✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆☆
*🔵 বাংলাদেশে এক সময়ে অনেকগুলি মুসলমান বৈষ্ণব কবির আবির্ভাব হয়েছিল,এটি সাহিত্যের ইতিহাস হতে জানা যায়।নসির মামুদ, সালবেগ,সৈয়দ মর্ত্তুজা, আকবর প্রভৃতি বহু মুসলমান কবি যে বৈষ্ণব ভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন,একথা বৈষ্ণব সাহিত্যের পাঠকমাত্রেই জানেন।মুনসী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদও কয়েকজন মুসলমান বৈষ্ণব কবির পরিচয় দিয়েছেন,যাঁরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম অবলম্বন করে কবিতা রচনা করে গিয়েছেন। গরিব খাঁ নামক একজন কবি শুধু বৈষ্ণব পদ রচনা করে ক্ষান্ত হননি,বৈষ্ণব রসতত্ত্বেও ডুবেছিলেন। "রাই-কানু একতনু হয়ে যে নদীয়ায় এসে গৌরাঙ্গ হয়েছেন, এ নিগূঢ় তত্ত্বও তাঁর অজ্ঞাত বা অজানা ছিল না ঃ------*
*🌷গবির কয় ধরমু বলে ডুবে পেলে না,*
*তাই ক্ষেপে নদেয় এসেছে।*
*🌺বাংলায় আরেকজন মুসলমান কবি গৌরাঙ্গ সম্বন্ধে পদ রচনা করেছেন। পদটি এই=*
*🌷জীউ জীউ মেরে মনোচোরা গোরা।*
*🌷আপহি নাচত আপন রসে ভোরা।।*
*🌷খোল করতাল বাজে ঝিকি ঝিকি ঝিকিয়া।*
*🌷ভকত আনন্দে নাচে লিকি লিকি লিকিয়া।।*
*🌷পদ দুই চলু নট নট নটিয়া।*
*🌷থির নাহি হোয়ত আনন্দে মাতুলিয়া।।*
*🌷ঐছন পহুঁক যাঙ বলিহারি।*
*🌷সাহ আকবর তেরে প্রেমভিখারী।।*
*(গৌরপদতরঙ্গিণী)*
*🍁এই সাহ আকবর কে ছিলেন তা জানা যায় না।ইনি যে আকবর বাদশাহ নন,তা না বললেও চলে। কারণ ঐ পদটির মধ্যে যে গৌরপ্রীতি দেখা যায়,তার কোন নিদর্শন সম্রাট আকবরের চরিত্রে ঘুণাক্ষরেও পাওয়া যায় না,যদি ঐ আকবর হত, তাহলে বোধহয় বৃন্দাবন আক্রমণ করত না।*
*🌻কিন্তু ঐ একই সময়ে খান খানান আবদুর রহিম খান বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি যে প্রীতিসম্পন্ন হয়েছিলেন,তা জানা যায়। আবদুর রহিম আকবরের অভিভাবক বৈরাম খানের পুত্র ছিলেন। তিনি নিজেও একজন অসাধারণ রাজনীতিজ্ঞ এবং যোদ্ধা ছিলেন।মোগল সম্রাটের সেনাপতি পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি কাব্যলক্ষ্মীর সেবা করতে পেরেছিলেন।তাঁর দান এত বেশী ছিল যে,অনেকে তাঁকে দাতাকর্ণের সঙ্গে তুলনা করত।আকবরের এক সভাকবি ছিলেন,তাঁর নাম গঙ্গ। এই কবিকে রহিম ছত্রিশ লাখ টাকা দান করেছিলেন।আবদুর রহিম একবার বাদশাহ জাহাঙ্গীরের কোপে পড়ে সর্বস্বান্ত ও কারারুদ্ধ হন। রহিম তুলসীদাসের অতি প্রিয়পাত্র ছিলেন। রহিমের রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে দোহাবলী,সৎসই,রাসপঞ্চাধ্যায়ী প্রভৃতির নাম পাওয়া যায়।রহিমের কৃষ্ণভক্তির পরিচয় পাওয়া যায় নিম্ন লিখিত পদে ঃ---*
*🌷অনুদিন শ্রীবৃন্দাবন ব্রজ তেঁ আবন আবন জানি।*
*🌷অব রহীম চিতে তেঁ টরতি হ্যায় সকল স্যামকী বানি।।*
*(হিন্দি সাহিত্যকা ইতিহাস পৃঃ ১৮৫)*
*🌺উত্তর পশ্চিমের আর একজন মুসলমান কবি বৈষ্ণব ভক্তিবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।ইঁনার নাম কি ছিল,তা জানা যায় না।কবিতার ভণিতায় ইনি নিজেকে "রসখান" বলে পরিচিত করেছেন,রসখান বাদশাহ-বংশসম্ভূত ছিলেন (খানদানি), একথা তিনি নিজেই বলেছেন।যতদূর জানা যায়,তাতে রসখান দিল্লীর একজন পাঠান সর্দার ছিলেন।ইঁনার রচিত "সুজান রসখান" ও "প্রেমবাটিকা" নামক পদ্যগ্রন্থদ্বয় পাওয়া যায়।প্রেমবাটিকা ১৬৭১ সংবৎ অর্থ্যাৎ ১৬১৪ খ্রীষ্টাব্দে রচিত হয়।*
*🌷বিধু সাগরে রস ইন্দু সুভ বরস সরস রসখানি।*
*🌷প্রেমবাটিকা রুচির রুচির চির হিয় হরসি বখানি।।*
*🌹এই সময়ে বঙ্গদেশে বৈষ্ণব কাব্য ও সঙ্গীতের সুবণা যুগ চলছিল। শ্রীনিবাস,নরোত্তম ও শ্যামানন্দের প্রভাবে বঙ্গ ও উৎকল কীর্তনে মেতে উঠেছিল। বাংলার অধিকাংশ বৈষ্ণব কবি এই যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পাঞ্জাবে নানকজী হতে যে ভক্তিবাদের ধারা প্রবাহিত হয়, মিথিলায় বিদ্যাপতির মধ্যে যে ধারার পরিণতি দেখা যায়,উত্তর পশ্চিমে সূরদাস,তুলসীদাস ও বল্লভাচার্য্যের দ্বারা সেই ধারারই পুষ্টি ও বৃদ্ধি হয়, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নেই।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🌹*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
#######"###################
*🍁বাঙ্গালী কবিগণ যে উত্তর পশ্চিমের বৈষ্ণব কবিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন অথবা উত্তর পশ্চিমের কবিগণ যে বাঙ্গালী কবির কাছ হতে তাঁদের প্রেরণা লাভ করেছিলেন তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ সম্বন্ধে অবশ্য এখনও যথেষ্ট অনুসন্ধান হয়নি। সূরদাস যখন তাঁর "সূর সাগর" গোকুলে বসে রচনা করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই বৃন্দাবনে রূপ-সনাতন প্রভৃতি গোস্বামীগণ গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের ভিত্তি নির্মাণ করছিলেন।আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে,ইঁনাদের মধ্যে কোনও সংস্রব (যোগাযোগ) ছিল কিনা,তা জানা যায় না।মীরাবাঈয়ের সম্বন্ধে প্রবাদ কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু সূরদাসের সম্বন্ধে প্রবাদও নীরব। অথচ সূরদাসের পদাবলীর সঙ্গে বাঙ্গালী বৈষ্ণব কবির এমন অদ্ভুত সাজাত্য (একজাতীয়তা) কিভাবে আসিল,তা বুঝা যায় না।রসখানের পদাবলীর সহিতও বাংলা পদাবলীর ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ রয়েছে।রসখান যে রসটিকে গ্রহণ করেছিলেন তাহাও বৈষ্ণব রসতত্ত্বের মধ্যে একটি বিশিষ্ট রস ; তিনি সখ্য রসের উপাসক ছিলেন।এই রসের সাধক খুব একটা বেশী আছে বলে মনে হয় না।তাঁর এই আবেশ ছিল যে, তিনি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নিত্য গোচারণে যেতেন। তাঁর কবিতায় মধুর বা শৃঙ্গার রসেরও অভাব নাই। তিনি একটি কবিতায় গোপী-ভাবের আবেশে বলেছেন=*
*🌷মোর পখা সির উপর রাখিহৌ,*
*গুঞ্জকী মাল গরে পহিরৌংগী।*
*🌷ওঢ়ি পিতাম্বর লৈ লকুটি বন,*
*গোধন গ্বারন সঙ্গ ফিরৌংগী।।*
*🌷ভাবতো সোই মেরো রসখান সো,*
*তেরে কহে সব স্বাংগ করৌংগী।*
*🌷যা মুরলী মুরলীধর-কী,*
*অধরান ধরী অধরা ন ধরৌংগী।।*
*🌻আমি মাথার উপর ময়ূরপুচ্ছ ধারণ করব,গলে গুঞ্জমালা পরব।পীতাম্বর পরে,লাঠি হয়ে গোধন গোয়ালার সঙ্গে বেড়াব। (রসখান বলেন) তিনি যে অভিপ্রায় করেন (অথবা তিনিই যখন আমার প্রিয় তখন) তিনি বলিলেই আমি তা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করব। কিন্তু, যে মুরলী মুরলীধর অধরে ধারণ করেন,তা অধরে স্পর্শ করব না। (কারণ মুরলী আমাকে বঞ্চিত করে শ্রীকৃষ্ণের অধর-সুধা পান করছে।*
*🌹রসখান ভাবাবেশে গরু চরাইতেন, শ্রীকৃষ্ণের মোহনবেণু শুনে বিভোর হতেন,আর তাঁর রূপ-সুধারস পান করবার জন্য পাগল হয়ে যেতেন=*
*🌷মত্ত ভয়ো মন সঙ্গ ফিরৈ,*
*রসখানি সুরূপ-সুধারস ঘুটয়ো।*
*🍁এবং নদী যেমন সাগরে মিলিতে ছুটে যায়,সেইরকম ভাবে মন কুলের বাঁধ ভেঙ্গে ফেলে--------*
*🌷সাগর কোঁ সরিতা জিমি ধাবতি,*
*রোকি রহে কুলকৌ পুল টুটয়ো।*
*🌹রসখানজী শ্যামের রূপ এইভাবে আস্বাদন করেছেন=*
*🌷সুন্দর স্যাম সিরোমণি মোহন,*
*জোহন মেঁ চিত চোরতু হ্যায়।*
*🌷বাঁকী বিলোকনি কী অবলোকনি,*
*নোকনু কৈ দৃগ্ জোরতু হ্যায়।।*
*🌷রসখানি মনোহর রূপ সলোনে কৌ,*
*মারগ তেঁ মন মোরত হ্যায়।*
*🌷গৃহ-কাজ সমাজ সবৈ কুল লাজ,*
*ললা ব্রজরাজ কৌ তোরতু হ্যায়।।*
*🌻সুন্দর শ্যাম মোহন-শিরোমণিকে অনুসন্ধান করতেই আমার চিত্ত চুরি করেছে। সুন্দর নয়নের যে অবলোকন (দৃষ্টি ভঙ্গী) তা দেখলাম, নাসিকার উপর চক্ষু দুইটি যেন যুক্ত হয়েছে। রসখান বলেছেন, সুন্দর মনোহর রূপ আমার মনের পথ ফিরিয়ে দিয়েছে, অর্থ্যাৎ অন্য পথে যেতে গেলে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে, ব্রজ-রাজ লালা (কিশোর তনয়) গৃহকাজ, সমাজ,সমস্ত কুললাজ ভেঙ্গে দিল।*
*🌺রসখানের একটি দানের পদ আছে =*
*🌷দানী ভয় নয়ে মাঙ্গত দান,*
*সুইন জু-পৈ কংস তৌ বাঁধিকৈ জৈহো।*
*🌷রোকত হৌ বন মে রসখানি,*
*পসারত হাথ ঘনৌ দুখ পৈহো।।*
*🌷টুটে ছরা বছরা অরু গোধন,*
*জো ধন হ্যায় সূ সবৈ ধরি দৈহো।*
*🌷জৈছে ভুষণ কাহূ সখী কৌ,*
*তো মোল ছলা কে ললা ন বিকৈহো।।*
*🍀দানী হয়ে নতুন দান চাইছে,ভয় নাই! কংস যখন শুনবে তখন তোমাকে বেঁধে নিয়ে যাবে।রসখান বলছেন বনের মধ্যে পথ রোধ করে (দানের জন্য ) হাত পেতেছ, এতে অত্যন্ত দুঃখ পাবে।যদি হার ছিঁড়ে যায়,তবে তোমার গরু-বাছুর সব ধরে নিয়ে যাবে।যদি কোনও সখীর অলঙ্কার যায়,তবে,হে লালা!তোমাকে বেচলেও হারের দাম পরিশোধ হবে না।*
*🌹এই দানের পালা নিয়ে বাংলাদেশে বেশ একটু কৌতূককর আলোচনা আছে। শ্রীমদ্ভাগবতে দানলীলার প্রসঙ্গ নাই।এ দানলীলার ব্যাপার কোথা হতে আসিল?এটিই প্রশ্ন।*
*এতদিন পরে দানলীলার প্রাচীনতম প্রামাণিক বর্ণনা পাওয়া যায় শ্রীপাদ রূপগোস্বামীর দানলীলাকৌমুদী এবং রঘুনাথ দাস গোস্বামীর দানকেলিচিন্তামণিতে।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🌳🌳🌳🌻🌻🌻🌹🌹🌹🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙏*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌹বৈষ্ণব রস সাহিত্য বিরাম পর্য্যায়🌹*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀দানকেলিকৌমুদী নামক ভাণিকা (হাস্যরসাত্মক একাঙ্ক নাটিকা)রচিত হয়।*
*🌷গতে মনুশতে শাকে চন্দ্রস্বর সমন্বিতে।*
*🌷নন্দীশ্বরে নিবসতা ভাণিকেয়ং বিনির্মিতা।।*
*🌻এরই অল্পদিন পরে দানকেলিচিন্তামণি রচিত হয়েছিল। এই গ্রন্থে শ্রীরূপ গোস্বামীর নাম আছে। ভক্তিরত্নাকরে শ্রীরঘুনাথ গোস্বামীর এই গ্রন্থ দানচরিত নামে উল্লিখিত হয়েছে ঃ---*
*🌷রঘুনাথ দাস গোস্বামীর গ্রন্থত্রয়।*
*🌷স্তবমালা নাম স্তবাবলী পরে কয়।।*
*🌷শ্রীদানচরিত মুক্তাচরিত মধুর।*
*🌷যাহার শ্রবণে মহা দুঃখ যায় দূর।।*
*🌺দাসগোস্বামীর দানচরিত বলে কোনও গ্রন্থ নাই।কাজেই দানকেলিচিন্তামণিকে শ্রীনরহরি চক্রবর্তী দানচরিত বলে উল্লেখ করেছেন এটিই বোধ হয়।*
*🍁সূরদাস অনুমান ১৪৮৩ খৃঃ জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর কবিতায় দান লীলার উল্লেখ আছে। সূরদাসের দানলীলার পদাবলী এখনও গান হয়ে থাকে।রসখানের দানলীলার সম্বন্ধে পদ রয়েছে। এটি হতে অনুমান হয় যে দানলীলা সম্বন্ধে নিশ্চয়ই কোনও পূর্বতন (বহুদিন আগে) সংস্কৃত কাব্য উত্তর ভারতে প্রচলিত ছিল যা হতে পশ্চিমদেশীয় কবিগণ এ বঙ্গদেশের মহাজনগণ প্রেরণা পেয়েছিলেন।সূরদাস এবং শ্রীরূপগোস্বামী সমসাময়িক কবি ; কিন্তু আগেই বলেছি ইঁনাদের মধ্যে একজন যে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এরকম কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না।একটু প্রণিধান (মনোনিবেশ) করলেই বুঝতে পারা যায় যে,রসখানজীর দানের পদে যে ভাবটি রয়েছে,বঙ্গদেশীয় দানলীলার পদাবলীতে ঠিক সেই ভাবটি আমরা দেখতে পাই ঃ----*
*গায়ের গরবে তুমি,চলিতে না পার জানি,*
*রাজপথে কর পরিহাস।*
*রাজকর নাহি মান,কংস দরবার জান,*
*দেখি কেনে নহে একপাশ।।*
*(জ্ঞানদাস)*
*🌳অন্য একটি পদে=*
*🌷সহজই তুহুঁ সে অধীর।*
*🌷ধর কুলবধূগণ চীর।।*
*🌷রাজভয় নাহিক তোহার।*
*🌷পথমাহা এতহুঁ বেভার।।*
*(রাধাবল্লভ দাস)*
*🍀দানলীলার মধ্যে কাব্য-বৈচিত্র্য এই যে গোপীরা দধি-দুগ্ধ-ঘৃতের পসরা সাজিয়ে চলেছেন,আর পথের মধ্যে রসিক শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের কাছে "দান" সাধছেন অর্থ্যাৎ শুল্ক বা কর চাইছেন।গোপীরা তাঁকে কংসরাজার ভয় দেখিয়ে নিরস্ত হতে বলছেন।ইঁনাদের মধ্যে যে উক্তি-প্রত্যুক্তি, তা কাব্যরসে সরস হয়ে উঠেছে।দান চাইবার ছলে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক রাধার রূপ বর্ণন, এবং প্রেম নিবেদন অনাবিল কাব্যসম্পদে ভূষিত।চন্ডীদাসের কৃষ্ণ-কীর্তনেই কেবল এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।রসখানের কবিতায়ও যে কাব্যকলা আছে,তাহাও উপভোগ্য। রাধিকা বলছেন--,সখীগণের কোনও ভূষণ যদি ছিঁড়ে দাও বা নষ্ট কর, তাহলে তোমাকে বেচলেও তার মূল্য হবে না।কেননা তুমি ধেনুর রাখাল। রসখানজী যে যে একজন ভক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।তিনি শ্রীবৃন্দাবনের পশুপাখী হয়ে থাকতে পারলেও নিজেকে ধন্য মনে করেন,অন্য কিছু কামনা করেন না।*
*🌷মানুষ হোঁ তো বহী রসখান,*
*বসৌ ব্রজ গোকুল গাঁব কে গ্বারন।*
*🌷জো পসু হোঁ তো কহা বসু মেরো,*
*চরৌ নিত নন্দকী ধেনু মঁ ঝারন।।*
*🌷পাহন হৌঁ তো বহী গিরি কো,*
*জো কিয়ো করছত্র পুরন্দর-ধারণ।*
*🌷জৌ খগ হোঁ তো বসেরো করৌঁ,*
*মিলি কালিন্দী-কূল-কদম্ব কী ডারন।।*
*🌻যদি মানুষ হই,তবে (রসখান বলেন)যেন ঐ ব্রজগোকুল গ্রামের গোয়ালা হয়ে বাস করি।যদি পশু হই,তবে নন্দের ধেনুপাল মধ্যে যেন চরতে পারি। যদি পাষাণ(পাথর) হই, তবে যেন গিরিগোবর্দ্ধনের পাষাণ হই, যে গোবর্দ্ধনকে শ্রীকৃষ্ণ ছত্ররূপে ধারণ করেছিলেন।যদি পাখী হই,তবে যেন কালিন্দী-কুল-কদম্ব তরুর ডালে বাস করতে পারি।*
*🌲আমরা জানি বৃন্দাবন বাঙ্গালীরই সৃষ্টি।বাঙ্গালী কবিগণই নানা ছন্দে এর মাহাত্ম্য ঘোষণা করেছেন। কিন্তু হিন্দী কবিদের মধ্যেও এর প্রভাব যথেষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।*
*🌹বংশী-অলি নামে একজন কবি অষ্টাদশ বিক্রমসংবতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।তাঁর শিষ্য কিশোরী-অলির একটি প্রসিদ্ধ পদ আছে =*
*🌷শ্রীবৃন্দাবন বৃন্দাবন বৃন্দাবন কহুরে।*
*🌷বৃন্দাবন রজ কী তূ সরণ বেগি গহুরে।।*
*🙏শ্রীবৃন্দাবনের রজে গড়াগড়ি দিতে বিলম্ব করিও না।*
*🔴আর একজন কবি বলেছেন=*
*🌷প্রথম জথামতি প্রণউ শ্রীবৃন্দাবন অতি রম্য।*
*🌷শ্রীরাধিকা কৃপা বিনু সব কে মাননি অগম্য।।*
*(হিতহরিবংশ ১৫৫৯ সংবৎ)*
*🌻বাঙ্গলী কবিগণও গেয়েছেন=*
*🌷মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।*
*(নরোত্তম দাস)*
*🍀শুধু বৃন্দাবনের মাহাত্ম্য-প্রচারে না,রাধাতত্ত্ব সম্বন্ধেও উত্তর-পশ্চিমের কবিদের সঙ্গে বাঙ্গালী কবিদের যথেষ্ট মিল দেখা যায়। শ্রীকৃষ্ণকে পেতে হলে মূর্তিমতী ভক্তিরূপিণী শ্রীরাধিকার আরাধনা আবশ্যক। ভগবান যে ভক্তির বশ এই কথাটি বৈষ্ণব কবিগণ ও বৈষ্ণব ভক্তগণ বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন। এমন কি মুসলমান কবি রসখান তাঁর একটি কবিতায় সেই ভাবটি সুন্দরভাবে ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেছেন,বেদে,পুরাণে ব্রহ্মকে খুঁজলাম, পেলাম না ; কত নরনারী জিজ্ঞাসা করিলাম,কেউই সন্ধান দিতে পারে না ; দেখলাম তিনি নিভৃত কুঞ্জ-কুটীরে শ্রীরাধিকার পদসেবা করছেন=*
*🌷দেখো দুরয়ৌ বহ কুঞ্জ-কুটীর মেঁ,*
*বৈঠয়ৌ পলোটতু রাধিকা-পায়ন।।*
*🌹রসখান প্রেমভক্তি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।তাঁর পদাবলী লালিত্যে ও সরলতায় অপূর্ব।ইঁনার জীবন-কথা সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না।একটি প্রবাদ আছে যে,তিনি একজন রমণীর প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ছিলেন। কিন্তু বিল্বমঙ্গলের চিন্তামণির ন্যায় এই রমণী তাঁর প্রেমের সমাদর করত না।সে অত্যন্ত অভিমানিনী ও রূপগর্বিতা ছিল।রসখান একদিন ঘটনাক্রমে শ্রীমদ্ভাগবতের একটি ঊর্দু অনুবাদে দেখলেন যে,ব্রজের হাজার হাজার গোয়ালিনী শ্রীকৃষ্ণকে দেহ-মন-প্রাণ সমর্পণ করেছিলেন।সেই হতে রসখান শ্রীকৃষ্ণের সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে লাগলেন এবং শ্রীনাথজীর একটি চিত্র দেখে মোহিত হলেন।অতঃপর এই প্রেমিক কবি তাঁর সমস্ত প্রেম শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ করলেন এবং বৃন্দাবনে গিয়ে সাধন-ভজনে আত্মনিয়োগ করলেন।নিচের কবিতায় এর আভাস পাওয়া যায়।*
*🌷তোরি মানিনী তেঁ হিয়ো ফোরি মোহনী মান।*
*🌷প্রেমদেব কী ছবি হি লখি ভয়ে মিয়া রসখান।।*
*🌹প্রেমদেবতার ছবি দেখে তোমার মোহিনী মায়া অতিক্রম করতে সক্ষম হয়ে রসখান শ্রেষ্ঠ (মিয়াঁ) হল।*
*🌺"২৫২ বৈষ্ণবন কী বার্ত্তা" নামক গ্রন্থে এই সম্বন্ধে আর একটি প্রবাদ দেখা যায়।রসখান প্রেমে এক বাণিয়ার পুত্রের প্রতি এত অনুরক্ত হয়েছিলেন যে তার উচ্ছিষ্ট পর্যন্ত ভোজন করতেন।একদিন কয়েকজন বৈষ্ণবের মধ্যে কথা হতে হতে একজন বলে উঠিল যে,ঐ বাণিয়ার ছেলের প্রতি রসখানের যেরকম ভালবাসা, ভগবানের প্রতি কারও যদি ঐরকম ভালোবাসা হত!কথাটি রসখানের কানে পৌঁছল। তখন তিনি ভগবানের রূপ কেমন জানবার জন্য ব্যাকুল হলেন।তাঁকে একজন শ্রীনাথজীর চিত্র বা ছবি দেখাল।সেই অবধি তিনি বণিক পুত্রের প্রতি অনুরাগ ত্যাগ করে শ্রীনাথজীর প্রতি আকৃষ্ট হলেন।রসখান তারপর বল্লভাচার্য্য স্বামীর পুত্র বিঠ্ ঠলনাথের শরণাপন্ন হলেন। এবং বিঠ্ ঠল নাথজী তাঁর অনুরাগ দেখে রসখানকে শিষ্যরূপে গ্রহণ করলেন, জাতি ধর্মের বিচার করলেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🙌 🙌জয় নিতাই গৌর হরিবল, বৈষ্ণব রস-সাহিত্য এখানেই বিরাম দিলাম। বানান,ভুলভ্রান্তি,ভাষা অসামঞ্জস্য হলে মার্জনা করবেন,লেখক যেভাবে গ্রন্থে লিখেছেন আমি হুবহু সেই ভাবেই তুলে ধরেছি,তবে সাধুভাষার স্থানে চলিত ভাষা প্রয়োগ করেছি।🙏*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
