শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শ্রীবাস অঙ্গনে সঙ্কীর্তনের অভিষেক*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🍀শ্রীগৌরহরি ভক্তসঙ্গে বতর্মান সময়ে রজনী কীর্তনে যাপন করবার জন্য ভক্তগণকে বললেন, "নিশাকাল কেবল নিদ্রাতে যাপন না করে, এসো,আমরা সংকীর্তনেই নিশিকাল যাপন করি।গৌরাঙ্গের কথা শুনে ভক্তগণ পরমানন্দ লাভ করলেন।শ্রীগৌরাঙ্গের আদেশে সমস্ত ভক্তবৃন্দ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে,ভিন্ন ভিন্ন বাড়ীতে কীর্তন আরম্ভ করলেন।অবশেষে গৌরহরি বললেন,শ্রীবাস পন্ডিতের ভবনই সংকীর্তনের প্রধান স্থান নির্দিষ্ট হল।তারপর থেকে শ্রীবাসের ভবনেই মহোৎসাহে সংকীর্তন চলতে লাগিল।সমস্ত রাত্রি ভক্তগণ এমন প্রমত্তভাবে কীর্তন করতে লাগলেন যে,নবদ্বীপের অধিকাংশ লোক এই কীর্তন শুনতে আসিলেন।শ্রীবাসের গৃহের চারিদিকে লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যেতে লাগল।বিশ্বম্ভর গৃহদ্বার বন্ধ করে মহানন্দে কীর্তন করতে আরম্ভ করলেন।আবার অনেক শ্রবণকারী ভিতরে স্থান না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই কীর্তন শুনতে লাগলেন।সে সংকীর্তনের ধ্বনিতে যেন নবদ্বীপের চারিদিক বিকম্পিত হতে লাগল।*
*🙌কোন জায়গায় বা কোন দেশে নূতন কিছু ঘটনার সূচনা হলে,তার বিরুদ্ধে বহুলোক বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে।শ্রীচৈতন‍্যের এই সংকীর্তনের বিরুদ্ধেও এমন বহুলোক রুষ্ট হ'ল।শ্রীবাসের ভবনে নিশিকীর্তন শুনতে এসে অনেকে নানারকম অভিমত প্রকাশ করত। কেউ বলত,লোকগুলো কেন বৃথা চিৎকার করে,পরমেশ্বর তো হৃদয়েই রয়েছেন, কেউ বলত,নিমাই পন্ডিত ভাল লোক,এমন লোকটি বৈষ্ণবদের সঙ্গে পড়ে খারাপ হয়ে গেল, কেউ বা বলে, এদের উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই ভাল না, নিশিকালে দরজা বন্ধ করে সুরাপান ও কুকার্য‍্য করে থাকে।*
*☘অপরদিকে শ্রীগৌরহরি এমন প্রেমেতে বিভোর ; তাঁকে দেখলেই মনে হত যেন,ভগবান তাঁর হৃদয়-ক্ষেত্রে সর্বদা বিহার করছেন ; সংসারে বাস করে,কিভাবে এমনটি করতে পারেন? প্রকৃত সংসারী ব‍্যক্তি এত কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা হওয়া সত‍্যি সম্ভব না। কিন্তু শ্রীগৌরহরি অন্তর্য‍্যামী, লোকের অন্তরের কথা বুঝতে বা জানতে পেরে, নবদ্বীপে সংসারী লোকদের কাছে তাইই প্রকাশ করতে লাগলেন, জীবের একমাত্র কর্ম কৃষ্ণনাম কীর্তন করে মানব জীবনকে সফল করা।জীবকে উদ্ধার করবার জন্য তিনি,হরিরস পানে, ও সেই প্রেমময় ভগবানের রূপসাগরে সর্বদাই নিমগ্ন হয়ে থাকতেন, কারণ আপনি আচরি ধর্ম জীবকে শেখায়।ভগবানে কিভাবে বিভোর হতে হয়,শ্রীগৌরহরি ও অন‍্যান‍্য মহাত্মগণ তাইই দেখিয়ে গিয়েছেন*।
*🌺একদিন অতি প্রভাতকালে শ্রীগৌরসুন্দর নিত‍্যানন্দকে সঙ্গে করে শ্রীবাস ভবনে উপস্থিত হলেন।ক্রমে এক এককরে অনুগত ভক্তগণও এক এককরে সমবেত হতে লাগলেন।মধুরাতি মধুর শ্রীকৃষ্ণনাম হরিকীর্তনই ভক্তগণের জীবনের শ্রেষ্ঠ বলে মনে হল।সকলে মিলিত হলে, গৌরহরি কীর্তন আরম্ভ করতে বললেন,মহানন্দে সংকীর্তন আরম্ভ হল। কিছুক্ষণ পরে শ্রীগৌরাঙ্গ বিষ্ণু খট্টায় গিয়ে বসে বললেন--,আমাকে অভিষেক করো?এইকথা শোনামাত্র সকল ভক্তবৃন্দ তাঁর অভিষেকের আয়োজন করলেন।একশ আট কলস গঙ্গাজল উত্তম বস্ত্রে ছেঁকে,কর্পূরে সুবাসির করে,তাঁর মস্তকে ঢাললেন। ধূপ ধূনা, পুষ্প প্রভৃতি পূজোর উপকরণের দ্বারা, ভক্তগণ তাঁর শ্রীচরণ বন্দনা করলেন।বেদোক্ত মন্ত্র উচ্চারিত হল ও মুকুন্দাদি সুগায়কগণ অতীব মধুর স্বরে কীর্তন পরিবেশন করতে লাগলেন। অভিষেক কার্য‍্য সমাধা হলে,শ্রীগৌরাঙ্গ হাত পেতে বললেন, আমায় কিছু আহার দাও।এইকথা শোনামাত্রই ভক্তগণ কেহ দুগ্ধ,কেহ ক্ষীর,কেহ দধি, কেহ ফলমূল ইত্যাদি ভাল ভাল দ্রব‍্য এনে তাঁর সেবা দিলেন।আহারান্তে তিনি কীর্তন করতে লাগলেন।ভক্তবৃন্দ প্রেমোন্মত্ততার সঙ্গে কীর্তন করতে লাগলেন।সকাল হতে পরদিন সকাল পর্যন্ত এইভাবে শ্রীবাস অঙ্গনে উৎসব চলেছিল।*
*🍀আর একদিন শ্রীগৌরহরি বিষ্ণুখট্টায় বসে আছেন,এমন সময়ে তিনি এক নূতন ভাব ধারণ করলেন। তিনি তো স্বয়ং ভগবান, কিন্তু তিনি নররূপে এসেছেন বলিয়া অনেকেই তাঁর ভগবানত্ব বুঝতে পারতেন না। কিন্তু সেদিন গৌরভগবান সেসময় সেই পরমাত্মা পরমেশ্বরের মধ্যে অবস্থিতি করতে লাগলেন, তা গৌরহরির একান্ত কিছু অন্তরঙ্গ ভক্ত জানতে পারলেন।পরমবৈষ্ণবগণ মহাপ্রভুর শ্রীমুখমন্ডলে এক অপূর্ব জ‍্যোতিঃ দর্শন করে বিমুগ্ধ হয়ে ছিলেন। তখন গৌরহরি ভাবে বিভাবিত হয়ে, কিছু ভক্তের জীবনের কোন কোন অতীত ঘটনা বলতে লাগলেন, আবার কিছু ভক্তকে বরদান করলেন।শ্রীবাসকে ডেকে বললেন, শ্রীবাস! তোমার কি মনে পড়ে, একদিন তুমি দেবানন্দ পন্ডিতের কাছে ভাগবত শ্রবণ করে তুমি ভাবরসে পূর্ণ হয়ে কাঁদতে লাগলে ; দেবানন্দের শিষ‍্যগণ তোমার কান্নার ধ্বনি সহ‍্য করতে না পেরে তোমাকে ঘরের বাহির করে দিয়েছিল।তারপরেও তুমি সেই ভাগবতের সেই মধুর শ্লোক শুনে ব‍্যাকুল হয়ে উঠেছিলে।সেসময় তুমি হৃদয়ে যে ভগবৎ-প্রেমের আনন্দ অনুভব করেছিলে,কেন জান? আমি তখন তোমার হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলাম; আমিই তোমাকে সে-রসের রসিক করে কাঁদিয়ে ছিলাম।পরমভক্ত সহজ সরল শ্রীবাস এইকথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে ভূতলে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শ্রীবাস-অঙ্গনে সঙ্কীর্তনের অভিষেক*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীবাসের অঙ্গনে মহাপ্রকাশের সময় খোলা-বেচা শ্রীধরকে মহাপ্রভু ডাকতে লাগলেন।তিনি শ্রীধরকে বড় ভালবাসতেন।বাজারে গিয়ে কত সময় তার সঙ্গে হাস‍্য পরিহাস করতেন,আবার জিনিসপত্র কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিছু তামাশাও হত।শ্রীধর প্রকৃতই একজন ভক্ত, গৌরহরি শ্রীধরকে ডাকতে লাগলেন, বললেন, তার সময় এসেছে আমার স্বরূপ দর্শনের।এইকথা শোনা মাত্র ভক্তগণ ব‍্যস্ত হয়ে,তাকে শ্রীবাস অঙ্গনে আনবার জন্য গমন করলেন।তার পর্ণকুটীরে গিয়ে মহাপ্রভুর সমস্ত কথা বললেন।শ্রীধর আনন্দে পুলকিত হয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁদের সঙ্গে শ্রীবাস অঙ্গনে উপস্থিত হলেন।শ্রীধরকে দেখে গৌরহরি বললেন,শ্রীধর তুমি আমার অনেক আরাধনা করেছ।আমি তোমার খোলায় অন্ন ভক্ষণ করি।এইভাবে শ্রীধরের অনেক গুণের কথা উল্লেখ করলে শ্রীধর অতি লজ্জিত হয়ে বলল, প্রভু!আমি অতি সামান্য ব‍্যক্তি, আমি তোমার কি সেবা করতে পারি,তোমার সেবা করবার আমার কোন যোগ্যতা নাই।বৈষ্ণব গ্রন্থে পাওয়া যায়,গৌরহরি সেসময় শ্রীধরের সম্মুখে এক জ‍্যোতির্ময় মূর্তি ধারণ করেন,শ্রীধর সে অপূর্বমূর্তি দর্শন করে মূর্ছিত হয়ে পড়ল। ভক্তবৎসল গৌরহরি তখন ভক্তের হাত ধরে উঠিয়ে বললেন, তুমি স্তব করো?শ্রীধর বলল,আমি অজ্ঞ,তোমার স্তব করি,আমার এমন ক্ষমতা নাই।মহাপ্রভু তখন বললেন, তোমার এই বাক‍্যই আমার স্তুতি।তারপরে শ্রীধরের জিহ্বাগ্রে যেন সরস্বতী দেবী অবতীর্ণা হলেন।শ্রীধর তখন অতি সুমধুর স্বরে অনর্গলভাবে শ্রীগৌরাঙ্গদেবের স্তুতি করতে লাগলেন।সকল ভক্তগণ এই নিরক্ষর ব‍্যক্তির মুখ হতে লালিত‍্যপূর্ণ ভাষা শুনে অবাক হয়ে গেলেন।বন্দনা শেষ হলে,মহাপ্রভু বললেন,শ্রীধর,তুমি বর প্রার্থনা করো। শ্রীধর বলল,যে ব্রাহ্মণ বাজারে আমার নিকট হতে খোলা পাতা নিতেন,যাঁর সঙ্গে আমি কথা কাটাকাটি করতাম,তিনিই যেন জন্ম জন্মান্তরে আমার প্রভু হয়ে থাকেন। শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে পায়=*
*🌷"মাগ মাগ" পুনঃ বোলে বিশ্বম্ভর।*
*🌷শ্রীধর বোলয়ে প্রভু! দেহ এই বর।।*
*🌷যে ব্রাহ্মণ কাড়িলেক মোর খোলা পাত।*
*🌷সে ব্রাহ্মণ হউ মোর জন্মে জন্মে নাথ।।*
*🌷যে ব্রাহ্মণ মোর সঙ্গে করিল কোন্দল।*
*🌷মোর প্রভু হউ তান চরণ যুগল।।*
*☘তখন মহাপ্রভু বললেন, শ্রীধর!আমি তোমাকে এক রাজ‍্যের রাজা করে দিতে ইচ্ছা করি।মহাপ্রভুর কথার উত্তরে,অনুগত ভক্ত বললেন,প্রভো!আমি আর কিছুই প্রার্থনা করি না,আমি যেন চিরদিন তোমার নাম-গান করে জীবন কাটাতে পারি।*
*☘শ্রীধরের সহিত কথোপকথনের পর,শ্রীমন্মহাপ্রভু মুরারি গুপ্তের নিকট শ্রীরামচন্দ্ররূপে প্রকাশিত হন।বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ বলেন,মুরারী দেখলেন, শ্রীবিশ্বম্ভর নবদূর্বাদল শ‍্যামরূপে বীরাসনে (যোগশাস্ত্র প্রণালী অনুসারে ডান ও বাঁ পদ যথাক্রমে বাঁ ও ডান ঊরুর উপর রেখে বসার ভঙ্গীকে বীরাসন বলে)ধনুর্বাণ নিয়ে বসে রয়েছেন। বামেতে জানকী ও দক্ষিণে লক্ষ্মণ শোভা পাচ্ছেন।বানরগণ সিংহাসনের চারিদিকে বসে স্তুতি করছে।এই দৃশ্য দেখে গৌরহরির বাল‍্য-সহচর মুরারি গুপ্ত ভাবাবেশে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।বিশ্বম্ভর তারপর মুরারির হাত ধরে বললেন উঠ! উঠ মুরারি!বলে মাটি হতে তুলে বললেন, মুরারি তুমি বর প্রার্থনা করো।তখন মুরারি বললেন, প্রভু! আর কোন বর প্রার্থনা করি না, যেন চিরদিন তব গুণানুকীর্তনে জীবন অতিবাহিত করতে পারি,আর জন্ম জন্মান্তরে যেন প্রভু তোমরই দাস হয়ে থাকতে পারি, এই বর দাও। মহাপ্রভু মুরারির এই প্রার্থনায় অতীব তুষ্ট হয়ে, বললেন, তোমার মনোবাঞ্জা পূর্ণ হোক।মুরারি তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)    শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *শ্রীগৌরাঙ্গের অভিষেক*
           ^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*
*🍀ভক্ত হরিদাস শ্রীগৌরাঙ্গের বড়ই প্রিয় ছিলেন।মহাপ্রভু তাই ভক্তকে ডেকে বললেন,তুমি আমার প্রাণাপেক্ষাও প্রিয়তর,তোমার যে জাতি,আমারও সেই জাতি। শোন হরিদাস! যখন যবনেরা  তোমার প্রতি অত‍্যন্ত অত‍্যাচার করছিল,তখন আমার মনে হয়েছিল,আমার চক্র দ্বারা ঐ যবনগুলির শিরচ্ছেদ করি, কিন্তু তুমি যখন এত নির্য‍্যাতনের মধ্যেও চরম ধৈর্য‍্যসহকারে অন্তরে তাদেরই মঙ্গল কামনা করছিলে,তখন আমি যবনদের বধসাধনের সঙ্কল্প হতে বিরত হলাম, এবং অসহনীয় প্রহারের মধ্যেও তোমাকে আমি রক্ষা করলাম।দেখ হরিদাস! এখনো হয়ত তোমার সেই চাবুকের আঘাত আমার পশ্চাৎদেশে দেখতে পাবে। হরিদাস মহাপ্রভুর এইসব কথা শুনে নয়নজলে বক্ষ ভাসাতে লাগলেন। গৌর ভগবান বললেন,"তুমি আমার নিকট কিছু বর প্রার্থনা কর"।হরিদাস বললেন, হে পতিতপাবন করুণাময় রক্ষাকর্তা গৌরহরি!আমি নির্গুণ, সকল জাতির অধম, আমাকে স্পর্শ করলে লোকে স্নান করে শুদ্ধ হয়,আমি তোমার মহিমার কথা কিভাবে ব‍্যাখ‍্যা করব, আমাকে কৃপা করে এই বর দাও, আমি যেন তোমার ভক্তদের দাস হয়ে তাঁদের উচ্ছিষ্ট অন্নে এ জীবন ধারণ করতে পারি।*
*😁গৌরসুন্দর হেসে বললেন, হরিদাস! তুমি আমার প্রাণ অপেক্ষাও প্রিয়তর,তোমার সঙ্গে মানুষ তিলার্দ্ধ বাস করলে,সেও সাধুত্ব লাভ করবে।আমি তোমার শরীরে সদাসর্বদা বিরাজিত।যে তোমাকে শ্রদ্ধা করে,সে ব‍্যক্তি আমাকেও শ্রদ্ধা করে থাকে।*
*🌷প্রভু বোলে,শুন শুন মোর হরিদাস।*
*🌷দিবসেকো তোমা সঙ্গে কৈল যেই বাস।।*
*🌷তিলার্দ্ধেকো তুমি যার সঙ্গে কহ কথা।*
*🌷সে অবশ‍্য আমা পাইব,নাহিক অন‍্যথা।।*
*🌷তোমারে যে করে শ্রদ্ধা, সে করে আমারে।*
*🌷নিরন্তর আছি আমি তোমার শরীরে।।চৈঃভাঃ।।*
*🍀 শ্রীগৌরসুন্দর নামাচার্য‍্য হরিদাসের ভগবদ্ভক্তি দেখে তাঁকে কি উচ্চ আসনে বসালেন।কুল মান অপেক্ষা সাধুতা ও ঐকান্তিক ঈশ্বর-প্রেম যে সর্বোপরি, শ্রীচৈতন‍্যদেব এই বঙ্গদেশে তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করে গিয়েছেন।সৎকুলোদ্ভব পন্ডিতশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ-তনয় বিশ্বম্ভর,নিরক্ষর ও সমাজের হীন জাতিদের সঙ্গে মিলিত হয়ে, যেভাবে প্রেমের ও ভক্তির ঘোষণা করে গিয়েছেন,তা হৃদয়পটে অঙ্কিত করলে,মনে হয়, সাম‍্য ও প্রেমরাজ‍্যের ছবি তিনিই আমাদের সামনে অতি উজ্জ্বলভাবে ধরিয়ে গিয়েছেন।যবনে পালিত হরিদাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিলিত হয়ে ও তাঁকে বৈষ্ণবভক্ত পরিবারের মধ্যে স্থান দান করেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবের এই উদারতা,কি অমায়িক ও ভক্তিমার্গের কি মহৎ দৃষ্টান্তেরই পরিচয় দান করে গিয়েছেন।*
*🌹ভক্তকবি ও শ্রীগৌরাঙ্গলীলার শ্রেষ্ঠতম লেখক শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর,নামাচার্য‍্য হরিদাসের প্রতি শ্রীগৌরসুন্দরের অনুরক্তি দেখে, বলেছেন=*
*🌷জাতি কুল ক্রিয়া ধনে কিছু নাহি করে।*
*🌷প্রেমধন আর্ত্তি বিনে না পাই কৃষ্ণেরে।।*
*🌷যে-তে-কুলে বৈষ্ণবের জন্ম কেনে নহে।*
*🌷তথাপিহ সর্বোত্তম-- সর্ব শাস্ত্র কহে।।*
*🌷এই তার প্রমাণ যবন হরিদাস।*
*🌷ব্রহ্মাদির দুর্লভ দেখিল পরকাশ।।*
*🌷যে পাপিষ্ঠ বৈষ্ণবের জাতি বুদ্ধি করে।*
*🌷জন্ম জন্ম অধম-যোনিতে ডুবে মরে।।*
*শ্রীগৌরসুন্দর যখন বিষ্ণুখট্টায় বসে থাকেন,তখন নিত‍্যানন্দ তাঁর মস্তকোপরি ছত্র ধরে থাকেন।কোন কোন অন্তরঙ্গ ভক্ত চামর ব‍্যজন করেন।তাঁর পদতলে কত ভক্ত গড়াগড়ি করেন।কত কত ভক্তগণ দেহ-মন-প্রাণ এককরে পুষ্প তাঁর শ্রীচরণ নিবেদন করেন।তখন যেন শ্রীবাসের অঙ্গন মনে হয় না, সেই দৃশ্য দেখে মনে হয় কোন দেবলোকে বসে আছেন।যাইহোক,গৌরহরি অদ্বৈতাচার্য‍্যকে বললেন,আচার্য‍্য, তুমি  একদিন গীতার একটি শ্লোকের প্রকৃত অর্থ বুঝতে না পেরে,অনাহারে শয‍্যায় শয়ন করেছিলে ; আমি তোমার দুঃখে ব‍্যথিত হয়ে স্বপ্নে তোমার নিকট প্রকাশিত হলাম, এবং শ্লোকের অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে,তোমাকে শয‍্যা ত‍্যাগ করতে ও আহার করতে বলেছিলাম।আমি যখন অবতার-রূপ ধারণ করি নাই,তখন তুমি আমাকে বৈকুন্ঠ হতে আনবার জন্য কত প্রার্থনা করেছ, এবং সময়ে সময়ে কাতর প্রাণে, অভীষ্ট সিদ্ধির জন্য অনাহারে দিন যাপন করেছ।তোমার প্রার্থনাতেই আমি বৈকুন্ঠ পরিত‍্যাগ করে, নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়েছি।মহাপ্রভুর শ্রীমুখ হতে অদ্বৈত নিজ জীবনের এসব গূঢ় কথা শুনে, আকুল হয়ে কাঁদতে লাগলেন, আর বিনীতভাবে বললেন,তুমি আমার জীবনের প্রভু, এই আমার পরম সৌভাগ্য।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *শ্রীগৌরাঙ্গের অভিষেক*
        *************************
*🍀এই মহানন্দের দিনে বিশ্বম্ভর যখন এক এককরে অনেকেরই মনের কথা বলছেন, আবার অনেকেই বরদান করছেন।তখন সেই সময় শ্রীমন্মহাপ্রভুর আশেপাশেই ছিলেন।সকলকে ডাকছেন কিন্তু মুকুন্দ ডাকছেন না।শ্রীবাস দেখলেন,মহাপ্রভু তাঁর সম্বন্ধে কোন কথায় বলছেন না, তখন শ্রীবাস পন্ডিত মহাপ্রভুকে বললেন, প্রভো! মুকুন্দ কি অপরাধ করেছে যে,তাঁর সম্বন্ধে তুমি কোন কথায় বলছ না?মুকুন্দ একজন সুগায়ক,মধুর কীর্তনে তোমার চিত্ত বহুসময় মুগ্ধ করেছে।শ্রীবাসের কথা শুনে মহাপ্রভু বললেন, মুকুন্দের অনেক দোষ আছে, প্রধান দোষ এই, মুকুন্দ যখন যেখানে থাকে, তখন সেই ভাবেই নিজেকে প্রকাশ করে।যখন অদ্বৈতের সভায় থাকে, তখন ভক্তির শ্রেষ্ঠতা প্রকাশ করে, আবার যখন অন‍্য কোন সভায় যায়,তখন তাদের মতানুসারেই নিজের মত প্রকাশ করে, এইজন‍্য সে আমার কৃপালাভে বঞ্চিত থাকবে।*
*🍀যখন মহাপ্রভু এই কথাগুলি বলছিলেন, তখন মুকুন্দ পার্শ্বের গৃহে বসে সব কথা শুনছিলেন, যে তিনি মহাপ্রভুর কৃপালাভ হতে বঞ্চিত থাকবেন, তখন মুকুন্দ বাইরে এসে অঝোর নয়নে ক্রন্দন করতে করতে শ্রীবাসকে বললেন," যদি মহাপ্রভুর কৃপালাভ না পাই, তাহলে এ জীবন ধারণে লাভ কী? গৌরহরি মুকুন্দের হৃদয়ের এই কষ্টের কথা শুনে বললেন, মুকুন্দ আমার কৃপালাভ পাবে, তবে কোটি জন্ম পরে।মুকুন্দ যখন শুনলেন যে,কোটি জন্ম পরে আমি মহাপ্রভুর কৃপালাভ করতে পারব,তখন তিনি আনন্দে উন্মত্তের মতো দুইটি বাহু তুলে নৃত্য করতে করতে বলতে লাগলেন, যাক তবে কোটি জন্ম পরে মহাপ্রভুর কৃপাদর্শন লাভ পাব। শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলছেন=*
*🌷প্রভু বোলে,আর যদি কোটি জন্ম হয়।*
*🌷 তবে মোর দরশন পাইবে নিশ্চয়।*
*🌷শুনিল "নিশ্চয় প্রাপ্তি" প্রভুর শ্রীমুখে।*
*🌷মুকুন্দ নিশ্চিত হইলা পরমানন্দ সুখে।।*
*🌷"পাইব পাইব" বলি করে মহানৃত‍্য।*
*🌷আনন্দে বিহ্বল হৈলা চৈতন‍্যের ভৃত‍্য।।*
*🌻মুকুন্দ দত্তের মহাপ্রভুর প্রতি কি অচলা বিশ্বাসই ছিল।ভাবলেও প্রাণ আনন্দে পুলকিত হয়।কোটি জন্ম পরে মুকুন্দ মহাপ্রভুর কৃপাদর্শন লাভ করবেন, এই আশাতেই পাব পাব বলে,মহানন্দে নৃত্য করেছিলেন।ভক্তগণ এইরকম আশা ও বিশ্বাসেই হৃদয়ে পরমানন্দ লাভ করে থাকেন।*
*☘ মহাপ্রভু যখন শ্রীবাসের বিষ্ণুখট্টায় বসেন,তখন তিনি এক নূতন নূতন ভাবে বিভাবিত হন।যখন যে যে ভাবে বিভাবিত হন, তখন বৈষ্ণবকবিগণ সেই সেই ভাবের কথা তাঁরা লিপিবদ্ধ করে রাখেন, পরবর্তী ভক্তদের অনুপ্রাণিত করবার জন্য। আর সাধারণ মানুষ যখন সংসারের স্বাথাপরতা, নীচতা ও প্রবৃত্তির শৃঙ্খল উন্মোচন করে ভগবৎপ্রেমের উচ্চতর শিখরে অধিরোহণ করেন,তখন তাঁর বাহ‍্য আকারের মধ্যেও এক পরিবর্তন উপস্থিত হয়।অন্তরের ভাবই মুখ প্রকাশ করে থাকে।যাইহোক, শ্রীবাসের গৃহেতে শ্রীমন্মহাপ্রভু যেদিন মুরারি গুপ্তের কাছে শ্রীরামচন্দ্ররূপে প্রকাশিত হয়েছিলেন, মুরারি গুপ্ত রামাবতাররূপে সেদিন গৌরহরিকে দর্শন করেছিলেন। জগতের পরমাত্মা যিনি,তাঁর কাছে ভূত-ভবিষ‍্যৎ সকলই সমান,তাঁর অনুগত ভক্তগণ যে কিয়ৎ পরিমাণে সেই মহাশক্তির প্রভাবে মানবের অতীত ও ভবিষ্যৎ কার্য‍্যাবলী দর্শনে সমর্থ হবেন, ইহা আর বিচিত্র কি?*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য গৌরহরি*
    *জগাই--মাধাই--উদ্ধার*
*********************************
*🍀শ্রীবাস অঙ্গনে সংকীর্তনের প্রভাবে নবদ্বীপের বহুলোক তাঁর দিকে আকৃষ্ট হতে লাগিল।তাঁর ভক্ত সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পেতে লাগিল। গৌরসুন্দর উচ-নীচ নির্বিচারে সকল শ্রেণীর লোকের মধ্যেই হরিনাম বিতরণ করতে লাগলেন।পূর্বে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ,বৈদ‍্য প্রভৃতি কয়েকটি বিশিষ্ট উচ্চ বর্ণের লোকেরা অন‍্যান‍্য জাতিকে পদদলিত করে রেখেছিলেন, এখন সেইসব নিচু শ্রেণীর লোকেরা কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে,শ্রীগৌসুন্দরের দলভুক্ত হয়ে যেন মুক্ত বায়ুর মধ্যে বিচরণ করতে লাগিল।নবদ্বীপে নবদ্বীপচন্দ্রের ভক্তগণ এই ঘোষণা করলেন "হরিভক্তই ব্রাহ্মণ ", এই জন্যই কথাকথিত যবন হরিদাস গৌরাঙ্গের ভক্তদের কাছে প্রণম‍্য হয়েছিলেন।মহাপ্রভুর উদার ধর্মমত জাতিভেদের গন্ডী ভেঙ্গে ফেলল, আর কঠিন বন্ধন ছিন্ন করে ফেলল।*
*🌹ধর্মপ্রচারের জন্য বিশিষ্ট ভক্তের আবশ‍্যক।গৌরহরি এটি বেশ প্রত‍্যয় করেছিলেন।এমন মধুর হরিনাম,লোকের দ্বারে দ্বারে ঘোষণা না করলে,জীবের কিভাবে পরিত্রাণ হবে,লোকের সংসার জ্বালা কিভাবে নিবারিত হবে, এইসব চিন্তা করে, তিনি একদিন নিত‍্যানন্দ ও হরিদাসকে ডেকে বললেন, তোমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গমন করে হরিনামের মহিমা কীর্তন করবে ; এবং সমস্ত দিনের পর সন্ধ‍্যাকালে আমার কাছে এসে তার বৃত্তান্ত জানাবে।তাঁরা অবনত মস্তকে শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশ শিরোধার্য‍্য করে,হরিনামের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য নবদ্বীপে মানুষের দ্বারে দ্বারে গমন করতে লাগলেন।তাঁদের রসনা হতে এইকথা উচ্চারিত হতে লাগল, "ভাই কৃষ্ণনাম কর, ও তাঁর মধুর তত্ত্ব শিক্ষা করে সুদুর্লভ মানব জনম ধন‍্য কর"।*
*🌳সমাজের মধ্যে যখন ধর্মের নূতন প্রথা প্রবর্তিত হয়,তখন সেই ধর্মের প্রচারকেরা দেশের মানুষের কাছ হতে অনেক জায়গায় সদ্ ব‍্যবহার পান না। অবধূত নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস যখন নবদ্বীপের লোকেদের "হরি-প্রেমে " অনুরাগী করবার জন্য যত্নশীল হলেন, তখন তাঁদের কন্ঠনিঃসৃত মধুর হরিনাম ও হরিকথা শুনে কেউ বা পরম আনন্দ লাভ করিল, আবার কেউ বা তাঁদের হরিকথা বা হরিনাম প্রচারে সন্তুষ্ট না হয়ে বলত, তোমরা পাগল হয়েছ, আমাদেরকেও পাগল করতে চাও না কি? অনেকেই বলতে লাগল,নিমাই পন্ডিত নিজেও পাগল হয়েছে,তারসঙ্গে এই লোকগুলোকেও পাগল করে তুলেছে।যার যা মনে আসিত সে তাইই বলত,কেউ কেউ বলতে লাগল,এরা অন‍্যের দ্রব্র চুরির করবার মানসে এইভাবে লোকের বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়ায় ; এদের দুইজনকে ধরে দেশের শাসনকর্তার হাতে দেওয়া উচিত।এমন কিছু নাস্তিক মানুষ ছিল যে, নিত‍্যানন্দ ও হরিদাসের হরিনাম প্রচার কাজে এতই অসন্তুষ্ট হয়েছিল যে, হরিদাস ও নিত‍্যানন্দ তাদের বাড়ীতে গমন করলে, "মার মার" বলে নিজের গৃহ হতে বাহির করে দিত।*
*গৌরহরির নিরীহ ভক্তগণ,এইভাবে নগরের দরজায় দরজায় ঘুরে ঘুরে,নরনারীগণকে ভক্তির পথে আনবার জন্য ভীষণ চেষ্টা করতেন। আর তার পরিবর্তে মানুষের গ্লানি ও অত‍্যাচার মস্তকে বহন করে, দিনমণি অস্তাচলগামী হলে, শচীদেবীর ভবনে আগমন করে,শ্রীমন্মহাপ্রভুর কাছে সারাদিনের সকল ঘটনা বর্ণনা করতেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)  শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য শ্রীগৌর*
         *জগাই---মাধাই উদ্ধার*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀নবদ্বীপে কোন ব্রাহ্মণ বংশে ব্রাহ্মণকুল কলঙ্ক স্বরূপ দুইটি পুত্র জন্মগ্রহণ করে।এদের নাম জগাই ও মাধাই। এদের দোর্দন্ড প্রতাপের কাছে নদীয়াবাসী মস্তক অবনত করে থাকত।এরা নরনারীর উপর নিষ্ঠুর ও অমানুষিক ব‍্যবহার করলেও কেউ এদেরকে শাসন করার জন্য এগোতে সাহসী হত না। এরা অর্থবলে রাজকর্মচারীদেরকেও বশীভূত করে ফেলেছিল।সহজেই, রাজদন্ডের হাত হতেও এরা মুক্তিলাভ করেছিল।এই দুই ভাই যেন নৃশংস অত‍্যাচারী রাজার মতই নবদ্বীপে বাস করত। সব থেকে বড় কথা এই যে,মনুষ‍্য বিগর্হিত সব রকম কদর্য‍্য কাজে নিজেদেরকে লিপ্ত করেছিল।শোনা যায় যে কংস যেমন ছিল, কলিকালে এই জগাই মাধাই ঠিক সেইরকম কার্য‍্য করত।সুরাপান,পরস্ত্রী হরণ,সকল মানুষের প্রতি অত‍্যাচার তাদের যেন জীবনের ব্রতস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই দুরন্ত দুই ভাইয়ের অমানুষিক ব‍্যবহারে গ্রামের লোকদের শান্তিতে বাস করা দায় হয়ে গিয়েছিল।সময় অসময় কোন ঠিক ঠিকানা ছিল না,সুরাপানে বিভোর হয়ে পথিমধ‍্যে পড়ে থাকত।কখন মাদকের নেশায় পাগলের মত,দুই ভাই পরস্পর দ্বন্দ্বে রত হয়ে পরস্পরকে প্রহার করত। কখনও বা এই মত্ততার অবস্থায় পথের লোকদেরকে পশুর ন‍্যায় আক্রমণ করে, তাদেরকে নির্য‍্যাতন করত।এই দুই ভাইয়ের দুরন্ত ব‍্যবহারের কথা চারিদিকে রাষ্ট্র হয়ে পড়েছিল।*
*🍀একদিন নিতাইচাঁদ ও নামাচার্য‍্য হরিদাস হরিনাম বিতরণের জন্য পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন,এমন সময়ে তাঁরা দেখতে পেলেন এই দুই ভাই সুরাপান করে অচেতনপ্রায় হয়ে পড়ে আছে। নিত‍্যানন্দ পথ চলা মানুষের কাছে এদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, সকলেই এদের চরিত্রের বিষয় বিশেষ ভাবে বললেন।সকলেই যেন একবাক‍্যে ভ্রাতৃদ্বয়ের পরিচয়ে এই কথা প্রকাশ করল যে,পৃথিবীতে যত রকম পাপকাজ আছে সবকিছুই এই দুই ভাইয়ের মধ্যে পরিপূর্ণ।*
*🌻নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস সব কথায় শুনলেন। প্রেমার্দ্র হৃদয় নিতাইচাঁদ জগাই ও মাধাইয়ের কল‍্যাণের জন্য বড় ব‍্যাকুল হয়ে উঠিলেন। আমার নিতাইচাঁদ যে পরিত্রাণদাতা, হরিনাম লোককে দিবার জন্য পথে বাহির হয়েছেন, কিন্তু সেই হরিনামে কি পাপিষ্ঠ জগাই মাধাই পরিত্রাণ লাভ করবে না?নিতাইচাঁদের প্রাণে এই চিন্তা উদিত হল। তিনি দেখলেন,একমাত্র হরিনামেই সকলি সম্ভব। (আমি সকল ভক্ত পাঠকের কাছে বিনীত নিবেদন করি, আপনারা "হরিনামামৃত সিন্ধু " নামক একটি গ্রন্থ  আছে অবশ‍্যই পাঠ করবেন)। নিত‍্যানন্দ বলছেন, এছাড়াও মহাপ্রভুর আদেশ,সকলেরই কাছে গিয়ে হরিনামের মাহাত্ম্য কীর্তন করতে হবে।এই সব কারণে তিনি আর নিরস্ত থাকতে পারলেন না।*
*🍀অবশেষে নিতাইচাঁদ ও হরিদাস উভয়ে এই পশুসম, সুরাপানোন্মত্ত ভূতলশায়ী জগাই মাধাইয়ের কাছে গেলেন।পূর্বেই তাদের কি চরিত্র বলা হয়েছে, এবং পথের বহু লোক তাঁদের ঐ দুরন্ত দুইভাইয়ের কাছে যেতে বারণ করেছিল। তাদের কাছে গেলে হয়ত, কোন অনিষ্ট ঘটতে পারে, এইরকম কিছু কথা নিত‍্যানন্দ হরিদাসকে বলেছিলেন।*
*🌹কিন্তু হরিনামে উন্মত্ত দুইজন নিতাইচাঁদ ও হরিদাস জগাই মাধাইকে হরিনামের সুরা পান করাবার জন্য ব‍্যাকুল চিত্তে তাদের কাছে গিয়ে বললেন, "ভাই!একটিবার কৃষ্ণনাম বলো, তাঁকে একটিবার স্মরণ কর", তাঁকে ভাল করে একবার জানতে ইচ্ছে কর,কারণ সেই কৃষ্ণই আমাদের পিতা-মাতা,প্রাণ-ধন-মন সব কিছুই।*
*🌷তথাপিহ দুই জন "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলি।*
*🌷নিকটে চলিলা,দোঁহে মহা-কুতূহলী।।*
*🌷শুনিবারে পায় হেন নিকটে থাকিয়া।*
*🌷কহেন প্রভুর আজ্ঞা ডাকিয়া ডাকিয়া।।*
*🌷বোল কৃষ্ণ,ভজ কৃষ্ণ,লহ কৃষ্ণ নাম।*
*🌷কৃষ্ণ পিতা,কৃষ্ণ মাতা,কৃষ্ণ প্রাণ ধন।।শ্রীচৈঃভাঃ।।*
*🌺জগাই মাধাইয়ের কানে কৃষ্ণনাম কথা প্রবেশ করামাত্র তারা ধীরে ধীরে চোখ খুলে সন্ন‍্যাসীদ্বয়কে দেখে কোন রকমে মাটি থেকে উঠল।ক্রোধে জগাই মাধাইয়ের দুই চক্ষু রক্তবর্ণ হয়ে উঠল, এবং "মার মার" শব্দে তাঁদের ধরতে উদ‍্যত হল।তাদের তর্জন গর্জনে ভীত হয়ে নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস ভয়ে দৌড়াতে আরম্ভ করলেন।জগাই মাধাইও কোনরকমে তাঁদের পেছন ধাওয়া করল। পথের কিছু মানুষ তখন বলল, আমাদের কথা শুনলে আজ এই অবস্থা সন্ন‍্যাসীদের হত না! এদিকে নিতাইচাঁদ ও হরিদাস উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ পর্যন্ত গৌরহরির বাড়ীতে এসে উপস্থিত হলেন, এবং নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করে পরস্পর কোলাকুলি করে আনন্দ প্রকাশ করতে লাগলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🦚🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
          *জগাই--মাধাই উদ্ধার*
         ************************
*🍀সন্ধ‍্যা সমাগত।নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস শ্রীগৌরসন্দরের কাছে জগাই মাধাইয়ের সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন।দুষ্ট দুই ভাই তাঁদের আক্রমণ করতে উদ‍্যত হয়েছিল শুনে তিনি ক্রোধ প্রকাশ করাতে, নিতাইচাঁদ বললেন, প্রভো! যদি এই পাতকীরা হরিনামে উদ্ধার হয় তাহলে বুঝব, তোমার নাম "পাতকী-পাবন"।তখন বিশ্বম্ভর মৃদু হেসে বললেন, "যাদের জন্য তুমি এত চিন্তা করছ,শ্রীকৃষ্ণ অচিরাৎ তাদেরকে উদ্ধার করবেন। (আমি আরেকটি গ্রন্থ পাঠ করে পেয়েছিলাম, মহাপ্রভু বলেছিলেন, শ্রীপাদ!তুমি যখন বলছ উদ্ধার করতে হবে, তার মানে দুষ্ট জগাই মাধাই উদ্ধার হয়েই গেছে)।শ্রীগৌরাঙ্গের প্রমুখাৎ আশাপ্রদ এই মধুর বাণী শুনে,সমবেত ভক্তমন্ডলী হরিধ্বনি করে উঠিলেন।*
*🌺দুরন্ত দুই ভাই জগাই মাধাইকে, পাপের হাত থেকে উদ্ধার করে,হরিপ্রেমে মাতোয়ারা করাই নিত‍্যানন্দের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল। তিনি একদিন নবদ্বীপের নানা জায়গা ভ্রমণ করে, নিশাকালে গৃহাভিমুখে যাবার সময় জগাই মাধাইয়ের কাছে উপস্থিত হলেন।তারা তাঁর পদধ্বনি শুনে, কেরে,কেরে, বলে চিৎকার করে উঠিল।নিত‍্যানন্দ বললেন, আমি অবধূত নিত‍্যানন্দ।এই কথা শুনামাত্র জগাই এক ভাঙ্গা কলসীর কানা নিয়ে,সজোরে আঘাত করিল।নিত‍্যানন্দের ললাটে লেগে,দরদরিতধারে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল।বিনা কারণে মাধাই সন্ন‍্যাসীকে প্রহার করিল দেখে,জগাই কিন্তু কিছু মর্মাহত হল, এবং ভাইকে বলল, বিদেশী সন্ন‍্যাসীকে মেরে তুমি বড় নিষ্ঠুরের কাজ করলে!সন্ন‍্যাসীকে মেরে তোমার কি লাভ হল?সহিষ্ণুতার অবতার নিতাইচাঁদ রুধির প্লাবিত অঙ্গে স্থিরচিত্তে দাঁড়িয়ে থেকে পতিতপাবন দয়াময় হরিকে স্মরণ করতে লাগলেন।*
*🌹নিত‍্যানন্দকে জগাই মাধাই প্রহার করেছে, এই সংবাদ কর্ণগোচর হলে, তিনি তৎক্ষণাৎ সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ঘটনার স্থলে উপনীত হয়ে দেখলেন, তাঁর প্রিয়তম ভক্ত নিত‍্যানন্দের কপাল হতে রক্ত নির্গত হয়ে তাঁর সমস্ত অঙ্গকে ভিজিয়ে ফেলেছে।গৌরহরি আঘাতকারীকে বিনাশ করবার জন্য "চক্র চক্র" বলে চিৎকার করে উঠিলেন।নিতাইচাঁদ গৌরহরির ক্রোধ দেখে তাঁর চরণে পড়ে বললেন, প্রভো!তুমি যদি সুদর্শন চক্রের দ্বারা এদেরকে বিনাশ কর, তাহলে তোমার নামে কলঙ্ক হবে।হরিনামে যে মহাপাতকী তরে,তুমি আজ তাই দেখিয়ে,তোমার পতিতপাবন নামের কীর্তি রক্ষা কর।*
*তাই শ্রীচৈতন‍্য-মঙ্গলে শ্রীলোচনদাস বলেছেন=*
*🌷সুদর্শন দেখি নিত‍্যানন্দ প্রভু হাসে।*
*🌷কি করিল ভগবান ঐশ্বর্য‍্য প্রকাশে।।*
*🌷করুণাতে উদ্ধার করিব ত্রিভুবন।*
*🌷দীন হীন পতিত পামর দুষ্ট মন।।*
*🌷জগাই মাধাই তরি' দীনবন্ধু হব।*
*🌷পতিতপাবন নামের গরিমা রাখিব।।*
*🌷ইহা বলি নিত‍্যানন্দ চরণে ধরিয়া।*
*🌷কহিলেন প্রভু-পাদে বিনয় করিয়া।।*
*🌷এ দুই পতিত প্রভু মোরে কর দান।*
*🌷পতিতপাবন-নাম থাকুক ব‍্যাখ‍্যান।।*
*🌻তারপর নিতাইচাঁদ গৌরসুন্দরকে বললেন,প্রভু! দুই ভাইয়ের মধ্যে একভাই(জগাই) আমাকে রক্ষা করেছে, নতুবা মাধাই আমাকে আরো মারবার জন্য উদ‍্যত হয়েছিল।তখন গৌরহরি জগাইকে প্রেমালিঙ্গন দিয়ে, তাকে আশীর্বাদ করলেন।জগাই করুণাময় গৌরহরির প্রেমালিঙ্গনে যেন নবজীবন লাভ করল।দুই ভাইয়ের হৃদয় মনের অবস্থা প্রায় এক রকমেরই ছিল। একজনের পরিবর্তনে অপরের হৃদয়ের অবস্থাও পরিবর্তিত হয়ে গেল।মাধাই নিজকৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিত‍্যানন্দের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল।নিতাইচাঁদ নিজ দুইবাহু দ্বারা মাধাইকে জড়িয়ে ধরলেন।নিমেষের মধ্যে ভগবান যেন উভয়ের মধ্যে ঐন্দ্রজালিক কার্য‍্য সম্পন্ন করলেন।দুই ভাইয়ের অনুতাপ দেখে শ্রীগৌরহরি বললেন, "আর তোমরা পাপ কাজ করে জীবন কলুষিত করিও না।*
*🍀পরমভক্তচূড়ামণি গৌরসুন্দর তারপরে দুইভাইকে নিজ ভবনে নিয়ে যেতে বললেন।জগাই মাধাই সেখানে উপস্থিত হলে,কীর্তন আরম্ভ হল।ভক্তদের মুখনিঃসৃত হরিনামের ধ্বনিতে দুইভাইয়ের কর্ণকুহরে যেন "সুধা" বর্ষিত হতে লাগল ; হরিনামের সুধারসে তাদের প্রাণ যেন শীতল হয়ে গেল,ভাবের আবেগে তাদের শরীর কাঁপতে লাগিল,চক্ষু হতে বারিধারা বহিতে লাগিল।তারা সুমধুর হরিনাম রসনায় উচ্চারণ করতে করতে ভাবে বিভোর হয়ে ধূলায় লুন্ঠিত হতে লাগল।ভ্রাতৃদ্বয়ের অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে পতিতপাবন গৌরহরি বললেন,এরা অদ‍্য হতে আমার সেবক হল।তিনি তারপর ভূলুণ্ঠিত দুই ভাইয়ের হাত ধরে তুললেন।তাঁরা কাঁদতে কাঁদতে সকল বৈষ্ণবগণের চরণে লুন্ঠিত হয়ে,তাঁদের পদরেণু গ্রহণ করতে লাগলেন।*
*উপস্থিত সকল বৈষ্ণবগণ জগাই মাধাইকে আশীর্বাদ করলেন।কিছুক্ষণ পূর্বে যারা হিংস্রজন্তুসম হয়ে পথে বিচরণ করছিল,ক্ষণকালের মধ্যে তাদেরকে কি অপূর্ব পরিবর্তন! শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে পায়=*
*সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়।*
*লবমাত্র সাধুসঙ্গ সর্বসিদ্ধি হয়।।*
*🌹তাঁরা শ্রীচৈতন‍্যের অনুগত শিষ্য হয়ে,আজীবন হরিগুণ কীর্তনে রসনাকে নিয়োগ করেছিলেন, এবং দীনতা, শ্রদ্ধা,প্রেম ও বৈরাগ‍্যের পথ অনুসরণ করে,জীবনকে অনুপাম ধর্মের সৌন্দর্য্যে বিভূষিত করেছিলেন।*
*☘জগাই মাধাই তারপর সকালে জাহ্নবীর জলে স্নান করে,নিভৃতে বসে হরিনাম জপে সময় অতিবাহিত করতেন।আর পূর্বাকৃত অপরাধ স্মরণ করে অনুতাপাশ্রুতে তাঁদের দুই নয়ন ভেসে যেত।যারা,নবদ্বীপে মহাপাপী বলে বিদিত ছিল, অদ‍্য তাঁরা পরমভক্ত বলে অভিহিত হল।এঁদের উদ্ধারে শত শত লোক ভগবৎ কৃপার অদ্ভুত শক্তি বুঝতে সমর্থ হল। শ্রীচৈতন‍্য প্রবর্তিত হরিগুণ কীর্তনে জাতিবর্ণ নির্বিশেষে বহুলোক যোগদান কোরে,তাঁর দলের পুষ্টিসাধনকরতে লাগল, শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকার শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলেছেন=*
*🌷জগাই মাধাই দুই চৈতন‍্য কৃপায়।*
*🌷পরম ধার্মিকরূপে বৈসে নদীয়ায়।।*
*🌷উষাকালে গঙ্গাস্নান করিয়া নির্জনে।*
*🌷দুই লক্ষ কৃষ্ণনাম লয় প্রতিদিনে।।*
*🌷আপনারে ধিক্কার করয়ে অনুক্ষণ।*
*🌷নিরবধি কৃষ্ণ বলি  করয়ে ক্রন্দন।।*
☆          ☆           ☆          ☆            ☆      ☆
*🌷আহারের চিন্তা গেল কৃষ্ণের আনন্দে।*
*🌷স্মঙরি চৈতন‍্য-কৃপা দুইজনে কান্দে।।*
*🙌 জয় নিতাইচাঁদ, হরিদাস, মহাপ্রভুর জয়🙏🙏🙏*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা🙏*
             *👥নাটক ও অভিনয় 👥*
           **************************
*🍀মহাপুরুষগণ নরনারীদের শিক্ষা দিবার জন্য নানারকম লীলা প্রদর্শন করে থাকেন।কোন বিষয়ে লোকের মনে বা চিত্তে বিশেষরূপে চিত্রিত করতে হলে,নাটকাভিনয়ের দ্বারা সে কার্য‍্য অনেক স্থলে সুন্দররূপে সংশোধিত হয়ে থাকে ; শ্রীগৌরহরি এই নাটকাভিনয়ের উপকারিতা হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন। তিনি একদিন ভক্তমন্ডলীর মধ্যে বলে উঠলেন, "আজ সন্ধ‍্যার সময় নৃত্য,কীর্তন ও নাটকাভিনয় করতে হবে।মহাপ্রভুর এই প্রস্তাব শুনে,ভক্তগণের মধ্যে যেন এক আনন্দের তরঙ্গ উত্থিত হল। মহাপ্রভু বললেন, "আমি রুক্মিণী ও আদ‍্যাশক্তি সাজিব ও নিত‍্যানন্দ আমার বড়াই হবেন।গদাধর গোপীকা ও ব্রহ্মানন্দ সুপ্রভা নামে তাঁর সখী সাজবেন।মহাপ্রভুর এই প্রস্তাব শুনে হরিদাস জিজ্ঞাসা করলেন, "মহাপ্রভু! আমি কি সাজিব?গৌরহরি বললেন,তুমি কোটাল সাজবে।*
*☘শ্রীবাস বললেন, প্রভো! আমি কি সাজব? গৌরাঙ্গপ্রভু বললেন, তুমি দেবর্ষি নারদ সাজবে।যখনসকলের সাজের কথা হল,তখন বৃদ্ধ অদ্বৈতাচার্য‍্য বললেন, "আমার প্রতি কোন আজ্ঞা হবে না?শ্রীমন্মহাপ্রভু সামান্য মৃদুমন্দ হাসি হেসে বললেন ; সকলেই তো আপনার,আপনি রঙ্গমঞ্চে যখন যা সেজে দর্শকবৃন্দের তৃপ্তি উৎপাদন করতে ইচ্ছা করেন,তাইই করবেন।গৌরহরির শ্রীমুখ হতে এই আনন্দজনক কথা শুনে,সুরসিক নৃত্যপ্রিয় আচার্য‍্য তালে তালে নৃত্য করতে লাগলেন।সকলে তাঁর নৃত্য দেখে হাসতে লাগলেন। শ্রীবাস পন্ডিতের ভাই শ্রীমান পন্ডিত সেখানে উপস্থিত ছিলেন,তাঁর প্রতি কোন ভার অর্পিত হল না দেখে তিনি দুঃখের সঙ্গে বলে উঠলেন, অভিনয়ের সময় আমি মশালচির কাজ করব।শ্রীমান পন্ডিতের কথায় সভার মধ্যে একটা হাস‍্য রসের সঞ্চার হল।অভিনয় মঞ্চের জন্য গৌরসুন্দর চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যের বাড়ীর বৃহৎ প্রাঙ্গণই নির্দ্ধারণ করলেন, এবং তাঁকে এ বিষয়ে অবগত করিয়ে, দর্শকবৃন্দের বসবার জায়গা এবং অভিনয় কার্য‍্য সুসম্পন্ন করবার জন্য যা যা দরকার,সব বিষয়ে সহায়তা করতে বললেন। ধনশালী বুদ্ধিমন্ত খাঁকে অভিনেতাদের সাজ যোগাবার ভার অর্পণ করলেন।বিশ্বম্ভরের এই প্রস্তাব শিরোধার্য‍্য করে সকলেই এই কাজের সহায়তায় যত্নবান হলেন।*
*🌹গৌরহরি ইতিমধ্যে এক প্রস্তাব করলেন। তিনি বললেন, "অজিতেন্দ্রিয় ব‍্যক্তিদের আজকের অভিনয়স্থলে প্রবেশের অধিকার নাই"।(অজিতেন্দ্রিত=ইন্দ্রিয় বশীভূত হয়নি) মহাপ্রভুর এইরকম কথা শুনে বৃদ্ধ অদ্বৈতাচার্য‍্য মস্তত নত করে,মাটিতে আঁক কেটে বললেন, "তবে তো আমার যাওয়া হবে না "। শ্রীবাস পন্ডিত ও অন‍্যান‍্য প্রবীণ বৈষ্ণবগণও গৌরসুন্দরের কথানুসারে রঙ্গমঞ্চে যাবার অযোগ্যতা প্রকাশ করলেন।রসিককান্ত গৌরহরি সকলের রসনা হতে একই কথা শুনে সামান্য হেসে বললেন,"তোমারা না গেলে, তবে কে যাবে"?*
*🌺মহাপ্রভু ভক্তগণকে সঙ্গে নিয়ে চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যের ভবনে নৃত্য,কীর্তন ও নাট‍্যাভিনয় করবেন,এ সমাচার নবদ্বীপের নানা জায়গায় প্রচারিত হয়ে গেল।চন্দ্রশেখর নিজের বিশাল প্রাঙ্গণে সকলের বসবার ব‍্যবস্থা করলেন।বুদ্ধিমন্তখাঁ সাজঘর ও অভিনেতাদের সময়োচিত সাজ সজ্জা প্রস্তুত করে রাখলেন।অভিনয়ের জন্য যা যা প্রয়োজন, চন্দ্রশেখর ও বুদ্ধিমন্ত উভয়ে তার সমস্তই ব‍্যবস্থা করলেন।সূর্য‍্য অস্তমিত হতে না হতেই,চন্দ্রশেখরের সুবিশার প্রাঙ্গণভূমি লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।মহিলাদের বসবার জন্য স্বতন্ত্র নির্দিষ্ট জায়গা ছিল।নিমন্ত্রিত ভদ্রপরিবারের মহিলারা অভিনয় দর্শনের জন্য আগমন করতে লাগলেন।বৃদ্ধা শচীমা, তাঁর নিমাই,ভক্তসঙ্গে অভিনয় করবেন,এই আনন্দে পুত্রবধূ বিষ্ণুপ্রিয়াকে হয়ে করে চন্দশেখরের ভবনে উপস্থিত হলেন।চন্দ্রশেখরের পত্নী এই উপলক্ষ্যে মহিলাদের যথোচিত অভ‍্যর্থনা করতে লাগলেন।*
*অভিনয়ের সময় উপস্থিত হল।রঙ্গমঞ্চে সকলে সমবেত হলে প্রথমে কীর্তন ও বন্দনা হল।অদ্বৈতাচার্য‍্য রঙ্গভঙ্গী করে নৃত‍্য করে সভার সকলকে হাস‍্যরসে পরিপ্লুত করে তুললেন।এমন সময়ে হরিদাস কোটাল বেশে মুরারিগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে রঙ্গভূমিতে আগমন করে সকলকে বললেন="জাগো,জাগো, আজ মহালক্ষ্মীর নৃত্য হবে।*
*🔵রঙ্গমঞ্চ নিস্তব্ধ ; এমন সময়ে নারদবেশধারী শ্রীবাস পন্ডিত রঞ্চমঞ্চে উপস্থিত হলেন।তাঁর প্রশান্ত মুখমন্ডল,দীর্ঘ শুভ্র শ্মশ্রূ, ললাটে বক্ষে ও বাহুদ্বয়ে তিলক, কাঁধে বীণা ঝুলছে,হাতে কমন্ডলু, সুসজ্জিত অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল,যথার্থই দেবর্ষি নারদের মতো প্রতীয়মান হচ্ছিলেন।মুনিবর সভাসীন হয়ে আসন পরিগ্রহ করলে,সকলে অনিমিষ নয়নে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল।ঋষিবর আসনে বসিলে পর,অদ্বৈতাচার্য‍্য জিজ্ঞাসা করলেন,আপনি কে?নারদ বললেন,আমি শ্রীকৃষ্ণের গুণ কীর্তন করে বেড়ায়, সর্বস্থানে হরিগুণ কীর্তন করাই আমার কাজ।*
*🍀অদ্বৈত বললেন, তবে আমাদের একটি হরিগুণ কীর্তন করে শোনান আস্বাদন করি।তখন নারদ মুনি বীণাযন্ত্রটি নিয়ে অতি মধুরস্বরে হরিগুণ কীর্তন করতে লাগলেন।কীর্তন শুনে শ্রোতাগণের হৃদয়ের উপর দিয়ে যেন সুধার স্রোত বহিতে লাগল।লোকে মনে করতে লাগল,যেন সত‍্য সত‍্যই দেবর্ষি দেবলোক হতে এখানে আগমন করেছেন।নারদের ঋষিতুল‍্য রূপ ও বীণার ঝঙ্কার মিশ্রিত তাঁর মধুর সঙ্গীত ধ্বনিতে নারীগণ বিমুগ্ধ হয়ে পর্দার ভিতর হতে সে দৃশ্য দেখতে লাগলেন।বৃদ্ধাসরলা গৌর-জননী,শ্রীবাস-পত্নী মালিনী দেবীকে জিজ্ঞাসা করলেন, হাঁ বউ, এই কি পন্ডিত?মালিনী নত মস্তকে একটু ঘোমটা টেনে মৃদুস্বরে বললেন,লোকে তো তাই বলছে।*
🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *🎥নাটক ও অভিনয় 🎥*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀দেখতে দেখতে এক নূতন দৃশ্যের আবির্ভাব হল।শ্রীমন্মহাপ্রভু রুক্মিণীর বেশে রঙ্গমঞ্চে উপনীত হলেন।বিদর্ভ দেশে ভীষ্মক নামে এক বিখ‍্যাত রাজা ছিলেন।তাঁর পাঁচ পুত্র ও এক কন‍্যা। জ‍্যেষ্ঠ পুত্রের নাম রুক্মী ও একমাত্র কন‍্যার নাম রুক্মিণী। রুক্মিণী সৌন্দর্য্যে ও গুণে অতুলনীয়া ছিলেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণের গুণাবলীর কথা শুনে, তাঁকে মনে মনে স্বামীরূপে বরণ করেন,এবং তিনি শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া কারও পাণিগ্রহণে প্রস্তুত হবেন না বলিয়া প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।ভীষ্মক তনয়া রুক্মিণী যৌবনে পদার্পণ করলে,রাজা তাঁকে রাজার সঙ্গে কন‍্যার বিবাহের প্রস্তাব ভঙ্গ করতে প্রস্তুত হলেন। কিন্তু রাজার পুত্র রুক্মী কৃষ্ণদ্বেষী ছিলেন, এজন‍্য কৃষ্ণের সঙ্গে ভগিনীর বিবাহের প্রস্তাব অনুমোদন না করে,চেদি রাজার সঙ্গে,তাঁর পরিণয়কার্য‍্য সমাধা করতে পিতাকে অনুরোধ করলেন।চেদি রাজার সঙ্গে রুক্মিণীর বিয়ের দিন নির্দ্ধারিত হল।রুক্মিণী,শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া অন‍্য কারও হাতে দেহ মন প্রাণ সমর্পণ করবেন না ; তাই তিনি গোপনে সুনন্দের হাতে একটি পত্র দিয়ে তাঁকে দ্বারকায় কৃষ্ণের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।*
*🍀গৌরসুন্দর, আজ সেই রুক্মিণীর বেশে,কৃষ্ণপ্রেমানুরাগিনী হয়ে তদীয় চরণে দেহ মন উৎসর্গ করবার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।নারী বেশধারী শ্রীগৌরহরির রূপ যৌবনে তাঁকে প্রকৃতরূপেই মনোমোহিনী এক পরমাসুন্দরী নারী বলে বোধ হতে লাগল।তিনি রঙ্গমঞ্চে কৃষ্ণ প্রেমানুরাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রকাশ করতে লাগলেন।*
*🍀অবশেষে ভাগবদোক্ত শ্রীকৃষ্ণকে রুক্মিণীর লিখিত পত্রখানি, এমন প্রেমগদগদভাবে পাঠ করতে লাগলেন যে,সকলের প্রাণ মুগ্ধ হয়ে গেল ; সকলের নয়ন হতে বারিধারা বর্ষিত হতে লাগল। হে ভুবনসুন্দর! তোমার রূপ ও গুণের কথা কর্ণকূহরের মধ‍্য দিয়ে অন্তরে প্রবেশ করে,কার না প্রাণ সুশীতল না করে? আমি প্রাণ খুলে তোমাকে বলছি, আমি লজ্জাহীনা নারীর ন‍্যায়তোমাতে অনুরক্তা হয়ে পড়েছি।মুকুন্দ!কোন নারী তোমার মতো রূপ-গুণবান পুরুষকে পতিত্বে বরণ করতে অভিলাষিনী না হয়?আগামীকল‍্য আমার বিয়ের দিন নির্দ্ধারিত হয়েছে,তুমি তোমার সৈন‍্যদল সঙ্গে এখানে আগমন করবে, এবং বিপক্ষ পক্ষ পরাস্ত করে,আমাকে হরণ করে নিয়ে যাবে।দেখিও চেদিরাজ যেন আমাকে গ্রহণ না করে,যা সিংহের প্রাপ‍্য তা কি শিয়ালে নিয়ে যাবে? তোমার বস্তু তুমি এসে গ্রহণ কর। তুমি যদি এ দাসীর প্রার্থনা পূর্ণ না কর, তাহলে আমি অনশনে দেহত‍্যাগ করব।প্রাণবল্লভ!যদি এ-জন্মে তোমাকে লাভ করতে না পারি,বহু জন্মান্তরে তোমাকে প্রাপ্ত হয়ে প্রাণের পিপাসা নিবারণ করব।*
*🍀তারপরে পত্রবাহক সুনন্দের হাতে পত্রখানিঅর্পণ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তুমি শ্রীকৃষ্ণের হাতে এ পত্রখানি প্রদান করিও।*
*🌺মহাপ্রভুর অভিনয় শেষ হলে, চারিদিকে আনন্দ-তরঙ্গ বহিতে লাগল। মৃদঙ্গ ও করতালের বাদ‍্যের সহিত হরিধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠিল।নারীগণ রুক্মিণীর কৃষ্ণানুরাগের মধুর কথা শুনে ভাবে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন।এখন অভিনয়ান্তে শঙ্খনিনাদে নিজেদের মনের উল্লাস প্রকাশ করতে লাগলেন। তখন গদাধর রাধিকা বেশে বিদ‍্যাপতির এই সংগীতটি ধানশী সুরে গাইতে লাগলেন=*
*সখি!কি পুছসি অনুভব মোয়?*
*সোই পিরীতি অনুভব বাখানিতে নূতন হোয়।।*
*🌻পুছসি=জিজ্ঞাসা করছ। মোয়=আমাকে।*
*জনম অবধি হাম, রূপ নেহারিনু,*
       *নয়ন না তিরপিত ভেল।*
*লাখ লাখ হাম,হিয়া হিয়ে রাখনু,*
       *হৃদয় না জুড়ল গেল।।*
*বচন অমিয়া রস, অনুখণ শুননু,*
      *শ্রুতিপথে পরশ না ভেল।*
*কত মধুযামিনী, রভসে গোঁঙায়নু,*
       *না বুঝনু কৈছন কেলি।।*
*🌻হাম=আমি, তিরপিত=তৃপ্তি, রভসে=উৎসুক বশতঃ, গোঙায়নু= যাপন করলাম, কৈছন=কিরকম, কেলি=ক্রীড়া।*
*🍀রাধিকারূপিনী গদাধর এই গান করতে করতে আত্মহারা হয়ে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।তাঁর সুগঠিত দেহখানি নৃত্যের সময় মৃদুমন্দভাবে হেলতে দুলতে লাগিল,অধরে মধুর হিসি যেন কুন্দ ফুলের মত ফুটে উঠিল, কৃষ্ণপ্রেমের অনুরাগে শরীর কন্টকিত হল,তখন যেন প্রাণশূন‍্য পুত্তলিকার মত নরনারী,তাঁর এই মধুর স্বর্গীয়ভাব দর্শন করতে লাগল।*
*🌺কিছুক্ষণ পরে মহাপ্রভু আদ‍্যাশক্তির বেশে রঙ্গভূমিতে অবতীর্ণ হলেন।তিনি যখন যে কাজ করতেন তাতেই তন্ময় হয়ে যেতেন।তিনি আজ এমন বেশে সজ্জিত হয়েছিলেন যে,তাঁকে দেখে, দর্শক- মন্ডলীর হৃদয়ে মাতৃভাবের সঞ্চার হতে লাগল।শ্রীমান পন্ডিত মশাল নিয়ে মাতৃবেশধারী গৌরহরির কাছে দাঁড়িয়ে আছেন।হরিদাস কোটাল হয়ে, সকলকে জাগ্রত করতে লাগলেন, তখন এক অপূর্ব দৃশ্য হয়েছিল।নিত‍্যানন্দ ভাবে বিভোর হয়ে ভূতলে পড়ে গেলেন, দর্শকবৃন্দ ভাবে প্রেমে বিহ্বল হয়ে কাঁদতে লাগলেন।গৌরহরি নৃত্য করতে করতে মহালক্ষ্মীভাবে সিংহাসনে আরোহণ করে,গোপীনাথকে কোলে করে বসিলেন।এই জননী-মূর্তি দেখে পুরুষ ও নারী সকলেই "মা মা" বলে চিৎকার করে উঠিল।বহুসংখ‍্যক লোক তাঁর সিংহাসন কাছে দাঁড়িয়ে থেকে, প্রেমে বিভোর হয়ে কেউ বা লক্ষ্মী কেউ বা চন্ডীর স্তব পাঠ করতে লাগল।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *নগর-------সংকীর্তন*
             ^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*
*🍀শ্রীহরিনামের ধ্বনিতে যে কেবল শ্রীবাসের ভবনই পূর্ণ হতে লাগল, তা নয়, অধিকাংশ গৃহেই,গৌরহরি প্রমুখ ভক্তদের দ্বারা সুধামাখা হরি সংকীর্তন প্রবর্তিত হল।দিনমণি অস্তাচলচূড়াবলম্বী হলে,নবদ্বীপের বহু পরিবারে মৃদঙ্গ ও করতালের ধ্বনির সঙ্গে,নানা কন্ঠ হতে হরিনামের মাহাত্ম্য কীর্তিত হতে লাগল।বালক, যুবক,বৃদ্ধ শ্রীগৌরাঙ্গ প্রবর্তিত ভক্তিলাভের এই সরলউপায় অবলম্বন করবার জন্য উৎসুক হয়ে উঠিল।নবদ্বীপে ভক্তির নূতন স্রোত প্রবাহিত হতে লাগিল,এক নূতন আলোকে চারিদিকে আলোকিত হবার উপক্রম হল।*
*☘তখন বঙ্গের শাসনকর্তা সৈয়দ হুসেন শাহ গৌড়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত।তাঁর প্রতিনিধিস্বরূপ কাজী নবদ্বীপে অবস্থিতি করতেন, তা আগেই বলা হয়েছে।তিনি দেখলেন,তাঁর রাজ‍্যের মধ্যে অনেক গৃহে হরিসংকীর্তনে হিন্দুধর্ম প্রবল হয়ে উঠিল।তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না ; কীর্তনকারীদের কীর্তন বন্ধ করবার জন্য সচেষ্ট হলেন।যে যে জায়গায় কীর্তন হয়, অনুচরবর্গদের দ্বারা তা বিশেষরূপে জেনে,স্বয়ং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সে সব জায়গায় গমন করে,সংকীর্তন বন্ধ করে,মৃদঙ্গ ভেঙ্গে, এবং "মার মার" শব্দে নিরীহ হরিভক্তদের প্রাণে আতঙ্কের সঞ্চার করতে লাগলেন।ভীরু অল্পবিশ্বাসীরা কীর্তন বন্ধ করে দিল।কেউ কেউ ভয়ে লুকিয়ে রইল ; কেউ কেউ বলতে লাগিল,হরিনাম কি আর মনে মনে নেওয়া যায় না ; বৃথা গোলযোগে প্রয়োজন কি?যারা গৌরহরির এই নবপ্রবর্তিত ধর্ম প্রচারের বিশেষ পক্ষপাতি ছিল না,তারা বলতে লাগিল, নিমাই পন্ডিতের জারিজুরি এবার সব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। কাজীর শাসনের কাছে আর এসব চলবে না।যারা এই প্রাণপ্রদ হরিনাম কীর্তনে জীবনের কল‍্যাণ ও মুক্তির পথ কাছাকাছি হবে মনে করেছিলেন, কাজীর অত‍্যাচারে তাঁরা সংকীর্তনে বিরত হয়ে,প্রিণে অশেষ কষ্ট অনুভব করতে লাগলেন।নবদ্বীপে হুলস্থুল পড়ে গেল।কৃষ্ণভক্ত গৌর অনুগত ভক্তগণ মর্মাহত হয়ে কাজীর অত‍্যাচার ও নিজেদের হৃদয় বেদনার কথা গৌরসুন্দরের কাছে নিবেদন করলেন।সংকীর্তনের জন্মদাতা গৌরসুন্দর ইতঃপূর্বেই কাজীর অত‍্যাচারের বিষয় সকলই অবগত হয়েছিলেন।*
*🌹চারিদিক দিয়ে শত শতভক্ত এসে যখন বললেন, আমরা কাজীর অত‍্যাচারে কীর্তন বন্ধ করেছি। এখন নবদ্বীপ পরিত‍্যাগ করে অন‍্যত্র চলে যাই।তখন শ্রীগৌরহরি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তাঁর হৃদয়ে যেন এক বীরবলের সঞ্চার হল। তিনি হুঙ্কার করে বললেন, "নিত‍্যানন্দ"! নবদ্বীপের সব জায়গায় আজ হরিনাম কীর্তন করব,দেখি,কে বাধা দিতে সমর্থ হয়?নগরের মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গদেব ভক্তসঙ্গে হরিসংকীর্তন করতে করতে গমন করবেন, এইকথা নিমেষের মধ্যে চারিদিকে প্রচারিত হয়ে গেল।অনেক পরিবারের লোকেরা এই শুভ সংবাদে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে,নিজের নিজের বাড়ীর বাইরে আম্রশাখা ও জলপূর্ণ কলস সজ্জিত করিল।সন্ধ‍্যা সমাগমের কিছু পূর্বেই দলে দলে লোক এসে, গৌরহরির বাড়ীর প্রাঙ্গণে সমবেত হতে লাগল।কেউ কেউ তাঁকে উপহার দিবার জন্য,পুষ্পের মালা ও নানান খাদ‍্যদ্রব‍্য নিয়ে আগমন করিল।*
*🌺মহাপ্রভু কীর্তনকারীদের দল বিভাগ করে দিলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য,হরিদাস এক এক দলের অগ্রণীরূপে মনোনীত হলেন।স্বয়ং গৌরহরি নিত‍্যানন্দকে পার্শ্বে নিয়ে একটি দলের অধিনায়করূপে কীর্তনকারী দলের পেছন পেছন রইলেন।সূর্য‍্য অস্তমিত হল।আলোর জন্য লোকে শত শত মশাল প্রস্তুত করিল।পতাকা তুলে শত শত মৃদঙ্গ ও করতালের বাদ‍্যধ্বনি সহকারে ভক্তদল বিশ্বজয়ী হরিনাম সংকীর্তন করতে করতে নগর পর্য‍্যটনে বাহির হলেন। শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে বলেছেন=*
*🌷"হরি" বলি ডাকিলেন,গৌরসুন্দর।*
*🌷সকল বৈষ্ণবগণ হইয়া সত্বর।।*
*🌷করিতে লাগিল প্রভু বেড়িয়া কীর্তন।*
*🌷সবার অঙ্গেতে মালা শ্রীফাল্গু চন্দন।।*
*🌷করতাল মন্দিরা সবার শোভে করে।*
*🌷কোটি সিংহ জিনিয়া সবাই শক্তি ধরে।।*
*🌷চতুর্দিকে আপন বিগ্রহ ভক্তগণ।*
*🌷বাহির হইলা প্রভু শ্রীশচীনন্দন।।*
*👥ক্রমশই লোক বৃদ্ধি পেতে লাগিল।এক বিশাল জনস্রোত রাজপথে প্রবাহিত হতে লাগল।গৌরসুন্দর সেই জনতার মধ্যে উর্দ্ধবাহু ও উর্দ্ধনেত্র হয়ে,নৃত‍্য করে ও করতালি দিয়ে করছেন।তাঁর গলদেশে পুষ্পের মালা,প্রশস্ত ললাট চন্দনচর্চিত, আর তাঁর নয়নযুগল হতে বারিধারা বহিতে লাগিল।সে দৃশ্য দেখলে, অতি অভক্তের হৃদয়ও ক্ষণকালের জন্য ভক্তিরসে পূর্ণ হয়ে উঠে।তাঁর প্রেমরসপূর্ণ কন্ঠনিঃসৃত মধুর হরিধ্বনি শ্রবণ করলে,অতি শুকনো কন্ঠ হতেও ভগবানের নাম উচ্চারিত হয়।আজ এই হাজার হাজার লোক তাঁরই অনুপ্রাণনা শক্তিতে অনুপ্রাণিত হয়ে উঠছে।যাদের রসনা কোনদিনই কখনও হরিগুণ কীর্তন করেনি,আজ তাদের রসনা হতেও কীর্তনের ধ্বনি উত্থিত হতে লাগল।যারা কখনও নৃত্য করেনি,তাদের চরণদ্বয়ও আজ আর স্থির থাকতে পারছে না।ভক্তসঙ্গে তারাও নৃত্য করতে লাগিল।ভক্তদল পরিবেষ্টিত হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ নৃত্য ও কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন। আর হাজার হাজার লোক তাঁর মাধুর্য‍্যপূর্ণ মুখমন্ডল দর্শনে অনুগমন করতে লাগিল।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 প্রথম খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১. ভক্তি-ধর্ম ভারতবর্ষে নূতন নহে। অতি প্রাচীন কাল হতেই ভক্তিবাদ এদেশে প্রাধান্য লাভ করেছিল 👉 প্রেমধর্ম 🌹 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা*
*পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র*
         *🌻প্রেমধর্ম🌻*
******************************
*🍀ভক্তি-ধর্ম ভারতবর্ষে নূতন নহে।অতি প্রাচীন কাল হতেই ভক্তিবাদ এদেশে প্রাধান্য লাভ করেছিল।উপনিষদে সাধারণত জ্ঞানমার্গের উপদেশ আছে।অবিদ‍্যার জন্য,মায়ার জন‍্য জীব মৃত‍্যুর অধীন হয়,বিদ‍্যা--, ব্রহ্মবিদ‍্যা লাভ করলেই অমৃত বা অমরত্ব ভোগ করা যায়, এটিই উপনিষদের সার কথা।সত‍্য কি,ব্রহ্ম কি,আত্মা কি---,জানতে পারলেই মোক্ষ হয়।সংসারে আর ফিরে আসতে হয় না,আর জন্ম হয় না। এটির নাম জ্ঞানমার্গ।জ্ঞান অপেক্ষা ভক্তির প্রাধান্য যাঁরা স্বীকার করেন,তাঁরা বলেন,সেই পরম পুরুষ রস-স্বরূপ।তাঁকে শুধু জানলে হয় না,তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে,তাঁকে হৃদয়ের স্নেহপ্রীতি দিয়ে আস্বাদন করতে হবে।*
*🌷আধ‍্যাত্মিকং হৃদয়াতনমুপাসনম্।*
                       *(শান্ডিল‍্য সূত্র)*
*🍀খ্রীষ্ট ধর্ম হতে ভক্তিধর্ম উৎপন্ন হয়েছে --, ডাক্তার বেবার প্রমুখ পন্ডিতগণের এই মতবাদ সম্পূর্ণরূপে খন্ডিত হয়েছে। সুতরাং তার সম্বন্ধে আলোচনা নিষ্প্রয়োজন।*
*🍀হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর উপাসনা করতে হবে।শান্ডিল‍্য সূত্র কত প্রাচীন তা জানা যায় না।যে সব শাস্ত্রে ভক্তিবাদ প্রতিষ্ঠিত ও প্রচারিত হয়েছে, তাদের মধ্যে শান্ডিল‍্য সূত্র, নারদ সূত্র,নারদ পঞ্চরাত্র,মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবত ইত্যাদি প্রধান।পদ্ম ও ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণেও ভক্তিধর্ম সুপ্রথিত হয়েছে।শান্ডিল‍্য সূত্র ও নারদ সূত্রের মূল উপনিষদে পাওয়া যায়। সুতরাং ভক্তিধর্ম আধুনিক নহে,অতি অতিপ্রাচীন।*
*🍀সাধারণতঃ শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ভক্তিধর্মের গ্রন্থ বলে মনে করা হয়।ভগবদ্ গীতা উপনিষদ নামে কথিত হয়ে থাকে।এটি সমগ্র পুরাণের শিরোমণি মহাভারতে অন্তর্গত। বিশেষ করে গীতা মহাভারতের কোনও অধ‍্যায়ের অন্তর্গত হোক বা না হোক,এটিকে উপনিষদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক বা না হোক, এটির প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ নেই।গীতার ভক্তিবাদ এক অপূর্ব বস্তু।এতে জ্ঞানমার্গ ও কর্মমার্গের ব‍্যাখ‍্যা করে তার উপরে ভক্তিমার্গের সৌধ নির্মিত হয়েছে।বিচার ও যুক্তির সাহায্যে,তুলনামূলক সমালোচনার পরে,যেরকম ভাবে ভক্তিধর্মের ভিত্তি স্থাপিত হল, পূর্বে কখনও সেরকম হয়নি। গীতা হতে ভক্তিধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদক শ্লোকগুলি তুলতে গেলে প্রবন্ধ বেড়ে যায়, সুতরাং আমি দুই-একটি শ্লোকের দ্বারা দিগদর্শন মাত্র করব।গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বললেন=*
*🌷শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং স মে যুক্ততমো মতঃ।*
*🌺হে অর্জুন! যোগী, তপস্বীদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ; জ্ঞানী অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ ; কর্মী অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ ; আবার যে যোগী আমাতে সমস্ত হৃদয়-মন সমর্পণ করে শ্রদ্ধাপূর্বক ভজনা করেন, তিনি যোগীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।*
*🍁এই তরতম নির্দেশ হতে নিঃসংশয়ে বুঝা যায় যে, গীতার ধর্মমতের তাৎপর্য‍্য কি।আত্মসর্পণ কাকে বলে, সে সম্বন্ধেও গীতা উপদেশ করেছেন।=*
*🌷মন্মনা ভব মদভক্তো মদযাজী মাং নমস্করু। ১৮ অধ‍্যায়।*
*🌻মদগতচিত্ত হও,আমার প্রতি ভক্তিপরায়ণ হও,আমার উদ্দেশ্যে সমস্ত যজ্ঞ কর এবং আমাকেই প্রণাম কর।তাহলেই আমাকে তুমি অবশ্যই পাবে। এর নাম প্রপত্তি বা শরণাগতি।*
*🌷যে যথা মাং প্রপদ‍্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম‍্যহম্।*
*☘যে যে ভাবে আমাতে প্রপন্ন (শরণাগতি) হয়,আমি তাকে সেইভাবেই কৃপা করি। (আরও পরিস্কার ভাবে বললেন)=*
*🌷সর্ব্বধর্ম্মান পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ।*
*🌷অহং ত্বাং সর্ব্বপাপেভ‍্যো মোক্ষয়িষ‍্যামি মা শুচ।।*
*🍀ধর্ম কি,অধর্ম কি,তা বললাম। যদি সেসব আয়াসলভ‍্য সাধনে অপারগ হও,তবে শেষ কথা বলছি-- সমস্ত পরিত‍্যাগ করে আমাতেই শরণ নাও।আমি তোমাকে সমস্ত পাপ হতে মুক্ত করিব।কোন দুঃখ নাই।*
*🌹এই যে প্রপত্তি বা শরণাগতি ভক্তিযোগেরচরম লক্ষ্য বলে বর্ণিত হল, এমনটি পূর্বে আর দেখা যায় না।শান্ডিল‍্য সূত্র বলেছেন= "সা পরানুরক্তিরীশ্বরে" অর্থ‍্যাৎ ভগবানে প্রগাঢ় প্রেমই ভক্তি। কিন্তু এই প্রেমের মধ্যে প্রপত্তির কোন প্রসঙ্গ আছে বলে মনে হয় না।শান্ডিল‍্য সূত্রের এই ভক্তি-সূত্র সম্ভবতঃ গীতার বহু পূর্বে গ্রথিত হয়েছিল।কারণ গীতার পরে যেসব ভক্তিশাস্ত্র প্রণীত হয়েছে, তাদের মধ্যে শরণাগতির ভাব সুস্পষ্ট।*
*🌺শরণাগতির কথা অবশ‍্য বৌদ্ধধর্মে প্রচারিত হয়েছিল। "বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি,ধর্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি"। হয়ত লোকের মন বৌদ্ধধর্ম হতে আকর্ষণ করে ফিরিয়ে আনবার জন্য গীতা বললেন=*
*🌷ঈশ্বরঃ সর্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি।*
*🌷তমেব শরণং গচ্ছ সর্ব্বভাবেন ভারত।।১৮অঃ।।*
*🍀হে অর্জুন! যে ঈশ্বর সর্বভূতের হৃদয়ে অবস্থান করে তাদেরকে চালাচ্ছেন,তুমি তাঁরই শরণাপন্ন হও।এখানে এইই অভিপ্রেত যে,অন‍্য কারো শরণ নিতে হবে না, "মামেকং শরণং ব্রজ"---একমাত্র আমারই শরণ নাও।*
*🌳গীতার এই দার্শনিক ভক্তিবাদ শ্রীমদ্ভাগবতে এক অপূর্ব লীলা-রসাত্মক কাব‍্যে পরিণত হয়েছে।মনে হয়,গীতা যেন সূত্র করলেন,ভাগবত তার ভাষ‍্য।শরণাগতি কাকে বলে গোপীপ্রেম তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।তত্ত্বের দিক দিয়ে যে ভক্তিযোগ গীতায় বিঘোষিত হল,লীলার দিক দিয়ে তা ভাগবতের কাব‍্য-কথায় ফুটে উঠল।সেই সচ্চিদানন্দঘন বিগ্রহ ভগবান সর্বলোকের প্রেম আস্বাদন করছেন, সকলের হৃদয়ে অবস্থান করে তিনি যন্ত্রারূঢ় পুতুলের মত সকলকে শুধু মায়ায় ঘুরাচ্ছেন না ; তিনি সকলের হৃদয়ের মধু আহরণ করে নিজে মধুর হচ্ছেন।বংশীরবে তিনি গোপীদেরকে আকর্ষণ করছেন, তাঁরা সব ভুলে, সব ফেলে পাছে তাঁকে লাভ করবার জন্য।অগণিত গোপী সেই পরম পুরুষকে লাভ করবার জন্য বাঁশীর মৃদুমন্দ স্বর অনুসরণ করে ছুটছেন, তাঁদের হৃদয় অনুরাগে ভরপূর, কেউ কাউকেও দেখতে পাচ্ছেন না। এরই নাম "মন্মনা"=যা গীতায় উক্ত হয়েছে।*
🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. প্রেমধর্ম-বাংলার প্রেমধর্ম 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা*
      *প্রেমধর্ম-বাংলার প্রেমধর্ম*
      *************************
*🍀তিনি তাঁদেরকে বলছেন=*
*🌷ময়ি ভক্তির্হি ভূতানামমৃতত্বায় কল্পতে।*
*🌷আমার প্রতি ভক্তি সর্বভূতের মোক্ষসাধনী।*
*🌷অবিদ‍্যয়া মৃত‍্যুংতীর্ত্ত্বা বিদ‍্যয়াহমৃতমশ্নুতে।*
*🌺উপনিষদের সেই স্মরণ করুন।সেখানে তত্ত্ব-জ্ঞানের দ্বারা,পরাবিদ‍্যার দ্বারা জীব অমৃতের আস্বাদন লাভ করে।এখানে আমাতে ভক্তি করলেই মুক্তি ; তত্ত্বজ্ঞানীদের যে মোক্ষ= সার্ষ্টি, সাযুজ‍্য,সারূপ‍্য,সামীপ‍্য--, তা প্রকৃত শুদ্ধভক্ত কামনা করেন না।শ্রীকৃষ্ণ সেবা ছাড়া শুদ্ধভক্ত আর কিছুই চাহেন না।মোক্ষের অভিসন্ধি পর্যন্ত তাঁরা হৃদয় হতে দূর করে দেন।এর দৃষ্টান্ত ব্রজের গোপীগণ।শ্রীকৃষ্ণের শ্রীবদনকমল দর্শন করবার সময় তাঁরা নয়নের পলক বা নিমেষকেও ধিক্কার দিতেন।মনে হয় যেন মীনের মত নিমেষশূন‍্য নয়ন পেলে মন শান্তি করে দর্শন করতাম।*
*🌲এখানে স্মরণ রাখা আবশ্যক যে,ভগবদ্ গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণকে অবলম্বন করে ভক্তিধর্ম গড়ে উঠেছে। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণই ভক্তিধর্মের একমাত্র অবলম্বনীয় নহেন ; বৈষ্ণবরাই একমাত্র ভক্তিপন্থার পথিক নহেন।বহু প্রাচীনকাল হতে শৈবধর্মেও ভক্তিবাদের প্রভাব বর্তমান।শৈব ও বৈষ্ণবদের মধ্যে সময়ে সময়ে প্রবল শত্রুতা দেখা দিত। কিন্তু তা হলেও শৈবেরা ভক্তির পথে অনেকদূর অগ্রসর হয়ে ছিলেন।বিষ্ণুর অবতার শ্রীরামচন্দ্রকে কেন্দ্র করে যে ধর্ম গড়ে উঠেছে, ভক্তি তারও প্রধান উপজীব‍্য।এইরকম শাক্ত ধর্মের মধ্যেও ভক্তিবাদের প্রভাব সুস্পষ্ট ভাবে দেখতে পাওয়া যায়।*
*🍀প্রাচীনকালে দক্ষিণ ভারতে ভক্তিবাদ প্রচারিত হয়েছিল কতকগুলি সাধুর দ্বারা।ইঁনাদেরকে "আলওয়ার" নামে অভিহিত করা হয়।ইঁনারা অনেকে খ্রীষ্টের জন্মের সমকালে বা সামান্য কিছু পরবর্তীকালে ভক্তিধর্মের মাহাত্ম্য প্রচার করেছিলেন।তাঁদের মধ্যে অনেকেই যে "শ্রী-সম্প্রদায়ের" প্রবর্তক রামানুজাচার্য‍্যের পূর্ববর্তী, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই।রামানুজ খ্রীষ্টীয় একাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত হয়ে ছিলেন।এই সাধু মহাত্মাদের রচিত সঙ্গীত মন্দিরে মন্দিরে গীত হয়।এই সঙ্গীত বা প্রবন্ধম্ গুলি "তামিল বেদ" নামে অভিহিত হয়।ইঁনাদের মধ্যে কারও কারও সঙ্গীতে ভগবানকে পতিরূপে ভজনা করবার বিধান আছে।*
*🌺ভগবানকে পরম পতি ও নিজেকে তাঁর দাসী বা নায়িকা বোধে ভজন করা শ্রীচৈতন‍্য-প্রবর্তক বৈষ্ণবধর্মের একটি অঙ্গ বলে গণ‍্য হয়।*
*🌷অতএব গোপীভাব করি অঙ্গীকার।*
*🌷রাত্রি-দিনে চিন্তে রাধা-কৃষ্ণের বিহার।।*
*আমরা দেখতে পাই যে,এই গোপীভাবের ভজন শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রবর্তিত করেছিলেন।মহাপ্রভু ১৫০৯ খ্রীষ্টাব্দের মাঘ মাসের শুক্লপক্ষে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেন।ফাল্গুন মাসে তিনি নীলাচলে চলে আসেন।চৈত্রমাসে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে উদ্ধার করে বৈশাখমাসে দক্ষিণদেশে যাত্রা করেন।প্রকাশ‍্যে বললেন, অগ্রজ বিশ্বরূপের সন্ধানে যাই ; কিন্তু নিগূঢ় উদ্দেশ্য ছিল হরিনাম দিয়ে দক্ষিণদেশ উদ্ধার করবেন। সার্বভৌম বললেন,নিতান্তই যদি যাবে, তবে বিদ‍্যানগরে (বর্তমান রাজমাহেন্দ্রী) গিয়ে রায় রামানন্দের সঙ্গে দেখা করবে।*
*🌷তোমার সঙ্গের যোগ্য তেঁহো একজন।*
*🌷পৃথিবীতে রসিক ভক্ত নাহি তাঁর সম।।চৈঃচঃ।।*
*🌳তাঁর যেমন পান্ডিত‍্য, তেমনই ভক্তি।আমি পূর্বে তাঁকে "বৈষ্ণব" বলে অনেক ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিলাম।আগে তাঁকে চিনতে পারি নাই, এখন তোমার কৃপায় বুঝেছি,তিনি কত বড় মহান।*
*🍀মহাপ্রভু বিদ‍্যানগরে গিয়ে রামানন্দের সাক্ষাৎ পেলেন এবং সাধ‍্যসাধনতত্ত্ব সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন।রামানন্দ বলেন ; প্রভু বলেন----*
*🌷এহ বাহ‍্য আগে কহ আর।*
*🍁স্বধর্মাচরণ হতে আরম্ভ করে রামানন্দ বহু তত্ত্বের কথা বললেন। কিন্তু মহাপ্রভু ---*
*🌷প্রভু কহে এহ বাহ‍্য আগে কহ আর।*
*☘তখন রায় রামানন্দ চরমতত্ত্বে উপনীত হয়ে বললেন=*
*🌷কান্তাপ্রেম সর্বসাধ‍্য সার।*
*🍀মহাপ্রভু পুনরায় বললেন, কৃপা করি কহ যদি আগে কিছু হয়। তখন=*
*🌷রায় কহে ইহার আগে পুছে হেন জনে।*
*🌷এতদিন নাহি জানি আছয়ে ভুবনে।।*
*☘এই কান্তাপ্রেমের উপরে কি আছে, এই প্রশ্ন করতে পারে জগতে এমন লোক তো দেখি নাই।যাইহোক, যখন শুনতে চাইছ,তখন বলি, এই যে কান্তাপ্রেম=*
*🌷ইহার মধ্যে রাধার প্রেম সাধ‍্য শিরোমণি।*
*🌷যাঁহার মহিমা সর্বশাস্ত্রেতে বাখানি।।*
*🌳রামানন্দ রায়ের মুখ হতে কোন এক শুভ মুহূর্তে শ্রীরাধার নাম স্ফুরিত হয়েছিল।এই রাধাপ্রেমই মহাপ্রভুর জীবনের সুপ্ত নির্ঝরকে জাগিয়ে দিল এবং সেই প্রেমবন‍্যায় বঙ্গদেশ ভেসে ছিল।*
*🌹রাধা-নাম নুতন নয়, নারদপঞ্চরাত্রে রাধার নাম আছে।শান্ডিল‍্য সূত্রে "বল্লবী" বা "গোপী" শব্দ পাওয়া যায়।মহাভারতে "গোপীজনপ্রিয়" এই বিশেষণ পাওয়া যায়।ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, জয়দেব গোস্বামী, বিদ‍্যাপতি-চন্ডীদাসের পদাবলীতে রাধানাম অনেকবার উল্লিখিত হয়েছে। সুতরাং রাধানাম নূতন নহে, গোপীপ্রেমও নূতন নহে। কিন্তু গোপীভাব অঙ্গীকার করে যে ভজন,বঙ্গদেশে সম্ভবত তা এই প্রথম প্রবর্তিত হল।*
*🌷গোপী অনুগত বিনা ঐশ্বর্য‍্যজ্ঞানে।*
*🌷ভজিলেহ নাহি পায় ব্রজেন্দ্রনন্দনে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷রাগানুগা মার্গে তারে ভজে যেইজন।*
*🌷সেইজন পায় ব্রজে ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে রামানন্দ মিলনের এটিই মুখ‍্য এবং চরম ফল।কবিরাজ গোস্বামী স্বরূপ দামোদরের কড়চা দেখে এটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪔🪷🪷🪷🪷🪷🪷

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৩. প্রেমধর্ম -বাংলার প্রেমধর্ম 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা*
         *প্রেমধর্ম -বাংলার প্রেমধর্ম*
         **************************
*🌷দামোদর স্বরূপের কড়চা অনুসারে।*
*🌷রামানন্দ-মিলন-লীলা করিল প্রচারে।।*
*🌺গৌরহরি দক্ষিণদেশ হতে নীলাচলে ফিরে ভক্তগোষ্ঠীসহ কয়েক - দিন তীর্থযাত্রার সমস্ত কথা বলে কাটালেন বা অতিবাহিত করলেন।*
*🌷সার্বভৌম সঙ্গে আর লইয়া নিজগণ।*
*🌷তীর্থযাত্রা-কথা কহি কৈলা জাগরণ।।*
*🌻সম্ভবতঃ সেই সময়ে স্বরূপ দামোদর গোস্বামী মহাপ্রভুর শ্রীমুখে শোনা সমস্ত কথা,রামানন্দ মিলন-প্রসঙ্গ বিস্তারিত ভাবে লিখে রেখেছিলেন।শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাইই পয়ার প্রবন্ধে গ্রথিত করেছেন।*
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভুর অন্তরে এই রামানন্দ-সংবাদ কিরকম গভীর রেখাপাত করেছিল,তা বুঝতে পারা যায় মহাপ্রভুর পরবর্তী ব‍্যবহার হতে। মহাপ্রভু বিদ‍্যানগর হতে রামেশ্বর সেতুবন্ধ হয়ে কন‍্যাকুমারী পর্যন্ত আসিলেন।সেখান হতে পূর্বঘাট পর্বতমালা পার হয়ে নর্মদা,তাপ্তী প্রভৃতি ছাড়িয়ে উজ্জয়িনী নগরের কাছে গেলেন।তথা হতে ফিরে সপ্তগোদাবরী হয়ে মহাপ্রভু পুনরায় বিদ‍্যানগরে আসিলেন। (উজ্জয়িনীর পথে পুরীতে ফিরে গেলে কি ক্ষতি ছিল?) উজ্জয়িনী হতে তিনি মথুরা বৃন্দাবন হয়েও ফিরতে পারতেন। কিন্তু তাঁর মন পড়ে ছিল রায় রামানন্দের কাছে। বিদ‍্যানগরে ফিরে =*
*🌷প্রভু কহে এথা মোর এ নিমিত্ত আগমন।*
*🌷তোমা লৈয়া নীলাচলে করিব গমন।।*
*🌹আরও এক লক্ষ্য করবার বিষয় এই,মহাপ্রভু ব্রহ্মসংহিতা ও কৃষ্ণকর্ণামৃত নামক দুইটি পুঁথি এই দাক্ষিণাত‍্য দেশে সংগ্রহ করেছিলেন।রামানন্দকে পুঁথি দুইটি দিয়ে তিনি বললেন=*
*🌷প্রভু কহে তুমি যেই সিদ্ধান্ত করিলে।*
*🌷এই দুই পুঁথি সেই সব সাক্ষী দিলে।।*
*🌻পয়স্বিনী-তীরে আদিকেশবের মন্দিরে পেয়েছিলেন ব্রহ্মসংহিতা।*
*🌷সিদ্ধান্তশাস্ত্র নাহি ব্রহ্মসংহিতার সম।*
*🌻কৃষ্ণবেন্বা বা কৃষ্ণনদীর তীরে এক মন্দিরে কৃষ্ণকর্ণামৃত পেয়েছিলেন। এই কৃষ্ণকর্ণামৃত গ্রন্থ সম্বন্ধে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন=*
*🌷কর্ণামৃত সম বস্তু নাহি ত্রিভুবনে।*
*🌷যাহা হৈতে হয় শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম জ্ঞানে।।*
*🌹দক্ষিণদেশ পর্য‍্যটনে মহাপ্রভু বিভিন্ন তীর্থে যে সব প্রসঙ্গে কালক্ষেপ করেছিলেন,তার মধ্যে কৃষ্ণকথা ও রামসীতার চরিত্রই প্রধান।কিন্তু কৃষ্ণকথায় হয়েছিল বেশী।রঙ্গনাথে বেঙ্কট-ভট্টের ভবনে চাতুর্মাস‍্য করে মহাপ্রভু কৃষ্ণপ্রেম সম্বন্ধেই আলোচনা করেছিলেন। তিনি সেখানে বলেছেন=*
*🌷ব্রজলোকের ভাবে যেই করয়ে ভজন।*
*🌷সেই জন পায় ব্রজে ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
*🌷সুতরাং দেখা যাচ্ছে, তিনি সেই দেশের সুরে সুর মিলিয়ে কৃষ্ণভজনের ব‍্যাখ‍্যা করেছেন।*
*🍀সেখান হতে শ্রীশৈলে (নীলগিরি) এসে মহাপ্রভু এক ব্রাহ্মণের সঙ্গে নিভৃতে বসে গুপ্তকথা বলছেন। এই ইষ্টগোষ্ঠীতেও যে কৃষ্ণপ্রেম সম্বন্ধে আলোচনা হয়েছিল,তা অনুমান করা অসঙ্গত নহে।অতএব দেখা যাচ্ছে যে, দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণে মহাপ্রভু যেমন একদিকে হরিনাম প্রচার করেছিলেন, অন‍্যদিকে তেমনি সেই দেশের ধর্মমতের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এসেছিলেন,(অন্তরঙ্গ ভক্ত এই কথাগুলি হয়ত গ্রহণ করবেন না, কারণ তিনি যে একমাত্র কলিযুগের উপাস‍্য বা আরাধ‍্য তা সকলে জানতে পারেন নাই)।যাইহোক, এই কথা বললে তাঁর অপূর্ব অলৌকিক, প্রেম-সম্পদের মর্য‍্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় না। যে মেঘ বারি বর্ষণ করে পৃথিবী শীতল করে দেয়,সেই মেঘ সমুদ্রের বারি শোষণ করেই পরিপুষ্ট হয়।*
*🌹এক্ষণে প্রশ্ন এই যে,বঙ্গদেশ যদি দাক্ষিণাত‍্য দেশের কাছে ঋণী হয়,তবে সে দেশে গোপীভজন প্রণালী আসিল কোথা থেকে?আগেই বলেছি দক্ষিণ ভারতের সাধু-মহান্তগণের পদাবলী বা সঙ্গীতে গোপীভজনের সংবাদ পাওয়া যায়।ইঁনাদের একজন প্রণয়ার্থিনী রমণীরূপে ভগবদ্ ভজন করবার উপদেশ দিয়েছিলেন। মানবাত্মা ভগবৎ-প্রেমের জন্য যদি লালায়িত হয়,তবে সে লালসার উদাহরণ কেবল নায়কের প্রতি নায়িকার আকুলতাপূর্ণ প্রেম ছাড়া আর কি হতে পারে? দক্ষিণ দেশের এই সব প্রাচীন আলওয়ারদের মধ্যে একজন রমণী ছিলেন। তিনি গোপীর ভাবে ভাবিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করতেন।ইঁনার কর্ম ছিল,প্রতিদিন প্রভাতে প্রতিবেশিনীকে নিয়ে শ্রীরঙ্গনাথের মন্দিরে গিয়ে ঠাকুরের ঘুম ভাঙ্গানো।শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে পাবার জন্য তাঁর একান্ত আকুতি ছিল এবং তাঁর রচিত বহু সঙ্গীতে এই আকুতির পরিচয় পাওয়া যায়।এইসব সঙ্গীত এখনও সেখানে দেবমন্দিরে এবং ঘরে ঘরে ভজনের সময় গীত হয়ে থাকে। পরবর্তীকালে মীরাবাঈ যেমন গিরিধারীলালকে পতিত্বে বরণ করেছিলেন, তামিলকামিনী আন্ডালও তেমনি শ্রীরঙ্গনাথে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।কথিত আছে, এ রমণী পরিশেষে শ্রীবিগ্রহে লীন হয়ে গিয়েছিলেন। শ্রীরঙ্গমে রঙ্গনাথের মন্দিরে এখনও ইঁনার বিগ্রহ পূজিত হয়ে থাকে।*
*🌺বৈষ্ণবদের মতে শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ সব পুরাণের সার। কিন্তু পন্ডিতেরা স্থির করেছেন যে, বতর্মান আকারে ভাগবত বহু পুরাতন নহে।(কৃষ্ণদাসের ভক্তমালে "বোপদেব গোস্বামী" দ্রষ্টব‍্য)। সুতরাং দক্ষিণ ভারতের মহাজনগণ যে ভাগবত হতে তাঁদের ভক্তিবাদ গ্রহণ করেছেন, তা বলা চলে না।হরিবংশ এবং বিষ্ণুপুরাণ অবশ‍্য এটি অপেক্ষা প্রাচীন।কালিদাস তাঁর মেঘদূতে শ‍্যামসুন্দরের যে বর্ণনা দিয়েছেন,তা এই শেষোক্ত পুরাণদ্বয় হতে গৃহীত বলে মনে হয়।*
         *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪. প্রেমধর্ম ও বাংলার প্রেমধর্ম 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা*
        *প্রেমধর্ম ও বাংলার প্রেমধর্ম*
      *****************************
*🍀পূর্বমেঘের সেই অনুপম বর্ণনা স্মরণীয়=*
*🌷রত্নচ্ছায়া ব‍্যতিকর ইব,*
                 *প্রেক্ষ‍্যমেতৎ পুরস্তাদ্।*
*🌷বল্মীকাগ্রাৎ প্রভবতি ধনুঃ,*
                          *খন্ডমাখন্ডলস‍্য*
*🌷যেন শ‍্যামং বপুরতিতরাং,*
                   *কান্তিমাপৎস‍্যতে তে।*
*🌷বর্হেণেব স্ফুরিত রুচিনা,*
                   *গোপবেশস‍্য বিষ্ণোঃ।।*
*🌻মেঘের গায়ে ইন্দ্রধনুর স্পর্শ লাগলে শিখিপুচ্ছধারী গোপবেশ বিষ্ণুর মত দেখাবে!*
*🌺কালিদাসেরও পূর্বে ভাসের বালচরিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনী পড়লে ভাগবতের জন্ম খন্ডই মনে পড়ে। সুতরাং বুঝা যায় যে,খ্রীষ্টের জন্মের পূর্বে শ্রীকৃষ্ণলীলা ভারতবর্ষে প্রচলিত ছিল।সেইসব উপাদান হতে দক্ষিণ ভারতীয়েরা তাঁদের ভজন প্রণালী গঠন করেছিলেন। আলওয়ার সাধুদের দ্বারা, বিল্বমঙ্গল প্রভৃতি বৈষ্ণব মহাজনের দ্বারা এই ভজন প্রণালী পরিপুষ্ট হয়।*
*🍀এরই ধারায় রামানন্দ রায়ের মধ‍্য দিয়ে শ্রীমন্মহাপ্রভুর জীবনে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গদেশকে প্লাবিত করেছিল।ভক্তিবাদ সেই হতে নূতন আকার ধারণ করিল।এটি শুধু ভগবানে প্রীতি বা অনুরাগ মাত্র রইল না,মানবীয় প্রেম-নিকষে কষিত হয়ে বিশুদ্ধভাবে ভগবানে অর্পিত হল।রসশাস্ত্রে এই প্রেম মধুর,শৃঙ্গার বা উজ্জ্বলরস নামে অভিহিত হয়।উন্নত অর্থ‍্যাৎ বিশুদ্ধ উদার রসে পরিণত ভগবদ্ ভক্তি প্রচারের জন্য শ্রীগৌরাঙ্গ করুণাবশে অবতীর্ণ হয়েছিলেন,এটিই বৈষ্ণব দার্শনিকদের অভিমত।এই ভক্তিসম্পদ পূর্বে কেউ কখনও প্রচার করেননি।(🌳অনেকেই জানেন যে,বঙ্গদেশীয় কথকেরা "অনর্পিতচরীং চিরাৎ" এই প্রসিদ্ধ শ্লোকটি বৃত্তি না করে পাঠ বা কথকতা আরম্ভ করেন না।ভিন্নদেশীয় পাঠকেরা কিন্তু এই শ্লোক বৃত্তি করেন না।এই হতেই অনুমান হয় যে,শুদ্ধ শৃঙ্গার-রস-সমন্বিত ভক্তিধর্মের প্রচার মহাপ্রভু হতেই বঙ্গদেশে প্রথম প্রবর্তিত হয়)।*
*🌻বস্তুত গোপীপ্রেম এরকমভাবে আর কখনও পরাকাষ্ঠা প্রাপ্ত হয়নি। বাঙ্গালীর ঠাকুর প্রেমভক্তির এই যে নূতন ধারা প্রবর্তিত করলেন,এটি নিজের মাধুর্য‍্যে বৈশিষ্ট্য লাভ করল।*
*🌺প্রেম,প্রীতি,অনুরাগের অগ্নিপরীক্ষা বিরহে।বিরহের তীব্রতার দ্বারা প্রেমের গভীরতা যেমন বুঝতে পারা যায়, এমন আর কিছুতেই নাই।বিরহের ঘোর নৈরাশ‍্য, মিলনের দুরন্ত আকাঙ্ক্ষা হতেই প্রেমের পরিমাণ বুঝা যায়।মহাপ্রভুর জীবনে এই বিরহ এবং আকাঙ্ক্ষা যেমন জীবন্ত ও জ্বলন্তভাবে ফুটে উঠেছিল,এমন আর কখনও দেখা যায় না।এই অভিনবত্ব তিনি দক্ষিণদেশ থেকে পাননি। এটি বাংলার নিজস্ব।প্রধানতঃ বাঙ্গালী মহাজনগণের পদাবলী হতে তিনি প্রেমের এইরকম অপূর্ব উন্মাদনা লাভ করেছিলেন।চন্ডীদাস, বিদ‍্যাপতি শ্রীরাধার প্রেমের যে চিত্র একেঁছিলেন, মহাপ্রভু জীবন্তভাবে চোখের সামনে সেই চিত্র উদঘাটিত করলেন। সেই যে==*
*এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর,*
          *শূন‍্য মন্দির মোর।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*বিদ‍্যাপতি কহ কৈসে গোঙাইব,*
        *হরি বিনে দিন রাতিয়া।।*
*😭বিরহিনী শ্রীরাধার এই চিত্রই মহাপ্রভু অঙ্গীকার করলেন।বাদল ধারার মত অশ্রু বহে মুখ বুক ভাসিয়ে দিচ্ছেন,এটিই মহাপ্রভুর চিত্র।*
*🌷যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্।*
*🌻বাংলার প্রেমধর্মে এটিই মর্মকথা।*
*🍁চন্ডীদাসের ====*
*এমন পিরীতি কভু দেখি নাহি শুনি।*
*পরাণে পরাণ বাঁধা আপনি আপনি।।*
*দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*তিল আধ না দেখিলে যায় যে মরিয়া।।*
*🌹প্রেমের এ এক অপূর্ব ছবি! এমন ছবি আর কেউ জগতে এঁকেছেন কিনা জানি না।বিচ্ছেদের আশঙ্কায় প্রাণ-প্রিয়কে কাছে পেয়েও নেত্রনীর উছলিয়া উঠছে।এই মূর্ত্ত প্রেমই বাংলার বৈষ্ণব সাধনার আদর্শ। এই ধর্মে কৃষ্ণ পরম আরাধ‍্য।প্রেম সেই আরাধনার সাধন বা উপায়।উচ্চগ্রামে বাঁধা যন্ত্রের মত তনু-মন যখন প্রেমের মোহন স্পর্শে ঝঙ্কার কোরে উঠে, তখনই উপাস‍্য উপাসকের মধ্যে এক অনির্বচনীয় পরম মধুর সম্বন্ধ স্থাপিত হয়।সমস্ত হৃদয়-মন-ইন্দ্রিয় দিয়ে তাঁকে আস্বাদন করা যায় বলেই তাঁর হৃষিকেশ নাম সার্থক।*
*🌷হৃষীকেণ হৃষীকেশ সেবনং ভক্তিরুচ‍্যতে।*
*🌻সর্বেন্দিয়গ্রাম যখন সব রকম উপাধি বর্জিত হয়ে কেবল তাঁতেই বিলগ্ন হয়,তখন সেই নির্মল সেবার নাম হয় ভক্তি।এটিই বাংলার প্রেমধর্ম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৫. ভক্তি---ধর্ম ও রাধাভাব 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা*
         *ভক্তি---ধর্ম ও রাধাভাব*
         ************************
*মনের স্মরণ প্রাণ,মধুর মধুর ধাম,*
       *যুগল-বিলাস-স্মৃতি সার।*
*সাধ‍্য সাধন এই,ইহা পর আর নেই,*
         *এই তত্ত্ব সর্ব্বসিদ্ধি-সার।।*
*🍀প্রেমভক্তি-চন্দ্রিকায় শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর এইভাবে ভক্তিধর্মের মর্ম্মকথা ব‍্যক্ত করেছেন। স্মরণ মনের প্রাণস্বরূপ।দেহ যেমন প্রাণ বিনা বৃথা,মনও তেমনি স্মরণ বিনা নিরর্থক।স্মরণের মধ্যে সার বস্তু মধুর হতেও সুমধুর বৃন্দাবনধামে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা।এটিই সাধ‍্য, এটিই সাধন ; ইহা ছাড়া অন‍্য কোনও সাধ‍্য-সাধন নাই।এই তত্ত্বই সর্ববিধ বিধি-উপদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।*
*🍀বাংলার এই প্রেমভক্তি এক অপূর্ব বস্তু।এর সম্বন্ধে সাম্প্রদায়িক আলোচনা যথেষ্ট রয়েছে। কিন্তু সাধারণ কৌতূহলী পাঠকের পক্ষে সে সকল সব সময়ে সুলভ নহে।আমি পূর্ব প্রবন্ধে কিছু আলোচনা করেছি।*
*(১)বাংলার প্রেমধর্ম এক অভিনব বস্তু।শান্ডিল‍্য সূত্র,নারদ পঞ্চরাত্র,ভগবদ্ গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতের মধ‍্য দিয়ে যে ভক্তিধর্মের সূত্র পাওয়া যায়,শ্রীচৈতন‍্যের প্রেমধর্ম তারই পরিণতি।*
*(২)শ্রীচৈতন‍্য এই অভিনব প্রেমধর্ম দাক্ষিণাত‍্য হতে ফিরে প্রচার করেছিলেন।এই প্রেমধর্মের বৈশিষ্ট্য গোপীভাব বা রাধাভাব।*
*(৩)এই রাধাভাবের ব‍্যাখ‍্যা দেখতে পাই রামানন্দ-মিলন সংবাদে রামানন্দ যে কান্তাভাবকে সাধ‍্য শিরোমণি বলে বর্ণনা করলেন,তাইই অঙ্গীকার করে মহাপ্রভুর প্রেমধর্ম গড়ে উঠিল।*
*(৪)রায় রামানন্দ যে কান্তাভাবের কথা বলেছিলেন,তার মূল দাক্ষিণাত‍্য দেশেই পাওয়া যায়--, যথা,শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত এবং আলওয়ারদের সঙ্গীতে।*
*(৫)মহাপ্রভুর হৃদয়ে প্রেমের যে বীজ দাক্ষিণাত‍্যদেশে উপ্ত (বোনা বা বপণ) হল তা বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ গীতিকবি চন্ডীদাসের ও বিদ‍্যাপতির রস প্রপাতে ফলবান্ বৃক্ষে পরিণত হল।*
*🍀শান্ডিল‍্যসূত্র যে আকারে আমরা পেয়েছি, তা সম্ভবতঃ খুব প্রাচীন না।তবে শান্ডিল‍্য যে একজন প্রাচীন ঋষি,তা ছান্দোগ‍্য উপনিষৎ হতে জানা যায়। শান্ডিল‍্য পাঞ্চরাত্র মতের প্রবর্তক, এটি শঙ্করাচার্য‍্যও বলেছেন।*
*🌹দ্বিতীয়তঃ ভগবদ্ গীতা ভক্তিধর্মের প্রাধান‍্য স্থাপন করেছেন। ভাগবতগীতারও যে একটি জ্ঞানপরা ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে, শঙ্করমতাবলম্বী বা যোগদর্শনের পক্ষপাতী পন্ডিতগণ ভগবদ্ গীতা হতে তত্ত্বজ্ঞানের প্রাধান্য আবিষ্কার করতে চেষ্টা করেছেন, তা সকলেই জানেন।এখনও কোনও কোনও নবীন মঠাধিকারী জ্ঞানের মুখ‍্যত্ব ও ভক্তির গৌণত্ব প্রচার করতে তৎপর।বস্তুতঃ গীতায় কি জ্ঞানের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?একবার বিষয়টি ভাল করে বুঝতে চেষ্টা করা হোক।*
*🌷শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং,*
                  *স মে যুক্ততমো মতঃ।*
*🍀আমি ঐ শ্লোকের মর্ম্ম যেরকম বুঝেছি তা এই, জ্ঞানী হ'তে ভক্ত শ্রেষ্ঠ, সুতরাং জ্ঞান হতে ভক্তি শ্রেষ্ঠ।*
*🌷বহূনাম্ জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্ মাং প্রপদ‍্যতে।*
*🌹গীতার সপ্তম অধ‍্যায়ের প্রথম দুইটি শ্লোক এই=*
*ময‍্যাসক্তমনাঃ পার্থ যোগং যুঞ্জন্মদাশ্রয়ঃ।*
*অসংশয়ং সমগ্রং মাং যথা জ্ঞাস‍্যসি তৎ শৃণু।।*
*জ্ঞানং তেহহং সবিজ্ঞানমিদং বক্ষ‍্যাম‍্যশেষতঃ।*
*যজজ্ঞাত্বা নেহ ভূয়োহন‍্যজ্ জ্ঞাতব‍্যমবশিষ‍্যতে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ=হে পার্থ! আমাতে মন আসক্ত হ'লে (অর্থ‍্যাৎ আমাতে চিত্ত সমর্পণ করিলে) এবং একান্তভাবে আমার শরণাপন্ন হলে,আমাকে নিঃসন্দেহে এবং সম্পূর্ণভাবে কেমন করে জানতে পারবে, তা শ্রবণ কর।আমি তোমাকে বিজ্ঞানসহকৃত জ্ঞান কিরকম,তা অশেষপ্রকারে বলব,তা জানলে আর জানবার কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।*
*🌹এখানে কথা এই যে,ভক্তি আর জ্ঞান তো পরস্পর বিরুদ্ধ না।যে ভক্তির দ্বারা আমাতে চিত্ত সমর্পণ করেছে,আমাকে আশ্রয় করেছে, সেই আমাকে জানতে পারে এটিই অভিপ্রেত।এখানে ভক্তই যে উত্তমাধিকারী এবং ভক্তিশূন‍্য জ্ঞানে যে ভগবানকে জানা যায় না, তাই বলা হচ্ছে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৬. ভক্তিধর্ম ও রাধাভাব 📖 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা*
         *ভক্তিধর্ম ও রাধাভাব*
         *********************
*🍀উপনিষদ্ বলেছেন=*
*তমেব বিদিত্বাহতিমৃত‍্যুমেতি,*
            *নান‍্যঃ পন্থা বিদ‍্যতেহনাই।*
*🌹এই কথার সঙ্গে যে কোন, বিরোধ নাই,এটি দেখাবার জন্যই গীতায় শ্রীভগবান্ বলেছেন যে, আমাতে একান্তভাবে মনোনিবেশ করলে তবেই আমি তোমাকে সেই দুর্লভ জ্ঞান প্রদান করতে পারি,যার পরে আর জানবার কিছুই থাকতে পারে না।*
*🌷ভক্ত‍্যা মামভিজানাতি যাবান্ যশ্চামি তত্ত্বতঃ।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷তেষাং সততযুক্তানাং ভজতাং প্রীতিপূর্বকম্।*
*🌷দদামি বুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপযান্তি তে।।*
*🌹যে সকল ব‍্যক্তি আমাতে মনপ্রাণ সমপাণ করেন, (মচ্চিত্তা মদ্ গতপ্রাণা) আমি তাঁদেরকে বুদ্ধি প্রদান করে থাকি,যারদ্বারা তাঁরা আমাকে পেয়ে থাকেন।*
*🌳দ্বাদশ অধ‍্যায়ের প্রথমেই অর্জুন এই প্রশ্নটি করেছিলেন=*
*🌷এবং সততযুক্তা যে ভক্তাস্তাং পর্য‍্যুপাসতে।*
*🌷যে চাপ‍্যক্ষরমব‍্যক্তং তেষাং কে যোগবিত্তমাঃ।।*
*🌻যে সকল ভক্ত তোমাতে সর্বদা তদগতচিত্ত হয়ে তোমার উপাসন করে, আর যারা তোমাকে অব‍্যক্ত ও অব‍্যয় ব্রহ্ম ভেবে উপাসনা করে,এদের মধ্যে কারা শ্রেষ্ঠ যোগী?*
*🌺এই প্রশ্নের ভূমিকাস্বরূপ শ্রীধর স্বামী বলেছেন=*
*পূর্বাধ‍্যায়ান্তে 'মৎকর্মকৃৎ মৎপরমো মদ্ ভক্তঃ' ইত‍্যেবং ভক্তিনিষ্ঠস‍্য শ্রেষ্ঠত্ব মুক্তং, "কৌন্তেয় প্রতিজানীহি " ইত্যাদিনা চ, তত্র তস‍্যৈব শ্রেষ্ঠত্বং নির্ণীতং তথ "তেষাং জ্ঞানী নিত‍্যযুক্ত একভক্তির্বিশিষ‍্যতে" ইত্যাদিনা, সর্বং জ্ঞানপ্লাবেনৈব "জিনং সন্তরিষ‍্যসি" ইত্যাদিনা চ জ্ঞাননিষ্ঠস‍্য শ্রেষ্ঠত্বম্ উক্তম্, এবমুভয়োঃ শ্রেষ্ঠ‍্যেহপি বিশেষজিজ্ঞাসয়া ভগবন্তং প্রতি অর্জুন উবাচ।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ জ্ঞানী ও ভক্ত উভয়কেই কোনও কোনও শ্লোকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে, কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে বস্তুতঃ শ্রেষ্ঠ যোগী কে, এটিই অর্জুন ভগবানকে জিজ্ঞাসা করেছেন। ভগবান তার উত্তরে বলেছেন=*
*🌷ময‍্যাবেশ‍্য মনো যে মাং নিত‍্যযুক্তা উপাসতে।*
*🌷শ্রদ্ধয়া পরয়োপেতাস্তে মে যুক্ততমামতাঃ।।*
*🍁ভগবান এই যে "পরা শ্রদ্ধা" বললেন, এটিরই নাম ভক্তি ; যদি কোন সংশয় থাকে,তা নিরসনের জন্য ভগবান পুনঃ বলেছেন=*
*🌷যে তু সর্বাণি কর্মাণি ময়ি সংন‍্যস‍্য মৎপরাঃ।*
*🌷অনন‍্যেনৈব যোগেন মাং ধ‍্যায়ন্ত উপাসতে।।*
*🌷তেষামহং সমুদ্ধর্ত্তা মৃত‍্যসংসারসাগরাৎ।*
*🌷ভবামি ন চিরাৎ পার্থ ময‍্যাবেশিতচেতসাম্।।*
*🌹এইরকম অসংশয়িত ভাবে ভক্তিযোগের প্রাধান্য স্থাপন করা হয়েছে বলে দ্বাদশ অধ‍্যায়ের নাম "ভক্তিযোগ"।*
*🌷শ্রদ্ধধানা মৎপরমা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷ভক্ত‍্যা মামভিজানাতি যাবান্ যশ্চামি তত্ত্বতঃ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ভক্তির প্রভাবে আমার স্বরূপ ও সর্বব‍্যাপিত্ব জানতে পারে*।
*🌺জ্ঞান ও ভক্তি সাধনার দুইটি পথ।একান্ত পৃথক না হলেও মুখ‍্যত্ব ও গৌণত্ব ভেদে তাদেরকে স্বতন্ত্র বলে স্বীকার করা যায়।জ্ঞান ও ভক্তির প্রাধান্য নিয়ে মতভেদ আছে, থাকবেও। কিন্তু গীতার অভিপ্রায় স্থিরভাবে বিচার করলে "ভক্তির" প্রাধান্যই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত।*
*🌳শ্রীধর স্বামীপাদ জ্ঞান ও ভক্তির সমন্বয় করতে গিয়ে তাঁর সুবোধনী সাকার উপসংহারে বলেছেন=*
*🌷ভগবদ্ ভক্তিযুক্তস‍্য তৎপ্রসাদাত্মবোধতঃ।*
*🌷সুখং বন্ধবিমুক্তিঃ স‍্যাদিতি গীতার্থসংগ্রহঃ।।*
*☘যিনি ভগবানে ভক্তিযুক্ত, ভগবানের প্রসাদে তাঁর আত্মতত্ত্ববোধ হয় এবং আত্মতত্ত্ববোধ হলে অনায়াসে তিনি মোক্ষ লাভ করেন।*
*🌳একথা বলবার তাৎপর্য‍্য এই যে, যাঁরা মোক্ষকেই একমাত্র কাম‍্য বলে মনে করেন এবং আত্মজ্ঞান তার সাধনস্বরূপ বলে স্বীকার করেন,তাঁদের মতের সঙ্গে গীতার কোনও বিরোধ নাই। কারণ ভক্তিমান ভগবানের অনুগ্রহে আত্মজ্ঞান লাভ করেন এবং তার যে অবশ‍্যম্ভাবী ফল মোক্ষ, তাও অনায়াসে প্রাপ্ত হন।ভাবার্থ এই যে, ভক্ত কোনদিনই মোক্ষ চাহেন না, কিন্তু ভক্তিযোগের ফলে মোক্ষ আপনি করতলগত হয়।*
*☘এখানে প্রধান কথা এই যে, মহাপ্রভুর ধর্মমতে ভক্তির যে অভিনব এবং স্বতন্ত্র অভিব‍্যক্তি দেখতে পাই,অন‍্যত্র তা দেখতে পাওয়া যায় না।মহাপ্রভু যে নূতন প্রণালীতে সাধ‍্য নির্ণয় করলেন এবং রাধাভাব অঙ্গীকার করে এক অপূর্ব প্রেমধর্মের প্রচার করলেন,তাইই আমার প্রতিপাদ‍্য। কেউ কেউ বলেন,এতে নূতনত্ব কিছুই নাই ; (যারা বলেন যে এতে কোনও নূতনত্ব নাই, এককথায় বলা যায় তারা ভক্তিহীন) আবার বলেন যে ভাগবত হতে এই চৈতন‍‍্যপ্রচারিত ধর্মের ধারা এসেছে। (রায় বাহাদুর রমাপ্রসাদ চন্দের সমালোচনা দ্রষ্টব‍্য)*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৭. প্রেম-ধর্ম্ম 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

*(০৭) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
                   *প্রেম-ধর্ম্ম*
           ******,***************
*🍀ভাগবত হতে এই চৈতন‍্যপ্রচারিত ধর্মের ধারা এসেছে,(এটি রায় বাহাদুর রমাপ্রসাদ চন্দের সমালোচনার দ্রষ্টব‍্য-- উদয়ন,পৌষ ১৩৪১)।*
*🌷স্বীকৃত‍্য রাধিকাভাবকান্তী পূর্ব্বসুদুষ্করে।*
*🌷অন্তর্বহীরসাম্ভোধিঃ শ্রীনন্দনন্দনোহপি সন্।।*
               *(গৌরগণৌদ্দেশদীপিকা)*
*🍀শ্রীচেতন‍্য মহাপ্রভুর ধর্মমত কি, তা নিম্নলিখিত শ্লোক হতে বুঝতে পারা যায়।*
*🌷আরাধ‍্যো ভগবান্ ব্রজেশতনয়স্তদ্ধাম বৃন্দাবনং,*
*🌷রম‍্যা কাচিদুপাসনা ব্রজবধূবর্গেণ যা কল্পিতা।*
*🌷শাস্ত্রং ভাগবতং প্রমাণমমলং প্রেমা পুমর্থো মহান,*
*🌷শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভোর্মতমিদং তত্রাদরো নঃ পরঃ।।*
*🌻মহাপ্রভুর মতে শ্রীকৃষ্ণই উপাস‍্য, তাঁর ধাম শ্রীবৃন্দাবন ; সেই বৃন্দাবন বিলাসিনীগণ যে মধুরভাবে তাঁকে ভজনা করেছিলেন,তাইই শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা ; এই ধর্মের বিশুদ্ধ প্রমাণ শ্রীমদ্ভাগবত, এবং শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থ প্রেম।*
*🌹এই মতের বৈশিষ্ট্য বুঝতে হলে শ্রীমন্ধ্বাচার্য‍্যের মতের সঙ্গে পরিচিত হওয়া আবশ‍্যক।মধ্বাচার্য‍্য শ্রীচৈতন‍্য প্রবর্তিত বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের একজন আদিগুরু বলে কথিত হন।খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তিনি প্রাদুর্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর মত নিচের শ্লোকের পাওয়া যায় =*
*শ্রীমন্ধ্বমতে হরিঃ পরতরঃ সত‍্যং জগৎ তত্ত্বতো।*
*ভেদো জীবগণহরেরনুচরাঃ নীচোচ্চভাবং গতঃ।।*
*মুক্তির্নৈজসুখানুভূতিরমলা ভক্তিশ্চ তৎসাধনং।*
*হ‍্যক্ষাদি ত্রিতয়ং প্রমাণমখিলাম্নায়ৈকবেদ‍্যো হরিঃ।।*
*🌻মাধ্বাচার্য‍্য মতে হরি আরাধ‍্য, (শ্রীচৈতন‍্য মতে শ্রীকৃষ্ণ); মধ্বাচার্য‍্য মতে পুরুষার্থ বা কাম‍্য নিজ সুখানুভূতিরূপ মুক্তি, তাঁর সাধন বিশুদ্ধ ভক্তি (শ্রীচৈতন‍্যমতে পুরুষার্থ বা একমাত্র কাম‍্য প্রেম এবং তাঁর সাধন গোপীর ভাবে ভজন)। মধ্বমতে ভগবৎসম্বন্ধীয় জ্ঞানের প্রমাণ বেদ (শ্রীচৈতন‍্যমতে শ্রীমদ্ভাগবত)।*
*🍀সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পূর্বাচার্য‍্য হতেও মহাপ্রভু এক নূতন পন্থা বা পথ প্রবর্তিত করলেন।সেই পন্থার স্বরূপ কি, তাইই আমার পূর্ব প্রবন্ধে দেখাতে চেষ্টা করছি। "রম‍্যা কাচিদুপাসনা" এখানে "রম‍্য" অর্থ‍্যে--,যা আমাদের রসানুভূতি বা Aesthetic sentiment কে পরিতৃপ্ত করে! "কাচিৎ" বলবার তাৎপর্য‍্য এই যে,এটি অনির্বচনীয়। ব্রজবধূগণ কি ভাবে ভজন করতেন, তা মুখে বলে বুঝানো যায় না।তাঁদের দাসীর-দাসীর পদাঙ্গ অনুসরণ করে সাধন-পথে অগ্রসর হতে হলে জানতে পারা যায় যে,গোপীদের ভজন কি বস্তু।এটিই বৈষ্ণব আচার্য‍্যগণের অভিপ্রায়।🌹প্রেমকে পুরুষার্থ বলায় বুঝতে হবে যে,এক নূতন রাজ‍্যের বার্তা শ্রীমন্মহাপ্রভু জগতে প্রচার করলেন। "মুক্তি" "মুক্তি" এইকথা আবহমানকাল হতে আমাদের দেশ আমাদের শুনাচ্ছেন। হঠাৎ এক নূতন সংবাদ আসিল "প্রেম"। সম্ভবতঃ শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী এই "প্রেম" তত্ত্বের আগমনী গেয়েছিলেন, তাঁর শিষ‍্য শ্রীঈশ্বর পুরীকে তিনি দীক্ষা দিয়ে --*
*👌বর দিলা কৃষ্ণে তোমার হউক প্রেমধন।*
*🌻আপানারা সকলেই জানেন শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর শিষ্য। বৈষ্ণবগণ যখন প্রেমকে অঙ্গীকার করলেন,তখন খ্রীষ্টানরা বলে উঠিল, এ তো আমাদেরই বস্তু ভারতবর্ষ এই প্রথম তা আত্মসাৎ করল। মহাভারতে নারদের শ্বেতদ্বীপ গমন এই চৌর্য‍্যাপরাধের প্রমাণস্বরূপ উদ্ধৃত হল।*
*🍀কিন্তু ব‍্যাপার এত সহজ নহে।মহাপ্রভুর ভাষায় যে "প্রেম" মূর্ত্ত হল,তা সাধারণ প্রেম নহে। এ প্রেমের কষ্টিপাথর, বিরহ।বিরহের তীব্রতা যতই বাড়বে প্রেমের গভীরতা সপ্রমাণ হয়। নয় তো প্রেম প্রেমই নয়। মুরারি গুপ্ত বললেন=*
*খাইতে শুইতে রৈতে, আন নাহি লয় চিতে,*
       *বঁধু বিনা আন নাহি ভায়।*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুও বললেন=*
*যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্।*
*শূন‍্যায়িতং জগৎ সর্ব্বং গোবিন্দবিরহেণ মে।।*
*🌻গোবিন্দ-বিরহে এক নিমেষ যুগযুগান্ত বলে মনে হয়,সমস্ত জগৎ শূন‍্য বলে বলে হয়!এটিই প্রেমের আদর্শ।যে প্রেমে ভগবানকে লাভ করা যায়,যে দুর্লভ প্রেম ভগবানেরও আস্বাদ‍্য, সে প্রেম কোথায় দেখতে পাওয়া যায়?*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
       *সেই প্রেম নৃলোকে না হয়।*
*যদি হয় তার যোগ,না হয় তার বিয়োগ,*
      *বিয়োগ হইলে কেহ না জীয়য়।।*
*🌺বিরহে হোস্তস্মি ণ কো জীঅই--, এমন প্রেম হলে তার বিরহে কেউ বাঁচতে পারে না।এটিই গোপীপ্রেমের আদর্শ।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৮. প্রেমধর্ম 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙏*
          *🌻🌻প্রেমধর্ম🌻🌻*
         ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু নিজের জীবনে সেই আদর্শ দেখিয়ে গিয়েছেন=*
*শ্রীরাধার ভাব সার,আপনে করি অঙ্গীকার,*
       *সেই তিন বস্তু আস্বাদিলা।*
☆          ☆          ☆            ☆          ☆
*এই গুপ্তভাব সিন্ধু,ব্রহ্মা না পায় যায বিন্দু,*
       *হেন ধন বিলাইল সংসারে।*
☆           ☆            ☆            ☆               ☆
*কহিবার কথা নহে,কহিলে কেহো না বুঝয়ে,*
      *হেন চিত্র চৈতন‍্যের রঙ্গ।*
*সেই সে বুঝিতে পারে,চৈতন‍্যের কৃপা যারে,*
      *হয় তার দাসানুদাস সঙ্গ।।*
                 *(শ্রীচৈঃচঃ মধ‍্যলীলা)*
*🌻আবার কবিকর্ণপুর মহারাজ প্রতাপরুদ্রের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।*
*🌷আদ‍্যঃ কোহপি পুমান্,*
*নবোৎসুক-বধূকৃষ্ণানুরাগব‍্যথা-*
*🌷স্বাদী চিত্রমহো বিচিত্র-,*
*মহহো চৈতন‍্যলীলায়িতম্।*
*🍀এই যে "নবোৎসুক-বধূকৃষ্ণানুরাগব‍্যথা", এটিই "রম‍্যা কাচিদুপাসনা ব্রজবধূবর্গেণ যা কল্পিতা"।*
*🌺শ্রীমদ্ভাগবতে "প্রেম" আছে। গোপীদের প্রেমের পরাকাষ্ঠা আছে। কিন্তু নাই রাধাভাবের ভজন।সেই আত্মহারা প্রেমের অর্ঘ‍্য সাজিয়ে ভগবচ্চরণে অর্পণ করবার পন্থা প্রদর্শন করলেন শ্রীচৈতন‍্যদেব। তিনি যে এই প্রেমকেই পরম পুরুষার্থ বললেন,এটিই ভক্তিধর্মের ইতিহাসে একটি নূতন অধ‍্যায়ের সূচনা।আমার প্রতিপাদ‍্য এই যে,সেই নূতন তত্ত্ব, বিশেষ কোরে কান্তাভাবের ভজন সম্বন্ধে মহাপ্রভু দাক্ষিণাত‍্যদেশের ভাবধারার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণকালে তিনি অনেক সময়ে এই ভাব আস্বাদন  করবার সুযোগ পেয়েছিলেন।প্রথতমতঃ রায় রামানন্দ সাধ‍্য সাধনতত্ত্ব নির্ণয় প্রসঙ্গে এই সুন্দর ভাবটির মর্মোদঘাটন করেন=*
*🌷রায় কহে কান্তাপ্রেম সর্বসাধ‍্যসার।*
*🍀যাইহোক,ভক্তিধর্মের প্রভাব যে দাক্ষিণাত‍্যদেশ হতে এসেছিল।সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই।এই ভক্তিধারা বৃন্দাবনের পথে বাংলায় পৌঁছিলেও ইহার মূল প্রস্রবণ বোধ হয় দাক্ষিণাত‍্যে।সমালোচকও স্বীকার করেন "শ্রীমদ্ভাগবত রচনার সময় অন‍্যান‍্য দেশে শুদ্ধাভক্তিসম্পন্ন লোক যখন অল্পসংখ‍্যক ছিল এবং তাম্রপর্ণী এবং কাবেরীর তীরে দ্রবিড়দেশে বহুসংখ‍্যক ছিল,তখন অনুমান করা যেতে পারে,এই ভক্তির জন্মস্থান দ্রবিড়দেশ।কান্তাভাবের উপাসনাও দাক্ষিণাত‍্য হতে এসেছে। "রাধানাম" পূর্বে থাকলেও, রামানন্দ-মিলনের আগে "রাধাভাব" নিয়ে এমন প্রেমভক্তির ধর্ম গড়ে উঠে নাই।এটিই লেখকের বক্তব‍্য!চৈতন‍্যভাগবতে দেখা যায়,মহাপ্রভু "গোপী" "গোপী" বলিয়া এক সময়ে কেঁদে উঠেছিলেন। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে রাধাভাবের কোনও উল্লেখ দেখা যায় না।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৯. প্রেমসম্পুট 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
             *প্রেমসম্পুট*
         *******************
*🍀আঁধারের নিতল নীল বুকের মাঝে তারাগুলি নিমিখ-শূন‍্য দৃষ্টিতে জেগে থাকে, রহস‍্যাচ্ছন্ন কালের বক্ষেও তেমনি কতকগুলি উজ্জ্বল চরিত্র অম্লান জ‍্যোতিতে দেদীপ‍্যমান থাকে।শ্রীরাধা সেইরকম একটি চরিত্র। শ্রীরাধা বিশুদ্ধ প্রেমের আদর্শ।তিনি কৃষ্ণময়ী।কৃষ্ণ-প্রেম বলতে যা বুঝায় তিনি তাঁর মূর্তিমতি প্রতিমা।তিনি সর্বাংশে কৃষ্ণ-স্বরূপিনী।*
*🌷সর্বাংশৈঃ কৃষ্ণসদৃশী তেন কৃষ্ণ-স্বরূপিনী।*
                          *(ব্রহ্মবৈবর্ত্তে।)*
*প্রেমের স্বভাব এই যে,সেটি দুইটি হৃদয়কে গলিয়ে এক করে দেয়।যতক্ষণ এই একত্ব সাধিত না হয়, ততক্ষণ প্রেম হল না।শ্রীরাধা উক্তি*
*🌷কৃষ্ণ প্রাণাধিকা কৃষ্ণপ্রিয়া কৃষ্ণস্বরূপিনী।ঐ*
*☘কৃষ্ণ হতে অতিরিক্ত কোনও সত্তা তাঁর নাই।তাই তাঁকে পন্ডিতগণ বলেন "প্রেম-শিরোমণি" "মহাভাবস্বরূপিনী" "প্রেমরসের সীমা"।কল্পনাপ্রেমের এতদপেক্ষা কোনও উজ্জ্বলতর চিত্র অঙ্কিত করতে পারে নাই। সাংসারিক প্রেমের কলঙ্ক-কালিমাময় নিকষে সোনার রেখাটির মত এই প্রেমের চিত্র।এই প্রেম-চিত্রের সামনে স্বকীয়া পরকীয়া প্রভৃতি প্রশ্নউঠতে পারে বলে আমি মনে করি না।প্রেম যেখানে পাগলা ঝোরার মত শত শত ধারায় ছুটে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়,সেখানে নীতিবাদীদের সমস্ত সংশয় বিতর্ক স্তব্ধ হয়ে যায় না কি?গোষ্পদ বা পুষ্করিণীর গভীরতা ও দৈর্ঘ‍্য সমালোচনার বিষয় হয় বটে, কিন্তু মহাসমুদ্রের কুলে দাঁড়িয়ে কেউ কি সে সব কথা একবারও ভাবে? রাধাপ্রেম ঐ পাগলা ঝোরার ন‍্যায় সব বাধাকে উপেক্ষা করে,গভীরতায় সমুদ্রকেও নিন্দা করে, নিঃস্বার্থতায় সমস্ত উপমাকে হার মানায়।*
*🌹এই প্রেমের ছবি ফুটে উঠেছিল পদাবলী সাহিত‍্যে,পদাবলী সত‍্যই প্রেমসম্পুট বা প্রেমের রত্নকৌটা। শ্রীজয়দেব গোস্বামী,চন্ডীদাস, বিদ‍্যাপতি প্রেমের যে ছবি এঁকেছেন, তা বর্ণে ও বৈচিত্র্যে অতুলনীয়। শ্রীচৈতন‍্যদেব এই প্রেমের পরিমলে পাগল।বৈষ্ণবগণ বলেন তিনি ভগবানের অবতার।*
*🍀কিন্তু এ এক নূতন অবতার, এ প্রেমের অবতার। তিনি প্রেমের ঠাকুর।এমন অবতারের কথা পূর্বে কেউ কখনও শুনে নাই।মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসী, কিন্তু প্রেমিক।প্রেমিক কখনও সন্ন‍্যাসী হতে দেখা যায় না, সন্ন‍্যাসী কখনও প্রেমিক হয় না। কিন্তু গোরাচাঁদ কখনও প্রেমে অজ্ঞান, কখনও বিরহে ব‍্যাকুল।*
*কি ভাব উঠিল মনে,কান্দিয়া আকুল কেনে,*
      *সোনার অঙ্গ ধূলায় লোটায়।*
*🌹এই যে চিত্র,এটির সঙ্গে শ্রীরাধা-চিত্রের সাদৃশ‍্য বড় সুস্পষ্ট।সেইজন‍্য শ্রীগৌরসুন্দরকে বলে "রসরাজ মহাভাব"।তিনি প্রেমিক,রসিক-শেখর, এইজন‍্য তিনি রসরাজ।তিনি প্রেমের চরম অভিব‍্যক্তি,এইজন‍্য মহাভাব। এই যে প্রেম ও রসে মাখামাখি,এটিই বৈষ্ণবধর্মের সর্বাপেক্ষা নিগূঢ় ও পরমাস্বাদ‍্য রহস‍্য।এটি হতে মধুর ও উপভোগ‍্য আর কিছুই নাই।অন‍্য সমস্তই বাহ‍্য।প্রেম-যমুনার মূলপ্রপাত খুঁজতে গিয়ে মহাপ্রভু যখন উর্দ্ধ হতে উর্দ্ধতর শিখর অতিক্রম করে রাধা-প্রেমরূপ যমুনোত্রীর স্বচ্ছ ধারায় অবগাহন করলেন, তখন আর কোনরকম বিচার রইল না।এইখানে সমস্ত জিজ্ঞাসা,সমস্ত কৌতূহল মুহূর্তে নিরস্ত হয়ে গেল।*
*☘শ্রীচৈতন‍্যের পরে এই রাধাপ্রেমের মাধুর্য‍্য কাব‍্যে ও ছন্দে আরও বিকসিত হয়ে উঠিল।গোবিন্দ দাস,জ্ঞানদাস, নরোত্তমদাস প্রভৃতির কাব‍্যে এই প্রেমের মাহাত্ম্য নানা ছন্দে, নাধা ভাবে বর্ণিত হল।নরোত্তম দাস ঠাকুর তাঁর একটি প্রসিদ্ধ প্রার্থনার পদে বললেন=*
*🌷হরি হরি আর কবে হেন দশা হব।*
*কবে বৃষভানুপুরে, আহিরী গোপের ঘরে,*
         *তনয় হইয়া জনমিব।।*
*🍀
*এর পরেও, পন্ডিত প্রবর শ্রীবিশ্বনাথ চক্রবর্তী তাঁর গ্রন্থে এই রাধা-প্রেমের একটি সুন্দর বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তাঁর বর্ণনা ভঙ্গীটি এরকম চিত্তাকর্ষক যে,সেটি একটু বিস্তৃত ভাবে উল্লেখ করলে বোধ হয় অসঙ্গত হবে না।*
*🌻শ্রীরাধার মন পরীক্ষা করবার জন্য একদিন শ্রীকৃষ্ণ মোহিনী-বেশ ধারণ করে বৃষভানু রাজার অন্তঃপুরে প্রবেশ করলেন।রাধিকা সেই অবগুন্ঠনবতী যুবতীকে দেখে তাঁর সখীদের বললেন, জেনে আই তো, ঐ রমণী কি প্রয়োজনে এসেছেন। সখীগণ যুবতীকে ঐরকম প্রশ্ন করলে তিনি মৌনী রইলেন,কোনও উত্তর করলেন না।তখন রাধা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন=*
*🌹অয়ি শুভে!আপনি কে? এবং কি প্রয়োজনে এখানে এসেছেন? আপনার রূপ দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোন সম্ভ্রান্ত ঘরের কুলবধূ ; আপনার আগমনের উদ্দেশ্য জ্ঞাপন করে আমাকে কৃতার্থ করুন। এইভাবে পুনঃপুনঃ জিজ্ঞাসিত হয়ে রমণী বেশধারী শ্রীকৃষ্ণ বললেন, আমি দেবী, স্বর্গে আমার নিবাস।আমি যে জন্য ব‍্যাকুল হয়ে তোমার কাছে এসেছি তা শোন। তোমাদের এই বৃন্দাবনে যে বেণুধ্বনি হয়,তার বিক্রম স্বর্গপুরে প্রবেশ করে চিরযৌবনা দেবাঙ্গনাগণকেও বিভ্রান্ত করেছে।আমি সেই বংশীধ্বনির অনুসরণ করে এখানে এসেছি।কয়েকদিন বংশীবটে থেকে তোমাদের অনুপম নানান বিলাসও দেখলাম।অবশ‍্য কোন পরপুরুষ আমাকে দেখতে পাই নাই। এইকথা শুনে শ্রীরাধা পরিহাস করে সেই নবীনা যুবতীকে বললেন "গোপনে আপনি যখন শ্রীহরির লীলা প্রত‍্যক্ষ করেছেন,তখন আপনার আর পরপুরুষের প্রয়োজন কি? দেবাঙ্গনাবেশী শ্রীকৃষ্ণ বললেন,সখি! তোমার সঙ্গে পরিহাসে কে পারবে? তুমি সর্বগুণযুক্তা। তুমি মানবী হলেও,সুরাঙ্গনাগণ তোমার গুণকথা নতমস্তকে শুনেন।বৈকুন্ঠেও তোমার মত প্রেমবতী কেউ নাই।আমি কৈলাসে হৈমবতীর সভায় তোমার অনেক গুণ-বর্ণনা শুনলাম।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১০. প্রেমসম্পুট 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
           *প্রেমসম্পুট*
. *******************
*🍀কিন্তু আমি এসে যা প্রত‍্যক্ষ করলাম,তাতে আমার দুঃখের অবধি নাই।আমি দেখলাম সুচতুরশিরোমণি শ্রীকৃষ্ণ তোমাকে বঞ্চনা করে অন‍্য রমণীর প্রেমে মুগ্ধ হয়েছেন।তোমাকে সঙ্কেত স্থানে আসতে বলে তিনি নিতান্ত নিষ্ঠুরভাবে তোমাকে উপেক্ষা করে অন‍্য নায়িকার কুঞ্জে নিশিযাপন করলেন।এইরকম কপটচারী শঠের প্রতি তোমার এত অনুরাগ দেখে আমি আশ্চর্য‍্যান্বিত হয়ে গিয়েছি। শ্রীমতী রাইধনি ধীর ভাবে সমস্ত কথা শুনে, "কুমারসম্ভবের পার্বতীর পার্বতীর মত ক্রোধে স্ফুরিতাধর হলেন না।ছদ্মবেশী শিবের মুখে শিবনিন্দা শুনে পার্বতী ধৈর্য‍্য ধারণ করতে পারেন নাই। একবার তিনি যে কারণে দেহত‍্যাগ করে কর্ণযুগলকে শাস্তি দিয়েছিলেন, আবারও প্রায় তেমনি দশা ঘটবার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু শ্রীরাধিকা জানতেন যে,তাঁর প্রেমের মর্ম বুঝতে পারা সকলের পক্ষে সম্ভব না।তাই তিনি প্রতিবাদরূপে কেবল বললেন, সুন্দরী!শ্রীকৃষ্ণের মত তোমারও এই একটি গুণ দেখছি যে,তুমি আমার সমক্ষে আমার প্রিয়তমের এত নিন্দা করলেও আমি তোমার প্রতি ক্রমশ অনুরক্ত হয়ে পড়ছি।তোমার উপর আমার ক্রোধ হচ্ছে না, এটিই আশ্চর্য‍্য। রাধা বলছেন, তবে তুমি যখন জিজ্ঞাসা করলে,তখন শোন। আমার প্রিয়তম যে সঙ্কেতকুঞ্জে আমাকে আহ্বান করে নিজে আগমন করতে পারলেন না,এতে তাঁর দোষ কিছুমাত্র নাই।অন‍্যের দ্বারা প্রতারিত হয়েই তিনি ঐরকম করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে সুখী হতে পারেন নাই। আমি যে সজল নয়নে নিশিজাগরণে তাঁর প্রতীক্ষা করেছি, এই চিন্তা সর্বদা মনে হওয়াতে তিনিও সেই রজনী অতিকষ্টে অতিবাহিত করেছিলেন।পরদিন প্রভাতে তিনি আমার কাছে আসিলে আমি যে অভিমান করেছিলাম,তা কেবল প্রিয়তমের দুঃখ স্মরণ করে।আমার সেই সকোপ তিরস্কার তিনি অত‍্যন্ত উপভোগ করেছিলেন।*
*আর যে রাসমন্ডল হতে আমাকে বনান্তরে নিয়ে গিয়ে হঠাৎ পরিত‍্যাগ করে যাবার কথা বলিলে, ওগো সখী! তাতে প্রাণাধিকের কিছুমাত্র দোষ নাই। কেন তা বলছি=*
*☘তিনি আমাকে নিয়ে যখন অন‍্যত্র চলে গেলেন,তখন আমার অন‍্য সখীরা আমার প্রতি স্বভাবতই ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছিল।সেইজন‍্য প্রিয়তম আমাকে নানাপ্রকারে আনন্দ প্রদান করে অন্তর্হিত হলেন। অভিপ্রায় এই যে, অন‍্য সখীরা আমাকে তদবস্থায় দেখলে তাদের ঈর্ষ‍্যা তো দুর হবেই,অধিকন্তু কৃষ্ণবিরহে আমার কি দশা হয়,তা দেখে তারা আমার প্রেমের শ্রেষ্ঠতা অনুভব করবে। সুতরাং হে সুন্দরী! আমার প্রাণবল্পভের কোনও অপরাধ নাই। তিনি "প্রেমাম্বুধি র্গুণমণিখনিঃ", তাঁর তুলনা নাই।*
*🌻শ্রীমতীর এই সব যক্তি শুনে সেই যুবতী বললেন=*
*🌷দোষা অপি প্রিয়তমস‍্য গুণা যতঃ স‍্যুঃ,*
   *তদ্দত্তকষ্টশতমপ‍্যমৃতায়তে যৎ।*
*তদ্দুঃখলেশকণিকাপি যতো ন সহ‍্যা,*
*ত‍্যত্ত্বাত্মদেহমপি যং ন বিহাতুমীষ্টে*।
*যোহসন্তমপ‍্যনুপমং মহিমানমুচ্চৈঃ,*
*প্রত‍্যায়য়ত‍্যনুপদং সহসা প্রিয়স‍্য।।*
     *প্রেমা স এব •••••••••••••••••••*
*🌺যাতে প্রিয়তমের দোষগুলিও গুণের মত প্রতীত হয়, যাতে তাঁর দেওয়া শত শত কষ্টকেও অমৃত বলিয়া মনে হয়,যাতে প্রিয়তমের দুঃখলেশকণিকাও সহ‍্য করতে পারা যায় না, যার জন্য নিজের দেহপাত হলেও প্রিয়তমকে ত‍্যাগ করতে ইচ্ছা হয় না, যা প্রিয়তমের মহিমা না থাকলেও পদে পদে অনুপম মহিমা অনুভব করিয়ে থাকে, তারই নাম প্রেম।*
*🍀রাধে!বুঝলাম এটিই তোমার প্রেমের রহস‍্য।সত‍্যই তুমি প্রেমবতী। হৈমবতীর সভায় যা শুনেছিলাম যে, তোমার মত প্রেমিকা জগতে আর নাই, আজ তার সত‍্যতা প্রত‍্যক্ষ করলাম। কিন্তু একটি বিষয়ে আমার সন্দেহ যাচ্ছে না ; কৃষ্ণের মনের কথা তুমি জানলে কেমন করে? তিনি যে কারণে তোমার কাছে আসতে পারেন নাই অথবা যে অভিপ্রায়ে তোমাকে পরিত‍্যাগ করেছিলেন,তা তুমি কি করে জানলে? তোমার কি "অচ‍্যুত-যোগ সিদ্ধ আছে, যার দ্বারা অন‍্যের মনের কথা জানতে পারা যায়?*
*🌳তখন রাধিকা বললেন, হে সুন্দরী!তোমরা দেবাঙ্গনা, অচ‍্যুত-যোগ-সিদ্ধিতে তোমাদের প্রয়োজন থাকতে পারে ; আমি মানবী, আমরা সেটি কোথায় পাব?প্রিয়তমের মনের ভাব জানতে আমার কি কোনও যোগের প্রয়োজন হয়? আমরা যে পরস্পরের মনোভাব জানতে পারি,এ আবার বেশী কথা কি?*
*🌷একাত্মনীহ রসপূর্ণতমেহত‍্যগাধে,*
*একাসুসংগ্রথিতমেব তনুদ্বয়ং নৌ।*
*কস্মিংশ্চিদেক সরসীব চকাসদেক-*
*নালোত্থমব্জযুগলং খলু নলপীতম্।।*
*🌻সখি!একটি সরোবরে নীলপীত দুইটি পদ্ম একনাল হতে উত্থিত হলে যেমন হয়,তেমনি অতি অগাধ রসপূর্ণতম একটি আত্মা হতে আমাদের দুই তনু আবির্ভূত হয়ে একই প্রাণসূত্রে তা গ্রথিত আছে। এইজন‍্যই একের মনের ভাব অপরের মনে তৎক্ষণাৎ প্রতিফলিত হয়।*
*🌺তখন সেই মোহিনী বললেন, প্রিয় সখি! তুমি যা বললে তা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি এর প্রত‍্যক্ষ কোন প্রমাণ না পেলে নিঃসন্দেহ হতে পারছি না। রাধিকা জিজ্ঞাসিলেন, কি প্রত‍্যক্ষ প্রমাণ তোমার চাই বল? তখন সেই সুন্দরী কৌতূক সহকারে বললেন, আচ্ছা, কৃষ্ণ কাছেই থাকুন বা দূরেই থাকুন, তুমি তাঁকে একটি বার স্মরণ কর। তিনি যদি তোমার ডাক শুনে তোমার কাছে এই মুহূর্তে আগমন করেন, তাহলে আমার সংশয় দূরীভূত হবে।হে কৃষ্ণপ্রিয়ে! এ সময়ে গুরুজনের এখানে আগমনের সময় না, অতএব তুমি নিঃসঙ্কুচিত চিত্তে তাঁকে একবার স্মরণ কর, কৃষ্ণ এখানে আসুন,আমরা তাঁকে দেখে আনন্দলাভ করি।* 
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚

*🍀এইরকমভাবে অনুরুদ্ধ হয়ে বৃষভানু-নন্দিনী নেত্রযুগল নিমীলিত করে নিজ কান্তের ধ‍্যান করতে লাগলেন এবং সমস্ত ইন্দ্রিয়বৃত্ত নিরোধ করে যোগিনীর মত মৌন অবলম্বন করলেন।যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ নারীবেশ পরিত‍্যাগ করে "ধ‍্যানস্তিমিত নয়না গলদশ্রুবয়না" শ্রীরাধিকাকে মুহুর্মুহু চুম্বন করলেন।*
*🌹মহামহোপাধ‍্যায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ১৬০৬ শকে এই প্রেমসম্পূট কাব‍্য প্রণয়ন করেন।এই কাব‍্যে কবি যে প্রেমের বিশ্লেষণ দিয়েছেন,তা অত‍্যন্ত উপভোগ‍্য।অন‍্যান‍্য বৈষ্ণব মহাজনগণও শ্রীরাধা-প্রেমের চিত্রাঙ্কনে যথেষ্ট নৈপুণ‍্য প্রদর্শন করেছেন।মা যশোমতী যেরকম বাৎসল‍্যের প্রতিমূর্তি, শ্রীরাধিকা তেমনই প্রেমের প্রতিমূর্তি।বৈষ্ণব কবিগণ যেন হৃদয়ের শোণিত বিন্দু দিয়ে এই প্রেমের ছবি এঁকেছিলেন। জ্ঞান দাস,গোবিন্দ দাসের পদাবলী হতে এই প্রেম-পরিকল্পনার একটু নমুনা দিচ্ছি।*
*🌳কিশোরী কৃষ্ণপ্রেমের আস্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু লজ্জাবিজড়িত নবোঢ়ার মত সখীগণকে কিছু বলতে পারছেন না। সখীরা একদিন অনুযোগ করে বলছেন=*
*লহু লহু মুচকি,হাসি চলি আওলি,*
      *পুন পুন হেরসি ফেরি।*
*জনু রতি পতি সঞে,মীলল রঙ্গভূমে,*
      *ঐছন কয়ল পুছেরি।।*
    *ধনি হে বুঝলুঁ এ সব বাত।*
*এতদিনে তুহুঁক, মনোরথ পূরল,*
        *ভেটলি কানুক সাথ।।*
*🌻রাধে!তুমি মৃদু মৃদু মুচকি হেসে চলে আসছ এবং পুনঃপুনঃ পিছনে ফিরে চাইছ।তোমার রঙ্গ দেখে মনে হচ্ছে যেন রঙ্গমঞ্চে রতি মদনের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন।মদন অনঙ্গ বলিয়া তাঁকে দেখা যায় না, কিন্তু রতির অভিনয় দেখে যেমন অনঙ্গের অস্তিত্ব অনুমান করতে হয়, তোমার হাসি হাসি ভাব ও পুনঃ পুনঃ ফিরে ফিরে চাওয়া দেখে তোমার প্রেমাস্পদের সঙ্গে মিলনের কথাও বুঝতে পারা যাচ্ছে। বুঝলাম যে, এতদিনে তোমার মনোরথ পূর্ণ হয়েছে এবং নাগরেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তোমার দেখা হয়েছে।*
*হাম সব নিজ জন,কহসি রাতিদিন,*
        *সো সব বুঝলুঁ আজে।*
*জ্ঞান দাস কহ, সখি তুঁহু বিরমহ,*
        *রাই পায়ল বহু লাজে।।*
*🌹সখীগণ বলছেন,আমরা তোমার একান্ত আপনার জন,একথা রাত্রিদিন বলে থাক। কিন্তু আজ সে সব বুঝা গেল। অর্থ‍্যাৎ তোমার প্রেমের কথা আমাদের কাছে গোপন করতেই ব‍্যস্ত।রাধে!একে কি আপন জন বলে? জ্ঞানদাস বলছেন,সখি তুমি আর বলিও না, রাইধনি অত‍্যন্ত লজ্জা পেয়েছেন।*
*🌺সখীগণ শ্রীরাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার সঙ্গিনী মাত্র নহেন,তাঁরা এই প্রেমের কারিকর।এই পিরীতিরত্ন ভাঙ্গলে তা জোড়া লাগাতে তাঁরাই পটু। বস্তুতঃ সখী নহিলে এই প্রেমলীলা অসম্পূর্ণ থাকত।🔵রবীন্দ্রনাথ শকুন্তলার সম্বন্ধে বলেছেন যে,শকুন্তলা-চিত্র অনুসূয়া ও প্রিয়ম্বদার দ্বারা সম্পূর্ণ হয়েছে,তেমনি আমরা বলতে পারি,সখী ছাড়া শ্রীরাধার চিত্র কখনও পূর্ণ,সর্বাঙ্গসুন্দর হতে পারত না।সখীগণ শ্রীরাধার পরিপূর্ণ আস্থা।সখীগণের অনুযোগের উত্তরে রাধিকা বলছেন=*
*🌷দরশনে লোর নয়ন যুগ ঝাঁপ।*
*🌷করইতে কোর দুহু ভুজ কাঁপ*।।
*🌷দুর কর এ সখি সো পরসঙ্গ।*
*🌷নামহি যাক অবশ করু অঙ্গ।।*
*🌷চেতন না রহ চুম্বন বেরি।*
*🌷কো জানে কৈছে রভস-রস-কেলি।।*
*🌹সখি! তোমরা আমাকে মিছাই দোষ দিচ্ছ।আমি ইচ্ছা করে তোমাদের কাছে কিছুই গোপন করি নাই।শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে আমার প্রণয়ের কথা তোমরা জানতে চাইছ, কিন্তু আমি কি বলব?যাঁকে দেখলে নয়নযুগল অশ্রুতে ভরে যায় (ভাল করে দেখবার পক্ষে বাধা জন্মায়) যাঁকে আলিঙ্গন করতে গেলে ভূজদ্বয় কম্পিত হয়,তাঁর সঙ্গে প্রেম-ক্রীড়ার কথা কি বলব? সখী সে সব প্রসঙ্গ আর তুলিও না। সখী সত‍্যি কথা বলছি,যাঁর নাম মনে হতেই অঙ্গ অবসন্ন হয়ে আসে,যিনি চুম্বন করলে আমার চেতনা লুপ্ত হয়,তাঁর রভস-কেলি কেমন তা কি আমি জানি?আমি নিজেই জানি না, তা তোমাদেরকে বলব কি ভাবে?*
*🌷কানুক পরশে যতহুঁ অনুভাব।*
*🌷অনুভবি আপে পরক সমুঝাব।।*
*👥শ্রীকৃষ্ণের স্পর্শে যে সব বিচিত্র অনুভাব উদিত হয়,তা আমি নিজে বুঝলে তো পরকে বা তোমাদের বুঝাব?*
*🌷তবহু জগত ভরি অকিরিতি এহ।*
*🌷রাধা-মাধব অবিচল নেহ।।*
*🌹আমার তো ব‍্যাপার এই, অথচএর মধ্যে জগতে এই কলঙ্ক রটেছে যে,রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে অত‍্যন্ত প্রণয়।*
*🌷এ কিয়ে সুদঢ় কিয়ে পরিবাদ।*
*🌷গোবিন্দ দাস কহ না ভাঙ্গে বিবাদ।।*
*🌹এই যে লোকে বলে এটা কি, সুনিশ্চিত অর্থ‍্যাৎ সত‍্য কথা,অথবা মিছাই কলঙ্ক?গোবিন্দ দাস বলছেন যে,এ সন্দেহ কোন দিন ঘুচবে না।*
🦚🙏🪷🪔🌷🦜🌸🦋🌸🦜🌷🪔🦋
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds