শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৩. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🥀 শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🌼 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী ❇️ শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🌼 শ্রীগম্ভীরা 🌼 শ্রীধাম পুরী ❇️ রচয়িতা 🥀 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/bokreshwar3.html

   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৩. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
     ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ২. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
যাঁহারা অবতারবাদ মানেন না, তাঁহারা ঐ ভগবদ্বাক্য সম্বন্ধে নানা তর্ক উত্থাপিত করিতে পারেন। তাঁহার বলিতে পারেন যে, ভগবান যখন সর্ব্বশক্তিমান্; যখন তিনি মনে করিলেই নিমেষ মধ্যেই কোটি কোটি ব্রহ্মান্ডের সৃষ্ঠি ও প্রলয় করিতে পারেন, তখন ধর্ম্ম- সংস্থাপন জন্য দেহ ধারণ করিয়া, দুষ্ট লোকদিগের বিনাশ করিবার নিমিত্তে অস্ত্রাদি ধারণ পূর্ব্বক সামান্য দেহীর মত কার্য্যক্ষেতে প্রবিষ্ট হইবার তাঁহার প্রয়োজন কি? এই প্রশ্ন সম্বন্ধে প্রয়োজন অপ্রয়োজন বিষয়ে কোন তর্কই উঠতে পারে না। তিনি কোন কার্য্য কি জন্য করেন, তাহা তিনিই জানেন; মায়া দ্বারা অভিভূত জীবের পক্ষে তাহা বুঝিয়া উঠা সহজ নহে এবং যে বিষয়ে মায়াভিভূত জীবের পক্ষে তর্ক দ্বারা কিছু মীমাংসা হইবারও সম্ভাবনা নাই। আমরা কেবল ইহাই বলিতে পারি যে, নরদেহ ধারণ করিয়া নরের মত কার্য্য দ্বারা ধর্ম্মসংস্থাপন করা তাহার নিজের ইচ্ছা; আমরা সে ইছাময়ের ইচ্ছার বিষয় কি বুঝিব? উপর্য্যুক্ত গীতেক্তি ভগবদ্ধাক্যে কেহ কেহ এরূপ তর্কও করিয়া থাকেন যে, যদি ধর্ম্মসংস্থাপন করাই ভগবানের অবতারের উদ্দেশ্য হয়, তাহা হইলে তিনি তাহা সংসীধিত করিবার জন্য অন্য কোন সাধু পন্থা ও সৎ উপায় অবলম্বন করিতেন; দুষ্টগণের বিনাশরূপ গহিত প্রাণী - হিংসা কার্য্য কখনই করিতেন না। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                              🙏 ক্রমাগত 🙏
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৪. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🌼 তৃতীয় ভাগ 🥀 শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🌼 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী ❇️ শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🌼 শ্রীগম্ভীরা 🌼 শ্রীধাম পুরী ❇️ রচয়িতা 🥀 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/bokreshwar3.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - প্রথম ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - দ্বিতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫১.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীঅদ্বৈত আচাৰ্য্যের ভক্ত-গোষ্ঠীর মধ্যে কে প্রধান ছিলেন ❓ 
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 প্রথম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের কিছুকাল পূর্ব্বে নবদ্বীপবাসী জনসাধারণের অতি ভক্তিশূন্য অবস্থা ছিল। সে সময় অতি অল্পসংখ্যক লোকই বৈষ্ণবধর্ম্মাবলম্বী ছিলেন। তাঁহারাই পরে- শ্রীগৌরাঙ্গের প্রথম প্রধান পারিষদগণ মধ্যে পরিগণিত হইয়াছিলেন। তাঁহাদের মধ্যে, সর্ব্বপ্রধান, প্রবীণ, জ্ঞানী ও বয়োজ্যেষ্ঠ, ছিলেন- শ্রীঅদ্বৈত আচাৰ্য্য । ঐ আচার্য্যের ভক্ত-গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রীবাসপণ্ডিত একজন প্রধান ছিলেন। ইহারা চারি ভাই ; শ্রীগৌরাঙ্গ দেবের জন্মগ্রহণের পূর্ব্ব হইতেই ভক্তি-পথাবলম্বী ছিলেন এবং প্রতি রজনীতে আপন বাটীতে উচ্চৈস্বরে হরিনাম সঙ্কীর্ত্তন‌ করিতেন। সে সময় নবদ্বীপ যবন নরপতি কর্ত্তৃক শাসিত ছিল। ভক্তিশূন্য নদে-বাসী অপর সকল জনগণ ঐ শ্রীবাস পণ্ডিত এবং তাঁহার ভ্রাতৃগণের প্রতি অত্যন্ত‌ বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট ছিল। এক তো ভক্তিশূন্যতাহেতুক, ঐরূপ উচ্চ হরিনামকীর্ত্তন তাহাদের ভাল লাগিত না,— অতিশয় প্রতি কঠোর বোধ হইত; দ্বিতীয়তঃ তাহারা মনে করিতে যে, দুর্দান্ত যবন শাসনকর্তা ঐরূপ ব্যাপারে সমস্ত নগরবাসিগণের উপরই বিরক্ত হইয়া কোন কঠিন আজ্ঞা‌ প্রচার করিতে পারেন, এই জন্য তাহারা শ্রীবাসের অনিষ্ট সাধন করিতে কতসঙ্কল্প হইয়া- ছিল, এবং তাঁহাকে পরিজনসহিত নগর হইতে বহিষ্কৃত করিয়া দেওয়াই উচিত বিচেনা করিয়া তদ্বিষয়ে যুক্তি পরামর্শ করিত।
যথা—
চারি ভাই শ্রীবাস মিলিয়া নিজ ঘরে।
নিশা হৈলে হরিনাম গায় উচ্চৈঃস্বরে ॥
শুনিয়া পাষণ্ডী বলে হইল প্রমাদ।
এ ব্রাহ্মণ করিবেক গ্রামের উৎসাদ |
মহাতীব্র’ নরপতি যবন ইহার ।
এ আখ্যান শুনিলে প্রমাদ নদীয়ার ॥
কেহ বলে এ ব্রাহ্মণে এই গ্রাম হ’তে।
ঘর ভাঙ্গি ঘুচাইয়া ফেলাইমু স্রোতে ॥
এ ব্রাহ্মণে ঘুচাইলে গ্রামের মঙ্গল।
অন্যথা যবনে গ্রামে করিবেক বল ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫২.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দ্বিতীয় 🙏
পাষণ্ডি-দলের বক্তব্য--"লোকে নির্জনে আপন ঘরে বসিয়াই হরিনাম করে, ইহাদের মত হরিনাম করা তো কখনও শুনি নাই এবং কোথাও দেখি নাই। উৎকট চীৎকার-শব্দ করিয়া এ কিপ্রকার হরিনাম !! আবার মধ্যে মধ্যে কান্না-কাটি !! ইহাদের তো সকলই বাড়াবাড়ি। ইহাদের জালায় রাত্রিতে নিদ্রা যাইতে পারি না।”
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঐ যে পাষণ্ডি-দলের উল্লেখ করা হইল, তন্মধ্যে কেবলই যে অজ্ঞ, দুর্দান্ত, বিদ্যাশূন্য লোকই ছিল এমন নহে; অনেক জ্ঞানগৰ্ব্বিত, বড় পণ্ডিত বলিয়া গণনীয় ব্যক্তিরও অভাব ছিল না। ঐ পণ্ডিতমণ্ডলীর উচ্চ হরিনামসঙ্কীর্ত্তন তাঁহাদের কিছুমাত্র ভাল লাগিত না, তাঁহারা বলিতেন “এ বেটাদের কি রকম ভজনপদ্ধতি : হরিনাম করিতে হয় তো লোকে নির্জনে আপন ঘরে বসিয়াই হরিনাম করে, ইহাদের মত হরিনাম করা তো কখনও শুনি নাই এবং কোথাও দেখি নাই। উৎকট চীৎকার-শব্দ করিয়া এ কিপ্রকার হরিনাম !! আবার মধ্যে মধ্যে কান্না-কাটি !! ইহাদের তো সকলই বাড়াবাড়ি। ইহাদের জালায় রাত্রিতে নিদ্রা যাইতে পারি না।” ঐ নবদ্বীপে দেবানন্দ পণ্ডিত নামে একজন বিখ্যাত ভাগবতের পণ্ডিত বাস করিতেন। তিনি প্রসিদ্ধ সার্বভৌমের পিতা মহেশ্বর বিশারদের প্রতিবেশী ছিলেন। তিনি ঐরূপ ভক্তিশূণ্য পণ্ডিতগণের মধ্যে ঐ সময়ে জ্ঞানবান, নিষ্ঠাবান্ ও চিরকুমার এবং একজন ভাগবতশাস্ত্রাধ্যাপক বড় পণ্ডিত বলিয়া খ্যাত্যাপন্ন ছিলেন। তাঁহার চতুষ্পাঠীতে অনেক ভাগবত শাস্ত্র অধ্যয়ন করিত। কিন্তু তিনি ভাগবতের‌ ভক্তিপক্ষে ব্যাখ্যা কিছুই করিতে পারিতেন না এবং এত বড় পণ্ডিত হইয়াও ভাগবতের যথার্থ মর্শ * বুঝিতেন না।
যথা—
সেইখানে দেবানন্দ পণ্ডিতের বাস।
পরম সুশান্ত বিপ্র মোক্ষ অভিলাষ ॥
জ্ঞানবন্ত তপস্বী আজন্ম উদাসীন।
ভাগবত পড়ান তথাপি ভক্তিহীন।
ভাগবতে মহা অধ্যাপক লোকে ঘোষে।
মৰ্ম্ম অর্থ না জানেন ভক্তিহীন দোষে ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৩.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 তৃতীয় 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কথা সত্যই বটে, ভক্তিহীন হইয়া বহু শাস্ত্র আলোচনা করিলেও শাস্ত্রের প্রকৃত রসাস্বাদন করিবার সম্ভাবনা নাই; এজন্য ভক্তিহীন পণ্ডিতের সহিত দর্ব্বীর তুলনা অনেক গ্রন্থে দেখিতে পাওয়া যায়। লোকে দব্বী দ্বারা অনেক প্রকার সুরস মিষ্টান্ন প্রস্তুত করিয়া থাকে, দব্বী সেই মিষ্টান্নে মাখাচোকা হইয়া অনেক নাড়াচাড়া করে; কিন্তু, দব্বী সেই মিষ্টারের মধুর স্বাদ আস্বাদন কি করিতে পারে ? দেবানন্দ পণ্ডিতও তেমনি ভক্তিগ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবতের প্রকৃত মৰ্ম্ম আম্বাধনে অনধিকারী ছিলেন।

একদা উক্ত শ্রীবাস পণ্ডিত মহোদয় ভাগবত শ্রবণার্থ ঐ দেবানন্দের চতুষ্পাঠীতে উপস্থিত হইলেন। পরম প্রেমিক ভক্ত প্রবর শ্রীবাস সেখানে ভাগবত শ্রবণ করিয়া প্রেমে একেবারে বিভোর হইয়া উঠিলেন এবং ভাবে গদগদচিত্ত হইয়া একেবারে বাহ্যজ্ঞান-শূন্য হইয়া পড়িলেন। তাহার ঘন ঘন নিশ্বাস পড়িতে লাগিল; তিনি অধিকক্ষণ আর আপনাকে সামলাইতে না পারিয়া উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন "করিয়া উঠিলেন। দেবানন্দের তরলমতি শিষ্যগণ অধ্যাপকের ভক্তিহীন ব্যাথ্যাই শুনিত, সুতরাং তাহারাও ভক্তিহীন ছিল। শ্রীবাসের ঐরূপ দীর্ঘ নিশ্বাসপতন ও
উচ্চ ক্রন্দনের কারণ কি বুঝিবে? তাহারা তাঁহার ক্রন্দন-শব্দে মহা বিরক্ত হইয়া উঠিল ও আপনাদের পাঠের ব্যাঘাত হইতেছে দেখিয়া এবং ঐরূপ ক্রন্দন তাহাদের পাঠের কণ্টক বিবেচনা করিয়া শ্রীবাস পণ্ডিতকে ঐ অচেতন অবস্থার ধরিয়া লইয়া টোলের বহির্ভাগে টানিয়া ফেলিয়া দিয়া আসিয়া তবে নিশ্চিন্ত হইল। দেবানন্দ পণ্ডিতও সেখানে উপস্থিত থাকিয়া ছাত্রবৃন্দের ঐরূপ গর্হিত কার্য করিবার পক্ষে কোনও নিষেধ করিলেন না। বোধ হয় উহার মনে ঐ কাৰ্য্য গর্হিত বলিয়া বিবেচিত হয় নাই । 

যথা—
দৈবে এক দিন তথা গেলা শ্রীনিবাস ।
ভাগবত শুনিতে করিয়া অভিলাষ ।।
*অক্ষরে অক্ষরে ভাগবত প্রেমময়।
শুনিয়া দ্ৰবিল শ্রীনিবাসের হৃদয় ।।
“ভাগবত শুনিয়া কান্দয়ে শ্রীনিবাস।
মহা ভাগবত বিপ্র ছাড়ে ঘন শ্বাস ॥
“পাপিষ্ঠ পড়ুয়া বলে হইল জঞ্জাল।
পড়িতে না পাই ভাই ব্যর্থ যায় কাল ॥
পাপিষ্ঠ পড়ুয়া সব যুকতি করিয়া।
বাহিরে এড়িল লঞা শ্রীবাসে টানিয়া ।।
দেবানন্দ পণ্ডিত না কৈলা নিবারণ।
গুরু যথা ভক্তিশূণ্য তথা শিষ্যগণ।।
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৪.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 চতুর্থ 🙏
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীবাস পণ্ডিত কিছুক্ষণ পরে বাহ্যজ্ঞান প্রাপ্ত হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া গেলেন। এইরূপে তো দেবানন্দ পণ্ডিত নবদ্বীপ- মধ্যে এক জন ‘বড় মাননীয় পণ্ডিত বলিয়া' কান কাটাইতে লাগিলেন এবং তত্রত্য ভক্তিবিহীন জনসাধারণের নিকট পরম মোহান্ত বলিয়াও পূজিত ছিলেন। কিছু দিন পরে কলিযুগের লোকের পরম সৌভাগ্য ফলে শ্রীগৌরাঙ্গদেব জীব-উদ্ধার জন্য নবদ্বীপে অবতীর্ণ হইলেন। কতক দিন নিমাই পণ্ডিতরূপে বিরাজ করিয়া, গয়াধাম হইতে প্রত্যাবর্তনের পর যখন তাঁহার ভগবদ্ভাব আর অন্তরঙ্গ ভক্তগণের নিকট অপ্রকাশ রহিল না, সেই সময়ে এক দিন। মহাপ্রভু ভক্তগণ সহিত নগরপরি-ভ্ৰমণ-কালে পথে -দেবানন্দ -পণ্ডিতকে দেখিতে পাইলেন । পূর্ব্বে দেবানন্দ যে শ্রীবাস পণ্ডিতকে অপমানিত করিয়া-ছিলেন, অন্তর্যামী প্রভুর সেই কথা স্মরণ হইবামাত্র অতিশয় ক্রোধাবিষ্ট হইয়া, দেবানন্দের” সম্মুখীন হইলেন ও তাঁহাকে বহু তিরস্কার ও ভৎসনা করিতে লাগিলেন। 

প্রভু বলিলেন------
অহে অহে দেবানন্দ বলি যে তোমারে।
তুমি এবে ভাগবত পড়াও সবারে ॥
যে শ্রীবাসে দেখিতে গঙ্গার মনোরথ।
হেন জন শুনিবারে গেলা ভাগবত ৷।
কোন অপরাধে তারে শিষ্য হাথাইয়া।
বাড়ির বাহিরে লঞা এড়িলা টানিয়া ॥
ভাগবত শুনিতে যে কান্দে কৃষ্ণরসে।
টানিয়া ফেলিতে সে তাহার যোগ্য আইসে।।
বুঝিলাম তুমি সে পড়াও ভাগবত ।
“কোন জন্মে না জানহ গ্ৰন্থ-অভিমত ।।
পরিপূর্ণ করিয়া যে সব জনে খায়।"
তবে বহির্দ্দেশে গিয়া সে সন্তোষ পায়।।
প্রেমময় ভাগবত পড়াইয়া তুমি ।
তত সুখ না পাইলা' কহিলাম আমি।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৫.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 পঞ্চম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
অত বড় পণ্ডিত ও সম্মানবিশিষ্ট দেবানন্দকে এইরূপে ভৎসনা করিতে পারে, ঐ সময়ে, নবদ্বীপের মধ্যে এমন সাধ্য আর কাহারও ছিল না। যখন মহাপ্রভুর প্রতি দেবানন্দের বিশ্বাস তত উপজাত হয় নাই, এবং যখন তিনি নিমাই পণ্ডিত একজন সামান্য লোক বলিয়াই বিশ্বাস করিতেন, তখন তিনি নবদ্বীপবাসী কোন লোকের কাছে এরূপ তিরস্কারবাক্য শ্রবণ করিয়া সহ্য করিবার লোকও ছিলেন না। কিন্তু কি আশ্চর্য্য ব্যাপার! শ্রীচৈতন্যদেবের ভৎসনা বাক্য শ্রবণ করিয়া দেবানন্দ পণ্ডিত লজ্জায় অবনতমস্তক হইয়া রহিলেন এবং কোনরূপ উত্তর প্রদান না করিয়া নিজ গৃহাভিমুখে প্রস্থান করিলেন, তাহার কারণ কি ? এই ঘটনাটীতেই দেবানন্দের সৌভাগ্যের সূত্রপাত বলিতে হইবে। কারণ জীবের সৌভাগ্যের উদয় না হইলে আর ভগবানের দণ্ড তাহার উপর পড়ে না। সে তো প্রকৃত দণ্ড নহে, বাহিরে দেখিতে দণ্ড বলিয়া বোধ হয় বটে, কিন্তু তাহা দয়াময় লোকনাথের কৃপারই পরিচায়ক। প্রভু এই যে দেবানন্দকে বাক্যদণ্ডে দণ্ডিত করিলেন, তাহার ফলে তাঁহার এতদিনের শুষ্ক, নীরস, জ্ঞানগৰ্ব্বিত, মরুভূমি- সদৃশ হৃদয়ক্ষেত্রের অবস্থা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হইয়া, তাহাতে ভগবানের কৃপা-বারি বর্ষণ হইল, এখন কেবল সাধুসঙ্গের মাহাত্ম্যে তাহাতে ভক্তিবীজ পতিত হইলেই তাহা অঙ্কুরিত হইয়া উঠিবে, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। দেবানন্দের সেই সময় সমাগত হইয়া আসিতেছিল, এজন্যই তিনি মৌনভাবে নিরুত্তর হইয়া বাটী প্রস্থান করিলেন। যথা—
চৈতন্যের দণ্ড যে মস্তকে করি লয়।
সেই দণ্ডে তারে প্রেম, ভক্তিযোগ হয় ৷
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৬.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 ষষ্ঠ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
আর একদিন শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তগোষ্ঠী সহিত মহেশ্বর বিশারদের জাঙ্গালে পরিভ্রমণ-সময়ে দেবানন্দ পণ্ডিতের টোলের নিকট যাইতে যাইতে তাহার ভাগবত্-ব্যাখ্যা শুনিতে পাইয়া, অমনি ক্রোধাবিষ্ট হইয়া তাহার চতুষ্পাঠীতে প্রবেশ পূর্ব্বক তাঁহার ভাগবতগ্রন্থ ছিঁড়িয়া ফেলিবার জন্য উদ্যত হইলে, ভক্তগণ তাঁহাকে নিরস্ত করিলেন। যথা—
দৈবে প্ৰভু ভক্তসঙ্গে সেই পথে যায়।
যেখানে তাহার ব্যাখ্যা শুনিবারে পায় ॥
সৰ্ব্বভূত-হৃদয় জানয়ে সৰ্ব্ব তত্ত্ব।
না শুনয়ে ব্যাখ্যা ভক্তিযোগের মহত্ত্ব।।
কোপে বলে প্রভু, বেটা কি অর্থ বাখানে।
ভাগবত অর্থ কোন জন্মেও না জানে।।
এ বেটার ভাগবতে কোন অধিকার।
গ্রন্থরূপে ভাগবত শ্রীকৃষ্ণ অবতার।।
*********************************
নিরবধি ভক্তিহীন এ বেটা বাখানে।
আজি পুথি চিরি এই দেখ বিদ্যমানে ।।
পুঁথি চিরিবারে প্রভু ক্রোধাবেশে যায়।
সকল বৈষ্ণবগণ ধরিয়া রহায় ॥

মহাপ্রভুর সন্ন্যাসগ্রহণের পূর্ব্বে ভক্তগণ-সঙ্গে নবদ্বীপ-লীলার সময় নানা দূরদেশ হইতে কত কত ব্যক্তি যে আকৃষ্ট হইয়া ঐ প্রেম-স্পর্শমণির সমীপে উপস্থিত হইয়া প্রেমানন্দ উপভোগ করিলেন, তাঁহাদের সংখ্যা কে করিবে? কিন্তু শ্রীনবদ্বীপ ধামে বাস করিয়াও ততদিন দেবানন্দ পণ্ডিতের মনে শ্রীচৈতন্যের প্রতি কোনরূপ বিশ্বাস হয় নাই ও তিনি ঐ সকল অদ্ভুত লীলার কাৰ্য্য দেখিয়াও দেখিতেন না।
যথা--
গৃহবাসে যখন আছিলা গৌরচন্দ্র।
তখনে যতেক করিলেন দেবানন্দ।।
প্রেমময় দেবানন্দ পণ্ডিতের মনে।
নহিল বিশ্বাস না দেখিলা এ কারণে ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৭.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  🌼শ্রীপাদ রূপগোস্বামি-প্রদর্শিত ভক্তির ক্রম 🌼
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 সপ্তম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ইহার কারণ আর কিছুই নহে, তখনও তাঁহার সময় উপস্থিত হয় নাই। ভক্তিধন প্রাপ্তির সময় সমাগত হইলে জীবের সাধুসঙ্গ হইয়া থাকে এবং সেই সাধুসঙ্গগুণে ক্রমে ভক্তির উদয় হয়। শ্রীরূপ গোস্বামিপাদ "ভক্তিরসামৃতসিন্ধু” গ্রন্থে “আদৌ শ্রদ্ধা ততঃ সাধুসঙ্গশ্চ ভজনক্রিয়া ইত্যাদি শ্লোকে ভক্তি-উদয়ের ক্রম প্রদর্শন করিয়াছেন।
শ্লোকার্থ যথা-
“প্রথমতঃ ভগবৎকথাদিতে শ্রদ্ধা উপস্থিত হয়, তৎপরে সাধুসঙ্গ, সাধুসঙ্গ গুণে শ্রবণ কীৰ্ত্তন হয়, শ্রবণ কীর্ত্তন করিলে সর্বপ্রকার অনর্থনিবৃত্তি হয়, সৰ্ব্বকার অনর্থ‌ নিবারিত হইলে নিষ্ঠা হয়, সেই নিষ্ঠাই শ্রবণাদিতে রুচি উপস্থিত করে, আবার রুচি হইতে আসক্তি এবং আসক্তি হইতে চিত্তে রতির উদয় হয়, সেই রতি হইতে ভক্তির উদয় হয়।”

এই যে শ্রীপাদ রূপগোস্বামি-প্রদর্শিত ভক্তির ক্রম, তাহা আমরা দেবানন্দ পণ্ডিতের জীবনে সুন্দররূপে মিলিতে দেখিতে পাই। হইতে পারে যে, শ্রীগৌরাঙ্গের সাক্ষাৎকার-মাহাত্ম্যে ও তাহার বাক্যদণ্ডে দেবানন্দের মন কতকটা আর্দ্র' হইয়াছিল, পরে শ্রীচৈতন্যদেবের সন্ন্যাসগ্রহণরূপ মহাত্মো পারে তাঁহার প্রতি শ্রদ্ধার উদয় হইয়া থাকিবে; অবশেষে‌ যখন তাঁহার পূৰ্ব্বজন্মার্জ্জিত সুকৃতিফলে এবং ঐ শ্রদ্ধার বলে সাধুসঙ্গ হইল, তখন সেই সঙ্গগুণে ক্রমে তাঁহার ভক্তির উদয় হইল। যে সাধুসঙ্গে দেবানন্দের ঐরূপ পরিবর্ত্তন ও উন্নতি হয়, সে আর কাহারও সঙ্গ, নহে, প্রভু শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সঙ্গ।

যখন গৌরচন্দ্র সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করিয়া নীলাচলে চলিয়া-গেলেন, গৃহী ভক্তগণ তো আপনাপন বাটীতে থাকিয়া প্রভু বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা সহ্য করিতে লাগিলেন; উদাসীন ভক্তগণের মধ্যে সেই! সময় দেবানন্দের সৌভাগ্যবলে শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত তাঁহার, বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং তাঁহার ভক্তিগুণে বশীভূত হইয়া কিছুদিন তাঁহার বাটীতে বাসও করিয়াছিলেন।
যথা------
সন্ন্যাস করিয়া য়দি ঠাকুর চলিলা ।
তবে তান ভাগ্য হইতে বক্রেশ্বর আইলা ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৮.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সহস্র বৎসর যোগ তপস্যা করিলে যাহা লাভ না হয়, একবার সাধুসঙ্গ হইলে তাহা অনায়াসেই লভি হইয়া থাকে। কিন্তু ইহার কারণ কি ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 অষ্টম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই বক্রেশ্বর-সঙ্গ-মাহাত্ম্যে দেবানন্দের এত কালের ভক্তিশূন্য হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের অঙ্কুর হইয়া এবং সেই অঙ্কুর ক্রমে ক্ৰমে বৃদ্ধি, পাপ্ত হইয়া পরমানন্দ-ফলধর সুন্দর বৃক্ষে পরিণত হইয়া উঠিল। শ্রীবক্রেশ্বরের মহাভাবাপন্ন সাত্ত্বিক নৃত্যাদি; দর্শনে তাঁহার প্রতি দেবানন্দের দৃঢ় শ্রদ্ধা উপজাত হইল এবং তিনি অতি ভক্তি সহকারে তাঁহার সেবা শুশ্রুষা করিতে লাগিলেন। যে বাটীতে এক সময়ে তাঁহার ভাগবতশ্রবণে প্রেমিক-হৃদয় শ্রীবাস, পণ্ডিতের ক্রন্দনশব্দ বিরক্তিকর বলিয়া বোধ হইয়াছিল, সেই দেবানন্দভবনে এখন আর সঙ্কীর্ত্তনের কলরবের নিবৃত্তি নাই। ঐ সঙ্কীৰ্ত্তন মধ্যে জগতে অতুল্য প্রভু বক্রেশ্বরের নৃত্য আরম্ভ হইলে, দেবানন্দের আর আনন্দের সীমা থাকিত না এবং পাছে সে নৃত্য ভঙ্গ হয়, সেইজন্য তিনি নিজে সমাগত লোক সরাইয়া দিয়া। নৃত্যের স্থান পরিষ্কৃত করিয়া দিতেন। এবং যখন বক্রেশ্বর মহাভাবে আবিষ্ট হইয়া বাহ্য জ্ঞান-শূন্য হইয়া যাইতেন, তখন পাছে ভূমিতে পতিত হইয়া তাঁহার দেবতুল্য তপ্তকাঞ্চনসদৃশ সুন্দর এবং কোমল শরীরে ব্যথা লাগে, এই জন্য তিনি নিজে তাঁহাকে কোলে করিয়া বসিতেন। সংক্ষেপতঃ দেবানন্দের প্রেম ভক্তির কথা আর কি বলিব ? এখন তাঁহার শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস জন্মিয়াছিল। সাধুসঙ্গের এইরূপই আশ্চর্য্য প্রভাব বটে। এ জন্য শাস্ত্রে বলিয়াছেন যে, সহস্র বৎসর যোগ তপস্যা করিলে যাহা লাভ না হয়, একবার সাধুসঙ্গ হইলে তাহা অনায়াসেই লভি হইয়া থাকে। তাহা হইবারই কথা, কারণ সাধুদিগের শরীর হইতে নিয়ত যে সাধুভাব বিনির্গত হইয়া থাকে, তাহাদ্বারা, তাহাদের নিকটে যে সকল ব্যক্তি থাকে, তাহাদের মহৎ ইষ্ট সংসাধিত হয়। তাহাদের ইচ্ছা না থাকিলেও কেমন আপনা আপনি ঐ সাধুভাব তাহাদের মনে প্রবিষ্ট হয়। সাধুগণের মহিমাই এই যে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাষন্ডীদিগের নীরস হৃদয়ক্ষেত্রে ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত করিয়া দেন। রোগী যেমন ঔষধ খাইতে অনিচ্ছুক হইলেও হিতাকাঙ্ক্ষী চিকিৎসক তাহাকে ঔষধ সেবন করাইয়া রোগমুক্ত করিয়া থাকেন, সেইরূপ সাধুগণ তবরোগাক্রান্ত জীবকে কৃপা করিয়া কৃষ্ণভক্তি-মহৌষধ প্রদান করত তাহাদের ভব-রোগের শান্তি সম্পাদন করিয়া থাকেন এবং ঐ সৌভাগ্যবান্ জীব অনায়াসে ভবসমুদ্র পার হইয়া সদগতি-লাভে সমর্থ হয়। এই জন্য শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্য সাধুসঙ্গকে ভবসমুদ্র উত্তীর্ণ হইবার একমাত্র নৌকা বলিয়া বর্ণিত করিয়াছেন। যথা-
ক্ষণমপি সজ্জনসঙ্গতি-রেকা।
ভবতি ভবার্ণব-ত্বরণে নৌকা।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৯.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কৃষ্ণসেবা হৈতে বৈষ্ণবের সেবা বড়।
ভাগবত আদি সব শাস্ত্ৰে কৈল দড় ৷৷
এতেকে বৈষ্ণবসেবা পরম উপায়।
ভক্তসেবা হৈতে সে সবাই কৃষ্ণ পায় ৷।
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 নবম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
দেবানন্দের আলয়ে শ্রীবক্রেশ্বরের অবস্থিতিকালে সেই সঙ্গগুণে ও তাঁহার সেবার ফলে দেবানন্দের যে আশ্চর্য্য পরিবৰ্ত্তন ঘটিয়াছিল, তাহা অতি সুন্দর ও বিশদরূপে শ্রীপাদ দাস গোস্বামী শ্রীচৈতন্যভাগবতে বর্ণন করিয়াছেন। যথা—
দৈবে দেবানন্দ পণ্ডিতের ভক্তিবশে ৷
রহিলেন তাঁহার আশ্রমে-প্রেমরসে ।।
দেখিয়া তাঁহার তেজঃপুঞ্জ কলেবর।
ত্রিভুবনে অতুলিত বিষ্ণুভক্তিধর।।
দেবানন্দ পণ্ডিত পরম সুখী মনে ।
অকৈতব প্রেমে তানে করেন সেবনে ॥
বক্রেশ্বর পণ্ডিত নাচেন যতক্ষণ ।
বেত্র হস্তে আপনে বুলেন তত্‌ক্ষণ ॥
আপনি করেন সব লোক এক ভিতে।
পড়িলা আপনে ধরি রাখেন কোলেতে ॥
তাঁহার অঙ্গের ধূলা বড় ভক্তি-মনে।
আপনার সর্ব্ব অঙ্গে করেন লেপনে ।।
তাঁর সঙ্গে থাকি তান দেখিয়া প্রকাশ ।
তখনে জন্মিল প্রভু চৈতন্যে বিশ্বাস ॥
বৈষ্ণব সেবার ফল কহে যে পুরাণে ।
তার সাক্ষী এই সবে দেখ বিদ্যমানে ॥
আজন্ম ধাৰ্ম্মিক উদাসীন জ্ঞানবান।
ভাগবত অধ্যাপনা বিনা নাহি আন ।।
শান্ত দান্ত জিতেন্দ্রিয় নিল্লোভ বিষয়।
প্রায় আর কতেক বা গুণ তানে হয় ।।
তথাপিও গৌরচন্দ্রে নহিল বিশ্বাস ।
বক্রেশ্বর প্রসাদে সে কুবুদ্ধি বিনাশ ৷৷
কৃষ্ণসেবা হৈতে বৈষ্ণবের সেবা বড়।
ভাগবত আদি সব শাস্ত্ৰে কৈল দড় ৷৷
এতেকে বৈষ্ণবসেবা পরম উপায়।
ভক্তসেবা হৈতে সে সবাই কৃষ্ণ পায় ৷।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬০.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
বৈষ্ণবচূড়ামণি দেবানন্দ পণ্ডিত কাহার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন বা ওনার শ্রীগুরুদেবের নাম কি ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দশম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমদ্ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপাবলেই দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্যভক্ত পরম বৈষ্ণবচূড়ামণি হইয়াছিলেন এবং পরে তিনি শ্রীচৈতন্যচন্দ্রের শ্রীচরণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কি করিয়া‌ তিনি শ্রীগৌরাঙ্গ দেবের কৃপাপাত্র হইয়া একজন শক্তিধর ভক্ত মধ্যে পরিগণিত হইয়াছিলেন, দেবানন্দ-উপাখ্যানের সেই শেষ অংশটী পরে লিথিত হইবে। এক্ষণে কেবল আর একটা কথা এস্থলে বক্তব্য যে, সম্ভবতঃ যে সময়ে তাঁহার বাটীতে বক্রেশ্বর আসিয়া কিছু দিন বাস করেন, ঐ সময়ে দেবানন্দ শ্রীপণ্ডিত বক্রেশ্বর প্রভুর নিকট কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত‌ হইয়া তাঁহার শিষ্য বলিয়া পরিগণিত হয়েন। ইতিপূর্ব্বে চারিজন উদাসীন ভক্ত লইয়া শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সন্ন্যাসবেশে নীলাচলে যাত্রা করিবার কথা বলা হইয়াছে । প্রভু এইরূপে ভক্তগণকে পরিত্যাগ করিয়া যখন চলিয়া গেলেন, তখন নবদ্বীপবাসী ভক্তগণ প্রভুশূন্য নদীয়ায় যে, কিপ্রকার অবস্থায় কাল কাটাইতে লাগিলেন, তাহা বর্ণনাতীত। যাহারা এক মুহূর্ত্ত কাল প্রভুর অদর্শনে অস্থির হইয়া পড়িতেন, তাঁহারা কি এরূপ প্রভুবিচ্ছেদ-যাতনা সহ্য করিতে পারেন । তাঁহাদের প্রভুর প্রতি যে অকৈতব প্রেম, তাহাতে বিচ্ছেদ অতীব যন্ত্রণা-প্রদ হইয়া উঠিয়াছিল। কারণ, প্রেমের লক্ষণই এই। প্রেম সম্বন্ধেই যখন এই সংসারে যে যাহাকে যত অধিক ভালবাসে, তাহার অদর্শনে তাহার মন ততই অধিক আকুল হয়, তখন অপ্রাকৃত ভগবৎপ্রেম সম্বন্ধে যে নদেবাসী ভক্তগণের প্রভুবিরহ-জালা অসহ্য হইবে, তার' আর কথা কি? প্রকৃত ভালবাসাই যে, “আমি তোমারই, আমি তোমা ভিন্ন অল্পকালও থাকিতে পারি না।” প্রকৃত পতিব্রতা সাধ্বী স্ত্রীর নিজ প্রিয়তমের প্রতি এইরূপই অনুরাগ এবং তিনি যেমন স্বামীর অদর্শনে পলকে প্রণয় জ্ঞান করেন, প্রভুর ভক্তগণেরও প্রভুর প্রতি যেরূপ প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল, তাহাতে তাঁহারাও প্রভুর নীলাচলে গমনের পর সেইরূপ পলকে প্রলয় জ্ঞান করিতে লাগিলেন। যখন প্রভু নবদ্বীপে তাঁহাদের নিকটে ছিলেন, তখন প্রভুর দর্শন, স্পর্শন ও সঙ্গ ভক্তগণের প্রতি বড়ই মধুর বোধ হইত এবং ঠিক দিগ্দর্শন যন্ত্রের লৌহসূচিকাটী যেমন নানা দিকে ঘুরাইলেও উত্তরদিক্ ভিন্ন আর কোন দিকে যায় না, তাঁহাদের মনও তেমনি নানা প্রকার বিষয়ব্যাপারের মধ্যে আত্মীয় জনগণের মায়া মমতা অতিক্রম করিয়া সর্ব্বদাই প্রভুর প্রতিই নিরত ছিল। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬১.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণ যেমন গোপীদিগকে পুনর্মিলনের আশা দিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া সেই আশায় তাঁহারা প্রাণ ধারণ করিয়াছিলেন, শ্রীগৌরসুন্দরও সেইরূপ যাইবার সময়ে ভক্তগণকে আশা দিয়া গিয়াছেন কিন্তু কি সেই আশ্বাসবাক্যে❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 একাদশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এখন সেই প্রিয়জন প্রভু দৃষ্টির অগোচর এবং মনের বল হ্রাস পাইয়া স্থানান্তরিত ; ভক্তগণের শরীরের ও যাইতেছে—প্রভু যেন মন প্রাণ সমস্ত হরণ করিয়া লইয়া চলিয়া গিয়াছেন—তাঁহাদের মনের উদ্যম, উৎসাহাদি সকল বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে—দেহ নিস্তেজ; মন শান্তিশূন্য। বক্রেশ্বর প্রভৃতি প্রভুর অন্তরঙ্গ ভক্তগণ এইরূপে যেন একপ্রকার মৃতপ্রায় অবস্থার কাল কাটাইতেছিলেন। তাঁহারা যে জীবনধারণ করিয়াছিলেন, তাহা কেবল প্রভুর আশ্বাসবাক্যে।

শ্রীকৃষ্ণ মথুরার গমন করিলে ব্রজগোপীগণের যেরূপ অবস্থা হইয়াছিল, প্রভু নীলাচলে গমন করিলে পর ঠিক সেইরূপ বক্রেশ্বরাদি ভক্তগণও—যাঁহারা ব্রজগোপীগণেরই প্রকাশ ছিলেন— সেইরূপ অবস্থায় দিনাতিপাত করিতেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ যেমন গোপীদিগকে পুনর্মিলনের আশা দিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া সেই আশায় তাঁহারা প্রাণ ধারণ করিয়াছিলেন, শ্রীগৌরসুন্দরও সেইরূপ যাইবার সময়ে ভক্তগণকে আশা দিয়া গিয়াছেন বলিয়া ইহারাও ঐ আশ্বাসবাক্যে জীবন ধারণ করিয়াছিলেন।

তিনি বলিয়াছিলেন যে, “কথনও বা তোমরা নীলাচলে গমন করিবে, কখনও বা আমি গঙ্গাস্নান উপলক্ষে তোমাদের এখানে আসিব” ।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬২.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভুর দক্ষিণাঞ্চলে গমনের প্রধান উদ্দেশ্য গুলি কি কি❓
 কত বৎসর কাল দক্ষিণাঞ্চলে গমন  করেছিলেন ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দ্বাদশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ভক্তগণ যথন গৌরশূন্য নদীয়ায় আর তিষ্ঠিতে পারিলেন না, তখন প্রভু যে বলিয়া গিয়াছেন “আমি কখনও গঙ্গাস্নান উপলক্ষে আসিব,” সে আগমন আর প্রতীক্ষা না করিয়া, প্রভুর প্রথম আদেশ যে “তোমরা কখনও বা নীলাচলে যাইবে,” তাহাই পালনীর মনে করিয়া, শ্রীগৌরচন্দ্রকে দর্শন করিবার জন্য নীলাচলে যাইবার নিমিত্ত ব্যগ্র হইয়া পড়িলেন। কিন্তু যখন শুনিলেন যে, শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্ৰ নীলাচল হইতে দক্ষিণ দেশে গমন করিয়াছেন, তখন আর কি করেন, অগত্যা ক্লেশ না করিয়া রহিলেন। শ্রীচৈতন্যদেব গৌড়দেশ হইতে সন্ন্যাস পরিগ্রহ করিয়া নীলাচলে গমন পূর্ব্বক কিছু দিন তথায় অবস্থিতি করিবার পরই দক্ষিণ দেশসমূহে তীর্থ সকল দর্শন মানসে এবং প্রধানতঃ তদ্দেশবাসী জনগণকে প্রেমবন্য স্রোতে ভাসাইয়া তাহাদের কৃষ্ণভক্তিপরায়ণ করত উদ্ধার করিবার উদ্দেশে, দক্ষিণাঞ্চলে গমন করিয়াছিলেন এবং আপনার অগ্রদ বিশ্বরূপের অনুসন্ধান করাও তাহার একটা উদ্দেশ্য ছিল। দুই বৎসর কাল এইরূপে নানা তীর্থ সকল দর্শন করিয়া পূনর্ব্বার নীলাচলে প্রত্যাগমন করেন। ঐ দুই বৎসর কাল প্রভুর যে অলৌকিক ও অনন্ত লীলাপ্রকাশ, তাহা গ্রন্থাবলিতে বর্ণিত কাছে এবং অমিয় নিমাইচরিতেও অতি বিশদরূপে বর্ণিত হইয়াছে। শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচলে প্রত্যাগমন-সংবাদ নবদ্বীপে প্রেরিত হইলে, যখন নদেবাসী বক্রেশ্বর প্রভৃতি ভক্তগণ তাহা শুনিলেন, তখন আর কি তাহারা কালবিলম্ব করিতে পারেন ? তাহাদের আর আনন্দের সীমা রহিল না। নীলাচলে যাইয়া শ্রীগৌরসুন্দরকে দেখিবার জন্য একেবারেই যুক্তি পরামর্শ স্থির হইতে লাগিল। মহাপ্রভুর অভাবে এখন শ্রীঅদ্বৈতাচাৰ্য্যই প্রধান ও সকল গণের কর্তা স্বরূপ ছিলেন। ভক্তগণ শান্তিপুরে আচার্য্যের আলয়ে গমন করিয়া মনের অভিলাষ তাঁহাকে অবগত করিবার জন্য চলিলেন। যথা —
হরিদাস ঠাকুরের হৈল পরম আনন্দ।
বাসুদেব দত্ত গুপ্ত মুরারি শিবানন্দ ।।
আচার্য্যরত্ন আর পণ্ডিত বক্রেশ্বর।
আচার্য্যনিধি আর পণ্ডিত গদাধর ॥
শ্রীরাম পণ্ডিত আর পণ্ডিত দামোদর।
শ্রীমান পণ্ডিত আর বিজয় শ্রীধর ॥
রাঘব পণ্ডিত আর আচার্য্য নন্দন ।
কতেক কহিব আর যত প্রভুর গণ।।
শুনিয়া সবার হৈল পরম উল্লাস।
সবে মিলি আইলা শ্রীঅদ্বৈতের পাশ ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৩.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্ৰীঅদ্বৈত সকল ভক্তগণকে লইয়া শচীমাতার অনুমতি ও বিদায় গ্রহণ করিয়া নীলাচলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীঅদ্বৈতের আলয়ে ভক্তগণ আগমন করিলে, আচার্য্য তাঁহাদের অতি যত্নের সহিত রাখিলেন ও কয়েক দিন সেখানে মহোৎসবও হইল। যথা—
দুই তিন দিন আচার্য্য মহোৎসব কৈল।
নীলাচল যাইতে তবে যুক্তি দৃঢ় হৈল ॥

শান্তিপুরে যুক্তি পরামর্শ স্থির হইয়া গেল যে, প্রভুকে দেখিতে নীলাচলে যাওয়াই কর্ত্তব্য। ভক্তগণের আর আনন্দ ধরে না। তখন শ্ৰীঅদ্বৈত সকল ভক্তগণকে লইয়া শচীমাতার অনুমতি ও বিদায় গ্রহণ করিবার জন্য নবদ্বীপে প্রভুর বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। এবং তাঁহার নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া নীলাচলে যাত্রা করিলেন। যথা—
অনন্ত চৈতন্যভক্ত কত জানি নাম । 
চলিলেন সবে হই আনন্দের ধাম ৷৷
আই স্থানে ভক্তি করি বিদায় হইয়া। 
চলিলা অদ্বৈত সিংহ ভক্ত গোষ্ঠী লৈয়া।।
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏

তথাহি—শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে----
সবে মিলি নবদ্বীপে একত্র হইঞা।
নীলাদ্রি চলিল শচীমাতার আজ্ঞা লঞ ॥
যাইবার সময় শ্রীবক্রেশ্বরের আর আনন্দ দেখে কে? যদিও তাঁহার নৃত্যোপযোগী কীর্তনিয়া শ্রীগৌরসুন্দর উপস্থিত নাই, তথাচ সেই কীর্তনিয়াকে দর্শন করিতে যাইতেছেন, এই উল্লাসেই তিনি পথে নৃত্য করিতে করিতে চলিলেন। তাঁহার আনন্দ উপস্থিত হইলেই আপনা আপনি নৃত্য আসিয়া পড়িত। 
নৃত্যক্রিয়াটীই তীব্র আহ্লাদের একটী লক্ষণ।
চলিলেন হরিষে পণ্ডিত বক্রেশ্বর ।
যে নাচিতে কীৰ্ত্তনিয়া শ্রীগৌরসুন্দর ৷।

ভক্তগণ তো নীলাচলে আসিয়া প্রভুর সহিত মিলিত হইলেন। বিচ্ছেদের পর প্রিয়বস্তুর সহিত পুনর্মিলন হইলে যেরূপ হইয়া থাকে, সেইরূপ প্রভুর সহিত, পুনর্মিলনে ভক্তগণের যেন আবার কোথা হইতে উদ্যম, উৎসাহ পুনরুজ্জীবিত হইয়া তাঁহাদের নিস্তেজ দেহে শক্তি ও ভগ্ন মনে শান্তি সঞ্চার করিয়া দিল এবং আবার নবানুরাগে মাতিয়া তাঁহারা প্রাণবল্লভ প্রভুর সঙ্গসুখ উপভোগ করিতে লাগিলেন। নদেবাসী ভক্তগণের মধ্যে গৃহীর সংখ্যাই অধিক—তাঁহারা স্ত্রীপুত্রাদি পরিবার বাটীতে রাখিয়া আসিয়াছেন। যদিও প্রভুকে ছাড়িয়া নদীয়ায় ফিরিয়া যাইতে তাঁহাদের মন চাহিত না বটে, তবু তাঁহারা জানিতেন যে প্রভু তাঁহাদের সংসার পরিত্যাগ করিয়া চিরদিনের জন্য নিকটে থাকিতে অনুমতি দিবেন না—এই জন্য, তাঁহারা আসিবার সময় কয়েক মাসের জন্যই বাটী হইতে বিদায় লইয়া আসিয়াছিলেন ; কিন্তু উদাসীন ভক্তগণ আর গৌরশূন্য গৌড়ে ফিরিবেন না, প্রভুর সঙ্গে থাকিয়া চিরকাল প্রভুর সেবা করিবেন, ইহাই সঙ্কল্প করিয়া আসিয়াছিলেন, এবং বাস্তবিকই তাহারা আর ফিরিলেন না; নীলাচলে প্রভুর নিত্যসঙ্গী হইয়া রহিয়া গেলেন। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৪.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নীলাচলে শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিত কাহার আশ্রমেই বাস করিতেন ❓❓❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঐ সকল উদাসীন মর্ম্মী ভক্তগণ মধ্যে শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত একজন প্রধান ছিলেন। তাঁহাদের নাম শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে লিখিত হইয়াছে। যথা—
পরমানন্দপুরী আর স্বরূপ দামোদর ।
গদাধর জগদানন্দ শঙ্কর বক্রেশ্বর ॥
দামোদর পণ্ডিত ঠাকুর হরিদাস।
রঘুনাথ বৈদ্য আর রঘুনাথ দাস ॥
ইত্যাদিক পূর্ব্বসঙ্গী বড় ভক্তগণ।
নীলাচলে বহি করে প্রভুর সেবন ॥

এই সকল বন্দনীয় প্রভুর পারিষদগণের মধ্যে শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিতকে একজন প্রধান এই জন্য বলিলাম যে, তিনি প্রভুর সহিত প্রভুর নিজের আশ্রমেই বাস করিতেন।

আমরা এ পর্যন্ত, প্রভু নীলাচলে যে স্থানে অবস্থিতি করিতেন, তাহার কোন উল্লেখ করি নাই ; এক্ষণে তদ্বিষয়ে কিঞ্চিৎ বর্ণন করা প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নীলাচলে উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের গুরু কাশীমিশ্রের বাটীতেই থাকিভেন৷ দুই বৎসর কাল ব্যাপিয়া দক্ষিণ দেশ-সমূহে পরিভ্রমণের পর যখন প্রভু নীলাচলে প্রত্যাবর্তন করিলেন, সেই সময় হইতেই প্রভুর বাসের জন্য ঐ কাশীমিশ্রের, আলয় নির্ব্বাচিত হইয়াছিল। এবং সেই সময় হইতেই কাশীমিশ্র প্রভুর গণ-মধ্যে ভুক্ত হইয়া, নিজ আলয় প্রভুর আশ্রমের জন্য প্রদান করিয়া কৃতার্থ হইয়াছিলেন। প্রভু দক্ষিণ দেশ হইতে ফিরিয়া আসিলে পর সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য—যিনি উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের সভাপণ্ডিত ছিলেন ও যিনি পূর্ব্বেই প্রভুকে আত্মসমর্পণ করিয়াছিলেন—তিনিই রাজার নিকট মহাপ্রভুর উপযুক্ত কুটী বাসা স্থির করিয়া দিবার জন্য অনুরোধ করেন। কি প্রকার স্থান প্রভুর, আশ্রমের জন্য উপযুক্ত হইবে, সে সম্বন্ধে
ভট্টাচার্য্য রাজাকে বলিলেন, যথা—
ঠাকুরের নিকট হবে হইবে নির্জনে।
ঐছে নির্ণয় করি দেহ এক স্থানে ॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৫.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুকে রাখিবার জন্য কোন স্থান উপযুক্ত মনে করেছিলেন ❗
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা শুনিয়া মনে মনে বিচার করিয়া দেখিলেন এবং শ্রীজগন্নাথ দেবের নিকট নির্জন স্থান—শ্রীকাশীমিশ্রের বাটীই উপযুক্ত স্থান স্থির করিয়া ভট্টাচার্য্যকে কহিলেন, যথা—
রাজা কহে ঐছে কাশীমিশ্রের সদন।
ঠাকুরের নিকট হয় পরম নির্জন।।
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏

ভট্টাচার্য্য রাজার ঐ কথা শুনিরা অবিলম্বে কাশীমিশ্রের নিকট গমন করত তাহাকে রাজার ঐ অভিপ্রায়ের কথা জানাইলেন। কাশী মিশ্র শুনিবামাত্রেই 'আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া কহিলেন, তাহা হইতে তাঁহার সৌভাগ্য কি হইবে ? তাহার ঐ ছার ভবন জগদ্গুরু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের আবাসস্থল হইয়া পবিত্র' হইবে, ইহাতে তিনি ধন্য হইবেন। মিশ্র কহিলেন, যথা—
কাশীমিশ্র কহে আমি বড় ভাগ্যবান্।
মোর ঘরে প্রভুপাদের হবে অবস্থান ॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏

যখন সাৰ্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্য প্রভুকে ঐ কাশীমিশ্রের বাটীতে
লইয়া গেলেন, তখন কাশীমিশ্র আসিয়া মহাপ্রভুর চরণপ্রান্তে পতিত হইয়া শরণাগত হইলেন এবং ভক্তবৎসল দয়াল প্রভুও তাঁহাকে কৃপা করিয়া শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী রূপে দর্শন দিলেন ও আলিঙ্গন করিয়া কৃতার্থ করিলেন, যথা—
কাশীমিশ্র পড়িলা আসি প্রভুর চরণে।
গৃহ সহিত আত্মা তাঁরে কৈল নিবেদনে
প্রভু চতুর্ভুজ মূর্ত্তি তাঁরে দেখাইলা।
আত্মসাৎ করি তাঁরে আলিঙ্গন কৈলা॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏
**** বর্তমানে এই (কাশীমিশ্রালয়) মন্দিরটির নাম----
🙏 শ্রীশ্রী রাধাকান্ত মঠ (শ্রী গম্ভীরা) 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                              🙏 ক্রমশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীনরহরি মহাশয়কৃত সূচক হইতে শ্রীশ্রী বক্রেশ্বর পণ্ডিতের অদ্ভুত চরিত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীল গোপাল গুরু গোস্বামী প্রভুর শোচক ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





লিখনী সম্পূর্ণ হলে PDF LINK দেওয়া হবে 🙏🙏🙏





কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🥀 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১২. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀কারণ যতি তাল বদসি অষ্ট তালের তৃতীয় তাল। এটিই সূত্র=*
*প্রথমং যুগলং তালং একেকস্থথাখা পরে।*
*কলাভেদে গান ভেদং যতিস্ত পরিকীর্তিতম্।।*
*☘প্রথমে জোড়া এবং পরে দু'টি তাল-- এই হল তালটির রূপ।আবার সমতাল অষ্টতালের অষ্টম তাল, সূত্রটি হল=*
*একতালাৎ তথাশুণ‍্যং ক্রমেন ত্রিবিধং ভবেৎ।*
*শেষে যুগল তালঞ্চ সমতালং ভবেত্ পরম্।।*
*🍀এই সূত্র অনুযায়ী দু'টি ছুটের পর  একটি জোড়া।উভয় ক্ষেত্রেই প্রচলিত রূপের সঙ্গে সঙ্গতি আছে। অষ্টতালে ব‍্যবহৃত তালটির ঠেকা=*
             +         ২            0           ৩           
যতি--- ধো ধো তাত্ধো দেতাখেটা তা
                     0              ৪       0
গুররধোগা  তিনি  নাও তিনাও ----
          +             0            ২
সম-- ধো খেটা তাত্ধো  দেতাখেটা
    0           ৩             ৪
ঘেনাতিনি দাঘিনেতা ঘেনাওউরর
    0
তেনাতিৎ।
*☘এগুলি দ্রুতলয়, অবশ‍্য বিলম্বিত লয়ে সাধারণত "ঝাখি" ঠেকাই বাজানো হয়।এই তিনটি তালই প্রাচীন কীর্তনীয়াদের অতি পরিচিত এবং গৌরচন্দ্রিকার শুরুতেই এই তালগুলি ব‍্যবহার করা হয়।তবে বীরভূম জেলার ময়নাডালের দশকোশী প্রসিদ্ধ বলে জানা যায়।*
*🍀 "বীরবিক্রম" তালটি ছোট, নয়মাত্রা,মধ‍্য আঠার মাত্রা, বড় ছত্রিশ মাত্রা।ব‍্যবহারিক ক্ষেত্রে তালটির প্রথমে তিনটি ছুট তার পরে একটি জোড়া। এ তালটির অনুরূপ রবীন্দ্র সৃষ্ট "নবপঞ্চ" তাল। বীরবিক্রমের নানাবিধ গান প্রচলিত আছে। বদসি অষ্টতালের পরে "স্ফুরদঅধর সীধবে"--- চরণটি দ্রুতগতির বীরবিক্রম তালে গাওয়া হয়। এ তালটির রুদ্রতালান্তর্গত প্রথম তাল এটির সূত্র=*
*একতালং তথা শূণ‍্যং ক্রমেন ত্রিবিধং ভবেৎ।*
*তৎপরং যুগলং তাল মিত‍্যেবং বীরবিক্রম।।*
*🌹প্রচলিত আকৃতির সঙ্গে সূত্রটি মিলে যায়। "শশীশেখর" তালটি দ্রুতগতি, এগার মাত্রা, মধ‍্যম বাইশমাত্রা, ও বিলম্বিত গতি চুয়াল্লিশ মাত্রা। ছয়টি তালাঘাত সম্পন্ন তালটিতে প্রথম দুটি ছুট, পরে একটি জোড়া আবার দুটি ছুট।এটি অষ্টতালের চতুর্থ তাল, অপর নাম শশীশেখর। তালটির সংজ্ঞা=*
*চন্দ্রশ্চন্দ্রতথা যুগ্মং তথাচন্দ্রস্থথাপরে।*
*একতালানি ভবন্ত‍্যেবং চন্দ্রশেখর ভাষিতম্।।*
 *"চন্দ্র" অর্থে এক, তাই সূত্রানুযায়ী পরপর দুটি ছুট,জোড়া এবং দুটি ছুট-- রূপটি প্রচলিত শশীশেখর তালের রূপের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়। অষ্টতালে ব‍্যবহৃত দ্রুতলয়ে তালটির ঠেকা=*
   +      0        ২          0         ৩
  ধো  দিত্তা  গুররধো  দিত্তা  ধোধো
      0             ৫               0
দেতাখেটা  তাগুরধোগা  তিনিনাও
  0       0
তিনি  ------।
*☘এ তালের কিছু কিছু গান এখনও প্রচলিত আছে। শশীশেখরে--- "জাগহু বৃষভানু নন্দিনী" "বড়ই মানা করগো", ইত‍্যাদি এবং মধ‍্যম শশীশেখরে--- "হেদেহে নন্দের সুত" ইত‍্যাদি।*
            *ক্রমাগত*

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *🌻🌻কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি🌻🌻*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🙏কীর্তন=পূর্ব ভারতে প্রচলিত এক প্রকার ভক্তিমূলক সঙ্গীত।এই সঙ্গীতের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে এমন কতগুলি অভিনব প্রতিফলন বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে যে এইটি প্রধানতঃ পূর্বাঞ্চলের জনমানসের নৈতিক প্রতিফলন ভিন্ন কিছু নয়।অন‍্যান‍্য সঙ্গীত পদ্ধতির মধ্যে কিছু কিছু পারস্পরিক থাকে -- যেমন উত্তর ভারতীয় অর্থ‍্যাৎ কর্ণাটক রাগ পদ্ধতির মধ্যে কিছু কিছু সামঞ্জস‍্য দেখা যায়। দক্ষিণ ভারতে আছে মেল পদ্ধতি হিন্দুস্থানীতে আছে ঠাট।রাগের জাতি বৈশিষ্ট্য বিচার করলেও উভয় পদ্ধতিতে মিল আছে।রাগালাপ বা বিস্তার ক্ষেত্রেও উভয় পদ্ধতিতে মিল দেখা যায়।স্বরগত বিশ্লেষণ দ্বারা দেখা যায় যে দুই দেশে দুই নাম হয়েও রাগের ধরণটি একই=যেমন কর্ণাটক পদ্ধতির "মায়ামালবগৌল" হিন্দুস্থানীর "ভৈরব", আবার প্রথম পদ্ধতির "শুভপন্তুবরালী,খরহরপ্রিয়া, হরিকাম্বোজী,নটভৈরবী,হনুমত্তোরী, ধীরশঙ্করাভরম্,কামবর্ধনী,গমনশ্রম, মেচকল‍্যাণী" রাগগুলি যথাক্রমে দ্বিতীয় পদ্ধতির "টোরী,কাফি,খাম্বাজ, আশাবরী,ভৈরবী,বিলাবল,পূরবী, মারোয়া এবং কল‍্যাণ রাগমূর্তির নামান্তর মাত্র। তাই মৌলিক অনেক অনেক উপাদানের মধ্যেই মিল আছে যদিও উভয় প্রকার সঙ্গীতের তাল পদ্ধতির মধ্যে বৈশাদৃশ‍্যই বেশী। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে কীর্তনের সঙ্গে হিন্দুস্থানী বা কর্ণাটক কোন পদ্ধতিরই মিল পাওয়া যায় না।ঐ সব পদ্ধতির সদৃশ কোন রাগমূর্তি কীর্তনে প্রচলিত নাই।এমন কি "আরোহ, অবরোহের" স্বর নির্দিষ্টতা বা প্রতি সপ্তকে অনুরূপ স্বর প্রয়োগ ইত‍্যাদি রাগ শাস্ত্রের আবশ‍্যকীয় বিধিগুলিও কীর্তনের সুর রচয়িতা গণ সর্বদা মানেন না।*
*🌻কোন কোন সমালোচক এক্ষেত্রে গায়কের বা সুর রচয়িতার অযোগ‍্যতা বলে সিদ্ধান্ত করে থাকেন। কিন্তু ঐ সমালোচনা সর্বাধিক বিগত দুই শতাব্দীর সমালোচনা বলেই বুঝা যায়  কারণ ঐ সময়েই পূর্বাঞ্চলে হিন্দুস্থানী পদ্ধতির সর্বাধিক বিকাশ দেখা যায়।তাছাড়া ইতিপূর্বের যে সব গ্রন্থে কীর্তনের উল্লেখ আছে সর্বত্রই কীর্তনের মধুরত্বের উল্লেখই দেখতে পাওয়া যায়।তা ছাড়া গুরুদেবে নিষ্ঠা কীর্তনীয়া ব‍্যক্তির মৌলিক আদর্শ।গুরু প্রদত্ত শিক্ষার বিকৃত প্রকাশ তারা কোন স্তরেই চিন্তা করতে পারেন না।তাই যে গান প্রচলিত আছে তার সুর বিকৃত হয়েছে এমন অনুমান করা খুব যুক্তি সঙ্গত বলে মনে করি না। তাছাড়া যদি বিকৃত হয়ে থাকে প্রতিটি গানের সুরই কি তবে বিকৃত? আর যদি তাই হয় তবে বিকৃত সুর সৃষ্টিই কীর্তনের অভিনবত্ব বলে অনুমান করতে হবে।(এই সকল পরম গুরু প্রদত্ত সুর-তাল,যা কথার সঙ্গে হৃদয়ঙ্গম করে চরম আন্তরিকতার সহিত পরিবেশন করা হয়েছে,যা শুনলে নয়নবারি রোধ করা যাই না।) কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু কিছু রাগের নামোল্লেখ পাওয়া যায় যেমন কামোদ,সুহই,বেহাগ,মল্লার,আলেয়া, বরারী,বসন্ত,গুর্জরী,গৌরী ইত‍্যাদি কিন্তু এ গুলির কোনটিই হিন্দুস্থানী রাগের অনুরূপ নয়।তাই রাগ বৈশিষ্ট্য বিচারে কীর্তন একটি বিশেষ শ্রেণী।দক্ষিণ ভারতে কীর্তণম্ নামে যে সঙ্গীত পদ্ধতি প্রচলিত আছে তাও রাগ ভিত্তিক।তবে পূর্বাঞ্চলের কীর্তনের সঙ্গে তার বিশেষ কোন মিল নাই।*
*(তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ,১১৭ পৃষ্ঠা)।*


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
২. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
(০২)🌻কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি🌻*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*উৎপত্তির সূত্র বিচারেও কীর্তনকে ভিন্ন শ্রেণীভূক্ত করাই সমীচীন।পদ্ধতিগত সংজ্ঞায় নারদীয় পঞ্চরাত্রে পাওয়া "যায় বহু গণর্ভিমিলিত্বাতদ্ গানসুখম্"।যৌথ সঙ্গীতের ধারাই এ'তে বিদ‍্যমান।নাট্টশাস্ত্রে যে বৃন্দগানের উল্লেখ পাওয়া যায় সাংগঠনিক বিশ্লেষণে কীর্তনের দলও ঠিক তাই।বৃন্দগানে মূখ‍্য গায়ন,সমগায়ন,মার্দঙ্গিক ইত‍্যাদি যে ভাষা প্রয়োগ আছে ঠিক তার বাংলা পরিভাষা মূলগায়ন,দোহার এবং বায়েন কীর্তনে প্রচলিত।অধমবৃন্দে একজন মুখ‍্য গায়েন,চারজন সমগায়েন এবং দুইজন মার্দঙ্গিক (মৃদঙ্গবাদ‍ক) থাকে।কীর্তনের সাধারণ দলেও ঠিক তাই।আকারগত বিশ্লেষণে বৃন্দগানের ধারাই কীর্তনে বিদ‍্যমান।হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় প্রমুখ অনেকে মনে করেন "ঝোম্বড়" নামক প্রবন্ধেরই অপভ্রংশ স্বরূপ এ কীর্তন। যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করলে প্রথমেই বলতে হয় যে ঝোম্বড়ে কাব‍্যিক আতিশয‍্যের কোন উল্লেখ নেই, কিন্তু কীর্তন কাব‍্যিক আতিশয‍্য পূর্ণ। ঝোম্বড়ে নির্দিষ্ট রসের উল্লেখ আছে কিন্তু কীর্তনে আছে বহুবিধ রসের বিশ্লেষণ।ঝোম্বড়ের তাল প্রয়োগ স্বল্প এবং সুনির্দিষ্ট কিন্তু কীর্তনের তাল অসংখ্য।ঝোম্বড়ের সঙ্গে ঝুমুরের মিল থাকা সম্ভব কিন্তু পুরুলিয়ার ঝুমুর সঙ্গীতে কীর্তনের বৈশিষ্ট্য বর্তমান থাকায় ঝোম্বড় এবং কীর্তনের মধ্যে সমীকরণ স্থাপন করা খুব যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করি না।তবে এলা প্রবন্ধের যে রূপটির উল্লেখ শারঙ্গদেব করেছেন তার সঙ্গে কীর্তনের কিছু সাদৃশ্য বিচার করা যায়।সঙ্গীত রত্নাকরে সঙ্গীতের স্বরূপ ভিত্তিক ভারতভূমিতে পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে লাট,কর্ণাট,দ্রাবিড়,অন্ধ এবং গৌড়।প্রতিটি অঞ্চলেই এলা প্রবন্ধ প্রচলিত।তার মধ্যে গৌড় অর্থ‍্যাৎ বাংলাদেশ তথা ভারতের পূর্বাংশে প্রচলিত "এলাকে" গৌড়েলা বলা হয়েছে।ঐ এলায় গমক,অনুপ্রাস থাকবে এবং রসপ্রধান সঙ্গীত হবে।গমক বলতে বাষ্পাকুল কন্ঠ নির্গত স্বরের অস্ফুট স্বরবিন‍্যাস। কীর্তনে এ' প্রকৃতির সর্বাধিক প্রয়োগ।অনুপ্রাস বলতে কাব‍্যিক অলঙ্কার।কীর্তনের প্রতিটি পদে এত মাধুর্য‍্যপূর্ণ শব্দ সমন্বয় এবং অনুপ্রাস বহুলতা দেখা যায় যা অন‍্য কোন সাহিত‍্যেও নেই। তাছাড়া রসের প্রাধান‍্য এত যে কীর্তনীয় পদগুলির রসবিশ্লেষণে একটা রস শাস্ত্র গড়ে উঠেছে।কিলকিঞ্চিৎ,প্রেমবৈচিত্ত‍্যাদি অনুভবাত্মক,অভিনব,অচিন্ত‍্যনীয় রসের সন্ধান কেবলমাত্র কীর্তনেই আছে।স্বর,বিরুদ,পদ,পাট,তেনক ও তাল নামে প্রবন্ধের যে ছয়টি অঙ্গ আছে স্বামী প্রজ্ঞানানন্দের মতে এইসব কয়টিই কীর্তনে আছে  এবং কীর্তন মেদিনী জাতীয় প্রবন্ধ।এই যুক্তসঙ্গত সিদ্ধান্তটির দরুণ নিশ্চিত প্রতীতি হয় যে কীর্তন গান প্রবন্ধ সঙ্গীত হলেও উন্নততম প্রবন্ধের একটি স্বরূপ।*
*🌹কীর্তনের সৃষ্টি রহস‍্য বিচার না করেও সহজেই সিদ্ধান্ত করা যায় যে খৃষ্টপূর্বাব্দে যা ছিল উত্তম এবং মধ‍্যম বৃন্দগান, তারই অপভ্রংশ অধম বৃন্দরূপে ছিল খৃষ্টীয় পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত এবং পরবর্তী সংস্করণই রূপ নিল গৌড়েলা প্রবন্ধের এয়োদশ এবং চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত এ ছিল পূর্বভারতের প্রধান সঙ্গীত। রাধাতত্ত্ব বিধৃত হ'ল কতিপয় সঙ্গীতজ্ঞ কাব‍্যশ্রষ্টার হাতে।প্রাক্ চৈতন‍্যযুগের কেন্দুবিল্বের গায়ক "জয়দেব" মিথিলায় গায়ক "বিদ‍্যাপতি" এবং নান্নুরের গায়ক চন্ডীদাস মুখরিত হয়ে উঠলেন শ্রীমতী রাধার উৎকর্ষ ব‍্যাখ‍্যায় আর রাধামুখে কৃষ্ণ কথা বর্ণনাকে কীর্তন নামে অভিহিত করলেন।"জয়দেব গোস্বামী" প্রায় নয়শত বৎসর পূর্বে।সমগ্র ব্রজ বর্ণনাই শ্রীকৃষ্ণের যশোগাথা তা'ই  পঞ্চদশ শতাব্দীর কোন শুভলগ্নেই এ সঙ্গীত পদ্ধতিকে কীর্তন নামে অভিহিত করা হ'ল।"জয়দেব গোস্বামী বৈষ্ণব কবিদের মধ্যে প্রাচীনতম বলে গন‍্য হলেও তিনিই শ্রীমতী রাধা নায়িকাকে প্রথম খুঁজে পেলেন, নাকি ধোয়ী প্রমুখ তাঁর কোন উত্তরসূরীর চিন্তায় এ নায়িকা ধরা দিলেন তা স্পষ্ট বুঝা যায় না।কারণ সমসাময়িক মিথিলার কবি বিদ‍্যাপতি জয়দেব প্রভাবিত না হয়েও রাধারাণীকে পেয়েছিলেন।চন্ডীদাসের সৃষ্টিতে অনুকরণের আভাস নেই তবুও রাধাতত্ত্ব উপস্থাপনে যে চাতুর্য‍্য তিনি দেখিয়েছেন তাতে "রাধা" নায়িকা যে দীর্ঘ আলোচিত তা অনুমান করা সহজ। শ্রীজয়দেব গোস্বামী কৃষ্ণতত্ত্ব অপেক্ষা রাধা তত্ত্বের উৎকর্ষ স্থাপন করে মাধুর্য‍্যকে সমাদৃত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাই প্রাক্ চৈতন‍্যযুগের কীর্তন শ্রষ্টা সকলেই বিশিষ্ট গায়ক ছিলেন না প্রমাণিত সত‍্য।তাদের চেষ্টায় যে কীর্তনের ধারা প্রবাহিত হল তারই উৎসরূপ প্রেমসমুদ্রের তরঙ্গে বন‍্যা আনতে চেষ্টা করলেন নবদ্বীপের শ্রীচৈতন‍্যদেব পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষাংশে।*
*শ্রীরাধাকৃষ্ণই ছিলেন সে যুগের আত‍্যন্তিক গবেষণায় তত্ত্ব সে জন‍্যই অতি জনপ্রিয় গৌর বিগ্রহের মধ্যে উভয় তত্ত্বের সমাবেশ ভক্তগণ সহজে অনুভব করলেন।গৌরসুন্দরও তার প্রেমাবিষ্ট লীলার মাধ‍্যমে যুগলতত্ত্বের পারস্পরিকতা স্থাপন করলেন।তাঁর ক্রিয়ার মাধ‍্যমে ব্রজলীলার অনুমান সম্ভব হল এবং লীলা বিষয়ক কীর্তন সম্প্রচারিত হল।কীর্তন হল অবশ‍্য করণীয় ধর্মীয় আচরণ এবং শ্রীবৃন্দাবন দাস শ্রীচৈতন‍্যদেবকে বললেন "সংকীর্তনৈক পিতরৌ"।তিনি নিজে আস্বাদন করতেন জয়দেব গোস্বামী,বিদ‍্যাপতি,চন্ডীদাসের কীর্তন এবং রায় রামানন্দের নাটকগীতি।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৩. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৩)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀গান যেমন একদিকে নাটকের উপকরণ*
*অপরদিকে নাটকীয়তাও ছিল প্রাচীন যুগের গানের প্রধান উপজীব‍্য এবং উপাদানটি কীর্তনে সর্বাধিক।পরবর্তীকালে এরই অনুকরণে নানাবিধ গানের সৃষ্টি হয়েছে।শ্রীচৈতন‍্যদেবের সমসাময়িক উল্লেখযোগ্য গায়কদের মধ্যে ছিলেন গন্ধর্ব সম স্বরূপ-দামোদর,ছোট হরিদাস,শ্রীবাস পন্ডিত,রামানন্দ, মুকুন্দ দত্ত,বাসুদেব প্রমুখ।তাছাড়া শ্রীখন্ডের নরহরি সরকার অগ্রদ্বীপের গোবিন্দ ঘোষ, যাজীগ্রামের শ্রীনিবাস আচার্য‍্য সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান গায়ক।হাবসী(মুসলমান) শাসনের দৌরাত্বে বাঙ্গালী কীর্তনীয়াদের প্রদর্শন ছিল না তাই সঙ্গীত ছিল ঠাকুর মন্দিরে।তৎকালীন বর্ধিষ্ণু (বৃদ্ধিশীল)একমাত্র হিন্দু সমাজ ছিল নবদ্বীপে আর সেখানে ছিল একমাত্র নাট‍্যশালা শ্রীবাসের অঙ্গন। ঐ অঙ্গনেই ঐ সব গায়ক কীর্তনীয়াদের সমাবেশ হত প্রত‍্যহ।শ্রীরূপ,সনাতন,শ্রীজীব প্রমুখ পন্ডিতবর্গ প্রেম প্রস্রবনের উৎস সন্ধানে বৃন্দাবনে গিয়ে উদ্ঘাটিত করলেন অভিনব রস রহস‍্য এবং ভক্তি রহস‍্য।শ্রীরূপ এবং শ্রীসনাতন কীর্তনীয় সংস্কৃত পদ সৃষ্টি করে সংকলিত করলেন "গীতাবলী" "পদ‍্যাবলী" ইত‍্যাদি গ্রন্থ। শ্রীচৈতন‍্যোত্তরযুগে বহু সংগীতজ্ঞ কীর্তনে ব্রতী হলেন।তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখ‍্য রাজশাহী পরগণায় শ্রীনরোত্তমদাস,ভগবানগোলার নিকটবর্তী বুধূরী গ্রামের গোবিন্দ দাস।সুবিজ্ঞ সুগায়ক ছিলেন এঁরা। তাছাড়া ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা জ্ঞান দাস।ভক্তি রত্নাকর প্রণেতা নরহরি চক্রবর্তী সকলেই ছিলেন সুবিজ্ঞ গায়ক। বাংলাদেশের ভূমিতে বিশেষ করে রাঢ়ী অঞ্চলে অষ্টাদশ শতকের প্রারম্ভ পর্যন্ত অন‍্য কোন বিশেষ সঙ্গীতধারা এমত পরিব‍্যাপ্ত ছিল বলে জানা যায় না। কীর্তন গানের ঐতিহাসিক দিক বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টই দেখা যায় যে এটি নিতান্তই ভারতীয়,বহিরাগত কোন শিল্প ও সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করে নাই।তাই কীর্তন নিজেই একটি গানের শ্রেণী যার মধ্যে উচ্চমান এবং লঘুমান উভয় প্রকার সঙ্গীতেরই সমাবেশ যথেষ্ট আছে। কীর্তনে প্রচলিত তালগুলির প্রকারে এবং প্রয়োগে কতগুলি অনন‍্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকার দরুণ কীর্তনাঙ্গীয় একটি পৃথক তাল পদ্ধতির স্বীকৃতি দেওয়া অতীব চিন্তা প্রসূত বলে আমি মনে করি।(ডঃ মৃগাঙ্ক শেখর চক্রবর্তী )। প্রথমেই তালের নামগুলি বিচার করলে দেখা যায় যে এগুলি অভিনব এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষা প্রভাবিত। "দাস প‍্যারী, ডাঁস পাহিড়া,ললিত প‍্যারী,ধামালী,চঞ্চুপুট, গঞ্জন,ধরা,কাটাধরা,পঞ্চম" ইত‍্যাদি > মাত্রা বা ষোলমাত্রায় তালগুলির নাম বাংলা ভাষা ভিত্তিক। "লোফা,জপ,দোজ ইত‍্যাদি ছয় বা বারমাত্রার তালগুলির নামেও একই ইঙ্গিত। একতালি,দোঠুকি,দশকুশী, তেওট,সম,যোতসোম (যতি) ইত‍্যাদি সাত,চৌদ্দ,বা আঠাশ মাত্রার তালগুলির নামও একই রূপ।তা ছাড়া  আড়,বীরবিক্রম,শশীশেখর,রূপক, ইন্দ্রভাষ,মদনদোলা,বিষমসমুদ্র ইত‍্যাদি নামগুলিও ব‍্যুৎপত্তিগত ভাবে বাংলা ভাষা জাত বলে মনে করা হয়। এদ্বারা কীর্তন গানে আঞ্চলিকতার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।এ নামগুলির দুই একটিযেমন "রূপক" ও একতালি ছাড়া অন‍্য নামগুলি অন‍্য কোন সঙ্গীতের তাল পদ্ধতিতে দেখা যায় না।ঐ তালগুলিই প্রাচীন গ্রন্থে উক্ত আছে যেমন আদাবষ্টস্ত থারুদ্র ব্রহ্ম ইন্দ্র চতুর্দশ ••••• ইত‍্যাদি-- সঙ্গীতসার প্রদত্ত শ্লোক।ঐ গ্রন্থটি অবশ‍্য পার্শদেব প্রণীত সঙ্গীত সময়সার বা কৃষ্ণধন বন্দোপাধ‍্যায় প্রণীত গীতসূত্রসার ও নয় ঐটি চতুর্দশ শতাব্দীর কোন গ্রন্থকারের লেখা এবং ঐটির উল্লেখ আছে "শব্দকল্পদ্রুম" গ্রন্থে।যাই হোক, তালগুলির নাম সংকলন করা হয়েছে যেমন অষ্টতাল,রুদ্রতাল,ইন্দ্রতাল, ব্রহ্মতাল, এবং চতুর্দশ তাল, সেগুলি সবই বিভিন্ন তালের গুচ্ছ।ঐ গুচ্ছ তালের অংশতালগুলিরও ব‍্যবহার আছে যেমন আড়,দোজ,যতি, শশীশেখর,গঞ্জন,পঞ্চম,রূপক ও সম। অষ্টতালগুচ্ছের অন্তর্ভূক্ত। এমন রুদ্রতালে আছে এগারটি তাল,ইন্দ্রতালে আছে ছয়টি তাল এগুলির অংশতালগুলিতে আছে দাসপ‍্যারী, ইন্দ্রভাষ,মদনদোলা, বীরবিক্রম,বিষমসমুদ্র ও বীরদশক। ব্রহ্মতালে আছে চারটি তাল, ব্রহ্ম, বিরামব্রহ্ম,ষট্ কলা ও সপ্তমাত্রা, চতুর্দশ তালে আছে চৌদ্দটি তাল।এগুলি সূড় প্রবন্ধানুগ তাল।* 
*🌻কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতিতে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তালের প্রধানতঃ দুইটি অঙ্গ ধরা হয়, ছুট এবং জোড়া। তালের অংশগুলির মধ্যে একটি তালাঘাত ও অপর কয়েকটি নিঃশব্দ ক্রিয়া সংযোজনে যে স্বাভাবিক অঙ্গটি বুঝান হয় তাকেই বলা হয় "ছুট"।ঐ গুলি সাধারণত দুই মাত্রা বা আটমাত্রা হয়ে থাকে। আবার জোড়া প্রতিক্ষেত্রেই ছুটের অর্ধসংখ‍্যক মাত্রা সমন্বিত অঙ্গ।প্রাচীন তাল শাস্ত্রে "যুগ্ম তাল" বা "যুগলতালিকা" বলে যে পরিভাষা ব‍্যবহৃত হয় তাই  পরবর্তীকালে "জোড়া" নামে বাঙ্গালী পদ্ধতিতে স্থান পেয়েছে। "ছুট" দুই, চার বা আটমাত্রা সমন্বিত হ'লে জোড়া হয়ে যথাক্রমে এক,দুই বা চার মাত্রা।ছুট ক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতীয় লঘু অঙ্গটির চরিত্র লক্ষণীয় কারণ জাতি পরিবর্তনের জন্য লঘুর মাত্রা সংখ্যা তিন,চার,পাঁচ,সাত বা নয় করা হয়  তেমন ছুটেরও মাত্রা সংখ্যা পরিবর্তন করে ছোট,মধ‍্য এবং বড় অর্থ‍্যাৎ দ্রুত মধ‍্য এবং বিলম্বিতে রূপান্তর করা হয়।ঐ রূপান্তর স্বভাবতই প্রাচীন তাল পদ্ধতির মার্গভেদের স্বরূপ।একটি তালের চিত্র মার্গের রূপকে ছোট,বার্তিক মার্গের রূপকে মধ‍্য এবং দক্ষিণ মার্গের রূপকে বড় বলে অভিহিত করা হয়।মার্গভেদ বৈশিষ্ট্যটি কেবলমাত্র কীর্তনাঙ্গীয় তালেই সুপ্রাচীন কাল হতে প্রচলিত।অবশ‍্য বর্তমান যুগে একতাল ইত‍্যাদি হিন্দুস্থানী পদ্ধতির তাল সমূহে অনুরূপ প্রকরণ দেখা যায় কিন্তু ঐগুলির সৃষ্টি বিগত কয়েক বছর আগে তাই বৈশিষ্ট্যগুলির প্রাচীনতা থাকলেও প্রবর্তন আধুনিক।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৪. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৪)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻প্রাচীনকালে তালের মাত্রার গতি সম্পর্কে অবহিত করবার জন্য হস্ত এবং অঙ্গুলি সঞ্চালন দ্বারা কখনও সশব্দ কখনও নিঃশব্দ যে সব ক্রিয়া ব‍্যবহৃত হ'ত সেই পদ্ধতির ক্রিয়ার কিছু কিছু ব‍্যবহার কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতিতে দেখা যায়।কীর্তনাঙ্গীয় পদ্ধতিতে "সশব্দ ক্রিয়া" একটি এবং তাকে বলা হয় তাল।প্রাচীন কীর্তন পদ্ধতিতে প্রতিটি গায়কের হাতেই এক জোড়া কাঁসার তৈরী করতাল থাকে,সশব্দ ক্রিয়াটি প্রকাশ করে ঐ করতালের আঘাত দ্বারা।অবশ‍্য পরবর্তীকালে করতাল ধারণ না করে কেউ কেউ হাতে তালি সশব্দ ক্রিয়াটি বুঝায়।ঐ তালির মাধ‍্যমে তালের প্রকৃতি বুঝাবার রীতি সুপ্রাচীন, শ্রীচৈতধ‍্যদেব নিজেও কীর্তন বিধি প্রচার নিমিত্ত "দিশা দেখান মহাপ্রভু হাতে তালি দিয়ে ", চৈতন‍্য ভাগবতে উক্ত আছে। নিঃশব্দ ক্রিয়াগুলির মধ্যে ফাঁক এক প্রকারের ক্রিয়া, হিন্দুস্থানী পদ্ধতির "খালির" এবং দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতির "বিসর্জিতম্" এর মত। এ ক্রিয়া করতলের সম্মুখভাগ দেহাদিমুখে রেখে দেহ থেকে দেড় ফুট পরিমাণ সম্মুখে সঞ্চালন করে প্রকাশ করা হয়। "ফাঁক" শব্দটি বাংলা তাই এটি গৌড়ীয় সঙ্গীতের পরিভাষা বলে গণ‍্য হওয়া উচিৎ।যদিও হিন্দুস্থানী সঙ্গীতের কোন কোন গায়ক "ফাঁক" শব্দটি ব‍্যবহার করেছেন।অপর একটি নিঃশব্দ ক্রিয়া "কাল"। এটির প্রয়োগ সাধারণতঃ হয় মধ‍্যগতির তালকে "বড়" গতিতে পর্য‍্যবেসিত করতে অর্থ‍্যাৎ বার্তিক মার্গ থেকে দক্ষিণ মার্গে রূপান্তরিত করতে।হস্ত যে অবস্থায়ই থাকুক তার থেকে ঠিক উল্লম্বভাবে নয় দশইঞ্চি পরিমাণ উপরের দিকে উঠিয়ে যে ক্রিয়া দেখান হয়  তাকেই বলে "কাল"। শব্দটি তালের দশ প্রাণের একটি প্রাণ হিসাবে গণ‍্য সেক্ষেত্রে এটির অর্থ হল তালে ব‍্যবহৃত সময়ের একক মাত্র। কিন্তু কীর্তনাঙ্গীয় পদ্ধতিতে এটি একটি নিঃশব্দ ক্রিয়া।অপর যে ক্রিয়াটি এ পদ্ধতিতে সর্বাধিক প্রযোজ‍্য সেটি হল  "কোশী" বা "কুশী"। 'কোশ' শব্দটির গ্রামীণ প্রয়োগে দেহের "কোল" অংশ বুঝায় এবং "কোশী" শব্দটিও তাই কোলের দিকে হাতটিকে টেনে আনা বা কোলের দিক থেকে হাতটিকে সরিয়ে নেওয়া উভয়কেই বুঝায়।এ ক্রিয়া বুঝাবার জন্য হাতটি বাহু ভাগের সঙ্গে সমকোণে রেখে কনুইটি দেহ থেকে নয় দশ ইঞ্চি সামনের দিকে সঞ্চালন করা হয়  আবার ঐ কনুইটি কোলের দিকে টেনে দেহের পিছন দিকে ছয় সাত ইঞ্চি সরিয়ে নেওয়া হয়।"কোশী" পরিভাষাটি এতই পরিচিত যে এর ভিত্তিতে তালের নাম করণ করা হয়েছে  যেমন "দশকোশী"। তালটি মধ‍্যগতিতে চৌদ্দ মাত্রা, চারটি তাল এ দশটি নিঃশব্দ ক্রিয়া অর্থ‍্যাৎ কোশী তাই  ঐটি "দশকুশী" দ্রুতগতির তালে একটি "তাল" অপর মাত্রা "ফাঁক" মধ‍্যগতির তালে একটি তাল অপর তিনটি "কোশী", প্রথমটা বাইরের দিকে, দ্বিতীয়টি কোলের দিকে  এবং তৃতীয়টি আবার বাইরের দিকে। "কোশী" ক্রিয়াটি প্রাচীন দেশী ক্রিয়া "বিসর্জিতা" ও "বিক্ষিপ্তারই" প্রয়োগ বিশেষ। এ ক্রিয়াটি প্রদর্শন রীতি অন‍্য কোন তাল প‍দ্ধতিতে দেখা যায় না। বিভিন্ন ক্রিয়ার মাধ‍্যমে তালের অঙ্গগুলি প্রকাশ করে নানাবিধ তাল দেখান হয়।*
                        🙏🙏🙏


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৫. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৫) কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*অতি প্রচলিত তিনটি তাল হল বারো মাত্রায় "লোফা" যার বৃন্দাবনে প্রচলিত নাম "জপতাল"।দ্বিতীয় নামটির প্রয়োজনীয়তা এই যে "লোফা" নামক তালটি পশ্চিমবঙ্গে বারো মাত্রা হলেও পূর্ববঙ্গে এটি চৌদ্দ মাত্রা  কিন্তু "জপ" নামের রূপান্তর নাই। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অঞ্চলে তালটিকে "গড়খেমটা" বলে অভিহিত করা হয়।ব‍্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যায় "গড়" অর্থে বনাঞ্চলে এবং "খেমটা" অর্থে নাচের একটি ছন্দ। উভয়ের সংমিশ্রণে থাকায় স্বভাবতই অনুমান করা যায় যে আদিবাসীদের নৃত্য ছন্দের প্রকাশ  এই তালটিতে আছে।কথাটি নিছক সত‍্য কারণ তালটি ত্রিমাত্রিক এবং ছন্দ অনুধাবনে নৃত্যের অনুপ্রেরণা জোগায়।চারটি বিভাগ ৩|৩|৩|৩|। প্রথম এবং তৃতীয় বিভাগে তাল আর দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বিভাগে ফাঁক।কেউ কেউ একতালাও বলে থাকেন।দক্ষিণাঞ্চলে প্রচলিত "ডাকনাম" গানে কিঞ্চিৎ বিলম্বিত লয়ে প্রয়োগ করা হলে বলা হয় "সুধাতরঙ্গিনী" আবার এরই মাতন পর্যায়ে বলা হয় "জামাল"। খোল যন্ত্রটিতে এ তালটি বাজানো হয়। খোলে ব‍্যবহৃত বাণীগুলিতে অভিনবত্ব এই যে যন্ত্রে 'ক' বর্গের প্রথম চারটি বর্ণ, 'চ' বর্গের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ণ 'ট' বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ, 'ত' বর্গের পাঁচটি বর্ণ তাছাড়া 'র' 'ং' ইত‍্যাদি বর্ণগুলির সংকলনে বোল সৃষ্টি হয়। প্রতি বর্গের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ বর্ণ প্রস্বন অনুপাতে প্রথম এবং তৃতীয় বর্ণ অপেক্ষা জোড়া বাজানো হয়। এর মধ্যে 'চ' বর্গের বাণীগুলি অন‍্য কোন প্রচলিত আনদ্ধ যন্ত্রে ব‍্যবহৃত হয় না কিন্তু খোলে এ বাণীগুলিই বেশী ব‍্যবহার হয়।সে ভাবে 'লোফা' তালের মধ‍্যগতির লওয়াটি জা গ জা। জা ঘে না। তা ক তা খে টি, বিলম্বিত গতির লওয়া খে তাত্ ঝা। তা--- গুরু। দি দা ধি। না তে টে। উপরের বোল দুটি থেকে স্পষ্টই দেখা যায় যে 'সমে' কোন প্রস্বনযুক্ত বাণী রাখা হয় নাই অর্থ‍্যাৎ লঘু বাণী রাখা হয়েছে।প্রস্বন আছে মধ‍্যগতির পঞ্চম মাত্রায় এবং বিলম্বিত গতির তৃতীয় এবং অষ্টম মাত্রা।এ দিক থেকে ধামারের ঠেকায় সমে 'ক' বিষয়টির সমর্থন পাওয়া যায়। পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশে) এ তালের গতিই বেশ বিলম্বিত করে "একতালা" নামে গাওয়া হয়। সে তালের ঠেকার বোল ঝা খি দাঘি।তাগ দিদ্দা দিদ্দা। তা খি দাঘি। তাক তেরে খেটা। এরই দ্রুত প্রয়োগকে বলা হয় "খয়রা" তাল। মনে হয় এ ছন্দটি প্রাচীন ত্রিমাত্রিক একতালেরই অনুকরণ এবং বরিশালের নট্ট সম্প্রদায়ের মস্তিষ্কজাত।কীর্তনে প্রচলিত চতুর্মাত্রিক ছন্দের বারো মাত্রার তালের নাম "দোজ তাল", বিভাগ ৪|৪|৪ তিনটিই তালাঘাত।বারো মাত্রা বিভাগের চৌতালের অনুরূপ অপর তালটির নাম পরিমাণ তাল।চারটি তাল ও দুটি ফাঁক। দুঠুকি একটি অতি প্রচলিত তাল যার অপর নাম "নন্দন" তালও অনেকে বলেন।তালটি চৌদ্দ মাত্রা হলেও দুটি অঙ্গ অনুরূপ। ছন্দ ৩|৪|৩|৪ প্রথম  এবং চতুর্থ মাত্রায় তালাঘাত, অষ্টম এবং  একাদশ মাত্রায় ফাঁক।ছন্দটি সর্বভারতীয়, খুবই পরিচিত।*


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৬. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৬)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*এটিতে উত্তর ভারতীয় চাচর,দীপচন্ডী ইত‍্যাদি তালের মত ঝোঁক আছে।আবার মধ‍্যগতি হলে অবিকল তেওড়া বা দক্ষিণ ভারতীয় মিশ্র জাতির ত্রিপুট তালের মত হয়ে যায়।বিলম্বিত লয়ে এটিতে "ধামারের" চেহারাও কল্পনা করা যায়,কারণ এ' তালের বোলটি হল=*
*+ ২ 0 0*
*ধি ধি ধি ধি--ধি--ধি তে টে তা-- -- গুরুর*
*ষষ্ঠ মাত্রায় প্রস্বন এবং সপ্তম মাত্রায় দম্।এ থেকে ধামারের ক ধে টে ধে টে ধা- অংশের সঙ্গে মিলে যায়। দ্রুত মধ‍্য ও বিলম্বিত তিন গতিতেই তালটির প্রয়োগ আছে। তিন ও চার ছন্দ যুগপৎ থাকাতে এটিকে মিশ্রজাতি বলে ধরা হয়।সব ধরণের কীর্তনেই এ তালটির প্রচলন আছে কিন্তু মনোহরশাহী কীর্তনে এটির আধিক‍্য আছে। মুর্শিদাবাদ জেলার শক্তিপুরের অবধৌত বন্দোপাধ‍্যায় মহাশয়ের দুঠুকির বিন‍্যাস ছিল অত‍্যুত্তম যদিও মইনটির বা মনিহাটির দুঠুকি গান কীর্তনে প্রসিদ্ধ।তালটিকে উল্টো করে নিলে হয় ৪|৩|৪|৩ ছন্দ।একে বলা হয় একতালি। বৃন্দাবনে একতালি প্রসিদ্ধ।এ ছাড়া সূচক কীর্তনের সব প্রসিদ্ধ গানই একতালিতে গাওয়া হয়। এটিকে দক্ষিণ ভারতীয় মিশ্র জাতির একম্ তালের সঙ্গে তুলনা করা যায়।প্রতিটি তালাঘাতেই ছন্দটির সম‍্যক প্রকাশ বলেই মনে হয় একতালি নামকরণ করা হয়েছে।প্রবন্ধ সঙ্গীতে একতালি নামে প্রবন্ধ আছে।সেটি অনেকের মতে অনিবদ্ধ,তাই এ তালটির সূত্র সে প্রবন্ধে খুঁজে পাওয়া যায় না। সাধারণত মধ‍্যগতির একতালিরই বেশী প্রয়োগ। তালের বোলটি এইরূপ=*
*+ 0 ২ 0*
*ঝা--তা----তা খে টা তি--ঝা---দি দি দা*
*দশম মাত্রায় "ঝা" ও ষষ্ঠ মাত্রায় "খে"--- এই বাণী দুটিই তালটির নান্দনিক উৎকর্ষের কারণ। আবার দ্রুতগতির একটি তালকে ছোট একতালি বলা হয় যার অপর নাম "ঝাতি"।তালটিকে অনেকে সাতমাত্রা বলে থাকেন আবার অনেকে প্রয়োগ ক্ষেত্রে এটিকে ছয় মাত্রায় ঝোঁকও দেখিয়ে থাকেন। অবশ‍্য উভয় ক্ষেত্রের প্রতিটি মাত্রার স্থায়িত্বকাল প্রায় সেলাই কলের ছুঁচের গতির মত। যারা সাতমাত্রা রক্ষা করেন তারা অত‍্যন্ত সচেষ্ট ভাবে সচেতন থাকতে বাধ‍্য হন। আবার যারা ছয় মাত্রা করেন তাদের সাবলীলতা বিশেষ লক্ষণীয়। বক্তব‍্য এই যে মাত্রার স্থায়িত্বকাল তত দ্রুত ধরা সমীচীন কিনা। তাছাড়া প্রতিটি তালাঘাতের আশ্রয়ে গান, ছন্দ রক্ষার দায়িত্ব বাদকের,গানের কোন বন্দিস নাই।এক্ষেত্রে একতালির নাম বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে প্রতি তালে ছন্দ সৃষ্টি করা, সাবলীল ভাবে ছয়, সাত আট যে কোন মাত্রার ঝোঁক দিয়ে গান বিন‍্যাস করাই অনেকের মতে শ্রেয়।তালটির বহুল ব‍্যবহার।ঘটকালি,বিস্তার বা ব‍্যাখ‍্যা বেশীর ভাগই হয় এ ঝোঁকটির আশ্রয়ে।এটি কঠিন হলেও গানের সৌন্দর্য্য কমে যায়।পূর্ববঙ্গে প্রচলিত "লোফা" নামক তালটিরও একই ঝোঁক অর্থ‍্যাৎ বড় একতালির মত চৌদ্দ মাত্রা সম্পন্ন।অন‍্যান‍্য পদ্ধতির গানে ঝোঁকটি আছে কিন্তু একটি তালাঘাতেই ছন্দটি প্রকাশিত এমনটি দেখা যায় না।হিন্দুস্থানী পদ্ধতির একতাল বা পূর্ববঙ্গের একতালার থেকে তালটি সম্পূর্ণ পৃথক।*
*(ডঃ মৃগাঙ্ক শেখর চক্রবর্তী )*

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৭. তেওট" একটি তাল 🎵 কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *(০৭)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*কীর্তনে ২|৩|২|৩ ছন্দের ঝাঁপতাল ব‍্যবহৃত হয়। কিন্তু এই তালটি ধ্রুপদ, খ‍্যায়াল,দাদরা,লঘু ইত‍্যাদি সব অঙ্গেই ব‍্যবহার হয়।তাই এটিকে কীর্তনাঙ্গীয় তাল বলে গণ‍্য করা সমীচীন নয়। "তেওট" নামে একটি তাল কীর্তনে বেশী প্রচলিত।তালটি চৌদ্দ মাত্রা,বিভাগ ২|২|২|২|২|২|২। তিনটি তাল -- প্রথম  সপ্তম  এবং একাদশ মাত্রায়।ফাঁক চারটি-- তৃতীয়,পঞ্চম,নবম ও এয়োদশ মাত্রায়। প্রথম ফাঁকটি দেখানো হয় কৃষ‍্যা ক্রিয়ার মত ডান দিকে হস্ত সম্প্রসারণ দ্বারা আর দ্বিতীয় ফাঁকটি দেখানো হয় সর্পিনী ক্রিয়ার মত বাম দিকে হস্ত সম্প্রসারণ দ্বারা।নামটি থেকে অনুমান করা যায় যে তিনটি তালাঘাত সম্বলিত বলেই এটিকে "তেওট" বলা হয়। হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে একটি 'তেওট' নামে তাল আছে।সেটিও চৌদ্দ মাত্রা কিন্তু বিভাগ ভিন্ন হবার দরুণ পরস্পর তুলনা চলে না।তবে কীর্তনাঙ্গীয় তেওট তালের রূপ বুঝাবার ক্ষেত্রে বলা যায় যে তেওড়ার তালের মার্গ পরিবর্তন করে  যদি চিত্র থেকে বার্তিক করা যায়  অর্থ‍্যাৎ সাত মাত্রার তেওড়াকে অতি বিলম্বিত করে যদি এক আবর্তে চৌদ্দ মাত্রা করা যায় তবে তা অবিকল কীর্তনাঙ্গীয় তেওট তাল হয়।তেওট তাল মনোহরশাহী ঘরানার অতি প্রিয় তাল হলেও গড়ানহাটি ঘরানার অনেক প্রসিদ্ধ গান তেওট তালে গাওয়া হয়। তালের ঠেকাটি দুই আবর্তে নিবদ্ধ।*
*+             0        0            0*                          *ঝা  খি   ঝা   খি-- গুরর ধেই তা*        
   *0                  ৩               0*
*গেদা  ঘেনে    তাক  দাঘি  নেত*   *খেটা*
 +     0    0            ২               0
তা- তা-   - গুরর তাক তেটে  তেটে 
            ৩           0
খিখি  তাক দাধে -  দা ধেই।
*কীর্তনাঙ্গীয় তালের ঠেকাকে বলা হয় লওয়া। অনেক ক্ষেত্রেই লওয়াগুলি হয় দুই আবর্তের,গুরু এবং লঘু, যথাক্রমে তবলার খুলি এবং মুদির মত। শুনা যায় মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের কাঁদি মহকুমায় পাঁচতুফি গ্রামের তেওট প্রসিদ্ধ।এই তালটি সম দেখানো হয়েছে সেটি তৃতীয় তাল। হিন্দুস্থানী সঙ্গীতের ধারা অনুযায়ী কথাটি অযৌক্তিক মনে হয়।কারণ সম সর্বদাই প্রথম তালে হয়।এ বিষয়ে প্রাচীনদের মত অগ্রাহ্য করা যায় না  কারণ ঐ তালের অনেক ঘাত বাদ‍্য পাওয়া যায়  যেগুলি বর্তমানের দ্বিতীয় তাল থেকে শুরু। তবে সাঙ্গীতিক চরিত্রের সামঞ্জস‍্য রাখার জন্য সমকেই প্রথমতাল বলে গণ‍্য করা উচিত। অনুরূপ মত "ধরা" তাল সম্পর্কে প্রচলিত আছে।এ তালটির চতুর্থ তালে সম।ধরা সম্পর্কে  এ বিষয় আলোচিত হবে। অন‍্যান‍্য তালগুলির প্রচলিত রূপ অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে কতগুলি কেব ছুটের সাহায্যে গঠিত, একটি কেবল জোড়া দ্বারা গঠিত এবং অপরগুলি গঠিত ছুট এবং জোড়ায় সমন্বয়ে। যেমন =*
*২ টি ছুটে------ ডাঁস পাহিরা।*
*৩ টি ছুটে-------- দোজ।*
*৪ টি ছুটে------- গঞ্জন,ধরা,বড় দাসপ‍্যারী।*
*১ জোড়া---------- রূপক।*
*১টি জোড়া +১টি ছুট=আড়।*
*১টি জোড়া + ২টি ছুট=দশকোশী*
*১টি জোড়া + ৩ টি ছুট=বীরবিক্রম*
*১টি জোড়া +৪টি ছুট=শশীশেখর*
*আবার এইতালগুলির সমন্বয়ও দেখা যায় কতগুলি প্রচলিত তালে। যেমন=*
*১টি আড় + ১টি রূপক=বিষম পঞ্চম, খামসা।*
*১টি দশকোশী + ১টি আড়=মহামন্টক*
*১টি রূপক + ১টি দশকোশী=বিষম সমুদ্র।*
*১টি দশকোশী + ২টি রূপক=ইন্দ্রভাস।*
*১টি আড় + ২টি রূপক=মদনদোলা।*
*এগুলি প্রচলিত রূপ। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাচীন শাস্ত্রীয় রূপ থেকে পৃথক আবার কোন কোন ক্ষেত্রে একই।*
*(ডঃ মৃগাঙ্ক শেখর চক্রবর্তী )*


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৮. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৮)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
*🍀ডাঁস পাহিড়া তালটি দাসপ‍্যারী বা আরও বিভিন্ন নামে পরিচিত।এর গঠন দুইটি,একটি ছোট অপরটি বড়।ছোট দাসপ‍্যারী দুটি তালাঘাতে নিবন্ধ আট মাত্রার তাল।একটি তালাঘাতের পর তিনটি কোশী এমন দুইবার। ঠেকা =*
   +    0       0     0       ২         0   
ঝিনি তা   তেটে  তা  খিউরর   দাঘি  
   0        0
নেদা    গেদা।
*বড় দাসপ‍্যারী চারটি তালে নিবদ্ধ।একটি তালাঘাতের পর তিনটি কোশী এমন চারবার। এদিক থেকে গঞ্জন তালের রূপের সঙ্গে পার্থক‍্য নাই,তবে গানের বিচারে পার্থক‍্য করা সম্ভব। ঠেকাটি =*
   +      0        0       0      ২       0
ঝিনি  দাঘি   ঝিনি   দা   ঝিনি  দাঘি
   0             0
নেতা       খেটা
   ৩      0         0        0      ৪    0
  তা    উরর   তেটে   খেটা  তা  খে 
   0  0
  খে  ।
*তালটি অতি প্রচলিত এবং ভক্তগণের অতি প্রিয় বলেই মনে হয় দাসপ‍্যারী নামকরণ হয়েছে। দেব বিগ্রহের আরতিকালে যে খোল বাজানো হয় তা হয় দাসপ‍্যারীরই দ্রুতচলন চঞ্চুপুট তালে=*
   +   0        0       0      ২     0
 ঝা  দাঘি  নেদা  গেদা   ঝা  দাঘি
    0     0
  নেতা  খি ।
*তাছাড়া ধামালি নামে প্রচলিত যে তালটি আছে সেটিও দাসপ‍্যারীর অপভ্রংশ এবং আট মাত্রা সমন্বিত।*
  +       0        0    0    ২     0      0
ঝিনি  দাঘি   নাগ  তা  খি  উরর   ধি   
   0
  ধি ।
*তাছাড়া কাটা দাসপ‍্যারী ভাঙ্গা ভাঙ্গা ছন্দে বাজানো হয়।কথিত আছে  কাঁথির দাসপ‍্যারী খুবই প্রসিদ্ধ। দাসপ‍্যারী তালের প্রচলিত রূপটি এই, কিন্তু প্রাচীন শাস্ত্র মতে এটি রূদ্র একাদশের সপ্তম তাল।এবং তালটির সংজ্ঞা =*
*পঞ্চতালাৎ পরং শূন‍্যং ডাস পাহিড়া মূত্তমম্।*
*অত‍্যূর্ধঞ্চ ভবেৎ ত্রস্তং সংগ্রামস‍্য যথা গতি।।*
*🍀পঞ্চতাল বলে যে তালটির পরিচয় পাওয়া যায় তাতে দুটি জোড়া এবং তার সঙ্গে মাত্রাগত মিল থাকলেও রূপগত কোন সামঞ্জস‍্য নাই। এক্ষেত্রে প্রচলিত রূপের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা কল্পে "পঞ্চতালাৎ পরং শূন‍্যং" কথাটির অর্থ করতে হয়  যে পাঁচটি তালাঘাত থেকে শেষ তালাঘাতটি শূন‍্য অর্থ‍্যাৎ বাদ।তাই চারটি তালাঘাত বা ছুটের অস্তত্ব রইল। অবশ‍্য এ' সঙ্গতি নিন্তাতই অনুমান ভিত্তিক ও প্রচলিত রূপের সমর্থনে।কারণ অন‍্যত্র পাওয়া গেছে যে=*
*🍀একতালাং পরং শূন‍্য ক্রমেনাপি ত্রিধাভবেৎ।*
*🍀শেষ একতালাং শূন‍্যং ডাঁস পাহিড়া মূত্তমম্।।*
*তিনটি ছুট সম্পন্ন তাল "দোজ" যদিও এই তালের গান বেশী পাওয়া যায় না।বদসি অষ্টতালে এই তালটির প্রয়োগ আছে। তালটি মধ‍্যগতিতে বারো মাত্রা, তিনটি তালাঘাত। প্রতিটি তালাঘাতের পর তিনটি করে কোশী। প্রাচীন শাস্ত্রের সূত্রানুযায়ী=*
*🍀একতালঞ্চ শূন‍্যঞ্চ ক্রমেনাপি ত্রিধাভবেৎ।*
*🍀শেষশূন‍্যং কলাভেদে দোজাধ‍্যাশ্চ ভবেৎ পৃথক।।*
*সূত্রটির সঙ্গে প্রচলিত রূপটির সঙ্গতি আছে।দ্রুতগতিতে বদসি অষ্ট তালে ব‍্যবহৃত ঠেকা=*
   +                0             ২
 ধো  গুরর  ধোগগা     তিৎঝা
     0               ৩         0
তিনিনাও     তিনাও    ---।
*আবার মধ‍্যগতির ঠেকা অন‍্যরকম।*
   +                 0       0         0
  তা   গুরর   দাখি   নেদা   গেদা
       ২        0         0      0       ৩
 তাউরর   তাখি   নেতা  খেটা   তা
     0     0       0
  -------  খে     খে ।
       *আজ এই পর্যন্ত*


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

৯. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৯)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
*ডঃ মৃগাঙ্ক শেখর চক্রবর্তী*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹হিন্দুস্থানী পদ্ধতির চৌতালের সঙ্গে মাত্রাগত মিল থাকলেও রূপগত পার্থক‍্য যথেষ্ট।চৌতালের সঙ্গে রূপগতমিল আছে "পরিমল" তালের। "গঞ্জন" তালটি চারটি ছুটের,ষোল মাত্রা। একটি তালাঘাত ও তিনটি কোশী এমন চারটি অঙ্গ বিশিষ্ট তালটি বদসি অষ্টতালের পঞ্চম তাল। তালটি পূর্বে ছোট,মধ‍্য ও বড়, তিনগতিতেই ব‍্যবহৃত হ'ত কিন্তু বর্তমানে এই তালের গান নাই বললেই চলে। বদসি অষ্টতালের অন্তর্গত দ্রুত লয়ে ঠেকা=*
        +            0          ২
ধোগুরুর   ধোগা     তিৎঝা 
         0                ৩          0
নাওগুরুর     তিৎঝা  তিনিতিনি  
      ৪       0
  নাও     ---  ।
*তালটির গঠন সম্পর্কে প্রাচীন সংজ্ঞা----*
*"একতালো ভবেচ্ছ্রষ্টঃ ক্রমেনাপি চতুষ্টয়ম্।*
*শেষশূন‍্যং গঞ্জনঞ্চ সর্বতো মুনিভাষিতম্।।*
*🍀প্রচলিত তালের রূপের সঙ্গে সূত্রটি মিলে যায়। চারটি ছুটের অপর তাল "ধরা"।মনোহরশাহী ঘরাণার অতি প্রচলিত একটি তাল বিশেষ। ষোল মাত্রা সম্পন্ন। কেউ কেউ তালটিকে রুদ্র একাদশের "ধরণ" তালের রূপ বলে গণ‍্য করতে চান কিন্তু প্রাচীন সূত্র=*
*যুগ্মতালঞ্চ শূন‍্যঞ্চ একতালঞ্চ তৎপরে।*
*শেষৈকত্র ত্রিশূন‍্যঞ্চ বিষমং ধরণং ভবেদ।।*
*🌻রূপটি দাঁড়ায় ১  ২  ০  ৪  ০  ০  ০। তিনটি তালাঘাত একটি ফাঁক এবং তিনটি কোশী।তাই প্রচলিত ধরা তালের সঙ্গে এর কোন মিল নাই।ধরা তালের ঠেকা চারতালে এবং আটতালে উভয় প্রকারই পাওয়া যায়।এক্ষেত্রে তালাঘাতকে অনেক সময় চাপড় বলা হয়  এবং গানগুলি সাধারণত চব্বিশ চাপড়ে বা বিশ চাপড়ে পাওয়া যায়।অল্প কথা কয়টি, সুর এবং গমকে ভরা থাকে।চার তালের ঠেকাটি=*
   +           0                ২         0
ঝা ------- খি      খি     তা ----- তা -----
    ৩               0              ৪            0
   খি     খি     তা   খি    তা ----- গুরুর
*🍀প্রাচীনদের মতে তালটির চতুর্থ তালে সম অর্থ‍্যাৎ ' খি খি তা খি ' র পরে 'ঝা' টিতে সম। ব‍্যবহারিক ক্ষেত্রেও তাই দেখা যায় কারণ গানটির মুখ ঘুরে এলেই মান অর্থ‍্যাৎ তেহাই দেওয়া হয়  যার শেষ ঝা টি পরে চতুর্থ তালে। হিন্দুস্থানী তাল বিদদের বিচারে হয়ত বিধিটি অসঙ্গত মনে হবে। কিন্তু প্রচলিত বলেই কথাটি মেনে নিতে আপত্তি থাকা উচিত নয় কারণ কীর্তন পদ্ধতিতে অনেক অভিনবত্ব লক্ষ্য করা যায় যেগুলি সমস্তিস্ক বিচারে প্রমাদ বলে মনে হলেও নান্দনিক বাভাবের যুক্তিতে অনেক উর্ধে। এই ধরা তালেরই আবার একটি ভাঙ্গা গতিকে "কাটা-ধরা" নামে প্রচলন করেন কীর্তনীয়া রসিক দাস আজ থেকে ন‍্যুনপক্ষে দেড়শ বছর আগে। ঠেকাটি=*
    +        0          0          0        ২
 ধেৎ  তেটে     তেটে    খিখি     তাক
     0        0         ৩        0          0
   ধে    ধেই    তেটে   তেটে     তেটে
     ৪       0        0         0
    *তা    খি      খি     উরর*
       🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১০. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀তাল ক্ষেত্রে "রূপক" নামটি খুবই পরিচিত।হিন্দুস্থানী পদ্ধতির রূপক সাত মাত্রা, বিভাগ ৩|২|২, তালাঘাত দুটি,প্রথম মাত্রায় ফাঁক।ফাঁক থেকে শুরু বলে এ' তালটির ফাঁককেই সম বলে গণ‍্য করা হয়।আবার একপ্রকার "রূপকম্" তাল প্রচলিত আছে কর্ণাটক পদ্ধতিতে যার রূপ দ্রুতর পরে লঘু, তাই জাতি অনুপাতে তালটি ৫, ৪, ৭, ৯ এবং ১১ মাত্রা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কীর্তনে প্রচলিত রূপক তালটি ৩,৬ বা ১২ মাত্রা। কেবলমাত্র একটি জোড়া বা যুগ্ম তালি। প্রয়োগ ক্ষেত্রে অবশ‍্য তালটির দুটি আবর্ত  নিয়েই ব‍্যবহৃত হয়।বড়, মধ‍্য এবং ছোট তিন প্রকারেই ব‍্যবহার আছে। বড় রূপকের ক্ষেত্রেও অনেকে বলতেন জোড়ার শেষ তাল অর্থ‍্যাৎ পঞ্চম মাত্রায় সম দিতে।এ সিদ্ধান্তটি প্রাচীন তাল শাস্ত্রের অধিকাবর্তন রীতি সম্মত।তালটি বদসী অষ্ট তালের সপ্তম তাল।ঐ গানে প্রয়োগের সময়  দ্রুতলয়ে যে নির্ধারিত ঠেকাটি বাজে সেটি এইরকম=*
   +       0       ২         0          0
 ঝা   গুরু     ঝা     তেনা    তেনা 
    0      +         0     ২        0       0
থিনি    তা    গুরয়   তা-  তেনা  তেনা
   0
থিনি।
*প্রাচীন শাস্ত্রে তালটির যে সংজ্ঞা পাওয়া যায় সেটি=*
*"প্রথমং যুগলং তালং তৎপরন্তেকশুন‍্যকম্।*
*শেষে চ যুগলং তাল রূপকং পরিকীর্তিত "।।*
*অর্থ‍্যাৎ যে পর পর দুটি জোড়ার ব‍্যবহার হবে  এবং প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে মিলে যায়। অবশ‍্য পূর্ববঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার রূপক আছে যেটি সাত মাত্রা এবং অনেকটা ছোট দশকোশীর মত। রবীন্দ্র সৃষ্ট ষষ্ঠী তালে কীর্তনাঙ্গীয় রূপক তালের অনুকরণ দেখা যায়। জোড়া এবং ছুটের সমন্বয়ে সৃষ্ট তালগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতমই হল "আড়" তাল। তালটি দ্রুতগতিতে পাঁচ মাত্রা, মধ‍্যগতিতে দশ এবং বিলম্বিত গতিতে কুড়ি মাত্রা।একটি ছুট এবং একটি জোড়ার সমন্বয়ে তিনটি তালাঘাত বিশিষ্ট এ তালটি কীর্তনের কয়েকটি গানে এখনও ব‍্যবহৃত আছে।তালটি হিন্দুস্থানী পদ্ধতির সুর ফাঁক বা সূল তালের অনুরূপ।বদসী অষ্টতালের প্রথম তাল এবং ঐ গানে ব‍্যবহৃত দ্রুত লয়ের ঠেকাটি =*
    +              0          ২      0     0
 ধো ------- দিত্তা     ধোগা   তি   ------।
*মধ‍্যগতিতে 'ঝা' 'তাখি' 'নেতা' 'খেটা' বোল দিয়ে  এবং বড়গতিতে 'ঝাখি' ঠেকা দিয়ে বাজানো হয়। তালটির প্রাচীন সূত্র=*
*একতালস্তথা শূন‍্যং যুগলং তালিকাপরে।*
*সঙ্গীত প্রথমঃ সার আড় তাল প্রকীর্তিতঃ।।*
*🍀সূত্রানুযায়ী প্রথমে একটি তাল এবং পরে একটি জোড়া এবং এটিই প্রচলিত রূপ।*
*☘দশকোশী তালটির নাম কীর্তনের কঠিন তাল বলে সবার পরিচিত। তালটি দ্রুতগতিতে সাতমাত্রা ছোট দশকোশী নামে পরিচিত, মধ‍্যগতিতে চৌদ্দমাত্রা মধ‍্যম দশকোশী নামে পরিচিত এবং বিলম্বিত গতিতে আঠাশমাত্রা বড় দশকোশী নামে পরিচিত।তালটির চারটি অঙ্গ, দুইটি ছুটের পর একটি জোড়া। সাতমাত্রার বিভাগ ২|২|১|২, চৌদ্দ মাত্রার বিভাগ ৪|৪|২|৪ এবং আঠাশমাত্রার বিভাগ ৮|৮|৪|৮ ।হিন্দুস্থানীর পদ্ধতির আড়া চৌতালের সঙ্গে তালটির রূপগত সামঞ্জস‍্য আছে।ছোট দশকোশীতে ব‍্যবহৃত বোল=*
 +                  0            ২
ঝা --- --- ঝি নাগঝিনি  ঝা --- --- ঝি
  0             ৩               0
নাগঝিনি  ঝা-গুরর  জাঘিনাক
  °               +                 °            ২
তেটে তেটে তা--- --- থি নাকথিনি  তা
               °              ৩           ৪
--- --- থি নাকথিনি তাগুরর  তাত্ তা
   °
 খেখে ।
*🍀লঘু এবং গুরু দুই আবর্তে ঠেকা বাজানো হয়। গানগুলি সাধারণত জোড়া থেকে শুরু হয়। স্থানভেদে তালটির বিভিন্ন নাম আছে যেমন মেদিনীপুর অঞ্চলে বলা হয় "সন্নিকাটা তাল" দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় লাট অঞ্চলে বলা হয় "ছুট তাল"।দশকোশী তাল গরাণহাটি ঘরাণার তাল কারণ প্রসিদ্ধ গড়ানহাটি গানের অনেকগুলিই এই তালের। মধ‍্যম দশকোশীর তিন,চার,পাঁচ ইত‍্যাদি অনেক আবর্তে গানের বন্দিস পাওয়া যায়।*
             ক্রমাগত


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

১১. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১১)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻মধ‍্যম দশকোশীর ঠেকা ঃ---*
 +      °        °         °     ২      °
ঝা  তাখি  নেতা   খেটা  তা  তাখি
  °        °     ৩      °       ৪     °      °
নেতা খেটা  তা  উরর  তাত  তা  খিখি
  °         +       °       °        °       ২
তাখি  ধেনা  দিধি  নেদা  ধেনে  ধেনা
  °        °        °     ৩      °        ৪
দিধি  নেদা  ধেনে  ঝা  উরর  জাখি
   °        °         °
নাক   তেটে   তেটে ।
*🍀বড় দশকোশীর গান খুবই ধীর প্রকৃতির, মাত্রাও বিলম্বিত। গৌরচন্দ্রিকার গান ছাড়াও অনেক প্রসিদ্ধ গান আছে যেমন-- "বিকচ সরোজ" "কাচা কাঞ্চন", "গোরা বড় পতিত পাবন", "কালিয়দমন", "জয়রে জয়রে গোরা" ইত‍্যাদি। গড়ানহাটি ঘরাণায় এ গানগুলি অনেকই লুপ্ত প্রায়। তালটির ঠেকা=*
  +        •         °       •      °        •
ঝাখি  ঝাখি  ঝাখি  ঝা  ঝাখি  ঝাখি
   °          •
ঝাখি  ঝাগুরু
  ২      •      °      •      °     •       °
ঝাখি  তা  তাত্  তা  তাত্  তা  খিখি
   •        ৩        •         °
তাখি  ঝাঝা  ঝাঝা  গুরর-----
  ৪      •      °      •      °      0      •
ঝাখি  তা  তাত্  তা  তাত্ খিখি তাখি।
*🍀দশকোশী তালের নানাবিধ ব‍্যবহার আছে যেমন ভাঙ্গা ভাঙ্গা ছন্দে ব‍্যবহৃত হ'লে বলা হয় কাটা দশকোশী, আবার আড় ছন্দে ব‍্যবহৃত হলে বলা হয় বিরাম দশকোশী, তা ছাড়া গৌর-চন্দ্রিকার পদের শেষ চরণটি দশকোশী তালাশ্রিত করে বার বার গাওয়া হয়।এক্ষেত্রে নানাবিধ বাদ‍্য ব‍্যবহৃত হয় যাকে বলা হয় "মাথট বা কাটাসোম"।এগুলি সবই মধ‍্য গতির। বড় দশকোশীর একটি বিশেষ ছন্দ প্রাচীন কালে ব‍্যবহৃত হ'ত বলা হয়  "ঝুমড়া"। বিভিন্ন নাম সম্বলিত আঠার প্রকার বোল এবং আঠাশ প্রকার বোল ব‍্যবহৃত হত।এগুলির নাম ছিল শ্রুতি,পোট,মন্টক, প্রতিম-ন্টক,পাকছটা ইত‍্যাদি।কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি গানে এ ছন্দটি ব‍্যবহৃত হত। এটির ব‍্যবহারে ডমরু যতির রুপ পাওয়া যায়, দশকোশী তালটি রুদ্র তালান্তর্গত নবম তাল। তালটির প্রাচীন সূত্র=*
*"একতালমেকশুন‍্যমিত‍্যবঞ্চ ভবেৎ ক্রমাৎ।*
*বিরাম একতালঞ্চ বাগ্ ভেদে দশকোষিকা "।।*
*🌹অনেকে বলেন তালটির অপর নাম কন্দর্প তাল, কিন্তু রুদ্র একাদশ অন্তর্গত ষষ্ঠ-তালটির নাম কন্দর্প বলে পাওয়া যায়। এটির সূত্র=*
*"সমতালং যথা দৃষ্টং তথা কন্দর্প সংজ্ঞিতম্।*
*সমতালে ভবেৎ শুন‍্যং কন্দর্পে নাস্তি তৎপুনঃ "।।*
*🍀এ বিচারে সমতাল এবং কন্দর্প তাল একই, কেবলমাত্র সমতালে যে তালের পর শূন‍্য বা ফাঁক থাকে কন্দর্পে তা থাকবে না। অর্থ‍্যাৎ সমতাল যদি মধ‍্যগতির হয় তবে কন্দর্প হবে দ্রুতগতির তাল। অবশ‍্য সম, যতি বা যোত সোম দশকোশী তালেরই রূপ বিশেষ বলে পরিচিত। অতীত গ্রহ হলে অর্থ‍্যাৎ প্রথম তালের পর গান শুরু হলে দশকোশী বলা হয়, দ্বিতীয় তালের পর গান শুরু হলে হয় যতি বা যোত সোম, আবার অনাগত গ্রহ হলে অর্থ‍্যাৎ চতুর্থ তালের পর হতে গান শুরু হলে বলা হয় সম-তাল।গানের ধরণভেদ তালের নামান্তর হয়, কীর্তনাঙ্গীয় এ তালটির এটি একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য। অনুরূপ ব‍্যবহার অবশ‍্য দেখা যায় "বিষম পঞ্চম বা খামসা" তালের সম্পর্কে।অবশ‍্য এ নামান্তর যুক্তিটি না মেনে পৃথক তাল বলেই গণ‍্য করা উচিত কারণ যতি তাল বদসি অষ্ট তালের তৃতীয় তাল।*
            *ক্রমাগত*


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
১২. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি 🎶 তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/kirtan.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১২)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀কারণ যতি তাল বদসি অষ্ট তালের তৃতীয় তাল। এটিই সূত্র=*
*প্রথমং যুগলং তালং একেকস্থথাখা পরে।*
*কলাভেদে গান ভেদং যতিস্ত পরিকীর্তিতম্।।*
*☘প্রথমে জোড়া এবং পরে দু'টি তাল-- এই হল তালটির রূপ।আবার সমতাল অষ্টতালের অষ্টম তাল, সূত্রটি হল=*
*একতালাৎ তথাশুণ‍্যং ক্রমেন ত্রিবিধং ভবেৎ।*
*শেষে যুগল তালঞ্চ সমতালং ভবেত্ পরম্।।*
*🍀এই সূত্র অনুযায়ী দু'টি ছুটের পর  একটি জোড়া।উভয় ক্ষেত্রেই প্রচলিত রূপের সঙ্গে সঙ্গতি আছে। অষ্টতালে ব‍্যবহৃত তালটির ঠেকা=*
             +         ২            0           ৩           
যতি--- ধো ধো তাত্ধো দেতাখেটা তা
                     0              ৪       0
গুররধোগা  তিনি  নাও তিনাও ----
          +             0            ২
সম-- ধো খেটা তাত্ধো  দেতাখেটা
    0           ৩             ৪
ঘেনাতিনি দাঘিনেতা ঘেনাওউরর
    0
তেনাতিৎ।
*☘এগুলি দ্রুতলয়, অবশ‍্য বিলম্বিত লয়ে সাধারণত "ঝাখি" ঠেকাই বাজানো হয়।এই তিনটি তালই প্রাচীন কীর্তনীয়াদের অতি পরিচিত এবং গৌরচন্দ্রিকার শুরুতেই এই তালগুলি ব‍্যবহার করা হয়।তবে বীরভূম জেলার ময়নাডালের দশকোশী প্রসিদ্ধ বলে জানা যায়।*
*🍀 "বীরবিক্রম" তালটি ছোট, নয়মাত্রা,মধ‍্য আঠার মাত্রা, বড় ছত্রিশ মাত্রা।ব‍্যবহারিক ক্ষেত্রে তালটির প্রথমে তিনটি ছুট তার পরে একটি জোড়া। এ তালটির অনুরূপ রবীন্দ্র সৃষ্ট "নবপঞ্চ" তাল। বীরবিক্রমের নানাবিধ গান প্রচলিত আছে। বদসি অষ্টতালের পরে "স্ফুরদঅধর সীধবে"--- চরণটি দ্রুতগতির বীরবিক্রম তালে গাওয়া হয়। এ তালটির রুদ্রতালান্তর্গত প্রথম তাল এটির সূত্র=*
*একতালং তথা শূণ‍্যং ক্রমেন ত্রিবিধং ভবেৎ।*
*তৎপরং যুগলং তাল মিত‍্যেবং বীরবিক্রম।।*
*🌹প্রচলিত আকৃতির সঙ্গে সূত্রটি মিলে যায়। "শশীশেখর" তালটি দ্রুতগতি, এগার মাত্রা, মধ‍্যম বাইশমাত্রা, ও বিলম্বিত গতি চুয়াল্লিশ মাত্রা। ছয়টি তালাঘাত সম্পন্ন তালটিতে প্রথম দুটি ছুট, পরে একটি জোড়া আবার দুটি ছুট।এটি অষ্টতালের চতুর্থ তাল, অপর নাম শশীশেখর। তালটির সংজ্ঞা=*
*চন্দ্রশ্চন্দ্রতথা যুগ্মং তথাচন্দ্রস্থথাপরে।*
*একতালানি ভবন্ত‍্যেবং চন্দ্রশেখর ভাষিতম্।।*
 *"চন্দ্র" অর্থে এক, তাই সূত্রানুযায়ী পরপর দুটি ছুট,জোড়া এবং দুটি ছুট-- রূপটি প্রচলিত শশীশেখর তালের রূপের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়। অষ্টতালে ব‍্যবহৃত দ্রুতলয়ে তালটির ঠেকা=*
   +      0        ২          0         ৩
  ধো  দিত্তা  গুররধো  দিত্তা  ধোধো
      0             ৫               0
দেতাখেটা  তাগুরধোগা  তিনিনাও
  0       0
তিনি  ------।
*☘এ তালের কিছু কিছু গান এখনও প্রচলিত আছে। শশীশেখরে--- "জাগহু বৃষভানু নন্দিনী" "বড়ই মানা করগো", ইত‍্যাদি এবং মধ‍্যম শশীশেখরে--- "হেদেহে নন্দের সুত" ইত‍্যাদি।*
            *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ১৩. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''"""""""""""""""""""""""""""
*🍀বিষম পঞ্চম বলিয়া যে তালটির উল্লেখ পাওয়া যায় তার অপর নাম "পঞ্চতাল"।অবশ‍্য গানের ধরণ ভেদে তালটির আরেক নাম "খামসা"।এ নামটি অনেক পরবর্তী কালের, কারণ নামটি পারস‍্য ভাষা প্রভাবিত।বিষমপঞ্চম তালটি দ্রুতগতি আটমাত্রা,মধ‍্যগতি ষোলমাত্রা, বিলম্বিত গতি বত্রিশ মাত্রা।তালাঘাত পাঁচটি বলেই বোধ হয় তালটিকে পঞ্চতাল বা বিষম পঞ্চম তাল বলা হয়।তালটি একটি জোড়া একটি ছুট আবার একটি জোড়া দ্বারা গঠিত। বদসি অষ্টতালের ষষ্ঠতাল। দ্রুতগতিতে এই পর্যায়ে ব‍্যবহৃত ঠেকাটি=*
    +         ২             0         ৩
ধোধো  তাতধো  দেতাখেটা ধো 
     0       ৪      ৫    0 
দিৎতা  ধোগা  তি  ----- ।
 *এই তালের গান এখনও কিছু প্রচলিত আছে। খামসা তালের  "কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর " বিষমপঞ্চম তালের "নাকর এতেক চাতুরালি" ইত‍্যাদি পদ প্রসিদ্ধ। তালটির প্রাচীন সূত্র=*
*"প্রথমং যুগলত্বেক তথাপরং তালমেককং।*
*শেষে যুগ্মং তথা শূণ‍্যং পঞ্চতালং প্রকীর্তিতং"।।*
*🌻সূত্রটি প্রচলিত রূপটির সঙ্গে মিলে যায়। "মহামন্টক" তালটি মধ‍্যগতি চব্বিশ এবং বিলম্বিত গতি আটচল্লিশ মাত্রা।তালাঘাত সাতটি প্রথম দুটি ছুট একটি জোড়া একটি ছুট এবং সর্বশেষে একটি জোড়া। এ তালটি খুব প্রাচীন নয় তবে এটি রূদ্রতালান্তর্গত পঞ্চম তাল "মন্ডুক" এর মতো বলে অনেকে অনুমান করেন কিন্তু "মন্ডুক" তালটি ছয়মাত্রা হলেও এটির রূপ সম্পূর্ণ পৃথক। "মন্ডুক" তালের প্রাচীন সূত্র=*
*"প্রথমং একতালশ্চ তৎপরং শূণ‍্যমেককং।*
*শেষৈকত্র ত্রিতালঞ্চ মন্ডূকষ‍্যতির্যথা"।।*
*১   0   ২   ৩   ৪   0 ।* *বিষম সমুদ্র তালটি অপ্রচলিত বলেই মনে হয়, তবে ইদানিং দু' একটি গান প্রচলিত হওয়ায় প্রচলিত তাল পর্যায়ের আলোচিত হল। তালটি অতি প্রাচীন এবং এটি রুদ্র পর্যায়ের দ্বিতীয় তাল। প্রাচীন সূত্র=*
*যুগ্ম তালং তথা শূণ‍্যং তৎপরং দ্বয় তালকম্।*
*শেষে চ যুগলং তালং সমুদ্র বিষমং স্মৃতম্।।*
*🍀সূত্রানুযায়ী প্রথমে জোড়া পরে দুটি ছুট তার পরে আবার জোড়া অর্থ‍্যাৎ তালের রুপটি হল= ১ ২ 0  ৩  0  ৪  0  ৫  ৬  0 অর্থ‍্যাৎ দ্রুতগতিতে দশমাত্রা মধ‍্যগতিতে কুড়িমাত্রা এবং বিলম্বিত গতিতে চল্লিশ মাত্রা। প্রাচীন সূত্রে পাওয়া তালটির মধ‍্যগতির ঠেকা=*
   +        0         ২       0         0    0
থেনা খিউরর  খেনা  তাতা  খি উরর
  ৩    0        0        0
ধেই  তা  গেদা   ঘেনে
   ৪      0       0        0     ৫     0
তাক  দাঘি  নেতা  খেটা  তা উরর  
   ৬    0      0       0
তাত্  তা  খিখি   তাখি ।
*"ইন্দ্রভাষ" একটি মিশ্রতাল। তালটি ছাব্বিশ মাত্রা (মধ‍্যগতিতে)। তালাঘাত আটটি। দুটি ছুট এবং পর পর তিনটি জোড়া। প্রচলিত একটি গান পাওয়া যায়-- "কোথা যাওগো গোয়ালিনী"। তালটির প্রচলিত ঠেকা=*
  +      0        0       0    ২      0
 ঝা  তাখি  নেতা  খেটা  তা  তাখি
  0       0
নেতা  খেটা,
   ৩     0       ৪     0      0      0
  তা  উরর  তাত্  তা  খিখি  তাখি।
  ৫       0        ৬      0      0      0
ঝেনা  দাখি  তাক  দাধে  র্হদা  খেই
       0       ৮     0      0       0
ঝা উরর  তাত্  তা  খিখি  তাখি।
*তালাটি ইন্দ্র তাল গুচ্ছের ষষ্ঠতাল। প্রাচীন সূত্র=*
*"সবিরামং চতু স্তালং ত্রিতালং শূণ‍্যমস্ততঃ।*
*মেঘারম্ভে যথা কেকা হয়ন্তে ইন্দ্রভাষিতঃ"।।*
*🍀সূত্রানুযায়ী তালাঘাত হয় সাতটি। প্রচলিত রূপের সঙ্গে সঙ্গতি নাই।তাই মনে হয় তালটির প্রাচীন নাম রক্ষা করে কোন শিল্পী নূতন রূপ দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেন আখড়িয়া হরিদাস এই ধরণের কিছু তাল সৃষ্টি করেছিলেন।আবার কারও মতে সুজন মল্লিক নামক একজন প্রাচীন গায়ক নানাবিধ মিশ্রতাল ব‍্যবহার করে গান করতেন। এ তালটিও তারই সৃষ্টি। অবশ‍্য সূত্র বিচারে দেখা যায় গানটি রসিকদাসের পিতা অনুরাগী দাসের আমলেও প্রচলিত ছিল। সুজন মল্লিক তার পরবর্তী গায়ক, তাই তালটি প্রাচীন এ বিষয়ে সন্দেহ নাই।*
        *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ১৪. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৪)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*""মদনদোলা"" তালটি বর্তমানে প্রায় অপ্রচলিত। একমাত্র "মধু কর রঞ্জিত" পদটিতেই এই তালে গাইতে শোনা যায়।তালটি বাইশ মাত্রা, সাতটি তালাঘাত। প্রথমে একটি জোড়া, একটি ছুট আবার দুটি জোড়া অর্থ‍্যাৎ প্রথমে রূপক, পরে আড় এবং আরেকটি রূপক। তালের রূপটি দাঁড়ায় = ১  0   ২   0   0    0   ৩   0   0   0   ৪   0   ৫   0   0   0  ৬   0   ৭   0   0   0 । কোন কোন মতে পূর্বোক্ত তৃতীয় তালটিই "সম" এবং প্রথম তাল। সে হিসাবে প্রাচীন সূত্রে পাওয়া ঠেকাটি =*
  +        0       0      0     ২       0
ঝাগি  দাধে   ইদা  ধেই   ঝা   গুররর
  ৩       0         0        0       ৪      0
জাঘি  নাক   তেটে   তেটে   ঝা  গুরর
  ৫    0        0        0
ঝা  তেটে   তেটে   খেটা
  ৬      0       ৭       0       0        0
ঝা   গুরর  তাক  তেটে  তেটে   খেটা
*🍀তালটি অবশ‍্য ইন্দ্র ষষ্ঠী গুচ্ছ তালের তৃতীয় তাল।এটির প্রাচীন সূত্র=*
*"প্রথমেক যুগ্মতালং তৎপশ্চাদেকশূণ‍্যকং বিরামে।*
*শেষে ত্রিলয়তালং ভবেতীতি মদনদোলা"।।*
*🍀সূত্রটি প্রচলিত রূপের সঙ্গে অসমঞ্জস‍্য বলে মনে হয়।প্রাচীন নামানুসারেই মনে হয় পরবর্তীকালে এই প্রচলিত  রূপটি সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত,অল্প প্রচলিত  তালগুলি সম্বন্ধে আলোচনা হ'ল  কিন্তু এই ছাড়াও কিছু তাল কীর্তনাঙ্গে প্রচলিত ছিল  যা বর্তমানে অপ্রচলিত।যে গুচ্ছ তালগুলির সূত্র ধরে ঐ তালগুলির পরিচয় পাওয়া যায় সেই গুচ্ছে আরও কিছু তাল আছে যে গুলি স্পষ্টই বুঝা যায়।*
*(ক) অষ্টতাল=সামগ্রিক ভাবে পূর্বে আলোচিত।*
*(খ)= এগারটি তালের সমন্বয়।*
*(১) বীরবিক্রম (আলোচিত), (২) বিষমসমুদ্র (আলোচিত) (৩) ধরণ (আলোচিত) (৪)বীর দশক (৫) মন্ডুক (আলোচিত) (৬)কন্দর্প (আলোচিত) (৭)ডাঁস পাহিড়া (আলোচিত) (৮) ধ্রুবচরণ,(৯) দশকোশী (আলোচিত) (১০)গজেন্দ্রগুরু, (১১)ছুটকা।*
*🍀বীর দশক তালের রূপ=*
*"একস্তালং তথা শূণ‍্যং ক্রমেনাপি ত্রিধাভবেৎ।*
*যুগলং যুগলং পশ্চাৎ স বীরদশকঃ স্মৃতঃ"।।*
*অর্থ‍্যাৎ রূপটি হ'ল= ১  0  ২  0  ৩  0  ৪  0   ৫   0   ৬   0   ৭   0    ৮   0 ।*
*🍀ধ্রুবচরণ তালটি সংজ্ঞানুযায়ী আট মাত্রা ধরা যায়।প্রাচীন সূত্রটি এইরকম=*
*"একতালাং তথা শূণ‍্যং ক্রমেনাপি দ্বিধা ভবেৎ।*
*শেষৈকত্র ত্রিতালঞ্চ ধ্রুবচরণ ভাষিতম্"।।*
*অর্থ‍্যাৎ রূপটি হ'ল= ১   0   ২   0   ৩   ৪   ৫   0 ।*
*গজেন্দ্র গুরু তালটির রূপ নয়(৯) মাত্রা। প্রাচীন সূত্র=*
*"যুগলং যুগলং পশ্চাৎ তদন্তে একতালকম্।*
*শেষে চ যুগ্ম শূণ‍্যঞ্চ গজেন্দ্রগুরু ভাষিতম্"।।*
*তাই রূপটি দাঁড়ায়= ১   ২   0   ৩   ৪   0   ৫   0   0 ।*
             *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ১৫. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀ছুটকা তালটি রুদ্র একাদশের শেষতাল। তালটির সূত্র=*
*"যুগ্মশূণ‍্যং বিরামে চ একতালং ভবেৎক্রমে।*
*ছুটকাখ‍্যানকং ধীর সঙ্গীত পরিনিষ্ঠিতম্"।।*
*☘সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণে ছয়মাত্রা বুঝা যায়  এবং রূপটি হয় = ১   ২   0   0   ৩   0 । "যুগ্ম" অর্থে জোড়া, "শূন‍্য" অর্থে একটি ফাঁক "বিরাম" অর্থে অপর ফাঁক তাই উপরোক্ত  রূপটি পাওয়া যায়। উপরোক্ত তাল কয়টির প্রচলন কখন ছিল স্পষ্ট না জানা গেলেও প্রচলন ছিল এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।*
*(গ) ব্রহ্মতাল--- চারটি তালের সমন্বয় (পূর্বে আলোচিত হয় নাই)। তাল চারটি এইরকম*
*(১)ব্রহ্ম (২)বিরাম ব্রহ্ম (৩)ষট্ কলা এবং (৪)সপ্তমাত্রা।*
*🍀ব্রহ্মতাল নামে একটি তাল হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতেও প্রচলিত আছে। সেটির চৌদ্দ মাত্রা এবং তালাঘাত দশটি। প্রথমে একটি তাল একটি ফাঁক,দুটি তাল একটি ফাঁক, তিনটি তাল একটি ফাঁক এবং চারটি তাল একটি ফাঁক। কিন্তু কীর্তনাঙ্গীয় প্রাচীন ব্রহ্ম চতুষ্টয়ের সঙ্গে এর কোন মিল নাই। প্রথম তালটি ব্রহ্ম যার প্রাচীন সূত্র এইরকম=*
*"বিরামশ্চত্রস্তং প্রথমৈকতালং কিঞ্চিদ্বিরামে পুনরেকতালম্।*
*ব্রহ্মস‍্য তালশ্চ সঙ্গীত মধ্যে যথা কপোতিহী করতি শব্দম্ "।।*
*🌹তালটির এই সূত্রটি থেকে একটি অভিনব বিষয় উদ্ভব হ'ল। "কিঞ্চিদ্বিরাম" শব্দটির অর্থ নিয়ে। বিরামের একটি স্থায়ীত্বকাল মানা যায়  কিন্তু "কিঞ্চিৎ" শব্দটিতে স্থায়ীত্বকালের কোন নির্দিষ্টতা পাওয়া যায় না। এ' দ্বারা বুঝা যায় কিঞ্চিৎ কাল নির্দিষ্ট করা হবে গানের সুরের গতিতে।এ' ক্ষেত্রে বিরামের কোন নির্দিষ্ট সময় নাই বলেই মনে হয়। প্রাচীনকালের বাদকদের অবশ‍্য সাথ সঙ্গতে সুরের স্থায়িত্ব বিচার করে খোলে আঘাত দিতে দেখা যায় এ ক্ষেত্রে লয়ভ্রষ্ট অপরাধ দেখা দিলেও প্রারম্ভিক ক্ষেত্রে সেবাকার্য‍্য বলেই ধরা যায়  এবং একে একটি  নান্দনিক বৈশিষ্ট্য বলেও ধরা উচিৎ।দ্বিতীয় তাল বিরামব্রহ্ম। প্রাচীন সূত্র।*
*"যুগ্মতালং ভবেদত্রস্তং একতালাঞ্চ তৎপরে।*
*শেষে দ্বিতীয় শূণ‍্যে চ বিরাম ব্রহ্ম তালকম্ "।।*
*🌹রূপটি দাঁড়ায়= ১   ২   0   ৩   0   0 অর্থ‍্যাৎ ছয় মাত্রা। রূপান্তর করে নিলে তিস্র জাতির ঝম্পা তালের রূপ পাওয়া যায়। "ষট্ কলা" তালটি সাত মাত্রা। প্রাচীন সূত্র=*
*"প্রথমশ্চৈক তালঞ্চ যুগ্মশূণ‍্যং তথা পরে।*
*শেষৈকত্র ত্রিতালেতি ষটকলা খলুকথ‍্যতে "।।*
*🍀রূপটি হইল= ১   0   0   ২   ৩   ৪   0 ।*
*🌹সপ্তমাত্রা তালটি দশ মাত্রা। প্রাচীন রূপটি।*
*"আদৌ যুগ্ম তথা যুগ্মং ত্রিতালশ্চ তথাপরে।*
*সপ্ত মাত্রা ভবেত‍্যেষা ব্রহ্মতালান্তরে শুভে "।।*
*☘অর্থ‍্যাৎ রূপটি হল= ১   ২   0   ৩   ৪   0   ৫   ৬   ৭   0 । এ সব তালগুলির প্রচলন বর্তমানে নাই।*
*(ঘ) ইন্দ্রতাল= ছয়টি তালের সমন্বয়।*
*(১)দেবসার(২)দেবচালী (৩)মদনদোলা (আলোচিত) (৪)গুরুগন্ধর্ব (৫)পাঞ্চালী ও (৬) ইন্দ্রভাষ (আলোচিত)।*
*🌹দেবসার  তালটির দশ মাত্রার। সংজ্ঞাটি এইরকম=*
*"স বিরামং ত্রিতালঞ্চ এক শূণ‍্যং ন্তথাপরে।*
*শেষে ত্রস্তং ত্রিতালশ্চ দেবসার ইতির্য‍্যতে"।।*
*🌻রূপটি হল= ১   0   ২   0   ৩   0   ৪   ৫   ৬   0।*
*🌹"দেবচালী" তালটি সাত মাত্রা, প্রাচীন রূপ=*
*"শূণ‍্যং বিরামে ভবতিত‍্যঞ্চ ত্রিতালানি।*
*শেষেণ দ্বিশূণ‍্য-মিত‍্যেবং দেবচালী"।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ফাঁক সমন্বিত দুটি তালের পর তৃতীয় তাল এবং সর্বশেষ দুটি ফাঁক। রূপটি হয় =১   0   ২   0   ৩   0   0। রূপগত বিশ্লেষণে তেওট তালের দ্রুতগতি অর্থ‍্যাৎ "তিওটি" তালের অনুরূপ হয়।যার ঠেকা এই রকম=*
  ২        0        ৩         0      +    0
ঝিনি   দাঘি   নেতা   খেটা   তা   তা
   0      ২      0        ৩        0       +
  -----   তা   তাখি   নেতা   খেটা   ধি   
 0     0
ধি    ---- ।
*🌹গুরুগান্ধর্ব এবং পাঞ্চালী উভয় তালই পাঁচটি তালাঘাত যুক্ত কেবল মাত্র গতির ভেদ। উভয় তালই ত্রস্তগতি সম্পন্ন হলেও  "গুরুগন্ধর্ব" অপেক্ষা পাঞ্চালী ত্রস্ততর।প্রাচীন সূত্র থেকে তাই বুঝা যায়।*
*"একতালং সমারভ‍্য পঞ্চতালং ভবেৎ তথা।*
*অত‍্যূর্ধঞ্চ তথা ত্রস্তং গুরুগন্ধর্ব ঈরিতিঃ।।*
*শ্রাবণস‍্য যথা ধারাস্তথা তালো ভবেদ্ধীনাঃ।*
*পঞ্চতালান্তরাগীতি গুরুগন্ধর্ব প্রকীর্তিতা "।।*
          *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ১৬. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
*****************************
*🍀🍀🍀 চিহ্ন তাল 🍀🍀🍀*
*(১)চিহ্ন, (২)চন্দ্রমাত্রা (৩)দেবমাত্রা (৪)অর্ধজ‍্যোতিকা (৫)স্বর্গসার (৬) ক্ষমাষ্ট (৭)ধরাধর (৮)বসন্তবাক (৯)কাককলা (১০)কীরশব্দা (১১)তান্ডবী(১২)হর্ষধারা (১৩)ভাষা এবং (১৪)অর্ধমাত্রা।*
*🍀চিহ্নতাল= সূত্রানুযায়ী হয় এগার মাত্রা।*
*"একতালঞ্চ শূণ‍্যঞ্চ ক্রমেন ত্রিতয়ং ততঃ।*
*শেষে চতুষ্টয়ম্ ত্রস্তং চিহ্নতাল ইতির্য‍্যতে"।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ তালের রূপটি হয়= ১   0   ২   ৩   0   0   0 ।*
*🍀চন্দ্রমাত্রা তাল সাতমাত্রা, প্রাচীন শ্লোক=*
*"একশ্চন্দ্রন্তথা যুগ্মং তালং প্রত‍্যেক তন্ত্রয়ম্।*
*শেষেত্রিনী শূণ‍্যানি চন্দ্রমাত্রা ভবেৎ পরা"।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ তালের রূপটি হয় = ১   0   ২   ৩   0   0   0 ।*
*🍀দেবমাত্রা= পনের মাত্রা, সূত্র।*
*"প্রথমং ষট্ তালঞ্চ অত‍্যূর্ধঞ্চ ভবেৎ ক্রমে।*
*শেষে যুগ্মং তথা শূণ‍্যং দেবমাত্রা চ সোচ‍্যতে"।।*
*🌺🌹অর্থ‍্যাৎ তালের রূপটি হয়  ১  0  ২    0  ৩   0   ৪   ৫   ৬   ৭   0।*
           *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ১৭. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৭)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
*****************************
*🍀অর্ধজ‍্যোতিকা সাত মাত্রা, সূত্র*
*"চন্দ্রশূণ‍্যং ত্রিতালঞ্চ বিরামেন ক্রমেনতু।*
*অত‍্যূর্ধঞ্চ ভবেত‍্যেকং অর্ধজ‍্যোতিরিতি স্থিতিঃ"।।*
*◆অর্থ‍্যাৎ তালের রূপটি হয়  ১   0   ২   0   ৩   0   0 ।*
*💧স্বর্গসার =তালটির নয়মাত্রা, সূত্র=*
*"একৈক তালান্তর যুগ্মতালাৎ শূণ‍্যত্রয়ং তৎপরমেকতালম্।*
*কলাভিদা শূণ‍্যভিদা সমাখ‍্যা তু স্বর্গসারাখ‍্য নবীন তালঃ"।।*
*🍀তালের রূপটি হয় = ১   0   ২   ৩   0   0   0   ৪   0 ।*
*🌷ক্ষমাষ্ট= ষোলমাত্রা, সূত্র।*
*"শেষশূণ‍্যং বিরামেন দেবতালমিতি ক্রমাৎ।*
*ক্ষমাষ্টাখ‍্যান্তরে শূণ‍্যমিতি সর্বত্র ভাষিতম্"।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ "দেবমাত্রা" তালের অন্তে একটি ফাঁক সংযুক্ত হবে।তবে তালের রূপটি হয়।*
*১   0   ২   0   ৩   0   ৪   0   ৫   0   ৬   0   ৭   ৮   0   0 ।*
*🌹ধরাধর তালটি নয়মাত্রা।সূত্র--*
*"নবাম্বুদে দামিনী শীঘ্রবানং তথা সুসম্বন্ধ সুতাল ভাসম্।*
*যুগ্মং সত্রস্তং ক্রমতঞ্চতালং শেষে ত্রিতালঞ্চ ধরাধরাখ‍্যা"।।*
*🌷রূপটি হইল= ১   ২   0   ৩   0   ৪   ৫   ৬   0 ।*
*🍀বসন্তবাক্= তালটি বারমাত্রা,সূত্র*
*"একতালঞ্চ শূণ‍্যশ্চ ক্রমেনাপি চতুষ্টয়ম্।*
*ক্রমাৎ তালত্রয়শ্চৈব বসন্তবাক সমুদাহৃত"।।*
*🌻রূপটি হ'ল=১   0   ২   0   ৩   0   ৪   ৫   ৬   0 ।*
*🍁কাককলা তালটি এগারমাত্রা।*
*"সবিরাম দ্বয়ং তালং যুগ্ম তালং তথা পরে।*
*শেষৈকত্র ত্রিতালশ্চ ভবেৎ কাক্কলেতিসা "।।*
*🌷তালের রূপটি হল= ১   0   ২    0   ৩   ৪   0   ৫   ৬   ৭   0 ।*
*🌹কীর শব্দ দশমাত্রার তাল।*
*"ত্রিতালশ্চ ভবেৎ ত্রস্তং তৎপরংত্বেক তালকম্।*
*শেষেহ পি চ ত্রিতালঞ্চ কীরশব্দা প্রচক্ষতে"।।*
*☘অর্থ‍্যাৎ তালটির রূপ হল।*
*১   ২   ৩   0   ৪   0   ৫   ৬   ৭   0।*
*🌻তান্ডবী =এগারমাত্রার তাল।*
*"যুগ্মং যুগ্মং তথা যুগ্মং তালত্তেকং ভবেৎক্রমাৎ।*
*শেষশূণ‍্যং কলা ভেদে তান্ডবীতি ভবেৎপৃথক্"।।*
*🌷অর্থ‍্যাৎ তালের রূপটি হল=*
*১   ২   0   ৩   ৪   0   ৫   ৬   0   ৭   0।*
*🌺হর্ষধারা দশমাত্রার তাল, সূত্র=*
*"সবিরাম দ্বয়ং তালং যুগ্মং শূণ‍্যশ্চতৎপরম্।*
*শেষোর্ধঞ্চ ত্রিতালশ্চ হর্ষধারা প্রকীর্তিতা"।।*
*🌼তালটির রূপ হল= ১   0   ২   0   0   0   ৩   ৪   ৫   0।*
*🌹ভাষা এই তালটি সাতমাত্রা সূত্র*
*"চন্দ্রশূণ‍্যং বিরামেন দ্বয়ং তালং ভবেদ্ ক্রমাৎ।*
*অত‍্যূর্ধঞ্চ ভবেৎ ত্রস্তং ভাষাখ‍্যাং তালমুত্তমম্"।।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ তালের রূপটি হ'ল।*
*১   0   0   ৩   0   ৪   0।*
*🌻অর্ধমাত্রা তালটি আটমাত্রা,সূত্র*
*"অত‍্যূর্ধঞ্চ ত্রিতালশ্চ দ্বয়ং তালং বিরামকম্।*
*ইত‍্যর্ধমাত্র বিজ্ঞেয়া সঙ্গীত ভূবিসর্বতঃ "।।*
*🍀রূপটি হইল,১   ২   ৩   0   ৪   0   ৫   0।*
*🌻এই তালগুলির বিশ্লেষণ সহ উল্লেখ পাওয়া যায় দামোদর সেন কৃত সঙ্গীত দামোদরে।অবশ‍্য অবিকল ঐ শ্লোকগুলি সঙ্গীত দামোদরের উল্লেখ সহ শব্দকল্পদ্রুম অভিধানে তাল শব্দ বিষয়ে উক্ত আছে। এই সব তালগুলির অন‍্য কোন সঙ্গীত পদ্ধতিতে প্রচলন নাই। তাছাড়া এ গুচ্ছ তালের অংশগুলি কীর্তনেই প্রচলিত, সুতরাং অন‍্যান‍্য তালগুলিও কীর্তনাঙ্গীয়ই ছিল বলে আমার সিদ্ধান্ত।*
*🌹পূর্বালোচিত তালগুলি সবই গানের সঙ্গে ব‍্যবহার করা হয়  কিন্তু কীর্তনাঙ্গীয় পদ্ধতিতে গান ছাড়াও তালাশ্রয়ে বাদ‍্য বাজাবার রীতি দেখা যায়। যেমন গান শুরু হবার আগেই আটমাত্রার ছন্দে খোল বাজানো শুরু হয় যাকে বলে "জুয়ানী বা হাতুটি"। প্রথমে আট মাত্রার বাজনা দিয়ে শুরু হয় -- "ঘি  তেটে  ঘেনা  ঝা  ঘি  তেটে  ঘেনা  ঝা"।পরে ক্রমশঃ দ্রুত হয়ে স্রোতগতা যতির ন‍্যায় বিন‍্যাস করা হয়  এবং "জাগুরর জাগুরর জাগুর", বাজনার পর তেহাই দেওয়া হয়।তারপর এই বাজনাটির আশ্রয়ে নানাবিধ হাতুটি ঘাত বাজানো হয়। নির্দিষ্ট বাজনাটি হ'ল-----*
*ঝা উরর দাদ্ ধেনা দাগুররদা গুররধেনা দাগুররদা গুররধেনা দাগুররাদা গুররধেনা (ঝা) ইত‍্যাদি।*
*এ সব বাজনার সঙ্গে করতালের তিনটি আঘাত ছন্দে ছন্দে ব‍্যবহার করা হয়। অতঃপর শুরু হয় আপত্তন।এ'র বাজনাটি শুরু হয় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কুড়ি মাত্রার বিলম্বিত লয়ে।বাজনা প্রায় নির্দিষ্টই থাকে।প্রথমতঃ "তা তা তা" এই তিনটি খোলের ডাহিনার আঘাত দ্বারা ছন্দ রাখা হয় পরে "জাঘি নাঘি নাগ জাজা ঝেইয়া জাঝেই তা"--- ইত‍্যাদি বোলের মাধ‍্যমে নানাবিধ ছন্দ সৃষ্টি করে মাতন তোলা হয়। তাছাড়া গৌরচন্দ্রিকা শেষ হলে কৃষ্ণলীলা বিষয় শুরু করবার আগে সকলে সমস্বরে "রেথে রীনা" শব্দাদির দ্বারা সাতমাত্রার ছোট দশকোশীর ছন্দে সুর মিল করে থাকে। এক্রেত্রেও নির্দিষ্ট বোল দিয়ে বাদ‍্য শুরু করা হয়।*
            *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ১৮. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৮)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
======================
*🌼কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতিতে করতাল ব‍্যবহারের নিয়মটিও নির্দিষ্ট।সব সময়ে করতাল বাজাতে দেখা যায় না  কেবল মাতন অংশে করতাল বাজে খোলা এবং জোড় শব্দে। বিলম্বিত ও মধ‍্যগতির প্রতি দুই মাত্রায় তিনটি আঘাত দেওয়া হয় ১ ২ ৩---।এ সময়ে আর কোশী,কাল ইত‍্যাদি ক্রিয়াগুলি দেখানো হয় না। ত্রিমাত্রিক তাল যেমন লোফাতে প্রতি দুই মাত্রায় দু'টি আঘাত করা হয় যেমন ১  ২-----। আবার দুঠুকি তালে দেওয়া হয় ১  ২---১  ২  ৩----, একতালি ঠিক উল্টো যেমন ১ ২ ৩--- ১  ২----। তাছাড়া অন‍্যান‍্য তালে প্রতি মাত্রায় করতালের আঘাত দিয়ে মাতন অবস্থাকে জমিয়ে তোলে। তাছাড়া "পাকছটা" ইত‍্যাদি ছোট দশকোশীর ছন্দ সমন্বিত তালে বাজানো হয়  ১   ২   ৩---- ১   ২   ৩---১  ২  ৩   ৪ ; -----। করতাল কেউ কেউ ধারে বাজায় কিন্তু তা কীর্তনের বিধি না। করতাল যন্ত্রটি কাঁসা নির্মিত প্রাচীন ঘন জাতীয় বাদ‍্য যন্ত্র।এটিকে ব‍্যবসার করা হয় তালের ছন্দ রক্ষার জন্য, অর্থ‍্যাৎ গায়ক এবং বাদকের মধ্যে সঙ্গতি রক্ষার জন্য।*
*কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতির সংশ্লিষ্ট কতিপয় (কিছু) পরিভাষা এ পদ্ধতির অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য।এ পরিভাষাগুলি অন‍্য কোন সঙ্গীত পদ্ধতিতে ব‍্যবহার নাই।কোন কোন উপাদান ব‍্যবহারিক ভাবে অন‍্য সঙ্গীত পদ্ধতিতে প্রচলিত থাকলেও সেগুলি ভিন্ন নামে প্রচলিত। হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে যাকে বলা হয় ঠেকা তা হল তালটি শুরু হলেই প্রতিটি মাত্রা বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে সমগতিতে প্রতি আবর্তে সমের ঝোঁক সম্পন্ন এক আবর্তে প্রকাশিত বোল। অনুরূপ তালের প্রারম্ভিক বাদ‍্যটিকে কীর্তনীয় পদ্ধতিতে বলা হয় "লওয়া বা লয়া"।পরিভাষাটি সম্পূর্ণ বাংলা এবং প্রয়োগ বিচারে এর অর্থ করা যায়  "শুরু করা" অর্থ‍্যাৎ তাল ক্রিয়া শুরু হলে বাদ‍্য আরম্ভ হ'ল--- গায়ক এবার গানের সেবার নিমিত্ত বাদ‍্য গ্রহণ করো বা লও  তাই হল "লওয়া"।*
         *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ১৯. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৯)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻হিন্দুস্থানী তাল পদ্ধতিতে ঠেকাগুলি সাধারণতঃ এক আবর্তে থাকে কিন্তু কীর্তনাঙ্গীয় পদ্ধতির বেশীর ভাগ "লয়াই" গুরু এবং লঘু প্রকারে দুই আবর্তে তৈরী।হিন্দুস্থানী ঠেকায় প্রতিমাত্রায় সাধারণত একটি বা দুটি বাণী থাকে  কিন্তু কীর্তনাঙ্গীয় লয়াই চারগুণ বাণীও ব‍্যবহৃত হয় এবং প্রতিমাত্রায়ই একটি নির্দিষ্ট ছন্দ প্রকাশ করে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ ছোট দশকোশীর লওয়া প্রথমমাত্রা=* *"ঝা- -ঝি", দ্বিতীয় মাত্রা= "নাগঝিনি", তৃতীয় ও চতুর্থ মাত্রায় বোল অনুরূপ, পঞ্চমমাত্রা="ঝা----গুরগুর" এবং ষষ্ঠ মাত্রা="জাঘিনাক", সপ্তমমাত্রা "তেটে তেটে ইত‍্যাদি গুরু অংশ বিশ্লেষিত হ'ল লঘু অংশও অনুরূপ। বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্টই দেখা যায় যে 'লওয়া বা লয়া' নয় যেন একটি "পেশকার"। প্রতি মাত্রায় এক চতুর্থাংশে বাদ‍্য প্রয়োগ করে ছন্দ প্রকাশে অভিনবত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে।অনুরূপ অনেক তালের লওয়াতেই এ'ধরণের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তাছাড়া "লওয়াতে" ' গুড় গুড় ' বাণী প্রয়োগ দ্বারা লয়ের সমতা ক্ষেত্রে কিঞ্চিৎ শিথিলতা লক্ষ্য করা যায়।বড় ঘর অর্থ‍্যাৎ বিলম্বিত তালগুলির জোড়া অংশে 'গুড়-গুড়ের' স্থায়িত্বকাল অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সুর সম্পর্কিত। অবশ‍্য গাণিতিক চিন্তায় এই প্রয়োগ অনেকের নিকট নিন্দনীয়। কিন্তু রীতি প্রাচীন এবং নান্দনিক যুক্তি সম্পন্ন অর্থ‍্যাৎ রবীন্দ্রনাথের সুমীতি তত্ত্বের প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় বলে শৈল্পিক চিন্তায় গ্রহণযোগ্য বলেই আমার মনে হয়। শিল্প যেহেতু প্রযুক্তি-বিদ‍্যা থেকে পৃথক এক আনন্দ বিদ‍্যা এবং আনন্দই যার আশ্রয় ও বিষয় সে হেতু ঘড়ি স্বীকৃত সময়ের মাপের চুলচেরা বিচার দিয়ে "লওয়ার"লয় নির্ধারণ ঠিক নয়। সামাজিক আনন্দ সৃষ্টির কারণ গায়ক বাদকের পারস্পরিকতা রক্ষা হেতুই লয়ের প্রয়োগ। কেবলমাত্র সময়ের একক বৈশিষ্ট্য রক্ষাকল্পে লয়ের সমতা স্থাপন দ্বারা সঙ্গীতের নান্দনিক উৎকর্ষ স্থাপন হতে পারে না।যদি তাই হ'ত, সবার "লয়" সমান হত, সব তালের লয় সমান হত, সব সময়ের লয়ও সমান হত। কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতিতে "লওয়া" প্রয়োগের মধ্যে বিশেষ নান্দনিক ব‍্যুৎপত্তি আছে কারণ নির্ধারিত লওয়ার বোলটি হল দিকদর্শন মাত্র।গানের সুর রস এবং প্রকার অনুযায়ী আঘাতের পরিবর্তন করে বাদকেরা নান্দনিক বুদ্ধি প্রতিপন্ন করে থাকেন।এজন‍্য রাঢ়-দেশে প্রবাদ আছে "দক্ষিণখন্ডের"গায়ক, এবং উত্তরখন্ডের বাদক-- অর্থ‍্যাৎ মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের গায়কদের প্রসিদ্ধি এবং উত্তরখন্ড অর্থ‍্যাৎ বীরভূম অঞ্চলের বাদকদের প্রসিদ্ধি।হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে ঠেকার মধ্যে মাঝে মাঝে ছোট "টুকড়া" ব‍্যবহার করা হয় কিন্তু মধ‍্যগতি বিলম্বিত গতির তালের লওয়াতে কীর্তনে এমন কোন প্রয়োগ দেখা যায় না।কীর্তনের গানগুলির প্রথম চরণের মূল অংশ অনেক সময় বেশ কয়েকটি আবর্তে বাঁধা থাকে  তখন লওয়াকেও আনুপাতিকভাবে ব‍্যবহার করা হয়।বড় তালের "লওয়া" অনেক ক্ষেত্রেই চাপড়ে অর্থ‍্যাৎ বড়হাতে বাজান হয়, মধ‍্যগতির টিপের প্রয়োগ আছে।মধ‍্যমা অঙ্গুলিটি ডাহিনার গাবের উপরে চেপে রেখে তর্জনী মধ‍্যমার পিঠের উপর থেকে চেপে গাবের উপর ফেলে শব্দ করাকে বলা হয় "টিপ"বাদ‍্য। গানেরমূল অংশকে রূপায়িত করবার জন্য যে বাদ‍্য প্রাথমিক স্তরে ব‍্যবহার করা হয় তাকেই বলা হয় "লওয়া"।এরই মধ্যে থাকে বিভিন্ন ছন্দ-- দম,ক্ষম,দুন,দেড়ি,চৌদুন ইত‍্যাদি।*
*🍀তাল প্রয়োগের দ্বিতীয় পর্য‍্যায়ে ব‍্যবহৃত হয় "লহর"।শব্দটি ঢেউ ক্ষেত্রে বা অঙ্গভূষণ মালা ক্ষেত্রে প্রযোজ‍্য। মালার একটির পর একটি স্তরকে বলা হয় লহর।প্রকৃত পক্ষে "লহর" পর্য‍্যায়ের বাদ‍্যগুলি একের পর এক মালার স্তরের মত প্রয়োগ করা হয় বলেই মনে হয় নামকরণটি যথার্থ হয়েছে।সঙ্গত ক্ষেত্রে গানের লক্ষণ বিচার করে লহর প্রয়োগ করা হয়।মূল গানের এক একটি অংশের পর তার অন্তর্নিহিত ভাব বা অর্থের পরিপুষ্টি সাধনকল্পে প্রাচীন গায়কগণ অপেক্ষাকৃত সহজ ভাষায় সুর এবং তালের আশ্রয়ে সঙ্গীত আকারে যে পদ সংযোজন করে থাকেন তাকে বলা হয় ""আখর""।আখর ও স্তরে স্তরে এক,দুই,তিন বা অনেক কয়টি ব‍্যবহার করা হয়। আখর সংযোজনের স্তরগুলিকেই আবার "কাটান"বলা হয়। কাটানের স্তর বিন‍্যাসের সঙ্গে সঙ্গে বাদেএর বিভিন্ন 'লহর' স্তরে স্তরে ব‍্যবহার করা হয়।ঐ পর্য‍্যায়েই গীতাংশে চূড়ান্ত ছন্দবিন‍্যাস হয়ে থাকে।"লহর" চাপড়েও হতে পারে যেমন "জাঝি নাঝি নাগঝিনি,দাদধেনা দাদধেনা তা ইত‍্যাদি। আবার "টুকি" অর্থ‍্যাৎ দুই আঙ্গুলের বাজনাও হতে পারে।তবে নানাবিধ ছন্দ প্রকরণই এ বাজনার উদ্দেশ্য।লহরের পরিণত অবস্থায় বাজানো হয় "মাতন"।*
          *ক্রমাগত।*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ২০. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২০)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
<><><><><><><><><><><><>
*🌻শব্দার্থ থেকে অনুমান করা যায় যে সঙ্গতের শেষ পর্য‍্যায়ে যখন সার্বিক মত্ত অবস্থার সৃষ্টি হয় তখনই সজোর আঘাত সম্পন্ন দেড়ি ছন্দে বা চৌদুন ছন্দে যে বাদ‍্য যে বাদ‍্য প্রয়োগ করা হয় তারই নাম "মাতন"। যেমন "জাঝাঘে নাঘেনা জাঘেনা ঘেনাও"। "মাতন" বা "লহরের" সঙ্গে একপ্রকার বায়া প্রধান বিভিন্ন ছন্দ প্রযুক্ত সজোর বাদ‍্য প্রয়োগ করা হয় যাকে বলা হয় "ঘাত"।এই শব্দটিও বাংলা ভাষার "আঘাত" শব্দের অপভ্রংশ বলেই মনে হয়।ঘাতের বিভিন্ন অংশগুলিকে বলা হয় "হাত"।টুকির 'হাত' বাদ‍্যগুলিকে আবার বলা হয় "লপ্টন হাত"।এ সব বাদ‍্য বিশ্লেষণের দ্বারা আস্বাদনের চরম অবস্থা সৃষ্টির পর যে বাদ‍্য দ্বারা পর্য‍্যায়ের সমাপ্তি বুঝানো হয় তাকে বলা হয় "মূর্ছনা"।শব্দটি বাংলা ভাষার "মূর্ছা বা মূর্ছন" শব্দ থেকে সৃষ্টি, কারণ রসাস্বাদনের অন্তে মূর্ছিত অবস্থা অনুমান করাই স্বাভাবিক।ঐ মূর্ছনা বাদ‍্যের প্রস্তুতি ক্ষেত্রে যে বাদ‍্যাংশটি ব‍্যবহৃত হয় তাকে কেউ কেউ  "মান" বলে থাকেন। এ সব পরিভাষাগুলিই কীর্তনের সহযোগী আনদ্ধ যন্ত্র খোলের বাদন প্রসঙ্গে প্রযোজ‍্য। অবশ‍্য তুলনা মূলক ভাবে বলা হয় যে হাত,লপ্টন হাত, ঘাত ইত‍্যাদি বাদ‍্য পর্য‍্যায়গুলি যথাক্রমে তবলার ব‍্যবহৃত "টুকরা" কায়েদা, গত ইত‍্যাদির অনুরূপ।সঙ্গতক্ষেত্রে উপরোক্ত পয‍্যায়ক্রম যে কোন প্রাচীন বাদকই মেনে চলতেন।*
*🍀কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতিতে যে সব প্রাচীন নিদর্শন আছে তার মধ্যে "বদসি অষ্টতাল" উল্লেখযোগ্য।তালটির প্রকৃত নাম "অষ্টতাল" এবং গানটির পদ কবি জয়দেব গোস্বামী বিরচিত,(বদসি যদি কিঞ্চিদপি দন্তরুচি কৌমুদি,হরতিদরতিমিরমতি ঘোরম্)।ঐ কথা কয়টি পূর্বালোচিত অষ্টতালের এক আবর্তে তাললিপিতে গাওয়া বিধেয়।*
     +       0    ২   ৩   0    +     0
এ    ব  দসি  য  দি   ই   কি   ইন্
   ২     0       ৩      0
 চি    ইই    দপি    ই
     +       ২    0    ৩   0    ৪     0
    দ    অন্   ত   রু   উ   চি    ই
    +       0    ২    0     ৩    ৪    0
  ক    অউ   মু   উ    দি    ই   ও
    0       0      ৬      0
 কৌ     মু      উ     দি
  +       0       ২     0     ৩     0     ৪
হ       অ      র    অ    তি     ই    দ
   0      +      ২     0     ৩    0    ৪
 অ     র     তি    ই     মি   র    ম
     ৫         0      +       ২      0     +
   তি     মতি     ঘো    ও     ও     র
    ২          0     +       0      ২     0
অম্     ওঘো   র      অ     অ     অ
    ৩         ৪        0
  অ      অম্     (এ)।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
             ꧁ ২১. কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি ꧂
              ꧁ তালতত্ত্বের ক্রমবিকাশ গ্রন্থ ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২১)কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি*
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
*🍀কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতির প্রতিটি উপাদানই প্রাচীনতার ছাপ বহন করে।করতাল প্রয়োগ,ক্রিয়া প্রয়োগ, কাঁধে ঝোলানো আনদ্ধ বাদ‍্য ব‍্যবহার ইত‍্যাদি প্রাচীন সংস্কার সঞ্জাত।কলাভেদ বা মার্গ প্রয়োগ বিধি লক্ষণীয় তালগুলির ছোট, মধ‍্য ও বড় শ্রেণী বিভাজন ক্ষেত্রে।ডমরু যতির প্রয়োগ আছে বড় দশকোশীর ঝুমড়ায়। তাছাড়া সঙ্গত ক্ষেত্রেও লহর বাদন ক্ষেত্রে অনেকে লয়কে ক্রমশঃ দ্রুততর করে স্রোতগতা যতির  নিদর্শন দেখিয়ে থাকেন।তাছাড়া অষ্টতালের মত গুচ্ছ তালের প্রয়োগ। অষ্টতাল ছাড়াও দুই একটি গুচ্ছ তালের সন্ধান পাওয়া যায়  যেমন ("আরেধনী প্রবেশিলরে কুঞ্জ কুটিরে, রাধাশ‍্যাম দুইজনে বৈঠল একাসনে,হেরি সখি আনন্দে বিভোর)"। এই কথা কয়টি এক আবর্তে করে চারটি বিভিন্ন তালে গাওয়া হয়। এই তাল কয়টি হল "শশীশেখর,রূপক,গঞ্জন ও সোমতাল"।তাললিপিটি এইরকম=*
                  +      0    0   0      ২
আরেধনী  প্রবে ----   এ -----   শি
    0       0       0      ৩       0       ৪
  ল      রে      এ   ------   কুন্     জ
     0        0     0       ৫      0       0
  --------  অ   -----     কু      উ     টি
     0       ৬        0           0         0,
   ই      রে     ------       ------      ------
     +       ২      0      +        ২     0
রাধা    শ‍্যা     ম     দুই      জ    নে
    +       ২      0        +     ২       0,
 বৈ       ঠ     ল      একা   স     নে
      +          0      ২     0
  হেএ     এরি     স    খি
    ৩         0       ৪           0,
  আ     নন্     দে     আনন্দেবি
     +          0        ২         0       ৩
ভোও     ওও     ওও     ওও    ওর
       ৪            0
     রে     আরেধনী।
*🍀কীর্তনাঙ্গীয় তাললিপি পদ্ধতিরও একটি সন্ধান পাওয়া যায়। এ পদ্ধতিতে তাল চিহ্নগুলি দন্ডমাত্রিক পদ্ধতির ন‍্যায় অক্ষরের উপরে একটি ছোট  '।' চিহ্ন দেওয়া হয়। মধ‍্যগতির তালের কুশীগুলিকে দেখানো হয় '0' চিহ্ন দিয়ে অবশ‍্য ফাঁকগুলিতেও* *একই চিহ্ন ব‍্যবহার করা হয়। বিলম্বিত গতির তালে কালের প্রয়োগ আছে। এই কালচিহ্ন দেখানো হয় '•' চিহ্ন অর্থ‍্যাৎ একটি সুস্পষ্ট বিন্দু দিয়ে। অর্ধ মাত্রা বা* *সিকি মাত্রার প্রয়োগ নাই বলেই বোধ হয় কোন চিহ্ন নাই। মধ‍্য ও বড় গতির তালের ছুট* *চিহ্নগুলি যথাক্রমে ।  0  0  0 এবং ।০  0 ০ 0 ০ 0 ০, তাছাড়া* *জোড়গুলি দেখানো হয়  পূর্বের ও পরের তাল সমন্বিত মাত্রা দুটির উপর যথারীতি দন্ড চিহ্ন দিয়ে দুটি দন্ডের মস্তক বাঁকা রেখা দিয়ে যুক্ত করে।* *মধ‍্যগতির জোড়ার রূপ*।~~~~~~~~।
                              °
*এবং বড় গতির জোড়ার চিহ্ন*  ~~~~~~~~~
|  °       0        °|,  *সমচিহ্ন হিন্দুস্থানী পদ্ধতির মতই ' + ' চিহ্ন দিয়ে বুঝান হয়। দুঠুকি তালের মাত্রা দুই অংশে চৌদ্দমাত্রা, কিন্তু তাললিপি দেখানো হয়।  | .  0   0 .  এই ভাবে। অর্থ‍্যাৎ তালটির ছন্দ জানা চাই, কেবল মাত্র কথাগুলির বিভাগ এইরূপে দেখানো হয়। অনুরূপ একতালির তালচিহ্ন ।   0  ।   0   এক্ষেত্রে দন্ডটি চার মাত্রা সমন্বিত এবং ' 0 ' টি তিন মাত্রা সমন্বিত। লোফা জাতীয় ত্রিমাত্রিক তালেও একতাল একফাঁক  অর্থ‍্যাৎ ।  0  ।   0  এমন চিহ্ন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অবশ‍্য দন্ড এবং শূন‍্য উভয়ই তিন মাত্রার প্রতীক। ইদানিং অবশ‍্য কেউ কেউ স্বরলিপি প্রচলন করবার জন্য হিন্দুস্থানী পদ্ধতির দন্ডমাত্রিক বা ভাতখন্ড নিয়ম অবলম্বন করেছেন। তাললিপি করার সময় শব্দাক্ষর ক্ষেত্রে অক্ষর প্রয়োগ, স্বরের স্থিতিকালক্ষেত্রে মাত্রানুযায়ী "----" চিহ্ন এবং স্বর ধরে রাখার ক্ষেত্রে অ,ই,উ,এ ইত‍্যাদি স্বরবর্ণ প্রয়োগ করে দেখানো হয়।শ্রীরসিক দাসের করা তাললিপি পরীক্ষা করে এইসব চিহ্ন পাওয়া গেছে।তাই রসিক দাসের পিতা অনুরাগী দাস বা তাঁর সমসাময়িক রাধিকা সরকার, এমন কি তাঁর গুরু দামোদর কুন্ডুর সময়েও এই তাললিপি প্রচলিত ছিল  অর্থ‍্যাৎ অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগেও এই লিপি পদ্ধতির চলন ছিল।গদাধর পন্ডিতের শ্রীপাট ভরতপুরে রক্ষিত একটি প্রাচীন পান্ডুলিপিতে কেবল তালচিহ্নগুলি এবং জোড়ার চিহ্নগুলি পাওয়া যায়।শোনা যায় নিকুঞ্জ বিহারী মিত্র ঠাকুর  ও অনুরূপ তাললিপি ব‍্যবসার করতেন।তাল লিপিটির চলতি নাম ছিল "অঙ্কপাত"। গানকে অনুকরণ করে মনে রাখার জন‍্যই অনুরূপ লিপি ব‍্যবস্থা অষ্টাদশ শতকের প্রথমভাগে প্রচলিত হয়েছিল  কারণ ইতিপূর্বে গায়কদের পান্ডুলিপিতে তালচিহ্ন দেখা যায় না।এই তাল পদ্ধতি মূলতঃ প্রাচীন তাল পদ্ধতির ভিত্তির উপর গড়ে উঠেছে এই বিষয়ে সন্দেহ নাই তবে এর প্রচলনের ঐতিহাসিক উল্লেখ শ্রীজয়দেব গোস্বামীর পরবর্তী কাল অর্থ‍্যাৎ এয়োদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকেই পাওয়া যায়।গীতগোবিন্দ উল্লিখিত রূপক তাল,নিঃসার তাল, শঙ্করাভরণ তাল,একতালি,যতিতাল, অষ্টতাল ইত‍্যাদি তালগুলির বেশীর ভাগই প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।পরবর্তী উল্লেখযোগ্য গায়ক বিদ‍্যাপতি এবং চন্ডীদাস সঙ্গীতক্ষেত্রে পূর্বরীতি লঙ্ঘন করেছেন বলে মনে করা হয় না কারণ কবি হিসাবে তাঁরা ছিলেন জয়দেবের অনুগামী তাই সাঙ্গীতিক প্রকরণে তাঁকে উপেক্ষা তাঁরা করেন নাই।পঞ্চদশ শতাব্দীর তালগুলিও বিলম্বিত প্রকৃতির ছিল বলে মনে হয়, কারণ শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু গম্ভীরা লীলায় যখন "দীনদয়াদ্রনাথ" গান আস্বাদন করতেন তখন তিনি নিজেই  "ঐ দীন ঐ দীন কহে বার বার। একই শব্দ বারবার বলা হয়  কেবল তালটি বিলম্বিত হলেই। তাই রসাস্বাদনের জন্য বিলম্বিত তালই প্রযোজ‍্য ছিল। তফে দ্রুত লয়ও প্রচলিত ছিল কারণ কোন কোন কীর্তনের নৃত্যও ছিল।খুব বিলম্বিত লয়ে নৃত্য সম্ভব নয়।*
  *🙏কীর্তনাঙ্গীয় তাল পদ্ধতি এখানেই রইল, গ্রন্থে যেমন পেয়েছি তুলে ধরলাম।*
    ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                                  🙏 ক্রমশ 🙏
    ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds