শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

বৈরাগ‍্য ভাব কেমন করে আসতে পারে? ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ বৈরাগ‍্য ভাব কেমন করে আসতে পারে? 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *🌴বৈরাগ‍্য ভাব কেমন করে আসতে পারে?🌴*
""" """" """"" """"" """"" """"" """""" """"""
*সাধকের প্রথমেই সাংসারিক বিষয় পরিণামে ক্ষতিকর মেনে নিয়ে এবং তা দুঃখরূপ জেনে সযত্নে ত‍্যাগ করা উচিত। বারংবার বৈরাগ‍্যের চিন্তা করলে,ত‍্যাগের মহত্ত্ব মনন করলে,জগতের প্রকৃত অবস্থা ভেবে দেখলে,মৃত ব‍্যক্তিদের,শূন‍্য মহল,ভাঙ্গচোরা অট্টালিকা,এইসব দেখলে বা শুনলে প্রাচীন রাজাদের অন্তিম জীবনদশা লক্ষ্য করলে এবং অনাসক্ত,চিন্তাশীল ব‍্যক্তিদের সঙ্গ করলে,এইরকম চিন্তা স্বতঃই (নিজের) হৃদয়ে জেগে উঠে এবং বিষয়াদির প্রতি বিরাগ উৎপন্ন হয়। পুত্র-পরিবার,অর্থ-সম্পদ,মান-মর্যাদা, কীর্তি-যশ ইত‍্যাদি সমস্ত পদার্থে নিরন্তর দুঃখ ও দোষ চিন্তা করে তার থেকে মন সরিয়ে নিতে হয়।ভগবান বলেছেন,*
*ইন্দ্রিয়ার্থেষু বৈরাগ‍্যমনহঙ্কার এব চ।*
*জন্মমৃত‍্যুজরাব‍্যাধিদুঃখদোষানুদর্শনম্।।*
*অসক্তিরনভিষ্বঙ্গঃ পুত্রদারগৃহিদিষু।*
        *(গীতা=১৩|৮-৯)*
*🍀ইহলোক ও পরলোকের সমস্ত ভোগে আসক্তির অভাব এবং অহঙ্কারেরও অভাব আর জন্ম-মৃত‍্যু-*জরা-রোগ ইত‍্যাদিতে বারংবার দুঃখ-শোকের বিচার করা এবং স্ত্রী-পুত্র,গৃহ-সম্পদে আসক্তি ও মমত্ববোধ দূর করা।* *বিচার করলে এমন আরও অনেক প্রমাণ পাওয়া যাবে,যাতে জগতের সমস্ত পদার্থ দুঃখরূপ বলে মনে হয়।*
*🍀যোগদর্শনের সূত্র হল=*
*পরিণামতাপসংস্কারদুঃখৈর্গুণবৃত্তি- বিরোধাচ্চ দুঃখমেব সর্বং বিবেকিনঃ।*
           *(সাধনপাদ=১৫)*
*🍀পরিণামদুঃখ,তাপদুঃখ,সংস্কারদুঃখ এবং দুঃখ মিশ্রিত তথা গুণ-বৃত্তি-বিরোধ হওয়ায় বিবেচক মানুষের দৃষ্টিতে সমস্ত বিষয় সুখ দুঃখেরই রূপ হয়ে থাকে।*
*🍀পরিণামদুঃখতা=যে সুখ আরম্ভে সুখের বলে মনে হয় তা পরিণামে মহাদুঃখরূপ হয়,সেই সুখকে পরিণামদুঃখ বলা হয়।* *যেমন আসক্তবশতঃ রোগীর জিভের স্বাদের জন্য কুপথ‍্য গ্রহণ।চিকিৎসক নিষেধ করলেও ইন্দ্রিয়াসক্ত রোগী আপাত-সুখকর পদার্থ স্বাদবশতঃ খেয়ে শেষকালে কষ্ট পায়,কাঁদে,চিৎকার; তেমনই বিষয়সুখ শুরুতে রমণীয় ও সুখের মনে হলেও পরিণামে মহাদুঃখদায়ক হয়।ভগবান বলেছেন=*
*বিষয়েন্দ্রিয়সংযোগাদ্ যৎ তদগ্রেহমৃতোপমম্।*
*পরিণামে বিষমিব তৎ সুখং রাজসং স্মৃতম্।।*
                  *গীতা=১৮|৩৮*
*🍀বিষয় ও ইন্দ্রিয়াদির সংযোগে যে সুখ হয়,ভোগের সময় যদিও তা অমৃতের মতো মনে হয়, কিন্তু পরিণামে তা (বল-বীর্য-অর্থ-উৎসাহ ও পরলোকনাশক হওয়ায়) বিষের মতো হয়।* *তাই একরকম সুখকে রাজসিক সুখ বলা হয়।* *চুলকোনির ঘা চুলকালে তা প্রথমে আরামদায়ক,কিন্তু পরে যখন তাতে জ্বালা ধরে,সেইটাই মহা দুঃখদায়ক হয়ে উঠে।বিষয়-সুখেরও সেই একই পরিণাম দুঃখদায়ক হয়।বহু বহু পূণ‍্য সঞ্চয় করলে মানুষ স্বর্গলাভ করে কিন্তু ""তে তাং ভুক্তা স্বর্গলোকং বিশালং ক্ষীণে পূণ‍্যে মর্ত‍্যলোকং বিশন্তি""।* *অর্থ‍্যাৎ তাঁর সেই বিশাল স্বর্গলোক ভোগ করে পূণ‍্য ক্ষয় হলে পুনরায় ইহলোক প্রাপ্ত হন।তাই গোঁসাই তুলসী দাস মহারাজ শ্রীরামচরিত মানসে বলেছেন=*
*এহি তন কর ফল বিষয় ন ভাঈ।*
*স্বর্গউ স্বল্প অন্ত দুখদাউ।।*

*🍀তাপদুঃখরূপ=স্ত্রী-পুত্র-স্বামী-অর্থ-সম্পদ ইত‍্যাদি সকল পদার্থ সবসময় কষ্ট দেয় জ্বালাতন করে।এমন কোন বিষয় নেই যাকে চিন্তা করলে কষ্টদায়ক মনে হয় না।এছাড়া মানুষ নিজের থেকে অন‍্য কাউকে কোন বিষয়ে সমৃদ্ধশালী দেখে,তখন নিজের অল্প সুখের জন্য তার হৃদয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।* *বিষয়-প্রাপ্তি,তার সংরক্ষণ ও নাশ হওয়াতে সর্বদা ক্ষোভ বজায় থাকে।বলা হয় যে------*
*অর্থানামর্জনে দুঃখং তথৈব পরিপালনে।*
*নাশে দুঃখং ব‍্যয়ে দুঃখং ধিগর্থান্ ক্লেশকারিণঃ।।*
*🍀অর্থ অর্জন করতে কষ্ট,উপার্জন হলে তার সংরক্ষণে কষ্ট,কোথাও কিছুতে নষ্ট না হয়,তারজন‍্য সর্বদা চিন্তা,খরচ হলে চিন্তা,তা রেখে মরে যেতেও দুশ্চিন্তা,অর্থ‍্যাৎ এর থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল দুশ্চিন্তায় বজায় থাকে।* *তাই একে ধিক্কার দেওয়া হয়েছে। পুত্র-মান-মর্যাদাও সেই একই ব‍্যাপার।সমস্ত বিষয়েই প্রাপ্তির ইচ্ছা থেকে বিয়োগ পর্যন্ত সেই একই সন্তাপ বজায় থাকে।এমন কোন বিষয় সুখ নাই যা সন্তাপ প্রদান করে না।* 
*🍀সংস্কারদুঃখতা=আজ স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-পরিবার,অর্থ-সম্মানের যে বিষয় প্রাপ্ত হয়েছে তার সংস্কার হৃদয়ে অঙ্কিত হয়েছে।তাই সেগুলি না থাকলে সংস্কারের জন্য সেইসব বস্তুর অভাব মহাদুঃখদায়ক।আমি কেমন ছিলাম,আমার পুত্র কত সুন্দর ও অনুগত ছিল, আমার পত্নী কত সুশীলা ছিল, আমার বাবার কাছে আমি কত সুখী ছিলাম,জগতে আমার কত মান-সম্মান ছিল, আমার কত অর্থ সম্পদ ছিল।কিন্তু আজ আমি কি হয়েছি! আমি সবরকমেই দীন-হীন হয়ে গেছি।* *যদিও জগতে তাঁর মতো বহু মানুষ শুরু থেকে এমনই বিষয়রহিত ছিল, কিন্তু তারা এমন দুঃখী নয়।যাঁর বিষয়-ভোগের বাহুল‍্যতায় সুখের সংস্কার হয়,তাঁরই এমন অভাব প্রতীত হয়।*
*অভাবের প্রতীতিতে (বিশ্বাসে)দুঃখ ভরে থাকে।একেই বলে সংস্কারদুঃখতা।* *এছাড়া সর্বদা একথাও স্মরণে রাখা উচিত যে জগতের সমস্ত বিষয়-সুখ সর্বাবস্থাতে দুঃখমিশ্রিত থাকে।*
*🍀গুণ-বৃত্তির বিরোধজনিত দুঃখ=* *ধরুন,একজন ব‍্যক্তির কিছু মিথ‍্যা কথা বললে বা কপটতা ছলনা, বিশ্বাসঘাতকতা করলে অনেক টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তখন তাকে তার সাত্ত্বিক বৃত্তি বলে "পাপ করে টাকার দরকার নেই, তার থেকে ভিক্ষা করা বা মরে যাওয়াও ভালো,কিন্তু পাপ করা উচিত নয়।* *অন‍্যদিকে লোভি রাজসিক বৃত্তি বলে"ক্ষতি কি?* *একবার একটু মিথ‍্যা বলায় আপত্তি কি?সামান‍্য ছলনা বা কপট আচরণ ও বিশ্বাসঘাতকতা করলে কী হবে?একবার এই কাজ করে দরিদ্রতা মিটিয়ে নিই,ভবিষ‍্যতে আর একাজ করব না।এইভাবে সাত্ত্বিক ও রাজসিকের মধ্যে মহাযুদ্ধ বেধে যায়।এতে চিত্ত অন্তত‍্য ব‍্যাকুল ও কিংকর্তব‍্যবিমূঢ় হয়ে উঠে।* *বিষাদ ও উদ্বিগ্নতার কোন সীমা থাকে না।* *এইভাবে রাজসিক ও তামসিক বৃত্তিরও মতভেদ হয়।একজন মানুষ তাস বা দাবা খেলতে থাকে,ওদিকে সময় মত না যাওয়ায় গৃহের আবশ‍্যক কর্ম হয় না।কর্মে প্রবৃত্তকারী রাজসিক বৃত্তি বলে।"উঠো,চলো,ঘরের কাজ করো,নাহলে ক্ষতি হয়ে যাবে।* *অন‍্যদিকে প্রমাদরূপী তামসিক বৃত্তি তাকে বারংবার খেলাতে আকর্ষণ করতে থাকে,সেই বেচারি এই দ্বিধায় পড়ে নানা অশান্তিতে ভোগে।* *উদাহরণের জন্য দুটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট।* 
*ক্রমশ*

 *🍀এইভাবে বিবেচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে জগতে সবই সুখ ও দুঃখের রূপ। সুতরাং এর থেকে মন সরিয়ে নেবার জন্য খুবই চেষ্টা করতে হবে।উপরোক্ত ভয় ও চিন্তা থেকে হওয়া উভয় প্রকারের বৈরাগ‍্য লাভ করার এই হল উপায়।* *এই উপায় পূর্বাপেক্ষা উত্তম-শ্রেণীর বৈরাগ‍্য-সম্পাদনেও অবশ্যই সহায়ক হয়ে থাকে।পরমাত্মার নাম-জপ ও সর্বদা তাঁর স্বরূপ চিন্তা করতে থাকলে হৃদয়ের কলুষ দূর হতে থাকবে।তেমনই তাতে উজ্বলতা আসবে।এইরকম উজ্বল ও শুদ্ধ হৃদয়ে বৈরাগ‍্যের তরঙ্গ উঠে,যার ফলে বিষয়ানুরাগ স্বতঃই দূর হয়ে যায়।এই অবস্থায় বিশেষ চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন থাকে না।যেমন ধূলি ধূসরিত আয়নাকে কাপড় দিয়ে মুছলে তা যেভাবে পরিস্কার হয়ে চমকিত হতে থাকে এবং তাতে মুখর ছবি স্পষ্ট প্রতিভাত হয়,তেমনই পরমাত্মার ভজন-ধ‍্যানরূপ কাপড়ের মোছাতে অন্তঃকরণরূপ দর্পণের ময়লা দূর হয়ে তা উজ্বল হয় এবং তাতে সুখস্বরূপ আত্মার প্রতিবিম্ব দেখা যায়।* *এইরকম অবস্থায় যে সামান্য বিষয়-মল থেকে যায়,তা সাধকের মনে শূলের মত বিঁধতে থাকে।* *তখন সাধক সেই বিষয়-মলদাগ দূর করার জন্য ভজন-ধ‍্যানে যেমন যেমন অন্তরের দর্পণ পরিস্কার হয়,সাধকের আশা ও উৎসাহ তেমনই বৃদ্ধি পেতে থাকে।* *যেসব ব‍্যক্তি ভজন-ধ‍্যানরূপ সাধন-তত্ত্ব বোঝেন না তাঁদের কাছে এগুলি ভার বলে বিশ্বাস হয়।* *যাঁর এই তত্ত্ব-জ্ঞান হতে থাকে,তিনি উত্তরোত্তর এই আনন্দ উপলব্ধি করে পূর্ণানন্দ লাভের জন্য ভজন-ধ‍্যানের বৃদ্ধি করতে থাকেন।* *তাঁর দৃষ্টিতে বিষয়াদিতে প্রতিভাত হওয়া বিষয়-সুখের কোন অস্তিত্বই থাকে না।* *ফলে তিনি অত‍্যন্ত শীঘ্রই দৃঢ় বৈরাগ‍্য লাভ করেন। ভগবান এই দৃঢ় অস্ত্রের সাহায্যে অহং,মমত্ব ও বাসনারূপ দৃঢ় মূলসম্পন্ন সংসাররূপ অশ্বত্থবৃক্ষকে ছেদন করতে বলেছেন।*
