শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_4.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻নন্দ মোক্ষণ লীলা গৌরচন্দ্রিকা 🌻*
*ভ্রমিতে ভ্রমিতে গোরা যমুনার জলে।*
*কৃষ্ণদাস কোলে করি ভাসে প্রেমজলে।।*
*কৃষ্ণদাস বোলে হের দেখ নন্দঘাট।*
*বরুণে হরিয়া নন্দ নিল নিজপাট*
*পিতার উদ্দেশ্যে কৃষ্ণ জলে প্রবেশিলা।*
*গোপ-গোপীগণ মেলি কাঁদিতে লাগিলা।।*
*শোনি গোরাচাঁদের ধারা বহে দুনয়নে।*
*ভাবাবিষ্ট হৈয়া লোচন কাঁদেন আপনে।।*
*🌻নন্দমোক্ষণ ব্রজ লীলা প্রথম পদ🌻*
*নীরাধিপ ভৃত‍্য রূপ।*
*হরল নন্দ ব্রজক ভূপ।।*
*ঐছন শুনি গোপশূর।*
*ত্বরিতে আইলা বরুণপুর।।*
*হেরি বরুণ চরণে গীর।*
*ধূলি লুঠয়ে ধূসর শির।।*
*সিংহাসন দেই তাহি।*
*পূজল কত অবধি নাহি।।*
*তাত লেই চলল পুর।*
*ব্রজজন দুখ গেও দূর।।*
*জীবন পাই নন্দরাণী।*
*প্রেমে বিভোর কিছু না জানি।।*
*ব্রজ ভূপতি চমক পাই।*
*নিজগণে সব কহল যাই।।*
*গোপীগণ পাওল সুখ।*
*টুটল সব বিরহ দুখ।।*
*আনন্দে ব্রজলোক ভাষ।*
*হেরত সুখে মাধব দাস।।*

*🌻🌻জল দেবতা বরুণের ভৃত‍্য (চাকর (নীরাধিপভৃত‍্য)যিনি ব্রজের রাজা নন্দ মহারাজকে হরণ করিল।* *কেন?নন্দমহারাজ একাদশী ব্রত পালন করতেন,পরেরদিন স্বল্প সময় দ্বাদশী থাকার কারণে,শাস্ত্রে আছে যে,* *"কলার্ধাং দ্বাদশীং দৃষ্টা নিশীথাদূর্ধমেব হি।আমধ‍্যাহ্নাঃ ক্রিয়াঃ সর্বাঃ কর্তব‍্যঃ শম্ভুশাসনাৎ।।(স্কন্ধ পুরাণ)* *অর্থ‍্যাৎ=একাদশী ব্রতের পরেরদিন যদি স্বল্প মাত্রও দ্বাদশী থাকে,তাহলে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রি অতীত হবার পরেই স্নান করে মধ‍্যাহ্নকৃত‍্য পর্যন্ত সবকিছু নিত‍্যকর্মের সমাধান করে দ্বাদশী মধ্যেই পারণ করবে।* *ইহাই বৈষ্ণবচূড়ামণি শ্রীশঙ্করের আদেশ* *পরমবৈষ্ণব নন্দাদি গোপগণও এই শাস্ত্র আজ্ঞা শিরোধার্য‍্য করে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রির পর যমুনায় গেলেন।* *কিছু গোপগণ নিজ ঘরের কূপের জলে স্নান করলেন।* *শ্রীভদবদ্ভক্তিবর্ধনকারিণী পুণ‍্যসলিলা যমুনা নদীতে অবগাহন করবার জন‍্য কয়েকজন ভৃত‍্য সঙ্গে নিয়ে যমুনায় গমন করলেন এবং যথিবিধি যমুনা সলিলে নেমে স্তব পাঠাদি সমাপন পূর্বক স্নান করতে লাগলেন।* *(অর্ধরাত্রির পর হতে সূর্য‍্যোদয়ের চারদন্ড পূর্ব পর্যন্ত সময়,শাস্ত্রে আসুরকাল বলে প্রসিদ্ধ এবং সেই সময়ে স্নানাদি সর্ববিধ কার্য‍্যই নিষিদ্ধ আছে।* *এই সময়ে জলাধিপতি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ নদনদী প্রভৃতি জলাশয়ের জল রক্ষা করে এবং কেহ যদি সেই সময়ে জলাশয়ে নামে তাহলে তিনি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণের কাছে কোনরকম দন্ড পান না বলে এই শাস্ত্র সিদ্ধান্ত।* *কিন্তু ধরে নিয়ে চলে যান বরুণের কাছে।* *গোপরাজ নন্দ,শাস্ত্র নিষিদ্ধ আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন বটে,কিন্তু তিনি শাস্ত্র আজ্ঞা লঙ্ঘন করেননি।* *তিনি দ্বাদশীমধ‍্যে পারণ নির্বাহ করবার জন্য শাস্ত্রাজ্ঞা বলেই আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন।* *কিন্তু বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ তাদের অসুর স্বভাববশতঃ শাস্ত্রাজ্ঞা কিংবা বৈষ্ণবাচার প্রভৃতির কোনই খবর রাখে না,তারা গোপরাজ নন্দকে আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে দেখেই অপরাধী বলে নিশ্চয় করল এবং তাঁকে বরুণালয়ে নিয়ে গেল।* *এদিকে গোপরাজ নন্দের সঙ্গী গোপগণ,গোপরাজ নন্দকে যমুনায় স্নান করতে করতে হঠাৎ অদৃশ্য হতে দেখে ভয়ে ভীত হয়ে পড়ল এবং কৃষ্ণ,বলরাম কোথায় আছ,তাড়াতাড়ি এস,দেখ,তোমাদের পিতাকে বুঝি কুমীর বা জলের হিংস্র জন্তু এসে গ্রাস করল।* *হায়!হায়!আজ আমাদের কি হল,বলে মাথায় করাঘাত করে উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ ও রোদন করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ সেই সময় নিভৃতকক্ষে নিদ্রাগত ছিলেন,কিন্তু সকলের চিৎকারে নিদ্রা ভঙ্গ হল, সমস্ত কথা শুনলেন,আর মনে মনে বরুণকে শিক্ষা দিতে হবে বলে যমুনার ধারে গেলেন।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ বা শেষ পদ🌻🌻*
*একাদশী ব্রত করি,নন্দীশ্বর অধিকারী,*
     *সিনাইতে যমুনার জলে।*
*বরুণের চর ছিল,ধরিয়া লৈয়া গেল,*
     *না দেখি কান্দয়ে গোয়ালে।।*
*হরি হরি কান্দনা উঠিল গোপপুরে।*
*শুনিয়া ধাইল কানু,বাজাইয়া শিঙ্গা বেণু,*
        *প্রবেশিল বরুণ নগরে।।*
*দেখি জল অধিপতি,অষ্টাঙ্গে পড়িয়া ক্ষিতি,*
      *দন্ডবৎ নানা স্তুতি করে।*
*অবোধ আমার দূতে,আনিল তোমার পিতে,*
     *হেন অপরাধ ক্ষেম মোরে।।*
*নন্দঘোষ লৈয়া হরি,আইলা গোকুল পুরী,*
     *গোপ-গোপী অধিক উল্লাসে।*
*রাধাদাস কহে কানু,বরুণ পূজিল যনু,*
     *কহে নন্দ সভাকার পাশে।।*

*🌻কার্তিকমাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে যেদিন ইন্দ্রাদি দেবগণ ব্রজে এসে গোবিন্দ অভিষেক করেছিলেন, সেদিনও পূর্ব পূর্ব একাদশীর নিয়মানুসারে নন্দাদি গোপগণ উপবাস,শ্রীভগবৎ পূজা ও শ্রীভগবৎ প্রসঙ্গে রাত্রি জাগরণ প্রভৃতি সমস্ত অনুষ্ঠান করেছিলেন।* *কিন্তু পরদিন প্রাতঃকালে দ্বাদশী তিথি বেশীক্ষণ ছিল না বলিয়া তাঁরা শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে একাদশীর দিন অর্ধ রাত্রের পর হতেই স্নান ও নিত‍্যকর্মের অনুষ্ঠানে রত হলেন।*
*যাইহোক,গোপগণের আর্তনাদে ও রোদনে যখন শ্রীকৃষ্ণ বুঝলেন যে তাঁর পিতা যমুনাগর্ভে অদৃশ্য হয়েছেন,তখনই তিনি জানতে পারলেন যে,বরুণ ভৃত‍্যগণই পিতাকে নিয়ে গেছে।* *তিনি আর ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ বরুণলোকে গমন করলেন।* *জলধিপতি বরুণ হঠাৎ নিজ গৃহে কৃষ্ণকে আগমন করতে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেলেন।*
*বরুণ মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন যে,যিনি সর্বেন্দ্রিয়ের অতীত এবং নিয়ন্তা,* *তিনি আজ আমার গৃহে এলেন,এর থেকে বড় আশ্চর্যের বিষয় আর কি হতে পারে।* *আমার কোন জনমের কোন পূণ‍্যফলে দর্শন পেলাম।* *নিজ মস্তকে করে সিংহাসন নিয়ে এলেন এবং*
*শ্রীকৃষ্ণকে বসতে দিলেন,স্বহস্তে তাঁর চরণ ধৌত করে সেই চরণোদক পান ও মস্তকে ধারণ করলেন।* *তারপর বরুণ অষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।* *এবং তিনি স্তুতি করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ চুপ করে বসে আছেন কিছু বলছেন না।* *তখন বরুণ বললেন,প্রভো!এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবের গৃহে পদার্পণের কারণ কি জানতে পারি?* *এইবার বরুণের মনে পড়েছে আমার ভৃত‍্যগণ গোপরাজ নন্দকে যমুনা হতে আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,বোধকরি সে কারণেই প্রভু এসেছেন*,*না জানি এখন আমার কি হবে।!*
*আমার মনে হচ্ছে,আমার ভৃত‍্য এনেছে তার মানে এই,আমার মহাপরাধ হয়েছে,সেইজন‍্য বোধহয় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান আমার এখানে এসেছেন।* 
*রাজ্ঞি চামাত‍্যজা দোষাঃ পত্নীপাপং স্বভর্তরি।*
*এবং শিষ‍্যকৃতং পাপং গুরাবেবোপচ্ছতি।।(সারসংগ্রহবচনং)*
*অমাত‍্য(মন্ত্রী)ভৃত‍্যাদিকৃত অপরাধ রাজায়,পত্নীকৃত পাপ পতিতে এবং শিষ‍্যকৃত পাপ গুরুতে সঞ্চারিত হয়।* *(এই শাস্ত্র বচনে জানা যায়।)* *কারও চাকর যদি কোন অপরাধ করে,তাহলে তার প্রভু সেই অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায়।* *অতএব আমার ভৃত‍্য যখন গোপরাজ নন্দকে অন‍্যায় পূর্বক আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,তখন আমি নিশ্চয়ই কৃষ্ণচরণে অপরাধ করেছি।* *হে প্রভো!আমার ভৃত‍্যগণ জানে না যে,দ্বাদশী পারণ রক্ষা করবার জন্য আসুরকালে স্নান করলে কোনও দোষ হয় না।* *তারা মূঢ় ও মহামোহাচ্ছন্ন,অজ্ঞানবশতঃ আপনার পিতাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছে।* *আপনি অজ্ঞ জীবের অজ্ঞানকৃত মহাপরাধ ক্ষমা করুন।* *এইকথা বলে বরুণ,তাড়াতাড়ি গোপরাজ নন্দের কাছে গিয়ে তাঁকে সিংহাসন সহ মস্তকে বহন করে এনে শ্রীকৃষ্ণের সামনে বসালেন এবং বললেন হে পিতৃবৎসল!হে গোবিন্দ!আপনার পিতাকে আপনার কাছে প্রদান করলাম,আপনি গ্রহণ করুন।* *গোপরাজকে কৃষ্ণ সামনে রেখে বরুণ একপার্শে করজোড়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।* *এবং ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ একবার তাঁর দিকে প্রসন্ন দৃষ্টি সঞ্চার করে পিতাকে নিয়ে ব্রজভূমিতে আগমন করলেন।* *ব্রজে পরমানন্দের সাড়া পড়ে গেল।* *তারপর নন্দমহারাজ যথা সময়ে তাঁর দ্বাদশী কর্মাদি সমাপন করে গোপসভায় বসলেন।* *পরে উপনন্দ,সনন্দ প্রভৃতি সকলে নন্দের কাছে এলেন,গোপরাজ নন্দের কাছে বরুণলোকের মহাবৈভবকথা এবং বরুণ প্রভৃতি সকলের শ্রীকৃষ্ণ চরণে স্তুতি প্রণতির কথা শুনে খুবই আশ্চর্য হলেন,সকলেই মনে মনে করতে লাগলেন,আমাদের কৃষ্ণ সামান্য গোপবালক নয়,নিশ্চয়ই অখিলব্রহ্মান্ডপতি নারায়ণই গোপবালকরূপে আমাদের বংশে অবতীর্ণ হয়ে আমাদের ধারণার বাইরে অনির্বচনীয় লীলারসাস্বাদন করছেন।* *বরাহ পুরাণে জানা যায়,*
*এতে হি যাদবাঃ সর্বে মদগণা এব ভাবিনি।*
*সর্বথা মৎপ্রিয় দেবি মত্তুল‍্যগুণশালিনঃ।।*
*বরাহদেব,পৃথিবীকে বলেছিলেন,যাদবগমণ(ব্রজবাসী গোপগণও যদুবংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে যাদব নামে খ‍্যাত)* *সকলেই আমার নিত‍্যপার্ষদ,তাঁরা আমার পরমপ্রিয় এবং সকলেই আমার মত গুণশালী।* 
*পিতা মাতা স্থান গৃহ শয‍্যাসন আর।*
*এ সব কৃষ্ণের শুদ্ধ-সত্তের বিকার।।*

*উপনন্দ প্রভৃতি গোপগণ,বরুণলোকে বৈভব এবং শ্রীকৃষ্ণচরণে শরণাগতির কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণকে সর্বেশ্বর বলে ধারণা করলেন।* *কাজেই উপনন্দাদি গোপগণের মনে শ্রীকৃষ্ণের বৈভব এবং ধাম দর্শনের বাসনা হলে তাঁরা তাঁদের বাৎসল‍্য প্রেমে লালিত পালিত কৃষ্ণের কাছে মনের কথা ব‍্যক্ত করতে পারলেন না।* *ব্রজবাসী গোপগণের মনের কথা জেনে ভক্তবাঞ্জাকল্পতরু শ্রীকৃষ্ণ তাঁদেরকে প্রপঞ্চাতীত ধাম দেখালেন।* *শ্রীকৃষ্ণ ব্রজবাসীগণকে ব্রহ্মহ্রদ,(অক্রূরতীর্থ)নিয়ে এলেন,ব্রজবাসীগণ কৃষ্ণের আদেশে ব্রহ্মহ্রদে স্নান করে উঠে শ্রীকৃষ্ণের গোলোক নামক ধাম দর্শন করলেন।* *কৃষ্ণ যখন সকলকেই গোলোকধাম দর্শন করালেন,সকলেই পরমানন্দে পরিপূর্ণ হলেন।ভগবান কৃষ্ণ এইভাবে মনোবাঞ্জা পূর্ণ করলেন,কৃষ্ণ যে তাঁদের ঘরের পুত্র তাহাই মনে করলেন,বাৎসল‍্য প্রেমে যশোদা কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে শত শত চুম্বন ও কোলে নিয়ে ক্ষীর সর নবনী খাওয়ালেন।*

*******নন্দ মোক্ষণ লীলা, মধ‍্য রাত্রে নন্দঘোষ যমুনায় স্মান করতে গিয়েছিলেন, জলদেবতা বরুণের ভৃত‍্য নন্দঘোষকে হরণ করেছিল।

 *🌻নন্দ মোক্ষণলীলা এখানেই রইল,🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ ৫৯. নন্দ মোক্ষণ লীলা  
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻নন্দ মোক্ষণ লীলা গৌরচন্দ্রিকা 🌻*
*ভ্রমিতে ভ্রমিতে গোরা যমুনার জলে।*
*কৃষ্ণদাস কোলে করি ভাসে প্রেমজলে।।*
*কৃষ্ণদাস বোলে হের দেখ নন্দঘাট।*
*বরুণে হরিয়া নন্দ নিল নিজপাট*
*পিতার উদ্দেশ্যে কৃষ্ণ জলে প্রবেশিলা।*
*গোপ-গোপীগণ মেলি কাঁদিতে লাগিলা।।*
*শোনি গোরাচাঁদের ধারা বহে দুনয়নে।*
*ভাবাবিষ্ট হৈয়া লোচন কাঁদেন আপনে।।*
*🌻নন্দমোক্ষণ ব্রজ লীলা প্রথম পদ🌻*
*নীরাধিপ ভৃত‍্য রূপ।*
*হরল নন্দ ব্রজক ভূপ।।*
*ঐছন শুনি গোপশূর।*
*ত্বরিতে আইলা বরুণপুর।।*
*হেরি বরুণ চরণে গীর।*
*ধূলি লুঠয়ে ধূসর শির।।*
*সিংহাসন দেই তাহি।*
*পূজল কত অবধি নাহি।।*
*তাত লেই চলল পুর।*
*ব্রজজন দুখ গেও দূর।।*
*জীবন পাই নন্দরাণী।*
*প্রেমে বিভোর কিছু না জানি।।*
*ব্রজ ভূপতি চমক পাই।*
*নিজগণে সব কহল যাই।।*
*গোপীগণ পাওল সুখ।*
*টুটল সব বিরহ দুখ।।*
*আনন্দে ব্রজলোক ভাষ।*
*হেরত সুখে মাধব দাস।।*

*🌻🌻জল দেবতা বরুণের ভৃত‍্য (চাকর (নীরাধিপভৃত‍্য)যিনি ব্রজের রাজা নন্দ মহারাজকে হরণ করিল।* *কেন?নন্দমহারাজ একাদশী ব্রত পালন করতেন,পরেরদিন স্বল্প সময় দ্বাদশী থাকার কারণে,শাস্ত্রে আছে যে,* *"কলার্ধাং দ্বাদশীং দৃষ্টা নিশীথাদূর্ধমেব হি।আমধ‍্যাহ্নাঃ ক্রিয়াঃ সর্বাঃ কর্তব‍্যঃ শম্ভুশাসনাৎ।।(স্কন্ধ পুরাণ)* *অর্থ‍্যাৎ=একাদশী ব্রতের পরেরদিন যদি স্বল্প মাত্রও দ্বাদশী থাকে,তাহলে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রি অতীত হবার পরেই স্নান করে মধ‍্যাহ্নকৃত‍্য পর্যন্ত সবকিছু নিত‍্যকর্মের সমাধান করে দ্বাদশী মধ্যেই পারণ করবে।* *ইহাই বৈষ্ণবচূড়ামণি শ্রীশঙ্করের আদেশ* *পরমবৈষ্ণব নন্দাদি গোপগণও এই শাস্ত্র আজ্ঞা শিরোধার্য‍্য করে একাদশী ব্রত দিনেই অর্ধরাত্রির পর যমুনায় গেলেন।* *কিছু গোপগণ নিজ ঘরের কূপের জলে স্নান করলেন।* *শ্রীভদবদ্ভক্তিবর্ধনকারিণী পুণ‍্যসলিলা যমুনা নদীতে অবগাহন করবার জন‍্য কয়েকজন ভৃত‍্য সঙ্গে নিয়ে যমুনায় গমন করলেন এবং যথিবিধি যমুনা সলিলে নেমে স্তব পাঠাদি সমাপন পূর্বক স্নান করতে লাগলেন।* *(অর্ধরাত্রির পর হতে সূর্য‍্যোদয়ের চারদন্ড পূর্ব পর্যন্ত সময়,শাস্ত্রে আসুরকাল বলে প্রসিদ্ধ এবং সেই সময়ে স্নানাদি সর্ববিধ কার্য‍্যই নিষিদ্ধ আছে।* *এই সময়ে জলাধিপতি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ নদনদী প্রভৃতি জলাশয়ের জল রক্ষা করে এবং কেহ যদি সেই সময়ে জলাশয়ে নামে তাহলে তিনি বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণের কাছে কোনরকম দন্ড পান না বলে এই শাস্ত্র সিদ্ধান্ত।* *কিন্তু ধরে নিয়ে চলে যান বরুণের কাছে।* *গোপরাজ নন্দ,শাস্ত্র নিষিদ্ধ আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন বটে,কিন্তু তিনি শাস্ত্র আজ্ঞা লঙ্ঘন করেননি।* *তিনি দ্বাদশীমধ‍্যে পারণ নির্বাহ করবার জন্য শাস্ত্রাজ্ঞা বলেই আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে গিয়াছিলেন।* *কিন্তু বরুণের অসুর ভৃত‍্যগণ তাদের অসুর স্বভাববশতঃ শাস্ত্রাজ্ঞা কিংবা বৈষ্ণবাচার প্রভৃতির কোনই খবর রাখে না,তারা গোপরাজ নন্দকে আসুরকালে যমুনায় স্নান করতে দেখেই অপরাধী বলে নিশ্চয় করল এবং তাঁকে বরুণালয়ে নিয়ে গেল।* *এদিকে গোপরাজ নন্দের সঙ্গী গোপগণ,গোপরাজ নন্দকে যমুনায় স্নান করতে করতে হঠাৎ অদৃশ্য হতে দেখে ভয়ে ভীত হয়ে পড়ল এবং কৃষ্ণ,বলরাম কোথায় আছ,তাড়াতাড়ি এস,দেখ,তোমাদের পিতাকে বুঝি কুমীর বা জলের হিংস্র জন্তু এসে গ্রাস করল।* *হায়!হায়!আজ আমাদের কি হল,বলে মাথায় করাঘাত করে উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদ ও রোদন করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ সেই সময় নিভৃতকক্ষে নিদ্রাগত ছিলেন,কিন্তু সকলের চিৎকারে নিদ্রা ভঙ্গ হল, সমস্ত কথা শুনলেন,আর মনে মনে বরুণকে শিক্ষা দিতে হবে বলে যমুনার ধারে গেলেন।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ বা শেষ পদ🌻🌻*
*একাদশী ব্রত করি,নন্দীশ্বর অধিকারী,*
     *সিনাইতে যমুনার জলে।*
*বরুণের চর ছিল,ধরিয়া লৈয়া গেল,*
     *না দেখি কান্দয়ে গোয়ালে।।*
*হরি হরি কান্দনা উঠিল গোপপুরে।*
*শুনিয়া ধাইল কানু,বাজাইয়া শিঙ্গা বেণু,*
        *প্রবেশিল বরুণ নগরে।।*
*দেখি জল অধিপতি,অষ্টাঙ্গে পড়িয়া ক্ষিতি,*
      *দন্ডবৎ নানা স্তুতি করে।*
*অবোধ আমার দূতে,আনিল তোমার পিতে,*
     *হেন অপরাধ ক্ষেম মোরে।।*
*নন্দঘোষ লৈয়া হরি,আইলা গোকুল পুরী,*
     *গোপ-গোপী অধিক উল্লাসে।*
*রাধাদাস কহে কানু,বরুণ পূজিল যনু,*
     *কহে নন্দ সভাকার পাশে।।*

*🌻কার্তিকমাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে যেদিন ইন্দ্রাদি দেবগণ ব্রজে এসে গোবিন্দ অভিষেক করেছিলেন, সেদিনও পূর্ব পূর্ব একাদশীর নিয়মানুসারে নন্দাদি গোপগণ উপবাস,শ্রীভগবৎ পূজা ও শ্রীভগবৎ প্রসঙ্গে রাত্রি জাগরণ প্রভৃতি সমস্ত অনুষ্ঠান করেছিলেন।* *কিন্তু পরদিন প্রাতঃকালে দ্বাদশী তিথি বেশীক্ষণ ছিল না বলিয়া তাঁরা শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে একাদশীর দিন অর্ধ রাত্রের পর হতেই স্নান ও নিত‍্যকর্মের অনুষ্ঠানে রত হলেন।*
*যাইহোক,গোপগণের আর্তনাদে ও রোদনে যখন শ্রীকৃষ্ণ বুঝলেন যে তাঁর পিতা যমুনাগর্ভে অদৃশ্য হয়েছেন,তখনই তিনি জানতে পারলেন যে,বরুণ ভৃত‍্যগণই পিতাকে নিয়ে গেছে।* *তিনি আর ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ বরুণলোকে গমন করলেন।* *জলধিপতি বরুণ হঠাৎ নিজ গৃহে কৃষ্ণকে আগমন করতে দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেলেন।*
*বরুণ মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন যে,যিনি সর্বেন্দ্রিয়ের অতীত এবং নিয়ন্তা,* *তিনি আজ আমার গৃহে এলেন,এর থেকে বড় আশ্চর্যের বিষয় আর কি হতে পারে।* *আমার কোন জনমের কোন পূণ‍্যফলে দর্শন পেলাম।* *নিজ মস্তকে করে সিংহাসন নিয়ে এলেন এবং*
*শ্রীকৃষ্ণকে বসতে দিলেন,স্বহস্তে তাঁর চরণ ধৌত করে সেই চরণোদক পান ও মস্তকে ধারণ করলেন।* *তারপর বরুণ অষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।* *এবং তিনি স্তুতি করতে লাগলেন।* *শ্রীকৃষ্ণ চুপ করে বসে আছেন কিছু বলছেন না।* *তখন বরুণ বললেন,প্রভো!এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবের গৃহে পদার্পণের কারণ কি জানতে পারি?* *এইবার বরুণের মনে পড়েছে আমার ভৃত‍্যগণ গোপরাজ নন্দকে যমুনা হতে আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,বোধকরি সে কারণেই প্রভু এসেছেন*,*না জানি এখন আমার কি হবে।!*
*আমার মনে হচ্ছে,আমার ভৃত‍্য এনেছে তার মানে এই,আমার মহাপরাধ হয়েছে,সেইজন‍্য বোধহয় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান আমার এখানে এসেছেন।* 
*রাজ্ঞি চামাত‍্যজা দোষাঃ পত্নীপাপং স্বভর্তরি।*
*এবং শিষ‍্যকৃতং পাপং গুরাবেবোপচ্ছতি।।(সারসংগ্রহবচনং)*
*অমাত‍্য(মন্ত্রী)ভৃত‍্যাদিকৃত অপরাধ রাজায়,পত্নীকৃত পাপ পতিতে এবং শিষ‍্যকৃত পাপ গুরুতে সঞ্চারিত হয়।* *(এই শাস্ত্র বচনে জানা যায়।)* *কারও চাকর যদি কোন অপরাধ করে,তাহলে তার প্রভু সেই অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায়।* *অতএব আমার ভৃত‍্য যখন গোপরাজ নন্দকে অন‍্যায় পূর্বক আমার গৃহে নিয়ে এসেছে,তখন আমি নিশ্চয়ই কৃষ্ণচরণে অপরাধ করেছি।* *হে প্রভো!আমার ভৃত‍্যগণ জানে না যে,দ্বাদশী পারণ রক্ষা করবার জন্য আসুরকালে স্নান করলে কোনও দোষ হয় না।* *তারা মূঢ় ও মহামোহাচ্ছন্ন,অজ্ঞানবশতঃ আপনার পিতাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছে।* *আপনি অজ্ঞ জীবের অজ্ঞানকৃত মহাপরাধ ক্ষমা করুন।* *এইকথা বলে বরুণ,তাড়াতাড়ি গোপরাজ নন্দের কাছে গিয়ে তাঁকে সিংহাসন সহ মস্তকে বহন করে এনে শ্রীকৃষ্ণের সামনে বসালেন এবং বললেন হে পিতৃবৎসল!হে গোবিন্দ!আপনার পিতাকে আপনার কাছে প্রদান করলাম,আপনি গ্রহণ করুন।* *গোপরাজকে কৃষ্ণ সামনে রেখে বরুণ একপার্শে করজোড়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।* *এবং ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ একবার তাঁর দিকে প্রসন্ন দৃষ্টি সঞ্চার করে পিতাকে নিয়ে ব্রজভূমিতে আগমন করলেন।* *ব্রজে পরমানন্দের সাড়া পড়ে গেল।* *তারপর নন্দমহারাজ যথা সময়ে তাঁর দ্বাদশী কর্মাদি সমাপন করে গোপসভায় বসলেন।* *পরে উপনন্দ,সনন্দ প্রভৃতি সকলে নন্দের কাছে এলেন,গোপরাজ নন্দের কাছে বরুণলোকের মহাবৈভবকথা এবং বরুণ প্রভৃতি সকলের শ্রীকৃষ্ণ চরণে স্তুতি প্রণতির কথা শুনে খুবই আশ্চর্য হলেন,সকলেই মনে মনে করতে লাগলেন,আমাদের কৃষ্ণ সামান্য গোপবালক নয়,নিশ্চয়ই অখিলব্রহ্মান্ডপতি নারায়ণই গোপবালকরূপে আমাদের বংশে অবতীর্ণ হয়ে আমাদের ধারণার বাইরে অনির্বচনীয় লীলারসাস্বাদন করছেন।* *বরাহ পুরাণে জানা যায়,*
*এতে হি যাদবাঃ সর্বে মদগণা এব ভাবিনি।*
*সর্বথা মৎপ্রিয় দেবি মত্তুল‍্যগুণশালিনঃ।।*
*বরাহদেব,পৃথিবীকে বলেছিলেন,যাদবগমণ(ব্রজবাসী গোপগণও যদুবংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে যাদব নামে খ‍্যাত)* *সকলেই আমার নিত‍্যপার্ষদ,তাঁরা আমার পরমপ্রিয় এবং সকলেই আমার মত গুণশালী।* 
*পিতা মাতা স্থান গৃহ শয‍্যাসন আর।*
*এ সব কৃষ্ণের শুদ্ধ-সত্তের বিকার।।*

*উপনন্দ প্রভৃতি গোপগণ,বরুণলোকে বৈভব এবং শ্রীকৃষ্ণচরণে শরণাগতির কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণকে সর্বেশ্বর বলে ধারণা করলেন।* *কাজেই উপনন্দাদি গোপগণের মনে শ্রীকৃষ্ণের বৈভব এবং ধাম দর্শনের বাসনা হলে তাঁরা তাঁদের বাৎসল‍্য প্রেমে লালিত পালিত কৃষ্ণের কাছে মনের কথা ব‍্যক্ত করতে পারলেন না।* *ব্রজবাসী গোপগণের মনের কথা জেনে ভক্তবাঞ্জাকল্পতরু শ্রীকৃষ্ণ তাঁদেরকে প্রপঞ্চাতীত ধাম দেখালেন।* *শ্রীকৃষ্ণ ব্রজবাসীগণকে ব্রহ্মহ্রদ,(অক্রূরতীর্থ)নিয়ে এলেন,ব্রজবাসীগণ কৃষ্ণের আদেশে ব্রহ্মহ্রদে স্নান করে উঠে শ্রীকৃষ্ণের গোলোক নামক ধাম দর্শন করলেন।* *কৃষ্ণ যখন সকলকেই গোলোকধাম দর্শন করালেন,সকলেই পরমানন্দে পরিপূর্ণ হলেন।ভগবান কৃষ্ণ এইভাবে মনোবাঞ্জা পূর্ণ করলেন,কৃষ্ণ যে তাঁদের ঘরের পুত্র তাহাই মনে করলেন,বাৎসল‍্য প্রেমে যশোদা কৃষ্ণকে কোলে নিয়ে শত শত চুম্বন ও কোলে নিয়ে ক্ষীর সর নবনী খাওয়ালেন।*

*******নন্দ মোক্ষণ লীলা, মধ‍্য রাত্রে নন্দঘোষ যমুনায় স্মান করতে গিয়েছিলেন, জলদেবতা বরুণের ভৃত‍্য নন্দঘোষকে হরণ করেছিল।

 *🌻নন্দ মোক্ষণলীলা এখানেই রইল,🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/blog-post_4.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ ৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
গৌরচন্দ্রিকা
*শ্রীবাসের অঙ্গনে গোরা ভক্তগণ লয়ে।*
*মহানন্দে বাহু তুলে সংকীর্তন করয়ে।।*
*আচম্বিতে চারিদিকে অন্ধকার দেখে।*
*উচ্চৈঃস্বরে ভক্তগণ শ্রীহরিরে ডাকে।।*
*চতুর্দিকে ভক্তগণ বলেন হরি হরি*
*রক্ষা করহ মোদের গোলোকবিহারী।।*
*অতি বিসময় মূরতী গোরা করিয়া ধারণ।*
*লোচন কহে সকলেরে করিলা রক্ষণ।।*
*যেজন করয়ে মোর গোরার ভজন।*
*অচিরে পাই সে রাধাগোবিন্দের চরণ।।*

 *ব্রজ লীলা কালানল ভক্ষণ* *কেন বনে দাবানল লেগেছিল? সেই বিষয় বস্তু সামান্য লিপিবদ্ধ করব।*
*গো-বৎসগণদের বনের তৃণ ক্ষেত্র দেখে সমস্ত গো-বৎসগণদের ছেড়ে দিয়ে কৃষ্ণ বলরাম বললেন,চল আমরা খেলা করি।*কৃষ্ণের একটি দল,বলরামের একটি দল,কথা হল যে দল খেলায় হারবে,* *সেই দলের কেউ জয়ী দলের কেউকে ভান্ডীরকবটতল পর্যন্ত কাঁধে করে নিয়ে যাবে,পুন যে জায়গা হতে শুরু করেছিল, নিয়ে আসতে হবে,এই সর্ত।* *অপরদিকে কংস কৃষ্ণকে বিনষ্ট করবার জন‍্য প্রলম্বাসুর কে পাঠাল,প্রলম্বাসুর ইচ্ছারূপধারী ছিল,যেকোন সময় যে কারোর রূপ ধারণ করতে পারত।* *গোপবালকরূপ ধারণ করে কৃষ্ণের দলে প্রবেশ করল,এবং খেলায় কৃষ্ণের হার হল,এবার কাঁধে করে নিয়ে যাবার পালা।* *অসুর যে রূপ ধরেছিল তার কাঁধে বলরাম চাপলেন,* *প্রলম্বাসুর বলদেবের দুইচরণ বক্ষে চেপে এমনভাবে ধরল যে বলরাম মনে করলে ইচ্ছে মত কাঁধ হতে নামতে পারবেন না।* *এবারে প্রলম্ব বলরামকে কাঁধে নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে লাগল,বলরামের মনে সন্দেহ হল,কে এই রাখাল?আমাকে নিয়ে এতজোড়ে ছুটছে,না,* *নিশ্চয় কোন গন্ডগোল আছে।* *তখন বলরাম নিজ দেহকে সুমেরুপর্বত সম ভার করলেন,তখন বহন করতে সক্ষম হল না,তখন অসুর নিজ মূর্তিতে প্রকট হল,সেই ভীষণ প্রকান্ড আকৃতি,* *প্রজ্বলিত আগুনের মত উগ্রতেজ চোখ,অগ্নিবর্ণ চেহারা, এইরকম চেহারা দেখে বলরাম চিৎকার করে উঠলে কৃষ্ণ শুনতে পেয়ে দাদাকে ইঙ্গিত করলেন,আর বললেন,তুমি আর আমি অভিন্ন,উপযুক্ত শাস্তি দাও।* *দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্রাঘাতে যেমন পর্বতশৃঙ্গ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়,সেইরকম বলরামের মুষ্ট‍্যাঘাতে প্রলম্বাসুরের মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।* *এই খবর কংস পেয়ে আরো অন‍্যান‍্য অসুরকে পাঠিয়ে বনে আগুন লাগিয়ে সকলকে দগ্ধ করে মারতে চাইল।*
*🌼কালানল ভক্ষণের প্রথম পদ🌼*
*কাল জ‍্যৈষ্ঠ মাস,মলয় বাতাস,*
        *বিহরয়ে সমীরণ।*
*পবন হিল্লোলে,বেগে অগ্নি খেলে,*
        *শিখা পরশে গগন।।*
*বর্ণ দেখি কালো,নামে কালানল,*
        *সাক্ষাৎ কাল সমান।*
*দেখি শিশুগণ,করেন রোদন,*
       *এইবারে গেল পরাণ।।*
*ডাকে উচ্চৈঃস্বরে,প্রাণ গদাধরে,*
      *কোথা গেলিরে কানাই।*
*দারুণ আগুনে,পুড়ি সর্বজনে,*
      *এস প্রাণদাতা ভাই।।*
*তুই রক্ষয়িতা,তুই প্রাণদাতা,*
      *তুই সঙ্কট মোচন।*
*তোরহি কারণ,আসি গোচারণ,*
      *নির্ভয়েতে সর্বজন।।*
*মোদের পরাণ,গেল সব প্রাণ,*
      *বিলম্ব নাহিক আর।*
*শীঘ্র এস ভাই,বাঁচাও কানাই,*
     *অগ্নি হতে কর পার।।*
*শিশু বৎসগণে,যমুনা পুলিনে,*
     *বেড়িল কাল অগিনি।*
*তর নাহি সহে,কৃষ্ণ দাস কহে,*
     *তুই রক্ষাকর্তা জানি।।*

*🌻🌻প্রলম্বাসুর বিনাশের পর কৃষ্ণ,বলরাম সুবলাদি গোপসখাদের নিয়ে পরমানন্দে আগের মত বাল‍্যলীলারসে মত্ত হলেন।* *খেলা রসে এমন বিভোর হয়ে গেছেন যে বাহ‍্যজ্ঞান নাই।* *সকলে বাল‍্যখেলায় আত্মহারা,সেই সময়ে তাঁদের গো,বৃষ,বৎস প্রভৃতি পালনীয় পশুগণ কাছের তৃণপূর্ণ জায়গা ছেড়ে তৃণভক্ষণ করতে করতে ক্রমশ নতুন তৃণ লোভে বন হতে বনান্তরে অগ্রসর হতে হতে দূর গভীর বনে চলে গেছে।* *গ্রীষ্মকালীন বনবহ্নির তাপে দগ্ধপ্রায় হয়ে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতে লাগল।* *সেই চিৎকার শুনে কৃষ্ণ ও গোপবালকগণ যেখানে গো-বৎসগণ তৃণ খাচ্ছিল,সেখানে নাই, কোথায় গেল?কোথায় যেতে পারে ভাবতে লাগলেন।* *নিজেরা নিজেদের মধ‍্যে বলাবলি করতে লাগলেন,আমরা বহুদিন যাবৎ গোচারণে আসি এইরকম কোনদিন হয়নি।* *তখন কৃষ্ণ-বলরাম চিন্তান্বিত হয়ে গোবৎসগণকে খুঁজবার জন‍্য বনে বনে খুঁজতে লাগলেন।* *কৃষ্ণ গাভীগণের নাম ধরে ডাকতে লাগলেন,গোগণ কৃষ্ণকন্ঠধ্বনি শুনে পরমানন্দে বিভোর হল,এবং হাম্বারবে উত্তর দিল।* *দূর হতে কৃষ্ণকে দেখে উর্ধগ্রীবায় ধাবিত হতে চেষ্টা করিল; কিন্তু ঘন ও সুদীর্ঘ শরবৃক্ষ গভীর বনের মধ্যে এমনভাবে আটকে গেল,* *যে পথহারা হয়ে পড়ল।*

*🌻সংসারকানন ঢুকে জীবগণ যদি কোনও ভাগ‍্যবলে ও অকপট সাধনানুষ্ঠানের ফলে প্রতি পদে পদে কৃষ্ণের ডাক শুনতে পাই,তথাপি যেমন স্ত্রী-পুত্র-পরিজনাদির মায়া সম্বন্ধ বন্ধন ছেড়ে চলে যেতে পারে না; অথচ অন্ততের ব‍্যাকুলতায় সর্বদা মন ছুটাছুটি করে ও "হে কৃষ্ণ!কৃপা করো" বলে নিরন্তর দৈন‍্য প্রকাশ করে।🌻

🌻* *গো বৎসগণেরও একই অবস্থা হল।* *শরবনের মধ্যে চরমভাবে আটকে গেছে।* *তারপর সেই শরবনে গোপবালকগণ প্রবেলশ করে এক এক করে সকল গোবৎসগণদের বাহির করে এনে মিলিত করলেন।*
*তারপর সকল সখাগণ বললেন ভাই কৃষ্ণ!আজ আমরা কোন অশুভ মুহূর্তে বন যাত্রা করেছিলাম,আজ আর খেলা বাদ দিয়ে গৃহের দিকে চল।* *আবার কোন নতুন বিপদ না উপস্থিত হয়।* *তখন সকলকে সঙ্গে নিয়ে গভীর বন হতে গৃহের দিকে বেড়োনোর প্রস্তুত হচ্ছেন,এমন সময়ে হঠাৎ বনের ভিতর প্রচন্ড বনবহ্নি জ্বলে উঠল।* *দেখতে দেখতে শত শত শিখা বিস্তার করে গোপবালক ও গোবৎসগণ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।* *গরমকালের মৃদুমন্দ বাতাসে আগুন বৃক্ষ লতা সবকে ভস্ম করতে লাগল।* *সকল সখাগণ ও গোবৎসগণ অত‍্যন্ত ভীত ও জীবন রক্ষা পাবার জন্য ব‍্যস্ত হয়ে উঠল।* *🌻

🌻মৃত‍্যু ভয় পীড়িত ব‍্যক্তিগণ যেমন সর্বভয় হারী হরির চরণে শরণাগত হয়🌻

🌻* *সেইরকম সকলে "রক্ষ" "রক্ষ"* *বলে আর্তনাদ করতে করতে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের শরণাগত হল।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ ও ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻*
 *কালানল হ'তে,রাখহ ত্বরিতে,*
          *কালিদহে গেল প্রাণ।*
*তাহে সর্বজনে,শিশু বৎসগণে,*
        *কৈলে তুমি পরিত্রাণ।।*
*তুমি বারে বারে,রাখহ সবারে,*
        *দারুণ অসুর হাতে।*
*রাখ এইবার, কর প্রতিকার,*
       *নহে মরি কালাগ্নিতে।।*
*কোথা হলধরে, ডাকি সকাতরে,*
      *এস এস কামপাল।*
*বৎসক মারিলে,ধেনুক বধিলে,*
      *সুখে ভুঞ্জাইলে তাল।।*
*প্রলম্ব অসুর,করিলে যে চূর,*
       *রাখিলে যতেক দায়।*
*এইবার রাখ, সঙ্গীগণে দেখ,*
      *নতুবা প্রাণ হারায়।।*
*হে রাম কানাই,তোমরা দুইভাই,*
     *আমাদের প্রাণদাতা।*
*সবে উর্ধমুখে, এ মত ডাকে,*
    *ভয়ে হয়ে অস্থিরতা।।*
*কানাই বলাই,অন্তরে দুইভাই,*
    *ছাওয়াল সঙ্কট দেখি।*
*ধেনু বৎসগণ,পুড়ে সর্বজন,*
     *মোচনেতে পদ্মআঁখি।।*
*পারকর্তা তুমি,পার করহ তুমি,*
     *পারের পারি তুমি।*
*কৃষ্ণ দাস বলে,তুমি না রক্ষিলে,*
      *রসাতলে যাবে ভূমি।।*

*🌻গোপবালকগণ সেই তীব্র দাবানলে দগ্ধপ্রায় হয়ে তাঁদের একমাত্র অবলম্বনীয় কৃষ্ণ ও বলরামকে বলতে লাগলেন,হে কৃষ্ণ!তুমি মহাবীর্য‍্যশালী,তোমার প্রভাবের কথা আমাদের অজানা নয়।* *কালিয়দমন দিনে যমুনার উপকূল ভূমিতে যে দাবানল প্রজ্বলিত হয়েছিল,তা তুমিই নিবারণ করেছিলে।* *আজ আমরা সেইরকম দাবানলে দগ্ধ হয়ে তোমার শরণাগত হলাম,তুমি আমাদের রক্ষা কর।* *তুমি আমাদের সামনে কত কত অসুর নিধন করেছ,তা আমরা সচোক্ষে দেখেছি।* *এই কিছুক্ষণ পূর্বেই দাদা বলরাম তুমি এক মুষ্ট‍্যাঘাতে সেই মহাবল পরাক্রান্ত অসুরকে বিনাশ করেছ,অতএব আমাদের দাবানল হতে রক্ষা করা তোমার পক্ষে কিছু মাত্র কষ্টসাধ‍্য কিংবা অসম্ভব নহে।* *🌻

*🌻যে সময়ে সকল সখাগণ শরবন মধ্যে সকল পশুকে একত্রিত করলেন,সে সময়ে যেসমস্ত প্রলম্বসহচর কংসানুচর অসুরগণ অত‍্যল্প সময়ের মধ্যে বলরামের হাতে প্রলম্বসুরের মৃত‍্যু দেখেছিল।* *তারা সুযোগ বুঝে কৃষ্ণের সাথে শত্রুতা করবার জন্য তাড়াতাড়ি শরবন ঘিরে ধরল,এমনভাবে আগুন জ্বালিয়ে দিল যে মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত বন দাঁউদাঁউ করে জ্বলে উঠে 🌻*

*🌻দাবানলে দগ্ধপ্রায় গোপবালকগণ,এইভাবে কৃষ্ণ ও বলরামের শরণাপন্ন হয়ে পুনঃপুনঃ আত্মরক্ষার জন্য ব‍্যাকুলতা প্রকাশ করে বললেন,হে সখা কৃষ্ণ!তুমি মোদের রক্ষা কর।*

*🌻🌻গর্গাচার্য‍্য বলেছেন=যত্র তস্মিন মহাভাগে প্রীতিং কুর্বন্তি মানবাঃ।নারয়োহতিভবন্ত‍্যেতান্ বিষ্ণু-*
*পক্ষানিবাসুরাঃ।। অর্থ‍্যাৎ=* *নন্দনন্দন কৃষ্ণকে যারা ভালবাসবে,তাদেরকে কোন শত্রুই কখনও পরাভূত করতে পারবে না* *বিষ্ণুপক্ষাশ্রিত ব‍্যক্তিগণের নিকটে যেমন আসুর পরাক্রম ব‍্যর্থ হয়,সেইরকম নন্দপুত্রের আশ্রিত ব‍্যক্তিগণও সর্ব বিপদ হতে অনায়াসে মুক্তি লাভ করে।🌻🌻*

*সখাগণ বলছেন,হে কৃষ্ণ!আমরা তোমার আশ্রিত হয়েও কি দাবানলে দগ্ধ হয়ে প্রাণত‍্যাগ করব? তুমি বিনা আমাদের অন‍্য গতি নাই এবং আমরাও তোমাকে ভিন্ন আর কিছুই জানি না।* *সখাগণের এইরকম ব‍্যাকুলতা দেখে কৃষ্ণ আর স্থির থাকতে পারলেন না,তখনই দাবানল নির্বাপণের জন্য মন স্থির করলেন।********************************
*🌻🌻তৃতীয় পদ🌻🌻*
*দেখি কালানল,সাক্ষাতেতে কাল,*
       *অনন্ত রূপ ধরিল।*
*তবে নারায়ণ,করিয়া ভক্ষণ,*
      *কালানল নিবারিল।।*
*অনন্ত মূরতি,হয়ে যদুপতি,*
     *কালানল কৈল পান।*
*মহাগ্নি হইতে,বৎস যূথে যূথে,*
     *শিশু পাই পরিত্রাণ।।*
*লাফে লাফে ধায়,গৃহ পথে যায়,*
     *ছাড়িল সে কানন।*
*যত শিশুগণ, আনন্দিত মন,*
      *দুই ভাইয়ে করে নতি।*
*পুরাণ প্রমাণ,কৃষ্ণ দাস ভাণ,*
       *তোমা চরণে রহে মতি।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ বললেন,এই সমস্ত গোপবালকগণ আমার আত্মা হতেও প্রিয়।* *হায়!এরা দাবানল দেখে অত‍্যন্ত ভীত হয়েছে,অতএব আমি এখনই দুষ্ট দাবানলকে উদরস্থ করব।সাক্ষাৎ কালান্তক যম হোক কিংবা প্রলয়কর্তা রুদ্রই হোক,আমার সখাগণদের কেহই অনিষ্ট করতে পারবে না।* *কৃষ্ণ মনে মনে বলছেন,আমি যদি তাদের সামনে দাবানল ভক্ষণ করি,আমাকে অন‍্য রকম ভাববে,এইকথা মনে করে তাদের বললেন,হে সখাগণ!তোমরা ভয় পেও না,আমি এখনই তোমাদের ভয় মুক্ত করব।* *তোরা সকলেই কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ কর।* *কৃষ্ণের কথা শুনে পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন যে,পরমকৌতুকপ্রিয় কৃষ্ণ আমাদের কে চোখ বন্ধ করতে বলছে কেন?* *আরেকজন বললেন,কৃষ্ণ যখন বলেছে তাই কর।* *কালিয়দমনের দিন গভীর রাত্রে প্রচন্ড দাবানল শান্ত করেছিল।* *সকলে চোখ বুজল, তৎক্ষণাৎ তাঁর অচিন্ত‍্যমহাশক্তি প্রভাবে মহাজলধরতুল‍্য এক প্রকান্ড বিগ্রহের আবির্ভাব হল।* *কৃষ্ণ তখন সেই বিরাট বদন ব‍্যাদান(বিস্তার) করে অনায়াসে সেই সর্বভক্ষক হুতাশনকে ভক্ষণ করলেন।* *তারপর কৃষ্ণ সমহিমায় ফিরে সখাগণদের বললেন,তোদের আর কোন ভয় নাই, চোখ খুলে দেখলেন আগুনের বিন্দুমাত্র কোন চিহ্ন নাই।* *তারপর মনের আনন্দে সকলে গৃহে ফিরে এলেন।*
*এখানেই রহিল,*

*কালানল ভক্ষণ লীলা*
*দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের অসুখ হয়েছে।* *এ রোগের চিকিৎসা কী,জিজ্ঞেস করলেন দেবর্ষি নারদ।* *শ্রীকৃষ্ণ বললেন, কোনো ভক্ত যদি তার পায়ের ধূলো আমার মাথায় দেয়, ভালো হতে পারি।* *যে দেবর্ষি নারদ এত বড় ভক্ত,সেও পিছু হটল।* *শ্রীকৃষ্ণের ষোল হাজার মহিষী,প্রত‍্যেকের কাছে গিয়ে হাত পাতল,তোমাদের চরণের ধূলি দাও,এই ধূলি মাথায় দিলে শ্রীকৃষ্ণের রোগ দূরীভূত হবে, সে কি কথা?স্বামীকে কী করে পায়ের ধূলো দিব?তাতে আমাদের পত্নীধর্ম নষ্ট হবে না?* *না,পারব না ধূলোদিতে।* *নারদ মুনি তখন ব্রজে গেলেন।* *নারদকে দেখে ব্রজাঙ্গনাগণ চঞ্চল হয়ে উঠলেন,বললেন,কী উদ্দেশ্য নিয়ে ব্রজে আগমন? দেবর্ষি বললেন,আমাদের কৃষ্ণের অসুখ?আমরা কি তার ভক্ত?আমাদের চরণ ধূলোতে কী কাজ হবে?তবুও বলছি,* *আমাদের চরণ ধূলিতে যদি কৃষ্ণ ভাল হয়,দিব আমাদের পায়ের ধূলো।* *যদি পাপ হয় হোক,অধর্ম হয় হোক, আমাদের পাপ,অধর্ম হবে হোক,আমাদের পাপে,আমাদের অধর্মেও যদি কৃষ্ণ সুখী হয়,আমরা সে পাপ,সে অধর্ম করব হাসিমুখে।* *জীবনে আর আমাদের ব্রতী কী?সেবা দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে সর্বতোভাবে সুখী করাই আমাদের ব্রত।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ ৬০. কালানল ভক্ষণ লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
গৌরচন্দ্রিকা
*শ্রীবাসের অঙ্গনে গোরা ভক্তগণ লয়ে।*
*মহানন্দে বাহু তুলে সংকীর্তন করয়ে।।*
*আচম্বিতে চারিদিকে অন্ধকার দেখে।*
*উচ্চৈঃস্বরে ভক্তগণ শ্রীহরিরে ডাকে।।*
*চতুর্দিকে ভক্তগণ বলেন হরি হরি*
*রক্ষা করহ মোদের গোলোকবিহারী।।*
*অতি বিসময় মূরতী গোরা করিয়া ধারণ।*
*লোচন কহে সকলেরে করিলা রক্ষণ।।*
*যেজন করয়ে মোর গোরার ভজন।*
*অচিরে পাই সে রাধাগোবিন্দের চরণ।।*

 *ব্রজ লীলা কালানল ভক্ষণ* *কেন বনে দাবানল লেগেছিল? সেই বিষয় বস্তু সামান্য লিপিবদ্ধ করব।*
*গো-বৎসগণদের বনের তৃণ ক্ষেত্র দেখে সমস্ত গো-বৎসগণদের ছেড়ে দিয়ে কৃষ্ণ বলরাম বললেন,চল আমরা খেলা করি।*কৃষ্ণের একটি দল,বলরামের একটি দল,কথা হল যে দল খেলায় হারবে,* *সেই দলের কেউ জয়ী দলের কেউকে ভান্ডীরকবটতল পর্যন্ত কাঁধে করে নিয়ে যাবে,পুন যে জায়গা হতে শুরু করেছিল, নিয়ে আসতে হবে,এই সর্ত।* *অপরদিকে কংস কৃষ্ণকে বিনষ্ট করবার জন‍্য প্রলম্বাসুর কে পাঠাল,প্রলম্বাসুর ইচ্ছারূপধারী ছিল,যেকোন সময় যে কারোর রূপ ধারণ করতে পারত।* *গোপবালকরূপ ধারণ করে কৃষ্ণের দলে প্রবেশ করল,এবং খেলায় কৃষ্ণের হার হল,এবার কাঁধে করে নিয়ে যাবার পালা।* *অসুর যে রূপ ধরেছিল তার কাঁধে বলরাম চাপলেন,* *প্রলম্বাসুর বলদেবের দুইচরণ বক্ষে চেপে এমনভাবে ধরল যে বলরাম মনে করলে ইচ্ছে মত কাঁধ হতে নামতে পারবেন না।* *এবারে প্রলম্ব বলরামকে কাঁধে নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে লাগল,বলরামের মনে সন্দেহ হল,কে এই রাখাল?আমাকে নিয়ে এতজোড়ে ছুটছে,না,* *নিশ্চয় কোন গন্ডগোল আছে।* *তখন বলরাম নিজ দেহকে সুমেরুপর্বত সম ভার করলেন,তখন বহন করতে সক্ষম হল না,তখন অসুর নিজ মূর্তিতে প্রকট হল,সেই ভীষণ প্রকান্ড আকৃতি,* *প্রজ্বলিত আগুনের মত উগ্রতেজ চোখ,অগ্নিবর্ণ চেহারা, এইরকম চেহারা দেখে বলরাম চিৎকার করে উঠলে কৃষ্ণ শুনতে পেয়ে দাদাকে ইঙ্গিত করলেন,আর বললেন,তুমি আর আমি অভিন্ন,উপযুক্ত শাস্তি দাও।* *দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্রাঘাতে যেমন পর্বতশৃঙ্গ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়,সেইরকম বলরামের মুষ্ট‍্যাঘাতে প্রলম্বাসুরের মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।* *এই খবর কংস পেয়ে আরো অন‍্যান‍্য অসুরকে পাঠিয়ে বনে আগুন লাগিয়ে সকলকে দগ্ধ করে মারতে চাইল।*
*🌼কালানল ভক্ষণের প্রথম পদ🌼*
*কাল জ‍্যৈষ্ঠ মাস,মলয় বাতাস,*
        *বিহরয়ে সমীরণ।*
*পবন হিল্লোলে,বেগে অগ্নি খেলে,*
        *শিখা পরশে গগন।।*
*বর্ণ দেখি কালো,নামে কালানল,*
        *সাক্ষাৎ কাল সমান।*
*দেখি শিশুগণ,করেন রোদন,*
       *এইবারে গেল পরাণ।।*
*ডাকে উচ্চৈঃস্বরে,প্রাণ গদাধরে,*
      *কোথা গেলিরে কানাই।*
*দারুণ আগুনে,পুড়ি সর্বজনে,*
      *এস প্রাণদাতা ভাই।।*
*তুই রক্ষয়িতা,তুই প্রাণদাতা,*
      *তুই সঙ্কট মোচন।*
*তোরহি কারণ,আসি গোচারণ,*
      *নির্ভয়েতে সর্বজন।।*
*মোদের পরাণ,গেল সব প্রাণ,*
      *বিলম্ব নাহিক আর।*
*শীঘ্র এস ভাই,বাঁচাও কানাই,*
     *অগ্নি হতে কর পার।।*
*শিশু বৎসগণে,যমুনা পুলিনে,*
     *বেড়িল কাল অগিনি।*
*তর নাহি সহে,কৃষ্ণ দাস কহে,*
     *তুই রক্ষাকর্তা জানি।।*

*🌻🌻প্রলম্বাসুর বিনাশের পর কৃষ্ণ,বলরাম সুবলাদি গোপসখাদের নিয়ে পরমানন্দে আগের মত বাল‍্যলীলারসে মত্ত হলেন।* *খেলা রসে এমন বিভোর হয়ে গেছেন যে বাহ‍্যজ্ঞান নাই।* *সকলে বাল‍্যখেলায় আত্মহারা,সেই সময়ে তাঁদের গো,বৃষ,বৎস প্রভৃতি পালনীয় পশুগণ কাছের তৃণপূর্ণ জায়গা ছেড়ে তৃণভক্ষণ করতে করতে ক্রমশ নতুন তৃণ লোভে বন হতে বনান্তরে অগ্রসর হতে হতে দূর গভীর বনে চলে গেছে।* *গ্রীষ্মকালীন বনবহ্নির তাপে দগ্ধপ্রায় হয়ে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতে লাগল।* *সেই চিৎকার শুনে কৃষ্ণ ও গোপবালকগণ যেখানে গো-বৎসগণ তৃণ খাচ্ছিল,সেখানে নাই, কোথায় গেল?কোথায় যেতে পারে ভাবতে লাগলেন।* *নিজেরা নিজেদের মধ‍্যে বলাবলি করতে লাগলেন,আমরা বহুদিন যাবৎ গোচারণে আসি এইরকম কোনদিন হয়নি।* *তখন কৃষ্ণ-বলরাম চিন্তান্বিত হয়ে গোবৎসগণকে খুঁজবার জন‍্য বনে বনে খুঁজতে লাগলেন।* *কৃষ্ণ গাভীগণের নাম ধরে ডাকতে লাগলেন,গোগণ কৃষ্ণকন্ঠধ্বনি শুনে পরমানন্দে বিভোর হল,এবং হাম্বারবে উত্তর দিল।* *দূর হতে কৃষ্ণকে দেখে উর্ধগ্রীবায় ধাবিত হতে চেষ্টা করিল; কিন্তু ঘন ও সুদীর্ঘ শরবৃক্ষ গভীর বনের মধ্যে এমনভাবে আটকে গেল,* *যে পথহারা হয়ে পড়ল।*

*🌻সংসারকানন ঢুকে জীবগণ যদি কোনও ভাগ‍্যবলে ও অকপট সাধনানুষ্ঠানের ফলে প্রতি পদে পদে কৃষ্ণের ডাক শুনতে পাই,তথাপি যেমন স্ত্রী-পুত্র-পরিজনাদির মায়া সম্বন্ধ বন্ধন ছেড়ে চলে যেতে পারে না; অথচ অন্ততের ব‍্যাকুলতায় সর্বদা মন ছুটাছুটি করে ও "হে কৃষ্ণ!কৃপা করো" বলে নিরন্তর দৈন‍্য প্রকাশ করে।🌻

🌻* *গো বৎসগণেরও একই অবস্থা হল।* *শরবনের মধ্যে চরমভাবে আটকে গেছে।* *তারপর সেই শরবনে গোপবালকগণ প্রবেলশ করে এক এক করে সকল গোবৎসগণদের বাহির করে এনে মিলিত করলেন।*
*তারপর সকল সখাগণ বললেন ভাই কৃষ্ণ!আজ আমরা কোন অশুভ মুহূর্তে বন যাত্রা করেছিলাম,আজ আর খেলা বাদ দিয়ে গৃহের দিকে চল।* *আবার কোন নতুন বিপদ না উপস্থিত হয়।* *তখন সকলকে সঙ্গে নিয়ে গভীর বন হতে গৃহের দিকে বেড়োনোর প্রস্তুত হচ্ছেন,এমন সময়ে হঠাৎ বনের ভিতর প্রচন্ড বনবহ্নি জ্বলে উঠল।* *দেখতে দেখতে শত শত শিখা বিস্তার করে গোপবালক ও গোবৎসগণ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।* *গরমকালের মৃদুমন্দ বাতাসে আগুন বৃক্ষ লতা সবকে ভস্ম করতে লাগল।* *সকল সখাগণ ও গোবৎসগণ অত‍্যন্ত ভীত ও জীবন রক্ষা পাবার জন্য ব‍্যস্ত হয়ে উঠল।* *🌻

🌻মৃত‍্যু ভয় পীড়িত ব‍্যক্তিগণ যেমন সর্বভয় হারী হরির চরণে শরণাগত হয়🌻

🌻* *সেইরকম সকলে "রক্ষ" "রক্ষ"* *বলে আর্তনাদ করতে করতে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের শরণাগত হল।*
 *🌻🌻দ্বিতীয় পদ ও ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻*
 *কালানল হ'তে,রাখহ ত্বরিতে,*
          *কালিদহে গেল প্রাণ।*
*তাহে সর্বজনে,শিশু বৎসগণে,*
        *কৈলে তুমি পরিত্রাণ।।*
*তুমি বারে বারে,রাখহ সবারে,*
        *দারুণ অসুর হাতে।*
*রাখ এইবার, কর প্রতিকার,*
       *নহে মরি কালাগ্নিতে।।*
*কোথা হলধরে, ডাকি সকাতরে,*
      *এস এস কামপাল।*
*বৎসক মারিলে,ধেনুক বধিলে,*
      *সুখে ভুঞ্জাইলে তাল।।*
*প্রলম্ব অসুর,করিলে যে চূর,*
       *রাখিলে যতেক দায়।*
*এইবার রাখ, সঙ্গীগণে দেখ,*
      *নতুবা প্রাণ হারায়।।*
*হে রাম কানাই,তোমরা দুইভাই,*
     *আমাদের প্রাণদাতা।*
*সবে উর্ধমুখে, এ মত ডাকে,*
    *ভয়ে হয়ে অস্থিরতা।।*
*কানাই বলাই,অন্তরে দুইভাই,*
    *ছাওয়াল সঙ্কট দেখি।*
*ধেনু বৎসগণ,পুড়ে সর্বজন,*
     *মোচনেতে পদ্মআঁখি।।*
*পারকর্তা তুমি,পার করহ তুমি,*
     *পারের পারি তুমি।*
*কৃষ্ণ দাস বলে,তুমি না রক্ষিলে,*
      *রসাতলে যাবে ভূমি।।*

*🌻গোপবালকগণ সেই তীব্র দাবানলে দগ্ধপ্রায় হয়ে তাঁদের একমাত্র অবলম্বনীয় কৃষ্ণ ও বলরামকে বলতে লাগলেন,হে কৃষ্ণ!তুমি মহাবীর্য‍্যশালী,তোমার প্রভাবের কথা আমাদের অজানা নয়।* *কালিয়দমন দিনে যমুনার উপকূল ভূমিতে যে দাবানল প্রজ্বলিত হয়েছিল,তা তুমিই নিবারণ করেছিলে।* *আজ আমরা সেইরকম দাবানলে দগ্ধ হয়ে তোমার শরণাগত হলাম,তুমি আমাদের রক্ষা কর।* *তুমি আমাদের সামনে কত কত অসুর নিধন করেছ,তা আমরা সচোক্ষে দেখেছি।* *এই কিছুক্ষণ পূর্বেই দাদা বলরাম তুমি এক মুষ্ট‍্যাঘাতে সেই মহাবল পরাক্রান্ত অসুরকে বিনাশ করেছ,অতএব আমাদের দাবানল হতে রক্ষা করা তোমার পক্ষে কিছু মাত্র কষ্টসাধ‍্য কিংবা অসম্ভব নহে।* *🌻

*🌻যে সময়ে সকল সখাগণ শরবন মধ্যে সকল পশুকে একত্রিত করলেন,সে সময়ে যেসমস্ত প্রলম্বসহচর কংসানুচর অসুরগণ অত‍্যল্প সময়ের মধ্যে বলরামের হাতে প্রলম্বসুরের মৃত‍্যু দেখেছিল।* *তারা সুযোগ বুঝে কৃষ্ণের সাথে শত্রুতা করবার জন্য তাড়াতাড়ি শরবন ঘিরে ধরল,এমনভাবে আগুন জ্বালিয়ে দিল যে মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত বন দাঁউদাঁউ করে জ্বলে উঠে 🌻*

*🌻দাবানলে দগ্ধপ্রায় গোপবালকগণ,এইভাবে কৃষ্ণ ও বলরামের শরণাপন্ন হয়ে পুনঃপুনঃ আত্মরক্ষার জন্য ব‍্যাকুলতা প্রকাশ করে বললেন,হে সখা কৃষ্ণ!তুমি মোদের রক্ষা কর।*

*🌻🌻গর্গাচার্য‍্য বলেছেন=যত্র তস্মিন মহাভাগে প্রীতিং কুর্বন্তি মানবাঃ।নারয়োহতিভবন্ত‍্যেতান্ বিষ্ণু-*
*পক্ষানিবাসুরাঃ।। অর্থ‍্যাৎ=* *নন্দনন্দন কৃষ্ণকে যারা ভালবাসবে,তাদেরকে কোন শত্রুই কখনও পরাভূত করতে পারবে না* *বিষ্ণুপক্ষাশ্রিত ব‍্যক্তিগণের নিকটে যেমন আসুর পরাক্রম ব‍্যর্থ হয়,সেইরকম নন্দপুত্রের আশ্রিত ব‍্যক্তিগণও সর্ব বিপদ হতে অনায়াসে মুক্তি লাভ করে।🌻🌻*

*সখাগণ বলছেন,হে কৃষ্ণ!আমরা তোমার আশ্রিত হয়েও কি দাবানলে দগ্ধ হয়ে প্রাণত‍্যাগ করব? তুমি বিনা আমাদের অন‍্য গতি নাই এবং আমরাও তোমাকে ভিন্ন আর কিছুই জানি না।* *সখাগণের এইরকম ব‍্যাকুলতা দেখে কৃষ্ণ আর স্থির থাকতে পারলেন না,তখনই দাবানল নির্বাপণের জন্য মন স্থির করলেন।********************************
*🌻🌻তৃতীয় পদ🌻🌻*
*দেখি কালানল,সাক্ষাতেতে কাল,*
       *অনন্ত রূপ ধরিল।*
*তবে নারায়ণ,করিয়া ভক্ষণ,*
      *কালানল নিবারিল।।*
*অনন্ত মূরতি,হয়ে যদুপতি,*
     *কালানল কৈল পান।*
*মহাগ্নি হইতে,বৎস যূথে যূথে,*
     *শিশু পাই পরিত্রাণ।।*
*লাফে লাফে ধায়,গৃহ পথে যায়,*
     *ছাড়িল সে কানন।*
*যত শিশুগণ, আনন্দিত মন,*
      *দুই ভাইয়ে করে নতি।*
*পুরাণ প্রমাণ,কৃষ্ণ দাস ভাণ,*
       *তোমা চরণে রহে মতি।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ বললেন,এই সমস্ত গোপবালকগণ আমার আত্মা হতেও প্রিয়।* *হায়!এরা দাবানল দেখে অত‍্যন্ত ভীত হয়েছে,অতএব আমি এখনই দুষ্ট দাবানলকে উদরস্থ করব।সাক্ষাৎ কালান্তক যম হোক কিংবা প্রলয়কর্তা রুদ্রই হোক,আমার সখাগণদের কেহই অনিষ্ট করতে পারবে না।* *কৃষ্ণ মনে মনে বলছেন,আমি যদি তাদের সামনে দাবানল ভক্ষণ করি,আমাকে অন‍্য রকম ভাববে,এইকথা মনে করে তাদের বললেন,হে সখাগণ!তোমরা ভয় পেও না,আমি এখনই তোমাদের ভয় মুক্ত করব।* *তোরা সকলেই কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ কর।* *কৃষ্ণের কথা শুনে পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন যে,পরমকৌতুকপ্রিয় কৃষ্ণ আমাদের কে চোখ বন্ধ করতে বলছে কেন?* *আরেকজন বললেন,কৃষ্ণ যখন বলেছে তাই কর।* *কালিয়দমনের দিন গভীর রাত্রে প্রচন্ড দাবানল শান্ত করেছিল।* *সকলে চোখ বুজল, তৎক্ষণাৎ তাঁর অচিন্ত‍্যমহাশক্তি প্রভাবে মহাজলধরতুল‍্য এক প্রকান্ড বিগ্রহের আবির্ভাব হল।* *কৃষ্ণ তখন সেই বিরাট বদন ব‍্যাদান(বিস্তার) করে অনায়াসে সেই সর্বভক্ষক হুতাশনকে ভক্ষণ করলেন।* *তারপর কৃষ্ণ সমহিমায় ফিরে সখাগণদের বললেন,তোদের আর কোন ভয় নাই, চোখ খুলে দেখলেন আগুনের বিন্দুমাত্র কোন চিহ্ন নাই।* *তারপর মনের আনন্দে সকলে গৃহে ফিরে এলেন।*
*এখানেই রহিল,*

*কালানল ভক্ষণ লীলা*
*দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণের অসুখ হয়েছে।* *এ রোগের চিকিৎসা কী,জিজ্ঞেস করলেন দেবর্ষি নারদ।* *শ্রীকৃষ্ণ বললেন, কোনো ভক্ত যদি তার পায়ের ধূলো আমার মাথায় দেয়, ভালো হতে পারি।* *যে দেবর্ষি নারদ এত বড় ভক্ত,সেও পিছু হটল।* *শ্রীকৃষ্ণের ষোল হাজার মহিষী,প্রত‍্যেকের কাছে গিয়ে হাত পাতল,তোমাদের চরণের ধূলি দাও,এই ধূলি মাথায় দিলে শ্রীকৃষ্ণের রোগ দূরীভূত হবে, সে কি কথা?স্বামীকে কী করে পায়ের ধূলো দিব?তাতে আমাদের পত্নীধর্ম নষ্ট হবে না?* *না,পারব না ধূলোদিতে।* *নারদ মুনি তখন ব্রজে গেলেন।* *নারদকে দেখে ব্রজাঙ্গনাগণ চঞ্চল হয়ে উঠলেন,বললেন,কী উদ্দেশ্য নিয়ে ব্রজে আগমন? দেবর্ষি বললেন,আমাদের কৃষ্ণের অসুখ?আমরা কি তার ভক্ত?আমাদের চরণ ধূলোতে কী কাজ হবে?তবুও বলছি,* *আমাদের চরণ ধূলিতে যদি কৃষ্ণ ভাল হয়,দিব আমাদের পায়ের ধূলো।* *যদি পাপ হয় হোক,অধর্ম হয় হোক, আমাদের পাপ,অধর্ম হবে হোক,আমাদের পাপে,আমাদের অধর্মেও যদি কৃষ্ণ সুখী হয়,আমরা সে পাপ,সে অধর্ম করব হাসিমুখে।* *জীবনে আর আমাদের ব্রতী কী?সেবা দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে সর্বতোভাবে সুখী করাই আমাদের ব্রত।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৫৮. যমুনায় নৌকা বিহার 🌹 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_3.html

    ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৫৮. যমুনায় নৌকা বিহার ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
*🌻যমুনায় নৌকা বিহার গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^*
*না জানিয়ে গোরাচাঁদের কোন ভাব মনে।*
*সুরধূনী তীরে গেলা সহচর সনে।।*
*প্রিয় গদাধর আদি সঙ্গেতে করিয়া।*
*নৌকায় চড়িল গোরা প্রেমাবেশ হইয়া।।*
*আপনি কান্ডারী হয়ে বায় নৌকাখানি।*
*ডুবিল ডুবিল বলি সিঞ্চে সবে পানি।।*
*পারিষদগণ সবে হরি হরি বোলে।*
*পূরব সোঙরি কেহ ভাসে প্রেমজলে।।*
*গদাধর মুখ হেরি মৃদু মৃদু হাসে।*
*বাসুদেব ঘোষ কহে মনের উল্লাসে।।*

*🌻ভাবনিধি গোরাচাঁদের মনে যে কোন ভাব-এর উদয় হল তাহা বুঝা বড়ই কঠিন।* *তিনি কে আমরা পূর্বেই বহু কীর্তনীয়াগণের মুখে শুনেছি।*তিনি কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন তাহাও আমরা বহু শুনেছি তাইনা?* *তিনি দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে অবতরী হয়েছেন,এক,অন্তরঙ্গ ভাব বা মুখ‍্যভাব,দুই,বহিরঙ্গ ভাব বা গৌণ ভাব।* *বহিরঙ্গ ভাব হচ্ছে,জীবশিক্ষা,জীব উদ্ধার ও নাম প্রচার, অন্তরঙ্গ ভাব, প্রকাশ করেছিলেন গম্ভীরা কক্ষে।* *এই গম্ভীরা কক্ষে দীর্ঘ ১২ বৎসর সাড়ে তিনজন রসের পাত্রী নিয়ে ব্রজের অপ্রকট লীলা মহাপ্রভু প্রকট করেছিলেন।* *এই ব্রজের লীলার মূল রস সম্পদ গচ্ছিত ছিল শ্রীস্বরূপ দামোদর গোস্বামীর কাছে,মহাপ্রভুর অতি নিকটে থাকতেন স্বরূপ গোস্বামী, তার খানিক পেছনে রায় রামানন্দ।*
*পরবর্তীকালে ব্রজের লীলা স্বরূপ গোস্বামীই তাঁর অন্তরঙ্গ পার্ষদের প্রকাশ করেছিলেন।* *তাঁদের থেকে ধীরে ধীরে ব্রজলীলা প্রকাশ পায়।* *যাইহোক,পার্ষদগণ নিয়ে কৃষ্ণকথা আলাপন করতে করতে কি মনে হল যে তিনি প্রিয় গদাধরকে সঙ্গে নিয়ে সুরধূনীর তীরে এলেন।* *সেই সুরধূনীর তীরে একখানি নৌকা বাঁধা ছিল,ব্রজের ভাব-এ ভাবিত হয়ে মহাপ্রভু সেই নৌকায় চড়ে বসলেন।*মহাপ্রভুকে দর্শন করে মনে হল যেন তিনি* *শচীনন্দন গৌরহরি নহেন,তিনার ভাব-এ মনে হল তিনি* *যশোদানন্দন কৃষ্ণ স্বয়ং নৌকা বিহার করবার জন্য*
*নদীয়ায় অবতীর্ণ হয়েছেন।*

*এই সুরধূনীর তীরে মহাপ্রভু এলেন,সেই সুরধূনীর কথা আস্বাদন করুন।*

*🌼একটি তত্ত্ব,সুরধূনীর উৎপত্তি 🌼*
*সুরধূনীর উৎপত্তি বেশ কয়েকটি মত আছে।* *কোন গ্রন্থে পাওয়া যায় শ্রীনারায়ণের চরণ হতে উৎপত্তি,আবার শ্রীরাধাকৃষ্ণের চরণ হতে উৎপত্তি ইত‍্যাদি।* 
*শ্রীমদ্ভাগবতে পাওয়া যায়,নারদমুনি একদিন পথ দিয়ে হেঁটে চলেছেন,দেখলেন পথের মধ্যে বহু পুরুষ নারী বিকলাঙ্গ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।* *বিকট দৃশ্য,* *কারো কানকাটা,কারো নয়ন অন্ধ,কারো হাত ভাঙ্গা,কারো পা ভাঙ্গা,কারো দেহ ক্ষত বিক্ষত, এই দশা দেখে দেবর্ষি নারদ তাদের জিজ্ঞাসা করলেন তোমাদের এই দশা হল কেমন করে?* *তাঁরা বললেন,যে নিজেকে বিশাল সঙ্গীতজ্ঞ মনে করেন,* *সেই অপদার্থ।* *দেবর্ষি পুন জিজ্ঞাসা করলেন সে কে?* *তখন তাঁরা বললেন,যে মুখে সর্বদাই নারায়ণ,নারায়ণ বলে বটে,কিন্তু সুর,তাল,লয়,ছন্দ,মাত্রা জানে না,* *সেই মুর্খ নারদমুনি।* *দেবর্ষি শুনে কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে রইলেন।* *নিজ পরিচয় দিলেন না।* *কেবল বললেন,তাঁর অপরাধ,তাঁরা বললেন,যারা সুর,তাল,লয়, না জেনে গান গায় তাদের জন্য আজ আমাদের এই অবস্থা।* *আমরা ছয়রাগ,ছত্রিশ রাগিনী।* *একমাত্র নারদমুনির জন্য আমাদের এত কষ্ট।* *দেবর্ষি বললেন এর কি কোন প্রতিকার নেই?* *তাঁরা বললেন আছে।* *আমরা হয়ত অনেকেই জানি না যে স্বয়ং পঞ্চানন একজন সঙ্গীতজ্ঞ,তিনি যদি গীত পরিবেশন করেন তবে আমরা পুনঃ সুস্থ,সবল দেহ ফিরে পাব।* *দেবর্ষি বললেন,কোনো চিন্তার কারণ নেই,* *আমি গীত পরিবেশনের ব‍্যবস্থা করছি।* *দেবর্ষি নারদ কৈলাস পর্বতে গিয়ে দেবাদিদেব মহাদেবের সহিত সাক্ষাৎ করে গীত পরিবেশনের জন্য অনুরোধ করলেন।* *তিনি রাজি হলেন বটে,একটি সর্ত রাখলেন,কি?যদি লক্ষ্মী নারায়ণ আসেন,তবেই আমি গীত পরিবেশন করব।* *দেবর্ষি বললেন,কোন অসুবিধ হবে না,আমি প্রভুকে রাজি করাইব।* *তারপর নারায়ণ বললেন তুমি আমার সভায় সকলকে আমন্ত্রণ কর,* *শিব এলেন,ব্রহ্মা এলেন ও অন‍্যান‍্য দেব দেবীগণ এলেন।* *গীত শুরু হল,সেই গীতের আলাপে নারায়ণের সমস্ত দেহ দ্রবীভূত হতে লাগল,পাশে ছিলেন পদ্মাসন ব্রহ্মা,* *তিনি ভাবলেন এই দ্রবীভূত জল যদি পৃথিবীতে পড়ে তাহলে সমস্ত জলে জলাময় হয়ে যাবে।* *তাই তিনি নিজ কমন্ডলুতে সেই জল নিয়ে রাখলেন।* *অপরদিকে ছয়রাগ ছত্রিশ রাগিনী সুস্থ,সবল দেহ পুনঃ ফিরে পেলেন।* *সেই জল ভগীরথ নিয়ে এসেছিলেন।* *গঙ্গা নামে পরিচিতি হয়েছেন।* *(মাঝে অনেক ঘটনা আছে )* *শিব মস্তকে ধারণ করেছিলেন, কেন?গঙ্গা বলেছিলেন ভগীরথ তুমি আমায় পৃথিবীতে নিয়ে গেলে পৃথিবী আমার বেগ ধারণ করতে পারবে না।* *তারপর সেই গঙ্গা পাতালে গেলেন নাম ধারণ করলেন ভোগবতী।* *তারপর ভগীরথ এনেছিলেন বলিয়া ভাগীরথী।*
*অতঃপর ভগীরথের সঙ্গে এসে ত্রিবেণীতে যোগ হলেন,তারপর নাম হল গঙ্গা,যমুনা,সরস্বতী, ত্রিবেণী নামে পরিচিতি হলেন।* *অনন্তর পরে জহ্নুমুনি সমস্ত গঙ্গাজল পান করে অবশেষে জঙ্ঘা দিয়ে বাহির করবার পর জাহ্নবী নাম হল।* *এই সুরধূনী।*
*সুর মানে দেবতা,ধূনী মানে জল।*
    *ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*

*তুমি আমায় রক্ষা কর।* *তখন রাধারাণীর স্বপ্নের কথা মনে পড়ে গেল।* *(বৈষ্ণব পদাবলী,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়, ৯০০ পৃষ্ঠায় রাধার স্বপ্ন ও গৌরাঙ্গের আবির্ভাবের সূচনা পদ আছে।)* *পদটি লিখে দিচ্ছি।*
*নিধুবনে দুহুঁজনে,চৌদিকে সখিগণে,*
      *শুতিয়াছে রসের আলসে।*
*নিশিশেষে রসমুখী,উঠিলেন স্বপ্ন দেখি,*
     *কাঁদি কাঁদি কহেন বঁধূ পাশে।।*
*উঠ উঠ প্রাণনাথ,কি দেখিলাম অকস্মাৎ,*
     *একযুব গৌর বরণ।*
*কিবা তার রূপঠাম,জিনি কত কোটিকাম,*
      *রসরাজ রসের সদন।।*
*অশ্রু কম্প পুলকাদি,ভাব ভূষা নিরবধি,*
     *নাচে গায় মহামত্ত হৈয়া।*
*অনুপম রূপ দেখি,জুড়াইল মোর আঁখি,*
    *মন ধায় তাহারে দেখিয়া।।*
*নবজলধর রূপ,রসময় রসকূপ,*
     *ইহা বৈ না দেখি নয়নে।*
*তবে কেন বিপরীত,হেন হৈল আচম্বিত,*
     *কহ নাথ ইহার কারণে।।*
*চতুর্ভূজ আদি কত,বনের দেবতা যত,*
     *দেখিয়াছি এই বৃন্দাবনে।*
*তাহে তিরপিত মন,না হইল কদাচন,*
    *গৌরাঙ্গ হরিল মোর মনে।।*
*এতেক কহিতে ধনি,মূর্ছা প্রায় ভেল জানি,*
    *বিদগধ রসিক নাগর।*
*কোলেতে করিয়া বেড়ি,মুখ চুম্বে বেরি বেরি,*
      *হেরিয়া জগদানন্দ ভোর।।*
*রাধারাণী তখন ভাবলেন,আমার* *প্রাণবঁধূ যদি গৌরাঙ্গ হয়ে একাকী* *যায়,তাহলে না জানি কত* *কষ্ট পাবেন,*
*তাহা আমি সহ‍্য করতে পারব না,* *তখন রাধারাণী ধীরে ধীরে শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গে মিশে যাচ্ছিলেন,প্রায় বহু অংশ মিশে যাবার পর সখি ললিতা ও বিশাখা রাধাকে বললেন,রাধে!তুই যদি পরিপূর্ণ তোর বঁধূতে বিলীন হয়ে যাস,তাহলে তাঁর সেবা কে করবে?* *মহাভাবস্বরূপিনীর বাকী অংশ হতে পরে গদাধরের আবির্ভাব,* *কলিকালে গৌরাঙ্গের বাম ভাগে রইলেন, ও সেবা কার্য‍্য করলেন।* *এইভাবে রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু গৌরাঙ্গ হয়ে কলির জীবকে রক্ষা করলেন।*

*জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরি হরি হরিবল।*

*দেখা গেল এক এক করে বহুলোক মহাপ্রভুর তরণীতে পার হবার জন্য এলেন,মহাপ্রভুর মুখে প্রেমের কথা শুনে খুবই আনন্দ পেলেন,এবং নৌকায় চেপে বসলেন।* *কিছুক্ষণ বাদে সেই নৌকায় জল ঢুকে গেল,ডুবল ডুবল বলে যে যেমন অবস্থায় ছিল নিজের মত করে জলে সেচ করতে লাগল, আর অন‍্যান‍্য পারিষদগণ সকলে হরি হরি হরি বোলে নয়নজলে ভাসছেন।* *শ্রীমন্মাপ্রভু গদাধরের মুখ দেখে মৃদু মৃদু হাসছেন।* *পদকর্তা বাসুঘোষ মহাপ্রভুর এই ভাব দর্শন করে বলছেন,ধন‍্য তোমার লীলা,তোমার এই লীলা দর্শন করে আমার মনে ভীষণ আনন্দ হল।*
*গৌরচন্দ্রিকা এখানে রইল।*

 *বিবেক বৈরাগ‍্য দিয়া দু'গলুই করিল।*
*ধৈর্য‍্য তাহার উপর দাঁড়া করিল।।*
*আসক্তির তক্তা আনি তাহাতে জুড়িল।*
*লালসার পাতান লোহা তাহাতে গড়িল।।*
*নববিধা ভক্তি দিয়া নয়টি গুড়া দিল।*
*সরল সুবুদ্ধি দিয়া মাস্তুল গড়িল।।*
*মন রূপী পাল তাহে উড়াইয়া দিল।*সাধুসঙ্গ কাণি দড়ি চৌদিকে আঁটিল।।*
নৌকা গঠন তত্ব দ্বারা।----------------
শ্রী গোবিন্দ আমার সখাদের সঙ্গে গোচারণ করিতে করিতে সেই কথা মনে পড়েছে, কোন কথা,গোলোক বৃন্দাবনের কথা, ভাই সুবলকে ডেকে বললেন,ওরে ভাই সুবল সখা, আজ আমি যমুনার মনোআশা পূরণ করিব। তুই দাদা বলরামকে সাথে নিয়ে গোচারণ কর, আমি চলিলাম।
কৃষ্ণ মনে মনে ভাবছেন নৌকা বিহার করিবার জন্য একটি
নৌকার প্রয়োজন, নৌকা এখন কোথায় পাবো! শ্রীকৃষ্ণের মা যোগমায়ার কথা মনে পড়ে গেল,মা যোগমায়াকে স্মরণ
করলেন।(আপনারা আপনাদের মত করিয়া যোগমায়া
স্মরণ করিবেন) শ্রীকৃষ্ণের আহ্বানে মা যোগমায়া তপন তনয়া তটে উপনীত হইলেন। কৃষ্ণ বললেন বড় বিপদে পড়িয়া তোমায় আহ্বান করেছি। আমার একটি তরীর প্রয়োজন, যোগমায়া বললেন কি হবে তরী? আমি তরী লয়ে রাধারাণী কে সঙ্গে নিয়ে বিহার করিব। যোগমায়া বললেন কান্ডারী কে হবে? শ্রীকৃষ্ণ বললেন আমি হব, যোগমায়া বললেন, তুমি যদি কান্ডারী হও তবে আমি তরী হব। আমার বক্ষে তোমরা বিহার করবে। **তুমি যদি হও কান্ডারী, আমি হব দেহ তরী, ভাসিব যমুনার জলে, আমি ভাসিব-যমুনার জলে।
আঃ-আমি ভেসে ভেসে বেড়াব,
আমি রাধাশ‍্যামে বক্ষে লয়ে,ভেসে-----
জয়রাধে গোবিন্দ বলে।

#নৌকা তৈরী করিতে হইলে প্রথমে নৌকার দুই দিকের দুই মাথাকে সমান করে সুন্দর করে তৈরি করতে হবে। যেন দুই দিক ছোট বড় না হয়, যদি হয় নৌকা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে। এই দুই মাথাকে বলা হয় গলুই।তাহলে দুই দিকের দুই মাথা কি?

*পদ-- বিবেক বৈরাগ্য দিয়ে দু'গলুই করিল। 
তাহলে এই দুই গলুই হচ্ছে বিবেক বৈরাগ্য
আঃ- সাধনার আগে লাগে, বিবেক আর বৈরাগ্য, সাধনার---
আমাদের শরীরে যে শিরদাঁড়া রয়েছে তাহা আমাদের সোজা করিয়া রাখে, শিরদাঁড়া যদি একটু বাঁকা হয়ে যায়, তাহলেই আমার সোজা হয়ে চলতে পারব না।তেমনি নৌকা গঠনের জন্য দুই দিকের যে লম্বা কাঠ ,একটু হয়ে গেলে নৌকা সোজা চলবে না।সমত্ব চাই।
#সমত্ব সম্পর্কে কয়েকটি কথা।
আজকাল সম ব‍্যবহার নিয়ে খুব তর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু সমত্ব কাকে বলে এবং তাহা কেমন করে আসে বাস্তবিক এটি বুঝার প্রয়োজন আছে।সমত্ব কোন ছেলে খেলা নহে,এটি পরম আত্মার সাক্ষাৎ স্বরূপ।যার মন সমত্বে স্থির হয়, তিনি জীবিত অবস্থায় জগতে বিজয় লাভ করেন, এবং পরমাত্মাকে অনুভব করেন (গীতা-৫/১৯)
এই সমত্বভাব তখনই আসে,যখন অপরের দুঃখ নিজ দুঃখ, অপরের সুখ নিজ সুখ বলিয়া মনে হয়।
গীতায় ভগবান বলেছেন,হে অর্জুন! যে ব্যক্তি নিজ শরীরের ন‍্যায় আমাকে সবকিছুতেই সমান দেখে এবং সুখ ও দুঃখ কে সর্বত্র সম ভাবে দেখে, তাঁকেই
পরম শ্রেষ্ঠ যোগী বলিয়া মান‍্য হয়।(৬/৩২)
পদ-- আসক্তির তক্তা আনি তাহাতে জুড়িল।
আসক্তি কি? চৈতন্যচরিতামৃতে পায়----
কোন ভাগ‍্যে কোন জীবের শ্রদ্ধা যদি হয়।
তবে সেই জীব সাধু সঙ্গ যে করয়।।
সাধুসঙ্গ হৈতে হয় শ্রবণ কীর্তন।
সাধন ভক্তে হয় সর্বানর্থ নিবর্তন।।
অনর্থ নিবৃত্তি হৈতে ভক্তে নিষ্ঠা হয়।
নিষ্ঠা হৈতে শ্রবণাদ‍্যে রুচি উপজয়।।
রুচি হৈতে ভক্তে হয় আসক্তি প্রচুর।
আসক্তি হৈতে চিত্তে জন্মে কৃষ্ণে প্রীত‍্যঙকুর।।
*তাহলে প্রথমে শ্রদ্ধা,
শ্রদ্ধা হইতে সাধুসঙ্গ,
সাধুসঙ্গ হৈতে ভজন,
ভজন থেকে বিঘ্ননাশ,
বিঘ্ননাশেরপর নিষ্ঠা, 
নিষ্ঠার পররুচি,
রুচি হৈতে আসক্তি।
সেই আসক্তির তক্তা।(বুঝা গেল)
*আমাদের এখনো মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাই আসে নাই, আসক্তি তো বহু বহুদূর,তাইনা?
পদ-- আসক্তির তক্তা আনি তাহাতে জুড়িল।
লালসার পাতান লোহা তাহাতে গড়িল।।
নববিধা ভক্তি দিয়া নয়টি গুড়া দিল।
আজ এখানে থাকতো।

অতি সংক্ষেপে বিবেকের ব‍্যাখ‍্যা, বিবেক মানে  মানব হৃদয়ের মধ‍্যে থাকিয়া যে অনির্বচনীয় পদার্থ মানুষকে সৎ কাজে উৎসাহ এবং কূকাজে নিরুৎসাহ
দান করে,বা অন্তরের মধ‍্যে সৎকার্য হেতু সন্তোষ এবং কূকার্য হেতু গ্লানি উৎপাদন করে তাহাই বিবেক।
যেমন-- নিত‍্যানিত‍্য বস্তু বিচাতাহলে,উভয়ই স্থূল
জগতের বস্তুকে অসার জানিয়া তৎ-প্রতি আশা বা অভি-
লাষ ত‍্যাগ,ইহা প্রধানতঃ সংসারের অনিত‍্যতা, আবার প্রকৃতি হইতে পুরুষ, জগৎ হইতে ব্রহ্ম, অসৎ হইতে সৎ, পৃথক করণ সম‍্যক বিচার জনিত জ্ঞান, এবং মিথ‍্যার প্রতি অনাসক্তির ভাব বোধক, হিতাহিত বিবেচনা,ইহাই বিবেক।

বৈরাগ্য--বিষয়ের প্রতি অনাসক্ত, সংসার ত‍্যাগ,লোভ-লালসা বিহীন, এমন কি আত্ম বান্ধবদের মুখ দর্শন না করা।
আচার ব‍্যবহারে সম্পুন্ন রূপে সততাআনা,বদনে সদাই হরিনাম কীর্তন।
*আচারে বিরাগ হলে বৈরাগ্য গণন।
বৈরাগ্য না হয় শুধু কৌপিন ধারণ।।
না থাকে প্রকৃতি সঙ্গনাহি করে গৃহ।
সেই সে বৈরাগ্য ধর্ম অবশ‍্য জানিস।।
সপ্ত গৃহে ভিক্ষা মাত্র জীবন রক্ষণ।
সংক্ষেপে ইহলিখি বৈরাগ্য লক্ষণ।।
সদা সর্বদা যুগল চরণের চিন্তনের মধ‍্যেনিজেকে মগ্ন
রাখা,দেহ স্বরূপ তরীটি যেন এমন বিবেক বৈরাগ্য দ্বারা গঠন হয়,তবেই তো মানব জন্ম সফল।
পদ-- ধৈর্য্য তাহার উপর দাঁড়া করিল।।
আঃ- প্রাণে ধৈরজথাকা চাই,
ধরবে যদি প্রাণের কানাই, প্রাণে--------
নৌকার এই মাথা থেকে ঐমাথা পর্যন্ত যে মোটা কাষ্ঠ থাকে
তাকে বলে দাঁড়া।দাঁড়া মানে শিরদাঁড়া, যেমন আমাদের দেহ
কে শিরদাঁড়া সোজা করে রেখেছে, তেমনি নৌকার দুই মাথা ধরে রাখে ধৈর্য্য।
ধৈর্য্য তাহার উপর দাঁড়া করিল।
ধৈর্য্যের ব‍্যাখ‍্যা নিজের মত করিয়া দিবেন।
*ধৈর্য্য না থাকিলে কোন কর্ম সম্পুন্ন হয় না।
পাতান লোহা- মানে
ইউ ধরণের যে পেরেক হয়,তাহাই পাতান লোহা।
আঃ-লালসা তো যায় না, সৎ ভাবনা
চলে যায়,লালসা----
*ত্রিবিধং নরকস‍্যেদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ।
কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তাদেতৎ ত্রয়ং
ত‍্যজেৎ।।
মানে-- কাম, ক্রোধ তথা লোভ(ইদম্,ত্রিবিধম্) এই তিনটি নরকস‍্য, দ্বারম(নরকের দ্বার স্বরূপ) আত্মনঃ,নাশনম্ (জীবাত্মার পতন কারক) তস্মাৎ(সুতরাং) এতৎ, ত্রয়ম্(এই তিন টিকে ত‍্য্যজেৎ (ত‍্যাগ করা উচিত) কাম, ক্রোধ,ও লালসা,নরকের দ্বাররূপ এই তিনটি।
যাইহোক,লালসা কেমন, গাড়ী হোক, বাড়ী হোক, পুত্র কন‍্যার চাকরি হোক, এই লালসা বহির্জাগতিক, প্রকৃত
যদি লালসা করতে হয় তবে শ্রী গুরু, গোবিন্দের লালসা
কর,একবার যদি শ্রীচরণ আশ্রয় করতে পারো , বহির্জাগতিক লালসা তুচ্ছ হয়ে যাবে। সেই লালসার
পাতান লোহা তক্তায় জুড়িল। পূর্ণ একটি খোল তৈরী হয়েগেল।
পদ-- নববিধা ভক্তি দিয়া নয়টি গুড়া দিল।
আঃ- নববিধা ভক্তি, কৃষ্ণ প্রেমে ধরে শক্তি,(নববিধা ভক্তির নয়টি কি কি নিশ্চয় জানা আছে) নয়টি তক্তা দিয়ে নৌকায় বসিবার জায়গা করা হইল।
পদ-- সরল সুবুদ্ধি দিয়ে মাস্তুল গড়িল।
*মাস্তুল কি- পাল তুলে দেবার জন্য নৌকার সংলগ্ন কাষ্ঠস্তম্ভ বিশেষ (গুণ বৃক্ষ)
আঃ- সরলতা থাকা চাই,পেতে যদি চাও কানাই,সরলতা-----
তোমরা, হিংসা দ্বেষফেল তাই,সরলতা---
সরল বুদ্ধি কি- অত‍্যন্ত সহজ সরল ভাবে যদি ভগবানের সাধন ভজন করা যায়, তবেই ঈশ্বরের ভজনের অধিকারী হওয়া যায়,মনে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা নিয়ে হয় না।
############
মন রূপি পাল তাহে উড়াইয়া দিল।
সাধুসঙ্গ কানি দড়ি চৌদিকে আটিল।।
নৌকার পালখাটাতে হবে,পাল কি?
মনরূপি পাল।
আঃ-রাধা নামের মন তাহে উড়াইয়া দিল, আর, যমুনার কালো জলেভাসিতে লাগিল। তাহলে পাল টাঙ্গাতে হইলে দড়ি লাগবে, দড়ি কি?
সাধুসঙ্গ কানি দড়ি চৌদিকে আটিল।
এই কানি দড়ি মানে নৌকার কানায় কানায় দড়ি বাধা।
সাধুসঙ্গ- ভগবত ভজন পরায়ণ মহৎব‍্যক্তিকে সাধু বলে, সাধুসঙ্গের প্রভাবে সাধুদিগের মুখে ভক্তি মাহাত্ম্য শুনিয়া তাহাতে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মালে,জীব ভজনে প্রবৃত্ত(রত)হয়।ভজন করিতে করিতে অনর্থ নিবৃত্তি হইয়া গেলে যথা সময়ে তাহার চিত্তে কৃষ্ণ প্রেম উদিত হয়, এবং আনুষঙ্গিক ভাবে তাঁর সংসার বন্ধন দূর হয়ে যায়,
*সাধু সঙ্গে কৃষ্ণ ভক্তে শ্রদ্ধা যদি হয়*। *বিবেক, বৈরাগ্য, ধৈর্য্য,লালসা,মন, বিশাল ব‍্যাখ‍্যা আছে* এই ভাবে নৌকা গঠন করা হইল, নৌকাটি সাজাতে হবে, সৃজিল তরণী খানি,
প্রবাল মুকুতা আনি, মাঝে মাঝে হীরার গাঁথুনি।
*এই মুক্তা কোথা থেকে এনেছে?
সাতাশ নক্ষত্রের মধ‍্যে যে স্বাতী নক্ষত্র
আছে, সেই নক্ষত্রের জল যে ঝিনুকের মধ‍্যে পড়ে, সেই ঝিনুকে যে মুক্তো হয় সেই মুক্তো নৌকায় সাজানো ছিল, সেই মুক্তো ইহলোকে বড়ই বিরল।
বানান, ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।
অতি সংক্ষেপে তুলে ধরলাম।

*সংক্ষেপে নৌকা গঠন দেওয়া হল,* *এবারে ব্রজ লীলার প্রথম পদ*
*সখাগণ সঙ্গ,ছাড়ি যদুনন্দন,*
     *চরতহি নাগর রাজে।*
*ভাবিনী মনোরথে,চলল বিপিন পথে,*
     *সাধিতে মনোরথ কাজে।।*
    *চতুর শিরোমণি কান।*
*হেরি যমুনার জল,মনমথ উথলল,*
    *পূরল মূরলী নিশান।।*
*সিরজিলা তরীখানি,প্রবাল মুকুতা আনি,*
     *মাঝে মাঝে হীরার গাঁথনি।*
*শিখিপুচ্ছ গুঞ্জছড়া,রজত কাঞ্চনে মোড়া,*
     *কেরোয়ালে রজত কিঙ্কিণী।।*
*তপন-তনয়া-তীরে,তরণী লৈয়া ফিরে,*
     *বিদগধ নাগর রাজ।*
*গোবিন্দ দাস ভণে,কি আনন্দ হৈল মনে,*
     *রুণু ঝুণু নূপুর বাজ।।*

*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুর লীলা সুরধূনী কেন্দ্রিক, আর শ্রীগোবিন্দের লীলা যমুনা কেন্দ্রিক।* *
*🌻এই মুরলীর ধ্বনি শ্রবণ করে রাধা আর ঘরে থাকতে পারছেন না,* *কেমন করে ঘর থেকে বেড়োবেন?* *মনের মধ্যে চরম চঞ্চলভাব হয়ে উঠেছে, অপরদিকে মুরলীধ্বনি শ্রবণ করে কি হয়েছে আস্বাদন করুন।🌻*
  *মুরলীর অতি সুমধুর তান।*
*দরবহি দারু,মুঞ্জরে নব পল্লব,*
     *যমুনা বহত উজান।।*
*ধ্বনি শুনি ধরণী,ধরণী ধর পুলকিত,*
    *শিলা গলি বহত নীর।*
*নিরতেজ মীন কূলে,উখারিয়া পড়ত,*
    *কোই নাহি হোয়ত থির।।*
*বৎস সর্ব দুগ্ধ পানে,উর্ধমুখে ধাওত,*
     *কানন তেজি মৃগী ধাই।*
*গোবিন্দ দাস ভণে,জগৎ ভুলাওল গানে,*
     *শ্রীমধুর মুরলী বালাই যাই।।*

*🌻🌻🌻অভিসার🌻🌻🌻*
*দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোল সাজাঞা পশরা।*
*মথুরার বিকে চলে যত ব্রজবালা*
*তপনক তাপে,তাপিত ভেল মহীতল,*
    *বালুকা দহন সমান।*
*চড়ই মনোরথে,ভামিনী চলু পথে,*
      *তাপাতাপ কিছু নাহি মান।।*
     *প্রেমক গতি দূরবার।*
*নবীন যৌবন ধনি,চরণ কমল জিনি,*
      *তবহিঁ করল অভিসার।।*
*সতীগণ সৌরভ,গুরুজন গৌরব,*
       *তৃণ করি না মানিল বাধা।*
*ছুটল মনমাহা,মন পথে মাতল,*
      *ডুবল মান মরিযাদা।।*
*প্রখর রবির তাপে,চলিয়া যাইতে পথে,*
      *ঘামিয়াছে ওমুখ শশী।*
*শীতল তরুর ছায়,বসিয়া বসিয়া যায়,*
      *যমুনাতে দেখা দিল আসি।।*

*🌼শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনি শুনে বড়াই বুড়ি জটিলার গৃহে এসে,জটিলা ও কুটিলার সঙ্গে বহু কথোপকথন হল,* *জটিলা বলছেন কুটিলাকে নিয়ে যাও মথুরায়,কুটিলা বলছে আমার অনেক ঘরের কাজ আছে আজ আমি মথুরায় যেতে পারব না।মা আর মেয়েতে কথা কাটাকাটি শুরু হল।* *তখন বড়াই বুড়ি বললেন,ওরে ঘরে এত এত ক্ষীর সর ছানা মাখন আছে এইভাবে ফেলে রাখলে তো সব নষ্ট হয়ে যাবে,তোদের কি অর্থের দরকার নাই?* *তো তোরা যখন যাবি না,তাহলে ঐযে বৌটি আছে তাকেও বিকিকিনি শিখতে হবে তাকে মথুরায় যাবার অনুমতি দে,ধীরে ধীরে সব বিকিকিনি শিখে যাবে,তোদের মা-মেয়ের কথা কাটাকাটি হবে না।* *জটিলা বললেন বেশ বৌমাকে নিয়ে যাও, দেখ,তাকে পথে আবার একা ছেড়ো না।* *বুড়িমা বললেন তাইই হবে রে।* *রাধারাণী দরজার আড়াল থেকে সব কথা শুনে মনে আর আনন্দ ধরে না,গোবিন্দের সেবার জন্য মনপ্রাণ এক করে দধি দুগ্ধ সর ক্ষীর ইত্যাদি একত্রিত করে মনে মনে বলছেন সেবাই লেগো।* *আরও বললেন, মথুরা যাওয়া তো উপলক্ষ্য মাত্র।* *প্রতিটি দ্রব‍্যে শ্রীকৃষ্ণ নাম করে মনতুলসী নিবেদন করলেন।* *বললেন এই জনমে নই,জনম জনমে যেন এইভাবে তোমার সেবা করতে পারি।* *এই বলিয়া সখীসহ বড়াই বুড়িকে নিয়ে অভিসার করলেন।*
*পথে কোন কিছুরই বাধা ও কষ্ট কিছুই মনে রাখলেন না।*
*ভাবার্থ=রসিকেন্দ্র চূড়ামণি শ্রীগোবিন্দ কখন কোন লীলা করবেন তা বলা বড়ই কঠিন।* *তিনিই একমাত্র সবকিছুই মনে রাখতে পারেন,কখন কাকে কোন কথা দিয়েছিলেন, এবং তা পূরণ করতে হবে।* *অদ‍্য শ্রীগোবিন্দের সেই কথা মনে পড়ায় সখাগণ ও সঙ্গগণকে বললেন,তোরা গোধন ও ধেনুবৎস চারণ কর, আমি একাকী তপন তনয়া তটে যাব,* *এই বলিয়া শ্রীগোবিন্দ তপনতনয়া তটে উপনীত হলেন।* *শ্রীযমুনার পানে চাহিয়া নৌকা বিহারের বাসনা হল।* *পূর্বের মা যোগমায়ার দ্বারা তরী সৃজন করেছিলেন।* *সেই তরীতে তিনি চেপে বসলেন।* *নৌকাখানি কেবল রজত(রূপা) ও সোনার দ্বারা মোড়াও হল,* *প্রবাল ও মুক্তা দ্বারা নৌকার মধ‍্যভাগ মন্ডিত (সুসজ্জিত)করলেন।* *এই সুসজ্জিত নৌকায় আরোহণ করে যমুনাতে বিচরণ করতে লাগলেন ও বংশীধ্বনি দ্বারা শ্রীমতীকে আকর্ষণ করলেন।* *পদকর্তা গোবিন্দ দাস শ্রীগোবিন্দের এই লীলা দর্শন করে আনন্দিত হলেন।*
 *তরণীতে তরুণ তমাল।*
*কিয়ে নব জলধর,অঙ্গে কত বিধুবর,*
  *রূপে করেছে দু'কূল আলো।।*
*গলে গজমতি হার,মণিময় অলংকার,*
    *দামিনী দরপ ঘুচাইল।*
*অলকা তিলকা ভালে,শ্রবণ যুগল মূলে,*
    *মকর কুন্ডল দোলে ভাল।।*
*পরিধান পীতধড়া,চূড়া বেড়া গুঞ্জছড়া,*
   *তাহে আর শোভে নানাফুল।*
*দেখিয়া বদন চাঁদে,মদন পড়িলা ফাঁদে,*
    *যুবতী কেমনে রাখে কূল।।*
*এত আভরণ যার,কিবা অসম্ভব তার,*
     *সে কেনে ঘাটের ঘাটোয়াল।*
*যদুনাথ দাসের বাণী,শুন রাধা বিনোদিনী,*
    *পরিচয় পাইবে তৎকাল।।*

*🌻রাধারাণী বড়াই মা কে বলছেন,ওগো বুড়ি মা!একি আশ্চর্য‍্য দেখলাম!* *তরণীতে একেবারে তরুণ তমালবৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে।* *আকাশে আমরা অনেক মেঘ দেখেছি,সেই মেঘ দেখলে কোন আকর্ষণ হয় না,কিন্তু নৌকায় যাকে দেখছি,ঐ জলধরে যেন কত কত চন্দ্র দেখা দিয়াছে,সেই জলধরে রূপে যমুনার দুইকূল আলোয় আলো হয়ে গেছে।* *আবার দেখ, গলায় গজমতি হার,কত কত যেন দামী দামী অলঙ্কার পরে আছে,যদি এইরূপ মদন দেখে তার দর্প চূর্ণ হয়ে যাব।*
*আহা-হা,দেখ অলকা তিলকা,অর্থ‍্যাৎ মুখে যেন চন্দন দিয়ে চিত্র আঁকা,আর চুলে চূর্ণকুন্তল মুখের উপর পড়ে কেমন সুন্দর মুখের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে।* *কর্ণে মকরাকৃতি কুন্ডল দুলছে।* *আবার পীতবসনে অপরূপ শোভা পাচ্ছে,মাথায় কত সুন্দর করে চূড়া বেঁধেছে তারসঙ্গে নানারকম ফুল দিয়ে বেড়ি করা অপরূপ দেখাচ্ছে।* *তার চাঁদবদন দেখলে মদনও ফাঁদে পড়ে যাবে,এমন রূপের আকর্ষণ হয়েছে,তৎসহ বোধকরি কোন যুবতীগণও তাদের কুল বজায় রাখতে পারবে না।* *আচ্ছা বুড়িমা?যার এত আভরণ, সে কেন ঘাটের ঘাটোয়াল হয়েছে বলতে পার?* *পদকর্তা যদুনাথ দাস বলছেন,শুন রাধা বিনোদিনী!সে যে কে সেইসময়েই জানতে পারবে।*

 *🌻রাধারাণী পুন বড়াই বুড়িকে বলছেন🌻*
*বড়াই ঐ কি ঘাটের নেয়ে।*
*কোথা হতে আসি,দিল দরশন,*
      *বিনোদ নাগর নেয়ে।।*
*রজত কাঞ্চন,না খানি সাজানো,*
      *বাজিছে কিঙ্কিণী জাল।*
*অপরূপ তাতে,শোভে রাঙ্গা হাতে,*
      *মণি বান্ধা কেরোয়াল।।*
*রতনের ফালি,শিরে ঝলমলি,*
      *কদম্ব কুসুম কানে।*
*জঠর অঞ্চলে,বাঁশিটি গুঁজেছে,*
       *শোভে নানা আভরণে।।*
*হাসিতে হাসিতে,গীত আলাপিছে,*
       *ঢুলাইছে রাঙ্গা আঁখি।*
*চাপাইয়া নায়,কি জানি কি হয়,*
       *চঞ্চল উহারে দেখি।।*
*আমরা কহিব,কংসের যোগান,*
       *মুখেও না হারিও কেহু।*
*জগন্নাথ কয়,শশী ষোল কলা,*
       *পেলে কি ছাড়িবে রাহু।।*

*🌼শ্রীকৃষ্ণ দূর হতে প্রায় সব কথা শুনে বলছেন🌼*
*ধনি,কে গো তোরা খঞ্জন নয়নী।*
*এ হেন সুন্দর সাজে,বল যাবে কোন কাছে,*
     *বল না বল না তাই শুনি।।*
*তোমরা ডাকিছ সুখে,তরণী পড়েছে পাকে,*
     *আপনি সামালি আগে আসি।*
*যে হোই সে হোই মোরা,তরণী আনহ ত্বরা,*
     *কাজে কাজে জানিবা সকলি*
*দেখিয়া গোপীর ঠাট,নাবিক লাগায় না,*
     *অঙ্গ ভঙ্গ গান রঙ্গ রসে।*
*যমুনা আনন্দ ভরে,সম্বরিতে নাহি পারে,*
    *উছলি পড়িছে দুই পাশে।।*
*কিবা সে তরণী খানি,রজত কাঞ্চন মণি,*
    *মানিক খচিত দেব লোভা।*
*তার মাঝে নীলোৎপল,কান্তি জিনি সুকোমল,*
    *প্রফুল্ল বদন অঙ্গ শোভা।।*
*রমণী ভ্রমর যত,শবদ করয়ে কত,*
     *পরিমলে লুবধ হইয়া।*
*চঞ্চল সে নীলোৎপল,অগাধ যমুনার জল,*
    *আনন্দে তরঙ্গ যায় বৈয়‍্যা।।*
*ললিতা সখী,* *মুচকি হাসি,*
     *কহিছে নাইয়ার ঠাঁই।*
*কহনা নেয়ে, তোমার নেয়ে,*
    *কত কি বেতন চাই।।*
*আমরা হই যে, রাজার ঝিয়ারি,*
    *জাতি মর্য‍্যাদা পাই।*
*ঝাড়িলে হাত, হবে কৃতার্থ,*
    *কিসের কাতর রাই।।*
*এই যে ধনি, বদন খানি,*
    *এমনি করিব পার।*
*বালাই লয়ে, যাই মরিয়ে,*
    *পরাণ উপরে ধার।।*
*কহয়ে রঙ্গিণী, শুনহে নেইয়া ,*
   *তোমার নাহিক বোধ।*
*উহার চরণে, তোমার পরাণে,*
   *দিলে কি হইবে শোধ।।*
*শুনিয়া এ বোল,করে খল খল,*
   *রাইবিনোদিনী হিয়া।*
*কহয়ে মাধব, খেয়ারীর মন,*
    *তোষহ বচন দিয়া।।*

*🌻নাইয়া=নাবিক,বেতন=পারের কড়ি,ঝিয়ারি=বৃষভানু কন‍্যা, খেয়ারী=নাবিক,*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
      *পহিলে চড়িল ধনি নায়।*
*কনক কমল দল,তলেতে বিছাই,*
      *সুখে বৈঠল ধনি রাই।।*
*বামেতে ঘুমুটা টানি,দক্ষিণে পসরা খানি,*
     *বৈঠল কানু করি পিঠ।*
*স্বর্ণ আভরণ তায়,ঝলকত গোরা গায়,*
      *কানু হেরত ঘন দিঠ।।*
*রাধার বদন হেরি,অধীর হইলা হরি,*
      *মনমাহা করে ওরআশ।*
*কেরোয়াল খসি পড়ে,নৌকা বাহিতে নারে,*
      *উল্লসিত গোবিন্দ দাস।।*
*🌻পহিলে=প্রথমে,কনক কমল দল=সোনার চাদর,গোরা=রাধা,দিঠ=দৃষ্টি, ওরআশ=রাধার প্রতি আশা,*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
    *রাই কানু যমুনার মাঝে।*
*ফিরয়ে তরণী, জলের ঘূরণী,*
      *দূরে গেল কুল লাজে।।*
*কুম্ভীর মকর, মীন উঠত,*
    *সঘনে বদন তুলি।*
*হরিষে যমুনা, উথলে দ্বিগুণা,*
      *রাই-কানু রূপে ভুলি।।*
*কহয়ে ললিতা, হয়ে সচকিতা,*
     *শুনলো মুখরা বুড়ি।*
*তোমারি কথায়, চড়ি ভাঙ্গা নায়,*
     *পরাণ সহিত মরি।।*
*মুখরা কহয়ে,যা মাগে কান্ডরী,*
      *তাহাই করহ দান।*
*এ ভাঙ্গা তরণী,পার হবে এখুনি,*
      *কেন বা যাইবে প্রাণ।।*
*এ সব বচন, শুনিয়া কান্ডারী,*
      *কহয়ে ললিতা পাশে।*
*তোমার সখীর, পরশ মাগিয়ে,*
      *বংশী শুনিয়া হাসে।।*
*🌼আখর=যমুনা আজ উথলি উঠে,* *রাই-কানু চরণ সেবিবে বলে,* *যমুনা আজ উথলি উঠে।*
*মহানন্দে গরবে,যমুনা আজ উথলি উঠে।* *মকর মীন বদন তোলে,যুগল রূপ হেরিবার লাগি,*
*মকর মীন বদন তোলে।* *সবে দান করতে চায়,যা চায় কানুরায়,সবে দান করতে চায়।*
*কানু কহে মহৎ কথা,শ্রীমতীর পরশ মাগে,কানু কহে মহৎ কথা।*
*হৃদয়ে একই ভাব জাগে,কানু শ্রীমতীর পরশ মাগে।*

*🌻রসিকেন্দ্র চূড়ামণি চতুরের শিরোমণি,শ্রীমতী রাধারাণী ও তাঁর সঙ্গিনীদের দর্শন করে যেন চিনেন না এইভাবে বলছেন,কে গো,খঞ্জন নয়নী, খঞ্জন পক্ষী যেমন সদায় চঞ্চল,শ্রীমতী রাইধনি এইক্ষণে সেই চঞ্চলতা প্রকাশ পেয়েছে,তাই রসিকেন্দ্র চূড়ামণি বলছে,তোমরা কে?কোথায় যাবে?বাহ্ এই সুন্দর বেশে তোমরা কোথায় চলেছ?*

*🌻শ্রীমতী বলছেন,আমরা যে হই,সে হই,তুমি তাড়াতাড়ি তরণী নিয়ে এসো,তারপর এক এক করে সব জানতে পারবে।* *🌼কৃষ্ণ বলছেন,তোমরা তো আমাকে মনের সুখে ডাকছ,এদিকে আমার তরণী ঘূর্ণিপাকে পড়েছে দেখতে পাচ্ছ না,আমি মরি আমার ব‍্যথায়।* *🌻শ্রীমতী বলছেন,আমরা গোপের নারী,মথুরাপুরে যাব,ঘৃত দধি দুগ্ধ আছে বেচবার জন্য,আর মিছে দেরী করো না তরণী তীরে ভেড়াও।* *আচ্ছা বলত তো তোমার এত খোঁজ খবর নেবার কি আছে?তুমি নাবিক,তোমার কাজ পার করে দেওয়া,এত খবরে কাজ কী?*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*গোপীগণের কথা শুনে মাঝি(কৃষ্ণ)বলছেন।*
********************************
*আমার এ সুন্দর না,যেবা আসি দিবে পা,*
    *হাসিয়া গণয়ে ষোল পণা।*
*এ তব নিতম্ব কুচ,অতি উচ্চতর উচ,*
     *এক নায়ে ভরা তিনজনা।।*
*লাখের পসরা তোর,নায়ে পার হবে মোর,*
     *ইহাতে পাইব আমি কি।*
*এখনি বুঝিয়া বল,পাছে যেন না হয় কল,*
     *এই জীবিকায় আমি জী।।*
*শুন বিনোদিনী রাই,আগে দেও কিছু খাই,*
     *বহিতে গায়ে হউক বল।*
*এ দ্বিজ মাধবে কয়,রসিক অতিশয়,*
    *পাছে মিছে হইবে সকল।।*
*🌻নাবিক রূপে কৃষ্ণ বলছেন,শোন!*
*আমাকে আগে কি দিবে বল?পাছে যেন গোলমাল না হয়।* *দেখ,দেখ আমার না'খানি কত সুন্দর।* *আর একটি কথা,আগে কিছু দাও,খাবারের পেই নৌকা বাহিতে শক্তি হবে।*
#######################
*আখর=কৃষ্ণ করেন রঙ্গরস,(বলেন),ষোল আনা পণ চাই,নায়ে পার হতে হলে,ষোল আনা পণ চাই।* *ষোল আনা তো দিতে হবে,*
*কৃষ্ণ কৃপা পেতে হলে,ষোল আনা তো দিতে হবে।* *কম দিলে হবে না,*
*ষোল আনায় তো দিতে হবে।*
*তার বেশী তো দেবার নাই,* *ষোল আনা মন ছাড়া,* *আর বেশী তো দেবার নাই।* *ষোল আনা দিতে কেবা পারে,* *কলিহত জীব মোরা,* *ষোল আনা দিতে কেবা পারে।* *মন তো মোদের ব‍্যস রয়,* *চারিদিকে বিষয় মাঝে,* *মন তো মোদের ব‍্যস্ত রয়।* *ষোল আনা দিলেই পাবে,শ্রীকৃষ্ণ চরণে রতি মতি,* *ষোল আনা দিলেই পাবে।*
*🌻শ্রীযমুনার তরঙ্গ দেখিয়া শ্রীকৃষ্ণ বলছেন🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*করে তুলি ফেল বারি,ডুবিল ডুবিল তরী,*
     *কেরুয়াল খসি পৈল জলে।*
*পবনে পাতিল ঝড়,তরঙ্গ হইল বড়,*
     *বুঝি আজি কি আছে কপালে।।*
*এই কুল ওই কুল,দুই কুল নিরাকুল,*
    *তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।*
*আমরা কি করিব বল,উথলে যমুনার জল,*
     *কান্ডার করেতে নাহি রয়।।*
*এতদিন নাহি জানি,লোকমুখে নাহি শুনি,*
    *যুবতী যৌবন এত ভারী।*
*নিজ অঙ্গ বাস ছাড়,যৌবন পাতলা কর,*
    *তবে ত বাহিয়া যেতে পারি।।*
*খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে,কি গুণ করিলে মোরে,*
    *আঁখি আর পালটিতে নারি।*
*আঁখি রইল মুখ চাই,জল না দেখিতে পাই,*
    *তোমরা হইবে প্রাণের বৈরী।।*
*কেমনে বাহিয়া যাব,কিনারা কেমনে পাব,*
    *ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।।*
*জ্ঞান দাসেতে কয়,কি হল বিষম দায়,*
    *মধ‍্য দরিয়ায় ডুবে মরি।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ বলছেন,এই দেখ যমুনার জল নৌকাতে উঠছে,তাড়াতাড়ি হাতে করে জল সিঞ্চন কর,নৈলে তরী ডুবে যাবে।*
*পবন প্রবল ভাবে বহিছে,দুকুল যেন নিরাকার হয়েছে,জল আর দেখতে পাই না।* *নিজ নিজ অঙ্গবসন পরিত‍্যাগ কর এবং যৌবনও হালকা কর,তবে যদি নৌকা বাহিতে পারি।* *তোমরা কি ক্ষীর সর খাওয়ালে, কি গুণ করেছ যে শক্তি পেলাম না,হাল ঠিক রাখতে পারছি না।* *আমার চোখ তোমাদের মুখ চেয়ে আছে,যেন তোমরা সুরক্ষিত থাক।* *বল, বল,আমি কি করব?*
*🌻আখর=শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ লীলা,* *নৌকা টলমল করে,শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ লীলা।*
*শ্রীকৃষ্ণের লীলায় নৌকা করে টলমল।*
*নৌকাতে সবজন,নৌকা করে টলমল।* *দুই কুলে ঝড় বয়,নৌকা করে টলমল।* *শ্রীকৃষ্ণ বলেন* *গোপীনারীদের,যুবতীর যৌবন ভারী,*
*নৌকা স্থির রাখতে নারি।*
*কেমনে ভাবি রাখতে নারি,নৌকা স্থির রাখতে নারি।*
*কি খাইয়ে কৃষ্ণে করেছ গুণ, নৌকা স্থির রাখতে নারি।*
*মাঝ দরিয়ায় বুঝি ডুবে তরী,নৌকা স্থির রাখতে নারি।*
*কুলবতীর লাজ দূরে গেল, শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ লীলা,কুলবতীর লাজ দূরে গেল।*
 *ডুবিল ডুবিল ছলনা করি।*
*উচ্চস্বরে কহিছে হরে।।*
*গুড়ি ঝাপি উঠিল জল।*
*ভয়েতে কাঁপিছে রমণী সকল।।*
*হুতাশে নিশ্বাস ছাড়িছে রাই।*
*বঁধূর গলেতে ধরিল যাই।।*
*রাইকে লইয়া বিনোদ নেয়ে।*
*ঝাঁপ দিল জলে আকুল হয়ে।।*
*পুরিল দোঁহার মনের আশ।*
*দূরেতে হেরয়ে মাধব দাস।।*
*****************************
*কানু মরকত তরণী হয়ে।*
*ভাসয়ে রাধিকা রমণী লয়ে।।*
*উলটকমল কমলমুখী।*
*তা দেখি নাগর কতেক সুখী।।*
*পীঠের উপরে ভাসয়ে বেণী।*
*যেন হেম পিঠে শোভয়ে ফণি।।*
*যমুনা-তরঙ্গে সুরঙ্গ কেলি।*
*সখীগণ মনে আনন্দ ভেলি।।*
*কহয়ে মাধব মাধব রঙ্গ।*
*নব নব রস যুবতী সঙ্গ।।*
\^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^\
*জলযুদ্ধ দুঁহে দু'হা করি।*
*তীরে উঠে সঙ্গে সহচরী।।*
*শুষ্ক বসন সবে পরি।*
*গমন করিল সারি সারি।*
*গেল সবে নিকুঞ্জ মন্দিরে।।*
*বসিলেন রতন বেদীর পরে।*
*সেবাপরা যত সখীগণ।*
*সবে মেলি করয়ে সেবন।।*
*হরষিত শ্রীরূপ মঞ্জরী।*
*চামর ঢুলায় দুঁহে হেরি।।*
*শ্রীরতি মঞ্জরী অতি সুখে।*
*তাম্বুল দেই দুঁহু মুখে।।*
*স্বর্ণ ভৃঙ্গারে জল ভরি।*
*দেয়ল শ্রীগুণ মঞ্জরী।।*
*অপরূপ দুঁহুক বিলাস।*
*কহয়ে মাধব দাস।।*
#####################
*ক্ষীর সর মাখন সহচরী দেল।*
*নাবিক সো সব কছু নাহি নেল।।*
*রাইক আঁচর ছোড়ি নাহিক যায়।*
*সব সখীগণ তবে রচয়ে উপায়।।*
*নাবিক কহয়ে দেহ বেতন মোর।*
*তব হাম ছোড়ব আঁচর তোর।।*
*কহি কহি চুম্বয়ে রাই বয়ান।*
*পূরয়ে মনোরথ নাগর কান।।*
*পূরল মনোরথ আনন্দ ওর।*
*বৃষভানু নন্দিনী নন্দকিশোর।।*
*নিজ নিজ মন্দিরে সবে চলি গেল*
*বংশীবদন চিতে আনন্দ ভেল।।*
*🌻নৌকা বিহার লীলা এখানেই রহিল, ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়। আমি কীর্তনীয়া নহে।🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




adds