✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৭০. শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🌻 খন্ডিতা লীলা ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🍂🍂খন্ডিতা🍂🍂*
""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌹🌹গৌরচন্দ্রিকা🌹🌹
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কান্দে ঘন ঘনে।*
*কত সুরধূনীর বহে অরুণ নয়নে।।*
*সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।*
*ধূলায় ধূসর অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়।।*
*মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।*
*রজনী দিবস গোরা জাগিয়া পোহায়।।*
*ক্ষণে চঙকিত অঙ্গ ধরণে না যায়*
*মান রস গোরা চাঁদের বাসুঘোষ গায়।।*
*কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কান্দে ঘন ঘনে।*
*কত সুরধূনী বহে অরুণ নয়নে।।*
*🌹বহে যায় বহে যায়,কত সুরধূনীর ধারা,ভাবনিধি গোরা চাঁদের,বহে যায় বহে যায়।*🌹
*অদ্য নদীয়াবিহারী গৌরসুন্দর আমার শ্রীরাধাভাবে ভাবিতা হয়ে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে কাঁদছেন।* *কেন কাঁদছেন তিনি?* *তত্ত্বের দুইটি ভাব, একটি অন্তরঙ্গভাব,অপরটি বহিরঙ্গভাব,(অন্তরঙ্গে করেন তিনি রস আস্বাদন।বহিরঙ্গে করেন তিনি জীব শিক্ষণ।।)* *অর্থ্যাৎ আপনি আচরি ধর্ম জীবকে শেখায়,যারা নিজে আচরণ না করিয়া অপরকে শিক্ষা দেন,সেই শিক্ষা কার্য্যকারী হয় না।* *শ্রীচেতন্য চরিতামৃতে পাই,* *শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়াছেন-------------*
*কোনও ভাগ্যে কোন জীবের শ্রদ্ধা যদি হয়।*
*তবে ত সেই জীব সাধুসঙ্গ করয়*
*এখানে "কোনও ভাগ্যে"বলা হয়েছে,বহু জন্ম জন্মান্তরের সুকৃতীর ফলে সাধুসঙ্গ লাভ হয়।*
*🌻আবার দেখা যায় "শ্রদ্ধা" মানে কি?*
*শ্রদ্ধা মানে বিশ্বাস কহি সুদৃঢ় নিশ্চয়।*
*কৃষ্ণে ভক্তি কৈলে সর্বকর্ম কৃত হয়।।*
*অর্থ্যাৎ গোবিন্দের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে,যতক্ষণ এই বিশ্বাস না অর্জন হবে,কোনভাবেই ভক্তির পথে চালিত হতে পারব না।* *আমার পতিতপাবন গৌরহরি,কলির জীবের জন্য কাঁদছেন,আর বলছেন,ওরে আমার অবাধ্য সন্তান ; আর মিছে মায়ায় দিন যাপন করিস না,আয় দুইটি বাহুতুলে তোরা হরিরনাম কর,তোদের সমস্ত ভালমন্দ আমি বহন করব,এক,একটি দিন যাচ্ছে মানে, একটি করে দিন আয়ু ক্ষয় হচ্ছে, আশি লক্ষের বেশী যোনি ভ্রমণ করে সুদুর্লভ মনুষ্য জনম পেয়েছিস,এই সুদুর্লভ জন্মকে অবহেলায় কাটিয়ে দিস না।*
*তাই কত সুরধূনী বহে অরুণ নয়নে।।*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।*
*ধূলায় ধূসর অঙ্গ ভূভে গড়ি যায়।।*
*আখর=গড়াগড়ি যাই গো,গৌরসুন্দর আমার,গড়াগড়ি যায় গো।কলি জীবকে উদ্ধারের লাগি,গড়াগড়ি যায় গো।*
*🌼পূর্বেই বলেছি আপনি আচরি ধর্ম জীবকে শেখায়।নিজে আচরণ করে যদি অন্যকে কিছু শেখায় তাহায় কার্য্যকারী হয়।* *তাই,শ্রীমন্মহাপ্রভু ১২ বৎসর গম্ভীরা কক্ষে থেকে ব্রজের লীলা আস্বাদন করেছিলেন, কাদের কাছে?যাঁদের জগতের শ্রেষ্ঠ সাড়েতিনজন পাত্র বলেছিলেন।*
*কৃষ্ণকথা আস্বাদন করে আর অন্য কিছুর প্রতি মহাপ্রভুর লক্ষ্য নেই,কি ভাবে আরো আরো ব্রজের রস আস্বাদন হবে।* *ব্রজের মধুমাখা রস আস্বাদন করে,*
*ধূলায় ধূসর অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়।*
চিত্ত শুদ্ধি না হলে ভক্তির উদয় হয় না। এই চিত্তকে শুদ্ধি করতে হলে কি করতে হবে?একমাত্র ভাগবত শ্রবন, ও কীর্তন শ্রবণের ফলে চিত্ত শুদ্ধি হয়
কারণ শ্রবণ কীর্তনের ফলে ভক্তি আবির্ভূত হয়, এবং আবির্ভূত ভক্তি প্রভাবে চিত্ত বা মন যখন তার মলিনতা পরিহার বা পরিস্কার করে বিশুদ্ধতা লাভ করে।তখনই ভক্তির সঙ্গে চিত্তের যথার্থভাবে স্পর্শলাভ হয়। অর্থ্যাৎ ভক্তি প্রভাবে চিত্ত শুদ্ধ হয় এবং চিত্ত শুদ্ধ হলে ভক্তিপ্রভাবে আপনা হতেই চিত্তের দুর্বাসনা দূর হয়, এবং ভক্তিদেবী নিজেই আপন আসন প্রস্তুত করিবার জন্য কাম,কামনা,বিষয় বাসনা প্রভৃতি আবর্জনা দূর করেন।
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।*
*রজনী দিবস গোরা জাগিয়া পোহায়।।*
*আখর=দেখ মলিন হয়েছে,আমার গৌরহরির বদন,মলিন হয়েছে।* *মানময়ীর ভাবে বিভোর হয়েছে, ভাল করে চেয়ে দেখ,মানময়ীর ভাবে বিভোর হয়েছে,আমার আমার গৌরহরি।*
*🌻অদ্য ভাবনিধি গৌরহরি ব্রজের ভাবে ভাবিতা হয়ে সেই মানময়ীর কথা মনে পড়েছে।তাই গৌরসুন্দর মানময়ী হয়েছেন।* *কেন হবেন না?* *গৌরহরি তো অন্য কেহ নহেন।*
*রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*অনন্যে বিলসয় রস আস্বাদন করি।।*
*সেই দুই এক এবে চৈতন্য গোঁসাই*
*লীলারস আস্বাদিতে হৈলা এক ঠাঁই।।*
*তাহলে রাধা-গোবিন্দ মিলিত তনুই আমার গৌরহরি। তাই গৌরহরি মানময়ী হলেন, কেন?* *এখানে দুটি মত পাওয়া যায়,এক গোবিন্দ আমার চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে নিশিযাপন করেছিলেন বলিয়ায় রাধা মান করেছিলেন, দুই,লীলায় মান,বিরহ না থাকলে,প্রেম বা ভালোবাসার গভীরতা হয় না।* *এই ভালবাসাকে গভীরতাকরবার জন্য মান করা।*তাই সেই ব্রজের কথা মনে পড়ায় ব্রজের লীলাকে প্রকট করলেন।* *এবং মানময়ী হয়েছেন।* *মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।* *রজনী দিবস গোরা জাগিয়া পোহায়।।*
*ক্ষণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না যায়।*
*মান রস গোরাচাঁদের বাসুঘোষ গায়।।*
*আখর=আজ,চমকি উঠিছে,থরথর কাঁপিছে,আজ,চমকি উঠিছে।*
*মানময়ী ভাবে গোরা,চমকি উঠিছে।*
*বলিহারী যাই গো,বাসুদেব ঘোষ বলেন, বলিহারী যাই গো। মানরস দর্শন করে,জীবন আমার সার্থক হল।*
*পদকর্তা বাসুদেব ঘোষ যখন শুনলেন,মহাপ্রভু অপ্রকট হয়েছেন, তখন তিনি তমলুকে ছিলেন ও বহু শিষ্য ও শিষ্যা হয়েছিল।* *অপ্রকটের কথা শুনে তিনি আর ধৈর্য্য রাখতে পারলেন না।যত শিষ্য ছিল তাদের বললেন,এখানে একটি গর্ত খনন কর,আমি জীবিত সমাধি হব।এইকথা শুনে শিষ্য ও শিষ্যাগণের হাহাকার কান্না শুরু হয়ে গেল।* *কিন্তু গুরুদেবকে কেহ কিছু বলতে পারছেন না,গুরু আজ্ঞা মানতে হবে,গুরুবাক্য লঙ্ঘন করলে নরক ঠাঁই হবে,অগত্যা গুরু যা বললেন করতে বাধ্য হলেন।* *নয়নের জলে বক্ষ ভেসে যাচ্ছে,কি করবেন উপায় নেই,গুরুবাক্য।* *গর্ত খনন হয়ে গেলে সেখানে প্রবেশ করলেন,আর সকলের সেই বুকফাটা কান্না,কেহ বুকে করাঘাত করছেন,কেহ মস্তকে করাঘাত করছেন।* *সন্ধ্যে পার হয়ে রাত্রি হল, এমন সময় শ্রীমন্মহাপ্রভু বাসুদেবকে দেখা দিলেন ও বললেন,* *কি হয়েছে তোমার?কেন তুমি প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছ?বাসুদেব যেন চমকে উঠলেন,বললেন প্রভু তুমি!* *তুমি না অপ্রকট হয়েছ? প্রভু বললেন,আমি তাদের কাছে অপ্রকট হয়েছি,যারা আমার অবাধ্য সন্তান।* *যারা আমায় বিশ্বাস করে না।* *তখন বাসুদেব বললেন,পূর্বে যেমন আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করেছ,আমাদের কীর্তন আস্বাদন করেছ,সেইভাবে এই মন্দিরে প্রকট হও,তবেই আমি আমার সংকল্প হতে ফিরে আসব।* *সত্যি সত্যি দেখা গেল সেইরূপে গৌরহরি বাসুদেবের মন্দিরে প্রকট হলেন,প্রাণ বিসর্জনের ইচ্ছে ত্যাগ করলেন,সকলের মধ্যে হরি হরি রবে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠল।* *বর্তমানে সে বিগ্রহ তমলুকে রয়েছে।* *অতি সংক্ষেপে লিখিলাম। জয় নিতাই।*
*🌹🌹ব্রজলীলা খন্ডিতা🌹🌹*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*উল্লঙ্ঘ্য সময়ং যস্যাঃ প্রেয়ানন্যোপভোগবান্।*
*ভোগলক্ষাঙ্কিতঃ প্রাতরাগচ্ছেৎ খন্ডিতা হি সা।।*
*🌴পূর্ব সাঙ্কেতিক কাল ব্যত্যয় করিয়া,যদি প্রিয়তম অন্য প্রেয়সীসহ নিশি যাপন করিয়া,তদীয় ভোগচিহ্ন ধারণ পূর্বক প্রাতঃকালে সমাগত হয়েন, তা দর্শন করে পূর্ব নায়িকা (রাধা)খন্ডিতা অবস্থা প্রাপ্ত হন।* *ক্রোধ,দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ,তুষ্ণীম্ভাব অবলম্বন খন্ডিতা নায়িকার লক্ষণ।*
*🌻মান প্রাপ্ত নায়িকা তিন প্রকার।* *ধীরা,অধীরা ও ধীরাধীরা।ধীরা শব্দের অন্তে মধ্যা শব্দ প্রয়োগ সুখ বোধার্থ।*
*🌻যে নায়িকা সাপরাধ প্রিয়কে উপহাসসহ বক্রোক্তি করে,তাকে অধীরা মধ্যা বলে।*
*চন্দ্রাবলী সনে,কুসুম শয়নে,*
*সুখেতে ছিলেন শ্যাম।*
*প্রভাতে উঠিয়া,ভয়ে ভীত হইয়া,*
*আইলা রাধার ঠাম।।*
*গলে পীতবাস, করিয়া সাহস,*
*দাঁড়াল রাইয়ের আগে।*
*দেখে ফুল মালা,তাম্বুলের ডালা,*
*ফেলিয়াছে রাই রাগে।।*
*নাগরে দেখিয়া,মানিনী না চাহে,*
*আছেন আপন কোপে।*
*নয়ান ভুরুর, ভঙ্গিমা দেখিয়া,*
*তরাসে নাগর কাঁপে।।*
*রোষেতে নাগরী, থাকিতে না পারি,*
*নাগরে পাড়য়ে গালি।*
*চন্ডীদাস ভণে ,লম্পটের সনে,*
*কথা কৈলে তবু ভালি।।*
*🌦সঙ্কেত করে শ্রীকৃষ্ণ রাধার কুঞ্জে না এসে,(যে কোন কারণেই হোক না কেন)চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে নিশি যাপন করে নানারকম ভোগ-চিহ্নসহ প্রভাতকালে ভয়ে ভীত হয়ে রাধিকার কুঞ্জে উপনীত হলেন।* *দেখলেন রাধিকা ফুলের মালা,তাম্বুলের ডালা ফেলে দিয়াছেন।* *এ সকল ক্রোধ লক্ষণ দেখে অপরাধীর মত গলে পীতবাস দিয়া করজোড়ে রাধিকার সামনে এসে দাঁড়ালেন।* *কিন্তু রাধা ক্রোধান্বিতা,কৃষ্ণকে গালি দিতে লাগলেন। পদকর্তা বলছেন,ছি,ছি, রাধা তুমি এমন লম্পটের সঙ্গে কথা বললে!আমি হলে কথায় বলতাম না।*
*ভাল হইল আরে বঁধূ আইলা সকালে।*
*প্রভাতে দেখিলাম মুখ দিন যাফে ভালে।।*
*বঁধূ তোমার বলিহারী যায়।*
*ফিরিয়া দাঁড়াও আগে মুখখানি চাই।।*
**আই আই পড়েছে মুখে কাজরেরি আভা।*
*ভালে সে সিন্দুর বিন্দু মুনির মনোলোভা।।*
*কর নখ দংশনেতে অঙ্গ জর জর*
*ভালে সে কঙ্কণ দাগ হিয়ার উপর।।*
*নীলপাটের সাটী কোচার বলনী।*
*রমণী-রমণ হইয়া বঞ্চিলা রজনী*
*সুরঙ্গ যাবক রঙ্গ উরে ভাল সাজে*
*এখন কহ মনের কথা এলে কিবা কাজে।।*
*চারিদিকে চায় নাগর আঁচলে মুখ মোছে।*
*চন্ডীদাস কহে লাজ ধুইলে না ঘুচে।।*
*🌹🌹সকাল বেলা বঁধূর মুখ দেখে রাধার ভীষণ ক্রোধ হয়েছে, ক্রোধে মুখে যা এলো তাই উল্টোপাল্টা কথা বলছেন। হে বঁধূ!তুমি ফিরে দাঁড়াও,তোমার বদন দর্শন করি।* *ছি ছি,কাজলে মুখ মলিন হয়ে গেছে!কপালে সিন্দুরের দাগ,আহা হা কি সুন্দর।মুনির মন হরণ করে,নারী কোন ছার।* *বঁধূ, ও বঁধূ!নীলশাড়ী কোথায় পেলে? আহা রে,বুকে আলতার চিহ্ন কে দিয়েছে?রাধার এই সব বক্রোক্তি শুনে কৃষ্ণ সকালবেলা ভয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।* *তাঁর(কৃষ্ণের)অঙ্গে এই সকল চিহ্ন লক্ষ্য করেননি। এখন চারিদিকে দেখতে দেখতে নিজ আঁচলে মুখ মুছে পরিস্কার করতে চেষ্টা করছেন।* *কিন্তু পদকর্তা বলছেন, মুছলে কেন ধুলেও দাগ যাবে না,তুমি বৃথা চেষ্টা করছ।*
*আখর=রাগে শ্রীমতী করে তিরস্কার,* *শ্রীকৃষ্ণের রূপ দেখে, রাগে-------------।* *কাজলে মলিন,সিন্দুরের দাগ, রাগে--------।* *নীল শাড়ী পড়েছেন আজ, রাগে -------* *দাগ মুছবার চেষ্টা বৃথা,ধরা পড়েছেন শ্রীমতীর কাছে, দাগ------।* *রাধা কন, কেন এলে,* *এইরূপে এইখানে, রাধা কন,কেন এলে।* *তোমাকে ত দেখতে চাই নাই,এইরূপে কেন এলে।*
*শুন শুন সুন্দরী কর অবধান।*
*বিনি অপরাধে কহসি কেনে আন।।*
*পূজলু পশুপতি যামিনী জাগি।*
*গমন বিলম্বন ভেল তথি লাগি।।*
*লাগল কুঙ্কুম মৃগমদ দাগ।*
*উচ্চারিতে মন্ত্র অধরে নাহি রাগ।।*
*রজনী উজাগরি লোচন ভোর।*
*ইথে লাগি তুঁহু মুঝে বোলসি চোর।।*
*নব কবিশেখর কি কহিব তোয়।*
*শপথি করহ তবে প্রতীত হোয়।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ নিজের দোষ ঢাকবার জন্য এই কথাগুলি বলছেন।🌹*
*কৃষ্ণ বলছেন,রাধা!আমার কোনই দোষ নেই,তুমি অযথা আমাকে দোষারোপ করছ।* *আমি সমস্ত রাত্রি জাগরণ করে শিব পূজা করেছি।* *মৃগমদ ও কুঙ্কুম চিহ্ন দেখে তুমি সিন্দুর ও কাজল বলছ,এইকথা ঠিক না।* *রাধে!তুমি বিশ্বাস কর আমার কোন দোষ নাই।* *তোমায় আমি মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসি আর তুমি আমায় চোর বলছ? এইভাবে আর বোলো না!*
*আকুল চিকুর,চূড়োপরি চন্দ্রক,*
*ভালহি সিন্দুর দহনা।*
*চন্দন চাঁদ মাহা,লাগল মৃগমদ,*
*তাহে বেকত তিন নয়না।।*
*মাধব অব তুঁহু শঙ্করদেবা।*
*জাগর পূণ্যফলে, প্রাতরে ভেনু,*
*দূরহি দূর রহঁ সেবা।।*
*চন্দন রেণু, ধূসর ভেল তনু,*
*সোই ভসম সম ভেল।*
*তোহারি বিলোকনে,মঝু মন মনসিজ,*
*মনরথ সঞে জরি গেল।।*
*অবহু বসন ধর,কাঁহে দিগম্বর,*
*শঙ্কর নিয়ম উপেখি।*
*গোবিন্দ দাস,কহই পর অম্বর,*
*গণইতে লিখি না লিখি।।*
*🌻শ্রীমতী ব্যঙ্গোক্তি করে বলছেন যে,এখন আর তুমি মাধব নহে,এখন তুমি শঙ্করদেব হয়েছ।* *যেহেতু তোমার চন্দন চাঁদ মাঝে কস্তুরী লাগায়ে তিনটি নয়ন দেখা যাচ্ছে।* *চন্দনরেণু ভস্ম(ছাই)সম মনে হচ্ছে।* *এই দেখ তোমাকে দেখে আমার ভিতরে যে মদন ছিল,সে ভস্ম হয়ে গেল।* *আমি রাত্রি জাগরণ করার পূণ্যফলে তোমার দর্শন পেলাম।* *কিন্তু সেবা আমার দ্বারা হবে না,কারণ আমি ব্রাহ্মণী নই,আমি গোয়ালিনী।* *তোমার পূজা জানি না।তুমি দিগম্বর হয়ে,কেন নিয়মভঙ্গ করে বসন পরেছ?* *পদকর্তা বলছেন,যে,পরের বসন,উহা বসন বলে গণ্য নয়,অতএব তুমি দিগম্বর।* *আখর=শ্রীমতী করেন ব্যঙ্গ উক্তি, বলেন মাধব শঙ্করদেব,তার মনে যেন শিবভাব,মাধব আজ শঙ্করদেব।* *চন্দন রেণু ভস্মময়,আজ মাধব শঙ্করদেব।*
*শ্রীমতীর ব্যঙ্গ শুনে শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, আমি যদি শঙ্কর হই তবে তুমি চন্ডীদেবী হয়েছ।*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*সহজই গোরী,রোখে তিন লোচন,*
*কেশরী জিনিয়া মাঝ ক্ষীণ।*
*হৃদয় পাষাণ, বচনে অনুমানিয়ে,*
*শৈলসুতা করি চিন।।*
*সুন্দরী অব তুঁহু চন্ডী বিভঙ্গ।*
*যব হাম শঙ্কর,তুয়া নিজ কিঙ্কর,*
*দেয়বি মোহে আধ অঙ্গ।।*
*কলিয় কুটিল, ভাঙ ভূজঙ্গম,*
*সম্বরু তাকর দম্ভ।*
*পশুপতি দেখি,রোখ নাহি সমুচিত,*
*হাম নহ শুম্ভ নিশুম্ভ।।*
*দহন মনোভবে,তুহ জিয়াঅবি,*
*ইষত হাস বরদানে।*
*তুয়া পরসাদে, বাদ সব খন্ডয়ে,*
*গোবিন্দ দাস পরমাণে।।*
*🌺তুমি গৌরী, কিন্তু ক্রোধে তোমার কপালে আর একটি নয়ন প্রকাশ হয়েছে।তোমার হৃদয় পাষাণ,তুমি পার্বতী।* *আমি যদি শঙ্কর হই,তবে তোমার কিঙ্কর(ভৃত্য)বটে। আমার প্রতি ক্রোধ করা উচিৎ নয়।আমি শুম্ভ নিশুম্ভ অসুর নহে যে,বধ করবে।*
*শিব অঙ্গে অর্ধেক পার্বতী থাকে,অতএব আমাকে অর্ধেক অঙ্গ দান কর।* *যত বাদ-বিবাদ খন্ডন হয়ে যাবে।*
*নখ পদ হৃদয়ে তোহারি।*
*অন্তর জ্বলত হামারি।।*
*অধরহি কাজর তোর।*
*মলিন বদন ভেল মোর।।*
*হাম উজাগর রাতি।*
*তুয়া দিঠে অরুণিম ভাঁতি।।*
*কাহে মিনতি করু কান।*
*তুয়া হাম একই পরাণ।।*
*হামারি রোদন অভিলাষ।*
*তুহুঁ কহ গদ গদ ভাষ।।*
*সবে নহে তনু তনু সঙ্গ।*
*হাম গোরী তুয়া শ্যাম অঙ্গ।।*
*অতএ চলহ নিজ বাস।*
*কহতহি গোবিন্দ দাস।।*
*🌻শ্রীমতী বলছেন,হে শঙ্কর!তুমি যা বলছ তা তো আমি দেয়েছি।এই দেখ আমি নিশি জেগেছি।* *আর তোমার চক্ষু রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।তোমার অধরে কাজল,আমার মুখ দেখ মলিন হয়েছে।তুমি আমি একই পরাণ, কেবল দেহ ভিন্ন।* *আমি গৌরী,তুমি শ্যাম।আর বেশী কথা না বাড়িয়ে এখন তুমি নিজস্থানে যেতে পার,এখানে দাঁড়িয়ে আর আমাকে কষ্ট দিও না।*
*তুরিত করিয়া,গমন করহ,*
*এখান হৈতে আজি।*
*সেখানে যাইয়া,তাহারে ভজ,*
*যেখানে আছিলা মজি।।*
*শুন হে রসিক রাজ।*
*পূরিল আমার, মনের বাসনা,*
*তোমাতে নাহিক কাজ।।*
*এ বোল শুনিয়া,সখীগণ কহে,*
*বিষম হৈল বড়।*
*চন্ডীদাস কহে,কি বলিবে আর,*
*চরণে ধরিয়া পড়।।*
*🌼খন্ডিতা অবস্থায় মিলন হয় না,কিন্তু সঙ্কীর্ণ মিলনের পদ কিছু আছে যথা=বাজীকর মিলন,যোগিনী মিলন,বিদেশিনী মিলন ও অন্যান্য প্রকার মিলনও রয়েছে।কিন্তু যদি পর্যায় নিয়ম করে গান করতে হয়, তবে মিলন হবে না।শ্রীমতীর কলহান্তরিত ভাব হবার পর যে মিলন,সেই মিলন পর্যায় অনুমোদিত।*
*🌻এখানেই খন্ডিতা রহিল🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