      *ক্রমশ*
*বৈরাগ‍্য, পরের অংশ*
++++++++++++++++
*অশ্বত্থমেনং সুবিরূঢ়মূলমসঙ্গশস্ত্রেণ দৃঢ়েন ছিত্ত্বা।* *(গীতা=১৫|৩*
*🍀সাংসারিক চিত্র সর্বতোভাবে দূর করাই হল এই অশ্বত্থ-বৃক্ষ ছেদন করা।দৃঢ় বৈরাগ‍্যের সাহায্যে এ কাজ সহজেই হতে পারে।*
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
*শ্রীভগবান বলেছেন-------*
*ততঃ পদং তৎ পরিমার্গিতব‍্যং যস্মিন্ গতা ন নিবর্তন্তি ভূয়ঃ।*
*তমেব চাদ‍্যং পুরুষং প্রপদ‍্যে যতঃ প্রবৃত্তিঃ প্রসৃতা পুরাণী।।*
             *(গীতা=১৫|৪*
*🍀এর পরে যে পরমপদরূপ পরমেশ্বরকে ভালো ভাবে অনুসন্ধান করা উচিত (সেই পরমাত্মার বিজ্ঞান আনন্দঘন "সত‍্যং জ্ঞানমনন্তং ব্রহ্ম" এর বারংবার চিন্তা করাই হল তাঁর অনুসন্ধান করা)* *যাতে যাওয়ার পর পুরুষ আর সংসারে পুনরাবর্তন করেন না এবং যে পরমেশ্বর দ্বারা এই পুরাতন সংসার বৃক্ষের প্রবৃত্তি বিস্তার লাভ করেছে।* *আমি সেই আদি পুরুষ নারায়ণের শরণাগত (সেই পরমপদের স্বরূপকে চেনা-- তাতে স্থিত হয়ে যাওয়াই হল তাঁর শরণগ্রহণ করা)এইভাবে শরণ নিলে*-----
*নির্মানমোহা জিতসঙ্গদোষা অধ‍্যাত্মনিত‍্যা বিনিবৃত্তকামাঃ।*
*দ্বন্দৈর্বিমুক্তাঃ সুখদুঃখসংজ্ঞৈর্গচ্ছন্ত‍্যমূঢ়াঃ পদমব‍্যয়ং তৎ।।* *গীঃ=১৫|৫*
*🍀মান এবং মোহ যাঁরা জয় করেছেন,আসক্তি জয় করে যাঁরা পরমাত্মার স্বরূপে নিত‍্য স্থিতি লাভ করেছেন,যাঁদের কামনা সম্পূর্ণভাবে নাশপ্রাপ্ত হয়েছে,সেই সব সুখ- দুঃখ- দ্বন্দ্ব বিমুক্ত জ্ঞানী ব‍্যক্তি এই অবিনাশী পরমপদ প্রাপ্ত হন।*
*🍀বৈরাগ‍্য বিষয়ে আরও কিছু আছে,এখানেই রাখলাম।🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






বৈরাগ‍্য ভাব কেমন করে আসতে পারে? ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ বৈরাগ‍্য ভাব কেমন করে আসতে পারে? 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *🌴বৈরাগ‍্য ভাব কেমন করে আসতে পারে?🌴*
""" """" """"" """"" """"" """"" """""" """"""
*সাধকের প্রথমেই সাংসারিক বিষয় পরিণামে ক্ষতিকর মেনে নিয়ে এবং তা দুঃখরূপ জেনে সযত্নে ত‍্যাগ করা উচিত। বারংবার বৈরাগ‍্যের চিন্তা করলে,ত‍্যাগের মহত্ত্ব মনন করলে,জগতের প্রকৃত অবস্থা ভেবে দেখলে,মৃত ব‍্যক্তিদের,শূন‍্য মহল,ভাঙ্গচোরা অট্টালিকা,এইসব দেখলে বা শুনলে প্রাচীন রাজাদের অন্তিম জীবনদশা লক্ষ্য করলে এবং অনাসক্ত,চিন্তাশীল ব‍্যক্তিদের সঙ্গ করলে,এইরকম চিন্তা স্বতঃই (নিজের) হৃদয়ে জেগে উঠে এবং বিষয়াদির প্রতি বিরাগ উৎপন্ন হয়। পুত্র-পরিবার,অর্থ-সম্পদ,মান-মর্যাদা, কীর্তি-যশ ইত‍্যাদি সমস্ত পদার্থে নিরন্তর দুঃখ ও দোষ চিন্তা করে তার থেকে মন সরিয়ে নিতে হয়।ভগবান বলেছেন,*
*ইন্দ্রিয়ার্থেষু বৈরাগ‍্যমনহঙ্কার এব চ।*
*জন্মমৃত‍্যুজরাব‍্যাধিদুঃখদোষানুদর্শনম্।।*
*অসক্তিরনভিষ্বঙ্গঃ পুত্রদারগৃহিদিষু।*
        *(গীতা=১৩|৮-৯)*
*🍀ইহলোক ও পরলোকের সমস্ত ভোগে আসক্তির অভাব এবং অহঙ্কারেরও অভাব আর জন্ম-মৃত‍্যু-*জরা-রোগ ইত‍্যাদিতে বারংবার দুঃখ-শোকের বিচার করা এবং স্ত্রী-পুত্র,গৃহ-সম্পদে আসক্তি ও মমত্ববোধ দূর করা।* *বিচার করলে এমন আরও অনেক প্রমাণ পাওয়া যাবে,যাতে জগতের সমস্ত পদার্থ দুঃখরূপ বলে মনে হয়।*
*🍀যোগদর্শনের সূত্র হল=*
*পরিণামতাপসংস্কারদুঃখৈর্গুণবৃত্তি- বিরোধাচ্চ দুঃখমেব সর্বং বিবেকিনঃ।*
           *(সাধনপাদ=১৫)*
*🍀পরিণামদুঃখ,তাপদুঃখ,সংস্কারদুঃখ এবং দুঃখ মিশ্রিত তথা গুণ-বৃত্তি-বিরোধ হওয়ায় বিবেচক মানুষের দৃষ্টিতে সমস্ত বিষয় সুখ দুঃখেরই রূপ হয়ে থাকে।*
*🍀পরিণামদুঃখতা=যে সুখ আরম্ভে সুখের বলে মনে হয় তা পরিণামে মহাদুঃখরূপ হয়,সেই সুখকে পরিণামদুঃখ বলা হয়।* *যেমন আসক্তবশতঃ রোগীর জিভের স্বাদের জন্য কুপথ‍্য গ্রহণ।চিকিৎসক নিষেধ করলেও ইন্দ্রিয়াসক্ত রোগী আপাত-সুখকর পদার্থ স্বাদবশতঃ খেয়ে শেষকালে কষ্ট পায়,কাঁদে,চিৎকার; তেমনই বিষয়সুখ শুরুতে রমণীয় ও সুখের মনে হলেও পরিণামে মহাদুঃখদায়ক হয়।ভগবান বলেছেন=*
*বিষয়েন্দ্রিয়সংযোগাদ্ যৎ তদগ্রেহমৃতোপমম্।*
*পরিণামে বিষমিব তৎ সুখং রাজসং স্মৃতম্।।*
                  *গীতা=১৮|৩৮*
*🍀বিষয় ও ইন্দ্রিয়াদির সংযোগে যে সুখ হয়,ভোগের সময় যদিও তা অমৃতের মতো মনে হয়, কিন্তু পরিণামে তা (বল-বীর্য-অর্থ-উৎসাহ ও পরলোকনাশক হওয়ায়) বিষের মতো হয়।* *তাই একরকম সুখকে রাজসিক সুখ বলা হয়।* *চুলকোনির ঘা চুলকালে তা প্রথমে আরামদায়ক,কিন্তু পরে যখন তাতে জ্বালা ধরে,সেইটাই মহা দুঃখদায়ক হয়ে উঠে।বিষয়-সুখেরও সেই একই পরিণাম দুঃখদায়ক হয়।বহু বহু পূণ‍্য সঞ্চয় করলে মানুষ স্বর্গলাভ করে কিন্তু ""তে তাং ভুক্তা স্বর্গলোকং বিশালং ক্ষীণে পূণ‍্যে মর্ত‍্যলোকং বিশন্তি""।* *অর্থ‍্যাৎ তাঁর সেই বিশাল স্বর্গলোক ভোগ করে পূণ‍্য ক্ষয় হলে পুনরায় ইহলোক প্রাপ্ত হন।তাই গোঁসাই তুলসী দাস মহারাজ শ্রীরামচরিত মানসে বলেছেন=*
*এহি তন কর ফল বিষয় ন ভাঈ।*
*স্বর্গউ স্বল্প অন্ত দুখদাউ।।*

*🍀তাপদুঃখরূপ=স্ত্রী-পুত্র-স্বামী-অর্থ-সম্পদ ইত‍্যাদি সকল পদার্থ সবসময় কষ্ট দেয় জ্বালাতন করে।এমন কোন বিষয় নেই যাকে চিন্তা করলে কষ্টদায়ক মনে হয় না।এছাড়া মানুষ নিজের থেকে অন‍্য কাউকে কোন বিষয়ে সমৃদ্ধশালী দেখে,তখন নিজের অল্প সুখের জন্য তার হৃদয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।* *বিষয়-প্রাপ্তি,তার সংরক্ষণ ও নাশ হওয়াতে সর্বদা ক্ষোভ বজায় থাকে।বলা হয় যে------*
*অর্থানামর্জনে দুঃখং তথৈব পরিপালনে।*
*নাশে দুঃখং ব‍্যয়ে দুঃখং ধিগর্থান্ ক্লেশকারিণঃ।।*
*🍀অর্থ অর্জন করতে কষ্ট,উপার্জন হলে তার সংরক্ষণে কষ্ট,কোথাও কিছুতে নষ্ট না হয়,তারজন‍্য সর্বদা চিন্তা,খরচ হলে চিন্তা,তা রেখে মরে যেতেও দুশ্চিন্তা,অর্থ‍্যাৎ এর থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল দুশ্চিন্তায় বজায় থাকে।* *তাই একে ধিক্কার দেওয়া হয়েছে। পুত্র-মান-মর্যাদাও সেই একই ব‍্যাপার।সমস্ত বিষয়েই প্রাপ্তির ইচ্ছা থেকে বিয়োগ পর্যন্ত সেই একই সন্তাপ বজায় থাকে।এমন কোন বিষয় সুখ নাই যা সন্তাপ প্রদান করে না।* 
*🍀সংস্কারদুঃখতা=আজ স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-পরিবার,অর্থ-সম্মানের যে বিষয় প্রাপ্ত হয়েছে তার সংস্কার হৃদয়ে অঙ্কিত হয়েছে।তাই সেগুলি না থাকলে সংস্কারের জন্য সেইসব বস্তুর অভাব মহাদুঃখদায়ক।আমি কেমন ছিলাম,আমার পুত্র কত সুন্দর ও অনুগত ছিল, আমার পত্নী কত সুশীলা ছিল, আমার বাবার কাছে আমি কত সুখী ছিলাম,জগতে আমার কত মান-সম্মান ছিল, আমার কত অর্থ সম্পদ ছিল।কিন্তু আজ আমি কি হয়েছি! আমি সবরকমেই দীন-হীন হয়ে গেছি।* *যদিও জগতে তাঁর মতো বহু মানুষ শুরু থেকে এমনই বিষয়রহিত ছিল, কিন্তু তারা এমন দুঃখী নয়।যাঁর বিষয়-ভোগের বাহুল‍্যতায় সুখের সংস্কার হয়,তাঁরই এমন অভাব প্রতীত হয়।*
*অভাবের প্রতীতিতে (বিশ্বাসে)দুঃখ ভরে থাকে।একেই বলে সংস্কারদুঃখতা।* *এছাড়া সর্বদা একথাও স্মরণে রাখা উচিত যে জগতের সমস্ত বিষয়-সুখ সর্বাবস্থাতে দুঃখমিশ্রিত থাকে।*
*🍀গুণ-বৃত্তির বিরোধজনিত দুঃখ=* *ধরুন,একজন ব‍্যক্তির কিছু মিথ‍্যা কথা বললে বা কপটতা ছলনা, বিশ্বাসঘাতকতা করলে অনেক টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তখন তাকে তার সাত্ত্বিক বৃত্তি বলে "পাপ করে টাকার দরকার নেই, তার থেকে ভিক্ষা করা বা মরে যাওয়াও ভালো,কিন্তু পাপ করা উচিত নয়।* *অন‍্যদিকে লোভি রাজসিক বৃত্তি বলে"ক্ষতি কি?* *একবার একটু মিথ‍্যা বলায় আপত্তি কি?সামান‍্য ছলনা বা কপট আচরণ ও বিশ্বাসঘাতকতা করলে কী হবে?একবার এই কাজ করে দরিদ্রতা মিটিয়ে নিই,ভবিষ‍্যতে আর একাজ করব না।এইভাবে সাত্ত্বিক ও রাজসিকের মধ্যে মহাযুদ্ধ বেধে যায়।এতে চিত্ত অন্তত‍্য ব‍্যাকুল ও কিংকর্তব‍্যবিমূঢ় হয়ে উঠে।* *বিষাদ ও উদ্বিগ্নতার কোন সীমা থাকে না।* *এইভাবে রাজসিক ও তামসিক বৃত্তিরও মতভেদ হয়।একজন মানুষ তাস বা দাবা খেলতে থাকে,ওদিকে সময় মত না যাওয়ায় গৃহের আবশ‍্যক কর্ম হয় না।কর্মে প্রবৃত্তকারী রাজসিক বৃত্তি বলে।"উঠো,চলো,ঘরের কাজ করো,নাহলে ক্ষতি হয়ে যাবে।* *অন‍্যদিকে প্রমাদরূপী তামসিক বৃত্তি তাকে বারংবার খেলাতে আকর্ষণ করতে থাকে,সেই বেচারি এই দ্বিধায় পড়ে নানা অশান্তিতে ভোগে।* *উদাহরণের জন্য দুটি দৃষ্টান্তই যথেষ্ট।* 
*ক্রমশ*

 *🍀এইভাবে বিবেচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে জগতে সবই সুখ ও দুঃখের রূপ। সুতরাং এর থেকে মন সরিয়ে নেবার জন্য খুবই চেষ্টা করতে হবে।উপরোক্ত ভয় ও চিন্তা থেকে হওয়া উভয় প্রকারের বৈরাগ‍্য লাভ করার এই হল উপায়।* *এই উপায় পূর্বাপেক্ষা উত্তম-শ্রেণীর বৈরাগ‍্য-সম্পাদনেও অবশ্যই সহায়ক হয়ে থাকে।পরমাত্মার নাম-জপ ও সর্বদা তাঁর স্বরূপ চিন্তা করতে থাকলে হৃদয়ের কলুষ দূর হতে থাকবে।তেমনই তাতে উজ্বলতা আসবে।এইরকম উজ্বল ও শুদ্ধ হৃদয়ে বৈরাগ‍্যের তরঙ্গ উঠে,যার ফলে বিষয়ানুরাগ স্বতঃই দূর হয়ে যায়।এই অবস্থায় বিশেষ চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন থাকে না।যেমন ধূলি ধূসরিত আয়নাকে কাপড় দিয়ে মুছলে তা যেভাবে পরিস্কার হয়ে চমকিত হতে থাকে এবং তাতে মুখর ছবি স্পষ্ট প্রতিভাত হয়,তেমনই পরমাত্মার ভজন-ধ‍্যানরূপ কাপড়ের মোছাতে অন্তঃকরণরূপ দর্পণের ময়লা দূর হয়ে তা উজ্বল হয় এবং তাতে সুখস্বরূপ আত্মার প্রতিবিম্ব দেখা যায়।* *এইরকম অবস্থায় যে সামান্য বিষয়-মল থেকে যায়,তা সাধকের মনে শূলের মত বিঁধতে থাকে।* *তখন সাধক সেই বিষয়-মলদাগ দূর করার জন্য ভজন-ধ‍্যানে যেমন যেমন অন্তরের দর্পণ পরিস্কার হয়,সাধকের আশা ও উৎসাহ তেমনই বৃদ্ধি পেতে থাকে।* *যেসব ব‍্যক্তি ভজন-ধ‍্যানরূপ সাধন-তত্ত্ব বোঝেন না তাঁদের কাছে এগুলি ভার বলে বিশ্বাস হয়।* *যাঁর এই তত্ত্ব-জ্ঞান হতে থাকে,তিনি উত্তরোত্তর এই আনন্দ উপলব্ধি করে পূর্ণানন্দ লাভের জন্য ভজন-ধ‍্যানের বৃদ্ধি করতে থাকেন।* *তাঁর দৃষ্টিতে বিষয়াদিতে প্রতিভাত হওয়া বিষয়-সুখের কোন অস্তিত্বই থাকে না।* *ফলে তিনি অত‍্যন্ত শীঘ্রই দৃঢ় বৈরাগ‍্য লাভ করেন। ভগবান এই দৃঢ় অস্ত্রের সাহায্যে অহং,মমত্ব ও বাসনারূপ দৃঢ় মূলসম্পন্ন সংসাররূপ অশ্বত্থবৃক্ষকে ছেদন করতে বলেছেন।*
      *ক্রমশ*
*বৈরাগ‍্য, পরের অংশ*
++++++++++++++++
*অশ্বত্থমেনং সুবিরূঢ়মূলমসঙ্গশস্ত্রেণ দৃঢ়েন ছিত্ত্বা।* *(গীতা=১৫|৩*
*🍀সাংসারিক চিত্র সর্বতোভাবে দূর করাই হল এই অশ্বত্থ-বৃক্ষ ছেদন করা।দৃঢ় বৈরাগ‍্যের সাহায্যে এ কাজ সহজেই হতে পারে।*
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
*শ্রীভগবান বলেছেন-------*
*ততঃ পদং তৎ পরিমার্গিতব‍্যং যস্মিন্ গতা ন নিবর্তন্তি ভূয়ঃ।*
*তমেব চাদ‍্যং পুরুষং প্রপদ‍্যে যতঃ প্রবৃত্তিঃ প্রসৃতা পুরাণী।।*
             *(গীতা=১৫|৪*
*🍀এর পরে যে পরমপদরূপ পরমেশ্বরকে ভালো ভাবে অনুসন্ধান করা উচিত (সেই পরমাত্মার বিজ্ঞান আনন্দঘন "সত‍্যং জ্ঞানমনন্তং ব্রহ্ম" এর বারংবার চিন্তা করাই হল তাঁর অনুসন্ধান করা)* *যাতে যাওয়ার পর পুরুষ আর সংসারে পুনরাবর্তন করেন না এবং যে পরমেশ্বর দ্বারা এই পুরাতন সংসার বৃক্ষের প্রবৃত্তি বিস্তার লাভ করেছে।* *আমি সেই আদি পুরুষ নারায়ণের শরণাগত (সেই পরমপদের স্বরূপকে চেনা-- তাতে স্থিত হয়ে যাওয়াই হল তাঁর শরণগ্রহণ করা)এইভাবে শরণ নিলে*-----
*নির্মানমোহা জিতসঙ্গদোষা অধ‍্যাত্মনিত‍্যা বিনিবৃত্তকামাঃ।*
*দ্বন্দৈর্বিমুক্তাঃ সুখদুঃখসংজ্ঞৈর্গচ্ছন্ত‍্যমূঢ়াঃ পদমব‍্যয়ং তৎ।।* *গীঃ=১৫|৫*
*🍀মান এবং মোহ যাঁরা জয় করেছেন,আসক্তি জয় করে যাঁরা পরমাত্মার স্বরূপে নিত‍্য স্থিতি লাভ করেছেন,যাঁদের কামনা সম্পূর্ণভাবে নাশপ্রাপ্ত হয়েছে,সেই সব সুখ- দুঃখ- দ্বন্দ্ব বিমুক্ত জ্ঞানী ব‍্যক্তি এই অবিনাশী পরমপদ প্রাপ্ত হন।*
*🍀বৈরাগ‍্য বিষয়ে আরও কিছু আছে,এখানেই রাখলাম।🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*বৈষ্ণব-চরণরেণু,ভূষণ করিয়া তনু,* *যাহা হৈতে অনুভব হয়।**মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,* *অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।।*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ বৈষ্ণব-চরণরেণু,ভূষণ করিয়া তনু,*꧂
              ꧁ *যাহা হৈতে অনুভব হয়।* 
  ꧁ *মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,* 
         ꧁  *অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*বৈষ্ণব-চরণরেণু,ভূষণ করিয়া তনু,*
       *যাহা হৈতে অনুভব হয়।*
*মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,*
       *অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌼যাহা হৈতে=যস্মাৎ বৈষ্ণবচরণরেণুভূষণাৎ।*
*অজ্ঞান অবিদ‍্যা=অজ্ঞানং চতুবর্গবাঞ্জা তদ্রূপাবিদ‍্যা।*
*********************************
*এখানে বৈষ্ণব চরণ ধূলির মহিমা কীর্তন। "বৈষ্ণবচরণরেণু ভূষণ করিয়া তনু,যাহা হৈতে অনুভব হয়"।* *ভক্তিপ্রাপ্তা বা ভজন অনুভব বিষয়ে বৈষ্ণব পদ ধূলির অসাধারণ মহিমা সর্ব শাস্ত্রেই একবাক‍্যে ঘোষিত হয়েছে।(ভক্ত পদধূলি আর ভক্ত পাদজল।ভক্ত-ভুক্ত-অবশেষ তিন মহাবল।।)*
*🍀এই তিনের সেবা থেকেই কৃষ্ণপ্রেমের উল্লাস।ভক্তপদধূলিতে অভিষিক্ত না হওয়া পর্যন্ত শুধু যাগযজ্ঞ তপস‍্যা বা বেদপাঠ প্রভৃতি দ্বারা ভগবৎতত্ত্বের জ্ঞানোদয় হয় না।বৈষ্ণবগণের চরণধূলির মধ‍্য দিয়েই পাওয়া যায় ভগবানের পদস্পর্শ।*
*🍀সর্ববেদান্তসার শ্রীমদ্ভাগবতে ব্রহ্মর্ষি জড়ভরত রহূগণের প্রতি বলেছেন=(ভাগবত,৫|১২|১২).*
*রহূগণৈতত্তপসা ন যাতি ন চেজ‍্যয়া নির্বপণাদ্ গৃহাদ্ বা।*
*ন চ্ছন্দসা নৈব জলাগ্নিসূর্য‍্যৈর্বিনা মহৎপাদরজোহভিষেকম্।।*
*অর্থ‍্যাৎ=হে মহারাজ রহূগণ!মহদগণের পদরজঃ দ্বারা অভিষিক্ত না হলে তপস‍্যা,বৈদিককর্ম,অন্নাদি দান,গৃহাদি নির্মাণর্থ পরোপকার,বেদাভ‍্যাস অথবা জল,অগ্নি বা সূর্য‍্যের উপাসনা প্রভৃতি অপর কোন সাধনার দ্বারাই ভগবততত্ত্বজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়া যায় না।*
*🍀পরমভক্ত শ্রীপ্রহ্লাদ মহাশয়ও বলেছেন,(ভাগবত,৭|৫|৩২)তাঁর পিতা হিরণ‍্যকশিপুর প্রতি।*
*নৈষাং মতিস্তাবদুরুক্রমাঙ্ঘ্রিং স্পৃশত‍্যনর্থাপগমো যদর্থঃ।*
*মহীয়সাং পাদরজোহভিষেকং নিষ্কিঞ্চনানাং ন বৃণীত যাবৎ।।*
*(🌼দীনভাবাপন্ন চিত্তই সাধুগুরুর করুণার যথাযোগ্য আধার।মহৎ-কৃপা সম্বন্ধে শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ লিখেছেন,*
*সতাং কৃপা চ দুরবস্থাদর্শনমাত্রোদ্ভবা ন স্বোপাসনাদ‍্যপেক্ষা,যথা শ্রীনারদ‍স‍্য নলকুবর-মণিগ্রীবয়োঃ।(ভক্তিসন্দর্ভ ১৯৩ অনু)।*
*অর্থ‍্যাৎ জীবের দূরবস্থা বা দুঃখ-দুর্দশাদি দর্শনেই সাধুগণের কৃপা তাঁদের প্রতি বর্ষিত হয়,জীবের পক্ষে সাধুগণের উপাসনাদির কোন অপেক্ষা নাই। যেমন নলকুবর-মণিগীবের দূরবস্থা দর্শনেই তাদের প্রতি শ্রীনারদের করুণা হয়েছিল।*
*শ্রীগুরু কৃপা সম্বন্ধেও তা জানতে হবে।কেউ কেউ ধন,জন,আভিজাত‍্য আদির অভিমানে মত্ত হয়ে অর্থ,সম্পদাদি দানে যথাসম্ভব শ্রীগুরুদেবের সেবা করে সদানন্দ মূর্তি শ্রীগুরুর স্বাভাবিক প্রসন্নাদি দর্শনে মনে করে থাকেন যে,তিনি যথেষ্ট গুরুকৃপা লাভ করে ধন‍্য হয়েছেন।সুতরাং তিনি যতই ভোগ- সম্পদাদিতে মত্ত থাকুন না কেন,গুরুকৃপা তাঁকে একদিন ভগবানের চরণতলে নিয়ে যাবেনই।*
*🍀যারা এই ভাবনা দ্বারা রয়েছেন,তাদের উদ্দেশ্যে নরোত্তম দাস ঠাকুরের এই মহাবাণীর প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।""গুরু,অধম জনার বন্ধু"", এই অধম,অপকৃষ্ট,দীনভাবাপন্ন চিত্তই শ্রীগুরুদেবের করুণার যথার্থ নিশ্ছিদ্র ভাজন।গুরুকৃপা কখনই কৃপাপাত্রকে অত‍্যুৎকট (অতিশয় তীব্র )নারকীয় গন্ধপূর্ণ বিষয়গর্তে ফেলে রাখেন না।যথার্থ কৃপাপ্রাপ্ত ব‍্যক্তি "হা হা গুরুকৃপা"!বলতে বলতে বিভোর হয়ে থাকেন।কৃপাই তাঁর চিত্তে সবসময় দৈন‍্য ভাবে ভক্তিরস সুধাধারায় তাঁকে অভিষিক্ত করে, শ্রীগুরু পাদপদ্মে সবসময় নিবিষ্ট(মনোযোগী)করে রাখেন।* *তাই বলেছেন শ্রীগুরুদেব অধম জনার বন্ধু।)*
= = = = = = = = =
*🍀শ্রীপ্রহ্লাদ মহাশয়ের শ্লোকে আসি।*
*যে পর্যন্ত বিষয় অভিমান শূন‍্য মহদগণের শ্রীচরণধূলি দ্বারা অভিষেক(স্নান বা অবগাহন)না হয়,সে পর্যন্ত বিশ্বমানবের মতি শ্রীভগবচ্চরণকে স্পর্শ করতে পারে না,অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মে কারো মতি জাত না হতে পারে না।যাঁর দ্বারা অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মনিষ্ঠ মতির দ্বারা নিখিল অনর্থ স্বতঃই নিবৃত্ত হয়ে যায়।* *(সত্ত্ব পরীক্ষা করবার জন‍্য ভৃগুমণি নারায়ণের বক্ষে পদাঘাত করলে শ্রীনারায়ণ বলেছিলেন,(ভাঃ--১০|৮৯|১০-১১)*
*পুনীহি সহলোকং মাং লোকপালাংশ্চ মদগতান্।*
*পাদোদকেন ভবতস্তীর্থানাং তীর্থকারিণা।।*
*অদ‍্যাহং ভগবন্!লক্ষ্ম‍্যা আসমেকান্তভাজনম্।*
*বৎস‍্যত‍্যুরসি মে ভূতির্ভবৎপাদহতাংহসঃ।।*
*🍀আবার শ্রীনারায়ণ বাণী,শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে এই শ্লোকদ্বয়ের অতিসুন্দর পদ‍্যানুবাদ করেছেন।🍀*
*এইযে তোমার পাদোদক পূণ‍্যজল।*
*তীর্থেরে করয়ে তীর্থ হেন সুনির্মল।।*
*যতেক ব্রহ্মান্ড বৈসে আমার দেহেতে।*
*যত লোকপাল সব আমার সহিতে।।*
*পাদোদক দিয়া আজি করিলা পবিত্র।*
*অক্ষয় হইয়া রহু তোমার চরিত্র।।*
*এইযে তোমার শ্রীচরণচিহ্নধূলি।*
*বক্ষে রাখিলাম আমি হই কুতূহলী।।*
*লক্ষ্মীসঙ্গে নিজবক্ষে দিল আমি স্থান।*
*বেদে যেন শ্রীবৎস-লাঞ্জন বলে নাম।।*
*🌼স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবের প্রতি বলেছেন, "অনুব্রজাম‍্যহং নিত‍্যং পূয়েয়েত‍্যঙ্ঘ্রিরেণুভিঃ" (ভাঃ ১১|১৪|১৬) হে উদ্ধব!আমি ভক্তের চরণধূলি দ্বারা ভক্তিপ্রাপ্ত করাইয়া ব্রহ্মান্ডকে পবিত্র করব বলে ভক্তের অনুগমন করে থাকি।*
*🍀শ্রীধরস্বামীর ব‍্যাখ‍্যা=ইদানিং এই বিশেষ কলিযুগেতে শ্রীরাধাকৃষ্ণ মিলিত তনু শ্রীমন্মহাপ্রভু ভক্তিরস আস্বাদনের লালসায় বৈষ্ণবগণের পদরেণু গ্রহণ করেছেন, "সবার চরণধূলি লয় বিশ্বম্ভর"(চৈঃভাঃ)* *শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*ভক্তপদধূলি আর ভক্তপাদজল।*
*ভক্ত-ভুক্ত-অবশেষ -- তিন মহাবল।।*
*এই তিন সেবা হৈতে কৃষ্ণপ্রেমা হয়।*
*পুনঃপুনঃ সর্বশাস্ত্রে ফুকারিয়া কয়।।*
         *ক্রমশ*






 *🌼শ্রীঠাকুর মহাশয় বৈষ্ণব চরণধূলি দ্বারা দেহকে ভূষিত করবার কথা বলেছেন,"বৈষ্ণবচরণরেণু ভূষণ করিয়া তনু" অর্থ‍্যাৎ জগতের নরনারী যেমন দেহকে অলঙ্কৃত করবার জন্য অতি সযত্নে ভূষণাদি ধারণ করে থাকেন ; তদ্রূপ স্বীয়(নিজ)আত্মাকে অলঙ্কৃত করবার জন্য অতি সযত্নে বা ভক্তিভরে বৈষ্ণব চরণধূলির নিষেবণ (সেবা পরিচর্য‍্যা)করতে হবে।এই দিয়েই বৈষ্ণবের প্রতি পরমভক্তিই উপদিষ্ট(উপদেশ) হয়েছে।"বৈষ্ণবাণাং পরাভক্তিঃ(নারদ পঞ্চরাত্র)অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণবগণের প্রতি পরমা ভক্তি করবে।* *ভক্তিমার্গের সাধকগণের নিকট বৈষ্ণবগণ শ্রীবিষ্ণুর মতোই পূজ‍্য "বৈষ্ণবা বিষ্ণুবৎ পূজ‍্যাঃ"।বৈষ্ণব আদর গুণ ভক্তসাধকে না থাকলে তাঁর সাধন ভজনে ভগবান কখনই প্রসন্ন হন না।*
*যে মে ভক্তজনাঃ পার্থ ন মে ভক্তাশ্চ তে জনাঃ।*
*মদ্ভাক্তানাঞ্চ যে ভক্তা স্তে মে ভক্ততমা মতাঃ।।*
*তস্মাদ্বিষ্ণুপ্রসাদায় বৈষ্ণবান্ পরিতোষয়েৎ।*
*প্রসাদসুমুখো বিষ্ণুস্তেনৈব স‍্যান্ন সংশয়ঃ।।*
          *(আদি পুরাণ)*
*🍀শ্রীভগবান অর্জুনের প্রতি বলেছেন,হে পার্থ!যাঁরা কেবল আমায় ভক্তি করেন তাঁরা আমার যথার্থ ভক্ত নয়,যাঁরা আমার ভক্তগণের ভক্ত,তাঁরাই আমার সর্বোৎকৃষ্টভক্ত বলে পরিগণিত। সুতরাং বিষ্ণুর প্রসন্নতার জন্য সর্বতোভাবে বৈষ্ণবের সন্তোষ বিধান করবে।বৈষ্ণব প্রসন্ন হলেই বিষ্ণু প্রসন্ন হবেন,এতে কিছুমাত্র সংশয় নাই। পক্ষান্তরে বৈষ্ণব যদি কিঞ্চিৎমাত্র অপমানিত হন,তাহলে বিশ্বাত্মা শ্রীবিষ্ণু শত শত পূজিত হলেও প্রসন্ন হন না।* *""প্রসীদতি ন বিশ্বাত্মা বৈষ্ণবে চাপমানিতে""।তাই ভগবান উদ্ধবের প্রতি নিজমুখে বলেছেন,""মদ্ভক্তপূজাভ‍্যধিকা""(ভাঃ১১|১৯|২১) "অভ‍্যধিকা মৎপূজাতোহপি তএ মম সন্তোষবিশেষাৎ""(ঐ টীকা শ্রীজীব গোস্বামীপাদের) আমার ভক্তের পূজায় আমার পূজো অপেক্ষাও আমার অধিক সন্তোষ হয় জানিয়া ভক্তের সমধিক পূজা করবে।* *তাই বলেছেন,যাহা হৈতে অনুভব হয়, অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণব চরণধূলির দ্বারা দেহ ভূষিত হলে সাধ‍্য-সাধন বিষয়ে বা সম্বন্ধ অভিধেয় জেনে প্রয়োজন বিষয়ে সাধকের অনুভব বা অভিজ্ঞান জন্মে থাকে।*
*🍀মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণব চরণধূলি দেহের বিভূষণ করলে বা পরম শ্রদ্ধাভক্তির সঙ্গে সর্বার্থ-সাধক-জ্ঞানে বৈষ্ণব চরণধূলি দেহে অথবা মস্তকে ধারণ করলে,সবসময় সাধুসঙ্গের সৌভাগ্য লাভ হয় এবং অনুক্ষণ (সবসময়)সাধুসঙ্গে ভজন সুমার্জিত হয় ও সাধুসঙ্গের আনুষাঙ্গিকফলেই অজ্ঞান অবিদ‍্যা বিনাশ হয়ে থাকে।* *সাধুসঙ্গের মহিমা বিষয়ে শ্রীমদ্ভাগবতে ১১|২৬|৩১ দেখা যায়, ""যথোপশ্রয়মাণস‍্য ভগবন্তং বিভাবসুম্। শীতং ভয়ং তমোহপ‍্যেতি সাধূন্ সংসেবতস্তর্থ!""* *অর্থ‍্যাৎ ভগবান অগ্নিদেবতার আশ্রয়ে যেমন শীত,ভয় ও অন্ধকার নষ্ট হয়,সেইরকম সাধুগণের আশ্রয়ে জীবের কর্মজড়তা, সংসার ভয় ও সংসারমূলক অজ্ঞান বা অবিদ‍্যা নষ্ট হয় থাকে।(এই শ্লোকের টীকায় শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী লিখেছেন*, *""স্বীয়ৌদনসিদ্ধ‍্যর্থমুপাশ্রয়মাণস‍্য অপ‍্যেতি নশ‍্যতি।তথৈব ভজনসিদ্ধ‍্যর্থং সাধূন্ সংসেব‍্যমানস‍্য কর্মাদিজাড‍্যং সংসারভয়ং ভজনবিঘ্নশ্চ।।* *অর্থ‍্যাৎ যেমন অন্ন ব‍্যঞ্জনাদির সিদ্ধর জন্য উনানে আগুন জ্বালাতে হয় এবং অন্নাদির রানা ব‍্যতীতও আনুষঙ্গিক ভাবে শীত,ভয় ও অন্ধকার নাশ হয়ে থাকে,সেইরকম ভজনসিদ্ধির জন্য সাধুসঙ্গ এবং সাধুসেবা করলে ভজনসিদ্ধির আনুসঙ্গিক ভাবেই কর্মজড়তা,সংসারভয় ও অজ্ঞান অবিদ‍্যা ভজনবিঘ্ন নাশ হয়ে থাকে।* *🍀সৎসঙ্গই সাক্ষাৎ ভক্তি🍀*
*অথৈতৎ পরমং গুহ‍্যং শৃণ্বতো যদুনন্দন।*
*সুগোপ‍্যমপি বক্ষ‍্যামি ত্বং মে ভৃত‍্যঃ সুহৃদসখা।*
           *ভাঃ ১১|১১|৪৯*
*ন রোধয়তি মাং যোগো ন সাংখ‍্যং ধর্ম এব চ।*
*ন স্বাধ‍্যায়স্তপস্ত‍্যাগো নেষ্টাপূর্তং ন দক্ষিণা।।*
*ব্রতানি যজ্ঞশ্ছন্দাংসি তীর্থানি নিয়মা যমাঃ।*
*যথাবরুদ্ধে সৎসঙ্গঃ সর্বসঙ্গাপহো হি মাম্।।*
                *ভাঃ ১১|১২|১-২*
*🌼ভগবান উদ্ধবের প্রতি বললেন,* *হে যদুনন্দন! তুমি আমার পরম সুহৃদ,ভৃত‍্য এবং সখা অতএব অতি গোপন তত্ত্বও তোমায় বলছি শুন।অষ্টাঙ্গযোগ,তত্ত্ববিবেকরূপ সাংখ‍্য অহিংসাদিধর্ম বা বর্ণাশ্রমধর্ম, বেদপাঠ,তপস‍্যা,সন্ন‍্যাস, ইষ্টাপূর্ত অর্থ‍্যাৎ অগ্নিষ্টোমযাগ ও কূপারামাদি নির্মাণ,দান,ব্রত,দেবপূজা,মন্ত্র,তীর্থ, নিয়ম এবং হোম আদি আমায় বশীভূত করতে পারে না,সর্বসঙ্কের অপহারক সাধুসঙ্গ আমায় যেমন বশীভূত করে।* *তাই ভাগবতে বলেছেন="অয়ং হি পরমো লাভো নৃণাং সাধুসমাগমঃ।(ভাঃ ১২|১০|০৭)* *এই সাধুসঙ্গই সকলের পক্ষে পরম লাভ।এই রকম সৎসঙ্গের বহু শাস্ত্র ব‍্যাখা রয়েছে।*
*সাধ
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*বৈষ্ণব-চরণরেণু,ভূষণ করিয়া তনু,* *যাহা হৈতে অনুভব হয়।**মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,* *অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।।*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ বৈষ্ণব-চরণরেণু,ভূষণ করিয়া তনু,*꧂
              ꧁ *যাহা হৈতে অনুভব হয়।* 
  ꧁ *মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,* 
         ꧁  *অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*বৈষ্ণব-চরণরেণু,ভূষণ করিয়া তনু,*
       *যাহা হৈতে অনুভব হয়।*
*মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,*
       *অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌼যাহা হৈতে=যস্মাৎ বৈষ্ণবচরণরেণুভূষণাৎ।*
*অজ্ঞান অবিদ‍্যা=অজ্ঞানং চতুবর্গবাঞ্জা তদ্রূপাবিদ‍্যা।*
*********************************
*এখানে বৈষ্ণব চরণ ধূলির মহিমা কীর্তন। "বৈষ্ণবচরণরেণু ভূষণ করিয়া তনু,যাহা হৈতে অনুভব হয়"।* *ভক্তিপ্রাপ্তা বা ভজন অনুভব বিষয়ে বৈষ্ণব পদ ধূলির অসাধারণ মহিমা সর্ব শাস্ত্রেই একবাক‍্যে ঘোষিত হয়েছে।(ভক্ত পদধূলি আর ভক্ত পাদজল।ভক্ত-ভুক্ত-অবশেষ তিন মহাবল।।)*
*🍀এই তিনের সেবা থেকেই কৃষ্ণপ্রেমের উল্লাস।ভক্তপদধূলিতে অভিষিক্ত না হওয়া পর্যন্ত শুধু যাগযজ্ঞ তপস‍্যা বা বেদপাঠ প্রভৃতি দ্বারা ভগবৎতত্ত্বের জ্ঞানোদয় হয় না।বৈষ্ণবগণের চরণধূলির মধ‍্য দিয়েই পাওয়া যায় ভগবানের পদস্পর্শ।*
*🍀সর্ববেদান্তসার শ্রীমদ্ভাগবতে ব্রহ্মর্ষি জড়ভরত রহূগণের প্রতি বলেছেন=(ভাগবত,৫|১২|১২).*
*রহূগণৈতত্তপসা ন যাতি ন চেজ‍্যয়া নির্বপণাদ্ গৃহাদ্ বা।*
*ন চ্ছন্দসা নৈব জলাগ্নিসূর্য‍্যৈর্বিনা মহৎপাদরজোহভিষেকম্।।*
*অর্থ‍্যাৎ=হে মহারাজ রহূগণ!মহদগণের পদরজঃ দ্বারা অভিষিক্ত না হলে তপস‍্যা,বৈদিককর্ম,অন্নাদি দান,গৃহাদি নির্মাণর্থ পরোপকার,বেদাভ‍্যাস অথবা জল,অগ্নি বা সূর্য‍্যের উপাসনা প্রভৃতি অপর কোন সাধনার দ্বারাই ভগবততত্ত্বজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়া যায় না।*
*🍀পরমভক্ত শ্রীপ্রহ্লাদ মহাশয়ও বলেছেন,(ভাগবত,৭|৫|৩২)তাঁর পিতা হিরণ‍্যকশিপুর প্রতি।*
*নৈষাং মতিস্তাবদুরুক্রমাঙ্ঘ্রিং স্পৃশত‍্যনর্থাপগমো যদর্থঃ।*
*মহীয়সাং পাদরজোহভিষেকং নিষ্কিঞ্চনানাং ন বৃণীত যাবৎ।।*
*(🌼দীনভাবাপন্ন চিত্তই সাধুগুরুর করুণার যথাযোগ্য আধার।মহৎ-কৃপা সম্বন্ধে শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ লিখেছেন,*
*সতাং কৃপা চ দুরবস্থাদর্শনমাত্রোদ্ভবা ন স্বোপাসনাদ‍্যপেক্ষা,যথা শ্রীনারদ‍স‍্য নলকুবর-মণিগ্রীবয়োঃ।(ভক্তিসন্দর্ভ ১৯৩ অনু)।*
*অর্থ‍্যাৎ জীবের দূরবস্থা বা দুঃখ-দুর্দশাদি দর্শনেই সাধুগণের কৃপা তাঁদের প্রতি বর্ষিত হয়,জীবের পক্ষে সাধুগণের উপাসনাদির কোন অপেক্ষা নাই। যেমন নলকুবর-মণিগীবের দূরবস্থা দর্শনেই তাদের প্রতি শ্রীনারদের করুণা হয়েছিল।*
*শ্রীগুরু কৃপা সম্বন্ধেও তা জানতে হবে।কেউ কেউ ধন,জন,আভিজাত‍্য আদির অভিমানে মত্ত হয়ে অর্থ,সম্পদাদি দানে যথাসম্ভব শ্রীগুরুদেবের সেবা করে সদানন্দ মূর্তি শ্রীগুরুর স্বাভাবিক প্রসন্নাদি দর্শনে মনে করে থাকেন যে,তিনি যথেষ্ট গুরুকৃপা লাভ করে ধন‍্য হয়েছেন।সুতরাং তিনি যতই ভোগ- সম্পদাদিতে মত্ত থাকুন না কেন,গুরুকৃপা তাঁকে একদিন ভগবানের চরণতলে নিয়ে যাবেনই।*
*🍀যারা এই ভাবনা দ্বারা রয়েছেন,তাদের উদ্দেশ্যে নরোত্তম দাস ঠাকুরের এই মহাবাণীর প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।""গুরু,অধম জনার বন্ধু"", এই অধম,অপকৃষ্ট,দীনভাবাপন্ন চিত্তই শ্রীগুরুদেবের করুণার যথার্থ নিশ্ছিদ্র ভাজন।গুরুকৃপা কখনই কৃপাপাত্রকে অত‍্যুৎকট (অতিশয় তীব্র )নারকীয় গন্ধপূর্ণ বিষয়গর্তে ফেলে রাখেন না।যথার্থ কৃপাপ্রাপ্ত ব‍্যক্তি "হা হা গুরুকৃপা"!বলতে বলতে বিভোর হয়ে থাকেন।কৃপাই তাঁর চিত্তে সবসময় দৈন‍্য ভাবে ভক্তিরস সুধাধারায় তাঁকে অভিষিক্ত করে, শ্রীগুরু পাদপদ্মে সবসময় নিবিষ্ট(মনোযোগী)করে রাখেন।* *তাই বলেছেন শ্রীগুরুদেব অধম জনার বন্ধু।)*
= = = = = = = = =
*🍀শ্রীপ্রহ্লাদ মহাশয়ের শ্লোকে আসি।*
*যে পর্যন্ত বিষয় অভিমান শূন‍্য মহদগণের শ্রীচরণধূলি দ্বারা অভিষেক(স্নান বা অবগাহন)না হয়,সে পর্যন্ত বিশ্বমানবের মতি শ্রীভগবচ্চরণকে স্পর্শ করতে পারে না,অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মে কারো মতি জাত না হতে পারে না।যাঁর দ্বারা অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ পাদপদ্মনিষ্ঠ মতির দ্বারা নিখিল অনর্থ স্বতঃই নিবৃত্ত হয়ে যায়।* *(সত্ত্ব পরীক্ষা করবার জন‍্য ভৃগুমণি নারায়ণের বক্ষে পদাঘাত করলে শ্রীনারায়ণ বলেছিলেন,(ভাঃ--১০|৮৯|১০-১১)*
*পুনীহি সহলোকং মাং লোকপালাংশ্চ মদগতান্।*
*পাদোদকেন ভবতস্তীর্থানাং তীর্থকারিণা।।*
*অদ‍্যাহং ভগবন্!লক্ষ্ম‍্যা আসমেকান্তভাজনম্।*
*বৎস‍্যত‍্যুরসি মে ভূতির্ভবৎপাদহতাংহসঃ।।*
*🍀আবার শ্রীনারায়ণ বাণী,শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে এই শ্লোকদ্বয়ের অতিসুন্দর পদ‍্যানুবাদ করেছেন।🍀*
*এইযে তোমার পাদোদক পূণ‍্যজল।*
*তীর্থেরে করয়ে তীর্থ হেন সুনির্মল।।*
*যতেক ব্রহ্মান্ড বৈসে আমার দেহেতে।*
*যত লোকপাল সব আমার সহিতে।।*
*পাদোদক দিয়া আজি করিলা পবিত্র।*
*অক্ষয় হইয়া রহু তোমার চরিত্র।।*
*এইযে তোমার শ্রীচরণচিহ্নধূলি।*
*বক্ষে রাখিলাম আমি হই কুতূহলী।।*
*লক্ষ্মীসঙ্গে নিজবক্ষে দিল আমি স্থান।*
*বেদে যেন শ্রীবৎস-লাঞ্জন বলে নাম।।*
*🌼স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবের প্রতি বলেছেন, "অনুব্রজাম‍্যহং নিত‍্যং পূয়েয়েত‍্যঙ্ঘ্রিরেণুভিঃ" (ভাঃ ১১|১৪|১৬) হে উদ্ধব!আমি ভক্তের চরণধূলি দ্বারা ভক্তিপ্রাপ্ত করাইয়া ব্রহ্মান্ডকে পবিত্র করব বলে ভক্তের অনুগমন করে থাকি।*
*🍀শ্রীধরস্বামীর ব‍্যাখ‍্যা=ইদানিং এই বিশেষ কলিযুগেতে শ্রীরাধাকৃষ্ণ মিলিত তনু শ্রীমন্মহাপ্রভু ভক্তিরস আস্বাদনের লালসায় বৈষ্ণবগণের পদরেণু গ্রহণ করেছেন, "সবার চরণধূলি লয় বিশ্বম্ভর"(চৈঃভাঃ)* *শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন=*
*ভক্তপদধূলি আর ভক্তপাদজল।*
*ভক্ত-ভুক্ত-অবশেষ -- তিন মহাবল।।*
*এই তিন সেবা হৈতে কৃষ্ণপ্রেমা হয়।*
*পুনঃপুনঃ সর্বশাস্ত্রে ফুকারিয়া কয়।।*
         *ক্রমশ*






 *🌼শ্রীঠাকুর মহাশয় বৈষ্ণব চরণধূলি দ্বারা দেহকে ভূষিত করবার কথা বলেছেন,"বৈষ্ণবচরণরেণু ভূষণ করিয়া তনু" অর্থ‍্যাৎ জগতের নরনারী যেমন দেহকে অলঙ্কৃত করবার জন্য অতি সযত্নে ভূষণাদি ধারণ করে থাকেন ; তদ্রূপ স্বীয়(নিজ)আত্মাকে অলঙ্কৃত করবার জন্য অতি সযত্নে বা ভক্তিভরে বৈষ্ণব চরণধূলির নিষেবণ (সেবা পরিচর্য‍্যা)করতে হবে।এই দিয়েই বৈষ্ণবের প্রতি পরমভক্তিই উপদিষ্ট(উপদেশ) হয়েছে।"বৈষ্ণবাণাং পরাভক্তিঃ(নারদ পঞ্চরাত্র)অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণবগণের প্রতি পরমা ভক্তি করবে।* *ভক্তিমার্গের সাধকগণের নিকট বৈষ্ণবগণ শ্রীবিষ্ণুর মতোই পূজ‍্য "বৈষ্ণবা বিষ্ণুবৎ পূজ‍্যাঃ"।বৈষ্ণব আদর গুণ ভক্তসাধকে না থাকলে তাঁর সাধন ভজনে ভগবান কখনই প্রসন্ন হন না।*
*যে মে ভক্তজনাঃ পার্থ ন মে ভক্তাশ্চ তে জনাঃ।*
*মদ্ভাক্তানাঞ্চ যে ভক্তা স্তে মে ভক্ততমা মতাঃ।।*
*তস্মাদ্বিষ্ণুপ্রসাদায় বৈষ্ণবান্ পরিতোষয়েৎ।*
*প্রসাদসুমুখো বিষ্ণুস্তেনৈব স‍্যান্ন সংশয়ঃ।।*
          *(আদি পুরাণ)*
*🍀শ্রীভগবান অর্জুনের প্রতি বলেছেন,হে পার্থ!যাঁরা কেবল আমায় ভক্তি করেন তাঁরা আমার যথার্থ ভক্ত নয়,যাঁরা আমার ভক্তগণের ভক্ত,তাঁরাই আমার সর্বোৎকৃষ্টভক্ত বলে পরিগণিত। সুতরাং বিষ্ণুর প্রসন্নতার জন্য সর্বতোভাবে বৈষ্ণবের সন্তোষ বিধান করবে।বৈষ্ণব প্রসন্ন হলেই বিষ্ণু প্রসন্ন হবেন,এতে কিছুমাত্র সংশয় নাই। পক্ষান্তরে বৈষ্ণব যদি কিঞ্চিৎমাত্র অপমানিত হন,তাহলে বিশ্বাত্মা শ্রীবিষ্ণু শত শত পূজিত হলেও প্রসন্ন হন না।* *""প্রসীদতি ন বিশ্বাত্মা বৈষ্ণবে চাপমানিতে""।তাই ভগবান উদ্ধবের প্রতি নিজমুখে বলেছেন,""মদ্ভক্তপূজাভ‍্যধিকা""(ভাঃ১১|১৯|২১) "অভ‍্যধিকা মৎপূজাতোহপি তএ মম সন্তোষবিশেষাৎ""(ঐ টীকা শ্রীজীব গোস্বামীপাদের) আমার ভক্তের পূজায় আমার পূজো অপেক্ষাও আমার অধিক সন্তোষ হয় জানিয়া ভক্তের সমধিক পূজা করবে।* *তাই বলেছেন,যাহা হৈতে অনুভব হয়, অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণব চরণধূলির দ্বারা দেহ ভূষিত হলে সাধ‍্য-সাধন বিষয়ে বা সম্বন্ধ অভিধেয় জেনে প্রয়োজন বিষয়ে সাধকের অনুভব বা অভিজ্ঞান জন্মে থাকে।*
*🍀মার্জন হয় ভজন,সাধুসঙ্গে অনুক্ষণ,অজ্ঞান অবিদ‍্যা পরাজয়।অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণব চরণধূলি দেহের বিভূষণ করলে বা পরম শ্রদ্ধাভক্তির সঙ্গে সর্বার্থ-সাধক-জ্ঞানে বৈষ্ণব চরণধূলি দেহে অথবা মস্তকে ধারণ করলে,সবসময় সাধুসঙ্গের সৌভাগ্য লাভ হয় এবং অনুক্ষণ (সবসময়)সাধুসঙ্গে ভজন সুমার্জিত হয় ও সাধুসঙ্গের আনুষাঙ্গিকফলেই অজ্ঞান অবিদ‍্যা বিনাশ হয়ে থাকে।* *সাধুসঙ্গের মহিমা বিষয়ে শ্রীমদ্ভাগবতে ১১|২৬|৩১ দেখা যায়, ""যথোপশ্রয়মাণস‍্য ভগবন্তং বিভাবসুম্। শীতং ভয়ং তমোহপ‍্যেতি সাধূন্ সংসেবতস্তর্থ!""* *অর্থ‍্যাৎ ভগবান অগ্নিদেবতার আশ্রয়ে যেমন শীত,ভয় ও অন্ধকার নষ্ট হয়,সেইরকম সাধুগণের আশ্রয়ে জীবের কর্মজড়তা, সংসার ভয় ও সংসারমূলক অজ্ঞান বা অবিদ‍্যা নষ্ট হয় থাকে।(এই শ্লোকের টীকায় শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী লিখেছেন*, *""স্বীয়ৌদনসিদ্ধ‍্যর্থমুপাশ্রয়মাণস‍্য অপ‍্যেতি নশ‍্যতি।তথৈব ভজনসিদ্ধ‍্যর্থং সাধূন্ সংসেব‍্যমানস‍্য কর্মাদিজাড‍্যং সংসারভয়ং ভজনবিঘ্নশ্চ।।* *অর্থ‍্যাৎ যেমন অন্ন ব‍্যঞ্জনাদির সিদ্ধর জন্য উনানে আগুন জ্বালাতে হয় এবং অন্নাদির রানা ব‍্যতীতও আনুষঙ্গিক ভাবে শীত,ভয় ও অন্ধকার নাশ হয়ে থাকে,সেইরকম ভজনসিদ্ধির জন্য সাধুসঙ্গ এবং সাধুসেবা করলে ভজনসিদ্ধির আনুসঙ্গিক ভাবেই কর্মজড়তা,সংসারভয় ও অজ্ঞান অবিদ‍্যা ভজনবিঘ্ন নাশ হয়ে থাকে।* *🍀সৎসঙ্গই সাক্ষাৎ ভক্তি🍀*
*অথৈতৎ পরমং গুহ‍্যং শৃণ্বতো যদুনন্দন।*
*সুগোপ‍্যমপি বক্ষ‍্যামি ত্বং মে ভৃত‍্যঃ সুহৃদসখা।*
           *ভাঃ ১১|১১|৪৯*
*ন রোধয়তি মাং যোগো ন সাংখ‍্যং ধর্ম এব চ।*
*ন স্বাধ‍্যায়স্তপস্ত‍্যাগো নেষ্টাপূর্তং ন দক্ষিণা।।*
*ব্রতানি যজ্ঞশ্ছন্দাংসি তীর্থানি নিয়মা যমাঃ।*
*যথাবরুদ্ধে সৎসঙ্গঃ সর্বসঙ্গাপহো হি মাম্।।*
                *ভাঃ ১১|১২|১-২*
*🌼ভগবান উদ্ধবের প্রতি বললেন,* *হে যদুনন্দন! তুমি আমার পরম সুহৃদ,ভৃত‍্য এবং সখা অতএব অতি গোপন তত্ত্বও তোমায় বলছি শুন।অষ্টাঙ্গযোগ,তত্ত্ববিবেকরূপ সাংখ‍্য অহিংসাদিধর্ম বা বর্ণাশ্রমধর্ম, বেদপাঠ,তপস‍্যা,সন্ন‍্যাস, ইষ্টাপূর্ত অর্থ‍্যাৎ অগ্নিষ্টোমযাগ ও কূপারামাদি নির্মাণ,দান,ব্রত,দেবপূজা,মন্ত্র,তীর্থ, নিয়ম এবং হোম আদি আমায় বশীভূত করতে পারে না,সর্বসঙ্কের অপহারক সাধুসঙ্গ আমায় যেমন বশীভূত করে।* *তাই ভাগবতে বলেছেন="অয়ং হি পরমো লাভো নৃণাং সাধুসমাগমঃ।(ভাঃ ১২|১০|০৭)* *এই সাধুসঙ্গই সকলের পক্ষে পরম লাভ।এই রকম সৎসঙ্গের বহু শাস্ত্র ব‍্যাখা রয়েছে।*
*সাধ
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,* *আর যত ক্ষারনিধি প্রায়।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,* 
             ꧁  *আর যত ক্ষারনিধি প্রায়।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,*
     *আর যত ক্ষারনিধি প্রায়।*
*নিরন্তর সুখ পাবে,সকল সন্তাপ যাবে,*
     *পরতত্ত্ব কহিনু উপায়।।*
*🙏"প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,আর যত ক্ষারনিধি প্রায়", অর্থ‍্যাৎ প্রেমবক্তি সুধা নিধি বা অমৃতের সিন্ধু তুল‍্য।ভক্তি শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপশক্তির সারভূতা হ্লাদিনীর বৃত্তি বিশেষ, সুতরাং স্বতইঃ পরম আস্বাদ‍্য। শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ শ্রীপরমাত্মসন্দর্ভে লিখেছেন="কিঞ্চ পরমসারভূতায়া অপি স্বরূপশক্তেঃ সারভূতা হ্লাদিনী নাম যা বৃত্তিস্তস‍্যা এব সারভূতো বৃত্তিবিশেষো ভক্তিঃ", অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবানের পরম সারভূত স্বরূপশক্তির প্রধানা বৃত্তির নাম হ্লাদিনী।* *এই হ্লাদিনীর প্রধান বা সারভূত বৃত্তির নামই ভক্তি।"শ্রীপাদ বলদেব বিদ‍্যাভূষণও তাঁর সিদ্ধান্তরত্ন গ্রন্থে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি করে লিখেছেন (ভগবদ্বশীকারহেতু ভক্তিঃ কিং স্বরূপেতি ; কিং প্রাকৃত-সত্ত্বময়-জ্ঞানানন্দরূপা কিম্বা ভগবদজ্ঞানানন্দরূপা অথবা জৈবজ্ঞানানন্দরূপা উত হ্লাদিনীসার-সমবেত সম্বিতসাররূপেতি?নাদ‍্যঃ ভগবতো মায়াবশ‍্যত্বাশ্রবণাৎ, স্বতঃ পূর্ণত্বাচ্চ, ন দ্বিতীয় অতিশয়াসিদ্ধেঃ, নাপি তৃতীয় জৈবয়োস্তয়োঃ ক্ষোদিষ্টত্বাৎ। কিন্তু চতুর্থ এবাসৌ ভবেদিতি।) অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবানের বশ‍্যতার একমাত্র হেতুভূতা ভক্তির স্বরূপ কি? ভক্তি কি প্রাকৃত সত্ত্বজ্ঞানানন্দরূপা,কিম্বা ভগবৎজ্ঞানানন্দরূপা, অথবা জৈবজ্ঞানানন্দরূপা বা হ্লাদিনী-সার সমবেত সম্বিৎসাররূপা?অর্থ‍্যাৎ ভক্তি কি অন্তঃকরণের ধর্ম,কিম্বা পরমাত্মার স্বরূপভূত ধর্ম, অথবা জীবাত্মার স্বরূপের ধর্ম বা শ্রীভগবানের স্বরূপভূত হ্লাদিনীশক্তি ও সম্বিৎশক্তির সারসমবেতের পরাবস্থা*? *"ভক্তি" বিষয়ে এই চারটি সংশয়াত্মক প্রশ্ন।* *সংশয়ের কারণটি হচ্ছে,ভক্তিতে সুখ বা আনন্দ আছে ও অনুভব আছে।প্রাকৃত সত্ত্বগুণেও সুখ ও অনুভব আছে,এই সাদৃশ‍্যে প্রশ্ন হয়, ভক্তি কি প্রাকৃত সত্ত্বজ্ঞানানন্দরূপা? কিম্বা সচ্চিদানন্দময় শ্রীভগবানের স্বরূপে যে জ্ঞান ও আনন্দ আছে, তাহাই জীবহৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে ভক্তিনামে অভিহিত হয়ে থাকে?অথবা অণুচিৎস্বরূপ জৈবানন্দটিই ভক্তি?* *বা শ্রীভগবানের স্বরূপশক্তির বৃত্তি যে হ্লাদিনী এবং সম্বিৎ তাদের সারসমবেত পরিণতির নাম ভক্তি?* *ভক্তিকে সত্ত্বগুণের বৃত্তি অন্তঃকরণের ধর্ম শ্রীভগবানের মায়াবশীভূতত্ব দোষের প্রসক্তি হয়।ভগবান একমাত্র ভক্তির বশ,ইহা সর্বশাস্ত্রেই দেখা যায়,কিন্তু তিনি মায়িক সত্ত্বগুণে বশীভূত হন,ইহা কোন শাস্ত্রেই দেখা যায় না বা শোনা যায় না।* *সুতরাং প্রথম পক্ষটি পরিহার করে পক্ষান্তর গ্রহণ করতে হয়।দ্বিতীয় পক্ষ হচ্ছে= ভগবানের স্বরূপভূত জ্ঞান ও আনন্দই ভক্তি,কিন্তু তাহাই বা কিভাবে সম্ভব?* *তাতে যে অতিশয়াসিদ্ধি দোষ ঘটে। কারণ ভগবানের স্বরূপানন্দ অপেক্ষাও ভক্তিতে তার অধিক আনন্দ ও সুখ আছে,যেহেতু স্বরূপানন্দ ত‍্যাগ করেও ভগবান ভক্ত‍্যানন্দ আস্বাদনের বাসনা করে থাকেন। তৃতীয় পক্ষও সুসঙ্গত নহে,* *কারণ জীবের জ্ঞান ও আনন্দ স্বরূপত অণু, সুতরাং অতি ক্ষুদ্র। ঐ ক্ষুদ্রজ্ঞানদ্বারা বিভু সচ্চিদানন্দময় ভগবানকে আকৃষ্ট করা সর্বথাই অসম্ভব।* *তাহলে তিনটি পক্ষেই অসামঞ্জস‍্য বা অসম্ভবনা দেখে শেষের চতুর্থ পক্ষটিকেই স্বীকার করতে হয়।* *অর্থ‍্যাৎ ভগবানের স্বরূপশক্তির সারভূতা যে হ্লাদিনী এবং সম্বিৎ তাদের সার সমবেত অবস্থাই ভক্তি।*





*এষা তু ভক্তিস্তন্নিত‍্য-পরিকরগণাদারভ‍্যেদানীন্তনেষ্বপি তদ্ভক্তেষু মন্দাকিনীব প্রচরতি।অতস্তদ্ভক্ত-কৃপয়ৈবলভ‍্যেতি ভাগবতাদি সম্বাদঃ।সা তথাভূতা নিত‍্যধাম্নি নিত‍্যপার্ষদেষু নিত‍্যং চকাস্তি সুরসরিদিব তদ্ভক্তপ্রণাল‍্য প্রপঞ্চেহবতরতি।(বলদেব বিদ‍্যাভূষণ)* *অর্থ‍্যাৎ সাধকের হৃদয় শ্রবণ-কীর্তনাদির দ্বারা পরিমার্জিত হলে ভগবানের নিত‍্যপার্ষদগণে বিরাজিত যে প্রেমভক্তি,উহা মন্দাকিনীর মত ভক্তরূপ প্রণালিকার (শ্রীগুরুপ্রণালীর)মধ‍্য দিয়ে প্রপঞ্চে অবতরণ করেন এবং সেই নিত‍্যসিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধকের চিত্তে আবির্ভূত হয়ে তাদেরকে অপার্থিব আনন্দদানে চিরকৃতার্থ করে থাকেন।* *প্রেমভক্তির আস্বাদনের কখনও তুলনা নাই তথাপি বিশ্বমানবকে সেই অলৌকিক বা অপার্থিব আনন্দের কিঞ্চিৎ ধারণা দেবার জন্য বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আস্বাদ্রবস্তু যে সুধা বা অমৃত তার আস্বাদনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।* *কেবল "সুধা" না বলে বলা হয়েছে "প্রেমভক্তি সুধানিধি" অমৃত সিন্ধুর মত প্রেমভক্তিরসের আস্বাদন।* *যার একবিন্দু আস্বাদনে অন‍্যান‍্য সব আনন্দই তুচ্ছাতিতুচ্ছ হয়ে থাকে।* *শ্রীমৎ সনাতন গোস্বামীপাদ শ্রীবৃহদ্ভাগবতামৃতে তাঁর স্বরচিত দিগদর্শিনী টীকার মঙ্গলাচরণে লিখেছেন=*
*ভক্তির্যা নিখিলার্থবর্গজননী যা ব্রহ্ম- সাক্ষাৎকৃতেরানন্দাতিশয়প্রদা বিষয়জাৎ সৌখ‍্যাদবিমুক্তির্যয়া।*
*শ্রীরাধারমণং পদাম্বুজযুগং যস‍্যা মহানাশ্রয়ো যা কার্য‍্যা ব্রজলোকবদগুরুতরপ্রেম্নৈব তস‍্যৈ নমঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ=যে ভক্তি নিখিল-পুরুষার্থ- প্রসূ,অর্থ‍্যাৎ ধর্ম,অর্থ,কাম ও মোক্ষ প্রদায়িনী,ব্রহ্মানন্দ অপেক্ষাও যাতে স্বতঃই পরম মহান সুখরাশি হয়ে থাকে,যা হতে নিখিল বিষয় সুখ অতি তুচ্ছীকৃত হয়ে যায়,শ্রীরাধারমণের পদাম্বুজদ্বয় যে ভক্তির মহান আশ্রয়, ব্রজলোকের মত গুরুতর প্রীতি সহকারে যার অনুষ্ঠান করতে হয় সেই ভক্তিদেবীকে নমস্কার।*
*এইশ্লোকে সাধনভক্তির আস্বাদনের কথায় বলা হয়েছে।সাধন ভক্তির আস্বাদনও কম নয়,কারণ প্রেমভক্তির সাজাত‍্য সাধনভক্তিতেও থাকে।সাধনভক্তি,ভাবভক্তি এবং প্রেমভক্তি একই অবস্থার "তর ও তম" দশা।* *সাধনভক্তির আস্বাদন তরল ও প্রেমভক্তির আস্বাদন অতি সান্দ্র(নিবিড়)এই ভেদ।""তাহে ডুব নিরবধি"" নিরবধি বা সতত তাতে ডুববার জন্য সেই সিন্ধুর প্রয়োজন হয় না,প্রেমভক্তির একবিন্দুতেই জগতকে ডুবাতে পারে। (চৈঃচঃ ২|৪৩ পায়,)*
*শুদ্ধপ্রেম-সুখসিন্ধু,পাই তার একবিন্দু,সেই বিন্দু জগৎ ডুবায়।*
*অর্থ‍্যাৎ শুদ্ধপ্রেম যে অপরিমিত রস বা আস্বাদন আছে,তার একবিন্দু মাত্রেই আস্বাদনেই বিশ্বের নিখিল বিষয়ানন্দ,ঋদ্ধি,সিদ্ধি প্রভৃতির সুখ এমনকি মোক্ষানন্দও তুচ্ছাতিতুচ্ছ বোধ হয় থাকে।* *কেবল তুচ্ছই নহে,অতি ঘৃণিত,নক্কারজনক বা তিক্ত অর্থ‍্যাৎ অতিশয় কটু বলে মনে হয়।এই জন‍্যই নরোত্তমদাস ঠাকুর বলেছেন,"আর যত ক্ষারনিধি পায়"।* *তারপর বললেন,"নিরন্তর সুখ পাবে,সকল সন্তাপ যাবে,পরতত্ত্ব কহিনু উপায়"।* *অর্থ‍্যাৎ প্রেমভক্তির আস্বাদন নিত‍্য বা শাশ্বত,আনুষাঙ্গিকভাবেই ত্রিতাপাদি নিখিল সন্তাপ নাশপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।পরতত্ত্ববস্তুকে বা শ্রীশ্রীরাধামাধবকে একান্তভাবে লাভ করবার বা আস্বাদন করবার ইহাই একমাত্র উপায়।*
*পঞ্চমপুরুষার্থ সেই প্রেমমহাধন।*
*কৃষ্ণের মাধুর্য‍্যরস করায় আস্বাদন।।*
*প্রেমা হৈতে কৃষ্ণ হয় নিজভক্তবশ*।
*প্রেমা হৈতে পাই কৃষ্ণ-সেবা-সুখ-রস।।*
*অথবাষ"পরতত্ত্ব"অর্থে স্বয়ংসিদ্ধ অদ্বয় শ্রুতি-স্মৃতির প্রতিপাদ‍্য পরাখ‍্য স্বরূপশক্তিবিশিষ্ট।এই পরতত্ত্ব স্বপ্রাধান‍্যে স্ফুরিত হলে "পুরুষোত্তম"আখ‍্যা লাভ করেন। পরাখ‍্যশক্তিপ্রাধান‍্যে স্ফুরিত হলে ধর্মাদি নাম ধারণ করেন।* *যেমন=স্বয়ং পরাশক্তিই জ্ঞান,সুখ, কারুণ‍্য ও মাধুর্য‍্যাদি আকারে স্ফুরিত হয়ে "ধর্ম"রূপে প্রকাশিত হয়।* *শব্দাকারে প্রকাশিত হলে ভগবানের নাম ও বাক‍্যাদি রূপে ধরিত্রীর আকারে স্ফুরিত হলে ধাম রূপে এবং হ্লাদিনীর সার সমবেত সম্বিদাত্মক রমণীরত্নরূপে স্ফুরিত হয়ে শ্রীরাধাদি স্বরূপে বিভাসিত হন।* *(বেদান্ত দর্শন ৩|৩|৪২ সূত্রের গোবিন্দ ভাষ‍্যের সিদ্ধান্ত )*। *এর দ্বারা পরতত্ত্ব লাভের উপায় বলতে শ্রীরাধামাধবের রূপমাধুর্য‍্যের সঙ্গে তাঁদের নাম,গুণাদির মাধুর্য‍্য,ধামের মাধুরী,কারুণ‍্যাদি মাধুর্য‍্যের আস্বাদন প্রেমভক্তিতে মগ্ন হলে স্বতঃই সম্পন্ন হয়ে থাকে।*
*🍀ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,* *আর যত ক্ষারনিধি প্রায়।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,* 
             ꧁  *আর যত ক্ষারনিধি প্রায়।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,*
     *আর যত ক্ষারনিধি প্রায়।*
*নিরন্তর সুখ পাবে,সকল সন্তাপ যাবে,*
     *পরতত্ত্ব কহিনু উপায়।।*
*🙏"প্রেমভক্তি সুধানিধি,তাহে ডুব নিরবধি,আর যত ক্ষারনিধি প্রায়", অর্থ‍্যাৎ প্রেমবক্তি সুধা নিধি বা অমৃতের সিন্ধু তুল‍্য।ভক্তি শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপশক্তির সারভূতা হ্লাদিনীর বৃত্তি বিশেষ, সুতরাং স্বতইঃ পরম আস্বাদ‍্য। শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ শ্রীপরমাত্মসন্দর্ভে লিখেছেন="কিঞ্চ পরমসারভূতায়া অপি স্বরূপশক্তেঃ সারভূতা হ্লাদিনী নাম যা বৃত্তিস্তস‍্যা এব সারভূতো বৃত্তিবিশেষো ভক্তিঃ", অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবানের পরম সারভূত স্বরূপশক্তির প্রধানা বৃত্তির নাম হ্লাদিনী।* *এই হ্লাদিনীর প্রধান বা সারভূত বৃত্তির নামই ভক্তি।"শ্রীপাদ বলদেব বিদ‍্যাভূষণও তাঁর সিদ্ধান্তরত্ন গ্রন্থে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি করে লিখেছেন (ভগবদ্বশীকারহেতু ভক্তিঃ কিং স্বরূপেতি ; কিং প্রাকৃত-সত্ত্বময়-জ্ঞানানন্দরূপা কিম্বা ভগবদজ্ঞানানন্দরূপা অথবা জৈবজ্ঞানানন্দরূপা উত হ্লাদিনীসার-সমবেত সম্বিতসাররূপেতি?নাদ‍্যঃ ভগবতো মায়াবশ‍্যত্বাশ্রবণাৎ, স্বতঃ পূর্ণত্বাচ্চ, ন দ্বিতীয় অতিশয়াসিদ্ধেঃ, নাপি তৃতীয় জৈবয়োস্তয়োঃ ক্ষোদিষ্টত্বাৎ। কিন্তু চতুর্থ এবাসৌ ভবেদিতি।) অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবানের বশ‍্যতার একমাত্র হেতুভূতা ভক্তির স্বরূপ কি? ভক্তি কি প্রাকৃত সত্ত্বজ্ঞানানন্দরূপা,কিম্বা ভগবৎজ্ঞানানন্দরূপা, অথবা জৈবজ্ঞানানন্দরূপা বা হ্লাদিনী-সার সমবেত সম্বিৎসাররূপা?অর্থ‍্যাৎ ভক্তি কি অন্তঃকরণের ধর্ম,কিম্বা পরমাত্মার স্বরূপভূত ধর্ম, অথবা জীবাত্মার স্বরূপের ধর্ম বা শ্রীভগবানের স্বরূপভূত হ্লাদিনীশক্তি ও সম্বিৎশক্তির সারসমবেতের পরাবস্থা*? *"ভক্তি" বিষয়ে এই চারটি সংশয়াত্মক প্রশ্ন।* *সংশয়ের কারণটি হচ্ছে,ভক্তিতে সুখ বা আনন্দ আছে ও অনুভব আছে।প্রাকৃত সত্ত্বগুণেও সুখ ও অনুভব আছে,এই সাদৃশ‍্যে প্রশ্ন হয়, ভক্তি কি প্রাকৃত সত্ত্বজ্ঞানানন্দরূপা? কিম্বা সচ্চিদানন্দময় শ্রীভগবানের স্বরূপে যে জ্ঞান ও আনন্দ আছে, তাহাই জীবহৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে ভক্তিনামে অভিহিত হয়ে থাকে?অথবা অণুচিৎস্বরূপ জৈবানন্দটিই ভক্তি?* *বা শ্রীভগবানের স্বরূপশক্তির বৃত্তি যে হ্লাদিনী এবং সম্বিৎ তাদের সারসমবেত পরিণতির নাম ভক্তি?* *ভক্তিকে সত্ত্বগুণের বৃত্তি অন্তঃকরণের ধর্ম শ্রীভগবানের মায়াবশীভূতত্ব দোষের প্রসক্তি হয়।ভগবান একমাত্র ভক্তির বশ,ইহা সর্বশাস্ত্রেই দেখা যায়,কিন্তু তিনি মায়িক সত্ত্বগুণে বশীভূত হন,ইহা কোন শাস্ত্রেই দেখা যায় না বা শোনা যায় না।* *সুতরাং প্রথম পক্ষটি পরিহার করে পক্ষান্তর গ্রহণ করতে হয়।দ্বিতীয় পক্ষ হচ্ছে= ভগবানের স্বরূপভূত জ্ঞান ও আনন্দই ভক্তি,কিন্তু তাহাই বা কিভাবে সম্ভব?* *তাতে যে অতিশয়াসিদ্ধি দোষ ঘটে। কারণ ভগবানের স্বরূপানন্দ অপেক্ষাও ভক্তিতে তার অধিক আনন্দ ও সুখ আছে,যেহেতু স্বরূপানন্দ ত‍্যাগ করেও ভগবান ভক্ত‍্যানন্দ আস্বাদনের বাসনা করে থাকেন। তৃতীয় পক্ষও সুসঙ্গত নহে,* *কারণ জীবের জ্ঞান ও আনন্দ স্বরূপত অণু, সুতরাং অতি ক্ষুদ্র। ঐ ক্ষুদ্রজ্ঞানদ্বারা বিভু সচ্চিদানন্দময় ভগবানকে আকৃষ্ট করা সর্বথাই অসম্ভব।* *তাহলে তিনটি পক্ষেই অসামঞ্জস‍্য বা অসম্ভবনা দেখে শেষের চতুর্থ পক্ষটিকেই স্বীকার করতে হয়।* *অর্থ‍্যাৎ ভগবানের স্বরূপশক্তির সারভূতা যে হ্লাদিনী এবং সম্বিৎ তাদের সার সমবেত অবস্থাই ভক্তি।*





*এষা তু ভক্তিস্তন্নিত‍্য-পরিকরগণাদারভ‍্যেদানীন্তনেষ্বপি তদ্ভক্তেষু মন্দাকিনীব প্রচরতি।অতস্তদ্ভক্ত-কৃপয়ৈবলভ‍্যেতি ভাগবতাদি সম্বাদঃ।সা তথাভূতা নিত‍্যধাম্নি নিত‍্যপার্ষদেষু নিত‍্যং চকাস্তি সুরসরিদিব তদ্ভক্তপ্রণাল‍্য প্রপঞ্চেহবতরতি।(বলদেব বিদ‍্যাভূষণ)* *অর্থ‍্যাৎ সাধকের হৃদয় শ্রবণ-কীর্তনাদির দ্বারা পরিমার্জিত হলে ভগবানের নিত‍্যপার্ষদগণে বিরাজিত যে প্রেমভক্তি,উহা মন্দাকিনীর মত ভক্তরূপ প্রণালিকার (শ্রীগুরুপ্রণালীর)মধ‍্য দিয়ে প্রপঞ্চে অবতরণ করেন এবং সেই নিত‍্যসিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধকের চিত্তে আবির্ভূত হয়ে তাদেরকে অপার্থিব আনন্দদানে চিরকৃতার্থ করে থাকেন।* *প্রেমভক্তির আস্বাদনের কখনও তুলনা নাই তথাপি বিশ্বমানবকে সেই অলৌকিক বা অপার্থিব আনন্দের কিঞ্চিৎ ধারণা দেবার জন্য বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আস্বাদ্রবস্তু যে সুধা বা অমৃত তার আস্বাদনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।* *কেবল "সুধা" না বলে বলা হয়েছে "প্রেমভক্তি সুধানিধি" অমৃত সিন্ধুর মত প্রেমভক্তিরসের আস্বাদন।* *যার একবিন্দু আস্বাদনে অন‍্যান‍্য সব আনন্দই তুচ্ছাতিতুচ্ছ হয়ে থাকে।* *শ্রীমৎ সনাতন গোস্বামীপাদ শ্রীবৃহদ্ভাগবতামৃতে তাঁর স্বরচিত দিগদর্শিনী টীকার মঙ্গলাচরণে লিখেছেন=*
*ভক্তির্যা নিখিলার্থবর্গজননী যা ব্রহ্ম- সাক্ষাৎকৃতেরানন্দাতিশয়প্রদা বিষয়জাৎ সৌখ‍্যাদবিমুক্তির্যয়া।*
*শ্রীরাধারমণং পদাম্বুজযুগং যস‍্যা মহানাশ্রয়ো যা কার্য‍্যা ব্রজলোকবদগুরুতরপ্রেম্নৈব তস‍্যৈ নমঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ=যে ভক্তি নিখিল-পুরুষার্থ- প্রসূ,অর্থ‍্যাৎ ধর্ম,অর্থ,কাম ও মোক্ষ প্রদায়িনী,ব্রহ্মানন্দ অপেক্ষাও যাতে স্বতঃই পরম মহান সুখরাশি হয়ে থাকে,যা হতে নিখিল বিষয় সুখ অতি তুচ্ছীকৃত হয়ে যায়,শ্রীরাধারমণের পদাম্বুজদ্বয় যে ভক্তির মহান আশ্রয়, ব্রজলোকের মত গুরুতর প্রীতি সহকারে যার অনুষ্ঠান করতে হয় সেই ভক্তিদেবীকে নমস্কার।*
*এইশ্লোকে সাধনভক্তির আস্বাদনের কথায় বলা হয়েছে।সাধন ভক্তির আস্বাদনও কম নয়,কারণ প্রেমভক্তির সাজাত‍্য সাধনভক্তিতেও থাকে।সাধনভক্তি,ভাবভক্তি এবং প্রেমভক্তি একই অবস্থার "তর ও তম" দশা।* *সাধনভক্তির আস্বাদন তরল ও প্রেমভক্তির আস্বাদন অতি সান্দ্র(নিবিড়)এই ভেদ।""তাহে ডুব নিরবধি"" নিরবধি বা সতত তাতে ডুববার জন্য সেই সিন্ধুর প্রয়োজন হয় না,প্রেমভক্তির একবিন্দুতেই জগতকে ডুবাতে পারে। (চৈঃচঃ ২|৪৩ পায়,)*
*শুদ্ধপ্রেম-সুখসিন্ধু,পাই তার একবিন্দু,সেই বিন্দু জগৎ ডুবায়।*
*অর্থ‍্যাৎ শুদ্ধপ্রেম যে অপরিমিত রস বা আস্বাদন আছে,তার একবিন্দু মাত্রেই আস্বাদনেই বিশ্বের নিখিল বিষয়ানন্দ,ঋদ্ধি,সিদ্ধি প্রভৃতির সুখ এমনকি মোক্ষানন্দও তুচ্ছাতিতুচ্ছ বোধ হয় থাকে।* *কেবল তুচ্ছই নহে,অতি ঘৃণিত,নক্কারজনক বা তিক্ত অর্থ‍্যাৎ অতিশয় কটু বলে মনে হয়।এই জন‍্যই নরোত্তমদাস ঠাকুর বলেছেন,"আর যত ক্ষারনিধি পায়"।* *তারপর বললেন,"নিরন্তর সুখ পাবে,সকল সন্তাপ যাবে,পরতত্ত্ব কহিনু উপায়"।* *অর্থ‍্যাৎ প্রেমভক্তির আস্বাদন নিত‍্য বা শাশ্বত,আনুষাঙ্গিকভাবেই ত্রিতাপাদি নিখিল সন্তাপ নাশপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।পরতত্ত্ববস্তুকে বা শ্রীশ্রীরাধামাধবকে একান্তভাবে লাভ করবার বা আস্বাদন করবার ইহাই একমাত্র উপায়।*
*পঞ্চমপুরুষার্থ সেই প্রেমমহাধন।*
*কৃষ্ণের মাধুর্য‍্যরস করায় আস্বাদন।।*
*প্রেমা হৈতে কৃষ্ণ হয় নিজভক্তবশ*।
*প্রেমা হৈতে পাই কৃষ্ণ-সেবা-সুখ-রস।।*
*অথবাষ"পরতত্ত্ব"অর্থে স্বয়ংসিদ্ধ অদ্বয় শ্রুতি-স্মৃতির প্রতিপাদ‍্য পরাখ‍্য স্বরূপশক্তিবিশিষ্ট।এই পরতত্ত্ব স্বপ্রাধান‍্যে স্ফুরিত হলে "পুরুষোত্তম"আখ‍্যা লাভ করেন। পরাখ‍্যশক্তিপ্রাধান‍্যে স্ফুরিত হলে ধর্মাদি নাম ধারণ করেন।* *যেমন=স্বয়ং পরাশক্তিই জ্ঞান,সুখ, কারুণ‍্য ও মাধুর্য‍্যাদি আকারে স্ফুরিত হয়ে "ধর্ম"রূপে প্রকাশিত হয়।* *শব্দাকারে প্রকাশিত হলে ভগবানের নাম ও বাক‍্যাদি রূপে ধরিত্রীর আকারে স্ফুরিত হলে ধাম রূপে এবং হ্লাদিনীর সার সমবেত সম্বিদাত্মক রমণীরত্নরূপে স্ফুরিত হয়ে শ্রীরাধাদি স্বরূপে বিভাসিত হন।* *(বেদান্ত দর্শন ৩|৩|৪২ সূত্রের গোবিন্দ ভাষ‍্যের সিদ্ধান্ত )*। *এর দ্বারা পরতত্ত্ব লাভের উপায় বলতে শ্রীরাধামাধবের রূপমাধুর্য‍্যের সঙ্গে তাঁদের নাম,গুণাদির মাধুর্য‍্য,ধামের মাধুরী,কারুণ‍্যাদি মাধুর্য‍্যের আস্বাদন প্রেমভক্তিতে মগ্ন হলে স্বতঃই সম্পন্ন হয়ে থাকে।*
*🍀ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীমাধবী দেবী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_17.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ *🌻🌻শ্রীমাধবী দেবী🌻🌻* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻🌻শ্রীমাধবী দেবী🌻🌻*
*🍀উৎকলবাসী দেউলকরণ শ্রীশিখি মাহিতির কনিষ্ঠা ভগিনী শ্রীমাধবী দেবী। শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন------------*
*মাধবী-দেবী---- শিখিমাহিতির ভগিনী।*
*শ্রীরাধার দাসীমধ‍্যে যাঁর নাম গণি।।*
         *চৈঃচরিতামৃত আদি ১০|৩৭*
*শ্রীকবিকর্ণপুর গোস্বামী লিখেছেন---* *শ্রীমাধবী দেবী অতিশয় শুদ্ধবুদ্ধিসম্পন্না ছিলেন।ইহারই গুণে শ্রীশিখি মাহিতি ও শ্রীমুরারি শ্রীগৌরকৃষ্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।শ্রীমাধবী দেবী গৌর-ভক্তগণের মধ্যে কিরকম পরম ভাগ‍্যবতী ছিলেন,তা শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন---*
*মাহিতির ভগিনী সেই নাম---মাধবী দেবী।*
*বৃদ্ধা তপস্বিনী -- আর পরমা বৈষ্ণবী।।*
*প্রভু লেখা করে যারে--- রাধিকার গণ।*
*জগতের মধ্যে "পাত্র"--- সাড়ে তিন জন।*
*স্বরূপ গোসাঞি,আর রায় রামানন্দ।*
*শিখি-মাহিতি--তিন,তাঁর ভগিনী --- অর্ধজন।।*
    *চৈঃ চঃ অন্ত‍্যঃ ২|১০৪-১০৬*
*আলালনাথের নিকট বেন্টপুর গ্রামে শ্রীভবানন্দ রায়ের গৃহ-সন্নিধানে শ্রীমাধবী দেবী শ্রীগোপীনাথের সেবা প্রকট করেছিলেন। অদ‍্যাপি তথায়, সেই মূর্তি সেবিত হচ্ছেন।ভবানন্দ রায়ের ভ্রাতৃষ্পুত্র হলেন শ্রীশিখি মাহিতি।শোনা যায় -- শ্রীমাধবী দেবী ""শ্রীপুরুষোত্তম দেব"" নামে একখানি নাটক রচনা করেছিলেন।কেহ কেহ বলেন-- শ্রীমাধবী দেবী মহারাজ প্রতাপরুদ্র কর্তৃক শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে পাঞ্জিয়া অর্থ‍্যাৎ মাদলা পাঞ্জীর লেখিকা নিযুক্তা হয়েছিলেন। শ্রীছোট হরিদাস মহাপ্রভুর সেবার জন্য শ্রীমাধবী দেবীর নিকট হতে সরুচাল চেয়ে এনেছিলেন।* *শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় আছে পূর্বে শ্রীকৃষ্ণলীলায় শ্রীমাধবী দেবী "কলাকেলি"নামে শ্রীরাধার কিঙ্করী ছিলেন।*
*🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীমাধবী দেবী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ *🌻🌻শ্রীমাধবী দেবী🌻🌻* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻🌻শ্রীমাধবী দেবী🌻🌻*
*🍀উৎকলবাসী দেউলকরণ শ্রীশিখি মাহিতির কনিষ্ঠা ভগিনী শ্রীমাধবী দেবী। শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন------------*
*মাধবী-দেবী---- শিখিমাহিতির ভগিনী।*
*শ্রীরাধার দাসীমধ‍্যে যাঁর নাম গণি।।*
         *চৈঃচরিতামৃত আদি ১০|৩৭*
*শ্রীকবিকর্ণপুর গোস্বামী লিখেছেন---* *শ্রীমাধবী দেবী অতিশয় শুদ্ধবুদ্ধিসম্পন্না ছিলেন।ইহারই গুণে শ্রীশিখি মাহিতি ও শ্রীমুরারি শ্রীগৌরকৃষ্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।শ্রীমাধবী দেবী গৌর-ভক্তগণের মধ্যে কিরকম পরম ভাগ‍্যবতী ছিলেন,তা শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন---*
*মাহিতির ভগিনী সেই নাম---মাধবী দেবী।*
*বৃদ্ধা তপস্বিনী -- আর পরমা বৈষ্ণবী।।*
*প্রভু লেখা করে যারে--- রাধিকার গণ।*
*জগতের মধ্যে "পাত্র"--- সাড়ে তিন জন।*
*স্বরূপ গোসাঞি,আর রায় রামানন্দ।*
*শিখি-মাহিতি--তিন,তাঁর ভগিনী --- অর্ধজন।।*
    *চৈঃ চঃ অন্ত‍্যঃ ২|১০৪-১০৬*
*আলালনাথের নিকট বেন্টপুর গ্রামে শ্রীভবানন্দ রায়ের গৃহ-সন্নিধানে শ্রীমাধবী দেবী শ্রীগোপীনাথের সেবা প্রকট করেছিলেন। অদ‍্যাপি তথায়, সেই মূর্তি সেবিত হচ্ছেন।ভবানন্দ রায়ের ভ্রাতৃষ্পুত্র হলেন শ্রীশিখি মাহিতি।শোনা যায় -- শ্রীমাধবী দেবী ""শ্রীপুরুষোত্তম দেব"" নামে একখানি নাটক রচনা করেছিলেন।কেহ কেহ বলেন-- শ্রীমাধবী দেবী মহারাজ প্রতাপরুদ্র কর্তৃক শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে পাঞ্জিয়া অর্থ‍্যাৎ মাদলা পাঞ্জীর লেখিকা নিযুক্তা হয়েছিলেন। শ্রীছোট হরিদাস মহাপ্রভুর সেবার জন্য শ্রীমাধবী দেবীর নিকট হতে সরুচাল চেয়ে এনেছিলেন।* *শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় আছে পূর্বে শ্রীকৃষ্ণলীলায় শ্রীমাধবী দেবী "কলাকেলি"নামে শ্রীরাধার কিঙ্করী ছিলেন।*
*🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds