শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫১) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
          *শ্রীধামপুরীতে মহামিলন*
          ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀পুনঃ স্বরূপ গোঁসাইয়ের কাছে মালা দিয়ে পাঠালেন।ভক্তগণ কৃষ্ণ সংকীর্তন করতে করতে ও নাচতে নাচতে মহানন্দে আসিলেন।যখন সিংহদ্বারে আসিলেন তখন স্বয়ং মহাপ্রভু এসে ভক্তগণকে নিয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শন করলেন। সেখান হতে নিজ বাসস্থানে এসে ভক্তগণকে প্রসাদ দিলেন।আগের বৎসরের ন‍্যায় সেইসব জায়গায় থাকবার ব‍্যবস্থা হল।পূর্ববৎ ভক্তগণ চারমাস প্রভুপাদপদ্মে থেকে যাত্রা-মহোৎসবাদি দর্শন ও শ্রবণ করলেন।এবারও অদ্বৈতাচার্য‍্য, মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করে ভিক্ষা দিলেন। শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে পাই=*
*🌷একদিন শ্রীঅদ্বৈতসিংহ মহামতি।*
*🌷প্রভুরে বলিলা,আজি ভিক্ষা কর ইথি।।*
*🌷মুষ্ট‍্যেক তন্ডুল প্রভু,রান্ধিব আপনে।*
*🌷হস্ত মোর ধন‍্য হউ তোমার ভক্ষণে।।*
*🌷প্রভু বোলে, যে জন তোমার অন্ন খায়।*
*🌷"কৃষ্ণ-ভক্তি","কৃষ্ণ" সে-ই পায় সর্বথায়।।*
*🌷আচার্য‍্য তোমার অন্ন আমার জীবন।*
*🌷তুমি খাওয়াইলে হয় কৃষ্ণের ভোজন।।*
*🌷তুমি যে নৈবেদ‍্য কর করিয়া রন্ধন।*
*🌷মাগিয়াও খাইতে আমার তথি মন।।*
*🌷শুনিয়া প্রভুর ভক্তবৎসলতা বাণী।*
*🌷কি আনন্দে অদ্বৈত ভাসেন নাহি জানি।।*
*🌷পরম সন্তোষে তবে বাসায় আইলা।*
*🌷প্রভুর ভিক্ষার সজ্জ করিতে লাগিলা।।*
*🌷লক্ষ্মী-অংশে জন্ম-- অদ্বৈতের পতিব্রতা।*
*🌷লাগিলা করিতে কার্য‍্য হই ' হরষিতা।।*
☆               ☆               ☆               ☆
*🍀অদ্বৈতাচার্য‍্যের একান্ত ইচ্ছে যে মহাপ্রভু যেন একা আসেন, এবং প্রাণভরে মহাপ্রভুর সেবা দিতে পারি। কারণ মহাপ্রভু যেখানে যান বহু ভক্তগণ তাঁর সঙ্গে সঙ্গ করেন। শেষ পর্যন্ত অদ্বৈতের ইচ্ছে পূর্ণ হল*।
*🌷এ সব-বৈষ্ণব-অবতারে অবতারি।*
*🌷প্রভু অবতারে ইহা-সবে অগ্রে করি।।*
*🌷যেরূপে প্রদ‍্যুম্ন,অনিরূদ্ধ,সঙ্কর্ষণ।*
*🌷সেইরূপ লক্ষ্মণ,ভরত, শত্রুঘন।।*
*🌷তাঁহারা যেরূপ প্রভু-সঙ্গে অবতরে।*
*🌷বৈষ্ণবেরে সেইরূপ প্রভু আজ্ঞা করে।।*
*🌷এতএব বৈষ্ণবের জন্ম-মৃত‍্যু নাই।*
*🌷সঙ্গে আইসেন,সঙ্গে যায়েন তথাই।।*
*🌷ধর্ম্ম,কর্ম্ম,জন্ম বৈষ্ণবের কভু নহে।*
*🌷পদ্ম-পুরাণেতে ইহা ব‍্যক্ত করি কহে।।*
*🌷হেনমতে ঈশ্বরের সঙ্গে ভক্তগণ।*
*🌷প্রেমে পূর্ণ হইয়া থাকেন সর্বক্ষণ।।*
                *(শ্রীচৈঃভাঃ অঃ)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻🌻শ্রীচৈতন‍্যাবতার প্রচার🌻🌻*
*🌹একদিন অদ্বৈত সকল ভক্ত-প্রতি।*
*🌹বলিলা পরমানন্দে মত্ত হই অতি।।*
*🌹শুন ভাই-সব,এক কর সমবায়*।
*🌹মুখ ভরি গাই' আজি শ্রীচৈতন‍্যরায়।।*
*🌹আজি আর কোন অবতার গাওয়া নাই।*
*🌹সর্ব-অবতারময়-- চৈতন‍্য গোসাঞি।।*
*🌹যে প্রভু করিল সর্বজগত উদ্ধার।*
*🌹আমা' সবা' লাগি, যে গৌরাঙ্গ-অবতার।।*
☆          ☆          ☆          ☆          ☆
*🌹শুনি প্রভু অদ্বৈতের কৃপাযুক্ত বাণী।*
*🌹উচ্চ করি বলিতে লাগিলা হরিধ্বনি।।*
*🌹দবিরখাসেরে প্রভু বলিতে লাগিলা।*
*🌹"এখানে তোমার কৃষ্ণপ্রেমভক্তি হৈলা।।*
*🌹অদ্বৈতের প্রসাদে যে হয় কৃষ্ণভক্তি।*
*🌹জানিহ অদ্বৈত কৃষ্ণের পূর্ণশক্তি।।*
                   *(শ্রীচৈঃভাঃঅঃ)*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫২)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভুর শ্রীঅদ্বৈত-তত্ত্ব প্রকাশ*
^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^
*☘স্বয়ং শ্রীগৌর ভগবান অন্তরঙ্গ ভক্তের মহিমা প্রকাশ করবার জন্য তিনি নিজেই উদ‍্যোগী হলেন।ভক্ত যেমন ভগবানের নাম-রূপ-গুণলীলা প্রকাশ করেন, তেমনি ভগবানও অন্তরঙ্গ ভক্তের মহিমা প্রকাশ করেন।শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন=*
*🌷যা'র যত কীর্ত্তি ভক্তি-মহিমা উদার।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্র সে সব করয়ে প্রচার।।*
*🌷নিত‍্যানন্দ-তত্ত্ব কিবা অদ্বৈতের তত্ত্ব।*
*🌷যত মহাপ্রিয়-ভক্তগোষ্ঠীর মহত্ত্ব।।*
*🌷চৈতন‍্যপ্রভু সে সব করিলা প্রকাশে।*
*🌷সেই প্রভু সব ইহা কহেন সন্তোষে।।*
*🌷যে ভক্ত যে বস্তু -- যাঁর যেন অবতার।*
*🌷বৈষ্ণব,বৈষ্ণবী যাঁর অংশে জন্ম যাঁর।।*
*🌷যাঁর যেন মত পূজা,যাঁর যে মহত্ত্ব।*
*🌷চৈতন‍্যপ্রভু সে সব করিলেন ব‍্যক্ত।।*
*🌹একদিন প্রভু বসিয়াছে সুপ্রকাশে।*
*🌹অদ্বৈত-শ্রীবাস-আদিভক্ত চারি-পাশে।।*
*🌹শ্রীবাস পন্ডিতে তবে ঈশ্বর আপনে।*
*🌹আচার্য‍্যের বার্তা জিজ্ঞাসেন তান স্থানে।।*
*🌹প্রভু বোলে,শ্রীনিবাস! কহ ত আমারে।*
*🌹কিরূপ বৈষ্ণব তুমি বাস' অদ্বৈতেরে।।*
*🌹মনে ভাবি বলিলা শ্রীবাস মহাশয়।*
*🌹"শুক বা প্রহ্লাদ যেন মোর মনে লয়।।*
*🌹অদ্বৈতের উপমা প্রহ্লাদ,শুক যেন।*
*🌹শুনি' প্রভু ক্রোধে শ্রীবাসেরে মারিলেন।।*
*🌹পিতা যেন পুত্রে শিখাইতে স্নেহে মারে।*
*🌹এইমত এক চড় হৈল শ্রীবাসেরে।।*
*🌹কি বলিলি,কি বলিলি পন্ডিত-শ্রীবাস।*
*🌹মোহার নাড়ারে কহ শুক বা প্রহ্লাদ।।*
*🌹যে শুকেরে "মুক্ত" তুমি বল সর্বমতে।*
*🌹কালিকার বালক শুক নাড়ার আগাতে।।*
*🌹এতবড় বাক‍্য মোর নাড়ারে বলিলি।*
*🌹আজি বড় শ্রীবাসিয়া মোরে দুঃখ দিলি।।*
*🌹এত বলি ক্রোধে হাতে ছিপযষ্টি লৈয়া।*
*🌹শ্রীবাসেরে মারিবারে যান খেদাড়িয়া।।*
*🌻তখন শ্রীঅদ্বৈত জোড়হাত করে মহাপ্রভুকে বললেন, প্রভু! ক্রোধ সম্বরণ করুন,শ্রীবাস বালক,অনেক ভুলভ্রান্তি করবে, প্রভু তুমি জগতপিতা, তাঁর ভুল সংশোধন করে,তাঁকে ক্ষমা করো।আচার্য‍্যের কথায় মহাপ্রভুর ক্রোধ দূর হল।*
*🌹প্রভু কহে,-- তোহারা বালক শিশু মোর।*
*🌹এতেকে সকল ক্রোধ দূর গেল মোর।।*
*🌹মোর নাড়া জানিবারে আছে হেন জন।*
*🌹যে মোহারে আনিলেক ভাঙ্গিয়া শয়ন।।*
*🌹প্রভু বোলো,অহে শ্রীনিবাস মহাশয়।*
*🌹মোহার নাড়ারে এই তোমার বিনয়।।*
*🌹শুক-আদি করি সব বালক উহার।*
*🌹নাড়ার পাছে সে জন্ম জানিহ সবার।।*
*🌹অদ্বৈতের লাগি' মোর এই অবতার।*
*🌹মোর কর্ণে বাজে আসি' নাড়ার হুঙ্কার।।*
*🌹শয়নে আছিনু মুঞি ক্ষীরোদ সাগরে।*
*🌹জাগাই' আনিল মোরে নাড়ার হুঙ্কারে।।*
*🌹শ্রীবাসের অদ্বৈতের প্রতি বড় প্রীত।*
*🌹প্রভু-বাক‍্য শুনি হৈল অতি হরষিত।।*
*🌻মহাপ্রভুর শ্রীমুখ হতে অদ্বৈততত্ত্ব শুনবার শ্রীবাস ভয়ে কাঁপতে লাগলেন,তারপর বললেন, 🙏আমি বড় অপরাধ করেছি হে মহাপ্রভু তুমি আমায় ক্ষমা করো।প্রভু!এই অদ্বৈততত্ত্ব তুমিই জান, তুমি দয়া করে না জানালে আমরা জানব কিভাবে?*
*🌹আজি মোর মহাভাগ‍্য সকল মঙ্গল।*
*🌹শিখাইয়া আমারে আপনে কৈলা ফল।।*
*🌹এখনে সে ঠাকুরালি বলিয়ে তোমার।*
*🌹আজি বড় মনে বল বাড়িল আমার।।*
*🌹এই মোর মনের সঙ্কল্প আজি হৈতে।*
*🌹মদিরা যবনী যদি ধরেন অদ্বৈতে।।*
*🌹তথাপি করিব ভক্তি অদ্বৈতের প্রতি।*
*🌹কহিলুঁ তোমারে প্রভু সত‍্য করি অতি।।*
*🌹তুষ্ট হইলেন প্রভু শ্রীবাস-বচনে*
*🌹পূর্বপ্রায় আনন্দে বসিল তিন জনে।।*
            *(শ্রীচৈঃ ভাঃ অঃ ৯|২৭৫-৩০৬)*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৩) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*আচার্য‍্যসহ মহাপ্রভুর পরিক্রমা প্রসঙ্গ*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀একদিন শ্রীমন্মহাপ্রভু বসে আছেন এমন সময়ে শ্রীআচার্য‍্য এসে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন, আচার্য‍্য! কোথা হতে কি কাজ করে আসিলে?আচার্য‍্য উত্তর করলেন, শ্রীজগন্নাথদেবের শ্রীমুখপদ্ম দর্শন করে পাঁচ-সাতবার প্রদক্ষিণ করে এলাম।তা শুনে মহাপ্রভু বলিলেন, তুমি হারিলা হারিলা।আচার্য‍্য বললেন, কি হারিলাম, তা বলো? মহাপ্রভু বললেন, যখন তুমি যে প্রদক্ষিণ করছিলে,তারপর যখন পেছনদিকে গিয়েছিলে তখন তোমার শ্রীমুখপদ্ম দর্শন হয়নি। আমি যতক্ষণ ধরে শ্রীজগন্নাথদেব-দর্শন করি, ততক্ষণ তাঁর হাস‍্যময়ী মুখমাধুর্য‍্য-ব‍্যতীত আর কিছুই দর্শন করি না।অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌরসুন্দর শ্রীজগন্নাথ দর্শনকালে ভগবানের শ্রীমুখপদ্ম নিরীক্ষণ করতেন। শ্রীবিল্বমঙ্গল কৃষ্ণকর্ণামৃতে মাধুর্য‍্য-বর্ণনে "বদন শোভার মাধুরিমা বেশী কীর্তন করেছেন।সমগ্র বিগ্রহ-মাধুরী অপেক্ষা বদন-মাধুরী অধিকতর এবং বদন-মাধুরী অপেক্ষা তাঁর মৃদুহাস‍্য অধিকতম সুমধুর।শ্রীগৌরসুন্দর শ্রীভগবানের অন‍্যান‍্য অঙ্গাদি দর্শন অপেক্ষা পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় সমাবিষ্ট মুখমন্ডলের আকর্ষণত্ব বলেছেন এবং ভগবৎ-প্রসন্নতা-জ্ঞাপক তাঁর মন্দহাস‍্য প্রবলতম সেবার বিজ্ঞাপক ও উদ্দীপক। শ্রীঅদ্বৈতচার্য‍্য শ্রীজগন্নাথদেবের প্রদক্ষিণের লক্ষ্য, শ্রীভগবৎকলেবর। কিন্তু শ্রীগৌরসুন্দরের অনুশীলনীয় বস্তু শ্রীজগন্নাথদেবের মুখমন্ডল দর্শন। সুতরাং শ্রীজগন্নাথদেবের পশ্চাদভাগে পরিক্রমাকালীন পৃষ্ঠদেশ দর্শনমাত্রে সম্মুখদর্শনের পরস্পর দর্শন বিনিময়ের অভাব হয়।*
*🙏আচার্য‍্য করজোড়ে বললেন, প্রভু!এই গূঢ় রহস‍্য তুমি ছাড়া জগতে আর কেউ প্রকাশ করেননি।তুমিই ইহার সর্বোৎকর্ষতা আস্বাদের ও জ্ঞাপকের একমাত্র পাত্র।ইহা তোমার-ই অনর্পিতচর শিক্ষা-বৈশিষ্ট‍্য ; এইরকম গূঢ় রহস‍্য প্রকাশ বিষয়ে আমি তোমার কাছে সর্বক্ষণই পরাজয় স্বীকার করি।এটি আমার প্রভুরই কৃপার বৈশিষ্ট্য বলে আমার গর্ব।তুমি আমায় কতকিছুর শিক্ষা দান করলে, এ আমার পরম পাওয়া।*
*🍀একদিন শ্রীমন্মহাপ্রভু আবিষ্ট হয়ে এক কূপের মধ্যে পড়ে গেলেন।অদ্বৈতাদি ভক্তগণ কাঁদতে লাগলেন।মহাপ্রভু কিছুই জানতে পারেননি।তিনি সাঁতারু বালকের মত ভাসতে লাগলেন।সেইক্ষণে কূপের জল নবনীতময় হওয়ায় মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গে কোন ব‍্যথায় লাগে নাই!তখন অদ্বতাদি ভক্তগণ বহুকষ্টে মহাপ্রভুকে উঠালেন।এইভাবে মহাপ্রভু কৃষ্ণপ্রেমাবেশে ভক্তগণসহ অবস্থান করতে লাগলেন।প্রতি বৎসর গৌড়ের ভক্তগণ মহাপ্রভুর কাছে এসে চারমাস থেকে,নানা-যাত্রা-মহোৎসব দর্শন ও মহাপ্রভুর সেবা করতেন।*
*🌹এইভাবে চার বৎসর গেল, তারপর মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ ভ্রমণ করতে দুইবৎসর চলে গেল।পরের বৎসর গৌড়ের ভক্তগণ নীলাচলে এসে রথযাত্রা দর্শন করে চলে গেলেন।এবার আর চারমাস থাকলেন না। মহাপ্রভু সার্বভৌম-রামানন্দাদি ক্ষেত্রবাসী ভক্তগণের কাছে বিদায় নিয়ে বিজয়া-দশমীর দিনে যাত্রা করে শ্রীনবদ্বীপে গঙ্গা ও শচীমাকে দর্শন করে শ্রীবৃন্দাবন দর্শন করবার জন্য চললেন।কিছুদিনে গৌড়দেশে এসে প্রথমে পানিহাটী রাঘব পন্ডিতের গৃহে একদিন থেকে কুমারহট্টে শ্রীবাস পন্ডিতের গৃহে, শিবানন্দের গৃহে ও বাসুদেবের গৃহে গিয়ে তাঁদেরকে কৃপা করে বিদ‍্যানগরে ও সেখান হতে কুলিয়ায় মাধবদাসের গৃহে থেকে অসংখ্য লোককে দর্শন ও কৃপা করলেন।সেখান হতে মালদহের রামকেলিতে গমন ও কানাইর নাটশালা হতে ফিরে পুনরায় শান্তিপুরে এসে আচার্য‍্য গৃহে দশদিন থাকলেন।সেই সময় শ্রীল রঘুনাথ দাসগোস্বামী সাতদিন মহাপ্রভুর শ্রীপাদপদ্মে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন।যখন মহাপ্রভু সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে শান্তিপুরে আসেন,তখনও দাসগোস্বামী শান্তিপুরে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীপাদপদ্মে আত্মনিবেদন করেন।তাঁর পিতা সর্বদা আচার্য‍্যের সেবা করতেন, অতএব আচার্য‍্য তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ও তাঁর শ্রীচৈতন‍্যদেবের পাদপদ্মে প্রগাঢ় ভক্তি দেখে মহাপ্রভুর অবশেষ(উচ্ছিষ্টপাত) পাত্র প্রদান করেছিলেন।এবারও শ্রীমন্মহাপ্রভুর আগমন সংবাদে সাতদিন অবস্থান করে নিজ মনোবাসনা ব‍্যক্ত করেন।শান্তিপুরে মহাপ্রভুর লীলা সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে যা বর্ণিত হয়েছে, তা কিছু মাত্র উদ্ধৃত করা হল।*
               *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৪)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*আচার্য‍্যসহ মহাপ্রভুর পরিক্রমা প্রসঙ্গ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*☘শান্তিপুরে শ্রীমন্মহাপ্রভুর লীলা সম্বন্ধে শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর যা বর্ণিত করেছেন সামান্য কিছু দেওয়া হল,চৈঃভাঃ অঃ ৪র্থ অধ‍্যায়।*
*🍀একদিন অদ্বৈতাচার্য‍্যের গৃহে এক সন্ন‍্যাসী এসে জিজ্ঞাসা করলেন, শ্রীকেশবভারতী শ্রীচৈতন‍্যদেবের কে হন?আচার্য‍্য চিন্তা করলেন, ইঁনাকে পরমার্থের পরিচয় প্রথমে না দিয়ে ব‍্যবহারিক পরিচয় দেওয়া হোক।যদিও তাঁর কেউ গুরু বা পিতামাতা নাই,তথাপি তিনি দেবকী-নন্দন নামে পরিচিত।যাইহোক, প্রথমেই পরমার্থের কথা না বলে বললেন, শ্রীকেশব ভারতী শ্রীচৈতন‍্যদেবের "সন্ন‍্যাস গুরু"।শ্রীঅদ্বৈত-তনয় শ্রীঅচ‍্যুতানন্দ পঞ্চবর্ষীয় শিশু ধূলা ধূসরিত অঙ্গে কাছাকাছি খেলা করছেন।আচার্য‍্যের মুখে এইকথা শুনে অচ‍্যুতানন্দ ছুটে এসে খানিক ক্রোধাবেশে বলতে লাগলেন।*
*🌷কি বলিলা বাপ!বল দেখি আর বার।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্যের গুরু আছে ' বিচার তোমার?*
*🌷কোন্ বা সাহসে তুমি এমত বচন।*
*🌷জিহ্বায় আনিলা,ইহা না বুঝি কারণ।।*
*🌷তোমার জিহ্বায় যদি এমত আইল।*
*🌷হেন বুঝি--,এখনে সে কলি-কাল হৈল।।*
*🌷অথবা চৈতন‍্য-মায়া পরম দুস্তর।*
*🌷যাহাতে পায়েন মোহ ব্রাহ্মাদি শঙ্কর।।*
*🌷বুঝিলাম-- বিষ্ণুমায়া হইল তোমারে।*
*🌷কেবা চৈতন‍্যের মায়া তরিবারে পারে?*
*🌷চৈতন‍্যের গুরু আছে ' বলিলা যখনে।*
*🌷মায়াবশ বিনা ইহা কহিলা কেমনে।।*
*🌷অনন্ত ব্রহ্মান্ড সেই চৈতন‍্য-ইচ্ছায়।*
*🌷সব চৈতন‍্যের লোমকূপেতে মিশায়।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷পুনঃ সেই চৈতন‍্যের অচিন্ত‍্য-ইচ্ছায়।*
*🌷নাভিপদ্ম হইতে ব্রহ্মা হয়েন লীলায়।।*
*🌷হইয়াও না থাকে দেখিতে কিছু শক্তি।*
*🌷অবশেষে করেন একান্ত ভাবে ভক্তি।।*
*🌷তবে ভক্তিবশে তুষ্ট হইয়া তাহানে।*
*🌷তত্ত্ব-উপদেশ কভু কহেন আপনে।।*
*🌷তবে সেই ব্রহ্মা প্রভু-আজ্ঞা করি শিরে।*
*🌷সৃষ্টি করি সেই জ্ঞান কহেন সবারে।।*
*🌷সেই জ্ঞান সনকাদি পাই ব্রহ্মা হইতে।*
*🌷প্রচার করেন তবে কৃপায় জগতে।।*
*🌷যাহা হতে হয় আসি জ্ঞানের প্রচার।*
*🌷তান গুরু কেমতে বোলহ আছে আর।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷পুত্রের মহিমা দেখি অদ্বৈত আচার্য‍্য।*
*🌷পুত্র কোলে করি কান্দে ছাড়ি সর্ব কার্য‍্য।।*
*🌷পুত্রের অঙ্গের ধূলা আপনার অঙ্গে।*
*🌷লেপেন অদ্বৈত অতি পরানন্দ-রঙ্গে।।*
*🌷চৈতন‍্যের পার্ষদ জন্মিলা মোর ঘরে।*
*🌷এতবলি নাচে প্রভু তালি দিয়া করে।।*
*🌷পুত্র কোলে করি নাচে অদ্বৈত গোসাঞি।*
*🌷ত্রিভুবনে যাহার ভক্তির সীমা নাই।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷যে বৈষ্ণব নামে হয় সংসার পবিত্র।*
*🌷ব্রহ্মাদি গায়েন যে বৈষ্ণব-চরিত্র।।*
*🌷যে বৈষ্ণব ভজিলে অচিন্ত‍্য কৃষ্ণ পাই।*
*🌷সে বৈষ্ণব-পূজা হতে বড় আর নাই।।*
*🌷শেষ,রমা,অজ,ভব নিজ-দেহ হৈতে।*
*🌷বৈষ্ণব কৃষ্ণের প্রিয়' কহে ভাগবতে।।*
*🌷হেন বৈষ্ণবের নিন্দা করে যেই জন।*
*🌷সে-ই পায় দুঃখ-- জন্ম জীবন মরণ।।*
*🌷বিদ‍্যা-কুল-তপ সব বিফল তাহার।*
*🌷বৈষ্ণব নিন্দয়ে যে যে পাপী দুরাচার।।*
*🌷পূজাও তাহার কৃষ্ণ না করে গ্রহণ।*
*🌷বৈষ্ণবের নিন্দা করে যে পাপিষ্ঠ জন।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভু বলে, বৈষ্ণব নিন্দয়ে যেই জন।*
*🌷কুষ্ঠ-রোগ কোন্ তা'র শিস্তিয়ে লিখন।।*
*🌷আপাততঃ শাস্তি কিছু হইয়াছে মাত্র।*
*🌷আর কত আছে যম-যাতনার পাত্র।।*
*🌷চৌরাশি-সহস্র যম-যাতনা প্রত‍্যক্ষে।*
*🌷পুনঃ পুনঃ করি ভুঞ্জে বৈষ্ণব-নিন্দকে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷 যে গায়,যে শুনে,এ সকল পুণ‍্য-কথা।*
*🌷বৈষ্ণবাপরাধ তার না জন্মে সর্বথা।।*
*🌷হেনমতে শীগৌরসুন্দর শান্তিপুরে।*
*🌷আছেন পরমানন্দে অদ্বৈত মন্দিরে।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৫)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীর তিথি আরাধন*
********************************
*🍀পদ্ম পুরাণ ও হরিভক্তি সুধোদয় গ্রন্থে পাওয়া যায়, যথা=*
*🌻শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী বড়ই হতাশ হয়েছেন, কেন? তিনি দেখছেন,চারিদিকে কেবল অনাচার আর অনাচার, বিষ্ণুভক্তির কোন মানুষ দেখতে পাচ্ছেন না।মাধবেন্দ্র পুরীপাদের শিষ্য অদ্বৈতাচার্য‍্য, তিনিও সর্বত্র বিষ্ণুভক্তিহীন দেখছেন।*
*🌷তথাপি অদ্বৈতসিংহ কৃষ্ণের কৃপায়।*
*🌷দৃঢ় করি বিষ্ণু-ভক্তি বাখানে সদায়।।*
*🌷নিরন্তর পড়ায়েন গীতা-ভাগবত।*
*🌷ভক্তি বাখানেন মাত্র,গ্রন্থের যে মত।।*
*🌷হেনই সময়ে মাধবেন্দ্র মহাশয়*।
*🌷অদ্বৈতের গৃহে আসি হইলা উদয়।।*
*🌷দেখিয়া অদ্বৈত তান বৈষ্ণব-লক্ষণ।*
*🌷প্রণাম হইয়া পড়িলেন সেইক্ষণ।।*
*🌷মাধবেন্দ্র পুরীও অদ্বৈত করি কোলে।*
*🌷সিঞ্চিলেন অঙ্গ তান প্রেমানন্দ-জলে।।*
*🌷অন‍্যোহন‍্যে কৃষ্ণ-কথা-রসে দুইজন।*
*🌷আপনার দেহ কারো না হয় স্মরণ।।*
                        *(ঐ=৪৩০--৪৩৬)*
*🌹মাধবেন্দ্র-পুরীর দেহে শ্রীগৌরসুন্দর।*
*🌹সত‍্য সত‍্য সত‍্য বিহরয়ে নিরন্তর (ভাবরূপে)।।*
*🌹মাধবেন্দ্রপুরীর অকথ‍্য বিষ্ণু-ভক্তি।*
*🌹কৃষ্ণের প্রসাদে সর্ব-কাল পূর্ণশক্তি।।*
*🌹যে সময়ে না ছিল চৈতন‍্য-অবতার।*
*🌹বিষ্ণুভক্তিশূন‍্য সব আছিল সংসার।।*
*🌹তখনেও মাধবেন্দ্র শ্রীচৈতন‍্য কৃপায়।*
*🌹প্রেম-সুখ-সিন্ধু মাঝে ভাসেন সদায়।।*
*🌹নিরবধি দেহে রোম-হর্ষ-অশ্রু-কম্প।*
*🌹হুঙ্কার,গর্জন,মহাহাস‍্য,স্তম্ভ,ঘর্ম্ম।।*
*🌹নিরবধি গোবিন্দের ধ‍্যানে নাহি বাহ‍্য।*
*🌹আপনেও না জানেন,কি করেন কার্য‍্য।।*
*🌹পথে চলি যাইতেও আপনা আপনি।*
*🌹নাচের পরমরঙ্গে করি হরিধ্বনি।।*
*🌹কখনো বা হেন সে আনন্দ-মূর্ছা হয়।*
*🌹দুই-তিন-প্রহরেও দেহে বাহ‍্য নয়।।*
*🌹কখনো বা বিরহে যে করেন রোদন।*
*🌹গঙ্গা-ধারা বহে যেন, অদ্ভুত-কথন।।*
*🌹কখন হাসেন অতি অট্ট অট্ট হাস।*
*🌹পরমানন্দ রসে ক্ষণে হয় দিগ্ বাস।।৩৯৯-৪০৯।।*
*🌹মাধবপুরীর প্রেম অকথ‍্য কথন।*
*🌹মেঘ-দরশনে মূর্চ্ছা হয় সেইক্ষণ।।*
*🌹কৃষ্ণনাম শুনিলেই করেন হুঙ্কার।*
*🌹ক্ষণেকে সহস্র হয় কৃষ্ণের বিকার।।*
*🌹দেখিয়া তাঁহার বিষ্ণু-ভক্তির উদয়।*
*🌹বড় সুখী হইলা অদ্বৈত মহাশয়।।*
*🌹তাঁ'র ঠাঞি উপদেশ করিলা গ্রহণ।*
*🌹হেনমতে মাধবেন্দ্র-অদ্বৈত মিলন।।৪৩৭-৪৪০।।*
*🌻শাস্ত্রে বলেছেন, মাধবেন্দ্রপুরী ও অদ্বৈতাচার্য‍্যের মধ্যে কোন ভেদ নেই, দুই অঙ্গ এক, তবুও জীব শিক্ষার জন্য হয়ত তিনি শ্রীপাদ মাধবেন্দ্র পুরীর শিষ্য।মাধবেন্দ্র পুরীর সমস্ত কৃষ্ণপ্রেম অদ্বৈতাচার্য‍্যের মধ্যে পরিপূর্ণ।এইজন‍্যই শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যকে গুরুজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতেন।*
*🌷মাধবপুরীর আরাধনার দিবসে।*
*🌷সর্বস্ব নিক্ষেপ করে অদ্বৈত হরিষে।।*
*🌷দৈবে পুণ‍্য-তিথি আসিয়া মিলিলা।*
*🌷সন্তোষে অদ্বৈত সজ্জ করিতে লাগিলা।।*
*🌷শ্রীগৌরসুন্দর সব-পারিষদ সনে।*
*🌷বড় সুখী হইলেন সেই পুণ‍্য দিনে।।*
*🌷সেই তিথি পূজিবারে আচার্য‍্য-গোসাঞি।*
*🌷যত সজ্জ করিলেন,তার অন্ত নাই।।*
*🌷নানা দিক হইতে সজ্জ লাগিল আসিতে।*
*🌷হেন নাহি জানি কে আনয়ে কোন্ ভিতে।।*
*🌷মাধবেন্দ্রপুরী প্রতি প্রীতি সবাকার।*
*🌷সবেই লইলেন যথাযোগ্য অধিকার।।*
*🌷আই লইলেন যত রন্ধনের ভার।*
*🌷আই বেড়ি সর্ব বৈষ্ণবের পরিবার।।*
*🌷নিত‍্যানন্দ প্রভুবর সন্তোষ অপার।*
*🌷বৈষ্ণব পূজিতে লইলেন অধিকার।।*
*🌷কেহ বলে,আমি সব ঘষিত চন্দন।*
*🌷কেহ বলে,মালা আমি করিব গ্রন্থন।।*
*🌷কেহ বলে,জল আনিবারে মোর ভার।*
*🌷কেহ বলে,মোর দায় স্থান-উপস্কার।।*
   *🌻উপস্কার=পরিস্কার,বা মার্জনা*
*🌷কেহ বলে,মুঞি যত বৈষ্ণবচরণ।*
*🌷মোর ভার সকল করিব প্রক্ষালন।।*
*🍀এইভাবে একেক জন একেক দায়িত্ব নিয়ে কর্ম করতে লাগলেন। চারিদিকে হরিধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, হরিনাম-সংকীর্তন মহানন্দে আরম্ভ হ'ল।শঙ্খ,ঘন্টা,মৃদঙ্গ,মন্দিরা ও করতাল ধ্বনিতে যেন আকাশ বাতাস মুখরিত হল।*
*🌹শঙ্খ ঘন্টা মৃদঙ্গ মন্দিরা করতাল।*
*🌹সংকীর্তন সঙ্গে ধ্বনি বাজয়ে বিশাল।।*
*🌹পরানন্দে কাহারো নাহিক বাহ‍্যজ্ঞান।*
*🌹অদ্বৈত-ভবন হৈল শ্রীবৈকুন্ঠধাম।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌹উচ্চ করি সবেই করেন হরি-ধ্বনি।*
*🌹কিবা সে আনন্দ হৈল কহিতে না জানি।।*
*🌹অদ্বৈতের যে আনন্দ,অন্ত নাহি তাঁর।*
*🌹আপনে বৈকুন্ঠনাথ গৃহ-মধ‍্যে যাঁর।।*
                *(শ্রীচৈঃভাঃ অঃ ৪|৪৪২-৫১৫)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৬) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভু ভক্তের মহিমা প্রকাশ করছেন।*
🎍🎍🎍🎍🎍🎍🎍🎍🎍🎍🎍🎍🎍
*🌻শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর তিথি আরাধনার জন্য অদ্বৈতাচার্য‍্য বহুবিধ ব‍্যবস্থা করেছিলেন, এবং মহাপ্রভু সহ বহু ভক্তগণকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। অদ্বৈতাচার্য‍্যের ব‍্যবস্থাপনা দেখে শ্রীমন্মহাপ্রভু নিজেকে আর ঠিক রাখতে না পেরে সকল ভক্তের নিকট আচার্য‍্যের গুণাবলী প্রকাশ করতে লাগলেন।*
*🌹প্রভু বলে,এ সম্পত্তি মনুষ‍্যের নয়।*
*🌹আচার্য‍্য "মহেশ" হেন মোর চিত্তে লয়।।*
*🌹মনুষ‍্যেরা এতেক কি সম্পত্তি সম্ভবে।*
*🌹এ সম্পত্তি সকলে সম্ভবে মহাদেবে।।*
*🌹বুঝিলাম--,আচার্য‍্য মহেশ অবতার।*
*🌹এই মত হাসি প্রভু বলে বার বার।।*
*🌹ছলে অদ্বৈতের তত্ত্ব মহাপ্রভু কয়।*
*🌹যে হয় সুকৃতি সে পরমানন্দ লয়।।*
*🌹তান বাক‍্যে অনাদরে অনাস্থা যাহার।*
*🌹তাঁ'রে শ্রীঅদ্বৈত হয় অগ্নি অবতার।।*
*🌹যদ‍্যপি অদ্বৈত কোটী-চন্দ্র-সুশীতল।*
*🌹তথাপি চৈতন‍্য-বিমুখের কালানল।।*
*🌹সকৃৎ যে জন বলে "শিব" হেন নাম।*
*🌹সেহ কোন প্রসঙ্গে না জানে তত্ত্ব তান।।*
         *🌻তান=তাঁহার*
*🌹সেইক্ষণে সর্ব পাপ হৈতে শুদ্ধ হয়।*
*🌹বেদ শাস্ত্রে ভাগবতে এই তত্ত্ব কয়।।*
*🌹হেন শিব নাম শুনি যার দুঃখ হয়।*
*🌹সেই জন অমঙ্গল সমুদ্রে ভাসয়।।*
*🌹শ্রীবদনে কৃষ্ণচন্দ্র বোলেন আপনে।*
*🌹শিব যে না পূজে,সে বা মোরে পূজে কেনে?*
*🌹মোর প্রিয় শিব প্রতি অনাদর যার।*
*🌹কেমতে বা মোরে ভক্তি হইবে তাহার।।*
*🌹অতএব সর্বাদ‍্যে শ্রীকৃষ্ণ পূজি তবে।*
*🌹প্রীতে শিব পূজি, পূজিবেক সর্ব-দেবে।।*
*🌹হেন শিব অদ্বৈতেরে বলে সাধুজনে।*
*🌹সেহ শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্র-ইঙ্গিত-কারণে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌹সম্ভার দেখিয়া প্রভু মহা হর্ষ মন।*
*🌹আচার্য‍্যের প্রশংসা করেন অনুক্ষণ।।*
*🌻তারপর নৃত্য কীর্তন শুরু হল, সংকীর্তনের পরে অদ্বৈতাচার্য‍্য সকলকেই সেবার জন্য আহ্বান করলেন।*
*🌷তবে শেষে আজ্ঞা মাগি অদ্বৈত-আচার্য‍্য।*
*🌷ভোজনের করিতে লাগিলা সর্বকার্য‍্য।।*
*🌷বসিলেন মহাপ্রভু করিতে ভোজন।*
*🌷মধ‍্যে প্রভু--, চতুর্দিকে সর্ব-ভক্তগণ।।*
*🌷চতুর্দিকে ভক্তগণ যেন তারাচয়।*
*🌷মধ‍্যে কোটিচন্দ্র যেন প্রভুর উদয়।।*
*🌷দিব‍্য অন্ন বহুবিধ পিষ্টক ব‍্যঞ্জন।*
*🌷মাধবেন্দ্র-আরাধনা আইর রন্ধন।।*
*🌷মাধবপুরীর কথা কহিয়া কহিয়া।*
*🌷ভোজন করেন প্রভু সর্বভক্ত লৈয়া।।*
*🌷প্রভু বলে, মাধবেন্দ্র আরাধনা তিথি।*
*🌷ভক্তি হয় গোবিন্দে,ভোজন কৈলে ইথি।।*
*🌷এই মত রঙ্গে প্রভু করিয়া ভোজন।*
*🌷বসিলেন গিয়া প্রভু করি আচমন।।*
*🌻বিশ্রাম অন্তে শ্রীঅদ্বৈত-ভবন হতে শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন,আমি এ বৎসর বৃন্দাবন যাব, অতএব তোমরা এবার আর শ্রীক্ষেত্রে যাবে না। এই বলে ভক্তগণের নিকট হতে বিদায় নিয়ে কুমারহট্টে শ্রীবাসপন্ডিতের গৃহে গমন করলেন।সেখানে গিয়ে দেখলেন শ্রীবাস পন্ডিত গ্রাসাচ্ছাদন সংগ্রহ করার জন্য কোন চেষ্টা করেন না। শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন,তোমার অনেক পোষ‍্য(পোষ‍্য বলতে হয়ত শিষ‍্যের কথা বললেন মহাপ্রভু) তুমি উপায়ের কোন ব‍্যবস্থা কর না কেন?যদি গ্রাসাচ্ছাদনের (অন্ন-ব‍্যঞ্জনের) বস্তু না পাও,কি করবে?তদুত্তরে=*
*🌷শ্রীবাস বলেন,এ দঢ়ান আমার*।
*🌷তিন উপবাসে যদি না মিলে আহার।।*
*🌷তবে সত‍্য কহোঁ--,ঘট বান্ধিয়া গলায়।*
*🌷প্রবেশ করিমু মুঞি সর্বথা গঙ্গায়।।*
*🌷এই মাত্র শ্রীবাসের শুনিয়া বচন।*
*🌷হুঙ্কার করিয়া উঠে শচীর নন্দন।।*
*🌷প্রভু বলে, কি বলিলি পন্ডিত শ্রীবাস!*
*🌷তোর কি অন্নের হইবে উপাস*।।
*🌷যদি কদাচিৎ লক্ষ্মীও ভিক্ষা করে।*
*🌷তথাপিহ দারিদ্র নহিবে তোর ঘরে।।*
                  *(শ্রীচৈঃভাঃঅঃ ৫|৫০-৫৪)*
*🌹যে‍ যে জন চিন্তে মোরে অনন‍্য হইয়া।*
*🌹তা'রে ভিক্ষা দেঙ মুঞি মাথায় বহিয়া।।*
*🌹যেই মোরে চিন্তে,নাহি যায় কারো দ্বারে।*
*🌹আপনে আসিয়া সর্বসিদ্ধি মিলে তা'রে।।*
*🌹ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ--, আপনে আইসে।*
*🌹তথাপিহ না চায়,না লয় মোর দাসে।।*
*🌹মোর সুদর্শন-চক্রে রাখে মোর দাস।*
*🌹মহাপ্রলয়েও যা'র নাহিক বিনাশ।।*
*🌹যে মোহার দাসেরেও করয়ে স্মরণ।*
*🌹তাহারেও করোঁ মুঞি পোষণ পালন।।*
*🌹সেবকের দাস সে মোহার প্রিয় বড়।*
*🌹অনায়াসে সে-ই সে মোহারে পায় দঢ়।।*
*🌹কোন্ চিন্তা মোর সেবকের ভক্ষ‍্য করি।*
*🌹মুঞি যার পোষ্টা আছোঁ সবার উপরি।।*
*🌹সুখে শ্রীনিবাস,তুমি বসি থাক ঘরে।*
*🌹আপনি আসিবে সব তোমার দুয়ারে।।*
*🌹অদ্বৈতেরে তোমারে আমার এই বর।*
*🌹জরাগ্রস্ত নহিবে দোঁহার কলেবর।।*
              *(শ্রীচৈঃভাঃঅঃ ৫|৫৭-৬৫)*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৭) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*শান্তিপুরে অদ্বৈত-নিত‍্যানন্দ মিলন*
^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*
*🍀তারপর কতদিন শ্রীবাসের ঘরে থেকে শ্রীমন্মহাপ্রভু পানিহাটী এসে সেখানেও কয়েকদিন থেকে সেখানকার ভক্তগণের মনোরথ পূর্ণ করে সেখান হতে বরানগরে গমন করলেন।এইভাবে গঙ্গাতীরের ভক্তগণের মনোরথ পূর্ণ করতে করতে পুরুষোত্তমে উপস্থিত হলেন।*
*☘সেখানে একদিন গৌরসুন্দর নিভৃতে শ্রীনিত‍্যানন্দপ্রভুকে বললেন=*
*🌷প্রভু বলে,শুন নিত‍্যানন্দ মহামতি।*
*🌷সত্বরে চলহ তুমি নবদ্বীপ-প্রতি।।*
*🌷প্রতিজ্ঞা করিয়া আছি আমি নিজমুখে।*
*🌷মূর্খ নীচ দরিদ্র ভাসাব প্রেম সুখে।।*
*🌷তুমিও থাকিলা যদি মুনিধর্ম করি।*
*🌷আপন-উদ্দাম-ভাব সব পরিহরি।।*
*🌷তবে মূর্খ নীচ যত পতিত সংসার।*
*🌷বল দেখি আর কে বা করিবে উদ্ধার?*
*🌷ভক্তি-রস-দাতা তুমি, তুমি সম্বরিলে।*
*🌷তবে অবতার বা কি নিমিত্ত করিলে?*
*🌷এতেকে আমার বাক‍্য যদি সত‍্য চাও।*
*🌷তবে অবিলম্বে তুমি গৌড় দেশে যাও।।*
*🌷মূর্খ-নীচ-পতিত দুঃখিত যত জন।*
*🌷ভক্তি দিয়া কর গিয়া সবারে মোচন।।*
*🌷আজ্ঞা পাই নিত‍্যানন্দচন্দ্র ততক্ষণে।*
*🌷চলিলেন গৌড়-দেশে লই নিজগণে।।*
                  *(শ্রীচৈঃ ভাঃ অঃ ২২৩-২৩০)*
*🌻প্রথমেই নিতাইচাঁদ পানিহাটী গ্রামে শ্রীরাঘব পন্ডিতের গৃহে আসিলেন।সেখানে তাঁর মহাঅভিষেক হল।সেখানে প্রেম বিতরণ করে সপ্তগ্রামে আসিলেন।*
*সেখান হতে কতদিনে শান্তিপুরে শ্রীঅদ্বৈতমন্দিরে এসে উপস্থিত হলেন।*
*👥শান্তিপুরে অদ্বৈত-নিত‍্যানন্দ মিলন।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🌷তবে কতদিনে আইলেন শান্তিপুরে।*
*🌷আচার্য‍্যগোসাঞী প্রিয় বিগ্রহের ঘরে।।*
*🌷দেখিয়া অদ্বৈত নিত‍্যানন্দের শ্রীমুখ।*
*🌷হেন নাহি জানেন জন্মিল কোন্ সুখ।।*
*🌷হরি-বলি লাগিলেন করিতে হুঙ্কার।*
*🌷প্রদক্ষিণ দন্ডবৎ করেন অপার।।*
*🌷নিত‍্যানন্দস্বরূপ অদ্বৈত করি কোলে।*
*🌷সিঞ্চিলেন অঙ্গ তান প্রেমানন্দজলে।।*
*🌷দোঁহে দোঁহা দেখি বড় হইলা বিবশ।*
*🌷জন্মিল অনন্ত অনির্বচনীয় রস।।*
*🌷দোঁহে দোঁহা ধরি গড়ি যায়েন অঙ্গনে।*
*🌷দোঁহে চাহে ধরিবারে দোঁহার চরণে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷হেন মতে দুই প্রভুবর মহারঙ্গে*
*🌷বিহরেণ কৃষ্ণকথা মঙ্গল প্রসঙ্গে।।*
*🌷অনেক রহস‍্য করি অদ্বৈত সহিত।*
*🌷অশেষ প্রকারে তান জন্মাইল প্রীত।।*
*🌷তবে অদ্বৈতের স্থানে লই অনুমতি।*
*🌷নিত‍্যানন্দ আইলেন নবদ্বীপ-প্রতি।।*
                           *(ঐ=৩৬৯-৪৯৬)*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৮) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
       *শান্তিপুরে শ্রীজগদানন্দ*
       **************************
*🌻কয়েক বৎসর শ্রীজগদানন্দ পন্ডিত মহাশয় নবদ্বীপ হয়ে শ্রীঅদ্বৈতের বাস ভবনে গেলেন।আচার্য‍্য শ্রীমন্মহাপ্রভুর সংবাদ পেয়ে পরমানন্দে ভক্তগণসহ মহাপ্রভুর প্রিয় দ্রব‍্য নিয়ে শ্রীক্ষেত্রে যেতেন।একবার নবদ্বীপবাসী ভক্তগণের দ্রব‍‍্য অনেক দিনের পর গোবিন্দের কাছ থেকে নিয়ে ভোজন কররেন।তারমধ‍‍্যে=*
*🌷আচার্য‍্যের এই পৈড়,নানা রস-পূপী।*
*🌷এই অমৃত-গুটিকা,মন্ডা কর্পূর-কুপী।।*
*🌹বলে গোবিন্দ শ্রীমন্মহাপ্রভুকে প্রদান করলেন।মহাপ্রভু ভক্তের দ্রব‍্য আনন্দে ভোজন করতেন। মাসেকের বাসি পানকাদিও ভক্তের ভালবাসায় ও শ্রীভগবানের কৃপায় টাটকা জিনিসের মতই স্বাদ থাকত। প্রায় প্রতি বৎসরই শ্রীজগদানন্দ গৌড়দেশে গিয়ে শ্রীশচীমাকে প্রসাদ দিয়ে ও বন্দনা করে আচার্য‍্যের গৃহে মহাপ্রসাদসহ মহাপ্রভুর সংবাদ দিতেন।একবার পন্ডিতের দ্বারা মহাপ্রভুর কাছে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য এক প্রহেলিকা প্রেরণ করলেন।তাঁহা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এইভাবে বর্ণিত হয়েছে =*
*🌷তরজা-প্রহেলী আচার্য‍্য কহেন ঠারে-ঠোরে।*
*🌷প্রভু মাত্র বুঝেন,কেহ বুঝিতে না পারে।।*
*🌷প্রভুরে কহিও আমার কোটী নমস্কার।*
*🌷এই নিবেদন তাঁর চরণে আমার।।*
*🌷বাইলকে কহিহ,লোক হইল বাউল।*
*বাউলকে কহিহ,হাটে না বিকায় চাউল।।*
*🌷বাউলকে কহিহ,কাযে নাহিক আউল।*
*🌷বাউলকে কহিহ,ইহা কহিয়াছে বাউল।।*
*🌷এত শুনি জগদানন্দ হাসিতে লাগিলা।*
*🌷নীলাচলে আসি তবে প্রভুরে কহিলা।।*
*🌷তরজা শুনি মহাপ্রভু ঈষৎ হাসিলা।*
*🌷তাঁর যেই আজ্ঞা বলি মৌন ধরিলা।।*
*🌷জানিয়া স্বরূপ-গোসাঞি প্রভুরে পুছিল।*
*🌷এই তরজার অর্থ বুঝিতে নারিল।।*
*🌷প্রভু কহেন, আচার্য‍্য হয় পূজক প্রবল।*
*🌷আগম-শাস্ত্রের বিধি বিধানে কুশল।।*
*🌷উপাসনা লাগি দেবের করেন আবাহন।*
*🌷পূজা লাগি কত কাল করেন নিরোধন।।*
*🌷পূজা-নির্বাহণ হৈলে পাছে করেন বিসর্জন।*
*🌷তরজার না জানি অর্থ,কিবা তাঁর মন।।*
*🌷মহাযোগেশ্বর আচার্য‍্য, তরজাতে সমর্থ।*
*🌷আমিহ বুঝিতে নারি তরজার অর্থ।।*
*🌷শুনিয়া বিস্মিত হইলা সব ভক্তগণ।*
*🌷স্বরূপ-গোসাঞী কিছু হইলা বিমন।।*
*🌷সেই দিন হৈতে প্রভুর আর দশা হইল।*
*🌷কৃষ্ণের বিরহ-দশা দ্বিগুণ বাড়িল।।*
             *(শ্রীচৈঃচঃঅঃ ১৯|১৮-৩০)*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৯)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
        *শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের শাখা*
        ************************
*🌹বৃক্ষের দ্বিতীয় স্কন্ধ, আচার্য‍্য-গোসাঞি।*
*🌹তাঁর যত শাখা হইল,তার লেখা নাই।।*
*🌹চৈতন‍্য-মালীর কৃপাজলের সেচনে।*
*🌹সেই জলে পুষ্ট স্কন্ধ বাড়ে দিনে দিনে।।*
*🌹সেই স্কন্ধে যত প্রেমফল উপজিল।*
*🌹সেই কৃষ্ণপ্রেমফলে জগৎ ভরিল।।*
*🌹সেই জলে স্কন্ধে করে শাখাতে সঞ্চার।*
*🌹ফলে-ফুলে বাড়ে, শাখা হইল বিস্তার।।*
*🌹প্রথমে ত' আচার্য‍্যের একমত গণ।*
*🌹পাছে দুইমত হৈল দৈবের কারণ।।*
*🌹কেহ ত' আচার্য‍্যের আজ্ঞায়,কেহ ত' স্বতন্ত্র।*
*🌹স্বমত কল্পনা করে দৈব-পরতন্ত্র।।*
*🌹আচার্য‍্যের মত যেই,সেই মত সার।*
*🌹তাঁর আজ্ঞা লঙ্ঘি চলে,সেই ত' অসার।।*
*🌹অসারের নামে ইহাঁ নাহি প্রয়োজন।*
*🌹ভেদ জানিবারে করি একত্র গণন।।*
*🌹ধান‍্যরাশি মাপে যৈছে পাতনা সহিতে।*
*🌹পশ্চাতে পাতনা উড়াঞা সংস্কার করিতে।।*
*🌷অচ‍্যুতানন্দ--বড় শাখা,আচার্য‍্য-নন্দন।*
*🌷আজন্ম সেবিলা তেঁহো চৈতন‍্যচরণ।।*
*🌷চৈতন‍্য গোসাঞির গুরু, কেশব ভারতী।*
*🌷এই পিতার বাক‍্য শুনি দুঃখ পাইল অতি।।*
*🌷জগদগুরুতে তুমি কর ঐছে উপদেশ।*
*🌷তোমার এই উপদেশে নষ্ট হৈল দেশ।।*
*চৌদ্দ ভুবনের গুরু, চৈতন‍্য-গোসাঞি।*
*🌷তাঁর গুরু, অন‍্য, এই কোন শাস্ত্রে নাই।।*
*পঞ্চম বর্ষের বালক কহে সিদ্ধান্তের সার।*
*🌷শুনিয়া পাইলা আচার্য‍্য সন্তোষ অপার।।*
*🌻শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের ছয়টি পুত্রের মধ্যে শ্রীঅচ‍্যুতানন্দ সর্বজ‍্যেষ্ঠ ও গৌরভক্ত ছিলেন।তিনি বাল‍্যাবধি শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভক্ত।তিনি দারপরিগ্রহ করে সংসার ধর্ম করেননি। শ্রীযদুনন্দনদাস-কৃত শ্রীগদাধরপন্ডিত গোস্বামীর "শাখা নির্ণয়ামৃত" গ্রন্থে শ্রীঅচ‍্যুতানন্দ ঠাকুরকে শ্রীগদাধরের শিষ‍্য ও শাখা বলে জানতে পারা যায়।*
*🌷মহারসামৃতানন্দমচ‍্যুতানন্দনামকম্*।
*🌷গদাধরপ্রিয়তমং শ্রীমদদ্বৈতনন্দনম্।।*
*🌺তিনি নীলাচলে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ আশ্রয় করে ভজন করতেন। শ্রীগদাধর পন্ডিতগোস্বামী শেষজীবনে শ্রীমন্মহাপ্রভুর কাছে নীলাচলে বাস করেন। অচ‍্যুতানন্দ প্রভৃতি অদ্বৈতাচার্য‍্যের প্রকৃত সেবকমন্ডলী অনেকেই শ্রীগদাধরপন্ডিতের চরণাশ্রয় করেছিলেন। রথাগ্রে নৃত্য কীর্তনের মধ্যে অচ‍্যুতানন্দ প্রতিবারই উপস্থিত ছিলেন।(চৈঃচঃমঃ ১৩|৪৫)।*
*🌺শ্রীকবিকর্ণপুর প্রণীত শ্রীগৌরগণোদ্দেশদীপিকায় শ্রীঅচ‍্যুতানন্দকে শ্রীগদাধরের শিষ‍্য ও শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের প্রিয় ' বলে কীর্তন করেছেন।কেউ কেউ তাঁকে "কার্তিক" এবং কেউ তাঁকে "অচ‍্যুতা-নাম্নী" গোপীকা বলে নির্ণয় করেছেন। গ্রন্থকার উভয় মতেরই সমীচীনতা স্বীকার করেন।মহাপ্রভুর প্রকটকালে নীলাচলে মহাপ্রভুর কাছে এবং পরে শ্রীগদাধর পন্ডিতগোস্বামীর কাছে বাস করেছিলেন বলে জানা যায়।*
*২)কৃষ্ণমিশ্র-নাম আর আচার্য‍্য তনয়।*
*চৈতন‍্য-গোসাঞি বৈসে যাঁহার হৃদয়।।*
                         *(চৈঃচঃআঃ ১২|১৮)* 
*🌹অদ্বৈতচরিত (সংস্কৃত ভাষায় লিখিত) গ্রন্থে=*
*অচ‍্যুতঃ কৃষ্ণমিশ্রশ্চ গোপালদাস এব চ।*
*রত্নত্রয়মিদং প্রোক্তং সীতাগর্ভাব্ধিসম্ভবম্।।*
*🌻আচার্য‍্যের ছয়টি পুত্রের মধ্যে "অচ‍্যুত", কৃষ্ণমিশ্র ও গোপাল শ্রীগৌরাঙ্গ দাস‍্যে নিযুক্ত ছিলেন। গৌর গণোদ্দেশ ৮৮ শ্লোকে =*
*🌷কার্তিকেয়ঃ কৃষ্ণমিশ্র তৎ সাম‍্যাদিতি কেচন।*
*🍀কৃষ্ণমিশ্রের দুই পুত্র, এক= রঘুনাথ চক্রবর্তী দুই= দোলগোবিন্দ। তারমধ‍্যে রঘুনাথের বংশ শান্তিপুরের মদনগোপালের পাড়ায়, গণকর, মৃজাপুর ও কুমার খালিতে আছেন। দোলগোবিন্দের তিন পুত্র, চাঁদ, কন্দর্প ও গোপীনাথ। কন্দর্পের বংশ মালদহ,জিকাবাড়ীতে আছেন। গোপীনাথের তিন পুত্র, শ্রীবল্লভ, প্রাণবল্লভ ও কেশব।শ্রীবল্লভের বংশ মশিয়াডারা,দামুকদিয়া ও চন্ডীপুর প্রভৃতি জায়গায় আছেন।শ্রীবল্লভের জ‍্যেষ্ঠ পুত্র গঙ্গানারায়ণ হতে মশিয়াডারার বংশ-ধারা ও কনিষ্ঠপুত্র রামগোপাল হতে দামুকদিয়া, চন্ডীপুর, শোলমারি, প্রভৃতি গ্রামহমূহের বংশ-ধারা। প্রাণবল্লভ ও কেশবের বংশ উথলীতে বাস করতেন। প্রাণবল্লভের পুত্র, রত্নেশ্বর, তাঁর তনয়-- কৃষ্ণরাম,তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান--লক্ষ্মীনারায়ণ,তৎপুত্র নবকিশোর, তাঁর দ্বিতীয় পুত্র রামমোহনের জ‍্যেষ্ঠ তনয় "জগবন্ধু" এবং তৃতীয় তনয় "বীরচন্দ্র" ভিক্ষুকাশ্রম গ্রহণ করে কাটোয়ায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর বিগ্রহ স্থাপন করেন।তাঁদেরকে সেখানকার সকলে "বড়প্রভু" ও "ছোটপ্রভু" বলত। ইঁনারাই শ্রীধাম নবদ্বীপ-পরিক্রমার প্রবর্তন করেন।*
*🌷শ্রীগোপাল-নামে আর আচার্য‍্যের সুত।*
*🌷তাঁর চরিত্র,শুন,অত‍্যন্ত অদ্ভুত।।*
*🙏ইহার বর্ণন ৪৭ ও ৪৮ পর্বে শ্রীক্ষেত্রে মহাপ্রভুসহ আচার্য‍্য মিলন লেখা হয়েছে।*
👣👣👣👣👣👣🌻👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬০)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
       *শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের শাখা*
       **************************
*🍀বলরাম,স্বরূপ ও জগদীশ আচার্য‍্যের এই পুত্রত্রয় গৌর বিমুখ স্মার্ত বা মায়াবাদী, সুতরাং অবৈষ্ণব।বলরামের স্ত্রীর গর্ভে নয়টি পুত্র জন্ম হয় ; প্রথমপক্ষীয় কনিষ্ঠ সন্তান মধুসূদন "গোসাঞি ভট্টাচার্য্য " নামে খ‍্যাত হয়ে স্মার্তধর্ম গ্রহণ করেন।তাঁরপুত্র রাধারমণ "গোস্বামী ভট্টাচার্য্য " নাম গ্রহণ করে ত‍্যক্তগৃহের যোগ্য সংজ্ঞা "গোস্বামী" শব্দের অবমাননা করেন এবং স্মার্ত রঘুনন্দনের আনুগত‍্যে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যর "কুশ-পুত্তলিকা" পুড়িয়ে প্রেত বা রাক্ষস শ্রদ্ধাকার্য‍্য সম্পাদন করে শ্রীহরিভক্তিবিলাসাদি বিষ্ণুভক্তিপরা স্মৃতির বিরুদ্ধাচারণ করে মহাপরাধ প্রদর্শন করেন।শুদ্ধ ভক্ত না হয়েও কিছু গ্রন্থ ও আকরগ্রন্থের টীকা রচনা করেন।ঐগুলি শুদ্ধভক্তের আদরণীয় নহে।*
*🌷কমলাকান্ত বিশ্বাস ' নাম আচার্য‍্য কিঙ্কর।*
*🌷আচার্য‍্য ব‍্যবহার,সব-- তাঁহার গোচর।।*
                  *(চৈঃচঃআঃ=১২|২৮)*
*☘কমলাকান্ত শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যকে "ঈশ্বর" বলিয়া স্থাপন করে রাজা প্রতাপরুদ্রের কাছে কিছু অর্থ পাওয়ার আশায় এক পত্র লিখেন।সেই পত্র কোনো ভাবেই শ্রীমন্মহাপ্রভুর কাছে আসিল, মহাপ্রভু সেই পত্র দেখে অত‍্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে "বাউলিয়া" (পাগল) বলে দন্ড প্রদান করলেন। কারণ শ্রীঅদ্বৈতার্য‍্য ঈশ্বর হলেও তাঁর জগৎশিক্ষকতারূপ মানবলীলা প্রসিদ্ধ।ঋণগ্রস্ত হয়ে রাজার কাছে অথা চাওয়া আচার্যদের পক্ষে নির্লজ্জ ব‍্যবহার।অর্থলালসা সর্বতোভাবে পরিহার্য‍্য, তাতে আবার বিদেশীয় রাজার নিকট ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থলালসা প্রকাশ করলে ধর্মের হানি হয়।রাজা স্থভাবতঃ বিষয়ীলোক। বিষয়ীর অন্ন খাইলে চিত্ত দুষ্ট হয়।চিত্ত দুষ্ট হলে কৃষ্ণস্মৃতি-অভাবে জীবন নিস্ফল হয়।সকল লোকের পক্ষেই এটি নিষিদ্ধ। বিশেষ করে ধর্মাচার্য‍্যের পক্ষে এটি বিশেষরূপে নিষিদ্ধ।নামোপদেশ, আচার্য‍্যের কর্তব‍্য, কিন্তু অর্থ নিয়ে যারা নামোপদেশ করে,তারা "নামোপদেষ্টা" পদের যোগ‍্য নন, বরং অপরাধী।নামোপদেশ, আচার্য‍্যের কার্য‍্য করিলে তাঁদের লোক-লজ্জা ও ধর্ম-কীর্তিতে অত্যন্ত হানি হয়।মহাপ্রভু তাঁকে এই শিক্ষা প্রদান করেছিলেন।*
*🌻শ্রীযদুনন্দধাচার্য‍্য--, অদ্বৈতের শাখা।তাঁর শাখা-উপশাখা-গণের নাহি লেখা।। বাসুদেব দত্তের তেঁহো কৃপার ভাজন। সর্বভাবে আশ্রিয়াছে চৈতন‍্য-চরণ।।ঐ=৫৬-৫৭।।*
*🌹শ্রীযদুনন্দনাচার্য‍্য শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামীপ্রভুর পাঞ্চরাত্রিকী দীক্ষাগুরু। বাসুদেব দত্ত অব্রাহ্মণ কুলজাত হলেও ব্রাহ্মণ কুলজাত শ্রীযদুনন্দনাচার্য‍্য বৈষ্ণবে জাতিবুদ্ধি না করে তাঁকে গুরুত্বে বরণ করেছিলেন।বাসুদেব দত্ত--,ব্রজের মধুব্রত গায়ক(গৌঃগঃদীঃ ১৪০), ব্রজে স্থিতৌ গায়কৌ যৌ মধুকন্ঠ মধুব্রতৌ। মুকুন্দবাসুদেবৌ তৌ দত্তৌ গৌরাঙ্গগায়কৌ।*
*🌻শ্রীভাগবতাচার্য‍্যঃ--, ইনি পূর্বে অদ্বৈতগণে,পরে গদাধরগণে প্রবিষ্ট।যদুনন্দন দাস-কৃত "শাখানির্ণয়ামৃতে" ষষ্ঠ শ্লোকে= "বন্দে ভাগবতাচার্য‍্যং গৌরাঙ্গ-প্রিয় পাত্রকম্।*
*🌷যেনাকারি মহাগ্রন্থো নাম্না "প্রেমতরঙ্গিণী"। গৌঃগঃ ১৯৫ ও ২০২ -- ইনি ব্রজের শ্বেতমঞ্জরী। চৈতন‍্যভাগবতে অঃ পাঁচ=*
*🌷তবে প্রভু আইলেন বরাহ-নগরে।*
*🌷মহাভাগ‍্যবন্ত এক ব্রাহ্মণের ঘরে।।*
*🌷সেই বিপ্র বড় সুশিক্ষিত ভাগবতে।*
*🌷প্রভু দেখি ভাগবত লাগিলা পড়িতে।।*
*🌷শুনিয়া তাহার ভক্তিযোগের পঠন।*
*🌷আবিষ্ট হইলা গৌরচন্দ্র নারায়ণ।।*
           *শেষ পর্ব আগামী ৬১তম*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১) অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
         *শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের শাখা*
                  *বিরাম পর্ব*
      *****************************
*🍀শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে আরও পাওয়া যায় =*
*🌷"বল বল" বলে প্রভু শ্রীগৌরাঙ্গরায়।*
*🌷হুঙ্কার গর্জন প্রভু করয়ে সদায়।।*
*🌷সেই বিপ্র পড়ে পরানন্দে মগ্ন হৈয়া।*
*🌷প্রভুও করেন নৃত্য বাহ‍্য পাসরিয়া।।*
*🌷এই মত রাত্রি তিন প্রহর অবধি।*
*🌷ভাগবত শুনিয়া নাচিলা গুণ-নিধি।।*
*🌷প্রভু বলে, ভাগবত এমত পড়িতে।*
*🌷কভু নাহি শুনি আর কাহারো মুখেতে।।*
*🌷এতেকে তোমার নাম "ভাগবতাচার্য‍্য"।*
*🌷ইহা বিনা আর কোন না করিহ কার্য‍্য।।*
*🌻ইঁনার নাম রঘুনাথ।ইঁনার শ্রীপাটবাড়ী--বরাহনগর, মালিপাড়ায়। (৭)শ্রীবিষ্ণুদাসাচার্য‍্য, (৮)চক্রপাণি আচার্য‍্য (৯)অনন্ত আচার্য‍্য ঃ-- ইঁনি ব্রজের অষ্টসখীর অন‍্যতমা সুদেবী। শ্রীঅদ্বৈতগণে থাকলেও পরে গদাধর-শাখায় প্রবিষ্ট হয়েছেন, শাখা নির্ণয়ামৃতে ১১ শ্লোকে  "বন্দেহনন্তাদ্ভুতরসমনন্তাচার্য‍্য- সংজ্ঞকম্। লীলানন্তাদ্ভুতময়ং গৌরপ্রেম্নো হি ভাজনম্।। 🌷পন্ডিত গোসাঞির শিষ্য অনন্ত আচার্য‍্য। 🌷কৃষ্ণপ্রেমময়তনু উদার সর্ব-আর্য‍্য।।* *🌷তাঁহার অনন্ত গুণ কে করু প্রকাশ।* *🌷তাঁর প্রিয় শিষ্য ইহাঁ--পন্ডিত হরিদাস।।চৈঃচঃআঃ ৮|৫৯-৬০।*
*🌹পুরীতে শ্রীগঙ্গামাতা মঠ, ইঁনারই শাখা বিশেষ।তাঁদের গুরু-পরম্পরায় ইনি "বিনোদ মঞ্জরী" বলে উক্ত আছেন।ইঁনার শিষ্য শ্রীহরিদাসপন্ডিত গোস্বামী, নামান্তর "শ্রীরঘুগোপাল"-- শ্রীরাসমঞ্জরী।*

*বৃন্দাবনে শ্রীগোবিন্দ-সেবার অধ‍্যক্ষ‍্য। তাঁর শিষ‍্য শ্রীরাধাকৃষ্ণ গোস্বামী "সাধনদীপিকা" গ্রন্থের রচয়িতা।যথা ভঃ রঃ ১৩ তরঙ্গ=*
*🌷গদাধর পন্ডিত গোসাঞি শিষ‍্যবর্য‍্য।*
*🌷"গোবিন্দের" অধিকারী শ্রীঅনন্তাচার্য‍্য।।*
*🌷তাঁর শিষ্য হরিদাস পন্ডিত গোসাঞি।*
*🌷গোবিন্দাধিকারী-গুণ কহি, অন্ত নাই।।*
*🌷"গোবিন্দ" যাঁর প্রেমাধীন জানাইলা।*
*🌷যাঁর ঠাঁই দুগ্ধঅন্ন মাগিয়া খাইলা।।*
                                 *(৩১২-১৪)*
*(১০) নন্দিনী-- গৌরঃগঃ ৮৯,*
*🌷নন্দিনী জঙ্গলী জ্ঞেয়া জয়া চ বিজয়া ক্রমাৎ।*
*🌹সীতার গর্ভজাত অদ্বৈত-কন‍্যা*।
*(১১)কামদেব,(১২)শ্রীচৈতন‍্যদাস, (১৩)দুর্লভ বিশ্বাস,(১৪)বনমালীদাস, (১৫)জগন্নাথ কর,(১৬)ভবনাথ কর, (১৭)হৃদয়ানন্দ সেন,(১৮)ভোলানাথ দাস, (১৯)যাদব দাস,(২০)বিজয় দাস, (২১)জনার্দন (২২`)অনন্ত দাস, (২৩)কানুপন্ডিত,(২৪)নারায়ণ দাস, (২৫)শ্রীবৎস পন্ডিত,(২৬)হরিদাস ব্রহ্মচারী-- ইঁনি শ্রীঅদ্বৈত ও শ্রীগদাধর উভয়গণে গণিত,যথা শাখানির্ণয় ৯ম শ্লোক= শ্রীযুতং হরিদাসাখ‍্যং ব্রহ্মচারি-মহাশয়ম্। পরমানন্দ-সন্দোহং বন্দে ভক্ত‍্যা মুদাকরম্।।(২৭)পুরুষোত্তম ব্রহ্মচারী, (২৮)কৃষ্ণদাস ব্রহ্মচারী,(২৯-৩০) রঘুনাথ,(৩১)বনমালী কবিচন্দ্র,(৩৫) শ্রীহরিচরণ,(৩৬)শ্রীমাধব পন্ডিত, (৩৭)বিজয় পন্ডিত,(৩৮)শ্রীরাম পন্ডিত, (শ্রীবাস পন্ডিতের কনিষ্ঠ ভাই। গৌঃগঃ ৯১=🌷পর্বতাখ‍্যো মুনিবরো যঃ আসীন্নারদপ্রিয়। শ্রীরামপন্ডিতঃ শ্রীমান্ তৎকনিষ্ঠ সহোদরঃ।।*
*🌹অসংখ‍্য অদ্বৈত-শাখা কত লইব নাম।*
*🌹মালি-দত্ত জল অদ্বৈত-স্কন্ধ যোগায়।*
*🌹সেই জলে জীয়ে শাখা, ফুল ফল হয়।।*
*🌹ইহার মধ্যে মালি-পাছে কোন শাখাগণ।*
*🌹না মানে চৈতন‍্যমালী দুর্দ্দৈব কারণ।।*
*🌹সৃজাইল,জীয়াইল,তাঁরে না মানিলা।*
*🌹কৃতঘ্ন হইলা, তাঁরে স্কন্ধ ক্রূদ্ধ হইলা।।*
*🌹ক্রুদ্ধ হঞা স্কন্ধ তারে জল না সঞ্চারে।*
*🌹জলাভাবে কৃশ শাখা শুকাইয়া মরে।।*
*🌹চৈতন‍্যরহিত দেহ, শুষ্ককাষ্ঠ সম।*
*🌹জীবিতেই মৃত সেই,মৈলে সেই ত' পাষন্ড।।*
*🌹কি পন্ডিত,কি তপস্বী, কিবা গৃহী,যতি।*
*🌹চৈতন‍্য বিমুখ যেই,তার এই গতি।।*
*🌹যে যে লৈল শ্রীঅচ‍্যুতানন্দের মত।*
*🌹সেই আচার্য‍্যের গণ, মহাভাগবত।।*
*🌹সেই সেই, আচার্য‍্যের কৃপায় ভাজন।*
*🌹অনায়াসে পাইল সেই চৈতন‍্য-চরণ।।*
*🌹সেই আচার্য‍্যগণে মোর কোটি নমস্কার।*
*🌹অচ‍্যুতানন্দ প্রায়,চৈতন‍্য জীবন যাঁহার।।*
                 *(চৈঃচঃআঃ ১২|৬৫-৭৫)*
    *🙏শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের প্রণাম🙏*
*🙏নিস্তারিতাশেষজনং দয়ালুং প্রেমামৃতাব্ধৌ পরিমগ্নচিত্তম্।*
*🙏চৈতন‍্যদেবাদৃতমাদরেণ অদ্বৈতচন্দ্রং শিরসা নমামি।।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*🌻শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা গ্রন্থে যেমনভাবে লেখা ছিল তা আমি তুলে ধরলাম, তার মধ্যে বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনা করবেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

*শ্রীঅদ্বৈতের চরিতসুধা বিরাম হল।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 চতুর্থ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/gouranga4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শ্রীবাস অঙ্গনে সঙ্কীর্তনের অভিষেক*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🍀শ্রীগৌরহরি ভক্তসঙ্গে বতর্মান সময়ে রজনী কীর্তনে যাপন করবার জন্য ভক্তগণকে বললেন, "নিশাকাল কেবল নিদ্রাতে যাপন না করে, এসো,আমরা সংকীর্তনেই নিশিকাল যাপন করি।গৌরাঙ্গের কথা শুনে ভক্তগণ পরমানন্দ লাভ করলেন।শ্রীগৌরাঙ্গের আদেশে সমস্ত ভক্তবৃন্দ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে,ভিন্ন ভিন্ন বাড়ীতে কীর্তন আরম্ভ করলেন।অবশেষে গৌরহরি বললেন,শ্রীবাস পন্ডিতের ভবনই সংকীর্তনের প্রধান স্থান নির্দিষ্ট হল।তারপর থেকে শ্রীবাসের ভবনেই মহোৎসাহে সংকীর্তন চলতে লাগিল।সমস্ত রাত্রি ভক্তগণ এমন প্রমত্তভাবে কীর্তন করতে লাগলেন যে,নবদ্বীপের অধিকাংশ লোক এই কীর্তন শুনতে আসিলেন।শ্রীবাসের গৃহের চারিদিকে লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যেতে লাগল।বিশ্বম্ভর গৃহদ্বার বন্ধ করে মহানন্দে কীর্তন করতে আরম্ভ করলেন।আবার অনেক শ্রবণকারী ভিতরে স্থান না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই কীর্তন শুনতে লাগলেন।সে সংকীর্তনের ধ্বনিতে যেন নবদ্বীপের চারিদিক বিকম্পিত হতে লাগল।*
*🙌কোন জায়গায় বা কোন দেশে নূতন কিছু ঘটনার সূচনা হলে,তার বিরুদ্ধে বহুলোক বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে।শ্রীচৈতন‍্যের এই সংকীর্তনের বিরুদ্ধেও এমন বহুলোক রুষ্ট হ'ল।শ্রীবাসের ভবনে নিশিকীর্তন শুনতে এসে অনেকে নানারকম অভিমত প্রকাশ করত। কেউ বলত,লোকগুলো কেন বৃথা চিৎকার করে,পরমেশ্বর তো হৃদয়েই রয়েছেন, কেউ বলত,নিমাই পন্ডিত ভাল লোক,এমন লোকটি বৈষ্ণবদের সঙ্গে পড়ে খারাপ হয়ে গেল, কেউ বা বলে, এদের উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই ভাল না, নিশিকালে দরজা বন্ধ করে সুরাপান ও কুকার্য‍্য করে থাকে।*
*☘অপরদিকে শ্রীগৌরহরি এমন প্রেমেতে বিভোর ; তাঁকে দেখলেই মনে হত যেন,ভগবান তাঁর হৃদয়-ক্ষেত্রে সর্বদা বিহার করছেন ; সংসারে বাস করে,কিভাবে এমনটি করতে পারেন? প্রকৃত সংসারী ব‍্যক্তি এত কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা হওয়া সত‍্যি সম্ভব না। কিন্তু শ্রীগৌরহরি অন্তর্য‍্যামী, লোকের অন্তরের কথা বুঝতে বা জানতে পেরে, নবদ্বীপে সংসারী লোকদের কাছে তাইই প্রকাশ করতে লাগলেন, জীবের একমাত্র কর্ম কৃষ্ণনাম কীর্তন করে মানব জীবনকে সফল করা।জীবকে উদ্ধার করবার জন্য তিনি,হরিরস পানে, ও সেই প্রেমময় ভগবানের রূপসাগরে সর্বদাই নিমগ্ন হয়ে থাকতেন, কারণ আপনি আচরি ধর্ম জীবকে শেখায়।ভগবানে কিভাবে বিভোর হতে হয়,শ্রীগৌরহরি ও অন‍্যান‍্য মহাত্মগণ তাইই দেখিয়ে গিয়েছেন*।
*🌺একদিন অতি প্রভাতকালে শ্রীগৌরসুন্দর নিত‍্যানন্দকে সঙ্গে করে শ্রীবাস ভবনে উপস্থিত হলেন।ক্রমে এক এককরে অনুগত ভক্তগণও এক এককরে সমবেত হতে লাগলেন।মধুরাতি মধুর শ্রীকৃষ্ণনাম হরিকীর্তনই ভক্তগণের জীবনের শ্রেষ্ঠ বলে মনে হল।সকলে মিলিত হলে, গৌরহরি কীর্তন আরম্ভ করতে বললেন,মহানন্দে সংকীর্তন আরম্ভ হল। কিছুক্ষণ পরে শ্রীগৌরাঙ্গ বিষ্ণু খট্টায় গিয়ে বসে বললেন--,আমাকে অভিষেক করো?এইকথা শোনামাত্র সকল ভক্তবৃন্দ তাঁর অভিষেকের আয়োজন করলেন।একশ আট কলস গঙ্গাজল উত্তম বস্ত্রে ছেঁকে,কর্পূরে সুবাসির করে,তাঁর মস্তকে ঢাললেন। ধূপ ধূনা, পুষ্প প্রভৃতি পূজোর উপকরণের দ্বারা, ভক্তগণ তাঁর শ্রীচরণ বন্দনা করলেন।বেদোক্ত মন্ত্র উচ্চারিত হল ও মুকুন্দাদি সুগায়কগণ অতীব মধুর স্বরে কীর্তন পরিবেশন করতে লাগলেন। অভিষেক কার্য‍্য সমাধা হলে,শ্রীগৌরাঙ্গ হাত পেতে বললেন, আমায় কিছু আহার দাও।এইকথা শোনামাত্রই ভক্তগণ কেহ দুগ্ধ,কেহ ক্ষীর,কেহ দধি, কেহ ফলমূল ইত্যাদি ভাল ভাল দ্রব‍্য এনে তাঁর সেবা দিলেন।আহারান্তে তিনি কীর্তন করতে লাগলেন।ভক্তবৃন্দ প্রেমোন্মত্ততার সঙ্গে কীর্তন করতে লাগলেন।সকাল হতে পরদিন সকাল পর্যন্ত এইভাবে শ্রীবাস অঙ্গনে উৎসব চলেছিল।*
*🍀আর একদিন শ্রীগৌরহরি বিষ্ণুখট্টায় বসে আছেন,এমন সময়ে তিনি এক নূতন ভাব ধারণ করলেন। তিনি তো স্বয়ং ভগবান, কিন্তু তিনি নররূপে এসেছেন বলিয়া অনেকেই তাঁর ভগবানত্ব বুঝতে পারতেন না। কিন্তু সেদিন গৌরভগবান সেসময় সেই পরমাত্মা পরমেশ্বরের মধ্যে অবস্থিতি করতে লাগলেন, তা গৌরহরির একান্ত কিছু অন্তরঙ্গ ভক্ত জানতে পারলেন।পরমবৈষ্ণবগণ মহাপ্রভুর শ্রীমুখমন্ডলে এক অপূর্ব জ‍্যোতিঃ দর্শন করে বিমুগ্ধ হয়ে ছিলেন। তখন গৌরহরি ভাবে বিভাবিত হয়ে, কিছু ভক্তের জীবনের কোন কোন অতীত ঘটনা বলতে লাগলেন, আবার কিছু ভক্তকে বরদান করলেন।শ্রীবাসকে ডেকে বললেন, শ্রীবাস! তোমার কি মনে পড়ে, একদিন তুমি দেবানন্দ পন্ডিতের কাছে ভাগবত শ্রবণ করে তুমি ভাবরসে পূর্ণ হয়ে কাঁদতে লাগলে ; দেবানন্দের শিষ‍্যগণ তোমার কান্নার ধ্বনি সহ‍্য করতে না পেরে তোমাকে ঘরের বাহির করে দিয়েছিল।তারপরেও তুমি সেই ভাগবতের সেই মধুর শ্লোক শুনে ব‍্যাকুল হয়ে উঠেছিলে।সেসময় তুমি হৃদয়ে যে ভগবৎ-প্রেমের আনন্দ অনুভব করেছিলে,কেন জান? আমি তখন তোমার হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলাম; আমিই তোমাকে সে-রসের রসিক করে কাঁদিয়ে ছিলাম।পরমভক্ত সহজ সরল শ্রীবাস এইকথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে ভূতলে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শ্রীবাস-অঙ্গনে সঙ্কীর্তনের অভিষেক*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীবাসের অঙ্গনে মহাপ্রকাশের সময় খোলা-বেচা শ্রীধরকে মহাপ্রভু ডাকতে লাগলেন।তিনি শ্রীধরকে বড় ভালবাসতেন।বাজারে গিয়ে কত সময় তার সঙ্গে হাস‍্য পরিহাস করতেন,আবার জিনিসপত্র কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিছু তামাশাও হত।শ্রীধর প্রকৃতই একজন ভক্ত, গৌরহরি শ্রীধরকে ডাকতে লাগলেন, বললেন, তার সময় এসেছে আমার স্বরূপ দর্শনের।এইকথা শোনা মাত্র ভক্তগণ ব‍্যস্ত হয়ে,তাকে শ্রীবাস অঙ্গনে আনবার জন্য গমন করলেন।তার পর্ণকুটীরে গিয়ে মহাপ্রভুর সমস্ত কথা বললেন।শ্রীধর আনন্দে পুলকিত হয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁদের সঙ্গে শ্রীবাস অঙ্গনে উপস্থিত হলেন।শ্রীধরকে দেখে গৌরহরি বললেন,শ্রীধর তুমি আমার অনেক আরাধনা করেছ।আমি তোমার খোলায় অন্ন ভক্ষণ করি।এইভাবে শ্রীধরের অনেক গুণের কথা উল্লেখ করলে শ্রীধর অতি লজ্জিত হয়ে বলল, প্রভু!আমি অতি সামান্য ব‍্যক্তি, আমি তোমার কি সেবা করতে পারি,তোমার সেবা করবার আমার কোন যোগ্যতা নাই।বৈষ্ণব গ্রন্থে পাওয়া যায়,গৌরহরি সেসময় শ্রীধরের সম্মুখে এক জ‍্যোতির্ময় মূর্তি ধারণ করেন,শ্রীধর সে অপূর্বমূর্তি দর্শন করে মূর্ছিত হয়ে পড়ল। ভক্তবৎসল গৌরহরি তখন ভক্তের হাত ধরে উঠিয়ে বললেন, তুমি স্তব করো?শ্রীধর বলল,আমি অজ্ঞ,তোমার স্তব করি,আমার এমন ক্ষমতা নাই।মহাপ্রভু তখন বললেন, তোমার এই বাক‍্যই আমার স্তুতি।তারপরে শ্রীধরের জিহ্বাগ্রে যেন সরস্বতী দেবী অবতীর্ণা হলেন।শ্রীধর তখন অতি সুমধুর স্বরে অনর্গলভাবে শ্রীগৌরাঙ্গদেবের স্তুতি করতে লাগলেন।সকল ভক্তগণ এই নিরক্ষর ব‍্যক্তির মুখ হতে লালিত‍্যপূর্ণ ভাষা শুনে অবাক হয়ে গেলেন।বন্দনা শেষ হলে,মহাপ্রভু বললেন,শ্রীধর,তুমি বর প্রার্থনা করো। শ্রীধর বলল,যে ব্রাহ্মণ বাজারে আমার নিকট হতে খোলা পাতা নিতেন,যাঁর সঙ্গে আমি কথা কাটাকাটি করতাম,তিনিই যেন জন্ম জন্মান্তরে আমার প্রভু হয়ে থাকেন। শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে পায়=*
*🌷"মাগ মাগ" পুনঃ বোলে বিশ্বম্ভর।*
*🌷শ্রীধর বোলয়ে প্রভু! দেহ এই বর।।*
*🌷যে ব্রাহ্মণ কাড়িলেক মোর খোলা পাত।*
*🌷সে ব্রাহ্মণ হউ মোর জন্মে জন্মে নাথ।।*
*🌷যে ব্রাহ্মণ মোর সঙ্গে করিল কোন্দল।*
*🌷মোর প্রভু হউ তান চরণ যুগল।।*
*☘তখন মহাপ্রভু বললেন, শ্রীধর!আমি তোমাকে এক রাজ‍্যের রাজা করে দিতে ইচ্ছা করি।মহাপ্রভুর কথার উত্তরে,অনুগত ভক্ত বললেন,প্রভো!আমি আর কিছুই প্রার্থনা করি না,আমি যেন চিরদিন তোমার নাম-গান করে জীবন কাটাতে পারি।*
*☘শ্রীধরের সহিত কথোপকথনের পর,শ্রীমন্মহাপ্রভু মুরারি গুপ্তের নিকট শ্রীরামচন্দ্ররূপে প্রকাশিত হন।বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ বলেন,মুরারী দেখলেন, শ্রীবিশ্বম্ভর নবদূর্বাদল শ‍্যামরূপে বীরাসনে (যোগশাস্ত্র প্রণালী অনুসারে ডান ও বাঁ পদ যথাক্রমে বাঁ ও ডান ঊরুর উপর রেখে বসার ভঙ্গীকে বীরাসন বলে)ধনুর্বাণ নিয়ে বসে রয়েছেন। বামেতে জানকী ও দক্ষিণে লক্ষ্মণ শোভা পাচ্ছেন।বানরগণ সিংহাসনের চারিদিকে বসে স্তুতি করছে।এই দৃশ্য দেখে গৌরহরির বাল‍্য-সহচর মুরারি গুপ্ত ভাবাবেশে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।বিশ্বম্ভর তারপর মুরারির হাত ধরে বললেন উঠ! উঠ মুরারি!বলে মাটি হতে তুলে বললেন, মুরারি তুমি বর প্রার্থনা করো।তখন মুরারি বললেন, প্রভু! আর কোন বর প্রার্থনা করি না, যেন চিরদিন তব গুণানুকীর্তনে জীবন অতিবাহিত করতে পারি,আর জন্ম জন্মান্তরে যেন প্রভু তোমরই দাস হয়ে থাকতে পারি, এই বর দাও। মহাপ্রভু মুরারির এই প্রার্থনায় অতীব তুষ্ট হয়ে, বললেন, তোমার মনোবাঞ্জা পূর্ণ হোক।মুরারি তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)    শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *শ্রীগৌরাঙ্গের অভিষেক*
           ^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*
*🍀ভক্ত হরিদাস শ্রীগৌরাঙ্গের বড়ই প্রিয় ছিলেন।মহাপ্রভু তাই ভক্তকে ডেকে বললেন,তুমি আমার প্রাণাপেক্ষাও প্রিয়তর,তোমার যে জাতি,আমারও সেই জাতি। শোন হরিদাস! যখন যবনেরা  তোমার প্রতি অত‍্যন্ত অত‍্যাচার করছিল,তখন আমার মনে হয়েছিল,আমার চক্র দ্বারা ঐ যবনগুলির শিরচ্ছেদ করি, কিন্তু তুমি যখন এত নির্য‍্যাতনের মধ্যেও চরম ধৈর্য‍্যসহকারে অন্তরে তাদেরই মঙ্গল কামনা করছিলে,তখন আমি যবনদের বধসাধনের সঙ্কল্প হতে বিরত হলাম, এবং অসহনীয় প্রহারের মধ্যেও তোমাকে আমি রক্ষা করলাম।দেখ হরিদাস! এখনো হয়ত তোমার সেই চাবুকের আঘাত আমার পশ্চাৎদেশে দেখতে পাবে। হরিদাস মহাপ্রভুর এইসব কথা শুনে নয়নজলে বক্ষ ভাসাতে লাগলেন। গৌর ভগবান বললেন,"তুমি আমার নিকট কিছু বর প্রার্থনা কর"।হরিদাস বললেন, হে পতিতপাবন করুণাময় রক্ষাকর্তা গৌরহরি!আমি নির্গুণ, সকল জাতির অধম, আমাকে স্পর্শ করলে লোকে স্নান করে শুদ্ধ হয়,আমি তোমার মহিমার কথা কিভাবে ব‍্যাখ‍্যা করব, আমাকে কৃপা করে এই বর দাও, আমি যেন তোমার ভক্তদের দাস হয়ে তাঁদের উচ্ছিষ্ট অন্নে এ জীবন ধারণ করতে পারি।*
*😁গৌরসুন্দর হেসে বললেন, হরিদাস! তুমি আমার প্রাণ অপেক্ষাও প্রিয়তর,তোমার সঙ্গে মানুষ তিলার্দ্ধ বাস করলে,সেও সাধুত্ব লাভ করবে।আমি তোমার শরীরে সদাসর্বদা বিরাজিত।যে তোমাকে শ্রদ্ধা করে,সে ব‍্যক্তি আমাকেও শ্রদ্ধা করে থাকে।*
*🌷প্রভু বোলে,শুন শুন মোর হরিদাস।*
*🌷দিবসেকো তোমা সঙ্গে কৈল যেই বাস।।*
*🌷তিলার্দ্ধেকো তুমি যার সঙ্গে কহ কথা।*
*🌷সে অবশ‍্য আমা পাইব,নাহিক অন‍্যথা।।*
*🌷তোমারে যে করে শ্রদ্ধা, সে করে আমারে।*
*🌷নিরন্তর আছি আমি তোমার শরীরে।।চৈঃভাঃ।।*
*🍀 শ্রীগৌরসুন্দর নামাচার্য‍্য হরিদাসের ভগবদ্ভক্তি দেখে তাঁকে কি উচ্চ আসনে বসালেন।কুল মান অপেক্ষা সাধুতা ও ঐকান্তিক ঈশ্বর-প্রেম যে সর্বোপরি, শ্রীচৈতন‍্যদেব এই বঙ্গদেশে তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করে গিয়েছেন।সৎকুলোদ্ভব পন্ডিতশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ-তনয় বিশ্বম্ভর,নিরক্ষর ও সমাজের হীন জাতিদের সঙ্গে মিলিত হয়ে, যেভাবে প্রেমের ও ভক্তির ঘোষণা করে গিয়েছেন,তা হৃদয়পটে অঙ্কিত করলে,মনে হয়, সাম‍্য ও প্রেমরাজ‍্যের ছবি তিনিই আমাদের সামনে অতি উজ্জ্বলভাবে ধরিয়ে গিয়েছেন।যবনে পালিত হরিদাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিলিত হয়ে ও তাঁকে বৈষ্ণবভক্ত পরিবারের মধ্যে স্থান দান করেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবের এই উদারতা,কি অমায়িক ও ভক্তিমার্গের কি মহৎ দৃষ্টান্তেরই পরিচয় দান করে গিয়েছেন।*
*🌹ভক্তকবি ও শ্রীগৌরাঙ্গলীলার শ্রেষ্ঠতম লেখক শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর,নামাচার্য‍্য হরিদাসের প্রতি শ্রীগৌরসুন্দরের অনুরক্তি দেখে, বলেছেন=*
*🌷জাতি কুল ক্রিয়া ধনে কিছু নাহি করে।*
*🌷প্রেমধন আর্ত্তি বিনে না পাই কৃষ্ণেরে।।*
*🌷যে-তে-কুলে বৈষ্ণবের জন্ম কেনে নহে।*
*🌷তথাপিহ সর্বোত্তম-- সর্ব শাস্ত্র কহে।।*
*🌷এই তার প্রমাণ যবন হরিদাস।*
*🌷ব্রহ্মাদির দুর্লভ দেখিল পরকাশ।।*
*🌷যে পাপিষ্ঠ বৈষ্ণবের জাতি বুদ্ধি করে।*
*🌷জন্ম জন্ম অধম-যোনিতে ডুবে মরে।।*
*শ্রীগৌরসুন্দর যখন বিষ্ণুখট্টায় বসে থাকেন,তখন নিত‍্যানন্দ তাঁর মস্তকোপরি ছত্র ধরে থাকেন।কোন কোন অন্তরঙ্গ ভক্ত চামর ব‍্যজন করেন।তাঁর পদতলে কত ভক্ত গড়াগড়ি করেন।কত কত ভক্তগণ দেহ-মন-প্রাণ এককরে পুষ্প তাঁর শ্রীচরণ নিবেদন করেন।তখন যেন শ্রীবাসের অঙ্গন মনে হয় না, সেই দৃশ্য দেখে মনে হয় কোন দেবলোকে বসে আছেন।যাইহোক,গৌরহরি অদ্বৈতাচার্য‍্যকে বললেন,আচার্য‍্য, তুমি  একদিন গীতার একটি শ্লোকের প্রকৃত অর্থ বুঝতে না পেরে,অনাহারে শয‍্যায় শয়ন করেছিলে ; আমি তোমার দুঃখে ব‍্যথিত হয়ে স্বপ্নে তোমার নিকট প্রকাশিত হলাম, এবং শ্লোকের অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে,তোমাকে শয‍্যা ত‍্যাগ করতে ও আহার করতে বলেছিলাম।আমি যখন অবতার-রূপ ধারণ করি নাই,তখন তুমি আমাকে বৈকুন্ঠ হতে আনবার জন্য কত প্রার্থনা করেছ, এবং সময়ে সময়ে কাতর প্রাণে, অভীষ্ট সিদ্ধির জন্য অনাহারে দিন যাপন করেছ।তোমার প্রার্থনাতেই আমি বৈকুন্ঠ পরিত‍্যাগ করে, নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়েছি।মহাপ্রভুর শ্রীমুখ হতে অদ্বৈত নিজ জীবনের এসব গূঢ় কথা শুনে, আকুল হয়ে কাঁদতে লাগলেন, আর বিনীতভাবে বললেন,তুমি আমার জীবনের প্রভু, এই আমার পরম সৌভাগ্য।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *শ্রীগৌরাঙ্গের অভিষেক*
        *************************
*🍀এই মহানন্দের দিনে বিশ্বম্ভর যখন এক এককরে অনেকেরই মনের কথা বলছেন, আবার অনেকেই বরদান করছেন।তখন সেই সময় শ্রীমন্মহাপ্রভুর আশেপাশেই ছিলেন।সকলকে ডাকছেন কিন্তু মুকুন্দ ডাকছেন না।শ্রীবাস দেখলেন,মহাপ্রভু তাঁর সম্বন্ধে কোন কথায় বলছেন না, তখন শ্রীবাস পন্ডিত মহাপ্রভুকে বললেন, প্রভো! মুকুন্দ কি অপরাধ করেছে যে,তাঁর সম্বন্ধে তুমি কোন কথায় বলছ না?মুকুন্দ একজন সুগায়ক,মধুর কীর্তনে তোমার চিত্ত বহুসময় মুগ্ধ করেছে।শ্রীবাসের কথা শুনে মহাপ্রভু বললেন, মুকুন্দের অনেক দোষ আছে, প্রধান দোষ এই, মুকুন্দ যখন যেখানে থাকে, তখন সেই ভাবেই নিজেকে প্রকাশ করে।যখন অদ্বৈতের সভায় থাকে, তখন ভক্তির শ্রেষ্ঠতা প্রকাশ করে, আবার যখন অন‍্য কোন সভায় যায়,তখন তাদের মতানুসারেই নিজের মত প্রকাশ করে, এইজন‍্য সে আমার কৃপালাভে বঞ্চিত থাকবে।*
*🍀যখন মহাপ্রভু এই কথাগুলি বলছিলেন, তখন মুকুন্দ পার্শ্বের গৃহে বসে সব কথা শুনছিলেন, যে তিনি মহাপ্রভুর কৃপালাভ হতে বঞ্চিত থাকবেন, তখন মুকুন্দ বাইরে এসে অঝোর নয়নে ক্রন্দন করতে করতে শ্রীবাসকে বললেন," যদি মহাপ্রভুর কৃপালাভ না পাই, তাহলে এ জীবন ধারণে লাভ কী? গৌরহরি মুকুন্দের হৃদয়ের এই কষ্টের কথা শুনে বললেন, মুকুন্দ আমার কৃপালাভ পাবে, তবে কোটি জন্ম পরে।মুকুন্দ যখন শুনলেন যে,কোটি জন্ম পরে আমি মহাপ্রভুর কৃপালাভ করতে পারব,তখন তিনি আনন্দে উন্মত্তের মতো দুইটি বাহু তুলে নৃত্য করতে করতে বলতে লাগলেন, যাক তবে কোটি জন্ম পরে মহাপ্রভুর কৃপাদর্শন লাভ পাব। শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলছেন=*
*🌷প্রভু বোলে,আর যদি কোটি জন্ম হয়।*
*🌷 তবে মোর দরশন পাইবে নিশ্চয়।*
*🌷শুনিল "নিশ্চয় প্রাপ্তি" প্রভুর শ্রীমুখে।*
*🌷মুকুন্দ নিশ্চিত হইলা পরমানন্দ সুখে।।*
*🌷"পাইব পাইব" বলি করে মহানৃত‍্য।*
*🌷আনন্দে বিহ্বল হৈলা চৈতন‍্যের ভৃত‍্য।।*
*🌻মুকুন্দ দত্তের মহাপ্রভুর প্রতি কি অচলা বিশ্বাসই ছিল।ভাবলেও প্রাণ আনন্দে পুলকিত হয়।কোটি জন্ম পরে মুকুন্দ মহাপ্রভুর কৃপাদর্শন লাভ করবেন, এই আশাতেই পাব পাব বলে,মহানন্দে নৃত্য করেছিলেন।ভক্তগণ এইরকম আশা ও বিশ্বাসেই হৃদয়ে পরমানন্দ লাভ করে থাকেন।*
*☘ মহাপ্রভু যখন শ্রীবাসের বিষ্ণুখট্টায় বসেন,তখন তিনি এক নূতন নূতন ভাবে বিভাবিত হন।যখন যে যে ভাবে বিভাবিত হন, তখন বৈষ্ণবকবিগণ সেই সেই ভাবের কথা তাঁরা লিপিবদ্ধ করে রাখেন, পরবর্তী ভক্তদের অনুপ্রাণিত করবার জন্য। আর সাধারণ মানুষ যখন সংসারের স্বাথাপরতা, নীচতা ও প্রবৃত্তির শৃঙ্খল উন্মোচন করে ভগবৎপ্রেমের উচ্চতর শিখরে অধিরোহণ করেন,তখন তাঁর বাহ‍্য আকারের মধ্যেও এক পরিবর্তন উপস্থিত হয়।অন্তরের ভাবই মুখ প্রকাশ করে থাকে।যাইহোক, শ্রীবাসের গৃহেতে শ্রীমন্মহাপ্রভু যেদিন মুরারি গুপ্তের কাছে শ্রীরামচন্দ্ররূপে প্রকাশিত হয়েছিলেন, মুরারি গুপ্ত রামাবতাররূপে সেদিন গৌরহরিকে দর্শন করেছিলেন। জগতের পরমাত্মা যিনি,তাঁর কাছে ভূত-ভবিষ‍্যৎ সকলই সমান,তাঁর অনুগত ভক্তগণ যে কিয়ৎ পরিমাণে সেই মহাশক্তির প্রভাবে মানবের অতীত ও ভবিষ্যৎ কার্য‍্যাবলী দর্শনে সমর্থ হবেন, ইহা আর বিচিত্র কি?*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র উপাস‍্য গৌরহরি*
    *জগাই--মাধাই--উদ্ধার*
*********************************
*🍀শ্রীবাস অঙ্গনে সংকীর্তনের প্রভাবে নবদ্বীপের বহুলোক তাঁর দিকে আকৃষ্ট হতে লাগিল।তাঁর ভক্ত সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পেতে লাগিল। গৌরসুন্দর উচ-নীচ নির্বিচারে সকল শ্রেণীর লোকের মধ্যেই হরিনাম বিতরণ করতে লাগলেন।পূর্বে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ,বৈদ‍্য প্রভৃতি কয়েকটি বিশিষ্ট উচ্চ বর্ণের লোকেরা অন‍্যান‍্য জাতিকে পদদলিত করে রেখেছিলেন, এখন সেইসব নিচু শ্রেণীর লোকেরা কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে,শ্রীগৌসুন্দরের দলভুক্ত হয়ে যেন মুক্ত বায়ুর মধ্যে বিচরণ করতে লাগিল।নবদ্বীপে নবদ্বীপচন্দ্রের ভক্তগণ এই ঘোষণা করলেন "হরিভক্তই ব্রাহ্মণ ", এই জন্যই কথাকথিত যবন হরিদাস গৌরাঙ্গের ভক্তদের কাছে প্রণম‍্য হয়েছিলেন।মহাপ্রভুর উদার ধর্মমত জাতিভেদের গন্ডী ভেঙ্গে ফেলল, আর কঠিন বন্ধন ছিন্ন করে ফেলল।*
*🌹ধর্মপ্রচারের জন্য বিশিষ্ট ভক্তের আবশ‍্যক।গৌরহরি এটি বেশ প্রত‍্যয় করেছিলেন।এমন মধুর হরিনাম,লোকের দ্বারে দ্বারে ঘোষণা না করলে,জীবের কিভাবে পরিত্রাণ হবে,লোকের সংসার জ্বালা কিভাবে নিবারিত হবে, এইসব চিন্তা করে, তিনি একদিন নিত‍্যানন্দ ও হরিদাসকে ডেকে বললেন, তোমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গমন করে হরিনামের মহিমা কীর্তন করবে ; এবং সমস্ত দিনের পর সন্ধ‍্যাকালে আমার কাছে এসে তার বৃত্তান্ত জানাবে।তাঁরা অবনত মস্তকে শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশ শিরোধার্য‍্য করে,হরিনামের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য নবদ্বীপে মানুষের দ্বারে দ্বারে গমন করতে লাগলেন।তাঁদের রসনা হতে এইকথা উচ্চারিত হতে লাগল, "ভাই কৃষ্ণনাম কর, ও তাঁর মধুর তত্ত্ব শিক্ষা করে সুদুর্লভ মানব জনম ধন‍্য কর"।*
*🌳সমাজের মধ্যে যখন ধর্মের নূতন প্রথা প্রবর্তিত হয়,তখন সেই ধর্মের প্রচারকেরা দেশের মানুষের কাছ হতে অনেক জায়গায় সদ্ ব‍্যবহার পান না। অবধূত নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস যখন নবদ্বীপের লোকেদের "হরি-প্রেমে " অনুরাগী করবার জন্য যত্নশীল হলেন, তখন তাঁদের কন্ঠনিঃসৃত মধুর হরিনাম ও হরিকথা শুনে কেউ বা পরম আনন্দ লাভ করিল, আবার কেউ বা তাঁদের হরিকথা বা হরিনাম প্রচারে সন্তুষ্ট না হয়ে বলত, তোমরা পাগল হয়েছ, আমাদেরকেও পাগল করতে চাও না কি? অনেকেই বলতে লাগল,নিমাই পন্ডিত নিজেও পাগল হয়েছে,তারসঙ্গে এই লোকগুলোকেও পাগল করে তুলেছে।যার যা মনে আসিত সে তাইই বলত,কেউ কেউ বলতে লাগল,এরা অন‍্যের দ্রব্র চুরির করবার মানসে এইভাবে লোকের বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়ায় ; এদের দুইজনকে ধরে দেশের শাসনকর্তার হাতে দেওয়া উচিত।এমন কিছু নাস্তিক মানুষ ছিল যে, নিত‍্যানন্দ ও হরিদাসের হরিনাম প্রচার কাজে এতই অসন্তুষ্ট হয়েছিল যে, হরিদাস ও নিত‍্যানন্দ তাদের বাড়ীতে গমন করলে, "মার মার" বলে নিজের গৃহ হতে বাহির করে দিত।*
*গৌরহরির নিরীহ ভক্তগণ,এইভাবে নগরের দরজায় দরজায় ঘুরে ঘুরে,নরনারীগণকে ভক্তির পথে আনবার জন্য ভীষণ চেষ্টা করতেন। আর তার পরিবর্তে মানুষের গ্লানি ও অত‍্যাচার মস্তকে বহন করে, দিনমণি অস্তাচলগামী হলে, শচীদেবীর ভবনে আগমন করে,শ্রীমন্মহাপ্রভুর কাছে সারাদিনের সকল ঘটনা বর্ণনা করতেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)  শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*কলির একমাত্র আরাধ‍্য শ্রীগৌর*
         *জগাই---মাধাই উদ্ধার*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀নবদ্বীপে কোন ব্রাহ্মণ বংশে ব্রাহ্মণকুল কলঙ্ক স্বরূপ দুইটি পুত্র জন্মগ্রহণ করে।এদের নাম জগাই ও মাধাই। এদের দোর্দন্ড প্রতাপের কাছে নদীয়াবাসী মস্তক অবনত করে থাকত।এরা নরনারীর উপর নিষ্ঠুর ও অমানুষিক ব‍্যবহার করলেও কেউ এদেরকে শাসন করার জন্য এগোতে সাহসী হত না। এরা অর্থবলে রাজকর্মচারীদেরকেও বশীভূত করে ফেলেছিল।সহজেই, রাজদন্ডের হাত হতেও এরা মুক্তিলাভ করেছিল।এই দুই ভাই যেন নৃশংস অত‍্যাচারী রাজার মতই নবদ্বীপে বাস করত। সব থেকে বড় কথা এই যে,মনুষ‍্য বিগর্হিত সব রকম কদর্য‍্য কাজে নিজেদেরকে লিপ্ত করেছিল।শোনা যায় যে কংস যেমন ছিল, কলিকালে এই জগাই মাধাই ঠিক সেইরকম কার্য‍্য করত।সুরাপান,পরস্ত্রী হরণ,সকল মানুষের প্রতি অত‍্যাচার তাদের যেন জীবনের ব্রতস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই দুরন্ত দুই ভাইয়ের অমানুষিক ব‍্যবহারে গ্রামের লোকদের শান্তিতে বাস করা দায় হয়ে গিয়েছিল।সময় অসময় কোন ঠিক ঠিকানা ছিল না,সুরাপানে বিভোর হয়ে পথিমধ‍্যে পড়ে থাকত।কখন মাদকের নেশায় পাগলের মত,দুই ভাই পরস্পর দ্বন্দ্বে রত হয়ে পরস্পরকে প্রহার করত। কখনও বা এই মত্ততার অবস্থায় পথের লোকদেরকে পশুর ন‍্যায় আক্রমণ করে, তাদেরকে নির্য‍্যাতন করত।এই দুই ভাইয়ের দুরন্ত ব‍্যবহারের কথা চারিদিকে রাষ্ট্র হয়ে পড়েছিল।*
*🍀একদিন নিতাইচাঁদ ও নামাচার্য‍্য হরিদাস হরিনাম বিতরণের জন্য পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন,এমন সময়ে তাঁরা দেখতে পেলেন এই দুই ভাই সুরাপান করে অচেতনপ্রায় হয়ে পড়ে আছে। নিত‍্যানন্দ পথ চলা মানুষের কাছে এদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, সকলেই এদের চরিত্রের বিষয় বিশেষ ভাবে বললেন।সকলেই যেন একবাক‍্যে ভ্রাতৃদ্বয়ের পরিচয়ে এই কথা প্রকাশ করল যে,পৃথিবীতে যত রকম পাপকাজ আছে সবকিছুই এই দুই ভাইয়ের মধ্যে পরিপূর্ণ।*
*🌻নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস সব কথায় শুনলেন। প্রেমার্দ্র হৃদয় নিতাইচাঁদ জগাই ও মাধাইয়ের কল‍্যাণের জন্য বড় ব‍্যাকুল হয়ে উঠিলেন। আমার নিতাইচাঁদ যে পরিত্রাণদাতা, হরিনাম লোককে দিবার জন্য পথে বাহির হয়েছেন, কিন্তু সেই হরিনামে কি পাপিষ্ঠ জগাই মাধাই পরিত্রাণ লাভ করবে না?নিতাইচাঁদের প্রাণে এই চিন্তা উদিত হল। তিনি দেখলেন,একমাত্র হরিনামেই সকলি সম্ভব। (আমি সকল ভক্ত পাঠকের কাছে বিনীত নিবেদন করি, আপনারা "হরিনামামৃত সিন্ধু " নামক একটি গ্রন্থ  আছে অবশ‍্যই পাঠ করবেন)। নিত‍্যানন্দ বলছেন, এছাড়াও মহাপ্রভুর আদেশ,সকলেরই কাছে গিয়ে হরিনামের মাহাত্ম্য কীর্তন করতে হবে।এই সব কারণে তিনি আর নিরস্ত থাকতে পারলেন না।*
*🍀অবশেষে নিতাইচাঁদ ও হরিদাস উভয়ে এই পশুসম, সুরাপানোন্মত্ত ভূতলশায়ী জগাই মাধাইয়ের কাছে গেলেন।পূর্বেই তাদের কি চরিত্র বলা হয়েছে, এবং পথের বহু লোক তাঁদের ঐ দুরন্ত দুইভাইয়ের কাছে যেতে বারণ করেছিল। তাদের কাছে গেলে হয়ত, কোন অনিষ্ট ঘটতে পারে, এইরকম কিছু কথা নিত‍্যানন্দ হরিদাসকে বলেছিলেন।*
*🌹কিন্তু হরিনামে উন্মত্ত দুইজন নিতাইচাঁদ ও হরিদাস জগাই মাধাইকে হরিনামের সুরা পান করাবার জন্য ব‍্যাকুল চিত্তে তাদের কাছে গিয়ে বললেন, "ভাই!একটিবার কৃষ্ণনাম বলো, তাঁকে একটিবার স্মরণ কর", তাঁকে ভাল করে একবার জানতে ইচ্ছে কর,কারণ সেই কৃষ্ণই আমাদের পিতা-মাতা,প্রাণ-ধন-মন সব কিছুই।*
*🌷তথাপিহ দুই জন "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলি।*
*🌷নিকটে চলিলা,দোঁহে মহা-কুতূহলী।।*
*🌷শুনিবারে পায় হেন নিকটে থাকিয়া।*
*🌷কহেন প্রভুর আজ্ঞা ডাকিয়া ডাকিয়া।।*
*🌷বোল কৃষ্ণ,ভজ কৃষ্ণ,লহ কৃষ্ণ নাম।*
*🌷কৃষ্ণ পিতা,কৃষ্ণ মাতা,কৃষ্ণ প্রাণ ধন।।শ্রীচৈঃভাঃ।।*
*🌺জগাই মাধাইয়ের কানে কৃষ্ণনাম কথা প্রবেশ করামাত্র তারা ধীরে ধীরে চোখ খুলে সন্ন‍্যাসীদ্বয়কে দেখে কোন রকমে মাটি থেকে উঠল।ক্রোধে জগাই মাধাইয়ের দুই চক্ষু রক্তবর্ণ হয়ে উঠল, এবং "মার মার" শব্দে তাঁদের ধরতে উদ‍্যত হল।তাদের তর্জন গর্জনে ভীত হয়ে নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস ভয়ে দৌড়াতে আরম্ভ করলেন।জগাই মাধাইও কোনরকমে তাঁদের পেছন ধাওয়া করল। পথের কিছু মানুষ তখন বলল, আমাদের কথা শুনলে আজ এই অবস্থা সন্ন‍্যাসীদের হত না! এদিকে নিতাইচাঁদ ও হরিদাস উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ পর্যন্ত গৌরহরির বাড়ীতে এসে উপস্থিত হলেন, এবং নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করে পরস্পর কোলাকুলি করে আনন্দ প্রকাশ করতে লাগলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🦚🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭) শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
          *জগাই--মাধাই উদ্ধার*
         ************************
*🍀সন্ধ‍্যা সমাগত।নিত‍্যানন্দ ও হরিদাস শ্রীগৌরসন্দরের কাছে জগাই মাধাইয়ের সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন।দুষ্ট দুই ভাই তাঁদের আক্রমণ করতে উদ‍্যত হয়েছিল শুনে তিনি ক্রোধ প্রকাশ করাতে, নিতাইচাঁদ বললেন, প্রভো! যদি এই পাতকীরা হরিনামে উদ্ধার হয় তাহলে বুঝব, তোমার নাম "পাতকী-পাবন"।তখন বিশ্বম্ভর মৃদু হেসে বললেন, "যাদের জন্য তুমি এত চিন্তা করছ,শ্রীকৃষ্ণ অচিরাৎ তাদেরকে উদ্ধার করবেন। (আমি আরেকটি গ্রন্থ পাঠ করে পেয়েছিলাম, মহাপ্রভু বলেছিলেন, শ্রীপাদ!তুমি যখন বলছ উদ্ধার করতে হবে, তার মানে দুষ্ট জগাই মাধাই উদ্ধার হয়েই গেছে)।শ্রীগৌরাঙ্গের প্রমুখাৎ আশাপ্রদ এই মধুর বাণী শুনে,সমবেত ভক্তমন্ডলী হরিধ্বনি করে উঠিলেন।*
*🌺দুরন্ত দুই ভাই জগাই মাধাইকে, পাপের হাত থেকে উদ্ধার করে,হরিপ্রেমে মাতোয়ারা করাই নিত‍্যানন্দের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল। তিনি একদিন নবদ্বীপের নানা জায়গা ভ্রমণ করে, নিশাকালে গৃহাভিমুখে যাবার সময় জগাই মাধাইয়ের কাছে উপস্থিত হলেন।তারা তাঁর পদধ্বনি শুনে, কেরে,কেরে, বলে চিৎকার করে উঠিল।নিত‍্যানন্দ বললেন, আমি অবধূত নিত‍্যানন্দ।এই কথা শুনামাত্র জগাই এক ভাঙ্গা কলসীর কানা নিয়ে,সজোরে আঘাত করিল।নিত‍্যানন্দের ললাটে লেগে,দরদরিতধারে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল।বিনা কারণে মাধাই সন্ন‍্যাসীকে প্রহার করিল দেখে,জগাই কিন্তু কিছু মর্মাহত হল, এবং ভাইকে বলল, বিদেশী সন্ন‍্যাসীকে মেরে তুমি বড় নিষ্ঠুরের কাজ করলে!সন্ন‍্যাসীকে মেরে তোমার কি লাভ হল?সহিষ্ণুতার অবতার নিতাইচাঁদ রুধির প্লাবিত অঙ্গে স্থিরচিত্তে দাঁড়িয়ে থেকে পতিতপাবন দয়াময় হরিকে স্মরণ করতে লাগলেন।*
*🌹নিত‍্যানন্দকে জগাই মাধাই প্রহার করেছে, এই সংবাদ কর্ণগোচর হলে, তিনি তৎক্ষণাৎ সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ঘটনার স্থলে উপনীত হয়ে দেখলেন, তাঁর প্রিয়তম ভক্ত নিত‍্যানন্দের কপাল হতে রক্ত নির্গত হয়ে তাঁর সমস্ত অঙ্গকে ভিজিয়ে ফেলেছে।গৌরহরি আঘাতকারীকে বিনাশ করবার জন্য "চক্র চক্র" বলে চিৎকার করে উঠিলেন।নিতাইচাঁদ গৌরহরির ক্রোধ দেখে তাঁর চরণে পড়ে বললেন, প্রভো!তুমি যদি সুদর্শন চক্রের দ্বারা এদেরকে বিনাশ কর, তাহলে তোমার নামে কলঙ্ক হবে।হরিনামে যে মহাপাতকী তরে,তুমি আজ তাই দেখিয়ে,তোমার পতিতপাবন নামের কীর্তি রক্ষা কর।*
*তাই শ্রীচৈতন‍্য-মঙ্গলে শ্রীলোচনদাস বলেছেন=*
*🌷সুদর্শন দেখি নিত‍্যানন্দ প্রভু হাসে।*
*🌷কি করিল ভগবান ঐশ্বর্য‍্য প্রকাশে।।*
*🌷করুণাতে উদ্ধার করিব ত্রিভুবন।*
*🌷দীন হীন পতিত পামর দুষ্ট মন।।*
*🌷জগাই মাধাই তরি' দীনবন্ধু হব।*
*🌷পতিতপাবন নামের গরিমা রাখিব।।*
*🌷ইহা বলি নিত‍্যানন্দ চরণে ধরিয়া।*
*🌷কহিলেন প্রভু-পাদে বিনয় করিয়া।।*
*🌷এ দুই পতিত প্রভু মোরে কর দান।*
*🌷পতিতপাবন-নাম থাকুক ব‍্যাখ‍্যান।।*
*🌻তারপর নিতাইচাঁদ গৌরসুন্দরকে বললেন,প্রভু! দুই ভাইয়ের মধ্যে একভাই(জগাই) আমাকে রক্ষা করেছে, নতুবা মাধাই আমাকে আরো মারবার জন্য উদ‍্যত হয়েছিল।তখন গৌরহরি জগাইকে প্রেমালিঙ্গন দিয়ে, তাকে আশীর্বাদ করলেন।জগাই করুণাময় গৌরহরির প্রেমালিঙ্গনে যেন নবজীবন লাভ করল।দুই ভাইয়ের হৃদয় মনের অবস্থা প্রায় এক রকমেরই ছিল। একজনের পরিবর্তনে অপরের হৃদয়ের অবস্থাও পরিবর্তিত হয়ে গেল।মাধাই নিজকৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিত‍্যানন্দের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল।নিতাইচাঁদ নিজ দুইবাহু দ্বারা মাধাইকে জড়িয়ে ধরলেন।নিমেষের মধ্যে ভগবান যেন উভয়ের মধ্যে ঐন্দ্রজালিক কার্য‍্য সম্পন্ন করলেন।দুই ভাইয়ের অনুতাপ দেখে শ্রীগৌরহরি বললেন, "আর তোমরা পাপ কাজ করে জীবন কলুষিত করিও না।*
*🍀পরমভক্তচূড়ামণি গৌরসুন্দর তারপরে দুইভাইকে নিজ ভবনে নিয়ে যেতে বললেন।জগাই মাধাই সেখানে উপস্থিত হলে,কীর্তন আরম্ভ হল।ভক্তদের মুখনিঃসৃত হরিনামের ধ্বনিতে দুইভাইয়ের কর্ণকুহরে যেন "সুধা" বর্ষিত হতে লাগল ; হরিনামের সুধারসে তাদের প্রাণ যেন শীতল হয়ে গেল,ভাবের আবেগে তাদের শরীর কাঁপতে লাগিল,চক্ষু হতে বারিধারা বহিতে লাগিল।তারা সুমধুর হরিনাম রসনায় উচ্চারণ করতে করতে ভাবে বিভোর হয়ে ধূলায় লুন্ঠিত হতে লাগল।ভ্রাতৃদ্বয়ের অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে পতিতপাবন গৌরহরি বললেন,এরা অদ‍্য হতে আমার সেবক হল।তিনি তারপর ভূলুণ্ঠিত দুই ভাইয়ের হাত ধরে তুললেন।তাঁরা কাঁদতে কাঁদতে সকল বৈষ্ণবগণের চরণে লুন্ঠিত হয়ে,তাঁদের পদরেণু গ্রহণ করতে লাগলেন।*
*উপস্থিত সকল বৈষ্ণবগণ জগাই মাধাইকে আশীর্বাদ করলেন।কিছুক্ষণ পূর্বে যারা হিংস্রজন্তুসম হয়ে পথে বিচরণ করছিল,ক্ষণকালের মধ্যে তাদেরকে কি অপূর্ব পরিবর্তন! শ্রীচৈতন‍্য চরিতামৃতে পায়=*
*সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়।*
*লবমাত্র সাধুসঙ্গ সর্বসিদ্ধি হয়।।*
*🌹তাঁরা শ্রীচৈতন‍্যের অনুগত শিষ্য হয়ে,আজীবন হরিগুণ কীর্তনে রসনাকে নিয়োগ করেছিলেন, এবং দীনতা, শ্রদ্ধা,প্রেম ও বৈরাগ‍্যের পথ অনুসরণ করে,জীবনকে অনুপাম ধর্মের সৌন্দর্য্যে বিভূষিত করেছিলেন।*
*☘জগাই মাধাই তারপর সকালে জাহ্নবীর জলে স্নান করে,নিভৃতে বসে হরিনাম জপে সময় অতিবাহিত করতেন।আর পূর্বাকৃত অপরাধ স্মরণ করে অনুতাপাশ্রুতে তাঁদের দুই নয়ন ভেসে যেত।যারা,নবদ্বীপে মহাপাপী বলে বিদিত ছিল, অদ‍্য তাঁরা পরমভক্ত বলে অভিহিত হল।এঁদের উদ্ধারে শত শত লোক ভগবৎ কৃপার অদ্ভুত শক্তি বুঝতে সমর্থ হল। শ্রীচৈতন‍্য প্রবর্তিত হরিগুণ কীর্তনে জাতিবর্ণ নির্বিশেষে বহুলোক যোগদান কোরে,তাঁর দলের পুষ্টিসাধনকরতে লাগল, শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকার শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলেছেন=*
*🌷জগাই মাধাই দুই চৈতন‍্য কৃপায়।*
*🌷পরম ধার্মিকরূপে বৈসে নদীয়ায়।।*
*🌷উষাকালে গঙ্গাস্নান করিয়া নির্জনে।*
*🌷দুই লক্ষ কৃষ্ণনাম লয় প্রতিদিনে।।*
*🌷আপনারে ধিক্কার করয়ে অনুক্ষণ।*
*🌷নিরবধি কৃষ্ণ বলি  করয়ে ক্রন্দন।।*
☆          ☆           ☆          ☆            ☆      ☆
*🌷আহারের চিন্তা গেল কৃষ্ণের আনন্দে।*
*🌷স্মঙরি চৈতন‍্য-কৃপা দুইজনে কান্দে।।*
*🙌 জয় নিতাইচাঁদ, হরিদাস, মহাপ্রভুর জয়🙏🙏🙏*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা🙏*
             *👥নাটক ও অভিনয় 👥*
           **************************
*🍀মহাপুরুষগণ নরনারীদের শিক্ষা দিবার জন্য নানারকম লীলা প্রদর্শন করে থাকেন।কোন বিষয়ে লোকের মনে বা চিত্তে বিশেষরূপে চিত্রিত করতে হলে,নাটকাভিনয়ের দ্বারা সে কার্য‍্য অনেক স্থলে সুন্দররূপে সংশোধিত হয়ে থাকে ; শ্রীগৌরহরি এই নাটকাভিনয়ের উপকারিতা হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন। তিনি একদিন ভক্তমন্ডলীর মধ্যে বলে উঠলেন, "আজ সন্ধ‍্যার সময় নৃত্য,কীর্তন ও নাটকাভিনয় করতে হবে।মহাপ্রভুর এই প্রস্তাব শুনে,ভক্তগণের মধ্যে যেন এক আনন্দের তরঙ্গ উত্থিত হল। মহাপ্রভু বললেন, "আমি রুক্মিণী ও আদ‍্যাশক্তি সাজিব ও নিত‍্যানন্দ আমার বড়াই হবেন।গদাধর গোপীকা ও ব্রহ্মানন্দ সুপ্রভা নামে তাঁর সখী সাজবেন।মহাপ্রভুর এই প্রস্তাব শুনে হরিদাস জিজ্ঞাসা করলেন, "মহাপ্রভু! আমি কি সাজিব?গৌরহরি বললেন,তুমি কোটাল সাজবে।*
*☘শ্রীবাস বললেন, প্রভো! আমি কি সাজব? গৌরাঙ্গপ্রভু বললেন, তুমি দেবর্ষি নারদ সাজবে।যখনসকলের সাজের কথা হল,তখন বৃদ্ধ অদ্বৈতাচার্য‍্য বললেন, "আমার প্রতি কোন আজ্ঞা হবে না?শ্রীমন্মহাপ্রভু সামান্য মৃদুমন্দ হাসি হেসে বললেন ; সকলেই তো আপনার,আপনি রঙ্গমঞ্চে যখন যা সেজে দর্শকবৃন্দের তৃপ্তি উৎপাদন করতে ইচ্ছা করেন,তাইই করবেন।গৌরহরির শ্রীমুখ হতে এই আনন্দজনক কথা শুনে,সুরসিক নৃত্যপ্রিয় আচার্য‍্য তালে তালে নৃত্য করতে লাগলেন।সকলে তাঁর নৃত্য দেখে হাসতে লাগলেন। শ্রীবাস পন্ডিতের ভাই শ্রীমান পন্ডিত সেখানে উপস্থিত ছিলেন,তাঁর প্রতি কোন ভার অর্পিত হল না দেখে তিনি দুঃখের সঙ্গে বলে উঠলেন, অভিনয়ের সময় আমি মশালচির কাজ করব।শ্রীমান পন্ডিতের কথায় সভার মধ্যে একটা হাস‍্য রসের সঞ্চার হল।অভিনয় মঞ্চের জন্য গৌরসুন্দর চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যের বাড়ীর বৃহৎ প্রাঙ্গণই নির্দ্ধারণ করলেন, এবং তাঁকে এ বিষয়ে অবগত করিয়ে, দর্শকবৃন্দের বসবার জায়গা এবং অভিনয় কার্য‍্য সুসম্পন্ন করবার জন্য যা যা দরকার,সব বিষয়ে সহায়তা করতে বললেন। ধনশালী বুদ্ধিমন্ত খাঁকে অভিনেতাদের সাজ যোগাবার ভার অর্পণ করলেন।বিশ্বম্ভরের এই প্রস্তাব শিরোধার্য‍্য করে সকলেই এই কাজের সহায়তায় যত্নবান হলেন।*
*🌹গৌরহরি ইতিমধ্যে এক প্রস্তাব করলেন। তিনি বললেন, "অজিতেন্দ্রিয় ব‍্যক্তিদের আজকের অভিনয়স্থলে প্রবেশের অধিকার নাই"।(অজিতেন্দ্রিত=ইন্দ্রিয় বশীভূত হয়নি) মহাপ্রভুর এইরকম কথা শুনে বৃদ্ধ অদ্বৈতাচার্য‍্য মস্তত নত করে,মাটিতে আঁক কেটে বললেন, "তবে তো আমার যাওয়া হবে না "। শ্রীবাস পন্ডিত ও অন‍্যান‍্য প্রবীণ বৈষ্ণবগণও গৌরসুন্দরের কথানুসারে রঙ্গমঞ্চে যাবার অযোগ্যতা প্রকাশ করলেন।রসিককান্ত গৌরহরি সকলের রসনা হতে একই কথা শুনে সামান্য হেসে বললেন,"তোমারা না গেলে, তবে কে যাবে"?*
*🌺মহাপ্রভু ভক্তগণকে সঙ্গে নিয়ে চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যের ভবনে নৃত্য,কীর্তন ও নাট‍্যাভিনয় করবেন,এ সমাচার নবদ্বীপের নানা জায়গায় প্রচারিত হয়ে গেল।চন্দ্রশেখর নিজের বিশাল প্রাঙ্গণে সকলের বসবার ব‍্যবস্থা করলেন।বুদ্ধিমন্তখাঁ সাজঘর ও অভিনেতাদের সময়োচিত সাজ সজ্জা প্রস্তুত করে রাখলেন।অভিনয়ের জন্য যা যা প্রয়োজন, চন্দ্রশেখর ও বুদ্ধিমন্ত উভয়ে তার সমস্তই ব‍্যবস্থা করলেন।সূর্য‍্য অস্তমিত হতে না হতেই,চন্দ্রশেখরের সুবিশার প্রাঙ্গণভূমি লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।মহিলাদের বসবার জন্য স্বতন্ত্র নির্দিষ্ট জায়গা ছিল।নিমন্ত্রিত ভদ্রপরিবারের মহিলারা অভিনয় দর্শনের জন্য আগমন করতে লাগলেন।বৃদ্ধা শচীমা, তাঁর নিমাই,ভক্তসঙ্গে অভিনয় করবেন,এই আনন্দে পুত্রবধূ বিষ্ণুপ্রিয়াকে হয়ে করে চন্দশেখরের ভবনে উপস্থিত হলেন।চন্দ্রশেখরের পত্নী এই উপলক্ষ্যে মহিলাদের যথোচিত অভ‍্যর্থনা করতে লাগলেন।*
*অভিনয়ের সময় উপস্থিত হল।রঙ্গমঞ্চে সকলে সমবেত হলে প্রথমে কীর্তন ও বন্দনা হল।অদ্বৈতাচার্য‍্য রঙ্গভঙ্গী করে নৃত‍্য করে সভার সকলকে হাস‍্যরসে পরিপ্লুত করে তুললেন।এমন সময়ে হরিদাস কোটাল বেশে মুরারিগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে রঙ্গভূমিতে আগমন করে সকলকে বললেন="জাগো,জাগো, আজ মহালক্ষ্মীর নৃত্য হবে।*
*🔵রঙ্গমঞ্চ নিস্তব্ধ ; এমন সময়ে নারদবেশধারী শ্রীবাস পন্ডিত রঞ্চমঞ্চে উপস্থিত হলেন।তাঁর প্রশান্ত মুখমন্ডল,দীর্ঘ শুভ্র শ্মশ্রূ, ললাটে বক্ষে ও বাহুদ্বয়ে তিলক, কাঁধে বীণা ঝুলছে,হাতে কমন্ডলু, সুসজ্জিত অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল,যথার্থই দেবর্ষি নারদের মতো প্রতীয়মান হচ্ছিলেন।মুনিবর সভাসীন হয়ে আসন পরিগ্রহ করলে,সকলে অনিমিষ নয়নে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল।ঋষিবর আসনে বসিলে পর,অদ্বৈতাচার্য‍্য জিজ্ঞাসা করলেন,আপনি কে?নারদ বললেন,আমি শ্রীকৃষ্ণের গুণ কীর্তন করে বেড়ায়, সর্বস্থানে হরিগুণ কীর্তন করাই আমার কাজ।*
*🍀অদ্বৈত বললেন, তবে আমাদের একটি হরিগুণ কীর্তন করে শোনান আস্বাদন করি।তখন নারদ মুনি বীণাযন্ত্রটি নিয়ে অতি মধুরস্বরে হরিগুণ কীর্তন করতে লাগলেন।কীর্তন শুনে শ্রোতাগণের হৃদয়ের উপর দিয়ে যেন সুধার স্রোত বহিতে লাগল।লোকে মনে করতে লাগল,যেন সত‍্য সত‍্যই দেবর্ষি দেবলোক হতে এখানে আগমন করেছেন।নারদের ঋষিতুল‍্য রূপ ও বীণার ঝঙ্কার মিশ্রিত তাঁর মধুর সঙ্গীত ধ্বনিতে নারীগণ বিমুগ্ধ হয়ে পর্দার ভিতর হতে সে দৃশ্য দেখতে লাগলেন।বৃদ্ধাসরলা গৌর-জননী,শ্রীবাস-পত্নী মালিনী দেবীকে জিজ্ঞাসা করলেন, হাঁ বউ, এই কি পন্ডিত?মালিনী নত মস্তকে একটু ঘোমটা টেনে মৃদুস্বরে বললেন,লোকে তো তাই বলছে।*
🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥🎥

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *🎥নাটক ও অভিনয় 🎥*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀দেখতে দেখতে এক নূতন দৃশ্যের আবির্ভাব হল।শ্রীমন্মহাপ্রভু রুক্মিণীর বেশে রঙ্গমঞ্চে উপনীত হলেন।বিদর্ভ দেশে ভীষ্মক নামে এক বিখ‍্যাত রাজা ছিলেন।তাঁর পাঁচ পুত্র ও এক কন‍্যা। জ‍্যেষ্ঠ পুত্রের নাম রুক্মী ও একমাত্র কন‍্যার নাম রুক্মিণী। রুক্মিণী সৌন্দর্য্যে ও গুণে অতুলনীয়া ছিলেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণের গুণাবলীর কথা শুনে, তাঁকে মনে মনে স্বামীরূপে বরণ করেন,এবং তিনি শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া কারও পাণিগ্রহণে প্রস্তুত হবেন না বলিয়া প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।ভীষ্মক তনয়া রুক্মিণী যৌবনে পদার্পণ করলে,রাজা তাঁকে রাজার সঙ্গে কন‍্যার বিবাহের প্রস্তাব ভঙ্গ করতে প্রস্তুত হলেন। কিন্তু রাজার পুত্র রুক্মী কৃষ্ণদ্বেষী ছিলেন, এজন‍্য কৃষ্ণের সঙ্গে ভগিনীর বিবাহের প্রস্তাব অনুমোদন না করে,চেদি রাজার সঙ্গে,তাঁর পরিণয়কার্য‍্য সমাধা করতে পিতাকে অনুরোধ করলেন।চেদি রাজার সঙ্গে রুক্মিণীর বিয়ের দিন নির্দ্ধারিত হল।রুক্মিণী,শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া অন‍্য কারও হাতে দেহ মন প্রাণ সমর্পণ করবেন না ; তাই তিনি গোপনে সুনন্দের হাতে একটি পত্র দিয়ে তাঁকে দ্বারকায় কৃষ্ণের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।*
*🍀গৌরসুন্দর, আজ সেই রুক্মিণীর বেশে,কৃষ্ণপ্রেমানুরাগিনী হয়ে তদীয় চরণে দেহ মন উৎসর্গ করবার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।নারী বেশধারী শ্রীগৌরহরির রূপ যৌবনে তাঁকে প্রকৃতরূপেই মনোমোহিনী এক পরমাসুন্দরী নারী বলে বোধ হতে লাগল।তিনি রঙ্গমঞ্চে কৃষ্ণ প্রেমানুরাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রকাশ করতে লাগলেন।*
*🍀অবশেষে ভাগবদোক্ত শ্রীকৃষ্ণকে রুক্মিণীর লিখিত পত্রখানি, এমন প্রেমগদগদভাবে পাঠ করতে লাগলেন যে,সকলের প্রাণ মুগ্ধ হয়ে গেল ; সকলের নয়ন হতে বারিধারা বর্ষিত হতে লাগল। হে ভুবনসুন্দর! তোমার রূপ ও গুণের কথা কর্ণকূহরের মধ‍্য দিয়ে অন্তরে প্রবেশ করে,কার না প্রাণ সুশীতল না করে? আমি প্রাণ খুলে তোমাকে বলছি, আমি লজ্জাহীনা নারীর ন‍্যায়তোমাতে অনুরক্তা হয়ে পড়েছি।মুকুন্দ!কোন নারী তোমার মতো রূপ-গুণবান পুরুষকে পতিত্বে বরণ করতে অভিলাষিনী না হয়?আগামীকল‍্য আমার বিয়ের দিন নির্দ্ধারিত হয়েছে,তুমি তোমার সৈন‍্যদল সঙ্গে এখানে আগমন করবে, এবং বিপক্ষ পক্ষ পরাস্ত করে,আমাকে হরণ করে নিয়ে যাবে।দেখিও চেদিরাজ যেন আমাকে গ্রহণ না করে,যা সিংহের প্রাপ‍্য তা কি শিয়ালে নিয়ে যাবে? তোমার বস্তু তুমি এসে গ্রহণ কর। তুমি যদি এ দাসীর প্রার্থনা পূর্ণ না কর, তাহলে আমি অনশনে দেহত‍্যাগ করব।প্রাণবল্লভ!যদি এ-জন্মে তোমাকে লাভ করতে না পারি,বহু জন্মান্তরে তোমাকে প্রাপ্ত হয়ে প্রাণের পিপাসা নিবারণ করব।*
*🍀তারপরে পত্রবাহক সুনন্দের হাতে পত্রখানিঅর্পণ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তুমি শ্রীকৃষ্ণের হাতে এ পত্রখানি প্রদান করিও।*
*🌺মহাপ্রভুর অভিনয় শেষ হলে, চারিদিকে আনন্দ-তরঙ্গ বহিতে লাগল। মৃদঙ্গ ও করতালের বাদ‍্যের সহিত হরিধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠিল।নারীগণ রুক্মিণীর কৃষ্ণানুরাগের মধুর কথা শুনে ভাবে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন।এখন অভিনয়ান্তে শঙ্খনিনাদে নিজেদের মনের উল্লাস প্রকাশ করতে লাগলেন। তখন গদাধর রাধিকা বেশে বিদ‍্যাপতির এই সংগীতটি ধানশী সুরে গাইতে লাগলেন=*
*সখি!কি পুছসি অনুভব মোয়?*
*সোই পিরীতি অনুভব বাখানিতে নূতন হোয়।।*
*🌻পুছসি=জিজ্ঞাসা করছ। মোয়=আমাকে।*
*জনম অবধি হাম, রূপ নেহারিনু,*
       *নয়ন না তিরপিত ভেল।*
*লাখ লাখ হাম,হিয়া হিয়ে রাখনু,*
       *হৃদয় না জুড়ল গেল।।*
*বচন অমিয়া রস, অনুখণ শুননু,*
      *শ্রুতিপথে পরশ না ভেল।*
*কত মধুযামিনী, রভসে গোঁঙায়নু,*
       *না বুঝনু কৈছন কেলি।।*
*🌻হাম=আমি, তিরপিত=তৃপ্তি, রভসে=উৎসুক বশতঃ, গোঙায়নু= যাপন করলাম, কৈছন=কিরকম, কেলি=ক্রীড়া।*
*🍀রাধিকারূপিনী গদাধর এই গান করতে করতে আত্মহারা হয়ে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।তাঁর সুগঠিত দেহখানি নৃত্যের সময় মৃদুমন্দভাবে হেলতে দুলতে লাগিল,অধরে মধুর হিসি যেন কুন্দ ফুলের মত ফুটে উঠিল, কৃষ্ণপ্রেমের অনুরাগে শরীর কন্টকিত হল,তখন যেন প্রাণশূন‍্য পুত্তলিকার মত নরনারী,তাঁর এই মধুর স্বর্গীয়ভাব দর্শন করতে লাগল।*
*🌺কিছুক্ষণ পরে মহাপ্রভু আদ‍্যাশক্তির বেশে রঙ্গভূমিতে অবতীর্ণ হলেন।তিনি যখন যে কাজ করতেন তাতেই তন্ময় হয়ে যেতেন।তিনি আজ এমন বেশে সজ্জিত হয়েছিলেন যে,তাঁকে দেখে, দর্শক- মন্ডলীর হৃদয়ে মাতৃভাবের সঞ্চার হতে লাগল।শ্রীমান পন্ডিত মশাল নিয়ে মাতৃবেশধারী গৌরহরির কাছে দাঁড়িয়ে আছেন।হরিদাস কোটাল হয়ে, সকলকে জাগ্রত করতে লাগলেন, তখন এক অপূর্ব দৃশ্য হয়েছিল।নিত‍্যানন্দ ভাবে বিভোর হয়ে ভূতলে পড়ে গেলেন, দর্শকবৃন্দ ভাবে প্রেমে বিহ্বল হয়ে কাঁদতে লাগলেন।গৌরহরি নৃত্য করতে করতে মহালক্ষ্মীভাবে সিংহাসনে আরোহণ করে,গোপীনাথকে কোলে করে বসিলেন।এই জননী-মূর্তি দেখে পুরুষ ও নারী সকলেই "মা মা" বলে চিৎকার করে উঠিল।বহুসংখ‍্যক লোক তাঁর সিংহাসন কাছে দাঁড়িয়ে থেকে, প্রেমে বিভোর হয়ে কেউ বা লক্ষ্মী কেউ বা চন্ডীর স্তব পাঠ করতে লাগল।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *নগর-------সংকীর্তন*
             ^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*
*🍀শ্রীহরিনামের ধ্বনিতে যে কেবল শ্রীবাসের ভবনই পূর্ণ হতে লাগল, তা নয়, অধিকাংশ গৃহেই,গৌরহরি প্রমুখ ভক্তদের দ্বারা সুধামাখা হরি সংকীর্তন প্রবর্তিত হল।দিনমণি অস্তাচলচূড়াবলম্বী হলে,নবদ্বীপের বহু পরিবারে মৃদঙ্গ ও করতালের ধ্বনির সঙ্গে,নানা কন্ঠ হতে হরিনামের মাহাত্ম্য কীর্তিত হতে লাগল।বালক, যুবক,বৃদ্ধ শ্রীগৌরাঙ্গ প্রবর্তিত ভক্তিলাভের এই সরলউপায় অবলম্বন করবার জন্য উৎসুক হয়ে উঠিল।নবদ্বীপে ভক্তির নূতন স্রোত প্রবাহিত হতে লাগিল,এক নূতন আলোকে চারিদিকে আলোকিত হবার উপক্রম হল।*
*☘তখন বঙ্গের শাসনকর্তা সৈয়দ হুসেন শাহ গৌড়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত।তাঁর প্রতিনিধিস্বরূপ কাজী নবদ্বীপে অবস্থিতি করতেন, তা আগেই বলা হয়েছে।তিনি দেখলেন,তাঁর রাজ‍্যের মধ্যে অনেক গৃহে হরিসংকীর্তনে হিন্দুধর্ম প্রবল হয়ে উঠিল।তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না ; কীর্তনকারীদের কীর্তন বন্ধ করবার জন্য সচেষ্ট হলেন।যে যে জায়গায় কীর্তন হয়, অনুচরবর্গদের দ্বারা তা বিশেষরূপে জেনে,স্বয়ং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সে সব জায়গায় গমন করে,সংকীর্তন বন্ধ করে,মৃদঙ্গ ভেঙ্গে, এবং "মার মার" শব্দে নিরীহ হরিভক্তদের প্রাণে আতঙ্কের সঞ্চার করতে লাগলেন।ভীরু অল্পবিশ্বাসীরা কীর্তন বন্ধ করে দিল।কেউ কেউ ভয়ে লুকিয়ে রইল ; কেউ কেউ বলতে লাগিল,হরিনাম কি আর মনে মনে নেওয়া যায় না ; বৃথা গোলযোগে প্রয়োজন কি?যারা গৌরহরির এই নবপ্রবর্তিত ধর্ম প্রচারের বিশেষ পক্ষপাতি ছিল না,তারা বলতে লাগিল, নিমাই পন্ডিতের জারিজুরি এবার সব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। কাজীর শাসনের কাছে আর এসব চলবে না।যারা এই প্রাণপ্রদ হরিনাম কীর্তনে জীবনের কল‍্যাণ ও মুক্তির পথ কাছাকাছি হবে মনে করেছিলেন, কাজীর অত‍্যাচারে তাঁরা সংকীর্তনে বিরত হয়ে,প্রিণে অশেষ কষ্ট অনুভব করতে লাগলেন।নবদ্বীপে হুলস্থুল পড়ে গেল।কৃষ্ণভক্ত গৌর অনুগত ভক্তগণ মর্মাহত হয়ে কাজীর অত‍্যাচার ও নিজেদের হৃদয় বেদনার কথা গৌরসুন্দরের কাছে নিবেদন করলেন।সংকীর্তনের জন্মদাতা গৌরসুন্দর ইতঃপূর্বেই কাজীর অত‍্যাচারের বিষয় সকলই অবগত হয়েছিলেন।*
*🌹চারিদিক দিয়ে শত শতভক্ত এসে যখন বললেন, আমরা কাজীর অত‍্যাচারে কীর্তন বন্ধ করেছি। এখন নবদ্বীপ পরিত‍্যাগ করে অন‍্যত্র চলে যাই।তখন শ্রীগৌরহরি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তাঁর হৃদয়ে যেন এক বীরবলের সঞ্চার হল। তিনি হুঙ্কার করে বললেন, "নিত‍্যানন্দ"! নবদ্বীপের সব জায়গায় আজ হরিনাম কীর্তন করব,দেখি,কে বাধা দিতে সমর্থ হয়?নগরের মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গদেব ভক্তসঙ্গে হরিসংকীর্তন করতে করতে গমন করবেন, এইকথা নিমেষের মধ্যে চারিদিকে প্রচারিত হয়ে গেল।অনেক পরিবারের লোকেরা এই শুভ সংবাদে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে,নিজের নিজের বাড়ীর বাইরে আম্রশাখা ও জলপূর্ণ কলস সজ্জিত করিল।সন্ধ‍্যা সমাগমের কিছু পূর্বেই দলে দলে লোক এসে, গৌরহরির বাড়ীর প্রাঙ্গণে সমবেত হতে লাগল।কেউ কেউ তাঁকে উপহার দিবার জন্য,পুষ্পের মালা ও নানান খাদ‍্যদ্রব‍্য নিয়ে আগমন করিল।*
*🌺মহাপ্রভু কীর্তনকারীদের দল বিভাগ করে দিলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য,হরিদাস এক এক দলের অগ্রণীরূপে মনোনীত হলেন।স্বয়ং গৌরহরি নিত‍্যানন্দকে পার্শ্বে নিয়ে একটি দলের অধিনায়করূপে কীর্তনকারী দলের পেছন পেছন রইলেন।সূর্য‍্য অস্তমিত হল।আলোর জন্য লোকে শত শত মশাল প্রস্তুত করিল।পতাকা তুলে শত শত মৃদঙ্গ ও করতালের বাদ‍্যধ্বনি সহকারে ভক্তদল বিশ্বজয়ী হরিনাম সংকীর্তন করতে করতে নগর পর্য‍্যটনে বাহির হলেন। শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে বলেছেন=*
*🌷"হরি" বলি ডাকিলেন,গৌরসুন্দর।*
*🌷সকল বৈষ্ণবগণ হইয়া সত্বর।।*
*🌷করিতে লাগিল প্রভু বেড়িয়া কীর্তন।*
*🌷সবার অঙ্গেতে মালা শ্রীফাল্গু চন্দন।।*
*🌷করতাল মন্দিরা সবার শোভে করে।*
*🌷কোটি সিংহ জিনিয়া সবাই শক্তি ধরে।।*
*🌷চতুর্দিকে আপন বিগ্রহ ভক্তগণ।*
*🌷বাহির হইলা প্রভু শ্রীশচীনন্দন।।*
*👥ক্রমশই লোক বৃদ্ধি পেতে লাগিল।এক বিশাল জনস্রোত রাজপথে প্রবাহিত হতে লাগল।গৌরসুন্দর সেই জনতার মধ্যে উর্দ্ধবাহু ও উর্দ্ধনেত্র হয়ে,নৃত‍্য করে ও করতালি দিয়ে করছেন।তাঁর গলদেশে পুষ্পের মালা,প্রশস্ত ললাট চন্দনচর্চিত, আর তাঁর নয়নযুগল হতে বারিধারা বহিতে লাগিল।সে দৃশ্য দেখলে, অতি অভক্তের হৃদয়ও ক্ষণকালের জন্য ভক্তিরসে পূর্ণ হয়ে উঠে।তাঁর প্রেমরসপূর্ণ কন্ঠনিঃসৃত মধুর হরিধ্বনি শ্রবণ করলে,অতি শুকনো কন্ঠ হতেও ভগবানের নাম উচ্চারিত হয়।আজ এই হাজার হাজার লোক তাঁরই অনুপ্রাণনা শক্তিতে অনুপ্রাণিত হয়ে উঠছে।যাদের রসনা কোনদিনই কখনও হরিগুণ কীর্তন করেনি,আজ তাদের রসনা হতেও কীর্তনের ধ্বনি উত্থিত হতে লাগল।যারা কখনও নৃত্য করেনি,তাদের চরণদ্বয়ও আজ আর স্থির থাকতে পারছে না।ভক্তসঙ্গে তারাও নৃত্য করতে লাগিল।ভক্তদল পরিবেষ্টিত হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ নৃত্য ও কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন। আর হাজার হাজার লোক তাঁর মাধুর্য‍্যপূর্ণ মুখমন্ডল দর্শনে অনুগমন করতে লাগিল।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

adds