✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ বিষ্ণুপ্রিয়া ঠাকুরানির শুভ আবির্ভাব তিথি ꧂
꧁ মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথি ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ DeepBagui.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*#মাঘ_মাসের_শুক্লা_পঞ্চমী_তিথি* :
*#বিষ্ণুপ্রিয়া_ঠাকুরানির_শুভ_আবির্ভাব_তিথি* :
গৌড়ীয় বৈষ্ণব জীবনীতে যদি কোনো জীবনী সর্বাপেক্ষা বেশি লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে থাকে তাহলে তা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর জীবনী।স্বয়ং ভগবান শ্রীগৌরাঙ্গদেবের জীবনী এবং তাঁর দর্শন যতটাই পৃথিবী ব্যাপী আলোচ্য তাঁর সহধর্মিণীর জীবনী ও দর্শন ততটাই আলোচনার আড়ালে থেকে গেছে। তাঁর অন্যতম কারণ হল মহাপ্রভুর গৃহত্যাগের পর বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী একেবারেই আত্মগোপন করলেন সাধনভজন নিয়ে । তাঁর এই আত্মগোপনতাকে সম্মান দিতেই বোধকরি জীবনীকারেরা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে নিয়ে বিশেষ কলম ধরেন নি। যিনি নিজে থেকে প্রকাশিত হতে চাননি তাকে জোর করে প্রকাশিত করলে তাঁকে দুঃখ দেওয়া হয়। তাই জীবনীকারেরা তাঁর সম্মান রক্ষার্থে তাকে নিয়ে লেখনী ধরেন নি। এটা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর প্রতি তাদের তথা গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের শ্রদ্ধা সমর্পণ । অবহেলা নয়।
বাল্যকালেই বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী মা *#যোগমায়া_দেবীর* সাথে তিনবার গঙ্গা তে স্নান করতে আসতেন।মা বাবাকে ভক্তি, বিষ্ণু আরাধনা এই নিয়েই বড় হয়েছেন বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী।
*#শিশু_হইতেই_দুই_তিনবার_গঙ্গাস্নান* ।
*#পিতৃমাতৃ_বিষ্ণুভক্তি_বিনে_নাহি_আন* ।।
নবদ্বীপে বাস করতেন *#সনাতন_মিশ্র* । উদার মনোভাবাপন্ন দয়াশীল স্বভাবের অধিকারী সনাতন মিশ্রের ঘরেই বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী জন্মগ্রহণ করেন।
*#সেই_নবদ্বীপে_বৈসে_মহা_ভাগ্যবান* ।
*#দয়াশীল_স্বভাব_শ্রীসনাতন_নাম* ।।
নবদ্বীপের রাজা বুদ্ধিমন্ত খানের রাজপণ্ডিত ছিলেন সনাতন মিশ্র। সুতরাং স্বচ্ছল অবস্থাসম্পন্ন ছিলেন সনাতন মিশ্র । বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকেও ছোটবেলা থেকেই স্বচ্ছল অবস্থাতেই মানুষ করেছেন।যে অভাব অনটনে মহাপ্রভু ছোটো থেকে বড় হয়েছেন, বলাই বাহুল্য সেই দৈন্যতার আঁচ লাগেনি বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শৈশবে।
শৈশবেই বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী যখন যোগমায়া দেবীর সাথে গঙ্গা স্নানে যেতেন বোধকরি সেইসময় শচীদেবীর সাথে প্রায়শই দেখা হত ছোট্ট বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর। শচীমা মনে মনে ভাবতেন এই মেয়েটিকে যদি আমার নিমাইএর বৌ করে নিয়ে যাওয়া হত, না জানি কতই ভালো হত।
*#শচীদেবী_তাঁরে_দেখিলেন_যেইক্ষণে* ।
*#এই_কন্যা_পুত্রযোগ্যা_বুঝিলেন_মনে* ।।
*#গঙ্গাস্নানে_আই_মনে_করেন_কামনা* ।
*#এই_কন্যা_মোর_পুত্রে_হউক_ঘটনা* ।।
কাশীনাথ পণ্ডিত কে ঘটক হিসেবে মধ্যস্থতা করে শুভদিনে নিমাই পণ্ডিতের সাথে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বিয়ে হয়।
*#যেন_কৃষ্ণ_রুক্মিণীতে_অন্যন্যে_উচিত* ।
*#সেইমত_বিষ্ণুপ্রিয়া_নিমাই_পণ্ডিত* ।।
বিবাহের বিস্তৃত বর্ণনা আছে বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের কলমে নিহিত চৈতন্যভাগবত গ্রন্থে।
এরপরে মহাপ্রভু গৃহত্যাগ করলেন। জননী শচী ঠাকুরানি, গৃহভৃত্য ঈশান দাস এবং ভক্তদের দায়িত্ব দিয়ে গেলেন বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর ওপর। কৃষ্ণকে হারিয়ে ভানুনন্দিনীর যেমত দশা বোধকরি প্রভুকে হারিয়ে প্রিয়ার দশা তাঁর থেকেও অধিক।
শচীমায়ের অন্তর্ধানের পর প্রিয়াজী লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেলেন। ভক্তরা এলে দেবীর চরণ দর্শন করতে পারতেন মাত্র। ব্রাহ্মমুহূর্তে উঠে গঙ্গা তে স্নান করে চলে আসতেন ঘরে। সারাদিন আর বেরোতেন না। সূর্যদেবও প্রিয়াজীর দর্শন পেতেন না। গৃহস্থালির যা কাজ তা প্রিয়াজীর দুই সখী *#অমিতা* আর *#কাঞ্চনাই* করতেন।
একবার নবদ্বীপ থেকে রথযাত্রার আগে ভক্তরা পুরীতে যাচ্ছেন। বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর তো যাবার অনুমতি নেই।তবুও ইচ্ছে স্বামীর পদসেবা যদি করতে পারতাম! ইচ্ছে বলবতী করেই প্রিয়াজী একজোড়া খড়ম নির্মাণ করালেন এবং ভক্তদের হাতে দিয়ে পাঠালেন। সেই খড়ম পেয়ে মহাপ্রভু প্রথমে স্বীকার করতে চাননি কারণ স্ত্রী সম্ভাষণ তিনি করবেন না। কিন্তু পরে নিত্যানন্দ প্রভু আদি ভক্তদের আকুলতা এবং সর্বোপরি রাজা প্রতাপরুদ্রদেবের অনুরোধে মহাপ্রভু একটিবারের জন্য সেই খড়ম জোড়াতে নিজের পাদপদ্ম প্রবেশ করিয়েছিলেন। অদ্যাবধি সেই *#খড়ম_যুগল* পুরীতে গম্ভীরা মঠে বিরাজিত।
মহাপ্রভু ভক্তদের মাধ্যম করে নবদ্বীপে শচীদেবীর জন্য প্রসাদ বস্ত্র ইত্যাদি পাঠাতেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে রঙিন বস্ত্রটি পাঠাতেন কার জন্যে? বিধবা মায়ের জন্য নিশ্চয়ই রঙিন বস্ত্র পাঠাবেন না।
পুরীতে গম্ভীরা তে মহাপ্রভু যুগলরস আস্বাদন করতেন স্বরূপ দামোদর আর রায় রামানন্দের সাথে। এদিকে নবদ্বীপে বাড়িতে ঘরের অভ্যন্তরে অমিতা আর কাঞ্চনার সাথে গৌরকথা আস্বাদন করতেন প্রিয়াজী। স্বামীর অবর্তমানে মিশ্র পরিবারের পূজিত শালগ্রাম শিলার সেবাপূজার ভার গ্রহণ করেছিলেন প্রিয়াজী। আজও শ্রীধাম নবদ্বীপে মহাপ্রভুর মন্দিরে প্রিয়াজীর সেবিত সেইসকল মূর্তি শালগ্রাম সেবিত হচ্ছেন। মহাপ্রভু স্ত্রী সম্ভাষণ করতেন না শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের জন্য ; সন্ন্যাসের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য । কিন্তু *#বিষ্ণুপ্রিয়া_আর_বিশ্বম্ভর* অভিন্ন এক প্রাণ। একের থেকে অন্যকে কিভাবে আলাদা করবে কেউ? পুরীধামে বাসরত মহাপ্রভু নবদ্বীপে ভজনরতা প্রিয়াজীকে স্বপ্নাদেশ দিলেন। যে নিমগাছের তলায় মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেছেন সেই নিমগাছের কাঠ দিয়েই তৈরি করতে হবে মহাপ্রভুর বিগ্রহ । দাইহাটের এক ভাস্করও এই একই স্বপ্নাদেশ পেলেন।সেই ভাস্করের হাতেই নিমগাছের কাঠ দিয়ে মহাপ্রভু নিজের বিগ্রহ তৈরি করিয়ে নিলেন এবং বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সেই বিগ্রহ সেবা শুরু করলেন। ভেবে দেখতে হবে আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে একজন নারী বিগ্রহ সেবা তো করছেনই উপরন্তু শালগ্রাম শিলাকেও সেবা করছেন। মহাপ্রভু সন্ন্যাসী হয়েছেন বলেই বোধকরি বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এইভাবে নারীত্বের আদর্শ তুলে ধরতে পেরেছেন বিশ্ববাসীর সামনে। আজো প্রিয়াজীর সেবিত এই গৌরাঙ্গ বিগ্রহ শ্রীধাম নবদ্বীপে *#ধামেশ্বর_মহাপ্রভু* নামে সুসেবিত হচ্ছেন । ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দিরে আজও নিত্য চারটি পারসে ভোগের আয়োজন হয়ে থাকে। দুটি শালগ্রাম আর গোপালের পারস।আর দুটি #গৌর_বিষ্ণুপ্রিয়ার। ভোগ নিবেদনের সময় বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আসন দেওয়া হয় মহাপ্রভুর ডানদিকে । সাধারণত স্বামীর বামেই স্ত্রী থাকেন।তাহলে ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দিরে এই উল্টো রীতি কেন? ডানদিকে বসলেই কাউকে খাইয়ে দিতে সুবিধা হয়। ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দিরেও তাই। সেখানে প্রিয়াজী গৌরহরিকে নিজের হাতে খাইয়ে দেন। প্রিয়াজীর হাতে না খেলে ধামেশ্বর গৌরহরি তৃপ্তি পান না যে!
আজ এই মহাসাধিকা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শুভ আবির্ভাব তিথি । গৌরহরির সেবা যিনি সর্বসমক্ষে এনেছিলেন অথচ নিজে অন্তরালে চলে গেছিলেন সেই মহীয়সী নারী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর পাদপদ্মে অযুত কোটি প্রণাম ।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

