✧════════•❁❀🙇❀❁•════════✧
🆕 শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2026/03/madhavendra.html
✧════════•❁❀🙇❀❁•════════✧
"গোবর্ধন পর্বত পরিক্রমা শেষ করে মাধবেন্দ্রপুরী গোবিন্দকুণ্ডের তীরে বসে আছেন। স্নান ও মধ্যাহ্ন-রূপ শেষ। এবার ইষ্টদেবকে ভোগ দিয়ে প্রসাদ গ্রহণ করবেন। গত তিনদিন কিছু খাননি। আজও ভিক্ষা কিছু জুটবে বলে মনে হয় না। কোথাও কোন জনমানব নেই। মাধবেন্দ্রপুরীপাদ আহারের আশা ছেড়ে দিয়ে গাছের ছায়ায় শুয়ে রইলেন। এমন সময় একটি প্রিয়দর্শন বালক দুধের ভাণ্ড হাতে সেখানে এসে উপস্থিত হল। বলল "এই দুধটুকু খেয়ে নাও।” বালক চলে গেল। মাধকেন্দ্র ইষ্টদেবকে নিবেদন করে দুগ্ধপান করলেন। ক্রমে রাত্রি হল। পূজা কীর্তন ও জপ শেষ করে তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে পড়লেন। রাত্রি শেষে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। দেখলেন দিব্য আলোকে সারা বন আলোকিত হয়ে উঠেছে, আর সেই আলোকের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে সেই গোপবালক। বালক বলল – “এই গ্রামের শেষ- প্রান্তে মাটির নিচে আমার শিলা বিগ্রহ বিধর্মীর আক্রমণের সময় ভক্তরা ঐখানে লুকিয়ে রেখেছিল। তুমি তা উদ্ধার কর।” বালকমূর্তি অদৃশ্য হয়ে গেল। মাধবেন্দ্রপুরী গ্রামের লোকজনকে ডেকে অলৌকিক স্বপ্নের কথা প্রচার করলেন । তখন গোবর্ধনের চূড়ায় রাঙা মাণিকের মত সূর্যকিরণের প্রথম ঝলক ঝিকিমিকি করছে। সজল নেত্রে সন্ন্যাসী বৃন্দাবনের পল্লীতে ছুটে চললেন –সঙ্গে কোদাল ও শাবল হাতে গ্রামবাসীরা। তাঁরা বহু স্থান খঁজে মাটি খুঁড়ে বের করল সেই সুন্দর গোপাল মূর্তি ! মহা ধুমধামে উৎসব হল, গোপাল প্রতিষ্ঠিত হলেন মন্দিরে। বাঙালী পুরোহিত এনে সেই মূর্তি পূজার ব্যবস্থা করলেন মাধবেন্দ্রপুরীপাদ। গোপালের সেবায় মাধবেন্দ্রপরী বৃন্দাবন ব্ৰজমণ্ডলে প্রায় দু বছর কাটান। গোপাল একদিনি স্বপ্নে মাধবেন্দ্রপরীকে দেখা দিয়ে বললেন—
"পুরী গোঁসাই! বহুকাল মাটির নিচে থাকায় আমার সারা দেহে দেখা দিয়েছে প্রবল জালা। মলয় চন্দন না হলে দেহের এ জালা জুড়াবে না। সে চন্দন পাবে তুমি নীলাচলে। দারুণ গ্রীষ্মে ভক্তরা জগন্নাথদেবকে সেই চন্দন মাখায়। তাই আমার চাই।"
বৃন্দাবন ধাম থেকে মাধবেন্দ্র তার পরদিনই গৌড় হয়ে পদব্ৰজে উড়িষ্যার দিকে যাত্রা করলেন। অনেকদিন অক্লান্ত পদযাত্রার পর উপনীত হলেন নীলাচলে। দিকে দিকে সংবাদ রটে গেল, ভক্তিসিদ্ধ মহাপুরুষ মাধবেন্দ্র শ্রীক্ষেত্রে এসেছেন। ভক্তেরা দলে দলে ছুটে আসে, জগন্নাথের পাণ্ডা, রাজকর্মচারী সকলেই এসে ভিড় করে। মাধবেন্দ্রপুরী তাদের সাহায্যেই প্রচুর চন্দন কাঠ ও কয়েক ভাঁড় সগন্ধি কর্পূর সংগ্রহ করেন। এর পর মাধবেন্দ্রপুরী বৃন্দাবনের পথে রওনা হন। কিছুদিন চলার পর এসে পৌঁছান রেমুনায় শ্রীগোপীনাথের মন্দিরে। সেখানে কিছুদিন নামকীর্তন ও সেবাপূজায় রত থাকেন। এমন সময় রাত্রিবেলায় মাধবেন্দ্রপুরী দেখেন এক অপূর্ব। স্বপ্ন। গোপাল জ্যোতির্ময় মূর্তিতে ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। গোপাল বললেন, “বৎস, তোমাকে আর দৌড়ঝাঁপ করে বেড়াতে হবে না। তোমার আনা চন্দন কর্পূরে আমার কাছে পৌছে গেছে।” মাধবেন্দ্রপুরী অবাক্, হয়ে গেলেন। বৃন্দাবন যে এখনও বহু, দূরে। প্রভুর একী রহস্যময় কথা! গোপাল আবার বললেন, “গোপীনাথের অঙ্গ আমার অঙ্গ একই। তুমি গোপীনাথের দেহে কর্পরে চন্দন রোজ লেপন করো, তবেই আমার দেহ শীতল হবে।” মাধবেন্দ্রপুরী তাই করলেন। গ্রীষ্মকাল শেষ হলে তিনি চলে গেলেন নীলাচলে। মাধবেন্দ্রপুরী কিছুকাল পরে বসলেন কঠোর তপস্যায়। ঝারিখণ্ডের গহন অরণ্যে দিনের পর দিন চলে তাঁর ধ্যান সাধন।
শ্রীহট্ট জেলার এক ক্ষুদ্র গ্রাম পূর্নিপাটে এক ধর্মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণবংশে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী।ব্যাকারণ, কাব্য ও ধর্মশাস্ত্র অতি অল্প বয়সেই তিনি আয়ত্ত করে ফেলেন। একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই তাঁর পত্নীর মৃত্যু হয়। এতে সংসারের প্রতি মাধবেন্দ্রের বৈরাগ্য আসে। কিছুকাল পর শিশুপুত্রকে নিয়ে চলে আসেন কুলিয়া ও কুমারহট্টের মধ্যবর্তী বিষ্ণুপুর গ্রামে। এখানে এসে তিনি কুটির বাঁধেন এবং খুলে বসেন নতুন চতুষ্পাঠী।কুমারহট্ট থেকে একদিন মাধবেন্দ্রের কাছে এসে উপস্থিত হন এক মেধাবী তরুণ। মাধবেন্দ্রের কাছে তিনি শাস্ত্রজ্ঞান ও দীক্ষা লাভ করে বিশেষ পণ্ডিত হন। উত্তরকালে তিনি প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন ঈশ্বরপুরী নামে। এই ঈশ্বরপুরীই গয়াধামে শ্রীচৈতন্যদেবকে গোপালমন্ত্র দান করেন। কয়েক বৎসর পরে মাধবেন্দ্রপুরীর কাছে কমলাক্ষ নামে একটি ছাত্র আসেন শ্রীহট্টের নবগ্রাম থেকে। পরে এই কমলাক্ষ শ্রীচৈতন্যের লীলা পার্ষদরূপে এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের তিন প্রভুর এক প্রভু শ্রীঅদ্বৈত-রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। শেষ জীবনে গুরুসেবার ভার নেন ঈশ্বরপুরী। মাধবেন্দ্রপুরীর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি অক্লান্তভাবে সেবা করেন। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য নীলাচলের পথে রেমুনার অবস্থানকালে পুরী মহারাজের পূণ্যস্মৃতি বার বার স্মরণ করেন:
প্রভু কহে নিত্যানন্দ করহ বিচার।
পুরী সম ভাগ্যবান জগতে নাহি আর।।
দগ্ধদানচ্ছলে কৃষ্ণ যারে কৃপা কৈলা ।
যার প্রেমে বশ হঞা প্রকট রইলা ।।
সেবা অঙ্গীকার করি জগৎ তারিলা ।
যার লাগি গোপীনাথ ক্ষীর চুরি কৈলা ।
কর্পূরে চন্দন যার অঙ্গে চড়াইলা।
[চৈতন্যচরিতামৃতঃ মধ্যখণ্ড ]
মহাপ্রয়াণের পূর্বদিন। শ্রীপাদ সেবক ভক্তকে নিকটে ডেকে সস্নেহে বললেন, “বৎস, আমি আশীর্বাদ করছি, প্রকৃত কৃষ্ণপ্রেমে সিক্ত হয়ে তুমি কৃষ্ণলাভ কর।” এই বলে শ্রীপাদ উচ্চারণ করলেন তাঁর চিরপ্রিয় কৃষ্ণবিরহ-শ্লোক:
অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ হে মথুরানাথ কদাবলোকাসে।
হৃদয়ং ত্বালোককাতরং দয়িত ভ্রাম্যতি কিং করোম্যহম্।
তোমার অদর্শনে হৃদয় আমার কাতর হয়েছে, ভ্রান্তদশায় আমি পতিত হয়েছি। এখন আমি কী করি পরবর্তী কালে স্বয়ং শ্রীচৈতন্যও এই কৃষ্ণবিরহের শ্লোকটি আবৃত্তি করতে করতে ভাবোম্মত্ত হয়ে পড়তেন। মহাপ্রভুর জন্মের কিছু পূর্বে বা পরে 'ভক্তিচন্দ্রোদয়' মাধবেন্দ্রপুরীপাদ স্বর্গগত হন। অনুমান ১৪০০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৪৮০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ইনিজাগতিক লীলায় রত ছিলেন।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