শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                   *নানা তীর্থ ভ্রমণ*
                 ◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌲এই চন্ডালু পর্বত-পরিবেষ্টিত অরণ‍্যের মধ্যে সুরেশ্বর নামক এক সন্ন‍্যাসী শিষ্যসহ বাস করতেন।এ-স্থান অতি রমণীয়। গিরিগাত্র বহে নির্ঝরিণী কুল কুল রবে বহে যাচ্ছে।অরণ‍্যবাসী সন্ন‍্যাসীগণ এই রমণীয় ভূমি ত‍্যাগ করে অন‍্য কোথাও গমন করতেন না।গ্রামবাসীরা তাপসদের জন্য আহার-সামগ্রী দিয়ে আসিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব এই রমণীয় স্থানে তিনদিন থেকে,সন্ন‍্যাসী সুরেশ্বরকে হরিপ্রেমে মত্ত করে পদ্মকোটে গমন করলেন। পদ্মকোটে অষ্টভূজা ভগবতীর মন্দির আছে।মহাপ্রভু তথায় গমন করে ভক্তিভরে দেবীর অর্চনা করলেন।তাঁকে দর্শন করবার জন্য বহুলোক সেখানে আগমন করলে, তিনি সকলকে সংসার ও মানব-দেহের নশ্বরতা ও আত্মার অমরত্ব বিষয়ে উপদেশ দান করলেন।*
*🍁উপদেশান্তে তিনি হরিধ্বনি করে নৃত্য করতে লাগলেন, তখন চারিদিক যেন প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। "কোন বৈষ্ণব লেখক বলেন", তাঁর মুখ-বিনিঃসৃত হরিনামের প্রভাবে বালক-যুবক প্রভৃতি সকলেই হরিপ্রেমে মত্ত হয়ে উঠিল ; অষ্টভূজা দেবী আনন্দে দুলিতে লাগলেন।বায়ু পদ্মগন্ধ বহন করতে লাগল, আকাশ হতে পুষ্পবৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগল,সকলে পুষ্প নিয়ে খেলা করতে লাগল।যখন শ্রীচৈতন‍্যদেবের ভক্তি-প্রবণতায় পদ্মকোট আলোড়িত হচ্ছে,তখন এক অন্ধজন,তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে,তাঁর চরণে প্রণত হয়ে বলিল,প্রভো!তুমি মানব নহ,ভগবতী স্বয়ং স্বপ্নে আমার কাছে এইকথা প্রকাশ করেছেন।সেই অন্ধজন শ্রীচৈতন‍্যদেবকে মানবের পরিত্রাতা জ্ঞানে স্তবস্তুতি করতে লাগলেন। কথিত আছে=শ্রীচৈতন‍্যদেব করুণাপরবশ হয়ে দুই বাহুপাশে তাকে আলিঙ্গন করলেন।তাঁর অঙ্গস্পর্শে সেই অন্ধজনের চক্ষু দৃষ্টি ফিরে পেলেন, এবং শ্রীমন্মহাপ্রভুর মোহন মূর্তি দর্শনে এমনই বিমোহিত হয়ে পড়ল যে, সে অচৈতন‍্য হয়ে পড়ল।মহাপ্রভুর পরশে চেতনা ফিরলে পুরোপুরি ভাবে অন্ধত্ব দূর হল।*
*👣তার পর শ্রীচৈতন‍্যদেব পদ্মকোট পরিত‍্যাগ করে ত্রিপত্র নগরে গমন করলেন। সেখানে অনেক শৈবধর্মাবলম্বী বসবাস করতেন।শৈবদের গুরু ছিলেন ভর্গদেব একজন বিখ‍্যাত দার্শনিক বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যের ভক্তিভাব দেখে ভর্গদেব বিমোহিত হয়ে তাঁকে ঈশ্বরাবতার বলে মহাপ্রভুর চরণে পতিত হলেন।শ্রীচৈতন‍্য বৃদ্ধ সুপন্ডিত ভর্গদেবের কথা শুনে প্রতিবাদ করে বললেন, " আমি সামান্য মাবন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি তীর্থস্থান দর্শন করবার জন্য বেড়িয়েছি এবং এখানে এসে পৌঁছেছি।তোমরা সকলে হরিগুণ কীর্তন করো,আনন্দে নৃত্য করো,তাহলেই আমার প্রাণ আনন্দে পরিপূর্ণ হবে।শৈব ধর্মাবলম্বী ভর্গদেব ও তাঁর শিষ‍্যবৃন্দ শ্রীচৈতন‍্য প্রদর্শিত ভক্তিমার্গ গ্রহণ করে, হরিগুণ কীর্তনে নিজেদের রসনা যুক্ত করলেন।হরিনামের ধ্বনিতে ও শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে দর্শন করবার জন্য হাজার হাজার লোক তাঁর কাছে আগমন করে তাঁর অমানুষিক ভক্তিভাব দেখে বিমুগ্ধ হয়ে,বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করতে লাগলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব এক সপ্তাহকাল সেখানে থেকে সকলকে হরিপ্রেমে মাতোয়ারা করে সে স্থান পরিত‍্যাগ করলেন।ভর্গদেব তাঁর অনুগত ভক্তের ন‍্যায় তাঁর পেছন পেছন গমন করতে লাগলেন। হাজার হাজার লোকে হরিনামের ধ্বনিতে চারিদিক যেন আলোড়িত করে তুলিল। কিন্তু চৈতন‍্যদেব ভর্গদেবের নিকট হতে বিদায় নিলে, বহু সংখ্যক তরলমতি বালক সেখানে উপস্থিত হল।কেউ বলল,"ভাই, ও ক্ষেপা,এসো আমরা সকলে "হরি হরি বোলে তাঁকে আরও ক্ষেপিয়ে তুলি"।বালকেরা আমোদ করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের পেছনে হরি হরি বলে নৃত্য করতে করতে গমন করতে লাগল।মহাপ্রভুও বালকদের উচ্চ হরিধ্বনির সঙ্গে নিজের কন্ঠ মিশিয়ে হরি হরি বলে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🌷আরম্ভিল ক্ষেপাইতে যত শিশুগণ।*
*🌷সেই সঙ্গে নাচে প্রভু শচীর নন্দন।।*
                              *(গোঃ দাস)*
*🌲শ্রীচৈতন‍্যদেব ত্রিপত্র নগর হতে ঝারিবনে প্রবেশ করলেন।কত পাখী এই নিস্তব্ধ বিজন বনে বৃক্ষের শাখায় বসে মুক্তকন্ঠে গান করছে।ভক্তচূড়ামণি শচীনন্দন গৌরহরি জনকোলাহলশূন‍্য এই অরণ‍্যের মধ‍্য দিয়ে প্রফুল্ল হৃদয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন।এ অরণ‍্যে কেবল গোবিন্দদাসই তাঁর একমাত্র সঙ্গী।গোবিন্দদাস তাঁর কড়চায় লিখেছেন,এ অরণ‍্যের মধ্যে কেবল মাত্র ফল খেয়েই তাঁরা ক্ষুধা নিবৃত্তি করতেন।তিনদিন পরে একদল সন্ন‍্যাসীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হল, শ্রীচৈতন‍্যদেব গোবিন্দকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের সহিত শ্রীরঙ্গধামে গমন করলেন। সেখানে শ্রীরঙ্গনাথ দর্শন ও নৃত্য কীর্তনাদি করলে,বেঙ্কট ভট্ট নামে এক ব্রাহ্মণ তাঁকে নিজ ভবনে নিমন্ত্রণ করলেন।ভট্ট তাঁর ভক্তিভাব দেখে এত প্রীত হলেন যে,তিনি তাঁকে চারমাস কাল নিজ ভবনে বাস করবার জন্য অনুরোধ করেন।মহাপ্রভুও তাঁর অনুরোধ রক্ষা করতঃ চারমাস সেখানে অবস্থিতি করে, গোদাবরীতে স্নান ও নাম কীর্তনাদি করে সময় অতিবাহিত করলেন।মহাপ্রভু যখন বেঙ্কট ভট্টের বাড়ীতে ছিলেন,তখন ভট্টের "গোপাল" নামে একটি অল্পবয়স্ক পুত্র,শ্রীচৈতন‍্যের রূপমাধুরী ও মধুর ব‍্যবহারে তাঁর প্রতি অত‍্যন্ত অনুরাগী হয়ে উঠেছিল।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোপালের ভক্তিভাব ক্রমে বেড়ে যেতে লাগল।তিনি পিতা-মাতার স্বর্গারোহণের পর সংসার পরিত‍্যাগ করে শ্রীচৈতন‍্যদেবের পথ অনুসরণ করে ভক্তসঙ্গে ও হরিগুণ কীর্তনে জীবন অতিবাহিত করেন।ইঁনিই ষড়্ গোস্বামীর একজন গোপালভট্ট গোস্বামী।*
*🌺শ্রীরঙ্গক্ষেত্রে এক ব্রাহ্মণ একটি দেবমন্দিরে বসে অতি নিষ্ঠার সহিত নিত‍্য গীতা পাঠ করতেন। কিন্তু তাঁর পাঠ উচ্চারণ ও ব‍্যাখ‍্যা অশুদ্ধ হত বলে লোকে তাঁকে বিদ্রূপ করত।একদিন মহাপ্রভু তাঁর গীতা পাঠ শোনার জন্য গমন করলেন।গমন করে দেখলেন,ব্রাহ্মণ ভক্তির সহিত গীতা পাঠ করছেন।পাঠ করতে করতে যেন তিনি ভাবসাগরে ডুবে যাচ্ছেন,তাঁর নয়ন হতে বারিধারা বহিছে ; তাঁর শরীর ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়ে উঠছিল।গৌরহরি তা দেখে পাঠক ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি গীতা পাঠের সময় কোথা হতে এত আনন্দ লাভ কর?ব্রাহ্মণ তদুত্তরে বললেন, "আমি যখন গীতা পাঠ করি, তখন দেখি,অর্জুনের রথে নবদূর্বাদল ঘনশ‍্যাম শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং রজ্জু ধরে বসে রয়েছেন, আর অর্জুনকে উপদেশ দান করছেন। আমি যতক্ষণ পাঠ করি, ততক্ষণই সেই মনোহর দৃশ্যই আমার চোখের সামনে প্রকাশিত থাকে।এই জন্য গীতা পাঠ আর ছাড়তে পারি না। শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর কথা শুনে বললেন, সত‍্যই তুমিই গীতা পাঠের যথার্থ অধিকারী, এই বলে তিনি ব্রাহ্মণকে গাঢ় আলিঙ্গন দান করলেন।মহাপ্রভুর আলিঙ্গনে ব্রাহ্মণও পরম ভক্তি লাভ করে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে বললেন,"আমি তোমার মধ্যেও সেই শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করছি🙏।*
*🍀তারপর মহাপ্রভু নানাস্থানে ভ্রমণ করতে করতে পুনানগরে এসে উপস্থিত হলেন এবং ত‍্যসচ্ছর নামে সরোবরের তটস্থ একটি বকুল গাছের তলায় বসিলেন।পুনানগর বহু পন্ডিতের আবাসভূমি।সেখানে নবদ্বীপের মত বহু চতুষ্পাঠীতে বহু ছাত্র অধ‍্যয়ন করিত। গীতা ও ভাগবত শাস্ত্রে অনেকেই সুদক্ষ বলে প্রসিদ্ধি লাভ করতেন।এই জ্ঞানচর্চার জায়গায় তিনি উপস্থিত হলে একজন ব্রহ্মবাদী পন্ডিত এসে তাঁর সঙ্গে শাস্ত্র বিচারে রত হলেন। কিন্তু মহাপ্রভু তাঁকে বিচারে পরাস্ত করলেন।জ্ঞান বিচারে লোককে পরাস্ত করা তাঁর উদ্দেশ্য নহে, ভগবদ্ভক্তির মধুর রসাস্বাদন করানোই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য।তাঁর ভক্তি ভাবের নানান লক্ষণ দেখে ক্রমে বিষ্ণুভক্ত ও অন‍্যান‍্য লোকেরা সমবেত হতে লাগল।মহাপ্রভুর অপূর্ব কৃষ্ণপ্রেমানুরাগ দেখে, কোন লোক জলাশয়ের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল, "তোমার কৃষ্ণ এই জলাশয়ের জলের ভিতর বাস করছেন"।এইকথা বলিবা মাত্র তিনি যেন অস্থির হয়ে পড়লেন এবং সেই কৃষ্ণধন লাভ করবার জন্য জলে ঝাঁপ দিলেন।তৎক্ষণাৎ দর্শকবৃন্দের মধ‍্য হতে বহু ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর উদ্ধারের জন্য সরোবর মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে মহাপ্রভুকে জল থেকে উপরে উঠাল।তাই মহাপ্রভুর সাথী গোবিন্দ দাস বলেছেন=*
*🌷এইবারে মহাপ্রভু শুনি তাঁর বাণী।*
*🌷প্রেমাবেশে জলে ঝাঁপ দিলেন আপনি।।*
*🌷সরোবর মধ্যে পড়ি বহুতর লোক।*
*🌷ডাঙ্গায় প্রভুরে তুলি করে নানা শোক।।*
*🌺যে-ব‍্যক্তি কথায় গৌরহরি জলে ঝম্প প্রদান করেছিলেন, তাকে সকলেই তিরস্কার করতে লিগল। কিন্তু মহাপ্রভু অতি বিনীতভাবে মধুর বচনে বললেন, কেন তোমরা সকলে ঐ ব‍্যক্তিকে ভর্ৎসনা করছ, এমন কোন জায়গা নাই যে, যেখানে কৃষ্ণ বিরাজ করেন না?তিনি যে জলে স্থলে সর্বত্রই বিরাজমান।যে ব‍্যক্তি, কৃষ্ণকে এই পৃথিবীর সব জায়গায় দর্শন করেন,তিনিই যথার্থ ভক্ত। তাই গোবিন্দ দাস তাঁর কড়চায় লিখেছেন=
*🌷যেইজন বলেছিল কৃষ্ণ আছে জলে।*
*🌷সমস্ত পন্ডিত তারে মন্দ কথা বলে।।*
*🌷প্রভু বলে কেন বৃথা ভর্ৎস মহারাজে।*
*🌷জলে স্থলে শূন‍্যে কৃষ্ণ নিয়ত বিরাজে।।*
*🌷আশে পাশে কৃষ্ণ কৃষ্ণ জগময়।*
*🌷যেই দেখিবারে পায় সেই ভক্ত হয়।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব এখানে ভগবানের সর্বব‍্যাপিত্ব সম্বন্ধে কেমন পরিস্কার মতই প্রকাশ করেছেন।তাঁর ইষ্ট দেবতা শ্রীকৃষ্ণ কোন বিশেষ স্থলে বা দেশে আবদ্ধ নহেন। এটিই তিনি প্রকাশ করিলেন।*
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *👌পতিতোদ্ধার👌*
            👌👌👌👌👌👌👌
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু এবারে জিজুরী নগরে গমন করলেন।এখানে খান্ডবা নামে এক দেবতার মন্দির ছিল।এই দেবতার সেবার জন্য অনেক অনূঢ়া (কুমারী নারী) এখানে বাস করত।খান্ডবার সেবা দাসীরা আজীবন চিরকুমারী থেকে খান্ডবার পত্নী বলে পরিচয় দিতেন।এঁরা মুরারী নামে কথিত হত।চির-কৌমার্য‍্য বড় কঠিন ব্রত।এই নারীরা মানব-স্বভাব-দুর্বলতা বশতঃ চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করতে না পেরে অসৎ পথ অবলম্বনে জীবন ধারণ করিত। কিন্তু এদের কলঙ্কিত চরিত্রের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।কোন বিপদসঙ্কুল স্থানে যেতে লোকে স্বভাবতই যেমন ভীত হয়,সচ্চরিত্র ব‍্যক্তিরাও এদের পল্লীতে গমন করতে সেইরকম ভীত হতেন।জিজুরী নগরে অবস্থান কালীন,এই চিরকুমারীদের অপবাদের কথা শুনে শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রাণ কেঁদে উঠিল। তিনি তাদের কাছে যাবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।এমন সুন্দর পবিত্রচেতা যুবকপুরুষ এই নরকতুল‍্য জায়গায় কিভাবে গমন করবেন, এই মনে করে,সকলেই তাঁকে সেখানে যেতে নিষেধ করলেন।যিনি বিশ্ববিজয়ী ভগবানের মধুর নাম কীর্তন করে মানবকে পবিত্রতার পথে পরিচালিত করবার জন্য অবতীর্ণ হয়েছেন,তিনি কি এই বিপথগামিনী নারীদের চরিত্রস্খলনের কথা শুনে স্থির থাকতে পারেন?মহাপ্রভু কারো কথায় কর্ণপাত না করে তাদেরবাসস্থানে উপনীত হলেন।ইতঃপূর্বেই জিজুরী নগরে শ্রীচৈতন‍্যদেবের গভীর নিষ্ঠার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল।তিনি সেখানে উপস্থিত হলে, দেবদাসী মুরারীরা,তাঁকে দর্শন করবার জন্য গমন করল।মলিন পঙ্কিলময় স্থানে যেমন শ্বেত শতদল শোভা পায়,মুরারীদের মধ্যে ভগবদ্ভক্ত,নির্মলচরিত্র শচীকুমার সেইরকম শোভা পেতে লাগলেন।মুরারীগণ এই নবাগত সন্ন‍্যাসীর দেবোপম সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়ে গেল।চৈতন‍্যদেব সকলকে পবিত্র হরিনাম গ্রহণ করে পাপের হাত হতে মুক্তিলাভ করতে বললেন, নামের স্বর্গীয় অনলশিখায় নিজেদের পাপরাশি ভস্ম করতে লাগল।ইন্দিরাবাঈ নামে এক নারী মহাপ্রভুর কথা শুনে করজোড়ে নিজের কলঙ্কিত জীবনের কথা উল্লেখ করে অশ্রুসিক্ত নয়নে কাঁদতে কাঁদতে বলল,প্রভো!আমাকে তোমার পদধূলি দিয়ে উদ্ধার কর।এই বলে ইন্দ্রিরা মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে দিতে নিজ অঙ্গ ধূলায় ধূসরিত করে ফেলল।শ্রীগৌরাঙ্গ বেশ জানতেন,পতিতপাবন ভগবানের নামই পাপীর নবজীবন লাভের একমাত্র উপায়।তিনি তাঁকে সেই পাপতাপহিরী ভগবানের নাম গ্রহণ করতে বললেন।ইন্দিরা অকপট হৃদয়ে,পরম ভক্তিভরে সেই হরিনাম গ্রহণ করে উদ্ধার হয়ে গেল।*
*🙌ইন্দিরার এই অপূর্ব পরিবর্তন দেখে,তার সঙ্গিনীরাও সেই পবিত্র হরিনাম গ্রহণে নিজেদের জীবন সার্থক করতে লাগল।অতি অল্প সময়ের মধ্যে শ্রীচৈতন‍্যদেব মুরারীদের মধ্যে এক অপূর্ব পরিবর্তন আনয়ন করলেন। পরদিন প্রভাতে জিজুরী নগর হতে তিনি "চোরানন্দি" বনে গমনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে,সকলে তাঁকে সেখানে যেতে নিষেধ করিল।তারা বলল, "ঐ বনে এক ভয়ানক দস‍্যু বাস করে,তার নাম নারোজী।তার সঙ্গীরাও ভীষণ প্রকৃতির লোক।পল্লীবাসীরা সকলে নারোজীর ভীষণ চরিত্রের কথা বর্ণনা করে তাঁর মনে আতঙ্কের সঞ্চারকরতে চেষ্টা করল, এবং বলল,সে বনে গমন করলে,তোমার জীবনের আর আশা থাকবে না। কিন্তু করুণাময় পতিতপাবন গৌরহরি সকলের নিষেধ বাক‍্য না শুনে,সেই বিপদসঙ্কুল নিবিড় জঙ্গলে প্রবেশ করে এক বৃক্ষতলে বসিলেন।মহাপ্রভুকে দেখে,অরণ‍্যবাসী নারোজীর দুই একজন করে শিষ্য সমবেত হতে লাগল।ক্রমে দস‍্যুপতি নারোজীর কাছে এই নবাগত সন্ন‍্যাসীর আগমনবার্তা সংবাদ উপস্থিত হল।দস‍্যুপতি নারোজী তার রাজ‍্যমধ‍্যে সন্ন‍্যাসীর আগমনবার্তা শুনে, কৌতূহলপরবশ হয়ে তাঁকে দেখবার জন্য সেখানে আগমন করল।নারোজী সেখানে আসিলে,তার অনুচরেরাও ক্রমে ক্রমে সকলে তথায় এসে সমবেত হল।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নিজভাবে বিভোর হয়ে হরিগুণ কীর্তনে রত রয়েছেন।দস‍্যুদলপতি তাঁর এইরকম ভাব দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের বাসভবনে যাবার জন্য অনুরোধ করল।মহাপ্রভু তার কথায় স্বীকৃত না হয়ে বললেন, বৃক্ষতলই আমার বিশ্রামের উপযুক্ত স্থান।তখন নিরোজীর আদেশে তার সঙ্গীসাথীরা শ্রীচৈতন‍্যের কাছে নানান খাদ‍্যদ্রব‍্য আনয়ন করিল।মহাপ্রভুর সামনে খাদ‍্যদ্রব‍্য রাখল বটে,কিন্তু সেইদিকে দৃষ্টিপাত করলেন না।হরি-প্রেম-সুধা পান করে তিনি ক্ষুধা তৃষ্ণা বিস্মৃত হয়ে রয়েছেন।বনজাত নানাপ্রকার ফলমূল ও বিবিধ খাদ‍্যদ্রব‍্য তাঁর সামনে সজ্জিত করা হলে,তিনি নৃত্য করতে আরম্ভ করলেন।নৃত‍্য করতে করতে পদাঘাতে খাদ‍্যসামগ্রী চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।নারোজী দাঁড়িয়ে সবই দেখছে, আর ধীরে ধীরে তার হৃদয়ের অন্তস্থলে অতীত পাপের স্মৃতি উদিত হয়ে,অনুতাপানলে তার হৃদয় দগ্ধ করে দিচ্ছে।সেকি আর স্থির থাকতে পারে?দস‍্যুপতি কাঁদতে কাঁদতে শ্রীচৈতন‍্যদেবের চরণ ধরে বলল,প্রভো! আমার বয়স হয়েছে,এজীবনে অনেক পাপ করেছি, এ হাতে অনেক নিরপরাধী লোকের জীবন নাশ করেছি,আজ অন্তর্দাহে হৃদয় জ্বলে যাচ্ছে, আমায় উদ্ধার কর। আমি তোমার সঙ্গে যিব এবং দাসের ন‍্যায় তোমার সেবা করব।কাতর প্রাণে এইসব কথা বলে নারোজী কৌপীন পরে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের অনুগামী হল। এই দৃশ্য দেখে নারোজীর অন‍্যান‍্য সাথীরা কে কোথায় চলে গেল। শ্রীগৌরাঙ্গের প্রভিবে চোরানন্দ বন দস‍্যু নারোজী শূন‍্য হয়ে পড়ল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
            *👥পতিতোদ্ধার👥*
          ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*গৌরসুন্দর নারোজীকে উদ্ধার করে খান্ডলা গমন করলেন।গোবিন্দ দাস তো তাঁর সঙ্গের সঙ্গী ; নারোজীও মহাপ্রভুর সেবা করবার জন্য সঙ্গে চলিল।তাঁরা সেখানে গমন করলে বহু লোক এসে তাঁদের কাছে সমবেত হল, এবং চৈতন‍্যদেবের ভক্তির উচ্ছ্বাস দেখে বিমুগ্ধ হয়ে,সকলেই তাকে আপন ভবনে নিয়ে যাবার জন্য অনুরোধ করল।কেউ বলল,আমি তাঁকে আগে দেখেছি,তিনি আমার গৃহে যাবেন, কেউ বলল,আমি ভিক্ষা নিয়ে এসেছি, আমি তাঁকে নিয়ে যাব।এইভাবে পরস্পরের মধ্যে বিবাদ বেধে গেল।মহাপ্রভু কারো ভবনে গমন করলেন না। ভিক্ষালব্ধ দ্রব‍্যাদিতে তাঁরা দিন কাটালেন ; তিনি প্রেমে বিভোর হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে যখন হরিনাম কীর্তন করতে লাগলেন,তাঁর সেই অশ্রুধারা যখন বক্ষস্থল বহে প্রবাহিত হতে লাগল,তখন নারোজী যে হাতে পূর্বে পথিকের অর্থ লুন্ঠন করে তার জীবন বিনাশ করেছে,আজ সেই হাতে ভক্ত চূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যের নয়নের অশ্রুধারা মুছাতে লাগল।নিশি অবসানে মহাপ্রভু নাসিক নগরে গমন করলেন। কথিত আছে,এখানে লক্ষ্মণ সূর্পনখার নাসিকা ছেদন করেছিলেন।নাসিক হয়ে তিনি পঞ্চবটি বনে গমন করলেন। এই রামায়ণোল্লিখিত বনে প্রবেশ করে তিনি চোখ বন্ধ করে বসিলেন।গোবিন্দ দস বলেন,তাঁর প্রশান্ত মুখমন্ডল হতে যেন এক অপূর্ব জ‍্যোতিঃ বাহির হতে লাগল। তদ্দর্শনে আমি বিমুগ্ধ হয়ে সে মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।এদিকে নারোজী ফলমূল নিয়ে উপস্থিত হল।মহাপ্রভু অগ্রে কিছু আহার করলেন,গোবিন্দ ও নারোজী প্রসাদ লাভ করলেন।রজনী প্রভাতে গৌরসুন্দর পঞ্চবটী বন ত‍্যাগ করে দমননগর হয়ে সুরথ রাজার রাজ‍্যে গমন করে অষ্টভূজা দেবী দর্শন করলেন।*
*🍁দেবীর মন্দিরে এক সন্ন‍্যাসী বসবাস করতেন।সন্ন‍্যাসী শ্রীচৈতন‍্যের ভাব দেখে বললেন,আমি তোমার মত সাধুপুরুষ জীবনে আর কখনও দেখিনি।তুমি বলো,আমি কিভাবে ভগবানকে লাভ করব ও এই ভব-সাগর উত্তীর্ণ হব।শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে তত্ত্বজ্ঞানের উপদেশ বলছেন,এমন সময় এক ব্রাহ্মণ দেবীর কাছে "বলি" দিবার জন্য একটা ছাগ নিয়ে উপস্থিত হল।মহাপ্রভু তাকে ছাগবলির বিরুদ্ধে নানান যুক্তি দিয়ে নিরীহ ছাগের জীবন রক্ষা করলেন। ব্রাহ্মণ,জীবের প্রতি মহাপ্রভুর দয়ার কথা শুনে,বলিদানে নিবৃত্ত হল।*
*🍀তৎপর তিনি তাপ্তী ও নর্মদা তীরস্থ দেবমন্দিরগুলি দর্শন করে বরদা নগরে গমন করলেন।এখানে নারোজী ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়ল।পতিতপাবন গৌরহরি দয়ার অবতারস্বরূপ নারোজীর গায়ে স্নেহভরে হাত বুলাতে লাগলেন। তার জীবনের গণা দিন ফুরিয়ে আসিল। তিনদিন পরে মহাপ্রভুর মুখের দিকে তাকিয়ে হরিনাম করতে করতে চিরদিনের জন্য চক্ষু নিমীলিত করল=*
*🌷নারোজী মরণকালে জোড় হাত করি।*
*🌷তাকায়ে প্রভুর দিকে বলে হরি হরি।।*
*🍀যাঁর দেবোপম জীবনের প্রভাবে নারোজী,বহুদিনের পাপ ও অধর্মের পথ পরিত‍্যাগ করে ভগবানের পবিত্র নাম গ্রহণ করেছিল, তিনি তার মৃতদেহ কোলে ধারণ করলেন, এবং তারপরে তাকে সমাধিস্থ করে হরিনম কীর্তন করতে লাগলেন।*
*🌲সেখান হতে অন‍্যান‍্য স্থান ভ্রমণ করে দ্বারকাভিমুখে যাত্রা করলেন।যেতে যেতে তিনি যোগা নামক একটি গন্ড গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন।এখানে এসে তিনি একটি বৃক্ষতলে বসিলে, তিনি ভাবে উন্মত্তপ্রায় হয়ে হরিনাম কীর্তন করতে লাগলেন।সামান‍্য সময়ের মধ্যে তাঁর প্রেমোন্মত্ততার কথা চারিদিকে প্রচারিত হল।গ্রামবাসীদের আগমনে সেস্থান পরিপূর্ণ হয়ে গেল। বালাজী নামক একজন লোক চৈতন‍্যদেবের ভক্তির ভাব দেখে তাঁকে কপট বলে তিরস্কার করতে লাগল, এবং তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে অবশেষে তাঁকে প্রহার করতে উদ‍্যত হল।তখন উপস্থিত দর্শকগণ এই পাষন্ডকে চরমভাবে তিরস্কার করে তার এরকম দুর্ব‍্যবহার হতে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করল। কিন্তু প্রেমাবতার শ্রীচৈতন‍্যদেব সকলকে সম্বোধন করে বললেন,ভাই!হরিনাম বিহনে এর অন্তর শুকিয়ে গিয়েছে।তোমরা সেই নামরসে এর প্রাণ শীতল করতে যত্নবান হও।*
*এইকথা বলে তিনি ঐ লোকটির কাছে গিয়ে তাকে মহামন্ত্র হরিনাম করতে বললেন।আগুনে জল দিলে যেমন আগুন নিভে যায়, হরিনামের প্রভিবে বালাজীর দুষ্ট প্রবৃত্তি সব নিমেষে প্রশমিত হয়ে গেল।তখন বালাজী মহাপ্রভুর চরণে প্রণত হল।হরিনামে বালাজী নবজীবন লাভ করল।*
*সেখানকার এক পল্লীতে বারামুখী নামে এক কুলটা নারী বাস করত।বারামুখী পরমাসুন্দরী নারী।তার রূপে মুগ্ধ হয়ে অনেক ধনী ব‍্যক্তি তার বাড়ীতে গমন করে নিজেদের অপবিত্র বাসনা পরিতৃপ্ত করত।বারামুখী যেমন রূপবতী তেমনি ঐশ্বর্য‍্যশালিনী ছিল।সে এক রমণীয় বাড়িতে বাস করত, এবং অনেক দাসদাসী সর্বদা তার পরিচর্যায় রত থাকত।যে বৃক্ষতলে বসে মহাপ্রভু হরিনাম কীর্তনে রত ছিলেন,তারই কিছু দূরে বারামুখীর বাড়ী।সে আপন ভবনের জানালা হতে দেখল,এক পরম যুবাপুরুষ বৃক্ষতলে হরিনাম কীর্তন করছে।বারামুখী শুনেছিল, বহু লোকের মধ্যে বালাজী এই সাধুপুরুষের প্রতি অতি অভদ্র ও অন‍্যায় ব‍্যবহার করেছিল, অথচ ইনি কিছু মাত্র বিরক্তির ভাব প্রকাশ না করে,তার কানে কি এক মন্ত্র প্রদান করলেন,যাঁর গুণে সে নিমেষের মধ্যে চরম পরিবর্তন দেখা গেল। এ সকল ঘটনায় বিলাসিনী,বিপথগামিনী বারামুখীর কাছে কে যেন স্বর্গের দ্বার উদঘাটিত করে দিল।সে নিজ জীবনের পাপের কালিমা ধৌত করবার জন্য পাপের দুর্গন্ধময় স্থান পরিত‍্যাগ করে স্বর্গের পারিজাতের সুগন্ধে প্রাণকে আমোদিত করবার উদ্দেশ্যে ব‍্যাকুল হৃদয়ে নিজ ভবন হতে বাহির হয়ে পড়ল ; এবং বহুজনাকীর্ণ লোকের মধ্যে গমন করে,শ্রীচৈতন‍্যদেবের কাছে এসে বলল,তুমিই হরি,তুমিই কৃষ্ণ, আমি অধম পাতকী, আমায় পরিত্রাণ কর। শ্রীচৈতন‍্য তাকে বললেন, তুমি এই জায়গায় তুলসীর কানন করে, হরিনাম জপে ও সে নাম কীর্তনে জীবন অতিবাহিত কর।বারবিলাসিনী বারামুখী সকলে সামনে তার বড় বড় কেশ কেটে ফেলল, এবং অঙ্গের সমস্ত আভরণ ও সুন্দর পরিধেয় বস্ত্র পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসিনীর বেশ ধারণ করল।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৪)🌻শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *👥পতিতোদ্ধার👥*
            ^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*
*🍀সন্ন‍্যাসিনীর বেশ ধারণ করল। মিরাবাঈ নামে তার এক দাসী ছিল।বারামুখী সকলের সামনে তাকে নিজের সমস্ত সম্পত্তি দান করে দিল ও তাকে ধর্মে মতি রাখবার কথা বলল। বারামুখী হরিপ্রেমানুরাগিনী হয়ে সন্ন‍্যাসিনীর মত জীবন অতিবাহিত করতে লাগল।*
*🍁গোবিন্দ দাসের কড়চায় মিরার প্রতি নবকৃষ্ণপ্রেমানুরাগিনী বারামুখী উপদেশটি এরকম ভাবে বর্ণিত হয়েছে।*
*🌷কান দিয়া শুন মিরা আমার বচন।*
*🌷তোমারে দিলাম মোর যত আছে ধন।*
*🌷ভালরূপ সেবা কোরো অতিথি আইলে।*
*🌷হরিনামে মন দিও বসিয়া বিরলে।।*
*🌷না করিবে পাপ কর্ম মোর দিব‍্য লাগে।*
*🌷ভজিবে শ্রীরাধাকৃষ্ণ প্রেম অনুরাগে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভুর কৃপায় মোর কেটেছে বন্ধন।*
*🌷আজ হইতে বাসস্থান তুলসী কানন।।*
*🌷এত বলি বারামুখী লয়ে জপমালা।*
*🌷তুলসী কানন করে ভুলি সব জ্বালা।।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যের অপূর্ব শক্তির পরিচয় আজ এখানে প্রকাশিত হয়েছে।মহাপাপীর উদ্ধার সাধনে গৌরহরি যেন যাদুকরের মত কাজ করে গিয়েছেন। মহাপ্রভু বারামুখীকে উদ্ধার করে সোমনাথে যাত্রা করলেন।সেখানে গমন করে,মন্দিরের ভগ্নাবশেষ দেখে ব‍্যথিত হৃদয়ে বলতে লাগলেন, হায়! মুসলমানেরা কি সর্বনাশই করেছে! (সেই সময় মুসলমান রাজত্ব ছিল)সোমনাথের উদ্দেশ্যে তিনি ব‍্যাকুল ও অশ্রুপূর্ণ লোচনে বলতে লাগলেন, দেব!তোমার অদর্শনে আমার প্রাণ যে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে, কোথায় লুকিয়ে আছ একবার এসো,তোমাকে দেখে হৃদয় শীতল করি।ভারতের এই প্রসিদ্ধ স্থান হতে শ্রীচৈতন‍্যদেব জুনাগড়,গৃনার পর্বত,ঝারিখন্ড প্রভৃতি স্থান দর্শন করে দ্বারকায় গমন করলেন।শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র দ্বারকানগরীতে গমন করে,তাঁর ভাবসিন্ধু যেন উথলিয়ে উঠতে লাগল, তিনি তথায় মন্দির প্রদক্ষিণ করে যখন প্রেমভরে মধুর হরিনাম কীর্তন করতে লাগলেন, তখন দ্বারকাবাসীরা তাঁকে কোন একজন সর্বত‍্যাগী সন্ন‍্যাসী বলে মনে করেননি,তাঁকে ভগবানের অবতার বলে বিশ্বাস করেছিল। তিনি এক সপ্তাহকাল এই প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্রে থেকে, হরিপ্রেমরসে সকলের চিত্ত অভিষিক্ত করে নীলাচলাভিমুখে যাত্রা করলেন।পথে দর্শনীয় দুই-একটি স্থান দর্শন করে তিনি পুনরায় বিদ‍্যানগরে এসে উপস্থিত হলেন।দক্ষিণ যাত্রার প্রারম্ভে যাঁর সঙ্গে ভক্তিতত্ত্ব প্রসঙ্গে সপ্তাহকালের বেশী সময় কাটিয়েছিলেন,সেই রাজা রামানন্দ রায় মহাপ্রভুর আগমনবার্তা শুনে তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন, এবং ভক্তিভরে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণে প্রণিপাত করলেন।মহাপ্রভু প্রেমভরে তাঁকে প্রেমালিঙ্গন দান করে বললেন, রায়! আমার সঙ্গে চলো, উভয়ে নীলাদ্রিনাথকে দর্শন করি।রায় রামানন্দ কয়েকদিন পরে যেতে স্বীকৃত হলেন। মহাপ্রভু পরদিন গোবিন্দের সঙ্গে যাত্রা করে ক্রমে আলালনাথে এসে উপস্থিত হলেন, এবং নীলাচলে ভক্তদেরকে পৌঁছানোর সমাচার পাঠালেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
             *নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
             <><><><><><><><><>
*🍀আলালনাথে মহাপ্রভুর আগমনবার্তা শুনে,ভক্তগণ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন।নিত‍্যানন্দ,জগদানন্দ,দামোদর পন্ডিত, গোপীনাথ প্রভৃতি ভক্তগণ তাঁকে আনবার জন্য মহোল্লাসে আলালনাথের দিকে ধাবিত হলেন।ভক্তগণসহ তিনি যখন পুরুষোত্তমের সাগরতটে উপনীত হলেন,তখন সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য সমুদ্র উপকুলে উপনীত হয়ে ভক্তিভরে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।গৌরহরি ভক্তগণসহ শ্রীজগন্নাথ দর্শনে গমন করে সেখানে ক্ষণকাল নৃত্য কীর্তনাদিতে সময় অতিবাহিত করলে, সার্বভৌম তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আপন ভবনে গমন করলেন। গৌরসুন্দর সার্বভৌম গৃহে গমন করলে, ভক্তগণ বহুদিন পরে গৌরচন্দ্রের দর্শন অভিলাষী হয়ে ভট্টাচার্য্য ভবনে আগমন করলেন, গৌরহরি সেই রাত্রি ভক্তদেরকে নিয়ে তীর্থভ্রমণ প্রসঙ্গে অতিবাহিত করলেন।*
*🍁যখন শ্রীচৈতন‍্যদেব নীলাদ্রি ছেড়ে দক্ষিণদেশ ভ্রমণে বাহির হয়েছিলেন, তখন একদিন উৎকলের রাজা প্রতাপরুদ্র সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে ডেকে বললেন,শুনেছি, গৌড়দেশ হতে এক অলোকসামান‍্য (অলৌকিক) মহাপুরুষ নীলাচলে আগমন করে তোমাকে ভক্তিপথে আনয়ন করেছেন, আমি সেই ভক্তচূড়ামণিকে একবার দর্শন করতে ইচ্ছা করি।রাজার গৌরসুন্দরের দর্শন অভিলাষের কথা শুনে,ভট্টাচার্য‍্য মহাশয় বললেন, "তিনি বিরক্ত সন্ন‍্যাসী,তিনি রাজদর্শনে কখনই সম্মতি দান করবেন না, বিশেষ করে তিনি এক্ষণে তীর্থ দর্শন মানসে দক্ষিণদেশে গমন করেছেন"।উৎকলাধিপতি গৌরচাঁদের দক্ষিণদেশ তীর্থ ভ্রমণের কথা শুনে সার্বভৌমকে বললেন, "পুরুষোত্তমের মত তীর্থে আগমন করে তিনি আবার কেন অন‍্যত্র তীর্থ দর্শনে বাহির হলেন?রাজার এই কথায় তিনি বললেন, মহাপুরুষদের লীলাই এইরকম।তবে মহাপ্রভুর উদ্দেশ্য, তীর্থস্থান সব পবিত্র ও পাতকী উদ্ধার করা।তিনি জীব উদ্ধারের জন্যই অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রতাপরুদ্র সার্বভৌমের নিকট হতে মহাপ্রভুর পাতকী তারণের কথা শুনে বললেন, "তুমি তাঁকে কেন এখান হতে অন‍্যত্র যেতে দিলে? তাঁর চরণ ধরে কেন তাঁকে এখানে রাখতে যত্ন করলে না? সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বললেন, আমার পূর্ণ বিশেষ,তিনি তো মানব নন, তিনি শ্রীকৃষ্ণের অবতার।তবে তিনি তীর্থ দর্শন করে পুনরায় এই স্থানেই প্রত‍্যাগমন করবেন।রাজা তাঁর আগমনের কথা শুনে প্রফুল্ল হৃদয়ে বললেন,আমি যেন অন্তত একবার তাঁর দর্শন করে জীবন সফল করতে পারি। তখন সার্বভৌম বললেন, তিনি এখানে প্রত‍্যাগমন করলে তাঁর থাকবার জন্য একটি স্বতন্ত্র নির্জন বাসস্থান দেওয়া আবশ্যক।রাজা মহাপ্রভুর নির্জন বাসস্থানের কথা শুনে ভট্টাচার্য্য মহাশয়কে কাশীমিশ্রের ভবনে একটি নির্জন ঘরে রাখবার জন্য বললেন।কারণ কাশীমিশ্রের বিশাল গৃহ আছে, লোক সংখ‍্যাও তেমন বাস করে না, চিন্তা করে এটিই নির্জন স্থান মনোনীত করলেন। ভট্টাচার্য্য রাজাদেশে এই প্রস্তাব নিয়ে কাশীমিশ্রের ভবনে উপস্থিত হলে,কাশীমিশ্র আনন্দ সহকারে বললেন, মহাপ্রভু আমার বাড়ীতে পদার্পণ করবেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য।*
*🌺ইতঃমধ‍্যে মহাপ্রভু সার্বভৌমের সঙ্গে একদিন শ্রীজগন্নাথ দর্শন করার জন্য গমন করেন।মন্দিরে অন‍্যান‍্য ভক্তগণ মিলিত হলে, মহাপ্রভু সকলকে প্রেমালিঙ্গন দান করলেন। শ্রীজগন্নাথ দর্শনান্তে সার্বভৌম গৌরহরিকে কাশীমিশ্রের ভবনে নিয়ে আসিলেন।আগে থেকে সেখানে তাঁর একটি নির্জন ঘর নির্দিষ্ট ছিল।সাধনোপযোগী এই ঘর দেখে মহাপ্রভু বড়ই প্রীতিলাভ করলেন। এখানে আগমন করলে, গৃহস্বামী মিশ্র মহাশয় ভক্তিভরে তাঁর চরণে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।অলিকুলের ন‍্যায় ভক্তগণ এসে কাশীমিশ্রের ভবন পূর্ণ করতে লাগলেন।ভক্তগণ তাঁর সঙ্গে প্রেমালাপনে পরম আপ‍্যায়িত হতে লাগলেন। চন্দ্রমা যেমন তারকাবেষ্টিত হয়ে শোভা পায়,গৌরচাঁদ সেইরকম ভক্তগণ সঙ্গে বসে রয়েছেন, এমন সময়ে রায় রামানন্দের পিতা ভবানন্দ রায়,তাঁর চারপুত্রকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন, এবং পুত্রগণসহ মহাপ্রভুর চরণে প্রণাম করলেন। মহাপ্রভু ভবানন্দকে আলিঙ্গন করে বললেন, "রামানন্দের মত পুত্ররত্ন তুমি লাভ করেছ, তুমি সাক্ষাৎ পান্ডু সদৃশ, এবং তোমার পত্নী কুন্তী সদৃশা, তোমার পঞ্চপুত্রও পঞ্চ পান্ডবের মত।ভবানন্দ গৌরহরির কথা শুনে বললেন, প্রভো!আমি বিষয়ী অধম, আমি আমার বিত্ত ও পঞ্চপুত্র তোমারই চরণে সমার্পণ করলাম।ভবানন্দ তারপর তাঁর পুত্রদের মধ্যে বাণীনাথকে তাঁর সেবার জন্য নিয়োগ করে বললেন, আমার এই পুত্র বাণীনাথ তোমার পরিচর্য‍্যার জন্য তোমার কাছে রইল,তোমার সেবার জন্য যখন যেরকম ইচ্ছা হবে অসঙ্কোচে একে তাইই আদেশ করবে।*
*মহাপ্রভুভবানন্দের কথা শুনে বললেন, "তুমি আমার আত্মীয়ের মত,তোমার কাছে আমার আবার সঙ্কোচ কি?আর কয়েকদিন পরে রামানন্দকে এখানে আনিব।এইসব স্নেহপূর্ণ কথা বলে তিনি ভবানন্দকে আলিঙ্গন করলে,ভবানন্দ বিদায় গ্রহণ করলেন।ভবানন্দ বাণীনাথকে তাঁর সেবার জন্য কাছে রেখে গেলেন।*
*👣মহাপ্রভুর ফিরে আসার কথা গৌড়দেশে লোক দেওয়া হল।শোকাতুরা শচীমা পুত্র দক্ষিণদেশ ভ্রমণের পর নীলাচলে আগমন করেছেন শুনে উতপ্ত হৃদয়ে খানিকটি শান্তি লাভ করলেন।প্রেরিত জন নবদ্বীপের বৈষ্ণবাগ্রগণ‍্য অদ্বৈতচার্য‍্যের ভবনে গমন করে এই শুভ সংবাদ দিলেন।সেখান থেকে এই বার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।শ্রীচৈতন‍্যের নীলাচলে ফিরে এসেছেন তার জন্য অদ্বৈত-ভবনে তিনদিন ধরে মহোৎসব হল।শ্রীবাসাদি ভক্তদের আনন্দের আর সীমা রইল না।ভক্তগণ অদ্বৈত-ভবনে সমবেত হয়ে নীলাচলে যাবার যুক্তি করতে লাগলেন।তাঁরা সকলেই নীলাচলে যাবার মনস্থ করে শচীদেবীর কাছে গমন করে তাঁর অনুমতি গ্রহণ করলেন।খুলীনগ্রাম হতে সত‍্যরাজ, রামানন্দ,মুকুন্দ,নরহরি,রঘুনন্দন নীলাচলে যাবার জন্য অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে আগমন করলেন।সেই সময় পরমানন্দপুরী নীলাচল যাবার মানসে নবদ্বীপধামে এসে শচীমায়ের গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করেন।শচীমা তাঁকে পরমাদরে আপন ঘরে বসিয়ে স্বহস্তে রন্ধনাদি করে ভোজন করালেন। পরমানন্দপুরী ভক্তগণের নীলাচল গমনের পূর্বেই সেখানে গমন করে,শ্রীচৈতন‍্যের নিকট উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভুও তাঁকে পেয়ে আনন্দ সহকারে আপন বাসগৃহের কাছে একটি নির্জন কক্ষে থাকবার ব‍্যবস্থা করে দিলেন।পরমানন্দপুরী নীলাচল গমনের কয়েকদিন পরে স্বরূপদামোদর নীলাচলে মহাপ্রভুর নিকট আগমন করলেন।ইঁনার পূর্বের নাম পুরুষোত্তম আচার্য‍্য।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺যখন মহাপ্রভু সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেন, তখন ইনিও সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করবার পর শিখা সূত্র পরিত‍্যাগ করতঃ বারাণসী ধামে গমন করেন, এবং সেখানে বেদ বেদান্ত প্রভৃতি অধ‍্যয়ন করে,শাস্ত্রাদিতে বিশেষ ব‍্যুৎপত্তি লাভ করেন।ইনি যেমন সুপন্ডিত তেমনি আবার সুগায়ক ছিলেন।স্বরূপ দামোদর,বিদ‍্যাপতি, চন্ডীদাস,গীতগোবিন্দ প্রভৃতি রসোদ্দীপক গ্রন্থ সকল পাঠ করে শ্রীচৈতন‍্যদেবকে শুনাতেন।স্বরূপ দামোদর সঙ্গীতে গন্ধর্ব ও বিদ‍্যাতে বৃহস্পতির ন‍্যায় ছিলেন। শ্রীচৈতন‍্য দামোদরকে পেয়ে পরম প্রীতি লাভ করলেন,এবং তাঁকে আলিঙ্গন করে বললেন, "আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম তুমি আজ এখানে এসেছ,যা দেখেছিলাম, তাইই আজ ফলিল।অন্ধ দুই চক্ষু ফিরে পেলে যেমন আনন্দ অনুভব করে,আজ তোমাকে দেখে আমার তেমনি আনন্দ হচ্ছে।তারপর স্বরূপ নিত‍্যানন্দ পরমানন্দপুরী প্রভৃতির চরণ বন্দনা করলে,তাঁরাও প্রেমভরে তাঁকে আলিঙ্গন দান করলেন।*
*🌹একদিন মহাপ্রভু ভক্তদের সঙ্গে বসে ধর্মপ্রসঙ্গে সময় অতিবাহিত করছেন,এমন সময়ে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর ভৃত‍্য বা শিষ্য এসে তাঁর চরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে বললেন,পুরীগোঁসাই আমাকে আপনার সেবার জন্য পাঠিয়েছেন।আমার নাম গোবিন্দ।সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন, "পুরীগোঁসাই শূদ্র ভৃত‍্য কিরূপে রাখেন?" গৌরহরি বললেন, "ভগবৎ-কৃপা যিনি লাভ করেছেন,তাঁর কাছে জাতিকুলাদির কোন বিচার থাকে না "।পুরীগোঁসাই শ্রীচৈতন‍্যদেবের গুরুদেব ; তিনি গুরুদেবের ভৃত‍্যকে কিভাবে নিজের পরিচর্য‍্যায় নিযুক্ত করবেন, চৈতন‍্যদেব ভট্টাচার্য্যকে এ বিষয় বিচার করবার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন। ভট্টাচার্য্য বললেন, "গুরুদেবের আদেশ শিরোধার্য‍্য "।তখন মহাপ্রভু গোবিন্দকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করে,তাঁর সেবা করবার অনুমতি দান করলেন।*
*ইতিমধ‍্যে একদিন মুকুন্দ দত্ত বললেন,প্রভো!ব্রহ্মানন্দ ভারতী আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার জন্য আগমন করেছেন। ব্রহ্মানন্দ ভারতী মৃগচর্ম পরিধান করেছিলেন।মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসীর এরকম বেশ দেখে দুঃখিত হলেন। তিনি যেন ভারতীকে দেখেও দেখেন নাই ; গৌরহরি মুকুন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন, "কৈ ব্রহ্মানন্দ ভারতী কোথায়?মুকুন্দ বললেন, ভারতী গোঁসাই তো এই আপনার কাছেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন।শ্রীচৈতন‍্যের এরকম কথা শুনে ভারতী বুঝলেন,চর্মাম্বর পরিধানের জন্যই মহাপ্রভু বিরক্ত হয়েছেন। তিনি তৎক্ষণাৎ পরিধেয় বস্ত্র পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসীর পরিধেয় বহির্বাস পরিধান করলেন।তখন গৌরসুন্দর তাঁর চরণ বন্দনা করলে,ভারতীগোঁসাই তাঁর ভূয়সী গুণানুবাদ করে বললেন, "এই পুরুষোত্তমে দুই ব্রহ্ম প্রকাশিত হয়েছেন, শ্রীজগন্নাথ অচল, আর তুমি সচল ব্রহ্ম।*
*মহিপ্রভুর আগমনবার্তা পুরুষোত্তের সব জায়গায় প্রচারিত হয়ে পড়েছিল।উৎকলাধিপতি রাজা প্রতাপরুদ্র তাঁর শুভাগমনবার্তা শুনে,শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রের শ্রীমুখচন্দ্র দর্শন অভিলাষে ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।সার্বভৌম-ভট্টাচার্য‍্য গোরাচাঁদের নিকট গমন করে বিনীত ভাবে বললেন,প্রভো!রাজা প্রতাপরুদ্র আপনার দর্শন লালসায় ব‍্যাকুল হয়ে আমাকে আপনার কাছে তদ্বিষয় জ্ঞাপনার্থ আদেশ করেছেন। সার্বভৌমের কাছ হতে এইকথা শুনে মহাপ্রভু কানে আঙ্গুল দিয়ে বললেন, সার্বভৌম!আমি সন্ন‍্যাসী,নারীদর্শন আর রাজদর্শন আমি উভয়ই সমান মনে করি ; তুমি আর কখনও এরকম প্রার্থনা আমাকে জানাবে না। আর যদি কখনও এরকম কর, তাহলে আমি আর নীলাচল পরিত‍্যাগ করে চলে যাব,তোমরা আর আমার দেখা পাবে না। সার্বভৌম ভাবলেন, যাঁর প্রেমানন দর্শনে শোক দুঃখ সব দূরে যায়, শুষ্ক হৃদয়ে ভগবদ্ভক্তির ঢেউ উথলিত হয়,যে প্রার্থনায় তাঁহা হতে বঞ্চিত হতে হবে,সেরকম প্রার্থনা মুখে আর কখনও আনিব না।নিরাশ হৃদয়ে তিনি রাজার কাছে উপস্থিত হয়ে মহাপ্রভুর রাজদর্শনের আপত্তির কথা জ্ঞাপন করলেন। কথা শুনে রাজা অতিশয় ক্ষুণ্ণ হলেন।এমন সাক্ষাৎ দেবদর্শনে তিনি বঞ্চিত থাকবেন?যাঁর দর্শনে হাজার হাজার নরনারী নবজীবন লাভ করছে,তিনিই কেবল সে দর্শনের অনধিকারী হয়ে,জীবন ধারণ করবেন?এইসব চিন্তা করে অত‍্যন্ত দুঃখিত মনে বললেন, "তিনি পাপীর পরিত্রাণের জন্য ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন ; তিনি চরম দুরন্ত জগাই-মাধাইকে মুক্তির পথ দেখিয়ে উদ্ধার করলেন, কেবল প্রতাপরুদ্রকে করুণা হতে বঞ্চিত রাখবেন এই প্রতিজ্ঞা করেই কি তিনি অবতার হয়েছেন? মহাপ্রভুর যদি এই পণ হয়, যে তিনি রাজদর্শন করবেন না, আমারও প্রতিজ্ঞা এই, তাঁর দর্শন না পেলে আমিও এই পাপজীবন রাখব না প্রাণ বিসর্জন করব।যদি এ জীবনে তাঁর দর্শনই না পেলাম,তাহলে এ রাজ‍্যেরই বা আমার কি প্রয়োজন? সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শ্রীচৈতন‍্যের প্রতি রিজার ঐকান্তিক অনুরাগ দেখে বিস্মিত হয়ে বললেন, "আপনি একেবারে তাঁর দর্শন লাভে বঞ্চিত হবেন মনে করবেন না, তিনি করুণাময়, নিশ্চয়ই তিনি আপনার দর্শন-লালসা পূর্ণ করবেন। তবে আপনি এক কাজ করুন, রথযাত্রার সময় কাছিয়ে আসছে,এ সময় মহাপ্রভু ভক্তগণ সঙ্গে প্রেমোল্লাসে মত্ত হয়ে কীর্তনকারীদের দলের অগ্রবর্তী হয়ে নৃত্য করতে করতে অবশেষে পুষ্পোদ‍্যানে প্রবেশ করবেন, আপনি সে সময় রাজবেশ পরিত‍্যাগ করে দীনবেশধারী হয়ে ভাগবতের শ্লোক উচ্চারণ করতে করতে তাঁর শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়বেন। প্রভু এ সময় হরি-রস-গানে একেবারে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হয়ে থাকেন, দেখবেন, তখন নিজ বাহু প্রসারণ করে আপনাকে প্রেমালিঙ্গন দান করবেন। সভাপন্ডিত সার্বভৌমের কাছ হতে এই আশার বাণী শুনে রাজা অত‍্যন্ত আনন্দিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, রথযাত্রা কবে? ভট্টাচার্য্য বললেন, আর বেশীদিন নাই, তিনদিন মাত্র বাকী আছে।*
🙏🌷🪔🦚🌸🪷🙏🌷🪔🦚🦜🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৭)🙌শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *রথ-উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
      🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব একদিন প্রেমবিহ্বল চিত্তে একাকী আলালনাথে চলে যান।সার্বভৌম* *ভট্টাচার্য্য এই খবর শুনে তাড়াতাড়ি সেখানে গমন করে অনুনয় বিনয় সহকারে তাঁকে ফিরিয়ে আনলেন, ইতিমধ্যে গৌড়দেশ হতে বহুভক্ত স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে গৌরসুন্দরের সঙ্গে আনন্দোৎসব করবার* *জন্য,নীলাচলে প্রথমে সাগরের উপকূলে এসে উপস্থিত হলেন। গোপীনাথ আচার্য‍্য তাঁদের* *আগমনবার্তা রাজা প্রতাপরুদ্রকে জানিয়ে বললেন,গৌড় হতে দুইশ ভক্ত আগমন করেছেন,তাঁদের ভোজন ও বাসস্থানের ব‍্যবস্থা করা প্রয়োজন।রাজা নিজের লোকজনকে ডেকে নবাগত ভক্তগণের সবরকম ব‍্যবস্থা করবার আদেশ দিলেন এবং ভক্তগণকে দেকা-শোনা করবার জন্য গোপীনাথ ও সার্বভৌমকে নিয়ে নিজ* *ভবনের ছাদের উপর উঠিলেন।এদিকে ভক্তগণ সারিবদ্ধ হয়ে হরিনাম কীর্তন করতে রাজবাড়ীর নিকটবর্তী হলে,* *গোপীনাথ প্রতাপরুদ্রকে ছাদের উপর হতে প্রধান প্রধান ভক্তদের দেখাতে লাগলেন।গৌরহরি ভক্তদের আগমন বার্তা শুনে আনন্দিত হয়ে স্বরূপদামোদর ও গোবিন্দকে তাঁদের অভ‍্যর্থনার জন্য শীঘ্র যেতে বললেন।তাঁরা পুষ্পমাল‍্য হাতে নিয়ে সেখানে গমন করলেন এবং সবার প্রথমে সর্বজন পূজ‍্য শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের গলায় মালা পরিয়ে উভয়েই দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।রাজা প্রতাপরুদ্র* *গোপীনাথকে জিজ্ঞাসা করলেন, যাঁর গলায় প্রথমে মালা পরান হল, এই দেবোপম(দেবতুল‍্য)ব‍্যক্তি কে?* *গোপীনাথ বললেন, "ইনি নবদ্বীপের বৈষ্ণবাগ্রগণ‍্য অদ্বৈতাচার্য‍্য।মহাপ্রভুর অত‍্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাত্র "।গোপীনাথ এইভাবে রাজাকে একে একে শ্রীবাস,বক্রেশ্বর আচার্য‍্যরত্ন, গঙ্গাদাস পন্ডিত,মুরারি গুপ্ত,বাসুদেব দত্ত,শিবানন্দ সেন,রাঘব পন্ডিত, শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি মহাপ্রভুর ভক্তগণকে পরিচয় দিতে লাগলেন।*
*উৎকলাধিপতি ভক্তদের নৃত্য,মধুর কীর্তন,তাঁদের অনুপম দিব‍্যলাবণ‍্যযুক্ত মুখজ‍্যোতিঃ দেখে বিমোহিত হয়ে সার্বভৌমকে বললেন, ইঁনাদের শ্রীমুখমন্ডলে রবিকরের উজ্জ্বল জ‍্যোতির ন‍্যায় এমন উজ্জ্বল ভাব আমি তো আর কোথাও দেখিনি। এ সব বৈষ্ণব যেন নরলোকের অতীত (মনুষ‍্য নহে এমন দেবতা) বলেই আমার বোধ হচ্ছে।গোপীনাথাচার্য‍্য রাজার কথা শুনে অতি মধুর বচনে বললেন,রাজন!এ সব শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের অতুলনীয় ভগবদ্ভক্তির প্রভাবেরই পরিচয় মাত্র। নামসংকীর্তন তাঁরই সৃষ্টি ; মানবকে ভগবৎ-প্রেমের মধুর নামে নিমগ্ন করবার জন্যই তিনি মানব-দেহ ধারণ করে এই মর্ত্ত‍্যলোকে অবতরণ করেছেন।*
*গৌড়ভক্তগণ হরিগুণ কীর্তন করতে করতে ভক্তের শিরোমণি গৌরচাঁদের নিকট গমন করতে লাগলেন।এমন সময় তাঁদেরকে অভ‍্যর্থনা করবার জন্য অগ্রসর হলেন, এবং ভক্তদেরকে প্রেমালিঙ্গন করতে লাগলেন। মুকুন্দ দত্তের ভাই বাসুদেব দত্তকে দেখে তাঁর গায়ে হাত রেখে বললেন, তোমার জন্য দক্ষিনদেশ হতে দুইটি গ্রন্থ এনেছি।মহাপ্রভু ভক্তদলের মধ্যে সবাইকে দেখলেন কিন্তু হরিদাসকে না দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার হরিদাস কোথায়?সকলে বলল,হরিদাস দূরে রাজপথের এক পাশে বসে আছেন। ভক্তগণ হরিদাসের কাছে গিয়ে,তাঁকে মহাপ্রভুর কাছে যাবার জন্য অনেক অনুনয় বিনয় করতে লিগলেন, কিন্তু তিনি কিছুতেই সম্মত হলেন না।বললেন, আমি অতি নীচ জাতি ও অতি অধম, শ্রীমন্দিরের কাছে যাবার আমার কোন অধিকার নাই।*
*🙏এমন সময় কাশীমিশ্রের দুইজন লোক এসে মহাপ্রভুর চরণ বন্দনা করে বললেন,ভক্তদের থাকবার জন্য বাসা ঠিক হয়েছে।গৌরহরি একথা শুনে গোপীনাথকে বললেন,তুমি এদের নিয়ে বাসায় নিয়ে যাও এবং বাণীনাথকে মহাপ্রসাদ নিয়ে বাসায় যেতে বলো।তারপর মহাপ্রভু কাশীমিশ্রকে বললেন, আমার বাসার কাছে পুষ্পোদ‍্যানের মধ্যে একটি নির্জন কুটীর আছে, সেই ঘরটি আমাকে দিতে হবে আমার বিশেষ প্রয়োজন আছে।তখন কাশীমিশ্র মহাপ্রভুর কথা শুনে বললেন, প্রভো!তোমারই তো সব,আমাকে জিজ্ঞাসা করবার প্রয়োজন কি?তোমার যা ইচ্ছে তুমি তাইই করবে বা নিবে।*
*🍁তারপর মহাপ্রভু ভক্তগণকে বললেন,তোমরা নিজ নিজ বাসায় গমন করে নিজনিজ দ্রব‍্যাদি ভাল করে গুছিয়ে রেখে সমুদ্রে স্নানাদি করে আমার বাসায় আসবে।সেখানেই ভোজন করা যাবে।গোপীনাথাচার্য‍্য সকলকে তাঁদের নির্দ্ধারিত বাসায় নিয়ে গেলেন।*
*ইতিমধ‍্যে গৌরসুন্দর হরিদাসকে আনবার জন‍্য তাঁর কাছে গমন করলেন।মহাপ্রভুকে দেখে তিনি ভক্তিভরে তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।উভয়ে প্রেমাবেশে ক্রন্দন করতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁকে প্রামালিঙ্গন করলে হরিদাস বললেন,প্রভো!তুমি আমাকে ছুঁইও না ; আমি অধম নীচ জাতি। শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন,হরিদাস!তুমি পরম ভক্ত। তুমি সর্বদা হরিনাম জপে রত থাক, তোমাকে স্পর্শ করলে,আমার দেহ পবিত্র হবে, উঠ,তুমি উঠ, আমার সঙ্গে এসো ; আমার ঘরের কাছেই পুষ্পোদানের মধ্যে একটি নির্জন কুটীর আছে, তুমি সেইখানেই থাকবে।এই কথা বলে তিনি তাঁকে সঙ্গে করে কাশীমিশ্রের পুষ্পোদ‍্যানের মধ্যে নির্জন কুটীরে নিয়ে গেলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
       *রথ উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
       ••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀এদিকে ভক্তগণ সমুদ্রে স্নান করে মহাপ্রভুর বাসভবনে উপস্থিত হলেন।প্রসাদান্ন আগে থেকেই বাণীনাথ এনেছিলেন।মহাপ্রভু সকলকে বসিয়ে স্বহস্তে পরিবেশন করতে লাগলেন। তিনি তিন তিনজনের খাদ‍্যদ্রব‍্য এক একজনের পাতে দিতে লাগলেন। কিন্তু তিনি স্বয়ং আহারে বসলেন না বলিয়া,কেউই আর অন্নগ্রাস মুখে না তুলে বসে রইলেন।দামোদর মহাপ্রভুকে বললেন, তুমি না বসিলে,কেউই আহার করবেন না, সকলেই হাত তুলে বসে আছেন। মহাপ্রভুর প্রাণের হরিদাস কুটীরে বসে রয়েছেন,তিনি তাঁকে একাকী ফেলে রেখে কি আহার করতে পারেন? অবশেষে গোবিন্দকে তাঁর জন্য প্রসাদান্ন নিয়ে যেতে আদেশ করে,স্বরূপের অনুরোধে ভক্তদের সঙ্গে আহারে বসিলেন। সকলে প্রেমোল্লাসে হরিধ্বনি করে উঠলেন।ভক্তেরা সুন্দর সুন্দর শুভ্র তন্ডুলের অন্ন,বিবিধ ব‍্যঞ্জন ও পিষ্টক পায়স প্রভৃতি আনন্দ সহকারে ভোজন করলেন। ভোজন সম্পূর্ণ হলে মহাপ্রভু সকলের গলায় মালা ও অঙ্গে চন্দন দিলেন। সন্ধ‍্যা সমাগত হল।গৌড়ীয় ভক্তগণ পুনরায় গৌরহরির বাসায় মিলিত হলেন।রায় রামানন্দও আগমন করলেন।এই সময় শ্রীজগন্নাথদেবের আরতি হয়ে থাকে।গৌরচন্দ্র তাঁর ভক্তবৃন্দ ও অন‍্যান‍্য লোকদের নিয়ে শ্রীজগন্নাথদেবের আরতি দেখবার জন্য মন্দিরে গমন করলেন।মন্দিরের প্রাঙ্গণ ধূপ ধূনোর সুন্দর সুগন্ধে আমোদিত হল,গৌরসুন্দর ভক্তবৃন্দ সহ সেখানে গমন করলেন ;পান্ডারা সকলকে মালা ও চন্দন দিয়ে সম্ভাষণ করলেন।মহাপ্রভুর ভক্তগণ চারদলে বিভক্ত হয়ে কীর্তন আরম্ভ করলেন।চারদলের মধ্যে আটটি মৃদঙ্গ ও বত্রিশ জোড়া করতাল বাজতে লাগল।শ্রীঅদ্বৈত,নিত‍্যানন্দ,বক্রেশ্বর ও শ্রীবাস এক একজন এক একটি দলের অধিনায়ক হয়ে কীর্তন করতে লাগলেন।মহাপ্রভু সব দলের মধ্যেই এক একবার গমন করে কীর্তনকারীদের সঙ্গে নৃত্য করতে করতে কীর্তন করতে লাগলেন।শত শতলোকের কন্ঠধ্বনির সঙ্গে মৃদঙ্গ ও করতালের রব মিশ্রিত হয়ে এক মহামধুর ধ্বনিতে যেন চারিদিক মুখরিত হতে লাগল।*
*🌹উৎকলবাসীরা গৌড়ীয়দের সংকীর্তনের মধুর ধ্বনিতে আর গৃহে থাকতে পারল না ; চারিদিক হতে* *ছুটে এসে নীলাচলাধিপতি শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দির-প্রাঙ্গণ পূর্ণ* *হয়ে গেল।তারকাবেষ্টিত চন্দ্রমা সম গৌরচাঁদ ভক্তগণ সহ নৃত্য* *করছেন, অশ্রুধারায় তাঁর গন্ডস্থল ভেসে যাচ্ছে,*
*এই দৃশ্য দেখে,সকলেই যেন নয়নজলে ভেসে যাচ্ছে।ইতিপূর্বে পুরুষোত্তমে এরকম মধুর সংকীর্তন আর কেউ কখন শুনে নাই।গৌড়ীয় ভক্তদের নৃত্য ও কীর্তনাদি শোনার জন্য কেবল যে জনসাধারণেই ব‍্যাকুল হয়ে ছুটে আসিল তা নয়, রাজা প্রতাপরুদ্রও নিজের পারিষদবর্গ সহ প্রাসাদোপরি আরোহণ করে বিস্ময়াচিত্তে ভক্তদের কীর্তন দর্শন ও শ্রবণ করতে লাগলেন। কীর্তন শুনে, সংকীর্তনের জনক শ্রীগৌরাঙ্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার বাসনা তাঁর হৃদয়ে আরো উদ্দীপ্ত হয়ে উঠল।বহুক্ষণ ধরে কীর্তনান্তে গৌরহরি ভক্তগণসহ নিজ বাসায় আগমন করলে,সন্ধ‍্যাকালীন ভোজনের জন্য প্রসাদান্ন আনা হল। স্বহস্তে সকলকে বিতরণ করে দিলেন।আহারান্তে সকলে নিজ নিজ বাসায় গমন করলেন। মহাপ্রভু যখন দক্ষিনদেশ হতে ফিরে আসেন, তখন হতেই রাজা প্রতাপরুদ্র তাঁর দর্শন লালসায় উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠেন। তিনি কটক হতে নিজের বাসনা পূর্ণ করবার জন্য সার্বভৌমকে একটি পত্র লেখেন।পত্রের মর্ম এই, তুমি প্রভুকে জানাবে যে,তাঁকে দর্শন করবার জন্য আমার মন অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল হয়েছে ; গৌরহরি যদি আমাকে তাঁর শ্রীচরণ দর্শনে বঞ্চিত করেন,তাহলে আমি এ রাজ‍্য পরিত‍্যাগ করে পথের ভিখারী হব। সার্বভৌম রাজার চিঠি পেয়ে,বড় চিন্তিত হলেন ; তিনি পত্রটি নিয়ে মহাপ্রভুর ভক্তদের দেখালেন।* *সকলেই রাজার পত্র দেখে মহাপ্রভুকে কিভাবে এইকথা জানাবেন, এবং কিভাবেই বা তাঁর সঙ্গে রাজার সাক্ষাৎ হবে,এই চিন্তায় ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন।*
*উৎকন্ঠিত চিত্তে তাঁরা সকলেই মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন।তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে কেউ আর কিছু সাহস করে বলতে পারেন না।গৌরহরি ভক্তবৃন্দের সমবেত আগমন দেখে,তাঁদের বললেন, তোমরা খি আমায় কিছু বলবে? তখন নিত‍্যানন্দ না বলে থাকতে পারলেন না, তিনি বললেন, "বলতে সঙ্কোচ হয় তবুও বলছি, রাজা প্রতাপরুদ্র বহুদিন হতে তোমার দর্শনাভিলাষী হয়েছেন ; তিনি তোমার দর্শন না পেলে রাজ‍্য সম্পদ ত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসী হবেন।" গৌহরি সন্ন‍্যসী হলেও তাঁর হৃদয় হতে স্নেহ মমতা পরিপূর্ণ ভাবে রয়েছে।রাজার ব‍্যাকুলতার কথা শুনে তাঁর প্রাণ দ্রবীভূত হল।তিনি বললেন, শ্রীপাদ তুমি সবই ভাল বুঝ,আমি আর কি বলব। নিতাইচাঁদ বললেন, "যে ব‍্যক্তি তোমাকে একবার দেখবার জন্য এত ব‍্যাকুলতা করেছেন,তাঁর অভিলাষ যদি পূর্ণ করবার জন্য কোন আপত্তি থাকে,তাহলে অন্ততঃ যদি তোমার একটি বহির্বাস তাঁকে দাও,তাতেও খানিক তাঁর প্রাণ শীতল হতে পারে। মহাপ্রভু তাঁর প্রস্তাবে রিজী হলে,নিত‍্যানন্দ গোবিন্দের কাছ হতে মহাপ্রভুর একটি বহির্বাস নিয়ে রাজাকে পাঠিয়ে দিলেন। মহাপ্রভুর স্নেহের চিহ্নস্বরূপ এই বহির্বাস পেয়ে উৎকলাধিপতির প্রাণে শান্তি লাভ করল, কিন্তু মহাপ্রভুকে দর্শন করবার আশা আরো জেগে উঠিল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
      *রথ--উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
    ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀এমন সময় রায় রামানন্দ মহাপ্রভুর নিকট উপস্থিত হয়ে রাজাকে দর্শন দিবার জন্য বিনীতভাবে নিবেদন করলেন।মহাপ্রভু রামরায়কে সন্ন‍্যাসীর পক্ষে রাজদর্শনের অপকারিতা সম্বন্ধে বুঝিয়ে দিলেন।রামরায় বললেন, "যদি রাজাকে দর্শন দিতে না চাও, তবে তাঁর পুত্রকে তোমার দর্শন লাভের অনুমতি দাও"।গৌরহরি তাঁর কথায় সম্মত হলেন।প্রতাপরুদ্রের নিকট এ সংবাদ পাঠানো হল।রাজা মহাপ্রভুর এই কৃপাতে পরম আনন্দিত হয়ে তাঁর কাছে নিজের পুত্রকে পাঠিয়ে দিলেন।রাজপুত্রের নবীন বয়স,সুগঠন,সুন্দর শ‍্যামল রূপ দর্শনে মহাপ্রভুর হৃদয়ে স্নেহের সঞ্চার হল।তিনি নিজের দুইবাহু প্রসারণ করে প্রেমভরে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। মহাপ্রভুর অঙ্গ স্পর্শে রাজপুত্রের অঙ্গেও স্বেদ কম্প প্রভৃতি ভক্তির লক্ষণ সব প্রকাশ পেতে লাগল ; নয়নাশ্রুতে তাঁর বক্ষঃস্থল ভেসে গেল,যেন এক অভূতপূর্ব আনন্দে তাঁর মুখমন্ডল উদ্ভাসিত হয়ে উঠিল।রাজপুত্র প্রেমাবিষ্ট হয়ে পড়লেন।কিছুক্ষণ পরে রামরায় তাঁকে সঙ্গে করে প্রতাপরুদ্রের কাছে উপস্থিত হলেন।পুত্রের প্রতি শ্রীচৈতন‍্যের স্নেহের কথা শুনে তিনি নিজেকে চরম ভাগ‍্যবান মনে করলেন এবং পুত্রকে আলিঙ্গন করে প্রেমাবিষ্ট হয়ে পড়লেন।*
*🌺দেখতে দেখতে রথযাত্রার দিন এগিয়ে এলো।শ্রীচৈতন‍্য,কাশীমিশ্র পড়িছাপাত্র ও সার্বভৌমকে ডেকে গুন্ডিচা মন্দির পরিস্কার করবার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন।রথযাত্রার সময় শ্রীজগন্নাথদেব এই মন্দিরে কয়েকদিন অবস্থিতি করেন। রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে মহাপ্রভু এই মন্দির সংস্কার করতে চাইলে,কাশীমিশ্র প্রভৃতি সকলেই আনন্দের সঙ্গে অনুমতি দান করলেন।রথোৎসবের সময় গুন্ডিচামন্দির পরিস্কার করবার জন্য গৌরহরি অনুমতি পেয়ে আনন্দ সহকারে এই কাজে রত হলেন। তিনি ভক্তদের অঙ্গ চন্দনে চর্চিত ও তাঁদের গলায় মালা পরিয়ে দিলেন।তাঁরা সকলেই সম্মার্জনী হাতে নিয়ে দেবমন্দির নিষ্ঠার সঙ্গে পরিস্কার করতে লাগলেন। ভক্তেরা শত কলস পূর্ণ জল এনে মন্দির ধৌত করতে লাগলেন।মহাপ্রভু সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে হরিধ্বনি করতে করতে মন্দির পরিস্কার করতে লাগলেন।এমন সময়ে শ্রীচৈতন‍্যের কোন এক ভক্ত ঐকান্তিক অনুরাগ বশতঃ জলপূর্ণ কলস নিয়ে আগে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে ঢেলে তাঁর চরণদ্বয় ধৌত করে সেই পবিত্র পাদোদক পান করলেন।শ্রীচৈতন‍্য এরকম ব‍্যবহারে অত‍্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে স্বরূপদামোদরকে ডেকে বললেন, দেখ স্বরূপ! এ ব‍্যক্তি দেবতার মন্দির ধৌত করতে এসে আমার চরণ ধৌত করে সেই পাদোদক পান করল এ কি উচিত?দেবমন্দিরে গৌড়ীয়ার এরকম কাজের জন্য আমিই অপরাধী হলাম।স্বরূপদামোদর এইকথা শোনামাত্র তক্ষুনি সেখান হতে গৌড়ীয়াকে বাহির করে দিলেন।*
*সে নিজের দোষ স্বীকার করে,সচল জগন্নাথের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে,প্রেমার্দ্রচিত্তে গৌরহরির প্রাণ দ্রবীভূত হয়ে গেল।তিনি প্রসন্নচিত্তে আবার তাকে আগের মত ভক্তদের সঙ্গে গুন্ডিচামন্দির ধৌত করবার জন্য বললেন।শত শত জলপূর্ণ কলসের জলে ও ঝাড়ু দ্বারা ভক্তগণ মন্দিরতল ও খাপরার(ভাঙ্গা কলসি,মাটির হাড়ি ইত্যাদির টুকরো) দ্বারা মন্দিরের উপরিভাগ ধৌত করতে লাগলেন।মন্দিরের চারদিক সুন্দরভাবে পরিস্কার হয়ে গেল।গুন্ডিচা সংস্কারকার্য‍্যে সম্মার্জনী (ঝাড়ু) হাতে মহাপ্রভুই অগ্রণী হয়ে সকলকে শিক্ষা দান ও ভক্তগণ সঙ্গে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবশেষে ক্ষণকাল বিশ্রামান্তে ভক্তগণের সহিত কীর্তন করতে লাগলেন। ভগবানের মধুময় নামের মধুর হিল্লোলে ভক্তদের হৃদয়-সরোবরে যেন প্রেমের তরঙ্গ উত্থিত হতে লাগল।শ্রীচৈতন‍্যদেব ভক্তদের সঙ্গে নৃত্য করতে লাগলেন। কিন্তু অদ্বৈতাচার্য‍্যের পুত্র গোপাল প্রেমাবিষ্ট হয়ে ভূতলে লুটিয়ে পড়লেন। গৌরচাঁদ আচার্য‍্যপুত্রকে প্রেমাবিষ্ট হয়ে ভূতলে পড়েছিলেন দেখে ব‍্যস্থতার সঙ্গে তাকে কোলে তুলে নিলেন।গোপাল তখন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন।গোপালের পিতা সন্তানের এরকম অবস্থা দেখে অত‍্যন্ত চিহ্নিত হয়ে নানান উপায়ে তার চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য‍্য হলেন না,তখন করুণাময় গৌরহরি মূর্ছিত গোপালের বক্ষে স্নেহভরে হাত রেখে বললেন, গোপাল উঠ?মহাপ্রভুর হস্ত স্পর্শে গোপালের মূর্ছা তিরোহিত হয়ে গেল।*
*গোপাল উঠে বসলেন। নৃত্য কীর্তনাদি বিরাম হলে তাঁরা সকলে স্নানাদি করে উদ‍্যান মধ্যে প্রবেশ করলেন।সেখানে বাণীনাথ প্রসাদান্ন এনে উপস্থিত করলেন,বহু বহু ভক্ত শ্রেণীবদ্ধ হয়ে ভোজনের জন‍্য বসলে,স্বরূপদামোদর,জগদানন্দ, দামোদর, প্রভৃতি কয়েকজন ভক্ত পরিবেশন করবার জন্য প্রস্তুত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *রথ-উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
     <><><><><><>>>>>>>>><>
*🍀সকল ভক্তগণ নানারকম ব‍্যঞ্জন, পিষ্টক,পায়স ভোজন করতে করতে আনন্দ আর ধরে না ; তাঁরা এই আনন্দোৎসবে সেই আনন্দময় বিধাতা শ্রীহরিকে স্মরণ করে তাঁর নামের ধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত করে তুললেন। তারপর রথযাত্রার দিন শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তবৃন্দসহ শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের দিকে গমন করলেন। জগন্নাথদেবকে রথারোহণ করান হলে, বাদ‍্যধ্বনি হতে লাগল ; শত শত কন্ঠ হতে মহাপ্রভুর মহিমাধ্বনি উত্থিত হতে লাগল ; উৎকলাধিপতি প্রতাপরুদ্র ঝাড়ু হাতে পথ পরিস্কার ও তদুপরি সুবাসিত চন্দন জল ছিটাতে লাগলেন এবং মহাপ্রভুর ভক্তদের অঙ্গে চন্দন ও গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিলেন। ভক্তসঙ্গে যে সংকীর্তনের মধুর ধ্বনিতে তিনি পুরুষোত্তমবাসীদের অন্তরে ভক্তির উদ্দীপনা করছিলেন, আজ এই মহোৎসবে সেই পাপতাপহারী হরিনাম কীর্তন করবার জন্য তিনি ভক্তদেরকে চার দলে বিভক্ত করলেন।ভক্তগণ কীর্তন করতে করতে গমন করতে লাগলেন।রথ বলগন্ডিতে উপস্থিত হলে,ভক্তেরা বিশ্রামের জন্য একটি পুষ্পোদ‍্যানে প্রবেশ করলেন।মহাপ্রভুও কীর্তন ও নর্তনে অত‍্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।তিনি বিশ্রামের জন্য এক সোপানের উপর শয়ন করলে, রামরায়ের পরামর্শ অনুসারে রাজা প্রতাপরুদ্র বৈষ্ণবের বেশে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ ধরে ভাগবতের এই শ্লোক আবৃত্তি করলেন=*
*🌷তব কথামৃতং তপ্ত জীবনং,*
*🌷কবিভি রীড়িতং কল্মাষাপহং ;*
*🌷শ্রবণ মঙ্গলং শ্রীমদাততং,*
*🌷ভুবি গৃণান্তি যে ভূরিদা জনাঃ।*
*🌻গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বলছেন, হে প্রিয়তম! তোমার কথামৃত তাপিতজনের জীবন স্বরূপ ব্রহ্মজ্ঞ ব‍্যক্তিদের সংপূজিত এবং পাপনাশক ; সেটি শুনিলে মঙ্গল হয় এসেটি শান্তিপ্রদ ; এই ধরাতলে যারা নরনারীকে সেটি পান করাতে পরেন,তাঁরাই ভূরিদ অর্থ‍্যাৎ প্রকৃত দাতার ন‍্যায় বহু দান করে থাকেন।*
*🍁শ্লোক শুনে মহাপ্রভুর হৃদয় প্রেমরসে পরিপূর্ণ হয়ে গেল, তিনি প্রেমভরে তাঁকে (রাজাকে) আলিঙ্গন করলেন। মহাপ্রভু তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, ছদ্মবেশী রাজা বললেন, "আমি আপনার দাসানুদাস হতে ইচ্ছে করি"।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷"ভূরিদা" "ভূরিদা" বলি করি আলিঙ্গন।*
*🌷ইহা নাহি জানে ইহো হয় কোন জন।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভু বলে কে তুমি?করিলা মোর হিত।*
*🌷আচম্বিতে আসি পিয়াও কৃষ্ণলীলামৃত।।*
*🌷রাজা কহে আমি তোমার দাসের দাস।*
*🌷ভৃত‍্যেরে ভৃত‍্য কর এই মোর আশ।।*
*🌹এদিকে বাণীনাথ নানান প্রসাদ দ্রব‍্য এনে উপস্থিত করলেন।সকলেই হরিধ্বনি করতে করতে প্রসাদান্ন ভোজন করলেন। তারপরে সংকীর্তন করতে করতে ভক্তগণ গুন্ডিচামন্দিরে রথ নিয়ে গেলেন।এখানে প্রতিবৎসর শ্রীজগন্নাথ নয়দিন অবস্থিতি করেন। শ্রীজগন্নাথ গুন্ডিচায় আসিলে, গৌরহরি কোন ভক্তের অনুরোধে আইটোটায় এসে বাস করেন, এবং জগন্নাথদেবের মন্দিরে পুনরাগমন পর্যন্ত এই নয়দিন নানা গৃহস্থের বাড়িতে ভোজন এবং সন্ধ‍্যাকালে গুন্ডিচায় কীর্তনাদি করে আনন্দে সময় অতিবাহিত করেন।*
*🙌গৌড়ীয় ভক্তগণ চারমাস কাল পুরুষোত্তমে বাস করে স্বদেশে প্রত‍্যাগমনের সময় মহাপ্রভুর কাছে বিদায়ের জন্য উপস্থিত হলেন। গৌরসুন্দরের সঙ্গে তাঁদের অচ্ছেদ‍্য (পৃথক করা যায় না এমন) সম্বন্ধ ; তিনি সবার আগে প্রবীণ অদ্বৈতাচার্য‍্যকে সকলের মধ্যে হরিগুণ কীর্তনের জন্য আদেশ করলেন ; নিত‍্যানন্দকে বললেন, তুমি গৌড়দেশে গমন করে পরম রত্ন ভক্তিধন বিতরণ কর। শ্রীবাস পন্ডিতের গলা জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করে বললেন, তোমার গৃহে আমি যেমন নৃত্য কীর্তনাদি করতাম, এখন তেমনিই করব, কিন্তু তুমি ছাড়া অন‍্য কেউ তা দেখতে পাবে না। মাতৃবৎসল শ্রীগৌরহরি জগন্নাথদেবের প্রসাদ ও একটি বস্ত্র নিয়ে শ্রীবাসের হাতে দিয়ে বললেন, তুমি আমার জননীকে এই বস্ত্র ও প্রসাদান্ন দিয়ে দিবে।আর মাকে বলবে, আমি সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করে তাঁর সেবা করতে পারলাম না।তিনি যেন বাতুল বলে আমার সব অপরাধ ক্ষমা করেন। তবে আমি তাঁর শ্রীচরণ দর্শন করবার জন্য মধ্যে মধ্যে তাঁর কাছে গমন করে থাকি।তিনি একদিন থালায় অন্ন ও নানান ব‍্যঞ্জনাদি রেখে, জননী আমার, আমার নিমাই এই সব ব‍্যঞ্জন অত‍্যন্ত ভালবাসিত, এই বলে কাঁদতে লাগলেন, আমি সেসময় সেখানে গিয়ে সে সমস্ত ভোজন করি, তিনি ক্ষণেক পরে শূন‍্য পাত্র দেখে অবাক হয়ে গেলেন, মকরতে লাগলেন,তবে কি আমার ভ্রম হয়েছে,আমি কি অন্ন ব‍্যঞ্জন থালাতে দিই নি?বিজয়া দশমীতে এই ঘটনা ঘটেছিল, তুমি জননীকে এসব কথা বলিও।*
*শিবানন্দ সেনকে বললেন,তুমি প্রতি বৎসর রথযাত্রার সময় গৌড়ীয় ভক্তদেরকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আসবে।এ কাজের ভারতোমারই উপর রইল। আর এক কথা,তুমি বাসুদেব দত্তের প্রতি দৃষ্টি রাখবে ; বাসুদেব বড় উদার।অর্থ হাতে আসিলেই তা ব‍্যয় করে ফেলে, গৃহস্থ ব‍্যক্তির সঞ্চয় করা প্রয়োজন।কুলীন গ্রামবাসী রামানন্দ ও সত‍্যরাজ খাঁ মহাপ্রভুর চরণে প্রণাম করে জিজ্ঞাসা করলেন,প্রভো! আমরা বিষয়ী,সংসারে কিভাবে সাধন ভজন করব? প্রভু বললেন,নিরন্তর নামসংকীর্তন করবে।সত‍্যরাজ আবার জিজ্ঞাসা করলেন,প্রভো! বৈষ্ণব কিভাবে চিনব?শ্রীচৈতন‍্যদব বললেন,যাঁর রসনা হতে সদাসর্বদা কৃষ্ণনাম উচ্চারিত হয়,তাঁকেই বৈষ্ণব বলে জানবে।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 🔙 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 পঞ্চম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫১. অনবসরকালীন বেশ 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
অনবসরকালীন বেশ:-
জগন্নাথের জন্মতিথি অর্থাৎ, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় স্নানযাত্রার পর বলভদ্র ও জগন্নাথের গজানন বেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শন অনবসর সেবা গ্রহণের জন্য শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করেন। এরপর পনেরো দিনের জন্য জগন্নাথের জ্বরলীলা শুরু হয়। জগন্নাথের সেবায় নিযুক্ত হন রাজবৈদ্য। লোকচক্ষুর অন্তরালে এই পনেরো দিন ধরে জগন্নাথের পরিচর্যা চলে। এই সময় জগন্নাথ অবসরহীন সেবা গ্রহণ করেন, তাই এই কালপর্বকে জগন্নাথের অনবসরকাল বলা হয়ে আসছে। অনবসর শব্দটি ভাঙলে দাঁড়ায় অন্-অবসর। অর্থাৎ অবসরহীন। এই সময় জগন্নাথ শুধুমাত্র ‘নিজগণ’-এর কাছেই প্রকাশিত হন।

শ্রীমন্দিরের আনন্দবাজারের নিকটস্থ স্নানমঞ্চে একসঙ্গে একশো আটটি কলসের জলে স্নান করে সুদর্শন, বলভদ্র, সুভদ্রা ও জগন্নাথের দারুবিগ্রহ সিক্ত হয়ে যায়। এই সময় মহাদারু ভিজে যাওয়ায় পুনরায় দারু শুষ্ক করার প্রয়োজন হয়। জল দারু বা কাঠের পক্ষে ক্ষতিসাধক। বিগ্রহের ক্ষয় ক্ষতি যাতে না হয় তাই এমন গুপ্ত পরিচর্যা চলে। মহাস্নানের ফলে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের অঙ্গের রঙও সামান্য ক্ষয় হয়। শুধু পুরীর জগন্নাথের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের অধিকাংশ প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরেই দেখা যায় প্রাকৃতিক রঙে রঞ্জিত বিগ্রহের রঙ বিগ্রহের স্নানের ফলে বেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পূর্ববৎ বিগ্রহের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চলতে থাকে প্রায় পনেরো দিন ধরে। এই সময় দেবতার শ্রীবিগ্ৰহ রত্নসিংহাসনে থাকেন না। কিন্তু বিগ্রহ না থাকলে রত্নসিংহাসন জগন্নাথশূন্য থাকে না। জগন্নাথের অনবসরকালে শ্রীমন্দিরের রত্নসিংহাসনে দারুব্রহ্ম জগন্নাথের পরিবর্তে বিরাজিত হন পট্টব্রহ্ম বা পটব্রহ্ম জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা। দেবতার অনবসর বেশ দেববিগ্রহে নয় ব্রহ্মপটেই অনুষ্ঠিত হয়। অনেকে অনবসর বেশকে জগন্নাথের বেশ রূপে স্বীকৃতি দিতে চান না। কারণ এই সময় জগন্নাথ বিগ্রহ অনবসর পরিচর্যার জন্য গুপ্তভাবে রক্ষিত হয় এবং শুধুমাত্র দেববিগ্রহের অনুপস্থিতিতে পটের ব্যবহার করে দেবতার অনুসঙ্গ রক্ষা করা হয়। এমনকি অনবসর কালে সিংহদ্বারের পতিতপাবন বিগ্রহও দেখা যায় না। অনবসরকাল পর্বে পতিতপাবন বিগ্রহের জানালা বন্ধ থাকে এবং সেই জানালার ওপরে একটি পূর্ণবিগ্রহ জগন্নাথের পটব্রহ্ম স্থাপন করা হয়। চৈতন্যজীবনী গ্রন্থগুলি থেকে জানা যায় জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় জগন্নাথের স্নানযাত্রার পরের দিনগুলিতে পুরীনিবাসী সন্ন্যাসীপ্রবর মহাপ্রভু চৈতন্যদেব জগন্নাথের বিরহে অস্থির হয়ে অদূরবর্তী ব্রহ্মগিরি নিবাসী আলালনাথের দর্শনে যেতেন। এখনও জগন্নাথদেবের অনবসরকালে জগন্নাথের ভক্তরা আলালনাথ দর্শনে যান ও আলালনাথের বিখ্যাত ক্ষীর (ক্ষীরী) প্রসাদ লাভ করেন।

জগন্নাথের অনবসর পটগুলি প্রতি বছর জগন্নাথের সেবায় নিয়োজিত সেবকরা তৈরি করেন। এই ব্রহ্মপট তৈরি করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কাপড়, কাঠ, ফুল, রঞ্জক, আঠা প্রভৃতি উপকরণ ব্যবহৃত হয় ব্রহ্মপট তৈরি করার ক্ষেত্রে। সবার প্রথমে পটটি মসৃণ করে তৈরি করা হয়। রত্নসিংহাসনে যে পটগুলি বসানো হয় সেগুলি উচ্চতায় আনুমানিক চার থেকে পাঁচ ফুট ও প্রস্থে প্রায় কমবেশি চার ফুট মতো। পতিতপাবন বিগ্রহের জানালার বাইরে স্থাপিত ব্রহ্মপট প্রায় দেড় ফুট লম্বা ও এক ফুট চওড়া। মাদুর বা চাঁটাই জাতীয় পর্দার ওপর ব্রহ্মপটগুলি লাগানো থাকে। ব্রহ্মপটে মূলত কৃষ্ণ, শ্বেত, পীত, রক্ত ও শ্যামল রঙের ব্যবহার করা হয়। কথিত এই পাঁচ বর্ণ পঞ্চভূত অথবা প্রকৃতির পাঁচ তত্ত্ব। বাকি অন্যান্য রঙ এই রঙগুলি থেকেই তৈরি করা হয়। মসৃণ পট তৈরির পর প্রায় সাদা রঙের ক্যানভাস তৈরি করে নেওয়া হয়। তার ওপরে পেনসিল বা চারকোল দিয়ে এঁকে নেওয়া হয় দেবতার পূর্ণবিগ্রহের স্কেচ। সম্পূর্ণ স্কেচ তৈরি হয়ে যাওয়ার পর রঙের প্রলেপ দেওয়া শুরু হয়। পটগুলি নিখুঁত করে তোলার জন্য কালো রঙের বিভাজনরেখা আঁকা হয়। ফলে ব্রহ্মপটে ব্যবহৃত প্রতিটি রঙ আরও নিখুঁত ভাবে চোখে পড়ে। সাদা ও হলুদ রঙ পটের দিয়ে বিশেষ বিশেষ জায়গায় অলংকরণ করা হয়। জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলদাউ-এর পট প্রায় সমান উচ্চতার হলেও পটের ভেতরে তিনজন দেবতার চিত্র এমনভাবে আঁকা হয়, যা দেখে মনে হয় জগন্নাথের অবয়ব বড়, তার থেকে সামান্য ছোট বলভদ্র ও বলভদ্রের থেকে আকারে আরও একটু ছোট সুভদ্রা দেবী। তবে চক্ররাজ সুদর্শন বিগ্রহের বিকল্পে কোনো পটের আয়োজন দেখা যায় না। পটগুলি দীর্ঘ হয় বলে পটচিত্রগুলি আঁকার জন্য অনেক সময় শিল্পী পটের ওপরে বসেও পট আঁকেন। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার ঠিক পনেরো দিন আগে ফলহারিণী কালীপূজার অমাবস্যার তিথিতে পটব্রহ্মের সমস্ত উপকরণ শিল্পীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অতি দ্রুত মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে রত্নসিংহাসনের তিনটি পট তৈরি করে নেওয়া হয়। পটশিল্পী সেবকদের তত্ত্বাবধানে পনেরো দিনের মধ্যে পটগুলি স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। জগন্নাথের অনবসর শুরু হলে স্নানযাত্রার পরবর্তী প্রতিপদ তিথিতেই পটব্রহ্মের বিজয় করানো হয়।

জগন্নাথের ব্রহ্মপটে দেখা যায় জগন্নাথ পদ্মাসনে বসে রয়েছেন। তাঁর চার হাতে রয়েছে শঙ্খ, চক্র, গদা আর পদ্ম। জগন্নাথের গায়ের রঙ ঘন নীল বা কৃষ্ণবর্ণ। জগন্নাথের পরনে পীতাম্বর, মাথায় মুকুট, মুকুটে চন্দ্র-সূর্যও থাকে, বুকে কৌস্তুভ মণি, কানে মকর আকৃতির কুণ্ডল, গলায় পদ্মসহ বনমালা, কাঁধে উপবীত, কপালে চন্দন তিলক, নাকে একটি তিলক ফোঁটা, কোমরে কোমরবন্ধনী ও সর্বাঙ্গে অজস্র অলংকার। জগন্নাথের বুকে ভৃগুপদের চিহ্ন দেখা যায়। জগন্নাথের মুখে গোঁফ ও দাড়ি দেখা যায়। অনবসর পট ছাড়া জগন্নাথের দাড়ি দেখা যায় শুধুমাত্র নাগার্জুন বেশ শৃঙ্গারের। জগন্নাথের পটরূপ যেন তাঁর রাজবেশেরই স্মরণ করিয়ে দেয়। জগন্নাথের দারুব্রহ্ম রূপের মতোই তাঁর পটব্রহ্ম রূপটি বিষ্ণুত্বে পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। রত্নসিংহাসনের জগন্নাথের পটের মতো একইভাবে তৈরি করা হয় পতিতপাবন বিগ্রহের জানালার বাইরের পটব্রহ্ম। জগন্নাথের পটব্রহ্ম নির্মাণ করেন শ্রীমন্দিরের আঠারো ঘর সেবক।

দেবী সুভদ্রার ব্রহ্মপটে দেখা যায় সুভদ্রা দেবী রত্নসিংহাসনে পদ্মাসনে বিরাজিত। পটে দেখা যায় সুভদ্রা দেবীর চারহাতের মধ্যে ওপরের দুই হাতে পদ্মফুল এবং নীচের দুই হাতে অভয় ও বরাভয় মুদ্রা প্রকাশিত। ব্রহ্মপটের সুভদ্রা দেবীর গাত্রবর্ণ অতসী ফুলের মতো উজ্জ্বল পীত বা হলুদ। তিনি পদ্মাসনে রক্তাম্বর ধারণ করেন। দেবীর মাথায় রত্নখচিত মুকুট, কপালে কুমকুমের টিপ, নাসায় দুটি নাকফল বা নোলক, কানে কুণ্ডল, হাতে কঙ্কণ-বালা-তাগাদি সোনার অলংকার, গলায় পদ্মসহ দীর্ঘ পুষ্পমালা ও রত্নমালা, কোমরে কোমরবন্ধনী। দেবীর সর্বাঙ্গে বহু রত্নময় অলংকার শোভা পায়। দেবী সুভদ্রার এই রূপকে ভুবনেশ্বরী মহামায়া রূপ বলা হয়। তন্ত্রোক্ত দেবী ভুবনেশ্বরী মহাবিদ্যার রূপের সঙ্গে অনেকখানি মিল রয়েছে সুভদ্রার পটব্রহ্মের। তবে ‌সুভদ্রা দেবীর হাতে ভুবনেশ্বরী দেবীর সঙ্গে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করার মতো কোনো অস্ত্র ধরা নেই। একটি মত প্রচলিত রয়েছে, পূর্বে জগন্নাথের অনবসরকালে সুভদ্রা দেবীর পটব্রহ্মেও দেবীর হাতে অস্ত্র দেখা যেত। শ্রীমন্দিরে বৈষ্ণব প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভুবনেশ্বরী স্বরূপা সুভদ্রা দেবীর ওপরে লক্ষ্মীর রূপ ছায়াপাত করেছে। সুভদ্রা দেবীর পটব্রহ্ম আঁকেন শ্রীমন্দিরের চোদ্দো ঘর সেবক।

বলভদ্রের ব্রহ্মপটে দেখা যায় বলরাম পদ্মাসনে বসে রয়েছেন। তাঁর চার হাতে রয়েছে শঙ্খ, চক্র, হল আর মুষল। বলভদ্রের গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণ। জগন্নাথের বড়দাদা বলভদ্রের পরনে নীলাম্বর। জগন্নাথের মতো তাঁর মাথাতেও মুকুট দেখা যায়। বলরামের মুকুটের ঠিক ওপরে থাকে সপ্তফণাবিশিষ্ট মহানাগ। এই নাগের বর্ণও শ্বেত। বলভদ্রের গলায় স্বর্ণ চাঁপা ও পদ্মসহ বনমালা, কাঁধে উপবীত, কপালে চন্দন তিলক, বাহুতে বালা, কোমরে কোমরবন্ধনী ও সর্বাঙ্গে রাজাসুলভ অজস্র অলংকার শোভা পায়। বলভদ্রের পটব্রহ্মেও মুখে গোঁফ ও দাড়ি দেখা যায়। পঞ্চুকার অতিরিক্ত তিথিতে পালিত নাগার্জুন বেশ শৃঙ্গার ছাড়া বলভদ্রের আর কোনো বেশে দাড়ি দেখা যায় না। বলরামদেবের পটব্রহ্মরূপ তাঁর রাজবেশের স্মারক। ব্রহ্মপটে বলভদ্র স্বয়ং অনন্ত নাগ বা অনন্তদেব। অনন্তনাগ বিষ্ণুর অন্যতম নিত্যসঙ্গী ও প্রিয় সেবক। বলভদ্রের ব্রহ্মপটকে ঘিরে একটি প্রচলিত মত রয়েছে যে, পূর্বে বলরামের হাতে শিবস্মারক থাকত। বলরাম স্বয়ং শিব, শ্রীমন্দিরে হরিহর বেশ শৃঙ্গারের সময়ও বলভদ্রের অর্ধভাগ শিবরূপে সজ্জিত হয়। শ্রীমন্দিরে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রভাব বৃদ্ধি পর থেকে শিব স্বরূপ বলভদ্রকে অনন্তনাগের অনুসঙ্গে পরিপূর্ণ করে নেওয়া হয়েছে। বলভদ্রের পটব্রহ্ম আঁকেন শ্রীমন্দিরের ছয় ঘর সেবক।

জগন্নাথের অনবসরকালে পটব্রহ্মের সঙ্গে একত্রবাস করেন মদনমোহন, দোলগোবিন্দ, শ্রীদেবী, ভূদেবী, রামচন্দ্র, কৃষ্ণচন্দ্র। অনবসর সমাপ্ত হলে জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলভদ্রের পটব্রহ্ম সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু পুরীর জগন্নাথদেবের শ্রীমন্দিরেই নয়, এই রীতি প্রচলিত রয়েছে উৎকলের প্রায় সমস্ত প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরে। জগন্নাথের অনবসরকালে ওড়িশার জগন্নাথবিরহী জনতার মুখে মুখে ফেরে একটি বহুল প্রচলিত ওড়িআ গীত। ওড়িআ ভাষারীতিতে গানটি নিম্নরূপ :

চতুর্ভুজ জগন্নাথ
কণ্ঠশোভিত কৌস্তুভঃ
পদ্মনাভ বেদগর্বহস্য
চন্দ্র সূর্যা বিলোচনঃ
জগন্নাথ লোকনাথ
নিলাদ্রিহ সো পারী হরি
দীনবন্ধু দয়াসিন্ধু
কৃপালুং চ রক্ষকঃ
কম্বু পানি চক্র পানি
পদ্মনাভো নরোত্তমঃ
জগ্দম্পারথো ব্যাপী
সর্বব্যাপী সুরেশ্বরাহা
লোকা রাজো দেবরাজঃ
চক্র ভূপহ স্কভূপতিহি
নিলাদ্রিহ বদ্রীনাথশঃ
অনন্তা পুরুষোত্তমঃ
তাকারসৌধাযোহ কল্পতরু
বিমলা প্রীতি বরদন্‌হা
বলভদ্রোহ বাসুদেব
মাধব মধুসূদনা
দৈত্যারিঃ কুণ্ডরী
কাক্ষোঃ বনমালী
বড়াপ্রিয়াহ ব্রহ্মাবিষ্ণু তুষমী
বংগশ্যো মুরারিহ কৃষ্ণ কেশবঃ
শ্রী রাম সচ্চিদানন্দোহ
গোবিন্দ পরমেশ্বরঃ
বিষ্ণুর বিষ্ণুর মহাবিষ্ণুপুর
প্রবর বিষ্ণু মহেশরবাহা
লোকাকর্তা জগন্নাথো
মহীহ করতহ মহজতহহ
মহর্ষি কপিলাচার ব্যোহ
লোকাচারিহ সুরো হরিহ
বাতমা চা জীবা পালসাচা
সুরহ সংগসারহ পালকহ
একো মীকো মম প্রিয়ো
ব্রহ্ম বাদি মহেশ্বরবরহা
দুই ভুজশ্চ চতুর্বাহু
শত বাহু সহস্রক
পদ্মপিতর বিশালক্ষয
পদ্মগর্ভা পরোহরি
পদ্ম হস্তেহু দেব পালো
দৈত্যারি দৈত্যনাশনঃ
চতুর্মূর্তি চতুর্বাহু
শহতুর ন ন সেবিতোহ
পদ্মহস্তো চক্রপাণি
শঙ্খহস্তো গদাধরহ
মহাবৈকুণ্ঠবাসী চো
লক্ষ্মীপ্রীতি করহু সদা।।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫২. গিরিগোবর্ধন বেশ 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
গিরিগোবর্ধন বেশ:- 
জগন্নাথের যেসব বেশ শৃঙ্গার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে তার মধ্যে অন্যতম গিরিগোবর্ধন বেশ বা গিরিধারী বেশ। মহাপ্রভু জগন্নাথ আগে গিরিগোবর্ধন বেশ বা গিরিধারী বেশে শোভিত হতেন যা মূলত পরিচালনা করতেন পুরীধামের বড় ওড়িআ মঠ (বড় ওড়িয়া মঠ)। এই বিশেষ বেশ তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে অসুবিধা তৈরি হয়েছিল, তাই এটি আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। জগন্নাথ মহাপ্রভু এই বিশেষ বেশে তাঁর বাম হাতে গিরিগোবর্ধন পাহাড় আর ডান হাতে সোনার বাঁশি ধরে রাখতেন। জগতের নাথ তথা জগতের পালনকর্তা জগন্নাথের হাতে ধরা বড় গিরিগোবর্ধন পাহাড়কে এভাবে একটানা ধরে থাকতে দেখে ব্রজের ছেলেদের মনে সখ্যপ্রেম জেগে উঠেছিল। গিরিগোবর্ধন বেশে গোপবালক ছাড়াও নন্দ, যশোদা, গরুবাছুরও দেখা যেত। গিরিগোবর্ধন বেশের সময় বলভদ্র একটি হাতে শিঙা ধরে এবং একটি হাতে সুন্দর ফুল ধরে থাকতেন। আর ভগবতী সুভদ্রা দেবী সোনা বেশে অলঙ্কৃত হতেন। ১৯৪৩ সালে জগন্নাথ মহাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করে কটকের জনৈক ভক্ত শীঘ্রই একটি পুত্র সন্তান লাভ করেছিলেন। তাদের পরিবার বড় ওড়িআ মঠের মহন্ত মহারাজের কাছে যান এবং জগন্নাথ মহাপ্রভুর প্রয়োজনীয় অলংকারিক সামগ্রী কেনার জন্য দান করেন। বড় ওড়িআ মঠের তৎকালীন মহন্ত মহারাজ গিরিগোবর্ধন বেশ তৈরির কিছু সমস্যার কারণে মানা করেন। এর বদলে তিনি জগন্নাথ মহাপ্রভুর বিশেষ কৃষ্ণ বলরাম বেশের সম্পর্কে সুপরামর্শ দিয়েছিলেন, এবং সেই সুপরামর্শ সবার সম্মতি পেয়েছিল। এখনও শ্রীমন্দিরে বিরল এই বেশ বন্ধই রাখা হয়েছে।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫৩. জগন্নাথের বৈচিত্র্যময় শৃঙ্গারের সমাপ্তিকথন 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
জগন্নাথের বৈচিত্র্যময় শৃঙ্গারের সমাপ্তিকথন:-
জগন্নাথ। তিনি সুন্দর। তিনি শৃঙ্গার করুন, না করুন, তিনি সুন্দর। তাঁর সৌন্দর্য তাঁর স্বরূপে। পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে ব্ল্যাক বিউটির ধারণা রয়েছে। আমাদের দেশেও রয়েছে। ওদের ব্ল্যাক বিউটির ধারণা দেহবাদী। আমাদের দেশের ব্ল্যাক বিউটির ধারণা আধ্যাত্মিকতা ও দেহোত্তরবাদী। আমাদের কৃষ্ণ কালো, জগন্নাথ কালো, কালীও কালো। কিন্তু এমন কাজলের চেয়েও যিনি কালো, তাঁর আলোর শেষ নেই। সমুদ্রের জলের মতো দূর থেকে রঙ আছে, কাছে গিয়ে সেই জল হাতে তুলে নিলে দেখা যাবে কোনো রঙই নেই। এই বিশ্লেষণ শ্রীরামকৃষ্ণের।

জগন্নাথ স্বরূপত সুন্দর। জগন্নাথ সুন্দরের সমার্থক। জগন্নাথের প্রসারিত হাসিমুখ, বিরাট বিরাট দুই চোখ, চোখের ধারে প্রেমময় রক্তিম আভা, দুই প্রসারিত বাহু কার না হৃদয় টানে। ওমন আলিঙ্গনমুখী দুই হাত দেখে কোন ভক্তহৃদয় তাঁকে আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে পারেন। তাঁকে মধুরে আলিঙ্গনেই সুখ। তাঁকে বাৎসল্যে শৃঙ্গার করিয়ে আর খাইয়ে তৃপ্তি। তাঁকে সখ্যে বাঁধতে পারলে আনন্দ। তাঁকে দাস্যে সেবা, পূজায় প্রশান্তি। তাঁকে শান্তে পরম অনুভবেই যে হৃদয় বিরাট হয়ে যায়। জগন্নাথ বহুরূপময়, জগন্নাথ বহুভাবময়। তাঁর সঙ্গে যার যেমন ভাব, তার তেমন লাভ। তাঁকে ভক্ত যেভাবে দেখতে চান, যেভাবে সেবা করতে চান, যেভাবে ভজনা করতে চান, তিনি সেভাবেই নিজেকে প্রকাশিত করেন। জগন্নাথের এত বৈচিত্র্য, এত বহুমুখী প্রকাশ রয়েছে বলেই তিনি ওড়িশার রাষ্ট্রদেবতা হয়েও সর্বভারতের, তিনি আন্তর্জাতিক। জগন্নাথের শ্রীমন্দিরে যার প্রবেশাধিকার নেই, তার ঘরেও জগন্নাথ পৌঁছে যান নিজে। এত বিচিত্র, এত মুক্তমনা দেবতা আর কোথায়। এই জন্যই জগন্নাথ সংস্কৃতি উৎকলের ভৌগলিক সীমারেখা পেরিয়ে আজ আন্তর্জাতিক হয়ে উঠতে পেরেছে।

জগন্নাথ নিত্যনতুন। তিনিই চিরপুরাতন। কিন্তু তিনি একঘেয়ে নন। বৈচিত্র্যময় শৃঙ্গারে জগন্নাথ নব নব রূপে আসেন প্রাণে। এত বৈচিত্র্যময় শৃঙ্গারে জগন্নাথের সেজে ওঠা সাধারণ বিষয় নয়। জগন্নাথ এক জায়গায় থেমে থাকেন না। তিনি বহুভাবের সংশ্লেষ করেন বলেই তিনি সকলের হৃদয়ের এত কাছে। তিনি শুধু বৈষ্ণবের নন, তিনি শাক্তের আরাধ্য, তিনি শৈবের আরাধ্য, গাণপত্যের আরাধ্য, সৌরের আরাধ্য, এমন তিনি আরাধ্য বৈদান্তিকের। তিনি আরাধ্য বৌদ্ধের, জৈনের, শিখের। তিনি আর্যের, তিনি অনার্যের আরাধ্য। ইদানীং তিনি অভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছেও বরণীয় হয়ে উঠেছেন। প্রত্যেক মতের পথিকই জগন্নাথকে নিজের বলে দাবি করেছেন। জগন্নাথ এক মুক্ত প্রবাহ, সবাই যে যার ঘাটে বসে ভাবছেন, এ জল আমাদের, এ নদী আমাদের। আর জগন্নাথও নিজেকে বহুরূপে প্রকাশিত করে সবাইকে আপন করে নিয়ে চলেছেন। আরও অনেক শতাব্দী কেটে যাবে। জগন্নাথ আরও নতুন নতুন শৃঙ্গার করে আমাদের সামনে আসবেন, আবার কত বেশ শৃঙ্গার থেমেও যাবে। কিন্তু যতদিন ওড়িশা প্রদেশ থাকবে, যতদিন ওড়িশাবাসীর হৃদয়ে তাদের প্রাণভ্রমর জগন্নাথের প্রতি প্রেম থাকবে, যতদিন সমৃদ্ধশালী ধ্রুপদী ওড়িআ ভাষা থাকবে, ততদিন মহিমাময় জগন্নাথও থাকবেন, তাঁর বৈচিত্র্যময় শৃঙ্গারও থাকবে। সবশেষে জগন্নাথের প্রতি আস্থা রেখে ‘পঞ্চাক্ষরীজগন্নাথস্তোত্রম্’-এর মধ্য দিয়ে চিরপ্রাচীন চিরনবীন জগন্নাথকে অনুভব করি :

পরমব্রহ্মায় পরমাত্মায় বেদান্তবেদ্যায় জ্ঞানাতীতায়।
আদিপুরুষায় বিশ্বরূপায় তস্মৈ জ-কারায় জগন্নাথায়।।
পুরুষোত্তমায় ভক্তিপ্রদায় গরুড়ধ্বজায় লক্ষ্মীনাথায়।
দশাবতারায় জগদ্ধিতায় তস্মৈ গ-কারায় জগন্নাথায়।।
রাজীবনেত্রায় শঙ্খধরায় লোকপালকায় চক্রধরায়।
দুঃখদহনায় মোক্ষপ্রদায় তস্মৈ ন্না-কারায় জগন্নাথায়।।
চন্দনরাগায় মেঘবর্ণায় ভক্তবল্লভায় পীতাম্বরায়
রিপুদলনায় রথারূঢ়ায় তস্মৈ থা-কারায় জগন্নাথায়।।
ত্রিগুণাতীতায় গুণপ্রদায় প্রপঞ্চহরায় কালান্তকায়।
নিত্যবন্দনায় স্তুতিত্তীর্ণায় তস্মৈ য়-কারায় জগন্নাথায়।।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫৪. যমেশ্বর বিশ্বেশ্বর 🌼 মার্কণ্ডেশ্বর সরোবর মাহাত্ম্য 🌼 মার্কণ্ডেশ্বর মহাদেব 🌼 বটবৃক্ষ 🌼 রৌহিণী কুণ্ড 🌼  কপোতেশ্বর 🌼 শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(১) 🌷 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(১):-----
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
যমেশ্বর বিশ্বেশ্বর:---
মহাদেব চতুঃষষ্টিতম বাসনা সংযত দ্বারা যমের সংযম নষ্ট করিয়া যমভয় নিবারক নামে সমুদ্রতটে অবস্থান করিতেছেন । ইহারদর্শন ও পূজা করিলে কোটি শিবলিঙ্গ পূজার ফল প্রাপ্ত হওয়া যায় ।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
মার্কণ্ডেশ্বর সরোবর মাহাত্ম্য: --- 
মহর্ষি মার্কণ্ডের ভগবান কর্তৃক তীর্থ নিৰ্ম্মাণে আদিষ্ট হইয়া অক্ষয়বটের বায়ুকোণে সুদর্শন চক্রদ্বারা এক সরোবর নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন । ইহা হরিরখাত নামে অভিহিত । প্রতি বৎসর বারুণী উপলক্ষে তথায় স্নান করিতে হয় ।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
মার্কণ্ডেশ্বর মহাদেবের বিবরণ:----
ইনি মার্কণ্ডেয় সরোবর তীরে প্রতিষ্ঠিত । মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন ইহার পাষাণ-মন্দির নির্ম্মাণ করিয়া দিয়াছিলেন । ইহাকে দর্শনাদি দ্বারা অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয় ।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
বটবৃক্ষ:----
মহর্ষি মার্কণ্ডেয় বটবৃক্ষোপরি যে বালকমূৰ্ত্তি দেখিয়াছিলেন, যাঁহার উদর মধ্যে প্রবেশ ও পুনঃ বহির্গত হইয়াছিলেন, তিনিই বটবৃক্ষ । বটবৃক্ষ পাষাণ মূর্ত্তি পরিগ্রহ করিয়া অক্ষয়বটের নীচে অবস্থান করিতেছেন। তাঁহার দর্শনে কালভয় দূর হয় ।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
রৌহিণী কুণ্ড:----
শঙ্খের নাভিদেশে এইকুণ্ড অতি পবিত্র কারণ বারি পূর্ণ । প্রলয়কালে সমুদ্রের জল বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইলে রৌহিণী কুণ্ডের কারণ-সলিল ও বৰ্দ্ধিত হইয়া কুণ্ডের বিলীন হইয়াছিল । এইজন্য এই পবিত্র কুণ্ডের নাম রৌহিণী কুণ্ড হইয়াছে । এক্ষণে রৌহিণী কুণ্ডে স্নান করিবার উপায় নাই । উহার জল স্পর্শ, পান, মস্তকে অর্পণ করিতে হয় । ইহার জল পান করিয়া বৃদ্ধ কাক পক্ষী শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী চতুর্ভুজ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন ।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
কপোতেশ্বর:---
বিরানমণ্ডল ও নীলাচলের মধ্যে কুশস্থলী নামে এক সুবিস্তৃত স্থান ছিল । তথায় জলাশয় বা বৃক্ষাদি না থাকাতে অতি ভীষণ বলিয়া প্রতীয়মান হইত । মহাদেব জগন্নাথের তপস্যাদি দ্বারা জগতে পূজা হইতে অভিলাষী হইয়া তথায় জলাশয়াদি খনন করিয়া ও নানা প্রকার বৃক্ষলতাদির উদ্যান করিয়া কুশস্থলীকে অতি সুন্দর স্থান করিয়া তুলেন, পরে কঠোর তপঃক্লেশ কপোতাকার ধারণ করিয়াছিলেন । এজন্য ভগবানের প্রসাদে তিনি কপোতেশ্বর নামে পূজিত হন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫৫. স্বর্গদ্বার 🌼 গোবর্দ্ধন বা শঙ্কর মঠ 🌼 শ্বেত—মাধব 🌼 শ্বেত-গঙ্গা 🌼 মুক্তি-মণ্ডপ 🌼 শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(২) 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(২):-----
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
স্বর্গদ্বার:-
মন্দিরের সম্মুখ দিয়া যে পথটি ক্রমশঃ সমুদ্রের দিকে গিয়াছে, তাহা দিয়া অল্প দূর গেলে স্বর্গদ্বার পাওয়া যায় । এই ক্ষেত্র হইতে মালব রাজ শ্রীমন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মার নিকটে স্বর্গে গমন করেন। তাহা হইতে এই স্থানের নাম স্বর্গদ্বার। এই স্বর্গদ্বারে যাহা দেখিবার আছে নিম্নে লেখা হইল ১। নিমাই চৈতন্যের মঠ। ২। বিদুরাশ্রম মুলুকদাস বাবাজীর মঠ—এখানে খুদের ভাত ও শাকভাজা বিতরিত হয়। ৩। স্বর্গদ্বার সাক্ষী । ৪। কানপাতা হনুমান । ৫। সুদামপুরী । ৬। নানকপন্থীর মঠ—এই স্থানে পাতালগঙ্গা নামে মঠ আছে । শ্মশ্রুধারী গুরু নানককে যবন মনে করিয়া মন্দির হইতে বহির্গত করিয়া দেওয়া হইলে, তিনি এই স্থানে আসিয়া ভগবানের ধ্যান করেন । ভগবান সন্তুষ্ট হইয়া স্বয়ং তাঁহাকে স্বর্ণথালে প্রসাদ আনিয়া দেন পদ দ্বারা কুপ খনন করিয়া গঙ্গাদেবীকে আনেন, ইহাকে গুপ্তগঙ্গা বলে । যাত্রীগণ এই পবিত্র জল স্পর্শ করে । পাঞ্জাবের রাজা মহাসিংহ ইহার কপাট করিয়া দিয়াছেন । (৭) কবির-পন্থি মঠ—কবিরের কাষ্ঠ পাদুকা ও জপমালা পূজিত ও প্রদর্শিত হয় এখানে আমানি প্রসাদের ব্যবস্থা আছে । 
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
গোবর্দ্ধন বা শঙ্কর মঠ:-
স্বর্গদ্বারের অর্দ্ধ মাইল অন্তরে বালিসাহিয়ে অবস্থিত । মন্দিরের ভিতর শঙ্করাচার্য্যের একটি প্রস্তর মূর্তি আছে । এখানে বেদাধ্যান হয় । এখানে ব্রাহ্মীমূৰ্ত্তি, বৈষ্ণবী, বরাহী, ইন্দ্রাণী, চামুণ্ডা, চণ্ডিকা, কৃষ্ণা প্রভৃতি মূৰ্ত্তি আছেন ।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
শ্বেত—মাধব:-
শ্বেতরাজ ত্রেতাযুগে শত বৎসর অনশন থাকিয়া মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন সহ জগন্নাথদেবের পূজার্চ্চনা দ্বারা বর প্রসাদে ভগবানের স্বারূপ্য প্রাপ্তে তদীর আদি অবতার মৎস্য মূর্ত্তির সহিত নিৰ্ম্মল স্ফটিকবৎ শ্বেত-গঙ্গা সরোবরের সন্নিধানে স্থিতি করিতেছেন । তাঁহার দর্শনে মহা পূণ্যলাভ হয়।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
শ্বেত-গঙ্গা মাহাত্ম্য:-
অক্ষয়বট ও সমুদ্রতট মধ্যে যে সরোবর আছে, তাহাকে শ্বেতগঙ্গা কহে । শ্বেতমাধবের নামানুসারে ইহা খ্যাত । শ্বেত গঙ্গাতে স্নান করিয়া ভগবানের মৎস্যরূপ ও শ্বেতমাধব মূৰ্ত্তিদর্শনে মানব মোক্ষপ্রাপ্ত হয় ।
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
মুক্তি-মণ্ডপ:-
নৃসিংহদেবের নিকট অবস্থিত । এইখানে মৃত্যু হইলে ব্রহ্মের সাযুজ্য লাভ হয় । এই স্থানে অনুষ্ঠিত পূণ্যকাৰ্য্য কোটিগুণ ফলদান হয়।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫৬. শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ(শ্রীশ্রীগম্ভীরা) 🌼 সিদ্ধ বকুল 🌼 শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(৩) 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ(শ্রীশ্রীগম্ভীরা) :- শ্রীশ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ বা শ্রীশ্রীগৌর গম্ভীরা। এক সময় ওড়িশার রাজা প্রতাপরুদ্র দেবের রাজগুরু কাশী মিশ্রের বাড়ি ছিল এই মন্দিরটি। এই মন্দির রাধাকান্ত মঠ নামে পরিচিত হবার কারণ এখানে শ্রীরাধাকান্ত দেবের শ্রীবিগ্রহ সেবা-পূজা চলে আসছে এবং শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত বা শ্রীচৈতন্যভাগবত আদি গ্রন্থে নীলাচল ধামে শ্রীমন্ মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী এই সেই মন্দির তাহার জন্য এই মন্দিরের নাম শ্রীশ্রীগৌর-গম্ভীরা নামেও পরিচিত। এই মন্দিরটি কাশী মিশ্রের আলয় অর্থাৎ গৃহ হবার কারণে কাশীমিশ্রালয় নামেও অভিহিত হয়ে থাকে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু এই লীলাস্থলীতে গম্ভীর লীলা অর্থাৎ গোপন লীলা করেছিলেন তাই এই লীলাকে গম্ভীরা লীলা নামেও বলা হয়ে থাকে। এই লীলাস্থলীতে প্রভুর সকল ব্যাবহৃত সামগ্রী সংরক্ষিত আছে। সুধী ভক্তজনের এই লীলাস্থলীতে পদার্পণ মাত্রেই এবং দর্শন মাত্রে সর্বাঙ্গে রোমাঞ্চ জন্মাবেই। 
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীশ্রীরাধাকান্ত দেবের সংক্ষিপ্ত পরিচয় 🙏  শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_85.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীগৌর গম্ভীরা পরিচয় 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/pdf-httpswww.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

সিদ্ধ বকুল:- জগন্নাথ মন্দির থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে সিদ্ধ বকুল অবস্থিত। গম্ভীরা থেকে কিছুটা দূরেই এই মন্দিরের অবস্থান। এটি মূলত এক কুটির এবং তৎসংলগ্ন একটি বকুল গাছ, এগুলি দেখতেই দর্শনার্থীদের ভিড় হয় এখানে। এই কুটির বিখ্যাত বৈষ্ণব ভক্ত যবন হরিদাসের কুটির বলে খ্যাত। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর সহিত থাকতে না পেরে রূপ ও সনাতন গোস্বামীও এই কুঠিরে রাত্রি যাপন করতেন। পাঁচশো বছরের পুরোনো মূল বকুল গাছটির ডালে ভক্তরা মনস্কামনা পূরণের জন্য ঢিল বেঁধে যান।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫৭. টোটা গোপীনাথ 🌼 গঙ্গামাতা মঠ  🌼 শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(৪) 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
টোটা গোপীনাথ:- টোটা গোপীনাথ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের এক অন্যতম পীঠস্থলী। জগন্নাথ মন্দির হইতে কিছু দূরে কলিযুগবতার শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিত্য পার্ষদপ্রবর মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীগদাধর পণ্ডিত প্রভুর নিবাসস্থলী। শ্রীগদাধর প্রভুর ক্ষেত্র সন্যাস হবার কারনে এই মন্দিরেই তাহার গোপীনাথের সেবা করিয়া তেনার লীলা প্রকাশ করেন। কথিত আছে এই শ্রীটোটাগোপীনাথ এবং শ্রীরাধাকান্তদেব পূর্বে কাঞ্চি রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ছিলো। পরবর্তীতে শ্রীক্ষেত্রে গদাধর প্রভু কর্ত্তৃক এই শ্রীবিগ্রহের সেবা-পূজা প্রকাশ পায়।
🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩

গঙ্গামাতা মঠ: - জগন্নাথ মন্দির হইতে কিছু দূরেই গঙ্গামাতা মঠ অবস্থিত। শ্বেত গঙ্গার পাশেই এই মহাপীঠ, এটি মূলত শ্রীবাসুদেব সর্বভৌম ভট্টাচার্যের নিবাসস্থলী। এই মন্দিরেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু সার্বভৌম ভট্টাচার্যকে তাঁহার ষড়ভূজ রূপের দর্শন দিয়েছিলেন। মহাপ্রভু সন্যাস ধর্ম গ্রহণ করে নীলাচলে পদার্পণের পর প্রথম এই মন্দিরেই তিনি তেঁনার লীলা প্রকাশ করেন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫৮. লোকনাথ মন্দির 🌼 গোবর্ধন মঠ 🌼 শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(৫) 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
লোকনাথ মন্দির – জগন্নাথ মন্দির থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে এই লোকনাথ মন্দির অবস্থিত। জগন্নাথ মন্দিরের কাছে যারা অবস্থান করবেন, তাঁরা হেঁটেই চলে যেতে পারেন এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য জড়ানো স্থানটিতে। ভগবান লোকনাথ এখানে লিঙ্গের আকারে পূজিত হন। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে স্বয়ং ভগবান রাম এই মন্দিরের লিঙ্গটি স্থাপন করেছিলেন। এখানে শিবরাত্রির অনুষ্ঠান খুব জাঁকজমকপূর্ণভাবে হয়। লোকনাথ মন্দিরের চারটি অংশ রয়েছে, সেগুলো হল বিমান, জগমোহন, নাটমণ্ডপ এবং ভোগমণ্ডপ। চত্বরের মধ্যে সত্য-নারায়ণ মন্দিরে বিষ্ণু, লক্ষ্মী এবং বেশ কিছু বিগ্রহ সংরক্ষিত আছে।

গোবর্ধন মঠ – জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গোবর্ধন মঠ পুরীর অন্যতম একটি আকর্ষণ। ভারতীয় দার্শনিক এবং পণ্ডিত আদি শঙ্করাচার্য ভারতের চারটি দিকে চারটি বেদকে উৎসর্গ করে চারটি পীঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভারতের পূর্বে পুরীতে ঋগ্বেদকে উৎসর্গ করে গোবর্ধনপীঠ প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণে কর্ণাটকের শৃঙ্গেরিতে যজুর্বেদকে উৎসর্গ করে শারদাপীঠ, পশ্চিমে গুজরাটে সামবেদকে উৎসর্গ করে দ্বারকাপীঠ এবং উত্তরে বদ্রীনাথে অথর্ববেদকে উৎসর্গ করে জ্যোতির্মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। আনুমানিক নবম শতকে গোবর্ধন মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জানা যায়। এই মঠ স্বর্গদ্বারে অবস্থিত। এখানে আদি শঙ্করাচার্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত গোবর্ধননাথ কৃষ্ণ এবং অর্ধনারীশ্বর শিবের বিগ্রহ রয়েছে। এছাড়াও এই মঠে রয়েছে বিমলা মাতার মন্দির।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৫৯.  গুন্ডিচা মন্দির (জগন্নাথের মাসির বাড়ি) 🌼 নরেন্দ্র সরোবর 🌼 মৌসিমা মন্দির 🌼 শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(৬) 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
গুন্ডিচা মন্দির (জগন্নাথের মাসির বাড়ি) – জগন্নাথ মন্দির থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই গুন্ডিচা মন্দির। এই মন্দিরকে জগন্নাথের মাসির বাড়িও বলা হয়ে থাকে। এই মন্দিরটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে কারণ রথযাত্রার দিন জগন্নাথ মন্দির থেকে যাত্রা করে এই গুন্ডিচা মন্দিরেই রথ এসে থামে এবং সাতদিন এই গুণ্ডিচা মন্দিরেই জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শন সহ সকলের আরাধনা করা হয়। সাতদিন পর শ্রীবিগ্রহকে শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়, যা বাংলায় "উল্টোরথ" নামে পরিচিত। 

নরেন্দ্র সরোবর – জগন্নাথ মন্দির থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত নরেন্দ্র সরোবর। ওড়িশার বৃহত্তম সরোবরগুলোর একটি হল এই নরেন্দ্র সরোবর। চন্দন যাত্রা উৎসব উপলক্ষে এই জায়গায় প্রচুর ভক্তের আগমন হয়। এই সরোবরের জলে ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবকে স্নান করানো হয়।

মৌসিমা মন্দির – জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মৌসিমা মন্দিরটি পুরীর গ্র্যান্ড রোডে অবস্থিত। কিংবদন্তি অনুসারে দেবী মৌসিমা সমুদ্রের অর্ধেক জল পান করে পুরীকে বন্যা থেকে রক্ষা করেছিলেন। মন্দিরটিতে জটিল ও সূক্ষ্ম স্থাপত্য এবং কারুকার্যগুলি খুব সুন্দর।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 ৬০. শ্রীশ্রীহরিদাস ঠাকুর সমাধি মন্দির 🌼 শ্রীক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থান(৭) 🌼 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 ষষ্ঠ ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীশ্রীহরিদাস ঠাকুর সমাধি মন্দির:-
নীলাচলে শ্রীগম্ভীরা মন্দিরের সন্নিকটে সিদ্ধ বকুল কুঞ্জে নামাচার্য্য হরিদাস ঠাকুর তিনি ভজন করতেন। তিনি তাহার ভজনের দ্বারা ভগবানের "শ্রীনামকে" সিদ্ধ করেছিলেন বলে তাহার "নামাচার্য্য" নামের প্রকাশ। শ্রীমন্ মহাপ্রভু গোবিন্দকে দিয়ে হরিদাস ঠাকুরের উদ্দেশ্যে শ্রীজগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ নিত্য প্রেরণ করতেন এবং প্রাতে সমুদ্র পথে হারিদাস ঠাকুরের ভজন কুঠি "সিদ্ধ বকুল" লীলাস্থলীতে তাহার সহিত সাক্ষাৎ করতেন। যখন হরিদাস ঠাকুর নিজ ইচ্ছায় তাহার লীলা সমাপ্তি করলেন তখন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু হরিদাস ঠাকুরের দেহটিকে নিজ কোলে তুলে সমুদ্রতীরে নিয়ে গেলেন। হরিদাস ঠাকুরকে স্নান সহ কিছু ক্রিয়াকলাপের পর সমুদ্রতীরে সমাধি স্থাপন করলেন, তারপর দেহটিকে নুতন বস্ত্র, পুস্প, চন্দন দিয়ে সাজিয়ে ও জগন্নাথদেবের মন্দিরের কিছু পবিত্র সূত্র স্থাপন করে, মহাপ্রসাদ অর্পণ করে শ্রীমন্ মহাপ্রভু সকল ভক্ত সনে নাম কীর্তনের মাধ্যমে হরিদাস ঠাকুরকে সমাধিস্থ করেছিলেন। এই লীলাস্থলীটি বর্তমানে হরিদাস সমাধি মন্দির নামে পরিচিত। 

এই বাঞ্ছা হয় মোর বহুদিন হইতে।
লীলা সম্বরিবে তুমি লয় মোর চিতে।।
সেই লীলা প্রভু মোরে কভু না দেখাইবে।
আপনার আগে মোর শরীর পড়িবে।।
শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, একাদশ অধ্যায়, অন্ত্যলীলা

হরিদাস নিজাগ্রেতে প্রভুরে বসাইলা ।
নিজ নেত্র দুই ভৃঙ্গ মুখপদ্মে দিলা ৷৷
স্বহৃদয়ে আনি ধরিল প্রভুর চরণ।
সর্ব্বভক্ত পদরেণু মস্তকে ভূষণ ।।
শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্য শব্দ বলে বার বার ।
প্রভুমুখমাধুরী পিয়ে নেত্রে জলাধার ।।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম করিতে উচ্চারণ।
নামের সহিত প্রাণ করিল উৎক্রামন ।।
মহাযোগেশ্বর প্রায় স্বছন্দে মরন (ইচ্ছামৃত্যু)।
ভীষ্মের নির্য্যান সবা হইল স্মরণ ।।
শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, একাদশ অধ্যায়, অন্ত্যলীলা

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ লীলামৃত 📝 সপ্তম ভাগ 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧



আনন্দকন্দ নিত্যানন্দ 🌼 শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর পূর্ণাঙ্গ জীবনী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/nityananda.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

আনন্দকন্দ নিত্যানন্দ 🌼 শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর পূর্ণাঙ্গ জীবনী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/nityananda.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
_*পড়তে হয় নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়।*_

*জানতে হলে পড়তে হবে।*

প্রভু নিত্যানন্দের বাঙ্ময় বিগ্রহ  *"আনন্দ কন্দ নিত্যানন্দ"* এই গ্রন্থে প্রভু নিত্যানন্দের বাল্যলীলাস্থলীর বিষদ বিবরণ সহ গৃহত্যাগের পরে  প্রায় 87 টি তীর্থস্থানের বিবরণ যা এক কথায় ভারতবর্ষের তীর্থ স্থানের *গাইড বুক* বলা যেতে পারে।

_*মহাপ্রভুর আদেশে শ্রীগৌড়মন্ডলে কিভাবে নাম প্রচার করেছিলেন, অজ্ঞানে আচ্ছন্ন লোকদের ভিতর কিভাবে আত্মকল্যান চেতনার উন্মেষ করেছিলেন, তাদের সমষ্টি-মঙ্গলের জন্য কিভাবে  এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিভাবে উদ্ধার করেছিলেন সেকালের দস্যু তস্করদের, শুধু তাই নয় কিভাবে নিম্নস্তরের অবহেলিত নিপীড়িত মানুষদের সমান অধিকার দিয়ে মনুষ্যত্বের আসনে বসিয়েছিলেন, মানুষদের তৃণমূল স্তর থেকে তুলে এনে জাতীয় চেতনার উন্মেষ করে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, বাঙালি হিন্দু সমাজকে জাগ্রত করে ইসলামিক জিহাদী বর্বরদের উৎপীড়ন ও ধর্মান্তরণ থেকে রক্ষা করেছিলেন, কিভাবে আত্মার কল্যাণ সাধিত হয়, সেজন্য আধ্যাত্মিক ( Spiritual journey ) উন্নতি কল্পে,   চরম লক্ষ্যে (Ultimate goal) পৌঁছানোর মন্ত্র শিখিয়েছিলেন, কি সেই মন্ত্র?*_

 *আর এক অদ্ভুত ব্যাপার, মার খেয়ে, মাথার রক্ত দিয়েও সকলকে ভালোবেসে ছিলেন, বুকে তুলে নিয়েছিলেন, এ  এক বিরল দৃষ্টান্ত। না কোন যুগে হয়েছে না আর কোনদিন হবে।*

 _*মহাপ্রভুর আজ্ঞা শিরোধার্য করে কিভাবে কোথায় বিবাহলীলা হয়েছিল, বিবাহের পরে কোথায় কোথায় অবস্থান করেছিলেন, কোথায় কিভাবে অন্তর্ধ্যান লীলা করেছিলেন, শাস্ত্র প্রমাণসহ যথাযথ রূপে  এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।*_

কেউ বলতে পারেন, আমরা দৈনিক ই মোবাইলে এসব পড়ি। পড়েন ঠিকই, কিন্তু হৃদয়ে কতখানি স্থায়ী হয়, সে বিষয়ে সংশয় আছে। একটা ভালো বিষয় পড়লেন, তারপরে হঠাৎ একটা কুদৃশ্যে নজর গেল, ব্যস্ সব গুলিয়ে গেল।
 
_*এজন্য শুদ্ধ বস্ত্রে আচমন করে ঠাকুরের সামনে বসে গ্রন্থ অনুশীলন করলে তবেই বাস্তবিক আত্মকল্যাণ সম্ভব।*_
_*সারাটি জীবন সংসারের জন্য দিয়ে দিলেন, সময় আর হয়ে উঠলো না হরি ভজনের। জীবনে যা করা হলো তা কি সাথে যাবে? এগুলো এখন ভাবতে হবে। এখন নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য একটি ঘন্টা অন্তত দিন। সারাদিনে ২৪ ঘন্টায় একটি ঘন্টা অন্তত নিজের জন্য রাখুন !সেই সময় গ্রন্থ অনুশীলন, শ্রী নাম জপ আদিতে ব্যয় করুন।।       ।।মঙ্গল হবে।।*_

*জয় নিতাই!*  *জয়গুরু।।*

_*প্রভু নিত্যানন্দের কৃপা লাভের জন্য এটি প্রিয়জনদের নিকট শেয়ার করুন।*_
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds