শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৫৪. পুলিন ভোজন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                   ꧁ ৫৪. পুলিন ভোজন ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻পুলিন ভোজন, গৌরচন্দ্রিকা 🌻*
*গোরা পহুঁ সুরধূনীর তীরে।*
*নিত‍্যানন্দ সঙ্গেতে বিহরে।।*
*ভক্তগণ দোঁহারে বেড়িয়া।*
*কীর্তন করে আজি ঘুরিয়া ঘুরিয়া।।*
*ক্ষুধাতে আকুল ভক্তগণ।*
*দেখি প্রভুর ব‍্যকুলিত মন।।*
*গঙ্গাতীরে ভোজন বিলাস।*
*মহানন্দে দর্শন করে কৃষ্ণদাস।।*
*🌼জগৎপতি শ্রীকৃষ্ণ যেমন তাঁর সখাগণ সঙ্গে নিয়ে শ্রীবৃন্দাবনে যমুনার তটে মহানন্দে ভোজনলীলা করেছিলেন,তাঁর অনুরূপ করুণাময় মহাপ্রভু তাঁর পার্ষদগণকে নিয়ে এইভাবে এইলীলা প্রকট করেছিলেন।* 
*হেনকালে মহাপ্রভু নিজগণ সঙ্গে।*
*বৈষ্ণব মিলিলা আসি পথে মহারঙ্গে।।*
************************************************
*ভোজন সমাপ্তি হৈল কৈল আচমন।*
*সভারে পরাইল প্রভু মাল‍্য চন্দন।।*
          *(চৈঃ চরিতামৃত,১১২|১৯৫)*
*সিংহদ্বার ছেড়ে কাশী মিশ্রের গৃসের দিকে সকলে যখন দক্ষিণমুখে চলেছেন সেই সময়ে স্বীয় পার্ষদগণকে সঙ্গে নিয়ে বৈষ্ণব গণের সহিত মিলিত হলেন।* *অদ্বৈতাচার্য‍্যকে মহাপ্রভু আলিঙ্গন করলেন।* *তাঁর মধ‍্যিখানে অনেক কথাবার্তা হয়ে গেল।* *আরো বহু ভক্তগণ এলেন,তাঁদের সঙ্গেও মহাপ্রভু আলিঙ্গন করলেন।* *বহু ভক্ত সমাগম হল,তখন সকল ভক্তকে নিয়ে,মহাপ্রভু কাশী মিশ্রের বাড়ীর ভিতরে যেখানে মহাপ্রভু থাকেন,কিন্তু কাশী মিশ্রের বাড়ীতে অতি অল্প জায়গা।(মহাপ্রভুর গম্ভীরা কক্ষের কথা বললেন।)*
*গৌড় হতে যত বৈষ্ণব এসেছেন,কাশী মিশ্রের বাড়ীতে যে স্থানে মহাপ্রভু থাকেন,সেই স্থানে সকলের সমাবেশ হতে পারে না।*
*তথাপি সেই অল্প স্থানের মধ‍্যেই তাহাদের সকলের স্থান সঙ্কুলান হল।* *তার কারণ এই,প্রকট লীলাকালে ভগবান ব্রহ্মান্ডের যে যে স্থানে প্রকট হয়েন,সেই সেই স্থানেই,* *তাঁর ইচ্ছায় তাঁর ধামও প্রকটিত হয়।* *সুতরাং তিনি যে স্থানে যান না কেন,সেই স্থানেই তাঁর চিন্ময় ধাম বতর্মান।* *এই ধামও সর্বগ,অনন্ত,বিভু,কৃষ্ণতনুসম।* *পরব‍্যোমের যে অনন্ত বৈকুন্ঠ আছে,তাদের প্রত‍্যেকেই সর্বগ,অনন্ত,বিভু, শ্রীগোকুলও তদ্রূপ সর্বগ,অনন্ত,বিভু।* 
*সর্বগ অনন্ত বিভু কৃষ্ণতনসম।*
*উপর্য‍্যধো ব‍্যাপি আছে নাহিক নিয়ম।।*
*তাহা প্রাকৃত লোকের চক্ষুতে সীমাবদ্ধ বলে মনে হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে সীমাবদ্ধ নহে বিভু।* *তাই কাশী মিশ্রের গৃহে যেস্থানে মহাপ্রভু থাকতেন,তাহাও বিভু।* *আপাতত দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ বলে প্রতীয়মান হলেও তাহা বিভু।* *অপরিচ্ছিন্ন ছিল,এই জন‍্যই তাহাতে অসংখ‍্য ভক্তের সমাবেশ সম্ভব হয়েছিল।* *বলা যায় ইহা ভাগবদধামের এক অচিন্ত‍্য শক্তি।* *এই অচিন্ত‍্য শক্তির প্রভাবেই দ্বাপরযুগে ব্রহ্মমোহন লীলায় গোবর্ধনের সানুদেশস্থিত ; লোক দৃষ্টিতে স্বল্প পরিসর জায়গাতেও অনন্ত নারায়ণের সমাবেশ সম্ভব হয়েছিল।* *তারপর বাসুদেব ঘোষ,মুকুন্দ প্রভৃতি মহাপ্রভুর নিত‍্যপার্ষদ।* *তাঁরাও মহাপ্রভুর সঙ্গ লাভ করে ভাগবত জন্ম লাভ করলেন।* *পার্ষদদের মধ্যে দামোদরের ছোট ভাই শঙ্কর ছিলেন।* *গম্ভীরায় রাত্রিতে মহাপ্রভুর পাদ সংবাহন করতেন।* *কখনও কখনও মহাপ্রভুর পাদতলে ইনি ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ইহার দেহের উপরেই মহাপ্রভু পাদ প্রসারণ করতেন।* *এজন‍্য ইহার আরেক নাম হয়েছিল "প্রভু পাদোপধান" অর্থ‍্যাৎ প্রভুর চরণের বালিশ।* *দামোদরকে মহাপ্রভু বললেন,তোমার উপরেও আমার প্রীতি আছে,কিন্তু তোমার উপরে যে প্রীতি,"গৌরববুদ্ধি" জনিত সঙ্কোচের ভাব মিশ্রিত আছে,শঙ্করের প্রতি কোনরকম সঙ্কোকচই নাই।* *তাই শঙ্কর আমার নিকট থাকুক।* *দামোদর বললেন আমা অপেক্ষা অধিক কৃপা পাওয়ায় আমার বড় ভাই তুল‍্য হল।* *অতঃপর মহাপ্রভুর সহিত গৌড়ীয় ভক্তগণের মিলনের পরে সকলে যখন কাশী মিশ্রের ভিতরে এলেন,মুরারি গুপ্ত তখন বাড়ীর বাইরে ছিলেন,ভিতরে আসেন নাই।* *তিনি দৈন‍্যবশত বাইরেই দন্ডবৎ পড়ে রইলেন।* 
*দুই তৃণগুচ্ছ মুরারি দশনে ধরিয়া।*
*মহাপ্রভুর আগে গেল দৈন‍্য হীন হৈয়া।।*
*আমি অত‍্যন্ত অভিমানী ও ভক্তিহীন,এইরকম জ্ঞান তাহাই দৈন‍্য।* *এইরকম অভিমানী ও ভক্তীহীনতার অনুভব করে নিজেকে অত‍্যন্ত দুভার্গ‍্য মনে করে তিনি অত‍্যন্ত কাতর হয়ে পড়লেন।* *তাঁহাকেই দৈন‍্যহীন বলা হয়।* *মুরারি এইরকম দৈন‍্যহীন হয়ে মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন।* *মুখে দুইগাছা তৃণ ধারণ করে।* *পশুরাই তৃণ ভক্ষণ করে,দৈন‍্যবশত যিনি দন্তে ধারণ করেন,তাঁর মনের ভাব এই যে,মানুষের আকার থাকলেও আমি প্রকৃত প্রস্তাবে মানুষ নহী।* *আমি পশু,কারণ,পশু যেমন সর্বদা নিজের দেহের বা ইন্দ্রিয়ের সুখ- স্থচ্ছন্দ‍্য নিয়েই ব‍্যস্ত থাকে,জীবের স্বরূপানুবুদ্ধি কর্তব‍্য কি?শ্রীকৃষ্ণ সেবার কথা, কিন্তু পশু যেমন কখনও চিন্তা করে না।* *আমিও তদ্রূপ সর্বদা নিজের দেহের বা ইন্দ্রিয়ের সুখ নিয়েই ব‍্যস্ত,কখনও ভগবদ্ ভজনের কথা চিন্তা করি না।* *মানুষ মনুষ‍্যদেহ পেয়েছে ভজনের জন‍্য,মনুষ‍্য জনম পেয়ে যদি ভজনই না করলাম,তাহলে পশু আর মানুষের মধ্যে তফাত কি?* *মুরারি গুপ্ত দৈন‍্যবশত এইরকম ভেবে নিজের স্বভাব যে পশুর স্বভাবের মত,তাহা জ্ঞাপন করবার উদ্দেশ্যে দন্তে তৃণ ধারণ করেছিলেন।* *মহাপ্রভু মুরারিকে আলিঙ্গন করতে উঠলেন,কিন্তু মুরারি পেছের দিকে সরে গেলেন,মহাপ্রভু যতই এগিয়ে যান মুরারী ততই পেছনের দিকে সরে যান।* *প্রভুর হাতে ধরা দেন না।* *এইদিকে শ্রীহরিদাস ঠাকুরও দৈন‍্যবশত ভিতরে প্রবেশ করেন নি।* *দূর হতে মহাপ্রভুকে দর্শন করে তিনি রাস্তার পাশে দন্ডবৎ প্রণত হয় পড়েছিলেন।* *মহাপ্রভু যখন বাইরে ছিলেন তখনও তিনি মহাপ্রভুর কাছে আসেন নি।* *যবনের গৃহে লালন-পালন বলেই হরিদাস ঠাকুর নিজেকে অস্পৃশ‍্য বলে মনে করতেন।* *তাই তিনি সর্বদা দূরে দূরে থাকতেন।* *(শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত আদি ১৪শ অধ‍্যায়)মতে যবন কূলেই তাঁর জন্ম।* *হরিদাসের দৈন‍্যসূচক বাক‍্যে মহাপ্রভু অত‍্যন্ত সুখী হলেন।* *যাঁর হৃদয়ে ভক্তিরাণী আসন গ্রহণ করেছেন,একমাত্র তিনিই অকপট দৈন‍্য প্রকাশ করতে পারেন।* *হরিদাসের মুখে অকপট দৈন‍্যের কথা শুনে তাঁর প্রতি ভক্তিরাণীর যথেষ্ট কৃপা হয়েছে মনে করে তাঁর সৌভাগ্যের কথা ভেবে মহাপ্রভু সুখী হলেন।* *আরো বহু ভক্ত ছিলেন,জনে জনে ব‍্যাখ‍্য দেওয়া সম্ভব নহ গ্রহণ করলেন।* *বৈষ্ণবগণকে স্বরূপ দামোদর,জগদানন্দ ও দামোদর এ তিনজন পরিবেশন করলেন।* *অপরদিকে মহাপ্রভু গোবিন্দের হাতে হরিদাসঠাকুরের জন্য প্রসাদ পাঠালেন।* *ভোজন সমাপন্তে আচমন করিলেন,মহাপ্রভু সকলকে মাল‍্য-চন্দন পরালেন।*
*🌻🌻🌻এখানেই রইল🌻🌻🌻*
*পুলিন ভোজন ব্রজলীলা*
*🌻নানারকম বাল‍্য লীলায় ব্রজবাসী নরনারীর মন প্রাণ একেবারেই পরমানন্দ সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ক্রমে ক্রমে পঞ্চম বৎসরে পদার্পণ করলেন।*
*কৃষ্ণ প্রত‍্যহ প্রাতঃকালে শয‍্যা হতে গাত্রোত্থান (শয‍্যা হতে উঠে বসা বা দাঁড়ান)করে হাত মুখ প্রক্ষালন(ধোয়া)* *করেন।* *তারপর মা যশোদা এসে কোলে করে কতই না আদর করেন,কত শতবার চুম্বন করেন ও মনের মত করে গোঠের বেশে সাজিয়ে দেন।*
*তারপর ক্রমে ক্রমে গোপবালকগণ এসে যখন নন্দালয়ে মিলিত হন,তখন কৃষ্ণ সকলকে নিয়ে মা যশোদার পরিবেশিত খন্ড-লাড্ডু আদি প্রাত ভোজন শেষ করে গোঠে যাবার জন্য প্রস্তুত হন।* *তারপর কৃষ্ণ বেত্র(পাঁচনি) নিয়ে হৈ হৈ করতে করতে গোশালায় প্রবেশ করেন এবং গো-বৎষখণের গলবন্ধন মোচন করে কারও পিঠে ভালবাসার মৃদু করাঘাত,কারও পিঠে মৃদু বেত্রাঘাত করে সবাইকে বাইরের অঙ্গনে এনে মিলিত করেন এবং সমস্ত গো-বৎসগণের গলায় ক্ষুদ্রঘন্টি বেঁধে দেন।* *এমন সময়ে গোপবালকগণও তাদের গো-বৎসগণকে সুসজ্জিত করে গোপরাজের বাইরের অঙ্গনে এসে কৃষ্ণের সঙ্গে মিলিত হন।* *গোপবালক ও গো-বৎসগণকে দেখে কৃষ্ণ তখন পরমানন্দে মধুর স্বরে বংশীবাদন করেন।* *তাতে গো-বৎসগণ পরমানন্দে মত্ত হয়ে কেউ বা উর্ধপুচ্ছে,কেহ বা স্তিমিত নেত্রে(স্থির নয়নে) কেহ বা শির কম্পন সহকারে অবস্থিত হয়।* *তখন যশোদা,রোহিণী ও সমস্ত ব্রজবাসী গোপ-গোপীগণ দেখে আনন্দে মুগ্ধ হন ও কৃষ্ণও তখন শিঙ্গা বেণু বাজাতে বাজাতে গোষ্ঠের পথে অগ্রসর হন।* *এইরকম ভাবে কৃষ্ণ রোজ রোজ সখাগণসহ গোচারণে বনে যান।*
*সেখানে নিত‍্য নব ধব বাল‍্য ক্রীড়া করে সখাগণের আনন্দ বর্ধন করেন এবং তাঁদের সখ‍্যপ্রেম রসাস্বাদন করেন।* *একদিন তাঁরা গো-বৎস চারণ করে বন হতে গৃহে ফিরে আসবার সময় পরামর্শ করলেন, যে আগামীকাল আমরা গৃহ হতে প্রাতভোজন না করে ভোজ‍্যবস্তুসহ বনে আসব, ও সেখানেই সকলে মিলে ভোজন করব।* *কৃষ্ণের প্রস্তাবে সকলেই রাজী হলেন।* *পরদিন যথা আপন আপন গৃহ হতে নিজ নিজ খাদ‍্যবস্তু নিয়ে প্রাতে নন্দালয়ে উপস্থিত হলেন।* *এবং আপন আপন খাদ‍্যবস্তু শিকায় করে এলেন।* *তারপর তাঁরা বনের পথে অগ্রসর হলেন।* *হৈ হুল্লোর করতে করতে বনে পৌঁছলেন।*

 *🌻পুলিন ভোজন প্রথম পদ🌻*
*বনে প্রবেশ করে নানা খেলা খেলছেন।*
********************************
*রাখালে রাখালে মেলা,খেলিতে বিনোদ খেলা,*
     *অতিশয় শ্রম সভাকার।*
*ননীর পুতলি শ‍্যাম,রবির কিরণে ঘাম,*
      *স্রবে যেন মুকুতার হার।।*
*শ্রীদাম আসিয়া বোলে,বৈসহ তরুর তলে,*
     *কানাই হইবে মাঠে রাজা।*
*যমুনা পুলিনে ভাই,কংসের দোহাই নাই,*
     *কেহ পাত্র মিত্র কেহ প্রজা।।*
*বনফুল আনো যত,সপত্র কদম্ব শত,*
      *অশোক পল্লব আম্র শাখা।*.
*শুনি শ্রীদামের কথা,সকল আনিল তথা,*
     *নবগুঞ্জা গুচ্ছ শিখি পাখা।।*
*গাঁথিয়া ফুলের মালে,কদম্ব তরুর তলে,*
     *রাজপাট করি নিরমাণ।*
*এ দাস উদ্ধব ভণে,কক্ষ তালি ঘনে ঘনে,*
     *আবা আবা বাজায় বয়ান।।*
*🌼🌼এই পদটির ভাগবতীয় ব‍্যাখ‍্যা আস্বাদন করুন।* *খেলা ধূলা বিরামে নানাবিধ ভঙ্গিতে গোবৎস চারণ ও খেলা করতে করতে (এই খেলা পথে চলতে চলতে) শ্রীকৃষ্ণ সখাগণসহ দূর বনপথে গিয়া উপস্থিত হলেন।* *সেখানে নানাবিধ ফল-পুষ্প -সুশোভিত বৃক্ষলতা আদি পরিবেষ্টিত সুবিস্তৃত তৃণক্ষেত্র ও ক্রীড়া ভূমি দেখে শ্রকৃষ্ণ সখাগণকে বললেন,* *ভাই আমরা এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করি এবং গোবৎসগণ ঐ সামনের তৃণক্ষেত্রে বিচরণ করুক।* *এইকথা বলে কৃষ্ণ কাছাকাছি এক বৃক্ষতলে শিলাখন্ডের উপরে বসলেন।* *গোপবালকগণের তাঁদের গৃহ হতে আনা ভোজ‍্যবস্তু বৃক্ষশাখায় ঝুলিয়ে রাখলেন এবং সকলেই কৃষ্ণের কাছে এসে নানাকথায় নানাভঙ্গিতে কৃষ্ণের আনন্দ বর্ধন করতে লাগলেন।* *সামনে নানারকম পুষ্প পল্লবাদি দেখে এবং তার শোভায় আকৃষ্ট হয়ে গুঞ্জা প্রভৃতি সুদৃশ‍্য ক্ষুদ্রফল নানাপ্রকার সুদৃশ‍্য নবপল্লব,পুষ্পগুচ্ছ,কর্ণিকাদি পুষ্প ও ময়ূরপুচ্ছ প্রভৃতির দ্বারা নানা ভূষণ করে তার দ্বারা কৃষ্ণাঙ্গ ভূষিত করলেন।* *কৃষ্ণের ইচ্ছায় নিজেরাও সেই বন‍্য ভূষণে ভূষিত হলেন।* *কৃষ্ণ ও সখাগণ বনের পুষ্প পত্র ও ফলাদির অলঙ্কারে অলঙ্কৃত হয়ে এক অভিনব শোভা ধারণ করলেন।* *তারপর সরোবরের দিকে এগিয়ে এলেন,সরোবরের কাছাকাছি বনপ্রান্ত নিবাসী ময়ূরকুল আহ্লাদে মত্ত ও আকুল হয়ে কেকারবে কৃষ্ণ আগমনের অভিনন্দন করতে করতে কৃষ্ণের কাছে এসে তাদের সুচিত্রিত পুচ্ছ বিস্তার করে পরমানন্দে নৃত‍্য করতে আরম্ভ করল।* *তা দেখে কৃষ্ণ ও সখাগণ ময়ূরের কাছে গেলেন,এবং তাদের সঙ্গে নৃত‍্য করতে লাগলেন।* *কৃষ্ণের নৃত‍্য দেখে বনের শাখামৃগ কুল আনন্দে আকুল হয়ে কৃষ্ণের কাছে ছুটে এসে মৃগগণ অনিমিষ নয়নে কৃষ্ণের রূপ ও নৃত‍্যের মাধুর্য‍্য রসাস্বাদন করে।* *তারা মনে মনে চিন্তা করে ও বলে প্রভো!সেই ত্রেতাযুগে আমরা অনেকদিন তোমার সঙ্গে বেড়িয়েছিলাম।* *সেই সময় তোমার এমন ভূবনমোহন রূপ ও মনোহর নৃত‍্য তো নয়নে দেখি নি।* *এবার আমরা কৃতার্থ হলাম,আমাদের নয়ন সফল হল,আমরা যেন জন্মে জন্মে তোমার এই বৃন্দাবন লীলার সময় জগতে আসতে পারি এবং তোমার লীলাক্ষেত্রের বৃক্ষশাখায় আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি।* *ধন‍্য পশু জনম গো।* 
*কৃষ্ণ প্রাপ্তির উপায় বহুবিধ হয়।*
*কৃষ্ণ প্রাপ্তির তারতম‍্য বহুত আছয়।।*
 *অর্থ‍্যাৎ শুদ্ধ প্রেমবান ভক্তগণ* *তাঁদের প্রেমানুরূপ সম্বন্ধে কেউ সখা,কেউ ,কেউ বা প্রাণবল্লভ* *বলে শ্রীকৃষ্ণকে গ্রহণ করেন এবং নিজ নিজ ভাবানুরূপ লীলামাধুর্য‍্য*
*রসাস্বাদনে সর্বদাই আত্মহারা হয়ে থাকেন।*
*🌻অবজানন্তি মাং মূঢ়া মানুষীং তনুমাশ্রিতম্।*
*শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,হে অর্জুন!এই মায়ার জগতের বর্হিমুখ জীব আমার নরাকৃতি দেখে আমাকে সামান্য মানুষ বোধে অবজ্ঞা করে থাকে।* *আমি তাদের ভবপাশ মোচন করবার জন‍্যই তাদের কাছে এসে নানা লীলায় তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করি,তা তারা অজ্ঞান বশত বুঝতে পারে না।* *যাইহোক,সখাগণ বললেন,অনেক খেলায় তো হল,আজ আরেক খেলা খেলব।* *কি খেলা না রাজা প্রজা খেলা।* *অন‍্যান‍্য খেলা খেলে রবির কিরণে ঘামাতুর হয়ে গেছি,তখন শ্রীদাম এসে বললেন,কানাই ভাই ঘেমে একাকার হয়ে গেছিস,* *ভাই তুই বৃক্ষতলে বস,শরীর শীতল কর।* *তারপর আমরা কানাইকে রাজা করে রাজা-প্রজা খেলা খেলব।*
*কানাইকে রাজার সাজে সাজানো হল,আর সখাগণ হলেন প্রজা।* *কেহ বললেন আপনি আমাদের অন্নদাতা,কেহ বললেন আপনি আমাদের রক্ষাকর্তা,কেহ বা বললেন ব্রজরক্ষা কর্তা।* *খেলা খেলতে খেলতে মধ‍্যাহ্ন আসন্ন প্রায়,* *তখন সখাগণ বললেন,ভাই অনেক খেলা হয়েছে,চল সবাই গোবৎস গণকে দেখে আসি,ঐদিকে গোবৎসগণ সুন্দর তৃণলোভে বন হতে বনান্তরে চলে যাচ্ছে নাতো?* *দেখলেন যা স্থানে গোবৎসগণ আছে।* *মধ‍্যাহ্ন পার হতে চলেছে,ক্ষুধায় ব‍্যস্ত হয়ে গেছে।* *তখন তাঁরা----------*
*খেলা সমাধিয়া,শ্রমযুত হইয়া,*
      *সখাগণ লৈয়া সঙ্গে।*
*ভোজন সম্ভার,ছিল ভাড়ে ভাড়,*.
       *ভোজন করিবে রঙ্গে।।*
*যমুনা পুলিনে,বেড়ি সখাগণে,*
       *মাঝে করি বৈসে কানু।*
*পাড়ি নব পাত,তাহে দিল ভাত,*
       *জলভরি শিঙ্গা বেণু।।*
*সব সখা মেলি,করিয়া মন্ডলি,*
       *ভোজন করয়ে সুখে।*
*ভাল ভাল কৈয়া,মুখ হতে লৈয়া,*
       *সভে দেই কানু মুখে।।*
*সবে বলে ভাই,আমার কানাই,*
       *মোরে বড় ভালবাসে।*
*আমার সমুখে,বসি খায় সুখে,*
       *সদা রহে মোর পাশে।।*
*এত করি মনে,করয়ে ভেজনে,*
        *আনন্দ সাগরে ভাসে।*
*বিশ্বম্ভর দাস,করি মনে আশ,*
        *রহে সুবলের পাশে।।*
*
 *🌻পদের ব‍্যাখ‍্যা🌻*
*প্রত‍্যেক সখাগণ আজ নিজ নিজ গৃহ হতে খাদ‍্য সম্ভার নিয়ে এসে বৃক্ষেশাখায় ঝুলিয়ে রেখেছিল।*
*অন‍্যান‍্য দিনের ন‍্যায় আজও শ্রীদাম,সুদাম,দাম,বসুদাম ও সুফলাদির মা সকলে ক্ষীর,সর,ননী,মাখন,অন্ন,ব‍্যঞ্জন,পিঠে,পায়েস আরো কতকিছু দিয়েছিলেন।* *তখন কৃষ্ণ বললেন,ভাই আজ আমরা বনমধ‍্যে ভোজন করব না।* *চল অদ‍্য আনন্দ করতে করতে যমুনা পুলিনের মৃদু মন্দ বাতাসে বসে আমরা ভোজন করব।* *পুলিন লব্দের অর্থ তট বা চর।* *আজ যেন মনে হচ্ছে যমুনা পুলিন নবসাজে সজ্জিত হয়েছে।* *যমুনা পুলিনের আশে পাশে যেন মনোরম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে।* *বনভূমির কাছে কুসুম সরোবর,পাবন সরোবর,এবং মানস গঙ্গা অতি মনোরম।* *প্রতি জলাশয়ে অগণিত কমলে সুশোভিত,তার সুগন্ধ বহন করে মন্দ মন্দ গন্ধবহ মাতিয়ে তুলল।* *কি অপূর্ব শোভা,যেন কৃষ্ণ চরণ পাবার আশে পরম আগ্রহান্বিত হয়ে উঠিল।* *অতঃনর সকল সখাগণ ভোছনের জন্য মন্ডলী করে বসলেন।* *ভাল ভাল বলে একে অপরের মুখে তুলে দিচ্ছেন,সকল সখাগণ কৃষ্ণের মুখে নিজ নিজ ভোজ‍্যবস্তু তুলে দিচ্ছেন।* *তাই ব্রহ্মা বলেছিলেন,*
*তদ্ভুরিভাগ‍্যমিহ জন্ম কিমপ‍্যটব‍্যাং,* *অর্থ‍্যাৎ হে ভগবন্!আমি যদি মর্ত‍্যবৃন্দাবনে পশু,পক্ষী,কীট,পতঙ্গ,তৃণ,গুল্মলতা প্রভৃতি যে কোনও জনম লাভ করতে পারি,তাহলে মনে করব আমার মত ভাগ‍্যবান আর কেহই নাই।* 
*জয় নিতাই,পুলিন ভোজন লীলা এখানেই রহিল।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

adds