✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১১৮. শ্রীমন্মহাপ্রভুর বিদ্যানগর হতে বিদায় 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda118.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ১১৭. শ্রীমন্মহাপ্রভুর বিদ্যানগর হতে বিদায় 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda117.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১৮)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
*মহাপ্রভুর বিদ্যানগর হতে বিদায়*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*শ্রীরামানন্দরায়-মিলন শ্রীগৌরাঙ্গ লীলার এক অতি প্রধান ব্যাপার, এই কথাগুলি আগে বলা হয়েছে।যদিও ভক্ত ও ভগবানের মিলন অবশ্যম্ভাবী সম্বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়।শ্রীভগবদনুগ্রহই এর নিত্য কারণ, নৈমিত্তিক কারণ,--শ্রীল সার্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্য। ১৪৩২ শকের বৈশাখ মাসে শ্রীশ্রীমহাপ্রভু দক্ষিণ পরিভ্রমণ করতে বাসনা প্রকাশ করেন।এই সংবাদ শুনে নীলাচলের ভক্তগণ দুঃখিত হলেন, বিশেষ করে বাসুদেব ভট্টাচার্য্য মহাশয় মহাপ্রভুর দক্ষিণ যাত্রার সংবাদ পেয়ে শোক-আকুলের মতো হয়ে পড়লেন। কিন্তু ভগবানের ইচ্ছা স্বতন্ত্র। সার্বভৌম বুঝতে পারলেন মহাপ্রভু দক্ষিণ-তীর্থ-ভ্রমণের জন্য দৃঢ় সঙ্কল্প হয়েছেন,তাঁকে বাধা দেওয়া সম্ভবপর নয়। তখন সার্বভৌম তাঁর মনের একটা অভিলাষ জ্ঞাপন করলেন।প্রিয়জনকে প্রিয়বস্তু প্রদর্শন করার অভিলাষ মানব হৃদয়ের এক স্বাভাবিক বৃত্তি।শ্রীরামরায়ের কথা তাঁর মনে হ'ল।*
*🌳শ্রীরামরায় বিষয়কার্য্য-ব্যপদেশে (ছল-ছুতায়) বিদ্যানগর হতে উড়িষ্যার রাজ-দরবারে আগমন করতেন।তিনি রাজা প্রতাপরুদ্রের অমাত্য(মন্ত্রী) ও সুপন্ডিত।এই সময়ে রাজপন্ডিত সার্বভৌমমহাশয়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ পরিচয় হয়। কিন্তু সার্বভৌম তখনও বৈষ্ণবতা জানেন না,বৈষ্ণবের ভজনসাধন বুঝেন না,বৈষ্ণবের ক্রিয়ামুদ্রা তাঁর তখনও অজ্ঞাত বা অজানা।তিনি রামরায়ের পান্ডিত্য ও বুদ্ধি প্রতিভায় যথেষ্ট আনন্দিত হতেন কিন্তু বৈষ্ণব ভাব ও বৈষ্ণব আচার দেখে উপহাস করতেন।দার্শনিক-আচার্য্য সার্বভৌম অকৈতব বা অকপট কৃষ্ণপ্রেমের ভাব-লহরী তখনও ধারণায় আনতে পারেননি। সুতরাং রামরায়ের ভাব,বেশ ও ভজনাদির উচ্চ তত্ত্ব তাঁর কাছে কেমন কেমন বোধ হত,তাই তিনি উপহাস করতেন। কিন্তু মহাপ্রভুর কৃপা-অনুগ্রহে তাঁর হৃদয়ে প্রেমভক্তির উদয় হওয়ায় তিনি রামরায়ের ভাব ও ভজন বুঝতে পারলেন, তখন তাঁর মনে হ'ল, শ্রীরামানন্দ রায় ভজনের উচ্চতম তত্ত্বের অধিকারী।গৌরহরির দক্ষিণ তীর্থ যাত্রার সময়ে শ্রীল সার্বভৌমের হৃদয়ে শ্রীরামরায়ের স্মৃতি জেগে উঠিল। তিনি বললেন, প্রভো!আপনার বিরহ সহ্য করা সহজ হবে না,এটি অপেক্ষা পুত্রশোকও সহনীয়।যদি নিতান্তই আমাদের এই আনন্দ মহামহোৎসব তুলে দিয়ে আপনি দক্ষিণ-ভ্রমণে যাত্রা করেন,তবে আমার একটি নিবেদন শুনতে হবে। আপনি গোদাবরী তটবর্তী বিদ্যানগর নিবাসী শ্রীরায় রামানন্দকে একবার দর্শন দিয়ে অনুগৃহীত বা অনুগ্রহ করবেন।তাঁর মতো রসিকপ্রেমিক এবং প্রেমভজনের প্রকৃত অধিকারী, আমি আর কোথাও দেখিনি।তিনি আপনার সঙ্গলাভের উপযুক্ত।দয়া করে তাঁকে কৃপাদর্শন দান করবেন, তাঁকে বিষয়ী মনে করে উপেক্ষা করবেন না।আপনার শ্রীচরণে এটিই আমার নিবেদন।যথা শ্রীচৈতন্যচরিত মহাকাব্যের দ্বাদশ সর্গে=*
*"কথং মমাভূন্নহি পুত্রশোকঃ কথং মমাভূন্নহি দেহপাতঃ।*
*বিলোক্য যুষ্মৎপদপদ্মযুগ্মং সুঢ়ুং ন শক্তোহস্মি ভবদ্বিয়োগম্।।*
*যত ক্ব গন্তাসি তদা পথা নু কেন কথং পথক্লেশসহোহথভাবী।*
*যদ্যেব গন্তাসি তদা কৃপালো গোদাবরীতীরভুবং সমীয়াঃ।।*
*তত্রাস্তি কশ্চিৎ পরমো মহাত্মা শ্রীকৃষ্ণপাদাম্বুজমত্তভৃঙ্গঃ।*
*নোপাজিহীথা বিষয়ীতিরামানন্দং ভবানন্দতনুজরত্নম্।।"*
*🌻অর্থ্যাৎ প্রভো!আমার পুত্রশোক কেন না হল, আমার দেহপাত বা কেন না হল, আপনার পাদপদ্ম-দর্শন-বিরহ আমার পক্ষে একান্তই দুঃসহ হয়ে উঠেছে।আপনি কোন পথে যাবেন, কিভাবেই বা পথের কষ্ট সহ্য করবেন, যদি নিশ্চয়ই গমন করেন,তবে আমার নিবেদন এই, হে কৃপাসিন্ধো!গোদাবরী তীরভূমিনিবাসী শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মের মত্তভৃঙ্গ ভবানন্দ রায়ের পুত্র মহাত্মা রামানন্দরায়কে দর্শন দিয়ে যাবেন,বিষয়ী মনে করে তাঁকে উপেক্ষা করবেন না।*
*🔴শ্রীচরিতকার শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস এর তাৎপর্য্য-অনুবাদ করে লিখেছেন=*
*🌷 শুনিয়া সার্বভৌম হইল অত্যন্ত কাতর।*
*🌷চরণ ধরিয়া কহে বিষাদ উত্তর।।*
*🌷বহুজন্মের পূণ্যফলে পাইনু তোমাসঙ্গ।*
*🌷হেন সঙ্গ বিধি মোরে করিবেন ভঙ্গ।।*
*🌷শিরে বজ্র পড়ে যদি,পুত্র মরি যায়।*
*🌷তাহা নাহি গণি,বিচ্ছেদ সহন না হয়।।*
*🌷স্বতন্ত্র ঈশ্বর তুমি করিবে গমন*।
*🌷দিন কত রহ হেরি তোমার চরণ।।*
*🌻ভট্টাচায্যের এইরকম আর্তি শুনে মহাপ্রভু কয়েক দিনের জন্য যাত্রা স্থগিত রাখলেন,কিন্তু তাঁর সঙ্কল্প অবিচলিত রইল। তিনি আবার যাত্রা করার জন্য উদ্যত হলেন, সার্বভৌম এবার বাধা না দিয়ে গৌরহরির চরণে মনের একটা বাসনা জানালেন, যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে=*
*🌷তবে সার্বভৌম কহে প্রভুর চরণে।*
*🌷অবশ্য পালিবে প্রভু মোর নিবেদন।।*
*🌷রামানন্দরায় আছে গোদাবরী তীরে।*
*🌷অধিকারী হয়েন তিহ বিদ্যানগরে।।*
*🌷শূদ্র বিষয়ী জ্ঞানে উপেক্ষা না করিবে।*
*🌷আমার বচনে তাঁরে অবশ্য মিলিবে।।*
*🌷তোমার সঙ্গের যোগ্য তিঁহো একজন।*
*🌷পৃথিবীতে রসিক ভক্ত নাহি তার সম।।*
*🌷পান্ডিত্য আর ভক্তিরস দুঁহের তিনি সীমা।*
*🌷সম্ভাষিলে জানিবে তুমি তাঁহার মহিমা।।*
*🌷অলৌকিক বাক্য চেষ্টা তার না বুঝিয়া।*
*🌷পরিহাস করিয়াছি তাঁরে বৈষ্ণব জানিয়া।।*
*🌷তোমার প্রসাদে এবে জানিনু তার তত্ত্ব।*
*🌷সম্ভাষিলে জানিবে তার যেমন মহত্ত্ব।।*
*(সপ্তম পরিচ্ছেদ,মধ্যলীলা)*
*শ্রী সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় যে আগে শ্রীরামরায়কে উপহাস করতেন,তা সম্ভবতঃ শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন্যচন্দ্রোদয় নাটক হতে গ্রহণ করেছেন।উক্ত নাটকে সার্বভৌম, রাজা প্রতাপরুদ্রের কাছে বলছেন=*
*🔵মহারাজ!শ্রীরামানন্দ সহজ বৈষ্ণব।আমরা তো ইনার মহিমা জানতাম না,তাই ইনি ইতিপূর্বে আমাদের উপহাসের পাত্র ছিলেন,এখন শ্রীভগবানের কৃপায় আমরা ইনার মহিমা জানতে পেরেছি। সহৃদয় সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য তাই স্পষ্টরূপে বলে দিলেন "রামরায়ের মতো রসিকভক্ত জগতে আর দ্বিতীয় নাই "।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*"মহারাজ!সখলু সহজবৈষ্ণবো ভবতি।পূর্ব্বময়মম্মাকমুপহাসপাত্র মাসীৎ,সংপ্রতি ভগবদনুগ্রহে জাতে তন্মমিমজ্ঞতা নো জাতা।*
*🌻মহাপ্রভু শ্রীরামরায়কে দর্শন না করে এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন,যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷প্রভু কহে তুমি মহা ভাগবতোত্তম।*
*🌷তোমার দর্শনে সবার দ্রব হৈল মন।।*
*🌷অন্যের কি কথা আমি মায়াবাদী সন্ন্যাসী।*
*🌷আমিহ তোমার স্পর্শে কৃষ্ণপ্রেমে ভাসি।।*
*🌷এই জানি কঠিন মোর হৃদয় শোধিতে।*
*🌷সার্বভৌম কহিলেন তোমারে মিলিতে।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভু কহে আইলাম শুনি তোমার গুণ।*
*🌷কৃষ্ণ কথা শুনি শুদ্ধ করাইতে মন।।*
*🌷যৈছে শুনিল তৈছে দেখিল তোমার মহিমা।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-প্রেমরস-জ্ঞানে তুমি সীমা।।*
*🌲মহাপ্রভু ফিরে এসেই সার্বভৌম মহাশয়ের কাছে রামরায়ের মাহাত্ম্য কীর্তন করে বললেন "দক্ষিণপথে যে সকল বৈষ্ণব দেখলাম,তাঁদের মধ্যে এক রামানন্দ রায়ের নামই উল্লেখযোগ্য। তিনি অত্যন্ত আনন্দদান করেছেন। যথা শ্রীচরিতামৃতে ঃ----*
*🌹এক রামানন্দ রায় বহু সুখ দিল।*
*🌹ভট্ট কহে "এই লাগি মিলিতে কহিল"।।*
*🌻এতদ্বারা ইহাই প্রতিপাদিত(প্রমাণ সাপেক্ষ) হচ্ছে যে শ্রীরামরায় সহ মহাপ্রভুর মিলনে শ্রীসার্বভৌমই ঘটক বা নিমিত্ত-কারণ এবং শ্রীরামানন্দ অসাধারণ মহাপুরুষ।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🌷🙌🙌🙌🙌🙌🙌
🚩 ক্রমাগত 👉 ১১৯. পুনর্ম্মিলন ও নীলাচলে আগমন 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda119.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
