শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৫৫. প্রেম বৈচিত্র্য লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ৫৫. প্রেম বৈচিত্র্য লীলা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻প্রেম বৈচিত্র্য গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
  *হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।*
*নিজ সহচরগণ, পুছই কারণ,*
      *হেরই গোরামুখ চান্দে।।*
*অরুণিম লোচন,প্রেমভরে ভেল দোনো,*
     *ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি।*
*যৈছনে শিথিল,গাঁথিল মোতিফল,*
     *খসয়ে উপরি উপরি।।*
*সোঙরি বৃন্দাবন,নিশষই পুনঃপুনঃ,*
      *আপনার অঙ্গ নিরখিয়া।*
*দুইহাত বুকে ধরি,রাই রাই ধ্বনি করি,*
      *ধরণী পড়ল মূরছিয়া।।,*
*তহিঁ প্রিয় গদাধর,ধরিয়া করিল কোর,*
      *কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া।*
*পুনঃ অট্ট হাসে,জগ জন মনতোষে,*
      *বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া।।*
*🌻জয় নিতাই,শ্রীমন্মহাপ্রভুর কখন কোন ভাব প্রকট হয় তাহা স্বয়ং মহাপ্রভু ব‍্যতীত অন‍্যের জানা বড়ই কঠিন।* *আজ মহাপ্রভুর মনের ভাব কিছুই বুঝতে পারছেন না পার্ষদগণ।* *ভাব তো বুঝা যাচ্ছেই না,তার পরে তিনি অঝোর নয়নে বারিধারা বর্ষণ করছেন।*কার ভাল লাগে গো?যদি মনের* *মানুষ এইভাবে বারিধারা বর্ষণ করতে* *থাকেন?)* *অদ‍্য গোরাচাঁদের পূরবের লীলা স্মরণের সাথে সাথে কলিহত জীবের কথা মনে করে হয়ত অঝোর নয়নে ক্রন্দন করছেন,কেন,তিনি যে পরমপিতা,কলিহত জীবের দুর্দশা দেখে কলিহত জীবকে উদ্ধার করবার জন্য আজ গৌরসুন্দরের এই অবস্থা?* *হে জীব!তোমরা এতই কাম-কামনা,বিষয়-বাসনায় মত্ত রয়েছ?তোমরা ষেখান হতে বেড়িয়ে এসো,সময় থাকতে সুকর্ম কর?সময় চলে গেলে আর এই সুদুর্লভ মানব জনম পাবে না।* *তোমাদের দুর্দশা আমার আর সহ‍্য হচ্ছে না,আমি তোমাদের জন্য গোলোকের সুখ ত‍্যাগ করে ভূলোকে এলাম,এসে কি দেখছি আজ এই দশা?* *ওগো,আমার প্রাণ, এসো তোমরা এসো,এসে তোমরা মন-প্রাণ এক করে কৃষ্ণনাম করো,সকল দুর্দশা দূরে যাবে,সদাসর্বদা সুখে থাকবে।* *ওগো আমার প্রাণ! শোন,"একবার কৃষ্ণনামে যত পাপ হরে,।জীবের সাধ‍্য নাই তত পাপ করে"।।* *মহাপ্রভুর এইরকম দশা দেখে নিজ পার্ষদগণ গোরাবদন দর্শন করে,পরমপিতা, করুণাময় পতিতপাবন গোরাচাঁদকে জিজ্ঞাসা করছেন,প্রমু বলো বলো তোমার কি হয়েছে,তোমার এই ব্রদনা আমাদের আর সহ‍্য হচ্ছে না।* *অরুণিম লোচন,* *মহাপ্রভুর নয়ন দুটি প্রভাতের সূর্য‍্যের মত লাল হয়ে গেছে।* *যেন দুই নয়ন হতে প্রেম বরিষণ হচ্ছে* *"প্রেমভরে ভেল দোনো"* *যে একবার ঐ প্রেমমাখা নয়নের দিকে নয়ন মেলাবে,সে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারা হয়ে যাবে গো।* *আর তার সাথে সাথে বর্ষার মেঘের মত নয়ন হতে বারিধারা বরিষণ হবে।* *এতকিছুর মাঝেও আজ গৌরহরির ভাব বুঝা যাচ্ছে না।* *তিনি কি করছেন,বা তিনি কি করবেন।* *হঠাৎ আরেকটি* *ভাবের উদয় হল,কি ভাব?*
*ভাব দেখে মনে হচ্ছে,তাঁর মন একদিকে,আর দেহ আরেকদিকে।* *যেমন পুষ্প দিয়ে মাল‍্য গ্রন্থন করা হয়,ভাবনিধি গোরাচাঁদের ভাব দেখা যাচ্ছে,তিনি পুষ্প দ্বারা মালা রচনা করছেন বটে,তাঁর গ্রন্থন শৈলী দেখে মনে হচ্ছে, একটি করে পুষ্প হাতে নিচ্ছেন আর মাল‍্য গ্রন্থনের চেষ্টা করছেন,কিন্তু তাঁর হাত হতে পুষ্প মৃত্তিকায় পড়ে যাচ্ছে।* *কেন হবে না? মন যে অন‍্যত্র রয়েছে।আর তিনি মাঝে মাঝে ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলছেন।*
*আর চমকে চমকে উঠছেন।* *কখন কি ভাবে বিভাবিত হন বুঝা বড়ই অসুবিধা হয়ে যায়।* *তাই মহাপ্রভুর আরেক সঙ্গী পদকর্তা শ্রীনরহরি সরকার শ্রীগৌরাঙ্গ লীলা রচনার সাধ করে লিখেছেন-----*
*গৌরলীলা দরশনে,ইচ্ছা হয় বড় মনে,*
    *ভাষায় লিখিয়া সব রাখি।*
*মুইতো অতি অধম,লিখিতে না জানি ক্রম,*
      *কেমন করিয়া তাহা লিখি।।*
*এ গ্রন্থ লিখিবে যে,এখনো জন্মে নাই সে,*
     *জন্মিতে বিলম্ব আছে বহু।*
*ভাষায় রচনা হইলে,বুঝিবে লোক সকলে,*
     *কবে বাঞ্জা পূরাবেন পহুঁ।।*

অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।।
*********************************
এই গ্রন্থ লিখিবে যে, 
এখনো জন্মে নাই সে,
জন্মিতে বিলম্ব আছে বহু।
        নরহরি সরকার (পদকর্তা)
শ্রীনরহরি সরকার মহাশয় গৌরকথা 
রচনা করিতে গিয়ে এই কথাগুলো
লিখিয়াছেন, কি কারণ হতে পারে?
*********************************
শাস্ত্রে পাওয়া যায় --------------------------
ন চান্তর্ন বহির্যস‍্য ন পূর্বংনাপি চাপরং
পূর্বাপরং বহিশ্চান্তর্জগতো যো জগচ্চ যঃ।। ( ভাগবত)
   (একটি গভীর তত্ত্ব)
এই তত্ত্বটি যাঁরা বোঝেন। অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ড যাঁর রোমকূপে যাতায়াত করে যাঁর ইচ্ছে মাত্র অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের
সৃষ্টি -স্থিতি-প্রলয় হচ্ছে,যে মহাপুরুষের যে মহাবিষ্ণুর একটি নিশ্বাসকাল-ব্রহ্মান্ডের স্থিতিকাল।
*আমরা মানবজাতি চব্বিশ ঘন্টায় বাইশ হাজার ছয়শত বার নিশ্বাস নিয়, আর বাইশ হাজার ছয়শত বার প্রশ্বাস ত‍্যাগ করি তাইনা?
      আবার শাস্ত্রে পায় -----------------
যাঁর একটি নিশ্বাসকালকে মাত্র অবল
ম্বন করিয়া ব্রহ্মান্ডের নাথগণ জীবিত 
থাকেন। যস‍্যৈকনিঃশ্বসিতকালমথা-
বলম্ব‍্য জীবন্তি লোমবিলজাঃ জগ-
দন্ডনাথাঃ তাঁর নাম কি? বিষ্ণুর্মহান-
তিনি মহাবিষ্ণু। তাঁর একটি নিঃশ্বাস-
পরিমিত কালই ব্রহ্মান্ডের স্থিতিকাল
ব্রহ্মার যে দ্বিপরার্ধ কাল পরমায়ু, সেই
দ্বি-পরার্ধ কাল পরমায়ু মহাবিষ্ণুর এক নিঃশ্বাস। এক পরার্ধকাল কি?
সত‍্য,ত্রেতা,দ্বাপর,কলি চার যুগ জানি
চার যুগকে এক দিব‍্য যুগ মানি।।
একাত্তর দিব‍্যযুগে এক মন্বন্তর।
চৌদ্দ মন্বন্তরে ব্রহ্মার দিবস ভিতর।।
  (এই সময়কে এক পরার্ধকাল বলা হয়,এইরকম আরেক পরার্ধকাল হলে মহাবিষ্ণুর এক নিশ্বাসকাল) সেই মহাবিষ্ণু কে? না, শ্রীগোবিন্দের কলা বিশেষ। কে শ্রীভগবানের তত্ত্ব বুঝবে বলুন? এই মহাবিষ্ণু গোবিন্দের কলা বিশেষ। কলা মানে -ষোল ভাগের এক ভাগের নাম অংশ। অংশের ষোল ভাগের এক ভাগের নাম কলা, বোঝা গেল? সেই কলা- বিশেষের যদি এত ক্ষমতা,তাহলে শ্রীগোবিন্দের কি ক্ষমতা আন্দাজ করুন? সেই আদি পুরুষ শ্রীগোবিন্দকে আমি শত শত কোটি দন্ডবৎ প্রণাম জানাই। 
(ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়) জয় নিতাই।

 *যিনি মহাপ্রভুর নিত‍্য সঙ্গী তিনি এই কথা লেখেছেন।* *যাইহোক,গৌরহরি চমকে চমকে উঠছেন আর নিজ অঙ্গ দেখছেন।*
*এবারে পার্ষদগণ বুঝতে পারলেন,প্রভুর দেহ পরে রয়েছে নদীয়ায়,আর মন চলে গেছে শ্রীবৃন্দাবনে।* *অদ‍্য কৃষ্ণভাবে ভাবিত হয়ে,"দুই হাত বুকে ধরি,রাই রাই ধ্বনি করি,ধরণী পড়ল মূরছিয়া"।* *বিরহ ব‍্যথায় গৌরহরি রাধা রাধা বলিয়া কাঁদছেন,আর কাঁদতে কাঁদতে তিনি অচৈতন্য হলেন।* *যখনই অচেতন হলেন পার্ষদদের মধ্যে ছিলেন গদাধর,যেই রাধা সেই গদা।* *গৌরসুন্দরের সেবার লাগি রাধার অংশ হতে গদাধরের আবির্ভাব।*
*সেই গদাধর গৌরহরিকে নিজ কোলে নিয়ে শ্রবণে(কানে)মুখ দিয়া কি যেন বললেন,শ্রণ মাত্রেই শ্রীশচীনন্দন গৌরহরির কি অট্ট হাসি।* *যেন মনে হল শিশুরা পিতামাতার কাছে কিছু বায়না করে,প্রথমে তাঁরা দিতে চান না,তারপর যখন হাতে বায়নার বস্তু পেলে যে আনন্দ ও অট্ট হাসি হয়,ও আত্মহারা হয়ে যায়,অদ‍্য গৌরহরির* *বদনে দেখা গেল।*
*সেই হাসি যেন জগতের মানুষ যারা দর্শন করেছেন,তাঁদের দেহ,মন,প্রাণ সুশীতল হয়ে গেছে।*
*পদকর্তা বাসুঘোষ বললেন এ জগজন হাসি হতে বঞ্চিত হয়েছেন বলিয়া মরম ব‍্যথায় রয়েছেন।*
*🌻মহাপ্রভু যে লিপিবদ্ধ করালেন করিলাম,তাতেও যদি ভুল ভ্রান্তি হয় মার্জনা করবেন।🌻*
*বৈষ্ণব পদকর্তা গোবিন্দ দাসের পদে শ্রীরাধার প্রেম বৈচিত্র্যের পরিচয় পাওয়া যায়।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*রসবতী বৈঠী রসিকবর পাশ।*.
*রোই কহই ধনি বিরহ হুতাশ।।*
*আর কি মিলিব মোহে রসময় শ‍্যাম।*
*বিরহ জলধি কব পঙরব হাম।।*
*নিকটহি নাহ না হেরই রাই।*
*সহচরী কত পরবোধই তাই।।*
*কানু চমকি তব রাই করু কোর।*
*গোবিন্দ দাস হেরি ভেল ভোর।।*
*🌻পরমপ্রেমবতী শ্রীরাধিকা প্রেমবৈচিত্র‍্যের বিচিত্র ভঙ্গী এবং শ্রীকৃষ্ণের কাছে থেকেও অপূর্ব বিকার দেখে স্বজনপ্রেমরসাস্বাদন কৌতুকী শ্রীকৃষ্ণ,পরমনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন এবং নির্বাক হয়ে শ্রীরাধার পরম অদ্ভুত প্রেম বিকার বৈচিত্রী দেখতে লাগলেন।*
*দেখতে দেখতে শ্রীরাধার বিরহ বিকার এতই প্রবল হয়ে উঠল যে তিনি আর স্থির থাকতে না পেরে হা-নাথ,হা-নাথ!হা রমণ!হে প্রেষ্ঠ (প্রিয়তম) প্রভৃতি বালাপ বচনে অন্তরের নিদারুণ বিরহ বেদনা প্রকাশ করতে লাগলেন।* *প্রেম কাকে বলে,চোখের সামনে থেকেও তিনি দর্শন পাচ্ছেন না।* *প্রেমবৈচিত্র‍্য বিরহ ব‍্যাকুলা শ্রীরাধা,তাঁর কাছে থেকেও প্রাণবল্লভের অদর্শন স্ফূর্তি (আনন্দ,হর্ষ) তে পরম ব‍্যাকুলা হয়ে আর্তস্বরে বলতে লাগলেন,হা নাথ!তোমার বিরহ দাবানলে দহ‍্যমান (দগ্ধ হচ্ছে এমন)দেহ বৃক্ষ হতে এখনই প্রাণ পাখী উড়ে যাবে।*
*আমি শত চেষ্টা করেও তাকে ধরে রাখতে পারছি না।* *তাই বলছি,হা নাথ!আমার প্রাণের তুমিই একমাত্র বল্লভ।* *তুমি একমাত্র এসে আমার প্রাণকে রাখতে পারো।*তাহলেই এ দেহে প্রাণ থাকবে,নচেৎ এ দেহে প্রাণ রাখা সম্ভবপর হবে না।* *তোমার জন্য আমার কোটি কোটি প্রাণও তুচ্ছ।* *সুতরাং তোমার যদি কোন দুঃখ হয়,তাহলে সেই দুঃখ কোটি কোটি গুণিত হয়ে আমার হৃদয়ে কোটি কোটি বজ্রপ্রহার হতেও কোটি কোটি গুণিত দুঃখ প্রদান করবে।* *রাধার এই নানা ধরণের বিলাপ শ্রবণ করে,শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিজ বক্ষে জায়গা দিলেন।*
*অর্থ‍্যাৎ কোলে নিয়ে রাধাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন।* *তৎসহ রাধার সখীগণ,রাধার বিকার শুনে ছুটে এলেন,এবং কত না প্রবোধ দিতে লাগলেন।*

*🌻দ্বিতীয় পদ🌻*
*কোরহি শ‍্যাম,চমকি ধনি বোলত,*
      *কবে মোহে মিলব শ‍্যাম।*
*হৃদয়ক তাপ, তবহুঁ মঝু মিটব,*
      *অমিয়া করব সিনান।।*
  *সো মুখ মাধুরী, বঙ্ক নেহারই,*
       *সোঙরী সোঙরী মন ঝুর।*
*সো তনু সরস,পরশ যব পাওব,*
       *তবহি মনোরথ পূর।।*
*এত কহি সুন্দরী, দীঘ নিশাসই,*
       *মূরছিত হরল গেয়ান।*
*আকুল রাই,শ‍্যাম পরবোধই,*
      *গোবিন্দ দাস পরমাণ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের কোলে থেকেও শ্রীমতী রাধারাণী হা-মোহন!তুমি কোথায়?বলে ব‍্যাকুল ভাবে রোদন করছেন।* *আর তাঁর প্রাণ গোবিন্দ প্রাণপ্রিয়াকে প্রেমরসময় বাক‍্যে সান্ত্বনা প্রদান করছেন।* *কিন্তু কে কার কথা শোনে!এমন প্রেমের ঘোরে আছেন যে মাঝে মাঝে কৃষ্ণের কোলে বসে আছেন, তবুও চমকে চমকে উঠছেন,আর বলছেন,হে প্রাণবল্লভ!তুমি আবার কখন আমার সঙ্গে দেখা করবে,"বঙ্ক নেহারই"বাঁকা নয়নে গোবিন্দকে দেখছেন,কিন্তু ইনিই তাঁর প্রাণপ্রিয়তম,বিস্মৃতি হয়ে গিয়ে,বিরহ ব‍্যথায় কাতর হয়ে পড়ছেন।* *প্রেমবৈচিত্র‍্যরসের তরঙ্গমালায় শ্রীরাধার অঙ্গ হতে অপূর্ব লাবণ‍্যরাশি উচ্ছসিত হচ্ছে,আর গোবিন্দ রাধা অঙ্গ দর্শন করছেন, এবং আত্মহারা হয়ে পড়ছেন।* *পুনঃপুনঃ রাধাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন,রাইধনি প্রাণপ্রিয়ের কোলে থেকেও মদবিহ্বলা।* *শ্রীকৃষ্ণ-সঙ্গ-জনিত বিপুল সুখানুভূতিরই চরম ফল এই বিরহ।*
*এক খুব দুঃখ হলে নয়নবারি বরিষণ হয়,আর এক চরম সুখে নয়নবারি বরিষণ হয়।* *এটি চরম সুখের বিরহ বিকার।*
*********************************
*বহু ক্ষণে পরিচয় ভেল।*
*বিরহ বেদন দূরে গেল।।*
*দোঁহে দোঁহে কোরে আগরি।*
*সহচরী হেরি বিভোরি।।*
*অদভূত প্রেম চরিত।*
*হেরইতে চমকই চিত।।*
*কোরহি দেখিতে না পায়।*
*ঐছন না শুনি কোথায়।।*
*পুন দোঁহে নিবিড় বিলাস।*
 *দূরে গেল বিরহ হুতাশ।।*
*গোবিন্দ দাসক দাস।*
*ইহ গুণ আনন্দে ভাষ।।*
******************************
*দম্পতির পরস্পর প্রেমোৎকর্ষ হয়।*
*অধিকীর্তিরতা সেই বিচারি না লয়।।*
*অঞ্চলে বান্ধিয়া রত্ন চাহি ফিরে ঘরে।*
*লোকেতে থাকিয়া হয় বিচ্ছেদ অন্তরে।।*
   *প্রেম বৈচিত্র্যের লক্ষণ*
*প্রিয়স‍্য সন্নিকর্ষেহপি প্রেমোৎকর্ষ স্বভাবতঃ।*
*যা বিশ্লেষধিয়ার্তিঃ স‍্যাৎ প্রেম বৈচিত্ত‍্যমিষ‍্যতে।।*
*🌻গাঢ় প্রণয়ৃর ক্ষেত্রে প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত থাকিয়াও প্রেমিক প্রেমিকার মনে বিচ্ছেদ ভয়ের জন্য যে কাতরতা তাহাই প্রেম বৈচিত্র্য।*
*🌼অন্তরেতে সদা মোর কৃষ্ণ সম্ভাষণ।*
*বাহিরে বিচ্ছেদ মাত্র লীলার কারণ।।*
  *জয় রাধেশ‍্যাম*
 বিরাম
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧











৫৪. পুলিন ভোজন 🌹 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_39.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                   ꧁ ৫৪. পুলিন ভোজন ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻পুলিন ভোজন, গৌরচন্দ্রিকা 🌻*
*গোরা পহুঁ সুরধূনীর তীরে।*
*নিত‍্যানন্দ সঙ্গেতে বিহরে।।*
*ভক্তগণ দোঁহারে বেড়িয়া।*
*কীর্তন করে আজি ঘুরিয়া ঘুরিয়া।।*
*ক্ষুধাতে আকুল ভক্তগণ।*
*দেখি প্রভুর ব‍্যকুলিত মন।।*
*গঙ্গাতীরে ভোজন বিলাস।*
*মহানন্দে দর্শন করে কৃষ্ণদাস।।*
*🌼জগৎপতি শ্রীকৃষ্ণ যেমন তাঁর সখাগণ সঙ্গে নিয়ে শ্রীবৃন্দাবনে যমুনার তটে মহানন্দে ভোজনলীলা করেছিলেন,তাঁর অনুরূপ করুণাময় মহাপ্রভু তাঁর পার্ষদগণকে নিয়ে এইভাবে এইলীলা প্রকট করেছিলেন।* 
*হেনকালে মহাপ্রভু নিজগণ সঙ্গে।*
*বৈষ্ণব মিলিলা আসি পথে মহারঙ্গে।।*
************************************************
*ভোজন সমাপ্তি হৈল কৈল আচমন।*
*সভারে পরাইল প্রভু মাল‍্য চন্দন।।*
          *(চৈঃ চরিতামৃত,১১২|১৯৫)*
*সিংহদ্বার ছেড়ে কাশী মিশ্রের গৃসের দিকে সকলে যখন দক্ষিণমুখে চলেছেন সেই সময়ে স্বীয় পার্ষদগণকে সঙ্গে নিয়ে বৈষ্ণব গণের সহিত মিলিত হলেন।* *অদ্বৈতাচার্য‍্যকে মহাপ্রভু আলিঙ্গন করলেন।* *তাঁর মধ‍্যিখানে অনেক কথাবার্তা হয়ে গেল।* *আরো বহু ভক্তগণ এলেন,তাঁদের সঙ্গেও মহাপ্রভু আলিঙ্গন করলেন।* *বহু ভক্ত সমাগম হল,তখন সকল ভক্তকে নিয়ে,মহাপ্রভু কাশী মিশ্রের বাড়ীর ভিতরে যেখানে মহাপ্রভু থাকেন,কিন্তু কাশী মিশ্রের বাড়ীতে অতি অল্প জায়গা।(মহাপ্রভুর গম্ভীরা কক্ষের কথা বললেন।)*
*গৌড় হতে যত বৈষ্ণব এসেছেন,কাশী মিশ্রের বাড়ীতে যে স্থানে মহাপ্রভু থাকেন,সেই স্থানে সকলের সমাবেশ হতে পারে না।*
*তথাপি সেই অল্প স্থানের মধ‍্যেই তাহাদের সকলের স্থান সঙ্কুলান হল।* *তার কারণ এই,প্রকট লীলাকালে ভগবান ব্রহ্মান্ডের যে যে স্থানে প্রকট হয়েন,সেই সেই স্থানেই,* *তাঁর ইচ্ছায় তাঁর ধামও প্রকটিত হয়।* *সুতরাং তিনি যে স্থানে যান না কেন,সেই স্থানেই তাঁর চিন্ময় ধাম বতর্মান।* *এই ধামও সর্বগ,অনন্ত,বিভু,কৃষ্ণতনুসম।* *পরব‍্যোমের যে অনন্ত বৈকুন্ঠ আছে,তাদের প্রত‍্যেকেই সর্বগ,অনন্ত,বিভু, শ্রীগোকুলও তদ্রূপ সর্বগ,অনন্ত,বিভু।* 
*সর্বগ অনন্ত বিভু কৃষ্ণতনসম।*
*উপর্য‍্যধো ব‍্যাপি আছে নাহিক নিয়ম।।*
*তাহা প্রাকৃত লোকের চক্ষুতে সীমাবদ্ধ বলে মনে হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে সীমাবদ্ধ নহে বিভু।* *তাই কাশী মিশ্রের গৃহে যেস্থানে মহাপ্রভু থাকতেন,তাহাও বিভু।* *আপাতত দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ বলে প্রতীয়মান হলেও তাহা বিভু।* *অপরিচ্ছিন্ন ছিল,এই জন‍্যই তাহাতে অসংখ‍্য ভক্তের সমাবেশ সম্ভব হয়েছিল।* *বলা যায় ইহা ভাগবদধামের এক অচিন্ত‍্য শক্তি।* *এই অচিন্ত‍্য শক্তির প্রভাবেই দ্বাপরযুগে ব্রহ্মমোহন লীলায় গোবর্ধনের সানুদেশস্থিত ; লোক দৃষ্টিতে স্বল্প পরিসর জায়গাতেও অনন্ত নারায়ণের সমাবেশ সম্ভব হয়েছিল।* *তারপর বাসুদেব ঘোষ,মুকুন্দ প্রভৃতি মহাপ্রভুর নিত‍্যপার্ষদ।* *তাঁরাও মহাপ্রভুর সঙ্গ লাভ করে ভাগবত জন্ম লাভ করলেন।* *পার্ষদদের মধ্যে দামোদরের ছোট ভাই শঙ্কর ছিলেন।* *গম্ভীরায় রাত্রিতে মহাপ্রভুর পাদ সংবাহন করতেন।* *কখনও কখনও মহাপ্রভুর পাদতলে ইনি ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ইহার দেহের উপরেই মহাপ্রভু পাদ প্রসারণ করতেন।* *এজন‍্য ইহার আরেক নাম হয়েছিল "প্রভু পাদোপধান" অর্থ‍্যাৎ প্রভুর চরণের বালিশ।* *দামোদরকে মহাপ্রভু বললেন,তোমার উপরেও আমার প্রীতি আছে,কিন্তু তোমার উপরে যে প্রীতি,"গৌরববুদ্ধি" জনিত সঙ্কোচের ভাব মিশ্রিত আছে,শঙ্করের প্রতি কোনরকম সঙ্কোকচই নাই।* *তাই শঙ্কর আমার নিকট থাকুক।* *দামোদর বললেন আমা অপেক্ষা অধিক কৃপা পাওয়ায় আমার বড় ভাই তুল‍্য হল।* *অতঃপর মহাপ্রভুর সহিত গৌড়ীয় ভক্তগণের মিলনের পরে সকলে যখন কাশী মিশ্রের ভিতরে এলেন,মুরারি গুপ্ত তখন বাড়ীর বাইরে ছিলেন,ভিতরে আসেন নাই।* *তিনি দৈন‍্যবশত বাইরেই দন্ডবৎ পড়ে রইলেন।* 
*দুই তৃণগুচ্ছ মুরারি দশনে ধরিয়া।*
*মহাপ্রভুর আগে গেল দৈন‍্য হীন হৈয়া।।*
*আমি অত‍্যন্ত অভিমানী ও ভক্তিহীন,এইরকম জ্ঞান তাহাই দৈন‍্য।* *এইরকম অভিমানী ও ভক্তীহীনতার অনুভব করে নিজেকে অত‍্যন্ত দুভার্গ‍্য মনে করে তিনি অত‍্যন্ত কাতর হয়ে পড়লেন।* *তাঁহাকেই দৈন‍্যহীন বলা হয়।* *মুরারি এইরকম দৈন‍্যহীন হয়ে মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন।* *মুখে দুইগাছা তৃণ ধারণ করে।* *পশুরাই তৃণ ভক্ষণ করে,দৈন‍্যবশত যিনি দন্তে ধারণ করেন,তাঁর মনের ভাব এই যে,মানুষের আকার থাকলেও আমি প্রকৃত প্রস্তাবে মানুষ নহী।* *আমি পশু,কারণ,পশু যেমন সর্বদা নিজের দেহের বা ইন্দ্রিয়ের সুখ- স্থচ্ছন্দ‍্য নিয়েই ব‍্যস্ত থাকে,জীবের স্বরূপানুবুদ্ধি কর্তব‍্য কি?শ্রীকৃষ্ণ সেবার কথা, কিন্তু পশু যেমন কখনও চিন্তা করে না।* *আমিও তদ্রূপ সর্বদা নিজের দেহের বা ইন্দ্রিয়ের সুখ নিয়েই ব‍্যস্ত,কখনও ভগবদ্ ভজনের কথা চিন্তা করি না।* *মানুষ মনুষ‍্যদেহ পেয়েছে ভজনের জন‍্য,মনুষ‍্য জনম পেয়ে যদি ভজনই না করলাম,তাহলে পশু আর মানুষের মধ্যে তফাত কি?* *মুরারি গুপ্ত দৈন‍্যবশত এইরকম ভেবে নিজের স্বভাব যে পশুর স্বভাবের মত,তাহা জ্ঞাপন করবার উদ্দেশ্যে দন্তে তৃণ ধারণ করেছিলেন।* *মহাপ্রভু মুরারিকে আলিঙ্গন করতে উঠলেন,কিন্তু মুরারি পেছের দিকে সরে গেলেন,মহাপ্রভু যতই এগিয়ে যান মুরারী ততই পেছনের দিকে সরে যান।* *প্রভুর হাতে ধরা দেন না।* *এইদিকে শ্রীহরিদাস ঠাকুরও দৈন‍্যবশত ভিতরে প্রবেশ করেন নি।* *দূর হতে মহাপ্রভুকে দর্শন করে তিনি রাস্তার পাশে দন্ডবৎ প্রণত হয় পড়েছিলেন।* *মহাপ্রভু যখন বাইরে ছিলেন তখনও তিনি মহাপ্রভুর কাছে আসেন নি।* *যবনের গৃহে লালন-পালন বলেই হরিদাস ঠাকুর নিজেকে অস্পৃশ‍্য বলে মনে করতেন।* *তাই তিনি সর্বদা দূরে দূরে থাকতেন।* *(শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত আদি ১৪শ অধ‍্যায়)মতে যবন কূলেই তাঁর জন্ম।* *হরিদাসের দৈন‍্যসূচক বাক‍্যে মহাপ্রভু অত‍্যন্ত সুখী হলেন।* *যাঁর হৃদয়ে ভক্তিরাণী আসন গ্রহণ করেছেন,একমাত্র তিনিই অকপট দৈন‍্য প্রকাশ করতে পারেন।* *হরিদাসের মুখে অকপট দৈন‍্যের কথা শুনে তাঁর প্রতি ভক্তিরাণীর যথেষ্ট কৃপা হয়েছে মনে করে তাঁর সৌভাগ্যের কথা ভেবে মহাপ্রভু সুখী হলেন।* *আরো বহু ভক্ত ছিলেন,জনে জনে ব‍্যাখ‍্য দেওয়া সম্ভব নহ গ্রহণ করলেন।* *বৈষ্ণবগণকে স্বরূপ দামোদর,জগদানন্দ ও দামোদর এ তিনজন পরিবেশন করলেন।* *অপরদিকে মহাপ্রভু গোবিন্দের হাতে হরিদাসঠাকুরের জন্য প্রসাদ পাঠালেন।* *ভোজন সমাপন্তে আচমন করিলেন,মহাপ্রভু সকলকে মাল‍্য-চন্দন পরালেন।*
*🌻🌻🌻এখানেই রইল🌻🌻🌻*
*পুলিন ভোজন ব্রজলীলা*
*🌻নানারকম বাল‍্য লীলায় ব্রজবাসী নরনারীর মন প্রাণ একেবারেই পরমানন্দ সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ক্রমে ক্রমে পঞ্চম বৎসরে পদার্পণ করলেন।*
*কৃষ্ণ প্রত‍্যহ প্রাতঃকালে শয‍্যা হতে গাত্রোত্থান (শয‍্যা হতে উঠে বসা বা দাঁড়ান)করে হাত মুখ প্রক্ষালন(ধোয়া)* *করেন।* *তারপর মা যশোদা এসে কোলে করে কতই না আদর করেন,কত শতবার চুম্বন করেন ও মনের মত করে গোঠের বেশে সাজিয়ে দেন।*
*তারপর ক্রমে ক্রমে গোপবালকগণ এসে যখন নন্দালয়ে মিলিত হন,তখন কৃষ্ণ সকলকে নিয়ে মা যশোদার পরিবেশিত খন্ড-লাড্ডু আদি প্রাত ভোজন শেষ করে গোঠে যাবার জন্য প্রস্তুত হন।* *তারপর কৃষ্ণ বেত্র(পাঁচনি) নিয়ে হৈ হৈ করতে করতে গোশালায় প্রবেশ করেন এবং গো-বৎষখণের গলবন্ধন মোচন করে কারও পিঠে ভালবাসার মৃদু করাঘাত,কারও পিঠে মৃদু বেত্রাঘাত করে সবাইকে বাইরের অঙ্গনে এনে মিলিত করেন এবং সমস্ত গো-বৎসগণের গলায় ক্ষুদ্রঘন্টি বেঁধে দেন।* *এমন সময়ে গোপবালকগণও তাদের গো-বৎসগণকে সুসজ্জিত করে গোপরাজের বাইরের অঙ্গনে এসে কৃষ্ণের সঙ্গে মিলিত হন।* *গোপবালক ও গো-বৎসগণকে দেখে কৃষ্ণ তখন পরমানন্দে মধুর স্বরে বংশীবাদন করেন।* *তাতে গো-বৎসগণ পরমানন্দে মত্ত হয়ে কেউ বা উর্ধপুচ্ছে,কেহ বা স্তিমিত নেত্রে(স্থির নয়নে) কেহ বা শির কম্পন সহকারে অবস্থিত হয়।* *তখন যশোদা,রোহিণী ও সমস্ত ব্রজবাসী গোপ-গোপীগণ দেখে আনন্দে মুগ্ধ হন ও কৃষ্ণও তখন শিঙ্গা বেণু বাজাতে বাজাতে গোষ্ঠের পথে অগ্রসর হন।* *এইরকম ভাবে কৃষ্ণ রোজ রোজ সখাগণসহ গোচারণে বনে যান।*
*সেখানে নিত‍্য নব ধব বাল‍্য ক্রীড়া করে সখাগণের আনন্দ বর্ধন করেন এবং তাঁদের সখ‍্যপ্রেম রসাস্বাদন করেন।* *একদিন তাঁরা গো-বৎস চারণ করে বন হতে গৃহে ফিরে আসবার সময় পরামর্শ করলেন, যে আগামীকাল আমরা গৃহ হতে প্রাতভোজন না করে ভোজ‍্যবস্তুসহ বনে আসব, ও সেখানেই সকলে মিলে ভোজন করব।* *কৃষ্ণের প্রস্তাবে সকলেই রাজী হলেন।* *পরদিন যথা আপন আপন গৃহ হতে নিজ নিজ খাদ‍্যবস্তু নিয়ে প্রাতে নন্দালয়ে উপস্থিত হলেন।* *এবং আপন আপন খাদ‍্যবস্তু শিকায় করে এলেন।* *তারপর তাঁরা বনের পথে অগ্রসর হলেন।* *হৈ হুল্লোর করতে করতে বনে পৌঁছলেন।*

 *🌻পুলিন ভোজন প্রথম পদ🌻*
*বনে প্রবেশ করে নানা খেলা খেলছেন।*
********************************
*রাখালে রাখালে মেলা,খেলিতে বিনোদ খেলা,*
     *অতিশয় শ্রম সভাকার।*
*ননীর পুতলি শ‍্যাম,রবির কিরণে ঘাম,*
      *স্রবে যেন মুকুতার হার।।*
*শ্রীদাম আসিয়া বোলে,বৈসহ তরুর তলে,*
     *কানাই হইবে মাঠে রাজা।*
*যমুনা পুলিনে ভাই,কংসের দোহাই নাই,*
     *কেহ পাত্র মিত্র কেহ প্রজা।।*
*বনফুল আনো যত,সপত্র কদম্ব শত,*
      *অশোক পল্লব আম্র শাখা।*.
