শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৪৬. সুবল মিলন লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ৪৬. সুবল মিলন লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻সুবল মিলন গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*কি জানি কি ভাবে গোরা গৌরীদাসে ধরি।*
*অবশ হইল অঙ্গ রাধা রাধা বলি*
*রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে।*
*সুরধূনী ধারা বহে অরুন নয়ানে।।*
*তুমি হে পরম সখা পরম সুহৃদ।*
*আমার মনের কথা তোমাতে বিদিত।।*
*রাধা রাধা বলি প্রেমে হইনু বিকল*
*রাধারে আনিয়া মোরে দেখারে সুবল।।*
*এ রাধামোহন দাস প্রেমময় ভাষ।*
*গোপত গৌরাঙ্গ লীলা হইলা প্রকাশ।।*

সুবল মিলন -- গৌরচন্দ্রিকা-----------
কি জানি কি ভাবে গোরা গৌরীদাসে ধরি।
অবশ হইল অঙ্গ রাধা রাধা বলি।।
*** অদ‍্য ভাবনিধি গৌরসুন্দরের ভাব,
কোন ভাবে উদয় হয়েছেন।স্বয়ং পদ-
কর্তা দিব‍্যদৃষ্টি দ্বারা দর্শন করিয়া এই পদখানি রচনা করেছেন, আর লিপিবদ্ধ করেছেন,(কি জানি কি ভাবে গোরা গৌরীদাসে ধরি)পদকর্তা স্বয়ং আমার আমার সংকীর্তনের পিতা গোরাচাঁদের ভাব বুঝতে পারছেন না।
আমার আমার মহাপ্রভু কখন যে কোন ভাবে উদয় হন, একমাত্র স্বয়ং গৌরহরি ছাড়া আন লোকের বুঝা বড় দায়।তাই বলেছেন আমার গৌর কৃপা ভিন্ন তাঁর লীলা আস্বাদন করা বড়ই দায়।তাই মহাপ্রভুর এক অন্তরঙ্গ পার্ষদ, গৌরীদাস সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করি।
** গৌরীদাস পন্ডিতের পিতার নাম কংসারি মিশ্র, মাতার নাম কমলাদেবী তাঁরা ছয় ভাই, দামোদর,জগন্নাথ, সূর্য‍্যদাস, গৌরীদাস,কৃষ্ণদাস ও নৃসিংহ চৈতন‍্য।বর্ধমান জেলার অম্বিকা কালনার -এই ক্ষুদ্র মহকুমা শহর শান্তিপুরের পরপারে।এই শহরে গৌরীদাস পন্ডিত বাস করিতেন।বর্তমান গৌরীদাসের গৃহে শ্রীনিত‍্যানন্দ ও গৌরসুন্দরের শ্রীমূর্তি বিরাজ করছেন।সেই মন্দিরে মহাপ্রভুর শ্রীহস্ত
লিখিত গীতা পুঁথি আছে।জানা যায়, মহাপ্রভু নৌকাযোগে গঙ্গাপার হয়ে নৌকার বৈঠাখানি গৌরীদাসের কাছে এনে বলে ছিলেন, এই বৈঠা দিয়ে তুমি জীবগণকে ভবনদীর পরপারে নিয়ে যেও।মন্দিরে আজও সেই বৈঠা আছে।কিন্তু গৌরীদাস তাহা গ্রহণ করেন নাই,বলেছিলেন তোমার বৈঠা তুমি বহন কর, আমার পক্ষে সম্ভব নহে। যাইহোক গৌরীদাসের বড়ভাই সূর্য‍্যদাস সরখেল।তাঁর দুই কন‍্যা----
শ্রীবসুধা ও জাহ্নবাদেবী।শ্রীনিতাইচাঁদ প্রভু ঐ দুই কন‍্যাকে বিবাহ করেছিলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভু নবদ্বীপে বিবিধ লীলা বিলাস করিবার পর যখন সন্ন‍্যাস লীলা করিতে ইচ্ছে করেন এবং কালনায় গৌরীদাসের নিকট বিদায় চাইতে আসেন।তখন  গৌরীদাস অত‍্যন্ত বিরহ কাতর হয়ে পড়লেন-----------------------------
ঠাকুর পন্ডিতের বাড়ী, গোরা নাচে ফিরি ফিরি,নিত‍্যানন্দ বলে হরি হরি।
 কান্দি গৌরীদাস বলে,পড়ি প্রভুর চরণ তলে,কভু না ছাড়িবে মোর বাড়ী আমার বচন রাখ,অম্বিকা নগরে থাক এই নিবেদন তুয়া পায়।
যদি ছাড়ি যাবে তুমি,নিশ্চয় মরিব আমি,রহিব সে নিরখিয়া কায়।।
তোমরা যে দুটি ভাই, থাক মোর এই ঠাঁই,তবে সবার হয় পরিত্রাণ।
পুনঃ নিবেদন করি,না ছাড়িহ গৌরহরি,তবে জানি পতিতপাবন।।
বিনা ভক্ষণেতে যদি সুখ পাও মনে।
তবে মোরে রন্ধন করাহ কি কারণে।।
এত কহি গৌরীদাস রহে মৌন করি।
হাসি প্রভু পন্ডিতে কহয়ে ধীরি ধীরি।।
যাইহোক পরে পন্ডিত বললেন,আজ তো ভোজন করো, বহুপদ করিয়া আর তোমাদের ভোজন করাইব না, শাক মাত্র রন্ধন করিয়া তোমাদের পাতে দিব। পন্ডিতের কথা শুনে দুই ভাই হাসতে হাসতে ভোজন করলেন। কোন একসময় গৌরীদাসের মনে ইচ্ছে হল গৌর নিতাইকে বিবিধ অলঙ্কার পরাবেন।তাঁর ইচ্ছে জানতে পেরে গৌর-নিতাই বিবিধ অলঙ্কার পরিধান করিয়া সিংহাসনে বিরাজ করতে লাগলেন।পন্ডিত মন্দিরে প্রবেশ করিয়া অবাক হলেন।
(অতি সংক্ষিপ্তাকারে লেখা হল)

 তখন মহাপ্রভু বললেন-- গৌরীদাস! তোমার ভাবনা পূর্ণ হবে,তবে তুমি এক কাজ করো,তুমি দুটি কাষ্ঠের প্রতিমূর্তি নির্মাণ করো,আর তাদের সেবা করো।খুব আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে,গৌর-নিতাই দুটি কাষ্ঠদ্বারা প্রতিমূর্তি গড়া হল, গৌরীদাসকে বললেন- আমরা যে কয়দিন এখানে থাকব,চারটি আসন পাতবে, সেই চারটি আসনে বসে আমরা অর্থ‍্যাৎ কাষ্ঠ প্রতিমূতি দুটি,আর আমরা দু"ভাই একই সঙ্গে মধ‍্যাহ্নে ও রাত্রে প্রসাদ পাবো।আশ্চর্য‍্য এই যে,জীবন্ত ও কাষ্ঠের প্রতিমূর্তির কোন বিভেদ রইল না।একই সঙ্গে চারিজন সেবা করছেন, কথা বলছেন,চলাফেরা করছেন,সমস্ত অবিকল।গৌরীদাস আশ্চর্য হয়ে গেলেন,কে আসল আর কে কাষ্ঠ মূর্তি বোঝাই গেল না।এবারে
মহাপ্রভু বিদায় চাইলেন,-----------
এতেক প্রবোধ দিয়া,দুই প্রতি মূর্তি লৈয়া,আইলা পন্ডিত বিদ‍্যমান।
চারিজন দাঁড়াইল,পন্ডিত বিস্ময় ভেল,ভাবে অশ্রু বহয়ে নয়ন।।
পুনঃ প্রভু কহে তাঁরে,তোর ইচ্ছা হয় যারে,সেই দুই রাখ নিজঘরে।
তোমার প্রতীত লাগি,তোর ঠাঁই খাব
মাগি,সত‍্য সত‍্য জানিহ অন্তরে।।
** গৌরীদাসের মন চাইনা বিদায় দিতে,নিরুপায় মহাপ্রভুর কথামত সেই দারুমূর্তি ঘরে রইল,কিন্তু সেই মূরতির কোন প্রকার কোন বিভেদ নেই।এবারে পন্ডিত প্রেমাধীন হয়ে শ্রী
গৌর-নিতাই শ্রীমূর্তি ধারণ পূর্বক বিহার করতে লাগলেন,শ্রীগৌর- নিতাই মৃদু হাস‍্য করতে করতে বললেন, গৌরীদাস তুমি কে জানো?
হে গৌরীদাস তুমি পূর্বে সুবলসখা ছিলে।এসব কি তোমার মনে নেই?
যমুনা পুলিনে কত আমরা বিলাস করেছি,এ সকল কথা শুনে,(শ্রীমন্মহাপ্রভুর কৃপায়)গৌরীদাসের পূর্বকথা স্মরণ হল।কিছুক্ষণ ব্রজবৃন্দাবন নিয়ে নানান কথা হল, শোনার পর পন্ডিত নিজরূপে ফিরে এলেন এবং নিজহস্তে রন্ধন করিয়া মূরতির সেবা করতে লাগলেন।বহুবিধ ব‍্যঞ্জন প্রতিদিন রন্ধন করিয়া গৌরীদাস গৌর-নিতাইয়ের সেবা দিতেন।সর্বদা সেবায় তন্ময়।নিজের শারীরিক ক্লেশাদির অনুভূতি নেই।পন্ডিত ক্রমে ক্রমে বার্ধক‍্য দশায় উপনীত হলেন,তথাপি পূর্বের ন‍্যায় নানান ব‍্যঞ্জন রন্ধন করিয়া সেবা দিতেন।তাঁর রন্ধন শ্রম দেখিয়া গৌর নিতাই একদিন বাহিরে রোষ ভাব দেখিয়ে অভুক্ত অবস্থায় রহিলেন।তখন পন্ডিত প্রণয়-কোপে বলতে লাগলেন---------------------------

এই হল আমার গৌরচাঁদের কৃপা। তাই নরহরি সরকার লিখেছেন-----
গৌরাঙ্গ নহিত,কিমেনে হইত,কেমনে ধরিত দে।
রাধার মহিমা,প্রমরস সীমা,জগতে জানাত কে।।
আখর-- কে বা জানাইত, পরিপূর্ণ প্রাপ্তির উপায়,কে বা জানাইত।
প্রাণ ভরে জয় দাও,গৌর আনা ঠাকুরের,প‍্রাণ ভরে জয় দাও।
** অদ‍্য সর্বজীবের উদ্ধারকর্তা গৌরহরি রাধা রাধা বলি তাঁর সর্বাঙ্গ অবশ হইল। অর্থ‍্যাৎ গৌরসুন্দর অদ‍্য  শ্রীকৃষ্ণের ভাবে বিভাবিত হৈয়া রাধা রাধা বলছেন।
আখর-- অবশ হলরে, গোরাচাঁদের সবশ অঙ্গ অবশ হলরে।
* রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে।
সুরধূনী ধারা বহে অরুণ নয়নে।।
*রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে--
ভাবনিধি গোরাচাঁদের ব্রজের কথা স্মরণ হওয়াতেই রাধা নামটি জেগে উঠেছে।উঠবেই বা না কেন? ব্রজের কানাই ছিল যেই, নদের নিমাই হল সেই।দ্বাপরে শ্রীকৃষ্ণ ব্রজে যে,যে লীলা  করেছিলেন,তিনিই নদীয়ায় অবতীর্ণ হইয়া সেই সেই লীলাগুলো নদীয়ায় করেছিলেন।ব্রজ বৃন্দাবন অপ্রকট লীলা,আর নদীয়া প্রকট লীলা।তাই যাঁরা সাক্ষাৎ লীলা দরশন করেছেন, তাঁহারাই লীলার বিবরণ প্রচার করেছেন।আজ গৌরসুন্দরের ব্রজের সেই লীলাগুলো মনে পড়েছে, (ব্রজে একবার একটি ঘটনা ঘটেছিল) মা যশোমতী ও পিতা নন্দ গোপালকে ডেকে বললেন,বাপ গোপাল! যা বাপ
যমুনায় অবগাহন করে আয়,মাতৃ আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে, এবং করিলেন।এবার মা যশোদা ও পিতা নন্দ ভাগুরী মুনিকে বললেন, আমার গোপালকে আপনি নারায়ণ মন্ত্রে দীক্ষা দান করুন,দীক্ষা পাইবার পর আমার গোপালের সর্ব অকল‍্যাণ, দূরীভূত হবে,বাৎসল‍্য প্রেম,গোপাল যে স্বয়ং ভগবান মা যশোদার লালন পালনে সব ভুলে গেছেন।আদেশ মত গোপাল দীক্ষা গ্রহণ করলেন, এবারে মা বললেন গোপাল, যা বাপ! দেব মন্দিরে গিয়ে ইষ্টমন্ত্র জপ কর,মায়ের আদেশ মানতেই হবে।এবারে শ্রীকৃষ্ণ ভাবছেন আমি কার নাম জপ করব?
শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন--
আমা হৈতে আনন্দিত হয় ত্রিভূবন।
আমাকে আনন্দ দিবে ঐছে কোনজন
আমা হৈতে যার হয় শত শত গুণ।
সেই জন আহ্লাদিতে পারে মোর মন।।
আমা হৈতে গুণীবর জগতে অসম্ভব
একলি রাধাতে তাহা করি অনুভব।।
সুতরাং অসমোর্ধ -সৌন্দর্য‍্য-মাধুর্য‍্য- মূরতি স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম প্রীতিভরে শ্রীরাধানামাঙ্কিত মন্ত্র জপ করেন। রাধা নাম জপে গোরা পরম যতনে।
আখর-- সকলি জানো, আমার মনের কথা- তুমি সকলি জানো।
তুমি আমার পরম সখা, মনের কথা সকলি জানো। মাতান।
পদ-- রাধা রাধা বলি প্রেমে হইনু বিকল।

সুরধূনী ধারা বহে অরুণ নয়নে -------
অদ‍্য মহাপ্রভু রাধা নামে এতই বিভোর হয়েছেন যে,বালার্কের বর্ণের ন‍্যায় তাঁর নয়নদুটি হয়েছে আর সুরধূনী গঙ্গার মত অশ্রুধারা বহে যাচ্ছে। সুরধূনী সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলোচনা করি।ভাগবতে পাওয়া যায়, একদিন নারদমুনি পথ দিয়ে হেঁটে চলেছেন,পথের মধ্যে বহু পুরুষ ও নারী বিকলাঙ্গ অবস্থায় পড়ে আছে। বিকট দৃশ্য,কারো কান কাটা, কারো নয়ন অন্ধ,কারো হাত ভাঙ্গা, কারো পাভাঙ্গা, আবার কারো কারোর দেহ ক্ষত বিক্ষত। এই দশা দেখে নারদমুনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন- তোমাদের এমন দশা হইল কেমন করে? যারা ঐমত অবস্থায় পথের ধারে পড়ে আছেন,তাহারা নারদমুনিকে চিনতে পারেন নি,তারা বললেন যে, আমাদের যে এই অবস্থা করেছে সে নিজেকে বিশাল সঙ্গীতজ্ঞমনে করেন, আসলে সে একজন অপদার্থ।দেবর্ষি পুনঃ বললেন সে কে? তখন তারা বললেন- ঐ যে মুখে সদাই হরির নাম করে বটে,কিন্তু সুর, তাল,লয়, সময়কালে কোন রাগ, রাগিনী করতে হয় জানেনা।ঐ যে সেই মুর্খ নারদমুনি। দেবর্ষি এই কথাগুলো শুনে কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে থাকলেন,নিজ পরিচয় গোপন রাখলেন, আর কেবল বললেন, তাঁর অপরাধ কি?তারা বললেন,যারা সুর, তাল,ছন্দ না জেনে গান গায় তাদের জন্য আজ আমাদের এই দুরাবস্থা। 
দেবর্ষি জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা কে? তারা বললেন আমরা ছয় রাগ ও ছত্রিশ রাগিনী। একমাত্র নারদমুনির জন্য আজ আমাদের এত কষ্ট।নারদ বললেন এর কি কোন প্রতিকার নেই?
তারা বললেন আছে, আমরা অনেকেই জানিনা যে স্বয়ং পঞ্চানন একজন পরম সঙ্গীতজ্ঞ,তিনি যদি গীত পরিবেশন করেন, আর লক্ষ্মী- নারায়ণ ও ব্রহ্মা যদি শ্রবণ করেন,
তাহলে আমরা পুনরায় সুস্থসবল দেহ ফিরে পাবো।দেবর্ষি বললেন, চিন্তার কোন কারণ নেই,আমি গীত পরিবেশনের ব‍্যবস্থা করছি।এবারে দেবর্ষি কৈলাশ পর্বতে গিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া গীত পরিবেশনের জন্য অনুরোধ করলেন।তিনি রাজী হলেন এক সর্তে, আমি গীত পরিবেশন করব,তবে শ্রোতা হিসেবে যদি লক্ষ্মী-নারায়ণ আসেন তবেই।দেবর্ষি বললেন কোন অসুবিধে হবে না,আমি আমার প্রভু নারায়ণকে রাজী করাইব, অতঃপর নারায়ণ বললেন বেশ,তুমি আমার এখানে সকলকে  আমন্ত্রণ জানাও, মহাদেব এখানে গীত পরিবেশন করবেন।সকলে এলেন, এবং মহাদেব গীতের আলাপ শুরু করলেন,সেই গীতের আলাপে নারায়ণের সর্বাঙ্গ দ্রবীভূত হতে লাগল, পাশে ছিলেন পদ্মাসন ব্রহ্মা তিনি ভাবলেন এই দ্রবীভূত জল যদি পৃথিবীতে পড়ে,তাহলে সমস্ত জলে জলাময় হয়ে যাবে।ব্রহ্মা তখন নিজ কমন্ডুলতে সেই জল নিয়ে রাখলেন।
অপরদিকে ছয়রাগ ছত্রিশ রাগিনী সুস্থদেহ ফিরে পেল। (মাঝে অনেক কথা সেই জল ভগীরথ নিয়ে এসেছিলেন মর্তে,সেই ভগীরথের আনা জলই গঙ্গা-বা সুরধূনী নামে পরিচিত।) সেই সুরধূনীর ধারা আমার  মহাপ্রভুর নয়ন হতে পড়ছে। (তুমি হে পরম সখা পরম সুহৃদ। আমার মনের কথা তোমাতে বিদিত) তুমি আমার পরম সখা,অন্তরঙ্গ সখা, তুমি আমার মনের সকল বার্তায় জান, আমি আর রহিতে পারছি না, হে পরম সখা তুমি আমার রাধাকে এনে দাও, নহিলে আমি প্রাণে বাঁচব না।
রাধারে আনিয়া মোরে দেখারে সুবল।।
আখর-- একবার, সুবল এনে দেখা,
কোথায় আমার প্রাণে রাধা,
একবার, সুবল এনে দেখা।
পদ- এ রাধামোহন দাস প্রেমময় ভাষ।
গোপথে গৌরাঙ্গ লীলা করিলা প্রকাশ।।
আখর-- প্রকাশ হল রে, গোপত গৌরাঙ্গ লীলা প্রকাশ হল রে,জগতকে দেখাবে বলে, প্রকাশ হল রে।
কলির জীবে তরাইতে,প্রকাশ হল রে।।
   গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।

*সুবল মিলন ব্রজলীলা*
*************************
*🌻🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻🌻*
*সুবলে করিয়া সঙ্গে,বিপিনে বিহরে রঙ্গে,*
       *রসময় বিদগধ শ‍্যাম।*
*অদ‍্য রসিকরাজ রসময় শ্রীগোবিন্দ বৃন্দাবনের বনে বনে গোচারণ করতে করতে সুবলের বদন দর্শন করে শ্রীরসময়ী মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীরাধা ঠাকুরাণীর কথা মনে পড়ায় প্রাণের সখা অতি অন্তরঙ্গ সুহৃদ সখা সুবলকে সঙ্গে নানা বন ভ্রমণ করতে করতে রাধাকুন্ড তীরে এসে উপস্থিত হলেন।* 
*রাধাকুন্ড তীরে আসি,কুসুম কাননে বসি,*
       *শোভা দেখে অতি অনুপাম।।*
*রাধাকুন্ডতীরে এসে রাধাকুন্ডের অতীব সুন্দর সেই কুসুম কাননে বসলেন।* *বসে বসে অতি মনোরম সেই কুসুম কাননকে দর্শন করছেন।* *আর মরমসখা সুবলকে বলছেন, ওরে আমার প্রাণের সখা!আহা-হা-হা কি অপূর্ব শোভা।*
*আখর=ফুলের শোভা দেখরে সুবল,* *প্রেমে মানস হয়রে উজ্বল,* *ফুলের শোভা দেখরে সুবল।*

*🌻ঐদিকে রাধারাণী,প্রাণবল্লভের মন বুঝতে পেরে সখীদ্বারা কুসুম কানন হতে চম্পকের পুষ্প আনিয়ে একখানি মনোহরা মাল‍্য গ্রন্থন করলেন।* *এবং বৃন্দাদেবীকে ডেকে বললেন,বৃন্দা!এই চম্পকের মালাখানি আমার প্রাণবঁধূর গলায় পরিয়ে দিবি।* *আমার প্রাণবঁধূ বড়ই অধীর হয়ে পড়েছেন,এই চম্পকের মালা গলায় পড়লে দেহ মন প্রাণ স্থির হবে।*
*বৃন্দাদেবী হেনকালে,আসিয়া সেখানে মিলে,*
       *চম্পকের মালা করে করি।*
*আখর=বৃন্দা দেবী এলরে,চম্পকের মালা করে,(হাতে)বৃন্দাদেবী এলরে।*
*কথা=এবারে বৃন্দাদেবী রাধাকুন্ডে এসে দেখলেন,সুবল আর গোবিন্দ আছে,একটি মালা,গোবিন্দকে দিলে সুবলের মন খারাপ হবে,* *আর সুবলকে দিলে গোবিন্দের মন খারাপ লাগবে হয়ত।* *এখন আমি কি করব?* *বৃন্দাদেবী অনেক চিন্তা ভাবনা করে বুঝলেন,সুবল হচ্ছে গোবিন্দের প্রাণপ্রিয় সখা,সুবল তাঁর সখা গোবিন্দকে খুবই ভালবাসে, আমি যদি সুবলকে মালাটি দিই,তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে যে,* *রাধারাণীর গাঁথা মালা আমার প্রাণ প্রিয় সখা গোবিন্দের জন্য পাঠিয়েছে।* *সে তখন গোবিন্দের গলায় পড়িয়ে দিবে,রাধার বাসনাও পূর্ণ হবে।* *তৎসহ আমার ও সুবলের বাসনাও পূর্ণ হবে।* *তখন বৃন্দাদেবী আর কোন কিছু না ভেবে,*
*সুবলেরে সমর্পিল,তেঁহ কৃষ্ণ গলে দিল,*
      *উদ্দীপন রাধার মাধুরী।।*
*প্রেমে চারিদিকে চায়,অরুণ নয়নে ভায়,*
      *অবশ হইল সব অঙ্গ।*
*ধরিয়া সুবল করে,মূর্ছিতহইয়া পড়ে,*
       *চিয়ায়েন দাস গোবিন্দ।।*
*কথা=বৃন্দাদেবী যখন চম্পকফুলের মালাটি সুবলের হাতে দিলেন,মালাটি হাতে নিয়েই বুঝতে পারলেন যে,এই মালা আমার জন‍্য নয়,আমার প্রাণপ্রিয় সখা গোবিন্দের।* *তাই বিলম্ব না করেই অবিলম্বে চম্পকফুলের মালাটি গোবিন্দের গলায় পরিয়ে দিলেন।*
*শ্রীগোবিন্দ মালা পড়েই বুঝতে পারলেন আমার প্রাণপ্রিয়া রাইধনি আমার জন্য মালাটি পাঠিয়েছে।*
*আর ভাবলেন রাইধনি বোধহয় আশে পাশে আছে।* *পাশে থেকে বৃন্দার হাত দিয়ে মালাটি পাঠিয়েছে।* *মালা গলায় পড়ে চরম রাধার ভাবনা মনে এলো,আর এদিক ওদিক চারিদিক দেখছেন আমার প্রাণভ্রমরা রাধা কোথায়।* *রাধার কথা ভাবতে ভাবতেই নয়ন লালবর্ণ হয়ে গেল আর সর্বাঙ্গ ধীরে ধীরে অবশ হতে লাগল।* *সঙ্গে সঙ্গে সুবল গোবিন্দের এই অবস্থা দেখে ধরে নিয়ে নিজ কোলে রাখলেন।* *গোবিন্দ মূর্ছিত হয়ে পড়লেন,সুবল চিন্তান্বিত হলেন।*
*আখর=মূর্ছিত হলরে,চম্পকের মালা পড়ি,মূর্ছিত হলরে।* *চম্পক বরণী রাধা,মনে পড়ে গেলরে,প্রেমে চারিদিকে চায়,রাধা মনে পড়েরে।*
*বলে প্রাণের সুবল সখা,রাধায় এনে দেখারে,রাধা বিনা বাঁচব নারে,রাধায় এনে দেখারে।* *ধরিয়া সুবল করে,মূর্ছিত হইয়া পড়ে, চিয়েয়েন দাস গোবিন্দ।*

 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ 🌻🌻*
*রসিক নাগর,বিরহে কাতর,পড়িল ধরণী তলে।*
*মরম জানিয়া,ব‍্যথিত হইয়া,সুবল করিল কোলে।।*
*কথা=শ্রীগোবিন্দ,শ্রীরাধার অদর্শনে ঠিক থাকতে না পেরে ভূমিতে পড়লেন।* *মরম সখা সুবল মনে অত‍্যন্ত ব‍্যথা পেয়ে কোলে মাথা দিয়ে শোয়ালেন।*
*আখর=কৃষ্ণধনে কোলে নিল, সুবল সখা পেয়ে ব‍্যথা,কৃষ্ণধনে কোলে নিল।*
*বসন ভিজায়ে,বদন মুছায়ে,কহিছে মধুর বোলে।*
*আচম্বিতে আসি,রাধাকুন্ডে বসি,অচেতন কেন হলে।।*
*কথা=গোবিন্দের এই অবস্থা দেখে মরম সখা,রোদন করে বললেন,ভাই কানাই তোর কি হয়েছে,কথা বল?এই তো ভালো ছিলি,হঠাৎ তোর কি হল,কিছু না বোলে কেন অমন করে পড়ে আছিস।* *ভাই!আমি কি তোকে কোন অন‍্যায় কথা বলেছি যে তুই আমার প্রতি অভিমান করে কথা বলছিস না,তবুও গোবিন্দ কোন কথা বলছেন না।* *সুবল তখন নিজের ধড়ার এক অংশ রাধাকুন্ডের জলে ভিজিয়ে এনে গোবিন্দের সুধামাখা মুখখানি অতি যত্ন সহকারে মুছিয়ে দিচ্ছেন,আর মধুর বোল বলছেন।* *ওরে কানাই! তুই আমাকে সঙ্গে নিয়ে বনে বনে ভ্রমণ করতে করতে যখন রাধাকুন্ডে এলি তখনও ভাল ছিলি,হঠাৎ তোর কি হল কথা বল ভাই কানাই?* *তোর যদি কিছু হয়ে যায়,আমরা বাঁচবো নারে কানাই,*
*কথা বল।* *কানাইকে এইসকল কথা বলছেন আর অঝোর নয়নে কাঁদছেন।* *আরও বলছেন,ভাই আমরা যখন সমস্ত গাভী,বৎসগণদের বনের ভিতরে রেখে নানা খেলায় মত্ত ছিলাম,তখন কংস প্রেরিত অসুরদ্বারা বনে আগুন লাগানো হয়েছিল।* *আমরা ও গো-বৎসগণ অগ্নিতে দগ্ধ হয়ে মরছিলাম,তখন তুই বলেছিলি আমি থাকতে তোদের কোন ভয় নেই,সকলকে চোখ বন্ধ করতে বলেছিলি,পরক্ষণেই চোখ খুলে দেখলাম দাবানল নাই।* *পূর্বে যেমন বন ছিল সেই রকম হয়ে গেল।* *(সেইদিন কানাই সেই প্রচন্ড অগ্নি পান করে সকলকেই রক্ষা করেছিলি।)* *আবার আরেকদিন সকল গো-বৎসগণ ও আমরা কালিদহের বিষজল পান করে প্রাণ হারিয়ে ছিলাম,ভাই তুই সেইদিনও আমাদের ও গো-বৎসগণদের প্রাণ রক্ষা করেছিলি।*আমাদের কোন বিপদ-আপদ হলে তুই রক্ষা করিস,কিন্তু তোর কিছু হয়ে গেলে তো আমরা কিছু করতে পারব না।*
*ভাই!ভাই কানাই কথা বল।*
*সে ধার শোধিব,যে বোল বলিবে,তাহাই করিব আমি।।*
*সজন নয়ান,হেরিয়া বয়ান,পরাণ কেমন করে।*
*দীনবন্ধু কহে,তনুমন দেহে,রাধার বিরহ জ্বরে।।*
*কথা=ভাই একবার উঠ,আমি তোকে কথা দিলাম,তুই আমাকে যা বলবি আমি তাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।* *কথা বল কানাই,একবার কথাবল।* *আমার আর ভালো লাগছে না তোর এই অবস্থা দেখে।* *তুই যদি কথা না বলিস তাহলে হয়ত প্রাণে মারা যাব।* *পদকর্তা বলছেন,না,না সুবল তোমার কোন দোষ বা অপরাধ নাই,* *তোমার সখার রাধার বিরহ জ্বরে তনুমন পুড়ে যাচ্ছে।*
*আখর=রাধা বিরহ সহিতে নারে,কানাই দহে বিরহ জ্বরে, রাধা বিরহ সহিতে নারে।* *কেন ভাই কানাই এমন হলি,এই ত ভাল মনে ছিলি,কেন ভাই কানাই এমন হলি।*
*কথা= এবারে কানাই ধীরে ধীরে চেতন পেয়ে প্রাণের প্রিয় সখা সুবলকে বলছেন।*

*🌼🌼তৃতীয় পদ🌼🌼*
*শুনরে সুবল ভাই নিবেদন করি।*
*কহিতে পাইবে লাজ না কহিলে মরি।।*
*গাঁথিয়া চম্পক মালা মোর গলে দিল।*
*চম্পক বরণী রাধা মনেতে পড়িল।।*
*কথা=কানাই এবারে সুবলকে কাছে ডেকে নিয়ে একবার এদিক একবার ঐদিক দেখতে লাগলেন।*
*বললেন,মনের কথা তো পরকে বলা যায় না,যে পরমসখা,মরমসখা,অন্তরঙ্গসখা,হয়তাকেই মনের মরম কথা বলা যায়।* *সুবল বললেন,কি-রে কানাই,কি হয়েছে বল,কি বলবি।*
*কানাই বলছেন,ওরে পরাণ সখা এবার তোকে কিছু কথা বলি।*
*সুবল বলছেন,কিরে কিন্তু কিন্তু করছিস কেন?আমি না তোর মরম সখা,বল শীঘ্রই বল।* *এবারে সুবল পুনঃ বলছেন,কানাই!বল তো তোর কি হয়েছিল তুই অমনভাবে অচৈতন্য হয়ে পড়ে ছিলি।* *তখন কানাই বললেন,যখনই চম্পকের মালা আমার গলায় দিলি,তখনই চম্পকবরণী রাধার কথা মনে পড়ে গেল, আর আমি যেন কেমনই হয়ে গিয়েছিলাম।

 *যাবটে আছয়ে ধনি জটিলা মন্দিরে।*
*বিষম সঙ্কট স্থল কি বলিব তোরে*
*যদি মিলাইতে পার আনিয়া তাহারে।*
*হইব তোমার দাস এ জনমের তরে।।
*শুনিয়া সুবল তবে মনে করি আশ*
*যাবটে চলিল কহে দীনবন্ধু দাস।।*
*কথা=ওরে ভাই মরম সখা,তুই তো সবই জানিস,যাবটে আমার রাইধনি আছে,আমার কাছে নিয়ে আয়, তবেই প্রাণে প্রাণ পায়।* *সুবলের হাত দুটি ধরে বলছেন,সখারে যদি রাধাকে এনে দিস আমি তোকে কথা দিলাম জন্ম জন্ম তোর দাস হয়ে থাকব।*সুবল বলছেন,ভাই কানাই তুই অমন কথা বলিস না,তুই তো আমাদের প্রাণ দাতা,তুই আমাদের কতবার প্রাণ রক্ষা করেছিস, তুই কোন চিন্তা করবি না,আমি তোর মনের আশা পূর্ণ করব।*
*আখর=সুবল চলে,জটিলা মন্দিরে,সুবল চলে।*
*রাধারাণী আনবার তরে, সুবল যায় জটিলা মন্দিরে, যুগল দর্শন তরে,সুবল যায় জটিলা মন্দিরে।*

*🌻🌻🌻চতুর্থ পদ🌻🌻🌻*
*সুচতুর সুবল,পবন গতি ধাওল,*
       *আওল যাবট মাঝ।*
*জটিলার নিকট, হল উপনীত,*
        *মলিন বদন দ্বিজরাজ।।*
*এবারে সুবল রাধাকে আনবার জন‍্য যাবটের দিকে ধাবিত হলেন,সুবল যেই জটিলার দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে,দ‍্যাখে জটিলা বুড়ি দরজার সামনে বসে আছেন।* *সুবলকে দেখে জটিলা জিজ্ঞাসা করলেন,কি রে, কেন,কি উদ্দেশ্যে এমন সময় তুই আমার দ্বারে উপস্থিত হয়েছিস?* *সত‍্য কথা বল সুবল।* *সুবল মনে মনে বলছেন, বাপরে,যেখানে বাঘের ভয়,সেখানেই সন্ধ‍্যে হয়,* *নিজেকে সংযত করে সুবল তখন জটিলাকে বললেন---*
   *ওগো মাতা,কি বলিব দুঃখ পরিশেষ।*
*বাছুরি খুঁজি খুঁজি,হাম হেথা আওল,*
      *ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া কত দেশ।।*
*পানি পিয়াসে মোর,বাত নাহি ফুরয়ে,*
      *জীবন কি করত জান।*
*শুনি জটিলা কহে,যাহ রন্ধন গৃহে,*
       *কর শীতল জল পান।।*
*নিরজন মন্দির,রাইক অন্দর,*
       *সুবল চলিল তার মাঝ।*
*দীনবন্ধু কহে,সুবল হেরি হেরি,*
        *রাই সমুঝল কাজ।।*
*কথা=যে আশা নিয়ে সুবল জটিলার গৃহে এসেছেন,সেই কাজ সফল হতে চলেছে।* *বাছুরি খুঁজা ও জল তৃষ্ণার ছলে রাধারাণীর কাছে*
*পৌঁছে গেলেন রন্ধন গৃহে।* *সুবলকে দেখে রাধা বলছেন----*
*🌻🌻পঞ্চম পদ🌻🌻*
*আইসরে সুবল,পরাণের ভাই,*
       *একি অপরূপ দেখা।*
*কহ দেখি বনে,আছয়ে কেমনে,*
       *তোমার মরম সখা।।*
*যখন হইতে,শিঙ্গার সহিতে,*
       *বাজিল মোহন বেণু।*
*পথের আপদ,বনের বিপদ,*
        *ভাবিতে ভাবিতে মৈনু।।*
*কথা=রাধারাণী সুবলকে দর্শন করে খুবই আনন্দ পেলেন এবং বনের সমাচার "তোমার মরম সখা" অর্থ‍্যাৎ গোবিন্দের বার্তা জানতে চাইলেন।* 
*আখর=আমি বাঁশী শুনে মজে গেলাম,রাধা নামের সাধা বাঁশী,আমি বাঁশী শুনে মজে গেলাম।*

*🌻সুবল পূর্ব জনমে কে ছিলেন?*
*কি কারণে শ্রীকৃষ্ণের মরম সখা হলেন?🌻* *অতি সংক্ষেপে* *ত্রেতাযুগে রাম-রাবণের যুদ্ধ হয়েছিল।* *সেই যুদ্ধে যখন এক,এক করে রাবণের সেনা,পুত্র, ভাই সকলেই শ্রীরামচন্দ্রের বাণে উদ্ধার হল,* *কেবল বাকী ছিল বিভীষণ ও সরমা পুত্র তরণীসেন, লঙ্কার হাহাকার শুনে শিশু তরণী তখন তাঁর জ‍্যেঠুর কাছে গিয়ে বললেন,আমি শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাঁকে পরাজিত করব।*
*রাবণ মনে মনে ভাবলেন যে,আমার এত বড় বড় শক্তিশালী যোদ্ধা,সেনা,ভাই ও পুত্র পরাজিত হল,সামান‍্য শিশু হয়ে কেমন করে আমার আরাধ‍্যকে পরাজিত করবে?* *কি যেন মনে হল রাবণের!* *তখন রাবণ বললেন যে,* *যদি তোমাকে যুদ্ধ করতে হয় তাহলে তোমার মায়ের নিকট অনুমতি নিয়ে এসো,* *আমি তোমায় রণসাজে সজ্জিত করে দিব।* *তরণী যখন মায়ের কাছে এসে রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করব বললেন,পুত্রের কথায় মায়ের দুই নয়নের জলে বক্ষ প্লাবিত হয়ে গেল।* *মায়ের ক্রন্দন দেখে তরণীও যেন নয়নজলে ভেসে গেলেন,নিজেকে সংযত করে তরণী বারংবার মায়ের নিকট প্রার্থনা করতে লাগলেন।* *মা,ওমা আমায় যুদ্ধ করবার অনুমতি দাও।* *আমি যেন রামচন্দ্রকে পরাজিত করে লঙ্কার সম্মান রক্ষা করতে পারি।* *পুত্রের কথা শুনে মায়ের বিচ্ছেদ জ্বালা আরো বেড়ে গেল।* *তরণী বায়নার পর বায়না ধরলেন,অবশেষে সরমা বললেন,তোর যখন এতই ইচ্ছে যে রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করবি,তখন আর বিলম্ব করব না,আয় বাবা আমি তোকে সাজিয়ে দিই।* *এবারে তরণীর সর্বাঙ্গে রামনাম অঙ্কিত করে দিলেন।* *আর মা সরমা মনে মনে শ্রীভগবান রামচন্দ্রের শ্রীচরণে প্রার্থনা জানালেন যে,হে ভগবান তুমি আমার পুত্রকে রাক্ষসকুল হতে উদ্ধার করে তোমার শ্রীচরণে ঠাঁই দিও।* *দুঃখিনী মায়ের এই প্রার্থনা গ্রহণ করিও।* *(ভক্তাধীন ভগবান,কোন ভক্ত যদি মন-মুখ এক করে নিঃস্বার্থ ভাবে,প্রবল উৎকণ্ঠায় ও ব‍্যাকুলতার সঙ্গে কোন প্রার্থনা করেন তার ইচ্ছে পূরণ করেন ভগবান।)* *তার প্রত‍্যক্ষ প্রমাণ তরণীসেন।* *যখন সর্বাঙ্গে রামনাম অঙ্কিত নিয়ে রামচন্দ্রের সঙ্গে সমরে নামলেন,* *নাম-নামী অভেদ,রামচন্দ্র যুদ্ধ করছেন,এক,এককরে প্রায় ষব বাণ শেষ হয়ে যাচ্ছে,কোন ভাবেই তরণীকে পরাজিত করতে পারছেন না।* *এমন সময় রামচন্দ্র,বিভীষণকে ডাকলেন, বললেন,এই শক্তিশালী শিশুকে চেন?* *তখন বিভীষণ মনে মনে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শ্রীচরণে প্রার্থনা জানালেন,হে প্রভু!আমার পুত্রকে রক্ষকুল হতে উদ্ধার করে তোমার শ্রীচরণে ঠাঁই দাও।* *পুনঃ রামচন্দ্র বিভীষণকে বললেন,কি ভাবছ?* *কেমন করে এই শক্তিশালী শিশুকে পরাজিত করব বলো?* *(নামের কি শক্তি, স্বয়ং ভগবান পর্যন্ত ভক্তের (বিভীষণের)* *কাছে জিজ্ঞাসা করছেন কি ভাবে বধ করব।)* *মনে একরাশ ব‍্যথা-বেদনা নিয়ে বিভীষণ বললেন প্রভু!আপনি বৈষ্ণব বাণ যোজন করে নিক্ষেপ করুন,* *তাহলে ঐ শিশু পরাস্ত হবে।* *যখন বাণ নিক্ষেপ করলেনতরণীর দেহ হতে মুন্ডু আলাদা হয়েও সেই মুখ হতে রামনাম* *উচ্চারিত হচ্ছে।* *ঐদিকে পুত্রের এদশা দেখে বিভীষণ আর ব‍্যথা সহ‍্য করতে না পেরে বুকফাটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।* *তখন প্রভু রামচন্দ্র তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি এভাবে কাঁদছ কেন?* *তোমার কি কেহ হয় ঐ শিশু?* *এবারে বিভীষণ আর মিথ‍্যা কথা বলতে পারলেন না,* *বললেন,তরণী আমার পুত্র,এত কথার মধ্যেও তরণীর কাটা মুন্ডু রামচন্দ্রের চরণে পড়ে রামনাম করছেন।* *তখন প্রভু রামচন্দ্র বললেন,বিভীষণ!আমি দ্বাপরযুগে শ্রীকৃষ্ণ হয়ে ব্রজে অবতীর্ণ হব, এবং সেই ব্রজলীলায় তরণী আমার পরম-মরম সখা হবে।* *কোন দুঃখ কোরো না,প্রভুর মুখে এসব কথা শুনে বিভীষণ খুবই আনন্দ পেলেন।* *রাক্ষসকুল উদ্ধার হল।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*ঘরের বাহির,মোর অতি দূর,*
       *যুবতী কুলের বালা।*
*দুখের অনলে,কাঁদি যে জ্বলিয়া,*
         *করিয়া ধূমের ছলা।।*
*কামনা করিয়া,সাগরে মরিব,*
         *হব সহচর সখা।*
*দীনবন্ধু বলে,সহচর হলে,*
       *সতত পাইবে দেখা।।*
*আখর=সদাই তারে দেখা পাব,সখা হলে পাবে দেখা,সদাই--------পাব।*

*🌻পদ🌻*
*হাসিয়া সুবল কহে শুন বিনোদিনী।*
*তোমারে লইতে ধনি আসিয়াছি আমি।।*
*আখর=নিতে এলাম তোমায় ধনি, রাধাকুন্ডে চিন্তামণি, নিতে---ধনি।*
*সহচর ছাড়ি হরি তোমার লাগিয়া*
*তোমার কুন্ডের তীরে আছেন পড়িয়া।।*
*ধরিয়া আমার বেশ করহ পয়ান।*
*দরশন দিয়া শ‍্যামের রাখহ পরাণ।।*
*আখর=তোমায় যেতে যে হবে, কৃষ্ণ দরশন তরে,তোমায়---------।*
*নইলে পরাণ ছাড়বে হরি,তোমায় যেতে যে হবে।*
*আপনার বেশ ভূষা দেহত আমারে।*
*ধরিয়া তোমার বেশ থাকি আমি ঘরে।।*
*দীনবন্ধু দাসের বড় উল্লসিত হিয়া*
*পুরিল মনের সাধ বচন শুনিয়া।।*
*কথা=এবারে রাধাকে সুবলের বেশে সজ্জিত করা হল,আর সুবলকে রাধাবেশে রন্ধন শালায় রাখা হল।* *কিন্তু একটি সমস‍্যা দেখা দিল।*
*🌻🌻পদ🌻🌻*
*সুবলে রাখিয়া ঘরে চলিল রাধিকা।*
*সবে মাত্র পয়োধর নাহি গেল ঢাকা।।
*কথা=তখন রাধারাণী বললেন,সুবল,* *আমার আর যাওয়া হল না,এই পয়োধর বাধা হয়ে দাঁড়াল।* *যদি এইভাবে আমি যাই তাহলে শাশুড়ির কাছে ধরা পরে যাব।*
*তখন সুবলে বলে কি করি উপায়*
*এ যুগল পয়োধর কেমনে লুকায়*
*সুবল বলেন শুন নবীন কিশোরী।*
*গমন করহ কোলে লৈয়া বাছুরী।।*
*কথা=সুবল প্রথমেই বাছুরী খুঁজার ছলে জটিলার গৃহে এসেছিল।* *তাই ছল করে কপিলা বাছুরী লয়ে সুবল রন্ধন গৃহে প্রবেশ করেছিলেন।*তাই বললেন তোমার পথের বাধা দূর করে দেব।* 
*আখর=কপিলা বাছুরি আছে,তারে বক্ষে লয়ে রাধে,কপিলা------।*
*দীনবন্ধু দাস কহে মন্ত্রণার সার।*
*বৎস কোলে লয়ে ধনি কর অভিসার।।*
*আখর=এমন মন্ত্রণা কেবা দেবে,তোমার শ‍্যাম আর কুল রবে,*
*এমন মন্ত্রণা কেবা দেবে।*
*বৎস কোলে লয়ে কর অভিসার*
*কথা=সুবলের চেহারা আর শ্রীমতীর অনুরূপ(মতন),রন্ধনশালাতে বসন ইত‍্যাদি বদল করে শ্রীমতী সুবল সেজে অভিসার করে সোজা রাধাকুন্ডের তীরে এলেন সুবল বেশে শ্রীমতী রাইধনি।*

 *🌻🌻বিরাম পদ🌻🌻*
*নাগর কহেন সুবল কহত বচন।*
*যে লাগি পাঠানু তোমা কহত কারণ।।*
*রাই আপন বঁধূ পাশ কহে ভঙ্গি করি।*
*যাইতে নারিনু আমি জটিলার পুরী।।*
*ভাবিয়া গেলাম আমি চন্দ্রার ভবনে।*
*তাহারে কহিলাম আমি সব বিবরণে।।*
*আজ্ঞা কৈলে আনিতে পারি সেই ত প্রয়সী।*
*আজ্ঞা কর আনি গিয়া ওহে কালশশী।।*
*তখন নাগর কহে তুমি সব জান।*
*বারিক পিয়াসে কি অনল করি পান।।*
*রাধাকুন্ডে ঝাঁপ দিব তেজিব পরাণ।*
*বদনে বোলব হাম শ্রীরাধার নাম*
*এত বলি রাধাকুন্ড জলে ঝাঁপ দিল।*
*বাছুরি তেজিয়া ধনি কানু কোলে নিল।।*
*দীনবন্ধু দাস কহে বড় ভাল ভাল।*
*সুবলের বেশে ধনি বঁধূরে মিলিল।।********************************
*🌻এই পদটিও পরিবেশন করা যেতে পারে🌻*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*সুবলের বেশে গৌরী,উদ্দেশ করিতে হরি,*
      *উপনীত গহন কাননে।*
*মন্দ মন্ন বোল বলে,ধারা বহে দুনয়নে,*
     *হরি হরি স্মরয়ে বদনে।।*
*কৃষ্ণ অঙ্গ গন্ধ পায়,গন্ধ অনুসারে ধায়,*
     *উপনীত মাধব যথায়।*
*পড়িয়া করের বেণু,ধূলায় ধূসর কানু,*
      *চূড়া ভূমে গড়াগড়ি যায়।।*
*আখর=চূড়া গড়াগড়ি যায়, শ্রীহরি রাধাকুন্ডে লোটায়,চূড়া গড়াগড়ি যায়।* *কানুর বেণু ধূলায় লোটায়,চূড়া গড়াগড়ি যায়।*
******************************
*কৃষ্ণ ছিল হেঁট মুখে,বদন তুলিয়া দেখে,*
     *সুবল ফিরিয়া আইল পারা।*
*দেখিয়া নিঃশ্বাস ছাড়ে,ধরণী লোটায়ে পড়ে,*
      *ঘন বহে দু'নয়নে ধারা।।*
*আখর=নয়নেতে ধারা বহে, সুবল মূর্তি দেখি কৃষ্ণের,নয়নেতে ধারা বহে।* *রাধা না হেরিয়া কৃষ্ণের,নয়নেতে ধারা বহে।* *বলে সুবল কি করিলি,আমার রাধা না আনিলি, বলে সুবল কি করিলি।*
********************************
*কহরে সুবল ভাই,কোথা প্রেমময়ী রাই,*
     *তবে রাই কহে হাসি হাসি।*
*দীনবন্ধু দাস ভণে,বিষাদ ভাবহ কেনে,*
     *আমি তোমার শ্রীচরণের দাসী।।*
*আখর=আমি তোমার রাই ধনি, চিন্তা কেন চিন্তামণি,* *আমি তোমার রাই ধনি।*
*সুবল বেশে এসেছি গো,নইলে সুফল হতো না গো,* *বিষাদ ভাবহ কেনে আমি তোমার দাসী।।*
*🌻এখানেই রইল,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়,🌻জয় নিতাই🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds