শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
                *প্রস্তাবনা*
*🙏শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত। পুরী আনন্দধাম হ'তে শ্রীযুক্ত নরহরি ঠাকুর কর্ত্তৃক প্রকাশিত। বাংলা ১৩২৩ সন ও ইংরেজি ১৯১৬। মূল‍্য মাত্র দুইটাকা।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*🌻ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়।*
     -------------------------------------------
*🌹আমরা কি চাই?কেবল আমরা কেন--,সমস্ত জীবজন্তু পশুপক্ষী এবং অন‍্যান‍্য প্রাণীসব কি চায়?সমস্ত জগৎ যে অনবরত ছুটোছুটি করছে,মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে-- কি উদ্দেশ্য?ধনীর প্রাসাদে যাও,গরীবের কুটিরে যাও,বালক,বৃদ্ধ, যুবক সকলের দিকে তাকাও--, সকলেই যেন এক উদ্দেশ্যে একদিকে ধাবিত হচ্ছে।খোঁজখবর করলে কি বুঝতে পারা যায়?স্ত্রী স্বামীকে ভালবাসে,পিতা পুত্রকে ভালবাসে, সকলেরই উদ্দেশ্য এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়েছে।সকলেই চাই সুখ হোক,দুঃখ না হোক।*
*🌷সুখং মে ভূয়াৎ,দুঃখং মে মা ভূৎ।*
*🌻শ্রুতি,স্মৃতি,পুরাণ সকলেই এই কথার সাক্ষ‍্য দিচ্ছে। বেদান্ত বলেন,বিনা প্রয়োজনে কোন কাজ হয় না। তবে সেই প্রয়োজন কি? অজ্ঞানের বিরতি এবং সুখের প্রাপ্তি।অজ্ঞান বিরতি হলেই সমস্ত দুঃখের অবসান হয়, এবং নিত‍্য সুখ লাভ হয়। বেদান্ত বলছেন-----*
*🌷প্রয়োজনস্তু তদৈক‍্যপ্রমেয়গতাজ্ঞাননিবৃত্তিঃ তৎস্বরূপানন্দাবাপ্তিশ্চ। শোকং তরন্তি সাধবঃ ব্রহ্মবিদ্ ব্রহ্মৈব ভবতি।।*
*🌺আমাদের প্রয়োজন কি তা ব‍্যাখ‍্যা করছেন--, আমাদের প্রয়োজন অজ্ঞানের বিরতি ; অজ্ঞানের নিবৃত্তি হলেই প্রকৃত সুখ লাভ হয়, অর্থ‍্যাৎ আনন্দময় আত্মার বিকাশ হয়।প্রয়োজন সিদ্ধ বা সফল হলেই শোকের নিবৃত্তি হয়--- ব্রহ্মজ্ঞান হলেই ব্রহ্ম হয়ে যায়। মানুষ সুখের আশায় সংসারের সমস্ত বস্তু সংগ্রহ করছে, কিন্তু তা বেশীদিন ভাল লাগে না, আবার নতুন করে আরম্ভ করতে থাকে।এইরকম একবার ধরছে, আবার ছাড়ছে, কোনটিতেই স্থায়ী সুখ হয় না বলে,মনে করে,অন‍্যটা ধরলে বোধহয় সুখ হবে, কিন্তু কিছুতেই তার মনের বাসনা পূরণ হয় না।বেদান্ত এই সম্বন্ধে একটি গল্পের আভাস দিয়েছেন, তার উল্লেখ করছি।🌹কোন ব‍্যক্তি কোন একটা জিনিস হারিয়ে ফেলেছে,কোন জিনিস হারিয়েছে তা বলছে না।কত জিনিস তার সামনে এনে দেখান হচ্ছে, কিন্তু সেই সব জিনিস দেখে বলছে এটি আমার হারানো বস্তু নয়।এইভাবে অনেকদিন কেটে গেল কিন্তু তার হারানো বস্তু আর পাওয়া গেল না। এই জিনিসের শোকে অত‍্যন্ত মুহ‍্যমান (অতিশয় কাতর) হয়ে নানারকম পরিতাপ করছে,এমন সময়ে একজন পথিক জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি হারিয়েছে?সে বলল,আমার কন্ঠমণি। ঐ পথিক তার কন্ঠ দেখিয়ে বলল, তোমার কন্ঠে ওটা কি?তখন কন্ঠে হাত দিয়ে তার জ্ঞান হল যে তার ভুল হয়েছে,তার হারিয়ে যাওয়া হার তার কন্ঠেই আছে।*
*🌻আরও একটি দৃষ্টান্তের অবতারণা করছি।মৃগনাভি সকলেই জানেন।এক প্রকার পার্বতীয় মৃগ আছে,তার নাভিদেশে কস্তূরী জন্মে।যখন কস্তূরী প্রস্ফুটিত হয়,তখন তার গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মৃগ সেই গন্ধে অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল হয়ে গন্ধোৎপাদক সামগ্রী লাভের জন্য সমস্ত বন খোঁজ করতে থাকে ; কিন্তু মৃগ কিছুতেই তা স্থির করতে পারে না।তার নাভিতে কস্তূরী আছে,অথচ সে তা বুঝতে না পেরে দুনিয়া খুঁজে বেড়াচ্ছে।তাই তুলসীদাস বলছেন=*
*🌷সব ঘটমে হরি হ‍্যায়,পছন্তায় নেই কই।*
*🌷নাভিকা সুগন্ধ মৃগ নাহি জানত,*
     *🌷ঢোড়ত ব‍্যাকুল হোই।।*
*🌲মানুষও তার অন্তরস্থ আত্মতত্ত্ব ভুলে গিয়ে তার সুগন্ধস্বরূপ যে ক্ষণিক সাংসারিক সুখ,তাইই গ্রহণ করছে, কিন্তু তাতে স্থায়ী সুখের কোনও সম্ভাবনা নাই ; তা কয়েকদিন পরেই ফুরিয়ে যায়, আবার অন‍্য বস্তু ধরে। জীব আত্মতত্ত্ব বা নিজতত্ত্ব ভুলে গিয়ে,হরিণের মত সংসার অরণ‍্যে ঘুরে মরছে।ভাগ‍্যবশতঃ যদি সদ্ গুরু লাভ হয়,তবে তার প্রকৃত জ্ঞানলাভ হয় ; এবং একদিন যে নিজতত্ত্ব ভুলে গিয়েছিল,তখন তার উপলব্ধি হয়।পূর্বে যে পথিকের কথা বলেছি তাহাই গুরু।*
*অজ্ঞানতিমিরান্ধস‍্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।*
*চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।*
*🌷সদ্ গুরু পাওয়ে, ভেদ বাতাওয়ে,*
            *জ্ঞান কর উপদেশ।*
*🌷কয়লা কি ময়লা, ছোটে---যব,*
          *আগ্ করে প্রবেশ।।*
                              *(তুলসীদাস)*
*🍀তথাচ বেদান্তে=*
*নিত‍্যপ্রাপ্তস‍্য আত্মনঃ অজ্ঞানমোহান্ধ-,*
*-কারাবৃতত্বেন বিস্মৃতস্বস্বরূপস‍্য গুরুশ্রুতিবাক‍্য-,*
*-শ্রবণানন্তরং অজ্ঞানমোহান্ধকার নিবৃত্তিঃ স‍্যাৎ।*
*☘আত্মা নিত‍্য স্বপ্রকাশ,অজ্ঞান-মোহ-অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে তাঁর নিজের স্বরূপ ভুলে গিয়েছেন।কালক্রমে গুরু শ্রুতিবাক‍্য শুনে অজ্ঞান-মোহ-অন্ধকার বিরতি হয়ে থাকে।*
*🌷জনন-মরণাদি-সংসারানল-সন্তপ্তঃ প্রদাপ্তশিরা জলরাশিমিবোপহারপাণিঃ শ্রোত্রিয়ং ব্রহ্মনিষ্ঠং গুরুমুপসৃত‍্য তমনুসরতি।*
*🌻সূর্য‍্যতাপে প্রদীপ্তশির (মাথা ভীষণ গরম হয়ে ) পথিক যেমন কোন জলাশয় খোঁজ করে জন্মমরণাদি সংসারানল (সংসারের আগুনে পুড়ে) সন্তপ্ত (মানসিক যন্ত্রণা ) হয়ে, শিষ‍্য সেরকম জন্মমরণাদি ত্রিতাপ জ্বালা জুড়াবার জন্য সদ্ গুরুর আশ্রয় গ্রহণ করে তার অনুসরণ করতে থাকে।*
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌻প্রস্তাবনা🌻*
           🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀বৃহদারণ‍্যক উপনিষদ্ বলেছেন=*
*ন বা অরে সর্ব্বস‍্য কামায় সর্ব্বং প্রিয়ং ভবতি,*
*কিন্ত্বাত্মনস্তু কামায় সর্ব্বং প্রিয়ং ভবতি।*
*☘অরে,সমস্ত বস্তু যে আমাদের কাছে প্রিয় কি জন্য?স্ত্রীকে ভালবাসি,পুত্রক‍ে ভালবাসি এবং কত উপাদেয় সামগ্রী প্রিয় বলে গ্রহণ করছি ; কিন্তু কোন জিনিসই দ্রব‍্যের প্রয়োজনীয়তা বলে গ্রহণ করা হয় নাই।এটি আত্মার প্রয়োজন,তাই সমস্ত উপহার তাকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত আত্মতত্ত্ব উপলব্ধি না হওয়া পর্য‍্যন্ত অন‍্য কিছু দ্বারা তার পূরণ হচ্ছে না। আত্মতত্ত্ব না জেনে সমস্ত বেদ,সমস্ত শাস্ত্র পাঠ করলেও,সমস্ত বিদ‍্যা জানলেও তার সেই তৃপ্তিলাভ হবে না। সুতরাং আত্মাকে লাভ করাই সমস্ত প্রয়োজনের মূলতত্ত্ব।*
*🍁পরম কারুণিক পরমেশ্বর আমাদের আত্মোন্নতি লাভের জন্য নানা উপায় সৃষ্টি করেছেন--,চারবেদ দিয়েছেন।ঋষিগণ আত্মতত্ত্ববিদ, সুতরাং তাঁরা আত্মার স্বরূপ বর্ণনে সমর্থ ; এই জন্য শাস্ত্র-প্রচার কাজে ঋষিদেরকে নিয়োগ করেছেন। ভগবান জীবগণের প্রতি দয়া করে বহু তীর্থ সৃষ্টি করে রেখেছেন,যাতে অতি সহজে ভগবৎ স্বরূপ লাভ করা যায়।বেদ,বেদান্ত,স্মৃতি,পুরাণ সমস্ত শাস্ত্র পাঠ করে আত্মতত্ত্ব লাভ করা বড়ই দুঃসাধ‍্য ও দুর্গম।কলির জীব খুবই দুর্বলচিত্ত, সত‍্যযুগের জীবদের মত কলির জীবের শক্তি নাই।সেই জন্য কলির জীবের উদ্ধারের ব‍্যবস্থা স্বতন্ত্র।তাদের উদ্ধারের উপায় তীর্থদর্শন এবং হরিনাম কীর্তন। প্রশ্ন এই হতে পারে যে কেমন করে তীর্থ উদ্ধার করতে সমর্থ হয়?তাতে আত্মার তো কোনও উন্নতি হল না, আত্মতত্ত্ব কেমন করে লাভ হবে?তার উত্তর এই যে,আত্মা স্বপ্রকাশ,তার কোনও পরিবর্তন ঘটে না।মায়ার দ্বারা আবৃত হওয়ায় তার দর্শন হয় না --,মায়া কাটাতে পারলেই আত্মার বিকাশ হয়।*
*🌷নিত‍্যসিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ‍্য কভু নয়।*
*🌷শ্রবণাদি-শুদ্ধ-চিত্তে করয় উদয়।।চৈঃচঃ।।*
*🌹নিত‍্য প্রাপ্তস‍্য আত্মনঃ ইত্যাদি*।
*🍀তীর্থদর্শন দ্বারা মায়ার খন্ডন হয়-- শাস্ত্রসিদ্ধ। ব্রহ্মান্ডে স্কন্দে=*
*কিং ব্রতৈঃ কিং তপোদানৈঃ কিং তীথৈঃ ক্রতুভিস্তথা।*
*কিমষ্টাঙ্গেন যোগেন সাংখ‍্যেন পরমেণ চ।।*
*তীর্থরাজজলে স্নাত্বা ক্ষেত্রে শ্রীপুরুষোত্তমে।*
*ন‍্যগ্রোধমূলে বসতৌ বসন্তং চর্ম্মচক্ষুষা।*
*দৃষ্ট্বা দারুময়ং ব্রহ্ম মোহবন্ধাৎ প্রমুচ‍্যতে।।*
*যত্র সাক্ষাৎ জগন্নাথঃ শঙ্খচক্রগদাধরঃ।*
*জন্তূনাং দর্শনান্মুক্তিং যো দদাতি কৃপানিধিঃ।।*
*🌺তথাচ গারুড় পুরাণে ব‍্যাস উবাচ=*
*কলিকাল-মহাঘোর-তিমিরাবৃতচক্ষুষাং।*
*নীলাচলশিরোরত্নং আত্মতত্ত্ব-প্রকাশকং।।*
*যদ্ যূয়ং বৈ সুরশ্রেষ্ঠাঃ সংসারং তর্ত্তুমিচ্ছথ।*
*তদা কদাচিৎ পশ‍্যন্তু নীলশৈলশিরোমণিং।।*
*🪷 পদ্মপুরাণে ব্রহ্মাণং প্রতি শ্রীভগবদ্ বাক‍্যম্=*
*শ্রুতি-স্মৃতীতিহাস-পুরাণগোপিতং*
*মন্মায়য়া যন্নহি কস‍্য গোচরং।*
*প্রসাদতোমে স্তুবতস্তবাধুনা প্রকাশমায়াস‍্যতি সর্বগোচরং।।*
*ব্রতেষু তীর্থেষু চ যজ্ঞদানয়োঃ পুণ‍্যং,*
*ষদুক্তং বিমলাত্মনাং হি।*
*অহো নিবাসাল্লভতেহত্র সর্বং,*
*নিশ্বাসবাসাৎ খলু চাশ্বমেধিকম্।।*
*🌻তীর্থ-দর্শন দ্বারা আমাদের জ্ঞান, ভক্তি এবং মুক্তি,সমস্তই লাভ হয়ে থাকে ; এবং যোগাদি দ্বারা যেরকম ভাবে হয়,তা অপেক্ষা তীর্থদর্শনে সহজভাবে লাভ হয়।*
*🔵তন্ত্রযামলে ইন্দ্রদ‍্যুম্নং প্রতি বশিষ্ঠবাক‍্যং=*
*🌷ভারতে চোৎকলে দেশে ভূস্বর্গে পুরুষোত্তমে।*
*🌷দারুরূপী জগন্নাথো ভক্তানামভয়প্রদঃ।।*
*🌷নরচেষ্টামুপাদায় আস্তে মোক্ষৈককারণঃ।*
*🌷তস‍্যোপভুক্তদানেন নরঃ পাপাৎ বিমুচ‍্যতে।।*
*🌷নাস্তি তত্রৈব রাজেন্দ্র স্পৃষ্টাস্পৃষ্টবিবেচনং।*
*🌷যস‍্য সংস্পৃষ্টমাত্রেণ যান্ত‍্যমেধ‍্যাঃ পবিত্রতাং।।*
*🌷নির্ম্মাল‍্যদানাৎ পাপানি ক্ষয়ং যান্তি নৃপোত্তম।*
*🌷ভক্তিরুৎপদ‍্যতে পাপক্ষয়াদব‍্যভিচারিণী।।*
*🌷ভক্ত‍্যা বিজ্ঞানমাপ্নোতি জ্ঞানান্মুক্তিরবাপ‍্যতে।*
*🌷তস্মাদ্ যত্নেন নির্ম্মাল‍্যদানং দদ‍্যাদ্ দ্বিজাতয়ে।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷সর্ব্বপাপ-বিনির্ম্মুক্তো বিষ্ণুভক্তি-সমন্বিতঃ।*
*🌷নির্ম্মলজ্ঞান-সম্পন্নস্ততো মোক্ষমবাপ্ন য়াৎ।।*
*🔴নদীয়াবিহারী শ্রীগৌরাঙ্গদেব প্রত‍্যহ শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতেন।*
*🌷আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়।*
*🔵নিজের দৃষ্টান্ত দ্বারা জীবকে তীর্থদর্শনের মাহাত্ম্য শিক্ষা দিতেন।তিনি গরুড়স্তম্ভের কাছে দাঁড়াতেন--, মণি কোঠার ভিতরে প্রবেশ করতেন না। ঐ জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি দর্শন করতেন, তিনি দেখতেন ব্রজের শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ। এই মূর্তি দর্শন কালে তাঁর নয়ন হতে বারিবর্ষণ হত, এতই পরিমাণে বারিবর্ষণ হত যা পাঠক বিশ্বাস করবেন না।যেমন নর্দমার জল সজোরে নিক্ষিপ্ত হয়,এইরকমভাবে তাঁর চক্ষু হতে জল পড়ত।সেই চোখের জলে কুন্ড হয়েছে।চোখের জলে পাথর ক্ষয় হয়ে কুন্ড হওয়া কি কেউ বিশ্বাস করতে পারেন।শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব নিজে এইরকম দেখিয়ে তীর্থদর্শনের মাহাত্ম্য বিস্তার করেছেন।ভক্তিতে মন পরিস্কার হয়,যোগের দ্বারাও সেইরকম হয়। সুতরাং বেদান্তের যোগে ও ভক্তি-যোগে যে ফল হয়, তীর্থদর্শনে সেই ফল লাভ হয়।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌻🌻প্রস্তাবনা🌻🌻*
          ************************
*🍀মায়াদ্বারা আত্মা যে আবৃত হইয়া রয়েছে,তার আর একটু বিস্তৃত ব‍্যাখ‍্যা দরকার মনে করছি।সমস্ত শাস্ত্রেরই লক্ষ্য মায়ার নিবৃত্তি করা,মায়া-নিবৃত্তি হলেই দুঃখের নিবৃত্তি হয় ও আনন্দের উদ্ভব হয়। সুতরাং মায়া যে কি তা বুঝাবার জন্য বেদান্তের একটি শ্লোক উদ্ধৃত করা গেল, যথা=*
*🌷অজ্ঞানস‍্য শক্তিদ্বয়মস্তি আবরণ-বিক্ষেপনামকং।*
*🔴অজ্ঞানের দুইটি শক্তি--আবরণ ও বিক্ষেপ (চাঞ্চল‍্য)।অজ্ঞান অর্থ‍্যাৎ মায়া। এক শক্তিতে (আবরণ শক্তিতে) সচ্চিদানন্দস্বরূপকে আবরণ করে রেখেছে--তাতে প্রকৃত আত্মার স্বরূপ বুঝতে দেয় না।দ্বিতীয়টি বিক্ষেপ শক্তি---তাতে এ জগৎ সৃষ্টি করছে।প্রথম শক্তি সমস্ত অলীক জগৎকে সৎপদার্থ বলে প্রতীয়মান বা অনুভূত করাচ্ছে।এই মায়াই কথায় ভগবান গীতাতে বলেছেন=*
*🌷দৈবী হ‍্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত‍্যয়া।*
*🌷মামেব যে প্রপদ‍্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে।।*
*🌻এই কথায় চন্ডীতে বলা হয়েছে=*
*তথাপি মমতাবর্ত্তে মোহগর্ত্তে নিপতিতাঃ।*
*মহামায়া-প্রভাবেণ সংসারস্থিতিকারিণঃ।।*
*জ্ঞানিনামপি চেতাংসি দেবী ভগবতী হি সা।*
*বলাদাকৃষ‍্য মোহায় মহামায়া প্রযচ্ছতি।।*
*তয়া বিসৃজ‍্যতে বিশ্বং জগদেতচ্চরাচরম্।*
*সৈষা প্রসন্না বরদা নৃণাং ভবতি মুক্তয়ে।।*
*সা বিদ‍্যা পরমা মুক্তের্হেতুভূতা সনাতনী।*
*সংসার-বন্ধহেতুশ্চ সৈব সর্ব্বেশ্বরেশ্বরী।।*
*🌹এখানে বেদান্তের অজ্ঞান,চন্ডীর মহামায়া এবং গীতার মায়া একই বস্তু।বেদান্তের মায়া শক্তি দ্বারা আবরণ ও বিক্ষেপ জন্মাচ্ছে।চন্ডীতেও আমরা সেই দুই শক্তির কাজই দেখছি।কারণ যিনি মোহগর্তে ডুবে আছেন,তিনি সৃষ্টিও করছেন।এই মহামায়া যে আমাদেরকে মোহেতে আবৃত করে রেখেছেন বা ঢেকে রেখেছেন,সেই কথার প্রমাণ স্বরূপ শ্রীরামপ্রসাদের একটি গানের কয়েকটি পংক্তি উল্লেখ করছি=*
*🌷মা আমায় ঘুরাবি কত।*
*🌷কলুর চোক ঢাকা বলদের মত।।*
*🍀ভবের গাছে জুড়ে দিয়ে মা আমায় পাক দিতেছ অবিরত খুলে দে মা চোখের ঠুলি,হেরি তোমার অভয় পদ।।*
*🌻এখন আমরা মায়া বোধহয় চিনতে পারলাম। অঘটন-ঘটন-পটীয়সী যোগমায়া, এই মায়াতে আমাদেরকে বহির্মুখ করে রেখেছে,ভগবন্মুখী হতে দেয় না।*
*🌷বিষয়াসক্ত-চিত্তস‍্য কৃষ্ণাবেশঃ সুদূরতঃ।*
*🌷বারুণীদিগগতং বস্তু ব্রজন্নৈন্দ্রীং কিমাপ্নুয়াৎ।।*
*🍁যেমন পূর্বদিকের বস্তু পশ্চিমদিকে গমনশীল ব‍্যক্তির পাওয়া অসম্ভব,সেইরকম সংসারাসক্ত ব‍্যক্তির পক্ষে ঈশ্বর লাভ করা অসম্ভব।*
*🌳কর্মযোগ,জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ ত্রিবিধ উপায়ে আত্মতত্ত্ব বা ভগবানকে লাভ করা যায়। এটির কোপটি ভালো,কোনটি মন্দ তা বলা কঠিন ; অধিকারী ভেদে ব‍্যবস্থা।তাই চৈতন‍্যচরিতামৃতে উল্লেখ করেছেন=*
*🌷যার যেই ভাব সেই সর্বোত্তম।*
*🌷তটস্থ হইয়া বিচারিলে আছে তারতম।।*
*🌺যিনি কর্মযোগের অধিকারী,তাঁর পক্ষেকর্মযোগই প্রশস্ত,তাঁকে জ্জানযোগ দিলে তাঁর পক্ষে উপযুক্ত হবে না।তা দ্বারা,তাঁর সাধনের সেরূপ উপকারও হবে না। এইরকম ভক্তিযোগও যার পক্ষে উপযুক্ত নয়,তাকে উপদেশ দিলে সেরকম ফল ফলবে না। সুতরাং যার যে উপাদান তদনুসারে ধর্ম হলেই তার সাধনের অনুকূল হয়,রুচির সঙ্গেও মিলে।এই জন্য রুচি অনুসারে ধর্ম নানারকম হয়েছে।*
*রুচীনাং বৈচিত্র‍্যাদৃজুকুটিল নানাপথযুষাং,*
*নৃণামেকো গম‍্য স্ত্বমসি পয়সামর্ণব ইব।*
*🌹রুচির বিচিত্রতা অনুসারে ধর্ম সাধনের নানাপথ হয়েছে,কোনটা সহজ,কোনটা কঠিন, কিন্তু গন্তব‍্যস্থান একই।নদী যেমন নানা পথ দিয়ে আসে, কিন্তু এক সমুদ্রেই গিয়ে সমস্ত মিলিত হয়,ধর্মেরও সাধন নানা প্রকার। বিভিন্ন মতে হলেও উদ্দেশ্য সকলেরই এক এবং যখন প্রকৃত জ্ঞান জন্মে, তখন সকলেই দেখেন যে,একমাত্র ভগবানই উপাস‍্য।নীচস্তরে যতক্ষণ থাকে,তথক্ষণই নানারকম বিভিন্নতা দেখা যায়।কবীরের একটি দোহা এখানে উল্লেখ করছি,তা দ্বারা এ কথার সমর্থন হবে।*
*🌷ঐহি দেশমে মেরি যানা।*
*🌷যাহা নেহি আপনা বেগানা।।*
*যাহা চন্দ্র সূরয নাহি ভাওয়ে,*
*যাহা শোকতাপ নাহি পাওয়ে,*
*যাহা নেহি জমিন আসমানা।*
*যাহা মিট গিয়া সব ধন্দা,*
*রাম রহিম এক বান্দা,*
*যাহা নেহি বেদ কোরাণা।।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
             *🌹🌹প্রস্তাবনা🌹🌹*
            🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
*🍀তীর্থদর্শন কর্মকান্ডের অন্তর্ভুক্ত বলা যায়।*
*🌷অনাশ্রিতঃ কর্মফলং কার্য‍্যং কর্ম করোতি যঃ।*
*🌷স সন্ন‍্যাসী চ যোগী চ ন নিরগ্নির্ন চাক্রিয়ঃ।।*
*🌻যোগীদের যোগ সাধন দ্বারা যা হয়,নিষ্কাম কর্ম দ্বারা সেই ফল হয়।তিনি গৃহস্থ হয়েও সন্ন‍্যাসীর ফল লাভ করতে পারেন।*
*🌳কর্মযোগ,জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ-- ভগবান প্রাপ্তির যে তিনটি উপায় বর্ণিত হয়েছে,তারও একটু আলোচনা হওয়া দরকার মনে করছি।প্রথমতঃ কর্মযোগটি কি তা বুঝবার চেষ্টা করা যাক। কায়িক,বাচনিক,মানসিক তিন উপায়েতে আমাদের কর্মের অভিব‍্যক্তি হয়।এক হিসাবে বলতে পারি,ভক্তিযোগ ও জ্ঞানযোগ কর্মেরই ফল,তা একই পদার্থ।একটি দৃষ্টান্ত দ্বারা বুঝতে চেষ্টা করি-- যেমন শ্রীজগন্নাথের শ্রীমূর্তিদর্শন করলে ভক্তি ও জ্ঞানের উদয় হয়। শ্রীমূর্তিদর্শনটি কর্ম,ভক্তি ও জ্ঞান তার ফল।আমি অন্নভোজন করছি, অন্নভোজনটি কর্ম, তজ্জনিত ক্ষুধানিবৃত্তি ও আনন্দ তার আনুসঙ্গিক ফল।ক্ষুধানিবৃত্তি ও আনন্দ এই দুই ব‍্যাপার কর্মের সঙ্গে সঙ্গেই হচ্ছে, সুতরাং সেটিও কর্মসংজ্ঞায়র মধ্যে ভুক্ত।তার আর পৃথক সত্ত্বা নেই।এইরকমে কায়িক,মানসিক বাচনিক যে ভাবেতেই ভগবানের উদ্দেশ্যে কর্ম করি না কেন,কর্মের হেতুও কর্মই বলা যেতে পারে।ভক্তি ও জ্ঞানকে বিশেষ করে দেখাবার জন্য কর্ম হতে ঐ দুইটিকে পৃথক করে ব‍্যাখ‍্যা করা হয়েছে।কর্ম দুই প্রকার=সকাম ও নিষ্কাম।সকাম কর্মেতে ভগবানকে কামনা করিয়া পূজা করা হয়।যতদিন পর্য‍্যন্ত আকাঙ্ক্ষা থাকবে,অন্তর্নিহিত কামনাবীজের মূল-উৎপাটন না হবে, ততদিন এইরকম ভাবে কর্ম করতে হবে।দূর্গোৎসবাদি পূজাতে উভয় রকমের ব‍্যবস্থাই দেখা যায়। "ধনং দেহি পুত্রং দেহি ইত্যাদি বলে পূজা করা হয়,আবার নিষ্কাম ভাবেও পূজা করা হয়!চন্ডীতে এর দুইটি দৃষ্টান্ত আছে =*
*🌻সুরথ রাজা কামনা করে পূজা করেছিলেন, আবার বৈশ‍্য সমাধি নিষ্কামভাবে পূজা করে জ্ঞানলাভ করেছিলেন। সাকার উপাসনা ও বৈদিক কর্ম সমস্তই কর্মকান্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।যতদিন পর্য‍্যন্ত মানুষ জ্ঞান ও ভক্তিযোগের অধিকারী না হয়,ততদিন পর্য‍্যন্ত সাকার উপাসনা করে মন নির্মল করতে হবে।মন নির্মল হলে জ্ঞানযোগ এবং ভক্তিযোগের অধিকারী হবে। শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ স্কন্ধে=*
*🌷যাবন্ন জায়েত পরাবরেহস্মিন্,*
*🌷বিশ্বেশ্বরে দ্রষ্টরি ভক্তিযোগঃ।*
*🌷তাবৎ স্থবেয়ুঃ পুরুষস‍্য রূপম্,*
*🌷কর্ম্মাবসানে প্রযতঃ স্মরেত।।*
*🔶যে পর্য‍্যন্ত জগন্ময় ভগবানেতে পূজা করতে না পারবে, ততদিন পর্য‍্যন্ত ভগবানের স্থূলরূপেতেই পূজা করতে হবে।*
*🔵উপাসনার প্রথম আরম্ভে স্থূলের উপাসনা করতে হবে।এইরকম চিন্তা করতে করতেই সূক্ষ্মরূপের অধিকারী হবে,তখন মানসে পূজা করতে হবে।অবশেষে নাম এবং রূপ কিছুই থাকবে না এবং কর্মেরও কোন প্রয়োজন থাকবে না। সেইজন‍্য ভগবান গীতার ষষ্ঠ অধ‍্যায়ে বলেছেন=*
*আরোরুক্ষোর্মুনের্যোগং কর্ম কারণমুচ‍্যতে।*
*যোগারূঢ়স‍্য তস‍্যৈব শমঃ কারণম‍্যুচ‍্যতে।।*
*⭐কামনার মূল-উৎপাটনের প্রধান উপায় নিষ্কাম কর্ম করা।নিষ্কাম কর্ম করলে তার আকাঙ্ক্ষা থাকে না, সুতরাং তার পুনরাবৃত্তি নাই। অতএব, মানুষ কর্মদ্বারা মোক্ষলাভ করতে পারে।*
*যুক্তঃ কর্মফলং ত‍্যক্ত্বা শান্তিমাপ্নোতি নৈষ্ঠিকীম্।*
*অযুক্তঃ কামকারেণ ফলে সক্তো নিবধ‍্যতে।।*
              *(গীতা=পঞ্চম অধ‍্যায়)*
*☘ফলের আকাঙ্ক্ষা পরিত‍্যাগ করে যিনি কর্ম করেন,তিনি পরম শান্তি লাভ করেন ; কিন্তু যাঁর বলবতী কামনা ভিতরে রয়েছে, অথচ কর্মত‍্যাগ করেছেন,তিনি কর্ম না করেও সংসার বদ্ধ হয়ে থাকেন। সুতরাং নিষ্কাম কর্ম ভগবৎ-প্রাপ্তির প্রধান উপায়। আমাদের এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের কোনটি বিস্তারিত বর্ণনা করবার অভিপ্রায় নাই। কেবল সামান্যভাবে একটু আভাষ দিয়ে যাওয়া মাত্র।সাকার উপাসনা করেও পরে ভক্তি এবং জ্ঞানের উচ্চ সোপানে আরোহণ করা যায়। ভক্তপ্রবর রামপ্রসাদের একটি গানে বিশেষভাবে তা প্রকাশিত হয়েছে।রামপ্রসাদ প্রথমে মায়ের মূর্তি পূজা দ্বারা তাঁর ভজন আরম্ভ করেন।তাঁর প্রাথগান সব পাঠ করলে বুঝা যায় যে,প্রথমস্তরে বিবেক বৈরাগ‍্যকে অবলম্বন করে তিনি বিধিমার্গে ভগবতীকে অর্চনা করতেন=*
*🌷মন,তুমি কৃষিকাজ জান না,*
*🌷এমন মানব জমি রইল পতিত,*
*🌷আবাদ করলে ফলত্ সোনা।*
*🔴এই গানটি দ্বারা বুঝা যায় যে তিনি প্রথম স্তরে বিবেক অবস্থায় মনকে সাংসারিক কাজ হতে ছাড়িয়ে নিবৃত্তি মার্গে নিবার জন্য চেষ্টা করেছেন।তারপর মূর্তি পূজার অবস্থা শেষ হলে মানসপূজার অধিকারী হলেন।সে অবস্থার একটি গান উল্লেখ করছি=*
*ধাতুপাষাণ মাটিমূর্তি কাজ কিরে তোর সে গঠনে,*
*তুমি মনোময় প্রতিমা গড়ি বসাও হৃদি পদ্মাসনে।*
*আলোচাল আর পাকাকলা কাজ কিরে তোর আয়োজনে,*
*তুমি ভক্তিসুধা খাওয়াইয়ে তারে তৃপ্ত কর আপন মনে।*
*মেষ ছাগল মহিষাদি কাজ কিরে তোর বলিদানে,*
*তুমি জয় কালী জয় কালী বলে বলি দাও ষড়্ রিপুগণে।*
*🌹তারপরে এটি অপেক্ষা আরও উচ্চ সোপানে উঠলেন, এই গানটি দ্বারা বুঝতে পারবেন=*
*🌷মন তোর এই ভ্রম গেল না,*
*🌷কালী কেমন তায় চেয়ে দেখলি না ;*
*🌷ওরে ত্রিভূবন যে মায়ের মূর্তি,*
*🌷জেনেও কি মন তাও জান না।*
*তবে কেমনে ক্ষুদ্র মূর্তিতে করতে চাও তাঁর অর্চনা।*
*🌷জগৎকে সাজাচ্ছেন যে মা,*
            *দিয়ে কত রত্ন সোনা।*
*🌷ওরে কোন লাজে সাজাতে চাস্,*
        *তায় দিয়ে ছার ডাকের গহনা।*
*🌷জগৎকে খাওয়াচ্ছেন যে মা,*
           *সুমধুর সুখাদ‍্য নানা।*
*ওরে কোন লাজে খাওয়াতে চাস্,*
      *তায় আলোচাল আর বুট ভিজানা।*
*🌷জগৎকে পালিছেন যে মা,*
       *সাদরে তাও কি জান না।*
*ওরে কেমনে দিতে চাস্ বলি,*
     *মেষমহিষ আর ছাগলছানা।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *⚪⚪প্রস্তাবনা⚪⚪*
         **********************
*🍀পুন রামপ্রসাদ গাইছেন=*
*শয়নে প্রণাম জ্ঞান,নিদ্রায় কর মাকে ধ‍্যান।*
*ওরে নগর ফির মনে কর প্রদক্ষিণ শ‍্যামা মারে।।*
*যত শোন কর্ণপুটে,সবই মায়ের মন্ত্র বটে।*
*কালী পঞ্চাশৎ বর্ণময়ী বর্ণে বর্ণে নাম ধরে।।*
*কৌতুকে রামপ্রসাদ রটে ব্রহ্মময়ী সর্বঘটে।*
*ওরে আহার কর মনে কর আহুতি দেই শ‍্যামা মারে।।*
*🌹রামপ্রসাদ বেদ বেদান্ত কিছুই পড়েননি কিন্তু সাধনা দ্বারা যা লাভ হয়েছে,তা অক্ষরে অক্ষরে শাস্ত্র সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।এই গানটি=*
*যজ্জুহোসি যদশ্নাসি যৎ করোষি দদাসি যৎ।*
*যৎ তপস‍্যসি কৌন্তেয় তৎ কুরুষ্ব মদর্পণং।।গীতা।।*
*🔷এরই অনুবাদ মাত্র=*
*ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবিঃ ব্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্।*
*ব্রহ্মৈব তেন গন্তব‍্যং ব্রহ্মকর্ম-সমাধিনা।।*
*🌻এই উভয় শ্লোক দ্বারা যে ব্রহ্মজ্ঞানের ভাব প্রকটিত করছে,রামপ্রসাদ তা অনুভূতিতে বুঝে গানে প্রকাশ করেছেন। সুতরাং তাঁর গান আর শাস্ত্র একই কথা প্রকাশ করছে।রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কথা আলোচনা করলেও আমরা তাইই দেখতে পাই।তিনিও নিরক্ষর ছিলেন ; কিন্তু সাধন দ্বারা সমস্ত শাস্ত্রতত্ত্ব অনুভূতি করেছিলেন।বহু শাস্ত্র পড়েও পন্ডিতেরা যা ব‍্যাখ‍্যা করতে পারতেন না,তিনি তা অতি সহজ ভাষায় ভক্তদের হৃদয়ঙ্গম করিয়ে দিতেন। সুতরাং সাধনাই সমস্ত পান্ডিত‍্যের মূল।*
*🌲এখন দেখুন বাহ‍্য মূর্তি-পূজা হতে আরম্ভ করে ভক্তির মধ‍্য দিয়ে রামপ্রসাদ ক্রমে জ্ঞানের চরমসীমায় উপনীত হয়েছেন।"সর্ব্বং খল্বিদং ব্রহ্ম" এই পূর্ণ ব্রহ্ম জ্ঞান তখন তাঁর হৃদয়ে উপলব্ধি হয়েছে।সাকার পূজা হতে ভক্তি এ জ্ঞান,এবং কর্ম হতেও ভক্তি এবং জ্ঞান উভয় পাওয়া গেল। সুতরাং নিষ্কাম কর্ম কেবল কর্মতেই নিবদ্ধনয়,এটি ভজনের চরমসীমায় নিয়ে যায়।কর্ম আমরা এইরূপ বুঝলাম।ভক্তি ও জ্ঞানের বিষয় কিছু আলোচনা করা যাক।*
*🙏ভক্তি তিন প্রকার=বৈধী ভক্তি, জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি ও পরা ভক্তি।এই পরাভক্তি আবার গাঢ় হলে তা প্রেম নামে অভিহিত হয়।*
*🌷রতি গাঢ় হইলে তার প্রেম নাম কই।*
*☘ভক্তি নবধা=*
*শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনং।*
*অর্চ্চনং বন্দনং দাস‍্যং সখ‍্যমাত্মনিবেদনম্।।*
*🌻প্রথমে যে বৈধী ভক্তির কথা বলা হয়েছে--, এই নববিধা ভক্তি তারই অঙ্গীভূত এই বৈধী ভক্তি নয়ভাগে বিভক্ত হয়েছে।এর এক একটি ভাব নিয়ে এক একজন কৃতার্থ হয়েছেন।*
*শ্রীবিষ্ণোঃ শ্রবণে পরীক্ষিদভবদ্ বৈয়াসকিঃ কীর্তনে।*
*প্রহ্লাদঃ স্মরণে তদঙ্ঘ্রি ভজনে লক্ষ্মীঃ পৃথুঃ পূজনে।।*
*অক্রূরঃ স্তুতিবন্দনে কপিপতির্দাস‍্যেহথ সখ‍্যেহর্জ্জুনঃ।*
*সর্ব্বস্বাত্মনিবেদনে বলিরভূৎ কৃষ্ণাপ্তিরেষাং পরম্।।*
               *(রায় রামানন্দ সংবাদ)*
*🌺শ্রীবিষ্ণুর গুণকীর্তন শ্রবণ দ্বারা পরীক্ষিৎ মুক্ত হয়েছিলেন,কীর্তন করে বৈয়াসকি (শুকদেব) মুক্তি লাভ করেছিলেন,প্রহ্লাদ নাম স্মরণে,লক্ষ্মীদেবী তাঁর পাদপদ্ম সেবনে এবং পৃথুরাজা পূজা করে, অক্রূর স্তুতি-বন্দনা করে,হনুমান দাস‍্য ভক্তিদ্বারা,অর্জুন সখ‍্যে এবং বলিরাজা সর্বস্ব নিবেদন করে শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করেছিলেন।*
*🔴পূর্বোক্ত শ্লোকে মহারাজ অম্বরীষের নাম নেই ; কিন্তু ইনি একজন পরম ভক্ত,ভগবৎ সেবাই তাঁর প্রাণ।ইনি বিধি-সেবাদ্বারা সিদ্ধি লাভ করেছিলেন, ইনি ভক্তি প্রভাবে মহর্ষি দুর্বাসার দর্প চূর্ণ করেছিলেন।ইঁনার সম্বন্ধে শ্রীমদ্ভাগবতে যা উল্লেখ আছে,তা নিচে দেওয়া হল।*
*🌻স বৈ মনঃ কৃষ্ণপদারবিন্দয়োর্বচাংসি বৈকুন্ঠগুণানুবর্ণনে।*
*করৌ হরের্মন্দিরমার্জনিদিষু শ্রুতিঞ্চকারাচ‍্যুতসৎকথোদয়ে।।*
*মুকুন্দলিঙ্গালয়দর্শনে দৃশৌ তদভৃত‍্যগাত্রস্পর্শেহঙ্গসঙ্গমম্।*
*ঘ্রাণঞ্চ তৎপাদ-সরোজসৌরভে শ্রীমত্তুলস‍্যা রসনাং তদর্পিতে।।*
*পাদৌ হরেঃ ক্ষেত্রপদানুসর্পণে শিরোহৃষিকেশ-পদাভিবন্দনে।*
*কামঞ্চ দাস‍্যে নতু কামকাম‍্যয়া যথোত্তমঃশ্লোকজনাশ্রয়া রাতঃ।।*
*🌺সুতরাং বৈধীভক্তি ক্রমিক উন্নতির দ্বারা দাস‍্য,সখ‍্য ও আত্ম-নিবেদন পর্য‍্যন্ত পৌঁছেছে। দাস‍্য, সখ‍্য ও আত্ম-নিবেদন, এই তিনটি প্রেমভক্তির অন্তর্ভুক্ত।বৈধীভক্তি যখন চরমসীমায় উপনীত হয়,তখন প্রেম রাজ‍্যের আভাস আসে,তখন কতক প্রেম কতক ভক্তি এই ভাবে জড়িত থাকে।এই জন‍্যই বোধহয় এই তিনটিও বৈধী ভক্তির শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে।ভক্তির ক্রমিক বিকাশ শ্রীরায় রামানন্দ ও শ্রীশ্রী মহাপ্রভুর সংবাদে বিস্তারিত ভাবে লেখা হবে।এখানে আর সে বিষয়ের বিশেষ আলোচনা নিষ্প্রয়োজন।ভক্তির প্রথম অবস্থায় শ্রবণ কীর্তন দ্বারা আরম্ভ হয়।ভক্ত যখন প্রেমরাজ‍্যে গিয়ে পড়েন,তখন ভক্ত আর বিধির অধীন থাকেন না। একেবারে চরমসীমার একটি শ্লোক উদ্ধৃত করছি,এই শ্লোকে নামের মহিমাও কীর্তিত হয়েছে।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
        *🙏নীলাচলে মহাপ্রভু🙏*
           *🌻 🌻প্রস্তাবনা🌻🌻*
*🌹এবং ব্রতস্বপ্রিয়-নাম-কীর্ত্ত‍্যা জাতানুরাগো দ্রুতচিত্ত উচ্চৈহসত‍্যথৌ রোদিতি রৌতি গায়ত‍্যুন্মাদবন্ নৃত‍্যতি লোকবাহ‍্য।ইত‍্যাদি।*
*🌻মুরারিগুপ্তের একটি গান উদ্ধৃত করছি,তা দ্বারাও প্রেমেতে মানুষকে কি করে তুলে তা বুঝতে পারবেন। গানটি এই=*
     *সখি হে,ফিরিয়া আপন ঘরে যাও।*
*জীয়ন্তে মরিয়া যে,আপনারে খাইয়াছে,*
        *তারে তুমি কি আর সুধাও।।*
*নয়নপুতলি করি,লইনু মোহন রূপ,*
       *হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ।*
*পিরীতি আগুন জ্বালি,সকলি পোড়াইনু,*
       *জাতি কুল শীল অভিমান।।*
*না জানিয়া মূঢ় লোকে,কত কি না বলে মোকে,*
          *না করিয়া শ্রবণ গোচরে।*
*স্রোতের বিথার জলে,এ তনু ভাসাইনু,*
         *কি করিবে কুলের কুক্কুরে।।*
*খাইতে শুইতে, আর নাহি লয় চিতে,*
         *কানু বিনে আন নাহি ভায়।*
*মুরারি গুপতে কহে,পিরীতি এমতি হ'লে,*
         *তার গুন তিন লোকে গায়।।*
*🌲এই গানটি দ্বারা ভক্তির একটা অবস্থা বর্ণিত হচ্ছে।বৈষ্ণব শাস্ত্রকারগণ এই অবস্থাকে প্রেমের অবস্থা বলেন।তাঁদের মতে প্রেমের স্থান জ্ঞানের উপরে।শ্রীমদ্ভাগবতেও জ্ঞানের অবস্থার পরেই প্রেমের অধিকার বর্ণিত হয়েছে।শুকদেব গোস্বামী যখন জ্ঞানের পূর্ণাবস্থা প্রাপ্ত হয়েছেন,তখন ব‍্যাসদেব তাঁকে গোপী ধর্ম বলবার উপযুক্ত পাত্র বলে মনে করেছিলেন।আবার বেদান্তমতে জ্ঞানেরই শ্রেষ্ঠত্ত্ব নির্ণীত হয়েছে।এ বিষয়ে তারতম‍্য করবার অধিকার আমার নাই--প্রয়োজনও নাই।তুলসীদাস জ্ঞান ভক্তির শ্রেষ্ঠতা সম্বন্ধে বলেছেন=জ্ঞান পিতা,ভক্তি মাতা,ইঁনার কে বড়,কে ছোট কিছুই বলতে পারি না--"জ্ঞান পিতারি,ভক্তি মাতারি, দুনো পাল্লা ভারী"।তুলসীদাস একজন পরম ভক্ত।ইঁনার একটি দোহা উল্লেখ করছি,যা দ্বারা বৈধী ভক্তির অনেকটা আভাষ পাওয়া যেতে পারে।*
*🌷হরি সে লাগি রহরে ভাই,*
*🌷(তেরি বিগারা)বনেত বনেত বনি যাই।*
*🌷রাঙ্কা তরে বাঙ্কা তরে তরে সুধন কষাই,*
*🌷সুয়া পড়াকে গণিকা তরে তরে মীরা বাই।*
*🌷দৌলত দুনিয়া মালখাজানা বেনিয়া বয়েল চড়াই,*
*🌷এক বাতমে ঠান্ডি হো যায় খোঁজ খবর নাহি পাই,*
*🌷এইসা ভকতি কর ঘট ভিতর ছোড়ে কপট চতুরাই,*
*🌷সেবা বন্দনা আউর দীনতা সহজে মিলয়ে গোঁসাই।*
*❤তুলসীদাস ভগবানের দাস‍্য ভাবের ভক্ত ছিলেন। যেমন ত্রেতাযুগে হনুমান শ্রীরামচন্দ্রের ভক্ত ছিলেন ; তুলসীদাসেরও সেই ভাব,ইনিও শ্রীরামচন্দ্রের ভক্ত ছিলেন।হনুমান ইঁনার গুরু এইরকম জনপ্রবাদ আছে।প্রহ্লাদ,অম্বরীষ,বলি,অর্জুন-- ইঁনারা নববিধা ভক্তির ভাব নিয়েই কৃতার্থ হয়ে গিয়েছেন।কথিত হয়েছে তারমধ‍্যে অম্বরীষ পঞ্চেন্দ্রিয়ের সেবা দ্বারা,প্রহ্লাদ দাস‍্য ভক্তি দ্বারা,বলি আত্মনিবেদনে, এবং অর্জুন সখ‍্যে ভগবানকে লাভ করেছিলেন। মহাপ্রভুগণের ভিতরেও অনেকে বৈধীভক্তির ভাবের সেবা করতেন-- তারমধ‍্যে প্রধান দৃষ্টান্তের স্থল শ্রীহরিদাস।তিনি কেবল হরিনাম সংকীর্তনের দ্বারাই সমস্ত জীবন অতিবাহিত করেছেন।মৃত‍্যু পর্য‍্যন্ত তিনি বিধি-ত‍্যাগ করেননি-- এর উদ্দেশ্য তাঁর নিজের উদ্ধারের জন্য নয়,জীব শিক্ষার জন্য। নাম জপে তিনি নামের মাহাত্ম্য বিস্তার করেছেন, দেখিয়েছেন শ্রীনামের কি অদ্ভুত শক্তি ; শ্রীনাম কেবল পাপ হরণ করেন তা নয়,প্রেমও এনে দেন।বিধিমার্গ অবলম্বন করে তিনি ব্রহ্মত্ব লাভ করেছিলেন,এজন‍্য তাঁর নাম ব্রহ্মহরিদাস বলে খ‍্যাত হয়েছিলেন।নামের দ্বারা যে প্রেম হয়,তার দৃষ্টান্ত স্বরূপ একটি গান উদ্ধৃত করছি।*
     *সই,কেবা শুনাইল শ‍্যাম নাম।*
*কানের ভিতর দিয়া,মরমে পশিল গো,*
      *আকুল করিল মোর প্রাণ।।*
*নাহি জানি কত মধু,শ‍্যাম নামে আছে গো,*
      *বদন ছাড়িতে নাহি পারে।*
*জপিতে জপিতে অঙ্গ,অবশ করিল গো,*
      *কেমনে পাইব সই তারে।।*
*🍀এই পদটি দ্বারা বুঝলাম শ্রীনামই প্রেমের পথ-প্রদর্শক,অকুল সমুদ্রে ধ্রুবতারা।*
*🌺এই নাম মাহাত্ম্য সম্বন্ধে মহাপ্রভু শ্রীগৌরাঙ্গদেব যেরকম বলেছিলেন,তা চরিতামৃত গ্রন্থে লেখা হয়েছে,তা পাঠকগণকে শুনাচ্ছি। সাধনমার্গের প্রথম সোপানে আরোহণ করতে হলে শ্রীনাম একমাত্র সম্বল,তার প্রমাণ স্বরূপ শাস্ত্র উল্লেখ করেছেন।*
*🌷হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলং।*
*🌷কলৌ নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব গতারন‍্যথা।।*
*🌻তারপরকেবল নাম করলে হবে না,কেমন করে নাম করতে হবে,তা বলেছেন=*
*🌷তৃণাদপি সুনীচেন তরোরপি সহিষ্ণুনা।*
*🌷অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।*
*🙏নিজকে তৃণ হতেও ক্ষুদ্র মনে করতে হবে,বৃক্ষ হতেও সহিষ্ণু (ক্ষমাশীল)হতে হবে,অমানী হতে হবে, এবং অপরকে মান দান করতে হবে, এইভাবে শ্রীনাম করলে হরিনামের প্রকৃত ফললাভ হবে।*
*🌷নাম সংকীর্তন হইতে সর্ব্বানর্থনাশ।*
*🌷সর্ব্বশুভোদয় কৃষ্ণে প্রেমের উল্লাস।।*
   *🔶মহাপ্রভুর নিজকৃত শ্লোক*
*চেতোদর্পণমার্জ্জনং ভবমহাদাবাগ্নিনির্ব্বাপণং।*
*চেতঃকৈরব-চন্দ্রিকাবিতরণং বিদ‍্যাবধূজীবনম্।।*
*আনন্দাম্বুধিবর্দ্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনম্।*
*সর্ব্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনম্।।*
*🍁বৈধীভক্তি এবং প্রেমভক্তি উভয়েরই এক-দুইটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করলাম। জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি সম্বন্ধে কিছুই বলা হয়নি।এই উভয় ভক্তির মধ‍্যস্থলের যে অবস্থা,তাইই জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি।এই অবস্থা পর্য‍্যন্তও, ভক্ত একেবারে আত্মহারা হয় না,জীয়ন্তে মরে না,আমিত্ব একেবারে বিলুপ্ত হয় না।এই অবস্থায় ভক্ত কখনও প্রেমেতে বিহ্বল হয়,আবার তাকে বিধির সংস্কারেতে জাগিয়ে রাখে।জ্ঞানমিশ্রা ভক্তির দৃষ্টান্ত খুব অল্টই আছে। রায় রামানন্দ সংবাদে জ্ঞানমিশ্রা ভক্তির একটি শ্লোক উল্লিখিত হয়েছে =*
*ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাঙ্ক্ষতি।*
*সমঃ সর্ব্বেষু ভূতেষু মদ্ ভক্তিং লভতে পরাং।।*
                                      *(গীতা)*
*🌻সর্বভূতেতে ব্রহ্মজ্ঞান,সদা প্রসন্নচিত্ত,কোন দুঃখ বা আকাঙ্ক্ষা থাকে না,সমস্ত প্রাণীতে সমজ্ঞান হয়।এরপরে পরাভক্তি লাভের অধিকারী হয়।*
🦚🪷🌸🙏🌷🪷🌸🙏🌷🌸🪷🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌻নীলাচলে মহাপ্রভু🌻*
                   *🌹প্রস্তাবনা🌹*
    ####################
*🍀পরে পরাভক্তি লাভের অধিকারী হয়।এর পরস্তরেই ভক্ত একেবারে ডুবে যায়,তাই মুরারি গুপ্ত বলেছেন=*
*🌷স্রোতের বিথার জলে এ তনু ভাসাইনু,*
           *কি করিবে কুলের কুক্কুরে।*
*🍁এই মর্ম্মে চন্ডীদাসেরও একটি গান উদ্ধৃত করছি=*
    *বঁধু তুমি সে আমার প্রাণ!*
*দেহ মন আদি, তোঁহারে সঁপেছি,*
         *কুল শীল জাতি মান।।*
*অখিলের নাথ, তুমি হে কালিয়া,*
         *যোগীর আরাধ‍্য ধন।*
*গোপ গোয়ালিনী, হাম অতি হীন,*
         *না জানি ভজন পূজন।।*
*পিরীতি রসেতে, ঢালি তনু মন,*
        *দিয়াছি তুহারি পায়।*
*তুমি মোর পতি, তুমি মোর গতি,*
        *মন নাহি আন ভায়।।*
*কলঙ্কী বলিয়া, ডাকে সব লোকে,*
        *তাহাতে নাহিক দুঃখ।*
*তোমারি লাগিয়া, কলঙ্কেরি হার,*
        *গলায় পরিতে সুখ।।*
*সতী বা অসতী, তোমাতে বিদিত,*
        *ভাল মন্দ নাহি জানি।*
*কহে চন্ডীদাস, পাপ পূণ‍্য সম,*
         *তোহারি চরণ খানি।।*
*🌹নিধুবাবুর গানে আছে =*
     *ননদিনী বলগে নগরে নগরে।*
*ডুবেছে রাই রাজনন্দিনী কৃষ্ণ কলঙ্ক সাগরে।।*
*কাজ কি বাসে, কাজ কি বাসে,*
      *কাজ কিবা সে পীতবাসে।*
*সে যাহারে ভালবাসে,সে কি বাসে বাস করে।।*
*কাজ কি গোকুল,কাজ কি গোকুল,*
      *ব্রজকুল সব হোক প্রতিকূল।*
*আমি সঁপেছি গো কুল অকুল কান্ডারীর করে।।*
*🌻প্রেমের চরম সীমা রাধা-প্রেম।রাধা নিজে ভক্তস্থানীয়া হয়ে কিরকম ভাবে কৃষ্ণপ্রেমে উন্মাদিনী হতে হয়,তা নিজে উন্মাদিনী হয়ে দেখিয়েছেন। কেবল উন্মাদিনী নয় প্রেমে যে মরতে হয়,তাওও দেখিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণবিরহ প্রেমের চরম সীমা।কৃষ্ণ বিরহের মুর্ম্মুর দাহে রাইয়ের যে কি দশা হয়েছিল তা চন্ডীদাস এইরকম বর্ণনা করেছেন।*
*বিরহ কাতরা বিনোদিনী রাই পরাণে বাঁচে না বাঁচে।*
*নিদান দেখিয়া আসীনু হেথায়,কহিনু তোহারি কাছে।।*
      *যদি দেখিবে তোমার প‍্যারী,*
*চল এইক্ষণে রাধার শপথ আর না করিও দেরী।*
*কালিন্দী পুলিনে কমলের সেজে রাখিয়া রাইয়ের দেহ,*
*কোন সখী অঙ্গে লিখে শ‍্যাম নাম, নিশ্বাস হেরয়ে কেহ।*
*কেহ কহে তোর বঁধুয়া আসিল,সে কথা শুনিয়া কানে,*
*মেলিয়া নয়ন,চৌদিশে নেহারে, দেখিয়া না সহে প্রাণে।*
*যখন হইনু যমুনা পার দেখিনু সখীরা মেলি--*
*যমুনার জলে রাখে অন্তর্জ্জলে রাই দেহ হরি রলি।*
*দেখিতে যদ‍্যপি সাধ থাকে তব ঝাট চল ব্রজে যাই,*
*বলে চন্ডীদাস বিলম্ব হইলে আর না দেখিবে রাই।*
*🌹শ্রীগৌরাঙ্গ রাধা-ভাবেতে এই কৃষ্ণবিরহবেদনা যে কি বস্তু তা নিজে রাধা হয়ে প্রত‍্যক্ষ দৃষ্টান্ত দ্বারা দেখিয়েছেন। তাঁর সেই বিরহের ভাব দেখলে, এবং তাঁর সেই বিরহিনীর দুঃখপূর্ণ মুখ দর্শন করলে সমস্ত ভক্তের হৃদয় সেই দুঃখে ফেটে যেত। গম্ভীরা লীলায় এ বিষয় বিস্তারিত বর্ণিত হবে।*
*🌺এখন "জ্ঞান" সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করব।"জ্ঞান" বলতে এখানে "আত্মতত্ত্বজ্ঞান" আলোচনা করব।জ্ঞান হৃদয়ের একটি বৃত্তিবিশেষ ; এটি দ্বারা পরমাত্মারূপী পরমেশ্বরকে জানা যায়।যতদিন পর্য‍্যন্ত এই জ্ঞানলাভ না হবে,ততদিন পর্য‍্যন্ত আমাদের হৃদয়ের মধ্যে পরমব্রহ্ম পরমাত্মাকে জানতে পারব না।এখন এটিকে উদ্বোধন করাই জীবের প্রধান কর্তব‍্য।আগেই লিখেছি=*
*প্রয়োজনস্তু তদৈক‍্য-প্রমেয়-গতাজ্ঞাননিবৃত্তি তৎস্বরূপানন্দাবাপ্তিশ্চ।*
*🍀বেদান্তবিদ্ বেদান্ত লিখতে গিয়ে তিনটি বিষয়ের প্রথমেই আলোচনা করেছেন,বিষয়,সম্বন্ধ,প্রয়োজন।*
*🍀জীবব্রহ্মৈক‍্যং শুদ্ধচৈতন‍্যং প্রমেয়ং। জীব এবং ব্রহ্মের একত্ব, অর্থ‍্যাৎজীব এবং ব্রহ্ম যে এক বস্তু তা প্রমাণ করাই বেদান্তের বিষয়। বোধ‍্য-বোধক-ভাবঃ সম্বন্ধ। গ্রন্থের সহিত ব্রহ্মের বোধ‍্য বোধকভাব সম্বন্ধ।*
*🌳জীবব্রহ্মে একত্বের প্রতিবন্ধক অজ্ঞানের নিবৃত্তি এবং তৎস্বরূপ অর্থ‍্যাৎ ব্রহ্মের স্বরূপ যে আনন্দ তাকে লাভ করা-- এই প্রয়োজন। জীবের ব্রহ্মত্ব লাভ-- এটি জীবের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সেখানে পৌঁছিতে গেলেই প্রতিবন্ধক বা বাধা স্বরূপ যে অজ্ঞান রয়েছে,তাকে সরাতে না পারলে লক্ষিত জায়গায় পৌঁছান যায় না।যদিও আমার অজ্ঞান নিবৃত্তির কোনও প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু প্রতিরোধীকে নিবৃত্তি করতে না পারলে,উদ্দেশ‍্য সাধন হয় না ; কাজেই অজ্ঞানের বিরতিও প্রয়োজন হয়ে উঠিল।🌹যেমন কোন রাজা যদি অন‍্য কোন রাজার সম্পত্তি গ্রহণ করতে চান,তাহলে রাজ‍্যাধিকারই তার প্রধান উদ্দেশ্য ; বিরোধীয় রাজাকে পরাজিত করতে না পারলে,রাজ‍্য হস্তগত হয় না, সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বীর পরাজয় প্রয়োজন হল।এখানেও সেইরকম অজ্ঞানই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী,তাকে নিবৃত্তি বা বিরতি করতে না পারলে লক্ষ্যেতে পৌঁছিতে পারি না।তার জন‍্যই নানারকম আয়োজন করতে হয়।কোন রাজ‍্য আক্রমণ করতে হলেই সেই দেশের অবস্থা রীতিনীতি অভিজ্ঞ ব‍্যক্তির মন্ত্রণার প্রয়োজন।এই দেশও যিনি লাভ করতে চান,তাঁরও এই দেশের অভিজ্ঞ লোক চাই।এই দেশের লোকবেদ-পরাগ হচ্ছেন শ্রীগুরুদেব।তিনি মন্ত্র দিবেন,তিনিই সমস্ত রীতি-নীতি স্বরূপ যে বেদবেদান্ত উপনিষদাদি শাস্ত্র--তা উপদেশ করবেন ; তখন শিষ্য সেই গুরুর মন্ত্রণা দ্বারা রণে মায়ারূপ শত্রু হতে উত্তীর্ণ হতে পারবেন। শ্রবণ,মনন, নিদিধ‍্যাসন-- এই যুদ্ধের অস্ত্র।সক্ষেপতঃ ইহাকে প্রাণায়াম সাধন বলা যায়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🌺নীলাচলে মহাপ্রভু🌺*
                  *🌳প্রস্তাবনা🌳*
*🌹প্রাণায়ামের শাস্ত্রোক্ত প্রমাণ উদ্ধৃত করছি=*
*🌷ইড়য়া পূরয়েৎ বায়ুং মুঞ্চেদ্ দক্ষিণয়ানিলং।*
*🌷যাবৎ শ্বাসং সমাসীনঃ কুম্ভয়েত্তং সুষুম্নয়া।।*
*🌻যাবদ্ যোগী পদ্মাদ‍্যাসনে উপবিশ‍্য যোগমভ‍্যস‍্যতি তদা গুলফাভ‍্যাং গুহ‍্যমূলং নিষ্পীড‍্য খেচরীমুদ্রা-সাহায‍্যেন প্রাণধারণয়া সুষুম্না-মার্গেণ মূলাধারাৎ কুন্ডলিনীমুত্থাপ‍্য স্বাধিষ্ঠানমণিপূরকানাহত-বিশুদ্ধাজ্ঞাখ‍্য-ষট্ চক্রভেদক্রমেণ সহস্র-দল-কমল-কর্ণিকায়াং বিদ‍্যমান পরমাত্মনা সহ সংযোজ‍্য তত্রৈব চিত্তং নির্বাত-দীপবদচলং কৃত্বা আত্মানন্দরসং পিবতি।*
*🔴এখন পাঠককে প্রথমতঃ ঐ যুদ্ধের ক‍্যাম্প কোথায় বলা দরকার।আক্রমণকারীর ক‍্যাম্প শরীরস্থ মূলাধার চক্রে। প্রতিদ্বন্দ্বীর দুর্গ বহুতর,তারমধ‍্যে প্রধানতম দুর্গ ছয়টি--মূলাধার,স্বাধিষ্ঠান,মণিপূরক, অনাহত,বিশুদ্ধ ও আজ্ঞাখ‍্য।এই সব দুর্গ আক্রমণ করে সহস্র দলে পৌঁছিতে হবে।সহস্র দলে পৌঁছবার রাস্তা তিনটি--ইড়া,পিঙ্গলা ও সুষুম্না। এই পথ নির্বাচন,যিনি এই ব‍্যাপারের কাপ্তান হবেন,তাঁর বিবেচনাধীন।সুষুম্না মধ‍্যবর্তী পথ--অন‍্য দুই রাস্তা এর দুই দিকে।মূলাধারে যিনি ক‍্যাম্প করেছেন,তাঁর কাছাকাছি জায়গায় কুলকুন্ডলিনী শক্তি আছেন। তিনি ঐ দরজার প্রহরী স্বরূপা ; তিনি অচৈতন‍্য অবস্থায় থাকেন।তাঁর ত্রিবলি-বেষ্টিত সর্পাকার দেহ।ইঁহাকে পূজা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে না পারলে,জয়ের কোন আশা নাই ; সুতরাং প্রথমতঃ ইঁহার প্রীতিসাধন করাই যুদ্ধার্থী সাধকের কর্তব‍্য।ইনি সুপ্রসন্ন হলে,মূলাধার হতে স্বাধিষ্ঠান দুর্গে যাত্রা করতে হবে।প্রত‍্যেক দুর্গেই এক বৎসর,দুইবৎসর, কি কার দুর্ভাগ‍্যবশত দশ বৎসরও হতে পারে।এই যুদ্ধের সৈন‍্য ইন্দ্রিয়গণ--এদেরকে বশে রাখাও বিশেষ কৌশলের প্রয়োজন।অনেক সময় সৈন‍্যদলের ভিতরে বিদ্রোহী হওয়াতে নানা বিশৃঙ্খলা ঘটে থাকে।এদের চালক মন, ও মনের চালক বুদ্ধি।ঐ রাজ‍্যের প্রধান নগর সহস্রার।সহস্রারে পৌঁছিলেই সব গোল চুকে যায়।তখন সমস্ত বন্ধন ছিন্ন হয়,তখন হৃদয়গ্রন্থি ভেদ হয় =*
*ভিদ‍্যতে হৃদয়গ্রন্থিঃ ছিদ‍্যন্তে সর্বসংশয়াঃ।*
*ক্ষীয়ন্তে তস‍্য কর্মাণি তস্মিন্ দৃষ্টে পরাবরে।।*
*🌻এ বিষয়ের প্রারম্ভেই কিছু জ্ঞানতত্ত্বের আলোচনা করা হয়েছে ; আর একটু বিশদরূপে প্রকাশ করবার র্জ,আর একটি গল্পের অবতারণা করছি।🌹অনাহতপুরে সঞ্জীব চন্দ্র নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি অতি ধার্মিক,সরল ও বিশ্বাসী ছিলেন।তাঁর এক বিশ্বাসী মন্ত্রী ছিল,তাঁর নাম জ্ঞানবন্ত।সেই মন্ত্রীর আর দুই জন সাহায্যকারী কর্মচারী ছিল,তাদের নাম বিবেকরাম ও বিশ্বাসরাম।এদের অধীনে অন‍্যান‍্য কর্মচারী,সৈন‍্য সামন্ত,লোকজন পরিচালিত হত।এ মন্ত্রীর পরামর্শে রাজ‍্য অতি সুশৃঙ্খলভাবে চলছিল।এ রাজ‍্যের উন্নতি দেখে অন‍্যান‍্য রাজাগণ অত‍্যন্ত ঈর্ষান্বিত হয়েছিলেন।মন্ত্রী সবসময়েই বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে রাজাকে রক্ষা করতেন।রাজা স্থভাবতঃ ভাল মানুষ ; কিন্তু তাঁর দোষ এই যে,যে যা বলে,তাইই বিশ্বাস করেন,এইজন‍্য তাঁর উপর সহজেই আধিপত‍্য করতে পারা যায়।এইজন‍্য মন্ত্রী সবসময়েই সতর্ক থাকতেন,কোন সময়ে কুলোক এসে রাজার মন বিগড়িয়ে দেয়।ঐ রাজ‍্যের কাছাকাছি মায়াপুর নামে এক রাজ‍্য ছিল।তার রাণীর নাম মায়াবতী।তিনি অতি প্রখরা,বুদ্ধিমতী ও বিষয়কার্য‍্যে অতি নিপুণা।তিনি স্ত্রীলোক হয়েও বুদ্ধিকৌশলে অনেক পুরুষকে পরাভব করতেন, এবং তাঁর মন্ত্রীর নাম ছিল অহঙ্কার-চূড়ামণি। মায়াবতীর অনেক সহচরী ছিল,তারাই অনেক কাজ নির্বাহ করত।তাঁর সহচরীর নাম--কামনাসুন্দরী,বিলাসিনী,কুমতি, জটিলা,কুটিলা,রতি এবং এইরকম আরও অনেক সহচরী ছিল।এক সময়ে এই রাণীর,সঞ্জীব রাজার রাজ‍্য আক্রমণ করার ইচ্ছা হল।রাণী দেখলেন,রাজাকে প্রকাশ‍্য ভাবে যদি আক্রমণ করি,তাহলে সুবিধা হবে না এবং বহুলোক ক্ষয় হবে। তিনি রাজার নিকটে গুপ্তচর পাঠিয়ে,তাঁকে বাধ‍্য করা নিরাপদ মনে করলেন।তবে এমন ভাবে লোক পাঠাতে হবে যাতে মন্ত্রী জ্ঞানবন্তও বুঝতে না পারেন যে,তাঁদের শত্রুপক্ষীয় কোন লোক এসেছে।তখন তিনি অহঙ্কার-চূড়ামণি মন্ত্রীর পরামর্শ করলেন,তিনিও তাঁর মতের প্রশংসা করলেন এবং সহজে কার্য‍্যোদ্ধার করতে পারবেন বলে স্পর্দ্ধা করলেন।তদনুসারে অহঙ্কার চূড়ামণিকে, এবং রতি,বিলাসিনী,কামনা,সুন্দরী এই সমস্ত সহচরীকে Spy ভাবে নিযুক্ত করলেন।এদের শক্তি ছিল,যত বড় বীর পুরুষই হোক না কেন,স্থির প্রতিজ্ঞ হোক না কেন,তাদের হাতে পড়লে তাদেরকে হাতের খেলার পুতুল বানাতে পারত।তারা এই কয়জন সঞ্জীব রাজার বাড়িতে প্রবেশ করল।বৃদ্ধ মন্ত্রীও তাদের ছল বুঝতে পারলেন না,তিনিও তাদেরকে নিজের লোক বলেই মনে করলেন।এদের মধ্যে অহঙ্কার চূড়ামণিপারিষদ দলের মধ্যে মিশলেন, এবং কামনা, বিলাসিনী,রতি সুন্দরী এ কয়েকজন অন্তঃপুর-বাসিনীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন। কেউই এদের চতুরতা বুঝতে পারল না। রতি,বিলাসিনী,সুন্দরী এরা নৃত্যগীতাদিতে এবং সৌন্দর্য্যে অন‍্য গায়িকা এবং নর্তকী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠা হলেন।আবার বাড়ীর বাইরে অহঙ্কার চূড়ামণিও পারিষদবর্গের ভিতরে খুব অল্পদিনের মধ্যে রাজার অতি প্রিয় পাত্র হলেন।রাজা ক্রমশঃ অহঙ্কার চূড়ামণির সংসর্গে থেকে, মন্ত্রী জ্ঞানবন্ত এবং তাঁর সহচর বিবেকরাম ও বিশ্বাসরামের মন্ত্রণায় উদাসীনতা প্রকাশ করতে লাগলেন।এরা এতদূর আধিপত‍্য বিস্তার করল,যে তিনি বাইরে যখন আসেন,তখন অহঙ্কার চূড়ামণি ছাড়া অন‍্য কারও কথায় কর্ণপাত করেন না, এবং ভিতরে যখন থাকেন,তখন রতি,বিলাসিনী সুন্দরী এদেরকে নিয়েই থাকেন।থাকতে থাকতে এইরকম হল যে,অহঙ্কার চূড়ামণি এবং রতি বিলাসিনীর কুমন্ত্রণায় মন্ত্রী জ্ঞানবন্ত এবং বিবেকরাম ও বিশ্বাসরাম তাঁদের অনুচরবর্গ সমেত রাজ‍্য হতে বাহির হয়ে যাবার আদেশ হল।এই সংবাদে মায়াপুরে অবিলম্বে পৌঁছিল।মায়াবতী নিজের সমস্ত সৈন‍্য এই সময়ে তাঁর রাজ‍্য মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন।মায়াবতীর সুকৌশলে বিনা যুদ্ধে ও বিনা রক্তপাতে রাজা সঞ্জীবচন্দ্র বন্দী হলেন।রাজা বুঝতে পারলেন না যে,তিনি বন্দী হয়েছেন। বাস্তবিকও সৈন‍্য সামন্ত প্রহরী পরিবেষ্টিত রেখে যে বন্দী করা,তা হয়নি।তাঁর মনকে সম্পূর্ণরূপে বন্দী করা হয়েছে,তাঁর বিবেককে বন্দী করা হয়েছে, এবং জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে। সুতরাং তিনি মায়াবতীর খেলার পুতুল বৈ আর কিছুই নন।মায়াবতী তাঁর সৈন‍্য সামন্ত দিয়ে চারিদিক ঘিরে রাখলেন যে,জ্ঞানবন্ত,বিবেকরাম ও বিশ্বাসরাম কোনমতে রাজার সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, বা রাজবাড়ীতে না আসতে পারেন। এবং শূন‍্যপথে বৈদ‍্যুতিক আলোক সংযোগে যাতে প্রবেশ করতে না পারেন,তারজন‍্য সমস্ত নগর অন্ধকার করে রাখলেন।মায়াবতী বর্তমান airship, zeppclin প্রভৃতির খবর না রাখতে পারেন, কিন্তু কার্য‍্যত বুঝা যায় যে,ঐরকম কোন যন্ত্র তখন ছিল, যাতে শূন‍্যপথে প্রবেশ করা যায়।*
🔵🔴🌖🔴🌖🔴🔵🔵🔴🌖🔵🔴🌖
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *🌻নীলাচলে মহাপ্রভু🌻*
               *🌻প্রস্তাবনা🌻*
     ~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀এখন যেরকম লন্ডন নগর অন্ধকারাচ্ছন্ন,অনাহত পুরীও সেইরকমই অন্ধকারাচ্ছন্ন করা হয়েছিল ; লন্ডন নগর কেবল রাত্রে অন্ধকার করা হয়, কিন্তু অনাহতপুরী দিন-রাত্রিই অন্ধকারাচ্ছন্ন করা হয়েছিল।মন্ত্রী জ্ঞানবন্ত দেখলেন,এখন তাঁর কৌশল অবলম্বন করেই পুনরায় রাজার কাছে পৌঁছতে হবে। এইজন‍্য বিবেকরাম ও বিশ্বাসরামকে নিযুক্ত করলেন।এ দিকে অনেকদিন গত হলে,মায়াবতীর বিশ্বাস হল যে রাজা এবং মন্ত্রী কেউই আর কিছু করতে পারবেন না।এই বিশ্বাসেতে তিনি কড়া প্রহরী হতে অনেকটাই শিথিল হলেন।এরকম সকলেরই ঘটে থাকে,মনে করেন আমার করায়ত্ত হয়ে গেছে।রাজারও বহুদিন এইরকম ভোগের পর,ভোগের লালসা অনেক পরিমাণে মন্দীভূত বা কম হয়ে আসিল।সব কাজেরই একটা প্রতিক্রিয়া (Reaction) হয়, বহুদিন ভোগ করে ভোগবাসনার বিরতি বা নিবৃত্তি হয়।সঞ্জীবচন্দ্রেরও তাইই ঘটিল।মায়াবতীর প্রহরীরা আর সেরকম পাহারা দেয় না। সুযোগ পেয়ে বিবেকরাম ও বিশ্বাসরাম শূন‍্যপথে ভিক্ষুকের বেশে সঞ্জীবচন্দ্রের কাছে উপস্থিত হলেন এবং বিবেকরাম শঙ্করাচার্য‍্যের মোহমুগদর আবৃত্তি করতে আরম্ভ করলেন।*
*🔷মূঢ় জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাং কুরু তনুবুদ্ধে মনসি বিতৃষ্ণাং।*
*🔷যল্লভসে নিজ-কর্মোপাত্তং বিত্তং তেন বিনোদয় চিত্তং।।*
*🔷নলিনীদলগত-জলমতিতরলম্ তদবজ্জীবনমতিশয়চপলম্।*
*🔷ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা।।*
*🔷কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীব বিচিত্রঃ।*
*🔷কস‍্য ত্বং বা কুত আয়াতস্তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভ্রাতঃ।।*
*🔷অঙ্গং গলিতং পলিতং মুন্ডং দন্তবিহীনং জাতং তুন্ডং।*
*🔷করধৃত-কম্পিত-শোভিত-দন্ডং তদপি ন মুঞ্চত‍্যাশাভান্ডং।।*
*🔷বালস্তাবৎ ক্রীড়াসক্তস্তরুণস্তাবৎ তরুণীরক্তঃ।*
*🔷বৃদ্ধস্তাবচ্চিন্তামগ্নঃ পরমে ব্রহ্মণি কোহপি ন লগ্নঃ।।*
*🔷দিনযামিন‍্যৌ সায়ম্প্রাতঃ শিশির বসন্তৌ পুনরায়াতঃ।*
*🔷কালঃ ক্রীড়তি গচ্ছত‍্যায়ুস্তদপি ন মুঞ্চত‍্যাশাবায়ুঃ।।*
*🔷মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বং হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্বং।*
*🔷মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা ব্রহ্মপদং প্রবিশাশু বিদিত্বা।।*
*🔷যাবদ্বিত্তোপার্জ্জনশক্তস্তাবন্নিজ পরিবারো রক্তঃ।*
*🔷তদ চ জরয়া জর্জ্জর-দেহে বার্ত্তাং কোহপি ন পৃচ্ছতি গেহে।।*
*🔷পুনরপি জননং পুনরপি মরণং পুনরপি জননী-জঠরে শয়নং।*
*🔷ইতি সংসারে স্ফুটতরদোষঃ কথমিহ মানব তব সন্তোষঃ।।*
*🔷যাবজ্জীবো নিবসতি দেহে কুশলং তাবৎ পৃচ্ছতি গেহে।*
*🔷গতবতি বায়ৌ দেহাপায়ে ভার্য‍্যা বিভ‍্যতি তস্মিন্ কায়ে।।*
*🔷অর্থমনর্থং ভাবয় নিত‍্যংনাস্তি ততঃ সুখলেশঃ সত‍্যং।*
*🔷পুত্রাদপি ধনভাজাং ভীতিঃ সর্বত্রৈষা কথিতা নীতাঃ।।*
*🔷কামং ক্রোধং লোভং মোহং ত‍্যক্ত্বাত্মানং ভাবয় কোহহম্।*
*🔷আত্মজ্ঞানবিহীনা মূঢ়াস্তে পচ‍্যন্তে নরকনিগূঢ়াঃ।।*
*🔷সুরমন্দিরতরুমূলনিবাসঃ শয‍্যা ভূতলমজিনং রাসঃ।*
*🔷সর্বপরিগ্রহ-ভোগত‍্যাগঃ কস‍্য সুখং ন করোতি বিরাগঃ।।*
*🔷শত্রৌ মিত্রে পুত্রে বন্ধৌ মা কুরু যত্নং বিগ্রহসন্ধৌ।*
*🔷ভব সমচিত্তঃ সর্বত্র ত্বং বাঞ্জস‍্যচিরাদ্ যদি বিষ্ণুত্বং।।*
*🔷ত্বয়ি ময়ি চান‍্যত্রৈকো বিষ্ণুর্ব‍্যর্থং কুপ‍্যসি ময‍্যসহিষ্ণুঃ।*
*🔷সর্বস্মিন্নপি পশ‍্যাত্মানং সর্বত্রোৎসৃজ ভেদজ্ঞানং।।*
*🌻এর পর বিবেকরাম বলেছেন=*
*🔶যদুপতেঃ ক্ব গতা মথুরাপুরী রঘুপতেঃক্ব গতোত্তরকোশলা।*
*🔶ইতি বিচিন্ত‍্য কুরুষ্ব মনঃস্থিরং ন সদিদং জগদিত‍্যবধারয়।।*
*🔶অহন‍্যহনি ভূতানি গচ্ছতি যমমন্দিরং।*
*🔶শেষাঃ স্থিরত্বমিচ্ছন্তি কিমশ্চার্য‍্যমতঃ পরং।।*
*🔶শ্বঃ কার্য‍্যমদ‍্য কুর্ব্বীত পূর্বাহ্নে চাপরাহ্নিকম্।*
*🔶নহি প্রতীক্ষতে মৃত‍্যুঃ কৃতমস‍্য ন বা কৃতম্।।*
*🌹বিশ্বাসরাম বলছেন=*
*🌷হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।*
*🌷কলৌ নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব নাস্ত‍্যেব গতিরন‍্যথা।।*
*🍀হরি সে লাগি রহরে ভাই।*
*(তেরি বিগারা)বনেত বনেত বনি যাই।*
*রাঙ্কা তরে বাঙ্কা তরে তরে সুধন কষাই।।*
*সুয়া পড়াকে গণিকা তরে তরে মীরা বাই।*
*দৌলত দুনিয়া মালখাজানা বেনিয়া বয়েল চড়াই।*
*এক বাৎসে ঠান্ডি হো যাই খোজ খবর নেই পাই।।*
*এইসা ভকতি কর ঘট ভিতর ছোড় কপট চতুরাই।*
*সেবা বন্দনা আউর দীনতা সহজে মিলয়ে গোসাঁই।।*
*(ভয়ংভয়ানামপহারিণি স্থিতে মনস‍্যনন্তে মম কুত্র তিষ্ঠতি।*
*যস্মিন্ স্মৃতে জন্মজরান্তকাদি ভয়ানি সর্বাণ‍্যপয়ান্তি তাত।।*)
                               *(বিষ্ণুপুরাণ)*
*🌻এইসব কবিতা গ্রহণ করেই সঞ্জীবচন্দ্রের ভাবান্তর উপস্থিত হল, তাঁর পূর্বস্মৃতি জেগে উঠিল। কিন্তু মায়াবতীর অনুচরেরা মনে করল, যেরকম ভিখারিরা এসে থাকে, এরাও সেই শ্রেণীর।তারা দুই-এক পয়সা দিয়ে ভিখারিদের বিদায় করবার চেষ্টা করল, কিন্তু তারা যাবার লোক না। রাজাও তখন বুঝতে পারলেন যে,এরা তাঁর পূর্ব পরিচিত মন্ত্রী-সহচর।সময় হলে এরকমই হয়। "সময় তো যায়,বাবা খাইতে আস" (বাসনা জ্বালিয়ে দাও) এই কথা বলাতেই লালাবাবু প্রেমের পথের পথিক হলেন।এইরকম কথা তো কতই শোনা যায়।*
               *ক্রমাগত*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌹নীলাচলে মহাপ্রভু🌹*
                   *🌻প্রস্তাবনা🌻*
          *************************
*🍀লালাবাবুরও হয়ত আগে এরকম কথা অনেক শুনেছেন,কিন্তু তখন তাঁর সেরকম লাগেনি।আজ কেমন সুসময়ে কথাটি পড়েছে,মন পূর্বেই তৈরী হয়েছিল,অমনিই প্রাণের ভিতর লাগল।চুম্বকে যেমন লৌহাকে আকর্ষণ করে,সেরকম করতে লাগল।সঞ্জীবচন্দ্রেরও আজ সেই অবস্থা।ভোগ করে ভোগের আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্তি হয়েছে।এখন চায় প্রাণে নিবৃত্তি-- সেই সময়েই ঐ সব শ্লোক বিবেকরাম ও বিশ্বাসরামের মুখে শুনতে পেল,আর চৈতন‍্যের উদয় হল।*
*তখনই মায়াবতীর লোক বুঝতে পারল যে,সেই মন্ত্রীর সেই দুই অনুচর উপস্থিত হয়েছে, এবং রাজাকে পূর্ব স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।এদিকে লাজার ও বিবেকরামের ইঙ্গিতমাত্র মন্ত্রী জ্ঞানবন্ত সদলে প্রবেশ করতে আরম্ভ করলেন।মায়াবতীর লোক অহঙ্কার-চূড়ামণি,কামনা,বিলাসিনী প্রভৃতি ক্রমশ সরে গেল,রাজ‍্যের ও রাজার পুনরুদ্ধার হল। সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত শহর,নগর,গ্রাম আলোয় উদ্ভাসিত হল,দুঃখের অবসান হল,সকলে সুখ সাগরে ভাসতে লাগল, রাজ‍্য মধ্যে আবার আগের মত বেদাধ‍্যয়ন,শাস্ত্রালোচনা প্রভৃতি আরম্ভ হল।তখন সঞ্জীবচন্দ্র আর সে সঞ্জীবচন্দ্র নাই,তিনি তখন দীন কাঙাল, "তৃণদপি সুনীচেন"ভাবের মহিমা তাঁর হৃদয়ে প্রকাশ পেয়েছে সুতরাং ব্রহ্মত্বলাভে আনন্দময় হয়ে গিয়েছেন। তিনি তখন প্রকৃত তত্ত্ব যে কি তা বুঝতে পারলেন।*
*🌷রূপং মহত্তে স্থিতমত্র বিশ্বং ততশ্চ সূক্ষ্মাং জগদেতদীশ।*
*🌷রূপাণি সর্বাণি চ ভূতভেদাস্তেহন্তরাত্মাখ‍্যমতীব সূক্ষ্মম্।।*
*🌷তস্মাচ্চ সূক্ষ্মাদি-বিশেষণানামগোচর যৎ পরমাত্মরূপং।*
*🌷কিমপ‍্যচিন্ত‍্যং তব রূপমস্তি তস্মৈ নমস্তে পুরুষোত্তমায়।।*
*🌷নমোহস্তু বিষ্ণবে তস্মৈ নমস্তস্মৈ পুনঃ পুনঃ।*
*🌷যত্র সর্বং যতঃ সর্বং যঃ সর্বং সর্বসংশ্রয়ঃ।।*
*🌷সর্বগত্বাদনন্তস‍্য স এবাহমবস্থিতঃ।*
*🌷মত্তঃ সর্বমহং সর্বং ময়ি সর্বং সনাতনে।।*
*🍁অনন্তর, গ্রহ-নক্ষত্রাদি-সুশোভিত আকাশাদি সহিত বিশ্ব তোমার বৃহৎ রূপ,পয়োধি ও ভূধরাদি-সমন্বিত পৃথিবী তোমার অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্মরূপ, জীবদেহ তা হতেও সূক্ষ্ম, তদপেক্ষা তোমার সূক্ষ্মরূপ দৈহান্তর্বর্তী অন্তরাত্মা,তদতিরিক্ত সূক্ষ্মাদি বিশেষণের অগোচর, অচিন্ত‍্যনীয় পরমাত্মা স্বরূপ তোমার যে রূপ আছে, আমি সেই পুরুষোত্তম পরম ব্রহ্মকে নমস্কার করি।যেহেতু এই অনন্তদেব সর্বময়, অতএব আমিই সেই ঈশ্বর,আমা হতে বিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে,আমি জগন্ময়, অবিনশ্বর,আমাতেই জগত অবস্থিত।(জ্ঞানযোগ)।*
*🍀এতদিন সঞ্জীবচন্দ্র মায়ামোহে ভুলেছিলেন,এখন মায়া কেটে গেল।নিত‍্য,শুদ্ধ,বুদ্ধ,মুক্ত,সত্ত্বস্বভাব পরমানন্দাকারাকারিতা চিত্তবৃত্তির উদয় হল, জ্ঞানের উদয় হল,অজ্ঞানের পরাজয় হল। এখন সঞ্জীবচন্দ্র বুঝলেন,অহঙ্কার-চূড়ামণি যে,দেহেন্দ্রিয়ই আত্মা বুঝিয়েছিলেন।*
*তদনুসারেই তিনি এতদিন দেহের সেবা করতেছিলেন।এখন তিনি বুঝেছেন দেহ,ইন্দ্রিয়,মন,বুদ্ধি, অহঙ্কার কেউই আত্মা নহে,মায়ার চর।বাস্তবিক আত্মা--,দেহ,ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি সমস্তের অতীত-- নিত‍্য চৈতন‍্য স্বরূপ। "অহঙ্কার-বিমূরাত্মা কর্ত্তাহমিতি মন‍্যতে"।অহঙ্কার দ্বারা বিমুগ্ধ হয়ে লোকে নিজেকেই সমস্ত কাজের কর্তা মনে করে থাকেন। সঞ্জীবচন্দ্রের দেহেতে যে অহংভাব ছিল,তা চলে গেল।তখন বুঝতে পারলেন,জীবাত্মা ও পরমাত্মা একই বস্তু ; জীবাত্মা মায়াবচ্ছিন্ন আর পরমাত্মা মায়ামুক্ত-- কিন্তু তত্ত্বতঃ একই বস্তু।তাই মহারাজ পরীক্ষিৎকে শুকদেব গোস্বামী শিক্ষা দিয়েছিলেন=*
*🌷অহং ব্রহ্ম পরং ধাম ব্রহ্মাহং পরমং পদং। ইত্যাদি।*
                         *(শ্রীমদ্ ভাগবৎ ১২শ স্কন্ধ)*
*🍁এই উপদেশ পেয়ে,তিনি এবং দংশনকারী সর্প এবং পরমাত্মা তিনেতেই অভেদ জ্ঞান হয়ে তাঁর মৃত‍্যুভয় দূরীভূত হয়েছিল।*
*🌷যথা নদ‍্যঃ স‍্যন্দমানা সমুদ্রেহস্তং গচ্ছন্তি নামরূপে বিহায়।*
*🌷তথা বিদ্বান্নামরূপাৎ বিমুক্তঃ পরাৎ পরং পুরুষ-মুপৈতি দিব‍্যম্।।*
                  *(জ্ঞানযোগ উপনিষদ্)*
*🌹নদীগুলি যেমন তত্তন্নাম পরিত‍্যাগ করে সমুদ্রে মিশে যায়,সেইরকম জ্ঞানবান্ নাম-রূপ দেহেন্দ্রিয়াদিতে আত্মাভিমানাদি ত‍্যাগ করে পরমাত্মাতে মিশে যান, অর্থ‍্যাৎ মুক্তিলাভ করেন।জীবাত্মা ব‍্যষ্টিরূপ(পৃথক পৃথক ভাব, স্ব স্ব ভাব, সমষ্টির বিপরীত) ও পরমাত্মা সমষ্টিরূপ।এখন পাঠককে বুঝতে হবে, সঞ্জীবচন্দ্র ইনি জীবাত্মা,অনাহতপুরীতে অর্থ‍্যাৎ অনাহত চক্রে ইঁনার বাস ; আর জ্ঞানবন্ত ইনিই জ্ঞান, দেহধারী হয়ে জীবকে শিক্ষা দিবার জন্য গুরুরূপে প্রকটিভূত হয়েছেন, আর গুরুরূপে ভিতরে থেকে শিক্ষা দেন। অহঙ্কার-চূড়ামণি ইনি অহংকার ; মায়াবতী মায়া,অবিদ‍্যা, সুতরাং মায়াপুরে তার বাস-- অহঙ্কার,রতি, বিলাস ইত্যাদি মায়ারই কাজ।*
*পরমহংসদেব বলতেন,অহঙ্কার না গেলে, জ্ঞানআসে না,উচু ঢিবিতে জল আসে না। মহাপ্রভুও সেইজন‍্য "তৃণাদপি সুনীচেন" ইত্যাদি দ্বারা অহঙ্কার নিবৃত্তি হলে,ভক্তির উদয় হয়,এই শিক্ষা দিয়েছিলেন।বৈষ্ণব-দর্শন অনুসারে জীব এবং পরমব্রহ্ম এক বস্তু নয়। মহাপ্রভুও জীবাত্মা এবং পরমাত্মা এক হতে পারে না বলেছেন,তা শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী উল্লেখ করেছেন। বেদান্ত মতে জীব এবং পরমাত্মা একই পদার্থ।কেবল মায়া দ্বারা বিভিন্ন হয়েছে।*
🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴⚪
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
     *শ্রীস্বরূপের সদয় উপদেশ*
    💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌹দেবানন্দ শ্রীভাগবতখানি হাতে পেয়ে প্রকৃত অর্থের মর্য‍্যাদা নষ্ট করছেন,আর ঐ রকম ব‍্যাখ‍্যায় জগতের অনিষ্ট হচ্ছিল।জগৎহিতৈষী মহাপ্রভু এই জন্য দেবানন্দের একমাত্র সম্পত্তি নষ্ট করতে উদ‍্যত হয়েছিলেন। দ্বিতীয়তঃ যাতে যার অধিকার নাই,তাকে সেই অনধিকারচর্চায় রত হতে দেখলে সৎলোকের মনে স্বভাবতই কষ্ট হয়।তারপর যিনি ঐ ব‍্যক্তির অভিভাবক,তিনি তাকে অনধিকার-চর্চায় রত হতে দেখলে তাঁর প্রথম কর্তব‍্য তাকে সর্বতোভাবে ঐ কাজ হতে বারণ করা।কোন শিশুকে তার অভিভাবক আগুন নিয়ে খেলা করতে দেখলে তিনি তার সাত হতে আগুনের আধার কেড়ে নিয়ে দূরে ফেলে দেন।এ স্থলেও মহাপ্রভু তাইই করতে উদ‍্যত হয়েছিলেন।দেবানন্দ আগুন নিয়ে খেলছিলেন। তিনি শ্রীভাগবতের প্রকৃত মর্য‍্যাদা নষ্ট করছিলেন।মহাপ্রভু তাঁকে শ্রীভাগবতরূপ সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করবার জন্য তাঁর গ্রন্থটি কেড়ে নিতে উদ‍্যম হয়েছিলেন। অভিভাবকের তাইই কর্তব‍্য। কিন্তু তা হল না। ভক্তগণ মহাপ্রভুর কাজে বাধা দিলেন।ভক্তবশ ভগবান শান্ত হলেন।*
*মহাপ্রভু শান্ত হলেন বটে, কিন্তু পরে দেবানন্দের প্রতি করুণা করেছিলেন।আর একদিন পথে দেবানন্দের সঙ্গে মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ হল।দেবানন্দের ঘোরতর অপরাধের কথা প্রভুর মনে হল।সর্বজ্ঞ প্রভুর মনে হল,শ্রীবাসের কাছে দেবানন্দ সাধু ও উদাসী হয়েও কি চরম অপরাধ করেছেন!দেবানন্দের সামনে তার ছাত্রগণ পরমভক্ত শ্রীবাসের যে দুঃখকষ্ট ও লাঞ্জনা করেছিল,দেবানন্দ তাতে কিছু বাধা দিলেন না।দেবানন্দের নিকট ভক্তের লাঞ্জনা অবমাননা হল,তিনি নিজ চক্ষে তা দেখলেন,অথচ তাঁর ছাত্রদের বারণ করলেন না।*
*দেবানন্দের এই অপরাধের কথা তুলে মহাপ্রভু বললেন,দেবানন্দ! তুমি তো লোককে খুব ভাগবত পড়াও,দেখছি!শ্রীবাস পন্ডিত যেন-তেন লোক নহেন,তিনি একজন পরমভক্ত মহাপুরুষ।শ্রীগঙ্গাও যাঁর দর্শন পেলে পবিত্র হন,এই শ্রীবাস তোমার মুখে ভাগবত শুনতে আসিলেন,আর তোমার শিষ‍্যেরা তাঁকে টেনে নিয়ে ঘরের বাইরে ফেলে দিল!ভাগবত শুনে যিনি কেঁদে আকুল হন,তিনি কি এইরকম লাঞ্জিত হবার যোগ‍্য?তুমি যেরকম ভাগবত পড়াও সে সব আমি বেশ বুঝতে পেরেছি।তুমি নিজেই ভাগবতের প্রকৃত মর্ম কিছুমাত্র বুঝতে পার নাই,তুমি আবার অন‍্যকে কি বুঝাবে?প্রেমময় ভাগবত পড়লে যে আনন্দ হয়,সে আনন্দ তুমি আস্বাদন করতে পারনি, এটিই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।মহাপ্রভুর কথা শুনে দেবানন্দ অত‍্যন্ত লজ্জিত হলেন,আর কো উত্তর করলেন না। মহাপ্রভুও আর কোন কথা না বোলে গম্ভীর ভাবে চলে গেলেন। সেইদিন হতে দেবানন্দের মনে কেমন এক রকম অনুতাপানলে জ্বলে উঠলেন।শ্রীগৌরাঙ্গের গম্ভীর শ্রীমুখটি,তাঁর ক্রোধ-গম্ভীর অথচঅতি সংযত কথা কয়টি দেবানন্দের হৃদয়ে যেন দিনরাত জেগে রইল। তিনি মনে মনে বলতেন,হায়,শ্রীবাসের নিকট আমার কি গুরুতর অপরাধ হয়েছে।শ্রীভাগবত শুনে যিনি কাঁদলেন,তাঁরে কিনা আমার দুর্বৃত্ত ছাত্রেরা এইরকম লাঞ্জিত ও বিড়ম্বিত করল!আর আমি কাউকেও ভাগবত পড়াব না।ফলে এর পর হতে দেবানন্দ সম্ভবত শ্রীভাগবতের অধ‍্যাপনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তখনও শ্রীগৌরাঙ্গের প্রতি দেবানন্দের শ্রীভগবদ্-বুদ্ধির উদয় হয়েছিল না।ভগবদ্ভক্ত সঙ্গ ছাড়া শ্রীভগবানের ভগবত্ত্বা সাধারণের হৃদয়ে পরিস্ফুট হওয়া অসম্ভব।*
*শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর কৃপায় ধীরে ধীরে বৃদ্ধ দেবানন্দের হৃদয়ে ভক্তির আবির্ভাব হতে লাগল। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যদেব তখন নবদ্বীপ লীলা সাঙ্গ করে নীলাচলে বসে সমগ্র ভারতে প্রেমের প্রবল বন‍্যা বিস্তার করছিলেন।আশ্বর্য‍্যের বিষয় এই যে,তখনও দেবানন্দের অপরাধ মোচন হয়নি।ভক্ত-অপরাধের মত ভক্তির অভ‍্যুদয়ের প্রবল বাধা আর কি হতে পারে। সমগ্র দেশ শ্রীগৌরপ্রেমে মেতে উঠিল, কিন্তু তথাপি দেবানন্দের হৃদয়ে শ্রীগৌরপ্রেমের বিন্দুমাত্রও নিপতিত হল না। অনেক দিন পরে মহাপ্রভু কুলিয়া আসিলেন।কুলিয়ায় প্রভুর শ্রীচরণার্পণে যে বিশাল ব‍্যাপার ঘটেছিল,শ্রীমদ্ বৃন্দাবনদাস সে লীলা বর্ণনা করে ভক্তসমাজকে চিরানন্দে ডুবিয়ে রেখেছিলেন।*
*এই সময়ে দেবানন্দের ভাগ‍্য সুপ্রসন্ন হল,তাঁর যুগ-যুগান্তরের,শত জন্মের সংসারবন্ধন ক্ষয় হল,আর সবসময় কৃষ্ণপ্রেম বিহ্বল তনু বক্রেশ্বর পন্ডিত সেইদিন হাসতে হাসতে,কাঁদতে কাঁদতে,"কৃষ্ণ কৃষ্ণ", বলতে বলতে নেচে নেচে দেবানন্দের আশ্রমে এসে উপস্থিত হলেন।দেবানন্দ বক্রেশ্বরের তেজঃপুঞ্জ প্রেমবিহ্বল শ্রীমূর্তি দেখে কি-জানি-কেমন এক আকর্ষণে তাঁর চরণতলে গড়িয়ে পড়লেন।পন্ডিত বক্রেশ্বর দেবানন্দের ভক্তিতে বাধ‍্য হলেন,তাঁর আশ্রমে থেকে তাঁকে চরণ ছায়ায় শীতল করলেন।দেবানন্দ অতি যত্নে অতি প্রেমে শ্রীবক্রেশ্বরের চরণ সেবা করতে লাগলেন।বক্রেশ্বর দিনরাত কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা--সে তরঙ্গের বিরাম নাই,সে প্রবাহের বিশ্রাম নাই।সারাদিন সারারাত সমান কীর্তন।দেবানন্দের আশ্রমে শ্রীকীর্তন ও নর্তন একেবারে লেগে রইল।বক্রেশ্বর নাচতে নাচতে ধূলায় পড়তেন,আর দেবানন্দ সেই শ্রীধূলা নিয়ে নিজ অঙ্গে মাখতেন।এইরকম ভক্তসেবার ফলে,ভক্ত-চরণ-ধূলির প্রভাবে দেবানন্দের শ্রীগৌরাঙ্গে বিশ্বাস জন্মিল।*
*শ্রীভগবানে বিশ্বাস উৎপত্তি ভক্তসেবা ছাড়া হয় না।দেবানন্দ আজন্ম উদাসীন,জ্ঞানবান,ভাগবত পাঠক,শান্ত,দান্ত,জিতেন্দ্রিয়,নির্লোভ ও পরম ধার্মিক,এত গুণ সত্ত্বেও শ্রীগৌরভক্ত-সঙ্গ ব‍্যতিরেকে শ্রীগৌরে আদৌ তাঁর বিশ্বাস জন্মে নাই।অবশেষে শ্রীবক্রেশ্বর পন্ডিতের চরণছায়া পেয়ে তাঁর হৃদয়ের তাপ দূরে গেল,মনশ্চক্ষু প্রসন্ন হল,শ্রীগৌরতত্ত্ব তখন তাঁর হৃদয়ে স্ফুরিত হল।একদিন তিনি অতীব অনুরাগ-ভরে বক্রেশ্বর পন্ডিতের সহিত শ্রীশ্রীগৌর-ভগবানের চরণকমল-সন্দর্শন করতে গেলেন।ভগবানের দেখা পেয়ে দেবানন্দ সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে অপরাধীর ন‍্যায় একদিকে সরে দাঁড়ালেন। কিন্তু করুণাময় মহাপ্রভু তখন তাঁকে আদর করে ডাকলেন,ডেকে নিয়ে একটু গোপধে বসে বললেন,দেবানন্দ তোমার যত অপরাধ ছিল,ভক্তসঙ্গ প্রভাবে সেসব হতে তুমি পরিত্রাণ পেয়েছ।বক্রেশ্বরের সঙ্গলাভেই তুমি আজ আমাকে দেখতে পেলে।এই বলে মহাপ্রভু নিজ ভক্ত বক্রেশ্বরের মাহাত্ম্য কীর্তন করতে লাগলেন।ভক্ত মাহাত্ম্য শুনে দেবানন্দের হৃদয় আরও পরিস্কার হল। তখন তিনি সাক্ষাৎ মহাপ্রভুকে চিনতে পেরে স্তব করলেন,যথা শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে=*
*🌷জগত উদ্ধার লাগি তুমি কৃপাময়।*
*🌷নবদ্বীপ মাঝে আসি হইলা উদয়।।*
*🌷মুঞি পাপী দৈব দোষে তোমা না জানিনু।*
*🌷তোমার পরমানন্দে বঞ্চিত হইনু।।*
*🌷সর্ব ভূতে কৃপালুতা তোমার স্বভাব।*
*🌷এই মাঁগো তোমাতে হউক অনুরাগ।।*
*🌷এক নিবেদন মোর তোমার চরণে।*
*🌷কি করি উপায় প্রভু কহিবা আপনে।।*
*🌷মুঞি অসর্বজ্ঞ,সর্বজ্ঞের গ্রন্থ লৈঞা।*
*🌷ভাগবত পড়াও আপনে অজ্ঞ হৈয়া।।*
*🌷কিবা বাখানিব পড়াইব বা কেমনে।*
*🌷ইহা মোরে আজ্ঞা প্রভু করহ আপনে।।*
*🌻দেবানন্দের প্রতি তখন শ্রীগৌরভগবান যে আদেশ করেছিলেনতা সকলেই প্রতিপাল‍্য।মহাপ্রভুর উপদেশ এই যে =*
*(১)মনে রাখবে ভক্তি ভাগবতের প্রাণ।ভাগবতের ভক্তি ব‍্যাখ‍্যা ছাড়া অন‍্য ব‍্যাখ‍্যা করবে না।*
*(২)ভক্তি নিত‍্যসিদ্ধ,অক্ষয় ও অব‍্যয়।মহাপ্রলয়েও ইহার বিনাশ নাই।শ্রীকৃষ্ণ-কৃপা ছাড়া ভক্তিতত্ত্বের উদয় হয় না।*
*(৩)শ্রীভাগবত এই ভক্তিতত্ত্ব প্রকটন করেন,এইজন‍্য সর্বশাস্ত্র হতে ভাগবতই সার শাস্ত্র।শ্রীভাগবত অপৌরুষেয়।এটি কার্ও কৃত নহে। ভক্তিযোগে কৃষ্ণের কৃপায় ব‍্যাসের কৃষ্ণস্মৃতিতে ভাগবততত্ত্ব উদিত হয়েছিল।*
*(৪)অজ্ঞও যদি ভাগবতের শরণ নেয়,তারও ভাগবতের অর্থজ্ঞান হতে পারে।প্রেমময় ভাগবত শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ।কৃষ্ণভক্তি ব‍্যাখ‍্যা করে ভাগবত বুঝাবে।*
*🍀দেবানন্দের ভাগ‍্য সুপ্রসন্ন হল।তিনি সাক্ষাৎ শ্রীভগবানের কাছে শ্রীভাগবত-পাঠের উপদেশ পেলেন।করুণাময় মহাপ্রভু দেবানন্দ মহাশয়কে লক্ষ্য করে সকলের প্রতি এই হিতগর্ভ উপদেশ করলেন। এইজন‍্য আমাদের প্রাণাধিক শ্রীস্বরূপদামোদর উপদেশ করেছেন=*
*🌷যাহা ভাগবত পড় বৈষ্ণবের স্থানে।*
*🌺শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলেন=*
*🌷মূর্তিমন্ত ভাগবত ভক্তিরস-মাত্র।*
*🌷ইহা বুঝে যেই হয় কৃষ্ণ কৃপাপাত্র।।*
*🌷দুই স্থানে ভাগবত নাম শুনি মাত্র।*
*🌷গ্রন্থ ভাগবত,আর কৃষ্ণ কৃপাপাত্র।।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতও বলেন=*
*🌷দুই ভাই হৃদয়ের ক্ষালি অন্ধকার।*
*🌷দুই ভাগবত সঙ্গে করান সাক্ষাৎকার।।*
*🌷এক ভাগবত বড় ভাগবত শাস্ত্র।*
*🌷আর ভাগবত ভক্ত-ভক্তিরস-পাত্র।।*
*🌷দুই ভাগবত দ্বারা দিয়া ভক্তিরস।*
*🌷তাহার হৃদয়ে তার প্রেমে হয় বশ।।*
*🌹সুতরাং বৈষ্ণবের স্থানে অর্থ‍্যাৎ কৃষ্ণভক্তের নিকট শ্রীভাগবত না শুনলে ভক্তিরসের পুষ্টি হয় না।এমন কি জনসাধারণের আদৌ ভক্তির সঞ্চার হয় না।এই জন‍্যই শ্রীস্বরূপদামোদরের উপদেশেও শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীমুখনিঃসৃত উপদেশেরই প্রতিধ্বনি ঘোষিত হয়েছে।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
      *🌹অনুকূল সমালোচনা🌹*
      🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🌻শ্রীস্বরূপদামোদর পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মণকে উপদেশ দিয়ে বললেন,এইভাবে আগে সবসময় শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তগণের সঙ্গ কর, শ্রীগৌরাঙ্গচরণে একান্ত ভক্ত হও, বৈষ্ণবের নিকট শ্রীভাগবত অধ‍্যয়ন কর। এতে তোমার সিদ্ধান্ত-জ্ঞান জন্মিবে,তখন তুমি পরিস্কারভাবে শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ লীলাবর্ণনে সমর্থ হবে। তুমি তোমার মনের সাধে শ্লোক রচনা করেছ,তোমার শ্লোকের তুমি যে অর্থ করেছ সে অর্থে উভয় পক্ষেই দোষ ঘটেছে।*
*কিন্তু শব্দ সাক্ষাৎ ব্রাহ্মীশক্তি, সাক্ষাৎ সরস্বতী।তুমি রীতি না জেনে যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে শব্দের সঙ্গে শব্দ গ্রথিত করে শ্লোক রচনা কর না কেন,সরস্বতী-মুখে সেটির নির্মল ব‍্যাখ‍্যা হবেই হবে।সেটি শব্দ-শক্তির এক বিশেষ চমৎকারিত্ব,বিশেষ অলৌকিকত্ব।দৈত‍্যগণ যে শব্দ প্রয়োগ করে শ্রীকৃষ্ণের নিন্দা করেছে,সরস্বতী-মুখে সেই সব শব্দ দ্বারাই শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি প্রকাশিত হয়েছে।এই দেখ,শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে পঞ্চবিংশ অধ‍্যায়ের পঞ্চম শ্লোকটি ইন্দ্র দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের নিন্দাবাদে পূর্ণ। শ্লোকটি এই=*
*🌷বাচালং বালিশং স্তব্ধ মজ্ঞং পন্ডিতমানিনং।*
*🌷কৃষ্ণং মর্ত্ত‍্যমুপাশ্রিত‍্য গোপা মে চক্রুরপ্রিয়ং।।*
*🌺এর অর্থ এই যে,শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে গোপগণ যখন শ্রীবৃন্দাবনের ইন্দ্রপূজা উঠিয়ে দিলেন,ইন্দ্র তখন শ্রীকৃষ্ণমাহাত্ম‍্য না জেনে বলেছিলেন "বাচাল,বালিশ(শিশু),স্তব্ধ (অবনীত), অজ্ঞ, পন্ডিতম্মন‍্য ও মর্ত্ত‍্য কৃষ্ণকে আশ্রয় করে গোপগণ আমার অপ্রিয় কাজ করেছে।*
*🔶যদিও এইসব নিন্দাবাদসূচক কথা দ্বারা ইন্দ্র শ্রীকৃষ্ণের ভর্ৎসনা করলেন,কিন্তু শব্দশক্তি সরস্বতী-মুখে এইসব শব্দ দ্বারাই শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করা হয়েছে।বাচাল=বেদ প্রবর্তক,শাস্ত্র-যোনি ; বালিশ=শিশুর মত নিরভিমান ; স্তব্ধ=শ্রীকৃষ্ণের বন্দনীয় কেউই নাই সুতরাং তিনি অনম্র ;অজ্ঞ=যা হতে জ্ঞানবান কেউই নাই তিনি অজ্ঞ ; পন্ডিতমানী= ব্রহ্মবিদগণেরও বহু মাননীয় ; কৃষ্ণ= সদানন্দরূপ ; মর্ত্ত‍্য সদানন্দরূপ হয়ে ভক্তবাৎসল‍্যে মানুষরূপে প্রতীয়মান ; তারদ্বারাই সরস্বতী-মুখে শ্রীকৃষ্ণের স্তবই প্রকাশ পেয়েছেন।জরাসন্ধাদি দৈত‍্যগণের নিন্দাবাদও এইভাবেই পন্ডিতগণ দ্বারা ব‍্যাখ‍্যাত হয়েছে। ফলে সরস্বতী কখনও শ্রীভগবানের নিন্দাবাদে রতা হতে পারেন না।তাঁকে প্রকৃত অর্থই প্রকাশ করতে হবে। তোমার শ্লোকের তুমি যেরকম ব‍্যাখ‍্যা করেছ,তা দোষজনক বটে, কিন্তু সরস্বতী-মুখে সেটির প্রকৃত অর্থ আর্ছ,তা নির্মল ও নির্দোষ। সেটি এইরকম--, জগন্নাথ শ্রীকৃষ্ণের আত্মস্বরূপ। ভগবানের শ্রীমূর্তিতে ও ভগবানে কোন ভিন্ন ভাব নাই।এক তত্ত্ব হয়েও তিনি দুইরূপে প্রকাশিত হয়েছেন।এখানে তাঁর একরূপ,দারু ব্রহ্মরূপে বিরাজিত।সংসার তারণের জন্য তাঁর নিজ অচিন্ত‍্যস্বরূপ ইচ্ছা শক্তিতেই তিনি দুইরূপে প্রকাশিত হলেন।একরূপ জগন্নাথ, আর একরূপ শ্রীগৌরাঙ্গ।একরূপ স্থাবর, অন‍্যরূপ জঙ্গম।অচল ও সচল।দারু ব্রহ্ম শ্রীজগন্নাথ বিগ্রহ দর্শন করলেই লোকের সংসার বন্ধন ছিন্ন হয়, কিন্তু সকলের সে সৌভাগ্য হয় না।সব দেশের সব লোক তাঁকে দেখতে আসতে পারেন না তিনি পরম দয়ালু।তাই তিনি তাঁর শ্রীগৌরবিগ্রহ প্রকালিত করলেন, এবং দেশে দেশে গিয়ে জীব-নিস্তার করলেন। যথা চরিতামৃতে পাই=*
*🌷সব দেশের সব লোক নারে আসিবার।*
*🌷গৌর জঙ্গম রূপে কৈল অবতার।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যপ্রভু দেশে দেশে যাঞা।*
*🌷সব লোক নিস্তারিল জঙ্গম-ব্রহ্ম হঞা।।*
*🌻উভয় শ্রীমূর্তিই বস্তুতঃ এক।জীব নিস্তারের জন্য তাঁর ভিন্ন ভিন্ন শ্রীমূর্তি।এক তত্ত্ব হয়েও জীব নিস্তারের জন্য তাঁর নানান শ্রীমূর্তি প্রকাশ ও নানান লীলা।শ্রীজগন্নাথক্ষেত্রে স্থাবর ও জঙ্গম উভয় শ্রীমূর্তিই বিরাজমানা।*
*শ্রীস্বরূপদামোদরের এই ব‍্যাখ‍্যার সঙ্গে শ্রীচৈতন‍্যভাগবতের নিচের লেখা বর্ণনাটিও ভক্তজনগণের অবশ‍্য পাঠ‍্য=*
*🌷নীলাচলবাসী যত অপূর্ব দেখিয়া।*
*🌷সর্ব লোক "হর" বলে ডাকিয়া ডাকিয়া।।*
*🌷এই তো "সচল জগন্নাথ" সবে বলে।*
*🌷হেন নাহি যে প্রভুরে দেখিয়া না ভুলে।।*
*🌷যে পথে যায়েন চলি শ্রীগৌরসুন্দর।*
*🌷সেই দিকে হরিধ্বনি শুনি নিরন্তর।।*
*🌷যেখানে পড়য়ে প্রভুর চরণ-যুগল।*
*🌷সেই স্থানের ধূলি লুট করেন সকল।।*
*🌷ধূলি লুট পায় মাত্র যে সুকৃতি জন।*
*🌷তাঁহার আনন্দ হয় অকথ‍্য কথন।।*
*🌷কিবা সেই শ্রীবিগ্রহ,সৌন্দর্য‍্যানুপম।*
*🌷দেখিতে সবার চিত্ত হরে অবিরাম।।*
*🌷নিরবধি শ্রীআনন্দ ধারা শ্রীনয়নে।*
*🌷"হরে কৃষ্ণ" নামমাত্রশুনি শ্রীবদনে।।*
*নীলাচলবাসীগণ শ্রীগৌরসুন্দরকে প্রকৃতই "সচল জগন্নাথ" বলেই চিনতে পেরেছিলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ স্বয়ং ভগবান,কলিযুগে নিজেকে লুকাতে পারেননি।আনন্দময়ী শ্রীমূর্তি দর্শন করে সাধারণ লোকেরও তাঁর স্বয়ং ভগবান সম্বন্ধে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মিয়েছিল। যাইহোক,এইরকম ব‍্যাখ‍্যা করে স্বরূপদামোদর বললেন, "তোমার শ্লোকের এটিই প্রকৃত অর্থ।তুমি যে শ্লোক রচনা করেছ এটিই তোমার সৌভাগ্য।তুমি ভক্তিবশে শ্লোক রচনা করেছ, ভগবান অবশ্যই তোমার কল‍্যাণ করবেন।শ্রীকৃষ্ণকে গালি দিতেও যারা তাঁর নাম উচ্চারণ করে,পরম কারুণিক শ্রীনাম সেই নিন্দুকদেরও উদ্ধার করেন।*
*কবি এই উপদেশ পেয়ে অতি দীনভাবে দন্তে তৃণ নিয়ে সকল ভক্তের শ্রীচরণে প্রণাম করতে লাগলেন,আর সকলের কাছে প্রার্থনা করতে লাগলেন তাঁর যেন শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তচরণে ভক্তি জন্মে।ভক্তগণ তাঁকে আপন বলে সাদরে গ্রহণ করলেন এবং মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন করালেন।কবি নিজ দেশ হতে শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতে এসেছিলেন, কিন্তু আর তাঁর দেশে ফিরে যাওয়া হল না,তিনি আনন্দময়ী শ্রীলীলায় আকৃষ্ট হয়ে জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলিই নীলাচলেই যাপন করলেন।তাঁর নাটক পরীক্ষা করতে বসে দয়াময় শ্রীস্বরূপদামোদর তাঁকে একবারে জীবন-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দিলেন।এটি শ্রীস্বরূপের কৃপারই চিরশুভ ফল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🌷🌷🌷🌷🌷🌷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
 *শ্রীমহাপ্রভু ও তাঁর দ্বিতীয়-স্বরূপ*
 ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

*শ্রীরথযাত্রায় মহাপ্রভুর নাচ, "যঃ কৌমারহরঃ" শ্লোক আবৃত্তি, এবং শ্রীস্বরূপদামোদরের "সেই পরাণ নাথ পাইনু" গানের বিষয় আগে একবার উল্লেখ করেছি।রথের অব‍্যবহিত(রথযাত্রা শেষ হবার) পরে আবার কিঞ্চিৎ সবিস্তার উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় বোধ হচ্ছে।রথাগ্রে মহাপ্রভুর নাচন ও ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের শ্রীকীর্তন বর্ণন করতে প্রকৃতই লোভ জন্মে। কিন্তু সে চিত্র বা ছবি মনে করতে গেলেই অনন্ত আনন্দের তরঙ্গে মন ডুবে যায়, সুতরাং সেটির এক কণাও প্রকাশ করা যায় না।পাঠকগণ এই আনন্দের অনন্ত সমুদ্রে কিঞ্চিৎ ধারণা লাভ করতে ইচ্ছা করলে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত পাঠ করবেন।তাতে দেখতে পাবেন,শ্রীশ্রীমহাপ্রভু ও তাঁর স্বরূপ শ্রীকীর্তন সম্প্রদায়গণ নিয়ে রথাগ্রে গোলোকের কিদৃশ আনন্দাভিনয় করে ভক্তগণকে কৃতার্থ করেছেন।*
*এই রথের দিনে মহারাজ প্রতাপরুদ্র বলেছিলেন=*
*🌻আয়াতোহদ‍্য রথোৎসবস‍্য দিবসো দেবস‍্য নীলাচল, ধীশস‍্যাদ‍্য পুরো নটিষ‍্যতি নিজানন্দেন গৌরোহরিঃ,বিশ্রান্তির্নটনাবসানসময়ে কর্ত্তাব‍্যা জাতীবনে। হন্তাদ‍্যৈব মনোরথঃ সফলতাং যাস‍্যত‍্যয়ং মাদেশঃ।। (শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় অষ্টম অঙ্গে)।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "আজ নীলগিরির অধীশ্বর শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রার দিন।আজ রথের সামনে নিজপ্রেমানন্দে গৌরহরি নৃত্য করবেন।তার পরে জাতিফুলের বাগানে গিয়ে বিশ্রাম করবেন।আহা!আজ বোধহয় আমার মনোরথ সফল হবে "।*
*🍀প্রকৃতই এইদিন মহারাজ প্রতাপরুদ্রের প্রতি শ্রীভগবানের কৃপাদৃষ্টি পড়িল।প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুর নৃত্য দেখতে দেখতে একেবারে আত্মহারা হয়ে পড়লেন।তখন তাঁর জীবন-মরণের জ্ঞান রইল না। অনেক আগেই তিনি রাজবেশ ত‍্যাগ করেছিলেন।রাজা আর স্থির থাকতে পারলেন না।তিনি যেন অতর্কিত ভাবে ক্রমেই মহাপ্রভুর দিকে আকৃষ্ট হতে লাগলেন,এদিক-ওদিক দেখতে দেখতে সহসা গিয়ে গৌরহরির চরণ ধরে পড়লেন।মহাপ্রভু তখন ভাবে বিভোর,বাহ‍্যজ্ঞানহীন।রাজার এই কাজ দেখে ভক্তগণের মনে বড় আশঙ্কার উদয় হল।তাঁরা মনে করলেন আজ না-জানি কি অনর্থপাত হয়।মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসী। রাজস্পর্শ তিনি অপরাধজনক বলে মনে করেন। কিন্তু আনন্দ-বিহ্বল শ্রীভগবান চোখ বুজেই রাজাকে আলিঙ্গন করে বললেন=*
*🌷কোনু রাজন্নিন্দ্রিয়বান্ মুকুন্দ চরণাম্বুজং,*
*🌷ন ভজেৎ সর্বতো মৃত‍্যু রূপাস‍্য মমোরুত্তমৈঃ।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ "ভজনযোগ‍্য ইন্দ্রিয়াদি থাকতে নশ্বর কোন মানুষ সেই অমর শ্রীভগবানের চরণ বন্দনা করে "।*
*মহাপ্রভু পুনঃ পুনঃ এই শ্লোক পাঠ করতে লাগলেন।এই দৃশ্য দেখে গোপীনাথ বললেন=*
*🌷সাহসং ক্বচ গুণায় কর্য‍্যতে ক্বাপি দূষণতয়া চ সিধ‍্যতি সাহসেন যদকারি ভূভুজা তত্তপোভি রখিলৈশ্চ নাপ‍্যতে।*
*🌳অর্থ‍্যাৎ "মানবগণের অতি সাহসে যেমন অপকার হয়, আবার কখন কখন অতীব উপকারও হয়ে থাকে।আজ বিষম সাহসে মহারাজের যে উপকার হল,মানুষ প্রচুর তপস‍্যা করেও তা লাভ করতে পারে না "।*
*🌺প্রতাপরুদ্রকে কৃপা করে গৌরহরি আবার উদ্দন্ড নৃত্য করতে লাগলেন।তাঁর পদভরে পৃথিবী কাঁপতে লাগিল। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এই নৃত্যের এইরকম বর্ণনা আছে =*
*🌷উদ্দন্ড নৃত্যে প্রভুর অদ্ভুত বিকার।*
*🌷অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবোদ্গম হয় সমকাল।।*
*🌷মাংসবৃন্দসহ রোম বৃন্দ পুলকিত।*
*🌷শিমুলের বৃক্ষ যেন কন্টকে বেষ্টিত।।*
*🌷একেক দন্তের কম্প দেখি লাগে ভয়।*
*🌷লোকে জানে দন্ত সব খসিয়া পড়য়।।*
*🌷সর্ব অঙ্গে প্রস্বেদ ছুটে তাতে রক্তোদ্গম।*
*🌷জ-জ গ-গ জ-জ গ-গ গদগদ বচন।।*
*🌷জল-যন্ত্র-ধারা যেন বহে অশ্রুজল।*
*🌷আশ পাশ লোক যত ভিজিল সকল।।*
*🌷দেহ-কান্তি দেখি যেন মল্লিকাপুষ্পসম।*
*🌷কভু স্তব্ধ কভু প্রভু ভূমিতে পড়য়।*
*🌷শুষ্ক কাষ্ঠ সম হস্ত পদ না চলয়।।*
*🌷কভু ভূমি প ড়ে কভু শ্বাস হয় হীন।*
*🌷যাহা দেখি ভক্তগণের হয় প্রাণ ক্ষীণ।।*
*🍀ভক্তগণ! ইহা হতেই রথাগ্র নর্তনের কিছু ধারণা করে নিন।প্রভু "জয় জগন্নাথ " "জয় জগন্নাথ" বলতে চান, কিন্তু ভাবাবেশে তাঁর কন্ঠ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে, তিনি জজ গগ জজ গগ বলে নীরব হয়ে পড়লেন।মহাপ্রভুর চোখ থেকে পিচকারীর মত অশ্রুধারা পড়ছে।কবিকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিত মহাকাব‍্যে এই অশ্রু সম্বন্ধে একটি পদ‍্যে অতি পরিস্ফুট চিত্র অঙ্কিত করেছেন। তা এই----*
*🌷উন্মীল‍্য প্রথমং পরিপ্লাবয়তা পক্ষ্মাণি ভুয়ঃক্ষণাৎ শ্রীমদ্গন্ডতটীষু দীর্ঘময়তা ধারাভিরুচ্চৈস্ততঃ প্রাপ‍্যোরো পদবীং ত্রিধা প্রসারতা ভূমৌক্রটন্মোক্তিক স্রেণীবৎ ক্রিয়তাং সদৈব জগতাং হর্ষঃ প্রভোরশ্রুণা।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "মহাপ্রভুর হৃদয় মহাপ্রেমের উৎস।এই উৎস হতে প্রেমধারা অশ্রুর আকারে বাহির হয়ে, প্রথমে তাঁর নয়ননদী পূর্ণ করে নেত্র লোমরাশিকে পরিপ্লুত করে তুলেছে।তার পরে ক্ষণকালের মধ্যেই সেই নয়ন-পরিপ্লাবিনী অশ্রুধারা গলদেশ পরিপ্লাবিত করে বক্ষদেশে প্রবাহমান হচ্ছে।বক্ষ হতে আবার অশ্রু প্রবাহ তিনধারায় মাটিতে পড়ছে।পরিচ্ছিন্ন মুক্তামালার মত মহাপ্রভুর এই অশ্রুজল জগতের আনন্দবর্ধন করুন "।*
*🌺মহাপ্রভুর অশ্রুযুগল হতে শ্রাবণের বর্ষাধারার মত একুল ওকুল তটিনী-প্রবাহের মত অশ্রুধারা প্রবাহিত হচ্ছে, তিনি চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে নাচছেন,আর সেই ধারা পিচকারীর জলের মতন চারিদিকে ছড়িয়ে ভক্তগণের দেহ ভিজে যাচ্ছে।কারও বাহ‍্যজ্ঞান নাই।যাঁরা অন্তরঙ্গ ভক্ত,মহাপ্রভুর শ্রীদেহ রক্ষার জন্য সবসময়ই তাঁরা ব‍্যাকুল।তাঁরা দেখলেন ভক্তগণের বাহ‍্যজ্ঞান নাই,তাঁরা আনন্দে বিভোর হয়ে নাচতে নাচতে গৌরহরির শ্রীদেহের উপরে এসে ঢলে পড়ছেন।অন্তরঙ্গ ভক্তগণ তখন তিনটি মন্ডলী করলেন।প্রথম মন্ডলে রইলেন,গায়ক ও বাদকগণ সহ শ্রীস্বরূপ, নিত‍্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈত।এঁদের মধ্যে উজ্জ্বল তারকাবেষ্টিত চন্দ্রমার ন‍্যায় শ্রীগৌরচন্দ্রমা আনন্দে বিভোর হয়ে নাচতে লাগলেন।দ্বিতীয় মন্ডলে কাশীশ্বর,গোবিন্দ প্রভৃতি বলশালী মহাপ্রভুর নিজগণ।তৃতীয় মন্ডলীতে পাত্রমিত্র ও বীরপুরুষগণ সহ মহারাজ প্রতাপরুদ্র নৃত্য করতে লাগলেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীমহাপ্রভু ও তাঁর দ্বিতীয়-স্বরূপ*
<><><><><><><><><><><><><>
*🍀চারিদিকে অসংখ্য লোকের ভীড়। কিন্তু এই উপায়ে মহাপ্রভুর শ্রীদেহের উপর লোক পড়ে যাবার আর সম্ভাবনা রইল না।লক্ষ লক্ষ চক্ষু কেবল এক গৌরহরির দিকে আকৃষ্ট। কবিকর্ণপুর লিখেছেন=*
*গায়দ্ভির্গায়নৈ স্তৈঃ প্রথমবলয়িতে মন্ডলে তদ্বহিশ্চ,*
*শ্রীকাশীমিশ্রমুখ‍্যৈঃ পরমসুমতিভি স্তৎপদাব্জ প্রপন্নৈঃ।*
*হস্তগ্রাহং প্রমোদাৎ সতত বলয়িতে তদ্বিহশ্চ প্রতাপ-,*
*প্রাক্ শ্রীশ্রীরুদ্রদেবেনিভৃতমিতইতো বেষ্টিতো ভাতি নাথঃ।।*
*🌹সাধারণ ভক্তগণ-উপযোগী উদ্দন্ড নৃত‍্যের পর মহাপ্রভু প্রেমিক ভক্তগণসেব‍্য মধুর নৃত্য আরম্ভ করলেন।শ্রীকবিকর্ণপুর শ্রীস্বরূপদামোদরের সহিত শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর একত্র মধুর নৃত‍্যের একটি ভুবনমোহন চিত্র অঙ্কিত করেছেন।সে চিত্র ভক্তের প্রাণায়াম, ভক্তের ধ‍্যেয়,ভক্তের উপাসনার বস্তু। এই স্থানে পরমশ্রদ্ধাস্পদ শ্রীল শিশির ঘোষ মহাশয়ের শ্রীঅমিয় নিমাই চরিত গ্রন্থ হতে কিঞ্চিৎ উদ্ধৃত করার লোভ সম্বরণ করতে পারলাম না। তিনি এই চিত্রটি সাধারণ পাঠকগণের কাছে অতীব প্রকাশ করে তুলেছেন।শ্রীঅমিয় নিমাই চরিত বলেছেন= মহাপ্রভুর মধুর নৃত্য করতে করতে দেখেন পার্শ্বে স্বরূপদামোদর, দেখে তাঁকে আলিঙ্গন করতে গেলেন, স্বরূপদামোদর অমনি চরণে পড়লেন।তখন শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমে কাঁপতে কাঁপতে স্বরূপকে উঠিয়ে হৃদয়ে নিলেন,গাঢ় আলিঙ্গন করে মুখচুম্বন করলেন।তখন বোধ হল যেন স্বরূপদামোদর শ্রীগৌরাঙ্গ-দেহে প্রবেশ করলেন।কারণ মহাপ্রভু স্বরূপকে যে আলিঙ্গন করলেন অমনি তিনি যেন লোকের অদর্শন হলেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিত মহাকাব‍্যে=*
*🌷দধার কটিসূত্রকং প্রভুরিতীহ দামোদরঃ,*
*🌷স্বরূপইব তস‍্য কিং যতিবরোহয় মুদঘুষ‍্যতে।*
*🌷য এষ নটনোৎসবে হৃদয়-কায়বাগ্ বৃত্তিভিঃ,*
*🌷শচীসুত কলানিধৌ প্রবিশতীব সান্দ্রোৎসুকঃ।।*
*🌻শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী এর অনুবাদ করে বলেছেন=*
*🌷স্বরূপ গোসাঞীর ভাগ‍্য না যায় বর্ণন।*
*🌷প্রভুতে আবিষ্ট যাঁর কায়-বাক‍্য-মন।।*
*🌷স্বরূপের ইন্দ্রিয় প্রভুর নিজে ইন্দ্রিয়গণ।*
*🌷আবিষ্ট করিয়া করে গান আস্বাদন।।*
*🌹এই দেখলেন দুইজনে এক হয়ে গেলেন,আবার একটু পরে পৃথক হলেন।তখন দুইজনে মিলিত হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন। কখনও দুইজনে হাত উপরে উঠিয়ে,হাতধরাধরি করে, মুখোমুখি হয়ে নৃত্য করছেন।কখন বা শ্রীগৌরাঙ্গ স্বরূপের মুখে নয়নপদ্ম অর্পণ করে তাঁর চিবুক ধরে নৃত্য করছেন।কখন বা দুইজনে মুখ ঘুরিয়ে পিঠে পাঠে মিলিত হয়ে নৃত্য করছেন। কখনও বা উভয়ের পলক হারিয়ে নয়নে নয়নে মিলিত হয়ে নৃত্য করছেন।এই নৃত্য দেখেই বুঝি মহাজনের পদ সৃষ্টি হল, যথা=*
*🌷হেরাহেরি ফেরাফেরি ধরাধরি বাহু।*
*🌷পূর্ণিমার চাঁদ হেন গরাসিল রাহু।।*
*আবার স্বরূপদামোদর, সিংহের কটি হতেও ক্ষীণ যে মহাপ্রভুর কটি বা কোমর,তা এক হাতে জড়িয়ে ধরেছেন, এবং মহাপ্রভু স্বরূপের কটি ধরেছেন ; আর স্বরূপ বাঁকা হয়ে অন‍্য হাতে মহাপ্রভুর জানু ধরে নৃত্য করছেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে=*
*🌷উন্মীলন্মকরন্দ সুন্দর পদদ্বন্দ্বারবিন্দোল্লস,*
*🌷দ্বিন‍্যাসঃ ক্ষিতিষু প্রকাম মমুনা দামোদরেণ প্রভুঃ।*
*🌷আমুগ্ধৈঃ করকুট্ মলৈরিতইতোহর্য‍াদধোধো গুরু,*
*🌷স্নেহার্দ্রেণ দৃঢ়োপগূহিতপদো নৃত্যন্নসৌ দৃশ‍্যতাম্।।*
*🌻আবার কখন বা মহাপ্রভু,ডানদিকে স্বরূপের, বামদিকে বক্রেশ্বরেরহাত ধরে দ্রুতপদে নৃত্য করে হাসতে হাসতে একবার জগন্নাথের দিকে চেয়ে এগিয়ে চলেছেন, আবার ঐরকম নৃত্য করতে করতে হাসতে হাসতে পেছনে হেঁটে আসছেন। আবার মহাপ্রভু কখন বক্রেশ্বর ও স্বরূপের হাত ধরে যাঁকে সামনে পাচ্ছেন,অমনি কাঁপতে কাঁপতে তাঁকে হৃদয়ে করে মুখচুম্বন করছেন।মহাপ্রভু ভাবছেন যেন ক্রমে বৃন্দাবনের দিকে যাচ্ছেন।আর গৌরহরি যত বৃন্দাবনের কাছে যাচ্ছেন,ততই আনন্দে বিহ্বল হচ্ছেন।*
*🌷প্রভুর হৃদয়ানন্দ সিন্ধু উথলিল।*
*🌷উন্মাদ ঝঞ্ঝায় বায় তৎক্ষণে উঠিল।।চৈঃচঃ।।*
*কাজেই সঙ্গে সঙ্গে এই লোকগুলি আনন্দে পাগল হল।এখন রাধা ও কৃষ্ণে যে প্রেমভাব,এটি লোকে হৃদয়ে কত অনুভব করতে পারে,যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ পুরুষ ও শ্রীমতীরাধারাণী নারী। কিন্তু এই যে মহাপ্রভু প্রেমে জর্জরিত হয়ে স্বরূপদামোদর ও বক্রেশ্বরকে চুম্প্রুন করছেন, এটি কি জাতীয় প্রেম?বাহিরের লোকে এটি কিভাবে অনুভব করবে?এই যে গৌরহরি মুখ চুম্বন করছেন,এই দৃশ্য দেখে লোকের কিছু মাত্র অস্বাভাবিক বোধ হচ্ছে না,বরং লোকে সেটি দেখে একেবারে মুগ্ধ হচ্ছে।তাই শা‍স্ত্র বলেন, গোপীপ্রেমে কামগন্ধ নেই।অর্থ‍্যাৎ হৃদরোগ বা কামরোগ থাকতে কৃষ্ণপ্রেমের উদয় হয় না।অথবা কৃষ্ণপ্রেম উদয় হলে হৃদরোগ বা কামরোগ বলীভূত হয়।শ্রীকৃষ্ণপ্রেম উদয় হলে স্ত্রী-পুরুষ-ভেদ লোপ হয়। (এখানে রায় রামানন্দ মহাশয়ের পদটি উল্লেখযোগ্য, যথা=*
*🌷পহিলহি রাগ নয়ন ভঙ্গ ভেল।*
*🌷অনুদিন বাড়ল অবধি না গেল।।*
*🌷না সো রমণ,না হাম রমণী।*
*🌷দু'হ মন মনোভব পেশল জানি।।*
*🌷এ সখী সো সব প্রেম-কাহিনী।*
*🌷কানু ঠামে কহবি,বিছুরল জানি।।*
*🌷না খোঁজলু দূতী না খোঁজলু আন।*
*🌷দুহুকেরি মিলনে মধ‍্যত পাঁচবাণ।।*
*🌷অবসোই বিরাগ,তুহুঁ ভেল দূতী।*
*🌷সুপুরুখ প্রেমক ঐছন রীতি।।*
*🌷বর্দ্ধন রুদ্র নরাধিপ মান।*
*🌷রামানন্দ রায় কবি ভান।।*
*🌻প্রকৃত প্রেমে পুরুষ-রমণীর ভেদ বিচার নাই।স্ত্রী-পুরুষ বিচারে যে ভালোবাসা জন্মে, সেটি প্রেম না,কাম।কামের আকর্ষণে পুরুষের প্রতি স্ত্রীর এবং স্ত্রীর প্রতি পুরুষের একরকম আসক্তি জন্মে।সেটি কিন্তু মোটেই প্রেম নয়।তাই প্রেমক-কবিচূড়ামণি রামরায় লিখেছেন=*
*🌷না সো রমণ, না হাম রমণী।*
*🌷দুহুঁ মন মনোভব পেশল জানি।।*
*🌹কবিকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্য চন্দ্রোদয় নাটকে এরই সংস্কৃত অনুবাদ করে লিখেছেন=*
*সখি ন স রমণো নাহং রমণীতি ভিদাবয়োরান্তে,*
*প্রেমরসে নোভরমন ইব মদনো নিষ্পিশেষ বলাৎ।*
*🔵অথবা=====*
*অহংকান্তা কান্তস্ত্বমিতি ন তদাসীনং মতিরভূৎ,*
*মনোবৃত্তির্লুপ্তা ত্ত্বমহমিতি নৌ ধীরপি হতা।*
*ভবান্ ভার্য‍্যাহমিতি যদিদানীং ব‍্যবসিতি,*
*স্তথাপি প্রাণামাং স্থিতিরিতি বিচিত্রং কিমপরম্।।*
*🌺প্রেম ইতরজ্ঞানব‍্যাবত্মক (Transcendental)।প্রেমের পূর্ণ প্রভাবে ইন্দ্রিয়জ্ঞান তিরোহিত হয়,ব‍্যবসায়াত্মক(ঈশ্বরের প্রসাদে নিশ্চয়ই মুক্ত হব এইরকম নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি) ও অনুব‍্যবসায়াত্মক জ্ঞান নিরস্ত হয়ে যায়।সবিকল্পক জ্ঞানের লেশমাত্র থাকে না। সুতরাং স্ত্রীপুরুষের ভেদবিচার এই নির্বিকল্পক অবস্থায় অসম্ভব।ভগবৎ প্রেমের গূঢ়গম্ভীর আবেশে চিত্তে যে অলৌকিক ভাবের উদয় হয়,তাতে সমগ্র অন্তর্জগৎকে প্রেমের কি-জানি-কেমন-এক প্রভাবে প্রফুল্ল-মধুর করে তুলে।সেই প্রেমে কামজ বা রূপজ প্রভাবের লেশ মাত্র থাকতে পারে না।এটিই অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম। যথা চরিতামৃতে পাই=*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
         *সেই প্রেমা নৃলোকে না হয়।*
*যদি হয় তার যোগ,না হয় তার বিয়োগ,*
       *বিয়োগ হইলে কেহ না জীয়য়।।*
*কৃষ্ণপ্রেম সুনির্মল,যেন শুদ্ধ গঙ্গা জল,*
         *সেই প্রেমা অমৃতের সিন্ধু।*
*নির্মল সে অনুরাগে,না লুকায় অন‍্য দাগে,*
       *শুক্ল বস্ত্রে যৈছে মসী বিন্দু।।*
*শুদ্ধ প্রেম সুখসিন্ধু,পাই তার এক বিন্দু,*
      *সেই বিন্দু জগৎ ডুবায়।*
*কহিবারে যোগ্য নহে,তথাপি বাউলে কহে,*
       *কহিলে বা কেবা পাতিয়ায়।।*
*🔷অতএব স্ত্রী ও পুরুষে মধুর প্রেম পরিবর্ধিত হয়।এক শ্রীভগবানই পুরুষ,আর সবাই প্রকৃতি, ও পরিণামে জীবমাত্র গোপগোপীরূপে শ্রীভগবানের সঙ্গে মিলিত হবে। শ্রীগৌরাঙ্গের বক্রেশ্বরকে চুম্বন দ্বারা, ভগবানের জীবের সহিত,জীবের জীবের সহিত, ও জীবের ভগবানের সহিত যে কত গাঢ় সম্বন্ধ তা কত অনুভব করা যেতে পারে।যাঁরা পরকীয় প্রেমের কথা শুনলে কষ্ট পান,তাঁরা দেখবেন যে এই প্রেমে স্ত্রী-পুরুষ-জ্ঞান নাই।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
             *🌹রথাগ্রে নৃত‍্য🌹*
             👣👣👣👣👣
*🍀শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথের আগে মহাপ্রভুর নৃত্য প্রকৃতই শ্রীগোলোক মাধুরীর অভিনয়,প্রেমসিন্ধুর বিশালতরঙ্গ।শ্রীল সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গ নৃত্য দেখে বলেছেন=*
*🌷আনন্দ-হুঙ্কার-গভীর-ঘোষো,*
*🌷হর্ষানিলোচ্ছ্বাসিত তান্ডবোর্ম্মিঃ,*
*🌷লাবণ‍্যবাহী হরিভক্তি-সিন্ধু,*
*🌷শ্চলঃস্থিরং সিন্ধুমধঃ করোতি।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ অহো!শ্রীগৌরাঙ্গ যেন লাবণ‍্যবাহী সাক্ষাৎ হরিভক্তসিন্ধু।আহ্লাদ-অনিল-প্রবাহে এই মহাসিন্ধুতে তান্ডবনৃত‍্যরূপ উর্ম্মিমালা বা তরঙ্গমালা উচ্ছসিত হয়েছে।আর মহাপ্রভুর আনন্দজনিত হুঙ্কারই যেন এই সাগরতরঙ্গের কল্লোলধ্বনি।এই হরিভক্তি-সিন্ধু-তরঙ্গ-কল্লোলের তুলনায় ঐ স্থির সাগর যেন পরাজিত হয়ে পড়েছে। আমাদের মনে হয়,নৃত‍্য বুঝি প্রেমেরই অভিব‍্যক্তি বা প্রকাশ। নৃত্য বুঝি প্রেমসাগরের তরল তরঙ্গ। জ্ঞানের সঙ্গে ঐ অনন্ত আকাশের তুলনা হতে পারে,জ্ঞানের সাধক ধ‍্যান মজ্জিতচিত্তে অনন্ত আকাশের সঙ্গে তাঁর ধ‍্যেয় বস্তুর তুলনা করে গম্ভীর ভাব অবলম্বন করেন কিন্তু তাঁর জ্ঞানের প্রভাবে অথবা তাঁর সৌভাগ্যফলে যে মুহূর্তে অখিলরসামৃতমূর্তি ধ‍্যেয়পদার্থের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়,সেই মুহূর্ত হতেই তাঁর প্রাণ নেচে উঠে গাম্ভীর্য‍্য দূরে যায়,মহাসাগর-তরঙ্গে বিক্ষিপ্ত ক্ষুদ্র নৌকার মত প্রেমসিন্ধুর তরঙ্গাভিঘাতে তাঁর আনন্দময় হৃদয় নেচে নেচে নেচে উঠে,তিনি আর স্থির থাকতে পারেন না।তাঁর ধৈর্য‍্য,গাম্ভীর্য‍্য, লজ্জা,মান সবই দূরে চলে যায়।শ্রীল সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় তাই বলেছেন=*
*🌷পরিবদতু জনো যথাতথায়ং ননু,*
*🌷মুখরো ন বয়ং বিচারয়ামঃ,*
*🌷হরিরস-মদিরা মদাতিমত্তা,*
*🌷ভুবি বিলুঠাম নটাম নির্বিশাম।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ ওহে!মুখর লোক যেখানে সেখানে নিন্দা করে করুক,আমরা সে বিচার করব না। আমরা হরিরস-মদিরায় প্রমত্ত হয়ে মাটিতে গড়াগড়ি করব,নৃত‍্য করব,মাটিতে লুন্ঠিত হব।*
*🔶শ্রীবৃন্দাবনের মহারাস=মহাপ্রেমের অভিনয়।এই মহারাসে প্রেমের মহানৃত‍্য প্রকাশ পান। যেখানে প্রেম,সেইখানেই নৃত্য। হৃদয়ে যা প্রেম,বাইরে তার কিঞ্চিৎ প্রকাশের নামই নৃত্য।শ্রীকৃষ্ণ বড় চঞ্চল,কেন না,তিনি প্রেমস্বরূপ।প্রেম স্বৈর্য‍্য জানে না,ধৈর্য‍্য মানে না।বায়ু বিক্ষুব্ধ সাগরের মত অনন্ত প্রেমসিন্ধু সবসময়ই চঞ্চল,সবসময়ই নৃত‍্যশীল। এই বিশ্বব্রহ্মান্ড বুঝি প্রেমের নৃত্য হতে প্রকাশিত হয়,তাই ভক্ত কবি লিখেছেন=*
*🌷চন্দ্র নাচে সূর্য‍্য নাচে আর নাচে তারা।*
*🌷পাতালে বাসুকী নাচে বলি গোরা গোরা।।*
*🌹এই বিশাল ব্রহ্মান্ডের কেন্দ্রে কেন্দ্রে মহানৃত‍্যের মহাশক্তি প্রতিষ্ঠিত। তাই এই বিশ্বব্রহ্মান্ড চঞ্চল ভাবে সবসময়ই তালে তালে নেচে বেড়াচ্ছে।মানুষের হৃৎপিন্ড তালে তালে নাচছে,নাড়ী তালে তালে চলছে।বায়ু তালে তালে বইছে,নদীর জল কুলুকুলু কলরবে তালে তালে ছুটছে,দিনের পর রাত্রি,রাত্রির পর দিন,মাসের পর মাস,ঋতুর পর ঋতু, বৎসরের পর বৎসর একই নিয়মে তালে তালে চলছে। পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য‍্য ও অনন্তগ্রহ উপগ্রহ সবাই মহাকালের মহানিয়মে তালে তালে ভ্রমণ করছে।এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ড এক ছন্দোময় মহাব‍্যাপার।তাই বেদ বলেন=*
*🌷ছন্দাংশি বৈ বিশ্বরূপাণি-- (শতপথ ব্রাহ্মণ।*)
*🌻জ্ঞানী ও যোগী ধ‍্যানগম্ভীর।তাঁরা শান্তির সুস্থির সাধক। কিন্তু প্রেমিক ভক্ত মুক্তি চান না শান্তি খোঁজেন না। প্রেমিকের জীবনে স্বৈর্য‍্য নাই, চিরদিনই সে জীবন আকাঙ্ক্ষাময়।চঞ্চল প্রাণবল্লভের প্রেম চিরদিনই হৃদয়কে কোথা হতে যেন কোথায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।চিরচঞ্চল প্রেমের জীবনে শান্তি আসতে পারে না।তবে শান্তি শান্তি বলে লোকে আকুল হয় কেন? বিজ্ঞানবিদ জানেন শান্তিই মৃত‍্যু।চাঞ্চল‍্যই জীবন।এই জগৎ চঞ্চল,এই জগৎ নৃত‍্যময়।চাঞ্চল‍্যই জাগতিক নিয়ম।এই জগৎ সেই মহাশক্তির শক্তি তরঙ্গের আভাসমাত্র।যেখানে শক্তি, সেইখানেই ক্রিয়া।প্রেম মহাশক্তি। শ্রীভগবৎস্বরূপলক্ষণা হ্লাদিনী শক্তির তরঙ্গে জগতের নৃত্য অনিবার্য‍্য। মানুষের হৃদয়ে যখন যে পরিমাণে এই শক্তির আভাস প্রকাশ পায়, মানুষের প্রাণ তখনই নেচে উঠে। সুতরাং এই নৃত্যের সঙ্গে মানুষের ইচ্ছার কোন সম্বন্ধ নাই।গোলোকের শক্তি হৃদয়ে আবির্ভূত হয়ে মানুষকে পাগল করে তুলেন,আর সেই আনন্দের বেগে দেহযন্ত্র নেচে উঠে।*
*শ্রীনামকীর্তন ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ভেদে শ্রীকীর্তন যেমন দুই প্রকার,উদ্দন্ড ও মধুর ভেদে শ্রীনৃত‍্যও তেমনি দুই প্রকার।বহিরঙ্গ ভক্তগণ নিয়ে মহাপ্রভু শ্রীনামকীর্তন করতেন,আবার প্রিয় পার্ষদ একান্ত অন্তরঙ্গ শ্রীস্বরূপদামোদর,রায় রামানন্দ সহ শীকৃষ্ণকীর্তনের রসাস্বাদন করতেন,তখন চন্ডীদাস বিদাপতি রামরায়ের নাটক গীতি,কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ বর্ণিত আস্বাদন করতেন।শ্রীনৃত‍্য সম্বন্ধেও এইরূপ। মহাপ্রভু বহিরঙ্গ ভক্তগণের সঙ্গে রথাগ্রে তুমুল উদ্দন্ড নৃত্য করলেন, সে বিশাল তুমুল নৃত‍্যের কিঞ্চিৎ বর্ণনা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত হতে পূর্বে উদ্ধৃত করা হয়েছে।মহাপ্রভুর সেই বিশ্ব-বিস্ময়জনক উদ্দন্ড তান্ডব নৃত‍্যে ধরণী কম্পিত হচ্ছিল,আর গৌরহরি "জজ গগ" ও ভক্তগণের "জয় জয়" শব্দে চারিদিক মুখরিত হচ্ছিল, কল্লোলকোলাহলবৎ কাহল প্রভৃতি বাদ‍্যযন্ত্রের শব্দ নিরস্ত (ক্ষান্ত বা বিরতি) করে দিয়ে জয় জয় শব্দ ও ভক্তগণের উদ্দন্ড তান্ডব নৃত্য দর্শকমাত্রেই বিস্মিত,বিমুগ্ধ ও স্তম্ভিত করেছিল।অহো!সেই উর্দ্ধনয়ন, উর্দ্ধবাহু ও তান্ডব নৃত্য, আর সেই ব্রহ্মান্ডভেদী হরিধ্বনি রব ও জজ-গগ জজ-গগ "জয় জয়" শব্দের কথা চিন্তা করলে মনে হয়,তখন নীচযোনিতে জন্ম নিয়েও যদি সেই নৃত্য দেখতে পেতাম ও সেই ধ্বনি শুনতে পেতাম তবেও বুঝি ভক্তগণের চরণরেণু পাওয়ার অধিকার হত।মহাপ্রভু রথাগ্রে কীর্তন ও নর্তন করার সময়ে রথের উপর শ্রীজগন্নাথ বিগ্রহ দেখে জোড়াহস্তে যে স্তুতি করেছিলেন তা এই=*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
            *🙌রথাগ্রে নৃত‍্য🙌*
                🙌🙌🙌🙌🙌
*🙏রথের উপর শ্রীজগন্নাথ বিগ্রহ দেখে জোড়হাত করে যে স্তুতি করেছিলেন তা এই=*
*🌷জয়তি জয়তি দেবো নন্দনোহসৌ,*
*🌷জয়তি জয়তি কৃষ্ণো বৃষ্ণি বংশ-প্রদীপঃ,*
*🌷জয়তি জয়তি মেঘশ‍্যামলঃ কোমলাঙ্গো,*
*🌷জয়তি জয়তি পৃথ্বী-ভারনাশো মুকুন্দঃ।*
*🌹মহাপ্রভু নৃত্য আরম্ভ করলেন,সাত সম্প্রদায়ের নৃত্য হতে লাগল।গৌরহরি যুগপৎ সাত স্থলে বিলাস করতে লাগলেন।রাস নৃত্যেতে সকল গোপীই যেমন কৃষ্ণকে তাঁদের প্রত‍্যেক দুইজনের মধ্যে নৃত্য বিলাস করতে দেখতে পেয়েছিলেন,এই শ্রীসংকীতন-সম্প্রদায়গুলি ভক্তগণও শ্রীগৌরাঙ্গকে সেইরকম সবসময় নিজেদের মধ্যেই দেখতে পেলেন।*
*🌷সাতঠাই বলে প্রভু হরি হরি বুলি।*
*🌷জয় জয় জগন্নাথ কহে হাত তুলি।।*
*🌷আর এক শক্তি প্রভু করিলা প্রকাশ।*
*🌷এক কালে সাত ঠাঞি করেন বিলাস।।*
*🌷সবে কহে প্রভু আছে এই সম্প্রদায়।*
*🌷অন‍্য ঠাঞি নাহি যায় আমার দয়ায়।।*
*🌷কেহ লখিতে নারে অচিন্ত‍্য প্রভুর শক্তি।*
*🌷অন্তরঙ্গ ভক্ত জানে যাঁর শুদ্ধ ভক্তি।।চৈঃচঃ।।*
*🍀মহাপ্রভু যে জয় জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে দিঙ্মন্ডল প্রতিধ্বনিত করে তুললেন এবং ঘন ঘন জয়ধ্বনি স্তব পাঠ করলেন,এই জয়-জয় ধ্বনি শাস্ত্রসম্মত।রথারোহণের পূর্বে "জয় জয় ধ্বনি" উচ্চারণ করা শাস্ত্রের আদেশ।ধর্ম্ম-প্রবর্ত্তন করাই মহাপ্রভুর কাজ।শ্রীচৈতন‍্য নিজ শ্রীমুখেই বলেছেন=*
*🌷মায়াবদ্ধ জীবের নাই কৃষ্ণস্মৃতি জ্ঞান।*
*🌷জীবের কারণে কৈল বেদ আর পুরাণ।।* 
*🌻সুতরাং শাস্ত্রবাক‍্য প্রতিপাল‍্য। শাস্ত্রের অনুশাসন এই যে =*
*🌷রথযাত্রাস্থিতে কৃষ্ণে জয়েতি প্রবদন্তি যে।*
*🌷জয়েতি চ পুনর্ব্বারং শৃণু পুণ‍্যং বদাম‍্যহং।।*
*🌷গঙ্গাদ্বারে প্রয়াগেচ গঙ্গাসাগর সঙ্গমে।*
*🌷বারাণস‍্যাদি তীর্থেষু দেবানাঞ্চৈব দর্শনে।।*
*🌷যৎ ফলং কবিভিঃ প্রোক্তা কাৎস্নের্নচ নরেশ্বর।*
*🌷জয় শব্দে কৃতে বিষ্ণো রথস্থে তওফলং স্মৃতং।।*
                            *(ভবিষ‍্যপুরাণ)*
*🍁গীত নৃত্য বাদ‍্যাদির সম্বন্ধেও শাস্ত্রে এইরকম বিধি দেখা যায়,যথা=*
*🌷নৃত‍্যমানৈর্ভাগবতৈর্গীতবাদিত্র নিস্বনৈঃ।*
*🌷ভ্রাময়েৎ স‍্যন্দনং বিষ্ণোঃ পুরমধ‍্যে সমন্ততঃ।।*
*🌹রথাগ্রে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর নর্তন কীর্তন ও জয় জয় ধ্বনিতে শাস্ত্রবাক‍্যের সার্থকতা প্রতিপাদিত (স্থিরিকৃত) হয়েছে।স্বয়ং শ্রীভগবান নিজে শাস্ত্রীয় ধর্ম আচরণ করে জীবদের হৃদয়ে সেই-সব উপদেশ কিরকম প্রতিফলিত করেছেন,মহাপ্রভুর প্রত‍্যেক লীলাতেই তার পরিচয় পাওয়া যেতে পারে। যাইহোক,শ্রীচৈতন‍্যদেব রথাগ্রে অনেকক্ষণ তুমুল উদ্দন্ড তান্ডব নৃত্য করতে করতে তাঁর ভাবান্তর উপস্থিত হল।*
*🌷এই মত তান্ডব নৃত্য করি কতক্ষণ।*
*🌷ভাববিশেষে প্রভুর প্রবেশিল মন।।*
*🌷তান্ডব নৃত্য ছাড়ি স্বরূপের আজ্ঞা দিল।*
*🌷হৃদয় জানিয়া স্বরূপ গাইতে লাগিল।।*
*🌷"সেই তো পরাণ নাথ পাইনু"।*
*🌷যাহা লাগি মদন দহনে ঝুরি গেনু।।*
*🌷এই ধুয়া উচ্চৈস্বরে গায় দামোদর।*
*🌷আনন্দে মধুর নৃত্য করেন ঈশ্বর।।চৈঃচঃ।।*
*🌳মহাপ্রভুর ভাববিশেষে প্রবেশ করলেন,তিনি তান্ডব নৃত্য ছাড়লেন।তিনি সহসা নৃত্য ভঙ্গ করলেন কেন,অন‍্যে তা বুঝতে পারলেন না। কিন্তু শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর দ্বিতীয় স্বরূপ-দামোদর তা তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারলেন,বুঝে তিনি "সেই তো পরাণ নাথ পাইনু" পদ ধরলেন।আর শ্রীচৈতন‍্যদেব মধুর নৃত্য আরম্ভ করলেন।এই মধুর নৃত্য সেই মহারাসের নৃত্য--সেই ব্রজ-বালাদের নৃত্য।মহাপ্রভু পূর্বে ভক্তভাবে উদ্দন্ড তান্ডব নৃত্য করছিলেন, কিন্তু ভাবময় গোরাচাঁদের হৃদয়ে হঠাৎ গোপীভাবের উদয় হল।তাঁর মনে হল তিনি শ্রীরাধিকা।শ্রীকৃষ্ণ যেন কুরুক্ষেত্রে আছেন।আর তিনি যেন শ্রীকৃষ্ণ দর্শন লালসায় কুরুক্ষেত্রে এসেছেন,এসে দেখলেন,তাঁর রাখালিয়া বন্ধু এখানে এসে রাজা হয়েছেন,তাঁর ঐশ্বর্য‍্যের আর সীমা নাই,সে ধড়া-চূড়া নাই,সে মোহন মুরলী নাই, মাধুর্য‍্যমাখা ব্রজের সে বেশের কিছুই নাই,সেই শ্রীকৃষ্ণই বটেন,সেই তিনিই বটেন, কিন্তু এ রাজবেশ।এই জনপ্রবাহে হাতী ঘোড়া পরিপূর্ণ,সবসময় ঘর্ঘরশব্দ মুখরিত রাজপথে তাঁর মনে শ্রীবৃন্দাবনের সুখস্ফূর্তি হচ্ছে না। তাই মহাপ্রভু শ্রীরাধাভাবে বিভাবিত হয়ে কব‍্যপ্রকাশের স্ফুটালঙ্কার-বিহীন রসপ্রাধান‍্য-সূচক একটি শ্লোক বারবার পাঠ করতে লাগলেন=*
*🌷যঃ কৌমারহরঃ স এবহি বরঃ স্তাএব চৈত্রক্ষপাঃ।*
*🌷স্তেচোন্মীলিত মালতী সুরভয়ঃ প্রৌঢ়া কদম্বানিলাঃ।।*
*🌷সা চৈবাস্মি তথাপি তত্রসুরতব‍্যাপারলীলাবিধৌ।*
*🌷রেবা রোধসিবেতসী তরুতলে চেতঃ সমুৎকন্ঠ‍্যতে।।*
*🌹এক শ্রীস্বরূপদামোদর ছাড়া আর কেউই এই শ্লোকের প্রকৃত মর্ম বুঝতে পারলেন না।যথা শ্রীচৈতনচরিতামৃতে=*
*🌷এই শ্লোক মহাপ্রভু পড়ে বার বার।*
*🌷স্বরূপ বিনে অর্থ কেহ না জানে আর।।*
*🌷পূর্বে যেন কুরুক্ষেত্রে সব গোপীগণ*
*🌷কৃষ্ণের দর্শন পাঞা আনন্দিত মন।।*
*🌷জগন্নাথ দেখি প্রভুর সে ভাব উঠিল।*
*🌷সেই ভাবাবিষ্ট হৈঞা ধুয়া গাওয়াইল।।*
*🌷অবশেষে রাধা কৃষ্ণে কৈলা নিবেদন।*
*🌷সেই তুমি সেই আমি সেই নবসঙ্গম।।*
*🌷তথাপি আমার মন হরে বৃন্দাবন।*
*🌷বৃন্দাবনে উদয় করাহ আপন চরণ।।*
*🌷ইহা লোকারণ‍্য ঘোড়া হাতী রথ ধ্বনি।*
*🌷তাহা পুষ্পারণ‍্য ভৃঙ্গ পিকনাদ শুনি।।*
*🌷ইহা রাজবেশ সব সঙ্গে ক্ষত্রিয়গণ।*
*🌷তাহা গোপগণ সঙ্গে মুরলী বদন।।*
*🌷ব্রজে তোমার সঙ্গে যেই সুখ আস্বাদন।*
*🌷সে সুখ সমুদ্রের ইহা নাহি এককণ।।*
*🌷আমা লয়ে পুনঃ লীলা কর বৃন্দাবনে।*
*🌷তবে আমার মনোবাঞ্জা হয় তো পূরণে।।*
*🌻শ্রীগৌরাঙ্গলীলার আদি গ্রন্থ শ্রীমুরারিগুপ্ত-বিরচিত শ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্যচরিতামৃত। এই গ্রন্থের চতুর্থ প্রক্রমে বিংশতি সর্গে এই লীলার মূল সূত্র লেখা আছে।*
❤❤❤❤❤❤🌹❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
              *🔴রথাগ্রে নৃত‍্য🔴*

*🍀শ্রীমুরারি গুপ্তের বিরচিত গ্রন্থে পাই=*
*🌹পশ‍্যন্ জগন্নাথমুখারবিন্দং স্মরন্ কুরূক্ষেত্র বিশাল বৈভবম্ সঙ্কীর্ত্তনানন্দ সমুদ্রমগ্নৈঃ স্বভক্তবর্গৈঃ কিল বেষ্টিতো হরিঃ।১৩।*
*🌹শ্রীরাধিকাপ্রেমভরাতিমত্তো হসন্ রুদন্ প্রাহ "ত্বমেব নাথ আগচ্ছ যামি ব্রজমন্ডলং বিভো বৃন্দাবনং যত্র সুবংশিকাধ্বনিম্।।১৪।।*
*🌻মহাপ্রভু শ্রীরাধাভাবে বিভাবিতা। কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ দর্শনে তাঁর মনে স্ফুর্তি হচ্ছে না,তাই তিনি রাধাভাবে বলছেন "যদি কেউ এই বৈভববিলাস ভালবাসে বাসুক,আমার মন বৃন্দাবন ছাড়া আর কিছুই চাহে না।নাথ!প্রকৃত কথা বলতে কি,বৃন্দাবন ও আমার মন এক হয়ে গিয়েছে,বৃন্দাবন ছাড়া আমার মনে আর কিছুই নিজ বলে বোধ হয় না। যদি আমার মনের দিকে চাও,যদি আমার প্রতি তোমার কৃপা থাকে,তবে এসো,বৃন্দাবনে চলো।এখানে মিলনে সুখ নাই।তুমি যোগের উপদেশ করছ,যোগের উপদেশ আমি বুঝতে পারি না। আমার মন তো তুমি জানো,আমাকে ভাঁড়াইও(রঙ্গ কৌতূক করিও) না। তোমার ভাবগতিক দেখে মনে হয়,আর তোমার কথা ভাবব না, আর তোমার কথা মনে করব না,অন‍্য চিন্তা করব,অন‍্য বিষয় ভাবব, কিন্তু পারি না,তোমায় ছেড়ে আমার মন অন‍্য কোন দিকেই যেতে চাহে না।আমরা অবলা আহিরী গোপবালা,আমরা ধ‍্যানের কি জানি, যোগের কি জানি,আমাদেরকে ঐরকম উপদেশ দিও না। সেটিতে আমাদের সন্তোষ হয় না।আমরা কেবল চাই তোমার ঐ রাঙ্গাচরণ।অন‍্য কুটিনাটি কথা শুনলে আমাদের দুঃখ হয়।যোগীরা তোমার শ্রীচরণ ধ‍্যান করে সংসার কূপ হতে পরিত্রাণ লাভ করেন।আমাদের দেহ স্মৃতিও নাই ; সংসার কূপের আর কথা কি? আমরা তোমার বিরহ সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছি,আমাদেরকে এই বিরহ সমুদ্র হতে পরিত্রাণ কর।*
*🌺বন্ধু!বৃন্দাবনের কথা কি তোমার মনে নেই?সেই যমুনা-পুলিন,সেই গিরিগোবর্ধন,সেই কুঞ্জকানন,সেই রাসলীলা, বন্ধু, কিছুই কি তোমার মনে নাই!ব্রজজনের কথা,তোমার প্রাণের জনক জননীর কথা কেমন করে ভুলিলে?তুমি পন্ডিত,তুমি সুশীল,তুমি স্নিগ্ধ ও করুণ। তোমায় দোষ থাকা তো দূরের কথা,তোমাতে দোষাভাসও থাকতে পারে না।তবে যে তুমি ব্রজবাসীদের কথা ভুলে গিয়েছ এটি কেবল আমাদেরই দুর্দ্দৈব। আমি আমার নিজের দুঃখের কথা মনে করি না, কিন্তু ব্রজেশ্বরী তোমার মা যশোমতীর দুঃখের কথা মনে করে প্রাণ বিদীর্ণ হয়।নাথ!তুমি ব্রজে চলো, নচেৎ ব্রজজনের আর জীবনের আশা নাই।তুমি যে রাজবেশে অন‍্যের সঙ্গে অন‍্য দেশে থাক,এটা আমরা সইতে পারি না।ব্রজবাসীরা ব্রজছাড়া আর কোথায় থাকতে পারে না,অথচ তোমাকে না দেখলেও তাদের প্রাণ রাখা দায়।বল দেখি এখন উপায় কি?হে ব্রজবল্লভ,ব্রজনাথ!ব্রজজীবন এসো চলো ব্রজে যাই।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু স্বরূপদামোদরের সঙ্গে কত দিন-রাত্রি এই সব ভাবাত্মক শ্লোকের রসাস্বাদন করতেন,কত দিন রাত্রি তাঁর কন্ঠ ধরে এইসব কথা তুলে বিরহিনী ব্রজবালার ন‍্যায় অধীর হয়ে কাঁদতেন।সেই রোদনের সময় মর্মসখী ললিতার ন‍্যায় স্বরূপদামোদর আমার মহাপ্রভুকে কত আশ্বাস ও সান্ত্বনা বাক‍্য শুনাতেন,মহাপ্রভুর বিরহ-অশ্রুধারা কতবার যে নিজ হাতে মুছিয়ে দিতেন,আবার কতবার নয়নধারায় শ্রীচৈতন‍্যের বক্ষ প্লাবিত হয়ে মৃত্তিকা ভিজে যেত!রথযাত্রার দিনে মহাপ্রভুর মনে সহসা ঐ ভাবের উদয় হল,শ্রীচৈতন‍্যদেব ব্রজগোপীদের রাসনৃত‍্যের মত কিছুক্ষণ মধুর নৃত্য করলেন,ঘন ঘন শ্রীজগন্নাথের মুখপদ্ম দেখতে লাগলেন,আর তাঁর মনে হতে লাগল যে তিনি তাঁর প্রাণবল্লভকে বলেন নাথ!এখানে থেকে কাজ নাই, এ ঐশ্বর্য‍্য-পুরীতে সুখ হবে না,চলো একবার আমাদের শ্রীবৃন্দাবনে যাই,সেখানে শ্রীযমুনাপুলিনে ও কুঞ্জবনে বনলতিকায় কত ফুল ফুটে রয়েছে,ডালে ডালে বসে পাপিয়া কোকিল শারী শুক মিষ্ট স্বরে প্রাণ মাতানো গানে কুঞ্জবন আমোদিত করছে,বঁধূ চলো,সেখানেই যাই। কিন্তু একথা তাঁকে শুনাবেন কিভাবে।শ্রীকৃষ্ণ রথের উপর।তিনি এখন রাজ‍্যেশ্বর।আর মহাপ্রভু ভাবছেন,তিনি ব্রজের গোয়ালিনীর দুঃখিন ও কাঙ্গালিনী।শ্রীকৃষ্ণ তাঁরই প্রাণবল্লভ।ভাবতে ভাবতে তিনি অবশ হলেন,নৃত‍্য থেমে গেল, তিনি অমনি মাটিতে বসে পড়লেন। যথা শ্রীনাদ রূপ গোস্বামীর স্তব মালায় পাই=*
*🌷রথারূঢ়স‍্যারাদধি পদবী নীলাচল গতে,*
*🌷রদভ্র প্রেমোর্ম্মি স্ফুটিতনটনোল্লাসবিবশঃ,*
*🌷সহর্ষং গায়দ্ভিঃ পরিবৃততনু বৈষ্ণব জনৈঃ,*
*🌷স চৈতন‍্যঃ কিং মে পুনরপি দৃশো র্যাস‍্যতিপদং।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যমহাপ্রভু ভাবাবেশে নিজ নখদ্বারা মৃত্তিকায় শ্রীমূর্তি অঙ্কিত করে লিখতে লাগলেন,স্বরূপদামোদর দেখলেনমহাপ্রভু নখাগ্রে মাটিতে কি লিখছেন।স্বরূপ মহাপ্রভুর একান্ত সুহৃদ,মহাপ্রভুই স্বরূপের জীবন। স্বরূপের মনে বড় কষ্ট হল। তিনি ধীরে ধীরে মহাপ্রভুর পাশে বসে গেলেন,আর চৈতন‍্যের নখের নিচে স্বরূপ অমনি নিজ হাত পেতে দিলেন।মহাপ্রভু হাত উঠিয়ে আবার মাটিতে লিখতে আরম্ভ করলেন,স্বরূপ এটি সইতে না পেরে আবার তাঁর নখের নিচে নিজের হাতটি পেতে দিলেন।মহাপ্রভুকে স্বরূপ নিজের প্রাণ অপেক্ষাও অনেকবেশী প্রিয় মনে করতেন।স্বরূপের এই প্রেমমাধুর্য‍্য প্রকৃতই অতি চমৎকার।কবিকর্ণপুর তাঁর নাটকে মহাপ্রভুর উক্ত ভাব সামান্য পরিমাণে অঙ্কিত করেছেন=*
*🌷উত্থায় মন্দমুপবিশ‍্য সুখোর্ম্মিবেগ নিঘ্নাস‍্যতর্জনীকয়া লিখতো ধরিত্রীং আশঙ্কিতঃ ক্ষিতিকৃতে সদয়ং স্বরূপো দেবস‍্য পাণিমরুণ নিজ পাণিনেষঃ।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লেখা আছে।*
*🌷ভাবাবেশে প্রভু কভু ভূমিতে বসিয়া।*
*🌷তর্জনীতে ভূমি লেখে অধোমুখ হৈঞা।।*
*🌷অঙ্গুলিতে ক্ষত হবে জানি দামোদ।*
*🌷ভয়ে নিজ করে নিবারয়ে প্রভু কর।।*
*🍀এই জন‍্যই শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে শ্রীগৌরাঙ্গবন্দনায় পুনঃ পুনঃ লিখিত হয়েছে =*
*🌷জয় দামোদর-স্বরূপের প্রাণধন।*
*🌹শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু প্রকৃতই স্বরূপদামোদরের প্রাণধন ছিলেন।মহাপ্রভুর কিঞ্চিৎমাত্র কষ্ট দেখলেও স্বরূপ ভীষণ ভীষণ ব‍্যথিত হতেন।মৃত্তিকায় লিখনে মহাপ্রভুর অঙ্গুলীর নিচে নিজের হাত পেতে দিতে লাগলেন কিন্তু তাঁর সঙ্গে স্বরূপ পেরে উঠলেন না,মহাপ্রভু ভাবাবেশে অধীর।যাইহোক,স্বরূপের আর বেশীক্ষণ এরকম যত্ন পেতে হল না।মহাপ্রভুর ভাবান্তর উপস্থিত হল,তাঁর মনে হল শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিয়ে শ্রীবৃন্দাবনে যাচ্ছেন।তিনি উঠলেন, আনন্দে তাঁর শ্রীদেহে আবার মধুর নৃত্য জন্ম নিল।স্বরূপ মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।অতঃপর শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতে করতে শ্রীচৈতন‍্যের যে বিচিত্র ভাবের উদয় হয়েছিল,তা অন্তরঙ্গ ভক্তগণ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে ও শ্রীঅমিয় নিমাই চরিত গ্রন্থ পাঠে আস্বাদন করবেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
         *শ্রীলক্ষ্মী-বিজয়োৎসব*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীশ্রীঅচলদারুব্রহ্মের রথোৎসবে শ্রীশ্রী সচল ব্রহ্ম শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তগণ সহ যে মহামহোৎসবে প্রমত্ত হয়েছিলেন,ভক্তগণ নিজ হৃদয়ে তার কিঞ্চিৎ অনুভব করতে পারেন,সে প্রেম-প্রবাহের ভরপুর আনন্দ আমএই ক্ষীণ ভাষায় প্রকাশ করা অসাধ‍্য।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতকার সেই উৎসবের যে বিপুল আনন্দময় বর্ণনা করেছেন,ভক্তমাত্রেরই তা আস্বাদ‍্য। নর্তন ও কীর্তনানন্দের এই বিপুল বিলাস, এই বিশাল সুধাস্রোত প্রবাহিত হতে না হতেই হোরাপঞ্চমীর দিন সমাগত হল।এই হোরাপঞ্চমীর দিনেই লক্ষ্মীবিজয়োৎসবের বিপুল ঘটা।শ্রীল কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷গৌরঃ পশ‍্যন্নাত্মবৃন্দৈঃ শ্রীলক্ষ্মীবিজয়োৎসবং।*
*🌷শ্রুত্বা গোপীরসোল্লাসং হৃষ্টং প্রেম্নাননর্ত্ত সঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌরাঙ্গ শ্রীলক্ষ্মীদেবীর বিজয়োৎসবদেখতে দেখতে শ্রীদামোদরস্বরূপের মুখে প্রেমমাধুর্য‍্য শুনে হৃষ্ট হয়েছিলেন এবং প্রেমভরে নৃত্য করেছিলেন।*
*🌺শ্রীমুরারি গুপ্ত মহাশয়ের শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লেখা আছে =*
*🌷হোরাপঞ্চমী-যাত্রাঞ্চ শ্রীলক্ষ্মীবিজয়োৎসবম্।*
*🌷কৃত্বা যযৌ নীলশৈলং শ্রীলীলাপুরুষোত্তমঃ।।*
*🌻কবি কর্ণপুরের শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে এই হোরাপঞ্চমী মহোৎসবের বিশেষ বিবরণ লেখা হয়েছে।উক্ত গ্রন্থে এই মহোৎসবের আরও দুইটি নাম দেখা যায়।একটি নাম "লক্ষ্মীপ্রয়াণ-যাত্রা" অন‍্য নাম "লক্ষ্মী-কোপ-প্রয়াণ-মহোৎস"। এই শেষোক্ত নামেই এই উৎসবের প্রকৃত অর্থ প্রকাশিত হয়েছে।শ্রীজগন্নাথ রথারোহণ করার সময় লক্ষ্মীর সঙ্গে দেখা কোরে বলে গেলেন "আমি রথারোহণে অতি নিকটেই যাচ্ছি, খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসিব,তুমি এখানে থাক"। কিন্তু একদিন দুইদিন করে কতদিন চলে গেল,তথাপি শঠ ঘরে ফিরল না,লক্ষ্মীর ক্রোধ হল।লক্ষ্মী অগণ‍্য বা অগণিত দাস-দাসী নিয়ে জগন্নাথের খোঁজে বাহির হলেন এবং শ্রীজগন্নাথদেবের রথের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁকে দেখতে পেলেন না। কিন্তু তাঁর ভৃত‍্যগণের প্রতি ও অচেতন রথের প্রতি কোপ প্রকাশ করলেন।এই উৎসবের নাম "লক্ষ্মীবিজয়োৎসব"।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গের চরণরেণু স্পর্শে শ্রীক্ষেত্র যখন আনন্দময় হয়ে উঠেছিলেন,তখন এই মহাতীর্থের প্রত‍্যেক পর্বেই ভক্তগণের দেহে নবজীবন সঞ্চারিত হত।হোরাপঞ্চমীতে লক্ষ্মীবিজয়োৎসব প্রকৃতই এক মহৈশ্বর্য‍্যময় ব‍্যাপার।শঠরাজ-শিরোমণি শ্রীশ্রীজগন্নাথের খোঁজে শ্রীলক্ষ্মীর প্রয়াণ বিশালসমর অভিযানের মত অভিনীত হত। কবি কর্ণপুরের শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটক হতে আমরা ইহার দুইটি আভাস নিচে প্রকাশ করছি।*
*🔷রাজা প্রতাপরুদ্র কাশীমিশ্রকে বলছেন=* *🌹কাশীমিশ্র, হোরাপঞ্চম‍্যাং ভগবত‍্যাঃ শ্রিয়ো দেব‍্যাঃ প্রয়াণ-যাত্রা সর্বতশ্চমৎকারিণী যথা ভবতি তথা কার্য‍্যা।ছত্রচামরাদীনি ভগবদ্ভন্ডারাগারে যাবন্তি সন্তি বা মম কোষাগারেষু সন্তি বা তাবন্ত‍্যেব সমানেয়ানি,যথা রথোৎসবাদপি লোচন-চমৎকারত্বেন মূর্ত্তএবাদ্ভুত রসো ভবতি।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লিখিত ছত্র-নিচয়েই ইহার মর্মানুবাদ প্রকাশ পাচ্ছে,যথা=*
*🌷হোরাপঞ্চমীর দীন নিকটে জানিয়া।*
*🌷কাশীমিশ্রে কহে রাজা যত্ন করিয়া।।*
*🌷কালি হোরাপঞ্চমী ল্রীলক্ষ্মীর বিজয়।*
*🌷ঐছে উৎসব কর যৈছে কভু নাহি হয়।।*
*🌷মহোৎসবের কর তৈছে বিশেষ সম্ভার।*
*🌷দেখি মহাপ্রভুর যেন হয় চমৎকার।।*
*🌷ঠাকুরের ভান্ডার আর আমার ভান্ডারে।*
*🌷চিত্র বস্ত্র কিঙ্কিনী আর ছত্র চামরে।।*
*🌷ধ্বজ বৃন্দ পতাকা ঘন্টা দোলার করহ মন্ডলী।*
*🌷নানাবাদ‍্য নৃত্যে দোলার করহ সাজনী।।*
*🌷দ্বিগুণ করিয়া কর সব উপহার।*
*🌷রথযাত্রা হৈতে যেন হয় চমৎকার।।*
*❤রাজা প্রতাপরুদ্রের এই আজ্ঞায় হোরাপঞ্চমীতে শ্রীলক্ষ্মী-বিজয়োৎসবে অদ্ভুত রসটি প্রকৃতই যেমন মূর্তিমান হয়ে আবির্ভূত হলেন।ফলতঃ সে সজ্জা দেখে দর্শকমাত্রেই বিস্মিত ও চমৎকৃত হয়েছিলেন।*
*🌳মহাপ্রভু সকালবেলায় স্নান করে শ্রীজগন্নাথ দর্শন করার জন্য সুন্দরাচলে গমন করলেন,দর্শন করে ভক্তগণ সমভিব‍্যহারে বা একসঙ্গে হোরাপঞ্চমীর মহোৎসব দেখবার জন্য নীলাচলে এসে উপস্থিত হলেন। কাশীমিশ্র সপার্ষদ মহাপ্রভুকে ভাল জায়গায় বসালেন।কেন না, মহামহোৎসব দেখবার জন্য লোকের মহা ভীড় হবে।শ্রীঅদ্বৈতাদি ভক্তবৃন্দসহ মহাপ্রভুর পাশে বসিলেন,তখনও প্রয়াণযাত্রা আরম্ভ হয়নি। মহাপ্রভুর পার্শ্বেই তাঁর প্রিয়সহচর প্রাণের শ্রীস্বরূপদামোদর। লক্ষ্মীবিজয়লীলার যে কি গূঢ় রহস‍্য, এবং লক্ষ্মীর মানের সহিত ব্রজবালাদের মানের যে কি পার্থক্য, ভক্তগণের শিক্ষার জন্য দয়াময় মহাপ্রভু জিজ্ঞাসাচ্ছলে রসশাস্ত্রের মূর্তিমান অবতার শ্রীস্বরূপের দ্বারা এই স্থলে তা প্রকটিত করলেন।*
🌳❤🌷🌻🌹🔷🍀🍁🙏🌺🙌💧🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *শ্রীলক্ষ্মী-বিজয়োৎসব*
            •••••••••••••••••••••••••••
*🍀মহাপ্রভু ঈষৎ হেসে স্বরূপদামোদরকে জিজ্ঞাসা করলেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয়ে পাই=*
*🌻স্বরূপ!যদ‍্যপি জগন্নাথো দ্বারকালীলা মনুকরোতি,তথাপি গুন্ডিকা ব‍্যাজেন বৃন্দাবনস্মারকেষ্বেতেষুপবনেষু বর্হিত্তুং প্রত‍্যব্দমেব নীলাচলং পরিত‍্যজ‍্য সুন্দরাচলমাগচ্ছতি।কথং দেবীং শ্রিয়ং পরিত‍্যজতি?*
*🌹অর্থ‍্যাৎ স্বরূপ,যদিও শ্রীক্ষেত্রে শ্রীজগন্নাথ দ্বারকা-লীলারই অনুকরণ করেছেন, কিন্তু এই যে প্রতি বৎসরই তিনি নীলাচল পরিত‍্যাগ করে একবার সুন্দরাচলে আগমন করেন,আর শ্রীবৃন্দাবনের স্মরণে গুন্ডিচাচ্ছলে উপবনে বিহার করেন,এটি তাঁর শ্রীবৃন্দাবন লীলারই স্মারক।ভাল,স্বরূপ বল দেখি, তিনি লক্ষ্মীদেবীকে ছেড়ে যান কেন?*
*🌳স্বরূপ বললেন, স্বামিন্ বৃন্দাবন স্মারকেষ্বিতি স্বয়মেব যদুক্তং তদেব সিদ্ধান্তঃ।নহি বৃন্দাবনে প্রিয়াসহ বিহারং অপিচ গোপাঙ্গনাভিরেব।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ প্রভো!আপনি স্বয়ং শ্রীমুখেই তো বললেন উপবন বিহারে শ্রীবৃন্দাবনের স্ফূর্তি হয়।এটিই প্রকৃত সিদ্ধান্ত। শ্রীবৃন্দাবনে মাধুরীময়ী গোপঙ্গনা ভিন্ন ঐশ্বর্য‍্যশালিনী লক্ষ্মীর সহিত শ্রীকৃষ্ণের বিহার তো হয় না, সুতরাং তিনি লক্ষ্মীদেবীকে পরিত‍্যাগ করে যান।*
*🍁মহাপ্রভু=তথাপ‍্যেষা কোপিনী ভবতি।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ শ্রীজগন্নাথ যখন গুন্ডিচা যাত্রাচ্ছলে গমন করেন,বিশেষতঃ তাঁর সঙ্গে যখন সুভদ্রা ও বলরাম বতর্মান থাকেন অপিচ (আরও)শ্রীবৃন্দাবন লীলাও অতি নিগূঢ় তা লক্ষ্মীর দুরধিগম‍্য,তবে লক্ষ্মীদেবী এত রাগ করেন কেন?*
*🌺স্বরূপ=প্রণয়িনীনাং প্রকৃতিরেবেয়ং যৎ স্বাযোগ‍্যতাং নেক্ষতে।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ প্রণয়িনীদের এমনই প্রকৃতি যে,ইঁনারা নিজের অযোগ্যতা দেখেন না। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের বর্ণনাও এরকম, যথা=*
*🌷রস বিশেষ প্রভুর শুনিতে হইল মন।*
*🌷ঈষৎ হাসিয়া স্বরূপে পুছে বিবরণ।।*
*🌷যদ‍্যপি জগন্নাথ করে দ্বারকা বিহার।*
*🌷সহজে প্রকট করে পরম উদার।।*
*🌷তথাপি বৎসর মধ্যে হয় একবার।*
*🌷বৃন্দাবন দেখিবারে উৎকণ্ঠা অপার।।*
*🌷বৃন্দাবন সম এই উপবনগণ।*
*🌷তাহা দেখিবারে উৎকণ্ঠিত হয় মন।।*
*🌷বাহির হইতে কবে রথযাত্রা ছল।*
*🌷সুন্দরাচলে যায় প্রভু ছাড়ি নীলাচল।।*
*🌷নানা পুষ্পোদ‍্যান তথা খেলে রাত্রিদিনে।*
*🌷লক্ষ্মীদেবী সঙ্গে নাহি লয় কি কারণে।।*
*🌷স্বরূপ কহে শুন প্রভু কারণ ইহার।*
*🌷বৃন্দাবন ক্রীড়াতে লক্ষ্মীর নাহি অধিকার।।*
*🌷বৃন্দাবন লীলায় কৃষ্ণের সহায় গোপীগণ।*
*🌷গোপীগণ বিনা কৃষ্ণের হরিতে নারে মন।।*
*🌷প্রভু কহে যাত্রা স্থলে কৃষ্ণের গমন।*
*🌷সুভদ্রা আর বলদেব সঙ্গে দুইজন।।*
*🌷গোপী সঙ্গে যত লীলা করে উপবনে।*
*🌷নিগূঢ় কৃষ্ণের ভাব কেহ নাহি জানে।।*
*🌷অতএব কৃষ্ণের প্রকট নাহি কিছু দোষ।*
*🌷তবে কেন লক্ষ্মীদেবী করে এত রোষ।।*
*🌷স্বরূপ কহে প্রেমবতীর এই তো স্বভাব।*
*🌷কান্তের ঔদাস‍্যভাসে হয় ক্রোধভাব।।*
*🌹এইরকম কথোপকথন হতে না হতেই শ্রীলক্ষ্মীবিজয়ের মহাবাদিত্রনিচয় বেজে উঠিল,সেই বিশালধ্বনিতে চতুর্দিক নিনাদিত হল।*
*গগনস্পর্শী ধ্বজপতাকা সব আকাশে নিজ সৌন্দর্য্য গৌরব বিস্তার করে ক্রমশই গগনপটে পত-পত করে উড়িতে লাগল,দেখে বোধ হল নাগরাজ যেন দুইহাজার ফণা বিস্তার করে দশদিক লেহন করতে সমুদ‍্যত হয়েছেন।ধ্বজপতাকার সামনের চঞ্চল চামরগুলি গগনরূপসরসী সঞ্চারী হংসাবলীর মত প্রতিভাত হতে লাগল।শত শত শ্বেত ছত্র বিজয়গৌরবের পরিচয় দিয়ে,ক্রমেই এগোতে লাগল।ধূমের ধূয়ায় গগনমন্ডল সমাচ্ছন্ন হল,চারদিক গভীর নিস্বনে(ধ্বনিতে) মেঘমন্দ্রণে মুরজাদি(মৃদঙ্গাদি) বাদ‍্য বেজে উঠিল।অবোধ ময়ূরগুলি ধূমের ধূয়া দেখে মনে করল আকাশে বুঝি মেঘ উঠেছে,মুরজের (মৃদঙ্গের)বাদ‍্য মেঘমন্দ্রণ (মেঘের ডাক)বলে স্থির করল,আর শুভ্র তোরণাবলী দেখে তাদের মনে হল ঐ বুঝি বক শ্রেণী। ময়ূরগুলি হঠাৎ মেঘ সমাগম বোধে আনন্দে প্রমত্ত হয়ে নাচতে লাগল। দেখতে দেখতে ঘন ঘন জয়ধ্বনির সঙ্গে নানা রত্ন খচিত স্বর্ণ চতুর্দোলায় অগণিত দাসদাসী একসঙ্গে লক্ষ্মীদেবী অগ্রসর হতে লাগলেন,তাঁর চতুর্দোলা সিংহদ্বার সামনে উপস্থিত হল। অতঃপরে প্রকৃতই এক মহাবিজয় ব‍্যাপার দেখা গেল।লক্ষ্মীদেবীর দাসদাসীগণ শ্রীজগন্নাথের প্রধান প্রধান ভৃত‍্যদের চোরের মত বেঁধে এনে লক্ষ্মীর চরণতলে সমর্পণ করতে লাগলেন, আর নানা প্রকার অশ্রাব‍্য গালিগালাজ দিতে লাগলেন ; এমনকি অচেতন রথটিও সেই অদ্ভুত ক্রোধের বেগ হতে নিস্তার পেল না। লক্ষ্মীর দাসীগণ ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে রথটিকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন।*
❤🙏💧🌲🙌🌳🍁🌺🔷🔶🌷🌹🍀
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
             *🔴🔴মান🔴🔴*
             ==============
*🍀দাসীগণের এই প্রগলভ (অহঙ্কারী বা দাম্ভিক)ব‍্যাপার দেখে মহাপ্রভুর হাসির উদয় হল।মহাপ্রভুর হাসি দেখে স্বরূপ-দামোদর বললেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয়ে=*
*🌷মানস‍্য ক্রম এষনৈব যদিয়ং স্বৈশ্বর্য‍্যবিখ‍্যাপকৈ,*
*🌷র্নানাদিব‍্যপরিচ্ছদৈঃ স্বয়মহো দেবং প্রতিক্রামতি।*
*🌷ব‍্যক্তং রৌদ্ররসোহয়মম্বুধিভূবঃ ক্রোধস‍্য যৎস্থায়িনো,*
*🌷ভূয়ানেব বিকার এব বিদিতং বৈদগ্ধমস‍্যাং পরঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ ভগবন্ এটি তো মানের রীতি নয়। কেননা লক্ষ্মীদেবী ঐশ্বর্য‍্য বিখ‍্যাপক নানাবিধ সাজে সর্জিত হয়ে দেবপ্রতিক্রমণে রতা হয়েছেন।এতে তাঁর অন্তরের ক্রোধ বিকারজনিত প্রচণ্ড রৌদ্ররসই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে,এ তো মান নয়।দেবীর কী চাতুরী! শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের পয়ার এই=*
*🌷দামোদর কহে ঐছে মানের প্রকার।*
*🌷ত্রিজগতে কভু দেখি শুনি নাই আর।।*
*🌷মানিনী নিরুৎসাহে ছাড়ে বিভূষণ।*
*🌷ভূমে বসি নখে লিখে মলিন বসন।।*
*🌷পূর্বে সত‍্যভামর শুনি এইবিধ মান।*
*🌷ব্রজগোপীগণের মান রসের নিধান।।*
*🌷ইহোঁ সব নিজ সম্পত্তি প্রকট করিয়া।*
*🌷প্রিয়ের উপরে যায় সৈন‍্য সাজাইয়া।।*
*🌳স্বরূপ দামোদর বললেন,এমন অদ্ভুত মানের কথা তো আর কোথাও শুনা যায় না।মানিনী এরকম সাজসজ্জা করবেন কেন? মান হ'লে মানিনীরা ভূষণাদি ত‍্যাগ করেন,ভাল বসন ত‍্যাগ করে মলিন বসন পরিধান করেন,মনের দুঃখে নখ দিয়ে মাটি আঁচড়াতে থাকেন,এই তো মানের নিয়ম। কিন্তু ইনি বিচিত্র সাজে সজ্জিত হয়েও সৈন‍্য সজ্জিত করে প্রিয়তমের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এসেছেন।এ আবার কেমন মান?*
*🍁এই প্রসঙ্গে মহাপ্রভু রসশাস্ত্রের মূর্তিমান অবতার শ্রীদামোদর স্বরূপ দ্বারা ভক্তগণের অবগতির জন্য "মানতত্ত্ব" প্রকটিত করেন। শ্রীলক্ষ্মী দেবীর এই অদ্ভুত ব‍্যাপার দেখে স্বরূপ বললেন প্রভো!এটি মানের রীতি নয়, এটি দেবীর রস-চাতুরী বিশেষ।সত‍্যভামারও এইরকম মানের কথা শোনা গিয়েছে কিন্তু ব্রজগোপীদের মানই প্রকৃত মান এবং সেই মানই রসের নিধান। সত‍্যভামার এই মানের প্রসঙ্গ হরিবংশে উল্লিখিত আছে। শ্রীকৃষ্ণ যখন রুক্মিণীদেবীকে পারিজাত পুষ্প প্রদান করেন,তখন সত‍্যভামার বেশ রাগ হয়,সে রাগ প্রকৃত রাগ নয়, কিন্তু রাগের মত প্রকাশ হয়, যথা হরিবংশে=*
*🌷রুষিতামিব তাং দেবীং স্নেহাৎ সঙ্কল্পন্নিব।*
*🌷ভীতভীতোহতি শনকৈ বিবেশ যদুনন্দন।।*
*🌷রূপযৌবনসম্পন্না স্বসৌভাগ‍্যেন গর্বিতা।*
*🌷অভিমানবতী দেবী শ্রুত্বৈবের্ষা বশংগতা।।*
*🔴সত‍্যভামাকে ক্রোধিতার মত দেখে যদুনন্দন শ্রীকৃষ্ণ ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে সেই গৃহে প্রবেশ করলেন।সত‍্যভামা রূপযৌবনসম্পন্না,এই জন্য তিনি নিজ সৌভাগ‍্যগর্বিতা।সখী মুখে তিনি যখন শুনতে পেলেন শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীকে পারিজাত ফুল দিয়েছেন, অমনি তিনি অভিমানে ঈর্ষার বশীভূত হলেন,তাঁর প্রণয়-কোপ উপস্থিত হল, অর্থ‍্যাৎ মান হল।*
*🌲উক্ত শ্লোকটি শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে ধৃত করা হয়েছে।টীকায় শ্রীজীব গোস্বামী বলেছেন "রুষিতামিব"-- "বস্তুতঃ প্রণয়বতাত্বাদরোষাভাসবতীমিত‍্যর্থ"। অর্থ‍্যাৎ সত‍্যভামা প্রণয়বতী। এ জায়গায় তিনি রুষ্টার মত প্রকাশ হলেও প্রকৃত পক্ষে রুষ্টা নন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ তাতেই ভয়ে ভয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন।শ্রীযুক্ত বিশ্বনাথ চক্রবর্তী এই টীকায় লিখলেন "চরণয়োঃ পতিষ‍্যামি" তাঁর চরণে পতিত হব এইরকম সঙ্কল্প করতে করতে শ্রীকৃষ্ণ ভয়ে ভয়ে ঘরে ঢুকলেন।কেননা,চরণে প্রণত হওয়া মান-প্রশমনের(শান্তর) এক উপায়।রসশাস্ত্রে সেটিকে নতি বলে।এই মানকে ঈর্ষা-মান বলা হয়।এই মান সহেতুক।ঈর্ষা সহযোগে যে মানের উৎপত্তি হয়,তাইই সহেতু মান।এর লক্ষণ এই=*
*🌷হেতুরীর্ষা বিপক্ষাদে র্বৈশিষ্ট‍্যে প্রেয়সাকৃতে।*
*🌷ভাবঃ প্রণয়মুখ‍্যোহমীর্ষামানত্ত্বমৃচ্ছতি।।*
*🔵সহেতুক মানের কারণ ঈর্ষা।ঈর্ষা হলেই মান হয়।প্রিয় ব‍্যক্তির মুখে বিপক্ষদের গুণকীর্তন হলে প্রণয়মুখ‍্য ভাবটিই ঈর্ষামানে পরিণত হয়। সুতরাং যেখানে প্রণয় সেইখানেই মান। যথা=*
*🌷অস‍্য প্রণয় এবাস‍্যাম্মানস‍্য পদমুত্তমম্।*
*🌷সোহয়ং সহেতু নির্হেতু ভেদেন দ্বিবিধো মতঃ।।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ প্রণয়ই মানের উত্তম পদ। টীকায় শ্রীজীব গোস্বামী বলেন "যত্র প্রণয়,স্তত্রৈবমানঃ।অর্থ‍্যাৎ যেখানে প্রণয় সেইখানেই মান।সারস্বত অলঙ্কারে মানের নিরুক্তি লেখা আছে,যথা=*
*🌷মান‍্যতে প্রেয়সা যেন যংপ্রিয়ত্বেন মন‍্যতে।*
*🌷মনুতেবা মীমিতেবা প্রেমমানঃ স কথ‍্যতে।।*
*🌷মহাভাষ‍্যকৃতঃ কোহসোবনুমান ইতিস্মৃতে।*
*🌷লুড়ন্তোহপি ন পুংলিঙ্গো মানশব্দপ্রদুষ‍্যতে।।*
*🔵যে প্রিয়ত্ব দ্বারা অন‍্য অপেক্ষা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বোধ হয়,যা প্রিয় বলে বোধ হয়,যা হতে "প্রণয় আছে" বলে জানা যায় অথবা যা দ্বারা প্রণয়ের পরিমাণ হয় তাইই "প্রেমের মান"।ল‍্যুড়ন্ত অর্থ‍্যাৎ অনট প্রত‍্যয়ান্ত শব্দ সাধারণত নপুংসক লিঙ্গে ব‍্যবহৃত হলেও মান শব্দ পুংলিঙ্গেই ব‍্যবহৃত হয়ে থাকে তাতে কোন দোষ হয় না।*
*নিরুক্তি দ্বারা স্পষ্টতঃই প্রতিপন্ন হচ্ছে যে ধূমা যেমন বহ্নির বা আগুনের অনুমিতি-বিনিশ্চায়ক,মানও তেমনি প্রণয়ের নিত‍্য সহচর।ন‍্যায়সূত্রের এই সহচর্য‍্যের নিয়ম ধরেই শ্রীজীব গোস্বামী বলেছেন "যত্রযত্র মান স্তততত্র প্রণয়ঃ"।ফলে প্রণয়ের অভাবে মান ঘটে না।*
*ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের উক্তি=*
*ভগবান বলেছেন,আমাকে সহজে দেখা যায় না।আমি যে পর্যন্ত দিব‍্যচক্ষু দান না করব,ততদিন পর্যন্ত কেউ আমাকে বুঝতে পারবে না।অর্জুন আমার নিত‍্য সঙ্গী,তবুও আমাকে অর্জুন বুঝতে পারেনি।তাই গীতাতে বলেছেন=*
*🌷ন তু মাং শক‍্যসে দ্রষ্টুমনেনৈব স্থচক্ষুষা।*
*🌷দিব‍্যং দদামি তে চক্ষুঃ পশ‍্য মে যোগমৈশ্বরম্।।*
*🌹তখন ভগবান তাঁর স্বরূপ দেখালেন-----*
*🌷দর্শয়ামাস পার্থায় পরমংরূপমৈশ্বরম্,*
*🌷অনেক-বক্ত্রনয়ন-মনেকাদ্ভুত-দর্শনম্।*
*🌷অনেক-দিব‍্যাভরণং দিব‍্যানেকোদ‍্যতায়ূধম্।।*
*🍀এই বিরাট বিশ্বরূপ দেখে,অর্জুন বলেছেন=*
*অনেক-বাহূদর-বক্ত্রনেত্রং পশ‍্যামি ত্বাং সর্বতোহনন্তরূপম্।*
*নান্তং ন মধ‍্যং ন পুনস্তবাদিং পশ‍্যামি বিশ্বেশ্বর বিশ্বরূপ।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷বক্ত্রাণি তে ত্বরমাণা বিশন্তি,*
*🌷দংষ্ট্রাকরালানি ভয়ানকানি।*
*🌷কোচিদ্ বিলগ্না দশনান্তরেষু,*
*🌷সংদৃশ‍্যন্তে চূর্ণিতৈরুত্তমাঙ্গৈঃ।।*
*🌷যথা প্রদীপ্তং জ্বলনং পতঙ্গা,*
*🌷বিশন্তি নাশায় সমৃদ্ধৃবেগাঃ।*
*🌷তথৈব নাশায় বিশন্তি লোকা-,*
*🌷স্তবাপি বক্ত্রাণি সমৃদ্ধৃবেগাঃ।।*
*🌻অর্জুন এইরূপ দেখে,খুবই ভীত হয়ে,পুনরায় তাঁকে স্তব করেছেন=*
*আখ‍্যাহি মে কো ভবানুগ্ররূপো নমোহস্তুতে দেববর প্রসীদ,*
*বিজ্ঞাতুমিচ্ছামি ভবন্তম‍্যাদ‍্যং নহি প্রজানামি তব প্রবৃত্তিম্।।*
*🌻অর্জুন তখন তাঁর এই উগ্রমূর্তির স্বরূপ জানতে চাইলেন, এবং কি ইচ্ছায় যে এই রূপ ধরেছেন,তাও জানতে চাইলেন। ভগবান বললেন,লোকক্ষয়ের জন্যই আমার এই রূপ,লোক সকলের সংহার করবার জন্যই,ইহলোকে রত রয়েছি।অর্জুন তুমি কিছুই কর না,সমস্তই আমি করে থাকি।*
*ময়ৈবৈতে নিহতাঃ পূর্বমেব নিমিত্তমাত্রং ভব সব‍্যসাচিন্।*
*☘তখন অর্জুন,সমস্ত তত্ত্ব বুঝতে পারলেন।তখন বললেন=*
*ত্বমাদিদেবঃ পুরুষঃ পুরাণঃ ত্বমস‍্য বিশ্বস‍্য পরং নিধানম্।*
*নমো নমস্তুেহস্তু সহস্রকৃত্বঃ পুনশ্চ ভুয়োহপি নমো নমস্তে।।*
*সখেতি মত্বা প্রসভং যদুক্তং হে কৃষ্ণ হে যাদব হে সখেতি।*
*অজানতা মহিমানং তবেদং ময়া প্রমাদাৎ প্রণয়েন বাপি।।*
*🌹অর্জুন তখন স্তব করছেন,পুনঃ পুনঃ নমস্কার করছেন এবং বলছেন, তুমিই পুরাণ পুরুষ,সর্বনিয়ন্তা,সর্বেশ্বর, তোমাকে যে আমি "হে কৃষ্ণ,হে যাদব,হে সখা" বলে সম্বোধন করেছি,এর কারণ আমি তোমার অনন্ত মহিমা বুঝতে পারিনি,তাই ভালবাসার ভাবে,তোমাকে আমি এইরূপে সম্বোধন করেছি।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 চতুর্থ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds