শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
  *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀এখানে মনে রাখা উচিত যে, বৌদ্ধ-তন্ত্রসাধনা হিন্দু ও নাথধর্মের যোগানুষ্ঠানপদ্ধতি গ্রহণ করেছিল, (অবশ‍্য মঃমঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য এবং আরও অনেকের অভিমত যে,হিন্দুতন্ত্রই বৌদ্ধতন্ত্রের নিকট ঋণী, অথবা বৌদ্ধতন্ত্রের আচার, পূজানুষ্ঠান, মন্ত্র, যন্ত্র ও দেবদেবীরা হিন্দুতন্ত্রে অনুপ্রবেশ করেছিল।অবশ‍্য এই মতবাদের অনেকেই পক্ষপাতী নন)। এবং চর্যাপদে যোগশাস্ত্রের মতো ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না নাড়ীর উল্লেখ আছে,নদীর উজান প্রভৃতির উল্লেখ আছে।এখানে ডক্টর শশিভূষণ দাসগুপ্তের "বৌদ্ধগান চর্যাগীতি" গ্রন্থ থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি দিলাম বিষয়টি বিশেষভাবে বোধগম্যের জন্য।তিনি লিখেছেন--, যোগসাধনার দিক হতে দেখতে পাব,আমাদের দেহের মধ্যে তিনটি প্রধান নাড়ী আছে, একটি বামগা--শ্বাসবাহী নাড়ী বা প্রাণবাহী নাড়ী, অন‍্যটি হল দক্ষিণগা-- প্রশ্বাসবাহী নাড়ীবা আপনবাহী নাড়ী, এই দুই হল দেহমধ‍্যে সর্বপ্রকার দ্বৈততত্ত্বের প্রতীক বা প্রতিনিধি,আর একটি নাড়ী আছে মধ‍্যগা নাড়ী,তাকে বৌদ্ধতন্ত্রে বলা হয় অবধূতি বা অবধূতিকা।☆ ☆ তাদের স্বাভাবিক নিম্নগা ধারাকে অবধূতিকা-পথে উর্ধ্বগা করতে পারলে অদ্বয়বোধিচিত্ত বা সহজানন্দ-রূপ মহাসুখ লাভ হয়।(পৃঃ ৯৫)।*
*🍀সিদ্ধাচার্য‍্য সরহপাদ যোগসাধনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন---*
*🌷এত্থু সে সুরসুরি জমুণা,*
*🌷এত্থু সে গঙ্গাসাঅরু।*
*🌷এত্থু পআগ বণারসি,*
*🌷এত্থু সে চন্দ দিবাঅরু।।প্রভৃতি*
*🍀এত্থু অর্থে এখানে বা এই দেহেই সুরসুরি বা সুরসরিৎ গঙ্গা ও জমুণা বা যমুনা এবং এখানে বা এই দেহেই গঙ্গাসাগর, প্রয়াগ ও বারাণসী, চন্দ্র, সূর্য‍্য (দিবাঅরু) প্রভৃতি বিরাজিত। সুতরাং সব তীর্থে ভ্রমণ করে শান্তি নাই,আজে সহজানন্দে সুখ ও শান্তি।সরহপাদের এই চর্যাগীতি সাধক রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের গানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সাধক রামপ্রসাদ বলেছেন, কাশী কাঞ্চী সবই আছে শ‍্যামা-মার চরণতলে ও কমলাকান্ত বলেছেন----*
*🌷তীর্থভ্রমণ দুঃখগমন, মন-উচাটন হয়ো নারে।*
*🌷আনন্দে ত্রিবেণী স্নানে,শীতল হও না মূলাধারে।।*
*🍀ত্রিবেণী কিনা গঙ্গা,যমুনা ও সরস্বতী তথা ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্নার সঙ্গম রূপ।তিনটি নাড়ীই মূলাধারে ও সহস্রারে মিশ্রিত এবং মূলাধার ও সহস্রারই শক্তি ও শিবের স্থান এবং সামরস‍্য-আনন্দ ঐ দুটি স্থানেই সম্ভব হতে পারে।হটযোগপ্রদীপিকা, জ্ঞানসঙ্কলিনীতন্ত্র প্রভৃতিতে শিবশক্তি সামবস‍্যের উল্লেখ আছে এবং বৌদ্ধতন্ত্রেও আছে।শিবকে বিন্দুরূপে ও শক্তিকে নাদরূপে তন্ত্রে কল্পনা করা হয়েছে।শিব নিবৃত্তিতত্ত্ব ও ত্রিগুণাত্মিকা শক্তি প্রবৃত্তিতত্ত্ব।এই নিবৃত্তি-প্রবৃত্তিতত্ত্বের নিম্নগা ধারায় সংবৃতি(আবরণ),মায়া বা ভব (সংসারপ্রবাহ ও প্রবৃত্তি) এবং এদের মিলনের উর্ধ্বগা ধারায় অদ্বয়ে প্রতিষ্ঠা, এবং সহজানন্দ বা মহাসুখপ্রাপ্তি।বৌদ্ধতন্ত্রমতে, বিন্দু-- প্রজ্ঞা এবং নাদ-- উপায়, সুতরাং বিন্দু ও নাদ বা প্রজ্ঞা ও উপায়ের উর্ধধারার-মিলনে "অবধূতিকামার্গ"।এই মার্গ অনুসরণ করে স্রোতে উজান দিয়ে উল্টাসাধন করলে মহাসুখ, সহজানন্দ বা সামরস‍্য লাভ হয়।এই সামবস‍‍্য দেহের মধ্যেই থাকে,এজন‍্য বৌদ্ধ-বজ্রযানী সিদ্ধাচার্য‍্যগণ, সহজিয়াগণ ও বাউল সাধকগণ,কায়া বা কায়সাধন ও উল্টাসাধনের পক্ষপাতী।উল্টাসাধনায় চর্যারচয়িতা বৌদ্ধসাধকরা অবধূতি বা অবধূতিকাকে বা নৈরাত্মাদেবীকে (যোগিনীকে) লাভ করেন সহজানন্দ লাভের জন্য।চর্যাগীতির তত্ত্বকথা ও মর্মকথা তাই।চর্যাগীতি অধ‍্যাত্মসাধনার গান এবং "গীতগোবিন্দ" পদগান ও বৈষ্ণব-পদাবলী- কীর্তনের প্রতিষ্ঠা বা পাদভূমি।চর্যার অবধূতিকাই গীতগোবিন্দ ও পদাবলীকীর্তনের শ্রীরাধা এবং পরবর্তী গৌড়ীয় বৈষ্ণব-সাধনতত্ত্বে শ্রীকৃষ্ণ-রাধার সমন্বয়মূর্তি রসভাবঘন শ্রীচৈতন‍্য বা শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি।*
*🔵চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী এখানেই বিরাম হল।*
🎻🎻🎻📯📯📯🎺🎻🎻🎻📯📯📯
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀বাংলা-সাহিত‍্যে ও পদাবলীকীর্তনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমা ও পরিবেশ এবং তার সঙ্গীতের ইতিহাস কী ধরণের ছিল সে সম্বন্ধে আমাদের কিছুটা পরিচয় থাকা উচিত এবং সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের ক্রমবিকাশধারার ইতিবৃত্তও আমাদের জানা উচিত। বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ। বাংলার নগর ও পল্লী (নাগর ও গ্রামীণ)এই উভয় সমাজেই মানব জীবনযাত্রার প্রতিটি গতি ও ছন্দের সঙ্গে নৃত্য-গীত-বাদ‍্য বা সঙ্গীতের নিবিড় সম্পর্ক ছিল এবং এখনও আছে। বৃহত্তর-বাংলার সাহিত‍্য ও সংস্কৃতির অপরিহার্য‍্য বা অত‍্যাজ‍্য অঙ্গ ও উপাদানই ছিল গীতি বা গান-- তা সে ছড়ার আকারেই হোক,হেঁয়ালী বা প্রবাদের আকারেই হোক, ব্রতানুষ্ঠান, বিবাহ ও অন‍্যান‍্য মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পকেই হোক।গিরিব্রজ বা বিহার, কলিঙ্গ বা উড়িষ‍্যা এবং কামরূপ বা আসাম নিয়ে অখন্ড বাংলাদেশ ছিল বৃহত্তর বাংলার রূপ,সেকথা আগেই উল্লেখ করেছি।মিথিলা ছিল তখন বৃহৎ-বঙ্গের অপরিচ্ছেদ‍্য অঙ্গ এবং দ্বারবঙ্গ (দ্বারভাঙ্গা) ছিল বাংলাদেশের প্রবেশ পথ।উৎকল বা উড়িষ‍্যার কথাও তাই।এমনকি চতুর্দশ শতক পর্যন্ত বাংলা ও উড়িষ‍্যার মধ্যে পৃথক কোন সীমারেখার অস্তিত্ব ছিল না।পঞ্চগৌড়ের মধ্যে কলিঙ্গ>উৎকল>উড়িষ‍্যা ছিল অন‍্যতম। দক্ষিণরাঢ়ের সিংহপুর ছিল একসময়ে বৃহৎ-উড়িষ‍্যার প্রধান রাষ্ট্রকেন্দ্র।গৌড়ের সীমারেখাও বিস্তৃত ছিল লক্ষ্মণাবতী বা বতর্মান মালদহ জেলা পর্যন্ত।কামসূত্রের টীকাকার যশোহরের মতে,গৌড়-বঙ্গের বিস্তৃতি ছিল কলিঙ্গদেশ বা উড়িষ‍্যা পর্যন্ত।শক্তিসঙ্গমতন্ত্রে বঙ্গের বা গৌড়বঙ্গের যে রূপের পরিচয় দেওয়া আছে তা থেকে জানা যায়,মধ‍্য ও পূর্ববাংলা থেকে শুরু করে ভুবনেশ্বর (উড়িষ‍্যা) পর্যন্ত বিশাল ভূমিখন্ডই ছিল বঙ্গদেশ বা বাংলা, কেন-না, পঞ্চগৌড় বলতে তখন বোঝাত সারস্বত বা পূর্বপাঞ্জাব,কান‍্যকুব্জ,মিথিলা (উত্তর-বিহার) ও উৎকল (উত্তর উড়িষ‍্যা)।স্কন্দ পুরাণাদিতেও এধরণের উল্লেখ পাওয়া যায়।*
*🍀বাঙলা বা বঙ্গাল শব্দ বা নামটি নিয়ে বিভিন্ন পন্ডিতদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে।"আইন-ই-অকবরী" গ্রন্থে আবুল ফজল "বঙ্গ" ও "বঙ্গাল" এই দুইটি শব্দেরই উল্লেখ করেছেন।তিনি বলেছেন--The original name of Bengal was Banga. Its former Rulers raised mounds, measuring ten yeards in height and twenty in brcadth, throughout the province. Which were called al. From this suffix (al), the name Bengal took its rise and currency. (English translation)। ভারতের ইতিহাস থেকে জানা যায়, সম্রাট আকবর ও লামা তারানাথের সময়ে "আল" শব্দটি অন‍্য নামে অর্থ‍্যাৎ "ভাটি" পরিচিত ছিল।দক্ষিণভারতের ও অন‍্যান‍্য দেশের কতগুলি তাম্রলিপি ও শিলা লেখাতে দেখা যায়, "বঙ্গ বা বঙ্গলা" (বাংলা) এই শব্দ দুটিকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব‍্যবহার করা হয়েছে। খ্রীষ্টীয় এগারো শতকের আগে বঙ্গ বা বঙ্গদেশ ঠিক বাঙ্গালা বা বাঙলা নামে পরিচিত ছিল কিনা তার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং মনে করা যেত পারে যে,১১শ-১২শ শতকের বৃহৎবঙ্গের সীমা নির্দেশ ছিল-- উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে তাম্রলিপ্তের (বর্তমান তমলুক) সীমা বিশাল সমুদ্র, পূর্বে আরাকানের নিবিড় অরণ‍্য ও পশ্চিমে মগধের প্রান্তদেশে ছোটনাগপুরের বিস্তৃত অরণ‍্য।শোনা যায়,আরাকানের রাজ‍্যসভায় তখন বাঙালী কবি ও সাহিত‍্যিকদের আলোচনাসভার আয়োজন হত। বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদের সমন্বয়-নিদর্শনও বৃহৎবঙ্গের মধ্যে কম ছিল না।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী (নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে) বাঁশবাড়ী, ইংরেজ-বাজার, মালদহ।7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀শোনা যায়,খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতকের আরব-জাতিকে কেন্দ্র করে ইসলামীয় সুফীধর্মের সম্প্রসারণ বাংলার বুকে সম্ভব হয়েছিল। অনেকের মতে পারস‍্য,বোখারা ও সমরকন্দে সুফীমতবাদের কেন্দ্র নির্দিষ্ট থাকলেও বাংলায় প্রাচীন বৈষ্ণবদের আউল,বাউল,দরবেশ ও সাঁই (স্বামী) প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মধ্যে সুফীমতবাদের কিছুটা অনুপ্রবেশ বা সংমিশ্রণ ঘটেছিল।(◆ডঃ মুহম্মদ এনামুল হক মনে করেন,খ্রীষ্টীয় এয়োদশ শতকের প্রথম ভাগে সুহ্- রববদীযহ (শব্দ বুঝা যাচ্ছে না)সম্প্রদায়ভুক্ত শেখ জলালুদ্দীন তববীয়ীর অভিযানের পর থেকেই বাংলাদেশ সুফীমতবাদের অনুপ্রবেশ ঘটে।অবশ‍্য এ মতের ভিন্ন মতেরও প্রচলন আছে)।কথিত যে,মুসলমান দরবীশ বা দরবেশদের মাধ‍্যমে আরবীয় সুফীধর্মের মিলন সংঘটিত হয়েছিল।(◆এ সম্বন্ধে এড্ ওয়াড জে.ব্রাউনের (E.J. Browne) Dervish গ্রন্থে আলোচনা দ্রষ্টব‍্য)। বাংলার বিচিত্র ধর্মমতের সঙ্গে এবং বিশেষ করে চারটি কেন্দ্রের মাধ‍্যমে তা সম্ভবপর হয়েছিল সেই চারটি কেন্দ্র হল--, (1)বরেন্দ্রভূমি, তথা মালদহ,দিনাজপুর,রঙ্গপুর বা রংপুর, পূর্ণিয়া,রাজমহল ও তার চারপাশের অঞ্চল।(2)রাঢ়ভূমি বা বর্ধমান, বীরভূমি বাঁকুড়া ও হুগলী (3) বঙ্গভূমি তথা পাবনা,বগুড়া,রাজশাহী, ময়মনসিংহ,ঢাকা, ফরিদপুর ও বাখরগঞ্জ এবং (5)চট্টলভূমি বা চট্টগ্রাম,ত্রিপুরা ও নোয়াখালী। অবশ‍্য এ মতবাদের সমীচীনতাও নির্ধারণ করা উচিত ঐতিহাসিক দৃষ্টির কষ্টিপাথরে।বৌদ্ধযোগ তন্ত্র (হিন্দু ও বৌদ্ধ) ও বৈদিকধর্মের সংমিশ্রণে বাংলার বৈষ্ণবধমে যে এক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল সে আলোচনা আগেই কিছুটা করেছি।বিশাল বঙ্গে এবং পরবর্তীকালে খন্ডিত বাংলায়ও সংস্কৃতচর্চা বনাম বিদ‍্যাচর্চার বিশেষ প্রচলন ছিল।প্রাচীন ও নব‍্য বা নতূন ন‍্যায়,মীমাংসা, স্মৃতি, অলংকার,ব‍্যাকরণ প্রভৃতি শাস্ত্রের কথা ছেড়ে দিলেও বাংলাদেশের সারস্বত (পূর্ব পাঞ্জাব)আচার-ব‍্যবহার ও সঙ্গে সঙ্গে দেশসমৃদ্ধির পরিচায়করূপে পুন্ড্রবর্ধনের অধিবাসী সন্ধ‍্যাকর নন্দী রচিত "রামচরিত" বিশেষ উল্লেখযোগ্য।'রামচরিত' গৌড়রাজ রামপালদের ও তদীয় পুত্র মদনপালদেবের অবিস্মরণীয় কীর্তিগাথা ও অবদানের ইতিকথা।এই ইতিকথার পরিপ্রেক্ষিতে পালযুগে বাংলার সামাজিক ও পরিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক জীবন স্বাচ্ছন্দেরও সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।নালন্দা, বিক্রমশিলা,ওদন্তপুরী প্রভৃতি বৌদ্ধ বিশ্ববিদ‍্যালয় এবং ঐ সব মহাশিক্ষাতীর্থ সংলগ্ন বৃহৎ গ্রন্থশালাগুলিও পালযুগের শিক্ষা-সংস্কৃতির জ্বলন্ত নিদর্শন।বাঙ্গালী বৌদ্ধধর্মাচার্য‍্য ও সুপন্ডিত অতীশ দীপঙ্কর,শীলভদ্র, শান্তিরক্ষিত ও অন‍্যান‍্য মণিষীদের শিক্ষা,সংস্কৃতি ও ধর্মের অবদান বাংলার ইতিহাসকে গৌরবমন্ডিত করেছে। "কবীন্দ্রসমুচ্চয়" ও 'সদুক্তিকর্ণামৃত' গ্রন্থ দুটিতে প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনা প্রবাহের অনুলিখন ছাড়াও তদানীন্তন সমাজে আদি ও ভক্তিরসাত্মক ধর্মভাব সেবিত দৈনন্দিন জীবনচর্যার পরিচয় পাওয়া যায়।*
*🍀পালরাজাদের পূর্ববর্তী গুপ্ত ও সেন-রাজাদের শাসনকাল বাংলার সমাজে শিক্ষা, সংস্কৃতি,ধর্ম ও সামাজিক জীবন দিনপঞ্জীপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষ‍্য দেয়।রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভায় জয়দেব,ধোয়ী,উমাপতি ধর,গোবর্দ্ধন ও শরণ এই পঞ্চরত্নের কাব‍্যপ্রতিভা দ্বাদশ শতকের বাংলাকে গৌরবোজ্জ্বল করেছিল। ভক্তি ও ভক্তিবাদের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণ, বিষ্ণু বা কৃষ্ণ-বাসুদেবকে আশ্রয় করে কিভাবে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের গোড়াপত্তন সম্ভব ও সার্থক হয়েছিল তার বিবরণ আমরা আরো কিছু পরে দেবার চেষ্টা করব।বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের আলোচনায় ভক্তিতত্ত্ব ও ভক্তিরসকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণ বা কৃষ্ণবাসুদেবের প্রসঙ্গও অপরিহার্য।আচার্য‍্য শঙ্করের প্রমাণিত ও প্রচারিত অদ্বৈতব্রহ্মবাদ (মায়াবাদ নয়) পূর্বমীমাংসাদর্শন নির্দিষ্ট ধর্ম ও কর্ম এবং ভগবান বুদ্ধ ও পরবর্তী বৌদ্ধাচার্য‍্যগণ প্রচারিত বৌদ্ধমতকে বিশেষভাবে নিরস্ত বা বিরত করলেও ভক্তিবাদের বিরুদ্ধে কোনদিন কেউ সংগ্রাম ঘোষণা করেননি। বিশেষ করে প্রখর জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সরস ভক্তিচর্চার স্পর্শ বাংলার মানসক্ষেত্রে এক নতূন জীবন স্পন্দন সৃষ্টি করেছিল।আচার্য‍্য রামানুজ,নিম্বার্ক,মধ্ব, বল্লভাচার্য‍্য কিংবা দক্ষিণভারতে আলবার বা আলোয়ার সম্প্রদায় প্রচারিত ভক্তিবাদ ও বৈষ্ণবধর্ম বাংলার জনগণের মনে তত ন্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম না হলেও শান্ডিল‍্যসূত্র, নারদীয়ভক্তিসূত্র, শ্রীমদ্ভাগবতের প্রাণকেন্দ্র বিভিন্ন পঞ্চরাত্রসংহিতা ও পুরাণসাহিত‍্য প্রতিপাদিত ঈশ্বরপ্রেম ও ভক্তিধর্ম বাঙ্গালীর সচল ও রসসিক্ত মনকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল।অবশ‍্য গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের নবজন্ম তখনও বাংলার বুকে সার্থক হয়ে উঠেনি। বাংলার ইতিহাসের পথযাত্রীমাত্রেরই জানা আছে যে,পরমভাগবত গুপ্তরাজাদের সময়ে বাংলায় শিব,গণপতি ও কার্তিকেয়ের মন্দির এবং জায়গা জায়গায় শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিত থাকলেও সাধারণ সমাজে বিষ্ণু-উপাসনার অনুষ্ঠান ও অতি নিষ্ঠার সঙ্গে বৈষ্ণবধর্মের ভাবপ্রবাহকে অব‍্যাহত রেখেছিল।◆রাজ তরঙ্গণীকার◆ কহ্লণের ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়,শিব ও কার্তিকেয়ের বিভিন্ন মন্দিরে নৃত্য-গীত-অনুষ্ঠানের জন্য দেবদাসীরা নিযুক্ত থাকত এবং তাদের নৃত্যছন্দ ছিল সম্পূর্ণভাবে "ভরতের" নাট‍্যশাস্ত্র অনুমোদিত।*
              *ক্রমাগত*
*🌻শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে, বাঁশবাড়ী, ইংরেজ বাজার, মালদহ, 7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀গুপ্ত ও সেন রাজাদের মধ্যে শিব ও বিষ্ণু এই উভয় দেবতারই উপাসনা প্রচলিত ছিল।তবে রাজা লক্ষ্মণসেন নিজে ছিলেন পরমবৈষ্ণব ও বিষ্ণুর উপাসক। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার সমাজে যে রাধাকৃষ্ণলীলাসেবিত ভক্তিবাদের প্রচলন ছিল তা বাংলার ইতিহাসই বিশেষভাবে প্রমাণ করে।খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতকে পাহাড়পুরে আবিস্কৃত কৃষ্ণলীলা বিষয়ক মূর্তির নিদর্শন সেকথা আরো বিশেষভাবে প্রমাণ করে।অবশ‍্য পাহাড়পুরে আবিস্কৃত ধ্বংসস্তূপে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ছাড়াও বিষ্ণু,বলরাম,ত্রিশূলধারী শিব, গণেশ,ইন্দ্র,যমুনা ও রামায়ণকাহিনীর মূর্তি পাওয়া গেছে।রায়-বাহাদুর কে.এন দীক্ষিত ১৯২০-২১,১৯২৬-২৭ এবং ১৯২৭-২৮ খ্রীষ্টাব্দের বার্ষিক প্রত্নতাত্ত্বিকী বিবরণীতে (Annual Report of the Archaeological Survey of India, ◆A.S.I◆ 1920-21,1926-27,1927-28)*
*পাহাড়পুর স্তূপের ও স্তূপ থেকে আবিস্কৃত বিচিত্র উপাদান সামগ্রী ও মূর্তির পরিচয় তিনি দিয়েছেন (Excavations of Paharpur,Bengal, Memoirs, A.S.I No 55 দ্রষ্টব‍্য)।অধুনা ডক্টর চারুচরণ দাশগুপ্ত Paharpur and Its Monuments 1961 নামক ছোট গ্রন্থে কৃষ্ণ ও রাধাকৃষ্ণ-মূর্তির পরিচয়ে গোকুলে গিরিগোবর্দ্ধনধারী কৃষ্ণ, রাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তি এবং বসুদেব ও শিশুকৃষ্ণমূর্তির কথা উল্লেখ করেছেন।রাধাকৃষ্ণের মূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন--, In the wall on south-east angle faching south there is a sculpture which represents two standing figures--one,male and the other, a female (PL. VIII,b).The right arm of the male figure clasps the female figure whose left arm clasps the male figures.The female figure has a halo behind its head. This sculpture probably reprsents Radha and krishna. It is undoubtedly one of the best sculptures that have been found at paharpur,(page 26)(অন‍্যান‍্য কৃষ্ণলীলা কাহিনীর মূর্তি সম্বন্ধে (Krishna-legend-scenes) paharpur and Its Monuments 1961, pp. 25, 27 দ্রষ্টব‍্য।পাহাড়পুরের স্তূপ থেকে আবিস্কৃত বাদ‍্যযন্ত্রের যে বিচিত্র নিদর্শন পাওয়া গেছে সে সম্বন্ধে আমরা পরে আলোচনা করব)।*
*পাহাড়পুরে আবিস্কৃত মূর্তি প্রভৃতি ছাড়া মহারাজ লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালে কবি জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ" পদগান শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলামাধুর্য‍্যের বর্ণনায় মুখর।ডঃ শ্রীঅসিতকুমার তাঁর সুলিখিত "বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত প্রথম খন্ড 1959 পৃষ্ঠা 204,তাছাড়া তাঁর বৈষ্ণবধর্মের ক্রমবিকাশধারা আলোচিত অংশটি এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব‍্য (সপ্তম অধ‍‍্যায় পৃঃ ২৫৮,২৭৮), গ্রন্থে শ্রীচৈতন‍্যপূর্ব যুগে বাংলাদেশে যে সব গ্রন্থ বৈষ্ণবধর্মানু প্রবেশ ও তার পরিপুষ্টির পটভূমিকা রচনা করেছিল তাদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলি হল--, শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ, বিল্বমঙ্গলের (লীলাশুক)কৃষ্ণকর্ণামৃত, ব্রহ্মসংহিতা,ব‍্যোপদেবের মুক্তাফল, বিষ্ণুপুরীর শ্রীশ্রীভক্তিরত্নাবলী, লক্ষ্মীধরের ভগবন্নামকৌমূদী, শ্রীধর স্বামীর ভাগবতের টীকা, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর কৃষ্ণলীলামৃত,অবশ‍্য এগুলি ছাড়াও "সংগীতমাধব", "শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয়" প্রভৃতি গ্রন্থও উল্লেখযোগ্য।*
*🍀এখানে আলোচনার বিষয় হল প্রাক্ জয়দেব যুগে রাধাকৃষ্ণ লীলা অনুশীলনের মাধ‍্যমে বৈষ্ণবধর্ম বাংলাদেশে কতটুকু প্রসারতা লাভ করেছিল তা প্রতিপাদন করা এবং সেক্ষেত্রে "গীতগোবিন্দ" বা অষ্টপদীর কথা বাদ দিলেও গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত ও অন‍্যান‍্য ভক্তিগ্রন্থ নির্দেশিত ভক্তিতত্ত্ব বাংলার মানসক্ষেত্রকে বিশেষভাবে রসসিঞ্চিত ও প্রবুদ্ধ বা চেতনা করেছিল।শোনা যায়,খ্রীষ্টীয় ১৪শ শতকে মাধবেন্দ্রপুরীই বাংলাদেশে শ্রীমদ্ভাগবত প্রচার করেছিলেন, সুতরাং "শ্রীমদ্ভাগবত" লিখিত বা সংকলিত হয়েছিল আনুমানিক খ্রীষ্টীয় ১৩শ-১৪শ শতকের আগে।পাহাড়পুরে আবিস্কৃত শ্রীরাধাকৃষ্ণের মূর্তিগুলি নিঃসংশয়ে বাংলার ভাগবতধর্মের প্রভাব প্রমাণ করে একথা আগেই উল্লেখ করেছি।খ্রীষ্টীয় শতকের গোড়ার দিকে রচিত পুরাণগুলিতে বর্ণিত ভক্তিতত্ত্বও বাংলার প্রেমধর্ম প্রেরণাকে প্রাণবন্ত করেছিল।সাতবাহন নরপতি হালের "গাথা সপ্তশতী" গ্রন্থে (প্রথম বা প্রথম-দ্বিতীয় শতক) রাধাকৃষ্ণের লীলা কাহিনীর বর্ণনা আছে।কবি জয়দেবের আবির্ভাব খ্রীষ্টীয় ১২শ-১৩শ শতকে।তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এমনই এক সময়ে যখন বাংলাদেশে ভাগবতধর্মের ছিল লীলাচঞ্চল যৌবনকাল।জয়দেব শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণলীলাতত্ত্বের প্রচারব্রত নিয়েই যেন জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং একদিক থেকে বলা যায় যে, বৈষ্ণবপদাবলী কীর্তনের পটভূমিকা রচনার সূচনাও হয়েছিল ঠিক তখন থেকে বাংলাদেশে।*
                  *ক্রমাগত*
*JOYDEB DAWN*
*BANSHBARI, NEAR- BANSHBARI NABARATRI KIRTAN MANDIR.*
*ENGLISH BAZAR.*
*MALDA.*
*7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀যদিও চর্যাগীতির অবদান পদকীর্তনের ভান্ডারে কম নয়।সংস্কৃতায়িত বাংলা পদ‍্যছন্দে রচিত জয়দেবের 'গীতগোবিন্দ' পদগানের ছত্রে ছত্রে শ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলাতত্ত্বগানই সুস্পষ্ট।কবি নিজে তার পরিচয় দিয়ে "প্রথম সর্গের" তৃতীয় শ্লোকে বলেছেন--*
*🌷যদি হরিস্মরণে সরসং মনো যদি বিলাসকলাসু-কুতূহলম্।*
*🌷মধুরকোমলকান্তপদাবলীং শৃণু তদা জয়দেবসরস্বতীম্।।*
*🌻ভক্তজনচিত্তে কৃষ্ণভক্তি প্রেম সঞ্চারের জন্য যেন জয়দেব কবির পদ-রচনার প্রধান অভিপ্রায় ছিল।পন্ডিতপ্রবর শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় সত‍্যই বলেছেন--,মহাভারতে,পুরাণে, বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবতে যে গোবিন্দলীলা বর্ণিত হয়েছে,কবি জয়দেব শ্রীগীতগোবিন্দে সেই গোবিন্দেরই লীলাই বর্ণনা করেছেন। লীলাপুরুষোত্তম শ্রীগোবিন্দই তাঁর প্রেয়সীশ্রেষ্ঠা শ্রীরাধার সঙ্গে শ্রীগীতগোবিন্দের আদ‍্যপান্ত কীর্তিত হয়েছেন।*
*🍀কাব‍্য ও সাহিত‍্যের দিক দিয়েও গীতগোবিন্দের একটি বিশেষ মূল‍্য আছে,যদিও আখ‍্যান,নাটকীয়তা ও সঙ্গীত এই ত্রিবেণীসঙ্গমের মিলিত ধারা এর মধ্যে প্রবাহিত।তাঞ্জোরের সরস্বতী-মহল-গ্রন্থাগারে গীতগোবিন্দের একটি নাট‍্যরূপ সম্বলিত পুঁথি পাওয়া গেছে এবং গ্রন্থাকারেও ছাপা হয়েছে।বিচিত্র ঘটনাপ্রবাহ গীতগোবিন্দের আখ‍্যানভাগ রচনা করেছে এবং বিচিত্র রাগ ও তাল-এর সঙ্গীতরূপ সৃষ্টি করেছেন।এজন‍্য অনেকে গীয়গোবিন্দকে বাহ‍্যতঃ "আখ‍্যানকেন্দ্রিক খন্ডকাব‍্য" বা গীতিকাগ্রন্থ বলে অভিমত প্রকাশ করেন।তবে গীতগোবিন্দে সঙ্গীতাংশে যে যোজনা আছে ও বিশেষ করে যে যে রাগগুলির পরিচয় দেওয়া আছে, গীতগোবিন্দে তাদের যাত্রাপথে ভারতীয় প্রাচীন ও নবীন রাগরূপের একটি বিবর্তনময় ধারা লক্ষ্য করা যায় এবং সেই আবর্তনের মুখে মেবারের রাণা কুম্ভা পনেরশ শতক "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে গীতগোবিন্দের "রসিকপ্রিয়া" টীকার রাগগঠনে বা রাগরূপের প্রকাশশৈলীতে কিছুটা নতূনতর বিকাশের পরিচয় দিয়েছেন।অনেকে আবার মধ‍্যযুগীয় সাধু-সম্প্রদায়ের ও বিশেষ করে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের আধার ও উৎসভূমিরূপে গণ‍্য করে গীতগোবিন্দকে "ভক্তিকাব‍্য" বলেও অভিহিত করেন।মোটকথা রাধাকৃষ্ণের আদিরসাত্মক ও উজ্জ্বলবেশাত্মক অপার্থিব লীলা বৈচিত্র্যের সাক্ষ‍্যবহনকারী এই গীতগোবিন্দ-পদগান।পুরীতে শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা যায়,পনেরশ শতকে কলিঙ্গসম্রাট প্রতাপরুদ্রদেব (যিনি পরে শ্রীচৈতন‍্যের কৃপাশ্রিত হয়েছিলেন)গীতগোবিন্দগান শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রচলন করেছিলেন।শোনা যায়,দেবদাসীদের নৃত্য সম্বলিত হয়ে মৃদঙ্গবাদ‍্যের সহযোগে শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে গীতগোবিন্দ গান করা হত।*
*🍀লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের 'শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত' গ্রন্থে পদগানের মাধুর্য‍্য নিয়ে আলোচনা পরে করব।তবে গীতগোবিন্দ ও কৃষ্ণকর্ণামৃত ভক্তিগ্রন্থ দুটি নিয়ে মোটামুটিভাবে অনুশীলন করলে দেখা যায় যে,গীতগোবিন্দের রচয়িতা কবি জয়দেব বিল্বমঙ্গল-রচিত কৃষ্ণকর্ণামৃতের ভাব ও কাব‍্যসম্পদ দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এই প্রসঙ্গে লিখেছেন, জয়দেব, লীলাশুকের কৃষ্ণকর্ণামৃতের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন কিনা বুঝা যাচ্ছে না।কৃষ্ণকর্ণামৃত জয়দেবের সময়ে নিতান্ত অপরিচিত ছিল না, কারণ শ্রীধরদাস সদুক্তিকর্ণামৃতে কৃষ্ণকর্ণামৃত হতে শ্লোক উদ্ধৃত করেছিলেন।তবে লীলাশুক যেমন সখীভাবে শ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবা করেছেন,জয়দেবের মধ্যে ঠিক সেই জাতীয় অনুভূতি পাওয়া যায় না।লীলাশুক নিজেকে কৃষ্ণলীলার সহায়তায় (মঞ্জরী ভাবের) নিয়োগ করে ধন‍্য হয়েছেন। কিন্তু গীতগোবিন্দের কবির মধ্যে ঠিক সেই জাতীয় পরিকরবৃত্তি বা সখী সাধনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।(বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত গ্রন্থে প্রথমখন্ডে দ্বিতীয় সংস্করণ 1963 পৃঃ 93) পাওয়া যাবে।যাইহোক,শ্রীচৈতন‍্যদেব নির্জনে নিভৃতে গম্ভীরায় "গীতগোবিন্দ" দিবারাত্র আস্বাদন করতেন বলে সহজিয়া বৈষ্ণবগণ কবি জয়দেবকে "নবরসিক" এর অন‍্যতম ও আদিগুরু বলে নির্দেশ করেছেন।তবে গীতগোবিন্দের ছন্দ,ভাব ও মাধুর্য‍্য যে পরবর্তী বৈষ্ণব ভক্তিসাহিত‍্যকে রস-ভাবসমৃদ্ধ করেছিল এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।*
*🌹এই বিষয়টি এখানে বিরাম হল।*
*🛑শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে, বাঁশবাড়ী, ইংরেজ বাজার,মালদহ, 7001138871।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
      *কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ*

*🍀কবি জয়দেব খ্রীষ্টীয় ১২শ শতকের শেষার্ধে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।অজয়নদের উত্তরদিকে অবস্থিত এই গ্রাম।জয়দেব একাধারে ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও ভক্ত।গীতগোবিন্দ তাঁরই রচনা, যদিও কোন কোন পন্ডিতের অভিমত যে,গীতগোবিন্দের কোন কোন অংশ অন‍্যান‍্য কবিদের যোজনা। পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় তাঁর "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" গ্রন্থের ভূমিকায় কাব‍্যকথা প্রসঙ্গে পাঁচটি যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে,সমগ্র "গীতগোবিন্দ" কাব‍্যগ্রন্থ বা পদগানগ্রন্থ কবি জয়দেবেরই রচনা।('কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ' ৩য় সংস্করণ,১৩৬২,পৃঃ৬১-৬২)।তবে "জয়দেব" নামধারী ব‍্যক্তি ছিলেন আরও দুইজন ; একজন ছন্দসূত্রের প্রণেতা গীতগোবিন্দ-রচয়িতা কবি জয়দেবের পূর্ববর্তী ও অন‍্যজন "প্রসন্নরাঘব" নাটক ও "চন্দ্রলোক" নামক অলঙ্কার শাস্ত্রের প্রণেতা জয়দেব। কাশ্মীরবাসী কহ্লন "সুক্তিমুক্তাবলী" গ্রন্থে (১১৭৯ শকাব্দ) এই শেষোক্ত জয়দেবের নাম উল্লেখ করেছেন, (ঐ,পৃঃ ৪১)।*
*🍀কবি জয়দেব-রচিত গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের ২৯ শ্লোক থেকে জানা যায়,তাঁর পিতার নাম ভোজদেব, মাতা বামাদেবী ও প্রিয়সখা অষ্টপদীগায়ক পরাশর। শ্লোকটি হল---*
*🌷শ্রীভোজদেবপ্রভবস‍্য বামাদেবীসুত শ্রীজয়দেবকস‍্য।*
*🌷পরাশরাদিপ্রিয়বন্ধুকন্ঠে শ্রীগীতগোবিন্দকবিত্বমস্তু।।*
*🌻পূজারী গোস্বামী টীকায় এর বিশ্লেষণ করে বলেছেন--, ভোজদেবনামা অস‍্য পিতা বামাদেবীনাম্নী জননী তস‍্যাঃ সুতস‍্য শ্রীজয়দেবস‍্য পরাশরাদীনাং যে প্রিয়াস্তন্মতজ্ঞাতারস্তেষ্বপি যে বান্ধবাস্তন্মতানুসারেণ শ্রীরাধামাধবরহঃকেলিজ্ঞানেন বন্ধুত্বং প্রাপ্তাস্তেষামেব কন্ঠে ভূষণবৎ সদা গীতগোবিন্দাখ‍্যং কবিত্বমস্তু। তাছাড়া প্রথম সর্গের দ্বিতীয় শ্লোকে উল্লিখিত "পদ্মাবতীচরণচারণচক্রবর্তী" এবং দশম সর্গের দশম শ্লোকে উল্লিখিত "জয়তি পদ্মাবতীরমণজয়দেবকবি" প্রভৃতি পদাংশ থেকে জয়দেব-পত্নী পদ্মাবতীর নাম পাওয়া যায় ; "তথা-নাম্নী জয়দেব-পত্নী"।কারও কারও মতে জয়দেবের পত্নীর নাম রোহিণী।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় বলেছেন, সহজিয়াগণ বলেন যে,রোহিণী কবি জয়দেবের পরকীয়া,(কবি জয়দেব গীতগোবিন্দ, পৃঃ ৯)। কিন্তু এই নাম কবি-কল্পনা বলেই মনে হয়,কেননা গীতগোবিন্দের প্রায় সব টীকা ও ভাষ‍্যকার পদ্মাবতীকেই জয়দেব-পত্নী বলে উল্লেখ করেছেন।*
*🍀জয়দেব ছিলেন বঙ্গদেশজাত বাঙ্গালী।তিনি রাঢ়ভূমি বীরভূম জেলার অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সেকথা আগেই বলেছি।কেন্দুবিল্ব চলিত ভাষায় "কেন্দুলী" বা "কেঁদুলী" নামে পরে পরিচিত হয়।অধ‍্যাপক তারাপদ ভট্টাচার্য্য বলেন--,বীরভূম জেলার কেন্দুবিল্ব গ্রাম ইহার (কবির) জন্মভূমি বলে প্রসিদ্ধি আছে। বর্তমানে কিন্তু কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলী বলে কোন গ্রামের অস্তিত্ব নাই,অজয়নদের বালুকাময় তীরভূমিতে পৌষ সংক্রান্তিতে "কেঁদুলীর মেলা" নামক একটি বাৎসরিক মেলা বসতে দেখা যায় মাত্র।সেইজন‍্য মিথিলা ও উড়িষ‍্যা হতে জয়দেবকে দাবী করা হয়েছে। (তীরহুত জেলায় অবস্থিত জেঞ্ঝারপুর-শহরের কাছে কেন্দোলী নামক একটি গ্রাম আছে। মিথিলাবাসীদের মতে,জয়দেব এই কেন্দোলিগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। উড়িষ‍্যাবাসীরাও পুরীর কাছে কেন্দুবিল্বগ্রামে জয়দেবের আবির্ভাব কল্পনা করতে চাহেন--। ডঃ শ্রীঅসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, "বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত" প্রথম খন্ড,১৯৫৯, পৃঃ ৭৮ ।*
*যেহেতু উড়িষ‍্যার বিভিন্ন মন্দিরে অশ্লীল যৌন (উড়িষ‍্যার মন্দির-ভাস্কর্য‍্যে নগ্ন মূর্তিগুলি যথার্থভাবে যৌনভাবের প্রকাশ কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবসর আছে।সার্থক শিল্পী ও শিল্প সমালোচকদের সিদ্ধান্ত এসব সম্পূর্ণ ভিন্ন ; কেননা ঐগুলি আসলে আদিরস শৃঙ্গারের অভিব‍্যক্তি,মানব মনের সহজাত কামাভিব‍্যক্তির (Id) প্রতিকৃতি নয়।নাট‍্যশাস্ত্রে আদিরস শৃঙ্গার সৃষ্টি ও নির্বেদের প্রকাশক।নাট‍্যশাস্ত্রের ভাষ‍্য ও টীকাকারগণ শৃঙ্গারকে শ্রেষ্ঠ ও অপার্থিব উজ্জ্বলরস বলে বর্ণনা করেছেন)।* *ভাস্কর্য দেখা যায়,সেইজন‍্য আদিরসের কবি জয়দেব উৎকলী ছিলেন --এটিই উড়িষ‍্যাবাসীগণের যুক্তি। বলা বাহুল‍্য এ যুক্তিদুর্বল। জয়দেবকে অ-বাঙ্গালী বলবার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি এখনও উপস্থাপিতহয় নাই।*
               *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
     *কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ*

*🍀"বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত" রচয়িতা ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বলেছেন--, "সংস্কৃত সাহিত‍্যে 'ছন্দসূত্র' এর রচয়িতা জয়দেব বাংলার জয়দেবের অনেক পূর্ববর্তী" "বাংলাদেশের বাইরে জয়দেবের যে কতদূর প্রতিষ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছিল", বাংলার কবি পদলালিত‍্যে ও উজ্জ্বলরসাত্মক ভক্তিরসামৃত-সিন্ধুতরঙ্গে বাংলার বাইরেও যে প্রেমভক্তির প্লাবন এনেছিলেন প্রভৃতি,(বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত,প্রথম খন্ড,১৯৫৯, পৃঃ ৯৩-৯৪), থেকে তিনি যে কবিকে বঙ্গবাসী বলে স্বীকার করেছেন তা বোঝা যায়।তাছাড়া প্রাচীন বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস রচয়িতাদের মধ্যে ডঃ শ্রীসুশীলকুমার দে "জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" নিবন্ধে, পন্ডিতশ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ " গ্রন্থে,ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় "কবি জয়দেব" নিবন্ধে, স্বর্গীয় রসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ সবঙ্গানুবাদ-"শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দম্" গ্রন্থে কবি জয়দেবকে বাঙ্গালী তথা বঙ্গদেশজাত বলেই স্বীকার করেছেন। বাংলাভাষার সাহিত‍্য-রচনার পথিকৃ‍ৎ স্বর্গীয় ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন ও বাংলার অন‍্যান‍্য মনীষীদের সিদ্ধান্তও তাই (যদিও দক্ষিণ-ভারতীয় ও মহারাষ্ট্রদেশীয় কোন কোন লেখক শ্রীজয়দেবকে তৎতদেশীয় বলে মন্তব‍্য করেছেন। তাছাড়া উৎকলবাসী মনীষীরা শ্রীজয়দেবের "মিশ্র" পদবীও দাবী করেন)।*
*🍀কবি জয়দেব যে বীরভূমি তথা বীরভূম জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন,সেই বীরভূমির নাম-সার্থকতা নিয়েও বাদানুবাদের অন্ত নাই।বৈষ্ণব-পদাবলী-কীর্তনের ঐতিহাসিক আলোচনায় ঐ সব প্রসঙ্গ অপরিহার্য না হলেও পদ-রচয়িতাদের অন‍্যতম কবি জয়দেবের জীবনালেখ‍্যরচনায় এ সব আলোচনা ও উপাদানের সার্থকতা আছে।*
*🌹পন্ডিতবর শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় বলেন, বীরভূমির পূর্ব নাম ছিল ◆কামকোটি◆।সেকালে পূর্বে অজয়-সম্মিলিতা গঙ্গা,পশ্চিমে আরণ‍্যভূমি (ঝাড়খন্ডের ঘন-অরণ‍্য), উত্তরে পাথরের দেশ (রাজমহলের পর্বতশ্রেণী) এবং দক্ষিণে বিন্ধ‍্যপাদোদ্ভবা বহু নদ-নদী (দামোদর প্রভৃতি ) এই ভূমিখন্ডের চতুঃসীমারূপে নির্দিষ্ট হত।(কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২, পৃঃ ১৫) আরো প্রাচীনকালে বীরভূমির ও তার চারিদিকের ভূমিখন্ড "সুহ্ম" নামে পরিচিত ছিল এবং দন্ডী,কালিদাস, বাণভট্ট,ধোয়ী প্রভৃতি কবি একথার উল্লেখ করেছেন। মহাভারতে টীকাকার নীলকন্ঠ বলেন--, "সুহ্মা রাঢ়াঃ"। শ্রীযুক্ত মুখোপাধ‍্যায়ের অনুমান যে, সেন রাজকুমাররাই তাঁদের পূর্বপুরুষ বীরসেনের নামানুসারে "বীরভূমি" নামকরণ করেন।(কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২, পৃঃ ১৬)।তিনি আরো বলেন-- "আইন-ই-আকবরী-র মতে,বীরভূমির "লক্ষ্ণুব" (অধুনা "নগর" নামে পরিচিত)বল্লালসেনের প্রতিষ্ঠিত।লক্ষনুবের হিন্দু-শাসনদের সেকালে "বীর" উপাধি ছিল।☆ ☆ জয়দেব রাঢ়ের কবি বীরভূমের কবি।*
*🍀তন্ত্রসাধকসম্প্রদায়ের মধ্যে "বীরভূমির" নামের এক সৃষ্টিকথার প্রচলন আছে।বীরভূম জেলায় সাঁইথিয়া,লাভপুর তারাপুর বা তারাপীঠ, নলহাটী ও বক্রেশ্বর এই পাঁচটি জায়গায় পাঁচটি শক্তিপীঠের প্রতিষ্ঠা আছে।শোনা যায়,দেবীর ভিন্ন ভিন্ন অংশ ঐ পাঁচটি জায়গায় পড়ে, শক্তিতীর্থ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, (শোকোন্মাদ মহাদেবের স্কন্ধলগ্ন সতীদেহকে নারায়ণ তাঁর চক্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন করেছিলেন।সতীর দেহ একান্নটি কর্তিত অংশে বিভক্ত হয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল। সেই থেকে "একান্নটি সতীপীঠ"-- লিখেছেন নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ‍্যায় "মন-মধুকর" গ্রন্থে পৃঃ ১৪১।বীরভূমির পাঁচটি শক্তি বা সতীপীঠ ঐ একান্নটি পীঠের অন্তর্গত)।এবং এই পীঠস্থানগুলি তন্ত্রসাধনার ক্ষেত্ররূপে বাংলার শুধু কেন, ভারতের ইতিহাসেও স্থান পেয়েছে।তন্ত্রসাহিত‍্যে তন্ত্রাচারী বা তন্ত্রসাধকরা চক্রানুষ্ঠানে "বীর" নামে পরিচিত।বীর এবং বীরাচার সাধনা কিন্তু সমপর্যায়ভুক্ত নয়।প্রবাদ আছে যে,তন্ত্রাচারী শক্তিসাধকদের ক্ষেত্ররূপেই "বীরভূমি"(বীরদের ভূমি) বীরভূম নামে পরিচিত।ইতিহাস কতটুকু এই নামের সার্থকতাকে মেনে নেবে জানি না, কিন্তু বঙ্গীয় তন্ত্রসাধকরা বীরভূমি বা বীরভূম নামের এই অর্থই সাধারণভাবে গ্রহণ করেন। "বঙ্গীয় তন্ত্রসাধক" বলার উদ্দেশ্য এই যে,সমগ্র তন্ত্রসাহিত‍্যকে পন্ডিতেরা মোটামুটি তিনভাগে ভাগ করেছেন। যেমন (১)বঙ্গীয় সম্প্রদায় বা 'বেঙ্গল স্কুল অফ্ তন্ত্র'--- যা নিছক আচার ও সাধনাত্মক,(২)কাশ্মীরীয় ত্রিকসম্প্রদায় বা 'ত্রিক-স্কুল অফ্ তন্ত্র'-- যা নিছক দর্শন ও তত্ত্ববিচারাত্মক, এবং (৩) দক্ষিণ ভারতীয় শ্রীবিদ‍্যাসম্প্রদায় বা "সাউথ ইন্ডিয়ান স্কুল অফ্ তন্ত্র"-- যা উভয়াত্মক হলেও সাধন ও তত্ত্বপ্রধান।তাছাড়া তন্ত্রে কাদি,হাদি ও ক-হাদি মত তিনটিরও প্রচলন আছে তন্ত্র ও বীজমন্ত্রের শ্রেণীবিভাগ নিয়ে। বাংলাদেশে তন্ত্রসাধনা যে এক সময়ে বিশেষভাবে প্রসার লাভ করেছিল তা রাঢ়দেশ বর্ধমান ও বীরভূমের অন্তর্গত তন্ত্রসাধনার পীঠস্থানগুলি লক্ষ্য করলে বুঝা যায়।বর্ধমানে সাধক কমলাকান্তের সাধনপীঠ ও পঞ্চমুন্ডির আসন আজও বিদ‍্যমান।চান্নাগ্রাম (বর্ধমান) কমলাকান্তের জন্মস্থান।*
*🍀'বীরভূম' নামের আর একটি পরিচয় দিয়েছেন সাহিত‍্যিক নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ‍্যায় "মন-মধুকর" গ্রন্থে এবং সে পরিচয় তাঁর নিজের কথায় বলাই সমীচীন মনে করি। গ্রন্থকার বীরভূম বা বীরভূমির পরিচয় দিয়েছেন কথোপকথনচ্ছলে।তিনি লিখেছেন--"আলোচনা চলেছে বীরভূম কথাটির উৎপত্তি নিয়ে। অধ‍্যাপক বলেছেন, বীরভূম নামের মূলে আছেন রাজা বীরচন্দ্র। এয়োদশ শতাব্দীর সূচনায় এই জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলে তিনি রাজ‍্য স্থাপন করেন। বাংলার মুসলমান সুবেদারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধে তিনি প্রাণ দিয়েছিলেন।☆ ☆ সিউড়ির ছয়-সাত মাইল পশ্চিমে তাঁর রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ আছে।অদূরে গভীর ভান্ডীরবন।সেই বনের মধ্যে বিরাজ করছেন অনাদিলিঙ্গ মহাদেব ভান্ডেশ্বর।"বিদূষী বউঠান বলেন"--- "এতো হ'ল রাজকীয় নামকরণ"।এবার লৌকিক নাম শোন, বীরভূম ছিল সাঁওতালদের প্রধান অঞ্চল।☆ ☆ সাঁওতালী ভাষায় "বীর" মানে "জঙ্গল"।সাঁওতালরা তাদের ঐ জঙ্গলরাজ‍্যের নাম দিয়েছিল "বীরভূঁইয়াঁ"।সেই বীরভূঁইয়াঁই এখন হয়েছে বীরভূম। (মন-মধুকর, আনন্দধারা প্রকাশন কলকাতা--১৩,পৃঃ ১৪৯-১৫০)।অবশ‍্য এটি কিংবদন্তী বা গল্পকথা হলেও এই প্রবাদের পিছনে ঐতিহাসিক সত‍্য থাকা অসম্ভব নয়।*
*🌻এই পর্যন্ত জয়দেব-প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম সাধক-কবির বহিরঙ্গ রূপের কথা,এবার কবির অন্তরঙ্গ-রূপ কাব‍্যগীত মিথুনাত্মক অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ পদগানপ্রকৃতির আলোচনায় প্রবৃত্তি হব। বাংলার কবি জয়দেবের আদিরসাত্মক "গীতগোবিন্দ" পদগানই বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের অন‍্যতম সৃষ্টিক্ষেত্র ও লীলাভূমি। পরবর্তী বৈষ্ণব-পদাবলী যে ৯ম-১১শ শতকের বৌদ্ধ-চর্যাপদ এবং ১২শ-১৩শ শতকের গীতগোবিন্দের উপরই ভিত্তিভূমি রচনা করেছিল একথা নিঃসংশয়ে সকলে স্বীকার করেন।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের পাদপীঠ ও রূপ*

*🍀খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ শতকের শেষভাগে বাংলার মাটিতে ভক্তকবি জয়দেবের অভ‍্যুদয় হয়েছিল একথা আগেই বলেছি।কবি জয়দেব-রচিত অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ-পদগান শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপার্থিব লীলামাধুর্য‍্য সম্পৃক্ত। বাংলার ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্যদেব চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতির "কৃষ্ণকীর্তন", রামানন্দ রায়ের "জগন্নাথবল্লভ নাটক", লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গলের "শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত"-এর মত জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ"-পদগানের পরমানুরাগী ছিলেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে শ্রদ্ধেয় কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন----*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি, রায়ের নাটকগীতি,*
      *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে,মহাপ্রভু রাত্রি দিনে,*
     *গান শুনে পরম আনন্দে।।*
*🍀পুরী তথা পুরুষোত্তমে রাজগুরু কাশীমিশ্রের বাসস্থানের ছোট কক্ষের নাম "গম্ভীরা"।প্রতিদিন নীলাচলে বাসের সময় বৈষ্ণবসাধক স্বরূপদামোদর ও রায় রামানন্দের সঙ্গে গম্ভীরার গুপ্তকক্ষে মহাপ্রভু ঐ গ্রন্থগুলির পাঠ শুনতেন।স্বরূপ ও রামরায় বিদগ্ধ শাস্ত্রজ্ঞানী ও পরমভক্ত ছাড়াও ভারতীয় সঙ্গীতবিদ‍্যায় ও সঙ্গীতশাস্ত্রে পারঙ্গম ছিলেন।কবি জয়দেবের মধুর-কোমলকান্ত পদাবলী শুনে শ্রীচৈতন‍্যদেব মুহুর্মুহু মহাভাবে সমাধিস্থ হতেন। শোনা যায়,সমুদ্রের গভীর গর্জনও সেই সমাধি ও মহাভাবকে ভঙ্গ করতে পারত না।*
*🌻মরমী বৈষ্ণব-সাধকগণের মতে, গীতগোবিন্দ একটি মহাকাব‍্য।কারণ,ইহার নায়ক স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এবং নায়িকা পরমেশ্বরী শ্রীরাধা বা রাধিকা। শোনা যায়,লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুর-রচিত শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত অমৃতগ্রন্থের অনুকরণে কবি জয়দেব গীতগোবিন্দের পদসম্ভার রচনা করেছিলেন মহারসে ও ভাবে সমৃদ্ধ করে।গীতগোবিন্দ দ্বাদশ সর্গে বিভক্ত।এতে আশিটি শ্লোক ও চব্বিশটি গীতের সমাবেশ আছে।এদের মধ্যে বাহাত্তরটি শ্লোক বিভিন্ন বৃত্তছন্দে,একটি শ্লোক জাতিছন্দ ও অবশিষ্ট দুটি শ্লোক ও চব্বিশটি গীত অপভ্রংশ ছন্দে রচিত।(◆অধ‍্যাপক শ্রীসুধীভূষণ ভট্টাচার্য্য এম.এ, জয়দেবের ছন্দ,পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়-লিখিত "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ", তৃতীয় সংস্করণ, পৃঃ ২০৯ দ্রষ্টব‍্য)।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় সর্গবন্ধ-নিবন্ধে গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের নাম ও প্রকৃতি-সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে বাংলার চক্ষুষ্মান বৈষ্ণব-কবিগণ এই সর্গনাম ও তাদের অর্থ-সার্থকতা স্বীকার করেন।আমরা পন্ডিত মুখোপাধ‍্যায়-বর্ণিত সর্গনাম-সার্থকতার সামান্য কিছু এখানে উল্লেখ করব।তার প্রথম কারণ হল,বৈষ্ণব-পদাবলী কীর্তন প্রসঙ্গে বিদগ্ধ বৈষ্ণব-সাধকগণ সমর্থিত গীতগোবিন্দের সর্গনামের আলোচনা অপরিহার্য এবং দ্বিতীয় কারণ,গীতগোবিন্দপদগান ভক্তিরসানুভূতিরই মধুরোজ্জ্বল প্রশান্ত প্রতিচ্ছবি এবং অধ‍্যাত্মসাধক ও সৌন্দর্য‍্য-রস-লিপ্সু সাহিত‍্যিক ও কবিমাত্রেই গীতগোবিন্দের ঐ ভক্তিরস সম্পর্কিত বিবৃতির একান্ত অনুগামী।*
*পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়ের বিবৃতির সারমর্ম হল--,(১)গীত গোবিন্দের প্রথম সর্গের নাম "সামোদ-দামোদর" শ্রীরাধার শ্রীকৃষ্ণ-দামোদর-বিরহের স্মৃতিছবি। (২)গীতগোবিন্দের দ্বিতীয় সর্গের নাম "অক্লেশকেশব"।নবকিশোর শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করার জন্য মহাপ্রকৃতিময়ী শ্রীরাধার যেমন আকুলতা, শ্রীকৃষ্ণেরও শ্রীরাধাকে লাভের জন্য তেমনি ব‍্যাকুলতা।পারস্পরিক অপার্থিব প্রেমের বিহরের জন্য ব‍্যাকুলতা এবং মিলনের আবেগ ও উৎকণ্ঠা এই সর্গের বর্ণনাকে রসসিঞ্চিত করেছে। মুক্তিকামী ভক্ত ও মুক্তকেন্দ্র ভগবানের পারস্পরিক বিরহ ও মিলনের প্রতিচ্ছবিও এই সর্গের বিষয়বস্তু।গীতগোবিন্দের তিন-চার সর্গের নাম "মুগ্ধ-মধুসূদন" ও "স্নিগ্ধ মধুসূদন"।শ্রীমুখোপাধ‍্যায় বলেছেন--, "মধুসূদন নামের অর্থ 'ভ্রমর'। জয়দেব শ্লিষ্ট প্রয়োগে অনেক স্থানেই মধুরিপু, মধুসূদন প্রভৃতি শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।" যেমন "অক্লেশ-কেশব" নামাঙ্কিত দ্বিতীয় সর্গের নবম শ্লোকে জয়দেব বলেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিত-মতিসুন্দর-মোহন- মধুরিপুরূপম"।ঐ দ্বিতীয় সর্গের সপ্তদশ শ্লোকে আছে--, "নিঃসহনিপতিত তনুলতয়া মধুসূদনমুদিতমনোজম্" এবং অষ্টাদশ শ্লোকে আছে--, শ্রীজয়দেবভণিতমিদমতিশয় মধুরিপু নিধুবনশীলম্" প্রভৃতি।তৃতীয় "মুগ্ধ- মধুসূদন-সর্গে পরমনায়ক শ্রীকৃষ্ণ পরমনায়িকা শ্রীরাধিকার জন্য ব‍্যাকুল ও চিন্তান্বিত, আর চতুর্থ সর্গে শ্রীরাধিকার সখী শ্রীকৃষ্ণের কাছে শ্রীমতীর অবস্থার কথা নিবেদন করেছে।(৫)গীতগোবিন্দের পঞ্চম সর্গের নাম "সাকাঙ্খ-পুন্ডরীকাক্ষ"। এই সর্গে পদ্মলোচন শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধার অভিসারের আগমন আকাঙ্খায় অপেক্ষমান।(৬)ষষ্ঠ সর্গের নাম "ধৃষ্ট-বৈকুন্ঠ"।এই সর্গে কবি জয়দেব নায়ক শ্রীকৃষ্ণকে বলেছেন-- ধৃষ্ট, কেননা নায়িকা পথিকের দ্বারা যে সঙ্কেত-বাণী পাঠিয়েছিলেন,তা গোপরাজ নন্দের সম্মুখে ব‍্যক্ত করলেও শ্রীকৃষ্ণ অপ্রতিভ (অপ্রস্তুত বা হতবুদ্ধি) না হয়ে বরং পথিকের প্রশংসায় করেছিলেন।(৭) সপ্তম সর্গের নাম "নাগর-নারায়ণ"। বহুনায়িকাবল্লভ শ্রীকৃষ্ণের জন্য শ্রীরাধা ব‍্যাকুল এবং তাঁর বিপ্রলব্ধ অবস্থা।শ্রীকৃষ্ণের অদর্শনে শ্রীরাধার যে বাসকসজ্জা ব‍্যর্থতায় পরিণত, সেকথায় কবি জয়দেব রসপূর্ণ সাবলীল ছন্দে বর্ণনা করেছেন।(৮) অষ্টম সর্গের নাম "বিলক্ষ-লক্ষ্মীপতি"। এই সর্গে শ্রীরাধার প্রেমের পরম-উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ সজ্জিত কুঞ্জে আগমন না করায় শ্রীরাধা মানিনী এবং সেখানে তাঁকে "খন্ডিত নায়িকা" বলে কবি জয়দেব বর্ণনা করেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিতরতিবঞ্চিত খন্ডিতযুবতিবিলাপম্"।(৯) নবম সর্গের নাম "মুগ্ধ-মুকুন্দ"। এ সর্গে কবি জয়দেব শ্রীকৃষ্ণের চিন্তাকুল অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন,কেননা শ্রীরাধা এখানে মানক্লিষ্ট এবং তারজন‍্য শ্রীকৃষ্ণ সেই মান উপশমনের চিন্তায় আকুল।(১০) দশম সর্গের নাম "মুগ্ধ-মাধব"। এখানে কবি জয়দেব শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীরাধার পদ ধারণ করিয়ে তাঁর মান অপসারণ করিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণের অনুনয় এখানে, "বদসি যদি কিঞ্চিদপি দন্তরুচিকৌমুদী, হরতিদরতিনিরমতিঘোরম্"। মান অপসারণ করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ চারুশীলা প্রিয়া শ্রীরাধাকে জোড়হাত করে বারংবার অনুনয় জানিয়েছেন। (১১)একাদশ সর্গের নাম "সানন্দ-গোবিন্দ"।এই সর্গে কবি জয়দেব নায়ক ও নায়িকা যে উভয় উভয়কে লাভের সম্ভাবনায় আনন্দিত এই ভাব রসসিঞ্চিত ভাবস্নিগ্ধ ভাষায় বর্ণনা করেছেন।(১২) গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের নাম "সুপ্রীত-পীতাম্বর"। এই সর্গে জয়দেব শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীরাধার মানভঞ্জন করে তাঁর সেবাধিকার লাভে কৃতকৃতার্থ এইভাব সাবলীল ছন্দে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং গীতগোবিন্দের সমগ্র পদ পরমনায়ক ও পরমা নায়িকা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার অপার্থিব লীলামাধুর্য‍্য বর্ণনায় মুখরিত। (◆পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২সন, গ্রন্থে "সর্গবন্ধ" আলোচনায় পৃষ্ঠা১৭ থেকে ১৭৭, যে সর্গনাম-সার্থকতার বিস্তৃত বিশ্লেষণ করেছেন তা দ্রষ্টব‍্য)।*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের পাদপীঠ ও রূপ*

*🍀দ্বাদশ সর্গের সপ্তবিংশতি (২৭) শ্লোকে ভক্তকবি নিজেই নিজের শ্রীকৃষ্ণৈকতানতার বর্ণনা করেছেন এবং এই শ্রীকৃষ্ণগত চিত্ত শ্রীলাভের জন্য রসিক ভক্তজনের কাছেও নিজের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,*
*🌷যদ্ গান্ধর্বকলাসু কৌশলমনুধ‍্যানঞ্চ যদ্বৈষ্ণবং,*
*🌷যচ্ছৃঙ্গারবিবেকত্ত্বমপি যৎ কাব‍্যেষু লীলায়িতম্।*
*🌷তৎ সর্বং জয়দেবপন্ডিতকরেঃ কৃষ্ণৈকতানাত্মনঃ,*
*🌷সানন্দাঃ পরিশোধয়ন্তু সুধিয়ঃ শ্রীগীতগোবিন্দতঃ।।*
*🍀পদগানে লীলায়িত উজ্জ্বলবেশ দিব‍্য-শৃঙ্গাররস মহাপ্রেমরস-রূপে বিদিত।বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের মুখ‍্য বা আদি রসই শৃঙ্গার।এই আদিরস শৃঙ্গারের চরম ও পরম লক্ষ্য কামগন্ধবিহীন পরমোজ্জ্বল পুরুষ-প্রকৃতি-তত্ত্বববোধ।শ্রীকৃষ্ণরতি শ্রীকৃষ্ণপ্রেম ও শ্রীকৃষ্ণমিলনই বৈষ্ণব পদাবলীগানের মূল-উদ্দেশ‍্য।গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের সপ্তবিংশতি শ্লোকে আলোকপাত করে টীকাকার পূজারী গোস্বামী তাই বলেছেন--,তৎ কিমিত‍্যাহ। যৎ গান্ধর্বকলাসু সংগীতশাস্ত্রোক্ত গীতরাগতালাদিসু যন্নৈপুণ‍্যং তদেব নির্বন্ধনানুসারেণ জানন্তু ইত‍্যর্থঃ।☆ ☆ তত্রাপি দুরূহগতেঃ শৃঙ্গারস‍্য মহাপ্রেমরসস‍্য বিচারে যৎ তত্ত্বং দুরূহব্রজলীলাগতং তদপ‍্যেতদনুসারেণ নিশ্চিন্বন্তু। কাব‍্যেসু যল্লীলায়িতং রসলীলাদিব‍্যঞ্জকবিশেষগ্রথনং তদপ‍্যেতদনুসারেণ নিশ্চিন্ঠন্তু। সর্বত্র হেতুঃ শ্রীকৃষ্ণে একতানঃ একাগ্রোহনন‍্যবৃত্তিরাত্মা মনো যস‍্য তস‍্য শ্রীকৃষ্ণৈকান্তভক্তস‍্যৈব সর্বগুণাশ্রয়ত্বাদিত‍্যর্থঃ। যস‍্যাস্তি ভক্তির্ভগবত‍্যকিঞ্চনেত‍্যুক্তেঃ।*
*🍀সুতরাং পদাবলীকীর্তনের পাদভূমি বা অধিষ্ঠান "গীতগোবিন্দ" পদগান মানবীয় কামরসসম্পৃক্ত(সম্পৃক্ত=মিলিত বা সংযুক্ত) নয়। অবশ‍্য গীতগোবিন্দের পাদপীঠ বা উৎসক্ষেত্র বৌদ্ধ-বজ্রযানী আচার্যগণ-রচিত চর্যাগীতি।তবে চর্যাগীতি অপেক্ষা গীতগোবিন্দের কলামাধুর্য‍্য ও সাহিত‍্য প্রসারতা আরও অনেক বেশী।অপার্থিব শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বা বিশ্বকারণ পুরুষের স্বরূপার গতির ক্ষেত্রে পার্থিব রসস্পর্শের কোন সার্থকতা থাকে না।কাজেই কবি জয়দেব রচিত গীতগোবিন্দকে যাঁরা মানবীয় প্রেম তথা কন্দর্প-কামগন্ধজর্জরিত বলেন, তাঁরা "গীতগোবিন্দ"-পদগানই শুধু নয়,মহাজন-বৈষ্ণব-পদকর্তাগণ-রচিত কোন পদাবলী ও পদাবলীকীর্তনের রস-সম্ভোগ করার মোটেই অধিকারী নন।তন্ত্রে শৃঙ্গাররসপীঠ কামকলা কুন্ডলিনীশক্তিকে সর্ববন্ধনাতিরিক্ত পরমশিবের প্রসুপ্ত বা অব‍্যক্ত রূপ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।জাগ্রতা শক্তিই নিষ্কল শিব বা মায়ালেশশূন‍্য পরব্রহ্মের স্বরূপ।কাম সেখানে বিশ্বাতীত কামনাগন্ধহীন পরমপ্রেমে উন্নীত এবং এই প্রেমাস্বাদন বা প্রেমপরিণতি মানুষের পরম আকাঙ্খিত সামগ্রী ও চরমলাভ।অদ্বৈতবেদান্তবাদী মধুসূদন সরস্বতী "ভক্তিরসায়ণ"গ্রন্থে শৃঙ্গাররসোদ্ভুত প্রেমের পরমপ্রকাশকে "ব্রহ্মাস্বাদসহোদরা" বলে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং গীতগোবিন্দে শৃঙ্গাররস ও শৃঙ্গারবেশসেবিত রাধাকৃষ্ণলীলাতত্ত্বকে পার্থিব কামগন্ধহীন অধ‍্যাত্মতত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি-রূপে আমাদের দেখা ও গ্রহণ করা উচিত।চৈতন‍্যচরিতামৃতে গোস্বামী কৃষ্ণদাস কবিরাজ রায়চৈতন‍্য-সংবাদে শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব ও শ্রীরাধাতত্ত্বের অবতারণা করে বলেছেন---*
*🌷প্রভু কহে যাঁহা লাগি আইলাম তোমা স্থানে।*
*🌷সেই সব রসতত্ত্ব বস্তু হইল জ্ঞানে।।*
*🌷এবে সে জানিল সেব‍্য সাধ‍্যের নির্ণয়।*
*🌷আগে আর কিছু শুনিবারে মনে হয়।।*
*🌷কৃষ্ণের স্বরূপ কহ রাধার স্বরূপ।*
*🌷রস কোন্ তত্ত্ব প্রেম কোন্ তত্ত্ব রূপ।।*
*শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বিশ্লেষণের পর রাধাতত্ত্ব সম্বন্ধে বলেছেন----*
*🌷কৃষ্ণকে আহ্লাদে তাতে নাম আহ্লাদিনী।*
*🌷সেই শক্তি-দ্বারে সুখ আস্বাদে আপনি।।*
*🌷সুখরূপ কৃষ্ণ করে সুখ আস্বাদন।*
*🌷ভক্তগণে সুখ দিতে হ্লাদিনী কারণ।।*
*🌷হ্লাদিনীর সার অংশ প্রেম তার নাম।*
*🌷আনন্দ চিন্ময় রস প্রেমের আখ‍্যান।।*
*🌷প্রেমের পরমসার মহাভাব জানি।*
*🌷সেই মহাভাবরূপ রাধা ঠাকুরাণী।।*
   ☆ ☆ ☆
*🌷সেই মহাভাব হয় চিন্তামণি সার।*
*🌷কৃষ্ণ-বাঞ্জা পূর্ণ করে এই কার্য তাঁর।।*
*🌷মহাভাব চিন্তামণি রাধার স্বরূপ।*
*🌷ললিতাদি সখী তাঁর কায়ব‍্যূহরূপ।।*
*🌷রাধা প্রতি কৃষ্ণ-স্নেহ সুগন্ধি উদ্বর্তন।*
*🌷তাতে অতি সুগন্ধি দেহ উজ্জ্বল বরণ।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷কৃষ্ণের বিশুদ্ধ প্রেম রত্নের আকর।*
*🌷অনুপম গুণগণে পূর্ণ কলেবর।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷যার সদ্ গুণগণের কৃষ্ণ না পান পার।*
*🌷তাঁর গুণ গণিবে কেমনে জীব ছার।।*
*🌻প্রকৃতপক্ষে শ্রীরাধিকার মহাভাব কৃষ্ণরতি ও কৃষ্ণপ্রেমের চরম পরিণতি। বৈষ্ণব লীলা বা রসকীর্তনের চরম আস্বাদন যাঁরা করতে চান তাঁদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে,গীতগোবিন্দ ও তার পরবর্তী যাবতীয় পদগানের নায়ক নায়িকা শ্রীরাকৃষ্ণের ভাবসত্ত্বা-সম্বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পরমতত্ত্বজ্ঞানের অনুভূতি লাভই সাধক জীবনের উদ্দেশ্য,কেবলই বৌদ্ধিক শুষ্ক বিচার ও মানসিক ধারণার বিষয় পদগানতত্ত্ব নয়।তারজন‍্য বৈষ্ণব আলঙ্কারিক ও পদকর্তারা পদাবলী বা পদগানের মধ্যে নিগূঢ় শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপার্থিব প্রেমতত্ত্বের ব‍্যাখ‍্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন বিশ্বাতীত দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে।কবি জয়দেবের "গীতগোবিন্দ" পদগানের মর্মকথাও তাই।স্বর্গীয় প্রেমতত্ত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই গীতগোবিন্দের পদগানগুলি আমাদের বিশ্লেষণ করা উচিত এবং তাদের তত্ত্বাববোধ ও রস-সম্ভোগই শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাধকজনের মুখ‍্য-উদ্দেশ‍্য।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*🍀গীতগোবিন্দের পদগানগুলি যে রস,ভাবানুবিদ্ধ অপার্থিব ঐশ্বরিক অনুভূতি ও স্পন্দনের সঞ্চার করে এবং তার রস-ভাব-উৎসই যে পরবর্তী বৈষ্ণব-পদাবলী-কীর্তনের সাহিত‍্যে ও সুরে রস-মন্দাকিনী প্রবাহিত করেছিলতার কিছুটা আভাস দেবার এখানে চেষ্টা করব।*
*🍀গীতগোবিন্দের গানগুলি প্রায়ই আটটি আটটি পদে বা কলিকায় রচিত বলে একে অনেকে "অষ্টপদী" নামে অভিহিত করেন।অষ্টপদীর প্রথম ও দ্বিতীয় পদদুটি পরবর্তী পদগুলির রস ও ভাবের উদ্বোধক এবং প্রতিষ্ঠাও বটে।এই দুটি পদে শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানের দশাবতার রূপের বর্ণনা করেছেন কবি জয়দেব। অপরূপ রসনিবিড় ভাববিদগ্ধ ভাষায় ও ছন্দে।মীন,কূর্ম,বরাহ,নৃসিংহ,বামন,পরশুরাম,রামচন্দ্র,বলরাম,বুদ্ধ ও কল্কি এই দশপ্রকার রূপ প্রথম পদ বা গানের পঞ্চম থেকে চতুর্দশ শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে এবং এই অবতারদের বলা হয়েছে "বেদানুদ্ধবতে জগন্তি বহতে" প্রভৃতি,অর্থ‍্যাৎ তাঁরা বেদের উদ্ধারকারী ও ত্রিলোক-ভারবহনকারী। পূজারী গোস্বামী ◆(পূজারী গোস্বামী "চৈতন‍্যদাস" নামেও পরিচিত ছিলেন।তিনি নাকি "ভাবার্থদীপিকা"নামে গীতগোবিন্দের আর একটি টীকা রচনা করেছিলেন।তিনি ছিলেন বাঙ্গালী ও শ্রীচৈতন‍্যদেবের কিছু পরবর্তী।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় লিখেছেন--, কবিরাজ গোস্বামী কৃষ্ণদাস শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত প্রণয়নকালে শ্রীধামস্থ যে কয়জন প্রধান প্রধান বৈষ্ণবদের অনুমতি গ্রহণ করেছিলেন,চৈতন‍্যদাস তাঁদের মধ্যে অন‍্যতম এবং এই চৈতন‍্যদাসই শ্রীগীতগোবিন্দের টীকাকার পূজারী গোস্বামী।☆ ☆ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অষ্টম পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে -----*
*🌷পন্ডিত গোসাঞীঁর শিষ‍্য ভূগর্ভ গোসাঞি।*
*🌷গৌরকথা বিনা আর মুখে অন‍্য নাঞি।।*
*🌷তার শিষ্য গোবিন্দপূজক চৈতন‍্যদাস।*
*🌻চৈতন‍্যদাসই যে পূজারী গোস্বামী শ্রদ্ধেয় মুখোপাধ‍্যায় মহাশয় তার প্রমাণ দিয়েছেন গদাধর শিরোমণির দৌহিত্রবংশীয় বাঁকুড়া সোনামুখীর জমিদার স্বর্গত তিনকড়ি বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের গৃহ রক্ষিত একটি প্রাচীন "বালবোধিনী-টীকার" সূচনাশ্লোক থেকে। শ্লোকটি হল---*
 ☆ ☆ ☆
*🌷স্বয়ং বোদ্ধ মভিপ্রায়ং জয়দেব-মহামতেঃ।*
*🌷টীকা চৈতন‍্যদাসেন প্রথ‍্যতে বালবোধিনী।।*
☆ ☆ ☆
*🌻🌻পুঁথির সমাপ্তি শ্লোক🌻🌻*
*🌷গোবিন্দ-পাদ-সেবায়াঃ প্রভাবাদুদিতা স্বয়ম।*
*🌷চৈতন‍্যদাসতো বালবোধিনী স‍্যাৎ সতাং মুদে।।*
*🔵কিন্তু অধুনা মুদ্রিত "বালবোধিনী" টীকার সূচনাশ্লোকের অংশ হল---*
*🌷স্বয়ং বোদ্ধ মভিপ্রায়ং জয়দেব-মহামতেঃ।*
*🌷ক্রমেণোপক্রমাদেষা গ্রথ‍্যতে বালবোধিনী।।*
*🌻তাছাড়া "অত্র ব‍্যাকরণাদীনাং গ্রন্থবাহুল‍্য ভীতিতঃ" থেকে শেষচরণ "ভাবার্থদীপিকাযাঞ্চ ভাবো ভাবার্থলোলুপৈঃ" এই রকম পাঠই আছে। সুতরাং বিশেষ বিচার করে দেখলে "সুবোধিনী-টীকাকার পূজারী গোস্বামী ও চৈতন‍্যদাস এক ও অভিন্ন ব‍্যক্তি বলে মনে হয়।তবে একথাও সত‍্য যে, বৈষ্ণব সাহিত‍্যে কয়েকজন চৈতন‍্যদাসেরও নাম পাওয়া যায়)।*
*🍀পূজারী গোস্বামী তাঁর বালবোধিনী টীকায় শ্রীকৃষ্ণের "দশাবতার" রূপকে দশবিধ রসের প্রতিষ্ঠা বা আকর বলেছেন।তিনি বলেছেন--, "অথ তৎকেলীনাং সর্বোৎকর্ষপ্রতিপাদনায়াদৌ সর্বরসাশ্রয়স‍্য শ্রীকৃষ্ণস‍্য মৎস‍্যাদ‍্যবতারত্বেন সর্বসাধিষ্ঠাতুবখিলনায়কশিরোরত্নতাং প্রতিপাদয়ন ☆ ☆ বসন্তে বাসন্তীত‍্যন্তেন। ☆ ☆ অনেন‍্যৈর মীনস‍্য বীভৎসবসাধিষ্ঠাতৃত্বংবিজ্ঞাপিতম্ "।*
*🍀পূজারী গোস্বামীর মতে, সর্বরসাশ্রয় সর্বভাবঘন শ্রীকৃষ্ণের মীনরূপ বীভৎসরসের প্রকাশক।সেরকম কূর্মাবতার অদ্ভুতরসের আশ্রয় (অনেনৈব কূর্মস‍্যাদ্ভুতরসাধিষ্ঠাতৃত্বং বিজ্ঞাপিতম্), বরাহ ভয়ানকরসের অধিষ্ঠাতা,নৃসিংহ বৎসলরসের,বামন সখ‍্যরসের,পরশুরাম রৌদ্ররসের,রামচন্দ্র করুণরসের, হলধর বা বলরাম হাস‍্যরসের, বুদ্ধ শান্তরসের এবং কল্কি-অবতার বীররসের আকর বা আশ্রয়। দশাবতারূপাশ্রয়ী শ্রীকৃষ্ণকে কবি জয়দেব তাই সর্বরসোত্তম শৃঙ্গার বা শৃঙ্গারস্বরূপ বলে বর্ণনা করেছেন।তাছাড়া পূজারী গোস্বামী দ্বিতীয় গীত---, "শ্রিতকমলাকুচমন্ডল।ধৃতকুন্ডল" প্রভৃতির প্রসঙ্গে বলেছেন--, "দশাবতারান্ কুর্বতে শ্রীকৃষ্ণায় সর্বাকর্ষণানন্দায় তুভ‍্যং নমোহস্তু। ☆ ☆ শ্রীকৃষ্ণস‍্য সর্বনায়কশিরোরত্নতাপ্রতিপাদনায় ধীরোদাত্তত্বাদিচতুর্বিধনায়কগুণ সমন্বয়েন সর্বোৎকর্ষাবিভাবনং প্রার্থয়তে শ্রিয়কময়লত‍্যাদিভিঃ"। এই প্রসঙ্গে ডক্টর শ্রীসুশীলকুমার দে Early History of the Vaishnava Faith and Movement in Bengal (1942) গ্রন্থে বলেছেন--, The opening Dasavatra-stotra, as well as the second Jaya-Jaya-Deva-Hare stotra, presents krishna in his Aisvarya aspect,not as on Avatara,but as the veritable suprime deity of many incarnations (dasakritikriti krishnaya tubhyamnamah), omitting all reference to Radha but mentioning sri or Laksmi.As the poem proceeds the Dhirodatta Nayaka becomes Dhirlalita, and all the erotic Madhurya implications of the theme are developed to their fullest exten.*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds