শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*

*🍀আমি আমার মত সহজ সরল ভাষায় লিপিবদ্ধ করছি, যাতে সকলের বোধগম্য হয়।আমার মনে হয় এই পদাবলী কীর্তনেই পরিপূর্ণ ভাবে ভজন-সাধন রয়েছে।আমি অন‍্যান‍্য কথায় যাব না, মূল বিষয়টি এখানে তুলে ধরিব।*
*পদাবলী কীর্তনের সাহিত‍্য,দর্শনতত্ত্ব, প্রাণতত্ত্ব,বস্তুতত্ত্ব,পালাগান ও পালা বিভাগ ও তাদের পিছনে মনোবিজ্ঞানিকী নীতি,রাগ,তাল, ছন্দ, আখর বৈশিষ্ট্য বিষয়বস্তুর আলোচনা স্থান পাবে।*
*পদাবলীকীর্তন শুধুই ভারতের নয়,সমগ্র বিশ্বের সঙ্গীত-জগতে একটি অনবদ‍্য ও অনন‍্যসাধারণ দান।কীর্তনের সাহিত‍্যসম্পদ তথা পদের রসায়িত ব্রজবুলি ভাষা ও ছন্দায়িত রচনা বিশ্বের সমাজে অননুকরণীয়।রস,ভাব ও ছন্দের তা ত্রিবেণীধারা।পদাবলীকীর্তন বাঙালীমাত্রের ও ভারতের সঙ্গীত-সাধকমাত্রেরই আদরের বস্তু।দক্ষিণ-ভারতে ও মহারাষ্ট্রে ভক্তিভাবনিষ্ণাত পদকীর্তনের প্রচলন থাকলেও শ্রীচৈতন‍্যদেবের পরবর্তীকালে গৌড়ীয়-বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ প্রতিপাদিত বৈষ্ণবদর্শনতত্ত্বের সহযোগে বাংলাদেশে বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের রূপ,বিশেষ শৈলী ও বিকাশ অননুকরণীয় ভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে--,যার তুলনা বিশ্বের ইতিহাসে মেলে না।উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীতপদ্ধতিতে তালের যে বিকাশ,কিংবা দক্ষিণ ভারতের সঙ্গীতপদ্ধতিতে বিচিত্র তালের যে অনুশীলন এখনও বতর্মান আছে,বাংলার বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনে তালের বিকাশ তাদের চেয়ে অনেক বেশী ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।বাংলার পদাবলীকীর্তন "ক্ল‍্যাসিক‍াল" সঙ্গীতপদ্ধতির অন‍্যতম। প্রাণবান ও রসায়িত এই সঙ্গীত।দুঃখের বিষয়,অভিজাত ক্ল‍্যাসিকাল সঙ্গীতের যাঁরা ধারক ও সাধক,তাঁদের দৃষ্টি এখনও বাংলার এই নিজস্ব সম্পদ ও সংস্কৃতির প্রতি সেইভাবে আকৃষ্ট নয়।এ সবের বেলায় দক্ষিণভারতের সঙ্গীতজ্ঞানী ও সঙ্গীত-শিল্পীদের জাতীয় সম্পদ ও নিজস্ব অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টির নিদর্শনের আমরা প্রশংসা করি।রসানুভূতিই সঙ্গীতের প্রাণবস্তু। বাংলার পদাবলীকীর্তনে অনবদ‍্য ও অপার্থিব রসের আস্বাদন সহজেই পাওয়া যায় এবং তারই জন্য বৈষ্ণবশিরোমণি ঠাকুর নরোত্তমদাস পদাবলীকীর্তনকে "রসকীর্তন" আখ‍্যা দিয়েছিলেন।তাছাড়া অসাম্প্রদায়িক উদারতা সর্বজনসমাদৃত হলেও বিশ্বের প্রতিটি জাতি তাঁর সাহিত‍্যবোধ ও জাতীয় সমৃদ্ধিরূপ শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি একান্ত নিষ্ঠাকে নিয়েই বিশ্বের দরবারে গৌরব ও সমাদরের আসন লাভ করে, জাতীয়তাকে ও জাতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে অবমাননা কিংবা অনাদর করে তা পাওয়া যায় না।তাই ভারতের ও বিশেষ করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পসম্পদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান রেখে সংস্কৃতিসেবি মনিষীরা বাংলার পদাবলীকীর্তনের মান ও মাধুর্য‍্যকে অক্ষুণ্ণ রাখবেন আশা করি।*
 *🙏আমি অতি অধম, কেবলমাত্র এই পদাবলীকীর্তনকে খুবই মনে প্রাণে আস্বাদন করবার ইচ্ছে করি, দুর্ভাগ্য আমার, সেই আশা হতে বঞ্চিত হচ্ছি।আশা করব আগামীতে যেন এই পদাবলীকীর্তন পদকর্তার লিপিবদ্ধ পদের উপর পরিবেশন হইলে ভীষণ আনন্দ পাব।*
      *🙏শ্রীজয়দেব দাঁ*
                *মালদা*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

*🍀বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তন নদীমাতৃকা সুজলা সুফলা বাংলাদেশের হৃদয় তন্ত্রীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলার পদাবলীকীর্তন বাঙ্গালীজাতির রসভাব-সম্পৃক্ত হৃদয়াবেগ ও নিবিড় অন্তরানুভূতির বহিঃপ্রকাশ মাত্র।রসভাবসমৃদ্ধ ব্রজবুলিভাষা যেদিন বাংলার বৈষ্ণব-পদাবলীসাহিত‍্যের সরল সাবলীল বহিরাবরণ বা অলঙ্করণ সৃষ্টি ক'রে ভাববিদগ্ধ প্রেরণা বৃহত্তর বাংলার জনগণের অন্তরে সচল প্রবাহ এনে দিয়েছিল, শাস্ত্রীয় রাগ,তাল ও বিচিত্র ছন্দের সম্ভার নিয়ে ব্রজের পরমনায়ক ও পরমনায়িকা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার অপার্থিব মধুর চরিত্র বাঙ্গালীজাতির চিত্তকে যেদিন মথিত ও উদ্বেলিত করেছিল ও বাংলার প্রেমের অবতার সর্বভাবঘনমূর্তি শ্রীচৈতন‍্যের নামকীর্তন বাংলাদেশের আবালবৃদ্ধবনিতার মনকে যেদিন রসাস্বাদনে নিবিষ্ট ক'রে ধূলিধূসরিত পৃথিবীর বহুউর্দ্ধে শাশ্বত আনন্দলোকে বিধৃত করেছিল, ঠিক সেইদিন হতেই স্বর্গীয় পদাবলীকীর্তনের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল,সাহিত‍্য ও সঙ্গীতরসপিয়াসী বাঙ্গালীজাতির অন্তরাজ‍্যে ও দিব‍্যভাবের সাধনা ও লীলাক্ষেত্র রচিত হয়েছিল এই বাংলাদেশের শ‍্যামল বক্ষে।শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার নানান আখ‍্যান ও প্রেমলীলার কাহিনী খ্রীষ্ট্রীয় শতকের সূচনা থেকেই প্রাকৃত লৌকিক সাহিত‍্য ও সঙ্গীতের সামগ্রীকে নিয়ে দক্ষিণদেশের আলবার বা আড়বার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ও পশ্চিমবঙ্গের জায়গায় জায়গায় ভক্তিভাবসম্পৃক্ত অনুন্নত ও অশিক্ষিত বাঙ্গালীজাতির সমাজেও যে বিকাশলাভ করেছিল তার প্রমাণের অভাব নাই।*
*শ্রদ্ধেয় শ্রীযতীন্দ্র রামানুজদাস 'আড়বার' ও 'সহস্রপদাবলী' গ্রন্থে সংগৃহীত এবং কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের রবীন্দ্র অধ‍্যাপক ডাক্তার শ্রীআশুতোষ ভট্টাচার্য্য কর্তৃক রচিত সুবৃহৎ "বঙ্গীয় লোকসঙ্গীত-রত্নাকর"-গ্রন্থে সংকলিত গানগুলির মধ্যে সময় বা রচনাকালের যথেষ্ট পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশে অভিজাত রাগ ও তাল-সমন্বিত গান যে বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের সৃষ্টি ও বিকাশের বহুপূর্বেই বতর্মান ছিল তা আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষকদের অনুসারে খ্রীষ্ট্রীয় ১ম থেকে ৫ম শতকে দক্ষিণদেশীয় আড়বার সম্প্রদায়ের সৃষ্টি "দিব‍্যপ্রবন্ধ" এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া,ঝাড়গ্রাম, বাঁশপাহাড়ী, মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি স্থানে সংগৃহীত ঝুমুরগানগুলির গঠনশৈলী ও প্রকাশভঙ্গী লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। ডাক্তার আশুতোষ ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের প্রত‍্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের দানস্বরূপ 'লোকসঙ্গীত-রত্নাকর' গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ড থেকে উদ্ধৃত ক'রে বলি, "কালক্রমে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' এর লৌকিক ধারাটি বৈষ্ণব-পদাবলী দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও বৈষ্ণবপদাবলীর ধারার মধ্যে এটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে নাই।(নিবেদন)।*
                          *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস* 
          •••••••••••••••••••••••••••••••
*"লৌকিক প্রেমসঙ্গীত একদিন প্রচলিত ছিল,তাতে বৈষ্ণবধর্মের প্রভাব বিস্তারিত হবার ফলে রাধাকৃষ্ণের নাম গিয়ে প্রবেশ করেছিল।"।"মহাজন-পদাবলী রচনার অনুকরণে এক শ্রেণীর লৌকিক পদাবলী রচিত হয়েছিল,তাও ঝুমুর নামেই সাধারণভাবে পরিচিত ছিল। আদিবাসীর সঙ্গীতের নাম ঝুমুর। কিন্তু রাধাকৃষ্ণের বিষয়ক লৌকিক পদাবলীর সঙ্গে আদিবাসীর ঝুমুর অন্তর ও বহির্মুখী নানা পার্থক্য সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও তা ঝুমুর বলেই পরিচয় লাভ করিল।ক্রমে দেখতে পাওয়া গেল,বৈষ্ণব-মহাজন-পদাবলী রচনার যে একটি বিশিষ্ট রীতি গড়ে উঠেছিল,এতেও বাইরের দিক হতে সেই রীতিকে অনুসরণ করা হচ্ছে।" "এই ভাবে এই অঞ্চলে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক এক নূতন পদাবলী-সাহিত‍্য গড়ে উঠিল।" এটি বৈষ্ণব-পদাবলীর যথার্থ উত্তরাধিকারী না ☆ ☆ বৈষ্ণবপদাবলীতে যে ব্রজবুলিভাষা ব‍্যবহৃত হয়েছে,এতে তা ব‍্যবহৃত হয়নি।পরিশেষে ডাক্তার ভট্টাচার্য্য লিখেছেন, "কিন্তু স্মরণ রাখতে হবে, বৈষ্ণব-রসশাস্ত্র অনুযায়ী ইহা রচিত হয়নি, সুতরাং গৌরচন্দ্রিকা,পূর্বরাগ,অনুরাগ বলতে বৈষ্ণবরসশাস্ত্র যা বুঝিয়েছে,এতে তার সন্ধান পাওয়া যাবে না।*
*কিন্তু সে যাইহোক, বাঁশপাহাড়ী (মেদিনীপুর) থেকে সংগৃহীত গৌরচন্দ্রিকায়---*
*🌷এসো গৌর হে,গৌর হে,গৌর হে,*
            *তোমার ভাই নিতাইকে,*
   *সঙ্গে লইয়া একবার এসো হে।*
*ইত‍্যাদি গানেরও উল্লেখ পাওয়া যায়।তাছাড়া "বংশীখন্ড", 'শ্রীরাধার পূর্বরাগ', 'শ্রীরাধার অনুরাগ', "বাসকসজ্জা", 'খন্ডিতা', শীর্ষক ঝুমুরগানেরও উল্লেখ দেখা যায়। ঠিক সেভাবেই শ্রদ্ধেয় শ্রীযতীন্দ্র রামানুজদাস দক্ষিণদেশীয় (South Indian) বৈষ্ণব-সাধকসম্প্রদায় "আড়বার"-দের গানযুক্ত 'সহস্র-পদাবলী' নামে যে সংগ্রহগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন তার পরিশেষেও "অভিসারোৎকন্ঠা", "অভিসারিকা", "মান", 'কলহান্তরিতা', "গোষ্ঠকালীন বিরহ" প্রভৃতি পালাগান এবং মায়ুর,বরাড়ি,বিহগড়া,বেহাগ, মল্লার প্রভৃতি শাস্ত্রীয় রাগ এবং ডাঁসপেড়ে,জপতাল,কাটাদশকুশী,একতাল,ছুটা প্রভৃতি শাস্ত্রীয় কীর্তনাঙ্গ তালের সমাবেশ দেখা যায়।অবশ‍্য এ'ধরণের রাগ ও তাল সমাবেশের পূর্বাপরসম্পর্ক (পূর্বাপর=আগাগোড়া)উভয় গীতশ্রেণীর (বাংলার বৈষ্ণবপদাবলী ও দক্ষিণদেশীয় আড়বারদের ভক্তিপদাবলীর) মধ্যে কতটুকু ও কিভাবে আছে তা নির্ণয়সাপেক্ষ।তবে সব বাদানুবাদ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা ছেড়ে দিলেও উভয় দেশের শ্রীকৃষ্ণলীলা কাহিনীর মধ্যে ভাব,রস ও মাধুর্য‍্য-উপলব্ধির নিদর্শনের অভাব নাই।*
*পরিশেষে একথা সত‍্য যে, বাংলার বৈষ্ণবপদাবলীকীর্তন কেবলই রসমাধুর্য‍্যপূর্ণ ছন্দায়িত রাগ ও তালের এবং সঙ্গে সঙ্গে কীর্তনগানের সামগ্রিক আঙ্গিকের সমাবেশপূর্ণ শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার অপার্থিব প্রেমলীলা ও প্রেমাস্বাদনের রূপায়ণই সব-কিছু নয়, পরন্তু এই পদকীর্তন সাহিত‍্য,ছন্দ,রাগ,তাল,রস ও ভাবসম্পদের সমাবেশের সঙ্গে গৌড়ীয় মহাজন ও বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণের রচিত গান বা কীর্তন যে অধ‍্যাত্ম-সাধনা ও রসানুভূতির অপূর্ব অবদান একথা স্বীকার করতেই হবে।*
*সেজন‍্য কীর্তনপদাবলীর অপার্থিব শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার বিচিত্র লীলাচরিত্রের সঙ্গে সঙ্গে সেই লীলাচরিত্রকে সাধক-হৃদয়ের নিবিড় অন্তর অনুভূতি দিয়ে গ্রহণ করতে হবে, সুতরাং গ্রহণ করার কাহিনীকেও গৌড়ীয় বৈষ্ণব-প্রেমসাধনা ও বৈষ্ণবদর্শনতত্ত্বের মধ‍্য দিয়ে পদাবলীর ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পরিস্ফূট করার সার্থকতা অবশ্যই থাকবে।মোটকথা বাংলার বৈষ্ণবপদাবলীকীর্তনের রস ও ভাবধারার সঙ্গে সঙ্গে বৈষ্ণবসাধক মরমিয়া মহাজনগণের ও পদকর্তাদের প্রেম নিবিড় জীবনানুভূতির দিব‍্যস্পর্শই পদাবলীকীর্তনের ইতিহাসকে সার্থক ক'রে তুলবে,কেন না,পরমরসস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানেরই নিবিড় অনুভূতির প্রতিছায়া বা প্রতিধ্বনিমাত্র এই পদাবলীকীর্তন।সব আঙ্গিক, সাহিত‍্য,লীলাকাহিনী এবং রাগ ও তালের সমাবেশ ইহবাহ‍্য,প্রেম অনুভূতি ও কীর্তনের রস অনুভূতিই পদাবলীকীর্তনের প্রাণকেন্দ্র ও ইহসর্বস্ব, সুতরাং কীর্তনের ইতিহাসের পাতায় সে সব সাক্ষ‍্যই বাংলার সরস ও প্রেম নিবিড় মরমী অন্তরের পরিচয় দান করবে।*
     *পূর্বাভাস এখানেই রইল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
            *কীর্তনগানের প্রসঙ্গে*
       ♻♻♻♻♻♻♻♻
*🍀বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ পদাবলীকীর্তন ভারতীয় অভিজাত বা ক্ল‍্যাসিক‍্যাল সঙ্গীতধারার এক অবিভক্ত রূপ।এর গীতরীতি,সাহিত‍্য ও সুরবিকাশের পেছনে ক্রমবিকাশ ও ঐতিহাসিক অভিব‍্যক্তির ধারা কিভাবে লীলায়িত তা সঙ্গীত-অনুসন্ধান করবার বিষয়। বিভিন্ন শ্রেণীর পদের সংগ্রহগ্রন্থের অসচ্ছ্বলতা নেই,প্রতিটি পদের সঙ্গে সাহিত্য,সুর,তাল ও ছন্দের সমাবেশ সুস্পষ্ট এবং সেই সমাবেশের মধ্যে তাদের পারস্পরিক সঙ্গতিও লক্ষ্য করার বিষয়। বর্তমানে বিচিত্র শৈলীর কীর্তনগান তাদের পূর্ববিকাশভঙ্গী থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন একথা যদি ধরে নেওয়া যায়, তাহলেও আসল কীর্তনগীতিরূপের বিলাস ও সমাদর বাংলার সমাজে আজও অব‍্যাহত আছে এবং চিরদিন থাকবে বলে বিশ্বাস করি।তবে সাধারণে তো বটেই,পন্ডিতসমাজেও ঐতিহাসিক পটভূমিকায় কীর্তনকে আলোচনা ক'রে দেখার আগ্রহের এখনো অভাব আছে বলে মনে করি। কেননা,সেভাবে আলোচনার আগ্রহ অব‍্যাহত বা অবাধ থাকলে সঙ্গীত-সমীক্ষকগণের সমাজে আজ কীর্তন কোন জাতির বা কোন শ্রেণীর,অভিজাত--কি দেশী এ'ধরণের সন্দেহের অবকাশ কোনভাবেই থাকত না।*
*পদাবলীকীর্তন বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ, কিন্তু ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মস্থান ও দেবায়নগুলিকে (দেবতাদের মন্দির গুলিকে) কেন্দ্র করে ভক্তিরসাত্মক "কীর্ত্তি"-গাঁথারূপ কীর্তনগানের প্রচলন এখনো অবাধ রয়েছে। বাংলাদেশের কীর্তনের বিষয়বস্তু রাধাকৃষ্ণলীলা কথা বা কাহিনীর অনুরূপ ঐ সব কীর্তনগানের সাহিত্যও রসভাব সমৃদ্ধ।উৎকলে বা উড়িষ‍্যায়, মহারাষ্ট্রে, রাজস্থানে,মধ‍্যভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ও দক্ষিণভারতে কীর্তনগানের যথেষ্ট প্রচলন আছে।তবে বাংলাদেশের বৈষ্ণব-পদকীর্তন বা পদাবলীকীর্তনের ধারা ভারতের অন‍্যান‍্য অঞ্চলের কীর্তনগান থেকে বেশী স্বতন্ত্র।মণিপুরে নৃত‍্যছন্দের সঙ্গে কীর্তনের প্রচলন আছে এবং তার সাহিত্যসম্পদও রাধাকৃষ্ণ লীলা মাধুর্য‍্যে রসায়িত। অনেকের অভিমতে,মণিপুরীকীর্তনের শৈলী (রচনা ধারা)ও উপাদান অনেক পরিমাণে ঋণী বাংলার ঠাকুর নরোত্তমদাসের কাছে, এবং তা অসম্ভবও নয়,এজন‍্য যে,তখন বৃহত্তরবঙ্গের চতুঃসীমা ছিল অখণ্ড বাংলা,বিহার,উড়িষ‍্যা ও সমগ্র আসাম ও তিব্বত (হিমালয়ের উত্তরস্থ সিন্ধুনদের উৎপত্তিস্থল হতে চীন সীমা এবং হিমালয় হতে গৌরীপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত‍্য দেশ। ইহার রাজধানী "লাহসা" পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ নগর। প্রসিদ্ধ মানস সরোবর ইহার সীমান্তর্গত)।নিয়ে বিস্তৃত। কিন্তু একথা সত‍্য যে, বতর্মান রীতির মণিপুরীকীর্তন ঠাকুর নরোত্তম-প্রবর্তিত রীতি ও রূপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।তবে সব দেশের কীর্তনের আবেদন যে সমান ও সর্বজনীন একথা সত‍্য।*
*বৈষ্ণব-পদাবলীকে সাধারণভাবে বলে গীতিকবিতা, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বৈষ্ণব-কবিতাকে সুরে ছড়ার মত করে আবৃত্তি করে হয়।পদাবলী আসলে গান,গীতি বা সঙ্গীত।তাছাড়া পদের মুখ‍্য অর্থই গান।খ্রীষ্ট্রীয় দ্বিতীয় শতকে রচিত "ভরতের" নাট‍্যশাস্ত্রে "পদ"-শব্দে গান বা গীতিকেই লক্ষ্য করা হয়েছে।*

*খ্রীষ্টপূর্ব চারশো-দুশো শতকের মহাকাব‍্য রামায়ণ,মহাভারত ও হরিবংশে এবং এমনকি খ্রীষ্ট্রীয় শতকের প্রথম ভাগের পঞ্চরাত্রসংহিতা ও পুরাণ-সাহিত‍্যগুলিতে গান বা গীতির দ‍্যোতক (প্রকাশক) 'পদ'-শব্দের ব‍্যবহার দেখা যায়।রামায়ণে (বালখন্ড,৪র্থ সর্গ) "বিচিত্রার্থপদং সম‍্যগ্ গায়কৌ সমচোদয়‍ৎ" বা "অবগায়তাং মার্গবিধানসংপদা" শ্লোকাংশে "পদ-শব্দে গানকে বুঝিয়েছে।রামায়ণে পাঠ‍্য ও গান্ধর্ব-শব্দ-দু'টিও গান বা গীতি অর্থে ব‍্যবহৃত হয়েছে।"পাঠ‍্যে চ মধুবম্" (১|৪|৮), "তৌ তু গান্ধর্বতত্ত্বজ্ঞৌ"(১|৪|১০)। নাট‍্যশাস্ত্রে নিবদ্ধ ও অনিবদ্ধ কিংবা সতাল ও অতাল পদগুলি গান বা গীতি অর্থেই ব‍্যবহৃত। যেমন---*
*🌷যৎকিঞ্চিদক্ষরকৃতং তৎসর্বং পদসংজ্ঞিতম্।*
*🌷নিবদ্ধঞ্চানিবদ্ধঞ্চ তৎপদং দ্বিবিধং স্মৃতম্।।*
*🌷অতালঞ্চ সতালঞ্চ দ্বিপ্রকারঞ্চ তদ্ভবেৎ।*
*🌷অতালমণিবদ্ধঞ্চ পদং তু জ্ঞেয়মেব চ।।*
        *(নাট‍্যশাস্ত্র (কাশী সং)৩২|২৬-২৮)*
*🌻অথবা=======*
*🌷গান্ধবং যন্ময়া প্রোক্তং স্বরতালপদাত্মকম্।*
*🌷পদং তস‍্য ভবেদ্বস্তুঃস্বরতালানুভাবকম্।।*
                                     *(ঐ, ৩২|২৪)*
*🌹তাছাড়া আচার্য‍্য ভরত নাট‍্যশাস্ত্রের ২৮ অধ‍্যায়ে (কাশী সং) "গান্ধর্বমিতিবিজ্ঞেয় স্বরতালপদাশ্রয়ম্"১, ও "গান্ধর্বং ত্রিবিধং বিদ‍্যাৎ স্বরতালপদাত্মকম্"২, শ্লোকাংশ দুটিতেও গীতির অবয়ব বা গীতি অর্থে গ্রন্থকার "পদ" শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।স্বর,তাল ও পদ এই তিন রকম আকারে ভরত গান্ধর্বগানের প্রকাশ ও অনুশীলন স্বীকার করেছে ও তারই জন্য তিনি বলেছেন, "গান্ধর্বং ত্রিবিধং বিদ‍্যাৎ" যদিও পদের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি পুনরায় বলেছেন, "ব‍্যঞ্জনানি স্বরাবর্ণাঃ। "ছন্দে বৃত্তানি জাত‍্যশ্চ নিত‍্যং পদগতাত্মকাঃ"।*
*🍀অনেকে ভরত-উক্তি "স্বরতালপদাশ্রয়ম্" শ্লোকাংশের 'পদ' শব্দকে ছন্দায়িত নৃত্যের প্রতিফলন বলেন। কিন্তু 'পদ' অর্থে নৃত্য না বুঝানোই সঙ্গত।আর যদিই বা 'পদ' অর্থে লাক্ষণিকভাবে 'নৃত‍্য' শব্দ বুঝায়, তাহলেও নৃত্য ত্রৌর্যত্রিক (গীত,বাদ‍্য ও নৃত্য ) সঙ্গীতেরই অবিভক্ত বা অপরিহার্য‍্য অংশ, সুতরাং 'পদ' শব্দ গীতের অনুবর্তী বা গীতির অবয়ব অথবা গানেরই দ‍্যোতক বা প্রকাশক।কবি কালিদাসের (খ্রীষ্ট্রীয় ১ম-৪র্থ শতক) কাব‍্য ও নাটক-গ্রন্থগুলির অনেক জায়গায় "পদ" শব্দে গান,গীতি বা সঙ্গীত অর্থে ব‍্যবহৃত দেখা যায়।মেঘদূতে (উত্তরমেঘ ৯১ শ্লোক) বিয়োগবিধুরা যক্ষপত্নী যখন বীণার তন্ত্রীতে গোত্রাঙ্কিত মূর্ছনার প্রয়োগ ক'রে আলাপ করতে উদ‍্যতা তখন সেই অভিচারিক(হিংসা করে ক্ষতি) প্রয়োগ নিষ্ফল হয়েছিল তাঁর চোখের জলে বীণার তন্ত্রী সিক্ত হ'য়ে।কালিদাস বীণা শব্দের প্রসঙ্গেই "পদ" শব্দ ব‍্যবহার করেছেন এবং তা গান,সুর বা সঙ্গীতের প্রকাশক।*

*টীকাকার মল্লিনাথও সেকথা স্বীকার করেছেন। মেঘদূতে কালিদাসের বর্ণনা এই---*
*🌷উৎসঙ্গে বা মলিনবসনে সৌম‍্য নিক্ষিপ‍্য বীণাং,*
*🌷মদ্ গোত্রাঙ্কং বিরচিতপদং গেয়মুদগাতুকামা।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷তন্ত্রীরার্দ্রা নয়ন-সলিলৈঃ সারয়িত্বা কথংচি---,*
*🌷দ্ভুয়ো ভূয়ঃ স্বয়মধিকৃতাং মূর্ছানাং বিস্মরয়ন্তী।।*
*🌻মল্লিনাথ টীকায় প্রকাশ করেছেন যে, গন্ধর্বকুলসম্ভূতা যক্ষপত্নী গান্ধারগ্রামের প্রয়োগরহস‍্য অবগত ছিলেন বা জানতেন।'বিরচিতপদং' শব্দের বিশ্লেষণ করে তাই তিনি বলেছেন, "বিরচিতানি পদানি যস‍্য তত্তথোক্তং গেয়ং গানার্হং প্রবন্ধাদি।☆☆☆☆ দেবযোনত্বাদগান্ধারগ্রামেণ গাতুকামেত‍্যর্থঃ "। তাছাড়া অন‍্যত্র কালিদাস "পদ" শব্দ গান বা গীতির উদ্দেশ্যে ব‍্যবহার করেছেন। "ত্বামুৎকন্ঠাবিরচিতপদম্"।মল্লিনাথ টীকায় "পদ" অর্থে বলেছেন "প্রবন্ধ" (প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগান অর্থে অঙ্গনিবদ্ধ গান।সিংহভূপাল বলেছেন, "চতুর্ভির্ধাতুভিঃ ষড়্ ভিশ্চাঙ্গৈর্যস্মাৎপ্রবধ‍্যতে তস্মাৎপ্রবন্ধ কথিতো গীতলক্ষণকোবিদৈঃ)।*
*প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগান বা গান। খ্রীষ্ট্রীয় অষ্টম-নবম শতকের রচিত নাথগীতি গাথা-প্রবন্ধগানের নিদর্শন।"আর্যা গাথাদ্বিপথকঃ" (শার্ঙ্গদেব রচিত সঙ্গীতরত্নাকর ৪|২৬ এবং ৪|২৩৩)। শার্ঙ্গদেব সূঢ়,আলি বা আলিসংশয় ও বিপ্রকীর্ণ এই তিন প্রকার প্রবন্ধের মধ্যে বর্ণ,বর্ণস্বর ও তাল প্রভৃতি ভেদে আলি বা আলিসংশয় প্রবন্ধগানের রূপ চব্বিশ রকম বলেছেন, "বর্ণাদয়স্তালার্ণবান্তাশ্চতুর্বিংশতি"। (সিংহ ভূপালের টীকা দ্রষ্টব‍্য।আসলে চর্যা "পদ" নয়--গান, এবং গান ও পদ সমানার্থক নয়।তবে সঙ্গীতে পদ গান অর্থেও ব‍্যবহৃত হয় )। সুতরাং মীননাথ, গোরক্ষনাথ প্রভৃতি যোগীসাধক-রচিত নাথগীতি অভিজাত প্রবন্ধগানেরই রূপ।*
*বাংলাসাহিত‍্যে পদাবলী প্রসঙ্গে আমরা দুইরকম ধারার সন্ধান পাই।একটি আধ‍্যাত্মগীতি ও অন‍্যটি নাথগীতি।নাথগীতির পর বজ্রযানি বৌদ্ধচর্যাপদগুলি আধ‍্যাত্মগীতির নিদর্শন।সঙ্গীতরত্নাকরে শার্ঙ্গদেব বলেছেন, "অধ‍্যাত্মগোচরা চর্যা" (৪|২৯২)। নাথগীতির কিছুটা নিদর্শন পাই কবি জয়দেফের অষ্টপদীপ্রবন্ধে বা গীতগোবিন্দগানে।*

*পরবর্তী রাগাত্মিক গান,বাউল এবং কর্তাভজাদের গানও অধ‍্যাত্মশ্রেণীর।দাশরথি রায়ের পাঁচালী,গোবিন্দ অধিকারীর যাত্রা এবং মধুসূদন কিন্নর বা মধুকানের ঢপ্ কীর্তন পদাবলীকীর্তনভাঙ্গা, কাহিনীমূলক নাটগানের নিদর্শন হলেও সেগুলি ভক্তিরসাত্মক রাধাকৃষ্ণ-লীলাগান ছাড়া অন‍্য কিছু নয়, সুতরাং আধ‍্যাত্মগীতিশ্রেণীর অন্তর্গত। খ্রীষ্ট্রীয় ১১শ-১২শ থেকে ১৮শ-১৯ শতকে রচিত এ ধরণের বিচিত্র শ্রেণীর বাংলাগানকে অধ‍্যাত্মগীতির পর্যায়ভুক্ত করা অসঙ্গত নয়।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
           *পদ---------পদাবলী*
         ◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀"পদ"শব্দে গান বা গীতিকবিতা বুঝায় কিনা এ প্রসঙ্গে ডঃ সুকুমার সেন বলেন, "বৈষ্ণব-গীতিকবিতাকে এখন 'পদ' বলা হয়।এই অর্থ অষ্টাদশ শতকের আগে প্রচলিত হয়নি।আগে 'পদ'বলতে দুই ছত্রের গান অথবা গানের দুই ছত্র বুঝাইত। চৈতন‍্যভাগবত ও চৈতন‍্যচরিতামৃত প্রভৃতিতে "তথাহি পদম্" বলে সাধারণত দুই ছত্র উদ্ধৃত হয়েছে। (ডাক্তার সেন "বাংলা সাহিত‍্যের ইতিহাস " প্রথম খন্ড,১৩৪৭ সাল, পৃষ্ঠা ২৭৮)। সঙ্গীত-রত্নাকরে শার্ঙ্গদেব (১৩শ শতকের প্রথমার্ধ)"পদ" শব্দকে অন‍্য অর্থে ব‍্যবহার করেছেন।তিনি বলেছেন,অর্থপ্রকাশক শব্দ-বিশেষের নামও "পদ" হতে পারে। "তাতাহন‍্যদ্বাচকং পদম্" (রত্নাকর ৪|১৬)। টীকাকার মল্লিনাথ ঐ প্রসঙ্গে বলেছেন, "অর্থপ্রকাশকং পদম্" অর্থ‍্যাৎ যা অর্থ প্রকাশ করে তাই পদ। কিন্তু শার্ঙ্গদেব ও মল্লিনাথ বা সঙ্গীত-রত্নাকরের অন‍‍্যান‍্য টীকাকাররা এই "পদ" শব্দের অর্থ-বিশ্লেষণ করেছেন রত্নাকরের প্রবন্ধ (রচনা) তথা প্রবন্ধগানের অধ‍্যায়ে।প্রবন্ধে ছয়টি অঙ্গের মধ্যে "পদ" একটি অঙ্গ। সুতরাং "পদ" শব্দ বা অঙ্গ সেখানে গানের প্রকৃতি-নির্দেশক, সুতরাং গানাঙ্গ তথা গান একথায় বুঝা যায়।*
*🍀'পদাবলী' শব্দ প্রসঙ্গেও ডঃ সুকুমার সেন বলেছেন,'পদাবলী'-শব্দটির প্রথম ব‍্যবহার পাই শ্রীজয়দেব গোস্বামীর "গীতগোবিন্দে--,"মধুরকোমলকান্তপদাবলীং শৃণু তদা জয়দেবসরস্বতীম্"। (শ্রদ্ধেয় হরিচরণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়-সংকলিত "বঙ্গীয়-শব্দকোষ" (শান্তিনিকেতন থেকে প্রকাশিত,১৩৫১ সাল) গ্রন্থেও পদাবলী প্রসঙ্গে গীতগোবিন্দের এই শ্লোকাংশটি উদ্ধৃত হয়েছে।পৃষ্ঠা=১৭৩৪)। পরে যখন "পদাবলী" শব্দের অর্থ দাঁড়াল গীতিকবিতার সমষ্টি, তার আগে "পদ" শব্দের অর্থ পরিবর্তন ঘটেছে। বৈষ্ণব-গীতা-কবিদের অধিকাংশই "মহাজন" বা "মহান্ত" (অর্থ‍্যাৎ সাধু-পুরুষ বা গুরু) ছিলেন।এইজন‍্য অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ হতে বৈষ্ণব-গীতিকবিতা "মহাজন-পদাবলী নামে খ‍্যাত হয়।(বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস,প্রথম খন্ড,পৃঃ ১৭৮)।*

*পদাবলী-সাহিত‍্যের মধ্যে বৈষ্ণব-পদাবলীকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে ; *(১)রাধাকৃষ্ণ-পদাবলী, *(২)গৌর-পদাবলী, *(৩)ভজন-পদাবলী, *(৪)রাগাত্মিক-পদাবলী। সুতরাং "পদাবলী" শব্দটর বিশেষভাবে প্রচলন হয় সম্ভবত চর্যাপদগীতির কিছু পরে খ্রীষ্টীয় ৯ম-১২শ শতকে।ডঃ দীনেশ চন্দ্র সেন মোট ১৫৪ জন মহাজনের (পদকর্তার) নাম উল্লেখ করেছেন।তাঁদের মধ্যে এগার জন মুসলমান কবি ও তিনজন মহিলা কবি।এই ১৫৪ জন হিন্দু পদকর্তা মহাজনদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি,লোচনদাস, গোবিন্দদাস,জ্ঞানদাস,বলরামদাস, যদুনন্দন দাস,যদুনন্দন চক্রবর্তী, প্রেমদাস,বসন্ত রায়,রায় রামানন্দ,রায় শেখর,বাসুদেব ঘোষ,শশিশেখর প্রভৃতি আছেন।এখন বাংলা সাহিত‍্যের ক্রমবিকাশের দিক থেকে "পদ" শব্দে হয়ত দশম-এগার শতকেও couplet অর্থ‍্যাৎ গানের মাত্র দুটি ছত্র (লাইন) বুঝাতে ও তা গীতি বা গানের বোধক হয়েছিল সম্ভবত খ্রীষ্টীয় ১২ শতকের গোড়ার দিকে এবং তখনই ঠিক পরিপূর্ণ ভাবে "পদ" শব্দে গীতিকবিতা ও গানকে বোঝাত। কিন্তু আমরা আগেই আলোচনা করেছি যে,খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরত "পদ" শব্দে গীতি বা গানকে বুঝিয়েছেন (যদিও অবশ‍্য গীতি ও গান এই শব্দ-দুটির মধ্যে কিছু অর্থগত পার্থক্য আছে )।অভিনবগুপ্ত নাট্রশাস্ত্রের "অভিনবভারতী" টীকায় 'পদ' অর্থে গানকে লক্ষ্য করেছেন।প্রাচীন সংস্কৃত কাব‍্য ও নাটকগুলিতে 'পদ' শব্দে অধিকাংশ জায়গায় গানকে বুঝিয়েছে। সুতরাং প্রাচীন ধারার অনুবর্তনকারী বাংলার সাহিত‍্যিক ও কাব‍্যরচয়িতারা অন্তত নবম-দ্বাদশ শতকের চর্যাপদগুলিকে 'গীতি'পর্য‍্যায়েরই অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে মনে হয় হয়।হতে পারে যে,বাংলাসাহিত‍্যের গতি ও রূপায়ণভঙ্গি প্রাচীন সংস্কৃত নাটক,কাব‍্য ও সাহিত‍্যগুলির রচনাশৈলী ও প্রকৃতি থেকে বেশ একটু আলাদা এবং তারই জন্য দশম-একাদশ শতকের অথবা তারও পূর্ববতী বাংলাসাহিত‍্যের রচয়িতারা নতূনতার স্রষ্টা ও পথিকৃৎ হিসাবে পুরোপুরি ভাবে প্রাচীনতার অনুসরণ করেননি। কিন্তু ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষণে বিচার করলে একথা অবশ‍্যই স্বীকার করতে হয় যে, 'পদ' শব্দের সাঙ্গীতিক ইঙ্গিত আগে একবার ভারতীয় সাহিত‍্যে,কাব‍্যে বা নাটকে প্রচলিত হয়ে থাকলে পরে তার অনুসরণ হওয়াই স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত।তবে বাংলার সাহিত‍্যরচনার দৃষ্টি,সাহিত‍্যচিন্তা ও সাহিত‍্য-মন যে কিছুটা বৈশিষ্ট্যাবগাহী হবে না তা আমাদের বক্তব‍্য নয়।*
                 *ক্রমাগত*
🔷 🔷 🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
                *পদ--পদাবলী*

*🍀একথা স্বীকার করতেই হবে যে,নবম--দ্বাদশ শতকে চর্যাপদরচনা পদসাহিত‍্যের জগতে এক যুগান্তর সৃষ্টি করেছিল।বাংলাসাহিত‍্য বিকাশের তা চলমান যুগ।প্রাচীন বাংলায় সংস্কৃত সাহিত‍্যেরও অল্পতা ছিল না। বাংলাভাষার রূপসজ্জায় স্মৃতিসংহিতা, পুরাণ,তন্ত্র,রামায়ণ,মহাভারত ও ভাগবতের বাংলা সংস্করণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাংলা অনুবাদগ্রন্থ, অলঙ্কারশাস্ত্র, সঙ্গীতশাস্ত্র প্রভৃতি ছাড়াও সন্ধ‍্যাকর নন্দীর "রামচরিত" বা রামপালচরিত, গোবর্দ্ধন আচার্য‍্য-রচিত "আর্যাসপ্তশতী" ও শ্রীধর দাসের "সদুক্তিকর্ণামৃত" প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। হাল-রচিত "গাথাসপ্তশতী" খ্রীষ্টীয় প্রথম বা প্রথম-দ্বিতীয় শতকের গ্রন্থ। ন‍্যায়াচার্য ও বেদান্তবিদদের রচিত ন‍্যায়দর্শন ও বেদান্তদর্শনের গ্রন্থ যেমন একদিকে প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনরীতিকে সমৃদ্ধ করেছিল,তেমনি অন‍্যদিকে নব‍্য-সাহিত‍্য ও দর্শন-আলোচনা বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছিল।গুপ্ত ও পালযুগে বৌদ্ধসাহিত‍্য ও বৌদ্ধধর্মের প্লাবন ও বিস্তৃতি বাংলার সংস্কৃতি-প্রতিভায়,শিক্ষায়,ধর্মে ও অধ‍্যাত্ম-জীবনে এক নতূন উজ্জীবন ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।একথা সত‍্য যে, গৌতম-বুদ্ধের পরিনির্বাণের অনেক পরে বিভিন্ন বৌদ্ধধর্মমত ও সাধনধারার সৃষ্টি হয়েছিল বুদ্ধ-জীবন ও বুদ্ধবাণীকে কেন্দ্র ক'রে। সৃষ্টি হয়েছিল বোধিসত্ত্বযান ও বুদ্ধযান প্রভৃতি তত্ত্বমার্গ বুদ্ধ-জীবন বা বুদ্ধ-ব‍্যক্তিত্বকেই লক্ষ্য ক'রে। সৃষ্টি হয়েছিল হীনযান ও মহাযান ধর্মমতদুটি মহারাজ কণিষ্কের সময়ে চতুর্থ বৌদ্ধসঙ্গীতের অধিবেশনকালে এবং উদ্ভুত(উদিত) হয়েছিল বিচিত্র দর্শনমত, আচার-বিচার,ধর্মানুষ্ঠান ও সাধনা। হীনযানের(বৌদ্ধধর্মের প্রাচীন শাখা,পালি ত্রিপিটকে বর্ণিত বৌদ্ধমতের) ছায়াতলে দেখা দিল একদিকে যেমন বৈভাষিক(বৈকল্পিক বা বৌদ্ধ দর্শনের মত বিশেষ) ও সৌত্রান্তিক (তান্ত্রিক সূত্র-সংক্রান্ত) দর্শনমতবাদ, অন‍্যদিকে তেমনি মহাযানের(বৌদ্ধ সম্প্রদায় বিশেষ,নাগার্জুন নামক বৌদ্ধ শ্রমণ কর্তৃক প্রবর্তিত বৌদ্ধ দর্শন ও তার সমর্থক সম্প্রদায়) অনুসরণে আবির্ভূত হয়েছিল মাধ‍্যমিক ও যোগাচার দর্শনমত। এই সব দার্শনিক মতবাদের বৌদ্ধিক বিচার ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তত্ত্ববিশ্লেষণের পশ্চাতে একদিকে মহাযান-ধর্মমতে দেখা দিল যেমন বিচিত্র দেবদেবী,তাদের ধ‍্যান-চিন্তা, আচার-উপাসনাপদ্ধতি ও তত্ত্ববোধপ্রবৃত্তি, অন‍্যদিকে তেমনি হিন্দুপুরাণ,তন্ত্র ও শৈবশাস্ত্রসমর্থিত দেবদেবী এবং তাদের আচার ও সাধনতত্ত্বের হল উদ্ভব প্রতিদ্বন্দ্বীমূলক এক সংঘাত সৃষ্টি ক'রে। ক্রমে আত্মপ্রকাশ করল মন্ত্রযান ও তার শাখা কালচক্রযান, বজ্রযান প্রভৃতি। হিন্দুতন্ত্রের মন্ত্র ও আচার অনুষ্ঠানের অনুকরণে নববৌদ্ধধর্মে প্রবর্তিত হল দেবদেবীদের পূজা-অর্চনা ও তত্ত্বচিন্তা। বৈদিক ওঙ্কারের পাশাপাশি "হূং" প্রভৃতি তান্ত্রিক মন্ত্রবীজের সহযোগে জপ, অষ্টাঙ্গযোগসাধনা ও ধ‍্যানের অন্তর্প্রবেশ ঘটলো।*

*বাংলার সাধকসমাজে ও দার্শনিক-সমাজেও দেখা দিল এক অন্তর্দ্বন্দ্বের সূচনা।তবে এই দ্বন্দ্বপ্রবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে আবার আবির্ভূত হল হিন্দু ও বৌদ্ধ-সমাজে এক পারস্পরিক সমন্বয়ী দৃষ্টি ও মৈত্রীভাব।ক্রমে আত্মপ্রসারণের পথ ও প্রবৃত্তি হল প্রশস্ত।ফলে বৌদ্ধধর্মে অনুপ্রবেশ করল যেমন হিন্দুধর্মের সূক্ষ্ম ও স্থূল অনেক উপাদান, হিন্দুধর্মও আত্মসাৎ করেছিল, তেমনি বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধতত্ত্বের কিছু কিছু সামগ্রী।অবশ‍্য এই গ্রহণপ্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল উভয়েরই মধ্যে। কিন্তু মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী,ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন,বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি বিদগ্ধ পন্ডিতদের মতে, হিন্দুধর্মই নাকি পরিপুষ্ট করেছিল তার কলেবর বৌদ্ধধর্ম থেকে বিচিত্র তত্ত্ব ও উপাদান আহরণ ক'রে।তাঁদের মতে,ছদ্মবেশী হিন্দু-দেবদেবীরা বেশীর ভাগই ছিলেন বৌদ্ধদেবদেবী। হিন্দুদের সরস্বতী,কালী,বজ্রবারাহী,গণেশ, অপরাজিতা-দূর্গা প্রভৃতি তার নিদর্শন। অবশ‍্য এই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করার পক্ষে ও বিপক্ষে নতূন করে অনুশীলন ও বিচার করার দিন আবার এসেছে বলেই আমরা মনে করি, কেননা,হিন্দুতন্ত্র ও বৌদ্ধতন্ত্রের সৃষ্টি ঠিক একই সময়ে হয়নি, বরং ঐতিহাসিক তথ‍্য যে,হিন্দুতন্ত্রের বহুকাল পরে বৌদ্ধতন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছিল সমাজে প্রচলিত হিন্দুধর্মচিন্তার প্রতিক্রিয়ারূপে।হিন্দুতন্ত্র বেদের সমসাময়িক না হলেও বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানই ভিন্নভাবে তন্ত্রাচাররূপে তন্ত্রসাহিত‍্যে আত্মপ্রকাশ করেছিল। বৈদিক ধর্মাচার ও দেবদেবী যেমন পুরাণের যুগে কিছুটা ভিন্নভাবে রূপগ্রহণ করেছিল,তেমনি প্রকাশ‍্য বৈদিক যাগযজ্ঞাদি অনুষ্ঠান ও তার সিদ্ধিসাফল‍্যও বৈদিকোত্তর যুগে অপ্রকাশ‍্য গুপ্তানুষ্ঠান ও শক্তিসিদ্ধিরূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল। বেদ ও হিন্দুতন্ত্রের মধ্যে তখন এতটুকু বিরোধচিন্তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, বরং ছিল মৈত্রীসম্পর্কেরই বন্ধন।বৌদ্ধতন্ত্রের আচার-অনুষ্ঠান ও দেবদেবীচিন্তার বিকাশ হিন্দু-আচার ও দেবদেবীচিন্তারই অনেকটা প্রতিকূল এবং বৌদ্ধতন্ত্রে সিদ্ধিনাশক গণেশ ও হিন্দুতন্ত্রের সিদ্ধিদাতা গণেশই তার সামান্য একটি নিদর্শন। তবে উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যের ইঙ্গিতও যে ছিল না,তা নয়,কেননা হিন্দতন্ত্রের মন্ত্র,তন্ত্র,মুদ্রা ও মন্ডলের অনুরূপ প্রতিকৃতি ও অনুষ্ঠানই পাই আবার বৌদ্ধতন্ত্রের ভিতর।*
                *ক্রমাগত*
✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
                *পদ ও পদাবলী*

*🍀হিন্দুতন্ত্রের মতো বৌদ্ধতন্ত্রের উদ্দেশ্যও ছিল ইহলোকের সিদ্ধিলাভের মতো পারলৌকিক পরম সিদ্ধিলাভ, তা সে সামঞ্জস‍্য শিবশক্তি-সাযুজ‍্যই হোক,শিবত্ব প্রাপ্তিরূপ ব্রহ্মজ্ঞানস্থিতিই হোক, অথবা নির্বাণ বা শূন‍্যতায় প্রতিষ্ঠা লাভই হোক।বজ্রাচার্য‍্যগণ বজ্রবারাহীর কিম্বা শূন‍্যতার প্রতিফলন অবধূতিকা নৈরাত্মাদেবীর (বহুড়ী বা বধূ বা যোগিনী) উপাসনার অঙ্গরূপে সন্ধা বা অভিসদ্ধিসূচক ভাষায় রচনা করেছিলেন বজ্রগীতি ও চর্যাগীতি।(প্রকৃতপক্ষে বজ্রযানেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল চর্যা ও বজ্র-গীতি)।চর্যা ও বজ্র গান-রচনার পটভূমিকায় বিচিত্র বৌদ্ধধর্মমত ও বৌদ্ধসাধনচিন্তার একটি প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই স্বীকার্য।সমাজে, জীবনে,সব রকম চিন্তায়, ধর্মে কর্মে ও দর্শনচিন্তার উপরও দেখা যায় সমাজ, সামাজিক ধর্মসংস্কার ও মানুষের জীবনচিন্তার একটি প্রভাব। পারস্পরিক এই আদান-প্রদান বা দেওয়া-নেওয়ার ভিতর দিয়েই চিরদিন মানুষের বাহ‍্যিক ও আন্তর জীবনের হয় সংগঠন ও শুদ্ধপরিণতি সমাজে।*
*🍀শোনা যায়,তিব্বতের সিদ্ধাচার্য‍্যরাই ছিলেন বৌদ্ধ-সহজযানের প্রবর্তক ও প্রচারক এবং খ্রীষ্টীয় নবম-দ্বাদশ শতকে বা তার পূর্বে বৃহত্তর বাংলায় ঐ সহজযান মতবাদের হয়েছিল অনুপ্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা।আগেই উল্লেখ করেছি যে,বৃহত্তর বঙ্গের চতুঃসীমা ছিল তখন অখন্ড বঙ্গদেশ বা বাংলা,গিরিব্রজ বা বিহার,উৎকল বা উড়িষ‍্যা ও কামরূপ বা আসামকে নিয়ে সার্থক।বৃহত্তর বাংলার সমাজ-বিবর্তনে,ধর্মাচারে ও দৈনন্দিন জীবনচর্যায়, সাহিত‍্যে,নাটকে,কাব‍্যে, দর্শনচিন্তায় ও এমনকি অধ‍্যাত্মসাধনায় সহজযান-ধর্মমত এনেছিল এক নতূন আলোড়ন ও প্রেরণা।যদিও সেই আলোড়ন ও প্রেরণা বিশেষভাবে সীমাবদ্ধ ছিল বৌদ্ধ-সাধনাশ্রয়ী আচার্য‍্যদের ভিতর, তবুও হিন্দু-সর্বসাধারণের জীবনে,মনে ও তত্ত্বচিন্তায় সৃষ্টি হয়েছিল এক বিবর্তনী প্রবৃত্তি।ফলে হিন্দুসমাজ-মানসের কোন কোন অংশে প্রবেশলাভ করেছিল ক্রমে বৈষ্ণব-সহজিয়া,বাউল,গুরুসত‍্য,কর্তাভজা প্রভৃতি গুরুবাদী কায়-সাধকদের ধর্মমত ও সাধনা।(ক)(ডঃ শ্রীশশীভূষণ দাসগুপ্ত Obscure Religious Cults (কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয় ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ১৮৭-২০২ এবং পঞ্চম পরিচ্ছেদে,পৃষ্ঠা ১৩২-১৮২ ।*
*(খ)(ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত, প্রথম খন্ড, ১৯৫৯, পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫৬)।*
*🍀আচারী তান্ত্রিক বজ্রযানী ও সহজযানী আচার্য‍্যদের পদগানের (চর্যা ও বজ্রগীতির)বহিরঙ্গ স্থূলচিত্রকল্পের অনুরূপ আন্তর বা ভিতরের ও রহস‍্যময় গুপ্তসাধনা ও তত্ত্ববোধের অন্তর্নিবেশও ঘটেছিল সহজ সরল সাধারণ হিন্দুসমাজের অন্তর্ভুক্ত বৈষ্ণব-সহজিয়া, বাউল ও কর্তাভজা সম্প্রদায়ের ভিতর। বৌদ্ধ ও হিন্দু এই উভয় রচয়িতাদের গূঢ় দ্বৈতার্থবোধক পদ ও গানের ভাষা ছিল প্রায় তাই একই ধরণের। যেমন লুইপাদ রচিত পদ----*
*🌹মূল------------------*
*🌷কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল।*
*🌷চঞ্চল চীএ পইঠা (বা পইঠো) কাল।।*
*🌷দিঢ় (বা দিট)করিএ মহাসুহ পরিমাণ।*
*🌷লুই ভণই গুরু পুচ্ছিঅ জান।।*
*🌻অনুবাদ-----------*
*🌷কাযারূপ তরুবর পাঁচ তার ডাল।*
*🌷চঞ্চল চিত-মাঝে পশে আসি কাল।।*
*🌷দৃঢ় করি মহাসুখ কর পরিমাণ।*
*🌷লুই ভণে গুরুকে পুছিয়া ইহা জান।।*
*🛑কথবা গুন্ডরীপাদ রচিত---*
*🌻মূল------*
*🌷তিঅড্ডা চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী।*
*🌷কমলকুলিশ ঘান্টি (বা ঘান্ট) করহু বিআলী।।*
*🌷জোইনি তঁই বিনু খনহিঁন জীবমি।*
*🌷তো মুহ চুম্বী কমলরস পিবমী।।*
*🌻অনুবাদ------*
*🌷ত্রিনাড়ি যোগিনী চাপি দেয় অঙ্কবালী।*
*🌷 কমলকুলিশ যোগ করহ বিকালী।।*
*🌷তোমা বিনা যোগিনি গো,ক্ষণ নাহি জীব।*
*🌷 তোর মুখ চুম্বি রস কমলের পিব।।*
*🌹বাউল-কবি-রচিত পদগান---*
*🌷(আট)কুঠারি নয় দরজা আঁটা,*
*🌷মধ‍্যে মধ্যে ঝলকা কাটা।*
*🌷(তার)উপরে আছে সদর-কোঠা,*
*🌷আয়না-মহল তায়।*
*🌷খাঁচার মাঝে অচিন-পাখি,*
*🌷ক‍্যামনে আসে যায়।।*
*🌻তান্ত্রিক আচারী বৌদ্ধসাধনাত্মক গানদুটির অন্তরার্থ বা সাধনমর্মকথা প্রায় একই রকমের।চর্যাগানে "ডোম্বী" "বহুড়ী" "জোইনি বা"যোগিনী" প্রভৃতি শব্দে ""নৈরাত্মাদেবী""। (এখানে অধ‍্যাপক মণীন্দ্রমোহন বসুর চর্যাপদ-টীকা থেকে 'বহুড়ী' শব্দের অর্থ উদ্ধৃত হল,"বহুড়ী"। "অবধূতিশব্দসন্ধ‍্যায়া"--টীকা।অভিপ্রায় বা অভিসন্ধিসূচক সন্ধাভাষায় নৈরাত্মা-অবধূতিকাকেই বহুড়ী বা "বধূ" বলা হয়েছে।অন‍্যত্র তাকে যোগীন্দ্রস‍্য গৃহিণী নৈরাত্মা বলা হয়েছে।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *পদ ও পদাবলী*

