✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১)💧বৈষ্ণব রস-সাহিত্য💧*
*👥ভাবোল্লাস👥*
•••••••••••••••••••••••••••
*আজু রজনী হাম, ভাগে পোহাইলুঁ,*
*পেখলুঁ পিয়া মুখ চন্দা।*
*জীবন যৌবন, সফল করি মানলুঁ,*
*দশ দিশ ভেল নিরদন্দা।।*
*🍀বিদ্যাপতির এই প্রসিদ্ধ পদটি ভাবোল্লাসের পদ বলে উল্লিখিত হয়। ভাবোল্লাস বলতে আমরা বুঝি যে,দীর্ঘ বিরহ যখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে,মন যখন আর কিছুতেই প্রবোধ মানতে চাইছে না, তখন শ্রীরাধিকা অন্তশ্চিত্তে (মনের ভেতরে) মিলন-সুখ অনুভব করে কৃতার্থ হচ্ছেন।দৈহিক মিলনের পরিবর্তে এখানে আত্মিক মিলনই বর্ণনীয়। বিদ্যাপতি সুকৌশলে তাই এই আত্মিক মিলন ঘটিয়েছেন। সখি!আমি আজ (গত) রজনী ভাগ্যে কাটালাম।কেন না,আমি স্বপ্নে আমার প্রিয়তমের চন্দ্রবদন দেখেছি।দেখে আমি জীবন যৌবন সফল বলে গণ্য করলাম। সমস্ত সংশয় কুহেলিকা (কুয়াসা বা অন্ধকারময়) দূর হল এবং দুঃখের ঘনঘটা কেটে গিয়ে দশদিক প্রসন্ন হল।*
*আজু মঝু গেহ, গেহ কলি মানলুঁ,*
*আজু মঝু দেহ ভেল দেহা।*
*আজু বিহি মোহে,অনুকূল হোয়ল,*
*টুটল সবহু সন্দেহা।।*
*🌹আজ স্বপ্নে প্রিয়তম এসেছেন,এজন্য আমি গৃহ--গৃহ বলে মানলাম--এতদিন এ গৃহ তাঁর বিরহে শ্মশান-সম হয়েছিল। আমার দেহ আজ দেহ বলে মনে করছি--এতদিন দেহের কোনও সার্থকতা ছিল না।*
*সোই কোকিল অব, লাখ ডাকউ,*
*লাখ উদয় করু চন্দা।*
*পাঁচ বাণ অব, লাখ বাণ হোউ,*
*মলয় পবন বহু মন্দা।।*
*🌻চন্ডীদাসের পদেও আছে=*
*🌷গগনে উদয় হউক চন্দ।*
*🌷মলয় পবন বহুক মন্দ।।*
*🌷কোকিল আসিয়া করুক গান।*
*🌷ভ্রমরা ধরুক তাহার তান।।*
*👥মিলনে এই সব প্রেমোদ্দীপক উপাদানের প্রয়োজন আছে।এখন মদনের পাঁচ বাণ লক্ষ বাণ হলেও ক্ষতি নাই।*
*🍀বিদ্যাপতি এই ভাবোল্লাসের স্রষ্টা বললে বেশী বলা হবে না।বিদ্যাপতির উপরি লিখিত পদটি এবং সুপ্রসিদ্ধ "হরি যব আওব গোকুলপুর। ঘরে ঘরে নগরে বাজব জয় তূর "।। অথবা "অঙ্গনে আওব যুব রসিয়া। পলটি চলব হম ঈষৎ হসিয়া।। অথবা "পিয়া যব আওব এ মঝু গেহে। মঙ্গল যতহুঁ করব নিজ দেহে"।।শ্রীরাধিকা মনে মনে এই যে মিলন-মহোৎসবের কল্পনা করে হর্ষোৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন, কোথায়ও এর তুলনা আছে বলে আমি জানি না।বৈষ্ণব সাহিত্যেও এর তুলনা বেশী নেই। বিদ্যাপতি এর প্রবর্তক, এইজন্য মনে হয় যে,অন্য সকলের পদে বিদ্যাপতির মুদ্রাঙ্কই দেখতে পাই।বৈষ্ণব কবিদের মধ্যে দেখা যায় যে,এক এক জন কবি এক এক বিষয়ের রচনায় সিদ্ধ।যেমন চন্ডীদাস পূর্বরাগে,গোবিন্দ দাস অভিসারে,নরোত্তম দাস প্রার্থনায়, বিদ্যাপতি প্রার্থনার পদেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়। কিন্তু তাঁর ভাবোল্লাস পদগুলিতে এমনই একটি অজ্ঞাতপূর্ব বৈশিষ্ট্যের সাক্ষাৎ পাই যে,সমগ্র বৈষ্ণব সাহিত্যেও তা দুর্লভ।*
*☘সাহিত্যদর্পণে ভাবোল্লাসের কোনও প্রসঙ্গ নাই। উজ্জ্বলনীলমণিতেও দেখেছি বলে মনে হয় না। বিদ্যাপতি এই পদগুলিকে কোথায়ও ভাবোল্লাস আখ্যা দিয়েছেন কি না তাও জানি না।রাধামোহন ঠাকুরের পদামৃত সমুদ্রে ভাবোল্লাস কথাটির সঙ্গে বোধহয় প্রথম পরিচয় লাভ করা যায়। "ভাবোল্লাস" রসপর্য্যায়ে তিনি অনেকগুলো পদ দিয়েছেন।*
*🍁রাধামোহন ঠাকুর যে ভাবে এই পদগুলির অবতারণা করেছেন,তাতে মনে হয় যেন গায়কদের মধ্যে এই নামটি সুপরিচিত ছিল।কেন না, তিনি টীকায় বলেছেন, "অথ ভাবোল্লাস-গান-নির্ব্বাহকং তদ্ ভাবাক্রান্তং শ্রীমদ্ গৌরচন্দ্রং "আজহু শচীসুত " ইত্যাদিনা স্মরতি"। ভাবোল্লাস সম্বন্ধে টীকায় বেশী কিছু নির্দেশ তিনি দেননি।শুখু এই মাত্র বলেছেন, "ভাবোল্লাসোহয়ং ভাবি সমৃদ্ধিমদ্ রসস্যাঙ্গভূতত্বাৎ তদ্ রস এবেতি জ্ঞেয়ঃ"। অর্থ্যাৎ ভাবী ( ভবিষ্যৎ ) সমৃদ্ধিমান রসের অঙ্গ বলে এটি সেই রস বলেই বুঝতে হবে।সমৃদ্ধি বা সমৃদ্ধিমান সম্ভোগ রসশাস্ত্রের পারিভাষিক শব্দ। "দুর্লভালোকয়োযুনোঃ পারতন্ত্র্যাৎ বিযুক্তয়োঃ উজ্জ্বল-নীলমণির এই শ্লোকের ব্যাখ্যায় শ্রীজীব গোস্বামী তাঁর লোচনরোচনী টীকায় বলেন ; "ঋদ্ধি শব্দস্তাবৎ সম্পন্নতা-বাচকঃ, তত্র সমিত্যুপসর্গে আধিক্যং মতুপ্ প্রত্যয়স্য প্রশংসাতিশয়নিত্যযোগ প্রত্যায়নং তু ততোহপ্যধিকং দর্শয়তি"।তাহলে বুঝা যায় যে, সুচির বিরহের পরে যে মিলন হল, তাতে উপভোগ বা আনন্দাতিশয্য থাকায় তাকে সমৃদ্ধিমান সম্ভোগ বলে। শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী তাঁর আনন্দচন্দ্রিকা টীকায় এই কথায় বলেছেন ; "সুদূর প্রবাসবসাৎ বিরহিণোর্যুনোর্নায়িকানায়কয়োঃ•••••• উপভোগাস্যাতিরেক আধিক্যং স সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ কীর্ত্ত্যতে "। এই সমৃদ্ধিমান সম্বোগ যদি শ্রীরাধামোহন ঠাকুরের "সমৃদ্ধিমদ্ররসঃ" হয়,তবে ভাবোল্লাসের অর্থ দাঁড়ায় যে সুদীর্ঘ বিরহের পর যে মিলন আনন্দ উপভোগের আতিশয্য তারই নাম ভাবোল্লাস।*
*🍀বৈষ্ণব সাহিত্যে ভাব অনেক জায়গায় প্রণয়ের নামান্তর মাত্র।অতএব ভাবোল্লাস অত্যধিক প্রণয়ের আনন্দ উচ্ছ্বাস। এই অর্থ গ্রহণ করলে বিরহের পর মিলনের সমস্ত পদকেই ভাবোল্লাস বলে ধরা যেতে পারে। কিন্তু অনেকগুলো শ্রেষ্ঠপদে অন্যরকম ভাবও দেখা যায়।সেসব পদে কবি কল্পনায় আনন্দ উপভোগ করাচ্ছেন মিলনের পূর্বে।🌹প্রিয় আসবেন, এই স্বপ্ন দেখে শ্রীমতী রাইধনি অধীরা হয়েছেন। তাঁর আগমন-সম্বন্ধিনী আশায় উৎফুল্ল হয়ে উপভোগের ও অভ্যর্থনার নানা উপচার মনে মনে রচনা করছেন, অথবা নানা সুলক্ষণ দেখে প্রিয়তমের আগমন সম্বন্ধে সুনিশ্চিত হয়ে তাঁর সম্বর্দ্ধনার জন্য আয়োজন করছেন। কাকের কর্কশ স্বরও আজ কানে মধু বর্ষণ করছে।কাকের যতই দোষ থাক, ভবিষ্যদ্বেত্তা বলে তার খ্যাতি আছে।তাই জ্ঞানদাস বলছেন=*
*আজু পরভাতে, কাক কলকলি,*
*আহার বাটিয়া খায়।*
*বন্ধু আসিবার, নাম সুধাইতে,*
*উড়িয়া বৈসয়ে তায়।।*
*🍁বিদ্যাপতি বলেছেন, কাক,তোমার চঞ্চু সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দিব-- যদি বন্ধু আজ আসেন।*
*সোনে চঞ্চু বঁধএ, দেব মোঞে বাঅস,*
*জঞো পিয়া আওত আজ রে।*
*🌳আরও কত সুলক্ষণ প্রিয়তমের আগমন সূচনা করছে=*
*বামভূজ আঁখি, সঘনে নাচিছে,*
*হৃদয় উঠিছে সুখ।*
*প্রভাত স্বপন, প্রতীত বচন,*
*দেখিব পিয়ার মুখ।।*
*(বংশীদাস)*
*🍀হাতের বাসন খসে পড়ছে,দুইজনার মুখে যুগপৎ একই কথা, "বন্ধু আসিবার ঠিকন সুধাইতে" নাগিনী মাথা নাচাচ্ছে, এ সব শুভ লক্ষণ কি কখনও বৃথা হতে পারে?*
*🌷খঞ্জন কমলিনি সঙ্গ।*
*🌷পুলকে পুরয়ে সব অঙ্গ।।*
*🌷বাম নয়ন করু কম্প।*
*🌷সঘনে খসয়ে নিবি-বন্ধ।।জ্ঞানদাস।।*
*🍀খঞ্জনের নৃত্য করা বা দেখা অতীব শুভ লক্ষণ,যদি কমলে (পদ্মের উপরে) খঞ্জনের নৃত্য দর্শন করা যায়,তাহলে আরও শুভ হয়। এ সব লক্ষণ কখনও বিফল হবে না। মাধব নিজ গৃহে আসবে=*
*🌹চিকুর ফুরিছে,বসন খসিছে,*
*পুলক যৌবন ভার।*
*🌹বাম অঙ্গ আঁখি,সঘনে নাচিছে,*
*নাচিছে হিয়ার হার।।*
*(গোপাল দাস)*
*🍀এরকম ভাবে অনেক কবি ভাবোল্লাসের পদ রচনা করেছেন।একটি লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে, এই রসের কোনও প্রসিদ্ধ পদ গোবিন্দ দাস রচনা করেননি। আকস্মিক ভাবোল্লাসে•••••••*
*উলসিত মঝু হিয়া,আজু আওব পিয়া,*
*দৈবে কহল শুভবাণী।*
*শুভ-সূচক যত,প্রতি অঙ্গে বেকত,*
*অতএ নিচয় করি মানি।।*
*🌻গোবিন্দ দাসের এই একটি মাত্র পদ আছে। কিন্তু এতেও কিন্তু রসটি সুপরিস্ফুট হয়নি।শ্রীমতী রাধারাণী শুভ-সূচক লক্ষণ প্রতি অঙ্গে পরিব্যক্ত দেখে সখীগণকে বলছেন ; তোমরা জায়গায় জায়গায় মঙ্গলকলস স্থাপন করে তার উপরে আম্র-পল্লব বা আমের-শাখা দাও। গ্রহগণককে ডেকে এনে নানা উপহার দাও। সোনার পাত্রে খৈ ভরে চোখের সামনে রাখ।সখীগণ! সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত হয়ে উলুধ্বনি দাও, আমার প্রাণের প্রাণ হরি আজ নিজগৃহে আসিবেন।*
*🍁ভাবোল্লাসের পদে বিদ্যাপতির প্রতিভা কেউ খর্ব করতে পারেননি। কিন্তু এই বিষয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠ পদগুলি বঙ্গদেশে ছাড়া অন্য কোথায়ও পাওয়া যায় না।মিথিলায় পাওয়া কয়েকটি পদে তার কিছু কিছু ভাব পাওয়া যায় বটে ; কিন্তু বিদ্যাপতির খ্যাতি রক্ষা করতে তা যথেষ্ট বলে মনে হয় না।প্রিয়তমের আগমন আশায় শ্রীমতী যে মনের কত সাধ ব্যক্ত করছেন,তার সংখ্যা নেই= বন্ধু যখন আমার আঙ্গিনায় আসবেন, তখন "পলটি চলব হাম ঈষৎ হসিয়া" একটি তুলির টানে বিরহিণীর আশা উৎফুল্ল হৃদয়ের ছবিটি যেন চোখের সামনে ভেসে উঠে।প্রিয়তম যখন আমার আলিঙ্গন প্রার্থনা করবেন, তখন=*
*🌷মুখ মোঢ়ি বিহসি বোলব নহি তবহি।*
*🌹তবে তিনি আসিলে তাঁর সর্ব উপচারে অর্চনা করতে হবে।নগরের ঘরে ঘরে জয়-তূর্য্য(বাদ্য)বাজবে।আমি আর কি দিয়ে তাঁর অভ্যর্থনা করব?প্রাণবন্ধুর অভ্যর্থনার জন্য কারও কাছে তো প্রার্থনা করতে যেতে পারব না।লজ্জা করে না? আমি আমার নিজের দেহেই সমস্ত উপচার করব।আলপনা দিতে হয়, আমার গলার শুভ্র মোতির মালা আলিম্পন (আলপনা) হবে।মঙ্গল-কলস স্থাপন করতে হয়,আমার কুচযুগল মঙ্গল-কলস হবে। আমার অঙ্গগন্ধ ধূপ, আমার এই রূপশ্রী দীপ, এবং আমার সর্বাত্ম-নিবেদন নৈবেদ্য হবে। আর নয়নজলে প্রিয়তমের অভিষেক করব। নিদারুণ বিরহের মধ্যে যখন এই সুরটি বাজে,তখন তা মর্মে গিয়ে প্রবেশ না করে পারে না।বিশেষ করে যখন মনে পড়ে যে এই মরণাধিক বিরহের হয়ত কোনদিন অবসান নাই।*
😭😭😭😭😭😭🌹😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙏*
*🌹মুরলী-শিক্ষা🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*বংশীগানামৃত ধাম,লাবণ্যামৃত জন্মস্থান,*
*যে না হেরে সো চাঁদ বদন।*
*সে নয়নে কিবা কাজ,পড়ু তার মাথে বাজ,*
*জন্ম তার হৈল অকারণ।।*
*সখি হে শুন মোর হতবিধি বল।*
*মোর বপু চিত্ত মন, সকল ইন্দ্রিয়গণ,*
*কৃষ্ণ বিনা সকলই বিফল।।*
*(শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত)*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের মুখচন্দ্র মনে হলেই সবার আগে মনে পড়ে তাঁর বাঁশীর গান।মহাপ্রভু তাই আক্ষেপ করে বলেছেন,সেই মুরলীরঞ্জিত বদন যে নয়নে না দিখিল,তার নয়নে কি কাজ?সে নয়নে পড়ুক বাজ।সেই ভুবন মনোমোহন মুখটি সমস্ত লাবণ্যের আকরস্থল বা খনি।বিশ্বের যেখানে যা কিছু সুন্দর,সুশ্রী,সুষমামন্ডিত,তার মূল প্রস্রবণ যে ঐ চাঁদ মুখখানি।*
*🌷তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বং,*
*🌷তস্য ভাসা সর্বমিদং বিভাতি।*
*🌻তাই মহাপ্রভু শ্রীমতীর ভাবে বিভাবিত হয়ে খেদ করে বলেছেন যে,শ্রীকৃষ্ণের দর্শন বিনা তাঁর সমস্তই বিফল হল।শ্রীচৈতন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীরাধিকার প্রেম আস্বাদন করবার জন্য।বস্তুতঃ বা প্রকৃতপক্ষে শ্রীরাধাকৃষ্ণলীলার দুইটি বস্তু অতুলনীয়।শ্রীকৃষ্ণের রূপের তুলনা নেই,আর শ্রীরাধিকার প্রেমের তুলনা নাই। বৈষ্ণব পদাবলীতে এই রূপ ও প্রেমের উৎকর্ষ অন্য সমস্ত বিষয়কে অতিক্রম করে আমাদের বিস্ময়বিমূঢ় দৃষ্টি আকর্ষণ করে।রূপ নহিলে প্রেম স্ফূর্তি লাভ করে না।এখানে যত না রূপ,তত না প্রেম।*
*কিয়ে কমল দোলে রে নাটুয়া খঞ্জন পাখী।*
*ঘর সরবস্ব যৌবন দিয়ে শ্যামরূপ দেখি।।*
*(গোবিন্দ দাস)*
*☘এই রূপ দেখবার জন্য গৃহ, সর্বস্ব যৌবনে তিলাঞ্জলী দিতে হয়।নইলে তো এ রূপ দেখতে পাওয়া যায় না।দেখলেও প্রেমপিপাসা চরিতার্থ হয় না বা মেটে না।যিনি এমন করে রূপ দেখতেন,তাঁর প্রেম কেমন?এমন সর্বহারা প্রেম তো কল্পনা করা যায় না।তাই এই "প্রেমের মধুরিমা" কেমন তা দেখবার জন্য যেন রাধাকৃষ্ণ এক দেহ ধারণ করে "শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দররূপে" আবির্ভূত হয়েছিলেন। শ্রীবৃন্দাবনে ও নীলাচলে স্বরূপদামোদর গোস্বামী প্রমুখ পার্ষদবৃন্দ মহাপ্রভুকে এই অপূর্ব ভাব-সমন্বয়ের মধ্যে নিরীক্ষণ করেছিলেন।আমরা এই কথাগুলি শুনতে শুনত এত অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে এই সুন্দর কবিত্বপূর্ণ ভাবগম্ভীর কল্পনার গুরুত্ব বা মৌলিকত্ব সম্বন্ধে একবারও চিন্তা করি না। এরকমভাবে অবতার-কল্পনা ভারতীয় অবতারবাদসঙ্কুল ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসে আর কখনও হয়নি।এমন প্রাণস্পর্শীভাবে মানব-দেবতার চরিত্র-চিত্র আর কোথায়ও কোনও যুগে উদঘাটিত হয়নি।শ্রীচৈতন্য সাক্ষাৎ রূপ ও প্রেমের মূর্ত বিগ্রহ। একাধারে রূপ ও প্রেমের এরকম অবস্থান আর কোথায়ও কল্পিত হয়েছে বলে শুনি নাই। আমরা সচরাচর এটিই জানি রূপ যেখানে,প্রেম সেখানে নয় ; আবার প্রেম যেখানে রূপ সেখানে নয়।প্রেমের নির্মল দর্পণেই রূপ অম্লান-মধুরিমায় বিকশিত হয়।কাজেই রূপ ও প্রেম পরস্পরের সাহায্যকারী।রূপ হৃদয়ে জাগায় প্রেম, আর প্রেম রূপকে আস্বাদন করে সার্থক করে,ধন্য করে,সম্পূর্ণ করে।প্রেম আধার,রূপ আধেয়।উভয়েই পারস্পর্যেই সার্থকতা। কিন্তু বৈষ্ণব মহাজনদের চোখে কে যেন প্রেমের অলৌকিক কাজল পরিয়ে দিয়েছেন,তাঁরা দেখলেন রূপে রসে মাখামাখি হয়ে একজন এসেছেন ; তিনি আধারও বটে,আধেয়ও বটে। আবার ভগবানও বটে, ভক্তও বটে। আস্বাদ্যও বটে,আস্বাদিকাও বটে।অপূর্ব পরিকল্পনা!এর তুলনা নাই।*
*🌺প্রেমলম্পট ভগবান বৃষভানুনন্দিনীর প্রেমে মুগ্ধ হলেন।আর শ্রীমতী রাধারাণীর নয়ন-মনভুলে গেল তাঁর আরাধ্যের রূপে।শুধু কি রূপে?তাঁর প্রাণমনও উদভ্রান্ত হ'ল বাঁশীর রবে। "কদম্বের বন হইতে কি যে শব্দ আচম্বিতে" কানে প্রবেশ করল,তাতেই তো পাগল করেছে।নবমেঘের গর্জনের মত এ কি অপূর্ব ধ্বনি।বাঁশীর স্বরলহরী ভুবন ভাসিয়ে দিচ্ছে।এ অপূর্ব বাঁশী যার, তার চরণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছা হয় কেন?মনে হয় এমন মধুর ধ্বনি কখনও শুনেন নাই,আবার মনে হয় এই মধুর ধ্বনি শুনে কেউ প্রাণ ধরে রাখতে পারে কি? এমন আকুল ডাকে কেউ কি তিলার্ধ ধৈর্য্য ধরতে পারে?এ যে তপ্ত ইক্ষু চর্বণের মত উষ্ণ অথচ মধুর ; মুখ জ্বলে যায়, অথচ ত্যাগ করবারও সাধ্য নাই। এ যেন অমৃত এবং গরল মিশিয়ে কে বাঁশী বাজাচ্ছেন! বাঁশীর গানের এই অপূর্ব কল্পনা একমাত্র বৈষ্ণব কবিতাই দেখতে পাওয়া যায়, যে গানে=*
*🌷যোগী যোগ ভুলে,মুনির ধ্যান টলে।*
*🌷ধায় কামিনী কাননে ত্যজি কুলে।।*
*(নৃসিংহ দেব)*
*🌹যে গানে বনের পশু পাখী মোহিত হয়,যে গানে জলের মকর মীন ভেসে উঠে,মৃত তরু মুঞ্জরে বা জীবিত হয়,যমুনা উজানে বহে, পাষাণ বা পাথর বিগলিত হয়, সে-ই কৃষ্ণের শ্রবণমঙ্গল বাঁশী। শ্রীরাধিকা বলেছেন=*
*🌷বাঁশী,তোর গানে স্থকিত রে, যমুনা নীর উছলই,*
*মীন ভাসে মুখ চাহই রে।*
*🌷তোর গানে পাষাণ রে*
*দরবিত,মৃত তরু মুঞ্জরে,*
*কাননে পশুপাখী ধাবই রে।।*
*❤এ কি বাঁশী?এ কি সঙ্গীত!যে বাঁশীতে এমন পাগল করে,সে বাঁশী খেয়াতি ছিল,তিনিই নিশ্চয় এই বাংলা পদের রচয়িতা বিদ্যাপতি।*
*এই প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে যে, বিদ্যাপতির পদাবলীর মধ্যে শেখর রায় শেখর রচিত অনেক পদ স্থান পেয়েছে।(নরেন্দ্র গুপ্তের সংস্করণ) নগেন্দ্র বাবু বলেন যে বিদ্যাপতির উপাধি ছিল কবি শেখর। সুতরাং শেখর ভণিতা যুক্ত পদগুলিকে বিদ্যাপতির পদ বলে তিনি ধরে নিয়েছেন। কিন্তু শেখর বা শেখর রায় নামে একজন কবি শ্রীচৈতন্যের পরে আবির্ভূত হয়েছিলেন।তাঁর দন্ডাত্মিকা পদাবলীতে শেখর ভণিতার অনেক পদ উদ্ধৃত হয়েছে।এই পদগুলিতে শ্রীচৈতন্যের প্রভাব ও তাঁর প্রচারিত প্রেম-ভজনের বৈশিষ্ট্য বতর্মান।কাজেই সেগুলি ব্রজবুলির পদ হলেও বিদ্যাপতির কখনও হতে পারে না। চম্পতি নামে আর একজন বৈষ্ণব কবির পদ বিদ্যাপতির বলে দাবী করা হচ্ছে।চম্পতি নাকি বিদ্যাপতির আর এক নাম ছিল।(নগেন্দ্র গুপ্ত)।দুই একটি পদে চম্পতি বিদ্যাপতি এই যুগ্ম নামও দেখা যায়।চম্পতির ব্রজবুলি পদগুলি অতি সুন্দর।সেগুলিকে বিদ্যাপতির পদের অন্তর্ভুক্ত করে নিবার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রাধামোহন ঠাকুর পদামৃত সমুদ্রের টীকায় স্পষ্ট লিখেছেন যে,চম্পতি একজন গৌর ভক্ত, ও প্রতাপরুদ্র নরপতির পরম ভাগবত মহাপাত্র ছিলেন। অনুমান হয় যে তায় চম্পতি,বিদ্যাপতি উপাধি লাভ করেছিলেন।*
