শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৬১. রসোদ্গার লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৬১. রসোদ্গার লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻🌻🌻রসোদ্গার ব্রজলীলা🌻🌻🌻*
*🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼
*🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻*
*শ‍্যামলা বিমলা,মঙ্গলা অবলা,*
      *আইলা রাধিকা পাশে।*
*যদি স্বতন্ত্ররে,তথাপি রাধারে,*
     *পরাণ অধিক বাসে।।*
*দেখি সুবদনী,উঠিলা অমনি,*
      *মিলিলা গলায় ধরি।*
*কতনা যতনে,রতন আসনে,*
      *বৈসায় আদর করি।।*
*রাই মুখ দেখি,হইয়া মহাসুখি,*
       *কহয়ে কৌতুক কথা।*
*রজনী বিলাস,শুনিতে উল্লাস,*
      *অমিয়া অধিক গাঁথা।।*
*হাস পরিহাসে,রসের আবেশে,*
      *মগন হইলা রাধা।*
*চন্ডীদাস বাণী,নিশির কাহিনী,*
     *শুনিতে নাগয়ে সাধা।।*

*অতি উষাকালে,শেজ তেয়াগিয়া,*
        *উঠিলেন গৌরবিধু।*
*বিগলিত বেশ,আলুথালু কেশ,*
       *জনু নব কুলবধূ।।*
*ভকত গণেরে,হেরিয়া নিয়ড়ে,*
      *সাহসে তুলিয়া মাথা।*
*ঢালে জনু মধু,কহে মৃদু মৃদু,*
      *রজনীবিলাসকথা।।*
*শ‍্যাম বঁধূয়ার, পিরীত অপার,*
     *কহিতে সজল আঁখি।*
*করে আহা আহা,বলে পিয় কাঁহা,*
     *উড়িল কি প্রাণ পাখী।।*
*মনোভাব যাহা,অনুভবি তাহা,*
      *কহে গোবর্ধন দাসে।*
*আসিলে রজনী,পাবে গুণমণি,*
      *শুনি গোরা সুখে হাসে।।*

 *🌻আমাদের পরম সৌভাগ্য যে,আমরা শ্রীমন্মহাপ্রভুকে কাছে পেয়েও কাম-কামনা,বিষয়-বাসনা হতে বাহির হতে পারলাম না।* *তিনি করুণাময় পতিতপাবন গৌরহরি আমাদের জন‍্য গোলোকের সুখ ত‍্যাগ করে ভূলোকে এসে আমাদের জন‍্য প্রেমভক্তি নিয়ে এলেন,দুর্ভাগ‍্য তা আমরা গ্রহণ করতে পারলাম না।* *যাইহোক,অদ‍্য জগতজীবন চিরসুন্দর গৌরসুন্দর আমার "অতি উষাকালে"ভোরবেলা শয‍্যা ত‍্যাগ করে উঠলেন গৌরচাঁদ।* *বিগলিত বেশ, আলুথালু কেশ,পার্থিব জগতে মানুষ যেমন শয‍্যা ত‍্যাগ করলে* *অগোছাল ও আলুলায়িত চুল থাকে,* *আজ গৌরবিধুরও ঐ রকম দেখা গেল।* *(যেন নববধু যেমন সকালবেলা শয‍্যা ত‍্যাগ করে)* *শয‍্যা ত‍্যাগ করেই দেখলেন কিছু রসের ভক্তগণ মহাপ্রভুর কাছে এসে উপস্থিত হয়েছেন, কেন?মহাপ্রভু নিশিতে যে ভাব নিয়ে শয়নে গিয়েছিলেন,সেই রজনী ভাবের কথাগুলি শুনবার জন‍্য।*
*তখন মহাপ্রভু বলতে লাগলেন,কেউ নিজের নামযশের জন‍্য কাঁদে,প্রতিষ্ঠার জন্য কাঁদে, কিন্তু হায়!কেউ কৃষ্ণের জন্য কাঁদে না।* *যারা কৃষ্ণের জন্য কাঁদে না,তাদের সারাজীবনের এত পরিশ্রম, এত গবেষণা, সব এক মুহূর্তে নস‍্যাৎ হয়ে যায়।* *সকলে মায়ার পেছনে দৌঁড়চ্ছে!যেখানে গেলে আমার জীবনের সব থেকে বেশী সফলতা আসবে, সেখানে কেহ যায় না।* *শোন,কিছু কথা বলি, ন‍্যায় শাস্ত্র হচ্ছে তর্ক করে বুদ্ধি খাটিয়ে যুক্তির সাহায্যে ঈশ্বরকে প্রতিপন্ন(প্রমাণ)করা। ঈশ্বর কে?ন‍্যায়শাস্ত্রে যুক্তিবলে জগৎকর্তা ঈশ্বরের অস্তিত্ব সিদ্ধ হয়ে আছে।* *ন‍্যায়মতে প্রমেয় বা প্রমাণের বিষয় দ্বাদশ।* *আত্মা,শরীর,ইন্দ্রিয়,অর্থ,বুদ্ধি,মন,প্রবৃত্তি,দোষ,প্রেত‍্যভাব(জন্ম,মরণ প্রবাহের নাম প্রেত‍্যভাব),ফল,দুঃখ,* *আর অপবর্গ,(পরিত‍্যাগ)।* *যেহেতু ঈশ্বরের উল্লেখ নেই,মনে হতে পারে,ন‍্যায় ঈশ্বরকে বুঝি প্রত‍্যাখ‍্যান (বাদ )করেছে।* *আসলে "আত্মা"শব্দেই জীবাত্মা বা জীব ও পরমাত্মা বা ঈশ্বর লক্ষিত হচ্ছে।* *ঈশ্বর আত্মারই প্রকারভেদ। ইচ্ছা, দ্বেষ,প্রযত্ন,সুখ,দুঃখ আর জ্ঞান এই ছয়টি আত্মার গুণ।* *এই ছয়টি গুণ দেহেন্দ্রিয়ে নেই।* *এ ছয়টি গুণ থেকেই আত্মার অস্তিত্ব অনুমান করা যায়।* *এদের মধ্যে ইচ্ছা,প্রযত্ন ও জ্ঞান এ তিনটি জীবাত্মা ও পরমাত্মা দুয়েরই লক্ষণ;কিন্তু বাকী তিনটি দ্বেষ,সুখ আর দুঃখ জীবাত্মায় থাকলেও পরমাত্মায় নেই।* *পরমাত্মায় কেবল নিত‍্য ইচ্ছা,নিত‍্য প্রযত্ন এবং নিত‍্য জ্ঞান।* *এই গুণত্রয়ের আশ্রয়ই হচ্ছেন ঈশ্বর।* *ন‍্যায়মতে ঈশ্বর সগুণ পদার্থ,সাংখ‍্যের পুরুষ বা বেদান্তের ব্রহ্মের মত নির্গুণ নন।* *কিন্তু কী প্রমাণ?ন‍্যায়মতে প্রমাণ চার প্রকার।* *প্রত‍্যক্ষ,অনুমান,উপমান আর শব্দ।* *শব্দ মানে শ্রুতি বা আগম বা আপ্তবাক‍্য।ঈশ্বর লৌকিক প্রত‍্যক্ষের অযোগ‍্য।* *উপমান বা সাদৃশ‍্যজ্ঞানের ফলও তাঁকে বলা যায় না,একমাত্র নির্ভর আগমে ও অনুমানে। অন‍্যে জ্ঞানসঞ্চার করবার জন‍্যে প্রকৃত জ্ঞানী যে বাক‍্য ব‍্যবহার করে তাই আপ্তবাক‍্য।*  *যার ভ্রম নেই,প্রমাদ নেই,প্রতারণার প্রবৃত্তি নেই,ইন্দ্রিয়ের অপটুতা নেই,তার উপদেশই আপ্ত উপদেশ।বেদই সেই আপ্ত উপদেশ।* *আপ্ত=নিজ* *ধূম দেখলেই জানতে হবে আগুনকে,নদীর পূর্ণতা দেখলেই জানতে হবে বৃষ্টি হয়েছে দেশান্তরে, সুতরাং আগমে ও অনুমানেই ঈশ্বর সিদ্ধ।* *পর্বত ও সাগর সাবয়ব,তার মানে তার অংশ আছে,যা সাবয়ব ও স্থূল,যার অংশ আছে, তা "জন‍্য"পদার্থ।* *জন‍্যমাত্রেরই জনক বা কর্তা আছে।* *যেমন ঘট দেখে বোঝা যায় কুম্ভকার,আর কর্তা মানেই সচেতন কর্তা।* *অচেতন পদার্থে ইচ্ছা,প্রযত্ন ও জ্ঞান নেই,ইচ্ছা প্রযত্ন ও জ্ঞান ছাড়া কর্তৃত্ব অসম্ভব।* *ঘটের উপাদান মাটি,কিন্তু সচেতন কুম্ভকারের প্রযত্ন ছাড়া ঘটের উৎপত্তি হয় কি করে?* *তেমনি পর্বত ও সাগর শুধু কতকগুলি পরমাণুর সমষ্টি।কে না জানে পরমাণু জড়বস্তু।* *কোনো জ্ঞানী, ইচ্ছুক ও প্রযত্নবান পুরুষ এই পরমাণুসমষ্টি স্থাপিত করলেই তবে পর্বত বা সাগর বা বিশ্বজগতের জন্ম।* *জীব পৃথিবীর জনক হতে পারে না, পৃথিবীর নিমিত্ত-কারণ পরমাত্মা।* *সেই ঈশ্বর নামে পরিভাষিত।* *ঈশ্বরের তো কোনো অভাব নেই,রাগ-দ্বেষ-দুঃখ নেই,তবে কেন এই তাঁর বিশ্বরচনা?* *নৈয়ায়িকগণ (আগম বা ন‍্যায়শাস্ত্রধ‍্যায়ী)তারও উত্তর দিয়েছেন,বলছেন,ঈশ্বরের করুণায় তাঁকে সৃষ্টির কাজে প্ররোচিত (উৎসাহিত)করেছে।* *জীবের মুক্তি একমাত্র তাঁর প্রয়োজন।* *অনাদিকালে সঞ্চিত জীবের শুভাশুভ কর্মের ফল একমাত্র ভোগের দ্বারাই ক্ষয় পেতে পারে।*
*সুতরাং কর্মক্ষয়ের জন‍্যেই এই ভোগ‍্যজগৎ ও ভোগায়তন দেহের দরকার।* *কর্মক্ষয়ের জন‍্যই জগৎসৃষ্টি।"পুনরপি জননং মরণং" এই জন্ম ও মরণ প্রবাহের নাম প্রেত‍্যভাব।* *কবে এ আরম্ভ হয়েছে কেউ বলতে পারে না,কিন্তু তার সমাপ্তির কথা বলেছে ন‍্যায়শাস্ত্র।* *সমাপ্তি "অপবর্গ", অপূনর্জন্মই অপবর্গ।* *সব সুখই দুঃখ সংস্পৃষ্ট,সুতরাং সুখের সন্ধান মুমুক্ষুর(মুক্তিপ্রার্থী) লক্ষ্য নয়।* *দুঃখ নিবৃত্তিই লক্ষ্য,জন্ম-মৃত‍্যু প্রবাহের সমুচ্ছেদ(ছেদন করা) ও তাতে সর্বদুঃখের বিরামের নামই অপবর্গ বা মোক্ষ।* *এসবই ন‍্যায়শাস্ত্রের কথা,তর্কবুদ্ধির কথা,তর্কবিদ‍্যা নিরর্থিকা।*নিষ্প্রয়োজন।* 
*প্রভু কহে কোন বিদ‍্যা বিদ‍্যামধ‍্যে সার।*
*রায় কহে-- কৃষ্ণভক্তি বিনা নাহি আর।।*
*কৃষ্ণবিদাই পরাবিদ‍্যা,লোকে বিদ‍্যার্জন করে কেন? শুধু ঈশ্বরে ভক্তিমান হবে বলে,"পড়ে কেন লোক"?কৃষ্ণভক্তি জানবারে।* *সে যদি না হয় তবে বিদ‍্যায় কি করে?* *কোনো লৌকিক যুক্তি দিয়েই ঈশ্বরতত্ত্ব স্থাপিত করা যায় না,* *ঈশ্বরতত্ত্ব একমাত্র অনুভবসিদ্ধ।সুতরাং ঈশ্বরকে অনুভবের মধ‍্য দিয়ে নিয়ে এস।* *সেই অনুভবেই রসের উত্থান,সেই রসেই ভক্তই ভক্তি,আর সেই ভক্তিতেই আনন্দঘন ঈশ্বরের প্রকাশ।* *এককথায় শ্রীকৃষ্ণ ভজনই ভক্তি।ইহলোক ও পরলোকের কামনা বর্জন করে ভগবানে চিত্ত-অর্পণ বা তন্ময়তাই ভক্তি।* *"সা পরানুরক্তিরীশ্বরে।সা তস্মিন পরমপ্রেমরূপা।" ভগবানে পরম প্রেমই ভক্তি।* *জগৎকে যে ভালবাসা দিয়ে ঢেকে রেখেছি,তা ঈশ্বরকে দেওয়ার নামই ভক্তি।* *ষড়রিপুকে স্বতন্ত্র ভাবে নিধন করবার জন‍্যে চেষ্টা করতে হবেনা,মধুর ভাবগুলিকেও নষ্ট করবার দরকার নেই,শুধু ভজনে শুধু ভক্তিতেই ষড়রিপুর বিষদাঁত ক্ষয় হয়ে যাবে।* *গাঢ় হবে মধুরের উৎসব, পঞ্চরসের রসবৈচিত্রী।নরোত্তম ঠাকুর বলেছেন,"কাম দাও কৃষ্ণসেবার্পণে,ক্ষোধ "ভক্তদ্বেষীজনে"* *লোভ "সাধুসঙ্গে কৃষ্ণকথা" মোহ "ইষ্টলাভ বিনে"আর মদ "কৃষ্ণগুণগানে"।* *আর সিদ্ধ অবস্থায় প্রেম যদি জাগে তা হলে আর মাৎসর্য‍্য কোথায়?*  *যারা জ্ঞানমার্গের লোক,যারা কর্মকেই ফলদাতা ভাবে,যারা যুক্তি দিয়ে ভগবানকে বিচার করতে চায়,যারা পরদ্বেষী,ভগবৎবিমুখ,প্রেম তাদের স্পর্শও করে না।* *ভগবানের পরমসারভূতা স্থরূপশক্তির প্রধানবৃত্তির নাম হ্লাদিনীশক্তি।* *হ্লাদিনীর প্রধান বৃত্তিই ভক্তি,অপর নামে রতি,প্রীতি,প্রেম।* *সিদ্ধির চেয়ে রতি গরীয়সী,মুক্তির চেয়ে ভক্তি।* *শ্রীকৃষ্ণের চরণসেবায় যার মন রত,তার মোক্ষে কোনো স্পৃহা নেই।* *যে মহানন্দে ভগবৎকথাসাগরে বিহার করেন,সে চতুর্বর্গকেও তৃণের মত জ্ঞান করে।*
*ঈশ্বরসেবা বর্জন করে ভক্ত "সালোক‍্য,সাযুজ‍্য,সামীপ‍্য বা স্বারূপ‍্য কোন মুক্তি চাই না।* 
*কৃষ্ণ যদি ছুছে ভক্তে ভুক্তি মুক্তি দিয়া।*
*কভু প্রেমভক্তি না দেয় রাখে লুকাইয়া।।*
*যারা ভুক্তি-মুক্তি পেয়েই খুশি তাদের শ্রীকৃষ্ণ আর ভক্তি দেন না।যাদের অন্তরে শুধু ভুক্তি-মুক্তির স্পৃহা(অভিলাষ) তাদের পক্ষে ভক্তি সুদুর্লভা।ভুক্তি-মুক্তির বাসনা দূর হলে পরেই ভক্তির সমুচ্ছাস(স্ফূর্তি)।* *পদকর্তা বললেন,কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যদেব পাত্রাপাত্র বিচার করলেন না,প্রেম দিলেন নির্বিচারে,আসক্ত,অনাসক্ত,সজ্জন, দুর্জন,হিন্দু,মুসলমান সকলকে।যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্য শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে অভিন্ন হয়েও স্বতন্ত্র ঈশ্বর।*
*হেন প্রেম শ্রীচৈতন‍্য দিল যথাতথা*
*জগাই মাধাই পর্যন্ত অন‍্যের কি কথা।।*
*স্বতন্ত্র ঈশ্বর -- প্রেম-নিগুঢ় ভান্ডার।*
*বিলাইলা যারে তারে না কৈল বিচার।।*
*ভক্তিই অমৃতস্বরূপা,ভক্তিই মধুরিমার পূর্ণিমা।*
*জয় নিতাই গৌর হরিবল,একটু অন‍্যভাবে ব‍্যাখ‍্যা দিলাম রসোদ্গারের*

*কাম ক্রোধ লোভ মোহ,মদ মাৎসর্য‍্য দম্ভ সহ,*
    *স্থানে স্থানে নিযুক্ত করিব।*
*আনন্দ করি হৃদয়,রিপু করি পরাজয়,*
     *অনায়াসে গোবিন্দ ভজিব।।*

*🌻কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মদ ও মাৎসর্য‍্য, দম্ভসহ স্থানে স্থানে নিযুক্ত করিব।* *শ্রীকৃষ্ণ ভজন বিরোধী রিপুগণকে বশীভূত করবার শ্রেষ্ঠতম উপায় শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধনীয় এক একটি বিষয়ে এক এক রিপুকে নিয়োগ করা।* *জ্ঞানী,যোগী কৃচ্ছ্র সাধনদ্বারা কামাদি রিপুকে বিনাশ না করলে সেই সেই সাধনায় সিদ্ধিলাভ কখনই হয় না।* *কিন্তু ইন্দ্রিয় দ্বারে যে সব ইন্দ্রিয়-অধিষ্ঠাত্রী দেবগণ অবস্থান করেন,তারা ভোগপ্রিয়,কঠোর ত‍্যাগ বা ইন্দ্রিয় নিগ্রহ তাদের মোটেই পছন্দ হয় না।* *তাই তারা যখন বিষয়ের উপর প্রবল বার্তা আসতে দেখে তখন জোর করে ইন্দ্রিয়দ্বার উদঘাটিত করে দেয়।* *তখন জ্ঞানী সাধকের পুনরায় সংসারদশা ভোগব‍্যতীত উপায়ান্তর হতে সমর্থ হন না।* 
*""দেবী হ‍্যেষ‍া গুণময়ী মম মায়া দুরত‍্যয়া।মামেব যে প্রপদন্তে মায়া মেতাং তরন্তি তে।।"" শ্রীভগবান অর্জুনকে বললেন,জীবমোহিনী আমার এই ত্রিগুণাত্মিকা মায়া অতিশয় দুরতিক্রমনীয়া;যারা আমার শরণাপন্ন হয়,তারাই এই মায়া সাগর উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হয়ে থাকে।* *শ্রীভগবানের চরণে শরণাগত ভক্তগণ অতি সুচতুর,তাঁরা জানেন,যে রসপ্রিয় সে রস চাইবেই,যে সব ইন্দ্রিয়কুল কুৎসিত রসপ্রিয় বা বিষয়রসনিষ্ঠ তারা যদি কোন উৎকৃষ্টতর রসের আস্বাদন না পাই,* *তবে তারা কখনই ঐ ঘৃণ‍্য বিষয়রসের নেশা করতে সমর্থ হবে না।* *তাই তারা*
*"তদেব রম‍্যং রুচিরং নবং নবং তদেব শশ্বন্মন সো মহোৎসবম্।* *অর্থ‍্যাৎ=অতি রুচির প্রতিক্ষণে নব-নবায়মান ও চিত্ত মনের মহানন্দ দায়ক ভগবৎমাধুর্য‍্যরস ইন্দিয় ও মনের কাছে পৌঁছায়ে দেন।* *তখন মন এবং ইন্দ্রিয় ঘৃণ‍্য বা বীভৎস‍্য বিষয়রস স্পৃহা(বাসনা)চিরতরে ত‍্যাগ করে সেই ভগবন্মাধুর্য‍্যরসসিন্ধুতে ডুবে চিরতরে ধন‍্য হয়ে যায়।* *শ্রীহরিচরণে শরণাগত ভক্তগণ তাই কাম,ক্রোধাদি রিপুগণের গতিকে এমনভাবে অতি সুকৌশলে ভগবদ্ মুখী করে থাকেন যে রিপুগণ তাদের স্বাভাবিক বৈরতা(শত্রুতা)ত‍্যাগ করে অচিন্ত‍্যশক্তিশালী ভক্তিদেবীর করুণায় স্পর্শমণির স্পর্শে মলিন লৌহের সুবর্ণত্ব প্রাপ্তির মত চিন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হয়ে ভক্তের ভজনপথের মহা সহায়ক বা পরমমিত্র হয়ে থাকে।* *যদি কোন শত্রু কোন পাত্রের গুণে,কালের গুণে,বা স্থানের গুণে বৈরতা বা শত্রুতা ত‍্যাগ করে মহাবান্ধবের মত কাজ করে থাকে তবে কোন বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি সেই শত্রুকে বিনাশের ইচ্ছা করেন?*
*শ্রীভাগবত পাদপদ্মে শরণাগত ভক্তেরগুণে বা তাঁর হৃদয়স্থ ভক্তির গুণে ঐ মহারিপুগণেরও স্বভাবের পরিবর্তন ঘটে থাকে।* *""অবের্মিত্রং বিষং পথ‍্যমধর্মো ধর্মতাং ব্রজেৎ।সুপ্রসন্নে হৃষীকেশে বিপরীতে বিপর্য‍্যয়""।।* *অর্থ‍্যাৎ=শ্রীহরি যাঁর প্রতি প্রসন্ন হন,তাঁর শত্রুও মিত্র হয়ে যায়,বিষ তাঁকে অমৃতের মত অমরত্ব দান করে এবং অধর্মও তাঁর কাছে ধর্ম হয়ে থাকে।* *তাঁর প্রতি সবই বিপরীত হয়ে তাঁর সেবার কার্য‍্য করে থাকে।* *শ্রীঠাকুর মহাশয় তাই বলেছেন,আমরা শ্রীহরির শ্রীচরণাশ্রিত ভক্ত,আমরা কাম,ক্রোধ,লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য‍্য,দম্ভাদিকে জ্ঞানী,যোগীর মত বিনাশের চেষ্টা না করে শ্রীগোবিন্দ সেবার যথাযোগ‍্য জায়গায় নিয়োজিত করব।* *অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরিভজনের যেখানে যার উপযোগিতা, সেই সেই জায়গায় তাদের নিযুক্ত করব।* *এইভাবে ভজনের যথাস্থানে এদের নিয়োজিত করতে পারলে তবেই ইহাদের যথাযথ পরাভব হবে।*
*মহত্বের দ্বারাই দুষ্টশত্রুর পরাজয় হয়ে থাকে।*
 *🌻🌻🌻দ্বিতীয় পদ🌻🌻🌻*
*রজনী কাহিনী,কহিতে রমণী,*
      *পুলকে পূরল দেহা।*
*কনক বরণী,কি হৈল না জানি,*
     *সোঙরি সে সব লেহা।।*
*অঙ্গের বসন,খসয়ে সঘন,*
     *নয়নে ভরয়ে লোর।*
*বিষাদে বিকল,বিসোরি সকল,*
     *চরণ না চলে থোর।।*
*হৃদয়-মন্দিরে,পিরীতি পালঙ্ক,*
     *রসের বালিশ তায়।*
*আরতি তোষণী,তাহাতে অমনি,*
     *শুতল রসিক রায়।।*
*পিয়ার পিরীতি,কহয়ে যুবতী,*
     *ধরিয়া সখির করে।*
*শেখর সত্বরে, কহয়ে রাধারে,*
     *দেখিবে নাগর বরে।।*

*🌼🌼🌼তৃতীয় পদ🌼🌼🌼*
    *কানু সে ছৈল সোনার।*
*মঝু মন কাঞ্চন,আপন প্রেম মণি,,*
    *জোড়ি পিন্ধায়ল হার।*
*বেণুক ফুক, বুক মদনানল,*
    *কুল ইন্ধন মাহা জাড়ি।।*
*দরশন পানি,পরশ সোহাগল,*
    *শ্রমজলে রাখল ডারি।।*
*নব অনুরাগ, রঙ্গে পুন রঞ্জল,*
    *মূল না জানয়ে কোই।*
*গুরুজন নয়ন, চৌরভয়ে ছিপিয়ে,*
     *প্রাণ লাখ সম গোই।।*
*যো রসে আগরি,বিদগধ নগরী,*
     *হেরইতে তাকর সাধ।*
*গোবিন্দ দাস,কহই আনে হেরিলে,*
     *জানি হোয়ত পরমাদ।।*

*🌴শ্রীমতীরাধারাণী অন্তরঙ্গা সখী শ‍্যামলা,বিমলা, মঙ্গলা, অবলা প্রভৃতির প্রশ্ন শ্রবণে অনুরাগিনীর অনুরাগ বৃদ্ধি হল।* *বলতে লাগলেন,সখী!আমার (হৃদয় বল্লভ)কৃষ্ণ(ছৈল সোনার) ছিলার অর্থ‍্যাৎ সূক্ষ্ম কারিকর।* *সেনার=স্বর্ণকার,মঝু=আমার, কাঞ্চন=স্বর্ণ,আপন=কৃষ্ণের, জোড়ি=সংযোগ করিয়া, হার=মাল‍্য,* *বেণুক ফুক=(ফুকনালা) আফরে আগুন জ্বালিবার চোঙ্গা,আমার বক্ষ মদনানলে ভরা।* *কুল=কয়লা করবার (ইন্ধন)জ্বালানি কাঠ।পানি=পাইন,পরশ=স্পর্শ,সোহাগল=সোহাগা,শ্রমজলে=ঘামজলে,রাখল ডারি=ডুবিয়ে রাখল।* *রঞ্জল=রঞ্জিত করল,মূল=মূল‍্য, না* *জানয়ে কোই=কেউ জানে না,চৌর ভয়ে=চোরের* *ভয়ে,ছাপিয়ে=লুকিয়ে,*
*গোই=গোপনে,যো=যে,আগরি=আগল* *বা অধিকা ও আধার,*
*বিদগধ নাগরী=বিদগ্ধ ধনি।*
*তাকর=তার,সাধ=অভিলাষ,পরমাদ=প্রমাদ।*
*🌴🌴🌴চতুর্থ পদ🌴🌴🌴*
*এ কথা কহিবে সই এ কথা কহিবে।*
*অবলা এতেক তপ করিয়াছে কবে।।*
*পুরুষ পরশ-মণি নন্দের কুমার।*
*কি ধন লাগিয়ে ধরে চরণে হামার।।*
*কাহাকে কহিব সখি মরমের কথা*
*নাগর হৈয়া দেয় মোর চরণে আলতা।।*
*আপন চূড়ার বেশ বনায়া আমারে।*
*রমণী হইয়া যেন রহে মোর কোরে।।*
*সরম সই কহিতে কহিতে সরম।*
*আমারে আচরে সোই পুরুষ ধরম।।*
*জ্ঞানদাস কহে শুন শুন বিনোদিনী।*
*জিতে কি পাসরা যায় কানু গুণমণি।।*

*🌻শ্রীমতী রাইধনি রজনী বিলাসের কথা স্বতন্ত্ররী সখিদের বলছেন,সখি!আমার মত অবলনারী কি এমন তপস‍্যা করেছিলাম যে,যিনি পুরুষ শ্রেষ্ঠ,পরম ভক্তবৎসল,যে যখন যাহা চাই,মনোআশা পূরণ করেন,তিনি আমার চরণ ধরে বড়ই যত্ন করে আহা-হা আমার চরণে আলতা পরিয়ে দিয়েছিল।* *এখানে পদকর্তা বলছেন,কত যোগীন্দ্র,কত মুনিন্দ্র,কত ব্রহ্মর্ষি হাজার হাজার,লক্ষ লক্ষ বৎসর ধ‍্যান,তপস‍্যা করে যাঁর চরণে আশ্রয় পাই না,আজ তিনি পরম পরম ভক্তচূড়ামণি শ্রীমতী রাধা ঠাকুরাণীর শ্রীচরণ ধরে,সেই চরণে আলতা পরাচ্ছেন,ধন‍্য,ধন‍্যাতি ধন‍্য শ্রীমতী তোমার তপস‍্যা।* *রাধারাণী বলছেন সখি!আর কি হল জানিস?* *আমার প্রাণবল্লভের যে চূড়ার বেশ, কত যত্ন করে আমাকে সেই বেশে সাজালেন,যখন দর্পণে নিজ মুখ দেখলাম মনে হল যেন আমিই সেই ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ।* *আবার জানিস সখি,আমার প্রাণবল্লভ আমার কোলে বসে আছেন আর আমার মুখ দর্শন করে,আর কি বলব সই,বলতে বড়ই লজ্জা হয়,আমায় কতই না আদর যত্ন করেছেন।* *পদকর্তা জ্ঞানদাস বলছেন,ওগো বিনোদিনী! জিতে কি পাসরা যায় কানু গুণমণি।*
*🌻🌻পঞ্চম পদ🌻🌻*
*আজুক রজনী,নিধুবনে আনি,*
      *করল বিনোদ রাস।*
*রসের সাগরে, ডুবাইল মোরে,*
     *ভুলিলু আপন বাস।।*
    *শুনহ মরমী সই।*
*তুহুঁ সে আমার,পরাণের দোসর,*
      *তেঞি সে তোমারে কই।।*
*তাহার সাধন,বচন যতেক,*
     *তাহা কি কহনে যায়।*
*রতি বিপরীত,লাগিয়া নাগর,*
      *ধরল হামারি পায়।।*
*তাহার পিরীতে, বশ হইয়া,*
     *করিনু তাহারি মত।*
*না জানিনু মুঞি,তাহার সুখে,*
     *আপনি হইনু রত।।*
*মোর শ্রমজল, হইয়া বিকল,*
     *মোছয়ে আপনা করে।*
*বীজন লইয়া,আপনি বীজয়ে,*
     *আমার ছরম ডরে।।*
*সে সব কাহিনী,কহিতে আপনি,*
         *অবশ হইল অঙ্গ।*
*এ রাধামোহন,দাস কি শুনব,*
         *এ সব প্রেমক রঙ্গ।।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*কহিতে কানুর বিলাস কথা।*
*ছল ছল ভেল নয়নরাতা।।*
*গদ গদ কন্ঠ না সরে বাণী।*
*বিবরণ ভেল কিছুই না জানি।।*
*পুলকে পূরল সকল দেহ।*
*স্তব্ধ হইল না চলে সেহ।।*
*ঝর ঝর বহি পড়য়ে ঘাম।*
*খেণে থরহরি কম্পমান।।*
*মূরছি পড়ল সখীর গায়।*
*হেরি সহচরী চঙক্ পায়।।*
*কোরে করি সখি রহল চাই।*
*খেণেকে চেতন পাইলা রাই।।*
*সখি কহে বিপরীত সে দেখি।*
*কহিতে এমন কাঁহা না লেখি।।*
*আমরা পুছিনু সুখের কথা।*
*কহিতে তোমার কি হৈল ব‍্যথা।।*
*রাই কহে মোর জীবন-কানু।*
*সে গুণ কহিতে অবশ তনু।।*
*শেখর কহয়ে বসিয়া তাই।*
*এমন প্রেমের বালাই যাই।।*
*🌴এখানেই রহিল রসোদ্গার লীলা🌴*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_4.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻নন্দ মোক্ষণ লীলা গৌরচন্দ্রিকা 🌻*
*ভ্রমিতে ভ্রমিতে গোরা যমুনার জলে।*
*কৃষ্ণদাস কোলে করি ভাসে প্রেমজলে।।*
*কৃষ্ণদাস বোলে হের দেখ নন্দঘাট।*
*বরুণে হরিয়া নন্দ নিল নিজপাট*
*পিতার উদ্দেশ্যে কৃষ্ণ জলে প্রবেশিলা।*
*গোপ-গোপীগণ মেলি কাঁদিতে লাগিলা।।*
*শোনি গোরাচাঁদের ধারা বহে দুনয়নে।*
*ভাবাবিষ্ট হৈয়া লোচন কাঁদেন আপনে।।*
*🌻নন্দমোক্ষণ ব্রজ লীলা প্রথম পদ🌻*
*নীরাধিপ ভৃত‍্য রূপ।*
*হরল নন্দ ব্রজক ভূপ।।*
*ঐছন শুনি গোপশূর।*
*ত্বরিতে আইলা বরুণপুর।।*
*হেরি বরুণ চরণে গীর।*
*ধূলি লুঠয়ে ধূসর শির।।*
*সিংহাসন দেই তাহি।*
*পূজল কত অবধি নাহি।।*
*তাত লেই চলল পুর।*
*ব্রজজন দুখ গেও দূর।।*
*জীবন পাই নন্দরাণী।*
*প্রেমে বিভোর কিছু না জানি।।*
*ব্রজ ভূপতি চমক পাই।*
*নিজগণে সব কহল যাই।।*
*গোপীগণ পাওল সুখ।*
*টুটল সব বিরহ দুখ।।*
*আনন্দে ব্রজলোক ভাষ।*
*হেরত সুখে মাধব দাস।।*

*🌻🌻জল দেবতা বরুণের ভৃত‍্য (চাকর (নীরাধিপভৃত‍্য)যিনি ব্রজের রাজা নন্দ মহারাজকে হরণ করিল।* *কেন?নন্দমহারাজ একাদশী ব্রত পালন করতেন,পরেরদিন স্বল্প সময় দ্বাদশী থাকার কারণে,শাস্ত্রে আছে যে,* *"কলার্ধাং দ্বাদশীং দৃষ্টা নিশীথাদূর্ধমেব হি।আমধ‍্যাহ্নাঃ ক্রিয়াঃ সর্বাঃ কর্তব‍্যঃ শম্ভুশাসনাৎ।।(স্কন্ধ পুরাণ)* *অর্থ‍্যাৎ=একাদশী ব্রতের পরেরদিন যদি স্বল্প মাত্রও দ্বাদশী থাকে,তাহলে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রি অতীত হবার পরেই স্নান করে মধ‍্যাহ্নকৃত‍্য পর্যন্ত সবকিছু নিত‍্যকর্মের সমাধান করে দ্বাদশী মধ্যেই পারণ করবে।* *ইহাই বৈষ্ণবচূড়ামণি শ্রীশঙ্করের আদেশ* *পরমবৈষ্ণব নন্দাদি গোপগণও এই শাস্ত্র আজ্ঞা শিরোধার্য‍্য করে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রির পর যমুনায় গেলেন।* *কিছু গোপগণ নিজ ঘরের কূপের জলে স্নান করলেন।* *শ্রীভদবদ্ভক্তিবর্ধনকারিণী পুণ‍্যসলিলা যমুনা নদীতে অবগাহন করবার জন‍্য কয়েকজন ভৃত‍্য সঙ্গে নিয়ে যমুনায় গমন করলেন এবং যথিবিধি যমুনা সলিলে নেমে স্তব পাঠাদি সমাপন পূর্বক স্নান করতে লাগলেন।* *(অর্ধরাত্রির পর হতে সূর্য‍্যোদয়ের চারদন্ড পূর্ব পর্যন্ত সময়,শাস্ত্রে আসুরকাল বলে প্রসিদ্ধ এবং সেই সময়ে স্নানাদি সর্ববিধ কার্য‍্যই নিষিদ্ধ আছে।* *এই সময়ে জলাধিপতি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ নদনদী প্রভৃতি জলাশয়ের জল রক্ষা করে এবং কেহ যদি সেই সময়ে জলাশয়ে নামে তাহলে তিনি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণের কাছে কোনরকম দন্ড পান না বলে এই শাস্ত্র সিদ্ধান্ত।* *কিন্তু ধরে নিয়ে চলে যান বরুণের কাছে।* *গোপরাজ নন্দ,শাস্ত্র নিষিদ্ধ আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন বটে,কিন্তু তিনি শাস্ত্র আজ্ঞা লঙ্ঘন করেননি।* *তিনি দ্বাদশীমধ‍্যে পারণ নির্বাহ করবার জন্য শাস্ত্রাজ্ঞা বলেই আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন।* *কিন্তু বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ তাদের অসুর স্বভাববশতঃ শাস্ত্রাজ্ঞা কিংবা বৈষ্ণবাচার প্রভৃতির কোনই খবর রাখে না,তারা গোপরাজ নন্দকে আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে দেখেই অপরাধী বলে নিশ্চয় করল এবং তাঁকে বরুণালয়ে নিয়ে গেল।* *এদিকে গোপরাজ নন্দের সঙ্গী গোপগণ,গোপরাজ নন্দকে যমুনায় স্নান করতে করতে হঠাৎ অদৃশ্য হতে দেখে ভয়ে ভীত হয়ে পড়ল এবং কৃষ্ণ,বলরাম কোথায় আছ,তাড়াতাড়ি এস,দেখ,তোমাদের পিতাকে বুঝি কুমীর বা জলের হিংস্র জন্তু এসে গ্রাস করল।* *হায়!হায়!আজ আমাদের কি হল,বলে মাথায় করাঘাত করে উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ ও রোদন করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ সেই সময় নিভৃতকক্ষে নিদ্রাগত ছিলেন,কিন্তু সকলের চিৎকারে নিদ্রা ভঙ্গ হল, সমস্ত কথা শুনলেন,আর মনে মনে বরুণকে শিক্ষা দিতে হবে বলে যমুনার ধারে গেলেন।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ বা শেষ পদ🌻🌻*
*একাদশী ব্রত করি,নন্দীশ্বর অধিকারী,*
     *সিনাইতে যমুনার জলে।*
*বরুণের চর ছিল,ধরিয়া লৈয়া গেল,*
     *না দেখি কান্দয়ে গোয়ালে।।*
*হরি হরি কান্দনা উঠিল গোপপুরে।*
*শুনিয়া ধাইল কানু,বাজাইয়া শিঙ্গা বেণু,*
        *প্রবেশিল বরুণ নগরে।।*
*দেখি জল অধিপতি,অষ্টাঙ্গে পড়িয়া ক্ষিতি,*
      *দন্ডবৎ নানা স্তুতি করে।*
*অবোধ আমার দূতে,আনিল তোমার পিতে,*
     *হেন অপরাধ ক্ষেম মোরে।।*
*নন্দঘোষ লৈয়া হরি,আইলা গোকুল পুরী,*
     *গোপ-গোপী অধিক উল্লাসে।*
*রাধাদাস কহে কানু,বরুণ পূজিল যনু,*
     *কহে নন্দ সভাকার পাশে।।*

*🌻কার্তিকমাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে যেদিন ইন্দ্রাদি দেবগণ ব্রজে এসে গোবিন্দ অভিষেক করেছিলেন, সেদিনও পূর্ব পূর্ব একাদশীর নিয়মানুসারে নন্দাদি গোপগণ উপবাস,শ্রীভগবৎ পূজা ও শ্রীভগবৎ প্রসঙ্গে রাত্রি জাগরণ প্রভৃতি সমস্ত অনুষ্ঠান করেছিলেন।* *কিন্তু পরদিন প্রাতঃকালে দ্বাদশী তিথি বেশীক্ষণ ছিল না বলিয়া তাঁরা শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে একাদশীর দিন অর্ধ রাত্রের পর হতেই স্নান ও নিত‍্যকর্মের অনুষ্ঠানে রত হলেন।*
*যাইহোক,গোপগণের আর্তনাদে ও রোদনে যখন শ্রীকৃষ্ণ বুঝলেন যে তাঁর পিতা যমুনাগর্ভে অদৃশ্য হয়েছেন,তখনই তিনি জানতে পারলেন যে,বরুণ ভৃত‍্যগণই পিতাকে নিয়ে গেছে।* *তিনি আর ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ বরুণলোকে গমন করলেন।* *জলধিপতি বরুণ হঠাৎ নিজ গৃহে কৃষ্ণকে আগমন করতে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেলেন।*
*বরুণ মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন যে,যিনি সর্বেন্দ্রিয়ের অতীত এবং নিয়ন্তা,* *তিনি আজ আমার গৃহে এলেন,এর থেকে বড় আশ্চর্যের বিষয় আর কি হতে পারে।* *আমার কোন জনমের কোন পূণ‍্যফলে দর্শন পেলাম।* *নিজ মস্তকে করে সিংহাসন নিয়ে এলেন এবং*
*শ্রীকৃষ্ণকে বসতে দিলেন,স্বহস্তে তাঁর চরণ ধৌত করে সেই চরণোদক পান ও মস্তকে ধারণ করলেন।* *তারপর বরুণ অষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।* *এবং তিনি স্তুতি করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ চুপ করে বসে আছেন কিছু বলছেন না।* *তখন বরুণ বললেন,প্রভো!এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবের গৃহে পদার্পণের কারণ কি জানতে পারি?* *এইবার বরুণের মনে পড়েছে আমার ভৃত‍্যগণ গোপরাজ নন্দকে যমুনা হতে আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,বোধকরি সে কারণেই প্রভু এসেছেন*,*না জানি এখন আমার কি হবে।!*
*আমার মনে হচ্ছে,আমার ভৃত‍্য এনেছে তার মানে এই,আমার মহাপরাধ হয়েছে,সেইজন‍্য বোধহয় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান আমার এখানে এসেছেন।* 
*রাজ্ঞি চামাত‍্যজা দোষাঃ পত্নীপাপং স্বভর্তরি।*
*এবং শিষ‍্যকৃতং পাপং গুরাবেবোপচ্ছতি।।(সারসংগ্রহবচনং)*
*অমাত‍্য(মন্ত্রী)ভৃত‍্যাদিকৃত অপরাধ রাজায়,পত্নীকৃত পাপ পতিতে এবং শিষ‍্যকৃত পাপ গুরুতে সঞ্চারিত হয়।* *(এই শাস্ত্র বচনে জানা যায়।)* *কারও চাকর যদি কোন অপরাধ করে,তাহলে তার প্রভু সেই অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায়।* *অতএব আমার ভৃত‍্য যখন গোপরাজ নন্দকে অন‍্যায় পূর্বক আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,তখন আমি নিশ্চয়ই কৃষ্ণচরণে অপরাধ করেছি।* *হে প্রভো!আমার ভৃত‍্যগণ জানে না যে,দ্বাদশী পারণ রক্ষা করবার জন্য আসুরকালে স্নান করলে কোনও দোষ হয় না।* *তারা মূঢ় ও মহামোহাচ্ছন্ন,অজ্ঞানবশতঃ আপনার পিতাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছে।* *আপনি অজ্ঞ জীবের অজ্ঞানকৃত মহাপরাধ ক্ষমা করুন।* *এইকথা বলে বরুণ,তাড়াতাড়ি গোপরাজ নন্দের কাছে গিয়ে তাঁকে সিংহাসন সহ মস্তকে বহন করে এনে শ্রীকৃষ্ণের সামনে বসালেন এবং বললেন হে পিতৃবৎসল!হে গোবিন্দ!আপনার পিতাকে আপনার কাছে প্রদান করলাম,আপনি গ্রহণ করুন।* *গোপরাজকে কৃষ্ণ সামনে রেখে বরুণ একপার্শে করজোড়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।* *এবং ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ একবার তাঁর দিকে প্রসন্ন দৃষ্টি সঞ্চার করে পিতাকে নিয়ে ব্রজভূমিতে আগমন করলেন।* *ব্রজে পরমানন্দের সাড়া পড়ে গেল।* *তারপর নন্দমহারাজ যথা সময়ে তাঁর দ্বাদশী কর্মাদি সমাপন করে গোপসভায় বসলেন।* *পরে উপনন্দ,সনন্দ প্রভৃতি সকলে নন্দের কাছে এলেন,গোপরাজ নন্দের কাছে বরুণলোকের মহাবৈভবকথা এবং বরুণ প্রভৃতি সকলের শ্রীকৃষ্ণ চরণে স্তুতি প্রণতির কথা শুনে খুবই আশ্চর্য হলেন,সকলেই মনে মনে করতে লাগলেন,আমাদের কৃষ্ণ সামান্য গোপবালক নয়,নিশ্চয়ই অখিলব্রহ্মান্ডপতি নারায়ণই গোপবালকরূপে আমাদের বংশে অবতীর্ণ হয়ে আমাদের ধারণার বাইরে অনির্বচনীয় লীলারসাস্বাদন করছেন।* *বরাহ পুরাণে জানা যায়,*
*এতে হি যাদবাঃ সর্বে মদগণা এব ভাবিনি।*
*সর্বথা মৎপ্রিয় দেবি মত্তুল‍্যগুণশালিনঃ।।*
*বরাহদেব,পৃথিবীকে বলেছিলেন,যাদবগমণ(ব্রজবাসী গোপগণও যদুবংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে যাদব নামে খ‍্যাত)* *সকলেই আমার নিত‍্যপার্ষদ,তাঁরা আমার পরমপ্রিয় এবং সকলেই আমার মত গুণশালী।* 
*পিতা মাতা স্থান গৃহ শয‍্যাসন আর।*
*এ সব কৃষ্ণের শুদ্ধ-সত্তের বিকার।।*

*উপনন্দ প্রভৃতি গোপগণ,বরুণলোকে বৈভব এবং শ্রীকৃষ্ণচরণে শরণাগতির কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণকে সর্বেশ্বর বলে ধারণা করলেন।* *কাজেই উপনন্দাদি গোপগণের মনে শ্রীকৃষ্ণের বৈভব এবং ধাম দর্শনের বাসনা হলে তাঁরা তাঁদের বাৎসল‍্য প্রেমে লালিত পালিত কৃষ্ণের কাছে মনের কথা ব‍্যক্ত করতে পারলেন না।* *ব্রজবাসী গোপগণের মনের কথা জেনে ভক্তবাঞ্জাকল্পতরু শ্রীকৃষ্ণ তাঁদেরকে প্রপঞ্চাতীত ধাম দেখালেন।* *শ্রীকৃষ্ণ ব্রজবাসীগণকে ব্রহ্মহ্রদ,(অক্রূরতীর্থ)নিয়ে এলেন,ব্রজবাসীগণ কৃষ্ণের আদেশে ব্রহ্মহ্রদে স্নান করে উঠে শ্রীকৃষ্ণের গোলোক নামক ধাম দর্শন করলেন।* *কৃষ্ণ যখন সকলকেই গোলোকধাম দর্শন করালেন,সকলেই পরমানন্দে পরিপূর্ণ হলেন।ভগবান কৃষ্ণ এইভাবে মনোবাঞ্জা পূর্ণ করলেন,কৃষ্ণ যে তাঁদের ঘরের পুত্র তাহাই মনে করলেন,বাৎসল‍্য প্রেমে যশোদা কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে শত শত চুম্বন ও কোলে নিয়ে ক্ষীর সর নবনী খাওয়ালেন।*

*******নন্দ মোক্ষণ লীলা, মধ‍্য রাত্রে নন্দঘোষ যমুনায় স্মান করতে গিয়েছিলেন, জলদেবতা বরুণের ভৃত‍্য নন্দঘোষকে হরণ করেছিল।

 *🌻নন্দ মোক্ষণলীলা এখানেই রইল,🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻নন্দ মোক্ষণ লীলা গৌরচন্দ্রিকা 🌻*
*ভ্রমিতে ভ্রমিতে গোরা যমুনার জলে।*
*কৃষ্ণদাস কোলে করি ভাসে প্রেমজলে।।*
*কৃষ্ণদাস বোলে হের দেখ নন্দঘাট।*
*বরুণে হরিয়া নন্দ নিল নিজপাট*
*পিতার উদ্দেশ্যে কৃষ্ণ জলে প্রবেশিলা।*
*গোপ-গোপীগণ মেলি কাঁদিতে লাগিলা।।*
*শোনি গোরাচাঁদের ধারা বহে দুনয়নে।*
*ভাবাবিষ্ট হৈয়া লোচন কাঁদেন আপনে।।*
*🌻নন্দমোক্ষণ ব্রজ লীলা প্রথম পদ🌻*
*নীরাধিপ ভৃত‍্য রূপ।*
*হরল নন্দ ব্রজক ভূপ।।*
*ঐছন শুনি গোপশূর।*
*ত্বরিতে আইলা বরুণপুর।।*
*হেরি বরুণ চরণে গীর।*
*ধূলি লুঠয়ে ধূসর শির।।*
*সিংহাসন দেই তাহি।*
*পূজল কত অবধি নাহি।।*
*তাত লেই চলল পুর।*
*ব্রজজন দুখ গেও দূর।।*
*জীবন পাই নন্দরাণী।*
*প্রেমে বিভোর কিছু না জানি।।*
*ব্রজ ভূপতি চমক পাই।*
*নিজগণে সব কহল যাই।।*
*গোপীগণ পাওল সুখ।*
*টুটল সব বিরহ দুখ।।*
*আনন্দে ব্রজলোক ভাষ।*
*হেরত সুখে মাধব দাস।।*

*🌻🌻জল দেবতা বরুণের ভৃত‍্য (চাকর (নীরাধিপভৃত‍্য)যিনি ব্রজের রাজা নন্দ মহারাজকে হরণ করিল।* *কেন?নন্দমহারাজ একাদশী ব্রত পালন করতেন,পরেরদিন স্বল্প সময় দ্বাদশী থাকার কারণে,শাস্ত্রে আছে যে,* *"কলার্ধাং দ্বাদশীং দৃষ্টা নিশীথাদূর্ধমেব হি।আমধ‍্যাহ্নাঃ ক্রিয়াঃ সর্বাঃ কর্তব‍্যঃ শম্ভুশাসনাৎ।।(স্কন্ধ পুরাণ)* *অর্থ‍্যাৎ=একাদশী ব্রতের পরেরদিন যদি স্বল্প মাত্রও দ্বাদশী থাকে,তাহলে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রি অতীত হবার পরেই স্নান করে মধ‍্যাহ্নকৃত‍্য পর্যন্ত সবকিছু নিত‍্যকর্মের সমাধান করে দ্বাদশী মধ্যেই পারণ করবে।* *ইহাই বৈষ্ণবচূড়ামণি শ্রীশঙ্করের আদেশ* *পরমবৈষ্ণব নন্দাদি গোপগণও এই শাস্ত্র আজ্ঞা শিরোধার্য‍্য করে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রির পর যমুনায় গেলেন।* *কিছু গোপগণ নিজ ঘরের কূপের জলে স্নান করলেন।* *শ্রীভদবদ্ভক্তিবর্ধনকারিণী পুণ‍্যসলিলা যমুনা নদীতে অবগাহন করবার জন‍্য কয়েকজন ভৃত‍্য সঙ্গে নিয়ে যমুনায় গমন করলেন এবং যথিবিধি যমুনা সলিলে নেমে স্তব পাঠাদি সমাপন পূর্বক স্নান করতে লাগলেন।* *(অর্ধরাত্রির পর হতে সূর্য‍্যোদয়ের চারদন্ড পূর্ব পর্যন্ত সময়,শাস্ত্রে আসুরকাল বলে প্রসিদ্ধ এবং সেই সময়ে স্নানাদি সর্ববিধ কার্য‍্যই নিষিদ্ধ আছে।* *এই সময়ে জলাধিপতি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ নদনদী প্রভৃতি জলাশয়ের জল রক্ষা করে এবং কেহ যদি সেই সময়ে জলাশয়ে নামে তাহলে তিনি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণের কাছে কোনরকম দন্ড পান না বলে এই শাস্ত্র সিদ্ধান্ত।* *কিন্তু ধরে নিয়ে চলে যান বরুণের কাছে।* *গোপরাজ নন্দ,শাস্ত্র নিষিদ্ধ আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন বটে,কিন্তু তিনি শাস্ত্র আজ্ঞা লঙ্ঘন করেননি।* *তিনি দ্বাদশীমধ‍্যে পারণ নির্বাহ করবার জন্য শাস্ত্রাজ্ঞা বলেই আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন।* *কিন্তু বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ তাদের অসুর স্বভাববশতঃ শাস্ত্রাজ্ঞা কিংবা বৈষ্ণবাচার প্রভৃতির কোনই খবর রাখে না,তারা গোপরাজ নন্দকে আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে দেখেই অপরাধী বলে নিশ্চয় করল এবং তাঁকে বরুণালয়ে নিয়ে গেল।* *এদিকে গোপরাজ নন্দের সঙ্গী গোপগণ,গোপরাজ নন্দকে যমুনায় স্নান করতে করতে হঠাৎ অদৃশ্য হতে দেখে ভয়ে ভীত হয়ে পড়ল এবং কৃষ্ণ,বলরাম কোথায় আছ,তাড়াতাড়ি এস,দেখ,তোমাদের পিতাকে বুঝি কুমীর বা জলের হিংস্র জন্তু এসে গ্রাস করল।* *হায়!হায়!আজ আমাদের কি হল,বলে মাথায় করাঘাত করে উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ ও রোদন করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ সেই সময় নিভৃতকক্ষে নিদ্রাগত ছিলেন,কিন্তু সকলের চিৎকারে নিদ্রা ভঙ্গ হল, সমস্ত কথা শুনলেন,আর মনে মনে বরুণকে শিক্ষা দিতে হবে বলে যমুনার ধারে গেলেন।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ বা শেষ পদ🌻🌻*
*একাদশী ব্রত করি,নন্দীশ্বর অধিকারী,*
     *সিনাইতে যমুনার জলে।*
*বরুণের চর ছিল,ধরিয়া লৈয়া গেল,*
     *না দেখি কান্দয়ে গোয়ালে।।*
*হরি হরি কান্দনা উঠিল গোপপুরে।*
*শুনিয়া ধাইল কানু,বাজাইয়া শিঙ্গা বেণু,*
        *প্রবেশিল বরুণ নগরে।।*
*দেখি জল অধিপতি,অষ্টাঙ্গে পড়িয়া ক্ষিতি,*
      *দন্ডবৎ নানা স্তুতি করে।*
*অবোধ আমার দূতে,আনিল তোমার পিতে,*
     *হেন অপরাধ ক্ষেম মোরে।।*
*নন্দঘোষ লৈয়া হরি,আইলা গোকুল পুরী,*
     *গোপ-গোপী অধিক উল্লাসে।*
*রাধাদাস কহে কানু,বরুণ পূজিল যনু,*
     *কহে নন্দ সভাকার পাশে।।*

*🌻কার্তিকমাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে যেদিন ইন্দ্রাদি দেবগণ ব্রজে এসে গোবিন্দ অভিষেক করেছিলেন, সেদিনও পূর্ব পূর্ব একাদশীর নিয়মানুসারে নন্দাদি গোপগণ উপবাস,শ্রীভগবৎ পূজা ও শ্রীভগবৎ প্রসঙ্গে রাত্রি জাগরণ প্রভৃতি সমস্ত অনুষ্ঠান করেছিলেন।* *কিন্তু পরদিন প্রাতঃকালে দ্বাদশী তিথি বেশীক্ষণ ছিল না বলিয়া তাঁরা শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে একাদশীর দিন অর্ধ রাত্রের পর হতেই স্নান ও নিত‍্যকর্মের অনুষ্ঠানে রত হলেন।*
*যাইহোক,গোপগণের আর্তনাদে ও রোদনে যখন শ্রীকৃষ্ণ বুঝলেন যে তাঁর পিতা যমুনাগর্ভে অদৃশ্য হয়েছেন,তখনই তিনি জানতে পারলেন যে,বরুণ ভৃত‍্যগণই পিতাকে নিয়ে গেছে।* *তিনি আর ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ বরুণলোকে গমন করলেন।* *জলধিপতি বরুণ হঠাৎ নিজ গৃহে কৃষ্ণকে আগমন করতে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেলেন।*
*বরুণ মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন যে,যিনি সর্বেন্দ্রিয়ের অতীত এবং নিয়ন্তা,* *তিনি আজ আমার গৃহে এলেন,এর থেকে বড় আশ্চর্যের বিষয় আর কি হতে পারে।* *আমার কোন জনমের কোন পূণ‍্যফলে দর্শন পেলাম।* *নিজ মস্তকে করে সিংহাসন নিয়ে এলেন এবং*
*শ্রীকৃষ্ণকে বসতে দিলেন,স্বহস্তে তাঁর চরণ ধৌত করে সেই চরণোদক পান ও মস্তকে ধারণ করলেন।* *তারপর বরুণ অষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।* *এবং তিনি স্তুতি করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ চুপ করে বসে আছেন কিছু বলছেন না।* *তখন বরুণ বললেন,প্রভো!এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবের গৃহে পদার্পণের কারণ কি জানতে পারি?* *এইবার বরুণের মনে পড়েছে আমার ভৃত‍্যগণ গোপরাজ নন্দকে যমুনা হতে আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,বোধকরি সে কারণেই প্রভু এসেছেন*,*না জানি এখন আমার কি হবে।!*
*আমার মনে হচ্ছে,আমার ভৃত‍্য এনেছে তার মানে এই,আমার মহাপরাধ হয়েছে,সেইজন‍্য বোধহয় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান আমার এখানে এসেছেন।* 
*রাজ্ঞি চামাত‍্যজা দোষাঃ পত্নীপাপং স্বভর্তরি।*
*এবং শিষ‍্যকৃতং পাপং গুরাবেবোপচ্ছতি।।(সারসংগ্রহবচনং)*
*অমাত‍্য(মন্ত্রী)ভৃত‍্যাদিকৃত অপরাধ রাজায়,পত্নীকৃত পাপ পতিতে এবং শিষ‍্যকৃত পাপ গুরুতে সঞ্চারিত হয়।* *(এই শাস্ত্র বচনে জানা যায়।)* *কারও চাকর যদি কোন অপরাধ করে,তাহলে তার প্রভু সেই অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায়।* *অতএব আমার ভৃত‍্য যখন গোপরাজ নন্দকে অন‍্যায় পূর্বক আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,তখন আমি নিশ্চয়ই কৃষ্ণচরণে অপরাধ করেছি।* *হে প্রভো!আমার ভৃত‍্যগণ জানে না যে,দ্বাদশী পারণ রক্ষা করবার জন্য আসুরকালে স্নান করলে কোনও দোষ হয় না।* *তারা মূঢ় ও মহামোহাচ্ছন্ন,অজ্ঞানবশতঃ আপনার পিতাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছে।* *আপনি অজ্ঞ জীবের অজ্ঞানকৃত মহাপরাধ ক্ষমা করুন।* *এইকথা বলে বরুণ,তাড়াতাড়ি গোপরাজ নন্দের কাছে গিয়ে তাঁকে সিংহাসন সহ মস্তকে বহন করে এনে শ্রীকৃষ্ণের সামনে বসালেন এবং বললেন হে পিতৃবৎসল!হে গোবিন্দ!আপনার পিতাকে আপনার কাছে প্রদান করলাম,আপনি গ্রহণ করুন।* *গোপরাজকে কৃষ্ণ সামনে রেখে বরুণ একপার্শে করজোড়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।* *এবং ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ একবার তাঁর দিকে প্রসন্ন দৃষ্টি সঞ্চার করে পিতাকে নিয়ে ব্রজভূমিতে আগমন করলেন।* *ব্রজে পরমানন্দের সাড়া পড়ে গেল।* *তারপর নন্দমহারাজ যথা সময়ে তাঁর দ্বাদশী কর্মাদি সমাপন করে গোপসভায় বসলেন।* *পরে উপনন্দ,সনন্দ প্রভৃতি সকলে নন্দের কাছে এলেন,গোপরাজ নন্দের কাছে বরুণলোকের মহাবৈভবকথা এবং বরুণ প্রভৃতি সকলের শ্রীকৃষ্ণ চরণে স্তুতি প্রণতির কথা শুনে খুবই আশ্চর্য হলেন,সকলেই মনে মনে করতে লাগলেন,আমাদের কৃষ্ণ সামান্য গোপবালক নয়,নিশ্চয়ই অখিলব্রহ্মান্ডপতি নারায়ণই গোপবালকরূপে আমাদের বংশে অবতীর্ণ হয়ে আমাদের ধারণার বাইরে অনির্বচনীয় লীলারসাস্বাদন করছেন।* *বরাহ পুরাণে জানা যায়,*
*এতে হি যাদবাঃ সর্বে মদগণা এব ভাবিনি।*
*সর্বথা মৎপ্রিয় দেবি মত্তুল‍্যগুণশালিনঃ।।*
*বরাহদেব,পৃথিবীকে বলেছিলেন,যাদবগমণ(ব্রজবাসী গোপগণও যদুবংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে যাদব নামে খ‍্যাত)* *সকলেই আমার নিত‍্যপার্ষদ,তাঁরা আমার পরমপ্রিয় এবং সকলেই আমার মত গুণশালী।* 
*পিতা মাতা স্থান গৃহ শয‍্যাসন আর।*
*এ সব কৃষ্ণের শুদ্ধ-সত্তের বিকার।।*

*উপনন্দ প্রভৃতি গোপগণ,বরুণলোকে বৈভব এবং শ্রীকৃষ্ণচরণে শরণাগতির কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণকে সর্বেশ্বর বলে ধারণা করলেন।* *কাজেই উপনন্দাদি গোপগণের মনে শ্রীকৃষ্ণের বৈভব এবং ধাম দর্শনের বাসনা হলে তাঁরা তাঁদের বাৎসল‍্য প্রেমে লালিত পালিত কৃষ্ণের কাছে মনের কথা ব‍্যক্ত করতে পারলেন না।* *ব্রজবাসী গোপগণের মনের কথা জেনে ভক্তবাঞ্জাকল্পতরু শ্রীকৃষ্ণ তাঁদেরকে প্রপঞ্চাতীত ধাম দেখালেন।* *শ্রীকৃষ্ণ ব্রজবাসীগণকে ব্রহ্মহ্রদ,(অক্রূরতীর্থ)নিয়ে এলেন,ব্রজবাসীগণ কৃষ্ণের আদেশে ব্রহ্মহ্রদে স্নান করে উঠে শ্রীকৃষ্ণের গোলোক নামক ধাম দর্শন করলেন।* *কৃষ্ণ যখন সকলকেই গোলোকধাম দর্শন করালেন,সকলেই পরমানন্দে পরিপূর্ণ হলেন।ভগবান কৃষ্ণ এইভাবে মনোবাঞ্জা পূর্ণ করলেন,কৃষ্ণ যে তাঁদের ঘরের পুত্র তাহাই মনে করলেন,বাৎসল‍্য প্রেমে যশোদা কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে শত শত চুম্বন ও কোলে নিয়ে ক্ষীর সর নবনী খাওয়ালেন।*

*******নন্দ মোক্ষণ লীলা, মধ‍্য রাত্রে নন্দঘোষ যমুনায় স্মান করতে গিয়েছিলেন, জলদেবতা বরুণের ভৃত‍্য নন্দঘোষকে হরণ করেছিল।

 *🌻নন্দ মোক্ষণলীলা এখানেই রইল,🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/blog-post_4.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ ৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
গৌরচন্দ্রিকা
*শ্রীবাসের অঙ্গনে গোরা ভক্তগণ লয়ে।*
*মহানন্দে বাহু তুলে সংকীর্তন করয়ে।।*
*আচম্বিতে চারিদিকে অন্ধকার দেখে।*
*উচ্চৈঃস্বরে ভক্তগণ শ্রীহরিরে ডাকে।।*
*চতুর্দিকে ভক্তগণ বলেন হরি হরি*
*রক্ষা করহ মোদের গোলোকবিহারী।।*
*অতি বিসময় মূরতী গোরা করিয়া ধারণ।*
*লোচন কহে সকলেরে করিলা রক্ষণ।।*
*যেজন করয়ে মোর গোরার ভজন।*
*অচিরে পাই সে রাধাগোবিন্দের চরণ।।*

 *ব্রজ লীলা কালানল ভক্ষণ* *কেন বনে দাবানল লেগেছিল? সেই বিষয় বস্তু সামান্য লিপিবদ্ধ করব।*
*গো-বৎসগণদের বনের তৃণ ক্ষেত্র দেখে সমস্ত গো-বৎসগণদের ছেড়ে দিয়ে কৃষ্ণ বলরাম বললেন,চল আমরা খেলা করি।*কৃষ্ণের একটি দল,বলরামের একটি দল,কথা হল যে দল খেলায় হারবে,* *সেই দলের কেউ জয়ী দলের কেউকে ভান্ডীরকবটতল পর্যন্ত কাঁধে করে নিয়ে যাবে,পুন যে জায়গা হতে শুরু করেছিল, নিয়ে আসতে হবে,এই সর্ত।* *অপরদিকে কংস কৃষ্ণকে বিনষ্ট করবার জন‍্য প্রলম্বাসুর কে পাঠাল,প্রলম্বাসুর ইচ্ছারূপধারী ছিল,যেকোন সময় যে কারোর রূপ ধারণ করতে পারত।* *গোপবালকরূপ ধারণ করে কৃষ্ণের দলে প্রবেশ করল,এবং খেলায় কৃষ্ণের হার হল,এবার কাঁধে করে নিয়ে যাবার পালা।* *অসুর যে রূপ ধরেছিল তার কাঁধে বলরাম চাপলেন,* *প্রলম্বাসুর বলদেবের দুইচরণ বক্ষে চেপে এমনভাবে ধরল যে বলরাম মনে করলে ইচ্ছে মত কাঁধ হতে নামতে পারবেন না।* *এবারে প্রলম্ব বলরামকে কাঁধে নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে লাগল,বলরামের মনে সন্দেহ হল,কে এই রাখাল?আমাকে নিয়ে এতজোড়ে ছুটছে,না,* *নিশ্চয় কোন গন্ডগোল আছে।* *তখন বলরাম নিজ দেহকে সুমেরুপর্বত সম ভার করলেন,তখন বহন করতে সক্ষম হল না,তখন অসুর নিজ মূর্তিতে প্রকট হল,সেই ভীষণ প্রকান্ড আকৃতি,* *প্রজ্বলিত আগুনের মত উগ্রতেজ চোখ,অগ্নিবর্ণ চেহারা, এইরকম চেহারা দেখে বলরাম চিৎকার করে উঠলে কৃষ্ণ শুনতে পেয়ে দাদাকে ইঙ্গিত করলেন,আর বললেন,তুমি আর আমি অভিন্ন,উপযুক্ত শাস্তি দাও।* *দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্রাঘাতে যেমন পর্বতশৃঙ্গ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়,সেইরকম বলরামের মুষ্ট‍্যাঘাতে প্রলম্বাসুরের মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।* *এই খবর কংস পেয়ে আরো অন‍্যান‍্য অসুরকে পাঠিয়ে বনে আগুন লাগিয়ে সকলকে দগ্ধ করে মারতে চাইল।*
*🌼কালানল ভক্ষণের প্রথম পদ🌼*
*কাল জ‍্যৈষ্ঠ মাস,মলয় বাতাস,*
        *বিহরয়ে সমীরণ।*
*পবন হিল্লোলে,বেগে অগ্নি খেলে,*
        *শিখা পরশে গগন।।*
*বর্ণ দেখি কালো,নামে কালানল,*
        *সাক্ষাৎ কাল সমান।*
*দেখি শিশুগণ,করেন রোদন,*
       *এইবারে গেল পরাণ।।*
*ডাকে উচ্চৈঃস্বরে,প্রাণ গদাধরে,*
      *কোথা গেলিরে কানাই।*
*দারুণ আগুনে,পুড়ি সর্বজনে,*
      *এস প্রাণদাতা ভাই।।*
*তুই রক্ষয়িতা,তুই প্রাণদাতা,*
      *তুই সঙ্কট মোচন।*
*তোরহি কারণ,আসি গোচারণ,*
      *নির্ভয়েতে সর্বজন।।*
*মোদের পরাণ,গেল সব প্রাণ,*
      *বিলম্ব নাহিক আর।*
*শীঘ্র এস ভাই,বাঁচাও কানাই,*
     *অগ্নি হতে কর পার।।*
*শিশু বৎসগণে,যমুনা পুলিনে,*
     *বেড়িল কাল অগিনি।*
*তর নাহি সহে,কৃষ্ণ দাস কহে,*
     *তুই রক্ষাকর্তা জানি।।*

*🌻🌻প্রলম্বাসুর বিনাশের পর কৃষ্ণ,বলরাম সুবলাদি গোপসখাদের নিয়ে পরমানন্দে আগের মত বাল‍্যলীলারসে মত্ত হলেন।* *খেলা রসে এমন বিভোর হয়ে গেছেন যে বাহ‍্যজ্ঞান নাই।* *সকলে বাল‍্যখেলায় আত্মহারা,সেই সময়ে তাঁদের গো,বৃষ,বৎস প্রভৃতি পালনীয় পশুগণ কাছের তৃণপূর্ণ জায়গা ছেড়ে তৃণভক্ষণ করতে করতে ক্রমশ নতুন তৃণ লোভে বন হতে বনান্তরে অগ্রসর হতে হতে দূর গভীর বনে চলে গেছে।* *গ্রীষ্মকালীন বনবহ্নির তাপে দগ্ধপ্রায় হয়ে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতে লাগল।* *সেই চিৎকার শুনে কৃষ্ণ ও গোপবালকগণ যেখানে গো-বৎসগণ তৃণ খাচ্ছিল,সেখানে নাই, কোথায় গেল?কোথায় যেতে পারে ভাবতে লাগলেন।* *নিজেরা নিজেদের মধ‍্যে বলাবলি করতে লাগলেন,আমরা বহুদিন যাবৎ গোচারণে আসি এইরকম কোনদিন হয়নি।* *তখন কৃষ্ণ-বলরাম চিন্তান্বিত হয়ে গোবৎসগণকে খুঁজবার জন‍্য বনে বনে খুঁজতে লাগলেন।* *কৃষ্ণ গাভীগণের নাম ধরে ডাকতে লাগলেন,গোগণ কৃষ্ণকন্ঠধ্বনি শুনে পরমানন্দে বিভোর হল,এবং হাম্বারবে উত্তর দিল।* *দূর হতে কৃষ্ণকে দেখে উর্ধগ্রীবায় ধাবিত হতে চেষ্টা করিল; কিন্তু ঘন ও সুদীর্ঘ শরবৃক্ষ গভীর বনের মধ্যে এমনভাবে আটকে গেল,* *যে পথহারা হয়ে পড়ল।*

*🌻সংসারকানন ঢুকে জীবগণ যদি কোনও ভাগ‍্যবলে ও অকপট সাধনানুষ্ঠানের ফলে প্রতি পদে পদে কৃষ্ণের ডাক শুনতে পাই,তথাপি যেমন স্ত্রী-পুত্র-পরিজনাদির মায়া সম্বন্ধ বন্ধন ছেড়ে চলে যেতে পারে না; অথচ অন্ততের ব‍্যাকুলতায় সর্বদা মন ছুটাছুটি করে ও "হে কৃষ্ণ!কৃপা করো" বলে নিরন্তর দৈন‍্য প্রকাশ করে।🌻

🌻* *গো বৎসগণেরও একই অবস্থা হল।* *শরবনের মধ্যে চরমভাবে আটকে গেছে।* *তারপর সেই শরবনে গোপবালকগণ প্রবেলশ করে এক এক করে সকল গোবৎসগণদের বাহির করে এনে মিলিত করলেন।*
*তারপর সকল সখাগণ বললেন ভাই কৃষ্ণ!আজ আমরা কোন অশুভ মুহূর্তে বন যাত্রা করেছিলাম,আজ আর খেলা বাদ দিয়ে গৃহের দিকে চল।* *আবার কোন নতুন বিপদ না উপস্থিত হয়।* *তখন সকলকে সঙ্গে নিয়ে গভীর বন হতে গৃহের দিকে বেড়োনোর প্রস্তুত হচ্ছেন,এমন সময়ে হঠাৎ বনের ভিতর প্রচন্ড বনবহ্নি জ্বলে উঠল।* *দেখতে দেখতে শত শত শিখা বিস্তার করে গোপবালক ও গোবৎসগণ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।* *গরমকালের মৃদুমন্দ বাতাসে আগুন বৃক্ষ লতা সবকে ভস্ম করতে লাগল।* *সকল সখাগণ ও গোবৎসগণ অত‍্যন্ত ভীত ও জীবন রক্ষা পাবার জন্য ব‍্যস্ত হয়ে উঠল।* *🌻

🌻মৃত‍্যু ভয় পীড়িত ব‍্যক্তিগণ যেমন সর্বভয় হারী হরির চরণে শরণাগত হয়🌻

🌻* *সেইরকম সকলে "রক্ষ" "রক্ষ"* *বলে আর্তনাদ করতে করতে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের শরণাগত হল।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ ও ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻*
 *কালানল হ'তে,রাখহ ত্বরিতে,*
          *কালিদহে গেল প্রাণ।*
*তাহে সর্বজনে,শিশু বৎসগণে,*
        *কৈলে তুমি পরিত্রাণ।।*
*তুমি বারে বারে,রাখহ সবারে,*
        *দারুণ অসুর হাতে।*
*রাখ এইবার, কর প্রতিকার,*
       *নহে মরি কালাগ্নিতে।।*
*কোথা হলধরে, ডাকি সকাতরে,*
      *এস এস কামপাল।*
*বৎসক মারিলে,ধেনুক বধিলে,*
      *সুখে ভুঞ্জাইলে তাল।।*
*প্রলম্ব অসুর,করিলে যে চূর,*
       *রাখিলে যতেক দায়।*
*এইবার রাখ, সঙ্গীগণে দেখ,*
      *নতুবা প্রাণ হারায়।।*
*হে রাম কানাই,তোমরা দুইভাই,*
     *আমাদের প্রাণদাতা।*
*সবে উর্ধমুখে, এ মত ডাকে,*
    *ভয়ে হয়ে অস্থিরতা।।*
*কানাই বলাই,অন্তরে দুইভাই,*
    *ছাওয়াল সঙ্কট দেখি।*
*ধেনু বৎসগণ,পুড়ে সর্বজন,*
     *মোচনেতে পদ্মআঁখি।।*
*পারকর্তা তুমি,পার করহ তুমি,*
     *পারের পারি তুমি।*
*কৃষ্ণ দাস বলে,তুমি না রক্ষিলে,*
      *রসাতলে যাবে ভূমি।।*

*🌻গোপবালকগণ সেই তীব্র দাবানলে দগ্ধপ্রায় হয়ে তাঁদের একমাত্র অবলম্বনীয় কৃষ্ণ ও বলরামকে বলতে লাগলেন,হে কৃষ্ণ!তুমি মহাবীর্য‍্যশালী,তোমার প্রভাবের কথা আমাদের অজানা নয়।* *কালিয়দমন দিনে যমুনার উপকূল ভূমিতে যে দাবানল প্রজ্বলিত হয়েছিল,তা তুমিই নিবারণ করেছিলে।* *আজ আমরা সেইরকম দাবানলে দগ্ধ হয়ে তোমার শরণাগত হলাম,তুমি আমাদের রক্ষা কর।* *তুমি আমাদের সামনে কত কত অসুর নিধন করেছ,তা আমরা সচোক্ষে দেখেছি।* *এই কিছুক্ষণ পূর্বেই দাদা বলরাম তুমি এক মুষ্ট‍্যাঘাতে সেই মহাবল পরাক্রান্ত অসুরকে বিনাশ করেছ,অতএব আমাদের দাবানল হতে রক্ষা করা তোমার পক্ষে কিছু মাত্র কষ্টসাধ‍্য কিংবা অসম্ভব নহে।* *🌻

*🌻যে সময়ে সকল সখাগণ শরবন মধ্যে সকল পশুকে একত্রিত করলেন,সে সময়ে যেসমস্ত প্রলম্বসহচর কংসানুচর অসুরগণ অত‍্যল্প সময়ের মধ্যে বলরামের হাতে প্রলম্বসুরের মৃত‍্যু দেখেছিল।* *তারা সুযোগ বুঝে কৃষ্ণের সাথে শত্রুতা করবার জন্য তাড়াতাড়ি শরবন ঘিরে ধরল,এমনভাবে আগুন জ্বালিয়ে দিল যে মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত বন দাঁউদাঁউ করে জ্বলে উঠে 🌻*

*🌻দাবানলে দগ্ধপ্রায় গোপবালকগণ,এইভাবে কৃষ্ণ ও বলরামের শরণাপন্ন হয়ে পুনঃপুনঃ আত্মরক্ষার জন্য ব‍্যাকুলতা প্রকাশ করে বললেন,হে সখা কৃষ্ণ!তুমি মোদের রক্ষা কর।*

*🌻🌻গর্গাচার্য‍্য বলেছেন=যত্র তস্মিন মহাভাগে প্রীতিং কুর্বন্তি মানবাঃ।নারয়োহতিভবন্ত‍্যেতান্ বিষ্ণু-*
*পক্ষানিবাসুরাঃ।। অর্থ‍্যাৎ=* *নন্দনন্দন কৃষ্ণকে যারা ভালবাসবে,তাদেরকে কোন শত্রুই কখনও পরাভূত করতে পারবে না* *বিষ্ণুপক্ষাশ্রিত ব‍্যক্তিগণের নিকটে যেমন আসুর পরাক্রম ব‍্যর্থ হয়,সেইরকম নন্দপুত্রের আশ্রিত ব‍্যক্তিগণও সর্ব বিপদ হতে অনায়াসে মুক্তি লাভ করে।🌻🌻*

*সখাগণ বলছেন,হে কৃষ্ণ!আমরা তোমার আশ্রিত হয়েও কি দাবানলে দগ্ধ হয়ে প্রাণত‍্যাগ করব? তুমি বিনা আমাদের অন‍্য গতি নাই এবং আমরাও তোমাকে ভিন্ন আর কিছুই জানি না।* *সখাগণের এইরকম ব‍্যাকুলতা দেখে কৃষ্ণ আর স্থির থাকতে পারলেন না,তখনই দাবানল নির্বাপণের জন্য মন স্থির করলেন।********************************
*🌻🌻তৃতীয় পদ🌻🌻*
*দেখি কালানল,সাক্ষাতেতে কাল,*
       *অনন্ত রূপ ধরিল।*
*তবে নারায়ণ,করিয়া ভক্ষণ,*
      *কালানল নিবারিল।।*
*অনন্ত মূরতি,হয়ে যদুপতি,*
     *কালানল কৈল পান।*
*মহাগ্নি হইতে,বৎস যূথে যূথে,*
     *শিশু পাই পরিত্রাণ।।*
*লাফে লাফে ধায়,গৃহ পথে যায়,*
     *ছাড়িল সে কানন।*
*যত শিশুগণ, আনন্দিত মন,*
      *দুই ভাইয়ে করে নতি।*
*পুরাণ প্রমাণ,কৃষ্ণ দাস ভাণ,*
       *তোমা চরণে রহে মতি।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ বললেন,এই সমস্ত গোপবালকগণ আমার আত্মা হতেও প্রিয়।* *হায়!এরা দাবানল দেখে অত‍্যন্ত ভীত হয়েছে,অতএব আমি এখনই দুষ্ট দাবানলকে উদরস্থ করব।সাক্ষাৎ কালান্তক যম হোক কিংবা প্রলয়কর্তা রুদ্রই হোক,আমার সখাগণদের কেহই অনিষ্ট করতে পারবে না।* *কৃষ্ণ মনে মনে বলছেন,আমি যদি তাদের সামনে দাবানল ভক্ষণ করি,আমাকে অন‍্য রকম ভাববে,এইকথা মনে করে তাদের বললেন,হে সখাগণ!তোমরা ভয় পেও না,আমি এখনই তোমাদের ভয় মুক্ত করব।* *তোরা সকলেই কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ কর।* *কৃষ্ণের কথা শুনে পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন যে,পরমকৌতুকপ্রিয় কৃষ্ণ আমাদের কে চোখ বন্ধ করতে বলছে কেন?* *আরেকজন বললেন,কৃষ্ণ যখন বলেছে তাই কর।* *কালিয়দমনের দিন গভীর রাত্রে প্রচন্ড দাবানল শান্ত করেছিল।* *সকলে চোখ বুজল, তৎক্ষণাৎ তাঁর অচিন্ত‍্যমহাশক্তি প্রভাবে মহাজলধরতুল‍্য এক প্রকান্ড বিগ্রহের আবির্ভাব হল।* *কৃষ্ণ তখন সেই বিরাট বদন ব‍্যাদান(বিস্তার) করে অনায়াসে সেই সর্বভক্ষক হুতাশনকে ভক্ষণ করলেন।* *তারপর কৃষ্ণ সমহিমায় ফিরে সখাগণদের বললেন,তোদের আর কোন ভয় নাই, চোখ খুলে দেখলেন আগুনের বিন্দুমাত্র কোন চিহ্ন নাই।* *তারপর মনের আনন্দে সকলে গৃহে ফিরে এলেন।*
*এখানেই রহিল,*

*কালানল ভক্ষণ লীলা*
*দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের অসুখ হয়েছে।* *এ রোগের চিকিৎসা কী,জিজ্ঞেস করলেন দেবর্ষি নারদ।* *শ্রীকৃষ্ণ বললেন, কোনো ভক্ত যদি তার পায়ের ধূলো আমার মাথায় দেয়, ভালো হতে পারি।* *যে দেবর্ষি নারদ এত বড় ভক্ত,সেও পিছু হটল।* *শ্রীকৃষ্ণের ষোল হাজার মহিষী,প্রত‍্যেকের কাছে গিয়ে হাত পাতল,তোমাদের চরণের ধূলি দাও,এই ধূলি মাথায় দিলে শ্রীকৃষ্ণের রোগ দূরীভূত হবে, সে কি কথা?স্বামীকে কী করে পায়ের ধূলো দিব?তাতে আমাদের পত্নীধর্ম নষ্ট হবে না?* *না,পারব না ধূলোদিতে।* *নারদ মুনি তখন ব্রজে গেলেন।* *নারদকে দেখে ব্রজাঙ্গনাগণ চঞ্চল হয়ে উঠলেন,বললেন,কী উদ্দেশ্য নিয়ে ব্রজে আগমন? দেবর্ষি বললেন,আমাদের কৃষ্ণের অসুখ?আমরা কি তার ভক্ত?আমাদের চরণ ধূলোতে কী কাজ হবে?তবুও বলছি,* *আমাদের চরণ ধূলিতে যদি কৃষ্ণ ভাল হয়,দিব আমাদের পায়ের ধূলো।* *যদি পাপ হয় হোক,অধর্ম হয় হোক, আমাদের পাপ,অধর্ম হবে হোক,আমাদের পাপে,আমাদের অধর্মেও যদি কৃষ্ণ সুখী হয়,আমরা সে পাপ,সে অধর্ম করব হাসিমুখে।* *জীবনে আর আমাদের ব্রতী কী?সেবা দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে সর্বতোভাবে সুখী করাই আমাদের ব্রত।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ ৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
গৌরচন্দ্রিকা
*শ্রীবাসের অঙ্গনে গোরা ভক্তগণ লয়ে।*
*মহানন্দে বাহু তুলে সংকীর্তন করয়ে।।*
*আচম্বিতে চারিদিকে অন্ধকার দেখে।*
*উচ্চৈঃস্বরে ভক্তগণ শ্রীহরিরে ডাকে।।*
*চতুর্দিকে ভক্তগণ বলেন হরি হরি*
*রক্ষা করহ মোদের গোলোকবিহারী।।*
*অতি বিসময় মূরতী গোরা করিয়া ধারণ।*
*লোচন কহে সকলেরে করিলা রক্ষণ।।*
*যেজন করয়ে মোর গোরার ভজন।*
*অচিরে পাই সে রাধাগোবিন্দের চরণ।।*

 *ব্রজ লীলা কালানল ভক্ষণ* *কেন বনে দাবানল লেগেছিল? সেই বিষয় বস্তু সামান্য লিপিবদ্ধ করব।*
*গো-বৎসগণদের বনের তৃণ ক্ষেত্র দেখে সমস্ত গো-বৎসগণদের ছেড়ে দিয়ে কৃষ্ণ বলরাম বললেন,চল আমরা খেলা করি।*কৃষ্ণের একটি দল,বলরামের একটি দল,কথা হল যে দল খেলায় হারবে,* *সেই দলের কেউ জয়ী দলের কেউকে ভান্ডীরকবটতল পর্যন্ত কাঁধে করে নিয়ে যাবে,পুন যে জায়গা হতে শুরু করেছিল, নিয়ে আসতে হবে,এই সর্ত।* *অপরদিকে কংস কৃষ্ণকে বিনষ্ট করবার জন‍্য প্রলম্বাসুর কে পাঠাল,প্রলম্বাসুর ইচ্ছারূপধারী ছিল,যেকোন সময় যে কারোর রূপ ধারণ করতে পারত।* *গোপবালকরূপ ধারণ করে কৃষ্ণের দলে প্রবেশ করল,এবং খেলায় কৃষ্ণের হার হল,এবার কাঁধে করে নিয়ে যাবার পালা।* *অসুর যে রূপ ধরেছিল তার কাঁধে বলরাম চাপলেন,* *প্রলম্বাসুর বলদেবের দুইচরণ বক্ষে চেপে এমনভাবে ধরল যে বলরাম মনে করলে ইচ্ছে মত কাঁধ হতে নামতে পারবেন না।* *এবারে প্রলম্ব বলরামকে কাঁধে নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে লাগল,বলরামের মনে সন্দেহ হল,কে এই রাখাল?আমাকে নিয়ে এতজোড়ে ছুটছে,না,* *নিশ্চয় কোন গন্ডগোল আছে।* *তখন বলরাম নিজ দেহকে সুমেরুপর্বত সম ভার করলেন,তখন বহন করতে সক্ষম হল না,তখন অসুর নিজ মূর্তিতে প্রকট হল,সেই ভীষণ প্রকান্ড আকৃতি,* *প্রজ্বলিত আগুনের মত উগ্রতেজ চোখ,অগ্নিবর্ণ চেহারা, এইরকম চেহারা দেখে বলরাম চিৎকার করে উঠলে কৃষ্ণ শুনতে পেয়ে দাদাকে ইঙ্গিত করলেন,আর বললেন,তুমি আর আমি অভিন্ন,উপযুক্ত শাস্তি দাও।* *দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্রাঘাতে যেমন পর্বতশৃঙ্গ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়,সেইরকম বলরামের মুষ্ট‍্যাঘাতে প্রলম্বাসুরের মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।* *এই খবর কংস পেয়ে আরো অন‍্যান‍্য অসুরকে পাঠিয়ে বনে আগুন লাগিয়ে সকলকে দগ্ধ করে মারতে চাইল।*
*🌼কালানল ভক্ষণের প্রথম পদ🌼*
*কাল জ‍্যৈষ্ঠ মাস,মলয় বাতাস,*
        *বিহরয়ে সমীরণ।*
*পবন হিল্লোলে,বেগে অগ্নি খেলে,*
        *শিখা পরশে গগন।।*
*বর্ণ দেখি কালো,নামে কালানল,*
        *সাক্ষাৎ কাল সমান।*
*দেখি শিশুগণ,করেন রোদন,*
       *এইবারে গেল পরাণ।।*
*ডাকে উচ্চৈঃস্বরে,প্রাণ গদাধরে,*
      *কোথা গেলিরে কানাই।*
*দারুণ আগুনে,পুড়ি সর্বজনে,*
      *এস প্রাণদাতা ভাই।।*
*তুই রক্ষয়িতা,তুই প্রাণদাতা,*
      *তুই সঙ্কট মোচন।*
*তোরহি কারণ,আসি গোচারণ,*
      *নির্ভয়েতে সর্বজন।।*
*মোদের পরাণ,গেল সব প্রাণ,*
      *বিলম্ব নাহিক আর।*
*শীঘ্র এস ভাই,বাঁচাও কানাই,*
     *অগ্নি হতে কর পার।।*
*শিশু বৎসগণে,যমুনা পুলিনে,*
     *বেড়িল কাল অগিনি।*
*তর নাহি সহে,কৃষ্ণ দাস কহে,*
     *তুই রক্ষাকর্তা জানি।।*

*🌻🌻প্রলম্বাসুর বিনাশের পর কৃষ্ণ,বলরাম সুবলাদি গোপসখাদের নিয়ে পরমানন্দে আগের মত বাল‍্যলীলারসে মত্ত হলেন।* *খেলা রসে এমন বিভোর হয়ে গেছেন যে বাহ‍্যজ্ঞান নাই।* *সকলে বাল‍্যখেলায় আত্মহারা,সেই সময়ে তাঁদের গো,বৃষ,বৎস প্রভৃতি পালনীয় পশুগণ কাছের তৃণপূর্ণ জায়গা ছেড়ে তৃণভক্ষণ করতে করতে ক্রমশ নতুন তৃণ লোভে বন হতে বনান্তরে অগ্রসর হতে হতে দূর গভীর বনে চলে গেছে।* *গ্রীষ্মকালীন বনবহ্নির তাপে দগ্ধপ্রায় হয়ে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতে লাগল।* *সেই চিৎকার শুনে কৃষ্ণ ও গোপবালকগণ যেখানে গো-বৎসগণ তৃণ খাচ্ছিল,সেখানে নাই, কোথায় গেল?কোথায় যেতে পারে ভাবতে লাগলেন।* *নিজেরা নিজেদের মধ‍্যে বলাবলি করতে লাগলেন,আমরা বহুদিন যাবৎ গোচারণে আসি এইরকম কোনদিন হয়নি।* *তখন কৃষ্ণ-বলরাম চিন্তান্বিত হয়ে গোবৎসগণকে খুঁজবার জন‍্য বনে বনে খুঁজতে লাগলেন।* *কৃষ্ণ গাভীগণের নাম ধরে ডাকতে লাগলেন,গোগণ কৃষ্ণকন্ঠধ্বনি শুনে পরমানন্দে বিভোর হল,এবং হাম্বারবে উত্তর দিল।* *দূর হতে কৃষ্ণকে দেখে উর্ধগ্রীবায় ধাবিত হতে চেষ্টা করিল; কিন্তু ঘন ও সুদীর্ঘ শরবৃক্ষ গভীর বনের মধ্যে এমনভাবে আটকে গেল,* *যে পথহারা হয়ে পড়ল।*

*🌻সংসারকানন ঢুকে জীবগণ যদি কোনও ভাগ‍্যবলে ও অকপট সাধনানুষ্ঠানের ফলে প্রতি পদে পদে কৃষ্ণের ডাক শুনতে পাই,তথাপি যেমন স্ত্রী-পুত্র-পরিজনাদির মায়া সম্বন্ধ বন্ধন ছেড়ে চলে যেতে পারে না; অথচ অন্ততের ব‍্যাকুলতায় সর্বদা মন ছুটাছুটি করে ও "হে কৃষ্ণ!কৃপা করো" বলে নিরন্তর দৈন‍্য প্রকাশ করে।🌻

🌻* *গো বৎসগণেরও একই অবস্থা হল।* *শরবনের মধ্যে চরমভাবে আটকে গেছে।* *তারপর সেই শরবনে গোপবালকগণ প্রবেলশ করে এক এক করে সকল গোবৎসগণদের বাহির করে এনে মিলিত করলেন।*
*তারপর সকল সখাগণ বললেন ভাই কৃষ্ণ!আজ আমরা কোন অশুভ মুহূর্তে বন যাত্রা করেছিলাম,আজ আর খেলা বাদ দিয়ে গৃহের দিকে চল।* *আবার কোন নতুন বিপদ না উপস্থিত হয়।* *তখন সকলকে সঙ্গে নিয়ে গভীর বন হতে গৃহের দিকে বেড়োনোর প্রস্তুত হচ্ছেন,এমন সময়ে হঠাৎ বনের ভিতর প্রচন্ড বনবহ্নি জ্বলে উঠল।* *দেখতে দেখতে শত শত শিখা বিস্তার করে গোপবালক ও গোবৎসগণ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।* *গরমকালের মৃদুমন্দ বাতাসে আগুন বৃক্ষ লতা সবকে ভস্ম করতে লাগল।* *সকল সখাগণ ও গোবৎসগণ অত‍্যন্ত ভীত ও জীবন রক্ষা পাবার জন্য ব‍্যস্ত হয়ে উঠল।* *🌻

🌻মৃত‍্যু ভয় পীড়িত ব‍্যক্তিগণ যেমন সর্বভয় হারী হরির চরণে শরণাগত হয়🌻

🌻* *সেইরকম সকলে "রক্ষ" "রক্ষ"* *বলে আর্তনাদ করতে করতে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের শরণাগত হল।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ ও ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻*
 *কালানল হ'তে,রাখহ ত্বরিতে,*
          *কালিদহে গেল প্রাণ।*
*তাহে সর্বজনে,শিশু বৎসগণে,*
        *কৈলে তুমি পরিত্রাণ।।*
*তুমি বারে বারে,রাখহ সবারে,*
        *দারুণ অসুর হাতে।*
*রাখ এইবার, কর প্রতিকার,*
       *নহে মরি কালাগ্নিতে।।*
*কোথা হলধরে, ডাকি সকাতরে,*
      *এস এস কামপাল।*
*বৎসক মারিলে,ধেনুক বধিলে,*
      *সুখে ভুঞ্জাইলে তাল।।*
*প্রলম্ব অসুর,করিলে যে চূর,*
       *রাখিলে যতেক দায়।*
*এইবার রাখ, সঙ্গীগণে দেখ,*
      *নতুবা প্রাণ হারায়।।*
*হে রাম কানাই,তোমরা দুইভাই,*
     *আমাদের প্রাণদাতা।*
*সবে উর্ধমুখে, এ মত ডাকে,*
    *ভয়ে হয়ে অস্থিরতা।।*
*কানাই বলাই,অন্তরে দুইভাই,*
    *ছাওয়াল সঙ্কট দেখি।*
*ধেনু বৎসগণ,পুড়ে সর্বজন,*
     *মোচনেতে পদ্মআঁখি।।*
*পারকর্তা তুমি,পার করহ তুমি,*
     *পারের পারি তুমি।*
*কৃষ্ণ দাস বলে,তুমি না রক্ষিলে,*
      *রসাতলে যাবে ভূমি।।*

*🌻গোপবালকগণ সেই তীব্র দাবানলে দগ্ধপ্রায় হয়ে তাঁদের একমাত্র অবলম্বনীয় কৃষ্ণ ও বলরামকে বলতে লাগলেন,হে কৃষ্ণ!তুমি মহাবীর্য‍্যশালী,তোমার প্রভাবের কথা আমাদের অজানা নয়।* *কালিয়দমন দিনে যমুনার উপকূল ভূমিতে যে দাবানল প্রজ্বলিত হয়েছিল,তা তুমিই নিবারণ করেছিলে।* *আজ আমরা সেইরকম দাবানলে দগ্ধ হয়ে তোমার শরণাগত হলাম,তুমি আমাদের রক্ষা কর।* *তুমি আমাদের সামনে কত কত অসুর নিধন করেছ,তা আমরা সচোক্ষে দেখেছি।* *এই কিছুক্ষণ পূর্বেই দাদা বলরাম তুমি এক মুষ্ট‍্যাঘাতে সেই মহাবল পরাক্রান্ত অসুরকে বিনাশ করেছ,অতএব আমাদের দাবানল হতে রক্ষা করা তোমার পক্ষে কিছু মাত্র কষ্টসাধ‍্য কিংবা অসম্ভব নহে।* *🌻

*🌻যে সময়ে সকল সখাগণ শরবন মধ্যে সকল পশুকে একত্রিত করলেন,সে সময়ে যেসমস্ত প্রলম্বসহচর কংসানুচর অসুরগণ অত‍্যল্প সময়ের মধ্যে বলরামের হাতে প্রলম্বসুরের মৃত‍্যু দেখেছিল।* *তারা সুযোগ বুঝে কৃষ্ণের সাথে শত্রুতা করবার জন্য তাড়াতাড়ি শরবন ঘিরে ধরল,এমনভাবে আগুন জ্বালিয়ে দিল যে মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত বন দাঁউদাঁউ করে জ্বলে উঠে 🌻*

*🌻দাবানলে দগ্ধপ্রায় গোপবালকগণ,এইভাবে কৃষ্ণ ও বলরামের শরণাপন্ন হয়ে পুনঃপুনঃ আত্মরক্ষার জন্য ব‍্যাকুলতা প্রকাশ করে বললেন,হে সখা কৃষ্ণ!তুমি মোদের রক্ষা কর।*

*🌻🌻গর্গাচার্য‍্য বলেছেন=যত্র তস্মিন মহাভাগে প্রীতিং কুর্বন্তি মানবাঃ।নারয়োহতিভবন্ত‍্যেতান্ বিষ্ণু-*
*পক্ষানিবাসুরাঃ।। অর্থ‍্যাৎ=* *নন্দনন্দন কৃষ্ণকে যারা ভালবাসবে,তাদেরকে কোন শত্রুই কখনও পরাভূত করতে পারবে না* *বিষ্ণুপক্ষাশ্রিত ব‍্যক্তিগণের নিকটে যেমন আসুর পরাক্রম ব‍্যর্থ হয়,সেইরকম নন্দপুত্রের আশ্রিত ব‍্যক্তিগণও সর্ব বিপদ হতে অনায়াসে মুক্তি লাভ করে।🌻🌻*

*সখাগণ বলছেন,হে কৃষ্ণ!আমরা তোমার আশ্রিত হয়েও কি দাবানলে দগ্ধ হয়ে প্রাণত‍্যাগ করব? তুমি বিনা আমাদের অন‍্য গতি নাই এবং আমরাও তোমাকে ভিন্ন আর কিছুই জানি না।* *সখাগণের এইরকম ব‍্যাকুলতা দেখে কৃষ্ণ আর স্থির থাকতে পারলেন না,তখনই দাবানল নির্বাপণের জন্য মন স্থির করলেন।********************************
*🌻🌻তৃতীয় পদ🌻🌻*
*দেখি কালানল,সাক্ষাতেতে কাল,*
       *অনন্ত রূপ ধরিল।*
*তবে নারায়ণ,করিয়া ভক্ষণ,*
      *কালানল নিবারিল।।*
*অনন্ত মূরতি,হয়ে যদুপতি,*
     *কালানল কৈল পান।*
*মহাগ্নি হইতে,বৎস যূথে যূথে,*
     *শিশু পাই পরিত্রাণ।।*
*লাফে লাফে ধায়,গৃহ পথে যায়,*
     *ছাড়িল সে কানন।*
*যত শিশুগণ, আনন্দিত মন,*
      *দুই ভাইয়ে করে নতি।*
*পুরাণ প্রমাণ,কৃষ্ণ দাস ভাণ,*
       *তোমা চরণে রহে মতি।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ বললেন,এই সমস্ত গোপবালকগণ আমার আত্মা হতেও প্রিয়।* *হায়!এরা দাবানল দেখে অত‍্যন্ত ভীত হয়েছে,অতএব আমি এখনই দুষ্ট দাবানলকে উদরস্থ করব।সাক্ষাৎ কালান্তক যম হোক কিংবা প্রলয়কর্তা রুদ্রই হোক,আমার সখাগণদের কেহই অনিষ্ট করতে পারবে না।* *কৃষ্ণ মনে মনে বলছেন,আমি যদি তাদের সামনে দাবানল ভক্ষণ করি,আমাকে অন‍্য রকম ভাববে,এইকথা মনে করে তাদের বললেন,হে সখাগণ!তোমরা ভয় পেও না,আমি এখনই তোমাদের ভয় মুক্ত করব।* *তোরা সকলেই কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ কর।* *কৃষ্ণের কথা শুনে পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন যে,পরমকৌতুকপ্রিয় কৃষ্ণ আমাদের কে চোখ বন্ধ করতে বলছে কেন?* *আরেকজন বললেন,কৃষ্ণ যখন বলেছে তাই কর।* *কালিয়দমনের দিন গভীর রাত্রে প্রচন্ড দাবানল শান্ত করেছিল।* *সকলে চোখ বুজল, তৎক্ষণাৎ তাঁর অচিন্ত‍্যমহাশক্তি প্রভাবে মহাজলধরতুল‍্য এক প্রকান্ড বিগ্রহের আবির্ভাব হল।* *কৃষ্ণ তখন সেই বিরাট বদন ব‍্যাদান(বিস্তার) করে অনায়াসে সেই সর্বভক্ষক হুতাশনকে ভক্ষণ করলেন।* *তারপর কৃষ্ণ সমহিমায় ফিরে সখাগণদের বললেন,তোদের আর কোন ভয় নাই, চোখ খুলে দেখলেন আগুনের বিন্দুমাত্র কোন চিহ্ন নাই।* *তারপর মনের আনন্দে সকলে গৃহে ফিরে এলেন।*
*এখানেই রহিল,*

*কালানল ভক্ষণ লীলা*
*দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের অসুখ হয়েছে।* *এ রোগের চিকিৎসা কী,জিজ্ঞেস করলেন দেবর্ষি নারদ।* *শ্রীকৃষ্ণ বললেন, কোনো ভক্ত যদি তার পায়ের ধূলো আমার মাথায় দেয়, ভালো হতে পারি।* *যে দেবর্ষি নারদ এত বড় ভক্ত,সেও পিছু হটল।* *শ্রীকৃষ্ণের ষোল হাজার মহিষী,প্রত‍্যেকের কাছে গিয়ে হাত পাতল,তোমাদের চরণের ধূলি দাও,এই ধূলি মাথায় দিলে শ্রীকৃষ্ণের রোগ দূরীভূত হবে, সে কি কথা?স্বামীকে কী করে পায়ের ধূলো দিব?তাতে আমাদের পত্নীধর্ম নষ্ট হবে না?* *না,পারব না ধূলোদিতে।* *নারদ মুনি তখন ব্রজে গেলেন।* *নারদকে দেখে ব্রজাঙ্গনাগণ চঞ্চল হয়ে উঠলেন,বললেন,কী উদ্দেশ্য নিয়ে ব্রজে আগমন? দেবর্ষি বললেন,আমাদের কৃষ্ণের অসুখ?আমরা কি তার ভক্ত?আমাদের চরণ ধূলোতে কী কাজ হবে?তবুও বলছি,* *আমাদের চরণ ধূলিতে যদি কৃষ্ণ ভাল হয়,দিব আমাদের পায়ের ধূলো।* *যদি পাপ হয় হোক,অধর্ম হয় হোক, আমাদের পাপ,অধর্ম হবে হোক,আমাদের পাপে,আমাদের অধর্মেও যদি কৃষ্ণ সুখী হয়,আমরা সে পাপ,সে অধর্ম করব হাসিমুখে।* *জীবনে আর আমাদের ব্রতী কী?সেবা দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে সর্বতোভাবে সুখী করাই আমাদের ব্রত।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




adds