🆕 👉 নারোজী প্রসঙ্গ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/naroji.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙏🙏🙏নারোজী প্রসঙ্গ🙏🙏🙏*
*🌷সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস।*
*🌷অসৎ সঙ্গে নরকবাস।।*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ ভ্রমণ কালে তাঁকে প্রায়শই গভীর বনপথ দিয়ে যেতে হ'ত।এইরকম একবার এক গভীর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে গমন কালে তিনি নারোজী নামক এক দোর্দন্ড প্রতাপ সুরাপায়ী দস্যুর সম্মুখীন হন।শ্রীচৈতন্যদেব এক বৃক্ষতলে বসে প্রেমানন্দে কৃষ্ণনাম কীর্তন করতে লাগলেন।মহাপ্রভুর শ্রীমুখে কৃষ্ণনাম শ্রবণ করে দস্যুপতি নারোজীর কঠিন হৃদয় দ্রবীভূত হতে লাগল এবং তখন সেই দস্যুপতি নানারকম দ্রব্য সামগ্রী এনে মহাপ্রভুকে ভিক্ষা দিলেন।নারোজীর তখন বৃদ্ধ বয়স,প্রায় ষাট বৎসর অতিক্রম করেছে।ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করলেও, আজীবন পাপাচারে রত ছিলেন কিন্তু মহাপ্রভুর সংস্পর্শে আসিবা মাত্র তাঁর মনে তীব্র বৈরাগ্যের উদয় হ'ল এবং তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন--*
*🌷কত পাপ করিয়াছি কে বলিতে পারে।*
*🌷আজি কেন ইচ্ছে হয় কৌপীন পরিতে।।*
*😭তখন তিনি কাঁদতে কাঁদতে মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে পড়ে বলতে লাগলেন, ▪যাহা গোবিন্দের কড়চায় পাওয়া যায়,যথা---*
*🌷কান্দিয়া নারোজী বলে শুনহ সন্ন্যাসী।*
*🌷কি মন্ত্র পড়িলে তুমি বলহ প্রকাশি।।*
*🌷দেখিয়া তোমার ভাব হয় মোর মনে।*
*🌷আর না করিব পাপ থাকি এই বনে।।*
*🌷ষাট বর্ষ বয়ঃক্রম হইয়াছে আমার।*
*🌷পাপকার্য্য না করিব ছাড়িব সংসার।।*
*🌷অতি দুরাচার আমি ব্রাহ্মণ তনয়।*
*🌷মোরে পদধূলি দিতে না কর সংশয়।।*
*🔷এই কথাগুলি বলে দস্যুপতি নারোজী তাঁর অস্ত্রশস্ত্র সব দূরে ফেলে দিয়ে তাঁর অনুচরদের কাছ হতে চির বিদায় নিলেন এবং কৌপীন ও বহির্বাস পরিধান করে মহাপ্রভুর রাতুল শ্রীচরণে শরণ নিলেন।তখন নারোজী মহাপ্রভুর সঙ্গলাভের বাসনা নিবেদন করলেন এবং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু তাতে সম্মত হলেন।নারোজী ঠাকুর তখন তাঁকে ঐ অঞ্চলের সমস্ত তীর্থস্থান দর্শন করালেন এবং মহাপ্রভু যখন কীর্তনানন্দে বিশেষ ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তেন তখন তিনি করুণাময় মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গের স্বেদবারি (ঘামজল) মুছিয়ে দিতেন এবং তাঁর কাছে বসে তাঁর পদসেবা করতেন।▪এই দিক দিয়ে বিচার করলে দেখা যায় যে পতিত এবং অধমের প্রতি শ্রীগৌরাঙ্গের অশেষ কৃপা।☆গোবিন্দের কড়চায় লেখা আছে যে --*
*🌷হরিনাম করি রাত্রি বসিয়া কাটায়।*
*🌷কাছে বসি স্বেদ বারি নারোজী মুছায়।।*
*🔵🔵🔵নারোজী প্রসঙ্গ 🔵🔵🔵*
*🍀এই প্রসঙ্গে প্রভুপাদ হরিদাস গোস্বামী লিখেছেন যে---*
*"ধন্য নারোজী ঠাকুর, তোমার চরণে আমার কোটি কোটি নমস্কার।তোমার তুল্য সৌভাগ্যবান ব্যক্তি ত্রিজগতে আর কেউ নেই কারণ তুমি মহাপ্রভুর চরণসেবা লাভ করেছ।গৌর বক্ষ বিলাসিনী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে মহাপ্রভু তাঁর চরণসেবায় বঞ্চিত করে ভিখারী বেশে দেশে দেশে কলিহত জীবের মঙ্গল কামনায় ভ্রমণ করছেন এবং তিনি কৃপা করে তোমায় পদসেবার অধিকার দিয়েছেন।তোমার চরণের ধূলিকণা পেলে জীবাধম নিজেকে কৃতকৃতার্থ মনে করবে।নারোজী ঠাকুর,তোমার চরণ ধরি, এতে কৃপণতা করিও না। তোমার চরণধূলি দিয়ে অধমকে কৃতকৃতার্থ কোরো। ইত্যাদি।*
*🌻এই ভাবে পরিক্রমা করতে করতে মহাপ্রভু বরোদা রাজ্যে উপস্থিত হলেন এবং এই জায়গায় নারোজী ঠাকুর জ্বরাক্রান্ত হয়ে দেহত্যাগ করলেন। এই দস্যু মহাপুরুষের সৌভাগ্যের কথা আর কি বলব!হরিদাস ঠাকুরের নির্য্যাণ কালে মহাপ্রভু যা যা করেছিলেন, নারোজী ঠাকুরের ক্ষেত্রেও তিনি বহুপূর্বে তাইই করেছিলেন।*
*🌺মৃত্যুকালে মহাপ্রভু আমার,নারোজী ঠাকুরের সামনে বসে তাঁর পদ্মহস্ত নারোজী ঠাকুরের গায়ে বুলাতে লাগলেন এবং নারোজী ঠাকুর করুণাময় মহাপ্রভুর শ্রীমুখ দর্শন করতে করতে এবং মধুর হরিনাম কীর্তন করতে করতে নিত্যধামে গমন করলেন।গৌরহরি স্বয়ং তাঁর কর্ণে হরিনাম শুনালেন এবং তাঁর পবিত্রদেহ কোলে তুলে নিয়ে ভাবাবেগে নৃত্য করতে লাগলেন এবং অবশেষে এক তমাল বৃক্ষের তলদেশে তাঁর দেহ সমাধি দিলেন।সমাধি স্থানে হরিসংকীর্তন মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করলেন ও সমাধি ঘুরে ঘুরে প্রেমানন্দে নৃত্যকীর্তন করলেন।▪গোবিন্দের কড়চায় এইরকম উল্লেখ পাওয়া যায়।যথা--*
*🌷যেই কালে নারোজী নয়ন মুদিল।*
*🌷আপনি শ্রীমুখে কর্ণে কৃষ্ণনাম দিল।।*
*🌷নারোজী ঠাকুর হয় বড় ভাগ্যবান।*
*🌷তার কারণ কৃষ্ণনাম দিলা ভগবান।।*
*🌷নারোজী মরণ কালে জোড় হাত করি।*
*🌷চেয়ে আছেন প্রভুর দিকে বোলে হরি হরি।।*
*🌷নারোজীকে কোলে করি প্রভু বিশ্বম্ভর।*
*🌷তমালের তল হইতে করে স্থানান্তর।।*
*🌷ভিক্ষা করি নারোজীর সমাধি হইল।*
*🌷সমাধি বেড়িয়া প্রভু কীর্তন করিল।।*
*☘সাধারণত সকলেই জানেন যে একমাত্র হরিদাস ঠাকুরের নির্য্যাণ কালেই গৌরহরি এই আচরণ করেছিলেন। কিন্তু তার আগে দক্ষিণদেশ ভ্রমণ কালে তিনি নারোজী ঠাকুরকেও এইরকম কৃপা করেছিলেন।জগৎসুন্দর,চিরসুন্দর,গৌরসুন্দর আমার স্পর্শমণি,যাঁকে তিনি উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন তিনিই এই ভব কূপ হতে উদ্ধার হয়ে গিয়েছেন। একজন দস্যুর ভাগ্যে যে এই সুদিন আসতে পারে তা ভাবলে বিস্ময়ের উদ্রেক হয়।একেই বলে মহৎ কৃপা।*
*🌺এই সমস্ত ঘটনা ছাড়া বহু অত্যাশ্চার্য্য ঘটনার অবতারণা হয়েছিল যার বিস্তৃত বিবরণ আছে তা "গোবিন্দের কড়চা" পাঠ করলে এই সব লীলা জানতে পারবেন।*
*🌻এর পর মহাপ্রভু পুনরায় বিদ্যানগরে ফিরে আসেন এবং রায় রামানন্দের সহিত তাঁর পুনরায় সাক্ষাৎ হয় এবং কিছুদিন পরে রামরায় তাঁর সমস্ত রাজ ঐশ্বর্য মলবৎ ত্যাগ করে নীলাচলে এসে মহাপ্রভুর একান্ত অন্তরঙ্গ রূপে গম্ভীরা মন্দিরে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাটিয়ে গিয়েছেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
