শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

ষোল নাম বত্রিশ অক্ষর সংযুক্ত মহানামের ব‍্যাখ‍্যা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/mohamantro.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ষোল নাম বত্রিশ অক্ষর সংযুক্ত মহানামের ব‍্যাখ‍্যা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/mohamantro.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙏ষোল নাম বত্রিশ অক্ষর সংযুক্ত মহানামের ব‍্যাখ‍্যা।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

*🍀আমরা এই যে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করি ইহার উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল তা পরম ভাগবদ্ শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয় (স্বয়ং শ্রীমতী রাধারাণী শ্রীপাদ চক্রবর্তীকে "হরিবল্লভ" নাম দিয়েছিলেন, পদাবলীতে যে হরিবল্লভ নামক পদকর্তার নাম পাই) তিনি সুন্দর ভাবে ব‍্যাখ‍্যা করেছেন,যথা----*
*🌷গোবিন্দ মোহিনী রাধা ভানুর নন্দিনী।*
*🌷গোবিন্দ বিরহে অতি হয়ে উন্মাদিনী।।*
*🌷কামনা কুঞ্জেতে বসি এক মন করি।*
*🌷গোবিন্দ লাগিয়া সদা বলে হরি হরি।।*
*🌷মুখে হরি,হৃদে হরি, নিকুঞ্জেতে হরি।*
*🌷সর্বস্থান হরিময় দেখেন সুন্দরী।।*
*🌷হে সখে গোবিন্দ কোথা করিলে গমন।*
*🌷তোমার বিরহে আর না রহে জীবন।।*
*🌷কি দোষ পাইয়ে কৃষ্ণ অঙ্কিনী রাধায়।*
*🌷এ বিপিনে পরিহরি গেলে শ‍্যাম রায়।।*
*🌷হা নাথ, হরি হরি, এসোদয়া করি।*
*🌷নতুবা এখনি মরে তব সহচরী।।*
*🌷এইমত খেদ করি রাধিকা সুন্দরী।*
*🌷গোবিন্দ লাভের তরে মহা চিন্তা করি।।*
*🌷অবশেষে শ্রীরাধিকা করেন নিশ্চয়।*
*🌷কৃষ্ণ প্রাপ্তি উপায় হরিনাম জপে হয়।।*
*🌷অতএব দৃঢ়রূপে শ্রীরাস রঙ্গিণী।*
*🌷তথা হরিনাম জপে হয়ে উন্মাদিনী।।*
*🌷হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।*
*🌷হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ এই মহামন্ত্র ইহা রাধারাণীর রাসলীলার পর কৃষ্ণবিরহ ব‍্যথার প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।এই ষোলনাম বত্রিশ অক্ষরের বিভিন্ন ব‍্যাখ‍্যাও শ্রীপাদ চক্রবর্তী করেছেন যা রাধারাণীর মনের কথা ----*
*🙏যথা=হরে | কৃষ্ণ | হরে--কৃষ্ণ,*
*🌷হরে=হে নন্দনন্দন তুমি স্বমাধুর্য‍্য গুণে আমার মনপ্রাণ সব হরণ (অর্থ‍্যাৎ চুরি করেছ)।*
*🌷কৃষ্ণ=হে যশোদানন্দন তুমি নিকুঞ্জ বিহারী এবং অখন্ড আনন্দ দাতা এজন‍্য তোমাকে শ্রীকৃষ্ণ বলে জানি।*
*🌷হরে=হে গোপীকা রঞ্জন শ্রীকৃষ্ণ তুমি নারীর লজ্জা ভয় সঙ্কোচ সব হরণ করেছ।*
*🌷কৃষ্ণ=হে মানসরঞ্জন শ্রীকৃষ্ণ তোমার অদর্শনে আমি সবসময়ই কাঁদি।তুমি আমাকে ঘর হতে আকর্ষণ করে বৃন্দাবন কুঞ্জে আনয়ন করেছ এবং এই আকর্ষণ বলেই তোমার আরেক নাম কৃষ্ণ।*
*🌷কৃষ্ণ|কৃষ্ণ|হরে|হরে ঃ----*
*🌷কৃষ্ণ=এখানে রাধিকা বিলাপের সুরে বলছেন হে কৃষ্ণ! তুমি আমার দেহকেই শুধু আকর্ষণ করো নাই। আমার মনপ্রাণ সব আকর্ষণ করে এই নিকুঞ্জে এনে বংশীনাদে বিমোহিত করে কেন পরিত‍্যাগ করলে?*
*🌷কৃষ্ণ=হে কৃষ্ণ!কত সুখে তুমি আমাকে আকর্ষণ করে তোমার অঙ্কে বা কোলে স্থান দিয়েছিলে আর এখন বিরহানলে আমি দগ্ধ হয়ে মরছি।যে তোমাকে একবার ভালবেসেছে সে কি কখনও তোমার বিরহ সইতে পারে?*
*🌷হরে=হে পরাণ-রঞ্জন!শ্রীকৃষ্ণ তুমি আমাকে পঞ্চপুষ্পরূপ শরে বিদ্ধ করেছ এবং তীর বিদ্ধ করে নিকুঞ্জ মাঝে ফেলে সর্বস্ব হরণ করে পলায়ন করেছ।উপমাচ্ছলে শ্রীরাধিকা বলছেন যে ব‍্যাধ তো হরিণীকে তীর বিদ্ধ করে সঙ্গে নিয়ে যাই, কিন্তু হে কৃষ্ণ ব‍্যাধ! তুমি আমাকে মেরেও ফেললে এবং পরিত‍্যাগও করলে।এ তোমার কি ধর্ম!*
*🌷হরে=হে ব্রজেন্দ্রনন্দন! তুমি আমার দেহ মন প্রাণ হরণ ছাড়াও সিংহ বিক্রমে আমার দেহের উত্তরীয় বস্ত্র পর্যন্ত হরণ করেছ। অর্থ‍্যাৎ আমার সর্বস্ব হরণ করে এ তোমার কি আনন্দ!*
        *🙏🙏ক্রমাগত🙏🙏*


 *হরে | রাম | হরে |রাম----*
*🌷হরে=হে যশোদানন্দন! তুমি যে শুধু আমার বহিরাবরণ উত্তরীয় হরণ করেছ তাহাই নয়, আমার অন্তরীয় বস্ত্রও তুমি হরণ করেছ। আমি আমার যথাসর্বস্ব তোমায় দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি কি নিষ্ঠুর যে এভাবে আমাকে তাপ দিচ্ছ!*
*🌷রাম=এখানে রাধারাণী একবার কৃষ্ণ একবার রাম বলে সম্বোধন করছেন এবং আক্ষেপের সহিত বলছেন যে হে নাথ----*
*🌷রাসরঙ্গ কালে মোর বাড়াইতে মান।*
*🌷সবা মধ্যে মোরে লৈয়া হলে অন্তর্দ্ধান।।*
*🌷তোমার ধৃষ্টতা কৃষ্ণ বার বার জানি।*
*🌷তথাপি মাধুর্য‍্য গুণে কিছুই নাহি মানি।।*
*🌷বিধি কৃষ্ণ, তুমি ধ্বংস কর, সবাকার কাম।*
*🌷এ কারণ বলি নাথ তব রাম নাম।।*

*🌻হরে=হে জীবনরঞ্জন শ্রীকৃষ্ণ! তুমি তোমার স্বমাধুর্য‍্য দ্বারা আমার মানস রতন হরণ করেছ।এমন কি তুমি আমাকে তোমার বংশীভুক্ত অধরামৃতও কৃপা করে দান করেছ অর্থ‍্যাৎ--*
*🌷বহু মতে হরিলে হে মানস রাধার।*
*🌷অতএব জানি হরে নামের প্রচার।।*

*🌻হরে=এ স্থলেও রাধারাণী আবেগে দুঃখে একবার রাম একবার শ্রীমধুসূদন একবার শ্রেষ্ঠ পুরুষ ভূষণ এই বলে সম্বোধন করে বলেছেন যে তুমি সবসময় সদা সর্বদা আমার চিত্তে রমণ করছ, কিন্তু তবুও কেন তোমার দরশন পাই না এবং মনের আবেগে খেদ করে বলেছেন যে--*
*🌷ওহে প্রেষ্ট নানামতে রমিলে আমায়।*
*🌷এ কারণ কৃষ্ণ তব হরি নাম হয়।।*
*🌷কি পুরুষ কিবা নারী যে তোমায় ভজে।*
*🌷সবাই পাইয়া সুখ তব প্রেমে মজে।।*

*🌻রাম || রাম || হরে || হরে---*
*🌹হরে=এখানে মহাভাবস্বরূপিনী রাধা ঠাকুরাণী বিলাপের সুরে বলছেন যে হে কৃষ্ণ, তোমার গুণে ভুলে রাজার নন্দিনী এখন কাঙালিনীর ন‍্যায় একাকী কুঞ্জে বসে কাঁদছে। তিনি চেষ্টা করছেন যে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রকে একেবারে ভুলে যেতে কিন্তু তা পারছেন না এবং বলছেন যে--*
*🌷হে রাম,হে রাম হরে পরাণ পুতলী।*
*🌷দেখে শুনে মনে হয় একেবারে ভুলি।।*
*🌹রাম= হে রাম! প্রথমে তোমার ভাবে ভাবিনী হলাম তারপরে তোমার বর্ণ দেখে উন্মাদিনী হলাম অতঃপর তোমার সনিষ্কাম প্রেম করিলাম, সর্বশেষে তোমার শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করলাম এবং তার ফলে একেবারে অচেতন হলাম সেজন‍্য খেদোক্তি করে বলছেন যে--*
*🌷হে রাম হে রাম কৃষ্ণ গোপীকা বল্লভ।*
*🌷তুমি যে হয়েছ নাথ জগৎ দুর্লভ।।*

*🌹হরে=এ স্থলে বলছেন যে হে রাখালরাজ তুমি কেন আমাকে হরণ করে বৃন্দাবন মাঝে আনিলে?কত আনন্দ সহকারে তুমি আমাকে হরণ করে আনিলে এবং অবশেষে অচেতন মৃগীর মত পরিত‍্যাগ করে কি আনন্দ পেলে? এই পৃথিবীতে যে হরিনাম করে তার সর্বস্ব যেন ছারখার হয়ে যায় আমার মত।*
*🌹হরে=সর্বশেষে রাইধনি মনের দুঃখে বলছেন যে, হে রাসবিহারী শ‍্যামসুন্দর! হে কৃষ্ণ!হে গোবিন্দ!হে গোপীনাথ! তুমি কেন আমাকে সিংহসম বলে হরণ করে এনে আমার সর্বস্ব চুরি করে এই লতাকুঞ্জ মাঝে আমায় বর্জন করলে? হে কৃষ্ণ!হে দয়িত! তোমার বিরহ যন্ত্রণা আর যে আমার সহ‍্য হয় না।প্রেমের বিচ্ছেদে যে ব‍্যাধি হয়, অ-রসিক শঠ্ কৃষ্ণ তা বুঝতে পারেন না।বিজন বিপিনে রাধারাণী অশেষ বিরহ জ্বালা সহ‍্য করছেন এবং বলছেন যে---*
*🌷ইহাতে জানিহ তুয়া "হরে" নাম সার।*
*🌷ওহে কৃষ্ণ প্রাণে কষ্ট সহে নাক আর।।*
*🌻এটিই হচ্ছে সংক্ষেপে এই ষোলনাম বত্রিশ অক্ষর হরিনামের ব‍্যাখ‍্যা।এই মূল মন্ত্র যা আমরা জপের মালার মাধ‍্যমে উচ্চারণ করি তার প্রত‍্যেকটি শব্দের মধ্যে রাধারাণীর কৃষ্ণ বিরহ যন্ত্রণা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে এবং এই মূলমন্ত্র স্বয়ং রাধারাণী কর্তৃক রচিত।*
*🙏শ্রীরাধাকৃষ্ণের এই যে প্রেম ইহা অপ্রাকৃত প্রেম।শ্রীরাধা হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনীশক্তি এবং স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায় মানুষ তার ইন্দ্রিয় দ্বারা, এই নিষ্কাম প্রেমের মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারবে না এবং এক কথায় ইহা অতীন্দ্রিয়।*
*🍀পরম ভাগবদ্ শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজের ভাষায় যে কামে আত্মসুখ বা ইন্দ্রিয় সুখ নিহিত আছে তাকে সাংসারিক অর্থে কাম বলা হয়, কিন্তু যে কাম আত্মসুখ বর্জিত তারই নাম প্রেম। সুতরাং এই ব‍্যাখ‍্যার মধ্যে যে প্রেমের অভিব‍্যক্তি নিহিত আছে, তা কেউ যেন বৈষয়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখেন কারণ ইহা অতীন্দ্রিয় অর্থ‍্যাৎ ইন্দ্রিয়ের অতীত।*
*🌲পূজ‍্যপাদ পরম ভাগবদ্ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয় কর্তৃক ইহা বিরচিত সুতরাং এই নাম মাহাত্ম্য বিশ্লেষণের মধ্যে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। 🌻শ্রীরাধা কুন্ডের একটি সত‍্য ঘটনা, শ্রীরাধাকুন্ডে বসে শ্রীপাদ চক্রবর্তী ভজন সাধন করেন, একদিন শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থ পাঠ করছেন, পাঠ করতে করতে শ্রীকৃষ্ণের সাড়ে চব্বিশ চাঁদ অঙ্গে আছে, অধ‍্যয়ন করে যেন মনের কোণে কিঞ্চিৎ কেমন মনে হ'ল। তিনি মনে মনে ভাবলেন চব্বিশ বা পঁচিশ কেন হল না! অর্ধ মানে কি?বহু গ্রন্থ সন্ধান করলেন, কিন্তু সমাধান হল না।শেষ পর্যন্ত তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, আমি যখন এর সমাধান করতে পারলাম না, প্রাণ বিসর্জন দিব এই রাধাকুন্ডে। (কোন ভক্ত যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে অর্ধ মানে কি, তখন আমি কি উত্তর দিব! আজ হতে দুইশ বৎসর পূর্বে এমনই সততা ছিল),তাই তিনি সন্ধ‍্যের পর প্রথম প্রহর কেটে গেল,দ্বিতীয় প্রহর কেটে গেল, তৃতীয় প্রহরে সামান্য তন্দ্রা ভাব এসেছে, এমন সময় পরম করুণাময়ী রাধারাণী রাধাকুন্ডে এসে, বলছেন, ভোঁ বিশ্বনাথ! ভোঁ বিশ্বনাথ! (ভোঁ শব্দে লুপ্তবুদ্ধি বা বিভ্রান্ত বুঝায়)বিশ্বনাথ শুনতে পেলেন না, তারপরে রাধারাণী "হরিবল্লভ" বলে যখন ডাক দিলেন, পরম ভক্ত চূড়ামণি শ্রীপাদ নয়ন খুলে দেখেন যে তাঁর আরাধ‍্য তাঁর সামনে দন্ডায়মান! উভয়ের মধ্যে অনেক কথার মাধ‍্যমে রাধারাণী বললেন, যার প্রতি তুমি কিঞ্চিৎ সন্দেহ প্রকাশ করেছ, সেই আমার সখী কস্তুরী মঞ্জরী, সে কোন ভুল লেখেননি। হরিবল্লভ! তোমার সঙ্কল্প দূরে ফেলে দিয়ে "বর্ণাগম ভাস্বত" নামক গ্রন্থে "অর্ধ" শব্দের ব‍্যাখ‍্যা আছে দেখে নিবে, বলিয়াই রাধারাণী অন্তর্দ্ধান হলেন।*
                  *ক্রমাগত*


*গ্রন্থ লেখক এই প্রসঙ্গে রাধারাণীর একটি উক্তির কিছু ব‍্যাখ‍্যা করার ইচ্ছা মনে জাগ্রত হয়েছে।রাধারানী এক জায়গায় বিরহের অর্ন্তজ্বালায় দগ্ধ হয়ে বলেছেন যে---*
*"এই পৃথিবীতে যে হরিনাম করে তার যেন সর্বস্ব ছারখার হয়ে যায় আমার মত"।*
*🍀ভক্তচরিত্র অনুশীলন করলে ইহা যে কত সত‍্য তা প্রতীয়মান হয়,যথা--*
*🌻স্ত্রী শুনিলে কমে যায় তার পতির প্রতি প্রেম,পতি শুনিলে নষ্ট হয় তার পত্নীর প্রতি আসক্তি, পুত্রের নষ্ট হয় পিতামাতার প্রতি সাংসারিক শ্রদ্ধা,পিতামাতার যায় সন্তানের প্রতি মমতা,কি যে মাদকতা আছে হরিনাম এবং কৃষ্ণ কথায় তা ভেবে কুল পাওয়া যায় না।যে শ্রবণ করবে বা অনুশীলন করবে তার সর্বনাশ হবেই হবে।*
*চিত্ত যাঁদের কোমল এবং স্নেহ পরায়ণ তারাও যদি শ্রীকৃষ্ণলীলার নাম,গুণ,রূপের কথা শুনেন তখনি দয়ামায়া হীন হয়ে পড়েন।অতি দীনদরিদ্র ব‍্যক্তিও মা,বাপ,ভাই,বন্ধু স্ত্রী পুত্র সকলকে হেলায় পরিত‍্যাগ করে যেতে পারেন এবং কিছুমাত্র কুন্ঠাবোধ করেন না।এই নির্দয়তা পূর্ণ মনোভাব একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ কথা শ্রবণ এবং স্মরণ মননের মাধ‍্যমেই প্রসার লাভ করে। অর্থ‍্যাৎ এককথায় রাধারাণীর এই খেদোক্তি পরিপূর্ণ ভাবে সত‍্য।*


 *🙏🙏তত্ত্ব কথন🙏🙏*

*🌷যথা তরোর্মূল নিষেচনেন,*
*🌷তৃপ‍্যন্তি তৎ স্কন্ধ ভূজোহপশাখা।*
*🌷প্রাণোহপি আহারাৎ চ যথেন্দ্রিয়ানাং,*
*🌷তথৈব সর্বার্হনাম্ অচ‍্যুত তেজ‍্যা।।*
*🌻এখানে শ্রীমদ্ভাগবদ্ বলেছেন যে বৃক্ষের মূলে জলসেচন করিলে যেমন তার গুড়ি,কান্ড,শাখা,প্রশাখা প্রভৃতি সমস্তই পরিতৃপ্ত হয়ে থাকে এবং জীবদেহে খাদ‍্য আদি দ্রব‍্য গুলিকে প্রদান করিলে ইন্দ্রিয়গণ যেরকম পরিতৃপ্ত হয়,সেইরকম একমাত্র অচ‍্যুতের(শ্রীকৃষ্ণের) পূজাতেই যাবতীয় দেবগণের পূজা সিদ্ধ হয়ে থাকে অর্থ‍্যাৎ সমস্ত দেবগণ তাতে পরিতুষ্ট হন।*

