🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌼হৃদয়ে আরও একটি যাতনা রয়ে গেল,শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কড়চা গ্রন্থ দেখবার ভাগ্য হল না। অনেক চেষ্টা করলাম,অনেক প্রাচীন বৈষ্ণব মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম,গ্রন্থটি কেউ কোথাও দেখেছেন এরকম বলতে পারলেন না।শ্রীপত্রিকায় দীর্ঘকাল বিজ্ঞাপন প্রচার করেও সেটির কোন সন্ধান পেলাম না।পরম কারুণিক কবিরাজ গোস্বামী তদীয় অক্ষয়কৃপার চিহ্নস্বরূপ শ্রীচরিতামৃতে এই গ্রন্থের নাম ও কিছু বিষয়ের উল্লেখ না করলে এতদিন বোধহয় এই পরম উপাদেয় রসমাধুর্য্যের অদ্ভুত অলৌকিক বর্ণনাপূর্ণ শ্রীগৌরলীলার গূঢ় গভীর গুহ্য ইতিহাস এই প্রপঞ্চে অপ্রকট হয়ে পড়তেন। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চার দুই-চারটি শ্লোক উদ্ধৃত হয়েছে। শ্রীগৌরতত্ত্বনির্দেশক এবং শ্রীগৌরাবতারতত্ত্বজ্ঞাপক শ্লোক দুইটি উল্লেখ্য।এই দুইটি শ্লোকেই শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চার গভীর ভাব অভিব্যক্ত হয়েছে।শ্রীপাদ স্বরূপের প্রকাশিত শ্রীগৌরতত্ত্ব-নির্দেশকসূচক সুবিখ্যাত পদ্যটি গৌরভক্তগণের নিত্যবন্দনা স্তোত্র।সেটি শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমবিলাসবিবর্ত্তের সূক্ষ্মতম তত্ত্ব।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তদীয় চরিতামৃতে ঐ পদ্যটি উদ্ধৃত করেছেন,তদ্ যথা=*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-প্রণয়বিকৃতি হ্লাদিনী শক্তিরস্মা দেকাত্মানাবপি ভূবিপুরা দেহভেদং গতৌ তৌ।চৈতন্যাখ্যং প্রকটমধুনা তদ্বয়ঞ্চৈক্যমাপ্তম্ রাধাভাবদ্যুতি সুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম্।।*
*🌻অন্বয়--রাধা (শ্রীরাধিকা); কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতিঃ(কৃষ্ণপ্রণয়ের বিকার স্বরূপ); হ্লাদিনী শক্তিঃ (শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি); অস্মাৎ (এই হেতু); তৌ (শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ উভয়ে ); একাত্মানৌ(স্বরূপত একাত্মা বা অভিন্ন);অপি (হয়েও);ভুবি (গোলোকে); পুরা দেহভেদং গতৌ (অনাদিকাল হতেই ভিন্ন দেহ ধারণ করেছেন) ; তদ্দ্বয়ং ঐকং আপ্তং (সেই দুইজন একত্ব প্রাপ্ত হয়ে ) ; রাধাভাবদ্যুতি সুবলিতং (শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তির দ্বারা সুশোভিত) ; অধুনা প্রকটং (সম্প্রতি প্রকটিত) ; চৈতন্যাখ্যং (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নামক) ; কৃষ্ণস্বরূপং (শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে) ; নৌমি (নমস্কার করি)।*
*🌻অনুবাদ=শ্রীকৃষ্ণপ্রণয় স্বরূপা শ্রীরাধিকা হলেন শ্রীকৃষ্ণেরই হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি,স্বরূপত উভয়ে একাত্মা বা অভিন্ন হয়েও অনাদিকাল হতে গোলোকে ভিন্ন দেহ ধারণ করে রয়েছেন।তাঁদের একত্বরূপে শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তিতে সুশোভিত হয়ে প্রকাশিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নামক শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে আমি প্রণাম করি।*
*🌺তাৎপর্য্য=স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আনন্দদায়িকা শক্তির নাম হ্লাদিনী-শক্তি।হ্লাদিনী-শক্তির ঘনীভূত বিলাসই প্রেম, প্রেমসার-মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীরাধিকাই শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী-শক্তি।শ্রীমতী রাধিকা মহাভাবস্বরূপিনী বলে তাঁকে কৃষ্ণ-প্রণয়-বিকৃতি বলা হয়েছে।*
*আবার রাধা পূর্ণ শক্তি,কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান। শক্তি ও শক্তিমানের অভেদবশত শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণে কোনও ভেদ নেই।তাঁরা একাত্মা। কিন্তু লীলারস আস্বাদনের জন্য তাঁরা পৃথক দেহ ধারণ করে শ্রীকৃষ্ণের নিত্যলীলার ধাম শ্রীগোলোকে অনাদিকাল অবস্থান করছেন।এখন এই কলিযুগে সেই দুই দেহ এক আত্মা একদেহে অবস্থান করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যরূপে বিরাজিত।তাই শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি অঙ্গীকার করে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর হয়ে এই কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যরূপে শ্রীকৃষ্ণই নবদ্বীপে আবির্ভূত হলেন।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*🌷অন্যোন্যে বিলয় রস আস্বাদন করি।।*
*🌷সেই দুই এক এবে চৈতন্য গোঁসাই।*
*🌷লীলারস আস্বাদিতে হইলা এক ঠাঁই।।*
*🌻এই পদ্যটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের অতীব আদরের ধন।পুরাণাদি পাঠের পূর্বক্ষণে বৈষ্ণব পাঠকগণ শ্রীগৌরাঙ্গ বন্দনায় শ্রীপাদ স্বরূপের এই বন্দনাটি এখনও অতীব ভক্তিভরে পাঠ করে থাকেন।শ্রীপাদ স্বরূপ এই পদ্যে প্রকাশ করলেন, যিনি "রসো বে সঃ" তিনিই শ্রীরাধাকৃষ্ণ,তিনিই রসরাজ রসিকশেখর শ্রীগৌরাঙ্গ।শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা যে লীলারসের মহাভান্ডার এই বস্তুনির্দেশ পদ্যেই তা সূচিত হয়েছে।*
*শ্রীগৌরাঙ্গ-অবতারের অনেক প্রকার হেতু নির্দেশ হয়েছে।বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ ভেদে এই হেতু দুই প্রকার।রসতত্ত্বের শিক্ষাগুরু শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর অবতারত্বের গূঢ় গভীর গুহ্যতম অন্তরঙ্গ কারণ নির্দেশ করেছেন।শ্রীরাধাপ্রেমের রসাস্বাদনই শ্রীগৌরাঙ্গ-অবতারের মুখ্য বীজ।কেবল একমাত্র শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরই এই নিগূঢ় হেতু জগতে প্রকাশ করেন, যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে=*
*🌷অবতারের আর এক আছে মুখ্য বীজ।*
*🌷রসিকশেখর কৃষ্ণের সেই কার্য্য নিজ।।*
*🌷অতি গূঢ় হেতু সেই ত্রিবিধ প্রকার।*
*🌷দামোদর-স্বরূপ হইতে যাহার প্রচার।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি প্রভুর অতি অন্তরঙ্গ।*
*🌷তাহাতে জানেন প্রভুর এ সব প্রসঙ্গ।।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপই জগতে সর্বপ্রথম প্রকাশিত করলেন "শ্রীগৌরাঙ্গ একাধারে শ্রীরাধাকৃষ্ণ"।ঐ যে গৌরদেহে কষিত কাঞ্চনদ্যুতি দেখছ সেটি শ্রীমতী রাধিকারই শ্রীঅঙ্গের দ্যুতি। কেবল দ্যুতি না, মহাপ্রভু আমার মহাভাবস্বরূপিণীর মহাভাবে বিভাবিত। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে=*
*🌷রাধিকার ভাব মূর্তি প্রভুর অন্তর।*
*🌷সেই ভাবে সুখ দুঃখ উঠে নিরন্তর।।*
*🌷শেষ লীলায় প্রভুর কৃষ্ণবিরহ উন্মাদ।*
*🌷ভ্রমময় চেষ্টা সদা প্রলাপময় বাদ।।*
*🌷রাধিকার ভাব যৈছে উদ্ধব দর্শনে।*
*🌷সেই ভাবে মত্ত প্রভু রহে রাত্রি দিনে।।*
*🌺শ্রীপাদ স্বরূপই তাঁর কড়চার প্রথম শ্লোকেই তদীয় প্রত্যক্ষ দেখা তত্ত্ব জগৎ সমক্ষে অভিব্যক্ত করে বললেন, "শ্রীগৌরাঙ্গে ভাব ও দ্যুতিরূপে শ্রীমতী রাধিকা প্রকটিতা হয়েছেন।রায় রামানন্দ ও স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর এই রাধাভাবের প্রত্যক্ষ সাক্ষী।ইঁহারা দুইজন শ্রীকৃষ্ণবিরহিনী শ্রীমতীর পার্শ্বস্থা বিশাখা ও ললিতার মত অনুক্ষণ মহাপ্রভুর কাছে থেকে তাঁর বিরহ-বেদনার প্রশমন করতেন।*
*শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের বহুস্থানে এর উল্লেখ আছে,যথা=*
*🌷রাত্রে প্রলাপ করে স্বরূপের কন্ঠ ধরি।*
*🌷আবেশে আপন ভাব কহয়ে উঘারি।।*
*🌺উঘারি=মন খুলে কথা বলা,(আদি ৪র্থ)*
*🌷রাত্রি হইলে স্বরূপ রামানন্দ লঞা।*
*🌷আপন মনের বার্ত্তা কহে উঘারিয়া।।*
*(অন্ত্য=চতুর্দশে)*
*এত কহি গৌরহরি,দুইজনের কন্ঠ ধরি,*
*কহে শুন স্বরূপ রামরায়।*
*কাহা কারোঁ কাঁহা যাঙ,কাহা গেলে কৃষ্ণ পাঙ,*
*দেহ মোরে কহ সে উপায়।।*
*🌷এতমত গৌরহরি প্রতি রাত্রিদিনে।*
*🌷বিলাপ করেন স্বরূপ রামানন্দ সনে।।*
*🌷সেই দুই জন সহ প্রভুর করে আশ্বাসন।*
*🌷স্বরূপ গায়,রায় করে শ্লোক পঠন।।*
*(অন্ত্যে=পঞ্চদশে)*
*🌻একদিকে ভাব অনুযায়ী শ্লোক পাঠ করাই শ্রীরামরায়ের কাজ ছিল।অন্যদিকে সুকন্ঠ দামোদর-স্বরূপ সুধামধুর সঙ্গীতে মূর্তিমান ব্রজরসের সৃষ্টি করে মহাপ্রভুর বিরহতাপের অপনোদন (খন্ডন) করতেন।যথা অন্ত্যেরচতুর্দশে=*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি করে কৃষ্ণলীলা গান।*
*🌷দুইজনে কৈলা কিছু প্রভুর বাহ্যজ্ঞান।।*
*🌷এত কহি মহাপ্রভু মৌন করিলা।*
*🌷রামানন্দ রায় শ্লোক পড়িতে লাগিলা।।*
*🌹শ্রীচৈতন্যভাগবতকারও লিখেছেন।*
*🌷 ভাগবত পাঠ গদাধরের বিষয়।*
*🌷দামোদর-স্বরূপের কীর্তন আশয়।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর-স্বরূপ গুণ গায়।*
*🌷বিহ্বল হইয়া নাচে শ্রীগৌরাঙ্গ রায়।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দামোদর-স্বরূপের উচ্চ সংকীর্তন।*
*🌷শুনিলে না থাকে বাহ্য পড়ে সেইক্ষণ।।*
*🌷পথ চলিতেও প্রভু দামোদর গানে।*
*🌷নাচেন বিহ্বল হৈয়া পথ নাহি মানে।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর কীর্তন করেন।*
*🌷প্রভুরেও বনে টানে পড়িতে ধরেন।।*
*🌻দামোদর স্বরূপের মত মহাপ্রভুর পরম অন্তরঙ্গ আর কেউ নন।পূজ্যপাদ শ্রীচৈতন্যভাগবতকার বলেন=*
*🌷সন্ন্যাসী পার্ষদ যত মহাপ্রভুর হয়।*
*🌷দামোদর স্বরূপের সমান কেহ নয়।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দামোদর স্বরূপ পরমানন্দ পুরী।*
*🌷সন্ন্যাসী পার্ষদে এই দুই অধিকারী।।*
*🌷নিরবধি নিকটে থাকেন দুইজন।*
*🌷প্রভুর সন্ন্যাসে করেন দন্ডের গ্রহণ।।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀অতি অন্তরঙ্গ স্বরূপদামোদর শ্রীগৌরাঙ্গমহাপ্রভুর অবতীর্ণ হওয়ার নিগূঢ় কারণ ভক্তজন সমক্ষে প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷শ্রীরাধায়াঃ প্রণয়-মহিমা কীদৃশো বানয়ৈবাস্বাদ্যো যেনাদ্ভুতমধুরিমা কীদৃশো বা মদীয়ঃ।*
*🌷সৌখ্যং চাস্যা মদনুভবতঃ কীদৃশং বেতি লোভাৎতদ্ভাবাঢ্যঃ সমজনি শচীগর্ভসিন্ধৌ হরীন্দুঃ।।*
*🌺অন্বয়=শ্রীরাধায়াঃ (শ্রীরাধার) ; প্রণয়মহিমা (প্রেমের মাহাত্ম্য ) ; কী দৃশঃ বা (কেমনই বা) ; যেন (যার দ্বারা) ; অনয়া এব (ইঁহা দ্বারাই অর্থ্যাৎ কেবল শ্রীরাধা দ্বারাই) ; আস্বাদ্যঃ (আস্বাদনীয়) ; মদীয়ঃ (আমার) ; অদ্ভুত মধুরিমা (অতি আশ্চর্য্য মাধুর্য্য) ; কীদৃশঃ বা (না জানি কি রকম) ; চ (এবং) ; মদনুভবতঃ (আমাকে অনুভব বা আস্বাদন করে) ; অস্যাঃ (এই শ্রীরাধার) ; সৌখ্যং (সুখ) ; কীদৃশং বা (কিরকমই বা) ; ইতি লোভাৎ (এই বিষয়ে লোভবশত) ; তদ্ভাবাঢ্যঃ (শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে ) ; শচী গর্ভ সিন্ধৌ (শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে) ; হরীন্দুঃ (হরি অর্থ্যাৎ কৃষ্ণরূপ চন্দ্র) ; সমজনি (আবির্ভূত হলেন)।*
*🌻অনুবাদ=শ্রীরাধার প্রেমের মাহাত্ম্য কেমন,যার দ্বারা শ্রীরাধা আমার অদ্ভুত মাধুর্য্য আস্বাদন করেন, সেই মাধুর্য্যই বা কিরকম এবং আমার মাধুর্য্য আস্বাদন করে শ্রীরাধা যে সুখ অনুভব করেন,সেই সুখই বা কিরকম, এই তিনটি বিষয়ে লোভ হওয়ায় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র সেই শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে শচীদেবীর গর্ভ-সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।*
*🌹তাৎপর্য্য=স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভক্তভাব অঙ্গীকার করে ব্রজলীলায় অনাস্বাদিত শ্রীরাধার প্রেম-মাহাত্ম্য, আপন অদ্ভুত-মাধুর্য্য এবং স্বমাধুর্য্য আস্বাদনে রাধারাণীর সুখের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।প্রেমবুভুক্ষু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রেমধনে ধনী প্রেমবিলাসিনী প্রেমসেবিকা শ্রীমতী রাধিকার কাছে "শিষ্য নট" বা শিক্ষার্থী মাত্র।শ্রীমতী রাধিকা তাঁর "প্রেমগুরু"।তাই ব্রজলীলায় রাধারাণীর সুদুর্লভ প্রেমসুখ তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) আস্বাদন করতে পারেন নাই।সেই অভাব পূরণ করার জন্য নবদ্বীপ লীলায় রাধাভাবকান্তি নিয়ে পূর্ণ ভগবান নবরূপে পূর্ণ হয়ে আবির্ভূত হলেন।*
*🔵পরমকারুণিক শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে এই দুইটি শ্লোক স্বরূপের কড়চা হতে উদ্ধৃত করে পরিস্ফুটভাবে শ্লোক দুইটির ব্যাখ্যা করেছেন।এই শেষের শ্লোকের ব্যাখ্যায় তিনি শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব ও রাধাতত্ত্বের যথেষ্ট আলোচনা করেছেন।তা হতেই জানা যায় রসস্বরূপ শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদর শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রসরাজরূপে দর্শন করতেন।তদীয় কড়চা গ্রন্থও যে রসের সুধামধুর প্রবাহে সর্বত্রই উচ্ছসিত,শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত পাঠ করে সহজেই তার উপলব্ধি হয়।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী স্বরূপ দামোদরের উক্ত শ্লোকের ভাব বিবৃতি করতে করতে লিখেছেন=*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য গোসাঞি ব্রজেন্দ্র কুমার।*
*🌷রসময় মূর্তি কৃষ্ণ,সাক্ষাৎ শৃঙ্গার।।*
*🌷সেই রস আস্বাদিতে কৈল অবতার।*
*🌷আনুসঙ্গে কৈল সব রসের প্রচার।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য গোসাঞি রসের সদন।*
*🌷অশেষ বিশেষ কৈল রস আস্বাদন।।*
*(আদি=৪র্থ)*
*🌺আবার অন্যত্র=*
*🌷কিম্বা প্রেম রসময় কৃষ্ণের স্বরূপ।*
*🌷তার শক্তি তার সহ হয় একরূপ।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷কৃষ্ণের বিচার এক আছয়ে অন্তরে।*
*🌷পূর্ণানন্দ পূর্ণরস রূপ কহে মোরে।।*
*ইহাতেও সেই রসতত্ত্বেরই কথা অভিব্যক্ত হয়ে পড়েছে।শ্রীরায় রামানন্দ যখন শ্রীগৌরাঙ্গের প্রকৃত স্বরূপ সন্দর্শন করলেন,তখন তিনি এক অদ্ভুত অলৌকিক রসরাজ মূর্তি সন্দর্শন করে মূর্ছিত হলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ ও শ্রীরামরায় এই দুই পার্ষদ মহাপ্রভুর একান্ত অন্তরঙ্গ।ইহারা উভয়েই শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরকে "রসো বৈ সঃ" বলে প্রকাশ করেছেন। শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা গ্রন্থটি যে শ্রীগৌরাঙ্গ লীলার সুধাময় রসতত্ত্বে পরিসিক্ত,গ্রন্থটি পাঠ করলেই তা জানা যায়।প্রধানতঃ কোন কোন গ্রন্থাবলম্বনে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের কোন কোন অংশে বিরচিত হয়েছে, শ্রীগ্রন্থকার বহু স্থানে তার পরিচয় প্রদান করে রেখেছেন। শ্রীকবিরাজ লিখেছেন=*
*🌷দামোদর স্বরূপ আর গুপ্ত মুরারি।*
*🌷মুখ্য মুখ্য লীলাসূত্র লিখিয়াছে বিচারি।।*
*🌷সেই অনুসারে লিখি লীলাসূত্রগণ।*
*🌷বিস্তারি বলিয়াছেন তাহা দাস বৃন্দাবন।।*
*🌻মহাপ্রভুর কৃপায় মুরারি কড়চা এখন প্রকাশিত। কিন্তু হায় "স্বরূপের কড়চা" কোথায়! শ্রীকবিরাজ কোন লীলা কোন কড়চা হতে সংগৃহীত করেছেন,তাও তার গ্রন্থে স্পষ্টভাবেই লিখিত আছে। যথা=*
*🌷আদিলীলার মধ্যে প্রভুর যতেক চরিত।*
*🌷সূত্ররূপে মুরারিগুপ্ত করিলা গ্রথিত।।*
*🌷প্রভুর যে শেষলীলা স্বরূপ-দামোদর।*
*🌷সূত্র করি রাখিলেন গ্রন্থের ভিতর।।*
*🌻শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের বিশেষত্ব এই যে এতে আদিলীলা বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়নি।কেবল সূত্রমাত্র উল্লিখিত হয়েছে।এরকম কেন হল,তা সহজেই বুঝা যেতে পারে।শ্রীকবিরাজ দেখলেন পূজ্যপাদ শ্রীমদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর মহাশয় গুপ্ত মহাশয়ের কড়চার সূত্র শ্রীচৈতন্যভাগবতে বিস্তৃতরূপে বর্ণিত করেছেন।এমন কি জায়গায় জায়গায় সেটির বিশুদ্ধ অনুবাদ করে রেখেছেন। সুতরাং আদিলীলার সূত্রনিবহের বিস্তৃতির আর প্রয়োজন কি?শ্রীচৈতন্যভাগবতে মহাপ্রভুর বিপ্রলম্ভরসময়ী সুধামধুরা গম্ভীরালীলার ইঙ্গিত আছে বটে, কিন্তু শ্রীচৈঃচঃ এ এই লীলা যেরকম বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে শ্রীচৈতন্যভাগবতে সেরকম প্রণালী অবলম্বিত হয় নাই। কেন হয় নাই, কবিরাজ গোস্বামী স্বয়ং তাঁর কারণ লিখেছেন, যথা=*
*🌷নিত্যানন্দ লীলা বর্ণনে হইল আবেশ।*
*🌷চৈতন্যের শেষ লীলা রহিল অবশেষ।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷আর যত বৃন্দাবনবাসী ভক্তগণ।*
*🌷শেষ লীলা শুনিতে সবার হইল মন।।*
*🌷মোরে আজ্ঞা করিলা সবে করুণা করিয়া।*
*🌷তা সবার আজ্ঞায় লিখি নির্লজ্জ হৈঞা।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷বৃন্দাবন দাসের পাদপদ্ম করি ধ্যান।*
*🌷তার আজ্ঞা লঞা লিখি যাহাতে কল্যাণ।।*
*🌷চৈতন্য লীলাতে ব্যাস বৃন্দাবন দাস।*
*🌷তার কৃপা বিনে কিছু না হয় প্রকাশ।।*
*🌷মূর্খ নীচ ক্ষুদ্র মুঞি বিষয় লালস।*
*🌷বৈষ্ণবাজ্ঞা বলে করি এতেক সাহস।।*
*🌷শ্রীরূপ রঘুনাথ চরণের এই বল।*
*🌷যার স্মৃতে সিদ্ধ হয় বাঞ্জিত সকল।।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন্যভাগবতের অনভিব্যক্ত (যাহা প্রকাশ করা হয় নাই) সেইসব লীলা সবিস্তারে লিখতে রত হয়ে বিশুদ্ধ বৈষ্ণবচরিত্রসুলভ দীনতা প্রকাশ করেছেন।ফলে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা ও শ্রীমদ্ দাস গোস্বামীর কড়চাই এই লীলা বর্ণনে তাঁর প্রধানতম অবলম্বন।শেষ লীলায় শ্রীপাদ স্বরূপই শ্রীমন্মহাপ্রভুর নিত্যসহচর ছিলেন।স্বরূপদামোদর সতত মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে বিচরণ করতেন,যথা শ্রীচৈতন্যভাগবতে ঃ---*
*🌷 দামোদর স্বরূপ পরমানন্দপুরী।*
*🌷সন্ন্যাসী পার্ষদে এই দুই অধিকারী।।*
*🌷নিরবধি নিকটে থাকেন দুইজন।*
*🌷প্রভুর সন্ন্যাসে করে দন্ডের গ্রহণ।।*
*🌷অহর্নিশ গৌরচন্দ্র সঙ্কীর্ত্তন রঙ্গে।*
*🌷বিহরেন দামোদর স্বরূপের সঙ্গে।।*
*🌷কি শয়নে কি ভোজনে কিবা পর্য্যটনে।*
*🌷দামোদরে প্রভু না ছাড়েন কোন ক্ষণে।।*
*🌻শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর প্রিয়তম নিত্যসহচর শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদরের কড়চা,শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর কড়চা ও তদীয় শ্রীমুখের উপদেশামৃত প্রভৃতি হতে সংগ্রহ করেই যে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শেষ-লীলা বর্ণন করেছেন তাঁর গ্রন্থেই তা প্রকাশিত হয়েছে।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর স্বীয় (নিজ) মুখে গৌর-লীলা কাহিনী শুনেছিলেন।দাস গোস্বামী শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের অতি প্রিয়পাত্র ছিলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ মহাপ্রভুর শেষ লীলার নিগূঢ় মর্ম্ম ইঁহাকে অবগত করিয়েছিলেন।দাস গোস্বামীর শ্রীমুখে সেই গম্ভীরা লীলা শ্রবণ করেই শ্রীল কবিরাজ সেটির বর্ণন করেন, যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে ঃ---*
*চৈতন্য লীলা রত্নসার,স্বরূপের ভান্ডার,*
*তিঁহ থুইল রঘুনাথের কন্ঠে।*
*তাহা কিছু যে শুনিল,তাহা ইহা বিস্তারিল,*
*ভক্তগণ দিল এই ভেটে।।*
*(মধ্যলীলা=২য় পরিচ্ছেদ)*
*🌻অন্ত্য লীলাই শ্রীল কবিরাজ গোস্বামী প্রণীত শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের এক প্রধান বিশিষ্টতা।এই লীলা প্রেমরাজ্যের দুরবগাহ (যা সহজে বোধগম্য হয় না,বা যে বিষয়ের মধ্যে সহজে প্রবেশ করা যায় না,দুষ্প্রবেশ) মহাভাবের মহোচ্ছ্বাস।এটি অতি দুর্ব্বোধ্য(যা বোধগম্য হওয়া কঠিন)।ভাষায় এটির অভিব্যক্তি আদৌ অসম্ভব।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তাই লিখেছেন ঃ--*
*🌷 প্রভুর বিরহোন্মাদ ভাব গম্ভীর।*
*🌷বুঝিতে না পারে কেহ যদ্যপি হয় ধীর।।*
*🌷বুঝিতে না পারি যাহা বর্ণিতে কে পারে।*
*🌷সেই বুঝি,বর্ণে--চৈতন্য শক্তি দেন যারে।।*
*🌻এই দুর্গম দুরবগাহ লীলা-সাম্রাজ্যে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামী কবিরাজ শ্রীকৃষ্ণদাসের পথ-প্রদর্শক। কেন না,অন্যান্য কড়চা গ্রন্থে এই লীলার বিষয় আলোচিত হয় নাই। কেবল শ্রীপাদ স্বরূপ ও শ্রীমদ্ দাস গোস্বামীর কড়চাতেই এই ভাব-গম্ভীর মহালীলা জগতে প্রকাশ পেয়েছেন।অন্যান্য কড়চা-কর্ত্তারা তখন দূর দেশে ছিলেন,তাঁদের কড়চাতে এই লীলার উল্লেখ দেখা যায় না।যথা শ্রীচরিতামৃতে ঃ---*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই আর রঘুনাথ দাস।*
*🌷এই দুইয়ের কড়চাতে এ লীলা প্রকাশ।।*
*🌷সেই কালে এই দুই রহে প্রভু পাশে।*
*🌷আর সব কড়চা-কর্তা রহে দূর দেশে।।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে অনুভাবি এই দুই জন।*
*🌷সংক্ষেপে বাহুল্যে কৈল কড়চা গ্রন্থন।।*
*🌷স্বরূপ সূত্র কর্ত্তা, রঘুনাথ বৃত্তিকার।*
*🌷তাহার বাহুল্যে বর্ণি পঞ্জি টীকা ব্যবহার।।*
*🌻শেষ লীলা বর্ণনে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চাই শ্রীল কবিরাজ গোস্বামীর প্রধানতম আশ্রয়।তিনি অন্যত্রও লিখেছেন ঃ----*
*স্বরূপ গোসাঞীর মত, রঘুনাথ জানে যত,*
*তাহা লিখি নাহি মোর দায়।*
*🍀শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের অন্ত্যলীলায় পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের অন্তে লিখিত হয়েছে ঃ---*
*🌷প্রলাপ সহিতে এই উন্মাদ বর্ণন।*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই ইহা করিয়াছেন বর্ণন।।*
*🍀এই শ্রীগ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবত,কৃষ্ণকর্ণামৃত,জগনাথ বল্লভ নাটক প্রভৃতির শ্লোকও তার বঙ্গানুবাদই প্রলাপ বর্ণনে ব্যবহৃত হয়েছে। নিম্ন লিখিত শ্লোকটি মূল কড়চার শ্লোক বলেই অনুমিত হয়,যথা ঃ----*
*🌷প্রাপ্তপ্রণষ্টাচ্যুতবিত্ত আত্মা,*
*🌷যযৌ বিষাদোজ্ ঝিত দেহগেহঃ,*
*🌷গৃহীত কাপালিকধর্ম্মকো মে,*
*🌷বৃন্দাবনং সেন্দ্রিয়শিষ্যবৃন্দঃ।*
*(অন্ত্য ১৪ পরিচ্ছেদ)*
*🍀অন্বয়=প্রাপ্তপ্রণষ্টাচ্যুতবিত্ত (শ্রীকৃষ্ণরূপ ধনকে প্রথমে পেয়ে পরে হারিয়ে); মে আত্মা(আমার মন) ; বিষাদোজ্ঝিতদেহগেহ (বিষাদে দেহরূপ গৃহকে পরিত্যাগ করে) ; গৃহীত-কাপালিকধর্মকঃ (কাপালিক ধর্ম গ্রহণ করে) (কাপালিক বলতে বলা হয়েছে =বামাচারী তান্ত্রিক,ইহারা হাতে নরকপালের অর্দ্ধাংশ ধারণ করে সেটিতেই তাদের পান ও ভোজন পাত্র, এবং গলায় অস্থিমালা,কপালে চিতাভস্ম ও অঙ্গারের তিলক রচনা করে); সেন্দ্রিয়শিষ্যবৃন্দঃ (ইন্দ্রিয়রূপ শিষ্যবৃন্দের সহিত) ; বৃন্দাবনং যযৌ (বৃন্দাবনে গমন করেছে)।*
*🌻অনুবাদ=আমার মন শ্রীকৃষ্ণরূপ ধনকে প্রথমে পেয়ে পরে হারিয়েছি ; তাই বিষাদে দেহরূপ গৃহকে পরিত্যাগ করে কাপালিক ধর্ম গ্রহণ করে ইন্দ্রিয়রূপ শিষ্যবর্গের সঙ্গে শ্রীবৃন্দাবনে চলে গেছে।*
*🌹শ্রীল কবিরাজ গোস্বামী পদে ইহার এইরকম বঙ্গানুবাদ করেছেন,যথা ঃ----*
*প্রাপ্ত কৃষ্ণ হারাইয়া,তার গুণ সোঙরিয়া,*
*মহাপ্রভু সন্তাপে বিহ্বল।*
*রায় স্বরূপের কন্ঠ ধরি,কহে "হাহা হরি হরি",*
*ধৈর্য্য গেল হইল চপল।।*
*শুন বান্ধব কৃষ্ণের মাধুরী।*
*যার লোভে মোর মন,ছাড়ি লোক বেদধর্ম,*
*যোগী হইয়া হইল ভিখারী।।*
*কৃষ্ণ লীলামন্ডল,শুদ্ধ শঙ্খ কুন্ডল,*
*গড়িয়াছ শুক কারিকর।*
*সেই কুন্ডল কানে পড়ি,তৃষ্ণা লাউ থালি ধরি,*
*আশা ঝুলি কান্দের উপর।।*
*চিন্তা কাঁথা উড়ি গায়,ধূলি বিভূতি মলিন গায়,*
*হা হা কৃষ্ণ প্রলাপ-উত্তর।*
*উদ্বেগ দ্বাদশ হাতে,লোভের ঝুলনী মাথে,*
*ভিক্ষাভাবে ক্ষীণ কলেবর।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*দশেন্দ্রিয় শিষ্য করি,মহা বাউল নাম ধরি,*
*শিষ্য লঞা করিল গমন।*
*মোর দেহ স্বসদন,বিষয়-ভোগ মহাধন,*
*সব ছাড়ি গেল বৃন্দাবন।।*
*বৃন্দাবনে প্রজাগণ,যত স্থাবর জঙ্গম,*
*বৃক্ষলতা গৃহস্থ আশ্রমে।*
*তার ঘরে ভিক্ষাটন,ফলমূল পত্রাসন,*
*এই বৃত্তি করে শিষ্য সনে।।*
*কৃষ্ণ গুণ রূপরস,গন্ধ শব্দ পরশ,*
*সে সুধা আস্বাদে গোপীগণ।*
*তা সভার গ্রাস শেষ,আনে পঞ্চেন্দ্রিয় শিষ্য,*
*সে ভিক্ষায় রাখেন জীবন।।*
*শূন্য কুঞ্জ মন্ডপ কোণে,যোগাভ্যাস কৃষ্ণ ধ্যানে,*
*তাঁহা রহে লঞা শিষ্যগণ।*
*কৃষ্ণ আত্মা নিরঞ্জন,সাক্ষাৎ দেখিতে মন,*
*ধ্যানে রাত্রি করে জাগরণ।।*
*মন কৃষ্ণ বিয়োগী,দুঃখে মন হল যোগী,*
*সে বিয়োগে দশদশা হয়।*
*সে দশায় ব্যাকুল হঞা,মন গেল পলাইয়া,*
*শূন্য মোর শরীর আলয়।।*
*🌻এই পদের অর্থ অতি সুগম্ভীর।কাপালিক ধর্মে তত্ত্ব সাক্ষাৎকার জন্য কঠোর বৈরাগ্য,উৎকট ব্যাকুলতা ও তীব্যযোগের অনুষ্ঠান লক্ষিত হয়।কাপালিকের বাহ্য চিহ্নাদির স্থলে এখানে ব্রজরসের তরঙ্গ ভূষণে অতি চমৎকার রূপক কল্পনা করা হয়েছে।*
*ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀এখানে ব্রজরসের তত্ত্ব ভূষণে অতি চমৎকার রূপক কল্পনা করা হয়েছে।শ্রীচন্ডীদাস লিখেছেন=*
*সদাই ধেয়ানে, চাহে মেঘ পানে,*
*না চলে নয়ন তারা।*
*বিরতি আহারে, রাঙ্গা বাস পরে,*
*যেমন যোগিনী পারা।।*
*🍀অন্যত্রও এই ভাবের একটি পদ আছে,যথা=*
*বঁধূর লাগিয়া, যোগিনী হইব,*
*কুন্ডল পড়িব কানে।*
*🍀এইরকম মহাভাবের ব্যাকুলতা আমাদের সীমাবদ্ধ সঙ্কীর্ণ ভাষায় পরিস্ফুট করা অসম্ভব।*
*🍀কড়চার শ্লোকের ন্যায় আরও একটি শ্লোক "মধ্য লীলায় দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে" প্রলাপ-সূত্র-বর্ণনে দেখা যায়, যথা=*
*🌷শ্রীকৃষ্ণরূপাদি নিষেবণং বিনা,*
*🌷ব্যর্থানি মেহহান্যখিলেন্দ্রিয়াণ্যলম্।*
*🌷পাষাণ-শুষ্কেন্ধন-ভারকাণ্যহো,*
*🌷বিভর্ম্ভি বা তানি কথং হতত্রপঃ।।*
*🍀অন্বয়=শ্রীকৃষ্ণরূপাদিনিষেবণং বিনা (শ্রীকৃষ্ণের রূপাদির সেবা ব্যতীত)(নিষেবণ=সেবা) ; মে অহানি (আমার দিনগুলি) ; অখিলেন্দ্রিয়াণি (এবং ইন্দ্রিয়সকল) ; অলং ব্যর্থানি (সম্যকরূপে ব্যর্থ) ; হতত্রপঃ (নির্লজ্জ) ; [সন] (হইয়া) ; পাষাণ শুষ্কেন্ধনভারকাণি তানি (পাষাণ ও শুষ্ক ইন্ধনের ন্যায় সেই সমস্ত দিন ও ইন্দ্রিয়বর্গকে) ; অহো কথং বা ধারয়ামি (আহা কিভাবেই বা ধারণ করি)।*
*🍀অনুবাদ=শ্রীকৃষ্ণের রূপাদির সেবা ছাড়া আমার দিনগুলো এবং ইন্দ্রিয়গুলো সমস্তই বিফল।আহা! পাষাণ বা পাথর ও শুকনো কাঠের মত বোঝাস্বরূপ এই ইন্দ্রিয়গুলোকেই বা আমি নিলজ্জ হয়ে কেমন করে বহন করি,আর দিনগুলোকেই বা কেমন করে যাপন করি।*
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী ইহার এইরকম অনুবাদ করেছেন ঃ--*
*বংশীগানামৃতধাম,লাবণ্যামৃত-জন্মস্থান,*
*যে না দেখে সে চাঁদবদন।*
*🌹বংশীগানামৃতধাম=বংশীগানরূপ অমৃতের আশ্রয়। লাবণ্যামৃত জন্মস্থান=সৌন্দর্য্যরূপ, অমৃতের উৎপত্তিস্থান।*
*সে নয়নে কিবা কাজ,পড়ু তার মাথে বাজ,*
*সে নয়ন রহে কি-কারণ।।*
*সখী হে!শুন মোর হতবিধি বল।*
*🌹হতবিধি বল=দুর্দৈব বল ; দূরদৃষ্টের শক্তি।*
*মোর বপু চিত্ত মন,সকল ইন্দ্রিয়গণ,*
*কৃষ্ণ-বিনু সকল বিফল।।*
*কৃষ্ণের মধুরবাণী,অমৃতের তরঙ্গিনী,*
*তার প্রবেশ নাহি সে শ্রবণে।*
*কাণাকড়ি ছিদ্রসম,জানিহ সেই শ্রবণ,*
*তার জন্ম হইল অকারণে।।*
*মৃগমদ নীলোৎপল,মিলনে যে পরিমল,*
*যেই হরে তার গর্ব মান।*
*হেন কৃষ্ণ-অঙ্গ-গন্ধ,যার নাহি সে সম্বন্ধ,*
*সেই নাসা ভস্ত্রের সমান।।*
*🍀ভস্ত্রা=কর্মকার বা স্বর্ণকারের হাফর।*
*কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণগুণ-চরিত,*
*সুধাসার-স্বাদু-বিনিন্দন।*
*🍀সুধাসারস্বাদবিনিন্দন=অমৃতের সারের স্বাদ পর্যন্ত যার দ্বারা নিন্দিত হয়ে থাকে।*
*তার স্বাদ যে না জানে,জন্মিয়া না মৈল কেনে,*
*সে রসনা ভেকজিহ্বা সম।।*
*🍀ভেকজিহ্বা সম=ভেক বা ব্যাঙ জিহ্বা দ্বারা কোনো রসই আস্বাদন করতে পারে না।বরং বর্ষাকালে ভেকের জিহ্বা যে শব্দ করে,তার দ্বারা সাপকে আহ্বান করে নিজের মৃত্যুকেই ডেকে আনে।এইরকম যে জিহ্বা শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃত গ্রহণ করতে পারে না,শ্রীকৃষ্ণের গুণলীলা-কীর্তন করতে পারে না, সে জিহ্বাও কালসর্প-সম অকল্যাণ বা ত্রিতাপ জ্বালাকেই আহ্বান করে।*
*কৃষ্ণ-কর-পদতল,কোটি চন্দ্র সুশীতল,*
*তার স্পর্শ যেন স্পর্শমণি।*
*তার স্পর্শ নাহি যার,সে যাউক ছারখার,*
*সেই বপু লৌহসম গণি।।*
*🍀লৌহসম গণি=কঠিন লোহা যেমন কর্মকারের আগুনে পোড়ে এবং হাতুড়ির দ্বারা আঘাত পেয়ে থাকে,তেমনি যে দেহ শ্রীকৃষ্ণের কর-পদতলের স্পর্শ পায়নি,তা ত্রিতাপ জ্বালায় পুড়তে থাকে এবং কাম-ক্রোধাদির পদাঘাত পেতে থাকে।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপের সমগ্র কড়চা গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় লিখিত বলেই আমাদের বিশ্বাস, এবং সেটি সূত্রাকারে বর্ণিত।শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় প্রলাপে উক্ত শ্লোকগুলির পদ্যে যে ব্যাখ্যা করেছেন আমাদের বোধহয় মূল শ্লোক অপেক্ষাও অধিকতর(অনেক বেশী) উচ্ছাসময়ী,অনেক বেশী প্রশান্ত গম্ভীর ও অনেক বেশী মর্ম্মস্পর্শিনী হয়েছে। শ্রীচরিতামৃতের প্রলাপের পদ্যগুলি প্রেমিকভক্তের পক্ষে প্রকৃতই হৃৎকর্ণের রসায়ন। শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীস্বরূপকে ব্রজরসের শ্লোক পাঠ করবার জন্য অনুরোধ করে বলতেন=*
*🌷কর্ণ তৃষ্ণায় মরে,পড় রসায়ন, শুনি।*
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় প্রকৃতই রসময় গোলোকের কবিরাজ।তাঁর গ্রথিত এক একটি প্রলাপ-পদ ভাব-সাগরের কোটি কোটি মহাতরঙ্গের লীলাস্থলী।আমি অতি অধম, কিন্তু প্রলাপ পদপাঠে এ অধমের মলিন প্রাণও আকুল এবং উদাস হয়ে উঠে।ভবভূতির অমন উচ্ছ্বাসময়ী কবিতা পড়েছি, মহানাটকের উচ্ছ্বাসময় পদগুলিও আস্বাদন করেছি, চন্ডীদাসে বিরহ কবিতায় মৃদু কাকলীর করুণরবও এ কানে প্রবেশ হয়েছে, কিন্তু শ্রীপাদ কবিরাজের বিরহ-উন্মাদের পদসুধালহরী পাঠে বিরহের তীব্র ব্যাকুলভাবে হৃদয়ক্ষেত্রকে যেরকম উদ্বেলিত করে তোলে,কি জানি কি এক উন্মাদিনী শক্তির প্রভাবে চিত্তবৃত্তিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যেরকম আকুল করে দেয়, এমন ভাব আর কিছুতেই অনুভূত হয় নাই।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
*🍀কি জানি কি এক উন্মাদিনী শক্তির প্রভাবে চিত্তবৃত্তিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যেরকম আকুল করে দেয়,এমন ভাব আর কিছুতেই অনুভূত হয় নাই।শুনুন এই পদটি=*
*এই কৃষ্ণের বিরহে, উদ্বেগে মন স্থির নহে,*
*প্রাপ্ত্যু পায় চিন্তন না যায়।*
*যেবা তুমি সখীগণ, বিষাদে বাউল মন,*
*কারে পুছ,কে কহে উপায়।।*
*কাঁহা করোঁ কাঁহা যাঙ,কাহা গেলে কৃষ্ণ পাঙ,*
*কৃষ্ণ বিনু প্রাণ মোর যায়।।*
*হাহা কৃষ্ণ প্রাণধন, হাহা পদ্মলোচন,*
*হাহা দিব্য সদ্ গুণ নাগর।*
*হাহা শ্যামসুন্দর, হাহা পীতাম্বর ধর,*
*হাহা রাসবিলাস সাগর।।*
*কাঁহা গেলে তোমা পাই,তুমি কহ তাহা যাই,*
*এত কহি চলিলা ধাইয়া।*
*স্বরূপ উঠি কোলে করি,প্রভুরে আনিলা ধরি,*
*নিজ স্থানে বসাইল লৈয়া।।*
*🌻যথা, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷রামানন্দের গলা ধরি করে প্রলাপন।*
*🌷স্বরূপে পূছয়ে মানি নিজ সখীজন।।*
*🌷পূর্বে যেন বিশখাকে রাধিকা পুঁছিল।*
*🌷সেই শ্লোক পড়ি প্রলাপ করিতে লাগিল।।*
*🌹🌹যথা ললিত-মাধবে=৩|২৫ পাই*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷ক্ব নন্দকুলচন্দ্রমা ক্ব শিখিচন্দ্রিকালঙ্কৃতিঃ।*
*🌷ক্ব মন্দ্রমুরলীরব ক্ব নু সুরেন্দ্রনীলদ্যুতিঃ।।*
*🌷ক্ব রাসরসতান্ডবী ক্ব সখীজীবরক্ষৌষধি।*
*🌷নিধির্ম্মম সুহৃত্তমঃ ক্ব বত হন্ত হা ধিগ্বিধিম্।।*
*🌳সখি!নন্দকুলচন্দ্রমা কোথায়? সেই শিখিচন্দ্রিকা ভূষণ কোথায়? মন্দ্রমুরলী ধ্বনিকর শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?সেই ইন্দ্রনীলমণিদ্যুতি কোথায় ? সেই রাসরসতান্ডবী কোথায় ? সখি! আমার প্রাণরক্ষার মহৌষধি কোথায় ?হায়! এখন আমার সেই সুহৃত্তম কোথায় ? হায়!হায়! আমার এমন প্রিয়তম প্রাণেশ্বরের সঙ্গে যে আমায় বিযুক্ত করিল, সেই বিধিকে শতবার ধিক্।*
*🌻শ্রীরাধাপ্রেম মহিমার কি পূর্ণ আস্বাদন! কেমন তীব্র ব্যাকুলতা! ছায়া ও আলোক রেখার মত বাইরের জগতের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণময় জগতের কেমন সূক্ষ্ম মেশামেশি! আবার এই অর্দ্ধ বাহ্য দশা হতেই সহসা যখন মহাপ্রভুর অন্তর্দশার ভাব উপস্থিত হয়,তখনই মহাপ্রভু অচেতন হয়ে পড়েন।তাঁর মুখে কথা নেই,নাকে শ্বাস নেই,নয়নে পলক নেই,নেত্র উত্তান,তারা স্থির।তিনি নিস্পন্দ,নিঃশব্দ,লীলানুধ্যানে পূর্ণ নিমগ্ন।*
*🌺একদিন চটকপর্বত দেখে হঠাৎ মহাপ্রভুর গোবর্দ্ধন বলে ভ্রম হ'ল,তিনি অমনি শ্রীভাগবতের=*
*🌷হন্তাযমদ্রিরবলা হরিদাসবর্য্যঃ*
*🌻এই পদ্য পাঠ করতে করতে পর্বতাভিমুখে সবেগে ধাবিত হলেন।ভক্তগণ ইদানিং "মহাপ্রভুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবসময়ই সতর্ক থাকতেন,চারিদিকে "ফুকার" চিৎকার পড়ল, মহাপ্রভু পর্বতের দিকে নক্ষত্রবেগে ধাবিত হয়েছেন! ভক্তগণ দৌড়িলেন, কিন্তু শ্রীচৈতন্যদেবের সঙ্গে দৌড়াতে পারেন এমন শক্তি কার? সুতরাং সকলেই অনেক পেছনে পড়ে রইলেন, কিন্তু অতি অল্পক্ষণের মধ্যেই মহাপ্রভুর গতি স্তম্ভিত হল, মহাভাবে তাঁর শ্রীদেহ একেবারে অবশ হয়ে পড়ল,তনি বাতাহত কদলীর ন্যায় মাটিতে পড়লেন, প্রতি রোমকূপে কদম্বের মত পুলক-কদম্ব দেখা দিল, ঘামে ও রক্তোদ্গমে তাঁর শ্রীঅঙ্গ পরিসিক্ত হয়ে গেল।নয়নযুগল হতে শ্রাবণের ধারার মত অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল।ভাবনিধি গৌরসুন্দরের মুখে বাক্য নেই,কন্ঠে ঘর্ঘর শব্দ হচ্ছে, শ্রীঅঙ্গ একেবারে সাদা হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় গোবিন্দ ও স্বরূপদামোদর অনেক যত্নে গৌরচন্দ্রকে সচেতন করলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ বাহ্যজ্ঞান পেয়ে বললেন, "একি হল তোমরা একি করলে, আমি গোবর্দ্ধনের কন্দরায় শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের রহঃকেলি দর্শন সুখে মগ্ন ছিলাম। হায়!তোমরা আমায় বৃথা দুঃখ দিতে এখানে আনলে কেন? যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷কেন বা আনিলে মোরে বৃথা দুঃখ দিতে।*
*🌷পাইয়া কৃষ্ণের লীলা না পাইলুঁ দেখিতে।।*
*🌻এইকথা বলে ভাবনিধি গৌরহরি অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন।*
*🌸প্রিয়পাঠক,একবার এই করণাবিগ্রহের এই অবস্থার শ্রীমূর্তি ও প্রলাপ মনে ভাবুন দেখি। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী আবেশে বিরহ-উন্মত্ত শ্রীগৌরাঙ্গ-রূপ-সন্দর্শন না করলে কি এই চিত্র এঁকে তুলতে পারতেন?*
*🌻এই সুচিক্কণ সুনির্মল এবং অলৌকিক প্রেম-উন্মাদ-ভাবময় গোলোক-সুধার ঘনীভূত চিত্রটি এই মলিন ও কর্কশ হাতে এখন আর বেশীক্ষণ ধরে দেখতে বা দেখাতে সাহস পাচ্ছি না।কি জানি কি করতে কি করে ফেলিব।মহাপ্রভুর কৃপানুমতি ও ভক্তগণের আশীর্বাদ পাইলে সময়ান্তরে আবার এই বিষয়ে সচেষ্ট হওয়ার বাসনা রইল।*
*🍀শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের কথা যা বলছিলাম এক্ষণে তারই আর একটু বলে উপসংহার করছি।গ্রন্থটি অশেষ পান্ডিত্যপূর্ণ। শ্রীমদ্ভাগবতের সার-স্বরূপ বহুল শ্লোকরত্নে এটির কলেবর সমলঙ্কৃত।তাছাড়াও অলঙ্কার শাস্ত্র,অভিজ্ঞান শকুন্তলা,অমরকোষ, আদিপুরাণ,উজ্জ্বলনীলমণি,উত্তর চরিত্র,উদ্বাহতত্ত্ব,উপপুরাণ,একাদশীতত্ত্ব,কড়চা (মুরারিকৃত) কড়চা (রূপ গোস্বামী, কড়চা (স্বরূপ গোস্বামী) কড়চা (রঘুনাথ দাস গোস্বামীকৃত) কাব্য প্রকাশ, কিরাতার্জ্জুনীয়, কৃষ্ণকর্ণামৃত,গীতগোবিন্দ,গোপীপ্রেমামৃত, গোবিন্দলীলামৃত,গৌতমীয় তন্ত্র,(বৃহৎও লঘু) শ্রীচৈতন্যচন্দ্রোদয়, চৈতন্যভাগবত, জগন্নাথ বল্লভ নাটক,দানকেলী কৌমুদী, নাটকচন্দ্রিকা,নামকৌমুদী, নারদীয় পুরাণ, (বৃহৎ ও লঘু), নৃসিংহপুরাণ,নৈষধ,ন্যায়,পঞ্চদশী, পদ্মপুরাণ, পদ্মাবলী,পাণিনি,বিদগ্ধমাধব, বিশ্বপ্রকাশ, বিষ্ণুপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ,ব্রহ্ম সংহিতা, ব্রহ্মান্ড পুরাণ,ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, ভগবদ্গীতা, ভাগবতসন্দর্ভ,ভাবার্থদীপিকা,মনু,মহাভারত, যামুনাচার্য্যস্তব,রঘুবংশ,ললিতমাধব, শাঙ্করভাষ্য,ষট্ সন্দর্ভ,স্তবমালা (শ্রীরূপ ও রঘুনাথকৃত), সামুদ্রিক,সাহিত্যদর্পণ, হরিভক্তিবিলাস ও হরিভক্তি সুধোদয় প্রভৃতি নানান গ্রন্থ হতে সারগর্ভ বচনাদি উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু এ সমস্ত এই গ্রন্থের বহিরঙ্গ গৌরব।ভক্তি প্রেম ও ভগবন্মাধুর্য্যই এই গ্রন্থের প্রাণ, শ্রীগৌরাঙ্গই ইঁহার আত্মা।*
*🌹সুতরাং এই শ্রীগ্রন্থটি প্রেমিক ভক্তের নিত্য আস্বাদ্য,গৌড়ীয় বৈষ্ণববৃন্দের পরমারাধ্য। স্পর্দ্ধার সহিত বলা যেতে পারে, ধর্মের উচ্চতমতত্ত্বপূর্ণ এমন গ্রন্থ আর নাই। স্বয়ং ভগবান শ্রীগৌরচন্দ্র এই শ্রীগ্রন্থে সততই সমুদিত।ইহার প্রতি ছত্রই অমৃতবর্ষী।প্রতি ছত্রই গোলোকের আনন্দ সুধায় পরিপ্লুত।ইহার প্রত্যেক কথায় সূত্রবৎ-বহুলতত্ত্বনিবহে পরিপূর্ণ, এবং প্রত্যেক উক্তিই আনন্দ তত্ত্বের অক্ষয় উৎস।শ্রীপাদ কবিরাজ শ্রীচৈতন্য ভাগবত সম্বন্ধে বলেছেন=*
*🌷মনুষ্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন্য।।*
*🌻আমরা তাঁরই পদের অনুসরণ করে বলছি=*
*🌷মনুষ্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন্য।।*
*🌻গ্রন্থের উপসংহারে স্বয়ং গ্রন্থকার মহাবিনীত ভাবে লিখেছেন=*
*🌷"আমি লিখি " এহো মিথ্যা করি অভিমান।*
*🌷আমার শরীর কাষ্ঠ পুতলী-সমান।।*
*🙏শ্রীস্বরূপ-দামোদর গ্রন্থটি এখানেই বিরাম হ'ল, বানান, ভুল,ভ্রান্তি হয়ত অনেক হয়েছে, নিজগুণে ক্ষমা করবেন।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরি বল🙏🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
