শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

মৃত্যুর অর্থ কি 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/httpswww_8.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                        ꧁ মৃত্যুর অর্থ কি  
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
অধিকাংশ লোকের কাছেই মৃত্যু এক ভয়ঙ্কর বিষয়।


শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ব্যাখ্যা করেছেন,,,,মৃত্যুকে  আমাদের নিত্যসঙ্গি বলেই মনে হয়। গীতা অনুসারে,,,, আমাদের জীবনে আমরা প্রতিনিয়তই মারা যাচ্ছি । কারণ,, মৃত্যু বলতে শরীর পরিবর্তনকে বোঝায় এবং এই শরীর পরিবর্তন আমাদের জীবনে আমুল পরিবর্তন আনে।।

যেমন ধরুন,, ছয় মাস বয়সে যাকে দেখেছেন তাকে যদি পাঁচ বছর বয়সে দেখেন,, তাহলে খুব সম্ভব তাকে আপনি চিনতে পারবেন না। ছয় মাস বয়সে আপনি যে শরীর দেখেছেন,, তা সম্পুর্ণরুপে পরিবর্তিত হয়েছে,,, এমনকি দেহকোষগুলোও পরিবর্তিত হয়েছে। এভাবে শিশুকাল থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত প্রতিটি শরীরই নিরন্তর পরিবর্তিত হচ্ছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,, শরীরের এই পরিবর্তনকে মৃত্যু বলে জানবে। ঠিক যেমন কেউ শৈশব থেকে যৌবন,, যৌবন থেকে বার্ধক্য এবং একই ভাবে মৃত্যুর সময় এক দেহ ত্যাগ করে অন্য দেহ গ্রহণ করে।।

যেমন,,, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হবেন ভেবে অর্জুন এতোই বিমর্ষ হয়ে পড়েন যে,, তিনি যুদ্ধ করার ইচ্ছাই হারিয়ে ফেলেন। তাই তিনি বলেন ,, ''এমন কি আমি যদি ত্রিভুবনও লাভ করি,, তবু তাদের হত্যা করে আমি সুখী হব না। অর্জুনের মতো প্রত্যেক জীবই মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত। পরিবারের সদস্যদের আসন্ন মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত অর্জুনকে মুক্ত করার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে মৃত্যু সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। মৃত্যু বলতে আসলে কী বোঝায়,,? কিছু মানুষ মনে করে  মৃত্যু মানে সবকিছু শেষ হওয়া। জড় দৃষ্টিকোণ থেকে এ জীবন এবং এ দেহ শেষ হওয়াকেই মৃত্যু বলে,, কিন্তু নিত্য আত্মার মৃত্যু হয় না ।কেবলমাত্র দেহান্তর ঘটে।

তবে পরবর্তী জীবনে কোন শরীর প্রাপ্তি হবে তা নির্ভর করে এই জীবনের কর্মের উপর ।

এখন আপনি ভাবুন আপনি কোন শরীর পেতে চান??
 

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧  

⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



মৃত্যুর অর্থ কি 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/httpswww_8.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                        ꧁ মৃত্যুর অর্থ কি  
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
অধিকাংশ লোকের কাছেই মৃত্যু এক ভয়ঙ্কর বিষয়।

শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ব্যাখ্যা করেছেন,,,,মৃত্যুকে  আমাদের নিত্যসঙ্গি বলেই মনে হয়। গীতা অনুসারে,,,, আমাদের জীবনে আমরা প্রতিনিয়তই মারা যাচ্ছি । কারণ,, মৃত্যু বলতে শরীর পরিবর্তনকে বোঝায় এবং এই শরীর পরিবর্তন আমাদের জীবনে আমুল পরিবর্তন আনে।।
যেমন ধরুন,, ছয় মাস বয়সে যাকে দেখেছেন তাকে যদি পাঁচ বছর বয়সে দেখেন,, তাহলে খুব সম্ভব তাকে আপনি চিনতে পারবেন না। ছয় মাস বয়সে আপনি যে শরীর দেখেছেন,, তা সম্পুর্ণরুপে পরিবর্তিত হয়েছে,,, এমনকি দেহকোষগুলোও পরিবর্তিত হয়েছে। এভাবে শিশুকাল থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত প্রতিটি শরীরই নিরন্তর পরিবর্তিত হচ্ছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,, শরীরের এই পরিবর্তনকে মৃত্যু বলে জানবে। ঠিক যেমন কেউ শৈশব থেকে যৌবন,, যৌবন থেকে বার্ধক্য এবং একই ভাবে মৃত্যুর সময় এক দেহ ত্যাগ করে অন্য দেহ গ্রহণ করে।।
যেমন,,, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হবেন ভেবে অর্জুন এতোই বিমর্ষ হয়ে পড়েন যে,, তিনি যুদ্ধ করার ইচ্ছাই হারিয়ে ফেলেন। তাই তিনি বলেন ,, ''এমন কি আমি যদি ত্রিভুবনও লাভ করি,, তবু তাদের হত্যা করে আমি সুখী হব না। অর্জুনের মতো প্রত্যেক জীবই মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত। পরিবারের সদস্যদের আসন্ন মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত অর্জুনকে মুক্ত করার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে মৃত্যু সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। মৃত্যু বলতে আসলে কী বোঝায়,,? কিছু মানুষ মনে করে  মৃত্যু মানে সবকিছু শেষ হওয়া। জড় দৃষ্টিকোণ থেকে এ জীবন এবং এ দেহ শেষ হওয়াকেই মৃত্যু বলে,, কিন্তু নিত্য আত্মার মৃত্যু হয় না ।কেবলমাত্র দেহান্তর ঘটে।
তবে পরবর্তী জীবনে কোন শরীর প্রাপ্তি হবে তা নির্ভর করে এই জীবনের কর্মের উপর ।
এখন আপনি ভাবুন আপনি কোন শরীর পেতে চান??
 

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧  

⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



নিরামিষ-আমিষ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/blog-post_17.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                     ꧁ নিরামিষ-আমিষ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
আজকাল আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। তর্ক বিতর্কও হচ্ছে। তাই আজ এ বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করা যাক।

আমাদের কোনো শাস্ত্রে কি আমিষ বা নিরামিষ আহার নিয়ে কোনো নির্দেশনা আছে? বৈদিক তথা সনাতন ধর্ম বিভিন্ন মত পথের ভিত্তিতে শতধারায় বিভক্ত। মূলত উদ্দেশ্য সবার ভগবদ্ভক্তি আর ভগবানের আরাধনা ও জীবের কল্যাণের হেতু ক্রিয়া কর্ম্মাদি করা।

পরমকরুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীমদ্ভগবদ গীতায় বলেছেন যে সকল কর্ম, চিন্তা, চেতনা, আহার, বিহার সব কিছুতে সাত্ত্বিকতা বজায় রাখতে। এর পেছনেও নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে।

ষড়ঋপু তথা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য্য সবার ভগবদ্ভক্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ষড়ঋপুকে বশে রাখতে পারলেই, তার পক্ষে ভগবান ভজনা সম্ভব ও সহজ হয়। 

আমারা যে আহার গ্রহণ করি, তা আমাদের পাকস্থলীতে যেয়ে পরিপাক হয়ে, শরীরস্হ কোষ তথা অস্থি, মজ্জা, রক্ত, মাংস ইত্যাদিতে যেয়ে, সেসবের ক্ষয় পূর্ণ ও গঠনে সাহায্য করে। যে খাদ্যের যে বৈশিষ্ট্য বা গুনাগুন, তাই আমাদের শরীরের কোষ সমূহে নিষিক্ত হয়ে, আমাদেরও সেই বৈশিষ্ট্যে ধাবিত করে। আর এর ফলেই আমরা ষড়ঋপুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা তাদের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হতে পারি। 

আমাদের আসল উদ্দেশ্য শ্রীভগবানে শুদ্ধ ভক্তি। ভগবান বলেছেন, "সমস্ত কর্ম্মফল আমাতে অর্পণ করে, আপন কর্ম্ম করে যাও।" এটাই ভক্তের প্রকৃত লক্ষণ। 

অনেকে আছেন, নিরামিষ আহার করেন, গলায় তুলসী মালা পরেন, দ্বাদশ অঙ্গে তিলক ধারণ করেন। তাঁকে নিশ্চয়ই বৈষ্ণব বলা যায়। কিন্ত সে যদি কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত নন এমন কাউকে অবজ্ঞা বা হেয় করার প্রয়াস করেন, তাঁকে কি বৈষ্ণব বলা সমীচীন হবে? নিশ্চয়ই নয়। কারণ তিনি গীতার বাণী উপেক্ষা করলেন। সে যে নিজেকে তৃণ অপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং "সর্বভুতে সমদর্শন" ভাবতে পারেন তিনিই হলো আমার প্রকৃত ভক্ত।

আবার যদি কেউ আমিষ আহার করেও শ্রীভগবানে একনিষ্ঠ ভক্ত হতে পারে, তাঁর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করতে করতে অবশেষে সে কখনো শ্রীভগবানে কৃপায় তাহার সঠিক জ্ঞানের অধিকারী হতে পারবে। নিরামিষ আহার শ্রেষ্ঠ না আমিষ।

আমরা যদি বংশানুক্রমে নিরামিষাষী হই, তবে আমিষ আমাদের শরীর গ্রহণ করতে পারবেনা। কিন্ত যদি আমিষাষী হই, তবে হুট করে তা ত্যাগ করলেও শরীরের একই পরিণতি হবে। এ জন্য চাই অভ্যাস। এই অভ্যাসের দ্বারাই আমরা রাজসিক ও তামসিককে সাত্ত্বিকে রুপান্তরিত করতে পারি। গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে,"যস্মিন দেশে যদাচার"। কাজেই আমিষ নিরামিষ নয়, সাত্ত্বিকতাই হোক আমাদের লক্ষ্য। 

কাউকে হেয় বা অবজ্ঞা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমাদের সকলের মূল লক্ষ্য একটাই, শুদ্ধ ভক্তিতে ভগবানের নামকীর্ত্তন করে তাঁর কৃপাধণ্য হওয়া। তাই আমিষ বা নিরামিষ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কলহ বিবাদে না জড়িয়ে সবাইকে আহ্বান করি, সবাইকে আমি আন্তরিক সম্মান দিয়ে সমস্বরে একসাথে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর জয় দিই। যিনি সকল বর্ণকে এককরে এবং সকল সিদ্ধান্তকে এককরে জগৎকে যে একমাত্র নাম সম্পদ উপহার দিয়েছেন তা সর্বপ্রথম গ্রহণ করি সমন্বয়ে।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



নিরামিষ-আমিষ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/blog-post_17.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                     ꧁ নিরামিষ-আমিষ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
আজকাল আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। তর্ক বিতর্কও হচ্ছে। তাই আজ এ বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করা যাক।

আমাদের কোনো শাস্ত্রে কি আমিষ বা নিরামিষ আহার নিয়ে কোনো নির্দেশনা আছে? বৈদিক তথা সনাতন ধর্ম বিভিন্ন মত পথের ভিত্তিতে শতধারায় বিভক্ত। মূলত উদ্দেশ্য সবার ভগবদ্ভক্তি আর ভগবানের আরাধনা ও জীবের কল্যাণের হেতু ক্রিয়া কর্ম্মাদি করা।

পরমকরুনাময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীমদ্ভগবদ গীতায় বলেছেন যে সকল কর্ম, চিন্তা, চেতনা, আহার, বিহার সব কিছুতে সাত্ত্বিকতা বজায় রাখতে। এর পেছনেও নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে।

ষড়ঋপু তথা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য্য সবার ভগবদ্ভক্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ষড়ঋপুকে বশে রাখতে পারলেই, তার পক্ষে ভগবান ভজনা সম্ভব ও সহজ হয়। 

আমারা যে আহার গ্রহণ করি, তা আমাদের পাকস্থলীতে যেয়ে পরিপাক হয়ে, শরীরস্হ কোষ তথা অস্থি, মজ্জা, রক্ত, মাংস ইত্যাদিতে যেয়ে, সেসবের ক্ষয় পূর্ণ ও গঠনে সাহায্য করে। যে খাদ্যের যে বৈশিষ্ট্য বা গুনাগুন, তাই আমাদের শরীরের কোষ সমূহে নিষিক্ত হয়ে, আমাদেরও সেই বৈশিষ্ট্যে ধাবিত করে। আর এর ফলেই আমরা ষড়ঋপুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা তাদের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হতে পারি। 

আমাদের আসল উদ্দেশ্য শ্রীভগবানে শুদ্ধ ভক্তি। ভগবান বলেছেন, "সমস্ত কর্ম্মফল আমাতে অর্পণ করে, আপন কর্ম্ম করে যাও।" এটাই ভক্তের প্রকৃত লক্ষণ। 

অনেকে আছেন, নিরামিষ আহার করেন, গলায় তুলসী মালা পরেন, দ্বাদশ অঙ্গে তিলক ধারণ করেন। তাঁকে নিশ্চয়ই বৈষ্ণব বলা যায়। কিন্ত সে যদি কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত নন এমন কাউকে অবজ্ঞা বা হেয় করার প্রয়াস করেন, তাঁকে কি বৈষ্ণব বলা সমীচীন হবে? নিশ্চয়ই নয়। কারণ তিনি গীতার বাণী উপেক্ষা করলেন। সে যে নিজেকে তৃণ অপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং "সর্বভুতে সমদর্শন" ভাবতে পারেন তিনিই হলো আমার প্রকৃত ভক্ত।

আবার যদি কেউ আমিষ আহার করেও শ্রীভগবানে একনিষ্ঠ ভক্ত হতে পারে, তাঁর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করতে করতে অবশেষে সে কখনো শ্রীভগবানে কৃপায় তাহার সঠিক জ্ঞানের অধিকারী হতে পারবে। নিরামিষ আহার শ্রেষ্ঠ না আমিষ।

আমরা যদি বংশানুক্রমে নিরামিষাষী হই, তবে আমিষ আমাদের শরীর গ্রহণ করতে পারবেনা। কিন্ত যদি আমিষাষী হই, তবে হুট করে তা ত্যাগ করলেও শরীরের একই পরিণতি হবে। এ জন্য চাই অভ্যাস। এই অভ্যাসের দ্বারাই আমরা রাজসিক ও তামসিককে সাত্ত্বিকে রুপান্তরিত করতে পারি। গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে,"যস্মিন দেশে যদাচার"। কাজেই আমিষ নিরামিষ নয়, সাত্ত্বিকতাই হোক আমাদের লক্ষ্য। 

কাউকে হেয় বা অবজ্ঞা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমাদের সকলের মূল লক্ষ্য একটাই, শুদ্ধ ভক্তিতে ভগবানের নামকীর্ত্তন করে তাঁর কৃপাধণ্য হওয়া। তাই আমিষ বা নিরামিষ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কলহ বিবাদে না জড়িয়ে সবাইকে আহ্বান করি, সবাইকে আমি আন্তরিক সম্মান দিয়ে সমস্বরে একসাথে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর জয় দিই। যিনি সকল বর্ণকে এককরে এবং সকল সিদ্ধান্তকে এককরে জগৎকে যে একমাত্র নাম সম্পদ উপহার দিয়েছেন তা সর্বপ্রথম গ্রহণ করি সমন্বয়ে।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



ষড় গোস্বামীর পরিচিতি 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/blog-post_81.html

          
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
                    ꧁ষড় গোস্বামীর পরিচিতি꧂ 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧  
 ষড় গোস্বামী ছয়জন বৈষ্ণব সাধক ও সংস্কৃত পন্ডিত। সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী, রঘুনাথ দাস, গোপাল ভট্ট, রঘুনাথ ভট্ট ও জীব গোস্বামী এই ছয়জনকে গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ একত্রে ষড়গোস্বামী নামে অভিহিত করেন। এঁরা কম বেশি সকলেই মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং এঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়ই গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে।
.
শ্রীশ্রীসনাতন গোস্বামী:- (আনু.1465-1555)
 ইনি ছিলেন ন্যায়শাস্ত্রে সুপন্ডিত। তাঁর গার্হস্থ্য জীবনের নাম অমর। গৌড়ের নিকটবর্তী রামকেলি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় কর্ণাট ব্রাহ্মণ। তিনি বাক্লা চন্দ্রদ্বীপের অন্তর্গত ফতেয়াবাদ, নবহট্ট বা নৈহাটী এবং মালদহ জেলার রামকেলি এই তিন জায়গায় বসবাস করেন বলে জানা যায়। নৈয়ায়িক বাসুদেব সার্বভৌম ও সহোদর মধুসূদন বিদ্যাবাচস্পতি ছিলেন তাঁর শিক্ষাগুরু।
সনাতন সুলতান হুসেন শাহের রাজদরবারে রাজস্বমন্ত্রী (সাকর মল্লিক) হিসেবে কাজ করতেন। তাই আরবি ও ফারসি ভাষায়ও তিনি সুপন্ডিত ছিলেন বলে মনে করা হয়। রাজকার্যে নিযুক্ত থাকলেও সনাতনের অন্তরে ছিলো বৈরাগ্যভাব। শ্রীচৈতন্য দেবের বৃন্দাবন গমন কালে (সম্ভবত 1555 খ্রী.) রামকেলিতে তাঁর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তিনি চাকরি ত্যাগ করেন এবং অল্পকালের মধ্যে শ্রীচৈতন্যের অনুগামী হন। এ সময় থেকেই তিনি সনাতন নামে পরিচিত হন। চৈতন্যদেব নীলাচলে যাওয়ার পথে কাশীতে দুমাস অবস্থান করেন। সেখানে তিনি সনাতনকে বিভিন্ন তত্ত্বোপদেশ দেন এবং চারটি কার্যের আদেশ দেন,
১. ভক্তিগ্রন্থ রচনা,
২. ভক্তি ও সদাচার প্রচার,
৩. লুপ্ত তীর্থ উদ্ধার এবং
৪. শ্রীবিগ্রহ সেবা প্রকাশ।
 এরপর থেকে সনাতন বৃন্দাবনে অবস্থান করেন এবং বৈষ্ণব ধর্মকে একটি তাত্ত্বিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেন। এ সময় তিনি সংস্কৃত ভাষায় নানা গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। সেগুলির মধ্যে বৃহৎ-ভাগবতামৃত, বৃহৎ-বৈষ্ণবতোষিণী (শ্রীমদ্ভাগবতের টীকা), লীলাস্তব, হরিভক্তিবিলাস ও দিগ্দর্শনী (টীকা) উল্লেখযোগ্য।

শ্রীশ্রীরূপ গোস্বামী:- (আনু. 1470-1559)
 ইনি ছিলেন সনাতনের অনুজ। রামকেলিতেই তাঁর জন্ম।
তাঁর পিতৃদত্ত নাম সন্তোষ, কিন্তু চৈতন্যদেব প্রদত্ত ‘রূপ’ নামেই তিনি সর্বজন বিদিত। রূপও সুলতান হুসেন শাহের দরবারে চাকরি করতেন। তিনি ছিলেন সুলতানের ‘দবির খাস’ (প্রধান সচিব)। রূপ গোস্বামী বাল্যকাল থেকেই ছিলেন কৃষ্ণভক্ত। চৈতন্যদেব যখন বৃন্দাবন যাচ্ছিলেন তখন রূপ তাঁকে প্রয়াগে দর্শন করেন এবং তাঁর নিকট ভক্তিতত্ত্ব সম্পর্কে শিক্ষালাভ করেন। মহাপ্রভুর নির্দেশে তিনি বৃন্দাবন গিয়ে লুপ্ততীর্থ ও লুপ্ত গোবিন্দবিগ্রহ উদ্ধার করেন এবং কয়েকটি মূল্যবান বৈষ্ণবগ্রন্থ রচনা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো, হংসদূত, উদ্ধবসন্দেশ, বিদগ্ধমাধব, ললিতমাধব দানকেলিকৌমুদী, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, উজ্জ্বলনীলমণি, নাটকচন্দ্রিকা,
বিলাপকুসুমাঞ্জলি, উপদেশামৃত,
গোবিন্দবিরুদাবলী, অষ্টাদশলীলা, রাধাকৃষ্ণগণোদ্দেশ ইত্যাদি। ষড় গোস্বামীর মধ্যে রূপ গোস্বামীর কবিত্বশক্তি ও পান্ডিত্য অধিক, কেননা তিনি যেসব প্রামাণ্য বৈষ্ণবগ্রন্থ রচনা করেছেন সেসব শুধু সংখ্যা হিসেবেই নয়,কাব্য ও রসবিচারেও উত্তম বলে বিবেচিত হয়। তিনি এসব গ্রন্থে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদর্শনের কৃষ্ণতত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে ভক্তিরসের বিশদ আলোচনা এবং মধুর ভাবে রাধাকৃষ্ণ উপাসনা রীতির প্রবর্তন করেন।

শ্রীশ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী:- (আনু. 14901577)
আদি সপ্তগ্রামের হরিপুর নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি গৃহ-পুরোহিত বলরাম আচার্যের নিকট শাস্ত্রাধ্যয়ন করেন। বাল্যকাল থেকেই তাঁর মধ্যে বৈরাগ্যের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তিনি হরিদাস ঠাকুরের ব্যক্তিত্ব ও ভক্তিতে মুগ্ধ হয়ে তাঁর সেবা করেন এবং যবন হরিদাসের কৃপাভাজন হন। এসময় চৈতন্যদেবের নাম শুনে তিনি তাঁর চরণে নিজেকে সমর্পণ করেন এবং একদিন গোপনে গৃহত্যাগ করে নীলাচলে তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। চৈতন্যদেব তাঁকে স্বরূপ দামোদরের তত্ত্বাবধানে অর্পণ করেন। এজন্য রঘুনাথকে ‘স্বরূপের রঘু’ বলা হতো। রঘুনাথ ষোলো বছর নীলাচলে ছিলেন। শ্রীচৈতন্য ও স্বরূপ দামোদরের তিরোধানের পর তিনি বৃন্দাবনে রূপ সনাতনের আশ্রয় গ্রহণ করেন। রঘুনাথ নীলাচল ও বৃন্দাবনে নিত্য জীবন চর্যায় ও প্রসাদ গ্রহণে কঠোর নিয়ম পালন করতেন। 
তিনি রাধাকুন্ড ও শ্যামকুন্ড উদ্ধার করেন এবং রাধাকুন্ড সংস্কার করে বাকি জীবন সেখানেই অতিবাহিত করেন। শেষ জীবনে তিনি আহার নিদ্রা বর্জন পূর্বক রাধাকুন্ডের তীরে বসে সর্বদা রাধাকৃষ্ণ নাম জপ করে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন। তাঁর আচরণ ও ভজন নিষ্ঠা গোস্বামীদের মধ্যেও অতি বিরল। রঘুনাথ দাস রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলোঃ- মুক্তাচরিত, স্তবাবলী, দানচরিত বা শ্রীদানকেলি চিন্তামণি, মনঃশিক্ষা, সুরাবলী, শিক্ষাপটল, শ্রীনামচরিত ইত্যাদি।

শ্রীশ্রীগোপাল ভট্ট গোস্বামী:- (আনু. 15০০-1585)
দক্ষিণ ভারতের অধিবাসী ছিলেন। মুরারি গুপ্তের কড়চা থেকে জানা যায় যে, তাঁর বাল্যকালে চৈতন্যদেব দাক্ষিণাত্য যাওয়ার পথে তাঁদের গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করেন। তখন চৈতন্যদেবের প্রতি তাঁর ভক্তি দেখে পিতা ত্রিমলভট্ট (মতান্তরে বেঙ্কক ভট্ট) পুত্রকে চৈতন্যের চরণে সমর্পণ করেন। চৈতন্যদেব তাঁকে আশীর্বাদ করেন এবং তাঁরই আদেশে পিতামাতার সেবান্তে বৃন্দাবনে গিয়ে তিনি অন্যান্য গোস্বামীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। চৈতন্যদেব নীলাচল থেকে তাঁর জন্য নিজ কৌপীন ও একটি কাঠের আসন পাঠান।
বৃন্দাবনে ‘কাঠের পিড়া’ নামক সেই আসনটি রাধারমণ মন্দিরে
এখনও পূজিত হয়। এই মন্দিরের পেছনেই গোপালের সমাধি রয়েছে। গোপাল সংস্কৃত ভাষা ও দর্শনে সুপন্ডিত ছিলেন। তিনি কৃষ্ণকর্ণামৃত নাটকের শ্রীকৃষ্ণবল্লভা নামে একটি টীকা রচনা করেন। রূপ সনাতনের মুখে তত্ত্ববিচার শুনে তিনি সূত্রাকারে ষটসন্দর্ভ গ্রন্থের একটি কারিকা লেখেন। তাঁর অপর গ্রন্থ সৎক্রিয়াসার দীপিকায় বিবাহাদি চতুর্দশ সংস্কারের বিবরণ আছে। এতে বিভিন্ন বেশ ও বিধির নির্দেশ আছে। সংস্কৃত সাহিত্য পরিষৎ গ্রন্থাগারে গোপাল ভট্টের লেখা দানখন্ড নামে একটি পুথি (নং 427) আছে। হরিভক্তিবিলাস নামে অপর একটি গ্রন্থও গোপাল ভট্টের লেখা বলে কথিত হয়, যদিও কারও কারও মতে এটি সনাতনের রচনা, গোপাল পরে এর বিষয়বস্ত্তকে বিস্তৃত করেন।

শ্রীশ্রীরঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী:- (আনু.1506-1580)
বৃন্দাবনের লুপ্ত তীর্থ ও বিগ্রহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া বর্তমানেও বৈষ্ণব ভক্তগণ যে চুরাশি ক্রোশ বন পরিক্রমা করেন সেগুলি নির্ধারণেও তাঁর অবদান ছিল। রঘুনাথের পিতার নাম তপন মিশ্র। শ্রীচৈতন্য পূর্ববঙ্গ ভ্রমণে এসে পদ্মার তীরবর্তী রামপুর গ্রামে তপন মিশ্রের আতিথ্য গ্রহণ করেন এবং তখন রঘুনাথকে ভক্তিতত্ত্ব শিক্ষা দেন। রঘুনাথ কাশীতে বিবিধ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে পান্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি নীলাচলে শ্রীচৈতন্যের লীলা প্রত্যক্ষ করেন। পিতামাতার দেহত্যাগের পর তিনি বৃন্দাবনে যান এবং রূপ-সনাতনের সঙ্গ লাভ করেন। সেখানে তিনি ভাগবতের শ্রেষ্ঠ পাঠক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
.
শ্রীশ্রীজীব গোস্বামী:- (আনু. 1514-1649)
 ইনি ছিলেন রূপ সনাতনের ভ্রাতুষ্পুত্র। রামকেলিতে তাঁর জন্ম। জীবের প্রাথমিক শিক্ষা জীবন গৌড়ে অতিবাহিত হয়। পরে প্রভু নিত্যানন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তিনি নবদ্বীপ যান এবং তাঁর আদেশে কাশীতে পন্ডিত মধুসূদন বাচস্পতির নিকট নানা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এখানেই পিতৃব্য রূপ সনাতনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং রূপ গোস্বামী তাঁকে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষা দেন। তাঁদের সান্নিধ্যে জীব জ্ঞান সাধনায় আরও উৎকর্ষ লাভ করেন।
তাঁদের তিরোধানের পর জীব গোস্বামী বৃন্দাবনের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেন।
কৃষ্ণমূর্তির বামে রাধামূর্তি বসিয়ে যুগলরূপের পূজা প্রবর্তনে তিনি উৎসাহী ছিলেন। জীব বাল্যকাল থেকেই শ্রীচৈতন্যের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর সেই অনুরাগ আরও বৃদ্ধি পায়। চৈতন্য তথা বৈষ্ণবধর্ম তাঁকে মোহিত করে। তিনি বৈষ্ণবধর্ম ও তন্ত্র বিষয়ক নানা গ্রন্থ ও টীকাভাষ্য রচনা করেন।
তাঁর রচিত ষটসন্দর্ভ একটি বিখ্যাত দার্শনিক গ্রন্থ। এতে ছয়টি সন্দর্ভ বা অধ্যায় আছে এবং তাতে বিভিন্ন দার্শনিক তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে। জীব গোস্বামীর আরও কয়েকটি গ্রন্থ হলো, গোপালচম্পূ, হরিনামামৃতব্যাকরণ,
ধাতুসূত্রমালিকা, মাধবমহোৎসব,
সংকল্পকল্পদ্রুম ও সারসংগ্রহ। এছাড়াও তিনি উজ্জ্বলনীলমণি, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, গোপালতাপনী ও ভাগবতের টীকা রচনা করেন।

উল্লেখিত ষড় গোস্বামীদের কল্যাণেই আজ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ পৃথিবীর সর্বত্রই রাধাকৃষ্ণ ভক্তিতত্ত্বে প্লাবিত হয়ে, যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ ধরায় শান্তির বাতাবরণ আরোপিত করে যাচ্ছে। আর আগামীতে সমগ্র মানব সমাজ যে এই প্লাবনে প্লাবিত হবে, তা বলাই বাহুল্য। আমরাও সবার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কৃষ্ণনামের সাথে ষড় গোস্বামীর জয়গান গেয়ে যাই।                            জয় ষড় গোস্বামীর জয়।
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

ষড় গোস্বামীর পরিচিতি 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/04/blog-post_81.html

          
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
                    ꧁ষড় গোস্বামীর পরিচিতি꧂ 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧  
 ষড় গোস্বামী ছয়জন বৈষ্ণব সাধক ও সংস্কৃত পন্ডিত। সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী, রঘুনাথ দাস, গোপাল ভট্ট, রঘুনাথ ভট্ট ও জীব গোস্বামী এই ছয়জনকে গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ একত্রে ষড়গোস্বামী নামে অভিহিত করেন। এঁরা কম বেশি সকলেই মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং এঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়ই গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে।
.
শ্রীশ্রীসনাতন গোস্বামী:- (আনু.1465-1555)
 ইনি ছিলেন ন্যায়শাস্ত্রে সুপন্ডিত। তাঁর গার্হস্থ্য জীবনের নাম অমর। গৌড়ের নিকটবর্তী রামকেলি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় কর্ণাট ব্রাহ্মণ। তিনি বাক্লা চন্দ্রদ্বীপের অন্তর্গত ফতেয়াবাদ, নবহট্ট বা নৈহাটী এবং মালদহ জেলার রামকেলি এই তিন জায়গায় বসবাস করেন বলে জানা যায়। নৈয়ায়িক বাসুদেব সার্বভৌম ও সহোদর মধুসূদন বিদ্যাবাচস্পতি ছিলেন তাঁর শিক্ষাগুরু।
সনাতন সুলতান হুসেন শাহের রাজদরবারে রাজস্বমন্ত্রী (সাকর মল্লিক) হিসেবে কাজ করতেন। তাই আরবি ও ফারসি ভাষায়ও তিনি সুপন্ডিত ছিলেন বলে মনে করা হয়। রাজকার্যে নিযুক্ত থাকলেও সনাতনের অন্তরে ছিলো বৈরাগ্যভাব। শ্রীচৈতন্য দেবের বৃন্দাবন গমন কালে (সম্ভবত 1555 খ্রী.) রামকেলিতে তাঁর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তিনি চাকরি ত্যাগ করেন এবং অল্পকালের মধ্যে শ্রীচৈতন্যের অনুগামী হন। এ সময় থেকেই তিনি সনাতন নামে পরিচিত হন। চৈতন্যদেব নীলাচলে যাওয়ার পথে কাশীতে দুমাস অবস্থান করেন। সেখানে তিনি সনাতনকে বিভিন্ন তত্ত্বোপদেশ দেন এবং চারটি কার্যের আদেশ দেন,
১. ভক্তিগ্রন্থ রচনা,
২. ভক্তি ও সদাচার প্রচার,
৩. লুপ্ত তীর্থ উদ্ধার এবং
৪. শ্রীবিগ্রহ সেবা প্রকাশ।
 এরপর থেকে সনাতন বৃন্দাবনে অবস্থান করেন এবং বৈষ্ণব ধর্মকে একটি তাত্ত্বিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেন। এ সময় তিনি সংস্কৃত ভাষায় নানা গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। সেগুলির মধ্যে বৃহৎ-ভাগবতামৃত, বৃহৎ-বৈষ্ণবতোষিণী (শ্রীমদ্ভাগবতের টীকা), লীলাস্তব, হরিভক্তিবিলাস ও দিগ্দর্শনী (টীকা) উল্লেখযোগ্য।

শ্রীশ্রীরূপ গোস্বামী:- (আনু. 1470-1559)
 ইনি ছিলেন সনাতনের অনুজ। রামকেলিতেই তাঁর জন্ম।
তাঁর পিতৃদত্ত নাম সন্তোষ, কিন্তু চৈতন্যদেব প্রদত্ত ‘রূপ’ নামেই তিনি সর্বজন বিদিত। রূপও সুলতান হুসেন শাহের দরবারে চাকরি করতেন। তিনি ছিলেন সুলতানের ‘দবির খাস’ (প্রধান সচিব)। রূপ গোস্বামী বাল্যকাল থেকেই ছিলেন কৃষ্ণভক্ত। চৈতন্যদেব যখন বৃন্দাবন যাচ্ছিলেন তখন রূপ তাঁকে প্রয়াগে দর্শন করেন এবং তাঁর নিকট ভক্তিতত্ত্ব সম্পর্কে শিক্ষালাভ করেন। মহাপ্রভুর নির্দেশে তিনি বৃন্দাবন গিয়ে লুপ্ততীর্থ ও লুপ্ত গোবিন্দবিগ্রহ উদ্ধার করেন এবং কয়েকটি মূল্যবান বৈষ্ণবগ্রন্থ রচনা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো, হংসদূত, উদ্ধবসন্দেশ, বিদগ্ধমাধব, ললিতমাধব দানকেলিকৌমুদী, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, উজ্জ্বলনীলমণি, নাটকচন্দ্রিকা,
বিলাপকুসুমাঞ্জলি, উপদেশামৃত,
গোবিন্দবিরুদাবলী, অষ্টাদশলীলা, রাধাকৃষ্ণগণোদ্দেশ ইত্যাদি। ষড় গোস্বামীর মধ্যে রূপ গোস্বামীর কবিত্বশক্তি ও পান্ডিত্য অধিক, কেননা তিনি যেসব প্রামাণ্য বৈষ্ণবগ্রন্থ রচনা করেছেন সেসব শুধু সংখ্যা হিসেবেই নয়,কাব্য ও রসবিচারেও উত্তম বলে বিবেচিত হয়। তিনি এসব গ্রন্থে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদর্শনের কৃষ্ণতত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে ভক্তিরসের বিশদ আলোচনা এবং মধুর ভাবে রাধাকৃষ্ণ উপাসনা রীতির প্রবর্তন করেন।

শ্রীশ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী:- (আনু. 14901577)
আদি সপ্তগ্রামের হরিপুর নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি গৃহ-পুরোহিত বলরাম আচার্যের নিকট শাস্ত্রাধ্যয়ন করেন। বাল্যকাল থেকেই তাঁর মধ্যে বৈরাগ্যের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তিনি হরিদাস ঠাকুরের ব্যক্তিত্ব ও ভক্তিতে মুগ্ধ হয়ে তাঁর সেবা করেন এবং যবন হরিদাসের কৃপাভাজন হন। এসময় চৈতন্যদেবের নাম শুনে তিনি তাঁর চরণে নিজেকে সমর্পণ করেন এবং একদিন গোপনে গৃহত্যাগ করে নীলাচলে তাঁর সঙ্গে মিলিত হন। চৈতন্যদেব তাঁকে স্বরূপ দামোদরের তত্ত্বাবধানে অর্পণ করেন। এজন্য রঘুনাথকে ‘স্বরূপের রঘু’ বলা হতো। রঘুনাথ ষোলো বছর নীলাচলে ছিলেন। শ্রীচৈতন্য ও স্বরূপ দামোদরের তিরোধানের পর তিনি বৃন্দাবনে রূপ সনাতনের আশ্রয় গ্রহণ করেন। রঘুনাথ নীলাচল ও বৃন্দাবনে নিত্য জীবন চর্যায় ও প্রসাদ গ্রহণে কঠোর নিয়ম পালন করতেন। 
তিনি রাধাকুন্ড ও শ্যামকুন্ড উদ্ধার করেন এবং রাধাকুন্ড সংস্কার করে বাকি জীবন সেখানেই অতিবাহিত করেন। শেষ জীবনে তিনি আহার নিদ্রা বর্জন পূর্বক রাধাকুন্ডের তীরে বসে সর্বদা রাধাকৃষ্ণ নাম জপ করে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন। তাঁর আচরণ ও ভজন নিষ্ঠা গোস্বামীদের মধ্যেও অতি বিরল। রঘুনাথ দাস রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলোঃ- মুক্তাচরিত, স্তবাবলী, দানচরিত বা শ্রীদানকেলি চিন্তামণি, মনঃশিক্ষা, সুরাবলী, শিক্ষাপটল, শ্রীনামচরিত ইত্যাদি।

শ্রীশ্রীগোপাল ভট্ট গোস্বামী:- (আনু. 15০০-1585)
দক্ষিণ ভারতের অধিবাসী ছিলেন। মুরারি গুপ্তের কড়চা থেকে জানা যায় যে, তাঁর বাল্যকালে চৈতন্যদেব দাক্ষিণাত্য যাওয়ার পথে তাঁদের গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করেন। তখন চৈতন্যদেবের প্রতি তাঁর ভক্তি দেখে পিতা ত্রিমলভট্ট (মতান্তরে বেঙ্কক ভট্ট) পুত্রকে চৈতন্যের চরণে সমর্পণ করেন। চৈতন্যদেব তাঁকে আশীর্বাদ করেন এবং তাঁরই আদেশে পিতামাতার সেবান্তে বৃন্দাবনে গিয়ে তিনি অন্যান্য গোস্বামীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। চৈতন্যদেব নীলাচল থেকে তাঁর জন্য নিজ কৌপীন ও একটি কাঠের আসন পাঠান।
বৃন্দাবনে ‘কাঠের পিড়া’ নামক সেই আসনটি রাধারমণ মন্দিরে
এখনও পূজিত হয়। এই মন্দিরের পেছনেই গোপালের সমাধি রয়েছে। গোপাল সংস্কৃত ভাষা ও দর্শনে সুপন্ডিত ছিলেন। তিনি কৃষ্ণকর্ণামৃত নাটকের শ্রীকৃষ্ণবল্লভা নামে একটি টীকা রচনা করেন। রূপ সনাতনের মুখে তত্ত্ববিচার শুনে তিনি সূত্রাকারে ষটসন্দর্ভ গ্রন্থের একটি কারিকা লেখেন। তাঁর অপর গ্রন্থ সৎক্রিয়াসার দীপিকায় বিবাহাদি চতুর্দশ সংস্কারের বিবরণ আছে। এতে বিভিন্ন বেশ ও বিধির নির্দেশ আছে। সংস্কৃত সাহিত্য পরিষৎ গ্রন্থাগারে গোপাল ভট্টের লেখা দানখন্ড নামে একটি পুথি (নং 427) আছে। হরিভক্তিবিলাস নামে অপর একটি গ্রন্থও গোপাল ভট্টের লেখা বলে কথিত হয়, যদিও কারও কারও মতে এটি সনাতনের রচনা, গোপাল পরে এর বিষয়বস্ত্তকে বিস্তৃত করেন।

শ্রীশ্রীরঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী:- (আনু.1506-1580)
বৃন্দাবনের লুপ্ত তীর্থ ও বিগ্রহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া বর্তমানেও বৈষ্ণব ভক্তগণ যে চুরাশি ক্রোশ বন পরিক্রমা করেন সেগুলি নির্ধারণেও তাঁর অবদান ছিল। রঘুনাথের পিতার নাম তপন মিশ্র। শ্রীচৈতন্য পূর্ববঙ্গ ভ্রমণে এসে পদ্মার তীরবর্তী রামপুর গ্রামে তপন মিশ্রের আতিথ্য গ্রহণ করেন এবং তখন রঘুনাথকে ভক্তিতত্ত্ব শিক্ষা দেন। রঘুনাথ কাশীতে বিবিধ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে পান্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি নীলাচলে শ্রীচৈতন্যের লীলা প্রত্যক্ষ করেন। পিতামাতার দেহত্যাগের পর তিনি বৃন্দাবনে যান এবং রূপ-সনাতনের সঙ্গ লাভ করেন। সেখানে তিনি ভাগবতের শ্রেষ্ঠ পাঠক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
.
শ্রীশ্রীজীব গোস্বামী:- (আনু. 1514-1649)
 ইনি ছিলেন রূপ সনাতনের ভ্রাতুষ্পুত্র। রামকেলিতে তাঁর জন্ম। জীবের প্রাথমিক শিক্ষা জীবন গৌড়ে অতিবাহিত হয়। পরে প্রভু নিত্যানন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তিনি নবদ্বীপ যান এবং তাঁর আদেশে কাশীতে পন্ডিত মধুসূদন বাচস্পতির নিকট নানা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এখানেই পিতৃব্য রূপ সনাতনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং রূপ গোস্বামী তাঁকে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষা দেন। তাঁদের সান্নিধ্যে জীব জ্ঞান সাধনায় আরও উৎকর্ষ লাভ করেন।
তাঁদের তিরোধানের পর জীব গোস্বামী বৃন্দাবনের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেন।
কৃষ্ণমূর্তির বামে রাধামূর্তি বসিয়ে যুগলরূপের পূজা প্রবর্তনে তিনি উৎসাহী ছিলেন। জীব বাল্যকাল থেকেই শ্রীচৈতন্যের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর সেই অনুরাগ আরও বৃদ্ধি পায়। চৈতন্য তথা বৈষ্ণবধর্ম তাঁকে মোহিত করে। তিনি বৈষ্ণবধর্ম ও তন্ত্র বিষয়ক নানা গ্রন্থ ও টীকাভাষ্য রচনা করেন।
তাঁর রচিত ষটসন্দর্ভ একটি বিখ্যাত দার্শনিক গ্রন্থ। এতে ছয়টি সন্দর্ভ বা অধ্যায় আছে এবং তাতে বিভিন্ন দার্শনিক তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে। জীব গোস্বামীর আরও কয়েকটি গ্রন্থ হলো, গোপালচম্পূ, হরিনামামৃতব্যাকরণ,
ধাতুসূত্রমালিকা, মাধবমহোৎসব,
সংকল্পকল্পদ্রুম ও সারসংগ্রহ। এছাড়াও তিনি উজ্জ্বলনীলমণি, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, গোপালতাপনী ও ভাগবতের টীকা রচনা করেন।

উল্লেখিত ষড় গোস্বামীদের কল্যাণেই আজ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ পৃথিবীর সর্বত্রই রাধাকৃষ্ণ ভক্তিতত্ত্বে প্লাবিত হয়ে, যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ ধরায় শান্তির বাতাবরণ আরোপিত করে যাচ্ছে। আর আগামীতে সমগ্র মানব সমাজ যে এই প্লাবনে প্লাবিত হবে, তা বলাই বাহুল্য। আমরাও সবার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কৃষ্ণনামের সাথে ষড় গোস্বামীর জয়গান গেয়ে যাই।                            জয় ষড় গোস্বামীর জয়।
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চৌষট্টিটি গুণাবলী 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চৌষট্টিটি গুণাবলী꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পরমব্রহ্ম ভগবানের গুণাবলী একমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণই ৬৪ গুনের অধিকারি যা কোনো দেবদেবী, কোনো অবতারের মধ্যে নেই। কারণ তিনি ভগবান, একমাত্র তিনিই স্বয়ং সম্পুর্ণ, একমাত্র তিনিই স্বতন্ত্র,সকলে তাঁর অংশ। আমরা আমাদের ভক্ত বন্ধুদের জন্য সেই গুণাবলী গুলি উল্ল্যেখ করার চেষ্টা করছি। ভগবানের এই ৬৪ প্রকার গুণ গুলি হলো,

(১) তাঁর সমস্ত শরীর অপূর্ব মাধুর্য মণ্ডিত,
(২) সমস্ত শুভ লক্ষন যুক্ত,
(৩) অত্যন্ত মনোরম,
(৪) জ্যোতির্ময়,
(৫) বলবান,
(৬) নিত্য নব-যৌবন সম্পন্ন,
(৭) সমস্ত-ভাষায় পারদর্শী,
(৮) সত্যবাদি,
(৯) প্রিয়ভাষী,
(১০) বাকপটু,
(১১) পরম পণ্ডিত,
(১২) পরম বুদ্ধিমান,
(১৩) অপূর্ব প্রতিভাশালী,
(১৪) বিদগ্ধ শিল্পকলায় পারদর্শী,
(১৫) অত্যন্ত চতুর,
(১৬) পরম দক্ষ,
(১৭) কৃতজ্ঞ,
(১৮) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ,
(১৯) স্থান, কাল ও পাত্র বিচারে সুদক্ষ,
(২০) বৈদিক তত্ত্বজ্ঞানে পারদর্শী,
(২১) পবিত্র,
(২২) সংযত,
(২৩) অবিচলিত,
(২৪) জিতেন্দ্রিয়,
(২৫) ক্ষমাশীল,
(২৬) গম্ভীর, 
(২৭) আত্ম-তৃপ্ত,
(২৮) সমদৃষ্টি সম্পন্ন,
(২৯) উদার,
(৩০) ধার্মিক,
(৩১) বীর,
(৩২) কৃপাময়, 
(৩৩) শ্রদ্ধাবান,
(৩৪) বিনীত,
(৩৫) বদান্য, 
(৩৬) লজ্জাশীল,
(৩৭) শরণাগত জীব-এর রক্ষক,
(৩৮) সুখী,
(৩৯) ভক্তদের হিতৈষী,
(৪০) প্রেমের বশীভূত,
(৪১) সর্বমঙ্গলময়,
(৪২) সর্বশক্তিমান,
(৪৩) পরম যশস্বী,
(৪৪) ভক্তবৎসল, 
(৪৫) সমস্ত স্ত্রী জনের কাছে অত্যন্ত আকর্ষনীয়,
(৪৬) সকলের আরাধ্য,
(৪৭) জনপ্রিয়, 
(৪৮) সমস্ত ঐশ্বর্য-এর অধিকারী,
(৪৯) সকলের মাননীয়,
(৫০) পরম নিয়ন্তা। 

 উল্লেখিত ৫০ টি গুণ ছাড়া ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি অতিরিক্ত গুন আছে যা কিছুটা ব্রহ্মা ও শিবেরও আছে। যে গুলো হলো, 

(৫১) অপরিবর্তনশীল, 
(৫২) সর্বজ্ঞ, 
(৫৩) চির নবীন,
(৫৪) সৎ ,চিৎ ও আনন্দময়,
(৫৫) সব রকম যোগ সিদ্ধির অধিকারী।

শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি গুন আছে যা নারায়ণ বিগ্রহে প্রকাশিত হয়। যা হলো,

(৫৬) অচিন্ত্য শক্তিসম্পন্ন,
(৫৭) তার দেহে অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের প্রকাশ,
(৫৮) তিনি সমস্ত অবতারের আদি উৎস,
(৫৯) তাঁর দ্বারা হত শত্রুদের তিনি মুক্তিদান করেন, 
(৬০) মুক্ত আত্মাদের তিনি আকর্ষন করেন।

এই গুণ গুলি ছাড়া কৃষ্ণের আরও ৪ টি গুণ আছে যা আর কারো নেই এমন কি নারায়ণেরও নেই সেই গুণ গুলি হলো,

(৬১) লীলা মাধুর্য্য,
(৬২) প্রেম মাধুর্য্য,
(৬৩) বেনু মাধুর্য্য এবং 
(৬৪) রুপ মাধুর্য্য।

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ অনাদিরাদিগোবিন্দঃ সর্বকরণকারনম্।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চৌষট্টিটি গুণাবলী 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চৌষট্টিটি গুণাবলী꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
পরমব্রহ্ম ভগবানের গুণাবলী একমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণই ৬৪ গুনের অধিকারি যা কোনো দেবদেবী, কোনো অবতারের মধ্যে নেই। কারণ তিনি ভগবান, একমাত্র তিনিই স্বয়ং সম্পুর্ণ, একমাত্র তিনিই স্বতন্ত্র,সকলে তাঁর অংশ। আমরা আমাদের ভক্ত বন্ধুদের জন্য সেই গুণাবলী গুলি উল্ল্যেখ করার চেষ্টা করছি। ভগবানের এই ৬৪ প্রকার গুণ গুলি হলো,

(১) তাঁর সমস্ত শরীর অপূর্ব মাধুর্য মণ্ডিত,
(২) সমস্ত শুভ লক্ষন যুক্ত,
(৩) অত্যন্ত মনোরম,
(৪) জ্যোতির্ময়,
(৫) বলবান,
(৬) নিত্য নব-যৌবন সম্পন্ন,
(৭) সমস্ত-ভাষায় পারদর্শী,
(৮) সত্যবাদি,
(৯) প্রিয়ভাষী,
(১০) বাকপটু,
(১১) পরম পণ্ডিত,
(১২) পরম বুদ্ধিমান,
(১৩) অপূর্ব প্রতিভাশালী,
(১৪) বিদগ্ধ শিল্পকলায় পারদর্শী,
(১৫) অত্যন্ত চতুর,
(১৬) পরম দক্ষ,
(১৭) কৃতজ্ঞ,
(১৮) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ,
(১৯) স্থান, কাল ও পাত্র বিচারে সুদক্ষ,
(২০) বৈদিক তত্ত্বজ্ঞানে পারদর্শী,
(২১) পবিত্র,
(২২) সংযত,
(২৩) অবিচলিত,
(২৪) জিতেন্দ্রিয়,
(২৫) ক্ষমাশীল,
(২৬) গম্ভীর, 
(২৭) আত্ম-তৃপ্ত,
(২৮) সমদৃষ্টি সম্পন্ন,
(২৯) উদার,
(৩০) ধার্মিক,
(৩১) বীর,
(৩২) কৃপাময়, 
(৩৩) শ্রদ্ধাবান,
(৩৪) বিনীত,
(৩৫) বদান্য, 
(৩৬) লজ্জাশীল,
(৩৭) শরণাগত জীব-এর রক্ষক,
(৩৮) সুখী,
(৩৯) ভক্তদের হিতৈষী,
(৪০) প্রেমের বশীভূত,
(৪১) সর্বমঙ্গলময়,
(৪২) সর্বশক্তিমান,
(৪৩) পরম যশস্বী,
(৪৪) ভক্তবৎসল, 
(৪৫) সমস্ত স্ত্রী জনের কাছে অত্যন্ত আকর্ষনীয়,
(৪৬) সকলের আরাধ্য,
(৪৭) জনপ্রিয়, 
(৪৮) সমস্ত ঐশ্বর্য-এর অধিকারী,
(৪৯) সকলের মাননীয়,
(৫০) পরম নিয়ন্তা। 

 উল্লেখিত ৫০ টি গুণ ছাড়া ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি অতিরিক্ত গুন আছে যা কিছুটা ব্রহ্মা ও শিবেরও আছে। যে গুলো হলো, 

(৫১) অপরিবর্তনশীল, 
(৫২) সর্বজ্ঞ, 
(৫৩) চির নবীন,
(৫৪) সৎ ,চিৎ ও আনন্দময়,
(৫৫) সব রকম যোগ সিদ্ধির অধিকারী।

শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি গুন আছে যা নারায়ণ বিগ্রহে প্রকাশিত হয়। যা হলো,

(৫৬) অচিন্ত্য শক্তিসম্পন্ন,
(৫৭) তার দেহে অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের প্রকাশ,
(৫৮) তিনি সমস্ত অবতারের আদি উৎস,
(৫৯) তাঁর দ্বারা হত শত্রুদের তিনি মুক্তিদান করেন, 
(৬০) মুক্ত আত্মাদের তিনি আকর্ষন করেন।

এই গুণ গুলি ছাড়া কৃষ্ণের আরও ৪ টি গুণ আছে যা আর কারো নেই এমন কি নারায়ণেরও নেই সেই গুণ গুলি হলো,

(৬১) লীলা মাধুর্য্য,
(৬২) প্রেম মাধুর্য্য,
(৬৩) বেনু মাধুর্য্য এবং 
(৬৪) রুপ মাধুর্য্য।

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ অনাদিরাদিগোবিন্দঃ সর্বকরণকারনম্।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





꧁ গোলক বৃন্দাবনে শ্রীরাধার আবির্ভাব ꧂

✧════════════•❁❀❁•════════════✧       
       ꧁ গোলক বৃন্দাবনে শ্রীরাধার আবির্ভাব ꧂
পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য লীলাপীঠ গোলোক বৃন্দাবন ধামে রাসমণ্ডল নামে একটি স্থান বিদ্যমান। রাসমণ্ডলে একদিকে শতশৃঙ্গ নামে একটি পর্বত বিরাজিত। এই শতশৃঙ্গ পর্বতই ভূলোকে গিরিগোবর্ধন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। বৃন্দাবনে মালতী ও মল্লিকা ফুলের একটি অত্যন্ত মনোহর কানন বিদ্যমান। যাঁর ইচ্ছামাত্রে সবকিছু সংঘটিত হয়, সেই জগতপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঐ পুষ্পোদ্যানে একটি সুন্দর রত্নসিংহাসনে বিরাজ করছিলেন।

 তাঁর চিত্তে লীলাবিলাস উপভোগের বাসনা উদিত হল; আর তাঁর এই লীলানন্দ সুখ সম্ভোগের অভিলাষ হওয়া মাত্রই তাঁর চিন্ময় শ্রীবিগ্রহের বামভাগ হতে এক পরম রূপশালিনী দেবী আবির্ভূতা হলেন। তিনি ছিলেন সর্বাভরণ-ভূষিতা এবং শুদ্ধ ক্ষৌমবসন পরিহিতা। তপ্তকাঞ্চনকান্তি এই দেবী কোটি চন্দ্রের প্রভার ন্যায় দ্যুতি বিকিরণ করছিলেন। তাঁর অঙ্গপ্রভায় সবকিছু উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল।

  তাঁর স্মিতহাস্য বিভাসিত মুখে মুক্তাধবল মনোহর দন্তপংক্তি শোভা পাচ্ছিলো। তাঁর মুখমণ্ডল শরৎকালীন সরোজের সৌন্দর্যকে পরাভূত করছিল। তাঁর গলদেশে শোভিত ছিল মালতী পুষ্পের মালা ও হীরক-হার। যেহেতু তিনি রাসমণ্ডলে আবির্ভূত হন এবং তৎক্ষণাৎ তিনি শ্রীহরির সেবার্থে পুষ্পচয়নে ধাবিতা হন, সেজন্য তিনি "রাধা" নামে বিদিতা হন। "রা" শব্দাংশ রাসমণ্ডলের নির্দেশক এবং "ধা" শব্দাংশ ধাবমান, অর্থাৎ ধাবিত হওয়াকে নির্দেশ করে।

 যেহেতু শ্রীমতি রাধিকা রাসমণ্ডলে আবির্ভূতা হন এবং প্রভুকে রমণাভিলাষী দর্শন করে, তাঁর প্রতি ধাবিতা হন, সেজন্য তাঁর নাম রাধা।
"রাধা পূর্ণশক্তি, কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান।
 দুই বস্তু ভেদে নাহি শাস্ত্রের প্রমাণ।"
 (চৈতন্য চরিতামৃত ১/৪/৮৩)

 পৃথিবীতে শ্রীমতী রাধারাণীর আবির্ভাব প্রসঙ্গে বিভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা দেখা যায়। এর একটি কারণ হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন কল্পে বিভিন্ন রকমের. আবির্ভাব ঘটেছে। গর্গ মুনির কন্যা গার্গীকে পৌর্ণমাসী দেবী শ্রীমতী রাধারাণীর যে আবির্ভাব-তত্ত্ব বলেছিলেন, সেই তত্ত্ব শ্রীল রূপ গোস্বামী তাঁর শ্রীললিতমাধব গ্রন্থে বিধৃত করেছেন। এই অাবির্ভাব সম্বন্ধে পৌর্ণমাসী বিশদভাবে অবগত ছিলেন, কেনোনা তিনি ভগবানের সকল লীলাবিলাসের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা করেন। তিনি এই তথ্য কেবল যশোদা মাতা ও রোহিণী দেবীকে জানিয়েছিলেন।

  বিন্ধ‍্য পর্বত বিশালায়তন হিমালয় পর্বতের প্রতি ঈশ্বান্বিত ছিলো। কারণ হিমালয় পার্বতীকে তাঁর কন্যা হিসাবে পাওয়ায় মহাদেব শিবকে জামাতা হিসাবে লাভ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিন্ধ‍্য পর্বত এজন্য এমন একজন সৌভাগ্যবতী কন্যাকে লাভ করতে চেয়েছিলেন, যাঁর স্বামী মহাদেবকেও যুদ্ধে পরান্ত করতে পারবে, এবং এই ভাবে সে রাজেন্দ্র বা রাজাধিরাজ পদ লাভ করতে পারবে। 

 তাঁর এই অভিলাস পুরণের সংকল্প করে বিন্ধ‍্য পর্বত ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা করতে থাকে। কিছু কাল পর ব্রহ্মা তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে তাঁর অভিলাষিত বর প্রার্থনা করতে বলে। কিন্তু "তথান্ত’ বলে বরদানের পর ব্রহ্মা চিন্তা করতে লাগলেন, "এমন কোন ব্যক্তি আছে, যিনি মহাদেবকে যুদ্ধে পারাজিত করতে পারেন? এটি অসম্ভব।"

  কিন্তু বর তিনি ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছেন, সেজন্য তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি উপলদ্ধি করলেন যে, ভূলোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অপ্রাকৃত লীলা সংঘটিত করার সময় সমাগত হয়েছেঃ কেবল তিনিই মহাদেবকে রণে পরাভূত করতে পারেন। ব্রহ্মা ভাবলেন, “কৃষ্ণের নিত্য লীলাসঙ্গিনী হচ্ছেন শ্রীমতী রাধারাণী। যদি বিন্ধ‍্য-পর্বত রাধারাণীকে তাঁর কন্যা হিসেবে লাভ করতে পারে, তাহলেই কেবল অামার বর ফলপ্রসূ হতে পারে। শ্রীমতী কীর্তিদা রাধারাণীর নিত্য মাতা। কিভাবে বিন্ধ‍্য তাঁকে কন্যা হিসেবে পেতে পারে?"

 তাঁর বর কিভাবে ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে চিন্তাম্বিত হয়ে ব্রহ্মা শ্রীমতী রাধারাণীকে পরিতুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। যখন তিনি তাঁর প্রতি প্রীত হলেন, তখন ব্রহ্মা তাঁকে বিদ্ধ্য পর্বতের কন্যারূপে আবির্ভূত হতে অনুরোধ জানালেন। রাধারাণী সম্মত হলেন, এবং তখন যোগমায়া দেবী ইতিমধ্যেই রাজা বৃষভানু ও চন্দ্রভানুর স্ত্রীদ্বয়ের গর্ভে থাকা রাধারাণী ও চন্দ্রাবলীকে বিন্ধ্য পর্বতের স্ত্রীর গর্ভে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করলেন। এর ফলে বিন্ধ্য-ভার্যা দুটি পরমা সুন্দরী কন্যার জন্মদান করলেন।

 ইতিমধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। ভগবানের আদেশে বসুদেব শিশুপুত্র কৃষ্ণকে গোকুলে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে যশোদার কাছে রাখলেন, যিনি.ইতিমধ্যেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দান করেছিলেন। বসুদেব কৃষ্ণকে সেখানে রেখে পরিবর্তে ভগবৎ অাজ্ঞানুসারে যশোদার কন্যাটিকে নিলেন এবং তাঁকে নিয়ে মথুরার কারাগারে ফিরে এলেন, যেখানে তাঁকে ও দেবকীকে কংস বন্দী করে রেখেছিলো।

 বিন্ধ্য পর্বতের স্ত্রী দুই কন্যা সন্তানের জন্মদান করলে। বিন্ধ্য পর্বত শিশুকন্যা দুটির জন্য সংস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। দুই কন্যাকে যজ্ঞস্থলে রেখে একজন ব্রাহ্মণ যজ্ঞানুষ্ঠান করছিলেন। গগনচারী পুতনা যজ্ঞস্থলে দুই রূপবতী কন্যাকে দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁদেরকে ভূমি থেকে তুলে নিয়ে আকাশ মার্গে উড়ে পালাতে লাগলো। এতে বিন্ধ্যরাজ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে ব্রাহ্মণকে ঐ রাক্ষসীকে মন্ত্রোচারণ দ্বারা হত্যা করতে বললেন। রাজার আদেশে ব্রাহ্মণ মন্ত্রপাঠ করতে লাগলেন, যার ফলে আকাশচারী পুতনা ক্রমশঃ দুর্বলহয়ে পড়তে লাগলো। দুই শিশুকন্যাকে ধরে রাখা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়লো, এবং তাঁদের একজনকে সে নীচে নদীতে ফেলে দিলস। ঐ নদী বিদর্ভ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাতি হচ্ছিলো। বিদর্ভরাজ ভীষ্মক এই কন্যাকে পেয়ে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছে রাখলেন।
 
  সে সময় জাম্ববান বিন্ধ্য ও গোবর্দ্ধন পর্বতে বাস করছিলেন। বিন্ধ্যরাজের অাদেশে জাম্ববান বিদর্ভ গিয়ে সেই কন্যাকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। তিনি চন্দ্রাবলী নামে সুবিদিতা হলেন। পুতনা যখন অপর কন্যাটিকে তাঁর বাহুলগ্না করে নিয়ে উড়ে যাচ্ছিলো, মন্ত্র প্রভাবে সে ক্রমশঃ আর শক্তিহীন হয়ে পড়তে লাগলো। ব্রজে পৌছানোর পর পুতনা আর চলতে না পেরে ভূমিতে পতিত হলো। সেই সময় পৌর্ণমাসী দেবী পুতনার কাছ থেকে ঐ শিশু কন্যাকে নিয়ে মুখরার কাছে অর্পণ করে তাঁকে বললেন, “এই কন্যা তোমার জামাতা বৃষ্ণভানুর সন্তান।"
            
                   জয় শ্রীমতী রাধারাণীর জয়। 

             *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
  
                 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।

       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*

              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*

             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভলীয়া, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR 
✧════════════•❁❀❁•════════════✧

꧁ গোলক বৃন্দাবনে শ্রীরাধার আবির্ভাব ꧂

✧════════════•❁❀❁•════════════✧       
       ꧁ গোলক বৃন্দাবনে শ্রীরাধার আবির্ভাব ꧂
পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য লীলাপীঠ গোলোক বৃন্দাবন ধামে রাসমণ্ডল নামে একটি স্থান বিদ্যমান। রাসমণ্ডলে একদিকে শতশৃঙ্গ নামে একটি পর্বত বিরাজিত। এই শতশৃঙ্গ পর্বতই ভূলোকে গিরিগোবর্ধন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। বৃন্দাবনে মালতী ও মল্লিকা ফুলের একটি অত্যন্ত মনোহর কানন বিদ্যমান। যাঁর ইচ্ছামাত্রে সবকিছু সংঘটিত হয়, সেই জগতপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঐ পুষ্পোদ্যানে একটি সুন্দর রত্নসিংহাসনে বিরাজ করছিলেন।

 তাঁর চিত্তে লীলাবিলাস উপভোগের বাসনা উদিত হল; আর তাঁর এই লীলানন্দ সুখ সম্ভোগের অভিলাষ হওয়া মাত্রই তাঁর চিন্ময় শ্রীবিগ্রহের বামভাগ হতে এক পরম রূপশালিনী দেবী আবির্ভূতা হলেন। তিনি ছিলেন সর্বাভরণ-ভূষিতা এবং শুদ্ধ ক্ষৌমবসন পরিহিতা। তপ্তকাঞ্চনকান্তি এই দেবী কোটি চন্দ্রের প্রভার ন্যায় দ্যুতি বিকিরণ করছিলেন। তাঁর অঙ্গপ্রভায় সবকিছু উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল।

  তাঁর স্মিতহাস্য বিভাসিত মুখে মুক্তাধবল মনোহর দন্তপংক্তি শোভা পাচ্ছিলো। তাঁর মুখমণ্ডল শরৎকালীন সরোজের সৌন্দর্যকে পরাভূত করছিল। তাঁর গলদেশে শোভিত ছিল মালতী পুষ্পের মালা ও হীরক-হার। যেহেতু তিনি রাসমণ্ডলে আবির্ভূত হন এবং তৎক্ষণাৎ তিনি শ্রীহরির সেবার্থে পুষ্পচয়নে ধাবিতা হন, সেজন্য তিনি "রাধা" নামে বিদিতা হন। "রা" শব্দাংশ রাসমণ্ডলের নির্দেশক এবং "ধা" শব্দাংশ ধাবমান, অর্থাৎ ধাবিত হওয়াকে নির্দেশ করে।

 যেহেতু শ্রীমতি রাধিকা রাসমণ্ডলে আবির্ভূতা হন এবং প্রভুকে রমণাভিলাষী দর্শন করে, তাঁর প্রতি ধাবিতা হন, সেজন্য তাঁর নাম রাধা।
"রাধা পূর্ণশক্তি, কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান।
 দুই বস্তু ভেদে নাহি শাস্ত্রের প্রমাণ।"
 (চৈতন্য চরিতামৃত ১/৪/৮৩)

 পৃথিবীতে শ্রীমতী রাধারাণীর আবির্ভাব প্রসঙ্গে বিভিন্ন শাস্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা দেখা যায়। এর একটি কারণ হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন কল্পে বিভিন্ন রকমের. আবির্ভাব ঘটেছে। গর্গ মুনির কন্যা গার্গীকে পৌর্ণমাসী দেবী শ্রীমতী রাধারাণীর যে আবির্ভাব-তত্ত্ব বলেছিলেন, সেই তত্ত্ব শ্রীল রূপ গোস্বামী তাঁর শ্রীললিতমাধব গ্রন্থে বিধৃত করেছেন। এই অাবির্ভাব সম্বন্ধে পৌর্ণমাসী বিশদভাবে অবগত ছিলেন, কেনোনা তিনি ভগবানের সকল লীলাবিলাসের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা করেন। তিনি এই তথ্য কেবল যশোদা মাতা ও রোহিণী দেবীকে জানিয়েছিলেন।

  বিন্ধ‍্য পর্বত বিশালায়তন হিমালয় পর্বতের প্রতি ঈশ্বান্বিত ছিলো। কারণ হিমালয় পার্বতীকে তাঁর কন্যা হিসাবে পাওয়ায় মহাদেব শিবকে জামাতা হিসাবে লাভ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিন্ধ‍্য পর্বত এজন্য এমন একজন সৌভাগ্যবতী কন্যাকে লাভ করতে চেয়েছিলেন, যাঁর স্বামী মহাদেবকেও যুদ্ধে পরান্ত করতে পারবে, এবং এই ভাবে সে রাজেন্দ্র বা রাজাধিরাজ পদ লাভ করতে পারবে। 

 তাঁর এই অভিলাস পুরণের সংকল্প করে বিন্ধ‍্য পর্বত ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা করতে থাকে। কিছু কাল পর ব্রহ্মা তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে তাঁর অভিলাষিত বর প্রার্থনা করতে বলে। কিন্তু "তথান্ত’ বলে বরদানের পর ব্রহ্মা চিন্তা করতে লাগলেন, "এমন কোন ব্যক্তি আছে, যিনি মহাদেবকে যুদ্ধে পারাজিত করতে পারেন? এটি অসম্ভব।"

  কিন্তু বর তিনি ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছেন, সেজন্য তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি উপলদ্ধি করলেন যে, ভূলোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অপ্রাকৃত লীলা সংঘটিত করার সময় সমাগত হয়েছেঃ কেবল তিনিই মহাদেবকে রণে পরাভূত করতে পারেন। ব্রহ্মা ভাবলেন, “কৃষ্ণের নিত্য লীলাসঙ্গিনী হচ্ছেন শ্রীমতী রাধারাণী। যদি বিন্ধ‍্য-পর্বত রাধারাণীকে তাঁর কন্যা হিসেবে লাভ করতে পারে, তাহলেই কেবল অামার বর ফলপ্রসূ হতে পারে। শ্রীমতী কীর্তিদা রাধারাণীর নিত্য মাতা। কিভাবে বিন্ধ‍্য তাঁকে কন্যা হিসেবে পেতে পারে?"

 তাঁর বর কিভাবে ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে চিন্তাম্বিত হয়ে ব্রহ্মা শ্রীমতী রাধারাণীকে পরিতুষ্ট করার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। যখন তিনি তাঁর প্রতি প্রীত হলেন, তখন ব্রহ্মা তাঁকে বিদ্ধ্য পর্বতের কন্যারূপে আবির্ভূত হতে অনুরোধ জানালেন। রাধারাণী সম্মত হলেন, এবং তখন যোগমায়া দেবী ইতিমধ্যেই রাজা বৃষভানু ও চন্দ্রভানুর স্ত্রীদ্বয়ের গর্ভে থাকা রাধারাণী ও চন্দ্রাবলীকে বিন্ধ্য পর্বতের স্ত্রীর গর্ভে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করলেন। এর ফলে বিন্ধ্য-ভার্যা দুটি পরমা সুন্দরী কন্যার জন্মদান করলেন।

 ইতিমধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। ভগবানের আদেশে বসুদেব শিশুপুত্র কৃষ্ণকে গোকুলে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে যশোদার কাছে রাখলেন, যিনি.ইতিমধ্যেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দান করেছিলেন। বসুদেব কৃষ্ণকে সেখানে রেখে পরিবর্তে ভগবৎ অাজ্ঞানুসারে যশোদার কন্যাটিকে নিলেন এবং তাঁকে নিয়ে মথুরার কারাগারে ফিরে এলেন, যেখানে তাঁকে ও দেবকীকে কংস বন্দী করে রেখেছিলো।

 বিন্ধ্য পর্বতের স্ত্রী দুই কন্যা সন্তানের জন্মদান করলে। বিন্ধ্য পর্বত শিশুকন্যা দুটির জন্য সংস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। দুই কন্যাকে যজ্ঞস্থলে রেখে একজন ব্রাহ্মণ যজ্ঞানুষ্ঠান করছিলেন। গগনচারী পুতনা যজ্ঞস্থলে দুই রূপবতী কন্যাকে দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ তাঁদেরকে ভূমি থেকে তুলে নিয়ে আকাশ মার্গে উড়ে পালাতে লাগলো। এতে বিন্ধ্যরাজ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে ব্রাহ্মণকে ঐ রাক্ষসীকে মন্ত্রোচারণ দ্বারা হত্যা করতে বললেন। রাজার আদেশে ব্রাহ্মণ মন্ত্রপাঠ করতে লাগলেন, যার ফলে আকাশচারী পুতনা ক্রমশঃ দুর্বলহয়ে পড়তে লাগলো। দুই শিশুকন্যাকে ধরে রাখা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়লো, এবং তাঁদের একজনকে সে নীচে নদীতে ফেলে দিলস। ঐ নদী বিদর্ভ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাতি হচ্ছিলো। বিদর্ভরাজ ভীষ্মক এই কন্যাকে পেয়ে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছে রাখলেন।
 
  সে সময় জাম্ববান বিন্ধ্য ও গোবর্দ্ধন পর্বতে বাস করছিলেন। বিন্ধ্যরাজের অাদেশে জাম্ববান বিদর্ভ গিয়ে সেই কন্যাকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। তিনি চন্দ্রাবলী নামে সুবিদিতা হলেন। পুতনা যখন অপর কন্যাটিকে তাঁর বাহুলগ্না করে নিয়ে উড়ে যাচ্ছিলো, মন্ত্র প্রভাবে সে ক্রমশঃ আর শক্তিহীন হয়ে পড়তে লাগলো। ব্রজে পৌছানোর পর পুতনা আর চলতে না পেরে ভূমিতে পতিত হলো। সেই সময় পৌর্ণমাসী দেবী পুতনার কাছ থেকে ঐ শিশু কন্যাকে নিয়ে মুখরার কাছে অর্পণ করে তাঁকে বললেন, “এই কন্যা তোমার জামাতা বৃষ্ণভানুর সন্তান।"
            
                   জয় শ্রীমতী রাধারাণীর জয়। 

             *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
  
                 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।

       *••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*

              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥

    *••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*

             শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম।
নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভলীয়া, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
      📚 *PDF গ্রন্থ* 📚👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR 
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
adds