✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ JoydebDaw.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র 🙏 ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 সূচীপত্র 🙏 প্রথম ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পঞ্চম ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সম্বন্ধে এই গ্রন্থে উদ্ধৃত মহাজনগণের প্রাচীন পদাবলী ভিন্ন অন্য যে গুলি পরে সংগ্রহ করা হয়েছে,তা এই পরিশিষ্টে সংযোগ করা হল।শ্রীগৌরাঙ্গ-ঘরণী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এই সকল প্রাচীন পদকর্তাদের সাধ্য-বস্তু ছিলেন।দেবীর দুঃখে সাধক কবিবৃন্দ কিরকম ব্যথিত হয়েছিলেন,তা এই সকল পদাবলীতে জানা যায়।গৌড়ীয় বৈষ্ণবমন্ডলী এতদিনের পর দয়াময়ী পতিতপাবনী বিষ্ণুপ্রিয়া মাতাকে চিনতে পেরেছেন।পূর্বের মত পুনরায় আধুনিক বৈষ্ণবকবিগণ জগন্মাতা দৈবীপ্রতিমা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর গুণ গান করে স্ব স্ব হৃদয় নির্মল করছেন, এটি বড় আনন্দের কথা।কলির জীবের পক্ষে এটি বড় শুভ লক্ষণ।বিশ্বরূপিণী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর করুণ কৃপা কটাক্ষ কলি-ক্লিষ্ট জীবের উপর পতিত হয়েছে ; তার নিদর্শন প্রতি কাজে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।তা না হলে,শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া যুগলসেবা প্রকাশের জন্য এত আয়োজন,এত আগ্রহ দেখছি কেন?গৌড়মন্ডলের চারিদিকে শ্রীগৌরবিষ্ণুপ্রিয়া যুগলনামের আনন্দধ্বনি উঠেছে।জয় শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া রবে দিকমঙ্গল ধ্বনি হচ্ছে।গৌরাঙ্গলীলার অভ্যুদয়কালে যেরকম মহাসংকীর্তন যজ্ঞের অনুষ্ঠান হয়েছিল,যেরকম প্রেমভক্তি মন্দাকিনীর খরস্রোত বহেছিল,যেরকম আনন্দহিল্লোলে গৌড়বাসীর হৃদয় আলোড়িত করেছিল, পুনরায় গৌড়মন্ডলে সেইরকম মহাসংকীর্তনের শুভ-অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়েছে।প্রেমভক্তি-মন্দাকিনীর মৃদুমন্দ স্রোত বহিতে আরম্ভ হয়েছে।কলিহত জীব তাতে গা ঢেলে দিতে শিখেছে।এসব অতি শুভ লক্ষণ।শ্রীগৌরাঙ্গলীলা নিত্য,মহাপ্রভুর পরিকরবৃন্দও শ্রীগৌরাঙ্গের নিত্যদাস।গৌরাঙ্গ লীলাস্থলী শ্রীধাম নবদ্বীপ গৌরগোবিন্দের নিত্যলীলা স্থান।এই পরমধামে গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া যুগলে নিত্যলীলা করছেন।শ্রীধাম নবদ্বীপ ভক্তিব্রজ।গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার নিত্যলীলা গৌরাঙ্গের নিত্য দাসবৃন্দদ্বারা অদ্যাপিও প্রকাশ ও প্রচার হচ্ছে।যারা ভাগ্যবান,তারাই গৌর-গোবিন্দের এই নিত্য নবদ্বীপলীলা অন্তরে দর্শন করে কৃতকৃতার্থ হচ্ছেন।*
*অদ্যাপিও সেই লীলা করে গোরা রায়।*
*কোন কোনও ভাগ্যবানে দেখিবারে পায়।।*
*অদ্যাপিৎ শ্রীচৈতন্য এ সব লীলা করে।*
*যার ভাগ্যে থাকে সে দেখয়ে অন্তরে।।*
*🌻অধম কলির জীবের এ মহা সুযোগ ত্যাগ করা কোনভাবেই বিধেয় নয়।যাঁরা বুদ্ধিমান যাঁরা ভাগ্যবান,তাঁরা এই আনন্দোৎসবে, এই শুভ অনুষ্ঠানে যোগদান করে ধন্য হচ্ছেন ও হৃদয়ে অপার আনন্দ পাচ্ছেন।আর যাঁরা বুদ্ধিহীন,তাঁরা বিদ্যার গৌরবে,কুলের অহঙ্কারে শ্রীগৌরাঙ্গ অবতারের তত্ত্ব ভুলে শুকনো তর্ক ও বিচার নিয়ে তাঁদের নিরস হৃদয় আরও নিরস করে তুলছেন।হে গৌরাঙ্গ!এই সকল অবোধ জীবগণকে কৃপা করে সুবুদ্ধি দাও,কেশে ধরে উদ্ধার কর।তোমার অবতার তত্ত্ব মন্ত্রতত্ত্ব,বিচার নিয়ে এরা তোমার রসরাজ স্বরূপতত্ত্ব ভুলতে বসেছে,তোমার মধুময় লীলা বিস্মৃত হয়েছে।হে কৃপানিধি!এদের প্রতি কৃপা কর।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ২. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০২)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""''''"'"
*🌻পঠমঞ্জরী বা কৌ-রাগিণী।🌻*
*🔥শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর বারো মাসের দুঃখ বর্ণনা🔥*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*(পদ=০১)*
*ফাল্ গুণে গৌরাঙ্গচাঁদ পূর্ণিমা দিবসে।*
*উদ্বর্তন তৈলে স্নান করাব হরিষে*।।
*পিষ্টক পায়স আর ধূপদীপ গন্ধে।*
*সংকীর্তন করাইব মনের আনন্দে*।।
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!তোমার জন্মতিথি পূজা।*
*আনন্দিত নবদ্বীপে বালবৃদ্ধ যুবা*।।
*(০২)*
*চৈত্রে চাতক পক্ষী পিউ পিউ ডাকে।*
*তাহা শুনি প্রাণ কান্দে কি কহিব কাকে।।*
*বসন্তে কোকিল সব ডাকে কুহু কুহু।*
*তাহা শুনি আমি মূর্ছা যাই মুহুর্মুহু*।।
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!আমি কি বলিতে জানি।*
*বিঁন্ধাইল শরে যেন ব্যাকুল হরিণী।।*
*(০৩)*
*বৈশাখে চম্পকলতা নূতন গামছা*।
*দিব্য ধৌত কৃষ্ণকেলি বসনের কোঁচা।।*
*কুঙ্কুম-চন্দন অঙ্গে সরু পৈতা কাঁধে।*
*সে রূপ না হেরি মুঞি জীব কোন ছাঁদে।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!বিষম বৈশাখের রৌদ্র।*
*তোমা না দেখিয়া মোর বিরহ সমুদ্র।।*
*(০৩)*
*জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড-তাপ তপন সিকতা।*
*কেমনে বঞ্চিবে প্রভু পদাম্বুজ রাতা।।*
*সোঙরি সোঙরি প্রাণ কান্দে নিশিদিন।*
*ছট্ ফট্ করে যেন জল বিনু মীন*।।
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!তোমার নিদারুণ হিয়া।*
*অনলে প্রবেশ করি মরিবে বিষ্ণুপ্রিয়া।।*
*(০৫)*
*আষাঢ়ে নূতন মেঘ দাদুরীর নাদে*।
*দারুণ বিধাতা মোরে লাগিলেক বাদে।।*
*শুনিয়া মেঘের নাদ ময়ূরীর নাট।*
*কেমনে যাইব আমি নদীয়ার বাট*।।
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!মোরে সঙ্গে লয়ে যাও।*
*যথা রাম তথা সীতা মনে চিন্তি চাও।।*
*(০৬)*
*শ্রাবণে গলিত ধারা ঘন বিদ্যুল্লতা*।
*কেমনে বঞ্চিব প্রভু কারে কব কথা।।*
*লক্ষ্মীর বিলাস-ঘরে পালঙ্কে শয়ন*।
*সে সব চিন্তিয়া মোর না রহে জীবন।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!তুমি বড় দয়াবান।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া প্রতি কিছু কর অবধান।।*
*(০৭)*
*ভাদ্রে ভাস্বত তাপ সহনে না যায়।*
*কাদম্বিনী-নাদে নিদ্রা মদন জাগায়।।*
*যার প্রাণনাথ প্রভু না থাকে মন্দিরে।*
*হৃদয়ে দারুণ শেল বজ্রাঘাত শিরে।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!বিষম ভাদ্রের খরা।*
*প্রাণনাথ নাহি যার,জীয়ন্তে সে মরা।।*
*(০৮)*
*আশ্বিনে অম্বিকা পূজা দূর্গা মহোৎসবে।*
*কান্ত বিনা যে দুঃখ তা কার প্রাণে স'বে।।*
*শরত সময়ে যার নাথ নাহি ঘরে।*
*হৃদয়ে দারুণ শেল অন্তরে বিদরে।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!মোরে কর উপদেশ।*
*জীবনে মরণে মোর করিহ উদ্দেশ।।*
*(০৯)*
*কার্তিকে হিমের জন্ম হিমালয়ের বা।*
*কেমনে কৌপীন বস্ত্রে আচ্ছাদিবা গা।।*
*কত ভাগ্য করি তোমার হৈয়া ছিলাম দাসী।*
*এবে অভাগিনী মুঞি হেন পাপরাশি।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!তুমি অন্তর যামী।*
*তোমার চরণে আমি কি বলিতে জানি।।*
*(১০)*
*অঘ্রাণে নূতন ধান্য জগতে বিলাসে।*
*সর্ব সুখ ঘরে প্রভু কি কাজ সন্ন্যাসে।।*
*পাটনেতে ভোট প্রভুর শয়ন কম্বলে।*
*সুখে নিদ্রা যাও তুমি আমি পদতলে।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!তোমার সর্বজীবে দয়া।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া মাগে রাঙ্গা চরণের ছায়া।।*
*(১১)*
*পৌষে প্রবল শীত জ্বলন্ত পাবকে*।
*কান্ত আলিঙ্গনে দুঃখ তিলেক না থাকে।।*
*নবদ্বীপ ছাড়ি প্রভু গেলা দূর দেশে।*
*বিরহ-অনলে বিষ্ণুপ্রিয়া পরবেশে।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!পরবাস নাহি শোহে।*
*সংকীর্তন অধিক সন্ন্যাস ধর্ম নহে।।*
*(১২)*
*মাঘে দ্বিগুণ শীত কত নিবারিব।*
*তোমা না দেখিয়া প্রাণ ধরিতে নারিব।।*
*এই ত দারুণ শেল রহিল সম্প্রতি।*
*পৃথিবীতে না রহিল তোমার সন্ততি।।*
*ও গৌরাঙ্গ পহুঁ হে!মোরে লেহ নিজ পাশ।*
*বিরহ সাগরে ডুবে এ লোচনদাস*।।
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৩. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০৩)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট (৩)📥📥📥*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*দ্বিতীয় পদ*
•••••••••••••••
*😭শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর বারো মাসের দুঃখ বর্ণনা😭*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*পহিলহি মাঘ,গৌরবর নাগর,দুখ সাগরে হাম ডারি।*
*রজনিক শেষে,সেজসঙ্গে ধায়ল,নদীয়া করিয়া আন্ধিয়ারি।।*
*সজনি কিয়ে ভেল নদীয়াপুর।*
*ঘরে ঘরে নগরে,নগরে ছিল যত সুখ,*
*এবে ভেল দুখ পরচুর।।*
*নিজ সহচরিগণ,রোয়ত অনুক্ষণ,*
*জননী লুঠত মহা রোই।*
*হাহা মরি মরি,করি করি ফুকরই,*
*অন্তর গর গর হোই।।*
*সো নাগরবর, রসময় সাগর,*
*যদি মোহে বিছূরল সোই।*
*তব কাহে জীউ,ধরব হাম সুন্দরী,*
*জনম গোঙায়ই রোই।।*
*দোসর ফাল্ গুণ, গুণগণে নিগমন,*
*ফাগু সুমন্ডিত অঙ্গ।*
*রঙ্গে সঙ্গে,মৃদঙ্গ বাজত,গাওত কতহু তরঙ্গ।।*
*সজনি! সুন্দর গৌর কিশোর।*
*রসময় সময়, জানিয়া করুণাময়,*
*অব ভের নিরদয় মোর।।*
*কুসুমিত কানন, মধুকর গাওন,*
*পিককুল ঘন ঘন রোল।*
*গৌর বিরহ দাব, দাহে দগধ হাম,*
*মরি মরি করি উতরোল।।*
*মৃদু মৃদু পবন, বহই চিত মাদন,*
*পরশে গরল সম লাগি।*
*যা কর অন্তর , বিরহ বিথারল,*
*সো জগভরি দুখ ভাগি।।*
*মধুময় সময়, মধু মাস আওল,*
*তরু নব নব শাখ।*
*নব লতিকা পর, কুসুম বিথারল,*
*মধুকর মৃদু মৃদু ডাক।।*
*সহচরি! দারুণ সময় বসন্ত।*
*গোরা বিরহান, যোজন জারল,*
*তাহে পুন দগধে দুরন্ত।*
*নব নদীয়াপুর, নব নব নাগরি,*
*গৌর বিরহ দুখ জান।*
*নিজ মন্দির তেজি, মোহে সমুঝাইতে,*
*তব চিতে ধৈরজ না মান।।*
*কাঞ্চন দহন, বরণ অতি চিকণ,*
*গৌর-বরণ দ্বিজরায়।*
*যব হেরব পুন, তব দুখ মোচন,*
*করব কি মন পিতায়ায়।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০৪)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট 📥📥📥*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*😭বারো মাসের দুঃখ বর্ণনা😭*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*বৈশাখ হতে পৌষ পর্যন্ত*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*দুঃখময় কাল, কাল করি মানিয়ে,*
*আওল পাপ বৈশাখ।*
*দিনকর কিরণ, দহন সম দারুণ,*
*ইহ অতি কঠিন বিপাক।।*
*খরতর পবন , বহই সব নিশি দিন,*
*উমরি গুমরি গৃহ মাঝ।*
*গোরা বিনু জীবন,রহয়ে তছু অন্তরে,*
*তাহে দুখ সমূহ বিরাজ।।*
*মন্দ তরঙ্গিত , গন্ধ সুগন্ধিত,*
*আওত মারুত মন্দ।*
*গৌর সুসঙ্গ, বিভঙ্গ যদঙ্গহি,*
*লাগয়ে আগি প্রবন্ধ।।*
*কো করু বারণ, বিরহি নিদারুণ,*
*পর-কারণ দুখ ভাগি।*
*অতি করুণালয়, সো শচীনন্দন,*
*যা কর হোই বিরাগী।।*
*গণি গণি মাহ, "জেঠ" অব পৈঠল,*
*আনল সম সব জান।*
*কানন দহন, দাব ঘন দাহন,*
*ভয়ে মৃগী করত পয়ান।।*
*মধুরিম আম্র, পনস সরসাবলী,*
*পাকল সকল রসাল।*
*কোকিলগণ ঘন,কুহু কুহু বোলত,*
*শুনি যেন বজর বিশাল।।*
*ইথে যদি কাঞ্চন,বরণ গৌর তনু,*
*দরশন আধ তিল হোই।*
*তব দুখ সকল,সফল কলি মানিয়ে,*
*কি করব ইহ সব মোই।।*
*মধুকর নিকর, সরোরুহ মধুপর,*
*বেরি বেরি পিবি করু গান।*
*ঐছন গৌর, বদন সরসীরুহ,*
*মধু হাম করব কি পান।।*
*আষাঢ়*
*ঘন ঘন মেঘ, গরজে দিন যামিনী,*
*আওল মাহ "আষাঢ়"।*
*নব জলধর পর, দিমিনী ঝলকয়ে,*
*দাহ দ্বিগুণ তহিঁ বাঢ়।।*
*সহচরি!দৈবে দারুণ মোহে লাগি।*
*শরদ সুধাকর, সম মুখ সুন্দর,*
*সোপহুঁ কাহাঁ গেও ভাগি।।*
*অন্তর গর গর, পাঁজর জর জর,*
*ঝর ঝর লোচন বারি।*
*দুখ কুল জলধি, মগন তছু অন্তর,*
*তাকর দুখ কি নিবারি।।*
*যদি পুন গৌর,-চাঁদ নদীয়াপুর,*
*গগনে উজোরয়ে নিত।*
*তব দুখ বিফল, সফল করি মানয়ে,*
*হোয়ত তব থির চিত।।*
*শাঙন*
*পুন পুন গরজন, বজর নিপাতন,*
*আওল "শাঙন"মাহ।*
*জলধর তিমির, ঘোর দিন যামিনী,*
*ঘর বাহির নাহি যাহ।।*
*সজনি! কো কহে বরিষা ভাল।*
*ধরাধর জল, ধারা লাগয়ে,*
*বিরহিনী তীর বিশাল।।*
*একে হাম গেহি, লেহি পুন কো করু,*
*ফাঁফর অন্তর মোর।*
*ততিখনে মরি মরি, গৌর গৌর করি,*
*ধরণী লুঠই মহাভোর।।*
*গণি গণি দিবস, মাস পুন পূরল,*
*মাস মাস করি সাত।*
*ইথে যদি গৌরচন্দ্র, নাহি আওল,*
*নিশ্চয় মরণ কি বাত।।*
*ভাদর*
*আওল "ভাদর", কো করু আদর,*
*বাদর তবহি লজাত।*
*দাদুরী দাদুর,রব শুনি বেরি বেরি,*
*অন্তরে বজর বিঘাত।।*
*কি কহব-র সখি হৃদয়ক বাত।*
*পরিহরি গৌরচন্দ্র, কাঁহা রাজত,*
*দ্বয় এক সহচর সাথ।।*
*যদি পুন বেরি, শান্তিপুর আওল,*
*নাহি আওল নিজধাম।*
*তাহা সংকীর্তন, প্রেম বিথারল,*
*পূরল তছু মন কাম।।*
*দূরগত পতিত, দুখিত সব জীবচয়,*
*তাহে করুণা করু যোই।*
*তাহে পুন তাপ, রাশি পরিপূরিয়া,*
*মোহ কাহে তেজল সোই।*
*আওল "আশ্বিন", বিকসিত সব দিন,*
*থল-জল-পঙ্কজ ভাল।*
*মুকুলিত মল্লিক, কুসুম ভরে পরিমলে,*
*গন্ধিত শারদ কাল।।*
*সজনি!কত চিত ধৈরজ হোই।*
*কোমল শশিকর, নিকর সে বন পর,*
*যামিনী রিপু সম মোই।।*
*যদি শচীনন্দন, করুণা-পরায়ণ,*
*যা-পর নিরদয় ভেল।*
*তাকর সুখময়, সময় বিপদময়,*
*লাগয়ে যৈছন শেল।।*
*ঘুমহীন লোচন, বারি ঝরত ঘন,*
*জনু জলধরে বহে ধার।*
*ক্ষিতি পর-শোই, বোই দিন যামিনী,*
*কো দুখ করব নিবার।।*
*(পরেরটি কার্তিক,অগ্রহায়ণ ও পৌষ)*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৫. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০৫)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🤣🤣বারো মাসের দুঃখ🤣🤣*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*কার্তিক--অাঘন--পৌষ মাস*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""'"""
*আওল "কার্তিক", সব জন নৈতিক,*
*সুরধূনী করত সিনান।*
*ব্রাহ্মণগণ পুন, সন্ধ্যা----তর্পণ,*
*করতহি বেদ-বাখান।।*
*সখিহে!হাম ইহ কছু নাহি জান।*
*গৌরচরণ যুগ, বিমল সরোরুহ,*
*হৃদি করি অনুক্ষণ ধ্যান।।*
*যদি মোর প্রাণ-,নাথ বহু বল্লভ,*
*বাহুরয়ে নদীয়াপুর।*
*ধরম করম তব,কছু নাহি খোজব,*
*পিয়ব প্রেম মধুর।।*
*বিধি বড় নিদারুণ,অবিধি করয়ে পুন,*
*সরবস যাহে সোই দেই।*
*তাকর ঠামে, লেই পুন পরিহরি,*
*পাপ করয়ে পুন সোই।।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°☆°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*আওল "আঘন", মাহ নিবারণ,*
*কোন করব সে নিতান্ত।*
*সব বিরহিনী জন, দেহ বিঘাতন,*
*যাহে ঘন শীত কৃতান্ত।।*
*শুন সহচরি! এবে ভেল মরণ-বিশেষ,*
*পুনরপি গৌর, কিশোর চিতে হোয়ত,*
*ভরসা দুখ অবশেষ।।*
*নিজ সহচরিগণ,আওত নাহি পুন,*
*কার মুখে না শুনিয়ে বাত।*
*তব কাহে ধৈরজ, মানব অন্তর,*
*অতয়ে মরণ অবঘাত।।*
*যদি পুন স্বপনে, গৌর মুখ পঙ্কজ,*
*হেরিয়ে দৈব বিধান।*
*তবহি সফল করি,মানিয়ে নিশি দিন,*
*আধ তিল ধৈরজ মান।।*
*আওল "পৌষ", মাহ অতি দারুণ,*
*তাহে ঘন শিশির নিপাত।*
*থরহরি কম্পিত, কলেবর পুন পুন,*
*বিরহিনী পর উতপাত।।*
*সজনি! অব কি হেরব গোরামুখ।*
*গণি গণি মাহ, বরিখ অব পূরল,*
*ইথে পুন বিদরয়ে বুক।।*
*তোমারে কহিয়ে পুন, মরমক বেদন,*
*চিত মাহা কর বিশোয়াস।*
*গৌরবিরহ জ্বরে,ত্রিদোষ হইয়া জারে,*
*তাহে কি ঔষধ অবকাশ।।*
*এত শুনি কাহিনী, নিজ সব সঙ্গিনী,*
*রোই রোই সব জন ঘেরি।*
*দাস ভুবনে ভণে,ধৈরজ ধরহ মনে,*
*গৌরাঙ্গ আসিবে পুন বেরি।।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*😭পদকর্তার করুণ পদ😭*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*গেল গৌর না গেল বলিয়া।*
*হাম অভাগিনী নারী অকূলে ভাসাইয়া।।*
*হায়রে দারুণ বিধি নিদয় নিঠুর।*
*জন্মিতে না দিলি তরু ভাঙ্গিলি অঙ্কুর।।*
*হায়রে দারুণ বিধি কি বাদ সাধিলি।*
*প্রাণের গৌরাঙ্গ আমার কারে নিয়া দিলি।।*
*আর কে সহিবে আমার যৌবনের ভার।*
*বিরহ অনলে পুড়ি হব ছারখার।।*
*বাসু ঘোষ কহে আর কারে দুঃখ কব।*
*গৌরচাঁদ বিনা প্রাণ আর না রাখিব।।*
*আরেকটি পদ*
*পাগলিনী বিষ্ণুপ্রিয়া ভিজা বস্ত্র চুলে।*
*ত্বরা করি বাড়ী আসি শাশুড়ীরে বলে।।*
*বলিতে না পারে কিছু কাঁদিয়া ফাঁফর।*
*শচী বোলে মাগো এত কি লাগি কাতর।।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া বলে আর কি কব জননী।*
*চারিদিকে অমঙ্গল কাঁদিছে পরাণি।।*
*নাহিতে পড়িলা জলে নাকের বেশর।*
*🤣স্নান করতে গিয়ে জলে নাকের বেশর পড়ে গেল, চরম অমঙ্গলের চিহ্ন🤣।।*
*ভাঙ্গিবে কপাল মাথে পড়িবে বজর।*
*থাকি থাকি প্রাণ কান্দে নাচে ডানি আঁখি।*
*দক্ষিণে ভুজঙ্গ যেন রহি রহি দেখি।।*
*কাঁদি কহে বাসুঘোষ কি কহিব সতি।*
*আজি নবদ্বীপ ছাড়ি যাবে প্রাণপতি।।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৬. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০৬)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*😭😭পরিশিষ্ট😭😭*
""""""""""""""""""""""""""""""""""
*বিরহিনী বিষ্ণুপ্রিয়া পদ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*হরি হরি কিনা হৈল নদীয়া নগরে*।
*কেশব ভারতী আসি,কুলিশ পড়িল গো,*
*রসবতী পরাণের ঘরে।।*
*প্রিয় সহচরিগণে,যে সাধ করিল মনে,*
*সো সব স্বপন সম ভেল।*
*গিরিপুরী ভারতী,আসিয়া করিল যতি,*
*আঁচলের ধন কাড়ি নিল।।*
*নবীন বয়স বেশ,কিবা সে চাঁচর কেশ,*
*মুখে হাসি আছয়ে মিশাঞা।*
*আমরা পরের নারী,পরাণ ধরিতে নারি,*
*কেমনে বঞ্চিবে বিষ্ণুপ্রিয়া।।*
*সুরধূনীতীরে তরু,কদম্ব খন্ডেতে উরু,*
*প্রাণ কাঁদে কেতকী দেখিয়া।*
*নদীয়া আনন্দে ছিল,এবে শোকাকুল হল,*
*বাসুদেব মরয়ে ঝুরিয়া।।*
*🤣পরের বিরহ পদ🤣*
*যে দিন হইতে গোরা ছাড়িল নদীয়া।*
*তদবধি আহার ছাড়িল বিষ্ণুপ্রিয়া।।*
*দিবানিশি পিয়ে গোরানাম সুধাখানি।*
*কভু শচীর অবশেষ রাখয়ে পরাণী।।*
*বদন তুলিয়া কার মুখ নাহি দেখে*।
*দুই এক সহচরী কভু কাছে থাকে।।*
*হেনমতে নিবসয়ে প্রভুর ঘরণী।*
*গৌরাঙ্গ বিরহে কান্দে দিবস রজনী।।*
*সঙ্গিনী প্রবোধ করে কহি কত কথা।*
*প্রেমদাস হৃদয়ে রহিয়া গেল ব্যথা।।*
*😭বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর উক্তি😭*
*নিদয় কেশব, ভারতী আসিয়া,*
*মাথায় পাড়িল বাজ।*
*গৌরাঙ্গ সুন্দর, না দেখি কেমনে,*
*রহিব নদীয়ামাঝ।।*
*কেবা হেন জন, আনিবে এখন,*
*আমার গৌরাঙ্গ রায়।*
*শাশুড়ী বধূর, রোদন শুনিয়া,*
*বংশী গড়াগড়ি যায়।।*
*🌻🌻বহু প্রাচীন পদাবলী🌻🌻*
*সনাতন মিশ্রের ঘরণী।*
*করে লোকাচার কত কহিতে না জানি।।*
*সাঁতারয়ে সুখের পাথারে।*
*কন্যায় ভূষিত করে নানা অলঙ্কারে।।*
*দেখি বিষ্ণুপ্রিয়ার সুবেশ।*
*বাঢ়য়ে সভার মনে উল্লাস অশেষ*।।
*মিশ্র মহাশয় শুভ ক্ষণে।*
*কন্যায় আনিতে নিদেশিল প্রিয়জনে।।*
*মিশ্রের ভবন মনোহর।*
*ঝলমল করয়ে অঙ্গন পরিসর।।*
*ছোড়লা শোভয়ে সেই খানে।*
*আনিলেন কন্যা বসাইয়া সিংহাসনে।।*
*যে কিছু আছয়ে লোকাচার।*
*তাহাও করেন তাহে কৌতুক অপার।।*
*প্রথমেই দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া।*
*আত্মসমর্পিল প্রভুপদে মালা দিয়া।।*
*ঈষৎ হাসিয়া গোরা রায়।*
*দিলা পুষ্পমালা বিষ্ণুপ্রিয়ার গলায়।।*
*পুষ্প ফেলাফেলি দুই জনে।*
*দোঁহার মনের কথা দোঁহে ভাল জানে।।*
*তিলে তিলে বাড়য়ে আনন্দ।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া সহ বিলসয়ে গৌরচন্দ্র।।*
*কি নব শোভার নাহি পার।*
*চারিদিকে নারীগণ দেই জয়কার।।*
*করে কোলাহল সর্বজন।*
*বাজে নানা বাদ্য ধ্বনি ভেদায়ে গগন।।*
*সনাতন মিশ্র ভাগ্যবান।*
*বসিলেন উল্লাসে করিতে কন্যাদান।।*
*বেদাদিবিহিত ক্রিয়া করি।*
*সমর্পিল কন্যা বিশ্বম্ভর করে ধরি*।।
*দিলেন যৌতুক সুখে ভাসি।*
*দিব্য ধেনু ধন ভূমি শয্যা দাস দাসী।।*
*সর্বশেষে হোমকর্ম করে।*
*বিশ্বম্ভর বামে বসাইয়া দুহিতারে।।*
*কি অদ্ভুত দোঁহার মাধুরী।*
*কহিতে কি দোঁহার নিছনি নরহরি।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৭. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০৭)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
*🙏শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার মিলন পদ🙏*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*দেব-দেব রমণী উল্লাসে।*
*বিবাহ প্রসঙ্গ সভে কহে মৃদুভাষে*।।
*ভাগ্যবন্ত লোক নদীয়ার।*
*হইল বিবাহ দেখি উল্লাস সভার।।*
*রূপবতী কন্যা যাঁর ঘরে।*
*সে সকল বিপ্র মনে মহাখেদ করে।।*
*এ হেন বরেরে কন্যা দিতে।*
*না পারিলা হেন সুখ নাহিক ভাগ্যেতে।।*
*এই মত কেহ কত কয়।*
*সকলেই সনাতন মিশ্রে প্রশংসয়।।*
*সনাতন মিশ্র ভাগ্যবান।*
*হোম কর্ম আদি সব কৈল সমাধান।।*
*কন্যা জামাতায় নিরখিয়া।*
*তিলে তিলে বাড়ে সুখ উথলয়ে হিয়া।।*
*কহিতে কে জানে লোকাচার।*
*ঘন ঘন নারীগণ দেই জয়কার।।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া-দেবী-গোরাচাঁন্দে।*
*লইতে বাসরঘরে কেবা থির বান্ধে।।*
*নরহরি পহুঁ গোরারায়।*
*চলে বাসরঘরে কত কৌতুক হিয়ায়।।*
*নদীয়া-বিনোদ গোরা।*
*প্রবেশে বাসর-, -ঘরে নব নব,*
*তরুণী গণের পরাণ-চোরা।*
*কুল-বধূ-গণ, মনের উল্লাসে,*
*বিশ্বম্ভর বিষ্ণুপ্রিয়ারে লইয়া।*
*সুমধুর ছান্দে, বসায় বাসরে,*
*অনিমিষ আঁখে ও মুখ চাঞা।।*
*কেহ পরশের, সাধে হাসি হাসি,*
*সুগন্ধি চন্দন মাখায় অঙ্গে।।*
*কেহ সাজাইয়া, তাম্বূল বীটিকা,*
*সম্পূট সম্মুখে রাখয়ে রঙ্গে।।*
*কেহ করে কত, কৌতুকে ছলেতে,*
*ঢলি পড়ি গায় পুলক হিয়া।*
*নরহরি নাথ, আগে রহে কেহ,*
*ভঙ্গিতে কুসুম অঞ্জলি দিয়া।।*
*(পরের পদ)*
*বাসরঘরেতে গোরা রায়।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া সহ সুখে রজনী গোঙায়।।*
*কহিতে কৌতুক নাহি ওর।*
*গোষ্ঠীসহ সনাতন আনন্দে বিভোর।।*
*রজনী প্রভাতে গৌরহরি।*
*হৈয়া হর্ষ কুশন্ডিকা আদি কর্ম করি।।*
*গমন করিব নিজালয়ে।*
*সনাতন মিশ্র মহাশয়ে নিবেদয়ে।।*
*সনাতন জামাতা রতনে।*
*করিতে বিদায় ধৈর্য্য ধরয়ে যতনে।।*
*কন্যায় কত না প্রবোধিয়া।*
*দিলা বিশ্বম্ভর কর ধরি সমর্পিয়া।।*
*গৌরহরি গমন সময়ে।*
*মান্যগণে পরম উল্লাসে প্রণময়ে।।*
*করিতে কি সে সভার সাধ।*
*ধান্য দূর্বা দিয়া শিরে করে আশীর্বাদ।।*
*মিশ্রপ্রিয়া কন্যা জামাতারে।*
*বিদায় করিতে ধৈর্য্য ধরিতে না পারে।।*
*গোরা গৃহে গমন করিতে।*
*বিপ্রগণ বেদধ্বনি করে চারি ভিতে।।*
*নারীগণ দেই জয় কার।*
*নানা বাদ্য বাজে ভাটে পড়ে রায়বার।।*
*নরহরি নাথে নিরখিয়া।*
*গমন উচিত সভে করে শুভক্রিয়া*।।
*🙏বিরাম পদ🙏*
*গোরা চান্দ বিবাহ করিয়া।*
*আইসেন ঘরে অতি উল্লসিত হৈয়া।।*
*অলখিত হৈয়া দেবগণ।*
*করয়ে সকল পথ পুষ্প বরিষণ।।*
*সুখের পাথার নদীয়ায়।*
*বিবাহ প্রসঙ্গে কেহ কহে শচীমায়*।।
*শুনি মহাবাদ্য কোলাহল।*
*শচীদেবী হইলেন আনন্দে বিহ্বল।।*
*বাড়ীর বাহিরে শচী আই।*
*পতিব্রতাগণ সহ রহে পথ চাই।।*
*সভা সহ গোরা ধীরে ধীরে।*
*আসিয়া চৌদল হৈতে নামিলা দুয়ারে।।*
*পুত্র পুত্রবধূ দেখি আই।*
*নিছিয়া ফেলয়ে কত দ্রব্য লেখা নাই।।*
*স্নেহে চান্দ বদন চুম্বিয়া।*
*প্রবেশে ভবনে পুত্রবধূ পুত্রে লৈয়া।।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া সহ বিশ্বম্ভর।*
*বৈসে সিংহাসনে দেখে যত পরিকর।।*
*উলু উলু দেই নারীগণ।*
*হইলা মঙ্গলময় সকল ভুবন।।*
*ভাটগণে পঢ়ে রায়বার।*
*বিপ্রগণ বেদধ্বনি অনিবার।।*
*নানাবদ্য বায়ে সভে সুখে।*
*নরহরি কত না কহিব এক মুখে।।*
*বিরাম*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০৮)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া-সংবাদ🌻*
*🌹শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস গ্রহণ করে জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে একবার নবদ্বীপে আগমন করেছিলেন।তৎকালে মহাপ্রভুর সহিত বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর যে কথোপকথন হয়েছিল, তা শ্রীচৈতন্যতত্ত্ব দীপিকা গ্রন্থ হতে পাওয়া।*
*🌻শ্রীশ্রীগৌরসুন্দর সন্ন্যাস আশ্রম গ্রহণ করে নীলাচলে গমন করেন এবং তথা হতে তিনি জননী ও জন্মভূমি দর্শন করতে নিজ আলয় নবদ্বীপে আগমন করেন।কারণ সন্ন্যাসদের শাস্ত্রমতে একবার জননী ও জন্মভূমি দর্শন কর্তব্য।শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী প্রাণবল্লভের আগমন বার্তা শুনে তাঁকে দর্শন করবার জন্য রাজপথে তাঁর চরণতলে পতিতা হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, হে নাথ!তুমি দীনবৎসল।আমি তোমার দুঃখিনী ভার্য্যা, অতি কাতরা।আমাকে দুঃখসাগরে ভাসিয়ে তোমার গৃহত্যাগ উচিত নয়।তোমার প্রতিজ্ঞা আছে,যে ব্যক্তি তোমাকে ভজনা করে,তাকে তুমি কখনই পরিত্যাগ কর না।সেই প্রতিজ্ঞাবাক্য স্মরণ করে এ দাসীকে ত্যাগ করে চলে যেও না।একবার যে তোমার শরণাগত হয়,তাকে তুমি সর্বদা অভয় দান কর অতএব এ দাসীকে তুমি কেন ত্যাগ করলে?তুমিই বলেছিলে সস্ত্রীক ধর্মাচরণ করবে,শত শত অকার্য্য করেও ভার্য্যাকে ভরণ পোষণ করবে।এ সকল শাস্ত্রবাক্য কি এ দাসীর পক্ষ বিপরীত হল? প্রাণবল্লভ! এ হতভাগিনীকে সঙ্গে নিয়ে চলো।এই শূন্য গৃহে সহচারিণী ভার্য্যাকে পরিত্যাগ করে কোথায় যাবে? আমি যে অঙ্গ অগুরু চন্দন প্রভৃতি নানা সুগন্ধি দ্রব্য দ্বারা সেবা করতাম, আজ তোমার সেই দিব্য অঙ্গ ধূলিধূসরিত দেখছি। তুমি যোগীজনদুর্লভ।এ দাসী তোমাকে কত পুণ্যবলে প্রাপ্ত হয়েছে।আমি পিতার মুখে এবং বেদবিৎ ব্রাহ্মণগণের মুখেও শুনেছি, যে স্ত্রীলোকের স্বামী প্রিয় তাদের স্বর্গাদি সকল লোকই প্রিয় ও সুলভ হয়। সাধ্বী স্ত্রীগণের পতিই পরম দেবতা, ঐহিক ও পারত্রিক (ইহলোক ও পরলোক) একমাত্র গুরু।দুষ্ট স্বভাব হেতু অসতী স্ত্রীলোক এইসব জানতে পারে না।স্বামীর চরণ সেবা ভিন্ন স্ত্রীলোকের কোন ধর্ম নাই,কর্ম নাই, যাগ যজ্ঞ শ্রাদ্ধক্রিয়া উপবাস প্রভৃতি কিছুই নাই। স্বামী সেবাই একমাত্র তাদের পক্ষে পরম ধর্ম।পতিসেবা ছাড়া অন্য তপস্যা নাই। সাবিত্রী অরুন্ধতী নারীগণের মধ্যে প্রধানা হয়েও পতিকে দেবতাজ্ঞানে স্বর্গসুখ লাভ করেছিলেন।চন্দ্রপত্নী রোহিণী চন্দ্রকে ছেড়ে ক্ষণকালও থাকতে পারেন না।জনকনন্দিনী সীতা পতির সঙ্গে বনবাসে গমন করেছিলেন। রামচন্দ্র তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বনগমন করেছিলেন।পতি যে স্ত্রীকে ত্যাগ করেন,তার সমস্ত সুখই নষ্ট হয়, তার মত হতভাগিনী নারী ত্রিজগতে নাই।পতিই স্ত্রীলোকের একমাত্র গতি।নাথ!আমার গতি কি হবে? আমি তোমার পাদুকার ন্যায় পদাবলম্বিনী, আমাকে ত্যাগ করে গেলে আমি এ পাপ জীবন রাখব না।*
*🌻তখন শ্রীগৌরাঙ্গ প্রিয়াজীকে বললেন=*
*🌹প্রিতমে বিষ্ণুপ্রিয়া! আমি তোমারই। এ জগতে যাঁরা বিষ্ণুর প্রিয়, তারাই আমার প্রিয়।তুমি ত সাক্ষাৎ বিষ্ণুপ্রিয়া। তুমি নিশ্চয় জানিও তোমাতে ও আমাতে কিছুই ভেদ নাই।অগ্নি ও অগ্নস্ফুলিঙ্গে যেমন কোন প্রভেদ নাই,তেমনি তোমাতে ও আমাতে ভিন্ন ভাব কিছুই নাই।কেবলমাত্র লোকশিক্ষার জন্য আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করেছি জানবে।তুমি নিশ্চয় জানিও আমি নবদ্বীপ পরিত্যাগ করে কোথাও যাব না।সর্বদাই তোমার নিকট আমার অধিষ্ঠান জানবে।যেমন শ্রীধামবৃন্দাবন পরিত্যাগ করে শ্রীকৃষ্ণ কোথাও গমন করেন নাই,তদ্রূপ আমি প্রতিজ্ঞা করে বলছি,নবদ্বীপ ত্যাগ করে আমি কোথাও যাব না।অনুরাগভরে আমায় যখনই তুমি ডাকবে, তখনই তুমি আমাকে দেখতে পাবে। ওগো বিষ্ণুপ্রিয়ে! তোমার পতিভক্তির নিদর্শন স্বরূপ আমার এই পাদুকা তোমাকে প্রেমোপহার প্রদান করলাম।তুমি পাদুকা দ্বারা আমার বিরহজনিত দুঃখ নিবারণ করবে। তুমি আমার প্রতিমূর্তি নির্মাণ করিয়ে নবদ্বীপে প্রতিষ্ঠা করে পূজা ও সেবা করবে।এতে তুমি আনন্দ পাবে এবং আমার প্রতিমূর্তি পূজাতেই আমাকে পাবে।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🙏শ্রীবলরাম দাসের রচিত শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সম্বন্ধে মধুর পদাবলী।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍀শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর বন্দনা🍀*
*(দেবীর আজ্ঞা)*
*দেরে যাদু মালা গেথে।*
*মল্লিকা মালতী, দিয়া যাতি যুতি,*
*প্রভু মন ভুলবে তাতে।।*
*নব নব রাগ, নব অনুরাগ,*
*নূতন পিরিতি, নূতন সোহাগ,*
*রসেরি বিভাগ,মালা করিয়া থাক,*
*দেরে বলাই আমার হাতে।*
*🙏দেবীর আজ্ঞা পেয়ে বলরাম দাসের প্রার্থনা ঃ--*
*দিব তোমার হাতে, আমার সাক্ষতে,*
*দিতে হবে প্রভুর গলায়।*
*মালা হাতে নিয়া, মধু হাস্য করি,*
*প্রভু গলে দাও, আঁখি ভরি হেরি,*
*প্রভু মালা নিয়া, গলায় পরিয়া,*
*দিবেন বলরামের মাথায়।।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*বলরাম দাসের গ্রন্থিত কবিতা-পুষ্প*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*চান্দ বদনী ধনী মৃগ নয়নী।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া ধনী আমার তড়িত প্রতিমা।*
*কোথা পাব কিবা দিব তাঁহার উপমা।।*
*কাঞ্চনবরণী ধনী নবদ্বীপময়ী।*
*অধিষ্ঠাত্রী দেবী মোর সুখে গুণ কই।।*
*হের দেখসিয়ে আমাদের বিষ্ণুপ্রিয়া।*
*সর্ব অঙ্গে লাবণ্য পড়িছে খসিয়া*।।
*নবীনা প্রিয়াজি কেবল যৌবন উদয়।*
*লজ্জায় মুগধ ধনী অধোমুখ রয়*।।
*চঞ্চল চরণে গৃহ-কোণেতে লুকায়।*
*শ্রীগৌরাঙ্গ গৃহমাঝে খুঁজিয়া বেড়ায়।।*
*পদ্মগন্ধ বহে মরি সুরস অধর।*
*দিবানিশি মত্ত তাহে গৌরাঙ্গ ভ্রমর।।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া পূর্ণশশী গৌরাঙ্গ চকোর।*
*যার রূপসুধা পিয়ে ভ্রমর শ্রীগৌর।।*
*গৌরপ্রেম গরবিনী দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া।*
*গৌরবক্ষবিলাসিনী দেহ পদ-ছায়া।।*
*আগেতে বন্দিব আমি ঠাকুরাণীর ভাই।*
*বিষ্ণুপ্রিয়ার ছোট ভাই যাদব গোসাঞি।।*
*বিবাহের পর দিন মিশ্র সনাতন।*
*নিমাইর হস্তে যাদব করিলেন অর্পণ।।*
*সনাতন কহে নিমাই রাখিবা এই কথা।*
*এই আমার পুত্রটিকে পালিবে সর্বথা।।*
*তথাস্তু বলিলা গৌর শ্বশুর কথায়।*
*যাদবের গণে তাহে অন্ন দুখ নাই।।*
*অনেক সাধন করি যাদব গোসাঞি।*
*মন্ত্রদীক্ষা পাইলেন বিষ্ণুপ্রিয়া ঠাঁই।।*
*মহিমা যাদবগণের কহিতে জানিনে।*
*গৌরে বাটা দেয় প্রতি ষষ্ঠী-বাটা দিনে।।*
*তা পরে বন্দিব ঠাকুর শ্রীবংশীবদন।*
*শাশুড়ী বধূর দুঃখ যে কৈল বর্ণন*।।
*প্রসাদ মাগিল বংশী জাহ্নবার ঠাঁই।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া-দাস ভাবি না দিলা গোঁসাঞি।।*
*যখন ভুবন-বন্ধু হোল অদর্শন।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া মনে করেন ত্যজিবেন জীবন।।*
*তবে বংশী শ্রীগৌরাঙ্গ ঠাকুর গড়িল।*
*সেই ঠাকুর দেখি দেবী পরাণ রাখিল।।*
*রাম সোনা-সীতা করি জীবনে আছিল।*
*এই অবতারে দেবী সে রস ভুঞ্জিল।।*
*তা পরে বন্দিব আমি ঠাকুর কানাই।*
*সব ত্যজি পড়ি রহে দেবী রাঙ্গা পায়।।*
*মা বলে কানাই ডাকে সেই দেবীপুত্র।*
*গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া যেই করিলা একত্র।।*
*যতনে বন্দিব আমি গদাধর দাস।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া লাগি যেবা নদে' কৈল বাস।।*
*গদাধর গৌর-নিতাই দুই জনের গণ।*
*দোহে ছাড়ি রহিলেন দেবীর চরণ।।*
*দেবী অদর্শনে তবে ছাড়িলা নদীয়া।*
*কাটোয়াতে রহে গিয়া ঠাকুর গড়িয়া।।*
*মনোসুখে বন্দি শ্রীদামোদর পন্ডিত।*
*প্রভুবার্তা দিয়া দেবী পরাণ রাখিত।।*
*দেবীস্নান লাগি গঙ্গাজল বহি আনে।*
*ধন্য দামোদর তুমি এ তিন ভুবনে*।।
*তা পরে বন্দিব আমি দুখিনী কাঞ্চনা।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া সখি মাঝে যে জন প্রধানা।।*
*কৃষ্ণপাগলিনী নাম দিলা নদে বাসী।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া সনে সেই কান্দে দিবানিশি।।*
*জন্মিলে মরণ আছে,নাহি তাহে ভয়।*
*বলরাম দাসে রেখ দেবী রাঙ্গা পায়।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১০. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(১০)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻শ্রীবলরাম দাসের পদ🌻*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*পট্টবস্ত্র-পরিধান বনমালা গলে।*
*অলকাতে সাজায়েছে বদনমন্ডলে।।*
*মাথায় মোহনচূড়া তাহে বেড়া বেলা।*
*মধুপানে মত্ত হয়ে বুলে ভৃঙ্গ গুলা।।*
*বিয়ে করেছিলে তুমি যেই বেশ ধরে।*
*সেই বেশ প্রভু তুমি দেখাও আমারে।।*
*বামে করি বিষ্ণুপ্রিয়া যৌবন আরম্ভ।*
*সদা ব্যস্ত ঢাকিবারে হৃদয়কদম্ব।।*
*লজ্জায় বিভোর প্রিয়া অধোমুখে রয়।*
*বঙ্কিমনয়নে নিজ পহুঁ পানে চায়*।।
*যবে প্রভু এইরূপ দেখিব তোমার।*
*বলরাম দিবে সুখ-সাগরে সাঁতার*।।
*আরেকটি পদ*
***************
*🌻🌻শ্রীগৌরাঙ্গের উক্তি🌻🌻*
*যাই মাগো তোমায় তোমার বধূর কাছে রেখে।*
*সদা কৃষ্ণনাম নিও, যাবার বেলা,*
*নিমাইয়ের এই ভিক্ষে।।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া অবোধিনী,দুখিনী সে অনাথিনী,*
*যতন করে দিও তারে কৃষ্ণনাম শিক্ষে।*
*রইতে নারি নিমাই গেল,এ কলঙ্ক চিরকাল,*
*জ্বলন্ত অনল সম বলরামের পক্ষে।।*
*🌻🌻শ্রীগৌরহরির উক্তি🌻🌻*
*কিবা হইল দুর্মতি,বিষ্ণুপ্রিয়া গুণবতী,*
*কি ক্ষণে আনিনু তোমা ঘরে।*
*দিবানিশি কান্দাইনু,সুখ মাত্র নাহি দিনু,*
*প্রিয়ে!কৃপা করি ক্ষম মোরে।।*
*করি ধন আহরণ,আপন-জন-পোষণ,*
*জগমাঝে সবে করে সুখী।*
*সুখ নাহি দিনু তোরে,জন্মের মত দেশান্তরে,*
*চলিছি,একাকী তোরে রাখি।।*
*বলরাম দাস গায়,স্বামী পানে বালা চায়,*
*নয়নের তারা নাহি চলে।*
*শুখাইল মুখইন্দু,অঙ্গ কাঁপে মৃদু মৃদু,*
*মূরছিয়া পড়ে পতি-কোলে।।*
*😭😭বিরাম পদ😭😭*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*বিষ্ণুপ্রিয়া নববালা,হাতে ল'য়ে জপমালা,*
*রুই রুই জপে গৌরনাম।*
*নবীনা যোগিনী ধনী,বিরহিণী কাঙ্গালিনী,*
*প্রণময়ে নীলাচল ধাম।।*
*সর্ব অঙ্গে মাখা ধূলা,লম্বা কেশ এলো চুলা,*
*সোনার অঙ্গ অতি দুরবল।*
*বলরাম দাস কয়,শুন প্রভু দয়াময়,*
*মুছায়ে দাও দেবী আঁখি-জল।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১১. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(১১)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-পত্রিকায় প্রকাশিত তিনটি প্রবন্ধ,২৬শে আষাঢ়,১৩২০ সন।🌻*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌹নদীয়া মাধুরী🌹*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀বিবাহান্তে শ্রীগৌরাঙ্গের ভোজন-লীলা সমাপ্ত হলে তরুণীগণ বড়ই চঞ্চল হয়ে পড়লেন।তাঁরা বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে বাসর-ঘরে যাবেন।সেখানে গিয়ে যুগলমাধুরী দর্শন করে জীবন ধন্য করবেন।তাঁরা গৌররূপ দেখেছেন,দেখে মুগ্ধ হয়েছেন,লুব্ধ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা বুঝেছেন যে,তাঁদের কেউই শ্রীগৌরাঙ্গের যোগ্য নয়।শ্রীগৌরাঙ্গ যেমন ভুবনমোহন,তাঁরা তদনুরূপ বল্লভা নয়।তিনি যেরকম প্রেম ও লাবণ্যের পরিপূর্ণ মূর্তি,তাঁদের মধ্যে তার বিন্দুমাত্র প্রেম ও লাবণ্য নাই। সুতরাং তাঁরা কখনও এরকম স্পর্ধা করতে পারেন নাই যে,তাঁদের ভাগ্যে শ্রীগৌরহরির সঙ্গ লাভ হবে।তাই তাঁরা ভেবে চিন্তে এ পর্যন্ত নীরব ছিলেন।এখন বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে গৌরহরির মিলনে তাঁদের শুভ সুযোগ উপস্থিত হল।প্রেমের স্বভাব এই,নিজে উপভোগ করে সুখ পাই না।যাকে ভালবাসা যায়,তাঁরই প্রীতি জন্মাতে পারলে আনন্দ হয়।আর কামের স্বভাব এই,নিজেরই উপভোগ করবার জন্য প্রবল বাসনা হয়।ফলে কামে জ্বালা উপস্থিত হয়,পেমে উত্তরোত্তর আনন্দ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাধারণ জীবভাবে দেখতে পাওয়া যায়, একটি সুন্দর লোভনীয় সামগ্রী দেখতে পেলে তা নিজেরই ভোগ করতে সাধ হয় এবং তা প্রাপ্তির জন্য কত দুর্ভোগ ভুগতে হয়,কত আসুর তামস ভাব পোষণ করতে হয় এবং অবশেষে ঐটি না পায় তাহলে জ্বালা উপস্থিত হয়, আর পেলে সাময়িক সুখভোগের পর প্রবলতর স্বার্থ-সাধনের বাসনা সমুদায়ে এক নতুন জ্বালা যন্ত্রণা উপস্থিত হয়। আর এক কথা,জীবের মধ্যে দেখা যায় যে,যিনি যে বস্তু পাবার বাঞ্জা করেন,সেই বস্তুটি যদি না পায় অন্যের কাছে থাকে তাহলে পরিতাপের সীমা থাকে না। তখন ঈর্ষা,ঘৃণা ও ক্রোধ প্রভৃতি আসুর ভাবের ভাবনা আসে। কিন্তু গৌর বিষ্ণুপ্রিয়া হলেন ; ইঁহাকে নাগরীগণ কেউই নিজ স্বামীরূপে পেলেন না।এমন ভুবন দুর্লভ বস্তুটি তাঁরা স্বামীরূপে পেলেন না বলে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রতি তাঁদের কিঞ্চিমাত্র ঈর্ষা ও দ্বেষের সঞ্চার হল না, বরং তাঁদের প্রেমময়ের পূর্ণ অনুরূপা নিত্যানন্দময়ী দেবী বিষ্ণুপ্রিয়াকে প্রেমস্বরূপ শ্রীগৌরচন্দ্রের লীলা বিলাসের পূর্ণ সহায়া দেখে তাঁরা পরমানন্দ প্রাপ্ত হলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ পূর্ণ চিদানন্দ-বিগ্রহ, তাঁর কাজও চিন্ময়, এখানে মায়া ও জড়তার লেশমাত্র নাই।কাজেই তরুণীগণ মধুর-রস আস্বাদনের জন্য বাসরঘরে গিয়ে যুগল মাধুরী দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।কুলরমণীগণের পরপুরুষের প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিঃসঙ্কোচ আকর্ষণ একমাত্র শ্রীগৌরচন্দ্রেই পরিদৃষ্ট হয়। ইহা জীবভাবের অতীত,এতেই বিশ্বাস হবে,গৌরাঙ্গ কি বস্তু!*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১২. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(১২)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻নদীয়া মাধুরী🌻*
*🙏একটি দৃশ্য বাসর-ঘর🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻নব নব তরুণীগণের প্রাণ-মন কেড়ে নিয়ে নদীয়া-বিনোদ গৌরচন্দ্র দেবী বিষ্ণুপ্রিয়াসহ বাসরঘরে প্রবেশ করলেন।নারীগণ সঙ্গে সঙ্গে চললেন।তাঁরা সুমধুর ছাঁদে কনক-প্রতিমা দুইখানি বসিয়ে অনিমিষ নয়নে মুখচন্দ্রমা নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।কারও শ্রীঅঙ্গ স্পর্শ করতে সাধ হল না,তাই তিনি ধীরে ধীরে অতি যত্ন সহকারে পরম প্রেমভরে চন্দন ও বিবিধ সুগন্ধি দ্রব্য এনে অঙ্গে মাখাতে লাগলেন।মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গ নবনীত অপেক্ষাও কোমল, তাই যিনি চন্দনাদি লেপন করছেন, তিনি অতি সাবধানে,অতি ভয়ে ভয়ে,স্বীয় (নিজ) হস্ত সঞ্চালন করছেন,পাছে শ্রীঅঙ্গে ব্যথা লাগে।কেউ হাসি মুখে তাম্বূলবাটিকা সাজিয়ে সম্পূটে করে কত রঙ্গভরে সম্মুখে রাখলেন।কোন কোন নাগরী কত কৌতুক করতে লাগলেন, আর রসিকশেখর শ্রীগৌরহরি উহার প্রত্যুত্তর প্রদানে তাঁদের আনন্দ-বর্ধন করতে লাগলেন। কোন রমণী কত রঙ্গ করে অঞ্জলি ভরে কুসুম শ্রীপাদপদ্মে অর্পণ করলেন।কোন কোন রসিকা রমণী বালা বিষ্ণুপ্রিয়াকে সাজাতে লাগলেন। সুচিক্কণ কেশে মালতীর মালা পরিয়ে দিলেন।গলে যুথী,বেল প্রভৃতি সুগন্ধি পুষ্পের কলিকা দ্বারা সুচিক্কণ মালা গেঁথে লহরে লহরে সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেন।বাহুতে, মণিবন্ধে এবং অন্যান্য স্থানে বিবিধ রঙের পুষ্পের পাপড়ি দিয়ে অতি মনের মতন করে সাজিয়ে দিলেন।কেউ কেউ ঘরের মেজেতে ফুল বিছিয়ে গৃহখানি পুষ্পময় করে ফেললেন।অতঃপর নাগরীগণ সকলেই একে একে শ্রীগৌরচন্দ্রের গলদেশে মাল্য অর্পণ করতে লাগলেন। আর শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরও নিজ গলার মালা খুলে নিয়ে একে একে প্রত্যেক রমণীকে পরালেন।প্রত্যেক রমণীর গলে মালা।সকলেই মধুর সাজে পূর্বেই সজ্জিত হয়ে এসেছিলেন। তাতে আবার এখন শ্রীগৌরহরির শ্রীঅঙ্গপৃষ্ট মাল্য শ্রীগৌরহরির হাতেই প্রদত্ত হওয়াই রমণীগণের এক অপূর্ব মাধুরী হ'ল। কারণ এই মাল্য অর্পণে প্রেম-মাখা ছিল।প্রেমে অঙ্গশ্রী মধুর হয় ; এতে অঙ্গ হতে গোলোকের স্নিগ্ধজ্যোতিঃ বিচ্ছুরিত হয়,মুখে অপার্থিব দীপ্তি খেলতে থাকে।শ্রীগৌর-প্রেম পেয়ে নাগরীগণেরও তাইই হয়েছিল।তখন প্রত্যেক নাগরীরই অঙ্গ হতে এতাদৃশী (এইরকম) মাধুরী ও স্নিগ্ধোজ্জ্বল দীপ্তি বিকীর্ণ হতে লাগল যে,তা নয়নগোচর করলে কোটি কোটি মদন মূর্ছিত হয়ে যায়।এইরকম মাল্য-অর্পণের পর কোন রসবতী রমণী সঙ্গীত ধরলেন, সঙ্গীতে তিনি যুগলমাধুরী অতি সুস্বরে বর্ণনা করতে লাগলেন।আর কয়েকজন সুকন্ঠী রমণী যোগদান করলেন।কোন লাজুকা রমণী ঘোমটার আড়ালে বাঁকা নয়নে শ্রীমুখপানে তাকিয়ে কন্টকিত গাত্র হলেন, এবং পাছে তিনি ধরা পড়েন,এই ভয়ে সর্বাঙ্গ বসন দিয়ে ঢাকলেন।কেউ কারও পাশে দাঁড়িয়ে রসের আবেশে কাঁপতে লাগলেন।কেউ প্রেমে অধীর হয়ে অশ্রুজল ফেলতে লাগলেন।কেউ বা নৃত্য করতে লাগলেন।সকলেই চঞ্চল হয়েছেন, সকলেই অধীর হয়েছেন, যাঁরা কুলবধূ অতিশয় গম্ভীর, লজ্জা যাঁদের প্রধান পাশ,তাঁরা আজ শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গ-গুণে সকল গাম্ভীর্য্য হারিয়ে সকল পাশ ছিন্ন করে পরমানন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।তাঁদের দোষ কি? তাঁরা সরল। যাঁর শ্রীনাম গ্রহণে জীবের হাস্য-ক্রন্দন নৃত্য গীতাদি লোকাতীত আচরণ পরিদৃষ্ট হয়, সে বস্তু স্বয়ং পূর্ণ-মাধুরী বিকাশ করে নাগরীগণের সামনে বিরাজ করছেন, তাই তাঁরা চিন্ময় হয়ে গেছেন,সমস্ত বন্ধন ছুটে গেছে।তাঁরা এখন স্বাধীনভাবে আনন্দ প্রকাশ করছেন,এ আনন্দের অবধি নাই। ইহা সকলরেই লোভনীয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১৩. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
<><><><><><><><><>>><><>
*👥নদীয়ার যুগল-মন্ত্র👥*
~~~~~~~~~~~~~~~~~
*👦জীবের ভাগ্যে শ্রীগৌরাঙ্গের লীলা ক্রমে প্রকাশিত হচ্ছে এবং নদীয়ার যুগলমাধুরীর দিকে জীব ক্রমেই আকৃষ্ট হচ্ছে, এটি বড় শুভ সংবাদ ; এই জগতের পক্ষে একটি মহাকল্যাণকর ব্যাপার।স্পর্শমণির সংযোগে লৌহ যেমন সোনা হয়ে যায়, সেইরকম প্রেমের আস্বাদন পেলে জীব জড়জগৎ ছেড়ে চিন্ময় রাজ্যে উপস্থিত হয়, সেখানে নিত্যই আনন্দ। এই প্রেমের কেন্দ্র নবদ্বীপে যেই শুভ মুহূর্তে নবদ্বীপময়ী শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া নদীয়ার সম্পত্তি শ্রীগৌরচন্দ্রের সহিত মিলিত হলেন, সেই হতেই প্রেমের প্রবাহ ছুটল।বিশ্ব সংসার চিদানন্দ রাজ্যে পরিণত করবার জন্য,গোলোক, ভূলোকে স্থাপন করবার জন্য,ব্রহ্মযোনি,সুবর্ণবর্ণ পরম পুরুষ, পরিপূর্ণ প্রেমময় শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর তদীয় পূর্ণতমা হ্লাদিনীশক্তি,ভক্তি ও প্রেমের পরমোজ্জ্বলমূর্তি,জীবকুলের একমাত্র আশ্রয়, শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে মিলিত হলেন।সেই হতেই চক্ষুষ্মান্ মহাজনগণ জগতের ভাবী মঙ্গলের সূচনা দেখতে লাগলেন।তাঁরা ইহা প্রাণে প্রাণে উপলব্ধি করেছিলেন যে, যেদিন জীবকুল শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়াকে অগ্রণী করে তাঁরই অনুগত হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গকে ভক্তি ও প্রেম করতে পারবে,যেদিন এই যুগলরূপ সম্মুখে রেখে জীবন গঠিত করতে পারবে, সেই দিনই তাদের জীবন ধন্য হয়ে যাবে।প্রতি গৃহে এই যুগলসেবা প্রতিষ্ঠিত হলে শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়াকে গৃহের কর্তা করে চিত্ত-বিত্ত সমস্ত তাঁতে অর্পণ করে দাসের ন্যায় গৃহ কর্মাই করলে,আর জীবের দুঃখ থাকবে না।সত্য সত্যই সংসারখানি সোনার সংসার হবে।ভূলোকে থেকেও তখন জীব গোলোকের আনন্দরস আস্বাদনের অধিকারী হবে।*
*🙏পরম সুখের সংবাদ যে,ইতিমধ্যেই অনেক ভাগ্যবান ভক্তগণ শ্রীশ্রীগৌরবিষ্ণুপ্রিয়ার সেবাধিকার পেয়েছেন।তাঁদের অনেকের কাছেই শুনা যায় যে, তাঁরা পরমানন্দে দিন অতিবাহিত করছেন।সংসারের জ্বালা তাঁদেরকে স্পর্শ করতে পারছে না ; অথচ সংসারের মধ্য দিয়েই তাঁরা জীবনপথে চলছেন। কেউ বা শ্রীগৌরাঙ্গ প্রদত্ত "হরেকৃষ্ণ" নামরূপ ষোলনাম বত্রিশ অক্ষর মহামন্ত্র দ্বারাই যুগর পদারবিন্দে তুলসী-চন্দন অর্পণ করছেন, কেউ বা নয়নের জলে শ্রীপাদপদ্ম প্রক্ষালিত করে মনঃপ্রাণ অর্পণ করিয়াছেন।কেউ বা অদ্বৈতচার্য্যর মত শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীপাদপদ্মে "নমো ব্রহ্মণ্য দেবায়" প্রভৃতি বলে তুলসী-চন্দন দিচ্ছেন, কিন্তু তাতে তৃপ্ত না হয়ে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়ার পাদপদ্ম ধ্যান করে,তাঁতে সাশ্রুনয়নে কম্পিতস্বরে তুলসীচন্দন অর্পণ করে বলছেন,দেবি! আমি তো আর শ্রীগৌরকে আমার বলতে সাহস করি না,আমি তাঁর সেবাও জানি না।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১৪. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*🙏🙏নদীয়ার যুগল-মন্ত্র🙏🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻আমি তাঁর সেবাও জানি না। তিনি তোমার প্রাণবল্লভ,আমাকে তোমার আশ্রিত কর, আশ্রিত করে সেবাধিকার দাও। তোমার নাকি তুলসীচন্দনে প্রীতি থাকে,তাই এই তুলসীচন্দন দিচ্ছি।এই যে প্রাণখানি দিয়াছ,তাহাও অর্পণ করবার আমার অধিকার নাই,তোমাদের বস্তু তোমরাই কৃপা করে গ্রহণ কর।কেউ বা বলছেন, দেবি! তোমাদের সেই মধুরাতিমধুর নবদ্বীপ-লীলা-বিলাস দর্শন করাও।এই রকম প্রাণের ভাষা দিয়ে কেউ কেউ যুগল সেবা করছেন, ইহাই তাঁদের মন্ত্র হয়ে গিয়েছে।আর বাস্তবিক যে কথা দ্বারা শ্রীভগবানের ধ্যান করা যায়,তাইই মন্ত্র। যিনি প্রেমদ্বারা সেবা করেন,তিনি আর মন্ত্ররূপ বিধানের অপেক্ষা করেন না। আবার মন্ত্রের বিধান নিয়ে যাঁর প্রেমোদয় হয়, তাঁর আর শেষে মন্ত্রের বন্ধন থাকে না। যাইহোক, যাদের প্রীতি হয়েছে তাঁদের কথা স্বতন্ত্র।*
*🙏একটি ভক্ত প্রেমের সেবা করেন। কিন্তু তিনি ভাবলেন,যে মন্ত্রে নদীয়ার যুগলমাধুরী প্রকাশ পায়,সেই মন্ত্রটি কি? এই ভক্তটি রাধাকৃষ্ণের মন্ত্রে দীক্ষিত।ইনি একটি মাইনার স্কুলের হেড্ মাষ্টার, জাতিতে উচ্চশ্রেণী কায়স্থ।ইনি নদীয়ার যুগলমন্ত্র পাওয়ার জন্য ব্যগ্র হলেন, স্বপ্নে ইহা প্রাপ্ত হলেন।স্বপ্নের সংক্ষিপ্ত মর্ম এই= তিনি দেখতে পেলেন,তিনটি মহাপুরুষ তাঁর নিকট উপস্থিত।তাঁরা এসে ভক্ত-মহাশয়ের বাড়ীর ঠাকুরঘরে গেলেন।তাঁদের মধ্যে একজন বললেন যে, তিনি গরুড় এবং আর একজন স্বয়ং বিষ্ণু।নদীয়ার যুগলমন্ত্র দেওয়ার একমাত্র বিষ্ণুরই অধিকার, কারণ তিনি শুদ্ধসত্ত্বমূর্তি।তাঁকে মন্ত্র দেবার জন্যই তাঁরা এসেছেন, অতঃপর যে ঠাকুরটির বিষ্ণু বলে পরিচয় দেওয়া হল, তিনি যুগলমন্ত্র দিয়ে দিলেন। এতে বিষ্ণুপ্রিয়ার নাম পূর্বে,শ্রীগৌরাঙ্গের নাম পরে। মন্ত্রটি কি তা ভক্তটি বললেন না।তিনি নিজে ধন্য হয়ে গেলেন।সেই ভক্ত মহোদয়ের নিকট আমাদের নিবেদন এই যে,মন্ত্রটি প্রকাশ করলে যদি জীবের মঙ্গল ও কল্যাণ হয়,তবে প্রকাশ করায় কি দোষ?(যুগল-সেবা -প্রার্থী জনৈক ব্যক্তি)।*
*নদীয়ার যুগল-মন্ত্র, বিরাম।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১৫. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(১৫)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥 পরিশিষ্ট📥📥📥*
^^^^^^^^^^ ^^^^^^^^^^^
*🌻শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়াদাস শ্রীযুক্ত অশ্বিনী কুমার বসুর সুখস্বপ্ন, শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকা ১৯ শে ভাদ্র ১৩২০ সন🌻*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌹শ্রীহরিদাস গোস্বামী মহাশয় শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীনবদ্বীপলীলার মধুর রস শ্রীবৈষ্ণবজগতে "কলসে কলসে" বিতরণ করছেন। এ রসের অন্ত নেই।তাই এ রস কলসে কলসে বিলাচ্ছেন, তবুও না ফুরোয়। গোস্বামী মহোদয় ভগবানের স্বতঃই নিজজন।তাঁর উক্তি আমাদের শিরোধার্য্য করাই শ্রেয়োলাভের উৎকৃষ্ট উপায়। তিনি নদীয়ার মধুর ভজনের প্রধান আশ্রয় শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া ও তদীয় সেবাসখী শ্রীমতী কাঞ্চনাকে দৃঢ়ভাবে স্থির করেছেন।ইতিমধ্যে গৌরগতপ্রাণ ভাগ্যবান আর এক মহাত্মা দুই একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন।তাঁর প্রশ্ন এই যে, শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগল ভজন কোন প্রাচীন গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে কি না? গৌড়ীয় প্রাচীন কোন বৈষ্ণব ঐরূপ যুগলভজন,শ্রীমতী কাঞ্চনার অনুগা হয়ে করেছেন কি না?অনেকদিন হতে চলল,ইহার যথাযথ শ্রীগ্রন্থোক্ত উত্তর অদ্যাপি শ্রীপত্রিকায় বাহির না হওয়ায় আমি নিজে কিছু লিখিব এইরকম ইচ্ছা করেছিলাম। শ্রীচৈতন্যলীলা অগাধ অনন্ত।বিশেষ বক্ষ্যমাণ (আলোচ্য) বিষয় এত গুরুতর যে মাদৃশ(আমার মতন) অভাজনের উহাতে হস্তক্ষেপ করা কেবল বিড়ম্বনা মাত্র।দুই-চারদিন চুপ করে থাকি আবার যেন কে আমাকে লিখবার জন্য হৃদয়ের মধ্যে ধাক্কা দেন।অবশেষে বাধ্য হয়ে শ্রীবৈষ্ণবভক্তগণের শ্রীচরণধূলি সম্বল করে কিছু লিখতে আরম্ভ করি। শ্রীগৌরাঙ্গলীলার তিনখানি প্রামাণিক গ্রন্থের প্রতি প্রথমে আমাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে।যথা-- শ্রীচৈতন্য ভাগবত, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ও শ্রীচৈতন্যমঙ্গল।শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতাকার শ্রীপ্রিয়াজীর কোনও উল্লেখ করেন নাই।শ্রীগৌরাঙ্গলীলার ব্যাস অবতার তাঁর শ্রীচৈতন্যভাগবতে শ্রীপ্রিয়াজীকে লক্ষ্মী বলে বর্ণনা করেছেন।শ্রীচৈতন্যমঙ্গলেও ইহারই প্রতিধ্বনি।পাঠক শ্রীমহাপ্রভুর বিবাহ অধ্যায় উক্ত দুই গ্রন্থে পাঠ করলেও দেখতে পাবেন।ব্রজধামের মধুররসে শ্রীলক্ষ্মী অধিকার প্রাপ্ত হন নাই।তিনি বৈকুন্ঠের নারায়ণের (বিষ্ণু) সেবার অধিকার লাভ করেছিলেন।শ্রীনবদ্বীপের প্রাচীন মহান্তগণ শ্রীগৌরাঙ্গের শক্তি অবতার শ্রীগদাধরে শ্রীরাধার বিকাশ দেখিয়ে ধন্য হয়েছিলেন। বোধ হয়,সেই কারণেই ইঁহারা "গৌর-গদাধরের" যুগল বেঁধেছেন।ইঁহাদের যুগলভজনের কেন্দ্রস্থল "শ্রীগৌরগদাধর"।পদকর্তা লিখেছেন=*
*হৃদয়ে উদয় হইয়া,মাতাও সবার হিয়া।*
*(তোমার)নিত্যানন্দ সঙ্গে লইয়া মাতাও সবার হিয়া।।*
*(তোমার)অদ্বৈত সঙ্গে লইয়া মাতাও সবার হিয়া।*
*(তোমার)গদাধরকে বামে লইয়া মাতাও সবার হিয়া।।*
*দেখি কেমন সাজে গো।*
*আজি গৌর-গদা কেমন সাজে গো।*
*🌹এই পর্যন্ত লিখে প্রবন্ধটি শ্রীপত্রিকায় পাঠাব কি না ভাবতে লাগলাম। ভাবলাম,যদি এই অভাজনের প্রবন্ধে কোনও ভজনানন্দী ভক্তের মনে কোনও কষ্ট জন্মে, তবে সে দুঃখ,সে অপরাধ, আমার রাখবার জায়গা নাই। অগত্যা প্রবন্ধটি অনেকদিন পড়ে রইল।*
*🌻গত ২২শে শ্রাবণ বৃহস্পতিবার শুক্লা ষষ্ঠীর দিন,রাত্রি তিনটার সময় যে স্বপ্ন দেখেছি,তা এ স্থলে প্রকাশ না করে থাকতে পারলাম না।দেখলাম পূর্বে যেমন কলকাতায় যেতে হলে নবদ্বীপের ঘাটে সেয়ারের নৌকায় গোয়াড়ী যেতে হত, ঠিক সেইরকম গোয়াড়ী যাবার জন্য বাড়ী হতে বাহির হয়েছি।সেয়ারের নৌকার মাঝি যাত্রী জোগাড় করবার জন্য আগমেশ্বরীতলা পর্য্যন্ত এসেছে।প্রতি সেয়ারের ভাড়া দুইআনা।মাঝি আমার ব্যাগ হাতে নিল। এই সময়ে আরও দুই তিনজন সহযাত্রী পাওয়া গেল।সকলে গঙ্গাভিমুখে চললাম।বেলা আন্দাজ অপরাহ্ন(বিকেল) চারটা হবে, পশ্চিম গগনে ভয়ানক মেঘ উঠেছে ; এমন ঘন মেঘ আর কখনও দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না।দেখতে দেখতে সে মেঘ চারদিক ঢেকে ফেলল।তার শ্যামচ্ছটায় বোধ হল, যেন রাত হয়েছে, অতি কাছের মানুষও দেখা যায় না ; সঙ্গে সঙ্গে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টি আরম্ভ হল।গাছগুলি যেন মড়্ মড়্ করে ভেঙ্গে পড়তে লাগল। আমি তখন তাড়াতাড়ি শ্রীমন্মহাপ্রভুর বাড়ীতে আশ্রয় নিবার জন্য ধাবমান হলাম।আমার সঙ্গী বললেন, এ সময়ে মন্দিরে যাওয়া ঠিক না,কারণ সেখানে বজ্রভয় আছে। উচ্চ স্থানে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশী বলে তিনি অন্যত্র চলে গেলেন।আমি মহাপ্রভুর বাড়ীতে প্রবেশ করলাম।সেখানে প্রবেশ করে ঝড় ও বৃষ্টির চিহ্নমাত্র দেখলাম না। মহাপ্রভুর নাটমন্দির।ঐ নাটমন্দিরের পূর্বদিকে শ্রীমন্দির এবং বর্তমানে উত্তরদিকেও দালান আছে।এখন দালানেই শ্রীবিগ্রহ আছেন।আমি ভিতরে গিয়ে দেখলাম,মন্দিরের দিক হতে এক শ্রীবৈষ্ণবমহাত্মা নাটমন্দিরের ভিতর দিয়ে শ্রীসিদ্ধচৈতন্যদাস বাবাজীর সমাধি আশ্রমে যাচ্ছেন।এই মহাত্মার পরিধান-বস্ত্রখানি একটু পাটলবর্ণের(গোলাপীরঙের)।নতুন বস্ত্র প্রতিদিন গঙ্গার ঘোলাজলে ধৌত করলে যেরকম হয় বস্ত্রটির রঙও সেইরকম।তাঁর গলায় কন্ঠলগ্ন শ্রীতুলসীমালা।মালাগুলি একটু বড় বড়।মস্তক মুন্ডিত, বয়স ষাটের কিছু বেশী হবে। তিনি একবার আমাকে তাকিয়ে দেখলেন মাত্র, কোনও কথা বললেন না।আমি মন্দিরের দিকে তাকিয়ে দেখি,দরজা খোলা রয়েছে। মন্দিরের অভ্যন্তরে দোলমঞ্চে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীপ্রিয়াজীকে বামে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।দোলমঞ্চসহ যুগলরূপ বর্ণনা করি এমত সাধ্য আমার নাই।তথাপি একটু না লিখে থাকতে পারছি না।দোলমঞ্চখানি পুষ্প দিয়ে গঠিত।স্তরে স্তরে ফুল,কুসুমগন্ধে নাক মেতে উঠে।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১৬. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬)শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*📥📥📥 পরিশিষ্ট 📥📥📥*
°°°°°°°°°°° °°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীগৌরাঙ্গচাঁদ দর্শনমাত্রে শ্রীলোচনের এই পদটি মনে পড়ে গেল আস্বাদন করুন ঃ-----*
*অমিয়া মথিয়া কে বা,নবনী তুলিল গো,*
*তাহাতে গঢ়িল গোরা দেহ।*
*জগত ছানিঞা কেবা,রস নিঙ্গাড়িছে গো,*
*এক কৈল শুধুই সুনেহ।।*
*অনুরাগের দধিখানি,প্রেমার সাঁচনা দিয়া,*
*কে না গঢ়িলে আঁখি দুটি।*
*তাহাতে অধিক মহু,লহু লহু কথা খানি,*
*হাসিয়া বোলয়ে গুটি গুটি।।*
*অখন্ড পীযুষ-ধারা,কে না আউটিল গো,*
*সোনার বরণ হইল চিনি।*
*সে চিনি মারিয়া কেবা,ফেনি ওলাইল গো,*
*হেন বাসি গোরা অঙ্গখানি।।*
*বিজুরী বাঁটিয়া কেবা,গা-খানি মাজিল গো,*
*চান্দে মাজিল মুখখানি।*
*লাবণ্য বাঁটিয়া কেবা,চিত্র নিরমাণ কৈল,*
*অপরূপ রূপের বলনি।।*
*সকল পূর্ণিমার চান্দে,বিকল হইয়া কান্দে,*
*করপদ-পদুমের গন্ধে।*
*কুড়িটি নখের ছটায়,জগৎ করেছে আলো,*
*আঁখি পাইল জনমের আন্ধে।*
*এমন বিনোদ রায়,কোথাও দেখিয়ে নাই,*
*অপরূপ প্রেমার বিনোদে।।*
*পুরুষ প্রকৃতি ভাবে,কান্দিয়া বিকল গো,*
*নারী কেমনে প্রাণ বান্ধে।।*
*সকল রসের রাশি,বিলাস হৃদয় খানি,*
*কে না গঢ়িল রঙ্গ দিয়া।*
*রদন বাঁটিয়া কেবা,বদন গঢ়িল গো,*
*বিনিভাবে মো মলুঁ কান্দিয়া।।*
*ইন্দ্রের ধনুক আনি,গোরার কপালে গো,*
*কে বা দিল চন্দনের রেখা।*
*ওরূপ স্বরূপে যত,কুলের কামিনী গো,*
*দুই হাত করিতে চাহে পাখা।।*
*রঙ্গের মন্দির খানি,নানা রত্ন দিয়া গো,*
*গঢ়াইল বড় অনুবন্ধে।*
*লীলা বিনোদকলা, ভাবের বিলাস গো,*
*মদন বেদনা ভাবি কান্দে।।*
*না চাহে আঁখির কোণে,সদাই সভার মনে,*
*দেখিবারে আঁখি পাখি চায়।*
*আঁখির পিয়াস দেখি,মুখের লালস গো,*
*আলসল জর জর গায়।।*
*কুলবতী কুল ছাড়ে,পঙ্গু ধায় উভরড়ে,*
*গুণ গায় অসুর পাষন্ড।*
*ভূমেতে লোটাঞা কান্দে,কেহ স্থির নাহি বান্ধে,*
*গোরা গুণ অমিয়া খন্ড।।*
*🌻সাঁচনা=ছাকনি, আউটিল= গরম করে ঘন করা,ওলাইল=নামাইল, রদন=দন্ত।*
*🌻শ্রীগৌরহরির বামভাগে শ্রীপ্রিয়াজী ভুবন আলো করে দাঁড়িয়েছেন। প্রিয়াজী নবীন কিশোরী।একটি সোনার গোলক গলিয়ে যেন দুইটি শ্রীবিগ্রহ নির্মিত হয়েছে।প্রিয়াজীর আকর্ণ-বিশ্রান্তনয়নে যেন প্রাণনাথের রূপ ধরছে না।উভয়ের গলে বনফুলের মালা ; ফুলের ভূষণ। প্রিয়াজীর শ্রীমুখের হাসি যেন জগৎকে জ্যোৎস্নাস্নাত করাচ্ছেন।অর্থ্যাৎ জ্যোৎস্নার আলো পান করাচ্ছেন। পরিধান পট্টশাড়ী।যুগলরূপে ভুবন আলো করেছেন।*
*🌷সম্মুখে এক তরুণবয়স্ক পূজারি ; শ্রীযুগলমূর্তির সেবায় বসেছেন।পুষ্পপাত্রে বড় বড় ফুটন্ত বেলফুর রয়েছে।তিনি প্রথমতঃ ঘৃষ্ট শ্বেতচন্দন,অনামিকা অঙ্গুলি দিয়ে ঐ বেলফুলে অনেক পরিমাণে সংলিপ্ত (সংলগ্ন) করলেন। প্রত্যেক দলের মধ্যে যে জায়গা ছিল, তা চন্দনে পূর্ণ হয়ে গেল।তিনি চন্দনে পরিপূর্ণ বেল ফুলগুলি গঙ্গাজলপূর্ণ কোশায় ভাসিয়ে দিলেন।গঙ্গাজল সুন্দরভাবে চন্দন মিশ্রিত হলে ; তিনি প্রত্যেকবার এক একটি পুষ্প ঐ গঙ্গাজল যুগল মূর্তির শ্রীচরণে অর্পণ করতে লাগলেন।এই পর্য্যন্ত।স্বপ্নভঙ্গ হওয়ামাত্র শুনলাম,ঘড়িতে তিনটা বাজল।পরে পুনরায় ঘুম আসলে স্বপ্নটি ভুলে যাই, এই ভয়ে তখনই এই স্বপ্ন বৃত্তান্তটি বিশেষ করে নোট করে রাখলাম।শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া ভক্তজনের শ্রীচরণে কোটি কোটি প্রণিপাত করে আমি এস্থলে প্রবন্ধের উপসংহার করলাম।*
*🙏ভক্ত-কৃপাসিন্ধু-- শ্রীঅশ্বিনী কুমার বসু। বেরেলি।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১৭. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৭)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
========================
*🙏শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া-তত্ত্ব🙏*
========================
*🌻গ্রন্থকার-লিখিত শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রবন্ধাবলী🌻*
================================
*🌲বাংলা ১৩২০ সনের পূর্বে🌲*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷আজকার শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগলমূর্তি জায়গায় জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন এবং যথানিয়মে পূজিত হচ্ছেন।গৌরভক্তের পক্ষে এটি অপেক্ষা সুখের সংবাদ আর কি হতে পারে? এটি অপেক্ষা আনন্দের বিষয় আর কি আছে?এই শুভ সংবাদে প্রত্যেক গৌরভক্তের হৃদয় আনন্দে নৃত্য করছে।এই মহা আনন্দ উৎসবের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি শ্রীশ্রীগৌরবিষ্ণুপ্রিয়ার যুগলভজন অশাস্ত্রীয় বলে শ্রীগৌরবক্ষ-বিলাসিনী শ্রীমহালক্ষ্মীরূপা শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর নিকট অপরাধী হচ্ছেন দেখে মনে মর্মান্তিক কষ্ট পাচ্ছি।এ কথা মনে করলেও সর্ব শরীর শিহরিয়া উঠে।জীবের এই দুর্দিনে একমাত্র শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-দেবীই তাদের উদ্ধার কর্তী।দেবীর নয়নজলে কলিহত জীবের সর্বপাপ বিধৌত হয়েছিল।দেবী কৃপা না হ'লে শ্রীগৌরাঙ্গ ভজন সুসিদ্ধ হতে পারে না।শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীমূর্তি শ্রীশ্রীগৌরসুন্দরের বামে দেখে যাঁর হৃদয় প্রেমে বিগলিত হয়ে নয়ন হতে দুই ফোঁটা অশ্রুজল যদি না পড়ে তাহলে আবার ভজন কি?যিনি কলিক্লিষ্ট জীবের জন্য দিনরাত্রি কেঁদেছেন,যাঁর নয়নজলে কলির জীবের সর্বপাপক্ষয় হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ-সঙ্গ-সুখ লাভ হয়েছে।যাঁর শ্রীচরণ-রেণু লাভের আশায় শ্রীনিবাস আচার্য্য শ্রীধাম নীলাচল হতে শ্রীমহাপ্রভুর অপ্রকট সংবাদে ক্ষিপ্তপ্রায়(পাগলের মত) হয়ে ধূলায় গড়াগড়ি দিয়ে আকুল ক্রন্দন করেছিলেন,সেই শ্রীশ্রীগৌরবক্ষ বিলাসিনী শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীমূর্তি প্রতিষ্ঠা ও সেবা প্রকাশ অশাস্ত্রীয় এ কথা মনে হলেও হৃৎকম্প হয়,অপরাধী হতে হয়। বৈষ্ণবমন্ডলীর প্রতি এ অধমের করযোড়ে নিবেদন, শ্রীগৌরবিষ্ণুপ্রিয়ার যুগলমূর্তি প্রতিষ্ঠার বিরোধী হয়ে জগজ্জননী শ্রীমহালক্ষ্মীস্বরূপা শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর নিকট অপরাধী হবেন না।দয়াময়ী মায়ের কাছে অকপটে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন। তিনি অজ্ঞ ও ভ্রমান্ধ জীবের অপরাধ গ্রহণ করেন না।*
🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৮)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
*শ্রীশ্রীগৌরবিষ্ণুপ্রিয়া তত্ত্ব*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী শ্রীগৌরাঙ্গঘরণী, অতএব তিনি শ্রীগৌরাঙ্গ-বক্ষ-বিলাসিনী। তিনি শ্রীগৌরাঙ্গের সর্বশ্রেষ্ঠা অনুরাগিনী ভক্ত এবং ভালবাসার পাত্রী। শ্রীগৌরাঙ্গের বক্ষস্থলে যাঁর অবস্থান,শ্রীগৌরাঙ্গের হৃদয়ে যে মূর্তির অধিষ্ঠান,সেই মহালক্ষ্মীস্বরূপা দেবীমূর্তি শ্রীগৌর-ভগবানের মূর্তির সহিত প্রতিষ্ঠিত ও পূজিত হবেন, এটি অশাস্ত্রীয় কিভাবে হ'ল, তা আমাদের মত ক্ষুদ্র বুদ্ধি জীবের যুক্তি সিদ্ধান্তের অগম্য। শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে যিনি শ্রীগৌরাঙ্গহৃদয় হতে বিচ্ছিন্ন দেখতে বাসনা করেন, আমি জোর দিয়ে বলতে পারি তার হৃদয় নাই,তার শরীরে কি স্নেহ মমতার লেশমাত্রও নাই? শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী যে কি বস্তু তা বুঝাতে হলে একখানি গ্রন্থ লিখতে হয়। যদি দেবীর কৃপা থাকে, তাহলে শ্রীচৈতন্যভাগবতের ন্যায় শ্রীদবীভাগবত কোন সৌভাগ্যবান মহাপুরুষ লিখে বৈষ্ণবজগতে শীঘ্রই প্রচার করবেন। সে শুভদিনের আর বেশী বিলম্ব নাই, শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া তত্ত্ব অনেক সংগৃহীত হয়েছে ও হচ্ছে এবং এই ভবিষ্যৎ শ্রীগ্রন্থের রচয়িতা অবশ্যই জন্মগ্রহণ করেছেন। যেরকম শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীমূর্তি শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি হতে বিচ্ছিন্ন করলে শ্রীগৌরভগবানের মূর্তি পূজার মাধুর্য্য, সৌন্দর্য্য ও লালিত্যের হানি হয়, সেরকম শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে শ্রীগৌরাঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন করলে শ্রীগৌরাঙ্গের ধুরলীলার রসভঙ্গ হয়, শ্রীগৌরাঙ্গচরিতের মধুরত্ব নষ্ট হয়।একের অভাবে অপরের সৌন্দর্য্য, মাধুর্য্য,মহত্ব এমনকি ভগবত্তা পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়।বড় ক্ষোভেই একথা বললাম।হে গৌরভক্তগণ!হে ভ্রাতৃবৃন্দ! শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগলভজনের অধিকারী হওয়া বড় সুকৃতির ফল।শ্রীগোবর্ধনবাসী সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী,শ্রীধাম নবদ্বীপবাসী সিদ্ধ চৈতন্যদাস বাবাজী, যাঁদেরকে দর্শন করলে জীবের অমূল্য প্রেমধন প্রাপ্ত হত, সেই সাধু মহাপুরুষদ্বয় শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগলভজন করে সিদ্ধ হয়েছিলেন।শ্রীকৃষ্ণদাস বাবাজী শ্রীগৌরাঙ্গের একটি নাম রেখেছিলেন "শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াবল্লভ" তাঁর শিষ্যের নাম ছিল "শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদাস"।ব্রজরস ও নবদ্বীপরসে কিছুই প্রভেদ নাই। এই নিগূঢ় রসাস্বাদনের অধিকারী হন কয় জন? যাঁর ভাগ্য সুপ্রসন্ন,যাঁর প্রতি গৌরহরির বিশেষ কৃপা,তিনিই এই শ্রেষ্ঠ ভজনের অধিকারী হতে পারেন।*
*🌻শ্রীনরহরি ঠাকুরের অপ্রকটকালে তিনি রঘুনন্দনের পুত্র কানাই ঠাকুরকে আদেশ করেছিলেন যে,শ্রীখন্ডে শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার যুগলমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হোক এবং যথারীতি পূজা ও ভোগের ব্যবস্থা করা হোক। ঠাকুর নরহরির আদেশে যে কার্য্য আরম্ভ হয়েছিল,সে যুগলপূজা পদ্ধতি প্রচলিত হয়ে আসছে, গৌরভক্তগণ কোন সাহসে তার বিরোধী হতে চান,বলতে পারি না।ইহাকে দুঃসাহস বলব না তো আর কি বলব?*
*🍀গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ,শ্রীনিবাস,নরোত্তম ও শ্যামানন্দের নিকট গোস্বামীশাস্ত্র প্রথম শিক্ষা করেছিলেন, গোস্বামী শাস্ত্রে পান্ডিত্যাভিমানী মহাত্মাগণের যেন একথা স্মরণ থাকে।শ্রীনরোত্তম ঠাকুর শ্রীগৌরবিষ্ণুপ্রিয়ার যুগলমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।শ্রীনিবাস ও শ্যামানন্দ ঠাকুরদ্বয় এই কাজে উপস্থিত থেকে সব বন্দোবস্ত করেন।প্রভু ত্রয়ের দ্বিতীয় অবতার, এই তিন মহাত্মা। তিনজনেই যখন একত্র হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গের বামে শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াকে বসালেন,তখন আর কথায় কাজ কি?একাজ অশাস্ত্রীয় হলে তাঁরা কখনও অনুমোদন করতেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ১৯. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৯)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
*🌻শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়াতত্ত্ব🌻*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻এই মহাত্মাগণই গৌড়ে গোস্বামীশাস্ত্র প্রকাশক।এই যুগলমূর্তি প্রতিষ্ঠার সময় সকল গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ নিমন্ত্রিত হন।শ্রীনিত্যানন্দের পুত্র বীরভদ্র এবং তদীয় জননী শ্রীজাহ্নবাদেবী, শ্রীঅদ্বৈত তনয় কৃষ্ণমিশ্র প্রভৃতি সকলেই এই কাজে উপস্থিত ছিলেন।শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর সেখানে গিয়েছিলেন,ইনার উপর আর একটি কাজ আছে? গোস্বামীশাস্ত্রকারগণ যখন এ কাজ অনুমোদন করে গিয়েছেন, তখন আর বৃথা কথায় কাজ কি? শ্রীগৌরাঙ্গের বামে শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-দেবীর মূর্তি স্থাপন শ্রীজীব গোস্বামী ও গোপাল ভট্রেরও অনুমোদিত।*
*🌼শ্রীগৌরাঙ্গের পার্ষদ বাসু ঘোষ, গোবিন্দ ঘোষ ও মাধব। ইঁসাদের রচিত পদে গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার মাধুর্য্য লীলার বর্ণনা দেখতে পাওয়া যায়।বৈষ্ণবমাত্রেই জানেন,ইঁনারা অতি শিশুকাল হতেই গৌরহরির পার্ষদ ছিলেন।গৌরহরির বামে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে দর্শন করতে ইনাদের বড় সাধ।ইঁনারা যুগলরূপ স্বচক্ষে দর্শন করে পদ রচনা করেছিলেন।নদীয়া নাগরীর পদের সৃষ্টিকর্তা মহাজনগণ গৌড়ীয় বৈষ্ণবের ভজনের সুবিধার জন্য পদসমুদ্র,পদকল্পতরু প্রভৃতি গ্রন্থের মধ্যে অনেক গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া লীলাবিষয়ক পদ লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন কেন? গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া লীলারস-আস্বাদনের অধিকারী হওয়া বড় ভাগ্যের কথা।জীব এ সৌভাগ্য বহু সুকৃতিফলে প্রাপ্ত হয়। ঠাকুর লোচনদাসের শ্রীচৈতন্যমঙ্গল গ্রন্থখানি নবদ্বীপরসে পরিপূর্ণ।তাঁর গ্রন্থখানি পাঠ করলে বুঝতে পারবেন,তিনি গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার মধুর লীলারসে ডুবে গ্রন্থখানি লিখেছিলেন।তাঁর প্রভু শ্রীগৌরাঙ্গ রসিকনাগর,এই রসিকশেখর শ্রীগৌরসুন্দরের মাধুর্য্যলীলা তিনি বর্ণনা করেছেন।জীবকে প্রেমভক্তি ও প্রেমভজন শিক্ষা দিবার জন্য ঠাকুর লোচনদাস গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার মধুর লীলা বর্ণনা করেছেন।ঠাকুর লোচনদাস কী অশাস্ত্রীয় কর্ম করেছেন? তা কে বলতে সাহস করবে?শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া-যুগলভজন বড় মধুর।ব্রজরস ও নবদ্বীপরস একই, যার যাতে মন মজে।নবদ্বীপরসের রসিক হলে শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াবল্লভকে ভজন করতেই হবে।শ্রীচৈতন্যবল্লভা বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর দাসের দাস হতে হবে।শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া যুগল-মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও পূজা যে অশাস্ত্রীয় নহে, তা বোধহয় আর বুঝাতে হবে না।🌻গ্রন্থকারের লিখনি দেখে বুঝা যাচ্ছে যে নবদ্বীপের কোন বৈষ্ণব বেশধারী শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া সম্বন্ধে কটুক্তি করেছিল বলিয়াই এত কথা গ্রন্থকার বললেন।)জয় শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার জয়।*
*চৈতন্যবল্লভা তুমি জগত ঈশ্বরী।*
*তোমার দাসের দাস হইতে বাঞ্জা করি।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ২০. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পরিশিষ্ট ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২০)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*📥📥📥পরিশিষ্ট📥📥📥*
*🌻গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া-তত্ত্ব🌻*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀শ্রীভগবান নিজ মুখে বলেছেন*
*আমার ভক্তের পৃজা আমা হৈতে বড়।*
*সেই প্রভু বেদে ভাগবতে কৈল দঢ়।।*
*🍀শ্রীভগবান আরও বলেছেন*
*যে মে ভক্তজনাঃ পার্থ ন মে ভক্তাশ্চ তে জনাঃ।*
*মদ্ভক্তানাঞ্চ যে ভক্তান্তে মে ভক্ততমা মতাঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ শ্রীভগবান নিজমুখে বলেছেন, যে আমাকে ভক্তি করে অথচ, আমার ভক্তের ভজনা করে না, সে কখনই আমার ভক্ত নয়, কিন্তু যে আমার ভক্তবৃন্দের ভক্ত, সেই আমার সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত।*
*🍀এর উপরে আর কথা হয় না।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া শ্রীগৌরভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠা তাঁর হৃদয়েশ্বরী, তাঁর বক্ষ বিলাসিনী।শ্রীগৌরাঙ্গের বিশেষ কৃপাপাত্রী ছিলেন বলে তিনি তাঁকে এত বড় উচ্চপদ দিয়ে কৃতার্থ করেছিলেন।*
*শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সম্বন্ধে শ্রীবলরাম দাসের মধুর পদাবলী পাঠে বোধহয়, শিশির বাবু দেবীর বিশেষ কৃপাপাত্র ছিলেন।দেবী তাঁর হৃদয়ে শক্তি সঞ্চার করিয়েছিলেন বলেই তাঁর দ্বারা শ্রীগৌরাঙ্গলীলা-রস বিস্তার হয়েছে।শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস গ্রহণ করে যখন শান্তিপুরে অদ্বৈতভবনে আগমন করেন,তখন শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁকে এক পত্র লেখেন। এই পত্রের রচয়িতা শ্রীবলরাম দাস ভণিতায় লিখেছেন=*
*বিষ্ণুপ্রিয়া পত্র লিখে কান্দিয়া কান্দিয়া।*
*বলরাম দাস দেখে পাছে দাঁড়াইয়া।।*
*🌻একথা প্রতিপদে সত্য।মহাপুরুষের বাক্য ধ্রুবসত্য।মহাভাবে বিভোর হয়ে তিনি শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ারসে ডুবে ছিলেন বলেই এ মধুর দৃশ্য মনশ্চক্ষে দর্শন করে কৃতার্থ হয়েছিলেন। শ্রীগৌর বিষ্ণুপ্রিয়ারস মধুর রস। গৌর বিষ্ণুপ্রিয়া ভজন মধুর ভজন।এই মধুর ভজনের অধিকারী বলে কয়জন।? বিশেষ সুকৃতি না থাকলে এই যুগলভজনের অধিকারী হতে পারা যায় না।শ্রীশিশির কুমার ক্ষণজন্মা মহাভাগ্যবান মহাপুরুষ ছিলেন,তাই এ শ্রেষ্ঠ ভজনের অধিকারী হয়েছিলেন। তিনি আর কিছুকাল জীবিত থাকলে শ্রীগৌর বিষ্ণুপ্রিয়া তত্ত্ব বৈষ্ণবজগতে অনেক বেশী প্রচার হত।কলির জীবের অশেষ কল্যাণ সাধন হত।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧







