শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
  *শ্রীস্বরূপের গ্রন্থ-সমালোচনা*
  ¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥¥
*🍀শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর নাম এই সময়ে সমগ্র ভারতে প্রচারিত হয়েছিল।নানা জায়গা হতে ভক্তগণ এসে তাঁর শ্রীচরণ সাক্ষাৎ দর্শন করতেন।দেশের কবিগণ তাঁর মহিমা ও কৃপা-সম্বন্ধে বাংলায় ও সংস্কৃত ভাষায় কবিতা লিখতেন।দেবোপাসক মনুষ‍্য ফুলের বাগানে গেলে তাঁর প্রিয়তম উপাস‍্য দেবের জন্য যেমন বেছে বেছে ফুল চয়ন করেন,কবিগণও তেমনি তাঁদের হৃদয়ের ভাব-উদ‍্যানের সরস ও সুন্দর ভাবগুলি নিয়ে,সরস ও সুন্দর ভাষাসূত্রে সেগুলিকে গ্রথিত করে, কবিতা কুসুমের মালা গেঁথে,মহাপ্রভুর শ্রীচরণে অর্পণ করতেন।এইভাবে ভক্তকবিগণ কবিতা-কুসুমের সুন্দর গুচ্ছে অথবা কবিতা-কুসুম-মালায় আমাদের শ্রীমহাপ্রভুর কুসুম-সুকোমল শ্রীচরণকমলের পূজা করতেন।যাঁর যেমন শক্তি,যাঁর যেমন ভক্তি,তিনি সেইরকম ভাব ও ভাষাতেই শ্রীচৈতন‍্যদেবের কৃপাসূচক কবিতা ও গ্রন্থ লিখে এনে ভক্ত-সমাজে পাঠ করতেন।মহাপ্রভুর প্রতি অনুরাগ ছাড়া এতে তাঁদের বিদ‍্যাবত্তা প্রকাশের কোনও অভিসন্ধি থাকত না।তবে তাঁকে সেটি শুনাতে হলে শ্রীদামোদর-স্বরূপের পরীক্ষা ও অনুমোদন ছাড়া সে আশা সফল হত না।*
*☘পূর্ববঙ্গের একজন পন্ডিত মহাপ্রভুর প্রতি অত‍্যন্ত অনুরাগী হয়ে একটি নাটক লিখেছিলেন।আগে থেকেই শ্রীভগবান আচার্য‍্যের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল।তিনি নাটকটি নিয়ে শ্রীভগবান আচার্য‍্যের গৃহে এসে উপস্থিত হন।কবি প্রথমতঃ নাটকটি আচার্য‍্যকে শুনালেন।সেখানে তখন আরও অনেক বৈষ্ণবগণ ছিলেন।তাঁরা সকলেই এই নাটক শুনে যারপরনাই (অতিশয় বা অত‍্যন্ত) প্রীতিলাভ করলেন।সকলেরই ইচ্ছে, মহাপ্রভুকে এই নাটক শুনাতে হবে।কিন্তু আগেই বলেছি গীত হোক,শ্লোক হোক,আর গ্রন্থই হোক, স্বরূপদামোদরের অনুমোদন ছাড়া সেটি মহাপ্রভুর শ্রবণ গোচর করাবার আর অন‍্য উপায় নাই।রসাভাস বা সিদ্ধান্ত-বিরুদ্ধ কথা শুনলে মহাপ্রভুর অত‍্যন্ত কষ্ট হয়।এইজন‍্য তাঁর নিয়ম এই যে যদি কেউ কোন গ্রন্থ,গীত বা শ্লোক তাঁকে শুনাতে ইচ্ছে করেন, সর্বপ্রথমে স্বরূপদামোদর তার বিচার করবেন।রসস্বরূপ স্বরূপের অনুমোদিত হলে ভাবনিধি গৌরহরি তা শুনবেন।*
*যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷গীত শ্লোক গ্রন্থ আদি যেই কিছু আনে।*
*🌷প্রথমে শুনায় সেই স্বরূপের স্থানে।।*
*🌷স্বরূপ শুনিলে যদি লয় তাঁর মন।*
*🌷তবে মহাপ্রভু ঠাঁই করায় শ্রবণ।।*
*🌷রসাভাস হয় যদি সিদ্ধান্ত বিরোধ।*
*🌷সহিতে না পারে প্রভু মনে হয় ক্রোধ।।*
*🌷অতএব প্রভু কিছু আগে নাহি শুনে।*
*🌷এই ত মর্য‍্যাদা প্রভু করিয়াছে নিয়মে।।*
*🌺সুতরাং শ্রীভগবান আচার্য‍্য স্বরূপের কাছে গিয়ে বললেন, একজন কবি মহাপ্রভুর সম্বন্ধে একটা নাটক লিখে এনেছেন।আমি নাটকটি শুনেছি,শুনে সুখী হয়েছি।গ্রন্থখানি ভালই হয়েছে।তুমি একবার শুনে অনুমোদন করলেই মহাপ্রভুকে শুনাতে সাহস হয়।স্বরূপ বড় তীক্ষ্ণ সমালোচক।স্বরূপের জানা আছে মহাভক্ত ছাড়া কেউই বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত সমন্বিত,রসাভাসবিহীন শ্রীশ্রীলীলাত্মক নাটক লিখতে সমর্থ নন।তাই তিনি তাঁর প্রিয়সখা ভগবান আচার্য‍্যের কথায় একটু উপেক্ষা করে বললেন, তুমি গোপ অবতার, তোমার স্বভাব অতি উদার,যে-সে গ্রন্থ,যে-সে শ্লোক শুনলেই তোমার বেশ ভাল লাগে। কিন্তু সিদ্ধান্ত ঠিক রেখে,রস ঠিক রেখে লেখা কিন্তু সকলের সাধ‍্যের মধ্যে নয়।যে-সে কবির কাব‍্যে যে রসাভাস ও সিদ্ধান্ত বিরোধ ঘটবে এতে আর বিচিত্রতা কি?এইসব কাব‍্য শুনে মনে উল্লাস হয় না,প্রত‍্যুত(বরং) কষ্টের কারণই হয়ে থাকে।রস,রসাভাস,ভক্তিসিদ্ধান্ত,ব‍্যাকরণ, অলঙ্কার ও নাটক অলঙ্কার প্রভৃতিতে সম‍্যক্ জ্ঞান না থাকলে শ্রীকৃষ্ণলীলা সম্বন্ধীয় ভক্তজন-শ্রবণযোগ‍্য নাটক লেখা অসম্ভব। তার পরে শ্রীগৌরাঙ্গলীলা তো একবারেই দুর্গম ও রহস‍্যময়।এ সম্বন্ধে হস্তক্ষেপ করা সাধারণ কবির পক্ষে একবারেই অসঙ্গত।*
*🌹যিনি একান্ত ভাবে শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীচরণ অবলম্বন করেছেন,তাঁর যদি কাব‍্য নাটকাদি লিখবার উপযুক্ত বিদ‍্যা ও প্রতিভা থাকে তবে তিনিই এই লীলা সম্বন্ধে নাটক লিখতে পারেন।নচেৎ তা যে-সে লোকের সাধ‍্যের বাইরে।অন্তরঙ্গ না হলে তাঁর কবিতা শুনে বড় সুখের আশা করা যায় না।শ্রীরূপ যে দুইটি নাটকের আরম্ভ করেছেন,তার মুখবন্ধ শুনলেই হৃদয়ে আনন্দ উথলিয়ে উঠে।স্বরূপ এরকম অনেক কথা বলে ঐ নাটক শ্রবণে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন। অনেকের মনে হতে পারে শ্রীস্বরূপ নাটক পড়লেন না,দেখলেন না,অথচ আগে থেকেই এইরকম প্রতিকূল সমালোচনার সূত্রপাত করলেন কেন?এর উত্তরে প্রথমে এই বলা যেতে পারে যে স্বরূপ এই কবির বিদ‍্যাবুদ্ধি সম্বন্ধে হয় তো আগে থেকেই জানতেন।দ্বিতীয়ত মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ ভক্তগণের নাম ও গুণধাম স্বরূপের অজানা ছিল না।এই অভিনব কবির যদিও মহাপ্রভুতে অনুরক্ত ছিল সত‍্য, কিন্তু তাঁর অন্তরঙ্গ ভক্ত ছাড়া অন‍্যের লেখায় রসাভাস ও সিদ্ধান্ত-বিরোধ-দোষ সংঘাটিত হওয়া কিছুমাত্র বিচিত্র নয়। তৃতীয়ত মহাপ্রভুর শক্তি-সঞ্চার ভিন্ন বিশুদ্ধ, সিদ্ধান্তপূর্ণ,রসাভাসবিবর্জিত, মাধুর্য‍্যময়,শ্রবণসুখদ কাব‍্য শ্লোক বা গীতিকা রচিত হওয়া একবারেই অসম্ভব,এটিও স্বরূপের বিশ্বাস ছিল।*
📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
      *শ্রীস্বরূপের গ্রন্থ-সমালোচনা*
       ¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶¶
*🌹শ্রীরূপের "প্রিয়ঃ সোহহং কৃষ্ণ" শ্লোক দেখে স্বরূপ বলেছেন=*
*🌷---- ---- ----যবে এই শ্লোক দেখিল।*
*🌷তুমি করিয়াছ কৃপা তবহুঁ জানিল।।*
*🌻মহাপ্রভুর কৃপা ছাড়া বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত-সমন্বিত ভক্তিরসাত্মক কাব‍্যাদি রচনা করা অসম্ভব, গৌরহরির অন্তরঙ্গ ভক্তগণ এরকম মনে করতেন।তাই শ্রীরূপের নাটক শুনে রায় রামানন্দ বলেছিলেন=*
*🌷তোমার শক্তি বিনে জীবের নহে এই বাণী।*
*🌷তুমি শক্তি দিয়া কহাও হেন অনুমানি।।*
*🌹তার উত্তরে মহাপ্রভু বলেন "প্রয়াগে শ্রীরূপের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল।ইনি অতি গুণবান্।সেখানে শ্রীরূপের গুণে আমার হৃদয় মুগ্ধ হয়।রসের প্রচার করতে হলে এইরকম কাব‍্য-প্রসঙ্গেরই প্রয়োজন।সকলেই কৃপা করে শ্রীরূপকে এই বর দাও যেন তোমাদের বরে শ্রীরূপের ব্রজলীলা-প্রেমরস-বর্ণনে অধিকার জন্মে। রসের প্রচার করতে হলে সিদ্ধান্তাবিরুদ্ধ,মাধুর্য‍্যময়,প্রকৃত রসময় কাব‍্যের প্রচার একান্ত প্রয়োজন এই কথাগুলি শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখের বাণী। শ্রীরূপের নাটকের কথা উল্লেখ করেই মহাপ্রভু বলেছিলেন=*
*🌷মধুর প্রসঙ্গ ইহার কাব‍্য সালঙ্কার।*
*🌷ঐছে কবিত্ব বিনা নহে রসের প্রচার।।*
*🌲শ্রীভগবান আচার্য‍্যের কাছেও শ্রীস্বরূপ শ্রীরূপের ঐ দুইনাটকের কথায় উল্লেখ করে বললেন=*
*🌷রূপ যৈছে দুই কাব‍্য করিয়াছে আরম্ভ।*
*🌷শুনিতে আনন্দ বাড়ে যার মুখবন্ধ।।*
*🌻এই দুই কাব‍্যও সর্বপ্রথমে শ্রীস্বরূপের কাছেই উপস্থিত করা হয়।প্রথমতঃ শ্রীস্বরূপই ইহার রসাস্বাদন করে পরে রসগ্রাহী বৈষ্ণব সমাজে উপস্থিত করেন।পরমরসিকচূড়ামণি শ্রীরামানন্দ রায়ের কাছে এই গ্রন্থের পরিচয়-প্রসঙ্গে শ্রীস্বরূপ যা বলেছিলেন শ্রীচৈতন‍্যামৃত সেটি এরকম লিখিত আছে =*
*🌷স্বরূপ কহে কৃষ্ণলীলা নাটক করিতে।*
*🌷ব্রজলীলা পুরলীলা একত্র বর্ণিতে।।*
*🌷আরম্ভিয়া ছিলা,এবে প্রভু আজ্ঞা পাঞা।*
*🌷দুই নাটক করিতেছেন বিভাগ করিয়া।।*
*🌷বিদগ্ধ মাধব আর ললিত মাধব।*
*🔷মহাপ্রভুর কিরকম আদেশে শ্রীরূপকে দুইটি পৃথক নাটক করতে হল,এখানে সে কথার উল্লেখ করা যাচ্ছে।তাঁর কৃপাময় আদেশ এই যে----*
*🌷কৃষ্ণকে বাহির নাহি করিহ ব্রজ হৈতে।*
*🌷ব্রজ ছাড়ি কৃষ্ণ কভু না যান কাঁহাতে।।*
*🌳শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখের কথায় মহা প্রমাণ।কি উদ্দেশ্যে তিনি এই কথা বললেন বুদ্ধিমান লোক নিজ কল্পনাবলে তাঁর একটা যুক্তি দিতে পারেন,অপরে বুদ্ধিবলে সে যুক্তি বিনষ্টও করতে পারেন, কিন্তু সেই সকল যুক্তি-তর্কের অপেক্ষা না করে তাঁর শ্রীমুখের আদেশ বাক‍্যে সুদৃঢ় বিশ্বাস করাই আমাদের কর্তব‍্য কর্ম।মহাপ্রভুর শ্রীমুখনিঃসৃত এই আদেশ সম্বন্ধে শাস্ত্রীয় প্রমাণও দেখতে পাওয়া যায়, যথা=*
*🌷কৃষ্ণোন‍্যোযদুসম্ভূতো যস্তু গোপেন্দ্রনন্দনঃ।*
*🌷বৃন্দাবনং পরিত‍্যজ‍্য স কচিন্নৈব গচ্ছতি।।*
*🌺কেউ কেউ বলেন শ্রীকৃষ্ণকে ইহাতে সীমাবদ্ধ করা হয়।যিনি সচ্চিদানন্দ মূর্তি পরিগ্রহ করে জনসমাজে প্রকাশিত হন, অসীম অনন্ত হয়েও যিনি সচ্চিদানন্দবিগ্রহে সসীম হয়ে বিরাজ করেন, তাঁর সীমাবদ্ধতা ও অসীমতা মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞানের অবিতর্ক‍্য।কিভাবে কিরকমে সিদ্ধ ভক্তগণের কাছে তাঁর লীলারসের পুষ্টি হয় তা তিনিই জানেন,আর তাঁর নিত‍্যসিদ্ধ ভক্তগণই জানেন,সেটি অন‍্যের দুরধিগম‍্য।*
*আধুনিক শিক্ষিত ও উদারচরিত ব‍্যক্তিগণ উদার ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে এই কথায় মনে করেন আমরা তা জানি না, কিন্তু মহাপ্রভুর একান্ত অন্তরঙ্গ শ্রীরূপকে এই আদেশ মেনে পৃথক বা আলাদাভাবে নাটক রচনা করে রসাভাস দোষ হতে পরিত্রাণ পেতে হয়েছিল।এটি সিদ্ধাবদ্ধার তত্ত্ব কথা।বহির্জগতের মতামতের সঙ্গে এ কথার কোন সম্পর্ক নাই। রসের এইসব সূক্ষ্মতত্ত্ব স্বরূপ ও মহাপ্রভুর কৃপা ছাড়া জানবার আর অন‍্য উপায় নাই।তাই শ্রীস্বরূপ যে-সে কবির কাব‍্য এইরকম উপেক্ষার বিষয় ও শ্রবণের অযোগ্য বলে মনে করতেন। সুতরাং তিনি তাঁর প্রিয়সখা ভগবান আচার্য‍্যের আশ্রিত কবির নাটকটি পাঠ করতে তত আগ্রহ প্রকাশ করলেন না। কিন্তু আচার্য‍্য কিছুতেই ক্ষান্ত হলেন না।তিনি বললেন,তুমি শুনলেই ভালমন্দের বিচার হবে।এইরকমে তাঁর সখার একান্ত অনুরোধ এড়াতে না পেরে স্বরূপ ভক্তসমাজে এই গ্রন্থ পাঠ করতে রাজী হলেন।*
🦚🦋🦚🦋🦚🦋🦚🦋🦚🦋🦚🦋🌷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
   *নাটক সমালোচনা ও মায়াবাদ*
  ????????????????????????????
*🌳শ্রীস্বরূপদামোদর পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মণের নাটক পরীক্ষা করবেন।ভক্তগণ অত‍্যন্ত আহ্লাদ সহকারে শুনবার জন্য সমবেত হলেন।শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর লীলা-বর্ণনই নাটকের বিষয়, সুতরাং ভক্তগণের হৃদয়ে ঐ নাটক শোনার জন্য যেন আনন্দ আর ধরছে না। যথাসময়ে শ্রীস্বরূপ এসে উপস্থিত হলেন।নাটক প্রণেতা ব্রাহ্মণ অতীব ভক্তিভাবে স্বরূপকে প্রণাম করলেন।স্বরূপ বললেন "তোমার নাটকের নান্দী শ্লোক পাঠ করো,শুনি। কবি পড়তে লাগলেন=*
*🌷বিকচকমলনেত্রে শ্রীজগন্নাথসংজ্ঞে,*
*🌷কনকরুচিরিহাত্মন‍্যাত্মতাং যঃ প্রপন্নঃ।*
*🌷প্রকৃতিজড়শেষং চেতয়ন্নাবিরাসীৎ,*
*🌷স দিশতু তব ভব‍্যং কৃষ্ণচৈতন‍্যদেব।।*
*🍁শ্লোকটি শ্রবণ করা মাত্রই এক স্বরূপ ছাড়া সকলেই একবাক‍্যে এই শ্লোকের প্রশংসা করতে লাগলেন।স্বরূপ কিছুসময় নীরব থেকে যেন একটু অসন্তুষ্ট ভাবে বললেন, ওহে শ্লোকটির ব‍্যাখ‍্যা কর একবার শোনা যাক।স্বরূপের আদেশ পেয়ে কবি এই শ্লোকের যে ব‍্যাখ‍্যা করেছিলেন, তার মর্ম শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে এইরকম লিখিত আছে,যথা=*
*🌷কবি কহে জগন্নাথ সুন্দর শরীর।*
*🌷চৈতন‍্য গোসাঞী তাহাতে শরীরী মহাধীর।।*
*🌷সহজ জন্য জগতের চেতনা করাইতে।*
*🌷নীলাচলে মহাপ্রভু হৈলা আবির্ভূতে।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ স্বভাবত জড় ও অশেষ বিশ্বের চৈতন‍্য উ‍ৎপন্ন করবার জন্য প্রফুল্ল কমলের মত নয়নযুগলশীল শ্রীজগন্নাথ নামধেয় দেহে যে কনককান্তি শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য আত্মার স্বরূপ হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন,সেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব তোমাদের মঙ্গল বিধান করুন।*
*🌻এই ব‍্যাখ‍্যা শুনে সকলেই সন্তুষ্ট হলেন, কিন্তু স্বরূপদামোদরের মুখে অসন্তুষ্টির চিহ্ন স্পষ্টভাবেই প্রকাশ পেল।স্বরূপ এতে অত‍্যন্ত দুঃখিত হলেন।তিনি একটু রুষ্ট হয়ে বললেন "মূর্খ,এই বুঝি তোমার নাটক লেখা?এই শ্লোকে তুমি যে কি ঘোরতর অপরাধ করে রেখেছ তা কিছুমাত্র বুঝতে পারোনি।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷পূর্ণানন্দ চিৎস্বরূপ জগন্নাথ রায়।*
*🌷তারে কৈলি জড় নশ্বর প্রাকৃত কায়।।*
*🔶মহাপ্রভুর ভক্তগণ শ্রীবিগ্রহকে সাক্ষাৎ শ্রীভগবান্ বলেই হৃদয়ে ধারণ করেন। "শ্রীজগন্নাথসংজ্ঞক দেহে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য আত্মস্বরূপে প্রকটিত হয়েছিলেন" এই কথায় শ্রীমূর্তিকে জড় বলে আরোপিত করা হয়েছে। তাই স্বরূপদামোদর রুষ্টভাবে বললেন "শ্রীজগন্নাথকায় পূর্ণানন্দ ও চিৎস্বরূপ।সেটিকে তুমি প্রাকৃত,জড় ও নশ্বরকায় (কায়=দেহ বা অঙ্গ,) বলে কল্পনা করেছ?প্রাকৃত দেহে যেমন আত্মা প্রবেশ করে সেটিকে সচেতন করে,পূর্ণানন্দ চিৎস্বরূপ জগন্নাথদেহ-সম্বন্ধেও সেইরকম কল্পনা করা ঘোরতর অপরাধ।এতে যে কেবল এক জগন্নাথের স্থানে অপরাধ হয়েছে তা নয়,মহাপ্রভুর কাছেও তোমার গুরুতর অপরাধ হয়েছে।*
*🌷পূর্ণ ষড়ৈশ্বর্য‍্য চৈতন‍্য স্বয়ং ভগবান।*
*🌷তারে কৈলি ক্ষুদ্র জীব স্ফুলিঙ্গ সমান।।*
*☘কোন দেহে প্রবেশ করে সেটিকে সজীব করা ক্ষুদ্র জীবাত্মার কাজ, কিন্তু মহাপ্রভু পূর্ণষড়ৈশ্বর্য‍্যশীল, তিনি চিদানন্দদেহে নিজ ঐশ্বর্য‍্যে নিজ মহিমায় স্বপ্রকাশ। ক্ষুদ্র জীবাত্মার মত তিনি অন‍্যদেহ অবলম্বন করে প্রকটিত হবেন কেন? ক্ষুদ্র জীবাত্মা কর্মফলে প্রাকৃত দেহে প্রবেশ করে সেটিকে সচেতন করে।জীব-জগতে এইজন‍্য দেহ-দেহীর ভেদ রয়েছে।দেহী চলে গেলে তার মৃতদেহ পড়ে থাকে। যথা শ্রীমদ্ভাগবতে পায়=*
*🌷বাসাংসি জীর্ণাণি যথা বিহায় নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরাণি তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা ন‍্যন‍্যনি সংযাতি নবানি দেহী।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত‍্যাগ করে অন‍্য নতুন বস্ত্রগুলি গ্রহণ করে,তদ্রূপ জীবাত্মা জীর্ণ শরীর পরিত‍্যাগ করে অন‍্য নতুন দেহ গ্রহণ করেন।*
*🌺কিন্তু শ্রীভগবান্ স্বরাট (ঈশ্বর)। তিনি স্বরূপ-শক্তি-বিশেষে এই প্রপঞ্চে প্রকটিত হয়ে থাকেন।ক্ষুদ্রজীবাত্মার মত তাঁকে অন‍্য দেহ ধারণ করতে হয় না।তিনি যেমন আনন্দ স্বরূপ,তাঁর দেহও তদ্রূপ।এই জন‍্যই "ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহঃ " বলে শাস্ত্রসিদ্ধান্ত স্থিরীকৃত হয়েছে। বরাহপুরাণ বলেন=*
*🌷ন তস‍্য প্রাকৃতা মূর্তি র্মেদমজ্জাস্থিসম্ভবা।*
*🌷ন যোগিত্বাদীশ্বরত্বাৎ সত‍্যরূপোহচ‍্যুতো বিভুঃ।।*
*🌻শ্রীভগবৎ সন্দর্ভে লিখিত আছে =*
*🔷শ্রীভগবান্ সচ্চিদানন্দ, সুতরাং শ্রীভগবদ্বিগ্রহ সচ্চিদানন্দরূপ।চিদ্রূপ শ্রীবিগ্রহ নিত‍্য,বিভু সর্বাশ্রয়,স্থূল,সুক্ষ্ম প্রভৃতি প্রাকৃতবস্তুর অতিরিক্ত,প্রত‍্যগরূপ,স্বপ্রকাশ, সর্বশ্রুতিসিদ্ধ সুতরাং পরম তত্ত্বরূপ। শ্রীমদ্ভাগবতে ঋষভদেব বলেছেন=*
*🌷ইদং শরীরং মম দুর্বিভাব‍্যং তত্ত্বং হি মে হৃদয়ং যত্র ধর্ম্মঃ পৃষ্ঠে কৃতো মে যদধর্ম আরাদ্ অতোহি মামৃষভং প্রাহু রার্য‍্যাঃ।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হে পুত্র!আমার মানুষের আকার এই শরীর অতীব দুর্বিভাব‍্য ইত্যাদি।এই উপলক্ষ্যে ষট্ সন্দর্ভকার পূজ‍্যপাদ শ্রীজীব গোস্বামীপাদ বলেন="নন্বেবং ঋষভদেবস‍্যাপি বিগ্রহে তাদৃশতাচেৎ কিমুত স্বয়ং ভগবতঃ", অর্থ‍্যাৎ ঋষভদেবের দেহের সম্বন্ধেই যদি এই কথা হয়,তবে সাক্ষাৎ শ্রীভগদ্বিগ্রহের আর কথা কি? শ্রীভগবানের অংশাদির শ্রীমূর্তি সম্বন্ধেও শ্রীভাগবত বলেন=*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
*নাটক সমালোচনা ও মায়াবাদ*
******************************
*🍁শ্রীভগবানের অংশাদির শ্রীমূর্তি সম্বন্ধেও শ্রীভাগবত বলেন=*
*🌷সত‍্যজ্ঞানানন্তানন্দমাত্রৈক রসমূর্ত্তয়ঃ,*
*🌷অস্পৃষ্ট ভুরি মাহাত্ম্য অপিহ‍্যুপনিষদ্দৃ শাম।*
*🍀হে মহারাজ!সত‍্য জ্ঞান অনন্ত আনন্দমাত্র রূপ যে ব্রহ্ম,সেই ব্রহ্মই তাঁদের মূর্তি স্বরূপ হয়েছিলেন।অতএব তাঁদের মাহাত্ম্য জ্ঞানচক্ষু আত্মজ্ঞজনগণেরও স্পর্শযোগ‍্য হয়নি।*
*🌳শ্রীভাগবতে বহু জায়গায় তাঁর আনন্দ-মূর্তির বর্ণনা আছে। যথা=*
   *🌷আনন্দ মূর্ত্তিমুপগৃহ‍্য দৃশাত্মলব্ধং।*
*☘অর্থ‍্যাৎ মথুরাবাসী স্ত্রীগণ উদ্ঘাটিত নেত্ররূপ-দ্বার দিয়ে মনোমধ‍্যে উদিত আনন্দমূর্তি বিভুকে আলিঙ্গনপূর্বক বিরহজ ব‍্যথা প্রশমিত করলেন। আবার কুব্জার কথাও শুনুন=*
*🌷দোর্ভ‍্যাং স্তনান্তরগতং পরিরভ‍্যকান্তঃ আনন্দমূর্তিমজহাদতিদীর্ঘ তাপম্।*
*🌺কুব্জা দুই স্তনের মধ‍্যগত আনন্দ মূর্তি কান্তকে দুই বাহু দ্বারা আলিঙ্গন করে দীর্ঘকালের হৃদয়তাপ প্রশমিত বা শান্ত করলেন।লীলাশুক এই শ্রীমূর্তিকে একবারেই "আনন্দ-সংপ্লব" বলে বিনিশ্চয় করেছেন,যথা=*
*🌷মাধুর্য‍্য-বারিধি-মদাম্বু-তরঙ্গভঙ্গী-শৃঙ্গার-শঙ্কুলিত শীত কিশোর বেশং আনন্দহাস ললিতানন-চন্দ্রবিম্ব মানন্দ-সংপ্লবমনুপ্লবতাং মনো মে।*
*🌻(মৎকৃত বেদান্তভাষ‍্য ও শ্রীআনন্দমীমাংসায় মায়াবাদ ও শ্রীআনন্দ মূর্তি সম্বন্ধে সবিশেষ দ্রষ্টব‍্য।)*
*🌹এইমত যখন শ্রীবিগ্রহের স্বকীয় স্বরূপ,তখন সাক্ষাৎ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর ক্ষুদ্র দেহীর মত অন‍্য দেহ গ্রহণ করবেন কেন? সুতরাং বঙ্গদেশীয় কবিলিখিত বর্ণনায় তাঁর সচ্চিদানন্দ বিগ্রহত্বে দোষারোপ করা হল।তাই পন্ডিতকুল মুকুটমণি শ্রীস্বরূপ বললেন=*
*🌷দুই ঠাঁই অপরাধে পাইবি দুর্গতি।*
*🌷অতত্ত্বজ্ঞ তত্ত্ব বর্ণে তার,এই রতি।।*
*🔶তিনি আরও বললেন এই বাক‍্যে তোমার আরও এক অপরাধ হয়েছে। তুমি শ্রীভগবৎসম্বন্ধে দেহদেহিভেদ-কল্পনা করেছ।শ্রীভগবানে কখনও দেহদেহিবিভাগ হতে পারে না। যথা মহাবরাহপুরাণে=*
*🌷সর্বে নিত‍্যাঃ শাশ্বতাশ্চ দেহাস্তস‍্য পরাত্মনঃ।*
*🌷হেয়োপাদেয়রহিতা নৈব প্রাকৃতিকাঃ ক্বচিৎ।।*
*🌷পরমানন্দ-সন্দোহো জ্ঞানমাত্রাশ্চ সর্বতঃ।*
*🌷দেহদেহিভিদাচাত্র নেশ্বরে বিদ‍্যতে ক্বচিৎ।।*
    *(শ্রীভগবৎ সন্দর্ভধৃত মহাবরাহপুরাণ বচন)।*
*🌲অর্থ‍্যাৎ পরমাত্মার যে সব শ্রীদেহ আছেন,তৎসমুদায় নিত‍্য শাশ্বত এবং হেয়-উপাদেয় রহিত।সেই শ্রীমূর্তি সব অপ্রাকৃত পরমানন্দ রাশি এবং সর্বতোভাবে জ্ঞানমাত্র। ঈশ্বরে কখনও দেহদেহিভেদ নাই। শ্রীলঘুভাগবত বলেন=*
*🌷সচ্চিদানন্দ সান্দ্রত্বাৎদ্বয়োরেবাবিশেষতঃ,*
*🌷ঔপচারিকএবাত্র ভেদোহয়ং দেহদেহিনঃ।*
*🔷তথাচ কৌর্ম্মে=*
*🌷দেহদেহিভিদাচাত্র নেশ্বরে বিদ‍্যতে ক্বচিৎ।*
*🔴সিদ্ধান্ত রত্নাকরে পূজ‍্যপাদ শ্রীবলদেব বিদ‍্যাভূষণ মহাশয় বলেন=*
*🌷যদিত্মিকো ভগবান তদাত্মিকা ব‍্যক্তিঃ।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবান যদাত্মক তার শ্রীবিগ্রহও তদাত্মক।শ্রীভগবান জ্ঞানাত্মক,ঐশ্বর্য‍্যাত্মক ও শক্ত‍্যাত্মক। তাঁর শ্রীবিগ্রহও তথাবিধ।*
*🔷শ্রীভগবদ্বিগ্রহজড় নন,ইনি সচ্চিদানন্দ।তবে যে,ভগবদ্দেহের বিনাশ ও নির্য‍্যাণ প্রভৃতির কথা শোনা যায় সেটির উদ্দেশ্য কেবল অসুরবিমোহনমাত্র। যথা=*
*🌷রাজন্ পরস‍্য তনুভৃজ্জনাপ‍্যরেহা,*
*🌷মায়াবিড়ম্বনা মবেহি যথা নটস‍্য।*
 *🌹ফলে সাধারণ ঐন্দ্রজালিকগণই যখন ইন্দ্রজাল-সাহায‍্যে নিজ অঙ্গ ছেদনাদি দ্বারা লোকের বিস্ময় উৎপাদন করে,তখন শ্রীভগবানের মায়ায় তাঁর আত্মনির্য‍্যাণ-ব‍্যাপারে অসুর-বিমোহন অথবা অন‍্য কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রাকৃত দেহের মত তাঁর একটি মায়াদেহ সাধারণের সামনে পরিলক্ষিত না হবে কেন?ফলতঃ ভগবানের জড়দেহ শাস্ত্রসিদ্ধান্ত-বিরুদ্ধ।*
*অবিজ্ঞায় পরং দেহমানন্দত্মান মব‍্যয়ম্,*
*আরোপয়ন্তি জনিমৎ পঞ্চভূতাত্মকং জড়ম্।*
            *(শ্রীভাগবতে শ্রীভগদ্বাক‍্যং)*
*🌷ন তস‍্য প্রাকৃতা মূর্তি র্মেদমজ্জাস্থিসম্ভবা।*
*🌷ন যোগিত্বাদীশ্বরত্বাং সত‍্যরূপোহচ‍্যুতো বিভুঃ।।*
                           *(বরাহবাক‍্যং)*
*🌻শ্রীবিগ্রহ ভিন্ন উপাসকগণ তাঁর ধ‍্যান করতে আদৌ সমর্থ হন না।তদীয় ভক্ত-উপাসকগণের ধ‍্যানের জন্য তিনি তাঁর সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ প্রকটন করেন।ফলে চিদানন্দ শ্রীকৃষ্ণ-বিগ্রহকে মায়িক বলে মনে করা গুরুতর অপরাধ।এটিই মায়াবাদের একটা প্রধানতম দোষ।তিনি সেই জায়গায় শ্রীমদ্ভাগবত হতে যে দুইটি শ্লোক পাঠ করে তার ব‍্যাখ‍্যা করেন, স্বরূপ এজায়গায় দুইটি শ্লোক আবৃত্তি করলেন। তদ্ যথা=*
*🌷নাতঃ পরং পরম যদ্ভবতঃ স্বরূপ,*
*🌷মানন্দমাত্র মবিকল্পমবিদ্ধবর্চ্চঃ,*
*🌷পশ‍্যামি বিশ্বসৃজমেক মবিশ্বমাত্মন,*
*🌷ভুতেন্দ্রিয়াত্মকমিদ স্ত উপাশ্রিতোস্মি।*
*🔵অর্থ‍্যাৎ ব্রহ্মা কহিলেন, হে পরম! তোমার এই রূপের পর আর কোন পূর্ণভগবদ্-রূপ আমি দেখতে পাই না। নির্বিশেষ চিদ্রূপ ব্রহ্ম ইঁনার মাত্রা,ইঁনাতে সৃষ্টাদি কল্পনা নাই,ইঁনার শক্তি মায়াসম্ভিন্ন নয়,ইনি অংশপুরুষ দ্বারা বিশ্বসৃষ্টি করেন,ইনি অদ্বিতীয়, ইনি বিশ্ব হতে ভিন্ন।সমস্ত ভূত ও ইন্দ্রিয়ের আত্মা ইঁনাকে আশ্রয় করে রেখেছেন।ভগবন্ আমি তোমার এই রূপের আশ্রয় গ্রহণ করলাম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
*নাটক সমালোচনা ও মায়াবাদ*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*ভগবন্ আমি তোমার এই রূপের আশ্রয় গ্রহণ করলাম।*
*🌷তদ্বা ইদং ভুবন-মঙ্গল-মঙ্গলায়,*
*🌷ধ‍্যানে স্ম নো দর্শিতং তং উপাসকানাং,*
*🌷তস্মৈ নমো ভগবতেহনু বিধেম তুভ‍্যং,*
*🌷যো নাদৃত নরকভাগ ভি রসৎপ্রসঙ্গৈঃ।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ হে ভুবনমঙ্গল!আমরা তোমার উপাসক।তোমার সেই সচ্চিদানন্দরূপ আমাদের মঙ্গলের জন্য ধ‍্যানে দেখালে।কুতর্কপরায়ণ বহির্মুখগণ তোমার সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ মায়া-কল্পিত বলে অনাদর করে নরকগামী হয়।আমরা সততই তোমাকে প্রণাম করি।*
*🍁এখন দেখা যাচ্ছে যে, জীব-সম্বন্ধে দেহদেহি ভেদ আছে। কিন্তু শ্রীভগবান সম্বন্ধে এরকম ভেদ কল্পনা করাও মহা অপরাধ। পূর্ববঙ্গীয় নাটককার প্রথমে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে শ্রীজগন্নাথ দেহের আত্মা বলে বর্ণনা করায় শ্রীজগন্নাথকে প্রকারান্তরে জড় বলে কল্পনা করেন।এতে তিনি শ্রীজগন্নাথদেবের কাছে অপরাধী হলেন।আবার ষড়ৈশ্বর্য‍্যপূর্ণ চিদানন্দবিগ্রহ শ্রীগৌরাঙ্গকে শ্রীজগন্নাথ-দেহের দেহীবলে কল্পনা করে ক্ষুদ্রজীবস্ফুলিঙ্গবৎ বর্ণনা করলেন।এতে শ্রীগৌরাঙ্গের কাছেও তিনি অপরাধী হলেন।ঈশ্বরে ও জীবে পার্থক্য কি?তা দেখাবার জন্য স্বরূপদামোদর আরও বললেন=*
*🌷হ্লাদিন‍্যাসম্বিদাশ্লিষ্টঃ সচ্চিদানন্দ ঈশ্বরঃ,*
*🌷স্বাবিদ‍্যো সংবৃতো জীব সংক্লেশনিকরাকরঃ।*
               *(ভগবৎ সন্দর্ভধৃত সর্ব্বজ্ঞসূত্রম্)*
*🌹মায়াবাদে জীব ব্রহ্মে প্রভেদ নেই। কিন্তু এই মত নিতান্তই অসার ও আশ্রদ্ধেয়।জীব ও ঈশ্বরের অনন্ত প্রভেদ। শ্রীভগবান হ্লাদিনী ও সম্বিৎ শক্তিতে আলিঙ্গিত হয়ে জ্ঞানানন্দ স্বরুপ।আর জীব=অজ্ঞানে আবৃত ও নানান কষ্টের খনি। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীভগদ্বাক‍্যে এর অনুবাদ এরকম=*
*🌷সন্ন‍্যাসী চিৎকণ,জীব কিরণকণ সম।*
*🌷ষড়ৈশ্বর্য‍্য পূর্ণকৃষ্ণ হয় সূর্যোসম।।*
*🌷জীব,ঈশ্বর-তত্ত্ব কভু নহে সম।*
*🌷জলদগ্নি রাশি যৈছে স্ফুলিঙ্গের কণ।।*
*🌷যেই মূঢ় কহে জীব ঈশ্বরের সম।*
*🌷সেইতো পাষন্ডী হয় দন্ডে তারে যম।।*
                 *(মধ‍্যলীলা ১৮শ পরিঃ)*
*☘সুতরাং স্বয়ং ভগবান শ্রীগৌরাঙ্গে দেহিত্ব আরোপিত হওয়ায় স্বরূদামোদর মহাদুঃখে পূর্ববঙ্গীয় কবিকে অপরাধী বলে তিরস্কার করলেন।শ্রীবিগ্রহে কর-পদাদির সাক্ষাৎকারে যদিও স্বগতভেদ দেখা যায়,তাও বাহ‍্য প্রতীতিমাত্র, কিন্তু শ্রীবিগ্রহ কেবলই আনন্দমাত্র। যথা=*
*🌷নির্দ্দোষ পূর্ণগুণবিগ্রহ আত্মতন্ত্রো,*
*🌷নিশ্চেতনাত্মকশরীর গুণৈশ্চ হীনঃ,*
*🌷আনন্দমাত্রকরপাদমুখোদরাদি,*
*🌷সর্ব্বত্রচ স্বগতভেদবিবর্জ্জিতাত্মা।*
                          *(নারদ পঞ্চরাত্র)*
*🍀অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবান মুগ্ধত্বাদি-দোষশূন‍্য ও সার্বজ্ঞত্বদি-গুণ-পূর্ণবিগ্রহ, ইনি আত্মতন্ত্র, জড়শরীর-ধর্মবিবর্জিত, আনন্দহস্ত,আনন্দপাদ, আনন্দমুখমন্ডল,আনন্দোদরাদি এবং সর্বত্র স্বগতভেদ বিবর্জিত।তবে যে কর-চরণাদির ভেদ প্রতীতি(জ্ঞান বা বোধ)হয়,তা কেবল তদীয় নানা আবির্ভাব সংঘটন পটীয়সী বিশেষ শক্তির প্রভাবেই ঘটে থাকে।এই স্বজাতীয়-বিজাতীয়-স্বগতভেদরহিত সচ্চিদানন্দ বিগ্রহকে মায়াবাদীরা মায়িক বলে কল্পনা করে।এটি ঘোরতর অপরাধ।শ্রীচরিতামৃতের সিদ্ধান্ত এই যে=*
*🌷নাম,বিগ্রহ,স্বরূপ তিন একরূপ।*
*🌷তিন ভেদ নাহি তিন চিদানন্দরূপ।।*
*🌷দেহ দেহী নাম নামী কৃষ্ণে নাহি ভেদ।*
*🌷জীবের ধর্ম নামরূপ স্বরূপ বিভেদ।।*
*🌷অতএব কৃষ্ণের নাম,দেহ বিলাস।*
*🌷প্রাকৃতেন্দ্রিয় গ্রাহ‍্য নহে হয় স্বপ্রকাশ।।*
*🌷কৃষ্ণ নাম,কৃষ্ণ গুণ,কৃষ্ণ লীলা বৃন্দ।*
*🌷কৃষ্ণের স্বরূপ সম সচ্চিদানন্দ।।*
*🌹শ্রীভগবৎ সন্দর্ভের সিদ্ধান্ত এই যে=*
*🌷কৃষ্ণমেন মবেহিত্বমাত্মান মখিলাত্মনং,*
*🌷জগদ্ধিতায় সোহপ‍্যত্র দেহীবাভাতি মায়য়া।*
*🌻এনং "নৌমীড‍্য তেহভ্র বপুষ" ইত্যাদি বর্ণিত রূপং অবেহি।*
*মৎ প্রসাদলব্ধ বিদ্বত্তয়েবানুভব।নতু তর্কাদিনা বিচারয়েত‍্যর্থদি এবং ভূতোহপি মায়য়া কৃপয়া জগদ্ধিতায় সর্বস‍্যাপি স্বাত্মানাং প্রতিচিত্তাকর্ষাণায় দেহীব জীব ইব আভাতি ক্রীড়তি।ইব শব্দেন শ্রীকৃষ্ণস্তু ন জীববৎ পৃথক দেহং প্রবিষ্টবানিতি গম‍্যতে।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ "এনং" শব্দে পূর্ব বর্ণিত শ্রীকৃষ্ণরূপই বুঝে নিতে হবে। অর্থ‍্যাৎ আমার প্রসাদলব্ধ-জ্ঞানদ্বারাই অনুভব কর,তর্কাদি দ্বারা এই তত্ত্ব বিচার করিও না।শ্রীভগবান এবংভূত হয়েও মায়া (কৃপা) দ্বারা জগতের হিতের জন্য (আপনার প্রতি সকলের চিত্তাকর্ষণ করার জন্য ) দেহীর ন‍্যায় (জীবের ন‍্যায়) ক্রীড়া বা খেলা করেন। "দেহীইব"শব্দ প্রয়োগের অর্থ এই যে শ্রীকৃষ্ণ জীবের মত পৃথক দেহে প্রবেশ করে স্বপ্রকাশ হন না,স্বীজ বা নিজ স্বরূপ-শক্তিতে শ্রীবিগ্রহ প্রকাশিত হন। পূজ‍্যপাদ শ্রীজীব গোস্বামী ভগবৎসন্দর্ভে শ্রীবিগ্রহের যে লক্ষণ প্রকাশ করেছেন তা দার্শনিক তত্ত্বে পরিপূর্ণ। তিনি লিখেছেন=*
*🌹অথ শ্রীবিগ্রহস‍্য পূর্ণস্বরূপলক্ষণত্বং সাধিতং। তচ্চযুক্তং---সর্বশক্তিযুক্ত পরমবস্ত্বেকরূপত্বাত্তস‍্য।তত্র যো নিজান্তরঙ্গনিত‍্যধর্মঃ শ্রীবিগ্রহাগমক স্তৎতৎসংস্থানলক্ষণস্তদ্বিশিষ্টং পরমানন্দলক্ষণং বস্ত্বেব শ্রীবিগ্রহঃ।স এব চান্তরঙ্গধর্মান্তরাণামৈশ্বর্য‍্যাদীনামপি নিত‍্যাশ্রয়ত্বাৎ স্বয়ং ভগবান।*
*🔵অর্থ‍্যাৎ শ্রীবিগ্রহের যে পূর্ণস্বরূপ লক্ষণত্ব সাধিত হল,তা উপযুক্তই হল। কেননা,সর্বশক্তিযুক্ত যে পরম বস্তু তা এক ভিন্ন দুই নহেন।নিজান্তরঙ্গ নিত‍্যধর্ম শ্রীবিগ্রহতাগমক।এই শ্রীবিগ্রহতাগমক যে সংস্থানলক্ষণ, এবং সেই সংস্থানলক্ষণবিশিষ্ট পরমানন্দলক্ষণ যে বস্ত,তাইই শ্রীবিগ্রহ।এই শ্রীবিগ্রহই ঐশ্বর্য‍্যাদি অন্তরঙ্গ ধর্ম সকলেরও নিত‍্য আশ্রয়। সুতরাং এই বিগ্রহই শ্রীভগবান। এইসব লক্ষণ দ্বারা মায়াবাদ নিরস্ত হয় এবং অপ্রাকৃত শ্রীবিগ্রহতত্ত্ব প্রকাশিত হন।বৈষ্ণব-সিদ্ধান্ত অপার। আমরা এখানে এই সিদ্ধান্ত-নিবহের দিঙমাত্র নির্শেশ করলাম।শ্রীস্বরূপ পূর্বদেশীয় ব্রাহ্মণের নাটকের নন্দীতেই সিদ্ধান্তবিরোধ দেখে ব্রাহ্মণের ও অন‍্যান‍্য ভক্তগণের উপকারের জন্য শ্রীবিগ্রহ সম্বন্ধে তাঁকে সৎসিদ্ধান্তের সার শুনিয়ে বললেন=*
*🌷কাঁহা পূর্ণানন্দৈশ্বর্য‍্য কৃষ্ণ মায়েশ্বর।*
*🌷কাঁহা ক্ষুদ্র জীব দুঃখী মায়ার কিঙ্কর।।*
*🔷পরম কারুণিক শ্রীস্বরূপ কবির নাটকের নান্দী-শ্লোক যে সিদ্ধান্ত বিরোধে প্রদর্শন করে প্রকৃত তত্ত্বের ব‍্যাখ‍্যা করলেন,তা শুনে সকলেই বিস্মিত ও স্তম্ভিত হলেন।*
*তাঁরা যে কাব‍্যের এত প্রশংসা করেছিলেন,তার নান্দী শ্লোকেই এরকম ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত-বিরোধ ছিল, এটি দেখে সকলেই লজ্জিত হলেন।কবি তো লজ্জা ভয় ও বিস্ময়ে যৎপরোনাস্তি অপ্রতিভ হলেন।তাঁর এই বিমর্ষভাব দেখে স্বরূপের দয়া হল।তিনি তাঁর হিতের জন্য কৃপা করে অতঃপর যে সদুপদেশ প্রদান করেছিলেন,তাতে জীবমাত্রেরই পরম হিত সাধিত হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
      *শ্রীস্বরূপের সদয় উপদেশ*
      ▪▪▪▪▪▪▪▪
*🙏নান্দী শ্লোকের সিদ্ধান্ত-বিরোধ-প্রদর্শন করায় পূববঙ্গীয় ব্রাহ্মণ অতীব ভীত হলেন। কেননা শ্রীস্বরূপ স্পষ্টতই বলেছিলেন এই রকম অসৎ-সিদ্ধান্তিত শ্লোকে শ্রীজগন্নাথ ও শ্রীগৌরাঙ্গ উভয়ের কাছেই অপরাধ হয়েছে। এ কথায় ব্রাহ্মণের হৃদয় কেঁপে উঠিল।ব্রাহ্মণ নিজে গৌরভক্ত। তবে বৈষ্ণব-সিদ্ধান্তের মর্ম তাঁর জানা ছিল না।তাঁর শ্লোক মন্দ হোক,সেই নিন্দায় তাঁর কোনও দুঃখের কারণ নাই। কিন্তু মহাপ্রভুর কাছে তাঁর অপরাধ হয়েছে,এই কথায় ব্রাহ্মণের চক্ষু হতে দুই বিন্দু জল নীরবে গড়িয়ে পড়ল।শ্রীস্বরূপ পরম কারুণিক।এই ব্রাহ্মণের প্রতি কৃপা করার জন্যই তো তাঁর এত কথায় অবতারণা। তা না হলে তিনি নান্দী শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা শুনেই কানে আঙ্গুল দিয়ে উঠে যেতেন!স্বরূপ জানতেন ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুর ভক্ত,তবে একান্ত ভক্ত না এবং বৈষ্ণব সিদ্ধান্তেও অভিজ্ঞ নন।শ্রীস্বরূপ-দামোদরের কৃপা হল। তিনি ব্রাহ্মণকে উপলক্ষ্য করে সমস্ত জগতের হিতের বা মঙ্গলেল জন্য এই সময়ে কিছু সুধামাখা উপদেশ প্রদান করলেন। শ্রীস্বরূপ বললেন, তোমার দুঃখিত হবার কোন কারণ নেই, শ্রীভগবান অবশ্যই তোমায় কৃপা করবেন।এখন গ্রন্থ লেখা রেখে দাও। কিছুদিন বৈষ্ণবের কাছে গিয়ে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ কর।একান্ত ভাবে শ্রীচৈতন‍্য-চরণ আশ্রয় কর, আর প্রতিনিয়ত শ্রীচৈতন‍্য-ভক্তগণের সঙ্গ কর। তোমার পান্ডিত‍্য আছে তা আমি জানি, কিন্তু শ্রীচৈতন‍্য চরণাশ্রয় না করলে,তাঁর ভক্তগণের সঙ্গ না করলে, সিদ্ধান্ত-সমুদ্রের তরঙ্গ প্রভাব অন‍্য কিছুতেই বোধগম‍্য হবে না। সিদ্ধান্ত-মর্ম না জানলে শ্রীকৃষ্ণলীলা বর্ণন করা বিড়ম্বনা মাত্র।হাজার প্রকারের পান্ডিত‍্য থাকুক, কিন্তু সিদ্ধান্ত-জ্ঞান-বিহীন পান্ডিত‍্য পান্ডিত‍্যই নহে।তুমি অবশ্যই অতীব প্রীতি সহকারে এই শ্লোক রচনা করেছ, কিন্তু সিদ্ধান্ত-জ্ঞানের অভাবে দুই দিকেই দোষ পড়েছে।*
*যাঁরা শ্রীকৃষ্ণলীলা বা শ্রীগৌরাঙ্গলীলা সম্বন্ধে কোন গ্রন্থ রচনা করতে চান অথবা কিছু বলতে চান,তাঁদের পক্ষে শ্রীস্বরূপের এই উপদেশ আলোকবর্তীকাস্বরূপ। তোমার পান্ডিত‍্য থাকতে পারে, কিন্তু সৎ-সিদ্ধান্ত জ্ঞানের অভাবে তোমার গ্রন্থের কথা ভক্তজনের হৃদয়ে শেলের মত বিদ্ধ হবে। তোমার বর্ণনা শক্তি থাকতে পারে,তুমি চিত্রকরের মত রঙ ফলিয়ে লীলার ঘটনা বিশেষভাবে এঁকে তুলতে পার, কিন্তু সিদ্ধান্তের ও রসের নিয়মজ্ঞানের এবং স্বাভাবিক সৌন্দর্যের হৃদয়গ্রাহী ভাবের অভাবে তোমার অঙ্কিত প্রতিচ্ছবি অস্থান-সন্নিবিষ্ট,অপপ্রযুক্ত ও স্বাভাবিকতার বিরুদ্ধ হয়ে উঠবে। এ জগতের যেমন নিয়ম আছে,চিন্ময় জগতেও সেইরকম নিয়ম রয়েছে। সেইসব নিয়মের দিকে নজর না থাকলে,অথবা ঐসব নিয়মে অভিজ্ঞতা না থাকলে,বর্ণনা অস্বাভাবিক ও অপূর্ণ হয়ে পড়ে। অন‍্য রকম শত পান্ডিত‍্যের সাহায্যেও শ্রীকৃষ্ণলীলা ও শ্রীগৌরলীলা বর্ণনা করলেও সিদ্ধান্ত বিরোধে ও রসভঙ্গে শ্রীলীলা ভক্তজনের অপাঠ‍্য হয়ে পড়েন।এইজন‍্য শ্রীস্বরূপের প্রথম উপদেশ এই যে=*
*(১)যদি ল্রীলীলাগ্রন্থ লিখে জীবন সার্থক করতে হয় তবে বৈষ্ণবের নিকট শ্রীভাগবত পড়তে হবে।এই উপদেশের প্রথম মর্ম "ভাগবত পাঠ কর"।আর দ্বিতীয় মর্ম=বৈষ্ণবের কাছে উনার উপদেশ গ্রহণ কর। আমরা আগে শ্রীভাগবতের কথায় বলছি।শ্রীভাগবতই বৈষ্ণবশাস্ত্রের প্রধানতম শ্রীগ্রন্থ।পুরাণাদিতে শ্রীভাগবত পুরাণের অনন্ত মাহাত্ম্য পরিকীর্তিত হয়েছে।আমরা এখানে এই বিষয়ে দুই একটি মাত্র উদাহরণের উল্লেখ করছি=*
*(১)নিশ্রেয়সায় লোকস‍্য ধন‍্যং স্বস্ত‍্যয়নং মহৎ,*
*তদিদং প্রাহয়ামাস সুত আত্মবতাং বরঃ।*
*সর্ববেদেতিহাসানং সারং সারং সমুদ্ধৃতং।।*
*(২)কৃষ্ণে স্বধামোপগতে ধর্মজ্ঞানাদিভিঃ সহ,*
*কলৌ নষ্টদৃশামেষ পুরাণার্কোহধূনোদিতঃ।*
*(৩)যস‍্যাং বৈ শ্রূয়মাণায়াং কৃষ্ণে পরম পুরুষে।*
*ভক্তি রৎপদ‍্যতে পুংসঃ শোকমোহভয়াপহা।।*
*(৪)সর্ববেদান্তসারংহি শ্রীভাগবতমিষ‍্যতে,*
*তদ্রসামৃততৃপ্তস‍্য নান‍্যত্র স‍্যাদ্ররতি ক্বচিৎ।*
*(৫)শ্রীমদ্ভাগবতং পুরাণ মমলং যদ্বৈষ্ণবানাং প্রিয়ম্,*
*যস্মিন্ পারম হংস‍্য মেক মমলং জ্ঞানং পরংগীয়তে,*
*যত্রজ্ঞানবিরাগভক্তি সহিতং নৈষ্কর্মমাবিস্কৃতং,*
*তচ্ছৃ ণ্বন্ বিপঠন বিচারণপরো ভক্ত‍্যা বিমুচ্চেনরঃ।*
*🌹এইরকম বহু বহুতর প্রমাণে শ্রীভাগবত-মাহাত্ম‍্য ভুরি ভুরি ঘোষণা হয়েছে।বৈষ্ণবের কাছে ভাগবত উপদেশ গ্রহণ করতে হবে কেন,এখন তার কারণ বলা যাচ্ছে।পান্ডিত‍্যের প্রভাবে অনেকেই শ্রীভাগবত ব‍্যাখ‍্যা করেন বটে, কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতের প্রকৃত মর্ম বৈষ্ণব-পন্ডিতগণের যেমনভাবে বোধগম‍্য,অন‍্যের পক্ষে সেরকম নয়। শ্রীধর স্বামী পরিস্কার বলেছেন=*
*🌷ভক্ত‍্যা ভাগবতং গ্রাহ‍্যং নবুদ্ধ‍্যা নচটীকয়া।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ ভক্তিসিদ্ধান্ত সহকারেই ভাগবত বুঝতে হবে,টীকার ও বুদ্ধির সাহায্যে শ্রীভাগবতের মর্ম অনুভব হবে না। সুতরাং ভক্তিরসপুষ্ট শ্রীবৈষ্ণবগণের কাছেই শ্রীভাগবত অধীতব‍্য (অধ‍্যয়ন করা উচিত )।নচেৎ শ্রীভাগবতের প্রকৃত রস-মর্ম কিছুতেই হৃদয়ে প্রতিভাত হবে না।*
*🌷ভগবদ্ধর্মবক্তারং ভগবচ্ছাস্ত্র বাচং,*
*🌷বৈষ্ণবঃ গুরুবদ্ভক্ত‍্যা পূজয়েজ জ্ঞানদায়কং।*
*🌹ফলতঃ শ্রীভগবদ্ধর্ম-বক্তা ছাড়া অন‍্যের পক্ষে শ্রীভাগবত-গ্রন্থের অনুভবই সম্ভবনীয় নহে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
         *শ্রীস্বরূপের সদয় উপদেশ*
         ^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^
*🔴যথা শ্রীচৈতন‍্য ভাগবতে=*
*🌷সবে মহা অধ‍্যাপক করি গর্ব্ব ধরে।*
*🌷বালকেও ভট্টাচার্য্য সনে কক্ষা করে।।*
*🌷যেবা ভট্টাচার্য্য চক্রবর্তী মিশ্র সব।*
*🌷তাহারাহ না জানয়ে গ্রন্থ অনুভব।।*
*🌷শাস্ত্র পড়াইয়া সবে এই কর্ম করে।*
*🌷শ্রোতার সহিতে যম-পাশে ডুবি মরে।।*
*🌷না বাখানে যুগধর্ম কৃষ্ণের কীর্তন।*
*🌷দোষ বিনা গুণ কার না করে কথন।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷গীতা ভাগবত যে যে জনেতে পড়ায়।*
*🌷ভক্তির ব‍্যাখ‍্যান নাহি তাহার জিহ্বায়।।*
*🌷এই মত বিষ্ণুমায়া মোহিত সংসার।*
*🌷দেখি ভক্ত সবে দুঃখে ভাবেন অপার।।*
*🌹সুতরাং মহাধ‍্যাপক হলেও শ্রীভাগবতের মর্ম-অনুভব সকলের সাধ‍্যায়ত্ত নয়।এইজন‍্য শ্রীভগবদ্ধর্মপরায়ণ বৈষ্ণব-পন্ডিতের কাছে শ্রীভাগবত পাঠ করে সদ্ধর্ম ও সৎসিদ্ধান্ত জানতে হবে,এটিই শ্রীস্বরূপের উপদেশ।*
*🌻তাঁর দ্বিতীয় আদেশ একান্ত ভাবে শ্রীচৈতন‍্যচরণ আশ্রয় করা।কি রকমে "একান্ত ভাবে"শ্রীচৈতন‍্যচরণ আশ্রয় করতে হয়, ইতঃপূর্বে তার সম্বন্ধে শাস্ত্রীয় উপদেশ যৎকিঞ্চিৎ উদ্ধৃত করা হয়েছে।ন‍্যায়াচার্য‍্য শ্রীভগবান আচার্য‍্য কি রকমে একান্ত ভাবে শ্রীচৈতন‍্যচরণ আশ্রয় করেছিলেন, শ্রীল সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় এবং শ্রীল হরিদাস ঠাকুর কি রকমে একান্ত ভাবে শ্রীচৈতন‍্যচরণের আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন,ভক্তগণের তা অজানা নাই।পরম কারুণিক শ্রীস্বরূপ এই নাটককারকেও সেইরকম ভাবে শ্রীচৈতন‍্যচরণের আশ্রয় গ্রহণ করতে উপদেশ করলেন।*
*🌹তাঁর তৃতীয় উপদেশ এই যে,*
*🌷চৈতন‍্যের ভক্তগণের নিত‍্য কর সঙ্গ।*
*🌷তবে ত জানিবে সিদ্ধান্ত সমুদ্র-তরঙ্গ।।*
*🌺শাস্ত্র অনন্ত মুখে ভক্তসঙ্গের মাহাত্ম্য পরিকীর্তন করেছেন। এ জায়গায় আত্মশোধনের জন্য এ বিষয়ের কিঞ্চিৎ উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় বোধ হচ্ছে।পূজ‍্যপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷দুই ভাই হৃদয়ের ক্ষালি অন্ধকার।*
*🌷দুই ভাগবত সঙ্গে করান সাক্ষাৎকার।।*
*🌷এক ভাগবত বড় ভাগবত শাস্ত্র*।
*🌷আর ভাগবত ভক্ত ভক্তি রস পাত্র।।*
*🌷দুই ভাগবত দ্বারা দিয়া ভক্তি রস।*
*🌷তাহার হৃদয় তার প্রেমে হয় বশ।।*
*🔶শ্রীসনাতন শিক্ষায় আমাদের পতিত-উদ্ধারণ মহাপ্রভু এই বিষয়ে যে সব অমৃতের মত উপদেশ কথা বলেছেন,সেই সব কথা অতীব শক্তিশীল এবং সর্বত্রই হিতকর।মহাপ্রভুর সুধাময়ী উপদেশবাণী এই যে=*
*🌷সংসার ভ্রমিতে কোন ভাগ‍্যে কেহ তরে।*
*🌷নদীর প্রবাহে যেন কাষ্ঠ লাগে তীরে।।*
*🍀এটি অতি আশার কথা।শ্রীভগবান দয়াময়। তিনি সাধুরূপে কখন কখন দেখা দিয়ে জীবের পরিত্রাণ করে থাকেন। শ্রীমদ্ভাগবত বলেন=*
*🌷মৈবং মমাধমস‍্যাপি স‍্যাদেবচ‍্যুত-দর্শনং।*
*🌷হ্রিয়মাণঃ কালনদ‍্যা ক্বচিত্তরতি কশ্চন।।*
*🌳অর্থ‍্যাৎ আমি অধম হলেও আমি শ্রীকৃষ্ণদর্শন হবে।কেননা,দেখতে পাওয়া যায় কালরূপ নদীতে নীয়মান (যে বা যাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে) হয়েও কখন কখন কেউ কেউ পরিত্রাণ লাভ করে থাকে। এইরকম পরিত্রাণ লাভের সময়ে চিদ্ধামের নিয়মবশে পরম হিতকর সাধু-সঙ্গ সংঘটিত হয়।*
*🌷কোন ভাগ‍্যে কারো সংসার ক্ষয়োন্মুখ হয়।*
*🌷সাধু সঙ্গে তার কৃষ্ণে রতি উপজয়।।*
*🔵শ্রীমদ্ভাগবত বলেন=*
*🌷ভবাপবর্গো ভ্রমতো যদাভবেৎ জনস‍্য তর্হ‍্য চ‍্যুত সৎসমাগমঃ,*
*🌷সৎসঙ্গমো যহি তদৈব সদ্গতৌ পরাবরেশে ত্বয়ি জায়তে রতিঃ।*
*🔴হে অচ‍্যুত!এই সংসার ভ্রমণশীল জনগণের যখন সংসার-ক্ষয়ের সময় উপস্থিত হয়,তখন তার পক্ষে তোমার ভক্তজনের সঙ্গলাভ হয়ে থাকে।তারসঙ্গ পেয়ে গেলেই নিচ সর্বসঙ্গের বিরতি হয়। সুতরাং ব্রহ্মাদি তৃণ পর্য‍্যন্ত সকলের নিয়ন্তাস্বরূপ যে তুমি, সেই তোমাতেই তখন তাঁর রতি জন্মে থাকে।*
*🌷সাধু সঙ্গে কৃষ্ণ ভক্ত‍‍্যে শ্রদ্ধা যদি হয়।*
*🌷ভক্তি ফল প্রেম হয় সংসার যায় ক্ষয়।।*
*🌷মহৎ কৃপা বিনা কোন কর্মে ভক্তি নয়।*
*🌷কৃষ্ণ-প্রাপ্তি দূরে রহু সংসার না যায় ক্ষয়।।*
*🔵শ্রীভাগবত বলেন=*
*🌷রহূগণৈততপসা ন যাতি ন চেজ‍্যয়া নির্ব্বপণাদ্ গৃহাদ্বা,*
*🌷ন চ্ছন্দসা নৈব জলাগ্নি সূর্য‍্যৈ র্বিনা মহৎ পাদ রজোভিষেকাৎ।।*
*🔶অর্থ‍্যাৎ হে রহূগণ মহৎপাদরেণুর অভিষেক ছাড়া তপঃ ইজ‍্যা,সন্ন‍্যাস, বেদপাঠ ও অন‍্যান‍্য প্রকার বহুবিধ সাধনা প্রভৃতি কোন রকম কাজ দ্বারাই এই ভগবানকে লাভ করা যায় না।*
*🌷নৈষাং মতি স্তাবদুরুক্রমাঙ্ঘ্রিং,*
*🌷স্পৃশত‍্যনর্থাপগমো যদর্থঃ।*
*🌷মহীয়সাং পাদরজোহভিষেকং,*
*🌷নিষ্কিঞ্চনানাং ন বৃণীত যাবৎ।।*
*❤অর্থ‍্যাৎ বিষয়-অভিমান-বিরহিত মহত্তগণের চরণরেণু বা পদরজ দ্বারা যতক্ষণ অভিষেক না হয়, ততক্ষণ পর্য‍্যন্ত মানুষের মতি নিবৃত্তি-ফলপ্রদ শ্রীভগবচ্চরণ স্পর্শ করতে পারে না।*
*🌷সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়*।
*🌷লব মাত্র সাধু সঙ্গে সর্ব সিদ্ধি হয়।।*
*☘যথা শ্রীমদ্ভাগবতে প্রথম স্কন্ধে অষ্টাদশ অধ‍্যায়ের এয়োদশ শ্লোক=*
*তুলয়াম লবেনাপি ন স্বর্গং ন পুনর্ভবং।*
*ভগবৎসঙ্গি-সঙ্গস‍্য মর্ত্ত‍্যানাং কিমুতাশিষঃ।।*
*🌻শ্রীভগবৎ সঙ্গি-সঙ্গের কণামাত্রও যখন স্বর্গাপবর্গের সঙ্গে তুলনা করতে পারি না,তখন সেটি মরণশীল মানবগণের তুচ্ছ রাজ‍্যাদির সঙ্গে যে তুলনা হতে পারে না,তা বলাই বাহুল‍্য। উক্ত শ্রীগ্রন্থের পঞ্চম স্কন্ধের পঞ্চম অধ‍্যায়ের দ্বিতীয় শ্লোক এই যে=*
*মহৎ সেবাং দ্বারমাহুর্বিমুক্তে স্তমোদ্বারং,*
*যোষিতাং সঙ্গি-সঙ্গম্ মহান্তস্তে শমচিত্তাঃ,*
*প্রশান্তাঃ বিমন‍্যবঃ সুহৃদঃ সাধবো যে।*
*🔥পন্ডিতেরা মহৎ সেবাকেই ভগবৎ প্রাপ্তির এবং যোষিৎ (কামনারী) সঙ্গীর সঙ্গকে নরক প্রাপ্তির দ্বার বা দরজা স্বরূপ বলেছেন।যাঁরা সমচিত্ত,প্রশান্ত,ক্রোধবিহীন ও সর্বভূতের হিতকারী তাঁরাই মহান।*
*🌷কৃষ্ণভক্তি জন্মমূল হয় সাধুসঙ্গ।*
*🌷কৃষ্ণপ্রেম জন্মে তিঁহো পুনঃ মুখ‍্য অঙ্গ।।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
       *শ্রীস্বরূপের সদয় উপদেশ* 
      ##################
*🍀শ্রীভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধের একত্রিংশ (৩১) অধ‍্যায়ে পঞ্চত্রিংশ (৩৫) শ্লোক এই যে =*
*🌷সতাং প্রসঙ্গান্মম বীর্য‍্যসংবিদে,*
*🌷ভবন্তি হৃৎকর্ণ রসায়নাঃ কথাঃ*।
*🌷তজ্জোষণাদার্থপবর্গ বর্ত্মনি,*
*🌷শ্রদ্ধা রতি র্ভক্তি রনুক্রমিষ‍্যতি*।।
*☘শ্রীকপিলদেব বলেছেন,সাধুজনের সঙ্গে সম্মিলন হলে আমার প্রভাব-প্রকাশক যে সব কথা উপস্থিত হয়,তা হৃদয় ও কর্ণের রসায়ন,সেই সব সেবনে আমাতে আশু (তাড়াতাড়ি)অবিদ‍্যানিবর্ত্তক শ্রদ্ধা রতি এবং প্রেমভক্তি ক্রমে ক্রমে উৎপন্ন হয়ে থাকে। শ্রীনারায়ণ-ব‍্যূহ-স্তবে লেখা আছে =*
*🌷যে ত‍্যক্ত লোকধর্মার্থা বিষ্ণুভক্তিবশংগতাঃ।*
*🌷ভজন্তি পরমাত্মনং তেভ‍্যো নিত‍্যং নমোনমঃ।।*
*🌷এবং শ্রীভগবদ্ভক্ত মাহাত্ম্যামৃতবারিধেঃ।*
*🌷বিচিত্রভঙ্গলেখার্হোলোভলোলং বিনাস্তি কঃ।।*
*🌷অতঃ শ্রীভগবদ্ভক্তজনানাং সঙ্গতিঃ সদা।*
*🌷কার্য‍্যা সর্ব্বৈ প্রযত্নৈশ দ্বৌলোকৌ বিজিগীষুভিঃ।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুর উপদেশ এই যে =*
*🌷সাধুসঙ্গ নামকীর্তন ভাগবত শ্রবণ।*
*🌷মথুরাবাস শ্রীমূর্ত্তির শ্রদ্ধায় সেবন।।*
*🌷সকল সাধন শ্রেষ্ঠ এই পঞ্চ অঙ্গ।*
*🌷কৃষ্ণপ্রেম জন্মায় এই পাঁচের অল্প সঙ্গ।।*
*🌻এ সম্বন্ধে সংস্কৃত বচন এই যে =*
*🌷সজাতীয়াশয়ে স্নিগ্ধে সাধৌ সঙ্গঃ স্বতোবরে।*
*🌷শ্রীমদ্ভাগবতার্থানামাস্বাদো রসিকৈঃ সহ।।*
*🌷শ্রদ্ধা বিশেষতঃ প্রীতিঃ শ্রীমূর্ত্তিরঙ্ঘ্রি সেবনে।*
*🌷নাম সঙ্কীর্তনং শ্রীমন্মথুরা মন্ডলে স্থিতিঃ।।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ স্ব-সদৃশ বাসনাশালী প্রেমবান এবং আপনা হতে সর্বতোভাবে উৎকৃষ্ট সাধুর সঙ্গ, রসজ্ঞ ভক্তের সঙ্গে শ্রীমদ্ভাগবতের আস্বাদন, বিশেষ শ্রদ্ধাপূর্বক শ্রীমূর্তির চরণ সেবা,নাম-সংকীর্তন ও মথুরামন্ডলে বাস এই পঞ্চ অঙ্গই সাধনার প্রধান। পরম উদার,পরম কারুণিক মহাপ্রভুর আরও দয়াসূচক আশ্বাসময় আদেশের কথাও শুনুন=*
*🌷এক অঙ্গ সাধে কেহ সাধে বহু অঙ্গ।*
*🌷নিষ্ঠা হৈলে উপজয়ে প্রেমের তরঙ্গ।।*
*🌹সুতরাং একমাত্র সাধুসঙ্গই প্রেম উৎপত্তির হেতু।প্রেমোৎপত্তি হলেই প্রেমধামের নিয়ম স্বতঃই (নিজে থেকে ) হৃদয়ে স্ফূর্তি হন।তখন আবার সিদ্ধান্ত-বিরোধ বা রস-ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে না,বিশুদ্ধ আনন্দ-রসের প্রবাহে হৃদয় নিজ থেকেই আপ্লুত হয়ে যায়। সুতরাং শ্রীআনন্দঘন শ‍্যামসুন্দর বা গৌরসুন্দরের লীলা-বর্ণনে তখন আর ভক্তের কোন ভয়ের কারণ থাকে না।কেন না,তাঁর কৃপাবলে হৃদয়ে সর্ববিদ‍্যাই স্ফুরিত হয়ে থাকেন।*
*📿প্রাণাধিক শ্রীস্বরূপ-দামোদর নাটক-লেখক পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মণকে এক কথায় সব শাস্ত্রের সারস্বরূপ যে উপদেশ প্রদান করেছিলেন,পাঠক যতই সে বিষয়ে চিন্তা করবেন, যতই সেই বিষয়ের আলোচনা করবেন, ততই হৃদয়ে তাঁর শ্রীমুখের সেই উপদেশের বহুল বিস্তার বেড়ে চলবে, সমগ্র শাস্ত্র যেন এক কথায় তাঁর ঐ এক কথার সমর্থন করছেন।আমরা এ জায়গায় সেই অমৃতোপম উপদেশের আবার পুনরুক্তি করছি=*
*🌷চৈতন‍্য ভক্তগণের নিত‍্য কর সঙ্গ।*
*🌷তবে সে জানিবে সিদ্ধান্ত-সমুদ্র-তরঙ্গ।।*
*🌻ফলতঃ (ফলে)শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর ভক্ত-সঙ্গ ছাড়া শাস্ত্রীয় সৎসিদ্ধান্ত কি, ভক্তি কি,প্রেম কি,এর কোন তত্ত্বই হৃদয়ে পরিস্ফুট হয় না।এই জন‍্যই শাস্ত্রগুলি ভক্তসঙ্গের এত মাহাত্ম্য কীর্তন করেছেন=*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত বলেন=*
*🌷ভক্ত জানে প্রভুর সকল অবতার।*
*🌷ভক্ত বই কৃষ্ণ মর্ম্ম না জানয়ে আর।।*
*🌷কোটী জন্ম যদি যোগ তপ করি মরে।*
*🌷ভক্তি বিনে কোন কর্ম ফল নাহি ধরে।।*
*🌷ভক্তি সেবা বিনা হেন ভক্তি নাহি হয়।*
*🌷অতএব ভক্ত-সেবা সর্বশাস্ত্রে কয়।।*
*🔴শাস্ত্র বলেছেন=*
*🌷ভগবদ্ভক্ত পদাব্জপাদুকাভ‍্যো নমোহস্তুতে।*
*🌷সৎসঙ্গমঃ সাধনঞ্চ সাধ‍্যং চাখিল মুত্তমম্।।*
*🔶যাঁদের সঙ্গ,সাধ‍্য ও সাধন স্বরূপ সেই ভক্তগণের শ্রীপাদপদ্মের পাদুকার প্রতিও আমার নমস্কার। ভক্ত-সেবা ছাড়া ভক্তি লাভ খুবই দুরূহ ব‍্যাপার।ভক্তি কি,তার সম্বন্ধে ভক্তি শাস্ত্রে সবিস্তার আলোচনা পরিলক্ষিত হয়। বৈষ্ণব-দর্শন বলেন=*
*🌷হ্লাদসম্বিদোঃ সমবেতয়ো সারো ভক্তিঃ।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবানের স্বরূপবিশেষভূত হ্লাদিনী শক্তি এবং সম্বিদ্ শক্তির সারই ভক্তি।*
*🔵শ্রুতি বলেন=*
*🌷ভক্তিরস‍্য ভজনং তদিহামূত্রোপাধিনৈরাস‍্যেনামুস্মিন্ মনঃকল্পনমেতদেব নৈমষ্কর্ম্ম‍্যমিতি।*
*🍀ঐহিক ও পারত্রিক ইহকাল ও পরকালের, সর্বপ্রকার ফল-কামনা-শূন‍্য হয়ে শ্রীভগবানে মনঃকল্পনই ভক্তি।*
*🍀নারদ পঞ্চরাত্র বলেন=*
*🌷সর্ব্বোপাধিবিনির্ম্মুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলং।*
*🌷হৃষিকেন হৃষিকেশ-সেবনং ভক্তিরুত্তমা।।*
*🌻সর্বেন্দ্রিয়ের আনুকূল‍্য সহকারে তৎপর ভাবে শ্রীভগবানের ভজনাই ভক্তি।*
*🍁শ্রীচৈতন‍্যভাগবত এই ভক্তির পরিস্ফুট লক্ষণ ব‍্যক্ত করেছেন, যথা=*
*🌷ভক্তি-যোগ ভক্তি-যোগ ভক্তি-যোগ ধন।*
*🌷"ভক্তি" এই-- কৃষ্ণনাম-স্মরণ-ক্রন্দন।।*
*🌷কৃষ্ণ বলি কাঁদিলে সে কৃষ্ণধন মিলে।*
*🌷ধনে কুলে কিছু নহে,কৃষ্ণ না ভজিলে।।*
*🍀শ্রীকৃষ্ণ-স্মরণে যখন প্রাণের ব‍্যাকুলতা উপস্থিত হয়,আর হৃদয় যখন অনবরত শ্রীকৃষ্ণের খোঁজ করে বেড়ায়, আর "অয়ি দীনদয়ার্দ্র নাথ,হে মথুরানাথ,তুমি কবে আমায় দেখা দিবে" এইভাবে যখন চিত্ত ব‍্যাকুল ভাবে কাঁদতে থাকে, হৃদয়ের সেই আর্তিই ভক্তি।প্রাণের ধনকে কাছে পেলেও যেন তাঁর বিচ্ছেদ-ভয়ে তাঁর জন্য সততই প্রাণ কাঁদে।বিরহের এই আকুলতায় সর্বত্রই হৃদয় শ্রীকৃষ্ণ অন্বেষণে রত হয়,ইন্দ্রিয়গণ শ্রীকৃষ্ণ সম্ভোগের জন্য ব‍্যাকুল হয়ে উঠে, এই ভাবে কৃষ্ণ-অনুশীলনই ভক্তি। ভক্তসঙ্গ সাহায্য ছাড়া এই ভক্তির লেশমাত্র লাভ অসম্ভব ব‍্যাপার।তবে মহোদার শ্রীভগবানের নিরঙ্কুশ কৃপার কথা স্বতন্ত্র।নতুবা শ্রীশ্রীকৃপাই জীবের প্রধান সম্বল।সাধুসঙ্গ লাভে খারাপ ভাবনা দূরে চলে যায়।দেহ-গেহ-পুত্র কলত্রাদির জন্য মোহজনিত দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়ে ভগবানের পদারবিন্দে চিত্ত আকৃষ্ট হয়, যথা শ্রীমদ্ভাগবতে ভগবানের উদ্দেশ্যে ধ্রুব মহাশয় বলেছেন=*
*🌷তেনস্মরন্ত‍্যতিতরাং প্রিয়মীশ মর্ত্ত‍্য,*
*🌷যে চাম্বদঃ সুতসুহৃদ্গৃ হবিত্তদারাঃ।*
*🌷যেত্বজ্রনাভ ভবদীয় পদারবিন্দ,*
*🌷সৌগন্ধ‍্য লুব্ধ হৃদয়েষু কৃতপ্রসঙ্গাঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ আপনার পদারবিন্দ মকরন্দ লাভের জন্য যাঁদের হৃদয় সবসময়ই প্রলুব্ধ, এইরকম একান্ত ভক্তগণের শ্রীচরণ-সঙ্গ যাঁদের লাভ হয়,তাঁদের অতি প্রিয় দেহ-ধন-মিত্র-পুত্র-কলত্র প্রভৃতিতে আর বিন্দুমাত্রও আসক্তি থাকে না। সুতরাং ভক্তচরণসঙ্গ ছাড়া ভক্তি লাভের আর কোন উপায় নাই। বৃহন্নারদীয় পুরাণ স্পষ্টতঃই বলেছেন=*
*🌷ভক্তিস্তুভগবদ্ভক্ত-সঙ্গেন পরিজায়তে।*
*🌷সৎসঙ্গঃ প্রাপ‍্যতে পুম্ভিঃ সুকৃতৈঃ পূর্বসঞ্চিতৈঃ।।*
*🔷এই জায়গায় শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের কথাও স্মরণ করুন।*
*🌷কোন ভাগ‍্যে কারো সংসার ক্ষয়োন্মুখ হয়।*
*🌷সাধুসঙ্গে তার কৃষ্ণে রতি উপজয়।।*
*🌳শ্রীচৈতন‍্যভাগবতোদ্ধৃত শাস্ত্রীয় প্রমাণ এই যে =*
*🌷সিদ্ধির্ভবতি বা নেতি সংশয়োহচ‍্যুত সেবিনাম্।*
*🌷নিঃশয়স্তু তদ্ভক্ত পরিচর্য‍্যারতাত্মনাম।।*
*🌲অর্থ‍্যাৎ যাঁরা অচ‍্যুত (শ্রীকৃষ্ণ) ভগবানের সেবা করেন,সিদ্ধি সম্বন্ধে তাদের সংশয় থাকতে পারে, কিন্তু তদ্ভক্ত-চরণসেবীদের আর সিদ্ধি বিষয়ে সন্দেহ থাকে না। শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে পাই =*
*🌷এতেক বৈষ্ণব সেবা পরম উপায়।*
*🌷ভক্ত সেবা হইতে সে লাভে কৃষ্ণ পায়।।*
*☘ফলে সর্বদা ভক্তগণের শ্রীচরণান্তিকে থেকে তাঁদের সেবা পরিচর্য‍্যা করাই শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্ম লাভের উপায়।*
🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️🙇‍♂️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
       *শ্রীস্বরূপের সদয় উপদেশ*
       €€€€€€€€€€€€€€€€€€€
*🍀ভগবদ্ভক্ত ও শ্রীভগবানে অভিন্ন বুদ্ধি করাও তাঁর শ্রীমুখের উপদেশ,যথা=শ্রীমদ্ভাগবতে।*
*🌷যথা পুমান ন স্বাঙ্গেষু শিরঃ পাণ‍্যাদিষুক্বচিৎ।*
*🌷পারক‍্যং বুদ্ধিং কুরুতে এবং ভূতেষু মৎপরঃ।।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে এইরকম অনুবাদ লেখা হয়েছে=*
*🌷ঈশ্বরের অভিন্ন সকল ভক্তগণ।*
*🌷দেহের যেমন বাহু অঙ্গুলী চরণ।।*
*🌹ভগবদ্ভক্ত সঙ্গে জাড‍্যদোষ (জড় প্রকৃতির দোষ)দূরে যায়,সত‍্য কথায় প্রবৃত্তি জন্মে বা রুচি হয়,জ্ঞান-মান ও বংশের উন্নতি হয়,সর্ব পাপ প্রনষ্ট হয়,চিত্ত প্রসন্ন হয়,ভক্তিলাভ হয়, সুতরাং শ্রীভগবৎপ্রাপ্তিতে আর সন্দেহ থাকে না।যথা=*
*(১)জাড‍্যং ধিয়ং হরতি,সিঞ্চতি বাচি সত‍্যম্,*
*জ্ঞানোন্নতিং দিশতি পাপমপাকরোতি।*
*চেতঃ প্রসাদয়তি দিক্ষু তনোতি কীর্তিম্,*
*সৎসঙ্গতিঃ কথয় কিংন করোতি পুংসাম।।*
*(১)অপাকরোতি দুরিতং শ্রেয় সংযোজয়ত‍্যপি।*
*যশো বিস্তারয়ত‍্যাশু নৃণাং বৈষ্ণবসঙ্গমঃ।।*
*🌻শাস্ত্রে তীর্থাদি সেবন এবং সর্ব সৎকর্ম-অনুষ্ঠান অপেক্ষাও ভগবদ্মক্তসঙ্গের অধিকতর মাহাত্ম্য পরিকীর্তিত হয়েছে। ভগবদ্ভক্ত-জনসঙ্গের আর একটি অপূর্ব মহিমা যোগবাশিষ্ঠে উল্লিখিত হয়েছে,যথা=*
*🌷শূন‍্যমাপূর্ণতামেতি মৃতিরপ‍্যমৃতায়তে।*
*🌷আপৎ সম্পদিবাভাতি বিদ্দজ্জন সমাগমে।।*
*🌺বিদ্বজ্জন অর্থ‍্যাৎ ভগবদ্ভক্তি-মাহাত্ম‍্য-অভিজ্ঞ ব‍্যক্তির সমাগমে শূন‍্যতা পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়,মৃত‍্যু দূরীকৃত হয়ে অমৃতত্ব উপজাত হয়,অনর্থও যে অর্থত্বে পরিণত হয় এই শ্লোক তারই প্রমাণ*।
*🍀দেহিদেহাদির সম্বন্ধে বিস্মরণ উৎপাদন, মোক্ষপ্রদত্ব,সর্বসারত্ব, ভগবৎ কথামৃতপানের নিদানত্ব, ভক্তিসম্পাদকত্ব প্রভৃতি নানান গুণ ভগবদ্ভক্ত সঙ্গলাভে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।ভক্তসঙ্গ জগতের আনন্দবর্ধন করেন, যথা=*
*🌷রসায়নময়ী শীতা পরমানন্দদায়িনী।*
*🌷নানন্দয়তি কংনাম বৈষ্ণবাশ্রয়চন্দ্রিকা।।*
*🌹সকল শাস্ত্রে আর সকল গ্রন্থই একই কথা লেখে রয়েছে,অন‍্য কথা আর কি আছে, ভগবদ্মক্ত সঙ্গ স্বতঃই পরম পুরুষার্থ এবং ইনিই সাক্ষাৎ শ্রীভগবানকেও বশীভূত করার উপায় বলে শাস্ত্রে পরিকীর্তিত হয়েছেন এইজন‍্য ভক্তগণ সর্বদায় ভগবদ্মক্ত জনের প্রার্থনা করেছেন। তদ্ যথা=*
*🔷শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীধ্রুব মহাশয় প্রার্থনা করেছেন=*
*🌷ভক্তিং মুহুঃ প্রবহতাং ত্বয়ি মে প্রসঙ্গো,*
*🌷ভূয়াদনন্ত মহতামমলাশয়ানাম্।*
*🌷যেনাঞ্জসোল্বণমুরু ব‍্যসনং ভবাব্ধিং,*
*🌷নেষ‍্যে ভবদ্ গুণ কথামৃতপান মত্তঃ।।*
*🙏হে ভগবান তোমার চরণাবিন্দে ভক্তি-প্রবহনশীল অমলাশয় (নির্মল) মহাপুরুষগণের সঙ্গে যেন সবসময় আমার সঙ্গ হয়,কেননা,তাঁদের সঙ্গ লাভ হলে সদাসর্বদা তোমার গুণকথামৃত-পানে প্রমত্ত হয়ে অতি সহজেই এই দুঃখপ্রদ সংসার-সমুদ্র উত্তীর্ণ হতে পারব।প্রচেতাগণ বর প্রার্থনা কালে বলেছেন=*
*🌷যাবত্তে মায়য়া স্পৃষ্টা ভ্রমাম ইহ কর্ম্মভিঃ,*
*🌷তাবদ্ভবৎ প্রসঙ্গানাং সঙ্গঃ স‍্যান্মে ভবে ভবে।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ "শ্রীভগবান যদি বর দিতে হয় তবে এই বর দাও যে তোমার মায়া-স্পৃষ্ট হয়ে যত কাল এই কর্মচক্রে পরিভ্রমণ করতে হয়,তাবৎকাল জন্মেই জন্মেই যেন তোমার দাসানুদাসগণের সঙ্গ লাভ করতে পারি "।*
*🙏শ্রীপ্রহ্লাদ মহাশয়ের প্রার্থনা এই যে =*
*🌷তস্মাদমু স্তনুভৃতা মহমাশিষোজ্ঞ,*
*🌷আয়ুঃ শ্রিয়ং বৈভব মৈন্দ্রিয় মাবিরিঞ্চাৎ।*
*🌷নেচ্ছামিতে বিলুলিতানুরুবিক্রমেণ,*
*🌷কালাত্মানোপনয় মাং নিজভৃত‍্য-পার্শ্বম্।।*
*🙏হে ভগবন্!প্রাণধারী ব‍্যক্তিমাত্রেরই পরিণাম আমার জানা আছে, সুতরাং আয়ু,স্ত্রী,সম্পত্তি, এমন কি ব্রহ্মার ভোগ পর্য‍্যন্ত ইন্দ্রিয় ভোগ বিষয় লাভ ও বাঞ্জা করি না,অণিমাদি সিদ্ধির প্রতিও আমার কোন বাসনা নাই। আমার জানা আছে মহাপরাক্রমশীল কাল-চক্রে সকলেই যথাসময়ে বিনষ্ট হয়ে যাবে।এই অকিঞ্চিতের প্রার্থনা এই যে আমার যেন সদাসর্বদাই তোমার ভৃত‍্যবর্গের (ভক্তগণের) সঙ্গ লাভ ঘটে,আমি যেন তাঁদের শ্রীচরণান্তিকে একটু জায়গা পেতে পারি।*
*আমার প্রাণের প্রাণ চির-সুহৃদ শ্রীস্বরূপদামোদর তাই আমাদের জন্য সব উপদেশের সার এই উপদেশ দিয়ে গিয়েছেন।*
*🌷চৈতন‍্যের ভক্তগণের নিত‍্য কর সঙ্গ।*
*🌹শাস্ত্রে ভক্তসঙ্গ-মাহাত্ম‍্যের শেষ নেই।কেবল আত্মশোধনের জন্য এ জায়গায় শাস্ত্রীয় ভক্তমহিমা যৎকিঞ্চিৎ আলোচিত হল। শ্রীস্বরূপ দামোদরের আর একটি উপদেশের বিষয় যদিও ইতঃপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে,এখানে সেটির আরও একটু বিবৃত প্রয়োজনীয় বলে বোধ হচ্ছে।তাঁর উপদেশ এই যে =*
*🌷যাহ ভাগবত পড় বৈষ্ণবের স্থানে।*
*🌻শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতে হলে বৈষ্ণবের কাছেই শ্রীভাগবত অধ‍্যয়ন করা কর্তব‍্য,তা না হলে গ্রন্থের অভিমত জানা যায় না।বৈষ্ণব পন্ডিত ছাড়া শ্রীভাগবতের প্রকৃত অর্থ অন‍্যে প্রকাশ করতে পারে না।বিশেষ করে অনেক জায়গায় ভাগবতের প্রকৃত মর্ম আদৌ না বুঝে তাঁর অন‍্য ভাবে ব‍্যাখ‍্যা করে থাকেন।সেই সব অসৎসিদ্ধান্তসঙ্কুল ব‍্যাখ‍্যা শ্রোতাদের জন্য অকল‍্যাণেরই হেতু হয়ে থাকে। সুতরাং অবৈষ্ণবের স্থানে ভাগবত ব‍্যাখ‍্যা শুনতে নাই।*
*🍀দ্বিতীয়তঃ অবৈষ্ণবের কাছে প্রকৃত বৈষ্ণব শ্রীমদ্ভাগবত শুনতে গেলে তার যে কি বিড়ম্বনা ও লাঞ্জনা ভোগ করতে হয়,সাক্ষাৎ শ্রীবাস পন্ডিতই তাঁর দৃষ্টান্ত স্থল।আমরা এ স্থলে শ্রীচৈতন‍্যভাগবত গ্রন্থ হতে সেই বিষম বিড়ম্বনাজনক শোচনীয় ঘটনার উল্লেখ করছি।🌹শ্রীধাম নবদ্বীপে মহাপ্রভুর অবতীর্ণের পূর্বে পূজ‍্যপাদ শ্রীবাস প্রমুখ কিছু ভক্ত শ্রীভাগবত শুনে পরম আনন্দ লাভ করতেন।যেখানেই ভাগবত পাঠ হত,সেইখানেই শ্রীবাস পন্ডিত অত‍্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে উপস্থিত হতেন,প্রাণভরে ভাগবত শুনতেন এবং প্রেমানন্দে উদ্বেলিত হতেন,বর্ষার বৃষ্টিতে উচ্ছসিত সিন্ধুপ্রবাহের মত তাঁর হৃদয়ে প্রেমসিন্ধু উছলিয়ে উঠত,আর তিনি প্রেমবেগে কেঁদে আকুল হতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে শ্রীনবদ্বীপে তখন শ্রীভাগবত পাঠের প্রচলন অতি বিরল ছিল।কোন কোন পন্ডিত কখনও কখনও শ্রীভাগবত পাঠ করতেন, কিন্তু সে পাঠ নামমাত্র।শ্রীভাগবতের যা প্রাণ এই সব পাঠকগণের তা জানা ছিল না।প্রেমময় ভাগবত শুষ্ক জ্ঞানীদের হাতে পড়ে বিকৃত ভাবে ব‍্যাখ‍্যাত হতেন।ভক্তগণসে ব‍্যাখ‍্যার দিকে লক্ষ্য করতেন না।তাঁরা শ্রীভাগবতের মূল শ্লোক শুনেই আনন্দে বিহ্বল হতেন।নবদ্বীপে তখন যেভাবে শ্রীভাগবত ব‍্যাখ‍্যা হতেন, শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর তার সম্বন্ধে এই মন্তব‍্য প্রকাশ করেছেন=*
*🌷যদিচ পড়ায় এক গীতা ভাগবত।*
*🌷তথাপি না শুনে কেহ ভক্তি অভিমত।।*
*🌻ফলে এই বিষম দুর্দ্দিনে ভক্তগণ আকুল প্রাণের পিপাসা-প্রশমনের জন্য শ্রীভাগবত শ্রবণ করতে যেখানে সেখানে যেতেন,তারজন‍্য যথেষ্ট বিড়ম্বিতও হতেন।এই সময়ে শ্রীনবদ্বীপে একজন পন্ডিত শ্রীভাগবত পাঠক ও ব‍্যাখ‍্যাকারক বলে সুপরিচিত হয়েছিলেন। ইঁনার নাম দেবানন্দ।ইনি মহেশ্বর বিশারদ মহাশয়ের টোলে বাস করতেন।এই বিশারদ মহাশয়ের নাম পাঠকবর্গের সুপরিচিত না হলেও,ইঁনার সুযোগ‍্য পুত্র সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় শ্রীগৌরাঙ্গলীলার মহানুভব মহাপুরুষ।যাইহোক,মহেশ্বর বিশারদ মহাশয় অতি যত্নকরে তাঁর টোলে এই দেবানন্দ পন্ডিতকে স্থান দান করেছিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
       *শ্রীস্বরূপের সদয় উপদেশ*
       @@@@@@@@@@@@
*🍀দেবানন্দ উদাসীন (বৈরাগ‍্য), জ্ঞানী,তপস্বী ও অতি শান্ত।কি ভাবে মোক্ষলাভ হতে পারে,দেবানন্দ সবসময়ই সেই চেষ্টায় নিমগ্ন(ডুবে) থাকতেন।তখনও ভক্তিধারায় বসুন্ধরা পরিসিক্ত হয়নি,তখনও শ্রীগৌরচন্দ্রিমার প্রফুল্ল কিরণে প্রেমভক্তির সুধাবর্ষণ ঘটেনি,তখন লোকে ধর্মের জন্য সন্ন‍্যাসী হতেন,সন্ন‍্যাসী হয়ে মোক্ষপথের অনুসন্ধান করতেন।দেবানন্দেরও সেই অবস্থা।তিনি যত্নের সঙ্গে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতেন।তাঁর কাছে দুই-চারজন ছাত্রও শ্রীমদ্ভাগবতে পাঠ নিতেন। কিন্তু আসল কথা এই যে,ভক্তি কাকে বলে তা তিনি তখনও জানতেন না।ইঁনার সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যভাগবত বলেন=*
*🌷জ্ঞানবন্ত তপস্বী আজন্ম উদাসীন।*
*🌷ভাগবত পড়ান তথাপি ভক্তিহীন।।*
*🌷ভাগবতে মহা অধ‍্যাপক লোকে ঘোষে।*
*🌷মর্ম্ম অর্থ না জানেন ভক্তিহীন দোষে।।*
*🌷জানিবারে যোগ‍্যতা আছে শুনি তান।*
*🌷কোন অপরাধে নহে,কৃষ্ণ সে প্রমাণ।।*
*🌷ভাগবত অধ‍্যাপনা করে নিরন্তর।*
*🌷আকুমার সন্ন‍্যাসীর প্রায় ব্রতধর।।*
*🍁এই দেবানন্দ পন্ডিতের কাছে শ্রীভাগবত পাঠ শোনার জন্য শ্রীবাস একদিন বড় ব‍্যাকুল হয়ে তাঁর বাসস্থানে গিয়ে উপস্থিত হলেন।গিয়ে দেখেন,দেবানন্দ শ্রীভাগবত ব‍্যাখ‍্যা করছেন।তাঁর ছাত্রগণ সেখানে বসে পাঠ শুনছেন।শ্রীবাস পরমভক্ত।দেবানন্দ কি ব‍্যাখ‍্যা করছেন সে দিকে শ্রীবাসের লক্ষ্য নাই। তিনি শ্রীমদ্ভাগবতের মূল শ্লোক শুনেই বিহ্বল হতে লাগলেন,অক্ষরে অক্ষরে শ্রীভাগবত তাঁর নিকট প্রেমময় বলে বোধ হল,তাঁর হৃদয়ে প্রেমসিন্ধু উছলিয়ে উঠিল,তিনি আকুল ও অধীর হয়ে রোদন করতে লাগলেন, প্রেমাশ্রুতে তাঁর বক্ষ ভিজে গেল।তাঁর এইরকম রোদনে ছাত্রগণ বড় বিরক্ত হল,তাদের মধ্যে একজন বলল,"একি জঞ্জাল,পাঠের সময়ে এইরকম গোলযোগহলে কি আর পাঠ চলে"? প্রেমে মগ্ন শ্রীবাসের কানে ছাত্রদের এই মন্তব‍্য প্রবেশ করল না।কারণ তিনি প্রেমরসে ডুবে আছেন।তিনি ভাবরসে ডুবে অঝোরনয়নে কাঁদতে লাগলেন, আর ঘন ঘন শ্বাসে রোদনের ধ্বনি আরও পরিস্ফুট হয়ে উঠিল।প্রেমময় শ্রীচৈতন‍্যভাগবত বলেন=*
*🌷সম্বরণ নহে শ্রীবাসের ক্রন্দন।*
*🌷চৈতন‍্যের প্রিয়দেহ-- জগতপাবন।।*
*🔴দুর্মতি পড়ুয়াগণ এতে অত‍্যন্ত বিরক্ত হল,তাদের নিদারুণ ক্রোধ উপস্থিত হল,অধমেরা শ্রীগৌরাঙ্গের প্রিয়দেহ শ্রীবাসকে টানতে টানতে ঘরের বাইরে এনে ফেলে দিল। কিন্তু আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে,দেবানন্দ এত বড় পন্ডিত এবং শান্ত হয়েও তাঁর দুর্বৃত্ত ছাত্রদেরকে এই ঘোরতর কুকার্য‍্য হতে প্রতিনিবৃত্ত করলেন না।অর্থ‍্যাৎ একজন পরমভক্তকে অপমান করল, কিন্তু দেবানন্দ কিছু বললেন না।তিনি নিজ চক্ষে এইরকম ভক্ত-বিড়ম্বনা বসে বসে দেখলেন!শ্রীবাস বাহ‍্যজ্ঞান পেয়ে সামান্য দুঃখিত হয়ে নিজের ঘরে ফিরে গেলেন।*
*ছাত্রগণ শ্রীবাসের যে বিড়ম্বনা করেছিলেন এটি দুঃখের কারণ নহে,দেবানন্দ এমন সুবিজ্ঞ হয়েও যে ছাত্রগণকে এই অস‍ৎকাজ হতে প্রতিনিবৃত্ত বা বারণ করলেন না এটিও তাঁর দুঃখের কারণ নহে,তাঁর দুঃখের কারণ এই যে,তিনি সুধামধুর ভাগবত শুনতে পারলেন না!ফলে অবৈষ্ণবের কাছে শ্রীভাগবত শুনতে গেলে ভক্তের পক্ষে এইরকম দুঃখ-কষ্ট হবে এটিই স্বাভাবিক।কুব‍্যাখ‍্যায় কান দিলে যে কুফলোৎপত্তি হয় তা বলাই বাহুল‍্য। শ্রীশ্রীগৌরভগবান প্রকাশিত হয়ে এই দেবানন্দকেও কৃপাদন্ড করে বিশুদ্ধ ভক্তে পরিণত করেছিলেন।এ স্থলে সে ঘটনার উল্লেখ না করলে প্রস্তাব অসম্পূর্ণ বোধ হবে।*
*একদিন মহাপ্রভু ভক্তগণকে সঙ্গে নিয়ে মহেশ্বর বিশারদ মহাশয়ের আশ্রমের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন,দেখতে পেলেন বৃদ্ধ দেবানন্দ ভাগবত ব‍্যাখ‍্যা করছেন।সে ব‍্যাখ‍্যার দুই-একটি কথা মহাপ্রভু শুনতে পেলেন।ব‍্যাখ‍্যা শুনে শ্রীচৈতন‍্যদেবের হৃদয়ে অত‍্যন্ত কষ্ট হল। তিনি একটু ক্রোধ করে বললেন, "একি ব‍্যাখ‍্যা হচ্ছে,এ লোকটা কখনও ভাগবতের অর্থ জানে না।এ ভাগবত পড়ে কেন?ভাগবতে এর কি অধিকার আছে?সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ শ্রীভাগবত-গ্রন্থরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।ভক্তিই ভাগবতের একমাত্র পুরুষার্থ।ভাগবত প্রেমময়,এটিই চার বেদের অভিপ্রায়।বেদচতুষ্ট দধিস্বরূপ, ভাগবত সেটির নবনীত, ভাগবতই সমগ্র শাস্ত্রের সার।শুকদেব চারবেদ মন্থন করে এই নবনীত আবিস্কার করলেন,পরীক্ষিৎ এই নবনী সেবনে ভবরোগের হাত হতে মুক্ত পেয়ে প্রেমসুধাস্বাদে অমর হলেন। মহাপ্রভু এই বলে ভাগবতের প্রকৃত তত্ত্ব প্রকটন করতে লাগলেন।*
*শ্রীমদ্ভাগবতযে সর্ব শাস্ত্রের সার পূজ‍্যপাদ শ্রীজীব গোস্বামীর তত্ত্বসন্দর্ভেই পাঠকগণ তার প্রমাণ ও বিচার দেখতে পাবেন।শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে এ সম্বন্ধে শ্রীভগবদুক্তি এইরকম লেখা আছে।দেবানন্দের উল্লেখ করে প্রভু বলেছেন=*
*🌷এ বেটার ভাগবতে কোন অধিকার।*
*🌷গ্রন্থরূপে ভাগবত কৃষ্ণ অবতার।।*
*🌷সবে পুরুষার্থ ভক্তি ভাগবতে হয়।*
*🌷প্রেমরূপ ভাগবত চারিবেদে কয়।।*
*🌷চারিবেদ দধি, ভাগবত নবনীত।*
*🌷মথিলেন শুক, খাইলেন পরীক্ষিৎ।।*
*🌷মোর প্রিয় শুক সব জানে ভাগবত।*
*🌷ভাগবতে কহে মোর তত্ত্ব অভিমত।।*
*🌷মুঞি,মোর দাস,আর গ্রন্থ ভাগবতে।*
*🌷যার ভেদ আছে তার নাশ ভাল মতে।।*
*🌹দেবানন্দের ব‍্যাখ‍্যায় মহাপ্রভু ভক্তির কোন কথায় শুনতে পেলেন না।তিনি ক্রোধ করে বললেন,ছি!ছি! একি ভাগবত ব‍্যাখ‍্যা।ভক্তি ছাড়া কি ভাগবতের ব‍্যাখ‍্যা হয়?ভক্তি ছাড়া যে ভাগবতের ব‍্যাখ‍্যা করে,সে আদৌ ভাগবত-অধ‍্যয়নের অধিকারী না।এই লোকটা নিরবধি ভাগবত পাঠ করছে,অথচ ভাগবতের বিন্দুমাত্র মর্ম বুঝতে পারে নাই।বলতে বলতে মহাপ্রভুর ক্রোধের উদয় হল,তখন তিনি ক্রোধ-কম্পিত স্বরে বললেন=*
*🌷নিরবধি ভক্তিহীন এ বেটা ব‍াখানে।*
*🌷আজ পুথি চিরি এই দেখ বিদ‍্যমানে।।*
*🌻এই বলে মহাপ্রভু দেবানন্দের শ্রীভাগবত গ্রন্থ ছিন্ন করতে ধাবিত হলেন।মহাপ্রভুর ভক্তগণ সম্মুখে দাঁড়িয়ে মহাপ্রভুর গতিরোধ করলেন। করুণাময় মহাপ্রভুর এই লীলা কেন-- এ ক্রোধপূর্ণ লীলা কেন?দেবানন্দ উদাসী,শান্ত ও তপস্বী।তিনি আপন মনে শ্রীভাগবত পাঠ করছিলেন,মহাপ্রভু তাঁর গ্রন্থ "চিরিতে" উদ‍্যম করলেন কেন? করুণাময়ের এ ক্রোধ কেন,শান্তের প্রতি এ ক্রোধ কেন? ভক্ত পাঠকগণ, আপনারা এই তত্ত্বের বিচার করুন।এখানেও যৎকিঞ্চিৎ নিবেদন করা যাচ্ছে।মহাপ্রভু করুণাময়।তাঁর প্রত‍্যেক কাজই করুণার পরিচায়ক।দেবানন্দের সম্পত্তির মধ্যে শ্রীভাগবত এক প্রধান সম্পত্তি।এখন যেমন একটি টাকা ব‍্যয় করলেই একখানি শ্রীভাগবত গ্রন্থ পাওয়া যায়,তখন সে সুবিধা ছিল না।মুদ্রাঙ্কনের তখনও প্রচলন হয়নি।একখানি ভাগবত লিখে নেওয়া তখন কম পরিশ্রমের ফল বলে পরিগণিত হত না।এই সব গ্রন্থ সহসা সকলের লভ‍্য ছিল না। সুতরাং শ্রীভাগবতখানি দেবানন্দের এক প্রধানতম সম্পত্তি ছিল।তিনি বিষয়ত‍্যাগী,উদাসী এটিই তাঁর কাছে "সাত রাজার ধন" বলে মনে হত। কিন্তু মহাপ্রভু দেখলেন দেবানন্দ এই মহাধনের সদ্ব‍্যবহার করছেন না। যে ধনে জগতের অনেক মঙ্গল সাধিত হয়,অনুপযুক্ত হাতে পড়লে তারদ্বারা জগতের অশেষ অমঙ্গলই ঘটে থাকে। সুতরাং যিনি জগতের হিতৈষী, তাঁর মনে হয় এইরকম অসৎ কাজে ব‍্যয়শীল লোকের হাতে শক্তিশীল অর্থ না রাখাই সঙ্গত। কেননা,সেটিতে একদিকে যেমন অর্থের অপব‍্যয় হয়,অন‍্যদিকে তেমনি আবার জগতের অমঙ্গলেরও আশঙ্কা থাকে।এই আশঙ্কায় তাকে উক্ত ধন হতে বঞ্চিত করা,যেমন সুপরামর্শ বলে মনে হয়,এ স্থলেও সেইরকম মনে করা যেতে পারে।প্রেম শ্রীভাগবতের প্রাণ।ভক্তি ব‍্যাখ‍্যা না হলে শ্রীভাগবত অর্থের অপব‍্যয় হয়ে থাকে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
   *বল্লভ ভট্টের আগমন ও গর্ব চূর্ণ*
    <><><><><><><><><><><><><
*🍀বঙ্গদেশ হতে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর ভক্তগণ পুরুষোত্তমে আসিতেন,সে সময় মহাপ্রভুর পূর্বপরিচিত বল্লভ ভট্টও একবার পুরীতে এসেছিলেন।ভট্ট আগমন করে গৌরহরিকে যথোচিত সম্মান করে তিনি তাঁর চরণে প্রণত হলেন।মহাপ্রভুও তাঁকে সমাদর করে অভ‍্যর্থনা করলেন।ভট্ট নানাভাবে শ্রীগৌরাঙ্গের স্তুতিবাদ করলে,শ্রীচৈতন‍্য বললেন,ভট্ট! "আমি মায়াবাদী সন্ন‍্যাসী", কৃষ্ণভক্তি কিরকম তা কিছুই জানি না।ভট্টের মনে ধারণা ছিল যে,তিনি শ্রীমদ্ভাগবতের অর্থ যেমন বুঝতে সমর্থ,অন‍্যে সেরকম বুঝতে পারে না।তিনি সেজন‍্য একদিন শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর কাছে এসে বললেন, আমি ভাগবতের একটি টীকা রচনা করেছি ; আপনি যদি দয়া করে শোনেন, তাহলে আমি বড় সুখী হই।মহাপ্রভু আগে থেকেই জানতেন যে,ভট্টের ভাগবত সম্বন্ধে বিশেষ অধিকার আছে বলে,তাঁর ভীষণ গর্ব হত, সেজন‍্য শ্রীচৈতন‍্য ভট্টের কথার উত্তরে বললেন,"আমি ভাগবত ভাল বুঝি না, এবং সেটি শোনারও আমার বিশেষ অধিকার নাই।ভট্ট অত‍্যন্ত দুঃখিত হয়ে ফিরে গেলেন।অন‍্যান‍্য পন্ডিতদের কাছে ভাগবতের টীকা শুনিয়ে, প্রশংসা লাভ করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।তিনি মহাপ্রভুর অন‍্যান‍্য ভক্তদের কাছে গিয়ে ব‍্যাখ‍্যা শুনাবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেন ; কিন্তু কেউই তাঁর রচিত ভাগবতের টীকা শোনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেন না।মহাপ্রভুর উপেক্ষাতেই সকলে তাঁর ব‍্যাখ‍্যা শুনতে উপেক্ষা করলেন। একদিন ভট্ট শ্রীগৌরাঙ্গ সভায় আগমন করে বললেন,"পতিব্রতা নারী কখন মুখে পতির নাম উচ্চারণ করে না ; তোমরা কৃষ্ণকে পতি বলে স্বীকার কর ; তবে তোমরা কিভাবে তাঁর নাম রসনায় গ্রহণ কর?তখন মহাপ্রভু ভট্টের কথার উত্তরে বললেন, "স্বামীর আজ্ঞা পালনই পতিব্রতার ধর্ম।পতির ইচ্ছা,সর্বদা আমরা তাঁর নাম গ্রহণ করে এই মানব জীবন কৃতার্থ করি।এজন‍্য তাঁর আজ্ঞা আমরা লঙ্ঘন করতে পারি না।*
*আর একদিন ভট্ট শ্রীগৌরাঙ্গের সভায় এসে বললেন, শ্রীধর স্বামীর ভাগবতের টীকা আমি উপযুক্ত বিবেচনা করি না ; আমার উনার একটি টীকা ভালভাবেই তৈরী করেছি।শ্রীচৈতন‍্য ভট্টের কথা শুনে মৃদু হেসে বললেন, "যে স্বামীকে মানে না,সে কুলটা নারী।ভট্ট মহাপ্রভুর এইকথা শুনে,ক্রোধান্বিত হয়ে গৃহে ফিরে গেলেন।তিনি মনে করেছিলেন যে তিনি গৌরাঙ্গ সভায় বিশেষ প্রশংসা লাভ করবেন। কিন্তু আশায় নিরাশা হয়ে তাঁর গর্বচূর্ণ হয়ে গেল। তিনি ভেবে দেখলেন যে,পূর্বে আম্বুলি গ্রামে তিনি মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করেছিলেন,এখন সে কৃপা হতে বঞ্চিত হয়েছেন,সে কেবল নিজেরই দোষে।এইসব চিন্তা করে তিনি শ্রীচৈতন‍্যদেবের কাছে এসে তাঁর চরণ ধরে কাঁদতে কাঁদতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।*
*🌷অপরাধ কৈনু ক্ষম লইনু শরণ*।
*🌷কৃপা করি মোর মাথে ধরহ চরণ।।*
*🍁করুণাময় গৌরহরি বললেন, ভট্ট!তুমি পন্ডিত,শ্রীধর স্বামীর টীকার উপর দোষারোপ করে গর্ব করা ভাল নয়।শ্রীধরস্বামী জগদগুরু ; তারই প্রসাদে ভাগবতের তাৎপর্য‍্য লোকে বুঝতে সক্ষম হয়।তাঁকে অতিক্রম করে টীকা রচনা করলে,সে টীকা লোকে গ্রহণ করবে না।তাঁরই অনুগত হয়ে টীকা রচনা কর এবং কৃষ্ণানুগত প্রাণ হয়ে জীবন অতিবাহিত কর। জ্ঞানগর্ব পরিত‍্যাগ করে শ্রীনামসংকীর্তন কর,অচিরে ভগবৎকৃপা লাভে জীবন সফল হবে। বল্পভ ভট্ট মহাপ্রভুর কথায় অত‍্যন্ত প্রীতি লাভ করে,তাঁকে ও তদীয় ভক্তগণকে নিজ ভবনে নিমন্ত্রণ করেন।গৌরহরি ভক্তগণসহ ভট্টের বাড়ীতে গমন করলেন।ভট্ট মহানন্দে তাঁদেরকে ভোজন করালেন।ভট্ট পুরুষোত্তমে বাস করে শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তগণের নৃত্য কীর্তনাদি দেখে ভীষণ ভীষণ আনন্দ পেলেন, তাঁর চিত্ত পরিবর্তন হয়ে গেল।তিনি মহাপ্রভুর আজ্ঞায় গদাধর পন্ডিতের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *গোপীনাথ পট্টনায়ক উদ্ধার*
          ~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀শ্রীভবানন্দ রায়ের পুত্র রায় রামানন্দের সহোদর গোপীনাথ পট্টনায়ক রাজা প্রতাপরুদ্রের কর্মচারী ছিলেন।উৎকলের মধ্যে মালজ‍্যাঠা দন্ডপাঠের কর সংগ্রহের ভার তাঁর উপর অর্পিত হয়েছিল।হিসাব নিকাশের সময় গোপীনাথের কাছ হতে দুইলক্ষ কাহন কড়ি অনাদায় হওয়াতে রাজবিধান অনুসারে নিচে খড়্গ রেখে মাচার উপর থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়া স্থির হল।ভবানন্দের পুত্রের এই বিপদের সময় কোন কোন ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর কাছে এই ঘটনা বলে তাঁর প্রাণ রক্ষার জন্য রাজাকে অনুরোধ করতে বলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন, আমি সন্ন‍্যাসী ; রাজার টাকা অপচয় করলে,রাজা শাস্তি দিবেন, এ বিষয়ে আমি কি করতে পারি? এমন সময়ে একজন এসে বলল,গোপীনাথ ও বাণীনাথকে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে।মহাপ্রভু এইকথা শুনে জিজ্ঞাসা করলেন,বন্ধন দশায় বাণীনাথ কি করছে?জনৈক ব‍্যক্তি বলল,বাণীনাথ হরিনাম জপ করছে।অবিলম্বে আর এক ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর নিকট এসে বলল, গোপীনাথের প্রাণবধের সবই ঠিক হয়েছে ; এখনই মাচার উপর হতে তাঁকে নিচে খড়্গের উপর নিক্ষেপ করা হবে। করুণাময় গৌরহরি তার কথা শুনে বললেন,আমি সন্ন‍্যাসী, আমি এ বিষয়ে কি করব?যাঁকে ডাকলে মানুষ বিপদ হতে উদ্ধার লাভ করে,এখন তোমরা তাঁদের উদ্ধারের জন্য সেই বিপদভঞ্জন হরিকে স্মরণ কর। যখন গোপীনাথকে মাচার উপর হতে ফেলে দিবার ব‍্যবস্থা হচ্ছে,তখন রাজমন্ত্রী হরিচন্দন উৎকলাধিপতির কাছে উপস্থিত হয়ে গোপীনাথের প্রাণরক্ষার জন্য প্রার্থনা করলেন ; এবং বললেন,বাকী টাকা,তাঁর ঘোড়াদি বিক্রি করে,রাজকোষে জমা দেওয়া যাবে।রাজা প্রতাপরুদ্র তাঁর কথা শুনে বললেন, গোপীনাথের টাকার জন্য আমি তার প্রাণবধের আজ্ঞা দিই নাই, টাকা আদায় করতে বলেছি ; বড় জানা ঐরকম ভয় দেখিয়ে, টাকা আদায়ের ব‍্যবস্থা করবেন বলেছিলেন।প্রতাপরুদ্র গোপীনাথের মুক্তিদানের আদেশ দিয়ে রাজমন্ত্রীকে গোপীনাথের নিকট হতে বাকী টাকা আদায়ের ভার প্রদান করলেন।গোপীনাথ মুক্তি লাভ করলেন।*
*🌺কয়েকদিন পরে কাশীমিশ্র মহাপ্রভুর নিকট উপস্থিত হলে, তিনি বললেন,এখানে বিষয়ীদের কাজে আমাকে বড় উত‍্যক্ত হতে হয়,আমি এখান থেকে আলালনাথে গিয়ে বাস করব মনে করেছি।কাশীমিশ্র বললেন, ভবানন্দের পরিবারবর্গকে তুমি অত‍্যন্ত স্নেহ কর,সেজন‍্য বিপদের সময় গোপীনাথের কর্মচারীরা এসে তোমাকে জানিয়েছিল। তুমি এ জায়গা ছেড়ে যেও না।আর তোমার কাছে বিষয়-সংঘটিত প্রস্তাব না আসে,সেজন‍্য আমরা বিশেষ ব‍্যবস্থা নিব।*
*কাশীমিশ্রের ভবনে রাজা প্রতাপরুদ্র নিত‍্য আগমন করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের বন্দনা করতেন।রাজা মিশ্রভবনে উপস্থিত হলে, মিশ্র বললেন, গোপীনাথকে চাঙ্গের উপর থেকে ফেলে দেওয়া হবে স্থির হলে,মহাপ্রভুর নিকট গোপীনাথের কর্মচারীরা এ সংবাদ দিয়ে তাঁর প্রাণ রক্ষার উপায় বিধান করতে বলে ; মহাপ্রভু কোনরকম বিষয়-ব‍্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে ইচ্ছা করেন না ; সেজন‍্য এই সমাচার তাঁর নিকট উপস্থিত হলে, তিনি এ বিষয়ে নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করে বলেন, "গোপীনাথ অপরাধী হয়ে রাজদন্ড ভোগ করবে, আমি সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারব না। কাশীমিশ্র রাজাকে এইসব কথার উল্লেখ করে বললেন,বিষয়-সংঘটিত ব‍্যাপার তাঁর কাছে উপস্থিত যেন না হয়,সেজন‍্য তিনি আলালনাথে গিয়ে বাস করতে চান। উৎকলাধিপতি বললেন,গোপীনাথের জীবননাশের আজ্ঞা দেওয়া হয়নি।গোপীনাথ পুরুষোত্তম জানাকে অপমান করেছিল বলে তিনি বাকী টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে ঐরকম ভয় দেখিয়েছিলেন।রাজা বললেন, ভবানন্দ ও তাঁর পুত্রদেরকে আমি স্নেহের চক্ষেই দেখি,রামানন্দকে রাজমাহেন্দ্রীর ও গোপীনাথকে মালজ‍্যাঠা দন্ডপাঠের শাসনভার অর্পণ করেছিলাম।কখনও তাদের কাছ হতে হিসাব দেখতে চাই নাই।যাইহোক, আমি গোপীনাথের নিকট হতে প্রাপ‍্য টাকা গ্রহণ করব না।তুমি মহাপ্রভুর চরণ ধরে তাঁকে এখানে থাকতে বলবে।আমি তাঁর জন্য দুইলক্ষ কাহন কড়ি কি তাঁর জন্য আমি রাজ‍্য পর্য‍্যন্ত পরিত‍্যাগ করতে পারি।কাশীনাথ মিশ্র রাজার কথা শুনে বললেন, মহাপ্রভু এতে সন্তুষ্ট হবেন না ; মনে করবেন,তাঁরই জন্য, গোপীনাথকে টাকা দিতে হল না। রাজা কাশীনাথ মিশ্রকে বললেন,তুমি দয়াময় গৌরহরিকে বলবে,ভবানন্দ পরিবারের প্রতি স্নেহবশতঃ আমি গোপীনাথের দেয় টাকা গ্রহণ করব না।*
*☘কাশীমিশ্র শ্রীচৈতন‍্যদেবের কাছে গিয়ে,গোপিনাথ সম্বন্ধে রাজার সব কথা তাঁকে বললেন,তাঁকে নীলাচলে থাকবার জন্য উৎকলাধিপতি একান্ত অনুরোধ নিবেদন করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গ চরিতসুধা*
   *গোপীনাথ পট্টনায়ক উদ্ধার*
                     *এবং*
      *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের ভক্তি শিক্ষা*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀ভক্ত,উদারচেতা,দয়ালু উৎকলাধিপতি, গোপীনাথকে ডেকে, পুরুষোত্তম জানা প্রভৃতির সামনে বললেন, "তোমার কাছে আমার যত কড়ি প্রাপ‍্য আছে,তা সমস্ত ছেড়ে দিলাম।মালজ‍্যাঠা দন্ডপাঠের ভার আগের মতই তোমারই উপর রইল।আর তোমার বেতন যা ছিল,তার দ্বিগুণ বৃদ্ধি করলাম ; এবার থেকে আর রাজস্বের টাকা অন‍্যায়ভাবে গ্রহণ করবে না।মহাপ্রভু শ্রীচৈতন‍্যদেবের আশীর্বাদ নিয়ে কাজে রত হও।এই বলে তিনি গোপীনাথের মাথায় নেতধটী(প্রাচীন কালে ব‍্যবহৃত সূক্ষ্ম পট্টবস্ত্র বিশেষ) পরিয়ে দিলেন।ভবানন্দ তারপর পুত্রগণ সহ শ্রীচৈতন‍্যদেবের কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর চরণ ধরে বললেন,কোথায় আমার পুত্র খড়্গে বিদ্ধ হয়ে প্রাণত‍্যাগ করে,আর কোথায় আজ তার দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধি হল ; আর তার মস্তকে নেতধটী স্থাপিত হল।এ সবই তোমার কৃপা। গোপীনাথ মহাপ্রভুর চরণে প্রণাম করে,ক্রন্দন করতে করতে রাজার অপূর্ব করুণার কথা উল্লেখ করলেন, এবং তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করে নিজ কার্য‍্যে রত হলেন।*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🔴প্র‍দ‍্যুম্ন মিশ্রের ভক্তি শিক্ষা🔴*
   🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵🔵
*🍀যখন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য গৌড় হয়ে বৃন্দাবন যাবার সঙ্কল্প করেন,তখন প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র কিছুকাল তাঁর সঙ্গে থেকে নানান প্রকারে মহাপ্রভুর সেবাতে তৎপর ছিলেন।মিশ্রকে মহাপ্রভু অত‍্যন্ত স্নেহ করতেন।একবার প্রদ‍্যুম্ন গৌরহরির কাছে এসে কৃষ্ণতত্ত্ব শিক্ষা করবার বাসনা প্রকাশ করেন। মহাপ্রভু বলেন,আমি তো কৃষ্ণকথা জানি না,রায় রামানন্দের কাছে গেলে তিনি তোমায় এ বিষয় ভালভাবে শিক্ষা দান করবেন।তাঁর কথানুসারে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র রামানন্দ রায়ের ভবনে গমন করলেন।গিয়ে শুনলেন,রামরায় দুইটি অল্পবয়স্কা নারীকে উদ‍্যানের মধ্যে নাটক শিক্ষা দিচ্ছেন।রামরায় এই নারীদ্বয়কে স্নান করাতেন,তাদের অঙ্গ মার্জন করতেন ও বস্ত্র পরিয়ে দিতেন।রামরায় অবিকৃত মনে এ সব কাজ করতে পারতেন বলেই লোকে বিশ্বাস করত।রামরায় উদ‍্যান হতে এসে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রকে দেখে সম্ভাষণ পূর্বক জিজ্ঞাসা করলেন,আপনার কিজন‍্য আগমন হয়েছে?মিশ্র মহাশয় সেদিন তাঁর কাছে আগমনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কিছু না বলে,তাঁর কাছ হতে বিদায় নিয়ে গৃহে ফিরে গেলেন।*
*কয়দিন পরে মিশ্র মহাপ্রভুর নিকট উপস্থিত হলেন।তিনি মিশ্রকে রামানন্দের সহিত সাক্ষাতের কথা জিজ্ঞাসা করাতে,প্রদ‍্যুম্ন রামরায়ের নারীদ্বয়কে নাটক শিক্ষা দেওয়া, ও তাদের অঙ্গমার্জনাদির কথা উল্লেখ করলেন।শ্রীচৈতন‍্য বললেন,আমি সন্ন‍্যাসী বটে, কিন্তু কাষ্ঠের পুত্তলী দেখলেও আমার চিত্তবিকার ঘটে থাকে। কিন্তু রামরায়ের দেহ অপ্রাকৃত, রামরায় জিতেন্দ্রিয়।তুমি তাঁর কাছে পুনরায় যাও এবং ভক্তিতত্ত্ব,কৃষ্ণতত্ত্ব শিক্ষা কর। মহাপ্রভুর আজ্ঞায় প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র পুনরায় রায় রামানন্দের নিকট গমন করে ভক্তিতত্ত্ব শিক্ষার বাসনা প্রকাশ করলেন।রামরায় পরমানন্দে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের সঙ্গে ভক্তিতত্ত্ব আলোচনায় রত হলেন।আলোচনা করতে করতে রামরায় যেন উন্মত্তপ্রায় হয়ে উঠলেন ;এবং হৃদয়ের আবেগ আর সংবরণ করতে না পেরে নৃত‍্য করতে আরম্ভ করলেন।মিশ্র রামানন্দের কৃষ্ণতত্ত্ব প্রেমতত্ত্ব ও ভক্তিতত্ত্ব বিষয়ের গভীর জ্ঞান ও তাঁর ভাবপ্রবণতা দেখে বিমুগ্ধ হয়ে পড়লেন।মিশ্র সফলকাম মনে করে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর নিকট সকল বিষয় জ্ঞাত করলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *🌹রাঘবের ঝালি🌹*
                *হরিদাসের দেহত‍্যাগ*
               ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀প্রতি বৎসর রথযাত্রার সময় যখন গৌড়ীয় ভক্তগণ নীলাচলে আগমন করতেন,তখন তাঁদের মধ্যে অনেকেই মহাপ্রভুর জন‍্য নানান খাদ‍্য দ্রব‍্য নিয়ে আসিতেন।ভক্তদের পত্নীরা গৌরহরির প্রতি আন্তরিক ভক্তি ও শ্রদ্ধা বশতঃ এইসব খাদ‍্যদ্রব‍্য তৈরী করে পাঠাতেন।বৎসরান্তে মহাপ্রভুর অঙ্গসেবক গোবিন্দ এইসব খাদ‍্যবস্তুর দ্বারা ঘর পূর্ণ করে ফেলতেন।সকলেই আপনাপন নামে গোবিন্দের হাতে সব খাবার দিয়ে মহাপ্রভুকে যৎকিঞ্চিৎ আস্বাদন করবার জন্য আন্তরিক অনুরোধ করতেন।গৌড় হতে আনীত খাদ‍্যদ্রব‍্যাদির মধ্যে পানিহাটীর রাঘব পন্ডিতের ঘর হতে মহাপ্রভুর জন্য ফুলবড়ি,সুক্ত বিবিধ প্রকার আচার ও নানাপ্রকার সামগ্রী প্রচুর পরিমাণে ছোট ছোট থলিতে ভরে একটি বড় পেটরার মধ্যে দিয়ে একাধিক বাহক বহন করে নীলাচলে নিয়ে যেত।মহাপ্রভু সন্ন‍্যাসী,তিনি সব বিষয়েই উদাসীন।একদিন গোবিন্দ মহাপ্রভুকে আনীত দ্রব‍্যাদির কিছু কিছু অংশ ভক্ষণ করতে বললেন।তার মধ্যে নূতন ও পুরাতন সবরকম সামগ্রী ছিল।মহাপ্রভু এ সবই হতে প্রসন্নচিত্তে কিছু কিছু নিয়ে ভক্ষণ করলেন।গোবিন্দ গৌরহরির আহারের সময় কার কোন দ্রব‍্য তা মহাপ্রভুকে বলতে লাগলেন।সেদিন অনেক দ্রব‍্য আহারের পর গোবিন্দ বলল,এখন রাঘবের ঝালি বাকী আছে ; তিনি অন‍্যদিন তা ভোজন করবেন বলিয়া রেখে দিতে বললেন।গৌড়ীয় ভক্তদের বাৎসরিক এইরকম উপঢৌকনের মধ্যে রাঘব-দময়ন্তী দেবীর উপঢৌকনই নানান প্রকার ও বহুল বলেই বিবেচিত হত।এইজন‍্য রাঘবের ঝালি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।*
*💧হরিদাসের দেহত‍্যাগ বা প্রয়াণ💧*
*🌺পুরুষোত্তমে শ্রীচৈতন‍্যদেবের যে সকল ভক্ত জীবনের অনুপম সৌন্দর্য্য গুণে সকলের চিত্ত হরণ করতেন,তার মধ্যে হরিদাস তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বল রত্নসম।হরিদাস অনুদিন অনুক্ষণ হরিনাম জপে ও কীর্তনে রত থাকতেন।তিনি বিনয়ের অবতার ছিলেন।হরিদাস মুসলমানকুলে পালিত হয়েও উচ্চবংশের দেবচরিত্র ব্রাহ্মণের ন‍্যায় বহুলোকের কাছ হতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি পেয়েছিলেন।হরিভক্ত পবিত্রচেতা ব‍্যক্তিরাই যে যথার্থ দ্বিজশ্রেষ্ঠ শ্রীগৌরাঙ্গই বঙ্গদেশে তাঁর কথা ও কাজের দ্বারা তা প্রকাশ করে গিয়েছেন।মহাপ্রভু হরিদাসকে ভীষণ ভীষণ ভালবাসতেন।নিত‍্য তাঁর দর্শন করবার জন্য হরিদাসের কুটীরে আসিতেন। গোবিন্দ মহাপ্রভুর আদেশেই নিত‍্য নামাচার্য‍্য হরিদাসের জন্য প্রসাদান্ন নিয়ে যেতেন।একদিন গোবিন্দ প্রসাদান্ন নিয়ে হরিদাসের কুটীরে উপস্থিত হয়ে দেখলেন,তিনি শয‍্যায় শয়ন করে গুণগুণ রবে হরিনাম জপ করছেন।গোবিন্দ তাঁকে ভোজনের জন্য অনুরোধ করলে,তিনি মৃদুস্বরে বললেন,আমি নামের সংখ্যা পূর্ণ করতে পারছি না,কিভাবে আহার করব?তবে প্রসাদান্নও বা কিভাবে একেবারে গ্রহণ না করে থাকব? এই বলে তা হতে একবিন্দু অন্ন মুখে দিয়ে পুনরায় নামজপে রত হলেন।হরিদাস বৃদ্ধ হয়েছেন ; তাঁর প্রাণবিহঙ্গ এখন সংসারের পরপারে বিভুগুণ কীর্তনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।দুর্বল শরীরে নাম জপের সংখ্যা পূর্ণ হচ্ছে না,এই তাঁর গভীর দুঃখ।*
*মহাপ্রভু হরিদাসের কুটিরে আগমন করে তিনি কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করাতে,হরিদাস তাঁকে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানিয়ে বললেন, "শরীর একপ্রকার সুস্থ আছে কিন্তু মনের অবস্থা তেমন ভাল নাই"।গৌরহরি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি ব‍্যাধি,আমাকে খুলে বল? হরিদাস বললেন,প্রভো!শ্রীনাম জপের নির্দ্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করতে পারছি না আমার এই দুঃখ।শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন,"নামমাহাত্ম‍্য প্রচারের জন্যই তুমি এই ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছ,লোকের তাও ঘোষণা করলে, এখন বৃদ্ধ হয়েছ,শ্রীনামজপের সংখ্যা কম করে ফেল"।এতে কোন অপরাধ হবে না।হরিদাস বললেন,প্রভু!আমি অস্পৃশ‍্য অধম নীচ জাতি ; তোমারই কৃপাতে আমি গৌরবান্বিত হয়েছি; এবং অনেক উচ্চ অধিকার লাভ করেছি।প্রভু তুমি তো আর মানব না, সাক্ষাৎ ভগবান,তুমি নিজ ইচ্ছানুসারে মানুষকে কাজ করাও।প্রভো!বহুদিন হতে আমার এই মনে হচ্ছে যে,তুমি অতি শীঘ্রই ইহলোকের লীলা সাঙ্গ করে চলে যাবে।সে তোমার সাঙ্গ লীলা আমাকে আর দেখতে না হয়,এই আমার বাসনা।অন্তিমকালে যেন তোমার শ্রীচরণ বক্ষে ধারণ করে, তোমার শ্রীচাঁদবদন দেখতে দেখতে, এবং তোমার মধুময় শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নাম উচ্চারণ করতে করতে আমার দেহান্ত হয়।দয়াময়!তোমার শ্রীচরণে আমার এই নিবেদন।*
*🌷এক বাঞ্জা হয় মোর বহু দিন হৈতে।*
*🌷লীলা সম্বরিবে তুমি লয় মোর চিতে।।*
*🌷সেই লীলা প্রভু মোরে কভু না দেখাইবা।*
*🌷আপনার আগে মোর শরীর পড়িবা।।*
*🌷হৃদয়ে ধরিব তোমার কমল চরণ।*
*🌷নয়নে দেখিব তোমার চাঁদ বদন।।*
*🌷জিহ্বায় উচ্চারিব তোমার কৃষ্ণচৈতন‍্য নাম।*
*🌷এই মত মোর ইচ্ছা ছাড়িব পরাণ।।*
*🌷মোর ইচ্ছা এই যদি তোমার কৃপা হয়।*
*🌷এই নিবেদন মোর কর দয়াময়।।*
*🌹দয়াময় মহাপ্রভু হরিদাসের ব‍্যাকুল প্রার্থনা শুনে বললেন, হরিদাস! তোমার যে বাসনা,তা অবশ‍্য ভগবান পূর্ণ করবেন।কিন্তু আমার কাজই যে তমাকে নিয়ে ; আমাকে ছেড়ে যাওয়া তোমার উচিত নয়।হরিদাস মহাপ্রভুর চরণ ধরে বললেন, আমার মস্তকের মণিস্বরূপ এমন কত ভক্ত তোমার লীলার সহায় হবে। আমার মত সামান্য একটি পিপীলিকা ইহসংসার হতে চলে গেলে তোমার কোনই ক্ষতি হবে না।কথোপকথনে বেলা বাড়তে লাগল,মহাপ্রভু স্নান ও ভোজনের জন্য গমন করলেন।গৌরহরি দেখলেন, হরিদাসের ইহলোকের দিন ফুরিয়ে আসিল। তিনি তার পরদিন ভক্তগণসহ হরিদাসের কুটিরে আগমন করলেন।*
☘🌳🌲🌻🍀🍁🌷🌹💐🌸🥀🏵🌼
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                 *হরিদাসের দেহত‍্যাগ*
                 ================
*🌼মহাপ্রভু এসে দেখেন,তাঁর ক্ষীণ দেহ হতে প্রাণবায়ু বেড়িয়ে যাবার আর বেশী দেরী নাই, অর্থ‍্যাৎ মৃত‍্যু আসন্ন প্রায়।তিনি হরিদাসের শরীরের অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করলে, হরিদাস বললেন,মহাপ্রভু!তুমি যেমন রেখেছ আমি তেমনি আছি।শ্রীচৈতন‍্যদেব ভক্তগণসহ সেই মূমুর্ষ অনন্তধামের যাত্রী ভক্ত হরিদাস ঠাকুরের শয‍্যার চতুর্দিক বেষ্টন করে,কীর্তন করতে লাগলেন। স্বরূপ দামোদর,বক্রেশ্বর পন্ডিত,রায় রামানন্দ, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি নীলাচলের সমস্ত ভক্তগণই আজ নামাচার্য‍্য হরিদাসের মৃত‍্যু-শয‍্যাপার্শ্বে সমবেত হয়েছেন।কীর্তন করতে করতে মহাপ্রভু হরিদাসের বিচিত্র গুণাবলী স্মরণ করে ভাবে উন্মত্তপ্রায় হয়ে সকলের সামনে তা বর্ণনা করতে লাগলেন।হরিদাস তখনও বতর্মান।যাঁদের সঙ্গে তিনি এতদিন হরিগুণ কীর্তনে জীবন অতিবাহিত করেছেন,আজ বিদায়কালে তাঁদের চরণধূলি মস্তকে গ্রহণ করলেন।*
*অবশেষে হরিদাস শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যকে সম্মুখে বসালেন,এবং তাঁর পদদ্বয় বক্ষে ধারণ করে অনিমিষনয়নে তাঁর শ্রীমুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তাঁর দুই নয়ন হতে বারিধারা বহিতে লাগল এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের নাম উচ্চারণ করতে করতে নামাচার্য‍্য হরিদাসের প্রাণবায়ু বেড়িয়ে গেল।হরিদাসের দেহান্ত হলে,ভক্তদের কন্ঠ হতে হরিধ্বনিতে চারিদিক পূর্ণ হয়ে যেতে লাগল।শ্রীচৈতন‍্যদেব হরিদাসের মৃতদেহ কোলে করে নৃত্য করতে লাগলেন।অবশেষে সকলে কীর্তন করতে করতে তাঁর মৃতদেহ সাগর-জলে নিয়ে গিয়ে স্নান করালেন, এবং সকলে তাঁর পাদোদক পান ও চরণধূলি মস্তকে গ্রহণ করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন, হরিদাসের অঙ্গস্পর্শে আজ হতে সাগর মহাতীর্থে পরিণত হল।তাঁরা হরিদাসের মৃতদেহে নূতন কৌপীন ও বহির্বাস পরিয়ে,পুষ্পে সজ্জিত করলেন, এবং প্রসাদান্ন সঙ্গে দিয়ে সাগরতটে বালুকারাশির মধ্যে প্রোথিত করলেন।অবশেষে সমাধির চতুর্দিকে ক্ষণকাল কীর্তন করে ভক্তগণ গৃহাভিমুখে প্রত‍্যাবর্তন করলেন। হরিদাসকে সমাধিস্থ করে শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর মহোৎসবের জন্য সিংহদ্বারে ও সব দোকানে গিয়ে ভিক্ষা সংগ্রহ করতে লাগলেন।( ভগবান ভক্তের জন্য কি-না করেন) সকলেই মহাপ্রভুকে প্রচুর পরিমাণে ভিক্ষা দান করতে লাগলেন।এই মহোৎসবে সকলে ভোজন করতে বসিলে, মহাপ্রভু নিজহাতে পরিবেশন করতে লাগলেন। গৌরহরি এক একজনের পাতে পাঁচ-পাঁচজনের খাবারপ্রদান করতে লাগলেন।সকলেই হরিধ্বনি করতে করতে আকন্ঠ পূরে ভোজন করলেন।মহাপ্রভু ভোজনান্তে সকলকে চন্দন ও মালা প্রদান করলেন ; এবং অশ্রুজলে বক্ষ ভাসিয়ে সর্বসমক্ষে হরিদাসের গুণকীর্তন করতে লাগলেন।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*গৌড়ীয় নারীদের আগমন ও কথোপকথন*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀প্রায় প্রতি বৎসরের ন‍্যায় এই বছরও নীলাচলে আগমনের উপস্থিত হল।এবার গৌড়ীয়দের পত্নীরাও মহাপ্রভুর দর্শন লালসায় তাঁদের সঙ্গে শ্রীক্ষেত্রে যাত্রা করলেন।শ্রীশিবানন্দ সেন প্রতি বৎসরই ভক্তগণদের সঙ্গে নিয়ে পুরুষোত্তমে যাবার কাজ করতেন।এই বৎসরও তিনি প্রায় তিনশ পুরুষ-নারীর দেখাশোনা রূপে সকলকে নিয়ে যাত্রা করলেন।পথে কোন জায়গায় নদী পার হবার সময় তিনি সকলের পারের কড়ি দিয়ে পার করিয়ে দিলেন ; কিন্তু তাঁর নিজের পারের জন্য ঘাটে কিছু দেরী হল।এদিকে ভক্তদল অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন শিবানন্দের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।বেলা বাড়তে লাগল,তাঁরা কোথায় থাকবেন,কি সেবা করবেন কিছুই স্থির করতে পারলেন না।এইসব অসুবিধার মধ্যে তাঁরা বড়ই কষ্ট অনুভব করতে লাগলেন।বিলম্ব দেখে শিবানন্দ সেনের উপর অত‍্যন্ত বিরক্ত হয়ে নিত‍্যানন্দ বললেন, "শিবানন্দের সব ছেলে মরুক" বলে অভিশাপ করতে লাগলেন।রৌদ্রেতে সকলে একটি বৃক্ষতল আশ্রয় করে অপেক্ষা করছেন,এমন সময়ে শিবানন্দ সেন এসে উপস্থিত হলেন। আসিবামাত্র নিত‍্যানন্দ শিবানন্দ সেনের বক্ষে পদাঘাত করলেন।শান্তস্বভাব শিবানন্দ পদাঘাতে কিছুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ না করে,"আমার পরমসৌভাগ্য " এই বলে আনন্দ প্রকাশ করতে লাগলেন।এদিকে শিবানন্দের পত্নী নয়নজল ফেলতে ফেলতে স্বামীকে বললেন,নিত‍্যানন্দপ্রভু তোমার আসিতে দেরী দেখে,তার তিন ছেলে মরুক বলে অভিশাপ দিয়েছেন।এইকথা শুনে শিবানন্দ ঈষৎ হাসি হেসে বললেন,এইকথায় কি রাগ বা দুঃখ করতে আছে?এ যে নিতাইচাঁদের আশীর্বাদ গো।*
*🌸ভক্তদল দীর্ঘ পথ চলে নীলাচলে উপনীত হলে,মহাপ্রভু সবাইকে সমাদর করলেন।ভক্তগণের সকলে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করতে লাগলেন,তখন নদীয়াবাসী পরমেশ্বর মোদক তাঁর শ্রীচরণে প্রণাম করলে,মহাপ্রভো মোদককে দেখে ভীষণ সুখী হলেন।পরমেশ্বর মোদকের নিবাস নদীয়ায়, তাঁর বাড়ীর সন্নিকটেয় মহাপ্রভুর গৃহ। গৌরহরি বাল‍্যকালে মোদকের দোকানে মুড়কী,বাতাসা,সন্দেশ প্রভৃতি অনেক মিষ্টান্ন ভক্ষণ করেছিলেন।শিবানন্দ সেনের একটি সাত বৎসরের পুত্র শ্রীচৈতন‍্যদেবকে প্রণাম করলে,তিনি সেই পুত্রের নামকরণ করলেন পুরীদাস।এই বালকই ভবিষ্যতে শ্রীচৈতন‍্যদেবের জীবনী রচনা করেন ; এবং শ্রীকবি কর্ণপুর নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।*
*🍁নীলাচলে পুনঃ আনন্দোৎসব আরম্ভ হল।এবার ভক্ত পরিবারের অন্তরঙ্গ ভক্তের পত্নীরা এসে মহাপ্রভুকে প্রণাম করলেন। দেখতে দেখতে মহোৎসব সম্পন্ন হয়ে গেল।ভক্তগণ সস্ত্রীক চাতুর্মাস‍্য করে স্বদেশে প্রত‍্যাগমনকালে গৌরহরির নিকট বিদায় নিতে আসিলে,তিনি বললেন, তোমরা প্রত‍্যেক বৎসর কত কষ্ট করে নীলাচলে এসে আমার সেবা কর।আমি নিত‍্যানন্দকে বঙ্গদেশে থেকে প্রচার করতে বলেছি ;তিনি তবুও আমাকে দেখবার জন্য এখানে এসে থাকেন।আমি তোমাদের এ প্রেমের ঋণ কখনও পরিশোধ করতে পারব না।আমি সন্ন‍্যাসী,আমার এ দেহ ছাড়া আর কোন সম্বল নেই ; তাও তো তোমাদের দান করেছি।সকলে মহাপ্রভুর এই স্নেহপূর্ণকথা শুনে ক্রন্দন করতে করতে স্বদেশাভিমুখে যাত্রা করলেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১৭)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*জগদানন্দ পন্ডিতের অভিমানভঞ্জন*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀জগদানন্দ পন্ডিত কবিরাজ ছিলেন।তিনি মহাপ্রভুর আদেশে অনেক সময় শচীমায়ের দেখাশোনা করতেন নবদ্বীপে থেকে।একবার বঙ্গদেশ হতে নীলাচলে আসিবার সময় তিনি গৌরহরির জন্য এক কলস সুগন্ধি তেল নিয়ে আসেন ; এবং সেই তেল গোবিন্দের হাতে দিয়ে বললেন এই তেল গৌরহরির অঙ্গে ও মস্তকে মর্দন করবেন।জগদানন্দের মনের পূর্ণ বিশ্বাস,ঐ তেলের দ্বারা মহাপ্রভুর শরীর স্নিগ্ধ বা আরামদায়ক থাকবে।তারপর গোবিন্দ মহাপ্রভুকে জগদানন্দের দেওয়া তেলের কথা বললে,শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন,আমি সন্ন‍্যাসী,সন্ন‍্যাসীর পক্ষে তেল ব‍্যবহার নিষিদ্ধ।তুমি ঐ তেল শ্রীজগন্নাথদেবের প্রদীপ জ্বালাবার জন্য প্রদান কর।জগদানন্দ এই কথা শুনলেন,পরেরদিন জগদানন্দ আসিলে মহাপ্রভু তেলের কথা উত্থাপন করে জগন্নাথের সেবার জন্য ব‍্যবহার করতে বললেন।তখন জগদানন্দ ভিতরের ভাব গোপন করে বললেন,আমি বঙ্গদেশ হতে সুগন্ধি তেল এনেছি কে বলল?এই বলিয়া তিনি তেলপূর্ণ কলস মাটিতে আছাড় মেরে ভেঙ্গে ফেললেন।মহাপ্রভু আর কোন কথা বললেন না,কারণ জগদানন্দ মহাপ্রভুর বাল‍্যকালের সাথী।জগদানন্দ কলসটি ভেঙ্গে নিজ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে শয়ন করে রইলেন।তিনদিন এইভাবে কেটে গেল।তারপর শ্রীচৈতন‍্যদেব জগদানন্দের অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য তাঁর বাড়ির দরজার কাছে গিয়ে চিৎকার করে বললেন,আজ তোমার এখানে ভিক্ষা গ্রহণ করব।জগদানন্দ অযাচিত মহাপ্রভুর এই অনুরোধ শুনে পরম পুলকিত চিত্তে শয‍্যা হতে উঠে দরজা খুললেন, এবং গৌরহরির ভোজনের জন্য রন্ধন কার্য‍্যে রত হলেন।জগদানন্দ যেমন সুপন্ডিত ছিলেন তেমনি রন্ধনকার্য‍্যেও সুপটু ছিলেন। তিনি নানা প্রকার ব‍্যঞ্জন রান্না করলেন।বাল‍্যবন্ধু আহার করবে,এই আনন্দে তাঁর প্রাণ মহানন্দে ভরে উঠিল।মহাপ্রভু যথাসময়ে ভোজন করবার জন্য উপস্থিত হলেন।জগদানন্দ তাঁর আহারের জন্য পাতা পাতিলে, মহাপ্রভু বললেন,এই পাতার পার্শ্বে আরেকটি পাতা রাখ,আমরা একসঙ্গে ভোজন করব। জগদানন্দ তাতে স্বীকৃত না হয়ে বললেন,তোমার ভোজনের পর আমি আহার করব।কথা না বাড়িয়ে মহাপ্রভু সেবায় রত হলেন,জগদানন্দ নানান ব‍্যঞ্জন দ্বারা শ্রীচৈতন‍্যদেবকে ভোজন করাতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁর রন্ধনের বিশেষ প্রশংসা করে বললেন, "ক্রোধাভিভূত হয়ে বড় সুন্দর রন্ধন করেছ"।পরে করুণাময় গৌরহরি জগদানন্দের কাছে বসে তাঁকে আহার করিয়ে, অভিমান ভঞ্জন করিয়ে নিজস্থানে আসিলেন।*
*🍁মহাপ্রভুর কঠোর বৈরাগ‍্য দর্শন করে জগদানন্দ সাধ‍্যানুসারে শ্রীচৈতন‍্যদেবকে একটু সুখে রাখতে যত্ন করতেন।মহাপ্রভুর কলার বাসনায় শয়ন করতেন। কিন্তু তাতে তাঁর কষ্ট হচ্ছে মনে করে,জগদানন্দ একখানি তুলোর তোষক তৈরী করিয়ে গোবিন্দকে দিয়ে মহাপ্রভুর শয‍্যা প্রস্তুত করতে বললেন।গৌরহরি তোষক দেখে গোবিন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন,তোষক কে দিয়েছে?গোবিন্দ বলল,জগদানন্দ পন্ডিত দিয়েছেন। তখন মহাপ্রভু বললেন,তবে তো একখানা খাট বা পালঙ্ক আনলেই তো হয়?এইকথা জগদানন্দ শুনে অত‍্যন্ত অভিমানী হলেন বটে,পরে বুঝলেন সন্ন‍্যাসধর্মে বিলাসিতা চলে না, তিনি আর কোন কথা বললেন না,চুপ করে রইলেন।*
🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
          *🌹রঘুনাথ ভট্টের আগমন*
                    *🌹নারীর সঙ্গীত*
            *🌹কোন নারীর ধর্মনীষ্ঠা*
         °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব যখন কাশীধামে গমন করেছিলেন,তখন তপন মিশ্রের পুত্র বালক রঘুনাথ তাঁর পদসেবা করতেন এবং তাঁর উচ্ছষ্ট প্রসাদ ভক্ষণ করতেন।এই বাল‍্যাবস্থায় ইনি শ্রীচৈতন‍্যদেবের সুমধুর কথা শুনে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন।তখন হতেই তাঁর মনে ধর্ম ও ভক্তিভাবের সঞ্চার হয়েছিল।রঘুনাথ বয়ঃপ্রাপ্ত হলে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর দর্শনের জন্য নীলাচলে যাত্রা করেন।পথে যাবার সময় শ্রীরামদাস নামে এক প্রবীণ শাস্ত্রজ্ঞ ও ধর্মপরায়ণ ব‍্যক্তির সঙ্গে ইঁনার পরিচয় হয়।রামদাস যদিও রাম-উপাসক ছিলেন, তথাপি তরুণবয়স্ক যুবা রঘুনাথের ভক্তিভাব দেখে তাঁর প্রতি অত‍্যন্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং রঘুনাথের তল্পি বহন করে,তাঁকে সঙ্গে করে,পুরুষো‍ত্তমে নিয়ে আসেন। তারপর রঘুনাথ মহাপ্রভুর কাছে এসে তাঁকে দন্ডবৎ প্রণাম করলে, মহাপ্রভু প্রথমতঃ রঘুনাথকে চিতনে পারেননি ; পরে পরিচয় যখন দেন আমি তপন মিশ্রের পুত্র রঘুনাথ,তখন সানন্দচিত্তে গৌরহরি তাঁকে আলিঙ্গন দান করেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব তপন মিশ্রের পুত্রের ধর্মনিষ্ঠা,বৈরাগ‍্য ও ভক্তিভাব দেখে তাঁকে অত‍্যন্ত স্নেহ করতেন।*
*রঘুনাথ কাশীধামে ফিরবার সময় শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে দারপরিগ্রহ করতে নিষেধ করেন ; এবং ভাগবত পাঠ ও শ্রীকৃষ্ণের নামকীর্তনে সময় অতিবাহিত করতে বলেন। ভক্ত রঘুনাথ ভক্তি ও বৈরাগ‍্য প্রণোদিত অন্তরে মহাপ্রভুর উপদেশ অনুসারে জীবন অতিবাহিত করতে লাগলেন।যখন পিতামাতা ইহলোক ত‍্যাগ করলেন,তারপর রঘুনাথ পুনরায় নীলাচলে আগমন করে কয়েকমাস থাকেন, এবং তৎপর মহাপ্রভুর আজ্ঞায় বৃন্দাবনে গমন করেন।সেখানে সনাতনাদি পরম বৈষ্ণবগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাধন,ভজন ও হরিগুণ কীর্তনে জীবন অতিবাহিত করেন।বৈষ্ণবদেরপূজ‍্যপাদ ছয়জন গোস্বামীর মধ্যে ইনি অন‍্যতম*
*🔵🔵নারীর সঙ্গীত🔵🔵*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀একদিন শ্রীচৈতন‍্যদেব যমেশ্বর টোটায় যাচ্ছিলেন।দূরে জগন্নাথদেবের মন্দিরের এক দেবদাসী অতি মধুর স্বরে গান করছিলেন।ধর্মাত্মারা চিরদিনই সঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে থাকেন।শ্রীচৈতন‍্যের কোমলহৃদয় গান শুনে মুগ্ধ হয়ে পড়িল ; তিনি উর্দ্ধশ্বাসে সেইদিকে ধাবিত হলেন।সঙ্গীত যে বামাকন্ঠ হতে উত্থিত হচ্ছে,তখন তাঁর সে জ্ঞান নেই। তিনি দৌড়িয়ে গিয়ে,বাহু প্রসারণ করে যেই সে দেবদাসী গায়িকাকে আলিঙ্গন করতে যাবেন,অমনি অঙ্গসেবক গোবিন্দ পেছন পেছন ছুটছিলেন মহাপ্রভুর,সঙ্গে সঙ্গে গোবিন্দ সামনে দাঁড়িয়ে দুই বাহু দ্বারা মহাপ্রভুকে বক্ষে জড়িয়ে ধরলেন।পরে যখন বললেন যে যাকে তুমি আলিঙ্গন করতে যাচ্ছিলে সেই স্ত্রীলোক,এইকথা শুনামাত্র গৌরহরির চৈতন‍্য হল।তিনি গোবিন্দকে বললেন,তুমি যদি আমাকে রক্ষা না করতে তাহলে,আমি আজ দেহত‍্যাগ করতাম,তুমি আজ হতে আমার কাছে থেকে আমাকে রক্ষা করবে*
*🌺🌺কোন নারীর ধর্মনিষ্ঠা🌺🌺*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀কোন একদিন অনেকেই শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে শ্রীজগন্নাথ করছিলেন,এমন সময়ে শ্রীচৈতন‍্যদেবও সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শন করছিলেন।এক উড়িয়া নারী গরুড়ের উপর বসে নিবিষ্টচিত্তে শ্রীজগন্নাথদেবের মূর্তি দর্শন করছিলেন ; গোবিন্দ তা দর্শন করে স্ত্রীলোকটিকে তিরস্কার করে সেখান হতে নামাতে গেলে,মহাপ্রভু গোবিন্দকে বললেন, ইঁনার দর্শনের ব‍্যাঘাত সৃষ্টি করিও না।যখন উড়িয়া রমণী দেখল যে শ্রীচৈতন‍্যদেবের স্কন্ধে বা কাঁধে তার চরণদ্বয় স্থাপিত রয়েছে তখন সে লজ্জায় ও দুঃখে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলেন।মহাপ্রভু সে নারীর একাগ্রতা ও ধর্মনিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বললেন,এ নারী যথার্থই ভাগ‍্যবতী,যদি এর মত আমার নিষ্ঠা থাকত, আমি নিজেকে সৌভাগ্যশালী মনে করতাম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*গৌড়ীয় ভক্তাদের আগমন ও গৌর সংকীর্তন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀যখন বৎসরান্তে গৌড়ীয় ভক্তগণেরা নীলাচলে আসতেন, চারমাস কাল সেখানে বাস করতেন, তখন অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে প্রতিদিন সন্ধ‍্যাবেলা সংকীর্তন হত।আর একদিন ভক্ত সমবেত হলে,অদ্বৈতাচার্য‍্য সবাইকে বললেন, এসো আজ আমরা গৌরচন্দ্রের গুণাবলী কীর্তন করি।আচার্য‍্য অন্তরের চরম ভালবাসা দিয়ে একটি কীর্তন রচনা করেছিলেন।অন‍্যান‍্য ভক্তগণ বললেন,মহাপ্রভুতাঁর গুণকীর্তন শুনিলে অত‍্যন্ত অসন্তুষ্ট হবেন।*
*আচার্য‍্য বললেন,আমরা অন‍্য বিষয়ে তাঁর আজ্ঞাবহহতে পারি, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর কোন কথা আমরা শুনতে রাজী নই।অদ্বৈতাচার্য‍্যের কথায় সবাই সম্মত হয়ে,তাঁরা আচার্য‍্য-রচিত কীর্তনটি অতি উৎসাহের সঙ্গে কীর্তন করতে লাগলেন।মৃদঙ্গ ও করতালের ধ্বনির সঙ্গে তাঁদের কন্ঠধ্বনিতে চারিদিক নিনাদিত করে তুলল। গৌরহরি সংকীর্তনধ্বনি শুনে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখলেন,আজকের কীর্তন অন‍্যান‍্য দিনের ন‍্যায় হরিগুণ কীর্তন নয় ; তাঁরই গুণাবলী কীর্তিত হচ্ছে।অনন্ত ঈশ্বরে ও তাঁতে কত প্রভেদ এটি স্মরণ করে তিনি লজ্জায় ও ঘৃণায় নিজের ঘরে চলে গিয়ে শয‍্যায় শয়ন করলেন।কীর্তনের সময় মহাপ্রভুকে চলে আসতে দেখে কীর্তনকারীরা কীর্তনান্তে সকলে তাঁর ঘরে আসিলেন।দয়াময় গৌরসুন্দর কীর্তন শুনে প্রীতিলাভ করেননি,ইহা অনুভব করে কেউ আর সাহস করে গৃহের ভিতরে প্রবেশ করলেন না।কেবল শ্রীবাস পন্ডিত মহাপ্রভুর কাছে গিয়ে বললেন,চলে আসার কারণ কি জানতে পারি?তখন মহাপ্রভু প্রায় ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন,তোমরা যে কীর্তন করছিলে তা মোটেই উচিত হয় নাই।কোথায় হরিনাম সংকীর্তন করবে না,সেই জায়গায় মানুষের মহিমা কীর্তিত হচ্ছে?শ্রীবাস পন্ডিত মহাপ্রভুর কথা শুনে নিজের হাতদুটি উপরে তুলে বললেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের জয়।তখন মহাপ্রভু বললেন,কেন তুমি মানুষের জয় জয়কার করছ?শ্রীচৈতন‍্য একথা বলাতে শ্রীবাস বললেন,সূর্য‍্যকে কি আবরণে আবৃত করে রাখা যায়? তখন শ্রীচৈতন‍্যদেব শ্রীবাসের কথা শুনে মৌন অবলম্বন করলেন।এমন সময় চট্টগ্রাম ও শ্রীহট্ট অঞ্চলের একদল লোক বা ভক্ত শ্রীচৈতন‍্যদেবের ঘরের দরজায় এসে প্রমত্তভাবে গৌর সংকীর্তন করতে লাগলেন। শ্রীবাস তখন গৌরহরিকে বললেন,ঐ শোন, বল,এখন কার মুখ বন্ধ করবে? এইকথা শুনে গৌরসুন্দর নিরুপায় হয়ে নিরুত্তর রইলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
    *☘প্রেমবিকার ও সাগরে পতন*
       🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*🌹ভক্ত হরিদাসের তিরোভাবের পর হতেই শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের ভাবোচ্ছ্বাস পূর্ণিমার সাগরোচ্ছ্বাসের ন‍্যায় ক্রমশঃই বৃদ্ধি পেতে লাগল।তিনি সবসময়ই বিরহ-যাতনায় অস্থির হয়ে, দিনরাত্রি যাপন করতেন।স্নানাহার কেমল অভ‍্যাস বশতই সম্পন্ন হয়ে যেত।তাঁর এই অবস্থা দেখে ভক্তবৃন্দ ভীত হয়ে পড়লেন।সন্ধ‍্যার পূর্ব অর্থ‍্যাৎ গোধূলি সময় হতে তাঁর ভাব-তরঙ্গ ক্রমে বাড়তে থাকত।ক্রমে যত রাত্রি বেশী হত ততই তিনি যেন সেই ভাবতরঙ্গে ভাসমান হয়ে আত্মহারা হয়ে পড়তেন।সন্ধ‍্যার সময় তাঁর ঘরের মধ্যে রায় রামানন্দ,স্বরূপ-দামোদর প্রভৃতি কৃষ্ণপ্রেমানুরাগী তাঁর অনুগত ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়ে তাঁকে যেন চেতনাবস্থায় রাখবার জন্য প্রয়াসী হতেন।কেননা,মহাপ্রভু একেবারে বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হয়ে পড়তেন।একদিন সন্ধ‍্যার সময় গৌরহরি ব‍্যাকুল হয়ে স্বরূপ ও রামরায়ের কন্ঠালিঙ্গন করে বললেন,তোমরা শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ শক্তির কথা শুনতে চাও?ঐ অপরূপ রূপমাধুরী লোভে মুগ্ধ হয়েই আমি বেদবিহিত ধর্মপথ পরিত‍্যাগ করে যোগী-সাজে সেজে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করেছি। এই কথাগুলি শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন=*
*🌷রায় স্বরূপের কন্ঠে ধরি,*
*🌷কহে "হাহা!হরি!হরি!",*
*🌷ধৈর্য‍্য গেল হইল চপল।*
*🌷শুন বান্ধব! কৃষ্ণের মাধুরী,*
*🌷যার লোভে মোর মন,*
*🌷ছাড়িলেক বেদ ধর্ম,*
*🌷যোগী হঞা হইল ভিখারী।।*
*🌻এইসব কথা বলতে বলতে তিনি কৃষ্ণবিরহে অস্থির হয়ে পড়লেন,ভাবাবেশে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। বাহ‍্যজ্ঞান একেবারে বিলুপ্ত হয়ে পড়ল।তখন সবাই ধরাধরি করে,মহাপ্রভুকে ভিতরের ঘরে নিয়ে গেলেন।তারপর রামরায় সময়োচিত একটি শ্লোক পাঠ করলেন।স্বরূদামোদরের মধুর কন্ঠে পূর্বরাগের একটি পদ আরম্ভ করলেন।মহাপ্রভু পদটি শুনে চেতনা লাভ করলেন ; এবং অতি ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণের মনোহর রূপের বর্ণনা করতে লাগলেন।তাঁদের মনে হল আজকের রাত্রিতে আর মহাপ্রভু সংজ্ঞাহীন হবেন না। তাঁকে শয‍্যায় শয়ন করিয়ে রামরায় নিজ ঘরে গমন করলেন।স্বরূপদামোদর ও গোবিন্দ গম্ভীরার দ্বারদেশে শয়ন করলেন।ঘরের ভিতর মহাপ্রভু উচ্চৈঃস্বরে হরিকীর্তন করতে লাগলেন।তারপর আর কিছুক্ষণ স্বরূপ আর মহাপ্রভুর কন্ঠধ্বনি শুনতে না পেয়ে কপাট খুলে দেখেন, তিনি ঘরের মধ্যে নাই।অথচ ঘরের তিনদিকের কপাট বন্ধ রয়েছে।তাঁরা ব‍্যাকুল চিত্তে গৌরহরির খোঁজে এদিক ওদিক দেখতে লাগলেন,দেখেন মহাপ্রভু সিংহদ্বারে অচৈতন‍্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।ভক্তগণ উচ্চৈঃস্বরে তাঁর কর্ণকুহরে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করতে লাগলেন।শ্রীনাম শুনে তিনি চেতনা লাভ করলেন।চৈতন‍্য লাভ করে শ্রীচৈতন‍্য কিভাবে সিংহদ্বারে আসিলেন,আশ্চর্য‍্যান্বিত ভাবে স্বরূপকে জিজ্ঞাসা করাতে স্বরূপ বললেন,ঘরে চলো সব কথা বলব।এই বলে তিনি তাঁর হাত ধরে ঘরে নিয়ে এলেন, এবং তাঁদের অসাক্ষাতে বন্ধ ঘরের মধ্যে দিয়ে সিংহদ্বারে তাঁর গমনের বৃত্তান্ত বিবৃত করলেন।মহাপ্রভু এই ঘটনা শুনে বিস্মিত হলেন।*
*🍁একদিন সমুদ্রে স্নান করতে যাবার সময়,দূর হতে চটকগিরি দেখতে পেয়ে,গিরিগোবর্ধন মনে করে মহাপ্রভুর মনে কৃষ্ণপ্রেমে হৃদয় উথলিয়ে উঠিল ; তিনি বায়ুর মত দ্রুতগতিতে সেই দিকে ধাবমান হলেন। কিন্তু কিছুদূর যাবার পর,তাঁর অঙ্গ অবসন্ন হয়ে পড়ল,তিনি চলনশক্তি হারিয়ে ফেললেন,বালির উপর বসে পড়লেন।*
*ভক্তগণ তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে দেখেন,মহাপ্রভু চেতনাহীন অবস্থায় সাগরতটে পড়ে রয়েছেন ; তাঁর দুই নয়ন জলে ভেসে যাচ্ছে, এবং শরীরের লোমকূপের মধ‍্য দিয়ে রক্ত বাহির হচ্ছে।ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যদেবের চৈতন‍্য ফেরানোর জন্য তাঁর কর্ণের নিকট মৃতসঞ্জীবনী হরিনাম উচ্চারণ করতে লাগলেন।সেই শ্রীহরিনাম শুনে গৌরহরি চেতনা লাভ করলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ত্রয়োদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga13.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧






adds