✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*꧁মালায় 'হরিনাম' জপ ꧂*
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কলিযুগ পাবন অবতার শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু কলির জীবকে উদ্ধার করার জন্য গোলকের সম্পত্তি ভূলোকে সকলের মধ্যে বিতরণ করে দিলেন, যা গোলক বৃন্দাবনে অতিগুপ্ত ভাবে ছিল, তা জগৎপিতা দেখলেন কলির জীব নিতান্তই পাপাচারী অন্য যুগের তুলনায় ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
○সত্য যুগে এই ধরাধামে মানুষের পুণ্য ছিল 4 ভাগ এবং পাপ ছিলনা।
○ ত্রেতাযুগে মানুষের পুণ্য ছিল তিন ভাগ এবং পাপ ছিল 1 ভাগ।
○ দ্বাপর যুগে তাহলো দুই ভাগ পুণ্য এবং দুইভাগ পাপ।
○ আর এই কলি কালে এক ভাগ পুণ্য আর তিন ভাগ পাপ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
তাই গোলক বিহারী ভগবান ভাবলেন এই কলিযুগে একমাত্র নামের দাঁড়াই উদ্ধার পাওয়া সম্ভব, এই কলির জীবের, তাই তিনি নিজে অবতার রূপে এই ধরায়, বাহিরে রাধারানী ও ভিতরে কৃষ্ণ রুপে অবতার হয়ে জন্মনেন শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীশচী মায়ের গর্ভে, জন্মের পর তার দাদু শ্রীনীলাম্বর চক্রবর্তী কুষ্টি করতে গিয়ে দেখতে পান এই পুত্র সাধারণ পুত্র নন, তাই তার নাম রাখেন বিশ্বম্ভর মিশ্র।
ভগবানের মধুর নাম নানাভাবে করা যায় কিন্তু মালা জপের দ্বারা অধিক সংখ্যক ভগবানের নাম করা সম্ভব তাই মালা জপ হলো ভজনের একটি অঙ্গ।
ভগবানের মধুর নাম মালা জপের মাধ্যমে করার ইচ্ছা প্রকাশ হলে শ্রীগুরুর কাছে শরণাপন্ন হতে হয় যদি সাক্ষাৎ শ্রীগুরুদেব এই মালার ভজন দেয় তবেই আমরা এই মালা জপের অধিকার লাভ করবো এবং নিরামিষভোজী হতে হবে তবেই তিনি মালা জপের অধিকারী।
সমস্যা জর্জরিত এই কলি যুগে মহামন্ত্র জপ, কীর্ত্তন করাই মুক্তির সবচেয়ে সহজ পন্থা। জপ অনেক ভাবেই করা যায়। কেউ মোনে মোনে জপ করেন, আবার কেউ করে শব্দ তৈরি করে। শব্দ তৈরি করে নাম জপ করলে দুটি কাজ হয়। প্রথমত এই মহামন্ত্র বার বার আমাদের কর্নে দিয়ে প্রবেশ করছে আর দ্বিতীয়ত বাইরের কোনো বাজে শব্দ জপে বিগ্ন ঘটাতে অসমর্থ।
শ্রবণ করে জপ করাই হচ্ছে কৃষ্ণের প্রতি মতিস্থির করার মূল পন্থা। আমরা যখন জপ করবো তখন আমাদেরকে শুধু শব্দ তরঙ্গগুলো শ্রবণ করতে হবে। যদি আমরা ভালোভাবে শ্রবণ করি তাহলে মহামন্ত্রটি আমাদের কর্ণ দিয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে অনবরত সুধা বর্ষণ করবে। এই সুধা সিন্ধুতে হারিয়ে গিয়েই আমরা শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করতে পারবো। কিন্তু অনেক বছর পরেও যদি আমরা নামের প্রতি কোনো স্বাদ আস্বাদন করতে না পারি, তাহলে হয় মহামন্ত্র শ্রবণে আমাদের সমস্যা রয়েছে, নইলে আমাদের আত্ম সমর্পণের স্তরে সমস্যা রয়েছে।
মালায় নাম জপের নিয়ম বর্ণনা:-
মালা গোপনে রেখে ভজনের জন্য নতুন কাপড়ের একটি থলি প্রস্তুত করে সেই থলেতে মালা রাখতে হয়। ঐ থলির মধ্যে দক্ষিণ হস্ত বা ডান হাত প্রবেশ করিয়ে তর্জ্জনী অঙ্গুলিকে ছিদ্র দিয়ে থলির বাইরে রাখতে হবে। কারন তর্জ্জনী দ্বারা স্পর্শ করতে নেই এবং মালা জপের সময় মালায় নখ লাগাতে নাই।
মালা জপ আরম্ভের মন্ত্র:-
অবিঘ্ন করু মালে, ত্বং হরি নাম-জপেষু চ।
শ্রীরাধা কৃষ্ণয়োর্দাস্যং দেহি মালে, তু প্রার্থয়ে।।
অর্থাৎ, হে মালে তোমাতে হরি নাম জপ করিতেছি আমার সর্ব্ব বিঘ্ন দূরকর এবং শ্রীরাধা কৃষ্ণের দাস্য দান কর, এই প্রার্থনা করছি। মালা জপান্তে নিন্মরুপ জপ সমর্পণ করতে হয়।
নাম চিন্তামণি-রুপং নামৈব পরমা গতিঃ।
নাম্নঃ পরতরং নাস্তি তস্মান্নাম উপাস্মহে।।
অর্থাৎ, শ্রীহরি নাম চিন্তামণি ও পরমা গতি, নাম হইতে শ্রেষ্ঠ(উপাস্য) বস্তু আর কিছুই নাই। তাই শ্রী নামের স্মরণ নিলাম।
এবার মালা জপের শুরুতে, মালার বড় দিক থেকে জপ আরম্ভ করতে হবে এবং সমস্ত মালা একবার জপ শেষ হলে ঘুরিয়ে নিয়ে সরু দিক থেকে পুনরায় জপ করতে করতে হয় এবং প্রতি গুটিতে একবার পূর্ণ মহামন্ত্র নাম বলতে হবে
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে"
যেহেতু মেরুলঙ্ঘন করে জপ করতে নেই, করলে সেটা বিফল হয়। মধ্যমা অঙ্গুলির মধ্য ভাগের উপর মালা রেখে বৃদ্ধা অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা এক একটি মালা আকর্ষণ পূর্ব্বক এক একবার শ্রীহরির মহানাম মহামন্ত্র জপ করতে হয়। এই ভাবে ১০৮ টি নাম মালার গুটি সম্পূর্ণ জপ হলে তাহাকে এক ফেরা বা পরিক্রমা বলা হয়। এরুপ ৪ ফেরায় এক গ্রন্থি হয়। ১৬ গ্রন্থিতে লক্ষ নাম জপ হয়। লক্ষ নাম জপের নিয়ম করা পরম সৌভাগ্যের বিষয়।
থলির বাইরে চারটি ক্ষুদ্র মালা বেঁধে ফেরার সংখ্যা রাখতে হয় এবং এক গ্রন্থির অধিক জপ করতে ইচ্ছে হলে প্রয়োজ অনুযায়ী আরও গোটাকতক ক্ষুদ্র মালা পৃথক বেঁধে গ্রন্থির সংখ্যা করতে হয়। এক গ্রন্থির ৪ বার নিচে নাম জপের নিয়ম করতে নেই। দীক্ষিত জন বীজ মন্ত্র বা গায়ত্রী দ্বাদশবার হস্তের পর্বে বা মালায় জপ করে, মহামন্ত্র ষোড়শী হরি নাম ১০৮ বার মালায় জপ করবে।
প্রতি চার বার মালা জপের সময় নাম স্মরণ মন্ত্র:-
""নামযজ্ঞ মহাযজ্ঞ কলৌ কলপনাসন্
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য পিতর্থে নামযজ্ঞ সমার্পণম্""।।
নামের মধ্যে দিয়াই শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান:-
ত্রিভঙ্গ-ভঙ্গিম-রুপং বেনুরন্ধ্র-করাঞ্চিতং।
গো, গোপ, গোপী মণ্ডল-মধ্যস্থং শোভিতং নন্দ নন্দনং।।
অর্থাৎ, গো, গোপ, গোপীগণ মধ্যস্থ বেনুরন্ধ্রে করে যুক্ত, বাদনরত ত্রিভুজঙ্গ ভঙ্গিম শ্রীনন্দের নন্দন শ্রীকৃষ্ণকে ধ্যান করছি।
নাম জপের প্রথমে ও শেষে শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম করবে।
মালার স্বরুপ:-
শতাষ্ট গোপিকা মালা সূএঞ্চ রাধিকা পরা।
সাক্ষী চ্ ললিতা দেবী মেরু কৃষ্ণ স্বয়ং প্রভু।।
সুমেরুর্দ্কিভাগে চ্ বসতি প্রেম-মঞ্জরী।
বিগ্রহে শ্যামলা গোপী মালা নির্ণয় উচ্যতে।।
শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম মন্ত্র:-
নমো নলিন-নেত্রায় বেণু বাদ্য-বিনোদিনে।
রাধা ধর সুধা পান শালিনে বন মালিনে।।
গুহাতিগুহ গোপ্তা ত্বং গৃহাণাস্মং কৃতং জপং।
সিদ্বি ভবতু-মে দেব ত্বৎ প্রসাদাৎ জনার্দ্দন।।
অর্থাৎ, হে পরম দেব, পরম অভিষ্পরমপ্রিয় শ্রীকৃষ্ণ তুমি গুহ্য ও অতি গুহ্য বস্তুকে রক্ষা কর। অতএব আমার এই নাম জপ তুমি গ্রহন কর। হে দেব তোমার প্রসাদে আমার সর্বসিন্ধ লাভ।
ক্ষমা প্রার্থনা মন্ত্র:-
ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রা হিনঞ্চ যদ্ ভবেৎ।
তৎ সর্বং ভবতু পূর্ণং ত্বৎ প্রসাদাৎ সুরেশ্বর॥
অর্থাৎ, আমার উক্ত কার্যে যদি কোন আচার বাদ যাইয়া থাকে বা মাত্রা বিবর্তিত থাকে হে ভগবান তোমার অনুগ্রহে তা পূর্নত্ব প্রাপ্ত হোক।
ভ্রমক্রমে বা কোনও অনিবার্য কারণবশতঃ কোনো দিন মালা জপ বন্ধ থাকলে, তৎপর দিন তার প্রায়শ্চিত্ত স্বরুপ চতুর্গুণ জপ করে পরে দৈনিক নিয়মের জপ করবে।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