শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🌼 তৃতীয় ভাগ 🥀 শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🌼 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী ❇️ শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🌼 শ্রীগম্ভীরা 🌼 শ্রীধাম পুরী ❇️ রচয়িতা 🥀 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/bokreshwar3.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - প্রথম ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - দ্বিতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫১.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীঅদ্বৈত আচাৰ্য্যের ভক্ত-গোষ্ঠীর মধ্যে কে প্রধান ছিলেন ❓ 
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 প্রথম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের কিছুকাল পূর্ব্বে নবদ্বীপবাসী জনসাধারণের অতি ভক্তিশূন্য অবস্থা ছিল। সে সময় অতি অল্পসংখ্যক লোকই বৈষ্ণবধর্ম্মাবলম্বী ছিলেন। তাঁহারাই পরে- শ্রীগৌরাঙ্গের প্রথম প্রধান পারিষদগণ মধ্যে পরিগণিত হইয়াছিলেন। তাঁহাদের মধ্যে, সর্ব্বপ্রধান, প্রবীণ, জ্ঞানী ও বয়োজ্যেষ্ঠ, ছিলেন- শ্রীঅদ্বৈত আচাৰ্য্য । ঐ আচার্য্যের ভক্ত-গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রীবাসপণ্ডিত একজন প্রধান ছিলেন। ইহারা চারি ভাই ; শ্রীগৌরাঙ্গ দেবের জন্মগ্রহণের পূর্ব্ব হইতেই ভক্তি-পথাবলম্বী ছিলেন এবং প্রতি রজনীতে আপন বাটীতে উচ্চৈস্বরে হরিনাম সঙ্কীর্ত্তন‌ করিতেন। সে সময় নবদ্বীপ যবন নরপতি কর্ত্তৃক শাসিত ছিল। ভক্তিশূন্য নদে-বাসী অপর সকল জনগণ ঐ শ্রীবাস পণ্ডিত এবং তাঁহার ভ্রাতৃগণের প্রতি অত্যন্ত‌ বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট ছিল। এক তো ভক্তিশূন্যতাহেতুক, ঐরূপ উচ্চ হরিনামকীর্ত্তন তাহাদের ভাল লাগিত না,— অতিশয় প্রতি কঠোর বোধ হইত; দ্বিতীয়তঃ তাহারা মনে করিতে যে, দুর্দান্ত যবন শাসনকর্তা ঐরূপ ব্যাপারে সমস্ত নগরবাসিগণের উপরই বিরক্ত হইয়া কোন কঠিন আজ্ঞা‌ প্রচার করিতে পারেন, এই জন্য তাহারা শ্রীবাসের অনিষ্ট সাধন করিতে কতসঙ্কল্প হইয়া- ছিল, এবং তাঁহাকে পরিজনসহিত নগর হইতে বহিষ্কৃত করিয়া দেওয়াই উচিত বিচেনা করিয়া তদ্বিষয়ে যুক্তি পরামর্শ করিত।
যথা—
চারি ভাই শ্রীবাস মিলিয়া নিজ ঘরে।
নিশা হৈলে হরিনাম গায় উচ্চৈঃস্বরে ॥
শুনিয়া পাষণ্ডী বলে হইল প্রমাদ।
এ ব্রাহ্মণ করিবেক গ্রামের উৎসাদ |
মহাতীব্র’ নরপতি যবন ইহার ।
এ আখ্যান শুনিলে প্রমাদ নদীয়ার ॥
কেহ বলে এ ব্রাহ্মণে এই গ্রাম হ’তে।
ঘর ভাঙ্গি ঘুচাইয়া ফেলাইমু স্রোতে ॥
এ ব্রাহ্মণে ঘুচাইলে গ্রামের মঙ্গল।
অন্যথা যবনে গ্রামে করিবেক বল ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫২.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দ্বিতীয় 🙏
পাষণ্ডি-দলের বক্তব্য--"লোকে নির্জনে আপন ঘরে বসিয়াই হরিনাম করে, ইহাদের মত হরিনাম করা তো কখনও শুনি নাই এবং কোথাও দেখি নাই। উৎকট চীৎকার-শব্দ করিয়া এ কিপ্রকার হরিনাম !! আবার মধ্যে মধ্যে কান্না-কাটি !! ইহাদের তো সকলই বাড়াবাড়ি। ইহাদের জালায় রাত্রিতে নিদ্রা যাইতে পারি না।”
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঐ যে পাষণ্ডি-দলের উল্লেখ করা হইল, তন্মধ্যে কেবলই যে অজ্ঞ, দুর্দান্ত, বিদ্যাশূন্য লোকই ছিল এমন নহে; অনেক জ্ঞানগৰ্ব্বিত, বড় পণ্ডিত বলিয়া গণনীয় ব্যক্তিরও অভাব ছিল না। ঐ পণ্ডিতমণ্ডলীর উচ্চ হরিনামসঙ্কীর্ত্তন তাঁহাদের কিছুমাত্র ভাল লাগিত না, তাঁহারা বলিতেন “এ বেটাদের কি রকম ভজনপদ্ধতি : হরিনাম করিতে হয় তো লোকে নির্জনে আপন ঘরে বসিয়াই হরিনাম করে, ইহাদের মত হরিনাম করা তো কখনও শুনি নাই এবং কোথাও দেখি নাই। উৎকট চীৎকার-শব্দ করিয়া এ কিপ্রকার হরিনাম !! আবার মধ্যে মধ্যে কান্না-কাটি !! ইহাদের তো সকলই বাড়াবাড়ি। ইহাদের জালায় রাত্রিতে নিদ্রা যাইতে পারি না।” ঐ নবদ্বীপে দেবানন্দ পণ্ডিত নামে একজন বিখ্যাত ভাগবতের পণ্ডিত বাস করিতেন। তিনি প্রসিদ্ধ সার্বভৌমের পিতা মহেশ্বর বিশারদের প্রতিবেশী ছিলেন। তিনি ঐরূপ ভক্তিশূণ্য পণ্ডিতগণের মধ্যে ঐ সময়ে জ্ঞানবান, নিষ্ঠাবান্ ও চিরকুমার এবং একজন ভাগবতশাস্ত্রাধ্যাপক বড় পণ্ডিত বলিয়া খ্যাত্যাপন্ন ছিলেন। তাঁহার চতুষ্পাঠীতে অনেক ভাগবত শাস্ত্র অধ্যয়ন করিত। কিন্তু তিনি ভাগবতের‌ ভক্তিপক্ষে ব্যাখ্যা কিছুই করিতে পারিতেন না এবং এত বড় পণ্ডিত হইয়াও ভাগবতের যথার্থ মর্শ * বুঝিতেন না।
যথা—
সেইখানে দেবানন্দ পণ্ডিতের বাস।
পরম সুশান্ত বিপ্র মোক্ষ অভিলাষ ॥
জ্ঞানবন্ত তপস্বী আজন্ম উদাসীন।
ভাগবত পড়ান তথাপি ভক্তিহীন।
ভাগবতে মহা অধ্যাপক লোকে ঘোষে।
মৰ্ম্ম অর্থ না জানেন ভক্তিহীন দোষে ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৩.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 তৃতীয় 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কথা সত্যই বটে, ভক্তিহীন হইয়া বহু শাস্ত্র আলোচনা করিলেও শাস্ত্রের প্রকৃত রসাস্বাদন করিবার সম্ভাবনা নাই; এজন্য ভক্তিহীন পণ্ডিতের সহিত দর্ব্বীর তুলনা অনেক গ্রন্থে দেখিতে পাওয়া যায়। লোকে দব্বী দ্বারা অনেক প্রকার সুরস মিষ্টান্ন প্রস্তুত করিয়া থাকে, দব্বী সেই মিষ্টান্নে মাখাচোকা হইয়া অনেক নাড়াচাড়া করে; কিন্তু, দব্বী সেই মিষ্টারের মধুর স্বাদ আস্বাদন কি করিতে পারে ? দেবানন্দ পণ্ডিতও তেমনি ভক্তিগ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবতের প্রকৃত মৰ্ম্ম আম্বাধনে অনধিকারী ছিলেন।

একদা উক্ত শ্রীবাস পণ্ডিত মহোদয় ভাগবত শ্রবণার্থ ঐ দেবানন্দের চতুষ্পাঠীতে উপস্থিত হইলেন। পরম প্রেমিক ভক্ত প্রবর শ্রীবাস সেখানে ভাগবত শ্রবণ করিয়া প্রেমে একেবারে বিভোর হইয়া উঠিলেন এবং ভাবে গদগদচিত্ত হইয়া একেবারে বাহ্যজ্ঞান-শূন্য হইয়া পড়িলেন। তাহার ঘন ঘন নিশ্বাস পড়িতে লাগিল; তিনি অধিকক্ষণ আর আপনাকে সামলাইতে না পারিয়া উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন "করিয়া উঠিলেন। দেবানন্দের তরলমতি শিষ্যগণ অধ্যাপকের ভক্তিহীন ব্যাথ্যাই শুনিত, সুতরাং তাহারাও ভক্তিহীন ছিল। শ্রীবাসের ঐরূপ দীর্ঘ নিশ্বাসপতন ও
উচ্চ ক্রন্দনের কারণ কি বুঝিবে? তাহারা তাঁহার ক্রন্দন-শব্দে মহা বিরক্ত হইয়া উঠিল ও আপনাদের পাঠের ব্যাঘাত হইতেছে দেখিয়া এবং ঐরূপ ক্রন্দন তাহাদের পাঠের কণ্টক বিবেচনা করিয়া শ্রীবাস পণ্ডিতকে ঐ অচেতন অবস্থার ধরিয়া লইয়া টোলের বহির্ভাগে টানিয়া ফেলিয়া দিয়া আসিয়া তবে নিশ্চিন্ত হইল। দেবানন্দ পণ্ডিতও সেখানে উপস্থিত থাকিয়া ছাত্রবৃন্দের ঐরূপ গর্হিত কার্য করিবার পক্ষে কোনও নিষেধ করিলেন না। বোধ হয় উহার মনে ঐ কাৰ্য্য গর্হিত বলিয়া বিবেচিত হয় নাই । 

যথা—
দৈবে এক দিন তথা গেলা শ্রীনিবাস ।
ভাগবত শুনিতে করিয়া অভিলাষ ।।
*অক্ষরে অক্ষরে ভাগবত প্রেমময়।
শুনিয়া দ্ৰবিল শ্রীনিবাসের হৃদয় ।।
“ভাগবত শুনিয়া কান্দয়ে শ্রীনিবাস।
মহা ভাগবত বিপ্র ছাড়ে ঘন শ্বাস ॥
“পাপিষ্ঠ পড়ুয়া বলে হইল জঞ্জাল।
পড়িতে না পাই ভাই ব্যর্থ যায় কাল ॥
পাপিষ্ঠ পড়ুয়া সব যুকতি করিয়া।
বাহিরে এড়িল লঞা শ্রীবাসে টানিয়া ।।
দেবানন্দ পণ্ডিত না কৈলা নিবারণ।
গুরু যথা ভক্তিশূণ্য তথা শিষ্যগণ।।
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৪.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 চতুর্থ 🙏
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীবাস পণ্ডিত কিছুক্ষণ পরে বাহ্যজ্ঞান প্রাপ্ত হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া গেলেন। এইরূপে তো দেবানন্দ পণ্ডিত নবদ্বীপ- মধ্যে এক জন ‘বড় মাননীয় পণ্ডিত বলিয়া' কান কাটাইতে লাগিলেন এবং তত্রত্য ভক্তিবিহীন জনসাধারণের নিকট পরম মোহান্ত বলিয়াও পূজিত ছিলেন। কিছু দিন পরে কলিযুগের লোকের পরম সৌভাগ্য ফলে শ্রীগৌরাঙ্গদেব জীব-উদ্ধার জন্য নবদ্বীপে অবতীর্ণ হইলেন। কতক দিন নিমাই পণ্ডিতরূপে বিরাজ করিয়া, গয়াধাম হইতে প্রত্যাবর্তনের পর যখন তাঁহার ভগবদ্ভাব আর অন্তরঙ্গ ভক্তগণের নিকট অপ্রকাশ রহিল না, সেই সময়ে এক দিন। মহাপ্রভু ভক্তগণ সহিত নগরপরি-ভ্ৰমণ-কালে পথে -দেবানন্দ -পণ্ডিতকে দেখিতে পাইলেন । পূর্ব্বে দেবানন্দ যে শ্রীবাস পণ্ডিতকে অপমানিত করিয়া-ছিলেন, অন্তর্যামী প্রভুর সেই কথা স্মরণ হইবামাত্র অতিশয় ক্রোধাবিষ্ট হইয়া, দেবানন্দের” সম্মুখীন হইলেন ও তাঁহাকে বহু তিরস্কার ও ভৎসনা করিতে লাগিলেন। 

প্রভু বলিলেন------
অহে অহে দেবানন্দ বলি যে তোমারে।
তুমি এবে ভাগবত পড়াও সবারে ॥
যে শ্রীবাসে দেখিতে গঙ্গার মনোরথ।
হেন জন শুনিবারে গেলা ভাগবত ৷।
কোন অপরাধে তারে শিষ্য হাথাইয়া।
বাড়ির বাহিরে লঞা এড়িলা টানিয়া ॥
ভাগবত শুনিতে যে কান্দে কৃষ্ণরসে।
টানিয়া ফেলিতে সে তাহার যোগ্য আইসে।।
বুঝিলাম তুমি সে পড়াও ভাগবত ।
“কোন জন্মে না জানহ গ্ৰন্থ-অভিমত ।।
পরিপূর্ণ করিয়া যে সব জনে খায়।"
তবে বহির্দ্দেশে গিয়া সে সন্তোষ পায়।।
প্রেমময় ভাগবত পড়াইয়া তুমি ।
তত সুখ না পাইলা' কহিলাম আমি।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৫.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 পঞ্চম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
অত বড় পণ্ডিত ও সম্মানবিশিষ্ট দেবানন্দকে এইরূপে ভৎসনা করিতে পারে, ঐ সময়ে, নবদ্বীপের মধ্যে এমন সাধ্য আর কাহারও ছিল না। যখন মহাপ্রভুর প্রতি দেবানন্দের বিশ্বাস তত উপজাত হয় নাই, এবং যখন তিনি নিমাই পণ্ডিত একজন সামান্য লোক বলিয়াই বিশ্বাস করিতেন, তখন তিনি নবদ্বীপবাসী কোন লোকের কাছে এরূপ তিরস্কারবাক্য শ্রবণ করিয়া সহ্য করিবার লোকও ছিলেন না। কিন্তু কি আশ্চর্য্য ব্যাপার! শ্রীচৈতন্যদেবের ভৎসনা বাক্য শ্রবণ করিয়া দেবানন্দ পণ্ডিত লজ্জায় অবনতমস্তক হইয়া রহিলেন এবং কোনরূপ উত্তর প্রদান না করিয়া নিজ গৃহাভিমুখে প্রস্থান করিলেন, তাহার কারণ কি ? এই ঘটনাটীতেই দেবানন্দের সৌভাগ্যের সূত্রপাত বলিতে হইবে। কারণ জীবের সৌভাগ্যের উদয় না হইলে আর ভগবানের দণ্ড তাহার উপর পড়ে না। সে তো প্রকৃত দণ্ড নহে, বাহিরে দেখিতে দণ্ড বলিয়া বোধ হয় বটে, কিন্তু তাহা দয়াময় লোকনাথের কৃপারই পরিচায়ক। প্রভু এই যে দেবানন্দকে বাক্যদণ্ডে দণ্ডিত করিলেন, তাহার ফলে তাঁহার এতদিনের শুষ্ক, নীরস, জ্ঞানগৰ্ব্বিত, মরুভূমি- সদৃশ হৃদয়ক্ষেত্রের অবস্থা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হইয়া, তাহাতে ভগবানের কৃপা-বারি বর্ষণ হইল, এখন কেবল সাধুসঙ্গের মাহাত্ম্যে তাহাতে ভক্তিবীজ পতিত হইলেই তাহা অঙ্কুরিত হইয়া উঠিবে, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। দেবানন্দের সেই সময় সমাগত হইয়া আসিতেছিল, এজন্যই তিনি মৌনভাবে নিরুত্তর হইয়া বাটী প্রস্থান করিলেন। যথা—
চৈতন্যের দণ্ড যে মস্তকে করি লয়।
সেই দণ্ডে তারে প্রেম, ভক্তিযোগ হয় ৷
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৬.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 ষষ্ঠ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
আর একদিন শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তগোষ্ঠী সহিত মহেশ্বর বিশারদের জাঙ্গালে পরিভ্রমণ-সময়ে দেবানন্দ পণ্ডিতের টোলের নিকট যাইতে যাইতে তাহার ভাগবত্-ব্যাখ্যা শুনিতে পাইয়া, অমনি ক্রোধাবিষ্ট হইয়া তাহার চতুষ্পাঠীতে প্রবেশ পূর্ব্বক তাঁহার ভাগবতগ্রন্থ ছিঁড়িয়া ফেলিবার জন্য উদ্যত হইলে, ভক্তগণ তাঁহাকে নিরস্ত করিলেন। যথা—
দৈবে প্ৰভু ভক্তসঙ্গে সেই পথে যায়।
যেখানে তাহার ব্যাখ্যা শুনিবারে পায় ॥
সৰ্ব্বভূত-হৃদয় জানয়ে সৰ্ব্ব তত্ত্ব।
না শুনয়ে ব্যাখ্যা ভক্তিযোগের মহত্ত্ব।।
কোপে বলে প্রভু, বেটা কি অর্থ বাখানে।
ভাগবত অর্থ কোন জন্মেও না জানে।।
এ বেটার ভাগবতে কোন অধিকার।
গ্রন্থরূপে ভাগবত শ্রীকৃষ্ণ অবতার।।
*********************************
নিরবধি ভক্তিহীন এ বেটা বাখানে।
আজি পুথি চিরি এই দেখ বিদ্যমানে ।।
পুঁথি চিরিবারে প্রভু ক্রোধাবেশে যায়।
সকল বৈষ্ণবগণ ধরিয়া রহায় ॥

মহাপ্রভুর সন্ন্যাসগ্রহণের পূর্ব্বে ভক্তগণ-সঙ্গে নবদ্বীপ-লীলার সময় নানা দূরদেশ হইতে কত কত ব্যক্তি যে আকৃষ্ট হইয়া ঐ প্রেম-স্পর্শমণির সমীপে উপস্থিত হইয়া প্রেমানন্দ উপভোগ করিলেন, তাঁহাদের সংখ্যা কে করিবে? কিন্তু শ্রীনবদ্বীপ ধামে বাস করিয়াও ততদিন দেবানন্দ পণ্ডিতের মনে শ্রীচৈতন্যের প্রতি কোনরূপ বিশ্বাস হয় নাই ও তিনি ঐ সকল অদ্ভুত লীলার কাৰ্য্য দেখিয়াও দেখিতেন না।
যথা--
গৃহবাসে যখন আছিলা গৌরচন্দ্র।
তখনে যতেক করিলেন দেবানন্দ।।
প্রেমময় দেবানন্দ পণ্ডিতের মনে।
নহিল বিশ্বাস না দেখিলা এ কারণে ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৭.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  🌼শ্রীপাদ রূপগোস্বামি-প্রদর্শিত ভক্তির ক্রম 🌼
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 সপ্তম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ইহার কারণ আর কিছুই নহে, তখনও তাঁহার সময় উপস্থিত হয় নাই। ভক্তিধন প্রাপ্তির সময় সমাগত হইলে জীবের সাধুসঙ্গ হইয়া থাকে এবং সেই সাধুসঙ্গগুণে ক্রমে ভক্তির উদয় হয়। শ্রীরূপ গোস্বামিপাদ "ভক্তিরসামৃতসিন্ধু” গ্রন্থে “আদৌ শ্রদ্ধা ততঃ সাধুসঙ্গশ্চ ভজনক্রিয়া ইত্যাদি শ্লোকে ভক্তি-উদয়ের ক্রম প্রদর্শন করিয়াছেন।
শ্লোকার্থ যথা-
“প্রথমতঃ ভগবৎকথাদিতে শ্রদ্ধা উপস্থিত হয়, তৎপরে সাধুসঙ্গ, সাধুসঙ্গ গুণে শ্রবণ কীৰ্ত্তন হয়, শ্রবণ কীর্ত্তন করিলে সর্বপ্রকার অনর্থনিবৃত্তি হয়, সৰ্ব্বকার অনর্থ‌ নিবারিত হইলে নিষ্ঠা হয়, সেই নিষ্ঠাই শ্রবণাদিতে রুচি উপস্থিত করে, আবার রুচি হইতে আসক্তি এবং আসক্তি হইতে চিত্তে রতির উদয় হয়, সেই রতি হইতে ভক্তির উদয় হয়।”

এই যে শ্রীপাদ রূপগোস্বামি-প্রদর্শিত ভক্তির ক্রম, তাহা আমরা দেবানন্দ পণ্ডিতের জীবনে সুন্দররূপে মিলিতে দেখিতে পাই। হইতে পারে যে, শ্রীগৌরাঙ্গের সাক্ষাৎকার-মাহাত্ম্যে ও তাহার বাক্যদণ্ডে দেবানন্দের মন কতকটা আর্দ্র' হইয়াছিল, পরে শ্রীচৈতন্যদেবের সন্ন্যাসগ্রহণরূপ মহাত্মো পারে তাঁহার প্রতি শ্রদ্ধার উদয় হইয়া থাকিবে; অবশেষে‌ যখন তাঁহার পূৰ্ব্বজন্মার্জ্জিত সুকৃতিফলে এবং ঐ শ্রদ্ধার বলে সাধুসঙ্গ হইল, তখন সেই সঙ্গগুণে ক্রমে তাঁহার ভক্তির উদয় হইল। যে সাধুসঙ্গে দেবানন্দের ঐরূপ পরিবর্ত্তন ও উন্নতি হয়, সে আর কাহারও সঙ্গ, নহে, প্রভু শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সঙ্গ।