*🌷আসামহো চরণরেণু জুষামহং স‍্যাং।*
*🌷বৃন্দাবনে কিমপি গুল্মলতা ঔষধীনাং।।*
*🌷যা দুস্তজ‍্যং স্বজনম্ আর্য‍্য পথঞ্চ হিত্বা।*
*🌷ভেজর্মুকুন্দ পদবীং শ্রতিভিঃ বিমৃগ‍্যাং।।*

*🌻পূর্বাভাষ=শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় সখা উদ্ধব গোপীগণের মধ্যে কৃষ্ণ প্রেমের উৎকর্ষতা দর্শন করে অবাক বিস্ময় ভাবতে লাগলেন যে কি করে তাঁদের মর্য‍্যাদা দান করা যায়, কিন্তু প্রণাম তো তাঁরা করতে দিবেন না।সেজন‍্য তিনি মানসে ব্রজে গুল্মলতা হয়ে জন্ম নিবার বাসনা প্রকাশ করেন,যাতে পরজন্মে গোপীগণ যখন শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনি শুনে উদভ্রান্তের ন‍্যায় ছুটে যাবেন তখন সেই গুল্মলতাদি তাঁরা অজানিত ভাবে পদদলিত করে যাবেন যার ফলে তিনি তাঁদের চরণরজস্পর্শ পেয়েধন‍্য হবেন।এজন‍্য ভাগবদ্ শ্রীউদ্ধবকে ভক্ত শ্রেষ্ঠ ও কৃষ্ণপ্রেষ্ট বলে মর্য‍্যাদা দিয়েছেন, কারণ গোপীগণকে এইরকম উচ্চ আসনে কেউ বসাতে পারেননি।এই শ্লোকটির মাধ‍্যমে উদ্ধবের সেই মনোবাসনা ব‍্যক্ত হয়েছে।*
                 *ক্রমাগত*


*🌼🌼🌼ব‍্যাখ‍্যা🌼🌼🌼*
  ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀অহো, বৃন্দাবনের যে গোপীগণ পতিপুত্র,স্বজন,ধর্মপথ, যা ত‍্যাগ করা অত‍্যন্ত কষ্টকর, কিন্তু তবুও যাঁরা তাদের ত‍্যাগ করে শ্রীকৃষ্ণচরণারবৃন্দে আশ্রয় নিয়েছেন,আমি কবে সেই গোপীপদরজ স্পর্শ পাওয়ার জন্য ব্রজে গুল্মলতাদি হয়ে জন্ম গ্রহণ করিব যাতে গোপীগণ তাঁদের অজ্ঞাতসারে তাঁকে চরণে দলিত করে যেতে পারেন।*
*🍀মন্তব‍্য=এ এক অদ্ভুত অপ্রাকৃত প্রার্থনা অনেকটা "বাসুদেব দত্তের" প্রার্থনার ন‍্যায় যা পূর্বে কেউ কখন করেননি।এখানে "গোপী" শব্দটির ভাবার্থ আমাদের জানা দরকার। "গো" অর্থে গোবিন্দ এবং "পী" অর্থে পান করা। অর্থ‍্যাৎ রসরাজ, রসময়, আনন্দময় গোবিন্দের সেই রস যাঁরা নিরন্তর বা সবসময় আস্বাদন করেন বা পান করেন তাঁরাই গোপী পদবাচ‍্য।অন‍্য ব‍্যাখ‍্যা হচ্ছে যাঁরা তাঁদের হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেমকে গুপ্তভাবে রাখেন তাঁরাই গোপী।*
*🌻গোপীদের অনেকে বহির্মুখীজন বা ব‍্যাভিচার দুষ্টা বলে দোষারোপ করেন, তার উত্তরে ভাগবদ্ বলেছেন যে ব‍্যাভিচার শব্দটির অর্থ হচ্ছে বিপরীত অভিমুখে বিচরণ। কিন্তু যেদিকে উপাস‍্যশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ আছেন তার বিপরীত দিকে যারা চলেন তারাই তো প্রকৃত ব‍্যাভিচারী। সেজন‍্য গোপীগণের উপর যারা ব‍্যাভিচারের দোষ অর্পণ করেন,তারা মহাপাতকী এবং তাঁরা অক্ষয় নরক ভোগ করবার উপযুক্ত।*
*🍀গোপীদের অন‍্য পতি আছেন বলে শোনা যায় কিন্তু ওটি যোগমায়া কল্পিথ, কারণ তা না হলে তাঁরা এই লীলায় কখনও এইরকম উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন না।এই প্রসঙ্গে শ্রীপাদশুকদেব গোস্বামী গোপীদের উৎকর্ষতা প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে রাসলীলার রাত্রিতে এক কৃষ্ণ বাহুবল্লব হয়ে প্রত‍্যেক গোপীদের সঙ্গে বিহার করেছিলেন যা একমাত্র শ্রীভগবানের পক্ষেই সম্ভব ছিল।হঠাৎ প্রেমের আবেগে কৃষ্ণচন্দ্র স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তাঁর ভূজদন্ড দ্বারা গোপীগণের কন্ঠ জড়িয়ে ধরলেন,কেন ধরলেন? তার কারণ বিশ্লেষণ করে গোস্বামীপাদ বলেছেন যে নিজের প্রেম-অপেক্ষা গোপীগণের প্রেমাধিক‍্য বশতঃ পাছে নিজে ভেসে যান এই আশঙ্কায়। (ভগবান যদি মনের মত ভক্ত পেয়ে যান তাহলে তিনি এমনটিই করেন)।এই সৌভাগ্য অনন্ত বিশ্বে আর কারও ভাগ‍্যে জুটে নাই।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


শ্রীমদ্ ভাগবতে অবধূত সংবাদ অর্থ‍্যাৎ গোবিন্দ নিজ শ্রীমুখে সব তত্ত্বকথা উপদেশচ্ছলে বলেছেন তাঁর পরমপ্রিয় উদ্ধবকে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/uddhob.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীমদ্ ভাগবতে অবধূত সংবাদ অর্থ‍্যাৎ গোবিন্দ নিজ শ্রীমুখে সব তত্ত্বকথা উপদেশচ্ছলে বলেছেন তাঁর পরমপ্রিয় উদ্ধবকে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/uddhob.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
 *শ্রীমদ্ ভাগবতের অবধূত সংবাদ ২৭৯ ।*
*************************************
*🍀শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধের সপ্তম,অষ্টম ও নবম অধ‍্যায়ের মধ্যে এই অবধূত সংবাদ সন্নিবেশিত রয়েছেন।এই একাদশ স্কন্ধের মূল বিষয় হচ্ছে শ্রীগোবিন্দ এবং উদ্ধব সংবাদ অর্থ‍্যাৎ গোবিন্দ নিজ শ্রীমুখে সব তত্ত্বকথা উপদেশচ্ছলে বলেছেন তাঁর পরমপ্রিয় উদ্ধবকে। ভগবান তো কখনও নিজে তাঁর লীলাকথা বলতে পারেন না সেজন‍্য প্রসঙ্গের অবতারণাচ্ছলে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ যদুমহারাজকে শ্রীঅবধূতজী নামক একজন সন্ন‍্যাসী যা সব বলেছিলেন তা গোবিন্দ শ্রীমুখে তাঁর নিজজন উদ্ধবকে সব বলেছিলেন।এই অবধূতজীর আদি নাম "দত্তাত্রেয় ঋষি"।*
*🍀সাধারণতঃ চলতি কথায় আমরা জানি যে অবধূত নামক এক ঋষি বহুগুরু করেছিলেন।এই প্রসঙ্গটি স্বভাবতই দীক্ষিত মানুষের মনে দোলা দেয় যে এমন একজন প্রজ্ঞাবান ঋষি কি করে বা কেন বহুগুরু করেছিলেন।এ প্রশ্ন যদু মহারাজও অবধূতজীকে করেছিলেন এবং তদুত্তরে এই মহর্ষি বলেছিলেন যে মন্ত্রদাতা বা দীক্ষাদাতা গুরু তাঁর মাত্র একজনই কিন্তু তবুও তিনি এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের স্থাবর,জঙ্গম, জীবজন্তু কীট পতঙ্গের জীবনযাপন পদ্ধতির মধ্যে অনেক কিছু শিক্ষনীয় বিষয় অধিগত হয়ে তাঁদের গুরুপদে বরণ করেছিলেন এবং এই হিসাবে তিনি চব্বিশ জনকে গুরুপদে বরণ করেছিলেন, কারণ তাঁদের প্রত‍্যেকের নিকট হতেই তিনি অনেককিছু শিক্ষা লাভ করেছিলেন এবং সেজন‍্য তিনি নিজমুখে বলেছিলেন যে, "এই ভাবে বহু গুরুর কাছে শিক্ষা পেয়ে বৈরাগ্র লাভ করে,বিজ্ঞান আলোক বিশিষ্ট আত্মাতে অবস্থান করে তিনি মুক্ত এবং অহংকার শূন‍্য হৃদয়ে বিচরণ করেছেন "।এক্ষণে এই চব্বিশ জন গুরুর পরিচয় এবং কি শিক্ষা অবধূতজী লাভ করে নিজের জীবনে আচরণ করে গেছেন তার কিছু প্রসঙ্গ করে হবে।কারণ অনেকেই প্রবাদ বাক‍্যের মত অবধূত চব্বিশ জনকে গুরু করেছিলেন এই কথাটি জানেন সেজন‍্য আশাকরি এর সংক্ষিপ্ত প্রসঙ্গটি ভক্ত পাঠকগণের নিকট হৃদয়গ্রাহী হবে।*

*🙏অবধূতজীর প্রথম গুরু হচ্ছেন-- পৃথিবী।ধরিত্রীমাতার বক্ষে এই জীবজগৎ বিরাজিত।কত অত‍্যাচার কত যাতনা এই পৃথিবীকে যে সহ‍্য করতে হয় জীবজগতের আচরণের জন্য,তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই কিন্তু তবুও ধরিত্রীমাতা সর্বংসহা হিসাবে সব নীরবে সহ‍্য করে যান। অবধূতজী বলছেন যে প্রকৃত যোগী বা সন্ন‍্যাসীকেও এইরকম পৃথিবীর মত ধৈর্য‍্যশীল হতে হবে।*
*🍀অবধূতজী আবার এই পৃথিবীকে দুইভাগে ভাগ করেছেন যথা বৃক্ষরূপ এবং পর্বতরূপ।বৃক্ষের গুণাবলী বিশ্লেষণ করে তিনি বলছেন যে বৃক্ষের জীবন দর্শন পর্য‍্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায় যে পরমার্থে এবং জীবের মঙ্গলার্থে সে যেন নিজের সর্বস্ব চিরকাল দান করছে যথা=*
*(১)বৃক্ষ ফল দ্বারা পরের উপকার করে নিজে একটিও খায় না।*
*(২)শ্রান্ত(শ্রমযুক্ত) পথিককে সুশীতল ছায়া প্রদান করে নিজে সূর্য‍্যের চরম রৌদ্রতেজ সহ‍্য করে।*
*(৩)পল্লব মুকুলাদি দ্বারা নানা প্রকার দেব-সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে।*
*(৪)বৃদ্ধ বয়সে মানুষ করাত দিয়ে তার অঙ্গছেদন করে নানারকম আসবাব পত্র বানায়।*
*(৫)এমন কি শুকনো কাঠ দ্বারা জ্বালানী করে লোকে খাবার জিনিস তৈরী করে এবং বৃক্ষ নীরবে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরেরজন‍্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে।সেজন‍্য অবধূতজী বৃক্ষের নিকট হতে এই শিক্ষাই গ্রহণ করলেন যে প্রকৃত যোগীকে সবকিছুই পরেরজন‍্য বা পরের মঙ্গলের জন্য উৎসর্গ করতে হবে।*

*সেইরকম আবার পর্বতও নিজে কিছু ভোগ করে না সবকিছুই পরেরজন‍্য উৎসর্গ করে।পর্বত পৃথিবীকে ধারণ করে,প্রস্রবনের (জলপ্রবাহের) মাধ‍্যমে জলদান করে, পর্বতবক্ষে উৎপন্ন খনিজ দ্রব‍্যাদি সবই নিজে কিছুই ভোগ করে না এবং সবই যেন পরেরজন‍্য উৎসর্গীকৃত। সেরকম প্রকৃত সাধুকেও এইরকম আদর্শ মেনে চলতে হবে।*
*সেজন‍‍্য অবধূতজী তার প্রথম শিক্ষাগুরুর নিকট হতে তিনটি প্রধান জিনিস আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে পৃথিবীকে গুরুত্বে বরণ করেছিলেন এবং এই তিনটি সদ্ গুণ হচ্ছে--, পৃথিবীর ন‍্যায় ক্ষমা,বৃক্ষের ন‍্যায় সহনশীলতা ও পরেরজন‍্য জীবনদান এবং পর্বতের কাছ হতে পরাধীন বৃত্তি কারণ বৃক্ষের মত পর্বতকে স্থানান্তরিত করা যায় না।*
*(২) অবধূতজীর দ্বিতীয় শিক্ষাগুরু হচ্ছেন বায়ু যা আবার দুই অংশে বিভক্ত যথা=প্রাণবায়ু ও বাহ‍্যবায়ু। প্রাণবায়ুর কাছ হতে আমাদের এই শিক্ষাই গ্রহণ করতে হবে যেদিন অদৃষ্টে যে আহার মিলবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।অর্থ‍্যাৎ যোগীব‍্যক্তিকে নানাধর্ম বিশিষ্ট বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ করলেও বায়ুর মত নির্লিপ্ত বা অনাসক্ত থাকতে হবে।*
*সেজন‍্য অবধূতজী এই দুই কারণের জন্যই বায়ুকেও গুরুত্বে বরণ করেছিলেন।মূল কথাটি কি? মূল কথাটি হচ্ছে বায়ু যেরকম সর্বদাই বিরাজিত অথচ কারও সঙ্গে লিপ্ত হয় না,প্রকৃত যোগীকেও সেরকম নিঃসঙ্গতা পথে চলতে হবে এই প্রসঙ্গে সন্ন‍্যাসযোগে গীতা বলেছেন যে ----*
*🌷যোগী যুঞ্জীত সততম্ আত্মানং রহসি স্থিতঃ।*
*🌷একাকী যত চিতাত্মা নিরাশীঃ অপরিগ্রহঃ।।*
*🔷ভাবার্থ এই যে, "প্রকৃত যোগী একাকী নির্জন জায়গায় থেকে সংযতদেহ--সংযতচিত্ত-- আকাঙ্ক্ষাশূন‍্য ও পরিগ্রহশূন‍্য হয়ে চিত্তকে সবসময় সমাধি অভ‍্যাস করাবেন।*

 *(৩) অবধূতজীর তৃতীয় শিক্ষাগুরু হচ্ছেন--"আকাশ"।*
*আকাশ=এটি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেছেন যে আকাশ যেরকম দিগন্ত বিস্তৃত রহিয়াও কারও সঙ্গে লিপ্ত হয় না, তেমনি সাধনসিদ্ধ মুনিকেও সদাসর্বদা শ্রীহরি পাদপদ্ম ধ‍্যান ধারণায় নিজের জীবনকে চালনা করতে হবে।কারও সঙ্গে যেন লিপ্ত না হতে হয়।এই প্রসঙ্গটি আরও সহজবোধ‍্য হবে যদি আমরা গীতার রাজবিদ‍্যা রাজগুহ‍্য যোগের শ্লোকটি অনুশীলন করি, যেখানে শ্রীভগবান বলেছেন----*
*🌷যথা আকাশস্থিতো নিত‍্যং বায়ু সর্বত্রগো মহান্,*
*🌷তথা সর্বাণি ভূতানি মৎস্থানি ইতি উপধারয়।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ ভাবার্থ হচ্ছে যে বায়ু আকাশে থাকলে যেমন উহা আকাশের সঙ্গে সংস্পৃষ্ট হয় না, সেইরকম সর্বভূত আমাতে থাকলেও আমার সঙ্গে উহাদের কোন বন্ধন হয় না।(অবধূতজীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় গুরু করণের সঙ্গে গীতার এই শ্লোক দুইটির বিশেষ সামঞ্জস‍্য আছে বলিয়া এখানে দেওয়া হল।*
*(৪)অবধূতের চতুর্থ শিক্ষাগুরু হচ্ছেন "জল"।*
*🍀ইহাকে বিশ্লেষণ করে তিনি বলেছেন যে প্রকৃত সাধু বা যোগীকে জলধর্ম অবলম্বন করে চলতে হবে। কারণ জল মাত্রই স্বভাবত স্বচ্ছ(একেবারে পরিস্কার) এবং স্নিগ্ধ (কোমল) এবং মধুর।অর্থ‍্যাৎ তাঁর মতে জলের সঙ্গে মিত্রতা করতে হবে, তাহলে তাঁর ক্রিয়া জলের সমান হবে।জল মাত্রই স্নিগ্ধ এবং জলের এই স্নিগ্ধধর্ম মুনিগণকে গ্রহণ করতে হবে।জল যেরকম নিজের পিপাসা মেটায় না এবং শুধুমাত্র তৃষ্ণার্ত জীবজগতের পিপাসাকে নিবৃত্ত করে মুনিগণকেও তেমনি নিজে বিষয় ভোগ করা চলবে না।সেজন‍্য তিনি জলকে গুরুত্বে বরণ করেছিলেন। অবধূতজী আরও বলেছেন যে জলমাত্রেই স্বভাবতই স্বচ্ছ এবং জলের যে মালিন‍্য তা বহিরাগত,সেজন‍্য প্রকৃত সাধুকে এই মালিন‍্যকে ভজনের মাধ‍্যমে দূরীভূত করতে হবে।*
*(৫) অবধূতজীর পঞ্চম গুরু হচ্ছেন অগ্নি।*
*🍀এই প্রসঙ্গে অবধূতজী বলেছেন প্রকৃত যোগীকে অগ্নির ন‍্যায় তেজস্বী হতে হবে।এই তেজস্বীতা পরম সাত্ত্বিক যোগীর মুখমন্ডল দর্শনেই প্রতীয়মান বা বোধগম্য হয়, যেন মনে হয় দেহ হতে একটি জ‍্যোতি বাহির বা নির্গত হচ্ছে।তেমনি আবার অগ্নি সর্বপ্রকার গ্লানি বা অপবিত্র জিনিসকে দহন করলেও সদা পবিত্র--, সেইরকম প্রকৃত সাধুকেও এই জাতীয় পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে।অগ্নি যেমন কখনও সতেজ কখনও নিষ্প্রভ প্রকৃত মুনিকেও সেরকম প্রচ্ছন্ন অগ্নির মত সময় সময় ব‍্যবহারিক জগতে জড়বৎ আচরণ করতে হবে।অনেকটা জড়-জগতের মত। আবার প্রয়োজনে নিজস্ব ব্রহ্মচর্য‍্যরূপ তেজ অগ্নির মত বিকাশও করতে হবে।*

*(৬)অবধূতজীর ষষ্ঠ গুরু হচ্ছেন চন্দ্র।*
*🍀চন্দ্রকে গুরুপদে বরণ করবার কারণ এই যে আলোক মাত্রেই উজ্জ্বল এবং তাতে দাহিকা শক্তি বিদ‍্যমান। কিন্তু চন্দ্রালোকের বিশেষত্ব এই যে এটি তমসাচ্ছন্ন(অন্ধকারময়) ধরিত্রীকে আলোকিত করলেও সেই চন্দ্রালোক অতীব স্নিগ্ধ এবং উপভোগ‍্য।*
*সেজন‍্য অবধূতজী বলতে চাহেন যে প্রকৃত সাধুর স্বভাব হবে চাঁদের মত স্নিগ্ধ।জ্ঞানালোকে তাঁর চিত্ত উদ্ভাসিত হলেও যেন সদাসর্বদা স্নিগ্ধতা বজায় থাকে।এই গুণের জন্যই তিনি চন্দ্রকে গুরুত্বে বরণ করেছেন।*
*(৭)অবধূতজীর (দত্তাত্রেয় ঋষির) সপ্তম গুরু হচ্ছেন সূর্য‍্য।*
*🍀রবির কাছ থেকে তিনি এই শিক্ষাই পেয়েছেন যে সূর্য‍্য নিজের রশ্মিদ্বারা সর্বপ্রকার জলাশয়ের জলকে আকর্ষণ করলেও তিনি নিজেতা ভোগ করেন না, প্রয়োজনমত তিনি বারিধারার মাধ‍্যমে সেই জল পৃথিবীকে দান করেন জীবের মঙ্গলের জন্য।তিনি তো ইচ্ছে করলেই তা নিজের ভোগের জন্য রাখতে পারতেন কিন্তু তা করেননি। সেহেতু অবধূতজী প্রকৃত সাধুর চরিত্র বিশ্লেষণ করে বলেছেন যইন্দ্রিয় যদি বিষয় গ্রহণ করে এবং যদি তার ফলে এবং ভোগে আসক্ত হয় তাহলেই বন্ধনের সৃষ্টি।আর লাভালাভে চিত্ত যদি আসক্তিহীন হয় তাহলেই মুক্তি।সেইজন‍্য প্রকৃত সাধুকে বিষয় ভোগ করলেও আসক্ত হওয়া চলবে না।*
*(৮)অবধূতজীর অষ্টম গুরু হচ্ছেন কপোত-কপোতী।*
*🍀কোন এক বৃক্ষে এক কপোত কপোতী জীবন যাপন করত।কিছুদিন পরে কপোতী কতগুলি শাবক প্রসব করে।শাবকগুলি লালন পালনের জন্য কপোত কপোতী অসম্ভব কষ্ট স্বীকার করে তাদের জন্য আহার্য‍্য সংগ্রহ করত এবং সন্তানদের ধীরে ধীরে বেড়ে উঠার জন্য পিতা মাতার আর আনন্দ ধরে না,মায়ার শৃঙ্খলে তারা উভয়েই এমন আসক্ত হয়ে পড়িল যে তা বলার যোগ্য নয়।একদিন তারা যখন আহারের খোঁজে গিয়েছিল এক ব‍্যাধ শাবকগুলিকে জাল পেতে ধরে ফেলে এবং পিঞ্জরাবদ্ধ শাবকগণ ব‍্যাকুল ভাবে কাঁদতে থাকে।এমন সময় কপোত কপোতী তাদের নীড়ে বা বাসায় ফিরে এসে সন্তানদের এই দুর্দশা দেখে নিজেদের অদৃষ্টকে ধিক্কার দিতে থাকে।সন্তান স্নেহের প্রাবল‍্যে করুণ ভাবে রোদন করতে করতে মাতা কপোতী সন্তানদের দুঃখে বিচলিত হয়ে সেই জালের কাছে উপস্থিত হওয়া মাত্র ব‍্যাধ তাকে ধরে ফেলে।তখন পিতা কপোত সকলের এই দুর্দশা দেখে মায়ামোহে পড়ে স্বেচ্ছায় নিজেকে সেই ব‍্যাধের জালে ধরা দিল, যার ফলে কপোত কপোতী তাদের সব সন্তান সন্ততি সহ মৃত‍্যুমুখে পতিত হল।(এটি দ্বারা অবধূতজী এই শিক্ষাই লাভ করলেন যে যদি কোন ব‍্যক্তি অত‍্যন্ত মায়াপ্রবণ হয়ে সংসারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে তারা শেষে কপোত কপোতীর মত বিড়ম্বনা ভোগ করে।প্রকৃত সাধুকেও এই সমস্ত বিষয় হতে যথোচিত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।*
*(৯)অবধূতজীর নবম গুরু হচ্ছেন "অজগর"।*
*🍀আমরা সকলেই জানি যে অতি বিশালাকায় অজগর সাপ খাদ‍্য অন্বেষণের জন্য ছুটাছুটি করতে পারে না, সে জঙ্গলের একটি জায়গায় পড়ে থাকে এবং কৃপাময় ভগবান তাকে এমন শক্তি দিয়েছেন যে নিঃশ্বাস গ্রহণের মাধ‍্যমে সেই পরিধির মধ্যে কোন জীবজন্তু আসিলে সে তাদের টেনে নিয়ে খাদ‍্য হিসাবে গ্রহণ করে।অর্থ‍্যাৎ পছন্দমত খাদ‍্য সংগ্রহের কোন প্রবৃত্তি তার মধ্যে নাই এবং যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট।সেইরকম ভোগ‍্য এবং ভোজ‍্য বস্তুর জন্য প্রকৃত যোগী যেন কোন চেষ্টাই না করেন এবং যেন অজগর বৃত্তি অবলম্বন করেন।তিনি সাধন জগতে নিবিষ্ট থাকবেন এবং অযাচক বৃত্তি অবলম্বন করবেন কারণ ভগবান তাঁর ভক্তের "যোগক্ষেম" বহনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর একটি কথা -- আপনারা কখনও দেখেছেন বা শুনেছেন যে ভজনশীল কোন সাধু মহাত্মা অনাহারে বা খাদ‍্য অভাবে মারা গেছেন। কখনই না,কারণ তাহলে সেদিন শাস্ত্রবাক‍্য সব মিথ‍্যায় পর্য‍্যবসিত হবে।*
*যেদিন যা জুটে প্রকৃত যোগীকে মনে করতে হবে এটাই ভগবানের ইচ্ছা এবং সানন্দে তা গ্রহণ করতে হবে এবং অজগরের মত আচরণ করতে হবে।এটিই অবধূতজীর শিক্ষা অজগর সাপের কাছ হতে এবং চলতি কথায় একে "অজগর বৃত্তি" বলা হয়।*

*(১০)অবধূতজীর দশম গুরু হচ্ছেন সিন্ধু অর্থ‍্যাৎ মহাসমুদ্র।*
*🍀তিনি বলেছেন,যোগী বা মুনিগণকে সদা সর্বদা বাইরে প্রসন্নভাব এবং ভিতরে গম্ভীর ভাবে থাকতে হবে।কোন ব‍্যাপারেই যেন চিত্ত চঞ্চল না হয়।এই প্রসঙ্গে গীতার একটি শ্লোকই ইহার যথার্থ ভাবার্থ বহন করে,যথা----*
*🌷আপূর্য‍্যমানং অচল প্রতিষ্ঠং,*
*🌷সমুদ্রম্ আপঃ প্রবিশন্তি যদৃবৎ,*
*🌷তদবৎ কামা যং প্রবিশন্তি সর্ব্বে,*
*🌷স শান্তিম্ আপ্নতি ন কামকামী।*
*মহাসমুদ্র দর্শন করলেই বুঝা যায় যে সদাই জলরাশিতে পরিপূর্ণ।সেই স্বদাপূর্ণ সমুদ্রে অবিরত নদ নদী হতে জলরাশি প্রবেশ করছে কিন্তু তাতে সমুদ্রের কোন বিক্ষোভ উপস্থিত হয় না।সদা সর্বদাই যেন ধীর,শান্ত এবং প্রশান্ত।সেইরকম ঈশ্বরে যাঁদের মনপ্রাণ সমর্পিত,বিষয়গুলি তাঁদের ইন্দ্রিয় গোচর হলেও তাঁদের চিত্ত বিক্ষুদ্ধ হয় না।যে কথা গীতায় অন‍্যত্র বলা হয়েছে,যথা-----*

*🌷দুঃখেষু অনুদ্বিঘ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ,*
*🌷বীতরাগ ভয়ক্রোধঃ স্থীতধীঃ মুনিঃ উচ‍্যতে।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ দুঃখে যিনি উদ্বেগশূন‍্য, সুখে স্পৃহাশূন‍্য বা বাসনাশূন‍্য,যার অনুরাগ,ভয় ক্রোধ সব নিবৃত্ত হয়েছে তাঁকেই স্থিতপ্রজ্ঞা মুনি বলা হয়।সেজন‍্য অবধূতজী সমুদ্রকে গুরুত্বে বরণ করে বলেছেন যে প্রকৃত যোগীকে বা মুনিকে মহাসমুদ্রের মত আচরণ করতে হবে।এইজন‍্যই মহাসমুদ্রকে গুরুরূপে বরণ করেছিলেন।*

