শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৩৫. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_42.html





 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ ৩৫. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
( ৩৫)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*প্রেমভক্তি ছাড়া ভগবত প্রাপ্তি অসম্ভব।* 

মহাপ্রভু শ্রীবাস অঙ্গনে সংকীর্তন আরম্ভ করলেন। কেবল অন্তরঙ্গ ভক্তগন প্রবেশ করতে পারেন। বহিরঙ্গ লোকের প্রবেশাধিকার নাই। যারা প্রবেশ করতে পারেনা তারা নানাবিধ  কটুক্তি করতে থাকে। কেউ বলছেন- কলিযুগে কিসের বৈষ্ণব? আরে যতসব পেটপোষাগুলো। কেউ বলছে -এদের হাতে পায়ে বেঁধে জলে ফেলে দিলে তবেই ঠিক হয়। কেউ বলছে- আরে ভাই নিশ্চিত জানো গ্রামখানি লুট করবে নিমাই পণ্ডিত। যার যেমন মনোবৃত্তি সে তেমন বলছে‌। সাধারণ লোক মহাপ্রভুর সংকীর্তন দেখতে না পেয়ে অনুতাপ করছেন। কেউ কেউ ভক্তগণকে অনুরোধ করেন দর্শন করানোর জন্য। ভক্তগন জানেন "প্রভু সর্বজ্ঞ" তাই ভয়ে কেউ কাহাকেও আনতে সাহসী হোন না। 
 এক ব্রহ্মচারী নবদ্বীপে বাস করতেন, তপস্বী, দুগ্ধমাত্র আহার, অন্ন গ্রহণ করেন না। সেই ব্রাহ্মণের কীর্তন শোনা এবং নৃত্য দেখার খুব ইচ্ছা। কিন্তু দ্বার বন্ধ থাকায় প্রবেশ করতে পারেন না। প্রতিদিন শ্রীবাসের কাছে গিয়ে  অনুনয়-বিনয় করেন। যদি একদিন কৃপা করে আমাকে নিমাই পন্ডিতের নৃত্য দেখাও, আমার নয়ন সফল হয়, আমি তোমার কাছে চিরঋণী থাকব। শ্রীবাস পন্ডিত বলছেন "আমি জানি তুমি নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী, বিশুদ্ধ ফলাহারী,
শুদ্ধসদাচারী, তোমার শরীরে কোন পাপ নেই ।তোমার দেখার অধিকার আছে, কিন্তু প্রভুর আজ্ঞা নেই।
তবে শোন একটি কথা বলি,আমি নিয়ে যাব, কিন্তু গোপনে থাকবে, মহাপ্রভুর যেন চোখে না পড়ে।
ব্রাহ্মণ রাজী হলেন।

 চতুর্দশভুবনেরনাথ বিশ্বম্ভর নৃত্য করছেন। সকল ভক্তবৃন্দ গান গাইছেন। নিত্যানন্দ, গদাধর পাশে পাশে আছেন, যেন পড়ে না যায়। আনন্দে অদ্বৈত সিংহ চারিদিকে ঘুরছেন।পরানন্দ সুখে  সকলে আত্মহারা, কাহারই বাহ্যস্মৃতি নাই। সে আনন্দ কে বর্ণন করতে পারে?সে অনুভবীর অনুভবের নিধি। 'হরিবোল হরিবোল' এছাড়া আর কিছু শোনা যায় না। অশ্রু,কম্প,পুলক হুঙ্কার,শরীরে অদ্ভুত নানা ভাবের বিকার।

সর্বজ্ঞ চূড়ামণি মহাপ্রভু অনুভব করছেন কেহ লুকিয়ে আছে।নৃত্য করতে করতে একটু থেমে বলছেন -"আজ কেন  আনন্দ পাচ্ছি না? এখানে কি কেউ লুকিয়ে আছে? সত্য করে বল দেখি?"
 ভয় পেয়ে শ্রীবাস পণ্ডিত হাতজোড় করে বলছেন-"প্রভু!এখানে কোন পাষণ্ডের আগমন হয় নাই। কেবল এক পয়হারী, ব্রতধারী ব্রহ্মচারী, সজ্জন ব্রাহ্মণ তোমার নৃত্য দেখার বড় ইচ্ছা তান। তাই এখানে গোপনে আছেন।

 মহাপ্রভু বলছেন- "তাকে শীঘ্র বাড়ির বাইরে বের করে দাও। আমার নৃত্য দেখার তার কি অধিকার!! দুগ্ধ পান করলেই কি আমার ভক্তি হয়?"  
*(দুধ পীনে সে হরি মিলে তো বহুৎ বৎস বালা। মীরা কহে বিনা প্রেমসে না মিলে নন্দলালা।)*
 দুই হাত তুলে মহাপ্রভু বলছেন- *কেবল দুগ্ধ পান করেই কেউ আমাকে পেতে পারে না। চন্ডালও যদি আমার শরণ নেয়, সেও আমাকে প্রাপ্ত করতে পারে।*  *সন্ন্যাসীও যদি আমার শরণ না নেয়, সে আমার কখনো প্রিয় হতে পারে না।*
 গজেন্দ্র,বানর তারা কি তপস্যা করেছিল তারা আমাকে পেল! 
অসুরেরাও তপস্যা করে, কিন্তু একমাত্র শরণাগতি ছাড়া কেহই আমাকে প্রাপ্ত করতে পারে না। 
ভয় পেয়ে ব্রহ্মচারী বের হয়ে মনে মনে চিন্তা করছেন -এই আমার ভাগ্য যে কিছুক্ষণ নৃত্য-কীর্তন দর্শন করতে পারলাম। অপরাধ অনুরূপ শাস্তিও পেলাম। আজ আমার জীবন ধন্য হল! অদ্ভুত দেখলাম!!

সেবক না হলে কি তিরস্কৃত হয়েও এমন বুদ্ধি হয়?
 প্রভু সেবক ছাড়া কাউকে দন্ড করেন না। অন্তর্যামী গৌরসুন্দর তার মনোভাব বুঝতে পারলেন। ডেকে আনলেন। পুনরায় করুণাসাগর বিশ্বম্ভর চরণপদ্ম তার মস্তকের উপর তুলে দিয়ে বলছেন- "তপস্যা করি এমন অভিমান করো না। নিশ্চিত জেনো *বিষ্ণুভক্তিই সর্বশ্রেষ্ঠ।* 
সকল ভক্তবৃন্দ হরিধ্বনি করে সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ হয়ে পড়লেন। শ্রদ্ধা পূর্বক এই আখ্যান যে শ্রবণ করবেন গৌরচন্দ্র তার অবশ্যই প্রাপ্ত হবে। ব্রহ্মচারীর প্রতি কৃপা করে মহাপ্রভু আনন্দে নৃত্য শুরু করলেন।

সেই বিপ্রের চরণে অনন্ত প্রণাম, যে গৌরাঙ্গের দণ্ড পেয়েও নিজেকে ধন্য মনে করেছিল।।

_*জটাধারী মঠাধারী , জ্ঞানী-গুনী, পয়হারী, ব্রতনিষ্ঠ-ব্রহ্মচারী,অন্নত্যাগী- ফলাহারী, আজীবন-মৌনধারী,সুকঠোর-তপাচারী,এতগুনে গুনবান যদি না নেয় শরণ।তার দশা হয় কেমন, বিনু লবন ব্যঞ্জন যেমন।।*_ 

🙏🙏🙏🙏🙏🙏

ক্রমশ.....
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৩৪. শচীমাতার অপরাধ ভঞ্জন 🌷 অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_96.html



 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ৩৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৩৪)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*শচীমাতার অপরাধ ভঞ্জন।* 

একদিন মহাপ্রভু এসে বিষ্ণুখাটের উপরে এসে বসলেন শালগ্রাম শিলা সব নিজের কোলে তুলে নিলেন। বলছেন- "আমি কলি যুগের নারায়ন, আমি রাম রূপে সাগর বন্ধন করেছি, আমি ক্ষীর সাগরে শুয়েছিলাম নাড়া হুঙ্কার করে আমার নিদ্রা ভাঙিয়ে দিল।প্রেমভক্তি বিতরণ করার জন্য আমার অবতার। তোমাদের যার যা ইচ্ছা আমার কাছে চেয়ে নাও।"

 মহাপ্রভুর মহাপ্রকাশ দেখে নিত্যানন্দ প্রভু মাথায় ছত্র ধরলেন, বামদিকে দাঁড়িয়ে গদাধর তাম্বুল দিচ্ছেন। চারিদিকে ভক্তগণ চামর ব্যজন করছেন।যার যা ইচ্ছা চেয়ে নিচ্ছে।কেউ বলছে আমার বাবা খুব দুষ্ট, তার মনোবৃত্তি ভালো করে দিন।কেউ বলছেন গুরুর চরণে নিষ্ঠা হৌক,কেউ শিষ্য ভালো হোক,কেউ পত্নী,পুত্র যার যা মনে আসছে তাই চাইছেন। মহাপ্রভু হেসে বলছেন সবাইকে প্রেমভক্তি বর দিলাম।

তখন শ্রীবাস পণ্ডিত বলছেন- প্রভু! শচীমাতাকেও ভক্তি দান কর‌।
 মহাপ্রভু- ও কথা মুখে আনবে না‌।আমি তাকে প্রেমভক্তি দেব না,কেননা তার বৈষ্ণবের কাছে অপরাধ আছে। অতএব তার ভক্তি বাদ হইল।

 একি বলছ প্রভু! তোমার মত পুত্র যার গর্ভে জন্ম নেয় তার আবার অপরাধ!! আমাদের সকলেরই প্রাণ জগতের মাতা আই। প্রভু! তাকেও ভক্তি দান করবে না!!

 মহাপ্রভু বলছেন- উপদেশ করতে পারি, কিন্তু বৈষ্ণব অপরাধ খণ্ডাইতে নারি।
 যে বৈষ্ণব স্থানে অপরাধ হয় যার।
সে অপরাধ ক্ষমা করলে তবেই ক্ষমা হয়। দেখ! দুর্বাসার অপরাধ হয়েছিল অম্বরিশের কাছে, তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরে তার অপরাধ ক্ষমা হয়। যদি অদ্বৈতের চরণ ধূলি মাথায় নিতে পারে তবেই তার প্রেমভক্তি লাভ হবে‌। তখন সবাই অদ্বৈত প্রভুর কাছে গিয়ে সব ঘটনা বললেন। অদ্বৈত প্রভু শ্রীবিষ্ণু স্মরণ করতে করতে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। সেই অবসরে শচীমাতা তার চরণ ধূলি মাথায় নিয়ে নিলেন। অদ্বৈত প্রভু বুঝতেও পারলেন না, মূর্চ্ছার কারণে। ভক্তগণ হরিধ্বনি  করে উঠলেন। মহাপ্রভু প্রসন্ন হয়ে বললেন- এখন তোমার বিষ্ণুভক্তি লাভ হইল। অদ্বৈতের কাছে আর অপরাধ নাই।
শ্রীমুখের অনুগ্রহ বাক্য শুনে ভক্তগণ জয় জয় হরিধ্বনি করে উঠলেন। জননীকে লক্ষ্য করে প্রভু সবাইকে বৈষ্ণব অপরাধ থেকে সাবধান করলেন।

 "শূলপাণি সম যদি বৈষ্ণবেরে নিন্দে। তথাপিহ নাশ যায়__কহে শাস্ত্রবৃন্দে।।"

 ইহা না মানিঞা যে সুজন-নিন্দা করে।
 জন্ম জন্ম সে পাপিষ্ঠ  দৈব দোষে মরে।।

বিশ্বরূপ সন্ন্যাস গ্রহণের পরে নিমাই অদ্বৈতের সভাতে গিয়ে থাকতে লাগলেন, সেই সময় দুঃখিত হয়ে শচীমাতা বলেছিলেন- "কে বোলে 'অদ্বৈত','দ্বৈত'__এ বড় গোসাঞি।
 চন্দ্রসম এক পুত্র করিয়া বাহির।
এহো পুত্র না দিলেন করিবারে স্হির।।

  ইহাকে অদ্বৈত কেন লোকে বলে?  এত 'দ্বৈত' এর দু'রকম নজর। আমার বড় ছেলেকে সন্ন্যাস করিয়ে দিল, আবার ছোটটাকেও স্থির হতে দিল না। একটু অবজ্ঞার আভাস ছিল।এই কথাতেই অপরাধ হয়েছিল।

ক্রমশ.....
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৩৪. শচীমাতার অপরাধ ভঞ্জন 👏 অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_96.html



 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ৩৪. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৩৪)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*শচীমাতার অপরাধ ভঞ্জন।* 

একদিন মহাপ্রভু এসে বিষ্ণুখাটের উপরে এসে বসলেন শালগ্রাম শিলা সব নিজের কোলে তুলে নিলেন। বলছেন- "আমি কলি যুগের নারায়ন, আমি রাম রূপে সাগর বন্ধন করেছি, আমি ক্ষীর সাগরে শুয়েছিলাম নাড়া হুঙ্কার করে আমার নিদ্রা ভাঙিয়ে দিল।প্রেমভক্তি বিতরণ করার জন্য আমার অবতার। তোমাদের যার যা ইচ্ছা আমার কাছে চেয়ে নাও।"

 মহাপ্রভুর মহাপ্রকাশ দেখে নিত্যানন্দ প্রভু মাথায় ছত্র ধরলেন, বামদিকে দাঁড়িয়ে গদাধর তাম্বুল দিচ্ছেন। চারিদিকে ভক্তগণ চামর ব্যজন করছেন।যার যা ইচ্ছা চেয়ে নিচ্ছে।কেউ বলছে আমার বাবা খুব দুষ্ট, তার মনোবৃত্তি ভালো করে দিন।কেউ বলছেন গুরুর চরণে নিষ্ঠা হৌক,কেউ শিষ্য ভালো হোক,কেউ পত্নী,পুত্র যার যা মনে আসছে তাই চাইছেন। মহাপ্রভু হেসে বলছেন সবাইকে প্রেমভক্তি বর দিলাম।

তখন শ্রীবাস পণ্ডিত বলছেন- প্রভু! শচীমাতাকেও ভক্তি দান কর‌।
 মহাপ্রভু- ও কথা মুখে আনবে না‌।আমি তাকে প্রেমভক্তি দেব না,কেননা তার বৈষ্ণবের কাছে অপরাধ আছে। অতএব তার ভক্তি বাদ হইল।

 একি বলছ প্রভু! তোমার মত পুত্র যার গর্ভে জন্ম নেয় তার আবার অপরাধ!! আমাদের সকলেরই প্রাণ জগতের মাতা আই। প্রভু! তাকেও ভক্তি দান করবে না!!

 মহাপ্রভু বলছেন- উপদেশ করতে পারি, কিন্তু বৈষ্ণব অপরাধ খণ্ডাইতে নারি।
 যে বৈষ্ণব স্থানে অপরাধ হয় যার।
সে অপরাধ ক্ষমা করলে তবেই ক্ষমা হয়। দেখ! দুর্বাসার অপরাধ হয়েছিল অম্বরিশের কাছে, তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরে তার অপরাধ ক্ষমা হয়। যদি অদ্বৈতের চরণ ধূলি মাথায় নিতে পারে তবেই তার প্রেমভক্তি লাভ হবে‌। তখন সবাই অদ্বৈত প্রভুর কাছে গিয়ে সব ঘটনা বললেন। অদ্বৈত প্রভু শ্রীবিষ্ণু স্মরণ করতে করতে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। সেই অবসরে শচীমাতা তার চরণ ধূলি মাথায় নিয়ে নিলেন। অদ্বৈত প্রভু বুঝতেও পারলেন না, মূর্চ্ছার কারণে। ভক্তগণ হরিধ্বনি  করে উঠলেন। মহাপ্রভু প্রসন্ন হয়ে বললেন- এখন তোমার বিষ্ণুভক্তি লাভ হইল। অদ্বৈতের কাছে আর অপরাধ নাই।
শ্রীমুখের অনুগ্রহ বাক্য শুনে ভক্তগণ জয় জয় হরিধ্বনি করে উঠলেন। জননীকে লক্ষ্য করে প্রভু সবাইকে বৈষ্ণব অপরাধ থেকে সাবধান করলেন।

 "শূলপাণি সম যদি বৈষ্ণবেরে নিন্দে। তথাপিহ নাশ যায়__কহে শাস্ত্রবৃন্দে।।"

 ইহা না মানিঞা যে সুজন-নিন্দা করে।
 জন্ম জন্ম সে পাপিষ্ঠ  দৈব দোষে মরে।।

বিশ্বরূপ সন্ন্যাস গ্রহণের পরে নিমাই অদ্বৈতের সভাতে গিয়ে থাকতে লাগলেন, সেই সময় দুঃখিত হয়ে শচীমাতা বলেছিলেন- "কে বোলে 'অদ্বৈত','দ্বৈত'__এ বড় গোসাঞি।
 চন্দ্রসম এক পুত্র করিয়া বাহির।
এহো পুত্র না দিলেন করিবারে স্হির।।

  ইহাকে অদ্বৈত কেন লোকে বলে?  এত 'দ্বৈত' এর দু'রকম নজর। আমার বড় ছেলেকে সন্ন্যাস করিয়ে দিল, আবার ছোটটাকেও স্থির হতে দিল না। একটু অবজ্ঞার আভাস ছিল।এই কথাতেই অপরাধ হয়েছিল।

ক্রমশ.....
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


৩৩. বলরামের রাসযাত্রা 🌼 অতি গূঢ় নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_66.html



 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ *৩৩. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ* ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৩৩)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*বলরামের রাসযাত্রা।* 

সহস্র-বদন  বন্দোঁ প্রভু বলরাম।
 যাঁহার সহস্র-মুখে কৃষ্ণ-যশোধাম।।

 *মহারত্ন থুই যেন  মহা-প্রিয়-স্থানে। যশোরত্ন ভাণ্ডার শ্রীঅনন্ত-বদনে।।*

অতএব আগে বলরামের স্তবন।
 করিলে সে মুখে স্ফূরে চৈতন্য কীর্তন।।

 সহস্রেক-ফনাধর প্রভু বলরাম।
যতেক করয়ে প্রভু সকল উদ্দাম।।

হলধর মহাপ্রভু প্রকাণ্ড শরীর।
 চৈতন্যচন্দ্রের রসে মত্ত মহাধীর।।

ততোধিক চৈতন্যের প্রিয় নাহি আর।
 নিরবধি সেই দেহে করেন বিহার।।

তাহান চরিত্র যেই জনে শুনে গায়।
 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তারে পরম সহায়।।

মহাপ্রীত হয় তারে মহেশ পার্বতী।
জিহ্বায় স্ফূরয়ে তার শুদ্ধা সরস্বতী।।

পার্বতী প্রভৃতি নবার্বুদ নারী লইয়া।
 সঙ্কর্ষণ পূজে শিব উপাসক হইয়া।।

 *"সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা"* বলা হয়।

 পৃথিবীর সাতটি দ্বীপ যথা- জম্বু,প্লক্ষ,শাল্মলি,কুশ,ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুষ্কর।

সাত সমুদ্র-ক্ষারোদ,
 ইক্ষুরসোদ,
সুরোদ,
ঘৃতোদ,
ক্ষীরোদ,
দধিমণ্ডোদ,
শুদ্ধোদ  সপ্তজলধয়ঃ।

এক একটি দ্বীপকে ঘিরে এক একটি সমুদ্র।

জম্বুদ্বীপে আবার নয়টি বর্ষ- 
১।ইলাবৃত বর্ষে বৈষ্ণবপ্রবর শম্ভু অর্বুদসহস্র অনুচরী ও পার্বতী সহ শ্রীহরির সঙ্কর্ষণ মূর্তির উপাসনা করেন।

 *"ওঁ নমো ভগবতে মহাপুরুষায় সর্বগুনসংখ্যানায়ানন্তায়াব্যক্তায়নমঃ"*

 ঐশ্বর্যশালী ভব এই মন্ত্রে শ্রীসঙ্কর্ষণকে স্তব করিয়া থাকেন।আমি সেই মহাপুরুষ ভগবানকে নমস্কার করি। তিনি সর্ব গুণের প্রকাশক কিন্তু স্বয়ং অপ্রমেয় ও অনন্ত। "হে  হরি! তুমি তোমার ভক্তদেরই সংসার পাশ মোচন এবং অভক্তদের সদা সংসারসংঘটন কর। তোমার কৃপা ব্যতীত কেহ কোনও উপায়ে মায়া মুক্ত হইতে পারে না। 
পূজান্তে দেবী পার্বতী ঢোলক বাজান ও সঙ্কর্ষন ভগবানকে প্রসন্ন করার জন্য মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেন।।

 *ইলাবৃতে তু ভগবান্ ভব এক এব পুমান্,নহ্যন্যস্তত্রাপরো নির্বিশতি ভবান্যাঃ শাপনিমিত্তজ্ঞঃ।যৎপ্রবেষ্টুঃস্ত্রীভাবস্তৎপশ্চাদ্ বক্ষ্যামঃ।* 
(ভা.৫/১৭/১৫)।

এই বর্ষে পুরুষ প্রবেশ মাত্র স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়।পার্বতীর অভিশাপ আছে।এ প্রসঙ্গ পরে ভাগবত নবম স্কন্ধে বিশদভাবে বর্ণিত হবে।

(पार्वती के खंडों में सवै जुवती होई जाहि।
 हमको एति कठिन कहां श्रीवृंदावन माही।।)

২। ভদ্রাশ্ববর্ষের অধিপতি ভদ্রশ্রবা ভগবানের হয়গ্ৰীব মূর্তির উপাসনা করেন।

 ৩। হরিবর্ষে  ভগবান নৃসিংহদেব অবস্থান করিতেছেন। ভক্ত প্রহ্লাদ তাহার সেবা-পূজাদি করেন।

৪। কেতুমাল বর্ষে ভগবান কামদেব মূর্তিতে বিরাজমান। শ্রীলক্ষ্মীদেবী পরম-ভক্তিভরে পূজা-অর্চনাদি করিয়া থাকেন।

৫। রম্যক বর্ষে মনু মৎস্য দেবের উপাসনা করিয়া থাকেন।

৬। হিরণ্ময় বর্ষে ভগবান কূর্ম্ম মূর্ত্তিতে বিরাজমান।

৭। উত্তরকুরু বর্ষে শ্রীবরাহদেব কুরুখন্ড বাসীগনের উপাস্যরূপে অবস্থান করিতেছেন।

 ৮। কিম্পুরুষ বর্ষে লক্ষণাগ্রজ সীতাপতি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শ্রীচরণসান্নিধ্যে নিবিষ্টচিত্তে উপবিষ্ট হইয়া পরম ভাগবত শ্রীহনুমান অপ্রতিহত ভক্তিসহকারে কিম্পুরুষ বর্ষবাসীগণের সহিত তাঁহার উপাসনা করিতেছেন।

৯। ভারতবর্ষের অধিপতি ভগবান নর-নারায়ন, দেবর্ষি নারদ ভারতবর্ষীয় প্রজাগণের সহিত পরমপুরুষ ভগবানের উপাসনা করিতেছেন।
ভারতবর্ষই কর্মক্ষেত্র,অন্য  আট বর্ষ স্বর্গসুখভোগীদিগের ভোগস্থান। স্বর্গ থেকে ফেরৎ জীব এই সমস্ত বর্ষে বাস করে।নয়টি বর্ষে শ্রীহরি নানা রূপে বিরাজমান থাকিয়া পূজিত হইতেছেন।

  পঞ্চম স্কন্ধের এই ভাগবত কথা।
সর্ব বৈষ্ণবের বন্দ্য বলরাম গাঁথা।।
 
তান রাসক্রীড়া কথা পরম উদার।
 বৃন্দাবনে গোপীসনে করিলা বিহার।।

 *দুইমাস বসন্ত-মাধব-মধু নামে।হলায়ুধ-রাসক্রীড়া কহয়ে পুরানে।।* 

সে সকল কথা এই শুন ভাগবতে।
 শ্রীশুক কহেন শুনে রাজা পরীক্ষিতে।।
(ভা.১০/৬৫/১৭-১৮-২১-২২.)

অনুবাদ-ভগবান বলরাম, নিশাকালে গোপীগণের রতি সম্পাদন করিতে করিতে, সেই শ্রীবৃন্দাবনে চৈত্র ও বৈশাখ দুই মাস অবস্থান করিলেন।।
 পূর্ণচন্দ্রের কিরণজালে পরিমার্জিত হইয়া যাহার স্বতঃসিদ্ধ শোভা সমধিক উজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছে আর যেখানে সমিরণ কুমুদ কুসুমের গন্ধ গ্রহণ করিয়া ধীরে ধীরে সঞ্চরন করিতেছে,__ তিনি সেই যমুনার উপবনে রমণীমণ্ডলে পরিবৃত হইয়া রমণ করিতে লাগিলেন।।

গন্ধর্বগণ-সংস্তুত বলরাম, হস্তিনী-যুথপতি ইন্দ্রহস্তী ঐরাবতের মত অনুরাগবতী বনিতাপরিশোভিত মন্ডলে রমণে প্রবৃত্ত হইলেন।।

আকাশে দুন্দুভি-নিনাদ হইতে লাগিল। গন্ধর্ববৃন্দ সানন্দে পুষ্প-পুঞ্জ বর্ষণ করিতে লাগিলেন, আর মুনিগণ তৎকালে সেই বলরামের বিক্রম বৃত্তান্ত উল্লেখ করিয়া স্তব আরম্ভ করিলেন।।

যে স্ত্রীসঙ্গ মুনিগণে করেন নিন্দন।
তানাও রামের রাসে করেন স্তবন।।

 *যার রাসে দেবে আসি পুষ্পবৃষ্টি করে।দেবে জানে এক তত্ত্ব কৃষ্ণ হলধরে।।* 

 *চারি বেদে গুপ্ত বলরামের চরিত।আমি কি বলিব সব পুরানে বিদিত।।* 

মূর্খ দোষে কেহ কেহ না দেখি পুরান। বলরাম রাসক্রীড়া করে অপ্রমাণ।।

 *এক ঠাঁই দুই ভাই গোপিকা সমাজে।করিলেন রাসক্রীড়া বৃন্দাবন মাঝে।।* 
(ভা.১০/৩৪/২০-২৩.)

অনুবাদ- শঙ্খচূড় বধ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হইতেছে যে,কোন সময়ে রজনীযোগে অলৌকিক প্রভাবসম্পন্ন শ্রীকৃষ্ণ ও বলরাম ব্রজনারীগণের মধ্যবর্তী হইয়া ব্রজসন্নিহিত কাননের অভ্যন্তরে বিহার করিয়াছিলেন।

তাহাদের উভয়েরই দেহ চন্দনচর্চিত ও বিবিধ ভূষণে বিভূষিত,গলদেশে মাল্য ও পরিধানে সুনির্মল বস্ত্র। তাহারা দেখিলেন, আজিকার সন্ধা অতি সুন্দর।সান্ধ্য গগনে তারাপতি ও তারকামালার উদয় হইয়াছে,অলিকুল মল্লিকার মধুগন্ধে মত্ত হইয়া ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিতেছে, আর গন্ধবহ কুমুদের গন্ধ লইয়া মন্দ মন্দ সঞ্চরণ করিতেছে। তাহারা সেই প্রদোষ কালের সংবর্ধনা না করিয়া থাকিতে পারিলেন না। তাহাদের প্রেয়সীবৃন্দ তাহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া তাল-লয়-বিশুদ্ধ মনোহর সংগীতালাপে প্রবৃত্ত হইলেন; তাহারাও উভয়ে মিলিত হইয়া সকলের মনোমদ ও শ্রুতিসুখাবহ স্বরগ্ৰামের মূর্চ্ছনা- সহকারে সংগীত আলাপ করিতে লাগিলেন।।

ভাগবত শুনি যার রামে নহে প্রীত।
 বিষ্ণু-বৈষ্ণবের পথে সে জন বর্জিত।।

 *ভাগবত যে না মানে, সে যবন সম।তার শাস্তা আছে জন্মেজন্মে প্রভু যম।।* 

 এবে কেহ কেহ নপুংসক-বেশে নাচে। বোলে "বলরাম-রাস কোন্ শাস্ত্রে আছে?

 কোনো পাপী শাস্ত্র দেখিলেও নাহি মানে। এক অর্থ, অন্য অর্থ করিয়া বাখানে।।

 চৈতন্যচন্দ্রের প্রিয় বিগ্রহ বলাই।
 তান-স্থানে অপরাধে মরে সর্ব ঠাঁই।।

মূর্তিভেদে আপনে হয়েন প্রভুদাস।
সে সব লক্ষণ অবতারে পরকাশ।।

 *সখা, ভাই,ব্যজন,শয়ন, আবাহন।গৃহ,ছত্র, বস্ত্র, যত ভূষন আসন।।* 

 আপনে সকল রূপে সেবেন আপনে।
 যারে অনুগ্রহ করে, পায় সেই জনে।।

শ্রীযামুনমুনি বিরচিত স্তোত্ররত্নে (৪৩)।__

 **"নিবাস- শয্যাসন- পাদুকাংশুকো-
পধান-বর্ষাতপবারণাদিভিঃ। শরীরভেদৈস্তব শেষতাংগতৈ-
র্যথোচিতং শেষ ইতীর্যতে জনৈঃ ।।**

অনুবাদঃ হে ভগবন্ বিষ্ণো! তুমি লক্ষ্মীদেবীর সহিত যে অনন্ত নাগের উপর বিরাজমান রহিয়াছ।সে অনন্ত কেমন? সাধারণ লোকের দ্বারা তিনি যে 'শেষ' বলে আখ্যায়িত হন,তাহা উপযুক্তই বটে। কেননা তিনি তোমার নিবাস(আধার, বাসস্থান)শয্যা,আসন,পাদুকা,অংশুক(বস্ত্র), উপাধান(বালিশ) ও বর্ষাতপ বারণ(ছত্র) প্রভৃতি সেবার উপকরণগুলি আপনি শরীর-ভেদে পরিগ্ৰহ করিয়া থাকেন। তা-ও 'শেষতা পাইয়া' অর্থাৎ কোন প্রকার প্রত্যুপকারের প্রত্যাশা না রাখিয়া,__ মাত্র তোমার যাহাতে সুখ হয়, তাহা অভিলাষ করিয়া।

অনন্তের অংশ শ্রীগরুড় মহাবলী।
 লীলায় বহেন কৃষ্ণ হই কুতূহলী।।

কি ব্রহ্মা,কি শিব,কি সনকাদি কুমার।
 ব্যাস, শুক,নারদাদি *ভক্ত* নাম যার।।

 সভার পূজিত শ্রী অনন্ত মহাশয়।
 সহস্র বদন প্রভু ভক্তিরসময়।।

 *আদিদেব মহাযোগী ঈশ্বর বৈষ্ণব।  মহিমার অন্ত ইহার না জানয়ে সব।।*

*চৈতন্যকথার আদি অন্ত নাহি জানি। যে-তে-মতে চৈতন্যের যশ সে বাখানি।।*

*সর্ব ভক্তের পদরেণু মস্তকভূষণ‌।  তোমরা এ অমৃত পিলে সফল হয় শ্রম।।*

ক্রমশ ...(৩৩)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*বলরামের রাসযাত্রা।* 

সহস্র-বদন বন্দোঁ প্রভু বলরাম।
 যাঁহার সহস্র-মুখে কৃষ্ণ-যশোধাম।।

 *মহারত্ন থুই যেন মহা-প্রিয়-স্থানে। যশোরত্ন ভাণ্ডার শ্রীঅনন্ত-বদনে।।*

অতএব আগে বলরামের স্তবন।
 করিলে সে মুখে স্ফূরে চৈতন্য কীর্তন।।

 সহস্রেক-ফনাধর প্রভু বলরাম।
যতেক করয়ে প্রভু সকল উদ্দাম।।

হলধর মহাপ্রভু প্রকাণ্ড শরীর।
 চৈতন্যচন্দ্রের রসে মত্ত মহাধীর।।

ততোধিক চৈতন্যের প্রিয় নাহি আর।
 নিরবধি সেই দেহে করেন বিহার।।

তাহান চরিত্র যেই জনে শুনে গায়।
 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তারে পরম সহায়।।

মহাপ্রীত হয় তারে মহেশ পার্বতী।
জিহ্বায় স্ফূরয়ে তার শুদ্ধা সরস্বতী।।

পার্বতী প্রভৃতি নবার্বুদ নারী লইয়া।
 সঙ্কর্ষণ পূজে শিব উপাসক হইয়া।।

 *"সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা"* বলা হয়।

 পৃথিবীর সাতটি দ্বীপ যথা- জম্বু,প্লক্ষ,শাল্মলি,কুশ,ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুষ্কর।

সাত সমুদ্র-ক্ষারোদ,
 ইক্ষুরসোদ,
সুরোদ,
ঘৃতোদ,
ক্ষীরোদ,
দধিমণ্ডোদ,
শুদ্ধোদ সপ্তজলধয়ঃ।

এক একটি দ্বীপকে ঘিরে এক একটি সমুদ্র।

জম্বুদ্বীপে আবার নয়টি বর্ষ- 
১।ইলাবৃত বর্ষে বৈষ্ণবপ্রবর শম্ভু অর্বুদসহস্র অনুচরী ও পার্বতী সহ শ্রীহরির সঙ্কর্ষণ মূর্তির উপাসনা করেন।

 *"ওঁ নমো ভগবতে মহাপুরুষায় সর্বগুনসংখ্যানায়ানন্তায়াব্যক্তায়নমঃ"*

 ঐশ্বর্যশালী ভব এই মন্ত্রে শ্রীসঙ্কর্ষণকে স্তব করিয়া থাকেন।আমি সেই মহাপুরুষ ভগবানকে নমস্কার করি। তিনি সর্ব গুণের প্রকাশক কিন্তু স্বয়ং অপ্রমেয় ও অনন্ত। "হে হরি! তুমি তোমার ভক্তদেরই সংসার পাশ মোচন এবং অভক্তদের সদা সংসারসংঘটন কর। তোমার কৃপা ব্যতীত কেহ কোনও উপায়ে মায়া মুক্ত হইতে পারে না। 
পূজান্তে দেবী পার্বতী ঢোলক বাজান ও সঙ্কর্ষন ভগবানকে প্রসন্ন করার জন্য মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেন।।

 *ইলাবৃতে তু ভগবান্ ভব এক এব পুমান্,নহ্যন্যস্তত্রাপরো নির্বিশতি ভবান্যাঃ শাপনিমিত্তজ্ঞঃ।যৎপ্রবেষ্টুঃস্ত্রীভাবস্তৎপশ্চাদ্ বক্ষ্যামঃ।* 
(ভা.৫/১৭/১৫)।

এই বর্ষে পুরুষ প্রবেশ মাত্র স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়।পার্বতীর অভিশাপ আছে।এ প্রসঙ্গ পরে ভাগবত নবম স্কন্ধে বিশদভাবে বর্ণিত হবে।

(पार्वती के खंडों में सवै जुवती होई जाहि।
 हमको एति कठिन कहां श्रीवृंदावन माही।।)

২। ভদ্রাশ্ববর্ষের অধিপতি ভদ্রশ্রবা ভগবানের হয়গ্ৰীব মূর্তির উপাসনা করেন।

 ৩। হরিবর্ষে ভগবান নৃসিংহদেব অবস্থান করিতেছেন। ভক্ত প্রহ্লাদ তাহার সেবা-পূজাদি করেন।

৪। কেতুমাল বর্ষে ভগবান কামদেব মূর্তিতে বিরাজমান। শ্রীলক্ষ্মীদেবী পরম-ভক্তিভরে পূজা-অর্চনাদি করিয়া থাকেন।

৫। রম্যক বর্ষে মনু মৎস্য দেবের উপাসনা করিয়া থাকেন।

৬। হিরণ্ময় বর্ষে ভগবান কূর্ম্ম মূর্ত্তিতে বিরাজমান।

৭। উত্তরকুরু বর্ষে শ্রীবরাহদেব কুরুখন্ড বাসীগনের উপাস্যরূপে অবস্থান করিতেছেন।

 ৮। কিম্পুরুষ বর্ষে লক্ষণাগ্রজ সীতাপতি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শ্রীচরণসান্নিধ্যে নিবিষ্টচিত্তে উপবিষ্ট হইয়া পরম ভাগবত শ্রীহনুমান অপ্রতিহত ভক্তিসহকারে কিম্পুরুষ বর্ষবাসীগণের সহিত তাঁহার উপাসনা করিতেছেন।

৯। ভারতবর্ষের অধিপতি ভগবান নর-নারায়ন, দেবর্ষি নারদ ভারতবর্ষীয় প্রজাগণের সহিত পরমপুরুষ ভগবানের উপাসনা করিতেছেন।
ভারতবর্ষই কর্মক্ষেত্র,অন্য আট বর্ষ স্বর্গসুখভোগীদিগের ভোগস্থান। স্বর্গ থেকে ফেরৎ জীব এই সমস্ত বর্ষে বাস করে।নয়টি বর্ষে শ্রীহরি নানা রূপে বিরাজমান থাকিয়া পূজিত হইতেছেন।

  পঞ্চম স্কন্ধের এই ভাগবত কথা।
সর্ব বৈষ্ণবের বন্দ্য বলরাম গাঁথা।।
 
তান রাসক্রীড়া কথা পরম উদার।
 বৃন্দাবনে গোপীসনে করিলা বিহার।।

 *দুইমাস বসন্ত-মাধব-মধু নামে।হলায়ুধ-রাসক্রীড়া কহয়ে পুরানে।।* 

সে সকল কথা এই শুন ভাগবতে।
 শ্রীশুক কহেন শুনে রাজা পরীক্ষিতে।।
(ভা.১০/৬৫/১৭-১৮-২১-২২.)

অনুবাদ-ভগবান বলরাম, নিশাকালে গোপীগণের রতি সম্পাদন করিতে করিতে, সেই শ্রীবৃন্দাবনে চৈত্র ও বৈশাখ দুই মাস অবস্থান করিলেন।।
 পূর্ণচন্দ্রের কিরণজালে পরিমার্জিত হইয়া যাহার স্বতঃসিদ্ধ শোভা সমধিক উজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছে আর যেখানে সমিরণ কুমুদ কুসুমের গন্ধ গ্রহণ করিয়া ধীরে ধীরে সঞ্চরন করিতেছে,__ তিনি সেই যমুনার উপবনে রমণীমণ্ডলে পরিবৃত হইয়া রমণ করিতে লাগিলেন।।

গন্ধর্বগণ-সংস্তুত বলরাম, হস্তিনী-যুথপতি ইন্দ্রহস্তী ঐরাবতের মত অনুরাগবতী বনিতাপরিশোভিত মন্ডলে রমণে প্রবৃত্ত হইলেন।।

আকাশে দুন্দুভি-নিনাদ হইতে লাগিল। গন্ধর্ববৃন্দ সানন্দে পুষ্প-পুঞ্জ বর্ষণ করিতে লাগিলেন, আর মুনিগণ তৎকালে সেই বলরামের বিক্রম বৃত্তান্ত উল্লেখ করিয়া স্তব আরম্ভ করিলেন।।

যে স্ত্রীসঙ্গ মুনিগণে করেন নিন্দন।
তানাও রামের রাসে করেন স্তবন।।

 *যার রাসে দেবে আসি পুষ্পবৃষ্টি করে।দেবে জানে এক তত্ত্ব কৃষ্ণ হলধরে।।* 

 *চারি বেদে গুপ্ত বলরামের চরিত।আমি কি বলিব সব পুরানে বিদিত।।* 

মূর্খ দোষে কেহ কেহ না দেখি পুরান। বলরাম রাসক্রীড়া করে অপ্রমাণ।।

 *এক ঠাঁই দুই ভাই গোপিকা সমাজে।করিলেন রাসক্রীড়া বৃন্দাবন মাঝে।।* 
(ভা.১০/৩৪/২০-২৩.)

অনুবাদ- শঙ্খচূড় বধ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হইতেছে যে,কোন সময়ে রজনীযোগে অলৌকিক প্রভাবসম্পন্ন শ্রীকৃষ্ণ ও বলরাম ব্রজনারীগণের মধ্যবর্তী হইয়া ব্রজসন্নিহিত কাননের অভ্যন্তরে বিহার করিয়াছিলেন।

তাহাদের উভয়েরই দেহ চন্দনচর্চিত ও বিবিধ ভূষণে বিভূষিত,গলদেশে মাল্য ও পরিধানে সুনির্মল বস্ত্র। তাহারা দেখিলেন, আজিকার সন্ধা অতি সুন্দর।সান্ধ্য গগনে তারাপতি ও তারকামালার উদয় হইয়াছে,অলিকুল মল্লিকার মধুগন্ধে মত্ত হইয়া ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিতেছে, আর গন্ধবহ কুমুদের গন্ধ লইয়া মন্দ মন্দ সঞ্চরণ করিতেছে। তাহারা সেই প্রদোষ কালের সংবর্ধনা না করিয়া থাকিতে পারিলেন না। তাহাদের প্রেয়সীবৃন্দ তাহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া তাল-লয়-বিশুদ্ধ মনোহর সংগীতালাপে প্রবৃত্ত হইলেন; তাহারাও উভয়ে মিলিত হইয়া সকলের মনোমদ ও শ্রুতিসুখাবহ স্বরগ্ৰামের মূর্চ্ছনা- সহকারে সংগীত আলাপ করিতে লাগিলেন।।

ভাগবত শুনি যার রামে নহে প্রীত।
 বিষ্ণু-বৈষ্ণবের পথে সে জন বর্জিত।।

 *ভাগবত যে না মানে, সে যবন সম।তার শাস্তা আছে জন্মেজন্মে প্রভু যম।।* 

 এবে কেহ কেহ নপুংসক-বেশে নাচে। বোলে "বলরাম-রাস কোন্ শাস্ত্রে আছে?

 কোনো পাপী শাস্ত্র দেখিলেও নাহি মানে। এক অর্থ, অন্য অর্থ করিয়া বাখানে।।

 চৈতন্যচন্দ্রের প্রিয় বিগ্রহ বলাই।
 তান-স্থানে অপরাধে মরে সর্ব ঠাঁই।।

মূর্তিভেদে আপনে হয়েন প্রভুদাস।
সে সব লক্ষণ অবতারে পরকাশ।।

 *সখা, ভাই,ব্যজন,শয়ন, আবাহন।গৃহ,ছত্র, বস্ত্র, যত ভূষন আসন।।* 

 আপনে সকল রূপে সেবেন আপনে।
 যারে অনুগ্রহ করে, পায় সেই জনে।।

শ্রীযামুনমুনি বিরচিত স্তোত্ররত্নে (৪৩)।__

 **"নিবাস- শয্যাসন- পাদুকাংশুকো-
পধান-বর্ষাতপবারণাদিভিঃ। শরীরভেদৈস্তব শেষতাংগতৈ-
র্যথোচিতং শেষ ইতীর্যতে জনৈঃ ।।**

অনুবাদঃ হে ভগবন্ বিষ্ণো! তুমি লক্ষ্মীদেবীর সহিত যে অনন্ত নাগের উপর বিরাজমান রহিয়াছ।সে অনন্ত কেমন? সাধারণ লোকের দ্বারা তিনি যে 'শেষ' বলে আখ্যায়িত হন,তাহা উপযুক্তই বটে। কেননা তিনি তোমার নিবাস(আধার, বাসস্থান)শয্যা,আসন,পাদুকা,অংশুক(বস্ত্র), উপাধান(বালিশ) ও বর্ষাতপ বারণ(ছত্র) প্রভৃতি সেবার উপকরণগুলি আপনি শরীর-ভেদে পরিগ্ৰহ করিয়া থাকেন। তা-ও 'শেষতা পাইয়া' অর্থাৎ কোন প্রকার প্রত্যুপকারের প্রত্যাশা না রাখিয়া,__ মাত্র তোমার যাহাতে সুখ হয়, তাহা অভিলাষ করিয়া।

অনন্তের অংশ শ্রীগরুড় মহাবলী।
 লীলায় বহেন কৃষ্ণ হই কুতূহলী।।

কি ব্রহ্মা,কি শিব,কি সনকাদি কুমার।
 ব্যাস, শুক,নারদাদি *ভক্ত* নাম যার।।

 সভার পূজিত শ্রী অনন্ত মহাশয়।
 সহস্র বদন প্রভু ভক্তিরসময়।।

 *আদিদেব মহাযোগী ঈশ্বর বৈষ্ণব। মহিমার অন্ত ইহার না জানয়ে সব।।*

*চৈতন্যকথার আদি অন্ত নাহি জানি। যে-তে-মতে চৈতন্যের যশ সে বাখানি।।*

*সর্ব ভক্তের পদরেণু মস্তকভূষণ‌। তোমরা এ অমৃত পিলে সফল হয় শ্রম।।*

ক্রমশ ...
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


*৩৩. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/12/blog-post_66.html



 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ *৩৩. অতি গূঢ় নিত্যানন্দ* ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
     ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস  ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ প্রভু নিত্যানন্দের সংক্ষিপ্ত লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(৩৩)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*বলরামের রাসযাত্রা।* 

সহস্র-বদন  বন্দোঁ প্রভু বলরাম।
 যাঁহার সহস্র-মুখে কৃষ্ণ-যশোধাম।।

 *মহারত্ন থুই যেন  মহা-প্রিয়-স্থানে। যশোরত্ন ভাণ্ডার শ্রীঅনন্ত-বদনে।।*

অতএব আগে বলরামের স্তবন।
 করিলে সে মুখে স্ফূরে চৈতন্য কীর্তন।।

 সহস্রেক-ফনাধর প্রভু বলরাম।
যতেক করয়ে প্রভু সকল উদ্দাম।।

হলধর মহাপ্রভু প্রকাণ্ড শরীর।
 চৈতন্যচন্দ্রের রসে মত্ত মহাধীর।।

ততোধিক চৈতন্যের প্রিয় নাহি আর।
 নিরবধি সেই দেহে করেন বিহার।।

তাহান চরিত্র যেই জনে শুনে গায়।
 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তারে পরম সহায়।।

মহাপ্রীত হয় তারে মহেশ পার্বতী।
জিহ্বায় স্ফূরয়ে তার শুদ্ধা সরস্বতী।।

পার্বতী প্রভৃতি নবার্বুদ নারী লইয়া।
 সঙ্কর্ষণ পূজে শিব উপাসক হইয়া।।

 *"সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা"* বলা হয়।

 পৃথিবীর সাতটি দ্বীপ যথা- জম্বু,প্লক্ষ,শাল্মলি,কুশ,ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুষ্কর।

সাত সমুদ্র-ক্ষারোদ,
 ইক্ষুরসোদ,
সুরোদ,
ঘৃতোদ,
ক্ষীরোদ,
দধিমণ্ডোদ,
শুদ্ধোদ  সপ্তজলধয়ঃ।

এক একটি দ্বীপকে ঘিরে এক একটি সমুদ্র।

জম্বুদ্বীপে আবার নয়টি বর্ষ- 
১।ইলাবৃত বর্ষে বৈষ্ণবপ্রবর শম্ভু অর্বুদসহস্র অনুচরী ও পার্বতী সহ শ্রীহরির সঙ্কর্ষণ মূর্তির উপাসনা করেন।

 *"ওঁ নমো ভগবতে মহাপুরুষায় সর্বগুনসংখ্যানায়ানন্তায়াব্যক্তায়নমঃ"*

 ঐশ্বর্যশালী ভব এই মন্ত্রে শ্রীসঙ্কর্ষণকে স্তব করিয়া থাকেন।আমি সেই মহাপুরুষ ভগবানকে নমস্কার করি। তিনি সর্ব গুণের প্রকাশক কিন্তু স্বয়ং অপ্রমেয় ও অনন্ত। "হে  হরি! তুমি তোমার ভক্তদেরই সংসার পাশ মোচন এবং অভক্তদের সদা সংসারসংঘটন কর। তোমার কৃপা ব্যতীত কেহ কোনও উপায়ে মায়া মুক্ত হইতে পারে না। 
পূজান্তে দেবী পার্বতী ঢোলক বাজান ও সঙ্কর্ষন ভগবানকে প্রসন্ন করার জন্য মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেন।।

 *ইলাবৃতে তু ভগবান্ ভব এক এব পুমান্,নহ্যন্যস্তত্রাপরো নির্বিশতি ভবান্যাঃ শাপনিমিত্তজ্ঞঃ।যৎপ্রবেষ্টুঃস্ত্রীভাবস্তৎপশ্চাদ্ বক্ষ্যামঃ।* 
(ভা.৫/১৭/১৫)।

এই বর্ষে পুরুষ প্রবেশ মাত্র স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়।পার্বতীর অভিশাপ আছে।এ প্রসঙ্গ পরে ভাগবত নবম স্কন্ধে বিশদভাবে বর্ণিত হবে।

(पार्वती के खंडों में सवै जुवती होई जाहि।
 हमको एति कठिन कहां श्रीवृंदावन माही।।)

২। ভদ্রাশ্ববর্ষের অধিপতি ভদ্রশ্রবা ভগবানের হয়গ্ৰীব মূর্তির উপাসনা করেন।

 ৩। হরিবর্ষে  ভগবান নৃসিংহদেব অবস্থান করিতেছেন। ভক্ত প্রহ্লাদ তাহার সেবা-পূজাদি করেন।

৪। কেতুমাল বর্ষে ভগবান কামদেব মূর্তিতে বিরাজমান। শ্রীলক্ষ্মীদেবী পরম-ভক্তিভরে পূজা-অর্চনাদি করিয়া থাকেন।

৫। রম্যক বর্ষে মনু মৎস্য দেবের উপাসনা করিয়া থাকেন।

৬। হিরণ্ময় বর্ষে ভগবান কূর্ম্ম মূর্ত্তিতে বিরাজমান।

৭। উত্তরকুরু বর্ষে শ্রীবরাহদেব কুরুখন্ড বাসীগনের উপাস্যরূপে অবস্থান করিতেছেন।

 ৮। কিম্পুরুষ বর্ষে লক্ষণাগ্রজ সীতাপতি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শ্রীচরণসান্নিধ্যে নিবিষ্টচিত্তে উপবিষ্ট হইয়া পরম ভাগবত শ্রীহনুমান অপ্রতিহত ভক্তিসহকারে কিম্পুরুষ বর্ষবাসীগণের সহিত তাঁহার উপাসনা করিতেছেন।

৯। ভারতবর্ষের অধিপতি ভগবান নর-নারায়ন, দেবর্ষি নারদ ভারতবর্ষীয় প্রজাগণের সহিত পরমপুরুষ ভগবানের উপাসনা করিতেছেন।
ভারতবর্ষই কর্মক্ষেত্র,অন্য  আট বর্ষ স্বর্গসুখভোগীদিগের ভোগস্থান। স্বর্গ থেকে ফেরৎ জীব এই সমস্ত বর্ষে বাস করে।নয়টি বর্ষে শ্রীহরি নানা রূপে বিরাজমান থাকিয়া পূজিত হইতেছেন।

  পঞ্চম স্কন্ধের এই ভাগবত কথা।
সর্ব বৈষ্ণবের বন্দ্য বলরাম গাঁথা।।
 
তান রাসক্রীড়া কথা পরম উদার।
 বৃন্দাবনে গোপীসনে করিলা বিহার।।

 *দুইমাস বসন্ত-মাধব-মধু নামে।হলায়ুধ-রাসক্রীড়া কহয়ে পুরানে।।* 

সে সকল কথা এই শুন ভাগবতে।
 শ্রীশুক কহেন শুনে রাজা পরীক্ষিতে।।
(ভা.১০/৬৫/১৭-১৮-২১-২২.)

অনুবাদ-ভগবান বলরাম, নিশাকালে গোপীগণের রতি সম্পাদন করিতে করিতে, সেই শ্রীবৃন্দাবনে চৈত্র ও বৈশাখ দুই মাস অবস্থান করিলেন।।
 পূর্ণচন্দ্রের কিরণজালে পরিমার্জিত হইয়া যাহার স্বতঃসিদ্ধ শোভা সমধিক উজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছে আর যেখানে সমিরণ কুমুদ কুসুমের গন্ধ গ্রহণ করিয়া ধীরে ধীরে সঞ্চরন করিতেছে,__ তিনি সেই যমুনার উপবনে রমণীমণ্ডলে পরিবৃত হইয়া রমণ করিতে লাগিলেন।।

গন্ধর্বগণ-সংস্তুত বলরাম, হস্তিনী-যুথপতি ইন্দ্রহস্তী ঐরাবতের মত অনুরাগবতী বনিতাপরিশোভিত মন্ডলে রমণে প্রবৃত্ত হইলেন।।

আকাশে দুন্দুভি-নিনাদ হইতে লাগিল। গন্ধর্ববৃন্দ সানন্দে পুষ্প-পুঞ্জ বর্ষণ করিতে লাগিলেন, আর মুনিগণ তৎকালে সেই বলরামের বিক্রম বৃত্তান্ত উল্লেখ করিয়া স্তব আরম্ভ করিলেন।।

যে স্ত্রীসঙ্গ মুনিগণে করেন নিন্দন।
তানাও রামের রাসে করেন স্তবন।।

 *যার রাসে দেবে আসি পুষ্পবৃষ্টি করে।দেবে জানে এক তত্ত্ব কৃষ্ণ হলধরে।।* 

 *চারি বেদে গুপ্ত বলরামের চরিত।আমি কি বলিব সব পুরানে বিদিত।।* 

মূর্খ দোষে কেহ কেহ না দেখি পুরান। বলরাম রাসক্রীড়া করে অপ্রমাণ।।

 *এক ঠাঁই দুই ভাই গোপিকা সমাজে।করিলেন রাসক্রীড়া বৃন্দাবন মাঝে।।* 
(ভা.১০/৩৪/২০-২৩.)

অনুবাদ- শঙ্খচূড় বধ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হইতেছে যে,কোন সময়ে রজনীযোগে অলৌকিক প্রভাবসম্পন্ন শ্রীকৃষ্ণ ও বলরাম ব্রজনারীগণের মধ্যবর্তী হইয়া ব্রজসন্নিহিত কাননের অভ্যন্তরে বিহার করিয়াছিলেন।

তাহাদের উভয়েরই দেহ চন্দনচর্চিত ও বিবিধ ভূষণে বিভূষিত,গলদেশে মাল্য ও পরিধানে সুনির্মল বস্ত্র। তাহারা দেখিলেন, আজিকার সন্ধা অতি সুন্দর।সান্ধ্য গগনে তারাপতি ও তারকামালার উদয় হইয়াছে,অলিকুল মল্লিকার মধুগন্ধে মত্ত হইয়া ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিতেছে, আর গন্ধবহ কুমুদের গন্ধ লইয়া মন্দ মন্দ সঞ্চরণ করিতেছে। তাহারা সেই প্রদোষ কালের সংবর্ধনা না করিয়া থাকিতে পারিলেন না। তাহাদের প্রেয়সীবৃন্দ তাহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া তাল-লয়-বিশুদ্ধ মনোহর সংগীতালাপে প্রবৃত্ত হইলেন; তাহারাও উভয়ে মিলিত হইয়া সকলের মনোমদ ও শ্রুতিসুখাবহ স্বরগ্ৰামের মূর্চ্ছনা- সহকারে সংগীত আলাপ করিতে লাগিলেন।।

ভাগবত শুনি যার রামে নহে প্রীত।
 বিষ্ণু-বৈষ্ণবের পথে সে জন বর্জিত।।

 *ভাগবত যে না মানে, সে যবন সম।তার শাস্তা আছে জন্মেজন্মে প্রভু যম।।* 

 এবে কেহ কেহ নপুংসক-বেশে নাচে। বোলে "বলরাম-রাস কোন্ শাস্ত্রে আছে?

 কোনো পাপী শাস্ত্র দেখিলেও নাহি মানে। এক অর্থ, অন্য অর্থ করিয়া বাখানে।।

 চৈতন্যচন্দ্রের প্রিয় বিগ্রহ বলাই।
 তান-স্থানে অপরাধে মরে সর্ব ঠাঁই।।

মূর্তিভেদে আপনে হয়েন প্রভুদাস।
সে সব লক্ষণ অবতারে পরকাশ।।

 *সখা, ভাই,ব্যজন,শয়ন, আবাহন।গৃহ,ছত্র, বস্ত্র, যত ভূষন আসন।।* 

 আপনে সকল রূপে সেবেন আপনে।
 যারে অনুগ্রহ করে, পায় সেই জনে।।

শ্রীযামুনমুনি বিরচিত স্তোত্ররত্নে (৪৩)।__

 **"নিবাস- শয্যাসন- পাদুকাংশুকো-
পধান-বর্ষাতপবারণাদিভিঃ। শরীরভেদৈস্তব শেষতাংগতৈ-
র্যথোচিতং শেষ ইতীর্যতে জনৈঃ ।।**

অনুবাদঃ হে ভগবন্ বিষ্ণো! তুমি লক্ষ্মীদেবীর সহিত যে অনন্ত নাগের উপর বিরাজমান রহিয়াছ।সে অনন্ত কেমন? সাধারণ লোকের দ্বারা তিনি যে 'শেষ' বলে আখ্যায়িত হন,তাহা উপযুক্তই বটে। কেননা তিনি তোমার নিবাস(আধার, বাসস্থান)শয্যা,আসন,পাদুকা,অংশুক(বস্ত্র), উপাধান(বালিশ) ও বর্ষাতপ বারণ(ছত্র) প্রভৃতি সেবার উপকরণগুলি আপনি শরীর-ভেদে পরিগ্ৰহ করিয়া থাকেন। তা-ও 'শেষতা পাইয়া' অর্থাৎ কোন প্রকার প্রত্যুপকারের প্রত্যাশা না রাখিয়া,__ মাত্র তোমার যাহাতে সুখ হয়, তাহা অভিলাষ করিয়া।

অনন্তের অংশ শ্রীগরুড় মহাবলী।
 লীলায় বহেন কৃষ্ণ হই কুতূহলী।।

কি ব্রহ্মা,কি শিব,কি সনকাদি কুমার।
 ব্যাস, শুক,নারদাদি *ভক্ত* নাম যার।।

 সভার পূজিত শ্রী অনন্ত মহাশয়।
 সহস্র বদন প্রভু ভক্তিরসময়।।

 *আদিদেব মহাযোগী ঈশ্বর বৈষ্ণব।  মহিমার অন্ত ইহার না জানয়ে সব।।*

*চৈতন্যকথার আদি অন্ত নাহি জানি। যে-তে-মতে চৈতন্যের যশ সে বাখানি।।*

*সর্ব ভক্তের পদরেণু মস্তকভূষণ‌।  তোমরা এ অমৃত পিলে সফল হয় শ্রম।।*

ক্রমশ ...(৩৩)
*অতি গূঢ় নিত্যানন্দ।*

*বলরামের রাসযাত্রা।* 

সহস্র-বদন বন্দোঁ প্রভু বলরাম।
 যাঁহার সহস্র-মুখে কৃষ্ণ-যশোধাম।।

 *মহারত্ন থুই যেন মহা-প্রিয়-স্থানে। যশোরত্ন ভাণ্ডার শ্রীঅনন্ত-বদনে।।*

অতএব আগে বলরামের স্তবন।
 করিলে সে মুখে স্ফূরে চৈতন্য কীর্তন।।

 সহস্রেক-ফনাধর প্রভু বলরাম।
যতেক করয়ে প্রভু সকল উদ্দাম।।

হলধর মহাপ্রভু প্রকাণ্ড শরীর।
 চৈতন্যচন্দ্রের রসে মত্ত মহাধীর।।

ততোধিক চৈতন্যের প্রিয় নাহি আর।
 নিরবধি সেই দেহে করেন বিহার।।

তাহান চরিত্র যেই জনে শুনে গায়।
 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তারে পরম সহায়।।

মহাপ্রীত হয় তারে মহেশ পার্বতী।
জিহ্বায় স্ফূরয়ে তার শুদ্ধা সরস্বতী।।

পার্বতী প্রভৃতি নবার্বুদ নারী লইয়া।
 সঙ্কর্ষণ পূজে শিব উপাসক হইয়া।।

 *"সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা"* বলা হয়।

 পৃথিবীর সাতটি দ্বীপ যথা- জম্বু,প্লক্ষ,শাল্মলি,কুশ,ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুষ্কর।

সাত সমুদ্র-ক্ষারোদ,
 ইক্ষুরসোদ,
সুরোদ,
ঘৃতোদ,
ক্ষীরোদ,
দধিমণ্ডোদ,
শুদ্ধোদ সপ্তজলধয়ঃ।

এক একটি দ্বীপকে ঘিরে এক একটি সমুদ্র।

জম্বুদ্বীপে আবার নয়টি বর্ষ- 
১।ইলাবৃত বর্ষে বৈষ্ণবপ্রবর শম্ভু অর্বুদসহস্র অনুচরী ও পার্বতী সহ শ্রীহরির সঙ্কর্ষণ মূর্তির উপাসনা করেন।

 *"ওঁ নমো ভগবতে মহাপুরুষায় সর্বগুনসংখ্যানায়ানন্তায়াব্যক্তায়নমঃ"*

 ঐশ্বর্যশালী ভব এই মন্ত্রে শ্রীসঙ্কর্ষণকে স্তব করিয়া থাকেন।আমি সেই মহাপুরুষ ভগবানকে নমস্কার করি। তিনি সর্ব গুণের প্রকাশক কিন্তু স্বয়ং অপ্রমেয় ও অনন্ত। "হে হরি! তুমি তোমার ভক্তদেরই সংসার পাশ মোচন এবং অভক্তদের সদা সংসারসংঘটন কর। তোমার কৃপা ব্যতীত কেহ কোনও উপায়ে মায়া মুক্ত হইতে পারে না। 
পূজান্তে দেবী পার্বতী ঢোলক বাজান ও সঙ্কর্ষন ভগবানকে প্রসন্ন করার জন্য মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেন।।

 *ইলাবৃতে তু ভগবান্ ভব এক এব পুমান্,নহ্যন্যস্তত্রাপরো নির্বিশতি ভবান্যাঃ শাপনিমিত্তজ্ঞঃ।যৎপ্রবেষ্টুঃস্ত্রীভাবস্তৎপশ্চাদ্ বক্ষ্যামঃ।* 
(ভা.৫/১৭/১৫)।

এই বর্ষে পুরুষ প্রবেশ মাত্র স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়।পার্বতীর অভিশাপ আছে।এ প্রসঙ্গ পরে ভাগবত নবম স্কন্ধে বিশদভাবে বর্ণিত হবে।

(पार्वती के खंडों में सवै जुवती होई जाहि।
 हमको एति कठिन कहां श्रीवृंदावन माही।।)

২। ভদ্রাশ্ববর্ষের অধিপতি ভদ্রশ্রবা ভগবানের হয়গ্ৰীব মূর্তির উপাসনা করেন।

 ৩। হরিবর্ষে ভগবান নৃসিংহদেব অবস্থান করিতেছেন। ভক্ত প্রহ্লাদ তাহার সেবা-পূজাদি করেন।

৪। কেতুমাল বর্ষে ভগবান কামদেব মূর্তিতে বিরাজমান। শ্রীলক্ষ্মীদেবী পরম-ভক্তিভরে পূজা-অর্চনাদি করিয়া থাকেন।

৫। রম্যক বর্ষে মনু মৎস্য দেবের উপাসনা করিয়া থাকেন।

৬। হিরণ্ময় বর্ষে ভগবান কূর্ম্ম মূর্ত্তিতে বিরাজমান।

৭। উত্তরকুরু বর্ষে শ্রীবরাহদেব কুরুখন্ড বাসীগনের উপাস্যরূপে অবস্থান করিতেছেন।

 ৮। কিম্পুরুষ বর্ষে লক্ষণাগ্রজ সীতাপতি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শ্রীচরণসান্নিধ্যে নিবিষ্টচিত্তে উপবিষ্ট হইয়া পরম ভাগবত শ্রীহনুমান অপ্রতিহত ভক্তিসহকারে কিম্পুরুষ বর্ষবাসীগণের সহিত তাঁহার উপাসনা করিতেছেন।

৯। ভারতবর্ষের অধিপতি ভগবান নর-নারায়ন, দেবর্ষি নারদ ভারতবর্ষীয় প্রজাগণের সহিত পরমপুরুষ ভগবানের উপাসনা করিতেছেন।
ভারতবর্ষই কর্মক্ষেত্র,অন্য আট বর্ষ স্বর্গসুখভোগীদিগের ভোগস্থান। স্বর্গ থেকে ফেরৎ জীব এই সমস্ত বর্ষে বাস করে।নয়টি বর্ষে শ্রীহরি নানা রূপে বিরাজমান থাকিয়া পূজিত হইতেছেন।

  পঞ্চম স্কন্ধের এই ভাগবত কথা।
সর্ব বৈষ্ণবের বন্দ্য বলরাম গাঁথা।।
 
তান রাসক্রীড়া কথা পরম উদার।
 বৃন্দাবনে গোপীসনে করিলা বিহার।।

 *দুইমাস বসন্ত-মাধব-মধু নামে।হলায়ুধ-রাসক্রীড়া কহয়ে পুরানে।।* 

সে সকল কথা এই শুন ভাগবতে।
 শ্রীশুক কহেন শুনে রাজা পরীক্ষিতে।।
(ভা.১০/৬৫/১৭-১৮-২১-২২.)

অনুবাদ-ভগবান বলরাম, নিশাকালে গোপীগণের রতি সম্পাদন করিতে করিতে, সেই শ্রীবৃন্দাবনে চৈত্র ও বৈশাখ দুই মাস অবস্থান করিলেন।।
 পূর্ণচন্দ্রের কিরণজালে পরিমার্জিত হইয়া যাহার স্বতঃসিদ্ধ শোভা সমধিক উজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছে আর যেখানে সমিরণ কুমুদ কুসুমের গন্ধ গ্রহণ করিয়া ধীরে ধীরে সঞ্চরন করিতেছে,__ তিনি সেই যমুনার উপবনে রমণীমণ্ডলে পরিবৃত হইয়া রমণ করিতে লাগিলেন।।

গন্ধর্বগণ-সংস্তুত বলরাম, হস্তিনী-যুথপতি ইন্দ্রহস্তী ঐরাবতের মত অনুরাগবতী বনিতাপরিশোভিত মন্ডলে রমণে প্রবৃত্ত হইলেন।।

আকাশে দুন্দুভি-নিনাদ হইতে লাগিল। গন্ধর্ববৃন্দ সানন্দে পুষ্প-পুঞ্জ বর্ষণ করিতে লাগিলেন, আর মুনিগণ তৎকালে সেই বলরামের বিক্রম বৃত্তান্ত উল্লেখ করিয়া স্তব আরম্ভ করিলেন।।

যে স্ত্রীসঙ্গ মুনিগণে করেন নিন্দন।
তানাও রামের রাসে করেন স্তবন।।

 *যার রাসে দেবে আসি পুষ্পবৃষ্টি করে।দেবে জানে এক তত্ত্ব কৃষ্ণ হলধরে।।* 

 *চারি বেদে গুপ্ত বলরামের চরিত।আমি কি বলিব সব পুরানে বিদিত।।* 

মূর্খ দোষে কেহ কেহ না দেখি পুরান। বলরাম রাসক্রীড়া করে অপ্রমাণ।।

 *এক ঠাঁই দুই ভাই গোপিকা সমাজে।করিলেন রাসক্রীড়া বৃন্দাবন মাঝে।।* 
(ভা.১০/৩৪/২০-২৩.)

অনুবাদ- শঙ্খচূড় বধ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হইতেছে যে,কোন সময়ে রজনীযোগে অলৌকিক প্রভাবসম্পন্ন শ্রীকৃষ্ণ ও বলরাম ব্রজনারীগণের মধ্যবর্তী হইয়া ব্রজসন্নিহিত কাননের অভ্যন্তরে বিহার করিয়াছিলেন।

তাহাদের উভয়েরই দেহ চন্দনচর্চিত ও বিবিধ ভূষণে বিভূষিত,গলদেশে মাল্য ও পরিধানে সুনির্মল বস্ত্র। তাহারা দেখিলেন, আজিকার সন্ধা অতি সুন্দর।সান্ধ্য গগনে তারাপতি ও তারকামালার উদয় হইয়াছে,অলিকুল মল্লিকার মধুগন্ধে মত্ত হইয়া ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিতেছে, আর গন্ধবহ কুমুদের গন্ধ লইয়া মন্দ মন্দ সঞ্চরণ করিতেছে। তাহারা সেই প্রদোষ কালের সংবর্ধনা না করিয়া থাকিতে পারিলেন না। তাহাদের প্রেয়সীবৃন্দ তাহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া তাল-লয়-বিশুদ্ধ মনোহর সংগীতালাপে প্রবৃত্ত হইলেন; তাহারাও উভয়ে মিলিত হইয়া সকলের মনোমদ ও শ্রুতিসুখাবহ স্বরগ্ৰামের মূর্চ্ছনা- সহকারে সংগীত আলাপ করিতে লাগিলেন।।

ভাগবত শুনি যার রামে নহে প্রীত।
 বিষ্ণু-বৈষ্ণবের পথে সে জন বর্জিত।।

 *ভাগবত যে না মানে, সে যবন সম।তার শাস্তা আছে জন্মেজন্মে প্রভু যম।।* 

 এবে কেহ কেহ নপুংসক-বেশে নাচে। বোলে "বলরাম-রাস কোন্ শাস্ত্রে আছে?

 কোনো পাপী শাস্ত্র দেখিলেও নাহি মানে। এক অর্থ, অন্য অর্থ করিয়া বাখানে।।

 চৈতন্যচন্দ্রের প্রিয় বিগ্রহ বলাই।
 তান-স্থানে অপরাধে মরে সর্ব ঠাঁই।।

মূর্তিভেদে আপনে হয়েন প্রভুদাস।
সে সব লক্ষণ অবতারে পরকাশ।।

 *সখা, ভাই,ব্যজন,শয়ন, আবাহন।গৃহ,ছত্র, বস্ত্র, যত ভূষন আসন।।* 

 আপনে সকল রূপে সেবেন আপনে।
 যারে অনুগ্রহ করে, পায় সেই জনে।।

শ্রীযামুনমুনি বিরচিত স্তোত্ররত্নে (৪৩)।__

 **"নিবাস- শয্যাসন- পাদুকাংশুকো-
পধান-বর্ষাতপবারণাদিভিঃ। শরীরভেদৈস্তব শেষতাংগতৈ-
র্যথোচিতং শেষ ইতীর্যতে জনৈঃ ।।**

অনুবাদঃ হে ভগবন্ বিষ্ণো! তুমি লক্ষ্মীদেবীর সহিত যে অনন্ত নাগের উপর বিরাজমান রহিয়াছ।সে অনন্ত কেমন? সাধারণ লোকের দ্বারা তিনি যে 'শেষ' বলে আখ্যায়িত হন,তাহা উপযুক্তই বটে। কেননা তিনি তোমার নিবাস(আধার, বাসস্থান)শয্যা,আসন,পাদুকা,অংশুক(বস্ত্র), উপাধান(বালিশ) ও বর্ষাতপ বারণ(ছত্র) প্রভৃতি সেবার উপকরণগুলি আপনি শরীর-ভেদে পরিগ্ৰহ করিয়া থাকেন। তা-ও 'শেষতা পাইয়া' অর্থাৎ কোন প্রকার প্রত্যুপকারের প্রত্যাশা না রাখিয়া,__ মাত্র তোমার যাহাতে সুখ হয়, তাহা অভিলাষ করিয়া।

অনন্তের অংশ শ্রীগরুড় মহাবলী।
 লীলায় বহেন কৃষ্ণ হই কুতূহলী।।

কি ব্রহ্মা,কি শিব,কি সনকাদি কুমার।
 ব্যাস, শুক,নারদাদি *ভক্ত* নাম যার।।

 সভার পূজিত শ্রী অনন্ত মহাশয়।
 সহস্র বদন প্রভু ভক্তিরসময়।।

 *আদিদেব মহাযোগী ঈশ্বর বৈষ্ণব। মহিমার অন্ত ইহার না জানয়ে সব।।*

*চৈতন্যকথার আদি অন্ত নাহি জানি। যে-তে-মতে চৈতন্যের যশ সে বাখানি।।*

*সর্ব ভক্তের পদরেণু মস্তকভূষণ‌। তোমরা এ অমৃত পিলে সফল হয় শ্রম।।*

ক্রমশ ...
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
           ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
DEMOCRATIC NITYANANDA (Facebook Group) 👉 https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/?ref=share
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


adds