*🍀পরিশুদ্ধ অবধূতিকা নৈরাত্মাদেবী শূন‍্যতা কিংবা সত্তাপক্ষে তথতার প্রতিছবি।বাউলগানের অচিনপাখী ভগবানও সহজ-মানুষ।বাউল ও চর্যা-সাধনতত্ত্বে সহজ-মানুষ সর্বময়লানির্মুক্ত দেহবাসী পরিপূর্ণ মানুষ এবং এই পরিপূর্ণ বা সহজ-মানুষই ভগবান কিম্বা আত্মা বা পরমাত্মা।কায়-সাধনায় স্থূলশরীরের মধ্যেই অচিন-পাখী সহজ-মানুষের (সহজানন্দের) আসন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং কায়াকে বা স্থূল রক্তমাংসের শরীরকে পরিশুদ্ধ ক'রে শরীরের দুঃখ-দৈন‍্য-জ্বরা-মরণ-বিহীন যে সহজ আনন্দ তার প্রতিষ্ঠা বা প্রাপ্তিই সহজিয়া-সাধক বাউলের উদ্দেশ্য।সহজদেবতাই সাধকদের পরম পরিশুদ্ধির আসনে প্রতিষ্ঠা করেন। চর্যাগানে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের উদ্দেশ্যেও বলা হয়েছে, "পরিশুদ্ধ-অবধূতিকা নৈরাত্মার প্রকৃতি এই যে,তিনি ললনা-বসনা-অবধূতিকা নামী শরীরের মধ্যে প্রধান তিনটি নাড়ীকে চেপে নিরাভাস করে অর্থ‍্যাৎ গ্রাহ‍্য-গ্রাহক গ্রহণ-ভাব বিলীন করে সাধককে নিজের অভিজ্ঞান অর্থ‍্যাৎ নৈরাত্মতা প্রদান করেন।" যোগ ও বেদান্ত-সাধনায় মুক্তির সঙ্গে সহজসাধনার নৈরাত্মপ্রাপ্তির অনৈক‍্য (বিরোধ) সামান্য। চর্যাগীতির ভাষা, শব্দযোজনা ও ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে বিচার করলে বলা যায়,তা প্রাচীন বাংলাভাষা।অনেকের মতে,সংস্কৃত ও অবহটঠ্ প্রভাবিত প্রাকৃত-বাংলায় চর্যার ভাষা।অনেকে আবার বলেন,চর্যা গৌড়বঙ্গ বা শৌরসেনী-অপভ্রংশ-পদগীতির নিদর্শন। কিন্তু একথা মোটেই অস্বীকার করার উপায় নাই যে, বতর্মান বাংলা সাহিত‍্যের মার্জিত বা সুসংস্কৃত ভাষার পূর্ব বা প্রাচীন রূপই চর্যাপদ বা চর্যাকবিতা অথবা চর্যাগান।*
*🍀পদাবলীকীর্তনের ঐতিহাসিক বিকাশ সম্পর্কে বৌদ্ধ-বজ্রযান ও সহজযান প্রভাবিত চর্যাগানের আলোচনায় আমরা চর্যার গায়নরীতি ও রাগরূপেরও পরিচয় দিবার চেষ্টা করব।*
⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *চর্যা ও নাথ-গীতি*

                       *এক*
*খ্রীষ্টীয় ১০ম-১১শ শতকে ধর্মে,সাহিত‍্যে, সঙ্গীতে ও অধ‍্যাত্ম-সাধনায় যে বৌদ্ধ-বজ্রযান ও সহজযান-সম্প্রদায়ের প্রভাব ও ভাবধারা অনুপ্রবিষ্ট হয়ে বাংলার সমাজে যে এক নতূন চিন্তাপ্লাবনের সৃষ্টি করেছিল সেকথা আগে কিছু আলোচনা করেছি। ঐ নতূন প্লাবন বা বিবর্তনের ফলস্বরূপ বৌদ্ধ, বৈষ্ণব ও সহজিয়া,বাউল,কর্তাভজা, গুরুসত‍্য প্রভৃতি সাধনমার্গে অধ‍্যাত্ম-পদগানের সৃষ্টি সম্ভব হয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অন‍্যতম জীবনালেখ‍্য রচয়িতা ডঃ শশীভূষণ ঘোষ (ইনি শ্রীরাকৃষ্ণের পরম সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন), বাংলার ধর্মসাধনায় বৌদ্ধ সহজযান-ধর্মমতের অনুপ্রবেশ সম্বন্ধে যেকথা বলেছেন এখানে তার উল্লেখ করা সমীচীন মনে করি--যদিও মতভেদ থাকা স্বাভাবিক।তিনি বলেছেন, কর্তাভজা ও বাউল-সম্প্রদায়ের স্ত্রীলোক (শক্তি) নিয়ে সাধনা সহজিয়া-বৈষ্ণবমতেরই অনুকরণ। আবার সহজিয়ামত বৌদ্ধ-তান্ত্রিকমতের রূপান্তরমাত্র।মহাযানমতাবলম্বী শূন‍্যবাদী বৌদ্ধেরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও তাদের এক শাখা মহাযান ধর্মসেবীরা বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বদের সাকারমূর্তি পূজা করিত।আবার মহাযানের আর এক সম্প্রদায় মহাযান বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের এক একটি দিব‍্যশক্তিকল্পনা করে শক্তিপূজার প্রচলন করেছিল।এই শক্তিপূজা হতেই বৌদ্ধতান্ত্রিকতার আরম্ভ।প্রাচ‍্যবিদ‍্যার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু ময়ূরভঞ্জ-রাজ‍্যের প্রত্নতাত্ত্বিক আলোচনা প্রসঙ্গে অনেকটা অনুরূপ মন্তব‍্যই করেছেন।তিনি বলেছেন--*
*"Thus Dr.Waddel says ; This intense mysticism of the Mahayana let about the fifth centuri,to importation into Buddhism of the pantheistic idea of the soul.(atman) and yoga or the ecstatic union of the individual with the universal spirit---a doctrine which had been introduced into Hinduism by patanjali (Hathayoga-pradipika). The Yogachara school also, in its later development, received and assimilated some magic circles with mantras or speels about 700 A.D., and hence received the new appellation of Mantrayana. But the Mahayana school.did not stop.there. Having once commenced the work of importation and asdimilation, it went on with it,with all its real and vigour, and was before long almost a new thing. About the seventh century A.D. .the development of the infatuating Tantrikism, which practically verges on sorcery claiming a religious basis, attracted the notice of the Mahayana school, and ere long the odolatrous cult of female energies was found grafted upon.theistic Mahayana and the pantheistic mysticism of yoga. And this Tantrika phase of the Mahayana school reached its climax when it adopted and assimlated with itse'f the theory of the Kalachakra. ☆☆ It wants to establish a mysterious union between the terrible goddess kali of the Tantrika system, and the Dhyani and Buddhas--- the Adi-Buddha himself, of the Buddhistic system and attempts to.explain creation and the secret agencies of nature in the light of this union.In the tenth century,the Kalachakra system of the Mantrayana school, as the result of further and further retrograde developments, passed into the system of the Vajrayana of the thunderbolt-vechile. This is the most depraved form, that Buddhistic doctrine on its downward course of importation, assimilation and comptomise,had ever assumed.*
*🍀The Archaeological Survey of Mayurabhanja, vol. 1 (1911)PP. CVI-CVI.*

*🌻বুদ্ধদেবের সময়েই স্ত্রীলোকদেরকে সন্ন‍্যাসে অধিকার দেওয়া হয়।"কালক্রমে সকল বৌদ্ধমঠে হাজার হাজার মুন্ডিতমস্তক শ্রমণ (বৌদ্ধ সন্ন‍্যাসী ভিক্ষু) ও ভিক্ষুণীগণের অবাধ একত্র অবস্থানের কুফল উৎপন্ন হয়েছিল।তাড়াতাড়ি এদের ভিতর বজ্রযান নামে নব-সম্প্রদায়ের অভ‍্যুদয় হয়।এরা এই মত গোপনে প্রচার করলেন যে,তাঁদের সাধনপথে ভোগসুখ করে সহজে নির্বাণপদ পাওয়া যায়। ☆☆ কামিনী-কাঞ্চনাসক্ত সাধারণের আসক্তির অনুরূপ নির্বাণ লাভের এই "সহজতত্ত্ব" তাঁদের উপাস‍্য ভগবান বজ্রসত্ত্ব ও তাঁর শক্তি বজ্রেশ্বরী একীভূত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন বলে বজ্রযান-সম্প্রদায় নানা "সহজ"-মতের তন্ত্রশাস্ত্র প্রচার করলেন। মোটকথা মহাযানের অন্তর্গত মন্ত্রনয় অথবা মন্ত্রযান-সম্প্রদায়ই বৌদ্ধতন্ত্রবাদের প্রবর্তন করে।মন্ত্রযানের অপরাপর বা অন‍্যান‍্য শাখাই বজ্রযান,কালচক্রযান ও সহজযান প্রভৃতি।*
                      *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
            *চর্যা ও নাথ-গীতি*

*🍀এখানে মনে রাখা উচিত যে,গৌতম-বুদ্ধের জীবদ্দশায়ই বৌদ্ধ ভিক্ষুণীরা ভিক্ষুদের মতো তাঁদের নিজেদের একটি পৃথক সঙ্ঘ সৃষ্টি করেছিলেন।বুদ্ধদেবের কঠোর অনুজ্ঞা ও অনুশাসন ছিল যে, কোন ভিক্ষুণীই কোনদিন কোন ভিক্ষুর সঙ্গে একত্র বিহার, একত্র কথোপকথন ও একত্র বাস করতে পারবে না।(ডঃ হাবম‍্যান ওন্ডেনবার্গ রচিত Buddha, His Life, His Doctrine, His Order গ্রন্থে The Oeders of Nuns শীর্ষক আলোচনা দ্রষ্টব‍্য,পৃষ্ঠা ৩৭৭-৩৮১), কিন্তু বুদ্ধদেবের তিরোভাবের বহু পরে কঠোর শাসননীতির বজ্রবাঁধন অবাধ মেলামেশায় সুযোগ দেখা দিয়েছিল। "ভিক্ষুপ্রাতিমোক্ষ" গ্রন্থে এই অবাধ মিলনের কলঙ্ক-পরিণতির সাক্ষ‍্য আছে। হিন্দুতন্ত্রের বামাচার-অনুপ্রবেশের ইতিকথাও তাই।তবে স্বেচ্ছাচারমূলক বামাচার হিন্দুতন্ত্রে আসল সাধনমার্গ নয়, তা অধ‍্যাত্মসাধনার বিকৃত রূপমাত্র। পরশুরামকল্পসূত্র, কৌলাবলীতন্ত্র, কৌল-উপনিষৎ,কুলার্ণব প্রভৃতি তন্ত্রে বামাচারকে "বাম" অর্থে কালী, সুতরাং আদ‍্যাশক্তি দক্ষিণাকালীর আচারবা উপাসনাবিধি বলা হয়েছে।মহাকালী মহাশক্তির আরাধনা ও উপাসনাবিধিই আসলে বামাচার নামে প্রচলিত।*
*🍀ডাঃ শশীভূষণ ঘোষ তাঁর আলোচনা প্রসঙ্গে পুনরায় বলেছেন, সহজিয়াবৈষ্ণবগণ বজ্রযানের বজ্রেশ্বরীকে "বাশুলী" নামে পূজা করতে লাগলেন এবং শ্রীশ‍্যামসুন্দর ও শ্রীরাধারাণীর যুগলরূপ শক্তি বা নায়িকাতে অধিষ্ঠিত বিশ্বাস করে পরকীয়াসাধনাই প্রবল রাখলেন।এদের মতে,মনুষ‍্যভজনই সাধনের প্রধান অঙ্গ।প্রথমে একটি পরকীয়া রমণী গ্রহণ করে তাঁরা সেই নায়িকার দেহই শ্রীবৃন্দাবন এবং তাঁতেই শ্রীশ‍্যামসুন্দর ও শ্রীরাধারাণী বিরাজিত ভেবে থাকেন।নায়িকাতে দেহ ও মন আরোপ করে সাধন করলে অচিরাৎ প্রেমরসসাধনে সিদ্ধিলাভ হয়।সহজিয়ারা নিজেদেরকে রসমার্গের পথিক রসিক ভক্ত বলে থাকেন।তাঁদের মতে, বিল্বমঙ্গল,বিদ‍্যাপতি, চন্ডীদাস, জয়দেব গোস্বামী,রায় রামানন্দ এই পাঁচজন রসিক ভক্ত সহজিয়াধর্ম সাধন করেছিলেন।(শ্রীরামকৃষ্ণদেব--(উদ্বোধন পৃষ্ঠা ৩১২)।*
*🍀অনেকের অভিমত যে, বৌদ্ধ-পালরাজাদের আমলে তান্ত্রিক অনুষ্ঠানের পূর্ণ-প্রাবল‍্যে দেখা দিয়েছিল।বাংলার ইতিহাস থেকে একথাও আবার সুস্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, অষ্টম শতকের শেষভাগে ধর্মপাল (প্রথম) গৌড়ের মসনদে যখন আরোহণ করেন তখন ধর্মাচারের মধ্যে অনেক-কিছু ময়লা তিনি দূর করেছিলেন নতূন পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টি করে।খ্রীষ্টীয় ১০১৫ থেকে ১০৬০ শতকে বাংলার সমাজে ধর্মপাল(দ্বিতীয়), মহীপাল (প্রথম) ও নয়পাল প্রভৃতি পালরাজগণের যখন প্রভাব বিস্তৃত,তখন ধর্মের পরিবেশ বেশ শান্ত ও পবিত্র ছিল। শ্রীজ্ঞান-দীপঙ্কর বা অতিশ-দীপঙ্কর, রামাই পন্ডিত,হাড়ি-পা বা হাঁড়িসিদ্ধ, কমলাকুশিল, নরেন্দ্র-শ্রীজ্ঞান,দান-রক্ষিত প্রভৃতি সাধকের সংস্পর্শে বৌদ্ধতন্ত্রাচার তখন সুনিয়ন্ত্রিত। বৌদ্ধতন্ত্রে প্রবৃত্তিমার্গের ধারা তখন বতর্মান থাকলেও নিবৃত্তির প্রসন্নতা ধীরে ধীরে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।নেপালের বৌদ্ধগণ বজ্রযানমতাবলম্বী ছিলেন।তিব্বতে বৌদ্ধ-তান্ত্রিকাচারেরই বিশেষ প্রভাব ছিল। বাংলাদেশেও তান্ত্রিক বামাচারের পাশাপাশি সিদ্ধান্তাচার,কুলাচার ও দিব‍্যাচার ও অন‍্যান‍্য তন্ত্রাচারের প্রবর্তন হয়।আচারবিলাসী তন্ত্রশাস্ত্র ছাড়া বেদান্তের সমপর্যায়ভুক্ত "মহানির্বাণতন্ত্র" প্রভৃতি গ্রন্থও সে সময়ে লিখিত ও প্রচারিত হয়। ক্রমে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কিছুটা স্তিমিত হয়ে ব্রাহ্মণ‍্যধর্মের পুনরভ‍্যুদ্বয় দেখা দিলেও বৌদ্ধতন্ত্রের সাধন ও চিন্তাধারা হিন্দুসমাজের শিরায় শিরায় অনুপ্রবিষ্ট হয়েছিল।ফলে নতূন রূপ ও নাম নিয়ে বৈষ্ণব-সহজিয়া,বাউল, গুরুসত‍্য,কর্তাভজা তথা মানুষরূপে গুরুপূজা কায় বা কায়সাধন প্রভৃতি সাধনতত্ত্বের উদ্ভব সম্ভব হয়েছিল একথা আগেই বলেছি।খ্রীষ্টীয় দশম-একাদশ শতকের চর্যা ও বজ্রগীতির রচয়িতা সহজযানী ও বজ্রযানী বৌদ্ধসাধকরাও ছিলেন ঐ রহস‍্যসাধনারই পথচারী এবং বাংলার পরবর্তী বৈষ্ণব-সহজিয়া সাধনচারীরাও ঐ বজ্রযানী ও সহজযানী বৌদ্ধসাধকদের কতকাংশে অথবা বহু অংশে অনুসারী ছিলেন।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌼হৃদয়ে আরও একটি যাতনা রয়ে গেল,শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের কড়চা গ্রন্থ দেখবার ভাগ‍্য হল না। অনেক চেষ্টা করলাম,অনেক প্রাচীন বৈষ্ণব মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করলাম,গ্রন্থটি কেউ কোথাও দেখেছেন এরকম বলতে পারলেন না।শ্রীপত্রিকায় দীর্ঘকাল বিজ্ঞাপন প্রচার করেও সেটির কোন সন্ধান পেলাম না।পরম কারুণিক কবিরাজ গোস্বামী তদীয় অক্ষয়কৃপার চিহ্নস্বরূপ শ্রীচরিতামৃতে এই গ্রন্থের নাম ও কিছু বিষয়ের উল্লেখ না করলে এতদিন বোধহয় এই পরম উপাদেয় রসমাধুর্য‍্যের অদ্ভুত অলৌকিক বর্ণনাপূর্ণ শ্রীগৌরলীলার গূঢ় গভীর গুহ‍্য ইতিহাস এই প্রপঞ্চে অপ্রকট হয়ে পড়তেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চার দুই-চারটি শ্লোক উদ্ধৃত হয়েছে। শ্রীগৌরতত্ত্বনির্দেশক এবং শ্রীগৌরাবতারতত্ত্বজ্ঞাপক শ্লোক দুইটি উল্লেখ্য।এই দুইটি শ্লোকেই শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চার গভীর ভাব অভিব‍্যক্ত হয়েছে।শ্রীপাদ স্বরূপের প্রকাশিত শ্রীগৌরতত্ত্ব-নির্দেশকসূচক সুবিখ‍্যাত পদ‍্যটি গৌরভক্তগণের নিত‍্যবন্দনা স্তোত্র।সেটি শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমবিলাসবিবর্ত্তের সূক্ষ্মতম তত্ত্ব।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তদীয় চরিতামৃতে ঐ পদ‍্যটি উদ্ধৃত করেছেন,তদ্ যথা=*
*🌷রাধাকৃষ্ণ-প্রণয়বিকৃতি হ্লাদিনী শক্তিরস্মা দেকাত্মানাবপি ভূবিপুরা দেহভেদং গতৌ তৌ।চৈতন‍্যাখ‍্যং প্রকটমধুনা তদ্বয়ঞ্চৈক‍্যমাপ্তম্ রাধাভাবদ‍্যুতি সুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম্।।*
*🌻অন্বয়--রাধা (শ্রীরাধিকা); কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতিঃ(কৃষ্ণপ্রণয়ের বিকার স্বরূপ); হ্লাদিনী শক্তিঃ (শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি); অস্মাৎ (এই হেতু); তৌ (শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ উভয়ে ); একাত্মানৌ(স্বরূপত একাত্মা বা অভিন্ন);অপি (হয়েও);ভুবি (গোলোকে); পুরা দেহভেদং গতৌ (অনাদিকাল হতেই ভিন্ন দেহ ধারণ করেছেন) ; তদ্দ্বয়ং ঐকং আপ্তং (সেই দুইজন একত্ব প্রাপ্ত হয়ে ) ; রাধাভাবদ‍্যুতি সুবলিতং (শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তির দ্বারা সুশোভিত) ; অধুনা প্রকটং (সম্প্রতি প্রকটিত) ; চৈতন‍্যাখ‍্যং (শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নামক) ; কৃষ্ণস্বরূপং (শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে) ; নৌমি (নমস্কার করি)।*
*🌻অনুবাদ=শ্রীকৃষ্ণপ্রণয় স্বরূপা শ্রীরাধিকা হলেন শ্রীকৃষ্ণেরই হ্লাদিনী বা আনন্দদায়িনী শক্তি,স্বরূপত উভয়ে একাত্মা বা অভিন্ন হয়েও অনাদিকাল হতে গোলোকে ভিন্ন দেহ ধারণ করে রয়েছেন।তাঁদের একত্বরূপে শ্রীরাধার ভাব ও অঙ্গকান্তিতে সুশোভিত হয়ে প্রকাশিত শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নামক শ্রীকৃষ্ণস্বরূপকে আমি প্রণাম করি।*
*🌺তাৎপর্য‍্য=স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আনন্দদায়িকা শক্তির নাম হ্লাদিনী-শক্তি।হ্লাদিনী-শক্তির ঘনীভূত বিলাসই প্রেম, প্রেমসার-মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীরাধিকাই শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী-শক্তি।শ্রীমতী রাধিকা মহাভাবস্বরূপিনী বলে তাঁকে কৃষ্ণ-প্রণয়-বিকৃতি বলা হয়েছে।*
*আবার রাধা পূর্ণ শক্তি,কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান। শক্তি ও শক্তিমানের অভেদবশত শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণে কোনও ভেদ নেই।তাঁরা একাত্মা। কিন্তু লীলারস আস্বাদনের জন্য তাঁরা পৃথক দেহ ধারণ করে শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যলীলার ধাম শ্রীগোলোকে অনাদিকাল অবস্থান করছেন।এখন এই কলিযুগে সেই দুই দেহ এক আত্মা একদেহে অবস্থান করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে বিরাজিত।তাই শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি অঙ্গীকার করে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর হয়ে এই কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে শ্রীকৃষ্ণই নবদ্বীপে আবির্ভূত হলেন।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ এক আত্মা দুই দেহ ধরি।*
*🌷অন‍্যোন‍্যে বিলয় রস আস্বাদন করি।।*
*🌷সেই দুই এক এবে চৈতন‍্য গোঁসাই।*
*🌷লীলারস আস্বাদিতে হইলা এক ঠাঁই।।*
*🌻এই পদ‍্যটি গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের অতীব আদরের ধন।পুরাণাদি পাঠের পূর্বক্ষণে বৈষ্ণব পাঠকগণ শ্রীগৌরাঙ্গ বন্দনায় শ্রীপাদ স্বরূপের এই বন্দনাটি এখনও অতীব ভক্তিভরে পাঠ করে থাকেন।শ্রীপাদ স্বরূপ এই পদ‍্যে প্রকাশ করলেন, যিনি "রসো বে সঃ" তিনিই শ্রীরাধাকৃষ্ণ,তিনিই রসরাজ রসিকশেখর শ্রীগৌরাঙ্গ।শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা যে লীলারসের মহাভান্ডার এই বস্তুনির্দেশ পদ‍্যেই তা সূচিত হয়েছে।*
*শ্রীগৌরাঙ্গ-অবতারের অনেক প্রকার হেতু নির্দেশ হয়েছে।বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ ভেদে এই হেতু দুই প্রকার।রসতত্ত্বের শিক্ষাগুরু শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর অবতারত্বের গূঢ় গভীর গুহ‍্যতম অন্তরঙ্গ কারণ নির্দেশ করেছেন।শ্রীরাধাপ্রেমের রসাস্বাদনই শ্রীগৌরাঙ্গ-অবতারের মুখ‍্য বীজ।কেবল একমাত্র শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরই এই নিগূঢ় হেতু জগতে প্রকাশ করেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷অবতারের আর এক আছে মুখ‍্য বীজ।*
*🌷রসিকশেখর কৃষ্ণের সেই কার্য‍্য নিজ।।*
*🌷অতি গূঢ় হেতু সেই ত্রিবিধ প্রকার।*
*🌷দামোদর-স্বরূপ হইতে যাহার প্রচার।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি প্রভুর অতি অন্তরঙ্গ।*
*🌷তাহাতে জানেন প্রভুর এ সব প্রসঙ্গ।।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপই জগতে সর্বপ্রথম প্রকাশিত করলেন "শ্রীগৌরাঙ্গ একাধারে শ্রীরাধাকৃষ্ণ"।ঐ যে গৌরদেহে কষিত কাঞ্চনদ‍্যুতি দেখছ সেটি শ্রীমতী রাধিকারই শ্রীঅঙ্গের দ‍্যুতি। কেবল দ‍্যুতি না, মহাপ্রভু আমার মহাভাবস্বরূপিণীর মহাভাবে বিভাবিত। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷রাধিকার ভাব মূর্তি প্রভুর অন্তর।*
*🌷সেই ভাবে সুখ দুঃখ উঠে নিরন্তর।।*
*🌷শেষ লীলায় প্রভুর কৃষ্ণবিরহ উন্মাদ।*
*🌷ভ্রমময় চেষ্টা সদা প্রলাপময় বাদ।।*
*🌷রাধিকার ভাব যৈছে উদ্ধব দর্শনে।*
*🌷সেই ভাবে মত্ত প্রভু রহে রাত্রি দিনে।।*
*🌺শ্রীপাদ স্বরূপই তাঁর কড়চার প্রথম শ্লোকেই তদীয় প্রত‍্যক্ষ দেখা তত্ত্ব জগৎ সমক্ষে অভিব‍্যক্ত করে বললেন, "শ্রীগৌরাঙ্গে ভাব ও দ‍্যুতিরূপে শ্রীমতী রাধিকা প্রকটিতা হয়েছেন।রায় রামানন্দ ও স্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর এই রাধাভাবের প্রত‍্যক্ষ সাক্ষী।ইঁহারা দুইজন শ্রীকৃষ্ণবিরহিনী শ্রীমতীর পার্শ্বস্থা বিশাখা ও ললিতার মত অনুক্ষণ মহাপ্রভুর কাছে থেকে তাঁর বিরহ-বেদনার প্রশমন করতেন।*
*শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের বহুস্থানে এর উল্লেখ আছে,যথা=*
*🌷রাত্রে প্রলাপ করে স্বরূপের কন্ঠ ধরি।*
*🌷আবেশে আপন ভাব কহয়ে উঘারি।।*
*🌺উঘারি=মন খুলে কথা বলা,(আদি ৪র্থ)*
*🌷রাত্রি হইলে স্বরূপ রামানন্দ লঞা।*
*🌷আপন মনের বার্ত্তা কহে উঘারিয়া।।*
                         *(অন্ত‍্য=চতুর্দশে)*
*এত কহি গৌরহরি,দুইজনের কন্ঠ ধরি,*
        *কহে শুন স্বরূপ রামরায়।*
*কাহা কারোঁ কাঁহা যাঙ,কাহা গেলে কৃষ্ণ পাঙ,*
        *দেহ মোরে কহ সে উপায়।।*
*🌷এতমত গৌরহরি প্রতি রাত্রিদিনে।*
*🌷বিলাপ করেন স্বরূপ রামানন্দ সনে।।*
*🌷সেই দুই জন সহ প্রভুর করে আশ্বাসন।*
*🌷স্বরূপ গায়,রায় করে শ্লোক পঠন।।*
                      *(অন্ত‍্যে=পঞ্চদশে)*
*🌻একদিকে ভাব অনুযায়ী শ্লোক পাঠ করাই শ্রীরামরায়ের কাজ ছিল।অন‍্যদিকে সুকন্ঠ দামোদর-স্বরূপ সুধামধুর সঙ্গীতে মূর্তিমান ব্রজরসের সৃষ্টি করে মহাপ্রভুর বিরহতাপের অপনোদন (খন্ডন) করতেন।যথা অন্ত‍্যেরচতুর্দশে=*
*🌷স্বরূপ গোসাঞি করে কৃষ্ণলীলা গান।*
*🌷দুইজনে কৈলা কিছু প্রভুর বাহ‍্যজ্ঞান।।*
*🌷এত কহি মহাপ্রভু মৌন করিলা।*
*🌷রামানন্দ রায় শ্লোক পড়িতে লাগিলা।।*
*🌹শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকারও লিখেছেন।*
*🌷 ভাগবত পাঠ গদাধরের বিষয়।*
*🌷দামোদর-স্বরূপের কীর্তন আশয়।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর-স্বরূপ গুণ গায়।*
*🌷বিহ্বল হইয়া নাচে শ্রীগৌরাঙ্গ রায়।।*
 ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দামোদর-স্বরূপের উচ্চ সংকীর্তন।*
*🌷শুনিলে না থাকে বাহ‍্য পড়ে সেইক্ষণ।।*
*🌷পথ চলিতেও প্রভু দামোদর গানে।*
*🌷নাচেন বিহ্বল হৈয়া পথ নাহি মানে।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর কীর্তন করেন।*
*🌷প্রভুরেও বনে টানে পড়িতে ধরেন।।*
*🌻দামোদর স্বরূপের মত মহাপ্রভুর পরম অন্তরঙ্গ আর কেউ নন।পূজ‍্যপাদ শ্রীচৈতন‍্যভাগবতকার বলেন=*
*🌷সন্ন‍্যাসী পার্ষদ যত মহাপ্রভুর হয়।*
*🌷দামোদর স্বরূপের সমান কেহ নয়।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দামোদর স্বরূপ পরমানন্দ পুরী।*
*🌷সন্ন‍্যাসী পার্ষদে এই দুই অধিকারী।।*
*🌷নিরবধি নিকটে থাকেন দুইজন।*
*🌷প্রভুর সন্ন‍্যাসে করেন দন্ডের গ্রহণ।।*
                  *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
  *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀অতি অন্তরঙ্গ স্বরূপদামোদর শ্রীগৌরাঙ্গমহাপ্রভুর অবতীর্ণ হওয়ার নিগূঢ় কারণ ভক্তজন সমক্ষে প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷শ্রীরাধায়াঃ প্রণয়-মহিমা কীদৃশো বানয়ৈবাস্বাদ‍্যো যেনাদ্ভুতমধুরিমা কীদৃশো বা মদীয়ঃ।*
*🌷সৌখ‍্যং চাস‍্যা মদনুভবতঃ কীদৃশং বেতি লোভাৎতদ্ভাবাঢ‍্যঃ সমজনি শচীগর্ভসিন্ধৌ হরীন্দুঃ।।*
*🌺অন্বয়=শ্রীরাধায়াঃ (শ্রীরাধার) ; প্রণয়মহিমা (প্রেমের মাহাত্ম্য ) ; কী দৃশঃ বা (কেমনই বা) ; যেন (যার দ্বারা) ; অনয়া এব (ইঁহা দ্বারাই অর্থ‍্যাৎ কেবল শ্রীরাধা দ্বারাই) ; আস্বাদ‍্যঃ (আস্বাদনীয়) ; মদীয়ঃ (আমার) ; অদ্ভুত মধুরিমা (অতি আশ্চর্য‍্য মাধুর্য‍্য) ; কীদৃশঃ বা (না জানি কি রকম) ; চ (এবং) ; মদনুভবতঃ (আমাকে অনুভব বা আস্বাদন করে) ; অস‍্যাঃ (এই শ্রীরাধার) ; সৌখ‍্যং (সুখ) ; কীদৃশং বা (কিরকমই বা) ; ইতি লোভাৎ (এই বিষয়ে লোভবশত) ; তদ্ভাবাঢ‍্যঃ (শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে ) ; শচী গর্ভ সিন্ধৌ (শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে) ; হরীন্দুঃ (হরি অর্থ‍্যাৎ কৃষ্ণরূপ চন্দ্র) ; সমজনি (আবির্ভূত হলেন)।*
*🌻অনুবাদ=শ্রীরাধার প্রেমের মাহাত্ম্য কেমন,যার দ্বারা শ্রীরাধা আমার অদ্ভুত মাধুর্য‍্য আস্বাদন করেন, সেই মাধুর্য‍্যই বা কিরকম এবং আমার মাধুর্য‍্য আস্বাদন করে শ্রীরাধা যে সুখ অনুভব করেন,সেই সুখই বা কিরকম, এই তিনটি বিষয়ে লোভ হওয়ায় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র সেই শ্রীরাধার ভাবযুক্ত হয়ে শচীদেবীর গর্ভ-সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।*
*🌹তাৎপর্য‍্য=স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভক্তভাব অঙ্গীকার করে ব্রজলীলায় অনাস্বাদিত শ্রীরাধার প্রেম-মাহাত্ম‍্য, আপন অদ্ভুত-মাধুর্য‍্য এবং স্বমাধুর্য‍্য আস্বাদনে রাধারাণীর সুখের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে শচীদেবীর গর্ভরূপ সমুদ্রে আবির্ভূত হলেন।প্রেমবুভুক্ষু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রেমধনে ধনী প্রেমবিলাসিনী প্রেমসেবিকা শ্রীমতী রাধিকার কাছে "শিষ‍্য নট" বা শিক্ষার্থী মাত্র।শ্রীমতী রাধিকা তাঁর "প্রেমগুরু"।তাই ব্রজলীলায় রাধারাণীর সুদুর্লভ প্রেমসুখ তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) আস্বাদন করতে পারেন নাই।সেই অভাব পূরণ করার জন্য নবদ্বীপ লীলায় রাধাভাবকান্তি নিয়ে পূর্ণ ভগবান নবরূপে পূর্ণ হয়ে আবির্ভূত হলেন।*
*🔵পরমকারুণিক শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এই দুইটি শ্লোক স্বরূপের কড়চা হতে উদ্ধৃত করে পরিস্ফুটভাবে শ্লোক দুইটির ব‍্যাখ‍্যা করেছেন।এই শেষের শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যায় তিনি শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব ও রাধাতত্ত্বের যথেষ্ট আলোচনা করেছেন।তা হতেই জানা যায় রসস্বরূপ শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদর শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রসরাজরূপে দর্শন করতেন।তদীয় কড়চা গ্রন্থও যে রসের সুধামধুর প্রবাহে সর্বত্রই উচ্ছসিত,শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত পাঠ করে সহজেই তার উপলব্ধি হয়।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী স্বরূপ দামোদরের উক্ত শ্লোকের ভাব বিবৃতি করতে করতে লিখেছেন=* 
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য গোসাঞি ব্রজেন্দ্র কুমার।*
*🌷রসময় মূর্তি কৃষ্ণ,সাক্ষাৎ শৃঙ্গার।।*
*🌷সেই রস আস্বাদিতে কৈল অবতার।*
*🌷আনুসঙ্গে কৈল সব রসের প্রচার।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য গোসাঞি রসের সদন।*
*🌷অশেষ বিশেষ কৈল রস আস্বাদন।।*
                       *(আদি=৪র্থ)*
*🌺আবার অন‍্যত্র=*
*🌷কিম্বা প্রেম রসময় কৃষ্ণের স্বরূপ।*
*🌷তার শক্তি তার সহ হয় একরূপ।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷কৃষ্ণের বিচার এক আছয়ে অন্তরে।*
*🌷পূর্ণানন্দ পূর্ণরস রূপ কহে মোরে।।*
*ইহাতেও সেই রসতত্ত্বেরই কথা অভিব‍্যক্ত হয়ে পড়েছে।শ্রীরায় রামানন্দ যখন শ্রীগৌরাঙ্গের প্রকৃত স্বরূপ সন্দর্শন করলেন,তখন তিনি এক অদ্ভুত অলৌকিক রসরাজ মূর্তি সন্দর্শন করে মূর্ছিত হলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ ও শ্রীরামরায় এই দুই পার্ষদ মহাপ্রভুর একান্ত অন্তরঙ্গ।ইহারা উভয়েই শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরকে "রসো বৈ সঃ" বলে প্রকাশ করেছেন। শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা গ্রন্থটি যে শ্রীগৌরাঙ্গ লীলার সুধাময় রসতত্ত্বে পরিসিক্ত,গ্রন্থটি পাঠ করলেই তা জানা যায়।প্রধানতঃ কোন কোন গ্রন্থাবলম্বনে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের কোন কোন অংশে বিরচিত হয়েছে, শ্রীগ্রন্থকার বহু স্থানে তার পরিচয় প্রদান করে রেখেছেন। শ্রীকবিরাজ লিখেছেন=*
*🌷দামোদর স্বরূপ আর গুপ্ত মুরারি।*
*🌷মুখ‍্য মুখ‍্য লীলাসূত্র লিখিয়াছে বিচারি।।*
*🌷সেই অনুসারে লিখি লীলাসূত্রগণ।*
*🌷বিস্তারি বলিয়াছেন তাহা দাস বৃন্দাবন।।*
*🌻মহাপ্রভুর কৃপায় মুরারি কড়চা এখন প্রকাশিত। কিন্তু হায় "স্বরূপের কড়চা" কোথায়! শ্রীকবিরাজ কোন লীলা কোন কড়চা হতে সংগৃহীত করেছেন,তাও তার গ্রন্থে স্পষ্টভাবেই লিখিত আছে। যথা=*
*🌷আদিলীলার মধ্যে প্রভুর যতেক চরিত।*
*🌷সূত্ররূপে মুরারিগুপ্ত করিলা গ্রথিত।।*
*🌷প্রভুর যে শেষলীলা স্বরূপ-দামোদর।*
*🌷সূত্র করি রাখিলেন গ্রন্থের ভিতর।।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের বিশেষত্ব এই যে এতে আদিলীলা বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়নি।কেবল সূত্রমাত্র উল্লিখিত হয়েছে।এরকম কেন হল,তা সহজেই বুঝা যেতে পারে।শ্রীকবিরাজ দেখলেন পূজ‍্যপাদ শ্রীমদ্ বৃন্দাবনদাস ঠাকুর মহাশয় গুপ্ত মহাশয়ের কড়চার সূত্র শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে বিস্তৃতরূপে বর্ণিত করেছেন।এমন কি জায়গায় জায়গায় সেটির বিশুদ্ধ অনুবাদ করে রেখেছেন। সুতরাং আদিলীলার সূত্রনিবহের বিস্তৃতির আর প্রয়োজন কি?শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে মহাপ্রভুর বিপ্রলম্ভরসময়ী সুধামধুরা গম্ভীরালীলার ইঙ্গিত আছে বটে, কিন্তু শ্রীচৈঃচঃ এ এই লীলা যেরকম বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে সেরকম প্রণালী অবলম্বিত হয় নাই। কেন হয় নাই, কবিরাজ গোস্বামী স্বয়ং তাঁর কারণ লিখেছেন, যথা=*
*🌷নিত‍্যানন্দ লীলা বর্ণনে হইল আবেশ।*
*🌷চৈতন‍্যের শেষ লীলা রহিল অবশেষ।।*
   ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷আর যত বৃন্দাবনবাসী ভক্তগণ।*
*🌷শেষ লীলা শুনিতে সবার হইল মন।।*
*🌷মোরে আজ্ঞা করিলা সবে করুণা করিয়া।*
*🌷তা সবার আজ্ঞায় লিখি নির্লজ্জ হৈঞা।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷বৃন্দাবন দাসের পাদপদ্ম করি ধ‍্যান।*
*🌷তার আজ্ঞা লঞা লিখি যাহাতে কল‍্যাণ।।*
*🌷চৈতন‍্য লীলাতে ব‍্যাস বৃন্দাবন দাস।*
*🌷তার কৃপা বিনে কিছু না হয় প্রকাশ।।*
*🌷মূর্খ নীচ ক্ষুদ্র মুঞি বিষয় লালস।*
*🌷বৈষ্ণবাজ্ঞা বলে করি এতেক সাহস।।*
*🌷শ্রীরূপ রঘুনাথ চরণের এই বল।*
*🌷যার স্মৃতে সিদ্ধ হয় বাঞ্জিত সকল।।*
                  *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
    *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
    🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন‍্যভাগবতের অনভিব‍্যক্ত (যাহা প্রকাশ করা হয় নাই) সেইসব লীলা সবিস্তারে লিখতে রত হয়ে বিশুদ্ধ বৈষ্ণবচরিত্রসুলভ দীনতা প্রকাশ করেছেন।ফলে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চা ও শ্রীমদ্ দাস গোস্বামীর কড়চাই এই লীলা বর্ণনে তাঁর প্রধানতম অবলম্বন।শেষ লীলায় শ্রীপাদ স্বরূপই শ্রীমন্মহাপ্রভুর নিত‍্যসহচর ছিলেন।স্বরূপদামোদর সতত মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে বিচরণ করতেন,যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে ঃ---*
*🌷 দামোদর স্বরূপ পরমানন্দপুরী।*
*🌷সন্ন‍্যাসী পার্ষদে এই দুই অধিকারী।।*
*🌷নিরবধি নিকটে থাকেন দুইজন।*
*🌷প্রভুর সন্ন‍্যাসে করে দন্ডের গ্রহণ।।*
*🌷অহর্নিশ গৌরচন্দ্র সঙ্কীর্ত্তন রঙ্গে।*
*🌷বিহরেন দামোদর স্বরূপের সঙ্গে।।*
*🌷কি শয়নে কি ভোজনে কিবা পর্য‍্যটনে।*
*🌷দামোদরে প্রভু না ছাড়েন কোন ক্ষণে।।*
*🌻শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর প্রিয়তম নিত‍্যসহচর শ্রীপাদ স্বরূপ-দামোদরের কড়চা,শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর কড়চা ও তদীয় শ্রীমুখের উপদেশামৃত প্রভৃতি হতে সংগ্রহ করেই যে শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শেষ-লীলা বর্ণন করেছেন তাঁর গ্রন্থেই তা প্রকাশিত হয়েছে।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামীর স্বীয় (নিজ) মুখে গৌর-লীলা কাহিনী শুনেছিলেন।দাস গোস্বামী শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের অতি প্রিয়পাত্র ছিলেন।শ্রীপাদ স্বরূপ মহাপ্রভুর শেষ লীলার নিগূঢ় মর্ম্ম ইঁহাকে অবগত করিয়েছিলেন।দাস গোস্বামীর শ্রীমুখে সেই গম্ভীরা লীলা শ্রবণ করেই শ্রীল কবিরাজ সেটির বর্ণন করেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে ঃ---*
*চৈতন‍্য লীলা রত্নসার,স্বরূপের ভান্ডার,*
        *তিঁহ থুইল রঘুনাথের কন্ঠে।*
*তাহা কিছু যে শুনিল,তাহা ইহা বিস্তারিল,*
       *ভক্তগণ দিল এই ভেটে।।*
          *(মধ‍্যলীলা=২য় পরিচ্ছেদ)*
*🌻অন্ত‍্য লীলাই শ্রীল কবিরাজ গোস্বামী প্রণীত শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের এক প্রধান বিশিষ্টতা।এই লীলা প্রেমরাজ‍্যের দুরবগাহ (যা সহজে বোধগম্য হয় না,বা যে বিষয়ের মধ্যে সহজে প্রবেশ করা যায় না,দুষ্প্রবেশ) মহাভাবের মহোচ্ছ্বাস।এটি অতি দুর্ব্বোধ‍্য(যা বোধগম্য হওয়া কঠিন)।ভাষায় এটির অভিব‍্যক্তি আদৌ অসম্ভব।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তাই লিখেছেন ঃ--*
*🌷 প্রভুর বিরহোন্মাদ ভাব গম্ভীর।*
*🌷বুঝিতে না পারে কেহ যদ‍্যপি হয় ধীর।।*
*🌷বুঝিতে না পারি যাহা বর্ণিতে কে পারে।*
*🌷সেই বুঝি,বর্ণে--চৈতন‍্য শক্তি দেন যারে।।*
*🌻এই দুর্গম দুরবগাহ লীলা-সাম্রাজ‍্যে শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীমদ্ রঘুনাথ দাস গোস্বামী কবিরাজ শ্রীকৃষ্ণদাসের পথ-প্রদর্শক। কেন না,অন‍্যান‍্য কড়চা গ্রন্থে এই লীলার বিষয় আলোচিত হয় নাই। কেবল শ্রীপাদ স্বরূপ ও শ্রীমদ্ দাস গোস্বামীর কড়চাতেই এই ভাব-গম্ভীর মহালীলা জগতে প্রকাশ পেয়েছেন।অন‍্যান‍্য কড়চা-কর্ত্তারা তখন দূর দেশে ছিলেন,তাঁদের কড়চাতে এই লীলার উল্লেখ দেখা যায় না।যথা শ্রীচরিতামৃতে ঃ---*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই আর রঘুনাথ দাস।*
*🌷এই দুইয়ের কড়চাতে এ লীলা প্রকাশ।।*
*🌷সেই কালে এই দুই রহে প্রভু পাশে।*
*🌷আর সব কড়চা-কর্তা রহে দূর দেশে।।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে অনুভাবি এই দুই জন।*
*🌷সংক্ষেপে বাহুল‍্যে কৈল কড়চা গ্রন্থন।।*
*🌷স্বরূপ সূত্র কর্ত্তা, রঘুনাথ বৃত্তিকার।*
*🌷তাহার বাহুল‍্যে বর্ণি পঞ্জি টীকা ব‍্যবহার।।*
*🌻শেষ লীলা বর্ণনে শ্রীপাদ স্বরূপের কড়চাই শ্রীল কবিরাজ গোস্বামীর প্রধানতম আশ্রয়।তিনি অন‍্যত্রও লিখেছেন ঃ----*
*স্বরূপ গোসাঞীর মত, রঘুনাথ জানে যত,*
         *তাহা লিখি নাহি মোর দায়।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অন্ত‍্যলীলায় পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের অন্তে লিখিত হয়েছে ঃ---*
*🌷প্রলাপ সহিতে এই উন্মাদ বর্ণন।*
*🌷স্বরূপ গোঁসাই ইহা করিয়াছেন বর্ণন।।*
*🍀এই শ্রীগ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবত,কৃষ্ণকর্ণামৃত,জগনাথ বল্লভ নাটক প্রভৃতির শ্লোকও তার বঙ্গানুবাদই প্রলাপ বর্ণনে ব‍্যবহৃত হয়েছে। নিম্ন লিখিত শ্লোকটি মূল কড়চার শ্লোক বলেই অনুমিত হয়,যথা ঃ----*
*🌷প্রাপ্তপ্রণষ্টাচ‍্যুতবিত্ত আত্মা,*
*🌷যযৌ বিষাদোজ্ ঝিত দেহগেহঃ,*
*🌷গৃহীত কাপালিকধর্ম্মকো মে,*
*🌷বৃন্দাবনং সেন্দ্রিয়শিষ‍্যবৃন্দঃ।*
                     *(অন্ত‍্য ১৪ পরিচ্ছেদ)*
*🍀অন্বয়=প্রাপ্তপ্রণষ্টাচ‍্যুতবিত্ত (শ্রীকৃষ্ণরূপ ধনকে প্রথমে পেয়ে পরে হারিয়ে); মে আত্মা(আমার মন) ; বিষাদোজ্ঝিতদেহগেহ (বিষাদে দেহরূপ গৃহকে পরিত‍্যাগ করে) ; গৃহীত-কাপালিকধর্মকঃ (কাপালিক ধর্ম গ্রহণ করে) (কাপালিক বলতে বলা হয়েছে =বামাচারী তান্ত্রিক,ইহারা হাতে নরকপালের অর্দ্ধাংশ ধারণ করে সেটিতেই তাদের পান ও ভোজন পাত্র, এবং গলায় অস্থিমালা,কপালে চিতাভস্ম ও অঙ্গারের তিলক রচনা করে); সেন্দ্রিয়শিষ‍্যবৃন্দঃ (ইন্দ্রিয়রূপ শিষ‍্যবৃন্দের সহিত) ; বৃন্দাবনং যযৌ (বৃন্দাবনে গমন করেছে)।*
*🌻অনুবাদ=আমার মন শ্রীকৃষ্ণরূপ ধনকে প্রথমে পেয়ে পরে হারিয়েছি ; তাই বিষাদে দেহরূপ গৃহকে পরিত‍্যাগ করে কাপালিক ধর্ম গ্রহণ করে ইন্দ্রিয়রূপ শিষ‍্যবর্গের সঙ্গে শ্রীবৃন্দাবনে চলে গেছে।*
*🌹শ্রীল কবিরাজ গোস্বামী পদে ইহার এইরকম বঙ্গানুবাদ করেছেন,যথা ঃ----*
*প্রাপ্ত কৃষ্ণ হারাইয়া,তার গুণ সোঙরিয়া,*
         *মহাপ্রভু সন্তাপে বিহ্বল।*
*রায় স্বরূপের কন্ঠ ধরি,কহে "হাহা হরি হরি",*
         *ধৈর্য‍্য গেল হইল চপল।।*
         *শুন বান্ধব কৃষ্ণের মাধুরী।*
*যার লোভে মোর মন,ছাড়ি লোক বেদধর্ম,*
        *যোগী হইয়া হইল ভিখারী।।*
*কৃষ্ণ লীলামন্ডল,শুদ্ধ শঙ্খ কুন্ডল,*
        *গড়িয়াছ শুক কারিকর।*
*সেই কুন্ডল কানে পড়ি,তৃষ্ণা লাউ থালি ধরি,*
       *আশা ঝুলি কান্দের উপর।।*
*চিন্তা কাঁথা উড়ি গায়,ধূলি বিভূতি মলিন গায়,*
       *হা হা কৃষ্ণ প্রলাপ-উত্তর।*
*উদ্বেগ দ্বাদশ হাতে,লোভের ঝুলনী মাথে,*
      *ভিক্ষাভাবে ক্ষীণ কলেবর।।*
  ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*দশেন্দ্রিয় শিষ‍্য করি,মহা বাউল নাম ধরি,*
         *শিষ‍্য লঞা করিল গমন।*
*মোর দেহ স্বসদন,বিষয়-ভোগ মহাধন,*
        *সব ছাড়ি গেল বৃন্দাবন।।*
*বৃন্দাবনে প্রজাগণ,যত স্থাবর জঙ্গম,*
        *বৃক্ষলতা গৃহস্থ আশ্রমে।*
*তার ঘরে ভিক্ষাটন,ফলমূল পত্রাসন,*
       *এই বৃত্তি করে শিষ্য সনে।।*
*কৃষ্ণ গুণ রূপরস,গন্ধ শব্দ পরশ,*
        *সে সুধা আস্বাদে গোপীগণ।*
*তা সভার গ্রাস শেষ,আনে পঞ্চেন্দ্রিয় শিষ্য,*
        *সে ভিক্ষায় রাখেন জীবন।।*
*শূন‍্য কুঞ্জ মন্ডপ কোণে,যোগাভ‍্যাস কৃষ্ণ ধ‍্যানে,*
        *তাঁহা রহে লঞা শিষ‍্যগণ।*
*কৃষ্ণ আত্মা নিরঞ্জন,সাক্ষাৎ দেখিতে মন,*
      *ধ‍্যানে রাত্রি করে জাগরণ।।*
*মন কৃষ্ণ বিয়োগী,দুঃখে মন হল যোগী,*
       *সে বিয়োগে দশদশা হয়।*
*সে দশায় ব‍্যাকুল হঞা,মন গেল পলাইয়া,*
      *শূন‍্য মোর শরীর আলয়।।*
*🌻এই পদের অর্থ অতি সুগম্ভীর।কাপালিক ধর্মে তত্ত্ব সাক্ষাৎকার জন্য কঠোর বৈরাগ‍্য,উৎকট ব‍্যাকুলতা ও তীব‍্যযোগের অনুষ্ঠান লক্ষিত হয়।কাপালিকের বাহ‍্য চিহ্নাদির স্থলে এখানে ব্রজরসের তরঙ্গ ভূষণে অতি চমৎকার রূপক কল্পনা করা হয়েছে।*
                    *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
    *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*
     ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀এখানে ব্রজরসের তত্ত্ব ভূষণে অতি চমৎকার রূপক কল্পনা করা হয়েছে।শ্রীচন্ডীদাস লিখেছেন=*
*সদাই ধেয়ানে, চাহে মেঘ পানে,*
          *না চলে নয়ন তারা।*
*বিরতি আহারে, রাঙ্গা বাস পরে,*
        *যেমন যোগিনী পারা।।*
*🍀অন‍্যত্রও এই ভাবের একটি পদ আছে,যথা=*
*বঁধূর লাগিয়া, যোগিনী হইব,*
           *কুন্ডল পড়িব কানে।*
*🍀এইরকম মহাভাবের ব‍্যাকুলতা আমাদের সীমাবদ্ধ সঙ্কীর্ণ ভাষায় পরিস্ফুট করা অসম্ভব।*
*🍀কড়চার শ্লোকের ন‍্যায় আরও একটি শ্লোক "মধ‍্য লীলায় দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে" প্রলাপ-সূত্র-বর্ণনে দেখা যায়, যথা=*
*🌷শ্রীকৃষ্ণরূপাদি নিষেবণং বিনা,*
*🌷ব‍্যর্থানি মেহহান‍্যখিলেন্দ্রিয়াণ‍্যলম্।*
*🌷পাষাণ-শুষ্কেন্ধন-ভারকাণ‍্যহো,*
*🌷বিভর্ম্ভি বা তানি কথং হতত্রপঃ।।*
*🍀অন্বয়=শ্রীকৃষ্ণরূপাদিনিষেবণং বিনা (শ্রীকৃষ্ণের রূপাদির সেবা ব‍্যতীত)(নিষেবণ=সেবা) ; মে অহানি (আমার দিনগুলি) ; অখিলেন্দ্রিয়াণি (এবং ইন্দ্রিয়সকল) ; অলং ব‍্যর্থানি (সম‍্যকরূপে ব‍্যর্থ) ; হতত্রপঃ (নির্লজ্জ) ; [সন] (হইয়া) ; পাষাণ শুষ্কেন্ধনভারকাণি তানি (পাষাণ ও শুষ্ক ইন্ধনের ন‍্যায় সেই সমস্ত দিন ও ইন্দ্রিয়বর্গকে) ; অহো কথং বা ধারয়ামি (আহা কিভাবেই বা ধারণ করি)।*
*🍀অনুবাদ=শ্রীকৃষ্ণের রূপাদির সেবা ছাড়া আমার দিনগুলো এবং ইন্দ্রিয়গুলো সমস্তই বিফল।আহা! পাষাণ বা পাথর ও শুকনো কাঠের মত বোঝাস্বরূপ এই ইন্দ্রিয়গুলোকেই বা আমি নিলজ্জ হয়ে কেমন করে বহন করি,আর দিনগুলোকেই বা কেমন করে যাপন করি।*
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী ইহার এইরকম অনুবাদ করেছেন ঃ--*
*বংশীগানামৃতধাম,লাবণ‍্যামৃত-জন্মস্থান,*
        *যে না দেখে সে চাঁদবদন।*
*🌹বংশীগানামৃতধাম=বংশীগানরূপ অমৃতের আশ্রয়। লাব‍ণ‍্যামৃত জন্মস্থান=সৌন্দর্য‍্যরূপ, অমৃতের উৎপত্তিস্থান।*
*সে নয়নে কিবা কাজ,পড়ু তার মাথে বাজ,*
        *সে নয়ন রহে কি-কারণ।।*
   *সখী হে!শুন মোর হতবিধি বল।*
*🌹হতবিধি বল=দুর্দৈব বল ; দূরদৃষ্টের শক্তি।*
*মোর বপু চিত্ত মন,সকল ইন্দ্রিয়গণ,*
        *কৃষ্ণ-বিনু সকল বিফল।।*
*কৃষ্ণের মধুরবাণী,অমৃতের তরঙ্গিনী,*
      *তার প্রবেশ নাহি সে শ্রবণে।*
*কাণাকড়ি ছিদ্রসম,জানিহ সেই শ্রবণ,*
       *তার জন্ম হইল অকারণে।।*
*মৃগমদ নীলোৎপল,মিলনে যে পরিমল,*
        *যেই হরে তার গর্ব মান।*
*হেন কৃষ্ণ-অঙ্গ-গন্ধ,যার নাহি সে সম্বন্ধ,*
       *সেই নাসা ভস্ত্রের সমান।।*
*🍀ভস্ত্রা=কর্মকার বা স্বর্ণকারের হাফর।*
*কৃষ্ণের অধরামৃত,কৃষ্ণগুণ-চরিত,*
      *সুধাসার-স্বাদু-বিনিন্দন।*
*🍀সুধাসারস্বাদবিনিন্দন=অমৃতের সারের স্বাদ পর্যন্ত যার দ্বারা নিন্দিত হয়ে থাকে।*
*তার স্বাদ যে না জানে,জন্মিয়া না মৈল কেনে,*
         *সে রসনা ভেকজিহ্বা সম।।*
*🍀ভেকজিহ্বা সম=ভেক বা ব‍্যাঙ জিহ্বা দ্বারা কোনো রসই আস্বাদন করতে পারে না।বরং বর্ষাকালে ভেকের জিহ্বা যে শব্দ করে,তার দ্বারা সাপকে আহ্বান করে নিজের মৃত‍্যুকেই ডেকে আনে।এইরকম যে জিহ্বা শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃত গ্রহণ করতে পারে না,শ্রীকৃষ্ণের গুণলীলা-কীর্তন করতে পারে না, সে জিহ্বাও কালসর্প-সম অকল‍্যাণ বা ত্রিতাপ জ্বালাকেই আহ্বান করে।*
*কৃষ্ণ-কর-পদতল,কোটি চন্দ্র সুশীতল,*
       *তার স্পর্শ যেন স্পর্শমণি।*
*তার স্পর্শ নাহি যার,সে যাউক ছারখার,*
       *সেই বপু লৌহসম গণি।।*
*🍀লৌহসম গণি=কঠিন লোহা যেমন কর্মকারের আগুনে পোড়ে এবং হাতুড়ির দ্বারা আঘাত পেয়ে থাকে,তেমনি যে দেহ শ্রীকৃষ্ণের কর-পদতলের স্পর্শ পায়নি,তা ত্রিতাপ জ্বালায় পুড়তে থাকে এবং কাম-ক্রোধাদির পদাঘাত পেতে থাকে।*
*🌻শ্রীপাদ স্বরূপের সমগ্র কড়চা গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় লিখিত বলেই আমাদের বিশ্বাস, এবং সেটি সূত্রাকারে বর্ণিত।শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় প্রলাপে উক্ত শ্লোকগুলির পদ‍্যে যে ব‍্যাখ‍্যা করেছেন আমাদের বোধহয় মূল শ্লোক অপেক্ষাও অধিকতর(অনেক বেশী) উচ্ছাসময়ী,অনেক বেশী প্রশান্ত গম্ভীর ও অনেক বেশী মর্ম্মস্পর্শিনী হয়েছে। শ্রীচরিতামৃতের প্রলাপের পদ‍্যগুলি প্রেমিকভক্তের পক্ষে প্রকৃতই হৃৎকর্ণের রসায়ন। শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীস্বরূপকে ব্রজরসের শ্লোক পাঠ করবার জন্য অনুরোধ করে বলতেন=*
*🌷কর্ণ তৃষ্ণায় মরে,পড় রসায়ন, শুনি।*
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ মহাশয় প্রকৃতই রসময় গোলোকের কবিরাজ।তাঁর গ্রথিত এক একটি প্রলাপ-পদ ভাব-সাগরের কোটি কোটি মহাতরঙ্গের লীলাস্থলী।আমি অতি অধম, কিন্তু প্রলাপ পদপাঠে এ অধমের মলিন প্রাণও আকুল এবং উদাস হয়ে উঠে।ভবভূতির অমন উচ্ছ্বাসময়ী কবিতা পড়েছি, মহানাটকের উচ্ছ্বাসময় পদগুলিও আস্বাদন করেছি, চন্ডীদাসে বিরহ কবিতায় মৃদু কাকলীর করুণরবও এ কানে প্রবেশ হয়েছে, কিন্তু শ্রীপাদ কবিরাজের বিরহ-উন্মাদের পদসুধালহরী পাঠে বিরহের তীব্র ব‍্যাকুলভাবে হৃদয়ক্ষেত্রকে যেরকম উদ্বেলিত করে তোলে,কি জানি কি এক উন্মাদিনী শক্তির প্রভাবে চিত্তবৃত্তিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যেরকম আকুল করে দেয়, এমন ভাব আর কিছুতেই অনুভূত হয় নাই।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 অষ্টম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
       *শ্রীস্বরূপের কড়চা ও চরিতামৃত*

*🍀কি জানি কি এক উন্মাদিনী শক্তির প্রভাবে চিত্তবৃত্তিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্য যেরকম আকুল করে দেয়,এমন ভাব আর কিছুতেই অনুভূত হয় নাই।শুনুন এই পদটি=*

*এই কৃষ্ণের বিরহে, উদ্বেগে মন স্থির নহে,*
          *প্রাপ্ত‍্যু পায় চিন্তন না যায়।*
*যেবা তুমি সখীগণ, বিষাদে বাউল মন,*
        *কারে পুছ,কে কহে উপায়।।*
*কাঁহা করোঁ কাঁহা যাঙ,কাহা গেলে কৃষ্ণ পাঙ,*
           *কৃষ্ণ বিনু প্রাণ মোর যায়।।*
*হাহা কৃষ্ণ প্রাণধন, হাহা পদ্মলোচন,*
           *হাহা দিব‍্য সদ্ গুণ নাগর।*
*হাহা শ‍্যামসুন্দর, হাহা পীতাম্বর ধর,*
           *হাহা রাসবিলাস সাগর।।*
*কাঁহা গেলে তোমা পাই,তুমি কহ তাহা যাই,*
            *এত কহি চলিলা ধাইয়া।*
*স্বরূপ উঠি কোলে করি,প্রভুরে আনিলা ধরি,*
            *নিজ স্থানে বসাইল লৈয়া।।*
*🌻যথা, শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷রামানন্দের গলা ধরি করে প্রলাপন।*
*🌷স্বরূপে পূছয়ে মানি নিজ সখীজন।।*
*🌷পূর্বে যেন বিশখাকে রাধিকা পুঁছিল।*
*🌷সেই শ্লোক পড়ি প্রলাপ করিতে লাগিল।।*
*🌹🌹যথা ললিত-মাধবে=৩|২৫ পাই*
   °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷ক্ব নন্দকুলচন্দ্রমা ক্ব শিখিচন্দ্রিকালঙ্কৃতিঃ।*
*🌷ক্ব মন্দ্রমুরলীরব ক্ব নু সুরেন্দ্রনীলদ‍্যুতিঃ।।*
*🌷ক্ব রাসরসতান্ডবী ক্ব সখীজীবরক্ষৌষধি।*
*🌷নিধির্ম্মম সুহৃত্তমঃ ক্ব বত হন্ত হা ধিগ্বিধিম্।।*
*🌳সখি!নন্দকুলচন্দ্রমা কোথায়? সেই শিখিচন্দ্রিকা ভূষণ কোথায়? মন্দ্রমুরলী ধ্বনিকর শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?সেই ইন্দ্রনীলমণিদ‍্যুতি কোথায় ? সেই রাসরসতান্ডবী কোথায় ? সখি! আমার প্রাণরক্ষার মহৌষধি কোথায় ?হায়! এখন আমার সেই সুহৃত্তম কোথায় ? হায়!হায়! আমার এমন প্রিয়তম প্রাণেশ্বরের সঙ্গে যে আমায় বিযুক্ত করিল, সেই বিধিকে শতবার ধিক্।*
*🌻শ্রীরাধাপ্রেম মহিমার কি পূর্ণ আস্বাদন! কেমন তীব্র ব‍্যাকুলতা! ছায়া ও আলোক রেখার মত বাইরের জগতের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণময় জগতের কেমন সূক্ষ্ম মেশামেশি! আবার এই অর্দ্ধ বাহ‍্য দশা হতেই সহসা যখন মহাপ্রভুর অন্তর্দশার ভাব উপস্থিত হয়,তখনই মহাপ্রভু অচেতন হয়ে পড়েন।তাঁর মুখে কথা নেই,নাকে শ্বাস নেই,নয়নে পলক নেই,নেত্র উত্তান,তারা স্থির।তিনি নিস্পন্দ,নিঃশব্দ,লীলানুধ‍্যানে পূর্ণ নিমগ্ন।*
*🌺একদিন চটকপর্বত দেখে হঠাৎ মহাপ্রভুর গোবর্দ্ধন বলে ভ্রম হ'ল,তিনি অমনি শ্রীভাগবতের=*
*🌷হন্তাযমদ্রিরবলা হরিদাসবর্য‍্যঃ*
*🌻এই পদ‍্য পাঠ করতে করতে পর্বতাভিমুখে সবেগে ধাবিত হলেন।ভক্তগণ ইদানিং "মহাপ্রভুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবসময়ই সতর্ক থাকতেন,চারিদিকে "ফুকার" চিৎকার পড়ল, মহাপ্রভু পর্বতের দিকে নক্ষত্রবেগে ধাবিত হয়েছেন! ভক্তগণ দৌড়িলেন, কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যদেবের সঙ্গে দৌড়াতে পারেন এমন শক্তি কার? সুতরাং সকলেই অনেক পেছনে পড়ে রইলেন, কিন্তু অতি অল্পক্ষণের মধ্যেই মহাপ্রভুর গতি স্তম্ভিত হল, মহাভাবে তাঁর শ্রীদেহ একেবারে অবশ হয়ে পড়ল,তনি বাতাহত কদলীর ন‍্যায় মাটিতে পড়লেন, প্রতি রোমকূপে কদম্বের মত পুলক-কদম্ব দেখা দিল, ঘামে ও রক্তোদ্গমে তাঁর শ্রীঅঙ্গ পরিসিক্ত হয়ে গেল।নয়নযুগল হতে শ্রাবণের ধারার মত অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল।ভাবনিধি গৌরসুন্দরের মুখে বাক‍্য নেই,কন্ঠে ঘর্ঘর শব্দ হচ্ছে, শ্রীঅঙ্গ একেবারে সাদা হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় গোবিন্দ ও স্বরূপদামোদর অনেক যত্নে গৌরচন্দ্রকে সচেতন করলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ বাহ‍্যজ্ঞান পেয়ে বললেন, "একি হল তোমরা একি করলে, আমি গোবর্দ্ধনের কন্দরায় শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের রহঃকেলি দর্শন সুখে মগ্ন ছিলাম। হায়!তোমরা আমায় বৃথা দুঃখ দিতে এখানে আনলে কেন? যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷কেন বা আনিলে মোরে বৃথা দুঃখ দিতে।*
*🌷পাইয়া কৃষ্ণের লীলা না পাইলুঁ দেখিতে।।*
*🌻এইকথা বলে ভাবনিধি গৌরহরি অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন।*
*🌸প্রিয়পাঠক,একবার এই করণাবিগ্রহের এই অবস্থার শ্রীমূর্তি ও প্রলাপ মনে ভাবুন দেখি। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী আবেশে বিরহ-উন্মত্ত শ্রীগৌরাঙ্গ-রূপ-সন্দর্শন না করলে কি এই চিত্র এঁকে তুলতে পারতেন?*
*🌻এই সুচিক্কণ সুনির্মল এবং অলৌকিক প্রেম-উন্মাদ-ভাবময় গোলোক-সুধার ঘনীভূত চিত্রটি এই মলিন ও কর্কশ হাতে এখন আর বেশীক্ষণ ধরে দেখতে বা দেখাতে সাহস পাচ্ছি না।কি জানি কি করতে কি করে ফেলিব।মহাপ্রভুর কৃপানুমতি ও ভক্তগণের আশীর্বাদ পাইলে সময়ান্তরে আবার এই বিষয়ে সচেষ্ট হওয়ার বাসনা রইল।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থের কথা যা বলছিলাম এক্ষণে তারই আর একটু বলে উপসংহার করছি।গ্রন্থটি অশেষ পান্ডিত‍্যপূর্ণ। শ্রীমদ্ভাগবতের সার-স্বরূপ বহুল শ্লোকরত্নে এটির কলেবর সমলঙ্কৃত।তাছাড়াও অলঙ্কার শাস্ত্র,অভিজ্ঞান শকুন্তলা,অমরকোষ, আদিপুরাণ,উজ্জ্বলনীলমণি,উত্তর চরিত্র,উদ্বাহতত্ত্ব,উপপুরাণ,একাদশীতত্ত্ব,কড়চা (মুরারিকৃত) কড়চা (রূপ গোস্বামী, কড়চা (স্বরূপ গোস্বামী) কড়চা (রঘুনাথ দাস গোস্বামীকৃত) কাব‍্য প্রকাশ, কিরাতার্জ্জুনীয়, কৃষ্ণকর্ণামৃত,গীতগোবিন্দ,গোপীপ্রেমামৃত, গোবিন্দলীলামৃত,গৌতমীয় তন্ত্র,(বৃহৎও লঘু) শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয়, চৈতন‍্যভাগবত, জগন্নাথ বল্লভ নাটক,দানকেলী কৌমুদী, নাটকচন্দ্রিকা,নামকৌমুদী, নারদীয় পুরাণ, (বৃহৎ ও লঘু), নৃসিংহপুরাণ,নৈষধ,ন‍্যায়,পঞ্চদশী, পদ্মপুরাণ, পদ্মাবলী,পাণিনি,বিদগ্ধমাধব, বিশ্বপ্রকাশ, বিষ্ণুপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ,ব্রহ্ম সংহিতা, ব্রহ্মান্ড পুরাণ,ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, ভগবদ্গীতা, ভাগবতসন্দর্ভ,ভাবার্থদীপিকা,মনু,মহাভারত, যামুনাচার্য‍্যস্তব,রঘুবংশ,ললিতমাধব, শাঙ্করভাষ‍্য,ষট্ সন্দর্ভ,স্তবমালা (শ্রীরূপ ও রঘুনাথকৃত), সামুদ্রিক,সাহিত‍্যদর্পণ, হরিভক্তিবিলাস ও হরিভক্তি সুধোদয় প্রভৃতি নানান গ্রন্থ হতে সারগর্ভ বচনাদি উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু এ সমস্ত এই গ্রন্থের বহিরঙ্গ গৌরব।ভক্তি প্রেম ও ভগবন্মাধুর্য‍্যই এই গ্রন্থের প্রাণ, শ্রীগৌরাঙ্গই ইঁহার আত্মা।*
*🌹সুতরাং এই শ্রীগ্রন্থটি প্রেমিক ভক্তের নিত‍্য আস্বাদ‍্য,গৌড়ীয় বৈষ্ণববৃন্দের পরমারাধ‍্য। স্পর্দ্ধার সহিত বলা যেতে পারে, ধর্মের উচ্চতমতত্ত্বপূর্ণ এমন গ্রন্থ আর নাই। স্বয়ং ভগবান শ্রীগৌরচন্দ্র এই শ্রীগ্রন্থে সততই সমুদিত।ইহার প্রতি ছত্রই অমৃতবর্ষী।প্রতি ছত্রই গোলোকের আনন্দ সুধায় পরিপ্লুত।ইহার প্রত‍্যেক কথায় সূত্রবৎ-বহুলতত্ত্বনিবহে পরিপূর্ণ, এবং প্রত‍্যেক উক্তিই আনন্দ তত্ত্বের অক্ষয় উৎস।শ্রীপাদ কবিরাজ শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত সম্বন্ধে বলেছেন=*
*🌷মনুষ‍্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন‍্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন‍্য।।*
*🌻আমরা তাঁরই পদের অনুসরণ করে বলছি=*
*🌷মনুষ‍্যে রচিতে নারে ঐছে গ্রন্থ ধন‍্য।*
*🌷বৃন্দাবন দাস মুখে বক্তা শ্রীচৈতন‍্য।।*
*🌻গ্রন্থের উপসংহারে স্বয়ং গ্রন্থকার মহাবিনীত ভাবে লিখেছেন=*
*🌷"আমি লিখি " এহো মিথ‍্যা করি অভিমান।*
*🌷আমার শরীর কাষ্ঠ পুতলী-সমান।।*

*🙏শ্রীস্বরূপ-দামোদর গ্রন্থটি এখানেই বিরাম হ'ল, বানান, ভুল,ভ্রান্তি হয়ত অনেক হয়েছে, নিজগুণে ক্ষমা করবেন।*
*🙌জয় জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরি বল🙏🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ১. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*মধুর-মধুরমেতৎ মঙ্গলং মঙ্গলানাং,*
*সকল নিগম-বল্লী-সৎফলং চিৎ স্বরূপম্ ;*
*সকৃদেব পরিগীতং হেলয়া শ্রদ্ধয়া বা,*
*ভৃগুবর!নরমাত্রং তারয়েৎ কৃষ্ণ-নাম।*
*🌻লেখক--শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ, পুরীধামস্থ শ্রীশ্রীগৌরগম্ভীরা মন্দির হতে প্রকাশিত।*
*🌻১৩৩১ সাল, ফাল্গুন মাস,শ্রীশ্রীগৌর-পূর্ণিমা, গ্রন্থমূল‍্য-- একটাকা মাত্র।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
           *🙏শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম🙏*
              🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀প্রায় সকল ধর্ম-সম্প্রদায়ের সাধকগণই আত্মার উন্নতি-সাধনের জন্য শ্রীভগবানের নাম জপ করেন। হিন্দু ধর্মাশ্রিত সৌর,শাক্ত,শৈব,গাণপত‍্য প্রত‍্যেক সমাজের সাধকগণের মধ্যে নাম-জপ-প্রথা পরিলক্ষিত হয়। মুসলমানদেরও নাম জপের সাধনা আছে।যে সব কাবুলী মুসলমানবণিক অতীব উদ্ধতভাবে লগুড় বা লাঠি হাতে নিয়ে কলকাতার রাজপথে সগর্বের বিচরণ করে,তাদেরকেও মালা জপ করতে দেখতে পাওয়া যায়।সাধনার এই প্রথাটির সর্বত্রই আদর আছে,বললে বেশী বলা হবে না।*
*🍀উপাস‍্য দেব-দেবীর নাম জপে হৃদয়ে যে স্থিরতা ও সাধন-শক্তি আবির্ভূত হয়,এতে কোন সন্দেহ নেই। বৈষ্ণব সাধক বলেন ঃ---*
*🌷যেই নাম সেই হরি ভজ শ্রদ্ধা করি।*
*🌷নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি।।*
*🍀এই পয়ারটি একটি সংস্কৃত শ্লোকেরই আংশিক অনুবাদ।শ্লোকটি শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামীকৃত সন্দর্ভে বিবৃত হয়েছে।বৈষ্ণব-স্মৃতি শ্রীহরিভক্তিবিলাসে এবং শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থেও এর উল্লেখ দেখা যায়। সে শ্লোকটি এই ঃ--*
*🌷নাম চিন্তামণিঃ কৃষ্ণ শ্চৈতন‍্য-রস-বিগ্রহঃ।*
*🌷নিত‍্যঃশুদ্ধঃ পূর্ণো মুক্তোহভিন্নত্বান্নামনামিনোঃ।।*
*🍀এই শ্লোকটি অতি সারগর্ভএর অর্থও অতি গূঢ়।এতে জানা যাচ্ছে যে  নাম ও নামীতে ভেদ নাই।যেই নাম সেই নামী।শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীকৃষ্ণ-নাম বস্তুতঃ এক পদার্থ।শ্রীদূর্গা ও শ্রীদূগা-নাম এক পদার্থ। কিন্তু প্রাকৃত বস্তুতে আমরা সেরকম ভাব বুঝতে পারি না।জল দ্রব‍্য ভিন্ন,--'জল' শব্দোচ্চারণে পিপাসা নিবৃত্তি হয় না। জ্ঞানী বেদান্তীরা বলেন শব্দ,ব্রহ্ম ; ভক্তবেদান্তীরা নামের ব্রহ্মত্ব স্বীকার করেন, কিন্তু ভক্তগণ বলেন ব্রহ্ম-তত্ত্বের উপরেও উপাস‍্য-তত্ত্বের অন‍্য সমুন্নত ঘনীভূত প্রকাশ, ভক্ত-হৃদয়ে স্ফুরিত হন,সেই বস্তুকে তাঁরা সচ্চিদানন্দরস বিগ্রহ নামে অভিহিত করেন।শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী, শ্রীভগবৎ-সন্দর্ভে এইভাবে সচ্চিদানন্দস্বরূপ বিনির্ণয় করেছেন,তদ্বস্তুই যে যশোদানন্দন শ্রীকৃষ্ণ এবং এই শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীকৃষ্ণ-নাম যে অভিন্ন ভক্তি-সন্দর্ভে তাও প্রতিপন্ন করেছেন। সুতরাং সাধারণ ব্রহ্মতত্ত্ব অপেক্ষা শ্রীশ্রীনাম-ব্রহ্মের সবিশেষ বিশিষ্টতা আছে।*
*🍀শ্রীপাদ শ্রীরূপ গোস্বামীমহোদয় ভগবন্নাম-উপাসনায় বিভোর থাকতেন এবং নামেই পরমানন্দ চিদঘনসুখ-স্বরূপের উপলব্ধি করতেন, যথা তৎকৃত স্তবে ঃ--*
*🌷সূদিতাশ্রিত জনার্ত্তিরাশয়ে।*
*🌷রম‍্যচিদ্ ঘন-সুখ-স্বরূপিণে।।*
*🌷নাম গোকুল-মহোৎসবায় তে।*
*🌷কৃষ্ণ পূর্ণবপুষে নমো নমঃ।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ "হে নাম,তুমিই কৃষ্ণ,যাঁরা তোমার আশ্রয় গ্রহণ করেন,তুমি তাঁদের সর্ব প্রকার দুঃখ বিনাশ কর ; অবিদ‍্যাজনিত নানান দুঃখ বিনষ্ট হলে তুমি স্বয়ং রমণীয় চিদঘন সুখ-স্বরূপে স্ফুরিত হয়ে আশ্রিতজনের পরমানন্দ বর্দ্ধন কর। সুতরাং তোমায় নমস্কার।তুমি গোকুলের মহোৎসব-স্বরূপ।যেহেতু তুমি সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ।তুমি অচিন্ত‍্য শক্তি-প্রভাবে মূর্তিমান অথচ সর্বত্র ব‍্যাপক।হে অচিন্ত‍্য প্রভাবশীল নাম, তোমাকে নমস্কার।*
*🍀শ্রীপাদ শ্রীরূপ গোস্বামীর এই স্তবেও জানা যাচ্ছে যে শ্রীভগবানের নামও শ্রীশ্রীভগবানের মত চৈতন‍্যরসবিগ্রহ ও রমণীয় সচ্চিদানন্দসুখমূর্তি।*
*🍀নাম জপ করতে করতে প্রথমে অবিদ‍্যাজনিত কষ্ট নিবৃত্ত হতে থাকে,তার পরে অবিদ‍্যার ধ্বংস হয়, সর্ব শেষে শ্রীনাম, সচ্চিদানন্দ সুখ-মূর্তিতে নামাশ্রিত ভক্তের হৃদয়-আকাশে স্ফুরিত হন।*
*🍀শ্রীপাদ শ্রীরূপগোস্বামীকৃত নাম-স্তবের আর একটি শ্লোকে জানা যায় যে নাম-উপাসনার প্রভাবে প্রারব্ধ কর্ম বিনষ্ট হয়,যথা=*
*🌷যদ্ব্রহ্ম-সাক্ষাৎ-কৃত নিষ্ঠয়াপি,*
*🌷  বিনাশমায়াতি বিনা ন ভোগৈঃ।*
*🌷অপৈতি নাম স্ফুরণেন তত্তে,*
*🌷 প্রারব্ধ কর্মেতি বিরৌতি বেদঃ।।*
*🍀ভোগ ব‍্যতিরেকে প্রারব্ধ কর্মের বিনাশ হয় না "ভোগাদেব ক্ষয়" ; ভোগ দ্বারা প্রারব্ধ কর্মের ক্ষয় হয়।ব্রহ্ম চিন্তা দ্বারা অবিদ‍্যা নষ্ট হয় ; অবিচ্ছিন্ন তেল ধারাবৎ নিরন্তর ব্রহ্ম-চিন্তা দ্বারা পরমাত্মার সাক্ষাৎকার হলেও ভোগ ব‍্যতিরেকে প্রারব্ধ কর্মের ক্ষয় হয় না। কিন্তু নাম-উপাসনার এমনই মহিমা,যে একান্ত ভাবে নাম-উপাসনায় প্রারব্ধ কর্ম পর্য‍্যন্ত বিনষ্ট হয়।* *🌹প্রারব্ধ=আরম্ভিক বা পূর্বজন্মের কারণভূত অদৃষ্ট।*
*আরব্ধ=যার আরম্ভ বা সূত্রপাত হয়েছে।*
*🍀ভোগ না হওয়া পর্য‍্যন্ত যে প্রারব্ধ কর্মের ক্ষয় হয় না,তার সম্বন্ধে শ্রুতিবাক‍্য এই যে ঃ--*
*🌷তস‍্য তাবদেব চিরং যাবন্নবিমোক্ষ‍্যেহথ সংপৎস‍্যে হেতি শ্রুতেঃ। ছান্দোগ‍্য--৬|১৪|২।*
*🍀বেদান্ত দর্শনেও এ সম্বন্ধে বহুল সূত্র আছে,যথা ঃ--*
*(১)তদধিগমে উত্তরপূর্বাঘয়োরশ্লেষবিনাশৌ তদ্ব‍্যপদেশাৎ, ৪|১|১৩ ।*
*(২)ইতরাস‍্যোপ‍্যেবমসংশ্লেষঃ পাতে তু। ৪|১|১৪ ।*
*(৩)অনারব্ধ কার্য‍্যে এবতু পূর্বে তদবধেঃ।৪|১|৫ ।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ ব্রহ্ম-অনুভবে ক্রিয়মাণ এবং সঞ্চিত পাপের আশ্লেষ(পরিরম্ভন) ও বিনাশ  হয়।পাপ ও পুণ‍্য উভয়ই জীবাত্মায় বিজড়িত থাকে।ব্রহ্ম-অনুভবে জীবাত্মা হতে পাপের ভার খসে পড়ে এবং বিনষ্ট হয়, এবং উত্তরকালের (ভবিষ‍্যতের)পাপেরও সংযোগ হয় না। শ্রুতিতে এই কথা বলা হয়েছে, যথা=*
*🌷ব্রহ্মবিদ‍্যয়া অভ‍্যুদিতয়া সঞ্চিতক্রিয়মাণয়োঃ পুণ‍্যপাপয়ো বিনাশাশ্লোষৌ ভবতঃ "উভে উহৈবেষ এতে তরত‍্যমৃতঃ সাধ্ব সাধুনীতি। (বৃহৎদারণ‍্যক=৪|৪|২২)*
                *🙏ক্রমাগত🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
                ^^^^^^^^^^^^^
*🌷ভিদ‍্যতে হৃদয়-গ্রন্থিশ্ছিদ‍্যন্তে সর্ব সংশয়াঃ।*
*🌷ক্ষীয়ন্তে চাস‍্য কর্ম্মাণি তস্মিন্ দৃষ্টে পরাবরে।।*
                    *(মুন্ডক উপনিষদ্)*
*🍀সুতরাং ব্রহ্মজ্ঞান সঞ্জাত বা উদয় হলে পাপ ক্ষয় হয়,এটি সুসিদ্ধান্ত।সঞ্চিত পাপ-পুণ‍্যের বিনাশ হয়,উত্তরকালের বা ভবিষ্যতের পাপ আশ্লেষেরও কোন আশঙ্কা থাকে না,অনারব্ধকর্মবিনাশও ব্রহ্ম-অধিগমে (লাভে)সংঘটিত হয়। কিন্তু প্রারব্ধ কর্মের গতি দেহ পাত না হওয়া পর্যন্ত নিঃশেষ হয় না।অগ্নিতে দগ্ধ করলে সব বীজেরই যে অঙ্কুর-উৎপাদিকা শক্তি বিনষ্ট হয়, এমন অবধারণা অসঙ্গত নহে।ব্রহ্মজ্ঞান দ্বারা অনারব্ধ কর্মবিপাক সমুচ্ছিন্ন হতে পারে, কিন্তু আরব্ধ কর্ম-বিপাকের বিনাশ,দেহপাত না হওয়া পর্যন্ত হয় না।কুলাল চক্রে (কুমারর চাকায়) রত বেগের অন্তরালে বা আড়ালে প্রতিবন্ধ না থাকাই তা যেমন বেগ-ক্ষয় না হওয়া পর্যন্ত কুলালচক্রকে বনবন করে ঘুরায় ; আরব্ধ কর্মও ফল ভোগ না হওয়া পর্যন্ত নিঃশেষ হয় না। তাই শ্রীমৎশঙ্করাচার্য‍্য লিখেছেন=*
*🌷ভবতি বেগক্ষয়-প্রতিপালনম্।*
*🍀প্রতিবন্ধের অভাবে আরব্ধ কর্ম দেহপাত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে।*
*🌻 কিন্তু ভগবৎ-নাম-উপাসনার প্রভাবে এই প্রারব্ধ কর্ম পর্যন্ত বিনষ্ট হয়। নাম ব্রহ্ম,-- প্রারব্ধ কর্মের গতি রোধ করে কর্ম-ব‍্যাকুল জীবের চিত্ত প্রসন্ন করতে সমর্থ হন।*
*🌺নাম-উপাসনার এই রূপ অচিন্ত‍্য অতুল প্রভাব জেনেও শ্রীভগবৎপার্ষদ শ্রীপাদ শ্রীরূপগোস্বামী মহোদয় প্রার্থনা করেছেন=*
*🌷নিখিল শ্রুতি-মৌলিরত্ন-মালা-,*
*🌷দ‍্যুতিনীরজিত-পাদ-পঙ্কজান্ত,*
*🌷অয়ি মুক্তকুলৈরুপাস‍্যমানং,*
*🌷 পরিত স্ত্বাং হরি-নাম সংশ্রয়ামি।* 
*🌻হে হরি-নাম, তোমার শ্রীচরণ কমল কর্ণিকান্তভাগ নিখিল শ্রুতির শিরোভূষণ মণিমালার দ‍্যুতিতে নীরাজিত।তুমি মুক্তগণেরও উপাস‍্য।আমি সর্বতোভাবে তোমার আশ্রয় গ্রহণ করি।*
*🌺উপনিষদ্ বলেন "সর্বে বেদা যৎপদমামনন্তি " সকল বেদ যাঁর পদ আমনন করেন। "এতৎ সামগায়ন্নাস্তে" "নিবৃত্ততর্ষৈরুপগীয়মানাৎ" ইত্যাদি শ্রুতি ও স্মৃতি বচনে জানা যায় যে মুক্তগণও শ্রীহরি নামের আশ্রয় গ্রহণ করেন।*
*🌷এতন্নির্ব্বদ‍্যমানানাং মিচ্ছতামকুতোভয়ং।*
*🌷যোগীনাং নৃপ নির্নীতং হর্রেনামানকীর্তনম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীমদ্ভাগবত বলেন, ভগবদ্ভক্তিযোগযুক্ত মুক্তগণের মধ্যে যাঁরা সর্বতোভাবে সর্বত্র অভয় ইচ্ছা করেন,হে নৃপ!তাঁদের পক্ষেও হরিনামানকীর্তনই ব‍্যবস্থেয় হয়েছে*।
*🍀নির্ব্বিন্ন মুনিগণ ও নিবৃত্ততৃষ্ণ সিদ্ধপুরুষগণ যে নাম জপ উপাসনায় নিরত থাকেন,তাদৃশ বা সেইরকম সাধনায় পাপাত্ম ব‍্যক্তিগণের অধিকার থাকতে পারে কি? এই প্রশ্ন হতে পার্র। শ্রীপাদ শ্রীরূপ গোস্বামী এই আশঙ্কা নিরসনের জন্য লিখেছেন=*
*🌷জয় নামধেয় মুনি বৃন্দগেয়,*
*🌷জনরঞ্জনায় পরমাক্ষরকৃতে।*
*🌷ত্বমানাদরাদপি মনাগুদীরিতং,*
*🌷নিখিলোগ্রতাপং বিলুম্পসি।।*
*🌻হে নাম! তোমার জয় হোক। তুমি মুনিগণের নিত‍্য জপ‍্য হলেও পতিত পাষন্ডগণ হেলায় বা সেইরকম কোন প্রকারে যেমতভাবে তোমায় রসনায় বা জিহ্বায় গ্রহণ করলে তুমি তাদের মহামহা তাপ অনায়াসেই বিলুপ্ত করে দাও। হে নাম! তুমি প্রাকৃত অক্ষরময় নও,সচ্চিদানন্দঘন অক্ষরময়। তুমি চিৎস্বরূপ চিদানন্দ অক্ষরস্বরূপ।এ সম্বন্ধে শাস্ত্রীয় প্রমাণ যথেষ্টই আছে। যথা=*
*🌷মধুর-মধুর মেতন্মঙ্গলং মঙ্গলানাং,*
*🌷সকল নিগম বল্লী সৎফলং চিৎস্বরূপম্।*
*🌷সকৃদেব পরিগীতং হেলয়া শ্রদ্ধয়া বা,*
*🌷ভৃগুবর নরমাত্রং তারয়েৎ কৃষ্ণ নাম।।*
*🙌এমন নাম মধুর হতেও মধুর এবং সর্ব মঙ্গলের মঙ্গল, নিখিল নিগমবল্লীর নিত‍্য ফল স্বরূপ, ইধি চিন্ময়।এই কৃষ্ণ নাম হেলায় বা শ্রদ্ধায় সামান‍্য পরিমাণে বলিলে বা গান হলেই জীবদেরকে নিস্তার করেন।*
*(২) শ্রীভাগবতে ৬|২|১৪ পাই=*
*🌷সাঙ্ক‍্যেত‍্যং পরিহাস‍্যং বা স্তোভং হেলনমেব বা।*
*🌷বৈকুন্ঠনাম গ্রহণমশেষাঘহরং বিদুঃ।।*
*🌻যে যমদূতগণ পুত্রাদিতে সঙ্কেত করেই হোক,পরিহাসচ্ছলেই হোক, পীতালাপের পরমার্থেই হোক কিম্বা হেলাক্রমেই হোক, যে কোন প্রকারে হোক নারায়ণের নাম গ্রহণ করলেই অশেষ পাপ নষ্ট হয়।*
*(৩) শ্রীনায়ায়ণ ব‍্যুহস্তবে পায়=*
*🌷পরিহাসোপহাসাদ‍্যৈর্বিষ্ণো র্গৃহ্নন্তি নাম যে,*
*🌷কৃতার্থাস্তেহপি মনুজাস্তেভ‍্যোহপীহ নমো নমঃ।*
*🌻পরিহাস উপহাসাদি করেও যাঁরা বিষ্ণুর নাম গ্রহণ করেন, আমি তাঁদেরকে পুনঃপুনঃ নমস্কার করি।*
*(৪) কাশীখন্ডে দেখা যায়=*
*🌷প্রমাদাদপি সংস্পৃষ্টো যথানলকণো দহেৎ।*
*🌷তথোষ্ঠপুটসংস্পৃষ্টং হরি নাম দহেদঘম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ আগুনের কণা ভুলকরেও যদি সংস্পৃষ্ট হয়,তা যেমন রাশি রাশি দাহ‍্যবস্তু পুড়িয়ে ছাই করে, তেমনি শ্রীভগবানের নাম কোন প্রকারে ওষ্ঠ-স্পর্শ হলেই পাপ রাশি পুড়িয়ে শেষ করে থাকেন।*
*(৫)শ্রীভাগবতের ৬|২|১৫ পায়=*
*🌷পতিতঃ স্খলিতোভগ্নঃ সন্দষ্ট স্তপ্ত আহতঃ।*
*🌷হরিরিত‍্যবশেনাহ পুমান্নার্হতি যাতনাঃ।।*
*🌻পতনে স্খলনে,দংশনে,ভাঙ্গা অবস্থায়,তাপে বা আহত অবস্থায় অবশ ভাবে হরি এই শব্দ উচ্চারণ করলেই জীব যম-যাতনা হতে মুক্তি পায়।*
*(৬)শ্রীমদ্ভাগবতে ৬|২|১৮ পায়=*
*🌷অজ্ঞানাদথবা জ্ঞানাদুত্তমঃশ্লোক নাম যৎ।*
*🌷সঙ্কীর্ত্তিতমঘং পুংসো দহেদেধো যথানলঃ।।*
*🌻জ্ঞানে বা অজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ বা উত্তর শ্লোক ভগবানের নাম সংকীর্তন হলেই আগুন যেমন কাঠ পুড়িয়ে ছাই করে দেয় সেইরকম ভগবানের নাম করলেই পাপরাশি নষ্ট হয়।*
                *ক্রমাগত*
🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
              **************
*(৭)শ্রীবৃহন্নারদীয় পুরাণে পায়=*
*🌷যথাকথঞ্চিদ্ যন্নাম্নি কীর্ত্তিতে বা শ্রুতেহপি বা,*
*🌷পাপানোহপি বিশুদ্ধাঃস‍্যু শুদ্ধাঃ মোক্ষমবাপ্নুয়ুঃ।*
*🌻যে কোনভাবে ভগবানের নামকীর্তন বা শ্রবণ করলে পাপীদের পাপ বিনষ্ট হয়।নিষ্পাপগণ মোক্ষ প্রাপ্ত হন।*
*(৮) বিষ্ণুধর্মোত্তরেও দেখা যায় =*
*🌷নাম-সংকীর্তনং বিষ্ণোঃ ক্ষুত্তৃটপ্রস্খলিতাদিষু,*
*🌷যঃ করোতি মহাভাগ তস‍্য তুষ‍্যতি কেশব।*
*🌻ক্ষুধায়-তৃষ্ণায় পতনে অর্থ‍্যাৎ অতর্কিত ভাবে জীবনের যে কোন কাজে শ্রীভগবানের নাম উচ্চারণ করলেন শ্রীভগবান তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন।*
*(৯)বৈষ্ণব চিন্তামণৌ শিব-সম্বাদ=*
*🌷অঘচ্ছিৎ স্মরণং বিষ্ণোর্ব্বহ্বায়াসেন সাধ‍্যতে।*
*🌷ওষ্ঠ-স্পন্দন মাত্রেণ কীর্তনন্তু ততো বরম্।।*
*🌻মনের স্থিরতা সাধনাদি দ্বারা বিষ্ণুর স্মরণ কর।সেটির ফলে পাপ নষ্ট হয়, কিন্তু সেটি বহু আয়াস সাধ‍্য। কিন্তু ওষ্ঠস্পন্দন মাত্রই নাম কীর্তন হয়, অথচ নামকীর্তনের ফল স্মরণ অপেক্ষাও অত‍্যুত্তন বা অনেক বেশী।*
*(১০)অগ্নিপুরাণে স্পষ্ট লেখা আছে=*
*🌷শ্রদ্ধয়া হেলয়া নাম রটন্তি মম জন্তবঃ।*
*🌷তেষাং নাম সদা পার্থ বর্ত্ততে হৃদয়ে মম।।*
*🌻শ্রদ্ধাতেই হোক বা অবহেলাতেই যারা আমার নাম প্রচার করেন, তাঁদের নাম চিরদিনই আমার হৃদয়ে বিরাজ করে।*
*🌹ভগবানের চিন্ময় নাম-অক্ষরের এই মহিমা ভারতীয় শাস্ত্রগুলিতে পুনঃ পুনঃ পরিকীর্তিত হয়েছে। ভগবৎ নাম যে চিদাত্মক সেটির যথেষ্ট প্রমাণ আছে,যথা=*
*(০১)শ্রীবৃহন্নারদীয়ে পায়=*
*🌷সকৃদুচ্চারয়ন্ত‍্যেব হরি-নাম চিদাত্মকং।*
*🌷ফলং নাস‍্য ক্ষমে বক্তুং সহস্রাবদনো বিধিঃ।।*
*🌻চিদাত্মক (আনন্দরূপ ভগবানের ) হরিনাম উচ্চারণ করলে যে ফল হয়,হাজারবদন ব্রহ্মাও তা বলতে অসমর্থ।*
*(২)লঘু-ভাগবতে প্রমাণ =*
*🌷প্রয়াণে চাপ্রয়াণে চ যন্নাম স্মরণান্নৃণাং।*
*🌷স‍দ‍্যো নশ‍্যতি পাপোঘো নমস্তস্মৈ চিদাত্মনে।।*
*🌻জীবনে মরণে যে নাম স্মরণ করলে জীবগণের অশেষ পাপ নষ্ট হয়,সেই চিদাত্মা নামকে নমস্কার।*
*🌹নামের চিৎরূপতা ও মাহাত্ম্য সম্বন্ধে শ্রীশ্রীহরিভক্তি বিলাসে শ্রৌত প্রমাণেও উদ্ধৃত হয়েছে,যথা=*
*(১)ওঁ আস‍্য জানন্তো নাম চিদ্ বিবিক্তন মহস্তে বিষ্ণো সুমতিং ভজামহে।*
*(২)ওঁ তৎসৎ ওঁ পদং দেবস‍্য নমসাব‍্যন্ত শ্রবস‍্যব শ্রব আপন্ন মৃক্তং নামামি চিদ্দধিরে যজ্ঞিয়ানি ভদ্রায়ন্তে রণয়ন্তঃ সঃদৃষ্টৌ।* 
*(৩)ওঁ তমু স্তোতারং পূর্বং যথা বিদ ঋতস‍্য গর্ভং জনুষা পিপত্তনঃ আস‍্য জানন্তো নাম চিদ্ বিবিক্তন মহন্তে বিষ্ণো সুমতিঃ ভজামহে ইত্যাদি।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হে বিষ্ণো!আমরা তোমার এই নাম জেনে,তোমার নাম চিৎস্বরূপ সর্বপ্রকাশক পরম ব্রহ্ম পরমানন্দস্বরূপ এটিই বুঝি এবং এটিই শ্রেষ্ঠ বলে আমরা তোমার নাম উপাসনা করি।আত্মস্বরূপ যেমন দুর্জ্ঞেয় (সাধারণের অসাধ‍্য), তোমার নাম পরম ব্রহ্মস্বরূপ হলেও তা দুর্জ্ঞেয় না।তাই আমরা তোমার নাম উপাসনা করি। তোমার পদ-নির্বাচনে বহুরকম বাদানুবাদ করে অবশেষে তোমার নাম-অক্ষর গুলিকেই ব্রহ্মস্বরূপ জেনে তোমার সাক্ষাৎকার লাভ জনিত মঙ্গললাভের জন্য তোমার নামেরই উপাসনা করি। তোমার ঐ নামই তোমার ভক্তগণের চিত্তশোধক। তোমার নামই পরম ব্রহ্মস্বরূপ।হে শ্রীকৃষ্ণ, তুমিই সুপ্রসিদ্ধ ভগবান। আমরা তোমার স্তব করি।তুমি পুরাতন পুরুষ, তোমার নাম ভজনে দেশ-কালাদির নিয়ম নাই, এতে সকলেরই সমান অধিকার, তুমি ব্রহ্মের ও ব্রহ্ম অর্থ‍্যাৎ সচ্চিদানন্দঘন।। তুমি স্বকীয় বা নিজের ইচ্ছায় বহুভাবে জগতে আবির্ভূত হও। হে বিষ্ণো! আমরা তোমার স্তব করতে পারি না, কেবল তোমার নামই ভজনা করি।এতেই তোমার স্মরণ মননাদি সবরকম উপাসনা সিদ্ধ হয়।অতএব তোমার নামই আমাদের একমাত্র উপাসনার বিষয়।*
*🌹শাস্ত্রাদিতে ভগবানের হাজার হাজার নাম দেখা যায়, এক এক নামের এক এক রূপ প্রয়োজনীয়তা ও ফল সাধকত্বেরও উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু সিদ্ধান্ত এই যে, ভগবানের যে কোন নাম জপ করলেই সর্বার্থ সিদ্ধ হয়,যথা=বিষ্ণুধর্মোত্তরে।*
*🌷সর্বানি নামানি হিতস‍্য রাজন সর্বার্থ সিদ্ধ‍্যৈত্ব ভবন্তি পুংসঃ।*
*🌷তস্মাদ্ যথেষ্ট খলু কৃষ্ণনাম সর্বেষু কার্য‍্যেষু জপেত ভক্ত‍্যা।।*
*🌷সর্বার্থ শক্তিযুক্তস‍্য দেবদেবস‍্য চক্রিণঃ।*
*🌷যথাভিরোচতে নাম তৎসর্বার্থেষু কার্ত্তয়েৎ।।*
*🌷সর্বার্থসিদ্ধিমাপ্নোতি নাম্নামেকার্থতা যতঃ।*
*🌷সর্বাণ‍্যেতানি নামানি পরস‍্য ব্রহ্মণো হরেঃ।।*
*🌻সব নামই এক পরব্রহ্ম হরির, নাম সব একার্থক। সুতরাং তাঁর যে কোন নামের উপাসনাতেই সর্বসিদ্ধি হয়।তথাপি শ্রীকৃষ্ণনামের সবিশেষ মহিমার উল্লেখ আছে।শ্রীহরিভক্তি বিলাসে লিখিত হয়েছে =*
*🌷শ্রীমন্নাম্নাঞ্চ সর্বেষাং মাহাত্ম্যেষু সমেষ্বপি।*
*🌷কৃষ্ণেস‍্যেবাবতারেষু বিশেষঃ কোহপি কস‍্যচিৎ।।*
*🌻ব্রহ্মান্ডপুরাণে শ্রীকৃষ্ণশতনাম মাহাত্ম্যে লিখিত আছে =*
*🌷সহস্রানাম্নাংচ পুণ‍্যানাং ত্রিরাবৃত্ত‍্যা তু যৎ ফলং।*
*🌷একাবৃত্ত‍্যা তু কৃষ্ণস‍্য নামৈকঃ তৎ প্রযচ্ছতি।।*
*🌻সহস্র বা হাজার নাম তিনবার পাঠ করলে যে ফল হয়, একবার শ্রীকৃষ্ণনাম করলেই সেই ফল লাভ হয়ে থাকে।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
               ^^^^^^^^^^^^^^
*🌷ইদং কীরিটী সংজপ‍্য জয়ী পাশুপতাস্ত্রভাক্।*
*🌷কৃষ্ণস‍্য প্রাণভূতঃ সন্ কৃষ্ণং সারথিমাপ্তবান্।।*
*🌷কিমিদং বহুনা শংসন্ মানুষানন্দনির্ভরঃ।*
*🌷ব্রহ্মানন্দমবাপ‍্যান্তে কৃষ্ণসাযুজ‍্যমাপ্নুয়াৎ।।*
*🌻অর্জুন কৃষ্ণনাম জপ করতে করতে পাশুপত অস্ত্র লাভ করে সমরজয়ী বা যুদ্ধজয়ী হয়েছিলেন।এমন কি শ্রীকৃষ্ণের প্রাণপ্রিয় হয়েও তাঁকে সারথিরূপে পেয়েছিলেন।অন‍্য কথার আর কি প্রয়োজন,-- শ্রীকৃষ্ণনাম জপ করতে করতে ব্রহ্মানন্দ লাভকরে জীব শ্রীকৃষ্ণ-সাযুজ‍্য পেয়ে থাকেন।*
*🍀সাযুজ‍্য=পঞ্চবিধ মুক্তির মধ্যে এক প্রকার মুক্তি,ব্রহ্মে বিলয়মুক্তি বা ভগবানের সঙ্গে একত্ব হওয়া।*
*🌹বারাহপুরাণে মথুরা-মাহাত্ম‍্যে লিখিত আছে=*
*🌷তত্র গুহ‍্যানি নামানি ভবিষ‍্যন্তি মম প্রিয়ে।*
*🌷পুণ‍্যাণি চ পবিত্রাণি সংসারচ্ছেদনানি চ।।*
*🌹ঐ পুরাণেই দ্বারকা-মাহাত্ম‍্যে শ্রীকৃষ্ণনামের সবিশেষ মাহাত্ম্য কীর্তিত হয়েছে,---প্রহ্লাদ বলিকে বলছেন=*
*🌷অতীতা পুরুষাঃ সপ্ত ভবিষ্যাশ্চ চতুর্দ্দশ।*
*🌷নরস্তারয়তে সর্বান্ কলৌ কৃষ্ণেতি কীর্তনাৎ।।*
*🌷কৃষ্ণ কৃষ্ণেতি কৃষ্ণেতি স্বপন্ জাগ্রদ্ব্র জন স্তথা।*
*🌷যো জল্পতি কলৌ নিত‍্যং কৃষ্ণরূপী ভবেদ্ধি সঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণনাম কীর্তন করলে যে কেবল নিজের ত্রাণ লাভ হয়,তা নয়,অতীত সাত পুরুষ, এবং ভবিষ্যৎ চৌদ্দ পুরুষও শ্রীকৃষ্ণনামের ফলে পরিত্রাণ পেয়ে থাকেন।যিনি নিদ্রায়, জাগরণে, ও চলাচলাদি জীবনে যাবতীয় ব‍্যাপারে "কৃষ্ণ-কৃষ্ণনাম" উচ্চারণ করেন, এই কলিকালে নিশ্চয়ই তিনি শ্রীকৃষ্ণ-স্বরূপ পেয়ে থাকেন। তথা ব্রহ্মবৈবর্ত্তে ঃ---*
*🌷হনন্ ব্রাহ্মণ মত‍্যন্তং কামতোবা সুরাং পিবন্।*
*🌷কৃষ্ণকৃষ্ণেত‍্যহোরাত্রং সঙ্কীর্ত্ত‍্য শুদ্ধিতা মিয়াৎ।।*
*🌻ব্রহ্মহত‍্যা ও সুরাপান পঞ্চ মহাপাতকের মধ্যে মুখ‍্য দুই মহাপাপ।অহোরাত্র শ্রীকৃষ্ণনাম উচ্চারণ করলে এই দুই মহাপাপও প্রশান্ত হয়। সুরাপানের তো একবারেই মরণান্ত প্রায়শ্চিত্ত। কিম্বা শ্রীকৃষ্ণনাম দ্বারা এটিরও প্রায়শ্চিত্ত হয়।আত্মা কৃষ্ণনাম কীর্তনে শুদ্ধি প্রাপ্ত হন।*
*🍀মহাপাতক নাশের জন্য শ্রীকৃষ্ণনাম যে মহৌষধ, বিষ্ণুধর্মোত্তরে তার প্রমাণ আছে, যথা=*
*🌷কৃষ্ণেতি মঙ্গলং নাম যস‍্য বাচি প্রবর্ত্ততে।*
*🌷ভস্মীভবন্তি রাজেন্দ্র মহাপাতক কোটয়ঃ।।*
*🌻হে রাজেন্দ্র!পরম মঙ্গল শ্রীকৃষ্ণ নাম যে কোন প্রকারে উচ্চারিত হলে কোটি কোটি মহাপাপ ভস্মীভূত হয়ে যায়।🍀নারসিংহ পুরাণে শ্রীভগবান্ শ্রীমুখে বলেছেন=*
*🌷কৃষ্ণকৃষ্ণেতিকৃষ্ণেতি যো মাং স্মরতি নিত‍্যশঃ।*
*🌷জলংভিত্বা যথা পদ্মং নরকাদুদ্ধরাম‍্যহম্।।*
*🌻যে আমায় "কৃষ্ণ,কৃষ্ণ,কৃষ্ণ" বলে স্মরণ করে,জল ভেদ করে যেমন পদ্ম উত্থিত হয়,আমি তাকে তেমন সহজ সরল ও স্বাভাবিক ভাবে নরক হতে উদ্ধার করি।*
*🙏শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী মহোদয় এই শ্লোকটির অন‍্য রকম অর্থও করেছেন,তদ্ যথা--- এই শ্লোকের "জল" শব্দের অর্থ "একার্ণবোদক" প্রলয় সমুদ্র। এবং পদ্ম শব্দের অর্থ পৃথিবী, সমস্ত কথার অর্থ এই যে শ্রীভগবান্ বলেছেন, "আমি যেমন প্রলয় সমুদ্র হতে পৃথিবীকে উদ্ধার করি,যে ব‍্যক্তি আমার নাম গ্রহণ করে,তাকে আমি তেমনি নরকার্ণব বা নরকসাগর হতে উদ্ধার করি।" অথবা আর এক অর্থও হতে পারে,তা এই যে পদ্মপত্র জলে থেকেও জল সম্পর্কবিহীন হয়,যে আমার নাম গ্রহণ করে,সে ব‍্যক্তি সংসারে থেকেও সংসার-সম্পর্কে কলুষিত হয় না।এতৎদ্বারা এটিও সপ্রমাণ হল যে নাম-সাধনায় প্রারব্ধ কর্মেরও বিনাশ হয়।*
*🌹গরুড়পুরাণ ও পদ্মপুরাণ এক কথায় বলছেন=*
*🌷সংসারসর্পসংদষ্টনষ্টচেতস‍্য ভেষজং।*
*🌷কৃষ্ণেতি বৈষ্ণবমন্ত্রং শ্রুত্বা মুক্তো ভবেন্নরঃ।।*
*🌻কালসর্প-দংশনে লোকের চেতনা নষ্ট হয়,গারুড় মন্ত্র প্রয়োগে তার প্রশমনের বা চেতনা ফিরানোর ব‍্যবস্থা আছে, কিন্তু সংসাররূপ কালসর্প দংশনে শ্রীকৃষ্ণনামই একমাত্র মহা ভেষজ বা মহৌষধী,এটিদ্বারা অবিদ‍্যারূপ মহারোগ প্রশমিত হয়।*
*🌻প্রভাসপুরাণে নারদ কুশধ্বজ সম্বাদে শ্রীভগবানের শ্রীমুখোক্তি এই যে ------*
*🌷নাম্নাং মুখ‍্যতরং নাম কৃষ্ণাখ‍্যং মে পরন্তপ।*
*🌷প্রায়শ্চিত্তমশেষাণাং পাপানাং মোচকং পরম্।।*
*🌻আমার বহুনাম আছে,তারমধ‍্যে "কৃষ্ণ" এই নামটি মুখ‍্যতম,এই নামটি অশেষ পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ ও মোচক। যথা পদ্মপুরাণে=*
*যত্র তত্র স্থিতো বাপি কৃষ্ণকৃষ্ণেতি কীয়েৎ।*
*🌷সর্বপাপ বিশুদ্ধাত্মা স গচ্ছেৎ পরমাং গতিম্।।*
*🌻এই নাম গ্রহণ করলে দেশ কালের নিয়ম নেই।যে কোন জায়গায় যে কোন সময়ে "কৃষ্ণ-কৃষ্ণ" এই নাম উচ্চারণ করলে আত্মা সর্বপাপ বিমুক্ত হয়ে পরমা গতি প্রাপ্ত হন।*
*🍀শ্রীবিষ্ণুধর্মোত্তরে শ্রীকৃষ্ণ সহস্রনাম স্তোত্রে লিখিত আছে =*
*🌷বল্লভীকান্তা কিন্তৈস্তৈরুপায়ৈঃ কৃষ্ণনাম তে।*
*🌷কিন্তু জিহ্বাগ্রজং জাগ্রৎ নিরুদ্ধে হি মহাভয়ম্।।*
*🌻হে বল্লভীকান্ত!কর্মজ্ঞানাদি এবং শ্রবণাদি নববিধা ভক্তি সাধনেরই বা কি প্রয়োজন, যদি জিহ্বাগ্রে তোমার ঐ কৃষ্ণনাম সর্বদা করতে থাকেন,তাহলে ঐ শ্রীনামই সংসাররূপ মহাভয় নিরোধ করে থাকেন। অথবা অভয় যে মোক্ষ,তাকে পর্যন্ত তুচ্ছীকৃত করিয়ে দেন। কেননা, তোমার ঐ শ্রীকৃষ্ণনাম, পরমানন্দরস- চমৎকার বিশেষময়।*
                  *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
                °°°°°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীবিষ্ণুধর্মোত্তর গ্রন্থেই অন‍্যত্র লেখা আছে =*
*🌷সত‍্যং ব্রব্রীমি তে শম্ভো গোপনীয় মিদং মম।*
*🌷মৃত‍্যুসঞ্জীবনং নাম কৃষ্ণাখ‍্যমবধারয়।।*
*🌻হে শম্ভু! আমার এই কৃষ্ণনামটি প্রকৃত পক্ষেই মৃতসঞ্জীবনী বিদ‍্যা বা মৃতসঞ্জীবন ঔষধস্বরূপ।তুমি এটি নিশ্চয় জানিও,আমি সত‍্য সত‍্যই তোমায় বলছি।ভারতবিভাগে উক্ত হয়েছে =*
*🌷কৃষ্ণঃ কৃষ্ণঃ কৃষ্ণ ইত‍্যন্তকালে,*
*🌷জল্পন্ জন্তু জীবিত যো জহাতি।*
*🌷আদ‍্যঃ শব্দঃ কল্পতে তস‍্য মুক্ত‍্যৈ,*
*🌷 ব্রীড়ানম্রৌ তিষ্ঠতোন‍্যাবৃণস্থৌ।।*
*🌻অন্তঃকালে বা জীবনের মরণকালে যিনি "কৃষ্ণ,কৃষ্ণ,কৃষ্ণ" এই নাম তিনবার উচ্চারণ করেন,প্রথমবারের উচ্চারণেই তিনি মুক্তি প্রাপ্ত হন। অন‍্য দুই বারের উচ্চারণে শ্রীকৃষ্ণনাম ঋণী হয়ে তাঁর জিহ্বাগ্রে সলজ্জভাবে অবস্থান করেন।নাম ও নামী অভিন্ন।নাম ঋণী হন ও লজ্জিত হন, এটির অর্থ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ংই নাম-উচ্চারণকারীর কাছে ঋণী হন।এটি দ্বারা প্রতিপন্ন হল যে নাম সাধনায় শ্রীভগবান বশীভূত হন।*
*🍀অতঃপরে "নামচিন্তামণিঃ কৃষ্ণঃ" ইত্যাদি শ্লোক লিখিত হয়েছে।আমরা বহুপূর্বে এই শ্লোক উদ্ধৃত করেছি।যে মণি চিন্তিত অর্থ প্রদান করেন,তাঁরই নাম চিন্তামণি। নামও উপাসকের চিন্তিত অর্থ প্রদান করেন এইজন‍্য শ্রীভগবানের নামও চিন্তামণিস্বরূপ।এই শ্লোকের চৈতন‍্য রসবিগ্রহ পদটি নামের বিশেষণ হওয়ায় নপুংসকলিঙ্গ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু নাম ও নামী অভিন্ন, এই জন্য পুংলিঙ্গে ব‍্যবহৃত হয়েছে।▪তারপরে নাম শ্রবণানন্দি ভক্তগণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য শ্লোকটি শ্রীহরিভক্তি বিলাসে উদ্ধৃত হয়েছে,যথা=*
*🌷তেভ‍্যোনমোহস্তু ভববারিধি জীর্ণপঙ্ক-,*
*🌷-সংমগ্ন-মোক্ষণ-বিচক্ষণ-পাদুকেভ‍্যঃ।*
*🌷কৃষ্ণেতি বর্ণযুগল-শ্রবণেন যেষাং,*
*🌷আনন্দথুর্ভবতি নৃত্যতি রোমবৃন্দঃ।।*
*🌻যাদের পাদুকা ভবসাগরের জীর্ণকাদায় সংমগ্ন ব‍্যক্তিকেও পরিত্রাণে প__, শ্রীকৃষ্ণ এই বর্ণযুগল যাদের কানে প্রবেল হলে আনন্দকম্প ও রোমাঞ্চ হয় সেই সব ভক্তদেরকে নমস্কার।*
*🍀ফলে ভগবৎ সাধনায় নাম জপের মহামহিমা আমাদের পুরাণাদি শাস্ত্রগুলিতে বহুপ্রকারে কীর্তিত হয়েছে।সকাম ভক্তগণ ইহকাল ও পরকালে পাপাদি ক্ষয়ের জন্য ও শুভফল পাওয়ার জন্য দেশ-কাল বিশেষে শ্রীভগবানের নাম বিশেষের উপাসনা করতেন।এক্ষণে এ সব বিশ্বাস দিন দিন বিলুপ্ত-প্রায় হয়ে পড়ছে-- কিন্তু শাস্ত্রে সেটির ব‍্যবস্থা বিদ‍্যমান রয়েছে।পূজ‍্যপাদ শ্রীহরিভক্তিবিলাসকার লিখেছেন=*
*🌷তত্র শ্রীভগন্নাম-বিশেষস‍্যচ সেবনম্।*
*ঋষিভিঃ কৃপয়াদিষ্টং তত্তৎকামহতাত্মনাম্।।*
*🌻কামহতাত্মাদের জন্য ঋষিগণ শ্রীভগবানের-নাম বিশেষের সেবন ব‍্যবস্থাপিত করেছেন।প্রশ্ন হতে পারে যে নাম কীর্তন মহাফলজনক।তুচ্ছ ফলের জন্য সেটির উল্লেখ কেন?তাতেই বলা হয়েছে কামহতাত্মা ব‍্যক্তিগণের জন্য সেটি কৃপা করে ঋষিগণ বলেছেন। প্রথম পাপক্ষয়ের জন্য যথা=*
*🌷শ্রীশব্দপূর্বং জয়শব্দপূর্বং,*
*🌷জয়দ্বয়াদুত্তরত স্তথাহি।*
*🌷ত্রিঃসপ্তকৃত্ব নরসিংহ নাম,*
*🌷 জপ্তং নিহন‍্যাদপি বিপ্রহত‍্যাম্।।*
*🌻শ্রীনরসিংহ,জয় নরসিংহ, জয় জয় নরসিংহ এইভাবে একুশবার জপ করলে ব্রহ্মহত‍্যাজনিত পাপও নষ্ট হয়।*
*🌹মহাভয় নিবারণের জন্য শ্রীনৃসিংহ নাম জপের বিধান কূর্ম্মপুরাণে দেখা যায় =*
*🌷শ্রীপূর্বো নরসিংহো দ্বির্জয়াদুত্তরস্তু সঃ।*
*🌷ত্রিঃসপ্তকৃত্বো জপ্তন্তু মহাভয়নিবারণঃ।।*
*🌻শ্রীনরসিংহ এবং জয় জয় নরসিংহ নাম একুশবার জপ করলে মহাভয় নিবারণ হয়।*
*🌹কালবিশেষে মঙ্গলের জন্য বিষ্ণোধর্মোত্তরে মার্কন্ডেয় বজ্রসংবাদে=*
*🌷পুরুষং বামদেবঞ্চ তথা সঙ্কর্ষণং বিভুং।*
*🌷প্রদ‍্যুম্নমণিরুদ্ধঞ্চ ক্রমাদব্দেষু কীর্তয়েৎ।।*
*🌻পুরুষ,বামদেব,সঙ্কর্ষণ,প্রদ‍্যুম্ন ও অনিরুদ্ধ ভগবানের এই পাঁচটি নাম পঞ্চব্দ ক্রমে জপ করবে।ব্রহ্মবৈবর্তে পঞ্চাব্দের বিবরণ এইরকম লিখিত হয়েছে =*
                   *ক্রমাগত*
🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
                ••••••••••••••••
*🍀ভগবানের নাম পঞ্চাব্দ ক্রমে জপ করবে।ব্রহ্মবৈবর্ত্তে পঞ্চাব্দের বিবরণ এইরকম লেখা হয়েছে*
*🌷সম্বৎরস্তু প্রথমো দ্বিতীয়ঃ পরিবৎসরঃ।*
*🌷ইদা বৎসরস্তৃতীয় শ্চতুর্থ শ্চানুবৎসরঃ।*
*🌷উদ্ বৎসরঃ পঞ্চমস্তু কালস‍্য যুগসংজ্ঞিতঃ।*
*🌻প্রথম সম্বৎসর,দ্বিতীয় পরিবৎসর, তৃতীয় ইদাবৎসর চতুর্থ অনুবৎসর পঞ্চম উদ্ বৎসর।*
*🌷বলভদ্রং তথা কৃষ্ণং কীর্ত্তয়েদয়নদ্বয়ে।*
*🌷মাধবং পুন্ডরীকাক্ষং তথা বৈ ভোগশায়িনং।।*
*🌷পদ্মনাভং হৃষীকেশং তথা দেবং ত্রিবিক্রমং।*
*🌷ক্রমেণ রাজশার্দ্দুল বসন্তাদিষু কীর্ত্তয়েৎ।।*
*🌷বিষ্ণুঞ্চ মধুহন্তারং তথা দেবং ত্রিবিক্রমং।*
*🌷বামনং শ্রীধরঞ্চৈব হৃষীকেশং তথৈবচ।*
*🌷দামোদরং পদ্মনাভং কেশবঞ্চ যদূত্তমং।।*
*🌻যদুত্তমং পদটি বিশেষণ,অন‍্যথা এয়োদশ (১৩) নাম হয়।যদূত্তম পাঠ রেখে সম্বোধনও করা যেতে পারে।অথবা কখনো মলমাস হলে এয়োদশ মাস ধরে যদূত্তম পৃথক নামও করা যেতে পারে।*
*🌷নারায়ণং মাধবঞ্চ গোবিন্দঞ্চ তথা ক্রমাৎ।*
*🌷চৈত্রাদিষু চ মাসেষু দেব-দেব মনুস্মরেৎ।।*
*🌷প্রদ‍্যুম্নমনিরুদ্ধঞ্চ পক্ষয়োঃ কৃষ্ণশুক্লয়োঃ।*
*🌷সর্বঃ সর্বশিবঃ স্থাণুর্ভূতাদিনিধিরব‍্যয়ঃ।।*
*🌷আদিত‍্যাদিষু বারেষু ক্রমাদেব মনুস্মরেৎ।*
*🌷বিশ্বং বিষ্ণু র্বষটকারো ভূতভব‍্যভবৎপ্রভুঃ।।*
*🌷ভূতভৃৎ ভূতকৃৎ ভাবো ভূতাত্মা ভূতভাবনঃ।*
*🌷অব‍্যক্তঃ পুন্ডরীকাক্ষো বিশ্বকর্মা শুচিশ্রবাঃ।।*
*🌷সদ্ভাবো ভাবনোভর্ত্তা প্রভবো প্রভুরীশ্বরঃ।*
*🌷অপ্রমেয়ো হৃষীকেশঃ পদ্মনাভোহমরপ্রভুঃ।।*
*🌷অগ্রাহ‍্যঃ শাশ্বতো ধাতা কৃষ্ণশ্চৈতান‍্যনুস্মরেৎ।*
*🌷দেবদেবস‍্য নামানি কৃর্ত্তিকাদিষু যাদব।।*
*🌷ব্রহ্মাণং শ্রীপতিং বিষ্ণুং কপিলং শ্রীধরং প্রভুং।*
*🌷দামোদরং হৃষীকেশং গোবিন্দং মধুসূদনং।।*
*🌷ভূধরং গদিনং দেবং শঙ্খিনং পদ্মিনন্তথা।*
*🌷চক্রিণঞ্চ মহারাজ প্রথমাদিষু সংস্মরেৎ।।*
*🌻ফলে,শ্রীভগবানের সব নামই সর্বদা সেবনীয়।"সর্বং বা সর্বদা নাম দেবদেবস‍্য যাদব"।*
*🌷নামানি সর্বাণি জনার্দ্দনস‍্য,*
*🌷কালশ্চ সর্বঃপুরুষপ্রবীরঃ।*
*🌷তস্মাৎ সদা সর্বগতস‍্য নাম,*
*🌷 গ্রাহ‍্যং যথেষ্টং বরদস‍্য রাজন্।।*
*🌻শ্রীভগবান্ সর্ব-বরদাতা এবং তিনি সর্বগত সুতরাং তাঁর যে কোন নাম যে কোন সময়ে কীর্তনযোগ‍্য।*
*খাইতে,শুইতে,চলতে ফিরতে,উঠতে,বসতে,হাসতে, নাচতে, হেলায়, শ্রদ্ধায়,পরিহাস,উপহাসে কর,কোন নিয়ম নাই, চিন্তামণির মত তাঁর সব নামেরই সমান ফল।আপত্তি হতে পারে যে নাম-বিশেষের মাহাত্ম্য বিশেষ কীর্তন দ্বারা অন‍্যান‍্য নামের মাহাত্ম্য সঙ্কোচ করা হয় না কি?এ আপত্তি অমূলক নয়, কিন্তু কামাদি দ্বারা অত‍্যন্ত উপহত (বিনষ্ট)চিত্ত ব‍্যক্তিদের শ্রদ্ধা ও রুচি উৎপাদনের জন্য নাম-বিশেষের মাহাত্ম্য উল্লিখিত হয়েছে।বস্তুতঃ তাঁর সব নামই সর্বদা সেব‍্য।*
*নানান কামনা-সিদ্ধির জন্য ভগবানের এক একটি নামের সবিশেষ শক্তির উল্লেখ শাস্ত্রে দেখতে পাওয়া যায়।তদ্ যথা পুলস্ত‍্য বলেন=*
*(১)🔻কামনা-সিদ্ধির জন্য =*
*🌷কামঃ কামপ্রদঃ কান্তঃ কামপাল স্তথা হরিঃ।*
*🌷আনন্দোমাধবশ্চৈব কাম সংসদ্ধিয়ো জপেৎ।।*
*(২)অরি বা রিপু জয়ের জন্য =*
*🌷রামঃ পরশুরামশ্চ নৃসিংহো বিষ্ণুরেবচ।*
*🌷বিক্রমশ্চৈবমাদীনি জপ‍্যান‍্যরিজিগুষিভিঃ।।*
*(৩)বিদ‍্যালাভের জন্য =*
*🌷বিদ‍্যাহভ‍্যস‍্যতা নিত‍্যং জপ্তব‍্যং পুরুষোত্তমঃ।*
*(৪)বন্ধ-মোচনের জন্য =*
*🌷দামোদরং বন্ধগতো নিত‍্যমেব জপেন্নরঃ।*
*(৫)নেত্রবাধা-প্রশমনের জন্য =*
*🌷কেশবং পুন্ডরীকাক্ষমনিশং হি তথা জপেৎ নেত্রবাধাসু সর্বাসু।*
*(৬)ভয়-নাশের জন্য =*
*🌷হৃষীকেশং ভয়েষু চ।*
*(৭)ঔষধ-কর্মে=*
*🌷অচ‍্যুতাঞ্চামৃতঞ্চৈব জপেদৌষধকর্ম্মণি।*
*(৮)যুদ্ধ-গমন কালে=*
*🌷সংগ্রামাভিমুখে গচ্ছন্ সংস্মরেদপরাজিতম্।*
*(৯)পূর্বাদি দিকে গমন=*
*🌷চক্রিণং গদিনাঞ্চৈব শার্ঙ্গনং খড়্গিনং তথা।*
*🌷ক্ষেমার্থী প্রবসন্ নিত‍্যং দিক্ষুপ্রাচ‍্যাদিষু স্মরেৎ।।*
*(১০) সর্ব্ব ব‍্যবহারে=*
*🌷অজিতঞ্চাধিপঞ্চৈব সর্বং সর্বেশ্বরং তথা।*
*🌷সংস্মরেৎপুরুষো ভক্ত‍্যা ব‍্যবহারেষু সর্বদা।।*
*(১১)ক্ষুৎপ্রস্খনাদি ও গ্রহ পীড়াদি ও অতিবৃষ্টিতে=*
*🌷নারায়ণং সর্বকালং ক্ষুৎপ্রস্খলনাদিষু।*
*🌷গ্রহনক্ষত্র পীড়াসু দেববাধাসু সর্বতঃ।।*
*(১২)দস‍্যবৈরিনিরোধে ব‍্যাঘ্রপীড়াদি সঙ্কটে=*
*🌷অন্ধকারে তমস্তীব্রে নরসিংহমনুস্মরেৎ।।*
*(১৩)অগ্নিদাহে=*
*🌷অগ্নিদাহে সমুৎপন্নে সংস্মরেৎ জল-শায়িনং।*
*(১৪)সর্প-বিষাদি প্রশমনে=*
*🌷গরুড়ধ্বজানুস্মরনাদ্ বিষবীর্য‍্যং ব‍্যপোহতি।*
*(১৫)স্নানে দেবার্চনে হোমে প্রণিপাতে প্রদক্ষিণে=*
*🌷কীর্ত্তয়েৎ ভগবন্নাম বাসুদেবেতি তৎপরঃ।।*
*(১৬)স্থাপনে,বিত্তধান‍্যাদে রূপধ‍্যানেচ দুষ্টজে=*
*🌷কুর্ব্বীত তন্মনাভূত্বা অনন্তাচ‍্যুত কীর্তনম।।*
*(১৭) দুষ্ট বা খারাপ স্বপ্নে=*
*🌷নারায়ণং শার্ঙ্গধরং শ্রীধরং পুরুষোত্তমং।*
*🌷বামনং খড়্গিনঞ্চৈব দুষ্ট স্বপ্নে সদা স্মরেৎ।।*
*(১৮)মহার্ণবে=*
*🌷মহার্ণবাদৌ পর্য‍্যঙ্ক-শায়িনঞ্চ নরঃ স্মরেৎ।*
*(১৯)সর্বকর্ম সমৃদ্ধি জন্য =*
*🌷বলভদ্রং সমৃদ্ধ‍্যর্থং সর্বকর্মণি সংস্মরেৎ।*
*(২০)অপত‍্যার্থ বা সন্তানের জন্য =*
*🌷জগৎপতিমপত‍্যর্থং স্তুবন্ ভক্ত‍্যা ন সীদতি।*
*(২১)সর্বাভ‍‍্যুদয়িকে=*
*🌷শ্রীশং সর্বাভ‍্যুদয়িকে কর্মণ‍্যাশু প্রকীর্ত্তয়েৎ।*
*(২২)অরিষ্টে বা অমঙ্গলে=*
*🌷অরিষ্টেষু হ‍্যশেষেসু বিশোকঞ্চ সদা জপেৎ।*
*(২৩)নির্জনদেশে গমনে অথবা বাত‍্যাদিতে মরণাদিতে=*
*🌷মরুৎপ্রপাতাগ্নিজলবন্ধনাদিষু মৃত‍্যুষু।*
*🌷স্বতন্ত্রপরতন্ত্রেষু বাসুদেবং জপেদবুধঃ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
                ^^^^^^^^^^^^^
*🌻বিষ্ণু ধর্মোত্তরে মার্কন্ডেয়-বজ্র-সংবাদে নাম বিশেষের মাহাত্ম্য লিখিত আছে=*
*(১)জল-প্রতরণে=*
*🌷কূর্ম্মং বরাহং মৎস‍্যম্বা জল-প্রতরণে স্মরেৎ।*
*(২)অগ্নিজননে=*
*🌷ভ্রাজিষ্ণুমগ্নিজননে জপেন্নাম ত্বখন্ডিতং।*
*(৩)আপদে,জ্বরে,শিরোরোগে বিষবীর্য‍্যে=*
*🌷গরুড়ধ্বজানুস্মরণাদাপদোমুচ‍্যতে নরঃ।*
*🌷জ্বরজুষ্ট-শিরোরোগ-বিষবীর্য‍্যঞ্চ শাম‍্যতি।।*
*(৪)যুদ্ধার্থে=*
*🌷বলভদ্রং তু যুদ্ধার্থী।*
*(৫)কৃষ‍্যারম্ভে=*
*🌷হলায়ুধম্।*
*(৬)উত্তারণ বণিজ‍্যার্থী=*
*(৭)রামমভ‍্যুদয়ে নৃপ=*
*(৮)মঙ্গলে=*
*🌷মাঙ্গল‍্যং মঙ্গলং বিষ্ণুং মাঙ্গল‍্যেষুচ কীর্ত্তয়েৎ।*
*(৯)উঠিতে=*
*🌷উত্তিষ্ঠন্ কীর্ত্তয়েদ্ বিষ্ণুং।*
*(১০)নিদ্রাকালে=*
*🌷প্রস্ববন্ মাধবং নরঃ।*
*(১১)ভোজনে=*
*🌷ভোজনে চৈব গোবিন্দং সর্বত্র মধুসূদনম্।*
*🌻আবার অন‍্যত্র উক্ত হয়েছে =*
*🌷ঔষধে চিত্তয়েদ্ বিষ্ণুং ভোজনে চ জনার্দনং।*
*🌷শয়নে পদ্মনাভঞ্চ বিবাহেচ প্রজাপতিম্।।*
*🌷সংগ্রামে চক্রিনং ক্রুদ্ধং স্থানভ্রংশে ত্রিবিক্রমং।*
*🌷নারায়ণং তনুত‍্যাগে শ্রীধরং প্রিয়সঙ্গমে।।*
*🌷জলমধ‍্যেবরাহঞ্চ পাবকে জলশায়িনং।*
*🌷কাননে নরসিংহঞ্চ পর্বতে রঘুনন্দনম্।।*
*🌷দুঃস্বপ্নে স্মর গোবিন্দং সঙ্কটে মধুসূদনম্।*
*🌷গমনে বামনঞ্চৈবং সর্বকার্য‍্যেষু মাধবম্।।*
*🌻অপিচ=*
*🌷কীর্ত্তয়েদ্ বাসুদেবঞ্চ অনুক্তেষ্বপি যাদব।* 
*🌷কার্য‍্যারম্ভে তথা রাজন্ যথেষ্টং নাম কীর্ত্তয়েৎ।।*
*🌻হরিভক্ত-বিলাসে শ্রীশ্রীভগবন্নামের নানা রকম ফলশ্রুতি শ্রেণীবদ্ধ ভাবে লিখিত হয়েছে,যথা=*
*(১)অখিল-পাপ-উন্মুলনত্ব-- বিষ্ণুধর্মোত্তরে নারদ-উক্তি---*
*🌷অহো সুনির্মলা যূয়ং রাগোহি হরিকীর্তনে।*
*🌷অবিধূয় তমঃ কৃৎস্নং নৃণাং নোদতি সূর্য‍্যবৎ।।*
*🌻অহো!তোমরা অতি সুনির্মল, কেন না,হরিকীর্তনে তোমাদের শ্রদ্ধা দেখা যাচ্ছে।হরিকীর্তনে শ্রদ্ধার এমনই প্রভাব যেমন সূর্য‍্য উদিত হলে অন্ধকার নষ্ট হয়, তেমনি হরিকীর্তনে শ্রদ্ধার উদয়মাত্রই সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়ে যায়।*
*🌷পাপানলস‍্য দীপ্তস‍্য মাকুর্ব্বন্তু ভয়ং নরাঃ।*
*🌷গোবিন্দ-নাম-মেঘৌঘৈ র্নশ‍্যতে নীরবিন্দুভিঃ।।*
                         *(গারুড় পুরাণ)*
*🌻আর যেন নরগণ পাপানলের ভয় না করেন।যেহেতু শ্রীগোবিন্দের নামই মেঘ-পুঞ্জ-সদৃশ।এর বিন্দুমাত্র জলকণিকাতেও বিশাল পাপ দাবদাহ প্রশমন করতে সমর্থ।*
*🌷অবশে নাপি যন্নাম্নি কীর্ত্তিতে সর্ব পাতকৈঃ।*
*🌷পুমান্ বিমুচ‍্যতে সদ‍্যঃ সিংহ ত্রস্তৈর্মৃগৈরিব।।*
*🌻মানুষ অবশভাবেও শ্রীভগবানের নাম কীর্তন করলে,সিংহ-ভীত হরিণের মত পাপসকল সুদূরে পালিয়ে যায়। অথবা সিংহ সহসা সমুপস্থিত হলে হরিণ-অবরোধকারী বাঘগুলি যেমন ভয়ে ভয়ে অনেক দূরে পালিয়ে যায়, তেমনি শ্রীভগবানের নাম শুনলে পাপ সব অনেক দূরে পালিয়ে যায়।*
*☘অবশভাবে ভগবানের নাম গ্রহণ করলে যদি এরকম পাপ-মুক্তির সম্ভাবনা হয়,তবে ভক্তিকরে নাম গ্রহণ করলে যে কত ফল হয়, শাস্ত্র তাও বলেছেন=*
*🌷যন্নামকীর্তনং ভক্ত‍্যা বিলাপনমনুত্তমং।*
*🌷মৈত্রেয়াশেষপাপানাং ধাতুনামিব পাবকঃ।।*
*🌻হে মৈত্রেয়!দ্বাদশ বৎসর প্রায়শ্চিত্ত দ্বারা পাপ নষ্ট হয় বটে, কিন্তু পাপের সংস্কার হয় না, সেটি থেকে যায় ; কিন্তু হরিনাম দ্বারা পাপের সংস্কার পর্যন্ত নষ্ট হয়।যেমন ধাতুতে ধাত্বন্তর-সংযোগজনিত ময়লা, উদ্বর্ত্তন প্রক্ষালনাদি দ্বারা বিনষ্ট হয় না, কিন্তু আগুনের দ্বারা সেটি নষ্ট হয়,সেইরকম বহু প্রকার প্রায়শ্চিত্ত দ্বারাও পাপের বীজ নষ্ট হয় না, কিন্তু হরিনাম দ্বারা সেটি নিঃশেষ ভাবে বিনষ্ট হয়। সুতরাং হরিনাম গ্রহণ রূপ প্রায়শ্চিত্ত সর্বাপেক্ষা উত্তম।*
*🌷যস্মিন্ন‍্যস্তমতির্ন যাতি নরকং স্বর্গোহপি যচ্চিন্তনে।*
*🌷বিঘ্নো যত্র নিবেশিতাত্মমনসো ব্রহ্মেহপি লোকোহল্পকঃ।।*
*🌷মুক্তিং চেতসি যঃ স্থিতোহমলধিয়াং পুংসাং দদাত‍্যব‍্যয়ঃ।*
*🌷কিঞ্চিত্রং যদঘং প্রযাতি বিলয়ং তত্রাচ‍্যুতে কীর্ত্তিতে।।*
*🌻হরি-কীর্তন মাত্রে সব পাপ ক্ষয় হয়।যাতে চিত্ত-অর্পণে কখনও নরক দর্শন হয় না,যাঁর ধ‍্যানের কাছে স্বর্গসুখও বিঘ্নস্বরূপ বলেই বোধ হয়, যাঁতে চিত্ত সমাহিত হলে ব্রহ্মলোকও তুচ্ছ পদার্থ বলে অনুমিত হয়, যে কোন ভাবে যে অব‍্যয় পুরুষ অন্তরে স্থিত হলে ধীমান মুনিগণের মুক্তি লাভ ঘটে অথবা মলিন মতিগণেরও মুক্তি সহজে লাভ হয়,সেই ভগবানের নাম কীর্তন হলে যে পাপ বিদূরিত হবে এতে আর আশ্চর্য‍্য কি?*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)🐚 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                 *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
                 ☆☆☆☆☆☆
*🙏বিষ্ণুধর্মোত্তরে-------*
*🌷সায়ং প্রাতস্তথা কৃত্বা দেবদেবস‍্য কীর্তনং।*
*🌷সর্ব পাপবিনির্মুক্তঃ স্বর্গলোকে মহীয়তে।।*

*🌻সন্ধার সময় ও সকালবেলায় দেবদেব মুকুন্দের নাম কীর্তন করলেই সর্ব পাপ হতে মুক্ত হয়ে সুখে স্বর্গলোকে বাস ঘটে থাকে।*

*🌷নারায়ণো নাম নরো নরাণাং,*
*🌷প্রসিদ্ধ চৌরঃ কথিতঃ পৃথিব‍্যাম্।*
*🌷অনেক জন্মার্জ্জিত পাপ সঞ্চয়ং,*
*🌷হরত‍্যশেষং শ্রুত মাত্র এব।।*
                     *(বামন পুরাণ)*

*🌻নর নারায়ণ নামটি পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ চোর।যেহেতু চোর যেমন লোকের বহুকাল অর্জ্জিত অর্থ চুরি করে, সেইরকম এই নামও উচ্চারণমাত্রই মানুষের বহু কাল-সঞ্চিত পাপ সব নিঃশেষ রূপে চুরি করে থাকে। অথবা যে নর নামই নারায়ণ স্বরূপ--- এরকম অর্থও হ'তে পারে।*

*🌻🌻স্কন্দ পুরাণে🌻🌻*

*🌷গোবিন্দেতি তথা প্রোক্তং ভক্ত‍্যা বা ভক্তি-বর্জ্জিতৈঃ।*
*🌷দহতে সর্ব্ব পাপানি যুগান্তাগ্নিরিবোত্থিতঃ।।*

*🌻প্রলয়াগ্নি(সমস্ত ধ্বংসকালে যে আগুন) যেমন সমগ্র বিশ্বকে ভস্মীভূত করে ফেলে, গোবিন্দ নামটিও সেইরকম ভক্তিতে বা অভক্তিতে উচ্চারিত হওয়ামাত্রই সবরকম পাপ ভস্মীভূত করেন।*

*🌷গোবিন্দো নাম্না যঃ কশ্চিন্নরো ভবতি ভূতলে।*
*🌷কীর্ত্তনাদেব তস‍্যাপি পাপং যাতি সহস্রধা।।*

*🌻কোন মানুষের নাম যদি গোবিন্দ হয়,তাঁকেও যদি গোবিন্দ বলে ডাকা হয়,তাতেও হাজার প্রকারের পাপ নষ্ট হয়।*
*🌹কাশীখন্ডে লিখিত আছে=*

*🌷প্রমদাদপি সংস্পৃষ্টো যথানলকণো দহেৎ।*
*🌷তথৌষ্ঠ-পুটসংস্পষ্টং হরি নাম দহেদঘম্।।*

*🌻ভুলেও যদি আগুনের কণা সংস্পৃষ্ট বা সম্পর্ক হয়,তাতেও যেমন দাহ‍্য পদার্থ পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সেইরকম জ্ঞানে বা অজ্ঞানে হেলায় বা শ্রদ্ধায় হরিনাম ওষ্ঠপুট (উপর ও নিচের ঠোঁট মিলিত) সংস্পৃষ্ট হলেই তাতে পাতকরাশি বিনষ্ট হয়ে যায়।আগুনের কাজ যেমন দহন করা স্বাভাবিকী শক্তি, সেইরকম পাপনাশ করাও শ্রীভগবানের নামের অক্ষরগুলির স্বাভাবিকী শক্তি।*
*🌻বৃহন্নারদীয় লুব্ধক-উপাখ‍্যানে লিখিত আছে=*

*🌷নরাণাং বিষয়ান্ধনাং মমতাকুলচতসাং।*
*🌷একমেব হরের্নাম সর্বপাপ-বিনাশনম্।।*

*🌻মমতা-কুল-চিত্ত-বিশিষ্ট ( সংসারের মায়া মমতায় পরিপূর্ণ যাদের মন ) চরমভাবে বিষয়ান্ধ, মানুষগণের পক্ষে একমাত্র হরিনামই সর্ব পাপ বিনাশক।*

*🌻উক্তস্থলেই শ্রীযমরাজ বলছেন=*

*🌷হরি হরি সকৃদুচ্চারিতং,*
*🌷দস‍্যু চ্ছলেন যৈ র্মনুস‍্যৈঃ,*
*🌷জননী জঠরমার্গ-লুপ্তা,*
*🌷ন মম পট লিপিং বিশন্তি মর্ত্ত‍্যাঃ।*

*🌻দস‍্যুবৃত্তি করতে গিয়েও যদি কারও দ্বারা একবার "হরি হরি" এই শব্দ উচ্চারিত হয়,তাহলে তার জননী জঠরের পথ লুপ্ত হয় অর্থ‍্যাৎ তার আর জন্ম হয় না এবং সে আর আমার অধিকারে আনীত হয় না।*
🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
                ☆☆☆☆☆☆

*🌻পদ্মপুরাণে বৈশাখ-মাহাত্ম‍্যে দেবশর্ম্মোপখ‍্যানান্তে শ্রীনারদ বলছেন=*

*🌷হত‍্যাযুতং পাপ-সহস্রমুগ্রং,*
*🌷গুর্ব্বঙ্গনাকোটি নিষেবণঞ্চ,*
*🌷স্তেয়ান‍্যনেকানি হরি-প্রিয়েণ,*
*🌷গোবিন্দ নাম্না নিহতানি সদ‍্যঃ।*

*🌻অযুত (দশহাজার) ব্রহ্মহত‍্যা, সহস্রবার উগ্রসুরাপান, কোটি কোটি গুর্ব্বঙ্গনা নিষেবণ (সেবা) এবং সোনা চুরিকরা মহাপাপগুলিও হরিপ্রিয়তা-প্রাপ্ত ব‍্যক্তি গোবিন্দ নাম বলে বিনষ্ট করেন।*

*🌷অনিচ্ছয়াপি দহতি স্পৃষ্টো হুতবহো যথা।*
*🌷তথা দহতি গোবিন্দ নাম ব‍্যজাদপীরিতম্।।*

*🌻অনিচ্ছায় আগুন স্পৃষ্ট হলেও সেটি যেমন পুড়ে যায়,সেইরকম পুত্রাদিচ্ছলে অনিচ্ছাতেও যদি গোবিন্দ নাম উচ্চারিত হয়,তাতেও পাপরাশি বিনষ্ট হয়।*

*🌻তত্রৈব যম-ব্রাহ্মণ-সংবাদে--*

*🌷কীর্ত্তনাদেব কৃষ্ণস‍্য বিষ্ণোরমিত তেজসঃ।*
*🌷দুরিতানি বিলীয়ন্তে তমাংসীব দিনোদয়ে।।*

*🌻সূর্যোদয়ে যেমন অন্ধকার রাশি বিনষ্ট হয়, সেইরকম সর্বব‍্যাপী অমিততেজা শ্রীকৃষ্ণের নাম-কীর্তনে সর্বপাপ নষ্ট হয়।*

*🌷নান‍্যৎ পশ‍্যামি জন্তুনাং বিহায় হরি কীর্ত্তনং।*
*🌷সর্ব্বপাপ-প্রশমনং প্রায়শ্চিত্তং দ্বিজোত্তম।।*

*🌻হে দ্বিজোত্তম!সবাসন পাপক্ষলনে অশক্ত ব‍্যক্তির পক্ষে হরি-কীর্তন ছাড়া সর্বপাপ প্রশমনের আমি আর অন‍্য কোনও উপায় দেখতে পায় না।*

*🌻শ্রীভাগবতের ষষ্ঠ স্কন্ধে অজামিল উপাখ‍্যানে লিখিত আছে =*

*🌷অয়ং হি কৃতো নির্ব্বেশো জন্মকোট‍‍্যংহসানপি।*
*🌷যদ্ব‍্যজহার বিবশো নাম স্বস্ত‍্যয়নং হরেঃ।।*

*🌻এই অজামিল বিবশভাবে অর্থ‍্যাৎ মৃত‍্যুর সময়ে নারায়ণ নামক পুত্রের আহ্বানচ্ছলে যে শ্রীহরির পরম "নারায়ণ" স্বস্ত‍্যয়ন নাম গ্রহণ করেছিলেন,তাতেই ইহার কোটি কোটি জন্মের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়েছে।এই হরিনাম কেবল প্রায়শ্চিত্ত মাত্র নয়, সেটি মোক্ষ সাধনেরও উপায়।*
*🌷স্তেনঃ সুরাপো মিত্রধ্রুগ্ ব্রহ্মহা গুরুতল্পগঃ।*
*🌷স্ত্রী-রাজ-পিতৃ-গোহন্তা যে চ পাতকিনোহপরে।*
*🌷সর্ব্বেষামপ‍্যঘবতামিদমেব সুনিষ্কৃতং।*
*🌷নামব‍্যহরণং বিষ্ণোর্যতস্তদ্বিষয়া মতিঃ।।*

*🌻যারা সোনা চুরি করে, মদ‍্যপায়ী,মিত্রদ্রোহী, ব্রহ্মহত‍্যাকারী,গুরুপত্নীগামী, স্ত্রীঘাতী,গোহত‍্যাকারী, এবং অন‍্যান‍্য পাপাচারী সকলের পক্ষেই নারায়ণের নাম কীর্তন প্রায়শ্চিত্ত বলিয়া কীর্ত্তিত হয়েছে, কারণ নাম-উচ্চারণকারী ব‍্যক্তিকে তিনি তাঁর নিজের লোক বলিয়া রক্ষা করেন।*

*🌷ন নিষ্কৃতৈ রুদিতৈ র্ব্রহ্মবিদিভি,*
*🌷স্তুথা বিশুদ্ধত‍্যঘবান্ ব্রতাদিভিঃ।*
*🌷যথা হরের্নাম পদৈ রুদাহৃতৈ,*
*🌷স্তদুত্তমঃশ্লোক গুণোপলম্ভকম্।।*

*🌻ভগবান্ হরির নাম-উচ্চারণকারী জীব যেরকম শুদ্ধি লাভ করেন,মনু প্রভৃতি ব্রহ্মবেত্তা মুনিগণ যদিও পাপক্ষয়ের জন্য প্রায়শ্চিত্তের বিধান করেছেন কিন্তু তাতে সেরকম শুদ্ধি ঘটে না।বিশেষকরে নাম উচ্চারণের সবিশেষ ফল এই যে,সেটিতে পাপনাশের সঙ্গে উত্তমশ্লোক ভগবানের গুণগরিমা প্রকাশিত হয়। প্রায়শ্চিত্তের সে সামর্থ‍্য নাই।প্রায়শ্চিত্ত দ্বারাও মহাপাপ বহুপাপ প্রভৃতি এক জন্মে ধ্বংস হওয়া অসম্ভব।জীবাত্মা ঐ সব পাপে এমনভাবে কলুষিত ও বিজড়িত হয়ে পড়ে যে একবারে ঐ সব পাপ প্রায়শ্চিত্ত দ্বারা জীবাত্মা হতে দূরীকৃত হয় না। কিন্তু নামের সামর্থ‍্য অতি চমৎকার, শ্রীভগবানের নাম পাপের মূল পর্যন্ত বিনষ্ট করে ফেলেন।*
👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
                °°°°°°°°°°°°°°°

*🌷সঙ্কেত‍্যং পরিহাসম্বা স্তোভং হেলনমেববা।*
*🌷বৈকুন্ঠ-নাম-গ্রহণমশেযিঘহরং বিদুঃ।।*

*🌻অজামিলের উদাহরণে দেখা যায় যে তিনি মৃত‍্যুকালে তাঁর নারায়ণ নামে পুত্র ছিল, সেই নারায়ণ নাম বলে ডেকেছিলেন, এই নারায়ণ নামটি তাঁর পুত্রে সাঙ্কেতিক হয়েছিল, কিন্তু নামের এমনই চরম শক্তি যে তাতেও তিনি যমদূতগণের হাত হতে নিষ্কৃতি লাভ করলেন। সুতরাং ভগবানের নামে পুত্রাদির ডাকে,পরিহাসনে,গীতালাপাদি পরিপূরণে, হেলাচ্ছলে, (যেমন বিষ্ণু আমার কি করতে পারে? এইরকম অবজ্ঞায়) ভগবানের নাম উচ্চারিত হলেও অশেষ পাপ নষ্ট হয়।*

*🌷পতিতঃ স্খলিতো ভগ্নঃ সংদষ্ট স্তপ্ত আহতঃ।*
*🌷হরিরিত‍্যবশেনাহ পুমান্নার্হতি যাতনাঃ।।*

*🌹পতিত, স্খলিত,ভগ্নগাত্র,(নানান চিন্তায় দেহ ভেঙ্গে যাওয়া) সর্পাদিদষ্ট,(সাপের দংশনে কষ্ট পাওয়া ) জ্বরাদি-রোগাভিভূত বা দন্তাহতাবস্থাতেও(দাঁতের কামড়ে আহত হয়ে ভীষণ কষ্ট পাওয়াতেও) যদি লোক অবশ হয়ে হরিনাম উচ্চারণ করে, তার ফলেই আর তাকে নরকভোগ করতে হয় না।*

*🌷অজ্ঞানাদথবা জ্ঞানাদুত্তমংশ্লোক-নাম যৎ।*
*🌷সংঙ্কীর্ত্তিতমঘং পুংসোদহেদেধো যথানলঃ।।*

*🌹জ্ঞানেই হোক বা অজ্ঞানেই হোক,আগুনের দাহ‍্য বস্তু দহনের মত, হরিনাম পাপরাশিকে ভস্মীভূত করে।*

*🌷ব্রহ্মহা পিতৃকা গোঘ্নো মাতৃহাচার্য‍্যহাঘবান্।*
*🌷শ্বাদঃ পুক্বশকোবাপি শুদ্ধ‍্যেরন্ যস‍্য কীর্ত্তিনাৎ।।*

*🌻ব্রহ্মঘাতী,পিতৃঘাতী,গো-ঘাতী, মাতৃঘাতী,আচার্য‍্যঘাতী, এবং অন‍্যান‍্য পাপকারী ব‍্যক্তি শ্বপচ ও পুক্কশ প্রভৃতিও হরিনাম কীর্তন দ্বারা সদ‍্য সদ‍্য পাপ হতে মুক্তি লাভ করে।*

*🌹লঘুভাগবতে=*

*🌷বর্ত্তমানন্তু যৎপাপং যদ্ভূত যদ্ ভবিষ্যতি।*
*🌷তৎসর্ব্বং নির্দ্দহত‍্যাশু গোবিন্দানল-কীর্ত্তনাৎ।।*

*🌻বর্তমান পাপ,অতীত পাপ ও ভবিষ্যৎ পাপ এই সবরকম পাপই শ্রীগোবিন্দের অনলরূপ নামকীর্তন দ্বারা ভস্মীভূত হয়। "গোবিন্দানল কীর্তন" পদের অর্থ গোবিন্দ নামের অনলবৎ কীর্তন। "কীর্তন"-- অনল স্বরূপ।*

*🌷সদাদ্রোহপরো যস্তু সজ্জনাণাং মহীতলে।*
*🌷জায়তে পাবনোধন‍্যো হরের্নামানুকীর্ত্তনাৎ।।*

*🌳যে ব‍্যক্তি সর্বদাই সাধুজনের প্রতি দ্রোহাচরণ (অনিষ্ট আচরণ) করে,সে মহা অপরাধী।এতাদৃশ (এরকম বা এমন) সজ্জন-দ্রোহীকে(অনিষ্টকারীকে) স্বয়ং ভগবানও ক্ষমা করেন না।ইহার পক্ষে অন‍্য কোনও প্রায়শ্চিত্ত নাই। ভোগ ছাড়া এ মহা-অপরাধের নাশের আর অন‍্য প্রায়শ্চিত্ত নাই। কিন্তু ভগবানের নামের এমনই মহিমা যে এমন মহা-অপরাধও শ্রীনামে বিনষ্ট হয়। নিরন্তর বা সবসময় নামকীর্তন দ্বারাই এমন অপরাধ হতে লোক মুক্তি লাভ করে। "অনুকীর্তন" পদের অনুশব্দের অর্থ "নিরন্তর, বা সবসময় "।কেবল যে পাপ নষ্ট হয়,তা নয়,সে ধন‍্য হয়,পরম শুদ্ধ হয়। অথবা "পাবন" পদের অর্থ,এই যে সে যে কেবল নিজে পবিত্র হয়,তা নয়, অন‍্যকেও পবিত্র করতে সমর্থ‍্য হয়। আবার "ধন‍্য" পদের অর্থ এই যে,সর্বদা হরিকীর্তন দ্বারা সে ব‍্যক্তি প্রেম-লক্ষণ ভগবদ্ভক্তি রূপ ধন-লাভের অধিকার যোগ্য হয়।*
*🍀যদিও অন‍্যত্র দেখা যায় যে, "সতাং নিন্দা নাম্নঃ পরমপরাধং বিতনুতে" ইত্যাদি, অর্থ‍্যাৎ সাধুগণের নিন্দা করলেই নামাপরাধ ঘটে, কিন্তু এ স্থলে শুধু নিন্দা নয়, সাধুদ্রোহ! তাও আবার "সদা" অর্থ‍্যাৎ সর্বদাই সাধুদ্রোহ! এ যে ভীষণতম মহাপরাপ।এই পরম মহদপরাধের অবশ‍্যম্ভাবী অতি বিষময় ফল মহানরক ভোগ। শাস্ত্রকার বলেন "নাম্নোপি সর্ব্বসুহৃদঃ অপরাধাৎ পতত‍্যধঃ"। অর্থ‍্যাৎ সর্ব সুহৃৎ নামের কাছে অপরাধী হলে অধঃপাত (উচ্ছন্নে যাওয়া) একেবারেই সুনিশ্চিত। তবে এ পাপ হতে নিস্তারের কোনও উপায় নাই!না থাকবে কেন? নাম-- পরম করুণাময়। নামের কাছে অপরাধী হলে অনন্তর নাম করলে নামাপরাধও বিনষ্ট হয়। পরমকারুণিক শাস্ত্র বলেন=*
*🌷নামাপরাধযুক্তানাং নামান‍্যেব হরন্ত‍্যঘম্।*
*🌻নাম-অপরাধ করলে নামগুলিই তার পাপ হরণ করেন, এবং নামাপরাধী পাপমুক্ত হয়ে ভক্তি-বিশেষকে লাভ করেন। অতএব মূল শ্লোকে ভালই বলা হয়েছে যে "জায়তে পরমোধন‍্যঃ"। সর্বদা নাম করলে নামাশ্রয়ী পরম ধন‍্য হন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds