শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

꧁ গোলক বৃন্দাবনে শ্রীরাধার আবির্ভাব ꧂

✧════════════•❁❀❁•════════════✧       
       ꧁ গোলক বৃন্দাবনে শ্রীরাধার আবির্ভাব ꧂
পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য লীলাপীঠ গোলোক বৃন্দাবন ধামে রাসমণ্ডল নামে একটি স্থান বিদ্যমান। রাসমণ্ডলে একদিকে শতশৃঙ্গ নামে একটি পর্বত বিরাজিত। এই শতশৃঙ্গ পর্বতই ভূলোকে গিরিগোবর্ধন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। বৃন্দাবনে মালতী ও মল্লিকা ফুলের একটি অত্যন্ত মনোহর কানন বিদ্যমান। যাঁর ইচ্ছামাত্রে সবকিছু সংঘটিত হয়, সেই জগতপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঐ পুষ্পোদ্যানে একটি সুন্দর রত্নসিংহাসনে বিরাজ করছিলেন।

 তাঁর চিত্তে লীলাবিলাস উপভোগের বাসনা উদিত হল; আর তাঁর এই লীলানন্দ সুখ সম্ভোগের অভিলাষ হওয়া মাত্রই তাঁর চিন্ময় শ্রীবিগ্রহের বামভাগ হতে এক পরম রূপশালিনী দেবী আবির্ভূতা হলেন। তিনি ছিলেন সর্বাভরণ-ভূষিতা এবং শুদ্ধ ক্ষৌমবসন পরিহিতা। তপ্তকাঞ্চনকান্তি এই দেবী কোটি চন্দ্রের প্রভার ন্যায় দ্যুতি বিকিরণ করছিলেন। তাঁর অঙ্গপ্রভায় সবকিছু উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল।

  তাঁর স্মিতহাস্য বিভাসিত মুখে মুক্তাধবল মনোহর দন্তপংক্তি শোভা পাচ্ছিলো। তাঁর মুখমণ্ডল শরৎকালীন সরোজের সৌন্দর্যকে পরাভূত করছিল। তাঁর গলদেশে শোভিত ছিল মালতী পুষ্পের মালা ও হীরক-হার। যেহেতু তিনি রাসমণ্ডলে আবির্ভূত হন এবং তৎক্ষণাৎ তিনি শ্রীহরির সেবার্থে পুষ্পচয়নে ধাবিতা হন, সেজন্য তিনি "রাধা" নামে বিদিতা হন। "রা" শব্দাংশ রাসমণ্ডলের নির্দেশক এবং "ধা" শব্দাংশ ধাবমান, অর্থাৎ ধাবিত হওয়াকে নির্দেশ করে।

 যেহেতু শ্রীমতি রাধিকা রাসমণ্ডলে আবির্ভূতা হন এবং প্রভুকে রমণাভিলাষী দর্শন করে, তাঁর প্রতি ধাবিতা হন, সেজন্য তাঁর নাম রাধা।
"রাধা পূর্ণশক্তি, কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান।
 দুই বস্তু ভেদে নাহি শাস্ত্রের প্রমাণ।"
 (চৈতন্য চরিতামৃত ১/৪/৮৩)

 পৃথিবীতে শ্রীমতী রাধারাণীর আবির্ভাব প্রসঙ্গে বিভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা দেখা যায়। এর একটি কারণ হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন কল্পে বিভিন্ন রকমের. আবির্ভাব ঘটেছে। গর্গ মুনির কন্যা গার্গীকে পৌর্ণমাসী দেবী শ্রীমতী রাধারাণীর যে আবির্ভাব-তত্ত্ব বলেছিলেন, সেই তত্ত্ব শ্রীল রূপ গোস্বামী তাঁর শ্রীললিতমাধব গ্রন্থে বিধৃত করেছেন। এই অাবির্ভাব সম্বন্ধে পৌর্ণমাসী বিশদভাবে অবগত ছিলেন, কেনোনা তিনি ভগবানের সকল লীলাবিলাসের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা করেন। তিনি এই তথ্য কেবল যশোদা মাতা ও রোহিণী দেবীকে জানিয়েছিলেন।

  বিন্ধ‍্য পর্বত বিশালায়তন হিমালয় পর্বতের প্রতি ঈশ্বান্বিত ছিলো। কারণ হিমালয় পার্বতীকে তাঁর কন্যা হিসাবে পাওয়ায় মহাদেব শিবকে জামাতা হিসাবে লাভ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিন্ধ‍্য পর্বত এজন্য এমন একজন সৌভাগ্যবতী কন্যাকে লাভ করতে চেয়েছিলেন, যাঁর স্বামী মহাদেবকেও যুদ্ধে পরান্ত করতে পারবে, এবং এই ভাবে সে রাজেন্দ্র বা রাজাধিরাজ পদ লাভ করতে পারবে। 

 তাঁর এই অভিলাস পুরণের সংকল্প করে বিন্ধ‍্য পর্বত ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা করতে থাকে। কিছু কাল পর ব্রহ্মা তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে তাঁর অভিলাষিত বর প্রার্থনা করতে বলে। কিন্তু "তথান্ত’ বলে বরদানের পর ব্রহ্মা চিন্তা করতে লাগলেন, "এমন কোন ব্যক্তি আছে, যিনি মহাদেবকে যুদ্ধে পারাজিত করতে পারেন? এটি অসম্ভব।"

  কিন্তু বর তিনি ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছেন, সেজন্য তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি উপলদ্ধি করলেন যে, ভূলোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অপ্রাকৃত লীলা সংঘটিত করার সময় সমাগত হয়েছেঃ কেবল তিনিই মহাদেবকে রণে পরাভূত করতে পারেন। ব্রহ্মা ভাবলেন, “কৃষ্ণের নিত্য লীলাসঙ্গিনী হচ্ছেন শ্রীমতী রাধারাণী। যদি বিন্ধ‍্য-পর্বত রাধারাণীকে তাঁর কন্যা হিসেবে লাভ করতে পারে, তাহলেই কেবল অামার বর ফলপ্রসূ হতে পারে। শ্রীমতী কীর্তিদা রাধারাণীর নিত্য মাতা। কিভাবে বিন্ধ‍্য তাঁকে কন্যা হিসেবে পেতে পারে?"

 তাঁর বর কিভাবে ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে চিন্তাম্বিত হয়ে ব্রহ্মা শ্রীমতী রাধারাণীকে পরিতুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। যখন তিনি তাঁর প্রতি প্রীত হলেন, তখন ব্রহ্মা তাঁকে বিদ্ধ্য পর্বতের কন্যারূপে আবির্ভূত হতে অনুরোধ জানালেন। রাধারাণী সম্মত হলেন, এবং তখন যোগমায়া দেবী ইতিমধ্যেই রাজা বৃষভানু ও চন্দ্রভানুর স্ত্রীদ্বয়ের গর্ভে থাকা রাধারাণী ও চন্দ্রাবলীকে বিন্ধ্য পর্বতের স্ত্রীর গর্ভে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করলেন। এর ফলে বিন্ধ্য-ভার্যা দুটি পরমা সুন্দরী কন্যার জন্মদান করলেন।

 ইতিমধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। ভগবানের আদেশে বসুদেব শিশুপুত্র কৃষ্ণকে গোকুলে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে যশোদার কাছে রাখলেন, যিনি.ইতিমধ্যেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দান করেছিলেন। বসুদেব কৃষ্ণকে সেখানে রেখে পরিবর্তে ভগবৎ অাজ্ঞানুসারে যশোদার কন্যাটিকে নিলেন এবং তাঁকে নিয়ে মথুরার কারাগারে ফিরে এলেন, যেখানে তাঁকে ও দেবকীকে কংস বন্দী করে রেখেছিলো।

 বিন্ধ্য পর্বতের স্ত্রী দুই কন্যা সন্তানের জন্মদান করলে। বিন্ধ্য পর্বত শিশুকন্যা দুটির জন্য সংস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। দুই কন্যাকে যজ্ঞস্থলে রেখে একজন ব্রাহ্মণ যজ্ঞানুষ্ঠান করছিলেন। গগনচারী পুতনা যজ্ঞস্থলে দুই রূপবতী কন্যাকে দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁদেরকে ভূমি থেকে তুলে নিয়ে আকাশ মার্গে উড়ে পালাতে লাগলো। এতে বিন্ধ্যরাজ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে ব্রাহ্মণকে ঐ রাক্ষসীকে মন্ত্রোচারণ দ্বারা হত্যা করতে বললেন। রাজার আদেশে ব্রাহ্মণ মন্ত্রপাঠ করতে লাগলেন, যার ফলে আকাশচারী পুতনা ক্রমশঃ দুর্বলহয়ে পড়তে লাগলো। দুই শিশুকন্যাকে ধরে রাখা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়লো, এবং তাঁদের একজনকে সে নীচে নদীতে ফেলে দিলস। ঐ নদী বিদর্ভ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাতি হচ্ছিলো। বিদর্ভরাজ ভীষ্মক এই কন্যাকে পেয়ে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছে রাখলেন।
 
  সে সময় জাম্ববান বিন্ধ্য ও গোবর্দ্ধন পর্বতে বাস করছিলেন। বিন্ধ্যরাজের অাদেশে জাম্ববান বিদর্ভ গিয়ে সেই কন্যাকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। তিনি চন্দ্রাবলী নামে সুবিদিতা হলেন। পুতনা যখন অপর কন্যাটিকে তাঁর বাহুলগ্না করে নিয়ে উড়ে যাচ্ছিলো, মন্ত্র প্রভাবে সে ক্রমশঃ আর শক্তিহীন হয়ে পড়তে লাগলো। ব্রজে পৌছানোর পর পুতনা আর চলতে না পেরে ভূমিতে পতিত হলো। সেই সময় পৌর্ণমাসী দেবী পুতনার কাছ থেকে ঐ শিশু কন্যাকে নিয়ে মুখরার কাছে অর্পণ করে তাঁকে বললেন, “এই কন্যা তোমার জামাতা বৃষ্ণভানুর সন্তান।"
            
                   জয় শ্রীমতী রাধারাণীর জয়। 

             *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
  
                 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।

       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*

              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*

             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভলীয়া, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR 
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
adds