꧁ ৫৩. মুক্তোচুরি লীলা ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻অতীব সুন্দর লীলা মুক্তোচুরি🌻*
*আজি কেন গোরাচাঁদের বিরস বদন।*
*কি ভাব পড়িল মনে সজল নয়ন*
*চাঁদমুখ শুখায়েছে কিসের কারণে।*
*অরুণ অধর কেন হইল মলিনে।।*
*ভাবে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।*
*নিরানন্দ দূরে গেল আনন্দ পায়।।*
*বাসুঘোষে বলে গোরা কোথায় আছিল।*
*অদভূত লীলা গোরাচাঁদ পরকাশ করিল।।*
*🌻অদ্য গৌরসুন্দর শ্রীবাস অঙ্গনে কৃষ্ণকথা আলাপনে ছিলেন।* *কৃষ্ণকথা আলাপন করতে করতে যেন ভাবের সঞ্চার হইল।কিছুই বুঝা যাচ্ছে না,কত হাস্য বদনে কৃষ্ণকথা আস্বাদন ও কথন হচ্ছিল।* *অমন হাস্য বদন যেন শুষ্ক মনে হতে লাগল।* *এই ক্ষণেই তিনি কৃষ্ণকথা আলাপনে কত আনন্দে কথা শ্রবণ করছিলেন,বদনভরা হাসি ছিল,হঠাৎ সজল নয়নে এদিক ওদিক চাইছেন।* *ভাব দেখে মনে হল যেন তিনি আর নিজের মধ্যে নেই,অন্য জগতে পাড়ি দিয়েছেন,অর্থ্যাৎ ব্রজের লীলা মনে পড়েছে।* *কেবল দেহ পড়ে রয়েছে।* *হঠাৎ শ্রীবাসের ঠাকুরঘরে এসে বিষ্ণুখট্টায় বসলেন।* *এই ঠাকুরঘর বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল।* *দ্বার খুলে প্রবেশ করে দ্বার বন্ধ করে দিলেন।* *আর ভক্তগণ শ্রীবাসের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে রইলেন।* *অলৌকিক ঘটনা ঘটিল,সকলে দেখতে পেলেন,সেই ঠাকুরঘর তেজোময় হয়ে গেছে আলোয় আলোকিত।* *এবং ঘরের বেড়ার সমস্ত ছিদ্র দিয়ে তেজ বাহির হচ্ছে।* *সেই তেজের কত শক্তি তা ইহাতেই বুঝা যায় যে,জ্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিপ্রহরের রৌদ্রের তেজও খর্ব হয়েছিল।* *কিছুক্ষণ পরে যাহা বাহিরে ছিলেন,তাঁরা ঐ ঠাকুরঘরের ভিতর হতে মুহুর্মুহু মুরলীধ্বনি শুনতে পেলেন।* *শুনে আনন্দ সাগরে ভাসতে লাগলেন।*
*এমন সময় গৃহাভ্যন্তর থেকে মহাপ্রভু* *"শ্রীবাস" বলে ডাকলেন,মহাপ্রভু* *পূর্বে কোনদিনই এইভাবে শ্রীবাসকে ডাকেন নি।* *এইরকম কন্ঠস্বরও শোনা যায়নি।* *শ্রীবাস ঠাকুর ঘরে প্রবেশ করলে,মহাপ্রভু বলছেন,শ্রীবাস!তোমার ঘরে আমার স্থান কর।* *আমি তোমার গৃহে যাব,এই আজ্ঞা শুনে মহাব্যস্ত হলেন,শ্রীবাস,শ্রীগদাধরকে বললেন,তুমি বিষ্ণুখট্টা আমার ঘরে নিয়ে এসো।* *মহাপ্রভু খট্টা হতে নেমে অন্য আসনে বসলেন,সেই বিষ্ণুখট্টা শ্রীবাসের ঘরে নিয়ে যাওয়া হল।* *শ্রীবাসের ভ্রাতাগণ সেই গৃহের ভিতরে চাঁদোয়া খাটালেন।* *ও সেই খট্টার উপরে দুগ্ধ-ফেননিভ শয্যা পাতিলেন।* *ঘরের ভিতরে সূর্য্য তেজ প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য পর্দা দিলেন।* *তখন মহাপ্রভু দেবগৃহ হতে শ্রীবাসের শয়নকক্ষে গমন করলেন।* *ভক্তগণ অতি আশ্চর্যের রূপ দর্শন করলেন।*
*মহাপ্রভু শতকোটি সৌদামিনী বেষ্টিত হয়ে রয়েছেন।* *শ্রীবাসের শয়নঘরে খট্টায় বসলে পরম তেজে গৃহ আলোকিত হল।* *বোধ হতে লাগল মহাপ্রভুর অঙ্গ রক্ত-মাংসে গঠিত নহে,সুবর্ণ বর্ণের তেজে গঠিত।* *সে তেজ অবশ্য সূর্য্যের তেজের চেয়েও বেশী,কিন্তু শীতল।* *এবং নয়নানন্দ।* *তখন গদাধর পুষ্প মালা গাঁথতে লাগলেন,ও মহাপ্রভুর সর্বাঙ্গ ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করলেন।* *ফুলের অঙ্গুরীয় করে আঙ্গুলে পরালেন,ফুলের বালা,তাড়,বাজু ও মালা করে মহাপ্রভুকে সাজিয়ে দিলেন।* *মস্তকে চূড়া বেঁধে উহাতে ফুলের মালা বেড়িয়ে দিলেন,তারপর সর্বাঙ্গে চন্দন,অগুরু,কর্পূর ও কেশর লেপিয়া দিলেন।* *তখন কেউ চামর ব্যজন,কেউ করজোড়ে স্তব,কেহ আনন্দে গড়াগড়ি,কেহ বা মহাপ্রভুর মুখচন্দ্র নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।* *অনন্তর মহাপ্রভু পরম সুন্দর নবীন পুরুষ,রমণীগণকে বললেন,তোমাদের চিত্ত আমাতে হোক।* *শ্রীভগবানের সহিত যত নিকট সম্বন্ধ এত আর কারোও সহিত নহে।* *কিছুক্ষণ পর মহাপ্রভু বিষ্ণুখট্ট হতে বললেন, এখন আমি যাই,উপযুক্ত সময়ে আবার আসব।* *এইকথা বলে উঠলেন,ও হুঙ্কার করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।* *তখন হাহাকার করে সকলে ধরলেন,গায়ে হাত দিয়ে দেখেন জীবিতর কোন চিহ্ন দেহে নাই।*
*বহুক্ষণ পরে অনেক চেষ্টায় চেতন পেলেন।* *তখন ঠিক মহাপ্রভু অন্য মানুষ,দেহে আর সেই তেজ নেই,সম্পূর্ণ চেতন পেয়ে বললেন,শ্রীবাসকে আমি এখানে কেন?* *এখানেই রইল জয় নিতাই।*
*🌻ব্রজলীলা মুক্তো চুরি🌻*
*শ্রীগোবিন্দ বললেন,ওরে সখাবৃন্দ!আজ আমরা বৃন্দাবনে নতূন খেলা খেলব।* *যে খেলা কেউ কোনদিন খেলে নাই আর খেলতেও পারবে না।* *সুবল বলল=সে কি খেলা ভাই কানাই?*
*কৃষ্ণ বললেন,মুক্তা নিয়ে খেলা করব।*
*মুকুতা সবাই পরিব মেলা।*
*মুকুতা মুকুতা মুকুতা খেলা।।*
*মুকুতা লৈয়া সাজাইব দাদা বলরামে।*
*আর মুক্তা সাজাইব শ্রীদাম সুদামে।।*
*সাজাইব নবলক্ষ আছে ধেনুগণ।*
*আর সাজাইব প্রিয় নর্ম সখীগণ।।*
*আখর=কেমন মজার খেলা হবে,*
*মুকুতা মুকুতা হবে,*
*কেমন---------------------হবে।*
*🌻তখন সুবল বলল=এতগুলো মুক্তো কোথায় পাবি ভাই কানাই?*
*কানাই বলছেন=*
*মুকুতা লইয়া মোরা করিব রোপণ*
*তাহাতেই হবে বৃক্ষ অতীব মহান*
*সে বৃক্ষে মুক্তাফল কত যে ফলিবে।*
*সর্ব গোপ-গোপী মিলি আনন্দে মাতিবে।।*
*দাস ধনপতি কহে মুক্তা পাবে কোথা।*
*মুক্তায় অঙ্কুর হবে এ কেমন বারতা।।*
*মুক্তায় অঙ্কুর হবে এ কেমন কথা।*
*মুক্তা আনতে গেল সুবল রাধারাণী যেথা।।*
*জটিলা-কুটিলা গেল মথুরা নগরে।*
*শ্রীমতী রাধিকা থাকে একা নেজ ঘরে।।*
*আখর=একা রাধে ঘরে রয়,ভাবে মনে কৃষ্ণ ধনে,একা--------রয়।*
*ভাবিছেন শ্রীরাধিকা পালঙ্কে বসিয়া,* *কবে হৃদে সুখ পাব নীলমণি হেরিয়া।।*
*কবে বা হেরিব,নীলমণি রত্ন ধনে,কবে বা হেরিব। আনন্দে বিভোর হব,কবে বা হেরিব।*
********************************
*নিকুঞ্জ বনেতে রব কাটাইব নিশি*
*বাহুর বন্ধনে জড়াইব শ্যাম শশী*
*কহে কবি ধনপতি শুনহে শ্রীমতী।*
*সুবলে পাঠায় তোমা সদনে শ্রীপতি।।*
*আখর=সুবল আসিছে,তোমারে ভেটিতে সখা সুবল আসিছে।*
*হবে কৃষ্ণ দরশন,সুবল আসিছে,*
*চিন্তা দূর হবে রাধে,সুবল আসিছে,*
*চিন্তামণি পাঠাইল,সুবল আসিছে,*
*অশান্তি আর রবে না রাই,আসিছে সুবল সখা ভাই,অশান্তি আর রবে না রাই।*
*🌻সুবল আসিয়া,হাসিয়া হাসিয়া,*
*কহিছে রাধার প্রতি।*
*শুন বিনোদিনী,আসিয়াছি আমি,*
*জানাতে কৃষ্ণের প্রীতি।।*
*আখর=প্রীতি শুভেচ্ছা লবে,*
*ব্রজে তোমার মঙ্গল হবে, প্রীতি-----*।
*🌻তব মুক্তাহার হতে,একখানি দেহ হাতে,*
*মুক্তা লয়ে করি রোপণ।*
*তাহাতে অঙ্কুর হবে,মহাবৃক্ষ নির্মাইবে,*
*মুক্তা ফলিবে অগণন।।*
*বিলম্ব করোনা রাধা,তাহাতে পাইব বাধা,*
*সাধ আছে গোবিন্দ মনেতে।*
*কবি ধনপতি কয়,হরি যা মনে ভাবয়,*
*অবশ্যই করিবে গোঠেতে।।*
*আখর=তাই করিবে রাইকিশোরী,* *মনে যে ভেবেছে হরি,* *তাই-------------হরি।*
*রাধা বলছেন=শোন ভাই সুবল! তোমাদের কানাইয়ের পাগলামির কথা আর আমাকে বোলো না।* *সে যে কত বড়মূর্খ তা আমার জানা হয়ে গেছে।* *মুক্তার কোনদিন গাছ হয়?* *না কোনকালে হয়েছে?*
*সুবল বললেন=শোন রাধে!ভাই কানাইয়ের কৃপায় হতেই পারে।তাঁর অসাধ্য কর্ম কি আছে বলতে পারো?*
*রাধা=তোমাদের মত বোকা ইহ জগতে কেহ নাই।* *তাছাড়া রাখালে মুক্তার মর্য্যাদা কি পাবে?*
*এত বড় অমূল্য বস্তু আমি কেন, কেউ দিবে না।*
*🌻শুনহে সুবল ভাই তোমারে জানাই।*
*নিশ্চয় পাগল হ'ল তোমাদের কানাই।।*
*রাজবংশী বিনা কেহ মুক্তা নাহি পরে।*
*গোচারণ রাখালে তাহা জানে কি প্রকারে।।*
*আখর=রাখালে জানে না,মুক্তা কত অমূল্য ধন,রাখালে জানে না।*
*রাজকন্যা আমি জানি,রাখালে জানে না।*
*🌻গাছেতে মুক্তা কবে ফলেছে সুবল।*
*কেবা শুনিয়াছে কোন কালে তাই বল।।*
*দাস ধনপতি বলে নাহিক অজানা*
*ভাবিলে শ্রীহরি পারে ফলাইতে সোনা।।*
*আখর=গাছে সোনা ফলাবে,কৃষ্ণ যদি ইচ্ছে করে,গাছে সোনা ফলাবে।*
*সেই তো শক্তিমান ভবে,*
*সোনা ফলাবার শক্তি পাবে।*
*গাছে সোনা ফলাবে।*
*🌼তখন সুবল বলছেন,আমি রাখাল,অত শত কিছু বুঝি না,ভাই কানাই তোমার কাছে মুক্তা চেয়ে পাঠিয়ছিল কিন্তু দিলে না।* *উপরন্তু রাখালের অবুঝ মতি বলিয়া,অবহেলা করে ফিরিয়ে দিলে রাই?* *এ আমাকে অপমান করা নহে,প্রকারে ভাই কানাইকেও অপমান করলে*? *🌼তখন রাই বলছেন,বেশ করেছি, আর কোন কথা নয় তুমি যাও।সুবল বললে বেশ,আমারও মনে থাকবে,ভাই কানাই গাছে মুক্তো ফলাতে পারে,সেই মুক্তোর আশায় তোমাকেও সেখানে যেতে হবে রাই,তখন আমিও অল্পেতে ছাড়ব না মনে রেখ।*
*🌻অপেক্ষা না করি সুবল এখনি ফিরিবে।*
*মুক্তা লয়ে ঘরে বসে ধুয়ে ধুয়ে খাবে।।*
*আখর=ধুয়ে ধুয়ে খাও গে,মুক্তা লয়ে ঘরে বসে, ধুয়ে ধুয়ে খাও গে।* *🌼মন খারাপ করে তখন সুবল চলে গেল।*
*তখন ষখাগণ বলছে,ওই,ওই সুবল আসছে,নিশ্চয় রাইধনি সুবলকে মুক্তো দিয়েছে।*
*কৃষ্ণ=এসো ভাই সুবল,মুক্তো পেয়েছ নিশ্চয়ই? সুবল বললে=মুক্তো না পাওয়ায় আমার কোন দুঃখ নেই ভাই,* *কিন্তু মুক্তো না দিয়ে রাই যেভাবে আমাকে অপমান করলে ষে কথা আমি তোকে বলতে পারব না।* *তখন সখাগণ বললেন,তাহলে আর আমাদের মুক্তালতা খেলার আশা নেই ভাই কানাই?* *কৃষ্ণ বলছেন,*
*তোরা কোন চিন্তা করিস না,আমি আমার মায়ের কাছ হতে মুক্তা এনে তোদের সাধ পূরণ করব।*
*🌻মুক্তা আনিবার তরে শ্রীকৃষ্ণ চলিল।*
*যেথা মাতা নন্দরাণী সেথায় পৌঁছল।।*
*আখর=ত্বরা করি গেল গো,মুক্তা আনিবার তরে,ত্বরা-----------গেল গো।*
*🌼মায়ের কাছে এসে আদরের গোপাল বলছেন,মা!আমায় একটি মুক্তা দাও, খেলা করব ও বৃক্ষ রোপণ করব।* *মা বললেন,ওরে আমার পাগল বাছা,মুক্তায় কোনদিন অঙ্কুর হয় না,আর তাতে গাছও হয় না।* *বাপ,তুই ওসব পাগলামি ছাড়,কৃষ্ণ বললেন,না মা,* *আমি সবাইকে বলেছি মায়ের কাছ হতে মুক্তো এনে তোদের সাধ পূরণ করব।*দাও না মা দাও না?*
*ও মা বিলম্ব কোরো না দাও?*
*🌻আমি যমুনার পারে যাব,*
*পরের মাকে মা বলিব,*
*মা বলিয়া মুক্তা আমি চাহিয়া আনিব।*
*আখর=মুকুতা আনিব,মা বলিয়া আমি মুক্তাচাসিয়া আনিব।*
*যশোদা=পুত্রের জেদ দেখে নন্দরাণী মুক্তা দিলেন; তখন কানাই মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে, আহা-হা,ভগবানের কি খেলা?*
*🌻শুনমা জননী,আমি নীলমণি,*
*তোমার আদরের কানাই।*
*তুমি বিনা ভবে,কেবা আছে তবে,*
*এমন জননী কারো নাই।।*
*আখর=মাগো,কেউ পাবে না,এমন গুণের জননী ভবে,মাগো কেউ পাবে না।* *কেউ দেবে না,মা বিধা মুক্তা মোরে কেউ দেবে না।*
*🌼তখন সুবল বলছে,ওই দেখ ভাই সব,ভাই কানাই মুক্তো পেয়ে কেমন হাসিমুখে এই দিকে ছুটে আসছে।*
*মুক্তা লয়ে আসি ধেয়ে শুন সখাগণ।*
*রাধা না দিলেও মুক্তা মাতা করে দান।।*
*উজল মুকুতা পাতি হইল সঞ্চয়।*
*রোপণ করিব এবে যাহা মনে হয়।।* *আখর=রোপণ করিব,মুক্তা লয়ে গোঠমাঝে,রোপণ করিব,সখাগণ মিলি মোরা রোপণ করিব।*
*🌻এবার রোপণ করা হল,সেই মুক্তাপাতি।* *অঙ্কুর হল, তখন কৃষ্ণ বলছেন,দেখ,দেখ সখা অঙ্কুর হয়েছে।* *ফলিবে মুক্তাফল অঙ্কুর হয়েছে।*
*🌼দেখিতে দেখিতে বৃক্ষে দুটি পত্র হল।*
*বিঘত সমান গাছ বাড়িয়া উঠিল*
*কেমন সুবাস পত্র দোলে বায়ু ভরে।*
*ধনপতি কহে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ পারে।।*
*আখর=কি--না--পারে, আমার প্রাণ গোবিন্দ,কি না পারে।*
*গাছে মুক্তা ফলাতে পারে, প্রাণ গোবিন্দ কি না পারে।*
*আবার সুবর্ণ ফলাতে পারে,প্রাণ গোবিন্দ সবই পারে,সুবর্ণ ফলাতে পারে।* *হরিবোল;হরিবোল,হরিবোল।*
*🌻পরের দিন=গোঠে যাবার বেলা হলে নন্দমহারাজের বাড়ীর সামনে যত রাখাল এসে উপস্থিত হল,আজ একটু কানাই অন্যরকম,কেমন?অন্য রাখালদের আসবার পূর্বেই প্রস্থুত হয়ে বসে আছেন,কিন্তু দাদা বলরামের জন্য দেরী হচ্ছে।*
*🌼নন্দরাণী বলছেন-------
*ওলো রোহিণী দিদি কোথায় বলরাম।*
*দুয়ারে দাঁড়ায়ে সুবল শ্রীদাম সুদাম।।*
*দ্বাদশ গোপাল এলো নিতে তোর বলায়ে।*
*দে দে ভাই ত্বরা করি বাছারে সাজায়ে।।*
*বংশীধ্বনি করে কানাই দাদা দাদা বলি।*
*ধবলী শাঙলী তারা যায় গোঠে চলি।।*
*নবলক্ষ ধেনু যত গোঠ মাঝে যায়*
*কৃষ্ণ প্রেমানন্দে দাস ধনপতি গায়।।*
*তখন রোহিণী দিদি বলছেন------*
*শুনলো যশোদা বহিন,আজি গোঠে যাবে না বলাই।*
*শরীর যে অসুস্থ হল,শয্যা ত্যাজি উঠে নাই।।*
*তোর কানাই আগে যাক,যদি সময় হয় যাবে।*
*কেন আর বৃথা বহিন,সখাগণ অপেক্ষা করিবে।।*
*শুনিয়া কহিল কানাই,শুন মোর কথা গো কাকিমা।*
*বলাই দাদা না যাইলে,গোঠে মোরা কেহ যাবনা।।*
*মোদের সঙ্গে গেলে দাদা,সব রোগ আরোগ্য হবে।*
*তাই দাস ধনপতি বলে,সেজন্য কেন আর ভাব তবে।।*
*🌼অতঃপর ভাইয়ের টানে দাদা আর ঘরে থাকতে পারলেন না।*
*সকলকে সঙ্গে করে গোঠের পথে চললেন।* *গোঠে গিয়ে দেখলেন,বিশাল মুক্তার বৃক্ষ বৃন্দাবনের মাঝে অবস্থান করছে।*
*🌻বলরাম বলছেন ভাই---------*
*কি জাদু জানিসরে ভাই জানিস কি যাদু।*
*তোর পরশে মনে লয় আছে কত মধু।।*
*আখর=নাইরে শরীর অসুস্থ নাই,তোর পরশ পেয়ে কানাই,আর তো শরীর অসুস্থ নাই।*
*🌼তাহার অধিক শান্তি আশ্চর্য্য ঘটনে।*
*মুক্তা বৃক্ষ ফলাইলি এই বৃন্দাবনে।।*
*আখর=কত মুক্তা ফলেছেরে,তোর রোপিত মুক্তা বৃক্ষে,কত মুক্তা ফলেছেরে।*
*🌼এই বৃক্ষ ব্রজ গোপিনীরা যদি হেরে।*
*চুরি করে লয়ে মুক্তা নিয়ে যাবে ঘরে।।*
*অমূল্য যা ভবে ছিল মূল্য না থাকিবে।*
*এ হেন লীলায় যশ কিবা বলা হবে।।*
*ওঠ যত সখাগণে ওঠ বৃক্ষ ডালে।*
*মুক্তা লয়ে মনের মত সাজহ সকলে।।*
*কৃষ্ণেরে সাজায়ে মোরা করিব আরতি।*
*নবলক্ষ ধেনু আছে কহে ধনপতি*
*আখর=নবলক্ষ ধেনু রয়,দাস ধনপতি কয়,নবলক্ষ ধেনু রয়।*
*তাদের সাজাতে হবে,তবে ব্রজে মান থাকবে,তাদের সাজাতে হবে।*
*********************************
*মিলি য সখাগণ,মুকুতা করিয়া চয়ন,*
*নানামতে গাঁথিলেক মালা।*
*সাজাইল বলরামে,আর কৃষ্ণ বামে লয়ে,*
*বৃন্দাবন করিল আলা।।*
*আখর=আলোয় আলোয় ভরে গেল,মুক্তার আলো আর যুগল আলো,আলোয় আলোয় ভরে গেল।*
*কেমন শোভা হয়েছে গো,কৃষ্ণ বলরামের যুগল, কেমন--------গো*
*ধন্য বৃন্দাবন ধাম,যুগল কৃষ্ণ-বলরাম, আলোর শোভা হয়েছে গো।*
*নবলক্ষ ধেনু লয়ে,সাজাইল মুকুতা দিয়ে,*
*জয় জয় ধ্বনি করে সবে।*
*দেখণ স্বর্গপরে,ব্রজে পুষ্প বৃষ্টি করে,*
*এমন আনন্দ আর হবে।।*
*আখর=আনন্দ আর ধরে নারে, বৃন্দাবনে স্বর্গধামে,আনন্দ----নারে।* *মহানন্দে মাতে সবে,আনন্দ---নারে।*
*আর যত সখাগণ,সুবল শ্রীদাম দাম,*
*ভুঞ্জে নব গোলোকের রতি।*
*যদি ও কৃষ্ণ পাই,ভাবিয়া আনন্দ পাই,*
*কহে কবি দাস ধনপতি।।*
*আখর=নামেতে আনন্দ ভরা,যেই নাম সে কৃষ্ণ,নামেতে---------ভরা।*
*এমন প্রমোদ নাইরে কোথা,নামেতে আনন্দ ভরা।*
*🌼সুবল=ভাই কানাই!এতো অমূল্য মুক্তাবৃক্ষ বৃন্দাবনে আলো করে আছে।* *এগুলিকে পাহারা না দিলে হয়ত চোরে এসে সব চুরি করে নিয়ে যাবে।* *তখন কৃষ্ণ বললেন,ভাই সুবল!এই মুক্তাবৃক্ষ পাহারা দেবার দায়িত্ব তোর উপর রইল।সুবল বললে,ভাই তোর আজ্ঞা সাদরে গ্রহণ করলাম।*
******************************
*কৃষ্ণের আদেশে আমি মুক্তাবনে রব।*
*যেই চোর আসিবেক তাহারে বাধিব।।*
*চোর ধরি দিব আমি কোটালের হাতে।*
*কোটাল লইয়া যাবে কানাই সাক্ষাতে।।*
*যদি আসে রাধারাণী মুক্তা লইবারে।*
*শাড়ীর আঁচলে বৃক্ষে বাঁধিব তাহারে।।*
*সংবাদ যাইবে যবে শ্রীহরির পাশে*.।
*অপমান হবে জানে ধনপতি দাসে।।*
*আখর=মান তো আমি রাখব নারে,* *শ্রীরাধিকা এলে পরে,* *মান তো আমি রাখব নারে।* *জানাইব সবাকারে,মান তো আমি রাখব নারে।*
*********************************
*ললিতা বিশাশা সনে চলে রাধারাণী।*
*পূর্বে শুনিয়াছে যত মুক্তার কাহিনী।।*
*সাঁঝেরবেলা বামাগণে দিয়ে গৃহে বাতি।*
*বৃষভানু সুতা সহ চলে সখি সাথি*
*মুক্তাপাতি লইবারে বৃন্দাবনে যায়*
*আনন্দে উল্লাস রাই ঘন ঘন চায়*
*মুক্তা বৃক্ষ পাশে উপনীত হইল।*
*ধনপতি কহে মান যায় যাহা বল।।*
*🌼রাধারাণী মুক্তা বৃক্ষ দেখে আত্মহারা হয়ে গেছেন।*)
*নন্দের নন্দরা করিল সৃজন,এমন মধুর বন।*
*জনম সল হবে তাহার,যে করে এ দরশন।।*
*এই মুক্তাবন অতীব গোপন,দেব-এ না জানতে পারে।*
*লয়ে রাখালগণে, সে যদুনন্দনে,,*
*এ বৃক্ষ সৃজন করে।।*
*আয়রে ললিতা আয়রে বিশাখা, তুলিব যতন করি।*
*আমাদের তরে রেখেছে সাজায়ে,যশোদা জীবন হরি।।*
*আখর=এমন কভূ হেরি নাইরে,বৃক্ষেতে মুকুতা ফলে,এমন কভূ হেরি নাইরে।* *জনম সফল হবে এই বৃন্দাবনে।।*
*সুবল অদূরে রাধা সহ সখীগণ আসছেন দেখতে পেয়ে মনে মনে বলছেন,চমৎকার,চমৎকার,আমি যখন একটি মুক্তা চাহিতে গিয়েছিলাম তখন রাখাল বুদ্ধির সমালোচনা করে আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়ছিলে,দেখব আজ।* *রাধারাণী কাছে এলে*
*ওগো রাধারাণী,রাজার নন্দিনী,*
*মনে কি পড়ে না তোমা।*
*সে তব গৃহেতে,মুকুতা চাহিতে,*
*কৈলে অপমান আমা।।*
*আখর=অপমান রাই করেছিলে,মুক্তা খন্ড নাহি দিলে,অান রাই করেছিলে।*
*মনে কি পরে না বল রাজার ঝিয়ারি।*
*সেই প্রতিশোধ আজ লইবারে পারি।।*
*রাধা বলছেন=সুবল ভাই!আজ তোমাকে দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে ভাই।সুবল বললে,থাক আমার আর প্রশংসা করতে হবে না।*আবার বললেন রাইধনি!সুবল!আমি সেদিন এতটা বুঝতে পারিনাই, তাই----------*
*সুবল!আমি কি শুনি তাই।*
*অপেক্ষা করহ,সব সখীগণ,*
*আসিবে প্রাণ কানাই।।*
*মনে দুঃখ আছে,পলাইবে পাছে,*
*বাঁধিয়া রাখিব আমি।*
*রাজার কোটাল,আমি জানি ভাল,*
*আসিবে জগৎ স্বামী।।*
*🌼বিশাখা বলছেন=সুবল!আজ তোমার সব কথা আমরা মেনে নিলাম,* *আজ আমাদের ছেড়ে দাও,* *আবার একদিন এসে তোমাদের কানাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।* *সুবল বললেন=না ললিতা-বিশাখা,তোমাদের ছাড়লেও আমি রাজারনন্দিনীকে ছাড়ব না।*
*লাজ শরম কি তোমার নাই,শুনহে রাজনন্দিনী রাই,লাজ শরম কি তোমার নাই।* *এসেছ কোন লাজে বল,আমি যে সখা সুবল,এসেছ কোন লাজে বল,* *সেদিনের কথা নাই কি মনে,আমাকে কাঁদালে অপমানে,সেদিনের কথা নাই কি মনে।*
*🌻তারপর শ্রীগোবিন্দ এলেন,*
*কিন্তু সুবল সেদিনের কথা ভুলতে পারছেন না, তবুও সখার কথায় রাইধনিকে মুক্তা প্রদান করলেন বটে,*
*মুক্তা লয়ে রাই সুন্দরী ঘরে ফিরে যাও।*
*সুবল বলিছে ওই ধুয়ে ধুয়ে খাও।।*
*এখানেই রইল*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

