শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ ) 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_8.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ )꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ 👇শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
শ্রীভগবান উবাচ-
ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্।।
বিবস্বান্মবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীৎ।।১।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন-আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ বলেচিলাম। সূর্য তা মানবজাতির জনক মনুকে বলেছিলেন এবং মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং পরম্পরাপ্রাপ্তমিমং রাজর্ষয়ো বিদুঃ।
স কালেনেহ মহতা যোগো নষ্টঃ পরন্তপ।।২।।

অনুবাদঃ এভাবেই পরম্পরা মাধ্যমে প্রাপ্ত এই পরম বিজ্ঞান রাজর্ষিরা লাভ করেছিলেন। কিন্তু কালের প্রভাবে পরম্পরা ছিন্ন হয়েছিল এবং তাই সেই যোগ নষ্টপ্রায় হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
স এবায়ং ময়া তেহদ্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।
ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস্যং হ্যেতদুত্তমম্।।৩।।

অনুবাদঃ সেই সনাতন যোগ আজ আমি তোমাকে বললাম, কারণ তুমি আমার ভক্ত ও সখা এবং তাই তুমি এই বিজ্ঞানের অতি গূঢ় রহস্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে।
       🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অর্জুন উবাচ-
অপরং ভবতো জন্ম পরং জন্ম বিবস্বতঃ।
কথমেতদ্ বিজ্ঞানীয়াং ত্বমাদৌ প্রোক্তবানিতি।।৪।।

অনুবাদঃ অর্জুন বললেন-সূর্যদেব বিবস্বামানের জন্ম জয়েছিল তোমার অনেক পূর্বে। তুমি যে পুরাকালে তাঁকে এই জ্ঞান উপদেশ করেছিলে, তা আমি কেমন করে বুঝব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রীভগবান উবাচ-
বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ।।৫।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পরন্তপ অর্জুন! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে। আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজেহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানীমীম্বরোহপি সন্।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।৬।।

অনুবাদঃ যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজামহ্যম্।।৭।।

অনুবাদঃ হে ভারত! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।৮।।

অনুবাদঃ সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন।।৯।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! ‍যিনি আমার এই প্রকার দিব্য জন্ম ও কর্ম যথাযথভাবে জানেন, তাঁকে আর দেহত্যাগ করার পর পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয় না, তিনি আমার নিত্য ধাম লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
বীতরাগভয়ক্রোধা মন্ময়া মামুপাশ্রিতাঃ।
বহুবো জ্ঞানতপসা পূতা মদ্ভাবমাগতাঃ।।১০।।

অনুবাদঃ আসক্তি, ভয় ও ক্রোধ থেকে মুক্ত হয়ে, সম্পূর্ণরূপে আমাতে মগ্ন হয়ে, একান্তভাবে আমার আশ্রিত হয়ে, পূর্বে বহু বহু ব্যক্তি আমার জ্ঞান লাভ করে পবিত্র হয়েছে-এবং এভাবেই সকলেই আমার অপ্রাকৃত প্রীতি লাভ করেছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।১১।।

অনুবাদঃ যারা যেভাবে আমার প্রতি আত্মসমর্পণ করে, আমি তাদেরকে সেভাবেই পুরস্কৃত করি। হে পার্থ! সকলেই সর্বতোভাবে আমার পথ অনুসরণ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কাঙ্ক্ষন্তঃ কর্মণাং সিদ্ধিং  যজন্ত ইহ দেবতাঃ।
ক্ষিপ্রং হি মানষে লোকে সিদ্ধির্ভবতি কর্মজা।।১২।।

অনুবাদঃ এই জগতে মানুষেরা সকাম কর্মের সিদ্ধি কামনা করে এবং তাই তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনা করে। সকাম কর্মের ফল অবশ্যই অতি শীর্ঘ্রই লাভ হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং বিদ্ধ্যকর্তারমব্যয়ম্।।১৩।।

অনুবাদঃ প্রকৃতির তিনটি গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি মানব-সমাজে চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি। আমি এই প্রথার স্রষ্টা হলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা।
ইতি মাং যোহভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে।।১৪।।

অনুবাদঃ কোন কর্মই আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না এবং আমিও কোন কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা করি না। আমার এই তত্ত্ব যিনি জানেন, তিনিও কখনও সকাম কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং জ্ঞাত্বা কৃতং কর্ম পূর্বৈরপি মুমুক্ষুভিঃ।
কুরু কর্মৈব তস্মাত্ত্বং পূর্বৈঃ পূর্বতরং কৃতম্।।১৫।।

অনুবাদঃ প্রাচীনকালে সমস্ত মুক্ত পুরুষেরা আমার অপ্রাকৃত তত্ত্ব অবগত হয়ে কর্ম করেছেন। অতেএব তুমিও সেই প্রাচীন মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোমার কর্তব্য সম্পাদন কর।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কিং কর্ম কিমকর্মেতি কবয়োহপ্যত্র মোহিতাঃ।
তত্তে কর্ম প্রবক্ষ্যামি যজজ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসেহশুভাৎ।।১৬।।

অনুবাদঃ কাকে কর্ম ও কাকে অকর্ম বলে, তা স্থির করতে বিবেকী ব্যক্তিরাও মোহিত হন। আমি সেই কর্ম বিষয়ে তোমাকে উপদেশ করব। তুমি তা অবগত হয়ে সমস্ত অশুভ অবস্থা থেকে মুক্ত হবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণো হ্যপি বোদ্ধব্যং বোদ্ধব্যং চ বিকর্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো গতিঃ।।১৭।।

অনুবাদঃ কর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন। তাই কর্ম, বিকর্ম ও অকর্ম সম্বন্ধে যথাযথভাবে জানা কর্তব্য।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণ্যকর্ম যঃ পশ্যেদকর্মণি চ কর্ম যঃ।
স বুদ্ধিমানন্মনুষ্যেষু স যুক্তঃ কৃৎস্নকর্মকৃৎ।।১৮।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মে অকর্ম দর্শন করেন এবং অকর্মে কর্ম দর্শন করেন, তিনীই মানুষের মধ্যে বুদ্ধিমান। সব রকম কর্মে লিপ্ত থাকা সেত্ত্বেও তিনি চিন্ময় স্তরে অধিষ্ঠিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ পন্ডিতং বুধাঃ।।১৯।।

অনুবাদঃ যাঁরা সমস্ত কর্ম প্রচেষ্টা কাম ও সংকল্প রহিত, তিনি পূর্ণ জ্ঞানে অধিষ্ঠিত। জ্ঞানীগণ বলেন যে, তাঁর সমস্ত কর্মের প্রতিক্রিয়া পরিশুদ্ধ জ্ঞানাগ্নি দ্বারা দগ্ধ হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ত্যক্তা কর্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোহপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ।।২০।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মফলের আসক্তি সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে সর্বদা তৃপ্ত এবং কোন রকম আশ্রয়ের অপেক্ষা করেন না, তিনি সব রকম কর্মে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও কর্মফলের আশায় কোন কিছুই করেন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
নিরাশীর্যতচিত্তাত্মা ত্যক্তসর্বপরিগ্রহঃ।
শারীরং কেবলং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি কিল্বিষম্।।২১।।

অনুবাদঃ এই প্রকার জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর মন ও বুদ্ধিকে সর্বতোভাবে সংযত করে কার্য করেন। তিনি প্রভুত্ব করার প্রবৃত্তিপরিত্যাগ করে কেবল জীবন ধারণের জন্য কর্ম করেন। এভাবেই কর্ম করার ফলে কোন রকম পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদৃচ্ছালাভসন্তুষ্টো দন্দ্বাতীতো বিমঃসরঃ।
সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধৌ চ কৃত্বাপি ন নিবধ্যতে।।২২।।

অনুবাদঃ যিনি অনায়াসে যা লাভ করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, যিনি সুখ-দুঃখ, রাগ-দ্বেষ আদি দ্বন্দ্বের বশীভুত হন না এবং মাৎসর্যশূন্য যিনি কার্যের সাফল্য ও অসাফল্যে অবিচলিত থাকেন, তিনি কর্ম সম্পাদন করলেও কর্মফলের দ্বারা কখনও আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 গতসঙ্গস্য মুক্তস্য জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ।
যজ্ঞায়াচরতঃ কর্ম সমগ্রং প্রবিলীয়তে।।২৩।।

অনুবাদঃ জড়া প্রকৃতির গুণের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে, চিন্ময় জ্ঞাননিষ্ঠ ব্যক্তি যজ্ঞের উদ্দেশ্যে যে কর্ম সম্পাদন করেন, সেই সকল কর্ম সম্পূর্ণরূপে লয় প্রাপ্ত হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹 
 ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবিব্র্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।২৪।।

অনুবাদঃ যিনি কৃষ্ণভাবনায় সম্পূর্ণ মগ্ন তিনি অবশ্যই চিৎজগতে উন্নীত হবেন, কারণ তাঁর সমস্ত কার্যকলাপ চিন্ময়। তাঁর কর্মের উদ্দেশ্য চিন্ময় এবং সেই উদ্দেশ্যে তিনি যা নিবেদন করেন, তাও চিন্ময়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ পর্যুপাসতে।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি।।২৫।।

অনুবাদঃ কোনও কোনও যোগী দেবতাদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করার মাধ্যমে তাঁদের উপাসনা করেন, আর অন্য অনেকে ব্রহ্মরূপ অগ্নিতে সব কিছু নিবেদন করার মাধ্যমে যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহুতি।
শব্দাদীন্ বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহুতি।।২৬।।

অনুবাদঃ কেউ কেউ (শুদ্ধ ব্রহ্মচারীরা) মনঃসংযমরূপ অগ্নিতে শ্রবণ আদি ইন্দ্রিয়গুলিকে আহুতি দেন, আবার অন্য অনেকে (নিয়মনিষ্ঠ গৃহস্তেরা) শব্দাদি ইন্দ্রিয়ের বিষয়গুলিকে ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহুতি জ্ঞানদীপিতে।।২৭।।

অনুবাদঃ মন ও ইন্দ্রিয়-সংযমের মাধ্যমে যাঁরা আত্মজ্ঞান লাভের প্রয়াসী, তাঁরা তাঁদের সমস্ত ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ ও প্রাণবায়ু জ্ঞানের দ্বারা প্রদীপ্ত আত্মসংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ।।২৮।।

অনুবাদঃ কঠোর ব্রত গ্রহণ করে কেউ কেউ দ্রব্য দানরূপ যজ্ঞ করেন। কেউ কেউ তপস্যারূপ যজ্ঞ করেন, কেউ কেউ অষ্টাঙ্গ-যোগরূপ যজ্ঞ করেন এবং অন্য অনেকে পারমার্থিক জ্ঞান লাভের জন্য বেদ অধ্যয়নরূপ যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপানে জুহুদি প্রাণং প্রাণেহপানং তথাপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধ্বা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।
অপরে নিয়তাহারাঃ প্রাণান্ প্রাণেষু জুহুতি।।২৯।।

অনুবাদঃ আর যাঁরা প্রাণায়াম চর্চায় আগ্রহী, তাঁরা অপান বায়ুকে প্রাণবায়ুতে এবং প্রাণবায়ুকে অপান বায়ুতে আহুতি দিয়ে অবশেষে প্রাণ ও অপান বায়ুর গতি রোধ করে সমাধিস্থ হন। কেউ আবার আহার সংযম করে প্রাণবায়ুকে প্রাণবায়ুতেই আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বেহপ্যেতে যজ্ঞবিদো যজ্ঞক্ষপিতকল্মষাঃ। 
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্রহ্ম সনাতনম্।।৩০।।

অনুবাদঃ এঁরা সকলেই যজ্ঞতত্ত্ববিৎ এবং যজ্ঞের প্রভাবে পাপ থেকে মুক্ত হয়ে তাঁরা যজ্ঞাবশিষ্ট অমৃত আস্বাদন করেন, এবং তার পর সনাতন প্রকৃতিতে ফিরে যান।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 নায়ং লোকোহস্ত্যযজ্ঞস্য কুতোহন্যঃ কুরুসত্তম।।৩১।।

অনুবাদঃ হে কুরুশ্রেষ্ঠ! যজ্ঞ অনুষ্ঠান না করে কেউই এই জগতে সুখে থাকতে পারে না, তা হলে পরলোকে সুখপ্রাপ্তি কি করে সম্ভব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিবতা ব্রহ্মণো মুখে। 
কর্মজান্ বিদ্ধি তান্ সর্বানেবং জ্ঞাত্বা বিমোক্ষ্যসে।।৩২।।

অনুবাদঃ এই সমস্ত যজ্ঞই বৈদিক শাস্ত্রে অনুমোদিত হয়েছে এবং এই সমস্ত মুক্তি বিভিন্ন প্রকার কর্মজাত। সেগুলিকে যথাযথভাবে জানার মাধ্যমে তুমি মুক্তি লাভ করতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রেয়ান্ দ্রব্যময়াদ্ যজ্ঞাজজ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ। 
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।।৩৩।।

অনুবাদঃ হে পরন্তপ! দ্রব্যময় যজ্ঞ থেকে জ্ঞানময় যজ্ঞ শ্রেয়। হে পার্থ! সমস্ত কর্মই পূর্ণরূপে চিন্ময় জ্ঞানে পরিসমাপ্তি লাভ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তদ্ বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। 
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।৩৪।।

অনুবাদঃ সদগুরুর শরণাগত হয়ে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার চেষ্টা কর। বিনম্র চিত্তে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা কর এবং অকৃত্রিম সেবার দ্বারা তাঁকে সন্তুষ্ট কর। তা হলে সেই তত্ত্বদ্রষ্টা পুরুষেরা তোমাকে জ্ঞান উপদেশ দান করবেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যজজ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি পান্ডব। 
যেন ভূতান্যশেষাণি দ্রক্ষ্যস্যাত্মন্যথো ময়ি।।৩৫।।

অনুবাদঃ হে পান্ডব! এভাবে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করে তুমি আর মোহগ্রস্ত হবে না, কেন না এই জ্ঞানের দ্বারা তুমি দর্শন করবে যে, সমস্ত জীবই আমার বিভিন্ন অংশ অর্থাৎ তারা সকলেই আমার এবং তারা আমাতে অবস্থিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সন্তরিষ্যসি।।৩৬।।

অনুবাদঃ তুমি যদি সমস্ত পাপীদের থেকেও পাপিষ্ঠ বলে গণ্য হয়ে থাক, তা হলেও এই জ্ঞানরূপ তরণীতে আরোহণ করে তুমি দুঃখ-সমুদ্র পার হতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যথৈধাংসি সমিদ্বোহগ্নির্ভস্মাৎ কুরুতেহর্জুন। 
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকর্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা।।৩৭।।

অনুবাদঃ প্রবলরূবে প্রজ্বলিত অগ্নি যেমন কাষ্ঠকে ভস্মসাৎ করে, হে অর্জুন! তেমনই জ্ঞানাগ্নিও সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করে ফেলে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে। 
তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি।।৩৮।।

অনুবাদঃ এই জগতে চিন্ময় জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছুই নেই। এই জ্ঞান সমস্ত যোগের পরিপক্ক ফল। ভগবদ্ভক্তি অনুশীলনের মাধ্যমে যিনি সেই জ্ঞান আয়ত্ত করেছেন, তিনি কালক্রমে আত্মায় পরা শান্তি লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ। 
জ্ঞানং লব্ধা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।।৩৯।।

অনুবাদঃ সংযতেন্দ্রিয় ও তৎপর হয়ে চিন্ময় তত্ত্বজ্ঞানে প্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই জ্ঞান লাভ করেন। সেই দিব্য জ্ঞান লাভ করে তিনি অচিরেই পরা শান্তি প্রাপ্ত হন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজ্ঞশ্চাশ্রদ্দধানশ্চ সংশয়াত্মা বিনশ্যতি। 
নায়ং লোকোহন্তি ন পরো ন সুখং সংশয়াত্মনঃ।।৪০।।

অনুবাদঃ অজ্ঞ ও শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তি কখনই ভগবদ্ভক্তি লাভ করতে পারে না। সন্দিগ্ধ চিত্ত ব্যক্তি ইহলোকে সুখভোগ করতে পারে না এবং পরলোকেও সুখভোগ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যোগসংন্যস্তকর্মাণং জ্ঞানসংছিন্নসংশয়ম্। 
আত্মবন্তবং ন কর্মাণি নিবধ্নন্তি ধনঞ্জয়।।৪১।।

অনুবাদঃ অতএব, হে ধনঞ্জয়! যিনি নিষ্কাম কর্মযোগের দ্বারা কর্মত্যাগ করেন, জ্ঞানের দ্বারা সংশয় নাশ করেন এবং আত্মার চিন্ময় স্বরূপ অবগত হন, তাঁকে কোন কর্মই আবদ্ধ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তস্মাদজ্ঞানসম্ভতং হৃৎস্থং জ্ঞানাসিনাত্মনঃ। 
ছিত্ত্বৈনং সংশয়ং যোগমাতিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত।।৪২।। 

অনুবাদঃ অতএব, হে ভারত! তোমার হৃদয়ে যে অজ্ঞানপ্রসূত সংশয়ের উদয় হয়েছে, তা জ্ঞানরূপ খড়্গের দ্বারা ছিন্ন কর। যোগাশ্রয় করে যুদ্ধ করার জন্য উঠে দাঁড়াও।         
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ ) 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post_8.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ )꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
          ꧁ 👇শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
শ্রীভগবান উবাচ-
ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্।।
বিবস্বান্মবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীৎ।।১।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন-আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ বলেচিলাম। সূর্য তা মানবজাতির জনক মনুকে বলেছিলেন এবং মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং পরম্পরাপ্রাপ্তমিমং রাজর্ষয়ো বিদুঃ।
স কালেনেহ মহতা যোগো নষ্টঃ পরন্তপ।।২।।

অনুবাদঃ এভাবেই পরম্পরা মাধ্যমে প্রাপ্ত এই পরম বিজ্ঞান রাজর্ষিরা লাভ করেছিলেন। কিন্তু কালের প্রভাবে পরম্পরা ছিন্ন হয়েছিল এবং তাই সেই যোগ নষ্টপ্রায় হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
স এবায়ং ময়া তেহদ্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।
ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস্যং হ্যেতদুত্তমম্।।৩।।

অনুবাদঃ সেই সনাতন যোগ আজ আমি তোমাকে বললাম, কারণ তুমি আমার ভক্ত ও সখা এবং তাই তুমি এই বিজ্ঞানের অতি গূঢ় রহস্য হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে।
       🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অর্জুন উবাচ-
অপরং ভবতো জন্ম পরং জন্ম বিবস্বতঃ।
কথমেতদ্ বিজ্ঞানীয়াং ত্বমাদৌ প্রোক্তবানিতি।।৪।।

অনুবাদঃ অর্জুন বললেন-সূর্যদেব বিবস্বামানের জন্ম জয়েছিল তোমার অনেক পূর্বে। তুমি যে পুরাকালে তাঁকে এই জ্ঞান উপদেশ করেছিলে, তা আমি কেমন করে বুঝব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রীভগবান উবাচ-
বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ।।৫।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পরন্তপ অর্জুন! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে। আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজেহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানীমীম্বরোহপি সন্।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।৬।।

অনুবাদঃ যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজামহ্যম্।।৭।।

অনুবাদঃ হে ভারত! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।৮।।

অনুবাদঃ সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন।।৯।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! ‍যিনি আমার এই প্রকার দিব্য জন্ম ও কর্ম যথাযথভাবে জানেন, তাঁকে আর দেহত্যাগ করার পর পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয় না, তিনি আমার নিত্য ধাম লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
বীতরাগভয়ক্রোধা মন্ময়া মামুপাশ্রিতাঃ।
বহুবো জ্ঞানতপসা পূতা মদ্ভাবমাগতাঃ।।১০।।

অনুবাদঃ আসক্তি, ভয় ও ক্রোধ থেকে মুক্ত হয়ে, সম্পূর্ণরূপে আমাতে মগ্ন হয়ে, একান্তভাবে আমার আশ্রিত হয়ে, পূর্বে বহু বহু ব্যক্তি আমার জ্ঞান লাভ করে পবিত্র হয়েছে-এবং এভাবেই সকলেই আমার অপ্রাকৃত প্রীতি লাভ করেছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।১১।।

অনুবাদঃ যারা যেভাবে আমার প্রতি আত্মসমর্পণ করে, আমি তাদেরকে সেভাবেই পুরস্কৃত করি। হে পার্থ! সকলেই সর্বতোভাবে আমার পথ অনুসরণ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কাঙ্ক্ষন্তঃ কর্মণাং সিদ্ধিং  যজন্ত ইহ দেবতাঃ।
ক্ষিপ্রং হি মানষে লোকে সিদ্ধির্ভবতি কর্মজা।।১২।।

অনুবাদঃ এই জগতে মানুষেরা সকাম কর্মের সিদ্ধি কামনা করে এবং তাই তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনা করে। সকাম কর্মের ফল অবশ্যই অতি শীর্ঘ্রই লাভ হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং বিদ্ধ্যকর্তারমব্যয়ম্।।১৩।।

অনুবাদঃ প্রকৃতির তিনটি গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি মানব-সমাজে চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি। আমি এই প্রথার স্রষ্টা হলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা।
ইতি মাং যোহভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে।।১৪।।

অনুবাদঃ কোন কর্মই আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না এবং আমিও কোন কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা করি না। আমার এই তত্ত্ব যিনি জানেন, তিনিও কখনও সকাম কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং জ্ঞাত্বা কৃতং কর্ম পূর্বৈরপি মুমুক্ষুভিঃ।
কুরু কর্মৈব তস্মাত্ত্বং পূর্বৈঃ পূর্বতরং কৃতম্।।১৫।।

অনুবাদঃ প্রাচীনকালে সমস্ত মুক্ত পুরুষেরা আমার অপ্রাকৃত তত্ত্ব অবগত হয়ে কর্ম করেছেন। অতেএব তুমিও সেই প্রাচীন মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোমার কর্তব্য সম্পাদন কর।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কিং কর্ম কিমকর্মেতি কবয়োহপ্যত্র মোহিতাঃ।
তত্তে কর্ম প্রবক্ষ্যামি যজজ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসেহশুভাৎ।।১৬।।

অনুবাদঃ কাকে কর্ম ও কাকে অকর্ম বলে, তা স্থির করতে বিবেকী ব্যক্তিরাও মোহিত হন। আমি সেই কর্ম বিষয়ে তোমাকে উপদেশ করব। তুমি তা অবগত হয়ে সমস্ত অশুভ অবস্থা থেকে মুক্ত হবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণো হ্যপি বোদ্ধব্যং বোদ্ধব্যং চ বিকর্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো গতিঃ।।১৭।।

অনুবাদঃ কর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন। তাই কর্ম, বিকর্ম ও অকর্ম সম্বন্ধে যথাযথভাবে জানা কর্তব্য।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
কর্মণ্যকর্ম যঃ পশ্যেদকর্মণি চ কর্ম যঃ।
স বুদ্ধিমানন্মনুষ্যেষু স যুক্তঃ কৃৎস্নকর্মকৃৎ।।১৮।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মে অকর্ম দর্শন করেন এবং অকর্মে কর্ম দর্শন করেন, তিনীই মানুষের মধ্যে বুদ্ধিমান। সব রকম কর্মে লিপ্ত থাকা সেত্ত্বেও তিনি চিন্ময় স্তরে অধিষ্ঠিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ পন্ডিতং বুধাঃ।।১৯।।

অনুবাদঃ যাঁরা সমস্ত কর্ম প্রচেষ্টা কাম ও সংকল্প রহিত, তিনি পূর্ণ জ্ঞানে অধিষ্ঠিত। জ্ঞানীগণ বলেন যে, তাঁর সমস্ত কর্মের প্রতিক্রিয়া পরিশুদ্ধ জ্ঞানাগ্নি দ্বারা দগ্ধ হয়েছে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ত্যক্তা কর্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোহপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ।।২০।।

অনুবাদঃ যিনি কর্মফলের আসক্তি সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে সর্বদা তৃপ্ত এবং কোন রকম আশ্রয়ের অপেক্ষা করেন না, তিনি সব রকম কর্মে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও কর্মফলের আশায় কোন কিছুই করেন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
নিরাশীর্যতচিত্তাত্মা ত্যক্তসর্বপরিগ্রহঃ।
শারীরং কেবলং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি কিল্বিষম্।।২১।।

অনুবাদঃ এই প্রকার জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর মন ও বুদ্ধিকে সর্বতোভাবে সংযত করে কার্য করেন। তিনি প্রভুত্ব করার প্রবৃত্তিপরিত্যাগ করে কেবল জীবন ধারণের জন্য কর্ম করেন। এভাবেই কর্ম করার ফলে কোন রকম পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যদৃচ্ছালাভসন্তুষ্টো দন্দ্বাতীতো বিমঃসরঃ।
সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধৌ চ কৃত্বাপি ন নিবধ্যতে।।২২।।

অনুবাদঃ যিনি অনায়াসে যা লাভ করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, যিনি সুখ-দুঃখ, রাগ-দ্বেষ আদি দ্বন্দ্বের বশীভুত হন না এবং মাৎসর্যশূন্য যিনি কার্যের সাফল্য ও অসাফল্যে অবিচলিত থাকেন, তিনি কর্ম সম্পাদন করলেও কর্মফলের দ্বারা কখনও আবদ্ধ হন না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 গতসঙ্গস্য মুক্তস্য জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ।
যজ্ঞায়াচরতঃ কর্ম সমগ্রং প্রবিলীয়তে।।২৩।।

অনুবাদঃ জড়া প্রকৃতির গুণের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে, চিন্ময় জ্ঞাননিষ্ঠ ব্যক্তি যজ্ঞের উদ্দেশ্যে যে কর্ম সম্পাদন করেন, সেই সকল কর্ম সম্পূর্ণরূপে লয় প্রাপ্ত হয়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹 
 ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবিব্র্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।২৪।।

অনুবাদঃ যিনি কৃষ্ণভাবনায় সম্পূর্ণ মগ্ন তিনি অবশ্যই চিৎজগতে উন্নীত হবেন, কারণ তাঁর সমস্ত কার্যকলাপ চিন্ময়। তাঁর কর্মের উদ্দেশ্য চিন্ময় এবং সেই উদ্দেশ্যে তিনি যা নিবেদন করেন, তাও চিন্ময়।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ পর্যুপাসতে।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি।।২৫।।

অনুবাদঃ কোনও কোনও যোগী দেবতাদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করার মাধ্যমে তাঁদের উপাসনা করেন, আর অন্য অনেকে ব্রহ্মরূপ অগ্নিতে সব কিছু নিবেদন করার মাধ্যমে যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহুতি।
শব্দাদীন্ বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহুতি।।২৬।।

অনুবাদঃ কেউ কেউ (শুদ্ধ ব্রহ্মচারীরা) মনঃসংযমরূপ অগ্নিতে শ্রবণ আদি ইন্দ্রিয়গুলিকে আহুতি দেন, আবার অন্য অনেকে (নিয়মনিষ্ঠ গৃহস্তেরা) শব্দাদি ইন্দ্রিয়ের বিষয়গুলিকে ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহুতি জ্ঞানদীপিতে।।২৭।।

অনুবাদঃ মন ও ইন্দ্রিয়-সংযমের মাধ্যমে যাঁরা আত্মজ্ঞান লাভের প্রয়াসী, তাঁরা তাঁদের সমস্ত ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ ও প্রাণবায়ু জ্ঞানের দ্বারা প্রদীপ্ত আত্মসংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ।।২৮।।

অনুবাদঃ কঠোর ব্রত গ্রহণ করে কেউ কেউ দ্রব্য দানরূপ যজ্ঞ করেন। কেউ কেউ তপস্যারূপ যজ্ঞ করেন, কেউ কেউ অষ্টাঙ্গ-যোগরূপ যজ্ঞ করেন এবং অন্য অনেকে পারমার্থিক জ্ঞান লাভের জন্য বেদ অধ্যয়নরূপ যজ্ঞ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপানে জুহুদি প্রাণং প্রাণেহপানং তথাপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধ্বা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।
অপরে নিয়তাহারাঃ প্রাণান্ প্রাণেষু জুহুতি।।২৯।।

অনুবাদঃ আর যাঁরা প্রাণায়াম চর্চায় আগ্রহী, তাঁরা অপান বায়ুকে প্রাণবায়ুতে এবং প্রাণবায়ুকে অপান বায়ুতে আহুতি দিয়ে অবশেষে প্রাণ ও অপান বায়ুর গতি রোধ করে সমাধিস্থ হন। কেউ আবার আহার সংযম করে প্রাণবায়ুকে প্রাণবায়ুতেই আহুতি দেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
সর্বেহপ্যেতে যজ্ঞবিদো যজ্ঞক্ষপিতকল্মষাঃ। 
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্রহ্ম সনাতনম্।।৩০।।

অনুবাদঃ এঁরা সকলেই যজ্ঞতত্ত্ববিৎ এবং যজ্ঞের প্রভাবে পাপ থেকে মুক্ত হয়ে তাঁরা যজ্ঞাবশিষ্ট অমৃত আস্বাদন করেন, এবং তার পর সনাতন প্রকৃতিতে ফিরে যান।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
 নায়ং লোকোহস্ত্যযজ্ঞস্য কুতোহন্যঃ কুরুসত্তম।।৩১।।

অনুবাদঃ হে কুরুশ্রেষ্ঠ! যজ্ঞ অনুষ্ঠান না করে কেউই এই জগতে সুখে থাকতে পারে না, তা হলে পরলোকে সুখপ্রাপ্তি কি করে সম্ভব?
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিবতা ব্রহ্মণো মুখে। 
কর্মজান্ বিদ্ধি তান্ সর্বানেবং জ্ঞাত্বা বিমোক্ষ্যসে।।৩২।।

অনুবাদঃ এই সমস্ত যজ্ঞই বৈদিক শাস্ত্রে অনুমোদিত হয়েছে এবং এই সমস্ত মুক্তি বিভিন্ন প্রকার কর্মজাত। সেগুলিকে যথাযথভাবে জানার মাধ্যমে তুমি মুক্তি লাভ করতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রেয়ান্ দ্রব্যময়াদ্ যজ্ঞাজজ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ। 
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।।৩৩।।

অনুবাদঃ হে পরন্তপ! দ্রব্যময় যজ্ঞ থেকে জ্ঞানময় যজ্ঞ শ্রেয়। হে পার্থ! সমস্ত কর্মই পূর্ণরূপে চিন্ময় জ্ঞানে পরিসমাপ্তি লাভ করে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তদ্ বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। 
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।৩৪।।

অনুবাদঃ সদগুরুর শরণাগত হয়ে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার চেষ্টা কর। বিনম্র চিত্তে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা কর এবং অকৃত্রিম সেবার দ্বারা তাঁকে সন্তুষ্ট কর। তা হলে সেই তত্ত্বদ্রষ্টা পুরুষেরা তোমাকে জ্ঞান উপদেশ দান করবেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যজজ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি পান্ডব। 
যেন ভূতান্যশেষাণি দ্রক্ষ্যস্যাত্মন্যথো ময়ি।।৩৫।।

অনুবাদঃ হে পান্ডব! এভাবে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করে তুমি আর মোহগ্রস্ত হবে না, কেন না এই জ্ঞানের দ্বারা তুমি দর্শন করবে যে, সমস্ত জীবই আমার বিভিন্ন অংশ অর্থাৎ তারা সকলেই আমার এবং তারা আমাতে অবস্থিত।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সন্তরিষ্যসি।।৩৬।।

অনুবাদঃ তুমি যদি সমস্ত পাপীদের থেকেও পাপিষ্ঠ বলে গণ্য হয়ে থাক, তা হলেও এই জ্ঞানরূপ তরণীতে আরোহণ করে তুমি দুঃখ-সমুদ্র পার হতে পারবে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যথৈধাংসি সমিদ্বোহগ্নির্ভস্মাৎ কুরুতেহর্জুন। 
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকর্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা।।৩৭।।

অনুবাদঃ প্রবলরূবে প্রজ্বলিত অগ্নি যেমন কাষ্ঠকে ভস্মসাৎ করে, হে অর্জুন! তেমনই জ্ঞানাগ্নিও সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করে ফেলে।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে। 
তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি।।৩৮।।

অনুবাদঃ এই জগতে চিন্ময় জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছুই নেই। এই জ্ঞান সমস্ত যোগের পরিপক্ক ফল। ভগবদ্ভক্তি অনুশীলনের মাধ্যমে যিনি সেই জ্ঞান আয়ত্ত করেছেন, তিনি কালক্রমে আত্মায় পরা শান্তি লাভ করেন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ। 
জ্ঞানং লব্ধা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।।৩৯।।

অনুবাদঃ সংযতেন্দ্রিয় ও তৎপর হয়ে চিন্ময় তত্ত্বজ্ঞানে প্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই জ্ঞান লাভ করেন। সেই দিব্য জ্ঞান লাভ করে তিনি অচিরেই পরা শান্তি প্রাপ্ত হন।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
অজ্ঞশ্চাশ্রদ্দধানশ্চ সংশয়াত্মা বিনশ্যতি। 
নায়ং লোকোহন্তি ন পরো ন সুখং সংশয়াত্মনঃ।।৪০।।

অনুবাদঃ অজ্ঞ ও শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তি কখনই ভগবদ্ভক্তি লাভ করতে পারে না। সন্দিগ্ধ চিত্ত ব্যক্তি ইহলোকে সুখভোগ করতে পারে না এবং পরলোকেও সুখভোগ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
যোগসংন্যস্তকর্মাণং জ্ঞানসংছিন্নসংশয়ম্। 
আত্মবন্তবং ন কর্মাণি নিবধ্নন্তি ধনঞ্জয়।।৪১।।

অনুবাদঃ অতএব, হে ধনঞ্জয়! যিনি নিষ্কাম কর্মযোগের দ্বারা কর্মত্যাগ করেন, জ্ঞানের দ্বারা সংশয় নাশ করেন এবং আত্মার চিন্ময় স্বরূপ অবগত হন, তাঁকে কোন কর্মই আবদ্ধ করতে পারে না।
      🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹⚜🌹
তস্মাদজ্ঞানসম্ভতং হৃৎস্থং জ্ঞানাসিনাত্মনঃ। 
ছিত্ত্বৈনং সংশয়ং যোগমাতিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত।।৪২।। 

অনুবাদঃ অতএব, হে ভারত! তোমার হৃদয়ে যে অজ্ঞানপ্রসূত সংশয়ের উদয় হয়েছে, তা জ্ঞানরূপ খড়্গের দ্বারা ছিন্ন কর। যোগাশ্রয় করে যুদ্ধ করার জন্য উঠে দাঁড়াও।         
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_19.html


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
সুধী ভক্তবৃন্দ যে লীলা অধ্যায়নের করতে চান নিম্নে লিংকের উপর ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
꧁ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা(প্রথম অধ্যায়-অর্জুনবিষাদযোগ) ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧    
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (দ্বিতীয় অধ্যায়-সাংখ্য যোগ) ꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*              
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (তৃতীয় অধ্যায়- কর্মযোগ)꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*   
✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ )꧂
👉
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (পঞ্চম অধ্যায়- কর্মসন্ন্যাস )꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা(ষষ্ঠ অধ্যায়-ধ্যানযোগ)꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
✧═════════•❁❀❁•═════════✧
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (সপ্তম অধ্যায়-বিজ্ঞান যোগ)꧂ 
✧═════════•❁❀❁•═════════✧
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (অষ্টম অধ্যায়-অক্ষরব্রহ্ম যোগ)꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (নবম অধ্যায়-রাজগুহ্য যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
    *✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (দশম অধ্যায়-বিভূতি-যোগ)꧂* 
    *✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (একাদশ অধ্যায়-বিশ্বরূপ দর্শন যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*

*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (দ্বাদশ অধ্যায়-ভক্তিযোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (ত্রয়োদশ অধ্যায়-প্রকৃতি-পুরুষ-বিবেকযোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*

*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা(চতুর্দশ অধ্যায়-গুণত্রয়-বিভাগ যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (পঞ্চদশ অধ্যায়-পুরুষোত্তম যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (ষোড়শ অধ্যায়-দৈবাসুর সম্পদ বিভাগযোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
    *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (সপ্তদশ অধ্যায়-বিজ্ঞান-যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (অষ্টাদশ অধ্যায়-মোক্ষযোগ)꧂*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•════════✧*
     *꧁ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (গীতামাহাত্ম্যম্) ꧂* 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_19.html


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
সুধী ভক্তবৃন্দ যে লীলা অধ্যায়নের করতে চান নিম্নে লিংকের উপর ক্লিক করুন 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
꧁ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা(প্রথম অধ্যায়-অর্জুনবিষাদযোগ) ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧    
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (দ্বিতীয় অধ্যায়-সাংখ্য যোগ) ꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*              
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (তৃতীয় অধ্যায়- কর্মযোগ)꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*   
✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (চতুর্থ অধ্যায়- জ্ঞানযোগ )꧂
👉
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (পঞ্চম অধ্যায়- কর্মসন্ন্যাস )꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা(ষষ্ঠ অধ্যায়-ধ্যানযোগ)꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
✧═════════•❁❀❁•═════════✧
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (সপ্তম অধ্যায়-বিজ্ঞান যোগ)꧂ 
✧═════════•❁❀❁•═════════✧
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (অষ্টম অধ্যায়-অক্ষরব্রহ্ম যোগ)꧂ 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (নবম অধ্যায়-রাজগুহ্য যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
    *✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (দশম অধ্যায়-বিভূতি-যোগ)꧂* 
    *✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (একাদশ অধ্যায়-বিশ্বরূপ দর্শন যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*

*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (দ্বাদশ অধ্যায়-ভক্তিযোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (ত্রয়োদশ অধ্যায়-প্রকৃতি-পুরুষ-বিবেকযোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*

*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা(চতুর্দশ অধ্যায়-গুণত্রয়-বিভাগ যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (পঞ্চদশ অধ্যায়-পুরুষোত্তম যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (ষোড়শ অধ্যায়-দৈবাসুর সম্পদ বিভাগযোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
    *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (সপ্তদশ অধ্যায়-বিজ্ঞান-যোগ)꧂* 
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
 *꧁শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (অষ্টাদশ অধ্যায়-মোক্ষযোগ)꧂*
*✧═════════•❁❀❁•═════════✧*
*✧═════════•❁❀❁•════════✧*
     *꧁ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (গীতামাহাত্ম্যম্) ꧂* 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৬৫. কাকমাল‍্য মান 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/07/httpmrinmoynandy_43.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                   ꧁ ৬৫. কাকমাল‍্য মান 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
           ꧁ 👇শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র👇 ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 *🌼কাকমাল‍্য মান, গৌরচন্দ্রিকা*
--------------------------------------------------
*সঙরি পূরব লীলা মোর গোরারায়।*
*কুসুম কানন দেখি নিকটহি যায়।।*
*সুললিত মালা গোরা রচন যে করি।*
*পুলকে পূরল তনু নয়নেতে বারি*
*হেনকালে গৌরীদাস তথায় আইল।*
*তাহা দেখি গৌরহরির আনন্দ বাঢ়িল।।*
*তাকর করে গোরা দেওল মালে।*
*কাহা মঝু প্রাণনাথ দেওবি গলে।।*
*এত কহি মৌন হয়ি রহল তথায়।*
*চরণ ধরি সাধই মনোহর যায়।।*

*🌻পূর্ণব্রহ্ম সনাতন শ্রীশচীনন্দন ঘন রসময় তনু নদীয়াবিহারী গৌরহরির লীলা খেলার অন্ত নাই।সেই পূরবের অর্থ‍্যাৎ ব্রজের কথা মনে পড়েছে।* *তিনি তো আর অন‍্য কেহ নহেন,ব্রজে ছিলেন যে লীলায়,তিনি এলেন নদীয়ায়।* *"সঙরি পূরব লীলা মোর গোরারায়",* ব্রজের সেই লীলা নদীয়াবিহারীর অন্তরে জেগে উঠেছে।* *সেই লীলা মহাপ্রভু নদীয়ায় প্রকট করলেন।হে জীবগণ তোমরা ব্রজের লীলা দর্শন করতে পার নাই,সেই ব্রজের লীলায়, নদীয়ায় শ্রবণ ও দর্শন কর।* *আমি তোমাদের জন‍্যই গোলোক ছেড়ে ভূলোকে মনুষ‍্য জন্ম নিয়ে এসেছি, তোমাদের চিত্ত শুদ্ধি ও লীলা দর্শন করানোর জন্য।* *তাই অদ‍্য গোরাচাঁদ পূরব লীলা স্মরণ করে পার্ষদগণ নিয়ে কুসুম কাননে প্রবেশ করলেন।* *বৃন্দাবন যেমন ঐ সময়ে তুলসী বৃক্ষ ছাড়াও অন‍্যান‍্য বৃক্ষে পরিপূর্ণ ছিল,নবদ্বীপ নদীয়াতেও মহাপ্রভু অবতরী হন,বহু কানন বা বন ছিল।* *কুসুম কাননে প্রবেশ করে কুসুম চয়ন করে অতীব সুন্দর একখানি মাল‍্য রচনা করলেন।* *মাল‍্য দেখে মহাপ্রভুর অন্তর,সর্বাঙ্গে আনন্দ ভরে উঠল।* *সেই আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে আনন্দাশ্রু বহিতে লাগল।* *কেন?আপনি আচরি ধর্ম জীবকে শেখায়,আমি যার উদ্দেশ্যে যা কিছুই অর্পণ করি না কেন,তা যদি নিজে তুষ্ট হতে না হয়ে থাকি,তাহলে অপরকে তুষ্ট করা যাবে না।* *তিনি একখানি এমনই মালা রচনা করেছেন যে তিনি চরম তুষ্ট হয়েছেন।* *মালাটি তো রচনা করলাম,যাঁর উদ্দেশ্যে করলাম তাঁকে মালাটি কে দেবে?এই কথা চিন্তা করছেন,এমন সময় হঠাৎ গৌরীদাস এসে উপস্থিত হলেন,গৌরীদাসকে দেখে মহাপ্রভুর আনন্দ ধরে না,* *আনন্দ আরও গুণ গুণ বেড়েয় যাচ্ছে,কেন হে না গো?তিনি তো আর নদের নিমাই নহেন,পূরবের ভাবে বিভোর হয়ে আছেন।* *গৌরীদাসকে দেখা মাত্রই ব্রজের সুবল এসেছে,আনন্দের সীমা রইল না।* *মহাপ্রভু বলে উঠলেন,ওরে ভাই সুবল!তুই কোথায় ছিলি?আমার কাছে আসতে এত বিলম্ব হল কেন?* *গৌরীদাস এসকল কথা শুনে চরম আশ্চর্য‍্য হলেন।*বলছেন মহাপ্রভু আজ এ কি কথা বলছেন!* *কে সুবল?গৌরীদাসের মনে এইকথা আনাগোনা করায়,অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু যেন আনন্দে মৃদু মৃদু হাস‍্য করতে লাগলেন।* *মহাপ্রভু বললেন,গৌরীদাস তোর স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছে,বলিয়া যখন তাঁর মস্তকে হাত দিলেন,গৌরীদাস তখন রাইকিশোরী তুমি এখানে বলে বদন পানে চেয়ে রইলেন।* *অতঃপর হাত সরিয়ে নিলে গৌরীদাস পুনঃ বাহ‍্য চেতনা ফিরে পেলেন।* *মহাপ্রভু তখন সেই সুললিত মালাটি গৌরীদাসকে দিয়ে বললেন,আমার প্রাণনাথ কোথায় আছে জেনে মালাটি তাঁর গলে পরিয়ে দিবে।* *এবারে মালাটি হাতে নেবার সঙ্গে সঙ্গে গৌরীদাসেরও পূর্ব স্মৃতি জেগে উঠল।* *গৌরীদাস অন্বেষণ করছেন,* *কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না, তিনি মালাটি একটি পত্রপুটে রেখে দিলেন কৃষ্ণ আসিলে তাঁর গলায় পরিয়ে দিব।ঐদিকে মহাপ্রভু মৌন হয়ে রহিলেন।* *মহাপ্রভুর মৌনভাব দেখে পদকর্তা মনোহর দাস বলছেন,প্রভু মৌন হলে কেন কথা বল।*
*🌻গৌরচন্দ্রিকা এখানেই রইল।🌻*
🌻🌻🌻ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻🌻*
*ভগবান কখন কোন লীলা কি ভাবে করবেন,তা বোধহয় সাধারণ মানুষের বোধগম্য নহে।* *তিনি পূর্বেই বলেছিলেন, বসুমাতার ভার হরণ ও মনুষ‍্যগণকে আনন্দ দেবার জন্য এবার মর্ত‍্যে স্বয়ং অবতীর্ণ হবেন,মনোসাধ পূরাবেন।*
*সেই বায়স খাবার বস্তু মনে করে পত্রপুট(ঠোঙ্গা) ঠোঁটে করে এসে চন্দ্রাবলীর গৃহের বৃক্ষডালে বসল।*
*বসবার পরই ঠোঙ্গা হতে মালাটি বেড়িয়ে পরে,তা চন্দ্রাবলীর নজরে পড়লে সকল সখীকে ডেকে বলেন,যেভাবেই হোকনা কেন এই মালা আমায় এনে দিতে হবে,নচেৎ প্রাণ বিসর্জন দিব।* *তখন সখীগণ যুক্তি করে বেশ কিছু খাবার কাকের সামনে ধরায়,খাবার পাবার লোভে ঠোঁট থেকে সেই মালা ছেড়ে দেই,* *সেই মালা পেয়ে চন্দ্রাবলী অতি আনন্দের সহিত গলে ধারণ করলেন।* *চন্দ্রাবলীর সখী বললেন,চন্দ্রাসখী,এই মালা যে গেঁথেছে সে অতি কোন সামান‍্যা নারী নহে,সেই অসামান‍্যা নারী অতীব চতুরা, কেন জানো?বায়সকে দূত করে তাঁর মালা তাঁর প্রাণের বন্ধুর জন্য প্রেরণ করেছে,আর এক সখী কইলেন,সে নারী বড় রসিকিনী,বন্ধুকে মালা দিবে মনে করে,বায়সের সহিত সেই অসামান‍্যার নারীর লেহ(ভালবাসা)।* *পদকর্তা বললেন,রাধারাণীর অন্তর থেকে গাঁথা মালা কাক এক অরসিককে দিয়ে ফেলল,অর্থ‍্যাৎ কাক এক ঠক,যে পেল সে আর এক ঠক।*
*🌻🌻কাকমাল‍্য মান ব্রজলীলা🌻🌻*
-----------------------------------------------------------
*বিবিধ কুসুম আনিয়া রাই।*
*অতি সুললিত মালা বনাই।।*
*নিজ করে রাখি,ছলছল আঁখি।*
*প্রেমময় ভাখি বোলই।।*
     *ভাখি =কথা বা বাক‍্য।*
*ঘরে গুরুজনে, অতি দুজনে,*
     *কি করি এখন মন উচাটন।*
*কি ছলে যাই, এ মল‍্য পরাই,*
      *জুড়াই কেমনে সই জীবন।।*
*হেনকালে সুবল আওল তাহা।*
*হেরি সুবদনী পুলক দেহা।।*
*মরম কাহিনী, কহিয়া তখুনি,*
     *মালা দেই কহে না কহ কোই।*
*চলত সুবল, হরষ পাই,*
    *বনে উপনীত রাখাল ঠাঁই।।*
*নিরখি রাম, গোপেতে দাম,*
    *শ‍্যাম করে তাহা সোঁপই।।*
*অগ্রজ ভয়ে না পরি মালে।*
*যতনে রাখল কদম্ব ডালে।।*
*কাক আসিয়া,সেই মালা লৈয়া,*
     *চন্দ্রার মন্দির পর ডারই।।*
      *ডারই=ফেলিল*
*হেরি চন্দ্রাবলী কহত ডাকি।*
*আয় ত্বরা তোরা হেরগো সখী।।*
*বিধি অগোচর,এ হেন সুন্দর।*
*বায়সা লহ মালা কহ মনোহর।।*

*🌻প্রেমময়ী শ‍্যাম সোহাগের সোহাগিনী রাই বিনোদিনী অদ‍্য নানারকম পুষ্প চয়ন করে শ‍্যাম নাগরের জন্য একখানি অতীব সুন্দর মালা গ্রন্থন করেছেন।* *শ‍্যামসুন্দরকে দেবার জন্য।* *যাঁরা গোবিন্দের সুখে সুখী,তাঁরাই তো শ‍্যাম সোহাগের সোহাগিনী।* *ঘরে বসে মাল‍্য রচনা করে মনে মনে ভাবছেন,এই মালা কেমন করে আমার প্রাণবঁধূর কাছে প্রেরণ করব?* *এই ভাবনা ভাবছেন আর দুই নয়ন বহে যাচ্ছে,কেন কাঁদছেন?রাই ধনি যে বাদিনীর ঘরে বাস করেন, এই ঘরে কেহ নে যে তার হাত দিয়ে বঁধূর কাছে মালা পাঠাইব।* *এইভাবে শ‍্যামসুন্দরের কথা ভাবছেন,এমন সময়ে সুবল এসে উপস্থিত,সুবলকে দেখে রাইধনির যেন আনন্দ ধরে না।* *কেহ যদি নিষ্ঠার সঙ্গে গোবিন্দ চরণে কিছু প্রার্থনা করেন, বা জানাই;তাহলে জগৎ কৃপাময় তাঁর প্রার্থনা পূরণ করেন,ইহাতে কোন সংশয় নেই।* *রাধারাণী নিজ মনের কিছু কথা সুবলকে বললেন,যে ঘরে বাস করেন জোড়ে কথা বলবার কোন উপায় নাই,দেওয়ালে কান দিয়ে কুটিলা বসে থাকে,কি বলছে শুনব আর দাদাকে লাগাব।* *সুবলের হাতে মালা অর্পণ করে বললেন,ভাই সুবল!তোমার সখার গলে পরিয়ে দিও।* *সুবল বিদায় নিয়ে গোঠে এলেন,এসে দেখলেন কানাইয়ের সঙ্গে দাদা বলরাম আছেন,মালা রয়েছে,অতি গোপনে কানাইয়ের হাতে দিতে হবে, কানাইকে দাদার কাছ হতে দূরে নিয়ে মালাটি দিলেন।* *পাশে দাদা আছেন জেনে,কদম্ব বৃক্ষের ডালে মালাটি রেখে দিলেন,সে বৃক্ষে কয়েকটি কাক বসে ছিল,তাদের খাদ‍্য বস্তু মনে করে ঠোটে করে নিয়ে চলে গেল,এবারে খাদ‍্যবস্তু না পেয়ে চন্দ্রাবলীর বাড়ীতে মালাটি ফেলে দিল।* *চন্দ্রাবলী মালাটি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হলেন,সখীগণকে ডেকে দেখালেন।*
*🌻🌻দ্বিতীয় পদ🌻🌻*
-----------------------------------------
*কহে চন্দ্রমুখী,শুন সব সখী,*
      *কহিয়ে অন্তর বেথা।*
*বায়সা ভুলহ,এ মালা আনহ,*
     *নহিলে মরিব হেথা।।*
*শুনিয়া সঙ্গিনী,মনে ভয় মানি,*
     *যুকতি করিয়া সবে।*
*বহু উপহার ,আনিয়া সত্বর,*
     *কাকেরে দেওল সবে।।*
*আহার পাইয়া, বায়স ভুলিয়া,*
     *মালাটি ছাড়িয়া দিল।*
*পাই চন্দ্রাবলী,গলে নিল তুলি,*
     *কত হরষিত ভেল।।*
*পুন সে রঙ্গিনী,কহে অনুমানি,*
      *যে ধনি গাঁথিল মালা।*
*একাকী বন্ধুয়া,সে ধনি পাঞা,*
       *ঘুচাইল মনের জ্বালা।।*
*কহে পদ্মাবতী,করিয়া প্রণতি,*
     *সে ধনি সামান‍্যা নহে।*
*যাহার মালায়,জগত ভুলায়,*
      *কে তারে সামান‍্যা কহে।।*
*এক ধনি কয়,মোর মনে লয়,*
      *সে ধনি চতুরা বালা।*
*কাক দূত করি, পাঠাইলা সুন্দরী,*
      *বন্ধুরে পরাতে মালা।।*
*কহে আর সখী,জগতে না দেখি,*
      *বড় রসকিনী সেহ।*
*বন্ধুর বরণ, মনেতে ভাবিয়া,*
     *কাকের সহিত লেহ।।*
*মনোহর কয়,ধনির এ ধন,*
     *অর্পণ করিল ঠকে।*
*চোরে চুরি কৈল,বাটোয়ারা দিল,*
     *এবে দেখি কেবা ঠকে।।*
 *🌻🌻তৃতীয় পদ 🌻🌻*
*সুললিত মালা গলে সুবেশা সুন্দরী।*
*ভ্রমে বনে হর্ষমনে সঙ্গে সহচরী।।*
*কুসুম তুলি চন্দ্রাবলী বসিল তরু ছায়।*
*ভানুর সুতা ভানুর সুতায় স্নান করিতে যায়।।*
*ভানু সুতা=বৃষভানু নন্দিনী, ভানুসুতায়=সূর্য‍্য কন‍্যা যমুনা*
*চন্দ্রা গলে দেখি মালে বোলে কমল মুখী।*
*আয় ললিতে দেখ ত্বরিতে কি বিপরীত দেখি*
*বিনা সুতে মালা গেঁথে কৃষ্ণ গলে দিলাম।*
*মিথ‍্যা আশা সব ভরসা সাক্ষি তার পাইলাম।।*
*খলের কথায় মন প্রাণ না জানিয়ে সঁপি।*
*মনোহর কয় যত্নে হিয়ায় বিষের তরু রোপি।।*

*🌻সেই সুললিত মালা পেয়ে চন্দ্রাবলী গলায় ধারণ করে অতি আনন্দিত মনে কাননের মধ্যে ভ্রমণ করছেন,সেই বনের মধ্যে বহু পুষ্প দেখে পুষ্প চয়ন করে একটি বৃক্ষতলে বসলেন।* *অপরদিকে ভানুর সুতা(বৃষভানু নন্দিনী)ভানু সুতায় (সূর্য‍্য কন‍্যা যমুনা)অবগাহন(স্নান) করতে গিয়াছেন।* *হঠাৎ চন্দ্রাবলীর গলায় সেই মালা দেখে চরম কষ্ট হল,রাধারাণী মনে মনে বলছেন,আমি আমার বঁধূকে মালা দিলাম, সে মালা চন্দ্রাবলীকে দিয়ে দিল?* *কৃষ্ণের প্রতি তাঁর চরম ভাবে মান জন্মাইল।* *কারণ যাঁর জন্য মন প্রাণ সবকিছু সঁপিলাম,সেই খল আমার সঙ্গে এই রকম বঞ্চনা করল?*
*🌻🌻🌻চতুর্থ পদ🌻🌻🌻*
      *তত্র মানং*
*ঐছন লম্পট বদন আর।*
*না হেরিব সখী কহিনু সার।।*
*কামুকী সহিত কামুক প্রীত।*
*এবে সে বুঝিনু এ সব রীত।।*
*যে ছিল করমে হইল তাই।*
*অলপে বারণ ওসুখে ছাই।।*
*শ্রবণে না শুনব প্রেমক নাম।*
*স্বপনে বদনে না কব শ‍্যাম।।*
*ভরমেও কালো নয়নে স্থান।*
*না দিব সজনি থাকিতে প্রাণ।।*
*এ কালো কুন্তলে চন্দনে ঢাক।*
*শম্ভু শিরোপরে ভূজঙ্গ রাখ।।*
*অম্বর ডম্বর ঝাপই সই।*
*চুনেতে তমাল লেপই কোই।।*
*কোপেতে আয়ল কুঞ্জক ঘর।*
*নাগরে বারতা দেই মনোহর।।*

*🌻🌻চন্দ্রাবলীর গলে মালা দেখে রাইধনির চরম মান হয়েছে,বলছেন ঐরকম খল,লম্পটের বদন দর্শন করব না।* *চন্দ্রাবলী যেমন কামুকী,ঐ লম্পপও তেমনি কামুক।* *সখী!আমার ভাগ‍্য অত‍্যন্ত খারাপ,ঘরে গঞ্জনা,বাহিরে খলপনা।* *ঐ কালাকে ভালবেসে আমি দুঃখ ছাড়া সুখ পাইনি জানিস?* *সখী আমি তোদের বলছি,আমি আর ঐ খলের নাম শুনব না,বলবও না।* *এবং ভুল করেও ঐ লম্পটের কালো নয়নে নয়ন দিব না।* *আমি কোনদিন স্বপ্নেও তাঁর কথা বলব না,তাঁর নাম বদনে নিব না, শোন সখী আমার যে কালো চুল আছে,তাহা চন্দনে লেপন করে ভালভাবে ঢেকে রাখ।* *কালো চুলও দেখব না,অম্বর ডম্বর (আকাশ সমূহ)ঢেকে রাখ,কালো আকাশের দিকে দেখব না।* *এবং তমাল বৃক্ষকে সাদা চুন দিয়ে লেপন করে ঢেকে ফেল।এইকথা বলে অতি ক্রোধান্বিত হয়ে কুঞ্জের ভিতরে এলেন।* *পদকর্তা রাধারাণীর এই ক্রোধ দেখে বুঝতে পারলেন একমাত্র শ‍্যামনাগর ছাড়া রাইধনির মান ভঙ্গ করতে পারবে না,তাই তিনি শ‍্যামসুন্দরকে বার্তা জানালেন।*
*🌻🌻 পদ পঞ্চম 🌻🌻*
*সখী মুখে শুনি হেন রীত।*
*যাই নাগর কুঞ্জে উপনীত।।*
*মান হেরি চমকিত ভেল।*
*মন মাহা ডর উপজিল।।*
*করজোড়ে কহে মৃদু বাণী।*
*কাঁহা লাগি হইলে মানিনী।।*
*চাহ মুখ তুলি একবার।*
*শ‍্যাম দাস চরণে তোমার।।*
*মিনতি করয়ে বারবার।*
*রোই রোই কহয় না পার।।*
*মান সিন্ধু তরঙ্গ দেখিয়া।*
*পরু শ‍্যাম চরণ ধরিয়া।।*
*পদ তলে লুটই কান।*
*তবুও নাহি তেজই মান।।*
*মোহিনী চরণ করি ধ‍্যান।*
*মনোহর ইহ রস গান।।*

*🌻🌻শ্রীকৃষ্ণ সখী মুখে শ্রীরাধার মান করবার সংবাদ শুনে অতি শীঘ্রই কুঞ্জে উপস্থিত হলেন।*রাধারাণীর এই মানের অবস্থা দেখে হতবম্ব হয়ে গেলেন,মানের ভাব দেখে খুব ভয়ও পেলেন।* *রাধার বদন পানে চেয়ে কৃষ্ণ জিজ্ঞাসা করলেন অতি বিনয়ী ভাবে হে রাধে!প্রেমময়ী তোমার মান হবার কারণ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না* *যদি কারণ বল?* *তুমি কথা বল,তুমি কথা না বললে তো আমি কিছু বুঝতে পারব না,বল,বল ওগো প্রাণ প্রিয়তমে আমায় বল?* *তুমি যদি আমার সঙ্গে কথা না বল,আমি ভীষণ কষ্ট পাব,বল কি কারণে মান করেছ।* *দেখ রাধে আমি তোমার চরণতলে পড়ে আছি,আমার কি অপরাধ হয়েছে বল?* *এইভাবে রাধার কাছে বারংবার মিনতি করছেন শ‍্যামসুন্দর।* *মিনতি,বিনয়,অনুরোধ করতে করতে কৃষ্ণ অঝোর নয়নে ক্রন্দন করছেন,তবুও রাধার মান প্রশমন হল না।* *পুন শ্রীরাধার চরণতলে বসে,ভক্ত যেমন ভগবানের শ্রীচরণ পাবার আশায় আকুলি ব‍্যাকুলি করে রোদন করেন,আজ সেই অবস্থায় শ‍্যাম।* *
*🌻🌻ষষ্ঠ পদ ও ব‍্যাখ‍্যা🌻🌻*
*রসিক নাগর,আকুল অন্তর,*
      *গদ গদ স্বরে কহে।*
*বিনি অপরাধে,কেনে গো সুন্দরী,*
        *গুরুদন্ড দিলে মোহে।।*
*পীতাম্বর ,করি করজোড়,*
     *ঠারহি রাইর পাশ।*
*এ পাঁচ বদন, ভূজঙ্গে দংশল,*
     *কি আর জীবনের আশ।।*
*এতেক কহিতে ,কাঁপিতে কাঁপিতে,*
     *ভূমে মূরছিত ভেল।*
*হেরি সখীগণ, কহত কাঁদিয়া,*
      *হায় হায় কিনা হৈল।।*
*শ্বাসহীন হেরি,শ্রবণ কুহরে,*
     *কহত রাধার নাম।*
*মান তেয়াগিয়া,ধায় বিনোদিনী,*
     *কোরেতে লইল শ‍্যাম।।*
*সুশীতল নীরে,সিনান করাই,*
      *অঞ্চলে করত বায়।*
*অঙ্গ মোড়া দিয়া,বসিল নাগর,*
      *রাইর বদন চাই।।*
*কহে বিনোদিনী,ধিক এ জীবনে,*
     *কি কাজ বাঁচিয়ে আর।*
*শোভা বাড়াইতে,কামুকী হৃদয়ে,*
     *পরাইলে মোর হার।।*
*শুনি কহে শ‍্যাম,সে হার তোমার,*
     *কদম্ব তলাতে রাখি।*
*খোঁজ না পাই,কহিতে তথাই,*
     *আইল চন্দ্রার সখী।।*
*তাহারে পুছিয়া,সকলি শুনিয়া,*
     *ঘুচিল মনের বাধা।*
*হৃদয়ে লইয়া,বিনয়ে কহত,*
    *এ হত পাপিনী রাধা।।*
*মোহিনী চরণ,করিয়া স্মরণ,*
     *রূপ নারায়ণে ধ‍্যানে।*
*কাক হেতু মান,ইহ রস গান,*
      *মূঢ় মনোহর ভণে।।*

 *🌻নিরপরাধী শ্রীকৃষ্ণ বলছেন,হে রাধে, কেন তুমি আমায় বিনি অপরাধে গুরুদন্ড দিলে?* *হে প্রেমময়ী আমি তো অপরাধ করি নাই!তোমার এ দশাদেখে যেন মনে হয়েছে পঞ্চমুখ সর্প আমায় দংশন করলে,যেমন দশা হয়,অদ‍্য আমারও একই দশা।* *তোমার কথা অন্তরে ভাবতে ভাবতে,কি করব,কি না করব,তারপর মৃত্তিকায় মূর্ছিত হয়ে পড়লাম,* *সখীগণ এই দশা দেখে হায়! হায়!করতে করতে রাধার কাছে সব কথা বললেন।* *কৃষ্ণের এই দশা দেখে মান ভঙ্গ করে বঁধূকে কোলে নিলেন,কিছুক্ষণ চেতনা ফিরলে,বঁধূকে শীতল জলে স্নান করিয়ে সুস্থ করলেন।* *এবং শ‍্যামনাগরের সেবা করতে লাগলেন।* *সুস্থ হবার পর রাধা,কৃষ্ণকে বললেন,তোমার জন্য কত মনযোগ দিয়ে একটি বিনি সুতোর মালা গ্রন্থন করে দিলাম, তাহা চন্দ্রাকে দিয়েদিলে?* *তবে শোন বলি!তুমি মালা পাঠিয়ে ছিলে,পাশে দাদা ছিল পরতে পারলাম না,কদম গাছের ডালে রাখলাম পরে পরব বলে, ইতিমধ্যে কাক তার খাবারের বস্তু মনে করে সেখান থেকে নিয়ে চলে যায়।* *কোথায় গেল খবর পেলাম না,পরে চন্দ্রার সখীর কাছে জানতে পারলাম,কাক চন্দ্রার বাড়ীর বৃক্ষে বসে এবং মালা ফেলে দেয়।* *তখন রাধা বললেন সব বুঝতে পারলাম, এই সবের মূল কারণ কাক।* *যাইহোক এখানেই রাখলাম।*     
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




adds