শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎস‍ল‍্য ও মধুর এই পাঁচ ভাবের ভক্তের পাঁরকম রতি 🌸 তত্ব কথন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/tatwo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎস‍ল‍্য ও মধুর এই পাঁচ ভাবের ভক্তের পাঁরকম রতি 🌸 তত্ব কথন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/tatwo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত কথন*
*ভক্তভেদে রতিভেদ পঞ্চ প্রকার।*
*শান্তরতি দাস‍্যরতি সখ‍্যরতি আর।।*
*বাৎসল‍্যরতি মধুররতি এ পঞ্চ বিভেদ।*
*রতিভেদে কৃষ্ণভক্তি-রস পঞ্চ ভেদ।।*
*🌻শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎস‍ল‍্য ও মধুর এই পাঁচ ভাবের ভক্তের পাঁরকম রতি।*
*🌷শান্ত দাস‍্য সখ‍্য বাৎসল‍্য মধুররস নাম।*
*🌷কৃষ্ণভক্তি রস মধ্যে এ পঞ্চ প্রধান।।*
*🌷হাস‍্যাদ্ভুত-বীর-করোণ-রৌদ্র-বীভৎস-ভয়।*
*🌷পঞ্চবিধ ভক্তে গৌণ সপ্ত রস হয়।।*
*🌷পঞ্চরস স্থায়ী ব‍্যাপি রহে ভক্ত মনে।*
*🌷সপ্ত গৌণ আগন্তুক পাইয়ে কারণে।।*
*🌷শান্তভক্ত নব-যোগেন্দ্র সনকাদি আর।*
*🌷দাস‍্যভাব ভক্ত সর্বত্র সেবক অপার।।*
*🌻সপ্ত গৌণ আগন্তুক,সাতটি গৌণভক্তি রস।শান্তাদি পাঁচটি মুখ‍্য ভক্তিরস এবং হাস‍্যাদি সাতটি গৌণভক্তিরস।এই বারোটি ভক্তিরসের আশ্রয় শান্তাদি পঞ্চবিধ ভক্ত।*
*🌻নব যোগেন্দ্র,কবি,হবি,অন্তরীক্ষ, প্রবুদ্ধ,পিপ্পলায়ন,আবির্হোত্র,দ্রবিড়,চমশ ও করভাজন এই নয়জনকে নব যোগেন্দ্র বলে।এঁরা শান্তরসের ভক্ত।*
*শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত উক্তি ও সংক্ষিপ্ত ব‍্যাখ‍্যা.*
*🌷সাধনভক্তি হৈতে হয় রতির উদয়।*
*🌷রতি গাঢ় হৈলে তার "প্রেম" নাম কয়।।*
*🌷প্রেমবৃদ্ধি ক্রমে নাম-- স্নেহ মান প্রণয়।*
*🌷রাগ অনুরাগ ভাব মহাভাব হয়।।*
*🌻সাধনভক্তি হ'ল শ্রবণ-কীর্তনাদি,এর দ্বারা চিত্ত শুদ্ধ হ'লে প্রেম আত্মপ্রকাশ করে থাকে ; এই আত্মপ্রকাশের প্রথম অবস্থা-ই রতি বা ভাব।রতির গাঢ় অবস্থার নাম প্রেম।*
*🌻রাগ অনুরাগ ভাব মহাভাব,প্রণয়ের উৎকর্ষ-বশত শ্রীকৃষ্ণলাভের সম্ভাবনায় যখন অতি দুঃখও চিত্তমধ‍্যে সুখ বলে অনুভূত হয়,তখন ঐ প্রণয়কে রাগ বলে।*
*যে রাগ নূতন নূতন হয়ে গাঢ়তাবশত প্রিয়কে নব নব করে,কিংবা প্রিয়তম সর্বদা অনুভূত হলেও নবনবায়মানরূপে অনুভব করায়, তাকে অনুরাগ বলে।▪অনুরাগ যদি যাবৎ-আশ্রয়বৃত্তি (নিজ আশ্রয়ের পরাকাষ্ঠা প্রাপ্ত)হয়ে স্বসংবেদ‍্য (অনুভবযোগ‍্য)দশাকে প্রাপ্ত হয়ে যদি সুদ্দীপ্ত সাত্ত্বিকাদি দ্বারা প্রকাশমান হয়,তবে সেই অনুরাগকে ভাব বলে।*
*▪ভাবের চরম সীমার নাম মহাভাব।*

*🙏শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ রচিত শ্রীরাধাকৃষ্ণ-গণোদ্দেশ-দীপিকা হতে।*
*🍀পশুপালাস্ত্রিধা বৈশ‍্যা আভীরা গুর্জ্জরাস্তথা।*
*🍀গোপ-বল্লভ-পর্য‍্যায়া যদুবংশসমুদ্ভবাঃ।।*
*🌻পশুপাল আবার তিন প্রকার-- বৈশ‍্য,আভীর ও গুর্জর।ইঁহারা সকলেই গোপ বা বল্লভপর্য‍্যায়ভুক্ত এবং যদুবংশজাত।*
*🍀প্রায়ো গোবৃত্তয়ো মুখ‍্যা বৈশ‍্যা ইতি সমীরিতাঃ।*
*🍀অন‍্যেহনুলোমজাঃ কেচিদাভীরা ইতি বিশ্রুতাঃ।।*
*🌻বৈশ‍্যগণ প্রায়ঃ গোরসের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করেন এবং তাঁরা শ্রেষ্ঠ।কেউ কেউ ইঁহাদেরকে আভীর বলেও উল্লেখ করেন।ইঁহারা অনুলোমজাত,অর্থ‍্যাৎ পিতা উচ্চবর্ণ,মা নিম্নবর্ণা।*
*আগবাদ‍্যনু তৎসাম‍্যাদাভীরাশ্চ স্মৃতা ইমে।*
*আভীরাঃ শূদ্রজাতীয়া গোমহিষাদিবৃত্তয়ঃ।*
*ঘোষাদিশব্দপর্য‍্যায়াঃ পূর্বতো ন‍্যূনতাং গতাঃ।।*
*🌹আভীরগণ গো-বৎসাদি দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করেন বলে বৈশ‍্যাদির সমান শূদ্রজাতীয়।গো-মহিষাদি চারণ করায় ইঁহাদের প্রধান কাজ।ঘোষ প্রভৃতি ইঁহাদের উপাধি।এই উপাধি ইঁহাদের মধ্যে এখন হীনতা প্রাপ্ত হয়েছে।*
*কিঞ্চিদাভীরতো ন‍্যূনাশ্ছাগাদিপশুবৃত্তয়ঃ।*
*গোষ্ঠপ্রান্তকৃতাবাসাঃ পুষ্টাঙ্গা গুর্জ্জরাঃ স্মৃতাঃ।।*
*🌹যাঁরা আভীর হতে কিঞ্চিৎ নিচু,ছাগলাদি পশুপালক,এবং গোষ্ঠের প্রান্তে বসতি করে,তাঁদেরকে গুর্জর বলে।ইঁহারা বেশ হৃষ্টপুষ্ট।*
*বৈশ‍্যগণ প্রায়ঃ গোরসের (দুধ,দই,ছানা,মাখন,স্বর ইত্যাদি )দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করেন এবং তাঁরা শ্রেষ্ঠ।কেউ কেউ ইঁহাদেরকে আভীর বলেও উল্লেখ করেন।ইঁহারা অনুলোমজাত, অর্থ‍্যাৎ পিতা উচ্চবর্ণ,মা নিম্নবর্ণা।*
*🙏🙏🙏🙏বিপ্রাঃ🙏🙏🙏🙏*
*🌷সর্ববেদবিদো বিপ্রাঃ যাজনাদ‍্যধিকারিণঃ।*
*🍀বিপ্রগণ সর্ববেদজ্ঞ, এবং যজন,যাজন,অধ‍্যয়ন,অধ‍্যাপন,দান ও প্রতিগ্রহ এই ছয়টি কর্মনিরত (ষট্ কর্মনিরত)।*
<><><><><><><>>>>>>>>>>>>>>>>>
*🌻🌻🌻🌻বহিষ্ঠা🌻🌻🌻🌻*
*বহিষ্ঠাঃ কারবঃ প্রোক্তাঃ নানাশিল্পোপজীবিনঃ।।*
*🛑নানারকম শিল্প-উপজীবী কারুগণকে বহিষ্ঠ বলে।*

*🍀সেই পরিবার আবার অষ্টপ্রকার--,পূজ‍্য,ভ্রাতৃভগিনী প্রভৃতি, দূতীবর্গ,দাস,শিল্পী,দাসী,বয়স‍্য ও প্রেয়সী।ব্রজরাজ নন্দের ভ্রাতৃবর্গ,বয়স‍্য,সেবক ও প্রেয়সীগণ, ইঁহারা গোষ্ঠ যুবরাজ শ্রীকৃষ্ণের মান‍্য।*

*🙏🙏🙏🙏পূজ‍্য🙏🙏🙏🙏*
*পূজ‍্যাঃ পিতামহাদ‍্যাশ‍্য তথা জ্ঞেয়া মহীসুরাঃ।।*
*🌻পিতামহ ও মাতামহ প্রভৃতি এবং ব্রাহ্মণগণ পূজ‍্যপাদ বাচ‍্য।*

*পিতামহো হরের্গৌরঃ সিতকেশঃ সিতাম্বর।।*
*মঙ্গলামৃতপর্জন‍্যঃ পর্জন‍্যাভিধ ঈর্ষ‍্যতে।।*
*যঃ সুরর্ষের্নিদেশেন লক্ষ্মী ভর্ত্তু রুপাসনাং।*
*বরিষ্ঠো ব্রজগোষ্ঠিনাং স কৃষ্ণস‍্য পিতামহঃ।।*
*পুরা নন্দীশ্বরে চক্রে শ্রেষ্ঠসন্ততিকাঙ্খয়া।*
*বাগসৌ বিততে ব‍্যোম্নি প্রাদুরাসীৎ প্রিয়ঙ্করী।।*

*শ্রীকৃষ্ণের পিতামহের নাম পর্জন‍্য।ইনি মঙ্গলরূপ সুধাবর্ষণকারী পর্জন‍্য অর্থ‍্যাৎ মেঘের তুল‍্য।ইহাঁর বর্ণ গৌর, কেশ শুভ্র।পূর্বকালে নন্দীশ্বর প্রদেশে এই পর্জন‍্য উৎকৃষ্ট সন্তান কামনায় দেবর্ষি নারদ মহাশয়ের উপদেশে লক্ষ্মীপতি নারায়ণের উপাসনা করেন।শ্রীকৃষ্ণের এই পিতামহ সমস্ত ব্রজগোষ্ঠীর মাননীয়।বিপুল তপস‍্যা করলে পর সুবিস্তীর্ণ নভোমন্ডলে পর্জন‍্যের প্রিয়ঙ্করী এক অশরীরিণী আকাশবাণী হয়েছিল।*

*তপসানেন ধন‍্যেন ভাবিনঃ পঞ্চ তে সুতাঃ।*
*বরীয়ান্ মধ‍্যমস্তেষাং নন্দনামা ভবিষ‍্যতি।।*
*নন্দনস্তস‍্য বিজয়ী ভবিতা ব্রজনন্দনঃ।*
*সুরাসুরশিখারত্ন-নীরাজীতপদাম্বুজঃ।।*

*হে পর্জন‍্য! তোমার এই ধন‍্য তপস‍্যার ফলে পাঁচটি পুত্র হবে।তারমধ‍্যে মধ‍্যমটিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং নন্দ নামে প্রকাশিত হবে।সেই নন্দের পুত্র বিজয়ী ও ব্রজের আনন্দ-দাতা হবেন।কি সুর কি অসুর সকলেই ইহাঁর পাদপদ্মকে শিরোরত্ন দ্বারা নীরাজন (আরাত্রিক বা সম্মান)করবেন।*

*তুষ্টস্তত্র বসন্নত্র প্রেক্ষ‍্য কেশিনমাগতং।*
*পরীবারৈঃ সমং সর্বৈর্যযৌ ভীতো বৃহদ্বনং।।*
*🍀পর্জন‍্য কিছুসময় তুষ্টচিত্তে ঐ নন্দীশ্বরে বাস করে পুনশ্চ "কেশী" নামক অসুরকে সেখানে আসিতে দেখলেন এবং ভীত হয়ে সমস্ত পরিবারবর্গের সঙ্গে মহাবনে (গোকুলে) গমন করলেন।*

*পিতামহী মহীমান‍্যা কুসুম্ভাভা হরিৎপটা।*
*বরীয়সীতি বিখ‍্যাতা খর্ব্বা ক্ষীরাভকুন্তলা।।*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের পিতামহীর নাম বরীয়সী।ইনি ব্রজমন্ডলের মাননীয়া।ইহাঁর বর্ণ কুসুম্ভপুষ্পের (উজ্বল স্বর্ণবর্ণ ফুল)ন‍্যায়,বসন হরিদ্বর্ণ (সবুজ বর্ণ),আকার খর্ব বা বেটে,কেশগুলি দুধের মত একেবারে সাদা।*

*পিতৃবৌ পিতুরূর্জন‍্যরাজন‍্যৌ বল্লবৌ চ যৌ।*
*নটীসুরে সুজন‍্যাখ‍্যা পিতামহসহোদরা।*
*গুণবীরঃ পতির্যস‍্যাঃ সূর্য‍্যস‍্যাহ্বয়পত্তনং।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের পিতা নন্দমহারাজের দুইজন পিতৃব‍্য অর্থ‍্যাৎ পিতার ভাই,ঊর্জ্জন‍্য ও রাজন‍্য। দুইজনেয় বল্লব(গোপ)।নৃত‍্যবিদ‍্যাপরায়ণা সুবের্জনা পিতামহ পর্জন‍্যের সহোদরা ভগিনী।এই সুবের্জনার পতির নাম গুণবীর। ইহাঁর বাসস্থান সূর্য‍্যকুন্ড।*

*পিতা ব্রজার্পিতানন্দ নন্দো ভুবনবন্দিতঃ।।*
*তুন্দিলশ্চন্দনরুচির্বন্ধুজীবনিভাম্বরঃ।*
*তিলতন্ডুলিতং কূর্চ্চং দধানো লম্ববিগ্রহঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের পিতার নাম নন্দ। ইনি ভুবনবন্দিত এবং ব্রজবাসীর আনন্দের নিদান।ইহাঁর উদর স্থূল, অঙ্গকান্তি চন্দনতুল‍্য শুভ্র ও সুগন্ধযুক্ত,বন্ধুজীব(বান্ধুলী)পুষ্প বর্ণের মত তাঁর বসন,কূর্চ্চ (দাড়ী) তিলতন্ডুলিত অর্থ‍্যাৎ শ্বেতকৃষ্ণবর্ণে মিশ্রিত, এবং ইনি দীর্ঘাকায় বা ভীষণ লম্বা।*

*গোপরাজ-যশোদে চ কৃষ্ণ তাতৌ ব্রজেশ্বরৌ।*
*🌻নন্দের জ‍্যেষ্ঠ বা বড় ভাই উপনন্দ। ইনি বসুদেবের বিশেষ সুহৃৎ বা অন্তরঙ্গ।গোপরাজ ও যশোদা শ্রীকৃষ্ণের পিতা ও মাতা।ইহাঁরা ব্রজেশ্বর ও ব্রজেশ্বরী বলেও বিখ‍্যাত।*

*বসুদেবোহপি বসুষুর্দীব‍্যতীত‍্যেষ ভণ‍্যতে।*
*যথা দ্রোণস্বরূপশ্চ খ‍্যাতশ্চাকদুন্দুভিঃ।।*
*নামেদং গারুড়ে প্রোক্তং মথুরামহিমক্রমে।*
*বৃষভানুর্ব্রজে খ‍্যাতো যস‍্য প্রিয়সুহৃদ্বরঃ।।*

*🌻বসু-শব্দ পুণ‍্য,রত্ন ও ধনবাচী।বসু দ্বারা যিনি ক্রীড়াশীল,তিনিই বসুদেব।অথবা বিশুদ্ধ সত্ত্বগুণকে বসু বলে।এই অর্থে বসুদেব মহাশয় শুদ্ধসত্ত্বগুণসম্পন্ন বলে বিখ‍্যাত।ইনি পূর্বজন্মে দ্রোণনামা বসু ছিলেন।আনকদুন্দুভি ইহাঁর নামান্তর।এই নাম গরুড়পুরাণের মথুরামাহাত্ম‍্য প্রসঙ্গে উক্ত হয়েছে।শ্রীরাধার পিতা বৃষভানুরাজা ইহাঁর বিশেষ সুহৃৎ বা অতি অন্তরঙ্গ।*

*🌻মহাবসু নামক গোপ যজনশীল,যশস্বী,ধর্মাত্মা এবং নানান গুণদ্বারা ভূষিত ছিলেন। এই মহাবসু এক বীরপুত্র ও একটি মনোরমা কন‍্যা অভিলাষ করে ভাগুরী নামক পুরোহিতের দ্বারা এক পুত্রেষ্টি অর্থ‍্যাৎ পুত্র লাভের জন্য যজ্ঞ আরম্ভ করেন। অতঃপর সেই পুত্রযজ্ঞ হতে অমৃতময় এক চরু (যজ্ঞীয় অন্ন)উত্থিত হয়।মহাবসু আনন্দিত চিত্তে সহধর্মিণী অর্থ‍্যাৎ সুচন্দ্রা নামী পত্নীকে সেই চরু দান করেন।সুচন্দ্রা যখন সেই চরু ভোজন করেন,তখন তার কিছু অংশ অলিন্দে (বারান্দায়)অসাবধানতা বশত পড়ে যায়।সুরঙ্গী নামে এক মৃগী ব্রজমধ‍্যে ভ্রমণ করত। রঙ্গিণীর জননী সেই মৃগী অমৃতময় চরু দেখতে পাই এবং হঠাৎ এসে ভক্ষণ করে।এতে সেই সুচন্দ্রা গোপী (পশুপালী)ও মৃগী উভয়েই গর্ভপ্রাপ্ত হয়।অতঃপর যথাকালে সুচন্দ্রা যে পুত্র প্রসব করল সেই পুত্রের নাম "স্তোককৃষ্ণ"।মৃগী যাকে গোঠের মধ্যে প্রসব করল,তার নাম হিরণ‍্যাঙ্গী।গান্ধর্বা শ্রীরাধার ইঁহার অত‍্যন্ত প্রিয়তমা সখীস্বরূপিনী।*

*লুপ্ততমাসীৎ কৃপয়া, জ‍্যোতির্ঘটয়েব ভানুমত‍্যাসৌ।*
*রূপবিষয়াপি দৃষ্টিঃ সরসান্ শব্দানবৈক্ষিষ্ট।।*
*🌻অন্ধকার উপস্থিত হলে যেমন রূপাদি বিষয় গ্রাহিকা বা গ্রহণকরা দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত হয়ে যায়, কিন্তু পুনর্বার চন্দ্র-সূর্য‍্যাদি জ‍্যোতির্গণ উদিত হলে সেই দৃষ্টি সব পদার্থ গ্রহণ করতে পারে,সেইরকম কালরূপ অন্ধকারে শ্রীশ্রীরাধানাথের পরিবারবর্গের নাম একরকম বিলুপ্ত হয়েছিল, কিন্তু রূপের (শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর) দৃষ্টি ভগবৎ-কৃপা-রূপ জ‍্যোতির্ঘটা বা জ‍্যোতিগণ দ্বারা ভানুমতী হয়ে অর্থ‍্যাৎ সূর্য‍্য প্রকাশ লাভ করে সরস শব্দগণকে অবলোকন বা অনুসন্ধান করতে সমর্থ হয়েছে।তাৎপর্য‍্য এই যে,শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের পরিবারবর্গের নাম সুস্পষ্ট প্রাপ্ত না হয়ে নানান শাস্ত্র হতে ভগবৎ কৃপায় উদ্ধার করেছিলেন।*

*শাকে দৃগশ্বশক্রে,নভসি নভোমণিদিনে ষষ্ঠ‍্যাং।*
*ব্রজপতিসদ্মনি রাধা-কৃষ্ণগণোদ্দেশদীপিকাদীপি।।*
*🔵দৃক্ ২, অশ্ব ৭, শক্র (ইন্দ্র) ১৪। "অঙ্কস‍্য বামা গতিঃ"। অর্থ‍্যাৎ অঙ্কের গতি বামদিকে--এই নিয়মে ১৪৭২ (চৌদ্দশত বাহাত্তর)শকাব্দ।নভস্ শব্দে শ্রাবণমাস,নভোমণি সূর্য‍্য,দিন শব্দে বার, অর্থ‍্যাৎ ১৪৭২ শকাব্দের শ্রাবণ মাসে রবিবারে ষষ্ঠীতিথিতে শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ ব্রজপতি শ্রীনন্দমহারাজের শোভমান গৃহে ( নন্দগ্রামে কদমটেরে) এই বৃহৎ "রাধাকৃষ্ণগণোদ্দেশদীপিকা" গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন।*

*🙏🙏🙏কিছু তত্ত্বকথা🙏🙏🙏*
*🙌শ্রীভগবানের একবার লালসা হলে ত‍্যাগ আপনি হয়ে যায়।(অন্তর থেকে ত‍্যাগ, লোক দেখানো ত‍্যাগ নহে),তবে এতটুকু খাদ থাকা পর্যন্ত শ্রীহরিচরণে যাওয়া যায় না।শ্রীহরি পাদপদ্ম ভজনা করে না খেতে পেয়ে মরে গেছে এরকম দৃষ্টান্ত বিরল।দেহের খাদ‍্য অন্নজল,আর আত্মার খাদ‍্য নামামৃত ভজন।*
*🌷যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।*
*🌷নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি।।*
*🌻অর্থাৎ শ্রীনাম সংযোগ হলেই ভগবানের সঙ্গে সংযোগ হল।*
*🌹প্রারব্ধ (পূর্বজন্মের কারণভূত অদৃষ্ট) ভোগী যে,তার পরকাল চিন্তা আসে না,অসাড়ে বিষয় ভোগ করে।*
*🍀যে ব‍্যক্তি ভগবানকে ফুলের মালা পরায়,তার উপর ভগবান যত না সন্তুষ্ট হন--,অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন জীবকে তাঁর পাদপদ্মে উন্মুখ করে দিলে ভগবানের তৃপ্তির আর সীমা থাকে না।"জীবকে আমার পাদপদ্ম পাইয়ে দিলে আমি বেশী সুখী হই", এটি ভগবানের শ্রীমুখ নিঃসৃত বাণী।*

*🙏মনুসংহিতায় পায়-------*
*🌷নিষেকাদীনি কর্ম্মাণি যঃ করোতি যথাবিধি।*
*🌷সম্ভাবয়তি চান্নেন স বিপ্রো গুরুরুচ‍্যতে।।*
*🍀যিনি শাস্ত্রানুসারে গর্ভাধান প্রভৃতি সংস্কার কর্ম যথাবিধি সম্পাদন করে পুত্রের জনক হন এবং অন্নদ্বারা তাকে প্রতিপালন করেন,সেই বিপ্র পিতাকে গুরু বলা হয়ে থাকে।২|১৪২*


*🌷য আবৃণোত‍্যবিতথং ব্রহ্মণা শ্রবণাবুভৌ।*
*🌷স মাতা স পিতা জ্ঞেয়স্তং দ্রুহ‍্যেৎ কদাচন।।২|১৪৪*
*🍀যিনি সত‍্যস্বরূপ বেদ মন্ত্র দ্বারা শিষ‍্যের উভয় কর্ণ পূর্ণ করেন ও আবরণ করেন,তিনিই পিতা,তিনিই মাতা,তাঁর বিরুদ্ধে কখনও দ্রোহ করবে না।*

*🌻ভগবান-ভক্ত-প্রেম🌻*
*🍀বাস্তব জীবনে যেমন পিতা,মাতা, পুত্র,কন‍্যা নিয়ে সংসার পূর্ণ হয়।সাধন জগতেও সেইরকম ভগবান-ভক্ত ও প্রেম-মাধুর্য‍্য নিয়ে ভক্তি জগৎ গড়ে উঠে।মাতা এ পিতার এই উভয়ের মিলনে যেমন পুত্র-কন‍্যার উৎপত্তি,ভক্তি জগতেও সেরকম ভগবান ও ভক্তের মিলনের ফলেই প্রেমরূপী সন্তান জন্ম গ্রহণ করে।অর্থ‍্যাৎ এ প্রেম ভগবান ও ভক্ত কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয়,এই উভয়ের মিলনের ফলেই প্রেম উৎপন্ন হয়।* *সন্তান পিতা এবং মাতা হতে জাত হলেও সন্তান যেরকম মাকেই বেশী ভালবেসে, সেইরকম প্রেমও ভগবান ও ভক্তের মধ্যে ভক্তকেই বেশী ভালবাসে, সেজন‍্য প্রেম ধর্মাবলম্বী।প্রেম ভগবানকে স্পর্শ করে মাত্র কিন্তু নিত‍্যসিদ্ধ পরিকরকে আশ্রয় করেই প্রেম বেঁচে থাকে।সেহেতু পিতা ভগবান,মাতা ভক্ত এবং সন্তান প্রেম।*

*🌻🌻🌻মায়ার খেলা🌻🌻🌻*
*🍀মানুষ মনে করে যে,সে পিতামাতার সন্তান এবং মায়াময় এ সংসারে ক্ষণিকের জন্যও সে চিন্তা করার সময় পায় না যে আসল পিতা কে? অর্থ‍্যাৎ ইন্দ্রিয় চাঞ্চল‍্য এড়িয়ে আমি "কৃষ্ণেরদাস" বলে ভাববার সময় সে পায় না--সব---ই কিন্তু মায়ার খেলা।*


 *অর্থ‍্যাৎ মায়াদেবীর আবরণে জীব এমনই ঢাকা পড়ে আছে যে সে একটিবার কৃষ্ণ বলার সময় পায় না।চারিদিকে যেন মায়ার চর।যেমন--, অশোকবনে চেড়ী পরিবৃতা দুঃখিনী সীতা।রাবণের আদেশে চেড়ীগণ সদাসর্বদা সীতাদেবীকে পাহারা দিচ্ছে যাতে সীতার কাছে রামচন্দ্রের কোন চর কোনমতে পৌঁছতে না পারে অর্থ‍্যাৎ রামচন্দ্রের কোন খবর যেন সীতাদেবী কিছুতেই না পান।*


*পার্থিব জগতে কৃষ্ণ-বৈমুখী জীবের দশাও তেমনি। চারিদিকে যেন মায়ার চেড়ীগণ তাদের পাহারা দিচ্ছে যাতে গোবিন্দের খবর জীবের কাছে কোনভাবেই না পৌঁছায়।*


 *কিন্তু শত বাধা বিঘ্ন উপেক্ষা করে হনুমানজী যেরকম সীতার কাছে রামচন্দ্রের খবর পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেইরকম পূর্ব জন্মের সংস্কার বশে যাঁরা সাধু-গুরু-বৈষ্ণব শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করেন, তখন শত বাধা বিঘ্ন সত্ত্বেও সেই মহাত্মাগণই তাঁদের গোবিন্দের সংবাদ পৌঁছে দেন এবং ধীরে ধীরে মায়াদেবীর বন্ধন হতে তাঁরা মুক্ত হন।কারণ ভগবান শ্রীমুখে বলেছেন যে,"মামেব যে প্রপদ‍্যন্তে মায়ামেব তরন্তি তে", অর্থ‍্যাৎ গোবিন্দ স্মরণের মাধ‍্যমেই মায়াদেবীর হাত হতে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়।মায়াদেবীও বলেছেন--,যে যার মায়া তাঁকে ভজনা করলেই আমি দূরে সরে যাব।সীতাদেবী ও চেড়ীগণের উপমাটি অতীব বাস্তব এবং আশাকরি সকলে এটি উপভোগ করবেন।*


*মানুষের মনটিও দুধের মত।সেই মনকে যদি সংসার জলে রাখ,তাহলে দুধে-জলে মিশে যাবে।আবার এই দুধকে ভাল করে জ্বাল দিয়ে যদি দই পাতা যায় এবং পরে সেই দধি মন্থন করে যদি মাখন তোলা যায়,তখন কিন্তু এই মাখন জলের সংস্পর্শে আসিলেও দুধের মত মিশে যাবে না এবং পরিবর্তে জলের উপর ভাসবে।*


*সেইরকম নিষ্ঠার সহিত সাধন ভজন করে মনরূপ দুধ থেকে যদি ভক্তিরূপ মাখন তোলা যায়,তখন কিন্তু সেই মনরূপী মাখন সংসার রূপ জলে রাখলে মিশে যাবার ভয় নেই।সে তখন নির্লিপ্ত(সম্বন্ধ বিহীন) হয়ে সংসার জলে ভাসবে, অর্থ‍্যাৎ সবার আগে মনটিকে তৈরী করতে হবে।*


*শ্রীগুরুকৃপারূপ চিকের(চিক বলতে বলা হয়েছে,বাইরে থেকে গৃহাদির ভিতরে দেখা যায় না চওড়া পাতলা বা সরু গোল কাঠির জালের)আড়ালে গৌরগোবিন্দ সদা সর্বদা থাকেন।গুরুকৃপার মাধ‍্যমে গৌরগোবিন্দের সঙ্গে সম্বন্ধ করা যায়।কৃপার চাপ যতই অনুভব হবে ততই দীনাতিদীন মূর্তি হবে ভক্তের।*


*ভজন পথ এমনই একটি জিনিস যে এর কোন শেষ নেই অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরিকে পাবার পরেও ভজন করতে হবে, কেন?এ ভজন হল শ্রীহরিকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে রাখবার উপায়।*


 *বাস্তব জগতে মানুষ সাধারণত অর্থ উপার্জনকেই প্রকৃত ধর্ম বলে মনে করে।কিন্তু পরমার্থ উপার্জনে যাঁরা সচেষ্ট তাঁরাই প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিমান ও চতুর।*


 *একান্ত বিপদে পড়লে মানুষ যেমন বিপদ-ভঞ্জনের শরণাগতি হয়, তেমনি করে শ্রীভগবানের পাদপদ্মে শরণাগতি নিতে হবে।মুক্তজীব মনে করে কারাগারে যারা আছে তারা বদ্ধ কিন্তু আমরাও যে মায়ার কারাগারে বদ্ধ আছি তা আমরা ভুলে যাই।*


*ভগবানের সঙ্গে দাস-প্রভু সম্বন্ধ করতে পারলেই ভয় পালাবে অভয় আসবে। ভগবানের আশ্রয় নিয়েছে জানতে পারলেই মায়া সরে যাবে।মায়ার হাত হতে নিষ্কৃতি পাবার এই একটাই উপায়। ভগবান বলেছেন--, "মামেব যে প্রপদ‍্যন্তে মায়ামেতাংতরন্তি তে"। অর্থ‍্যাৎ যে আমার পাদপদ্মে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে সেই মায়াকে কাটাতে পারে।মায়া জ্ঞানের খাতির রাখে না,খাতির রাখে শুধু শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্মে শরণাগতির।*


*তুলনামূলক হিসাবে একটি বাস্তব উদাহরণ দ্বারা এটি আরও সহজ ভাবে বুঝা যাবে।প্রাকস্বাধীনতা কালে মহাত্মাগান্ধী যখন সব ভারতবাসীকে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদানের জন্য আহ্বান জানান তখন অনেকেই বৃটিশের জেলের ভয়ে তাতে যোগদান করেন নাই।সেই পরিপ্রেক্ষিতে মহাত্মাগান্ধী বলেছিলেন,"হে ভারতবাসী তোমরা বৃটিশের জেলকে ভয় পেওনা, কারণ প্রকৃতপক্ষে সমগ্র ভারতবর্ষই একটি জেলখানা বা কয়েদখানা ছাড়া আর কিছুই নয়।সেই হিসাবে কৃষ্ণ বহির্মুখী জীবের সহিত মায়ার বন্ধনও অনুরূপ।*


*বৈরাগ‍্যবানেরা বৈরাগ‍্যধর্ম অবলম্বন করেছেন বলে মনে সুপ্ত অভিমান পোষণ করেন।সেজন‍্য ভক্তিরাণী তাঁদের কৃপা করেন না।নিজেকে দীনহীন কাঙাল ভাবতে না পারলে ভক্তি মহারাণীর কৃপা মেলে না।*


 *জলে ভেজানো কাঠে তাড়াতাড়ি আগুন জ্বলে না।রোদে শুকোতে পারলে তবে সেই কাঠে তাড়াতাড়ি আগুন ধরবে।সেইরকম দুর্বাসনারূপ জলে যদি হৃদয় সিক্ত থাকে তাতে তো ভক্তিরূপ অগ্নি তাড়াতাড়ি সেখানে জ্বলবে না।*


 *ফুলেও কীট থাকে,বিষ্ঠাতেও কীট থাকে।বিষ্ঠার কীটকে যদি বলা হয় যে ভাই তুমি কেন দুর্গন্ধময় এই বিষ্ঠার মধ্যে পড়ে আছ,এসো তোমাকে আমি পুষ্পের মধ্যে রেখে আসছি, দেখো কত আনন্দে থাকবে।বিষ্ঠার কৃমি কিন্তু তখন বলবে মাপ্ করবেন,আমি এখানে মহানন্দে আছি আমি অন‍্যত্র যাব না।সেইরকম কৃষ্ণবৈমুখী জীবগণ বিষ্ঠারূপ বিষয়ের মধ্যে থেকেই আনন্দ পাচ্ছে।*


 *🌹প্রেম মাধুর্য‍্য প্রয়োজন🌹*
*🍀ইটের উপর ইট সাজালে ইটের পাঁজা হয় কিন্তু বসবাসের ঘর হয় না।অঙ্গে বহুকিছু ধারণ করলেও সেটি ভগবানের বাসস্থান হয় না।দুইটি ইটের মধ্যে যে ব‍্যবধান তা দূরীভূত করে দুইকে মিশিয়ে দিয়ে পারে একমাত্র সিমেন্টের মশলা।সেইরকম কতকগুলি মানুষ হলেই একটা সমাজ বা রাষ্ট্র হয় না। মানুষকে মিলাতে পারে একমাত্র শুদ্ধ ভালোবাসা,এর অন‍্য নাম প্রেম।যার অভাবে মানবসমাজ খাঁ খাঁ করছে সুতরাং এই সিমেন্টের মশলারূপ প্রেম দিয়ে আপামর জনসাধারণকে যদি প্রেমের রাখী বন্ধনে বাঁধা যায় এবং একমাত্র আমাদের মহাপ্রভু ও নিতাইচাঁদ অকাতরে এই প্রেমধন বিতরণ করে গিয়েছেন, তার বিন্দুমাত্র গ্রহণ করতে পারলে এই মানবদেহ সফল হবে।*


 *🙏কৃপা কিভাবে পাওয়া যায় গো?*
*🍀কৃপাকারী হলেন দাতা আর যাঁকে কৃপা করবেন তিনি হলেন ভিখারী।ভিখারীর যেরকম আহামরি চাহিদা থাকতে পারে না, সেরকম কৃপা গ্রহীতারও তদ্রূপ হতে হবে।ভিখারী মুখে বলছে বাবা অনেকদিন খাইনি, সত‍্যি যে ভিখারী খাইনি তা যখন তার চোখে মুখে চেহারাই ফুটে উঠবে তখনই দাতার মন গলবে এবং দাতা তখনই দান করবেন।*


*আমরা সাধারণত সাধু গুরু বৈষ্ণবকে প্রণাম করে বলি, "বাবা একটু কৃপা করবেন"-- অনেকটাই মুখের কথার মত,প্রকৃত আর্তি নিয়ে কয়জন বলি,আর পাইও সেরকম।প্রকৃত প্রয়োজন কখন বুঝা যায়?ভক্ত যখন কৃপা না পেলে অন্নজল ত‍্যাগ করবে,দেহ ত‍্যাগেও কুন্ঠিত হবেন না তখনই।আমাদের কৃপা প্রার্থনা অনেকটা এইরকম, প্রকৃত অন্তর থেকে যে আর্তি হওয়া উচিত তার বিন্দুমাত্রও লক্ষণ দেখা যায় না। কৃপা চাওয়ার ধরণ,সব বজায় থাক এর উপর গৌরগোবিন্দ যদি আসেন মন্দ কি। কিন্তু তাতে কৃপা হয় না আর দাতারও মন গলে না।*


 *আমাদের কৃপা প্রার্থনা যেন অনেকটা মুখস্থ কথার মতন,সাধু গুরু বৈষ্ণব মহান্তগণ সেটি বেশ ভাল বোঝেন মনে মনে, কিন্তু আমরা ব‍্যথা পাব বলে কিছু বলেন না।কৃপা ভিক্ষা যদি যথার্থই হয় এবং আর্তি যদি চোখে মুখে ফুটিয়ে তুলতে পারা যায় তাহলে মহাজনগণের কাছে যদি কৃপা সম্পদ নাও থাকে তবুও তাঁরা ধার করেও কৃপা করেন।বাস্তব জীবনেও দেখা যায় যে আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব যদি প্রকৃত বিপদে পড়ে,কোন স্বচ্ছল আত্মীয়ের দ্বারস্থ হন এবং তিনি যদি সত‍্য সত‍্যই তার অভাব বোধ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হন, তখন তাঁর মন গলতে বাধ‍্য  এবং তিনি অনেক ক্ষেত্রে সেই মুহূর্তে হয়ত নিজের কাছে নেই, তখন অন‍্যের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এসে তাকে দিয়ে থাকেন, এবং অভাব মোচন করেন। সুতরাং সাধুগুরু বৈষ্ণবগণ যে ধার করেও কৃপা করেন বা করতে পারেন তাহাও অসম্ভব নয়।সবই নির্ভর করে গ্রহীতার নিঃস্বতা  এবং আর্তির উপর।*


 *এছাড়াও এক প্রকার কৃপা আছে যাকে  বলা হয় অযাচিত কৃপা এবং সেটা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে মহাজনগণের ইচ্ছা শক্তির উপর।যেমনটি দেখা যায় মহাপ্রভুর জীবনে যেখানে বহু যবন পর্যন্ত এই অযাচিত কৃপা পেয়েছিলেন। শ্রীবাস পন্ডিতের গৃহের কুকুর বিড়াল এমন কি মুসলমান দরজি পর্যন্ত এরকম অযাচিত কৃপা পেয়েছিলেন।এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ভাগবতের টীকায় একটি সুন্দর উপমা দান করেছেন।যথা পাহাড় মাত্রেই শুকনো নির্জন পাথরের সমষ্টি  ছাড়া আর কিছুই নয়।মহাসমুদ্রে যেরকম অনন্ত জলরাশি দেখা যায়, সেরকম পাহাড় পর্বতে দিগন্ত বিস্তৃত পাথর সমষ্টি ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।*


*কিন্তু তবুও দেখা যায় যে এই পাহাড় পর্বতের কোন এক জায়গা হতে প্রবলবেগে ঝরণার জল প্রবাহিত হচ্ছে।একজায়গায় এইরকম প্রবল জলরাশি দেখা গেলেও পুনরায় যে সেই পাহাড়ের অন‍্য কোন জায়গা হতে আবার ঝরণাধারা প্রবাহিত হবে তার কোন বিধিবদ্ধ নিয়ম নাই।হঠাৎ যেন এক জায়গায় এটি দেখা যায় আবার মাইলের পর মাইল পুরো শুকনো বিস্তীর্ণ পাথর রাশি ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।সেহেতু শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয় এই ঝরণাধারাকে অযাচিত কৃপার সহিত তুলনা করেছেন।অর্থ‍্যাৎ সাধু মহাত্মাগণ যে কখন কার উপর এই কৃপাবারি সিঞ্চন করবেন তারও কোন বিধিবদ্ধ ধিয়ম নেই।*


*🌻🌻দুঃখের প্রকার ভেদ🌻🌻*
*🌹দুঃখ তিন প্রকার যথা---, আধ‍্যাত্মিক,আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক।*
*🛑আধ‍্যাত্মিক দুঃখ= সাধারণতঃ মন এবং দেহজাত দুঃখকে আধ‍্যাত্মিক দুঃখ বলা হয়। যেমন ধরুন,কেউ দেহের অসুখে কষ্ট পাচ্ছেন,মনে শান্তি নেই,সদাসর্বদা অসুস্থ ভাব একেই আধ‍্যাত্মিক দুঃখ বলা হয়।সেইরকম আবার প্রিয়জনের বিয়াগ ব‍্যথায় আমরা মনে যে দুঃখ বা বেদনা অনুভব করি তাহাও এই একই প্রকারের দুঃখ।মানে দেহের অসুখ,মনের বেদনা এইসব।*


*আধিভৌতিক দুঃখ=অন‍্য জীবের কষ্ট দেখে মনে যে দুঃখ পাওয়া যায় তাকে আধিভৌতিক দুঃখ বলে।যেমন ধরুন,খাদ‍্যের জন্য মানুষ যে নির্বিচারে পশু হত‍্যা করে,নিরীহ জীব কি কঠোর মৃত‍্যু যন্ত্রণা ভোগ করে কিন্তু তবুও সে নিরুপায়।অর্থ‍্যাৎ অন‍্য জীবের,সে পশুপক্ষীই হোক বা মানুষই হোক তাদের দুঃখ দেখলে যারা মনোবেদনা অনুভব করেন তাকে আধিভৌতিক দুঃখ বলে।*


 *আধিদৈবিক দুঃখ=সেইরকম আবার প্রাকৃতিক নিয়মে আমরা যে দুঃখ পাই তাকে আধিদৈবিক দুঃখ বলে।যথা= ভূমিকম্প,বন‍্যা,মহামারী,ঝড়ের তান্ডব ইত্যাদির ফলে যে বিপর্য‍্যয় ঘটে তা হতে পাওয়া দুঃখকে আধিদৈবিক দুঃখ বলা হয়।*


 *🍀একটু বিচার করলেই দেখা যাবে যে এই দুঃখ পাবার জ‍ন‍্যই যেন মানুষ জন্ম নিয়েছেন এবং সদাসর্বদা দুঃখ নিবারণের চেষ্টা করে চলেছে কিন্তু তবুও অসহায়।অন‍্য একটি জিনিস লক্ষ্য করবার বিষয় হচ্ছে যে  আমরা তো কখনও ভগবানের কাছে দুঃখ দাও বলে জানাইনি, বরং বলি সুখ দাও,সমৃদ্ধি দাও,ধন দাও,সুস্বাস্থ‍্য দাও  ইত্যাদি কিন্তু চাইলেই কি তা পাচ্ছি, কখনই না।দুঃখ না চাওয়া সত্ত্বেও সকলকেই কমবেশী ভোগ করতে হচ্ছে।অর্থ‍্যাৎ প্রকৃতির নিয়মে সুখ-দুঃখ সমান ভাবে প্রযোজ‍্য।আবার যার ধন নেই তিনি মনে করেন টাকাপয়সা থাকলেই সব দুঃখের অবসান হত কিন্তু তা কখনও সম্ভব নয়।টাকায় সুখ দেয় না,দিতে পারে না।তাহলে এখন আর লক্ষপতির কথা আসে না,কোটিপতি লোক সব সুখে থাকত, কিন্তু তাদের একটু ঘনিষ্ঠ আলাপ করলেই বুঝবেন যে তারা কত অসুখী। সুতরাং ভগবানের কাছে কখনও সুখ দাও বলে যেন আমরা প্রার্থনা না জানাই, কারণ চাইলে যখন পাওয়া যাবে না তখন চেয়ে লাভ কী!*


শ্রীমদ্ভাগবতে দেখা যায় ভক্ত শ্রীদাম বা সুদামা যখন কৃষ্ণ কৃপায় অতুল ঐশ্বর্য‍্যের অধিকারী হলেন তখন তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে=*
*🌷বিভব দেখিয়া বিপ্র মনেতে ভাবিল।*
*🌷মনে মনে নিজেরে সে ধিক্কার করিল।।*
*🌷মম সম হতভাগ‍্য নাহি এ সংসারে।*
*🌷বিষম বিষয় বিষে ভুলালে আমারে।।*
*🌷কেবা আছে ধনবান আমার মতন।*
*🌷জগতের সার হরি পরম কারণ।।*
*🌷 সেই পদ মম মন বিস্মৃত না হয়।*
*🌷এই বর দেহ মোরে হরি দয়াময়।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ তিনি অতুল বিষয় বৈভব পেয়েও নিজেকে হতভাগ‍্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন।যদি সত‍্যই সুখে আনন্দে থাকতে হয় তবে, একমাত্র হরিপদে ভক্তি প্রার্থনা করতে হবে।এটিই প্রকৃত ভক্ত চরিত্র।*


 *সেইরকম পান্ডব জননী কুন্তীদেবীও অশ্রুসজল নয়নে শ্রীকৃষ্ণ কাছে বিপদ ভিক্ষায় করেছিলেন কারণ বিপদের মধ্যে থাকলে তিনি সদাসর্বদা শ্রীহরিকে স্মরণে রাখতে পারবেন।এই প্রসঙ্গে কুন্তীদেবী বলেছিলেন=*
*বস্ত্র কাড়ি দুর্য‍্যোধন,করে লাঞ্জনা যখন,*
       *রাখিলে দ্রৌপদী মান তবে নারায়ণ।*
*তুমি হরি বারে বারে,বিপদে ফেলগো মোরে,*
     *তা'হলে ত্ত্বরিত পাব তব দরশন।।*
*সঙ্কট আসিলে তুমি,সম্মুখে দাঁড়াবে স্বামী,*
      *বিপদ কামনা তাই করি অনুক্ষণ।।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


adds