✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীকৃষ্ণের রূপের একটি পদ 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2025/07/rup.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🍀রূপানুরাগ-- গৌরচন্দ্রিকা*
*সোম তাল----২৮ মাত্রা ।*
*১|গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে,*
*১| কাটান---*
*আমি আর যে ধৈরজ-- আ আ আ- - - -*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি রে- - - - - -*
*আহা মরি আরে- - এ এ এ এ*
*২| কাটান---*
*ওকি আহা রে- - - এ এ এ এ- - -*
*আমি আর যে ধৈরজ- - - - -*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি রে- - - -*
*আহা মরি আরে এ এ এ এ*
*তাল=মধ্যম*
*নিরবধি ছল- - - -ছল- - -*
*আরে কিবা নিরবধি ছল ছল-------*
*- - - - নিরবধি ছল ছল------*
*- - - আঁখি জল ঝরে----হায় আমার একি হল--------*
*সজনি-----------*
*শিকলি=*
*আমি কেন সুরধূনীর ঘাটে গেলাম-----*
*গেলাম গেলাম গৌর বদন পানে চাইলাম, গৌর বদন পানে চেয়ে--*
*সুকমল গৌর বদন পানে চেয়ে ------*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি*
*হায় আমার একি হল------*
*৩| কাটান----*
*আমি ) আর যে ধৈরজ নারি রে এ এ এ*
*নিরবধি-----আমার আঁখি ঝুরে------*
*৪| কাটান---*
*গৌর গৌর বলে রে----------*
*নিরবধি----- আমার আঁখি ঝুরে*
*গৌর গৌর বলে------।*
*রাগিনী=*
*আহা মরি রে-----------*
*আহা মরি রে-------------*
*আ- - আ- -আ- -আ- - -*
*সুরে=*
*১|গোরা অনুরাগে আমার পরাণ কাতরে - - - - -*
*২|নিরবধি ছল ছল আঁখি জল ঝুরে।।*
*তাল=বড় একতালী, ৭ মাত্রা*
*দেখ সজনী )আমার আঁখি ঝুরে রে----।*
*সদাই ) গৌর গৌর গৌর বলে।*
*আমি ) আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।*
*তাল= ঝাঁতি*
*১|গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে।*
*২|নিরবধি ছল ছল আঁখি জল ঝুরে।।*
*🌹আখর=*
*সজনি ) আমার বাধ মানে না রে।*
*নয়ন বারি )উছলি উছলি পরে।*
*প্রাণ আমার ) কেঁদে উঠে।*
*প্রাণ বল্লভ) গৌর গৌর গৌর বলে।।*
*১|গোরা গোরা করি মোর কি হইল বেয়াধি।*
*🌹আখর=*
*ব্যাধির ঔষধ পেলাম না।*
*এ ব্যাধির বৈদ্য পেলাম না।*
*এ নদীয়ার মাঝে।।*
*হায় আমার )একি হল রে।*
*এ যে আমার )বিষম ব্যাধি উপজিল।*
*আমি কেন) গৌর বদন নিরখিলাম।।*
*🍀কথা=নবদ্বীপ সুধাকর শ্রীমন্ গৌর সুন্দর সাঁঝের বেলায় সুরধূনী গঙ্গার ঘাটে পূরবের ভাবে বিভাবিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।এমন সময় এক গৌর অনুরাগিনী রমণী সুরধূনীর জলে গিয়ে আমার শ্রীমন্ গৌরসুন্দরের বদন পানে তাকিয়ে কোন ভাবে ধের্য্য ধরে নিজের গৃহে ফিরে এসে, নির্জনে বসে তার মরমীর কাছে বলছেন--*
*🏵সুরে=মরমীরে---------আজ সাঁঝের বেলায়------সুরধূনী গঙ্গার জলে গিয়ে ---------- নবদ্বীপ সুধাকর গৌর সুন্দরের --------- দন পানে চেয়ে দেখলাম-----।*
*🌹আখর= দাঁড়িয়ে আছে রে।*
*ললিত ত্রিভঙ্গিমায়।*
*সুরধূনীর)এ-কুল ও-কুল আলো করে।।*
*🏵সুরে=ঐ গৌর মূরতী পানে চেয়ে অবধি--------আমার প্রাণে আর প্রাণ নেই বললেই চলে------ এমন কি আমি ব্যাধিগ্রস্তা রমণীর ন্যায় সবসময় আমার প্রাণে ঐ গৌরসুন্দর দেখছি--- আন কিছু আর দেখতে পাচ্ছি না, কেন না------,*
*২|নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি।।*
*🌹আখর=ভুলতে নারি রে।*
*আমার)গৌরাঙ্গ গুণনিধি।*
*ঐ রূপ সদায় আমার, হিয়ায় জাগে।।*
*🏵কথা= ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন,সজনী-----*
*ও রূপ)কেমনে ভুলিবে।*
*তুমি)যা চেয়েছ তাই পেয়েছ।*
*তাই তোমার )হৃদয় মাঝে জুড়ে আছে।*
*মাধুর্য্যময় গৌর রূপ।।*
*🏵কথা=এই যে মাধুর্য্যময় গৌর রূপ,এই মাধুর্য্য শব্দের অথা কি? মাধুর্য্য শব্দের অর্থ হল চারুতা। উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে আছে-- শ্লোক---*
*রূপং কিমপ্যনির্ব্বাচ্যং তনো মাধুর্য্যচ্যতে।*
*🍀অর্থ্যাৎ শরীরের কোন অনির্বচনীয় রূপকে মাধুর্য্য বলে। আবার রূপ কাকে বলে? ঐ গ্রন্থেই আছে---*
*অঙ্গান্য ভূষিতয়ন্যব কেন চিদ্ভূষণাদিনা।*
*যেন ভূষত বদ্ভাতি তদ্রুপ মিতি কথ্যতে।।*
*অর্থ্যাৎ শরীরের কোন ভূষণাদি না থাকলেও যদ্বারা অঙ্গ সকলকে ভূষিতের ন্যায় দেখায় তাকে রূপ বলে।*
*তাই রূপ ও মাধুর্য্য মিলিত হয়ে সৌন্দর্য্য হল। এই সৌন্দর্য্য কাকে বলে? শ্লোক---*
*অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কানাং যঃ সন্নিবেশো যথোচিতং,*
*সুশ্লিষ্টঃ সন্ধি বন্ধঃ সাত্তৎ সৌন্দর্য্য মিতুচ্যতে।।*
*অর্থ্যাৎ অঙ্গ প্রত্যঙ্গাদির যে যথোচিত সন্নিবেশ এবং সন্ধি সকলের যথাযথ মাংসলত্ব তাকেই সৌন্দর্য্য বলে।*
*এর ভিতরে আরেকটি বস্তু আছে লাবণ্য। এই লাবণ্য কাকে বলে? উক্ত গ্রন্থে উল্লেখ আছে, শ্লোক---*
*মুক্তা ফলেষু ছায়াস্তর লত্বমিবান্তরা।*
*প্রতিভাতি সদোঙ্গেষু লাবণ্যং তদিহোচ্যুতে।।*
*অর্থ্যাৎ প্রশস্ত মুক্তো কলাপের অন্তর হতে ছটা বহির্গত হয়,তার মত স্বচ্ছতা প্রযুক্ত অঙ্গ সকলে যে চাকচিক্য প্রতীয়মান হয়ে থাকে তাকে লাবণ্য বলে।*
*🍀এই রূপ, সৌন্দর্য্য,লাবণ্য ও মাধুর্য্যযুক্ত রসিকেন্দ্র চূড়ামণি গৌর মূরতি, এই মূরতিখানির আরও অনেক মাধুর্য্যময় তত্ত্ব আছে, কৃষ্ণ সন্দর্ভ গ্রন্থে উল্লেখ আছে----*
*অন্তঃ কৃষ্ণং বহি র্গৌরং দর্শিতাঙ্গাদি বৈভবম্।*
*কলৌ সংকীর্তনাদ্য স্ম কৃষ্ণ চৈতন্য মাশ্রিতা।।*
*🍀অর্থ্যাৎ যিনি অন্তরে কৃষ্ণ এবং বাইরে শ্রীমতী রাধিকার অঙ্গাদির বৈভব রূপ গৌরদেহ ধারণ করে এই কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন। আমরা হরিনাম যজ্ঞের দ্বারা সেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের স্মরণ গ্রহণ করি।*
*🍀তাহলে গৌরসুন্দরকে লাভ করার এত একটি পথ হল। কিন্তু যাদের এই হরিনাম যজ্ঞ করার মত সামর্থ নেই, তাদের জন্ম কি বৃথায় যাবে? তাদের কি গৌরসুন্দর লাভ হবে না?তাদের কি কোন উপায়ই নেই? আছে, কেমন ভাবে? না-- শ্রীমদ্ভাগবতে দ্বাদশ স্কন্ধে তৃতীয় অধ্যায়ে ১৯২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে----*
*কৃতে যদ্ধ্যায়ত বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ।*
*দ্বাপরে পরিচর্য্যায়াং কলৌ তদ্ধারি কীর্তনাৎ।।*
*সত্যযুগে ধ্যান করিলে মুক্ত হয়,ত্রেতাযুগে যজ্ঞ করিলে মুক্ত হয়,দ্বাপরে বিষ্ণুর সেবার্চনায় মুক্ত হয় আর কলিযুগে কেবল হরিনাম কীর্তন হতেই জীব মুক্ত হয়ে থাকে।*
*🍀তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা অনন্তকোটি জগৎ পানে লক্ষ্য করে বলছেন, তোমরা একবার---*
*গৌর হরি বলরে।*
*প্রেমানন্দে বাহু তুলে।*
*গৌর হরিবোল হরি বোলে।।*
*🍀কথা=তাই শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন----*
*🌷রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*🌷অনন্যে বিলসয় রস আস্বাদন করি।।*
*🌷সেই দুই এক এবে চৈতন্য গোঁসাই।*
*🌷লীলা রস আস্বাদিতে হৈলা একঠাঁই।।*
*🌹আখর=*
*এই তো আমার,গোরা বটেরে।*
*উজ্জ্বল রস, শৃঙ্গার মূরতি খানি।*
*রাই কানু মিলিত তনু।।*
*🌹কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, এ হেন গৌর মূরতি দর্শন করে হে সজনি---*
*কে না ভুলে রে।*
*মাধুর্য্যময় গৌর হেরে।*
*বলি একা তুমি ভুল নাই।।*
*🌹কথা=নাগরী আবার আক্ষেপ করে বলছেন, এখন আমি----*
*পদের পরের অংশ*
*১|কি করিব কোথা যাব গোরা অনুরাগে।*
*২|অনুক্ষণ গোরা প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে।।*
*🌹আখর=*
*আমায়, পাগলিনী কৈলে রে।*
*আর যে ধৈরজ ধরতে নারি।*
*আমার ভাগ্যে কি বা আছে।।*
*🌹কথা= এই কথা শুনে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*
*১|গৌরাঙ্গ পিরীতিখানি বড়ই বিষম।*
*সেই তো জানে রে।*
*এ প্রেম, যার হিয়ায় জেগেছে।*
*মাধুর্য্যময় গৌর প্রেম।।*
*২|বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম।।*
*আর, কুল থাকে না রে।*
*যে জন, গৌর ভালবেসেছে রে।*
*কুল ধর্ম বিসর্জন দিয়ে।*
*প্রাণ, গৌর তোমার হরেম বলে।।*
*জামালী-- নাহি রহে কুলের ধরম রে।*
*🍀ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের রূপের একটি পদ।*
*🏈🏈তাল=ধরা🏈🏈*
*১| ও মুখ মন্ডল জিতি---*
০ | ০ | ০ |
ও গো সখি ও---- মু--খ----- ম
০ | ০ |
----- ন্ডল সখিরে এ এ এ এ ও---
০ ০ |
মু- - - - খ- - - ম- - ও মুখ মন্ডল।
১| ০
কি বলব সখি সে যে
| ০
আমার- - - আমার- - - -
০ |
কি বলব সখি সে যে আমার আমার- - - - আমার আমার- - - আ- - আ- - আ- - আ আমার
আমার শ্যাম- - - - না- - আ-আ-আ- আমার আমার শ্যাম নাগরের মুখ।
২| + | ০ |
ও মুখ যে দেখেছে সেই
তো- - - ও- -ও- -ও জা- - - - - সেই তো জানে গো- - -ও--ও--ও
৩| ০ | ০
আমার- - -- বৃন্দা- - -বন - - - চাঁদের- - - আমার আমার ব্রজ চাঁদের - - - আমার আমার ব্রজ চাঁদের বদন রে- - এ-এ-এ ও বদন যে দেখেছে- - - - সেইতো- - - - -
*🏵কথা=সখি! আজ সাঁঝের বেলায় যমুনার জলে গিয়ে দেখলাম যমুনার একুল ওকুল আলো করে ভূবন মোহন রূপ মাধুর্য্য বিস্তার করে আমার প্রাণবল্লভ কদম্ববৃক্ষে হেলন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।*
*🌻সুরে=ও মুখ মন্ডল জিতি শারদ সুধাকর------*
*তাল=মধ্যম*
========
*১| কাট--- চাঁদ জিনি বদন চাঁদ------- তমাল জিনি তনুরুচি --------- হঠাৎ দেখলে এই মনে হয় - - - যেন তমাল গাছে----- যেন তমাল গাছে-------- ষোল কলা পূর্ণ চন্দ্র ধরেছে। আহা কি বা-ই তার-----তনু রুচি তরু।*
*২|কাট-- শারদের চাঁদ জিনি প্রাণ বল্লভের বদন চাঁদ নব তমালের অঙ্গ কান্তি জিনি বঁধূর আমার তনুখানি, হঠাৎ দেখিলে এই মনে হয়------ একটি তমাল গাছে একটি তমাল গাছে নিষ্কলঙ্ক পূর্ণ চন্দ্র ধরেছে------, আহা কি বা-ই তার----*
*৩|কাট-- ঐ রূপ আমার হিয়ায় জাগে গো----*
*তনুরুচি তরুণ তমাল------*
*আর যে পাশরিতে নারিরে---।*
*তাল= ছোট দশকুশি*
===============
*২|চূড়া চারু,শিখন্ডক মন্ডিত,*
*মধুকর মালতী মাল।।*
*আহা মরিরে---মধুকর মালতিক মাল--*
*শোভার বালাই যাইরে---*
*মধুকর মালতিক মাল।।*
*তাল=মধ্যম*
=========
*🏵আখর=
*মালার প্রতি ফুলে---- ও ফুলে ফুলে রে---*
*ঝাঁকে ঝাঁকে ভ্রমর বৈসে----*
*শোভাটি মনে হয়) যেন মধুকরের মালা।*
*যাইরে শোভার বালাই যাইরে।*
*তাল=একতালী*
^^^^^^^^^^^^^^^
*১|ধনি ধনি বনি নব নাগর কান।*
*তাল=লোফা*
^^^^^^^^^^^^^
*২|রহই ত্রিভঙ্গ, ভূবন মন মোহন,*
*🌹কথা=সখিরে---অপার্থিব মাধুর্য্যময় ভূবন মোহন রূপ ধরিয়া শ্যাম আমার দাঁড়িয়ে আছেন---*
*ভুলে গেল রে।*
*আমার মন প্রাণ সব।*
*ঐ ভূবন মোহন রূপ দেখে।।*
*২|মধুর মুরলী করু গান রে।।*
*গান গেয়ে ছিল।*
*ঐ মুরলীতে গান।*
*লখি, আমা পানে চেয়ে চেয়ে।*
*রাধা রাধা রাধা বোলে।*
*ঐ মুরলীর তান ধরে।।*
*তাল=তেওট ৭ মাত্রা*
<><><><><><>>>>>
*১| টল মল অল- - -কা- - আ- -আ- -আ- - -আ- - - -আ*
*ও তিলক- - -মুখ- - - ও-ও-্ও-ও ঝল কৈ ঝল কৈ রে--এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ-এ- - - -*
*১|কাট-- তিলক,টলমল,টলমল টলমল করছে রে- - -*
*🌻কথা=ঐ অলকাবলীর টলমল দেখে-----*
*২|কাট-- তিলক, ঝলমল ঝলমল ঝলমল করে রে,*
*আমার) বঁধূর রূপের ছটা লেগে রে*
*তাল=লোফা*
•••••••••••••••
*১|টলমল অলকা,তিলক মুখ ঝলকৈ,*
*ভাঙ্গকি ধুনুয়া ধুনান।*
*🏵আখর*
*ফুল ধনু।*
*যেন মদনের ফুল ধনু।*
*যেন, সন্ধান করে রেখেছে রে।*
*রমণীর, মন মৃগী বিধবে বোলে।।*
*২|কুলবতী বরত, বিমোচন লোচন,*
*বিষম কুসুম শর বাণ।।*
*১|বান্ধুলী বন্ধু, অধরে মধু মাখল,*
*মধুর মধুর মৃদু হাস।*
*🌹কথা=সখীরে! আমার মনে হল লাল টুকটুকে বান্ধলী ফুল অধরে মেখে দিয়েছে, তাই বন্ধুর অধর লাল টুকটুকে হয়ে শোভা পাচ্ছে।*
*২|যছু আমোদে, মদন মদ মন্থর,*
*ভণতহি গোবিন্দ দাস।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের রূপ, তাল=দোঠুকি, ৭ মাত্রা।*
*আমি কি রূপ হেরিনু কালিন্দী কুলে,*
*অতি অপরূপ কদম্বের মূলে।।*
*🍀কাট= আমি, এই এখুনি দেখে এলাম সাঁঝের বেলায় (সন্ধ্যে বেলায়) জলকে গিয়ে সেই ভূবন মোহন মনোহর রূপ----*
*🏵কথা=সখীরে! আজ আমি কি অপরূপ রূপ দেখলাম,সেই অপরূপটি কি-না রূপাতীত রূপ।*
*১|🌷অচলা চপলা শোভিত তায়।*
*২|🌷মৃগাঙ্ক রহিত শশাঙ্ক উদয়।।*
*🏵কথা=আরও একটি আশ্চর্য্য দর্শন করলাম। ইহাও সম্ভব সখী?যে চপলা (বিদ্যুৎ)কোন দিন স্থির হয় না,যার স্বভাবের সঙ্গে জড়িত একটি নাম আছে কি, না "ক্ষণপ্রভা"। কিন্তু আমি দেখলাম আজ স্থির বিদ্যুৎ। ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন হে রাধারাণী! তোমরা যে বিদ্যুৎ প্রায়শ দেখ সেই চপলার স্বভাব এত চঞ্চল কেন জানো? না উপযুক্ত মেঘ পাই না বলিয়া, ঐ চপলার স্বভাব এত চঞ্চল। সেই চপলা আজ সত্যই স্থির। কেন? না--*
*স্বভাব ভুলে গিয়েছে।*
*উপযুক্ত মেঘ পেয়ে।*
*ঐ নব মেঘ জড়িয়ে ধরে।।*
*🏵কথা=আবার রাইধনি বলছেন, শশাঙ্ক অর্থ্যাৎ একটি চন্দ্র বা চাঁদ দর্শন করিলাম, কেমন?না-- গগনে যে চাঁদ আমরা দেখি ঐ চাঁদের মতই বটে কিন্তু এই গগন-চাঁদের ভেতর যে মৃগ চিহ্ন আছে,ঐ মৃগ চিহ্ন রহিত সুনির্মল যে চাঁদ সেই--*
*যেন, উদয় হয়েছে।*
*সুনির্মল চাঁদ যেন।*
*মাধুর্য্যময় চাঁদ যেন।*
*ঐ চাঁদ যেন, অন্তর বাহির আলো করে।।*
*🏵কথা==আবার দেখলাম।*
*১|নাচিছে ময়ূর জলদ পরি।*
*২|অলিকুল সব চাঁদেরে ঘেরি।।*
*🏵কথা=রাধারাণী শ্যামসুন্দরের শিখিপুচ্ছ দর্শন করে মনে করেছেনযে নবমেঘ সদৃশ্য বা সমান শ্যামবর্ণ,তার উপরে ময়ূর পুচ্ছ মৃদু পবন পরশে দুলছে, রাধারাণী মনে করেছেন--*
*ময়ুর নাচিছে।*
*নব, জলধর উপরে।*
*ঐ পেখম ধরে।।*
*🏵কথা=আবার অলিকুল বা ভ্রমরগণ ফুলের কাছে থাকে, কিন্তু চাঁদের কাছে কি করে ভ্রমরগণ সম্ভব?সত্যি রাধারাণীর ভুল হয়েছে।কেন-না,শ্রীগোবিন্দের বদন চন্দ্রে অলকা বলি দেখে অলিকুল মনে করেছেন।*
*১|আরও অপরূপ কহিতে নারি।*
*২|যথা মেঘ তথা না রহে বারি।।*
*🏵কথা=তখন ললিতা সখী বলছেন, রাইধনি!এ তুমি অবান্তর কথা বললে,কেন-না, আমরা জানি মেঘ যেখানে থাকে সেইখানে বরিষণ হয়। আর তুমি বলছ, যেখানে মেঘ সেখানে বরিষণ হয় না।তাহলে ঐ মেঘ থাকে কোথায়?আর বরিষণই বা হয় কোথায়?*
*১|ও মেঘ হৃদয় আকাশে উদয় করি।*
*২|আবার নয়নের পথে বরিখে বারি।।*
*সেই তো জানে। *ঐ মেঘ, যার হিয়ায় লেগেছে।*
*তারে, বরিষণে ভাসিয়েছে।।*
*১|মোর মনে হয় বিজুরী হইয়া।*
*২|জড়ায়ে রহি গো ও মেঘে গিয়া।।*
*জড়ায়ে থাকব।*
*ঐ নব মেঘ হিয়ায় ধরে।*
*আমায়, যে যাই বলুক লোকে।।*
*১|জ্ঞান দাসে কহে না কহ আন।*
*২|যা কহিলে ধনি সেই সে প্রমাণ।।*
*আর যেন বোলো না।*
*লোকে শুনলে কি বলবে।*
*ঐ হৃদয়ের ধন হৃদয়ে রাখ।।*
*🌹🌹রূপানুরাগ🌹🌹*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*তাল=তেওট, ৭ মাত্রা*
•••••••••••••••••••••••••••
*১|দেখে এলাম তারে তারে সই ও-ও-ও-ও-ও*
*ও দেখে এলাম তারে----- তারে এ-এ-এ-এ*
*১| কাট=*
*আমি, এই এখনি দখে এলাম রে।*
*সুখদা কালিন্দী কুলে।*
*কদম্ব----হিলনে।*
*ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠামে।।*
*তাল=লোফা*
************
*১|দেখে এলাম তারে সই দেখে এলাম তারে।*
*২|এক অঙ্গে এত রূপ নয়নে না ধরে।।*
*🏵আখর🏵*
*ধরে না রে।*
*আমার নয়নেতে।*
*তার এক অঙ্গ এত রূপ।।*
*১|বেন্ধেছে বিনোদ চূড়া নব গুঞ্জা দিয়া।*
*২|উপরে ময়ূরের পাখা বামে হেলাইয়া।।*
*🌹কথা=সখীরে! আমার বঁধূর মস্তকে যে চূড়া আছে তা নবগুঞ্জা ফুল দিয়ে বাধা এবং তার উপরে ময়ূরের পাখা আছে বটে,তা আবার বামে হেলে আছে।*
*ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন,চূড়া কেন বামে হেলে আছে জান?*
*পাবে বোলে।*
*যুগল চরণ পাবে বোলে।*
*যুগল চরণে ঠাঁই পাবে বোলে।*
*তাইতো চূড়া বামে হেলে।।*
*তাল=দাস পারিয়া*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*১|কালিয়া বরণ খানি চন্দনেতে মাখা।*
*২|আমা হৈতে জাতি কুল নাহি গেল রাখা।।*
*বুঝি, আমার জাতি কুল মান থাকবে নারে।*
*ঐ কালিয়ার রূপে নয়ন দিয়ে।*
*আরে ও ললিতা ও বিশাখা।।*
*১|মোহন মুরলী হাতে কদম্ব হিলোন।*
*২|দেখিয়া শ্যামের রূপ হৈলাম অচেতন।।*
*🌹কথা=সখীরে! দেখলাম আমার প্রাণবল্লভ কদম্ব বৃক্ষে হেলন দিয়ে মোহন মুরলী হাতে নিয়ে ঐ মুরলীতে------*
*ঐ মুরলীতে গান করছিল।*
*আমা পানে চেয়ে চেয়ে।*
*রাধা রাধা রাধা বলে।।*
*🌹কথা=ঐ মুরলীর গান শুনে অবধি--*
*তাল=মধ্যম*
☆☆☆☆☆
*আমি,আর যে ধৈরজ ধরতে নারিরে ও বিশাখা।*
*ঐ মুরলীর গান শুনে।* *আমি অচেতন হয়েছিলাম।।*
*🌹সুরে=*
*১| গৃহ কর্ম করিতে এলায় সব দেহ।*
*২|জ্ঞান দাস কহে বিষম শ্যামের লেহ।।*
*🌹কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা জ্ঞানদাস রাধা অনুগত বলছেন, হে রাধারাণী-----*
*গৃহ কর্মে মন বসে না।*
*ঐ শ্যামের রূপে মন দিয়ে।*
*তার কুল মান সবই যাবে।।*
*🌹মুরলী বর্ষণ অন্য পদে🌹*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹নিকুঞ্জবনে উভয়ে বিলাস করে গৃহগমনের পথে চলেছেন।*
*ছোট দোঠুকি*
▪▪▪▪▪
*১|বেশ বনাই, বদন পুনঃ হেরই,*
*পদে করু বারহি বার।*
*২|ঢর ঢর লোর, ঢরকি পরি লোচনে,*
*নিজ তনু নহে আপনার।।*
*১| সুন্দরী কোরে নাগর কান।*
*২|দেহ বিদায়, মন্দিরে যাওব,*
*দিনকর করত পয়ান।।*
*🏀কথা=রাধারাণী বলছেন--*
*🌹আখর🌹*
^^^^^^^^
*শুধু, দেহ বিদায়।*
*বঁধূ, প্রাণ রৈল তোমার ঠাঁই।*
*ওহে আমার প্রাণবল্লভ।।*
*🌻সুরে=*
*১|কানুক চিত,থির করি সুন্দরী,*
*কুঞ্জ বাহির দুহুঁ ভেল।*
*২|নীলাম্বরে ঝাঁপি,অঙ্গ মণি মঞ্জির,*
*নিজ মন্দিরে চলি গেল ।।*
*🌻সুরে= শ্যামনাগর নন্দালয়ের পথে, আর রাধারাণী যাবটের পথে গমন করে নিজ মন্দিরে (গৃহে) প্রবেশ করে------*
*১|রতন পালঙ্কপর,বৈঠল রসবতী,*
*সখীগণ ফুকারই চাই।*
*২|রজনী পোহাওল,গুরুজন জাগল,*
*গোবিন্দ দাস বলিহারী যাই।।*
*ছোট দোঠুকি, পদ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*নিশাচল অস্তাচলে গত,*
*জটিলা দেখিলে রজনী গত,*
*🌹কথা=চন্দ্রদেবকে অস্তগামী দেখে জটিলা নিশি প্রভাত জেনে---*
*চলিলা তুরিতে, সুরজ পূজিতে,*
*পাঠাতে বধূর স্থলে।।*
*🌹কথা=সূর্য্য পূজা করিবার জন্য বধূকে পাঠাবে বলিয়া তাড়াতাড়ি বধূর ঘরে চলিলেন,*
*জটিলা চলিলা তুরিত গতি,*
*আবার, দ্বার মোচন দেখি গৃহেতে গতি,*
*🌹কথা=তাড়াতাড়ি যেতেই রাধারাণীর ঘরের দরজা খোলা দেখে জটিলা রাধারাণীর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছেন।*
*দেখিল নয়নে, বধূ যে শয়নে,*
*অচেতন বাঁশী কোলে।।*
*🌹কথা=ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে দেখলেন যে,বধূ শয়নে আছে এবং তার কোলে কৃষ্ণের বাঁশী।*
*🍀ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, গত রজনীতে যে রাস নৃত্যে কৃষ্ণ বাঁশী পণ রেখে, পণে বাঁশী হারিয়েছিলেন অর্থ্যাৎ পণে হেরে গিয়েছিলেন।সেই বাঁশীটি রাধারাণীর কাছেই সখিগণ জমা রেখেছিলেন।রাধারাণী গোবিন্দের রূপ মাধুর্য্যে বা প্রেম মাধুর্য্যে ও কেলি মাধুর্য্যে ভুলে গিয়েছেন,আর বাঁশীর কথাও মনে নেই।বাঁশীটি আঁচলেই বাঁধা ছিল। ঘরে এসে ঐ অবস্থাতেই পালঙ্কে শয়নে আছেন বটে কিন্তু গোবিন্দের স্মৃতিতেই আত্ম-মন প্রাণ বিভোর হয়ে আছেন।নিজ কোল মধ্যে যে আঁচলে বাঁধা বাঁশীটি রয়েছে তা একেবারেই বিস্মরণ হয়ে গেছেন।ঐ বাঁশীটি বক্ষে ধরে বিভোর হয়ে শয়নে আছেন। জটিলা রাইধনির ঘরের দরজা খোলা দেখে তাড়াতাড়ি ভিতরে প্রবেশ কোরে,ঐ কালার বাঁশী দেখতে পেয়েছেন।*
*দেখিল নয়নে,বধূ যে শয়নে,*
*অচেতন বাঁশী কোলে।।*
*জটিলা দেখিয়া ক্রোধেতে ভোর,*
*বলে একি কলঙ্কিণী কোলেতে তোর,*
*হইবে অনুজ, নন্দ তনুজ,*
*ভূজ বাঁশী কোথায় পেলে।।*
*🌹কথা=ঐ বাঁশী দেখে জটিলা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলছেন, কলঙ্কিণী, তোর কোল মধ্যে দেখছি ঐ কেলে ছোড়ার বাঁশী, ঐ বাঁশী তুই পেলি কোথায়?*
*🌹ও বুঝেছি, হ্যাঁ,ঠিক, বাঁশীটি ঐ কেলে ছোড়ার,ঐ মুরলীতে আমার কুলেতে কালি দিয়েছে, আমার গুরুগৌরব যা ছিল তাও ঐ মুরলীতেই খেয়েছে।ঐ মুরলী তুই পেলি কোথায়? ও---হা---হা----বুঝেছি---*
*গত রজনীতে আসিল শ্যাম,*
*বাঁশীতে গাহিল তোহারি নাম,*
*হেরি নিশি গত, পালাতে তুরিত,*
*বাঁশীটি গিয়েছে ফেলি।।*
*🌹কথা=গত রাত্রে তোর ঘরে কেলে ছোড়া এসেছিল বা তোর নাম ধরে বাঁশীও বাজিয়েছিল, সারারাত্রি তোর ঘরেই ঐ কলেলে ছোড়া ছিল, হঠাৎ নিশি প্রভাত দেখে তাড়াতাড়ি চলে যেতেই বাঁশীটি ভুল করে ফেলে চলে গিয়েছে।*
*এতেক বচন শুনিয়া রাই,*
*নয়ন মেলিয়া ইঙ্গিতে চাই,*
*দেখে বাঁশরী লাজে কিশোরী,*
*ঈশ্বরী প্রতি বলে।।*
*🌹কথা=রাধারাণী জটিলার মুখে ঐসব কথা শুনে সামান্য একটু নয়ন মেলে চেয়ে দেখছেন, সত্যই তো আমার কোল মধ্যে বঁধূর বাঁশী। হায়! হায়! আজ আমার ভাগ্যে যে কি আছে, এই মনে করে,মনে মনে অঘটন-ঘটন পটীয়ষী যোগমায়া বড়াই বুড়িকে স্মরণ করে বলছেন--*
*বিপদ ভঞ্জনী বলি মা তোরে,*
*এই বিপদে রাখ মা মোরে,*
*নইলে আমি ব্রজের গণি বাস,*
*ভাগবত দাসে বলে।।*
*🌹কথা=রাধারাণী বলছেন,বিপদভঞ্জনী মাগো, এই বিপদে তুমি রক্ষা কর মা,নইলে বোধহয় এই ব্রজে বাস করা আমার অসম্ভব হয়ে যাবে।*
[11/07, 3:37 pm] Joydeb Dawn: *পদ*
*বাঁশী দেখি জটিলার ক্রোধে অঙ্গ জ্বলে।*
*ডাক দিয়ে কহে আসি দেখ গো কুটিলে।।*
*🌹কথা=জটিলে ঐ বাঁশী দেখে কুটিলাকে ডেকে বলছেন, ও কুটিলে-----,দেখে যা---দেখে যা, তাড়াতাড়ি আয়-- তোর এতদিনের সাধনা সিদ্ধি হয়েছে,আমাদের কলঙ্কিণী বধূর কলঙ্ক নিজের ঘরের মধ্যেই ধরা পরেছে।*
*কুটিলা মায়ের বাক্যে এলো তাড়াতাড়ি।*
*কে বলে সাধ্বী সতী রাধিকা সুন্দরী।।*
*🌹কথা=জটিলার ডাক শুনে কুটিলে তাড়াতাড়ি ছুটে এসেছে, এসেই দেখে বলছে, ও বাবা! এত দিনের সাধনা আমার আজ সিদ্ধি হয়েছে।*
*🏵আখর= আজ, দেখাইব।*
*এই, বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
*কলঙ্কিণীর সতী পণা।।*
*🌹কথা=এই বলে কুটিলা দাসীকে ডাকছে, দাসী কাছে এলে কুটিলা দাসীকে বলছে, দেখ দাসী! এই বৃন্দাবনের মধ্যে রাধা-সতী,রাধা-সতী বেশী গেয়ে বেড়ায় কে জান?না,ঐ যে---- বড়াইবুড়ি--------*
*দাসী প্রতি ডেকে বলে তারে ডেকে আন তুমি।*
*তাহারি ঘটক পণা আজি দেখাইব আমি।।*
*🏵আখর= আজ দেখাইব।*
*সতীর দলের সতীপনা।*
*মুখে চুন কালি দিয়ে।।*
*কুটিলার বাক্যে দাসী যায় দ্রুত পদে।*
*ভাগবত দাসে কহে মাগো রাখগো বিপদে।।*
*🌹কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা ভাগবত দাস রাধা অনুগত হয়ে বলছেন---*
*🏵আখর=ওমা, রক্ষা কর।*
*এই বিপদ হইতে।*
*আমাদের, বৃষভানু রাজনন্দিনীকে।।*
*🌹কথা=জটিলা-কুটিলার আদেশে দাসী তাড়াতাড়ি যোগমায়ার বাড়ি গিয়ে,বাড়ীর বাহির হতে ডাকছে-- ও--- বড়াইবুড়ি------ও----- বড়াইবুড়ি বলে ডাকতে লাগল।*
*বড়িমাই ঐ ডাক শুনেই বুঝতে পেরেছেন যে কুটিলার দাসী এসেছে।বড়িমাই মনে করছেন নিশ্চয়ই কোন অঘটন ঘটেছে। তা যাই হোক, দাসীর মনের মধ্যে প্রবেশ করে বিষয়টি আগে জানতে হবে। এই মনে করে বড়িমাই ঘর হতে বেড়িয়ে দাসীকে ডেকে বলছেন, এসো এসো আমার ঘরে এসো।দাসী বড়াইয়ের কাছে গিয়ে বলছে,না বাপু আমি বসতে পারব না, তুমি তাড়াতাড়ি করে আমার সঙ্গে চলো।আমাদের বাড়ি তোমাকে যেতে হবে,কুটিলা মাই তোমাকে ডাকছে।তখন বুড়িমাই দাসীর গায়ে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বলছেন, বোন আমার দিদি আমার!বলত তোদের বাড়ীতে কি হয়েছে?তখন দাসী বলছে, না বাপু,তা আমি বলতে পারব না,বলে শেষে কুটিলা মায়ের ঝাটা লাথি খাবে কে!তুমি তাড়াতাড়ি চল। বড়িমাই ঘরের ভিতর হতে কিছু খাবার এনে দাসীর হাতে দিয়ে,কাছে বসিয়ে বলছেন,বোন! তোকে আমি এত ভালবাসি আর তুই এই সামান্য কথাটি আমাকে বলবি না, এতে আমার মনে বড়ই দুঃখ হল। দাসী তখন নাড়ু মোয়া খেতে খেতে বলছে তবে শোন, দেখ বাপু, আবার তাদের কাছে যেন বলনা, যে আমার মুখে শুনেছ।গেলেই জানতে পারবে যে আজ কি অঘটন ঘটেছে।*
*তখন পুনঃ বড়াই বলছেন,কি হয়েছে বোন!ভাল কোরে বলনা, এবার দাসী মুখ খুলল,বলল,তবে শোন--, গত রজনীতে আমাদের বধূর ঘরে নন্দঘোষের যে কালছেলে চোর,লম্পট,শঠ অর্থ্যাৎ সবাই যাকে ননীচোরা বলে ডাকে সেই এসেছিল, বধূর ঘরে সারারাত্রি ছিল।আবার নাকি বধূর না ধরে মুরলীও বাজিয়েছিল।বোধহয় সারারাত্রি বধূর সঙ্গে হাসি কৌতুক করতে করতে ঘুমিয়ে পরেছিল। হঠাৎ নিশি প্রভাত জেনে,তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছে, কিন্তু হাতের যে মুরলী তা ভুলে ফেলে গিয়েছে। সেই মুরলী কোলে নিয়ে বোকা বধূ ঘুমে বিভোর হয়েছিল।প্রতিদিন সূর্য্য পূজায় যেতে হবে কিনা-- তাই জটিলা-মা সকালবেলা বধূর দরজা খোলা দেখে ঘরের মধ্যে ঢুকে দেখে, বধুর কোলে ঐ মুরলী, আর যাবে কোথায়!জটিলা আর কুটিলাতে কি কান্ডই না বেঁধেছে।আর বাপু বোকা বধূ কিনা সঙ্কটে পরেছে, তা বলে আর পারি না।*
*তখন বড়িমাই মনে মনে চিন্তা করে দেখলেন, গত রজনীতে যে রাস নৃত্যের পণে শ্যামনাগর মুরলী হেরেছিল,সেই মুরলীটাই রাধারাণীর কাছে ছিল,বোধ হয় ভুলে সেই মুরলী নিয়েই কৃষ্ণ স্মৃতি হৃদয়ে জাগায়ে ঘুমে বিভোর ঘুমিয়েছে, সেই মুরলী ধরা পরেছে।এই চিন্তা করে বড়াই হেসে মনে মনে বলছেন, এই--- কথা, আচ্ছা--------।*
*🏵আখর=*
*আজ আমি, হাতে নিব।*
*কলঙ্ক ছড়ার হাঁড়ি।*
*বৃন্দাবনের, ঘরে ঘরে ছিটাইব।*
*আজ আমি, দাগ লাগাইব।*
*কৃষ্ণ, কলঙ্ক কালির।*
*আজ আর, কাউকে বাকী রাখব না।*
*সব, মায়ে ঝিয়ে এক করব।।*
*🏵আখর= আজ, মাখাইব।*
*কৃষ্ণ, কলঙ্ক কালি মুখে।*
*যেসব মুখ, কৃষ্ণ নিন্দায় সদায় রত।।*
*🌹কথা=এই কথা মনে মনে চিন্তা করে--*
*পদ*
*দাসী মুখে যোগেশ্বরী,*
*শুনিল সঙ্কট ভারি,*
*করিলেন মায়া চমৎকার।*
*🌹কথা=যে অঘটন-ঘটন পটীয়সী যোগমায়া কৃষ্ণ মায়ায় বলিয়ান, সর্বদা কৃষ্ণ সেবাই রত,সেই মা আমার এমন মায়া বিস্তার করলেন যে ----*
*হয় মুরলী বরিষণ,*
*যে যেথা করে শয়ন,*
*পার্শ্বেতে পার্শ্বেতে সবাকার।।*
*🏵আখর=বরিষণ করিল।*
*বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
*শ্রীগোবিন্দের মুরলী।।*
*🌹কথা=গোবিন্দের মুরলী যোগমায়ার যোগবলে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে নিজ নিজ শয়ন শয্যার উপরে একটি করে মুরলী পরে রইল।এমন কি নিজ গৃহে নিজের শয্যার উপরেও একটি মুরলী পরে রইল।*
*🌻সুরে= দাসীর হাত ধরে নিজ গৃহ মধ্যে নিয়ে গিয়ে বলছেন------- দাসীরে--------,*
*শীঘ্র এসে দেখ দাসী,*
*আমার শয্যাতে বাঁশী,*
*কি ভাবে বাঁশীটি আসিলে।*
*🌹কথা=বড়াইবুড়ি বলছেন, এই দেখ দাসী, আমার শয্যার উপরেও দেখছি একটি বাঁশী,এ বাঁশী কোথা থেকে এলো? তা যাই হোক, এই বলে নিজ ঘরের বাঁশীটি হাতে নিয়ে---*
*যশোদার গৃহের মুরলী,*
*লইলেন ছলা করি,*
*দিল রাণী কৃষ্ণের বাঁশী ব'লে।।*
*🌹কথা=নিজ ঘরের বাঁশীটি হাতে নিয়ে,দাসীকে সঙ্গে করে, মা যশোদার ঘরে গিয়ে বলছেন,ও মা যশোদে!তোমাদের শয্যার উপরে দেখ তো একটি বাঁশী পরে আছে? থাকলে ঐ বাঁশীটি আমায় দাও তো,এই বলিয়া বাঁশীটি নিয়ে অন্য একটি বাড়িতে গেলেন,সে বাড়িরও বাঁশীটি নিলেন। এমনি করে সারা বৃন্দাবনের ঘর ঘর হতে মুরলী একত্রিত করে, মুরলীর বিরাট বোঝা বেঁধে নিয়ে দাসীর মাথায় তুলে দিয়ে বলছেন, এবার চল----*
*তদন্তর বাঁশী নিয়ে,*
*চলিলা জটিলা লয়ে,*
*হাসি হাসি মায়া প্রকাশিয়া।*
*🌹কথা=সখী ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন---*
*🏵আখর=*
*বড়াই হেলে দুলে যায় রে।*
*জটিলা-কুটিলার, মুখে চুন-কালি দিতে।*
*যে মুখ, কৃষ্ণ নিন্দায় সদাই রত।।*
*ভাগবত দাসে কয়,*
*প্রণাম করি মা পায়,*
*কে বুঝিতে পারে তব মায়া।।*
*🌹কথা=জটিলার দরজার সামনে গিয়ে বাইরে মুরলীর বোঝাটি নামিয়ে রেখে অঙ্গন মধ্যে প্রবেশ করেছে।যখনিঅঙ্গন মধ্যে প্রবেশ করেছে অমনি--*
*পদ*
*ছোট দোঠুকি*
*যোগমায়ারে দেখিলা কুটিলা।*
*ক্রোধভরে কিছু কহিতে লাগিলা।।*
*🌹কথা=ও-----বড়াইবুড়ি------- এসো------এসো-------আমি---- চুন-কালির------হাঁড়ি হাতে নিয়ে বসে আছি।এসো----তোমাদের ঘটকপনা আজ আমি------*
*🏵আখর= ঘুচায়ে দিব।*
*আজ, সতীর দলের সতীপনা।*
*আজ--- হাতে হাতে ধরেছি।।*
*🌹কথা=এসো এসো এই বলিয়া রাধারাণীর ঘরের দরজার সামনে নিয়ে গিয়ে বলছে, ঐ দেখ-----*
*তুমি বল মোদের সতী যে রাই।*
*এমন সতী ত্রিভূবনে দেখি নাই।।*
*🏵আখর=*
*বলি, তুলনা মেলে না।*
*তোমাদের, রাধা চূড়ামণি সতীর।*
*এ যে, ত্রিভূবন বিজয়ই সতী।।*
*🌹কথা= ও---বড়াই-- ঐ দেখ,*
*গত রজনীতে আসিল শ্যাম।*
*বাঁশীতে গাহিল রাধার নাম।।*
*🏵আখর=*
*আমরা, শুনতে পেয়েছি।*
*রাধা বলে বংশীধ্বনি।*
*এই গত রজনীতে।।*
*🌹কথা=গত রজনীতে তোমাদের সেই রাখাল ছোরা, তমাদের রাধাসতীর নাম ধরে প্রথমে বাঁশী বাজায়,তারপর চুপি চুপি রাধার ঘরে এসে রাধার কাছেই সারা রাত্রি ছিল, এবং সারা রাত্রি হাসি কৌতুকে কেটে গিয়েছে। হঠাৎ নিশি প্রভাত দেখে মুরলীটি ভুল করে ফেলে চলে গিয়েছে।*
*লুকাইতে তাহা প্রকাশ পাইল।*
*ধর্মের ঢোল বাজিয়া উঠিল।।*
*🌹কথা=আজ যখন আমার এতদিনের সাধনা সিদ্ধি হয়েছে,তখন আজ আমি----*
*🏵আখর=ঢোল বাজাইব।*
*বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
*মুখে চুন কালি দিয়ে।।*
*🌹কথা=কুটিলা, পুনঃ বড়াইকে বলছে,তোমাকে ডেকেছি কেন জান? ঐ মুরলীর মালা গেঁথে কলঙ্কিণীর গলে দিয়ে এই বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে বেড়াব।আর আমি পেছনে পেছনে ঢোল বাজাতে বাজাতে যাব। আর তুমি খুব লম্বা গলা করে "রাধা-সতীর" গুণ গাও কি-না দেখব?তাই তোমাকেও আমার সঙ্গে যেতে হবে।*
*তখন বড়াইবুড়ি বলছেন, তা যখন বলছিস যাব, কিন্তু এই বলিয়া জটিলার হাত ধরে বলছেন, ও জটিলে!দেখি তোর ঘরের ভিতর একটু ঘুরে আসি চল।এই বলে জটিলাকে সঙ্গে নিয়ে, জটিলার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন, দেখলেন জটিলার শয্যার উপরে একটি মুরলী পরে আছে,তখন ঐ মুরলী দেখিয়ে বলছেন, ও--------গো------জটিলে--------ও------কি-------তুইও----কি----ঐ কালাছোড়ার--------!*
*তোর শয্যার উপরেও তো মুরলী দেখছি, ঐটা কার মুরলী?এই বলে মুরলীটি হাতে নিয়ে দেখে বলছেন, এ যে কৃষ্ণের মুরলী গো-------,তোমার ঘরেও কৃষ্ণ এসেছিল?ওগো-----দেখ-গো----- দেখ-------বুড়ি বয়সে পিরীতের কি ঘটা----দেখ গো-----,*
*🏵আখর= পিরীত করা।*
*বুড়িকালে ছোড়ার সনে।*
*আ-ছি-ছি, লাজে মরি লাজে মরি।।*
*🏵কথা=ও- - -ও- - - বুঝেছি জটিলে-------,তোদের কীর্তি বুঝেছি-------তুইও------- কৃষ্ণের সঙ্গে বুড়োকালে পিরীত করছিস? তাই গোপনে গোপনে তোর ঘরেও কৃ-----ষ্ণ আসে। এই কথাগুলি বলে মুরলীটি বগলে রেখে, কুটিলার হাত ধরে কুটিলার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন,প্রবেশ করে দেখেন যে, কুটিলার শয্যার উপরেও মুরলী দেখা যাচ্ছে, মুরলীটি হাতে নিয়ে বড়াইবুড়ি বলছেন, কি-----গো-----কুটিলে! চোরের মায়ের বড় গলা----- কেমন-----। তুইও ভিতর ভিতর কৃ----ষ্ণের সঙ্গে পিরীত করছিস দেখছি, তা না হলে তোর শয্যায় মুরলী কেমন করে এলো বল?তোর ঘরে কৃষ্ণ না এলে মুরলী কোথা থেকে এলো বল সতীর মেয়ে সতী?এই বলে এক হাতে বাঁশী সমেত কুটিলার হাত ধরেছেন,অন্য হাতে বাঁশী শুদ্ধ জটিলার হাত ধরে মনের আনন্দে বলছেন---*
*🌹আখর= ঢোল বাজাইব।*
*বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে।*
*মায়ে, ঝিয়ে বৌয়ে পিরীত করা।।*
*🏵কথা= এই কথা শুনে ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন--*
*🏵আখর=*
*এ পিরীতে, বাধা নেই বাধা নেই।*
*মায়ে ঝিয়ে পিরীত করে।*
*প্রাণ গোবিন্দ তোমার হলেম বলে।।*
*🌹কথা=এ পিরীতের এমনি গতি যে পিতাও বলেন প্রাণবল্লভগোবিন্দ , পুত্রেও বলেন প্রাণবল্লভগোবিন্দ , মায়েও বলছেন প্রাণবল্লভগোবিন্দ, স্বামীও বলছেন প্রাণবল্লভ গোবিন্দ,পুত্র বধূও বলছে প্রাণবল্লভ গোবিন্দ, কেন বলবে না? কারণ পুরুষ বলতে একমাত্র আমার প্রাণবল্লভ শ্রীকৃষ্ণ, আর সব প্রকৃতি। কিন্তু অনেকেই প্রকৃতি হয়েও নিজে পুরুষ অভিমানে বিভোর হয়ে, কামনা বাসনায় মেতে আছে,তাই শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন----*
*🌷প্রকৃতি হইয়া করে প্রকৃতি সম্ভাষণ।*
*🌷প্রভু কহে আমি তার না হেরি বদন।।*
*🌷প্রকৃতি হইয়া করে প্রকৃতি সঙ্গ।*
*🌷দিনে দিনে বারে তার প্রেমের তরঙ্গ।।*
*🏵কথা= এদিকে জটিলা, কুটিলার মুখ শুকিয়ে গিয়েছে, তখন বড়াই বলছেন, ওগো------ জটিলে, ওগো----- কুটিলে! তোমাদের কোন দোষ নেই। কেননা,গত রজনীতে এই বৃন্দাবনে চরম মেঘ হয়েছিল,সেই মেঘে এই বৃন্দাবনবাসীর ঘরে ঘরে প্রত্যেকের শয্যার উপরে একটি করে মূরলী বরিষণ হয়েছে।তোরা কেউ তা উপলব্ধি করতে পারিস নাই। আমি সব মুরলী কুড়িয়ে নিয়ে এসেছি।এই বলে ঐ মুরলীর বোঝাটি বা মুরলীর থোকটি নিয়ে এলেন।তখন জটিলা ও কুটিলা ঐ মুরলীর বোঝা দেখে অবাক---*
*সকলেতে বাঁশী এনে একত্র করিল।*
*কৃষ্ণের মুরলী তথায় রাশি রাশি হইল।।*
*🌹জটিলা কিন্তু ছারবার পাত্রী নয়, তাই বলছেন----*
*কুল নাশা বাঁশী আমি তাও ভাল জানি।*
*বাঁশীর নাম গন্ধ না রাখিব লাগাব আগুনি।।*
*🌹কথা= এই বলে যখনই জটিলা মুরলীর বোঝাতে আগুন দিতে গিয়েছে,অমনি বড়াই বলছেন, তা বাপু!তোদের কুলের ভয় আছে,তোরা সব মুরলী পুরিয়ে ফেল, কিন্তু আমার ঘরে যে মুরলীটি পরেছিল, তা আমি পোড়াতে দিব না।আমার বুড়োকালে এত কুলের ভয় নেই।*
*যোগমায়া বলে শুন আমি কিছু বলি।*
*মূল বাঁশী চিনে নিল এই ছলা করি।।*
*🏵কথা=বড়াইবুড়ি তখন যেটি প্রকৃত শ্রীকৃষ্ণের মুরলী ছিল, সেইটিকে চিনে নিয়ে রাধার বদন পানে চেয়ে মুচকি হেসে চলে গেলেন।*
*ভাগবত দাস বলে মা বলিহারি যাই।*
*মুরলী পুড়িল কিন্তু ভস্ম কিছু নাই।।*
*🏵কথা= একটি মুরলী বাদে সবই মায়ার দ্বারা মুরলী তৈরী করা হয়েছিল, একমাত্র রাধারাণীর সম্মান বাঁচানোর জন্য। কিন্তু দেখা গেল একটি বাদে সব মুরলী পোড়ানো হল বটে, কিন্তু ভস্ম বা ছাই দেখা গেল না।*
*🌹ঠিক এমনি সময় ললিতা ও বিশাখা সহ সব সখীগণ এসে বলছেন, ও মা! জটিলে!তোমার বধূকে নিয়ে আমরা যমুনায় স্নানে যাই অনুমতি কর।জটিলা তখন রাইধনির মস্তকে ও বদনে হাত বুলিয়ে বললেন,সতী লক্ষ্মীমা আমার সখীদের সঙ্গে স্নানে যাও। রাধারাণী সখীদের সঙ্গে স্নানের জন্য নন্দালয়ের নিকট পথ দিয়ে যমুনা ঘাটে চলেছেন।শ্যামনাগর তখন গো-দোহনের ছলে ধেনু বৎসের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন,দূর হতে দেখলেন সখীদের সঙ্গে প্রেমময়ী রাইধনি আসছেন, অমনি---*
*🍀পদ🍀*
*রাধা বদন, চাঁদ হেরি ভুলল,*
*শ্যামের নয়ন চকোর।*
*ছান্দ বন্দ বিনা,ধবলী দোহত,*
*বাছিয়া করত কোর।।*
*🏵কথা=ছাদন ডুরি অর্থ্যাৎ গরুর বাঁধা যে দড়ি, বিহীন বৎস ছেড়ে দিয়ে ধবলীকে দোহন করতে বসলেন।কিন্তু চোখ রয়েছে রাধা বদনের দিকে। আর এদিকে ধবলী সরে গিয়েছে, শুধু হাত দুখানিই দোহন কার্য্য করছে কিন্তু গরুর বাট বিহীন।কেন--*
*সুন্দরী দেখে মুগধ মুরারি।*
*ঝাঁটুহি অঙ্গুলি,করত গতাগতি,*
*হেরি হাসত ব্রজনারী।।*
*🌹কথা=গাভী বিহীন দোহন অবস্থা দেখে সখীগণ বেষ্টিত শ্রীরাধিকা হেসে অধীর হয়ে যাচ্ছেন। শ্রীকৃষ্ণ সখীদের হাসি দেখে তখন নিজের পানে লক্ষ্য করে,আর ধবলীর পানে লক্ষ্য করে,দেখছেন, ধবলী নেই, তখন---*
*লাজহি লাজ, হাসি দিঠি কুঞ্চিত,*
*পুনলেহি ছাদন ডোর।*
*🏵কথা=শ্যামনাগর লজ্জা পেয়ে মুচকি হাসি হেসে তাড়াতাড়ি আবার ছাদন ডুরি নিয়ে রাধারাণীর বদন পানে লক্ষ্য করতে করতে-----*
*ধবলী ভরমে, ধবল পদ ছান্দহি,*
*গোবিন্দ দাস মন ভোর।।*
*🏵কথা=গোবিন্দ আমার ধবলী ভ্রমে ধবল অর্থ্যাৎ পাশে একটি ষাঁড় ছিল,সেই ষাঁড়ের পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধেছেন, তা ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন যে, গোবিন্দ!আমার ষন্ড অর্থ্যাৎ "সাক্ষাৎ কাম" ছেঁদে নিয়ে বা বেঁধে দিয়ে, জগৎকে শিক্ষা দিয়েছেন, কেমন শিক্ষা, না,পদকর্তা জগৎকে ডেকে ডেকে বলছেন, হে অনন্তকোটি জগতের জীব যদি কারও অপ্রাকৃত বিশুদ্ধ প্রেমভক্তির লালসা হৃদয়ে জেগে থাকে বা রাধা বদন দরশনের সাধ থাকে তাহলে---*
*🌹আখর=ছাঁদন পরাও।*
*কামনা বাসনা কামকে।*
*গুরুদত্তা, উপাসনার ডুরি দিয়ে।।*
*আখর= যদি সাধ থাকে।*
*রাধা, গোবিন্দ ভজনের।*
*উপাসনা, ডুরির ছাঁদন পরাও।।*
*🏵কথা=উপাসনা ডুরির ছাঁদনটি কেমন? না, একমাত্র সৎগুরুর দেওয়া বস্তু।গুরুর দেওয়া বস্তুটি কি? না, কামবীজ কামগায়ত্রী।*
*🌷বৃন্দাবনে অপ্রাকৃত নবীন মদন।*
*🌷কাম বীজ কাম গায়ত্রী যার উপাসন।।*
*🏵কথা=শ্রীকৃষ্ণই অপ্রাকৃত নবীন মদন। মত্ততা জন্মায় যে তার নাম মদন।। কামবীজ কাম গায়ত্রী জপ সাধন-ভজন করিলে অন্য প্রাকৃত কাম কামনা বাসনা দূরীভূত হয়। এবং শ্রীরাধা গোবিন্দে তীব্র উৎকণ্ঠা জন্মায়।তীব্র উৎকণ্ঠা না জন্মিলে, শ্রীগোবিন্দের দর্শন বা সেবা লাভ হয় না।*
*🍀তাই ভাবাবিষ্ট পদকর্তা বলছেন, সৎগুরু আশ্রয় করে, শ্রীগুরুদেবের শ্রীপাদপদ্ম হৃদয়ে ধারণ করে এই কামবীজ কাম গায়ত্রী দ্বারা ভজন সাধন করিলে শ্রীরাধাগোবিন্দের রূপমাধুর্য্য হৃদয়ে স্ফুরিত হয় বা সেবা লাভ হয়---*
*🏵আখর=এবার, জড়ায়ে ধরবে।*
*শ্রীগুরু, শ্রীপাদপদ্ম হৃদয়ে।*
*দয়ালগুরু, তোমার হলেম বলে।।*
*যেই গুরু সেই কৃষ্ণ।।*
*🌹🌹বিরাম পদ🌹🌹*
*হেরইতে বিনোদিনী ভুলল রে।*
*গোদোহন শ্যাম তেজল রে।।*
*🌹কথা=সখীগণ নয়ন ইঙ্গিত করে যমুনায় চলে গেলে, শ্যামনাগরও ঐ ইঙ্গিত অনুসারে গমন করলেন। গেল সবে যমুনার জলে।যমুনার জলে গিয়ে জলকেলি করে তীরে উঠিল সখীগণ মেলি।শুকনো বসন পরিধান করে সবে নিকুঞ্জ মন্দিরে বসাইল রতন বেদীর উপরে।ক্ষীর,সর,ননী যা কিছু ছিল, আগে দেয় কৃষ্ণ বদনে, পরে দেয় রাধার বদনে।সবে প্রসাদ পেল জনে জনে।ভোজন আচমন শেষ করে নিভৃত নিকুঞ্জে।*
*চাঁদ চকোর যেন পাওল রে।*
*রাই প্রেমজলে ভাসল রে।।*
*অঙ্গ পুলকিত পূরল রে।*
*গোবিন্দ দাস মন ভুলল রে।।*
*🏵কথা=এই নিভৃত নিকুঞ্জে রতন বেদীর উপরে শ্রীরাধা গোবিন্দকে যুগল করে বলছেন--*
*🏵আখর=*
*তোরা, জয় দে জয় দে।*
*রাধা গোবিন্দের যূগল হেরে। প্রেমানন্দে বাহু তুলে।।*
*জয় দিলে জয় হবে।।*
*🙌অমনি থাকুক যুগল,যূগল কিশোর আমাদের, শ্রীরাধা গোবিন্দের যূগল, শ্যাম জয় কিশোরীর জয়।*
*🙌জয়রাধে রাধে গোবিন্দ বল জয়।*
*🙌শ্যামের জয় কিশোরীর জয়।*
*🙌জয় রাধে জয় রাধে জয় রাধে জয় রাধে 🙌🙌🙌🙌*
*🙏মুরলী বর্ষণ লীলা এখানেই রইল, বানান, ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়। শ্রীশ্রীরাধাশ্যামসুন্দরের জয়🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
