✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪১. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪১)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*🙏বিশুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বর্ণন🙏*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান,তীনি শত শত অবতারের বীজ, তিনি অবতারী, এইসব কথা পূর্বেই প্রকাশিত হয়েছে।শ্রীগীতায় তাঁর নিজ শ্রীমুখের উক্তি এই যে ঃ-----*
*পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাং।*
*ধর্মসংস্থাপনার্থায় সংভবামি যুগে যুগে।।*
*যদা যদাহিধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।*
*অভুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।*
*🍀অর্থ্যাৎ সাধুগণের পরিত্রাণের জন্য,দুষ্কৃতজনগণের বিনাশার্থ ও ধর্ম সংস্থাপনের জন্য,আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।যখন যখন ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের অভ্যূত্থান (উন্নতি) হয়,তখনই আমি আত্মপ্রকাশ করি*।
*☘এতেই জানা যাচ্ছে ভূভারহরণার্থ শ্রীভগবান প্রপঞ্চে প্রকটিত হন।এখানে একটি আপত্তি উঠতে পারে ; সে আপত্তি এই যে কৃষ্ণের ইচ্ছেমাত্র ভূভার অপহৃত(হরণ) হতে পারে, অথবা তাঁর অংশাবতার দ্বারাই ভূভার অপহরণ সম্ভবপর হয়,এমত অবস্থায় কেবল ভূভার-হরণের জন্য তাঁর অবতীর্ণের প্রয়োজন কী?এই সম্বন্ধে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভে যে মীমাংসা লেখা হয়েছে তদ্ যথা=*
*"যদ্যপি নিজাংশেনৈব বা নিজেচ্ছাভাসেনৈব বা ভূভারহরণমীষৎকরং তথাপি নিজচরণারবিন্দজীবাতুবৃন্দমানন্দয়ন্নেব বা লীলাকাদম্বিনীনিজমাধুরীবর্ষণায় বিতরিষ্যমাণোহবতরিষ্যতীত্যর্থঃ "*।
*🌹অর্থ্যাৎ "যদিও তাঁর নিজের অংশ দ্বারা বা তাঁর নিজের ইচ্ছাভাস দ্বারা ভূভারহরণ অতি সহজেই সম্পন্ন হতে পারে,তথাপি তাঁর স্বয়ং অবতারের এক সবিশেষ উদ্দেশ্য আছে,তা এই যে,তদীয়(তাঁর) চরণার- বিন্দগতপ্রাণ ভক্তগণের আনন্দ-বর্ধনের জন্য অথবা লীলাকাদম্বিনীরূপা নিজ মাধুরী বর্ষণের জন্যই তিনি স্বয়ং অবতীর্ণ হন। শ্রীচরিতামৃতে, সন্দর্ভের এই কথার স্পষ্টভাবে প্রকাশিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।*
*পূর্বে যেন পৃথিবীর ভার হরিবারে*।
*কৃষ্ণ অবতীর্ণ হইলা শাস্ত্রেতে প্রচারে।।*
*স্বয়ং ভগবানের কর্ম নহে-- ভারহরণ।*
*স্থিতিকর্তা বিষ্ণু করে জগত পালন*।।
*কিন্তু কৃষ্ণের সেই হয় অবতার কাল।*
*ভারহরণ কালে তাতে হইল মিশাল।।*
*পূর্ণ ভগবান যেই অবতার কালে।*
*আর সব অবতার তাতে আসি মিলে।।*
*অতএব বিষ্ণু তখন কৃষ্ণের শরীরে।*
*বিষ্ণু দ্বারায় কৃষ্ণ অসুর সংহারে।।*
*আনুষঙ্গে কর্ম এই, অসুর মারণ।*
*যে লাগি অবতার কহি সে মূলকারণ।।*
*প্রেমরস নির্য্যাস করিতে আস্বাদন*।
*রাগমার্গ ভক্তি লোকে করিতে প্রচারণ।।*
*রসিকশেখর কৃষ্ণ পরম করুণ।*
*এই দুই হেতু হৈতে ইচ্ছার উদ্গম*।।
☆ ☆ ☆ ☆
*রসময় মূর্তি কৃষ্ণ---- সাক্ষাৎ শৃঙ্গার।*
*সেই রস আস্বাদিতে কৈল অবতার।।*
*অনুষঙ্গে কৈল সব রসের প্রচার।।*
*🌺এই যে রসময় মূর্তি সাক্ষাৎ শৃঙ্গার=ইনিই শ্রীবৃন্দাবনের শ্রীকৃষ্ণ।এই শৃঙ্গাররসরাজমূর্তিই শ্রীবৃন্দাবনের ভজনীয় বস্তু।রসিকেন্দ্রচূড়ামণি সিদ্ধকবি শ্রীজয়দেব গোস্বামী এই শ্রীকৃষ্ণের যে শ্রীরূপচ্ছবি প্রকটিত করেছেন তাহাই প্রেমিক ভক্তের ধ্যানের মূরতি, তদ্ যথা=*
*"বিশ্বেষামনুরঞ্জনেন জনয়ন্নানন্দমিন্দীবরশ্রেণী-শ্যামল- কৌমলৈ রুপনয়ন্নঙ্গৈরনঙ্গোৎসবম্। স্বচ্ছন্দং ব্রজসুন্দরীভিরভিতঃ প্রত্যঙ্গমালিঙ্গিতঃ শৃঙ্গারঃ সখি মূর্তিমানিব মধৌ মুগ্ধো হরিঃ ক্রীড়তি।।*
*🍀শ্রীচরিতামৃতকার এর মর্ম নিয়ে লিখেছেন=*
*শৃঙ্গার রসরাজময় মূর্তিধর।*
*অতএব আত্মপর্য্যন্ত সর্বচিত্তহর।।*
*☘শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থের মঙ্গলাচরণ শ্লোক এই ঃ---*
*"অখিল রসামৃতমূর্তিঃ প্রসৃমররুচিরুদ্ধকপালিঃ।*
*কলিতশ্যামা ললিতো রাধাপ্রেয়ান্ বিধুর্জয়তি।।*
*🍁শ্রীভাগবতে লেখা রয়েছে=*
*তাসামাবিরভুচ্ছৌরিঃ স্ময়মান মুখাম্বুজঃ।*
*পীতাম্বরধরঃ স্রগ্বী সাক্ষান্মন্মথমন্মথঃ।।*
*(ভাগবতে=১০|৩২|২)*
*অর্থ্যাৎ "শূরবংশাবির্ভূত ভগবান গোপবালাদের মধ্যে অবতীর্ণ হলেন তাঁর মুখখানি হাসিমাখা,প্রফুল্ল।গলায় বনফুলের মালা,একে মরকতমণি নীল সমুজ্জ্বল কান্তি,তার উপরে তড়িৎদামের মতো পীতাম্বর। সেই পীতাম্বর আবার স্কন্ধদ্বয়ের নিচ হতে সামনের দিকে টেনে এনে পুরোভাগে উভয় হস্তে ধৃত,ধরে আছেন,যেন রসিকনাগর রসবতীদের নিকট মদনমোহন বেশে অপরাধ ক্ষমাপ্রার্থনার লজ্জিত অথচ ভুবন ভোলানো হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন।গোপীগণ তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলেন,ইনি যেন জগন্মোহন কামদেবের চিত্তগত কামেরও মোহজনক,মনে হল যেন তাঁর এইরূপ কামকেও জয় করেছেন।এমন সাক্ষাৎ মন্মথ মন্মথরূপ দেখে সকলেই অধীর হয়ে দাঁড়ালেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪২. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪২)শ্রীরামানন্দ রায় কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*🙏বিশুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বর্ণন🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹শ্রীশ্রীমদনমোহন রূপের বর্ণনাসূচক শ্রীভাগবত বচন-প্রমাণ অসংখ্য।এস্থলে দুই-একটি মাত্র প্রসিদ্ধ বচনের উল্লেখ করা হইল।*
*(১) অসমানোর্ধমাধুর্য্যতরঙ্গামৃতবারিধিঃ।*
*জঙ্গমস্থাবরোল্লাসিরূপো গোপেন্দ্র নন্দনঃ।।*
*(২) কন্দর্পকোট্যর্বুদরূপশোভা নীরাজ্যপাদাব্জনখাঞ্চলস্য কুত্রাপ্যদৃষ্টশ্রুতরম্যকান্তে ধ্যানং পরং নন্দসুতস্য বক্ষ্যে।*
*(ভাগবত=১০|২৯|৪০)*
*(৩) ত্রৈলোক্যলক্ষ্যৈক পদং বপুর্দধৎ।*
*(৫) তত্রাতি শুশুভে তাভি র্ভগবান দেবকীসুতঃ।*
*মধ্যে মণীনাং হৈমানাং মহামারকতো যথা।।*
*(ভাগবত=১০|৩৩|৬)*
*(৬) গোপ্য স্তপঃ কিমচরণ্ যদমুষ্যরূপম্ লাবণ্যসার মসমোর্ধমনন্য সিদ্ধম্।*
*দৃগভিঃ পিবন্ত্যনুসবাভি র্নবং দুরাপর।*
*মোকান্তধাম যশসঃ শ্রিয় ঈশ্বরস্য*।।
*(ভাগবত=১০|৪৪|৪৬)*
*(৭) যস্যাননং মকলকুন্ডলচারুকর্ণ- ভ্রাজৎকপোলসুভগং সুবিলাসহাসম্ নিত্যোৎসবং ন ততৃপুর্দৃশিভিঃ পিবন্ত্যো নার্য্যো নরাশ্চ মুদিতাঃ কুপিতাঃ নিমেশ্চ।*
*(ভাগবত=৯|২৪|৬৫)*
*(৮) যন্মর্ত্যলীলৌপয়িকঃ স্বযোগমায়াবলং দর্শয়তা গৃহীতম্।*
*বিস্মাপনং স্বস্যচ সৌভগর্ধেঃপরং পদং ভূষণভূষণাঙ্গম্।।*
*(ভাগবত=৩|২|১২)*
*🌻এইরকম বচন প্রমাণ প্রকৃতই অসংখ্য।শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত গ্রন্থখানি শ্রীকৃষ্ণের শ্রীবৃন্দাবনীয় মধুররূপ বর্ণনে পরিপূর্ণ।মহাজনী পদাবলীতে সিদ্ধ প্রেমিক ভক্তগণ এই রূপলাবণ্যমাধুর্য্য-বারিধির যে রসময় বর্ণনা করে রেখেছেন,বঙ্গীয় ভক্ত পাঠকগণের কর্ণ ও হৃদয় সে সুধামাখা বর্ণনারসে পরিসিক্ত।ঋক্ পরিশিষ্টে এই রসামৃত আনন্দ মূর্তির উল্লেখ আছে যথা=*
*(১) রাধয়া মাধবো দেবো মাধবেনৈব রাধিকা।*
*(২) কৃষ্ণ এব পরোদেব স্তং ধ্যায়েৎ তং রসয়েৎ।।*
*(গোপারতাপতানী উপনিষদ)*
*🍀শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের প্রত্যেক শ্লোকই এস্থলে প্রমাণ স্বরূপ উদ্ধৃত করে দিতে সাধ হয়। নিখিলসৌন্দর্য্য- মাধুর্য্যামৃতের আনন্দময় বর্ণনাপূর্ণ এই গ্রন্থ ভক্ত-পাঠকগণের নিত্য পাঠ্য।এখানে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর প্রলাপ সময়ে তদীয় শ্রীমুখোচ্চারিত একটি পদ্য উক্ত গ্রন্থ হতে তুলে ধরা হল।*
*"মারঃ স্বয়ং নু মধুরদ্যুতিমন্ডলং নু মাধুর্য্যমেব নু মনোনয়নামৃতং নু বেণীমৃজো নু মম জীবিতবল্লভো নু কৃষ্ণোহয়মভ্যুদয়তে মম লোচনায়।*
*🍁শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী এর বঙ্গানুবাদ করে লিখেছেন=*
*কিবা এই সাক্ষাৎ কাম,দ্যুতিবিম্ব মূর্তিমান,*
*কি মাধুর্য্য স্বয়ং মূর্তিমন্ত।*
*কিবা নেত্র মনোৎসব,কিবা প্রাণবল্লভ,*
*সত্য কৃষ্ণ আইলা নেত্রানন্দ।।*
*🌹এই অখিলরসামৃত-আনন্দমূর্তি শ্রীভগবানই শ্রীভাগবতে "সাক্ষাৎমন্মথ-মন্মথ নামে অভিহিত হয়েছেন।*
*"সাক্ষাৎমন্মথ-মন্মথ" এই পদের ব্যাখ্যায় পূজ্যপাদ তোষণীকার সনাতনগোস্বামীমহানুভব যা লিখেছেন, তার মর্ম এইরকম=*
*প্রাকৃত অপ্রাকৃত ভেদে অনেক মন্মথ আছেন।তদীয় শক্ত্যংশের আবেশী প্রাকৃতমন্মথগণ অসাক্ষাৎ মন্মথ, এরা সাক্ষাৎ মন্মথ নয়।বাসুদেবাদি চতুর্ব্যূহে যে সকল মন্মথ আছেন,তাঁদেরকে স্বয়ং কামদেব বা সাক্ষাৎ মন্মথ বলা হয়।কিন্তু শৃঙ্গাররসরাজময়মূর্তি শ্রীকৃষ্ণ এই সাক্ষাৎ মন্মথগণেরও মন্মথস্বরূপ। মন্মথ বা মদন প্রভৃতি নামের ব্যুৎপত্তি কালিকাপুরাণে দেখা যায় যথা=*
*"যস্মাৎ প্রথমং চেত স্তং জাতোহস্মাকং তথাবিধেঃ।*
*তথা মন্মথনাম্না ত্বং লোকে গেয়ো ভবিষ্যসি।।*
*জগৎসু কামরূপ স্তং তৎসমো নহি বিদ্যতে।*
*অতস্তং কামনাম্নাপি খ্যাতো ভব মনোভব।।*
*মাদনান্মদনাখ্যস্তং শম্ভোদর্পাৎ সদর্পকঃ।*
*তথা কন্দর্প নিম্নাপি লোকে খ্যাতো ভবিষ্যসি।।*
*(২য় অধ্যায় কালিকাপুরাণ)*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🐑🐑
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৩. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৩)শ্রীরামানন্দ রায় কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*🙏বিশুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বর্ণন🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹পূর্ব পর্বেরএই শ্লোকে মন্মথ নামের ব্যুৎপত্তি এবং বহুজগতে মন্মথের আধিপত্য প্রভাব বিস্তার সম্বন্ধে প্রমাণ পাওয়া যায়।প্রাকৃত ও অপ্রাকৃত মদনের ভেদ বিচার সম্বন্ধে শ্রীপাদ সনাতনের মূল উক্তিই এস্থলে উদ্ধৃত করা যাচ্ছে। "তাসামাবীরভূচ্ছৌরিঃ" শ্রীভাগবতের এই শ্লোকের টীকায় তিনি লিখেছেন ঃ----*
*"নানা বাসুদেবাদি চতুর্ব্যূহেষু যে সাক্ষান্মন্মথাঃ স্বয়ং কামদেবাঃ, নতু তদীয় শক্ত্যংশাবেশীপ্রাকৃতমন্মথবদ- সাক্ষাদ্রূপাঃ, তেষামপি মন্মথত্ব প্রকাশক, চক্ষুষশ্চরিত্যাদিবৎ "।*
*🍀এতে জানা যাচ্ছে যে প্রাকৃত মন্মথগণ তাঁর শক্ত্যংশাবেশী।ওঁরা অসাক্ষাৎস্বরূপ, সুতরাং সাক্ষাৎ মন্মথ নয়।বাসুদেবাদি চতুর্ব্যূহেই সাক্ষাৎমন্মথগণের প্রকাশ।শ্রীকৃষ্ণ এই সাক্ষাৎ মন্মথগণের মন্মথ।ইনি স্ত্রী-পুরুষ স্থাবর-জঙ্গম প্রভৃতি সকলেরই চিত্তাকর্ষক। শ্রীরায় রামানন্দের বচনামৃতের পদ্যানুবাদ করে শ্রীকবিরাজ লিখেছেন=*
*বৃন্দাবনে অপ্রাকৃত নবীন মদন।*
*কাম গায়ত্রী কামবীজে যাঁর উপাসন।।*
*পুরুষ যোষিৎ কিম্বা স্থাবরজঙ্গম।*
*সর্ব-চিত্তাকর্ষক সাক্ষাৎ মন্মথ-মদন।।*
*🍁শ্রীবৃন্দাবনের এই অপ্রাকৃত নবীন মদনটি কে?কামবীজ কামগায়ত্রীই বা কাকে বলে? এবং কামবীজ কামগায়ত্রী দ্বারাই বা তাঁর উপাসনা হয় কেন?কি উদ্দেশ্যই বা এইরকম উপাসনা হয়ে থাকে?এই বিষয়ে সম্যক আলোচনা ভজন শাস্ত্রের আলোচনা-বিশেষ।এই উদ্ধৃত সুবিখ্যাত পয়ারের প্রথম দুই পংক্তির ব্যাখ্যা অনেকেই অনেক রকম করেছেন।ভক্তগণের মনে যে ব্যাখ্যার উদয় হয়েছে তার সম্বন্ধে আমাদের কোন কথা বলতে যাওয়া দুঃসাহসের কাজ।আমরা ভজনসাধনবিহীন,সুতরাং "মনগড়া" কথায় সিদ্ধগ্রন্থকারের মহাসিদ্ধ পংক্তিদ্বয়ের ব্যাখ্যা করে অসৎ সিদ্ধান্তের প্রশ্রয় দেওয়া অপরাপজনক মনে করি। এ অবস্থায় শাস্ত্রের সাহায্যে বিশেষতঃ স্বয়ংসিদ্ধ গ্রন্থকারের নিজের উক্তির সাহায্যে, এই ছত্রদ্বয়ের ব্যাখ্যা করার যদি সুবিধা পাওয়া যায়,তবে তার মতো সুষ্ঠ প্রামাণিক উপায় বোধ হয় আর কিছুই হতে পারে না।এস্থলে তারই অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হওয়া যাক।*
*🌹শ্রীকবিরাজ গোস্বামী শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত গ্রন্থের একখানি অতি সুন্দর টীকা করে রেখেছেন।ওতে ভজনতত্ত্বের যথেষ্ট উপদেশ আছে। শ্রীচরিতামৃতের পয়ার-বিশেষের অবিকল সংস্কৃত ব্যাখ্যা এই টীকার জায়গায় জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়। নিরতিশয় আনন্দের বিষয় এই যে=*
*বৃন্দাবনে অপ্রাকৃত নবীন মদন।*
*কামগায়ত্রী-কামবীজে যাঁর উপাসন।।*
*🌷শ্রীচরিতামৃতের এই অতি নিগূঢ়ার্থ পয়ারের যথাযথ ব্যাখ্যা শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের টীকাতে স্পষ্টভাবেই লিখিত রয়েছে।পরম কারণিক জগৎপূজ্য গ্রন্থকার একজায়গায় সূত্ররূপে যার উল্লেখ করেছেন,অন্যজায়গায় ভাষ্যরূপেতারই বিবৃতি করেছেন। শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের তৃতীয় শ্লোকটির ব্যাখ্যাতেই আলোচ্য বিষয়ের ব্যাখ্যা দেখতে পাওয়া যায়। তৃতীয় পদ্যটি এই=*
*"চাতুর্য্যৈক নিদানসীম চপলাপাঙ্গচ্ছ- টামন্থরম্*
*লাবণ্যামৃতবীচিলোলিতদৃশাং লক্ষ্মীকটাক্ষাদৃতম্।*
*কালিন্দীপুলিনাঙ্গন-প্রণয়িনং কামাবতারাঙ্কুরম্*
*বালং নীলমণি বয়ং মধুরিমস্বারাজ্যমারান্তুমঃ।।*
*🍁এর তৃতীয় চরণের "কামাবতারাঙ্কুরম্" এই পদের ব্যাখ্যায় শ্রীকবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*"নারীণাং মনোহারিত্বং কামাদীনাং চতুর্ব্যূহান্তার্গত প্রদ্যুম্নাখ্যস্বস্বরূপাণাং শাখাস্থানীয়ানাং,তদংশলেশাভাসরূপাণামনন্তব্রহ্মান্ডান্তর্গতপ্রাকৃত কামানাং পত্রস্থানীয়ানামবতারস্য প্রাকট্যস্য অঙ্কুরং প্রথমোদ্ভিন্নকোমল স্কন্ধাংশম্। প্রাকৃতাপ্রাকৃতকন্দর্পনিদানবৃন্দাবনাভিনবকন্দর্পমিত্যর্থঃ।আগমাদৌ কামগায়ত্র্যা কামবীজেন চ তস্য তদ্রূপেণোপাস্যত্বাৎ।কোটীমদনবিমোহনাশেষচিত্তাকর্ষকসহজমধুরতরলাবণ্যামৃতপারার্ণবেন মহানুভাবচয়োহনুভূয়মান তত্তন্মহাভাবনিবহেন শ্রীমদনগোপাল- রূপেণাধুনাপি বৃন্দাবনে বিরাজমানত্বাচ্চ"।*
*🌻এর মর্ম এই যে কোটিমদন বিমোহন অশেষচিত্তাকর্ষক,সহজ মধুরতর লাবণ্যামৃতপারাবার, মহানুভাবগণের মহাভাবনিবহে নিবহে মানে সকলে অনুভূয়মান শ্রীবৃন্দাবনে বিরাজমান শ্রীশ্রীমদনগোপালই কামাবতারসমূহের প্রথমোদ্ভিন্ন কোমল স্কন্ধাংশ।চতুর্ব্যূহের অন্তর্গত কামগণ ইহাঁর শাখাস্থানীয়।এঁরা অপ্রাকৃত।এর অংশলেশাভাসরূপ নিখিল ব্রহ্মান্ড অন্তর্গত মন্মথগণ এঁর পত্রস্থানীয়।ওঁরা প্রকৃত বলে খ্যাত।শ্রীবৃন্দাবনের অভিনব কন্দর্প, প্রাকৃত অপ্রাকৃত সমস্ত কন্দর্পের নিদান। আগমাদিতে কামগায়ত্রী কামবীজ দ্বারা তাঁর উপাসনা হয়, সুতরাং তিনি নারীমনোহারী।তিনি অধুনাও শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীমদনগোপালরূপে বিরাজমান এবং কোটি মদনমোহনাশেষচিত্তাকর্ষক,ইহাও নারীমনোহারীত্ত্বের শ্রীকৃষ্ণের যে সকল গুণ আছে তারমধ্যে নারীমনোহারীত্বেরও একটি গুণ, যথা=*
*🌹ভক্তিরসামৃতসিন্দুতে শ্রীকৃষ্ণের এই ৬৪ গুণ কীর্তিত হয়েছে।সংস্কৃত অতি সরল, সুতরাং অনুবাদের সবিশেষ প্রয়োজন নাই।প্রত্যেকটি পদ উদাহরণের সঙ্গে বিশেষরূপে বুঝা অতীব প্রয়োজনীয়,অনুসন্ধানশীল ভক্ত পাঠকগণ শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে অবশ্য এ সমস্ত পাঠ করতে পারেন এবং অনেকেই ভক্তিপূর্বক পাঠ করেও থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের কোটিকন্দর্পলাবণ্য ও নিত্য নতুনত্ব গুণের কথাও এই গুণরাশির মধ্যে পরিগণিত হয়েছে। সুতরাং তিনি বৃন্দাবনে নবীনমদন। যিনি সর্বদা অনুভূয়মান হয়েও আপন মাধুর্য্যের দ্বারা অননুভূতের মতো বিস্ময় জন্মিয়ে থাকেন তিনিই নিত্য নতূন।*
*"সদানুভূয়মানোহপি করোতাননুভূতবৎ।*
*বিস্ময়ং মাধুরীভি যঃ স প্রোক্তো নিত্যনূতনঃ।।"*
*🌷শ্রীকৃষ্ণদাস গোস্বামী শ্রীচরিতামৃতে লিখেছেন=*
*যিনি পঞ্চশর দর্প,স্বয়ং নব কন্দর্প,*
*নাম ধরে মদনমোহন।*
*🍀এখানেও কর্ণামৃতের টীকার সেই "অভিনব কন্দর্প" পদই পুনধ্বনিত হয়েছে। শাস্ত্রেও ইনি "মদনমোহন" "মদনগোপাল" প্রভৃতি নামে প্রসিদ্ধ।যথা পদ্মাপুরাণে পাতালখন্ডে ৯ম অধ্যায়ে=*
*"বন্দে মদনগোপালং কৈশোরাকারমদ্ভুতম্।*
*যমাহ যৌবনোদ্ভিন্নে শ্রীমন্মদনমোহনম্।।*
*☘ইনি কিশোরমূর্তি,চিরনূতন, চিরঅভিনব। শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতেও লিখিত হয়েছে =*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ ꧁ ৪৪. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৪)শ্রীরামানন্দ রায় কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*🙏বিশুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বর্ণন🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতে লিখিত হয়েছে।*
*"প্রণয়পরিণতাভ্যাং শ্রীভরালম্বনাভ্যাম্ প্রতিপদললিতাভ্যাং প্রত্যহং নূতনাভ্যাম্।*
*প্রতিমুহু রাধিকাভ্যাম্ প্রস্ফুরল্লোচনাভ্যাম্ প্রবহতু হৃদয়ে নঃ প্রাণনাথঃ কিশোরঃ।।"*
*☘কৈশোরাকার অত্যদ্ভুতমূর্তি শ্রীকৃষ্ণ শ্রীবৃন্দাবনের অপ্রাকৃত এবং নবীন মদন।এই অপ্রাকৃত নবীন মদনের অনুভব,মহানুভাবেরও অসম্ভব।মহাভাবসকল দ্বারাই ইঁহার অনুভব সম্ভবপর হয়। ইনি কেবল মাদনীশক্তিস্বরূপিনী শ্রীমতীর সম্ভোগের পাত্র।মাদন মহাভাব সম্বন্ধে উজ্জ্বলনীলমণি বলেন=*
*"সর্বভাবোদ্গমোল্লাসৌ মাদনাহয়ং পরাৎপর।*
*রাজতে হ্লাদিনীসারো রাধায়ামেব চ সদা"।।*
*🍁অর্থ্যাৎ হ্লাদিনীর সার যে প্রেম, সেই প্রেম যদি সকল প্রকার ভাবোদ্গমে উল্লাসশীল হয়,তবে তাকে মাদন বলা যায়।এই মাদন পরাৎপর অর্থ্যাৎ মোহন হতেও মাদন শ্রেষ্ঠতর।কেবল শ্রীরাধাতেই মাদন মহাভাব বিরাজিত হয়,অন্যত্র এর প্রকাশ নাই।"মদয়তি আনন্দং দদাতি ইতি মদনঃ"।শ্রীশ্রীমদনগোপাল সাক্ষাৎ মন্মথগণেরও আনন্দদায়ক এইজন্য ইনি মন্মথ-মদন।এখন মাদনী শব্দের ব্যূৎপত্তি বলা যাচ্ছে।মাদন মহাভাবের টীকায় শ্রীবিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয় লিখেছেন=*
*"মাদয়তি হর্ষয়তি সর্বং জগদপীতি তস্য ভাবঃ মাদনঃ। অর্থ্যাৎ জগতের হর্ষবর্ধন করেন ইনি,এইজন্য ইহাঁর নাম মাদন।*
*(🔥শ্রীমদনগোপাল প্রাকৃতাপ্রকৃত কন্দর্পসমূহের নিদানস্বরূপ অভিনব কন্দর্প।শাস্ত্রকারগণ এই জন্যই কামবীজ কাম গায়ত্রীর দ্বারা ইহার উপাসনার বিধান করেছেন।তন্ত্রে লিখিত আছে =*
*""মন্ত্রার্ণা দেবতাঃ প্রোক্তাঃ""*
*🍀অর্থ্যাৎ দেবতাসমূহ মন্ত্রঋণী। এই জন্য কামবীজই শ্রীমদনগোপালের এবং কামগায়ত্রীই এই অভিনব কন্দর্পের গায়ত্রী।শ্রীমদনগোপাল অপ্রাকৃত কামদেবতা সেইহেতু তাঁর উপাসনা মন্ত্র কামবীজ এবং তাঁর গায়ত্রীও কামগায়ত্রী।কামগায়ত্রী এই ঃ-*
১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭
*কা ম দে বা য় বি দ্ম
৮ ৯ ১০ ১১ ১২ ১৩
হে, পু ষ্প বা ণা য়
১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮
ধী ম হি ত ন্নোহ
১৯ ২০ ২১ ২২ ২৩ ২৪
ন ঙ্গ প্র চো দ য়াৎ
অর্ধ।
*🔥এই কামগায়ত্রী সার্ধচতুর্বিংশতি (সাড়ে চব্বিশ)অক্ষরাত্মক। এই সাড়ে চব্বিশ অক্ষরযুক্ত কামগায়ত্রীমন্ত্রই শ্রীকৃষ্ণের মীমাংসা-দর্শনে লিখিত আছে।*
*মন্ত্রাত্মিকা দেবতা*
*কামগায়ত্রীমন্ত্র শ্রীমদনগোপালস্বরূপ। শ্রীকবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*কাম গায়ত্রী মন্ত্ররূপ,হয় কেষ্ণের স্বরূপ,*
*সাড়ে চব্বিশ অক্ষর তার হয়।*
*সে অক্ষর চন্দ্র হয়,কৃষ্ণে করি উদয়,*
*ত্রিজগৎ করিল কামময়।।*
*সখি হে কৃষ্ণ মুখ দ্বিজ-রাজরাজ।*
*কৃষ্ণবপু সিংহাসনে,বসি রাজ্য শাসনে,*
*সঙ্গে করি চন্দ্রের সমাজ।।*
*দুইগন্ড সুচিক্কণ, জিনি মণি দর্পণ,*
*সেই দুই পূর্ণচন্দ্র জানি।*
*ললাটে অষ্টমী ইন্দু,তাহাতে চন্দন বিন্দু,*
*সেহ এক পূর্ণচন্দ্র মানি।।*
*করনখ চাঁদের ঠাট,বংশী উপর করে নাট,*
*তার গীত মুরলীর তান।*
*পদনখ চন্দ্রগণ, তলে করে নর্তন,*
*নূপুরের ধ্বনি যার গান।।*
*নাচে মকর কুন্ডল, নেত্র নীলকমল,*
*বিলাসী রাজা সতত নাচায়।*
*ভ্রুধনু নাসিকা বাণ,ধনুর্গুণ দুই কান,*
*নারীমন লক্ষ্য বিন্ধে তায়।।*
*এই চাঁদের বড় নাট,পসারি চাঁদের হাট,*
*বিনিমূলে বিলায় নিজামৃত।*
*কাহো স্মিতজ্যোৎস্নামৃতে, কাহাকে অধরামৃতে,*
*সব লোক করে আপ্যায়িত।।*
*বিপুর আয়তারুণ, মদন মনঘূর্ণন,*
*মন্ত্রী যার এই দুই নয়ন।*
*লাবণ্য কেলিসদন,যার নেত্র রসায়ন,*
*সুখময় গোবিন্দ বদন।।*
*যার পূণ্য পুঞ্জফলে,সে সুখ-দর্শন মিলে,*
*দুই আঁখি কি করিবে পান।*
*দ্বিগুণ বাড়ে তৃষ্ণালোভ,পীতে নারে মনোক্ষোভ,*
*দুঃখে করে বিধির নন্দন।।*
*না দিলেক লক্ষ কোটি,সবে দিল দুটি আঁখি,*
*তাহে দিল নিমেষ আচ্ছাদনে।*
*বিধি জড় তপোধন,রসশূন্য তার মন,*
*নাহি জানে যোগ্য সৃজনে।।*
*যে দেখিবে কৃষ্ণানন,তারে করে দ্বিনয়ন,*
*বিধি হঞা হেন অবিচার।*
*মোর যদি বোল ধরে,কোটি আঁখি তার করে,*
*তবে জানি যোগ্য সৃষ্টি তার।।*
*কৃষ্ণাঙ্গ মাধুর্য্য সিন্ধু,মুখ সুমধুর ইন্দু,*
*অতি মধুর স্মিত সুকিরণ।*
*এ তিন লাগিল মনে,লোভ করে আস্বাদনে,*
*শ্লোক পড়ে স্বহস্ত চালন।।*
*মধুরং মধুরং বপুবস্য বিভো।*
*র্মধুরং মধুরং বদনং মধুরম্।*
*মধুগন্ধি মৃদুস্মিত মেতদহো,*
*সনাতন কৃষ্ণমাধুর্য্য অমৃতের সিন্ধু।।*
*ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৫. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৫)শ্রীরামানন্দ রায় কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*🙏🙏কামবীজ কামগায়ত্রী🙏🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*মোর মন সন্নিপাতি,সব পিতে করে মতি,*
*দুর্দৈব বৈদ্য না দেয় একবিন্দু।।*
*কৃষ্ণাঙ্গ লাবণ্যপুর,মধুর হইতে সুমধুর,*
*তার সেই স্মিত জ্যোৎস্নাভর।*
*মধুর হইতে সুমধুর,তাহা হৈতে সুমধুর,*
*তাহা হইতে অতি সুমধুর।।*
*আপনার এক কণে,ব্যাপে সব ত্রিভুবনে,*
*দশ দিক্ ব্যাপে যার পুর।।*
*🌹এই মাধুর্য্যামৃত পারাবার শ্রীকৃষ্ণমূর্তিই প্রেমিক ভক্তের উপাস্য দেবতা।একবার এই মাধুর্য্যনন্দের সাক্ষাৎ হলে আত্মা চিরতরে আনন্দরসে ডুবে যায়,লৌকিক ভাষায় এই মূর্তির বর্ণনা একেবারেই অসম্ভব হয় ; ভাষা মাধুর্য্যের অকুল সাগরে ডুবে পড়ে।তখন বোবার স্বপ্নবৃত্তান্ত প্রকাশের মতো কেবল মধুরং মধুরং মধুরং মধুরং ভিন্ন আর কিছুই ব্যক্ত করে উঠা যায় না।কামগায়ত্রীদেবতাই এই মাধুর্য্যানন্দ পারাবার।*
*🍀মীমাংসাদর্শনের মতে মন্ত্র দেবতাস্বরূপ।তাই সর্বশাস্ত্রার্থবিদ্ শ্রীচরিতামৃতকার লিখেছেন কামগায়ত্রীই যখন ব্রজমদন-গায়ত্রী, তখন এই কামগায়ত্রীকেই শ্রীকৃষ্ণস্বরূপ জ্ঞান করতে হবে।এরই অক্ষরে অক্ষরে সেই পূর্ণমাধুর্য্য সৌন্দর্যময় শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গাদির বিভাবিত হয়ে থাকে।শ্রীকবিরাজ গোস্বামীমহোদয় এক একটি অক্ষরকে চন্দ্র বলেছেন এবং শ্রীঅঙ্গের প্রতি অবয়বও চন্দ্র বলে বর্ণিত হয়েছেন।গায়ত্র্যাত্মক দেবতাধ্যানে প্রত্যেক অক্ষরকে চন্দ্র বলে বর্ণনা করাই রীতি।অপরন্তু এতদ্বারা ভাবকুমুদাকুল প্রকাশিত হয় বলেই এঁরা চন্দ্র নামে অভিহিত হতে পারেন।*
*🔥শ্রীশ্রীমদনগোপাল শৃঙ্গাররসরাজ মূর্তি। ইনি কোটি মদন বিমোহন,অশেষ চিত্তাকর্ষক,সহজ মধুর তরলতর লাবণ্যমাধুর্য্যামৃত পারাবার এবং মাদনাদি মহাভাবসকলের আস্বাদ্য।কামবীজ ও কামগায়ত্রী☆*
*☆সংস্কৃত ভাষাতে কামগায়ত্রীর একটি ব্যাখ্যা আছে।ব্যাখ্যাটি প্রবোধানন্দ গোস্বামীর কৃত বলে লিখিত, তদ্ যথা=কামেন অভিলাষেণ স্ববিষয়প্রীতিদার্ঢ্যেন দীব্যতি ক্রীড়তি।দিব্য্ ক্রীড়ায়াম্।তস্মৈ কামদেবায় বিদ্মহে (বিদ্ লাভে,বিদ্ জ্ঞানে বা) ধীমহি ধ্যায়েমঃ।কামদেবায় (কথস্ততায়)পুষ্পবাণায়(পুষ্পং কমলং তদেব বাণং যস্য তস্মৈ) তন্নোহনঙ্গঃ কন্দর্পঃ ন অস্মান্ প্রচোদয়াৎ=প্রকর্ষেণ প্রকৃষ্টরূপেণ উদয়াৎ উদয়ং করোতীত্যর্থঃ।চকারঃ সমুচ্চয়ে। ক্লীং পদেন মূর্তিমান পুরুষঃ।কামপদেন গন্ডদ্বয়ম্। দেব পদেনাত্র আস্যম্ ভাল উচ্যতে।অভিলাষেণ স্ববিষয়প্রীতিদার্ঢ্যেন চন্দ্রমন্ডলেন দীব্যতি ক্রীড়তি।তকারেণ অর্ধচন্দ্রঃ ভালে তিলকচন্দ্রঃ।সার্ধচন্দ্র চতুষ্টয়ং ইতো ভিন্ন শিরোহষধি ক্রমাৎ ক্রমরূপেণ বিংশত্যক্ষরেণ বিংশতি চন্দ্রা উচ্যন্তে।কাম গন্ডদ্বয়ে স্নেহে বিলাসে সদ্বিতৃষ্ণযোরিতি ভাস্মদিঃ*
*কা=ককার শ্চন্দ্রিমা চন্দ্র বিলাসানাবসানয়োঃ।ইতি কামপাল।*
*ম=মকারো মধুরে হাস্যে বিকাশেচ্ছা বিতৃষ্ণয়োঃ। ইতি ঋষভঃ।* *দে ইতি দা=দানে ঔণাদিকত্বাদেকারঃ।দা-মা-স্মা-ঘ্নো স্মায়ামিতি এ প্রত্যয়ঃ।*
*দে=শ্চন্দ্রেতু বিলাসে চ গর্হনে মন্ডলেহপিচ ইতি দেবদ্যোতিঃ।দেবশ্চন্দ্রমন্ডলে আস্যে হরিদাসবিলাসয়ো রিতি ব্যাঘ্রভূতিঃ। ব ইতি বন্ বন্ সংকুতৌ বণ ধাতু ঔণাদিকত্বাৎ পঞ্চম্যন্তাৎ তাতে র্ড ইতি ড প্রত্যয়ঃ।*
*বা=প্রকারো লাস্যে লাবণ্যে ইন্দ্রায়ুধে শশধরে,ইতি ভাস্বদিঃ। আকারন্ত বকারণ অর্ধচন্দ্র প্রকীর্তিতঃ লক্ষণানুয়োধাৎ।*
*র=রং চন্দ্রার্ধং বৈভবঞ্চ বিলাসো দারুণ ভয়মিতি ব্যাডিঃ।রি শব্দাদি পঞ্চাক্ষরেণ দক্ষিণাবর্ত ক্রমেণ পঞ্চ চন্দ্রা উচ্যন্তে=তদ্ যথা বিদ্যহে পুষ্প ইত্যাদি বাণাদি পঞ্চাক্ষরেণ বামাবর্তাদি ক্রমেণ পঞ্চচন্দ্রা উচ্যন্তে। তদ্ যথা বাণায় ধীমহি ইত্যাদি। তত্র কৌস্তুভস্য মতে রধস্তাৎ বাম দক্ষিণ রূপেণ দশাক্ষরেণ চন্দ্রা উচ্চন্তে। তত্র দক্ষিণাদি ক্রমেণ হি শব্দাদি পঞ্চাক্ষরেণ পঞ্চচন্দ্রা উচ্চন্তে।তদ্ যথাহি তন্নোহনঙ্গঃ ইত্যাদি।পঞ্চাক্ষরেণ পঞ্চচন্দ্রা উচ্চন্তে।প্রচোদয়াদিত্যাদি।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৬. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৬)শ্রীরামানন্দ রায় কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*কামবীজ--কামগায়ত্রী*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*বি=বিশব্দো বিবিধে প্রাজ্ঞে অঙ্গদেচ শশধরেঃ ইতি বিশ্বঃ।ভু ধা ঞ ধারণ পোষণরে। র্ধাতো রৌণাদিক অপ্রত্যরম্ভা নিপাতঃ ধা ধাতোর্দাম ইতি নিপাতশ্চ ইতি।*
*দ্ম=মঃ মকারো বিবিধে নৃত্যে তেজরাশৌ শশধরে ইতি ভাস্বদিঃ।*
*হে=হে শব্দে হেতুকে বিজ্ঞে ইন্দৌ গুণরসালশো ইতি কামতন্ত্রঃ।*
*পু=পুঃস্যাচ্ছরাসনজ্যোৎস্নানৃত্যচন্দ্রাঙ্কুশাম্বুজে ইতি দেবদ্যুতিঃ।*
*ষ্প=ষ্পকারো বিবিধে প্রাজ্ঞে বিধৌচ মুক্তিদামনু ইতি রত্নহাসঃ।*
*বা=বা শব্দো বুদ্ধৌ প্রাজ্ঞেচ বিধৌচন্দ্রাভিবাদরো ইতি গৌতমিঃ*।
*ণা=ণা কারো বিষয়াবিষ্টে নিত্যচন্দ্র রসায়ণে ইতি স্বভূতিঃ।*
*য়=য় কার শ্চন্দ্রবিশ্বেচ বিশালাক্ষি রসাকরে ইতি ব্যাঘ্রভূতিঃ।*
*ধী=ধীশব্দে বুদ্ধৌ প্রাজ্ঞেচ বিধৌ চন্দ্রাভিযাদবোঃ ইতি গৌতমিঃ।*
*ম=মকারো মারুতে ব্রধ্নে প্রভাকরে নিশাকরে ইতি স্বভূতিঃ।*
*হি=হি শব্দোহি রসাবেশে হিঙ্গুলে চন্দ্রমন্ডলে ইতি দেবদ্যোতিঃ।*
*অনঙ্গ=অনঙ্গোমদনে বিশ্বেহনঙ্গ চন্দ্র বিভাবনে ইতি গোতমঃ।*
*প্র= প্রশব্দো বিবিধে নৃত্যে প্রকৃষ্টে চন্দ্রমন্ডলে ইতি ব্যাঘ্রভূতিঃ।*
*চো=চশ্চন্ডেণে কচ্ছপেচ চন্ডে গৌরে তথৈবচ ইতি মেদিনী।*
*দ=দকারো বিবিধে নৃত্যে চন্দ্রে বিদ্যাধরেহপিচ ইতি ভাস্মদিঃ।*
*য়া=আসনে চ বিধায়ান্তু য়াকার শ্চন্দ্র উচ্চতে ইতি চন্দ্রগৌতমিঃ।*
*ৎ=স্তবস্তোত্র বিকাশেষু তকার শ্চন্দ্র উচ্যতে।*
*🌹এতদদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে যে প্রত্যেকটি অক্ষরেই "চন্দ্র" আছে।এই জন্যও সম্ববতঃ অক্ষরচন্দ্র বলা হয়ে থাকে।*
*🙏প্রতিটি লেখা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল না ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🙏*
*🌹ভজন নির্ণয় গ্রন্থে লিখিত আছে।*
*ব্রজবালা কৈল যেমন সর্বকর্মার্পণ*।
*নন্দপুত্র আশ মাত্র এই মনে মর্ম।।*
*কামবীজ সহ মন্ত্র গায়ত্রী ভজিলে*।
*রাধাকৃষ্ণ লভে গিয়া শ্রীরাসমন্ডলে।।*
*কৃষ্ণের হ্লাদিনী প্রিয়া রাধা ঠাকুরাণী।*
*কামের কন্দর্প হৈল শ্রীকৃষ্ণ আপনি।।*
*রাধাকৃষ্ণ পাইতে কামবীজ সার জান।*
*কামবীজ হইতে হৈল ভজন বিধান।।*
*কামের গায়ত্রী সার-কামবীজ জানি।*
*সর্বদা জানিবে লোক গুরুমুখে শুনি।।*
*কামবীজ রাধাকৃষ্ণ গায়ত্রী সে সখী।*
*অতএব গায়ত্রীবীজ ভজনেতে লিখি।।*
*দ্বাপরে দুর্বাসা বর দিল বালাগণে*।
*কৃষ্ণপ্রেম গায় লাগি ভাবিয়া সে মনে।।*
*সেই দুই জপি তারা সদাই প্রবীণ।*
*ষোড়শ বয়সী সবে বয়সে নবীন।।*
*সেইরূপ কামশাস্ত্র মন্থন করিয়া।*
*শৃঙ্গারের সর্বরস রাধাকৃষ্ণ নিয়া।।*
*রাখিলেন ভক্তগণ আস্বাদ করিতে।*
*কামের গায়ত্রী বীজ অতএব তাতে।।*
*🌹শ্রীভজন-নির্ণয়কার বলেন, শ্রীভাগবতের কথা প্রমাণের সঙ্গে তন্ত্রের কামগায়ত্রী-কামবীজ মিশিয়ে মাধুর্য্যরস-ভজন-প্রণালী পরিস্ফুটরূপে প্রচারিত হয়েছে। শ্রীভাগবত বলেন=*
*"পীতাম্বরধরঃ স্রগ্বী সাক্ষন্মন্মথ-মন্মথঃ।"*
*🍀এতে প্রাকৃতাপ্রকৃতকন্দর্পসমূহের মন্মথ যে শ্রীকৃষ্ণ দ্যোতিত হয়েছেন,তন্ত্রশাস্ত্রও তাঁকেই "মন্মথমন্মথ" জেনে কামবীজ কামগায়ত্রী দ্বারা উপাসনার বিধান করেছেন।তাই ভজন নির্ণয়কার বলছেন=*
*রাধাকৃষ্ণকামবীজ গায়ত্রী সহিত।*
*প্রত্যক্ষ অনঙ্গ হৈয়া করিল বিদিত।।*
*তাঁহার আচার যত সমস্ত ভাতিল।*
*দেব অগোচর সুধা বাটি বাটি দিল।।*
*মাধুর্য্য ভাবের তন্ত্র বিশেষ কহিল।*
*কামবীজ কামতন্ত্রে ভজন স্থাপিল।।*
*ভাগবত বাক্য দিয়া শাস্ত্রের প্রমাণ*।
*চৈতন্য সর্বস্ব তাহে পরমার্থ জ্ঞান*।।
*সর্বলোক অগোচর যে ছিল সংসারে।*
*অর্থ দীপ্তি করি কৈল সমস্ত প্রচারে।।*
*🌻এতদ্দারা বুঝা যাচ্ছে কামগায়ত্রী ও কামবীজ ব্রজের মাধুর্য্যরস ভজনতত্ত্বের মহামন্ত্র, এবং সাক্ষাৎ মন্মথ-মন্মথ শ্রীশ্রীমদনগোপাল ব্রজমাধুর্য্য রসভজনের পরম দেবতা।শ্রীরামানন্দ রায় এই মাধুর্য্যরস দেবতার স্বরূপতত্ত্বই, শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর সামনে নিবেদন করেছেন।শ্রীবৃন্দাবনের এই শৃঙ্গাররসরাজ সাক্ষাৎমন্মথ-মন্মথরূপের এমনই চমৎকারীত্ব যে স্বয়ং লক্ষ্মীও এ মূর্তির পদরেণুস্পর্শাধিকার লাভের জন্য ধৃতব্রতা হয়ে তপস্যা করেন যথা শ্রীভাগবতে=*
*কস্যানুভাবোহস্য ন দেব বিদ্মহে তবাঙ্ঘ্রিরেণুস্পর্শাধিকারঃ।*
*যদ্বাঞ্জয়া শ্রীললনা চরৎতপো বিহায় কামান্ সুচিরং ধৃতব্রতা।।*
*🌹এমন কি সেই মাধুর্য্য নিরীক্ষণ করে তিনি নিজেই বিস্মিত হন এবং তদুপভোগের জন্য শ্রীমতী রাধিকার মত লুব্ধচিত্ত হন। যথা=*
*অপরিকলিতপূর্বঃ কশ্চমৎকারকারী স্ফুরতি মম গরীয়ানেষঃ মাধুর্য্যপূরঃ।*
*অয়মহমপি হন্ত প্রেক্ষ্য যং লুব্ধচেতঃ স্বরভস মুপভোক্তুংকাময়ে রাধিকেব।।*
*(শ্রীললিতমাধবে,৮|২৮)*
*🍀আরও শ্রীমদ্ ভাগবতে পায়=*
*যন্মর্ত্যলীলৌপয়িকং স্বযোগমায়াবলং দর্শয়তা গৃহীতম্।*
*বিস্মাপনং স্বস্যচ সৌভগর্ধেঃ পরং পদং ভূষণভূষণাঙ্গম্।।*
*(শ্রীভাগবত=৩|২|১২)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৭. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৭)শ্রীরায় রামানন্দ কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*🙏বিশুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বর্ণন🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹এই সকল পদ্যে বর্ণিত শ্রীরূপমাধুর্য্যানন্দের পূর্ণভাবে প্রমত্ত হয়ে শ্রীশ্রীমহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণমাধুর্য্যসাগরে নিমগ্ন হতেন এবং বাহ্য ও অর্ধবাহ্য দশায় এই মন্মথ-মন্মথ-রূপমাধুর্য্যের আস্বাদন লালসায় বিরহিনী মহামাদনী ভাবরূপা শ্রীমতীর মতো প্রলাপ করতেন।চরিতামৃতে প্রলাপ-বর্ণনে এই মদনমোহন-রূপমাধুর্য্যের অনেক পদ আছে। ভাবসূচক একটি পদ দেওয়া হল।*
*কৃষ্ণের যতেক লীলা,সর্বোত্তম নর-লীলা,*
*নর-বপু তাহার স্বরূপ।*
*গোপবেশ বেণুকর,নব কৈশোর নটবর,*
*নরলীলা হয় অনুরূপ।।*
*কৃষ্ণের মধুর রূপ শুন সনাতন।*
*যেরূপের এককোণ,ডুবায় সব ত্রিভুবন,*
*সর্ব প্রাণী করে আকর্ষণ।।*
*যোগমায়া চিচ্ছক্তি,বিশুদ্ধ সত্ত্ব-পরিণতি,*
*তার শক্তি লোকে দেখাইতে।*
*এইরূপ রতন, ভক্তগণের গূঢ় ধন,*
*প্রকট কৈল নিত্যলীলা হৈতে।।*
*রূপ দেখি আপনার, কৃষ্ণের হয় চমৎকার,*
*আস্বাদিতে মনে উঠে কাম।*
*স্ব সৌভাগ্য যার নাম,সৌন্দর্য্যাদিগুণ গ্রাম,*
*এইরূপ তার নিত্যধাম।।*
*ভূষণের ভূষণ অঙ্গ,তাহে ললিত ত্রিভঙ্গ,*
*তার উপরে ভ্রুধনু-নর্তন।*
*তেরছ নেত্রান্ত বাণ,তার দৃঢ় সন্তান,*
*বিন্ধে রাধা গোপীগণ মন।।*
*কোটিব্রহ্মান্ড পরব্যোম,তাহার যে স্বরূপগণ,*
*তা-সভার বলে হরে মন।*
*পতিব্রতা শিরোমণি,যারে কহে বেদবাণী,*
*আকর্ষয়ে সেই লক্ষ্মীগণ।।*
*চড়ি গোপীর মনোরথে,মন্মথের মন্মথে,*
*নামধরে মদনমোহন।*
*যিনি পঞ্চশর দর্প, স্বয়ং নব কন্দর্প,*
*রাস করে লয়ে গোপীগণ।।*
*নিজ সম সখা সঙ্গে,গো-গণ-চারণ-রঙ্গে,*
*বৃন্দাবনে স্বচ্ছন্দে বিহার।*
*যাঁর বেণুধ্বনি শুনি,স্থাবরজঙ্গম প্রাণী,*
*পুলক কম্প অশ্রু বহে ধার।।*
*মুক্তাহার বকপাঁতি,ইন্দুধনু পিঞ্জিততি,*
*পীতাম্বর বিজুলি সঞ্চার।*
*কৃষ্ণ নবজলধর,জগৎ-শস্য-উপর,*
*বরিষয়ে লীলামৃতধার।।*
*মাধুর্য্য ভগবত্তাসার,ব্রজে কৈল পরচার,*
*তাহা শুক, ব্যাসের নন্দন।*
*স্থানে স্থানে ভাগবতে,বর্ণিয়াছে জানাইতে,*
*যাহা শুনি মাতে ভক্তগণ।।*
*তারুণ্যামৃত পারাবার,তরঙ্গ লাবণ্য সার,*
*তাতে সে আবর্ত ভাবোদ্গম।*
*বংশীধ্বনি চক্রবাত,নারীর মন তৃণপাত,*
*তাহা ডুবায়,না হয় উদ্গম।।*
*সখিহে কোন তপ কৈল গোপীগণ।*
*কৃষ্ণ-রূপ-মাধুরী, পিবি পিবি নেত্র ভরি,*
*শ্লাঘ্য করে জন্মতনু মন।।*
*যে মাধুরী উর্ধ আন,নাহি যার সমান,*
*পরব্যোম স্বরূপের গণে।*
*যেহ সব অবতরী,পরব্যোম অধিকারী,*
*এ মাধুর্য্য নাহি নারায়ণে।।*
*তাহে সাক্ষী সেই রামা,নারায়ণের প্রিয়তমা,*
*পতিব্রতাগণের উপাস্যা।*
*তেই যে মাধুর্য্য লোভে,ছাড়ি সব কামভোগে,*
*ব্রত করি করিল তপস্যা।।*
*সেইত মাধুর্য্য সার,অন্য সিদ্ধি নাহি তার,*
*তেঁহ মাধুর্য্যাদি গুণখনি।*
*আর সব প্রকাশে,তার দত্ত গুণ ভাসে,*
*যাহাঁ যত প্রকাশে কার্য্য জানি।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের মহামাধুর্য্য এইরূপ শত শত বৈষ্ণব পদাবলীতে বর্ণিত হয়েছে। একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ রস-মাধুর্য্যই ভারতীয় সাহিত্য সমূহকে মধুময় করে রেখেছে।*
*🍀শ্রীশ্রীমহাপ্রভু,শ্রীরামরায় মহানুভবকে শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব বলতে অনুরোধ করেন।শ্রীরামরায় এই মাধুর্য্যসার প্রাকৃতাপ্রাকৃত অনন্তকোটি কন্দর্পনিদান শ্রীবৃন্দাবনের অভিনব কন্দর্পের,উল্লেখ করে শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব কথন পরিসমাপ্ত করেন। ফলে এই শৃঙ্গাররসরাজমূর্তি,সর্বচিত্তাকর্ষক।মহামাদনীশক্তির একমাত্র আস্বাদ্য শ্রীবৃন্দাবনাভিনবকন্দর্প শ্রীশ্রীমদনগোপালই ব্রজমাধুর্য্য ভজনরসের উপাস্য দেবতা। মহাপ্রভু শ্রীভাগবতের মাধুর্য্যসার এবং তন্ত্রমন্ত্রের মাধুর্য্যসার, শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব, শ্রীরামরায়ের শ্রীমুখে অতি অদ্ভুত ও অপূর্ব কৌশলে প্রকটিত করেন।ভাগবতের সেই সাক্ষাৎ মন্মথ-মন্মথই তন্ত্রের কামবীজকামগায়ত্রী অধিষ্ঠিত মন্ত্রাত্মিকা অনন্তমাধুর্য্যময়ী পরম রমণীয় দেবতা।ব্রজরসের ভজনপথে অগ্রসর হতে হলে এই শ্রীমূর্তিই একমাত্র ধ্যেয়।মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণতত্ত্বের যতটুকু জানবার জন্য তাঁর অন্তরঙ্গ ভক্তগণকে অধিকার প্রদান করেছেন, এইখানেই তার চরম সীমা।অতঃপর শ্রীরামরায় শ্রীশ্রীরাধাতত্ত্ব প্রকটন করেন।শ্রীস্বরূপদামোদর গ্রন্থে এই সম্বন্ধে শ্রীরামরায় মহানুভবের উক্তিরই আলোচনা করা হয়েছে বলে এখানে সে সম্বন্ধে পুনরালোচনা করা হল না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৮. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৮)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*শ্রীরাধাকৃষ্ণের বিলাস-মহত্ত্ব*
<><><><><><><><><><><><>
*🙏শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব-শ্রীরাধাতত্ত্ব শ্রবণ করে নিখিলপরমানন্দ-চন্দ্রিকা চন্দ্রমা অনন্তবিলাসময়,সকলভুবন সৌভাগ্য সার সর্বস্ব শ্রীশ্রীমহাপ্রভু বললেন, রামরায়! তোমার ঐ শ্রীমুখে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণতত্ত্ব শুনে পরম প্রীতি লাভ করলাম।এখন একবার শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের বিলাসমহত্ত্বের তত্ত্ব শুনিয়ে আমার মন সুশীতল কর। রামরায় বললেন, প্রভো!শ্রীকৃষ্ণ ধীরললিত সুতরাং নিরন্তর বা সবসময় কামক্রিয়াপরায়ণ।ধীরললিতত্ব=বিলাসমহত্ত্বসূচক। শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধুগ্রন্থে নায়কের চার প্রকার গুণের উল্লেখ আছে, ধীরোদাত্ত,ধীরললিত,ধীরপ্রশান্ত ও ধীরোদ্ধত।এখানে ধীরললিতই আলোচ্য।শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধুতে লেখা আছে=*
*"বিদগ্ধো নবতারুণ্যঃ পরিহাসবিশারদঃ।*
*নিশ্চিন্তো ধীরললিতঃ স্যাৎ প্রায় প্রেয়সীবশঃ"।।*
*🍀ধীরললিত নায়ক বিদগ্ধ,(পন্ডিত বা বিদ্বান),নবতারুণ্যসম্পন্ন (নিত্য তরুণের মত)পরিহাস বিশারদ,নিশিন্ত এবং প্রায় প্রেয়সীবশ।এখানে "প্রায়" শব্দ প্রয়োগের তাৎপর্য্য সম্বন্ধে,শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী উজ্জ্বলনীলমণির টীকায় লিখেছেন="প্রায়" শব্দ স্তৎবশত্বস্য বহির্ব্যক্তীকরণাভাবাদিতিভাবঃ। অর্থ্যাৎ শ্রীকৃষ্ণের বশত্ব কি প্রকার,তা বাইরে প্রকাল করে উঠা সম্ভবপর নয়,এই জন্যই "প্রায়"শব্দ প্রযুক্ত হয়েছে।টীকাকার প্রেয়সী দৃষ্টান্তরূপ শ্রীভাগবতের দুটি শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন,*
*(১)ন পারয়েহহং নিরবদ্যসংযুজামিত্যাদি।*
*(২)অনয়ারাধিতো নুনং ভগবান্ হরিরীশ্বরঃ।*
*🌹নাগররাজ রসিকশেখর শ্রীকৃষ্ণ ষড়ৈশ্বর্য্যশালী ও ভূভারহরণে সমর্থ হয়েও প্রেয়সীবশ।তিনি সকল প্রেয়সীর সমান বশীভূত নন।যাঁরা প্রেমযুক্তা তিনি তাঁদেরই বশীভূত। কিন্তু প্রেমবিশেষযুক্তাগণের মধ্যেও তারতম্য আছে।সেই প্রেমের তারতম্যানুসারে তিনি বশীভূত হন।প্রেম অতিশয় সম্বন্ধে শ্রীমতীই সর্বশ্রেষ্ঠা। সুতরাং ধীরললিত শ্রীকৃষ্ণ সর্বতোভাবে শ্রীমতীর প্রেমাধীন। শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধারই অনুকূল। অনুকূল নায়ক সম্বন্ধে উজ্জ্বলনীলমণিতে লেখা রয়েছে =*
*"অতিরক্ততয়া নার্য্যাং তাক্তান্যললনাস্পৃহঃ।*
*সীতায়াং রামবৎ সোহয়মনুকূলঃ প্রকীর্তিতঃ "।।*
*🔥অর্থ্যাৎ শ্রীরামচন্দ্র যেমন কেবল একমাত্র শ্রীমতী সীতাতেই অনুরক্ত ছিলেন,এইরকম অপরা রমণীদের সমস্ত স্পৃহা (অভিলাষ) পরিত্যাগ করে যে নায়ক এক স্ত্রীতে সর্বতোভাবে আসক্ত হন,তিনিই অনুকূল।টীকাকার শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয় লিখেছেন শ্রীরামচন্দ্রের পক্ষেই ইহা সম্ভবপর। এইরকম দৃষ্টান্ত অন্যকোন স্থানে সুদুর্লভ। কিন্তু বহুবল্লভ শ্রীকৃষ্ণের পক্ষে এইরকম অনুকূলতা দুর্ঘট নয়।তবে একটি কথা এই যে,শ্রীকৃষ্ণ বহুবল্লভ হলেও শ্রীরাধার প্রেম পরমাদ্ভুত ও সর্বাতিশয় সুতরাং তদেতর প্রেমবতীগণের প্রেম বিস্ফারক ; অতএব শ্রীরাধার কথা শুনে স্মরণে ও মননেই তাঁর প্রতি শ্রীকৃষ্ণের প্রবলতম (খুববেশী) অনুরাগের উদ্রেক(উদয় বা সঞ্চার) হওয়ায় তিনি অন্যান্য প্রেমবতীগণকে পরিত্যাগ করে শ্রীরাধা প্রেমসম্ভোগের জন্য লালায়িত হন। তাই শ্রীজয়দেব গোস্বামী বলেন=*
*"রাধামাধায় হৃদয়ে তত্যাজ ব্রজসুন্দরীঃ "।*
*🍀এটিই শ্রীমতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণের অনুকূলতার প্রমাণ। তাই শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী লিখেছেন=*
*"রাধায়ামেব কৃষ্ণস্য সুপ্রসিদ্ধানুকূলতা।*
*তদালোকে কদাপ্যস্য নান্যসঙ্গস্মৃতিং ব্রজেৎ "।।*
*🌹শ্রীরাধার কথা মনে হলে শ্রীকৃষ্ণের অপরা প্রেমবতীগণের আকর্ষণ অতি তুচ্ছ হয়ে পড়ে।তিনি তাঁদের কথা আর মনে করেন না।*
*🔥আগেই বলা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ ধীরললিত সুতরাং সবসময় কামক্রিয়াশীল।এখানে কাম শব্দে প্রেম বলা হয়েছে।প্রেমবতীগণের শিরোমণি শ্রীমতী রাধার প্রেমে তিনি সততই তাঁর অধীন। এইজন্য তিনি সবসময় শ্রীরাধাপ্রেমে প্রমত্ত।উজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে ইহার দৃষ্টান্ত এই যে=*
*"গহনাদনুরাগতঃ পিতৃভ্যামপনীতব্যবহারকৃত্য ভাবঃ*।
*বিহরন্ সহ রাধয়া মুরারি যমুনাকুলবনান্যলঞ্চকার "।।*
*🌺পৌণমাসী বললেন নান্দীমুখী, শ্রীকৃষ্ণের নিশ্চিন্ততা দেখ,প্রগাঢ় অনুরাগ জন্য পিতামাতা ইহাকে কোন ব্যবহারিক কর্মের ভার অর্পণ করেন না।তিনি সবসময়ই শ্রীরাধার সঙ্গে ক্রীড়া করতে করতে যমুনাকুলবর্তী বনসমূহকে অলঙ্কৃত করে থাকেন।*
*আজ এই পর্য্যন্ত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৪৯. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৯)শ্রীরামানন্দ রায় কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের বিলাস-মহত্ত্ব*
*********************************
*🍀তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*"নিরন্তর কামক্রীড়া যাঁহার চরিত"*।
*🌹শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী বলেন,বিহারের অনবচ্ছেদত্বই (বিরামহীনতা)প্রেয়সীবশত্বের পরিচায়ক এবং এটাই ধীর ললিতানুকূলত্বের লক্ষণ।রায় মহাশয় এক কথায় মহাপ্রভুর এই প্রশ্নের উত্তর করলেন, সে কথাটি এই যে "প্রভো" শ্রীকৃষ্ণ ধীরললিত।রসিকভক্ত পাঠকগণের অবিদিত (অজানা)নহে যে বিলাসব্যাপারে ধীরললিত নায়কই প্রগাঢ় উৎকর্ষশালী, বিলাসে ধীরললিত নায়কেরই প্রধানতম গৌরব।সুপ্রাচীন সারস্বতালঙ্কারে লিখিত আছে=*1
*"রত্যুপচারপ্রধানো==ধীরললিতঃ"*
*🌷অর্থ্যাৎ ধীরললিত নায়ক রত্যুপচারপ্রধান।*
*🍀তাই ধীরললিত নায়ক সুরসিক,নবতরুণ,পরিহাসবিশারদ, নিশ্চিন্ত ও প্রেয়সীবশ।নায়িকার অতীব অনুকূল ধীরললিতনায়ক সততই প্রেয়সীর কাছে নতশির,সবসময় প্রেয়সীর প্রেমাধীন। তাঁর চিত্তফলকে প্রণয়নীর প্রেম প্রতিছবি সবসময় উদ্ভাসিত, প্রণয়নী সবসময় তাঁর মনোবর্তিনী। শ্রীপাদ জীব গোস্বামী প্রীতিসন্দর্ভে ভক্তিরসামৃতসিন্ধু লিখিত ধীরললিতের লক্ষণ-বচন উদ্ধৃত করে লিখেছেন ঃ---*
*"এতেচ শ্রীমদ্ ব্রজদেবীসহিতলীলায়াং সুষ্ঠু ব্যক্তাঃ। অর্থ্যাৎ এই সমস্ত গুণ শ্রীমদব্রজদেবীর সঙ্গে লীলায় অতি সুন্দর ভাবেই অভিব্যক্ত হয়েছে। ভক্তিরসামৃতসিন্ধুতে এর যে উদাহরণ উদ্ধৃত হয়েছে তা এই=*
*"বাচা সূচিতশর্বরীরতিকলাপ্রাগলভ্যয়া রাধিকাং।*
*ব্রীড়াকুঞ্চিতলোচনাং বিরচয়ন্নগ্রে সখীনামসৌ।।*
*তদ্বক্ষোরুহ-চিত্র-কেলি-মকরী-পান্ডিত্য-পারং গতঃ।*
*কৈশোরং সফলীকরোতি কলয়ন্ কুঞ্জে বিহারং হরিঃ"।।*
*🌷অর্থ্যাৎ শ্রীকৃষ্ণে যজ্ঞপত্নীসদৃশী অনুরাগবতী রমণীগণের প্রতি তৎ তৎ লীলান্তরঙ্গা দূতী বলেছেন, সখীগণ, শ্রীকৃষ্ণের বিলাসচাতুরী দেখ,দিনেরবেলা শ্রীমতী সখীগণে পরিবেষ্টিত হয়ে রয়েছেন,এমন সময়ে নাগররাজ এসে উপস্থিত হলেন।সখীগণের সামনেই শ্রীকৃষ্ণ রজনীরতিকলা প্রগলভতার কথা বলতে লাগলেন।বিদগ্ধ পরিহাসবিশারদ রসরাজের কথার কৌমুদীছটায়(জ্যোৎস্নাছটায়)লজ্জায় রাধারাণীর নয়নকমল নিমীতিতপ্রায় (চোখ বুজে নিতে )হল। রসবিলাসময় শ্রীকৃষ্ণ এই অবস্থাতেই শ্রীমতীকে সামনে রেখে তাঁর দেহের বিচিত্র কেলি-মকরি-তিলক-রচনার পান্ডিত্য প্রকাশ করলেন।পান্ডিত্য কেন বলছি তা বুঝতে পেরেছ কি? সখীগণের সামনে রজনীরতিকলার প্রগলভতার(নিশিতে যে বিলাস হয়ছিল) কথা শুনে শ্রীমতীর মস্তক নত করলেন।কিন্তু রসরাজ এমনই নিলজ্জ যে তিনি সেইসব কথা বলতে বলতে তৎক্ষণাৎ শ্রীমতীকে সামনে নিয়ে তাঁর বক্ষে তিলক চিত্র করতে বসলেন।!এতে শ্রীমতীর লজ্জা বোধ হল।তাই তিনি নিজের কোমল করে (হাতে) শ্রীকৃষ্ণের হাত মৃদুভাবে সরাতে চেষ্টা করছিলেন এবং লজ্জাভরে রেখা যে কি প্রকার সোজা ও উপযুক্ত ভাবে অঙ্কিত করতে চেষ্টা করছিলেন, ততবার শ্রীমতীর অঙ্গাদি সঞ্চালনে উহার ব্যতিক্রম হচ্ছিল। সুতরাং তিলক-অঙ্কনে নাগররাজ প্রকৃতই এক অদ্ভুত পান্ডিত্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন।* *সেটি উপহাস উক্তি।* *এই ব্যাপারে পুনঃপুনঃ শ্রীমতীর বক্ষঃস্পর্শ নিবন্ধন(হেতু) অতীব প্রেমময় বিলাসের উদ্ভব হয়েছিল। শ্রীকৃষ্ণ এইভাবে কুঞ্জলীলায় প্রেমময়বিলাসে কৈশোরকাল সফল করেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🙏সাধনতত্ত্ব ও ভক্তিতত্ত্ব🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏তাই শ্রীরামানন্দ রায় বলেছেন=*
*নিজে প্রিয় সুখবাঞ্জা নাহি গোপীকার।*
*কৃষ্ণসুখ দিতে কবে সঙ্গম বিহার*।।
*সেই গোপীভাবামৃতে যার লোভ হয়।*
*বেদধর্ম ত্যজি সেই কৃষ্ণকে ভজয়।।*
*রাগানুমার্গে তাঁরে ভজে যেই জন*।
*সেইজন পায় ব্রজে ব্রজেন্দ্র নন্দন।।*
*ব্রজলোকের কোন ভাব লঞা যেই ভজে।*
*ভাব যোগ্য দেহ পাইয়া কৃষ্ণ পায় ব্রজে।।*
*তাহাতে দৃষ্টান্ত উপনিষদ শ্রুতিগণ*।
*রাগমার্গে ভজি পাইল ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*অতএব গোপীভাব করি অঙ্গীকার।*
*রাত্রদিনে চিন্তে রাধা কৃষ্ণের বিহার।।*
*সিদ্ধ দেহ চিন্তি করে তাহাই সেবন*।
*সখী ভাবে পায় রাধা কৃষ্ণের চরণ।।*
*গোপী অনুগতি বিনা ঐশ্চর্য্য জ্ঞানে।*
*ভজিলেও নাহি পায় ব্রজেন্দ্র নন্দনে।।*
*তাহাতে দৃষ্টান্ত লক্ষ্মী করিল ভজন।*
*তথাপি না পাইল ব্রজে ব্রজেন্দনন্দন।।*
*🌹ব্রজসুন্দরীগণ রাগময়ী,তাঁদের আনুগত্যে ভজনই রাগানুগা ভক্তিমার্গের উপাসনা।এই রাগানুগা ভক্তিই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের-লীলামৃতাস্বাদনের সাধন। সখীগণের আনুগত্য-স্বীকার ব্যতীত রাগানুগাভক্তি লাভের সম্ভাবনা নাই।সখীগণই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-ভজনের আদর্শ।গোপীভাব ছাড়া ব্রজরস-আস্বাদনের আর দ্বিতীয় পথ নাই।এইসব বিষয় পরে কিঞ্চিৎ বিস্তৃতরূপে আলোচনা হবে।*
*🍀বহুবিধ শাস্ত্রে বহুপ্রকার সাধনের উপদেশ প্রাপ্ত হওয়া যায়।বেদান্ত বর্ণিত সাধন চতুষ্টয় সর্বজনবিদিত। মধুরভজনশীল বৈষ্ণবগণেরও তা অজানা নাই।ভক্তির সাধন,ভক্ত বৈষ্ণবগণের সর্বদা আদরণীয়।এখানে সর্বপ্রথমে ভক্তির স্বরূপ সম্বন্ধে দুই -একটি কথা সংক্ষেপে আলোচনা করব।*
*🌻নিখিল রসামৃত মূর্তি শ্রীভগবানের সাক্ষাৎকার ও তাঁর সঙ্গরসাস্বাদনের একমাত্র উপায় ভক্তি, শ্রীভগবান বলেন=*
*"ভক্ত্যাহমেকয়া গ্রাহ্যঃ "ভক্তিলভ্যন্তনন্যয়া" সর্বং মদ্ভক্তি যোগেন মদ্ভক্তো লভতেহঞ্জলা সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্ ভক্ত্যা মামভিজানাতি।" ইত্যাদি উক্তি শ্রীভগবদ্ গীতোপনিষদে দেখতে পাওয়া যায়। বাসুদেব উপনিষদে লিখিত আছে=*
*"মদ্রূপমদ্বয়ং ব্রহ্ম মধ্যাদ্যন্তবিবর্জিতম্।*
*স্বপ্রভং সচ্চিদিনন্দং ভক্ত্যা জানাতি চাব্যয়ম্।।"*
*🌹মাঠর শ্রুতি বলেন=*
*"ভক্তিরেবৈনং নয়তি,ভক্তি রেবৈনং দর্শয়তি ;*
*ভক্তিবশঃ পুরুষঃ,ভক্তিরেব ভূয়সী।"*
*🌺অর্থ্যাৎ ভক্তিই ভক্তকে ভগবদ্ধামে নিয়ে গিয়ে শ্রীভগবানকে দর্শন করান,শ্রীভগবান ভক্তির বশ, ভক্তিই ভগবৎ প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ সাধন।*
*🍁শ্রীগোপাল তাপনী শ্রুতিতে দেখা যায় =*
*"বিজ্ঞানঘনানন্দঘনা সচ্চিদানন্দৈকরসে ভক্তিযোগে তিষ্ঠতি।*
*🌹অর্থ্যাৎ বিজ্ঞাননন্দঘন শ্রীভগবান সচ্চিদানন্দৈকরসস্বরূপ ভক্তিযোগেই অবস্থিত।আনন্দময় পরমব্রহ্ম শ্রীভগবানের সাক্ষাৎকার ও সম্ভোগের জন্য ভক্তিই একমাত্র সাধন।*
*🌻ভক্তি কাকে বলে তার কিঞ্চিৎ আলোচনা করা প্রয়োজন। ব্যাকরণ বলেন, "ভজ্ শ্রিঙ্ সেবায়াম্"। ভজ্ ধাতু সেবা অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অপিচ (তথাপি) "ভজ বিশ্রাননে ; বিশ্রাননং দানম্ "।দান অর্থেও ভজধাতুর প্রয়োগ আছে।প্রথমে "ভজ্ সেবায়াম্ " এই ধাতু অর্থ হতেই ভক্তি শব্দের অর্থ নিষ্কর্ষ(যে সারাংশ বার করা হয়েছে বা তাৎপর্য্য)করা যাচ্ছে।নারদ পঞ্চরাত্রে লিখিত আছে=*
*"সর্বোপাধিবিনির্মুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলং।*
*হৃষীকেণ হৃষীকেশসেবনং ভক্তিরুচ্যতে "।।*
*🍀ইন্দ্রিয় সমূহ দ্বারা হৃষিকেশের সেবনই ভক্তি।এই সেবন সর্ব প্রকার স্বার্থাভিসন্ধানময়-উপাধিবর্জিত এবং শ্রীভগবৎপরায়ণতায় নির্মল।*
*🍁এর আর একটি লক্ষণ ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থ হতে উদ্ধৃত করা হয়েছে, তদ্ যথা=*
*"অন্যাভিলাষিতাশূন্যং জ্ঞানকর্মাদ্যনাবৃতম্।*
*আনুকূল্যেন কৃষ্ণানুশীলনং ভক্তিরত্তমা।।"*
*🌹আনুকূল্যভাবে অন্যাভিলাষশূন্যতা (কৃষ্ণ ভাবনা ছাড়া আর অন্য কোন বাসনাশূন্য) এবং জ্ঞানকর্মাদিঅনাবৃত কৃষ্ণানুশীলনই ভক্তি।এই শ্লোকের অনুশীলন শব্দটি শীল ধাতু হতে উৎপন্ন।শীল ধাতুর প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি দুই অর্থ আছে। প্রবৃত্ত্যর্থক শীল ধাতু কায়-বাক্য-মানসীয় চেষ্টারূপ। শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি উদ্দেশ্যে নিখিল চেষ্টাই কৃষ্ণানুশীলন। শ্রবণ-কীর্তন-স্মরণ-পাদসেবন-অর্চন- বন্দন-দাস্য-সখ্য-আত্মনিবেদন প্রভৃতি এর অন্তর্গত।ধ্যানও এই অনুশীলন শব্দের বাচ্য(বলার যোগ্য। ধ্যান=নিবৃত্ত্যর্থ(ক্ষান্তার্থ) অনুশীলন।শ্রীপাদ রামানুজ ধ্যানকে "ধ্রুবানুস্মৃতি" নামে অভিহিত করেছেন এবং ধ্রুবানুস্মৃতিকেই ভক্তি বলে সংজ্ঞা দিয়েছেন।এই কৃষ্ণানুশীলন শ্রীকৃষ্ণের অনুকূল হওয়া আবশ্যক। বৈরভাবে ও স্মরণ মননাদি হতে পারে কিন্তু তা অনুকূল নয়। সুতরাং সেইরকম স্মরণ মননাদি ভক্তিপদ বাচ্য নয়। তথাপি ইহা অন্যাভিলাষবর্জিত হবে। তদ্ব্যতীত এই অনুশীলন জ্ঞান ও কর্মদ্বারা অনাবৃত।শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী টীকায় লিখেছেন এই শ্লোকের জ্ঞান শব্দটি নির্ভেদ ব্রহ্মানুসন্ধান বলে বুঝতে হবে। কিন্তু ভজনীয়ত্বের অনুসন্ধানে যে জ্ঞানের আবশ্যক সে জ্ঞান অবশ্যই প্রয়োজনীয়।কর্ম,অর্থ, স্মৃত্যাদি উক্ত নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম। কর্মাদ্যনাবৃতম্ এই পদ দ্বারা এইরকম কর্মের বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভজনীয়ের পরিচর্য্যাদি কর্ম অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কেন না সেই সব কর্ম অনুশীলন বিশেষ। "জ্ঞান কর্মাদি" পদে যে "আদি" শব্দ আছে সেটিতে বৈরাগ্য-যোগ-সাংখ্যাভ্যাস প্রভৃতি বুঝতে হবে।এইভাবে ভজ্ ধাতুর সেবা অর্থ ব্যাখ্যাত হয়ে থাকে। আবার দেহ মন প্রাণ ও আত্মা শ্রীভগবানের শ্রীচরণারবিন্দে সমর্পণও ভক্তির কাজ। সুতরাং এখানে ভজধাতুর দান অর্থেরও সার্থকতা সুস্পষ্ট প্রতিভাত (উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত) হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৫০. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