যখন গৌরচন্দ্র সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করিয়া নীলাচলে চলিয়া-গেলেন, গৃহী ভক্তগণ তো আপনাপন বাটীতে থাকিয়া প্রভু বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা সহ্য করিতে লাগিলেন; উদাসীন ভক্তগণের মধ্যে সেই! সময় দেবানন্দের সৌভাগ্যবলে শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত তাঁহার, বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং তাঁহার ভক্তিগুণে বশীভূত হইয়া কিছুদিন তাঁহার বাটীতে বাসও করিয়াছিলেন।
যথা------
সন্ন্যাস করিয়া য়দি ঠাকুর চলিলা ।
তবে তান ভাগ্য হইতে বক্রেশ্বর আইলা ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৮.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সহস্র বৎসর যোগ তপস্যা করিলে যাহা লাভ না হয়, একবার সাধুসঙ্গ হইলে তাহা অনায়াসেই লভি হইয়া থাকে। কিন্তু ইহার কারণ কি ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 অষ্টম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই বক্রেশ্বর-সঙ্গ-মাহাত্ম্যে দেবানন্দের এত কালের ভক্তিশূন্য হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের অঙ্কুর হইয়া এবং সেই অঙ্কুর ক্রমে ক্ৰমে বৃদ্ধি, পাপ্ত হইয়া পরমানন্দ-ফলধর সুন্দর বৃক্ষে পরিণত হইয়া উঠিল। শ্রীবক্রেশ্বরের মহাভাবাপন্ন সাত্ত্বিক নৃত্যাদি; দর্শনে তাঁহার প্রতি দেবানন্দের দৃঢ় শ্রদ্ধা উপজাত হইল এবং তিনি অতি ভক্তি সহকারে তাঁহার সেবা শুশ্রুষা করিতে লাগিলেন। যে বাটীতে এক সময়ে তাঁহার ভাগবতশ্রবণে প্রেমিক-হৃদয় শ্রীবাস, পণ্ডিতের ক্রন্দনশব্দ বিরক্তিকর বলিয়া বোধ হইয়াছিল, সেই দেবানন্দভবনে এখন আর সঙ্কীর্ত্তনের কলরবের নিবৃত্তি নাই। ঐ সঙ্কীৰ্ত্তন মধ্যে জগতে অতুল্য প্রভু বক্রেশ্বরের নৃত্য আরম্ভ হইলে, দেবানন্দের আর আনন্দের সীমা থাকিত না এবং পাছে সে নৃত্য ভঙ্গ হয়, সেইজন্য তিনি নিজে সমাগত লোক সরাইয়া দিয়া। নৃত্যের স্থান পরিষ্কৃত করিয়া দিতেন। এবং যখন বক্রেশ্বর মহাভাবে আবিষ্ট হইয়া বাহ্য জ্ঞান-শূন্য হইয়া যাইতেন, তখন পাছে ভূমিতে পতিত হইয়া তাঁহার দেবতুল্য তপ্তকাঞ্চনসদৃশ সুন্দর এবং কোমল শরীরে ব্যথা লাগে, এই জন্য তিনি নিজে তাঁহাকে কোলে করিয়া বসিতেন। সংক্ষেপতঃ দেবানন্দের প্রেম ভক্তির কথা আর কি বলিব ? এখন তাঁহার শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস জন্মিয়াছিল। সাধুসঙ্গের এইরূপই আশ্চর্য্য প্রভাব বটে। এ জন্য শাস্ত্রে বলিয়াছেন যে, সহস্র বৎসর যোগ তপস্যা করিলে যাহা লাভ না হয়, একবার সাধুসঙ্গ হইলে তাহা অনায়াসেই লভি হইয়া থাকে। তাহা হইবারই কথা, কারণ সাধুদিগের শরীর হইতে নিয়ত যে সাধুভাব বিনির্গত হইয়া থাকে, তাহাদ্বারা, তাহাদের নিকটে যে সকল ব্যক্তি থাকে, তাহাদের মহৎ ইষ্ট সংসাধিত হয়। তাহাদের ইচ্ছা না থাকিলেও কেমন আপনা আপনি ঐ সাধুভাব তাহাদের মনে প্রবিষ্ট হয়। সাধুগণের মহিমাই এই যে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাষন্ডীদিগের নীরস হৃদয়ক্ষেত্রে ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত করিয়া দেন। রোগী যেমন ঔষধ খাইতে অনিচ্ছুক হইলেও হিতাকাঙ্ক্ষী চিকিৎসক তাহাকে ঔষধ সেবন করাইয়া রোগমুক্ত করিয়া থাকেন, সেইরূপ সাধুগণ তবরোগাক্রান্ত জীবকে কৃপা করিয়া কৃষ্ণভক্তি-মহৌষধ প্রদান করত তাহাদের ভব-রোগের শান্তি সম্পাদন করিয়া থাকেন এবং ঐ সৌভাগ্যবান্ জীব অনায়াসে ভবসমুদ্র পার হইয়া সদগতি-লাভে সমর্থ হয়। এই জন্য শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্য সাধুসঙ্গকে ভবসমুদ্র উত্তীর্ণ হইবার একমাত্র নৌকা বলিয়া বর্ণিত করিয়াছেন। যথা-
ক্ষণমপি সজ্জনসঙ্গতি-রেকা।
ভবতি ভবার্ণব-ত্বরণে নৌকা।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৯.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কৃষ্ণসেবা হৈতে বৈষ্ণবের সেবা বড়।
ভাগবত আদি সব শাস্ত্ৰে কৈল দড় ৷৷
এতেকে বৈষ্ণবসেবা পরম উপায়।
ভক্তসেবা হৈতে সে সবাই কৃষ্ণ পায় ৷।
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 নবম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
দেবানন্দের আলয়ে শ্রীবক্রেশ্বরের অবস্থিতিকালে সেই সঙ্গগুণে ও তাঁহার সেবার ফলে দেবানন্দের যে আশ্চর্য্য পরিবৰ্ত্তন ঘটিয়াছিল, তাহা অতি সুন্দর ও বিশদরূপে শ্রীপাদ দাস গোস্বামী শ্রীচৈতন্যভাগবতে বর্ণন করিয়াছেন। যথা—
দৈবে দেবানন্দ পণ্ডিতের ভক্তিবশে ৷
রহিলেন তাঁহার আশ্রমে-প্রেমরসে ।।
দেখিয়া তাঁহার তেজঃপুঞ্জ কলেবর।
ত্রিভুবনে অতুলিত বিষ্ণুভক্তিধর।।
দেবানন্দ পণ্ডিত পরম সুখী মনে ।
অকৈতব প্রেমে তানে করেন সেবনে ॥
বক্রেশ্বর পণ্ডিত নাচেন যতক্ষণ ।
বেত্র হস্তে আপনে বুলেন তত্‌ক্ষণ ॥
আপনি করেন সব লোক এক ভিতে।
পড়িলা আপনে ধরি রাখেন কোলেতে ॥
তাঁহার অঙ্গের ধূলা বড় ভক্তি-মনে।
আপনার সর্ব্ব অঙ্গে করেন লেপনে ।।
তাঁর সঙ্গে থাকি তান দেখিয়া প্রকাশ ।
তখনে জন্মিল প্রভু চৈতন্যে বিশ্বাস ॥
বৈষ্ণব সেবার ফল কহে যে পুরাণে ।
তার সাক্ষী এই সবে দেখ বিদ্যমানে ॥
আজন্ম ধাৰ্ম্মিক উদাসীন জ্ঞানবান।
ভাগবত অধ্যাপনা বিনা নাহি আন ।।
শান্ত দান্ত জিতেন্দ্রিয় নিল্লোভ বিষয়।
প্রায় আর কতেক বা গুণ তানে হয় ।।
তথাপিও গৌরচন্দ্রে নহিল বিশ্বাস ।
বক্রেশ্বর প্রসাদে সে কুবুদ্ধি বিনাশ ৷৷
কৃষ্ণসেবা হৈতে বৈষ্ণবের সেবা বড়।
ভাগবত আদি সব শাস্ত্ৰে কৈল দড় ৷৷
এতেকে বৈষ্ণবসেবা পরম উপায়।
ভক্তসেবা হৈতে সে সবাই কৃষ্ণ পায় ৷।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬০.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
বৈষ্ণবচূড়ামণি দেবানন্দ পণ্ডিত কাহার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন বা ওনার শ্রীগুরুদেবের নাম কি ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দশম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমদ্ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপাবলেই দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্যভক্ত পরম বৈষ্ণবচূড়ামণি হইয়াছিলেন এবং পরে তিনি শ্রীচৈতন্যচন্দ্রের শ্রীচরণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কি করিয়া‌ তিনি শ্রীগৌরাঙ্গ দেবের কৃপাপাত্র হইয়া একজন শক্তিধর ভক্ত মধ্যে পরিগণিত হইয়াছিলেন, দেবানন্দ-উপাখ্যানের সেই শেষ অংশটী পরে লিথিত হইবে। এক্ষণে কেবল আর একটা কথা এস্থলে বক্তব্য যে, সম্ভবতঃ যে সময়ে তাঁহার বাটীতে বক্রেশ্বর আসিয়া কিছু দিন বাস করেন, ঐ সময়ে দেবানন্দ শ্রীপণ্ডিত বক্রেশ্বর প্রভুর নিকট কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত‌ হইয়া তাঁহার শিষ্য বলিয়া পরিগণিত হয়েন। ইতিপূর্ব্বে চারিজন উদাসীন ভক্ত লইয়া শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সন্ন্যাসবেশে নীলাচলে যাত্রা করিবার কথা বলা হইয়াছে । প্রভু এইরূপে ভক্তগণকে পরিত্যাগ করিয়া যখন চলিয়া গেলেন, তখন নবদ্বীপবাসী ভক্তগণ প্রভুশূন্য নদীয়ায় যে, কিপ্রকার অবস্থায় কাল কাটাইতে লাগিলেন, তাহা বর্ণনাতীত। যাহারা এক মুহূর্ত্ত কাল প্রভুর অদর্শনে অস্থির হইয়া পড়িতেন, তাঁহারা কি এরূপ প্রভুবিচ্ছেদ-যাতনা সহ্য করিতে পারেন । তাঁহাদের প্রভুর প্রতি যে অকৈতব প্রেম, তাহাতে বিচ্ছেদ অতীব যন্ত্রণা-প্রদ হইয়া উঠিয়াছিল। কারণ, প্রেমের লক্ষণই এই। প্রেম সম্বন্ধেই যখন এই সংসারে যে যাহাকে যত অধিক ভালবাসে, তাহার অদর্শনে তাহার মন ততই অধিক আকুল হয়, তখন অপ্রাকৃত ভগবৎপ্রেম সম্বন্ধে যে নদেবাসী ভক্তগণের প্রভুবিরহ-জালা অসহ্য হইবে, তার' আর কথা কি? প্রকৃত ভালবাসাই যে, “আমি তোমারই, আমি তোমা ভিন্ন অল্পকালও থাকিতে পারি না।” প্রকৃত পতিব্রতা সাধ্বী স্ত্রীর নিজ প্রিয়তমের প্রতি এইরূপই অনুরাগ এবং তিনি যেমন স্বামীর অদর্শনে পলকে প্রণয় জ্ঞান করেন, প্রভুর ভক্তগণেরও প্রভুর প্রতি যেরূপ প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল, তাহাতে তাঁহারাও প্রভুর নীলাচলে গমনের পর সেইরূপ পলকে প্রলয় জ্ঞান করিতে লাগিলেন। যখন প্রভু নবদ্বীপে তাঁহাদের নিকটে ছিলেন, তখন প্রভুর দর্শন, স্পর্শন ও সঙ্গ ভক্তগণের প্রতি বড়ই মধুর বোধ হইত এবং ঠিক দিগ্দর্শন যন্ত্রের লৌহসূচিকাটী যেমন নানা দিকে ঘুরাইলেও উত্তরদিক্ ভিন্ন আর কোন দিকে যায় না, তাঁহাদের মনও তেমনি নানা প্রকার বিষয়ব্যাপারের মধ্যে আত্মীয় জনগণের মায়া মমতা অতিক্রম করিয়া সর্ব্বদাই প্রভুর প্রতিই নিরত ছিল। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬১.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণ যেমন গোপীদিগকে পুনর্মিলনের আশা দিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া সেই আশায় তাঁহারা প্রাণ ধারণ করিয়াছিলেন, শ্রীগৌরসুন্দরও সেইরূপ যাইবার সময়ে ভক্তগণকে আশা দিয়া গিয়াছেন কিন্তু কি সেই আশ্বাসবাক্যে❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 একাদশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এখন সেই প্রিয়জন প্রভু দৃষ্টির অগোচর এবং মনের বল হ্রাস পাইয়া স্থানান্তরিত ; ভক্তগণের শরীরের ও যাইতেছে—প্রভু যেন মন প্রাণ সমস্ত হরণ করিয়া লইয়া চলিয়া গিয়াছেন—তাঁহাদের মনের উদ্যম, উৎসাহাদি সকল বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে—দেহ নিস্তেজ; মন শান্তিশূন্য। বক্রেশ্বর প্রভৃতি প্রভুর অন্তরঙ্গ ভক্তগণ এইরূপে যেন একপ্রকার মৃতপ্রায় অবস্থার কাল কাটাইতেছিলেন। তাঁহারা যে জীবনধারণ করিয়াছিলেন, তাহা কেবল প্রভুর আশ্বাসবাক্যে।

শ্রীকৃষ্ণ মথুরার গমন করিলে ব্রজগোপীগণের যেরূপ অবস্থা হইয়াছিল, প্রভু নীলাচলে গমন করিলে পর ঠিক সেইরূপ বক্রেশ্বরাদি ভক্তগণও—যাঁহারা ব্রজগোপীগণেরই প্রকাশ ছিলেন— সেইরূপ অবস্থায় দিনাতিপাত করিতেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ যেমন গোপীদিগকে পুনর্মিলনের আশা দিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া সেই আশায় তাঁহারা প্রাণ ধারণ করিয়াছিলেন, শ্রীগৌরসুন্দরও সেইরূপ যাইবার সময়ে ভক্তগণকে আশা দিয়া গিয়াছেন বলিয়া ইহারাও ঐ আশ্বাসবাক্যে জীবন ধারণ করিয়াছিলেন।

তিনি বলিয়াছিলেন যে, “কথনও বা তোমরা নীলাচলে গমন করিবে, কখনও বা আমি গঙ্গাস্নান উপলক্ষে তোমাদের এখানে আসিব” ।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬২.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভুর দক্ষিণাঞ্চলে গমনের প্রধান উদ্দেশ্য গুলি কি কি❓
 কত বৎসর কাল দক্ষিণাঞ্চলে গমন  করেছিলেন ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দ্বাদশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ভক্তগণ যথন গৌরশূন্য নদীয়ায় আর তিষ্ঠিতে পারিলেন না, তখন প্রভু যে বলিয়া গিয়াছেন “আমি কখনও গঙ্গাস্নান উপলক্ষে আসিব,” সে আগমন আর প্রতীক্ষা না করিয়া, প্রভুর প্রথম আদেশ যে “তোমরা কখনও বা নীলাচলে যাইবে,” তাহাই পালনীর মনে করিয়া, শ্রীগৌরচন্দ্রকে দর্শন করিবার জন্য নীলাচলে যাইবার নিমিত্ত ব্যগ্র হইয়া পড়িলেন। কিন্তু যখন শুনিলেন যে, শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্ৰ নীলাচল হইতে দক্ষিণ দেশে গমন করিয়াছেন, তখন আর কি করেন, অগত্যা ক্লেশ না করিয়া রহিলেন। শ্রীচৈতন্যদেব গৌড়দেশ হইতে সন্ন্যাস পরিগ্রহ করিয়া নীলাচলে গমন পূর্ব্বক কিছু দিন তথায় অবস্থিতি করিবার পরই দক্ষিণ দেশসমূহে তীর্থ সকল দর্শন মানসে এবং প্রধানতঃ তদ্দেশবাসী জনগণকে প্রেমবন্য স্রোতে ভাসাইয়া তাহাদের কৃষ্ণভক্তিপরায়ণ করত উদ্ধার করিবার উদ্দেশে, দক্ষিণাঞ্চলে গমন করিয়াছিলেন এবং আপনার অগ্রদ বিশ্বরূপের অনুসন্ধান করাও তাহার একটা উদ্দেশ্য ছিল। দুই বৎসর কাল এইরূপে নানা তীর্থ সকল দর্শন করিয়া পূনর্ব্বার নীলাচলে প্রত্যাগমন করেন। ঐ দুই বৎসর কাল প্রভুর যে অলৌকিক ও অনন্ত লীলাপ্রকাশ, তাহা গ্রন্থাবলিতে বর্ণিত কাছে এবং অমিয় নিমাইচরিতেও অতি বিশদরূপে বর্ণিত হইয়াছে। শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচলে প্রত্যাগমন-সংবাদ নবদ্বীপে প্রেরিত হইলে, যখন নদেবাসী বক্রেশ্বর প্রভৃতি ভক্তগণ তাহা শুনিলেন, তখন আর কি তাহারা কালবিলম্ব করিতে পারেন ? তাহাদের আর আনন্দের সীমা রহিল না। নীলাচলে যাইয়া শ্রীগৌরসুন্দরকে দেখিবার জন্য একেবারেই যুক্তি পরামর্শ স্থির হইতে লাগিল। মহাপ্রভুর অভাবে এখন শ্রীঅদ্বৈতাচাৰ্য্যই প্রধান ও সকল গণের কর্তা স্বরূপ ছিলেন। ভক্তগণ শান্তিপুরে আচার্য্যের আলয়ে গমন করিয়া মনের অভিলাষ তাঁহাকে অবগত করিবার জন্য চলিলেন। যথা —
হরিদাস ঠাকুরের হৈল পরম আনন্দ।
বাসুদেব দত্ত গুপ্ত মুরারি শিবানন্দ ।।
আচার্য্যরত্ন আর পণ্ডিত বক্রেশ্বর।
আচার্য্যনিধি আর পণ্ডিত গদাধর ॥
শ্রীরাম পণ্ডিত আর পণ্ডিত দামোদর।
শ্রীমান পণ্ডিত আর বিজয় শ্রীধর ॥
রাঘব পণ্ডিত আর আচার্য্য নন্দন ।
কতেক কহিব আর যত প্রভুর গণ।।
শুনিয়া সবার হৈল পরম উল্লাস।
সবে মিলি আইলা শ্রীঅদ্বৈতের পাশ ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৩.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্ৰীঅদ্বৈত সকল ভক্তগণকে লইয়া শচীমাতার অনুমতি ও বিদায় গ্রহণ করিয়া নীলাচলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীঅদ্বৈতের আলয়ে ভক্তগণ আগমন করিলে, আচার্য্য তাঁহাদের অতি যত্নের সহিত রাখিলেন ও কয়েক দিন সেখানে মহোৎসবও হইল। যথা—
দুই তিন দিন আচার্য্য মহোৎসব কৈল।
নীলাচল যাইতে তবে যুক্তি দৃঢ় হৈল ॥

শান্তিপুরে যুক্তি পরামর্শ স্থির হইয়া গেল যে, প্রভুকে দেখিতে নীলাচলে যাওয়াই কর্ত্তব্য। ভক্তগণের আর আনন্দ ধরে না। তখন শ্ৰীঅদ্বৈত সকল ভক্তগণকে লইয়া শচীমাতার অনুমতি ও বিদায় গ্রহণ করিবার জন্য নবদ্বীপে প্রভুর বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। এবং তাঁহার নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া নীলাচলে যাত্রা করিলেন। যথা—
অনন্ত চৈতন্যভক্ত কত জানি নাম । 
চলিলেন সবে হই আনন্দের ধাম ৷৷
আই স্থানে ভক্তি করি বিদায় হইয়া। 
চলিলা অদ্বৈত সিংহ ভক্ত গোষ্ঠী লৈয়া।।
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏

তথাহি—শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে----
সবে মিলি নবদ্বীপে একত্র হইঞা।
নীলাদ্রি চলিল শচীমাতার আজ্ঞা লঞ ॥
যাইবার সময় শ্রীবক্রেশ্বরের আর আনন্দ দেখে কে? যদিও তাঁহার নৃত্যোপযোগী কীর্তনিয়া শ্রীগৌরসুন্দর উপস্থিত নাই, তথাচ সেই কীর্তনিয়াকে দর্শন করিতে যাইতেছেন, এই উল্লাসেই তিনি পথে নৃত্য করিতে করিতে চলিলেন। তাঁহার আনন্দ উপস্থিত হইলেই আপনা আপনি নৃত্য আসিয়া পড়িত। 
নৃত্যক্রিয়াটীই তীব্র আহ্লাদের একটী লক্ষণ।
চলিলেন হরিষে পণ্ডিত বক্রেশ্বর ।
যে নাচিতে কীৰ্ত্তনিয়া শ্রীগৌরসুন্দর ৷।

ভক্তগণ তো নীলাচলে আসিয়া প্রভুর সহিত মিলিত হইলেন। বিচ্ছেদের পর প্রিয়বস্তুর সহিত পুনর্মিলন হইলে যেরূপ হইয়া থাকে, সেইরূপ প্রভুর সহিত, পুনর্মিলনে ভক্তগণের যেন আবার কোথা হইতে উদ্যম, উৎসাহ পুনরুজ্জীবিত হইয়া তাঁহাদের নিস্তেজ দেহে শক্তি ও ভগ্ন মনে শান্তি সঞ্চার করিয়া দিল এবং আবার নবানুরাগে মাতিয়া তাঁহারা প্রাণবল্লভ প্রভুর সঙ্গসুখ উপভোগ করিতে লাগিলেন। নদেবাসী ভক্তগণের মধ্যে গৃহীর সংখ্যাই অধিক—তাঁহারা স্ত্রীপুত্রাদি পরিবার বাটীতে রাখিয়া আসিয়াছেন। যদিও প্রভুকে ছাড়িয়া নদীয়ায় ফিরিয়া যাইতে তাঁহাদের মন চাহিত না বটে, তবু তাঁহারা জানিতেন যে প্রভু তাঁহাদের সংসার পরিত্যাগ করিয়া চিরদিনের জন্য নিকটে থাকিতে অনুমতি দিবেন না—এই জন্য, তাঁহারা আসিবার সময় কয়েক মাসের জন্যই বাটী হইতে বিদায় লইয়া আসিয়াছিলেন ; কিন্তু উদাসীন ভক্তগণ আর গৌরশূন্য গৌড়ে ফিরিবেন না, প্রভুর সঙ্গে থাকিয়া চিরকাল প্রভুর সেবা করিবেন, ইহাই সঙ্কল্প করিয়া আসিয়াছিলেন, এবং বাস্তবিকই তাহারা আর ফিরিলেন না; নীলাচলে প্রভুর নিত্যসঙ্গী হইয়া রহিয়া গেলেন। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৪.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নীলাচলে শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিত কাহার আশ্রমেই বাস করিতেন ❓❓❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঐ সকল উদাসীন মর্ম্মী ভক্তগণ মধ্যে শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত একজন প্রধান ছিলেন। তাঁহাদের নাম শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে লিখিত হইয়াছে। যথা—
পরমানন্দপুরী আর স্বরূপ দামোদর ।
গদাধর জগদানন্দ শঙ্কর বক্রেশ্বর ॥
দামোদর পণ্ডিত ঠাকুর হরিদাস।
রঘুনাথ বৈদ্য আর রঘুনাথ দাস ॥
ইত্যাদিক পূর্ব্বসঙ্গী বড় ভক্তগণ।
নীলাচলে বহি করে প্রভুর সেবন ॥

এই সকল বন্দনীয় প্রভুর পারিষদগণের মধ্যে শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিতকে একজন প্রধান এই জন্য বলিলাম যে, তিনি প্রভুর সহিত প্রভুর নিজের আশ্রমেই বাস করিতেন।

আমরা এ পর্যন্ত, প্রভু নীলাচলে যে স্থানে অবস্থিতি করিতেন, তাহার কোন উল্লেখ করি নাই ; এক্ষণে তদ্বিষয়ে কিঞ্চিৎ বর্ণন করা প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নীলাচলে উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের গুরু কাশীমিশ্রের বাটীতেই থাকিভেন৷ দুই বৎসর কাল ব্যাপিয়া দক্ষিণ দেশ-সমূহে পরিভ্রমণের পর যখন প্রভু নীলাচলে প্রত্যাবর্তন করিলেন, সেই সময় হইতেই প্রভুর বাসের জন্য ঐ কাশীমিশ্রের, আলয় নির্ব্বাচিত হইয়াছিল। এবং সেই সময় হইতেই কাশীমিশ্র প্রভুর গণ-মধ্যে ভুক্ত হইয়া, নিজ আলয় প্রভুর আশ্রমের জন্য প্রদান করিয়া কৃতার্থ হইয়াছিলেন। প্রভু দক্ষিণ দেশ হইতে ফিরিয়া আসিলে পর সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য—যিনি উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের সভাপণ্ডিত ছিলেন ও যিনি পূর্ব্বেই প্রভুকে আত্মসমর্পণ করিয়াছিলেন—তিনিই রাজার নিকট মহাপ্রভুর উপযুক্ত কুটী বাসা স্থির করিয়া দিবার জন্য অনুরোধ করেন। কি প্রকার স্থান প্রভুর, আশ্রমের জন্য উপযুক্ত হইবে, সে সম্বন্ধে
ভট্টাচার্য্য রাজাকে বলিলেন, যথা—
ঠাকুরের নিকট হবে হইবে নির্জনে।
ঐছে নির্ণয় করি দেহ এক স্থানে ॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৫.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুকে রাখিবার জন্য কোন স্থান উপযুক্ত মনে করেছিলেন ❗
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা শুনিয়া মনে মনে বিচার করিয়া দেখিলেন এবং শ্রীজগন্নাথ দেবের নিকট নির্জন স্থান—শ্রীকাশীমিশ্রের বাটীই উপযুক্ত স্থান স্থির করিয়া ভট্টাচার্য্যকে কহিলেন, যথা—
রাজা কহে ঐছে কাশীমিশ্রের সদন।
ঠাকুরের নিকট হয় পরম নির্জন।।
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏

ভট্টাচার্য্য রাজার ঐ কথা শুনিরা অবিলম্বে কাশীমিশ্রের নিকট গমন করত তাহাকে রাজার ঐ অভিপ্রায়ের কথা জানাইলেন। কাশী মিশ্র শুনিবামাত্রেই 'আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া কহিলেন, তাহা হইতে তাঁহার সৌভাগ্য কি হইবে ? তাহার ঐ ছার ভবন জগদ্গুরু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের আবাসস্থল হইয়া পবিত্র' হইবে, ইহাতে তিনি ধন্য হইবেন। মিশ্র কহিলেন, যথা—
কাশীমিশ্র কহে আমি বড় ভাগ্যবান্।
মোর ঘরে প্রভুপাদের হবে অবস্থান ॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏

যখন সাৰ্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্য প্রভুকে ঐ কাশীমিশ্রের বাটীতে
লইয়া গেলেন, তখন কাশীমিশ্র আসিয়া মহাপ্রভুর চরণপ্রান্তে পতিত হইয়া শরণাগত হইলেন এবং ভক্তবৎসল দয়াল প্রভুও তাঁহাকে কৃপা করিয়া শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী রূপে দর্শন দিলেন ও আলিঙ্গন করিয়া কৃতার্থ করিলেন, যথা—
কাশীমিশ্র পড়িলা আসি প্রভুর চরণে।
গৃহ সহিত আত্মা তাঁরে কৈল নিবেদনে
প্রভু চতুর্ভুজ মূর্ত্তি তাঁরে দেখাইলা।
আত্মসাৎ করি তাঁরে আলিঙ্গন কৈলা॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏
**** বর্তমানে এই (কাশীমিশ্রালয়) মন্দিরটির নাম----
🙏 শ্রীশ্রী রাধাকান্ত মঠ (শ্রী গম্ভীরা) 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                              🙏 ক্রমশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীনরহরি মহাশয়কৃত সূচক হইতে শ্রীশ্রী বক্রেশ্বর পণ্ডিতের অদ্ভুত চরিত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীল গোপাল গুরু গোস্বামী প্রভুর শোচক ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





লিখনী সম্পূর্ণ হলে PDF LINK দেওয়া হবে 🙏🙏🙏





adds