*🙏শ্রীপরমানন্দ সেন (কবিকর্ণপুর গোস্বামী)🙏*
^^^^ ^^^^ ^^^^ ^^^^ ^^^^ ^^^^
*শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রিয়ভক্ত শ্রীমদ্ শিবানন্দ সেন।তাঁর তিন পুত্র= শ্রীচৈতন্যদাস,শ্রীরামদাস ও শ্রীপরমানন্দ(কবিকর্ণপুর)।এই কবিকর্ণপুরের দীক্ষা গুরু ছিলেন শ্রীনাথ পন্ডিত।ইনি ছিলেন শ্রীঅদ্বৈত আচার্য্যের শিষ্য।ইনি কুমারহট্ট থেকে প্রায় দেড়মাইল দূরে কাঁচরা পাড়ায় থাকতেন।শ্রীনাথ পন্ডিতের প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ(শ্রীকৃষ্ণরায়)অদ্যাপি সেখানে বিরাজমান।শ্রীআনন্দ-বৃন্দাবন চম্পূর প্রারম্ভে শ্রীকবিকর্ণপুর গোস্বামী শ্রীনাথ পন্ডিতকে বন্দনা করেছেন।*
*কবিকর্ণপুর গোস্বামী গৌর-গণোদ্দেশ দীপিকাতে নিজ জনকের পরিচয় দিয়েছেন="পুরাকালে যিনি বীরানামক গোপিকা (দূতী) ছিলেন তিনিই শিবানন্দ সেন নামে আমার পিতা।প্রতি বৎসর ঈশ্বর-দর্শনের জন্য গৌড়দেশ থেকে ভক্তগণকে নিয়ে নীলাচলে যেতেন।শ্রীশিবানন্দ সেন কুমারহট্ট বা হালিশহরে বাস করতেন।তাঁর প্রতিষ্ঠিত শ্রীগৌরগোপাল বিগ্রহ হালিশহর থেকে দেড়মাইল দূরে কাঁচরা পাড়ায় অধুনা বিরাজমান।*
*চৈতন্যদাস,রামদাস আর কর্ণপুর*।
*তিন পুত্র শিবানন্দের প্রভুর ভক্তশূর।।*
*(শ্রীচৈঃ চঃ আদি=১০|৬২)*
*পূর্বে যখন শিবানন্দ সেন সপত্নীক পুরীতেশমহাপ্রভুর নিকট এলেন তখন মহাপ্রভু তাঁদের আশীর্বাদ করে বলেন-- এবার তোমাদের যে পুত্র হবে তার নাম রাখবে "পুরীদাস"।মহাপ্রভুর আশীর্বাদ নিয়ে শিবানন্দ সেন ঘরে ফিরে গেলেন।মহাপ্রভুর আশীর্বাদে সে বছরই শিবানন্দ সেনের এক পুথ পেলেন।পুত্র অতি অপরূপ,নাম রাখা হল "পরমানন্দ দাস"।পুত্রের জন্মের কয়েক মাস পরে শিবানন্দ সেন সপত্নী পুরীধামে যাত্রা আরম্ভ করলেন, সঙ্গে শিশুও ছিল।মাসাধিক কাল পদব্রজে চলবার পর পুরীধামে এলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখপদ্ম দর্শনে পথশ্রম জনিত সমস্ত দুঃখ দূর হল।মহাপ্রভু স্বয়ং ভক্তগণের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিলেন।সকলের প্রসাদ পাবার ব্যবস্থাও করলেন।শিবানন্দ সেন একদিন তিনপুত্র নিয়ে দন্ডবৎ করতেই মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন,শেষ পুত্রের নাম কি রেখেছেন?শিবানন্দ বললেন "পরমানন্দ দাস"।*
*পরমানন্দ সেন,পরের অংশ*
*🌻মহাপ্রভু হেসে বললেন--ওর নাম "পুরীদাস"।মহাপ্রভু বালকটির দিকে তাকিয়ে হেসে উঠলে,জননী তাঁকে মহাপ্রভুর সম্মুখে রাখলেন।শিশু শ্রীগৌরসুন্দরের অরুণ বর্ণ পাদপদ্মের দিকে দৃষ্টিপাত করে ঐ শ্রীচরণ চুষতে চাইলেন। মহাপ্রভু কৃপা করে তাঁর পদাঙ্গুষ্ঠ বালকের মুখে পুরে দিলেন।বালক আনন্দের সহিত তা চুষতে লাগলেন।শিবানন্দের পুত্র প্রতি মহাপ্রভুর অহৈতুকী কৃপা দেখে ভক্তগণ আনন্দে "হরি" "হরি" ধ্বনি করতে লাগলেন।এই পুত্র ভবিষ্যৎ-কালে মহাকবি হবে ভক্তগণের অনেকেই বলতে লাগলেন। শিবানন্দ সেনের সৌভাগ্যের কথা কে বলতে পারে? মহাপ্রভুর আদেশ ছিল,যতদিন শিবানন্দ সেন ও তাঁর পরিবারবর্গ পুরীধামে থাকবেন,ততদিন মহাপ্রভুর অবশেষ পাত্র তাঁরাই পাবেন।*
*শিবানন্দের "প্রকৃতি"পুত্র যাবৎ এথায়।*
*আমার অবশেষ পাত্র তারা যেন পায়।।*
*(শ্রীচৈঃচঃঅন্ত্যঃ=১২|৫৩)*
*শিবানন্দ সেন রথযাত্রা দর্শন করে মহাপ্রভুর আদেশ নিয়ে দেশে ফিরে গেলেন। পরের বছর রথযাত্রা কালে শিবানন্দ সেন সমস্ত গৌড়ীয় ভক্ত সঙ্গে নিয়ে পুরীধামে আবার এলেন।সকলের থাকবার ব্যবস্থা পূর্ববৎ মহাপ্রভু যথাযথ ভাবে করে দিলেন।সে-বার শিবানন্দ সেন কেবল ছোট পুত্র পুরী দাসকে নিয়ে এসেছিলেন।পুত্রটিকে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে প্রণাম করালেন।বালকটি মহাপ্রভুকে প্রণাম করলে,তিনি মাথায় হাত তাকে 'কৃষ্ণ কৃষ্ণ' বলতে বললেন।*
ক্রমশ
*পরমানন্দ সেন বিরাম অংশ*
*বালক "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলল না।শিবানন্দ সেনও বললেন বল কৃষ্ণ কৃষ্ণ,বলল না।উপস্থিত ভক্তগণও বললেন কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল, বালক কিছুতেই কৃষ্ণ বলল না।তখন মহাপ্রভু বললেন,আমি বিশ্বের জঙ্গম,স্বাবর প্রভৃতি কত জীবকে কৃষ্ণ নাম বলিয়েছি, কিন্তু একে বলাতে পারলাম না।তখন শ্রীস্বরূপ দামোদর বললেন, তুমি একে কৃষ্ণমন্ত্র দিয়েছ,এ মন্ত্র সে কারো কাছে প্রকাশ করবে না,মনে মনে জপ করে,অনুমানে আমি বুঝলাম।* *একদিন শিবানন্দ সেন বালককে নিয়ে নিজ বাসা ঘরে চলে এলেন।সকলে বালককে বলতে লাগলেন,মহাপ্রভু তোমায় কৃষ্ণ বলতে বললেন তুমি বললে না কেন?বালক কোন উত্তর দিল না চুপ রইল।*
*আর একদিন শিবানন্দ সেন বালককে নিয়ে মহাপ্রভুর কাছে গেলেন,বালক মহাপ্রভুর শ্রীচরণ বন্দধা করলে মহাপ্রভু তাঁকে বললেন,পুরীদাস!কিছু পড় শুনি।তখন পুরীদাস পড়তে লাগলেন=*
*শ্রবসোঃকুবলয়মক্ষো রঞ্জনমুরসো মহেন্দ্রমণিদাম।*
*বৃন্দাবন রমণীনাং মন্ডনখিলং হরির্জয়তি।।*
*(শ্রীচৈঃচঃঅন্তঃ=১৬|৭৪)*
*🌻যিনি শ্রবণ যুগলের নীলকমল,নয়নের অঞ্জন,বক্ষের মহেন্দ্র মণিদাম,বৃন্দাবন রমণীদের অখিল ভূষণ,সেই হরি জয়যুক্ত হচ্ছেন।*
*সাত বৎসরের শিশু,নাহি অধ্যয়ন*।
*ঐছে শ্লোক করে,লোকের চমৎকার মন।।*
*(শ্রীচৈঃচঃঅন্তঃ=১৬|৭৫)*
*এই শ্রীকৃষ্ণ-বর্ণনাত্মক শ্লোক সাত বছরের বালকের মুখে শুনে ভক্তগণ বিস্মিত হলেন।তাঁরা বললেন,শ্রীগৌরসুন্দরের কৃপা শিশুর প্রতি নিশ্চয়ই হয়েছে।শ্লোক শুনে মহাপ্রভু ভাবাবিষ্ট হলেন।বালককে আলিঙ্গন করে আশীর্বাদ করলেন।*
*"সদা শ্রীকৃষ্ণলীলা তোমার স্ফুর্তি হউক"।।*
*শ্রীস্বরূপ দামোদর বললেন,এই শ্লোকটি যেমন ভক্তের কর্ণপুর স্বরূপ, শিশুর এক নাম হবে "কর্ণপুর"।তাই পরে তিনি "শ্রীকবি কর্ণপুর"নামে খ্যাত হলেন।*
*প্রায় দুইশত ভক্তের যাবতীয় খরচ বহন করে একমাস পদব্রজে চলে চলে শিবানন্দ সেন প্রতি বছর পুরীধামে আসতেন।তাঁর ধন,জন সব ভক্তসেবা ও মহাপ্রভুর সেবার জন্য ছিল।শ্রীসেন মহাশয়ের গৃহে নিত্যানন্দ প্রভু কখন কখন এসে অবস্থান করতেন।মহাপ্রভু যখন গৌড়দেশে আসতেন তখন তিনি তাঁর গৃহে শুভ পদার্পণ করতেন।*
*🌻শ্রীকবিকর্ণপুর গোস্বামী রচিত গ্রন্থাবলী= শ্রীচৈতন্য চন্দ্রোদয় নাটক, শ্রীআনন্দ বৃন্দাবন চম্পূ,শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত মহাকাব্য,শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকা,শ্রীরাধাকৃষ্ণ গণোদ্দেশ দীপিকা,শ্রীকৃষ্ণাহ্নিক কৌমুদী,অলঙ্কার কৌস্তুভ ও আর্য্য শতক।*
*🙏বানান, ভুল ভ্রান্তি মাজনীয়🙏*