শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বিতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/gouranga2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌরহরি*
        *শ্রীগৌরাঙ্গ ও বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*********************************
*🌹সনাতন পন্ডিত নিমাইকে জামাতারূপে পাবেন বলে ভীষণ আনন্দিত ছিলেন,তাঁর মনে হয়েছিল, নিমাইয়ের মত শ্রেষ্ঠ পন্ডিত আর নবদ্বীপে নেই,জ্ঞানের উচ্চতর শিখরে আহোরণ করছিল।জ্ঞানই পরম রত্ন,নবদ্বীপও সেই অমূল‍্য রত্নেয়।নবদ্বীপবাসীরা সেই গৌরবে নিজেদেরকে গৌরবান্বিত মনে করে, পৃথিবীর ধনরত্নের অধিকারী ব‍্যক্তিদের অপেক্ষা,বিদ‍্যাধনে যাঁরা ধনী,তাঁদেরকে সবথেকে বেশী সম্মান করত।দরিদ্র পন্ডিতকে পথিমধ‍্যে দর্শন করলে,ঐশ্বর্য‍্যশালী ব‍্যক্তি নিজের দোলা হতে নেমে তাঁর প্রতি যথোচিত সম্মান দিয়ে পুনরায় দোলায় আরোহণ করতেন।পন্ডিত ব‍্যক্তিগণ সমাজের হর্তাকর্তা,শিক্ষক ও সমাজের শিরোভূষণ বলে পরিগণিত হতেন।গৃহস্থেরা পন্ডিতদের হাতেই নিজেদের কন‍্যা সমর্পণ করা সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করতেন। এতে বংশের মর্য‍্যাদা বৃদ্ধি হবে,কন‍্যা সুখী হবে, এই মহৎ কামনায় প্রণোদিত হয়ে,সকলেই নিজনিজ কন‍্যাকে এইরকম পাত্রস্থ করবার জন্য যত্নশীল হত।*
*🍀নিমাই পন্ডিত দিগ্বিজয়ী পন্ডিত কেশব কাশ্মীরীকে পরাস্ত করেছিলেন, নিমাই পন্ডিত ব‍্যাকরণে অদ্বিতীয়,দীধিতী-রচয়িতা রঘুনাথ,যাঁর ন‍্যায়শাস্ত্রের টীকার ভাষ‍্য শুনে,নিজের রচিত টীকা, সাধারণের কাছে অতি সামান্য মনে হবে বলে রঘুনাথ বালকের মত চিৎকার করে কেঁদে ছিলেন, এবং সেজন‍্য নিমাই তৎক্ষণাৎ নিজের ভবিষ্যৎ গৌরবের আশায় জলাঞ্জলী দিয়ে,স্বরচিত টীকা গঙ্গার জলে ফেলে দিয়েছিলেন, এমন পাত্রকে সেইসময়ে কে না কন‍্যাদান করতে অগ্রসর হবে?নিমাই সেইসময়ে নবদ্বীপের শ্রেষ্ঠতম পন্ডিত বলে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। তারসঙ্গে নিমাই আবার রূপে অতুলনীয়।যে মুখচন্দ্রের দিকে ভক্ত বৈষ্ণবগণ, চতুষ্পাঠীর অধ‍্যাপক ও তাঁর সমপাঠী ছাত্রেগণ তাকিয়ে থাকত, এমন সর্বগুণান্বিত যুবককে কে কন‍্যা দান করবেন না বলুন?সব নারী চাহেন যে আমার স্বামী সর্ববিষয়ে শ্রেষ্ঠ হোক।সনাতন পন্ডিত ধনী হলেও জগন্নাথ মিশ্রের সন্তানকে জামাতা করতে পারলে,তাঁর কুল কৃতার্থ হবে,এই মনে করে তিনি যে নিমাইয়ের জন্য ব‍্যাকুল হবেন,তার আর বিচিত্র কি*?
*🌹নিমাই সেদিন গণকঠাকুরকে রহস্যচ্ছলেই বলেছিলেন যে, তিনি বিয়ের বিষয় কিছুই জানেন না।বিষ্ণুপ্রিয়ার রূপলাবণ‍্য ও অন‍্যান‍্য গুণের বিষয় শুনে তাঁর মন সেদিকেই আকৃষ্ট হয়েছিল।তিনি দেখলেন,জননীর এবিষয়ে ভীষণ ইচ্ছে আছে।তিনি যখন শুনলেন সনাতন পন্ডিত গণকের কথা শুনে বিয়ের বিষয়ে নিরাশ হয়েছেন, তখন তিনি তাঁর কাছে একটি লোক(অতি নিকটজন) পাঠিয়ে দিয়ে তাঁর কন‍্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ের ইচ্ছা জ্ঞাপন করলেন। প্রেরিত লোকের কাছ হতে এ শুভ সমাচার শুনে সনাতন পন্ডিত আশ্বস্ত হলেন।তাঁর নিরাশা ঘুচে গেল।তিনি এই আনন্দের খবর তাঁর পত্নীর কর্ণগোচর করলেন।তিনিও আশা-প্রদীপ নিভে গেল মনে করে, ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছিলেন। অদ‍্য এ সংবাদ শুনে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলেন।এ সংবাদ বিষ্ণুপ্রিয়া শুনলে মনের ভিতরে যেন এক চরম আনন্দের তরঙ্গ উঠিল।আজ তাঁর সে আশা পূর্ণ হল যা তিনি মনে মনে গেঁথে রেখেছিলেন।পরম সুন্দর গুণের আধার শ্রীগৌরাঙ্গের সঙ্গে আমার পরিণয় হবে,আমি তাঁর সহধর্মিনী, সহচারিণী হব,এই ভাব তখন তাঁর মনের মধ্যে উদিত হয়ে, তাঁর শরীর মনে কিরকম আনন্দ সঞ্চার করেছিল,তা বর্ণনাতীত।সনাতন পন্ডিত তদীয় পত্নী ও শচীদেবী শুনলেন যে নিমাই এই বিয়েতে প্রস্তাব দিয়েছেন।এখন উভয় দিক হতেই বিয়ের আয়োজন আরম্ভ হল।সনাতন পন্ডিতের কন‍্যার সঙ্গে নিমাইপন্ডিতের বিয়ের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।নবদ্বীপে বুদ্ধিমন্ত খাঁ নামে একজন কায়স্থ জমিদার ছিলেন।নিমাইয়ের বিয়ের কথা শুনে,উদারহৃদয় বুদ্ধিমন্ত, তাঁর বিয়ে অতি জাঁকজমক ভাবে করবার জন্য সমস্ত ব‍্যয় নিজে করতে প্রস্তুত বলে শচীমাকে বললেন। বুদ্ধিমন্ত খাঁ এই ব‍্যয়ভার বহন করবেন,একথাও চারিদিকে প্রচারিত হল।*
*মুকুন্দ সঞ্জয়ের চন্ডীমন্ডপে নিমাইয়ের চতুষ্পাঠী হত ; মুকুন্দ সঞ্জয়ের কানে একথা প্রবেশ করল যে এ বিয়েতে বুদ্ধিমন্ত খাঁ সমস্ত ব‍্যয় বহন করবেন শুনে, তিনি বললেন,আমিও কি শ্রীগৌরাঙ্গের বিয়েতে কিছু ব‍্যয়ভার বহন করব না?বুদ্ধিমন্ত জমিদার--তিনি মুকুন্দ সঞ্জয়ের কথা শুনে বললেন, "আমি কি সামান্য ব্রাহ্মণ-সন্তানের ন‍্যায় গৌরচাঁদের বিয়ের আয়োজন করব? আমি তাঁর বিয়েতে এমন আয়োজন করব,যে এ পর্যন্ত, এ নবদ্বীপ নগরে, কোন রাজপুত্রের বিয়েতেও সেরকম সমারোহের সঙ্গে সম্পন্ন হয়নি। নিমাইয়ের সমস্ত ছাত্রগণ, নবীন অধ‍্যাপকের এই বিয়ের প্রস্তাবে আনন্দ প্রকাশ করতে লাগলেন।*
*🌷প্রভুর বিবাহ শুনি সর্ব শিষ‍্যগণ।*
*🌷সভেই হইলা অতি পরমানন্দ মন।।*
*🌷প্রথমে বলিলা বুদ্ধিমন্ত মহাশয়।*
*🌷মোর ভার এ বিবাহে যত লাগে ব‍্যয়।।*
*🌷মুকুন্দ সঞ্জয় বোলে,শুন সখা ভাই।*
*🌷তোমার সকল ভার মোর কিছুই নাই?*
*🌷বুদ্ধিমন্ত খাঁ বোলে, শুন সর্ব ভাই।*
*🌷বামনিঞা মত এ বিবাহে কিছু নাই।।*
*🌷এ বিবাহ পন্ডিতের করাইব হেন।*
*🌷রাজকুমারের মত লোকে দেখে যেন।।*
                 *(শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত)*
*🌹সভেই=সকলেই।*
*🌹বামনিঞা মত=গরীব ব্রাহ্মণের ন‍্যায়।*
🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২) শ্রীগৌরাঙ্গর চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য শ্রীগৌরহরি*
      *শ্রীগৌরাঙ্গ ও বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী*
*********************************
*🍀বিয়ের দিন ও লগ্ন স্থির হল। অধিবাসের দিন উভয় পক্ষের ভবনেই শুভ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল।শচীদেবীর ঘরে এক মহা-মহোৎসবের মতো অনুষ্ঠান আরম্ভ হল।পরলোকগত জগন্নাথ মিশ্রের ভবন-প্রাঙ্গণে চন্দ্রাতপ টাঙ্গানো হল। কুলবালাগণ সুপরিস্কৃত ঘরের চারিদিকে আলপনা দিয়ে,গৃহতল ও গৃহের সামনের সব জায়গায় চোখ ধাঁধানো সুসজ্জিত করা হল। হিন্দুরীতি অনুসারে জলপূর্ণ কলস ও আমেরশাখা বাড়ীরপ্রবেশ দ্বারে স্থাপন করা হল।প্রাতঃসূর্য‍্যের স্নিগ্ধ জ‍্যোতিতে চারিদিক আলোকিত হলে গ্রাম,প্রামান্তর হতে ব্রাহ্মণ বৈষ্ণব প্রভৃতি নিমন্ত্রিত ব‍্যক্তিরা দলে দলে আগমন করতে লাগলেন।গ্রামের বহসংখ‍্যক নরনারী দ্বারা শচীমায়ের বাড়ীর ভিতর ও বাইরে পূর্ণ হয়ে গেল।বালক বালিকারা, চন্দ্রাতপের নিচে ছুটাছুটি ও কোলাহল করতে লাগল।বাদ‍্যকরগণ সকলে আসিল।ঢোল,সানাই,জয়ঢাক,মৃদঙ্গ,করতাল সব বেজে উঠিল।সমবেত বাদ‍্যগুলির শব্দে চারিদিক ধ্বনিতে মেতে উঠিল।*
*🍀অপরাহ্নে অধিবাসের সময় উপস্থিত হল।এসময় বহুসংখ‍্যক লোক উপস্থিত হলে,পান,সুপারি,বস্ত্র প্রভৃতি দেওয়া হল।এই লোকগুলির মধ্যে,এক একব‍্যক্তি,দুইবার তিনবার করেও দান গ্রহণ করতে লাগল।এই জনতার মধ্যে এইরকম বিশৃঙ্খলা দেখে,গৌরহরি একটি দানের ব‍্যবস্থা করলেন। তিনি এই স্থির করলেন, প্রত‍্যেক ব‍্যক্তিকে তিনজনের মত দান-সামগ্রী প্রদান করা হবে।নিমাই এই নিয়ম করলে,সকলেই সন্তুষ্ট মনে দান গ্রহণ করে বিদায় নিতে লাগলেন।লোভী ব্রাহ্মণেরা প্রতারণা করে দুই-তিনবার পাওয়ার সঙ্কল্প পরিত‍্যাগ করে,একেবারে তিনজনের দান পেয়ে,বড়ই সন্তুষ্ট হল।দান গ্রহণের বিশৃঙ্খলতা দূর হল।*
*🌷সভেই আনন্দে মত্ত,কে কাহারে চেনে।*
*🌷প্রভুও হাসিয়া আজ্ঞা করিলা আপনে।।*
*🌷সভারে তাম্বুল মালা দেই তিনবার।*
*🌷চিন্তা নাহি ব‍্যয় কর যে ইচ্ছা যাহার।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷তিনবার পাইয়া সভেই হর্ষ মন*।
*🌷শাঠা করি আর নাহি লয় কোন জন।।চৈঃভাঃ*
*🍀লোকে এই অধিবাসের ব‍্যাপার দেখে,বলতে লাগল,অনেক রাজপুত্রের বিয়েতে অধিবাসের উৎসব দেখেছি, কিন্তু এমন অধিবাসের কান্ড আমরা কখনও দেখি নাই।*
*🌷সকল লোকের চিত্তে হইল উল্লাস।*
*🌷সভে বোলে ধন‍্য ধন‍্য ধন‍্য অধিবাস।।*
*🌷লক্ষেশ্বরো দেখিয়াছি এই নবদ্বীপে।*
*🌷হেন অধিবাস নাহি করে বাপে।।*
*🍀এদিকে অধিবাসের কাজে চারিদিক আনন্দ-কোলাহলে পূর্ণ,এমন সময়ে সনাতন পন্ডিত অধিবাসের সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হলেন।তিনি যখন বহু লোকজন নিয়ে দ্রব‍্যসম্ভার নিয়ে উপস্থিত হলেন,তখন কোলাহলের মাত্রা আরো বৃদ্ধি হয়ে পড়ল।বাদকেরা তালে তালে নৃত্য করে বাজাতে লাগল। কিছু সময় পরে সনাতন ভাবী জামাতার বাড়ী হতে চলে গেলেন।তাঁরাও ভবনে অধিবাসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল।*
*🍀অধিবাসের দিন গত হল। অদ‍্য বিয়ের দিন।সকালবেলা পুরনারীগণ নানা অলঙ্কারে সুসজ্জিত হয়ে জলসওয়া(বা জলসেজে) আসিলেন। নিমাই বন্ধুগণসহ জাহ্নবীর জলে অবগাহন করে,পূজা আহ্নিক সম্পন্ন করলেন। গ্রামের প্রথানুসারে নিমাইকে ষষ্ঠীতলায় নিয়ে যাওয়া হল।সেখানে ষষ্ঠীপূজা সম্পন্ন হল।ঘরে ফিরে আসিলে,কুলবালাগণ শঙ্খের ধ্বনিতে অন্তঃপুর মুখরিত করে তুলল।নারীদেরকে, স্ত্রী-আচারের প্রথা অনুসারে খৈ,হলুদ, বস্ত্র প্রভৃতি দান করা হল।আজ শচীমায়ের গৃহ যেন আনন্দপুরী বলে বোধ হতে লাগল।*
*🍀অপরাহ্নে বিবাহ-যাত্রার সময় উপস্থিত হল।গৌরচাঁদকে চন্দনে চর্চিত করে,তাঁর গলে মালা,কানে কুন্ডল পরানো হল।তিনি পীত বস্ত্র পরিধান করলেন।নিমাই এইভাবে সজ্জিত হয়ে জননীকে প্রদক্ষিণ ও প্রণাম করে,মায়ের মঙ্গল আশীর্বাদ নিলেন।ব্রাহ্মণগণ বেদ পাঠ করতে লাগলেন।বুদ্ধিমন্তখাঁর ভবন হতে দোলা উপস্থিত হলে, নিমাই তাতে আরোহণ করলেন।নানারকম বাদ‍্য বেজে উঠিল।অতি সমারোহের সঙ্গে বরযাত্রীগণ নিমাইকে নিয়ে গঙ্গাপুলিনে উপস্থিত হলেন ; তারপর শহরের কোন কোন জায়গা ভ্রমণ করে গোধূলি সময়ে তাঁরা সনাতন ভবনে উপস্থিত হলেন।তাই কোন বৈষ্ণব কবি লিখেছেন=*
*🌷বড় বড় বিভা দেখিয়াছি,লোকে বলে।*
*🌷এমত সমৃদ্ধ নাহি দেখি কোনো কালে।।*
*🌻বরবেশে নিমাই উপস্থিত হলে, সনাতন পন্ডিত, স্বয়ং অগ্রসর হয়ে, গৌরসুন্দরকে কোলে করে নিয়ে গেলেন।নানান বাদ‍্যধ্বনিতে চারিদিক যেন ধ্বনিত হতে লাগল।নানাবিধ বস্ত্র, অলঙ্কার দিয়ে বরকে বরণ করা হলে,নানা অলঙ্কারে ভূষিতা করে, বিষ্ণুপ্রিয়াকে সেখানে আনা হল।নারীগণ হুলুধ্বনি দিতে লাগলেন। এখন চারনয়নের মিলনের জন্য উভয়ের মাথার উপর একটা বস্ত্র আবরণ দেওয়া হল, চারনয়নের মিলন হল।এই শুভদৃষ্টির পর, গৌর বিষ্ণুপ্রিয়ার গলে পুষ্পমালা পরিয়ে দিলেন অর্থ‍্যাৎ মালা বদল হল।শুভ পরিণয় কার্য‍্য সম্পন্ন হয়ে গেল।*
*🌹সনাতন পন্ডিতের গৃহ আজ সন্ধ‍্যাকালে আলোকমালায় সুসজ্জিত।নানা বাদ‍্যের শব্দ,নৃত‍্য ও গীতে উৎসবময় হয়ে উঠিল।নিমন্ত্রিত ব‍্যক্তিগণ পরিতোষপূর্বক আহারাদি করতে লাগলেন।*
*🎎বিয়ের পরদিন বাদ‍্যধ্বনি সহকারে গৌরহরি শ্বশুরালয় হতে আপন গৃহে আগমন করলেন।শচীমা পুত্রবধূকে বক্ষে নিয়ে,ঘন ঘন মুখ চুম্বন করতে লাগলেন।পতি-পত্নী যখন একসঙ্গে বসিলেন,তখন নবদ্বীপবাসীর মনে হতে লাগল যেন, লক্ষ্মীনারায়ণ একত্রে বসে আছেন। বৈষ্ণব কবি বলেছেন=*
*🌷গৃহে আসি বসিলেন লক্ষ্মীনারায়ণ।*
*🌷জয় ধ্বনিময় হৈল,সকল ভুবন।।*
*🎎নব দম্পতি সুখে ও আনন্দে সংসার-ধর্ম পালন করতে লাগলেন।শচীমা নববধূকে পেয়ে পরম সুখ অনুভব করতে লাগলেন।*
🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎🎎
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩) শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য মহাপ্রভু*
          *গয়াধামে---শ্রীগৌরাঙ্গ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻নিমাই পন্ডিত যখন চতুষ্পাঠীতে অধ‍‍্যাপনায় নিযুক্ত ; তাঁর জ্ঞান গৌরবে চারিদিক উদ্ভাসিত ; তখন বঙ্গদেশের ধর্মহীনতা দেখে,নবদ্বীপের ভক্ত বৈষ্ণবগণ ব‍্যাকুল অন্তরে,ভক্তি ও প্রেমে দেশের লোকের মন ধর্মপথে আনবার জন্য, ভগবানের কাছে সবসময়ই প্রার্থনা করতেন। বিশ্বম্ভর তখন জ্ঞানগর্বে উন্মত্ত ; ভক্ত বৈষ্ণবদের প্রতি ততটা শ্রদ্ধা ছিল না, কিন্তু শ্রদ্ধা না করলেও,ভগবৎ প্রেমের নির্মল বারিধারা অন্তঃসলিলার(যেমন দেখা যায়,ফল্গুনদীর উপরে জল নেই, অথচ একটু বালি উঠালেই জল দেখা যায় ) মত, মানব-চক্ষুর অগোচরে তাঁর হৃদয়ে প্রবাহিত হত*।
*🌻পিতৃলোকের সদগতির জন্য হিন্দুসন্তানগণ গয়াতীর্থে গমন করে থাকেন। নিমাই পরলোকগত পিতার প্রতি সেই কর্তব‍্য পালনের জন্য,গয়াধামে যাবার সঙ্কল্প করে, শচীমায়ের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন।শচীমা নিমাইকে দূরে পাঠাতে অনিচ্ছুক হলেও, এই বিষয়ে তাঁর বাসনার বিরুদ্ধে কোন কথা না বলে,গয়া যাবার অনুমতি দিলেন। নিমাই মায়ের অনুমতি নিয়ে,কয়েকজন শিষ্য সঙ্গে নিয়ে গয়া যাত্রা করলেন।*
*🌻প্রকৃতিদেবী সব সময়েই নিজের মনোহর সৌন্দর্য্য প্রকাশ করে মানুষের মন হরণ করে থাকেন।অতি তৃষিত ও তাপিত প্রাণ তাঁর কোলে বসে, শান্তিলাভ করে থাকে।বিশ্বম্ভর সঙ্গীদের সঙ্গে চলতে চলতে, এই প্রকৃতির মনোহর মূর্তি দেখতে লাগলেন।*
*🌻কোথাও পর্বতমালা মেঘাবলীর ন‍্যায় বিরাজ করছে ; কোথাও বনের ভিতরের তরুগুলি সব গম্ভীরভাবে দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও শুভ্র নদীস্রোত তর তর বেগে সাগর পানে ছুটে যাচ্ছে, এইসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য তাঁর মনে যেন সুধা ঢেলে দিতে লাগল।তাঁর জ্ঞানপ্রবণ হৃদয়ে যেন প্রেমের ঝরনা উছলিত হয়ে উঠিল।নিমাই প্রেমানন্দে সঙ্গীদের সঙ্গে ধর্মপ্রসঙ্গ করতে করতে গমন করতে লাগলেন। পথে যেতে যেতে যাত্রীদল চির-নামক এক নদীতে স্নানাদি করে,মন্দার পর্বতে আরোহণ করে,মধুসূদন বিগ্রহ দর্শন করেন,তারপর পর্বত হতে নেমে এক ব্রাহ্মণের বাড়ীতে সকলে আতিথ‍্য গ্রহণ করেন।সব দেশের আচার ব‍্যবহার সমান নয়, নিমাই পন্ডিতের শিষ‍্যগণ সেই ব্রাহ্মণের আচার ব‍্যবহার তাঁদের মতন মনে হল না, দেখে তাঁর প্রতি এক অবজ্ঞার ভাব প্রকাশ করতে লাগলেন। কিন্তু উদার হৃদয় গৌরহরি সঙ্গীদের এইরকম ব‍্যবহারে মনে মনে বড়ই কষ্ট পেতে লাগলেন।🌹এই জায়গায় তিনি জ্বররোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন।জ্বর ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল,শরীর প্রায় অচল হতে শুরু করল, তাঁর সঙ্গীগণ এই পর্বতপ্রান্তে ঔষধ কোথায় পাবেন মনে করে চরম চিন্তায় পড়ে গেলেন।গৌরহরিও দেখলেন,এখানে চিকিৎসার কোন উপায় নাই। তখন তিনি নিজের ব‍্যাধির নিজে প্রতিকারের উপায় নির্দ্ধারণ করলেন।ব্রাহ্মণের পাদোদক গ্রহণে গৌরহরি জ্বর রোগের হাত হতে মুক্তিলাভ করবেন,এটি তাঁর মনে উদিত হল।তিনি ব্রাহ্মণের পাদোদক সেবন করলেন। তাঁর এই সুদৃঢ় বিশ্বাস অনুসারে তিনি আরোগ‍্য লাভ করলেন। গৌরহরি এই কঠিন পীড়ার হাত হতে মুক্তিলাভ করলে,শিষ‍্যগণ পরমাহ্লিত হলেন। ব্রাহ্মণ বিষ্ণুভক্ত ছিলেন।গৌরহরি তাঁর পাদোদক পানে পীড়া হতে মুক্তিলাভ করলেন দেখে, তাঁর শিষ‍্যগণ বুঝলেন যে,তাঁদের শিক্ষার জন্যই, গুরুজী এই দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করলেন। উদার হৃদয় গৌরাঙ্গদেবও শিষ্যদের অজ্ঞানতা দূর করবার জন্য, তখন এই শ্লোকটি পাঠ করেছিলেন=*
*চন্ডালোহপি মুনেঃ শ্রেষ্ঠো বিষ্ণুভক্তি পরায়ণঃ।*
*বিষ্ণুভক্তিবিহীনস্তু দ্বিজোহপি শ্বপচাধমঃ।।*
*🌻বিষ্ণুভক্ত চন্ডাল ভক্তিহীন মুনি অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ,আর যার ভগবানে মতি নাই,সে ব্রাহ্মণ হলেও ভক্তচন্ডাল অপেক্ষাও অধম।*
*🍀তাই লোচনদাষ ঠাকুর তাঁর শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গলে এই স্থলের ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছেন=*
*🌷কৃষ্ণ না ভজিলে দ্বিজ নহে কদাচিত।*
*🌷পুরাণে প্রমাণ এই শিক্ষা আছে নীত।।*
*🌹যাইহোক, তাঁরা গয়াধামে উপস্থিত হলেন।ভারতের এই প্রসিদ্ধ পুণ‍্যভূমিতে পদার্পণ করে,গৌরচন্দ্র অবনত মস্তকে এই জায়গার মাহাত্ম্য উদ্দেশ্য প্রণত হলেন।যাত্রীদল তারপর স্নান করলে, গৌরহরি পাদপদ্ম দর্শ করবার জন্য মন্দিরে প্রবেশ করলেন।গয়াসুরের মস্তকোপরি বিষ্ণুর পদাঘাতের চিহ্ন দেখায়ে, পান্ডারা সে চরণের গুণকীর্তন করতে লাগলেন ; বিষ্ণুর অতুল শক্তির ও অনুপম করুণার কথা বর্ণনে প্রবৃত্ত হলেন।গৌরহরি স্বচক্ষে সে চরণকমল দেখলেন।সেই চরণ দেখতে দেখতে তিনি নাজানি ভাবে বিভোর হয়ে পড়লেন ; তাঁর নোন দিয়ে দরদরভাবে বারিধারা পড়তে লাগল।তাঁর অঙ্গ শিহরিয়ে উঠিল, ওষ্ঠদ্বয় কাঁপতে লাগল।সঙ্গের ও আশেপাশের সকলে এই সুন্দর যুবকের ভাবাবেগের এইসব লক্ষণ দেখতে লাগলেন, কিন্তু সমস্ত লোকের মধ্যে সেদিন এক পরম ব‍্যক্তি ছিলেন, যিনি এই নবাগত ভাবুকের ভাব সম‍্যকরূপে বুঝতে পারলেন।ইনি কে জানেন? হ‍্যাঁ,ইনি হচ্ছেন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য পরমভক্তি ঈশ্বরপুরী।ঈশ্বরপুরী নিমাই পন্ডিতের এই ভাব অনিমেষ নয়নে দর্শন করে,ভাবতে লাগলেন, এ অশ্রু, এ কম্পন তো সাধারণ মানুষের মধ্যে কখনোই দেখা যায় না।নিমাই পন্ডিত কোন মতেই সাধারণ মানুষ নহেন।গৌরহরি কিন্তু ঈশ্বরপুরীকে দেখতে পাননি। কিন্তু ঈশ্বরপুরী তাঁর এসব অমানুষিক ভক্তির লক্ষণ দেখে, অবশেষে তাঁকে নিজের দুই বাহুপাশে আবদ্ধ করে ফেললেন, অর্থ‍্যাৎ গৌরহরিকে আলিঙ্গন করলেন।তখন উভয়ের নয়ন হতে বারিধারা বহিতে লাগল।অবশেষে গৌরহরি নিজেকে সম্বরণ করে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে বললেন, "আজ আমার গয়ায় আসা সার্থক হ'ল।" ঈশ্বরপুরীও নিমাইয়ের এই ভাব দর্শনে যে পরম সুখ অনুভব করেছেন, তাও সবকথা নিমাইকে কহিলেন। কয়েক বৎসর পূর্বে নবদ্বীপে ঈশ্বরপুরীর সঙ্গে নিমাই পন্ডিতের সাক্ষাৎ হয়েছিল। কিন্তু আজকের সাক্ষাতে উভয়ের মধ্যে যেন এক নবভাবের তরঙ্গ উঠতে লাগল।উভয়ের মধ্যে যেন এক নূতন সম্বন্ধে আবদ্ধ হবার সূত্রপাত হল।*
*🌻জয় জয় গৌরসুন্দরের ও ঈশ্বরপুরীর জয়🙏*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪔🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য গৌরহরি*
        *গয়াধামে শ্রীগৌরাঙ্গ*
*********************************
*🍀তারপর গৌরহরি যে বাড়ীতে ঘর নিয়ে ছিলেন সেই বাসায় গিয়ে রন্ধন করতে আরম্ভ করলেন।অন্ন ব‍্যঞ্জন রন্ধন হলে,এমন সময় হঠাৎ ঈশ্বরপুরী সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলেন।পুরীপাদ হেসে বললেন,পন্ডিত!আমি তো বেশ ভাল সময়েই এসেছি। গৌরহরি বললেন,দয়াকরে আপনি এ সমস্ত ভোজন করুন।পুরীপাদ বললেন,তাহলে,তোমার কি হবে? নিমাইচাঁদ বললেন, আমি পুনরায় রন্ধন করব। ঈশ্বরপুরী কহিলেন, এক কাজ করি, আমরা এই আহার দুইজনে ভাগ করে ভোজন করি এসো?গৌরহরি সেই কথায় সম্মত হলেন না,বললেন--,সেই অন্ন ব‍্যঞ্জন আজ আপনি ভোজন করবেন। তারপর মন্ত্র গ্রহণের আবশ‍্যকতা মনে করে,শ্রীগৌরহরি ঈশ্বরপুরীর কাছে দীক্ষিত হবার বাসনা প্রকাশ করলেন।ভগবদ্ভক্ত পুরীপাদ নিমাইয়ের কথা শুনে বললেন, আমারও মনের বাসনা তোমাকে মন্ত্র দান করব।আমি তোমাকে আমার প্রাণ দান করতে পারি।ঈশ্বরপুরী তারপর গৌরহরিকে দশাক্ষরী মন্ত্র প্রদান করলেন। পরমভক্ত ঈশ্বরপুরীর রসনা হতে মন্ত্র উচ্চারিত হলে,শ্রীগৌরাঙ্গের প্রাণে যেন তড়িৎ শক্তির মতো,তার প্রভাব সঞ্চারিত হল।দীক্ষিত হয়ে,তিনি কাঁদতে কাঁদতে ব‍্যাকুল হয়ে দীক্ষাগুরুর নিকট বললেন, গুরুদেব! আপনি আমায় আশীর্বাদ করুন, আমি যেন শ্রীকৃষ্ণপ্রেম-সাগরে ভাসতে পারি।দীক্ষিতের পর কৃষ্ণপ্রেম লাভে ব‍্যাকুলতা দেখে,ঈশ্বরপুরী তাঁকে স্নেহভরে নিজের বক্ষে জড়িয়ে ধরলেন, উভয়ের নয়ন হতে প্রেমধারা বহিতে লাগিল।*
*🌷আর দিনে নিভৃতে ঈশ্বরপুরী স্থানে।*
*🌷মন্ত্র-দীক্ষা চাহিলেন মধুর বচনে।।*
*🌷পুরী বোলে,মন্ত্র বা বলিয়া কোন কথা।*
*🌷প্রাণ আমি দিতে পারি তোমারে সর্বথা।।*
*🌷তবে তান স্থানে শিক্ষাগুরু নারায়ণ।*
*🌷করিলেন দশাক্ষর-মন্ত্রের গ্রহণ।।*
*🌷তবে প্রভু প্রদক্ষিণ করিয়া পুরীরে।*
*🌷প্রভু বোলে,দেহ আমি দিলাঙ তোমারে।।*
*🌷হেন শুভ-দৃষ্টি তুমি করহ আমারে।*
*🌷যেন আমি ভাসি কৃষ্ণ-প্রেমের সাগরে।।*
*🌷শুনিঞা প্রভুর বাক‍্য শ্রীঈশ্বরপুরী।*
*🌷প্রভুরে দিলেন,আলিঙ্গন, বক্ষে ধরি।।শ্রীচৈঃভাঃ।।*
*🌻দীক্ষা গ্রহণের পর বিশ্বম্ভর গয়াতে কিছুদিন থাকলেন। কিন্তু তাঁর হৃদয় মনের অবস্থা একেবারে পরিবর্তন হয়ে গেল।তিনি নির্জনে বসে কি যেন চিন্তা করতেন, আর তাঁর দুই নয়ন বহে জলধারা বাহির হত। যে নিমাই পন্ডিত গত কয়দিনে যে বন্ধুদের সঙ্গে হাস‍্য পরিহাস,আমোদে,আনন্দ লাভ করতেন, এখন আর সেই নিমাই পন্ডিত কোথায় যেন হারিয়ে গেল,এখন তাঁর রসনা একেবারে নীরব।গৌরহরি আর সঙ্গীদের সঙ্গে প্রায় কোন কথা আর বলতেন না।একদিন কোন এক জায়গায় চোখ বুজে বসে আছেন,এমন সময়ে, তিনি "কৃষ্ণ কৃষ্ণ রে বাপ, তুমি কোথায় গেলে, আমার প্রাণধন, আমায় দেখা দিয়ে কোথায় পালালে? বলে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন।নয়নের জলে বক্ষঃস্থল ভেসে যেতে লাগল, অবশেষে কৃষ্ণ বিরহে তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।তাঁর শিষ‍্যরাও গুরুজীর মধ্যে এই অপূর্ব প্রেমের আদর্শ দেখে কাঁদতে লাগলেন। তারপর গৌরহরি গয়া হতে বৃন্দাবন যাবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে সঙ্গীদের বললেন,তোমরা গৃহে ফিরে যাও,আমি আর এখন যাব না,তোমরা মাকে আমার কুশল সমাচার প্রদান করিও।তাঁর শিষ্য গণ নিমাই পন্ডিতের শ্রীমুখে এইকথা শুনে,তাঁকে এইরকম ভাবে বৃন্দাবন না যাওয়ার কথা বারংবার বলতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গের প্রাণ এখন ব‍্যাকুল, শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র, বৃন্দাবনে গমন করবার জন্য,তাঁর প্রাণ ব‍্যাকুল হয়ে উঠেছে।একদিন গভীর রাত্রে সঙ্গীদের না বলে তিনি বৃন্দাবন উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। কিন্তু কতকদূর যেতে না যেতেই,তিনি এক দৈববাণী শ্রবণ করলেন, তুমি এখন নবদ্বীপে ফিরে যাও,হরিনামের মধুর কীর্তনে সকলের প্রাণ শীতল করো ; সকল নরনারীর মধ্যে হরিনাম প্রচার করো।এই দৈববাণী শুনে গৌরহরি বৃন্দাবন যাবার সঙ্কল্প পরিত‍্যাগ করে, শিষ‍্যদের কাছে উপস্থিত হলেন। গয়াতে কিছুদিন থাকার পর তিনি নবদ্বীপ অভিমুখে যাত্রা করলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য গৌরহরি*
   *গৌরের নবজীবনের পরিচয়*
   *****************************
*🍀নিমাই পন্ডিত গয়াধাম হতে নবদ্বীপে ফিরে এলেন।তাঁর আগমনবার্তা শুনে তাঁর বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনগণ তাঁর সঙ্গে দেখা করবার জন্য সকলে এলেন।সমাগত বন্ধুদের মধ্যে যাঁরা তাঁর শ্রদ্ধা পাবার যোগ‍্য,তিনি তাঁদের চরণে প্রণত হয়ে তাঁদের আশীর্বাদ গ্রহণ করলেন।বহুদিন পরে সে মুখচন্দ্র দর্শন করে অনেকেই পরম তৃপ্তি লাভ করতে লাগলেন।নিমাই,সকলের কাছে তীর্থ যাত্রার মধুর প্রসঙ্গ করে,তাঁদের কৌতূহল চরিতার্থ করতে আর ত্রুটি করলেন না।বহু লোক পিতৃলোকের সদগতির জন্য গয়াধামে গমন করেন, কিন্তু নিমাই সেই কাজ সমাধা করতে গিয়ে,বিষ্ণু-পাদপদ্মে শ্রীকৃষ্ণের মোহনমূর্তির আভাষ পেয়ে, প্রেমে বিভোর হয়ে এসেছেন, সমাগত ব‍্যক্তিরা তা এখনও ভাল করে বুঝতে পারিনি।তবে,তার নবজীবনের কিঞ্চিৎ পরিচয় যে কেউই পাননি এমন না, তাঁর হৃদয়ের ভাবান্তর তাঁর মুখমন্ডলেই প্রতিফলিত হয়েছিল।তাঁর কথায় সে-ভাবের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল ; লোকে তাঁর মধুর বর্ণনায় তীর্থ কাহিনী শুনে, আনন্দিত মনে একে একে গৃহে গমন করতে লাগলেন।*
*🌻গৌরহরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে,শচীমাকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলেন,এবং তার পদধূলি মস্তকে নিলেন।শচীমা নিমাইয়ের নয়নের জল আঁচল দিয়ে মুছতে মুছতে, সস্নেহে নিমাইয়ের মাথায় ও গায়ে হাত দিয়ে,হৃদয়ের আশীর্বাদ জানালেন।তারপর গৌরহরি প্রাণসমা গৃহলক্ষ্মী বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে গিয়ে,বহুদিনের সঞ্চিত প্রেমের নিদর্শনস্বরূপ তাঁর মাথায় নিজের সুকোমল হাত রেখে,তাঁর কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসা করলেন।গৌরসুন্দরকে দেখে, তাঁর চিত্ত যে আজ আনন্দে ভরপুর হয়ে উঠেছে, বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন প্রাণবল্লভের শুভাগমনে তাঁর প্রাণ যে আনন্দে নৃত্য করছে,তা বর্ণনাতীত।বিষ্ণুপ্রিয়া আনন্দে গদগদ হয়ে, পতির মুখের দিকে তাকালেন, এবং লজ্জাবতীর মতো মাথাটি নত করে দাঁড়ালেন।*
*🍀দিনেরশেষে তিনি বাড়ীর বহির্দেশে বসলেন, শ্রীমান পন্ডিত প্রভৃতি কয়েকজন ভক্তবৈষ্ণব তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসিলেন।তাঁদের আগমনে তাঁর হৃদয়ের নিভৃত স্থানে বসে প্রেম জাগরিত হল।তাঁরা তীর্থযাত্রার সমস্ত কথা শুনতে চাইলে, গৌরহরি বললেন, "ভাই!গয়াধামের বিষ্ণুপাদ মন্দিরের ভিতর যখন প্রবেশ করলাম,তখন দেখি কত বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ মধুর স্বরে বেদ পাঠ করছেন,সেই বিষ্ণু-পাদপদ্মের প্রভাবেই গঙ্গার মহত্ত্ব" এইরকম বিষ্ণুপাদপদ্মের মাহাত্ম্য কীর্তন করতে করতে,তাঁর রসনা যেন নীরব হতে লাগল ; তাঁর নয়নদ্বয় জলে ভাসতে লাগল,শেষে আর ধৈর্য‍্য ধরতে না পেরে, "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন। তাই চৈঃ ভাগবতে শ্রীবৃন্দাবন দাস বলেছেন=*
*🌷পাদপদ্ম তীর্থের লইতে প্রভু নাম।*
*🌷অঝোরে ঝরয়ে দুই কমলনয়ান।।*
*🌷শেষে প্রভু হইলেন বড় অসম্বর*।
*🌷"কৃষ্ণ" বলি কাঁদিতে লাগিল বহুতর।।*
*🍀আগন্তুক বৈষ্ণবগণ নিমাই পন্ডিতের এরকম ভাব দেখে অবাক হয়ে পড়লেন।তাঁদের মনে হল, এ কি? উদ্ধতের শিরোমণি, জ্ঞানগর্বী নিমাই কি বিষ্ণুভক্ত হলেন? আর তাঁদের হৃদয়ে আনন্দধারা বহে যেতে লাগল।তাঁরা দেখলেন,যে নিমাই গয়া যাবার আগে ছিলেন,বর্তমান সে নিমাই আর নাই, তাঁর বাচালতা, তাঁর জ্ঞানাভিমান ও তাঁর বিদ্রূপ-ব‍্যঞ্জক মুখভঙ্গি সবই চলে গিয়েছে ; সে সব ভক্তির আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। গৌরসুন্দর এতক্ষণ শ্রীকৃষ্ণের চরণ পদ্মের কথা বলতে বলতে ভাবে বিভোর হয়ে চেতনাহীন হয়ে পড়েছিলেন।তারপরে চেতনা লাভ হলে,শ্রীমান পন্ডিত প্রভৃতিকে বললেন, ভাই!আমি আমার মনের কথা তোমাদেরকে বলতে চাই, তোমরা আগামীকাল শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর কুটিরে সকলে মিলে আসবে, আমি সেখানে যাব।শ্রীমান পন্ডিত ও সদাশিব নিমাইয়ের মুখ থেকে এইকথা শুনে পুলকিত অন্তরে গৃহে ফিরে গেলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য গৌরহরি*
           *নবজীবনের পরিচয়*
*********************************
*🍀বিষ্ণুভক্ত শ্রীবাস পন্ডিতের বাড়ীতে একটি কুন্দ ফুলের ঝাড় ছিল।বৈষ্ণবগণ প্রতিদিন শ্রীবাসের বাড়ীতে পুষ্প চয়ন করবার জন্য আগমন করতেন।পুষ্প বৃক্ষটি হাজার হাজার পুষ্পেতে পূর্ণ হয়ে থাকত।ভক্তবৃন্দ সাজি হাতে পুষ্প তুলে বৃক্ষকে পুষ্পবিহীন করতে পারতেন না।শ্রীমান পন্ডিতও পরদিন নিত‍্যকর্ম পালন করবার জন্য সাজি হাতে উপস্থিত হয়েছেন।পুষ্পচয়নের সময় ভক্তদের মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গের কথা উঠিল।গৌর কৃষ্ণভক্ত হলেন কি না, এই প্রসঙ্গের সময় শ্রীমান পন্ডিত হাসতে হাসতে কুন্দফুল তুলতে লাগলেন। তাঁরা তাঁর মুখমন্ডল দেখে তাঁর হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, গতকল‍্য নিমাই যেরকম শ্রীকৃষ্ণের প্রতি প্রেমের পরিচয় দিয়াছেন,তা দেখে আমাদের মনে বিশেষ আশার সঞ্চার হয়েছে।তিনি আমাদের কয়েকজনকে আজ শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর ভবনে উপস্থিত হতে বলেছেন ; তিনি তাঁর মনের কথা আমাদেরকে বলবেন।*
*🍀শ্রীবাস পন্ডিতের কুন্দফুলের ঝাড়ের কাছে পুষ্পভরা সাজি হাতে ভক্তবৃন্দ আনন্দে "হরিধ্বনি" করে উঠিলেন।গৌর বিষ্ণুভক্ত হবেন,শ্রীমানের কথায় এই আভাস পেয়ে,শ্রীবাস পন্ডিত বলে উঠলেন, "শ্রীকৃষ্ণ আমাদের দল বৃদ্ধি করুন"।*
*🌷শ্রীমানের বচন শুনিয়া ভক্তগণ।*
*🌷"হরি" বলি মহা-ধ্বনি করিলা তখন।।*
*🌷প্রথমেই বলিলেন শ্রীবাস উদার।*
*🌷গোত্রে বাঢ়াউক কৃষ্ণ আমা সবাকার।।*
*🍀স্রোতস্বিনী পুলিনে শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর কুটির। এই রমণীয় জায়গায় শ্রীগৌরাঙ্গের পূর্বদিনের কথা অনুসারে, শ্রীমান পন্ডিত, সদাশিব পন্ডিত, মুরারি গুপ্ত প্রভৃতি ভক্তগণ সেখানে গমন করলেন।গদাধরও তাঁদের সঙ্গে মিলিত হয়ে, তাঁর মনের কথা শুনবেন বলে, পার্শ্বের একটি ঘরে লুকিয়ে রইলেন।শ্রীমান, সদাশিব,মুরারি ও শুক্লাম্বর নিমাইয়ের প্রতীক্ষায় আছেন, এমন সময় গৌরসুন্দর প্রেমে ঢলতে ঢলতে ও ভাগবতের শ্লোক বলতে বলতে সেখানে উপস্থিত হলেন।শুক্লাম্বরের ঘরে এসে ব‍্যাকুল হৃদয়ে ক্রন্দন করতে করতে, একটি স্তম্ভ জড়িয়ে ধরলেন।তাঁর প্রেমাবেশে স্তম্ভ ভেঙ্গে গেল।তিনিও প্রেমাবেশে ভাঙ্গা স্তম্ভের মাটির উপর ঢলে পড়লেন।এই ভাবের স্রোতে ব্রহ্মচারীর ঘরের সমবেত ভক্তমন্ডলীও মৃত্তিকায় পরে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।নিমাইয়ের সঙ্গে তাঁদেরও অঙ্গ ধূলায় ধূসরিত* *হয়ে গেল।*
*সকলেরই নয়নধারাই সর্বাঙ্গ ভাসতে লাগল,হরিধ্বনিতে শুক্লাম্বর ভবন মুখরিত হয়ে উঠল।গৌরসুন্দর কৃষ্ণ ভাবে ভাবিত হয়ে বিভোর।তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিরহে অধীর হয়ে,সেই প্রেমনিধিকে পাবার জন্য কাঁদতে লাগলেন।নিমাইয়ের বাল‍্যবন্ধু গদাধর ঘরের ভিতরে লুকিয়ে ছিলেন, তিনিও এই দৃশ্য দেখে,আর স্থির থাকতে পারলেন না,গৌরসুন্দরের মত চিৎকার করে ক্রন্দন করতে লাগলেন।গৌরহরির কর্ণে সেই উচ্চ ক্রন্দন প্রবেশ করলে, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "ও কে ঘরের ভিতর কাঁদছে?" ভক্তগণ বললেন, গদাধর। গৌরসুন্দর গদাধরের নাম শুনে ছুটে এসে তাঁর গলা জড়িয়ে ধরলেন, আর বললেন,গদাধর!তুমি আজীবন সাধুপুরুষ,আমি কি হতভাগ‍্য!আমি প্রেমনিধি শ্রীকৃষ্ণকে পেয়েও হারিয়ে ফেললাম।গদাধরকে আলিঙ্গন করে, এই কথা বলতে বলতে তিনি আবার ভাবাবেশে মাটিতে পড়ে গেলেন। শ্রীমান,সদাশিব, শুক্লাম্বর প্রভৃতি ভক্তগণ ও অন‍্যান‍্য লোকেরা নবদ্বীপজয়ী শ্রীগৌরাঙ্গের এই অমানুষিক ভাবোচ্ছাস দেখে অবাক হয়ে গেলেন।ভক্তগণ বলতে লাগলেন, আর ভয় কি, নিমাই পন্ডিত যখন আমাদের দলভুক্ত হলেন,তখন পাষন্ডীগণের দর্প এবার চূর্ণ হবে।আবার কেউ কেউ বলতে লাগলেন, শ্রীকৃষ্ণ কি স্বয়ং গৌরাঙ্গরূপে ধরাতলে অবতীর্ণ হলেন?*
*🌷শুনিয়া অপূর্ব প্রেম সভেই বিস্মিত।*
*🌷কেহো বোলে,"ঈশ্বর বা হইল বিদিত।।*"
*🌷কেহ বোলে,"নিমাই পন্ডিত ভাল হৈলো।*
*🌷পাষন্ডীর মুন্ড ছিন্ডিবারে পারি হোল।।*
*🌻নিমাই পন্ডিতের এই ভক্তির উচ্ছাস দেখে সকলেরই প্রাণে যেন একটা প্রেমধারা বহে গেল। কত অভক্তের প্রাণ প্রেমরসে গলে গেল।যাঁদের রসনা বা জিহ্বা কখনও হরিনাম উচ্চারণ করেনি,তাঁদের রসনা হতেও সে ধ্বনি উত্থিত হতে লাগিল, অপ্রেমিক ব‍্যক্তিও প্রেমানন্দে গলে গিয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🌷সভে মিলি করিতে লাগিল আশীর্বাদ।*
*🌷হউক হউক সত‍্য কৃষ্ণের প্রসাদ।।*
*🌷আনন্দে লাগিলা সভে করিতে কীর্তন।*
*🌷কেহ গায় কেহ নাচে করয়ে ক্রন্দন।।*
*🍀শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে প্রেমোন্মত্ততার পর গৌরসুন্দর গঙ্গাদাস পন্ডিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন, এবং তাঁর চরণে ভক্তিকরে প্রণাম করলেন।গঙ্গাদাস নিমাইকে আলিঙ্গন করে বললেন, "তোমার জীবন ধন‍্য,তোমার জন্য তোমার পিতৃমাতৃকুল উদ্ধার হয়ে গেল ; বিশ্বম্ভর! তোমার অবর্তমানে তোমার শিষ্যগণেরা অন‍্য কারো কাছে পাঠ গ্রহণ করতে চাই না, এবার আবার মনোযোগের সহিত নিজের চতুষ্পাঠীতে ছাত্রদেরকে শিক্ষাদানে রত হও।*
*🙌 জয় জয় গৌরসুন্দরের জয়🙌*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য গৌরহরি*
  *নিমাইয়ের নবজীবনের পরিচয়*
   ******************************
*🍀শত শত ছাত্র নিমাই পন্ডিতকে দেখবার জন্য আজ সমবেত হয়েছে। তারা ভাবছে,অনেকদিনের পর আবার আগের মতো তাদের গুরু সন্নিধানে শিক্ষা লাভ করে মনের বাসনা পূরণ করবে।নীল আকাশের পূর্ণচন্দ্র যেমন তারকা বেষ্টিত হয়ে শোভা পেয়ে থাকে, আজ নবদ্বীপচন্দ্রও শিষ‍্যমন্ডলী পরিবেষ্টিত হয়ে যেন সেইরকম অপূর্ব অসাধারণ শোভা ধারণ করেছেন।নিমাই পন্ডিতগঙ্গাদাস পন্ডিতের নিকট হতে বিদায় নিয়ে,মুকুন্দ সঞ্চয়ের বাড়ীতে গমন করলেন।তাঁরই বাড়ীর চন্ডীমন্ডপে নিমাই পন্ডিতের চতুষ্পাঠী টোল ছিল।নিমাই এসে সেখানে বসিলেন, পুরুষোত্তমের পুত্র মুকুন্দ সঞ্জয় এসে,নিমাই চরণে প্রণিপাত করলে,তিনি তাঁকে নিজ কোলে টেনে নিলেন,অর্থ‍্যাৎ অতি ভক্তিভরে আলিঙ্গন করলেন।নিমাইয়ের নয়ননীরে তাঁর শরীর ভিজে গেল।পুণ‍্যবন্ত মুকুন্দ-পরিবারে আনন্দের ধ্বনি উঠিল।নারীগণ গৌরহরির আগমনে মঙ্গল ধ্বনি করতে লাগলেন। তাই শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর তাঁর শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে তখনকার সেই মনোহর বৃত্তান্ত এইভাবে বর্ণনা করেছেন।*
*🌷গুরু নমস্কারিয়া চলিলা বিশ্বম্ভর।*
*🌷চতুর্দিকে পঢ়ুয়া বেষ্টিত শশধর।।*
*🌷আইলেন শ্রীমুকুন্দ সঞ্জয়ের ঘরে।*
*🌷আসিয়া বসিলা চন্ডীমন্ডপ ভিতরে।।*
*🌷গোষ্ঠী-সহ মুকুন্দ সঞ্জয় পুণ‍্যবন্ত।*
*🌷যে হৈল আনন্দ তাহার নাহি অন্ত।।*
*🌷পুরুষোত্তম সঞ্জয়েরে প্রভু কৈলা কোলে।*
*🌷সিঞ্চিলেন অঙ্গ তান নয়নের জলে।।*
*🌷জয়কার দিতে লাগিলেন নারীগণ।*
*🌷পরম আনন্দে হইল মুকুন্দ ভবন।।*
    *🍀তান=তাঁহার*
*🌻সূর্য‍্যদেব অস্তমিত হলেন।সন্ধ‍্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে লাগল।নিমাই গৃহে ফিরে এলেন।নিমাইকে দেখে শচীমায়ের মনে কেমনই যেন লাগল,নিমাইয়ের ভাবের পরিবর্তন দেখে বড়ই ভীত হয়েছিলেন।নারীর রূপ-লাবণ‍্য মানুষের সংসার-বৈরাগ‍্য ভেঙ্গে দেয় ; জননী এই বিশ্বাসে নিমাইয়ের মনের গতি ফিরাবার জন্য বড় ব‍্যস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি এখন আর কি করবেন , নবযৌবনা বিষ্ণুপ্রিয়াকে তাঁর কাছে এনে উপস্থিত করলেন। কিন্তু নিমাই, পত্নীর সৌন্দর্য্যে তাঁর কোন লালসা নাই ; নিমাই শ্রীকৃষ্ণের মোহন সৌন্দর্য্যে তাঁর চিত্ত এখন বিভোর হয়ে পড়েছে। বিশ্বম্ভর বিষ্ণুপ্রিয়ার দিকে একবিন্দু তাকানোর প্রয়োজন বোধ করলেন না।তিনি "কোথায় কৃষ্ণ, কোথায় কৃষ্ণ" বলে কাঁদতে লাগলেন। তাই চৈতন‍্য ভাগবতে পায়=*
*🌷লক্ষ্মীরে আনিয়া পুত্র সমীপে বসায়।*
*🌷দৃষ্টিপাত করিয়াও প্রভু নাহি চায়।।*
*🌷নিরবধি শ্লোক পঢ়ি করয়ে ক্রন্দন।*
*🌷কোথা কৃষ্ণ!কোথা কৃষ্ণ! বলে অনুক্ষণ।।*
*🍀শচীমায়ের পুত্রেরা যেন গর্ভবস্থা হতেই ভগবৎ-প্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।গৌর-জননী দেখলেন, বিশ্বরূপ যে পথের পথিক হয়েছেন,তাঁর প্রাণের নিমাইও কি সেই পথের পথিক হবেন!শচীমা তারপর নিজেকে শান্ত করে, নিমাইকে ডেকে এনে আহার করালেন।গৌর শয়নকক্ষে গমন করলেন। বিষ্ণুপ্রিয়াও যথাসময়ে স্বামীকক্ষে প্রবেশ করলেন। ঘরে বিষ্ণুপ্রিয়াকে দেখে নিমাইচাঁদ বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে কোন কথায় বললেন না। তিনি কেবল শ্রীকৃষ্ণের বিরহে আর্তনাদ করতে লাগলেন।রাত্রির অন্ধকার ক্রমে যত ঘনীভূত হয়ে আসতে লাগল, ততই গৌরহরির ভাব-তরঙ্গ বাড়তে লাগল, তিনি অস্থির হয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।*
*🌺বিষ্ণুপ্রিয়া যেন ভীত হয়ে পড়লেন ; তিনি ঘরের দরজা খুলে শাশুড়ির বন্ধ দরজা খোলার জন্য ডাকতে লাগলেন।শচীমা দরজা খুলে, পুত্রবধূর মুখ হতে পুত্রের এইরকম ভাবাবেশের কথা শুনে, বিষ্ণুপ্রিয়াকে ভীতা দেখে তিনি তাঁদের শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন।গিয়ে দেখেন, পুত্র যেন এ নর-লোকের মানুষ নহেন, তিনি বুঝলেন,এ ব‍্যাধি সংসারের কোন বস্তু, দূর করতে পারবে না।সন্তানবৎসলা জননী,তবু স্থির থাকতে পারলেন না।তিনি নিমাইকে প্রকৃতিস্থ করবার জন্য বিধিমতে চেষ্টা করতে লাগলেন।তিনি তাঁর কোমল হস্ত তাঁর প্রামসম পুত্রের মস্তকে রেখে বললেন বাবা নিমাই! তোর কি হয়েছে,কাঁদছিস কেন? বাপ! তুই যে নবদ্বীপের প্রধান পন্ডিত, তোর কি এইরকম করা শোভা পায়?এইরকম নানা কথা বলতে লাগলেন, এবং মধ্যে মধ্যে নিজ আঁচল দিয়ে পুত্রের নয়ন জল মুছে দিচ্ছেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য গৌরহরি*
     *চতুষ্পাঠীতে নিমাই পন্ডিত*
*********************************
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গ গয়াধাম যাওয়া অবধি,তাঁর ছাত্রগণ আর কারও চতুষ্পাঠীতে অধ‍্যয়ন করতে যায়নি।নিমাই পন্ডিতের স্থানে তারা নবদ্বীপে আর কাউকেও গুরু বলে মনোনীত করতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছে করে নাই। স্নেহ, মমতা,পান্ডিত‍্য ও শিক্ষাদানের সহজ প্রণালী আর কারও তেমন দেখা যায় না, যেমনটি করে নিমাই পন্ডিত শিক্ষাদান করেন।তাই ছাত্রগণ তাঁর অভাবে এতদিন বড়ই অভাব অনুভব করছিলেন।নিমাই পন্ডিত গয়াধাম হতে ফিরে এসে, যেরকম চরম হরিপ্রেম দেখাতে লাগলেন,তাতে অনেকেরই মনে এই সন্দেহ উপস্থিত হয়েছিল যে, নিমাই পন্ডিত আর ছাত্রদের নিয়ে অধ‍্যাপনায় ফিরে আসতে পারবেন না।কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত নিমাইচাঁদের মনেও সেভাব হয়ত উদিত হয়েছিল। কিন্তু তাঁর গুরু,বৃদ্ধ গঙ্গাদাসের অনুরোধে তিনি পুনরায় অধ‍্যাপনায় যুক্ত হবার বাসনা প্রকাশ করলেন।চতুষ্পাঠীর কাজ আরম্ভ হবে দেখে,তাঁর ছাত্রগণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠিল।*
*🍀রাত্রি প্রভাত হল।গৌরহরি গঙ্গায় স্নান করে চতুষ্পাঠীতে অধ‍্যাপনার জন্য গমন করলেন। অনেক দিনের পর চতুষ্পাঠীর কাজ আরম্ভ হবে বলে, ছাত্রগণ মহোল্লাসে সেখানে উপস্থিত হল। তারা হরিধ্বনি করতে করতে পুঁথির ডোর খুলতে লাগল। অধ‍্যাপক এখন ছাত্রদের পাঠ ব‍্যাখ‍্যা করবেন। কিন্তু আজ ব‍্যাখ‍্যা নূতন আকার ধারণ করিল।গৌরহরি বললেন, হরিই সকল শাস্ত্রের মূল,আগম-নিগম প্রভৃতি শাস্ত্রই শ্রীকৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করেছে।তিনিই জগতের জীবন ; শ্রীকৃষ্ণের প্রতি যার মতি নাই, সে-ব‍্যক্তি যদি সর্বশাস্ত্রে অভিজ্ঞ হলেও,সে শাস্ত্রের প্রকৃত রসাস্বাদন করতে পারে না।শ্রীকৃষ্ণের ভজন পরিত‍্যাগ করে,যে-ব‍্যক্তি কেবল শাস্ত্রব‍্যাখ‍্যায় পটু, সে কেবল গর্দভের ন‍্যায় ভার বহন করে মাত্র।তাঁরই পবিত্র নামে, জগৎ পবিত্র হয়ে যায়। গৌরহরি এইভাবে হরিনামের মাহাত্ম্য নানাভাবে বর্ণনা করে,ছাত্রদেরকে সেই হরির চরণ বন্দনা করতে বললেন। আরও বললেন, এ নবদ্বীপে এমন কার শক্তি আছে, যিনি আমার ব‍্যাখ‍্যা খন্ডন করতে পারেন?*
*🍀শুন ভাই সব!সত‍্য--- আমারি বচন।*
*🍀ভজহ অমূল‍্য কৃষ্ণ-পাদপদ্ম ধন।।*
*🍀দেখি কার শক্তি আছে এই নবদ্বীপে।*
*🍀খন্ডুক আমার ব‍্যাখ‍্যা আমার সমীপে।।*
*🌺নিমাই পন্ডিতের ছাত্রগণও নিবিষ্ট(গভীর মনোযোগ যুক্ত ) মনে তাঁর ব‍্যাখ‍্যা শুনতে লাগিল।অবশেষে গৌরহরি তাদের দিকে একটু তাকিয়ে, জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি সূত্রের কিরকম ব‍্যাখ‍্যা করলাম? ছাত্রগণ বলিল,আমরা আজ আপনার ব‍্যাখ‍্যা কিছুই বুঝতে পারলাম না।আপনি সকল শব্দেই কেবল হরি ব‍্যাখ‍্যা করলেন।গৌরহরি বললেন, আজ আর পাঠের প্রয়োজন নাই,চলো,একসঙ্গে মিলে গঙ্গায় স্নান করতে যাই।গুরুর বাক‍্য শুনে,তারা সকলে গঙ্গায় গমন করিল।*
*🌷আজি আমি কোনরূপ সূত্র ব‍্যাখ‍্যা নিল।*
*🌷পঢ়ুয়া সকল বোলে, কিছু না বুঝিল।।*
*🌷যত কিছু শব্দে বাখানহ কৃষ্ণ মাত্র।*
*🌷বুঝিতে তোমার ব‍্যাখ‍্যা কেবা আছে পাত্র?*
*🌷হাসি বলে বিশ্বম্ভর, শুন সব ভাই।*
*🌷পুথি বান্ধ আজি চল গঙ্গাস্নানে যাই।।চৈঃভাঃ।।*
*🌻গৌরহরি,শিষ‍্যদের সঙ্গে নিয়ে জাহ্নবীর জলে নেমে সাঁতার দিতে লাগলেন।যারা স্নান করছিলেন,তারা তাঁর জলক্রীড়া দেখে বড় পুলকিত হলেন।কেউ কেউ তাঁর মোহন মূতির দিকে অপলক নয়নে তাকিয়ে রইলেন।স্নানান্তে গৌরহরি গৃহে ফিরে এলেন এবং ছাত্রগণ নিজ নিজ গৃহে গমন করিল।* *গৌরহরি বাড়ীতে আসিলে, শচীমা পুত্রকে অন্ন ব‍্যঞ্জন দিয়ে,কাছে বসে জিজ্ঞাসা করলেন, বাপ নিমাই! আজ তোর পঢ়ুয়াদেরকে কি শিখালি?কার সঙ্গে কার বিষয়ে আলোচনা করলি? নিমাই বললেন, মা! আমি আজকে ছাত্রদেরকে কেবল হরিপ্রেমের কথা শিক্ষা দিয়েছি। জান মা!সেই হরির চরণ-কমলই প্রকৃত সুখের নিকেতন। মা! যে শাস্ত্রে হরিগুণ কীর্তিত হয়,সেই প্রকৃত শাস্ত্র, যাতে তাঁর গুণ বর্ণিত না হয়,সে শাস্ত্রকে শাস্ত্রই বলা যেতে পারে না।*
*🌻তারপর জননীকে আবার বলতে লাগলেন, "চন্ডাল হয়েও যদি কেউ শ্রীকৃষ্ণের অনুরাগী হয়, তাহলে, তিনি ব্রাহ্মণপদবাচ‍্য। আর যজ্ঞোপবীতধারী ব্রাহ্মণও যদি হরিভক্তবিহীন হন, তাঁকে আর ব্রাহ্মণ বলা যেতে পারে না। মা! এই জন্য হরিপ্রেমের অনুরাগিনী হও।হরিভক্তদেরকে কেউ বিনাশ করতে পারে না।কালচক্র তাঁদের কাছে এগোতে একেবারেই পারে না।এমন জগতের পিতা যিনি,তাঁর আশ্রয় যে গ্রহণ না করে, সে পাপীকে চিরজীবনই দুঃখ ভোগ করতে হয়*।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য গৌরহরি*
             *চতুষ্পাঠীতে শ্রীগৌরাঙ্গ*
             ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀এইরকমে,গৌরসুন্দর আহার করতে করতে শচীমাকে নানানরকমের শ্রীহরির মাহাত্ম্য বর্ণনা করে,তাঁকে হরিপ্রেমের অনুরাগিনী হতে বললেন।*
*🌷এতেক ভজহ কৃষ্ণ সাধু-সঙ্গ করি।*
*🌷মনে চিন্ত কৃষ্ণ মাতঃ!মুখে বল 'হরি'।।*
*🌻গৌরহরি জ্ঞান লাভ করেছেন,হরিপ্রেম-লহরী তাঁর হৃদয় হতে উথলিয়ে উঠছে।জ্ঞানে,ভগবৎ প্রেমে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েছেন।শচীমা নিমাইয়ের মুখে মধুর কথা শুনে, পুত্রের মধ্যে অমানুষিক শক্তি সঞ্চারের লক্ষণ বুঝতে পারলেন। গৌরহরি এখন শয়নে স্বপনে, জাগরণে হরিকথা,হরিধ‍্যান ছাড়া আর কিছুই নাই।তাঁর এই স্বর্গীয় প্রেম ও ভক্তিভাবের কথা শুনে,সকলেই বিস্মিত হতে লাগলেন।* 
*🍀সেইদিন গত হল। পরদিন প্রভাতকালে নিমাইয়ের ছাত্রগণ অধ‍্যয়ন করবার জন্য চতুষ্পাঠীতে সমবেত হল।অধ‍্যাপকও ছাত্রদেরকে শিক্ষাদান করবার জন্য যথাস্থানে বসিলেন।ছাত্রগণ জিজ্ঞাসা করল, "সিদ্ধবর্ণের সমন্বয় কি?" গুরু তদুত্তরে বললেন, "সকল বর্ণে নারায়ণই সিদ্ধ।" ছাত্রগণ বললে, "সিদ্ধবর্ণ কিরূপে হইল?" নিমাই পন্ডিত উত্তর দিলেন, "শ্রীকৃষ্ণের কৃপা-দৃষ্টিতেই সিদ্ধবর্ণের সমন্বয় হয়।" ছাত্রগণ গুরুর মুখ হতে সিদ্ধবর্ণের এইরকম উত্তর শুনে, একটু বিস্মিত হয়ে বলল, "আমরা আপনার উত্তর কিছুই বুঝতে পারলাম না।" কৃষ্ণ প্রেমোন্মত্ত গৌরহরি তখন ছাত্রদেরকে বললেন যে, "শ্রীকৃষ্ণ জগতের আদি,মধ‍্য,তিনি সকলই।" এই কথা বলে, তিনি প্রেমে গদগদস্বরে তাদেরকে শ্রীকৃষ্ণেই আত্মসমর্পণ করতে বললেন। যথা চৈঃ ভাগবতে=*
*🌷সিদ্ধবর্ণ সমন্বয়?বোলে শিষ‍্যগণ।*
*🌷প্রভু বোলে "সর্ব বর্ণে সিদ্ধ নারায়ণ।।*
*🌷শিষ‍্য বোলে "বর্ণসিদ্ধ হইল কেমনে?"*
*🌷প্রভু বোলে "কৃষ্ণ দৃষ্টিপাতের কারণে।।*
*🌷শিষ‍্য বোলে পন্ডিত!উচিত ব‍্যাখ‍্যা কর।*
*🌷প্রভু বোলে সর্বক্ষণ শ্রীকৃষ্ণ স্মঙর।।*
*🌷কৃষ্ণের ভজন কহি-- সম‍্যক্ আমায়।*
*🌷আদি মধ‍্য অন্তে কৃষ্ণভজন বুঝায়।।*
*🌻ছাত্রগণ ব‍্যাখ‍্যা শুনে হাসাহাসি করতে লাগল,আর পরস্পর এই বলাবলি করতে লাগল,ওসকল বায়ুর লক্ষণ ছাড়া আর কিছু নয়। ছাত্রদের কথায় গুরুদেব বুঝলেন যে,তারা এইরকম ব‍্যাখ‍্যায় কিছুতেই সন্তোষ লাভ করতে পারছে না, তখন গৌরহরি তাদেরকে বললেন, তোমরা আজ বৈকালে আসিও,আমি ভালকরে তোমাদেরকে পাঠ বুঝিয়ে দিব।*
*🍀নিমাই পন্ডিতের এই কথা শুনে, শিষ‍্যগণ পুঁথিতে ডোর বাঁধল।অবশেষে দলবদ্ধ হয়ে,গঙ্গাদাস পন্ডিতের কাছে গিয়ে তাঁকে সমস্ত কথা বলিল।গঙ্গাদাস, নিমাই পন্ডিতের ছাত্রদের কাছ হতে, গৌরহরির অদ্ভুত কৃষ্ণপ্রেমের কথা শুনে,তাদেরকে বললেন, তোমরা এখন ঘরে যাও,আমি নিমাইকে ডেকে বুঝিয়ে বলব, তিনি যেন এবার হতে রীতিমতো সূত্রাদির ব‍্যাখ‍্যা করে তোমাদেরকে বুঝিয়ে দেন। নিমাই পন্ডিত গঙ্গাদাসের কাছে উপস্থিত হলে, গঙ্গাদাস নিমাইকে আশীর্বাদ করে বললেন,বাপ বিশ্বম্ভর! আমার কথা শোন,অধ‍্যাপনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে সামান্য ভাগ‍্যের কথা নয়। তোমার মাতামহ শ্রীনীলাম্বর চক্রবর্তী ও তোমার পিতা শ্রীজগন্নাথ মিশ্র সকলেই পন্ডিত।তুমি পন্ডিতবংশে জন্মগ্রহণ করেছ ; তুমিও পন্ডিত। অধ‍্যয়ন পরিত‍্যাগ করলে যদি ভক্তি লাভ হয়, তাহলে,তোমার পিতা ও পিতামহ ইঁনারা কি ভক্ত ছিলেন না?অজ্ঞ ব‍্যক্তি কি সম‍্যক্ রূপে ভালমন্দ বুঝতে পারে? আমার এইসব কথা শুনে,তুমি মনোযোগের সহিত অধ‍্যাপনা কার্য‍্যে রত হও। আমি তোমার গুরু, আমার কথা রাখ,কোন সূত্রের অযথা ব‍্যাখ‍্যা করিও না।*
*🍀গঙ্গাদাস পন্ডিতের এইসব কথা শুনে,বিশ্বম্ভরের মন যেন ক্ষণকালের জন্য পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি শিষ‍্যদেরকে পড়াবার জন্য প্রস্তুত হয়ে বললেন,আমি চতুষ্পাঠীতে বসে,এবার সূত্রের ব‍্যাখ‍্যা করব,দেখি, নবদ্বীপে এমন পন্ডিত কে আছেন, যিনি আমার ব‍্যাখ‍্যা খন্ডন করতে পারেন।এই বলে, তিনি গুরুর চরণে প্রণত হয়ে,চতুষ্পাঠীতে গমন করলেন। গৌরহরির কথানুসারে ছাত্রগণও সমবেত হল।*
*🍀এমন সময়ে যেন এক বীণার ঝঙ্কার তাঁর কর্ণে প্রবেশ করল।তাঁর হৃদয়তন্ত্রী নেচে উঠিল। চতুষ্পাঠীর কাছে রত্নগর্ভ নামে এক ব্রাহ্মণ অতি সুমধুর স্বরে ভাগবত পাঠ করছিলেন।কৃষ্ণপ্রেমিক গৌরহরির কর্ণে সে মধুর ধ্বনি প্রবেশ করলে, তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না।শিষ‍্যবৃন্দসহ সেখানে গমন করলেন।পাঠ শোনার জন্য তাঁর হৃদয় আনন্দে নৃত্য করতে লাগল, তিনি ভাবে বিভোর হয়ে পড়লেন, তাঁর দুইনয়ন হতে আনন্দাশ্রু বাহির হতে লাগল, তিনি "হরিবোল, হরিবোল" বলতে বলতে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।ভাগবত পাঠক রত্নগর্ভ নিমাইয়ের এই অমানুষিক ভক্তির লক্ষণ দেখে,আরও মধুরতর ভাবে ভাগবতের শ্লোক পাঠ করতে লাগলেন।গৌরহরিরও প্রেমোচ্ছাস আরও বাড়তে লাগিল।তিনি ভাবে চেতনাহীন হয়ে পড়লেন,তখন রত্নর্গ পাঠ বন্ধ করেছিলেন। রত্নগর্ভ গৌরাঙ্গের এইরকম অমানুষিক ভক্তির ভাব দেখে,তাঁর চরণতলে লুন্ঠিত হয়ে,চিরদিনের জন্য তাঁর প্রেমশৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়লেন।শ্রীচরিতামৃতে কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন যে=*
*🌷সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়*।
*🌷লব মাত্র সাধুসঙ্গ সর্বসিদ্ধি হয়।।*
*🌻গৌরহরির চেতনা লাভ করে,ছাত্রদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কি চঞ্চলতা প্রকাশ করলাম?তারা অতি বিনীতভাবে উত্তর করিল,আপনার ভাব দেখে,আমরা কৃতার্থ হলাম।এদিকে ক্ষীণ রবিকিরণ ক্রমে সন্ধ‍্যার অন্ধকারের সঙ্গে মিশবার উপক্রম করছে।নিমাইচাঁদ শিষ‍্যদের সঙ্গে জাহ্নবীতটে গমন করলেন,এবং সেখানে তাদের সঙ্গে কৃষ্ণপ্রসঙ্গে ক্ষণকাল অতিবাহিত করে গৃহে ফিরে গেলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 তৃতীয় 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলিতে একমাত্র আরাধ‍্য গৌরহরি*
            *চতুষ্পাঠীতে শ্রীগৌরাঙ্গ*
*********************************
*🍀রাত্রি প্রভাত হ'ল।নিমাই পন্ডিত চতুষ্পাঠীতে গমন করলেন।ধীরে ধীরে চতুষ্পাঠীতে ছাত্রগণ একে একে এসে তাঁকে ঘিরে বসিল।তারা "ধাতুর সংজ্ঞা কি" জিজ্ঞাসা করলে, পন্ডিত মহাশয় বললেন, ধাতুর সংজ্ঞা করব, দেখি নবদ্বীপে কোন্ পন্ডিত আমার এই ব‍্যাখ‍্যার দোষ দেখাতে পারেন? এই বলে,তিনি এইরূপে ধাতুর ব‍্যাখ‍্যা করতে আরম্ভ করলেন, বললেন--, সর্বদেহেই শ্রীকৃষ্ণ ধাতুরূপে স্থিতি করছেন, যে মাবনদেহে ধাতু না থাকে,সে দেহ মৃত ; স্পর্শ করলে, স্নান করতে হয়,ধাতুর সংজ্ঞা-- কৃষ্ণ-শক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। নিমাই পন্ডিত এইভাবে ক্ষণকাল ধাতুর সংজ্ঞা ব‍্যাখ‍্যা করে বললেন,কে এমন আছে,আমার ব‍্যাখা খন্ডন করুক। ছাত্রগণ নিস্তব্ধ হয়ে গুরুজীর ব‍্যাখ‍্যা শোনির পর, তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমরা ধাতু সূত্রের কিরকম ব‍্যাখ‍্যা শুনলে? ছাত্রগণ বলল, আপনি ধাতুর যে ব‍্যাখ‍্যা করলেন,কারও সাধ‍্য নেই তা খন্ডন করতে পারে। আপনি যেসব কথা বললেন,সবই সত‍্য, তবে আমরা যে উদ্দেশ্যে পাঠ করি,সেটির ব‍্যাখ‍্যা ওরকম নয়।শোনার পর গৌরহরির দেহ হতে তখন এক দিব‍্য লাবণ‍্য জ‍্যোতিঃ বাহির হতে লাগল, নয়নজলে যেন তার দৃষ্টি শক্তিকে রোধ করে ফেলছে।তিনি সজল নয়নে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তবে কি আমার বায়ুরোগ হয়েছে?ছাত্রগণ বলল,আপনি সব বিষয়েই শ্রীকৃষ্ণের নাম কীর্তনে রত, লোকে আপনাকে নরলোকের অতীত বলে মনে করছে।আজ দশদিন হল আমাদের পাঠ বন্ধ হয়ে গেছে। গৌরহরি ছাত্রদের মুখ হতে এইসব কথা শুনে বললেন, ভাই সব! কৃষ্ণবরণ এক শিশু,সদাই আমার হৃদয়ে উদিত হয়ে,বাঁশীর মোহনসুরে আমার চিত্ত বিমুগ্ধ করছে। আর সেই বংশীধারী শিশুর মধুময় সত্ত্বা আমি অন্তরে বাইরে সদাই দেখতে পাচ্ছি।ভাই!সেরূপ দেখে,সে মুরলীর ধ্বনি শুনে আমার প্রাণ যেন পাগল হয়ে উঠছে, আমি আর স্থির হয়ে থাকতে পারছি না।এইসব কথা বলতে বলতে তাঁর কন্ঠ যেন রোধ হয়ে আসতে লাগিল। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে,করুণস্বরে ছাত্রদের বললেন,ভাই সব! আমি আর তোমাদের পড়াতে পারব না।তোমরা অন‍্যত্র গিয়ে অধ‍্যয়ন করো।যথা চৈঃভাঃ=*
*🌷কৃষ্ণবর্ণ এক শিশু মুরলী বাজায়।*
*🌷সবে দেখো তাই ভাই বোলো সর্বথায়।।*
*🌷যত্র শুনি শ্রবণে-- সকল কৃষ্ণ নাম।*
*🌷সকল ভুবন দেখো-- গোবিন্দের ধাম।।*
*🌷তোমা সবা স্থানে মোর এই পরিহার।*
*🌷আজ হইতে আর আমি নাহিক আমার।।*
*🌻ছাত্রগণ গুরুর কথা শুনে,কাঁদতে কাঁদতে বলল,আমরা আপনার ভক্তি দেখে কৃতার্থ হয়েছি, আশীর্বাদ করুন, আপনি যা ব‍্যাখ‍্যা করলেন, তা যেন চিরদিন আমাদের হৃদয়ে জাগরূক থাকে।আমরা আর অন‍্য কারও কাছে শিক্ষার জন্য শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করব না।আপনার কাছে যা শিক্ষা করেছি,তাইই আমাদের পক্ষে যথেষ্ট।এইসব কথা বলে, বিষাদিত অন্তরে তারা পুঁথিতে ডোর বেঁধে,একে একে গুরুর চরণস্পর্শ করে ভক্তিভরে তাঁকে প্রণাম করে অবশেষে সকলে মিলে,সমস্বরে হরিধ্বনি করতে লাগিল।শ্রীগৌরাঙ্গ স্নেহভরে সকলকে আলিঙ্গন দান করলেন,এবং তাদের মস্তক আঘ্রাণ করে আশীর্বাদ করলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩১ হইতে ১৪০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori131to140.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
           *শ্রীখন্ডের•••••••••মহিমা*
            °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀এই প্রসঙ্গটি প্রেমবিলাস গ্রন্থে যেভাবে বর্ণিত আছেন তা সামান্য নিচে দেওয়া হল।*
*🌷শ্রীখন্ডেতে নরহরির অন্ত‍্যোষ্টি উৎসবে।*
*🌷মহাসংকীর্তন আসি করিলেন সবে।।*
*🌷হেনকালে রামাই নামে অন্ধজন।*
*🌷দেখিতে আইল সেই কীর্তন নর্তন।।*
*🌷গান শুনে নৃত্য কিছু দেখিতে না পায়।*
*🌷দুই চক্ষু ধরি তখন করে হায় হায়।।*
*🌷কৃষ্ণ সংকীর্তনে নৃত্য দেখিতে নারিল।*
*🌷কোন অপরাধে মোর চক্ষু হরি নিল।।*
*🌷এত বলি তিঁহ করেন বহুৎ ক্রন্দন।*
*🌷বীরচন্দ্র প্রভু তারে চক্ষু দিল দান।।*
*🌷চক্ষু ধরি কহে,প্রভু দেখহ রামাই।*
*🌷এই সংকীর্তনে নৃত্য করিছে সবাই।।*
*🌷চক্ষু পেয়ে রামাই পড়ে প্রভু পদতলে।*
*🌷প্রভু পদ দিল তাঁর মস্তক উপরে।।*
*🌺সারারাত্রি ব‍্যাপি এই সংকীর্তন মহাযজ্ঞ চলতে লাগিল। রজনী অবসানে প্রভু পরিকরগণ ক্রন্দন করতে করতে কেউ বা ভূমিতলে লোটাচ্ছেন,কেউ বা মৃতপ্রায় স্তব্ধভাবে স্মরণ-মনন করছেন,কেউ বা অগ্নিসম নিশ্বাস-প্রশ্বাস ফেলছেন আবার কেউবা প্রেমাশ্রু বরিষণে ধরণী সিক্ত করছেন। সে এক অপূর্ব স্বর্গীয় দৃশ্য, ভাগ‍্যবান জনেই তা দেখলেন এবং দ্বাদশীর দিনে পারণের আগে গোপীনাথের নিবেদিত মহাপ্রসাদ শ্রীরঘুনন্দন তাঁর গুরুদেব নরহরি ঠাকুরকে সমর্পণের জন্য সমাধি মন্দিরে প্রবেশ করলেন। এই উপলক্ষ্যে যে অচিন্ত‍্যনীয় অভাবনীয় দৃশ‍্যের অবতারণা হয়েছিল তা বৈষ্ণব জগতের ইতিহাসে কোন তিরোভাব তিথিতেই সংঘটিত হয় নাই। প্রিয় শিষ্য রঘুনন্দনের সমর্পিত সেই ভোগ প্রসাদ ঠাকুর নরহরি শিষ‍্যের আনুগত‍্য এবং নিষ্ঠায় প্রীত হয়ে সশরীরে পুনরাগমন করে তা গ্রহণ করেছিলেন এবং একমাত্র রঘুনন্দন ছাড়া আর কারও পক্ষে তা দর্শন সম্ভব হয়নি।এই প্রসঙ্গটি কি ভাবে বর্ণিত আছে তা কৃপা করে শুনুন।*
*🌷তথা হইতে শ্রীভোগ মন্দি শীঘ্র গিয়া।*
*🌷এক ভোগ লইলেন পৃথক করিয়া।।*
*🌷শ্রীঠাকুর নরহরি ছিলা যে নির্জনে।*
*🌷তথা শ্রীপ্রসাদ লইয়া গেলেন আপনে।।*
*🌷তিঁহ যে আসনে বসিতেন তাহা লইয়া।*
*🌷তাহে বসাইল ধ‍্যানে দৈন‍্যে মগ্ন হৈয়া।।*
*🌷আসন সম্মুখে নানা দ্রব‍্য সাজাইল।*
*🌷জল পাত্রে প্রসাদি বাসিত জল দিল।।*
*🌷এক পাত্রে প্রসাদি তাম্বুল দিল আর।*
*🌷অন‍্য পাত্রে দিল গৌরাঙ্গের পুষ্পহার।।*
*🌷ধ‍্যানে ভক্ষ‍্য দ্রব‍্য আদি সমর্পণ কইল।*
*🌷করিয়া প্রার্থনা,ঘর দ্বার আচ্ছাদিল।।*
*🌷বাহিরে আসিয়া রহিলেন কতক্ষণ।*
*🌷সময় জানিয়া চলে দিতে আচমন।।*
*🌷দ্বার ঘুচাইয়া দেখে প্রভু নরহরি।*
*🌷আসনে বসিয়া আছেন দিব‍্য রূপ ধরি।।*
*🌷দেখিতেই মাত্র আত্মবিস্মৃরিত হইল।*
*🌷অদর্শন হইতে দুঃখ সমুদ্রে ডুবিল।।*
*🌷কতক্ষণে স্থির হইয়া দিয়া আচমন।*
*🌷ভূমে পড়ি প্রণময়ে সজল নয়ন।।*
*🌷আসন লইয়া সাথে রাখি পূর্ব স্থানে।*
*🌷গেলা শীঘ্র মহান্তগণের সন্নিধানে।।*
*🌻এই প্রসঙ্গে জানা দরকার যে আদি শ্রীখন্ডের গ্রামে মন্দির প্রাঙ্গণে এই তিরোভাব তিথি উদযাপিত হয় না। এই উৎসব পালিত হয় গ্রামের নিকটবর্তী মুক্ত প্রান্তরের মধ্যে একটি বহু পুরাতন বটবৃক্ষতলে, বড়ডাঙ্গায় যেখানে আবার একটি মন্দির নির্মিত আছেন। সেখানে এই উৎসব উপলক্ষ্যে নিতাই-গৌরাঙ্গ এবং সেই নাড়ুহাতে গোপীনাথ বিগ্রহকে সাময়িক ভাবে সেখানে আনা হয়। মুক্ত পরিবেশের মধ্যে নির্জন প্রান্তরে সুশীতল বৃক্ষছায়ায় এই উৎসব পালিত হয়। এই উপলক্ষ্যে এক বিরাট মেলাও হয়।কারণ জনশ্রুতি অনুযায়ী ঠাকুর নরহরি এই বটবৃক্ষ তলেই তাঁর সাধন ভজন করতেন, এই পবিত্র স্থানে তিনি অদর্শন হন।*
*🍀এর পর ধীরে ধীরে শুরু হল বিদায়ের পালা এবং রঘুনন্দন ও আচার্য‍্য প্রভু সকলকে যথাযোগ্য মর্য‍্যাদার সঙ্গে বিদায় দিলেন।শ্রীখন্ডের এই নির্জন পরিবেশে ভগ্ন হৃদয়ে রঘুনন্দন তাঁর গোপীনাথের সেবা এবং স্মরণ মননের মধ‍্য দিয়ে জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলি কাটাতে লাগলেন।এর পর ধীরে ধীরে মদনাবতার রঘুনন্দনের ভক্তিময় জীবনেরও অবসান ঘটে।এইভাবে পুণ‍্যভূমি শ্রীখন্ডে যে ত্রিবেণী সঙ্গম হয়েছিল, যার ফল্গুধারায় দিগ্ দিগন্তের সাধক ভক্তগণ স্নান করে মনেপ্রাণে মহাপ্রভুর লীলাতত্ত্ব আস্বাদন করেছিলেন তা যেন চিরতরে অবসান হল।অবশিষ্ট রইল বা যা, থাকে শুধু স্মৃতিকে নিয়ে বেঁচে থাকা, সেই স্মৃতির সমুদ্র মন্থন করে যিনি যত অমৃত আহরণ করতে করতে পারবেন তিনি ততই তা আস্বাদন করতে পারবেন। কারণ ভক্তি জগতে মহাপুরুষ বা অবতার তো আর রোজ রোজ অবতীর্ণ হন না, তাঁরা সময়োচিত কালে ঠিক আসেন। হতভাগ‍্য জীবকে দেন অমৃতের সন্ধান, যাঁদের সেই সুকৃতি থাকে তাঁরা তাঁর বিশেষ পরিকররূপে সেই ভাবধারা বাঁচিয়ে রাখার যথাসাধ‍্য চেষ্টা করেন।যেমনটি দেখা যায় স্বামী বিবেকানন্দের জীবনে যিনি পরমপুরুষ রামকৃষ্ণের ভাবধারা সারা বিশ্বে প্রচার করে শ্রীগুরু মহিমা বিস্তার করে গিয়েছেন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
            *🌻সুদামার কথন🌻*
*বহু অন্বেষণ পরে,হেরে মুনি দু'জনারে,*
     *অত‍্যন্ত কাতর দোঁহে না সরে বচন।*
*তবে করি সম্বোধন,আমাদের গুরু কন,*
    *মোর লাগি বহু ক্লেশ সয়েছ দু'জন।।*
*নিজ আত্মা প্রিয় যত,নহে কেহ প্রিয় অত,*
   *মোর তরে আত্মসুখ দিলে বিসর্জন।*
*বিপদে পড়িয়া তবু,ত‍্যজনি বিশ্বাস কভু,*
    *দোঁহা প্রতি তুষ্ট তাই হইনু এখন।।*
👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌👌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *শ্রীপাদ্ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর*
     ***************************
*🍀আমরা বৈষ্ণবগ্রন্থে যে পঞ্চতত্ত্বের সন্ধান পাই,সেই পঞ্চতত্ত্বের ভক্ত‍্যাখ‍্য বা শ্রীবাস পন্ডিতের জ‍্যেষ্ঠভ্রাতা নলিন পন্ডিতের দুহিতা হচ্ছেন নারায়ণীদেবী। ইনি মহাপ্রভুর অতি প্রিয় ছিলেন, মহাপ্রভুর কৃপা করে তাকে তাঁর চর্বিত তাম্বুল প্রসাদ দিতেন।তখন তাঁর বয়স যখন চার বৎসর মাত্র,তখন এই শিশুকালেই মহাপ্রভুর কৃপায় তাঁর কৃষ্ণপ্রেমের বিকাশ সাধিত হয়েছিল। তিনি "হা কৃষ্ণ,কোথা কৃষ্ণ" বলে অঝোর নয়নে কাঁদতেন।এই প্রেমাশ্রু যে কিরকম ছিল তার কিঞ্চিৎ পরিচয় আমরা একটি প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলী হতে পাই, যথা=*
*🌷অঙ্গ বহি পড়ে ধারা পৃথিবীর তলে।*
*🌷পরিপূর্ণ হইল স্থল নয়নের জলে।।*
*🍀এহেন যে নারায়ণী দেবী, যাঁর অতি শৈশবেই বিবাহ হয়েছিল, কুমারহট্ট নিবাসী একজন অতি সজ্জন ব্রাহ্মণের সঙ্গে,যার নাম ছিল শ্রীবৈকুন্ঠদাস বিপ্র। কিন্তু এই নারায়ণী দেবী বিয়ের স্বল্পকালের মধ্যেই বিধবা হন,তাঁর স্বামীর অকাল মৃত‍্যুতে। তখনকার দিনে এই জাতীয় বাল‍্যবিবাহ প্রথা প্রচলিত ছিল যা বর্তমান কালে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়।*
*🍀কথিত আছে এই সময় নিত‍্যানন্দ প্রভু কিছু সময়ের জন্য শ্রীবাস পন্ডিতের গৃসে বাস করেন, এই সময় বাল‍্যবিধবা নারায়ণী দেবী একদিন নিত‍্যানন্দ প্রভুকে প্রণাম করলে তিনি তাঁকে "মা পুত্রবতী হও" এই বলে আশীর্বাদ করেন।এইরকম আশীর্বাদ বাণী শুনে নারায়ণী দেবী অতীব সঙ্কুচিতা ও অসুস্থ বোধ করলেন এবং করজোড়ে বললেন,প্রভু একি সংশয়াকুল আশীর্বাদ করলেন, আমি যে বাল‍্যবিধবা, আমি কিভাবে পুত্রবতী হব? মহাশক্তিধর নিতাইচাঁদ তখল কহিলেন,বৎসে!কোন ভয় নেই, কেউ তোমায় অসতী বলতে পারবে না। কোনরকম কুৎসা রটাতেও পারবে না। আমার আশীর্বাদে এবং মহাপ্রভুর ভুক্তাবশেষ গ্রহণে তোমার গর্ভসঞ্চার হবে এবং সেই সন্তান দ্বিতীয় বেদব‍্যাস তুল‍্য গুণাবলীর অধিকারী হবে।*
*🌺এর কিছুদিন পরে মহাপ্রভুর কৃপায় তাঁর গর্ভসঞ্চার হয় এবং সেই গর্ভে ১৪২৯ শকে (ইং--১৫০৮ সালে) অষ্টাদশ মাস গর্ভবাসের পর বৈশাখী কৃষ্ণদ্বাদশী তিথিতে সেই মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়। এইভাবে অপ্রাকৃত শক্তিপ্রভাবে অতি অলৌকিক ভাবে শ্রীচৈতন‍্যলীলার বেদব‍্যাস শ্রীশ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুরের জন্ম হয়। সত‍্য কথা বলতে কি মহৎ কৃপায় কি না সম্ভব? তুলনামূলক হিসাবে বলা যেতে পারে যে পিতামাতার অতি বৃদ্ধবয়সে মহাপ্রভু ও জগন্নাথ দেবের কৃপায় শ্রীনিবাস প্রভুর জন্মও এইভাবে হয়েছিল।*
*🍀কথিত আছে যে নারায়ণী দেবীর যখন ৭|৮ মাসের গর্ভ, তখন তদানীন্তন মুসলমান কাজী এই অলৌকিক গর্ভসঞ্চার কাহিনী শুনে তাঁকে তার কাছারীতে নিয়ে যান।নিতাইচাঁদ এই সংবাদ শোনামাত্রই তৎক্ষণাৎ কাজীর গৃহে উপস্থিত হয়ে কাজীকে ক্রোধান্বিত ভাবে অত‍্যন্ত ভর্ৎসনা করলেন এবং বললেন, "অবোধ তুমি স্বেচ্ছায় কেন প্রজ্বলিত আগুনে হাত দিতে অগ্রসর হচ্ছ কেন?মাতা নারায়ণী দেবীর গর্ভে স্বয়ং বেদব‍্যাস উদিত।তুমি কি তা প্রত‍্যক্ষ করতে চাও? অবধূত নিত‍্যানন্দ শ্রীমুখ হতে এই বাণী নিঃসৃত হতে না হতেই গর্ভস্থ শিশু হরিধ্বনি করে উঠিল এবং কাজী খুবই ভয়ে ভীত হয়ে নিজেকে অপরাধীজ্ঞানে নারায়ণী দেবীকে শিবিকাযোগে (পালকি করে) শ্রীবাস পন্ডিতের গৃহে পাঠিয়ে দিলেন। এর কিছুদিন পর তিনি সন্তানের মাতা হন।*
*🍀যদিও এই পুত্র বরপুত্র তবুও নারায়ণী দেবী লোকলজ্জা এবং সমালোচনার হাত হতে রেহাই পাবার জন্য সুদূর শ্রীহট্টে মাতুলালয়ে বেশ কিছুদিন বাস করেন। পরে স্বগৃহে ফিরে আসেন।তৎকালে গৌরাঙ্গ পার্ষদ শ্রীপাদ্ বাসুদেব দত্ত মহাপ্রভুর পরম ভক্ত ছিলেন এবং তিনি নবদ্বীপের কাছেই মামগাছীতে একটি দেবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মহাপ্রভুর ইঙ্গিতে নারায়ণী দেবীর হাতে এর সেবার ভার অর্পণ করেন।দীনহীন কাঙ্গালিনীর বেশে নাবালক এই শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তিনি মামগাছির এই নির্জন পরিবেশে দেবসেবা করে যেতে লাগলেন। এই জায়গায় থাকাকালীন তাঁর সন্তানের বিদ‍্যাশিক্ষার সূচনা হয়।*
*🍀যাইহোক,এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসা যায় যে,মহাপ্রভু তখন প্রকট ছিলেন,তাঁর সন্ন‍্যাস গ্রহণ বৃন্দাবন বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের বাল‍্যকালে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে পুনঃ পুনঃ যেসব খেদোক্তি পাওয়া যায় তা হতে সাধারণভাবে ইহাই প্রতীয়মান (প্রমাণিত) হয় যে মহাপ্রভুকে দর্শন করবার সুযোগ বা সৌভাগ্য তাঁর জীবনে হয়নি। অর্থ‍্যাৎ শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুরের আবির্ভাব ১৪২৯ শকে ইং ১৫০৮ খ্রীঃ এবং শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন‍্যাস গ্রহণ ১৪৩১ শকে ইং ১৫১০ খ্রীঃ, মহাপ্রভুর তিরোধানের সময় বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের বয়স আনুমানিক ২৬ বৎসর হবে।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
          *সুদামার কথন*
*হেরি দোঁহা শুদ্ধমতি,হই আমি তুষ্ট অতি,*
   *তোমাদের মনোবাঞ্জা হোক পূরণ।*
*সর্ববিধ বিদ‍্যা এবে,দুই জনা জ্ঞাত হবে,*
   *দোঁহা প্রতি আশীর্বাদ রবে অনুক্ষণ।।*
*কহিল সুদাম সখা,ধন‍্য আমি পেয়ে দেখা,*
    *তুমি যে জগদ্ গুরু সব মূলাধার।*
*সত‍্যকাম হরি তুমি,কত লীলা কর স্বামী,*
   *শিক্ষা দিতে গুরুগৃহে বাস যে তোমার।।*
*সখার বিনীত কথা, শ্রদ্ধা আর হেরি সেথা,*
    *তার প্রতি জনার্দন অতি তুষ্ট হন।*
*তবে সহাস‍্য বদনে,কন তারে সম্বোধনে,*
    *মোর লাগি কিবা তুমি আনিলে এখন।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
     *শ্রীপাদ্ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর*
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀সুতরাং এই বয়স অবধি মহাপ্রভুর সঙ্গ পাবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তে কেন এই জাতীয় খেদোক্তি করেছেন তা বুদ্ধির অগম‍্য।*
*🌷হইল পাপিষ্ঠ জন্ম না হইল তখনে।*
*🌷হইলাম বঞ্চিত সে সুখ দরশনে।।*
*🌻অন‍্য আরেক জায়গায় লিখেছেন=*
*🌷হইল পাপিষ্ঠ জন্ম তখন না হইল।*
*🌷হেন মহামহোৎসব দেখিতে না পাইল।।*
*🌻এই উপলক্ষ্যে প্রাচীন বৈষ্ণব গ্রন্থে কোন সদুত্তর বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।তবে একথা ঠিক যে তিনি নিত‍্যানন্দ প্রভুর মন্ত্রশিষ‍্য ছিলেন এবং তাঁরই কৃপায় তিনি বৈষ্ণব মহিমা এবং মহাপ্রভুর অবতারতত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছিলেন যা তাঁর স্বরচিত বিভিন্ন পদাবলী হতে প্রকাশ পায়, যথা=*
*🌷ইষ্টদেব বন্দো মোর নিত‍্যানন্দ রায়।*
*🌷চৈতন‍্য কীর্তন স্ফূরে যাঁহার কৃপায়।।*
                  *এবং*
*🌷নিত‍্যানন্দ স্বরূপের আজ্ঞা ধরি শিরে।*
*🌷সূত্রমাত্র লিখি আমি কৃপা অনুসারে।।*
                *এবং*
*🌷নিত‍্যানন্দ প্রভু মুখে বৈষ্ণবের তথ‍্য।*
*🌷কিছু কিছু শুনিলাম সবার মাহাত্ম্য।।*
*🌻তখনকার দিনে প্রথা ছিল যে, শিবানন্দ সেন সমস্ত গৌড়দেশী ভক্তদের নিয়ে নীলাচলে মহাপ্রভু দর্শনে যেতেন ও সমস্ত ব‍্যয়ভার তিনি একাই বহন করতেন।*
*🌺১৫২২ সালে যখন বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের বয়স ১৪ বৎসর, নিত‍্যানন্দ প্রভু একবার গৌড়দেশী ভক্তদের সাথে নীলাচল যাত্রা করেন।তখন মহাপ্রভুকে দর্শন করবার জন্য বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের আর্তি দেখে নিত‍্যানন্দপ্রভু কৃপা পরবশ হয়ে তাঁকে সঙ্গে নেন।যাত্রাপথে বর্দ্ধমান জেলার অন্তর্গত দেনুড় গ্রামে এসে বিশ্রাম করবার জন্য নীলাচল যাত্রা স্থগিত করেন, কারণ উক্ত দেনুড় গ্রামের পূর্বাংশে "ধরার পুষ্করিণী" নামক একটি মনোরম সরোবর ছিল, ঐ পুষ্করিণীর চারিদিকে নানারকম সুশীতল বৃক্ষ থাকাতে সেইসময়ের পথিকদের বিশ্রামের জন্য এটি খুবই আকর্ষণীয় ছিল। সুতরাং নীলাচল যাত্রীগণ এই মনোরম জায়গায় বিশ্রাম করবার জন্য সমাগত হলে রামহরি দাস নামক এক গ্রামবাসী পরমভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে যাত্রীদলের সেবার ব‍্যবস্থাদি করতেন।এখানে উল্লেখযোগ্য যে নিত‍্যানন্দপ্রভু আগের রাত্রে স্বপ্নের মাধ‍্যমে এই রামহরি দাসকে কৃপা করে তাঁদের আগমন বার্তা জানিয়েছিলেন।কি সৌভাগ্য রামহরি দাসের যে তিনি এই সেবার সুযোগ পেয়েছিলেন।কত জনমের সুকৃতি যে তাঁর ছিল তা ভাবলেও গৌরভক্তগণের মনে আনন্দ সঞ্চার হয়।আহারাদি সমাপনের পর নিতাইচাঁদ প্রিয়শিষ‍্য বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের কাছে কিছু মুখশুদ্ধি হরিতকী চাইলেন।আজ্ঞাবহ শিষ্য প্রভুকে দিবার জন্য একটি হরিতকী এনে তখনই দিলেন এবং নিত‍্যানন্দপ্রভু তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এই হরিতকী তুমি কোথায় পেলে"? সরলমতি বৃন্দাবন বললেন যে, এটি গতকালের সঞ্চিত।তখন লীলাময় প্রভু কোন গূঢ় উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাঁকে "সঞ্চয়ী" আখ‍্যা দিয়ে, বৈষ্ণবোচিত গুণাবলীর অনধিকারী বলে বাহ‍্যিক ভর্ৎসনান্তে ঘোষণা করলেন যে তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীধাম নীলাচলে যাবেন না। অর্থ‍্যাৎ পথমধ‍্যে তাঁকে পরিত‍্যাগ করলেন।বালক বৃন্দাবন শ্রীগুরুদেবের এই বিচারে খুবই মর্মাহত হলেন এবং অনেক অনুনয় বিনয় করে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করলেন। কিন্তু নিত‍্যানন্দ প্রভু তাঁর সঙ্কল্পে অনড়, কারণ তিনি চান তাঁর শিষ‍্যের দ্বারা অনেক মহৎ কাজ করাতে, যা অন‍্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়।*
*🌻তখন নিতাইচাঁদ বৃন্দাবনকে দেনুড়ে রামহরি দাসের সহচর্য‍্যে থেকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর শ্রীচরিত্র বর্ণনে এবং শ্রীগ্রন্থ রচনা ও রামহরি দাস মহাশয়কে অঙ্গীকার করে তাঁর গৃহে থেকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি প্রকাশ এবং শ্রীপাট স্থাপনের আদেশ করে যান।শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর তাঁর গুরুদেবের আদেশে সমস্ত আদেশই পালন করেছিলেন।কৃপাময় নিত‍্যানন্দ তখন সেই হরিতকীটি ধরার পুষ্করিণীর তীরে রোপন করেন।নিত‍্যানন্দ কৃপাশক্তি সঞ্চারে, একসময় সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে এক মহতীবৃক্ষে পরিণত হয়। কালপ্রভাবে সেই বৃক্ষটি ধ্বংস হয়ে গেলে,শ্রীপাটের অন‍্যতম প্রধান সেবাইত নিত‍্যগোলোকধামগত প্রভুপাদ শ্রীল পঞ্চানন মহান্ত মহারাজ (রামহরি বংশজাত) সেই জায়গাটিতেই যে চারাবৃক্ষটি রোপন করেন তা বর্তমানে মহতী-বৃক্ষে পরিণত হয়ে অদ‍্যাপি বিরাজমান। শ্রীধাম দেনুড়ে চিন্ময়ী এই জায়গাটি "শ্রীহরিতকীতলা" নামে সুবিখ‍্যাত এবং অদ‍্যাপি ভক্তগণ তা দেখতে যান।শ্রীমন্ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শ্রীহস্ত টিপ্পনীধৃত তেরিজ পত্রে লিখিত শ্রীমদ্ ভাগবতের দশম স্কন্ধের অনুলিপি যা নিত‍্যানন্দপ্রভুর আদেশে শ্রীগদাধর পন্ডিত নীলাচলে লিখেছিলেন।তা নিতাইচাঁদ তাঁর অশেষ কৃপাপাত্র প্রিয়শিষ‍্য বৃন্দাবন দাসকে পাঠ করবার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন। ভক্তগণের দর্শনের জন্য ঠাকুর বৃন্দাবনের শ্রীপাটে সেই "শ্রীগ্রন্থ" অর্থ‍্যাৎ শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতের "পান্ডুলিপি", তিনি যে স্থানে বসে শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত রচনা করেছিলেন, সেই "সিদ্ধাসন" অদ‍্যাপি এই শ্রীপাটে বিরাজমান।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
              *সুদামার কথন*
*চিপিটক সাথে যাহা,গোপনে সে রাখে তাহা,*
   *না করে বাহির দ্রব‍্য লজ্জায় তখন।*
*অন্তর্য‍্যামী নারায়ণ, সব তিনি জ্ঞাত রন,*
   *সখারে ডাকিয়া তবে কহেন বচন।।*
*যাহা করিয়া যতন,করিয়াছ আনয়ন,*
   *কেন সখা মোরে নাহি দিতেছ এখন।*
*ভক্ত যাহা ভক্তিভরে,নিবেদন করে মোরে,*
   *প্রীত মনে করি আমি সেসব গ্রহণ।।*
*ভক্তিশূন‍্য কোন জন,দিলেও প্রচুর ধন,*
   *তাহে নাহি তৃপ্ত মোর অন্তর কখন।*
*ভক্তের সামান্য দান,তুষ্ট করে মোর প্রাণ,*
  *সেই দ্রব‍্য করি আমি পর্য‍্যাপ্ত গ্রহণ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪৪) বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
        *শ্রীপাদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর*
        **************************
*🌴শ্রীমন্মহাপ্রভু কর্তৃক স্বহস্তে প্রোথিত (পোঁতা)শ্রীজগন্নাথদেবের দন্তধাবন কাষ্ঠ হতেও ঠিক অনুরূপ এক মহতী বকুলবৃক্ষ প্রকাশ পেয়েছিলেন যা সিদ্ধ বকুল নামে প্রসিদ্ধ। যার সুশীতল ছায়ায় ঠাকুর হরিদাস বাস করতেন।গৌরভক্তগণের অবগতির জন্য বলতে চাই যে অনুরূপ একটি হরিতকী প্রদানের অপরাধে মহাপ্রভু তাঁর একান্ত সেবক গোবিন্দকেও পরিত‍্যাগ করেছিলেন, যার ফলে সাক্ষাৎ গোপীনাথের কৃপা পেয়েছিলেন বাৎস‍্য সেবার মাধ‍্যমে।যার নিদর্শন অদ‍্যাপি ভক্তগণ দেখতে পাবেন অগ্রদ্বীপে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে একটি চোদ্দ বৎসর বালকের উপর যেন লঘুপাপে গুরুদন্ড হল, কিন্তু মহাপুরুষদের সব কাজের মধ্যেই একটা গূঢ় উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, যথা মহাপ্রভু কর্তৃক ছোট হরিদাস বর্জন, হৃদয় চৈতন‍্য কর্তৃক শ‍্যামানন্দের উপর তিলক নিয়ে নিষ্ঠুর ব‍্যবহার, অগ্রদ্বীপের গোবিন্দ ঘোষকে মহাপ্রভু কর্তৃক পরিত‍্যাগ ইত্যাদি বৈষ্ণব জগতের নানারকম প্রসঙ্গ আছে যা আপাতদৃষ্টিতে শ্রুতিমধুর না হলেও তার শেষ ফলাফল বিচারে দেখা যায় যে সত‍্যই এটি তাঁদের ভক্তিময় জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনে সম্পূর্ণ সহায়তা করেছিল। এ ক্ষেত্রেও বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের জীবনী পর্য‍্যালোচনা করলে দেখা যায় চৈতন‍্যলীলার বেদব‍্যাস বলে আমরা যাঁকে জানি,তাঁর পরিচয়ের প্রকৃত স্বার্থকতা বিকাশ যদি ঘটিত না, যদি নিত‍্যানন্দপ্রভু তাঁকে দেনুড়ে পরিত‍্যাগ না করতেন।নরোত্তম ঠাকুর যে ঝাঁটার আঘাত রামচন্দ্র কবিরাজকে করেছিলেন তার দ্বারাও রামচন্দ্রের মহিমা পূর্বদিগন্তে উদিত উষার আলোকচ্ছটার ন‍্যায় তাঁর জীবনকে উদ্ভাসিত করেছিল।*
*🌻এইভাবে বৃন্দাবনদাস ঠাকুরকে দেনুড়ে স্থায়ী করে সকলে মিলিতভাবে পুরীধামে চলে যান। বৃন্দাবনদাস ঠাকুর শ্রীগুরু কৃপা সম্বল করে ধীরে ধীরে সাধন ভজনে নিজেকে নিয়োগ করেন।তখন তাঁর বয়স আনুমানিক ১৪ বৎসর হবে এবং মহাপ্রভুর অপ্রকট কালে তাঁর বয়স ২৬ বৎসর ছিল। অর্থ‍্যাৎ এই ১২ বৎসরের মধ‍্যেও তিনি গুরু আজ্ঞা পালনের জন্য কখনও দেনুড় ছেড়ে মহাপ্রভু দর্শনে পুরীধামে যাননি।সেজন‍্য শ্রীমন্মহাপ্রভুকে স্বচক্ষে কখনও দেখতেও পাননি। এখানে একটি প্রশ্ন মনে নিজে থেকেই জাগরিত হয় যে, যিনি মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ সেবক যিনি চৈতন‍্যলীলার বেদব‍্যাস, যিনি আবার শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত রচয়িতা তিনি কেন বারবার মহাপ্রভুর অদর্শন জনিত এইরকম খেদোক্তি এবং হা-হুতাশ করেছেন।এর প্রকৃত অর্থ এই মনে হয়, যে আজীবন তাঁর মনে মহাপ্রভুকে অদর্শনজনিত ক্ষোভ ছিল এবং তদুপরি ভক্তিময় জীবনের প্রকৃত উন্মেষ না ঘটায় এই শ্রীগ্রন্থে মনে হয় তিনি এইরকম খেদোক্তি করেছেন। কিন্তু যখন তিনি পরিপূর্ণভাবে মহাপ্রভুর অবতারতত্ত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম তখন মহাপ্রভু অপ্রকট।*
*🌺এই প্রসঙ্গে উপমাচ্ছলে বলা যায় যে,পরম করুণ শ্রীরামদাস বাবাজী মহাশয় যখন প্রকট ছিলেন তখন হয়ত অনেকে তাঁর নাম শুনেছিলেন। কিন্তু ভাগ‍্যদোষে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করবার সুযোগ হয়নি।পরে তাঁর অপ্রকটের পর যখন এই বৈষ্ণব ধর্মের রসমাধুর্য‍্য উপভোগ করবার সুযোগ তাঁদের জীবনে এসেছে, তখন তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড আক্ষেপ বা অনুশোচনার সৃষ্টি হয়েছে যে জীবিতকালে সঙ্গ করবার সুযোগ পেয়েও তা ভাগ‍্যে জুটে নাই।তার অর্থ এই নয় যে তাঁরা তখন জন্মগ্রহণ করেননি কিন্তু বাস্তবে তা সত‍্য নহে।এ জন্ম যেন দ্বিতীয় জন্ম, যা শ্রীগুরু কৃপায় দীক্ষার পর শিষ‍্যের মধ্যে এক নবযুগের সূচনা করে, যখন শিষ‍্যের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হয়। যেমনটি হয়েছিল গৌরপরিকরগণের জীবনে।*
*🌻যে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ বেদব‍্যাস যেরকম কৃষ্ণকথাময় শ্রীমদ্ভাগবত রচনা করেছিলেন, শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুরও সেইরকম শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুকে উপলক্ষ্য করে শ্রীচৈতন‍্যভাগবত রচনা করেছিলেন। এজন্য তিনি তদানীন্তন বৈষ্ণব সমাজের নিকট হতে শ্রীচৈতন‍্যলীলার ব‍্যাস অর্থ‍্যাৎ বেদব‍্যাস আখ‍্যা প্রাপ্ত হয়েছেন।তাঁর এই রচনার প্রশস্তি করে কৃষ্ণদাস কবিরাজ মহাশয় বলেছেন, যে=*
*🌷মনুষ‍্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন‍্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন‍্য।।*
*🌷বৃন্দাবন দাস পদে কোটি নমস্কার।*
*🌷ঐছে গ্রন্থ করি তিঁহো তারিলা সংসার।।*
*🔥সব থেকে চরম আশ্চর্য‍্য এই যে যিনি মহাপ্রভুর প্রকটকালে আবির্ভূত হয়ে, মহাপ্রভুকে কখনও দর্শন না করে,তাঁর সঙ্গসুখ না পেয়ে এই মহানগ্রন্থ কিভাবে রচনা করলেন! এটি একমাত্র গুরুকৃপা ছাড়া কোনমতেই সম্ভব নহে।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত রচনাকার শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীর জীবনেও ঠিক অনুরূপ ঘটনা দেখা যায়।বৈষ্ণব জগতের এই দুইটি অমূল‍্য গ্রন্থের প্রণেতাদ্বয় কিভাবে যে ইহা রচনা করলেন তা মানব বুদ্ধির অগম‍্য।কারণ এই দুই মহাপুরুষের কেউই শ্রীমন্মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ দেখা পাননি।*
*🌹কথিত আছে যে বৃন্দাবনদাস ঠাকুর যখন তাঁর এই গ্রন্থ প্রণয়ন করেন তখন তিনি এই গ্রন্থের নাম দিয়েছিলেন "শ্রীচৈতন‍্য মঙ্গল"। কিন্তু তৎকালে সুপ্রসিদ্ধ পদকর্তা লোচনদাসও অনুরূপ এক গ্রন্থ রচনা করেন, যার নামও শ্রীচৈতন‍্যমঙ্গল, রেখেছিলেন,এতে কিছু সমস‍্যার সৃষ্টি হয়,কারণ উভয় গ্রন্থের নাম একই ছিল। পরে বৃন্দাবন জননী নারায়ণী দেবীর মধ‍্যস্থতায় তিনি এই গ্রন্থের নাম পরিবর্তন করে শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত আখ‍্যা দেন।এই শ্রীগ্রন্থে তিনটি খন্ড আছে, আদিখন্ড,মধ‍্যখন্ড ও অন্তখন্ড।শেষ জীবনে তিনি নিজ শ্রীপাটের সেবাভার প্রিয় শ্রীরামহরি দাসকে অর্পণ করে জাহ্নবা মায়ের সঙ্গে শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা করেন এবং সেখানেই শ্রীরাধারাণীর শ্রীচরণতলে চিরশান্তি লাভ করেন।এই ভাবেই পরম ভাগবদ্ শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর বৃন্দাবনে ইহলীলা সাঙ্গ করে নিজ নামের যথার্থ পরিচয় দিয়াছেন।এটিই সংক্ষেপে এই মহাবৈষ্ণবের ভক্তিময় জীবনের পরিচয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*পত্র,পুষ্প,ফলে মোরে,পূজে যদি ভক্তি ভরে,*
    *সে সকল দ্রব‍্য করি সাদরে গ্রহণ।*
*ভগবান এই মত,কন তারে কথা যত,*
    *তবু বিপ্র অধোমুখে না সরে বচন।।*
*কৃষ্ণের ঐশ্বর্য‍্য হেরি,সঙ্কুচিত হৃদি তারি,*
   *তাই দ্বিজ চিপিটক না দিল তখন।*
*তার যে কৃষ্ণের কাছে,কামনা কিছু না আছে,*
    *পত্নী অনুরোধে তার হেথা আগমন।।*
*দিতে তাঁরে এ সময়,সাহস মনে না হয়,*
    *তুচ্ছ দ্রব‍্য নিবেদিতে লজ্জিত পরাণ।*
*তবে দেব নারায়ণ,চিন্তিলেন নিজ মন,*
   *দুর্লভ সম্পতি দ্বিজে করিবেন দান।।*
*ভক্তাধীন ভগবান,*বুঝি তবে ভক্ত প্রাণ,*
    *বস্ত্রে বাঁধা চিপিটক ত্বরা কাড়ি লন।*
*সখা কিছু প্রীতি ভরে,আনিয়াছ মোর তরে,*
    *তাতে আমি অতি তুষ্ট হইনু এখন।।*
*এইরূপ বিপ্রে বলি,চিপিটক নিয়া তুলি,*
     *এক মুষ্ঠি তাহা হতে করেন ভক্ষণ।*
*ভোজনার্থ পুনরায়,নিতে পুনঃ যবে যায়,*
    *রুক্মিণী আসিয়া হস্ত করিল ধারণ।।*
*ভোজন নিষেধ করি,কন বালা শোন হরি,*
     *চিপিটক আর তুমি না কর গ্রহণ।*
*তোমাকে যে তুষ্ট করে,পায় সুখ এ সংসারে,*
    *পরলোকে স্বর্গবাসে রহে সেই জন।।*
*এক মুষ্ঠি চিপিটকে,যে সম্পত্তি দিবে তাকে,*
     *তাহার অভাব আর না হবে কখন।*
*অধিক পাবার তার,প্রয়োজন নাহি তার,*
     *ভোজনে বিরত তাই করিনু এখন।।*
*🙏এই বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী প্রথম খন্ড এখানেই বিরাম দিলাম, দ্বিতীয় খন্ডটি আমার কাছে এসে এখনো পৌঁছয়নি, দ্বিতীয় খন্ডের কৃপা হলে পুনরায় লিখনী শুরু হবে।বানান, ভুল ভ্রান্তি নিজজন মনে করে ক্ষমা করবেন।*
*🙏জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবোল🙏🙏🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১৪১ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/madhukori141to150.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীমদ্ভাগবত প্রাকট্য তিথি 📖 পরীক্ষিত মহারাজের প্রায়োপবেশন 🙇 ভাদ্র মাসের শুক্লা নবমী তিথি ☀️ মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যম পান্ডব হলেন কৃষ্ণসখা অর্জুন 🏹 অর্জুনের পুত্র হলেন অভিমন্যু 🕸️ এই অভিমন্যু এবং তাঁর স্ত্রী উত্তরা দেবীর একমাত্র পুত্র হলেন 👑 রাজর্ষি পরীক্ষিত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 বিস্তারিত এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/bhagwat.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীমদ্ভাগবত প্রাকট্য তিথি 📖 পরীক্ষিত মহারাজের প্রায়োপবেশন 🙇 ভাদ্র মাসের শুক্লা নবমী তিথি ☀️ মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যম পান্ডব হলেন কৃষ্ণসখা অর্জুন 🏹 অর্জুনের পুত্র হলেন অভিমন্যু 🕸️ এই অভিমন্যু এবং তাঁর স্ত্রী উত্তরা দেবীর একমাত্র পুত্র হলেন 👑 রাজর্ষি পরীক্ষিত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 বিস্তারিত এই লিংকে ক্লিক করুন  👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/bhagwat.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#শ্রীমদ্ভাগবত_প্রাকট্য_তিথি।*

*#পরীক্ষিত_মহারাজের_প্রায়োপবেশন   #ভাদ্র_মাসের_শুক্লা_নবমী_তিথি।*

মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যম পান্ডব হলেন কৃষ্ণসখা অর্জুন।#অর্জুনের_পুত্র_হলেন_অভিমন্যু।এই অভিমন্যু এবং তাঁর স্ত্রী #উত্তরা_দেবীর একমাত্র পুত্র হলেন #রাজর্ষি_পরীক্ষিত।

মহারাজ পরীক্ষিত নিজের রাজ্যে কলির প্রবেশ দেখে তাকে বধ করতে উদ্যত হলে চরণে শরণাগত হল কলি।শরণাগতকে বধ করা উচিত নয়, ভেবে পরীক্ষিত মহারাজ তাকে নিষ্কৃতি দিলেন।
 কলি হাতজোড় করে একটু স্থান প্রার্থনা করলেন তখন পরীক্ষিৎ মহারাজ মদ্য,মাংস, অবৈধ স্ত্রীসঙ্গ, জুয়াখেলা এই চারটি স্থান নির্দেশ করলেন।কলি বললেন - মহারাজ! দয়া করে আর একটি স্থান দিন। এতে সংকুলান হবে না।

মহামনা পরীক্ষিত বললেন - "যাও স্বর্ণেতেও তোমাকে স্থান দিলাম।" 

একদিন পরীক্ষিত মহারাজ ভীমসেন দ্বারা জরাসন্ধ বধ করে আনীত স্বর্ণ মুকুট ধারণ করে  শিকার করতে গিয়ে সঙ্গিহীন অবস্থায় পিপাসার্ত হয়ে পড়েন।
 #ধ্যানস্থ_শমীক_ঋষির কাছে জল প্রার্থনা করলেও প্রার্থনা ফলবতী হয় না। রাজা ক্রোধিত হয়ে মৃত সর্পকে ধনুকের ছিলায় তুলে ধ্যানস্থ ঋষির গলায় পরিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসেন। বাড়িতে এসে মুকুট খুলতেই তার মনে হল, হায়! হায়!! আমি একি করেছি! আমাদের পূর্বপুরুষগণ ঋষিদের কত সম্মান করতেন, আর তাদের বংশধর হয়ে আমি আজ ঋষির অপমান করলাম!
জরাসন্ধের সোনার মুকুট মাথায় দিতেই কলি মাথায় প্রবেশ করে বুদ্ধি খারাপ করে দিয়েছিল। এবার মুকুট খুলতেই তার শুদ্ধ জ্ঞানের উদয় হলো, তখন রাজা পশ্চাত্তাপ করতে লাগলেন।

এদিকে ধ্যানস্থ ঋষির অপমানে ঋষিপুত্র শৃঙ্গি, রাজাকে অভিশাপ দিলেন এক সপ্তাহের অন্তে সর্প দংশনেই তাঁর মৃত্যু হবে।রাজা পরীক্ষিত নিজের ভুল বুঝতে পেরে চলে আসেন #হরিদ্বারের কাছে শুকতাল নামক স্থানে।রাজা বসলেন  অনশন সংকল্প করে। 

এদিকে অষ্টাদশ পুরাণাদি রচনা করেও #মহর্ষি_বেদব্যাস শান্তি অনুভব করছিলেন না। #দেবর্ষি_নারদ প্রদত্ত বাসুদেব মন্ত্র এবং চতুঃশ্লোকীর প্রভাবে তিনি ধ্যানস্থ হলেন।ধ্যানে দর্শন করলেন লীলাপুরুষোত্তম শ্রীগোবিন্দের লীলাবিলাস। রচনা করলেন ভাগবত।বলা ভালো- #শ্রীমদ্ভাগবতম্ জগতে প্রকট হলেন ব্যাসদেবের মাধ্যমে। কিন্তু তিনি নিজে ভাগবত প্রকট করলেন অথচ সেই অমৃত জ্ঞান কাকে দেবেন? কে হবে সেই জ্ঞানের যোগ্য পাত্র?  ক্ষণার্ধ মায়াস্পর্শশূন্য পৃথিবীতে ব্যাসদেবের সন্তান রূপে এলেন #মহর্ষি_শুকদেব।..... পিতার কাছে ভাগবতী কথা শ্রবণ করে চললেন  অভিমুখে।কারণ তিনি আজন্ম মায়াস্পর্শলেশশূন্য।সংসার তাকে ধরে রাখতে পারবে না।

মহারাজ পরীক্ষিত যার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তিনি যদৃচ্ছাক্রমে চলে এলেন।এলেন আরো কত ঋষি মুনি। সবার মধ্যে মধ্যমণি হলেন মহারাজ পরীক্ষিৎ।না! এখন আর মহারাজ নন।রাজত্ব ছেড়ে এসেছেন অপার্থিব জগতে। (যেমনটা ভবিষ্যতে আসবেন দবীর খাস আর শাকর মল্লিক। মন্ত্রীত্ব ছেড়ে হবেন #রূপ_সনাতন।)তিনি আজ ঋষিতুল্য। তিনি আজ রাজর্ষি। #রাজর্ষি_পরীক্ষিৎ_আর_মহর্ষি_শুকদেবের সেই অমৃতময় কথোপকথন শুরু হল।
প্রশ্নকর্তা বিষ্ণুরাত।আর উত্তরদাতা ব্রহ্মরাত।আজ শ্রবন করবেন পরীক্ষিৎ আর কীর্ত্তন করবেন শুক।আজ সবার সামনে প্রকট হবেন শ্রীমদ্ভাগবতম্। নিখিল জগতের সবচেয়ে মহান কীর্তি- শ্রীমদ্ভাগবতম্। আজ সেই তিথি। যে তিথিতে পরীক্ষিত মহারাজ প্রায়োপবেশন পূর্বক সপ্তাহকাল ব্যাপী ভাগবত শ্রবন করেছিলেন আর বর্ণনা করেছিলেন শ্রীশুকদেব । 

#গ্রন্থরাজ_শ্রীমদ্ভাগবতম্ জয়যুক্ত হোন।
#মহর্ষি_ব্যাসদেব_ও_মহর্ষি_শুকদেব জয়যুক্ত হোন।
#রাজর্ষি_পরীক্ষিত জয়যুক্ত হোন।
আর যাঁর জন্য এই ভাগবত আজও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হৃদয়গ্রাহী হয়ে আছেন সেই - *#পূর্ণব্রহ্ম_মূর্তিমন্ত_ভাগবত_শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর জয়যুক্ত হোন।।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী দীপ বাগুই 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds