শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১. শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
*🍀শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু প্রণীত "শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী" নামক প্রবন্ধ এবং তাঁর নানান সমালোচনা প্রভৃতি।*
*🍀শ্রীরাজেন্দ্রনাথ দাস ঘোষ কর্তৃক সঙ্কলিত। তৎকর্তৃক ২৪ পরগণা পৃথিবা, হতে প্রকাশিত।*
*🍀শ্রীশ্রীস্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে,চৈতন‍্যাব্দ ৪১৭, বঙ্গাব্দ ১৩০৯, মূল‍্য আট-আনা মাত্র।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻🌻প্রকাশকের নিবেদন🌻*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀গত ১৩০৬ সালের ৩১শে বৈশাখ তারিখের "বঙ্গবাসী" পত্রিকায় কলিপাবনাবতার শ্রীমন্নিত‍্যানন্দবংশাবতংস প্রভুপাদ শ্রীযুক্ত অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয় "শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী" শীর্ষক একটি সুচিন্তিত ও সারগর্ভ প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।প্রবন্ধটির উদ্দেশ্যও উক্ত পত্রিকারই সম্পাদকীয়-স্তম্ভে এইরকম বিবৃত হয়েছিল। যথা=*
*🌻কোন কোন মহাজন শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীকে বর্তমানে "শূদ্র"প্রতিপন্ন করতে চান। বলেন,ঈশ্বরপুরী,বাহ্মণবংশাতংস শ্রীগৌরাঙ্গের দীক্ষাগুরু ছিলেন।ব্রাহ্মণ শ্রীগৌরাঙ্গ প্রায় চারশ বৎসর পূর্বে শূদ্রের নিকট হতে যখন মন্ত্রগ্রহণ করেছিলেন,তখন অদ‍্য আমি "আচারো-বিনয়ো-বিদ‍্যা" ইত্যাদি নবধাগুণসম্পন্ন শূদ্র হয়ে,ব্রাহ্মণকে মন্ত্র দিতে কেন না সক্ষম হবে?অতএব শ্রীপাদ পুরীর শূদ্র হওয়াই একান্ত আবশ্যক।"গরজ বড় বালাই! পুঁথিতে "ক্ষুদাধম"পাঠ থাকলেও তাকে "শূদ্রাধম" বলে পড়তে হবে! কিন্তু দুঃখ এই,-- শূদ্রাধম-পাঠ সংযোজিত হলেও শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী শূদ্র বলিয়া প্রমাণীকৃত হলেন না!পন্ডিত শ্রীযুক্ত অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয় স্বতন্ত্র প্রবন্ধে,শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী যে ব্রাহ্মণ,তা বিশদ ও অকাট‍্য যুক্তির দ্বারা দেখিয়ে দিয়েছেন।*
*🍀এই প্রবন্ধটি উপলক্ষ‍্য করে,নানা মহাত্মার পত্রে,সংবাদ পত্রে,ও সাময়িক পত্রে বৈষ্ণববৃন্দের অবশ‍্য জ্ঞাতব‍্য নানান বিষয় সমালোচিত হয়।সেগুলি একত্রে প্রকাশিত হলে অনেকেরই বিশেষ উপকার হবে ভেবে,আমি উক্ত সমালোচনাগুলোর সঙ্গে প্রবন্ধটি পুস্তকাকারে প্রকাশ করলাম।*
*🙏পূজ‍্যপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী তাঁর সম্পাদিত শ্রীচৈতন‍্যভাগবতের ব‍্যাখ‍্যা ও বক্তব‍্যের ৭৯|২|২১ অংশের ব‍্যাখ‍্যায় লিখেছেন=*
*🌹ক্ষুদ্রাধম---,ক্ষুদ্র অপেক্ষাও অধম অর্থ‍্যাৎ ক্ষুদ্রাদপি ক্ষুদ্র।এই জায়গায় "ক্ষুদ্রাধর্মের" পরিবর্তে কেউ কেউ "শূদ্রাধম" পাঠ কল্পনা করে বলেন যে,শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী জাতিতে "শূদ্র" ছিলেন।তাঁদের কথা যে কতদূর চরমভাবে ভুল তা মৎপ্রণীত "শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী " নামক গ্রন্থে দ্রষ্টব‍্য।*
*🍀 কিন্তু আমি এই গ্রন্থ প্রকাশ করায়,অপ্রয়োজন-বোধে, তিনি আর আলাদা ভাবে উক্ত গ্রন্থ প্রকাশ করলেন না।*
*🍀অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীর প্রবন্ধই এই গ্রন্থের প্রাণ ; সুতরাং তাঁর প্রবন্ধের নামেই গ্রন্থের নামকরণ হল-- শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী।তাঁর পূর্ব প্রতিশ্রুতির মর্য‍্যাদা রক্ষা করাও,এইরকম নামকরণের অন‍্যতর উদ্দেশ্য। এই গ্রন্থের সর্বপ্রথমেই অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীর প্রবন্ধ,তারপরে ঐ প্রবন্ধ সম্বন্ধে অনুকূল মত,তদনন্তর প্রতিকূল মত, তার পরে ঐ প্রতিকূল মতের প্রতিবাদ,তার শেষে অচ‍্যুতবাবুর প্রবন্ধ এবং শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী সম্বন্ধে সাধারণের মত প্রকাশ করা হল। অনুকূল মতের ভিতরে প্রভুপাদ বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, প্রভুপাদ গোকুলচন্দ্র গোস্বামী ও অচ‍্যুতবরণ চৌধুরী, মহাশয়ত্রয়ের পত্র এবং বসুমতী-পত্রিকার সম্পাদকীয় মন্তব‍্য স্থান প্রাপ্ত হয়েছে।বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর এই পত্রই তাঁর জীবনের শেষ পত্র।এই পত্র লিখিবার পর, আর তাঁকে লেখনি ধারণ করতে হয়নি, তিনি ইহলোক পরিত‍্যাগ করেন।বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ও অচ‍্যুতবাবুর পত্র দুইটি ২৮শে জ‍্যৈষ্ঠের বঙ্গবাসী এবং গোকুলচন্দ্র গোস্বামীর পত্রটি ৭ই শ্রাবণের বঙ্গবাসী হতেই সংগৃহীত।*
*🌻প্রতিকূল মত একটিমাত্র।প্রতিকূল মতের প্রতিবাদ দুইটি, গৌড়েশ্বর-বৈষ্ণবের প্রবন্ধ এবং কৃষ্ণহরি গোস্বামী মহাশয়ের পত্র।পত্রটি অতুলকৃষ্ণ মহাশয়ের কাছ হতেই পেয়েছিলাম।*
*🌺প্রতিকূল মতের লেখক-- শ্রীযুক্ত অপূর্বকৃষ্ণ দেব।তাঁর বক্তব‍্য (১৩০৬, জ‍্যৈষ্ঠ মাসের) শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।গৌড়েশ্বর-বৈষ্ণবের প্রবন্ধ ও কৃষ্ণহরি গোস্বামী মহাশয়ের পত্র পাঠ করলেই অপূর্ববাবুর প্রতিবাদের অসারতা সকলেই বুঝতে পারবেন।*
*🍁অপূর্ববাবুর এই প্রবন্ধ সম্বন্ধে আমারও দুই-একটি কথা বলবার আছে।তিনি লিখেছেন যে, "ক্ষুদ্রাধম" পাঠ কোন গ্রন্থেই দেখতে পাননি,তাঁকে "ক্ষুদ্রাধম" পাঠ দেখাতে পারলে,তিনি বড় বাধিত হবেন, এবং যেহেতু ক্ষুদ্র ও অধম শব্দ একার্থবাচী(একইকথা), সুতরাং "ক্ষুদ্রাধম" দ্বিরুক্তি-দোষে দুষ্ট।*
*🍀প্রভুপাদ অতুলকৃষ্ণ ও কৃষ্ণহরি গোস্বামী প্রভৃতি পন্ডিতগণ প্রাচীন গ্রন্থে "ক্ষুদ্রাধম" পাঠ দেখতে পেলেও, অপূর্ববাবুই যে কেন দেখতে পেলেন না,এ কথার প্রকৃত উত্তর দিতে না পারলেও, আমি তাঁকে সাহসের সঙ্গেই বলতে পারি যে, তিনি অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীর (১১ নং মহেন্দ্রনাথ গোস্বামীর লেন,সিমুলিয়া স্থিত) ভবনে গিয়ে,অথবা সেখানে যাবার যদি কোন আপত্তি থাকে,তাহলে হাবড়া রামকৃষ্ণপুর নিবাসী শ্রীযুক্ত রোহিণীনন্দন দাস বাবাজী মহাশয়ের কাছে উপস্থিত হয়ে,"ক্ষুদ্রাধম" পাঠ দেখে আসতে পারেন। "ক্ষুদ্রাধম" শব্দটি দ্বিরুক্তি-দোষে দুষ্ট,(দ্বিরুক্তি=একটি শব্দ পুনর্বার উল্লেখ ),অপূর্ববাবুর এ সিদ্ধান্তটি অতীব অর্পূব!তাঁর এই সিদ্ধান্তই তাঃর ব‍্যাকরণজ্ঞান ও দূরদর্শিতার প্রতি বিশেষ সন্দেহ উৎপাদন করে দিয়েছে।ব‍্যাকরণশাস্ত্রে "সমাস" বলে যে একটা-কিছু আছে,তা জানা থাকলে,তাঁর লেখনিমুখে কখনই ঐরকম কথা বাহির হত না। অপূর্ববাবুকে জিজ্ঞাসা করি, পান্ডবগীতা দেখেছেন কি? কৃপাচার্য‍্য বলেছেন=*
*🌷ত্বদ্ভৃত‍্য-ভৃত‍্য-পরিচারক-ভৃত‍্য-ভৃত‍্য।*
*🌷ভৃত‍্যস‍্য ভৃত‍্য ইতি মাং স্মর লোকনাথ।।*
*☘এখানে দেখতে পাই,"পরিচারক" ও ভৃত‍্য শব্দ একইশব্দ।অপূর্ববাবুর মতে এটি দ্বিরুক্তি-দোষে দুষ্ট বলে কৃপাচার্য‍্যের মস্ত ভুলই বলতে হবে, না, এটির অর্থ-পরিগ্রহের প্রকৃত চেষ্টা করতে হবে?অপূর্ববাবুকে আরও জিজ্ঞাসা করি, শঙ্করাবতার শঙ্করাচার্য‍্যের "চর্পট-পঞ্জরিকা" পড়েছেন কি?তাতে তিনি বলেছেন=*
*🌷ভগবদ্গীতা কিঞ্চিদধীতা,*
*🌷গঙ্গা-জল-লব-কণিকা-পীতা।*
*🌷সকৃদপি যস‍্য মুরারি-সমর্চ্চা,*
*🌷তস‍্য যমঃ কিং কুরুতে চর্চ্চা।।*
*🌺এই শ্লোকেও দেখতে পাই, একার্থবাচী "লব" ও "কণিকা" শব্দ একত্র প্রযুক্ত হয়েছে।এটি শঙ্করাচার্য‍্যের ভুল না কি? শ্রীভাগবতেও= "অনুজানীহি নৌ ভূমংস্তবানুচর-কিঙ্করৌ", এইরকম জায়গাও একার্থবাচী "অনুচর" ও "কিঙ্কর" শব্দের একত্র প্রয়োগ দেখা যায়।এটিও কি ব‍্যাসদেবের ভুল বলতে হবে?*
           *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. প্রকাশকের নিবেদন 🙇 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
         *প্রকাশকের নিবেদন*
          ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀আর একটি কথা,--তিনি অমরকোষের নানার্থবর্গ হতে যে প্রমাণবচনটি উদ্ধৃত করে নিজ পান্ডিত‍্য প্রখ‍্যাপনের চেষ্টা করেছেন,সেই বচনের মধ‍্যস্থিত "অধম" শব্দটির "অধন" পাঠান্তর আছে।মেদিনীকোষেও "অধনই" পাঠ। সুতরাং উক্ত জায়গায় "অধম" শব্দটি সর্ববাদিসম্মত না।অমরকোষের ঐ জায়গায় টীকা দেখলেই তিনি আমার কথার যথার্থ উপলব্ধি করতে পারবেন।তার পর,ঐ অমরকোষেরই নানাজায়গায় ঐ অধম-শব্দেরই নানা অর্থ কথিত থাকতে,এখানের অর্থই যে কেন স্বীকার করতে হবে,অপূর্ববাবুর তার কারণ নির্দেশ করে দেওয়া উচিত ছিল। বোধ হয়, এ সম্বন্ধে আর বেশী বলা নিষ্প্রয়োজন।*
*☘অচ‍্যুতবাবুর প্রবন্ধে পুরীপাদের জীবনলীলা অতি সুন্দরভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাঁর এই প্রবন্ধমধ‍্যেই প্রথমে পুরীপাদকে "শূদ্র" বলে উল্লেখ করেছিলেন, পরে অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীর প্রবন্ধ পাঠ করে, পুরীপাদকে "ব্রাহ্মণ" বলে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং বলতে হয়,তাঁর প্রবন্ধটি এখন পূর্ণবয়বই হয়েছে। শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী সম্বন্ধে সাধারণের মতের মধ্যে শ্রীজনার্দ্দন শর্ম্মা ও শ্রীঅম্বিকাচরণ গুপ্ত মহাশয়দ্বয়ের প্রবন্ধের কিছু অংশ এবং অনুসন্ধানপত্রিকায় প্রকাশিত শ্রীজগদ্বন্ধু ভদ্র মহাশয়ের একটি প্রতিবাদ-প্রবন্ধ ও তার প্রত‍্যুত্তর-প্রবন্ধের অধিকাংশ উদ্ধৃত হয়েছে।মহাত্মা জনার্দ্দন শর্ম্মা যে বিকাররোগীর প্রলাপের কিছু অংশ উদ্ধৃত করে,তার প্রলাপ-বিরতির জন্য বিদ্রূপের জাতিই বলেন। আপনি "ব্রাহ্মণ" প্রতিপন্ন(প্রমাণসিদ্ধ) করে লিখলে কেন না সুখী হব?*
*🍀সুহৃদবরের পত্রের উত্তরস্বরূপে আমি এটিই বলতে পারি,শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে কখনই শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীকে "শূদ্রজাতি" লিখেন নাই।আমি যে পুঁথিগুলি আশ্রয় করে শ্রীচৈতন‍্যভাগবত সম্পাদন করেছি,তার মধ্যে অনেকগুলিই বিশুদ্ধ ও কোন কোন পুঁথি আড়াইশ বৎসরেরও প্রাচীন।সমস্ত প্রাচীন পুঁথিতেই "ক্ষুদ্রাধম" পাঠ দেখেছি এবং সুসঙ্গত-বোধে সেই পাঠই রেখেছি। ভাল,"ক্ষুদ্রাধম" পাঠ না হয় নাই রইল ; স্বীকার করলাম যে "শূদ্রাধম"ই প্রকৃত পাঠ ; তাহলেও কি পুরীপাদকে শূদ্রজাতি বলে নির্দেশ করতে পারা যায়?আসুন দেখি,এবিষয়ে একটু বিচার করে দেখা যাক!শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস লিখেছেন=*
*🌷হেনকালে নবদ্বীপে শ্রীঈশ্বরপুরী।*
*🌷আইলেন অতি অলক্ষিত বেশ ধরি।।*
*🌷কৃষ্ণরসে পরম বিহ্বল মহাশয়*।
*🌷একান্ত কৃষ্ণের প্রিয় অতি দয়াময়।।*
*🌷তান বেশে তানে কেহো চিনিতে না পারে।*
*🌷দৈবে গিয়া উঠিলেন অদ্বৈত-মন্দিরে।।*
*🌷যেখানে অদ্বৈত সেবা করেন বসিয়া।*
*🌷সম্মুখে বসিলা বড় সঙ্কোচিত হৈয়া।।*
*🌷বৈষ্ণবের তেজ বৈষ্ণবেতে না লুকায়।*
*🌷পুনঃপুনঃ অদ্বৈত তাহান পানে চায়।।*
*🌷অদ্বৈত বোলেন বাপ!তুমি কোন জন।*
*🌷বৈষ্ণব-সন্ন‍্যাসী তুমি হেন লয় মন।।*
*🌷বোলেন ঈশ্বরপুরী "আমি ক্ষুদ্রাধম।*
*🌷দেখিবারে আইলাঙ তোমার চরণ।।*
       *(শ্রীচৈঃভাঃ আদি খন্ড ৭ম অধ‍্যায়)*
*🌻তান=তাঁর, তানে=তাঁরে, তাহান=তাঁহার।*
*🌹শ্রীবৃন্দাবন দাসের এই তো কথা, "বোলেন ঈশ্বরপুরী--আমি ক্ষুদ্রাধম"।এর পরিবর্তে না হয় বললাম, "বোলেন ঈশ্বরপুরী-- আমি শূদ্রাধম"। এই অংশ আশ্রয় করে কি ভাবে যে পুরীপাদকে শূদ্রজাতি বলা যেতে পারে,তা তো আমাদের অল্প বুদ্ধির গোচর হল না।আমরা তো বুঝি, এস্থলে "শূদ্রাধম" পাঠ বৈষ্ণব-স্বভাব সুলভ দীনতারই দ‍্যোতক(প্রকাশক)। জাতির প্রসঙ্গ এখানে আসতেই পারে না। যদি "বোলেন ঈশ্বরপুরী আমি শূদ্রাধম" এর অর্থ এইরকম করা যায় যে. ঈশ্বরপুরী বললেন,আমি অতি অধম শূদ্রজাতি,তাহলে আমাদের এই কথাটি মনে পড়ে,(মৃত আসি কহিলেক আমি তো জীবিত!) অর্থ‍্যাৎ যার জীবন নাই, সেই মরা মানুষ এসে বলল,আমি জীবিত!! যিনি পুরী, যিনি সন্ন‍্যাসী, যিনি সমস্ত বিষয়ের আসক্তি পরিত‍্যাগ করেছেন, যিনি নিজ পূর্বাশ্রম বা নাম-ধাম জাতি গোপনে রাখতে শাস্ত্র অনুসারে বাধ‍্য, আজ সেই ঈশ্বরপুরী বলছেন কি? না আমি শূদ্রাধম,আমি অতি অধম শূদ্রজাতি!!এর চেয়ে বেশী হাস‍্যজনক ব‍্যাপার আর কিছু হতে পারে কি?*
*🙏শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য পুরীপাদকে জিজ্ঞাসা করলেন,তুমি কোন জন?এরই তো উত্তরস্বরূপে পুরীপাদ বলেছেন, আমি শূদ্রাধম?এখানে "শূদ্রাধম"শব্দ জাতিত্বব‍্যঞ্জক কেমন করে হবে?কেন না, অদ্বৈতাচার্য‍্য তাঁর পরিচয় জানার আগেই স্বয়ং শ্রীমুখে বলেছেন, "বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী তুমি হেন লয় মন"। সুতরাং শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য তাঁকে "তুমি কোন জাতি"?এইরকম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেননি,এটি যেরকম অভ্রান্ত সত‍্য,পুরীপাদও যে শূদ্রাধম শব্দ দ্বারা তাঁর জাতির পরিচয় প্রদান করেননি,এটিও সেইরকম অভ্রান্ত সত‍্য।শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য‍্যপ্রভুপাদের ন‍্যায় একজন সর্বশাস্ত্রপারদর্শীর পক্ষে যেরকম একজন বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসীকে "তুমি কোন জাতি"? এরকম অসঙ্গত ও অশাস্ত্রীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা অসম্ভব,শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর মত একজন মহামহোপাধ‍্যায় পন্ডিত সন্ন‍্যাসীর পক্ষেও স্বকীয় পূর্বাশ্রম বা জাতির পরিচয় প্রদান করা সেইরকমই অসম্ভব ও অসঙ্গত।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻অধন ও অধম মানে হচ্ছে=যার ধন নেই, ধনহীন,নিঃস্ব,নির্ধন,দরিদ্র।*
*(২)যাদের নিজস্ব বলিবার কিছুই নেই ; সোপার্জিত ও কোন কিছু যাদের নিজস্ব নয়। শাস্ত্রে নিশ্চিত আছে যে,অস্বাধীন দাস,পুত্র ও নারী এই তিনজন অধন,এদের নিজস্ব কিছুই থাকে না,এরা যা কিছু লাভ করে,তা স্বামীরই হয়।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
           *প্রকাশকের নিবেদন*
            ~~~~~~~~~~~~
*🍀বৈষ্ণবে জাতি-বুদ্ধি,এক মহান অপরাধের মধ্যে পরিগণিত,তা কি অদ্বৈতাচার্য‍্য জানতেন না? সুতরাং এ স্থলে "শূদ্রাধম"শব্দের অর্থ এইরকমই বুঝতে হবে,"আমি অতি দীনহীন,আমি শূদ্র হতেও অধম, আমি অতি সামান্য ব‍্যক্তি"।মোটকথা, শ্রীবৃন্দাবন দাস শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীকে "শূদ্র জাতি" বলেছেন,এ কথা যে আর চলে না,তা বোধ হয় সকলেই স্বীকার করবেন।*
*🌻শ্রীবৃন্দাবন দাস ভাগবতে শ্রীঈশ্বরপুরীপাদকে 'শূদ্রজাতি' লিখেছেন,না জেনে,না শুনে, বিশেষ আলোচনা না করে,এরকম কথা বলা যে অতি গুরুতর অপরাধ,তার আর সন্দেহ নাই।শ্রীবৃন্দাবনদাসের বদনে এরকম কলঙ্কের কালিমা লেপন,করা দূরে থাকুক,এরকম কথা শুনলেও অপরাধী হতে হয়। কেন না, "ন কেবলং যো মহতোহপভাষতে শৃণোতি তস্মাদপি যঃ স পাপভাক্"।শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস একজন সন্ন‍্যাসীকে "শূদ্র" বলে নির্দেশ করেছেন বা সেই সন্ন‍্যাসী পূর্বাশ্রমে "শূদ্র" ছিলেন বলে প্রকাশ করেছেন,এইকথা বলবার আগে শ্রীপাদবৃন্দাবন দাসের গ্রন্থটি আদ‍্যোপান্ত আলোচনা করাই সুবিবেচকের উচিত।কেন না,তিনি আলোচনা করলেই দেখতে পেতেন যে, "সন্ন‍্যাসী শূদ্র নহেন বা শূদ্র সন্ন‍্যাসী হতে পারেন না ", একথাই শ্রীবৃন্দাবনদাস পদে পদে প্রচার করেছেন।আমি তাঁর গ্রন্থ হতে যদৃচ্ছাক্রমে দুই-একটা স্থান নিচে উদ্ধৃত করছি ; ধীরতার সঙ্গে সেই জায়গাগুলি আলোচনা করে দেখুন, কি বোধ হয়! শ্রীবৃন্দাবন দাস লিখেছেন=*
*🌷এই মত আপ্ত বৈষ্ণবের স্থানে স্থানে।*
*🌷'শিখা সূত্র ঘুচাইমু' বলিলা আপনে।।(১)*
      *(শ্রীচৈঃভাঃ,মধ‍্যখন্ড,২৫অধ‍্যায়)*
*🌷"শিখা সূত্র ঘুচাইয়া সবে এই লাভ।*
*🌷নমস্কার করে আসি মহাভাগবত"।।(২)*
*🌷"যদি কৃষ্ণভক্তিযোগে করিবে উদ্ধার।*
*🌷তবে শিখা সূত্র-ত‍্যাগে কোন্ লভ‍্য আর"।।(৩)*
*🌷"যদি বোল মাধবেন্দ্র-আদি মহাভাগ।*
*🌷তাঁরাও করিয়াছেন শিখা-সূত্র-ত‍্যাগ"।।(৪)*
     *(শ্রীচৈঃভাঃ অন্ত‍্যখন্ড,৩য় অধ‍্যায়)*
*🌹উপরের উদ্ধৃত চারটি অংশের মধ্যে প্রথম অংশটি গ্রন্থকারের নিজের উক্তি এবং অবশিষ্ট তিনটি অংশ মহাপ্রভুর প্রতি সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের উক্তি।এই কয়টি জায়গায় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, গ্রন্থকার 'সন্ন‍্যাস' শব্দের পরিবর্তে "শিখা-সূত্র-ত‍্যাগ" কথাটির ব‍্যবহার করেছেন ; অর্থ‍্যাৎ শিখা-সূত্র-ত‍্যাগই যে সন্ন‍্যাস,এই শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্তটি গ্রন্থকার যেরকম নিজে জানতেন,সেইরকম অকপট হ‍ৃদয়ে অন‍্যের কাছে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছেন। সুতরাং "সন্ন‍্যাস" শব্দের পরিবর্তে "শিখা-সূত্র-ত‍্যাগ" কথাটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারংবার বলেছেন।এখন জিজ্ঞাসা করি,এই সব অংশ দেখে-শুনেও কি শ্রীবৃন্দাবনদাসের উপর দোষারোপ করতে পারা যায়? তিনি সন্ন‍্যাসীকে "শূদ্র"বলেন,বা শূদ্র সন্ন‍্যাসী হতে পারেন,এ কথা প্রচার করেন,এরকম কথা আর বলা চলে কি?আর এক কথা,চতুর্থ পদ‍্যাংশের মধ্যে যে "মাধবেন্দ্র-আদি" শব্দ বিন‍্যস্ত রয়েছে, এই "আদি" শব্দের অভ‍্যন্তরে মাধবেন্দ্রশিষ‍্য "শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর" প্রতিমূর্তি কি দেখা যাচ্ছে না? হঠকারিতা এবং জিগীষাবৃত্তিকে দূরে রেখে, এ কথাটাও একটু নিরপেক্ষ ভাবে ভেবে দেখুন, কি বোধ হয়!*
*🍀সুহৃদ্বর শেষ মীমাংসা করেছেন যে,শিশিরবাবু শূদ্রজাতিই বলেন, সুতরাং ঈশ্বরপুরী শূদ্র!আমরা এ কথাটা বেশ ভালভাবে বুঝতে পারলাম না।অনেক আচার্য‍্যপদপ্রার্থী হীনচেতা ও মূর্খ শূদ্র পূর্বোক্ত "ক্ষুদ্রধাম" পাঠকে "শূদ্রাধম" করে ব‍্যাখ‍্যার কৌশলে নিরক্ষর মানুষগুলোর চোখে ধূলি দিয়ে নিজের কাজ সাধন করে থাকে,একথা আমরা জানি। অর্থ‍্যাৎ তারা এইরকম প্রচার করে যে, শ্রেষ্ঠ বৈদিকব্রাহ্মণবংশসমূদ্ভূত শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু যখন শূদ্রজাতি -সমুৎপন্ন ঈশ্বরপুরীর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছেন,তখন আমরাই বা কেন ব্রাহ্মণাদি সব জাতিকে দীক্ষিত করার অধিকার হতে বঞ্চিত হব?এইরকম অভিমানের বশবর্তী হয়েই,তারা একমাত্র ঐ "শূদ্রাধম"শব্দটিকে অবলম্বন করে,পাপের সাগরে ঝাঁপ দিয়ে থাকে। কিন্তু শিশিরবাবুর মত একজন সুশিক্ষিত শ্রীগৌরভক্ত যে ঐরকম কোন একটা অসৎ উদ্দেশ্যে ঐরকম মত প্রচার করেছেন, অর্থ‍্যাৎ ঈশ্বরপুরীপাদকে "শূদ্র"বলে নির্দেশ করেছেন,তা কখনই হতে পারে না।তবে শিশিরবাবু তো দেবতা নহেন, তিনি মানুষ। ভ্রম-প্রমাদ মানুষের নিত‍্য সহচর।এ ক্ষেত্রে শিশিরবাবু সেই ভ্রমে পতিত হয়েছেন।অসাবধানতাপ্রযুক্ত এরকম কথা বলেছেন বলেই আমাদের মনে হয়। মোটকথা, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী শূদ্র নহেন কিংবা পূর্বাশ্রমে শূদ্র ছিলেন না এবং শ্রীবৃন্দাবনদাসও যে তাঁকে শূদ্রজাতিসম্ভূত বলেননি,এ বিষয়ে আর সংশয়ের লেশমাত্র থাকতে পারে না।*
*🙏লেখকের মতামত প্রকাশ করিলাম।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
    *প্রবন্ধ-সম্বন্ধে অনুকূল মত*
    <><><><><><><><><><><
*🍀কলিপাবনাবতার শ্রীমদদ্বৈতপ্রভুবংশাবতংস শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয় লিখেছেন=*
*🌷নমোহস্তু শ্রীনিত‍্যানন্দ-বংশধর-চরণ-সরোজেষু।*
*🌻অদ‍্য বঙ্গবাসীতে "শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী" নামক প্রবন্ধটি শুনিয়া কতদূর যে সুখী হইলাম, তাহা বলিতে পারি না।যখন আমি কলকাতায় ছিলাম,প্রায়ই দেখিতাম যে,লোকেরা আসিয়া বলিতেছে যে,বিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকাতে মহাপ্রভুর গুরু ঈশ্বরপুরী যে শূদ্র ছিলেন,তাহাই লেখা হইতেছে।সেই পর্য‍্যন্ত আমার মনে সর্বদা হইত যে, আমাদের কোন গোস্বামী বংশে কি এমন কেহই নাই যে,এই মিথ‍্যা এবং ভয়ানক মতের প্রতিবাদ করে!অদ‍্য আপনার প্রতিবাদ শুনিয়া যে কি পর্য‍্যন্ত আহ্লাদিত হইলাম,তাহা বলিতে পারি না।যদি আকাশ ভেঙ্গে পড়ে ও সমুদ্র শুকাইয়া যায়,তথাপি ঈশ্বরপুরী যে শূদ্র ছিলেন,এ কথা কখনই সত‍্য হইতে পারে না।আপনি যেরূপ যুক্তিযুক্তভাবে প্রবন্ধটি লিখায়াছেন,তাহা খুব সুন্দরই হইয়াছে।যুক্তিগুলি খুবই অকাট‍্য হইয়াছে।তথাপি আমি দুই একটি কথা বলি।আপনি যাহা প্রমাণ দেখাইয়াছেন,তাহা যথেষ্ট হইয়াছে ; তবে সব দিকেই ঈশ্বরপুরী যে কখনই শূদ্র হইতে পারেন না,তাহার প্রমাণ রহিয়াছে।*
*🌻মহাপ্রভু যখন গয়াধামে গিয়াছিলেন,সেই স্থানেই ঈশ্বরপুরীর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন,তখন তাঁহার প্রকটাবস্থা নয়।আর বর্ণাশ্রমধর্মে থাকিয়া তিনি যে শূদ্রের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিবেন, এ মোটেই সম্ভব হইতে পারে না।গয়াধামে গিয়া,শ্রীঈশ্বরপুরী ব্রাহ্মণ না হইলে,তাঁহার কাছে দীক্ষাগ্রহণ করিবেনই বা কেন?তা ছাড়া গুরুপরম্পরায় শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীর শিষ‍্য শ্রীঈশ্বরপুরী বলিয়া লেখা আছে।ঈশ্বরপুরী শূদ্র হইলে মাধবেন্দ্রপুরী তাঁহাকে শিষ্য করিবেন কেন?*
*🌻আপনি যে সব যুক্তি দেখাইয়া লিখিয়াছেন,তাহাতে এই সব অসার ও অন‍্যায় মত খুব খন্ডন করা হইয়াছে।এইরূপ ভয়ানক মত যাহাতে প্রশ্রয় না পাইতে পারে,তাহার জন্য আপনারা সবিশেষ চেষ্টিত থাকিবেন। আমাদের দেশে বর্ণাশ্রমধর্ম লোপ পাইবার মত হইয়াছে।আপনারা বর্ণাশ্রমধর্ম রক্ষার জন্য না চেষ্টা করিলে আর কারা করিবে?এই বর্ণাশ্রমধর্ম না ডাঁড়ালে,সর্বসাধারণের কখনই মঙ্গল হবে না।বর্ণাশ্রমধর্ম রক্ষা হইলে যথার্থ সকলের কল‍্যাণ হইবে। শেষে মহাপ্রভুর নিকট প্রার্থনা করি, যেন আপনাকে দীর্ঘজীবী করেন ও যেন তাঁর সত‍্যধর্ম এইরূপ রক্ষা করিতে ও লোককে বুঝাইতে শক্তি দেন।*
*🌻শাস্ত্র ও সদাচার-রক্ষাকারী সর্বসজ্জনগণের দাসানুদাস শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, শ্রীক্ষেত্রধাম। ৪ঠা জ‍্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সাল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻কলিপাবনাবতার শ্রীমন্নিত‍্যানন্দপ্রভুবংশাবতংস শ্রীপাদ গোকুলচন্দ্র গোস্বামী মহাশয় লিখেছেন=*
*🌻বঙ্গবাসীতে তোমার প্রকাশিত "শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী শূদ্র কিনা প্রবন্ধটি পড়িয়াছি।প্রবন্ধে "ক্ষুদ্রাধম" বা "শূদ্রাধম" পাঠ বিষয়ে এক্ষণে আমি কিছু বলিয়েছি না।তবে তুমি যে সকল যুক্তি ও সিদ্ধান্ত করিয়াছ,উহা অতি সুন্দর।যে মর্ম্মে লেখা হইয়াছে তাহা সুসঙ্গত হইয়াছে। ঈশ্বরপুরী সম্বন্ধে আমারও বক্তব‍্য এই,তিনি ব্রাহ্মণ ছিলেন। ব্রাহ্মণ ব‍্যতিরেকে বেদাদি শাস্ত্র অধ‍্যয়ন, বিশেষতঃ সে সময়ে,সম্ভব নহে।শ্রীমন্মহাপ্রভু তাঁহাকে প্রতিদিন নমস্কার করিতেন ও তাঁহার সহিত শাস্ত্রপ্রসঙ্গ করিতেন।*
*🌷ঈশ্বরপুরীকে নমস্করিবারে চলে।*
*🌷ঈশ্বরপুরীও সর্বশাস্ত্রেতে পন্ডিত।*
*🌻ইত‍্যাদি শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে দেখিতে পাওয়া যাইতেছে।আরো "পুরী" এটি ব্রাহ্মণ ভিন্ন শূদ্রাদিতেও সম্ভব নহে। অতএব ঈশ্বরপুরী ব্রাহ্মণ ছিলেন,ইহাতে সন্দেহ হইতেই পারে না। শূদ্র দীক্ষা প্রদান করিতে পারে, এ কথাটি বাস্তবিকই নূতন।ইহা যে বৈষ্ণবশাস্ত্রানুমোদিত,ইহা কখনই নহে।তবে আজকাল বৈষ্ণবশাস্ত্র না জানিয়া,যদি কেহ ঐরূপ বলে,সে বিষয়ে কেবল অজ্ঞতা প্রখ‍্যাপন মাত্র। ব্রাহ্মণ ভিন্ন,আচার্য‍্য হওয়া,দীক্ষা প্রদান করা,কাহারই অধিকার নাই। ইহাই বৈষ্ণবশাস্ত্র কি বেদাদি শাস্ত্র মাত্রেরই সিদ্ধান্ত।সদাচারও এইরূপ চলিয়া আসিতেছে।অতএব ব্রাহ্মণ ভিন্ন দীক্ষা প্রদান করিতে পারে না।ইহাতে সংশয়মাত্রও নাই। ইতি=.শ্রীগোকুলচন্দ্র গোস্বামী, ১৬১ হ‍্যারিসন রোড,কলিকাতা।*
*🌻সুপ্রসিদ্ধ "বসুমতী" পত্রিকার সম্পাদকীয়স্তম্ভে লিখিত হয়েছে =*
*🍀দেশপাবন গুরুদেব ঈশ্বরপুরীকে অনেকে শূদ্র মনে করেন ; কেবল মনেই করেন না,সাধারণের মধ্যে প্রকাশ করতেও কুন্ঠিত হন না।এ সব কথা শুনলে আমাদের হাসি পায়। ঈশ্বরপুরীর নিবাস হালিশহর, কুমারহট্ট গ্রাম ; তিনি ব্রাহ্মণ ; কুলীন ব্রাহ্মণ।আমাদের স্বগ্রামবাসী বলে আমরা এ সংবাদ ঠিক জানি।একবার "দাসী" নামক মাসিক পত্রিকায় ভক্ত রামপ্রসাদ সেনকে কায়স্থ বলে প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা হয়েছিল। সে চেষ্টাও যেমন হাস‍্যজনক, পুরীমহাশয়কে শূদ্র প্রতিপন্ন করবার চেষ্টাও তেমনি হাস‍্যজনক। এই বিষয় নিয়ে গত সপ্তাহের বঙ্গবাসীতে শ্রীমান্ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী একটি সুন্দর সুচিন্তিত প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।বৈষ্ণবমাত্রেই তা পাঠ করবেন, এই আমার অনুরোধ।*
   *বসুমতী,৫ই জ‍্যৈষ্ঠ,১৩০৬ সাল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻সর্বজনপ্রিয় বৈষ্ণবজীবনী-লেখক শ্রীযুক্ত অচ‍্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি মহাশয় লিখেছেন=*
*🌻বঙ্গবাসীতে প্রতিবাদ পাঠে সুখীই হলাম।নিমাইচরিত গ্রন্থে, (এখানে বলে রাখা ভাল যে,এই পূজনীয় প্রভুপাদই শ্রীগৌরাঙ্গসমাজের সভাপতি। প্রকাশক)।যে ভ্রান্তমত প্রচারিত হচ্ছিল, আমার প্রবন্ধের (এই সময় সুপ্রসিদ্ধ "উমা" প্রভৃতির গ্রন্থকর্তা সুলেখক শ্রীযুক্ত পাঁচকড়ি বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, বি,এ,মহাশয় এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।প্রকাশক)।উপলক্ষ‍্যে তার একটা মীমাংসা হয়ে গেল,ভালই হল।*
*শ্রীঅচ‍্যুতচরণ চৌধুরী।*
      *১৮ই মে,১৮৯৯*
             *মৈনা*
     *কানাইবাজার*
            *শ্রীহট্ট*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
    *প্রবন্ধ-সম্বন্ধে প্রতিকূল মত*
    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীশ্রীগৌরাব্দ ৪১৪,জ‍্যৈষ্ঠ মাসের শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াপত্রিকায় শ্রীযুক্ত অপূর্ব কৃষ্ণ দেব লিখেছেন=*
*🌻শ্রীশিশিরবাবু তাঁর অমিয় নিমাই চরিতে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীকে কায়স্থ বলে উল্লেখ করায় বৈষ্ণব মন্ডলীর মধ্যে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হয়েছেন, লোকপরম্পরায় এই রকম শুনা যেত। সম্প্রতি বঙ্গবাসী নামক পত্রে এই সম্বন্ধে "শ্রীঅতুলকৃষ্ণ গোস্বামী" স্বাক্ষরিত একখানি পত্র প্রকাশিত হয়েছে।এই প্রবন্ধে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী যে ব্রাহ্মণেতর জাতি ছিলেন না তাইই প্রমাণ করবার চেষ্টা করা হয়েছে।*
*তাঁর প্রথম যুক্তি এই যে,শূদ্রের সন্ন‍্যাসে অধিকার নাই,শূদ্র পুরী হবার অযোগ‍্য।শূদ্রের সন্ন‍্যাসে অধিকার নাই একসময়ে একথা সত‍্য ছিল। কিন্তু মহাপ্রভুর সময়ের অনেক পূর্ব হতেই এই নিয়মের ব‍্যভিচার ঘটতে আরম্ভ হয়।কলিকালের নিমিত্ত ধর্মসংহিতার কোন কোন নিয়মের প্রত‍্যাখ‍্যাত হল,তারমধ‍্যে সন্ন‍্যাসও একটি। যথা=*
*🌷সমুদ্র যাত্রা স্বীকারঃ কমন্ডলু বিধারণঃ ইত্যাদি।*
*🌻এই কথার অংশটি বৃহন্নারদীয় পুরাণ অন্তর্গত এবং উদ্বাহতত্ত্বে বিধৃত।কলিতে বৈদিক সন্ন‍্যাসের বিধি এই কথায় প্রত‍্যাখ‍্যাত (অস্বীকৃত) হয়ে যায়। সুতরাং শাস্ত্রানুসারে ব্রাহ্মণও পুরী হবার অযোগ্য হলেন। অন‍্য দেশে যদিও এ নিয়ম সেরকম প্রভাবিত হল না, কিন্তু বঙ্গদেশে এর বিলক্ষণ প্রভাব রহিল। অথচ ত‍্যাগীগণ সংসারে আবদ্ধ থাকতে পারেন না। তন্ত্র হতে তাঁরা তান্ত্রিক সন্ন‍্যাসের বিধি খুঁজে বাহির করলেন। "অবধূতাশ্রমং দেবি কলৌ-সন্ন‍্যাস মুচ‍্যতে"। ইত্যাদি শিব বাক‍্যের উপর আস্থা সংস্থাপন করে আবার সন্ন‍্যাসের বিধি প্রবর্তিত হল।এবার একটু উপরন্তু সুবিধা হল।সে সুবিধা এই যে,এতে সর্ববর্ণেরই সন্ন‍্যাসে অধিকার জন্মিল।।বৈদিক সন্ন‍্যাসের মত এটির নিয়মের কঠোরতা থাকল না, শাক্ত,বামাচারী সন্ন‍্যাসী, বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী, এই দুই শ্রেণীর সন্ন‍্যাসী চারশ বৎসরের অনেক পূর্বেও বঙ্গদেশে বিরাজ করছিলেন।মালদহ,রঙপুর প্রভৃতি জায়গায় এখনও বামাচারী শাক্ত সন্ন‍্যাসীগণের গাদি ও চেলা দেখতে পাওয়া য।ইঁনারা গিরি উপাধিধারী।ইঁনারা সৌখিন গিরি নন। প্রচলিত প্রথা অনুসারে ইনাদেরকে সন্ন‍্যাসী হতে হয় ইঁনারা ব্রাহ্মণেতর জাতি হতেও সন্ন‍্যাসী চেলা গ্রহণ করে থাকেন।*
*এইরকম বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসের প্রথাও বহুকাল হল প্রচলিত হয়। আমাদের আলোচ‍্য শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীও বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী।শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য‍্য দেখিবামাত্রই ইঁনাকে বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী বলে অনুমান করেছিলেন, যথা=*
*🌷হেনকালে নবদ্বীপে শ্রীঈশ্বরপুরী।*
*🌷আইলেন অতি অলক্ষিত বেশধারী।।*
*🌷কৃষ্ণরসে পরম বিহ্বল মহাশয়*।
*🌷একান্ত কৃষ্ণের প্রিয় অতি দয়াময়।।*
*🌷তাঁর বেশে তাঁরে কেহ চিনিতে না পারে।*
*🌷দৈবে গিয়া উঠিলেন অদ্বৈতমন্দিরে।।*
*🌷যেখানে অদ্বৈত সেবা করেন বসিয়া।*
*🌷সম্মুখে বসিলা বড় সঙ্কোচিত হইয়া।।*
*🌷বৈষ্ণবের তেজঃ বৈষ্ণবেরে না লুকায়।*
*🌷পুনঃ পুনঃ অদ্বৈত তাঁহার পানে চায়।।*
*🍀এই পর্যন্ত গেল গ্রন্থকারের কথা। এতে পুরী গোস্বামীর বেশ বিন‍্যাস, স্বভাব চরিত্র অনেকটা বুঝা গেল। তিনি যে বেশে অদ্বৈতমন্দিরে আগমন করলেন তা দেখে কেউ চিনতে পারেননি, তবে বৈষ্ণবের কাছে বৈষ্ণবতেজঃ লুকানো যায় না। সুতরাং পুরী গোসাঞী অদ্বৈতাচার্য‍্যর কাছে তাঁর বৈষ্ণবতেজঃ লুকাতে পারলেন না। এর পরে--*
*🌷অদ্বৈত বলেন,--বাপ!তুমি কোন জন।*
*🌷বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী তুমি হেন লয় মন।।*
*🍀ইহা শুনে যে কোন কারণেই হোক পুরী গোসাঞী তা অস্বীকার করে বললেন,=*
*🌷বলেন ঈশ্বরপুরী----মুঞি শূদ্রাধম।*
*🌷দেখিবারে আইলাম তোমার চরণ।।*
*🌹গোস্বামী মহাশয় এই পয়ারের "শূদ্রাধম" শব্দটি নিয়ে অনেক কথা বলেছিলেন।তাঁর মতে "শূদ্রাধম" পাঠ কোন হস্তলিখিত গ্রন্থে নাই,সব হস্তলিখিত গ্রন্থেই তিনি "ক্ষুদ্রাধম" পাঠ দেখেছেন। আমরা কিন্তু এ পর্যন্ত অনেকগুলি অতি প্রাচীন পুঁথিতেই "ক্ষুদ্রাধম" দেখিনি,সব গুলিতেই "শূদ্রাধম" পাঠ আছে।আরও একটি সত্তর বৎসরের তুলোট কাগজে ছাপা গ্রন্থ দেখেছি,তাতেও "শূদ্রাধম"পাঠ আছে।যাদের ঘরে প্রাচীন শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত পুঁথি আছে,তাঁরাও সেটিতে শূদ্রাধম পাঠই দেখতে পাবেন হস্তলিখিত কোন প্রাচীন পুঁথিতে প্রবন্ধ লেখক "ক্ষুদ্রাধম" পাঠ দেখাতে পারলে আমরা বড়ই বাধিত হব।*
*তার পর, প্রবন্ধ লেখক মহাশয় যে ক্ষুদ্রাধম শব্দ নিয়ে বাকবিতন্ডা করেছেন,তা যে আদৌ ব‍্যবহৃত হয় না,তা তাঁর জানা উচিত ছিল। কারণ অমরকোষে দেখতে পাবেন যে,"ক্ষুদ্র ও অধম" শব্দ একার্থ বাচী, যথা=*
  *🌷ত্রিষু ক্রুরেহধমেহল্পেহপি ক্ষুদ্রঃ।*
*🍀অতএব শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর মহাশয় যে এই দ্বিরুক্তি দোষে দূষিত শব্দ ব‍্যবহার করবেন এটি হতেই পারে না।এটিতেই বোধ হয় শূদ্রাধম পাঠই সঙ্গত।*
*🍀ফলে,বৈদিক সন্ন‍্যাসী ও বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসীর আচারে ব‍্যবহারে অনেক বিভিন্নতা আছে।বৈদিক সন্ন‍্যাসে ব্রাহ্মণেতর জাতির অধিকার নাই এটি সত‍্য। কিন্তু বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসে সর্বজাতির সমান অধিকার। তন্ত্র ও প্রচলিত নিয়মই তার প্রমাণ।মহানির্বাণ ও অন‍্যান‍্য কোন কোন তন্ত্রে এইরকম বিধি আছে।*
*🌺লেখকের দ্বিতীয় যুক্তি এই যে, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর নাম শ্রীমন্মধ্বাচার্য‍্য সম্প্রদায়ের গুরু পরম্পরার অন্তনির্বিষ্ট।ব্রাহ্মণ ছাড়া অন‍্য কারও সন্ন‍্যাসে অধিকার নাই। শ্রীমন্মধ্বাচার্য‍্যের এটিই অভিপ্রায়, এমত এখানে পুরী অবশ্যই ব্রাহ্মণ হবেন।*
*🍀আগেই বলা হয়েছে, একসময়ে সে নিয়ম ছিল তা সত‍্য, কিন্তু তখন পুরী শূদ্র-সেবকও রাখতে পারতেন না। তার পরে নিয়মের কঠোরতা বাড়ল, ব্রাহ্মণের বৈদিক সন্ন‍্যাস ঘুরে গেল,তান্ত্রিক সন্ন‍্যাসের দিন পড়ল।তাতে সব বর্ণেরই অবধূতাশ্রমে বা সন্ন‍্যাসে অধিকার জন্মিল। সে সন্ন‍্যাসী সর্ব বর্ণের পূজনীয় হলেন।শূদ্রও সন্ন‍্যাসী হলেন এবং বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসীরও শূদ্র সেবক রাখা দূষণীয় বলে বিবেচিত হল না। সমাজের এই অবস্থায় শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর আবির্ভাব। সুতরাং বিশেষ প্রমাণ না পেলে কি ভাবে বলা যেতে পারে যে, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী ব্রাহ্মণ না শূদ্র ছিলেন?*
*🍀তাঁর তৃতীয় যুক্তি এই, পুরী গোসাঞী শূদ্র গোবিন্দকে সেবক রাখার কথা শুনে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য শিহরিয়া উঠেছিলেন।উঠবার তো কথায়!শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী যে ভগবদ্ভক্তিরস-ভাবিব-চিত্ত জনৈক ভক্ত রত্ন, এ কথা তো আর ভট্টাচার্য্য মহাশয় জানতেন না? ভট্টাচার্য্য মহাশয় ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণ, পন্ডিতের পন্ডিত, তার উপর আবার তর্ক শাস্ত্রে অসাধারণ বুদ্ধিমান।তাঁর বিশ্বাস ছিল, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী বুঝি বৈদিক পুরী হবেন।বৈদিক সন্ন‍্যাসীর তো আর শূদ্র সেবক রাখবার বিধি নাই,কাজেই তিনি ভারি গোচের শিহরণেই পতিত হলেন।* 
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
*প্রবন্ধ সম্বন্ধে প্রতিকূল মতের প্রতিবাদ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀কলিপাবনাবতার শ্রীমদদ্বৈতপ্রভুবংশাবতংস শ্রীবৃন্দারণ‍্যবাসী শ্রীপাদ রাধিকানাথ গোস্বামী মহাশয়ের তত্ত্বাবধানে ও প্রবন্ধাদির সম‍্যক্ অনুমোদনে শ্রীবৃন্দাবন হতে প্রকাশিত "শ্রীগৌড়েশ্বর বৈষ্ণব" পত্রিকায় লিখিত হয়েছে।*
*🍀ইতিপূর্বে শ্রীঅমিয়নিমাইচরিতে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীকে শূদ্র কায়স্থজাতি বলে লিখিত হওয়ায় কলিপাবনাবতার শ্রীমন্নিত‍্যানন্দবংশ‍্য পন্ডিতবর শ্রীযুক্ত অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয় তার প্রতিবাদ করে বঙ্গবাসী পত্রিকায় (শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকায় যেরকম ছাপা ছিল, আমরা অবিকল তাইই উদ্ধৃত করেছি।তাঁরা যে শব্দের যেরকম "বানান" করেছেন,তাইই রেখে দিয়েছি।কেন?তা সুধীজনই বুঝিবেন।প্রকাশক)।প্রকাশ করেন।তারপরে কুরুবংশপ্রণেতা বাবু অপূর্বকৃষ্ণ দেব মহাশয় জ‍্যৈষ্ঠমাসের পঞ্চমসংখ‍্যা শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-পত্রিকায় উক্ত শ্রীযুক্ত অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয়ের প্রতিবাদ খন্ডনকরে পুরীগোস্বামীকে কায়স্থকুলজ বলে যা সমর্থন করেছেন,তা পাঠে অনেকে মর্মবেদনা পেয়ে,এর মীমাংসার জন্য আমাদেরকে অনুরোধ করায়,আমরা শাস্ত্র-যুক্তি-অনুসারে এর মীমাংসা করছি।🙏শ্রীঈশ্বরপুরী যে শূদ্র,তদ্বিষয়ে প্রমাণের অত‍্যন্ত অভাব।কেবল শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে এটি আছে--,যখন শ্রীঈশ্বরপুরী গোস্বামী শ্রীমদদ্বৈতমন্দিরে আগমন করেন,তখন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য বলেছিলেন,=*
*🌷অদ্বৈত কহেন বাপ তুমি কোন জন।*
*🌷বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী তুমি হেন লয় মন।।*
*🌻তার পরে শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী বলেছিলেন=*
*🌷বলেন ঈশ্বরপুরী মুঞি শূদ্রাধম*।
*🌷দেখিবারে আইলাম তোমার চরণ।।*
*🌻এখানে উক্ত পুরীগোস্বামী "শূদ্রাধম" বলে নিজেকে দৈন‍্য করায়,তত্ত্বতঃ শূদ্র কায়স্থ বলে তাঁকে নিরূপণ করা যেতে পারে না। তা করলে,*
*অধম চন্ডাল আমি,দয়ার ঠাকুর তুমি,*
         *শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে।*
*🌻এখানে শ্রীনরোত্তমদাস ঠাকুর মহাশয় ভক্তিস্বভাব-বশতঃ দৈন‍্য করে যা নিজেকে বলেছেন,তত্ত্বতঃ তাঁকে তাইই নিরূপণ করে অতিসাহসে প্রবৃত্ত হতে হয়।*
*🍀কলিযুগে ব্রাহ্মণ ছাড়া দ্বিজাতি হলেও,ক্ষত্রিয়ের ও বৈশ‍্যের যখন সন্ন‍্যাস-নিষেধ,তখন শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী শূদ্র-সন্ন‍্যাসী হতে পারেন না।যথা=*
*🌷অশ্বমেধং গবালম্ভং সন্ন‍্যাসং পলপৈতৃকং।*
*🌷দেবরেণ সুতোৎপক্তিং কলৌ পঞ্চ বিবর্জ্জয়েৎ।*
*🌷ইতি সন্ন‍্যাসনিষেধকং ক্ষত্রিয়-বৈশ‍্যবিষয়কমিতি মলমাসতত্ত্বং।*
*🌷অন‍্যত্র চ--,সন্ন‍্যাসপ্রতিষেধস্তু কলৌ ক্ষত্র-বিশাং ভবেৎ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ=অশ্বমেধ,গবালম্ভ,সন্ন‍্যাস এবং মাংসদ্বারা পিতৃশ্রাদ্ধ ও দেবরের দ্বারা পুত্র-উৎপত্তি এই পাঁচটি কলিযুগে বর্জন করবে।(এখানে যে সন্ন‍্যাস নিষিদ্ধ হয়েছে,তা ক্ষত্রিয় ও বৈশ‍্য-বিষয়ক,ব্রাহ্মণ-বিষয়ক না)*
*🍀যখন কলিযুগে ব্রাহ্মণজাতি ছাড়া অন‍্যের সন্ন‍্যাসে অধিকার নাই, তখন শ্রীঈশ্বরপুরী কখনও শূদ্র হতে পারেন না।অপূর্বকৃষ্ণ বাবু,ব্রাহ্মণেতর জাতির বৈদিকসন্ন‍্যাসে অধিকার না থাকায়,শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীকে তান্ত্রিকসন্ন‍্যাসী বলে নির্ণয় করে,তাঁর শূদ্রত্ব সংস্থাপন করেছেন। কিন্তু তাদ্বারা শ্রীপুরীগোস্বামীর অবৈষ্ণব কৌল বামাচারিত্ব প্রতিপাদন করা হয়েছে। তা অপূর্বকৃষ্ণ বাবুর অনভিপ্রেত হলেও,কার্য‍্যতঃ হয়ে গিয়েছে।যেহেতু তান্ত্রিকসন্ন‍্যাসীদের গিরি,পুরী প্রভৃতি সংজ্ঞা নাই, এটি শ্রীশঙ্করাচার্য‍্যসম্প্রদায়ী বৈদিকসন্ন‍্যাসীদের সংজ্ঞা। বৈদিকসন্ন‍্যাসীদের সত‍্যযুগে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র ; ত্রেতাযুগে বশিষ্ঠ,শক্ত্রি, পরাশর ও দ্বাপরযুগে ব‍্যাস ও শুকদেব ; কলিযুগে গৌড়,গোবিন্দ, শঙ্কর(গৌড়াচার্য‍্যের শিষ‍্য গোবিন্দাচার্য‍্য ও গোবিন্দাচার্য‍্যের শিষ‍্য শঙ্করাচায‍্য) আচার্য‍্য।তার মধ্যে কলিযুগের আচার্য‍্য শ্রীশঙ্করের চারজন শিষ্য। যথা=স্বরূপাচার্য‍্য, পদ্মাচার্য‍্য,ত্রোটকাচার্য‍্য ও পৃথ্বীধরাচার্য‍্য।এই চারজনই দশনামীদের গুরু।স্বরূপাচার্য‍্যের তীর্থ ও আশ্রম,পদ্মাচার্য‍্যের বন ও অরণ‍্য, ত্রোটকাচার্য‍্যের গিরি,পর্বত,সাগর এবং পৃথ্বীধরাচার্য‍্যের সরস্বতী,ভারতী ও পুরী--শিষ‍্য।*
*🌻এটি দ্বারা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে, শঙ্করাচার্য‍্যের শিষ্য পৃথ্বীধরাচার্য‍্য হতে সরস্বতী,পুরী ও ভারতী এই তিনটি সন্ন‍্যাসী-সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তি বা উৎপত্তি হয়েছে। শ্রীঈশ্বরপুরীগোস্বামী পুরীসম্প্রদায়ের অন্তর্নিবিষ্ট হয়ে বামাচারী তান্ত্রিক শূদ্র-সন্ন‍্যাসী কি ভাবে হবেন? যদিও শ্রীরামানুজ সম্প্রদায়ে ও আমাদের সম্প্রদায়ে ভগবত্তত্ত্ববেত্তা শূদ্রাদির গুরুত্ব দেখা যায় (?),তা বলেই সেই প্রমাণে বিপ্রকুলজাত বৈদিকসন্ন‍্যাসীকে শূদ্র বলা যেতে পারে না।বিশেষ করে মণিপুর হতে গুজরাট ও হিমালয়পর্বতের প্রান্ত হতে কুমারিকা-অন্তরীপ পর্যন্ত স্থলের প্রায় দুই কোটি মানুষ যাঁকে স্বয়ং ভগবান বলে জানেন,সেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুকে কায়স্থের শিষ‍্য করে নিরূপণ করায় এখন যেরকম অবিনয়ের স্রোত মর্য‍্যাদা লঙ্ঘন করছে,তাতে ভবিষ্যতে কায়স্থগণ, শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু আমাদের জাতির শিষ্য ছিলেন বলে অহঙ্কার করে,ঘোরতর অনর্থ সংগ্রহ করবেন।এক্ষণে শাস্ত্রযুক্তিদ্বারা শ্রীঈশ্বরপুরীপাদের তত্ত্ব নিরূপণ করলাম, আশাকরি যাঁরা শ্রীপুরীগোস্বামীপাদের শূদ্রত্বের পক্ষপাতী,তাঁরা প্রবন্ধটি পাঠ করে নীরব হবেন।*
         *১২ই শ্রাবণ,১৩০৬ সাল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
      *প্রতিকূল মতের প্রতিবাদ*
       ***********************
*🌻ময়মনসিংহ বাণীগ্রাম হতে পন্ডিত শ্রীযুক্ত কৃষ্ণহরি গোস্বামী বিদ‍্যাবিনোদ মহাশয় লিখেছেন।*
*🌻শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী পূর্বাশ্রমে শূদ্র কি ব্রাহ্মণ ছিলেন, কিছুদিন হতে এই বিষয়ে বাদানুবাদ চলছে,নিরপেক্ষভাবে এই সব বিষয়ের পর্য‍্যালোচনা হলে অনেক গূঢ় রহস‍্য প্রকাশ পেতে পারে। অথচ তদবলোকনে অনেকেরই যথার্থ তত্ত্ব উপলব্ধি হতে পারে। আমরা যুক্তি ও প্রমাণের সাহায্যে এর প্রকৃত মর্ম উদঘাটন করতে চেষ্টা করব।*
*বৈদিক ও তান্ত্রিক মতভেদে সন্ন‍্যাসী দুই প্রকার।কলিযুগে একমাত্র ব্রাহ্মণগণই বৈদিকসন্ন‍্যাসে অধিকারী।এই বিষয়ে মনু বলেছেন,=*
*🌷আত্মন‍্যগ্নীন্ সমাধায় ব্রাহ্মণঃ প্রব্রজেদ্ গৃহাৎ।*
*🌻কিন্তু বিশ্বরূপলিখিত বচনে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় ও বৈশ‍্য তির জাতিরই সন্ন‍্যাস-অধিকার দেখা যায়। যথা=*
*🌷ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়ো বাথ বৈশ‍্যো বা প্রব্রজেদ্ গৃহাৎ।*
*🌹আবার ব্রহ্মপুরাণে=*
*🌷চত্বার আশ্রমাশ্চৈব ব্রাহ্মণস‍্য প্রকীর্ত্তিতাঃ।*
*🌷গার্হস্থ‍্যং ব্রহ্মচর্য‍্যঞ্চ বানপ্রস্থং ত্রয়ো মতাঃ।।*
*🌷ক্ষত্রিয়স‍্যাপি কথিতা আশ্রমাস্ত্রয় এব হি।*
*🌷ব্রহ্মচর্য‍্যঞ্চ গার্হস্থ‍্যমাশ্রমদ্বিতয়ং বিশঃ।।*
*🌷গার্হস্থ‍্যমুচিতন্ত্বেকং শূদ্রস‍্য ক্ষণদাচর।*
*🌻এই কথায় ক্ষত্রিয়াদির সন্ন‍্যাসগ্রহণে অনধিকারের কথা বলা হয়েছে। পরস্পরবিসম্বাদী উক্ত শাস্ত্রদ্বয়ের স্মার্ত ভট্টাচার্য্য যুগভেদে মীমাংসা করেছেন ; অর্থ‍্যাৎ সত‍্যাদি যুগত্রয়েই ক্ষত্রিয়-বৈশ‍্যের সন্ন‍্যাসে অধিকার ছিল, কিন্তু কলিতে নাই ; যেহেতু,=*
*🌷অশ্বমেধং গবালম্ভং সন্ন‍্যাসং পলপৈতৃকং।*
*🌷দেবরেণ সুতোৎপত্তিং কলৌ পঞ্চ বিবর্জয়েৎ।।*
*🌻এই কাত‍্যায়নবচন ও উদ্বাহতত্ত্বধৃত=*
*🌷সমুদ্রযাত্রাস্বীকারঃ কমন্ডলুবিধারণং।*
*🌷দ্বিজানামসবর্ণাসু কন‍্যাসূপযমস্তথা।।*
*🌷দেবরেণ সুতোৎপত্তির্মধুপর্কে প্রশোবধঃ।*
*🌷মাংসাদানং তথা শ্রাদ্ধে বানপ্রস্থাশ্রমস্তথা।।*
*🌷দত্তায়াশ্চৈব কন‍্যায়াঃ পুনর্দানং বরস‍্য চ।*
*🌷দীর্ঘকালং ব্রহ্মচর্য‍্যং নরমেধাশ্বমেধকৌ।।*
*🌷মহাপ্রস্থানগমনং গোমেধঞ্চ তথা মখং।*
*🌷ইমান্ ধর্মান্ কলিযুগে বর্জ্জ‍্যানাহুর্মণীষিণঃ।।*
*🌻এই নারদীয় বচন দ্বারা কলিযুগেই সন্ন‍্যাস নিষিদ্ধ আছে। "ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়ো বাথ" ইত্যাদি বিশ্বরূপলিখিত বচন দ্বারা ক্ষত্রিয় বৈশ‍্যের সন্ন‍্যাসে বিধি সত্ত্বেও "চত্বার আশ্রমাশ্চৈব ব্রাহ্মণস‍্য প্রকীর্ত্তিতাঃ"। ক্ষত্রিয়স‍্যাপি কথিতা আশ্রমাস্ত্রয় এবহি।।* *ইত্যাদি ব্রহ্মপুরাণ বচনে যে সন্ন‍্যাসে অনধিকার দেখা যায়, এটি "অশ্বমেধং গবালম্ভং" ইত্যাদি ও "সমুদ্রযাত্রাস্বীকারঃ" ইত্যাদি বচনের সঙ্গে এক বাক‍্যতা রক্ষা করে এইরকম বুঝতে হবে যে,কেবল কলিযুগেই ক্ষত্রিয়-বৈশ‍্যের সন্ন‍্যাসে অনধিকার। জৈমিনি বলেছেন, "সম্ভবত‍্যেকবাক‍্যত্বে বাক‍্যভেদো ন যুজ‍্যতে"।অর্থ‍্যাৎ একবাক‍্যতার সম্ভাবনা থাকলে বাক‍্যভেদকল্পনা যুক্ত হয় না।তবে এইক্ষণে এটিই দেখা যাচ্ছে যে,ক্ষত্রিয়-বৈশ‍্যের সত‍্যাদি যুগত্রয়েই সন্ন‍্যাসে অধিকার ছিল, কলিযুগে ধাই, কিন্তু ব্রাহ্মণগণের সব সময়েই সমান অধিকার, সুতরাং কলিযুগে বৈদিকসন্ন‍্যাসগ্রহণে একমাত্র ব্রাহ্মণগণই অধিকারী।*
*🌹মহানির্ব্বাণতন্ত্রের মতে ব্রাহ্মণাদি চন্ডাল পর্যন্ত সাধারণেরই সন্ন‍্যাসগ্রহণে ক্ষমতা রয়েছে।যথা=*
*🌷যজ্ঞসূত্র-শিখাত‍্যাগাৎ সন‍্যাসঃ স‍্যাদ্ দ্বিজন্মনাং।*
*🌷শূদ্রানামিতরেষাঞ্চ শিখাং হুত্বৈব সংস্ক্রিয়া।।*
            *(মহিনির্ব্বাণ, ৮ম উল্লাস)*
*🌻সম্প্রতি আমাদের এটিই আলোচ‍্য যে, ঈশ্বরপুরী বৈদিক কি তান্ত্রিক মতানুযায়ী সন্ন‍্যাসী ছিলেন? আমাদের বিশ্বাস,ঈশ্বরপুরী কেন, বৈষ্ণব-সন্ন‍্যাসীমাত্রেই বৈদিকমতাবলম্বী। কারণ তান্ত্রিক সন্ন‍্যাসীরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ,তাদের অন্নাদি গ্রহণে পাত্রাপাত্র বিচার নাই। এই বিষয়ে মহানির্ব্বাণ এইরকম বলেছেন=*
*🌷বিপ্রান্নং শ্বপচান্নং বা যস্মাত্তস্মাৎ সমাগতং।*
*🌷দেশং কালং তথাচান্নমশ্নীয়াদবিচারয়ন্।।*
                        *(অষ্টম উল্লাস)*
*🌻আর সন্ন‍্যাসপ্রদানেও জাতিকুলের বাধাবাধ‍্যকতা নাই। তান্ত্রিকসন্ন‍্যাসীরা যে ব্রাহ্মণাদি চন্ডাল পর্যন্ত সকলকেই সন্ন‍্যাস গ্রহণ করাতে পারেন, তা আগেই বলা হয়েছে।বৈষ্ণব-সন্ন‍্যাসীরা তান্ত্রিকমতানুযায়ী হলে,যার-তার অন্ন গ্রহণ করতে পারতেন এবং সকল জাতিকেই সন্ন‍্যাসে দীক্ষিত করতেন।বৈদিকসন্ন‍্যাসীদেরই যেখানে সেখানে যার তার অন্নগ্রহণ নিষিদ্ধ।যথা=*
*🌷সর্বসঙ্গপরিত‍্যাগাৎ ব্রহ্মচর্য‍্যাসমন্বিতঃ।*
*🌷জিতেন্দ্রিয়ত্বমাবাসে নৈকস্মিন্ বসতিশ্চিরং।।*
*🌷অনারস্বস্তথাহারে ভিক্ষা বিপ্রে হ‍্যনিন্দতে।*
             *(বামন পুরাণ,১৪ অধ‍্যায়)*
            *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
       *প্রতিকূল মতের প্রতিবাদ*

*🍀তদানীন্তন সন্ন‍্যাসীদের ইতরজাতির অন্নগ্রহণের কথা কি বলব,তাদের সংস্রব পর্যন্ত কিরকম নিন্দনীয় ছিল,তা মহাপ্রভুর সহাধ‍্যায়ী জনৈক ভক্তের কথাতেই বিলক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে=*
*🌷বিপ্র বলে প্রভু মোর এক নিবেদন।*
*🌷কহিনু তোমার স্থানে যদি দেহ মন।।*
*🌷নবদ্বীপে গিয়া নিত‍্যানন্দ অবধূত।*
*🌷কিছু ত না বুঝ মুঞি করেন কিরূপ।।*
*🌷সন্ন‍্যাস আশ্রম তান বলে সর্বজন।*
*🌷কর্পূর তাম্বুল সে ভোজন অনুক্ষণ।।*
*🌷ধাতুদ্রব‍্য পরশিতে নাহি সন্ন‍্যাসীরে।*
*🌷সোনা রূপা মুক্তকষা সকল শরীরে।।*
*🌷কষায় কৌপীন ছাড়ি দিব‍্য পট্টবাস।*
*🌷ধরেন চন্দন মালা সদাই বিলাস।।*
*🌷দন্ড ছাড়ি লৌহদন্ড ধরেন বা কেনে।*
*🌷শূদ্রের আবাসে সে থাকেন অনুক্ষণে।।*
*🌷শা‍স্ত্রমতে মুঞি তাঁর না দেখি আচার।*
*🌷এতেকে আমার চিত্তে সন্দেহ অপার।।*
     *(চৈঃ ভাঃ,৭ম অঃ,অন্ত‍্যখন্ড)*
*🌻আর যখন ঈশ্বরপুরীর শিষ্য গোবিন্দদাস মহাশয় শ্রীচৈতন‍্যদেবের চরণোপ্রান্তে উপস্থিত হয়ে পুরীগোঁসায়ের অন্তর্দ্ধান বিবরণ বলছিলেন,সেই সময় ভাগবতপ্রবর সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন=*
*🌷পুরীগোঁসাই শূদ্রসেবক কাঁহে ত রাখিল।*
             *(চৈঃচঃ,মধ‍্য,১০ম পঃ)*
*🍁সার্বভৌম=*
*🌻স্বামিন্ কথমসৌ ব্রাহ্মণেতরং পরিচারকত্বেনানুগৃহীতবান্?*
         *(চৈতন‍্যচন্দ্রোদয় ৮ম অঙ্ক)*
*🌻এতদ্বারা সন্ন‍্যাসীর শূদ্র সংসর্গ যে সর্বথা পরিহার্য‍্য,এটিই প্রমাণিত হয়। পন্ডিতধুরন্ধর সার্বভৌমভট্টাচার্য‍্য এটি অবশ্যই জানতেন যে,তান্ত্রিকসন্ন‍্যাসীর পক্ষে শূদ্র কেন, চন্ডালাদি হীনজাতীয় সেবকও দোষাবহ হতে পারে না। আবার শ্রীচৈতন‍্যদেব তদুত্তরে বললেন,ভট্টাচার্য‍্য!এইরকম বলবেন না,কেননা হরি যেমন স্বতন্ত্র,তাঁর কৃপাও তেমনই অন‍্যনিরপেক্ষ।অতএব হরি বা তাঁর কৃপা জাতিকুলের অপেক্ষা করেন না।যথা=*
*🌷প্রভু কহে ঈশ্বর হয় পরম স্বতন্ত্র।*
*🌷ঈশ্বরের কৃপা নহে বেদপরতন্ত্র।।*
*🌷ঈশ্বরের কৃপা জাতিকুল নাহি মানে।*
          *(চৈঃচঃ,মধ‍্য,১০ম পঃ)*
*🌻ভট্টাচার্য‍্য! মৈবং বাদীঃ--- হরেঃ স্বতন্ত্রস‍্য কৃপাহি তদ্বৎ,ধত্তে ন সা জাতিকুলাদ‍্যপেক্ষাম্।*
        *(চেতন‍্যচন্দ্রোদয়,৮ম অঙ্গ)*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যদেবের উক্তবিধ উত্তরবাক‍্যের তাৎপর্য‍্য এই যে, যদিও শূদ্রজাতীয় গোবিন্দদাস মহাশয়ের শাস্ত্র অনুসারে সন্ন‍্যাসিবরের সেবকত্বে অধিষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব,তবুও অনন‍্যাপেক্ষিণী ভগবৎকৃপাতেই এতাদৃশ (এইরকম)অঘটন ঘটন হয়েছিল।আলোচ‍্য পুরীপাদ তান্ত্রিকসন্ন‍্যাসী হলে, সার্বভৌমকৃত প্রশ্নের উত্তরে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুকে ঈদৃশ(এপ্রকার)কষ্টকল্পনা করতে হত না।বরঞ্চ শাস্ত্রীয় প্রমাণ দ্বারা "পুরীগোঁসায়ের" শূদ্রসেবক রাখায় দোষ কি?এইভাবে ভট্টাচার্য্যকে অপ্রতিভই (হতবুদ্ধি)করতে পারতেন,অথবা প্রকৃত তত্ত্বের উপদেশ করে ভট্টাচার্য্যের ভুল ভাঙ্গতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি বললেন=*
*🌷ঈশ্বরের কৃপা নহে বেদপরতন্ত্র*
*🌻অর্থ‍্যাৎ আমাদের মত ঈশ্বরকৃপা বেদের অধীন না।এতদ্বারা শ্রীঈশ্বরপুরী যে বেদ-অনুযায়ী সন্ন‍্যাসই অবলম্বন করেছিলেন,তাইই প্রতীয়মান(বোধগম‍্য) হয়।*
*🌹শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াপত্রিকায় অপূর্বকৃষ্ণ দেব নামে কোন মহাত্মা সার্বভৌমের উপরোক্ত প্রশ্নটি (পুরীগোঁসাই শূদ্রসেবক কাঁহে ত রাখিল)তদীয় তর্কনিষ্ঠা হতে উদ্ভূত বলে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের প্রতি তীব্র উক্তি করে আমাদেরকে দুঃখিত করেছেন। ভগবান শ্রীচৈতন‍্যদেবের অনুগ্রহে যখন সার্বভৌমের তর্কনিষ্ঠা দূরীভূত হয়েছিল এবং তিনি নিজের অভীষ্টদেব বলে বুঝতে পেরে যখন সবসময়ই তাঁর অনুবর্তী (অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভুর মত অনুযায়ী সবকিছু করতেন বা অনুগামী)ছিলেন,সেই ইষ্টদেব শ্রীচৈতন‍্য যাকে গুরুত্বে বরণ করেছিলেন, উক্ত মহানুভব ঈশ্বরপুরীর বিষয়ে তর্কনিষ্ঠার বশবর্তী হয়ে তিনি যে এইরকম প্রশ্নের (পুরীগোঁসাই শূদ্রসেবক কাঁহে ত রাখিল) উত্থাপন করবে,আমরা এটি মনে করতে পারি না।*
*শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত ও শ্রীচৈতন‍্যভাগবতের অনেক জায়গায় সন্ন‍্যাসীর শূদ্রসংসর্গের নিন্দনীয়তা উল্লেখ রয়েছে।যখন রামানন্দরায়ের সঙ্গে মহাপ্রভুর প্রথম মিলন,তখন দেখতে পাই,=*
*🌷বৈদিক ব্রাহ্মণ সব করেন বিচার।।*
*🌷এই সন্ন‍্যাসীর তেজ দেখি ব্রহ্মসম।*
*🌷শূদ্রে আলিঙ্গিয়া কেনে করেন ক্রন্দন।।চৈঃচঃ।।*
*🌻আবার রামানন্দ রায় কহিলেন=*
*🌷কাঁহা মুঞি রাজসেবক বিষয়ী শূদ্রাধম।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷মোর স্পর্শে না করিলে ঘৃণা বেদ ভয়।চৈঃচঃ।*
*🌻যে সমাজে সন্ন‍্যাসীর শূদ্র পরিচারক রাখা দূরের কথা,শূদ্রের সংসর্গ পর্য‍্যন্তও গর্হিত বা নিন্দিত,সেই সমাজের শীষাস্থানীয় মাধবেন্দ্রপুরী যে একজন শূদ্রজাতীয়কে দীক্ষিত করবেন,এটি কখনই সম্ভবপর না,আর তা হলে--- "পুরীগোঁসাই শূদ্র সেবক কাঁহে ত রাখিল" এই প্রশ্নটি ঈশ্বরপুরী সম্বন্ধে না হয়ে তাঁর গুরুদেব মাধবেন্দ্রপুরীকে লক্ষ্য করেই উত্থাপিত হত। আবার পুরী লক্ষণেও দেখা যায়,ঐ উপাধিলাভে দ্বিজাতি ভিন্ন কারও যোগ‍্যতা নাই।🌹বৃহচ্ছঙ্করবিজয় নামক গ্রন্থে এইরকম পুরীলক্ষণ উল্লিখিত আছে।যথা=*
*🌷তত্ত্বজ্ঞানেন সম্পূর্ণঃ পূর্ণতত্ত্বপদে স্থিতঃ।*
*🌷পদব্রহ্মরতো নিত‍্যং পুরীনামা স উচ‍্যতে।।*
*🌻এখানে "পদব্রহ্মরতো" শব্দে বেদাধ‍্যায়ীকেই বুঝাচ্ছে। সুতরাং পুরী-উপাধি-প্রাপ্ত ব‍্যক্তি নিয়ত বেদাধ‍্যায়ী হবেন। বেদপাঠে দ্বিজাতি ভিন্ন কারও অধিকার নাই, কাজেই শূদ্রের পুরী-উপাধি-প্রাপ্ত সম্ভবপর না।*
                *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙏*
      *প্রতিকূল মতের প্রতিবাদ*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচায‍্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ সময়ে পুরীগোঁসাই "আমি শূদ্রাধম" (বলেন ঈশ্বরপুরী মুঞি শূদ্রাধম) বলে যে দৈন‍্যোক্তি করেছেন,কেবল এইমাত্র অবলম্বনে তাঁকে শূদ্রজাতীয় বলি সিদ্ধান্ত করা সঙ্গত বোধ করি না।আবার "শূদ্রাধম" স্থলে "ক্ষুদ্রাধম" এইরকম পাঠই প্রাচীন হস্তলিখিত গ্রন্থে দেখতে পাই। এই পাঠদ্বৈধে আমরা সত‍্যাসত‍্য নিশ্নয় করতে অসমর্থ হলেও এইমাত্র বলতে পারি যে,অদ্বৈতাচার্য‍্যের প্রশ্নের উত্তরে ঈশ্বরপুরীর নিজের নীচতা জানানই উদ্দেশ্য ছিল,এটি অভ্রান্ত সত‍্য। কারণ অদ্বৈতাচার্য‍্য যা বলেছিলেন (বৈষ্ণবসন্ন‍্যাসী তুমি হেন লয় মন), এটি দ্বারা কোন জাতির পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।এমত মনে করা যেতে পারে না।অতএব তার প্রত‍্যুত্তরে ঈশ্বরপুরী যে "আমি শূদ্রাধম" বলেছেন, এটি জাতির পরিচায়ক কেমনে বলব? তবে "শূদ্রাধম" এই কথাটির পূর্বাপর সামঞ্জস্য রেখে-- শূদ্রের ন‍্যায় অধম, অথবা শূদ্র হতেও অধম, এইরকম ব‍্যাখ‍্যাই সমীচীন বলে বোধ হয়। আর "ক্ষুদ্রাধম" এইরকম পাঠে ক্ষুদ্র শব্দের অর্থ অধম ; সুতরাং অধম হতেও অধম এমত ব‍্যাখ‍্যা করলে কোন দোষ দেখা যায় না। নানাপ্রকার বিরুদ্ধ প্রমাণ সত্ত্বেও কেবল "শূদ্রাধম" এই কথাটি দেখিয়ে পুরীগোঁসাইকে শূদ্রজাতীয় বলতে আমাদের সাহস হয় না। বিশেষ করে এই "শূদ্রাধম" পাঠটি সর্ববাদীসম্মত নয়। পুরীগোঁসাইর প্রত‍্যুত্তর বাক‍্য যে জাতির পরিচায়ক হতে পারে না,তা যুক্তি দ্বারা আগেই প্রদর্শিত হয়, সম্প্রতি আমরা এই বিষয়ে শাস্ত্রীয় প্রমাণ উল্লেখ করে এই প্রসঙ্গের উপসংহার করব।*
*(১)কলিযুগপাবনাবতার শ্রীমন্মহাপ্রভুর কৃপাপাত্র মহাত্ম‍া কবিকর্ণপুর গৌরগণোদ্দেশদীপিকায় লিখেছেন=*
*🌷তস‍্য শিষ‍্যো ভবচ্ছ্রীমানীশ্বরাখ‍্যপুরী যতিঃ।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ঈশ্বরপুরী নামক যতি-- সন্ন‍্যাসী মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য ছিলেন। এইরকম ঈশ্বরপুরীকে 'যতি' রূপে উল্লেখ করে স্পষ্টাক্ষরেই পুরীপাদের জাতিনির্দেশ করে রেখেছেন,যেহেতু শাস্ত্রে জিতেন্দ্রিয় ব্রাক্ষণেরই 'যতি' অভিধা কীর্তিত রয়েছে। শ্রীমদ্ভাগবতের মুক্তাফলনামক ভাষ‍্যকার বোপদেবাচার্য‍্য=*
*🌷ইন্দ্রশ্চন্দ্রঃ কাশকৃৎস্নঃ পিশলী শাকটায়নঃ।*
*🌷পানিন‍্যমর-জৈনেন্দ্রা জয়ন্ত‍্যষ্টাদিশাব্দিকাঃ।।*
*🌻এই যে আটজন আদিশাব্দিকের নাম কীর্তন করেছেন,মহাত্মা অমরসিংহ ইঁনাদের অন‍্যতম।ইনি স্বপ্রণীত নামলিঙ্গানুশাসন গ্রন্থে ব্রহ্মবর্গে লিখেছেন=*
*🌷ঋষয়ঃ সত‍্যবচসঃ স্নাতকস্ত্বাপ্লবব্রতী।*
*🌷যে নির্জিতেন্দ্রিয়গ্রামা যতিনো যতয়শ্চ তে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ঋষির নাম-- ঋষি ও সত‍্যবচাঃ,নিঃশেষরূপে অধীতবেদ ব‍্যক্তির নাম---স্নাতক ও আপ্লবব্রতী, আর সর্বথা জিতসর্বেন্দ্রিয় ব‍্যক্তির নাম--যতী ও যতি।যতির নাম ব্রহ্মবর্গে উল্লেখ থাকায় এবং ঋষি ও স্নাতকের সঙ্গে একত্র নির্দেশ করায়,যতি যে ব্রাহ্মণবিশেষেরই সংজ্ঞা,এটিতে কোনই সন্দেহ থাকতে পারে না। জিতেন্দ্রিয় মনুষ‍্য মাত্রেই যতিশব্দের সুষ্ঠুপ্রয়োগ হতে পারলে,শাব্দিক প্রবর অমরসিংহ সেটির ব্রহ্মবর্গে অভিধান না চেষ্টা মনুষ‍্যবর্গেই উল্লেখ করতেন।*
*🌷সম্পূর্ণমুচ‍্যতে বর্গৈর্নামলিঙ্গানুশাসনং।*
*🌻সজাতীয়-সমূহ বিশিষ্ট নামলিঙ্গানুশাসন গ্রন্থ সম্পূর্ণরূপে বলছে, গ্রন্থারম্ভে এইভাবে প্রতিজ্ঞা করে, দ্বিতীয়কান্ডের প্রারম্ভে বলেছেন=*
*🌷বর্গাঃ পৃথ্বী-পুর-ক্ষ্মাভৃদবনৌষধি-মৃগাদিভিঃ।*
*🌷নৃব্রহ্মক্ষত্রবিটশূদ্রৈঃ সাঙ্গোপাঙ্গৈরিহোদিতাঃ।।*
*🌻এই দ্বিতীয়কান্ডে অঙ্গ এবং উপাঙ্গের সঙ্গে পৃথিবী,পুর,পর্বত, বনৌষধি,সিংহাদি,মনুষ‍্য,ব্রহ্ম,ক্ষত্রিয়, বৈশ‍্য ও শূদ্র এই দশটি দ্বারা বর্গ অর্থ‍্যাৎ সজাতীয়-সমূহ কথিত হল। প্রথম ও দ্বিতীয়কান্ডের উক্তবিধ প্রারম্ভ কথানুসারে দেখা যাচ্ছে যে,ব্রহ্মবর্গে ব্রাহ্মণের অঙ্গ, উপাঙ্গ এবং তৎসজাতীয় গুলিই বিবৃত করা গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। সুতরাং যতি শব্দের অর্থে আমরা নিঃশেষরূপে জিতেন্দ্রিয়-সমূহ ব্রাহ্মণকেই বুঝে থাকি,অর্থ‍্যাৎ যে ব্রাহ্মণ যাবতীয় ইন্দ্রিয়বৃত্তি বাহ‍্য-বিষয় হতে প্রত‍্যাবর্তন পূর্বক একমাত্র ভগবৎ বিষয়ে সম‍্যকরূপে বিন‍্যস্ত করতে পেরেছেন,তাঁকেই নিজিতেন্দ্রিয়গ্রাম যতি অথবা সন্ন‍্যাসী বলা যেতে পারে। এই বিষয়ে শ্রীমদ্ভাগবত একাদশ স্কন্ধে অষ্টাদশ অধ‍্যায়ে যতিধর্মনির্ণয় প্রসঙ্গে "বিপ্রস‍্য বৈ সন্ন‍্যসতঃ" এই উপক্রম করে ভগবান উদ্ধবকে বলেছেন=*
*🌷মৌনানীহানিলায়ামা দন্ডা বাগ্দেহচেতসাং।*
*🌷ন হ‍্যেতে যস‍্য সন্ত‍্যঙ্গ বেণুভির্ন ভবেদযতিঃ।।*
*🌻হে উদ্ধব!মৌন অর্থ‍্যাৎ বাহ‍্যবিষয় হতে বাগিন্দ্রিয়ের প্রত‍্যাবর্তনরূপ বাগদন্ড,অনীহা" অর্থ‍্যাৎ কাম‍্যকর্ম হতে সর্বেন্দ্রিয়াশ্রয় দেহের প্রত‍্যাখ‍্যাপকরূপ দেহদন্ড, প্রাণায়াম অর্থ‍্যাৎ সর্বেন্দ্রিয়পরিচালক মনের বহির্বস্তু হতে আকর্ষণ করে একমাত্র ভগবানে স্থিরিকরণরূপ মনোদন্ড, এই দন্ডত্রিতয় যাঁর নাই,তিনি কেবল অঙ্গে বেণুদন্ড ধারণ দ্বারা যতি হতে পারেন না। সুতরাং যিনি উক্তবিধ দন্ডত্রয় দ্বারা কায়-মনো-বাক‍্যকে নিজ অধীনে রাখতে পেরেছেন, এমন নির্জিতেন্দ্রিয় গুলি ব‍্যক্তি যতি-নামের যোগ্য।*
               *ক্রমাগত*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)🙏শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী🙏*
     *প্রতিকূল মতের প্রতিবাদ*
      ***********************
*🍀এই যত আচার একমাত্র ব্রাহ্মণগণেরই অবলম্বনীয় বলে একাদশে (১৭ অধ‍‍্যায়ে) উল্লিখিত আছে=*
*🌷বিপ্রঃ ক্ষত্রিয়বিটশূদ্রা মুখবাহূরুপাদজাঃ।*
*🌷বৈরাজাৎ পুরুষাজ্জাতা য আত্মাচারলক্ষণাঃ।।*
*🌷গৃহাশ্রমো জঘনতো ব্রহ্মচর্য‍্যং হৃদো মম।*
*🌷বক্ষঃস্থলাদবনেবাসঃ সন্ন‍্যাসঃ শিরসঃ স্মৃতঃ।।*
*🌷বর্ণানামাশ্রমাণাঞ্চ জন্মভূম‍্যনুসারিণীঃ।*
*🌷আসন্ প্রকৃতয়ো নৃণাং নীচৈর্নীচোত্তমোত্তমাঃ।।*
*🌷শমো দমস্তপঃ শৌচং সন্তোষঃ ক্ষান্তিরার্জবং।*
*🌷মদ্ভক্তিশ্চ দয়া সত‍্যং ব্রহ্মপ্রকৃতয়স্ত্বিমাঃ।।*
*🌷তেজো বলং ধৃতিঃ শৌর্য‍্যং তিতিক্ষৌদার্য‍্যমুদ‍্যমঃ।*
*🌷স্থৈর্য‍্যং ব্রহ্মণ‍্যমৈশ্বর্য‍্যং ক্ষত্রপ্রকৃতস্ত্বিমাঃ।।*
*🌷আস্তিক‍্যং দাননিষ্ঠা চ অদম্ভো ব্রহ্মসেবনং।*
*🌷অতুষ্টিরর্থোপচয়ে বৈশ‍্যপ্রকৃতস্ত্বিমাঃ।।*
*🌷শুশ্রূষণং দ্বিজগবাং দেবানাঞ্চাপ‍্যমায়য়া।*
*🌷তত্রলব্ধেন সন্তোষঃ শূদ্রপ্রকৃতস্ত্বিমাঃ।।*
*🌷"এতৈরেবাশ্রমস্বভাবা অপি জ্ঞেয়াঃ"ইতি স্বামী।*
*🌻শ্রীভগবান্ উদ্ধবকে বলছেন--, আমার বিরাট-রূপের মুখ,বাহু,ঊরু ও পদ হতে স্ব-স্ব-বর্ণাশ্রমোচিত-আচারসম্পন্ন ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ‍্য ও শূদ্রবর্ণ উৎপন্ন হয়েছে।জঘন(স্ত্রীলোকের কটী)হতে গৃহস্থাশ্রম,হৃদয় হতে ব্রহ্মচর্য‍্য, বক্ষঃস্থল হতে বানপ্রস্থ এবং মস্তক হতে সন্ন‍্যাসাশ্রম জন্মেছে।বর্ণসব ও আশ্রমসবের জন্মস্থানের তারতম‍্য অনুসারে নীচ হতে নীচ প্রকৃতি এবং উত্তম হতে উত্তমপ্রকৃতি জন্মিবে অর্থ‍্যাৎ মুখ ও মস্তকের সর্বোত্তমত্ব বিধায় ব্রাহ্মণ এবং সন্ন‍্যাসের সর্বোত্তমপ্রকৃতি,চরণ ও জঘনের নীচত্ব হেতুক শূদ্র ও গার্হস্থ‍্যাশ্রমের নীচপ্রকৃতি হয়েছে।শম,দম,তপস‍্যা, শৌচ,সন্তোষ,ক্ষমা,সরলতা, বিষ্ণুভক্তি,দয়া ও সত‍্য এই সবগুলি ব্রাহ্মণদের প্রকৃতি।তেজ,বল,ধৈর্য‍্য, শৌর্য‍্য,তিতিক্ষা,উদারতা,উদ‍্যম,স্থিরতা,ব্রহ্মণ‍্য ও প্রভুত্ব এই সব ক্ষত্রিয়প্রকৃতি।আস্তিক‍্য (বৈদিক ধর্মে শ্রদ্ধা; ঈশ্বরে ও পরলোকে বিশ্বাস ; আস্তিকের আচার বা ব‍্যবহার),দাননিষ্ঠা,দম্ভরাহিত‍্য (গর্বহীন)ব্রাহ্মণসেবন ও অর্থোপার্জ্জনে অতৃপ্তি--এইসব বৈশ‍্যপ্রকৃতি।অকপটভাবে ব্রাহ্মণ, গো ও দেবতাগণের শুশ্রূষণ (শ্রবণের ইচ্ছা বা পরিচর্য‍্যা) ও তদ্বিষয়ে যথালাভে সন্তোষ-- এইসব শূদ্রজাতীয়ের প্রকৃতি।এতদ্বারাই ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ‍্য ও শূদ্রের আশ্রমধর্মও বুঝতে হবে।শ্রীপাদ শ্রীধরস্বামীর এই ব‍্যাখ‍্যা অনুসারে এটিই বুঝা যাচ্ছে যে,ব্রাহ্মণপ্রকৃতি-অনুসারে ব্রাহ্মণদের শমদমাদির প্রধান ব্রহ্মচর্য‍্যাদি,ক্ষত্রপ্রকৃতি-অনুসারে ক্ষত্রিয়ের তেজোবল প্রধান ব্রহ্মচর্য‍্যাদি,বৈশ‍্যপ্রকৃতি-অনুসারে বৈশ‍্যদের আস্তিক‍্যাদি প্রধান ব্রহ্মচর্য‍্যাদি,আর শূদ্রপ্রকৃতি-দ্বিজশুশ্রূষাদি-অনুসারে শূদ্রদের একমাত্র গার্হস্থ‍্যধর্মই শাস্ত্রানুমোদিত। "দীপিকাদীপনকার" "এতৈরেবাশ্রমস্বভাবা অপি জ্ঞেয়াঃ" শ্রীধর স্বামীপাদের এই ব‍্যাখ‍্যাকথার তাৎপর্য‍্যের অর্থ এইভাবে প্রকাশ করেছেন।যথা=শূদ্রস‍্য তু শুশ্রূষণাদিপ্রধানো গৃহস্থধর্ম এবৈকঃ ইতি এতৈরেবাশ্রমধর্মা অপি জ্ঞেয়া ইতি ব‍্যাখ‍্যাতং।*
*(২)সপ্তদশ অধ‍্যায়ে বত্রিশ শ্লোকে ব‍্যতিরেকমুখে ব্রাহ্মণেতত্রেব প্রব্রজ‍্যা গ্রহণ প্রত‍্যাদিষ্ট(দেবতা আদেশ) হয়েছে।যথা=*
*🌷গৃহং বনং প্রবিশেৎ প্রব্রজেদবা দ্বিজোত্তমঃ।*
*🌷দ্বিজোত্তমঃ ব্রাহ্মণশ্চেৎ প্রব্রজেৎ ইত‍্যর্থঃ,ইতি স্বামী।*
*🌻ব্রহ্মচর্য‍্য হতে আশ্রমান্তরে প্রবেশ করতে হলে,দ্বিজাতিগণ যদি সকাম হন,তবে গৃহাশ্রমে, আর যদি নিষ্কাম হন,তবে বনে প্রবেশ করবেন, কিন্তু যদি দ্বিজাতীয়ের মধ্যে উত্তম অর্থ‍্যাৎ ব্রাহ্মণ হন,তবে তিনি প্রব্রজ‍্যাও (সন্ন‍্যাসও) অবলম্বন করতে পারেন। এই কথাদ্বারা এটিই প্রমাণিত হচ্ছে যে,ব্রাহ্মণ-অতিরিক্ত ব‍্যক্তি কখনও প্রব্রজ‍্যা অধিকার লাভে সমর্থ নন। শ্রীমদ্ভাগবত এবং তার-সারার্থবেত্তা শ্রীধরস্বামীপাদের মতে ক্ষত্রিয়াদির সন্ন‍্যাস গ্রহণে অনধিকারই দেখা যাচ্ছে।শ্রীমন্মহাপ্রভুও এই স্বামীপাদ সম্বন্ধে শ্লেষবাক‍্যে (কাব‍্যবাক‍্যে) জনৈক ব্রাহ্মণকে লক্ষ্য করে এই প্রকার অভিমত প্রকাশ করেছিলেন যে, যিনি স্বামীকে না মানেন, তিনি পতিতা-মধ‍্যে গণনীয়।শ্রীপাদ পুরীগোঁসাই সেই মহামান‍্য শ্রীধরস্বামীর অভিপ্রায়ের বিপরীতে পদক্ষেপ করলে--,স্বামীর মতোচ্ছেদে প্রবর্তমান হলে আদর্শচরিত্র শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে গুরুত্বে অঙ্গীকার করে বৈষ্ণবজগতে তদীয় গৌরব অক্ষুন্ন রাখতেন কি না,এটি বৈষ্ণব সুধীগণেই বিবেচনা করবেন। অলমতিবিস্তরেণ।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী 🙇 শ্রীপাদ অতুলকৃষ্ণ গোস্বামীপ্রভু 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/iswarpuri2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
         *শ্রীস্বরূপ ও শ্রীবিদ‍্যানিধি*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀মহাপ্রভুর ভক্তবন্ধু-বিরহে এইরকম ব‍্যাকুলতা অনেক স্থলেই বর্ণিত আছে।শ্রীকবিকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যের ১৯শ সর্গেও শ্রীস্বরূপের অদর্শনে শ্রীচৈতন‍্যদেবের এইরকম ব‍্যাকুলতার বর্ণনা করেছেন।সেটির মর্ম এই যে মহাপ্রভু গৌড়ে যেতে উদ‍্যত হলেন।গৌরহরির ইচ্ছা,শ্রীস্বরূপ কীর্তন গাইবেন, আর তিনি নিজেও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে গাইতে গাইতে নাচতে নাচতে জগন্নাথের কাছে গৌড়ে যাবার বিদায় চাইবেন,এই মনে করে শেষ রাত্রিতে মহাপ্রভু পথে গিয়ে স্বরূপের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন, কিন্তু দৈববশতঃ শ্রীস্বরূপ সেই সময়ে মিলিত হতে পারলেন না।তাঁর জন্য গৌরহরির আর উৎকণ্ঠার সীমা রইল না।তিনি সিংহদ্বারে বসে স্বরূপদামোদরের জন্য ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে=*
*🌷গায়ং গায়ং গমিষ‍্যামি জগন্নাথং বিলোকিতুম্।*
*🌷দামোদরোহসৌ মৎসঙ্গে গায়ন্ স্থাস‍্যতি নিশ্চিতম্।।*
*🌷ইত‍্যসৌ রজনী শেষে প্রথমাবসয়ং বিভোঃ।*
*🌷নিজকীর্তন সংহষৈ র্গচ্ছন্ পথি বভৌ প্রভুঃ।।*
*🌷দৈবাদ্দামোদরঃ সোহহয়ং মিলিতোনাভবৎতদা।*
*🌷সিংহদ্বারে ক্ষণং তস্থৌ তমপেক্ষ স্বয়ং প্রভুঃ।।*
*🌻এই উপলক্ষ্যে গ্রন্থকার লিখেছেন=*
*🌷ভাবাভাবাভিভাবাভিভবভাবে বভৌ ভবঃ।*
*🌷বিভাবেমম্ভাবভাবে বভূবভূমি বৈভবম্।।*
*🌻উল্লিখিত শ্লোকটি দ্ব‍্যক্ষর চিত্রকাব‍্য।এর পদচ্ছেদ,অন্বয় ও ব‍্যাখ‍্যা মূলগ্রন্থে দ্রষ্টব‍্য। অর্থ এই যে স্বরূপ-দামোদরের অভাবজনিত বিরহে মহাপ্রভু ব‍্যাকুল হলেন।এতে স্বরূপদামোদরের জন্ম সফল এবং মহাগৌরবময় হল।ফলে এই যে যাঁর বিরহে সাক্ষাৎ বিদ‍্যানিধির জন্য মহাপ্রভুর বিরহ-বিলাপে শ্রীবিদ‍্যানিধির জন্ম সফল ও গৌরবময় হয়েছিল।(স্বয়ং ভগবান যাঁর জন্য বিরহ-ব‍্যাকুল হন, সত‍্যই সেই ভক্তের এই মানবজনম পরিপূর্ণ ভাবে সফল)।*
*🌹শ্রীস্বরূপের প্রিয়বন্ধু প্রেমনিধি শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির জন্য সদ‍্যঃপুত্র শোকাকুল জননীর মত ভক্তবৎসল শিরোমণি শ্রীমন্মহাপ্রভু কেঁদে কেঁদে আকুল হন।মহাপ্রভু কার জন্য এরকম ব‍্যাকুলভাবে কাঁদছেন, ভক্তগণ তা প্রথমে বুঝতে পারলেন না।গৌরহরি কৃষ্ণ-কৃষ্ণ বলে সময়ে সময়ে রোদন করে থাকেন, পুন্ডরীক নাম শুনে তাঁরা প্রথমে মনে করলেন, শ্রীকৃষ্ণস্ফূর্তিই বুঝি বা শ্রীচৈতন‍্যের এরকম রোদনের কারণ। কিন্তু মহাপ্রভু শুধু পুন্ডরীক বলে রোদন করছেন না। তিনি পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি বলে রোদন করছেন না। সুতরাং ভক্তগণ কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না।কেননা,শ্রীবিদ‍্যানিধির নাম তাঁরা জানতেন না। কিন্তু সকলেই বিচার করে এটুকু বুঝলেন যে গৌরচন্দ্র তাঁর কোন প্রিয় ভক্তের জন্যই এরকম ব‍্যাকুল ভাবে রোদন করছেন।শচীতনয় রোদনে একান্ত বিভোর। কাজেই তাঁকে তখন কেউ রোদনের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন না।তাঁর কান্না থামল,তিনি কিঞ্চিৎ সুস্থ হলেন।তখন তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন "প্রভু তুমি কোন ভক্তের জন্য কাঁদছিলে, খুলে বলো ; তুমি যাঁর জন্য রোদন কর, তাঁর জন্ম সফল,তিনি ধন‍্যাতিধন‍্য।তাঁর কথা শুনলে আমরাও ধন‍্য হব। ভক্তগণের প্রার্থনায় গৌরহরি শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির চরিত্র তাঁদের কাছে প্রকাশ করেন।শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে সাক্ষাৎ শ্রীভগবানের শ্রীমুখ নিঃসৃত শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি-চরিত্র এইরকম কীর্ত্তিত হয়েছে ঃ---*
*🌷প্রভু বলে তোমরা সকলে ভাগ‍্যবান।*
*🌷শুনিতে হইল ইচ্ছা তাহার আখ‍্যান।।*
*🌷 পরম অদ্ভুত তান সকল চরিত্র।*
*🌷তার নাম শ্রবণেও সংসার পবিত্র।।*
*🌷বিষয়ীর প্রায় তান সব পরিচ্ছদ।*
*🌷চিনিতে না পারে কেহ তিনি যে বৈষ্ণব।।*
*🌷চাটিগ্রামে জন্ম বিপ্র পরম পন্ডিত।*
*🌷পরম স্বধর্ম সর্বলোক অপেক্ষিত।।*
*🌻শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি জাতিতে ব্রাহ্মণ, পরম ভক্ত, অথচ ব্রাহ্মণত্ব-নিষ্ঠ তিনি লোকাপেক্ষাত‍্যাগী উদাসীন বৈষ্ণব ছিলেন না।শ্রীবিদ‍্যানিধি লোকাপেক্ষা রাখতেন,সামাজিক নিয়ম মেনে চলতেন,অথচ অন্তরে অন্তরে সর্ববিষয়েই জনকরাজার মত নিস্পৃহ ছিলেন। তিনি বিষয়ীর মত বিচরণ করতেন,বিষয়ীর মত পোষাক ব‍্যবহার করতেন,তাঁর সাংসারিক অবস্থা খুবই ভাল ছিল। সে পরিচয় পরে প্রকাশ করা যাবে।ফলে তাঁর হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণভক্তি-সিন্ধু-প্রবাহ সবসময়ই তরঙ্গে তরঙ্গে নৃত্য করত,তিনি ভক্তির জাহ্নবী প্রবাহে সবসময়ই ভেসে বেড়াতেন।তাই গৌরহরি বলেছেন=*
*🌷কৃষ্ণভক্তি-সিন্ধু মাঝে ভাসে নিরন্তর।*
*🌷অশ্রুকম্প পুলকে বেষ্টিত কলেবর।।*
*🌻তাঁর বৈধীভক্তির পরিচয় প্রকাশ করে শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর গুণখ‍্যাপন করেছেন।শ্রীশ্রীগঙ্গার প্রতি তাঁর ভক্তি প্রকৃতই অদ্ভুত।লোকে পবিত্রতার জন্য গঙ্গাস্নান করে, কিন্তু পরমভক্ত শ্রীবিদ‍্যানিধি গঙ্গাস্নান করতেন না।দিবাভাগে গঙ্গা দর্শন করতেন না। গঙ্গার প্রতি এত ভক্তি থাকা সত্ত্বেও বিদ‍্যানিধি গঙ্গাস্নান করতেন না। কেন, এবং দিনেরবেলাই বা গঙ্গদর্শন করতেন না কেন, তার কারণ গৌরচন্দ্রের শ্রীমুখের কথায় শুনুন=*
*🌷গঙ্গাস্নান না করেন পাদস্পর্শ ভয়ে।*
*🌷গঙ্গার দর্শন করেন নিশার সময়ে।।*
*🌷গঙ্গায় যে সর্বলোক করে অনাচার।*
*🌷কুল‍্যাদি দন্তধাবন কেশ-সংস্কার।।*
*🌷এ সকল দেখিয়া পায়েন মনোব‍্যথা।*
*🌷এতেক দেখেন গঙ্গা নিশায় সর্বথা।।*
*🌻গঙ্গায় স্নান করলে পা গঙ্গার জলে স্পর্শ হবে।গঙ্গা সাক্ষাৎ ব্রহ্মসনাতনী,সেই গঙ্গাদেহে পা-স্পর্শ হবে,বিদ‍্যানিধি এই জন্য গঙ্গায় অবগাহন (স্নান) করতেন না।দিনেরবেলা গঙ্গা দর্শন করতেন না কেন?গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে লোকে গঙ্গায় বড় কদাচার করে, মুখের কুল‍্যাদি,(মুখে জল নিয়ে কুলকুচি করে গঙ্গায় ফেলে),গঙ্গায় দাঁত মেজে মুখ ধোয়, কেশ সংস্কার করে অর্থ‍্যাৎ মাথায় সাবান দিয়ে গঙ্গার জলে ধোয়, এ সব অনাচার দেখে তাঁর মনে অত‍্যন্ত ব‍্যথা হত।এমন ধর্মভীরুতা ; এমন সজীব ধর্মভাব এখনকার দিনে কখনই দেখা যায় না।তাঁর আর এক বিচিত্র গঙ্গাভক্তি এই ছিল যে দেবার্চনা করার আগেই তিনি গঙ্গাজল পান করতেন।তাঁর বিশ্বাস এই যে গঙ্গাজল সাক্ষাৎ দ্রবব্রহ্ম।গঙ্গাজল পানে জীব পবিত্র হয়,পশুভাব ও জীবভাব দূরে যায়,দেবভাবের উদয় হয়, সুতরাং দেবার্চনার অধিকার জন্মে। সম্ভবত এই বিশ্বাসেই তিনি পূজার আগে গঙ্গাজল পান করতেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷বিচিত্র বিশ্বাস আর এক শুন তান।*
*🌷দেবার্চনা পূর্বে করে গঙ্গাজল পান।।*
*🌷তবে সে করেন পূজা আদি নিত‍্যকর্ম।*
*🌷ইহা সর্ব পন্ডিতের বুঝালেন ধর্ম।।*
*🌻মহাপ্রভু এইভাবে শ্রীবিদ‍্যানিধির চরিত্র বর্ণন করে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলেন,তাঁরে না দেখলে আমার আর স্বস্তি নাই।তোমরা কৃষ্ণভক্ত, তোমাদের চিত্তের আকর্ষণে অবশ্যই তিনি এখানে আসতে পারেন, তোমরা আকর্ষণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁকে এনে দাও।এই বলে ভাবনিধি গৌরহরি আবার আবিষ্ট হলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে পুন্ডরীক বলে কাঁদতে লাগলেন।ফলে কি প্রকারে ভক্তের মাহাত্ম্য বিস্তার করতে হয় স্বয়ং শ্রীভগবানই তার একমাত্র শিক্ষাগুরু। শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি অচিরেই নবদ্বীপে এসেছিলেন।*
*🍀স্বয়ং শ্রীগদাধরের শ্রীমুখে শ্রীপাদ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর প্রেমনিধি বিদ‍্যানিধির মাহাত্ম্য শুনেছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যভাগবতের অন্তলীলায় গ্রন্থকার স্বীয় রচনাতেই তা ব‍্যক্ত করে গিয়েছেন, যথা=*
*🌷যেরূপ কৃষ্ণের প্রিয়পাত্র বিদ‍্যানিধি।*
*🌷গদাধর শ্রীমুখের কথা কিছু লিখি।।*
*🌻গ্রন্থকার শ্রীবিদ‍্যানিধির অনেক কাহিনী কীর্তন করে লিখেছেন=*
*🌷আর কি কহিব প্রেমনিধির মহিমা।*
*🌷যার শিষ‍্য গদাধর--এই প্রেম সীমা।।*
*🌷যার কীর্ত্তি বাখানে অদ্বৈত শ্রীনিবাস।*
*🌷যার কীর্ত্তি বলেন মুরারি হরিদাস।।*
*🌷হেন নাহি বৈষ্ণব যে তানে না বাখানে।*
*🌷পুন্ডরীক শুদ্ধ ভক্ত কায়বাক‍্য মনে।।*
*🌷অহঙ্কার তান দেহে নাহি তিলমাত্র।*
*🌷না জানি অদ্ভুত কি চৈতন‍্য কৃপাপাত্র।।*
*🌻ফলে এইরকম মহাভক্ত না হলে কি বিদ‍্যানিধি শ্রীস্বরূপের বন্ধু হতে পারতেন?শ্রীবিদ‍্যানিধির কাছে শ্রীগদাধর পন্ডিত মন্ত্রগ্রহণ বৈষ্ণব ইতিহাসের এক মহান্ ব‍্যাপার এবং ভক্তিরাজ‍্যের এক বিচিত্র ঘটনা।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
  *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর পন্ডিত*
   ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর আকর্ষণে বিদ‍্যানিধির হৃদয় নবদ্বীপ যাব বলে চঞ্চল হয়ে উঠিল।তিনি সেই নীরব আহ্বানে ব‍্যাকুল হলেন,তাঁর বোধ হল তিনি যেন এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারছেন না।ক্ষণমাত্র দেরী না করে তিনি শ্রীধাম নবদ্বীপ অভিমুখে যাত্রা করলেন-- সঙ্গে রাজার ঠাট--বহু লোক জন --বহু আসবাব। শ্রীবিদ‍্যানিধি সুপন্ডিত।ছাত্রগণ ও ভক্তগণ তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই নবদ্বীপ আসিলেন।বিদ‍্যানিধি যে প্রেমনিধি নবদ্বীপবাসী লোকেরা তা আগে বুঝতে পারেননি।সকলেই মনে করতেন পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি একজন প্রধান বিষয়ী--জমিদার--অতি সম্পত্তিশালী লোক।পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির প্রকৃত সম্পত্তি(শ্রীকৃষ্ণভক্তি সম্পত্তি) তখনও কারও জ্ঞানগোচর হয়নি। কিন্তু শ্রীমুকুন্দদত্ত ও বাসুদেব দত্ত বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে খুব ভালভাবেই জানতেন।কেননা,চট্টগ্রাম তাঁদেরও জন্মভূমি।মুকুন্দের সঙ্গে গদাধরের বড় বন্ধুভাব।দুইজন একসঙ্গে চলাফেরা করেন,একত্র কৃষ্ণকথার প্রসঙ্গ করেন,একত্র কীর্তন করেন। কোথাও কোন নতূন ব‍্যাপার দেখলে বা শুনলে একে অন‍্যকে না বলে স্থির থাকতে পারে না, দুইজনে যেন অভেদ-আত্মা।শ্রীবিদ‍্যানিধি এসেছেন, মুকুন্দ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন,তাঁর ভক্তির মন্দাকিনী তরঙ্গ তুফানে মুকুন্দ আনন্দরসে ডুবে গেলেন,তাঁর প্রিয়তম শ্রীগদাধর পন্ডিতের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন পন্ডিত এখানে এক অদ্ভুত বৈষ্ণব এসেছেন,দেখবে যদি চলো ;দেখলে তুমি বড় আনন্দ পাবে, আমি তোমাকে আজ আনন্দিত করব,দেখিও,আমাকে সেবক বলে স্মরণ রাখতে ভুলিও না।*
*🌻গদাধর পরম ভক্তবৈষ্ণব,গম্ভীর,শান্ত,সুশীল ও সুপন্ডিত।প্রিয় বন্ধু মুকুন্দ দত্তের কথা শুনে তাঁর কৌতূহল বাড়িল। তিনি বললেন আর ক্ষণার্দ্ধ বিলম্বও সইছে না,এখুনি চল।এই বলে দুইবন্ধু কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বাসা অভিমুখে যাত্রা করলেন।অচিরেই বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বাসায় উপস্থিত হলেন।গদাধর পন্ডিত মুকুন্দ দত্তের ইঙ্গিতে বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে দেখে নমস্কার করলেন।বিদ‍্যানিধি মহাশয় গদাধর পন্ডিতকে দেখেই প্রীতি লাভ করলেন যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷বিষ্ণু ভক্তি তেজোময় দেখি কলেবর।*
*🌷আকৃতি প্রকৃতি দুই পরম সুন্দর।।*
*🌻তিনি মুকুন্দ দত্তের কাছে গদাধরের নাম ও পরিচয়াদি জিজ্ঞাসা করলেন।মুকুন্দদত্ত গদাধরের যে পরিচয় প্রদান করেন,শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে তা এরকম বর্ণিত আছে।*
*🌷মুকুন্দ বলেন শ্রীগদাধর নাম।*
*🌷শিশু হৈতে সংসারে বিরক্ত ভাগ‍্যবান।।*
*🌷মাধব মিশ্রের পুত্র কহি ব‍্যবহারে।*
*🌷সকল বৈষ্ণব প্রীতি বাসেন ইহারে।।*
*🌷ভক্তি পথে রত,সঙ্গ ভক্তের সহিতে।*
*শুনিয়া তোমার নাম আইল দেখিতে।।*
*🌻দুই কথাতেই অতি সুন্দর পরিচয় দিয়ে মুকুন্দ দত্ত নীরব হলেন। বিদ‍্যানিধি মহাশয় আকৃতি দেখে যে প্রকৃতির অনুমান করেছিলেন সে অনুমান যথার্থ, তিনি অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন।শ্রীগদাধরের এই পরিচয় পেয়ে তিনি সমাদর করে গদাধরের সঙ্গে আলাপ করতে লাগলেন।গদাধর বিদ‍্যানিধির সঙ্গে আলাপ করতে রত হলেন বটে, কিন্তু তাঁর দৃষ্টি বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের ঘরের বিলাস-উপকরণ গুলির উপর দেখতে লাগলেন।তিনি দেখলেন--বিদ‍্যানিধি মহাশয় যেন এক রাজাধীরাজ।তাঁর খাটখানির মত এমন সুন্দর খাট নবদ্বীপের কোনও বড়লোকের ঘরে তিনি এ যাবৎ দেখতে পাননি,খাটের ঝকঝকে্ বার্ণিশ,এমন সুন্দর হিঙ্গুলে রঙ, পিতলের কাজ, খাটের বাহার কত? খাটের উপর এক চন্দ্রাতপ,তার উপরে আরও একটি চন্দ্রাতপ,আবার তার উপরে আরও একটি চন্দ্রাতপ।খাটের উপরে দুগ্ধ-ফেননিভ সুকোমল সূক্ষ্ম বসনের কোমল শয‍্যা, চারপাশে পট্ট বস্ত্র-আচ্ছাদিত অতি মনোরম বালিশ, গদাধর বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বিলাসিভোগ‍্য এই শয‍্যা দেখছেন আর মনে মনে ভাবছেন--এ-কি ব‍্যাপার,বৈষ্ণবের এরকম বিলাস-শয‍্যা কেন?শয‍্যা দেখতে দেখতে ঘরের মেঝের উপরে তাঁর নজর পড়ল, সেখানে দেখেন ঝকঝকে ছোট বড় চার-পাঁচটি ঝারি, সুমার্জিত পিতলের বাটা,সে বাটায় পাকা পান নানান উপকরণের সঙ্গে শোভা পাচ্ছে।দুই পাশে দুইটি আলবাটি।বিদ‍্যানিধি মহাশয় পান খাচ্ছেন,আর কথা বলছেন,তাঁর ঠোঁট দুইটি পাকা তেলাকুচের রঙ ধারণ করেছে, আর রসময়ী রসনাটি ওষ্ঠ অপেক্ষাও যে রক্তরাগে খুবই সুন্দরী তা দেখাবার জন্যই যেন এক একবার ওষ্ঠভেদ করে বাহির হচ্ছে।গদাধর নৈষ্ঠিক বৈষ্ণব,বিষয়-বিরক্ত যতি ব্রহ্মাচারীর মত কঠোর ব্রতাবলম্বী। বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের তাম্বুল-বিলাস দেখে তাঁর হাসে পেল, কিন্তু সে হাসি তিনি চেপে রাখলেন।*
*🍀এখন তেমন গরম বলেও কিছু নাই,তবুও দুই পাশ হতে দুইজন ভৃত‍্য ময়ূরপুচ্ছের মনোহর পাখা দিয়ে তাঁর অঙ্গে বাতাস দিচ্ছে।কপালে চন্দনের উর্দ্ধ ত্রিপুন্ড,তার মধ্যে ফাগুর বিন্দু-- সে ফাগু আবার সুগন্ধ মিশিত।তাঁর চুলের পরিপাট‍্যও অতি চমৎকার,সুগন্ধি আমলকী ছাড়া তাঁর কেশ সংস্কার হয় না। দেহখানি সুঠাম ও নধর, দেখলে বোধহয় যেন এক রাজপুত্র।আঙ্গিনায় একটি দোলা। দোলা দেখে গদাধর বুঝলেন, পুন্ডরীক মহাশয়ের শ্রীপদযুগলের স্পর্শসুখ বোধহয় বসুন্ধরার ভাগ‍্যে কখনও ঘটেনি।ফলে বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের এই সব বিলাসি-ভোগ‍্য নানান বিচিত্র বৈভব-সন্দর্শনে আজন্মবিরক্ত গদাধরের হৃদয়ে কেমন এক সন্দেহ জন্মিল।আলাপে তাঁর সুখ বোধ হল না, গদাধরের আর স্ফূর্তি রইল না।তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন, মুকুন্দের এ কি রঙ্গ!মুকুন্দ এই বৈষ্ণবটিকে দেখাতে এত বলে আমাকে এখনো নিয়ে আসিল কেন?ইনি যদি বৈষ্ণব,তবে ঘোর বিষয়ী কে? দূর হতে গদাধরের কথা শুনে একটু ভক্তির উদ্রেক হয়েছিল বটে, কিন্তু সাক্ষাৎ দেখে এখন আর ভক্তির লেশমাত্রও রইল না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
         *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর*
          ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে =*
*🌷ভাল ত বৈষ্ণব,সব বিষয়ীর বেশ।*
*🌷দিব‍্য ভোগ দিব‍্য বাস দিব‍্য গন্ধ কেশ।।*
*🌷শুনিয়া ত ভাল ভক্তি আছিল ইহানে।*
*🌷যে ছিল সে ভক্তি এবে গেল দরশনে।।*
*🌻ফলে গদাধর স্ফূর্তিহীন হলেন, তাঁর ইচ্ছা তিনি এখানে আর থাকতে চান না।মুকুন্দ দত্ত গদাধরের সবসময়েরই সঙ্গী।গদাধরের মনে যখন যে ভাবের উদয় হয়,মুকুন্দ গদাধরের মুখ দেখেই তা বুঝতে পারেন।মুকুন্দ বুঝলেন গদাধর ঠকেছেন অর্থ‍্যাৎ গদাধর বিদ‍্যানিধির বাইরের বেশ দেখে প্রতারিত হয়েছেন। মুকুন্দ মনে করলেন পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির ভক্তিরস আস্বাদনে তার প্রিয়বন্ধু পূজ‍্যপাদ গদাধর বঞ্চিত হবেন কেন? বিদ‍্যানিধির অন্তর-চরিত্র-চিত্রপট গদাধরের সমক্ষে প্রকটিত করার জন্য মুকুন্দ ভক্তি-মহিমসূচক দুইটি শ্লোক গানের স্বরে উচ্চারণ করলেন=*
*🌷অহো বকী যং স্তনকালকূটম্,*
*🌷জিঘাংসয়া পায়য়দপ‍্য সাধ্বী,*
*🌷লেভে গতিং ধাত্র‍্যোচিতাং ততোহন‍্যম্,*
*🌷কং বা দয়ালুং শরণং ব্রজেমঃ,*
*🌷পূতনা লোকবালঘ্নীং রাক্ষসী রুধীরাশনা।*
*🌷জিঘাংসয়াপি হরয়ে স্তনং দত্বাপি সদ্গতিম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "অহো বকী রাক্ষসী পূতনা হত‍্যা করবার জন্য স্তনে কালকূট মেখে যাঁকে পান করাল,, কিন্তু তাতেও যিনি সেই রাক্ষসীকে ধাত্রীর মত সদ্গতি প্রদান করলেন, বল দেখি,তিনি ছাড়া আর কোন দয়ালুর শরণাপন্ন হব। অপরন্তু লোকের শিশু সন্তান বিনাশ করাই যার স্বভাব,সেই রুধীরাশনা পূতনা রাক্ষসী হত‍্যা করার জন্য হরিকে বা গোপালকে স্তনদান করে সদ্গতি লাভ করল।*
*🌺মুকুন্দ গানের স্বরে ভক্তি মাহাত্ম্যসূচক শ্রীমদ্ভাগবতের এই শ্লোক দুইটি পাঠ করা মাত্রই বিদ‍্যানিধি কেঁদে উঠলেন,আত্মহারা হলেন,নয়নজলে বুক ভেসে সুচিক্কণ সুন্দর শয‍্যা ভিজে গেল,সহসা অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব ঝড়ের মত তাঁর শ্রীঅঙ্গে প্রকাশ পেল--দেহে কম্প,নয়নে অজস্র জলধারা,সর্বাঙ্গে স্বেদবিন্দু ও পুলক এবং পর্য‍্যায়ক্রমে মূর্ছা ও হুঙ্কারে তাঁর দেহ অধীর হয়ে পড়ল। তিনি বোল বোল বলে গর্জন করতে লাগলেন,একেবারেই উন্মত্ত ও আত্মহারা ; বিন্দুমাত্রও বাহ‍্যজ্ঞান রইল না।খাট হতে গড়িয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন তাঁর উন্মত্ততা উপস্থিত হল,ইতস্তত(এদিক-ওদিক) পা ছড়াছড়ি করে ঘরের সব জিনিসপত্র ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল,পানের বাটা ও পান পদাঘাতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল,মাথার সুচিক্কণ সুন্দর সুগন্ধি দ্রব‍্যমাখা সুবাসিত কেশ ধূলায় ধূসরিত হয়ে উঠিল। তিনি প্রেমাবেশে পাগলেরমত হয়ে পরিহিত বস্ত্র দুইহাতে চিরতে বা ছিড়তে লাগলেন।অবশেষে ধূলায় লুটিয়ে "হা কৃষ্ণ,হা কৃষ্ণ" বলে কাঁদতে আরম্ভ করলেন।আর বলতে লাগলেন আমার হৃদয়, পাষাণ হতেও কঠিন, হে কৃষ্ণ! তুমি এমন পরম দয়াল,আর তোমার প্রতি আমার ভক্তি হ'ল না।এই বলে মহা গড়াগড়ি দিয়ে এক একবার উঠেন, আর ধড়াস করে আছাড় খেয়ে পড়তে থাকেন-- ভাব-বিকারে ভয়ংকর কম্প উপস্থিত হল,দশজনে ধরেও তাঁকে স্থির রাখতে পারলেন না।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷বস্ত্র শয‍্যা ঝারি বাটি সকর সম্ভার।*
*🌷পদাঘাতে সব গেল,কিছু নাহি আর।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷কোথা গেল সেবা দিব‍্য কেশ সংস্কার।*
*🌷ধূলায় লুটায়ে করে ক্রন্দন অপার।।*
*🌷অনুতাপ করিয়া কান্দয়ে উচ্চৈঃস্বরে।*
*🌷মুঞি সে বঞ্চিত হৈনু হেন অবতারে।।*
*🌷মহা গড়াগড়ি দিয়া যে পড়ে আছাড়।*
*🌷সভে মনে করে কিবা চূর্ণ হৈল হাড়।।*
*🌻শ্রীবিদ‍্যানিধির প্রেম বিকারে এইরকম উন্মত্ত হয়ে কিছুক্ষণ দেহ ছড়াছড়ির পর প্রেমানন্দে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। শরীর একেবারে নিষ্পন্দ হয়ে পড়ল। তিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রেমানন্দ-সাগরে একেবারেই ডুবে গেলেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷এইমত কতক্ষণ প্রেম প্রকাশিয়া।*
*🌷আনন্দে মূর্ছিত হৈঞা রহিল পড়িয়া।*
*🌷তিলমাত্র ধাতু নাহি সকল শরীরে।*
*🌷ডুবিলেন বিদ‍্যানিধি আনন্দ-সাগরে।।*
*🌻বিদ‍্যানিধির ভক্তির এই বিশাল ভাব দেখে গদাধর অবাক হলেন,তাঁর মনে ভয়,ভক্তি,বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতার উদয় হল।তাঁর ভয়ের কারণ এই যে তিনি প্রথমে বিদ‍্যানিধির বিলাসিজন সেব‍্য দ্রব‍্যাদি দেখে তাঁকে বিলাসী ভেবেই মনে মনে অবজ্ঞা করেছিলেন, মহদবজ্ঞা অপরাধজনক,এটি ভক্তি পথের দারুণ কাঁটা, তাই গদাধর বললেন=*
*🌷হেন জনেরে আমি অবজ্ঞা করিনু।*
*🌷কোন্ বা অশুভক্ষণে দেখিতে আইনু।।*
*🌹বিদ‍্যানিধির এই ভক্তি-প্রবাহ দেখে তাঁর প্রতি গদাধরের একান্ত ভক্তি জন্মিল।প্রিয়বন্ধু মুকুন্দ যে প্রকৃতই বন্ধুর কাজ করেছেন,এটি মনে করে গদাধর মুকুন্দকে আনন্দে জড়িয়ে ধরে নয়নজলে তাঁর বক্ষ ভিজিয়ে গদাধর বললেন=*
*🌷মুকুন্দ,আমার তুমি কৈলে বন্ধুকার্য‍্য।*
*🌷দেখাইলা ভক্তি,বিদ‍্যানিধি ভট্টাচার্য্য।।*
*🌻তাঁর বিস্ময়ের কারণ এই যে তিনি মহাপ্রভুর ভক্তিভাব খুব কাছ হতে দেখেছেন, কিন্তু গদাধর জানেন, মহাপ্রভু স্বয়ং ভগবান, জনসাধারণের শিক্ষার জন্যই লীলা করেন। কিন্তু মানুষের ভক্তিভাবে এরকম বিশাল সাত্ত্বিক বিকার উপস্থিত হতে পারে, গদাধর তা আর কখনও দেখেননি। সুতরাং এদৃশ‍্য তাঁর পক্ষে প্রকৃতই বিস্ময়ের হেতু হল, তাই তিনি বললেন=*
*🌷এমত বৈষ্ণব কিবা আছে ত্রিভুবনে।*
*🌷ত্রৈলোক‍্য পবিত্র হয়,এ ভক্ত দর্শনে।।*
*🌷আজি আমি এড়াইনু পরম শঙ্কটে।*
*🌷সেহো যে কারণে তুমি আছিলা নিকটে।।*
*🍀গদাধর এরকম নিজের হৃদয়ের ভাব প্রিয়তম বন্ধু মুকুন্দের কাছে ব‍্যক্ত করলেন।ফলে মুকুন্দের বুদ্ধি প্রভাবেই গদাধর বিদ‍্যানিধির বিশুদ্ধ ভক্তি-ভাব বুঝতে পারলেন। তিনি বুঝলেন বিদ‍্যানিধির বিলাস উপাদানের সঙ্গে তাঁর মনের কিছুমাত্র সম্বন্ধ নাই। নির্মুক্ত আকাশে ঘনকৃষ্ণ মেঘমালার যতটুকু সম্বন্ধ, উড্ডীয়ন ধূলি রাশির সঙ্গে আকাশের যেটুকু সম্বন্ধ, বিদ‍্যানিধির মনের সঙ্গে তার বিলাসীভোগ‍্য বস্তুরাশির ততটুকু সম্বন্ধও নাই।গদাধরের মনে প্রকৃতই অনুতাপ হল ; কেন না,এমন যে মহাভক্ত, তাঁর প্রতি তিনি আপন মনে কুসন্দেহের স্থান দিয়েছিলেন। গদাধর মনে করলেন এই বৈষ্ণব অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন=*
                      *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর*
           ***********************
*🍀তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন=*
*🌷এ পথে প্রবিষ্ট যত সব ভক্তগণ।*
*🌷উপদেষ্টা অবশ‍্য করেন একজন।।*
*🌷এ পথেতে আমি উপদেষ্টা নাহি করি।*
*🌷ইহানেই আমি মন্ত্র উপদেষ্টা ধরি।।*
*🌷ইহানে অবজ্ঞা যেই করিয়াছি মনে।*
*🌷শিষ‍্য হৈলে সব দোষ ক্ষমিবে আপনে।।*
*🌻শাস্ত্রে লেখা আছে বৈষ্ণব অপরাধ অতি ভয়ংকর অপরাধ। সাক্ষাৎ শ্রীভগবান ও বৈষ্ণব অপরাধীর নিস্তার করতে পারেন না,ভক্তিরাজ‍্যে সেরকম বিধান নাই।যাঁর কাছে অপরাধী হওয়া যায়, তিনি ছাড়া অন‍্যে সেই অপরাধ হতে মুক্তি দিতে পারেন না। সুতরাং সুপন্ডিত গদাধর অতি উত্তম পরামর্শ স্থির করে তৎক্ষণাৎ প্রিয়বন্ধু মুকুন্দকে তা জানালেন।বলা বাহুল‍্য যে মুকুন্দ এই প্রস্তাবে অতি আহ্লাদিত হলেন।*
*এদিকে বিদ‍্যানিধি মহাশয় দুই প্রহর পর্যন্ত আনন্দ সুধাসাগরে নিষ্পন্দ ভাবে ডুবে ছিলেন।পরে ধীরে ধীরে তাঁর বাহ‍্যজ্ঞানের সঞ্চার হল,তিনি তাকিয়ে দেখেন,সামনে পদ-পার্শ্বে মুকুন্দ ও গদাধর।নয়নজলে গদাধরের অঙ্গ ভিজে যাচ্ছে, পূর্ণ বিকসিত কমলদলে মত গদাধরের নয়নকমলে অশ্রুধারার বিরাম নাই।গদাধরের প্রেম দেখে বিদ‍্যানিধি মহাশয় বড়ই আনন্দ লাভ করলেন,তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।গদাধর পিতার বক্ষে পুত্রের মত বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের হৃদয়ে মাথা রেখে আনন্দে নিষ্পন্দ (স্থির) হলেন। মুকুন্দ,গদাধরের মনের বাসনা বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের কাছে খুলে বললেন।উপযুক্ত শিষ্য না হলে শাস্ত্রে মন্ত্র দেওয়ার নিষেধ আছে,মুকুন্দ এটি জানতেন,তাই তিনি বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের কাছে গদাধর-চরিত্রের প্রকৃত পরিচয় দিয়ে বললেন=*
*🌷বিষ্ণুভক্তি,বিরক্তি,শৈশবে বৃদ্ধ রীত।*
*🌷মাধব মিশ্রের কুল নন্দন উচিত।।*
*🌷শিশু হইতে ঈশ্বরের সঙ্গে অনুচর।*
*🌷গুরু-শিষ‍্য যোগ্য -- পুন্ডরীক গদাধর।।*
*🌷আপনি বুঝিয়া চিত্তে একশুভ দিনে।*
*🌷নিজ ইষ্ট মন্ত্র দীক্ষা করাহ আপনে।।*
*🌻বিদ‍্যানিধি মহাশয় অতি আনন্দের সঙ্গে মুকুন্দের এই প্রস্তাবে সম্মত হলেন। তিনি বললেন,বিধাতার কৃপায় আমি মহারত্ন পেলাম,বহুভাগ‍্য ফলেই এমন সুশিষ‍্য লাভ হয়ে থাকে। তিনি শুক্লাদ্বাদশীতে গদাধরের দীক্ষার দিন স্থির করে দিলেন!গদাধর বিদ‍্যানিধির শ্রীপাদপদ্মে প্রণাম করে মুকুন্দের সঙ্গে সেদিনের জন্য বিদায় গ্রহণ করলেন।শ্রীগদাধর,বিদ‍্যানিধি মহাশয়ের ভবন হতে এসে রাত্রিতে শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর কাছে বিদ‍্যানিধির প্রেমভক্তির কথা তুললেন।মুকুন্দও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।শ্রীভগবানের এমনই বিধান শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি মহাশয়ও তখনই শ্রীমন্মহাপ্রভুকে দর্শন করবার জন্য আগমন করলেন।বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে ঘরের বাহির হতে হলে দোলা চাই,লোকজন চাই, নানারকম আসবাব চাই-- সে এক নবাবি কান্ড, রাজ-রাজড়ার ঠাঁট! কিন্তু রাত্রিযোগে বিদ‍্যানিধি একাকী মহাপ্রভুর গৃহে এসে সমুপস্থিত হলেন। তিনি মহাপ্রভুর দর্শনের জন্য কিরকম উৎকণ্ঠিত হয়েছিলেন তা বর্ণনা করা সত‍্যিই অসম্ভব।গৌরহরির গৃহে এসে উপস্থিত হওয়া মাত্রই ছিন্নমূল তরুর মত মূর্ছিত হয়ে পড়লেন,গৌরচন্দ্রকে প্রণামও করতে পারলেন না। শ্রীপাদ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর লিখেছেন=*
*🌷দন্ডবৎ প্রভুরে না পারিলা করিতে।*
*🌷আনন্দে মূর্ছিত হৈয়া পড়িলা ভূমিতে।।*
*🙌আনন্দের আবেগে বিদ‍্যানিধির হৃদয়ে স্থান না পেয়ে সর্বশরীরে সঞ্চারিত হল,সমস্ত শরীরে ব‍্যাপ্ত হয়েও সে বেগের কম হল না।আনন্দ বেগভরে বিদ‍্যানিধির দেহ অবশ ও অবসন্ন হয়ে পড়ল, মহাপ্রভুকে প্রণাম করতে উদ‍্যত হয়েই অমনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।কিছু সময় পরে তাঁর চেতনার সঞ্চার হল। তিনি অনুতাপ করে কাঁদতে লাগলেন।বিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুকে সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ বলে চিনেছেন তাই তিনি নির্বেদ(আত্মগ্লানি ও ঔদাসীন‍্য,বা সংসারের অসারত্ব উপলব্ধি করে যে বিরক্তি জন্মে,নির্বেদ সঞ্চার হলে অশ্রুত‍্যাগ,বিবর্ণতা,দীর্ঘনিশ্বাস,দৈন‍্য ও চিন্তা জন্মে।বিচ্ছেদ,হিংসা,মহাদুঃখ অকার্য‍্যের করণ ও কর্তব‍্যের অকরণ জন‍্য শোচনা,আর অপমান এই সমস্ত কারণে নির্বেদের সঞ্চার হয়ে থাকে ) ও বিষাদমিশ্র প্রার্থনা বাক‍্যে অনুতাপ প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷কৃষ্ণ রে জীবন মম কৃষ্ণ মোর বাপ।*
*🌷মুঞি অপরাধীরে কতবা দেহ তাপ।।*
*🌷সর্ব জগতের বাপ উদ্ধার করিলে।*
*🌷সবে মাত্র মোরে তুমি একেলা বঞ্চিলে।।*
*🌻এই বলেই তিনি অঝোর নয়নে কাঁদতে আরম্ভ করলেন,তাঁর করুণ রোদন রোলে উপস্থিত ভক্তমাত্রেরই প্রাণ বিগলিত হয়ে পড়ল,সকলেরই নয়ন হতে অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগল। কিন্তু ইনি কে,তা কেউ চিনতে পারলেন না,কিন্তু মহাপ্রভু উঠে বিদ‍্যানিধিকে স্বীয় (নিজ) বক্ষে জড়িয়ে ধরলেন এবং কেঁদে বললেন "বাপ পুন্ডরীক", তুমি এতদিন আমাকে ছেড়ে কোথা ছিলে?আজ আমার নয়ন সফল হল,আজ আমি তোমাকে দেখতে পেলাম।এই কথা বলে মহাপ্রভুও কাঁদতে লাগলেন।ভক্তগণ বুঝতে পারলেন ইনিই সেই পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি।তখন প্রেমের এক প্রবল প্রবাহ বইতে লাগল,সকলেই আনন্দ অশ্রুতে পরিপ্লাবিত হলেন।মহাপ্রভুর আনন্দ ধারায় তাঁর বক্ষঃস্থলে বিদ‍্যানিধি মহাশয় পরিস্নাত হলেন।*
                 *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *শ্রীবিদ‍্যানিধি ও গদাধর*
            🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁
*🌼গঙ্গা মহাপ্রভুর পাদোদক মাত্র।শ্রীগঙ্গা জীবের তাপ দূর করতে পারেন, হৃদয় পবিত্র করতে পারেন,জীবকে স্বর্গের সুখ প্রদান করতে পারেন। কিন্তু মহাপ্রভুর নয়নজল সাক্ষাৎ প্রেম-প্রবাহ, প্রেম-গঙ্গা।এর কণামাত্র স্পর্শ হলেও জীব শ্রীবৃন্দাবন-সুখসম্পত্তির অনন্ত অক্ষয় অধিকার লাভ করতে সমর্থ হয়। মহাপ্রভুর যুগল নয়ন-কমল হতে প্রেমসুধা ধারায় ধারায় প্রবাহিত হতে লাগল, সে প্রবাহে বিদ‍্যানিধি স্নান করলেন।কাঙ্গাল,মানিক পেলে যেমন আত্মহারা হয়ে যায়,কোথায় সে মানিক লুকাবে সেই ভাবনাই অস্থির হয়,বিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুকে পেয়ে যেন প্রাণ অপেক্ষাও অনেক বেশী প্রিয় ধন পেলেন।বিদ‍্যানিধির ইচ্ছা তাঁকে চিরদিনের জন্য নিজ হৃদয়ে লুকিয়ে রাখেন। তিনি তাঁকে প্রেমভক্তিভরে অতি আদরে জড়িয়ে ধরলেন।ভক্তগণ দেখলেন ভক্তবাঞ্জাপূরণকারী মহাপ্রভু যেন বিদ‍্যানিধির শরীরে লীন হয়ে পড়েছেন।এইভাবে একপ্রহর সময় অতিবাহিত হল,গৌরহরির বাহ‍্যজ্ঞান হল।তিনি হরি হরি বলে জেগে উঠিলেন আর অত‍্যন্ত আনন্দ সহকারে বলতে লাগলেন=*
*🌷আজি কৃষ্ণ বাঞ্জা সিদ্ধি করিলা আমার।*
*🌷আজি পাইলাম সর্ব মনোরথ সার।।*
*🌹শ্রীভগবানের সঙ্গে ভক্তের মিলন,এটি ভক্তিরাজ‍্যের যেমন এক আকর্ষণ ব‍্যাপার, আবার ভক্তের সঙ্গে ভগবানের মিলনও তেমনি এক আকর্ষণ ব‍্যাপার।কৃষ্ণ-আকর্ষণী ভক্তি দ্বারা ভক্ত ভগবানের সঙ্গে সম্মিলিত হন, আবার ভাগবতী কৃপাকর্ষণে ভগবান নিজ ভক্তকে বুকে নিয়ে ভক্তিরাজ‍্যের পরিধি বিস্তার করেন।শ্রীভগবান লাভের জন্য ভক্তজীবের যেমন আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ, ভক্ত-লাভেও ভগবানের তেমনি আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ।ভক্তিরাজ‍্যের এই মহাভাব অনির্বচনীয় ও অচিন্ত‍্য।তাই মহাপ্রভু বললেন,আজ আমার মনোরথ সিদ্ধ হল,আজ কৃষ্ণ আমার বাঞ্জাপূর্ণ করলেন। ভক্তের ভগবান এবং ভগবানের ভক্ত এই দুই নিয়েই ভক্তিরাজ‍্যের পূর্ণতা।গৌরহরি এই লীলায় এই মহাসত‍্য জগতে প্রচার করলেন।*
*🌹সব বৈষ্ণবের সঙ্গে তিনি বিদ‍্যানিধির পরিচয় ও মিলন করিয়ে দিলেন।তখন মহা সংকীর্তন আরম্ভ হল।তরঙ্গে তরঙ্গে আনন্দ-প্রবাহ প্রবাহিত হতে লাগল, ভক্তগণ আনন্দে ডুবে গেলেন।কিছুক্ষণ পরে শ্রীকীর্তন বিরতি হল, কিন্তু বিদ‍্যানিধির যে আনন্দ মূর্ছায় মূর্ছিত হয়েছিলেন, তাঁর আর চেতনার সঞ্চার হল না। দেহে ক্ষণে ক্ষণে প্রেম-পুলক ও স্বেদাদি সাত্ত্বিক চিহ্ন সব উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হতে লাগল।বিদ‍্যানিধির এই অপূর্ব প্রেমভাব দেখে সবাই অবাক ও বিমুগ্ধ হলেন।মহাপ্রভু বললেন, এর নাম পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি। কিন্তু বিধাতা যেন প্রেমভক্তি বিতরণ করার জন্যই এই শ্রীমূর্তির গঠন করেছেন, সুতরাং "প্রেমনিধিই" এর প্রকৃত পদবী হল।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷ইঁহার পদবী পুন্ডরীক প্রেমনিধি।*
*🌷প্রেমভক্তি বিতরিতে গড়িলেন বিধি।।*
*🌻মহাপ্রভু প্রেমনিধির হাত তুলে তুলে প্রেমনিধির গুণবর্ণন করতে লাগলেন, আর ঘন ঘন হরিধ্বনি করতে লাগলেন।ভক্ত-দর্শন যে কত মঙ্গলজনক,কত পুণ‍্যময় মহাপ্রভু ভক্তদের সামনে ভক্ত মাহাত্ম্য প্রকাশ করে বলতে লাগলেন, যথা ভাগবতে=*
*🌷প্রভু বলে আজি শুভ প্রভাত আমার।*
*🌷আজি মহামঙ্গল সে বাসি আপনার।।*
*🌷নিদ্রা হৈতে আজি উঠিলাম শুভক্ষণে।*
*🌷দেখিলাম প্রেমনিধি সাক্ষাৎ নয়নে।।*
*🌻শ্রীভগবানের মাহাত্ম্য ভক্তেরই বিদিত, আর ভক্তের মহিমা প্রকটন করতে শ্রীভগবানই সমর্থ। সুতরাং মহাপ্রভু ছাড়া ভক্ত-মহিমা এরকম ভাবে প্রকটন করতে আর কার সাধ‍্য।মহাপ্রভু বললেন আজ আমার সুপ্রভাত, কেন না আজ প্রকৃত ভক্তের দর্শন পেলাম।আজ আমার মহামঙ্গল,কেননা,ভক্তদর্শনের মত মঙ্গল জগতে আর কি হতে পারে? প্রেনিধি বিদ‍্যানিধির দর্শনে মহাপ্রভুর হৃদয়ে আজ আনন্দ ধরছে না,যিনি সাক্ষাৎ সরস্বতীর প্রবর্ত্তক, আজ ভক্ত মহিমাকীর্তনে তাঁরও বাক‍্য যেন ব‍্যাকুল ও অসমর্থ হয়ে পড়ছেন।ভক্তরাজ‍্যের এই ভাব অভক্তদের অজ্ঞেয়,দুষ্প্রাপ‍্য ও দুর্বোধ‍্য।*
*🌹যাইহোক,কিছুক্ষণ পরে প্রেমনিধি মহাশয়ের বাহ‍্যজ্ঞানের সঞ্চার হল। তিনি যেন জেগে উঠলেন!চেয়ে দেখেন সামনে মহাপ্রভু!তাঁকে ভক্তিবিহ্বল ভাবে প্রণাম করলেন, অদ্বৈতাচার্য‍্য মহাশয়ও সেখানে ছিলেন,তাঁকেও প্রণাম করলেন।অন‍্যান‍্য ভক্তগণকে যথাযথ প্রেমসম্ভাষণ করলেন।ভক্তগণ বিদ‍্যানিধির দর্শনে পরমানন্দে মগ্ন হলেন।প্রেমনিধির সন্দর্শনে সেই সময়ে ভক্তগণের মধ্যে ভক্তির আবির্ভাব হয়েছিল।শ্রীগৌরাঙ্গ লীলা-লেখক ব‍্যাসদেব শ্রীমদ্ বৃন্দাবন ঠাকুর মহাশয় তাঁর প্রকৃত বর্ণনা করতে না পেরে লিখেছেন=*
*🌷ক্ষণেক যে হৈল প্রেম ভক্তি আবির্ভাব।*
*🌷তাহা বর্ণিবারে পাত্র ব‍্যাস মহাভাগ।।*
*🌻আনন্দ-তরঙ্গ একটু শান্ত হলে পর গদাধর মহাপ্রভুর কাছে তাঁর নিজের কথা তুললেন।তিনি বললেন "মুকুন্দের সঙ্গে যখন আমি তাঁকে দর্শন করতে যাই,তখন প্রথমে উনার ব‍্যবহার দেখে আমার মনে অবজ্ঞা জন্মে। তাতে আমার বৈষ্ণব অপরাধ হয়েছে।উনার শিষ‍্যত্ব স্বীকার না করা পর্যন্ত সে অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত অন‍্য কিছুতেই হবে না।আমি উনার শিষ্য হলে উনি অবশ্যই আমাকে ক্ষমা করবেন। সুতরাং আমি উনার শিষ্য হতে বাসনা করছি।এজন‍্য আমি আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছি।বলা বাহুল‍্য যে মহাপ্রভু অতীব আনন্দের সহিত অনুমতি প্রদান করলেন।কয়েকদিন পরে শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে গদাধর আনন্দ চিত্তে প্রেমভক্তিভরে প্রেমনিধি পুন্ডরীকের কাছে দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ করলেন।এহেন প্রেমনিধিই শ্রীস্বরূপ দামোদরের প্রিয়তম বন্ধু।ইনিই নাকি পূর্বলীলায় শ্রীরাধার পিতা বৃষভানু রাজা। তাই হয়ত তাঁর বাইরে রাজভাব।তাই মহাপ্রভু ইঁনাকে "বাপ" বলে সম্বোধন করেন।শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির আর অন‍্য মহিমা কীর্তন করার প্রয়োজন কি? তিনি গদাধরের গুরু এই বলিলেই তাঁর মাহাত্ম্যের পরিচয় দেওয়া হয়।যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷কি কহিব আর পুন্ডরীকের মহিমা।*
*🌷গদাধর শিষ্য যার,ভক্তের সেই সীমা।।*
*🌷যোগ‍্য গুরু শিষ্য --পুন্ডরীক-গদাধর।*
*🌷দুই কৃষ্ণ চৈতন‍্যের প্রিয় অনুচর।।*
*🙏পুন্ডরীক-গদাধরের মিলন কাহিনী পরম প্রেমভক্তি প্রদায়িনী।তাই শ্রীবৃন্দাবনদাস লিখেছেন=*
*🌷পুন্ডরীক গদাধর দুইয়ের মিলন।*
*🌷যে পড়ে যে শুনে তার মিলে প্রেমধন।।*
*🍀পরমভক্ত শ্রীমদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের বাক‍্য ঋষি-সত্তমের বাক‍্য।তাঁর একটি কথাও মিথ‍্যা হবার নয়।এ প্রসঙ্গ প্রকৃতই প্রেমভক্তি পূর্ণ।*
   *বিদ‍্যানিধি-গদাধর বিরতি*
     🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
             *🌹বন্ধু-সমাগম🌹*
              🌹🌹🌹🌹🌹
*🌻শ্রীস্বরূপদামোদরের প্রিয়তম বন্ধুর নিকট শ্রীগদাধর মন্ত্রদীক্ষা গ্রহণ করেন।যিনি গদাধরের ইষ্টদেবতা-- গদাধরের দীক্ষাগুরু তাঁর চরিত্র পাঠে হৃদয়ে অতুল আনন্দের সঞ্চার হবে এতে আর বৈচিত্র্য কি?বিশেষকরে বন্ধুর চরিত্র কীর্তন দ্বারা শ্রীস্বরূপেরই মাহাত্ম্য প্রকাশ করা হবে এটিই মনে করে এই প্রসঙ্গে শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয়ের চরিত্রকীর্তন অতি প্রয়োজনীয় বলে বোধ হচ্ছে।*
*🍀নীলাচলে শ্রীবিদ‍্যানিধি মিলন-প্রসঙ্গ আমাদের বতর্মান প্রবন্ধের লক্ষ্য।এই জায়গায় বহুদিন পরে প্রেমনিধি শ্রীবিদ‍্যানিধি ও রসময় শ্রীস্বরূপদামোদর, এই উভয় বন্ধুর পুনর্মিলন সংঘটিত হয়।শ্রীবিদ‍্যানিধির নীলাচলে শুভাগমন-সংবাদ শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভবিষ্যদ্বাণীতে সর্বপ্রথমে গদাধর জানতে পান।যে সূত্রে শ্রীগদাধর তাঁর দীক্ষাগুরু শ্রীপ্রেমনিধির আগমনবার্তা জানতে পান,শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে তা এইরকম বিবৃত আছে,তদ্ যথা=*
*🌷একদিন গদাধর দেব প্রভু স্থানে।*
*🌷কহিলেন পূর্বমন্ত্র দীক্ষার কারণে।।*
*🌷ইষ্ট মন্ত্র আমি যে কহিনু কার প্রতি।*
*🌷সেই হইতে আমার না স্ফূরে ভাল মতি।।*
*🌷সেই মন্ত্র তুমি মোরে কহ পুনর্বার।*
*🌷তবে মনে প্রসন্নতা হইবে আমার।।*
*🌻শ্রীগদাধরের দীক্ষামন্ত্র মনে মনে বলতে পারছে না,তাই তিনি মহাপ্রভুর কাছে সেই মন্ত্রস্মৃতির প্রার্থনা করলেন, সাধারণ লোকের মনে হতে পারে এই প্রার্থনা আদৌ যুক্তসঙ্গত না।কেন না,শ্রীবিদ‍্যানিধি কি মন্ত্র প্রদান করেছিলেন,তা মহাপ্রভুর জানবার কোন সম্ভাবনা নাই।দীক্ষাগুরু যে মন্ত্রদান করেন,অন‍্যে তা জানতে বা শুনতে পায় না, এটিই প্রচলিত রীতি।বিশেষকরে দীক্ষামন্ত্র একজনেরই দিবার অধিকার, অন‍্যের সে অধিকার নেই। সুতরাং গদাধর শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত হয়েও এমন অশাস্ত্রজ্ঞের মত প্রার্থনা করলেন কেন?*
*🍁সাধারণ বুদ্ধির এই ধারণা ভ্রমাত্মিকা (বলা যায় চরম ভুল)।কেন না,শ্রীগদাধর মহাপ্রভুকে সর্বজ্ঞচূড়ামণি,সর্বেশ্বর,সর্বগুরু এবং সকলের আত্মস্বরূপ বলেই জানতেন। সুতরাং তাঁর গুরু হতে মহাপ্রভু ভিন্ন, এ ধারণা গদাধরের ছিল না এবং সর্বজ্ঞ চূড়ামণি যে তাঁর দীক্ষামন্ত্র জানতে পারেন না,গদাধরের এই ক্ষীণ বিশ্বাসও ছিল না।মহাপ্রভুই অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের পরমগুরু এই বিশ্বাসই তাঁর ছিল।কাজেই তিনি সরলভাবে মন্ত্র-স্ফূর্তির জন্য গৌরহরির কাছে প্রার্থনা করলেন। কিন্তু সর্বজ্ঞশিরোমণি মহাপ্রভু সৎশাস্ত্রসিদ্ধান্ত সংস্থাপন ও দৃঢ়ীকরণের জন্য অবতীর্ণ। সুতরাং তাঁর প্রবর্তিত ধর্মের সঙ্গে সৎশাস্ত্রের বিরোধ হতে পারে না। মন্ত্রদাতা গুরু ছাড়া অন‍্যের কাছে পুনর্বার দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ করা যায় না শাস্ত্রের এটিই সিদ্ধান্ত।এটির অন‍্যথাচরণ করলে পূর্বগুরুর কাছে চরমভাবে অপরাধী হতে হয়, এই লৌকিক ধর্মের মর্য‍্যাদা সংরক্ষণের জন্য মহাপ্রভু বললেন "তোমার দীক্ষাগুরু বতর্মান থাকতে অন‍্যের কাছে তুমি মন্ত্রস্মৃতি লাভের প্রার্থনা করতে পার না,তাতে তোমার অপরাধ হবে। যথা শ্রীচৈতন‍্য-ভাগবতে=*
*🌷প্রভু বলে তোমার যে উপদেষ্টা আছে।*
*🌷সাবধান তথা অপরাধী হও পাছে।।*
*🌷মন্ত্রের কি দায়-- প্রাণ আমার তোমার।*
*🌷উপদেষ্টা থাকিতে না হয় ব‍্যবহার।।*
*🌻বলা বাহুল‍্য সর্বশাস্ত্রের প্রবর্তক ও সর্বশাস্ত্রের মীমাংসক শ্রীমন্মহাপ্রভুর এই সিদ্ধান্ত হিন্দুমাত্রেরই স্মরণ রেখে চলা কর্তব‍্য।যাইহোক,এই কথাগুলি শুনে গদাধর বললেন, তিনি এখানে উপস্থিত নন, বিশেষকরে তাঁতে ও আপনাতে প্রভেদ কি?আপনি সর্বাত্মস্বরূপ। তাঁতে ও আপনাতে আমার কোন আলাদাভাব নাই।এইজন‍্যই এরকম প্রার্থনা করেছি।করুণাময় মহাপ্রভু বললেন,তোমার গুরুদেব খুব তাড়াতাড়ি এখানে আসিবেন।তোমার মন সততই তাঁকে টানছে, তিনি তোমার আকর্ষণে আর কি স্থির থাকতে পারেন?আমাকে দেখার উপলক্ষ্য করে তিনি দশদিনের মধ্যে এখনো এসে উপস্থিত হবেন।*
*🍀সর্বজ্ঞ চূড়ামণি গৌরসুন্দরের কথায় সফল হল।নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে শ্রীপ্রেমনিধি মহাশয় নীলাচলে মহাপ্রভুর পদপ্রান্তে উপস্থিত হলেন।শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয় শ্রীমন্মহাপ্রভুকে "বাপ" বলে আহ্বান করতেন।দেখামাত্রই "বাপ এসেছে,বাপ এসেছে" বলে মহাপ্রভু আনন্দে অধীর হয়ে উঠলেন।শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয় প্রকৃতই প্রেমনিধি। তাঁকে দেখে ভক্তবৎসল প্রেমময় মহাপ্রভুর প্রেম উথলিয়ে উঠিল।শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকার লিখেছেন=*
*🌷প্রেমনিধি প্রেমে হৈলা আনন্দে বিহ্বল।*
*🌷পূর্ণ হৈল হৃদয়ের সকল মঙ্গল।।*
*🌷শ্রীভক্তবৎসল গৌরচন্দ্র নারায়ণ।*
*🌷প্রেমনিধি বক্ষে করি করেন রোদন।।*
*🌷সকল বৈষ্ণববৃন্দ কান্দে চারি ভিতে।*
*🌷বৈকুন্ঠ স্বরূপ সুখ মিলিল সাক্ষাতে।।*
*🌷ঈশ্বর সহিত যত আছে ভক্তগণ।*
*🌷প্রেমনিধি প্রীতে প্রেম বাড়ে অনুক্ষণ।।*
*🌻🌻বসন্তের ঞউদয়ে যেমন সমস্ত জগৎ প্রফুল্ল হয়, চন্দ্রোদয়ে যেমন আকাশ ও জগৎ সেই সুধামাখা কিরণে হেসে উঠে, শ্রীপ্রেমনিধি বিদ‍্যানিধি যখন যেখানে যেতেন সেইখানেই ভক্তগণের হৃদয়ে প্রেমসিন্ধু উছলিয়ে উঠিত।নীলাচলে শ্রীপুন্ডরীক প্রেমনিধি উদিত হওয়া মাত্রই প্রেমেশ্বর মহাপ্রভু ভক্তগণের সঙ্গে মহাপ্রেমে মেতে উঠলেন। মহাসংকীর্তনের মহাতরঙ্গ প্রবাহিত হল।এমন সময়ে মহাপ্রভুর দ্বিতীয় স্বরূপ,শ্রীস্বরূপ-দামোদর এসে উপস্থিত হলেন,দেখলেন তাঁর প্রিয়তম বন্ধু শ্রীবিদ‍্যানিধি কীর্তনে নৃত্য করছেন।দীর্ঘকাল পরে দুই বন্ধুর দেখা হল,এইভাবে দেখার পর উভয়ের গাঢ় আলিঙ্গন অবশ‍্য সম্ভাব‍্য। কিন্তু তা হওয়ার যো নেই।শ্রীবিদ‍্যানিধি গৃহী,আর তাঁর বন্ধু শ্রীস্বরূপ সন্ন‍্যাসী। সুতরাং বিদ‍্যানিধি মহাশয় তাঁর বন্ধু শ্রীস্বরূপের চরণধূলি গ্রহণ করতে মাথা নত করলেন, কিন্তু স্বরূপদামোদর তাতে সম্মতি না হয়ে বিদ‍্যানিধি মহাশয়কে বাধা দিয়ে নিজেই তাঁর চরণধূলি গ্রহণ করতে মাথা নোয়ালেন এবং হাত বাড়ালেন।এইভাবে কীর্তন স্থলে উভয় বন্ধু দুই মল্লের মত একে অপরকে প্রণামরূপ মহাসমরে রত হলেন, কিন্তু কেউ কাউকেও পরাজিত করতে পারলেন না।দুই বন্ধুর এই বিচিত্র রঙ্গতরঙ্গ দেখে মহারঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর হাসতে লাগলেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷দামোদর স্বরূপ তাঁহার পূর্বসখা।*
*🌷চৈতন‍্যের অগ্রে দুইজনে হইল দেখা।।*
*🌷 দুই জনে চাহিল দুঁহার পদধূলি।*
*🌷দোঁহে ধরাধরি ঠেলাঠেলি ফেলাফেলি।।*
*🌷কেহ কারে নাহি পারে দুই মহাবলী।*
*🌷দেখিয়া হাসেন গৌরাঙ্গ কুতূহলী।।*
*🌻ফলে কেউই কার চরণধূলি নিতে পারলেন না,অবশেষে একে অপরকে বক্ষে ধারণ করে প্রেমবেগভরে অশ্রুজলে দুইজনেই ভিজিলেন।*
                       *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
             *🌻বন্ধু-সমাগম🌻*
             🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🍀তারপর, মহাপ্রভুর আদেশে শ্রীবিদ‍্যানিধি কিছুদিন শ্রীধামে থাকবার সঙ্কল্প করলেন।শ্রীগদাধর এই সময়ে তাঁর দীক্ষামন্ত্র-উদ্ধার করে নিলেন।সমুদ্রতটে যমেশ্বর নামক জায়গায় মহাপ্রভু ও শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয়ের বাসা নির্দিষ্ট করে দিলেন।*
*শ্রীস্বরূপদামোদর অনেক সময়ই তাঁর বন্ধুর কাছে থেকে কৃষ্ণকথায় সময় অতিবাহিত করতেন, উভয়ে একসঙ্গে বেড়াতেন, আবার সময়ে একসঙ্গে কৃষ্ণকথা রঙ্গে বিভোর থাকতেন, একত্র শ্রীজগন্নাথ ও মহাপ্রভু দর্শন করতেন ও কীর্তনানন্দে প্রমত্ত হতেন।গৃহী বৈষ্ণব ও সন্ন‍্যাসী এই পার্থক্য প্রকৃত বৈষ্ণবতায় বিন্দুমাত্রও পরিলক্ষিত হয় না,শ্রীবিদ‍্যানিধি ও স্বরূপদামোদরের বন্ধুভাবে সহবাসে এই উক্তির উত্তম দৃষ্টান্ত প্রকৃতই প্রোজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পেল।*
*দেখতে দেখতে "ওড়ন" ষষ্ঠীর দিন এসে উপস্থিত হল।ওড়ন ষষ্ঠী শ্রীক্ষেত্রে এক মহোৎসব।এই তিথিতে শ্রীজগন্নাথদেব নতূন বস্ত্র পরিধান করেন।সে বস্ত্র ধৌত করে ব‍্যবহার হয় না, সেটিতে মাড় থাকে।শ্রীবিদ‍্যানিধির মনে এটি দেখে কিঞ্চিৎ খটকা বাঁধিল।বিদ‍্যানিধি মনে করলেন নীলাচলের এ আবার কি ব‍্যবহার?মাড় বস্ত্র অশুদ্ধ।উড়িয়া সেবকগণ শ্রীজগন্নাথকে এই অশুদ্ধ কাপড় দেন কেন?আর কারও কাছে এই প্রশ্ন করতে সাহস হল না। তাঁর প্রিয়বন্ধু স্বরূপের কাছে তাঁর আর গোপন করবার কি আছে?তিনি স্বরূপকে জিজ্ঞাসা করলেন "সখে এ কিরকম"? জগন্নাথদেবকে "মন্ড বস্ত্র" দেওয়া হয় কেন? এদেশে তো শ্রুতি,স্মৃতি প্রভৃতি শাস্ত্রের অভাব নাই অথচ মন্ড বস্ত্র না কেচে দেওয়ার কারণ কি?শ্রীস্বরূপ বললেন,এটি এই জায়গার দেশাচার।বোধ হয় এটি যেন ভগবানেরই অভিপ্রায়, নচেৎ রাজাই বা এতে নিষেধ না করেন কেন?বিদ‍্যানিধি বললেন,ভাল,ভগবান যা ইচ্ছে করেন তাইই করুন, তিনি স্বতন্ত্র,নিষেধ বিধির বাইরে। কিন্তু দেখছি আজ সকলেই মন্ড বস্ত্র ব‍্যবহার করছেন, প্রজা,পান্ডা,পরিছা,বেহারা সকলেরই এক সাজ।ঈশ্বরের ব‍্যবহার মানুষে করেন কেন?মন্ডবস্ত্র অপবিত্র। ঈশ্বর স্বতন্ত্র,তাঁর পবিত্রতা-অপবিত্রতার বিচার না থাকুক, কিন্তু সেবকগণের এই বিচার থাকা একান্তই কর্তব‍্য। মন্ডবস্ত্র স্পর্শ করলে হাত ধুতে হয়, নচেৎ হাত অশুদ্ধ থাকে।এঁরা শ্রুতি স্মৃতি শাস্ত্রাচার জেনেও এরকম কাজ করেন?দেখছি,রাজাও অবাধে এই মন্ডবস্ত্র নিজের মাথায় বেঁধেছেন।*
*তখন স্বরূপ বললেন, আমার মনে হয় ওড়ন-যাত্রায় বুঝি মন্ডবস্ত্র ব‍্যবহারে দোষ নাই।সাক্ষাৎ পরম ব্রহ্ম জগন্নাথরূপে অবতীর্ণ। সুতরাং এখানে বিধি-নিষেধেরও বিচার নাই।*
*শ্রীবিদ‍্যানিধি বললেন,পরমব্রহ্ম জগন্নাথ স্বতন্ত্র ও বিধি-নিষেধাতীত। সুতরাং বিধি-নিষেধ-লঙ্ঘনে তাঁর আবার দোষ কি? তোমার একথা ঠিক। কিন্তু এ লোকগুলোও যে তাঁর দেখা দেখি ব্রহ্ম হয়ে গেল! সামাজিক লোকমাত্রেই লোক-ব‍্যবহার মেনে চলা উচিত। কিন্তু দেখছি এই উড়িয়াগুলো লোক ও ব‍্যবহার ত‍্যাগ করে একেবারেই ব্রহ্ম-অবতার হয়ে উঠিল! যথা ভাগবতে=*
*🌷তান দোষ নাহি বিধি-নিষেধ লঙ্ঘিলে।*
*🌷এগুলাও ব্রহ্ম হইল থাকি নীলাচলে।।*
*🌷ইঁহারা ছাড়িলেক লোক ব‍্যবহার।*
*🌷সবে হইলেন ব্রহ্মরূপ অবতার।।*
*🌻এইরকম কথোপকথনে উভয়েই হাসতে হাসতে বাসায় চলে গেলেন।*
*🍀আমরা আগেই বলেছি, শ্রীবিদ‍্যানিধি গৃহস্থ বৈষ্ণব।তিনি মহাপ্রেমিক হলেও সামাজিক ব‍্যবস্থা ও লৌকিক ব‍্যবহার সবসময়ই মেনে চলেন।ওড়ন ষষ্ঠীর মন্ডবস্ত্র ব‍্যবহার দেখে জগন্নাথ সেবকদের কাজও তিনি দোষজনক বলে মনে করলেন। কিন্তু দয়াময় তাঁর প্রিয়জনের হৃদয়ে এই ভ্রান্তি রাখবেন কেন? অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর এই ভুল ভেঙ্গে গেল। কিন্তু যেভাবে এই ভুল দূর হল তা অতি অদ্ভুত ও বিচিত্র।সে বিবরণ এইরকম=*
*🍁শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাশয় সন্ধ‍্যার পরে প্রসাদাদি পেয়ে মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন। এই সব কথা মহাপ্রভুর কাছে কিছু বললেন না,বলবার বিষয়ও না।কেবল এক শ্রীস্বরূপ ছাড়া অন‍্য কেউই মন্ডবস্ত্র সম্বন্ধে তাঁর মন্তব‍্য শুনতে পাননি। শ্রীস্বরূপও এই কথা মহাপ্রভুকে বলেননি।দুই বন্ধুর রঙ্গরসের কথা, এটি অন‍্যের কাছে বলবার প্রয়োজনও ছিল না। কিন্তু সর্বজ্ঞচূড়ামণি মহাপ্রভুর কাছে বিদ‍্যানিধির ভুলের বিষয় অজানা থাকবার না। তিনি অন্তর্য‍্যামী। সুতরাং বিদ‍্যানিধি শ্রীজগন্নাথদেবের সেবকগণের যে নিন্দাবাদ ও তাঁদেরকে লক্ষ্য করে যে বিদ্রূপ উক্তি করেছেন অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু স্বতঃই (নিজে থেকেই) তা জানতে পারলেন। বিদ‍্যানিধির ভুল চিন্তাধারা এই অপরাধ হতে তাঁর নিস্তার করার জন্য ভগবান এক অদ্ভুত ব‍্যবস্থা করলেন।সন্ধ‍্যার পরে বিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুর সদনে উপস্থিত হলেন, শ্রীকৃষ্ণ কথার প্রসঙ্গ হলে, তিনি সেইখানেই ঘুমিয়ে পড়লেন।অন‍্যান‍্য ভক্তগণও ঘুমিয়ে পড়লেন।রাত্রিশেষে বিদ‍্যানিধি মহাশয় এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে জেগে উঠলেন,গালে হাত দিয়ে ফুলা অনুভব করলেন,আর স্বপ্নের ঘটনা ভাবতে লাগলেন।রাত্রি প্রভাত হল,সকলে উঠে নিজ নিজ স্থানে চলে গেলেন, কিন্তু বিদ‍্যানিধি মহাশয় আর ঘরের বাইরে হলেন না,তিনি বসে এক মনে কেবল স্বপ্নের কথায় ভাবতে লাগলেন।আর ফুলা গালে হাত বুলাচ্ছেন।প্রত‍্যহ সকালে বিদ‍্যানিধি স্বরূপের সঙ্গে একত্র শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতেন। কিন্তু এ দিন বেলা হল, স্বরূপ তাঁর বন্ধুকে তবুও না দেখতে পেয়ে নিজেই তাঁর খোঁজে বাহির হলেন।দেখতে পেলেন বিদ‍্যানিধি মহাশয় এত বেলাতেও শয‍্যা ত‍্যাগ করেননি,বসে বসে কেবল কি জানি কি ভাবছেন। স্বরূপ বললেন, "আজ তোমার হয়েছে কি?এত বেলা হয়েছে, এখনও শয‍্যা ছাড়তে পারনি, জগন্নাথ দর্শনের বেলা হল যে।*
*বিদ‍্যানিধি হাতের ইঙ্গিতে স্বরূপকে ডেকে বললেন, ভাই!একবার এদিকে এসো, আমার পাশে বস,সব কথায় বলব,আগে আমার গাল দেখে নাও।*
*শ্রীস্বরূপ তাঁর বন্ধুর গালের দিকে তাকিয়ে অবাক ও মর্মাহত হয়ে বললেন "তাইতো এ হয়েছে কি?গাল দুইটি ফুলে একেবারে যে ঢোল হয়েছে। এ কি"? তখন বিদ‍্যানিধি হেসে বললেন,এটি আমার মহাপ্রভুর কৃপা--পাপের প্রায়শ্চিত্ত।মন্ডকাপড় দেখে যে অবজ্ঞা করেছিলাম, এটি সেই পাপের দন্ড কিন্তু দন্ড অতি অদ্ভুত।শুনবে কি?কৃষ্ণকথা শুনতে শুনতে মনের আনন্দে ঘুমিয়ে গেছি, শেষরাত্রিতে হঠাৎ স্বপ্ন দেখলাম, শ্রীজগন্নাথ, বলরাম দুই ভাই উগ্রমূর্তিতে এ অধমের সামনে উপস্থিত।উপস্থিত হয়ে আর কোন কথা নাই,দু'ভাই আমাকে ধরে "সপাং সপাং" করে গালে চাপড় মারতে লাগলেন। "কৃষ্ণ,বাপ ক্ষমা কর বলে পদতলে পড়ে জিজ্ঞাসা করলাম, বাপ! কোন অপরাধে আমার এই দন্ড," যথা ভাগবতে=*
*🌷কোন্ অপরাধে মোরে মারহ গোসাঞি।*
*🌷প্রভু বলে তোর অপরাধের অন্ত নাই।।*
*🌷মোর জাতি মোর সেবকের জাতি নাই।*
*🌷সকল জানিলা তুমি রহি এই ঠাঞি।।*
*🌷তবে কেন রহিয়াছ জাতি নাশা স্থানে।*
*🌷জাতি রাখি চল তুমি আপন ভবনে।।*
*🌷আমি যে করিয়াছি যাত্রার নির্বন্ধ।*
*🌷তাহাতেও ভাবে অনাচারের সম্বন্ধ।।*
*🌷আমাকে করিলা ব্রহ্ম সেবক নিন্দিয়া।*
*🌷মান্ডুয়া কাপড় স্থানে দোষ সৃষ্টি দিয়া।।*
*🙏আমি এইকথা শুনে আরও ভয় পেলাম,শ্রীচরণে মাথা রেখে বলতে লাগলাম,প্রভো!বড় অপরাধ করেছি এখন ক্ষমা কর,আর এমন অপরাধ করব না। যে মুখে তোমার সেবকের নিন্দা করেছিলাম,সে মুখের উত্তম দন্ড হয়েছে।আমার সৌভাগ্য, অতি সুপ্রভাত,তাই আজ আমার গালে আমার মুখে তোমার শ্রীহস্তের স্পর্শ হল।"*
*শ্রীজগন্নাথ বললেন, "তুমি সেবক, এই জন্যই তোমার প্রতি এই কৃপাদন্ড প্রদর্শিত হল।এই বলে দুই ভাই চলে গেলেন।আমি জাগলাম। জেগে গালে হাত দিয়ে দেখি প্রকৃতই গাল ফুলে উঠেছে।মনে বড় আনন্দ বোধ হল। আমার মহা অপরাধের জন্য জগন্নাথ যে আমাকে এত অল্প দন্ড দিয়েই অব‍্যাহতি প্রদান করলেন,এতেই নিজেকে বড় ভাগ‍্যবান বলে মনে করলাম।আমি বুঝেছি আমার প্রতি দয়াময় শ্রীজগন্নাথদেবের মহাকৃপা।নচেৎ এই অপরাধে আমাকে নিশ্চিতই অন্ধকূপে পড়তে হত।*
*শ্রীস্বরূপ তাঁর প্রিয়তম বন্ধু বিদ‍্যানিধির সৌভাগ্যের কথা শুনে অবাক ও উল্লাসিত হলেন।সখার সম্পদে সখার আনন্দোল্লাস বেড়ে উঠিল।স্বরূপ বললেন,ভাই! এমন অদ্ভুত দন্ডের কথা আর কখনও শুনা যায় না।*
*🌷স্বপ্নে আসি শাস্তি করে আপনে সাক্ষাতে।*
*🌷আর শুনি নাই সব দেখিল তোমাতে।।*
*🍀শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধির প্রতি স্বপ্নে এই কৃপাদন্ডের কথায় অভক্তের বিশ্বাস না হলেও এইরকম ঘটনা যুক্তি তর্কের বাইরে না।বিদ‍্যানিধি ভগবানের একান্ত নিজজন। সুতরাং তাঁর প্রতি এইরকম দন্ড আশ্চর্য‍্যের বিষয় না।শ্রীস্বরূপের কথা বলতে হলে তাঁর বন্ধু ও শিষ‍্যাদির কথা না বললে প্রস্তাব অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সুতরাং প্রিয়তম বন্ধুর চরিত্রের অংশ মাত্র স্পর্শ করেই এ প্রস্তাবের উপসংহার করা হল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
          *শ্রীস্বরূপ ও তাঁর শিষ্য*
          *********************
*🌻শ্রীস্বরূপ-দামোদরের চরিতামৃতের সঙ্গে শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর চরিতামৃত ওতপ্রোতভাবে বিজড়িত।শ্রীরঘুনাথ শ্রীস্বরূপের প্রিয়তম শিষ‍্য,সহচর,অন্তরঙ্গ ভক্ত এবং পুত্রবৎ স্নেহের পাত্র, এমন কি "স্বরূপের রঘুনাথ " বলেই পরিচিত।মহাপ্রভুর ভক্তগণের মধ্যে আরও কিছু রঘুনাথের উল্লেখ আছে।তন্মধ‍্যে একজন পূজ‍্যতম শ্রীমদ্ রঘুনাথ ভট্ট। বন্দনায় ইনিই ভট্ট-রঘুনাথ বলে প্রখ‍্যাত।অন‍্য--বৈদ‍্য রঘুনাথ।এছাড়াও রঘুনাথপুরী,রঘুনাথতীর্থ ও দ্বিজ রঘুনাথ প্রভৃতি নামের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের আদিলীলায় অতি সংক্ষেপে এই ভজন-আদর্শ চরিতের সারমর্ম কয়েকটি কথায় বিশদভাবে প্রকাশিত করেছেন,যথা=*
*🌷মহাপ্রভুর প্রিয়ভৃত‍্য রঘুনাথ দাস।*
*🌷সর্বত‍্যাগী কৈল প্রভুর পদতলে বাস।।*
*🌷প্রভু সমর্পিল তারে স্বরূপের হাতে।*
*🌷প্রভুর গুপ্তসেবা কৈল স্বরূপের সাথে।।*
*🌷ষোড়শ বৎসর কৈল অন্তরঙ্গ সেবন।*
*🌷স্বরূপের অন্তর্ধ‍্যানে আইল বৃন্দাবন।।*
   ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷অন্নজল ত‍্যাগ কৈল অন‍্য কথন।*
*🌷পল দুইতিন মাঠা করেন ভক্ষণ।।*
*🌷সহস্র দন্ডবৎ করেন,লয়ে লক্ষ নাম।*
*🌷দুই সহস্র বৈষ্ণবের নিত‍্য পরণাম।।*
*🌷রাত্রিদিনে রাধাকৃষ্ণ মানসে সেবন।*
*🌷প্রহরেক মহাপ্রভুর চরিত্র কথন।।*
*🌷তিন সন্ধ‍্যা রাধাকৃষ্ণ আপতিত স্নান।*
*🌷ব্রজবাসী বৈষ্ণবের করে আলিঙ্গ-মান।।*
*🌷সার্দ্ধ সপ্তপ্রহর করে ভক্তির সাধনে।*
*🌷চারিদন্ড নিদ্রা সেহ নহে কোনদিনে।।*
*🌻এইরকম সাধন-ভজন-মহিমায় ইনি বৈষ্ণব-সমাজে চিরপূজিত।এমন কি শ্রীমৎ রঘুনাথ জাতিতে শূদ্র হয়েও ভূবনপাবন ছয় গোস্বামীর অন‍্যতম বলে বৈষ্ণবগণের সভক্তি বন্দনার পাত্র, যথা বৈষ্ণব-বন্দনার মুখবন্ধে=*
*🙏জয়রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।*
*🙏শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ।।*
*🙏এই ছয় গোঁসাইয়ের করি চরণ বন্দন।*
*🙏যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্ট পূরণ।।*
*🌻শ্রীমৎ রঘুনাথ দাসগোস্বামী বৈরাগ‍্যের প্রকটমূর্তি,সাধন-ভজনের অদ্বিতীয় আদর্শ এবং প্রেমভক্তির মহাসাগর।এই ভুবনপাবন ভজন-আদর্শের চরিত্র গঠন-- শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদরের শিক্ষাগুরুতা নৈপুণ‍্যেরই গৌরবকীর্তি।*
*🍀দাস রঘুনাথ মহাপ্রভুর শ্রীচরণ আশ্রয় লাভের আশায় তাঁর চরণে উপস্থিত হলে মহাপ্রভু এই একান্ত অন্তরঙ্গ,পরম স্নেহাস্পদ ভক্তের হাতে ধরে রঘুনাথকে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কাছে সমর্পণ করেন এবং "স্বরূপের রঘুনাথ" বলেই নামকরণ, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷রঘুনাথের ক্ষীণতা মালিন‍্য দেখিয়া।*
*🌷স্বরূপেরে কহে কৃপা আর্দ্র চিত্ত হৈঞা।।*
*🌷এই রঘুনাথে আমি সঁপিনু তোমারে।*
*🌷পুত্র ভৃত‍্যরূপে ইহায় কর অঙ্গীকারে।।*
*🌷তিন রঘুনাথ নামে হয় আমা স্থানে।*
*🌷স্বরূপের রঘুনাথ আজি হৈতে ইহার নামে।।*
*🌷এত কহি রঘুনাথের হস্তেতে ধরিয়া।*
*🌷স্বরূপের হস্তে তারে দিল সমর্পিয়া।।*
*🌷স্বরূপ কহে প্রভুর যে আজ্ঞা হইল।*
*🌷এত কহি রঘুনাথে পুনঃ আলিঙ্গিল।।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপের সঙ্গে রঘুনাথের কি সম্বন্ধ, এস্থলে অতি স্পষ্টভাবেই তা ব‍্যক্ত হয়েছে।মহাপ্রভু তাঁর "দ্বিতীয় স্বরূপ"কে বলছেন, "এই রঘুনাথকে আজ আমি তোমার হাতে সমর্পণ করলাম। রঘুনাথ আমার বড় প্রিয়, তুমি রঘুনাথকে পুত্রের মত স্নেহ করিও। রঘুনাথ তোমাকে পিতারসম জ্ঞান করবে, এবং ভৃত‍্যের ন‍্যায় তোমার সেবা করবে।এ রঘুনাথ আজ হতে তোমার হল,আজ হতে এই রঘুনাথ "স্বরূপের রঘুনাথ " নামে সকলের কাছে পরিচিত হবে।এই বলে মহাপ্রভু রঘুনাথের হাতে ধরে স্বরূপের হাতে সমর্পণ করলেন।একেই বলে হাতে হাতে সঁপে দেওয়া।*
*🍀দান কাকে বলে? "স্বস্বত্বধ্বংস-পরসত্ত্বোৎপত্তিফলক ত‍্যাগের" নামই দান। রঘুনাথ মহাপ্রভুর শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করলেন,মহাপ্রভু রঘুনাথকে নিজজন বলে অঙ্গীকার করলেন। রঘুনাথ তখন মহাপ্রভুর নিজ বস্তু হলেন।যাতে যাঁর স্বত্ব (নিজ অধিকার) নাই, তিনি তার দান বিক্রয়ের অধিকারী নন। রঘুনাথ জগতের সমস্ত সুখ ভোগাদি পরিত‍্যাগ করে শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করেন।ভক্তবৎসল গৌরহরি এই প্রিয়তম ভক্তরত্নকে স্বরূপের হাতে সমর্পণ করে বলেন, স্বরূপ আমার এই প্রিয় বস্তু আজ হতে তোমার হ'ল,তুমি রঘুনাথকে নিজ পুত্রসম স্নেহ করিও। শ্রীপাদ স্বরূপ "যে আজ্ঞা" বলে শ্রীরঘুনাথকে বক্ষে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন।শ্রীপাদ সন্ন‍্যাসী।আজ মহাপ্রভুর আজ্ঞায় আকুমার সন্ন‍্যাসী স্বরূপ-দামোদর একটি পুত্ররত্ন লাভ করলেন। এই সময় হতে শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামী "স্বরূপের রঘুনাথ "বলেই ভক্তসমাজে বিখ‍্যাত হয়েছিলেন।ভক্তিরত্নাকর রচয়িতাও "গুরু-শিষ‍্য" উভয়ের স্মৃতিসূচক এই পবিত্র মধুর নামের উল্লেখ করেছেন, যথা=*
*🌷"স্বরূপের রঘুনাথে" দর্শন না পাইয়া।*
*🌷কান্দে শ্রীনিবাস অতি ব‍্যাকুল হইয়া।।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপের হাতে চিরসুন্দর জগৎসুন্দর পরমভাগবত শিরোমণি ভক্তবৎসল মহাপ্রভু যে শ্রীমৎ রঘুনাথকে সমর্পণ করেছিলেন, রঘুনাথ স্বরচিত "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য কল্পবৃক্ষ" নামক স্তোত্রে তা ব‍্যক্ত করে রেখেছেন,যথা=*
*🌷মহাসম্পদ্দাবাদপি পতিত মুদ্ধৃত‍্য কৃপয়া।*
*🌷স্বরূপে য স্বীয় কুজনমপি মাং ন‍্যস‍্য মুদিতঃ।।*
*🌷উরোগুঞ্জাহারং প্রিয়মপিচ গোবর্দ্ধনশিলাম্।*
*🌷দদৌ মে গৌরাঙ্গো হৃদয় উদয়ন্মাং মদয়তি।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যিনি এহেন পতিত ও কুজনকে মহাসম্পত্তিরূপ দাবানল হতে কৃপাগুণে উদ্ধার করলেন এবং স্বীয়স্বরূপ শ্রীপাদ দামোদর-স্বরূপের হাতে সমর্পণ করে পরম আহ্লাদিত হলেন,আরও বক্ষের প্রিয় গুঞ্জাহার ও গোবর্দ্ধন শিলা আমাকে প্রদান করলেন সেই শ্রীগৌরাঙ্গ আমার হৃদয়ে উদিত হয়ে পরম-আনন্দ প্রদান করছেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
            *শ্রীস্বরূপ ও তাঁর শিষ্য*
             👌👌👌👌👌👌👌
*🍀শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদর এই সময় হতে রঘুনাথের আধ‍্যাত্মিক জীবনের উন্নতি সাধনের সমস্ত ভার গ্রহণ করলেন। রঘুনাথও শ্রীস্বরূপকে পিতৃরূপে ও শিক্ষাগুরুরূপে পেয়ে অতীব যত্নসহকারে তাঁর সেবা করতে রত হলেন।মহাপ্রভু রঘুনাথকে বলে দিলেন শ্রীপাদ স্বরূপই তোমার শিক্ষাগুরু।*
*🌹শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামী নীলাচলে সকলের প্রিয় ছিলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদর রঘুনাথের শিক্ষাগুরু।দীক্ষাগুরু প্রেমবান্ শ্রীযদুনন্দন আচার্য‍্য যথা শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে=*
*🌷আচার্য‍্যো যদুনন্দনঃ সুমধুরঃ শ্রীবাসুদেব প্রিয়।*
*🌷স্তচ্ছিষ‍্যো রঘুনাথ ইত‍্যধিগুণঃ প্রাণিধিকো মাদৃশাং।।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্য কৃপাতিরেক সততং স্নিগ্ধঃ স্বরূপপ্রিয়ো।*
*🌷বৈরাগ‍্যেকনিধি র্ন কস‍্যবিদিতো নীলাচলেতিষ্ঠাত্তাম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীবাসুদেবের প্রিয়তম প্রেমবান্ যদুনন্দন আচার্য‍্যের শিষ‍্য নানান গুণের নিদান রঘুনাথ দাস আমাদের প্রাণাধিক।নীলাচলস্থিত জনগণের মধ্যে এমন কে আছেন,যিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের কৃপাস্নিগ্ধ স্বরূপ-দামোদরের অত‍্যন্ত প্রিয় ও বৈরাগ‍্যের সাগর সেই রঘুনাথ দাসকে না জানেন।*
*🌻তাঁর কাছে সাধ‍্য-সাধন-তত্ত্ব শিক্ষা করিও।এই সব তত্ত্ব স্বরূপ যেমন জানেন, আমিও তেমন জানি না।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷হাসি মহাপ্রভু রঘুনাথেরে কহিল।*
*🌷তোমার উপদেষ্টা করি স্বরূপেরে দিল।।*
*🌷সাধ‍্য সাধন তত্ত্ব শিখ ইহার স্থানে।*
*🌷আমি তত নাহি,জানি ইঁহ যত জানে।।*
*🌹মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ পারিষদগণের মধ্যে সাধ‍্য-সাধন-তত্ত্ব সম্বন্ধে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীরায় রামানন্দের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য।রসের ভজন কিরকম,স্বরূপ ও রামরায় দ্বারাই মহাপ্রভু তা জগতে প্রচার করেন।ভক্তমহিমা প্রকাশ করতে মহাপ্রভু অদ্বিতীয়।শ্রীচরিতামৃতে লেখা আছে =*
*🌷ভক্ত-মহিমা বাড়াইতে,ভক্ত সুখ দিতে।*
*🌷মহাপ্রভু সম আর নাহি ত্রিজগতে।।*
*🌻আরও এক কথা এই যে তাঁর যে ভক্ত দ্বারা তিনি যে কাজ সাধন করেছেন,তাঁদের প্রত‍্যেকেরই বিশিষ্টতা আছে।ব্রজের মধুররসের ভজনতত্ত্বে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের বিশিষ্টতাই সূচিত হয়েছে।মহাপ্রভু স্বয়ং বলেছেন "আমি তত নাহি জানি ইঁহ যত জানে"।(প্রকৃত বৈষ্ণবজনের কথা, প্রকৃত বৈষ্ণব কখনও নিজ ভাব প্রকাশ করেন না),যাইহোক, অন‍্যত্রও এটির প্রমাণ পাওয়া যায়।বল্লভ ভট্টের অভিমান দূর করবার জন্য মহাপ্রভু তাঁর অন্তরঙ্গ পার্ষদগণের উল্লেখ করে বলেন, "স্বরূপের কাছেই আমি ব্রজের মধুররসের জ্ঞান লাভ করেছি।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে অন্ত‍্যলীলার ৭ম পরিচ্ছেদে=*
*🌷দামোদর-স্বরূপ প্রেমরস মূর্তিমান।*
*🌷যার সঙ্গে হৈল ব্রজের মধুর রসের জ্ঞান।।*
*🌷শুদ্ধপ্রেম ব্রজদেবীর কামগন্ধ হীন।*
*🌷কৃষ্ণ-সুখ তাৎপর্য‍্য এই ভাব চিহ্ন।।৭।।*
*🌷গোপীগণের শুদ্ধ ভাব ঐশ্বর্য‍্য জ্ঞানহীন।*
*🌷প্রেমেতে ভর্ৎসনা করে এই তার চিহ্ন।।৮।।*
*🌷সর্বোত্তম ভজন ইঁহার সর্বভক্তি জিনি।*
*🌷অতএব কৃষ্ণ কহে আমি তার ঋণী।।৯।।*
*🌷ঐশ্বর্য‍্য ভাব হৈতে কেবল ভাব প্রধান।*
*🌷পৃথিবীতে ভক্ত নাহি উদ্ধব সমান।।*
*🌷তিঁহ যার পদধূলি করেন প্রার্থন।১০।*
*🌷স্বরূপের সঙ্গে পাইনু এসব শিক্ষণ।।*
*🌹যত্তে সুজাত চরণাম্বুরুহং স্তনেষু,*
*🌹ভীতা শনৈঃ প্রিয়দধী মহিকর্কশেযু,*
*🌹তেনাটবী মটসি তদ্ ব‍্যথতে ন কিংম্বিৎ,*
*🌹কূর্পাদিভির্ভ্রমতিধী র্ভবদায়ুষাং নঃ।৭।*
                  *(১০অধ‍্যায় শ্রীমদ্ভাগবত )*
*🌲পতিসুতান্বয় ভ্রাতৃবন্ধবা নতি,*
*🌲বিলঙ্ঘ‍্যতেহন্ত‍্যচ‍্যুতাগতাঃ,*
*🌲গতিবিদ স্তবোদ্গীত মোহিতাঃ,*
*🌲কিতব যোষিতঃ ক স্তজেন্নিশি।৮।*
*🌺ন পারয়েহহং নিরবদ‍্যসংযুজাম্,*
*🌺স্ব সাধুকৃত‍্য বিবুধাযুযা পিবা,*
*🌺যামাভজন্ দুর্জ্জরগেহশঙ্খলাঃ,*
*🌺 সংবৃশ্চ তদ্বপ্রতিবাতু সাধুনা।৯।*
*🍀আসামহোচরণরেণু যুষামহস‍্যাং,*
*🍀বৃন্দাবনে কিমপিগুল্মষধিনাম্,*
*🍀যাদুস্তজ স্বজন আর্য‍্য পথঞ্চহিত্বা,*
*🍀ভেজর্মুকুন্দ পদবীং শ্রুতিভির্বিমৃগ‍্যামু।১০।*
*🌻এই যে সারগর্ভ ভজনতত্ত্বের উল্লেখ করা হল,এটিই ব্রজের মধুর রসের ভজন।বৈরাগ‍্য অন্তে প্রেম-ভক্তির সবিশেষ স্ফূর্তিতেই এই ভজনে অধিকার জন্মে। এই ভজনের অন‍্য নাম "অন্তরঙ্গ সেবা" বা "গুপ্ত সেবা"।শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস তাঁর শিক্ষাগুরু শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কাছেই এই নিগূঢ় ব্রজরসের শিক্ষালাভ করেছিলেন,যথা চরিতামৃতে, আদিলীলার দশম পরিচ্ছেদে=*
*🌷প্রভু সমর্পিল তারে স্বরূপের হাতে।*
*🌷প্রভুর গুপ্ত সেবা কৈল স্বরূপের সাথে।।*
*🌷ষোড়শ বৎসর কৈল অন্তরঙ্গ সেবন।*
*🌷স্বরূপের অন্তর্দ্ধান আইল বৃন্দাবন।।*
*🌻যিনি মহাপ্রভু দ্বারা শ্রীস্বরূপের হাতে ভজনসাধন-শিক্ষার জন্য সমর্পিত হলেন, স্বয়ং মহাপ্রভু যাঁকে শ্রীপাদ স্বরূপের সঙ্গে পুত্রসম ও ভৃত‍্যসম সম্বন্ধে সম্বন্ধ করে দিলেন,যিনি ষোল বৎসরকাল স্বরূপের সঙ্গে একটানা ভাবে অন্তরঙ্গ ভজন করলেন--,শ্রীপাদ স্বরূপের পুত্রেরমত, প্রিয়তম শিষ্য,নিয়তানুচর এবং সহচর শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর চরিতামৃত বিশ্বব্রহ্মান্ডের সাধক মাত্রেরই অবশ‍্য আস্বাদ‍্য।স্বরূপদামোদরের শিক্ষা প্রভাবে রঘুনাথ দাস গোস্বামীর চরিত্র-বিকাশ নীলাচল লীলার এক গূঢ় রহস‍্যময় ব‍্যাপার। সাধারণ জ্ঞানে এটির ধারণা অসম্ভব, গুরুকৃপা ছাড়া এটি বুঝা সত‍্যিই অসম্ভব,লৌকিক ভাষায় সেটির প্রকাশ তো একেবারেই অসম্ভব। আমাদের উদ্দেশ্য -- কেবল তাঁর কথা স্মরণ করা, কেবল তাঁর নাম করে আত্মশোধন করা, সুতরাং এই পবিত্র চরিত্রের কণামাত্র স্পর্শ করেই এখানে ক্ষান্ত করলাম।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
 *শ্রীস্বরূপ-দামোদর ও শ্রীমন্মহাপ্রভু*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গলীলার শেষ বারো-বৎসরের মহাবিরহ ব‍্যাপার অচিন্ত‍্য,অত‍্যদ্ভুত ও অলৌকিক।বিপ্রলম্ভরসের সেই সাগর-তরঙ্গবর্ণন মহাভক্ত কবির পক্ষেও অসম্ভব। স্বয়ং শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷কোটি যুগ পর্য‍্যন্ত যদি লিখয়ে গণেশ।*
*🌷একদিনের লীলার তবু নাহি পায় শেষ।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷ক্ষণে ক্ষণে উঠে প্রেমার তরঙ্গ অনন্ত।*
*🌷জীব ছার কাঁহা তার পাইবেক অন্ত।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য যাহা করে আস্বাদন।*
*🌷সবে এক জানে তাহা স্বরূপাদি গণ।।*
*🌷জীব হৈঞা করে যেই তাহার বর্ণন।*
*🌷আপন শোধিতে তার লৈয়ে এক কণ।।*
*🌻শ্রীরাধার ভাবে বিভাবিত হয়ে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর এই দ্বাদশ বৎসর সময় স্বরূপ ও রামরায়ের সঙ্গে যে অলৌকিক ভাবে কৃষ্ণরস-আস্বাদন করেন,তাতে পরম ভক্তেরও বুদ্ধি-প্রবেশ হয় না, বর্ণনা করা তো দূরের কথা!শ্রীপাদ কবিরাজ লিখেছেন=*
*🌷দ্বাদশ বৎসর ঐছে দশা রাত্রি দিনে।*
*🌷কৃষ্ণরস আস্বাদয়ে দুই বন্ধুসনে।।*
*🌷সেই সব লীলারস আপনে অনন্ত।*
*🌷সহস্র বদনে বর্ণে নাহি পায় অন্ত।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷প্রভুর গম্ভীর লীলা না পারি বুঝিতে।*
*🌷বুদ্ধি-প্রকাশ নাহি,না পারি বর্ণিতে।।*
*🌻ফলে গম্ভীরলীলা ধারণার অগম‍্য (প্রবেশ করা খুবই কঠিন ),তবুও আত্মশোধনের জন্য শ্রীস্বরূপ ও শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রবন্ধে এ সম্বন্ধে কিছু বলবার বাসনা ছিল। কিন্তু সে মহাসমুদ্রের কথা তুললে সংক্ষেপে কোন কথায় বলতে পারব না।মহাপ্রভুর কৃপানুমতি পেলে দ্বিতীয় খন্ডে তাঁর-সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ বলা যাবে। যে পর্যন্ত মহাপ্রভু তা না করাবেন তাবৎ চিত্তে শান্তি অনুভব করতে পারব না।এই প্রস্তাবের কেফল নাম উল্লেখ করেই রাখা যাচ্ছে মাত্র।*
*🍀শ্রীপাদ স্বরূপ শ্রীমন্মহাপ্রভুর চির সহচর।ব্রজলীলার মর্ম সখী ললিতা নবদ্বীপ-লীলায় স্বরূপদামোদর-রূপে ভক্তজন সামনে অবতীর্ণ হন।নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গের রাধাভাব প্রচ্ছন্ন বা আবৃত বা গুপ্ত।ললিতা সখীও তখন প্রচ্ছন্ন ভাবেই মহাপ্রভুর শ্রীচরণপ্রান্তে অবস্থান করতেন।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লেখা আছে =*
*🌷পুরুষোত্তম আচার্য‍্য তার নাম পূর্বাশ্রমে।*
*🌷নবদ্বীপে ছিলা তেঁহ প্রভুর চরণে।।*
*🍀পুরুষোত্তম শাস্ত্র অধ‍্যয়ন করতেন, কৃষ্ণকথা বলতেন ও শ্রবণ করতেন, কিন্তু নবদ্বীপ লীলায় পুরুষোত্তম আচার্য‍্যের নাম লীলাগ্রন্থে বড় বিশদভাবে প্রকাশিত হয়নি, হবার কথাও নই।কেননা,নিগূঢ় ব্রজরসাস্বাদিনী ব্রজের নর্ম্ম সখীর পক্ষে বহিরঙ্গ লীলায় প্রকাশিত হওয়া রসনিয়মের ক্রম-বিরুদ্ধ। কিন্তু পুরুষোত্তম অতি গুপ্তভাবে সবসময়ই শ্রীগৌরাঙ্গচরণ সন্দর্শন করতেন, নীরবে নির্জনে রসালাপ করতেন। মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসের পর শ্রীপাদ পুরুষোত্তম কাশীতে গিয়ে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন, এবং বেদান্ত পাঠ করতে আদেশ পেলেন। কিন্তু মহাপ্রভুর বিরহে তাঁর প্রাণ সবসময়ই ব‍্যাকুল থাকত। তিনি আর বেশী সময়ে কাশীধামে থাকতে পারলেন না। ১৪৩৪ শকাব্দের প্রারম্ভে শ্রীমন্মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ পরিভ্রমণ করে নীলাচলে ফিরে আসিলেন। এই সময়েই পুরুষোত্তম সন্ন‍্যাসীবেশে শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীচরণপ্রান্তে উপস্থিত হলেন।সন্ন‍্যাসাশ্রমে তাঁর হয়েছিল -- শ্রীস্বরূপ।গ্রন্থের উপক্রমে যথাশক্তি লেখা হয়েছে।শ্রীপাদ স্বরূপ গোস্বামীর হৃদয় যে সবসময়ই মহাপ্রভুর জন্য ব‍্যাকুল থাকত,তা তাঁর প্রথম কথাতেই জানা যায়।শ্রীস্বরূপ মহাপ্রভুর চরণতলে বসে বললেন, "প্রমাদবশতঃই তোমায় ছেড়ে অন‍্যত্র গিয়েছিলাম। তোমার চরণ ছাড়া হয়ে আমি থাকতে পারি কি? মহাপ্রভুও স্বরূপের জন্য কি-জানি-কি-জন‍্য প্রতীক্ষা করছিলেন। তিনি স্বরূপকে একরকম আকৃষ্ট করেই শ্রীচরণান্তিকে আনিয়েছিলেন। মহাপ্রভু বললেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷তুমি যে আসিবে,তাহা স্বপ্নেই জানিলুঁ।*
*🌷ভাল হলো,অন্ধ যেন দুই নেত্র পাইল।।*
*🌻ভাবনিধি গৌরহরির এই কথার ভাব অতি গম্ভীর।মহাপ্রভুর শেষ বারো বৎসরের লীলায় বিপ্রলম্ভ-রসের পূর্ণ প্রবাহ পরিলক্ষিত হয়।সেই সময় কাছাকাছি হওয়ায় শ্রীরাধাভাববিভাবিত রসরাজ নর্ম্মসখী ললিতার জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন।দুঃসহ শ্রীকৃষ্ণবিরহে শ্রীচৈতন‍্যদেব আমার নয়নজলে বক্ষ ভাসাতেন,অধীর হতেন, বিহ্বল হয়ে পড়তেন।নর্ম্মসখী ছাড়া এ অবস্থার আর উপায় কি?সেই বিষম বিরহে স্বরূপ ও রামরায়ের কৃষ্ণকথায় মহাপ্রভু প্রাণ-রক্ষা করতেন।*
*🌷কাঁহা করোঁ কাঁহা পাঙ ব্রজেন্দ্রনন্দন*
*🌷কাহা মোর প্রাণনাথ মুরলীবদন।।*
*🌷কাহারে কহিব কেবা জানে মোর দুঃখ।*
*🌷ব্রজেন্দ্রনন্দন বিনা ফাটে মোর বুক।।*
*🌻এইরকম কথা বলে মহাপ্রভু ধেয়ে যেতেন,আছাড় খেয়ে পড়তেন, অজ্ঞান হতেন।তখন স্বরূপ মহাপ্রভুকে কোলে কোরে,কৃষ্ণকথায় তাঁর সান্ত্বনা করতেন।গম্ভীরা লীলার হৃদয় বিদারি বৃত্তান্ত পাঠ করতেই প্রাণ আকুল হয়,হৃদয় অবসন্ন বা অবসাদ হয়ে পড়ে=*
*🌷গম্ভীরা ভিতরে রাত্রি নিদ্রা নাহি নব*
*🌷ভিত্ত‍্যে মুখ শির ঘষে ক্ষত হয় সব।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷মুখে লালা ফেন প্রভুর উত্তান নয়ন।*
*🌷দেখিতেই সব ভক্তের দেহ ছাড়ে প্রাণ।।*
*🌷প্রতি রোমকূপে মাংস ব্রণের আকার।*
*🌷তার উপরে রোমোদ্গম কদম্ব প্রকার।।*
*🌷প্রতি রোমে প্রস্বেদ পড়ে রুধিরের ধার।*
*🌷 কন্ঠ ঘর্ঘর নাহি বর্ণের উচ্চার।।*
*🌷দুই নেত্র ভরি অশ্রু বহয়ে অপার।*
*🌷সমুদ্রে মিলিল যেন গঙ্গা যমুনাধার।।*
*🌷বৈবর্ণ‍্য শঙ্খ প্রায় শ্বেত হৈল অঙ্গ।*
*🌷তায় কম্প উঠে যেন সমুদ্র তরঙ্গ।।*
*🌻এই ভীষণ সময়ে স্বরূপই হৃদয়ে আবেগে চাপা দিয়ে তার প্রাণের থেকেও বেশী ভালবাসার মানুষটিকে কানে কৃষ্ণনামের মধুর ধ্বনি করতেন।অন্তর্দ্দশায় শ্রীমতী রাধিকার কানে মৃতসঞ্জীবন শ্রীকৃষ্ণনাম সুধাবর্ষণ করলেই যেমন শ্রীমতীর বিরহ দশা থেকে খানিকটা বেড়িয়ে স্বাভাবিক হতেন, এটি শ্রীমতী ললিতার নির্দিষ্ট সেবা ছিল ব্রজে।শ্রীনবদ্বীপ লীলায় শ্রীপাদ স্বরূপ শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীকৃষ্ণবিরহে এইরকম সেবায় বারো বৎসর যেভাবে অতিবাহিত করেন,তা বর্ণনাতীত।অবশেষে একদিন ধরাধাম অন্ধকার করে শ্রীশচীনন্দন গৌরহরি সহসা অপ্রকট হলেন।মহাপ্রভুর অন্তর্দ্ধানের পরে তাঁর দ্বিতীয় স্বরূপের নির্য‍্যাণের পরেই শ্রীমৎ রঘুনাথ দাস গোস্বামী নীলাচল ছেড়ে শ্রীবৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করলেন।প্রেমানন্দময় নীলাচলের মহামহোৎসব বন্ধ হল, রসের প্রবাহ থেমে গেল, চারিদিক মহাশূন‍্যের মত হতে লাগল।অবশিষ্ট দুই-চারজন ভক্ত শোকের উষ্ণ নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে বিরহের হৃদয় বিদারি হা-হুতাশে "হা গৌরাঙ্গ" বলে জীবনের অবশিষ্ট দিন অতিবাহিত করে এ জগৎ হতে অন্তর্হিত হলেন।হায়রে! এমন চাঁদের হাট দেখতে দেখতে ভেঙ্গে চূরমার হয়ে গেল।জগৎ যেন হঠাৎ এক ভীষণ অন্ধকারে ডুবে গেল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds