শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*🍀নাট‍্যশাস্ত্রে ভরত আটটি রসের ও বর্ণের নাম উল্লেখ করেছেন এবং শৃঙ্গারকে স্থায়ীভাবসম্পন্ন শুচি ও উজ্জ্বলবেশাত্মক রস বলে বর্ণনা করেছেন।"তত্র শৃঙ্গারো নাম রতিস্থায়িভাবপ্রভবঃ।উজ্জ্বলবেশাত্মক।যৎকিঞ্চিল্লোকে শুচি মেধ‍্যমুজ্জ্বলং দর্শনীয়ং তচ্ছৃঙ্গারেনোপমীয়তে।যস্তাবদুজ্জ্বলবেশঃ স শৃঙ্গারবানিত‍্যুচ‍্যতে।*
*🍀অভিনবগুপ্ত প্রভৃতি ভাষ‍্য ও টীকাকারগণ শৃঙ্গারের লৌকিক পরিচয় দিয়েছেন নাট‍্যশিল্পীজীবনে রূপায়ণের জন্য ও তারজন‍্য তাঁরা নির্বেদসূচক শান্তরসের অবতারণা করেছেন পবিত্রতার প্রকাশকরূপে। অভিনবগুপ্ত "অভিনবভারতী" টীকায় বলেছেন--, "অথ শান্তো নাম শমস্থায়িভাবাত্মকো মোক্ষপ্রবর্তক"। কিন্তু কবি জয়দেবের অভিপ্রায় এসব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা,কেননা যেখানে তিনি সর্বরসাশ্রয় ও সর্বভাবকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণকে আদিরস শৃঙ্গারের প্রতিমূর্তি এবং অধিষ্ঠাতারূপে বর্ণনা করেছেন, সেখানে শৃঙ্গাররসময়শ্রীকৃষ্ণ কখনই লৌকিক অথবা জাগতিক সম্ভোগরসের প্রতিমূর্তি ও নায়ক বলে গণ‍্য হতে পারেন না।জয়দেবের শ্রীকৃষ্ণ তাই সর্বোত্তম ও সর্বসাধকারাধ‍্য "কৃষ্ণ ভগবান"।তিনি দিব‍্যলীলার কেন্দ্রদেবতা এবং তাঁর লীলাসঙ্গিনী পরমা নায়িকা শ্রীরাধাও দিব‍্যশক্তিরূপিণী।গীতগোবিন্দের এই শ্রেষ্ঠ নায়ক নায়িকাই তন্ত্রসাহিত‍্যের শিব-শক্তি-রূপের দিব‍্য প্রতিমূর্তি।*
*🍀তন্ত্রে শিবকে কল্পনা করা হয়েছে নিষ্কল ব্রহ্ম ও পরমানন্দ বিশুদ্ধচৈতন‍্যরূপে। তিনি পরমোজ্জ্বল দিব‍্যজ্ঞানপীঠ সহস্রারকমলে আসীন এবং তারই অভিন্ন প্রকাশ শক্তি কামকলা বা কুন্ডলিনী আধারপদ্মে আসীনা। একটি ব‍্যক্ত ও জাগ্রত এবং অন‍্যটি অব‍্যক্ত ও সুপ্ত।একটি কেন্দ্রে শক্তি চৈতন‍্যঘন পরমশিব-রূপে সপ্রকাশ এবং অন‍্য কেন্দ্রে শক্তি অব‍্যক্তচৈতন‍্য রূপে অপ্রকাশ, কিন্তু পূর্ণ চৈতন‍্যরূপিণী।*
*🍁তন্ত্র প্রসঙ্গে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, সাধারণ মানবীয় "কাম"-রূপ সিসৃক্ষাকে তন্ত্রে সৃষ্টি-ইচ্ছার প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছে।উপনিষদে উল্লিখিত আদিকামও সগুণব্রহ্মের সৃসিক্ষা বা সৃষ্টি-ইচ্ছা, কেননা উপনিষদে পাই, তিনি (সগুণব্রহ্ম) কামনা করলেন "বহু" হবার জন্য, সুতরাং সেই কাম বা কামনাই দিব‍্যস্পন্দনরূপিণী কলা বা কামকলা কুন্ডলিনী।সেই কাম বা কামকলাই শক্তি বা শক্তিস্বরূপিনী। তন্ত্রদৃষ্টিতে শক্তি চিৎ বা জ্ঞানস্বরূপ। স‍্যার জন্ উডবফ্ তান্ত্রিক "যন্ত্র" বিশ্লেষণে এ সম্বন্ধে যে বলেছেন তা প্রণিধানযোগ্য।*
*তিনি শক্তি,কামশক্তি বা কামকলার বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বলেছেন--, Consciousness is power.As this is an identity, its simple converse is also true--- power is Consciousness. Consciousness is of Being and Becoming. So power is to Be and Become. Power posits itself as Will. Hence Will-to-be and Will-to-become. This is Kala which,as Basic Desire,is Kama-Kala. Cosmically, it is What informs, formulates, shapes,patterns.☆ ☆ But Chit-sakti is Vimarsa also.That is to say,It not only is and manifests Its own being,but It also becomes and manifests what It becomes.prakasa and Vimarsa are not isolable.This is shown in.God Mother kali. There kali,in this fundamental context, is kali (Cf. Swami pratyagatmananda saraswati and sir John Woodroffe ; sadhana for self-raali=ation (1963),p. 43 এবং The serpent-power গ্রন্থ দ্রষ্টব‍্য)।*
*🍀মোটকথা তন্ত্রে কামকলা বা কুন্ডলিনীকে coilling energy বা অব‍্যক্তশক্তি বলা হয়েছে কুন্ডলিনীর স্বরূপবিকাশের অভাবের জন্য।স‍্যার জন উডরফ্ তন্ত্রতত্ত্ব ব‍্যাখ‍্যা প্রসঙ্গে মূলাধারে কুন্ডলিনী-সম্বন্ধে বলেছেন, The Kundolini at the muladhara is the whole primordial sakti in monad or germ or latency ; that is why it iscoiled. The kundulini that mounts up the nadi is also the whole sakti in a specially dynamic form--an eject likeness of the Eternal serpent. The resultof the last fusion(there are successive fusions in the various centres also) in the sahasrara is also the whole,or purna. উপনিষদের "পূর্ণস‍্য" পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবারশিষ‍্যত‍্য, মন্ত্রের এটি প্রতিধ্বনি।এথেকে আমরা বুঝি যে,Potential বা সূক্ষ্মাবস্থায় শক্তি কুন্ডলিনী শুধু ব‍্যষ্টি(পৃথক পৃথক) জীবেই নয়, বিশ্বের সর্বত্র সব জীব ও জিনিসের মধ্যে নিহিত বা স্থাপিত।তন্ত্রে এই শক্তি তেজোময় "বিদ‍্যুৎলতাকারা"। 'কামকলাবিলাস' তন্ত্রে কামকলা কুন্ডলিনী সম্বন্ধে বলা হয়েছে--, "কাম কমনীয় তথা কলা চ দহনেন্দু বিগ্রহৌ বিন্দু"। "কাম" অর্থে তাই কামেশ্বর শিব এবং তিনি তেজোময় প্রকাশস্বরূপ।এই 'কাম' শিবই 'অগ্নি' নামে পরিচিত।এঁকে ইন্দু বা চন্দ্র-রূপেও কল্পনা করা হয় ; "অগ্নিষোমরূপিনী"।অগ্নি ও চন্দ্রের মিথুন রূপ 'বিন্দু'।তন্ত্রে বিন্দু মহাত্রিপুরসুন্দরী কামকলা।'কলা' অর্থে বিমর্শশক্তি। বিমশাশক্তিই কামেশ্বরী 'ষোড়শী', "বিমর্শরূপিনী বিদ‍্যা ষোড়শী যা প্রকীর্তিতা"।বিন্দু, নাদ ও বীজরূপে কামকলার প্রকাশ। আবার বিন্দু শিব ও বীজ শক্তি এবং এদের মিলিত রূপেই নাদের সৃষ্টি। নাদ বা কুন্ডলিনীই শব্দব্রহ্ম স্ফোট। সারদাতিলকতন্ত্রে (১|১১-১২) এবং প্রপঞ্চসারতন্ত্রে (১|৪৪) শব্দব্রহ্ম নাদের বা স্ফোটের সৃষ্টি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*(ক)ভিদ‍্যমানাৎ পরাদ্ বিন্দোবব‍্যক্তাত্মা বরোহভবৎ।*
*শব্দব্রহ্মেতি তং প্রাহুঃ সর্বাগমবিশারদাঃ।।*
*(খ)বিন্দোস্তস্মাদ্ ভিদ‍্যমানাদ্ রবোহব‍্যক্তাত্মকো ভবেৎ।*
*স স্বঃ শ্রুতিসংপন্নৈঃ শব্দব্রহ্মেতি কথ‍্যতে।।*
*🌻ভাষ‍্যকার উমাপতি স্বতন্ত্রতন্ত্রের ২৪শ কারিকায় বলেছেন--, "কুন্ডলিনী শব্দবাচ‍্যা তু ভুজঙ্গকুটিলাকারেণ নাদাত্মনা স্বকার্যেন প্রতিপুরুষং ভেদেনাবস্থিতো, ন তু স্বরূপেণ প্রতিপুরুষবস্থিতা"। স্বতন্ত্রতন্ত্রের কারিকাটি হল---*
*🌷যথা কুন্ডলিনী শক্তির্মায়াকর্মানুসারিণী।*
*🌷নাদবিন্দ্বাদিকং কার্যং তস‍্যা ইতি জগতস্থিতি।।*
*"ললিতাসহস্রনাম" গ্রন্থে নাদরূপী কুন্ডলিনী "কমলা-দেবী"।এর টীকাকার ভাস্কর রায় নাদরূপী কুন্ডলিনী বা কামকলার 'কাম' অর্থে বলেছেন ইচ্ছা বা শিব ও শক্তির মিথুনমূর্তি এবং "কলা" অর্থে তাদের প্রকাশ বা manifesttation । তন্ত্রশাস্ত্রে তাই কামকলা কুন্ডলিনী সর্ব মন্ত্র তথা শব্দের ও বিশ্বপ্রপঞ্চের বীজ বা কারণরূপে পরিচিত। সুতরাং তন্ত্রদৃষ্টিতে সৃষ্টিবিলাসিনী কাম বিমর্শ (বিমর্শশক্তি) এবং নিষ্কল চিৎ বা শিব প্রকাশ (প্রকাশশক্তি)।এই বিমর্শ ও প্রকাশ একই শক্তির উন্মীলন ও নিমীলন রূপ।কাম সাধারণ মানুষের কাছে পার্থিব সংসারসৃষ্টির কারণ এবং অপার্থিব মহামানবের কাছে সমষ্টি বিশ্বসৃষ্টির কারণ।পুনরায় মানুষের বিকৃত দৃষ্টির কাছে কাম (ld) অকল‍্যানরূপে প্রতীত (বোধগম‍্য) হলেও মহামানব বা দেবমানবের কাছে কল‍্যাণময় ইচ্ছা রূপেই প্রতিভাত (উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত) হয়। গীতগোবিন্দের নায়ক শ্রীকৃষ্ণ রসপ্রতিষ্ঠারূপী শৃঙ্গার অর্থে অপ্রাকৃত রসলীলার স্রষ্টা ও দ্রষ্টা।কবি জয়দেব তাই শৃঙ্গারকে মানবীয় প্রেমের পরিবর্তে শাশ্বত আনন্দসত্তায় প্রতিষ্ঠিত কামকে ঈশ্বরীয় প্রেম-রূপে অনুভব ও বর্ণনা করেছেন।তারজন‍্য কবা দশাবতারের রূপবর্ণনার শেষে শৃঙ্গাররসরূপী সর্বরসকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম জানিয়ে বলেছেন--, "কৃষ্ণায় তুভ‍্যং নমঃ"।*
*🌺এখানে রস-নির্ধারণের ব‍্যাপারে "রসিকপ্রিয়া"টীকাকার রাণা কুম্ভা পূজারী গোস্বামীর ব‍্যাখ‍্যাকে মোটেই অনুসরণ করেননি। যেমন মীনাবতারকে রাণা কুম্ভ বলেছেন--, উৎসাহস্থায়িভাবো বীরো রসঃ। দশস্বপি পদেষু ধীরললিতো নায়কঃ"। বামন অবতারকে রাণা কুম্ভ বলেছেন--, অত্রাদ্ভূতো রসঃ। পরশুরামকে বলেছেন--, অত্র বীভৎসো রসঃ। "প্রলয়েত‍্যাদিপদষট্ কে ধীরোদ্ধতো নায়কঃ।রামচন্দ্রকে বলেছেন--,ধীরোদাত্তো নায়কঃ।বলরামকে বলেছেন--, ধীরললিতো নায়কঃ বা শৃঙ্গারী নায়কঃ এবং বুদ্ধাবতারকে বলেছেন--, ধীরশান্তো নায়কঃ এবং তিনি শান্তরসের প্রতিষ্ঠা বা কারণ।আবার যেখানে জয়দেব শ্রীকৃষ্ণকে বর্ণনা করেছেন--,"শৃণু সুখদং শুভদং ভবসারম্", সেখানেও শ্রীকৃষ্ণ শান্তরসের প্রতিমূর্তি বা আশ্রয়, এবং যেখানে বলেছেন--, "কৃষ্ণায় তুভ‍্যং নমঃ", সেখানে শ্রীকৃষ্ণ শৃঙ্গার-রসের প্রতীক (◆টীকাকার পূজারী-গোস্বামী গীতগোবিন্দের অধিকাংশ পদ ব‍্যাখ‍্যায় নায়ক-নায়িকা গুণের পরিচয় দিয়েছেন। যেমন (১)"বসন্তে বাসন্তীকুসুমসুকুমারৈবরয়বৈর্ভ্রমন্তী" প্রভৃতি পদের (১|২৭) ব‍্যাখ‍্যায় বলেছেন--, ☆ ☆ শ্রীরাধিকায়াঃ সর্বোৎকর্ষমাবিষ্কর্তুং তত্র তত্র তস‍্যা অষ্টনায়িকাবস্থাং বর্ণয়ন সম্ভোগপোষকবিপ্রলম্ভশৃঙ্গারবণানায় প্রথমং বিরহোৎকন্ঠিতামাহ বসন্ত ইতি।(২)অথাগতাং সাধকমস্তবেণ ☆ ☆ দৃষ্টরদেবদাহ (৭|১২) পদব‍্যাখ‍্যায় বলেছেন--,চন্দ্রোদয়েন শ্রীকৃষ্ণাগমন প্রতিবন্ধে সতি তং বিনা সখ‍্যা আগমনে তস‍্যা বিপ্রলব্ধাবস্থাং বর্ণায়িতুমাহ অথেতি।(৩) সমুদিতমদনে রমণীবদনে প্রভৃতি (৭|২২) পদ ব‍্যাখ‍্যায় বলেছেন--, পুনস্তস‍্যা এব স্বাধীনভর্তৃকাত্বসূচক পূর্বকং তল্লীলাবিশেষমাহ ☆ ☆। (৪) অথ কথমপি যামিনীং প্রভৃতি (৮|১) পদব‍্যাখ‍্যায় খন্ডিতাবস্থার বর্ণনা করেছেন)। রাণা কুম্ভ তাঁর "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থ থেকে রস ও নায়কের রূপবর্ণনা করেছেন (◆ রাণা কুম্ভা-কৃত "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে রস-বর্ণনা দ্রষ্টব‍্য। বারাণসী মহাবিদ‍্যালয় থেকে প্রকাশিত ও ডক্টর প্রেমলতা শর্মা সম্পাদিত Sangitaraja, প্রথম ভাগ)।*
*🍀মোটকথা পূজারী গোস্বামী ও রাণা কুম্ভার মধ্যে রস-নির্ধারণ ব‍্যাপারে কিছু কিছু মতভেদ থাকলেও শ্রীকৃষ্ণ যে সর্বরসনায়ক ও পরমরসরূপী একথা উভয়েই স্বীকার করেছেন এবং এই স্বীকৃতি থেকে একথাও নিঃশংসয়ে প্রমাণ হয় যে, সর্বরসাশ্রয়ী গীতগোবিন্দ-পদগান যে পরবর্তী কালের রসমন্দাকিনীর আশ্রয় বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের "পটভূমি" এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।তাছাড়া গীতগোবিন্দের অন‍্যান‍্য পদ বা গানগুলির পর্য‍্যালোচনা করলে একথা স্পষ্ট প্রমাণ হয়।*
*💮উদাহরণরূপে বলা যেতে পারে যেমন, গীতগোবিন্দের তৃতীয় গান "ললিতলবঙ্গলতা-পরিশীলনকোমল- মলয়সমীরে " প্রভৃতি নববসন্তের পরিবেশ ও সৌন্দর্য্যকে আবাহন জানিয়ে শ্রীরাধা-কৃষ্ণের সম্ভোগলীলাচিত্র স্মরণে যদি কারো মনে কোন ব‍্যভিচারী ভাবের সঞ্চার হয় তার জন্য কবি জয়দেব বলেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিতমিদ- মুদয়তি হরিচরণস্মৃতিসারম্" প্রভৃতি, অর্থ‍্যাৎ শ্রীজয়দেব রচিত এই সরসবসন্তকালের বনশোভা ও তদনুগত মদনবিকারের বর্ণনা সকলের চিত্তে যেন হরিচরণের পবিত্র স্মৃতি জাগ্রত করে। দৃষ্টি ও ভাবনা এখানে বিশ্বোত্তীর্ণ ও আনন্দাভিমুখী, পার্থিব সংসারসুখের দিকে তা মোটেই নমিত নয়। অধিকাংশ ব‍্যাখ‍্যা ও টীকাকাররা এখানে ধীরোদাত্ত (সুখে-দুঃখে অবিচলিত) ধীরললিত (নম্রস্থভাব, নিশ্চিন্ত এবং নম্র ও স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন),ধীরশান্ত (প্রসিদ্ধ গুণাবলীর অধিকারী নায়কবিশেষ),ও ধীরোদ্ধত (স্বভাবে স্থিরচিত্ত কিন্তু সময়ে সময়ে উদ্ধত নায়কবিশেষ)এই চার রকম নায়কগুণের বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।রস,ভাব ও নায়ক-নায়িকার বিস্তৃত পরিচয়ের উল্লেখ আমরা পরে করার চেষ্টা করব এখানে আলোচনার উদ্দেশ্য হল, কীভাবে গীতগোবিন্দাশ্রিত রস,ভাব ও নায়ক-নায়িকা গুণকে আশ্রয় করে পরবর্তী মহাজন-পদাবলীকীর্তন রস ও ভাবসমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয়েছিল তা প্রদর্শন করা।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*🍀বৈষ্ণবশাস্ত্রবেত্তা পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়ের বিবৃতিও এ'প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।তিনি বলেছেন, "ভগবদুপাসনার দুইটি দিক আছে--, একটি ঐশ্বর্য‍্যের ও অন‍্যটি মাধুর্য‍্যের।☆ ☆ কবি জয়দেব প্রথম জীবনে ঐশ্বর্য‍্যের-- বিধিমার্গের উপাসক ছিলেন এবং সেই ভাব হতে সাধনার ক্রমবিকাশে রাগের পথে তিনি মাধুর্য‍্যের ব্রজকুঞ্জে প্রবেশলাভ করেছিলেন।☆ ☆ শ্রীগীতগোবিন্দের আরম্ভভাগে দশাবতারস্তোত্রে এবং "শ্রিতকমলাকুচমন্ডল" (গীত ২) সঙ্গীতটিতে শ্রীকৃষ্ণের এই ঐশ্বর্যরূপই প্রকাশিত হয়েছে। দশাবতারস্তোত্রে শ্রীকৃষ্ণ সর্ব অবতারের কেন্দ্ররূপে বর্ণিত হয়েছেন।কবি বন্দনা করেছেন "দশাকৃতিকৃতে কৃষ্ণায় তুভ‍্যং নমঃ"।☆ ☆ শ্রিয়কমলাকুচমন্ডল" পদগানটি ঐশ্বর্য‍্য দ‍্যোতক (প্রকাশক), কারণ তার মধ্যে একবারও শ্রীরাধার নাম উল্লিখিত হয়নি,আদ‍্যপান্তে শ্রী-র নামই কীর্তিত হয়েছে।*
*🍀তাছাড়া "জনকসুতাকৃতভূষণ জিতদূষণ সমরশমিতদশকন্ঠ অভিনবজলধরসুন্দরধৃতমন্দর শ্রীমুখচন্দ্রচকোর " প্রভৃতি গীতটির প্রসঙ্গেও শ্রীমুখোপাধ‍্যায় বলেছেন--, কবি শ্রীরাধার প্রেমের উৎকর্ষ দেখাবার জন্য শ্রী ও সীতার প্রসঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নায়কত্বের দুইটি দিক প্রদর্শন করেছেন। ☆ ☆ টীকাকার বলেছেন--,এই সঙ্গীতে ধীরললিত, ধীরশান্ত,ধীরোদ্ধত এবং ধীরোদাত্ত নায়কের লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে।কিন্তু ধীরললিত নায়ক শ্রেষ্ঠ বলে আদি ও অন্তে তিনি শ্রীপতিরূপেই উল্লিখিত হয়েছেন। ☆ ☆ শ্রীমদ্ভাগবত বলেন সৌন্দর্য্য সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী শ্রীদেবীও গোপীপ্রেমের আকাঙ্ক্ষা করতেন। সুতরাং বুঝতে পারা যাচ্ছে যে,কবি এই দুইটি সঙ্গীতে ঐশ্বর্য‍্যের পরিপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরী করে নিয়েছেন, এইবার ধীরে মাধুর্য‍্যের অগ্রসর হবেন। পরবর্তী পদাবলীকীর্তনেও শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বর্য‍্য ও মাধুর্য‍্যের বিকাশ সুস্পষ্ট।*
*🌹কবি জয়দেব শ্রীরাধা-কৃষ্ণের বিচিত্র ভাবময় রসলীলার বর্ণনায় সাধকের রসানুভূতির ক্ষেত্রে যে এক অনির্বচনীয় ভাবমন্দাকিনীর প্রবাহ সৃষ্টি করেছেন এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। পরবর্তী লীলাকীর্তন বা রসকীর্তনে বিদগ্ধ মহাজনগণ যে বৃন্দাবন,দ্বারকা,মথুরা ও অন‍্যান‍্য স্থানবিলাসী শ্রীরাধা-কৃষ্ণের অপার্থিব লীলাকাহিনীর পটভূমিকায় বিচিত্র পালাগানের অবতারণা ক'রে কীর্তনের সুর ও সাহিত‍্য-ভান্ডারকে রসসমৃদ্ধ করেছেন তার ধারণা,আদর্শ ও উদ্দীপনায় বীজ বা উপকরণও তাঁরা সংগ্রহ করেছেন কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দ থেকে।যেমন, শ্রীকৃষ্ণের লীলাবর্ণনাচ্ছলে শ্রীজয়দেব বলেছেন--, "কালিয়বিষধরগঞ্জন" (১|১৯) "বৃন্দাবনবিপিনে পরিসরপরিগত যমুনাজলপূতে (১|৩৪) "গোপবধূরনুগায়তি কাচিদুদঞ্চিতপঞ্চমরাগম্"(১|৪১) "রাসরসে সহনৃত‍্যপরা হরিণাঃ যুবতীঃ প্রশশংসে"(১|৪৩),"রাসোল্লাসভরণে বিভ্রমভৃতামাতীরবামভ্রুবাম্" (১|৪৯), "বিহরতি বনে রাধা সাধারণপ্রণয়ে হরৌ"(২|১),"গোপকদম্বনিতম্ববতীমুখচুম্বনলম্বিতলোভম্"(২|৪), "পীতবসনমনুগতমুনি মনুজসুরাসুরবরপরিবারম্" (২|৬), "বিশদকদম্বতলে মিলিতং" (২|৮), "গোবিন্দং ব্রজসুন্দরীগণধৃতং" (২|১৯), "বৃষ্টিব‍্যাকুল-গোকুলাবন রসাদুগ্ধত‍্য গোবর্দ্ধনং ☆ ☆ শ্রেয়সি কংসদ্বিষঃ" (৪|২৩), "ধীরসমীরে যমুনাতীরে বসতি বনে বনমালী" (৫|০), "পততি পতত্রে বিচলিত পত্রে ☆ ☆ রচয়তি শয়নং সচকিতনয়নং, পশ‍্যতি তব পন্থানম্" (৫|১১), প্রভৃতি এগুলি যে পরবর্তী পদাবলীকীর্তনের রসধারাসিক্ত মান,খন্ডিতা,মাথুরা,দান,নৌকাখন্ড, রাস,কলহান্তরিতা প্রভৃতি পালারূপ লীলাভিনয়ের বিষয়বস্তুতে গৃহীত হয়েছিল একথা সূক্ষ্মদর্শী মাত্রেই স্বীকার করেন।রাগ,তাল প্রভৃতির বেলাতেও তাই।*
*🍀এরপর এ প্রসঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু হবে গীতগোবিন্দ-মহাকাব‍্যে নৃত্যলক্ষণসম্পৃক্ত অভিনয়পদ্ধতি অব‍্যাহত আছে এখনো বিশেষভাবে দক্ষিণ-ভারতে তাঞ্জোর-অঞ্চলে ভরত-রচিত নাট‍্যশাস্ত্রের ধারাকে অনুসরণ করে।যদিও বাংলার পদাবলীকীর্তনে অভিনয়ের সহযোগ একান্তভাবে পাওয়া যায় না,তবুও প্রাচীন গীতানাট‍্য গীতগোবিন্দের নৃত্যাভিনয়ের কিছুটা প্রাচীনধারার ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব হবে।তাছাড়া একথা সত‍্য যে,গীতগোবিন্দ গীতিনাট‍্যের বা গেয়নাটকের অনুপ্রেরণা লাভ করে ভারতেই এবং বিশেষ করে দক্ষিণভারতের ও বাংলার গীতিনাট‍্য ও সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যনাট‍্যগুলির বিকাশ পরবর্তীকালে সম্ভব হয়েছিল।*
🎺🎺🎺📯📯📯🎷🎷🎷🎻🎻🎻🎸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
         *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀সঙ্গীতশাস্ত্রে নৃত্য এবং বাদ‍্যকেও সঙ্গীতকলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা যে কোন শ্রেণীর সঙ্গীতই হোক না কেন।খ্রীষ্টীয় ১৩শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেব "সঙ্গীত রত্নাকর" গ্রন্থে "সঙ্গীত" শব্দের ব‍্যাখ‍্যা বা বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে একথাই বলেছেন।খ্রীষ্টীয় ১৩শ শতকের পরবর্তী সঙ্গীতগ্রন্থকাররা "সঙ্গীত" শব্দের ব‍্যাখ‍্যায় বা বিশ্লেষণে শার্ঙ্গদেবকে অনুসরণ করেছেন।তবে এ'প্রসঙ্গে এ'কথাও এখানে উল্লেখযোগ্য যে,"সঙ্গীত" শব্দটি গীতিকলার বোধক-রূপে ১৩শ শতকের পূর্ববর্তী সময়ে এবং এমন কী খ্রীষ্টপূর্ব যুগেও বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ দেখা যায়।রামায়ণ,মহাভারত,হরিবংশ ছাড়া পুরাণগুলির জায়গায় জায়গায় "সঙ্গীত" শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়।তবে "সঙ্গীত" বলতে তখন নৃত্য,গীত ও বাদ‍্যের সমবেত রূপকেই যে বোঝাত এমন কোন বাঁধাধরা নিয়মের উল্লেখ পাই না।প্রাচীন ভারতে দেবদাসী প্রথার প্রচলন যখন থেকে হয়, মনে হয় তখন থেকেই "সঙ্গীত" শব্দ কলারূপে ত্রৌর্যত্রিক তথা নৃত্য,গীত ও বাদ‍্যকলার সমন্বিত রূপকে নিয়ে সার্থক ছিল। বাংলাদেশে পাল ও সেন রাজাদের রাজত্বের সময়ে শিব কিম্বা কার্তিকের মন্দিরে দেবদাসীদের সঙ্গীতের ব‍্যবস্থা ছিল এবং তাতে নৃত্য ও বাদ‍্যের সহযোগে গীত পরিবেশনের ব‍্যবস্থা ছিল, একথা "রাজতরঙ্গিণী"গ্রন্থে কহ্লন এবং "পবনদূত" গ্রন্থে কবি ধোয়ী স্বীকার করেছেন।শ্রদ্ধেয় জি.এস. ঘুরে (G.S.Ghurye)তাঁর Bharatanatya and Its Costume (poona 1958) গ্রন্থে বাংলাদেশে শাস্ত্রীয় নৃত্য প্রসঙ্গে লিখেছেন--, The Kashmiri royal patron and employer of Damodara gupta, Jayapida,it would appear,was proficient in Bharata's Natyasastra even before he took Damodaraguptain his service. Kalhana, while describing the intinerary of that King. tells us that he once entered the city of pundravardhana in 'Gauda-Desa', Bengal.While there, he once chanced to see a dance being performed to the accompaniment of vocal and instrumental music, and being 'versed in the historic arts of the dance,song and the like in accordance with Bharata, sat himself down for a while', Jayapida's reign,according to R.S. Pandit,extended from A.D, 751 to 782 । তিনি আরো লিখেছেন--, "Another Kashmiri King, Jayapida (A.D 751-782) while he has in the town of paundravardhana.in Gauda. Bengal, once saw in the temple of Kartikeya a dance "lasya" being performed. The dancer "nartaki", was one Kamala by name. Kamala,on her part, looking at him and seeing his hand stretching to his shoulder-top at intervals, concluded that he must be a royal person. Her reasoning was that the hand was stretched over the shoulders behind to catch hold of the "tambula" or the betel nut-leaves-packet from.his attanedants, ☆ ☆ Eventually Jayapida took Kamala with him Kashmir".।এখানে 'লাস‍্য' নৃত‍্যছন্দ স্ত্রীলোকদের ও দেবদাসীদের নৃত্যকেই লক্ষ্য করা হয়েছে এবং পুরুষ-নৃত‍্য ছিল 'তান্ডব,।নাট‍্যশাস্ত্রে ভরত এবং নাট‍্যদর্পণে রামচন্দ্র তান্ডব ও লাস‍্যনৃত‍্যের উল্লেখ করেছেন।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀তাছাড়া বাংলার ইতিহাস থেকে একথা প্রমাণ হয় যে,গুপ্ত,পাল ও সেন রাজাদের আমলে শাস্ত্রনির্দিষ্ট গান ও নৃত্যের পাশাপাশি দেশীগান এবং আঞ্চলিক নৃত্যেরও প্রচলন ছিল এবং গুপ্ত,পাল ও সেন রাজারা সে সকল গান ও নৃত্যের বিশেষ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।কথিত আছে, রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালে "সেকশুভোদয়া"-গ্রন্থ রচিত হয়।সেকশুভোদয়ার রচয়িতার নাম নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে।তবে গ্রন্থনামের সঙ্গে "সেখ" শব্দটির সংযোগ থাকায় গ্রন্থকার ইসলামধর্মসেবি ছিলেন এ' সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন অধিকাংশ পন্ডিত এবং সেদিক থেকে জলালুদ্দিন তাব্রিজি এর রচয়িতা--, এই অভিমতও পন্ডিতেরা গ্রহণ করেছেন। ১৯২৭ খ্রীষ্টাব্দে ডঃ সুকুমার সেন সম্পাদিত "সেকশুভোদয়া" গ্রন্থে (হৃষীকেশ-সিরিজ,নং ১১, আর.এন. শীল বি এ প্রকাশিত) ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-লিখিত মুখবন্ধের (Foreword) বিবৃতিও প্রণিধানযোগ্য*
*তিনি লিখেছেন--,The work, inspite of its benig attributed to Halayudha Misra of the court of king Lakshmanasena, is to a large extent of Mohammedan inspiration in its contens.। অবশ্য ডক্টর সুনীতিবাবু এখানে স্পষ্ট করে গ্রন্থকারের নাম উল্লেখ করেননি।ডঃ সুকুমার সেন গ্রন্থের মুখবন্ধে (Introduction) যে মন্তব‍্য করেছেন তা থেকে সেখ জলালুদ্দিন (তাব্রিজিই) যে মধ‍্যযুগীয় সাহিত্য "সেকশুভোদয়া"-র রচয়িতাএকথা অনুমান হয়।তিনি লিখেছেন--, The authorship courtier of Lakshmanasena, author of the Brahmanasarvasia, a popular Smriti work, so that its authenticity might not be questioned.। প্রকৃতপক্ষে বাংলা-সংস্কৃত-প্রাকৃতমিশ্রিত অথবা বিকৃত-সংস্কৃতে লিখিত "সেখশুভোদয়া"গ্রন্থটির রচনার ও প্রচারের পিছনে মুসলমান তথা ইসলামধর্মের প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টাই মর্মকাহিনী সুস্পষ্ট। তাছাড়া ধর্মপ্রচার ও সমাজসংগঠন প্রভৃতির কথা ছেড়ে দিলে "সেখশুভোদয়া" "কবীন্দ্রসমুচ্চয়", "সদুক্তিকর্ণামৃত", "রামচরিত" প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে গুপ্ত, পাল ও সেন রাজাদের ঐতিহাসিক কাহিনীগুলির সঙ্গে সঙ্গে তদানীন্তন বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক জীবনের অনেক কিছু তথ‍্যের সন্ধান পাওয়া যায়।গীতিনাট‍্য (Vide Rajatarangini by Kalhana (of Kashmir)edited and translated by M.A.Stein (1961), Vols 1 & 11.) "গীতগোবিন্দ" পদগানের নৃত্যসম্বলিত নাট‍্যরূপের পরিচয়দানের পরিপ্রেক্ষণসামগ্রী বা কাহিনীগ্রন্থ হিসাবে সেখ জলালুদ্দিন-রচিত সেখশুভোদয়ার অন্ততঃ এয়োদশ পরিচ্ছেদ কিছুটা প্রয়োজনীয় বলে মনে করি।*
*🍀গুপ্ত,পাল ও সেন রাজাদের আমলে বাংলায় (বৃহত্তর বাংলায়) নৃত্য-গীতের যে সচ্ছ্বল অনুশীলন ছিল সেকথা আগেই আলোচনা করেছি।লোকগীতি ও লোকনৃত‍্যের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় করণ, অঙ্গহার ও চারি-সম্বলিত নৃত্যকলার অনুশীলন তখন অব‍্যাহত ছিল রাজ-অন্তঃপুরে, রাজদরবারে রাজদরবারসংলগ্ন নাট‍্যগৃহে বা রঙ্গমঞ্চে,দেবায়তনে ও বিভিন্ন পার্বণ-উৎসবাদিতে।অভিজাত নৃত্যকর্মের আঙ্গিক ও বিকাশ নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরতের নির্দেশ অনুযায়ী ছিল এবং নৃত্য,নাট‍্য ও বাদ‍্যের সহচারী ছিল অভিজাত ও দেশী গান।"সেখশুভোদয়া" গ্রন্থের কাহিনী কিছু-কিছু বিকৃত ও অতিরঞ্জিত হলেও তা রাজা লক্ষ্মণসেন ও তৎপরবর্তী সমাজে শিল্পরুচি ও সাধারণ জীবনচর্চা-র উপকরণ সামগ্রী জোগাতে কার্পণ‍্য করেনি।সেখশুভোদয়ায় বর্ণিত গঙ্গোনটবধূ বিদ‍্যুৎপ্রভা, বুঢ়ণ মিশ্র, জয়দেবসতী পদ্মাবতী ও কবি জয়দেবের নৃত্যগীতিসম্পৃক্ত কাহিনীর কিছুটা পরিচয় দেন গীতগোবিন্দ নাট‍্যরূপের পরিচয় দেবার আগে।*
*🍀সেখশুভোদয়া-র এয়োদশ পরিচ্ছেদে নৃত্যসম্পৃক্ত গীতিকাহিনীটি হল--, (ক)বিদ‍্যুৎপ্রভানাম্নী নর্তখীবিশেষা তামানয়।সা নর্তয়তু লোকাঃ পশ‍্যন্তু।এতচ্ছত্বা রাজা তামানয়ামাস শশিকলয়াসহ। (খ) ইতি ভূতে সতি কশ্চিদ ব্রাহ্মণো বূঢ়ননামামিশ্রঃ(বূঢ়নমিশ্রনামা?) রাজসভায়াং গত্বা রাজানমবাদীৎ। রাজন্ মহাগায়নেহহং পুনঃ পন্ডিতশ্চ। ☆ ☆। হে বিপ্র, কশ্চিদ ধ্বনিরুদগীয়তাম। ততো দ্বিজঃ পঠমঞ্জরীরাগমুদগীবিতবান।উদগীরিতে সতি পিপ্পলবৃক্ষতলে তস‍্য পিপ্পলস‍্য পত্রাণি সমস্তান‍্যপতৎ। ☆ ☆ তদা সর্বানানীতে সতি জয়দেবমিশ্রশ‍্য পদ্মাবতী নামা তচ্ছব্দমশ্রৌষীৎ।গঙ্গাস্নানং গতে সতি ত্ত্ববয়া রাজসভায়াংসমায়াতা (ঃ) চ। পুনরুক্তবতী চ।☆ ☆ ততঃ পদ্মাবতী জয়দেবস‍্য ব্রাহ্মণী গান্ধারনামা ধ্বনিরুদগায়তা চ । তদুদগীরিতে সতি নৌকাঃ গঙ্গায়াং যদ বিদ‍্যন্তে,শ্রূত্বা, তৎসন্নিধানং সমাযাতা (ঃ) চ ।☆ ☆ তদা জয়দেবমিশ্রোহবদ‍্যৎ। অস‍্য ধ্বনিনা নিষ্পত্র বৃক্ষোহভবৎ কিন্তু বসন্তসময়ে সামান‍্যেন বৃক্ষস‍্য পত্রাণি পতন্তি। মহানিতি কথম্? ☆ ☆ পূর্ণগীয়তাম্।নিষ্পত্রবৃক্ষাঃ সপত্রো ভবতু। বূঢ়নমিশ্রোহবদৎ অহং ন শক্নোমি। ত্ত্বমপি সপত্রং কর্তুং শক্নোমি?পশ‍্যতাং কুরু ত্বম্ ☆ ☆। ততো জয়দেবমিশ্রঃ বসন্তরাগমুদগীরতবান্। উদগীরিতে সতি অস‍্য বৃক্ষস‍্য কমনীয়ানি নবপত্রাণি ভূতানি।ততো জয়শব্দঃ সর্বত্র অশ্রৌষীৎ। ☆ ☆ ইতি হলায়ূধ মিশ্রকৃতৌ সেকেশুভোদয়ায়াম্ মিশ্রোপাখ‍্যানে এয়োদশঃ পরিচ্ছেদঃ।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
          *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀কাহিনীমূলক গ্রন্থবিবৃতি এই, কিন্তু অতিশয়োক্তি ও অলৌকিকতায় পূর্ণ।তবে ফেনায়িত অতিরঞ্জিত কাহিনীসামগ্রীর মধ্যে বাস্তব উপাদানও যে নাই তা নয়।শাস্ত্রীয় অভিজাত সুহৈ বা সুহা,পঠমঞ্জরী, গান্ধার বা গান্ধারী,বসন্ত প্রভৃতি রাগের পরিচয় আমরা এই আখ‍্যানে পাই, যদিও তাদের কয়েকটির প্রভাবের ও কার্যকারিতার প্রতিফলনে ঠিক সত‍্যতা নাই।তবে "বসন্তসময়ে সামান‍্যেন বৃক্ষস‍্য পত্রাণি পতন্তি" প্রসঙ্গে বসন্তকালে জয়দেব মিশ্রের বসন্তরাগের প্রতিফলন সার্থক হয়েছে।তাছাড়া বিদ‍্যুৎপ্রভা,পদ্মাবতী ও জয়দেবের সঙ্গীতকুশলতার নিদর্শন পাওয়া যায় এই কাহিনী থেকে।উড়িষ‍্যা বা উৎকলের মনীষীরাও পুরীর জগন্নাথ-মন্দিরে জয়দেব (মিশ্র?) ও পদ্মাবতীর গীতগোবিন্দগানের সঙ্গে ছন্দায়িত নৃত্যের উল্লেখ করেছেন।*
*🍁সেকশুভোদয়ায় এয়োদশ পরিচ্ছেদ থেকে বিশেষ করে পদ্মাবতী ও জয়দেবের সঙ্গীতপ্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়, আর নৃত্যের কিছুটা পরিচয় পাই বিদ‍্যূৎপ্রভা ও শশিকলার প্রসঙ্গে (বিদ‍্যুৎপ্রভানাম্নী নর্তকী বিশেষা)। ষোড়শ পরিচ্ছেদে কবি ধোয়ীর পরিচয়ও দিয়েছেন জলালুদ্দিন তাব্রিজ--, "অয়মপি ধোয়ী সেবকত্বেন ☆ ☆; 'অয়ং ধোয়ী তন্তুবায়ঃ' তচ্ছ ত্বা ধোয়ী তানব্রবীৎ।(কবি জয়দেবও ধোয়ী নাম উল্লেখ করেছেন গীতগোবিন্দে ; 'শ্রুতিধরো ধোয়ী কবিক্ষ্মাপর্তি)।আগেই উল্লেখ করেছি যে,ধোয়ী "পবনদূত" গ্রন্থে পাল ও সেন রাজাদের গৌরবকাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে তদানীন্তন বাংলাদেশের নগর ও পল্লীসমাজের জীবনচর্চার কাহিনীর উল্লেখ করেছেন।*
*🍀তাব্রিজির "সেকশুভোদয়া" নাভাজীর "ভক্তমাল" প্রভৃতি গ্রন্থের কাহিনী থেকে অনেকে জয়দেবকে নট,ও পদ্মাবতীকে নটী শ্রেণীভুক্ত করেছেন।"ভক্তমাল"-গ্রন্থকার পদ্মাবতীকে পুরীধামে জগন্নাথ-মন্দিরে নৃত্যশীলা নটী বা দেবদাসী বলেই বর্ণনা করেছেন এবং কবি জয়দেব নাকি পদ্মাবতীর নৃত্য ও গীতছন্দে তাল রক্ষা করতেন এবং তার সাক্ষ‍্য হিসাবে কবি গীতগোবিন্দে "পদ্মাবতীচারণচরণ চক্রবর্তী " বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। কাহিনী বা কথার পিছনে ঐতিহাসিক মূল‍্য কতটুকু তা নির্ণয় করবেন বিচক্ষণ ঐতিহাসিকগণ।তাঞ্জোর সরস্বতীমহল-গ্রন্থমালার অন্তর্গত Gitagobinda with Abhinaya (1963) গ্রন্থের সম্পাদক বিদগ্ধ সংস্কৃতজ্ঞ ও শিল্পকলারসিক পন্ডিত কে.বাসুদেব শাস্ত্রী গ্রন্থ-বিবৃতিতেও ঐ কথার উল্লেখ করেছেন।আমরা নৃত্যসম্বলিত গীতিনাট‍্যরূপ "গীতগোবিন্দ"-পদগানের পরিচয় দিব ঐ গ্রন্থকেই অনুসরণ করে। শ্রদ্ধেয় শাস্ত্রী মহাশয় লিখেছেন--, He (Jayadeva) was born in Bengal, but he made puri his home. ☆ ☆ This is indicated by the reference in the text of the ashtapadi to the accompaniment of Nritya by his devoted wife, padmavati. He calls himself in introductory verse No. 2 an expert directing the feel of padmavati in her dance (padmavati-charana-charana chakraborty), and again he refers to the collaboration of padmavati in his recital in Astapadi 21 (vihita-padmavati sukha samaji bhanati Jaydeva kavirajaraje).*
*এ প্রসঙ্গে এখানে উল্লেখ করা সমীচীন যে,সেকশুভোদয়ার অনুসরণে কবি জয়দেব নট ও পদ্মাবতীকে নটী অথবা সঙ্গীতকলানিপুণ ও নিপুণা কিনা তা প্রমাণ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য,গীতিনাট‍্য, গীতগোবিন্দ- পদগানকে পৃষ্ঠ বা উৎসক্ষেত্র (Back-ground) করে যে পরবর্তী রসসমৃদ্ধ পদাবলীকীর্তনের সার্থক সৃষ্টি হয়েছিল তারই আভাস দেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে বৈষ্ণব-পদাবলী কীর্তনের রূপ,বিকাশ,সৌন্দর্য‍্য, অধ‍্যাত্মতত্ত্ব ও রসধারার পরিচয় দান করা, ঐতিহাসিক দৃষ্টির সহায়তা নিয়ে।বিদগ্ধ(পন্ডিত বা বিদ্বান) বৈষ্ণব মহাজন পদকর্তা ও গ্রন্থকারের বাবরণ হতে কীর্তনেও যে মৃদঙ্গ ছন্দের ও গীতিভঙ্গীর তালে তালে নৃত্যের প্রচলন এবং তার সঙ্গে বিচিত্র বাদ‍্যের সহযোগ ছিল একথা আমরা জানতে পারি।*
*নৃত‍্য কীর্তনের প্রধান অঙ্গ না হলেও ভাবসমৃদ্ধি ও ছন্দমাধুর্য‍্য সৃষ্টির পক্ষে যে পরমসহায়ক ছিল এবং এখনো আছে একথা কীর্তনরসিকমাত্রেই স্বীকার করবেন।আমরা বৈষ্ণব পদ গ্রন্থে কীর্তনের সঙ্গে নৃত্যের উল্লেখ পাই।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
         *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀এবার দক্ষিণ-ভারতে গীতগোবিন্দের গীতারূপ ছাড়াও যে নৃত্যনাট‍্যের রূপ গড়ে উঠেছিল এবং এখনো কিছু কিছু তার ধারা সঞ্জীবিত আছে তার পরিচয় দিব।আগেই উল্লেখ করেছি যে,তাঞ্জোরের সরস্বতীমহল প্রকাশন থেকে Gitgovinda with Abhinaya নামে যে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে সেটির সম্পাদনা করেছেন বিদ্বান শ্রীবাসুদেব শাস্ত্রী। তিনি গ্রন্থের মুখবন্ধে লিখেছেন-- Abhinaya given here, agrees well with the practice of the art in the Tanjore District which is now the home of the purest tradition of Bharatanatya, is itself sufficient to conclude that the work is pretty old ☆ ☆ lt is extremely probable that, this work was composed by the direct disciples of sri Jayadeva himself or those Just after them. তিনি আরো বলেছেন যে,তামিল দেশের প্রাচীন "শিলপ্পাধিকবম্" গ্রন্থে মন্ডলাকারে রাসনৃত‍্যের যে উল্লেখ পাওয়া যায়, তা সাধারণ গোপবালা বা আভীর রমণীদের কৃষ্ণ ও গোপীগণের ভূমিকা নিয়ে সম্পন্ন করত এবং সে নৃত্যের নাম ছিল "অয়চিয়র-কুরবৈ" (Aychiyar- Kuravai)। এই তাঞ্জোর-গ্রন্থমালায় প্রকাশিত গীতগোবিন্দ গ্রন্থে মুনি ভরত-প্রণীত "নাট‍্যশাস্ত্র" সম্মত ছাব্বিশ প্রকার অসংযুক্ত হস্ত, তের প্রকার সংযুক্ত হস্ত,চার প্রকার হস্তকরণ,তের রকম শিবকর্মের উল্লেখ আছে।নাট‍্যশাস্ত্রের অষ্টম,নবম ও দশম অধ‍্যায়ে এবং নন্দিকেশ্বর-রচিত অভিনয়দর্পণে এদের পরিচয় দেওয়া আছে।আমরা এই গ্রন্থ থেকে গীতগোবিন্দ পদগানের একটির নিদর্শন দিব নৃত্যনাট‍্যের সার্থক রূপায়ণ হিসাবে।*
*🌹গীতগোবিন্দের প্রথম সর্গের প্রথম গানটি হল--*
*🌷প্রলয়পয়োধিজলে ধৃতবানসি বেদং,*
*🌷বিহিতরহিত্র চরিত্রমখেদন।*
*🌷কেশব ধৃতমীনশরীর, জয়জগদীশ হরে।*
*🌻এই গানটি মালবরাগে ও রূপকতালে গান করার রীতি ছিল।মালবরাগের ধ‍্যানশ্লোকে--*
*🌷নিতম্বিনীচুম্বিতবক্তবিম্বঃ শুভদ‍্যুতিকুন্ডলবান্ প্রমত্তঃ।*
*🌷সঙ্গীতশালা প্রবিশন্ প্রদোষে মালাধরো মালবরাগরাজঃ।।*
*🌻এবং রূপকতালের পরিচয়-- বিরামান্তর্দ্রুতদ্বন্দ্বো রূপকঃ স্বাদ্বিলক্ষণ ইতি।*
*◆(কীর্তনে রাগনাম,রাগরূপ,ধ‍্যানরূপ,ও তালকমের বিস্তৃত পরিচয় পরে দেওয়া হবে )।*
*🌻"প্রলয়পয়োধি জলে" প্রভৃতি গানের নৃত্যনাট‍্যরূপের পরিচয় দিয়েছেন "অভিনয়" গ্রন্থকার।*
*(১)প্রলয়-- পতাকোপরিমর্দিত পতাকেন গগনদৃষ্ট‍্যা চ।*
*(২)পয়োধিজলে--অধঃস্বস্তিকীকৃত- বিচ‍্যুতোর্ধ্ব তলপতাকাভ‍্যাম্।*
*(৩)ধৃতবানসি--অধোদেশাদুদ্বৃপ্তদৃষ্টিনা।*
*(৪)বেদং-- পুরস্তলনিকুঞ্জকেন।*
*(৫)বিহিত-- শনৈবধস্তলীকৃতপতাকেন।*
*(৬)রহিত্র-- চালিতাঙ্গুষ্ঠকরপ্রসারিত- পুষ্পপুটেন।*
*(৭)চরিত্র-- প্রসারিতেতার্ধ্ব তলপতাকেন।*
*(৮)অখেদং-- হৃদ্ গতপতাকেন মুকুলয় দৃষ্টা চ।*
*(৯)কেশব--কেশবন্ধেন।*
*(১০)ধৃত-- আবর্তনেন কৃতমুষ্টিনা।*
*(১১)মীনশরীর-- মকরহস্তকেন।*
*(১২)জয়-- উদ্ধৃতহস্তকেন।*
*(১৩)জগদীশ--ললাটস্থাঞ্জলিনা।*
*(১৪)হরে--বৈষ্ণবস্থানকেন।*
*🌻গানের প্রতিটি কথা (ব) বা (র) শব্দ নৃত‍্যসম্পর্কিত হস্ত,চরণ,গ্রীবা,দৃষ্টি প্রভৃতি সঞ্চালন কর্মের দ্বারা প্রকাশিত এবং এ'গুলি বিচিত্র রস ও ভাবের উদ্বোধক বা প্রকাশক।এখানে হস্ত,দৃষ্টি,অঙ্গকরণ হিসাবে পতাক,পুষ্পপুট, মুকুলদৃষ্টি, মকরহস্ত,অঞ্জলি,কৃতমুষ্টি প্রভৃতি নৃত্যহস্তকরণ নাট‍্যশাস্ত্রে ও অভিনয়দর্পণে দ্রষ্টব‍্য।নৃত‍্যনাট‍্য পরিচায়ক এই গীতগোবিন্দের সংস্করণে প্রতিটি গানের এরকমভাবেই নৃত‍্যাঙ্গিকের বিবরণ দেওয়া আছে।গীতগোবিন্দের গীতিরূপ ছাড়াও নৃত‍্যরূপ যে শাস্ত্রসম্মত তারই পরিচায়ক এই অভিনয়-গ্রন্থ ও আলোচনা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের আন্তর ও সাঙ্গেতিক রূপ*

*🌻পূর্বে আমরা তাঞ্জোর-সরস্বতীমহল-প্রকাশিত Gitagobinda with Abhinaya গ্রন্থ থেকে "গীতগোবিন্দ" পদগানের নৃত্য-সম্পৃক্ত (সম্পৃক্ত মানে মিলিত) নাট‍্যরূপের কিছুটা পরিচয় দিয়েছি এবং সেই নৃত্যসম্পৃক্ত নাট‍্যশাস্ত্রকার "মুনি ভরত" ও অভিনয়দর্পণকার নন্দীকেশর-সমর্থিত নিয়ম-নীতির অনুরূপ তা স্পষ্ট বোঝা যায়।*
*🍀মুনি ভরত=ভরতের সঙ্গে "মুনি" শব্দ ব‍্যবহার করার উদ্দেশ্য এই যে,"ভরত" একটি উপাধি (title) বিশেষ এবং এই উপাধিধারী শাস্ত্রকার বা গ্রন্থকার আরও অনেক ছিলেন।নাট‍্যশাস্ত্র-রচয়িতা ভরতকে তাঁদের থেকে পৃথক করার জন্য তাই "মুনি" শব্দ তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।*
*🌻Gitagobinda with Abhinaya গ্রন্থে সম্পাদক বিদ্বান্ শ্রীবাসুদেব শাস্ত্রী মুখবন্ধে লিখেছেন--, Having thus been composed for the express purpose of Nritya,the Abhinaya for all the pieces must have been determined and preserved by tradition. But the traditional practice has suffered by the general break of tradition due to the foreign invasion and foreign in fluence. Fortunately for us, however, the Abhinaya for every word is found in two manuscripts, preserved in the saraswart-Mahal. ☆ ☆ The fact that the Abhinaya, given in here, agrees well with the Art in the Tanjore District, which is now the home of the purest tradition of Bharat-natya. It is itself sufficient to conclude that the work is pretty old.।*
*এ'প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে,গীতগোবিন্দ বা অষ্টপদী-গানের গোত্র বা পর্যায়-নির্ধারণ ব‍্যাপারে মতবাদ এবং মতভেদেরও অন্ত নেই।গীতিনাট‍্য,নৃত‍্যনাট‍্য,অতিনাটক, অপেরা,যাত্রা,খন্ডকাব‍্য এ' ধরণের বিচিত্র মন্তব‍্য গীতসম্বন্ধে করা হয়েছে।বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ উভয় বিচার-বিশ্লেষণভঙ্গীতে গীতগোবিন্দে সঙ্গীত ও কাব‍্যের মিশ্রণই স্পষ্ট এবং তা থেকে গীতগোবিন্দ যে নাট‍্যগীতি ও খন্ডকাব‍্য এই সিদ্ধান্তই অধিকাংশ মনীষী গ্রহণ করেছেন। কিন্তু জানি না, কেন তাঁরা এই গীতিকাব‍্যের নৃত্যসম্বলিত নাট‍্যরূপটির আলোচনা থেকে বিরত।একথা সত‍্য যে বিশেষ করে আখ‍্যান,নাটকীয়তা ও সঙ্গীত ত্রিধাতু অথবা ত্রিবৈশিষ্ঠ‍্য-সম্বলিত এই পদগান, কিন্তু এর নৃত্যসম্পৃক্ত নাট‍্যরূপের বৈশিষ্ট্যও কোন অংশে অবহেলার যোগ্য নয়।*
*আমরা পদাবলীকীর্তনের প্রাণকেন্দ্র ও উৎসস্বরূপ "গীতগোবিন্দ"-পদগানের নৃত‍্যসম্পৃক্ত নাট‍্যরূপের নিদর্শনসূচক বিশদ আলোচনা না করে কবি জয়দেব প্রদর্শিত একটিমাত্র সঙ্কেতশব্দেরই উল্লেখ করব।কবি চতুর্থ সর্গের নবম গানের প্রথম চরণে বলেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিতমিদমধিকং যদি মনসা নটনীয়ম্"।পূজারী গোস্বামী প্রভৃতি ভাষ‍্য ও টীকাকারদের অধিকাংশই "নটনীয়ম"শব্দের ব‍্যাখ‍্যা করেছেন "নর্তয়িতব‍্যম্" বা নর্তিতব‍্যম্", কিন্তু রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া"-টীকায় এর সঠিক মর্ম-বিশ্লেষণ করেছেন বলে মনে হয়।*
*রাণা কুম্ভা বলেছেন--, শ্রীজয়দেবেতি। হে বৈষ্ণবাঃ ; ইদং শ্রীজয়দেবভণিতং যদি মনসাধিকং নটনীয়মভিনেতব‍্যম। "নট"শব্দেনাত্র নাট‍্যস‍্যাভিনয়প্রধানাদভিনয়ো বিবক্ষিতঃ। অথবা নটনীয়মিত‍্যাস্বাদনীয়ম, রসনীয়মিতি যাবৎ। 'নাট‍্যশব্দো বসে মুখ‍্যঃ ইতি ভবতীয়ে।(◆নির্ণয়সাগর প্রেস, বোম্বাই প্রকাশিত "গীতগোবিন্দ" (নবম সংস্করণ, ১৯৪৯)পৃষ্ঠা--৮১)।তাছাড়া গীতগোবিন্দের রাগ-বিশ্লষণে আমরা লক্ষ্য করি যে,কবি জয়দেব প্রধানভাবে সঙ্গীত প্রকৃতির নির্দেশ দিয়ে যেভাবে সব গানের প্রবন্ধরূপ ও বিচিত্র রাগরূপের উল্লেখ করেছেন-- সেই সঙ্কেতের পূর্ণপরিচয় দিয়েরাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া"টীকায়।'গীতগোবিন্দ' পদগান যদি সত‍্যই রাখালী নাট‍গীতি বা যাত্রার পূর্বসূত্র নাটগীতি অথবা অপেরা হত তাহলে তাতে শাস্ত্রনির্দিষ্ট অভিজাত তথা ক্ল‍্যাসিক‍্যাল পর্যায়ের রাগ,তাল ও প্রবন্ধ-নির্বাচনের কোন সার্থকতাই থাকত না এবং সে' সম্বন্ধে বিশদভাবে আলোচনা করব কীর্তনের রাগ ও তালের বিশ্লেষণপ্রসঙ্গে। অবশ‍্য গীতিরস ও সাহিত‍্যরস আবেদনের দিক থেকে অনেকে গীতগোবিন্দকে গীতিরসার্দ্র "আখ‍্যানকাব‍্য" বলে সিদ্ধান্ত করেন এবং সে সিদ্ধান্ত সাহিত‍্যের রূপ ও রসদৃষ্টির দিক থেকে কিছুটা সত‍্য। মনে হয়,'গীতগোবিন্দ' পদগানের গোত্র বা পর্যায়-নির্ধারণ ব‍্যাপারে কেবলই রস ও ছন্দানুবিদ্ধ সাহিত‍্যদৃষ্টি কিংবা সঙ্গীতদৃষ্টি নিয়ে বিচার না করে সামগ্রিকভাবে এবং বিশেষ করে এর আনুসঙ্গিক অথবা অপরিহার্য সহায়কসামগ্রী শাস্ত্রীয় প্রবন্ধ,রাগ,তাল-মিলিত পদসাহিত‍্য,আখ‍্যান ও নৃত‍্যরূপেরই বিশ্লেষণ ও পর্য‍্যালোচনা করা প্রয়োজন।*
                *ধারাবাহিক*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের আন্তর ও সাঙ্গীতিক রূপ।*

*🍀এবার 'গীতগোবিন্দ'-পদগানমিলিত রাগ ও তালের কিছু আলোচনা এবং সঙ্গে সঙ্গে পদগানগুলির প্রবন্ধরূপ কি,তাদের পরিচয় দেবার চেষ্টা করি।আগেই বলৈছি যে,গীতগোবিন্দ-পদগান "প্রবন্ধশ্রেণীর গান"।যেমন প্রথম সর্গের দ্বিতীয় গান--, "বাগ্দেবতাচরিতচিত্রিতচিত্তসদ্মা পদ্মাবতীচরণচক্রবর্তী" প্রভৃতি পদের ব‍্যাখ‍্যায় পূজারী গোস্বামী বলেছেন--, এতৎ শ্রীগীতগোবিন্দাখ‍্য প্রবন্ধং প্রকর্ষেণ বাধ‍্যতে শ্রোতৃণাং হৃদয়মস্মিন্নিতি প্রবন্ধস্তং করোতি প্রকাশয়তি। রসমঞ্জরীকার বলেছেন--, জয়দেবকবিরেতং গীতগোবিন্দাখ‍্যং প্রবন্ধং করোতি। রসিকপ্রিয়া-টীকায় রাণা কুম্ভা বলেছেন--, কবিবিদানীং ☆ ☆ শৃঙ্গারোত্তর প্রবন্ধং কর্তুং প্রতিজানীতে বাগদেবতেতি।জয়দেব কবিবেতাং গীতগোবিন্দাভিধং প্রবন্ধং করোতি। অবশ‍্য এ সমস্ত টীকা বা ভাষ‍্যসিদ্ধান্ত কবি জয়দেবের "শ্রীবাসুদেবরতিকেলিকথাসমেতমেতং করোতি জয়দেবকবিঃ প্রবন্ধম্ পদাংশকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। প্রবন্ধের পরিচয় দিয়ে ভোজদেব বলেছেন---*
*🌷শৃঙ্গারৈকপ্রধানো যো গীততালাদিসংযুতঃ।*
*🌷অভিসারার্থনিপুণঃ প্রবন্ধঃ স প্রকীর্তিতঃ।।*
*🍀গীত অর্থে এখানে রাগ।তালযুক্ত হবে শৃঙ্গাররসাত্মক পদ এবং সে পদাভিপ্রায় হবে অভিসারপ্রধান। "অভিপ্রায়" শব্দে প্রয়োগ বুঝতে হবে।সঙ্গীতশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে,প্রকৃষ্টরূপে গান বা গীত পদবদ্ধ অর্থ‍্যাৎ রাগ,তাল,পাট,ধাতু,অঙ্গ প্রভৃতি দ্বারা সম্বন্ধ (বদ্ধ ও বন্ধ একার্থক) হলে তাকে "প্রবন্ধ" বলে। সুতরাং এই প্রবন্ধ-শব্দ থেকে আমরা বুঝি যে,গীতগোবিন্দ বা অষ্টপদীগান রাগ,তাল,অঙ্গ,ধাতু প্রভৃতি সমন্বিত হয়ে রূপায়িত হওয়া উচিত।*
*গীতগোবিন্দের ভাষ‍্য ও টীকাকারদের মধ্যে মনে হয় একমাত্র সঙ্গীতশাস্ত্রবিদ রাণা কুম্ভা ◆(রসিকপ্রিয়ার সূচনাশ্লোকে নিজেই বলেছেন-- "নত্বা মতঙ্গভবতপ্রমুখানাং সুগীতসংগীতশাস্ত্রনিপুণাঞ্জয়দেববাচম্"।এ' থেকে জয়দেবের সঙ্গীত-কুশলতার পরিচয়দানের সঙ্গে সঙ্গে রাণা কুম্ভা নিজের সঙ্গীতশাস্ত্রজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন বুঝতে হবে)।রাণা কুম্ভাই রাগ,তাল ও প্রবন্ধের সঙ্গে সঙ্গে কলা,রীতি,ছন্দ,লয়,অলঙ্কার ও বৃত্তিযুক্ত নাট‍্যগীতিরূপের সবিশেষ পরিচয় দিয়েছেন। যেমন জয়দেবের সূচনাগীতি "মেঘৈর্মেদুরম্বরং বনভুবঃ ☆ ☆ যমুনাকুলে রহঃ কেলয়ঃ। এই প্রথম পদ বা গানের রাগ,তাল,বৃত্তি, কলা প্রভৃতির পরিচয় দিয়ে রাণা কুম্ভা বলেছেন--"গমকালাপপেশলতায়া মধ‍্যমগ্রামে ষাড়বেন মধ‍্যমগৃহেণ মধ‍্যমাদিরাগেণ গীয়তে ☆ ☆ শৃঙ্গারাবস্থানসূচিকা কৌশিকীবৃত্তি। সংভাবিতা গীতিঃ।তস‍্যাশ্চ লক্ষণম্-- সমভাবিতা ভূরিগুরুর্দ্বিকলা বার্তিকে পথি।◆(এ' সম্বন্ধে সঙ্গীত-রত্নাকর ১|৮|১৯ শ্লোক দ্রষ্টব‍্য।সিংহভূপাল ও কল্পিনাথ টীকায় বিশদভাবে সংভাবিতাগীতির পরিচয় দিয়েছেন ব্রহ্মগীতির পর।সংভাবিতাগীতি গ্রামরাগের সংযোগে বিশেষভাবে প্রাচীনকালে গান করা হত)। মধ্যে লয়ঃ।অনুকূলো নায়কঃ স্বাধীনপতিকা নায়িকা।পূর্বার্ধেহভিলাষলক্ষণো বিপ্রলম্ভঃ।অপরার্ধে সংভোগশ্চ শৃঙ্গারঃ।☆ ☆ শাদুলবিক্রীত ছন্দঃ।◆(গমক,আলাপ,মধ‍্যমগ্রাম (গ্রাম তিনটি--, ষড়জ্, মধ‍্যম ও গান্ধার), মধ‍্যমগ্রহ অর্থে মধ‍্যমস্বরে গানের বা পদের আরম্ভ,মধ‍্যমাদি বা মধুমাধবীরাগ,ষাড়ব অর্থ‍্যাৎ ঐ রাগে ছ'টি মাত্র স্বরের সমাবেশ। কিন্তু মধ‍্যমাদি,মধুমাবতী বা মধুমাধবী রাগের প্রাচীন রূপ ঔড়ব অর্থ‍্যাৎ পাঁচটি স্বরের সমাবেশ এবং মধ‍্যমাদি ভৈরবরাগের প্রথম রাগিনী।মধ‍্যমগ্রহ (মধ‍্যমস্বরে আরম্ভ) এবং ঋষভ-ধৈবত-বর্জিত। বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতিতে মধ‍্যমাদি বা মধ‍্যমাধবীতে গান্ধার ও ধৈবত-বর্জিত, সুতরাং ঔড়ব (স বি ম প নি-কোমল)।দুটি কর বিশিষ্ট বার্তিক (লয়েরই সামিল) এবং মধ‍্যলয়ে গীত হবে )।এখানে প্রথম পদগান-সম্পর্কে রাণা কুম্ভা যে বলেছেন-- "সম্ভাবিতা গীতিঃ, শার্ঙ্গদেবও সঙ্গীত-রত্নাকরে সে প্রসঙ্গে বলেছেন--,"☆ ☆ দ্বিরিবৃত্তপদাং পরে।সংক্ষেপিতপদা ভূরিগুরুং সমভাবিতা মতা"(১|৮|১৯)।টীকাকার কল্পিনাথ ও সিংহভূপাল দু'জনেই এর ব‍্যাখ‍্যা-বিশ্লেষণ করেছেন।প্রাচীন সঙ্গীতশাস্ত্রী মতঙ্গও সম্ভাবিতার পরিচয় দিয়ে বলেছেন-- "সংক্ষিপ্তত সমভাব‍্যতে পদানাং যত্র সা সমভাবিতা"।মতঙ্গের এই ঊদ্ধৃতিবাক‍্য দিয়েছেন কল্পিনাথ তাঁর টীকায়।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের আন্তর সাঙ্গীতিক ও রূপ*

*🍀সিংহভূপাল এর অর্থ-বিশ্লেষণ করে বলেছেন--,"দ্বিরাবৃত্তে পদান্তরে যস‍্যাং সা সংক্ষেপিতপদা বহুগুরুযুতা সমভাবিতা গীতিঃ।প্রথমকলায়াং চত্বারি পদানি গীত্বা ভক্ত‍্যা দেবং রুদ্রং বন্দ ইতি,দ্বিতীয়কলায়াং মধ‍্যস্থং পদদ্বয়ং দ্বির্গীয়তে দেবং দেবং রুদ্রং রুদ্রমিতি,তৃতীয়কলায়াং প্রথমকলাবদ্ ভক্ত‍্যা দেবং রুদ্রং বন্দ ইতি"।শার্ঙ্গদেব এর গীতি ও স্বর-রূপের উল্লেখ করেছেন এভাবে--*
ধা মা মা বি গা বা গা সা সা
ভ ০ ক্ত‍্যা ০ ০ দে ০ বং ০
 নী ধা সা নী ধা নী মা মা
 রু ০ দ্রা ০ বন ০ দে ০

*🍀সেরকম গীতগোবিন্দের "মেঘৈর্মেদুরমম্বরং বনভূবঃ"-- প্রভৃতি দুটি পদের দু'বার আবৃত্তি এবং তৃতীয় কলায় প্রথম কলার মত চারটি পদের সমাবেশ থাকবে।সম্ভাবতাগীতি ব্রহ্মগীতির মত গ্রামরাগসম্পৃক্ত বা মিলিত হয়ে গীত হত স্বাধীনভাবে অথবা ধ্রুবাগীতির সঙ্গে।সংগীতশাস্ত্রবিদ্ রাণা কুম্ভা এইতত্ত্ব জানতেন, সুতরাং গীতগোবিন্দের প্রতিটি পদের প্রবন্ধ এবং সঙ্গীত-রূপ লক্ষ্য করার বিষয়।রাগ,তাল,লয় প্রভৃতিকে বাদ দিয়ে গীতগোবিন্দগান অর্থহীন।তাছাড়া নৃত্য ও নাট‍্যরূপ এর স্বতন্ত্র। সুতরাং এই সব দিক থেকে গীতগোবিন্দের গোত্র ও রূপ নির্ণয় করা সমীচীন বা উপযুক্ত।*
*🌺বিশেষ করে 'গীতগোবিন্দ'-পদগানের রাগ ও তাল সম্পর্কে আলোচনা করার আগে বলে রাখা সমীচীন যে,রাগনামের ও তালনামের ব‍্যাপারে পূজারী গোস্বামী ও অন‍্যান‍্য টীকা ও ভাষ‍্যকাররা একমত হলেও রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া"-টীকায় স্বাধীনভাবে একটি বিশ্লেষণরীতির উপস্থাপন করেছেন।তাঁর রাগনাম ও তালনামের কোন কোন অংশে অন‍্যান‍্য টীকাকারদের সঙ্গে মিল থাকলেও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পৃথক ও নতূন। "নির্ণয়সাগর-প্রেস" থেকে প্রকাশিত গীতগোবিন্দের(১৯৪৯ খ্রীঃ) পরিশিষ্টে দীপিকা,রসমঞ্জরী,রসিকপ্রিয়া, পদদ‍্যোতনিকা,বালবোধিনী ও সঞ্জীবিনী এই ছয়টি টীকার সমাবেশ করে তাদের মধ্যে রাগনাম ও তালনামের মধ্যে একটি ঐক‍্য ও অনৈক‍্য মতের তালিকার উল্লেখ করা হয়েছে।সেই বিশ্লেষণী তালিকা থেকে জানা যায় যে,রাগনামে ও তালনামে ছয়টি টীকার মধ্যে কিছু কিছু পার্থক্য থাকলেও মোটামুটিভাবে তারা এক।কিন্তু কার্য‍্যতঃ তা নয় বলেই আমাদের ধারণা হয় একমাত্র "রসিকপ্রিয়া" টীকার প্রমাণ থেকে। কেননা উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়,প্রথম অষ্টপদী "মালবগৌড়রাগেণ রূপক তালেন গীয়তে" এই রূপকতালে ও মালবগৌড়রাগে গান করার বিধি আছে যেখানে মূলে, সেখানে রসিকপ্রিয়াকার রাণা কুম্ভা।মূলানুসারে "মালবরাগেণ---প্রলয়েতি" শব্দ ব‍্যবহার করেও "প্রলয়পয়োধিজলে ধৃতবানসি বেদম্"*
*◆(গমক,আলাপ,মধ‍্যমগ্রাম (গ্রাম তিনটি--ষড়জ্,মধ‍্যম ও গান্ধার), মধ‍্যমগ্রহ অর্থে মধ‍্যমস্বরে গানের বা পদের আরম্ভ,মধ‍্যমাদি বা মধুমাবতী বা মধুমাধবী, ষাড়ব অর্থ‍্যাৎ ঐ রাগে ছ'টি মাত্র স্বরের সমাবেশ। কিন্তু মধ‍্যমাদি,মধুমাবতী বা মধুমাধবী, রাগের প্রাচীন রূপ ঔড়ব অর্থ‍্যাৎ পাঁচটি স্বরের সমাবেশ এবং মধ‍্যমাদি ভৈরবরাগের প্রথম রাগিনী।মধ‍্যম গ্রহ (মধ‍্যমস্বরে আরম্ভ) এবং ঋষভ-ধৈবত-বর্জিত। বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতিতে মধ‍্যমাদি বা মধ‍্যমাধবীতে গান্ধার ও ধৈবত-বর্জিত, সুতরাং ঔড়ব (স বি ম প নি-কোমল) দুটি কল বিশিষ্ট বার্তিক (লয়েরই সামিল) এবং মধ‍্যলয়ে গীত হবে)।*
*🍀প্রভৃতি পদগানকে "কীর্তিধবল-ছন্দ" এই অভিধা দিয়ে আদিতালে,বিলম্বিত লয়ে ও মধ‍্যমাদি তথা মধুমাধবীরাগে গান করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন--, অত্র প্রলয়পয়োধীত‍্যাদ‍্যেকাদশস্বপি পদেষু(◆প্রলয়পয়োধিজলে••••••১। থেকে "কেশব ধৃতদশবিধরূপ জয় জগদীশ হরে" এই ১১শ পদ পর্যন্ত কীর্তিধবল-ছন্দ) "কীর্তিধবলং নাম ছন্দঃ।তল্লক্ষণং যথা--"অযুজি পদে দ্বাদশৈব যুজি তু যস‍্য হি দশ রাষ্ট মাত্রাশ্চেৎ।পরমপি পদযুগমেবং তং কীর্তিধবলমিহ ধীরাঃ প্রাহুঃ।☆ ☆ ছন্দসা কীর্তিপূর্বেন ধবলেন বিনির্মিতঃ।পদান্তভোগরুচিরস্ততঃ পাটম্বরাঞ্চিতঃ।।দশাবতারকীর্ত‍্যাভ‍্যো ধবলোহয়ং প্রবন্ধরাট্।রাগোহত্র মধ‍্যমাদিঃ স‍্যাদাদিতালো বিলম্বিতঃ।লয়ঃ স‍্যান্মাগধী রীতিঃ শৃঙ্গারোহত্র রসঃ স্মৃতঃ।কীর্তনং বাসুদেবস‍্য বিনিয়োগো নৃত‍্যোৎসবে।।"সঙ্গীতরাজ গ্রন্থ রচয়িতা সঙ্গীতকুশল রাণা কুম্ভা এই প্রবন্ধের নামকরণ করেছেন "কীর্তিধবলপ্রবন্ধ"।ত্রয়োদশ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেব "সঙ্গীত-রত্নাকর" গ্রন্থে চতুর্থ প্রবন্ধ‍াধ‍্যায়ে বিচিত্র প্রবন্ধের পরিচয়প্রসঙ্গে "করণ" প্রবন্ধের উল্লেখ করেছেন এবং মঙ্গল,আনন্দবর্ধন, কীর্তিলহরী বা কীর্তিপূর্বিকালহরী এই প্রবন্ধ তিনটিকে করণপ্রবন্ধের অন্তর্গত বলেছেন। টীকাকার সিংহভূপাল কীর্তিলহরী প্রবন্ধের পরিচয়প্রসঙ্গে বলেছেন--, "যস্তু ধ্রুবস‍্যাধস্থানে উদগ্রাহদ্বিতীয়ার্ধং গীয়তে অন‍্যলক্ষণমানন্দবর্ধনবত্তদা কীর্তিলহরী।(◆সঙ্গীত-রত্নাকর ৪|১৪২,১৪৫)।ধবলপ্রবন্ধ-সম্পর্কে শার্ঙ্গদেব বলেছেন--,"আশীর্ভির্ধবলো গেয়ো ধবলাদিপদান্বিতঃ।যদ্দৃচ্ছয়া বা ধবলো গেয়ো লোকসিদ্ধিতঃ।ধবলপ্রবন্ধ আবার তিন শ্রেণীর--, কীর্তিধবল,বিজয়ধবল ও বিক্রমধবল।রাণা কুম্ভা পূর্বোক্ত কীর্তি বা কীর্তিলহরীপ্রবন্ধের কথা বলেছেন ধবলশ্রেণীর "কীর্তিধবল"-প্রবন্ধের কথা।"কীর্তিধবল"-প্রবন্ধের পরিচয় দিয়ে টীকাকার সিংহভূপাল বলেছেন--, "বিষমে প্রথমে তৃতীয়ে চ চরণে ছগণঃ ছগণদ্বয়ম্ ; সমে দ্বিতীয়ে চতুর্থে চ চরণে তগণঃ দগণো বাধিকঃ, তদা কীর্তিধবল"।"তদা স‍্যাৎ কীর্তিধবলো" বোলে শার্ঙ্গদেব কীর্তিধবল-প্রবন্ধের পরিচয় দিয়েছেন।এই প্রবন্ধে চারটি চরণ থাকে,দুইটি বিষম ও দুটি সম-চরণ।দুটি বিষম-চরণে অর্থ‍্যাৎ প্রথম ও তৃতীয় চরণে দুটি করে ছ-গণ থাকে,আর সম-চরণে অর্থ‍্যাৎ দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে তাছাড়া ত-গণ বা দ-গণ থাকে। সুতরাং বিষম-চরণে দুটি ছ-গণ থাকলে মোট বারোটি মাত্রার সমষ্টি এবং সম-চরণে সঙ্গে ত-গণ, সুতরাং আরো তিনটি মাত্রা তার সঙ্গে যুক্ত হলে পনের মাত্রার সমষ্টি হয়,আর দ-গণ তাতে সংযুক্ত হলে মাত্রার সংখ্যা হয় চোদ্দ।(◆এই সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ কল্পিনাথ ও সিংহভূপালের টীকা দ্রষ্টব‍্য)।*
*🌺এ'ভাবে রাণা কুম্ভা "গীতগোবিন্দ" পদগানের পদগুলিতে শাস্ত্রীয় অভিজাত তথা ক্ল‍্যাসিক‍্যাল রাগ,তাল,প্রবন্ধ প্রভৃতির সমাবেশের উল্লেখ করেছেন।এর পরে আমরা সমস্তগুলি রাগ,তাল ও প্রবন্ধের এবং সঙ্গে সঙ্গে পদসাহিত‍্যের বৃত্তি,রীতি, অলংকার প্রভৃতির আলোচনা করব,কেননা,পরবর্তী পদাবলী কীর্তনের অঙ্গাভরণরূপেও এগুলি গৃহীত হয়েছে।*
🎷🎷📯📯🎺🎺🎻🎻🎸🎸🎻🎺📯
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                     *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹এই পদ‍্যটি শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতেও ধৃত হয়েছে।কুলীন গ্রামের শ্রীরামানন্দ বসু ও সত‍্যরাজ খাঁ মহাপ্রভুর কাছে এই নিবেদন করেন যে----*
*🌷গৃহস্থ বিষয়ী আমি কি মোর সাধনে।*
*🌷শ্রীমুখে আজ্ঞা কর প্রভু নিবেদি চরণে।।*
*🌷প্রভু কহে কৃষ্ণ সেবা বৈষ্ণব সেবন।*
*🌷নিরন্তর কর কৃষ্ণ-নাম-সংকীর্তন।।*
*🌷সত‍্যরাজ কহে বৈষ্ণব চিনিব কেমনে।*
*🌷কে বৈষ্ণব কহ তার সামান্য লক্ষণে।।*
*🌷প্রভু করে যার মুখে শুনি একবার।*
*🌷কৃষ্ণনাম পূজ‍্য সেই শ্রেষ্ঠ সবাকার।।*
*🌷এক কৃষ্ণ নামে করে সর্বপাপ ক্ষয়।*
*🌷নববিধ ভক্তিপূর্ণ নাম হৈতে হয়।।*
*🌷দীক্ষা পুরশ্চর্য‍্য বিধি অপেক্ষা না করে।*
*🌷জিহ্বাস্পর্শে আচন্ডালে সবারে উদ্ধারে।।*
*🌷আনুসঙ্গ ফলে করে সংসারের ক্ষয়।*
*🌷চিত্ত আকর্ষিয়া করে কৃষ্ণপ্রেমোদয়।।*
*🌷অতএব যার মুখে এক কৃষ্ণনাম।*
*🌷সেই বৈষ্ণব--- করি তার পরম সম্মান।।*

*🌹শ্রীমদ্ ভবানন্দ কবিকৃত পদ‍্য--*

*🌷বিচেয়ানি বিচার্য‍্যানি বিচিন্ত‍্যানি পুনঃ পুনঃ।*
*🌷কৃপণস‍্য ধনানীব ত্বন্নামানি ভবন্তু নঃ।।*

*🌻হে ভগবন্! কৃপণগণের ধনের মত তোমার নাম সব আমাদের সঞ্চয়ের বস্তু,বিচারের বস্তু ও সর্বদাই পরিচিন্তনীয় বস্তু হন।*

           *🙏নাম-সংকীর্তন-----*
*🌷শ্রীরামেতি জনার্দ্দনেতি জগতাং নামেতি নারায়ণে।*
*🌷ত‍্যানন্দেতি দয়াপরেতি কমলাকান্তেতি কৃষ্ণেতি চ।।*
*🌷শ্রীমন্নামমহামৃতাব্ধি-লহরি কল্লোলমগ্নং মুহু।*
*🌷র্মুহ‍্যন্তংগলদশ্রুনেত্রমবশং মাং নাথ নিত‍্যং কুরু।।*

*(২) শ্রীলক্ষ্মীধর কৃত----*
*🌷শ্রীকান্ত কৃষ্ণ করুণাময় কঞ্জনাভ,*
*🌷কৈবল‍্যবল্লভ মুকুন্দ মুরান্তকেতি।*
*🌷নামাবলীং বিমলমৌক্তিকহার-লক্ষ্মী-,*
*🌷লাবণ‍্য-বঞ্চনকরীং করবাম কন্ঠে।।*
*(৩)*
*🌷হে গোপালক হে কৃপাজলনিধে হে সিন্ধুকন‍্যাপতে,*
*🌷হে কংসান্তক হে গজেন্দ্র-করুণা-পারীণ হে মাধব।*
*🌷হে রামানুজ হে জগৎত্রয়গুরো হে পুন্ডরীকাক্ষ মাং,*
*🌷হে গোপীজননাথ পালয় পরং জানামি ন ত্বাং বিনা।*
*(৪)-------*
*🌷শ্রীনারায়ণ পূন্ডরীক-নয়ন শ্রীরাম সীতাপতে।*
*🌷গোবিন্দাচ‍্যুত নন্দ-নন্দন মুকুন্দানন্দ দামোদর।।*
*🌷বিষ্ণো রাঘব বসুদেব নৃহরে দেবেন্দ্র-চূড়ামণে।*
*🌷সংসারার্ণব-কর্ণধারক হরে শ্রীকৃষ্ণ তুভ‍্যং নমঃ।।*
*(৫)-------*
*🌷হে ভান্ডীরেশ শিখন্ড-খন্ডন বর শ্রীখন্ড-লিপ্তাঙ্গ হে।*
*🌷বৃন্দারণ‍্য-পুরন্দর স্ফুরদমন্দেন্দীবর-শ‍্যামল।।*
*🌷কালিন্দী-প্রিয় নন্দ-নন্দন পরানন্দারবিন্দেক্ষণ।*
*🌷শ্রীগোবিন্দ মুকুন্দ সুন্দরতনো মাং দীনমানন্দয়।।*
                 *(শ্রীপাদ গোপালভট্টকৃত)*
                 👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী মহোদয় কৃত শ্রীবৃহদ্ভাগবতামৃত গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ডের তৃতীয় অধ‍্যায় হতে উদ্ধৃত।*

*🌷পরং শ্রীমৎপদাম্ভোজ সদা সঙ্গত‍্যপেক্ষয়া।*
*🌷নাম-সঙ্কীর্তন-প্রায়াং বিশুদ্ধাং ভক্তিমাচর।।১৪৪*

*🌻শ্রীশ্রীভগবানের শ্রীপাদপদ্ম-সঙ্গের উদ্দেশ্যে কর্ম-জ্ঞানাদি-বিবর্জ্জিতা (সম্পূর্ণ পরিত‍্যাগ করে)শ্রীনাম-কীর্তন-বহুলা ভক্তির অনুষ্ঠান কর।*

*🌷তয়াশু তাদৃশী প্রেমসম্পদুৎপাদয়িয‍্যতে।*
*🌷যয়া সুখং তে ভবিতা বৈকুন্ঠে কৃষ্ণদর্শনম্।।*

*🌻নাম-সঙ্কীর্তনময়ী ভক্তির প্রভাবে তোমার হৃদয়ে প্রেমের আবির্ভাব হবে।সেই প্রেম-প্রভাবে পরম-সুখে বৈকুন্ঠে শ্রীকৃষ্ণ দর্শন হবে।*

*🌹এ সম্বন্ধে শ্রীভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধে পঞ্চদশ (১৫) অধ‍্যায়ে ব্রহ্মার উক্তিতে একটি পদ‍্য আছে।সেটি এই--*

*🌷যচ্চ ব্রজন্ত‍্যনিমিষামৃষভানুবৃত্ত‍্যা।*
*🌷দুরেযমা হ‍্যুপরি নঃ স্পৃহনীয়শীলাঃ।।*
*🌷ভর্ত্তু র্মিথঃ সুযশসঃ কথনানুরাগ-।*
*🌷বৈক্লব‍্যবাষ্পকলয়া পুলকীকৃতঙ্গাঃ।।*

*🌹এই উক্তিকে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাওয়া যায়----*

*🌷নিত‍্য সিদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম সাধ‍্য কভু নয়।*
*🌷শ্রবণাদি-শুদ্ধ চিত্তে করায় উদয়।।*

*🌻শ্রীনাম-সঙ্কীর্তনময়ী ভক্তির অনুষ্ঠানে শুদ্ধ হৃদয়ে প্রেমের আবির্ভাব হয়।ফলে প্রেম আত্মনিষ্ঠ বস্তু,সেটি নিত‍্য, সুতরাং উৎপাদ‍্য (নূতন করে জন্ম) নয়।শ্রীনাম-কীর্তনে চিত্তে প্রেম-আবির্ভাব-যোগ‍্যতা সাধিত হয়। এই অবস্থায় অকৈতব (সরল মনে) শ্রীকৃষ্ণপ্রেম আত্মায় প্রকটিত হন।শ্রীকৃষ্ণ-প্রেমই সব-সাধনায় প্রয়োজন।শ্রীনামকীর্তনে সেই প্রেম লব্ধ বা লাভ হয়। ◆এ সম্বন্ধে শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর সবিশেষ উপদেশ আছে।তা এইরকম--যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে "তৃণাদপি" শ্লোক ব‍্যাখ‍্যায়,-----*

*🌷যেরূপে লইলে নাম হয় প্রেমোদয়।*
*🌷তাহার লক্ষণ কহি শুন স্বরূপ রামরায়।।*
*🌷উত্তম হৈয়া আপনাকে মানে তৃণাধম।*
*🌷দুই প্রকারে সহিষ্ণুতা করে বৃক্ষ সম।।*
*🌷বৃক্ষ যেন কাটিলেহ কিছু না বোলয়।*
*🌷শুকাইয়া মৈলে কারে পাণি না মাগয়।।*
*🌷যেই যে মাগয়ে তারে দেয় আপন ধন।*
*🌷ঘর্ম্ম বৃষ্টি সহি অন‍্যেরে করয়ে রক্ষণ।।*
*🌷এই মত হৈয়া যেই কৃষ্ণ নাম লয়।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণ চরণে তার প্রেম উপজয়।।*

*🍀প্রেম্নোহন্তরঙ্গং কিল সাধনোত্তমং,*
*🍀মন‍্যেত কশ্চিৎ স্মরণং ন কীর্তনন্।*
*🍀একেন্দ্রিয়ে বাচি বিচেতনে সুখম্,*
*🍀ভক্তিঃ স্ফুরত‍্যাশু হি কীর্তনাত্মিকা।।*

*🌻তপোলোকবাসী যোগীন্দ্রগণ মনে করেন, ভক্তি প্রকারের মধ্যে স্মরণই সর্বোত্তম সাধক। পিপ্পলায়নাদি মুনীন্দ্রগণের এই ধারণার সম্বন্ধে ইহাই বলা যেতে পারে, স্মরণ প্রেমের অন্তরঙ্গ সাধন বটে, কিন্তু তাঁরা বলেন ইহাই অন্তরঙ্গ সাধনের মুখ‍্যতম ; কীর্তন সেরকম নয়।কেননা,শ্রীনামকীর্তন কেবল একমাত্র অচেতন কর্মেন্দ্রিয়--বাক‍্যে স্ফুরিত হয়ে থাকেন।তাতে কীর্তনাত্মিকা ভক্তি আশু (তাড়াতাড়ি) কিঞ্চিৎ সুখ দান করতে পারেন।কীর্তনরূপা ভক্তি যেমন সহজ লভ‍্য, সেটির ফল তেমনই কম।*

*🌷ভক্তিঃ প্রকৃষ্টা স্মরণাত্মিকহস্মিন্,*
*🌷সর্বেন্দ্রিয়ানামধিপে বিলোলে,*
*🌷ঘোরে বলিষ্ঠে মনসি প্রয়াসৈ-,*
*🌷র্নীতে বশং ভাতি বিশোধিতে যা।*

*🌻স্মরণাত্মিকা ভক্তি কীর্তনাত্মিক ভক্তি হতে শ্রেষ্ঠ।এটি যেমন সহজ লভ‍্য নয়,তেমনি ইহার ফলই অকিঞ্চিকর(যৎসামান‍্য) নয়।বহু চেষ্টায় দুর্বার চঞ্চল মন ধীরে ধীরে শোধন হয়।মন ইন্দ্রিয়গণের অধীশ্বর। এমন বলিষ্ঠ মনে যখন স্মরণাত্মিকা ভক্তির স্ফুরণ(উদয়) হয়,সে ভক্তি কীর্তনাত্মিকা ভক্তি হতে শ্রেষ্ঠ হবেন, তা আর বলবার অপেক্ষা কি?মন যখন সর্বেন্দ্রিয়ের রাজা, তখন অচেতন কর্মেন্দ্রিয় অপেক্ষা জ্ঞানেন্দ্রিয়ের রাজা মনের আসন আবশ্যক উচ্চতম। আর সেই মনের উপরেই যখন স্মরণাত্মিকা ভক্তি অধিকার বিস্তার করেন,তখন স্মরণাত্মিকা ভক্তি কীর্তনাত্মিকা ভক্তি অপেক্ষা যে শ্রেষ্ঠ তা সহজেই বোধগম্য।এটি পূর্বপক্ষের সিদ্ধান্ত -- স্বমতের নয়।স্বপক্ষের প্রতিবাদ এই যে --*
*🌹মনের শাসন তো সহজ নয়।শ্রীভাগবতে একাদশ স্কন্ধে ভিক্ষুগীতায় উক্ত হয়েছে ---*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                   *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹শ্রীভাগবতের একাদশ স্কন্ধে ভিক্ষুগীতায় উক্ত হয়েছে।*

*🌷মনোবশেহন‍্যেহ‍্যভবন্ স্ম দেবা,*
*🌷মনশ্চ নান‍্যস‍্য বশং সমেতি,*
*🌷ভীষ্মো হি দেব সহসঃ সহীয়ান্,*
*🌷যুঞ্জাদ্বশং তং স হি দেবদেবঃ।*

*🌻অন‍্যান‍্য দেবগণ মনেরই বশীভূত কিন্তু মন কারও বশীভূত না। কিন্তু ভীষ্মদেব অতি মহান, তিনি এমন মনকেও স্ববশে এনেছিলেন, সেই জন্য তিনি "দেব-দেব" সংজ্ঞায় অভিহিত।*

*🌹আরও---------------*

*🌷দানং স্বধর্মো নিয়মো যমশ্চ,*
*🌷শ্রুতঞ্চ কর্মানি চ সদ্ ব্রতানি,*
*🌷সর্বে মনো নিগ্রহ-লক্ষণান্তাঃ,*
*🌷পরো হি যোগো মনসাঃ সমাধিঃ।*

*🌻দান স্বধর্ম নিয়ম যম, বেদাধ‍্যয়ন কর্ম সদ্ ব্রতসমূহ এতৎ সবই মনোনিগ্রহ দ্বারা সম্পন্ন হয়ে থাকে।মনের সমাধিই পরম যোগ।এমন বস্তুকে বশীকরণে যে সাধন-- সমর্থ ও সিদ্ধহস্ত তার শ্রেষ্ঠতা সম্বন্ধে বেশী বলাই বাহুল‍্য।*
*🍀এই রকমে পরমতের উল্লেখ ও তারপক্ষে সিদ্ধান্ত সন্নিবেশ করে এখন স্বমত স্থাপন ও পরমত খন্ডন করার জন্য শ্রীপাদ গোস্বামী লিখেছেন----*
*🌷মন‍্যামহে কীর্তনমেব সত্তমং,*
*🌷লীলাত্মকৈক স্বহৃদি স্ফুরৎ স্মৃতে।*
*🌷র্বাচি স্বযুক্তে মনসি শ্রুতৌ তথা,*
*🌷দীব‍্যৎ পরানপ‍্যুপকুর্ব্বদাত্মবৎ।।*

*🌻কিন্তু আমরা একমাত্র চঞ্চল হৃদয়ে স্ফুর্তি প্রাপ্ত স্মরণ অপেক্ষা কীর্তনকেই শ্রেষ্ঠতম বলে মনে করি।কেন না কীর্তন স্বয়ং কথায় স্ফূর্ত হলেও সূক্ষ্মরূপে সেটি মনের সঙ্গেও সংযুক্ত হয়।মনের সঙ্গে সর্বেন্দ্রিয়ের সহজ সংযোগ অতি প্রসিদ্ধ। তা না হলে বিষয় গ্রহণই অসম্ভব হয়ে পড়ে।যা বাগিন্দ্রিয়গ্রাহ‍্য তা সূক্ষ্মরূপে মনোগ্রাহ‍্যও হয়ে থাকে।কীর্তন যে কেবল বাগিন্দ্রিয় (মুখ) গ্রাহ‍্য মাত্র, এমনও নয়,কীর্তন-ধ্বনি প্রবেশ করেন,তাঁরা ও সাক্ষাৎ নাম সেবকের মত উপকৃত হন।কীর্তনের এতই বিশাল প্রভাব।স্মরণ দ্বারা এত ফল লাভ হয় না।*
*🍀শ্রীকৃষ্ণ-নাম কীর্তনের এই বহুল ইন্দিয়-গ্রাহ‍্যতা সম্বন্ধে শ্রীপাদ সনাতন অনুজ শ্রীমৎ রূপ গোস্বামী মহোদয়ের কৃত শ্রীবিদগ্ধ মাধব নাটকে একটি অত‍্যুত্তম পদ‍্য দেখা যায়, তদ্ যথা--*

*🌷তুন্ডে তান্ডবিনী রতিং বিতনুতে তুন্ডাবলী-লব্ধয়ে,*
*🌷কর্ণক্রোড়করম্বিনী ঘটয়তে কর্ণার্বুদেভ‍্যঃ স্পৃহাম্।*
*🌷চেতঃ-প্রাঙ্গন-সঙ্গিনী বিজয়তে সর্বেন্দ্রিয়ানাং কৃতিম,*
*🌷নো জানে জনিতা কিয়দ্ভিরমৃতৈঃ কৃষ্ণেতি বর্ণদ্বয়ী।।*

*🌻হে সখী!"কৃষ্ণ"এই দুইটি বর্ণ যে কি অমৃত-দ্বারা বিরচিত হয়েছে,তা বাক‍্যের অতীত।মুখে যখন এই দুই বর্ণের তান্ডব স্ফূর্তি হয়,রসনা যখন এই দুই বর্ণ নিয়ে তান্ডব নৃত্য আরম্ভ করে,তখন মনে হয়,এক মুখ এই আনন্দময় ব‍্যাপারের জন্য যথেষ্ট না।বিধাতা যদি কোটি কোটি মুখ দিতেন তবে এই শ্রীনাম-গ্রণের পিপাসা মিটত,কানের ভিতর যখন এই মধুময় বর্ণদ্বয় প্রবেশ করে,তখন মনে হয় কোটি কোটি কানে এই সুধাময়ীধ্বনি শুনলে বুঝি কানের পিপাসা তৃপ্তি হত।এই পীযূষ বা অমৃত মাখা বর্ণদ্বয় যখন চিত্তভূমির প্রাঙ্গন স্পর্শ করেন তখন সকল ইন্দ্রিয়ের স্ব-স্ব বৃত্তি নিরস্ত করে দিয়ে চিত্ত তখন শ্রীকৃষ্ণ-নাম-সুধা-রসে পাগল হন-- সমস্ত ইন্দ্রিয় তখন স্বকীয় ব‍্যাপার হতে নিরস্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণনামের এমনই মহামাধুরীময় রসাস্বাদে বিভোর হয়।সখী!শ্রীকৃষ্ণনামের এমনই মহামাধুরীমা যে সেটি বর্ণনা করে প্রকাশের ভাষা পাওয়া যায় না। মানুষের ভাষায় তা প্রকাশ পায় না।এমন কি মানুষের জ্ঞানও এই শ্রীনামের মহামহিমা পরিজ্ঞানে বিহ্বল হয়ে পড়ে।*
                 🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹এই পদ‍্যটি সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বিশেষ বর্ণনা দেখা যায়, যথা-----*

*🌷চাতুর্মাস‍্য রহি গৌড়ে বৈষ্ণব চলিলা।*
*🌷রূপ গোসাঞী মহাপ্রভুর চরণে রহিলা।।*
*🌷একদিন রূপ করেন নাটক লিখন।*
*🌷আচম্বিতে মহাপ্রভুর হৈল আগমন।।*
*🌷সম্ভ্রমেতে দুঁহু উঠি দন্ডবৎ হৈলা।*
*🌷দোঁহে আলিঙ্গিয়া প্রভু আসনে বসিলা।।*
*🌷কাহা পুঁথি লিখ বলি এক পত্র নিল।*
*🌷অক্ষর দেখিয়া প্রভু মহাসুখী হইল।।*
*🌷শ্রীরূপের অক্ষর যেন মুকুতার পাঁতি।*
*🌷প্রীত হৈঞা করে প্রভু অক্ষরের স্তুতি।।*
*🌷সেই পত্রে প্রভু এক শ্লোক দেখিল।*
*🌷পড়িতেই শ্লোক প্রভু প্রেমাবিষ্ট হৈল।।*
*🌷শ্লোক শুনি হরিদাস হইল উল্লাসী।*
*🌷নাচিতে লাগিল শ্লোকের অর্থ প্রশংসি।।*
*🌷কৃষ্ণনামের মহিমা শাস্ত্র সাধু মুখে জানি।*
*🌷নামের মহিমা ঐছে কাহা নাহি শুনি।।*
*🌷তবে মহাপ্রভু দোহে করি আলিঙ্গন।*
*🌷মধ‍্যাহ্ন করিতে সমুদ্রে করিলা গমন।।*
*🌷আর দিন মহাপ্রভু দেখি জগন্নাথ।*
*🌷সার্বভৌম রামানন্দ স্বরূপাদি সাথ।।*
*🌷সবে মেলি চলি আইলা শ্রীরূপ মিলিতে।*
*🌷পথে তাহার গুণ সবারে লাগিলা কহিতে।।*
*🌷দুই শ্লোক কহিতে প্রভুর হৈল মহাসুখ।*
*🌷নিজ ভক্তের গুণ কহে হয়ে পঞ্চমুখ।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভু এইভাবে শ্রীপাদরূপ গোস্বামীকৃত শ্রীবিদগ্ধমাধব নাটকের নান্দীমুখী প্রতি পৌর্ণমাসী বাক‍্যোক্ত "তুন্ডে তান্ডবিনী, পদ‍্যটি পাঠ করলেন।সকলেই আনন্দ ভাবে পদ‍্যটি শুনলেন।যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে মধ‍্য লীলা--*
*🌷যত ভক্তবৃন্দ আর রামানন্দ রায়।*
*🌷শ্লোক শুনি হৈল সবার আনন্দ-বিস্ময়।।*
*🌷সবে বলে নাম মহিমা শুনিয়াছি অপার।*
*🌷এমন মাধুর্য‍্য কেহ বর্ণে নাই আর।।*
*🌻ফলতঃ পদ‍্যটি চির নতূন ও চির মধুময়।শ্রীনামের এমনই মহিমা যে কেবল বাহ‍্যেন্দ্রিয়ের দ্বারা উচ্চারিত হলেও সেটি সর্বেন্দ্রিয়কেও নামরসে উন্মুখ ও উন্মথিত করে,এমন কি মানবচিত্ত পর্যন্ত ঐ নামরসে অভিষিক্ত হয়ে ইন্দ্রিয়দেরকে শ্রীভগবানের নামে নিযুক্ত করে তোলে।শ্রীনাম-কীর্তন কেবল অচেতন একমাত্র বাগিন্দ্রিয়কে অধিকার করে অল্পমাত্র আনন্দ প্রদান করেই ক্ষান্ত হন না,মহানুভব শ্রীপাদ গোস্বামী মহোদয়ের উক্ত প্রসিদ্ধ পদ‍্যটির সারবত্তায় তা সুস্পষ্টভাবের সপ্রমাণ হল।*

*🌷বাহ‍্যান্তরাশেষ-হৃষীকচালকং,*
*🌷বাগিন্দ্রিয়ং স‍্যাদ্ যদি সংযতং সদা।*
*🌷চিত্তং স্থিরং স‍্যাদ্ ভগবৎ স্মৃতৌ তদা,*
*🌷সম‍্যক্ প্রবর্ত্তেত ততঃ স্মৃতেঃ ফলম্।।*
*🌻যাঁরা ভগবৎ-ধ‍্যান-রসিক এবং কীর্তনের ফল-- ধ‍্যান বলেই যাঁদের ধারণা, এই পদ‍্য এবং ইহার পরবর্তী পদ‍্য দ্বারা তাঁদের সিদ্ধান্ত শ্রীপাদ গ্রন্থকার পরিহার করেছেন।পদার্থ এই যে বাগিন্দ্রিয়, বাহ‍্য ও অনন্তরেন্দ্রিয় সমূহের চালক।বাক‍্য দ্বারা ইন্দ্রিয় সমূহ সংক্ষুব্ধ হয় এই বাগিন্দ্রিয়কে যদি সতত সংযত করে রাখা যায় তাহলে চিত্ত স্থির হয়ে ভগবৎ স্মৃতিতে রত হয়।তাহলেই কীর্তন দ্বারা ভগবৎস্মৃতি জন্ম হয়। সুতরাং কীর্তনের ফল ভগবৎ স্মৃতি এটিই প্রতিপাদিত হয়।সেটি হতেই আবার ধ‍্যান-ফল পর্যন্ত লাভ হয়।কলিতে ধ‍্যানফলও সংকীর্তনেরই অন্তর্গত বলে শাস্ত্রে উক্ত হয়েছে।তা দীর্ঘকাল অনুষ্ঠান অপেক্ষ।*
*🙏জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌻এ সম্বন্ধে শাস্ত্রবাক‍্য এই যে--*

*🌷ধ‍্যায়ন কৃতে যজন স্ত্রেতায়াং দ্বাপরেহর্চ্চনৈঃ।*
*🌷যদাপ্নোতি তদাপ্নোতি কলৌ কেশব-কীর্তনাৎ।।*

*🌹অর্থ‍্যাৎ সত‍্যযুগে ধ‍্যানে যে ফল লাভ হত,ত্রেতাযুগে যজ্ঞ দ্বারা যে ফল লাভ হত,দ্বাপরযুগে অর্চনা দ্বারা যে ফল লাভ হত, কলিযুগে শ্রীভগবানের নামরূপ ও গুণাদির কীর্তন দ্বারাই সেই ফল লাভ হয়। কিন্তু তবুও ধ‍্যানের ফল ও কীর্তনের ফলে তারতম‍্য আছে।দীর্ঘকাল কঠোর অনুষ্ঠান আচরণ না করলে ধ‍্যান হয় না। কিন্তু কীর্তনের প্রভাব ধ‍্যান হতে অনেক বেশী বলবান্।অনন‍্যসাধারণ কলিদোষ কীর্তন দ্বারা যেরকম খন্ডন হয়, ধ‍্যানাদি অন‍্য সাধন দ্বারা সেরকম হয় না।*

*🌻শ্রীভাগবত বলেন-------*

*🌷কলের্দোষনিধেঃ রাজন্নস্তি হ‍্যেকং মহদ্ গুণম্।*
*🌷কৃষ্ণস‍্য কীর্তনাদেব মুক্তবন্ধঃ পরং ব্রজেৎ।।*

*🌹ইহাতে জানা যাচ্ছে ধ‍্যানাদি অপেক্ষা শ্রীনাম কীর্তনই শ্রেষ্ঠ।পূর্ব পক্ষ যদি বলেন, কলির মহাদোষ নিরসনে বা খন্ডনে ধ‍্যানাপেক্ষা নামেই মহামহিমা আছে,তা থাকুক,তা অস্বীকার করি না কিন্তু ধ‍্যান মাত্রে যে কলিদোষ গুলি বিনাশ প্রাপ্ত হয় না, ইহার তো কোনও যুক্তি দেখতে পাওয়া যায় না। অথচ কোনও প্রকারে শ্রীকৃষ্ণ-স্মরণমাত্রেই অশেষ পাপ ক্ষয় হয়, এরকম শতশত প্রমাণ আছে। এই সম্বন্ধে শ্রীপাদ গ্রন্থকার বলেছেন----*
*🌷এবং প্রভো র্ধ‍্যানরতৈর্মতং চেৎ,*
*🌷বুদ্ধ‍্যেদৃশং তত্র বিবেচনীয়ম্।*
*🌷ধ‍্যানং পরিস্ফুর্ত্তিবিশেষনিষ্ঠা,*
*🌷সম্বন্ধ-মাত্রা মনসা স্মৃতি হি।।*
*🌻যাঁরা শ্রীগোবিন্দের ধ‍্যান-নিরতভক্ত,(ধ‍্যানে সবসময়ই যুক্ত ভক্ত),তাঁদের ধ‍্যানাদি বিষয়ক এই যুক্তি সম্বন্ধে এটিই বিবেচনীয়। ধ‍্যান,শ্রীভগবানের সর্বতোভাবে স্ফুর্তি বিশেষ--,অর্থ‍্যাৎ চিত্তক্ষেত্রে শ্রীকেশ হতে শ্রীপাদপদ্ম পর্যন্ত তাঁর লাবণ‍্য মাধুর্য‍্যাদি পরিস্ফুরণ-পূর্বিকা সাক্ষাৎ দর্শনবৎ অভিব‍্যক্তির যে পরিপাক,তাহাই ধ‍্যান।আর স্মৃতি এই যে, মন দ্বারা তাঁর সম্বন্ধমাত্র--তাঁর অস্তিত্বানুভব,তিনি আমার প্রভু,আমি তাঁর দাস,এই সম্বন্ধ মাত্রস্মরণই স্মৃতি।*
*🌻ধ‍্যান ও স্মৃতির এইরকম সংজ্ঞা প্রদান করে শ্রীপাদ লিখেছেন--*
*🌷চেদ্ ধ‍্যানযোগাৎ খলু চিত্তবৃত্তা-,*
*🌷বন্তর্ভবন্তীন্দ্রিয়বৃত্তয় স্তা।*
*🌷সংকীর্তনস্পর্শনদর্শনাদ‍্য,*
*🌷ধ‍্যানং তদা কীর্তনতস্তু বর্য‍্যম্।।*
*🌻যদি ধ‍্যান-বেগে বাক্ ত্বক চক্ষু প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গুলির বৃত্তিস্বরূপ, কীর্তন-স্পর্শন-দর্শনাদি, প্রবলবেগে চিত্তের মধ্যে প্রকাশ পায় তাহলে কীর্তন অপেক্ষা ধ‍্যানের শ্রেষ্ঠতা স্বীকার করা যেতে পারে।*
*🌷প্রীতির্যতো যস‍্য সুখঞ্চ যেন,*
*🌷সম‍্যগ্ ভবেৎ তদ্ রসিকস‍্য তস‍্য,*
*🌷তৎসাধনা শ্রেষ্ঠতমা সুসেব‍্যা,*
*🌷সদ্ ভির্মতা প্রত‍্যুত সাধ‍্যরূপম্।*
*🌻যাঁর যেরকম সাধনায় সম‍্যক্ (সর্বপ্রকারে)প্রীতি সুখ হয়,যিনি যে রসে রসিক,তাঁর পক্ষে তৎসাধনাই সুসেব‍্য ও শ্রেষ্ঠতম ; প্রত‍্যুত(পক্ষান্তরে) সেটিই সাধ‍্যরূপ। কিন্তু আমাদের মত এই যে যদি ধ‍্যান বেগে চিত্তক্ষেত্রে সংকীর্তন-স্পর্শন দর্শনরূপা মনোবৃত্তি ধারাগুলি আপতিত (দৈবাৎ বা হঠাৎ আগত) হয় এবং তাতেই চিত্ত রতি বা প্রেম প্রাপ্ত হয়,তাহলে কি করা কর্তব‍্য, যদি ইহারই বিচার করতে হয়,তবে এই পদ‍্যের যে অর্থ করা হয়েছে তাহাই কর্তব‍্য।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🍀আমরা কীর্তন ও ধ‍্যান উভয়েরই পক্ষপাতী,কেন-না------*
*🌷সঙ্কীর্ত্তনাদ্ধ‍্যান-সুখং বিবর্দ্ধতে,*
*🌷ধ‍্যানাচ্চ সঙ্কীর্ত্তনমাধুরী-সুখম্।*
*🌷অন‍্যোন‍্যসম্বর্দ্ধকতানুভূয়তে,*
*🌷হস্মাভিস্তয়ো স্তদ্দ্বয়মেকমেব তৎ।।*
*🌻সংকীর্তন দ্বারা ধ‍্যান সুখ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, আবার ধ‍্যান দ্বারা কীর্তনানন্দ, কীর্তন-মাধুরী-সুখ সম্বর্দ্ধিত(দৃঢ়রূপে বদ্ধ) হয়।উভয়েই পরস্পরের পোষক ও সম্বর্দ্ধক।তাহলে কাল-দেশাদির বিভাগ ব‍্যবস্থায় অন‍্যোন‍্যাশ্রয় দোষ ঘটে না। সুতরাং সংকীর্তন ও ধ‍্যান আমরা এক বলেই মনে করি,কেননা কার্য‍্য ও কারণ অভেদাত্মক।*

*🌷ধ‍্যানঞ্চ সঙ্কীর্ত্তনবৎ সুখপ্রদং,*
*🌷যদ্ বস্তুনোহভীষ্টতরস‍্য কস‍্যচিৎ।*
*🌷চিত্তেহনুভূত্বাপি যথেচ্ছমুদ্ভবেৎ,*
*🌷শান্তি স্তদেকাস্তি বিষক্তচেতসাম্।।*
*🌷যথা,জ্বররুজার্ত্তানাং শীতলামৃত পাথসঃ।*
*🌷মনঃ পানাদপি ক্রুট‍্যেৎ তৃড্ বৈকুল‍্যং সুখং ভবেৎ।।*
*🌷তৎ তৎ সঙ্কীর্ত্তনেনাপি তথা স‍্যাদ্ যদি শক‍্যতে।*
*🌷সতামথ বিবিক্তেহপি লজ্জা স‍্যাৎ স্বৈরকীর্তনে।।*
*🌷একাকিত্বেন তু ধ‍্যানং বিবিক্তে খলু সিদ্ধ‍্যতি।*
*🌷সঙ্কীর্ত্তনং বিবিক্তেহপি বহুনাং সঙ্গতোহপি চ।।*
*🌹ধ‍্যানও কীর্তনের মত সুখপ্রদ।যেহেতু প্রিতমের যে কোন বস্তুর অনুভবেও সুখ হয়।তাঁর যে কোন এক বিষয়ে যথেষ্টরূপ চিত্তে প্রবেশ হলে শান্তি জন্মে।দৃষ্টান্ত এই যে জ্বর-রোগীরা যেমন অমৃততুল‍্য শীতল জল মনে কল্পনা করে পান করেও তৃষ্ণা-বৈকুল‍্য হতে পরিত্রাণ ও সুখ পেয়ে থাকে। তদ্বৎ অভীষ্ট বস্তুর সংকীর্তনেও সংকীর্তনকারীর সুখ শান্তি ঘটে।যদিও তাঁর মানসিক নিখিল(সমস্ত) ভাবগুলির গ্রহণ, কীর্তনে সম্ভবপর হয়, কিন্তু তবুও মানসিক এমন গোপ‍্যভাবও অনেক আছে,যা কোন কোন সাধুভক্ত অতি একান্তেও ভাষায় স্বচ্ছন্দে প্রকাশ করতে লজ্জা বোধ করেন,অথচ মানসিক চিন্তনে অর্থ‍্যাৎ মনে আনন্দ অনুভব করেন।এ অবস্থায় ধ‍্যান অবশ্যই সমাদরণীয়।*
*🌷একাকিত্বেন তু ধ‍্যানং বিবিক্তে খলু সিদ্ধতি।*
*🌷সংকীর্তনং বিবিক্তেহপি বহনাং সঙ্গতেহপি বা।।*
*🌻একাকী নির্জন জায়গায় ধ‍্যান-সিদ্ধির অনুকূল। কিন্তু সংকীর্তন নির্জনে বা বহুলোক সমাকীর্ণ, উভয় জায়গায় সম্পন্ন হতে পারে।ফলে শ্রীসংকীর্তনই শ্রীগৌরগোবিন্দচরণাশ্রিত ভক্তগণের শ্রেষ্ঠ উপাসনা বলে সিদ্ধান্তিত হয়েছে।ধ‍্যানের বহু বাধা-বিঘ্ন আছে। কিন্তু সংকীর্তন সম্বন্ধে কোনও বাধাবিঘ্ন নেই। সুতরাং শ্রীনিমকীর্তনই সর্বশ্রেষ্ঠ।*
*🌷কৃষ্ণস‍্য নানাবিধকীর্তনেষু তন্নাম সঙ্কীর্ত্তনমেব মুখ‍্যম্।*
*🌷তৎ প্রেম-সম্পজ্জননে স্বয়ং দ্রাক্,*
*🌷শক্তং ততঃ শ্রেষ্ঠতমং মতং তৎ।।*
*🌻নানাপ্রকার আকারে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের উল্লেখ দেখা যায়।বেদ-পুরাণাদি পাঠ,কথা,গীত ইত্যাদিতে বহু প্রকারে শ্রীকৃষ্ণ-বিষয়ে কীর্তন হয়ে থাকে।তন্মধ‍্যে শ্রীনামসংকীর্তনই মুখ‍্য।কেননা এতদ্বারা অতি শীঘ্র শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের আবির্ভাব হয়।এতে অন‍্য সাধনের আবশ্যক হয় না।এমন কি নিজে শ্রীনাম সাধন না করে যদি কেবল শ্রবণ করা যায় তাহলেও সদ‍্য সদ‍্যই শ্রীভগবান হৃদয়ে অবরুদ্ধ হয়ে ভক্তহৃদয়ে প্রেম-প্রকটন করেন।এই শ্রীনাম সাধন,অন‍্যান‍্য সাধন নিরপেক্ষভাবেও স্বতঃই প্রয়োজন সিদ্ধ করেন।এই জন্য ইহা ধ‍্যান হতেও শ্রেষ্ঠ সাধন।ইহাই সাধুশাস্ত্রের বিশেষকরে শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দ-পদারবিন্দ মকরন্দ পান পিপাসু সুপ্রেমিক বৈষ্ণব আচার্য‍্যগণের অবিসম্বাদিত(বাধাহীন) সিদ্ধান্ত।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
*🌷শ্রীকৃষ্ণনামামৃতমাত্মহৃদ‍্যং,*
*🌷প্রেম্না সমাস্বাদনভঙ্গিপূর্বম্।*
*🌷যৎ সেব‍্যতে জিহ্বিকয়াহবিরামং,*
*🌷তস‍্যাতুলং জল্পতু কো মহত্ত্বম্।।*
*🌻যিনি আত্মহৃদ‍্য(নিজ হৃদয় থেকে ) শ্রীকৃষ্ণনাম প্রেম সহকারে আস্বাদন-ভঙ্গি-বৈচিত্র‍্যসহ অবিরাম নিজ রসনায় সেবা করেন তাঁর মহত্ত্ব বলতে কেউই সমর্থ নন।*

*🌷সর্বেষাং ভগবন্নাম্নাং সমানো মহিমাপি চেৎ।*
*🌷তথাপি স্বপ্রিয়েনাশু স্বার্থসিদ্ধিঃ সুখং ভবেৎ।।*
*🌻যদিও শ্রীভগবানের নামগুলি সমান মহিমা,তবুও শ্রীনাম-সাধকের স্বকীয় প্রিয় শ্রীনাম-গ্রহণে স্বার্থসিদ্ধি ও সুখ জন্মে।*

*🌷বিচিত্র-রুচি-লোকানাং ক্রমাৎ সর্বেষু নামসু।*
*🌷প্রিয়তা সম্ভবেৎ তানি সর্বাণি স‍্যুঃ প্রিয়াণি হি।।*

*🌻লোকগণের ভিন্ন ভিন্ন রুচি। তদনুসারে ভিন্ন ভিন্ন ব‍্যক্তিগণের কাছে ভিন্ন ভিন্ন নাম প্রিয় হয়।এইভাবে শ্রীভগবানের সব নামই যে ভক্তগণের প্রিয় হন,তাতে আর সন্দেহ কি?*

*🌷একস্মিন্নিন্দ্রিয়ে প্রাদুর্ভূতং নামামৃতং রসৈঃ।*
*🌷আপ্লাবয়তি সর্বানীন্দ্রিয়াণি মধুরৈ নিজৈঃ।।*

*🌻শ্রীভগবানের নাম কেবল মাত্র মুখ দিয়ে উচ্চারণ হলেই নিজ মধুর রসে সর্ব ইন্দ্রিয়কেই সমাপ্লুত(সমানভাবে আনন্দ প্রদান) করেন।*

*
*🌷মুখ‍্যো বাগিন্দ্রিয়ে তস‍্যোদয়ঃ স্বপর-হর্ষদঃ।*
*🌷তৎপ্রভো র্ধ‍্যানতোহপি স‍্যান্নাম সংকীর্তন বরম্।।*

*🌻বাগিন্দ্রিয়েই (যে ইন্দ্রিয় দিয়ে কথা বলা হয় অর্থ‍্যাৎ মুখই)শ্রীনাম কীর্তনের মুখ‍্য উদয়--এবং এই নাম উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন করলে আত্মসুখ ও পরের সুখ উপজাত বা জন্ম হয়।ধ‍্যানে কেবল নিজের উপকার ও নিজের আনন্দ হয়। কিন্তু শ্রীনাম-সঙ্কীর্তনে নিজ-পর সকলেরই উপকার ও সকলেরই আনন্দ হয়ে থাকে। সুতরাং ধ‍্যান হতে সঙ্কীর্তন শ্রেষ্ঠ।*

*🌷নাম-সংকীর্তনং প্রোক্তং কৃষ্ণস‍্য প্রেম-সম্পদি।*
*🌷বলিষ্ঠং সাধনং শ্রেষ্ঠং পরমাকর্ষ-মন্ত্রবৎ।।*

*🌻প্রেমসম্পৎ লাভের অতি অন্তরঙ্গ সাধকতম বলে শ্রীকৃষ্ণের নামসঙ্কীর্তন অতি বলিষ্ঠ সাধন।এটি মন্ত্রবৎ শ্রীভগবদাকর্ষক।সরল ব‍্যাকুল অন্তরে শ্রীভগবানের নাম করলে তাদৃশ (তেমন) ভক্তের আহ্বানে শ্রীভগবান তাঁর কাছে উদিত হন।*

*🌷তদেব মন‍্যতে ভক্তেঃ ফলং তদরাসিকৈর্জ নৈঃ।*
*🌷ভগবৎ প্রেম-সম্পত্তৌ সদৈবাব‍্যভিচারতঃ।।*

*🌻শ্রীনাম-কীর্তন-রসিক ভক্তগণ প্রেমসম্পত্তি মনে করেই নামকেই অব‍্যভিচারী সাধক বলে মনে করেন।ভক্তির ফল প্রেম।শ্রীনাম উহা প্রাপ্তির অব‍্যভিচারী সাধক।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌷সল্লক্ষণং প্রেম-ভরস‍্য কৃষ্ণে,*
*🌷কশ্চিদ্ রসজ্ঞৈ রুত কথ‍্যতে তৎ।*
*🌷প্রেম্নোভরেণৈব নিজেষ্ট নাম-,*
*🌷সঙ্কীর্ত্তনং হি স্ফুরতি স্ফুটার্ত্ত‍্যা।।*

*🌻কেউ কেউ শ্রীনাম-সংকীর্তনকেই প্রেমের স্বরূপ বলে নির্ণয় করেন।তারা বলেন শ্রীনামসংকীর্তনই শ্রীকৃষ্ণ-প্রেমের উৎকৃষ্ট লক্ষণ।কেন না,পরিস্ফুট আর্তি অর্থ‍্যাৎ প্রাণের ব‍্যাকুলতা সহকারে নিজের চেষ্টায় শ্রীকৃষ্ণের নামসংকীর্তন করা হয়, সেটি প্রেমভরেই স্ফুর্তি পেয়ে থাকে। সুতরাং সংকীর্তন ও প্রেম অন‍্যোন‍্যসিদ্ধ।উভয়ে উভয়ের কার্য‍্যকারণ-স্বরূপ, সুতরাং অভেদ।*
*🌷নিম্নান্তু সঙ্কীর্ত্তনমার্ত্তিভারাদ্,*
*🌷 মেঘং বিনা প্রাবৃষি চাতকীনাম্।*
*🌷রাত্রৌ বিয়োগাৎ কুররীবথাঙ্গী-,*
*🌷বর্গস‍্য চাক্রোশনবৎ প্রতী হি।।*

*🌻বর্ষায় মেঘবিরহে চাতকিনী যেমন পরম আর্তিভরে ব‍্যাকুল ভাবে "পিয় পিয়" রবে শ‍্যামল মেঘের সুশীতল জলবিন্দুর জন্য করুণস্বরে আহ্বান করে,চক্রবাকী যেমন স্বপতি-বিরহে সারা রাত্রি চক্রবাককে ডেকে ডেকে আকুল হয়, সেইরকম শ্রীভগবানের প্রেমিক ভক্তও দিন-রাত্রি কেবল তাঁর (ভগবানের) নাম করে বিরহের সুদীর্ঘ বিষাদময় সময় অতিবাহিত করেন।*
*🌹বিরহজ প্রেমে প্রায়শঃ নাম-সংকীর্তনই বিরহীর সম্বল।বিরহ অভিভূত প্রেমিকভক্ত শ্রীভগবানকে না পেয়ে তাঁর শ্রীনামমাত্র সম্বল করে আর্তিভরে ব‍্যাকুল ভাবে ও রোদনের ভাবে নাম করে করে-- দিনরাত্রি যাপন করেন, অতীব আর্তি সহকারে বিচিত্র মধুর গাথা-প্রবন্ধে শ্রীভগবানের-নাম-সংকীর্তনই সাধকগণের কাজ।তাৎপর্য‍্য এই যে--*
*🌷সিদ্ধস‍্য লক্ষণং যৎ স‍্যাৎ সাধনং সাধকস‍্য তৎ।*
*🌻সিদ্ধের যা লক্ষণ,সাধকগণকে তারই অনুকরণ করতে হবে।*
*🌷বিচিত্র-লীলারস-সাগরস‍্য,*
*🌷প্রভোর্বিচিত্রাৎ স্ফুরিতাৎ প্রসাদাৎ।*
*🌷বিচিত্র সংকীর্তন-মাধুরী সা,*
*🌷ন তু স্বযত্নাদিতি সাধু সিদ্ধেৎ।।*

*🌹যদি বল,--- উচ্চৈঃস্বরে কীর্তনে অনেক বিঘ্ন-শঙ্কা,লোকপূজাদিদোষ,অশক্তি ও দেহ-দুর্বলাদি জন্মিতে পারে, কিন্তু অন‍্যের অলক্ষ‍্যমান (দৃষ্টির অগোচরে) ও অনায়াসজনিত (পরিশ্রম বা কষ্টের অভাবজনিত) অন্তশ্চিন্তনে (ভেতরের চিন্তা) যে সব আশঙ্কা না হতেও পারে, সুতরাং সংকীর্তন অপেক্ষা ধ‍্যানই ভাল।তার উত্তরে এই কথা যে, তাদৃশ সেরকম নানান ভগবানেরনামকীর্তনের মাধুরী ভগবানের বিচিত্র প্রসাদ হতেই বিচিত্র লীলারসসমূহের সাগর।তাঁর প্রসাদ হতে যা উপজাত হয়,তাতে কোনও বাধাবিঘ্নের আশঙ্কা আসতে পারে না।*

*🌷ইচ্ছা-বশাৎ পাপমুপাসকানাং,*
*🌷 ক্ষীয়েত ভোগোন্মুখমপ‍্যমুষ্মাৎ।*
*🌷প্রারব্ধমাত্রং ভবতীতরেষাং,*
*🌷কর্ম্মাবশিষ্টং তদবশ‍্যভোগ‍্যম্।।*
*🛑যদি বল,এরকম মহাপ্রভাবশালী শ্রীনাম-সংকীর্তনকারীদের দুঃখাদি ভয় কেন? তার উত্তরে এইকথা যে--, নিরন্ত নাম সেবাপরায়ণ উপাসকগণের ভোগোন্মুখ প্রারব্ধ ভোগ-পাপও এই নামসংকীর্তন-প্রভাবে ক্ষয় হয়ে যায়। পাপের ফল দুঃখ,সেটির ক্ষয় হয়। কিন্তু শুভকাজের ফল যে পুণ‍্য তা থেকে যায়।সেটি নাম উপাসকগণের ইচ্ছাধীন।তাঁদের ইচ্ছা অনুসারে কর্মও আসতে পারে,বিনষ্টও হতে পারে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                   *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌷কর্ম চক্রন্তু যৎ প্রোক্ত মবিলঙ্ঘ‍্যং সুরাসুরৈঃ।*
*🌷মদ্ভক্তি-প্রবলৈর্মত্ত‍্যৈ র্বিদ্ধি লঙ্ঘিতমেব তৎ।।*

*🌹সুর বা অসুর কেউই কর্ম চক্রকে লঙ্ঘন করতে পারে না। কিন্তু আমার ভক্তিনিষ্ঠ মনুষ‍্যগণ অনায়াসে সেটি লঙ্ঘন করতে পারেন।নিষ্ঠাবান না হয়ে যাঁরা সাধারণভাবেও নাম-কীর্তন করেন,তাঁদের প্রারব্ধমাত্র অবশিষ্ট থাকে,ভোগে তার ক্ষয় হয় -- আর নতূন কর্ম সঞ্চয় হয় না।*

*🌷মহাশয়া যে হরিনাম-সেবকাঃ,*
*🌷সুগোপ‍্য তদ্ ভক্তি-মহানিধেঃ স্বয়ম্।*
*🌷প্রকাশ-ভীত‍্যা ব‍্যবহার-ভঙ্গিভিঃ,*
*🌷স্বদোষ-দুঃখান‍্যনুদর্শয়ন্তিঃ।।*

*🌻যদি বল,--- ভরতাদি হরিনাম-সেবক মহাশয়গণেরও তো ভোগোন্মুখ কর্মের ক্ষয় হয়েছিল না।তদুত্তরে বলা যাচ্ছে,হরিনাম-সেবক মহাত্মার সুগোপ‍্য ভক্তিরূপ-মহানিধি পাছে বা প্রকাশিত হয়ে পড়েন,এই আশঙ্কায় সাংসারিক ব‍্যবহারচ্ছলে নিজেদের দুঃখই জনসমাজে প্রকাশ করে থাকেন।তাঁরা বাস্তবিক দুঃখ ভোগ না করেও দুঃখ-ভোগ অনুকরণ করে থাকেন।হরিভক্তি, সুগোপ‍্য মহানিধি ; সেটি সবার কাছে প্রকাশ করতে নেই।এই জন্য তাঁরা ভক্তির প্রভাবে নিজ দুঃখের অভাব ও আনন্দের সমুচ্ছ্বাসকে গোপন করেন।*

*🌷ধ‍্যানং পরোক্ষে যুজ‍্যেত নতু সাক্ষান্মহাপ্রভোঃ।*
*🌷অপরোক্ষে পরোক্ষেহপি যুক্তং সঙ্কীর্ত্তনঃ সদা।।*

*🛑শ্রীপাদ সনাতনগোস্বামী শ্রীনাম-কীর্তন-মাহাত্ম‍্য "মধুরেণ সমাপয়েৎ" বাক‍্য-অনুসারে সমাপন করেছেন।শ্রীভগবানের ধ‍্যান পরোক্ষেই যুক্তিযুক্ত কিন্তু সাক্ষাৎকার নয়। কিন্তু শ্রীকীর্তন পরোক্ষেও অপরোক্ষেও সর্বদাই শোভনীয়।যথা শ্রীরাসে, শ্রীভাগবত--*

*🌷গায়ন্ত‍্যস্তে তড়িত ইব তা মেঘচক্রে বিরেজুঃ।*

*🌹শ্রীবিষ্ণুপুরাণে---------*

*🌷কৃষ্ণং শরচ্চন্দ্রমসং কৌমুদী কুমুদাকারং।*
*🌷জগৌ গোপীজন স্ত্বেকং কৃষ্ণনাম পুনঃপুনঃ।।*
*🌷রাসগেয়ং জগৌ কৃষ্ণো যাবত্তরায়ত ধ্বনিঃ।*
*🌷সাধু কৃষ্ণেতি কৃষ্ণেতি তাবতা দ্বিগুণং জগুঃ।।*

*🌹শ্রীভগবানের সর্বশোভা-সম্পত্তি আতিশয‍্যযুক্ত,শ্রীনাম শ্রীমূর্তি হতেও তাঁর অত‍্যন্ত প্রিয়।সেটি সদা সর্বদা সকলের মধ্যেই নিজ মহিমাভরে প্রকাশমান হন।সেটি জগতের হিতজনক--শ্রীনাম গ্রহণে "অধিকারী অনধিকারী এই বিচার নাই ; বাগিন্দ্রিয়ে বা মুখে উচ্চারণ বা কর্ণেন্দ্রিয়ে বা কানে শ্রবণ দ্বারা সমস্ত জীবের ইনি উপকার সাধন করে থাকেন।অপিচ অতি সুখোপাস‍্য।রসনাগ্রে সমুচ্চারিত হলেই উপাসনা সম্পাদিত হয়।সেটি মধুরাক্ষরময় সুতরাং সরস ও কোমল।অথবা সেটি সরস--যেহেতু সচ্চিদানন্দময়।ইহাঁর সরসতা সম্বন্ধে আরও ব‍্যাখ‍্যান হতে পারে যথা, বহুল রসের সঙ্গে শ্রীনাম-কীর্তন বিরাজমান এই জন্য সরস---অপিচ শৃঙ্গারাদি নবরসে, প্রেমরসে ও ভক্তিরসে শ্রীনাম কীর্তিত হন-- মিলনে ও বিরহে উভয়ভাবেই শ্রীনাম-কীর্তনের স্ফূর্তি হয়।অথবা রস শব্দের অর্থ রাগ, এই রাগের সঙ্গে অব‍্যভিচারিভাবে শ্রীনাম-কীর্তন বতর্মান থাকেন বলে ইনি সরস।এই জন্য ইনি আশুপ্রেমদ।অথবা ইনি ইহাঁর উপাসকগণের প্রেম জন্মিয়ে থাকেন। এতে ইহার নিজের প্রতিও ইঁহার সেবকগণের প্রবল আকর্ষণ বৃদ্ধি করেন।অথবা প্রবল শক্তির বিদ‍্যামানতা-বশতঃ ইনি অতি বীর্য‍্যশালী,এইজন‍্যই ইনি সরস।কেননা,রস শব্দের অর্থ বীর্য‍্যবিশেষ।গুণকেও রস বলা যায়।ইহার সমস্ত দীনজন-নিস্তারক গুণ আছে বলেও ইনি সরস রস অর্থে সুখ।ইনি সচ্চিদানন্দ ঘনসুখময় সুতরাং সরস।শ্রীনামের সমান কিছুই নাই সুতরাং নিরূপম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*

*🙏শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দ মহাপ্রভুর শ্রীমুখ-বিনিঃসৃত শ্রীনাম-মাহাত্ম‍্য সম্বন্ধে উপদেশাবলী---*

*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত ও শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত গ্রন্থ হতে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখ নিঃসৃত শ্রীনাম মাহাত্ম্য সম্বন্ধে উপদেশাবলী এখানে সংগৃহীত করে লিপিবদ্ধ করা হ'ল।তাঁর স্বরচিত যে আটটি পদ‍্য শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের উপসংহার উদ্ধৃত করা হয়েছে তার একটি অর্থ‍্যাৎ "তৃণাদপি"শ্লোকটি শ্রীমদ্ বৃহদ্ভাগবতামৃতের পদ‍্যব‍্যাখ‍্যায় ইতঃপূর্বে দেওয়া হয়েছিল।আর একটি সুপ্রসিদ্ধ পদ‍্য এই--*
*🌷চেতোদর্পণ-মার্জ্জনং ভবমহাদাবাগ্নি-নির্বাপণং,*
*🌷শ্রেয়ঃ কৈরব-চন্দ্রিকা-বিতরণং বিদ‍্যাবধূ-জীবনম্,*
*🌷আনন্দাম্বুধিবর্দ্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃত-স্বাদনম্,*
*🌷সর্ব্বাত্ম-স্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসঙ্কীর্ত্তনম্।*

*🌻অর্থ‍্যাৎ= এই যে -- এই শ্রীকৃষ্ণ-সংকীর্তনের জয় হোক।এটি দ্বারা চিত্তরূপ দর্পণ বা আয়না মার্জিত বা পরিস্কার হয়। গীতায় শ্রীভগবান বলেছেন--, ধুমাদ্বারা যেমন আগুন ঢাকা থাকে,আদর্শ (আয়না)যেমন ধূলি দ্বারা আবৃত হয়,তদবস্থায় যেমন আগুনের প্রকাশ গুণ দেখা যায় না,ময়লা আয়নায় যেমন প্রতিবিম্বপাত হয় না, সেইরকম যে পর্যন্ত হৃদয়,পাপরূপ ময়লা দিয়ে ঢাকা থাকে,তাবৎকাল তাতে ভগবান প্রতিবিম্বিত হন না।পাপ ও সমস্ত সংসার-বাসনা-জাল-সমাচ্ছন্ন চিত্তরূপ দর্পণ পরিস্কার করতে হলে ভগবানের নাম সংকীর্তনরূপ ঝাড়ন বসনের প্রয়োজন।শ্রীকৃষ্ণকীর্তনরূপ ঝাড়নবসনে চিত্তরূপ আয়না পরিস্কার হয়,সেইরকম পরিস্কার আয়নাতে শ্রীভগবদ্ভাব সুন্দরভাবে দেখা যায়।অতএব শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তন ময়লা মনের ঝাড়নবসন স্বরূপ।এই কৃষ্ণকীর্তন এই সংসাররূপ মহাদাবাগ্নির নির্বাণকর (সংসারের সমস্ত আগুনের তাপ নিভিয়ে দেয়)।মেঘবর্ষণ ব‍্যতিরেকে বনের বিশাল আগুন আর কোনভাবেই নিভানো যায় না।সংসারের দাবানল অপেক্ষাও অতি ভীষণ। এতে পুড়ে পুড়ে সবই ছাই হয়।রাবণের চিতার মত এ আগুন সবসময়ই সংসারীদের সন্তপ্ত ও ভস্মীভূত করছে। শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনরূপ মহামেঘের বর্ষণই এই ভীষণ আগুন নিভানোর একমাত্র উপায়। স্নিগ্ধ শ‍্যামল বিশাল সজল জলদ যেমন মহাদাবানলকে সদ‍্য সদ‍্য শান্ত করে,তদ্রূপ শ্রীকৃষ্ণ সংকীর্তনও চির সন্তপ্ত ও ভীষণ জ্বালাগ্রস্ত সংসারাশ্রমীদের দুঃখানল শান্ত করতে একমাত্র উপায়। ব্রহ্মবিদ‍্যা প্রতিপাদক উপনিষৎ শাস্ত্রে "শ্রেয় ও প্রেয়" এই দুই প্রয়োজনীয় বিষয়ের আলোচনা দেখা যায়।যা ইহ সংসারের পক্ষে শুভ,তাইই প্রেয়, আবার যা পরলোকের পক্ষে শুভ,তাইই শ্রেয়। স্বয়ং ভগবান শ্রীশ্রীগৌরচন্দ্রর মধুময়ী কথা এই যে শ্রীকৃষ্ণ সংকীর্তন এই শ্রেয়রূপ কুমুদের প্রকাশ-সাধনে সমর্থ জ‍্যোৎস্নাসঞ্চারকও বিতরক তুল‍্য।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
  *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀এখানে মনে রাখা উচিত যে, বৌদ্ধ-তন্ত্রসাধনা হিন্দু ও নাথধর্মের যোগানুষ্ঠানপদ্ধতি গ্রহণ করেছিল, (অবশ‍্য মঃমঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য এবং আরও অনেকের অভিমত যে,হিন্দুতন্ত্রই বৌদ্ধতন্ত্রের নিকট ঋণী, অথবা বৌদ্ধতন্ত্রের আচার, পূজানুষ্ঠান, মন্ত্র, যন্ত্র ও দেবদেবীরা হিন্দুতন্ত্রে অনুপ্রবেশ করেছিল।অবশ‍্য এই মতবাদের অনেকেই পক্ষপাতী নন)। এবং চর্যাপদে যোগশাস্ত্রের মতো ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না নাড়ীর উল্লেখ আছে,নদীর উজান প্রভৃতির উল্লেখ আছে।এখানে ডক্টর শশিভূষণ দাসগুপ্তের "বৌদ্ধগান চর্যাগীতি" গ্রন্থ থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি দিলাম বিষয়টি বিশেষভাবে বোধগম্যের জন্য।তিনি লিখেছেন--, যোগসাধনার দিক হতে দেখতে পাব,আমাদের দেহের মধ্যে তিনটি প্রধান নাড়ী আছে, একটি বামগা--শ্বাসবাহী নাড়ী বা প্রাণবাহী নাড়ী, অন‍্যটি হল দক্ষিণগা-- প্রশ্বাসবাহী নাড়ীবা আপনবাহী নাড়ী, এই দুই হল দেহমধ‍্যে সর্বপ্রকার দ্বৈততত্ত্বের প্রতীক বা প্রতিনিধি,আর একটি নাড়ী আছে মধ‍্যগা নাড়ী,তাকে বৌদ্ধতন্ত্রে বলা হয় অবধূতি বা অবধূতিকা।☆ ☆ তাদের স্বাভাবিক নিম্নগা ধারাকে অবধূতিকা-পথে উর্ধ্বগা করতে পারলে অদ্বয়বোধিচিত্ত বা সহজানন্দ-রূপ মহাসুখ লাভ হয়।(পৃঃ ৯৫)।*
*🍀সিদ্ধাচার্য‍্য সরহপাদ যোগসাধনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন---*
*🌷এত্থু সে সুরসুরি জমুণা,*
*🌷এত্থু সে গঙ্গাসাঅরু।*
*🌷এত্থু পআগ বণারসি,*
*🌷এত্থু সে চন্দ দিবাঅরু।।প্রভৃতি*
*🍀এত্থু অর্থে এখানে বা এই দেহেই সুরসুরি বা সুরসরিৎ গঙ্গা ও জমুণা বা যমুনা এবং এখানে বা এই দেহেই গঙ্গাসাগর, প্রয়াগ ও বারাণসী, চন্দ্র, সূর্য‍্য (দিবাঅরু) প্রভৃতি বিরাজিত। সুতরাং সব তীর্থে ভ্রমণ করে শান্তি নাই,আজে সহজানন্দে সুখ ও শান্তি।সরহপাদের এই চর্যাগীতি সাধক রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের গানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সাধক রামপ্রসাদ বলেছেন, কাশী কাঞ্চী সবই আছে শ‍্যামা-মার চরণতলে ও কমলাকান্ত বলেছেন----*
*🌷তীর্থভ্রমণ দুঃখগমন, মন-উচাটন হয়ো নারে।*
*🌷আনন্দে ত্রিবেণী স্নানে,শীতল হও না মূলাধারে।।*
*🍀ত্রিবেণী কিনা গঙ্গা,যমুনা ও সরস্বতী তথা ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্নার সঙ্গম রূপ।তিনটি নাড়ীই মূলাধারে ও সহস্রারে মিশ্রিত এবং মূলাধার ও সহস্রারই শক্তি ও শিবের স্থান এবং সামরস‍্য-আনন্দ ঐ দুটি স্থানেই সম্ভব হতে পারে।হটযোগপ্রদীপিকা, জ্ঞানসঙ্কলিনীতন্ত্র প্রভৃতিতে শিবশক্তি সামবস‍্যের উল্লেখ আছে এবং বৌদ্ধতন্ত্রেও আছে।শিবকে বিন্দুরূপে ও শক্তিকে নাদরূপে তন্ত্রে কল্পনা করা হয়েছে।শিব নিবৃত্তিতত্ত্ব ও ত্রিগুণাত্মিকা শক্তি প্রবৃত্তিতত্ত্ব।এই নিবৃত্তি-প্রবৃত্তিতত্ত্বের নিম্নগা ধারায় সংবৃতি(আবরণ),মায়া বা ভব (সংসারপ্রবাহ ও প্রবৃত্তি) এবং এদের মিলনের উর্ধ্বগা ধারায় অদ্বয়ে প্রতিষ্ঠা, এবং সহজানন্দ বা মহাসুখপ্রাপ্তি।বৌদ্ধতন্ত্রমতে, বিন্দু-- প্রজ্ঞা এবং নাদ-- উপায়, সুতরাং বিন্দু ও নাদ বা প্রজ্ঞা ও উপায়ের উর্ধধারার-মিলনে "অবধূতিকামার্গ"।এই মার্গ অনুসরণ করে স্রোতে উজান দিয়ে উল্টাসাধন করলে মহাসুখ, সহজানন্দ বা সামরস‍্য লাভ হয়।এই সামবস‍‍্য দেহের মধ্যেই থাকে,এজন‍্য বৌদ্ধ-বজ্রযানী সিদ্ধাচার্য‍্যগণ, সহজিয়াগণ ও বাউল সাধকগণ,কায়া বা কায়সাধন ও উল্টাসাধনের পক্ষপাতী।উল্টাসাধনায় চর্যারচয়িতা বৌদ্ধসাধকরা অবধূতি বা অবধূতিকাকে বা নৈরাত্মাদেবীকে (যোগিনীকে) লাভ করেন সহজানন্দ লাভের জন্য।চর্যাগীতির তত্ত্বকথা ও মর্মকথা তাই।চর্যাগীতি অধ‍্যাত্মসাধনার গান এবং "গীতগোবিন্দ" পদগান ও বৈষ্ণব-পদাবলী- কীর্তনের প্রতিষ্ঠা বা পাদভূমি।চর্যার অবধূতিকাই গীতগোবিন্দ ও পদাবলীকীর্তনের শ্রীরাধা এবং পরবর্তী গৌড়ীয় বৈষ্ণব-সাধনতত্ত্বে শ্রীকৃষ্ণ-রাধার সমন্বয়মূর্তি রসভাবঘন শ্রীচৈতন‍্য বা শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি।*
*🔵চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী এখানেই বিরাম হল।*
🎻🎻🎻📯📯📯🎺🎻🎻🎻📯📯📯
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀বাংলা-সাহিত‍্যে ও পদাবলীকীর্তনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমা ও পরিবেশ এবং তার সঙ্গীতের ইতিহাস কী ধরণের ছিল সে সম্বন্ধে আমাদের কিছুটা পরিচয় থাকা উচিত এবং সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের ক্রমবিকাশধারার ইতিবৃত্তও আমাদের জানা উচিত। বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ। বাংলার নগর ও পল্লী (নাগর ও গ্রামীণ)এই উভয় সমাজেই মানব জীবনযাত্রার প্রতিটি গতি ও ছন্দের সঙ্গে নৃত্য-গীত-বাদ‍্য বা সঙ্গীতের নিবিড় সম্পর্ক ছিল এবং এখনও আছে। বৃহত্তর-বাংলার সাহিত‍্য ও সংস্কৃতির অপরিহার্য‍্য বা অত‍্যাজ‍্য অঙ্গ ও উপাদানই ছিল গীতি বা গান-- তা সে ছড়ার আকারেই হোক,হেঁয়ালী বা প্রবাদের আকারেই হোক, ব্রতানুষ্ঠান, বিবাহ ও অন‍্যান‍্য মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পকেই হোক।গিরিব্রজ বা বিহার, কলিঙ্গ বা উড়িষ‍্যা এবং কামরূপ বা আসাম নিয়ে অখন্ড বাংলাদেশ ছিল বৃহত্তর বাংলার রূপ,সেকথা আগেই উল্লেখ করেছি।মিথিলা ছিল তখন বৃহৎ-বঙ্গের অপরিচ্ছেদ‍্য অঙ্গ এবং দ্বারবঙ্গ (দ্বারভাঙ্গা) ছিল বাংলাদেশের প্রবেশ পথ।উৎকল বা উড়িষ‍্যার কথাও তাই।এমনকি চতুর্দশ শতক পর্যন্ত বাংলা ও উড়িষ‍্যার মধ্যে পৃথক কোন সীমারেখার অস্তিত্ব ছিল না।পঞ্চগৌড়ের মধ্যে কলিঙ্গ>উৎকল>উড়িষ‍্যা ছিল অন‍্যতম। দক্ষিণরাঢ়ের সিংহপুর ছিল একসময়ে বৃহৎ-উড়িষ‍্যার প্রধান রাষ্ট্রকেন্দ্র।গৌড়ের সীমারেখাও বিস্তৃত ছিল লক্ষ্মণাবতী বা বতর্মান মালদহ জেলা পর্যন্ত।কামসূত্রের টীকাকার যশোহরের মতে,গৌড়-বঙ্গের বিস্তৃতি ছিল কলিঙ্গদেশ বা উড়িষ‍্যা পর্যন্ত।শক্তিসঙ্গমতন্ত্রে বঙ্গের বা গৌড়বঙ্গের যে রূপের পরিচয় দেওয়া আছে তা থেকে জানা যায়,মধ‍্য ও পূর্ববাংলা থেকে শুরু করে ভুবনেশ্বর (উড়িষ‍্যা) পর্যন্ত বিশাল ভূমিখন্ডই ছিল বঙ্গদেশ বা বাংলা, কেন-না, পঞ্চগৌড় বলতে তখন বোঝাত সারস্বত বা পূর্বপাঞ্জাব,কান‍্যকুব্জ,মিথিলা (উত্তর-বিহার) ও উৎকল (উত্তর উড়িষ‍্যা)।স্কন্দ পুরাণাদিতেও এধরণের উল্লেখ পাওয়া যায়।*
*🍀বাঙলা বা বঙ্গাল শব্দ বা নামটি নিয়ে বিভিন্ন পন্ডিতদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে।"আইন-ই-অকবরী" গ্রন্থে আবুল ফজল "বঙ্গ" ও "বঙ্গাল" এই দুইটি শব্দেরই উল্লেখ করেছেন।তিনি বলেছেন--The original name of Bengal was Banga. Its former Rulers raised mounds, measuring ten yeards in height and twenty in brcadth, throughout the province. Which were called al. From this suffix (al), the name Bengal took its rise and currency. (English translation)। ভারতের ইতিহাস থেকে জানা যায়, সম্রাট আকবর ও লামা তারানাথের সময়ে "আল" শব্দটি অন‍্য নামে অর্থ‍্যাৎ "ভাটি" পরিচিত ছিল।দক্ষিণভারতের ও অন‍্যান‍্য দেশের কতগুলি তাম্রলিপি ও শিলা লেখাতে দেখা যায়, "বঙ্গ বা বঙ্গলা" (বাংলা) এই শব্দ দুটিকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব‍্যবহার করা হয়েছে। খ্রীষ্টীয় এগারো শতকের আগে বঙ্গ বা বঙ্গদেশ ঠিক বাঙ্গালা বা বাঙলা নামে পরিচিত ছিল কিনা তার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং মনে করা যেত পারে যে,১১শ-১২শ শতকের বৃহৎবঙ্গের সীমা নির্দেশ ছিল-- উত্তরে হিমালয়, দক্ষিণে তাম্রলিপ্তের (বর্তমান তমলুক) সীমা বিশাল সমুদ্র, পূর্বে আরাকানের নিবিড় অরণ‍্য ও পশ্চিমে মগধের প্রান্তদেশে ছোটনাগপুরের বিস্তৃত অরণ‍্য।শোনা যায়,আরাকানের রাজ‍্যসভায় তখন বাঙালী কবি ও সাহিত‍্যিকদের আলোচনাসভার আয়োজন হত। বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদের সমন্বয়-নিদর্শনও বৃহৎবঙ্গের মধ্যে কম ছিল না।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী (নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে) বাঁশবাড়ী, ইংরেজ-বাজার, মালদহ।7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
       *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀শোনা যায়,খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতকের আরব-জাতিকে কেন্দ্র করে ইসলামীয় সুফীধর্মের সম্প্রসারণ বাংলার বুকে সম্ভব হয়েছিল। অনেকের মতে পারস‍্য,বোখারা ও সমরকন্দে সুফীমতবাদের কেন্দ্র নির্দিষ্ট থাকলেও বাংলায় প্রাচীন বৈষ্ণবদের আউল,বাউল,দরবেশ ও সাঁই (স্বামী) প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মধ্যে সুফীমতবাদের কিছুটা অনুপ্রবেশ বা সংমিশ্রণ ঘটেছিল।(◆ডঃ মুহম্মদ এনামুল হক মনে করেন,খ্রীষ্টীয় এয়োদশ শতকের প্রথম ভাগে সুহ্- রববদীযহ (শব্দ বুঝা যাচ্ছে না)সম্প্রদায়ভুক্ত শেখ জলালুদ্দীন তববীয়ীর অভিযানের পর থেকেই বাংলাদেশ সুফীমতবাদের অনুপ্রবেশ ঘটে।অবশ‍্য এ মতের ভিন্ন মতেরও প্রচলন আছে)।কথিত যে,মুসলমান দরবীশ বা দরবেশদের মাধ‍্যমে আরবীয় সুফীধর্মের মিলন সংঘটিত হয়েছিল।(◆এ সম্বন্ধে এড্ ওয়াড জে.ব্রাউনের (E.J. Browne) Dervish গ্রন্থে আলোচনা দ্রষ্টব‍্য)। বাংলার বিচিত্র ধর্মমতের সঙ্গে এবং বিশেষ করে চারটি কেন্দ্রের মাধ‍্যমে তা সম্ভবপর হয়েছিল সেই চারটি কেন্দ্র হল--, (1)বরেন্দ্রভূমি, তথা মালদহ,দিনাজপুর,রঙ্গপুর বা রংপুর, পূর্ণিয়া,রাজমহল ও তার চারপাশের অঞ্চল।(2)রাঢ়ভূমি বা বর্ধমান, বীরভূমি বাঁকুড়া ও হুগলী (3) বঙ্গভূমি তথা পাবনা,বগুড়া,রাজশাহী, ময়মনসিংহ,ঢাকা, ফরিদপুর ও বাখরগঞ্জ এবং (5)চট্টলভূমি বা চট্টগ্রাম,ত্রিপুরা ও নোয়াখালী। অবশ‍্য এ মতবাদের সমীচীনতাও নির্ধারণ করা উচিত ঐতিহাসিক দৃষ্টির কষ্টিপাথরে।বৌদ্ধযোগ তন্ত্র (হিন্দু ও বৌদ্ধ) ও বৈদিকধর্মের সংমিশ্রণে বাংলার বৈষ্ণবধমে যে এক পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল সে আলোচনা আগেই কিছুটা করেছি।বিশাল বঙ্গে এবং পরবর্তীকালে খন্ডিত বাংলায়ও সংস্কৃতচর্চা বনাম বিদ‍্যাচর্চার বিশেষ প্রচলন ছিল।প্রাচীন ও নব‍্য বা নতূন ন‍্যায়,মীমাংসা, স্মৃতি, অলংকার,ব‍্যাকরণ প্রভৃতি শাস্ত্রের কথা ছেড়ে দিলেও বাংলাদেশের সারস্বত (পূর্ব পাঞ্জাব)আচার-ব‍্যবহার ও সঙ্গে সঙ্গে দেশসমৃদ্ধির পরিচায়করূপে পুন্ড্রবর্ধনের অধিবাসী সন্ধ‍্যাকর নন্দী রচিত "রামচরিত" বিশেষ উল্লেখযোগ্য।'রামচরিত' গৌড়রাজ রামপালদের ও তদীয় পুত্র মদনপালদেবের অবিস্মরণীয় কীর্তিগাথা ও অবদানের ইতিকথা।এই ইতিকথার পরিপ্রেক্ষিতে পালযুগে বাংলার সামাজিক ও পরিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক জীবন স্বাচ্ছন্দেরও সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।নালন্দা, বিক্রমশিলা,ওদন্তপুরী প্রভৃতি বৌদ্ধ বিশ্ববিদ‍্যালয় এবং ঐ সব মহাশিক্ষাতীর্থ সংলগ্ন বৃহৎ গ্রন্থশালাগুলিও পালযুগের শিক্ষা-সংস্কৃতির জ্বলন্ত নিদর্শন।বাঙ্গালী বৌদ্ধধর্মাচার্য‍্য ও সুপন্ডিত অতীশ দীপঙ্কর,শীলভদ্র, শান্তিরক্ষিত ও অন‍্যান‍্য মণিষীদের শিক্ষা,সংস্কৃতি ও ধর্মের অবদান বাংলার ইতিহাসকে গৌরবমন্ডিত করেছে। "কবীন্দ্রসমুচ্চয়" ও 'সদুক্তিকর্ণামৃত' গ্রন্থ দুটিতে প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনা প্রবাহের অনুলিখন ছাড়াও তদানীন্তন সমাজে আদি ও ভক্তিরসাত্মক ধর্মভাব সেবিত দৈনন্দিন জীবনচর্যার পরিচয় পাওয়া যায়।*
*🍀পালরাজাদের পূর্ববর্তী গুপ্ত ও সেন-রাজাদের শাসনকাল বাংলার সমাজে শিক্ষা, সংস্কৃতি,ধর্ম ও সামাজিক জীবন দিনপঞ্জীপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষ‍্য দেয়।রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভায় জয়দেব,ধোয়ী,উমাপতি ধর,গোবর্দ্ধন ও শরণ এই পঞ্চরত্নের কাব‍্যপ্রতিভা দ্বাদশ শতকের বাংলাকে গৌরবোজ্জ্বল করেছিল। ভক্তি ও ভক্তিবাদের প্রাণকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণ, বিষ্ণু বা কৃষ্ণ-বাসুদেবকে আশ্রয় করে কিভাবে বাংলাদেশে বৈষ্ণবধর্মের গোড়াপত্তন সম্ভব ও সার্থক হয়েছিল তার বিবরণ আমরা আরো কিছু পরে দেবার চেষ্টা করব।বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের আলোচনায় ভক্তিতত্ত্ব ও ভক্তিরসকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণ বা কৃষ্ণবাসুদেবের প্রসঙ্গও অপরিহার্য।আচার্য‍্য শঙ্করের প্রমাণিত ও প্রচারিত অদ্বৈতব্রহ্মবাদ (মায়াবাদ নয়) পূর্বমীমাংসাদর্শন নির্দিষ্ট ধর্ম ও কর্ম এবং ভগবান বুদ্ধ ও পরবর্তী বৌদ্ধাচার্য‍্যগণ প্রচারিত বৌদ্ধমতকে বিশেষভাবে নিরস্ত বা বিরত করলেও ভক্তিবাদের বিরুদ্ধে কোনদিন কেউ সংগ্রাম ঘোষণা করেননি। বিশেষ করে প্রখর জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সরস ভক্তিচর্চার স্পর্শ বাংলার মানসক্ষেত্রে এক নতূন জীবন স্পন্দন সৃষ্টি করেছিল।আচার্য‍্য রামানুজ,নিম্বার্ক,মধ্ব, বল্লভাচার্য‍্য কিংবা দক্ষিণভারতে আলবার বা আলোয়ার সম্প্রদায় প্রচারিত ভক্তিবাদ ও বৈষ্ণবধর্ম বাংলার জনগণের মনে তত ন্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম না হলেও শান্ডিল‍্যসূত্র, নারদীয়ভক্তিসূত্র, শ্রীমদ্ভাগবতের প্রাণকেন্দ্র বিভিন্ন পঞ্চরাত্রসংহিতা ও পুরাণসাহিত‍্য প্রতিপাদিত ঈশ্বরপ্রেম ও ভক্তিধর্ম বাঙ্গালীর সচল ও রসসিক্ত মনকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল।অবশ‍্য গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের নবজন্ম তখনও বাংলার বুকে সার্থক হয়ে উঠেনি। বাংলার ইতিহাসের পথযাত্রীমাত্রেরই জানা আছে যে,পরমভাগবত গুপ্তরাজাদের সময়ে বাংলায় শিব,গণপতি ও কার্তিকেয়ের মন্দির এবং জায়গা জায়গায় শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিত থাকলেও সাধারণ সমাজে বিষ্ণু-উপাসনার অনুষ্ঠান ও অতি নিষ্ঠার সঙ্গে বৈষ্ণবধর্মের ভাবপ্রবাহকে অব‍্যাহত রেখেছিল।◆রাজ তরঙ্গণীকার◆ কহ্লণের ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়,শিব ও কার্তিকেয়ের বিভিন্ন মন্দিরে নৃত্য-গীত-অনুষ্ঠানের জন্য দেবদাসীরা নিযুক্ত থাকত এবং তাদের নৃত্যছন্দ ছিল সম্পূর্ণভাবে "ভরতের" নাট‍্যশাস্ত্র অনুমোদিত।*
              *ক্রমাগত*
*🌻শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে, বাঁশবাড়ী, ইংরেজ বাজার, মালদহ, 7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀গুপ্ত ও সেন রাজাদের মধ্যে শিব ও বিষ্ণু এই উভয় দেবতারই উপাসনা প্রচলিত ছিল।তবে রাজা লক্ষ্মণসেন নিজে ছিলেন পরমবৈষ্ণব ও বিষ্ণুর উপাসক। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার সমাজে যে রাধাকৃষ্ণলীলাসেবিত ভক্তিবাদের প্রচলন ছিল তা বাংলার ইতিহাসই বিশেষভাবে প্রমাণ করে।খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতকে পাহাড়পুরে আবিস্কৃত কৃষ্ণলীলা বিষয়ক মূর্তির নিদর্শন সেকথা আরো বিশেষভাবে প্রমাণ করে।অবশ‍্য পাহাড়পুরে আবিস্কৃত ধ্বংসস্তূপে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ছাড়াও বিষ্ণু,বলরাম,ত্রিশূলধারী শিব, গণেশ,ইন্দ্র,যমুনা ও রামায়ণকাহিনীর মূর্তি পাওয়া গেছে।রায়-বাহাদুর কে.এন দীক্ষিত ১৯২০-২১,১৯২৬-২৭ এবং ১৯২৭-২৮ খ্রীষ্টাব্দের বার্ষিক প্রত্নতাত্ত্বিকী বিবরণীতে (Annual Report of the Archaeological Survey of India, ◆A.S.I◆ 1920-21,1926-27,1927-28)*
*পাহাড়পুর স্তূপের ও স্তূপ থেকে আবিস্কৃত বিচিত্র উপাদান সামগ্রী ও মূর্তির পরিচয় তিনি দিয়েছেন (Excavations of Paharpur,Bengal, Memoirs, A.S.I No 55 দ্রষ্টব‍্য)।অধুনা ডক্টর চারুচরণ দাশগুপ্ত Paharpur and Its Monuments 1961 নামক ছোট গ্রন্থে কৃষ্ণ ও রাধাকৃষ্ণ-মূর্তির পরিচয়ে গোকুলে গিরিগোবর্দ্ধনধারী কৃষ্ণ, রাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তি এবং বসুদেব ও শিশুকৃষ্ণমূর্তির কথা উল্লেখ করেছেন।রাধাকৃষ্ণের মূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন--, In the wall on south-east angle faching south there is a sculpture which represents two standing figures--one,male and the other, a female (PL. VIII,b).The right arm of the male figure clasps the female figure whose left arm clasps the male figures.The female figure has a halo behind its head. This sculpture probably reprsents Radha and krishna. It is undoubtedly one of the best sculptures that have been found at paharpur,(page 26)(অন‍্যান‍্য কৃষ্ণলীলা কাহিনীর মূর্তি সম্বন্ধে (Krishna-legend-scenes) paharpur and Its Monuments 1961, pp. 25, 27 দ্রষ্টব‍্য।পাহাড়পুরের স্তূপ থেকে আবিস্কৃত বাদ‍্যযন্ত্রের যে বিচিত্র নিদর্শন পাওয়া গেছে সে সম্বন্ধে আমরা পরে আলোচনা করব)।*
*পাহাড়পুরে আবিস্কৃত মূর্তি প্রভৃতি ছাড়া মহারাজ লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালে কবি জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ" পদগান শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলামাধুর্য‍্যের বর্ণনায় মুখর।ডঃ শ্রীঅসিতকুমার তাঁর সুলিখিত "বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত প্রথম খন্ড 1959 পৃষ্ঠা 204,তাছাড়া তাঁর বৈষ্ণবধর্মের ক্রমবিকাশধারা আলোচিত অংশটি এ প্রসঙ্গে দ্রষ্টব‍্য (সপ্তম অধ‍‍্যায় পৃঃ ২৫৮,২৭৮), গ্রন্থে শ্রীচৈতন‍্যপূর্ব যুগে বাংলাদেশে যে সব গ্রন্থ বৈষ্ণবধর্মানু প্রবেশ ও তার পরিপুষ্টির পটভূমিকা রচনা করেছিল তাদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলি হল--, শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ, বিল্বমঙ্গলের (লীলাশুক)কৃষ্ণকর্ণামৃত, ব্রহ্মসংহিতা,ব‍্যোপদেবের মুক্তাফল, বিষ্ণুপুরীর শ্রীশ্রীভক্তিরত্নাবলী, লক্ষ্মীধরের ভগবন্নামকৌমূদী, শ্রীধর স্বামীর ভাগবতের টীকা, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর কৃষ্ণলীলামৃত,অবশ‍্য এগুলি ছাড়াও "সংগীতমাধব", "শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয়" প্রভৃতি গ্রন্থও উল্লেখযোগ্য।*
*🍀এখানে আলোচনার বিষয় হল প্রাক্ জয়দেব যুগে রাধাকৃষ্ণ লীলা অনুশীলনের মাধ‍্যমে বৈষ্ণবধর্ম বাংলাদেশে কতটুকু প্রসারতা লাভ করেছিল তা প্রতিপাদন করা এবং সেক্ষেত্রে "গীতগোবিন্দ" বা অষ্টপদীর কথা বাদ দিলেও গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত ও অন‍্যান‍্য ভক্তিগ্রন্থ নির্দেশিত ভক্তিতত্ত্ব বাংলার মানসক্ষেত্রকে বিশেষভাবে রসসিঞ্চিত ও প্রবুদ্ধ বা চেতনা করেছিল।শোনা যায়,খ্রীষ্টীয় ১৪শ শতকে মাধবেন্দ্রপুরীই বাংলাদেশে শ্রীমদ্ভাগবত প্রচার করেছিলেন, সুতরাং "শ্রীমদ্ভাগবত" লিখিত বা সংকলিত হয়েছিল আনুমানিক খ্রীষ্টীয় ১৩শ-১৪শ শতকের আগে।পাহাড়পুরে আবিস্কৃত শ্রীরাধাকৃষ্ণের মূর্তিগুলি নিঃসংশয়ে বাংলার ভাগবতধর্মের প্রভাব প্রমাণ করে একথা আগেই উল্লেখ করেছি।খ্রীষ্টীয় শতকের গোড়ার দিকে রচিত পুরাণগুলিতে বর্ণিত ভক্তিতত্ত্বও বাংলার প্রেমধর্ম প্রেরণাকে প্রাণবন্ত করেছিল।সাতবাহন নরপতি হালের "গাথা সপ্তশতী" গ্রন্থে (প্রথম বা প্রথম-দ্বিতীয় শতক) রাধাকৃষ্ণের লীলা কাহিনীর বর্ণনা আছে।কবি জয়দেবের আবির্ভাব খ্রীষ্টীয় ১২শ-১৩শ শতকে।তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এমনই এক সময়ে যখন বাংলাদেশে ভাগবতধর্মের ছিল লীলাচঞ্চল যৌবনকাল।জয়দেব শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণলীলাতত্ত্বের প্রচারব্রত নিয়েই যেন জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং একদিক থেকে বলা যায় যে, বৈষ্ণবপদাবলী কীর্তনের পটভূমিকা রচনার সূচনাও হয়েছিল ঠিক তখন থেকে বাংলাদেশে।*
                  *ক্রমাগত*
*JOYDEB DAWN*
*BANSHBARI, NEAR- BANSHBARI NABARATRI KIRTAN MANDIR.*
*ENGLISH BAZAR.*
*MALDA.*
*7001138871*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ*

*🍀যদিও চর্যাগীতির অবদান পদকীর্তনের ভান্ডারে কম নয়।সংস্কৃতায়িত বাংলা পদ‍্যছন্দে রচিত জয়দেবের 'গীতগোবিন্দ' পদগানের ছত্রে ছত্রে শ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলাতত্ত্বগানই সুস্পষ্ট।কবি নিজে তার পরিচয় দিয়ে "প্রথম সর্গের" তৃতীয় শ্লোকে বলেছেন--*
*🌷যদি হরিস্মরণে সরসং মনো যদি বিলাসকলাসু-কুতূহলম্।*
*🌷মধুরকোমলকান্তপদাবলীং শৃণু তদা জয়দেবসরস্বতীম্।।*
*🌻ভক্তজনচিত্তে কৃষ্ণভক্তি প্রেম সঞ্চারের জন্য যেন জয়দেব কবির পদ-রচনার প্রধান অভিপ্রায় ছিল।পন্ডিতপ্রবর শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় সত‍্যই বলেছেন--,মহাভারতে,পুরাণে, বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবতে যে গোবিন্দলীলা বর্ণিত হয়েছে,কবি জয়দেব শ্রীগীতগোবিন্দে সেই গোবিন্দেরই লীলাই বর্ণনা করেছেন। লীলাপুরুষোত্তম শ্রীগোবিন্দই তাঁর প্রেয়সীশ্রেষ্ঠা শ্রীরাধার সঙ্গে শ্রীগীতগোবিন্দের আদ‍্যপান্ত কীর্তিত হয়েছেন।*
*🍀কাব‍্য ও সাহিত‍্যের দিক দিয়েও গীতগোবিন্দের একটি বিশেষ মূল‍্য আছে,যদিও আখ‍্যান,নাটকীয়তা ও সঙ্গীত এই ত্রিবেণীসঙ্গমের মিলিত ধারা এর মধ্যে প্রবাহিত।তাঞ্জোরের সরস্বতী-মহল-গ্রন্থাগারে গীতগোবিন্দের একটি নাট‍্যরূপ সম্বলিত পুঁথি পাওয়া গেছে এবং গ্রন্থাকারেও ছাপা হয়েছে।বিচিত্র ঘটনাপ্রবাহ গীতগোবিন্দের আখ‍্যানভাগ রচনা করেছে এবং বিচিত্র রাগ ও তাল-এর সঙ্গীতরূপ সৃষ্টি করেছেন।এজন‍্য অনেকে গীয়গোবিন্দকে বাহ‍্যতঃ "আখ‍্যানকেন্দ্রিক খন্ডকাব‍্য" বা গীতিকাগ্রন্থ বলে অভিমত প্রকাশ করেন।তবে গীতগোবিন্দে সঙ্গীতাংশে যে যোজনা আছে ও বিশেষ করে যে যে রাগগুলির পরিচয় দেওয়া আছে, গীতগোবিন্দে তাদের যাত্রাপথে ভারতীয় প্রাচীন ও নবীন রাগরূপের একটি বিবর্তনময় ধারা লক্ষ্য করা যায় এবং সেই আবর্তনের মুখে মেবারের রাণা কুম্ভা পনেরশ শতক "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে গীতগোবিন্দের "রসিকপ্রিয়া" টীকার রাগগঠনে বা রাগরূপের প্রকাশশৈলীতে কিছুটা নতূনতর বিকাশের পরিচয় দিয়েছেন।অনেকে আবার মধ‍্যযুগীয় সাধু-সম্প্রদায়ের ও বিশেষ করে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের আধার ও উৎসভূমিরূপে গণ‍্য করে গীতগোবিন্দকে "ভক্তিকাব‍্য" বলেও অভিহিত করেন।মোটকথা রাধাকৃষ্ণের আদিরসাত্মক ও উজ্জ্বলবেশাত্মক অপার্থিব লীলা বৈচিত্র্যের সাক্ষ‍্যবহনকারী এই গীতগোবিন্দ-পদগান।পুরীতে শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা যায়,পনেরশ শতকে কলিঙ্গসম্রাট প্রতাপরুদ্রদেব (যিনি পরে শ্রীচৈতন‍্যের কৃপাশ্রিত হয়েছিলেন)গীতগোবিন্দগান শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রচলন করেছিলেন।শোনা যায়,দেবদাসীদের নৃত্য সম্বলিত হয়ে মৃদঙ্গবাদ‍্যের সহযোগে শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে গীতগোবিন্দ গান করা হত।*
*🍀লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের 'শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত' গ্রন্থে পদগানের মাধুর্য‍্য নিয়ে আলোচনা পরে করব।তবে গীতগোবিন্দ ও কৃষ্ণকর্ণামৃত ভক্তিগ্রন্থ দুটি নিয়ে মোটামুটিভাবে অনুশীলন করলে দেখা যায় যে,গীতগোবিন্দের রচয়িতা কবি জয়দেব বিল্বমঙ্গল-রচিত কৃষ্ণকর্ণামৃতের ভাব ও কাব‍্যসম্পদ দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এই প্রসঙ্গে লিখেছেন, জয়দেব, লীলাশুকের কৃষ্ণকর্ণামৃতের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন কিনা বুঝা যাচ্ছে না।কৃষ্ণকর্ণামৃত জয়দেবের সময়ে নিতান্ত অপরিচিত ছিল না, কারণ শ্রীধরদাস সদুক্তিকর্ণামৃতে কৃষ্ণকর্ণামৃত হতে শ্লোক উদ্ধৃত করেছিলেন।তবে লীলাশুক যেমন সখীভাবে শ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবা করেছেন,জয়দেবের মধ্যে ঠিক সেই জাতীয় অনুভূতি পাওয়া যায় না।লীলাশুক নিজেকে কৃষ্ণলীলার সহায়তায় (মঞ্জরী ভাবের) নিয়োগ করে ধন‍্য হয়েছেন। কিন্তু গীতগোবিন্দের কবির মধ্যে ঠিক সেই জাতীয় পরিকরবৃত্তি বা সখী সাধনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।(বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত গ্রন্থে প্রথমখন্ডে দ্বিতীয় সংস্করণ 1963 পৃঃ 93) পাওয়া যাবে।যাইহোক,শ্রীচৈতন‍্যদেব নির্জনে নিভৃতে গম্ভীরায় "গীতগোবিন্দ" দিবারাত্র আস্বাদন করতেন বলে সহজিয়া বৈষ্ণবগণ কবি জয়দেবকে "নবরসিক" এর অন‍্যতম ও আদিগুরু বলে নির্দেশ করেছেন।তবে গীতগোবিন্দের ছন্দ,ভাব ও মাধুর্য‍্য যে পরবর্তী বৈষ্ণব ভক্তিসাহিত‍্যকে রস-ভাবসমৃদ্ধ করেছিল এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।*
*🌹এই বিষয়টি এখানে বিরাম হল।*
*🛑শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী নবরাত্রি কীর্তন মন্দিরের পার্শ্বে, বাঁশবাড়ী, ইংরেজ বাজার,মালদহ, 7001138871।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
      *কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ*

*🍀কবি জয়দেব খ্রীষ্টীয় ১২শ শতকের শেষার্ধে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।অজয়নদের উত্তরদিকে অবস্থিত এই গ্রাম।জয়দেব একাধারে ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও ভক্ত।গীতগোবিন্দ তাঁরই রচনা, যদিও কোন কোন পন্ডিতের অভিমত যে,গীতগোবিন্দের কোন কোন অংশ অন‍্যান‍্য কবিদের যোজনা। পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় তাঁর "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" গ্রন্থের ভূমিকায় কাব‍্যকথা প্রসঙ্গে পাঁচটি যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে,সমগ্র "গীতগোবিন্দ" কাব‍্যগ্রন্থ বা পদগানগ্রন্থ কবি জয়দেবেরই রচনা।('কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ' ৩য় সংস্করণ,১৩৬২,পৃঃ৬১-৬২)।তবে "জয়দেব" নামধারী ব‍্যক্তি ছিলেন আরও দুইজন ; একজন ছন্দসূত্রের প্রণেতা গীতগোবিন্দ-রচয়িতা কবি জয়দেবের পূর্ববর্তী ও অন‍্যজন "প্রসন্নরাঘব" নাটক ও "চন্দ্রলোক" নামক অলঙ্কার শাস্ত্রের প্রণেতা জয়দেব। কাশ্মীরবাসী কহ্লন "সুক্তিমুক্তাবলী" গ্রন্থে (১১৭৯ শকাব্দ) এই শেষোক্ত জয়দেবের নাম উল্লেখ করেছেন, (ঐ,পৃঃ ৪১)।*
*🍀কবি জয়দেব-রচিত গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের ২৯ শ্লোক থেকে জানা যায়,তাঁর পিতার নাম ভোজদেব, মাতা বামাদেবী ও প্রিয়সখা অষ্টপদীগায়ক পরাশর। শ্লোকটি হল---*
*🌷শ্রীভোজদেবপ্রভবস‍্য বামাদেবীসুত শ্রীজয়দেবকস‍্য।*
*🌷পরাশরাদিপ্রিয়বন্ধুকন্ঠে শ্রীগীতগোবিন্দকবিত্বমস্তু।।*
*🌻পূজারী গোস্বামী টীকায় এর বিশ্লেষণ করে বলেছেন--, ভোজদেবনামা অস‍্য পিতা বামাদেবীনাম্নী জননী তস‍্যাঃ সুতস‍্য শ্রীজয়দেবস‍্য পরাশরাদীনাং যে প্রিয়াস্তন্মতজ্ঞাতারস্তেষ্বপি যে বান্ধবাস্তন্মতানুসারেণ শ্রীরাধামাধবরহঃকেলিজ্ঞানেন বন্ধুত্বং প্রাপ্তাস্তেষামেব কন্ঠে ভূষণবৎ সদা গীতগোবিন্দাখ‍্যং কবিত্বমস্তু। তাছাড়া প্রথম সর্গের দ্বিতীয় শ্লোকে উল্লিখিত "পদ্মাবতীচরণচারণচক্রবর্তী" এবং দশম সর্গের দশম শ্লোকে উল্লিখিত "জয়তি পদ্মাবতীরমণজয়দেবকবি" প্রভৃতি পদাংশ থেকে জয়দেব-পত্নী পদ্মাবতীর নাম পাওয়া যায় ; "তথা-নাম্নী জয়দেব-পত্নী"।কারও কারও মতে জয়দেবের পত্নীর নাম রোহিণী।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় বলেছেন, সহজিয়াগণ বলেন যে,রোহিণী কবি জয়দেবের পরকীয়া,(কবি জয়দেব গীতগোবিন্দ, পৃঃ ৯)। কিন্তু এই নাম কবি-কল্পনা বলেই মনে হয়,কেননা গীতগোবিন্দের প্রায় সব টীকা ও ভাষ‍্যকার পদ্মাবতীকেই জয়দেব-পত্নী বলে উল্লেখ করেছেন।*
*🍀জয়দেব ছিলেন বঙ্গদেশজাত বাঙ্গালী।তিনি রাঢ়ভূমি বীরভূম জেলার অন্তর্গত কেন্দুবিল্ব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সেকথা আগেই বলেছি।কেন্দুবিল্ব চলিত ভাষায় "কেন্দুলী" বা "কেঁদুলী" নামে পরে পরিচিত হয়।অধ‍্যাপক তারাপদ ভট্টাচার্য্য বলেন--,বীরভূম জেলার কেন্দুবিল্ব গ্রাম ইহার (কবির) জন্মভূমি বলে প্রসিদ্ধি আছে। বর্তমানে কিন্তু কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলী বলে কোন গ্রামের অস্তিত্ব নাই,অজয়নদের বালুকাময় তীরভূমিতে পৌষ সংক্রান্তিতে "কেঁদুলীর মেলা" নামক একটি বাৎসরিক মেলা বসতে দেখা যায় মাত্র।সেইজন‍্য মিথিলা ও উড়িষ‍্যা হতে জয়দেবকে দাবী করা হয়েছে। (তীরহুত জেলায় অবস্থিত জেঞ্ঝারপুর-শহরের কাছে কেন্দোলী নামক একটি গ্রাম আছে। মিথিলাবাসীদের মতে,জয়দেব এই কেন্দোলিগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। উড়িষ‍্যাবাসীরাও পুরীর কাছে কেন্দুবিল্বগ্রামে জয়দেবের আবির্ভাব কল্পনা করতে চাহেন--। ডঃ শ্রীঅসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, "বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত" প্রথম খন্ড,১৯৫৯, পৃঃ ৭৮ ।*
*যেহেতু উড়িষ‍্যার বিভিন্ন মন্দিরে অশ্লীল যৌন (উড়িষ‍্যার মন্দির-ভাস্কর্য‍্যে নগ্ন মূর্তিগুলি যথার্থভাবে যৌনভাবের প্রকাশ কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবসর আছে।সার্থক শিল্পী ও শিল্প সমালোচকদের সিদ্ধান্ত এসব সম্পূর্ণ ভিন্ন ; কেননা ঐগুলি আসলে আদিরস শৃঙ্গারের অভিব‍্যক্তি,মানব মনের সহজাত কামাভিব‍্যক্তির (Id) প্রতিকৃতি নয়।নাট‍্যশাস্ত্রে আদিরস শৃঙ্গার সৃষ্টি ও নির্বেদের প্রকাশক।নাট‍্যশাস্ত্রের ভাষ‍্য ও টীকাকারগণ শৃঙ্গারকে শ্রেষ্ঠ ও অপার্থিব উজ্জ্বলরস বলে বর্ণনা করেছেন)।* *ভাস্কর্য দেখা যায়,সেইজন‍্য আদিরসের কবি জয়দেব উৎকলী ছিলেন --এটিই উড়িষ‍্যাবাসীগণের যুক্তি। বলা বাহুল‍্য এ যুক্তিদুর্বল। জয়দেবকে অ-বাঙ্গালী বলবার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি এখনও উপস্থাপিতহয় নাই।*
               *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
     *কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ*

*🍀"বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত" রচয়িতা ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বলেছেন--, "সংস্কৃত সাহিত‍্যে 'ছন্দসূত্র' এর রচয়িতা জয়দেব বাংলার জয়দেবের অনেক পূর্ববর্তী" "বাংলাদেশের বাইরে জয়দেবের যে কতদূর প্রতিষ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছিল", বাংলার কবি পদলালিত‍্যে ও উজ্জ্বলরসাত্মক ভক্তিরসামৃত-সিন্ধুতরঙ্গে বাংলার বাইরেও যে প্রেমভক্তির প্লাবন এনেছিলেন প্রভৃতি,(বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত,প্রথম খন্ড,১৯৫৯, পৃঃ ৯৩-৯৪), থেকে তিনি যে কবিকে বঙ্গবাসী বলে স্বীকার করেছেন তা বোঝা যায়।তাছাড়া প্রাচীন বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস রচয়িতাদের মধ্যে ডঃ শ্রীসুশীলকুমার দে "জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" নিবন্ধে, পন্ডিতশ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ " গ্রন্থে,ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় "কবি জয়দেব" নিবন্ধে, স্বর্গীয় রসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ সবঙ্গানুবাদ-"শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দম্" গ্রন্থে কবি জয়দেবকে বাঙ্গালী তথা বঙ্গদেশজাত বলেই স্বীকার করেছেন। বাংলাভাষার সাহিত‍্য-রচনার পথিকৃ‍ৎ স্বর্গীয় ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন ও বাংলার অন‍্যান‍্য মনীষীদের সিদ্ধান্তও তাই (যদিও দক্ষিণ-ভারতীয় ও মহারাষ্ট্রদেশীয় কোন কোন লেখক শ্রীজয়দেবকে তৎতদেশীয় বলে মন্তব‍্য করেছেন। তাছাড়া উৎকলবাসী মনীষীরা শ্রীজয়দেবের "মিশ্র" পদবীও দাবী করেন)।*
*🍀কবি জয়দেব যে বীরভূমি তথা বীরভূম জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন,সেই বীরভূমির নাম-সার্থকতা নিয়েও বাদানুবাদের অন্ত নাই।বৈষ্ণব-পদাবলী-কীর্তনের ঐতিহাসিক আলোচনায় ঐ সব প্রসঙ্গ অপরিহার্য না হলেও পদ-রচয়িতাদের অন‍্যতম কবি জয়দেবের জীবনালেখ‍্যরচনায় এ সব আলোচনা ও উপাদানের সার্থকতা আছে।*
*🌹পন্ডিতবর শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় বলেন, বীরভূমির পূর্ব নাম ছিল ◆কামকোটি◆।সেকালে পূর্বে অজয়-সম্মিলিতা গঙ্গা,পশ্চিমে আরণ‍্যভূমি (ঝাড়খন্ডের ঘন-অরণ‍্য), উত্তরে পাথরের দেশ (রাজমহলের পর্বতশ্রেণী) এবং দক্ষিণে বিন্ধ‍্যপাদোদ্ভবা বহু নদ-নদী (দামোদর প্রভৃতি ) এই ভূমিখন্ডের চতুঃসীমারূপে নির্দিষ্ট হত।(কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২, পৃঃ ১৫) আরো প্রাচীনকালে বীরভূমির ও তার চারিদিকের ভূমিখন্ড "সুহ্ম" নামে পরিচিত ছিল এবং দন্ডী,কালিদাস, বাণভট্ট,ধোয়ী প্রভৃতি কবি একথার উল্লেখ করেছেন। মহাভারতে টীকাকার নীলকন্ঠ বলেন--, "সুহ্মা রাঢ়াঃ"। শ্রীযুক্ত মুখোপাধ‍্যায়ের অনুমান যে, সেন রাজকুমাররাই তাঁদের পূর্বপুরুষ বীরসেনের নামানুসারে "বীরভূমি" নামকরণ করেন।(কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২, পৃঃ ১৬)।তিনি আরো বলেন-- "আইন-ই-আকবরী-র মতে,বীরভূমির "লক্ষ্ণুব" (অধুনা "নগর" নামে পরিচিত)বল্লালসেনের প্রতিষ্ঠিত।লক্ষনুবের হিন্দু-শাসনদের সেকালে "বীর" উপাধি ছিল।☆ ☆ জয়দেব রাঢ়ের কবি বীরভূমের কবি।*
*🍀তন্ত্রসাধকসম্প্রদায়ের মধ্যে "বীরভূমির" নামের এক সৃষ্টিকথার প্রচলন আছে।বীরভূম জেলায় সাঁইথিয়া,লাভপুর তারাপুর বা তারাপীঠ, নলহাটী ও বক্রেশ্বর এই পাঁচটি জায়গায় পাঁচটি শক্তিপীঠের প্রতিষ্ঠা আছে।শোনা যায়,দেবীর ভিন্ন ভিন্ন অংশ ঐ পাঁচটি জায়গায় পড়ে, শক্তিতীর্থ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, (শোকোন্মাদ মহাদেবের স্কন্ধলগ্ন সতীদেহকে নারায়ণ তাঁর চক্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন করেছিলেন।সতীর দেহ একান্নটি কর্তিত অংশে বিভক্ত হয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল। সেই থেকে "একান্নটি সতীপীঠ"-- লিখেছেন নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ‍্যায় "মন-মধুকর" গ্রন্থে পৃঃ ১৪১।বীরভূমির পাঁচটি শক্তি বা সতীপীঠ ঐ একান্নটি পীঠের অন্তর্গত)।এবং এই পীঠস্থানগুলি তন্ত্রসাধনার ক্ষেত্ররূপে বাংলার শুধু কেন, ভারতের ইতিহাসেও স্থান পেয়েছে।তন্ত্রসাহিত‍্যে তন্ত্রাচারী বা তন্ত্রসাধকরা চক্রানুষ্ঠানে "বীর" নামে পরিচিত।বীর এবং বীরাচার সাধনা কিন্তু সমপর্যায়ভুক্ত নয়।প্রবাদ আছে যে,তন্ত্রাচারী শক্তিসাধকদের ক্ষেত্ররূপেই "বীরভূমি"(বীরদের ভূমি) বীরভূম নামে পরিচিত।ইতিহাস কতটুকু এই নামের সার্থকতাকে মেনে নেবে জানি না, কিন্তু বঙ্গীয় তন্ত্রসাধকরা বীরভূমি বা বীরভূম নামের এই অর্থই সাধারণভাবে গ্রহণ করেন। "বঙ্গীয় তন্ত্রসাধক" বলার উদ্দেশ্য এই যে,সমগ্র তন্ত্রসাহিত‍্যকে পন্ডিতেরা মোটামুটি তিনভাগে ভাগ করেছেন। যেমন (১)বঙ্গীয় সম্প্রদায় বা 'বেঙ্গল স্কুল অফ্ তন্ত্র'--- যা নিছক আচার ও সাধনাত্মক,(২)কাশ্মীরীয় ত্রিকসম্প্রদায় বা 'ত্রিক-স্কুল অফ্ তন্ত্র'-- যা নিছক দর্শন ও তত্ত্ববিচারাত্মক, এবং (৩) দক্ষিণ ভারতীয় শ্রীবিদ‍্যাসম্প্রদায় বা "সাউথ ইন্ডিয়ান স্কুল অফ্ তন্ত্র"-- যা উভয়াত্মক হলেও সাধন ও তত্ত্বপ্রধান।তাছাড়া তন্ত্রে কাদি,হাদি ও ক-হাদি মত তিনটিরও প্রচলন আছে তন্ত্র ও বীজমন্ত্রের শ্রেণীবিভাগ নিয়ে। বাংলাদেশে তন্ত্রসাধনা যে এক সময়ে বিশেষভাবে প্রসার লাভ করেছিল তা রাঢ়দেশ বর্ধমান ও বীরভূমের অন্তর্গত তন্ত্রসাধনার পীঠস্থানগুলি লক্ষ্য করলে বুঝা যায়।বর্ধমানে সাধক কমলাকান্তের সাধনপীঠ ও পঞ্চমুন্ডির আসন আজও বিদ‍্যমান।চান্নাগ্রাম (বর্ধমান) কমলাকান্তের জন্মস্থান।*
*🍀'বীরভূম' নামের আর একটি পরিচয় দিয়েছেন সাহিত‍্যিক নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ‍্যায় "মন-মধুকর" গ্রন্থে এবং সে পরিচয় তাঁর নিজের কথায় বলাই সমীচীন মনে করি। গ্রন্থকার বীরভূম বা বীরভূমির পরিচয় দিয়েছেন কথোপকথনচ্ছলে।তিনি লিখেছেন--"আলোচনা চলেছে বীরভূম কথাটির উৎপত্তি নিয়ে। অধ‍্যাপক বলেছেন, বীরভূম নামের মূলে আছেন রাজা বীরচন্দ্র। এয়োদশ শতাব্দীর সূচনায় এই জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলে তিনি রাজ‍্য স্থাপন করেন। বাংলার মুসলমান সুবেদারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধে তিনি প্রাণ দিয়েছিলেন।☆ ☆ সিউড়ির ছয়-সাত মাইল পশ্চিমে তাঁর রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ আছে।অদূরে গভীর ভান্ডীরবন।সেই বনের মধ্যে বিরাজ করছেন অনাদিলিঙ্গ মহাদেব ভান্ডেশ্বর।"বিদূষী বউঠান বলেন"--- "এতো হ'ল রাজকীয় নামকরণ"।এবার লৌকিক নাম শোন, বীরভূম ছিল সাঁওতালদের প্রধান অঞ্চল।☆ ☆ সাঁওতালী ভাষায় "বীর" মানে "জঙ্গল"।সাঁওতালরা তাদের ঐ জঙ্গলরাজ‍্যের নাম দিয়েছিল "বীরভূঁইয়াঁ"।সেই বীরভূঁইয়াঁই এখন হয়েছে বীরভূম। (মন-মধুকর, আনন্দধারা প্রকাশন কলকাতা--১৩,পৃঃ ১৪৯-১৫০)।অবশ‍্য এটি কিংবদন্তী বা গল্পকথা হলেও এই প্রবাদের পিছনে ঐতিহাসিক সত‍্য থাকা অসম্ভব নয়।*
*🌻এই পর্যন্ত জয়দেব-প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম সাধক-কবির বহিরঙ্গ রূপের কথা,এবার কবির অন্তরঙ্গ-রূপ কাব‍্যগীত মিথুনাত্মক অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ পদগানপ্রকৃতির আলোচনায় প্রবৃত্তি হব। বাংলার কবি জয়দেবের আদিরসাত্মক "গীতগোবিন্দ" পদগানই বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের অন‍্যতম সৃষ্টিক্ষেত্র ও লীলাভূমি। পরবর্তী বৈষ্ণব-পদাবলী যে ৯ম-১১শ শতকের বৌদ্ধ-চর্যাপদ এবং ১২শ-১৩শ শতকের গীতগোবিন্দের উপরই ভিত্তিভূমি রচনা করেছিল একথা নিঃসংশয়ে সকলে স্বীকার করেন।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের পাদপীঠ ও রূপ*

*🍀খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ শতকের শেষভাগে বাংলার মাটিতে ভক্তকবি জয়দেবের অভ‍্যুদয় হয়েছিল একথা আগেই বলেছি।কবি জয়দেব-রচিত অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ-পদগান শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপার্থিব লীলামাধুর্য‍্য সম্পৃক্ত। বাংলার ঠাকুর শ্রীচৈতন‍্যদেব চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতির "কৃষ্ণকীর্তন", রামানন্দ রায়ের "জগন্নাথবল্লভ নাটক", লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গলের "শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত"-এর মত জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ"-পদগানের পরমানুরাগী ছিলেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে শ্রদ্ধেয় কবিরাজ গোস্বামীপাদ লিখেছেন----*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি, রায়ের নাটকগীতি,*
      *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে,মহাপ্রভু রাত্রি দিনে,*
     *গান শুনে পরম আনন্দে।।*
*🍀পুরী তথা পুরুষোত্তমে রাজগুরু কাশীমিশ্রের বাসস্থানের ছোট কক্ষের নাম "গম্ভীরা"।প্রতিদিন নীলাচলে বাসের সময় বৈষ্ণবসাধক স্বরূপদামোদর ও রায় রামানন্দের সঙ্গে গম্ভীরার গুপ্তকক্ষে মহাপ্রভু ঐ গ্রন্থগুলির পাঠ শুনতেন।স্বরূপ ও রামরায় বিদগ্ধ শাস্ত্রজ্ঞানী ও পরমভক্ত ছাড়াও ভারতীয় সঙ্গীতবিদ‍্যায় ও সঙ্গীতশাস্ত্রে পারঙ্গম ছিলেন।কবি জয়দেবের মধুর-কোমলকান্ত পদাবলী শুনে শ্রীচৈতন‍্যদেব মুহুর্মুহু মহাভাবে সমাধিস্থ হতেন। শোনা যায়,সমুদ্রের গভীর গর্জনও সেই সমাধি ও মহাভাবকে ভঙ্গ করতে পারত না।*
*🌻মরমী বৈষ্ণব-সাধকগণের মতে, গীতগোবিন্দ একটি মহাকাব‍্য।কারণ,ইহার নায়ক স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এবং নায়িকা পরমেশ্বরী শ্রীরাধা বা রাধিকা। শোনা যায়,লীলাশুক বা বিল্বমঙ্গল ঠাকুর-রচিত শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত অমৃতগ্রন্থের অনুকরণে কবি জয়দেব গীতগোবিন্দের পদসম্ভার রচনা করেছিলেন মহারসে ও ভাবে সমৃদ্ধ করে।গীতগোবিন্দ দ্বাদশ সর্গে বিভক্ত।এতে আশিটি শ্লোক ও চব্বিশটি গীতের সমাবেশ আছে।এদের মধ্যে বাহাত্তরটি শ্লোক বিভিন্ন বৃত্তছন্দে,একটি শ্লোক জাতিছন্দ ও অবশিষ্ট দুটি শ্লোক ও চব্বিশটি গীত অপভ্রংশ ছন্দে রচিত।(◆অধ‍্যাপক শ্রীসুধীভূষণ ভট্টাচার্য্য এম.এ, জয়দেবের ছন্দ,পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়-লিখিত "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ", তৃতীয় সংস্করণ, পৃঃ ২০৯ দ্রষ্টব‍্য)।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় সর্গবন্ধ-নিবন্ধে গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের নাম ও প্রকৃতি-সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে বাংলার চক্ষুষ্মান বৈষ্ণব-কবিগণ এই সর্গনাম ও তাদের অর্থ-সার্থকতা স্বীকার করেন।আমরা পন্ডিত মুখোপাধ‍্যায়-বর্ণিত সর্গনাম-সার্থকতার সামান্য কিছু এখানে উল্লেখ করব।তার প্রথম কারণ হল,বৈষ্ণব-পদাবলী কীর্তন প্রসঙ্গে বিদগ্ধ বৈষ্ণব-সাধকগণ সমর্থিত গীতগোবিন্দের সর্গনামের আলোচনা অপরিহার্য এবং দ্বিতীয় কারণ,গীতগোবিন্দপদগান ভক্তিরসানুভূতিরই মধুরোজ্জ্বল প্রশান্ত প্রতিচ্ছবি এবং অধ‍্যাত্মসাধক ও সৌন্দর্য‍্য-রস-লিপ্সু সাহিত‍্যিক ও কবিমাত্রেই গীতগোবিন্দের ঐ ভক্তিরস সম্পর্কিত বিবৃতির একান্ত অনুগামী।*
*পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়ের বিবৃতির সারমর্ম হল--,(১)গীত গোবিন্দের প্রথম সর্গের নাম "সামোদ-দামোদর" শ্রীরাধার শ্রীকৃষ্ণ-দামোদর-বিরহের স্মৃতিছবি। (২)গীতগোবিন্দের দ্বিতীয় সর্গের নাম "অক্লেশকেশব"।নবকিশোর শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করার জন্য মহাপ্রকৃতিময়ী শ্রীরাধার যেমন আকুলতা, শ্রীকৃষ্ণেরও শ্রীরাধাকে লাভের জন্য তেমনি ব‍্যাকুলতা।পারস্পরিক অপার্থিব প্রেমের বিহরের জন্য ব‍্যাকুলতা এবং মিলনের আবেগ ও উৎকণ্ঠা এই সর্গের বর্ণনাকে রসসিঞ্চিত করেছে। মুক্তিকামী ভক্ত ও মুক্তকেন্দ্র ভগবানের পারস্পরিক বিরহ ও মিলনের প্রতিচ্ছবিও এই সর্গের বিষয়বস্তু।গীতগোবিন্দের তিন-চার সর্গের নাম "মুগ্ধ-মধুসূদন" ও "স্নিগ্ধ মধুসূদন"।শ্রীমুখোপাধ‍্যায় বলেছেন--, "মধুসূদন নামের অর্থ 'ভ্রমর'। জয়দেব শ্লিষ্ট প্রয়োগে অনেক স্থানেই মধুরিপু, মধুসূদন প্রভৃতি শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।" যেমন "অক্লেশ-কেশব" নামাঙ্কিত দ্বিতীয় সর্গের নবম শ্লোকে জয়দেব বলেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিত-মতিসুন্দর-মোহন- মধুরিপুরূপম"।ঐ দ্বিতীয় সর্গের সপ্তদশ শ্লোকে আছে--, "নিঃসহনিপতিত তনুলতয়া মধুসূদনমুদিতমনোজম্" এবং অষ্টাদশ শ্লোকে আছে--, শ্রীজয়দেবভণিতমিদমতিশয় মধুরিপু নিধুবনশীলম্" প্রভৃতি।তৃতীয় "মুগ্ধ- মধুসূদন-সর্গে পরমনায়ক শ্রীকৃষ্ণ পরমনায়িকা শ্রীরাধিকার জন্য ব‍্যাকুল ও চিন্তান্বিত, আর চতুর্থ সর্গে শ্রীরাধিকার সখী শ্রীকৃষ্ণের কাছে শ্রীমতীর অবস্থার কথা নিবেদন করেছে।(৫)গীতগোবিন্দের পঞ্চম সর্গের নাম "সাকাঙ্খ-পুন্ডরীকাক্ষ"। এই সর্গে পদ্মলোচন শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধার অভিসারের আগমন আকাঙ্খায় অপেক্ষমান।(৬)ষষ্ঠ সর্গের নাম "ধৃষ্ট-বৈকুন্ঠ"।এই সর্গে কবি জয়দেব নায়ক শ্রীকৃষ্ণকে বলেছেন-- ধৃষ্ট, কেননা নায়িকা পথিকের দ্বারা যে সঙ্কেত-বাণী পাঠিয়েছিলেন,তা গোপরাজ নন্দের সম্মুখে ব‍্যক্ত করলেও শ্রীকৃষ্ণ অপ্রতিভ (অপ্রস্তুত বা হতবুদ্ধি) না হয়ে বরং পথিকের প্রশংসায় করেছিলেন।(৭) সপ্তম সর্গের নাম "নাগর-নারায়ণ"। বহুনায়িকাবল্লভ শ্রীকৃষ্ণের জন্য শ্রীরাধা ব‍্যাকুল এবং তাঁর বিপ্রলব্ধ অবস্থা।শ্রীকৃষ্ণের অদর্শনে শ্রীরাধার যে বাসকসজ্জা ব‍্যর্থতায় পরিণত, সেকথায় কবি জয়দেব রসপূর্ণ সাবলীল ছন্দে বর্ণনা করেছেন।(৮) অষ্টম সর্গের নাম "বিলক্ষ-লক্ষ্মীপতি"। এই সর্গে শ্রীরাধার প্রেমের পরম-উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ সজ্জিত কুঞ্জে আগমন না করায় শ্রীরাধা মানিনী এবং সেখানে তাঁকে "খন্ডিত নায়িকা" বলে কবি জয়দেব বর্ণনা করেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিতরতিবঞ্চিত খন্ডিতযুবতিবিলাপম্"।(৯) নবম সর্গের নাম "মুগ্ধ-মুকুন্দ"। এ সর্গে কবি জয়দেব শ্রীকৃষ্ণের চিন্তাকুল অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন,কেননা শ্রীরাধা এখানে মানক্লিষ্ট এবং তারজন‍্য শ্রীকৃষ্ণ সেই মান উপশমনের চিন্তায় আকুল।(১০) দশম সর্গের নাম "মুগ্ধ-মাধব"। এখানে কবি জয়দেব শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীরাধার পদ ধারণ করিয়ে তাঁর মান অপসারণ করিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণের অনুনয় এখানে, "বদসি যদি কিঞ্চিদপি দন্তরুচিকৌমুদী, হরতিদরতিনিরমতিঘোরম্"। মান অপসারণ করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ চারুশীলা প্রিয়া শ্রীরাধাকে জোড়হাত করে বারংবার অনুনয় জানিয়েছেন। (১১)একাদশ সর্গের নাম "সানন্দ-গোবিন্দ"।এই সর্গে কবি জয়দেব নায়ক ও নায়িকা যে উভয় উভয়কে লাভের সম্ভাবনায় আনন্দিত এই ভাব রসসিঞ্চিত ভাবস্নিগ্ধ ভাষায় বর্ণনা করেছেন।(১২) গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের নাম "সুপ্রীত-পীতাম্বর"। এই সর্গে জয়দেব শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীরাধার মানভঞ্জন করে তাঁর সেবাধিকার লাভে কৃতকৃতার্থ এইভাব সাবলীল ছন্দে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং গীতগোবিন্দের সমগ্র পদ পরমনায়ক ও পরমা নায়িকা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার অপার্থিব লীলামাধুর্য‍্য বর্ণনায় মুখরিত। (◆পন্ডিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় "কবি জয়দেব ও গীতগোবিন্দ" তৃতীয় সংস্করণ,১৩৬২সন, গ্রন্থে "সর্গবন্ধ" আলোচনায় পৃষ্ঠা১৭ থেকে ১৭৭, যে সর্গনাম-সার্থকতার বিস্তৃত বিশ্লেষণ করেছেন তা দ্রষ্টব‍্য)।*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের পাদপীঠ ও রূপ*

*🍀দ্বাদশ সর্গের সপ্তবিংশতি (২৭) শ্লোকে ভক্তকবি নিজেই নিজের শ্রীকৃষ্ণৈকতানতার বর্ণনা করেছেন এবং এই শ্রীকৃষ্ণগত চিত্ত শ্রীলাভের জন্য রসিক ভক্তজনের কাছেও নিজের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,*
*🌷যদ্ গান্ধর্বকলাসু কৌশলমনুধ‍্যানঞ্চ যদ্বৈষ্ণবং,*
*🌷যচ্ছৃঙ্গারবিবেকত্ত্বমপি যৎ কাব‍্যেষু লীলায়িতম্।*
*🌷তৎ সর্বং জয়দেবপন্ডিতকরেঃ কৃষ্ণৈকতানাত্মনঃ,*
*🌷সানন্দাঃ পরিশোধয়ন্তু সুধিয়ঃ শ্রীগীতগোবিন্দতঃ।।*
*🍀পদগানে লীলায়িত উজ্জ্বলবেশ দিব‍্য-শৃঙ্গাররস মহাপ্রেমরস-রূপে বিদিত।বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের মুখ‍্য বা আদি রসই শৃঙ্গার।এই আদিরস শৃঙ্গারের চরম ও পরম লক্ষ্য কামগন্ধবিহীন পরমোজ্জ্বল পুরুষ-প্রকৃতি-তত্ত্বববোধ।শ্রীকৃষ্ণরতি শ্রীকৃষ্ণপ্রেম ও শ্রীকৃষ্ণমিলনই বৈষ্ণব পদাবলীগানের মূল-উদ্দেশ‍্য।গীতগোবিন্দের দ্বাদশ সর্গের সপ্তবিংশতি শ্লোকে আলোকপাত করে টীকাকার পূজারী গোস্বামী তাই বলেছেন--,তৎ কিমিত‍্যাহ। যৎ গান্ধর্বকলাসু সংগীতশাস্ত্রোক্ত গীতরাগতালাদিসু যন্নৈপুণ‍্যং তদেব নির্বন্ধনানুসারেণ জানন্তু ইত‍্যর্থঃ।☆ ☆ তত্রাপি দুরূহগতেঃ শৃঙ্গারস‍্য মহাপ্রেমরসস‍্য বিচারে যৎ তত্ত্বং দুরূহব্রজলীলাগতং তদপ‍্যেতদনুসারেণ নিশ্চিন্বন্তু। কাব‍্যেসু যল্লীলায়িতং রসলীলাদিব‍্যঞ্জকবিশেষগ্রথনং তদপ‍্যেতদনুসারেণ নিশ্চিন্ঠন্তু। সর্বত্র হেতুঃ শ্রীকৃষ্ণে একতানঃ একাগ্রোহনন‍্যবৃত্তিরাত্মা মনো যস‍্য তস‍্য শ্রীকৃষ্ণৈকান্তভক্তস‍্যৈব সর্বগুণাশ্রয়ত্বাদিত‍্যর্থঃ। যস‍্যাস্তি ভক্তির্ভগবত‍্যকিঞ্চনেত‍্যুক্তেঃ।*
*🍀সুতরাং পদাবলীকীর্তনের পাদভূমি বা অধিষ্ঠান "গীতগোবিন্দ" পদগান মানবীয় কামরসসম্পৃক্ত(সম্পৃক্ত=মিলিত বা সংযুক্ত) নয়। অবশ‍্য গীতগোবিন্দের পাদপীঠ বা উৎসক্ষেত্র বৌদ্ধ-বজ্রযানী আচার্যগণ-রচিত চর্যাগীতি।তবে চর্যাগীতি অপেক্ষা গীতগোবিন্দের কলামাধুর্য‍্য ও সাহিত‍্য প্রসারতা আরও অনেক বেশী।অপার্থিব শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বা বিশ্বকারণ পুরুষের স্বরূপার গতির ক্ষেত্রে পার্থিব রসস্পর্শের কোন সার্থকতা থাকে না।কাজেই কবি জয়দেব রচিত গীতগোবিন্দকে যাঁরা মানবীয় প্রেম তথা কন্দর্প-কামগন্ধজর্জরিত বলেন, তাঁরা "গীতগোবিন্দ"-পদগানই শুধু নয়,মহাজন-বৈষ্ণব-পদকর্তাগণ-রচিত কোন পদাবলী ও পদাবলীকীর্তনের রস-সম্ভোগ করার মোটেই অধিকারী নন।তন্ত্রে শৃঙ্গাররসপীঠ কামকলা কুন্ডলিনীশক্তিকে সর্ববন্ধনাতিরিক্ত পরমশিবের প্রসুপ্ত বা অব‍্যক্ত রূপ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।জাগ্রতা শক্তিই নিষ্কল শিব বা মায়ালেশশূন‍্য পরব্রহ্মের স্বরূপ।কাম সেখানে বিশ্বাতীত কামনাগন্ধহীন পরমপ্রেমে উন্নীত এবং এই প্রেমাস্বাদন বা প্রেমপরিণতি মানুষের পরম আকাঙ্খিত সামগ্রী ও চরমলাভ।অদ্বৈতবেদান্তবাদী মধুসূদন সরস্বতী "ভক্তিরসায়ণ"গ্রন্থে শৃঙ্গাররসোদ্ভুত প্রেমের পরমপ্রকাশকে "ব্রহ্মাস্বাদসহোদরা" বলে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং গীতগোবিন্দে শৃঙ্গাররস ও শৃঙ্গারবেশসেবিত রাধাকৃষ্ণলীলাতত্ত্বকে পার্থিব কামগন্ধহীন অধ‍্যাত্মতত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি-রূপে আমাদের দেখা ও গ্রহণ করা উচিত।চৈতন‍্যচরিতামৃতে গোস্বামী কৃষ্ণদাস কবিরাজ রায়চৈতন‍্য-সংবাদে শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব ও শ্রীরাধাতত্ত্বের অবতারণা করে বলেছেন---*
*🌷প্রভু কহে যাঁহা লাগি আইলাম তোমা স্থানে।*
*🌷সেই সব রসতত্ত্ব বস্তু হইল জ্ঞানে।।*
*🌷এবে সে জানিল সেব‍্য সাধ‍্যের নির্ণয়।*
*🌷আগে আর কিছু শুনিবারে মনে হয়।।*
*🌷কৃষ্ণের স্বরূপ কহ রাধার স্বরূপ।*
*🌷রস কোন্ তত্ত্ব প্রেম কোন্ তত্ত্ব রূপ।।*
*শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বিশ্লেষণের পর রাধাতত্ত্ব সম্বন্ধে বলেছেন----*
*🌷কৃষ্ণকে আহ্লাদে তাতে নাম আহ্লাদিনী।*
*🌷সেই শক্তি-দ্বারে সুখ আস্বাদে আপনি।।*
*🌷সুখরূপ কৃষ্ণ করে সুখ আস্বাদন।*
*🌷ভক্তগণে সুখ দিতে হ্লাদিনী কারণ।।*
*🌷হ্লাদিনীর সার অংশ প্রেম তার নাম।*
*🌷আনন্দ চিন্ময় রস প্রেমের আখ‍্যান।।*
*🌷প্রেমের পরমসার মহাভাব জানি।*
*🌷সেই মহাভাবরূপ রাধা ঠাকুরাণী।।*
   ☆ ☆ ☆
*🌷সেই মহাভাব হয় চিন্তামণি সার।*
*🌷কৃষ্ণ-বাঞ্জা পূর্ণ করে এই কার্য তাঁর।।*
*🌷মহাভাব চিন্তামণি রাধার স্বরূপ।*
*🌷ললিতাদি সখী তাঁর কায়ব‍্যূহরূপ।।*
*🌷রাধা প্রতি কৃষ্ণ-স্নেহ সুগন্ধি উদ্বর্তন।*
*🌷তাতে অতি সুগন্ধি দেহ উজ্জ্বল বরণ।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷কৃষ্ণের বিশুদ্ধ প্রেম রত্নের আকর।*
*🌷অনুপম গুণগণে পূর্ণ কলেবর।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷যার সদ্ গুণগণের কৃষ্ণ না পান পার।*
*🌷তাঁর গুণ গণিবে কেমনে জীব ছার।।*
*🌻প্রকৃতপক্ষে শ্রীরাধিকার মহাভাব কৃষ্ণরতি ও কৃষ্ণপ্রেমের চরম পরিণতি। বৈষ্ণব লীলা বা রসকীর্তনের চরম আস্বাদন যাঁরা করতে চান তাঁদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে,গীতগোবিন্দ ও তার পরবর্তী যাবতীয় পদগানের নায়ক নায়িকা শ্রীরাকৃষ্ণের ভাবসত্ত্বা-সম্বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পরমতত্ত্বজ্ঞানের অনুভূতি লাভই সাধক জীবনের উদ্দেশ্য,কেবলই বৌদ্ধিক শুষ্ক বিচার ও মানসিক ধারণার বিষয় পদগানতত্ত্ব নয়।তারজন‍্য বৈষ্ণব আলঙ্কারিক ও পদকর্তারা পদাবলী বা পদগানের মধ্যে নিগূঢ় শ্রীরাধাকৃষ্ণের অপার্থিব প্রেমতত্ত্বের ব‍্যাখ‍্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন বিশ্বাতীত দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে।কবি জয়দেবের "গীতগোবিন্দ" পদগানের মর্মকথাও তাই।স্বর্গীয় প্রেমতত্ত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই গীতগোবিন্দের পদগানগুলি আমাদের বিশ্লেষণ করা উচিত এবং তাদের তত্ত্বাববোধ ও রস-সম্ভোগই শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাধকজনের মুখ‍্য-উদ্দেশ‍্য।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*🍀গীতগোবিন্দের পদগানগুলি যে রস,ভাবানুবিদ্ধ অপার্থিব ঐশ্বরিক অনুভূতি ও স্পন্দনের সঞ্চার করে এবং তার রস-ভাব-উৎসই যে পরবর্তী বৈষ্ণব-পদাবলী-কীর্তনের সাহিত‍্যে ও সুরে রস-মন্দাকিনী প্রবাহিত করেছিলতার কিছুটা আভাস দেবার এখানে চেষ্টা করব।*
*🍀গীতগোবিন্দের গানগুলি প্রায়ই আটটি আটটি পদে বা কলিকায় রচিত বলে একে অনেকে "অষ্টপদী" নামে অভিহিত করেন।অষ্টপদীর প্রথম ও দ্বিতীয় পদদুটি পরবর্তী পদগুলির রস ও ভাবের উদ্বোধক এবং প্রতিষ্ঠাও বটে।এই দুটি পদে শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানের দশাবতার রূপের বর্ণনা করেছেন কবি জয়দেব। অপরূপ রসনিবিড় ভাববিদগ্ধ ভাষায় ও ছন্দে।মীন,কূর্ম,বরাহ,নৃসিংহ,বামন,পরশুরাম,রামচন্দ্র,বলরাম,বুদ্ধ ও কল্কি এই দশপ্রকার রূপ প্রথম পদ বা গানের পঞ্চম থেকে চতুর্দশ শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে এবং এই অবতারদের বলা হয়েছে "বেদানুদ্ধবতে জগন্তি বহতে" প্রভৃতি,অর্থ‍্যাৎ তাঁরা বেদের উদ্ধারকারী ও ত্রিলোক-ভারবহনকারী। পূজারী গোস্বামী ◆(পূজারী গোস্বামী "চৈতন‍্যদাস" নামেও পরিচিত ছিলেন।তিনি নাকি "ভাবার্থদীপিকা"নামে গীতগোবিন্দের আর একটি টীকা রচনা করেছিলেন।তিনি ছিলেন বাঙ্গালী ও শ্রীচৈতন‍্যদেবের কিছু পরবর্তী।পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় লিখেছেন--, কবিরাজ গোস্বামী কৃষ্ণদাস শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত প্রণয়নকালে শ্রীধামস্থ যে কয়জন প্রধান প্রধান বৈষ্ণবদের অনুমতি গ্রহণ করেছিলেন,চৈতন‍্যদাস তাঁদের মধ্যে অন‍্যতম এবং এই চৈতন‍্যদাসই শ্রীগীতগোবিন্দের টীকাকার পূজারী গোস্বামী।☆ ☆ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অষ্টম পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে -----*
*🌷পন্ডিত গোসাঞীঁর শিষ‍্য ভূগর্ভ গোসাঞি।*
*🌷গৌরকথা বিনা আর মুখে অন‍্য নাঞি।।*
*🌷তার শিষ্য গোবিন্দপূজক চৈতন‍্যদাস।*
*🌻চৈতন‍্যদাসই যে পূজারী গোস্বামী শ্রদ্ধেয় মুখোপাধ‍্যায় মহাশয় তার প্রমাণ দিয়েছেন গদাধর শিরোমণির দৌহিত্রবংশীয় বাঁকুড়া সোনামুখীর জমিদার স্বর্গত তিনকড়ি বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের গৃহ রক্ষিত একটি প্রাচীন "বালবোধিনী-টীকার" সূচনাশ্লোক থেকে। শ্লোকটি হল---*
 ☆ ☆ ☆
*🌷স্বয়ং বোদ্ধ মভিপ্রায়ং জয়দেব-মহামতেঃ।*
*🌷টীকা চৈতন‍্যদাসেন প্রথ‍্যতে বালবোধিনী।।*
☆ ☆ ☆
*🌻🌻পুঁথির সমাপ্তি শ্লোক🌻🌻*
*🌷গোবিন্দ-পাদ-সেবায়াঃ প্রভাবাদুদিতা স্বয়ম।*
*🌷চৈতন‍্যদাসতো বালবোধিনী স‍্যাৎ সতাং মুদে।।*
*🔵কিন্তু অধুনা মুদ্রিত "বালবোধিনী" টীকার সূচনাশ্লোকের অংশ হল---*
*🌷স্বয়ং বোদ্ধ মভিপ্রায়ং জয়দেব-মহামতেঃ।*
*🌷ক্রমেণোপক্রমাদেষা গ্রথ‍্যতে বালবোধিনী।।*
*🌻তাছাড়া "অত্র ব‍্যাকরণাদীনাং গ্রন্থবাহুল‍্য ভীতিতঃ" থেকে শেষচরণ "ভাবার্থদীপিকাযাঞ্চ ভাবো ভাবার্থলোলুপৈঃ" এই রকম পাঠই আছে। সুতরাং বিশেষ বিচার করে দেখলে "সুবোধিনী-টীকাকার পূজারী গোস্বামী ও চৈতন‍্যদাস এক ও অভিন্ন ব‍্যক্তি বলে মনে হয়।তবে একথাও সত‍্য যে, বৈষ্ণব সাহিত‍্যে কয়েকজন চৈতন‍্যদাসেরও নাম পাওয়া যায়)।*
*🍀পূজারী গোস্বামী তাঁর বালবোধিনী টীকায় শ্রীকৃষ্ণের "দশাবতার" রূপকে দশবিধ রসের প্রতিষ্ঠা বা আকর বলেছেন।তিনি বলেছেন--, "অথ তৎকেলীনাং সর্বোৎকর্ষপ্রতিপাদনায়াদৌ সর্বরসাশ্রয়স‍্য শ্রীকৃষ্ণস‍্য মৎস‍্যাদ‍্যবতারত্বেন সর্বসাধিষ্ঠাতুবখিলনায়কশিরোরত্নতাং প্রতিপাদয়ন ☆ ☆ বসন্তে বাসন্তীত‍্যন্তেন। ☆ ☆ অনেন‍্যৈর মীনস‍্য বীভৎসবসাধিষ্ঠাতৃত্বংবিজ্ঞাপিতম্ "।*
*🍀পূজারী গোস্বামীর মতে, সর্বরসাশ্রয় সর্বভাবঘন শ্রীকৃষ্ণের মীনরূপ বীভৎসরসের প্রকাশক।সেরকম কূর্মাবতার অদ্ভুতরসের আশ্রয় (অনেনৈব কূর্মস‍্যাদ্ভুতরসাধিষ্ঠাতৃত্বং বিজ্ঞাপিতম্), বরাহ ভয়ানকরসের অধিষ্ঠাতা,নৃসিংহ বৎসলরসের,বামন সখ‍্যরসের,পরশুরাম রৌদ্ররসের,রামচন্দ্র করুণরসের, হলধর বা বলরাম হাস‍্যরসের, বুদ্ধ শান্তরসের এবং কল্কি-অবতার বীররসের আকর বা আশ্রয়। দশাবতারূপাশ্রয়ী শ্রীকৃষ্ণকে কবি জয়দেব তাই সর্বরসোত্তম শৃঙ্গার বা শৃঙ্গারস্বরূপ বলে বর্ণনা করেছেন।তাছাড়া পূজারী গোস্বামী দ্বিতীয় গীত---, "শ্রিতকমলাকুচমন্ডল।ধৃতকুন্ডল" প্রভৃতির প্রসঙ্গে বলেছেন--, "দশাবতারান্ কুর্বতে শ্রীকৃষ্ণায় সর্বাকর্ষণানন্দায় তুভ‍্যং নমোহস্তু। ☆ ☆ শ্রীকৃষ্ণস‍্য সর্বনায়কশিরোরত্নতাপ্রতিপাদনায় ধীরোদাত্তত্বাদিচতুর্বিধনায়কগুণ সমন্বয়েন সর্বোৎকর্ষাবিভাবনং প্রার্থয়তে শ্রিয়কময়লত‍্যাদিভিঃ"। এই প্রসঙ্গে ডক্টর শ্রীসুশীলকুমার দে Early History of the Vaishnava Faith and Movement in Bengal (1942) গ্রন্থে বলেছেন--, The opening Dasavatra-stotra, as well as the second Jaya-Jaya-Deva-Hare stotra, presents krishna in his Aisvarya aspect,not as on Avatara,but as the veritable suprime deity of many incarnations (dasakritikriti krishnaya tubhyamnamah), omitting all reference to Radha but mentioning sri or Laksmi.As the poem proceeds the Dhirodatta Nayaka becomes Dhirlalita, and all the erotic Madhurya implications of the theme are developed to their fullest exten.*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds