✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ পূর্বরাগের লক্ষণ কি এবং পূর্বরাগের রীতি কিরূপ? ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমন্নবদ্বীপ ধামে গৌর ভাবিনীগণ যাদৃশী ভাবোদয়, এইটী অপ্রাকৃত বিস্ময় ভূবি বৃন্দাবনে রাধা গোবিন্দ মিলনে, পূর্বানুরাগ রীতি। সেই পূর্বরাগের লক্ষণ কি? এবং পূর্বরাগের রীতি কিরূপ?
*পূর্বরাগ*
*রতির্যা সঙ্গমাৎ পূর্বং দর্শনশ্রবণাদিজা।*
*তয়োরুন্মীলতি প্রাজ্ঞৈঃ পূর্বরাগ ইতীর্ষ্যতে।।*
*অর্থ্যাৎ=উজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে জানা যায় যে,প্রথম মিলনের পূর্বে পুরুষ ও রমণীর পরস্পর দর্শন এবং রূপ-গুণাদির কথা শ্রবণে যে মিলনোৎকন্ঠা হয়,* *তাকেই রসশাস্ত্রকারগণ "পূর্বরাগ"বলে থাকেন।*
রসকল্পবল্লী গ্রন্থে তত্ত্বদর্শী গ্রন্থকার কহিয়াছেন যে, (সঙ্গ নহে রাগ জন্মে কহি পূর্বরাগ) অর্থ্যাৎ স্থায়ী করি ভালবাসার পূর্বে যে জনের লাবণ্যে বা গুণে কিম্বা নাম শ্রবণে আপন মনকে সেই ব্যক্তির সঙ্গ লাভার্থে যোজনা করার নাম পূর্বরাগ, তাই শ্রীমতী রাধারাণীর আজ সেই ভাবোদয় হেরে ললিতাদি সখিগণ পরস্পর কথোপকথন করছেন।
তেওট লয়
ঘরের বাহিরে, দন্ডে শতবার,
তিলে তিলে আসে যায়।
মন উচাটন, নিশ্বাস সঘন,
কদম্ব কাননে চায়।।
(দেখ বিশাখা একি রীতি)
রাই আমাদের কুলবতী,
কি জানি কে এমন করলে,
উন্মাদিনী মত হেরি,
রাই-- রাই রাজার ঝিয়ারিকে,
কেবা কেবা এমন করে দিল।
( একতালা লয়)
রাই কেন বা এমন হৈল।
গুরু দুরর্জন, ভয় নাহিক মন,
কোথা বা কি দেব পাইল।।
(রাই ধ্বনির আজ একি রীতি)
গুরুজন ভয় মানতেছে না,
ভুতাপ্রেতাদি পেয়েছি নাকি।।
***********
সদাই চঞ্চল, বসন অঞ্চল,
সম্বরণ নাহি করে।
বসি থাকি থাকি, উঠয়ে চমকি,
ভূষণ খসিয়া পড়ে।।
(কেন অঙ্গ বসন খসাইয়ে, উন্মাদিনী
মত হয়ে )
বেশ বিন্যাস দূরে দিয়ে,
কেন নীল শাড়ী তেয়াগিয়ে,
কেন বিরাগ বসন অঙ্গে লয়ে
মন প্রাণের উল্টা গতি।
* বয়সে কিশোরী, রাজার ঝিয়ারী,
তাহে কুলবতী বালা।
কিবা অভিলাষে, বাঢ়য়ে লালসে,
না বুঝি তাহার ছলা।।
আখর- রাজবালার ছল বুঝি না,
কোন অভিলাষ হিয়ায় জাগে,
কি লাগি রাই বিরহিনী।।
কথা--- শ্রীমতী রাধারাণীর পূর্ব রাগ দর্শনে, ললিতাদি সখি যে বিষয় কথোপকথন করছে, তাহাতে এটী বুঝা যায় যে, রাধাগোবিন্দলীলা মনুষ্য দেহের পরম উপাসনীয় বস্তু বা ভজনীয় বস্তু,অতএব সখিরূপা গুরুকে আশ্রয় না করিলে, এতাদৃশী বৈরাগ্য বৃত্তির উদয় হয় না, ও বোধাতীত নিগুঢ় রাধাগোবিন্দ বিলাস তত্ত্বে অধিকার পাওয়া যায় না।শ্রীমতীর ইহাতে এমন কি বৈরাগ্য বৃত্তির উদয় হইল যে, তাহার অনুসরণ তৎপর হইলেই জীবেরও বৈরাগ্য জন্মাইবে, বা শ্রীকৃষ্ণ পদারবিন্দে গাঢ় রতির উদয় হবে।তাহাতে রসতত্ত্ববেত্তা গণের পক্ষানুযায়ী স্থিরতর হয় এই যে, ভগবান গোবিন্দে ভালোবাসা দ্বারায় প্রাপ্ত হইতে হইলে তৎপূর্বেই শ্রীমতী রাধারাণীর মত পূর্বরাগ রতিকে আশ্রয় না করিলে, অর্থ্যাৎ আত্মেন্দ্রিয় ভক্তিবাঞ্জা ত্যাগ না করিলে,গোবিন্দ পদারবিন্দে আশ্রয় লাভ করা যায় না,
প্রথমেই রাধারাণী পূর্বরাগের দ্বারায় গোবিন্দ ভজন রীতি জীব জগতকে তাই জানাইলেন।পদকর্তাও বলেছেন।
তাহার চরিতে, হেন বুঝি চিতে,
হাত বাড়াইল চাঁদে।
চন্ডীদাসে কয়, করি অনুনয়,
ঠেকেছে কালিয়ার ফাঁদে।।
রজনী শাঙন, ঘনদ গরজন,
রিমিঝিমি শবদে বরিষে।
পালঙ্কে শুইয়া রঙ্গে, বিগলিত চির অঙ্গে, নিন্দ যাই মনের হরিষে।।
শিখরে শিখন্ড রোল,মত্ত দাদুরী বোল
কোকিলা কুহরে কুতূহলে।
ঝিঁ ঝাঁ ঝিনিকি বাজে, ডাহুকিসে গরজে,স্বপন দেখিনু হেন কালে।।
মরমে পৈঠলসেহ, হৃদয়ে লাগল দেহ
শ্রবণে তরল সেহ বাণী।
দেখিয়া তাহার রীত,যে করে দারুণ চিত,ধিক রহুঁ কুলের কামিনী।।
আখর-- হেরে নয়ন মাতিল,
তবু তারে জানিবারে,
শুদ্ধ ভাষায় শ্রবণ মাতে,
পরশে হৃদয় মাতে,
সর্বেন্দ্রিয় ডুবে গেল। জুম।
কথা-- ললিতাদি সখিগণ রাধারাণীর এই কথা শুনে বলছেন- রাজনন্দিনী!
এমন কি চিত্তাকর্ষকরূপ স্থপ্নে দর্শন করলি যে, সেই অপরিচিত লাবণ্যে তোর চিত্ত বৃত্তি সমূহ ডুবেগেল, তদুত্তরে কিশোরী বলছেন- সখিরে সেই বর্ণনাতীত কথা, কথাঞ্চিত বলি শোন---------------------------------
রূপে গুণে রস সিন্ধু
মুখ ছটা যেন ইন্দু
মালতীর মালা গলে দোলে।
বসি মোর পদতলে
গায়ে হাত দেয় ছলে
আমা কিন্তু বিকাইনু বলে।।
কিবা ভূরুর ভঙ্গ
ভূষণ ভূষিত অঙ্গ
কাম মোহে নয়নরি কোণে।
হাসি হাসি কথা কয়
পরাণ কাড়িয়া লয়
ভুলাইতে কত রঙ্গ জানে।।
রসাবেসে সেই কোল
মুখে নাহি সরে বোল
অধরে অধর পরশিল।
অঙ্গ অবশা ভেল
লাজ মান ভয় গেল
জ্ঞান দাস ভাবিতে লাগিল।।
কথা-- গোপীভাবাবেশে পদকর্তা স্বজল নয়নে বলছেন-----------
কোথা হতে এল সখি,
লাবণ্য মূরতি দেখি,
কুল ধর্ম টলাইতে,
রস কূপ নীরোদ মূরতি,
ধৈর্য্য ধর্ম টলারূপে,
আমি ভেবে স্থির করতে নারি। জুম।
কথা- রাধারাণী আমার সখিগণকে কেঁদে কেঁদে বলছেন, ওরে সখি! এখন আমার এই ব্যাকুলতা নিবর্তন হেতু তোরা আমায় বলেদে,ইতি পূর্বেই যা শুনিলাম,কিসের ঐ অমৃতমন্ডিত ধ্বনি,বা কে অমন সর্বেন্দ্রিয় উন্মাদ করা সুধা তানের নিস্রবক।তার বা নাম কি? এবং তার মূরতি কেমন?
এখন তোরা কৃপা করে বলেদে,তা নইলে আর আমি বাঁচতে পারবো না।
তখন শ্রীমতীর এই কথা শুনে ললিতাদি সখিমিলে যমুনায় স্নান ছলে রাধেকে সাথে লয়ে শ্রীযমুনা কুলে গিয়ে অঙ্গুলি সঞ্চালন ছলে ইঙ্গিত দ্বারায় ধীরে ধীরে রাধারাণীকে
বললেন কিশোরী- ঐ দেখ এঁরই সেই সর্বেন্দ্রিয় পাগল করা মুরলীর ধ্বনি এবং অত্যদ্ভুত মাধুর্য্যমন্ডিত কৃষ্ণ নাম।সখি মুখে যেমনি কৃষ্ণনাম মহামন্ত্র ধ্বনী শ্রীমতীর শ্রবণে প্রবিষ্টাধিকার প্রাপ্ত হইল,সেই অবসরেই রাধারাণীর অমনি কৃষ্ণ নাম প্রভাবে পুলকাশ্রু বা হৎকম্পনাদির উদয় হওয়ায় স্বজল নয়নে বলছেন----------------------
(ছোট লয়)
কেন এনাম শুনা, শুনাইলিরে ও বিশাখা।
নাম প্রতাপে -------অঙ্গ কাঁপে।।
শ্রবণের---------আকাঙখা জাগে।।
রসনা মোর-------লোলুপ হল।।
(সখিরে) হেরে আঁখি-----মেতে উঠল।
লোকালয়
একি নাম শুনালি,
শ্রবণ মনকে মাতাইতে,
ধৈর্য্য বাঁধিতে নারি,
সর্বেন্দ্রিয় মেতে উঠল। জুম।
কথা-- ললিতাদি সখিগণ সনে শ্রীমতী রাধারাণী যমুনা পুলিনে গোবিন্দ লাবণ্য ক্ষণ সময় মাত্র নয়ন গোচর করিয়া,উদাস প্রাণে গৃহে এসে কেঁদে কেঁদে বলছেন-------------------
পদ চার
কি রূপ হেরিনু,মধুর মূরতি,
পিরীতি রসের সার।
হেন লয় মনে,এ তিন ভূবনে,
তুলনা নাহিক আর।।
বড় বিনোদিয়া, চূড়ার চালনী,
কপালে চন্দন চাঁদ।
জিনি বিধুবর, বদন সুন্দর,
ভুবন মোহন ফাঁদ।।
নব জল ধর, রসে ঢরঢর,
বরণ চিকণ কালা।
অঙ্গেরি ভূষণ, রজত কাঞ্চন,
মণিমুকুতার মালা।।
আখর-- এ আবার কি রূপের মানুষ,
ধরণ হেরে ধরম টুটে,
কেন তোরা দেখাইলি,
দেখে নয়ন মেতে উঠল,
ধৈর্য্য ধর্ম টেনে নিল।
একতাল
জোড়া ভুরু যেন, কামের কামান,
কেবা কৈল নিরমাণ।
তরল নয়নে, তেড়ছ চাহনি,
বিষম কুসুম বাণ।।
সুন্দর অধরে, মধুর মুরলী,
হাসিয়া কথাটি কয়।
দ্বিজ ভীমে কয়,ওরূপ নাগরে,
হেরিলে পরাণ যায়।।
কথা-- পদকর্তা দ্বিজ ভীম গোপীভাবান্বিত হয়ে বলছেন- হে কিশোরী! তুমি সত্যই বলেছ যে, গোবিন্দ লাবণ্য এতাদৃশ অমৃতামুধী।
তাহা সৌভাগ্য ক্রমে নয়ন পথে পতিত
হইলে জীব মরণ শরীরেও পরাণ পায়।কারণ কৃষ্ণনামামৃত বা লাবণ্যা-
মৃত ইন্দ্রিয়াহত জনের মৃত সঞ্জীবনী
স্থরূপ। তাই বলি কিশোরী---------
* কবে আমার সেদিন হবে,
কৃষ্ণরূপে নয়ন মেতে,
সর্বেন্দ্রিয় ডুবে যাবে,
সে লাবণ্য সিন্ধুর পরশ পাব।
( পদ)
কালিয়ার রূপ মরমে লাগিয়া,
সোয়াথ না হয় মনে।
বিরলে বসিয়া সখিরে কহয়,
দেখাইলে রহে প্রাণে।।
কথা-- ললিতাদি সখিগণকে রাধারাণী অতি সন্তর্পণে স্বজল নয়নে বলছেন,দেখ ললিতা! দেখ বিশাখা!
আমি তোদের অনুনয় করিয়া বলছি,
যে কোন উপায়ে হোক আমায় তোরা
সেই সর্বেন্দ্রিয় উন্মাদ করা মূরতিটি একবার দরশন করা।নতুবা আমি আর বাঁচবো না। কারণ যার নাম শ্রবণে বা বংশী ধ্বনিতে আমার হৃত চিত, আরোও কালিয় দমন দিনে স্বপ্নে বা সাক্ষাৎ দর্শনে আমার যে অবস্থা ঘটেছে এখন আর একবার সেই মূরতিটি দর্শনহেতু চিত্তবৃত্তি আন্দোলিত হইতেছে।
এবোল শুনিয়া , বিশাখা ধাইয়া,
শ্যাম কলেবর দেখি।
রাইয়ের গোচরে, দেখাইবার তরে,
পটের উপরে লিখি।।
আখর- বিশাখা ধেয়ে চলে,
রাইকে বাঁচাবে বলে,
মন্ত্রনা করিয়া তথা,ললিতার মন্ত্রনায়,
শ্যামরূপ দরশনের আশে,
লিখিবারে সেই মূরতি,
রাধা নামটি সাথি কর। জুম।
কথা-- ললিতার সঙ্গে মন্ত্রনা করিয়া সুচতুরা বিশাখা সখি,রাধার প্রাণ রক্ষার হেতু পবন গমনা হয়ে,যমুনা কুলে কদম্বমূলের নিকটস্থ হয়ে,গোবিন্দ মূরতিটি নয়ন পথে দর্শনের সময় স্বজল নয়নে মনোগত ভাবটি গোবিন্দ পাদমূলে জানাচ্ছেন।
* একবার দাঁড়াও, এ চিত্র পটেতে, একবার দাঁড়াও।
ওহে রাধার হৃদয় রঞ্জন,একবার----
কথা-আমি তুলিকায় হাত সংযোগ করিলাম তুমি কৃপা কর। তোমার কৃপা ভিন্ন আমার কোন শক্তি নেই,
ওহে ভুবন মোহন বিনোদিয়া করুণা করো।
কথা-- যদি কোন ভক্ত শ্রীগোবিন্দ চরণে আশ্রয় নেবার কথা চিন্তন করেন,তাহলে জগমনোরম গোবিন্দ
আমার রাধাদি ব্রজ রামাগণের মত তাঁকেও শ্রীচরণে আশ্রয় প্রদান করেন। বিশাখার অন্তরের ব্যাকুলতা
জেনে শ্রীগোবিন্দ ভুবন মোহন ফাঁদে চিত্রপটে আবির্ভূত হইলেন।
চৈতন্য চরিতামৃতকার কবিরাজ গোস্বামীপাদ পয়ারে বলেছেন-------
কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা এই পূর্ব হতেই আছে।
যে যৈছে ভজয়ে কৃষ্ণ তারে ভজেতৈছে।।
কথা--বিশাখার মনের আশা পূর্ণ করিবার জন্য অপরূপরূপে দাঁড়ইলেন।
আনি চিত্রপট, রাইয়ের নিকট,
সুমুখে রাখিল সখি।
সেরূপ হেরিয়া , মূরছিত হইয়া,
পড়ল কমল মুখি।।
মন্দাকিনী পারা , কত শত ধারা,
ওদুটি নয়নে বহে।
করাহ চেতন , পাবে দরশন ,
এদাস উদ্ধবে কহে।।
আখর- লুটায়ে পড়িল,
রাজার নন্দিনী রাই,
চিত্রপটে রূপ দেখে,
চৈতন্য হারায়ে ধনি,
চিত্তাকর্ষরূপ হেরে। জুম।
কথা-- পদকর্তা উদ্ধবদাস গোপীভাবামৃতে অভিষিক্ত হয়ে রাধা কর্ণে বদন দিয়ে বলছেন------------
আখর-কৃষ্ণ তোর এসেছে,
চিত্রপটে চেয়ে দেখ,
নয়ন মুদিসনে রাই,
হৃদয় রঞ্জন ছাঁদে,
হৃদাসনে বসারাই। জুম।
কথা-- মৃত সঞ্জীবনী কৃষ্ণনামের ধ্বনি শুনে, রাধারাণী আমার ধীরে ধীরে নয়নোন্মিত করিয়া পটের সেই অসমানোর্ধ লাবণ্যময় মূরতিটি দেখতে দেখতে বলছেন-------
এমন মূরতি কেমন করি।
লিখিলি বিশাখা ধৈরজ ধরি।।
আখর- কেমনে লিখিলি,
এহেন মূরতি খানি,
সেখানেতে দাঁড়াইয়ে,
ধৈর্য্য ধরম লয়ে,
প্রাণ কি তোর টলিলনা। জুম।
দেখি দেখি পট আনহ কাছে।
এমন পুরুষ কি জগতে আছে।।
আখর- একবার দেখারে,
চিত্রপটের মূরতি,
নয়নানন্দ মূরতি,
জগমনটলা রূপ,
হেরিয়া নয়ন জুড়ায়। জুম।
ছোট দশকুশি
কোন বিধাতা রূপ গড়েছে, গড়েছে সখি রে, এমন ছাঁদে।
এমন রূপের মানুষ,হেরিনাইরে।।
এরূপ, হেরলে কি আর ধৈর্য্য থাকে।।
** কার না টলে ,
এ মূরতি নিরখিলে,
যৌবত ধরম ,
কুলবতীর কুল ধর্ম,
কি ছার গুরু গৌরব,
এ লাবণ্য বিনিময়ে। জুম।
দেখতে দেখতে পটের লেখা।
পরাণ হরিল বিষম ডাকা।।
মোহন কহয়ে লিখল যে।
পরাণ নিছনি তাহারে দে।।
আখর- ধৈরজ টলিল,
হেরিতে হেরিতে ধনির,
অচৈতন্য হয়ে রাধার,
চিত্রপট বুকে লয়ে,
কৃষ্ণরূপ মনে ভেবে। জুম।
কথা-- পদকর্তা মোহন দাস গোপীভাবে বিভাবিত হয়ে,একপাশে দাঁড়ায়ে বলছেন যে, হে রাধে! তোর প্রাণ হতেও প্রিয়তম গোবিন্দে,যে সখিগণ কর্তৃক চিত্রপটের দ্বারায় লাভ করেছিস, কৃষ্ণরূপ পরশমণির পরশনে যেন বিমুখি করিসনে।
** আশীর্বাদ কর রাই,
অনুগতা জন জেনে,
যেন কৃষ্ণ পদে মতি জাগে,
জনমে জনমে মোদের,
যেন পরশ মণির পরশ পাই,
যেন সেবা যোগ্য বপু পাই।
********************************
মিলন করাতে হইলে-----------
চিত্রপটে কৃষ্ণ আসি রাধারে মিলিল।
বাহু পসারিয়া রাই বুকেতে ধরিল।।
পূর্বরাগের চিত্রপট হৃদয়ে ধরিয়া।
আনন্দে আকুলা রাই পড়ে লোটাইয়া
ছোট দশকুশি
অমনি ধূলায় লুটায়ে ,
লুটায়ে পড়লোরে,রাইধনি।
চিত্রপটে কৃষ্ণ পেয়ে।।
আনন্দ আর ধরে নারে।
মনোরম---পুলকাশ্রু ভাব বিকারে।।
ঘন ঘন চুম্বে রাই পটের মূরতি।
দরশন পথে ধনির বাড়ল পিরীতি।।
ক্ষণেক্ষণে দুনয়নে বহে জলধার।
রাধাহৃদে শ্যাম মেঘ করিছে বিহার।।
চৌদিকে সখিগণ করে ঠারা ঠারি।
লাজ মান খোয়াইলা রাজার ঝিয়ারী।
*** আনন্দ ধরে না,
ললিতাদি সখিগণের,
রাই অধীরা হেরে,
সেব্যমানা রতি লয়ে,
তারা যুগলকে সেবিবে বলে।
চিত্রপটে কৃষ্ণ পাইয়া রাধার আনন্দ।
চৌদিকে সেবই সব সখিবৃন্দ।।
নিরজন মন্দিরে আনন্দ পরকাশ।
দ্বিজ রাধানাথে করে সেবা অভিলাষ।
আখর-- কবে বা হবে,
এমন সুদিন মোর,
নিরজনে সেবিব,
প্রেম সেবা অধিকার,
স্বভাব টুটিবে মোর,
ভাব যোগ্য তনু পাব,
ঐ যুগল পদে রতি হবে,
মনবৃত্তি ডুবে যাবে।
রাধার পূর্বরাগ এখানেই রইল,
জয় শ্রী রাধে শ্যাম।
শ্রী রাধার পূর্বরাগ---গৌরচন্দ্রিকা-----
নিরমল গোরা তনু,কষিল কাঞ্চন জনু
হেরইতে পড়ি গেনু ভোর।
ভাঙ ভুজঙ্গমে, দংশল মঝু মন,
অন্তর কাঁপইছে মোর।।
আখর-- উপায় কি করিগো,
মরমিয়া সঙ্গিনী,
গৌর লাবণ্য হেরে,
তার, ভ্রুভুজঙ্গে দংশন কৈল,
অন্তর থরথর,
নবীন গৌরে নিরখিয়ে।
** শ্রীমন্নবদ্বীপধামে কোন এক গৌরানুরাগিনী নিজ সঙ্গিনীগণের নিকট বসিয়া,নববয়ঃ শিরোমণি গৌর
লাবণ্যে আকৃষ্টা হইয়া সময়োপযোগী নিজ মর্মবেদনা বিষয় ধীরে ধীরে বলছেন---------------------------------
যব হাম পেয়েনু গোরা।
আকুল দিক বিদিক নাহি পায়নু,
মদন লালসে মনভোরা।।
আখর-- জাগিয়া উঠলরে,
গৌরবরণ হেরে সখি,
দিকবিদিক জ্ঞান ভুলে,
দরশনের সাথে সাথে,
অপ্রাকৃত মদন সেবা।
** প্রধানা গোরানুরাগিনীর এই কথা
শুনে কোন সঙ্গিনী বলছে, হেঁগা সঙ্গিনী একবার মাত্র গৌরসুন্দরকে হেরতেই তোর মন প্রাণ এমন হয়ে পড়িল তার কারণ কি? তদুত্তরে প্রধানা গোরানুরাগিনী বলছেন, দেখ সঙ্গিনী শুধু রূপ দেখেই এরূপ আকৃষ্ট হইনাই আরও কারণ আছে বলি শোন------------------------------------
অরুণিত নয়নে, তেড়ছ অবলোকনে
বরিখে কুসুম শর সাধে।
জীবইতে জীবনে, খেহ নাহি পায়লু
ডুবলু গঙ্গা অগাধে।।
আখর-- ডুবায়ে দিলেরে,
কুলশীল গৌরবসহ,
সে লাবণ্য সুরধূনী নীরে,
জর জর মম তনু,
দারুণ চাহনি চাপে।
*********************************
মন্ত্র মহৌষধি, তুঁহু জানসি যদি,
মঝু লাগি করবি উপায়।
বাসুদেব ঘোষে কহে, শুন শুন এসখি
গোরা বিনে প্রাণ নাহি রয়।।
আখর--- বাঁচাইতে পারিবি,
আপন সঙ্গিনী তোরা,
ভূরু ভূজঙ্গ বিষে,
মন্ত্রৌষধী দিয়ে তোরা।
** এই পদতত্ত্ববেত্তা বাসুদেব ঘোস ঠাকুর নদীয়া নাগরিগণের ভাবানুগা হয়ে বলছেন----------------------------
ঔষধী আছে হে,
বাঁচাইতে তব প্রাণ,
গৌর গুণ রসায়ন,
কিম্বা গৌর দরশন,
গৌর তন পরশন।
কাটান (14 মাত্রা)
বাসুদেব ঘোষে কহে------------
গোরা--------অনু------------ ------------
রাগে হে।
*********************************
নিজে পদের কথানুযায়ী কথা যোগ করে পরিপূর্ণ করতে হবে।গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