#প্রেম#
সম‍্যঙ মসৃণিতস্বান্তো মমতাতিশয়াঙ্কিত।
ভাবঃ স এব সান্দ্রাত্ম বুধৈঃ প্রেমানিগদ‍্যতে।।
                      (ভক্তিরসামৃতসিন্ধু )
যাহা দ্বারা হৃদয় সম‍্যক্ রূপে নির্মল হয়, যাহা অত‍্যন্ত মমতাযুক্ত, যাহা অত‍্যন্ত ঘনীভূত, তাহাকেই
পন্ডিতগণ "প্রেম" বলিয়া থাকেন।
       ""কবিরাজ গোস্বামীপাদের প্রেমের সংজ্ঞা""
আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা তারে বলি কাম।
কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা ধরে প্রেম নাম।।
কামের তাৎপর্য‍্য নিজ সম্ভোগ কেবল।
কৃষ্ণ সুখ তাৎপর্য‍্য প্রেম মহাবল।।
                #প্রেম লক্ষণ#
 অনেক বিপদে মন কিঞ্চিৎ না টলে।
 প্রেমের লক্ষণ সেই সাধু শাস্ত্রে বলে।।
                       (শ্রীশ্রীভক্তমাল গ্রন্থ )
         #স্নেহের লক্ষণ#
 সেই প্রেম পরিপাকে হৃদয়ে তে রয়।
 স্নেহ নাম ধরি সুখ অধিক বাঢ়য়।।
                 (শ্রীশ্রীভক্তিমাল গ্রন্থ )
            #মান লক্ষণ#
স্নেহ পরিণামে তবে মান নাম হয়।
বক্রগতি শোভা হয় রস  সুখময়।।
                    (ঐ)
      #প্রণয় লক্ষণ#
 মান পরিপাকেতে বিশ্বাস মিত্র বৃত্তি।
 সখ‍্য দুই ভাঁতি হয় সুখের উন্নতি।।
 প্রণয় বলিয়া তবে হয়তো আখ্যান।
 প্রণয়ের পরিপাকে রাগের লক্ষণ।।
                     (ঐ)
        # রাগ লক্ষণ#
 বহু যে দুঃখেতে সুখ করিয়া মানয়।
 ঈষৎ না টলে মন রাগ সেই হয়।।
                               (ঐ)
দর্শনে শ্রবণে রাগ দুইতো প্রকার।
সাক্ষাৎ দর্শন এক চিত্রপটে আর।।
             (রসকল্পবল্লী গ্রন্থ )
       #অনুরাগ লক্ষণ#
প্রিয় মুখ কমল যে যখন দেখয়ে।
নূতন নূতন বুদ্ধি প্রতিক্ষণে হয়ে।।
দেখিয়াও দেখি নাই মনে উপজয়ে।
তৃপ্তি নাহি হয় অনুরাগের বিষয়ে।।
           (শ্রীশ্রীভক্তমাল গ্রন্থ )
 শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণের আদি রস দুই ভাগে বিভক্ত করিয়া রসকল্পবল্লীর গ্রন্থকার শ্লোক রচনা করেছেন -----------------------------------------------------
বিপ্রলব্ধ-সম্ভোগ দুই করিয়ে গণন।
উজ্জ্বল মধুর রসে দুই প্রয়োজন।।
এই বিপ্রলব্ধ তবে চতুর্বিধাখ‍্যান।
পূর্বরাগ প্রবাস, প্রেম-বৈচিত্র‍্য আর মান।।
# বিপ্রলব্ধ শ্রেণীবিভাগ সম্বন্ধে শ্রীশ্রী ভক্তমাল গ্রন্থে এই শ্লোক পাওয়া যায় --------------------------
পূর্বরাগ, মান, প্রেম-বৈচিত্র‍্য, প্রবাস।
চারি ভেদ হয় বিপ্রলব্ধের প্রকাশ।।
                 #পূর্বরাগ লক্ষণ#
সঙ্গমের পূর্বে যেই দেখিয়া শুনিয়া।
জনময়ে রাগ লোভ হৃদয়ে পশিয়া।।
সেই পূর্বরাগ তার বিষয় যে শুন।
দর্শন শ্রবণ বসু ভেদ কহি পুনঃ।।
             (শ্রীশ্রী ভক্তমাল গ্রন্থ )
*** সঙ্গ নহে রাগ জন্মে কহি পূর্বরাগ।
                        ( রসকল্পবল্লী গ্রন্থ )
         # অষ্ট নায়িকা #
১, অভিসারিকা ২, বাসকসজ্জা ৩, উৎকন্ঠিতা
৪,বিপ্রলব্ধা ৫,খন্ডিতা ৬,কলহান্তরিতা ৭, স্বাধীন-
ভর্তৃকা ৮, প্রোষিত ভর্তৃকা।
(১) অভিসারিকার লক্ষণ----------------
"কান্তার্থিনী তু যা যাতি সঙ্কেতং ষাভিসারিকা"
        অভিসারের আগে হয় দুইত ধরণ।
         নায়ক গমন কিম্বা নায়িকা গমন।।
                              (রসকল্পবল্লী গ্রন্থ )
** এই অভিসারিকা নায়িকাও রসমঞ্জরী গ্রন্থে অষ্ট প্রকার নামে অভিহিতা।
(১) জ‍্যোৎস্না (২) তামলী (৩) বর্ষা (৪)দিবা (৫)
কুঞ্ঝটিকা (৬)তীর্থযাত্রা (৭) উন্মত্তা (৮)সঞ্চারা।
** প্রথম হতে ছয় প্রকার অভিসারিকায় লক্ষণ শব্দ দ্বারাই অনুভব হয়। উন্মত্তা ও সঞ্চারার লক্ষণ এই।( মুরলীক নাদ যব শুনই শ্রবণে।
        উন্মত্ত হইয়া চলে নায়ক মিলনে।।)
                         ( রসমঞ্জরী গ্রন্থ )
** সঞ্চারাভিসারিকার লক্ষণ---------------------
 অনঙ্গ রসে মহাপীড়া  আশঙ্কিত মন।
 নিজ গৃহে স্থির নহে মন উচাটন।।
 নিজো অঙ্গের বেশ করতে না পারে।
 ভুজে নূপুর দেয় কঙ্কন পদে ধরে।।
  অঞ্জন কপালে দেয় সিন্দুর অধরে।
  উন্মত্ত হয় সেই মুরলীর স্বরে।।
(২) বাসকসজ্জা নায়িকার লক্ষণ
প্রিয়ের সহিত বিলাসের আশা করি।
 গৃহ  শয‍্যা মাল‍্য তাম্বুল স্নিগ্ধ বারি।।
 চন্দনাদি নানা গন্ধ বসন ভূষণ।
 সাজায় করিয়া সাধ প্রিয়ের কারণ।।
                   (শ্রীশ্রীভক্তমাল গ্রন্থ )
বাসকসজ্জা নায়িকা আবার অষ্ট প্রকার------
(১) মোহিনী (২)জাগর্তিকা(৩)রোদিতা(৪)মধ‍্যোক্তিকা
(৫)সুপ্তিকা(৬)প্রগলভা(৭)সুরসা ও (৮)উদ্দেশা)।
***মোহিনী নায়িকার লক্ষণ = 
      সজ্জা করি মোহিনী রহে সখীর সহিতে।
       গোবিন্দকে করিবে মোহ অনুমান চিতে।।
***জাগর্তিকা নায়িকার লক্ষণ=
 নিজে অঙ্গের ভূষা করি করে জাগরণ।
 উঠি বসি দ্বারে যায় করে নিরীক্ষণ।।
*** রোদিতা নায়িকার লক্ষণ=
 বিলাপ করিয়া ধনি করে রোদন।
 অন্তরে হরষ হয় নায়ক মিলন।।
*** মধোক্তিকা নায়িকার লক্ষণ=
 নিকুঞ্জ কানুন ধনি করে পরিষ্কার।
 নিজে গুণ গরিমা কিছু করয়ে বিস্তার।।
 নায়ক আইলে যে মতে করিবে মিলন।
 মনে কত আশা করে কেলি সোঙরণ।।(স্মরণ)
***সুপ্তিকা নায়িকার লক্ষণ=
 কুসুম  শয়ানে সদা শয়নে উল্লাস।
 সখী সঙ্গে করে সদা হাস পরিহাস।।
 *** প্রভলভা নায়িকার লক্ষণ=
 প্রগলভা একাকী রহে কুঞ্জেতে বসিয়া।
 নায়ক আসিবে বলি উল্লসিত হিয়া।।
 কিশলয় শেজ করে বকুল বিছাই।
 দ্যুতিকে তর্জন করি সঘনে পাঠায়।।
*** সুরসার লক্ষণ ==========
 নিজ মন্দিরেতে রহে নির্ভর হইয়া।
 বস্ত্র  আভরণ পনে শেজ বিছাইয়া।।
 দূত পাঠাইয়া জানে নায়ক সম্বাদ।
 বিলম্ব দেখিয়া কিছু করে অনুবাদ।।
উদ্দেশার লক্ষণ=====
 নানা বেশ করি রহে সংকেতে যাইয়া।
 নায়ক আসিবে মনে উলসিত হিয়া।।
 নায়ক উদ্দেশ্যে নিজ সখীরে  পাঠাই।
 নানা উপচার করি মঙ্গল  গায়।।
(৩) উৎকন্ঠিতা ---------
 প্রিয় আগমন যবে শীঘ্র না করয়।
 পথপানে চাহি  রহে   উৎকণ্ঠা হৃদয়।।
 বিরহ তাপিত অতি করে বিলাপ।
 নয়নে গলয় বারি কহয়ে প্রলাপ।।
 সখীগণ আশ্বাস করে কত মত।
 এখনই আসিবে প্রিয় স্থির কর চিত।।
                       (শ্রীশ্রীভক্তমাল গ্রন্থ )
 উৎকণ্ঠিতা কান্ত পথ করে নিরীক্ষণ।
 কতক্ষণ হইবেক মোর নায়ক মিলন।।
                     (রসমঞ্জরী গ্রন্থ )
* এই উৎকন্ঠিতা নায়িকা অষ্ট প্রকার যথা----
(১) উন্মত্তা(২) বিকলা (৩) স্তব্ধা (৪)চকিতা (৫)
অচেতনা (৬) সুখোৎকন্ঠা(৭)প্রগলভা ও (৮)নির্বন্ধা।
*** উন্মত্তা (পাগলিনী)------
*** বিকলা ------------
 নায়ক না দেখি ধনী হয়তো বিকলা।
 পথ পানে চাহি ধনী হইয়া চঞ্চলা।
*** স্তব্ধা -------
 ক্ষণে ওঠে ক্ষণে বৈসে কাতর বদনী।
 নায়ক বিলম্বে নখে লিখয়ে ধরনের।।
 শয্যায় শয়ন ক্ষণে কামাতুরা হয়ে।
 ক্ষণে ক্ষণে উঠে ধায় তমাল দেখিয়ে।।
*** চকিতা ==
 ক্ষণেক বিরহ করে নানা অনুতাপ।
 ক্ষণে ক্ষণে  কহে ধনী বচন প্রলাপ।।
*** অচেতনা ---  অচেতন অবস্থা প্রাপ্তা।
***সুখোৎকন্ঠিতা ====
 পূরবে মুগধা যেন করয়ে বিলাস।
  সেই কথা মনে গুণি করয়ে উল্লাস।।
***প্রগলভা =
 শয‍্যা ত‍্যজিয়া রামা ক্ষণে বাহিরায়।
 ক্ষণে মূরছিত তনু কান্দে উভরায়।।
  ক্ষণে বাহিরায় ক্ষণে চলে আধ পথ।
  দূতী সহ কলহ করয়ে অনুরত।।
*** নির্বন্ধা===
 কেলি শয‍্যাতলে রহে রজনী বঞ্চিয়া।
 সঙ্কেতে বসিয়া রহে নির্বন্ধ করিয়া।।
 দৈব নির্বন্ধে কান্দ আসিতে না পায়।
 সকল রজনী ধনী কান্দিয়া পোহায়।।
(৪) বিপ্রলব্ধা--------------------------
 সখির আশ্বাসে ধনী স্থির করি মন।
 প্রিয় আগমন পথ করে নিরীক্ষণ।।
 বৃক্ষের যে পত্রে পত্রে শব্দ যদি হয়।
 ঐ আইলো প্রিয় বলি উঠিয়া বৈঠয়।।
 দ্যুতি পাঠাইয়া দিল প্রিয়ার কারণে।
 ফিরিয়া আইসে দ্যুতী বজ্র হেন মানে।।
 এইরূপ বিচ্ছেদ বিষয়ে নিশি যায়।
 না আইলো যবে তবে মানবতী হয়।।
# এই  বিপ্রলব্ধা আট প্রকার=====
1, নির্বন্ধা 2,প্রেমমত্তা 3, ক্লেশা  4,বিনীতা 5, নিন্দয়া 6, প্রখরা 7, দূত‍্যাদরী 8, চর্চিতা।
( নির্বন্ধার লক্ষণ দেওয়া হয়েছে )
** প্রেমমত্তা ------
 নানা  আভরণ পড়ি রহয়ে সঙ্কেতে।
 জাগিয়া পোহায় নিশি কান্দিতে কান্দিতে।।
 আপন যৌবন দেখি কান্দিয়া বিকল।
 নিশি পরভাত হইল নহিল সফল।।
** ক্লেশার লক্ষণ---
 নায়ক আইলো ঘরে জানিয়া নিশ্চয়।
 সহচরী সঙ্গে সব দুঃখ কথা কয়।।
** বিনীতার লক্ষণ--
 বিরহে বিনয় বাক্যে কহয়ে সখিরে।
 ঝাঁপ দিবো আজি আমি যমুনার নীরে।।
** নিন্দয়ার লক্ষণ---
 সখীমুখে শুনি আজি নায়ক না আইলো।
 মিথ্যা সংকেত মানি রজনী পোহালো।।
 হার মালা আভরণ ছিড়িয়া ফেলায়।
 পুষ্প মালা আদি সব জলেতে ভাসায়।।
 ** প্রখরার লক্ষণ ----
 জাগিয়া নয়নের জল নিরবধি ঝরে।
 বিরহে বিলাপ করি কান্দে উচ্চৈঃস্বরে।।
** দূত‍্যাদরীর লক্ষণ---
 নায়ক আসিবে স্বরে সংকেত জানিল।
 কোকিলের ধ্বনি হেন শব্দ শুনিল।।
 গুরুজন জাগি ঘরে উঠিল সত্বরে।
 নায়ক বিমুখ হইয়া গেল নিজের ঘরে।।
*** চর্চিতার লক্ষণ মানে রাগান্বিতা।
(৫) খন্ডিতা -----
 অন্য নায়িকা ভোগ করিয়া নায়ক।
 আইসে অঙ্গতে নখ-চিহ্নাদি যাবক।।
 দেখিয়া কোপিতা মনে র্ভৎসনাদি করি।
 উপেক্ষা করয়ে যে খন্ডিতাবতী নারী।।
&খন্ডিতা নায়িকা অষ্টপ্রকার যথা -----
1,ধীরা 2, বিদগ্ধিকা 3, ক্রোধা 4, প্রগলভা 5, মধ‍্যা
6, মুগ্ধা 7, রোদিতা 8, প্রেমমত্তা।
     (৬) কলহান্তরিতা 
 মান অন্তে প্রিয়ার বিচ্ছেদ সূচন।
 অনুতাপ সেই কলহান্তরিতার লক্ষণ।।
&& এই কলহান্তরিতা নায়িকা আট প্রকার।
1, আগ্রহ 2, বিকলা 3, ধীরা 4, অধীরা 5, কোপনবতী 6, মন্থরা 7,সমাদরা 8,মুগ্ধা।
(৭)   স্বাধীন ভর্তৃকা-------------------------------
নায়িকার অধীনমতে বেশাদি রচন।
নায়ক করয়ে স্বাধীন ভর্তৃকা লক্ষণ।।
আলুয়াইয়া কেশ করে বেণীর রচন।
কুচযুগে করে পত্রাবলীর লিখন।।
চিবুকে কস্তুরী বিন্দু নাসায় তিলক।
গলে মণিহার দেয় চরণে যাবক।।
চুম্ব আলিঙ্গন করে হিয়া আনন্দিত হিয়া।
আজ্ঞা করিতে থাকে কর পরশিয়া।।
** এই স্বাধীন-ভর্তৃকা নায়িকা অষ্টপ্রকার।
স্বাধীন ভর্তৃকা কথা শুন দিয়া মন।
কোপনা মানিনী মুগ্ধা মধ‍্যা বিচক্ষণ।।
উক্তকা উল্পাসা অনুকূলা অভিষেকা।
স্বাধীন ভর্তৃকা এই অষ্ট কৈল লেখা।।
1, কোপনা 2,মানিনী 3,মুগ্ধা 4,মধ‍্যা 5,উক্তকা
6, উল্পাসা 7, অনুকূলা ও 8,অভিষেকা।
                         (রসমঞ্জরী গ্রন্থ )
            ""প্রেম-বৈচিত্র‍্যর লক্ষণ""
 দম্পতির পরম্পর প্রমোৎকর্ষ হয়।
 অধিকীর্তিরত‍্যা সেই বিচারি না লয়।।
 অঞ্চলে বান্ধিয়া রত্ন চাহি ফিরে ঘরে।
 লোকেতে থাকিয়া হয় বিচ্ছেদ  অন্তরে।।
               ""প্রবাস লক্ষণ""
সাধারণত প্রবাসকে দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা যাইতে পারে। (১) দূর প্রবাস (২) নিকট প্রবাস।
** নায়ক প্রবাসে থাকলে নায়িকার বিরহ উপস্থিত 
হয়, সেই বিরহিনী নায়িকাকে "প্রোষিতভর্তৃকা" বলা হয়। 
প্রোষিতভর্তৃকা যার প্রিয় দূর দেশ।
বিরহিনী অঙ্গ মলিন নাহি বান্ধে কেশ।।
চিন্তিয়া আকুল দীন মন অঙ্গ হীন।
হায় হায় হুতাশ করয়ে রাতি দিন।।
** প্রোষিতভর্তৃকা নায়িকার বিরহকে তিন শ্রেণীতে 
বিভক্ত করা যাইতে পারে। 1, ভাবী বিরহ 2, ভবন
বিরহ ও 3,ভূত বিরহ। (এই তিন প্রকার বিরহে দশপ্রকার অবস্থার উল্লেখ প্রাপ্ত হওয়া যায়।
(লালাসোদ্বেগ জাগার্য‍্যাস্তানবংজড়িমাএতু।
বৈয়গ্রংব‍্যাধিরুন্মাদো মোহোমৃত‍্যু-র্দশাদশ।।)
1, চিন্তা 2,জাগরণ 3,উদ্বেগ 4,ক্ষীণ 5,মলিন 
6,প্রলাপ 7,ব‍্যাধি 8,উন্মাদ 9,মূর্ছা 10, মৃত‍্যু।
                    ""সম্ভোগ লক্ষণ""
দরশন আলিঙ্গন চুম্বনাদি করি।
তাহে যে উপজে সুখ সম্ভোগ বিচারি।।
তাহাতে যে ভেদ দুই মুখ‍্য আর গৌণ।
মুখ‍্য চেতন আর গৌণ স্বপন।।
              ""মুখ‍্য সম্ভোগ""
মুখ‍্য পুনঃ চারিভেদ সংক্ষিপ্ত, সংকীর্ণ।
সম্পন্ন,সমৃদ্ধিমান চারি মুখ‍্য গণ‍্য।।
              "" সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ""
পূর্বরাগ পরে কৃষ্ণ সঙ্গে যে মিলন।
সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ বলি তাহার গণন।।
                ""সংকীর্ণ সম্ভোগ""
মানের পশ্চাতে যে সম্ভোগ উপজয়।
সংকীর্ণ সম্ভোগ বলি গণন তাহায়।।
            ""সম্পন্ন সম্ভোগ""
প্রবাস হইতে প্রিয় আসিয়া সম্ভোগ।
সম্পন্ন যে সেই যাতে সর্ব উপভোগ।।
        "" সমৃদ্ধমান সম্ভোগ""
পরবশ বাধা  হইতে ছুটিয়া দর্শন।
দুর্লভ দর্শন সম্ভোগ বিচক্ষণ।।
রসময় সর্ব উপচয় তাহে হয়।
সম্ভোগসমৃদ্ধিমান করিয়া বহয়।।
     ""গৌণ সম্ভোগ""
স্বপনেতে নানারঙ্গ রসের সংযোগ।
তাহাতে যে সুখ সেই গৌণ সম্ভোগ।।
স্বপন দেখিয়া ধনী অতি প্রমোদিত।
সখীর সহিত কহে করিয়া বিদিত।।
             # দূতী#
দূতী দুই প্রকার-- স্বয়ং দূতী ও আপ্ত দূতী।
অতি অনুরাগে লাজ ত‍্যজি প্রিয় সনে।
মিলিবারে চাহে স্বাভিযোগের কারণে।।
স্বয়ং দূতী সেই স্বয়ং দূতী পানা করি।
প্রিয়সনে মিলে গিয়া আপনি সুন্দরী।।
তাহাতে যে তিন ভেদ বাক‍্য কায় নয়ন।
বাক‍্যের অনেক ভেদ না যায় বর্ণন।।
                 ## আঙ্গিক##
 অঙ্গুলির ধ্বনি করি  মুখে দেয় হাত।
 অন্যমনে ভুল বাক্য কহে সখি সাথ।।
 চরণের বৃদ্ধাঙ্গুলে ধরণী খোদয়।
 কর্ণকন্ডুয়ণ করি স্তন দরশয়।।
 সখির কন্ঠেতে ধরি করে আলিঙ্গন।
পুনর্বার ছাড়ি করে তাড়ন  ভৎসন।।
 চঞ্চল নয়ানে পুনঃ ইথি উথি চাহে।
 স্তম্ভ প্রায় রহে অকারণ বাক‍্য কহে।।
 অধর দংশন করে সখীর কর্ণেতে।
 মিছামিছি কহে কথা ধরিয়া কন্ঠেতে।।
              ## চাক্ষুষ##
ঈষত নয়ানে হরি বদন ফিরায়।
হাসি হাসি চাহি পুনঃ নয়ন ঢুলায়।।
মুদিত নয়ান পুনঃ আধ আধ হেরি।
কটাক্ষ করয়ে বাম নয়ান পশারি।।
(জয় নিতাই, ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়)


 *(১১)অবধূতজীর একাদশ গুরু হচ্ছেন পতঙ্গ।*

*🍀আমরা সকলেই জানি বা দেখি যে রাত্রিকালে পতঙ্গগুলি আগুনের আলোতে প্রলুব্ধ হয়ে তার মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এইরকম স্পৃসা বা বাসনা দ্বারা বিনাশ পথে পতিত হয়।নিশ্চিৎ মরণ জেনেও এবং চোখের সামনে সকলে মৃত‍্যুমুখে পতিত হচ্ছে দেখেও পতঙ্গগুলি আগুনের আলোতে আকৃষ্ট হয়ে মৃত‍্যুকে বরণ করে।*
*🍀এই প্রসঙ্গটির অবতারণা করে অবধূতজী বলেছেন যে,সাংসারিক জগতে ইন্দ্রিয়ের চাহিদা যে সমাধান করতে পেরেছে তারই প্রকৃত বৈরাগ‍্য লাভ হয়েছে।চোখে কাপড় বেঁধে রূপ দেখব না বললেই বৈরাগ‍্য হয় না। অর্থ‍্যাৎ চোখে কাপড় বাঁধা, বৈরাগ‍্যের সাধনা নয়, প্রকৃত বহির্জগতের রূপ-রসাদিতে অরুচিই প্রকৃত বৈরাগ‍্য।এই প্রসঙ্গে একটি শাস্ত্রবাক‍্য (গরুড় পুরাণে) খুব শিক্ষণীয় যথা ঃ--*
*🌷পতঙ্গ মাতঙ্গ কুরঙ্গ ভৃঙ্গ মীনাঃ পঞ্চভিরেব পঞ্চ।*
*🌷একঃ প্রমাদী স কথং ন হন‍্যতে যঃ সেবতে পঞ্চভিরেব পঞ্চ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ=পতঙ্গ,মাতঙ্গ (হস্তী), কুরঙ্গ (হরিণ),ভৃঙ্গ(ভ্রমর), মীন (মৎস‍্য বা মাছ) এরা প্রত‍্যকে বিনাশ প্রাপ্ত হয়  কারণ তাদের প্রত‍্যেকের একটি করে ইন্দ্রিয় দুর্বল।সেই দুর্বল ইন্দ্রিয় পথে তাদের বিনাশ অবশ‍্যম্ভাবী। সেই তুলনায় মানুষ তো পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের অধিকারী এবং তারও এইটি ইন্দ্রিয়ের দুর্বলতায় সমস্ত প্রজ্ঞা বুদ্ধি বিনাশ প্রাপ্ত হয়।পতঙ্গের কাছ হতে এইরকম শিক্ষা প্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে অবধূতজী তাকে গুরুরূপে বরণ করেছিলেন।*
*(১২)অবধূতজীর দ্বাদশ গুরু হচ্ছেন মধুকর।*
*🍀এই মধুকরকে তিনি দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন, যথা--,ভ্রমর ও মৌমাছি। ভ্রমরের স্বভাব এই যে বিভিন্ন পুষ্প হতে একটু একটু করে মধু আহরণ করে, সেইরকম প্রকৃত যোগী বিভিন্ন শাস্ত্র হতে সারবস্তুটুকু গ্রহণ করবেন।অনেকটা মাধুকরী বৃত্তির মত, কারণ মাধুকরী বৃত্তির প্রধান নীতি হচ্ছে যে, সেইদিনের মত ভিক্ষান্ন সংগৃহীত হলে তিনি যেন আর ভিক্ষা না করেন অর্থ‍্যাৎ সঞ্চয় মনোবৃত্তিকে বিসর্জন দিতে হবে।সেইজন‍্য অবধূতজী ভ্রমরকে গুরুপদে বরণ করেছেন।*
*🍀তেমনি আবার তিনি মৌমাছির ন‍্যায় সঞ্চয়ী মনোবৃত্তিকে নিন্দনীয় বলে পরিত‍্যজ‍্য বলেছেন কারণ এই মৌমাছি এত কষ্ট করে মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে, কিন্তু নিজে একটুও ভোগ করে না পরিশেষে মধুশিকারীদের হাতে সব বিনাশপ্রাপ্ত হয়। সেজন‍্য তিনি ভ্রমরের ন‍্যায় মাধুকরী বৃত্তিকে শ্রেয়জ্ঞান করেছেন এবং মৌমাছির আচরণের জন‍্যও তাকে গুরুপদে বরণ করেছেন।*
*🍀 লেখকের বক্তব‍্য--, মৌমাছির এই আচরণকে এইরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে অন‍্য সিদ্ধান্তেও আসা যায় যে, মৌমাছি জীবজগতের কল‍্যাণের জন্য নিজে কত কষ্ট করে এই মধু সংগ্রহ করে অথচ নিজে ভোগ করে না।অর্থ‍্যাৎ পরেরজন‍্য জীবন দান।কারণ প্রস্ফুটিত ফুলের রেণুর কোষের মধ্যে মধু থাকলেও ফুলের কিন্তু সেই মধুদানের সামর্থ‍্য নাই।সে শুধু মধুর আধার হয়েই থাকে। পুষ্পের এই মধুর মহিমা বা মাহাত্ম্য জীব জগতে চিরকালই অবলুপ্ত থাকত যদি, না ভগবান মধুকরের সৃষ্টি করতেন।কারণ পুষ্প হতে মধু সংগ্রহের ক্ষমতা একমাত্র মধুকরেরই এবং যে মৌচাকে সে মধু সংগ্রহ করে রাখে তা হতে মধু আহরণ করে জীবজগৎ ফুলের মহিমা বা যশোগান করে।ইহা একটি তুলনামূলক চিন্তাধারা মাত্র, সুধী পাঠকগণ যেন এটি অন‍্য দৃষ্টি ভঙ্গিতে না দেখেন।*


*(১৩)অবধূতজীর এয়োদশ গুরু হচ্ছেন হস্তী।*

*এখানে স্পর্শ শক্তির কথা বলা হয়েছে। সাধারণতঃ বন‍্য হাতীকে ধরবার জন্য করিণী অর্থ‍্যাৎ স্ত্রী হস্তীকে ব‍্যবহার করা হয়।সুদক্ষ মাহুত করিণীর পিঠে আরোহণ করে জঙ্গলের মধ্যে হস্তী ধরতে ব‍্যাপৃত বা নিযুক্ত হয় এবং কৌশলে গর্ত্ত করে তার উপর লতাপাতাদি দ্বারা আবৃত করে স্ত্রী হস্তীকে সেখানে রাখে এবং তার সঙ্গমানসে পুরুষ হাতী আকৃষ্ট হয়ে সেই খাদে পড়ে যায় এবং ধরা পরে।সেহেতু উপমাচ্ছলে অবধূতজী বলেছেন যে,ইন্দ্রিয় চরিতার্থ লালসায় নর বা নারী যেন উভয়ে স্পর্শসুখে মোহিত না হয়। এমন কি প্রকৃতির দারু মূর্তি দর্শনও নিষিদ্ধ।এই প্রসঙ্গে ছোট হরিদাসকে উপলক্ষ্য করে শ্রীমন্মহাপ্রভু যা বলেছিলেন তা দ্বারা ইহা স্পষ্ট বুঝা যাবে।, যথা--*
*🌷প্রভু কহে বৈরাগী করে প্রকৃতি সম্ভাষণ।*
*🌷দেখিতে না পারি আমি তাহার বদন।।*
*🌷দুর্ব্বার ইন্দ্রিয় করে বিষয় গ্রহণ।*
*🌷দারবী প্রকৃতি হরে মহামুনির মন।।*
*🌷আমিতো সন্ন‍্যাসী আপনাকে বিরক্ত করি মানি।*
*🌷দর্শন দূরে রহুক প্রকৃতির নাম যদি শুনি।।*
*🌷তবহু বিকার পায় মোর তনু মন।*
*🌷প্রকৃতি দর্শনে স্থির হয় কোন জন?*
*🌻দর্শন হতেই স্পর্শের বাসনা জাগ্রত হয়,সেজন‍্য অবধূতজী স্পর্শ শক্তির কথা উল্লেখ করে হাতীকে গুরুপদে বরণ করেছেন।যার জন্য মহাপ্রভু কাষ্ঠের নির্মিত বা পাথর নির্মিত নারীর প্রতিমূর্তি দর্শনকেও প্রকৃত সাধুর পক্ষে নিষেধ বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।*
🕯 🕯 🕯 🕯 🕯 🕯 🕯 🕯 🕯 🕯 🕯

*(১৪) অবধূতজীর চতুর্দশ গুরু হচ্ছেন মধুহা।*
*🍀এই প্রসঙ্গটি একবার পূর্বেই আলোচিত হয়েছে।এখানে মক্ষিকা বলতে তিনি যাকে উপলক্ষ্য করেছেন তাহল মধুহা অর্থ‍্যাৎ যে মধু আহরণ করে অর্থ‍্যাৎ মৌমাছি নয়। মৌমাছির অনেক কষ্ট স্বীকার করে মধু আহরণ করে মৌচাকে সংগ্রহ করলেও মধু আহরণ কারীরাই তা ভোগ করে -- সে নিজে কিছুই ভোগ করতে পারে না। এস্থলে প্রকৃত সাধুর চরিত্র বিশ্লেষণ করে তিনি বলেছেন যে যথার্থ সাধুকে এই সঞ্চয়ী মনোভাবকে পুরোপুরি বিসর্জন দিতে হবে কারণ তা না হলে দুঃখ পেতে হবে।প্রকৃত সাধুকে কায়মনোবাক‍্যে সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে গোবিন্দ ভজন করতে হবে এবং গৃহস্থীদের উচিত সঞ্চয়ের কিছু অংশ সাধু সন্ন‍্যাসীর সেবার জন্য ব‍্যয় বা দান করা। সেজন‍্য অবধূতজী বলেছেন, যে লোভী ব‍্যক্তি শুধু অতি কষ্টে অর্থ সঞ্চয় করে এবং দান বা ভোগ করে না, তার সঞ্চিত ধন অন‍্যে ভোগ করে,সেহেতু অবধূতজী ইহাদের গুরুপদে বরণ করেছিলেন।*


*অবধূতজীর পঞ্চদশ গুরু হচ্ছেন হরিণ।*
*এই প্রসঙ্গে একাদশ প্রশ্নে কুরঙ্গ অর্থ‍্যাৎ হরিণের চরিত্র বিশ্লেষণ আগেই করা হয়েছে অর্থ‍্যাৎ ব‍্যাধেরা হরিণের ডাককে নকল করে জঙ্গলে একপ্রকার শব্দ করে আর মুর্খ হরিণ মনে করে যে কাছেই হরিণের দল বিচরণ করছে,এই ভেবে তাদের সহিত মিলিত হবার বাসনায় সেই শব্দকে অনুসরণ করে পরিশেষে ব‍্যাধের জালে ধরা পড়ে বিনাশ প্রাপ্ত হয়।*
*অর্থ‍্যাৎ প্রকৃত জিনিসকে না বুঝে যে অন‍্য জিনিসের প্রতি প্রলুব্ধ হয় তার চরম ক্ষতি হয়ে থাকে।কারণ শব্দের প্রতি আসক্তি হলে তার বিনাশ অবশ‍্যম্ভাবী, তার দৃষ্টান্ত হরিণ।হরিণকে গুরুপদে বরণ করায় সেই হরিণীপুত্র ঋষ‍্যশৃঙ্গকেও গুরুপদে বরণ করতে হবে কারণ ঐ মৃগসুত স্ত্রীলোকের নৃত্য,গীত,বাদ‍্য প্রভৃতি ক্রীড়ায় বিমুগ্ধ হয়ে তাদের বশীভূত হয়ে পড়েছিলেন।সেজন‍্য রাজর্ষি ভরত তৃতীয় জন্ম অর্থ‍্যাৎ জড়ভরত জন্মে কারও সঙ্গে বাক‍্যালাপ করেননি। নিজে মূক বধির না হয়েও মূকের মত আচরণ করেছিলেন। কারণ বাক‍্যালাপের মাধ‍্যমেই শব্দ উচ্চারিত হয় এবং উচ্চারণভেদে প্রকারভেদে সেই শব্দ হতে নানা প্রকার সমস‍্যার সৃষ্টি হয় বলে এই কথাকে আসক্তির দ্বার বলা হয়। মহাজনগণ নিজেরা আচরণ করে জীবজগৎকে শিক্ষা দান করেন, অর্থ‍্যাৎ রাজর্ষি ভরতের মৃগজন্ম অঙ্গীকার, লোকশিক্ষার জন্য।জগৎকে শিক্ষা দিয়েছেন যে তোমরা যেন কেউ হরি ভজতে গিয়ে হরিণকে ভজনা কোরো না --, তাহলে আমার মত দুর্গতি হবে।এইরকম শিক্ষা পেয়ে অবধূতজী হরিণকে গুরুপদে বরণ করেছিলেন যদিও ইহা রূপক মাত্র।*
*🍀অবধূতজীর ষষ্ঠদশ গুরু হচ্ছেন মৎস‍্য।*
*🌻নিশ্চিত মৃত‍্যু জেনেও অবোধ মৎস‍্য জিহ্বার লালসায় বড়শি বিদ্ধ হয়ে মৃত‍্যুকে বরণ করে।এই জিহ্বার লালসা সম্বন্ধে মহাপ্রভুও সতর্ক বাণী আছে যেখানে তিনি বলেছেন যে প্রকৃত বৈষ্ণবকে জিহ্বার লালসা সম্পূর্ণরূপে বিসর্জন দিতে হবে কারণ যতদিন রসনাকে জয় করতে না পারা যায় ততদিন তাকে প্রকৃত সাধু বলা যাবে না, যথা----*
*🌷জিহ্বার লালসে যে বা ইতি উতি ধায়।*
*🌷শিশ্নোদর পরায়ণ কৃষ্ণ নাহি পায়।।*


*🍀এই জিহ্বার লালসার জন্য মীন অর্থ‍্যাৎ মৎস‍্য মৃত‍্যুমুখে পতিত হয় বলে অবধূতজী তাঁকে গুরুত্বে বরণ করেছেন।*
*"শিশ্নোদর পরায়ণ" এই কথাটির ব‍্যাকরণগত অর্থ হচ্ছে যে, ভোগাসক্ত-- ইন্দ্রিয়াসক্ত, কামুক বা পেটুক।ইহার মধ্যে দুইটি শব্দ আছে যথা শিশ্ন+উদর। শিশ্ন শব্দের অর্থ হচ্ছে পুরুষাঙ্গ লিঙ্গ।এবং উদর মানে পেট।এই উভয়ের পরায়ণ অর্থ‍্যাৎ যিনি আসক্ত তিনি কখনও শ্রীকৃষ্ণকে পাবেন না।*

*(১৭)অতঃপর অবধূতজীর সপ্তদশ গুরু হচ্ছেন "পিঙ্গলা"নামক এক পতিতারমণী।*
*🍀পিঙ্গলা নামক এক স্বৈরিণী নিজের দেহকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে পুরুষকে আকৃষ্ট করবার জন্য যার দ্বারা সে তার দেহের বিনিময়ে অনেক অর্থ আয় করতে পারবে।দিনের পর দিন যায় কিন্তু কোন পুরুষই তার দিকে আকৃষ্ট হয় না এবং পিঙ্গলা সারাটি রাত্রি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ে।এই ভাবে ক্রমাগত বিফল মনোরথ হয়ে তার মনে নিজের প্রতি ধিক্কার জন্মাইল এবং নিরাশার মাধ‍্যমে হৃদয়ে তীব্র বৈরাগ‍্যৈর আবির্ভাব হল।কারণ চিত্ত যদি দীন না হয় তাহলে তো দীননাথের কৃপা পাওয়া যায় না।সেজন‍্য টীকাকার বলেছেন--, এ একপ্রকার নির্ব্বেদ, অর্থ‍্যাৎ যখন সব বিষয়ে তার ত‍্যজ‍্য বুদ্ধি হয়েছে।ইহা দ্বারা এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে,বেশী আশা করলেই এ জীবনে দুঃখ পেতে হয় আর যদি নিরাশী হওয়া যায় তাহলেই পরম সুখ।*
*পিঙ্গলার এই চরিত্রটি হীরাবেশ‍্যার চরিত্রের সমকক্ষ কারণ এখানেও অর্থের লোভে এই সুন্দরীরমণী হরিদাস ঠাকুরের ন‍্যায় এক যতি (সন্ন‍্যাসী) সম্রাটকে ভ্রষ্ট করতে চেয়েছিল এবং পরে মহৎ কৃপায় যথাসর্বস্ব জলাঞ্জলী দিয়ে পরম বৈষ্ণবীতে পরিণত হয়েছিলেন।এই ঘটনাটি অনেক কাল পরের না হলে আমার মনে হয় অবধূতজী পিঙ্গলার ন‍্যায় হীরাপতিতাকেও গুরুত্বে বরণ করতেন।এই হীরাপতিতার নির্ব্বেদ প্রসঙ্গে বৈষ্ণব গ্রন্থে লিখেছেন যে--*
*🌷তবে সেই বেশ‍্যা গুরুর আজ্ঞা লইল।*
*🌷গৃহবিত্ত যেবা ছিল ব্রাহ্মণেরে দিল।।*
*🌷মাথামুন্ডি একবস্ত্রে রহিলা সেই ঘরে।*
*🌷রাত্রিদিনে তিনলক্ষ নাম গ্রহণ করে।।*
*🌷প্রসিদ্ধ কুলটা হইল পরম মহান্তী।*
*🌷বড় বড় বৈষ্ণব তাঁরে দর্শনার্থে যান্তি।।*
*🌻সেজন‍্য পিঙ্গলা চরিত্র উপলক্ষ্যে অবধূতজী বলেছেন যে সে জাগতিক সব জিনিসের প্রতি তৃষ্ণা বা ভোগ লালসা ত‍্যাগ করে পুরুষ সঙ্গম লালসা ত‍্যাগ করল।অর্থ‍্যাৎ যতদিন পিঙ্গলার প্রাকৃত পুরুষের প্রতি লালসা ছিল ততদিন চিত্তে সুখ ছিল না।সেজন‍্য জাগতিক এই জাতীয় আশা ত‍্যাগ করলে পরম সুখই লাভ হয়।সেইজন‍্য অবধূতজী বলেছেন যে নিরাশার মধ্যেই পরম সুখ এবং তিনি পিঙ্গলার ন‍্যায় একজন কুলটাকেও গুরুপদে বরণ করতে দ্বিধা করেননি।*


*(১৮)অবধূতজীর অষ্টাদশ গুরু হচ্ছেন কুরর বা ঈগল পক্ষী।*

*🍀কুরর পক্ষীর নিকট হতে অবধূতজী এই শিক্ষায় পেয়েছেন মানুষ বস্তুর প্রতি আসক্ততেই মনে দুঃখ পায়।কুরর পক্ষীর মুখে মাংসখন্ড দেখে অন‍্য বলশালী পক্ষী তার প্রতি ধাবমান হয়।কুরর পক্ষী তখন বুঝতে পারল যে সে তার সঙ্গে সংঘাতে জয়ী হতে পারবে না এবং তখনই সে তার মুখ থেকে সেই মাংসখন্ডটি ফেলে দিয়ে নিশ্চিত হয়।আমরাও সেইরকম আত্মভোগের জন্য বিষয় ভোগ লালসায় মুগ্ধ হয়ে অনবরত কালের ঠোক্কর খাই। অর্থ‍্যাৎ  বিষয়ের প্রিয়তাই দুঃখের মূল কারণ।ত‍্যাগেই প্রকৃত শান্তি।সেহেতু অবধূতজী কুরর পক্ষীর নিকট এই শিক্ষা প্রাপ্ত হয়ে তাকে গুরুপদে বরণ করেছেন।*
*(১৯) অবধূতজীর উনবিংশ গুরু হচ্ছেন "বালক"।*
*🍀বালকের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য এই যে তার চিত্ত স্বচ্ছ এবং নির্মল, জাগতিক কোন বস্তু তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।তাই কথায় বলে শিশুর মত সরল।বালক ক্ষুধায় কাঁদছে,মা তার মুখেএকটা কাঠের চুষিকাঠি ঢুকিয়ে দিলেন,সে পরমানন্দে তা চোষণ করতে লাগল।এটা যে খাদ‍্য নয় সে বিচার বুদ্ধি তার নেই। সম্পূর্ণরূপে মালিন‍্য বর্জিত হচ্ছে শিশুহৃদয়।কোন প্রকার মান অভিমান বোধ নেই--সাংসারিক কোন চিন্তা নেই, ধনী বা গরীব সে বোধ নেই,সদা প্রসন্ন ভাব। সেজন‍্য অবধূতজী বালকের এই চরিত্র অনুশীলন করে তাকে গুরুত্বে বরণ করে বালকের মত বিচার করতে চাহেন।*


*(২০)অবধূতজীর বিংশতম গুরু হচ্ছেন এক দরিদ্র কুমারী কন‍্যা।*
*🍀একদিন অবধূতজী ভ্রমণ করতে করতে এক সাধারণ গরীব গৃহস্থের অতিথি হন।ঘটনাক্রমে সেইদিনই আবার সেই কুমারীর বিবাহ সম্বন্ধ উপলক্ষ্যে পাত্রপক্ষের বাড়ী হতে তাকে দেখতে আসেন কিন্তু তখন তার পিতা-মাতা ঘরে ছিলেন না।*
*সংসারের এমন দুরবস্থা যে চাল পর্যন্ত ঘরে ছিল না,তখন কুমারীটি তাঁদের আপ‍্যায়নের জন্য গোপনে ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গার মনস্থ করলেন।বাসগৃহের খুব কাছেই সেই ঢেঁকিশাল সেজন‍্য ঢেঁকিতে পার দিবার সময় তার হাতের কাঁচের চুড়িগুলি হতে ঝনঝন করে শব্দ হতে লাগল।পার্শ্বের ঘরে বসেছিলেন ভাবী কুটুম্বগণ,এই শব্দ শুনে যদি তাদের সংসারের অভাব অনটনের বিষয় বুঝতে পারেন, সেজন‍্য সেই কুমারী কন‍্যা তার দুইহাতের সমস্ত চুড়িগুলি ভেঙ্গে ফেলিল মাত্র দুইগাছা করে দুইহাতে রাখল। কিন্তু তবুও এই দুইএর সংঘাতে একপ্রকার শব্দ হতে থাকায় সেই কুমারী কন‍্যা দুইহাত হতে একগাছি করে চুড়ি খুলে ফেলিল।প্রতি হাতে কেবল একটি করে চুড়ি রইল আর শব্দ হবার ভয় রইল রইল না।অবধূতজী বালিকার এই আচরণ লক্ষ্য করে এক অপূর্ব তত্ত্ব জীবজগতে প্রকাশ করলেন যা সাধু যোগীদের পক্ষে প্রযোজ‍্য। অর্থ‍্যাৎ মাত্র একগাছা করে চুড়ি থাকার ফলে পরিবেশ সম্পূর্ণ নিঃশব্দ হল।এর পেছনে মূল তত্ত্ব কথাটি হচ্ছে যে সাধু যোগীগণ পাঁচজনের সঙ্গে মিলে মিশে থাকলে সেখানে কলহ বিবাদ অবশ‍্যম্ভাবী যা মোটেই ভজনের পরিপন্থী নয়। সেজন‍্য সাধনপথে একাকী বিচরণ করতে হবে কুমারীর কঙ্কণের মত,কারণ একাকী থাকলে আর বিবাদ কলহের সম্ভাবনা নাই এবং নিশ্চিন্ত মনে সাধন ভজন করা যাবে।*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু যখন অজস্র লোকজন সঙ্গে নিয়ে রামকেলিতে এসে পরে বৃন্দাবন যাত্রার বাসনা করেন, তখন সনাতন গোস্বামীকে মহাপ্রভু জানান, তখন সনাতন গোস্বামী মহাপ্রভুকে সঙ্গোপনে ডেকে বলেছিলেন যে এইভাবে এত লোকজন নিয়ে কখনও বৃন্দাবনধামে যাওয়া উচিত হবে না কারণ ধাম বৃন্দাবন একাকী আস্বাদনের বস্তু,যার ফলে মহাপ্রভু সনাতনের এই উপদেশ অনুযায়ী কানাইয়ের নাটশালা অবধি এসে,প্রত‍্যাবর্তন করেন।সেজন‍্য অবধূতজী বলেছেন যে সাধনপথে একাকী বিচরণ এবং নিঃসঙ্গতাই কাম‍্য যা তিনি কুমারীর কঙ্কণ ভাঙ্গার মাধ‍্যমে শিক্ষা করে তাকে গুরুত্বে বরণ করেছিলেন।*


*(২১)অবধূতজীর একবিংশতম (২১) গুরু হচ্ছেন ইষুকার বা কামার, যে কামার ধারালো শর বা বাণ তৈরী করে।*
*🍀আমরা সকলেই জানি যে শাণিত কৃপাণ বা অস্ত্রের যে তীক্ষ্ণ ধার তা কিন্তু প্রকৃত লৌহ নয় এবং সুদক্ষ ইষুকার বা কর্মকার তাঁর কারিগরী বিদ‍্যার দ্বারা সেই লৌহকে গরম করে তার মধ্যে ইস্পাত বসিয়ে দিয়ে ধারাল ফলকটি তৈরী করেন এবং ইহা খুব সূক্ষ্ম কাজ, অত‍্যন্ত মনোঃসংযোগ সহকারে ইহাকে করতে হয়।কর্মকার শত কর্মব‍্যস্ত থাকলেও এই বিধ্বংসী ফলকটি তৈরী করবার সময় অত‍্যন্ত একাগ্র চিত্তে তা করেন কারণ সেই সময় চিত্ত চঞ্চল বা অন‍্যমনস্কতার প্রাবল‍্য দেখা দিলে সেই শরের প্রকৃত মূল‍্যায়ন এবং কার্য‍্যকারীতা হবে না।*
*সেজন‍্য প্রকৃত শর-কার অভ‍্যাস দ্বারা নিজের চিত্তকে সংযত করে একাগ্র মনে সেই শরের ফলকটি তৈরী করেন যদিও তিনি সংসারের একজন কর্মব‍্যস্ত লোক।*
*সেহেতু অবধূতজী বলেছেন যে প্রকৃত যোগীকেও সমস্ত জিনিসকে উপেক্ষা করে একমাত্র গৌর-গোবিন্দ পাদপদ্মে নিজের চিত্তকে সমাহিত রাখতে হবে এবং শরকার তা করতে পারেন বলিয়া তিনি তাঁকে গুরুপদে বরণ করেছেন।*
*এই প্রসঙ্গে গীতার একটি শ্লোক এখানে দেওয়া হল যা এই প্রসঙ্গের ভাবধারার সঙ্গে জড়িত,যথা---*
*🌷অভ‍্যাস যোগযুক্তেন চেতসা নান‍্যগামিনা।*
*🌷পরমং পুরুষং দিব‍্যং যাতি পার্থ অনুচিন্তয়ন্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ পার্থ অর্থ‍্যাৎ অর্জুনকে উপদেশচ্ছলে বলেছেন যে চিত্তকে অন‍্য বিষয়ে যেতে না দিয়ে পুনঃ পুনঃ অভ‍্যাস দ্বারা সেটিকে স্থির করে সেই দিব‍্য পরম পুরুষের ধ‍্যান করতে থাকলে সাধক সেই পরম পুরুষকেই প্রাপ্ত হন।ইষুকারের এই একাগ্রতা কিন্তু অভ‍্যাস সাপেক্ষ।* 
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆ 
*(২২)অবধূতজীর দ্বাবিংশতি গুরু হচ্ছেন সর্প।*
*সর্প তো খল ও ক্রুর কিন্তু যাঁর গুণ দেখা স্বভাব তিনি সব বস্তুর মধ্যেই গুণ দেখেন।সাপ সাধারণত লোকজনের ভয়ে একাকী বিচরণ করে এবং তার কোন নির্দিষ্ট বাসস্থান নাই, অনেকটা পরিব্রাজক সাধুগণের মত।সাপ কখনও খোলা জায়গায় থাকে না এবং গর্তের মধ্যে অতি গুপ্তস্থানে নিজেকে লুকিয়ে রাখে।এই প্রসঙ্গে অবধূতজী বলেছেন যে প্রকৃত সাধুকেও সাপের মত এইরকম নিঃসঙ্গ ভাবে থাকতে হবে।*
*🍀এই প্রসঙ্গে কিন্তু তত্ত্ব কথার প্রয়োজন।পূর্বে অবধূতজী কুমারীর কঙ্কণের ন‍্যায় নিঃসঙ্গতা কামনা করেছেন আবার তিনি কেন সর্পের এই নিঃসঙ্গতার জন্য তাকেও গুরুপদে বরণ করতে চাইছেন। ইহার উত্তরে বলা যায় যে, একটু গভীর ভাবে অনুশীলন করলে দেখা যায় কুমারীর বেলাতে "বহু যোগীর একত্রে বাস" নিষেধ প্রসঙ্গে নিঃসঙ্গতা কামনা করা হয়েছে। কিন্তু সাপের ক্ষেত্রে "সাধারণ জনসঙ্ঘ ত‍্যাগকে" উপলক্ষ্য  করে সাপকে গুরুপদে বরণ করেছেন।সেজন‍্য অবধূতজী সাপের এই আচরণকে উপলক্ষ্য করে বলেছেন যে সর্প যেমন একাকী বিচরণ করে  এবং তার কোন ঘরবাড়ী নেই কিন্তু তবুও অত‍্যন্ত সাবধানী ভাবে নির্জনে বাস করে, তার আচরণ এমনই যে তাকে লক্ষ্যই করা যায় না প্রকৃত মুনিকেও সেইরকম জনসঙ্ঘ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুপ্তভাবে সাধন ভজন করতে হবে।*


*(২১)অবধূতজীর একুশতম গুরু হচ্ছেন "ইষুকার" অর্থ‍্যাৎ কর্মকার,  যে কর্মকার ধারালো শর বা বাণ তৈরী করে।আমরা সকলেই জানি  যে শাণিত কৃপাণ বা অস্ত্রের যে তীক্ষ্ণ ধার, তা কিন্তু প্রকৃত লৌহ নয়, সুদক্ষ ইষুকার বা কর্মকার তার কারিগরী বিদ‍্যার দ্বারা সেই লৌহকে গরম করে  তার মধ্যে ইস্পাত বসিয়ে দিয়ে ধারাল ফলকটি তৈরী করে।এটি খুব সূক্ষ্ম কাজ এবং অতীব মনঃসংযোগ সহকারে এটিকে করতে হয়।কর্মকার শত কর্মব‍্যস্ত থাকলেও সেই বিধ্বংসী ফলকটি তৈরী করবার সময় অত‍্যন্ত একাগ্র চিত্তে তা করে থাকে, সেই সময় চিত্ত চঞ্চল বা অন‍্যমনস্কতার প্রাবল‍্য দেখা দিলে সেই শরের প্রকৃত মূল‍্যায়ন এবং কার্য‍্যকারীতা হবে না।*
*সেজন‍্য প্রকৃত শরকার অভ‍্যাস দ্বারা নিজের চিত্তকে সংযত করে একাগ্র মনে সেই শরের ফলকটি তৈরী করেন যদিও তিনি সংসারের একজন কর্মব‍্যস্ত লোক।সেইকারণে অবধূতজী বলেছেন,যে প্রকৃত যোগীকেও সমস্ত বস্তুকে উপেক্ষা করে একমাত্র শ্রীগৌর-গোবিন্দ পাদপদ্মে নিজের চিত্তকে সমাহিত রাখতে হবে এবং কর্মকার তা করতে পারেন বলে তিনি তাঁকে গুরুপদে বরণ করেছেন।এই প্রসঙ্গে গীতার একটি শ্লোক এখানে দেওয়া হল যা এই প্রসঙ্গের ভাবধারার সহিত জড়িত,যথা-----*
*🌷অভ‍্যাস যোগযুক্তেন চেতসা নান‍্যগামিনা।*
*🌷পরমং পুরুষং দিব‍্যং যাতি পার্থ অনুচিন্তয়ন্।।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ ভগবান পার্থ অর্থ‍্যাৎ অর্জুনকে উপদেশচ্ছলে বলেছেন যে, চিত্তকে অন‍্য বিষয়ে যেতে না দিয়ে পুনঃ পুনঃ অভ‍্যাস দ্বারা সেটিকে স্থির করে সেই দিব‍্য পরম পুরুষের ধ‍্যান করতে থাকলে সাধক সেই পরম পুরুষকেই প্রাপ্ত হন।ইষুকারের এই একাগ্রতা কিন্তু অভ‍্যাস সাপেক্ষ।*


 *(২২)অবধূতজীর বাইশতম গুরু হচ্ছেন "সর্প"।*
*🍀সর্প তো খল ও ক্রুর কিন্তু যাঁর গুণ দেখা স্বভাব তিনি সব সময় সব জিনিসের মধ্যেই গুণ দেখেন।সর্প সাধারণত লোকজনের ভয়ে একাকী বিচরণ করে এবং তার কোন নির্দিষ্ট বাসস্থান নেই, অনেকটা পরিব্রাজক সাধুর মত।সাপ কখনও খোলা জায়গায় থাকে না এবং গর্তের মধ্যে অতি গুপ্তস্থানে নিজেকে লুকিয়ে রাখে।এই প্রসঙ্গে অবধূতজী বলেছেন যে, প্রকৃত সাধুকেও সাপের মত এইরকম নিঃসঙ্গ ভাবে থাকতে হবে।*
*এই প্রসঙ্গে কিছু তত্ত্ব কথার প্রয়োজন।পূর্বে অবধূতজী কুমারীর কঙ্কণের ন‍্যায় নিঃসঙ্গতা কামনা করেছেন আবার তিনি কেন সাপের এই নিঃসঙ্গতার জন্য তাকেও গুরুপদে বরণ করতে চাইছেন।এর উত্তরে বলা যায় যে, একটু গভীর ভাবে অনুশীলন করলে দেখা যায় কুমারীর বেলাতে বহু যোগীর একত্রে বাস নিষেধ প্রসঙ্গে নিঃসঙ্গতা কামনা করা হয়েছে। কিন্তু সাপের ক্ষেত্রে সাধারণ লোকজন ত‍্যাগকে উপলক্ষ্য করে সর্পকে গুরুপদে বরণ করেছেন।সেজন‍্য অবধূতজী সাপের এই আচরণকে উপলক্ষ্য করে বলেছেন যে,সর্প যেমন একাকী বিচরণ করে এবং তার কোন ঘরবাড়ি নেই কিন্তু তবুও অত‍্যন্ত সাবধানী ভাবে নির্জনে বাস করে এবং তার আচরণ এমনই যে তাকে লক্ষ্যই করা যায় না, প্রকৃত মুনিকেও সেইরকম লোকজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুপ্তভাবে সাধনভজন করতে হবে।*


*(২৩)অবধূতজীর (দত্তাত্রেয় ঋষির) তেইশতম গুরুদেব হচ্ছেন ঊর্ণনাভ বা মাকড়সা।*

*🍀সকল প্রকার জীবজন্তু কীটপতঙ্গ প্রত‍্যেকেরই নিজস্ব বাসা বানাবার একটি পদ্ধতি আছে আমরা সকলেই জানি বা দেখি যে চড়ুই পাখী,বাবুই পাখী, কাক, শালিক ইহারা সকলে কত কষ্ট করে শাবক প্রসবের পূর্বে তাদের বাসা বাঁধে বিভিন্ন জায়গায়।এই বাসা যদি ঝড়ে বা মানুষেনষ্ট করে দেয় তাহলে এত সব কষ্ট ব‍্যর্থতায় পর্য‍্যবসিত হয়।*
*কিন্তু মাকড়সার বাসা বানাবার বিশেষত্ব এই যে সে তার নিজের মুখ হতে সুতোর মত এক প্রকার লালা বাহির করে এক সুন্দর জাল বানায়, এবং প্রয়োজনে সে তা আবার গুটিয়ে নিতেও পারে। অর্থ‍্যাৎ লালার মাধ‍্যমে সুতো ছাড়া এবং সেই সুতোকে পুনরায় গুটিয়ে নিবার এক অদ্ভুত শক্তি ভগবান ঊর্ণনাভকে দিয়েছেন।*
*এর ভাবার্থ এই যে ভগবান যেমন তাঁর সৃষ্টি করেন এবং প্রয়োজনে বিনাশও করেন সেইরকম ঊর্ণনাভের এই ক্ষমতা আছে।এই প্রসঙ্গে গীতার একটি শ্লোক সম ভাবার্থ বহন করে,যথা--*
*🌷পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতম,*
*🌷ধর্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ তাঁরই করা সৃষ্টি তিনি বিশ্বের মঙ্গলের জন্য নিজ হাতে ধ্বংসও করেন যার বিশদ বিবরণ প্রাপ্ত হওয়া যায়,গীতার বিশ্বরূপ দর্শন যোগে--যেখানে ভগবান নিজে বলেছেন-- এখন আমি মহাকাল। অর্থ‍্যাৎ ভগবান যেমন এই জগতের সৃষ্টি,স্থিতি এবং প্রলয় কর্তা,ঊর্ণনাভও তেমনি একই গুণের আকর সেজন‍্য অবধূতজী মাকড়সাকে ভগবদ্ জ্ঞানে গুরুত্বে বরণ করেছেন।*

*(২৪)দত্তাত্রেয় ঋষির চব্বিশতম এবং শেষ গুরু হচ্ছেন "পেশস্কৃত" অর্থ‍্যাৎ কুমড়ো পোকা।*

*🍀অনেক সময় দেখা যায় যে কোন বলবান কীট যখন তাকে মারবার জন্য ধরতে যায়,তখন সে প্রাণভয়ে কোন গর্তের মধ্যে প্রবেশ করে এবং সদাসর্বদা ভাবে এই বুঝি তার প্রাণ গেল। এই ভাবে ভাবতে ভাবতে সে পরিশেষে তার স্বরূপ প্রাপ্ত হয়।*
*সেজন‍্য অবধূতজী বলেছেন যে সত‍্যই যদি মনের একাগ্রতা থাকে, তা সে স্নেহেই হোক,দ্বেষেই হোক,বা ভয়েই হোক তাহলে সে তার স্বরূপ প্রাপ্ত হয়।যেমন তেলা পোকা কাঁচ পোকাকে ভাবতে ভাবতে কাঁচপোকাই হয়ে যায়।*
*🍀সাধক ভক্তেরও যদি ভগবদ্ পাদপদ্ম এইরকম একাগ্রতা বা নিষ্ঠা থাকে তাহলে তিনিও তাঁর স্বরূপ লাভ করতে পারবেন। সামান্য একটি কীটের মধ্যে এই মহদ্ গুণ দেখে পরমভাগবদ্ অবধূতজী তাঁকে গুরুপদে বরণ করেছেন এবং বলতে চাহেন যে প্রত‍্যেক সাধু বৈষ্ণবের এই "পেশস্কৃত" কীটের আদর্শে চলা উচিৎ এবং এরকম একাগ্রতা থাকলে অভীষ্ট সিদ্ধ হতে বাধ‍্য।*
*🌻মন্তব‍্য=পরিশেষে বলতে চাই যে, এই পৃথিবীতে গুরুপদে বরণীয় এরকম বহু পদার্থ আছেন, তাদের সকলের কাছ হতেও এইরকম অনেক শিক্ষণীয় বস্তু আছে। সামান্য একটি পিঁপড়ের কাছ হতেও আমরা অনেক কিছুই শিক্ষা করতে পারি।একটি গাভীর মধ্যেও এরকম কত সাত্ত্বিক গুণ দেখা যায়।সেইরকম দূর্বা-ঘাসের মধ্যেও এমন অনেক গুণ আছে যাতে গুরুপদে তাকে বরণ করা যায়।কুর্ম্ম অর্থ‍্যাৎ কচ্ছপের মধ্যেও এমন অনেক সদ্ গুণ আছে যার জন্য গীতাতেও সে স্থান পেয়েছে। সুতরাং অবধূত মহারাজ নিজের সূক্ষ্ম বিচার বুদ্ধি দ্বারা যাঁদের গুরুপদে বরণ করেছেন তার জন্য তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এককথায় স্বীকৃত এবং তদুপরি শ্রীমদ্ভাগবতে ইহার উল্লেখ থাকাতে আমাদের সকলের এটি জানা উচিত এবং এইজন্য সংক্ষেপে এই প্রবন্ধ নিবদ্ধ হ'ল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


৮.২. শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলা, চাঁদধরা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/krishna_21.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৮.২. শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলা, চাঁদধরা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/krishna_21.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_74.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🍀শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলা, চাঁদধরা*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌒পদ-- হেদে লো মালিনী সই হের দেখসিয়া।*
*কাটান-- সই গো একবার এসে দেখে যাগো, আহামরি হে দে লো মালিনী।*
*🌒পদ--নিমাই কাঁদিছে মোর চাঁদের লাগিয়া।।*
*আখর-- সই গো একবার এসে,*
*দে-----খে যা, দে----খে যা,*
             *কান্দিছে গো বিনোদিয়া,*
    *কান্দিছে চাঁদ চাঁদ নিব বলিয়া।*
*🌷কথা--,ওরে ও মালিনী সই একবার নিমাইয়ের বদন পানে চেয়ে দ‍্যাখ,নিমাই সবসময়ই চাঁদ নিব চাঁদ নিব বলে কাঁদছে, নিমাইয়ের যে কোন ভাবের উদ্দীপন হয়েছে,তাহা কিছুই বুঝা যাচ্ছে না, কিছুই অনুভব করা যায় না।*
*(১)আখর--, গোরার হয়েছে কোন ভাবের উদ্দীপন,*
*আমি বুঝতে নারি গোরার মন, গোরার••••••••••••••••••••উদ্দীপন।*
*কেবল চাঁদ চাঁদ বলে করে ক্রন্দন,*
*গোরার•••••••••••••••••উদ্দীপন।*
*(২)আখর--, এ ভাব কি আনজনে বুঝবে,*
*ভাবের ভাবুক না হইলে, এ ভাব •••।*
*ভাব নিধি গোরাচাঁদের ভাব, এ ভাব কি•••••।*
*(৩)আখর--,এ লীলা আনে (অন‍্যে) কে জানবে, প্রভু দয়া করে না জানালে, এ লীলা•••••••••জানবে।*
*এ------ নিগূঢ় চৈতন‍্যলীলা।*
*🌷কথা--,আজ ভাবনিধি গৌরহরি কেবল চাঁদ চাঁদ বলে কাঁদছেন,তাই দেখে মনে হচ্ছে,ভাবনিধি গোরাচাঁদের ব্রজের ভাব জেগে উঠেছে।*
*আখর--,হয়েছে ব্রজ ভাবের উদ্দীপন, তাই চাঁদ চাঁদ বলি করছে ক্রন্দন, তাঁর রাধা বদন হয়েছে স্মরণ।*
*আখর--, (তাই),ব্রজের ভাব লেগেছে অন্তরে, তাই বলছে মাকে কর জোড়ে, মাগো তুমি চাঁদ এনে দাও আমারে।*
*🌷কথা--,আজ জগৎসুন্দর চিরসুন্দর গৌরসুন্দরের পূরবের ভাবে বিভাবিত হয়ে মায়ের চরণে প্রণাম করে বলছেন,মাগো তুমি আমার কথা শোনো,তুমি আমাকে সেই চাঁদ ধরে এনে দাও, নইলে আমি আর প্রাণে বাঁচব না।গৌরহরি সেই কথা বোলে--*
*আখর--, প্রণাম জানাল মায়ের চরণে,চাঁদ ধরি আমায় দাও না এনে, আমি খেলব সেই চাঁদের সনে,নইলে আমি না বাঁচিব প্রাণে।*
*🌷কথা--,পুত্রের হেন অবস্থা দেখে শচীমা তখন মালিনী সই কে বলছেন,ওগো সই!আজ আমার নিমাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই চাঁদ চাঁদ বলে কাঁদছে, নিমাইকে আমি কোনভাবেই বুঝাতে পারছি না। ঐ দেখ-----*
*🌒পদ--নিদ্রা হতে উঠি চাঁদ চাঁদ বলি কাঁদে।*
*আখর--,ঘুম থেকে উঠে শচীনন্দন, চাঁদ নিব বলি করিছে ক্রন্দন, মনে পড়েছে সেই চাঁদ বদন।*
*🌷কথা--,ওরে সই! আমি নিমাইকে কত করে বুঝাবার চেষ্টা করছি কিন্তু কোনভাবেই বুঝতে চাইছে না।যত বুঝাই ততই চাঁদ চাঁদ করে কাঁদছে, কোনভাবেই নিমাইকে ভোলাতে পারছি না চাঁদের কথা।সেই গো তোরে------*
*🌒পদ--,কতনা বুঝানু তমু স্থির নাহি বান্ধে।*
*আখর-, বুঝালেও কিছু বুঝে না, চিতে ধৈরজ মানে না, চাঁদ নিব বলে হয়েছে আনমনা।*
*🌷কথা--,তখন শচীমা বলছেন, ওরে সই! একবার নিমাইয়ের পানে চেয়ে দ‍্যাখ, ঐ দ‍্যাখ নিমাই চাঁদ চাঁদ করে ধূলায় গড়াগড়ি যাচ্ছে।আমি তারে কি করে বুঝাব বল? ঐ দ‍্যাখ--*
*🌓পদ--,চাঁদ চাঁদ করি শিশু ভূমে গড়ি যায়।*
*আখর--,ধূলায় যায় গড়াগড়ি, শচীনন্দন গৌরহরি, ব্রজের ভাব স্মরণ করি,ধূলায় যায় গড়াগড়ি।*
*🌷কথা--, ওরে সই! আমি তোরে বলি এই সাত-সকালে চাঁদ পাব কোথায় বলে দে না?*
*🌒পদ-- আমি চাঁদ কোথা পাব একি হ'ল দায়।*
*আখর--,আমি চাঁদ পাব কোথায়, এখন হয়েছে ভানুর উদয়,বলে দে সই চাঁদ পাবার উপায়।*
*আখর=বলে দে চাঁদ পাব কোথায়, এ যে হ'ল বিষম দায়,চাঁদ বিনে বুঝি বাঁচবে না নিমাই।*
*🌷কথা--,মালিনী শচীমাকে অনেক কথা বললেন, শ্রবণ করে---*
*🌒পদ--,মালিনী বলে গো শিশু দেখেছে স্বপন।*
*আখর--,ঘুমে দেখেছে স্বপন, তাই চাঁদ বলি করিছে ক্রন্দন, মনে পড়েছে সেই চাঁদবদন।*
*🌷কথা--,মালিনী শচীমাকে বলছেন, ওগো সই! আজ নিমাই নিশিতে স্বপ্ন দেখেছে, তাই নিমাই এখন শিশু,ঐ স্বপ্নে চাঁদ দেখে চাঁদ নিব বোলে কাঁদছে।যদি তাঁর সঙ্গীগণ নিমাইয়ের সাথে খেলা করে তবে তাঁর মন অন‍্যদিকে যাবে,তখন চাঁদ চাঁদ বলে নিমাই আর কাঁদবে না।*
*🌒পদ--,শিশুগণ সঙ্গী হলে হবে আনমন।।*
*আখর--, করবে না আর ক্রন্দন, যদি সঙ্গে খেলে শিশুগণ,তবে নিমাই হবে আনমন, তাই করবে না আর ক্রন্দন।*
*🌷কথা--,মালিনীর কথা শ্রবণ করে বৈষ্ণব কবি বাসুদেব ঘোষের আনন্দ আর ধরে না।*
*🌒পদ--,বাসুদেব ঘোষে বলে মনের আনন্দে।*
*🌷কথা--,পদকবি বাসুদেব ঘোষের আনন্দের কারণ কি?কবির মনের ভাব---*
*আখর--,এমনি যেন নিতুই হেরি, গোরাচাঁদের লীলা মাধুরী, নয়নে হেরি আর হৃদয়ে ধরি।*
*🌒পদ--,নদীয়ার চাঁদ মোর চাঁদের লাগি কাঁন্দে।।*
*আখর--, (নদীয়ার চাঁদ)করছে ক্রন্দন,ব্রজের ভাব হয়েছে স্মরণ, মনে পড়েছে রাধাচাঁদ বদন।*
*🙏অতি সংক্ষেপে গৌরচন্দ্রিকার ব‍্যাখ‍্যা করিলাম।*
*🌹শ্রীজয়দেব দাঁ, বাঁশবাড়ী, মালদা।*



*🌙শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা ব্রজলীলা।*
      ****************************

*🍀জয় নিতাই,আমরা এতক্ষণ নবদ্বীপে গৌরলীলায় ছিলাম।এখন আমরা শ্রীধাম বৃন্দাবনে প্রবেশ করব, শ্রীরাধাগোবিন্দের লীলায়।আমার মনে একটি ছোট্ট প্রশ্ন এলো,বলব?তবে প্রকাশ করি,রাধা গোবিন্দের লীলার পূর্বে গৌরলীলা বা গৌরচন্দ্রিকা কেন হয়?অনেক কারণের মধ্যে একটি কারণ প্রকাশ করি।রাধাগোবিন্দ লীলা রসমাধুরী আস্বাদন করতে হলে সর্বপ্রথম গৌরহরির কৃপা লাভ করে,তাঁর শ্রীচরণ আশ্রয় করতে হবে, আমার গৌরহরি ব্রজলীলা প্রকট করেছিলেন, সংকীর্তনের পিতা গৌরহরি।তাঁর ও নিতাইচাঁদের কৃপা বিনা ব্রজলীলা আস্বাদন সম্ভব নয়। তাই আমরা সকলে মিলে নিতাই ও গৌরের জয় দিয়ে শ্রীরাধাগোবিন্দের লীলারস মাধুরী আস্বাদন করি। এই রাধাগোবিন্দ লীলা আস্বাদন করলে জীবগণের কী ফল লাভ হয় তা কবি কর্ণপুর গোস্বামী বর্ণনা করেছেন।*
*🌷তনুতাং তনুতাং রাধাকৃষ্ণ চরিতং শ্রুতিস্তুতো হৃত‍্যা পানাং সুধাসিন্ধুধারা তাংনুত তাংনুত।*
*🌻এই রাধাগোবিন্দের লীলা চরিত শোনার ফলে, ভক্ত হৃদয়ে তাপ সকল দূরে যায়, দূরে গিয়ে রাধাগোবিন্দ লীলার সুধা সিন্ধুধারার----*
*🔴আখর--,পাথারেতে সাঁতারে, রাধাগোবিন্দের লীলা রসের, ত্রিতাপ জ্বালা দূর হয়ে।*
*🔵কথা---,এই যে ত্রিতাপ জ্বালা,এ জ্বালা কিন্তু কাউকে ছেড়ে দিবে না। মহারাজা হতে শুরু করে দীনদরিদ্র সকলকেই ভোগ করতে হবে। কিন্তু যিনি ভগবৎমুখী রাধাগোবিন্দের লীলারস মুখী হতে পেরেছেন, বা শ্রীগুরু গোবিন্দ চরণে আশ্রয় করতে পেরেছেন,তাঁরাই এ ত্রিতাপ জ্বালা হতে মুক্তি পেয়েছেন।এই ত্রিতাপ জ্বালা কি কি? আধ‍্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক।*
*🍀আধি শব্দের অর্থ হ'ল ব‍্যাধি, আধি+অ+ত্মিক=আধ‍্যাত্মিক। আধ‍্যাত্মিক তাপ আবার দুই প্রকার--, বাত পিত্ত ও কফের বৈষম‍্য হেতু যে তাপ,তাকেই বলে আধ‍্যাত্মিক তাপ। আবার বাত,পিত্ত ও কফ এই তিনটি শরীরে যখন সমান থাকে,তখন শরীরে কোন ব‍্যাধি আক্রমণ করতে পারে না। কিন্তু যে কোন একটি কম ও বেশী হলে শরীরে ব‍্যাধি যুক্ত হয়।এটিই আধ‍্যাত্মিক তাপ।*
*🍀আর এক প্রকার আধ‍্যাত্মিক তাপ জন্মে,বিষয়ের অদর্শন জনিত যে তাপ, যেমন স্থানান্তরে যাবার কালে আমি আমার পুত্রকে একটি কাজের ভার দিয়ে চলে গেলাম কিন্তু সেই বিষয় সেখানেও গিয়ে জপ করছি, "অর্থ‍্যাৎ বিষয়চিন্তা" আর মনে মনে চিন্তা করছি,বলে তো এলাম কর্ম করতে পারবে কি না ইত্যাদি চিন্তা।*
*🌺আধিভৌতিক তাপ--,যথা, ক্ষিতি, অপ,তেজ,মরুৎ ব‍্যোম। ক্ষিতি হচ্ছে পৃথিবী,অপ হচ্ছে জল, তেজ হচ্ছে সূর্য‍্য, মরুৎ হচ্ছে বায়ু বা বাতাস ও ব‍্যোম হচ্ছে আকাশ। এই পাঁচটি বস্তুর দ্বারায় জীবের শরীর গঠিত। এই পাঁচটির মধ্যে যদি যে কোন একটির কম ও বেশীর কারণে যে ব‍্যাধি হয় তার নাম আধিভৌতিক তাপ।*
*🍁আধিদৈবিক তাপ--, অকস্মাক দৈব বশত যে যন্ত্রণার উপস্থিত হয়, তার নাম আধিদৈবিক তাপ। এই হ'ল ত্রিতাপ।*
*তাহলে এ ত্রিতাপ জ্বালা হতে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম শ্রীগুরুচরণ আশ্রয় করে,শ্রীগুরুদেবের দেওয়া কর্ম সম্পন্ন করে,গৌর-গোবিন্দের লীলা আস্বাদন করতে হবে।যাই হোক এবারে আমরা লীলায় প্রবেশ করি। আজকের বিষয়বস্তু, "শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা লীলা"।*
*🔴কথা--,রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*অন‍্যোন‍্যে বিলসয় রস আস্বাদন করি।।*
*☘একদেহে তো আস্বাদন করা যায় না,তাই ব্রজে লীলার লাগি দুই দেহ ধারণ করে,একজন ভক্ত আর একজন পরমপুরুষ ভগবান হয়ে লীলা করেন তৎসহ কলিহত অন্ধ জীবদের শিক্ষাদান করেন।সুপথে চালনা করতে চেষ্টা করেন। যাইহোক আজ গোবিন্দ আমার রাধার মনোভাব জানতে পেরে,তাঁর বাসনা পূর্ণ করবার তরে চাঁদ নিব বলিয়া কাঁদছেন।মা গোপালের মনের ভাব কি তা তো জানেন না, গোপাল সকালবেলা পালঙ্কে বসে কাঁদছেন তা শুনে মা যশোমতীর চরম অস্থির হয়েছেন, আর বাড়ীর দাসীদের বলছেন, ঐ দেখ আমার গোপাল চাঁদ নিব চাঁদ নিব বলে কাঁদছে।এখন আমি কি করি, আর কি বলছে জানিস?মা আমায় চাঁদ এনে দাও আমি চাঁদ নিয়ে খেলা করব। এখন আমি কি করব?সকালবেলা চাঁদ কোথায় পাব, যে গগনে গোপালকে দেখাব?মা বলছেন শোন বাপ! সূর্য‍্য অস্তাচল হোক, নিশি আসুক, আমি তোকে চাঁদ দেখাব।নিশি না হলে তো চন্দ্র উদয় হবে না, চুপ কর বাপ চুপকর। আমি তোর কাঁদা বদন সইতে পারছি না, তবুও গোপাল নিজের ও রাধার বাসনা পূর্ণ করবার ছলে কাঁদছেন।*
*🔷তেওট, বড় দু-ঠোকা----, পদ,*
*উঠি ঘুম ঘোরে, পালঙ্ক উপরে,*
        *ফুকারি কান্দিছে বসি।*
*আখর= প্রভাতে কানাই ঘুমের ঘোরে, বসে রয়েছে পালঙ্ক উপরে, ফুকরি কান্দিছে চাঁদ চাঁদ করে।*
*🍀কথা= গোপাল সকালবেলা ছলনা করে কাঁদছে, আর মাকে বলছেন, ওগো মা! তুমি আমাকে গগনের চাঁদ ধরে এনে দাও।*
                   *ক্রমাগত*


*🌻🌻🌻🌻পদ🌻🌻🌻🌻*
*ছলে করি মায়া, কান্দিছে যাদুয়া,*
    *মা মোরে আনি দেহ শশী।।*
*আখর=মায়াকরি ছলে কাঁদিছে কানাই, তুমি চাঁদ এনে দাও আমায়, সেই চাঁদ লয়ে আমি খেলব সদাই।*
*🍀কথা=যশোমতী মা কথা শুনে গোপালকে বলছেন, ওরে বাপধন! এ তুই কোন কথা বলছিস? এই দিনের বেলায় চাঁদ কোথায় পাব?*
                   *পদ*
*এ কথা শুনিয়া, যশোদা হাসিয়া,*
      *বলে ও মা একি কথা।*
*আখর=মা হাসি হাসি কইছে কথা, গোপালের মুখে শুনি বারতা, তুই বলছিস এ কোন কথা, দিনের বেলা চাঁদ কোথা।*
*🍀কথা=বাৎসল‍্য রসের প্রতিমূর্তি মা নন্দরাণী, গোপালকে বলছেন,শোনবাপ!আমি এখন চাঁদ কোথায় পাব?*
                    *পদ*
*রাণী কহে বাণী, শুন নীলমণি,*
     *আমি চাঁদ পাব কোথা।*
*আখর=মা বলছে ওরে কানাই,নিশি শেষে ভানু হয়েছে উদয়,বল বাপ এখন চাঁদ পাব কোথায়।*
*🍀কথা=মায়ের কথা শুনে গোপাল বলছেন,আমি কোন কথা শুনব না, ওগো মা তুমি আমায় সেই চাঁদ এনে দাও তাহলে আমি আর কাঁদব না।আমি সেই চাঁদ নিয়ে মনের আনন্দে খেলা করব।*
                 *পদ*
*কহে নীলমণি, শুন গো জননী,*
        *খেলাইব চাঁদ লইয়া।*
*আখর=আমার কথা শুন শ্রবণে, আমি চাঁদ লয়ে খেলব সখাগণ সনে,তাই বলি মা চাঁদ দাও না এনে।*
                 *পদ*
*সে চাঁদ বিহনে, না রহে পরাণে,*
         *বিদরিয়া যায় হিয়া।।*
*আখর=মাগো দাও আমায় চাঁদ এনে, নইলে আমি বাঁচব না প্রাণে, প্রাণ যাবে মোর সেই চাঁদ বিহনে।*
*🍀কথা=গোপাল বলছেন, মা তুমি যদি আমায় সেই চাঁদ না এনে দাও, তাহলে বুঝি প্রাণে আর বাঁচব না।*
                    *পদ*
*


*আখর=যায় পরাণ বিদরে,সেচাঁদ নয়নে না হেরে, চাঁদ এনে দাও মা আমারে।*
*🍀কথা=গোপাল পুনঃপুনঃ মাকে বলছেন,মাগো আমায় চাঁদ এনে দাও নইলে হয়ত প্রাণে বাঁচব না,মাকে একথা বলছেন আর ধূলোয় গড়াগড়ি যাচ্ছেন।*
          *প্রথম পদে শেষ কলি*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*এ বোল বলিয়া, ধূলাতে পড়িয়া,*
       *লোটায় যাদব রায়।*
*আখর=চাঁদের লাগি ধূলায় লোটায়, মায়ের বচনে কানাই, মাগো চাঁদ বিনে আমার প্রাণে বাঁচা দায়।*
                    *পদ*
*এ কি হৈল দায়, না দেখি উপায়,*
          *ভণয়ে শেখর রায়।।*
*🍀কথা=ভাবাবিষ্ট পদকর্তা শেখর রায় বলছেন, এ কি আমার গোপালের অবস্থা, এত করি বুঝিয়েও বুঝ মানে না,একি হল দায়।*
             *দ্বিতীয় পদ*
      *(কাটা মধ‍্যম, দশকুশী)*
     *কেনে গো কান্দিছে নীলমণি।*
*শিকল=মাগো--তোমার গোপাল কে করছে ক্রন্দন,*
      *খুলে বলো সব বিবরণ,*
*আমাদের কাছে আর কোরো না গোপন,*
*তোমার কথা শুনে গোপালের ক্রন্দন করাব সম্বরণ,*
*ওগো--ওমা কেনে গো কান্দিছে।*
*(২)মাগো--আমরা হলাম ব্রজের নারী,*
*তাইতো গোপালের ক্রন্দন সহিতে নারি,*
*তুমি মা হয়ে ক্রন্দন সইছ কেমন করি,*
*তার ক্রন্দন শুনে প্রাণ যায় বিদরি,*
*বলি--ওগো ওমা, কেনে গো কান্দিছে।*
*(৩)মাগো=(ঐ দেখ)কাঁদছে গোপাল চাঁদ চাঁদ করে,*
*মাগো চাঁদ ধরে এনে দাও না তারে,*
*তোমার সেই চাঁদ পেলে পরে,*
*গোপালের ক্রন্দন যাবে দূরে,*
*গোপাল আর কাঁদবে না মা,*
*সেই চাঁদ ধরে এনে দিলে,*
*কেনে গো কান্দিছে নীলমণি।*
                   *পদ ২য়*
*আমরা পরের নারী,ক্রন্দন সহিতে নারি,*
       *কোন প্রাণে তুমি সইছ তুমি।।*
*আখর=আমরা হলাম পরের নারী,*
*তবুও গোপালের ক্রন্দন সইতে নারি,*
*তুমি মা হয়ে সইছ কেমন করি।*
                    *পদ ২য়*
*যাদুয়া মাগয়ে যাহা,আগে আনি দেহ তাহা,*
       *তবে গোপাল স্থির বান্ধে।*
*আখর=কর মা গোপালের আশা পূরণ,*
*যা চাই তা এনে দাও এখন,*
*তবে গোপাল আর করবে না ক্রন্দন।*
                      *পদ ২য়*
*যশোদা বোলে গো মাই,আমি তার কথা কই,*
     *গোপাল মোর চাঁদের লাগি কান্দে।।*
*আখর=শোন তোমরা আমার বচন,*
*গোপালের কথা তুমি কর গ্রহণ,*
*সে চাঁদ নিব বোলে করছে ক্রন্দন।*
                  *পদ ২য়*
*অবোধ শিশুর মতি,দিনে চাঁদ পাব কতি,*
          *এ বড় বিষম হৈল দায়।*
*🍀কথা=ওরে আমার গোপাল, তুই বলছিস বটে, কিন্তু এই দিনের বেলায় চাঁদ পাব কোথায়?*
*আখর=নিশির শেষে হয়েছে ভানুর উদয়,*
*বল কানাই,এখন চাঁদ পাব কোথায়,*
*নিশির শেষে দিনের বেলায়,এ যে হল বিষম দায়।*
*🍀কথা=মা যশোদা মনে মনে চিন্তা করছেন আর বলছেন, আমি কি দিয়ে গোপালকে তুষ্ট করব, আমি কিছু স্থির করতে পারছি না,হায়!আমি এই দিনেরবেলায় চাঁদ পাব কোথায়? ওরে ব্রজবাসিনী!তোমরা যদি এর কোন সমাধান জানো তো বলো?*
                   *পদ ২য়*
*কি দিয়ে তুষিব যাদু,কোথায় পাইব বিধু,*
         *জান যদি কহনা উপায়।।*
*আখর=এখন চাঁদ আমি পাব কোথায়,*
*নিশির শেষে দিনের বেলায়,*
*যদি জান তোমরা বলনা উপায়,*
*আমি কি দিয়ে তুষ্ট করব কানাই।*
                   *পদ ২য়*
*এ ক্ষীর মাখন ননী,কত না দিয়াছি আনি,*
        *আর তাহা কিছু নাহি খায়।*
*আখর=এনে দিয়েছি ছানা ননী,*
*খাই নাই মোর নীলমণি,*
*বলে খাব না তোমার ছানা ননী।*
                 *পদ ২য়*
*যদুনাথের শুন বাণী,আমার যে নীলমণি,*
       *চাঁদ বলি ভূমে গড়ি যায়।।*
*🍀কথা=বৈষ্ণব কবি যদুনাথ বলছেন,অদ‍্য গোপাল চাঁদ চাঁদ করে কেন ধূলোয় গড়াগড়ি যাচ্ছে তা কিছুই অনুভব করা যায় না।*
*আখর= আমার প্রাণের কানাই,*
*চাঁদ চাঁদ করি ধূলোয় লোটায়,*
   *পদ কবি যদুনাথে কয়।*


*চাঁদধরা তৃতীয় পদ*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*চাঁদ আজ চাঁদের লাগি কাঁদে।*
*আখর=কেন বা কাঁদিছে, কোন চাঁদের লাগি চাঁদ, কেন বা কাঁদিছে।*
*🍀কথা=মা যশোমতী বলছেন, গোপাল আমায় বিপাকে ফেলেছে,আমি দিনেরবেলায় সেই চাঁদ পাব কোথায়?*
                   *পদ তৃতীয়*
*যাদুয়া ফেলিল বিষম ফাঁদে।।*
*🍀কথা=বাৎসল‍্যময়ী প্রেমময়ী মা যশোমতী গোপালকে প্রবোধ দিচ্ছেন, ওরে বাপ গোপাল!অমন করে আর কাঁদিস না,তুই তো আমার চাঁদের পসার।*
                  *পদ তৃতীয়*
*না কাঁদ না কাঁদ শিশু আর।*
*আখর=তুমি চাঁদ বলে আর কেঁদনা, তোমার কাঁদা বদন আর সহে না,চাঁদ এনে দিব চিন্তা কোরো না।*
                  *পদ তৃতীয়*
*তুমি আমার চাঁদের পসার।।*
*দশ চাঁদ তোমার চরণ উপরে।*
*আর দশ চাঁদ তোর মুরলী পরে।।*
*আখর=কত শত চাঁদ খেলা করে,*
*তোমার ঐ মুরলী স্বরে,*
*তুমি কেন কাঁদছ চাঁদ চাঁদ করে।*
                 *পদ তৃতীয়*
*তুমি কাঁদ চাঁদের লাগিয়া।*
*চাঁদ মলিন ও মুখ দেখিয়া।।*
*আখর=*তুমি কাঁদছ কেন চাঁদচাঁদ করে,চাঁদ মলিন হয়েছে তব বদন হেরে,তুমি কেঁদনা আর চাঁদচাঁদ করে।*
             *পদ তৃতীয়*
*আর না কাঁদিহ নীলমণি।*
*চাঁদ ধরি দিব যে এখনি।।*
*আখর=(চাঁদ বোলে)আর কেঁদনা নীলমণি,*
*চাঁদ ধরি তোমায় দিব এখনি,*
*কত বুঝাইছে মা নন্দরাণী।*
                   *পদ তৃতীয়*
*যত যত বুঝায় জননী।*
*শুনিয়া না শুনে নীলমণি।।*
*আখর= মা করছেন ছলনা, গোপালে বুঝালে বুঝে না, শুনিয়াও কানে শুনেনা।*
              *পদ তৃতীয়*
*যদু কহে ওকথা না মানি।*
*চাঁদ ধরি দেহ যে এখনি।।*
*আখর=করজোড়ে বলছে নীলমণি, তুমি চাঁদ ধরি দাও এখনি, তোমার ছলনা নাহি মানি।*
*🍀গোপালের কথা শুনে মা বলেন--*


*শ্রীকৃষ্ণের চাঁদধরা চতুর্থ পদ*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*যশোদা কহয়ে রাণী,শুন ওগো রোহিণী,*
     *যাদু মোর চাঁদের লাগি কাঁদে।*
*আখর=(যশোদা)রোহিণী কে বলছে মধুর বচন,*
*দিদি তুমি আমার কথা কর শ্রবণ,*
*গোপাল চাঁদ নিব বোলে করছে ক্রন্দন।*
                   *পদ চতুর্থ*
*নিবারিতে নারি আমি,তুরিতে আইস তুমি,*
    *তবে তো গোপাল স্থির বান্ধে।।*
*আখর=দিদি তুমি এসো তাড়াতাড়ি,*
*আমি গোপালকে সম্বরিতে নারি,*
*কাঁদছে গোপাল চাঁদ চাঁদ করি।*
                  *পদ চতুর্থ*
*শুনিয়া রোহিণী ধাঞা,গোপালেরে কোলে লঞা,*
         *কত মত বুঝায় আপনি।*
*আখর=ছুটে এলো রোহিণী, গোপালের কান্না শুনি,রোহিণী,কোলে নিল নীলমণি।*
                   *পদ চতুর্থ*
*ক্ষীর সর নবনী দেয়,তাহা কিছু নাহি খায়,*
        *চাঁদ বলি কান্দে নীলমণি।।*
*🍀কথা=রোহিণী তখন গোপালকে কত আদর করে কত কত ক্ষীর সর নবনী দিচ্ছেন, গোপাল তবুও মুখে তুলছেন না, মুখে কেবল একটি শব্দ আমাকে চাঁদ এনে দাও।*
                     *পদ চতুর্থ*
*ব্রজের রমণী আসি,চতুর্দিকে ঘিরে বসি,*
         *তারা সবে গীত আরম্ভিল।*
*🍀কথা=গোপালের কান্নার কথা ধীরে ধীরে বাইরে প্রকাশ পাচ্ছে।এক এক ব্রজের রমণীগণ আসছেন, আর গোপালকে ভোলানোর জন্য গীত গাইছেন, কিন্তু সেই গীতেও গোপাল কর্ণপাত করছেন না, বারংবার একই কথা বলে যাচ্ছেন।*
                    *পদ চতুর্থ*
*বাদ‍্য যন্ত্র যত যত,গোপালের অভিমত,*
        *তাহা শুনি আন নাহি ভেল।।*
*আখর=তারা বাজাইল বাদ‍্যযন্ত্র, গোপালের মনের মত, তা শুনেও হল না শান্ত।*
                 *পদ চতুর্থ*
*তবে স্থির হৈয়া রাণী,কোলে করি নীলমণি,*
        *সর্বাঙ্গেতে বুলাইল হাত।*
*🍀কথা= মা যশোমতীও নিজেকে স্থির রাখতে পারছেন না, গোপালের কান্না শুনে।তারপর নিজেকে স্থির করে গোপালকে কোলে কোরে আমার বাপধন, আমার যাদুধন,আমার মানিক, আমার নীলমণি বলে সর্বাঙ্গে হাত বুলিয়ে শান্ত করবার চেষ্টা করছেন।*
                *পদ চতুর্থ*
*যাদুয়া সর্বদা কান্দে,সুস্থির নাহি বান্ধে,*
       *চাঁদ চাঁদ করে যদুনাথ।।*
*🍀কথা=এবারে মা নন্দরাণী গোপালের মনোভাব জেনে গোপালকে বলছেন, ওরে গোপাল! তুই আর কাঁদিস না বাপ, আমি তোকে সত‍্য সত‍্যই করে বলছি, আজ সেই গগনের চাঁদ তোকে ধরে দিব।দেখ বাপ দিনমণি অস্তাচলে প্রায়, নিশামণি (রাত্রিকাল) আসবে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে গগনে চাঁদের উদয় হবে,তখন আমি কি করব জানিস? আমি আকাশে ফাঁদ পাতবো, পেতে সেই গগন চাঁদ ধরে এনে দিব।তখন তুই চাঁদ নিয়ে খেলা করবি। ও বাপ গোপাল আর কাঁদিস না, আমার কথা শোন।তুই সকাল থেকে কিছুই খাস নি বাপ,কিছু খেয়ে নে,এই দেখ ক্ষীর সর নবনী মাখন তর জন্য সাজিয়ে রেখেছি বাপ খেয়েনে।* *মা যশোমতীর সুমধুর কথা শুনে গোপাল কান্নারত ছিলেন কাঁদতে কাঁদতে হেসে উঠেছেন,হেসে উঠে মায়ের কোলের উপর বসে ঘন ঘন গর্জন করছেন,আর গোপাল বলছেন, শুন বাপের গুরু,তুমিই হলে আমার চাঁদের তরু, গোপালের সেই কথা শুনে----*


*শ্রীকৃষ্ণের চাঁদধরা পঞ্চম পদ*
  °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*তবেত যশোদা রাণী,কোলে লৈয়া নীলমণি,*
      *আঙ্গিনাতে বসিল কৌতুকে।*
*আখর=আন কথা বলছে নানাচ্ছলে, চুম্বন করছে বদন কমলে, গোপালকে ভুলাইবে বোলে।*
                  *পদ পঞ্চম*
*আন কথা নানা মতে,গোপালেরে ভুলাইতে,*
       *ঘন চুম্ব দিয়া চাঁদ মুখে।।*
*🍀কথা=বাৎসল‍্যময়ী মা যশোদা পুত্রের এই অবস্থা দেখে চরম চিন্তিত হয়ে মনে মনে তাঁর গৃহ দেবতা তাঁর ইষ্টদেব স্বয়ং নারায়ণের নিকট নিজ মনের কথা জানাচ্ছেন। আর বলছেন, হে নারায়ণ! আমার পুত্র যে ভাবনায় ভাবিত হয়েছে,তার একটি সমাধান করুন।ঐ দিকে গোপাল মায়ের কোলে বসে বাৎসল‍্য প্রেম আস্বাদন করছেন, আর মায়ের অন্তরের কথা জানতে পেরে (তিনি তো অন্তর্য‍্যামী, বিশ্বব্রহ্মান্ডের প্রতিটি জীবের অন্তরের কথা জানেন,তাই মায়ের অস্থিরতা দূর করবার জন্য এবং নিজ আশা পরিপূর্ণ করবার জন্য অর্থ‍্যাৎ ভক্ত ও ভগবানের মিলন দেখাবার জন্য ও সকল ভক্ত চূড়ামণিগণের আনন্দ বর্ধনের জন্য ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কি করলেন।সাড়ে চব্বিশ চাঁদের সঙ্গে অনন্ত চাঁদের মিলন দর্শন।*
                   *পদ পঞ্চম*
*চাঁদ মুখে চুম্ব দিতে,রাই এল আচম্বিতে,*
      *সঙ্গে করি সঙ্গিনী বালিকা।*
*আখর=চুম্বন করছে নন্দরাণী, হঠাৎ আইল মোর রাইধনি, সঙ্গে করে ব্রজরমণী।*
                  *পদ পঞ্চম*
*তপ্ত কাঞ্চন আভা,প্রফুল্ল বদন শোভা,*
        *যেন কত চাঁদের মালিকা।।*
*আখর=যেন চাঁদের হাট বসেছে, নন্দরাণীকে ঘিরে ঘিরে, ছোট ছোট চাঁদের মালায়।*
*🍀কথা=তপ্তকাঞ্চন গৌরিঙ্গনী সর্ব মনোহরণকারিণী বৃষভানু নন্দিনী রাধারাণী যখন নন্দগৃহে এলেন, রাধাকে দর্শন করে মা যশোমতী আনন্দে আত্মহারা হলেন।রাধাকে দর্শন মাত্রেই প্রেমময়ী মা যশোদার মনে হল যেন কোটি কোটি চন্দ্র দর্শন করছি।এবারে রাধাকে নিজ বাৎসল‍্যে নিকটে নিলেন এবং বললেন,তুমি মুখখানি ঢেকে বস,না জানি তোমার বদন দর্শন করে গোপালের যদি পুনঃ চাঁদের বাইনা ধরে আমি তখন কি করব, (রাধা-কৃষ্ণ এক আত্মা, রাধা অন্তরে অন্তরে বলছেন, মাগো তোমার গোপাল আর আমার বদন দর্শন করে চাঁদ চাঁদ বলে বায়না ধরবে না, যে চাঁদের জন্য তোমার গোপাল বায়না ধরে ছিল,সেই চাঁদের বদন দর্শন করলেই তোমার আর কোন চিন্তা থাকবে না)।*
                  *পদ পঞ্চম*
*অবোধ শিশুর মন,যদি হয় উদ্দীপন,*
        *তবে আর কিসে বা বুঝাব।*
*হাসি কহে যদুনাথ,পুরিল মনের সাধ,*
         *চাঁদ বলি আর না কাঁদিব।।*
*আখর=হেসে কইছেন নীলরতন, মোর মনোবাসনা হ'ল পূরণ, আর চাঁদ বলিয়া করব না ক্রন্দন।*
*🍀কথা=তারপর রাধাকে দর্শন মাত্রে গোপাল,মাকে বলছেন, মা-ওমা আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে খেতে দাও।*
                 *পদ ষষ্ঠ*
                   •••••••••
*হাসি রাধা বিনোদিনী,কহয়ে সরস বাণী,*
       *শুন ওগো মাই নন্দরাণী।*
*তোমার কোলে নীলমণি,কতশত চন্দ্র জিনি,*
       *রাধা মুখ তাহে যে গণি।।*
*আখর=(রাধা বলছেন)কোলে আছে নীলমণি,শরতেরও চন্দ্র জিনি, তাহে দেখি রাধা বদন খানি।*
                      *পদ ষষ্ঠ*
*রাধা হেন কুলবতী,কত শত যুবতী,*
        *গোপাল চরণ ধ‍্যান করে।*
*এতেক কহেন রাই,শুনিয়া যশোদা মাই,*
        *করে ধরি বসাইল তারে।।*
*আখর=রাই কথা কইছে যশোদারে,রাণী রাইয়ের কথা শ্রবণ করে,রাইকে বসাইল কর ধরে।*
                  *পদ ষষ্ঠ*
*সকল সঙ্গিনী লৈয়া,বসিল আনন্দ হৈয়া,*
      *দেখি যাদু হাসিতে লাগিল।*
*যদুনাথ দাসে কয়,কিবা সে আনন্দময়,*
      *গোপালের ক্রন্দন চুপাইল।।*
*🍀কথা=পদ কবি যদুনাথ দাস লীলা দর্শন করে আনন্দ ধরে না।*
*আখর=হেরে রাইয়ের চাঁদবদন, আনন্দেতে হয়ে মগন, দূর হইল গোপালের ক্রন্দন।*
                  *পদ সপ্তম*
                   🌹🌹🌹
*যশোদা রাণীর পাশে,প্রণাম করিয়া বৈসে,*
       *তাহা দেখি হাসয়ে গোপাল।*
*আখর=(রাই)রাণী পাশে বসিল আনন্দ মনে,প্রণাম জানাল মায়ের চরণে,তাই হাসছে গোপাল আনন্দ মনে।*
                  *পদ সপ্তম*
*জননীর কোল হতে,রাই অঙ্গ পরশিতে,*
       *এইত সময় দেখি ভাল।।*
*জগত ঈশ্বর হরি,জননীরে ভয় করি,*
         *ভাবনা করিছে মনে মনে।*
*বালক স্বভাব আছে,দোষব দেখিলে পাছে,*
        *হামাগুড়ি যায় নানা স্থানে।।*
*আখর=হামাগুড়ি দিয়ে যায়, বালক স্বভাবে কানাই,যেখানে বসে রয়েছে রাই।*
                    *পদ সপ্তম*
*রাণী কহে রাধিকায়,গোপাল তোমা পানে চাই,*
        *ডাক দিয়া লহ নিজ পাশে।*
*আখর=রাই তুমি মোর কথা শোন, গোপাল চাইছে তোমার বদন পান, ডেকে কাছে বসাও কৃষ্ণধন।*
                   *পদ সপ্তম*
*পশারিয়া দুই পাণি,এস এস বলে ধনি,*
        *আনি বসাইল সভা মাঝে।।*
*রাণী নিজ কাজে গেলা,আনন্দে করিছে খেলা,*
        *বালক বালিকা সঙ্গে।*
*যতদিন মন কাজ,পুরাইল যদু রাজ,*
        *যদুনাথ দাস রস গানে।।*
*আখর=নিজকাজে গেলা নন্দরাণী, রাই সনে খেলিছে নীলমণি, তাদের সনে খেলে যত সঙ্গিনী।*
*🌹দোঁহার বাসনা পূর্ণ হ'ল,চাঁদে চাঁদে আজ মিলন হল,উলুধ্বনি দেয় ব্রজের সঙ্গিনীগণ।*
*🌻তোমরা জয় দাও জয় দাও, জয় রাধে শ্রীরাধে বলে,দুইটি বাহু উপরে তুলে।*
*🙏এখানেই বিরাম হল, শ্রীকৃষ্ণের চাঁদধরা লীলা, বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


adds