*🌻বিদ্যাপতি কি বৈষ্ণব ছিলেন?*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*নগেন্দ্রবাবু বলেন যে,বিদ্যাপতি পরম শৈব ছিলেন, বৈষ্ণব ছিলেন না।মিথিলার সর্বত্র তাঁর রচিত শিব ও গৌরীর গান শুনতে পাওয়া যায়,লোকমুখে রাধা-কৃষ্ণের গীত খুব অল্প। এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে,গ্রীয়ার্সন কর্তৃক মিথিলা হতে যে ৮২টি বিদ্যাপতির পদ সংগৃহীত হয়েছিল,তার মধ্যে ৭৬টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক ; একথা নগেন্দ্র বাবুও স্বীকার করেছেন।এছাড়াও এ পর্যন্ত বিদ্যাপতির যে সব পদ সংগৃহীত হয়েছে,তার মধ্যে হরগৌরী সম্বন্ধীয় পদ ৫০টির বেশী না,অথচ রাধাকৃষ্ণ পদের সংখ্যা এক হাজারের কম না। এটিই কি বিদ্যাপতির বৈষ্ণবধর্ম-প্রীতির ফল না?বিদ্যাপতি তরুণ বয়সে কবিত্বের জন্য যে বিসপী গ্রাম দান স্বরূপ পেয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে নবজয়দেব উপাধি পেয়েছিলেন, তা কি হরগৌরী পদাবলীর জন্য। বিদ্যাপতি জয়দেবকে অনুসরণ করে পদাবলী রচনা করেছিলেন এবং তাঁর চিত্ত সেই রসে ভরপূর ছিল এ সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ নাই। তবে এটিও ঠিক যে ঐ সময়ে শৈবও বৈষ্ণব ধর্মের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব ছিল না।বিদ্যাপতির পদ হতেও তা বুঝা যায় =*
*🌷ভণই বিদ্যাপতি বিপরীত বাণী*
*🌷ও নারায়ণ ও শূলপাণি।।*
*🌹আপাততঃ বিপরীত শুনালেও এটি নিশ্চয়, যিনি নারায়ণ তিনি শূলপাণি। হর ও হরির মধ্যে কোনও ভেদ নাই। সুতরাং এটি কোনও ক্রমেই বলা চলে না যে বিদ্যাপতি বৈষ্ণব ছিলেন না।বিদ্যাপতির প্রার্থনার পদগুলির প্রতি দৃষ্টিপাত করলে এই ভ্রম বিদূরিত হতে দেরী হবে না।*
*🌷মাধব,বহুত মিনতি করু তোয়*।
*🌷দেই তুলসি তিল, এ দেহ সমর্পিল,*
*দয়া জনু ছোড়বি মোয়।।*
*🌷হে হরি বন্দো তুয়া পদ-নায়।*
*🌷তুয়াপদ পরিহরি, পাপ পয়োনিধি,*
*পার হোয়ব কওন উপায়।।*
*🙏এরকম আকুতি ভরা প্রার্থনা ও দৈন্য খুবই কম কবির পদেই পাওয়া যায়।*
*🌻এ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা বিদ্যাপতি ঠাকুরের পদাবলীর ভূমিকায় দ্রষ্টব্য (দ্বিতীয় সংস্করণ, মুখবন্ধ পৃষ্ঠা ১০)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌹*
*❤বিদ্যাপতির প্রেম❤*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤
*🍀সাধারণতঃ চন্ডীদাসকেই আমরা প্রেমের কবি বলে জানি।প্রেমের এমন পূজারী বুঝি আর হয়নি!বিদ্যাপতিকে আমরা রূপের কবি বলেই জানি।চন্ডীদাসের প্রেম আধ্যাত্মিক,বিদ্যাপতির প্রেম রূপজ, এমনই ভাবে আমরা এই দুই প্রেমিক কবির মধ্যে তুলনায় সমালোচনা করে থাকি। চন্ডীদাসে প্রেম সম্বন্ধে বেশী কিছু বলবার প্রয়োজন নাই,কারণ প্রেমের তিনি ছিলেন প্রধান সাধক, পিরীতির চারণ কবি।প্রেমের মহিমা তাঁর মত আর কোনও কবিই প্রচার করতে পারেননি।*
*আঁখির নিমিষে, যদি নাহি হেরি,*
*তবে সে পরাণে মরি।*
*চন্ডীদাস কহে, পরশ-রতন,*
*গলায় গাঁথিয়া পরি।।*
*❤প্রেম অমূল্য নিধি--পরশমণি, মণিমাণিক্য হতেও অমূল্য।প্রেমাস্পদকে চোখের আড় করতে ইচ্ছা হয় না, পাছে হারিয়ে যায়।তাকে পরশমণির মত হার গেঁথে গলায় পরতে সাধ হয়।মিলনেও শঙ্কা যায় না। তাই=*
*🌷দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*🌷তিল আধ না দেখিলে যায় যে মরিয়া।।*
*🍁এ প্রেমের তুলনা নাই। কবি নিজেই বলছেন=*
*জল বিনু মীন জনু কবহুঁ না জীয়ে।*
*মানুষে এমন প্রেম কোথা না শুনিয়ে।।*
*🌺সত্যই মানুষে এমন প্রেম কি হয়?শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী যেন ইঁনারই প্রতিধ্বনি করে বলেছেন=*
*অকৈতব কৃষ্ণ প্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
*হেন প্রেমা নৃলোকে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় তার বিয়োগ,*
*বিয়োগ হৈলে কেহ না জীয়য়।।*
*🍀ভাগ্যগুণে যদি এই প্রেম হয়,তাহলে বিচ্ছেদে প্রাণ বাঁচে না। বিদ্যাপতিও বলেছেন=*
*🌷এ সখি অপুরুব রীতি।*
*🌷কহাহুঁ ন দেখিঅ অইসনি পিরীতি।।*
*🌳হে সখি!এ এক অপূর্ব ব্যাপার, কোথাও এমন পিরীতি দেখিনি। বিদ্যাপতির রাধিকা বলছেন প্রিয়তম গাঢ় আলিঙ্গনে বদ্ধ থেকেও চমকিয়ে উঠেন।আমি একটু পাশ ফিরলেই অমনি মান করেছি আশঙ্কায় ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে উঠেন।*
*🌷ঘুমক আলসে জদি পলটি হোউ পাস।*
*🌷মান ভয়ে মাধব উঠয়ে তরাস*।।
*☘বিদ্যাপতি প্রেমে যে উপমা দিয়েছেন,তাহাও প্রেমকে উর্ধ্বস্তরে স্থাপন করেছে।প্রেম অতল স্পর্শ রহস্য, অথচ মধুরিমায় অফুরন্ত নির্ঝর।কবিরা নানাভাবে যেমন এর মাধুর্য্য বিকশিত করে তুলতে চেয়েছেন,তেমনি এটির রহস্য উপমা উৎপ্রেক্ষার দ্বারা বুঝতে চেষ্টা করেছেন।যে প্রেম ইন্দ্রিয়জ সুখের সমতল হতে উর্ধ্বে উঠতে পারে না,তাকে বৈষ্ণবগণ "কাম" বলে বর্ণনা করেছেন।কাম ও প্রেমের মধ্যে যে প্রভেদ তা কবিরাজ গোস্বামী তাঁর প্রসিদ্ধ পয়ারে ব্যক্ত করেছেন=*
*🌷আত্মেন্দ্রিয়-প্রীতি-ইচ্ছা তারে বলি কাম।*
*🌷কৃষ্ণেন্দ্রিয়-প্রীতি-বাঞ্জা ধরে প্রেম নাম।।*
*🌺এই সংজ্ঞা সর্ববাদিসম্মত হোক বা না হোক, এটি স্বীকার করতেই হবে যে,প্রেমের বিভিন্ন স্তরভেদ বৈষ্ণব কবিগণ যেমন বুঝাতে চেয়েছেন এমন আর কোথাও দেখা যায় না।*
*🌻কবিরাজ গোস্বামী যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তার মূল অনুসন্ধানে আমরা আমাদের জাতীয় কবি চন্ডীদাস বিদ্যাপতির কাব্যে উপনীত হই।চন্ডীদাস যা তাঁর সরল তরল ভাষার তুলিকায় ধরতে পারেননি,তাও উপমার দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন=*
*🌷ভানু কমল বলি সেও হেন নহে*।
*🌷হিমে কমল মরে ভানু সুখে রহে।।*
*🌷চাতক জলদ কহি সে নহে তুলনা।*
*🌷সময় নহিলে সে না দেয় এক কণা।।*
*🌷কুসুমে মধুপ কহি সে নহে তুল*।
*🌷না আইসে ভ্রমর আপনি না যায় ফুল।।*
*❤প্রেমের দুরবগাহ (জটিল) রহস্য এখানে আরও জটিল হয়ে উঠেছে,যাতে উপমাও তার নাগাল পেল না।*
*🍁বিদ্যাপতি চাতক ও জলদের উপমায় সুন্দর মাধুর্য্য পরিবেশন করেছেন=*
*🌷সহজে চাতক,না ছাড়য় বরত,*
*না বৈসে নদি তীরে।*
*🌷নব জলধর, বরিখন বিনু,*
*না পিয়ে তাহারি নীরে।।*
*🌺চাতক নবীন জলদের জল ছাড়া অন্য জল পান করে না,তার ব্রত ত্যাগ করে না।পিপাসায় নদী তীরে গিয়ে বাস করে না। যদি দৈবাৎ (কখনও) তৃষ্ণায় কন্ঠ শুকিয়ে যায়, তবে হয়ত একটু জল পান করতে পারে, কিন্তু চেয়ে থাকে সেই মেঘের পানে।সেইরকম তোমার প্রেমাস্পদ অতি দুঃখে তোমার নাম স্মরণ করে শতধারে অশ্রু বিসর্জন করেন।*
*যদি দৈব বশে, অধিক পিয়াস,*
*পিয়ব হেরয়ে থোর।*
*তবহুঁ তোহার, নাম সুমরি,*
*গলয় শতগুণ লোর।।*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*বিদ্যাপতির প্রেম*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*❤প্রেম যে শুধু ক্ষুধিত প্রাণের বুভুক্ষা (ভোজন করবার ইচ্ছা) মাত্র নয়, এটি যে জীবনের ব্রত,অচল, অপ্রকম্প(স্থির) তাইই বিদ্যাপতি সুন্দর উপমার দ্বারা বুঝিয়েছেন।উপমা-টি প্রসিদ্ধ, কিন্তু এতে যে ভাবের পরিবেশ আছে,তাইই বিদ্যাপতির কাব্যের বিশিষ্টতা সম্পাদন করেছে।*
*☘বিদ্যাপতির আরও একটি প্রচলিত উপমার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছেন।প্রেমের রহস্যটি উপমানের রহস্যে যে গাম্ভীর্য লাভ করেছে,তার তুলনা নাই।◆সখী বলছেন, যে প্রেমের উপমার জন্য সারা বিশ্ব খুঁজলাম, কিন্তু ক্ষীর ও নীরের সম্বন্ধের মত একটিও তুলনা খুঁজে পেলাম না বা দেখলাম না।*
*🌷খোঁজল সকল মহীতল গেহ।*
*🌷খীর নীর সম না হেরল নেহ।।*
*❤প্রেমের এমন উপমাস্থল আর নেই। কারণ যদি কেউ ক্ষীর আগুনেরমুখে স্থাপন করে এবং কাঠি দিয়ে নেড়ে জল "মারে" তাহলে (জলের সঙ্গে দুধের বিয়োগ ঘটলে) ক্ষীর উথলিয়ে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ-ত্যাগ করতে চাহে।*
*🌷যব কোই বেরি অনল মুখ আনি।*
*🌷খীর দন্ড দেই নিরসত পানি।।*
*🌷তবহুঁ খীর উমড়ি পড় তাপে।*
*🌷বিরহ বিয়োগ আগ দেই ঝাঁপে।।*
*❤বলুন তো? এমন প্রেম কোথায় আছে?দুগ্ধ যখন উথলিয়ে আগুনে পড়ে,তখন যদি কেউ একটু জল সেই দুধে দেয়,অমনি বিরহবিয়োগ দূরে যায় এবং ক্ষীর শান্ত ভাব ধারণ করে।*
*🌷যব কোই পানি আনি তহি দেল।*
*🌷বিরহ বিয়োগ তবহি দূরে গেল।।*
*🌷ভনই বিদ্যপতি এহেন সুনেহ।*
*🌷রাধা মাধব ঐসন নেহ।।*
*❤রাধামাধবের প্রেমের এমন উপমা চন্ডীদাসও দিতে পারেননি।বিরহের পরে মিলনেরও যে চিত্র বিদ্যাপতি এঁকেছেন,তা অন্য কোনও কবির কাব্যে পাই না।*
*🌷রাধা বদন নিরখি রহু কান।*
*🌷ভাবে ভরল অঙ্গ ধরল ধিয়ান।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ অনিমিষে প্রিয়তমার মুখের দিকে চেয়ে রইলেন।অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবে (রোমাঞ্চ,স্বেদ,অশ্রু ইত্যাদি ) তাঁর অঙ্গ পূর্ণ হল, তিনি ধ্যানে আত্মহারা হলেন।যাকে পাবার জন্য প্রাণে অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা, তাকে দেখে বক্ষে ধারণ করবার কথা কৃষ্ণ ভুলে গেলেন। তখন রাইধনি কিন্তু তাঁর মনের কথা বুঝলেন,অমনি বাহু প্রসারিত করে তাঁকে বক্ষে টেনে নিলেন।*
*🌷রাহী বুঝল তনু মরমক বোল।*
*🌷বাহু পসারি কাহ্নু কর কোর।।*
*🌺কীর্তনানন্দের এই পদটিতে বিদ্যাপতির ভণিতা নাই। কিন্তু পদটি যে বিদ্যাপতির সে সম্বন্ধে সন্দেহ করবার কারণ নাই। আর একটি ভণিতাযুক্ত পদে এটি অপেক্ষাও গভীরতর ভাব রয়েছে।বিরহের পর মিলনে দুজনেই চিত্রপুতুলীর মত স্থির হয়ে রইলেন,সম্ভাবণ(কোন চিন্তা) নাই,আলিঙ্গন নাই--,এ প্রেমের ধারা কেমন কে বলতে পারে!*
*🌷চিত পুতলি জনু রহু দুহু দেহ।*
*🌷ন জানিয় প্রেম কেহন অছু নেহ।।*
*❤এ প্রেমের গতি বুঝা ভার,কাছে থেকেও কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছেন না।*
*🌷এ সখি দেখ দুহুক বিচার।*
*🌷ঠামহি কোই লখই নাহি পার।।*
*🌹শ্রীমতী সখীকে জিজ্ঞাসা করছেন,সখি! আমার শ্যাম কোথায়?যাঁর প্রেমে পাগল হয়ে আমার বনে আসিলাম, তিনি কোথায়? আমি যে সমস্ত বৃন্দাবনময় শ্যাম দেখছি--, সব কানন ভরে যে শ্যারূপ,তাঁর কাছে আমি কেমন করে যাব?তিনি কি আমার সুখদুঃখের কথা বুঝবেন?*
*🌷ধনি কহ কাননময় দেখিয় শ্যাম।*
*🌷সে কিয়ে গুনব মঝু পরিণাম।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের অবস্থাও সেইরকম। তিনি রাইধনিকে দেখেও দেখছেন না।প্রতি তরুতলে শ্রীরাধিকার সেই অপরূপ মূর্তি দেখছেন--,আর যেদিকে নয়ন ফিরাচ্ছেন সে দিকেই রাইরূপ দেখে চমকিয়ে চমকিয়ে উঠছেন=*
*🌷চউকি চউকি দেখি নাগর কান।*
*🌷প্রতি তরুতল দেখ রাই সমান।।*
*❤যে প্রেমে বিশ্বময় প্রেমাস্পদকে নিরীক্ষণ করে বা দেখেন, তা যে ইন্দ্রিয়-গ্রামের অনেক উর্দ্ধে,একথা বলে বুঝাবার বোধহয় প্রয়োজন নাই।*
*🌷স্থাবর জঙ্গম দেখে না দেখে তার মূর্তি।*
*যাঁহা যাঁহা নেত্র পড়ে তাহা কৃষ্ণ স্ফূর্তি।।*
*🍀ইহা পাঠ করবার সময় বিদ্যাপতির "কাননময় দেখিয় শ্যাম" মনে পড়বেই।*
❤🌹🌻❤🌹🌻❤🌹🌻❤🌹🌻❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫)🌻বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌻*
*👣বিদ্যাপতির অভিসার👣*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍀পদাবলী সাহিত্যে বহু অভিসারের পদ আছে।অলঙ্কার শাস্ত্রে নায়িকা-প্রকরণে যে অষ্ট প্রকার নায়িকার কথা আছে,অভিসারিকা তাদের মধ্যে অন্যতমা। শ্রীবিশ্বনাথ বলেন=*
*🌷অভিসারয়তে কান্তং যা মন্মথ-বশংবদা।*
*🌷স্বয়ং বাভিসরত্যেষা ধীরৈরুক্তাভিসারিকা।।*
*(সাহিত্য দর্পণ)*
*🍀অর্থ্যাৎ অভিসারিকা দুই প্রকার=যে নায়িকা মন্মথবশীভূতা হয়ে কান্তকে নিজের কাছে আনয়ন করে এবং যে নায়িকা নিজেই কান্তের কাছে গমন করে।শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীও ঐ দুই প্রকার অভিসারিকার কথায় বলেছেন=*
*🌷যাভিসারয়তে কান্তং স্বয়ং বাভিসরত্যপি।*
*(উজ্জ্বল নীলমণি)*
*🍁কিন্তু পদাবলীতে দ্বিতীয় প্রকার অভিসারিকার বর্ণনাই বেশীর ভাগে পাওয়া যায়।অমরকোষেও এই প্রকার অভিসারিকার কথায় বলা হয়েছে =*
*🌷কান্তার্থিনী তু যা যাতি সংকেতং সাহভিসারিকা।*
*☘সংস্কৃত কাব্যে স্বয়ং অভিসারিণীর উদাহরণটি উপভোগ্য ঃ--*
*🌷উৎক্ষিপ্তং করকঙ্কণদ্বয়মিদং বদ্ধা দৃঢ়ং মেখলা,*
*🌷যত্নেন প্রতিপাদিতা মুখরয়োমঞ্জীরয়োর্মূকতা।*
*🌷আরব্ধে রভসান্ময়া প্রিয়সখি! ক্রীড়াভিসারোৎসবে,*
*🌷চন্ডলস্তিমিরাবগুন্ঠনপটক্ষেপং বিধত্তে বিধুঃ।।*
*(সাহিত্য দর্পণ)*
*🌻মত মুরলী সঙ্কেতে আহ্বান করে অন্য রমণীর সহিত নিশি যাপন করিলে,অতএব আর এমন পিরীতিতে কাজ নাই।*
*🌷ধিক রহু মাধব তোহারি সোহাগ।*
*🌷ধিক রহু যো ধনি তোহে অনুরাগ।।*
*🌷চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।*
*🌷কৈতব বচনে অবহু কিয়ে কাজ।।*
*(বলরাম দাস)*
*🍀যাঁরা আধ্যাত্মিক ভাবের সন্ধানী,তাঁরা ভক্ত ভগবানের মধ্যে এই মান-অভিমানের পালা দেখতে পান।ভক্ত ভগবানকে অনন্যশরণ হয়ে ভজনা করেন। কিন্তু ভগবান তো একের একান্ত বশীভূত হতে পারেন না।কাব্যের ভাষায়,রসের ভাষায় তাই ভগবানকে বহুবল্লভ বলা হয়।*
*🍁বৈষ্ণব কবিতায় কাব্যরসই মূলত আস্বাদ্য, আধ্যাত্মিকভাব তার অনুগামী।আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানকে প্রাধান্য দিলে কাব্যরসের অনুপম মাধুর্য্য হারিয়ে ফেলবার সম্ভাবনা আছে। আহার করবার সময় যেমন আস্বাদনের দিকেই বেশী মনোযোগ থাকে,মধুর অম্ল প্রভৃতি বিচিত্র রসের পরিবেশনে যেমন আহার্য্য রুচিকর হয়ে উঠে এবং ক্ষুধার নিবৃত্তি তার অবশ্যম্ভাবী ফল, বৈষ্ণব কবিতা সম্বন্ধেও আমার বোধ হয় কবিদের সেরকম অভিসন্ধি দেখা যায়।আস্বাদনের জন্যই রসপারিপাট্য, সেই জন্যই এই গীতি-কবিতা ভক্ত-অভক্ত সকলের পক্ষে চিরন্তন আস্বাদ্য হয়ে রয়েছে। যাইহোক,এই খন্ডিতা-রস বৈষ্ণব কবিগণ কিভাবে আস্বাদন করেছেন, তাইই আলোচনা করা যাক। বিদ্যাপতির খন্ডিতার অনেকগুলো পদ আছে,যথেচ্ছভাবে দুই একটি উদ্ধৃত করছি।*
*🌷সহস রমণী সোঁ ভরল তোহর হিয়,*
*করু তনি পরসি ন ত্যাগে।*
*🌷সকল গোকুল জনি সে পুনমতি ধনি,*
*কি কহব তহ্নিক ভাগে।।*
*🌷পদ-জাবক হৃদয় ভিন অছ,*
*অরু করজ খত তাহে।*
*🌷জাহি যুবতি সঙ্গে রয়নি গমৌলহ,*
*ততহি পলটি বরু জাহে।।*
*(তালপত্রের পুঁথি)*
*🍀তোমার হৃদয় সহস্র রমণী দ্বারা পূর্ণ। (কিন্তু) তার স্পর্শ ত্যাগ করিও না।গোকুলে সব নারীর অপেক্ষা সেই রমণী পুণ্যবতী,তার ভাগ্যের কথা কি বলব? পদের অলক্তকরাগ এবং হৃদয়ে নখরেখার দ্বারা সে কর্জখত লেখিয়ে নিয়েছে।যে রমণীর সঙ্গে রজনী কাটালে বরং তার কাছেই ফিরে যাও।তোমার-----*
*🌷প্রতি অঙ্গে রতি চিন বেকত হোয়।*
*🌷করতলে চাঁদ ধপাবয় কোয়।।*
*(কীর্তনানন্দ গ্রন্থ )*
*🌹চন্ডীদাসের অনবদ্য পদ=*
*🌷ভাল হইল আরে বন্ধু আইলা সকালে।*
*🌷প্রভাতে দেখিলাম মুখ দিন যাবে ভালে।।*
*🌺কোনও কোনও বিষয়ে এই পদটির তুলনা বৈষ্ণব সাহিত্যে নাই। শ্রীকৃষ্ণ প্রভাতে সঙ্কেত-কুঞ্জে এসেছেন, তাঁর নয়ন অর্ধ নিমীলিত নিশি জাগরণের ফলে,নিশি জাগার ফলে তাঁর চোখ আধ ঘুম ভাব দেখাচ্ছে।বক্ষে যাবকলেখা (আলতারদাগ) ও খর নখর-ক্ষত। এ অবস্থায় নায়িকার অত্যন্ত ক্রোধ হওয়াই স্বাভাবিক কিন্তু বাইরে ক্রোধ প্রকাশ হলে, চোখের জলে দৈন্য প্রকাশ পেলে,পরাভবের গ্লানি স্বীকার করতে হয়। কাজেই তিনি বক্রোক্তির সাহায্যে মনোভাব গোপন করতে চেষ্টা করছেন।এরকম নায়িকাকে "ধীরা মধ্যা" খন্ডিতা বলে।সাপরাধ নায়ককে হেসে হেসে তীব্র শ্লেষোক্তির দ্বারা যে নায়িকা কষ্টদান করে তাকে ধীরামধ্যা বলে।যে নায়িকা ঐরকম অবস্থায় কেঁদে কেটে নায়কের সন্তাপ উৎপাদন করে,তাকেও বলে ধীরামধ্যা, আর যে নায়িকা কটুক্তির দ্বারা নায়কের মনস্তাত (মনোদুঃখ)দেয় তাকে মধ্যা অধীরা বলে। বক্রোক্তির অর্থ=*
*অন্যন্যান্যর্থকং বাক্যমন্যথা যোজয়েদ্ যদি।*
*অন্যঃ শ্লেষেণ কাক্কা বা সা বক্রোক্তিস্ততো দ্বিধা।।*
*🌻🌻আগামী পর্বে ব্যাখ্যা।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)⚪বৈষ্ণব রস-সাহিত্য⚪*
*বিদ্যাপতির অভিসার*
*খন্ডিতা*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀যিনি কথা বলছেন,তাঁর কথা যদি বাহ্যতঃ এক অর্থ বহন করে আর অন্য অর্থ বক্তার অভিপ্রেত হয়, তাহলে তাকে বক্রোক্তি অলঙ্কার বলে।*
*🌺শ্লেষপূর্ণ কথার দ্বারা বা বিকৃত স্বরের দ্বারা এই ব্যঙ্গ গূঢ় অর্থপূর্ণ হয়ে উঠে।বেণীসংহারে ভীমকে দুঃশাসনের রক্তপান করতে দেখে যখন অশ্বত্থামা কর্ণকে বিদ্রূপ করে বলেছেন=*
*অঙ্গরাজ! সেনাপতে!দ্রোণোপহাসিন্,*
*রক্ষ সাম্প্রতম্ ভীমাদ্ দুঃশাসনম্।*
*🍁তখন তার প্রত্যেকটি কথা শাণিত ছুরিকার মত শ্রোতার অন্তরে প্রবেশ করে। অভিনয়ের স্থলে স্বরের ঈষৎ বিকৃতির দ্বারা এই উক্তিকে আরও কঠোর করে তোলা হয়। পূর্বে যে পদটির উল্লেখ করেছি, "ভাল হৈল আরে বন্ধু", এর নিষ্ঠুর শ্লেষ (বিকৃতি স্বর) সহজেই কষ্টদায়ক, কীর্তন গায়ক স্বরের কিঞ্চিৎ বৈচিত্র্য সাধন করে একে অপূর্ব করে তুলেন।সঙ্গীতে স্বরভঙ্গীর দ্বারা বিদ্রূপকে যে এমন ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়,তা না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন।প্রকৃতপক্ষে কোনও সঙ্গীতেই বিদ্রূপের এরকম অভিব্যক্তি দেখা যায় না।এইজন্য গীতটির বৈশিষ্ট্য অদ্ভুত!কবি আগাগোড়া এই অলঙ্কার ঠিক রেখেছেন।পদটি সুপরিচিত হলেও এখানে উদ্ধৃত করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।*
*🌷বন্ধু তোমার বলিহারি যাই।*
*🌷ফিরিয়া দাঁড়াও তোমার চাঁদ মুখ চাই।।*
*🌹তোমাকে শতমুখে প্রশংসা করি, কারণ তোমার যে অপূর্ব "শ্রী" হয়েছে, তা দেখবার যোগ্য।(এই কথা শুনে যখন নায়ক মুখ লুকাচ্ছেন তখন বললেন) তুমি একবার আমার দিকে মুখ করে ফিরে দাঁড়াও, তোমার অনিন্দ্যসুন্দর (নূতন শোভায়) মুখটি একবার ভাল করে দেখি।*
*🌷আই আই পড়েছে রূপে কাজরের শোভা।*
*🌷ভালে সে সিন্দুর তোমার মুনির মনোলোভা।।*
*🌲আহা! কি অপরূপ শোভাই না হয়েছে! সখী!(আই আই) তোরা একবার দেখে যা। একেবারে কাজলে সিন্দুরে মাখামাখি।কালোরূপে কি সুন্দর মানিয়েছে।*
*🌷খরনখ দশন অঙ্গ জর জর।*
*🌷ভালে সে কঙ্কণ দাগ হিয়ার উপর।।*
*🌷নীল পাটের শাড়ি কোঁচার বলনি।*
*🌷রমণী-রমণ হৈয়া বঞ্চিলা রজনী।।*
*☘চিরদিন তো তোমার পীতধুতি পরাই অভ্যাস,আজ একি সুন্দর সাজ! রমণীর নীলশাড়ী পরে এসেছ?তাতে আবার কোঁচা দুলাচ্ছ!*
*🌷সুরঙ্গ যাবক রঙ্গ উরে ভাল সাজে।*
*🌷এখন কহ মনের কথা আইলা কিবা কাজে।।*
*🔴তোমার বক্ষে সুলোহিত আলতার রেখা সুন্দর মানিয়েছে।এমন করে কে তোমাকে সাজাল বল দেখি?সেই রসিকা রমণী রতিরণে তোমাকে পরাভব করে বোধ হয় পদাঘাত করেছে, অথবা প্রেমে বশীভূত হয়ে তার আলতা-রঞ্জিত পদযুগল তুমি নিজে বক্ষে ধারণ করেছ!এখন বল, তোমার জন্য আমি কি করতে পারি? আমি তোমার এই নব প্রেমোৎসবে সব কিছু করতে সতত তৈরী আছি।*
*🌷চারি পানে চাহে নাগর আঁচরে মুখ মোছে।*
*🌷চন্ডীদাসের লাজ ধুইলে না ঘুচে।।*
*🔷পদটি পীতাম্বর দাসের "রসমঞ্জরীতে" গোপালদাসের ভণিতায় আছে।গোপালদাস বা রামগোপাল দাস পীতাম্বর দাসের পিতা।পিতার সম্বন্ধে পুত্র সঠিক সংবাদ না দিয়ে পারেন না, এই মনে করে অনেক গবেষক এই পদটি চন্ডীদাসের বলে স্বীকার করতে চান না। কিন্তু সব দিক দিয়ে বিবেচনা করে দেখলে এই উৎকৃষ্ট পদটি চন্ডীদাসের বলেই মনে হয়। (খন্ডিতার মধ্যে চন্ডীদাস-রচিত বহু পদ পাওয়া যায় )। একই ভাবের সুন্দর সুন্দর পদ খন্ডিতার মধ্যে চন্ডীদাস ও গোবিন্দ দাসের,এটি না মেনে উপায় নাই।গোপালদাসের একটি মাত্র পদ খন্ডিতায় আছে।*
*ছল করি বাণী,কতয়ে পরলাপসি,*
*তোহারি বচন পরমাণ।*
*চারি পহর রাতি,জাগিয়া পোহাইলুঁ,*
*আয়লি রাতি বিহান।।*
*🌻এই পদটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর রচনা, এটি বুঝতে দেরি হয় না। রাধামোহনের পদামৃত সমুদ্রে এবং বৈষ্ণবদাস পদ কল্পতরুতে চন্ডীদাসের ভণিতাই দিয়েছেন।*
*🍀চতুরের শিরোমণি নাগর মহা ফাঁপরে পড়ে চারিদিকে দেখছেন। কিন্তু ধৃষ্ট নায়ক সহজে হটিবার পাত্র নন।তিনি প্রবঞ্চনার জাল বুনে বললেন=*
*🌷না কর না কর ধনি এত অপমান।*
*🌷তরুণী হইয়া কেনে একে দেখ আন।।*
*🌷বংশী-পরশি আমি শপতি করিয়ে।*
*🌷তোমা বিনে দিবানিশি কিছু না জানিয়ে।।*
*🌷ফাগু বিন্দু দেখিয়া সিন্দুর বিন্দু কহ।*
*🌷কন্টক কঙ্কণ-দাগ মিছাই ভাবহ।।*
*🌷এত কহি বিনোদ নাগর চলিতে চায় ঘর।*
*🌷চন্ডীদাস কহে রাই কাঁপে থর থর।।*
*🌹তুমি তরুণী,তোমার চোখের দৃষ্টি এত খারাপ হল কি করে?এক দেখতে অন্য দেখছ।সিন্দুর কোথায় দেখলে, ও তো ফাগের বা আবিরের বিন্দু। (তোমার জন্য সারানিশি জেগে বনে বনে ঘুরে বেড়িয়েছি)তারই জন্য বক্ষে কন্টকের বা কাঁটার ক্ষত হয়েছে।কঙ্কণের দাগ বলে তাহাই ভুল করেছ। "ধৃষ্ট নাগর" অর্থে যে মিথ্যা কথায় দক্ষ। আজ শ্রীমতীর মন রাখবার জন্য কৃষ্ণ মিথ্যার উপর মিথ্যা কথা অসঙ্কুচিত ভাবে বলেই যাচ্ছেন। অথচ তিনি তাঁকে বুঝাচ্ছেন=*
*🌷মিথ্যা কথায় যত পাপ জানহ আপনি।*
*🌷জানিয়া না মানে যেই সেই সে পাপিনী।।*
*(চন্ডীদাস)*
❤❤❤❤❤❤🌹❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭)🌻বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌻*
*উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৈষ্ণব প্রভাব*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍁অনেকের ধারণা যে বৈষ্ণবধর্মের প্রভাব বঙ্গদেশেই নিবদ্ধ।সে ধারণার হেতু বোধ হয় এই যে,শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ও নিত্যানন্দ প্রভু বঙ্গদেশে অবতীর্ণ হয়ে বৈষ্ণবধর্মের প্লাবনে এ দেশ ভাসিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গদেশের বাইরেও যে এ ধর্মের প্রভাব ছিল,তা ইতিহাস হতে জানতে পারা যায়।শ্রীমন্মহাপ্রভুর পূর্বে দক্ষিণভারতে শ্রীরামানুজ আচার্য্য আবির্ভূত হয়েছিলেন।তারও পূর্বে দক্ষিণদেশে অনেক সাধুসন্ত বৈষ্ণবধর্মের উপদেশ দিয়েছিলেন।তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গোপীভজনও অনুমোদন করেছিলেন। শ্রীমন্মধ্বাচার্য্যও দক্ষিণদেশে প্রাদুর্ভূত হয়েছিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গ যখন দক্ষিণদেশে গমন করেছিলেন,তখন তিনি বৈষ্ণবধর্মের দুইটি উৎকৃষ্ট বা উত্তম পুঁথি সংগ্রহ করে এনেছিলেন।একটি ব্রহ্মসংহিতা, অপরটি ভক্তচূড়ামণি বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত।মহাপ্রভু নীলাচলে যে সব গ্রন্থ সবসময় আস্বাদন করতেন,তার মধ্যে কর্ণামৃত অন্যতম।দক্ষিণদেশের কবি,ভক্ত ও দার্শনিক একবাক্যে বলা যায় রায় রামানন্দের সহিত মহাপ্রভু সাধ্য-সাধনতত্ত্ব আলোচনা করেছিলেন।সেরকম আলোচনা,সেরকম ইষ্টগোষ্ঠী কোন ধর্মের ইতিহাসে বড় বেশী দেখতে পাওয়া যায় না।রামরায় বলেছেন=*
*🌷ইহা আমি কিছুই না জানি।*
*🌷যে তুমি কহাও সেই কহি আমি বাণী।।*
*🌷তোমার শিক্ষায় পড়ি যেন শুক পাঠ।*
*🌷সাক্ষাৎ ঈশ্বর তুমি কে বুঝে তোমার নাট।।*
*(শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত)*
*🍀উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে শ্রীরাম-সীতার লীলাই সমধিক প্রচলিত বলে আমাদের ধারণা।রামসীতার লীলা মহাপ্রভুর সময়ে দাক্ষিণাত্য দেশেও যে প্রচলিত ছিল, তা বেশ বুঝা যায়।মহাপ্রভু শুধু যে রামসীতার মন্দির দেখেছিলেন তা নয়,তিনি দাক্ষিণাত্য ভ্রমণের অনেক সময় সীতা ও রামের চরিত্র আলোচনা করে কাটাতেন।উত্তর-পশ্চিমে রামলীলার প্রবল প্রচার হল তুলসীদাস হতে।তুলসীদাস আকবরের সময়ে প্রাদুর্ভূত হয়েছিলেন।তাঁর রাম-চরিতমানস আজও কোটি কোটি লোকের আধ্যাত্মিক ক্ষুধা মিটিয়ে থাকে।তাঁর দোহা ও চোপাই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হিন্দুর কন্ঠে কন্ঠে বিরাজ করে।*
*🌳উত্তর-পশ্চিম ভারতে শ্রীকৃষ্ণলীলার প্রসারও কম নয়।মহাপ্রভুর সমকালে শ্রীবল্লভাচার্য্য মথুরামন্ডলে বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করেন।তাঁর জন্ম সন ১০৭১ খৃষ্টাব্দ অর্থ্যাৎ বল্লভাচার্য্য মহাপ্রভু অপেক্ষা সাত কি আট বৎসরের বড় ছিলেন।তাঁরও পূর্বে রামানন্দ প্রভৃতি সাধুগণ বৈষ্ণবধর্মের সারকথা পশ্চিমাঞ্চলের নরনারীগণকে শুনিয়ে গিয়েছেন। রামানন্দ রামানুজাচার্য্যের শিষ্য সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।ভক্তপ্রবর কবীর (কাশীর জোলা), বৈষ্ণবাগ্রগণ্য রুইদাস (চর্মকার বা মুচি) রামানন্দের শিষ্য বলে কথিত হন।নিম্বার্ক নামক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা নিম্বার্ক বা নিম্বাদিত্যও বঙ্গের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।*
*🍁ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভে,তুলসীদাসের কিছু পূর্বে সূরদাস শ্রীকৃষ্ণলীলা নিয়ে হিন্দীতে অসংখ্য পদ রচনা করেছিলেন।সূরদাসকে বৈষ্ণবমহাজনদের মধ্যে গণনা করা হয় এবং তাঁর কৃত পদাবলী বৈষ্ণবপদসংগ্রহের মধ্যে স্থান লাভ করেছে।সূরদাস গোকুলে বসে যে সময় তাঁর সূরসাগর রচনা করছিলেন,প্রায় সেই সময়েই শ্রীপাদ রূপ-সনাতন প্রভৃতি শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণবাচার্য্য ও কবিগণ বৃন্দাবনে বসে তাঁদের অমর কাব্য ও গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে,ইঁনারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন কিনা,তা জানা যায় না।শ্রীমদ্ বল্লভাচার্য্য সম্বন্ধে ভক্তমালে উল্লিখিত হয়েছে যে,তাঁর সঙ্গে মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং তিনি (বল্লভ) শ্রীধরস্বামীর টীকার (শ্রীমদ্ভাগবতের) নিন্দা করলে মহাপ্রভু কানে হাত দিয়ে বলেছিলেন=*
*🌷কহের স্বামীর প্রতি যেই দোষ দেয়।*
*🌷ভ্রষ্টা করিয়া তাহে বেদেতে কহয়।।ভক্তমাল।।*
*🍁এই বল্লভাচার্য্য নিজেই ভাগবতের একখানি টীকা করেছিলেন।বল্লভাচার্য্য যে সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন, তার নাম "বল্লভাচারী"।বল্লভাচার্য্যের এক পুত্র ছিলেন,তাঁর নাম বিঠঠলনাথ।বল্লভাচার্য্যের ন্যায় তিনিও শিষ্য গ্রহণ করেছিলেন।বল্লভাচার্য্যের চারজন শিষ্য ছিলেন,বিঠ্ ঠলনাথেরও শিষ্য ছিলেন চারজন।এই আট শিষ্য অষ্টছাপ নামে প্রতিষ্ঠিত হন। অষ্টছাপের মধ্যে একজন ছিলেন,তাঁর নাম "নন্দদাস"।নন্দদাস বিঠ্ ঠলনাথের শিষ্য।নন্দদাস এই নামটি তাঁর গুরুদত্ত নাম কিনা বলা যায় না।নাম শুনলেই মনে হয় যে,হয় তিনি কোনও নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন,অথবা গুরু হতে এই নাম লাভ করেছিলেন।*
*নন্দদাস শুধু অষ্টছাপের একজন ছিলেন না,তিনি বিখ্যাত কবি হয়েছিলেন। বাংলার কবি গোবিন্দদাস যেমন শ্রীনিবাস আচার্য্যের কাছে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষালাভ করে অদ্ভুত কবিত্ব শক্তি লাভ করেন ও শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলা গানে অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছিলেন, নন্দদাসজিও সেইরকম শ্রীগুরু কৃপায় অপূর্ব প্রতিভাশালী কবি হয়ে উঠেছিলেন।তাঁর কবিতা এত মধুর যে,মনে হয় যেন শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমামৃতে তিনি তাঁর লেখনী ডুবিয়ে লিখেছিলেন।তাঁর কবিতায় শ্রীজয়দেবের ঝঙ্কার পাওয়া যায়।আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে,শ্রীজয়দেবের কবিতা যেমন পদ্মাবতীর প্রেমে ফুটে উঠেছিল, চন্ডীদাস যেমন রামীর কৃপায় কৃষ্ণপ্রেম অনুভব করতে পেরেছিলেন, বিদাপতির কবিতা যেমন লছমী দেবীর কৃপা ছাড়া স্ফূর্তিপ্রাপ্ত হত না,নন্দদাসের সম্বন্ধেও সেইরকম কিম্বদন্তী আছে।বিঠ্ ঠলনাথের এক শিষ্যা ছিলেন,তাঁরই আদেশে নাকি নন্দদাসজির প্রাণে শ্রীরাধাকৃষ্ণপ্রেমের সঞ্চার হয়েছিল। নন্দদাসজীর "রাস পঞ্চাধ্যায়" শুধু ভাগবতের অনুবাদ নয়।তিনি নিজে লীলারসে ডুবে ঐ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।শ্রীজয়দেব গীতগোবিন্দে বসন্তরাসের বর্ণনা দিয়েছেন। হরিবংশেও রাসের বর্ণনা আছে। কিন্তু নন্দদাসজী ইঁনাদের গ্রন্থ হতে আখ্যানভাগ নিলেও নিজের প্রতিভাগুণে তাকে সুন্দর কাব্যে পরিণত করেছেন।হিন্দী সাহিত্যে নন্দদাসের রাসপঞ্চাধ্যায় ও ভম্বর-গীতার (ভ্রমর গীতা)সুখ্যাতি ধরে না।সূরদাসও ভ্রমর-গীতায় অপূর্ব মাধুর্য্যের সঞ্চার করেছিলেন।*
*রাজপুতানায় মীরাবাই গিরিধরলালের প্রেমে আত্মহারা হয়েছিলেন।মীরা চিতোরের রাণা ভোজরাজের পত্নী ছিলেন।মীরার অপূর্ব প্রেমসঙ্গীতে রাজপুতানা একদিন মেতে উঠেছিল।পরে ঔরঙ্গজেবের অত্যাচারে যখন গৌড়ীয় বৈষ্ণবেরা বৃন্দাবন ছাড়তে বাধ্য হলেন,তখন রাজপুতানা তাঁদের আশ্রয় স্থান হয়েছিল।শ্রীমদনমোহন প্রসঙ্গে জানতে পারা যায় যে,মূলতান ও পাঞ্জাব এক সময়ে মদনমোহন ও সনাতন গোস্বামীর স্মৃতির সমাদর করত।পাঞ্জাবের অন্তর্গত কাংড়া উপত্যকায় এখনও অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ খৃষ্টাব্দের বৈষ্ণব চিত্র পাওয়া যায়।লাহোর চিত্রশালায় রাধাকৃষ্ণের "স্বাধীনভর্ত্তৃকার" যে ছবিটি রক্ষিত আছে,তা প্রকৃতপক্ষে আতি সুন্দর।🌹শ্রীপদামৃত মাধুরী'র তৃতীয় খন্ডে প্রসিদ্ধ শিল্প-সমালোচক অর্ধেন্দ্রকুমার গাঙ্গুলী মহাশয়ের সৌজন্যে ছবিটি মুদ্রিত হয়েছে।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙏*
*উত্তর-বঙ্গে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব প্রভাব*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*⭐রাজশাহীর আদিবাসী আমি না হলেও এর সঙ্গে আমার অন্তরের যে নিবিড় যোগ আছে,সেই কথাটি আপনাদের কাছে আগে বলিনি। আমার এই শেষোন্মুখ কর্মজীবনের সূত্রপাত হয়েছিল রাজশাহীতে।রাজশাহী কলেজের অধ্যাপক পদ লাভ করে প্রথম যখন আসি,তখন প্রমত্তা পদ্মার সেই বর্ষাকালের ঢল ঢল রূপ আমাকে মুগ্ধ মূক করেছিল।আমি সেদিন সারাদিন অভুক্ত ছিলাম, কিন্তু তাতে আমার কোনও কষ্ট বোধ হয়নি। তখন আমি বালক বললেও অন্যায় হবে না। সেদিন পদ্মা আমাকে যে চঞ্চলতার দীক্ষা দিয়েছিল,জীবনে তা ভুলতে পারিনি।তারপরে এসেছিলাম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের অধিবেশনে, সেও আজ বহুদিন হ'লো।আপনাদের "বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির" যখন ভিত্তি স্থাপিত হয় তখন আমি উপস্থিত ছিলাম সে উৎসবে।লর্ড কারমাইকেল যে সৌধের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন,আজ তা সারা বাংলার গৌরবস্থল হয়েছে। সুতরাং আপনাদের আভিজাত্যপূর্ণ ইতিহাসের সঙ্গে কোনও রূপে জড়িত হতে পারা যে-কোনও ব্যক্তির পক্ষে সৌভাগ্যের কথা।*
*আমার দুঃখ এই যে,প্রথম জীবনে যেসব বন্ধু পেয়েছিলাম,তাঁদের মধ্যে অনেকেই আজ নেই। ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার,সুকবি রজনীকান্ত,সুলেখক মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ এঁরা রাজশাহীর লোক, কিন্তু সমগ্র বাংলার দুলাল।এঁদের বন্ধুত্ব লাভ করবার সুযোগ আমার হয়েছিল।তাই স্মরণ ক'রে রাজশাহী জেলার এই উৎসব-বাসরে আমার শ্রদ্ধার স্রক-চন্দন তাঁদের উদ্দেশ্যে অর্পণ করি। ব্রজসুন্দর সান্যাল ছিলেন তার সম্পাদক, আমার প্রবন্ধ সে কাগজে বেড়িয়েছে। এখন এ অঞ্চলে কোনও কাগজ আছে কিনা জানি না।যদি থাকে,তবে আমার সহানুভূতি তার সঙ্গে অবশ্যই থাকবে।যদি কাগজ না থাকে,তাহলে আপনাদের মারফতে আমি এই আবেদন জানাতে চাই,পাঠাগারের সঙ্গে একটি সাময়িকপত্র থাকলে সোনায় সোহাগা হয়।তার কারণ যেখানেই জ্ঞান, সেখানেই প্রকাশ। সত্ত্বগুণের ধর্মই এই যে,সে প্রকাশশীল।যাঁরা পাঠাগারকে সত্যিকার বস্তু বলে মনে করেন,যাঁরা তার সমস্ত সার্থকতা দিতে চান,তাঁরা প্রকাশের পথ খুঁজবেনই ; কারণ পাঠাগারের সার্থকতা প্রচারে। পাঠাগারের (লাইব্রেরীর)বিস্তৃতিও অনেকটা প্রচারের উপর নির্ভর করছে। তা নইলে ঘরের গৃহিণীরা চাকর পাঠিয়ে মধ্যাহ্ন-বিনোদনের জন্য কতগুলি পাঠ্য অপাঠ্য নভেল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন।আপনাদের এখানে উপস্থিত পরিস্থিতি ঠিক এই রকম কিনা জানিনা। কিন্তু বহু পাঠাগারের সঙ্গে আমি পরিচিত,যেখানে অবস্থা এর চেয়ে বেশী ভাল নয়।*
*আমাদের অতীত ইতিহাস এমন নৈরাশ্যজনক ছিল না। এই বরেন্দ্র ভূমি একদিন যশঃসৌরভে ভারতবর্ষের আকাশ বাতাস মুগ্ধ করে রেখেছিল। সেদিনকার ইতিহাস যদি আমরা ভুলে যাই,তাহলে অকৃজ্ঞতার চরম হবে।অতীত ইতিহাসের সোপানরাজি(উর্ধে উঠার সিঁড়ির পথ) কোনও জাতির সভ্যতাকে উন্নত হ'তে উন্নততর রাজ্যে পৌঁছে দেয়, একথা ভুললে চলবে না। আজ যেখানে আমরা সম্মিলিত হয়ে,এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে' গৌরব বোধ করছি (নওগা) একদিন তারই অনতিদূরে নানা বিদেশ হ'তে জ্ঞান-মন্দিরের তীর্থযাত্রীরা হাজার হাজার সংখ্যাই সমাগত হয়েছিল। তারও পূর্বে হিউয়েন সাঙ এখানে এসে এক উন্নতশালী জনপদের বিবরণ লিখেছিলেন। জৈন ধর্মেরও নিদর্শন এখানে আবিস্কৃত হয়েছে।ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রভাবও বহু পূর্ব হতে বতর্মান ছিল, পন্ডিতেরা এই অনুমান করেন।শিবশক্তির যে যুগনগ্ধ মূর্তি পাওয়া গেছে, তার থেকে বৌদ্ধ ও হিন্দুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ আদান প্রদানের পরিচয় পাওয়া যায়। হেবজ্র এবং প্রজ্ঞাপারমিতার যুগল মূর্তি (তিব্বতীয় ভাষায় যবষুম) বোধ হয় পরে শিবশক্তি রূপে হিন্দুদের দেবগোষ্ঠীতে প্রবেশ করেছিল। হিন্দু বৌদ্ধ জৈনের মিলনক্ষেত্র এই সুন্দর দেশ কি ভাবে সভ্যতা, ঐশ্বর্য্য ও শৌর্যবীর্য্যের মহান আদর্শ গড়ে উঠেছিল, তা ভাবলে সম্ভ্রমে ও ভক্তিতে আমাদের মাথা অবনত হয়ে আসে স্বভাবতই।যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না,তাই ঘটেছিল এই উত্তর বঙ্গে।আমরা ভাবি যে সভ্যতা ও জ্ঞানে আমরা অতীত যুগকে বহু পেছনে ফেলেছি। কিন্তু এ যে কত বড় ভুল,তা একটু প্রণিধান (মনোযোগ)করলেই বুঝতে পারা যায়। ইলেকট্রিক পাখা,টেলিফোন, বেতার,মোটর প্রভৃতি বতর্মান যুগের আবিস্কার আমাদের নিত্য নতুন চমক লাগিয়ে দিচ্ছে সত্য ; কিন্তু সেই অতীত গৌরবময় যুগের তুলনায়, আমাদের এই ধার-করা উন্নতি যে কতখানি ম্লান তা আমরা ভেবে দিখিনি। সে সুবর্ণ যুগের তুলনায় এখনকার যুগকে জোর গিলটি যুগ বলা চলে, তার বেশী নয়।*
*🌻সেই অতীত যুগের কথা আজ স্মরণ করি।পালরাজগণের সময় উত্তর বঙ্গ যে উন্নতি করেছিল,তা আজ কল্পনার বস্তু।পালরাজগণের গৌরবময় যুগে বঙ্গের এই উত্তরপ্রদেশের ইতিহাস ভারতের ইতিহাস বললেও বেশী বলা হয় না।সে সময়ে বঙ্গে যেসব রাজ্য ছিল,তারা কোথায় গেল?সেই দলভুক্তি,কোটাটবী,বালবলভী, রাজশাহী জেলার কৌশাম্বী প্রভৃতি আজ কোথায়?সেই প্রসিদ্ধ বিহারগুলিই বা কোথায়? ওদন্তপুর, বিক্রমশীল, জগদ্দল প্রভৃতি বিহারগুলি একাধারে ধর্ম ও বিদ্যাশিক্ষার প্রসিদ্ধ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।এই পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার সেই গৌরবময় যুগের স্মৃতি মাটিরতলে লুকিয়ে রেখেছে যুগ যুগান্ত ধরে। এই রাজশাহী জেলাতেই দিব্বোকের বিজয়বাহিনী দ্বিতীয় মহীপালের দর্প চূর্ণ করে, যে জয়স্তম্ভ স্থাপন করেছিল,আজও তা বতর্মান আছে শুনেছি।রামপাল অতিকষ্টে আবার এইদেশে শান্তি স্থাপন করেছিলেন। "শেক শুভোদয়ায়" রামপাল সম্বন্ধে যে গল্প আছে, তা রোমের ন্যায়-বিচারের খ্যাতিকেও ম্লান করে।তিনি তাঁর একমাত্র পুত্র যক্ষপালকে অপরাধের জন্য প্রাণদন্ড দিয়েছিলেন এবং সেই শোকে নিজেও নদীগর্ভে আত্মবিসর্জন দিলেন।"তারনাথের" ইতিহাস থেকেও আমরা পাই যে রামপালের এক পুত্র ছিল তার নাম যক্ষ।এ সব কীর্তি কাহিনী আমরা ভুলে গেছি। শুধু রাজরাজাদের কীর্তি গাথা নয়, সংস্কৃতির দিক দিয়েও উত্তরবঙ্গ বহুদূর অগ্রসর হয়েছিল। স্মরণাতীত কাল হতে রাঢ়দেশ অপেক্ষাও উত্তর বঙ্গের গৌরব ছিল বেশী। গুপ্ত সম্রাটদের সময় থেকে আরম্ভ করে উত্তর বঙ্গের একটি অব্যাহত ইতিহাস দেখতে পাওয়া যায়।সেজন্যই এখানে অতীতের এত নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে যে বঙ্গের অন্য কোন জায়গায় সেরকম নয়।বৌদ্ধধর্মের একটি বৈশিষ্ট্য এই যে এটি কোন সম্প্রদায় বা শ্রেণী-বিশেষের মধ্যে নিবদ্ধ ছিল না। "শ্রমণ" বা ভিক্ষুরা আপামর সাধারণের মধ্যে শান্তির বাণী প্রচার করতেন। আমরা শুধু জানি যে,বৌদ্ধেরা তাঁদের ধর্ম প্রচার করতে দেশ বিদেশে অভিযান করেছিলেন। কিন্তু দেশের মধ্যেও অহিংসা, সন্তোষ ও শান্তির বাণী তাঁরা যে কি অদম্য উৎসাহে প্রচার করেছিলেন,তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়।অশোকের শিলালিপি,স্তম্ভলিপি এসব চিরপরিচিত উপায় তো ছিলই।সারা দেশময় সঙ্ঘারাম,বিহার,মহাবিহার প্রভৃতি স্থাপন করে,তাঁরা লোক-শিক্ষার বিরাট আয়োজন করেছিলেন।লোকশিক্ষার এরকম বিপুল ব্যবস্থা আর কোনও প্রাচীন জাতির ইতিহাসে দেখা যায় না।হিউয়েসাঙ্গের বিবরণ থেকে বুঝা যায় যে তিনি বিংশিতিটি বিহার এই উত্তর বঙ্গেই দেখেছিলেন।শুধু তাই নয়, অন্তঃপুরচারিকাদের নিকট সদ্ধর্মের অর্থ্যাৎ বৌদ্ধধর্মের মর্ম বুঝাবার জন্য ভিক্ষুণীগণেরও সংখ্যা কম ছিল না। বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা সমগ্র জগতের ধর্মে ইতিহাসে যে এক অতি উন্নততর স্তরের সূচনা করেছিল একথা বোধকরি সকলেই জানেন। জীবন যাত্রার যে নীতি তাঁরা শিখিয়েছিলেন তা আজও পুরোনো হয় নি বা অন্য নীতির দ্বারা পরাভূত হয়নি।এই অত্যদ্ভূত উন্নতি কিভাবে সম্ভব হয়েছিল,তার ইতিহাস আমরা বিশেষ কিছু জানি না।তবে অনুমান হয় যে পাহাড়পুর,তাম্রলিপি,নালন্দা প্রভৃতি জায়গায় যেসব বিহার ছিল,তাকে কেন্দ্র করে এক একটি প্রদেশের সভ্যতা বিস্তার লাভ করেছিল।প্রত্যেক বিহারে ত্যাগশীল,সুপন্ডিত, বহুদর্শী প্রবীণ শ্রমণগণ বাস করতেন।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)🔴বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🔴*
*উত্তর-বঙ্গে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব প্রভাব*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌺তাঁদের কাছে দেশ-বিদেশ থেকে ছাত্রেরা সমাগত হতো জ্ঞানলাভ করবার জন্য। এইভাবে বিক্রমশীল, তক্ষশীলা,নালন্দা প্রভৃতির খ্যাতি বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।ভারতবর্ষের ইতিহাসে তেমন আর কখনও হয়নি।পন্ডিতেরা অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করতেন।ছাত্রেরা শিক্ষা করতেন।উভয়ের পুঁথি লিখিত হ'ত শত সহস্র সংখ্যায়।পুঁথি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন,সাধারণ বিদ্যালয়ও চলে না। নালন্দায় দশহাজার ছাত্র অধ্যয়ন করতো, এইকথা হিউয়েন সাঙ বলেছেন--, তাদের জন্য অন্তত দুইশ কি আড়াইশ অধ্যাপক থাকতেন।তাঁদের প্রত্যেকের জন্য গ্রন্থের প্রয়োজন মিটাতে হলে কত পুঁথি থাকা আবশ্যক, ভেবে দেখুন।নালন্দায় নয়তলা বাড়িতে গ্রন্থাগার ছিল। অন্যান্য বিহারেও এরকম পুস্তকাগার নিশ্চয়ই ছিল, কারণ আগেই বলেছি বিহারগুলি ছিল প্রধানতঃ শিক্ষার কেন্দ্র।তখন মুদ্রাযন্ত্র ছিল না,কাজেই পুঁথি নকল করবার হাজার হাজার লোকের পরিশ্রম আবশ্যক হত।এইসব লোক ভূমি,গ্রাম এবং বিত্ত পারিশ্রমিক স্বরূপ প্রাপ্ত হত।অষ্টম শতাব্দী হতে আরম্ভ করে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত তিব্বতের পন্ডিতেরা দলে দে এদেশে আসতেন, ভারতের বিশেষ করে উত্তর ভারতের পুঁথি তিব্বতীয় ভাষায় নকল করত।এই ভাবেই অতীতকালে আমাদের সংস্কৃতির সৌধ বিরচিত হয়েছিল,যার গঠনে উত্তর বঙ্গ কম সহায়তা করেনি।সে সংস্কৃতি করকম ছিল?আজ আর শত চেষ্টাতেও তার একটি ছবি আমরা চোখের সামনে আনতে পারি না।ভারতবর্ষ থেকে, বাংলাদেশ থেকে বৌদ্ধধর্মের নিদর্শন চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত হয়েছে। এর কারণই বা কি? কেউ কেউ মনে করেন মুসলমানেরা বৌদ্ধধর্মের কীর্তিকলাপ নিশ্চিহ্ন করে মুছে দিয়েছে। কিন্তু সেটা সত্য কথা নয়। কারণ মুসলমানদের কাছে বৌদ্ধও যা, হিন্দুও তা-ই। মুসলমান আক্রমণে দেশের সংস্কৃতির স্রোত অনেকটা বাধা পেয়েছিল, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু হিন্দুধর্মের মন্দির,আশ্রম, গুহাগুলি এখনও তো মেখলার মত আমাদের জন্মভূমির অঙ্গ বেষ্টন করে বিরাজ করছে। এই কারণেই হিমালয় হতে কন্যাকুমারীকা পর্যন্ত সমগ্রদেশ এখনও হিন্দুদের স্থান বা হিন্দুস্থান বলে, দেশ বিদেশে পরিচিত হবার দাবী রাখে।তাহলে মুসলমানদের দৌরাত্ম্য বৌদ্ধধর্মের বিলোপের কারণ হতে পারে না।*
*🍁কেউ কেউ বলেন শঙ্করাচার্য্যের সময় হতে হিন্দুধর্মের যে অভ্যুদয় হয়েছিল,তারই ফলে বৌদ্ধধর্মের পতন হয়েছে। কিন্তু তা-ই বা কেমন করে, বিশ্বাস করা যায়?হিন্দুধর্মের এখন যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি, তা বৌদ্ধধর্মের অনেকখানি আত্মসাৎ করে নিয়েছে। বৌদ্ধধর্মের আদর্শ= নির্বাণ, হিন্দুদের= মোক্ষ বা মুক্তি। বৌদ্ধদের জন্মান্তর ও কর্মফলবাদের সঙ্গে হিন্দুর অধ্যাত্মবিদ্যার একটুও প্রভেদ নাই। বৌদ্ধদের শূন্য এবং হিন্দুদর্শনের নির্গুণ ব্রহ্মে তফাৎ কি বড় বেশী? এইভাবে হিন্দু এবং বৌদ্ধমতের যে সমন্বয় আমরা দেখতে পাই,তাতে এক ধর্মের দ্বারা অন্য ধর্মের উচ্ছেদ-সাধন সম্ভব কতখানি তাহাও বিবেচ্য।পালরাজগণ সকলেই বৌদ্ধ ছিলেন। কিন্তু তাঁরা হিন্দুমতের প্রতি বিরূপ ছিলেন না।যতদূর জানা যায় তাতে পালরাজারা ব্রাহ্মণগণকে সমাদর করতেন,ভূমিদান করতেন এবং নিশ্চয়ই তাঁদের উপাসনাদিতে বাধা দিতেন না। আমার বোধহয়, বৈষ্ণবধর্মের অভ্যুত্থান বৌদ্ধসংস্কৃতির বিশেষ অন্তরায়রূপে দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশে ঐ ধর্মের যে প্রবল বন্যা একদিন বয়েছিল, তার শক্তি সম্বন্ধে আমাদের অনেকেরই হয়ত সুস্পষ্ট ধারণা নেই। আমার মনে হয় যে,বহুদিন এরকম শক্তিশালী প্রভাব জনসাধারণের মধ্যে অনুভূত হয়নি। তার ফলে হয়েছে এই যে,বঙ্গদেশে বহুলোক এখনও বৈষ্ণব, এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতিও নানা ছদ্মবেশে বৈষ্ণবমতের সঙ্গে মিশে আত্মগোপন করে রয়েছে। হিন্দুর অধ্যাত্মবিদ্যার সঙ্গে বৌদ্ধমতের যতটা মিল আছে, বৈষ্ণবদের সঙ্গে ততটা নয়। কিন্তু একটি বিষয়ে বৌদ্ধদের অনুকরণ করেছিলেন বৈষ্ণবেরা, সেটি হচ্ছে বৈষ্ণবদের জাতিভেদের প্রতি অনাস্থা।জাতিভেদ বৈষ্ণব প্রভাবে কতটা খর্ব হয়েছিল,তা এখন বুঝতে পারা কঠিন হবে। কারণ পরে ব্রাহ্মণ্যধর্মের সঙ্গে বৈষ্ণবধর্মের যে সমন্বয় ঘটলো,তাতে জাতিভেদ আবার মাথা তুলতে সমর্থ হয়েছিল। ব্রাহ্মণেরা এই বিষয়ে চৈতন্য-প্রবর্তিত ধর্মের উপর গোড়া থেকেই খুব চটা ছিলেন। এখন দাঁড়িয়েছে এই যে,বৈষ্ণবতত্ত্ব কতটা হিন্দু সমাজে চললেও জাতিভেদ পুরোমাত্রায় মেনে নেওয়া হচ্ছে।সে "চন্ডালোহপি দ্বিজশ্রেষ্ঠ হরিভক্তি-পরায়ণঃ" আর নেই।মহাপ্রভু যা শিখিয়ে গিয়েছিলেন=*
*🌷যে-ই ভজে সে-ই বড় অভক্ত হীন ছার।*
*🌷কৃষ্ণ ভজনে নাহি জাতিকুলাদি বিচার।।*
*🌻সে শিক্ষা আমরা ক্রমে বিস্মৃত হয়েছি। অবশ্য সেজন্য আমাদের যে দুর্গতি,তার জন্য এখনই আমাদের প্রায়শ্চিত্ত শুরু হয়েছে ভীষণভাবে।বাংলার তথা ভারতবর্ষের প্রধান রাষ্ট্রীয় সমস্যা এখন হিন্দু মুসলমান নিয়ে নয়,এখন সে সমস্যা Scheduled caste বা অনুন্নত জাতি নিয়ে।যাদের আমরা আঙ্গিনার বাহির করে দিয়েছি,তারাই অন্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগ দিয়ে হিন্দুদের স্বাধীনতা-লাভের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দেখে মনে হয় যে, বৌদ্ধদের শিক্ষা,বৈষ্ণবদের শিক্ষা ত্যাগ করে আমরা ভাল করিনি। আর কোনও দেশের সংস্কৃতির ইতিহাসে এই জটিলতা নেই। আমাদের নিজ কর্মফল অভিসম্পাতরূপে আমাদের ভাগ্যকে বিড়ম্বিত করছে।*
❤💧❤💧❤💧❤💧❤💧❤💧❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০)🦚বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🦚*
*উত্তরবঙ্গে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব প্রভাব*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*🌻সে যাই হোক, এই জেলাতেই বৈষ্ণবদের যে অভ্যুদয় হয় ষোড়শ শতাব্দীতে,শ্রীচৈতন্যের পরে এত বড় বিপ্লব আর ঘটেনি।খেতুরির রাজপুত্র বুদ্ধেরই মত গৃহত্যাগ করে,যে আদর্শ এই জেলাতেই (রাজশাহী) দেখিয়েছেন,তা গৌতম বুদ্ধের সংসার ত্যাগেরই মত মর্মস্পর্শী ও আধ্যাত্মিক প্রভাবশালী।দিকে দিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়ল, নরোত্তমদাসের এই ত্যাগের আদর্শে বৈষ্ণবধর্ম মহীয়ান্ হয়ে উঠলো।দেশব্যাপী যে আন্দোলন হলো,তাঁর কাছে সমস্ত বাধাবিঘ্ন ভেসে গেল।শূন্যবাদের রিক্ত সিংহাসনে বসলেন শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল মূরতি।শালগ্রাম শিলা নয়, একেবারে রূপেরসে ভরপুর সচ্চিদানন্দঘন বিগ্রহ।শালগ্রাম অনেকটা শূন্যের প্রতীক। কিন্তু তাঁর স্থলে আসলেন অখিলরসামৃত মূর্তি,নন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ।বৌদ্ধদের দুরূহ অষ্টমার্গিক সাধনের স্থলে এলো আপামর সাধারণের জন্য নাম-সংকীর্তন।শুকনো কঠোর বিধি-নিষেধের জায়গায় এলো প্রেম,অহিংসার জায়গায় করুণা।অহিংসা একটি অভাবাত্মক ধর্ম--,হিংসার অভাব এই মাত্র। কিন্তু করুণা হৃদয়ের একটি সহজাত শ্রেষ্ঠ বৃত্তি।এইভাবে সারাদেশ বৈষ্ণবধর্মের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উঠেছিল। আগের যেসব সংস্কৃতির ভগ্নাবশেষ তখনও বতর্মান ছিল,সেগুলি অল্পে অল্পে ধরণীপৃষ্ঠ হতে বিদায় গ্রহণ করতে লাগল।*
*বৌদ্ধধর্মের প্রভাব এইরূপে যখন খর্ব হতে আরম্ভ করেছিল,তখন বৈষ্ণবরাও ভগবান বুদ্ধের জন্য একটু জায়গা করে,তাঁকে দশাবতারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চেষ্টা করেছিলেন ; তারই পরিচয় আমরা শ্রীজয়দেবে পাই।শ্রীজয়দেব বাংলার কবি ; তাঁর সময়ে বৌদ্ধ প্রভাব জীবন্ত ভাবে বাংলাদেশে বতর্মান ছিল।*
*নরোত্তমদাস ঠাকুরের প্রভাব কীর্তনের অনুকূল পবনে দূর দূরান্তরে প্রবাহিত হতে লাগল। আমার মনে হয় কূলপ্লাবিনী পদ্মার প্লাবনের মত এই ধর্মের ঢেউ লেগেই পুরাতন ভাবধারার শেষ সৌধগুলি ভেঙ্গে পড়তে লাগল। নরোত্তমদাস গরাণহাটী কীর্তনের প্রবর্তক,শ্রীনিবাস আচার্য্য মনোহরসাহী কীর্তনের জনক বলে বিখ্যাত। এঁদের উভয়ের সম্মিলন ঘটেছিল এই জেলাতেই। একজন উত্তর বঙ্গের, আর একজন রাঢ়ের। এই হতে উত্তর বঙ্গ আর রাঢ় এক স্বর্ণ সূত্রে গ্রথিত হলো।এমনটি আগে হয়েছিল বলে জানা যায় না। শ্রীচৈতন্যের সময়ে এবং তাঁর অব্যবহিত পরবর্তী কালে নদীয়া শান্তিপুর দিয়ে রাঢ় অঞ্চলে বৈষ্ণব ধর্মের ঢেউ বয়েছিল।শ্রীহট্ট অঞ্চলেও এর কতকটা প্রভাব পৌঁছেছিল। কিন্তু উত্তর বঙ্গে যে বৈষ্ণব ভাব-প্রবাহ এমন প্রবলভাবে ধাক্কা দিতে পারলো, তার কারণ আমার বোধহয় উত্তরবঙ্গের পুরাতন সংস্কৃতি।উত্তরবঙ্গ আগে থেকেই যেন এর জন্য তৈরী ছিল। পুন্ড্রবর্দ্ধন ও সোমপুর বিহারকে কেন্দ্র করে যে সভ্যতা যুগযুগান্ত ধরে পুরাতন অট্টালিকায় বট গাছের মত অসংখ্য শিকড় বিস্তার করে সমাজকে আচ্ছন্ন করেছিল, তারই ফলে একদিন হঠাৎ জাগরণ এসেছিল।সে জাগরণের দিকে সারা বাংলাদেশ নির্ণিমেষ নেত্রে তাকিয়ে রইল। ঠাকুর নরোত্তমদাস যা করেছিলেন,তার তাৎপর্য্য বুঝতে হলে সমস্ত বৈষ্ণব ধর্মমতের ইতিহাস আলোচনা করতে হয়।তিনি একদিকে যেমন কীর্তনের পদ্ধতি বেঁধে দিলেন,তেমনি বৈষ্ণব মতবাদের ভিত্তিও সুদৃঢ় করে দিলেন।তাঁর "শ্রীশ্রীপ্রেমভক্তিচন্দ্রিকা" "হাটপত্তন" "প্রার্থনা" "চমৎকারচন্দ্রিকা" প্রভৃতি গ্রন্থ বৈষ্ণব সমাজের যে কি অসামান্য উপকার করেছে,তা বলে শেষ করা যায় না।নরোত্তমদাস ঠাকুরের অবদান বরেন্দ্রীপুন্ড্র বর্দ্ধনের গরিমময় ইতিহাসের উপযুক্ত বলে আমরা মনে করতে পারি।তাঁর "প্রার্থনা" পদগুলি জগতের সাহিত্যে তুলনাবিহীন এবং তাঁর প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা নামক গ্রন্থটিকে বৈষ্ণবগণ বলেন "লক্ষ গ্রন্থের টীকা"।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
