থ‍্যাৎ ব্রহ্মার একদিনে, চারশ উনত্রিশ কোটি চল্লিশ লক্ষ আশি হাজার বৎসরে) একবার জগতে অবতীর্ণ হন।যে দ্বাপরে তিনি ব্রজে অবতীর্ণ হয়ে রাসলীলাদি প্রকাশ করেন, ঠিক তার পরবর্তী কলিতেই তিনি শ্রীরাধার ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে শ্রীশ্রীগৌরসুন্দররূপে শ্রীধাম নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়ে অতি সুদুর্লভ কৃষ্ণপ্রেম বা ভক্তিসম্পত্তি (ব্রজপ্রেম)দান করেন। কিন্তু তার পরে এবং বতর্মান কলির পূর্বে এই সুদীর্ঘকাল সেরকম প্রেমভক্তি আর দান করেননি।পুনরায় এই কলিতে সেই লুপ্তপ্রায় উন্নতউজ্জ্বল রসময়ী শৃঙ্গার বা মধুর ভাবসম্পন্ন প্রেমভক্তি কলিহত জীবের মধ্যে বিতরণের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কৃপাপূর্বক শ্রীশ্রীগৌরসুন্দররূপে অবতীর্ণ হলেন।*
*🛑শ্রীশ্রীগৌরসুন্দরের বিতরিত বস্তুকে উন্নত এবং উজ্জ্বল রস বলা হয় কেন?উন্নত অর্থ‍্যাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ রস হল মধুররস। ব্রজেন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ব্রজে চার ভাবের ভক্তের প্রেমরস আস্বাদন করেছেন, যথা=দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও কান্তা বা মধুর।ব্রজবাসীগণের শ্রীকৃষ্ণে মমতা-বুদ্ধির গাঢ়তা অনুযায়ী ভালবাসার বিধানের উৎকণ্ঠাও তীব্র থেকে তীব্রতম হয়ে থাকে।ব্রজবাসীদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ একান্ত আপনজন, কিন্তু তাঁদেরও মমতা-বুদ্ধির তারতম‍্য আছে।তাই দাস‍্য অপেক্ষা সখ‍্যে,সখ‍্য অপেক্ষা বাৎসল‍্যে, বাৎসল‍্য অপেক্ষা মধুরে মমতা-বুদ্ধির তীব্রতা বেশী, শ্রীকৃষ্ণের রসাস্বাদন চমৎকারিতা এবং প্রেমবশ‍্যতাও বেশি। এই কারণে দাস‍্য অপেক্ষা সখ‍্য, সখ‍্য অপেক্ষা বাৎসল‍্য এবং বাৎসল‍্য অপেক্ষা মধুর ভাব উন্নত। মধুর রসের আর একটি নাম শৃঙ্গার-রস।শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন---*
*🌷সব রস হৈতে শৃঙ্গারে অধিক মাধুরী। ১|৪|৪০।*
*🌷পরিপূর্ণ কৃষ্ণপ্রাপ্তি এই প্রেমা হইতে।২|৮|৬৯।*
*🌻আর ভক্ত কেবল প্রেমের মাধ‍্যমেই শ্রীকৃষ্ণ-মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারেন। সুতরাং দাস‍্য-সখ‍্য-বাৎসল‍্য অপেক্ষা মধুরভাবেই শ্রীকৃষ্ণমাধুর্য‍্য আস্বাদনের শ্রেষ্ঠ উৎকর্ষতা।এই উন্নত উজ্জ্বল রস অর্থ‍্যাৎ শ্রেষ্ঠবস্তু সকলকে দান করবার জন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য এই কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন।*
*🔵আরেকটি শ্লোকাবলীতে ইষ্টদেবের কৃপাভিক্ষা পূর্বক জগতের জীবের প্রতি আশীর্বাদরূপে মঙ্গলাচরণ করা হল।*
*🌷বধ্মন প্রেমাভর প্রকম্পিতকরো গ্রস্থীন্ কেটিডোর কৈঃ,*
*🌷সংখাতুং নিজলোকমঙ্গল হরেকৃষ্ণেতি নাম্নাং জপন।*
*🌷অশ্রুস্নাতমুখঃ স্থমেবহি জগন্নাথং দিদৃক্ষুর্গতাযাতৈ,*
*🌷গৌর তনুধিলোচনমুদং তন্বন হরিঃ পাতু বঃ।।*
                   *(শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতম্)*
*🌻যিনি লোকমঙ্গল "হরেকৃষ্ণ নাম নিরন্তর বা সবসময়ই জপ করছেন, প্রেমভরে শ্রীহস্তদ্বয় কম্পিত হচ্ছে, (জপের মালা নিয়ে জপ করতে হলে যেমন হাতের অঙ্গুলি নৃত্য করতে থাকে ) আবার সেই প্রকম্পিত করে বা হাতে, লোকশিক্ষার জন্য কটিডোরে গ্রন্থী প্রদান করে নামের সংখ্যা রাখছেন ; প্রেম-অশ্রু-ধারায় যাঁর বদন কমল ভেসে যাচ্ছে,যিনি নিজে থেকেই শ্রীজগন্নাথ দর্শনেরে জন্য গমনাগমন ছলে সকলের পাপ হরণ করে লোক লোচনের আনন্দবর্ধন করছেন, সেই শ্রীগৌরহরি আপনাদেরকে রক্ষা করুন।*
*🌹শ্রীশ্রীমুকুন্দ মুক্তাবলীতে পাই---*
*🌷পশুপ যুবতি গৌষ্ঠী চুম্বিত শ্রীমদোষ্ঠী,*
*🌷স্মর তরলিত-দৃষ্টি নির্মিতানন্দ বৃষ্টিঃ,*
*🌷নবজলধর ধামা পাতু বঃ কৃষ্ণনামা,*
*🌷 ভূবনমধুর বেশা মালিনী মূর্তিরেষা।*
*🌻ব্রজবালাগণ যার সুললিত ওষ্ঠ চুম্বন করলে যিনি কন্দর্পদীপ্ত চঞ্চল নয়নে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে সম্ভোগাদির দ্বারা তাদের হৃদয়ে আনন্দধারা বর্ষণ করেন,যার দেহকান্তি নবীন নীরোদের মত সুমনোহর এবং যিনি জগন্মোহন বেশে সুসজ্জিত, সেই বনমালা বিরাজিত শ্রীকৃষ্ণমূর্তি তোমাদেরকে রক্ষা করুন।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🛕🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)👣প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
                    *মঙ্গলাচরণ*

*🌷বৃন্দাবন দাস-কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*🌷নিতাই-গৌরাঙ্গ পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধুপান করি।।*
*🍀প্রথম পরিচ্ছেদে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের আবির্ভাবের আভাস-আলোক দেওয়া হল।দ্বাপরের শেষে শ্রীশ্রীব্রজলীলাটি যেন তখন বিরাম হয়েও হয়নি। শ্রীশ্রীব্রজরাজনন্দনের কতিপয় বা কিছু মনের-অভিলাষ (বাঞ্জাত্রয়) অপূর্ণ রয়ে গেল।এদিকে সময়ের গণনায় যুগাবতারের সময় এসে গেল প্রায়। ধর্মের গ্লানি,অমর্ধের অভ‍্যুদয় সর্বত্র ঘোরতর ভাবে দেখা দিয়েছে।লীলাবতারে যুগাবতার মিশিয়ে শ্রীব্রজের কুঞ্জনিবাস ত‍্যাগ করে সপরিকরে বিশ্বচিত্ত চমৎকৃত করে অতি করুণাবশতঃ শ্রীধাম নবদ্বীপে অবতীর্ণ হলেন।নবাব হোসেন শাহের রাজত্বকালে, বাংলা,বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে সমাসীন মন্ত্রীদ্বয় ও পঞ্চতত্ত্বকে নিয়ে অতি পরিচিত বাংলাদেশের কেন্দ্রস্থলে গৌড়মন্ডলে অভিনব নরলীলা করবার জন্য লীলাময়ের এক অপূর্ব ভাবনা হল।শ্রীব্রজের হাট ভেঙ্গে দিয়ে সপরিকরে কেউ শ্রীহট্টে,কেউ রাঢ়ে,কেউ বুঢ়নে, কেউ পূর্ববঙ্গ নবদ্বীপে আগমন করলেন।শ্রীনন্দ-নন্দনের নরলীলা শ্রীগৌরাঙ্গলীলায় পর্সাবসান(প্রসব বা নতূন করে প্রবেশ) হল। কোন আড়ম্বর নেই,কোন যুদ্ধ বিগ্রহ নেই। "রামাদি অবতারে ধনুক ধরে কবে অসুরগণকে সংহার করল,এবে অস্ত্র না ধরিল, কারও প্রাণে না মারিল।হরিনামে তারিল সংসার।*
*মানবের অন্তর রাজ‍্যে,ভাব-রাজ‍্যে, অধ‍্যাত্মসাধন রাজ‍্যে কল্পনাতীত ঘটনাগুলি সংঘটিত হতে লাগল। সমগ্র গৌড়মন্ডলে তথা সমগ্র ভারতবর্ষব‍্যাপী জনগণ সর্বত্র যেন শুভ প্রাণ-স্পন্দনকারী এক বিদ‍্যুতের আলো দেখতে পেলেন।বিদ‍্যুতের আলো চোখ ঝলসে দেয়, কিন্তু তিনি যে আলো দেখালেন, দেহ-মন-প্রাণ সুশীতল হল।কোটি কোটি ভাগ‍্যবান ও ভাগ‍্যবতী নরনারী অন্তরে অন্তরে সুবিমল সুধাস্রোত অনুভব করতে লাগলেন,সকল দুঃখ,সন্তাপ যেন যাদুদন্ড স্পর্শে দূরীভূত হল ; বাইরে দেখলেন অপার আনন্দ ও পবিত্র আলোকে উদ্ভাসিত ভারত। আসমুদ্র হিমাচল পর্যন্ত যেন আর কোন হিংসা নাই,দ্বেষ নাই,স্বার্থ নাই,লোভ নাই,প্রতারণা নাই, শুধু আছে ভালোবাসার বন্ধন "ভালবাসার প্লাবনে শান্তিপুর ডুবু-ডুবু নদে ভেসে যায় " প্রেমের বন‍্যায় বা গোলোক রসের বন‍্যায় আর্য‍্যাবর্ত্ত, দাক্ষিণাত‍্য তথা সমগ্র ভারত প্লাবিত।ভক্তির মন্দাকিনী সহস্রধারে প্রবাহিত হল কত ছন্দে,কত সঙ্গীতে,কত নৃত্যে।মানব-জীবনের অন্তর জগতে যেন এক অভূতপূর্ব প্রেমামৃতের বিপ্লব সংঘটিত হতে লাগল।শত শত যুগ যে অধ‍্যাত্মসাধন সম্পাদিত হয় তাইই যেন শ্রীগৌরাঙ্গযুগে ক্ষণে ক্ষণে সংঘটিত হতে লাগল।সবজায়গায় অপার্থিব প্রেম-সিন্ধুর আলোড়ন ও অনন্ত তরঙ্গোচ্ছাস। মানুষের সীমাহীন দুরন্ত, অবিদ‍্যা, পাপ-বাসনা, কাম-কল্মষ জর্জরিত সমস্ত চিত্ত যা কোটি জন্মের নৈতিক, চেষ্টায় সংশোধিত হবার নয়,তা দেখতে দেখতে আমূল পরিশোধিত হতে লাগল। সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে যেমন অন্ধকার দূরীভূত হয়,তদ্রূপ শ্রীচৈতন‍্যদেবের আবির্ভাবে আভাসলোকে যেন হিংসা,দ্বেষ,মলিনতা,নানান দুর্বাসনা দূরীভূত হতে লাগল।পরশমণির স্পর্শে যেন সব মরচে পরা লৌহকে সোনা করে দিয়ে, আপামর জনসাধারণের মধ্যে বিনামূল‍্যে উন্নত উজ্জ্বল ব্রজপ্রেম রস বিতরণ করতে লাগলেন।*
*রসব্রহ্মের অনুভূতি আজ প্রকটিত হয়েছে নদীয়ার রাজপথে।আদি আশ্রয় তত্ত্ব ও বিষয়তত্ত্বের নিবিড় মিলনের চরম পরিণতিই আমার নদীয়া বিনোদিয়া শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর।আজ নীয়ার মাটিতে চাঁদের উদয় হয়েছে।রসরাজ জগৎ মোহন কৃষ্ণই সর্বভাব-রসমাধুর্য‍্য নির্ঝরিনী শ্রীরাধার ভাব ও দ‍্যুতি অঙ্গে মেখে সোনার গৌরাঙ্গ হয়ে আবির্ভূত হলেন নদীয়ায়।শ্রীমন্মহাপ্রভুর এই অমিয়ভাবের আভাস আলোক শতাধিক পূর্ব হতেই ভারতবর্ষে কখনও চমকে ঝলকে বিকীর্ণ হচ্ছিল।নিরুপমরূপ লীলা লাবণ‍্যোজ্জ্বল মূর্তি রসরাজ রাজেন্দ্র ব্রজরাজ-নন্দন শ্রীকৃষ্ণের প্রতি মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার নিরুপাধি প্রেমরসের সমুজ্জ্বল তরঙ্গ-প্রবাহই শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের অন্তরঙ্গ লীলা।*
*নদীয়ার চাঁপাহাটিতে গীতগোবিন্দ রচয়িতা শ্রীজয়দেব শ্রীমন্মহাপ্রভুর আবির্ভাবের পূর্বেই যখন চম্পকবনে শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল প্রেমসেবা করছিলেন,তখন তিনি হঠাৎ প্রেম নয়নে দেখলেন--,কৃষ্ণাঙ্গ রাধিকার অঙ্গে মিলিত হয়ে একটা মনোহর, বিস্ময়কর মূর্তি, প্রকপিত হল,এটিই কলির জীব-উদ্ধারী মূরতি। যথা ভক্তিরত্নাকরে--------*
*🌷একদিন অনেক চম্পক পুষ্প লইয়া।*
*🌷কৃষ্ণপাদ-পদ্ম পূজে মহা হর্ষ হইয়া।।*
*🌷শ‍্যামল সুন্দর রূপ ধিয়ায় অন্তরে।*
*🌷দেখে গৌররূপ সে শ‍্যামল কলেবরে।।*
*🌷গৌরকান্তি চাঁপা পুষ্প-পুঞ্জের সমান।*
*🌷দেখিতে দেখিতে রূপ হইল অন্তর্দ্ধান।।*
*🌻শ্রীজয়দেব অবাক হয়ে ভাবলেন,শ্রীহরির এ কি রঙ্গ, এ রূপে কেন তিনি দেখা দিলেন! এ যে দেখি-- "রাইরূপে তনু মাখামাখি "।শ্রীজয়দেব শাস্ত্রের ইঙ্গিত বাক‍্য পাঠ করতে লাগলেন-----*
*🌷যত্রযোহন্তরাদিত‍্য হিরন্ময় পুরুষে দৃশ‍্যতে।*
                        *(ছান্দগ‍্য উপনিষদ)*
*🌷তস‍্যহেতবে পুরুষস্বরূপং যথা মহারজনং বাস।*
                        *(আদি বৃহদারণ‍্যক)*
*🌷ওঁ যদা যদা পশ‍্যতে রুক্মবর্ণং কর্ত্তারমীশং পুরুষং ব্রহ্ম যোনি।*
                       *(শ‍্যাম বেদ)*
*🌷প্রশাসিতারং সর্বেযামনীয়াং শমনোরপি।*
*🌷রুক্মাভং স্বপ্নধিগম‍্যং বিদ‍্যাত্তং পুরুষং পরম।।*
                                  *(মনু)*
*🌷স্বর্ণদীতীর মাশ্রিত‍্য নবদ্বীপে দ্বিজালয়ে।*
*🌷সম্প্রদায় ভক্তিযোগং লোকস‍্যানুগ্রহায় চ।।*
                           *(অগ্নি সংহিতা)*
*🌷ভবিষ‍্যতি কলিকালে ভগবান্ ভূতপাবন।*
*🌷দ্বিজাতীনাং কূলে জন্ম গ্রাহকঃ পুরুষোত্তমঃ।।*
                         *(বিষ্ণু পুরাণ)*
*🌷আসন্ বর্ণাস্ত্রয়োহ‍‍্যস‍্য গৃহ্নতোনুযুগং তনুঃ।*
*🌷শুক্লোরক্তস্তথাপীত ইদানিং কৃষ্ণতাং গতঃ।।*
                      *(শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ)*
*🌷অন‍্যাবতারাবহবঃ সর্বোসাধারণোদ্ভটাঃ।*
                      *(জৈমিনি ভারত)*
*🌷অবতারমিদং কৃত্বা জীব-নিস্তার-হেতুনা।*
*🌷কলৌ মায়াপুরীং গত্বা ভবিষ‍্যামি শচীসুতঃ।।*
                            *(ঊদ্বাম্লায় তন্ত্র)*
*🌷উভয়োভাবমাশ্রিত‍্য কলৌ চৈতন্য বিগ্রহ।*
                        *(সুরতরূ-তন্ত্র)*
               *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)👣প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
                *🙏মঙ্গলাচরণ🙏*

*🍀স্কন্দপুরাণে শ্রীভগবান বলছেন--, "অর্ন্তকৃষ্ণ বর্হিগৌর সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদ-রূপে শচীগর্ভে আবির্ভূত হয়ে মানুষের মত কর্ম করব।*
*🍀গরুড়পুরাণে উক্তি--,কলির প্রথমসন্ধ‍্যায় লক্ষ্মীকান্ত আবির্ভূত হবেন। দারুব্রহ্ম জগন্নাথের সামনে তিনি গৌরবর্ণ সন্ন‍্যাসীরূপে অবস্থান করবেন।*
*🍀নারদীয় পুরাণে শ্রীভগবান বলেছেন--হে দেবগণ তাড়াতাড়ি ভক্তরূপ ধারণ করে পৃথিবীতে প্রকট হও।কলিকালে সংকীর্তন যজ্ঞের আরম্ভ আমি শচীসুতরূপে আবির্ভূত হব।*
*🌻এইরকম আরও বহুশাস্ত্রের প্রমাণও ইঙ্গিত দর্শ করে শ্রীজয়দেবের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠিল।বিষাদপূর্ণ হৃদয়ে তিনি বলে উঠলেন---, এই বিচিত্র লীলার রঙ্গ আমি দেখতে পারব না। ভাবী লীলাচিত্র প্রকাশিত হতে এখনও অনেক দেরী আছে। শ্রীভগবান্ তার সিদ্ধভক্তগণকে স্বীয় বা নিজ লীলাবৈচিত্র‍্য দর্শন করিয়ে থাকেন*।
*🍀চন্ডীদাস শুধু কবি নয়, সাধক ও তত্ত্ব দ্রষ্টা প্রেমরস রসিক।তাঁর কবিতাগুলি যেন উজ্জ্বলরস তরঙ্গ।শ্রীগৌরাঙ্গের অন্তরঙ্গ ভাবখানি কবির কাব‍্যাকাশে উদিত হয়েছিল। যথা---*
*🌷আজ কে গো মুরলী বাজায়!*
*🌷এতো কভু নহে শ‍্যাম রায়।।*
*🌷 ইহার গৌর বরণে করে আলো।*
*🌷চূড়াটি বান্ধিয়া কে-----দিল?*
*🌷তাঁহার ইন্দ্রনীল কান্ত তনু।*
*🌷এত নহে--- নন্দসুত কানু।।*
*🌷ইহার রূপ দেখি নবীন আকৃতি।*
*🌷নটবর বেশ----পাইল কথি।।*
*🌷বনমালা গলে দোলে ভাল।*
*🌷এ না বেশ কোন দেশে ছিল।।*
*🌷কে বানালো হেন রূপখানি।*
*🌷ইহার বামে দেখি চিকণ বরণী।।*
*🌷হবে বুঝি ইঁহার----- সুন্দরী।*
*🌷সখিগণ করে-----ঠারাঠারি।।*
*🌷কুঞ্জে ছিল কানু কমলিনী।*
*🌷কোথায় ছিল কিছু নাহি জানি।।*
*🌷আজু কেন দেখি বিপরীত।*
*🌷হবে--- বুঝি দোঁহার চরিত।।*
*🌷চন্ডীদাস মনে মনে হাসে।*
*🌷এরূপ হইবে কোন দেশে।।*
*🌻এইরূপে রসিক কবি মানসধ‍্যানে শ্রীগৌরাঙ্গের অর্ন্তকৃষ্ণ বর্হিগৌর মূরতিটি শ্রীগৌরহরির আবির্ভাবের বহুবর্ষ পূর্বে দেখলেন।কবির অন্তর শ্রবণেন্দ্রিয়ে মধুর মুরলীরব শুনে ছুটে গেলেন নিকুঞ্জকাননে, কিন্তু শ‍্যামসুন্দরকে তিনি দেখতে পেলেন না ; দেখলেন কনক কিরণে উদ্ভাসিত চাচর চিকুরে চূড়াবাধা শ্রীগৌরহরের মূরতি।এটি তো আমাদের চির পরিচিত শ্রীনন্দ-নন্দন নয়।এ যে অভিনব আকৃতি, অভিনব রূপ! ইহার বামে সুন্দর,সুনীল,সুচিক্কণ কান্তিযুক্ত এক রমণীর নীলমণিময়ী রমণীয়া মূর্তিটি ঝলমল করছে।শ‍্যামসুন্দরের ন‍্যায় ভাবভঙ্গি ; কিছু রমণী, মনে হয় ঐ গৌরকিশোরের কিশোরী প্রেয়সী।কবি প্রেমনয়নে লীলাদর্শন করছেন।সখীগণ বলছেন--,এই কিছুকাল পূর্বে ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ শ্রীশ‍্যামসুন্দরকে দেলাম, কমলিনী রাইকে দেখলাম ; তাঁরা কোথায় গেল?এ যে সব বিপরীত দেখছি, আজ দোঁহে মিলে একটা কিছু করেছে।চন্ডীদাস মনে মহেসে বললেন--,"এই রাধা ভাবদ‍্যুতিতে মোড়ানো শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহ কোনও দেশে প্রকটিত হবেন। কবি গাইছেন-----*
   *কামনা করিয়া সাগরে পশিব---*
          *সাধিব মনের সাধা।*
  *মরিয়া হইব, শ্রীনন্দের নন্দন,*
        *তোমারে করিব রাধা।।*
*🌻শ্রীগৌরাঙ্গের শুভ আবির্ভাবের সমুজ্জ্বল তথ‍্যের কিরণ-আভাস আমরা পাচ্ছি।ইহাতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান (বোধগম‍্য) হয় যে প্রেমের অমোঘ (সার্থক) ও দুর্লঙ্ঘনীয় (যা লঙ্ঘন করা যায় না )নীতির পরিণতিতে বিষয়তত্ত্বকে আশ্রয় তত্ত্ব হতে হয়, কদাচিত (কোনকালে) পরম পুরুষও পরা প্রকৃতি হয়ে থাকেন ; শ‍্যামসুন্দরকে রাধারাণী হতে হয়, আবার রাধারাণীও শ‍্যামসুন্দর হন। অতএব, শ্রীরাধাভাব-দ‍্যুতি সম্বলিত শ্রীকৃষ্ণই শ্রীচৈতন‍্যদেব।শ্রীগৌরাঙ্গের সর্বদেহে,মনে প্রাণে,প্রতি শিরায় ধমনীতে, প্রতি রক্ত বিন্দুতে, দেহের প্রতি অণুতে মাদনাখ‍্য মহাভাবময়ী, প্রেমজ্বালাময়ী শ্রীরাধা।*
*🌻আরেক রসিক কবি বিদ‍্যাপতির কাব‍্যকুঞ্জে দেখা যাচ্ছে---*
*🌷সখি হে কি কহব নাহিক ওর।*
*🌷স্বপন কি পরতেক কহই না পারিয়ে,*
*🌷কি অতি নিকট কি দূর।।*
*🌷তড়িতলতাতলে তিমির সম্ভায়ল,*
      *আতয়ে সুরধনি ধার।।*
*🌹অন‍্যত্র---------------*
*🌷অনুক্ষণ মাধব মাধব সোওরিতে,*
         *সুন্দরী ভেলি মাধাই।*
*🌷এ নিজভাব, স্বভাবই বিছুরল,*
              *আপন গুণ লুবধাই।।*
    *মাধব অপরূপ তোঁহারি সুলেহ।*
*আপন বিরহে, আপন তনু জর জর,*
          *জীবইতে ভেল সন্দেহ।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*রাধা সঙ্গে যব, পুনঃতহি মাধব,*
           *মাধব সঙ্গে রব রাধা।*
*দারুণ প্রেম, তবহি নাহি টুটত,*
         *বাঢ়ত বিরহক বাধা।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)👣প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
               *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀রাধাকৃষ্ণ প্রণয় বিকৃতি হ্লাদিনীশক্তি রস‍্যাদেকাত্মানাং ভুবি পুরা দেহ ভেদং গতৌ তে।চৈতন‍্যখ‍্যাং প্রকটমধুনা তদবয়ঞ্চ ঐক‍্যমাপ্তং রাধাভাবদ‍্যুতি সুবলিতং নৌমি কৃষ্ণ স্বরূপম্। (শ্রীস্বরূপ গোস্বামী কড়চা)। রাধা স্বরূপেতঃ কৃষ্ণ প্রেমই তিনি কৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি রাধা ও কৃষ্ণের সত্ত্বা ভিন্ন নয়। কিন্তু তার লীলার জন্যই ভিন্নরূপে আবির্ভূত হয়ে ছিলেন।এখন আবার তাঁরা শ্রীচৈতন‍্যের মধ্যে প্রকট হয়ে এক হয়েছেন।শ্রীরাধার গৌরকান্তি ও কৃষ্ণ প্রেম নিয়ে যে কৃষ্ণ, চৈতন‍্যরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন সেই চৈতন‍্যদেবকে নমস্কার করি।*
*🍁পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ সচ্চিদানন্দময় বিগ্রহ বিশ্ব প্রেরণার আদিম উৎস অনুসন্ধান করে বৈদিক ঋষিগণ, দার্শনিকগণ ও শ্রুতি সমূহ বলেছেন যে এই বিশ্বজগতে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি রহস‍্যের মূলে রয়েছে কোন উদ্দেশ্য।শ্রুতি বলেছেন--"বহুস‍্যাম" অর্থ‍্যাৎ তিনি বহু হতে ইচ্ছে করেন,তাই এই সৃষ্টি। বৃহদারণ‍্যক শ্রুতির উক্তি-- "স বৈ নৈব রেমে"।তস্মাদেকাকী ন রমতে সদ্বিতীয়ম্ ঐচ্ছৎ"।এই সৃষ্টিলীলা ছাড়া শ্রীভগবানের আরও একটা লীলা আছে,তাকে নিত‍্যলীলা কহে।এই নিত‍্যলীলা লীলা পুরুষোত্তমের স্বকীয়। সৃষ্টি,স্থিতি,প্রলয় তাঁর অংশ শক্তিদ্বারা হয়ে থাকে। রজোগুণান্বিত ব্রহ্মার সৃজন,সত্ত্বগুণান্বিত বিষ্ণুর পালন,তমোগুণের অধিষ্ঠাতারূপে রূদ্রের সংহার কার্য‍্য সম্পাদন।নিত‍্য লীলাময় শ্রীভগবান যে অনিত‍্য জগতের মধ্যে আবির্ভূত হন, এটি তাঁর করুণা।শ্রীকৃষ্ণ অচিন্ত‍্য মহাশক্তিমান, নিখিল অবতার গুলির উৎপত্তিস্থল।তিনি স্বয়ং ভগবানরূপে প্রেমরস নির্য‍্যাস আস্বাদন ও পরম অপূর্ব স্বীয় বা নিজ প্রেমমহাসুখ সমৃদ্ধির যথেচ্ছ বিতরণাদি কাজ করে থাকেন।ধরণীর ভার হরণ ও অসুর বধাদি লীলা তাঁর কর্তব‍্য কর্ম নয়। সেটি তাঁর অংশাবতার দ্বারাই সম্পাদিত হয়,যথা----*
*🌷 যুগধর্ম প্রবর্ত্তন হয় অংশ হৈতে।*
*🌷আমি বিনা কেহ নারে ব্রজপ্রেম দিতে।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীব্রজলীলা অপ্রকটের পর নির্জনে শ্রীকৃষ্ণের তিন প্রকার আস্বাদনের সঙ্কল্প সময়ে শ্রীরাধার পরকীয়া ভাবের আস্বাদনের মাধুর্য‍্যের আধিক‍্যহেতু সেই ভাব গ্রহণের জন্য লালসা জন্মেছিল।পরকীয়া ভাবেই সব চেষ্টা ও দশা প্রকাশ পেয়েছিল।শ্রীরাধার মাদনাখ‍্য মহা ভাবটি দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের বিষয় জাতীয় ভাবটা আবরিত করে বাইরে শ্রীরাধার স্বর্ণকান্তি দ্বারা নিজের ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ কান্তিকে আবৃত করে শ্রীকৃষ্ণ, চৈতন‍্যদেব এই কলিযুগের প্রথম সন্ধ‍্যায় অবতীর্ণ হয়েছেন অর্থ‍্যাৎ নামে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য, কান্তিতে অন্তঃকৃষ্ণ বর্হিগৌর ভাবে শ্রীরাধা।*
*☘শ্রীমন্মহাপ্রভুর পার্ষদ শ্রীগোবিন্দ দাস নীলাচল হতে শ্রীঅদ্বৈত গৃহে আগমনের কালে ফুলিয়া গ্রামে মহাপ্রভু এক সপ্তাহ কাল বসবাস করেছিলেন।তিনি মহাপ্রভুর আবির্ভাব সম্বন্ধে লিখেছেন,যথা---*
*🌷নিধুবনে দুহুঁ জনে,চৌদিকে সখীগণে,*
              *শুতিয়াছে রসের আলসে।*
*🌷নিশি শেষে বিধুমুখী,উঠিলেন স্বপ্ন দেখি,*
           *কাঁদি কাঁদি কহে বধূ পাশে।।*
*🌷উঠ উঠ প্রাণনাথ,কি দেখিনু অকস্মাৎ,*
         *এক যুবা সুগৌর বরণ।*
*🌷কিবা তার রূপ ঠাম,জিনি কত কোটি কাম,*
        *রসময় রসের সদন।।*
*🌷অশ্রু কম্প পুলকাদি,ভাব ভূষণ নিরবধি,*
         *নাচে গায় মহামত্ত হৈয়া।*
*🌷অনুপম রূপ দেখি,জুড়াইল মোর আঁখি,*
         *মন ধায় তাহারে বেড়িয়া।।*
*🌷নব জলধর রূপ,রসময় রসের কূপ,*
          *ইহা বৈ না দেখি নয়নে।*
*🌷তবে কেন বিপরীত,হেন ভেল আচম্বিত,*
          *বল নাথ ইহার কারণে।।*
*🌷চতুর্ভূজ আদি কত, বনের দেবতা যত,*
        *দেখিয়াছি ইহ বৃন্দাবনে।*
*🌷তাহে তিরপিত মন, না হইল কদাচন,*
        *হেন গৌরাঙ্গ হরিল মোর মনে।।*
*🌷এতেক কহিতে ধনি, মূর্ছা প্রায় ভেল জানি,*
             *বিদগধ রসিক নাগর।*
*🌷কোলেতে করি বেড়ি,মুখচুম্ব করু বেড়ি,*
          *হেরিয়া নয়নানন্দ ভোর।।*
*🌷এতবলি বিধুমুখী,মনে হৈয়া এত খুশী,*
          *কহে শুন প্রাণনাথ তুমি।*
*🌷কহিতে সকল তত্ত্ব,বুঝিনু স্বপন সত‍্য,*
           *সেইরূপ দেখিলাম হে আমি।।*
*🌷আমাকে সে সঙ্গে লৈয়া,দুহু দেহা এক হৈয়া,*
             *অসম্ভব হইবে কেমনে।*
*🌷চূড়া ধড়া কোথা থোবে,বাঁশী কোথা লুকাইবে,*
            *কালরূপ গৌর হবে কেমনে।।*
*🌷এত শুনি কৃষ্ণচন্দ্র,কৌস্তভের প্রতিবিম্ব,*
            *দেখাইলা রাধিকার অঙ্গ।*
*🌷আপনে তাহে প্রবেশিলা,দুহু দেহ এক হৈয়া,*
         *ভাব প্রেমময় সর্ব অঙ্গ।।*
*🌷নিধুবনে এক কায়া,দুই তনু এক হৈয়া,*
           *নদীয়াতে হইল উদয়।*
*🌷সঙ্গে লৈয়া ভক্তগণে,হরিনাম সংকীর্তনে,*
              *প্রেম বন‍্যায় জগৎ ভাসায়।।*
*🌷বাহিরে জীব উদ্ধারণ,অন্তরে রস আস্বাদন,*
            *ব্রজবাসী সখাসখি সঙ্গে।*
*🌷বৈষ্ণব দাসের মন,হেরি গৌরাঙ্গ শ্রীচরণ,*
          *না ভাসিল সে সুখ তরঙ্গে।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাবের কারণ প্রধানতঃ দুইটি--,অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গ, ও মুখ‍্য ও গৌণ ভেদে দুই ভাগে বিভক্ত।*
*(১)মুখ‍্য অন্তরঙ্গ--প্রেম-রস-নির্য‍্যাস আস্বাদন ও শ্রীরাধার মহাভাব বাসিত মাধুর্য‍্যাস্বাদন ও ত্রিবিধ বাঞ্জা।*
*(২)গৌণ অন্তরঙ্গ--শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য তিল,তুলসী,গঙ্গাজল ও গন্ধপুষ্প দ্বারা শ্রীবিষ্ণুচরণে কাতর প্রার্থনা ও হুঙ্কার এবং শ্রীবাসের নামসংকীর্তন।*
*(১)মুখ‍্য বহিরঙ্গ-- শ্রীব্রজের রাগাত্মিকা ভক্তির প্রচার ও ব্রজ প্রেমদান।*
*(২)গৌণ বহিরঙ্গ-- যুগধর্ম শ্রীনামসংকীর্তন প্রচার ও করুণাবতাররূপে দীন,হীন,পতিত, পাষন্ডগণের প্রতি অহৈতুকী কৃপা-- এতসহ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের সংক্ষিপ্ত চরিতসুধা বর্ণন।*
*🌹নিগূঢ় অন্তরঙ্গ কারণ------*
*🌷অপারং কস‍্যাপি প্রণয়িজন বৃন্দস‍্য কুতুকী,*
*🌷রসস্তোমং হৃত্বা মধুরমুপভোক্তং কমনি যঃ।*
*🌷রুচিরং স্বামবব্রে দুতিমিহ তদীয়াং প্রকায়ম্,*
*🌷স দেবশ্চৈতন‍্যাকৃতি রতিতবাং জঃ কৃপয়তু।।*
                    *ক্রমাগত*
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)👣প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
              *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🌻যে কৌতুকীকৃষ্ণ কোন প্রণয়জনবৃন্দের অপার ও অপ্রাকৃতিক মধুর রস আহরণ করে উপভোগ বাসনায় শ্রীরাধার কান্তি স্বীকার করে, নিজরূপ গোপন করেছেন।সেই চৈতন‍্যাকার দেবতা আমাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ প্রকাশ করুন।*
*☘শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের শুভ আবির্ভাবের মুখ‍্য অন্তরঙ্গ কারণ-- শ্রীরাধার মহাভাব বাসিত মাধুর্য‍্য আস্বাদন ও ত্রিবিধ বাঞ্জা সম্বন্ধে শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর কড়চায় বর্ণিত হয়েছে,যথা---*
*🌷শ্রীরাধায়াঃ প্রণয় মহিমা কীদৃশো বানয়ৈবা-,*
*🌷স্বাদ‍্যো যেনাদ্ভুত মধুরিমা কীদৃশো বা মদীয়ঃ।*
*🌷সৌখ‍্যং চাস‍্যা মদনুভবতঃ কীদৃশঃ বেতি লোভাৎ-,*
*🌷তদ্ভাবাঢ‍্যঃ সমজনি শচীগর্ভসিন্ধৌ হরীন্দুঃ।।*
*🌻অন্বয়=শ্রীরাধায়াঃ (শ্রীরাধার) ; প্রণয়মহিমা (প্রেমের মাহাত্ম্য) ; কী দৃশঃ বা (কেমনই বা); যেন (যার দ্বারা) ; অনয়া এব (ইঁহা দ্বারাই অর্থ‍্যাৎ কেবল শ্রীরাধা দ্বারাই) ; আস্বাদ‍্য (আস্বাদনীয়) ; মদীয়ঃ (আমার) ; অদ্ভুত মধুরিমা (অতি আশ্চর্য‍্য মাধুর্য‍্য) ; কীদৃশঃ বা (না জানি কিরকম); চ (এবং) মদনুবতঃ (আমাকে অনুভব বা আস্বাদন করিয়া) ; অস‍্যাঃ (এই শ্রীরাধার) ; সৌখ‍্যং (সুখ) ; কীদৃশং বা (কিরকমই বা); ইতি লোভাৎ (এই বিষয়ে লোভবশত) ; তদ্ভাবাঢ‍্যঃ (শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে ) ; শচী গর্ভ সিন্ধৌ (শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে) ; হরীন্দুঃ (হরি অর্থ‍্যাৎ কৃষ্ণরূপ চন্দ্র) ; সমজনি (আবির্ভূত হলেন)।*
*🌹শ্রীরাধার প্রেমের মাহাত্ম্য কেমন, যার দ্বারা শ্রীরাধা আমার অদ্ভুত মাধুর্য‍্য আস্বাদন করেন,সেই মাধুর্য‍্যই বা কিরকম এবং আমার মাধুর্য‍্য আস্বাদন করে শ্রীরাধা যে সুখ অনুভব করেন,সেই সুখই বা কিরকম-- এই তিনটি বিষয়ে লোভ হওয়ায় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র সেই শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে শচীদেবীর গর্ভ-সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।*
*🛑স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভক্তভাব অঙ্গীকার করে ব্রজলীলায় অনাস্বাদিত শ্রীরাধার প্রেম মাহাত্ম্য, আপন অদ্ভুত মাধুর্য‍্য এবং স্বমাধুর্য‍্য আস্বাদনে রাধারাণীর সুখের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।প্রেমবুভুক্ষু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রেমধনে ধনী প্রেমবিলাসিনী প্রেমসেবিকা শ্রীমতী রাধিকার কাছে "শিষ‍্য নট" বা শিক্ষার্থী মাত্র।শ্রীমতী রাধিকা তাঁর "প্রেমগুরু"।তাই ব্রজলীলায় রাধারাণীর সুদুর্লভ প্রেমসুখ তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) আস্বাদন করতে পারেননি। সেই অভাব পূরণ করবার জন্যই নবদ্বীপ লীলায় রাধাকান্তিভাব নিয়ে পূর্ণ ভগবান নবরূপে পূর্ণ হয়ে আবির্ভূত হলেন।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভু শেষলীলায় শ্রীস্বরূপ দামোদর গোঁসাই নিত‍্যসঙ্গী ছিলেন।তাঁর যে ভাব যখন উদিত হত, শ্রীপাদ স্বরূপ মহাপ্রভুর হৃদয় জেনে তদনুরূপ গান গেয়ে ও শ্লোক উচ্চারণ করে চিত্ত বিনোদন করতেন।*
*🌷এই গূঢ় হেতু সেই ত্রিবিধ প্রকার।*
*🌷 দামোদর স্বরূপ হইতে যাহার প্রচার।।*
*🌷রাত্রে বিলাপন স্বরূপের কন্ঠ ধরি।*
*🌷আবেশে আপন ভাব কহেন উঘারি।।*
*🌷"স্বরূপ গোঁসাই প্রভুর অতি অন্তরঙ্গ।*
*🌷তাহাতে জানেন প্রভুর এসব প্রসঙ্গ।।চৈঃচঃ।।*
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের আবির্ভাবের অন্তরঙ্গ কারণ বাঞ্জাত্রয়ের পূর্বে শ্রীরূপ গোঁসাইয়ের কন্ঠে "ইতি লোভাৎ" শব্দটি ধ্বনিত হয়েছে।যিনি পূর্ণতত্ত্ব ও আপ্তকাম (সিদ্ধমনোরথ),নিজ স্বরূপানন্দে নিমগ্ন থেকেও সেই গোলোকবিহারী শ্রীহরি স্বয়ং লোভাতুর।এটি যেমন দুর্বোধ‍্য,দুর্জ্ঞেয় ও নিগূঢ়--সত‍্যই ভাববার বিষয় বটে।ভাবতে ভাবতে স্মরণে আসিল নৃসিংহ অবতারের কথা।লোভটি এই প্রথম নয়।এটি পূর্বে নরসিংহ অবতারে সংঘটিত হয়েছিল।বাৎসল‍্য ও মধুরভাব--এইমাত্র ভেদ।*
*শ্রীমান প্রহ্লাদের পিতা হিরণ‍্যকশিপু মণিস্তম্ভে পদাঘাত করলে তা হতে ক্ষুদ্র নরসিংহরূপে বাহির হয়ে ক্রমশ স্বর্গ,মর্ত্ত‍্য ও নভোব‍্যাপী (আকাশব‍্যাপী) প্রচন্ড মহাবিকরাল মূর্তি ধারণ করলে স্বর্গ,মর্ত্ত‍্য পাতাল,সুমেরু শিখর পর্যন্ত পদভরে কম্পিত হতে লাগল।অকালে প্রলয় দেখে ভয়ে দেবগণ লক্ষ্মীদেবীকে প্রেরণ করলেন।লক্ষ্মীদেবী দেখলেন-- নৃসিংহমূর্তি হিরণ‍্যকশিপুর উদর বিদীর্ণ করে গলদেশে সেই নাড়ীগুলি মালা করে পরিধান করেছেন।বিকট বিকরাল মূর্তি দেখে কম্পিত হৃদয়ে তিনি শ্রীবৈকুন্ঠে প্রস্থান করলেন।সেই সময় প্রহ্লাদ নির্ভয়ে আনন্দ অন্তরে, সজলনয়নে নৃসিংহর স্তব করতে লাগলেন।নৃসিংহও প্রহ্লাদকে বক্ষে নিয়ে স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে ভক্তের সুন্দর বদন পুনঃপুনঃ দেখতে লাগলেন।সেই সময় নৃসিংহের অবস্থা কেমন, না ভক্তের বদন বারবার দেখেও সাধ মিটছে না।একবার ডানদিকে, পুনরায় বামদিকে দাড়িযুক্ত গলা হেলিয়ে ভক্তের বদন দেখতে লাগলেন, এবং নিজ হাত দিয়ে ভক্তের অঙ্গ-প্রত‍্যঙ্গ ও শিরোদেশ মৃদু হাত বুলাচ্ছেন ও ঘন ঘন মুখচুম্বন করতে লাগলেন। সেইসময় নরসিংহের ভীষণ উগ্রমূর্তি বাৎসল‍্য অনুরাগে কোমল ও রক্তিম হয়ে উঠল।কোলে বসে আছেন প্রহ্লাদের আনন্দ-উজ্জ্বল বদন বদন দেখে শ্রীনরসিংহদেবের লোভের উদয় হল।কোলে করা অপেক্ষা কোলে উঠা বেশী আনন্দ হয়।এই লোভ হেতু পরে যতবারই ভগবান অবতীর্ণ হয়েছেন ততবারই সন্ধিনী শক্তির মূর্তি পিতা মাতার ক্ষেত্র আশ্রয় করেই অবতীর্ণ হয়েছেন।*
*(১)প্রথম বাঞ্জাটি-- শ্রীরাধার প্রণয় মহিমা কিরকম প্রত‍্যেকটির বাঞ্জার সঙ্গে "ইতি লোভাৎ"-- এই পদের সম্বন্ধ। তিনটি বাঞ্জাই শ্রীরাধাকে আশ্রয় করে ; সুতরাং রাধা তত্ত্বটি ও শ্রীরাধার স্বরূপ আমাদের পূর্বাহ্নে বা সর্বপ্রথম হৃদয়ঙ্গম করতে হবে।*
*শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী শ্রীরাধার দুইটি পরিচয় প্রদান করেছেন, একটি হল-- "রাধাকৃষ্ণ প্রণয় বিকৃতি, অন‍্যটি "হ্লাদিনী শক্তি"। শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ পরিচয় দিয়েছেন, যথা---*
*🌷রাধিকা হয়েন কৃষ্ণের প্রণয় বিকার।*
*🌷স্বরূপশক্তি হ্লাদিনী নাম যাহার।।*
*🍀শ্রীভগবনে, যে শক্তিতে স্বরূপানন্দে নিমগ্ন থাকেন এবং ভক্তগণকে স্বরূপানন্দ আস্বাদন করান সেই শক্তির নাম হ্লাদিনী।তন্ত্রে উক্ত আছে শক্তির অবস্থিতি।অমূর্ত্তরূপে এই শক্তি শ্রীকৃষ্ণ স্বরূপ হতে অভিন্না এবং আপনি আপনাতে পূর্ণকাম ও স্বরূপানন্দ বিশিষ্ট।চরম একাকী অবস্থায় অর্থ‍্যাৎ নামরূপ অভিব‍্যক্ত না করে যখন ব্রহ্ম কেবল চিন্ময়রূপে অবস্থান করেন তখন প্রাকৃত জাগতিক লীলায় বিদ‍্যমান থাকেন না।সেইজন‍্য বৃহদারণ‍্যক শ্রুতিতে উক্ত হয়েছে -- "স বৈ-নৈব রেখে।*
*🌷তস্মাদেকাকী ন রমতে।*
*🌷স দ্বিতীয়ম্ ঐচ্ছৎ।*
*🌻🌻🌻সুতরাং---*
*🌷রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*🌷অন‍্যোহন‍্যে বিলসয়ে রস আস্বাদন করি।।*
*🍀এই হ্লাদিনী শক্তির মূর্ত্ত বিগ্রহরূপে এবং অধিষ্ঠাত্রী দেবীরূপে বৃষভানু রাজনন্দিনী শ্রীরাধা।তত্ত্বে যিনি অভিন্না, লীলায় তিনি ভিন্না হ্লাদিনী শক্তি অমূর্ত্তরূপে শ্রীকৃষ্ণস্বরূপে যে আনন্দ আস্বাদন করান, তা বৈচিত্র্য রহিত ও খন্ডিত আর মূর্ত্তরূপে অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধারূপে লীলাদ্বারে শ্রীকৃষ্ণকে যে আনন্দ আস্বাদন করান, তা নানান বৈচিত্র্যপূর্ণ ও অখন্ডিত। এই হ্লাদিনী শক্তি ভক্তকোটি হৃদয়ে প্রকাশিত হয়ে ক্রমশ রতি,প্রেম,স্নেহমান,প্রণয়,রাগ, অনুরাগ-ভাব ও মহাভাব সংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🌷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
                *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🌷কৃষ্ণ প্রেমে ভাবিত যার চিত্তেন্দ্রিয় কায়।*
*🌷কৃষ্ণের নিজশক্তি রাধা ক্রীড়ার সহায়।।*
*🌷হ্লাদিনীর সার প্রেম,প্রেমসার ভাব।*
*🌷ভাবের পরমকাষ্ঠা নাম মহাভাব।।*
*🌷মহাভাব-স্বরূপা শ্রীরাধা ঠাকুরাণী।*
*🌷সর্ব গুণখনি কৃষ্ণকান্ত শিরোমণি।।*
*🍁শ্রীরাধা মহাভাব স্বরূপিনী,বিশ্বমানবীয় প্রাণস্বরূপিনী। তাই তিনি নানাভাবে নানারূপে লীলারসে প্রকাশিত হয়েছেন ও হচ্ছেন। কখনও দেবী,কখনও অশ্রুময়ী, কখনও মানবী, কখনও জ‍্যোতিময়ী, কখনও তেজময়ী, কখনও প্রেম প্রার্থনাময়ী।বিশ্বে যত ভগবদ্ আরাধনা সমস্তই শ্রীরাধার বিভুত্ত্ব বিভূতির অন্তর্গত।শ্রীরাধা চির আরাধনাময়ী নিত‍্য নবায়মান--রসতরঙ্গে তিনি রমণীয়। কখনও গোলোকে কখনও গোকুলে।প্রাণভরা প্রেম, মনভরা প্রেম,অন্তরে কৃষ্ণ অনুরাগের তরঙ্গিত মহাসাগর। স্বপ্নে, জাগরণে ও সুষুপ্তিতে (নিদ্রাতে) প্রাণকোটি প্রিয়তমের সকল চিন্তায় কৃষ্ণ,সকল কল্পনায় কৃষ্ণ,প্রতি নিঃশ্বাসে কৃষ্ণ-প্রণয়োচ্ছাস নয়নে নয়নে কৃষ্ণ,দেহের প্রতিটি অণুতে শ্রীকৃষ্ণ।*
*🍀পুরে মহিষীগণের রূঢ়ভাব(এককথায় কর্কশ,কঠিন,কঠোর,রসহীন), আর ব্রজে ব্রজবাসিনীগণের অধিরূঢ় মহাভাব।এই অধিরূঢ় মহাভাব সম্ভোগে মদনাখ‍্য মহাভাব এবং বিরহে মদনাখ‍্য মহাভাব সংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়েছে।এই অধিরূঢ় মহাভাবটি একমাত্র সমর্থারতিগণ ব্রজগোপী ছাড়া অন্য কোন প্রেয়সীতে নেই।কেবলমাত্র কৃষ্ণসুখের নিমিত্তই এই মহাভাবের সমস্ত চেষ্টা।যে অধিরূঢ় মহাভাবে শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভাবগুলির উদয় হয়,তার নাম মোদন।শ্রীরাধারাণীর মদনাখ‍্য মহাভাবে সুদীর্ঘ বিরহ অবস্থার সাত্ত্বিক বিকার গুলি সুদীপ্ত অবস্থা পেয়ে মোহনাখ‍্য সংজ্ঞা লাভ করে।দৃষ্টান্ত স্বরূপ,উদ্ধব মহাশয় শ্রীবৃন্দাবন হতে মথুরায় ফিরে গেলে শ্রীকৃষ্ণ তাকে ব্রজের কুশল বার্তা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, হে প্রভো! তোমার প্রেমময়ী শ্রীরাধার যে অবস্থা দেখে আসিলাম তা শ্রীরাধারাণী ছাড়া অন‍্য কোন ভক্তে বা শাস্ত্রে দেখা যায় না।দেখা তো দূরের কথা,কোন ভক্তে এইরকম অবস্থার কথা শোনা যায় না।তার সমস্ত অঙ্গে কম্প-সাত্ত্বিকের উদয় হওয়ায় দাঁতগুলি বাদ‍্য করছিল, নয়নযুগল হতে বিগলিত অশ্রুধারায় গোকুল মন্ডলকে প্লাবিত করেছিল, নয়নাশ্রু হতে উত্থিত প্রেমবাষ্প ধূম আকাশে বাতাসে বিকীর্ণ হচ্ছে,সকল সাত্ত্বিকের উদ‍্যমে অঙ্গ কন্টকি(মিষ্টি খেজুর) হয়ে কন্টকী ফলকেও যেন তিরস্কার করছে।এতদসমুদয় বরং সম্ভব হতে পারে, কিন্তু একটা অতি চমৎকারকারী দৃশ্য দেখলাম,তোমার প্রতি সুগাঢ় অনুরাগ রাশিতে তিনি শ্বেতাঙ্গী হয়েছেন।এই মদনাখ‍্য মহাভাবের স্থায়ী অনুভাব প্রকাশিত হয়েছে। যথা-----*
*(১)নিজ অসহ‍্য দুঃখ স্বীকার করেও শ্রীকৃষ্ণের সুখ কামনা।(২)ব্রহ্মান্ড ক্ষোভকারিতা (৩)পশুপক্ষীকুলের রোদন (৪)মৃত‍্যু স্বীকার করেও নিজ দেহস্থ ভূতদ্বারা কৃষ্ণ প্রাপ্তির কামনা (৫)দিব‍্যোন্মাদ (৬)কান্তা লিখিত শ্রীকৃষ্ণের মূর্ছা।*
*(১)অসহ‍্যনীয় দুঃখ স্বীকার করেও শ্রীকৃষ্ণসুখ কামনা ঃ-- যথা শ্রীরাধা উদ্ধব মহাশয়কে বললেন, "যতদিন পর্যন্ত সে নিশ্চিত হয়ে আমাদের কাছে আসতে না পারবে,ততদিন পর্যন্ত যেন সচিন্ত‍্য হৃদয়ে আমাদের কাছে না আসে।মথুরায় বাস করে যদি তার সুখ উৎপত্তি হয়,সে মথুরায় বাস করুক। তাঁর সুখেই আমার সুখ,তাঁর কুশলেই আমার কুশল। তাই বৈষ্ণবকবি গেয়েছেন, যথা---*
*🌷দুঃখিনীর দিন দুঃখেতে গেল।*
*🌷মথুরা নগরে ছিলে তো ভাল।।*
*🌷আমার দুঃখ কিছু না গণি।*
*🌷তোমার কুশলে কুশল মানি।।*
*(২)ব্রহ্মান্ড ক্ষোভকারিতার দৃষ্টান্ত ঃ-- শ্রীরাধার প্রেমনিশ্বাস ধূম চতুর্দিকে ভ্রমণ করলে লোকগুলি উচ্চৈঃস্বরে রোদন করতে লাগল,ফণিকুল ব‍্যাকুল হল,দেববৃন্দ দেহে স্বেদ বা ঘাম বহন করতে লাগলেন এবং বৈকুন্ঠে অবস্থিতা লক্ষ্মীদেবী প্রভৃতির অশু মোচন হল। (উজ্জ্বল নীলমণি)।*
*(৩)তির্যক জাতির রোদন বা পশুপক্ষীর রোদন ঃ--- নান্দীমুখী অশ্রুমোচন করতে করতে শ্রীরাধার মোহনাখ‍্য মহাভাবের কথা পৌণমাসি যোগমায়াদেবীকে নিবেদন করে বললেন,হে দেবি!শ্রীরাধা কৃষ্ণের দ্বারকায় গমনবার্তা শুনে, শ্রীকৃষ্ণের পীত বসন দ্বারা গাত্র আচ্ছাদিত করে কালিন্দী কুলের কুঞ্জের মনোহর লতাবল্লরী আশ্রয় করে বাষ্পমোচন করে গদগদ উচ্চৈঃস্বরে এরকম গান করেছিলেন যে,যাঁর কথা শুনে জলচরী মৎস‍্য,মকরাদি জলজন্তুগুলিও অত‍্যন্ত ধ্বনি করেছিল।*
*(৪)মৃত‍্যু স্বীকার করেও নিজ-দেহের ভূতদ্বারা শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গতৃষ্ণা ঃ---- যথা, পদাবলীতে -- শ্রীরাধা ললিতাকে বললেন, হে সখী! আমি কৃষ্ণ বিরহানলে এই দগ্ধদেহ বা পোড়াদেহ পরিত‍্যাগ করলে তুমি আর যত্ন করে এ দেহ রক্ষা করিও না। এটি পঞ্চত্ব লাভ করে আকাশাদি পঞ্চভূতে গিয়ে প্রবেশ করুক। আমি বিধাতাকে প্রণাম করে এই বর প্রার্থনা করছি যে, শ্রীকৃষ্ণের বিহার দীর্ঘিকাতে (১২০০ শত হাত পরিমিত জলাশয় বা দীঘি), এই দেহের জল,তাঁর দর্পণে ইহার অনল,তাঁর প্রাঙ্গনাকাশে ইহার আকাশ,তাঁর গমনাগমনের পথে দেহের ক্ষিতি ও তদীয় তালবৃন্তে ইহার বায়ু প্রবেশ করুক।*
*(৫)দিব‍্যোন্মাদ ঃ-- এই মোহনাখ‍্য মহাভাবের কোন এক অদ্ভুত ভ্রমময়ী বিচিত্রা অবস্থাকে দিব‍্যোন্মাদ বলে অভিহিত হয়।এতে উৎঘূর্ণা,চিত্র, জল্লাদি প্রকাশ পেয়ে থাকে, অর্থ‍্যাৎ যে ভ্রমময়ী চেষ্টায় এক দেখতে অন্য পদার্থ দেখেন, এক শুনতে অন্য কথা শুনেন, এক বলতে অন‍্যকথা বলেন,এক ভাবতে অন্য ভাবনা করেন ইত্যাদি।এই মোহনাখ‍্য মহাভাব শ্রীরাধার যূথেতেই সম্ভব হয়,অন‍্য কোথাও হয় না।শ্রীমান মোদনই হ্লাদিনীশক্তির প্রিয়তর শ্রেষ্ঠ বিলাস।*
*(৬)কান্তলিখিত শ্রীকৃষ্ণের মূর্ছা সম্র্বপদ‍্যাবলী গ্রন্থে-- যার রত্নচ্ছটায় জলনিধি কর্ষরিত হয়েছে এমত দ্বারকার মন্দিরে নিশিযোগে রুক্মিণী কর্তৃক শ্রীকৃষ্ণ আলিঙ্গিত হলে তার অঙ্গে পুলক উদ্গম হচ্ছিল,এমন সময় কালিন্দীকুলে শ্রীরাধাসহ নিভৃত নিকুঞ্জ লীলার কথা স্মরণ হওয়ায় শ্রীকৃষ্ণের মূর্ছা হয়েছিল।*
*🛑উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে ◆কান্তাগণের ক্ষোভকারিতার দৃষ্টান্তে শ্রীকৃষ্ণ হতে শ্রীরাধার প্রেমাধিক‍্য ও পট্টমহিষীগণ হতে শ্রীরাধার প্রেমাতিশয‍্য প্রদর্শিত হয়েছে।*
🔵🔵🔵🔵🔵🔵🌻🔵🔵🔵🔵🔵🔵
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
                *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীরাধার কৃষ্ণানুরাগের দৃষ্টান্ত--, শ্রী উজ্জ্বলে পাই, এক সখি বলল, "দেখ দেখ শ্রীরাধার অনুরাগ সমুদ্র লহরী বিস্তার করে তার অদ্বয়ভাব হেতু অর্দ্ধাঙ্গ রূপ গিরিনন্দিনীকে, সখ‍্য হেতু প্রিয়তমের বক্ষাস্থিতা লক্ষ্মীদেবীকে, সৌভাগ্য হেতু শ্রীকৃষ্ণের মনোভৃঙ্গের নলিনীতুল‍্য সত‍্যভামাকে এবং মাধুর্য‍্য হেতু শ্রীকৃষ্ণের প্রাণসখী চন্দ্রাবলীকেও ক্ষেপন করে শ্রীকৃষ্ণকে রুদ্ধ করেছে। (সহজ সরল ভাবে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এইভাবে শ্রীরাধার প্রেমাধিক‍্যের কথা বলা হয়েছে।*
*🌷যাহার সৌভাগ্য সুখ বাঞ্জে সত‍্যভামা।*
*🌷যাঁর ঠাঁই কলাবিলাস শিখে ব্রজরামা।।*
*🌷যাঁর সৌন্দর্য্য গুণ বাঞ্জে লক্ষ্মী পার্বতী।*
*🌷যাঁর পতিব্রতা ধর্ম বাঞ্জে অরুন্ধতি।।*
*🌷যাঁর সৎগুণ গণের কৃষ্ণ না পায় পার।*
*🌷তাঁর গুণ গণিবে কেমতে জীব ছার।।*
*🌻আবার শ্রীমাদনই হ্লাদিনীশক্তির প্রিয়তম শ্রেষ্ঠ বিলাস।এই মাদনাখ‍্য মহাভাব একমাত্র শ্রীরাধাতেই বিরাজমান।শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ মাদন শব্দের অর্থ করেছেন---*
*🌷সর্বভাবোদ্গমোল্লাসী মাদননোহয়ংপরাৎপরঃ।*
*🌷রাজতে হ্লাদিনীসারো রাধায়েমেব সদা।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হ্লাদিনী সাৎ অর্থ‍্যাৎ প্রেম যদি স‍্যাৎ রতি আদি মহাভাব পর্যন্তের উদগমনে (র্উদ্ধদিকে উপরেরদিকে এগিয়ে)উল্লাসশীল হয় তবে তাকে মাদন বলা হয়।এই মাদনাখ‍্য পরাৎপর (শ্রেষ্ঠ হতেও শ্রেষ্ঠ) অর্থ‍্যাৎ মোহনাদি ভাব অপেক্ষাও উৎকৃষ্ট বা উত্তম,সতত এটি রাধাতেই বিরাজিত ; অন‍্য কোন কারও মধ্যে ইহার উদয় হয় না।মাদন শব্দে মদ্ ধাতুর অর্থ হর্ষ, অর্থ‍্যাৎ সমস্ত জগতের হর্ষপ্রদ।এই কারণে এটি অদ্বৈত অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধারাণী ছাড়া এই মাদন রস কুত্রাপি (কোথাও বা কোন জায়গায়) সম্ভব হয় না।এই মাদনরসে প্রাণকোটি প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শন,দর্শন, আলিঙ্গন, চুম্বনাদি কোটি কোটি সুখসমুদ্র এককালে (যুগপৎ)উদ্বেলিত (উথলিত) হয়ে থাকে।শ্রীভগবান সর্বজাতীয় প্রেমেরই বিষয়।বিষয়জাতীয় সুখ তাঁর আস্বাদ‍্য হলেও তিনি বিষয়রূপে ঐ আশ্রয় জাতীয় সুখও কথঞ্চিত আস্বাদন করে থাকেন ; কিন্তু কেবল শ্রীরাধারাণীর এই মাদনাখ‍্য পরাৎপর আশ্রয় হতে পারেন না বলে তিনি শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি অঙ্গীকার করতঃ শ্রীগৌরাঙ্গরূপে তা আস্বাদন করে থাকেন।মাদনাখ‍্য পরাৎপরে যে কোটি কোটি সুখসিন্ধু উদ্বেলিত বা উথলিত হয়,তার ধারণযোগ‍্য আধার একমাত্র শ্রীশ্রীরাধারাণী।শ্রীরাধাই কেবল এই উত্তাল তরঙ্গের বেগধারণে সমর্থা, শ্রীরাধার যূথের সখীবৃন্দ ও তদীয় অন‍্য কোন প্রেয়সী এই সুখসিন্ধুর যুগপৎ (এককালে) বেগ ধারণে সমর্থা নন বলে এটি অদ্বৈত বা দ্বিতীয় রহিত বা সতত ইহা শ্রীরাধাতে ও শ্রীরাধা ভাবাঢ‍্য শ্রীগৌরাঙ্গে বিরাজিত।এই মাদনরসে অচেতন পদার্থেও ঈর্ষার সঞ্চার হয় (১) যথা দানকেলি কৌমুদীতে শ্রীরাধা দানার্থ শ্রীকৃষ্ণের বনমালা নিরীক্ষণ করে বা দেখে তারপ্রতি ঈর্ষাভাব পোষণ করেছিলেন। (২)আবার,শ্রীকৃষ্ণের অধর-সুধাপানকারী মধুর বেণুকে লক্ষ্য করে মুরলীর ভাগ‍্যের উৎকর্ষ ও নিজের ভাগ‍্যের প্রতি অনাদর অনুভব হেতু বাঁশী হয়ে জন্মের অভিলাষ প্রার্থনা করেছেন।(৩)শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় গন্ধমাত্রের আধারের প্রতিও শ্রীরাধার স্তুতি। যথা শ্রীমদ্ভাগবতে ১০|২১|১৭ পাই-----*
*🌷পূর্ণাঃ পুলিন্দ উরুগায় পদাব্জরাগ,*
*🌷শ্রীকুঙ্কুমেন দয়িতাস্তন মন্ডিতেন।*
*🌷তদ্দর্শন স্বররুজস্তম রূষিতেন,*
*🌷লিম্পান্ত‍্য আননকুচেষু জহু স্তদাধিম্।।*
*🌻শ্রীরাধা প্রিয় সখীগণকে বলেছেন-- হে সখীগণ! অন্তজ জাতীয় রমণীগণের জীবন সার্থক, শ্রীকৃষ্ণের কোন প্রিয়তমার স্তনযুগলে যে কুঙ্কুম লিপ্ত ছিল,তা শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মে কোনভাবে লিপ্ত হয়ে বনেরমধ‍্যে তৃণগুলিতে মেখে যায়। তারা সেই সব তুলে নিজেদের মুখমন্ডলে ও বক্ষস্থলে লেপন করে নিজেদের হৃদয়ের কামপঈড়া শান্ত করে ছিল। শ্রীমদ্ভাগবতের সিদ্ধান্ত এই যে, সম্ভোগ ও বিপ্রলম্ভ উভয়ের এককালীন প্রকাশ ভেঙ্গে অবস্থিত হয়।যখন মাদনাখ‍্য স্থায়ীভাব উদয় হয়,তার চিহ্ন এই আলিঙ্গন চুম্বনাদি সম্ভোগ-অনুভবের মধ্যেই নানান প্রকার বিপ্রলম্ভ দশার অনুভব হয়, একের প্রকাশ প্রকাশদ্বয়ের ধর্ম অনুভব করায়।এই কারণেই মাদনরসের দ্বিলক্ষণতা।যদি এটিই হল,তবে সম্ভোগকালেও কি রকমে অতিশয় তৃষ্ণাময়ী উক্তির সম্ভব হয়।এই জন্যই এটি বিচিত্র এবং হাজাররূপে বিরাজ করে।এতে সম্ভোগকালেও উৎকণ্ঠা ; অতএব অতি অদ্ভুত।এই মাদনরসের অতি অদ্ভুত বৈচিত্র্য হেতুই নিজ ভাগ‍্যের প্রতি অনাদর ও অন‍্যের ভাগ‍্যের উৎকর্ষতা উপলব্ধি হয়।মাদনরসের সুন্দর রূপ গতিরোধ করতে মদনেরও সাধ‍্য নাই।তাই ভরতমুনি অতিশয় ভাবে নিরূপণ করতে সমর্থ হন না।*
*শ্রীউদ্ধব সংবাদে "ভূজমগুরুসুগন্ধং" অর্থ‍্যাৎ অগুরু হতেও সুগন্ধি শ্রীকৃষ্ণের ভূজদন্ডের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রীরাইধনির সহসা শ্রীকৃষ্ণে সেই সবর্ত্তুল আজানুলম্বিত ভূজযুগের স্পর্শস্ফূর্তি পেয়ে যে আনন্দ মূর্ছা উপস্থিত হয় এবং মৃর্ছাকালে রাধারাণীর যে অবস্থা হয়ে থাকে ; তা শ্রীজীব গোস্বামীপাদ-- গোপালচম্পূ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।এতে শ্রীরাধারাণীর মহামহিমা,ভাব-গাম্ভীর্য‍্য ও তুলনা রাহিত‍্য প্রদর্শিত হয়েছে।স্বরের বৈপরীত্য, অঙ্গের অত‍্যন্ত কৃশতা, হস্তপদাদির সন্নিবেশের অন‍্যথা, অর্থ‍্যাৎ যেরকম ভাবে অঙ্গের দৈর্ঘ‍্য ও সরলতা থাকা দরকার,তার অন‍্যথা, বৈবর্ণ,শ্রীমুখ হতে লালাস্রাব, শ্বাসরোধ প্রভৃতি যে সব অবস্থা ঘটে, তাকে সখীগণও শ্রীরাধাকে চিনতেপারেন না।শ্রীরাধারাণী ছাড়া একমাত্র রাধাভাবাঢ‍্য শ্রীগৌরসুন্দরের কূর্মাকৃতিও দীর্ঘাকৃতি অবস্থায় এই ভাব পরিলক্ষিত হয়।*
🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
                  *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*
*🍀শ্রীরাধা ও শ্রীমাধবের প্রেমে একান্ত বশীভূতা বলে মাধবী সংজ্ঞার অভিহিতা। তিনি শ্রীকৃষ্ণতরুণ তমালের স্বর্ণলতিকা বা মাধবীলতা স্বরূপা,শ‍্যামনবজলধরের অচলা চপলা সদৃশী শ্রীরাধাই কৃত চাতকের জীবনোপায় স্বরূপা,শ্রীরাধার মহাভাব বাসিত প্রীতিরসই জীবাতু।লীলাবিলাসে শ্রীকৃষ্ণের শ্রান্ত কলেবরে বসন্তের মলয় পবনের মত তিনি স্নিগ্ধা ও তনু-মনোপ্রাণে "উল্লাসদায়িনী" অদ্বৈত মাদনাখ‍্য মহাভাবের আশ্রয় স্বরূপা শ্রীরাধার সহিত লীলা বিলাসে শ্রীকৃষ্ণ অখন্ড পরমানন্দ লাভ করেন।যেখানে প্রেম অখন্ড ও অদ্বৈত সেখানেই আনন্দের পরিপূর্ণ বিকাশ।সেই জন্যই শ্রীকৃষ্ণের প্রাণরূপ মহামীন সেই অতল অসীম ভাবসাগরে খেলা করে থাকে।ভক্তকোটি হৃদয়ের প্রেম-রস নির্য‍্যাস আস্বাদনের সে অনন্ত পিপাসা অনাদি কাল হতেই শ্রীকৃষ্ণে বিরাজিত আছে ও থাকবে,তা পূর্ত্তি করতে সুধাধারার মত শ্রীরাধার প্রেমই সমর্থ।এই জন্য রসগ্রন্থে--,"কৃষ্ণান‍্য তৃষ্ণাসংহারী সুধাসারৈক ঝর্ঝরী" বলে শ্রীরাধা বিখ‍্যাতা।শ্রীমতীর সঙ্গে বিলাসানন্দে নিমগ্ন হলে শ্রীকৃষ্ণের আর কোন ভক্তপ্রেমে রমণাভিলাষের উদয় হয় না।*
*কারণ মহাসাগর পেয়ে গেলে যেমন ক্ষুদ্র সরিৎ বা সরোবরের প্রয়োজন বোধ হয় না, তদ্রূপ রতিরসের অখন্ড মহাসাগর শ্রীমতী শ্রীরাধাকে পেয়ে গেলে অন‍্যান‍্য সমস্ত ভক্তের জাতি ও পরিমাণ গত প্রেমাস্বাদ সেই অনন্ত,অসীম ও অদ্বৈত মহাভাব দ্বারা ক্রোড়ীকৃত হয়ে থাকে।তাই শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন-*
*🌷পূর্ণানন্দময় আমি চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব।*
*🌷রাধিকার প্রেমে আমায় করায় উন্মত্ত।।*
*🌷না জানি রাধার প্রেমে আছে কত বল।*
*🌷সে বলে আমারে করে সর্বদা বিহ্বল।।*
*🌻ললিত মাধব নাটকে (৯|৫) শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতীকে বলছেন----*
*🌷নিধুতামৃত মাধুরী পরিমলঃ কল‍্যাণী বিম্বাধরো,*
*🌷বক্ত্রং পঙ্কজ সৌরভং কুহুরত-শ্লাঘা বিদস্তে গিরঃ।*
*🌷অঙ্গং চন্দনশীতলং তনুরিয়ং সৌন্দর্য্যসর্বস্ব ভাক,*
*🌷ত্বমাস্বাদ‍্য মমেদমিন্দ্রিফকুলং রাধে! মুহুমোদিতৈ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ কহিলেন--হে মঙ্গলময়ী! তোমার বিম্বাধর সুধামাধুরীর পরিমলকেও পরাজিত করছে, তোমার বদন পদ্ম-গন্ধে সুবাভিত,বাক‍্যাবলী কোকিলকাকলীর শ্লাথাও দূর করেছে, অঙ্গ চন্দনবৎ সুশীতল এবং দেহ সর্ব সৌন্দর্যের আধার স্বরূপ।হে রাধে! তোমাকে পেয়ে আমার ইন্দ্রিয়গ্রাম মুহুর্মুহু পরমানন্দে লিপ্ত হচ্ছে।*
*এই অভিপ্রায়ে শ্রীকবিরাজ গোস্বামীপাদ শ্রীকৃষ্ণের উক্তি প্রকাশ করেছেন--*
*🌷মোর রূপে আপ‍্যায়িত করে ত্রিভুবন।*
*🌷রাধার দর্শনে মোর জুড়ায় নয়ন।।*
*🌷মোর স্বর বংশীগীতে আকর্ষয়ে ত্রিভুবন।*
*🌷রাধার বচনে হরে আমার শ্রবণ।।*
*🌷যদ‍্যপি আমার গন্ধে জগৎ সুগন্ধ।*
*🌷মোর চিত্ত ঘ্রাণ হরে রাধার অঙ্গগন্ধ।।*
*🌷যদ‍্যপি আমার রসে জগৎ সরস।*
*🌷রাধার অধর রসে আমা করে বশ।।চৈঃচঃ।।*
*🌻পূর্ণ যৌবনা,দক্ষিণা ও মৃদু স্বভাবা ঘৃতস্নেহময়ী চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে গমন করে তারই বক্ষে শ্রীকৃষ্ণ নিদ্রিত থেকেও নিশীথকালে নিদ্রার ঘোরে-- "হে রাধে!হে প্রেমময়ী! বলে আকুল আগ্রহে রাধানাম উচ্চারণ করে কেঁদে উঠেছিলেন।এই রাধানাম শুনে চন্দ্রাবলী স্তম্ভিতা হয়ে মনে মনে রাধা প্রেমের অসামান্য গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন।চন্দ্রাবলী,অন‍্যান‍্য ব্রজাঙ্গনাগণের সঙ্গে ও অন‍্যান‍্য লক্ষ্মীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বিহারকালে রমণটা খন্ডিত।শ্রীরাধার সঙ্গে শ্রীরাধারমণের প্রেমাস্বাদ পরিপূর্ণ তৃপ্তির উদয় হয় বলে সেটি অখন্ড রমণ, (রমণ বলতে আমরা যা বুঝি, এই রমণের বিষয়বস্তু এটি নয়, ব্রজের প্রেম নিষ্কাম, এবং অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের একমাত্র ব্রজগোপীগণই "মদনের" সামনে দাঁড়িয়ে মদনকে শাস্তি দিয়েছিলেন)।যাইহোক,এই জন্য অন‍্যভক্তগত প্রেমাস্বাদ আকাঙ্ক্ষা কৃষ্ণ হৃদয়ে উদয় হয় না।অতএব শ্রীরাধারাণীর সঙ্গে শ্রীরাধারমণের অখন্ড রমণ বা পরিপূর্ণ প্রেম-রস-নির্য‍্যাস আস্বাদন হয়ে থাকে।তাই শ্রীরাধা অখন্ড রমণের আশ্রয়,মহাভাবস্বরূপিনী, কৃষ্ণহৃদিবিলাসিনী,শ‍্যামকন্ঠহেমমণি, রমণীমুকুটমণি,কৃষ্ণমনমোহিনী।শ্রীবৃহৎ গৌতমীয়েতে বর্ণিত হয়েছেন--*
*🌷দেবী কৃষ্ণময়ী প্রোক্তা রাধিকা পরদেবতা।*
*🌷সর্ব লক্ষ্মীময়ী সর্বকান্তিঃ সম্মোহিনী পরা।।*
                *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣রাধে👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds