꧁ শ্রীএকাদশী প্রথম প্রবর্তন ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ https://Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🌺 *শ্রীএকাদশী প্রথম প্রবর্তন*
সত্যযুগে শ্রীঅযোধ্যাপুরী তে রুক্মাঙ্গদ নামে এক রাজা ছিলেন । তিনি বিশাল বাগান তৈরি করেছিলেন । তাতে সুন্দর সুন্দর ফুলের গাছ লাগানো ছিল । অবারিত ফুলের সৌগন্ধে স্বর্গের অপ্সরা ও আকৃষ্ট হত। তাদের মনে লালসা জাগল সেই ফুলের সুবাস নেওয়ার জন্য । রাতের বেলা আনন্দ বিহার ও ফুল নিতে অপ্সরাগণ নিত্য আসতে লাগল । এদিকে মালি চিন্তা করছে সন্ধ্যায় প্রচুর ফুলের কুঁড়ি দেখি আর সকালে একটিও ফুল নেই! ব্যাপার টা কী!!
সারারাত পাহারা দিয়েও ধরতে পারলেন না। রাজা জিজ্ঞাসা করেন । কি ব্যাপার!! বাগানে আর ফুল ফোটে না নাকি ?
মালী কোন সঠিক জবাব দিতে পারলেন না ।
মালীর চিন্তা বাড়তেই গেল ।
একদিন প্রাতঃকালে মালী লক্ষ্য করল একটি জায়গা আলোকিত হয়ে আছে গিয়ে দেখল এক দেবী দাড়িয়ে আছে । ছুটতে ছুটতে মালী গিয়ে রাজাকে খবর দিল।তুরন্ত রাজা ছুটে আসল বাগিচায় ।
এসে বললেন-হে দেবী!-আপনি কি দেবী লক্ষ্মী , না স্বরস্বতী, না পার্বতী?দয়া করে আপনার পরিচয় দিন ।
দেবী বললেন- আমার নাম উর্বর্শী ।দ্বাদশী তিথি সংযোগে বেগুনের কাঁটার সংস্পর্শে আমার পূন্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি আর স্বর্গে যেতে পারছি না ।
রাজা-বলুন আমি কি সাহায্য করতে পারি?
অপ্সরা-যদি কেউ একাদশীর ফল আমায় সমর্পন করে তাহলে আমি পুনরায় স্বর্গে যেতে পারি ।
রাজা-একাদশী কি জিনিস? কোন জড়ি বুটি না ঔষধি?
অপ্সরা- দশমীতে একবার খেয়েছে একাদশী তে কিছুই খায় নাই ।কোনও কারণবশত ।সে ব্যক্তি যদি এসে সংকল্প করে আমায় পুন্য প্রদান করে তাতেও আমার উদ্ধার হবে ।
রাজা ভাবলেন আমার এত বড় রাজ্য দেখি তেমন কোন লোক পাওয়া যায় কিনা ।
এই ভেবে রাজা ঢোল পিটিয়ে দিলেন। "যে গতকাল অন্ন জল গ্রহণ করে নাই ও পরশু দিন একবার খেয়েছে সে রাজ দরবারে আসুক, পুরস্কার মিলবে ।
একথা শুনে এক ব্যাপারীর দাসী আসল, যাকে বিনা কারণে ব্যাপারী মেরেছিল,দশমীর দিন দুপুরের পর, রাগে দুঃখে সে ধানের গোলায় লুকিয়ে ছিল । খাওয়া দাওয়া কিছু ই করেনি । তাকে দিয়ে রাজা সংকল্প করাল । অপ্সরা উড়ে স্বর্গে চলে গেল। একাদশী ব্রতের এই প্রকার মহিমা দেখে রাজা বিচার করে ঘোষনা করলেন - আমার রাজ্যে সকলকেই শ্রীএকাদশী ব্রত করতে হবে । আমি না জেনে কত ভুল করেছি । কত সময় বৃথা নষ্ট করেছি । আর নয় । এবার থেকে আমিও সব ব্রত পালন করব । 8বছরের ঊর্ধে ও 85বছরের নীম্নে সকলের ব্রত করা অনিবার্য । অন্যথায় প্রাণদণ্ড । যারা কর দিতে পারবে দিবে, না পারবে ,না দিবে , কিন্তু নির্জলা ব্রত করতেই হবে ।শুধু মানুষ নয়, ঘোড়া কে পর্যন্ত ঘাস দেওয়া হত না । এর প্রভাবে রাজা রুক্মাঙ্গদের রাজ্যে ব্যাপক ভাবে ভক্তির প্রচার হল ।
এবার শুনুন ব্রতের ফলে অদ্ভূত ঘটনা, যার দরুন সমস্ত প্রজা এক সঙ্গে বৈকুণ্ঠধামে গমন করলেন ।
এদিকে নির্জলা একাদশী ব্রতের প্রভাবে সমস্ত লোক মৃত্যুর পরে বিমানে চড়ে সোজা বৈকুণ্ঠে গমন করতে থাকলে যমপুরী শূন্য হয়ে গেল । এতে যমরাজ বড়ই চিন্তিত হলেন । উনি ব্রহ্মার কাছে গিয়ে সব ঘটনা বললেন ।ব্রহ্মা অনেক প্রকারে সান্তনা দিয়ে শ্রী একাদশী ও ভগবদ্ভক্তের মহিমা বর্ণন করলেন ।
ব্রহ্মা বললেন-যদি সবাই বৈকুণ্ঠে যায় এত আনন্দের বিষয় , এতে দুঃখ করার কি আছে?
যমরাজ-না, দুঃখের কিছু নাই, তবে আমায় অন্য কাজ দিন, ফাঁকা যমপুরী তে বসে বসে কি করব?
যমরাজের প্রসন্নতার জন্য ও রূক্মাঙ্গদ ভক্তের মহিমা বাড়ানোর জন্য ব্রহ্মা মায়া দ্বারা মোহিনী নামক দিব্যাঙ্গনার সৃষ্টি করলেন ও রাজা রূক্মাঙ্গদ কে মোহিত করবার জন্য মন্দরাচল পর্বতে পাঠিয়ে দিলেন ।এদিকে
শিকার খেলতে খেলতে রাজা গিয়ে মন্দরাচল পৌছালেন ।
মোহিনী দ্বারা গীত মধুর স্বর লহরী তে আকৃষ্ট হয়ে সেখানে পৌছালেন । তাঁর অদ্ভূত রূপ লাবন্যে মুগ্ধ হয়ে রাজা বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।
মোহিনী বলল- আমার একটি শর্ত আছে "আমি যা বলব তোমাকে তাই করতে হবে ।"
রাজা মোহাসক্তি বশত তার শর্ত স্বীকার করে রাজধানী তে আনয়ন করলেন ।
রাজার পরম সতী সাধ্বী পতিপরায়না পত্নী সন্ধ্যাবলী ও পিতৃ ভক্ত, আজ্ঞাকারী পুত্র ধর্মাঙ্গদ অত্যন্ত আদরের সহিত উভয় কে স্বাগত করলেন । আনন্দে দিন কাটতে লাগল ।
দীর্ঘ সময় পার হলে নিয়ম সেবার মাস এল । এখন রাজা ধর্মাঙ্গদের রাজত্ব ।নিয়মানুযায়ী ঢোল পিটতে লাগল- *সাবধান!! আগামী কাল থেকে কার্তিক নিয়ম সেবা শুরু ও শ্রীএকাদশী ব্রত কেউ যেন ভুল করেও অন্ন গ্রহণ না করে ।*
একথা মোহিনীর কানে গেল । সে বলল এ কিসের ঘোষণা ?
রূক্মাঙ্গদ সব ঘটনা খুলে বললেন ও ব্রত করার জন্য উদ্যোগী হলেন।
মোহিনী বলল- আমার একটি কথা মানতে হবে ।
রাজা-প্রিয়ে ! আমি তো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ! আজ্ঞা করো!!
মোহিনী-তুমি ব্রত করতে পারবে না ।
রাজার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।
বললেন- দেবী ! তুমি যা বলবে আমি তাই শুনতে রাজি , কিন্তু ব্রত করতে বারণ করবে না ।এ আমার দ্বারা অসম্ভব।
মোহিনী-এ হতেই পারে না । আপনি নিজেই প্রতিজ্ঞা করেছেন।নিজের প্রতিজ্ঞা থেকে আপনি কি করে বিচলিত হতে পারেন?
রূক্মাঙ্গদ-তুমি যে কোন শর্তে আমাকে ব্রত করতে আজ্ঞা দাও।
মোহিনী-হ্যাঁ! হতে পারে আপনি যদি নিজের হাতে ধর্মাঙ্গদের মাথা কেটে আমাকে দিতে পারেন।
রাজা মহান ধর্মসংকটে পড়লেন ।
ধর্মাঙ্গদ যখন এ খবর পেলেন তখন পিতার কাছে গিয়ে মস্তক অবনত করে ছেদনের জন্য বার বার অনুরোধ করতে লাগলেন।
ধর্মাঙ্গদ বাবাকে বুঝালেন, বাবা! আমার এর থেকে আর বড় সৌভাগ্য আর কি হতে পারে? আজ আমি ধন্য হলাম ।মৃত্যু তো একদিন হবেই।এক দিকে পিতার প্রতিজ্ঞা অপরদিকে মায়ের মনোরথ পূর্ণ।এ সৌভাগ্য কি কখনও হবে?
মহাসতি মহারাণী সন্ধ্যাবলী ধর্মাঙ্গদের কথায় সাধুবাদ জানিয়ে অনুমোদন করলেন।
রাজা রূক্মাঙ্গদ যেমনি তলোয়ার উত্তোলন করলেন অমনি ধরনি কেঁপে উঠল ।স্বয়ং ভগবান শ্রীহরি প্রকট হয়ে গেলেন আর নিজের হাতে রাজার হাত ধরে বললেন-" *চল ধাম মম বৈঠি বিমানা ।"*
রূক্মাঙ্গদ জী বললেন-" *ইকলো নহি জৈহৌ ভগবানা ।"*
ভগবান রূক্মাঙ্গদ কে নিজ ধাম নিয়ে যেতে চাইলে , বললেন -আমি একা যাব না । আমার সমস্ত অযোধ্যাবাসী কে নিলে তবেই আমি যাব। দিব্য বিমান প্রকট করে সমস্ত প্রজাগন কে সঙ্গে নিয়ে ভগবান, রাজা রূক্মাঙ্গদ সহ নিজ ধামে গমন করলেন।
এটি সত্য যুগের ঘটনা। তখন থেকে শ্রীএকাদশী ব্রতোপবাস শুরু হয় এই মর্ত্য লোকে।
*জয়নিতাই।*
https://gopisharan.blogspot.com
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