*শুনি শ্রীদামের কথা,সকল আনিল তথা,*
     *নবগুঞ্জা গুচ্ছ শিখি পাখা।।*
*গাঁথিয়া ফুলের মালে,কদম্ব তরুর তলে,*
     *রাজপাট করি নিরমাণ।*
*এ দাস উদ্ধব ভণে,কক্ষ তালি ঘনে ঘনে,*
     *আবা আবা বাজায় বয়ান।।*
*🌼🌼এই পদটির ভাগবতীয় ব‍্যাখ‍্যা আস্বাদন করুন।* *খেলা ধূলা বিরামে নানাবিধ ভঙ্গিতে গোবৎস চারণ ও খেলা করতে করতে (এই খেলা পথে চলতে চলতে) শ্রীকৃষ্ণ সখাগণসহ দূর বনপথে গিয়া উপস্থিত হলেন।* *সেখানে নানাবিধ ফল-পুষ্প -সুশোভিত বৃক্ষলতা আদি পরিবেষ্টিত সুবিস্তৃত তৃণক্ষেত্র ও ক্রীড়া ভূমি দেখে শ্রকৃষ্ণ সখাগণকে বললেন,* *ভাই আমরা এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করি এবং গোবৎসগণ ঐ সামনের তৃণক্ষেত্রে বিচরণ করুক।* *এইকথা বলে কৃষ্ণ কাছাকাছি এক বৃক্ষতলে শিলাখন্ডের উপরে বসলেন।* *গোপবালকগণের তাঁদের গৃহ হতে আনা ভোজ‍্যবস্তু বৃক্ষশাখায় ঝুলিয়ে রাখলেন এবং সকলেই কৃষ্ণের কাছে এসে নানাকথায় নানাভঙ্গিতে কৃষ্ণের আনন্দ বর্ধন করতে লাগলেন।* *সামনে নানারকম পুষ্প পল্লবাদি দেখে এবং তার শোভায় আকৃষ্ট হয়ে গুঞ্জা প্রভৃতি সুদৃশ‍্য ক্ষুদ্রফল নানাপ্রকার সুদৃশ‍্য নবপল্লব,পুষ্পগুচ্ছ,কর্ণিকাদি পুষ্প ও ময়ূরপুচ্ছ প্রভৃতির দ্বারা নানা ভূষণ করে তার দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গ ভূষিত করলেন।* *কৃষ্ণের ইচ্ছায় নিজেরাও সেই বন‍্য ভূষণে ভূষিত হলেন।* *কৃষ্ণ ও সখাগণ বনের পুষ্প পত্র ও ফলাদির অলঙ্কারে অলঙ্কৃত হয়ে এক অভিনব শোভা ধারণ করলেন।* *তারপর সরোবরের দিকে এগিয়ে এলেন,সরোবরের কাছাকাছি বনপ্রান্ত নিবাসী ময়ূরকুল আহ্লাদে মত্ত ও আকুল হয়ে কেকারবে কৃষ্ণ আগমনের অভিনন্দন করতে করতে কৃষ্ণের কাছে এসে তাদের সুচিত্রিত পুচ্ছ বিস্তার করে পরমানন্দে নৃত‍্য করতে আরম্ভ করল।* *তা দেখে কৃষ্ণ ও সখাগণ ময়ূরের কাছে গেলেন,এবং তাদের সঙ্গে নৃত‍্য করতে লাগলেন।* *কৃষ্ণের নৃত‍্য দেখে বনের শাখামৃগ কুল আনন্দে আকুল হয়ে কৃষ্ণের কাছে ছুটে এসে মৃগগণ অনিমিষ নয়নে কৃষ্ণের রূপ ও নৃত‍্যের মাধুর্য‍্য রসাস্বাদন করে।* *তারা মনে মনে চিন্তা করে ও বলে প্রভো!সেই ত্রেতাযুগে আমরা অনেকদিন তোমার সঙ্গে বেড়িয়েছিলাম।* *সেই সময় তোমার এমন ভূবনমোহন রূপ ও মনোহর নৃত‍্য তো নয়নে দেখি নি।* *এবার আমরা কৃতার্থ হলাম,আমাদের নয়ন সফল হল,আমরা যেন জন্মে জন্মে তোমার এই বৃন্দাবন লীলার সময় জগতে আসতে পারি এবং তোমার লীলাক্ষেত্রের বৃক্ষশাখায় আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি।* *ধন‍্য পশু জনম গো।* 
*কৃষ্ণ প্রাপ্তির উপায় বহুবিধ হয়।*
*কৃষ্ণ প্রাপ্তির তারতম‍্য বহুত আছয়।।*
 *অর্থ‍্যাৎ শুদ্ধ প্রেমবান ভক্তগণ* *তাঁদের প্রেমানুরূপ সম্বন্ধে কেউ সখা,কেউ ,কেউ বা প্রাণবল্লভ* *বলে শ্রীকৃষ্ণকে গ্রহণ করেন এবং নিজ নিজ ভাবানুরূপ লীলামাধুর্য‍্য*
*রসাস্বাদনে সর্বদাই আত্মহারা হয়ে থাকেন।*
*🌻অবজানন্তি মাং মূঢ়া মানুষীং তনুমাশ্রিতম্।*
*শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,হে অর্জুন!এই মায়ার জগতের বর্হিমুখ জীব আমার নরাকৃতি দেখে আমাকে সামান্য মানুষ বোধে অবজ্ঞা করে থাকে।* *আমি তাদের ভবপাশ মোচন করবার জন‍্যই তাদের কাছে এসে নানা লীলায় তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করি,তা তারা অজ্ঞান বশত বুঝতে পারে না।* *যাইহোক,সখাগণ বললেন,অনেক খেলায় তো হল,আজ আরেক খেলা খেলব।* *কি খেলা না রাজা প্রজা খেলা।* *অন‍্যান‍্য খেলা খেলে রবির কিরণে ঘামাতুর হয়ে গেছি,তখন শ্রীদাম এসে বললেন,কানাই ভাই ঘেমে একাকার হয়ে গেছিস,* *ভাই তুই বৃক্ষতলে বস,শরীর শীতল কর।* *তারপর আমরা কানাইকে রাজা করে রাজা-প্রজা খেলা খেলব।*
*কানাইকে রাজার সাজে সাজানো হল,আর সখাগণ হলেন প্রজা।* *কেহ বললেন আপনি আমাদের অন্নদাতা,কেহ বললেন আপনি আমাদের রক্ষাকর্তা,কেহ বা বললেন ব্রজরক্ষা কর্তা।* *খেলা খেলতে খেলতে মধ‍্যাহ্ন আসন্ন প্রায়,* *তখন সখাগণ বললেন,ভাই অনেক খেলা হয়েছে,চল সবাই গোবৎস গণকে দেখে আসি,ঐদিকে গোবৎসগণ সুন্দর তৃণলোভে বন হতে বনান্তরে চলে যাচ্ছে নাতো?* *দেখলেন যা স্থানে গোবৎসগণ আছে।* *মধ‍্যাহ্ন পার হতে চলেছে,ক্ষুধায় ব‍্যস্ত হয়ে গেছে।* *তখন তাঁরা----------*
*খেলা সমাধিয়া,শ্রমযুত হইয়া,*
      *সখাগণ লৈয়া সঙ্গে।*
*ভোজন সম্ভার,ছিল ভাড়ে ভাড়,*.
       *ভোজন করিবে রঙ্গে।।*
*যমুনা পুলিনে,বেড়ি সখাগণে,*
       *মাঝে করি বৈসে কানু।*
*পাড়ি নব পাত,তাহে দিল ভাত,*
       *জলভরি শিঙ্গা বেণু।।*
*সব সখা মেলি,করিয়া মন্ডলি,*
       *ভোজন করয়ে সুখে।*
*ভাল ভাল কৈয়া,মুখ হতে লৈয়া,*
       *সভে দেই কানু মুখে।।*
*সবে বলে ভাই,আমার কানাই,*
       *মোরে বড় ভালবাসে।*
*আমার সমুখে,বসি খায় সুখে,*
       *সদা রহে মোর পাশে।।*
*এত করি মনে,করয়ে ভেজনে,*
        *আনন্দ সাগরে ভাসে।*
*বিশ্বম্ভর দাস,করি মনে আশ,*
        *রহে সুবলের পাশে।।*
*
 *🌻পদের ব‍্যাখ‍্যা🌻*
*প্রত‍্যেক সখাগণ আজ নিজ নিজ গৃহ হতে খাদ‍্য সম্ভার নিয়ে এসে বৃক্ষেশাখায় ঝুলিয়ে রেখেছিল।*
*অন‍্যান‍্য দিনের ন‍্যায় আজও শ্রীদাম,সুদাম,দাম,বসুদাম ও সুফলাদির মা সকলে ক্ষীর,সর,ননী,মাখন,অন্ন,ব‍্যঞ্জন,পিঠে,পায়েস আরো কতকিছু দিয়েছিলেন।* *তখন কৃষ্ণ বললেন,ভাই আজ আমরা বনমধ‍্যে ভোজন করব না।* *চল অদ‍্য আনন্দ করতে করতে যমুনা পুলিনের মৃদু মন্দ বাতাসে বসে আমরা ভোজন করব।* *পুলিন লব্দের অর্থ তট বা চর।* *আজ যেন মনে হচ্ছে যমুনা পুলিন নবসাজে সজ্জিত হয়েছে।* *যমুনা পুলিনের আশে পাশে যেন মনোরম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে।* *বনভূমির কাছে কুসুম সরোবর,পাবন সরোবর,এবং মানস গঙ্গা অতি মনোরম।* *প্রতি জলাশয়ে অগণিত কমলে সুশোভিত,তার সুগন্ধ বহন করে মন্দ মন্দ গন্ধবহ মাতিয়ে তুলল।* *কি অপূর্ব শোভা,যেন কৃষ্ণ চরণ পাবার আশে পরম আগ্রহান্বিত হয়ে উঠিল।* *অতঃনর সকল সখাগণ ভোছনের জন্য মন্ডলী করে বসলেন।* *ভাল ভাল বলে একে অপরের মুখে তুলে দিচ্ছেন,সকল সখাগণ কৃষ্ণের মুখে নিজ নিজ ভোজ‍্যবস্তু তুলে দিচ্ছেন।* *তাই ব্রহ্মা বলেছিলেন,*
*তদ্ভুরিভাগ‍্যমিহ জন্ম কিমপ‍্যটব‍্যাং,* *অর্থ‍্যাৎ হে ভগবন্!আমি যদি মর্ত‍্যবৃন্দাবনে পশু,পক্ষী,কীট,পতঙ্গ,তৃণ,গুল্মলতা প্রভৃতি যে কোনও জনম লাভ করতে পারি,তাহলে মনে করব আমার মত ভাগ‍্যবান আর কেহই নাই।* 
*জয় নিতাই,পুলিন ভোজন লীলা এখানেই রহিল।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৫৪. পুলিন ভোজন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                   ꧁ ৫৪. পুলিন ভোজন ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻পুলিন ভোজন, গৌরচন্দ্রিকা 🌻*
*গোরা পহুঁ সুরধূনীর তীরে।*
*নিত‍্যানন্দ সঙ্গেতে বিহরে।।*
*ভক্তগণ দোঁহারে বেড়িয়া।*
*কীর্তন করে আজি ঘুরিয়া ঘুরিয়া।।*
*ক্ষুধাতে আকুল ভক্তগণ।*
*দেখি প্রভুর ব‍্যকুলিত মন।।*
*গঙ্গাতীরে ভোজন বিলাস।*
*মহানন্দে দর্শন করে কৃষ্ণদাস।।*
*🌼জগৎপতি শ্রীকৃষ্ণ যেমন তাঁর সখাগণ সঙ্গে নিয়ে শ্রীবৃন্দাবনে যমুনার তটে মহানন্দে ভোজনলীলা করেছিলেন,তাঁর অনুরূপ করুণাময় মহাপ্রভু তাঁর পার্ষদগণকে নিয়ে এইভাবে এইলীলা প্রকট করেছিলেন।* 
*হেনকালে মহাপ্রভু নিজগণ সঙ্গে।*
*বৈষ্ণব মিলিলা আসি পথে মহারঙ্গে।।*
************************************************
*ভোজন সমাপ্তি হৈল কৈল আচমন।*
*সভারে পরাইল প্রভু মাল‍্য চন্দন।।*
          *(চৈঃ চরিতামৃত,১১২|১৯৫)*
*সিংহদ্বার ছেড়ে কাশী মিশ্রের গৃসের দিকে সকলে যখন দক্ষিণমুখে চলেছেন সেই সময়ে স্বীয় পার্ষদগণকে সঙ্গে নিয়ে বৈষ্ণব গণের সহিত মিলিত হলেন।* *অদ্বৈতাচার্য‍্যকে মহাপ্রভু আলিঙ্গন করলেন।* *তাঁর মধ‍্যিখানে অনেক কথাবার্তা হয়ে গেল।* *আরো বহু ভক্তগণ এলেন,তাঁদের সঙ্গেও মহাপ্রভু আলিঙ্গন করলেন।* *বহু ভক্ত সমাগম হল,তখন সকল ভক্তকে নিয়ে,মহাপ্রভু কাশী মিশ্রের বাড়ীর ভিতরে যেখানে মহাপ্রভু থাকেন,কিন্তু কাশী মিশ্রের বাড়ীতে অতি অল্প জায়গা।(মহাপ্রভুর গম্ভীরা কক্ষের কথা বললেন।)*
*গৌড় হতে যত বৈষ্ণব এসেছেন,কাশী মিশ্রের বাড়ীতে যে স্থানে মহাপ্রভু থাকেন,সেই স্থানে সকলের সমাবেশ হতে পারে না।*
*তথাপি সেই অল্প স্থানের মধ‍্যেই তাহাদের সকলের স্থান সঙ্কুলান হল।* *তার কারণ এই,প্রকট লীলাকালে ভগবান ব্রহ্মান্ডের যে যে স্থানে প্রকট হয়েন,সেই সেই স্থানেই,* *তাঁর ইচ্ছায় তাঁর ধামও প্রকটিত হয়।* *সুতরাং তিনি যে স্থানে যান না কেন,সেই স্থানেই তাঁর চিন্ময় ধাম বতর্মান।* *এই ধামও সর্বগ,অনন্ত,বিভু,কৃষ্ণতনুসম।* *পরব‍্যোমের যে অনন্ত বৈকুন্ঠ আছে,তাদের প্রত‍্যেকেই সর্বগ,অনন্ত,বিভু, শ্রীগোকুলও তদ্রূপ সর্বগ,অনন্ত,বিভু।* 
*সর্বগ অনন্ত বিভু কৃষ্ণতনসম।*
*উপর্য‍্যধো ব‍্যাপি আছে নাহিক নিয়ম।।*
*তাহা প্রাকৃত লোকের চক্ষুতে সীমাবদ্ধ বলে মনে হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে সীমাবদ্ধ নহে বিভু।* *তাই কাশী মিশ্রের গৃহে যেস্থানে মহাপ্রভু থাকতেন,তাহাও বিভু।* *আপাতত দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ বলে প্রতীয়মান হলেও তাহা বিভু।* *অপরিচ্ছিন্ন ছিল,এই জন‍্যই তাহাতে অসংখ‍্য ভক্তের সমাবেশ সম্ভব হয়েছিল।* *বলা যায় ইহা ভাগবদধামের এক অচিন্ত‍্য শক্তি।* *এই অচিন্ত‍্য শক্তির প্রভাবেই দ্বাপরযুগে ব্রহ্মমোহন লীলায় গোবর্ধনের সানুদেশস্থিত ; লোক দৃষ্টিতে স্বল্প পরিসর জায়গাতেও অনন্ত নারায়ণের সমাবেশ সম্ভব হয়েছিল।* *তারপর বাসুদেব ঘোষ,মুকুন্দ প্রভৃতি মহাপ্রভুর নিত‍্যপার্ষদ।* *তাঁরাও মহাপ্রভুর সঙ্গ লাভ করে ভাগবত জন্ম লাভ করলেন।* *পার্ষদদের মধ্যে দামোদরের ছোট ভাই শঙ্কর ছিলেন।* *গম্ভীরায় রাত্রিতে মহাপ্রভুর পাদ সংবাহন করতেন।* *কখনও কখনও মহাপ্রভুর পাদতলে ইনি ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ইহার দেহের উপরেই মহাপ্রভু পাদ প্রসারণ করতেন।* *এজন‍্য ইহার আরেক নাম হয়েছিল "প্রভু পাদোপধান" অর্থ‍্যাৎ প্রভুর চরণের বালিশ।* *দামোদরকে মহাপ্রভু বললেন,তোমার উপরেও আমার প্রীতি আছে,কিন্তু তোমার উপরে যে প্রীতি,"গৌরববুদ্ধি" জনিত সঙ্কোচের ভাব মিশ্রিত আছে,শঙ্করের প্রতি কোনরকম সঙ্কোকচই নাই।* *তাই শঙ্কর আমার নিকট থাকুক।* *দামোদর বললেন আমা অপেক্ষা অধিক কৃপা পাওয়ায় আমার বড় ভাই তুল‍্য হল।* *অতঃপর মহাপ্রভুর সহিত গৌড়ীয় ভক্তগণের মিলনের পরে সকলে যখন কাশী মিশ্রের ভিতরে এলেন,মুরারি গুপ্ত তখন বাড়ীর বাইরে ছিলেন,ভিতরে আসেন নাই।* *তিনি দৈন‍্যবশত বাইরেই দন্ডবৎ পড়ে রইলেন।* 
*দুই তৃণগুচ্ছ মুরারি দশনে ধরিয়া।*
*মহাপ্রভুর আগে গেল দৈন‍্য হীন হৈয়া।।*
*আমি অত‍্যন্ত অভিমানী ও ভক্তিহীন,এইরকম জ্ঞান তাহাই দৈন‍্য।* *এইরকম অভিমানী ও ভক্তীহীনতার অনুভব করে নিজেকে অত‍্যন্ত দুভার্গ‍্য মনে করে তিনি অত‍্যন্ত কাতর হয়ে পড়লেন।* *তাঁহাকেই দৈন‍্যহীন বলা হয়।* *মুরারি এইরকম দৈন‍্যহীন হয়ে মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন।* *মুখে দুইগাছা তৃণ ধারণ করে।* *পশুরাই তৃণ ভক্ষণ করে,দৈন‍্যবশত যিনি দন্তে ধারণ করেন,তাঁর মনের ভাব এই যে,মানুষের আকার থাকলেও আমি প্রকৃত প্রস্তাবে মানুষ নহী।* *আমি পশু,কারণ,পশু যেমন সর্বদা নিজের দেহের বা ইন্দ্রিয়ের সুখ- স্থচ্ছন্দ‍্য নিয়েই ব‍্যস্ত থাকে,জীবের স্বরূপানুবুদ্ধি কর্তব‍্য কি?শ্রীকৃষ্ণ সেবার কথা, কিন্তু পশু যেমন কখনও চিন্তা করে না।* *আমিও তদ্রূপ সর্বদা নিজের দেহের বা ইন্দ্রিয়ের সুখ নিয়েই ব‍্যস্ত,কখনও ভগবদ্ ভজনের কথা চিন্তা করি না।* *মানুষ মনুষ‍্যদেহ পেয়েছে ভজনের জন‍্য,মনুষ‍্য জনম পেয়ে যদি ভজনই না করলাম,তাহলে পশু আর মানুষের মধ্যে তফাত কি?* *মুরারি গুপ্ত দৈন‍্যবশত এইরকম ভেবে নিজের স্বভাব যে পশুর স্বভাবের মত,তাহা জ্ঞাপন করবার উদ্দেশ্যে দন্তে তৃণ ধারণ করেছিলেন।* *মহাপ্রভু মুরারিকে আলিঙ্গন করতে উঠলেন,কিন্তু মুরারি পেছের দিকে সরে গেলেন,মহাপ্রভু যতই এগিয়ে যান মুরারী ততই পেছনের দিকে সরে যান।* *প্রভুর হাতে ধরা দেন না।* *এইদিকে শ্রীহরিদাস ঠাকুরও দৈন‍্যবশত ভিতরে প্রবেশ করেন নি।* *দূর হতে মহাপ্রভুকে দর্শন করে তিনি রাস্তার পাশে দন্ডবৎ প্রণত হয় পড়েছিলেন।* *মহাপ্রভু যখন বাইরে ছিলেন তখনও তিনি মহাপ্রভুর কাছে আসেন নি।* *যবনের গৃহে লালন-পালন বলেই হরিদাস ঠাকুর নিজেকে অস্পৃশ‍্য বলে মনে করতেন।* *তাই তিনি সর্বদা দূরে দূরে থাকতেন।* *(শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত আদি ১৪শ অধ‍্যায়)মতে যবন কূলেই তাঁর জন্ম।* *হরিদাসের দৈন‍্যসূচক বাক‍্যে মহাপ্রভু অত‍্যন্ত সুখী হলেন।* *যাঁর হৃদয়ে ভক্তিরাণী আসন গ্রহণ করেছেন,একমাত্র তিনিই অকপট দৈন‍্য প্রকাশ করতে পারেন।* *হরিদাসের মুখে অকপট দৈন‍্যের কথা শুনে তাঁর প্রতি ভক্তিরাণীর যথেষ্ট কৃপা হয়েছে মনে করে তাঁর সৌভাগ্যের কথা ভেবে মহাপ্রভু সুখী হলেন।* *আরো বহু ভক্ত ছিলেন,জনে জনে ব‍্যাখ‍্য দেওয়া সম্ভব নহ গ্রহণ করলেন।* *বৈষ্ণবগণকে স্বরূপ দামোদর,জগদানন্দ ও দামোদর এ তিনজন পরিবেশন করলেন।* *অপরদিকে মহাপ্রভু গোবিন্দের হাতে হরিদাসঠাকুরের জন্য প্রসাদ পাঠালেন।* *ভোজন সমাপন্তে আচমন করিলেন,মহাপ্রভু সকলকে মাল‍্য-চন্দন পরালেন।*
*🌻🌻🌻এখানেই রইল🌻🌻🌻*
*পুলিন ভোজন ব্রজলীলা*
*🌻নানারকম বাল‍্য লীলায় ব্রজবাসী নরনারীর মন প্রাণ একেবারেই পরমানন্দ সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ক্রমে ক্রমে পঞ্চম বৎসরে পদার্পণ করলেন।*
*কৃষ্ণ প্রত‍্যহ প্রাতঃকালে শয‍্যা হতে গাত্রোত্থান (শয‍্যা হতে উঠে বসা বা দাঁড়ান)করে হাত মুখ প্রক্ষালন(ধোয়া)* *করেন।* *তারপর মা যশোদা এসে কোলে করে কতই না আদর করেন,কত শতবার চুম্বন করেন ও মনের মত করে গোঠের বেশে সাজিয়ে দেন।*
*তারপর ক্রমে ক্রমে গোপবালকগণ এসে যখন নন্দালয়ে মিলিত হন,তখন কৃষ্ণ সকলকে নিয়ে মা যশোদার পরিবেশিত খন্ড-লাড্ডু আদি প্রাত ভোজন শেষ করে গোঠে যাবার জন্য প্রস্তুত হন।* *তারপর কৃষ্ণ বেত্র(পাঁচনি) নিয়ে হৈ হৈ করতে করতে গোশালায় প্রবেশ করেন এবং গো-বৎষখণের গলবন্ধন মোচন করে কারও পিঠে ভালবাসার মৃদু করাঘাত,কারও পিঠে মৃদু বেত্রাঘাত করে সবাইকে বাইরের অঙ্গনে এনে মিলিত করেন এবং সমস্ত গো-বৎসগণের গলায় ক্ষুদ্রঘন্টি বেঁধে দেন।* *এমন সময়ে গোপবালকগণও তাদের গো-বৎসগণকে সুসজ্জিত করে গোপরাজের বাইরের অঙ্গনে এসে কৃষ্ণের সঙ্গে মিলিত হন।* *গোপবালক ও গো-বৎসগণকে দেখে কৃষ্ণ তখন পরমানন্দে মধুর স্বরে বংশীবাদন করেন।* *তাতে গো-বৎসগণ পরমানন্দে মত্ত হয়ে কেউ বা উর্ধপুচ্ছে,কেহ বা স্তিমিত নেত্রে(স্থির নয়নে) কেহ বা শির কম্পন সহকারে অবস্থিত হয়।* *তখন যশোদা,রোহিণী ও সমস্ত ব্রজবাসী গোপ-গোপীগণ দেখে আনন্দে মুগ্ধ হন ও কৃষ্ণও তখন শিঙ্গা বেণু বাজাতে বাজাতে গোষ্ঠের পথে অগ্রসর হন।* *এইরকম ভাবে কৃষ্ণ রোজ রোজ সখাগণসহ গোচারণে বনে যান।*
*সেখানে নিত‍্য নব ধব বাল‍্য ক্রীড়া করে সখাগণের আনন্দ বর্ধন করেন এবং তাঁদের সখ‍্যপ্রেম রসাস্বাদন করেন।* *একদিন তাঁরা গো-বৎস চারণ করে বন হতে গৃহে ফিরে আসবার সময় পরামর্শ করলেন, যে আগামীকাল আমরা গৃহ হতে প্রাতভোজন না করে ভোজ‍্যবস্তুসহ বনে আসব, ও সেখানেই সকলে মিলে ভোজন করব।* *কৃষ্ণের প্রস্তাবে সকলেই রাজী হলেন।* *পরদিন যথা আপন আপন গৃহ হতে নিজ নিজ খাদ‍্যবস্তু নিয়ে প্রাতে নন্দালয়ে উপস্থিত হলেন।* *এবং আপন আপন খাদ‍্যবস্তু শিকায় করে এলেন।* *তারপর তাঁরা বনের পথে অগ্রসর হলেন।* *হৈ হুল্লোর করতে করতে বনে পৌঁছলেন।*

 *🌻পুলিন ভোজন প্রথম পদ🌻*
*বনে প্রবেশ করে নানা খেলা খেলছেন।*
********************************
*রাখালে রাখালে মেলা,খেলিতে বিনোদ খেলা,*
     *অতিশয় শ্রম সভাকার।*
*ননীর পুতলি শ‍্যাম,রবির কিরণে ঘাম,*
      *স্রবে যেন মুকুতার হার।।*
*শ্রীদাম আসিয়া বোলে,বৈসহ তরুর তলে,*
     *কানাই হইবে মাঠে রাজা।*
*যমুনা পুলিনে ভাই,কংসের দোহাই নাই,*
     *কেহ পাত্র মিত্র কেহ প্রজা।।*
*বনফুল আনো যত,সপত্র কদম্ব শত,*
      *অশোক পল্লব আম্র শাখা।*.
*শুনি শ্রীদামের কথা,সকল আনিল তথা,*
     *নবগুঞ্জা গুচ্ছ শিখি পাখা।।*
*গাঁথিয়া ফুলের মালে,কদম্ব তরুর তলে,*
     *রাজপাট করি নিরমাণ।*
*এ দাস উদ্ধব ভণে,কক্ষ তালি ঘনে ঘনে,*
     *আবা আবা বাজায় বয়ান।।*
*🌼🌼এই পদটির ভাগবতীয় ব‍্যাখ‍্যা আস্বাদন করুন।* *খেলা ধূলা বিরামে নানাবিধ ভঙ্গিতে গোবৎস চারণ ও খেলা করতে করতে (এই খেলা পথে চলতে চলতে) শ্রীকৃষ্ণ সখাগণসহ দূর বনপথে গিয়া উপস্থিত হলেন।* *সেখানে নানাবিধ ফল-পুষ্প -সুশোভিত বৃক্ষলতা আদি পরিবেষ্টিত সুবিস্তৃত তৃণক্ষেত্র ও ক্রীড়া ভূমি দেখে শ্রকৃষ্ণ সখাগণকে বললেন,* *ভাই আমরা এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করি এবং গোবৎসগণ ঐ সামনের তৃণক্ষেত্রে বিচরণ করুক।* *এইকথা বলে কৃষ্ণ কাছাকাছি এক বৃক্ষতলে শিলাখন্ডের উপরে বসলেন।* *গোপবালকগণের তাঁদের গৃহ হতে আনা ভোজ‍্যবস্তু বৃক্ষশাখায় ঝুলিয়ে রাখলেন এবং সকলেই কৃষ্ণের কাছে এসে নানাকথায় নানাভঙ্গিতে কৃষ্ণের আনন্দ বর্ধন করতে লাগলেন।* *সামনে নানারকম পুষ্প পল্লবাদি দেখে এবং তার শোভায় আকৃষ্ট হয়ে গুঞ্জা প্রভৃতি সুদৃশ‍্য ক্ষুদ্রফল নানাপ্রকার সুদৃশ‍্য নবপল্লব,পুষ্পগুচ্ছ,কর্ণিকাদি পুষ্প ও ময়ূরপুচ্ছ প্রভৃতির দ্বারা নানা ভূষণ করে তার দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গ ভূষিত করলেন।* *কৃষ্ণের ইচ্ছায় নিজেরাও সেই বন‍্য ভূষণে ভূষিত হলেন।* *কৃষ্ণ ও সখাগণ বনের পুষ্প পত্র ও ফলাদির অলঙ্কারে অলঙ্কৃত হয়ে এক অভিনব শোভা ধারণ করলেন।* *তারপর সরোবরের দিকে এগিয়ে এলেন,সরোবরের কাছাকাছি বনপ্রান্ত নিবাসী ময়ূরকুল আহ্লাদে মত্ত ও আকুল হয়ে কেকারবে কৃষ্ণ আগমনের অভিনন্দন করতে করতে কৃষ্ণের কাছে এসে তাদের সুচিত্রিত পুচ্ছ বিস্তার করে পরমানন্দে নৃত‍্য করতে আরম্ভ করল।* *তা দেখে কৃষ্ণ ও সখাগণ ময়ূরের কাছে গেলেন,এবং তাদের সঙ্গে নৃত‍্য করতে লাগলেন।* *কৃষ্ণের নৃত‍্য দেখে বনের শাখামৃগ কুল আনন্দে আকুল হয়ে কৃষ্ণের কাছে ছুটে এসে মৃগগণ অনিমিষ নয়নে কৃষ্ণের রূপ ও নৃত‍্যের মাধুর্য‍্য রসাস্বাদন করে।* *তারা মনে মনে চিন্তা করে ও বলে প্রভো!সেই ত্রেতাযুগে আমরা অনেকদিন তোমার সঙ্গে বেড়িয়েছিলাম।* *সেই সময় তোমার এমন ভূবনমোহন রূপ ও মনোহর নৃত‍্য তো নয়নে দেখি নি।* *এবার আমরা কৃতার্থ হলাম,আমাদের নয়ন সফল হল,আমরা যেন জন্মে জন্মে তোমার এই বৃন্দাবন লীলার সময় জগতে আসতে পারি এবং তোমার লীলাক্ষেত্রের বৃক্ষশাখায় আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি।* *ধন‍্য পশু জনম গো।* 
*কৃষ্ণ প্রাপ্তির উপায় বহুবিধ হয়।*
*কৃষ্ণ প্রাপ্তির তারতম‍্য বহুত আছয়।।*
 *অর্থ‍্যাৎ শুদ্ধ প্রেমবান ভক্তগণ* *তাঁদের প্রেমানুরূপ সম্বন্ধে কেউ সখা,কেউ ,কেউ বা প্রাণবল্লভ* *বলে শ্রীকৃষ্ণকে গ্রহণ করেন এবং নিজ নিজ ভাবানুরূপ লীলামাধুর্য‍্য*
*রসাস্বাদনে সর্বদাই আত্মহারা হয়ে থাকেন।*
*🌻অবজানন্তি মাং মূঢ়া মানুষীং তনুমাশ্রিতম্।*
*শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,হে অর্জুন!এই মায়ার জগতের বর্হিমুখ জীব আমার নরাকৃতি দেখে আমাকে সামান্য মানুষ বোধে অবজ্ঞা করে থাকে।* *আমি তাদের ভবপাশ মোচন করবার জন‍্যই তাদের কাছে এসে নানা লীলায় তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করি,তা তারা অজ্ঞান বশত বুঝতে পারে না।* *যাইহোক,সখাগণ বললেন,অনেক খেলায় তো হল,আজ আরেক খেলা খেলব।* *কি খেলা না রাজা প্রজা খেলা।* *অন‍্যান‍্য খেলা খেলে রবির কিরণে ঘামাতুর হয়ে গেছি,তখন শ্রীদাম এসে বললেন,কানাই ভাই ঘেমে একাকার হয়ে গেছিস,* *ভাই তুই বৃক্ষতলে বস,শরীর শীতল কর।* *তারপর আমরা কানাইকে রাজা করে রাজা-প্রজা খেলা খেলব।*
*কানাইকে রাজার সাজে সাজানো হল,আর সখাগণ হলেন প্রজা।* *কেহ বললেন আপনি আমাদের অন্নদাতা,কেহ বললেন আপনি আমাদের রক্ষাকর্তা,কেহ বা বললেন ব্রজরক্ষা কর্তা।* *খেলা খেলতে খেলতে মধ‍্যাহ্ন আসন্ন প্রায়,* *তখন সখাগণ বললেন,ভাই অনেক খেলা হয়েছে,চল সবাই গোবৎস গণকে দেখে আসি,ঐদিকে গোবৎসগণ সুন্দর তৃণলোভে বন হতে বনান্তরে চলে যাচ্ছে নাতো?* *দেখলেন যা স্থানে গোবৎসগণ আছে।* *মধ‍্যাহ্ন পার হতে চলেছে,ক্ষুধায় ব‍্যস্ত হয়ে গেছে।* *তখন তাঁরা----------*
*খেলা সমাধিয়া,শ্রমযুত হইয়া,*
      *সখাগণ লৈয়া সঙ্গে।*
*ভোজন সম্ভার,ছিল ভাড়ে ভাড়,*.
       *ভোজন করিবে রঙ্গে।।*
*যমুনা পুলিনে,বেড়ি সখাগণে,*
       *মাঝে করি বৈসে কানু।*
*পাড়ি নব পাত,তাহে দিল ভাত,*
       *জলভরি শিঙ্গা বেণু।।*
*সব সখা মেলি,করিয়া মন্ডলি,*
       *ভোজন করয়ে সুখে।*
*ভাল ভাল কৈয়া,মুখ হতে লৈয়া,*
       *সভে দেই কানু মুখে।।*
*সবে বলে ভাই,আমার কানাই,*
       *মোরে বড় ভালবাসে।*
*আমার সমুখে,বসি খায় সুখে,*
       *সদা রহে মোর পাশে।।*
*এত করি মনে,করয়ে ভেজনে,*
        *আনন্দ সাগরে ভাসে।*
*বিশ্বম্ভর দাস,করি মনে আশ,*
        *রহে সুবলের পাশে।।*
*
 *🌻পদের ব‍্যাখ‍্যা🌻*
*প্রত‍্যেক সখাগণ আজ নিজ নিজ গৃহ হতে খাদ‍্য সম্ভার নিয়ে এসে বৃক্ষেশাখায় ঝুলিয়ে রেখেছিল।*
*অন‍্যান‍্য দিনের ন‍্যায় আজও শ্রীদাম,সুদাম,দাম,বসুদাম ও সুফলাদির মা সকলে ক্ষীর,সর,ননী,মাখন,অন্ন,ব‍্যঞ্জন,পিঠে,পায়েস আরো কতকিছু দিয়েছিলেন।* *তখন কৃষ্ণ বললেন,ভাই আজ আমরা বনমধ‍্যে ভোজন করব না।* *চল অদ‍্য আনন্দ করতে করতে যমুনা পুলিনের মৃদু মন্দ বাতাসে বসে আমরা ভোজন করব।* *পুলিন লব্দের অর্থ তট বা চর।* *আজ যেন মনে হচ্ছে যমুনা পুলিন নবসাজে সজ্জিত হয়েছে।* *যমুনা পুলিনের আশে পাশে যেন মনোরম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে।* *বনভূমির কাছে কুসুম সরোবর,পাবন সরোবর,এবং মানস গঙ্গা অতি মনোরম।* *প্রতি জলাশয়ে অগণিত কমলে সুশোভিত,তার সুগন্ধ বহন করে মন্দ মন্দ গন্ধবহ মাতিয়ে তুলল।* *কি অপূর্ব শোভা,যেন কৃষ্ণ চরণ পাবার আশে পরম আগ্রহান্বিত হয়ে উঠিল।* *অতঃনর সকল সখাগণ ভোছনের জন্য মন্ডলী করে বসলেন।* *ভাল ভাল বলে একে অপরের মুখে তুলে দিচ্ছেন,সকল সখাগণ কৃষ্ণের মুখে নিজ নিজ ভোজ‍্যবস্তু তুলে দিচ্ছেন।* *তাই ব্রহ্মা বলেছিলেন,*
*তদ্ভুরিভাগ‍্যমিহ জন্ম কিমপ‍্যটব‍্যাং,* *অর্থ‍্যাৎ হে ভগবন্!আমি যদি মর্ত‍্যবৃন্দাবনে পশু,পক্ষী,কীট,পতঙ্গ,তৃণ,গুল্মলতা প্রভৃতি যে কোনও জনম লাভ করতে পারি,তাহলে মনে করব আমার মত ভাগ‍্যবান আর কেহই নাই।* 
*জয় নিতাই,পুলিন ভোজন লীলা এখানেই রহিল।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৫৩. মুক্তোচুরি লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/httpmrinmoynandy_56.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৫৩. মুক্তোচুরি লীলা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻অতীব সুন্দর লীলা মুক্তোচুরি🌻*
*আজি কেন গোরাচাঁদের বিরস বদন।*
*কি ভাব পড়িল মনে সজল নয়ন*
*চাঁদমুখ শুখায়েছে কিসের কারণে।*
*অরুণ অধর কেন হইল মলিনে।।*
*ভাবে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।*
*নিরানন্দ দূরে গেল আনন্দ পায়।।*
*বাসুঘোষে বলে গোরা কোথায় আছিল।*
*অদভূত লীলা গোরাচাঁদ পরকাশ করিল।।*
*🌻অদ‍্য গৌরসুন্দর শ্রীবাস অঙ্গনে কৃষ্ণকথা আলাপনে ছিলেন।* *কৃষ্ণকথা আলাপন করতে করতে যেন ভাবের সঞ্চার হইল।কিছুই বুঝা যাচ্ছে না,কত হাস‍্য বদনে কৃষ্ণকথা আস্বাদন ও কথন হচ্ছিল।* *অমন হাস‍্য বদন যেন শুষ্ক মনে হতে লাগল।* *এই ক্ষণেই তিনি কৃষ্ণকথা আলাপনে কত আনন্দে কথা শ্রবণ করছিলেন,বদনভরা হাসি ছিল,হঠাৎ সজল নয়নে এদিক ওদিক চাইছেন।* *ভাব দেখে মনে হল যেন তিনি আর নিজের মধ্যে নেই,অন‍্য জগতে পাড়ি দিয়েছেন,অর্থ‍্যাৎ ব্রজের লীলা মনে পড়েছে।* *কেবল দেহ পড়ে রয়েছে।* *হঠাৎ শ্রীবাসের ঠাকুরঘরে এসে বিষ্ণুখট্টায় বসলেন।* *এই ঠাকুরঘর বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল।* *দ্বার খুলে প্রবেশ করে দ্বার বন্ধ করে দিলেন।* *আর ভক্তগণ শ্রীবাসের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে রইলেন।* *অলৌকিক ঘটনা ঘটিল,সকলে দেখতে পেলেন,সেই ঠাকুরঘর তেজোময় হয়ে গেছে আলোয় আলোকিত।* *এবং ঘরের বেড়ার সমস্ত ছিদ্র দিয়ে তেজ বাহির হচ্ছে।* *সেই তেজের কত শক্তি তা ইহাতেই বুঝা যায় যে,জ‍্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিপ্রহরের রৌদ্রের তেজও খর্ব হয়েছিল।* *কিছুক্ষণ পরে যাহা বাহিরে ছিলেন,তাঁরা ঐ ঠাকুরঘরের ভিতর হতে মুহুর্মুহু মুরলীধ্বনি শুনতে পেলেন।* *শুনে আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন।*
*এমন সময় গৃহাভ‍্যন্তর থেকে মহাপ্রভু* *"শ্রীবাস" বলে ডাকলেন,মহাপ্রভু* *পূর্বে কোনদিনই এইভাবে শ্রীবাসকে ডাকেন নি।* *এইরকম কন্ঠস্বরও শোনা যায়নি।* *শ্রীবাস ঠাকুর ঘরে প্রবেশ করলে,মহাপ্রভু বলছেন,শ্রীবাস!তোমার ঘরে আমার স্থান কর।* *আমি তোমার গৃহে যাব,এই আজ্ঞা শুনে মহাব‍্যস্ত হলেন,শ্রীবাস,শ্রীগদাধরকে বললেন,তুমি বিষ্ণুখট্টা আমার ঘরে নিয়ে এসো।* *মহাপ্রভু খট্টা হতে নেমে অন‍্য আসনে বসলেন,সেই বিষ্ণুখট্টা শ্রীবাসের ঘরে নিয়ে যাওয়া হল।* *শ্রীবাসের ভ্রাতাগণ সেই গৃহের ভিতরে চাঁদোয়া খাটালেন।*  *ও সেই খট্টার উপরে দুগ্ধ-ফেননিভ শয‍্যা পাতিলেন।* *ঘরের ভিতরে সূর্য‍্য তেজ প্রবেশ করতে না পারে তার জন‍্য পর্দা দিলেন।* *তখন মহাপ্রভু দেবগৃহ হতে শ্রীবাসের শয়নকক্ষে গমন করলেন।* *ভক্তগণ অতি আশ্চর্যের রূপ দর্শন করলেন।*
*মহাপ্রভু শতকোটি সৌদামিনী বেষ্টিত হয়ে রয়েছেন।* *শ্রীবাসের শয়নঘরে খট্টায় বসলে পরম তেজে গৃহ আলোকিত হল।* *বোধ হতে লাগল মহাপ্রভুর অঙ্গ রক্ত-মাংসে গঠিত নহে,সুবর্ণ বর্ণের তেজে গঠিত।* *সে তেজ অবশ‍্য সূর্য‍্যের তেজের চেয়েও বেশী,কিন্তু শীতল।* *এবং নয়নানন্দ।* *তখন গদাধর পুষ্প মালা গাঁথতে লাগলেন,ও মহাপ্রভুর সর্বাঙ্গ ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করলেন।* *ফুলের অঙ্গুরীয় করে আঙ্গুলে পরালেন,ফুলের বালা,তাড়,বাজু ও মালা করে মহাপ্রভুকে সাজিয়ে দিলেন।* *মস্তকে চূড়া বেঁধে উহাতে ফুলের মালা বেড়িয়ে দিলেন,তারপর সর্বাঙ্গে চন্দন,অগুরু,কর্পূর ও কেশর লেপিয়া দিলেন।* *তখন কেউ চামর ব‍্যজন,কেউ করজোড়ে স্তব,কেহ আনন্দে গড়াগড়ি,কেহ বা মহাপ্রভুর মুখচন্দ্র নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।* *অনন্তর মহাপ্রভু পরম সুন্দর নবীন পুরুষ,রমণীগণকে বললেন,তোমাদের চিত্ত আমাতে হোক।* *শ্রীভগবানের সহিত যত নিকট সম্বন্ধ এত আর কারোও সহিত নহে।* *কিছুক্ষণ পর মহাপ্রভু বিষ্ণুখট্ট হতে বললেন, এখন আমি যাই,উপযুক্ত সময়ে আবার আসব।* *এইকথা বলে উঠলেন,ও হুঙ্কার করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।* *তখন হাহাকার করে সকলে ধরলেন,গায়ে হাত দিয়ে দেখেন জীবিতর কোন চিহ্ন দেহে নাই।*
*বহুক্ষণ পরে অনেক চেষ্টায় চেতন পেলেন।* *তখন ঠিক মহাপ্রভু অন‍্য মানুষ,দেহে আর সেই তেজ নেই,সম্পূর্ণ চেতন পেয়ে বললেন,শ্রীবাসকে আমি  এখানে কেন?* *এখানেই রইল জয় নিতাই।*

*🌻ব্রজলীলা মুক্তো চুরি🌻*
*শ্রীগোবিন্দ বললেন,ওরে সখাবৃন্দ!আজ আমরা বৃন্দাবনে নতূন খেলা খেলব।* *যে খেলা কেউ কোনদিন খেলে নাই আর খেলতেও পারবে না।* *সুবল বলল=সে কি খেলা ভাই কানাই?*
*কৃষ্ণ বললেন,মুক্তা নিয়ে খেলা করব।* 
*মুকুতা সবাই পরিব মেলা।*
*মুকুতা মুকুতা মুকুতা খেলা।।*
*মুকুতা লৈয়া সাজাইব দাদা বলরামে।*
*আর মুক্তা সাজাইব শ্রীদাম সুদামে।।*
*সাজাইব নবলক্ষ আছে ধেনুগণ।*
*আর সাজাইব প্রিয় নর্ম সখীগণ।।*
*আখর=কেমন মজার খেলা হবে,*
*মুকুতা মুকুতা হবে,*
*কেমন---------------------হবে।*
*🌻তখন সুবল বলল=এতগুলো মুক্তো কোথায় পাবি ভাই কানাই?*
*কানাই বলছেন=*
*মুকুতা লইয়া মোরা করিব রোপণ*
*তাহাতেই হবে বৃক্ষ অতীব মহান*
*সে বৃক্ষে মুক্তাফল কত যে ফলিবে।*
*সর্ব গোপ-গোপী মিলি আনন্দে মাতিবে।।*
*দাস ধনপতি কহে মুক্তা পাবে কোথা।*
*মুক্তায় অঙ্কুর হবে এ কেমন বারতা।।*
*মুক্তায় অঙ্কুর হবে এ কেমন কথা।*
*মুক্তা আনতে গেল সুবল রাধারাণী যেথা।।*
*জটিলা-কুটিলা গেল মথুরা নগরে।*
*শ্রীমতী রাধিকা থাকে একা নেজ ঘরে।।*
*আখর=একা রাধে ঘরে রয়,ভাবে মনে কৃষ্ণ ধনে,একা--------রয়।*
*ভাবিছেন শ্রীরাধিকা পালঙ্কে বসিয়া,* *কবে হৃদে সুখ পাব নীলমণি হেরিয়া।।*
*কবে বা হেরিব,নীলমণি রত্ন ধনে,কবে বা হেরিব। আনন্দে বিভোর হব,কবে বা হেরিব।*
********************************
*নিকুঞ্জ বনেতে রব কাটাইব নিশি*
*বাহুর বন্ধনে জড়াইব শ‍্যাম শশী*
*কহে কবি ধনপতি শুনহে শ্রীমতী।*
*সুবলে পাঠায় তোমা সদনে শ্রীপতি।।*
*আখর=সুবল আসিছে,তোমারে ভেটিতে সখা সুবল আসিছে।*
*হবে কৃষ্ণ দরশন,সুবল আসিছে,*
*চিন্তা দূর হবে রাধে,সুবল আসিছে,*
*চিন্তামণি পাঠাইল,সুবল আসিছে,*
*অশান্তি আর রবে না রাই,আসিছে সুবল সখা ভাই,অশান্তি আর রবে না রাই।*
*🌻সুবল আসিয়া,হাসিয়া হাসিয়া,*
     *কহিছে রাধার প্রতি।*
*শুন বিনোদিনী,আসিয়াছি আমি,*
      *জানাতে কৃষ্ণের প্রীতি।।*
*আখর=প্রীতি শুভেচ্ছা লবে,*
*ব্রজে তোমার মঙ্গল হবে, প্রীতি-----*।
*🌻তব মুক্তাহার হতে,একখানি দেহ হাতে,*
      *মুক্তা লয়ে করি রোপণ।*
*তাহাতে অঙ্কুর হবে,মহাবৃক্ষ নির্মাইবে,*
     *মুক্তা ফলিবে অগণন।।*
*বিলম্ব করোনা রাধা,তাহাতে পাইব বাধা,*
      *সাধ আছে গোবিন্দ মনেতে।*
*কবি ধনপতি কয়,হরি যা মনে ভাবয়,*
      *অবশ‍্যই করিবে গোঠেতে।।*
*আখর=তাই করিবে রাইকিশোরী,* *মনে যে ভেবেছে হরি,* *তাই-------------হরি।*
*রাধা বলছেন=শোন ভাই সুবল! তোমাদের কানাইয়ের পাগলামির কথা আর আমাকে বোলো না।* *সে যে কত বড়মূর্খ তা আমার জানা হয়ে গেছে।* *মুক্তার কোনদিন গাছ হয়?* *না কোনকালে হয়েছে?*
*সুবল বললেন=শোন রাধে!ভাই কানাইয়ের কৃপায় হতেই পারে।তাঁর অসাধ‍্য কর্ম কি আছে বলতে পারো?*
*রাধা=তোমাদের মত বোকা ইহ জগতে কেহ নাই।* *তাছাড়া রাখালে মুক্তার মর্য‍্যাদা কি পাবে?*
*এত বড় অমূল‍্য বস্তু আমি কেন, কেউ দিবে না।*
*🌻শুনহে সুবল ভাই তোমারে জানাই।*
*নিশ্চয় পাগল হ'ল তোমাদের কানাই।।*
*রাজবংশী বিনা কেহ মুক্তা নাহি পরে।*
*গোচারণ রাখালে তাহা জানে কি প্রকারে।।*
*আখর=রাখালে জানে না,মুক্তা কত অমূল‍্য ধন,রাখালে জানে না।*
*রাজকন‍্যা আমি জানি,রাখালে জানে না।*
*🌻গাছেতে মুক্তা কবে ফলেছে সুবল।*
*কেবা শুনিয়াছে কোন কালে তাই বল।।*
*দাস ধনপতি বলে নাহিক অজানা*
*ভাবিলে শ্রীহরি পারে ফলাইতে সোনা।।*
*আখর=গাছে সোনা ফলাবে,কৃষ্ণ যদি ইচ্ছে করে,গাছে সোনা ফলাবে।*
*সেই তো শক্তিমান ভবে,*
*সোনা ফলাবার শক্তি পাবে।*
*গাছে     সোনা   ফলাবে।*
 *🌼তখন সুবল বলছেন,আমি রাখাল,অত শত কিছু  বুঝি না,ভাই কানাই তোমার কাছে মুক্তা চেয়ে পাঠিয়ছিল কিন্তু দিলে না।* *উপরন্তু রাখালের অবুঝ মতি বলিয়া,অবহেলা করে ফিরিয়ে দিলে রাই?* *এ আমাকে অপমান করা নহে,প্রকারে ভাই কানাইকেও অপমান করলে*? *🌼তখন রাই বলছেন,বেশ করেছি, আর কোন কথা নয় তুমি যাও।সুবল বললে বেশ,আমারও মনে থাকবে,ভাই কানাই গাছে মুক্তো ফলাতে পারে,সেই মুক্তোর আশায় তোমাকেও সেখানে যেতে হবে রাই,তখন আমিও অল্পেতে ছাড়ব না মনে রেখ।* 
*🌻অপেক্ষা না করি সুবল এখনি ফিরিবে।*
*মুক্তা লয়ে ঘরে বসে ধুয়ে ধুয়ে খাবে।।*
*আখর=ধুয়ে ধুয়ে খাও গে,মুক্তা লয়ে ঘরে বসে, ধুয়ে ধুয়ে খাও গে।* *🌼মন খারাপ করে তখন সুবল চলে গেল।*
*তখন ষখাগণ বলছে,ওই,ওই সুবল আসছে,নিশ্চয় রাইধনি সুবলকে মুক্তো দিয়েছে।*
*কৃষ্ণ=এসো ভাই সুবল,মুক্তো পেয়েছ নিশ্চয়ই? সুবল বললে=মুক্তো না পাওয়ায় আমার কোন দুঃখ নেই ভাই,* *কিন্তু মুক্তো না দিয়ে রাই যেভাবে আমাকে অপমান করলে ষে কথা আমি তোকে বলতে পারব না।* *তখন সখাগণ বললেন,তাহলে আর আমাদের মুক্তালতা খেলার আশা নেই ভাই কানাই?* *কৃষ্ণ বলছেন,*
*তোরা কোন চিন্তা করিস না,আমি আমার মায়ের কাছ হতে মুক্তা এনে তোদের সাধ পূরণ করব।*
*🌻মুক্তা আনিবার তরে শ্রীকৃষ্ণ চলিল।*
*যেথা মাতা নন্দরাণী সেথায় পৌঁছল।।*
*আখর=ত্বরা করি গেল গো,মুক্তা আনিবার তরে,ত্বরা-----------গেল গো।* 
*🌼মায়ের কাছে এসে আদরের গোপাল বলছেন,মা!আমায় একটি মুক্তা দাও, খেলা করব ও বৃক্ষ রোপণ করব।* *মা বললেন,ওরে আমার পাগল বাছা,মুক্তায় কোনদিন অঙ্কুর হয় না,আর তাতে গাছও হয় না।* *বাপ,তুই ওসব পাগলামি ছাড়,কৃষ্ণ বললেন,না মা,* *আমি সবাইকে বলেছি মায়ের কাছ হতে মুক্তো এনে তোদের সাধ পূরণ করব।*দাও না  মা দাও না?*
*ও মা বিলম্ব কোরো না দাও?*
*🌻আমি যমুনার পারে যাব,*
   *পরের মাকে মা বলিব,*
*মা বলিয়া মুক্তা আমি চাহিয়া আনিব।*
*আখর=মুকুতা আনিব,মা বলিয়া আমি মুক্তাচাসিয়া আনিব।*
*যশোদা=পুত্রের জেদ দেখে নন্দরাণী মুক্তা দিলেন; তখন কানাই মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে, আহা-হা,ভগবানের কি খেলা?*
*🌻শুনমা জননী,আমি নীলমণি,*
          *তোমার আদরের কানাই।*
*তুমি বিনা ভবে,কেবা আছে তবে,*
         *এমন জননী কারো নাই।।*
*আখর=মাগো,কেউ পাবে না,এমন গুণের জননী ভবে,মাগো কেউ পাবে না।* *কেউ দেবে না,মা বিধা মুক্তা মোরে কেউ দেবে না।*
*🌼তখন সুবল বলছে,ওই দেখ ভাই সব,ভাই কানাই মুক্তো পেয়ে কেমন হাসিমুখে এই দিকে ছুটে আসছে।* 
*মুক্তা লয়ে আসি ধেয়ে শুন সখাগণ।*
*রাধা না দিলেও মুক্তা মাতা করে দান।।*
*উজল মুকুতা পাতি হইল সঞ্চয়।*
*রোপণ করিব এবে যাহা মনে হয়।।* *আখর=রোপণ করিব,মুক্তা লয়ে গোঠমাঝে,রোপণ করিব,সখাগণ মিলি মোরা রোপণ করিব।*
*🌻এবার রোপণ করা হল,সেই মুক্তাপাতি।* *অঙ্কুর হল, তখন কৃষ্ণ বলছেন,দেখ,দেখ সখা অঙ্কুর হয়েছে।* *ফলিবে মুক্তাফল অঙ্কুর হয়েছে।*
*🌼দেখিতে দেখিতে বৃক্ষে দুটি পত্র হল।*
*বিঘত সমান গাছ বাড়িয়া উঠিল*
*কেমন সুবাস পত্র দোলে বায়ু ভরে।*
*ধনপতি কহে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ পারে।।*
*আখর=কি--না--পারে, আমার প্রাণ গোবিন্দ,কি  না  পারে।*
*গাছে মুক্তা ফলাতে পারে, প্রাণ গোবিন্দ কি না পারে।*
*আবার সুবর্ণ ফলাতে পারে,প্রাণ গোবিন্দ সবই পারে,সুবর্ণ ফলাতে পারে।* *হরিবোল;হরিবোল,হরিবোল।*
*🌻পরের দিন=গোঠে যাবার বেলা হলে নন্দমহারাজের বাড়ীর সামনে যত রাখাল এসে উপস্থিত হল,আজ একটু কানাই অন‍্যরকম,কেমন?অন‍্য রাখালদের আসবার পূর্বেই প্রস্থুত হয়ে বসে আছেন,কিন্তু দাদা বলরামের জন্য দেরী হচ্ছে।* 
*🌼নন্দরাণী বলছেন-------
*ওলো রোহিণী দিদি কোথায় বলরাম।*
*দুয়ারে দাঁড়ায়ে সুবল শ্রীদাম সুদাম।।*
*দ্বাদশ গোপাল এলো নিতে তোর বলায়ে।*
*দে দে ভাই ত্বরা করি বাছারে সাজায়ে।।*
*বংশীধ্বনি করে কানাই দাদা দাদা বলি।*
*ধবলী শাঙলী তারা যায় গোঠে চলি।।*
*নবলক্ষ ধেনু যত গোঠ মাঝে যায়*
*কৃষ্ণ প্রেমানন্দে দাস ধনপতি গায়।।*
*তখন রোহিণী দিদি বলছেন------*
*শুনলো যশোদা বহিন,আজি গোঠে যাবে না বলাই।*
*শরীর যে অসুস্থ হল,শয‍্যা ত‍্যাজি উঠে নাই।।*
*তোর কানাই আগে যাক,যদি সময় হয় যাবে।*
*কেন আর বৃথা বহিন,সখাগণ অপেক্ষা করিবে।।*
*শুনিয়া কহিল কানাই,শুন মোর কথা গো কাকিমা।*
*বলাই দাদা না যাইলে,গোঠে মোরা কেহ যাবনা।।*
*মোদের সঙ্গে গেলে দাদা,সব রোগ আরোগ‍্য হবে।*
*তাই দাস ধনপতি বলে,সেজন‍্য কেন আর ভাব তবে।।*
*🌼অতঃপর ভাইয়ের টানে দাদা আর ঘরে থাকতে পারলেন না।*
*সকলকে সঙ্গে করে গোঠের পথে চললেন।* *গোঠে গিয়ে দেখলেন,বিশাল মুক্তার বৃক্ষ বৃন্দাবনের মাঝে অবস্থান করছে।*
*🌻বলরাম বলছেন ভাই---------*
*কি জাদু জানিসরে ভাই জানিস কি যাদু।*
*তোর পরশে মনে লয় আছে কত মধু।।*
*আখর=নাইরে শরীর অসুস্থ নাই,তোর পরশ পেয়ে কানাই,আর তো শরীর অসুস্থ নাই।* 
*🌼তাহার অধিক শান্তি আশ্চর্য‍্য ঘটনে।*
*মুক্তা বৃক্ষ ফলাইলি এই বৃন্দাবনে।।*
*আখর=কত মুক্তা ফলেছেরে,তোর রোপিত মুক্তা বৃক্ষে,কত মুক্তা ফলেছেরে।*
*🌼এই বৃক্ষ ব্রজ গোপিনীরা যদি হেরে।*
*চুরি করে লয়ে মুক্তা নিয়ে যাবে ঘরে।।*
*অমূল‍্য যা ভবে ছিল মূল‍্য না থাকিবে।*
*এ হেন লীলায় যশ কিবা বলা হবে।।*
*ওঠ যত সখাগণে ওঠ বৃক্ষ ডালে।*
*মুক্তা লয়ে মনের মত সাজহ সকলে।।*
*কৃষ্ণেরে সাজায়ে মোরা করিব আরতি।*
*নবলক্ষ ধেনু আছে কহে ধনপতি*
*আখর=নবলক্ষ ধেনু রয়,দাস ধনপতি কয়,নবলক্ষ ধেনু রয়।*
*তাদের সাজাতে হবে,তবে ব্রজে মান থাকবে,তাদের সাজাতে হবে।*
*********************************
*মিলি য সখাগণ,মুকুতা করিয়া চয়ন,*
      *নানামতে গাঁথিলেক মালা।*
*সাজাইল বলরামে,আর কৃষ্ণ বামে লয়ে,*
      *বৃন্দাবন করিল আলা।।*
*আখর=আলোয় আলোয় ভরে গেল,মুক্তার আলো আর যুগল আলো,আলোয় আলোয় ভরে গেল।*
*কেমন শোভা হয়েছে গো,কৃষ্ণ বলরামের যুগল, কেমন--------গো*
*ধন‍্য বৃন্দাবন ধাম,যুগল কৃষ্ণ-বলরাম, আলোর শোভা হয়েছে গো।*
*নবলক্ষ ধেনু লয়ে,সাজাইল মুকুতা দিয়ে,*
      *জয় জয় ধ্বনি করে সবে।*
*দেখণ স্বর্গপরে,ব্রজে পুষ্প বৃষ্টি করে,*
      *এমন আনন্দ আর হবে।।*
*আখর=আনন্দ আর ধরে নারে, বৃন্দাবনে স্বর্গধামে,আনন্দ----নারে।* *মহানন্দে মাতে সবে,আনন্দ---নারে।*
*আর যত সখাগণ,সুবল শ্রীদাম দাম,*
       *ভুঞ্জে নব গোলোকের রতি।*
*যদি ও কৃষ্ণ পাই,ভাবিয়া আনন্দ পাই,*
        *কহে কবি দাস ধনপতি।।*
*আখর=নামেতে আনন্দ ভরা,যেই নাম সে কৃষ্ণ,নামেতে---------ভরা।*
*এমন প্রমোদ নাইরে কোথা,নামেতে আনন্দ ভরা।*
*🌼সুবল=ভাই কানাই!এতো অমূল‍্য মুক্তাবৃক্ষ বৃন্দাবনে আলো করে আছে।* *এগুলিকে পাহারা না দিলে হয়ত চোরে এসে সব চুরি করে নিয়ে যাবে।* *তখন কৃষ্ণ বললেন,ভাই সুবল!এই মুক্তাবৃক্ষ পাহারা দেবার দায়িত্ব তোর উপর রইল।সুবল বললে,ভাই তোর আজ্ঞা সাদরে গ্রহণ করলাম।*
******************************
*কৃষ্ণের আদেশে আমি মুক্তাবনে রব।*
*যেই চোর আসিবেক তাহারে বাধিব।।*
*চোর ধরি দিব আমি কোটালের হাতে।*
*কোটাল লইয়া যাবে কানাই সাক্ষাতে।।*
*যদি আসে রাধারাণী মুক্তা লইবারে।*
*শাড়ীর আঁচলে বৃক্ষে বাঁধিব তাহারে।।*
*সংবাদ যাইবে যবে শ্রীহরির পাশে*.।
*অপমান হবে জানে ধনপতি দাসে।।*
*আখর=মান তো আমি রাখব নারে,* *শ্রীরাধিকা এলে পরে,* *মান তো আমি রাখব নারে।* *জানাইব সবাকারে,মান তো আমি রাখব নারে।*
*********************************
*ললিতা বিশাশা সনে চলে রাধারাণী।*
*পূর্বে শুনিয়াছে যত মুক্তার কাহিনী।।*
*সাঁঝেরবেলা বামাগণে দিয়ে গৃহে বাতি।*
*বৃষভানু সুতা সহ চলে সখি সাথি*
*মুক্তাপাতি লইবারে বৃন্দাবনে যায়*
*আনন্দে উল্লাস রাই ঘন ঘন চায়*
*মুক্তা বৃক্ষ পাশে উপনীত হইল।*
*ধনপতি কহে মান যায় যাহা বল।।*
*🌼রাধারাণী মুক্তা বৃক্ষ দেখে আত্মহারা হয়ে গেছেন।*) 
*নন্দের নন্দরা করিল সৃজন,এমন মধুর বন।*
*জনম সল হবে তাহার,যে করে এ দরশন।।*
*এই মুক্তাবন অতীব গোপন,দেব-এ না জানতে পারে।*
*লয়ে রাখালগণে, সে যদুনন্দনে,,*
          *এ বৃক্ষ সৃজন করে।।*
*আয়রে ললিতা আয়রে বিশাখা, তুলিব যতন করি।*
*আমাদের তরে রেখেছে সাজায়ে,যশোদা জীবন হরি।।*
*আখর=এমন কভূ হেরি নাইরে,বৃক্ষেতে মুকুতা ফলে,এমন কভূ হেরি নাইরে।*  *জনম সফল হবে এই বৃন্দাবনে।।* 
*সুবল অদূরে রাধা সহ সখীগণ আসছেন দেখতে পেয়ে মনে মনে  বলছেন,চমৎকার,চমৎকার,আমি যখন একটি মুক্তা চাহিতে গিয়েছিলাম তখন রাখাল বুদ্ধির সমালোচনা করে আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়ছিলে,দেখব আজ।* *রাধারাণী কাছে এলে*
*ওগো রাধারাণী,রাজার নন্দিনী,*
    *মনে কি পড়ে না তোমা।*
*সে তব গৃহেতে,মুকুতা চাহিতে,*
      *কৈলে  অপমান আমা।।*
*আখর=অপমান রাই করেছিলে,মুক্তা খন্ড নাহি দিলে,অান রাই করেছিলে।*
*মনে কি পরে না বল রাজার ঝিয়ারি।*
*সেই প্রতিশোধ আজ লইবারে পারি।।*
*রাধা বলছেন=সুবল ভাই!আজ তোমাকে দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে ভাই।সুবল বললে,থাক আমার আর প্রশংসা করতে হবে না।*আবার বললেন রাইধনি!সুবল!আমি সেদিন এতটা বুঝতে পারিনাই, তাই----------*
*সুবল!আমি কি শুনি তাই।*

*অপেক্ষা করহ,সব সখীগণ,*
      *আসিবে প্রাণ কানাই।।*
*মনে দুঃখ আছে,পলাইবে পাছে,*
      *বাঁধিয়া রাখিব আমি।*
*রাজার কোটাল,আমি জানি ভাল,*
      *আসিবে জগৎ স্বামী।।*
*🌼বিশাখা বলছেন=সুবল!আজ তোমার সব কথা আমরা মেনে নিলাম,* *আজ আমাদের ছেড়ে দাও,* *আবার একদিন এসে তোমাদের কানাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।* *সুবল বললেন=না ললিতা-বিশাখা,তোমাদের ছাড়লেও আমি রাজারনন্দিনীকে ছাড়ব না।* 
*লাজ শরম কি তোমার নাই,শুনহে রাজনন্দিনী রাই,লাজ শরম কি তোমার নাই।* *এসেছ কোন লাজে বল,আমি যে সখা সুবল,এসেছ কোন লাজে বল,* *সেদিনের কথা নাই কি মনে,আমাকে কাঁদালে অপমানে,সেদিনের কথা নাই কি মনে।* 
*🌻তারপর শ্রীগোবিন্দ এলেন,*
*কিন্তু সুবল সেদিনের কথা ভুলতে পারছেন না, তবুও সখার কথায় রাইধনিকে মুক্তা প্রদান করলেন বটে,*
*মুক্তা লয়ে রাই সুন্দরী ঘরে ফিরে যাও।*
*সুবল বলিছে ওই ধুয়ে ধুয়ে খাও।।*
    *এখানেই রইল*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৫৩. মুক্তোচুরি লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৫৩. মুক্তোচুরি লীলা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻অতীব সুন্দর লীলা মুক্তোচুরি🌻*
*আজি কেন গোরাচাঁদের বিরস বদন।*
*কি ভাব পড়িল মনে সজল নয়ন*
*চাঁদমুখ শুখায়েছে কিসের কারণে।*
*অরুণ অধর কেন হইল মলিনে।।*
*ভাবে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।*
*নিরানন্দ দূরে গেল আনন্দ পায়।।*
*বাসুঘোষে বলে গোরা কোথায় আছিল।*
*অদভূত লীলা গোরাচাঁদ পরকাশ করিল।।*
*🌻অদ‍্য গৌরসুন্দর শ্রীবাস অঙ্গনে কৃষ্ণকথা আলাপনে ছিলেন।* *কৃষ্ণকথা আলাপন করতে করতে যেন ভাবের সঞ্চার হইল।কিছুই বুঝা যাচ্ছে না,কত হাস‍্য বদনে কৃষ্ণকথা আস্বাদন ও কথন হচ্ছিল।* *অমন হাস‍্য বদন যেন শুষ্ক মনে হতে লাগল।* *এই ক্ষণেই তিনি কৃষ্ণকথা আলাপনে কত আনন্দে কথা শ্রবণ করছিলেন,বদনভরা হাসি ছিল,হঠাৎ সজল নয়নে এদিক ওদিক চাইছেন।* *ভাব দেখে মনে হল যেন তিনি আর নিজের মধ্যে নেই,অন‍্য জগতে পাড়ি দিয়েছেন,অর্থ‍্যাৎ ব্রজের লীলা মনে পড়েছে।* *কেবল দেহ পড়ে রয়েছে।* *হঠাৎ শ্রীবাসের ঠাকুরঘরে এসে বিষ্ণুখট্টায় বসলেন।* *এই ঠাকুরঘর বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল।* *দ্বার খুলে প্রবেশ করে দ্বার বন্ধ করে দিলেন।* *আর ভক্তগণ শ্রীবাসের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে রইলেন।* *অলৌকিক ঘটনা ঘটিল,সকলে দেখতে পেলেন,সেই ঠাকুরঘর তেজোময় হয়ে গেছে আলোয় আলোকিত।* *এবং ঘরের বেড়ার সমস্ত ছিদ্র দিয়ে তেজ বাহির হচ্ছে।* *সেই তেজের কত শক্তি তা ইহাতেই বুঝা যায় যে,জ‍্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিপ্রহরের রৌদ্রের তেজও খর্ব হয়েছিল।* *কিছুক্ষণ পরে যাহা বাহিরে ছিলেন,তাঁরা ঐ ঠাকুরঘরের ভিতর হতে মুহুর্মুহু মুরলীধ্বনি শুনতে পেলেন।* *শুনে আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন।*
*এমন সময় গৃহাভ‍্যন্তর থেকে মহাপ্রভু* *"শ্রীবাস" বলে ডাকলেন,মহাপ্রভু* *পূর্বে কোনদিনই এইভাবে শ্রীবাসকে ডাকেন নি।* *এইরকম কন্ঠস্বরও শোনা যায়নি।* *শ্রীবাস ঠাকুর ঘরে প্রবেশ করলে,মহাপ্রভু বলছেন,শ্রীবাস!তোমার ঘরে আমার স্থান কর।* *আমি তোমার গৃহে যাব,এই আজ্ঞা শুনে মহাব‍্যস্ত হলেন,শ্রীবাস,শ্রীগদাধরকে বললেন,তুমি বিষ্ণুখট্টা আমার ঘরে নিয়ে এসো।* *মহাপ্রভু খট্টা হতে নেমে অন‍্য আসনে বসলেন,সেই বিষ্ণুখট্টা শ্রীবাসের ঘরে নিয়ে যাওয়া হল।* *শ্রীবাসের ভ্রাতাগণ সেই গৃহের ভিতরে চাঁদোয়া খাটালেন।*  *ও সেই খট্টার উপরে দুগ্ধ-ফেননিভ শয‍্যা পাতিলেন।* *ঘরের ভিতরে সূর্য‍্য তেজ প্রবেশ করতে না পারে তার জন‍্য পর্দা দিলেন।* *তখন মহাপ্রভু দেবগৃহ হতে শ্রীবাসের শয়নকক্ষে গমন করলেন।* *ভক্তগণ অতি আশ্চর্যের রূপ দর্শন করলেন।*
*মহাপ্রভু শতকোটি সৌদামিনী বেষ্টিত হয়ে রয়েছেন।* *শ্রীবাসের শয়নঘরে খট্টায় বসলে পরম তেজে গৃহ আলোকিত হল।* *বোধ হতে লাগল মহাপ্রভুর অঙ্গ রক্ত-মাংসে গঠিত নহে,সুবর্ণ বর্ণের তেজে গঠিত।* *সে তেজ অবশ‍্য সূর্য‍্যের তেজের চেয়েও বেশী,কিন্তু শীতল।* *এবং নয়নানন্দ।* *তখন গদাধর পুষ্প মালা গাঁথতে লাগলেন,ও মহাপ্রভুর সর্বাঙ্গ ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করলেন।* *ফুলের অঙ্গুরীয় করে আঙ্গুলে পরালেন,ফুলের বালা,তাড়,বাজু ও মালা করে মহাপ্রভুকে সাজিয়ে দিলেন।* *মস্তকে চূড়া বেঁধে উহাতে ফুলের মালা বেড়িয়ে দিলেন,তারপর সর্বাঙ্গে চন্দন,অগুরু,কর্পূর ও কেশর লেপিয়া দিলেন।* *তখন কেউ চামর ব‍্যজন,কেউ করজোড়ে স্তব,কেহ আনন্দে গড়াগড়ি,কেহ বা মহাপ্রভুর মুখচন্দ্র নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।* *অনন্তর মহাপ্রভু পরম সুন্দর নবীন পুরুষ,রমণীগণকে বললেন,তোমাদের চিত্ত আমাতে হোক।* *শ্রীভগবানের সহিত যত নিকট সম্বন্ধ এত আর কারোও সহিত নহে।* *কিছুক্ষণ পর মহাপ্রভু বিষ্ণুখট্ট হতে বললেন, এখন আমি যাই,উপযুক্ত সময়ে আবার আসব।* *এইকথা বলে উঠলেন,ও হুঙ্কার করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।* *তখন হাহাকার করে সকলে ধরলেন,গায়ে হাত দিয়ে দেখেন জীবিতর কোন চিহ্ন দেহে নাই।*
*বহুক্ষণ পরে অনেক চেষ্টায় চেতন পেলেন।* *তখন ঠিক মহাপ্রভু অন‍্য মানুষ,দেহে আর সেই তেজ নেই,সম্পূর্ণ চেতন পেয়ে বললেন,শ্রীবাসকে আমি  এখানে কেন?* *এখানেই রইল জয় নিতাই।*

*🌻ব্রজলীলা মুক্তো চুরি🌻*
*শ্রীগোবিন্দ বললেন,ওরে সখাবৃন্দ!আজ আমরা বৃন্দাবনে নতূন খেলা খেলব।* *যে খেলা কেউ কোনদিন খেলে নাই আর খেলতেও পারবে না।* *সুবল বলল=সে কি খেলা ভাই কানাই?*
*কৃষ্ণ বললেন,মুক্তা নিয়ে খেলা করব।* 
*মুকুতা সবাই পরিব মেলা।*
*মুকুতা মুকুতা মুকুতা খেলা।।*
*মুকুতা লৈয়া সাজাইব দাদা বলরামে।*
*আর মুক্তা সাজাইব শ্রীদাম সুদামে।।*
*সাজাইব নবলক্ষ আছে ধেনুগণ।*
*আর সাজাইব প্রিয় নর্ম সখীগণ।।*
*আখর=কেমন মজার খেলা হবে,*
*মুকুতা মুকুতা হবে,*
*কেমন---------------------হবে।*
*🌻তখন সুবল বলল=এতগুলো মুক্তো কোথায় পাবি ভাই কানাই?*
*কানাই বলছেন=*
*মুকুতা লইয়া মোরা করিব রোপণ*
*তাহাতেই হবে বৃক্ষ অতীব মহান*
*সে বৃক্ষে মুক্তাফল কত যে ফলিবে।*
*সর্ব গোপ-গোপী মিলি আনন্দে মাতিবে।।*
*দাস ধনপতি কহে মুক্তা পাবে কোথা।*
*মুক্তায় অঙ্কুর হবে এ কেমন বারতা।।*
*মুক্তায় অঙ্কুর হবে এ কেমন কথা।*
*মুক্তা আনতে গেল সুবল রাধারাণী যেথা।।*
*জটিলা-কুটিলা গেল মথুরা নগরে।*
*শ্রীমতী রাধিকা থাকে একা নেজ ঘরে।।*
*আখর=একা রাধে ঘরে রয়,ভাবে মনে কৃষ্ণ ধনে,একা--------রয়।*
*ভাবিছেন শ্রীরাধিকা পালঙ্কে বসিয়া,* *কবে হৃদে সুখ পাব নীলমণি হেরিয়া।।*
*কবে বা হেরিব,নীলমণি রত্ন ধনে,কবে বা হেরিব। আনন্দে বিভোর হব,কবে বা হেরিব।*
********************************
*নিকুঞ্জ বনেতে রব কাটাইব নিশি*
*বাহুর বন্ধনে জড়াইব শ‍্যাম শশী*
*কহে কবি ধনপতি শুনহে শ্রীমতী।*
*সুবলে পাঠায় তোমা সদনে শ্রীপতি।।*
*আখর=সুবল আসিছে,তোমারে ভেটিতে সখা সুবল আসিছে।*
*হবে কৃষ্ণ দরশন,সুবল আসিছে,*
*চিন্তা দূর হবে রাধে,সুবল আসিছে,*
*চিন্তামণি পাঠাইল,সুবল আসিছে,*
*অশান্তি আর রবে না রাই,আসিছে সুবল সখা ভাই,অশান্তি আর রবে না রাই।*
*🌻সুবল আসিয়া,হাসিয়া হাসিয়া,*
     *কহিছে রাধার প্রতি।*
*শুন বিনোদিনী,আসিয়াছি আমি,*
      *জানাতে কৃষ্ণের প্রীতি।।*
*আখর=প্রীতি শুভেচ্ছা লবে,*
*ব্রজে তোমার মঙ্গল হবে, প্রীতি-----*।
*🌻তব মুক্তাহার হতে,একখানি দেহ হাতে,*
      *মুক্তা লয়ে করি রোপণ।*
*তাহাতে অঙ্কুর হবে,মহাবৃক্ষ নির্মাইবে,*
     *মুক্তা ফলিবে অগণন।।*
*বিলম্ব করোনা রাধা,তাহাতে পাইব বাধা,*
      *সাধ আছে গোবিন্দ মনেতে।*
*কবি ধনপতি কয়,হরি যা মনে ভাবয়,*
      *অবশ‍্যই করিবে গোঠেতে।।*
*আখর=তাই করিবে রাইকিশোরী,* *মনে যে ভেবেছে হরি,* *তাই-------------হরি।*
*রাধা বলছেন=শোন ভাই সুবল! তোমাদের কানাইয়ের পাগলামির কথা আর আমাকে বোলো না।* *সে যে কত বড়মূর্খ তা আমার জানা হয়ে গেছে।* *মুক্তার কোনদিন গাছ হয়?* *না কোনকালে হয়েছে?*
*সুবল বললেন=শোন রাধে!ভাই কানাইয়ের কৃপায় হতেই পারে।তাঁর অসাধ‍্য কর্ম কি আছে বলতে পারো?*
*রাধা=তোমাদের মত বোকা ইহ জগতে কেহ নাই।* *তাছাড়া রাখালে মুক্তার মর্য‍্যাদা কি পাবে?*
*এত বড় অমূল‍্য বস্তু আমি কেন, কেউ দিবে না।*
*🌻শুনহে সুবল ভাই তোমারে জানাই।*
*নিশ্চয় পাগল হ'ল তোমাদের কানাই।।*
*রাজবংশী বিনা কেহ মুক্তা নাহি পরে।*
*গোচারণ রাখালে তাহা জানে কি প্রকারে।।*
*আখর=রাখালে জানে না,মুক্তা কত অমূল‍্য ধন,রাখালে জানে না।*
*রাজকন‍্যা আমি জানি,রাখালে জানে না।*
*🌻গাছেতে মুক্তা কবে ফলেছে সুবল।*
*কেবা শুনিয়াছে কোন কালে তাই বল।।*
*দাস ধনপতি বলে নাহিক অজানা*
*ভাবিলে শ্রীহরি পারে ফলাইতে সোনা।।*
*আখর=গাছে সোনা ফলাবে,কৃষ্ণ যদি ইচ্ছে করে,গাছে সোনা ফলাবে।*
*সেই তো শক্তিমান ভবে,*
*সোনা ফলাবার শক্তি পাবে।*
*গাছে     সোনা   ফলাবে।*
 *🌼তখন সুবল বলছেন,আমি রাখাল,অত শত কিছু  বুঝি না,ভাই কানাই তোমার কাছে মুক্তা চেয়ে পাঠিয়ছিল কিন্তু দিলে না।* *উপরন্তু রাখালের অবুঝ মতি বলিয়া,অবহেলা করে ফিরিয়ে দিলে রাই?* *এ আমাকে অপমান করা নহে,প্রকারে ভাই কানাইকেও অপমান করলে*? *🌼তখন রাই বলছেন,বেশ করেছি, আর কোন কথা নয় তুমি যাও।সুবল বললে বেশ,আমারও মনে থাকবে,ভাই কানাই গাছে মুক্তো ফলাতে পারে,সেই মুক্তোর আশায় তোমাকেও সেখানে যেতে হবে রাই,তখন আমিও অল্পেতে ছাড়ব না মনে রেখ।* 
*🌻অপেক্ষা না করি সুবল এখনি ফিরিবে।*
*মুক্তা লয়ে ঘরে বসে ধুয়ে ধুয়ে খাবে।।*
*আখর=ধুয়ে ধুয়ে খাও গে,মুক্তা লয়ে ঘরে বসে, ধুয়ে ধুয়ে খাও গে।* *🌼মন খারাপ করে তখন সুবল চলে গেল।*
*তখন ষখাগণ বলছে,ওই,ওই সুবল আসছে,নিশ্চয় রাইধনি সুবলকে মুক্তো দিয়েছে।*
*কৃষ্ণ=এসো ভাই সুবল,মুক্তো পেয়েছ নিশ্চয়ই? সুবল বললে=মুক্তো না পাওয়ায় আমার কোন দুঃখ নেই ভাই,* *কিন্তু মুক্তো না দিয়ে রাই যেভাবে আমাকে অপমান করলে ষে কথা আমি তোকে বলতে পারব না।* *তখন সখাগণ বললেন,তাহলে আর আমাদের মুক্তালতা খেলার আশা নেই ভাই কানাই?* *কৃষ্ণ বলছেন,*
*তোরা কোন চিন্তা করিস না,আমি আমার মায়ের কাছ হতে মুক্তা এনে তোদের সাধ পূরণ করব।*
*🌻মুক্তা আনিবার তরে শ্রীকৃষ্ণ চলিল।*
*যেথা মাতা নন্দরাণী সেথায় পৌঁছল।।*
*আখর=ত্বরা করি গেল গো,মুক্তা আনিবার তরে,ত্বরা-----------গেল গো।* 
*🌼মায়ের কাছে এসে আদরের গোপাল বলছেন,মা!আমায় একটি মুক্তা দাও, খেলা করব ও বৃক্ষ রোপণ করব।* *মা বললেন,ওরে আমার পাগল বাছা,মুক্তায় কোনদিন অঙ্কুর হয় না,আর তাতে গাছও হয় না।* *বাপ,তুই ওসব পাগলামি ছাড়,কৃষ্ণ বললেন,না মা,* *আমি সবাইকে বলেছি মায়ের কাছ হতে মুক্তো এনে তোদের সাধ পূরণ করব।*দাও না  মা দাও না?*
*ও মা বিলম্ব কোরো না দাও?*
*🌻আমি যমুনার পারে যাব,*
   *পরের মাকে মা বলিব,*
*মা বলিয়া মুক্তা আমি চাহিয়া আনিব।*
*আখর=মুকুতা আনিব,মা বলিয়া আমি মুক্তাচাসিয়া আনিব।*
*যশোদা=পুত্রের জেদ দেখে নন্দরাণী মুক্তা দিলেন; তখন কানাই মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে, আহা-হা,ভগবানের কি খেলা?*
*🌻শুনমা জননী,আমি নীলমণি,*
          *তোমার আদরের কানাই।*
*তুমি বিনা ভবে,কেবা আছে তবে,*
         *এমন জননী কারো নাই।।*
*আখর=মাগো,কেউ পাবে না,এমন গুণের জননী ভবে,মাগো কেউ পাবে না।* *কেউ দেবে না,মা বিধা মুক্তা মোরে কেউ দেবে না।*
*🌼তখন সুবল বলছে,ওই দেখ ভাই সব,ভাই কানাই মুক্তো পেয়ে কেমন হাসিমুখে এই দিকে ছুটে আসছে।* 
*মুক্তা লয়ে আসি ধেয়ে শুন সখাগণ।*
*রাধা না দিলেও মুক্তা মাতা করে দান।।*
*উজল মুকুতা পাতি হইল সঞ্চয়।*
*রোপণ করিব এবে যাহা মনে হয়।।* *আখর=রোপণ করিব,মুক্তা লয়ে গোঠমাঝে,রোপণ করিব,সখাগণ মিলি মোরা রোপণ করিব।*
*🌻এবার রোপণ করা হল,সেই মুক্তাপাতি।* *অঙ্কুর হল, তখন কৃষ্ণ বলছেন,দেখ,দেখ সখা অঙ্কুর হয়েছে।* *ফলিবে মুক্তাফল অঙ্কুর হয়েছে।*
*🌼দেখিতে দেখিতে বৃক্ষে দুটি পত্র হল।*
*বিঘত সমান গাছ বাড়িয়া উঠিল*
*কেমন সুবাস পত্র দোলে বায়ু ভরে।*
*ধনপতি কহে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ পারে।।*
*আখর=কি--না--পারে, আমার প্রাণ গোবিন্দ,কি  না  পারে।*
*গাছে মুক্তা ফলাতে পারে, প্রাণ গোবিন্দ কি না পারে।*
*আবার সুবর্ণ ফলাতে পারে,প্রাণ গোবিন্দ সবই পারে,সুবর্ণ ফলাতে পারে।* *হরিবোল;হরিবোল,হরিবোল।*
*🌻পরের দিন=গোঠে যাবার বেলা হলে নন্দমহারাজের বাড়ীর সামনে যত রাখাল এসে উপস্থিত হল,আজ একটু কানাই অন‍্যরকম,কেমন?অন‍্য রাখালদের আসবার পূর্বেই প্রস্থুত হয়ে বসে আছেন,কিন্তু দাদা বলরামের জন্য দেরী হচ্ছে।* 
*🌼নন্দরাণী বলছেন-------
*ওলো রোহিণী দিদি কোথায় বলরাম।*
*দুয়ারে দাঁড়ায়ে সুবল শ্রীদাম সুদাম।।*
*দ্বাদশ গোপাল এলো নিতে তোর বলায়ে।*
*দে দে ভাই ত্বরা করি বাছারে সাজায়ে।।*
*বংশীধ্বনি করে কানাই দাদা দাদা বলি।*
*ধবলী শাঙলী তারা যায় গোঠে চলি।।*
*নবলক্ষ ধেনু যত গোঠ মাঝে যায়*
*কৃষ্ণ প্রেমানন্দে দাস ধনপতি গায়।।*
*তখন রোহিণী দিদি বলছেন------*
*শুনলো যশোদা বহিন,আজি গোঠে যাবে না বলাই।*
*শরীর যে অসুস্থ হল,শয‍্যা ত‍্যাজি উঠে নাই।।*
*তোর কানাই আগে যাক,যদি সময় হয় যাবে।*
*কেন আর বৃথা বহিন,সখাগণ অপেক্ষা করিবে।।*
*শুনিয়া কহিল কানাই,শুন মোর কথা গো কাকিমা।*
*বলাই দাদা না যাইলে,গোঠে মোরা কেহ যাবনা।।*
*মোদের সঙ্গে গেলে দাদা,সব রোগ আরোগ‍্য হবে।*
*তাই দাস ধনপতি বলে,সেজন‍্য কেন আর ভাব তবে।।*
*🌼অতঃপর ভাইয়ের টানে দাদা আর ঘরে থাকতে পারলেন না।*
*সকলকে সঙ্গে করে গোঠের পথে চললেন।* *গোঠে গিয়ে দেখলেন,বিশাল মুক্তার বৃক্ষ বৃন্দাবনের মাঝে অবস্থান করছে।*
*🌻বলরাম বলছেন ভাই---------*
*কি জাদু জানিসরে ভাই জানিস কি যাদু।*
*তোর পরশে মনে লয় আছে কত মধু।।*
*আখর=নাইরে শরীর অসুস্থ নাই,তোর পরশ পেয়ে কানাই,আর তো শরীর অসুস্থ নাই।* 
*🌼তাহার অধিক শান্তি আশ্চর্য‍্য ঘটনে।*
*মুক্তা বৃক্ষ ফলাইলি এই বৃন্দাবনে।।*
*আখর=কত মুক্তা ফলেছেরে,তোর রোপিত মুক্তা বৃক্ষে,কত মুক্তা ফলেছেরে।*
*🌼এই বৃক্ষ ব্রজ গোপিনীরা যদি হেরে।*
*চুরি করে লয়ে মুক্তা নিয়ে যাবে ঘরে।।*
*অমূল‍্য যা ভবে ছিল মূল‍্য না থাকিবে।*
*এ হেন লীলায় যশ কিবা বলা হবে।।*
*ওঠ যত সখাগণে ওঠ বৃক্ষ ডালে।*
*মুক্তা লয়ে মনের মত সাজহ সকলে।।*
*কৃষ্ণেরে সাজায়ে মোরা করিব আরতি।*
*নবলক্ষ ধেনু আছে কহে ধনপতি*
*আখর=নবলক্ষ ধেনু রয়,দাস ধনপতি কয়,নবলক্ষ ধেনু রয়।*
*তাদের সাজাতে হবে,তবে ব্রজে মান থাকবে,তাদের সাজাতে হবে।*
*********************************
*মিলি য সখাগণ,মুকুতা করিয়া চয়ন,*
      *নানামতে গাঁথিলেক মালা।*
*সাজাইল বলরামে,আর কৃষ্ণ বামে লয়ে,*
      *বৃন্দাবন করিল আলা।।*
*আখর=আলোয় আলোয় ভরে গেল,মুক্তার আলো আর যুগল আলো,আলোয় আলোয় ভরে গেল।*
*কেমন শোভা হয়েছে গো,কৃষ্ণ বলরামের যুগল, কেমন--------গো*
*ধন‍্য বৃন্দাবন ধাম,যুগল কৃষ্ণ-বলরাম, আলোর শোভা হয়েছে গো।*
*নবলক্ষ ধেনু লয়ে,সাজাইল মুকুতা দিয়ে,*
      *জয় জয় ধ্বনি করে সবে।*
*দেখণ স্বর্গপরে,ব্রজে পুষ্প বৃষ্টি করে,*
      *এমন আনন্দ আর হবে।।*
*আখর=আনন্দ আর ধরে নারে, বৃন্দাবনে স্বর্গধামে,আনন্দ----নারে।* *মহানন্দে মাতে সবে,আনন্দ---নারে।*
*আর যত সখাগণ,সুবল শ্রীদাম দাম,*
       *ভুঞ্জে নব গোলোকের রতি।*
*যদি ও কৃষ্ণ পাই,ভাবিয়া আনন্দ পাই,*
        *কহে কবি দাস ধনপতি।।*
*আখর=নামেতে আনন্দ ভরা,যেই নাম সে কৃষ্ণ,নামেতে---------ভরা।*
*এমন প্রমোদ নাইরে কোথা,নামেতে আনন্দ ভরা।*
*🌼সুবল=ভাই কানাই!এতো অমূল‍্য মুক্তাবৃক্ষ বৃন্দাবনে আলো করে আছে।* *এগুলিকে পাহারা না দিলে হয়ত চোরে এসে সব চুরি করে নিয়ে যাবে।* *তখন কৃষ্ণ বললেন,ভাই সুবল!এই মুক্তাবৃক্ষ পাহারা দেবার দায়িত্ব তোর উপর রইল।সুবল বললে,ভাই তোর আজ্ঞা সাদরে গ্রহণ করলাম।*
******************************
*কৃষ্ণের আদেশে আমি মুক্তাবনে রব।*
*যেই চোর আসিবেক তাহারে বাধিব।।*
*চোর ধরি দিব আমি কোটালের হাতে।*
*কোটাল লইয়া যাবে কানাই সাক্ষাতে।।*
*যদি আসে রাধারাণী মুক্তা লইবারে।*
*শাড়ীর আঁচলে বৃক্ষে বাঁধিব তাহারে।।*
*সংবাদ যাইবে যবে শ্রীহরির পাশে*.।
*অপমান হবে জানে ধনপতি দাসে।।*
*আখর=মান তো আমি রাখব নারে,* *শ্রীরাধিকা এলে পরে,* *মান তো আমি রাখব নারে।* *জানাইব সবাকারে,মান তো আমি রাখব নারে।*
*********************************
*ললিতা বিশাশা সনে চলে রাধারাণী।*
*পূর্বে শুনিয়াছে যত মুক্তার কাহিনী।।*
*সাঁঝেরবেলা বামাগণে দিয়ে গৃহে বাতি।*
*বৃষভানু সুতা সহ চলে সখি সাথি*
*মুক্তাপাতি লইবারে বৃন্দাবনে যায়*
*আনন্দে উল্লাস রাই ঘন ঘন চায়*
*মুক্তা বৃক্ষ পাশে উপনীত হইল।*
*ধনপতি কহে মান যায় যাহা বল।।*
*🌼রাধারাণী মুক্তা বৃক্ষ দেখে আত্মহারা হয়ে গেছেন।*) 
*নন্দের নন্দরা করিল সৃজন,এমন মধুর বন।*
*জনম সল হবে তাহার,যে করে এ দরশন।।*
*এই মুক্তাবন অতীব গোপন,দেব-এ না জানতে পারে।*
*লয়ে রাখালগণে, সে যদুনন্দনে,,*
          *এ বৃক্ষ সৃজন করে।।*
*আয়রে ললিতা আয়রে বিশাখা, তুলিব যতন করি।*
*আমাদের তরে রেখেছে সাজায়ে,যশোদা জীবন হরি।।*
*আখর=এমন কভূ হেরি নাইরে,বৃক্ষেতে মুকুতা ফলে,এমন কভূ হেরি নাইরে।*  *জনম সফল হবে এই বৃন্দাবনে।।* 
*সুবল অদূরে রাধা সহ সখীগণ আসছেন দেখতে পেয়ে মনে মনে  বলছেন,চমৎকার,চমৎকার,আমি যখন একটি মুক্তা চাহিতে গিয়েছিলাম তখন রাখাল বুদ্ধির সমালোচনা করে আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়ছিলে,দেখব আজ।* *রাধারাণী কাছে এলে*
*ওগো রাধারাণী,রাজার নন্দিনী,*
    *মনে কি পড়ে না তোমা।*
*সে তব গৃহেতে,মুকুতা চাহিতে,*
      *কৈলে  অপমান আমা।।*
*আখর=অপমান রাই করেছিলে,মুক্তা খন্ড নাহি দিলে,অান রাই করেছিলে।*
*মনে কি পরে না বল রাজার ঝিয়ারি।*
*সেই প্রতিশোধ আজ লইবারে পারি।।*
*রাধা বলছেন=সুবল ভাই!আজ তোমাকে দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে ভাই।সুবল বললে,থাক আমার আর প্রশংসা করতে হবে না।*আবার বললেন রাইধনি!সুবল!আমি সেদিন এতটা বুঝতে পারিনাই, তাই----------*
*সুবল!আমি কি শুনি তাই।*

*অপেক্ষা করহ,সব সখীগণ,*
      *আসিবে প্রাণ কানাই।।*
*মনে দুঃখ আছে,পলাইবে পাছে,*
      *বাঁধিয়া রাখিব আমি।*
*রাজার কোটাল,আমি জানি ভাল,*
      *আসিবে জগৎ স্বামী।।*
*🌼বিশাখা বলছেন=সুবল!আজ তোমার সব কথা আমরা মেনে নিলাম,* *আজ আমাদের ছেড়ে দাও,* *আবার একদিন এসে তোমাদের কানাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।* *সুবল বললেন=না ললিতা-বিশাখা,তোমাদের ছাড়লেও আমি রাজারনন্দিনীকে ছাড়ব না।* 
*লাজ শরম কি তোমার নাই,শুনহে রাজনন্দিনী রাই,লাজ শরম কি তোমার নাই।* *এসেছ কোন লাজে বল,আমি যে সখা সুবল,এসেছ কোন লাজে বল,* *সেদিনের কথা নাই কি মনে,আমাকে কাঁদালে অপমানে,সেদিনের কথা নাই কি মনে।* 
*🌻তারপর শ্রীগোবিন্দ এলেন,*
*কিন্তু সুবল সেদিনের কথা ভুলতে পারছেন না, তবুও সখার কথায় রাইধনিকে মুক্তা প্রদান করলেন বটে,*
*মুক্তা লয়ে রাই সুন্দরী ঘরে ফিরে যাও।*
*সুবল বলিছে ওই ধুয়ে ধুয়ে খাও।।*
    *এখানেই রইল*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds