✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস,*
*বৈষ্ণব-পদাবলীতে পঞ্চরাত্র-সংহিতার প্রভাব।*
*🌻মনে রাখতে হবে যে,সার্থক কবি জয়দেবের "গীতগোবিন্দ" পদগান রাধাকৃষ্ণলীলা-বিষয়ক ও রসাস্বাদন প্রধান।শ্রীচৈতন্য পরবর্তী গৌড়ীয় বৈষ্ণবগোস্বামীগণ প্রবর্তিত বৈষ্ণধর্ম পরবর্তীকালে আরও বেশী তত্ত্বপ্রধান ও রসসাধনাত্মক হলেও কবি জয়দেবের সময়েই বৈষ্ণবধর্মের নবজাগরণচেতনা সমস্ত বাংলাদেশকে প্রবুদ্ধ বা চেতনালাভ ও জাগরিত করেছিল।খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ শতকেই আমরা শ্রী,ব্রহ্ম, রুদ্র ও সনকাদি এই চারপ্রকার বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ের সম্প্রসারণ বা বিস্তৃত করা লক্ষ্য করি এবং এই সম্প্রদায়গুলি রামানুজ, মধ্ব, বল্লভ, ও নিম্বার্ক প্রভৃতি ধমাচার্য্যদের কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল।এই চারটি বৈষ্ণবধর্ম সম্প্রদায়ের অভ্যুত্থান হয় আসলে আচার্য্য শঙ্কর-প্রবর্তিত অদ্বৈতবাদের বিরুদ্ধে।আচার্য্য শঙ্কর যেমন ভাষ্য রচনা করেছিলেন ব্যাস-রচিত বেদান্তসূত্রের উপর, রামানুজ, মধ্ব, বল্লভ ও নিম্বার্কও তেমনি বিশিষ্টাদ্বৈত,দ্বৈত,শুদ্ধাদ্বৈত ও দ্বৈতাদ্বৈত মতবাদমূলক ভাষ্য রচনা করেছিলেন ঐ একই সূত্রগুলিকে অবলম্বন করে।তবে এ'চারটি ভাষ্যেরই প্রাণকেন্দ্র ছিল শ্রীবিষ্ণু-ভগবান, এবং ভক্তি, আত্মনিবেদন বা প্রপত্তি ও আরাধনাদি ছিল শ্রীকৃষ্ণ-নারায়ণের প্রসাদ বা অনুগ্রহ লাভের উপায়স্বরূপ। (ডঃ সুশীলকুমার দে, Early History of the Vaisnava Faith and Movement in Bengal (1942), pp.2-3 দ্রষ্টব্য)। কিন্তু লক্ষ্য করির বিষয় যে,এই চারজন আচার্য্য কিংবা তাঁদের তত্ত্বপ্রধান বৈষ্ণবধর্ম ও বিষ্ণু-উপাসনাও কবি জয়দেবের উপর বিশেষ কোন প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। কবি জয়দেবও ছিলেন বৈষ্ণবধর্মাশ্রয়ী পরমভাগবত এবং তাঁর ভক্তিসাধনা ছিল সহজ সরল শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলাগান ও লীলা আস্বাদনকে নিয়ে সার্থক ও কেন্দ্রায়িত।তবে মূখ্যত কবি জয়দেব ছিলেন কাব্যরসপিপাসু কবি ও সঙ্গীতশিল্পী।*
*🍀অনেক ঐতিহাসিকদের অভিমত যে,পঞ্চরাত্রসংহিতা, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ও শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণের জীবনচরিত ও লীলাবৈচিত্র্য যেভাবে ভারতবর্ষীয় সমাজে বা বৈষ্ণবসমাজে প্রকাশিত ও প্রচারিত ছিল, শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পর গৌড়ীয় বৈষ্ণবাচার্য্যগণ-কর্তৃক পরিকল্পিত,প্রতিপাদিত ও প্রচারিত শ্রীকৃষ্ণলীলা ও শ্রীকৃষ্ণতত্ত্বের রূপে ও বিকাশে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। বিশেষ করে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে, পঞ্চরাত্রসংহিতা গুলিতে ও শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণের মথুরা-বৃন্দাবন-দ্বারকালীলার রূপ ও বিকাশ পরবর্তী গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম প্রভাবিত ও পরিকল্পিত শ্রীকৃষ্ণের বালগোপাললীলা ও কৌমারকৃতি থেকে বেশ ভিন্ন ছিল ফলে মনে হয়। গৌড়ীয় বৈষ্ণবাচার্য্যগণ শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত লীলার তত্ত্বাংশই বিশেষভাবে প্রচার করেছিলেন ভক্তিসাধনা ও ভক্তিদর্শনের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের ও শ্রীরাধার অপার্থিব লীলাকে নবরসে ও বিচিত্র ভাবে উপলব্ধি করার জন্য এবং সেই উপলব্ধির রূপ আরও নিবিড় ও ঘনীভূত হয়েছিল শ্রীচৈতন্যের মধ্যে যখন পরবর্তীকালে শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তির আবেশ শ্রীচৈতন্যদেবে আরোপিত হয়েছিল। পদাবলীকীর্তনের গৌরচন্দ্রিকার পরিকল্পনা ও প্রবর্তন প্রচেষ্টাই অবশ্য সেকথা প্রমাণ করে।এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষেও যে অন্য মতবাদের প্রচলন নাই, তা নয়,তবে পঞ্চরাত্রসংহিতা, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ও শ্রীমদ্ভাগবতের ভক্তিধর্ম ও শ্রীকৃষ্ণলীলার রূপ ও তত্ত্ব পরবর্তী গৌড়ীয় বৈষ্ণবসমাজে রূপায়িত ভক্তিধর্ম ও শ্রীকৃষ্ণ তত্ত্বেরও বিকাশ যে কিছুটা ভিন্ন ছিল এবিষয়ে কৌন সন্দেহ নেই। বাংলার বৈষ্ণবধর্ম সম্পর্কে আলোচনাকালে ডক্টর ভূপেন্দ্রনাথ দত্তও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।*
*তারপর কবি জয়দেব যে তত্ত্বাশ্রয়ী বৈষ্ণবরসতত্ত্বের আনুসরণ করে তাঁর অপূর্ব গীথিকাব্য গীতগোবিন্দ-পদগান রচনা করেননি, বাংলার ইতিহাসই আমাদের সেকথা নিঃসংশয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়। ডঃ সুশীলকূমার দে এই প্রসঙ্গে বলেছেন--," কিন্তু ইহা মনে রাখা প্রয়োজন যে, জয়দেবের অন্তত তিনশত বৎসর পরে শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব হয়েছিল, এবং তৎসম্প্রদায়-প্রবর্তিত রসশাস্ত্র বৃন্দাবন-গোস্বামীগণ-কর্তৃক আরও পরে রচিত হয়েছিল। সুতরাং গোস্বামীমতের প্রচার শ্রীজয়দেবের এত পরবর্তী সময়ে হয়েছিল যে,তাঁকে গোস্বামীমতের প্রচারিত বৈষ্ণবমত বলে গ্রহণ করা যায় না।কবি হিসাবে বৃন্দাবনলীলার মাধুর্য্য তাঁকে মুগ্ধ ও বিভোর করেছিল, কিন্তু তিনি রূপগোস্বামীর মত রসশাস্ত্রের উদাহরণস্বরূপ অথবা সেই শাস্ত্রের আদর্শ অনুযায়ী কাব্য রচনা করেছিলেন একথা বললে শুধু ইতিহাসের অপলাপ নয়,তাঁর (জয়দেবের) কবি-প্রতিভারও অসম্মান করা হয়।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*বৈঃপদাবলীতে পঞ্চরাত্রসংহিতার প্রভাব।*
*🌻☆ ☆ কিন্তু তিনি তত্ত্বন্বেষী ছিলেন না।তাঁর কল্পনা-প্রবৃত্তির স্বরূপ ছিল মূখ্যত কবিধর্মী।(ক) "নানা-নিবন্ধ"(জয়দেব ও গীতগোবিন্দ)পৃষ্ঠা ৪৮)। ডক্টর দে অন্যত্র পুনরায় বলেছেন--, (It should not be forgotten that Jayadeva flourished at least three centuries before the promulgation of the Rasa-shastra of Rupa Goswamin, and the krisnaism, which emerges in a finislred literary form in his porm, as in the Maithili songs of Vidyapati, should not be cqualished with that, presented by the dogmas and doctrines of later scholastic theologians. ☆ ☆ If the selected the love-story of Radha and krishna, fascinating to mediaeval India, the divine love that he depicts, is considerably humanised in an atmosphere of passionate poetic appeal.*
*🍀একথা অবশ্য স্বীকার্য্য যে,কী গীতগোবিন্দ-পদগান, এবং কী কৃষ্ণকীর্তন ও পদাবলীকীর্তন--, সকলেরই উপজীব্য শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার প্রাকৃত কিংবা অপ্রাকৃত লীলামাধুর্য্যের বর্ণনা ও তার রসাস্বাদন এবং সকলেরই প্রাণকেন্দ্র ছিল বিচিত্র লীলাবিহারী শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধা। তাছাড়া ভক্তিকেন্দ্রিক বৈষ্ণবধর্মকে অবলম্বন করেই এই সকল পদগান বা পদাবলীকীর্তনের প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ হয়েছিল।বৈষ্ণবধর্মের পরমপ্রতিষ্ঠা বিষ্ণুদেবতা--যিনি বিচিত্র বিবর্তনের মধ্য দিয়ে নারায়ণ, বাসুদেব, কৃষ্ণ, কৃষ্ণ-বাসুদেব প্রভৃতি নামে ও রূপে বিকাশ লাভ করেছিলেন।বৈদিক সাহিত্যে "বিষ্ণু" শব্দ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।যেমন কখনো বিষ্ণু শব্দে সূর্য্য,কখনো অগ্নি, কখনো যজ্ঞ, আবার কখনো বা সকল দেবতার উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়েছে।যেমন "যো বৈ বিষ্ণুঃ স যজ্ঞঃ" (শতপথ ব্রাহ্মণ ৫|২|৩৬, "বিষ্ণুর্যজ্ঞঃ" (গোপথ ব্রাহ্মণ উত্তরভাগ ১|১২ ; তৈত্তিরীয়-ব্রাহ্মণ ৩|৩|৭|৬, যজুর্বেদ ২২|২০), "স যঃ স যজ্ঞোহসৌ স আদিত্যঃ" (১৪|১|১|৬), "বিষ্ণুঃ সর্বা দেবতাঃ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১|১), "বৈষ্ণবো হি যুপঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৩|৮|৪|১)। শতপথ ব্রাহ্মণে বিষ্ণুর অভিন্ন রূপ "হরি" শব্দের অর্থও আদিত্য বা সূর্য্য--- "এষ বৈ বৃষা হরির্য এষ (আদিত্য) তপতি"(১৪|৩|১|২৬)। পুরাণে নারায়ণের সঙ্গে প্রকৃতি বা শক্তিরূপ লক্ষ্মীর উল্লেখ আছে,যেমন নারায়ণ কারণসলিলে শায়িত ও লক্ষ্মী তাঁর পদপ্রান্তে আসীনা সৃষ্টির কারণ পুরুষ-প্রকৃতি বা শিব-শক্তিরই প্রতিচ্ছবি লক্ষ্মী-নারায়ণ। পঞ্চরাত্রসংহিতাগুলিতে বিষ্ণু (ব্যাপনশীল)বাসুদেব পরমদেবতা ; "সমস্তভূতবাসিত্বাদ্বাসুদেবঃ প্রকীর্থিতঃ (অহির্বুধ্ন্যসংহিতা ২|২৮)।ব্রাহ্মণসাহিত্যেও "বাসুদেব" নামের উল্লেখ আছে। সেখানে বসুদেবপুত্র "বাসুদেব" এই অর্থ সার্থকতাকে আরো ব্যাপক ও প্রবৃদ্ধ করেছে।*
*ঋগ্বেদের ১|১৫৫|৪-৬ এবং ১|১৫৬|১-২ মন্ত্রগুলি বিষ্ণুদেবতার উদ্দেশ্যে লেখা।১|১৫৫|৭ ঋক্ মন্ত্রটি হল, "চতুর্ভিঃ সাকং নবতিং ☆ ☆ বৃহচ্ছশরীরো বিমিযান ঋক্কভির্যুবাকুমারঃ প্রত্যেত্যাহবম্" এই "ঋক্কভিঃ যুবা অকুমার প্রতি এতি আহবম্ মন্ত্রের অর্থ করতে গিয়ে আচার্য্য সায়ণ বলেছেন--, "ঋক্কভিঃ স্তুতিমদ্ভির্মন্ত্রবদ্ভির্বাবিমানঃ যদ্যপিবিভুঃ তথাপি ভক্ত্যধীনত্বাৎ স্তুত্যামীয়তে যুবা সর্বত্রমিশ্রণশীলঃ নিত্যতরুণোবা অতএবাকুমারঃ অনল্পঃ এবংভূতো মহাবিষ্ণুরাহবমাহ্বানংপ্রতি এতি গচ্ছতি যজ্ঞদেশম্"। ঋক্ বেদের ১|৫৬|৩ মন্ত্রেও "অথাতেবিষ্ণোর্বিদুষা ☆ ☆ বিষ্ণুর উল্লেখ আছে। আবার ঋক্ বেদের ১|৫৬|৩ মন্ত্রে আছে "বিষ্ণোসুমতিং ভজামহে"। এই স্তুতিযোগ্য বিষ্ণুদেবতা যজ্ঞের সঙ্গে সর্বদাই সম্পর্কিত। পুনরায় ঋগ্বেদের ১|১৫৪|২ মন্ত্রে--, "প্র তদ্বিষ্ণুঃ স্তবতে বীর্যেণ মৃগো ন ভীমঃ কুচরো গিরিষ্ঠাঃ, যস্যোরুষু ত্রিষু বিক্রমণেষ্বধি ক্ষিয়ংতি ভূবনানি বিশ্বা"।ঋগ্বেদের ১|১৫৪|৩ থেকে ১|১৫৪|৬ পর্যন্ত মন্ত্রগুলি হল---*
*প্র বিষ্ণবে শূষমেতু মন্ম গিরিক্ষিত উরুগায়ায় বৃষ্ণে।*
*য ইদং দীর্ঘং সধস্থমেকো বিমমে ত্রিভিরিৎপদেভিঃ।।৩*
*যস্য ত্রী পূর্ণা মধূনা পদান্যক্ষীয়মাণা স্বধয়া মদংতি।*
*য উ ত্রিধাতু পৃথিবীমূত দ্যামেকো দাধার ভূবনানি বিশ্বা।।৪*
*তদস্য প্রিয়মভি পাথো অশ্যাং নরো যত্র দেবযবো মদংতি।*
*উরুক্রমস্য স হি বংধুরিত্থা বিষ্ণোঃ পদে পরমে মধ্ব উৎসঃ।।৫*
*তা বাং বাস্তূন্যুশ্মসি গমধ্যৈ যত্র গাবো ভরিশৃংগা অয়াশঃ।*
*অত্রাহ তদরুগায়স্য বৃষ্ণঃ পরমং পদমব ভাতি ভূরি।।৬*
*🌻এই মন্ত্রগুলিও বিষ্ণুর বা বিষ্ণু-ভগবানের উদ্দেশ্যে রচিত।এখানে বিষ্ণু ব্যাপনশীল বা সর্বব্যাপী।সায়ণ তাঁর ভাষ্যে লিখেছেন--, "হে নরাঃ বিষ্ণোর্ব্যাপনশীলস্য দেবস্য বীর্যাণী বীরকর্মাণী"(২|১৫৪|৪)। "ত্রিধাতু পৃথিবীম্ উত দ্যাম এক দাধার ভূবনানি বিশ্বা" মন্ত্রের ভাষ্যে সায়ণ বলেছেন--,ত্রিধাতু পৃথিব্যপ্তেজোরূপধাতোত্রয়বিশিষ্টং যথা ভবতি তথাদাধার ধৃতবান ☆ ☆ ত্রিবৃৎকরণসৃষ্টিরৃপপাদিতা যদ্বা ত্রিধাতু কালত্রয়ং গুণত্রং বা দাধারোত্যন্বয়ঃ"।১|১৫৪|৫ ঋক্ মন্ত্রে "উরুক্রমস্য" শব্দের ব্যাখ্যায় সায়ণ "সর্বজগদ্বীজরূপী ব্যাপক বিষ্ণুর" কথা বলেছেন এবং তিনি "বৃষ্ণঃ পরমং পদম্"! সায়ণের বক্তব্য যে,এই পরমপদ ত্রিগুণাত্মক ত্রিবিক্রম বিষ্ণুই বামন-রূপে (ত্রিপাদে) বলি রাজার কাছে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল এই তিনলোকের অধিকার গ্রহণ বা হরণ করেছিলেন।এই ত্রিপাদ-যুক্ত বিষ্ণুই সর্বব্যাপক পরমদেবতা। ত্রিপাদ=অ+উ+ম এবং এই ত্রিদেবতা বা ভু,ভুবঃ,স্বঃ তিনলোকের অতীত কলা ও বিন্দু বা নির্গুণ ব্রহ্মচৈতন্য।ঈশোপনিষদে "ঈশাবাস্যমিদং সর্বং যৎকিঞ্চি জগত্যাং জগৎ মন্ত্র সর্বব্যাপক বিষ্ণুরই বোধক, সুতরাং বিষ্ণু বিশ্বপ্রাণময় ও সর্বব্যাপক বৃহদ্ চৈতন্য--ব্রহ্ম।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা ।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*বৈঃপদাবলীতে পঞ্চরাত্রসংহিতার প্রভাব।*
*🍀এ'প্রসঙ্গে "পঞ্চোপাসনা" গ্রন্থের ডক্টর জীতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোকপাত উল্লেখযোগ্য।ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায় "বিষ্ণ--বৈষ্ণব" প্রসঙ্গে লিখেছেন, "ঋগ্বেদে এবং অন্যান্য বেদে বিষ্ণু "ত্রিবিক্রম","উরুগায়" ইত্যাদি নামে খ্যাত।শেষোক্ত দুইটি শব্দের অর্থ এই যে, 'যিনি বিস্তৃতভাবে বিচরণশীল। কিন্তু "ত্রিবিক্রম" শব্দের একটি বিশেষ অর্থ আছে। এই অর্থ বিষ্ণুদেবতা সম্বন্ধে একটি বৈদিক বাক্য হতে উদ্ভুত, সেটি এইরকম "ত্রেধা নিদধে পদম্" অর্থ্যাৎ (তিনি) তিনবার পদক্ষেপে করেছিলেন।(পঞ্চোপাসনা, ১৯৬০,পৃঃ ৩৪)। প্রকৃতপক্ষে "ত্রিবিক্রম" শব্দটি বিষ্ণু-সূর্য্যের ত্রিপাদ তথা আকাশে ত্রিভাগ-বিচরণ বা সঞ্চরণেরই দ্যোতক বা প্রকাশক।ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায়ও "সূর্য্যের নভোমন্ডলে পরিভ্রমণের তিনটি পর্যায়" বলে উল্লেখ করেছেন। মোটকথা "ত্রিপাদ" "প্রাতঃকালীন সূর্য্যের পূর্বাকাশে স্থিত রূপ যেন তাঁর প্রথম পাদ,মধ্যাহ্নের গগনমধ্যস্থ সূর্য্য দ্বিতীয় এবং সায়াহ্নে পশ্চিম দিকচক্রবালে বিলীয়মান সূর্য্যদেবতার শেষ তৃতীয় পাদ সূচিত করে।দেবতা এরকমে তিনটি পদক্ষেপের দ্বারা যেন সমগ্র অন্তরীক্ষমন্ডল অতিক্রম করেন।(ঐ গ্রন্থ )। শ্রদ্ধেয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমরাও একমত যে, ব্রাহ্মণ-আরণ্যকে বর্ণিত কাহিনী থেকেই বামন অবতারের পৌরাণিক বলি-ছলনা-উপাধ্যানের সৃষ্টি। সূর্য্য-নারায়ণের ত্রিপাদ-সংক্রমণকে কেন্দ্র করেই পৌরাণিক দেবতা দূর্গা, সরস্বতী ও লক্ষ্মী এই তিন রূপেরও কল্পনা করা হয়েছে।দেবী দূর্গা স্বয়ং সূর্যদেবতার মধ্যাহ্নকালীন প্রকাশ। দেবী সরস্বতী সূর্য্যের প্রাতঃকালীন এবং দেবী লক্ষ্মী সূর্য্যের সায়ংকালীন প্রকাশ।সূর্য্যরূপী বা সূর্য্যসম্ভূত দেবী দূর্গা যে সর্বদিক ও সর্বদেশব্যাপিণী বিরাট ও বিস্তৃত, দেবীর তিনরূপ সে তত্ত্বের প্রকাশক।( স্বামী প্রজ্ঞানন্দ-রচিত "শ্রীদূর্গা" গ্রন্থে এই বিষয়বস্তু আলোচিত হয়েছে)।বেদের সর্বব্যাপকত্বের প্রতীক সূর্য্যরূপী বিষ্ণুদেবতার ত্রিবিক্রম রূপ তার প্রমাণ।*
*🍀পুনরায় ১|১৫৫|৬ ঋক্ মন্ত্রে 'বিষ্ণু' বা বিষ্ণুদেবতা-সম্বন্ধে বলা হয়েছে ; "যুবা অকুমারঃ" এবং ১|২২|১৮ ঋক্ মন্ত্রে বলা হয়েছে---,গোপা"।যুবা অকুমারঃ অর্থে যে বিষ্ণুদেবতা চিরকিশোর বা চিরনবীন এবং 'গোপা' অর্থে গাভীগণের রক্ষক,রাখাল বা গোপাল। সুতরাং ঋগ্বেদেই কৃষ্ণদেবতাকে একবার চিরযুবা (Ever young), আর একবার গাভীগণের রক্ষক বা রাখাল তথা protector of cow ও herdsman বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডঃ হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী Materials for the stndy of the Early History of the Vsishnava Sect(2nd ed) গ্রন্থে বলেছেন ; The epithets Gopa and Yuva-akumarah of the Vadic Vishnu might have been suggestive of the pauanic tale of the three strides of the same god, suggested the legend of the Dwarf Vastara। অর্থ্যাৎ ডঃ রায়চৌধুরীর অভিমতে, ত্রিবিক্রম বামন-আবতারই বেদের বিষ্ণু। ঐতিহাসিক ডঃ জয়সোয়াল বলেছেন, বৌধায়ণধর্মসূত্রের পূর্বে বিষ্ণুকে "দামোদর" ও "গোবিন্দ" নামেও অভিহিত করা হত। খ্রীষ্টীয় ২০০ থেকে ৪৫০ শতকের মধ্যে রচিত সাতবাহনরাজ হালের (প্রথম ও দ্বিতীয় শতক) "গাহা-সত্তসঈ" বা গাথাসপ্তসতীর ২|১২ শ্লোকে "দামোদর" শ্রীকৃষ্ণবিগ্রহে রূপান্তরিত ; অজ্জিবি ______ দামোঅবো ত্তি ইঅ জমিপএ জসোআত্র, কহ্নমূহপেসিঅচ্ছং নিহুঅং ☆ ☆। এখানে দামোদর বালক শ্রীকৃষ্ণ এবং যশোদা ও ব্রজবধূগণের মতো হালের সপ্তসতীতে রাধিকার উল্লেখও বাদ পড়েনি, "বহিআত্রঁ অবণেন্তো" (১|৮৯) খ্রীষ্টীয় চতুর্থ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এলাহাবাদ-স্তম্ভলিপিতে "বিষ্ণু গোপ" শব্দের উল্লেখ আছে এবং পন্ডিত হপকিন্স এবং অন্যান্য পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য মনীষীদের অভিমতে "বিষ্ণু গোপ" শব্দ গোপাল-বিষ্ণু বা গোপাল-কৃষ্ণের পূজারই বোধক। রাজপুতনায় ঘোসূন্ডী-লিপিমালার ব্রাহ্মী-অক্ষর কৃষ্ণ-বাসুদেবের দেবভাব ও দেব মহিমার সাক্ষ্য দান করে খ্রীষ্টপূর্ব ২০০-৪৫০ শতকে।ঘোসূন্ডীলিপিতে সঙ্কর্ষণ ও বাসুদেবকে "সর্বেশ্বর" এবং দিযবপুত্র হেলিওডোবাস প্রতিষ্ঠিত খ্রীষ্টপূর্ব ১০০ শতকে বেসনগরলিপিতে বাসুদেবকে "দেবদেব" বলে হয়েছে। খ্রীষ্টপূর্ব ১০০ শতকে নানাঘাট-লিপিমালায় বাসুদেব ও সঙ্কর্ষণের নাম পাওয়া যায়। অধ্যাপক এ.বি.কিথ বলেন,খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের সমাজে পাঞ্চরাত্রতন্ত্র-কথিত ভাগবতসম্প্রদায়েরও প্রচলন ছিল।একথাও আবার সত্য যে, নারায়ণ-বিষ্ণু ঠিক কবে থেকে কৃষ্ণ-বাসুদেবে রূপান্তরিত হয়েছিলেন তা সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে তৈত্তরীয়-অরণ্যকে ১০|১|১৬ এই তাদাত্ম্য-ধারণায় একটা নিদর্শন পাওয়া যায়, কিন্তু তৈত্তরীয়-আরণ্যকের রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত নি হওয়াই ঐ ধারণায় নির্দিষ্ট সময়ও জানা যায় না।তৈত্তরীয়-আরণ্যকের ভূমিকায় ডঃ রাজেন্দ্রলাল মিত্র লিখেছেন, এই আরণ্যকটি খ্রীষ্টীয় শতকের গোড়ার দিকে রচিত ; At least in the beginning of the Christian era । কিন্তু ডক্টর কিথের অভিমতে তৈত্তরীয়-আরণ্যক রচিত হয় খ্রীষ্টপৃর্ব তৃতীয় শতকে, কেননা নারায়ণ-বিষ্ণুর নামের পরিবর্তে "বাসুদেব" শব্দটি যে ব্রাহ্মণসাহিত্যে ব্যবহৃত হয়েছে, তার রচনাকাল (কিথের মতে) খ্রীষ্টীয় তৃতীয় শতক। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয়ে যে,খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে ভাগবত-সম্পর্কীয় কোন প্রস্তরলিপিতেই বাসুদেবের অভিন্নতাসূচক "নারায়ণ-বিষ্ণু" নামের উল্লেখ নেই, বরং তার পরিবর্তে দেখা যায় বাসুদেব ও সঙ্কর্ষণের নাম উল্লেখ।*
*মহাভারতের (খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০) ভীষ্মপর্বে ও অহির্বুধ্নসংহিতায় সাত্ত্ব তথা পাঞ্চরাত্রসংহিতায় বক্তা ও নিয়ামক-রূপে বাসুদেবের মতো সঙ্কর্ষণের নামও পাওয়া যায়!মহাভারতের দ্বিতীয় পর্বে (২|৭৯|২৩)সঙ্কর্ষণকে কৃষ্ণ-বাসুদেবের জ্যেষ্ঠভ্রাতা ও (২|১৪|৬৪) কৃষ্ণ-কংস-সংগ্রামে কৃষ্ণের সহায়ক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পুনরায় মহাভারতের শান্তিপর্বের নারায়ণীয়ভাগে (১২|৩৩৯|২৫ এবং ১২|৩৩৯|৪০) বাসুদেবকে "পরমাত্মা" ও সঙ্কর্ষণকে "জীবাত্মা" নামে অভিহিত করা হয়েছে।"যে বাসুদেবো বিজ্ঞেয় পরমাত্মা সনাতনঃ" এবং "জ্ঞেয়ঃ স এ এব রাজেন্দ্র জীবঃ সঙ্কর্ষণঃ প্রভুঃ"।*
*আসলে বাসুদেব ও সঙ্কর্ষণ-পূজার বীজ আমরা পাই পাঞ্চরাত্রদর্শনের ব্যূহতত্ত্বের মধ্যে।ঘোসূন্ডীলিপিতেও বাসুদেব সঙ্কর্ষণের নাম উল্লিখিত হয়েছে, কিন্তু মহাভারতের (২|৭৯|২৩) মতে সঙ্কর্ষণকে বাসুদেব বা কৃষ্ণ বাসুদেবের জ্যেষ্ঠভাই কিংবা বাসুদেব থেকে সৃষ্ট দেবতা বলা হয় নি, বরং সঙ্কর্ষণ সেখানে বাসুদেবের মতো সমান আসনে অধিষ্ঠিত।ভাগবত ও পাঞ্চরাত্রধর্মে ব্যূহতত্ত্বটির সারমর্ম এই যে,বাসুদেব তাঁর শিষ্যের মধ্য থেকে প্রথমে প্রকৃতি বা মহাপ্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে সঙ্কর্ষণচৈতন্যও সৃষ্টি করেছিলেন। প্রকৃতি ও সঙ্কর্ষণের সংমিশ্রণে মন বা সাংখ্যীয় বুদ্ধি ও প্রদ্যুম্নচৈতন্যের সৃষ্টি।এটি তৃতীয় ব্যূহ।আবার অহংকার ও অনিরুদ্ধচৈতন্যের সংমিশ্রণে মহাভূত ও ব্রাহ্মচৈতন্যের সৃষ্টি। এটি চতুর্থ ব্যূহ।ভাগবতদর্শনে একেই সৃষ্টিতত্ত্ব বলা হয়েছে এবং এই সৃষ্টিতত্ত্বের কেন্দ্র বা মূল উৎস বাসুদেব বা কৃষ্ণ-বাসুদেব। উল্লেখযোগ্য যে,এই চতুর্ব্যূহই পরবর্তীকালে বিংশতি ব্যূহে, তত্ত্বে বা মূর্তিতে পরিণত হয়েছিল।বিংশতি মূর্তি যেমন--,উপেন্দ্র, হরি,অনন্ত,কেশব,নারায়ণ, ত্রিবিক্রম,জনার্দন,পদ্মনাভ, দামোদর,অচ্যুত,মাধব,গোবিন্দ, মধুসূদন,অধোক্ষজ,শ্রীধর,বিষ্ণু, বামন,হৃষীকেশ, পুরুষোত্তম ও নৃসিংহ।(ডক্টর জীতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত পাঞ্চপাসনা গ্রন্থ পৃঃ ৬৬)। পাঞ্চরাত্রীয় ব্যূহবাদের সৃষ্টি গুপ্তযুগের পূর্বে এবং গুপ্তযুগের তা বিশেষভাবে পরিপুষ্ট ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে।*
*এই অধ্যায় বিরাম।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*কৃষ্ণ-বাসুদেব-তথ্য ও তত্ত্ব।*
*🍀কৃষ্ণ-বাসুদেবের বিকাশের ইতিহাস পুরাণ-সাহিত্য থেকে অল্পই জানা যায়।ডক্টর হেমচন্দ্র রায়চৌধুরীর অভিমত যে, মোটামুটিভাবে (১)ছান্দোগ্য উপনিষৎ (২)পতঞ্জলির মহাভাষ্য (হেতুমতি চ--৩|১|২৬ পাণিনীয় সূত্রের ভাষ্যে মহর্ষি পতঞ্জলি কংসভক্ত ও বাসুদেব ভক্ত-সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন)।(৩)বৌদ্ধ-ঘটজাতক ও জৈন উত্তরাধ্যয়ণসূত্র,(৪)মহাভারত ও হরিবংশ (৫) কতকগুলি পুরাণ ও (৬) কোন কোন সম্প্রদায়গত উপনিষৎ থেকে কৃষ্ণ-বাসুদেব-সম্বন্ধে আমরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। ডক্টর সুশীলকুমার দে প্রাচীন বিষ্ণুধর্ম ও মহাভারতের নারায়ণীয় আলোচনা সম্পর্কে "Early History of the Vaisnava-Faith and Movement in Bengal (1942) গ্রন্থে বলেছেন ; "Stretching into the early Vaisnavism and Narayaniya worship of the Mahabharata, it loses itself in complex body of myth,legend,superstition, belief sentiment and philosophy, but it emerges in a more or less definite from in the Bhagbatism and krishna-Vasudeva worship of the Bhagavat-Gita. On this basis,it was systematised and erected into philosopheme in such late Bhakti-works as the Narada-Sandilya-Sutras, and it continued as a doctrine till about the end of Eighth century A.D. when the theory of spirityal non-dualism and world-illusion promulgated by the great Sankaracharya and his followers appears to have imperilled its dualistic metaphysical foundation"।(Vide, page.2, স্বামী অভেদানন্দ মহারাজ শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে তাঁর Bhagavad Gita, the Divine Message গ্রন্থের প্রথম খন্ডে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন)।*
*🌻বৌদ্ধযুগপূর্ব ছান্দোগ্য উপনিষদে দেবকীপুত্র কৃষ্ণের উল্লেখ আছে ; "তদ্ধৈতদঘোর-আঙ্গিরসঃ কৃষ্ণায় দেবকীপুত্রায়োক্ত্বেবাচ, অপিপাস এব স বভূব,☆ ☆ তত্রৈতে দ্বে ঋচৌ ভবতঃ"(৩|১৭|৬)।আচার্য্য শঙ্কর এই ভাষ্যে লিখেছেন--, "তদ্ধৈতৎ যজ্ঞদর্শনং ঘোরো নামত আঙ্গিরসো গোত্রতঃ কৃষ্ণায় দেবকীপুত্রায় শিষ্যায় উত্ত্বা উবাচ ☆ ☆,----- অর্থ্যাৎ অঙ্গিরা নামক ঋষির বংশজাত "ঘোর" নামে ঋষি নিজ শিষ্য দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণকে যজ্ঞ-বিষয়ক জ্ঞানের উপদেশ দিয়ে তিনটি মন্ত্র দান করেছিলেন এবং সে তিনটি মন্ত্র হল, (১)অক্ষিতমসি,(২)অচ্যুতমসি (৩)প্রাণসংশিতমসি। এই মন্ত্র-তিনটির অর্থ (১)পরিপূর্ণ (২) অক্ষয় ও (৩)প্রাণরূপে সূক্ষ্মতত্ত্ব। কিন্তু উপনিষদের এই পূর্ণ,অক্ষয় ও সূক্ষ্ম প্রাণমন্ত্রের অধিকারী দেবকীপুত্র কৃষ্ণ কে? পন্ডিত মোক্ষ-মূলার,গ্রিয়ারসন,গার্বে প্রভৃতি পাশ্চাত্য পন্ডিতগণ এই কৃষ্ণকেই পৌরাণিক গোপীজনবল্লভ শ্রীকৃষ্ণ বলে প্রতিপন্ন করেছেন, কিন্তু অধ্যাপক কিথ,ম্যাকডোনেল প্রভৃতি মনীষীরা এই মন্তব্য গ্রহণ করেননি।অধ্যাপক কিথ প্রভৃতির অভিমতে ছান্দোগ্য উপনিষদে উল্লিখিত "কৃষ্ণ" ব্রাহ্মণ্যধর্মের বৈর বা বিপরীতধর্মী ক্ষত্রিয়-উপদেষ্টা--,A Kshatriya teacher of morals,as opposed to Brahminism"।( স্বর্গত ডঃ বিমানবিহারী মজুমদারও শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে ( ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক) আলোচনা করেছেন তাঁর গ্রন্থে ( কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত)।*
*🌷ডক্টর জীতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দেবকীপুত্র "কৃষ্ণ" সম্পর্কে আলোচনা সূত্রে মোটামুটি অনুরূপ সিদ্ধান্তই করেছেন।তিনি বলেছেন, "ঋগ্বেদের সূক্তগুলির এবং অল্প পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যে "বাসূদেব" নামটির কোন উল্লেখ না থাকলেও "কৃষ্ণ" নামধারী বিভিন্ন ঋষিগণের নাম দেখতে পাওয়া যায়। ঋগ্বেদে প্রথম মন্ডলের ১১৬ এবং ১১৭ সূক্তে বিশ্বকায়ের পিতা ঋষি-কৃষ্ণের নাম পাওয়া যায়, আবার ঐ বেদের অষ্টম মন্ডলের ৯৬ সূক্তে অংশুমতী নদীতীরবর্তী জনপদনিবাসী অন্য এক কৃষ্ণ-ঋষির নামের সন্ধান পাই। কৌশিতকীব্রাহ্মণের এক অংশে (৩০|৯) আঙ্গিরসগোত্রীয় এবং ঐতরেয়-আরণ্যকে (৩|২,৬) হারীতগোত্রসম্ভূত দুইজন কৃষ্ণের উল্লেখ আছে। কিন্তু এই সব কৃষ্ণ ঋষিগণের সহিত মহাকাব্যোক্ত সাত্ত্বত বা বৃষ্ণিবীর ভগবান বাসুদেব-কৃষ্ণের কোনরকম সাক্ষাৎ সম্পর্ক থাকা সম্ভবপর বলে মনে হয় না।(পঞ্চোপাসনা,পৃঃ--৪২-৪৩)। শ্রীনিবাস আয়াঙ্গার,ডঃ রাধাকৃষ্ণণ প্রভৃতি মনীষীরা কিন্তু অংশুমতী তীরবাসী কৃষ্ণের সঙ্গে বাসুদেব-কৃষ্ণের ঐক্য স্বীকার করেছেন, কেননা তাঁদের মতে, অংশুমতী এবং যমুনা এক ও অভিন্ন নদী।আবার ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, কিন্তু হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী মহাশয় যথার্থই বলেছেন যে,অংশুমতী ও যমুনা যে বিভিন্ন নদী ইহা "বৃহদ্দেবতা" গ্রন্থ হতে সমর্থিত হয় এবং এজন্য ঋগ্বেদের অন্যতম কৃষ্ণের সহিত মহাকাব্যের বাসুদেব-কৃষ্ণের একীকরণ সমর্থনযোগ্য নহে।(পঞ্চোপাসনা, পৃঃ ৪৩)।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*কৃষ্ণ-বাসুদেব-তথ্য ও তত্ত্ব*
*🍀ছান্দোগ্য-উপনিষদের ৩|১৭|৬ মন্ত্রে ঋষি ঘোর-আঙ্গিরসের শিষ্য দেবকীপুত্র কৃষ্ণের কথা আমরা উল্লেখ করেছি।মহাভারতেও অনুরূপ উল্লেখ পাওয়া যায়। ডক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন--, "উপনিষদোক্ত কৃষ্ণ ও বাসুদেব-কৃষ্ণ যে একই ব্যক্তি সে বিষয়ে সন্দেহের কোন কারণ নেই,যেহেতু উভয়েই দেবকীর পুত্র বলিয়া বর্ণিত। তিনি আরো বলেছেন--,"গীতোক্ত ভগবান কৃষ্ণ এবং ছান্দোগ্য উপনিষদের আঙ্গিরস-শিষ্য কৃষ্ণ যে একই ব্যক্তি সেটি উভয়ে কেবল দেবকী সন্তান বলেই প্রমাণিত হচ্ছে না।আঙ্গিরস গোত্রীয় ঘোর-ঋষির নিকট হতে কৃষ্ণ যে বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক অর্জুনকে প্রদত্ত উপদেশাবলীর মধ্যে সেটি সমস্তই নিহিত আছে। (পঞ্চোপাসনা,পৃষ্ঠা=৪৩)। ঐতিহাসিক হেমচন্দ্র রায়চৌধুরীও অনুরূপ সিদ্ধান্ত করেছেন। কিন্তু আগেই উল্লেখ করেছি যে, অধিকাংশ পাশ্চাত্য মনীষীরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।ঋগ্বেদের ১|১৫৪|১--১|৫৬|১-৬ মন্ত্রগুলির মতো ১|২২|১৮--১৯ মন্ত্রগুলিতেও ব্যাপনশীল "বিষ্ণু"-র নামের উল্লেখ আছে এবং সেখানে বলা হয়"বিষ্ণুঃ গোপাঃ"।ঋক্ মন্ত্র ১|২২|৮-৯ হ'ল---*
*ত্রীণি পদা বিচক্রমে বিষ্ণুঃ গোপাঃ অদাভ্যঃ।*
*অতো ধর্মানি ধারয়ন্।১৮*
*বিষ্ণোঃ কর্মানি পশ্যত যতো ব্রতানিপস্পর্শে।*
*ইন্দ্রস্যযুজ্যঃ সখা।১৯*
*🌻ভাষ্যকার সায়ণ ১|২২|১৮ ঋক্ মন্ত্রের প্রসঙ্গে বলেছেন--, "অদাভ্যঃ কেনাপিহিংসিতুমশক্যঃ গোপাঃ সর্বস্য জগত্যেরক্ষকোবিষ্ণুঃ পৃথিব্যাদিস্থানেসু অত এতেষু ত্রীণি পদানি বিচক্রমে কিংকুর্বন্ ☆ ☆।গোপাঃ গোপামৃতস্যেত্যত্রোক্তম্। ১|২২|২০-২১ ঋক্ মন্ত্র-দুটিতেও বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে "পরম" শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।আগেই আলোচিত হয়েছে যে, অনেক পন্ডিতই "গোপ" শব্দটির অর্থ করেছেন গোবালক--গোপাল ও গোবিন্দ"। এ' সম্বন্ধে আমরা আগেও কিছুটা আলোচনা করেছি। কিন্তু ভাষ্যকার আচার্য্য সায়ণ ১|১৫৪-১৫৬|৪-৫ ঋক্ মন্ত্রের অনুরূপ ১|২২|১৮-১৯ ঋক্ মন্ত্রেরও অর্থ করেছেন-- ত্রিবিক্রম বামন-বিষ্ণু। শতপথ ব্রাহ্মণেও (১|২|৫|৫) বিষ্ণু "বামন" নামে অভিহিত এবং মহাভারতে (১২|৪৩|১২) কৃষ্ণকেই "বামন" কৃষ্ণকেই "বামন"বলা হয়েছে। বৌধায়নধর্মসূত্রে ২|৫|২৪ বিষ্ণুকে কৃষ্ণ ও বাসুদেবের পরিবর্তে "গোবিন্দ" বলা হয়েছে।অধ্যাপক কিথ ও ম্যাকডোনেল বলেন যে, ঋগ্বেদের ঐ "বিষ্ণুঃ গোপাঃ" (১|২২|১৮)মন্ত্রের মধ্যেই বিষ্ণুর "গোবিন্দ" নামের বীজ নিহিত রয়েছে।খ্রীষ্টীয় চতুর্থ শতকে মহারাজ সমুদ্রগুপ্ত-কর্তৃক উৎকীর্ণ (চিত্রিত বা খোদাই করা) এলাহাবাদ-স্তম্ভলিপিতেও "বিষ্ণু-গোপ" নামের উল্লেখ দেখা যায়। এখানে "বিষ্ণু" বা "গোবিন্দ" কৃষ্ণ-বাসুদেব বা কৃষ্ণ নাম থেকে সাধারণত ভিন্ন বলে বোধ হলেও বৈদিক সাহিত্যের অনেক জায়গায় এবং পুরাণেও বিষ্ণুকে "কৃষ্ণ-বাসুদেব" নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বনাথের তাম্রলিপির কথা ছেড়ে দিলেও "চুল্লনির্দেশ" ও "মহানির্দেশ" নামে দুটি বৌদ্ধ-নির্দেশে স্পষ্টভাবে "বাসুদেব্বটিকা" ও "বলদেব্বটিকা" নামের উল্লেখ আছে।তাছাড়া সর্বনাথের তাম্রলিপি থেকে প্রমাণ হয় যে, আদিত্য ভট্টারক তথা সূর্য্যোপাসক সৌর-সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ভগবত বা ভাগবত-সম্প্রদায়েরও অস্তিত্ব ছিল।চুল্লনির্দেশ ও মহানির্দেশ থেকে প্রমাণ হয়, বাসুদেব বা কৃষ্ণ-বাসুদেব ও বলদেব বা সঙ্কর্ষণ-দেবতাদের উপাসক-সম্প্রদায়েরাও বৌদ্ধযুগে তথা খ্রীষ্টপূর্ব যুগে বতর্মান ছিলেন। অধিকাংশ পন্ডিতের অভিমত যে,সাত্ত্বতাদি ভাগবত ও পঞ্চরাত্র-নির্দিষ্ট বাসুদেব ও সঙ্কর্ষণই খ্রীষ্টীয় শতকে পৌরাণিক কৃষ্ণ, বলরাম বা বলদেবে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। সুতরাং সব দিক থেকে বিচার করলে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বেদের যজ্ঞ সম্পর্কিত সৌরদেবতা বিষ্ণুই বাসুদেব বা কৃষ্ণ-বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণে রূপান্তরিত হয়েছিলেন।*
*🍀এ' সম্পর্কে ডক্টর সুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত-লিখিত ( A History of Indian philosophy, Vol=11 (1932) গ্রন্থে 'Visnu, Vasudeva and krishna )বিষয়ক আলোচনার কিছু অংশ উদ্ধৃত করি।ডক্টর দাসগুপ্ত বলেছেন--, ("Visnu, Bhag avat, Naray ana Hari and Krishna are often used in a large section of Indian religious literature as synonymous names of the Supreme Lord. Of these, Visnu is an improtant god of the Rig-veda who is one of the adityas, and who makes three strides in the sky, probably as he manifests himself in the eastern horizon,as he rises to the zenith and as he sets in the west. He is also represented in the Rig-veda as a great fighter and an ally of Indra. It is further said that he has two earthly steps and another higher step which is known only to himself. But, in the Rig-veda, Visnu is certainly inferior to Indra, with whom he was often associated,as is evident from such names as Indra-Visnu (R. V. iv, 55.4 ; vii. 99.5.viii, 10 2,etc.). According to later tradition Visnu was the youngest, the twelfth of the adityas ☆ ☆ Again is the Taittiriya-Samhita, 1. 7. 54, in the Vajasaneya-samhita, 1. 30 ; 1. 68 ; V, 21, in the Atharva-veda, V. 16. 7 VIII. 5. 10. ect. Visnu is referred to as the chief of the gods (Visnumukha deva).☆ ☆ The word Vaisava is used in the literal sence of "belonging tovisnu" in the Vajasaneya-samhita, I I I. 38 ; Satapatha-brahmana, 1. 1. 1,9 ; I I I. 532, etc., but the use of the word in.the sence of sect of religion is ont to be found anywhere in the earlier literature. ☆ ☆ In the satapatha-brahmana, XIV. 3,4. Purusa isidentified with Narayana (narayanam prajapatir uvacha) ☆ ☆ The etymological definition of narayana as "one who has descended from man (nara)" as herein suggested in accordance with panini, IV. 4,99, is not, however, accepted everywhere. Thus, I, 10, derives narayana from nara meaning "water" and ayana meaning, abode, and nara (water), again, is explained as 'that which has descended from nara', or supreme man. T he Mahabharata, III, 12, 952 and 15, 819 and XII 13. 198, accepts Manu's derivation,but in V 2568, it save that the supreme God is called narayana, becsuse he is also the refuse of men The Taittiriya-aranyaka Xi 1 6, identifies narayana with Visnudeva and Visnu.*
*🍀The word Bhagavata, in the sence of blissful and happy, is a very old one and is used in the Rig-veda, 1. 194-40 ; VII. 42, 4 ; X. 60. 12 and other such early literature,it came to denote visnu or Vasudeva, and the word Bhagavata denoted the religious sect which regarded visnu as their supreme god, ☆ ☆।(A History of Indian philosophy,Vol. 11 (1932) pp. 535-44)।*
*🍀মহাভারতে বিষ্ণু বা নারায়ণের কৃষ্ণ, জনার্দন,কেশব,হরি প্রভৃতি নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।তাই মনে হয় যে,বিষ্ণু,বাসুদেব,হরি, জনার্দন,নারায়ণ প্রভৃতি দেবতা পরবর্তীকালে ও বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবতে ও গৌড়ীয়-বৈষ্ণব গ্রন্থাবলীতে কৃষ্ণ-দেবতায় পরিণত বা রূপান্তরিত হয়েছে। পরবর্তীকালে কৃষ্ ধাতুর অর্থ আকর্ষণ থেকে সর্বধারক ও সর্বপালক "কৃষ্ণ" বা শ্রীকৃষ্ণ-শব্দের সৃষ্টি হয়েছিল।*
*🌻পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস গ্রন্থে 146-147-148 পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ আছে।*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)পদাবলী কীতানের ইতিহাস*
*কীর্তনের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণরাধা।।*
*অষ্টাধ্যায়ীকার পাণিনি (খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতক) মহাভাষ্যকার পতঞ্জলি (খ্রীষ্টপূর্ব ২য়-৩য় শতক) থেকে আরম্ভ করে মহাভারত (খ্রীষ্টপৃর্ব ৩০০) সঙ্কলয়িতা ব্যাস পর্যন্ত সকলেই কংসের নিধনকারী শ্রীকৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করেছেন।পতঞ্জলি (যোগদর্শনকার পতঞ্জলি এবং মহাভাষ্যকার পতঞ্জলি এক ব্যক্তি নন এটি অনেক পন্ডিতের অভিমত)। তাঁর মহাভাষ্যে "কংসবধ" নাটকের উল্লেখ করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে কংস ও কৃষ্ণের ভূমিকায় নটদের মুখে কিভাবে লালরঙ ও কালোরঙ মাখানো হত তার বর্ণনা করেছেন। শ্রদ্ধেয় প্রবোধচন্দ্র চক্রবর্তী তাঁর ইংরেজি "পতঞ্জলি"-নিবন্ধে লিখেছেন--*
*"Patanjali has clearly shown how the incidents of Kamsha-badha and Bali-badha formed the subject of theatrical representations, and he particularly states how the actors, representating the sides of Kamsha and Krishna, besmeared their fsces with black and reddish tinge respecting"।(Cf. The Indian Historical Quarterly. Vol. 11. December, 1926. page=751.)।*
*পতঞ্জল-মহাভাষ্যে কংস ও কৃষ্ণের উল্লেখ থাকায় পতঞ্জলি যে কংসনিধনকারী কৃষ্ণের শৌর্য্য-বীর্য্য-মহিমা অবগত ছিলেন সেকথা বুঝা যায়। মোটকথা অভিনয়ে বাসুদেব বা কৃষ্ণ কংসরাজকে নিহত করলে বাসুদেবের অনুচরগণ উল্লসিত ও কংসরাজের অনুচরগণ মুহ্যমান বা অত্যন্ত কাতর হয়েছিল এইকথায় ভাষ্যে পতঞ্জলি বলতে চেয়েছেন।মৌর্য ও গুপ্তযুগে (খ্রীষ্টপূর্ব ১৮৭, খ্রীষ্টীয় চতুর্থ শতক) ও বিশেষ করে গুপ্তযুগের শিল্পে ও ভাস্কর্য্যে শ্রীকৃষ্ণের গোপীলীলা ও গোবর্দ্ধনগিরি ধারণকাহিনীর অভাব নাই।পাল রাজাদের সময়ে পাহাড়পুর-মন্দিরের ভিত্তিচিত্রাবলীতে কৃষ্ণলীলা কাহিনীর সাক্ষ্য পাওয়া যায় এবং আরও পাওয়া যায় "রাধা" "সত্যভামা" "উৎকন্ঠিত-মাধব প্রভৃতি নামাবলীর। দক্ষিণ-ভারতে ভাগবতধর্মের প্রবর্তন হয় সম্ভবত খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম শতকের গোড়ার দিকে। যজ্ঞ-শাতকর্ণির সময় চীনা-প্রস্তরলিপি থেকে জানা যায়, খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে ভাগবতধর্ম কৃষ্ণাজেলায় বিশেষভাবে প্রসার লাভ করেছিল। "শিলপ্পাধিকরম্" প্রভৃতি তামিল-নাটকে মাদুরা, কাবিরিপর্দ্দিনম্ ও অন্যান্য শহরে শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর ভাইদের উদ্দেশ্যে উৎসৃষ্ট মন্দিরের নিদর্শন বিরল নয়।দক্ষিণ-ভারতে ভাগবতধর্ম বিস্তারের কাহিনী ভাগবত পুরাণেও উল্লেখ আছে। বৈষ্ণবধর্মের বাহক ও ধারক-রূপে আলবারের বা আড়বার বা আলোয়ার, নাম দক্ষিণ ভারতে বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।ভাগবতধর্মের সাধক বা ভগবদ্ প্রেমিকদের বলা হত "আলবার"বা আড়বার। সেই সাধকদের মধ্যে জাতি ও বর্ণের কোন বিচার ছিল না।স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ভক্তিপথের সাধক ও সাধিকা হতে পারতেন।এরা "দিব্যপ্রবন্ধ" বা কৃষ্ণ-ভগবানের কীর্তিগাথাযুক্ত অসংখ্য পদগীতি বা কীর্তন রচনা করেছেন।খ্রীষ্টীয় ১১শ শতকে আচার্য্য নাথমুনি সে সব পদগান বা কীর্তন সংকলন করে সর্বসাধারণের সমাজে প্রচার করেন।কাঞ্চী,মহাবলীপুরম্ ও ময়লাপুর-অঞ্চলেও আলবারদের প্রাচীন তিনজন সাধক ও প্রচারক নাকি বাস করতেন।এঁরা শ্রীনারায়ণকেই আদি ও পরমদেবতা বলে গণ্য করতেন এবং বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের অবতার রূপ ত্রিবিক্রমকে শ্রদ্ধা ও পূজা করতেন।*
*🍀ডক্টর শশিভূষণ দাশগুপ্ত "রাধার ক্রমবিকাশ-- দর্শন ও সাহিত্য"-গ্রন্থে আলবারদের প্রসঙ্গে লিখেছেন--, এই আলবারগণ কখন আবির্ভূত হয়েছেন এ'বিষয়ে নানা মতানৈক্য রয়েছে, কিন্তু মোটামুটিভাবে এই রাগমার্গে ভজনশীল বৈষ্ণবগণ খ্রীষ্টীয় পঞ্চম শতক হতে নবম শতকের ভিতরে বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে গ্রহণ করা হয়ে থাকে।এই আলবারগণ নিজেদেরকে নায়িকা এবং বিষ্ণু বা কৃষ্ণকে নায়ক মনে করে রাগমার্গে ভজনা করতেন।তাঁদের এই ভজন-সঙ্গীতগুলির চারহাজার সঙ্গীতযুক্ত "দিব্যপ্রবন্ধ" নামে প্রসিদ্ধ।আলবারগণ দিব্য ভাবাবেশে আবিষ্ট হয়ে বিষ্ণুর যে সব বর্ণনা করেছেন যা ভারতের বহু জায়গায় বিষ্ণুর কৃষ্ণ-অবতারে বৃন্দাবনলীলায় নানাভাবে উল্লেখ রয়েছে।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা ।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*কীর্তনের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণরাধা।*
*🍀অন্যান্য বহু বহু লীলার সহিত গোপীগণের সহিত কৃষ্ণের প্রেমলীলারও অনেক জায়গায় নানাভাবে উল্লেখ রয়েছে। (পৃষ্ঠা ১১১, তাছাড়া গোবিন্দাচার্য্য-কৃত (১)The Divine Wisdom of the Dravida-Saints,(২)The Holy Lives of the Alvars, (৩)গোপীনাথজিউ-কৃত Sir Subrvhmanya Ayyar Lectures (1923)(৪)এস. কে, আয়েঙ্গার-কৃত Early History of Vasnavism in south India,(৫)J. S. M Hooper-কৃত Hymns of the Alvars গ্রন্থগুলি দ্রষ্টব্য)।*
*🍀আলবারদের পরেই দক্ষিণ-ভারতে বৈষ্ণবধর্মের প্রচারক-রূপে বিভিন্ন আচার্য্যদের নাম উল্লেখযোগ্য।তামিলীয় বৈষ্ণবধর্মে তত্ত্ববিচার ও জ্ঞানের দিকটাই ভক্ত সাধকেরা বিশেষভাবে গ্রহণ করেছিলেন। "নাথমুনি" বা "রঙ্গনাথাচার্য্য" এই আচার্য্যদের প্রধান ও প্রথম গুরু। সম্ভবত ১১শ শতকে ত্রিচিনপল্লীর কাছে শ্রীরঙ্গমে তিনি বাস করতেন।নাথমুনি তাঁর "ন্যায়তত্ত্ব" গ্রন্থে যে ভাগবত-প্রপত্তিধর্মের প্রতিষ্ঠা করেন তা গীতা ও পঞ্চরাত্রতন্ত্রের মূলতত্ত্ব থেকে মোটেই পৃথক নয়।মোটকথা তিনি তামিল-ভারতে বৈষ্ণবধর্মের এক নবচেতনার উদ্বোধন করেছিলেন।তাঁর প্রতিষ্ঠিত শ্রীবৈষ্ণব-সম্প্রদায় দক্ষিণ ভারতে এখনো বতর্মান আছে। তাছাড়া আচার্য্য পুন্ডরীকাক্ষ, রামমিশ্র,যমুনাচার্য্য প্রভৃতি দক্ষিণ ভারতের বৈষ্ণবাচার্য্যদের নাম উল্লেখযোগ্য।যমুনাচার্য্য-কৃত "সিদ্ধিত্রয়" বা আত্মসিদ্ধি, ঈশ্বরসিদ্ধি,সম্বিৎসিদ্ধি সাধক রঙ্গ-রামানুজকে প্রেরণা জুগিয়ে ছিল।নাথমুনি "আগমপ্রামাণ্য" গ্রন্থে ভাগবথ বা পঞ্চরাত্র-সম্প্রদায়ের মতবাদের সাহায্যে আচার্য্য শঙ্করের অদ্বৈতবাদকেও খন্ডন করেছেন। দক্ষিণী বৈষ্ণবাচার্য্য বেদান্তদেশিকও যমুনাচার্য্যের মতবাদের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়ে ছিলেন।*
*🍀ঐতিহাসিক ফার্ কুহার বলেন, শ্রীমদ্ভাগবতের সৃষ্টিই নাকি দ্রাবিড়দেশে তথা দক্ষিণ-ভারতে,আর তারজন্য ভাগবতধর্মে বিশেষভাবে প্রেরণা লাভ করেছিলেন যমুনাচার্য্য, রঙ্গ-রামানুজ প্রভৃতি বিদগ্ধ বৈষ্ণবাচার্য্য এবং পরবর্তীকালে উত্তর-ভারতেও সংক্রমিত হয়েছিল সেই ভাগবতধর্মের প্রভাব।এই মতের কোন কোন সমর্থক বলেন,চেদীরাজ কর্ণদেরই দক্ষিণদেশ থেকে শ্রীমদ্ভাগবতের ধর্ম বিশেষভাবে বাংলাদেশে প্রবর্তন করেন, যার ফলে সেন রাজারাও বৈষ্ণবধর্মের অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন এবং তার প্রমাণও ভিন্ন ভিন্ন তাম্রলিপিতে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক ফার্ কুহার ও তাঁর অনুবর্তীরা এই অভিমত পোষণ করেন।তবে তাঁদের এই মতের প্রামাণিকতা কতটুকু তা বিচারের বিষয়।কেননা শ্রীচৈতন্যদেবের অভ্যূদয়ের (১৪৫৬-১৫৩৩) বহু পূর্বেই উত্তর ও দক্ষিণ-ভারতের অধিকাংশ জায়গায় ভাগবতধর্মের সমধিক প্রচার ও প্রসার ছিল এবং সেই ভাগবতধর্মের ক্রমপ্রসারণের ফলে বেদের বিষ্ণুদেবতা ও খ্রীষ্টীয় শতকের গোড়ার দিকে কৃষ্ণ-বাসুদেবই পরবর্তী যুগে নন্দগোপসুত চিরকিশোর বৃন্দাবনবিহারী শ্রীকৃষ্ণে পরিণত বা রূপান্তরিত হয়ে ছিলেন মনে হয়।দক্ষিণদেশে ভ্রমণকালে শ্রীচৈতন্যদেব ভাগবত-ভাববিদগ্ধ "ব্রহ্মসংহিতা" ও লীলাশুকের (বিল্বমঙ্গলের) "শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত" ভক্তি গ্রন্থ দুটির কিছু কিছু অংশ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে (পুরীতে) এনেছিলেন।*
*🍀নারদভক্তিসূত্র ও শান্ডিল্যসূত্রের ভক্তিবাদই খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতকের শেষ পর্যন্ত যে সমানভাবে ভারতীয় সমাজে প্রচলিত ছিল সেকথা আগেও আলোচিত হয়েছে।হরিবংশে এ বিষ্ণু,পদ্ম,ব্রহ্মবৈবর্ত প্রভৃতি পুরাণে গোপীদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের যে লীলাবিলাস অঙ্কুরাকারে নিহিত ছিল, শ্রীমদ্ভাগবতে সে বিলাসই ফুল-ফল-সুশোভিত বৃক্ষে পরিণত হয়ে প্রকাশ পায়। তাছাড়া মহাভারত,হরিবংশ ও পুরাণগুলিতে শ্রীকৃষ্ণের সমগ্র লীলামাধুর্য্যের আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু বিশেষভাবে শ্রীমদ্ভাগবতে দেখি শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানের অপ্রাকৃত বাল্য ও যৌবনলীলার বিলাস। গীতার শ্রীকৃষ্ণলীলা থেকে শ্রীমদ্ভাগবতের কৃষ্ণলীলা বেশ কিছুটা পৃথকভাবে বিকাশ লাভ করেছিল, কেননা শ্রীমদ্ভাগবতের কৃষ্ণলীলায় যেখানে শৈশব-কারুণ্যের সরল মাধুর্য্য প্রকাশিত, গীতার শ্রীকৃষ্ণে সেখানে ক্ষাত্রবীর্য্য ও পুরুষত্বের সঙ্গে সঙ্গে কোমল-কঠোর ভাবের প্রকাশই সমধিক। স্বামী অভেদানন্দ মহারাজ এই অভিমত পোষণ করেন।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*কীর্তনের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণরাধা।*
*এই অভিমত ডক্টর সুশীলকুমার দে এবং ডক্টর ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের অভিমতের অনুরূপ ; ডক্টর দে বলেছেন--, The Srimad-bhagavata is indeed the one great purana which apoears to have exercised an enormous influence on the development of Bhakti ideas in mediaeval times. No satifactory theory of its date and origin has yet been advanced, but there can be no doubt that its emergence marks a turning point in the history of the Vaisnava faith,and that a whole series of sects, who take it as their leading scripture, appears in a sence to been born out of this remarkable work. Contrasted with the Harivamsa and the Visnu-purana, the Bhagavata scarcely deals with the whole life of Krishna, but concentrates all its strenght upen his boyhood and youth. With the youthful Krishna at the centre. it weaves its peculiar theory and practice of intensely personal and passonate Bhakti, which is somewhat deferent from the speculation Bhakti of the Bhagavata-Gita. (Cf. Dr. Dey : Early History of the Vsisnava Faith and Movement in Bengal (Calcutta. 1942) P. 5 Cf. also Dr. B. N. Dutta ; Rise of Goudiya Vaishnavism in Bengal, prachyavani, Vol. 11, July-October,1945.pp.161-171.)।*
*পরবর্তী (খ্রীষ্টীয় ১৫শ-১৬শ শতক)বৈষ্ণবধর্মে বৃন্দাবনলীলায় কিশোর শ্রীকৃষ্ণ ও কিশোরী শ্রীরাধার অপ্রাকৃত প্রেমের মাধুর্য্যময়ী লীলা কাহিনী বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।শ্রীমদ্ভাগবতে যে "রাধা" প্রচ্ছন্নভাবে থেকেও শ্রীকৃষ্ণের একান্ত সোহাগিনী গোপীর স্থান অধিকার করৈছিলেন, শ্রীচৈতন্যের সময়ে ও চৈতন্যোত্তরকালে বৈষ্ণব-সাধকসমাজে তিনিই হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলার কেবলই প্রধানা সহচরী নন,শ্রীকৃষ্ণের অপেক্ষাওলাভ করেছিলেন তিনি শ্রদ্ধার আসন। ডক্টর শ্রীসুকুমার সেন বলেছেন--,আমরা জানি যে, শ্রীচৈতন্য রাধা-কৃষ্ণ কাহিনীতে একটু বিশেষ তাৎপর্য্য আরোপ করেছিলেন,রাধাকে কৃষ্ণের চেয়ে বড় করে ধরেছিলেন,মথুরা ও দ্বারকালীলার অনেক উর্দ্ধে বৃন্দাবনলীলা--এ'তত্ত্ব তিনি (বা তাঁর মুখ্য ভক্তগণ) প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।*
*ডক্টর সেন তাঁর বক্তব্য আরো পরিস্কার করে বলেছেন "বলরাম দাসের পদাবলী" গ্রন্থের (ব্রহ্মচারঅমরচৈতন্য-সম্পাদিত) ভূমিকায়।"গোপীদের সঙ্গে কৃষ্ণের বিলাস, মনে হয়, বহুকাল আগে থেকেই প্রচলিত ছিল প্রথমে মেয়েলি ও পরে সাধারণ লোকগীতে।লোকগীতের মধ্যে দিয়েই কৃষ্ণের প্রেয়সী গোপী "রাধা" নামে চিহ্নিত হন।"রাধা" শব্দটি আসলে সাধারণ বিশেষ্য-শব্দ ব্যক্তিবিশেষের নাম হয়।আরাধ্য অর্থ্যাৎ আকাঙ্ক্ষিত প্রেয়সী নারী--ইহাই "রাধা" শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ।এই ব্যুৎপত্তিগত অর্থ রক্ষিত আছে রাধাচক্রের রাধায়।যে চক্র ভেদ করলে রাধা অর্থ্যাৎ ইষ্টনারী পাওয়া যায় তাহাই "রাধাচক্র"।এর পুংলিঙ্গ-রূপ "রাধা" সংস্কৃতে পাওয়া যায় নি, পাওয়া গেছে আবেস্তিয় বা আরেস্তিয়।সেখানে অর্থ আরাধ্য অর্থ্যাৎ আকাঙ্খিত প্রিয় বা পতি। ক্লীবলিঙ্গে এর রূপ ছিল "রাধস", অর্থ আরাধ্য অর্থ্যাৎ আকাঙ্খিত বস্তু বা উপহার।প্রথমে কৃষ্ণের প্রেয়সী রাধা বলতে কোন নির্দিষ্ট একটি গোপীকে বোঝাতো না,যখন সে কৃষ্ণের প্রিয়া তখন সেইই রাধা। (পঞ্চরাত্রে "রাধা" শব্দের ব্যুৎপত্তি এভাবে দেওয়া হয়েছে--,*
*🌷রা-শব্দোচ্চারনাদ ভক্তো ভক্তিং মুক্তিঞ্চ বাতি সঃ।*
*🌷ধা-শব্দোচ্চারণেনৈব ধাবত্যেব হরেঃ পদম্।।*
*(২|৩|৩৮)*
*🍀রা-শব্দ উচ্চারণ করলে ভক্ত পদবাচ্য হয় এবং সে ভক্তি ও মুক্তি লাভ করে এবং ধা-শব্দ উচ্চারণ করলে হরির পদে ধাবিত হয়। অবশ্য এই ব্যুৎপত্তি-নির্ধারণের রীতি প্রাচীন কিনা সন্দেহ। "রাধা" শব্দের একটি আধুনিক ব্যাখ্যায় দেখি,"রা" শব্দ দ্বিবচনান্ত, সুতরাং রাধা ও কৃষ্ণ এবং "ধা" শব্দে ধাবিত, সুতরাং "রাধা" একটি শব্দেই রাধা-কৃষ্ণের সান্নিধ্য সার্থক হয় )।*
*কৃষ্ণলীলার বিবর্তনে পরে যখন দেখা গেল যে, কৃষ্ণের বিশেষ পছন্দে বিশেষ একটি গোপীকেই-- যাকে নিয়ে তিনি রাসমন্ডলী থেকে আন্তর্ধান হয়েছিলেন, তাঁকেই রাধা বলা হল।ভাগবতে গোপীগণ খেদ করে বলেছেন--*
*🌷অনয়া রাধিত নূনং ভগবান হরিরীশ্বরঃ।*
*🌷যন্নো বিহায় গোবিন্দঃ প্রীতো যামনযদ্ বহঃ।।*
*🌻তারপরে এটি তাঁর নাম হয়ে দাঁড়াল,যদিও পুরানো অর্থ একেবারে লুপ্ত হল না।*
*🌼কোন সৌভাগ্যবতী রমণী কর্তৃক ভগবান ঈশ্বর হরি আরাধিত বা পূজিত হয়েছেন এবং এজন্য গোবিন্দ গৌপীগণকে পরিত্যাগ করে সেই রমণীকে নিভৃত স্থানে আনয়ন করেছেন। গোস্বামী মহাজনগণ "অনয়া রাধিত" শব্দটির মধ্যে শ্রীরাধার সন্ধান লাভ করেছেন।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*কীর্তনের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণরাধা।*
*🍀বিষ্ণুপুরাণে ও ভাগবতপুরাণে রাসলীলা-বর্ণনায় অনুরূপ একটি শ্লোকের সন্ধান পাওয়া যায়। শ্লোকটি হল--*
*🌷অত্রোপবিশ্য যা তেন বাপি পুষ্পৈরলঙ্কৃতা।*
*🌷অন্মজন্মনি সর্বত্মা বিষ্ণুরভ্যর্চিতো ময়া।।*
*(১৩|৩৪)*
*🍀এখানে উপবিষ্ট সেই রমণী শ্রীকৃষ্ণ-কর্তৃক কোন পুষ্পের দ্বারা অলঙ্কৃতা হয়েছে,কেননা সেই রমণী দ্বারা অন্য জন্মে সর্বাত্মা বিষ্ণু অভ্যর্থিত বা পূজিত হয়েছেন।এখানে পাই "রাধিত" বা 'আরাধিত' শব্দের পরিবর্তে "অভ্যর্থিত" শব্দ,(ডঃ শশিভূষণ দাসগুপ্ত, শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ-- দর্শন ও সাহিত্য, ১৩৫৯,পৃষ্ঠা- ১০১), শ্রদ্ধেয় শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী এ শ্রীজীব গোস্বামীকে অনুসরণ করে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীও লিখেছেন---*
*🌷কৃষ্ণবাঞ্ছাপূর্তিরূপ করে আরাধনে।*
*🌷অতএব রাধিকা নাম পুরাণে বাখানে।।*
*(আদিলীলা--৪)*
*আসলে শ্রদ্ধেয় শ্রীপাদ সনাতন, শ্রীজীব ও কৃষ্ণদাস গোস্বামীপাদ প্রভৃতি গোস্বামীগণ পদ্মপুরাণের "যথা রাধা পিয়া(প্রিয়া?) বিষ্ণোঃ প্রভৃতি শ্লোক থেকে "রাধা" সংগ্রহ করেছেন। তাছাড়া পদ্মপুরাণের বহু স্থানেও "রাধা" নামের উল্লেখ দেখা যায়। কিন্তু ডক্টর শশিভূষণ দাসগুপ্ত "রাধার ক্রমবিকাশ- দর্শন ও সাহিত্য"গ্রন্থে এ'প্রসঙ্গে লিখেছেন--,"পদ্মপুরাণে গোপীগণসহ বৃন্দাবনলীলার কোন বর্ণনাপ্রসঙ্গে এই রাধার উল্লেখ পাচ্ছি না ; প্রায় উল্লেখই এখানে সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে (ছড়িয়ে ছিটিয়ে)পাচ্ছি।পদ্মপুরাণের স্বর্গখন্ডে জয়ন্তীব্রত মাহাত্ম্যখ্যাপন প্রসঙ্গে একবার রাধাষ্টমীব্রতের উল্লেখ পাই (বঙ্গবাসী সংস্করণ (৩৭|২৮-৪৪)। তারপরে চত্বারিংশ সর্গে রাধাষ্টমীব্রতের মাহাত্ম্যই আখ্যাত বা কথিত হয়েছে।☆ ☆ পদ্মপুরাণের পাতালখন্ডে রাধার বহুভাবে উল্লেখ পাই। পদ্মপুরাণের ৩৯শ অধ্যায়ে বৃন্দাবনে বালকৃষ্ণের উল্লেখও আছে।পদ্মপুরাণের রচনাবলী (ক)(শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ--দর্শন ও সাহিত্য, পৃঃ ১০১, (খ)ডঃ বিমানবিহারী মজুমদার, "ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য (১৯৬১) পৃঃ ১৭১-১৭৭)। অনেকের মতে, আনুমানিক ষষ্ঠ- অষ্টম শতক, সুতরাং পদ্মপুরাণে বৃন্দাবনে বাল-কৃষ্ণের উল্লেখ অনেকের মতে বেশ সন্দেহজনক।*
*🍀কবি জয়দেব গোস্বামীর "গীতগোবিন্দ"-পদগানে "রাধা" ও "রাধিকা" শব্দের উল্লেখ যথেষ্ট পরিমাণে আছে।শ্রীজয়দেবের সমসাময়িক কবি গোবর্দ্ধনাচার্য্যও শ্রীরাধার পূর্বরাগ সম্পর্কে একটি শ্লোক লিখেছেন এবং শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী "পদ্যবলী" গ্রন্থে সেই শ্লোকটির উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া শ্রীজয়দেবের সমসাময়িক কবি উমাপতিধরের "রাধা"-সম্পর্কীয় একটি শ্লোকও শ্রীপাদ রূপগোস্বামী "পদ্যবলী" ও "উজ্জ্বলনীলমণি" গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং দেখা যায় যে,সেই শ্লোকে লক্ষ্মীদেবী,রুক্মিণীদেবী ও সত্যভামার অপেক্ষা শ্রীরাধাকে শ্রীকৃষ্ণের 'অধিকপ্রিয়' বলে বর্ণনা করা হয়েছে।শ্রীধরদাসও "সদুক্তিকর্ণামৃত" গ্রন্থে রাধার নাম উল্লেখ করেছেন। বৈষ্ণবশাস্ত্রপারগ ডক্টর বিমানবিহারী মজুমদার এ'প্রসঙ্গে লিখেছেন--, "সদুক্তিকর্ণামৃতে ধৃত রূপদেব নামে একজন কবির একটি শ্লোকে আছে", "এই জলবেতসের নিকুঞ্জে মাঝামাঝি স্থানে কোন রমণীর জন্য কচিপল্লব দিয়ে বিজনে শয্যা রচিত হয়েছে?বৃন্দা অন্যান্য স্ত্রীগণকে এই কথা বলিলে রাধা ও মাধবের স্মিতহাস্যের দ্বারা বিচিত্রিত সে অবলোকন তা তোমাদেরকে রক্ষা করুক"(১|৫৫|১)।বৃন্দাদেবীর সহিত রাধাকৃষ্ণ লীলার সম্বন্ধ যে অন্তত দ্বাদশ শতাব্দী হতে তা ইহার দ্বারা প্রমাণিত বেতসকুঞ্জে রাধাকৃষ্ণের মিলনের কথা প্রাচীন কিংবদন্তীতে ছিল।শ্রীজয়দেবের বহুস্থানে (১|৪৪,৪|১,৭|৯,৭|১১) বেতসকুঞ্জের উল্লেখ আছে।তাই শ্রীচৈতন্যদেব "যঃ কৌমারহরঃ" শ্লোকের "বেবারোধসি বেতসীতরুতলে বেতঃ সমুৎকন্ঠতে" শুনে পরমানন্দে মগ্ন হয়ে ছিলেন (চৈতন্যচরিতামৃত ৩|১)।ষোড়শ শতাব্দীতে ও তার পরবর্তীকালে অবশ্য পদকর্তারা কেউ বেতসকুঞ্জেও রাধাকৃষ্ণের মিলন ঘটান নাই,তাঁরা মাধবীকুঞ্জই নির্বাচন করেছেন,(ডক্টর মজুমদার, ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য, ১৯৬১,পৃঃ ১৬৯)।*
*ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*কীর্তনের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণরাধা।*
*🍀মধ্যযুগে বল্লভাচারী ও নিম্বার্ক-সম্প্রদায় "রাধা"শব্দের অর্থ করেছেন শ্রীকৃষ্ণশক্তি ; অর্থ্যাৎ শ্রীরাধা ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের দিব্যলীলার চিরসঙ্গিনী। আচার্য্য নিম্বার্ক "বেদান্তপারিজাতসৌরভ" ভাষ্যগ্রন্থে শ্রীরাধা বা শ্রীরাধিকাকে পরমব্রহ্ম শ্রীকৃষ্ণের বিচিত্র অচিন্ত্য শক্তি বলে বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া তিনি "প্রাতঃস্মরণ","রাধাষ্টক" প্রভৃতি স্তোত্রে বা রচনায় শ্রীরাধা-কৃষ্ণের মহিমা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বিচারবিলাসী মাধ্ব-সম্প্রদায় শ্রীমদ্ভাগবতের রাসপঞ্চাধ্যায়ের বিরোধী ছিলেন,সেজন্য শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণলীলাকে তাঁরা গৌণ এবং তার দার্শনিক তত্ত্বই মুখ্য বা প্রধান বলেছেন। কিন্তু শ্রীচৈতন্যের সময়ে বৃন্দাবনলীলাই প্রাধান্য পেয়েছিল বিশেষভাবে এবং শ্রীরাধা হয়েছিলেন তখন পরমারাধ্যা ও উপাস্যতত্ত্ব এবং শ্রীরাধা-কৃষ্ণের যুগলরূপই পরিগণিত হয়েছিল ভক্তিসাধনদৃষ্টির পরাকাষ্ঠা-রূপে। খ্রীষ্টীয় ষোড়শ শতকে বৃন্দাবনে গৌড়ীয়-বৈষ্ণবগোস্বামীগণ শ্রীরাধা-কৃষ্ণকে পুনরায় তত্ত্বরূপেই প্রচার করেছিলেন। পরমভাগবত শ্রীজীব গোস্বামীপাদ "তত্ত্বসন্দর্ভ", "প্রীতিসন্দর্ভ", প্রভৃতি দর্শনগ্রন্থে বিশেষ করে শ্রীরাধাকে পরমতত্ত্বরূপে বর্ণনা করেছেন।ডক্টর শশিভূষণ দাসগুপ্ত "রাধার ক্রমবিকাশ--দর্শন ও সাহিত্য" গ্রন্থে এ'সম্পর্কে বলেছেন--, শ্রীজীব গোস্বামী কৃত "তত্ত্বসন্দর্ভ", "ভগবৎসন্দর্ভ", "পরমসন্দর্ভ", "কৃষ্ণসন্দর্ভ", ও "প্রীতিসন্দর্ভ" এই ছয়টি সন্দর্ভের ভিতর দিয়েই গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের সব মতবাদ, রাধাবাদের দার্শনিক প্রতিষ্ঠা, (পৃষ্ঠা-১৮০)। বৈষ্ণবগোস্বামীদের এই রাধাতত্ত্ব শক্তিতত্ত্বের ওপরই প্রতিষ্ঠিত এবং এই শক্তিতত্ত্বও পূর্ব পূর্ব বিদগ্ধ আচার্য্য ও শ্রীমদ্ভাগবত-বর্ণিত পরমাত্মতত্ত্ব, ভাগবততত্ত্ব,ব্রহ্মতত্ত্বের পরিচয় দিয়ে বলা হয়েছে,*
*🌷বদন্তি তত্তত্ত্ববিদস্তুং ত্বং যজ্ জ্ঞানমদ্বয়ম্।*
*🌷ব্রহ্মেতি পরামাত্মেতি ভগবানিতি শব্দ্যতে।।*
*🌻এই পরমতত্ত্বই গৌড়ীয়-বৈষ্ণবগণের অদ্বয়তত্ত্ব এবং শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধা সেখানে শক্তিতন্ত্রের মিথুনাত্মক শিবশক্তিসামবস্যেরই প্রতিচ্ছবি। ডক্টর শ্রীসুশীলকুমার দে এই সম্পর্কে বলেছেন--, The vaisnava sakti-tattva, the acceptance of Kama-gayatri, and the idea of Radha as the sakti or Energy of Krishna, point probably to Tantric influence, both romote and direct. Quotatoins from Tantra works are scattered throughout the standard Vaisnava treatises of Rupa. Jiva and other authoritative theorists of the Bengal School. It is not Surpising, therefore, that Radha figures in a Tantric light in such later Vaisnava Tantras as the Narada-Panchatra, and Rupa Gosvsmin in his Ujjala-Nilmani declares that Radha is already established in the Tantra (tantre pratisthita)as the Hladini Mahasakti of Krishna.। (cf. History of the Vaisnava Eaith and Movement (1942) pp. 21-22)।*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা।*
🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
