( ২০)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*
(মাধবেন্দ্র মিলন)
*রেবা মাহিষ্মতীপুরী মনু তীর্থ গেলা। সূর্পারক দিয়া প্রভু প্রতীচী চলিলা।।*
(প্রতীচী এসে মাধবেন্দ্রপুরীর সাথে দেখা হল।)
*এইমত অভয়-পরমানন্দ-রায়। ভ্রমে নিত্যানন্দ ভয় নাহিক কাহায়।।*
*নিরন্তর কৃষ্ণাবেশে শরীর অবশ। ক্ষণে কান্দে,ক্ষণে হাসে,কে বুঝে সে রস।।*
*এই মত নিত্যানন্দ প্রভু ভ্রমে বনে। দৈবে মাধবেন্দ্র-সনে হইল দরশনে।।*
*মাধবেন্দ্রপুরী প্রেমময় কলেবর।প্রেমময় যত সব সঙ্গে অনুচর।।*
*কৃষ্ণরস বিনু আর নাহিক আহার। মাধবেন্দ্রপুরীদেহে কৃষ্ণের বিহার।।*
*যার শিষ্য মহাপ্রভু-অদ্বৈত গোসাঞি। কি কহিব আর তার প্রেমের বড়াই।।*
*মাধবপুরীরে দেখিলেন নিত্যানন্দ। ততক্ষণে প্রেমে মূর্চ্ছা হইলা নিস্পন্দ।।*
*নিত্যানন্দ দেখি মাত্র শ্রীমাধবপুরী।পড়িলা মূর্চ্ছিত হই আপনা পাসরি।।*
*ভক্তিরসে আদি মাধবেন্দ্র সূত্রধার। গৌরচন্দ্র ইহা কহিয়াছেন বারেবার।।*
*দোঁহে মূর্চ্ছা হইলেন দোঁহে-দরশনে। কান্দয়ে ঈশ্বরপুরী আদি শিষ্যগণে।।*
*ক্ষনেকে হইলা বাহ্যদৃষ্টি দুইজনে। অন্যোঽন্যে গলায় ধরি করেন ক্রন্দনে।।*
*বনে গড়ি যায় দুই প্রভু প্রেমরসে। হুঙ্কার করয়ে কৃষ্ণপ্রেমের আবেশে।।*
*প্রেম নদী বহে দুই প্রভুর নয়নে। পৃথিবী হইয়া সিক্ত ধন্য হেন মানে।।*
*কম্প,অশ্রু, পুলক, ভাবের অন্ত নাঞি। দুই-দেহে বিহরয়ে চৈতন্য গোসাই।।*
*নিত্যানন্দ বোলে "যত তীর্থ করিলাঙ। সম্যক্ তাহার ফল আজি পাইলাঙ।।*
*নয়নে দেখিলুঁ মাধবেন্দ্রের চরণ। এ প্রেম দেখিয়া ধন্য হইল জীবন।।"*
*মাধবেন্দ্রপুরী নিত্যানন্দে করি কোলে। উত্তর না স্ফুরে- রুদ্ধকণ্ঠ প্রেমজলে।।*
*হেন প্রীত হইলেন মাধবেন্দ্র পুরী। বক্ষ হৈতে নিত্যানন্দ বাহির না করি।।*
*ঈশ্বরপুরী ব্রহ্মানন্দপুরী আদি যত। সর্ব-শিষ্য হইলেন নিত্যানন্দে রত।।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ( ২০) *অতি গূঢ় নিত্যানন্দ* (মাধবেন্দ্র মিলন) ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*মাধবেন্দ্রপুরী নিত্যানন্দ প্রভুর সঙ্গে প্রিয়-বন্ধুর মত ব্যবহার করলেন।তার শিষ্যগণ ঈশ্বরপুরী, ব্রহ্মানন্দপুরী আদি সবাই নিত্যানন্দ প্রভুর ভাব দেখে তার প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত হলেন।*
*যদি ঈশ্বরপুরী নিত্যানন্দ প্রভুকে ঘর থেকে নিয়ে আসতেন তাহলে এখানে এপ্রসঙ্গের বিরোধ হয়। প্রথম দেখেই তার প্রতি সকলে অত্যন্ত অনুরক্ত হয়ে পড়লেন।*
*যদ্যপি প্রেমবিলাস গ্রন্থে বর্ণনা আছে ঈশ্বরপুরী নিত্যানন্দ প্রভুকে ঘর ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু চৈতন্যভাগবতের সঙ্গে তার কোন মিল হয় না।*
প্রামাণ্য হিসেবে *প্রেমবিলাস* গ্রন্থ হতে মনে হয় চৈতন্যভাগবত ই অধিক মান্য।
*কেননা বিদগ্ধ পণ্ডিত শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী বারবার বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।*
*"মনুষ্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন্য। বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন্য।।*
*স্বয়ং মহাপ্রভু তার মুখে বসে গ্রন্থ রচনা করিয়েছেন। মানুষের দ্বারা সম্ভব নয় এমন অদ্ভুত গ্রন্থ।*
*বৃন্দাবনদাস পদে কোটি নমস্কার। ঐছে গ্রন্থ করি তেঁহো তারিলা সংসার।।*
*কৃষ্ণলীলা ভাগবতে কহে বেদব্যাস। চৈতন্যলীলার ব্যাস__ বৃন্দাবন দাস।।"*
*নিত্যানন্দ প্রভু শিশুকাল থেকেই বৃন্দাবনদাস ঠাকুরকে শিক্ষা-দীক্ষায় স্নেহ-ছায়ায় মানুষ করেছিলেন। সমস্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন।* *মহাপ্রভুর লীলার সমস্ত রহস্য বলেছিলেন এবং আদেশ দিয়েছিলেন চৈতন্যলীলা বিস্তার পূর্বক লিখবার জন্য। তাই নিত্যানন্দ কৃপাপুষ্ট বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের গ্রন্থ বিশেষ প্রামাণ্যের দাবি রাখে।*
*সভে যত মহাজন' সম্ভাষা করেন। কৃষ্ণপ্রেম কাহারো শরীরে না দেখেন।।*
*সভেই পায়েন দুঃখ জন সম্ভাষিয়া। অতএব বন সভে ভ্রমেন দেখিয়া।।*
*অন্যোঽন্যে সে সব দুঃখের হৈল নাশ। অন্যোঽন্যে দেখি কৃষ্ণ প্রেমের প্রকাশ।।*
ক্রমশ ......