✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ চন্দ্রহংস রাজার উপ্যাখ্যান ꧂
👇👇👇🙏👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🍀চন্দ্রহংস রাজার উপ্যাখ্যান🍀*
🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀
*পান্ডবদের অশ্ব কৌন্ডিল্য নগরে গেল,সেই দেশের রাজা চন্দ্রহংস।পরম ধার্মিক রাজা বিষ্ণুভক্তিতে ভরপুর।দূত গিয়ে রাজাকে খবর দিল,* *শুনে রাজা অশ্ব ধরে রাখলেন, অশ্বের গায়ে লিখন পড়লেন পড়ে সব বৃত্তান্ত জানতে পারলেন।*
*যুধিষ্ঠির রাজা অশ্বমেধ যজ্ঞ করে।*
*অনুজ অর্জুন এল অশ্ব রাখিবারে।।*
*তাহা শুনি আনন্দে ভাসিল নরপতি।*
*দেখিব গোবিন্দ পার্থ-রথের সারথি।।*
*অর্জুনের মিলনে দেখিব নারায়ণে।*
*সফল আমার জন্ম হৈল এতদিনে।।*
*🍀রাজা ভীষণ খুশী হলেন,কেন?তিনি অর্জুনের সঙ্গে কৃষ্ণ দর্শন পাবেন বলিয়া। এই বলে দুটি অশ্বকে অন্তঃপুরে বেঁধে রাখলেন।*
*সেই পুরে বায়ু প্রবেশিতে নাহি নারে।*
*শুনি অর্জুনের চিন্তা হইল অন্তরে।।*
*🍀হঠাৎ সেই সময়ে দেবর্ষি নারদের আগমন,অর্জুন নারদমুনিকে প্রণাম করলেন, আশীর্বাদ করে আসনে বসলেন,তিনিও আনন্দ পেলেন কৃষ্ণ দর্শন করে।* *তখন অর্জুন বললেন, কোথা গেল আমাদের দুটি অশ্ব,সেই অশ্বের যদি সন্ধান না পায় ভীষন কষ্ট পাব।*
*নারদ বলেন,শুন পান্ডুর তনয়।*
*চন্দ্রহংস পুরে দেখিলাম দুই হয়।।*
*(হয়=অশ্ব বা ঘোড়া)*
*🍀তখন অর্জুন বললেন,সেই রাজা কার সন্তান?এত বড় সাহস আমাদের ঘোড়া বন্দী করল? নারদ মুনি বললেন, শুন,চন্দ্রহংস রাজা পরম বিষ্ণুর ভক্ত,তাঁর দুই পুত্র আছে,মকরাক্ষ ও পদ্মাক্ষ।* *নারদ বললেন,চন্দ্রহংস রাজা একসময়(শিশুকালে) খুব দুঃখী ছিলেন,""দধিমুখ তাঁর পিতার নাম,""* *তাঁর পিতাও খুব বিষ্ণুভক্ত ছিলেন।*
*দধিমুখ তার পিতা বিষ্ণুপরায়ণ।*
*ধর্ম কর্ম বিনা আর না জানে রাজন।।*
*অপুত্রক হয়ে রাজা আছে চিরকাল।*
*পুত্রের কারণে যজ্ঞ কৈল মহীপাল।।*
*🍀তারপর চন্দ্রহংস জন্ম নিলেন,পুত্র হয়েছে জেনে বহু দান করলেন,তিনদিনের চন্দ্র তাঁর পিতা মারা গেলেন, সঙ্গে মা মারা গেলেন।* *ধাত্রীমা অতি যত্নে লালন পালন করতে লাগলেন।একদিন রক্তশূল রোগে ধাত্রী মারা গেল।* *মাতামহগণ এসে চন্দ্রকে নিয়ে চলে গিয়ে যত্নে পালন করতে লাগলেন।* *দিনে দিনে বাড়তে লাগল, এবং চন্দ্রহংস নাম রাখলেন।* *মাতামহের গৃহে ধৃষ্টবুদ্ধি নামে একজন ছিলেন ছলে বলে কৌশলে মাতামহকে মেরে দিলেন।* *তারপর নিজেই রাজ্য পরিচালনা করতে লাগল ধৃষ্টবুদ্ধি,চন্দ্রহংস সেই গৃহে আছে সে জানত না।* *ধৃষ্টবুদ্ধি মন্ত্রী ছিল।* *প্রতিদিন মন্ত্রী করেন পুরাণ শ্রবণ।*
*প্রজাকে পীড়য়ে,ধর্মপথে নাহি মন।।*
*কি আশ্চর্য্য দেবমায়া কে বুঝিতে পারে।*
*নগরনিবাসী যত যায় রাজপুরে।।*
*শুনয়ে পুরাণ পাঠ করিয়ে যতন।*
*শিশু সঙ্গে চন্দ্রহংস করেন গমন।।*
*বসিয়া সমাজে শিশু শাস্ত্রকথা শুনে।*
*ভক্তির উদয় হৈল পুরাণ শ্রবণে।।*
*🍀শিশুকে দেখে সবার খুব আনন্দ হ'ল,মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন এই শিশু কার পুত্র।* *যত দ্বিজগণ পুরাণপাঠে ছিলেন তাঁরা বললেন,এই শিশুর মধ্যে নৃপতি লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি,আগামীতে কৌন্ডিল্য নগরের রাজা হবে।*
*অন্যথা ইহাতে নাহি শুন মন্ত্রীবর।*
*কহিনু ভবিষ্যকথা তোমার গোচর।।*
*ক্রমশ*
*🌻চন্দ্রহংস রাজা ২ য়🌻*
*মন্ত্রী বললেন,আমি জানিনা কার পুত্র।তবে দ্বিজ যে ভাবে বললেন যে সে একদিন রাজচক্রবর্তী হবে।মন্ত্রী আর পাঁচজনের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারলেন যে,এই পুত্র দধিমুখের, এই পুত্রের নাম রেখেছেন চন্দ্রহংস, তখন মন্ত্রী মনে মনে ভাবলেন এই শিশু যদি বেঁচে থাকে তবে আমি অনাথ হয়ে যাব।*
*তাহা শুনি ধৃষ্টবুদ্ধি গেল নিজপুরে*।
*বিরলে বসিয়া একা মনেতে বিচারে।।*
*ব্যাধি,ঋণ,রিপু শেষ থাকিলে বিষম।*
*মিথ্যা নহে এই কথা,কহে সর্বজন।।*
*এই কালে বিনাশিব নৃপতি কুমারে।*
*নহে অবশেষে দুঃখ দিবেক আমারে।।*
*🍁ধৃষ্টবুদ্ধি মনে বিচার করে এই রাজ্যের চন্ডালকে ডাকল, এবং বলল তুমি যেভাবেই হোক ঐ চন্দ্রহংসকে মেরে ফেল।* *মন্ত্রীর কথায় চন্দ্রহংসকে গভীর বনে প্রবেশ করল,চন্দ্রহংস বনের ভিতরে ঢোকার পর ভীষণ ভয় পেল, শিশুর ভয় পাওয়া দেখে চন্ডালের দয়া হল, এত সুন্দর শিশুকে আমি মারতে পারবনা বলে বামপায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুল কাটল, আর একটি কুকুরকে কেটে সেই রক্ত মন্ত্রীকে দেখালে মন্ত্রী খুব আনন্দ পেল,মনে মনে বলতে লাগল আপদ দূর হল।*
*কলিঙ্গ নামেতে মন্ত্রী তার একজন*।
*মৃগোআ করিতে সেই করিল গমন।।*
*শুনিল বনের মধ্যে শিশুর ক্রন্দন।*
*কলিঙ্গ শিশুকে দেখি আনন্দিত মন।।*
*অপুত্রক ছিল শিশু দেখিয়া নয়নে*।
*হরিষেতে লয়ে গেল নিজ নিকেতনে।।*
*🍀চন্দ্রহংস নিজ পরিচয় দিল,শুনে কলিঙ্গের মনে খুব আনন্দ হল। এবার কিছু দিন পরে নগরেঘোষণা করলেন, এতদিন আমি অপুত্রক ছিলাম,আমার ঘর আলো করে এক পুত্র এসেছে।* *ধৃষ্টবুদ্ধি সব কথা শুনে দান করলেন, *ইচ্ছের বিরুদ্ধে।* *চন্দ্রহংস দিনে দিনে বড় হতে লাগল,অস্ত্র,শস্ত্র নানা বিদ্যা ধীরে ধীরে শিখল,দেখতে দেখতে ষোল বৎসর হল,*
*ষোড়শ বৎসর শিশু হৈল বলবান*।
*শয়নে স্বপনে ভাবে দেব ভগবান*।।
*একাদশী ব্রত করি পূজে গদাধর।*
*তাহা দেখি কলিঙ্গ যে হরিষ অন্তর।।*
*বৈষ্ণব হইল পুত্র বিষ্ণুতে ভকতি।*
*বঝি দেখ সংসর্গের গুণ নরপতি*।।
*🍀কলিঙ্গনগরে যত প্রজা ছিল চন্দ্রহংসকে ডেকে তুমি তোমার পথে চল,বিষ্ণু প্রতি ভক্তি রেখ।* *একাদশী ছেড় না,*
*একাদশীব্রত যে জন না করিবে।*
*সত্য কহিলাম সেই দেশে না থাকিবে।।*
*🍀এইকথা শুনে ধৃষ্টবুদ্ধির রাগ হল,যে একাদশী করবে না সে এই দেশে থাকবে না,দেখি কে কি করে,* *আমি ঐসব মানিনা।* *নানান কথার মাধ্যমে একাদশীর দিন এলে সকল প্রজাগণ,*
*দৈবে একাদশী সেই দিন উপনীত*
*দৈবে আচরিতে সবে চলিল ত্বরিত।।*
*মন্ত্রী বলে,কোথা যাহ অনুচরগণ।*
*রন্ধন ভোজন হেতু লহ আয়োজন।।*
*অনুচর বলে প্রভু আজি একাদশী*
*কিছু নাহি খাব মোরা থাকি উপবাসী।।*
*স্নান করি আমরা পূজিব নারায়ণ*
*কৃষ্ণ নামে রজনী করিব জাগরণ।।*
*দ্বাদশীর প্রভাতে আচরি স্নান দান*।
*খাইব প্রসাদ অন্ন পূজি ভগবান।।*
*ক্রমশ*
*🌻চন্দ্রহংস রাজা তৃতীয়🌻*
*মন্ত্রী বলে,আরে বেটা তোরা অল্পমতি।*
*আমি নাহি জানি তোরা কবে হলি ব্রতী।।*
*🌼মন্ত্রী আরো বলল,কে দিল তোদের এই শিক্ষা?অনুচরগণ বলল,শুভক্ষণে জন্মেছে কলিঙ্গের পুত্র,সেই আমাদের ব্রত শিখাল।এখন আর দেশে পাষন্ড নাই সকলেই বিষ্ণুভক্ত হয়ে গেছে।*
*অনুচর বাক্যে মন্ত্রী বিস্ময় মানিল*।
*চড়িয়া অপূর্ব অশ্ব কৌন্ডিল্যতে গেল।।*
*🌼মন্ত্রী আসছে জেনে কৌন্ডিল্য রাজা আদর করে ভিতরে নিয়ে আসলেন,পিতা-পুত্রকে সামনে দেখে বলল কে এই?কলিঙ্গ বলল আমার পুত্র,ধৃষ্টবুদ্ধি বলল,আশ্চর্য্য কথা,এ তোমার পুত্র হতে পারে না।* *আমাকে মিথ্যা কথা বলবে না, তখন কলিঙ্গ বলল,আমি মৃগয়া করতে বনে গিয়েছিলাম,সেই বনে আমি এই পুত্রকে পেয়েছি।* *এই কথা শুনে ধৃষ্টবুদ্ধির পূর্বের কথা মনে পড়ে গেল,মনে মনে ধৃষ্টবুদ্ধি ভাবল,না একে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না,*
*কপটে করিয়া পত্র লিখিব নন্দনে*।
*চন্দ্রহংসে বিনাশিব বিষের ভক্ষণে।।*
*🌼তখন বলল আমি চন্দ্রহংসের সঙ্গে একান্ত কথা বলতে চায়।*
*ধৃষ্টবুদ্ধি যেখানে থাকে সেখানে যাবার জন্য বলল,এবং চন্দ্রহংস রাজী হলেন।* *
*মন্ত্রী ধৃষ্টবুদ্ধি বলল,আমার পুত্রের সঙ্গে আমার প্রয়োজন আছে,আমি একটি পত্র লিখে দিচ্ছি চন্দ্রহংস আমার পুত্রকে পত্রটি দিয়ে আসবে, হ্যাঁ,পত্রটি পথে খুলবে না।কলিঙ্গ বললেন বেশ পত্র লিখুন আমার পুত্র চন্দ্রহংস আপনার পুত্র মদনকে দিয়ে আসবে।* *পত্রে লেখা ছিল -------------------*
*চন্দ্রহংসে পাঠাইনু তব বিদ্যমানে।*যাবা মাত্র বিষদান করিবে যতনে।।*
*তোমার মঙ্গল হবে এ কর্ম করিলে*
*নহে পুত্র দুঃখ পাবে অবশেষ কালে।।*
*🌼মদন কখনও যেন আমার লেখার অন্যথা হয়, আর আমার অপেক্ষা করবে না, পত্র লিখে তার উপরে একটি চিহ্ন দিল যেন পত্র খুললে ধরা পরে যায়।* *পত্র পেয়ে চন্দ্রহংস যাত্রা করলেন ধৃষ্টবুদ্ধি পুত্র মদনের কাছে।*
*চন্দ্রহংস যাত্রা করিলেন শুভক্ষণে*
*মন্ত্রীর ভবনে এল আনন্দিত মনে*।।
*নিদাঘ সময় সে প্রথম জ্যৈষ্ঠমাসে*।
*দেখিলেন উপবন নগর প্রবেশে।।*
*🌻জ্যৈষ্ঠমাসে গরমকালে বহু পথ অতিক্রম করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন চন্দ্রহংস।মন্ত্রীর ভবনে এলেন বটে,যেন আর পা চলছে না,মন্ত্রীর বিরাট বাগান ও পাশে বড় সরোবর দেখে বসলেন,বসা মাত্রই চোখ বুজে এলো এবং সেখানেই ঘুমিয়ে পরলেন।* *(রাখে হরি মারে কে)*
*ধৃষ্টবুদ্ধি রাজার দুহিতা রূপবতী।*
*সখী সঙ্গে উপবনে আইল ঝটিতি।।*
*পুষ্প তুলি সেই কন্যা শিবপূজা করে।*
*স্নান হেতু উপনীত হৈল সরোবরে।।*
*কতদূরে পুষ্প লয়ে আছে সখীগণ।*
*একেশ্বরী এল কন্যা স্নানের কারণ।।*
*বৃক্ষতলে নিদ্রা যায় পুরুষ সুন্দর।*
*কন্দর্প জিনিয়া রূপ অতি মনোহর।।*
*🌻সেই অপরূপ রূপের চন্দ্রহংসকে দেখে মোহিত হলেন ধৃষ্টবুদ্ধি কন্যা। আরও দেখলেন মস্তকে একটি পত্র,পত্রটি নিয়ে পরলেন কি লেখা রয়েছে।*
*বাপের লিখন দেখে মদনের প্রতি*।
*পত্র লয়ে পড়ে বিষয়া রূপবতী।।*
*যাবা মাত্র চন্দ্রহংসে বিষদান দিবে।*
*কদাচিৎ ইহাতে না বিলম্ব করিবে*।।
*লিখন পড়িয়া কন্যা করে মনস্তাপ*।
*বিষয়া বলেন বড় নিদারুণ বাপ।।*
*🌻বাবার প্রতি মেয়ের ঘৃণা জন্মিল, এতসুন্দর একটি ছেলেকে বিষ দিয়ে মারবার জন্য বাবা মদনের কাছে পত্র লিখেছে!*
*বিষয়া বলিল,মোরে মিলাইল ধাতা।*
*নিশ্চয় হইব আমি ইহার বনিতা।।*
*পূজিলাম শিব-পদ ইহার কারণে।*
*চন্দ্রহংস হবে পতি বিচারিনু মনে*।।
*নয়ন কজ্জল নিল নখেতে করিয়া*।
*বিষস্থানে বিষয়া লিখিল হৃষ্ট হৈয়া।।*
*মুদ্রিত করিয়া পত্র রাখিয়া সেখানে।*
*বিষয়া গেলেন ঘরে আনন্দিত মনে।।*
*🌻তারপর স্নান করে কন্যাগণ শিব পূজা করল,এমন সময় চন্দ্রহংসের ঘুম ভাঙ্গল,তারপরে পত্র নিয়ে মদনের কাছে গিয়ে পত্র দিলেন।পত্র পেয়ে মদন বড় ধূমধামের সহিত বিষয়ার বিয়ে দিলেন চন্দ্রহংসের সঙ্গে।* *কারণ বাবা লিখেছেন যেন আমার কথার খেলাপ না হয়।(লেখা ছিল বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবে,এবারে বিষের জায়গায় বিষ+য়া=বিষয়া) বিষয়া মন্ত্রীর কন্যার নাম।*
*ক্রমশ*
*এবারে মদন বাবার কাছে পত্র লিখে পাঠাল,তোমার কথা মত বিষয়ার বিয়ে চন্দ্রহংসের করে সমর্পণ হয়েছে।পত্র পেয়ে ধৃষ্টবুদ্ধির মাথা গোল হয়ে গেল,কলিঙ্গকে বন্দী করে সমস্ত ধনসম্পদ নিয়ে নিল,এবং সেখান হতে নিজ গৃহে ফিরলেন।মন্ত্রী গৃহে বহু দ্বিজগণ ছিলেন তাঁরা সকলে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করলেন।ধৃষ্টবুদ্ধি ঘরে ফিরে পুত্র মদনকে ডাকল,*
*মদনকে দেখিয়া মন্ত্রী অতি কোপে জ্বলে।*
*আরক্ত করিয়া আঁখি কটুবাক্য বলে।।*
*আরে মোর কুলে তুই কুপুত্র জন্মিলি।*
*কার বাক্যে চন্দ্রহংসে মোর কন্যা দিলি।।*
*মদন বলিল,তব পাইয়া লিখন।*
*চন্দ্রহংসে বিষয়া করেছি সমর্পণ*।।
*🍀তখন মন্ত্রী বলল কোথায় পত্র দেখি,মন্ত্রী পত্র দেখে চন্দ্রহংসের প্রতি অবিশ্বাস্ জন্মাল নিশ্চয় তার কর্ম,মদনের কোন দোষ নেই।* *ধৃষ্টবুদ্ধি সকল অনুচরকে ডাকল,ডেকে বলল,রাত্রে মা চন্ডীকার ঘরে যাকে দেখবে কেটে ফেলবে,আমার পুত্রও হোক না কেন।* *অনুচরদের সব বুঝিয়ে দিল,চন্দ্রহংস মন্ত্রীর কাছে এলেন,মন্ত্রী বলল,আমার কুলের দেবতা ভগবতী,তাঁকে তুমি পূজো করতে যাও,মনে রেখ একাকী যাবে সঙ্গে কাউকে নিবে না।*
*চন্দ্রহংস বলিল,যেমন আজ্ঞা হয়।*
*পূজিব বৈষ্ণবী পদ জানিহ নিশ্চয়।।*
*🍀চন্দ্রহংসের হাতে পূজোর সমস্ত নৈবেদ্য দাসীগণ এনে দিল, চন্দ্রহংস চললেন পূজো করতে।*
*অপূর্ব কৃষ্ণের লীলা কে পারে বুঝিতে।*
*পথে দেখা হৈল তার মদনের সাথে।।*
*মদন বলিল,তুমি যাহ কোথাকারে*।
*চন্দ্রহংস বলে,যাই দেবী পূজিবারে।।*
*কুলদেবী নাহি পূজি মন্ত্রী দোষ দিল।*
*আয়োজন দিয়া মোরে হেথা পাঠাইল।।*
*মদন বলিল,তুমি যাহ নিকেতন।*
*আমি গিয়া চন্ডীকারে করিব পূজন।।*
*🍀চন্দ্রহংস ঘরে চলে গেল,মদন ধূপ দীপ জ্বালিয়ে পূজো করছেন,মন্ত্রীর আদেশে তারা মুখের দিকে না তাকিয়েই মদনের গলা কেটে ফেলল।* *তারপর রাজপুত্রের কাটা গলা দেখে তারা খুব ভয় পেল। ঘরে চন্দ্রহংসকে দেখে মন্ত্রী রাগে জ্বলে উঠল,বলল,তুমি এখানে থাকার কথা নয়,তখন চন্দ্রহংস বলল,আমি মন্দিরে যাচ্ছিলাম,মদন বললে,তুমি ঘরে যাও আমি চন্ডীকার পূজা দিব।*
*মন্ত্রী দৌড়ে মন্দিরে গিয়ে দেখে মদনের কাটা মস্তক পড়ে আছে,পুত্রের এই অবস্থা দেখে মন্ত্রী আত্মঘাতী হল।* *সমস্ত কথা চন্দ্রহংসকে বলল,চন্দ্রহংস জোড়হাতে চন্ডীকার স্তব করতে লাগলেন,স্তব করে বললেন,তাদের প্রাণ ফিরিয়ে দাও নইলে আমি এই খড়্গ দিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিব।*
*বৈষ্ণব বিনাশ দেখি নগেন্দ্র-নন্দিনী।*
*আসি চন্দ্রহংস হস্ত ধরেন তখনি*।।
*তবে চন্দ্রহংস বলে চরণে ধরিয়া।*
*পিতা পুত্র দুইজনে দেহ জীয়াইয়া।।*
*🍀চন্দ্রহংসের কথায় দেবী দুইজনকে জীবনদান করলেন। তখন ধৃষ্টবুদ্ধির চেতনা ফিরল, আর বললেন,আমার রাজ্যের লোভ নেই, আমি বনে গিয়ে যোগসিদ্ধি করব।* *তার পুত্র মদন সিংহাসনে চন্দ্রহংসকে বসালেন, এবং কলিঙ্গকে রাজ্যের মন্ত্রী করলেন।*
*তারপর বিষয়ার গর্ভে দুইটি সন্তান হল,মকরাক্ষ ও পদ্মাক্ষ।* *অর্জুন এই কথাগুলি নারদমুনির কাছে শুনে পরম আনন্দে চন্দ্রহংসের কাছে গেলেন,কৃষ্ণ ও অর্জুনকে দর্শন করে রাজার পরম আনন্দ হল,যজ্ঞের ঘোড়া দুটি ফিরিয়ে দিলেন।কৃষ্ণ ও অর্জুনকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন চন্দ্রহংস। সকলকে নিয়ে সুখে রাজ্য পরিচালনা করতে লাগলেন।*
*🍀বিষয়টি সংক্ষেপে লিখিলাম🍀*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧











