শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৬৮. উৎকন্ঠিতা লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_14.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৬৮. উৎকন্ঠিতা লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻উৎকন্ঠিতা গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*এ হেন সুন্দর বেশ কেনে বনাইনু।*
*নিরুপম গোরারূপ দেখিতে পাইনু।।*
*অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।*
*নিশ্চয় জানিনু মোরে বিধি বিড়ম্বিল।।*
*সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু চন্দন।*
*গৌর বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন।।*
*কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।*
*বাসুঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুঃখে।।*

*🌻এক পরম গৌরানুরাগিনী অপর এক গৌর অনুরাগিনীকে বলছেন, ওরে সই!যাঁর সঙ্কেতে আমি কাননে এসে শয‍্যা রচনা করলাম,তিনি তো এলেন না!* *যাঁর জন‍্য এত বেশভূষা করলাম,তিনি যেমন বেশভূষা পছন্দ করতেন ঠিক তেমনিই করে এসেছিলাম,সবই বৃথা চলে গেল।*
*প্রায় নিশি প্রভাত হতে চলল,আমার গৌর গুণমণি তো এলেন না,অকাজে আমার রাত্রি চলে গেল।* *আমার কি মনে হয় জানিস?বিধি আমার সঙ্গে বিড়ম্বনা করল,নচেৎ এমনটি হবার কথা ছিল না।*এর পৃর্বে কোনদিনই কথা দিয়ে আসেন নাই,এমনটি হয় নাই।* *আমার সময় বড়ই দুঃসময় চলছে,কেন জানিস?যখন গৃহে থাকি আশেপাশের পড়শীগণ আমাকে আমার প্রাণ গৌরের নাম করে অকথ‍্য কুকথ‍্য বলে।* *এই যে সুগন্ধিত অগুরু চন্দন আমার গোরা অঙ্গে লেপন করব বলিয়া নিয়ে এসেছিলাম,সবই বৃথা গেল।*
*এই যে কর্পূর দিয়ে পান তৈরী করে রেখেছিলাম এখন কার মুখে দিব বল?* *সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা বাসুদেব ঘোষ বড়ই দুঃখ করে বলছেন,সত‍্য সত‍্যই আজকের এই নিশিটি বড়ই দুঃখময়।*

 *আখর=আজ উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।* *গোরারূপ না হেরিয়া, আজ উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া। গোরা স্মৃতি স্মরণ করিয়া,আজ উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।* *কিছুতেই যে ভুলতে নারে, রজনী বহিয়া যায়, কিছুতেই যে ভুলতে নারে।কোথা গেল গোরামণি,ভাবে প্রিয়া রমণী,কোথা গেল গোরামণি।*
*এতক্ষণ তো আসে ফিরে,নিজ গৃহে ধীরে ধীরে,এতক্ষণ তো আসে ফিরে।* *আজ কেন আসছে না, আজ গোরার কি হয়েছে,আজ কেন আসছে না,গোরা কি ভুলে গেল,প্রিয়ার স্মৃতি আজ,গোরা কি ভুলে গেল।* *অদ‍্য তার কি হল, প্রিয়ার কথা কি ভুলে গেল,উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।* *নদীয়া লীলায় আজ,ঊৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।নব রূপে নব ভাবে,উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।*
*🌻সিদ্ধ গৌর কিশোর দাস বাবাজী মহারাজের সংক্ষিপ্ত জীবনী আস্বাদন করুন।🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত টেপাখোলার কাছে পদ্মাতীরবর্তী বাগ-যান গ্রামে বৈশ‍্যকুলে ইনি আবির্ভূত হন।* *বাল‍্যকালেই বিবাহ করে ২৯ বর্ষ পর্যন্ত গৃহস্থাশ্রমে ছিলেন। পিতৃদত্ত নাম ছিল বংশীদাস।* *এই সময়ে শস‍্যের ব‍্যবসা করতেন।পত্নী বিয়োগের পর ঐ ব‍্যবসা ত‍্যাগ করে সিদ্ধ শ্রীজগন্নাথদাস বাবার শিষ‍্য শ্রীমদ্ ভাগবতদাস বাবাজির কাছে কৌপিন ধারণ করেন।* *তারপরে ৩০ বৎসরকাল শ্রীব্রজমন্ডলে বিভিন্ন গ্রামে বাস করে সবসময় কৃষ্ণভজন করতেন।* *ইনি মদনমোহন ঠৌরের (আস্থানায়)সিদ্ধ শ্রীনিত‍্যানন্দ দাস বাবার কাছে রাগানুগা ভজন ও বৈরাগ‍্যাদি শিক্ষা করেছিলেন।* *ইঁহার দৈন‍্য,বৈরাগ‍্য ও ভজন জগতে অতুলনীয়।১৩০০ সালে ফাল্গুন মাসে ইনি সিদ্ধ শ্রীজগন্নাথদাস বাবার আদেশানুসারে ব্রজ হতে গৌরদেশে আসেন এবং অপ্রকট কাল অবধি নবদ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় বাস করেন।* *তিনি ধামবাসী দর্শনে গৃহস্থের গৃহ হতে শুকনো দ্রব‍্যগুলি ভিক্ষা করে নিজহস্তে ভগবানের নৈবেদ‍্য তৈরী করতেন।* *ব‍্যবহার করা ও পথপ্রান্তে পরে থাকা মাটির পাত্র, গঙ্গাজলে ধুয়ে তাতে রন্ধন করতেন।* *গঙ্গা কিনারে ফেলে দেওয়া শববস্ত্রাদি (মরার কাপড়গুলো) ভাল করে ধুয়ে নিয়ে তার দ্বারা থাকবার জায়গায় ঘিরতেন, বা পরিধান করতেন।* *এককথায় ইনি সর্বতোভাবে পরপেক্ষা রহিত হয়ে অপরের পরিত‍্যক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু দিয়ে নিজের কাজে ব‍্যবহার করতেন।* *কখনও ইঁহার গলায় তুলসীমালা,হাতে জপের নামসংখ‍্যার তুলসীমালা এবং শ্রীঠাকুর মহাশয়ের প্রার্থনা ও প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা গ্রন্থ থাকত,আবার দেখা গেছে কখনও বা গলায় তুলসীমালা নেই,হাতে নামসংখ‍্যার তুলসীমালার পরিবর্তে ছিড়াকাপড়ের মালা,কখনও বা তিনি কৌপীনহীন হয়েও থাকতেন।* *কেহ কোনও দিন তাঁকে পরিচর্য‍্যা করবার সুযোগ পায় না।*
*তিনি নিরম্বু (জলশূন‍্য বা নির্জলা)* *একাদশী ব্রত পালন করতেন।একাদশী ছাড়া অন‍্য সময়ে কখনও বা গঙ্গামাটি,কখনও বা গঙ্গাজলে ভিজিয়ে শুকনো চাল ও লঙ্কা গ্রহণ করতেন।* *(শ্রীরাধারমণবাগের স্বনামধন‍্যা ললিতা দিদির মুখে শুনেছি কথাগুলো।* *🌻ইনি একদিন বাজার হতে কুড়িয়ে একটি কাণা বেগুন এনেছিলেন,বাগানবাড়ীর ঝাউতলায় বসে সেই বেগুনটিকে খন্ড খন্ড করে কেটে একমালা গঙ্গাজলে দিয়া একপত্র তুলসী দিলেন এবং ইষ্টদেবকে নিবেদন করে ভোগ আরতি গান করতেন,""ভজ পতিত-উদ্ধারণ শ্রীগৌরহরি""ইত‍্যাদি গাইতে গাইতে বলিলেন ""না জানিয়ে পরিপাটী,না জানি রন্ধন।শুখারুখা একমুষ্টি করহ ভোজন।।"" এই কথা বলতে বলতেই কন্ঠরোধ হল,সমস্ত শরীর লাল হল,তিনি ফুলে গেলেন,* *দরবিগলিতভাবে অশ্রুপ্রবাহ ছুটে মুখ বুক ভাসিয়ে দিল।* *ললিতাদিদি পেছনদিকে দাঁড়িয়ে এই প্রেমের দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেলেন।প্রায় একঘন্টা পরে ভাবশান্তি হলে আবার গাইলেন,""ফুলের কেওয়ারী ঘর ফুলের চৌয়ারী""।* *ইত‍্যাদি ক্রমে শ্রীগৌরের শয়ন দিয়া কেবল সেই কাঁচা বেগুন প্রসাদ ও জলটুকু পেয়ে এমন মুখভঙ্গি প্রভৃতি করছিলেন যেন পঞ্চামৃতাস্বাদেও লোকের এইরকম সুখ হয় না।* *তিনি নবদ্বীপেএসে বহুদিন লোহার পাত্রে করে মাধুকরী করতেন।* *রাস্তা দিয়ে জয়রাধে বলিয়া পাগলের মত যেতেন,দুষ্টু ছেলের দল পেছনে ছুটত,তিনি ছেলেদের নিয়েও আনন্দ করতেন।* *কৃষ্ণবর্ণ ছেলে দেখলে তাঁর কৃষ্ণজ্ঞান এবং গৌরবর্ণ দেখলে গৌরজ্ঞান হত।* *ছেলেরা তাঁর সঙ্গে রঙ্গরসে গায়ে হাত দিলে তিনি ভঙ্গিভরে বলতেন,"দেখ্ মা যশোদা!তোর গোপাল আমাকে চিমটি কাটল অথবা দেখ্ মা শচী!তোর নিমাই আমাকে মুখ ভেঙচাইল ইত‍্যাদি।*

"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌼ব্রজলীলা উৎকন্ঠিতা🌼*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*নিরপরাধ প্রিয়তম বহুক্ষণ যাবৎ সমাগত না হইলে,বিরহ বশতঃ যে নায়িকা উৎসুক চিত্তা হয়, রসজ্ঞগণ তাহাকেই উৎকন্ঠিতা বলেন।🌼*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""".
*কিমু চন্দ্রাবলী রণয় গভীরা।*
*অরুণ দমুং রতি বীর মধীরা।।*
*অতি চির মজনি রজনী রতি কালী।*
*🌼শ্রীকৃষ্ণের কুঞ্জাগমনের সম্ভাবিত সময় অতীত হয়ে গেছে তার জন‍্য উৎকন্ঠিতা শ্রীরাধা,মনে মনে ভাবছেন,যথা,এখনও প্রিয়তম এসে উপস্থিত হলেন না,কারণ কি?* *যুদ্ধে বিমুখ হওয়া বীরের ধর্ম বিরুদ্ধ।কৃষ্ণ রতিবীর।তবে কি তৎসঙ্গ লোলুপা, অধীরা,অতি প্রগলভা,নীতি বিহীনা চন্দ্রাবলী তাঁকে পথে পেয়ে রতি রণার্থ রুদ্ধ করল?*

 *সঙ্গম বিন্দত নহি বনমালী।।*
*কিমিহ জনে ধৃত পঙ্ক বিপাকে।*
*বিস্মৃতি রস‍্য বভূব বরাকে।।*
*কিমুত সনাতন তনুর লঘিষ্টং।*
*রণ মারভত সুরারীভিসরিষ্টং।।*
*🌼প্রগাঢ় (অতি ঘন)তমসাবৃত রজনী।বহুক্ষণ যাবৎ সমাগতা।তথিপি আমার বনমালী আমার প্রাণকে আনন্দ তরঙ্গে নাচাতে নাচাতে এখনও এসে মিলিত হলেন না,সায়,আমার এ দুঃখ কে বুঝবে।* *অথবা আমারও কোন পাপের বিপাকে প্রাণ প্রিয়তম,এ বরাকীকে (দীনদরিদ্রকে) বিস্মৃত (ভুলে) হয়ে গিয়াছেন।* *না,তা সম্ভব নহে।* *আমি সেই নারী মনোহারী রসিক শেখরের,যোগ‍্যা বা লোভনীয়া না হলেও আমার প্রাণ মন তদর্পিত। এ হেন প্রেমময় নায়ক,প্রেম ভিখারিনীকে কখনও বিস্মৃত হতে পারেন না।বোধহয় সনাতন তনু(কানু)কোনও অসুরের সহিত ঘোরতর যুদ্ধে প্রবৃত (রত)হয়েছেন।* *যে হেতু যুদ্ধ সর্ব অবস্থাতই বীরের বাঞ্জনীয় হয়।* *অন‍্য গভীরা= অতি প্রগলভা।রজনী কালী=নিশা অতি শ‍্যামা। পঙ্ক=পাপ।বরাকী =তুচ্ছা বা দীনদরিদ্রা।*
*🌼 দ্বিতীয় পদ 🌼*
*কানুর সঙ্কেতে,বেশ বানাইনু,*
      *আইনু কেলি কুঞ্জে।*
*মাধবী পরিমলে,ভরি তনু জারই,*
      *কুহরই মধুকর পুঞ্জে।।*
*অবহুঁ না মিলিল দারুণ কান।*
*নিলজ চিত,পিরীতি অনুরোধই,*
      *ইথে নাহি যাওত পরাণ।।*
*কানুক বচনে,অমিয়া রস সেচনে,*
      *বেচনু তনু মন জাতি।*
*নিজ কুল দূষণ,ভূষণ করি মানলু,*
      *তেঞি ভেল ঐছন শাতি।।*
*হিমকর কিরণে,গমন অব রোধল,*
     *মন্দিরে চলত সন্দেহ।*
*গোবিন্দ দাস কহ,যাই সতী জানহ*
      *কানুক ঐছন লেহ।।*
  *🌼সখী!আমি কানুর সঙ্কেতে নিকুঞ্জ কাননে এসে কুসুম দিয়ে শয‍্যা রচনা করলাম। কিন্তু কানু এখনও এলো না। মাধবী ফুল ফুটেছে,তার গন্ধে দেহ মন ভরে যাচ্ছে,মধুকর প্রতি ফুলে ফুলে গুঞ্জন করছে।* *কিন্তু এখনও কৃষ্ণ এলো না।* *ওরে সখী!এই নিলজ্জ প্রাণ কেন প্রেম ভালবাসা থেকে সরে যাচ্ছে না।কানুর কথায় আমি দেহ মন প্রাণ তাঁর অমৃত রসে ডুবিয়ে দিয়াছি।* *কানুর জন্য নিজের কুলে কলঙ্কিনী হয়ে,সেই কলঙ্ককে অঙ্গের ভূষণ করলাম, আর সে আমার সঙ্গে এমন করল?*
*এখন জ‍্যোৎস্না উদিত হয়েছে,এখন ঘরে ফিরে যাওয়াও ভীষণ কষ্টকর।*

*বঁধূর লাগিয়া,শেজ বিছাইনু,*
      *গাঁথিনু ফুলের মালা।*
*তাম্বুল সাজানু,দীপ উজারনু,*
      *মন্দির করিনু আলা।।*
   *সই, পাছে এসব হবে আন।*
*সে হেন নাগর,গুণের সাগর,*
     *কাহে না মিলল কান।।*
*শাশুড়ী ননদে, বঞ্চনা করিয়া,*
      *আইনু গহন বনে।*
*বড় সাধ মনে,এ রূপ যৌবনে,*
      *মিলিব বঁধূর সনে।।*
*পথ পানে চাহি,কত না রহিব,*
     *কত প্রবোধিব মনে।*
*রস শিরোমণি,আসিবে এখুনি,*
      *দ্বিজ চন্ডীদাস ভণে।।*
*আখর=শ্রীমতী তখন সখীরে কয়, হৃদয়ের জ্বালা জুড়ায়, শ্রীমতী তখন সখীরে কয়।* *আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল,কেন যে এখনো আসতে নারিল,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।এত কষ্টে এলাম ঘর ছেড়ে,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।*
*এত আনন্দ ছিল মনে,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।এত সাধ জাগিল মনে,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
 *এক পরম ভক্তচূড়ামণির সত‍্য কথন* *শ্রীরামদাস বাবাজি মহারাজ বর্ষাণা ও লোটনকুঞ্জ।*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*ইনার পূর্ব নাম শ্রীরমেশ চন্দ্র দে, ইনি শ্রী অভিরাম গোপালের পরিবারে দীক্ষিত হয়েছিলেন এবং সখ‍্যরসে উপাসনা করতেন।* *ব্রজমন্ডলে এসে তিনি সিদ্ধ শ্রীজগন্নাথদাস বাবাজি মহারাজের সঙ্গে কৃপাবলে শ্রীশ্রীরূপানুগ ভজনে আকৃষ্ট হয়ে বর্ষাণায় গিয়ে ভজনে রত হয়েছিলেন।* *অল্পসময়ের মধ্যেই ইঁহার ভজনখ‍্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁকে সেবা করবার জন্য লোকের আন্তরিক ইচ্ছে হয়।* *বাইরে নির্জনে ভজন করেন দেখে "তাড়াসের"রাণী ভানুকুন্ডের তীরে একটি কুটীর নির্মাণ করে দিলেন এবং তিনিও সেই কুটীরে বাস করতে লাগলেন।* *ভক্ত সমাগমও বৃদ্ধি হতে লাগল,এদিকে সেখানকার পান্ডাগণ তাঁর প্রচুর ধন আছে বলে সমালোচনাও চালিয়ে গেল।* *এইভাবে ভজন-বিঘ্ন বোধ করে ঐ কুটীর ত‍্যাগ করে ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে ডাক্তার বিপিনবিহারী দাস কর্তৃক লোটনকুঞ্জে নির্মিত কুটীতে অপ্রকটকাল পর্যন্ত থেকে ভজন করেছিলেন।* *ইনি জাতরতি সাধক ছিলেন,বরাবরই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।*
*তিনি যেখানে ঘুমোতেন বালিশের তলায় একটি বটি রেখেছিলেন,কোন এক ভক্ত বটি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে বললেন,যে দিন তিনি নিদিষ্ট ভজন-পথ হতে বিচ‍্যুত হবেন বা শিথিলতা আসবে,সেদিন ঐ বটিদ্বারা নিজের গলা কেটে ফেলবেন বলে বালিশের তলায় রেখেছেন।* *তিনি একটি ডায়েরি ব‍্যবহার করতেন, তাতে বেশ কিছু লিখে রেখেছিলেন।* *প্রতিজ্ঞা গুলি-------* *(১) যে কোনও ব‍্যক্তি হোক না কেন,সে যদি আমাকে বিনা কারণে জুতা মারে,ঝাঁটা মারে,মুখে প্রস্রাব করে গায়ে বিষ্ঠা প্রদান করে।* *মাথায় কুড়ি ঘা লাথি মারে,কন্টক দ্বারা শরীর বিদ্ধ করে,মনবেদনাযুক্ত দুরুক্তি(দুর্বাক‍্য)বলে গালাগালি দেয় কিম্বা আমার মাথা ছেদন করে, তথাপি আমি বাক‍্যবাণ বা অস্ত্র চালাব না;সত‍্য,সত‍্য,সত‍্য-- সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলাম।* *যদি এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করি,তবে ২৭৮৬০যুগ কাল নরকে পচে মরব।আমার এই প্রতিজ্ঞা বিষয়ে শ্রীভগবান শ্রীকৃষ্ণ সাক্ষী রইলেন।এই নিয়ম আমার জীবনকাল থাকা পযর্ন্ত।যখন এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবার ইচ্ছে হবে,তখন আগে এই বটি দিয়ে আপন মস্তকচ্ছেদন করে ফেলব।*
*তবু শ্রীব্রজধামে দেহটি থাকবে।সন ১৩৩৮ সাল ৮ই মাঘ বেলা দুইটার সময় এই সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা লিখলাম।* *(২) ব্রজ রমণীগণকে লক্ষ্মীদেবীর সমান ভক্তি করতে হবে,আর ব্রজবাসী পুরুষগণকে শ্রীভগবান শ্রীবিষ্ণুর সমান ভক্তি করতে হবে।অতএব সাবধান,সাবধান,সাবধান=ব্রজরমণী হোক বা পুরুষ হোক,সকলের কাছে গলে বস্ত্র দিয়া জোড়হস্ত হয়ে থাকবে।* *এই নিয়ম আমার জীবনকাল পর্যন্ত।সন ১৩৪৩ সাল ১৭ই ভাদ্র ১২ টার সময় এই প্রতিজ্ঞা লিখলাম।* *(৩) স্বয়ং মহাভগবান শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র শ্রীমুখে আমাকে বলিলেন=সুদুর্জয় পরমশত্রু মন দেহের মধ্যে বাস করছে,চব্বিশ ঘন্টা তাকে আধোয়া(অধৌত)?ঝাঁটা মেরে বশীভূত করে রাখবে,নচেৎ ভজনসাধন নষ্ট করে রৌরব(যে নরকে গো,স্ত্রী,ভিক্ষুক,ভ্রূণ ও ব্রাহ্মণ হত‍্যাকারী এবং অগম‍্যাগামী,তীর্থ প্রতিগ্রাহীরা গমন করে,অসহনীয় যন্ত্রণা)* *নরকে নিয়ে যাবে।সর্বতোভাবে মনকে নিগ্রহ করে,তাড়ন ভৎর্সন করে লীলায় নিযুক্ত করবে।মন যখন অসৎপথে যাবে,তখন শ্রীমন্মহাপ্রভু ও নিতাইচাঁদকে একাগ্রচিত্তে ডাক----------------*।
*দেখ সখী অটমীকো রাতি।*
*আধ রজনী বহি যাতি।।*
*দশ দিশ অরুণিম ভেল।*
*আধচন্দা উই গেল।।*
*অব হরি না মিলল রে।*
*বিহি মোরে বঞ্চল রে।।*
*কাহে বনায়নু বেশ।*
*বিঘটন কানুক সন্দেশ।।*
*কাহুকো নহ ইহ গারি।*
*ধনি যনি না হয়ে কুলনারী।।*
*কৈছনে ধরব পরাণ।*
*কো এত সহে ফুলবান।।*
*গোবিন্দ দাস সব জান।*
*অবহি মিলাওব কান।।*
*🌺শ্রীমতী রাধারাণীর ক্রমে উৎকন্ঠা বেড়ে উঠল। ভগ্ন হৃদয়া রাধা,সখীকে বলছেন,সখী!অটমীকো রাত অর্থ‍্যাৎ আজ কৃষ্ণাষ্টমীর রাত্রি। নিশ্চয়ই অর্ধ রজনী গত হয়েছে।কারণ দশদিক অরুণিত করে রজনীপতি অর্ধ উদিত হয়েছে। হায়!এখনও হরির সাক্ষাৎ লাভ হল না।আজ বিহি,বিধাতা আমাকে বঞ্চিত করল। সখীরে এত যত্ন করে অঙ্গের এই বেশ কেন রচনা করলাম,আমার অদৃষ্ট দোষে কি আজ কানুর মতো সত্যব্রত প্রেমিকের সঙ্কেত সম্বাদও বৃথা হল।বুঝলাম,কোন ধনি যেন কুলবধূ না হয়,একথা কারো সম্বন্ধেই গালি নহে।সখী!এখন কি করে প্রাণ ধারণ করব,* *কন্দর্পের এত প্রতাপ কি করে সহিব। সম্বোধিতা সখীর ভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ দাস উত্তর দিচ্ছেন যখন তোমার এমন মনোবেদনা জানলাম এখনি কানুকে এনে মিলন করাচ্ছি।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
   
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৮. শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🌻উৎকন্ঠিতা লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৬৮. উৎকন্ঠিতা লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻উৎকন্ঠিতা গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*এ হেন সুন্দর বেশ কেনে বনাইনু।*
*নিরুপম গোরারূপ দেখিতে পাইনু।।*
*অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।*
*নিশ্চয় জানিনু মোরে বিধি বিড়ম্বিল।।*
*সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু চন্দন।*
*গৌর বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন।।*
*কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।*
*বাসুঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুঃখে।।*

*🌻এক পরম গৌরানুরাগিনী অপর এক গৌর অনুরাগিনীকে বলছেন, ওরে সই!যাঁর সঙ্কেতে আমি কাননে এসে শয‍্যা রচনা করলাম,তিনি তো এলেন না!* *যাঁর জন‍্য এত বেশভূষা করলাম,তিনি যেমন বেশভূষা পছন্দ করতেন ঠিক তেমনিই করে এসেছিলাম,সবই বৃথা চলে গেল।*
*প্রায় নিশি প্রভাত হতে চলল,আমার গৌর গুণমণি তো এলেন না,অকাজে আমার রাত্রি চলে গেল।* *আমার কি মনে হয় জানিস?বিধি আমার সঙ্গে বিড়ম্বনা করল,নচেৎ এমনটি হবার কথা ছিল না।*এর পৃর্বে কোনদিনই কথা দিয়ে আসেন নাই,এমনটি হয় নাই।* *আমার সময় বড়ই দুঃসময় চলছে,কেন জানিস?যখন গৃহে থাকি আশেপাশের পড়শীগণ আমাকে আমার প্রাণ গৌরের নাম করে অকথ‍্য কুকথ‍্য বলে।* *এই যে সুগন্ধিত অগুরু চন্দন আমার গোরা অঙ্গে লেপন করব বলিয়া নিয়ে এসেছিলাম,সবই বৃথা গেল।*
*এই যে কর্পূর দিয়ে পান তৈরী করে রেখেছিলাম এখন কার মুখে দিব বল?* *সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা বাসুদেব ঘোষ বড়ই দুঃখ করে বলছেন,সত‍্য সত‍্যই আজকের এই নিশিটি বড়ই দুঃখময়।*

 *আখর=আজ উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।* *গোরারূপ না হেরিয়া, আজ উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া। গোরা স্মৃতি স্মরণ করিয়া,আজ উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।* *কিছুতেই যে ভুলতে নারে, রজনী বহিয়া যায়, কিছুতেই যে ভুলতে নারে।কোথা গেল গোরামণি,ভাবে প্রিয়া রমণী,কোথা গেল গোরামণি।*
*এতক্ষণ তো আসে ফিরে,নিজ গৃহে ধীরে ধীরে,এতক্ষণ তো আসে ফিরে।* *আজ কেন আসছে না, আজ গোরার কি হয়েছে,আজ কেন আসছে না,গোরা কি ভুলে গেল,প্রিয়ার স্মৃতি আজ,গোরা কি ভুলে গেল।* *অদ‍্য তার কি হল, প্রিয়ার কথা কি ভুলে গেল,উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।* *নদীয়া লীলায় আজ,ঊৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।নব রূপে নব ভাবে,উৎকন্ঠিতা বিষ্ণুপ্রিয়া।*
*🌻সিদ্ধ গৌর কিশোর দাস বাবাজী মহারাজের সংক্ষিপ্ত জীবনী আস্বাদন করুন।🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত টেপাখোলার কাছে পদ্মাতীরবর্তী বাগ-যান গ্রামে বৈশ‍্যকুলে ইনি আবির্ভূত হন।* *বাল‍্যকালেই বিবাহ করে ২৯ বর্ষ পর্যন্ত গৃহস্থাশ্রমে ছিলেন। পিতৃদত্ত নাম ছিল বংশীদাস।* *এই সময়ে শস‍্যের ব‍্যবসা করতেন।পত্নী বিয়োগের পর ঐ ব‍্যবসা ত‍্যাগ করে সিদ্ধ শ্রীজগন্নাথদাস বাবার শিষ‍্য শ্রীমদ্ ভাগবতদাস বাবাজির কাছে কৌপিন ধারণ করেন।* *তারপরে ৩০ বৎসরকাল শ্রীব্রজমন্ডলে বিভিন্ন গ্রামে বাস করে সবসময় কৃষ্ণভজন করতেন।* *ইনি মদনমোহন ঠৌরের (আস্থানায়)সিদ্ধ শ্রীনিত‍্যানন্দ দাস বাবার কাছে রাগানুগা ভজন ও বৈরাগ‍্যাদি শিক্ষা করেছিলেন।* *ইঁহার দৈন‍্য,বৈরাগ‍্য ও ভজন জগতে অতুলনীয়।১৩০০ সালে ফাল্গুন মাসে ইনি সিদ্ধ শ্রীজগন্নাথদাস বাবার আদেশানুসারে ব্রজ হতে গৌরদেশে আসেন এবং অপ্রকট কাল অবধি নবদ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় বাস করেন।* *তিনি ধামবাসী দর্শনে গৃহস্থের গৃহ হতে শুকনো দ্রব‍্যগুলি ভিক্ষা করে নিজহস্তে ভগবানের নৈবেদ‍্য তৈরী করতেন।* *ব‍্যবহার করা ও পথপ্রান্তে পরে থাকা মাটির পাত্র, গঙ্গাজলে ধুয়ে তাতে রন্ধন করতেন।* *গঙ্গা কিনারে ফেলে দেওয়া শববস্ত্রাদি (মরার কাপড়গুলো) ভাল করে ধুয়ে নিয়ে তার দ্বারা থাকবার জায়গায় ঘিরতেন, বা পরিধান করতেন।* *এককথায় ইনি সর্বতোভাবে পরপেক্ষা রহিত হয়ে অপরের পরিত‍্যক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু দিয়ে নিজের কাজে ব‍্যবহার করতেন।* *কখনও ইঁহার গলায় তুলসীমালা,হাতে জপের নামসংখ‍্যার তুলসীমালা এবং শ্রীঠাকুর মহাশয়ের প্রার্থনা ও প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা গ্রন্থ থাকত,আবার দেখা গেছে কখনও বা গলায় তুলসীমালা নেই,হাতে নামসংখ‍্যার তুলসীমালার পরিবর্তে ছিড়াকাপড়ের মালা,কখনও বা তিনি কৌপীনহীন হয়েও থাকতেন।* *কেহ কোনও দিন তাঁকে পরিচর্য‍্যা করবার সুযোগ পায় না।*
*তিনি নিরম্বু (জলশূন‍্য বা নির্জলা)* *একাদশী ব্রত পালন করতেন।একাদশী ছাড়া অন‍্য সময়ে কখনও বা গঙ্গামাটি,কখনও বা গঙ্গাজলে ভিজিয়ে শুকনো চাল ও লঙ্কা গ্রহণ করতেন।* *(শ্রীরাধারমণবাগের স্বনামধন‍্যা ললিতা দিদির মুখে শুনেছি কথাগুলো।* *🌻ইনি একদিন বাজার হতে কুড়িয়ে একটি কাণা বেগুন এনেছিলেন,বাগানবাড়ীর ঝাউতলায় বসে সেই বেগুনটিকে খন্ড খন্ড করে কেটে একমালা গঙ্গাজলে দিয়া একপত্র তুলসী দিলেন এবং ইষ্টদেবকে নিবেদন করে ভোগ আরতি গান করতেন,""ভজ পতিত-উদ্ধারণ শ্রীগৌরহরি""ইত‍্যাদি গাইতে গাইতে বলিলেন ""না জানিয়ে পরিপাটী,না জানি রন্ধন।শুখারুখা একমুষ্টি করহ ভোজন।।"" এই কথা বলতে বলতেই কন্ঠরোধ হল,সমস্ত শরীর লাল হল,তিনি ফুলে গেলেন,* *দরবিগলিতভাবে অশ্রুপ্রবাহ ছুটে মুখ বুক ভাসিয়ে দিল।* *ললিতাদিদি পেছনদিকে দাঁড়িয়ে এই প্রেমের দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেলেন।প্রায় একঘন্টা পরে ভাবশান্তি হলে আবার গাইলেন,""ফুলের কেওয়ারী ঘর ফুলের চৌয়ারী""।* *ইত‍্যাদি ক্রমে শ্রীগৌরের শয়ন দিয়া কেবল সেই কাঁচা বেগুন প্রসাদ ও জলটুকু পেয়ে এমন মুখভঙ্গি প্রভৃতি করছিলেন যেন পঞ্চামৃতাস্বাদেও লোকের এইরকম সুখ হয় না।* *তিনি নবদ্বীপেএসে বহুদিন লোহার পাত্রে করে মাধুকরী করতেন।* *রাস্তা দিয়ে জয়রাধে বলিয়া পাগলের মত যেতেন,দুষ্টু ছেলের দল পেছনে ছুটত,তিনি ছেলেদের নিয়েও আনন্দ করতেন।* *কৃষ্ণবর্ণ ছেলে দেখলে তাঁর কৃষ্ণজ্ঞান এবং গৌরবর্ণ দেখলে গৌরজ্ঞান হত।* *ছেলেরা তাঁর সঙ্গে রঙ্গরসে গায়ে হাত দিলে তিনি ভঙ্গিভরে বলতেন,"দেখ্ মা যশোদা!তোর গোপাল আমাকে চিমটি কাটল অথবা দেখ্ মা শচী!তোর নিমাই আমাকে মুখ ভেঙচাইল ইত‍্যাদি।*

"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌼ব্রজলীলা উৎকন্ঠিতা🌼*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*নিরপরাধ প্রিয়তম বহুক্ষণ যাবৎ সমাগত না হইলে,বিরহ বশতঃ যে নায়িকা উৎসুক চিত্তা হয়, রসজ্ঞগণ তাহাকেই উৎকন্ঠিতা বলেন।🌼*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""".
*কিমু চন্দ্রাবলী রণয় গভীরা।*
*অরুণ দমুং রতি বীর মধীরা।।*
*অতি চির মজনি রজনী রতি কালী।*
*🌼শ্রীকৃষ্ণের কুঞ্জাগমনের সম্ভাবিত সময় অতীত হয়ে গেছে তার জন‍্য উৎকন্ঠিতা শ্রীরাধা,মনে মনে ভাবছেন,যথা,এখনও প্রিয়তম এসে উপস্থিত হলেন না,কারণ কি?* *যুদ্ধে বিমুখ হওয়া বীরের ধর্ম বিরুদ্ধ।কৃষ্ণ রতিবীর।তবে কি তৎসঙ্গ লোলুপা, অধীরা,অতি প্রগলভা,নীতি বিহীনা চন্দ্রাবলী তাঁকে পথে পেয়ে রতি রণার্থ রুদ্ধ করল?*

 *সঙ্গম বিন্দত নহি বনমালী।।*
*কিমিহ জনে ধৃত পঙ্ক বিপাকে।*
*বিস্মৃতি রস‍্য বভূব বরাকে।।*
*কিমুত সনাতন তনুর লঘিষ্টং।*
*রণ মারভত সুরারীভিসরিষ্টং।।*
*🌼প্রগাঢ় (অতি ঘন)তমসাবৃত রজনী।বহুক্ষণ যাবৎ সমাগতা।তথিপি আমার বনমালী আমার প্রাণকে আনন্দ তরঙ্গে নাচাতে নাচাতে এখনও এসে মিলিত হলেন না,সায়,আমার এ দুঃখ কে বুঝবে।* *অথবা আমারও কোন পাপের বিপাকে প্রাণ প্রিয়তম,এ বরাকীকে (দীনদরিদ্রকে) বিস্মৃত (ভুলে) হয়ে গিয়াছেন।* *না,তা সম্ভব নহে।* *আমি সেই নারী মনোহারী রসিক শেখরের,যোগ‍্যা বা লোভনীয়া না হলেও আমার প্রাণ মন তদর্পিত। এ হেন প্রেমময় নায়ক,প্রেম ভিখারিনীকে কখনও বিস্মৃত হতে পারেন না।বোধহয় সনাতন তনু(কানু)কোনও অসুরের সহিত ঘোরতর যুদ্ধে প্রবৃত (রত)হয়েছেন।* *যে হেতু যুদ্ধ সর্ব অবস্থাতই বীরের বাঞ্জনীয় হয়।* *অন‍্য গভীরা= অতি প্রগলভা।রজনী কালী=নিশা অতি শ‍্যামা। পঙ্ক=পাপ।বরাকী =তুচ্ছা বা দীনদরিদ্রা।*
*🌼 দ্বিতীয় পদ 🌼*
*কানুর সঙ্কেতে,বেশ বানাইনু,*
      *আইনু কেলি কুঞ্জে।*
*মাধবী পরিমলে,ভরি তনু জারই,*
      *কুহরই মধুকর পুঞ্জে।।*
*অবহুঁ না মিলিল দারুণ কান।*
*নিলজ চিত,পিরীতি অনুরোধই,*
      *ইথে নাহি যাওত পরাণ।।*
*কানুক বচনে,অমিয়া রস সেচনে,*
      *বেচনু তনু মন জাতি।*
*নিজ কুল দূষণ,ভূষণ করি মানলু,*
      *তেঞি ভেল ঐছন শাতি।।*
*হিমকর কিরণে,গমন অব রোধল,*
     *মন্দিরে চলত সন্দেহ।*
*গোবিন্দ দাস কহ,যাই সতী জানহ*
      *কানুক ঐছন লেহ।।*
  *🌼সখী!আমি কানুর সঙ্কেতে নিকুঞ্জ কাননে এসে কুসুম দিয়ে শয‍্যা রচনা করলাম। কিন্তু কানু এখনও এলো না। মাধবী ফুল ফুটেছে,তার গন্ধে দেহ মন ভরে যাচ্ছে,মধুকর প্রতি ফুলে ফুলে গুঞ্জন করছে।* *কিন্তু এখনও কৃষ্ণ এলো না।* *ওরে সখী!এই নিলজ্জ প্রাণ কেন প্রেম ভালবাসা থেকে সরে যাচ্ছে না।কানুর কথায় আমি দেহ মন প্রাণ তাঁর অমৃত রসে ডুবিয়ে দিয়াছি।* *কানুর জন্য নিজের কুলে কলঙ্কিনী হয়ে,সেই কলঙ্ককে অঙ্গের ভূষণ করলাম, আর সে আমার সঙ্গে এমন করল?*
*এখন জ‍্যোৎস্না উদিত হয়েছে,এখন ঘরে ফিরে যাওয়াও ভীষণ কষ্টকর।*

*বঁধূর লাগিয়া,শেজ বিছাইনু,*
      *গাঁথিনু ফুলের মালা।*
*তাম্বুল সাজানু,দীপ উজারনু,*
      *মন্দির করিনু আলা।।*
   *সই, পাছে এসব হবে আন।*
*সে হেন নাগর,গুণের সাগর,*
     *কাহে না মিলল কান।।*
*শাশুড়ী ননদে, বঞ্চনা করিয়া,*
      *আইনু গহন বনে।*
*বড় সাধ মনে,এ রূপ যৌবনে,*
      *মিলিব বঁধূর সনে।।*
*পথ পানে চাহি,কত না রহিব,*
     *কত প্রবোধিব মনে।*
*রস শিরোমণি,আসিবে এখুনি,*
      *দ্বিজ চন্ডীদাস ভণে।।*
*আখর=শ্রীমতী তখন সখীরে কয়, হৃদয়ের জ্বালা জুড়ায়, শ্রীমতী তখন সখীরে কয়।* *আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল,কেন যে এখনো আসতে নারিল,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।এত কষ্টে এলাম ঘর ছেড়ে,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।*
*এত আনন্দ ছিল মনে,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।এত সাধ জাগিল মনে,আজ শ্রীকৃষ্ণের কি হইল।*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
 *এক পরম ভক্তচূড়ামণির সত‍্য কথন* *শ্রীরামদাস বাবাজি মহারাজ বর্ষাণা ও লোটনকুঞ্জ।*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*ইনার পূর্ব নাম শ্রীরমেশ চন্দ্র দে, ইনি শ্রী অভিরাম গোপালের পরিবারে দীক্ষিত হয়েছিলেন এবং সখ‍্যরসে উপাসনা করতেন।* *ব্রজমন্ডলে এসে তিনি সিদ্ধ শ্রীজগন্নাথদাস বাবাজি মহারাজের সঙ্গে কৃপাবলে শ্রীশ্রীরূপানুগ ভজনে আকৃষ্ট হয়ে বর্ষাণায় গিয়ে ভজনে রত হয়েছিলেন।* *অল্পসময়ের মধ্যেই ইঁহার ভজনখ‍্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁকে সেবা করবার জন্য লোকের আন্তরিক ইচ্ছে হয়।* *বাইরে নির্জনে ভজন করেন দেখে "তাড়াসের"রাণী ভানুকুন্ডের তীরে একটি কুটীর নির্মাণ করে দিলেন এবং তিনিও সেই কুটীরে বাস করতে লাগলেন।* *ভক্ত সমাগমও বৃদ্ধি হতে লাগল,এদিকে সেখানকার পান্ডাগণ তাঁর প্রচুর ধন আছে বলে সমালোচনাও চালিয়ে গেল।* *এইভাবে ভজন-বিঘ্ন বোধ করে ঐ কুটীর ত‍্যাগ করে ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে ডাক্তার বিপিনবিহারী দাস কর্তৃক লোটনকুঞ্জে নির্মিত কুটীতে অপ্রকটকাল পর্যন্ত থেকে ভজন করেছিলেন।* *ইনি জাতরতি সাধক ছিলেন,বরাবরই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।*
*তিনি যেখানে ঘুমোতেন বালিশের তলায় একটি বটি রেখেছিলেন,কোন এক ভক্ত বটি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে বললেন,যে দিন তিনি নিদিষ্ট ভজন-পথ হতে বিচ‍্যুত হবেন বা শিথিলতা আসবে,সেদিন ঐ বটিদ্বারা নিজের গলা কেটে ফেলবেন বলে বালিশের তলায় রেখেছেন।* *তিনি একটি ডায়েরি ব‍্যবহার করতেন, তাতে বেশ কিছু লিখে রেখেছিলেন।* *প্রতিজ্ঞা গুলি-------* *(১) যে কোনও ব‍্যক্তি হোক না কেন,সে যদি আমাকে বিনা কারণে জুতা মারে,ঝাঁটা মারে,মুখে প্রস্রাব করে গায়ে বিষ্ঠা প্রদান করে।* *মাথায় কুড়ি ঘা লাথি মারে,কন্টক দ্বারা শরীর বিদ্ধ করে,মনবেদনাযুক্ত দুরুক্তি(দুর্বাক‍্য)বলে গালাগালি দেয় কিম্বা আমার মাথা ছেদন করে, তথাপি আমি বাক‍্যবাণ বা অস্ত্র চালাব না;সত‍্য,সত‍্য,সত‍্য-- সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলাম।* *যদি এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করি,তবে ২৭৮৬০যুগ কাল নরকে পচে মরব।আমার এই প্রতিজ্ঞা বিষয়ে শ্রীভগবান শ্রীকৃষ্ণ সাক্ষী রইলেন।এই নিয়ম আমার জীবনকাল থাকা পযর্ন্ত।যখন এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবার ইচ্ছে হবে,তখন আগে এই বটি দিয়ে আপন মস্তকচ্ছেদন করে ফেলব।*
*তবু শ্রীব্রজধামে দেহটি থাকবে।সন ১৩৩৮ সাল ৮ই মাঘ বেলা দুইটার সময় এই সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা লিখলাম।* *(২) ব্রজ রমণীগণকে লক্ষ্মীদেবীর সমান ভক্তি করতে হবে,আর ব্রজবাসী পুরুষগণকে শ্রীভগবান শ্রীবিষ্ণুর সমান ভক্তি করতে হবে।অতএব সাবধান,সাবধান,সাবধান=ব্রজরমণী হোক বা পুরুষ হোক,সকলের কাছে গলে বস্ত্র দিয়া জোড়হস্ত হয়ে থাকবে।* *এই নিয়ম আমার জীবনকাল পর্যন্ত।সন ১৩৪৩ সাল ১৭ই ভাদ্র ১২ টার সময় এই প্রতিজ্ঞা লিখলাম।* *(৩) স্বয়ং মহাভগবান শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র শ্রীমুখে আমাকে বলিলেন=সুদুর্জয় পরমশত্রু মন দেহের মধ্যে বাস করছে,চব্বিশ ঘন্টা তাকে আধোয়া(অধৌত)?ঝাঁটা মেরে বশীভূত করে রাখবে,নচেৎ ভজনসাধন নষ্ট করে রৌরব(যে নরকে গো,স্ত্রী,ভিক্ষুক,ভ্রূণ ও ব্রাহ্মণ হত‍্যাকারী এবং অগম‍্যাগামী,তীর্থ প্রতিগ্রাহীরা গমন করে,অসহনীয় যন্ত্রণা)* *নরকে নিয়ে যাবে।সর্বতোভাবে মনকে নিগ্রহ করে,তাড়ন ভৎর্সন করে লীলায় নিযুক্ত করবে।মন যখন অসৎপথে যাবে,তখন শ্রীমন্মহাপ্রভু ও নিতাইচাঁদকে একাগ্রচিত্তে ডাক----------------*।
*দেখ সখী অটমীকো রাতি।*
*আধ রজনী বহি যাতি।।*
*দশ দিশ অরুণিম ভেল।*
*আধচন্দা উই গেল।।*
*অব হরি না মিলল রে।*
*বিহি মোরে বঞ্চল রে।।*
*কাহে বনায়নু বেশ।*
*বিঘটন কানুক সন্দেশ।।*
*কাহুকো নহ ইহ গারি।*
*ধনি যনি না হয়ে কুলনারী।।*
*কৈছনে ধরব পরাণ।*
*কো এত সহে ফুলবান।।*
*গোবিন্দ দাস সব জান।*
*অবহি মিলাওব কান।।*
*🌺শ্রীমতী রাধারাণীর ক্রমে উৎকন্ঠা বেড়ে উঠল। ভগ্ন হৃদয়া রাধা,সখীকে বলছেন,সখী!অটমীকো রাত অর্থ‍্যাৎ আজ কৃষ্ণাষ্টমীর রাত্রি। নিশ্চয়ই অর্ধ রজনী গত হয়েছে।কারণ দশদিক অরুণিত করে রজনীপতি অর্ধ উদিত হয়েছে। হায়!এখনও হরির সাক্ষাৎ লাভ হল না।আজ বিহি,বিধাতা আমাকে বঞ্চিত করল। সখীরে এত যত্ন করে অঙ্গের এই বেশ কেন রচনা করলাম,আমার অদৃষ্ট দোষে কি আজ কানুর মতো সত্যব্রত প্রেমিকের সঙ্কেত সম্বাদও বৃথা হল।বুঝলাম,কোন ধনি যেন কুলবধূ না হয়,একথা কারো সম্বন্ধেই গালি নহে।সখী!এখন কি করে প্রাণ ধারণ করব,* *কন্দর্পের এত প্রতাপ কি করে সহিব। সম্বোধিতা সখীর ভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ দাস উত্তর দিচ্ছেন যখন তোমার এমন মনোবেদনা জানলাম এখনি কানুকে এনে মিলন করাচ্ছি।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
   
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৭. বাসকসজ্জা লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_79.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৬৭. বাসকসজ্জা লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻বাসকসজ্জা গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*সুরধূনী তীরে নব ভান্ডীরের তলে*
*বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে।।*
*রজনী কৌমুদী আর হিম ঋতু তায়।*
*হিমসহ পবন বহয়ে মৃদুবায়।।*
*তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।*
*হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়নে।।*
*আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।*
*বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে।।*
---------------------------------------------------------
*🌻🌻দ্বিতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*নিশি পরভাতে, বসি আঙ্গিনাতে,*
      *বিরস বদন খানি।*
*গৌরাঙ্গ চাঁদের, হেন ব‍্যবহার,*
     *এমতি কভু না দেখি।।*
*সই,  এ মতি করিল কে।*
*গোরা গুণনিধি,বিধির অবধি,*
       *তাহারে পাইল সে।।*
*কস্তুরী চন্দন, করি  বরিষণ,*
      *গাঁথিয়া ফুলের মালা।*
*বিচিত্র পালঙ্কে, শেজ বিছাইনু,*
       *শুইবে শচীর বালা।।*
*হে দে গো সজনি,সকল রজনী,*
       *জাগিয়া পোহাইল বসি।*
*আশায় আশায়,বসিয়া রহিল,*
      *গত হৈয়া যায় নিশি।।*
*বাসুদেব বলে,গৌরাঙ্গ আইলে,*
      *এখনি কহিব তারে।*
*হেথায় না আইল,রজনী বঞ্চল,*
      *আছিল কাহার ঘরে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻তৃতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*পালঙ্ক উপরে, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
      *বসিয়া বিরল মনে।*
*রাধার ভাবেতে, ভাবিত অন্তর,*
      *বাসক সজ্জার ভণে।।*
*কহে শ‍্যাম বঁধূ, আসিবে বলিয়া,*
       *শেজ বিছাইনু ফুলে।*
*গত প্রায় নিশি,কোথা কাল শশী,*
       *রজনী গেল বিফলে।।*
*না আসিল কালা,আর প্রেম জ্বালা,*
     *কত বা সহিব প্রাণে।*
*কহে নরহরি,ভাঙ্গিব পিরীতি,*
      *সে শ‍্যাম নিঠুর সনে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻চতুর্থ গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*কি লাগি মোর, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
       *বসিয়া গৃহের মাঝে।*
*বসন আসন ,রতন  ভূষণ,*
     *সাজায় অঙ্গের সাজে।।*
*আপন বপুর, ছাহ হেরিয়া,*
     *চমকি উঠয়ে মনে।*
*কি লাগি অবহুঁ, না মিলল পহুঁ,*
     *এত বা বিলম্ব কেনে।।*
*কহে নরহরি,মোর গৌরহরি,*
     *ভাবিয়া রাইর দশা।*
*সজল নয়ানে,চাহে পথ পানে,*
     *কহে গদ গদ ভাষা।।*

*🌻কলি জীবের জীবন করুণাসিন্ধু শ্রীগৌরসুন্দর জগতে অবতীর্ণ হয়েছেন।* *জগতে সমুদ্রকে "রত্নাকর"বলা হয়,কিন্তু তার অতলগর্ভ হতে রত্ন আরোহণ(উপরে নিয়ে আসা)করা সহজসাধ‍্য নয়।* *সাধারণ মানুষের তো কল্পনা বহির্ভূত,বহু শ্রম করেও সেই রত্নমণির বিনিময়েও যা লভ‍্য নয়,* *সেই অমূল‍্য চিন্তামণি সদৃশ (সমান)শ্রীহরিনাম-চিন্তামণি পরম দয়াল শ্রীগৌরসুন্দর স্বীয় (নিজে) প্রেম গুণরূপ সূত্রে গ্রন্থন করে জগজনের (আবিষ্কারের অসমর্থ সকলের)কন্ঠ পড়িয়ে দিচ্ছেন।* *আর জগতের লোক সকলকে কলিকল্মষরূপ(কলির জীব পাপে জর্জরিত অন্ধকারে )তিমিরে আকুল দর্শনে অর্থ‍্যাৎ কলিরজীবকে পাপের অন্ধকারে  পরিপূর্ণ দেখে )করুণাময় শ্রীগৌরসুন্দর আপন (নিজ)বদন চন্দ্র প্রকাশে অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌররূপে অবতীর্ণ হয়ে প্রেমনেত্রে অশ্রুবিসর্জনরূপ প্রেমামৃত বর্ষণে জগজনের ত্রিতাপ জ্বালা নাশ করেছিলেন।* *করুণাসিন্ধু গৌরহরি দূর হতে দৃর দৃর জায়গায় ভক্তরূপ কল্পতরূ রোপণ করেছেন।* *যাঁদের পদাশ্রয়ে সংসার পথের পথিকগণ নিজ নিজ অভিলাষ(বাসনা) পূর্ণ করছেন।*
*মহাপ্রভু শ্রীগৌরকৃপানিধির অপূর্ব বিলাস দর্শন করুন বাসকসজ্জা।*
*যারা অকিঞ্চণ,অর্থ‍্যাৎ সহায়-সম্বলহীন জীব তাদের পর্য ভাবরূপ হস্তিরাজের উপরে চড়িয়ে বিচরণ করিয়েছেন।* *মূল কথা এই, একমাত্র পতিতপাবন,করুণাময়,সর্বজীবের দয়াল,প্রেমময় গৌরসুন্দর ব্রজভাবে বৃন্দাবন স্মরণ করিয়া বাসকসজ্জা লীলার কথা মনে পড়েছে।* *তিনি রাধা ভাবে ভাবিত হয়ে বনের ভিতরে একটি কুঞ্জে এসে বঁধূ আসবেন বলিয়া সুন্দর সুন্দর পুষ্প চয়ন করে,বঁধূর জন‍্যে পুষ্পশয‍্যা রচনা করছেন।* *অতি সুন্দর করে সুগন্ধি পুষ্প চয়ন করে মনের মত করে মালা গ্রন্থন করছেন,কেন প্রাণবল্লভের গলে পরাবেন।* *রাধাভাবে ভাবিতা গৌরহরি, সখিদের বলছেন,তোরা সেই মণিময় কৌটা নিয়ে আয়,আমার বঁধূ তাম্বুল ভালবাসে, এই মণিময় কৌটায় সযত্নে রাখ,আহা আজ আমার কি সৌভাগ্য,আমার মনের মত করে বঁধূর সেবা করব।* *আবার কি করলেন?শয‍্যা পার্শে বঁধূর জন্য পীতবস্ত্র রেখে দিলেন,বঁধূকে পরাবেন বলিয়া।* *এবারে শয‍্যা ও কুঞ্জ সুসজ্জিত হয়ে গেছে, প্রাণপ্রিয়তমের শুভাগমনের অপেক্ষায় রইলেন।* *খু অল্প সময়ের মধ্যে প্রাণবল্লভ উপস্থিত হবেন,কি না আনন্দ হবে।* *তাঁকে কেমনভাবে স্বাগত-সম্ভাষণ করবেন,তাই মনে মনে ভাবছেন।*
*যখন প্রাণবল্লভ আসবেন,তখন আমি একটু মজা করে কুঞ্জে প্রবেশ করাব।* *এই ভাবনা ভাবছেন, কিন্তু কৈ তিনি তো এখনও এলেন না,এক এক করে সময় অতিবাহিত হতে চলেছে,মনের ভিতরের পূর্ণ আনন্দ একটু একটু ম্লান ভাব নিচ্ছে।* *তিনি আসবেন বলে আমায় কুঞ্জে আসতে বললেন,এখনও তিনি এলেন না!মনের মধ্যে ধীরে ধীরে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।*তবে কি আমার আনন্দ,পরিশ্রম  বৃথা হল।* *বঁধূ কি আর আসবেন না?নিজেকে নিজে প্রশ্ন করছেন,ধীরে ধীরে ধৈর্য‍্যহারা হয়ে সমস্ত কিছু যমুনার জলে ফেলে দিলেন,মহাপ্রভুর এই ব‍্যস্ততা দেখে পার্ষদগণ বারবার জিজ্ঞাসা করছেন তোমার কি হয়েছে বল?*
*বলিয়া মহাপ্রভুকে জড়িয়ে ধরে বসিয়েছেন,তখনি বাহ‍্য স্মৃতি ফিরে এলো।* *এখানেই রইল।*

 *🌻গৌরচন্দ্রিকায় এই কথাগুলি বলা যাবে🌻*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*বৃন্দাবনে ভ্রমণ করতে করতে গৌরহরির অন্তরে রাধিকার প্রেমের ভাব উদয় হল,কৃষ্ণের বিরহ স্ফুর্তি সদাই জাগে।* 
*অন্তরে তানিত প্রভু বিরহ উন্মাদ।*
*ভ্রমময় চিত্ত সদা প্রলাপ সংবাদ।।*
*প্রতি লোমকূপে রক্তোদ্গম হয়।কখনও অঙ্গ ক্ষীণ হয়,কখনও বা স্ফীত হয়।গম্ভীরার মধ্যে রাত্রি নিদ্রাহীন হয়ে দেওয়ালে মাথা ও মুখ ঘসে ঘসে ক্ষত সৃষ্টি করবেন।*
*গম্ভীরার বাইরে এলে কখনও সিংহদ্বারে কখনও  বা সমুদ্রের জলে গিয়ে ঝাঁপ দেন,চটক পর্বত দেখে গোবর্ধন পর্বতের ভ্রম হয়,উপবন দেখে বৃন্দাবন জ্ঞান করবেন।* *কৃষ্ণকথা ভাবতে ভাবতে নাচবেন,গাইবেন,ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছিত হবেন,হস্ত-পদ সন্ধি বিস্তারিত হবে,হস্ত,পদ,শির দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে কূর্মরূপ ধারণ করবেন।* 
*এমন অদ্ভুত ভাব শরীরে প্রকাশ।*
*মনেতে শূন‍্যতা বচনেতে হা হুতাশ।।*
*আমি কোথায় যাব,কোথায় ব্রজেন্দনন্দনকে পাব,কোথায় মোর প্রাণনাথ,আমি কাকে জিজ্ঞাসা করব,কে আমার দুঃখ বুঝবে,কৃষ্ণ বিহনে আমার বুক বিদীর্ণ হচ্ছে।*
*এইভাবে গৌরহরি ব‍্যাকুল হয়ে বিলাপ করছেন।কৃষ্ণপ্রেমে অজ্ঞান হচ্ছেন,স্থানাস্থান বুঝছেন না,ভালমন্দ বিচার করতে পারছেন না,কৃষ্ণ বিরহে কাঁদতে কাঁদতে বলবেন,কৃষ্ণের যত সদ্ গুণ রশ্মিরূপে আমার হস্তে গলায় বেঁধে রেখেছে।* *সেই বন্ধন কিছুতেই মুক্ত করতে পারছি না।* *যে মদনের দেহ নাই,অপরকে হিংসা করে পরাধীন করে,সর্বদাই পাৈঁবাণের সন্ধান করে,সেই পাঁটবাণ আমার দেহে আঘাত করে দুঃখ দেয়,কিন্তু প্রাণহানি করতে পারে না।এই দুঃখ অন‍্য কাউকে জানাতে পারি না।* *সখিরাও জানে না,তাই তারা আমাকে ধৈর্য‍্য ধরতে বলে,কৃষ্ণসাগর কে পার হতে পারবে।* *তাই সখীর কথা ব‍্যর্থ হল।জীবের প্রাণ অতি চঞ্চল,পদ্মপাতার জলের মত,ততদিন কে বেঁচে থাকবে।* 
*শত বৎসর পর্যন্ত,জীবের জীবন অন্ত,*
     *এই বাক‍্য কভু না বিচারি।*
*নারীর যৌবন ধন,যাতে হরে কৃষ্ণ মন,*
     *সে যৌবন দিন দুই চারি।।*
*আগুন যেমন নিজের প্রভা দেখিয়ে পতঙ্গকে আকর্ষণ করে পুড়িয়ে মারে,তেমনি কৃষ্ণ নিজের গুণ দেখায়ে সবার মন হরণ করে দুঃখের সমুদ্রে ডুবায়।* *এইভাবে বিলাপ করে গৌরহরি দুঃখের দরজা খুলে ভাবের তরঙ্গে বিরহ শ্লোক পাঠ করেন।যার অধরে বংশীধ্বনি,অতি মনোহর যাঁর রূপ,অতি মনোহর যাঁর ধাম,সেই কৃষ্ণের বদন যে নেত্র দর্শন করল না,এমন নয়নে কি কাজ,তার মাথায় পড়ুক বাজ রে সখী।* *কৃষ্ণ বিনা আমার সকলই বিফল।* *কৃষ্ণের মধুর বাণী যেন অমৃতের তরঙ্গ,যার কর্ণে প্রবেশ করল না,ফুটো কড়ির সমান সেই কান,বৃথা হল তার জন্ম।*

 *কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণের গুণ চরিত,*
     *যে রসনে না হয় উদ্গম।*
*তার স্বাদ নাহি জানে,জন্মিয়া না মেল কেনে,*
     *সে রসনা ভেক জিহ্বা সম।।*

*🌻কৃষ্ণের প্রসাদ যে গ্রহণ করল না জিহ্বায়,তাঁর গুণগাথা যে জিহ্লায় উচ্চারণ হল না,সে জিহ্বা ব‍্যাঙের জিহ্বার মত কেবল ঘেঙর ঘেঙর করে শত্রু সাপকে জানিয়ে দেয় তার আহারের সন্ধান।* *মৃগের কস্তুরীর মত যার অঙ্গের গন্ধ,সেই গন্ধ যার নাসিকায় প্রবেশ করল না,সেই নাক কামারের হাপর ছাড়া আর কি?* *শ্রীকৃষ্ণের কর-পদতল কোটি চন্দ্রের মত সুশীতল,তা স্পশামণির মত।* *সে স্তর্শ যে পেল না,তার দেহ লৌহের সমান,তার মরণই ভাল।* *এইভাবে বিলাপ করতে করতে গৌরহরি অচেতন হয়ে পড়বেন।* *তারপর ঘুমের মধ্যে স্বপনে চেতনতা লাভ করে,*
*কহিছে আজি স্বপনে,দেখিনু বংশীবদনে,*
     *সেইকালে আইলেন দুই বৈরী।*
*আনন্দ আর মদন,হরি নিল মোর মন,*.
     *দেখিতে না পাই নেত্র ভরি।।*
*যদি আবার তাঁকে দেখতে পাই তো মঙ্গল হয়,তখন চন্দন মালা আর নানাবিধ রত্ন অলঙ্কারে তাঁকে সাজাব।* *শুন মোর প্রাণের বন্ধু,কৃষ্ণকে না পেয়ে আমার জীবন,দেহ,ইন্দ্রিয়সকল ব‍্যর্থ হল।*
*এইকথা বলতে বলতে মহাপ্রভু মূর্ছা যান।পুনরায় চেতন পেয়ে অপরূপ বাক‍্য বলেন,পলকে পলকে প্রেমের পাথারে তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ করেন।*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
      *সে প্রেমের প্রেমী যে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় বিয়োগ,*
     *বিয়োগেতে কেহ না বাঁচায়।।*
*🌻শুদ্ধ প্রেমের গন্ধ না থাকলে,কপট প্রেম বন্ধ হবে,আমার কৃষ্ণকে সে কখনও পাবে না,কৃষ্ণপ্রেম শুদ্ধ গঙ্গাজলের মত সুনির্মল,যেন অমৃতের সিন্ধু,শুদ্ধ প্রেম সুখের সিন্ধু,যার একবিন্দু সারা জগতকে ডুবাতে পারে।* *বাহিরে বিষন্নতা,অন্তরে মহানন্দ,সেই প্রেম আস্বাদন করলে,তপ্ত ইক্ষুরসে মুখ জ্বালা করে, আর ফেলে দিতেও মন চাই না।* *যার মনে সেই প্রেম থাকবে,সেই ভাব সেছাড়া আর কেহই বুঝতে পারবে না,যেন বিষ আর অমৃতের একসঙ্গে মিলন।*

*🌻যখন জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রাকে দেখলাম,তখন যেন কুরুক্ষেত্রে এলাম বলিয়া  মনে হয়,জীবন সফল হল,দেহ মন চক্ষু জুড়াল, কোথায় সেই যমুনা, কোথায় সেই রাসবিলাস,কোথায় নৃত‍্যগীত, কোথায় সেই মদনমোহন।* *উঠে নানা ভাবাবেগ,মনেতে মহা উদ্বেগ,*
     *ক্ষণমাত্র নারে গোঙাইতে।*
*প্রবল বিরহানল,ধৈর্য‍্য হৈল টলমল,*
     *চিত্র মগ্ন কৈল কৃষ্ণ প্রীতে।।*
*তোমার দর্শন ছাড়া আমার স্থির থাকতে পারছি না,হে অনাথ বন্ধু!তুমি আমাকে দেখা দাও, তোমার অদর্শনে আমার মন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।* *আমি এখন কি করি,কেমন করে তোমাকে পাব?*
*এইভাবে গৌরহরি দিব‍্যোন্মাদে দেহে-মনে অবসাদ বোধ করেন।*
*উন্মাদের মত লক্ষণ প্রকাশ পাবে, ভাবাবেশে মান করবেন,তোমার চঞ্চলমতি এক জায়গায় থাকতে পারবে না।* *তুমি আমার প্রাণের বন্ধু,করুণাসিন্ধু, তোমার প্রতি আমার কোনো অভিমান নেই।*
*তুমি ব্রজের প্রাণনাথ,তুমি মোর প্রাণধন,আমাকে দেখা দাও।*
*স্তম্ভ কম্প আর স্বেদ,বৈবর্ণাশ্রু স্বরভেদ,*
    *দেহ হৈল পুলকে পূর্ণিত।*
*হাসে কান্দে নাচে গায়,উঠে পড়ে ছুটি ধায়,*
     *ক্ষণে ভূমে পড়িয়া মূর্ছিত।।*

*🌻মূর্ছার মধ্যেই দেখা পেয়ে যাবেন ;ঐ তো আমার প্রভু।কখনও বা চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি,রামানন্দ রায়ের নাটক কর্ণামৃত,গীতগোবিন্দ প্রভৃতির গ্রন্থের শ্লোক উচ্চারণ করবেন।* *পূর্বে ব্রজলীলায় শ্রীকৃষ্ণ যে তিনটি অভিলাষ করেছিলেন,তা পূর্ণ করবার জন্য গৌরাঙ্গরূপে অবতীর্ণ হয়ে আস্বাদন করবেন।* *গোপীভাব,রাধার প্রেমের গভীরতা ও আপন মাধুরী এই তিনটি ছিল কৃষ্ণের অন্তরের অভিলাষ।* *নিজে আস্বাদন করে ভক্তগণকে শিক্ষা,স্থানাস্থান বিচার নেই,যারে তারে দান করবেন।*
*এই গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পান একবিন্দু,*
    *হেন ধন বিলান সংসারে।*
*যে দয়াল অবতার,সমদাতা নাহি আর,*
     *গুণ কেহ নারে বর্ণিবারে।।*

*🌻যার প্রতি গৌরসুন্দরের কৃপা হবে,সে তাঁর দাসানুদাসের সঙ্গ করবেন,এইভাবে গৌরহরি পাগলের মত হয়ে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন করবেন।* *ভক্তগণ খুঁজে খুঁজে বেড়াবেন।*
*🌻ব্রজ লীলা বাসকসজ্জা🌻*
*প্রিয়ার সহিত বিলাসের আশ করি।*
*গৃহ শয‍্যা মালা তাম্বুল স্নিগ্ধ বারি*
*চন্দনাদি মালা গন্ধ বসন ভূষণ।*
*সাজায় করিয়া সাধ প্রিয়ার কারণ।।*
                *(ভক্তমাল)*
*🌻🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻🌻*
*রাধিকা আদেশে,মনের হরিষে,*
      *কুসুম রচনা করে।*
*মল্লিকা মালতী,আর জাতী যূথি,*
      *সাজাইছে থরে থরে।।*
   *আজ রচয়ে বাসক শেজ।*
*মুনিগণ চিত, হেরি মূরছিত,*
      *কন্দর্পের ঘুচে তেজ।।*
*ফুলের আচির,ফুলের প্রাচীর,*
       *ফুলেতে ছাইল ঘর।*
*ফুলের বালিশ,আলিশ কারণ,*
       *প্রতি ফুলে ফুলশর।।*
*শুক-পিক দ্বারী,মদন প্রহরী,*
      *ভ্রমর ঝঙ্কারে তায়।*
*ছয় ঋতু মত্ত, সহিত বসন্ত,*
      *মলয় পবন বায়।।*
*উজরোল রাতি,মণিময় বাতি,*
     *কর্পূর তাম্বুল বারি।*
*চন্ডীদাস ভণে,রাখি স্থানে স্থানে,*
       *বাসক করিল গোরি।।*

*🌻শ্রীগোবিন্দের সংকেত পেয়ে যথা সময়ে অভিসার করেছেন,* *আজ শ‍্যামনাগরের সঙ্গে মিলন সুখরস আস্বাদন অভিলাষে সজ্জিত হয়ে রঙ্গময়ী বিনোদিনী কেশরকুঞ্জে এসে উপস্থিত হলেন।*
*কুঞ্জে উপস্থিত হয়ে আর বিলম্ব সহে না,সব সখীদের বলছেন,তোরা আর বিলম্ব করিস না,আমার প্রিয়তম আসবেন,সুন্দর সুন্দর গন্ধরাজ ফুল তুলে নিয়ে আয়,যে গন্ধরাজ পুষ্প আমার প্রিয়তম ভালবাসেন।* *মল্লিকা,মালতী যূথী ও জাতিপুষ্প (গোলাপ পাতার মত জোড়া জোড়া পাতা প্রসিদ্ধ ফুল) ফুল এক এক চয়ন করছেন রাধার সখীগণ।*আজ সখীগণ বিভিন্ন সুন্দর গন্ধের পুষ্প চয়ন করে থরে থরে রাধার কাছে নিয়ে এলেন, সেই ফুল দিয়ে বঁধূর জন‍্য বাসকসজ্জা রচনা করতে লাগলেন।* *সেই কেশরকুঞ্জের ভিতরে ফুল দিয়ে খুবই সুন্দর করে সাজাতে লাগলেন,ফুল দিয়ে কুঞ্জের ভিতরে ছোট ছোট আচির করলেন,তার সঙ্গে একটু বড় বড় প্রাচীর করলেন,(যেমন ফুল দিয়ে বর্তমানে দেখা যায় যে,বিয়েবাড়ীর মন্ডপ সাজানো হয় তদ্রুপ) সাজাইলেন।*
*এত সুন্দর করে সজ্জিত করা হয়েছে যে পদকর্তা বলছেন,এই সাজানো কুঞ্জ যদি মুনিগণ দেখেন তবে শোভা দেখে তাঁরা মূর্ছিত হয়ে পড়বেন,কামদেব বা মদন যদি দেখেন তাহলে নিজে যে সৌন্দর্যের বড়াই করেন সেই তেজ ধূলিস‍্যাৎ হয়ে যাবে।* *ফুল দিয়েই বিছানা,বালিশ তৈরী করলেন।* *এবং সেই কুঞ্জের দ্বারী হল শুক ও পিক।* *কেবল দ্বারী নহে তাদের মধুর ঝঙ্কারে মধুময় হয়ে উঠল সেই পুষ্পের কুঞ্জ।* *পুষ্পের কুঞ্জ দর্শন করে আজ ছয় ঋতু মত্ত হয়ে গেল,এবং মলয় পবন বহিতে লাগল,* *সেই মলয় পবনে চারিদিকে পরিমল ছড়িয়ে পড়ল।*
*উজরোল=উজ্জ্বল রাত্রে মণিময় প্রদীপ জ্বালিয়ে যেন মনে হল বৈকুন্ঠ ধামে পরিণত হয়েছে।* *তৎসহ গোবিন্দ তাম্বুল ভালবাসেন,*
*মণিময় বাটায় সাজিয়ে রাখলেন।*
*পদকর্তা চন্ডীদাস বললেন,সেই কুঞ্জের ভিতরে যেখানে যে জিনিস শোভা পায়,ঠিক সেই ভাবেই জায়গায় জায়গায় সুন্দর ভাবে সবকিছুই সাজিয়ে রাখলেন প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী।*
*বাসিত বারি,কপূরিত তাম্বুল,*
     *কুসুমিত মদন শয়ান।*
*উজোর দীপ,সমীপহি জারহ,*
     *বিরচহ চারু বিতান।।*
  *সখিহে কহই না যাই আনন্দ।*
*ঋতুপতি রাতি,অবহু নব নাগর,*
      *মিলবহু শ‍্যামর চন্দ।।*
*কুসুমিত মৌলী,রসালকো পরিমলে,*
     *ভ্রমরা ভ্রমরী রহু ভোর।*
*মদন মদালসে,সগরিহ যামিনী,*
     *সুখে বঞ্চব হরি কোর।।*
*বিহি পায়ে লাগি,মাগি এহি একুবর,*
     *চেতন রহু মঝু দেহ।*
*গোবিন্দ দাস,কহই হরি পরশহ,*
     *সো পুন হোয়ত সন্দেহ।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ আসবার আগেই প্রেমময়ী নিকুঞ্জে উপনীত হয়েছেন,এবং একান্ত নিজ নিষ্ঠ কান্তের প্রেমার্তি বিষয় নিয়ে দূতীর সঙ্গে কথাগুলি স্মরণ করে,কান্তের আদর,অভিনন্দন ও মনোরঞ্জের জন্য খুব ব‍্যস্ত মনে কোনও সখীকে বলছেন।* *সখী!সুবাসিত সলিল(সুগন্ধ জল),কর্পূরার্পিত পান,এবং সুন্দর সুন্দর পুষ্প দিয়ে শয‍্যা রচনা কর।* *শয‍্যার পাশে উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখ।* *এবং উপরে সুচারু( সুন্দর )চন্দ্রাতপ রচনা কর।* *সখী!আজ আমার অন্তরে যে কেমন আনন্দ উদয় হচ্ছে বলে বুঝাতে পারব না।আজকের রাত্রির মত এমন বসন্ত মধুময়ী রজনীতে,এখনি আমার নবনাগর শ‍্যামসুন্দর আসবেন,এইকথা ভেবে আমার চরম আনন্দ আর কি আছে।* *দেখসখী!কুসুমিত অগ্রে(মুকুলিত) আম্র তরুর পরিমলে ভ্রমর ভ্রমরী বিভোর হয়ে বিলসিত রয়েছে।* *সখী!আমিও আজ কন্দর্পকেলির আনন্দালসে এইরকমভাবে সুখে বিভোর হয়ে নাগরের কোলে (সগরিহ)সমস্ত রজনী যাপন করব।* *বিধাতার চরণে পড়ে এই মাত্র বর প্রার্থনা করছি,সে সময়ে যেন দেহে চেতনা থাকে।* *আনন্দের আতিশর্য‍্যে যেন অচেতন না হয়ে যায়।সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,হরির পরশে চেতন থাকা সন্দেহের কথা।*
*শ্রীবৃন্দাবনের কেলি কুঞ্জ সকল সর্বদাই বসন্তের প্রধান‍্য।অতএব প্রেম বিভ্রান্ত রাধারাণীর ঋতুপতি রাতি এই কথা কোনও ঋতুতেই অস্বাভাবিক নয়।* *কোনও সখী আরেকজনকে দেখিয়ে বলছেন,দেখ আমাদের নায়িকা শিরোমণি আজ বাসকসজ্জা সাজিয়েছে।* *আহা তার সুবিকসিত অঙ্গের শোভা দেখে মনে হচ্ছে যেন লক্ষ লক্ষ মনমথ(মদন)মনের সাধে ধেয়ে এসে অঙ্গে অঙ্গে উদয় হয়েছে এবং ছেড়ে যেতে চাইছে না।* *(তেজই ত‍্যাগ করে),সময় বুঝে বৃন্দাদেবী নানাপ্রকার আভরণ এনে দিয়াছেন,প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী তা বারবার অঙ্গে ধারণ করছেন আর কান্তের আগমন বিলম্ব হচ্ছে দেখে অসহনীয় হয়ে ঘন ঘন খুলছেন।* *আর প্রদীপের আলোয় নিজের ছায়া দেখছেন মনে করছেন "কান্ত এলেন" মনে করে ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠছেন।* *আর অধৈর্য‍্য হয়ে সখীকে জিজ্ঞাসা করছেন সখী!অদ‍্য শ‍্যামনাগর এত দেরী করছেন কেন?* *সেইকথা শুনে সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,কই এখনওতো মুরলী নিশান(ধ্বনি)শুনা যাচ্ছে না।*
 *সাজল কুসুম,শেজ পুন সাজই,*
     *জারই জারল বাতি।*
*বাসিত খপুরে,কর্পূর পুনঃ বাসই,*
     *ভৈগেল মদন ভঁরাতি।।*
*আজু  রাই  সাজল  বাসক শেজ।*
*মনমথ লাখ, মনোরথে ধাবই,*
     *অঙ্গে অঙ্গে নাহি তেজ।।*
*ঘন ঘন আভরণ,অঙ্গে চড়ারই,*
      *ক্ষণে ক্ষণে তেজই তায়।*
*সচকিত নয়নে,চঙকি খেনে উঠয়,*
     *হেরই নিজতনু ছায়।।*
*কাতর বচনে,সম্ভাষই সহচরী,*
     *কাহে বিলাম্বায়ত কান।*
*গোবিন্দ দাস,কহই অব না শুনিয়ে,*
     *সঙ্কেত মুরলী নিশান।।*
*ভঁরাতি=ভ্রান্তি,
*🌻নিকুঞ্জে উপস্থিত হয়েই আহ্লাদে ও আদরে প্রেমময়ী রাইধনি,সাজানো শয‍্যাকে পুন সাজালেন।* *যে প্রদীপ জ্বলছিল,তাহা আরও উজ্জ্বল করলেন,সুগন্ধময় তাম্বুল বীটিকা পুন কর্পর দিয়ে আরো সুবাসিত করলেন।* *এতকিছু করেও যেন মনে হল কিছুই করা হয় নাই।* *বলিয়া মদনাবেশে ভ্রান্তি হতে লাগল।* 
*🌻বাসকসজ্জা এখানেই রহিল🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





৬৭. বাসকসজ্জা লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৬৭. বাসকসজ্জা লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌻বাসকসজ্জা গৌরচন্দ্রিকা🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*সুরধূনী তীরে নব ভান্ডীরের তলে*
*বসিয়াছে গোরাচাঁদ নিজগণ মেলে।।*
*রজনী কৌমুদী আর হিম ঋতু তায়।*
*হিমসহ পবন বহয়ে মৃদুবায়।।*
*তাহি রচয়ে পহুঁ ললিত শয়নে।*
*হেরয়ে ঘন ঘন চকিত নয়নে।।*
*আপন অঙ্গের ছায়া দেখিয়া উঠয়ে।*
*বাসকসজ্জার ভাব জ্ঞানদাস কহে।।*
---------------------------------------------------------
*🌻🌻দ্বিতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*নিশি পরভাতে, বসি আঙ্গিনাতে,*
      *বিরস বদন খানি।*
*গৌরাঙ্গ চাঁদের, হেন ব‍্যবহার,*
     *এমতি কভু না দেখি।।*
*সই,  এ মতি করিল কে।*
*গোরা গুণনিধি,বিধির অবধি,*
       *তাহারে পাইল সে।।*
*কস্তুরী চন্দন, করি  বরিষণ,*
      *গাঁথিয়া ফুলের মালা।*
*বিচিত্র পালঙ্কে, শেজ বিছাইনু,*
       *শুইবে শচীর বালা।।*
*হে দে গো সজনি,সকল রজনী,*
       *জাগিয়া পোহাইল বসি।*
*আশায় আশায়,বসিয়া রহিল,*
      *গত হৈয়া যায় নিশি।।*
*বাসুদেব বলে,গৌরাঙ্গ আইলে,*
      *এখনি কহিব তারে।*
*হেথায় না আইল,রজনী বঞ্চল,*
      *আছিল কাহার ঘরে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻তৃতীয় গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*পালঙ্ক উপরে, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
      *বসিয়া বিরল মনে।*
*রাধার ভাবেতে, ভাবিত অন্তর,*
      *বাসক সজ্জার ভণে।।*
*কহে শ‍্যাম বঁধূ, আসিবে বলিয়া,*
       *শেজ বিছাইনু ফুলে।*
*গত প্রায় নিশি,কোথা কাল শশী,*
       *রজনী গেল বিফলে।।*
*না আসিল কালা,আর প্রেম জ্বালা,*
     *কত বা সহিব প্রাণে।*
*কহে নরহরি,ভাঙ্গিব পিরীতি,*
      *সে শ‍্যাম নিঠুর সনে।।*
---------------------------------------------------
*🌻🌻চতুর্থ গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*কি লাগি মোর, গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
       *বসিয়া গৃহের মাঝে।*
*বসন আসন ,রতন  ভূষণ,*
     *সাজায় অঙ্গের সাজে।।*
*আপন বপুর, ছাহ হেরিয়া,*
     *চমকি উঠয়ে মনে।*
*কি লাগি অবহুঁ, না মিলল পহুঁ,*
     *এত বা বিলম্ব কেনে।।*
*কহে নরহরি,মোর গৌরহরি,*
     *ভাবিয়া রাইর দশা।*
*সজল নয়ানে,চাহে পথ পানে,*
     *কহে গদ গদ ভাষা।।*

*🌻কলি জীবের জীবন করুণাসিন্ধু শ্রীগৌরসুন্দর জগতে অবতীর্ণ হয়েছেন।* *জগতে সমুদ্রকে "রত্নাকর"বলা হয়,কিন্তু তার অতলগর্ভ হতে রত্ন আরোহণ(উপরে নিয়ে আসা)করা সহজসাধ‍্য নয়।* *সাধারণ মানুষের তো কল্পনা বহির্ভূত,বহু শ্রম করেও সেই রত্নমণির বিনিময়েও যা লভ‍্য নয়,* *সেই অমূল‍্য চিন্তামণি সদৃশ (সমান)শ্রীহরিনাম-চিন্তামণি পরম দয়াল শ্রীগৌরসুন্দর স্বীয় (নিজে) প্রেম গুণরূপ সূত্রে গ্রন্থন করে জগজনের (আবিষ্কারের অসমর্থ সকলের)কন্ঠ পড়িয়ে দিচ্ছেন।* *আর জগতের লোক সকলকে কলিকল্মষরূপ(কলির জীব পাপে জর্জরিত অন্ধকারে )তিমিরে আকুল দর্শনে অর্থ‍্যাৎ কলিরজীবকে পাপের অন্ধকারে  পরিপূর্ণ দেখে )করুণাময় শ্রীগৌরসুন্দর আপন (নিজ)বদন চন্দ্র প্রকাশে অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌররূপে অবতীর্ণ হয়ে প্রেমনেত্রে অশ্রুবিসর্জনরূপ প্রেমামৃত বর্ষণে জগজনের ত্রিতাপ জ্বালা নাশ করেছিলেন।* *করুণাসিন্ধু গৌরহরি দূর হতে দৃর দৃর জায়গায় ভক্তরূপ কল্পতরূ রোপণ করেছেন।* *যাঁদের পদাশ্রয়ে সংসার পথের পথিকগণ নিজ নিজ অভিলাষ(বাসনা) পূর্ণ করছেন।*
*মহাপ্রভু শ্রীগৌরকৃপানিধির অপূর্ব বিলাস দর্শন করুন বাসকসজ্জা।*
*যারা অকিঞ্চণ,অর্থ‍্যাৎ সহায়-সম্বলহীন জীব তাদের পর্য ভাবরূপ হস্তিরাজের উপরে চড়িয়ে বিচরণ করিয়েছেন।* *মূল কথা এই, একমাত্র পতিতপাবন,করুণাময়,সর্বজীবের দয়াল,প্রেমময় গৌরসুন্দর ব্রজভাবে বৃন্দাবন স্মরণ করিয়া বাসকসজ্জা লীলার কথা মনে পড়েছে।* *তিনি রাধা ভাবে ভাবিত হয়ে বনের ভিতরে একটি কুঞ্জে এসে বঁধূ আসবেন বলিয়া সুন্দর সুন্দর পুষ্প চয়ন করে,বঁধূর জন‍্যে পুষ্পশয‍্যা রচনা করছেন।* *অতি সুন্দর করে সুগন্ধি পুষ্প চয়ন করে মনের মত করে মালা গ্রন্থন করছেন,কেন প্রাণবল্লভের গলে পরাবেন।* *রাধাভাবে ভাবিতা গৌরহরি, সখিদের বলছেন,তোরা সেই মণিময় কৌটা নিয়ে আয়,আমার বঁধূ তাম্বুল ভালবাসে, এই মণিময় কৌটায় সযত্নে রাখ,আহা আজ আমার কি সৌভাগ্য,আমার মনের মত করে বঁধূর সেবা করব।* *আবার কি করলেন?শয‍্যা পার্শে বঁধূর জন্য পীতবস্ত্র রেখে দিলেন,বঁধূকে পরাবেন বলিয়া।* *এবারে শয‍্যা ও কুঞ্জ সুসজ্জিত হয়ে গেছে, প্রাণপ্রিয়তমের শুভাগমনের অপেক্ষায় রইলেন।* *খু অল্প সময়ের মধ্যে প্রাণবল্লভ উপস্থিত হবেন,কি না আনন্দ হবে।* *তাঁকে কেমনভাবে স্বাগত-সম্ভাষণ করবেন,তাই মনে মনে ভাবছেন।*
*যখন প্রাণবল্লভ আসবেন,তখন আমি একটু মজা করে কুঞ্জে প্রবেশ করাব।* *এই ভাবনা ভাবছেন, কিন্তু কৈ তিনি তো এখনও এলেন না,এক এক করে সময় অতিবাহিত হতে চলেছে,মনের ভিতরের পূর্ণ আনন্দ একটু একটু ম্লান ভাব নিচ্ছে।* *তিনি আসবেন বলে আমায় কুঞ্জে আসতে বললেন,এখনও তিনি এলেন না!মনের মধ্যে ধীরে ধীরে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।*তবে কি আমার আনন্দ,পরিশ্রম  বৃথা হল।* *বঁধূ কি আর আসবেন না?নিজেকে নিজে প্রশ্ন করছেন,ধীরে ধীরে ধৈর্য‍্যহারা হয়ে সমস্ত কিছু যমুনার জলে ফেলে দিলেন,মহাপ্রভুর এই ব‍্যস্ততা দেখে পার্ষদগণ বারবার জিজ্ঞাসা করছেন তোমার কি হয়েছে বল?*
*বলিয়া মহাপ্রভুকে জড়িয়ে ধরে বসিয়েছেন,তখনি বাহ‍্য স্মৃতি ফিরে এলো।* *এখানেই রইল।*

 *🌻গৌরচন্দ্রিকায় এই কথাগুলি বলা যাবে🌻*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*বৃন্দাবনে ভ্রমণ করতে করতে গৌরহরির অন্তরে রাধিকার প্রেমের ভাব উদয় হল,কৃষ্ণের বিরহ স্ফুর্তি সদাই জাগে।* 
*অন্তরে তানিত প্রভু বিরহ উন্মাদ।*
*ভ্রমময় চিত্ত সদা প্রলাপ সংবাদ।।*
*প্রতি লোমকূপে রক্তোদ্গম হয়।কখনও অঙ্গ ক্ষীণ হয়,কখনও বা স্ফীত হয়।গম্ভীরার মধ্যে রাত্রি নিদ্রাহীন হয়ে দেওয়ালে মাথা ও মুখ ঘসে ঘসে ক্ষত সৃষ্টি করবেন।*
*গম্ভীরার বাইরে এলে কখনও সিংহদ্বারে কখনও  বা সমুদ্রের জলে গিয়ে ঝাঁপ দেন,চটক পর্বত দেখে গোবর্ধন পর্বতের ভ্রম হয়,উপবন দেখে বৃন্দাবন জ্ঞান করবেন।* *কৃষ্ণকথা ভাবতে ভাবতে নাচবেন,গাইবেন,ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছিত হবেন,হস্ত-পদ সন্ধি বিস্তারিত হবে,হস্ত,পদ,শির দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে কূর্মরূপ ধারণ করবেন।* 
*এমন অদ্ভুত ভাব শরীরে প্রকাশ।*
*মনেতে শূন‍্যতা বচনেতে হা হুতাশ।।*
*আমি কোথায় যাব,কোথায় ব্রজেন্দনন্দনকে পাব,কোথায় মোর প্রাণনাথ,আমি কাকে জিজ্ঞাসা করব,কে আমার দুঃখ বুঝবে,কৃষ্ণ বিহনে আমার বুক বিদীর্ণ হচ্ছে।*
*এইভাবে গৌরহরি ব‍্যাকুল হয়ে বিলাপ করছেন।কৃষ্ণপ্রেমে অজ্ঞান হচ্ছেন,স্থানাস্থান বুঝছেন না,ভালমন্দ বিচার করতে পারছেন না,কৃষ্ণ বিরহে কাঁদতে কাঁদতে বলবেন,কৃষ্ণের যত সদ্ গুণ রশ্মিরূপে আমার হস্তে গলায় বেঁধে রেখেছে।* *সেই বন্ধন কিছুতেই মুক্ত করতে পারছি না।* *যে মদনের দেহ নাই,অপরকে হিংসা করে পরাধীন করে,সর্বদাই পাৈঁবাণের সন্ধান করে,সেই পাঁটবাণ আমার দেহে আঘাত করে দুঃখ দেয়,কিন্তু প্রাণহানি করতে পারে না।এই দুঃখ অন‍্য কাউকে জানাতে পারি না।* *সখিরাও জানে না,তাই তারা আমাকে ধৈর্য‍্য ধরতে বলে,কৃষ্ণসাগর কে পার হতে পারবে।* *তাই সখীর কথা ব‍্যর্থ হল।জীবের প্রাণ অতি চঞ্চল,পদ্মপাতার জলের মত,ততদিন কে বেঁচে থাকবে।* 
*শত বৎসর পর্যন্ত,জীবের জীবন অন্ত,*
     *এই বাক‍্য কভু না বিচারি।*
*নারীর যৌবন ধন,যাতে হরে কৃষ্ণ মন,*
     *সে যৌবন দিন দুই চারি।।*
*আগুন যেমন নিজের প্রভা দেখিয়ে পতঙ্গকে আকর্ষণ করে পুড়িয়ে মারে,তেমনি কৃষ্ণ নিজের গুণ দেখায়ে সবার মন হরণ করে দুঃখের সমুদ্রে ডুবায়।* *এইভাবে বিলাপ করে গৌরহরি দুঃখের দরজা খুলে ভাবের তরঙ্গে বিরহ শ্লোক পাঠ করেন।যার অধরে বংশীধ্বনি,অতি মনোহর যাঁর রূপ,অতি মনোহর যাঁর ধাম,সেই কৃষ্ণের বদন যে নেত্র দর্শন করল না,এমন নয়নে কি কাজ,তার মাথায় পড়ুক বাজ রে সখী।* *কৃষ্ণ বিনা আমার সকলই বিফল।* *কৃষ্ণের মধুর বাণী যেন অমৃতের তরঙ্গ,যার কর্ণে প্রবেশ করল না,ফুটো কড়ির সমান সেই কান,বৃথা হল তার জন্ম।*

 *কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণের গুণ চরিত,*
     *যে রসনে না হয় উদ্গম।*
*তার স্বাদ নাহি জানে,জন্মিয়া না মেল কেনে,*
     *সে রসনা ভেক জিহ্বা সম।।*

*🌻কৃষ্ণের প্রসাদ যে গ্রহণ করল না জিহ্বায়,তাঁর গুণগাথা যে জিহ্লায় উচ্চারণ হল না,সে জিহ্বা ব‍্যাঙের জিহ্বার মত কেবল ঘেঙর ঘেঙর করে শত্রু সাপকে জানিয়ে দেয় তার আহারের সন্ধান।* *মৃগের কস্তুরীর মত যার অঙ্গের গন্ধ,সেই গন্ধ যার নাসিকায় প্রবেশ করল না,সেই নাক কামারের হাপর ছাড়া আর কি?* *শ্রীকৃষ্ণের কর-পদতল কোটি চন্দ্রের মত সুশীতল,তা স্পশামণির মত।* *সে স্তর্শ যে পেল না,তার দেহ লৌহের সমান,তার মরণই ভাল।* *এইভাবে বিলাপ করতে করতে গৌরহরি অচেতন হয়ে পড়বেন।* *তারপর ঘুমের মধ্যে স্বপনে চেতনতা লাভ করে,*
*কহিছে আজি স্বপনে,দেখিনু বংশীবদনে,*
     *সেইকালে আইলেন দুই বৈরী।*
*আনন্দ আর মদন,হরি নিল মোর মন,*.
     *দেখিতে না পাই নেত্র ভরি।।*
*যদি আবার তাঁকে দেখতে পাই তো মঙ্গল হয়,তখন চন্দন মালা আর নানাবিধ রত্ন অলঙ্কারে তাঁকে সাজাব।* *শুন মোর প্রাণের বন্ধু,কৃষ্ণকে না পেয়ে আমার জীবন,দেহ,ইন্দ্রিয়সকল ব‍্যর্থ হল।*
*এইকথা বলতে বলতে মহাপ্রভু মূর্ছা যান।পুনরায় চেতন পেয়ে অপরূপ বাক‍্য বলেন,পলকে পলকে প্রেমের পাথারে তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ করেন।*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
      *সে প্রেমের প্রেমী যে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় বিয়োগ,*
     *বিয়োগেতে কেহ না বাঁচায়।।*
*🌻শুদ্ধ প্রেমের গন্ধ না থাকলে,কপট প্রেম বন্ধ হবে,আমার কৃষ্ণকে সে কখনও পাবে না,কৃষ্ণপ্রেম শুদ্ধ গঙ্গাজলের মত সুনির্মল,যেন অমৃতের সিন্ধু,শুদ্ধ প্রেম সুখের সিন্ধু,যার একবিন্দু সারা জগতকে ডুবাতে পারে।* *বাহিরে বিষন্নতা,অন্তরে মহানন্দ,সেই প্রেম আস্বাদন করলে,তপ্ত ইক্ষুরসে মুখ জ্বালা করে, আর ফেলে দিতেও মন চাই না।* *যার মনে সেই প্রেম থাকবে,সেই ভাব সেছাড়া আর কেহই বুঝতে পারবে না,যেন বিষ আর অমৃতের একসঙ্গে মিলন।*

*🌻যখন জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রাকে দেখলাম,তখন যেন কুরুক্ষেত্রে এলাম বলিয়া  মনে হয়,জীবন সফল হল,দেহ মন চক্ষু জুড়াল, কোথায় সেই যমুনা, কোথায় সেই রাসবিলাস,কোথায় নৃত‍্যগীত, কোথায় সেই মদনমোহন।* *উঠে নানা ভাবাবেগ,মনেতে মহা উদ্বেগ,*
     *ক্ষণমাত্র নারে গোঙাইতে।*
*প্রবল বিরহানল,ধৈর্য‍্য হৈল টলমল,*
     *চিত্র মগ্ন কৈল কৃষ্ণ প্রীতে।।*
*তোমার দর্শন ছাড়া আমার স্থির থাকতে পারছি না,হে অনাথ বন্ধু!তুমি আমাকে দেখা দাও, তোমার অদর্শনে আমার মন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।* *আমি এখন কি করি,কেমন করে তোমাকে পাব?*
*এইভাবে গৌরহরি দিব‍্যোন্মাদে দেহে-মনে অবসাদ বোধ করেন।*
*উন্মাদের মত লক্ষণ প্রকাশ পাবে, ভাবাবেশে মান করবেন,তোমার চঞ্চলমতি এক জায়গায় থাকতে পারবে না।* *তুমি আমার প্রাণের বন্ধু,করুণাসিন্ধু, তোমার প্রতি আমার কোনো অভিমান নেই।*
*তুমি ব্রজের প্রাণনাথ,তুমি মোর প্রাণধন,আমাকে দেখা দাও।*
*স্তম্ভ কম্প আর স্বেদ,বৈবর্ণাশ্রু স্বরভেদ,*
    *দেহ হৈল পুলকে পূর্ণিত।*
*হাসে কান্দে নাচে গায়,উঠে পড়ে ছুটি ধায়,*
     *ক্ষণে ভূমে পড়িয়া মূর্ছিত।।*

*🌻মূর্ছার মধ্যেই দেখা পেয়ে যাবেন ;ঐ তো আমার প্রভু।কখনও বা চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি,রামানন্দ রায়ের নাটক কর্ণামৃত,গীতগোবিন্দ প্রভৃতির গ্রন্থের শ্লোক উচ্চারণ করবেন।* *পূর্বে ব্রজলীলায় শ্রীকৃষ্ণ যে তিনটি অভিলাষ করেছিলেন,তা পূর্ণ করবার জন্য গৌরাঙ্গরূপে অবতীর্ণ হয়ে আস্বাদন করবেন।* *গোপীভাব,রাধার প্রেমের গভীরতা ও আপন মাধুরী এই তিনটি ছিল কৃষ্ণের অন্তরের অভিলাষ।* *নিজে আস্বাদন করে ভক্তগণকে শিক্ষা,স্থানাস্থান বিচার নেই,যারে তারে দান করবেন।*
*এই গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পান একবিন্দু,*
    *হেন ধন বিলান সংসারে।*
*যে দয়াল অবতার,সমদাতা নাহি আর,*
     *গুণ কেহ নারে বর্ণিবারে।।*

*🌻যার প্রতি গৌরসুন্দরের কৃপা হবে,সে তাঁর দাসানুদাসের সঙ্গ করবেন,এইভাবে গৌরহরি পাগলের মত হয়ে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন করবেন।* *ভক্তগণ খুঁজে খুঁজে বেড়াবেন।*
*🌻ব্রজ লীলা বাসকসজ্জা🌻*
*প্রিয়ার সহিত বিলাসের আশ করি।*
*গৃহ শয‍্যা মালা তাম্বুল স্নিগ্ধ বারি*
*চন্দনাদি মালা গন্ধ বসন ভূষণ।*
*সাজায় করিয়া সাধ প্রিয়ার কারণ।।*
                *(ভক্তমাল)*
*🌻🌻🌻প্রথম পদ🌻🌻🌻*
*রাধিকা আদেশে,মনের হরিষে,*
      *কুসুম রচনা করে।*
*মল্লিকা মালতী,আর জাতী যূথি,*
      *সাজাইছে থরে থরে।।*
   *আজ রচয়ে বাসক শেজ।*
*মুনিগণ চিত, হেরি মূরছিত,*
      *কন্দর্পের ঘুচে তেজ।।*
*ফুলের আচির,ফুলের প্রাচীর,*
       *ফুলেতে ছাইল ঘর।*
*ফুলের বালিশ,আলিশ কারণ,*
       *প্রতি ফুলে ফুলশর।।*
*শুক-পিক দ্বারী,মদন প্রহরী,*
      *ভ্রমর ঝঙ্কারে তায়।*
*ছয় ঋতু মত্ত, সহিত বসন্ত,*
      *মলয় পবন বায়।।*
*উজরোল রাতি,মণিময় বাতি,*
     *কর্পূর তাম্বুল বারি।*
*চন্ডীদাস ভণে,রাখি স্থানে স্থানে,*
       *বাসক করিল গোরি।।*

*🌻শ্রীগোবিন্দের সংকেত পেয়ে যথা সময়ে অভিসার করেছেন,* *আজ শ‍্যামনাগরের সঙ্গে মিলন সুখরস আস্বাদন অভিলাষে সজ্জিত হয়ে রঙ্গময়ী বিনোদিনী কেশরকুঞ্জে এসে উপস্থিত হলেন।*
*কুঞ্জে উপস্থিত হয়ে আর বিলম্ব সহে না,সব সখীদের বলছেন,তোরা আর বিলম্ব করিস না,আমার প্রিয়তম আসবেন,সুন্দর সুন্দর গন্ধরাজ ফুল তুলে নিয়ে আয়,যে গন্ধরাজ পুষ্প আমার প্রিয়তম ভালবাসেন।* *মল্লিকা,মালতী যূথী ও জাতিপুষ্প (গোলাপ পাতার মত জোড়া জোড়া পাতা প্রসিদ্ধ ফুল) ফুল এক এক চয়ন করছেন রাধার সখীগণ।*আজ সখীগণ বিভিন্ন সুন্দর গন্ধের পুষ্প চয়ন করে থরে থরে রাধার কাছে নিয়ে এলেন, সেই ফুল দিয়ে বঁধূর জন‍্য বাসকসজ্জা রচনা করতে লাগলেন।* *সেই কেশরকুঞ্জের ভিতরে ফুল দিয়ে খুবই সুন্দর করে সাজাতে লাগলেন,ফুল দিয়ে কুঞ্জের ভিতরে ছোট ছোট আচির করলেন,তার সঙ্গে একটু বড় বড় প্রাচীর করলেন,(যেমন ফুল দিয়ে বর্তমানে দেখা যায় যে,বিয়েবাড়ীর মন্ডপ সাজানো হয় তদ্রুপ) সাজাইলেন।*
*এত সুন্দর করে সজ্জিত করা হয়েছে যে পদকর্তা বলছেন,এই সাজানো কুঞ্জ যদি মুনিগণ দেখেন তবে শোভা দেখে তাঁরা মূর্ছিত হয়ে পড়বেন,কামদেব বা মদন যদি দেখেন তাহলে নিজে যে সৌন্দর্যের বড়াই করেন সেই তেজ ধূলিস‍্যাৎ হয়ে যাবে।* *ফুল দিয়েই বিছানা,বালিশ তৈরী করলেন।* *এবং সেই কুঞ্জের দ্বারী হল শুক ও পিক।* *কেবল দ্বারী নহে তাদের মধুর ঝঙ্কারে মধুময় হয়ে উঠল সেই পুষ্পের কুঞ্জ।* *পুষ্পের কুঞ্জ দর্শন করে আজ ছয় ঋতু মত্ত হয়ে গেল,এবং মলয় পবন বহিতে লাগল,* *সেই মলয় পবনে চারিদিকে পরিমল ছড়িয়ে পড়ল।*
*উজরোল=উজ্জ্বল রাত্রে মণিময় প্রদীপ জ্বালিয়ে যেন মনে হল বৈকুন্ঠ ধামে পরিণত হয়েছে।* *তৎসহ গোবিন্দ তাম্বুল ভালবাসেন,*
*মণিময় বাটায় সাজিয়ে রাখলেন।*
*পদকর্তা চন্ডীদাস বললেন,সেই কুঞ্জের ভিতরে যেখানে যে জিনিস শোভা পায়,ঠিক সেই ভাবেই জায়গায় জায়গায় সুন্দর ভাবে সবকিছুই সাজিয়ে রাখলেন প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী।*
*বাসিত বারি,কপূরিত তাম্বুল,*
     *কুসুমিত মদন শয়ান।*
*উজোর দীপ,সমীপহি জারহ,*
     *বিরচহ চারু বিতান।।*
  *সখিহে কহই না যাই আনন্দ।*
*ঋতুপতি রাতি,অবহু নব নাগর,*
      *মিলবহু শ‍্যামর চন্দ।।*
*কুসুমিত মৌলী,রসালকো পরিমলে,*
     *ভ্রমরা ভ্রমরী রহু ভোর।*
*মদন মদালসে,সগরিহ যামিনী,*
     *সুখে বঞ্চব হরি কোর।।*
*বিহি পায়ে লাগি,মাগি এহি একুবর,*
     *চেতন রহু মঝু দেহ।*
*গোবিন্দ দাস,কহই হরি পরশহ,*
     *সো পুন হোয়ত সন্দেহ।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ আসবার আগেই প্রেমময়ী নিকুঞ্জে উপনীত হয়েছেন,এবং একান্ত নিজ নিষ্ঠ কান্তের প্রেমার্তি বিষয় নিয়ে দূতীর সঙ্গে কথাগুলি স্মরণ করে,কান্তের আদর,অভিনন্দন ও মনোরঞ্জের জন্য খুব ব‍্যস্ত মনে কোনও সখীকে বলছেন।* *সখী!সুবাসিত সলিল(সুগন্ধ জল),কর্পূরার্পিত পান,এবং সুন্দর সুন্দর পুষ্প দিয়ে শয‍্যা রচনা কর।* *শয‍্যার পাশে উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখ।* *এবং উপরে সুচারু( সুন্দর )চন্দ্রাতপ রচনা কর।* *সখী!আজ আমার অন্তরে যে কেমন আনন্দ উদয় হচ্ছে বলে বুঝাতে পারব না।আজকের রাত্রির মত এমন বসন্ত মধুময়ী রজনীতে,এখনি আমার নবনাগর শ‍্যামসুন্দর আসবেন,এইকথা ভেবে আমার চরম আনন্দ আর কি আছে।* *দেখসখী!কুসুমিত অগ্রে(মুকুলিত) আম্র তরুর পরিমলে ভ্রমর ভ্রমরী বিভোর হয়ে বিলসিত রয়েছে।* *সখী!আমিও আজ কন্দর্পকেলির আনন্দালসে এইরকমভাবে সুখে বিভোর হয়ে নাগরের কোলে (সগরিহ)সমস্ত রজনী যাপন করব।* *বিধাতার চরণে পড়ে এই মাত্র বর প্রার্থনা করছি,সে সময়ে যেন দেহে চেতনা থাকে।* *আনন্দের আতিশর্য‍্যে যেন অচেতন না হয়ে যায়।সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,হরির পরশে চেতন থাকা সন্দেহের কথা।*
*শ্রীবৃন্দাবনের কেলি কুঞ্জ সকল সর্বদাই বসন্তের প্রধান‍্য।অতএব প্রেম বিভ্রান্ত রাধারাণীর ঋতুপতি রাতি এই কথা কোনও ঋতুতেই অস্বাভাবিক নয়।* *কোনও সখী আরেকজনকে দেখিয়ে বলছেন,দেখ আমাদের নায়িকা শিরোমণি আজ বাসকসজ্জা সাজিয়েছে।* *আহা তার সুবিকসিত অঙ্গের শোভা দেখে মনে হচ্ছে যেন লক্ষ লক্ষ মনমথ(মদন)মনের সাধে ধেয়ে এসে অঙ্গে অঙ্গে উদয় হয়েছে এবং ছেড়ে যেতে চাইছে না।* *(তেজই ত‍্যাগ করে),সময় বুঝে বৃন্দাদেবী নানাপ্রকার আভরণ এনে দিয়াছেন,প্রেমময়ী রাধা বিনোদিনী তা বারবার অঙ্গে ধারণ করছেন আর কান্তের আগমন বিলম্ব হচ্ছে দেখে অসহনীয় হয়ে ঘন ঘন খুলছেন।* *আর প্রদীপের আলোয় নিজের ছায়া দেখছেন মনে করছেন "কান্ত এলেন" মনে করে ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠছেন।* *আর অধৈর্য‍্য হয়ে সখীকে জিজ্ঞাসা করছেন সখী!অদ‍্য শ‍্যামনাগর এত দেরী করছেন কেন?* *সেইকথা শুনে সখীভাবাবিষ্ট গীতকর্তা গোবিন্দ কবিরাজ বলছেন,কই এখনওতো মুরলী নিশান(ধ্বনি)শুনা যাচ্ছে না।*
 *সাজল কুসুম,শেজ পুন সাজই,*
     *জারই জারল বাতি।*
*বাসিত খপুরে,কর্পূর পুনঃ বাসই,*
     *ভৈগেল মদন ভঁরাতি।।*
*আজু  রাই  সাজল  বাসক শেজ।*
*মনমথ লাখ, মনোরথে ধাবই,*
     *অঙ্গে অঙ্গে নাহি তেজ।।*
*ঘন ঘন আভরণ,অঙ্গে চড়ারই,*
      *ক্ষণে ক্ষণে তেজই তায়।*
*সচকিত নয়নে,চঙকি খেনে উঠয়,*
     *হেরই নিজতনু ছায়।।*
*কাতর বচনে,সম্ভাষই সহচরী,*
     *কাহে বিলাম্বায়ত কান।*
*গোবিন্দ দাস,কহই অব না শুনিয়ে,*
     *সঙ্কেত মুরলী নিশান।।*
*ভঁরাতি=ভ্রান্তি,
*🌻নিকুঞ্জে উপস্থিত হয়েই আহ্লাদে ও আদরে প্রেমময়ী রাইধনি,সাজানো শয‍্যাকে পুন সাজালেন।* *যে প্রদীপ জ্বলছিল,তাহা আরও উজ্জ্বল করলেন,সুগন্ধময় তাম্বুল বীটিকা পুন কর্পর দিয়ে আরো সুবাসিত করলেন।* *এতকিছু করেও যেন মনে হল কিছুই করা হয় নাই।* *বলিয়া মদনাবেশে ভ্রান্তি হতে লাগল।* 
*🌻বাসকসজ্জা এখানেই রহিল🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





adds