*🙏শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিত🙏*
~~~~~~~~~~~~~~~~
*গঙ্গাদাস পন্ডিত চরণে নমস্কার।*
*বেদপতি সরস্বতীপতি-- শিষ্য যাঁর।।*
*(শ্রীচৈতন্য ভাগবত আদি- ১|২৮৩)*
*শ্রীগৌরসুন্দরের যজ্ঞোপবীত হয়ে গেল।কিছুদিন গৃহে অধ্যয়ন করলেন।টোলে অধ্যয়ন করবার জন্য শিশুর বিশেষ আগ্রহ দেখে শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিতের টোলে দেবার জন্য শ্রীজগন্নাথ মিশ্র শ্রীনিমাইকে সঙ্গে নিয়ে পন্ডিতের বাটীতে (গৃহেতে)এলেন।*
*শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিত দ্বাপরযুগে শ্রীসান্দীপনি মুনি ছিলেন।তাঁর কাছে রাম-কৃষ্ণ (বলরাম-কৃষ্ণ)অধ্যয়ন করেছিলেন।*
*শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিত জগন্নাথ মিশ্রকে দেখে সম্ভ্রমে উঠে আলিঙ্গন করলেন ও অতি সমাদরে আসনে বসালেন।জগন্নাথ মিশ্র বললেন,এই আমার পুত্র আপনাকে দিলাম,এঁকে আপনি উপযুক্ত শিক্ষা দান করুন।*
*শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিত বললেন, অনেক বড় সৌভাগ্য ছাড়া এইরূপ মহাপুরুষ লক্ষণযুক্ত বালককে পড়ান যায় না।আমার যতটুকু শক্তি আছে তদনুসারে এঁকে পড়াব।জগন্নাথ মিশ্র নিমাইকে শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিতের করে(হাতে) সমর্পণ করে ঘরে ফিরে গেলেন।*
*শিষ্য দেখি,পরম-আনন্দে গঙ্গাদাস।*
*পুত্রপ্রায় করিয়া রাখিলা নিজ-পাশ।।*
*(শ্রীচৈঃ ভাঃ আদি ৮|৩২)*
*শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিত দিব্য বালকের অতিমর্ত্য স্বভাবে বুঝতে পারলেন এ-শিশু অসাধারণ। ব্রাহ্মণ পুত্রের মতো আদর করে শিষ্যকে অধ্যয়ন করাতে লাগলেন। অলৌকিক মেধাবিশিষ্ট বালক শ্রীনিমাই গঙ্গাদাস পন্ডিতের নিকট একবার যা শুনতেন তা কন্ঠস্থ হয়ে যেত। টোলে তিনি অল্পদিনের মধ্যেই শীর্ষস্থান অধিকার করলেন।এইসময় দিব্য বালকের অসাধারণ মেধা এইরূপ প্রকাশিত হয়েছিল যে উপাধ্যায় গঙ্গাদাসের ব্যাখ্যার উপরেও স্বয়ং সুন্দর ব্যাখ্যা সিদ্ধান্ত স্থাপন করতেন। টোলে শত শত শিষ্য তাঁর সঙ্গে কক্ষা করে কেহই পারতেন না। ঈশ্বর যখন যে লীলা করেন তাই সর্বোত্তম।গঙ্গাদাস পন্ডিত দিব্য বালকের অদ্ভুত বুদ্ধি দেখে শিষ্যগণের মধ্যে তাঁকে শ্রেষ্ঠ করে দেখতেন।*
*শ্রীগঙ্গাদাসের শিষ্যগণ মধ্যে শ্রীকমলাকান্ত,মুরারী গুপ্ত ও শ্রীকৃষ্ণানন্দ প্রভৃতি ছাত্র শ্রেষ্ঠ ছিলেন।তাঁদের গৌরসুন্দর নানাবিধ ফাঁকি (ন্যায় শাস্ত্রের )জিজ্ঞাসা করতেন।গঙ্গার ঘাটে ঘাটে গিয়ে তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে নানা তর্ক-বিতর্ক করতেন।*
*সূত্র ব্যাখ্যা কালে নিমাই যে সিদ্ধান্ত স্থাপন করতেন তা পুনরায় খন্ডন করতেন।খন্ডিত সিদ্ধান্ত আবার সুন্দরভাবে স্থাপন করতেন।তাঁর এ ধরণের প্রতিভা দেখে পড়ুয়াদের বিস্ময় উৎপাদিত হত।গঙ্গাদাস মহাশয় অতিশয় আনন্দ লাভ করতেন।*
*নিমাই কিছুদিন গঙ্গাদাস পন্ডিতের নিকট ন্যায় ও অলঙ্কার আদি অভ্যাস করেগুরুদেবের আদেশ নিয়ে স্বয়ং এক ন্যায়শাস্ত্র পড়াবার জন্য টোল আরম্ভ করলেন।নিমাইয়ের এই বিদ্যাপীঠ হল মুকুন্দ-সঞ্জয়ের দূর্গাপূজার বৃহৎ চন্ডীমন্ডপে। নিমাই পন্ডিতের ছাত্র সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে লাগল।অতি অল্প বয়সে ন্যায় শাস্ত্রে নিমাই পন্ডিতের অদ্ভুত বু্যৎপত্তি দেখে সকলে,এমনকি গঙ্গাদাস পন্ডিত পর্যন্ত বিস্মিত হতেন।*
ক্রমশ
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ ꧁ শ্রীগঙ্গাদাস পন্ডিত ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*গঙ্গাদাস পন্ডিত বিরাম ভাগ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*হেনমতে শ্রীমুকুন্দসঞ্জয়-মন্দিরে।*
*বিদ্যারসে বৈকুন্ঠ নায়ক বিহরে।।*
*(শ্রীচৈঃভাঃআদি ১৫|৩২)*
*কিছুদিন এইরকম বিদ্যাবিলাস করে জননী শচীকে খুব সুখী করলেন।অনন্তর গয়া ধামে গমন করলেন।সেখানে শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীর শিষ্য শ্রীঈশ্বর পুরীর থেকে মন্ত্র-দীক্ষা গ্রহণ করলেন।দীক্ষা গ্রহণ করবার পর গৌরসুন্দর জগতে প্রেমভক্তি প্রকাশ আরম্ভ করলেন।গয়াধামে আবশ্যকীয় কর্মাদি করে গৃহে ফিরে এলেন।গৌরসুন্দর এবার কৃষ্ণ বর্ণন ভিন্ন আন কিছু বলেন না,জানেনও না।শিষ্যগণের অনুরোধে যদিও টোলে পড়াতে বসতেন প্রতি সূত্রের কেবল কৃষ্ণপর ব্যাখ্যা করতেন।অগত্যা শিষ্যগণ গুরু গঙ্গাদাস পন্ডিতের নিকট নিমাই পন্ডিতের সে সময়ের অবস্থা বর্ণন করলেন।গঙ্গাদাস পন্ডিত সমস্ত কথা শুনলেন।অপরাহ্নকালে নিমাই যখন গঙ্গাদাস পন্ডিতকে বন্দনা করতে এলেন,তখন তিনি স্নেহে আশীর্বাদ করে বলতে লাগলেন=*
*গুরু বলে,বাপ বিশ্বম্ভর!শুন বাক্য*।
*ব্রাহ্মণের অধ্যয়ন নহে অল্প ভাগ্য।।*
*(ঐ=১|২৭২)*
*তোমার পিতামহ নীলাম্বর চক্রবর্তী,পিতা জগন্নাথ মিশ্র উভয় কুলেষকেউ মুর্খ নাই।ন্যায় শাস্ত্রাদির ব্যাখ্যায় তুমিও পরম যোগ্য।অধ্যাপনা ছাড়লে যদি ভক্তা হয়,তোমার বাপ পিতামহ কি অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়েছিলেন?তাঁরা কি ভক্ত ছিলেন না?এ সব চিন্তা করে তুমি অধ্যয়ন কর।অধ্যয়ন করলে বৈষ্ণব-ব্রাহ্মণ হবে।ব্রাহ্মণ যদি মুর্খ হয় তবে ভাল মন্দ কেমনে বিচার করবে?এ সব চিন্তা করে তুমি অধ্যয়ন কর এবং শিষ্যদের ভালমত পড়াও।আমি দিব্যি করে বলছি তুমি যেন এ বাক্যের অন্যথা কর না।*
*মহাপ্রভু গুরু গঙ্গাদাস পন্ডিতের এ সব কথা শুনে বললেন,আপনার শ্রীচরণ-প্রসাদে নবদ্বীপে এমন কেহ নাই যিনি আমার সঙ্গে তর্কে পেরে উঠেন।আমি যে সমস্ত সূত্রের ব্যাখ্যা করব,দেখি নবদ্বীপে কোন বড় পন্ডিত আছেন তা খন্ডন করতে পারে? আমি এখনই নগরে গিয়ে পড়াতে আরম্ভ করব।মহাপ্রভুর এই সমস্ত কথা শুনে গঙ্গাদাস পন্ডিত সুখী হলেন। মহাপ্রভু শ্রীগুরুর চরণধূলি নিয়ে পড়াতে চললেন=*
*আর কিবা গঙ্গাদাস পন্ডিতের সাধ্য।*
*যাঁ'রশিষ্য-- চতুর্দশ-ভূবন আরাধ্য।।*
*(শ্রীচৈঃভাঃমধ্যঃ=১|২৮৪)*
*🙏বানান,ভুল ক্ষমা করবেন।🙏*