শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*

*🍀আমি আমার মত সহজ সরল ভাষায় লিপিবদ্ধ করছি, যাতে সকলের বোধগম্য হয়।আমার মনে হয় এই পদাবলী কীর্তনেই পরিপূর্ণ ভাবে ভজন-সাধন রয়েছে।আমি অন‍্যান‍্য কথায় যাব না, মূল বিষয়টি এখানে তুলে ধরিব।*
*পদাবলী কীর্তনের সাহিত‍্য,দর্শনতত্ত্ব, প্রাণতত্ত্ব,বস্তুতত্ত্ব,পালাগান ও পালা বিভাগ ও তাদের পিছনে মনোবিজ্ঞানিকী নীতি,রাগ,তাল, ছন্দ, আখর বৈশিষ্ট্য বিষয়বস্তুর আলোচনা স্থান পাবে।*
*পদাবলীকীর্তন শুধুই ভারতের নয়,সমগ্র বিশ্বের সঙ্গীত-জগতে একটি অনবদ‍্য ও অনন‍্যসাধারণ দান।কীর্তনের সাহিত‍্যসম্পদ তথা পদের রসায়িত ব্রজবুলি ভাষা ও ছন্দায়িত রচনা বিশ্বের সমাজে অননুকরণীয়।রস,ভাব ও ছন্দের তা ত্রিবেণীধারা।পদাবলীকীর্তন বাঙালীমাত্রের ও ভারতের সঙ্গীত-সাধকমাত্রেরই আদরের বস্তু।দক্ষিণ-ভারতে ও মহারাষ্ট্রে ভক্তিভাবনিষ্ণাত পদকীর্তনের প্রচলন থাকলেও শ্রীচৈতন‍্যদেবের পরবর্তীকালে গৌড়ীয়-বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণ প্রতিপাদিত বৈষ্ণবদর্শনতত্ত্বের সহযোগে বাংলাদেশে বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের রূপ,বিশেষ শৈলী ও বিকাশ অননুকরণীয় ভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে--,যার তুলনা বিশ্বের ইতিহাসে মেলে না।উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীতপদ্ধতিতে তালের যে বিকাশ,কিংবা দক্ষিণ ভারতের সঙ্গীতপদ্ধতিতে বিচিত্র তালের যে অনুশীলন এখনও বতর্মান আছে,বাংলার বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনে তালের বিকাশ তাদের চেয়ে অনেক বেশী ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।বাংলার পদাবলীকীর্তন "ক্ল‍্যাসিক‍াল" সঙ্গীতপদ্ধতির অন‍্যতম। প্রাণবান ও রসায়িত এই সঙ্গীত।দুঃখের বিষয়,অভিজাত ক্ল‍্যাসিকাল সঙ্গীতের যাঁরা ধারক ও সাধক,তাঁদের দৃষ্টি এখনও বাংলার এই নিজস্ব সম্পদ ও সংস্কৃতির প্রতি সেইভাবে আকৃষ্ট নয়।এ সবের বেলায় দক্ষিণভারতের সঙ্গীতজ্ঞানী ও সঙ্গীত-শিল্পীদের জাতীয় সম্পদ ও নিজস্ব অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টির নিদর্শনের আমরা প্রশংসা করি।রসানুভূতিই সঙ্গীতের প্রাণবস্তু। বাংলার পদাবলীকীর্তনে অনবদ‍্য ও অপার্থিব রসের আস্বাদন সহজেই পাওয়া যায় এবং তারই জন্য বৈষ্ণবশিরোমণি ঠাকুর নরোত্তমদাস পদাবলীকীর্তনকে "রসকীর্তন" আখ‍্যা দিয়েছিলেন।তাছাড়া অসাম্প্রদায়িক উদারতা সর্বজনসমাদৃত হলেও বিশ্বের প্রতিটি জাতি তাঁর সাহিত‍্যবোধ ও জাতীয় সমৃদ্ধিরূপ শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি একান্ত নিষ্ঠাকে নিয়েই বিশ্বের দরবারে গৌরব ও সমাদরের আসন লাভ করে, জাতীয়তাকে ও জাতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে অবমাননা কিংবা অনাদর করে তা পাওয়া যায় না।তাই ভারতের ও বিশেষ করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পসম্পদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান রেখে সংস্কৃতিসেবি মনিষীরা বাংলার পদাবলীকীর্তনের মান ও মাধুর্য‍্যকে অক্ষুণ্ণ রাখবেন আশা করি।*
 *🙏আমি অতি অধম, কেবলমাত্র এই পদাবলীকীর্তনকে খুবই মনে প্রাণে আস্বাদন করবার ইচ্ছে করি, দুর্ভাগ্য আমার, সেই আশা হতে বঞ্চিত হচ্ছি।আশা করব আগামীতে যেন এই পদাবলীকীর্তন পদকর্তার লিপিবদ্ধ পদের উপর পরিবেশন হইলে ভীষণ আনন্দ পাব।*
      *🙏শ্রীজয়দেব দাঁ*
                *মালদা*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

*🍀বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তন নদীমাতৃকা সুজলা সুফলা বাংলাদেশের হৃদয় তন্ত্রীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলার পদাবলীকীর্তন বাঙ্গালীজাতির রসভাব-সম্পৃক্ত হৃদয়াবেগ ও নিবিড় অন্তরানুভূতির বহিঃপ্রকাশ মাত্র।রসভাবসমৃদ্ধ ব্রজবুলিভাষা যেদিন বাংলার বৈষ্ণব-পদাবলীসাহিত‍্যের সরল সাবলীল বহিরাবরণ বা অলঙ্করণ সৃষ্টি ক'রে ভাববিদগ্ধ প্রেরণা বৃহত্তর বাংলার জনগণের অন্তরে সচল প্রবাহ এনে দিয়েছিল, শাস্ত্রীয় রাগ,তাল ও বিচিত্র ছন্দের সম্ভার নিয়ে ব্রজের পরমনায়ক ও পরমনায়িকা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার অপার্থিব মধুর চরিত্র বাঙ্গালীজাতির চিত্তকে যেদিন মথিত ও উদ্বেলিত করেছিল ও বাংলার প্রেমের অবতার সর্বভাবঘনমূর্তি শ্রীচৈতন‍্যের নামকীর্তন বাংলাদেশের আবালবৃদ্ধবনিতার মনকে যেদিন রসাস্বাদনে নিবিষ্ট ক'রে ধূলিধূসরিত পৃথিবীর বহুউর্দ্ধে শাশ্বত আনন্দলোকে বিধৃত করেছিল, ঠিক সেইদিন হতেই স্বর্গীয় পদাবলীকীর্তনের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল,সাহিত‍্য ও সঙ্গীতরসপিয়াসী বাঙ্গালীজাতির অন্তরাজ‍্যে ও দিব‍্যভাবের সাধনা ও লীলাক্ষেত্র রচিত হয়েছিল এই বাংলাদেশের শ‍্যামল বক্ষে।শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার নানান আখ‍্যান ও প্রেমলীলার কাহিনী খ্রীষ্ট্রীয় শতকের সূচনা থেকেই প্রাকৃত লৌকিক সাহিত‍্য ও সঙ্গীতের সামগ্রীকে নিয়ে দক্ষিণদেশের আলবার বা আড়বার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ও পশ্চিমবঙ্গের জায়গায় জায়গায় ভক্তিভাবসম্পৃক্ত অনুন্নত ও অশিক্ষিত বাঙ্গালীজাতির সমাজেও যে বিকাশলাভ করেছিল তার প্রমাণের অভাব নাই।*
*শ্রদ্ধেয় শ্রীযতীন্দ্র রামানুজদাস 'আড়বার' ও 'সহস্রপদাবলী' গ্রন্থে সংগৃহীত এবং কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের রবীন্দ্র অধ‍্যাপক ডাক্তার শ্রীআশুতোষ ভট্টাচার্য্য কর্তৃক রচিত সুবৃহৎ "বঙ্গীয় লোকসঙ্গীত-রত্নাকর"-গ্রন্থে সংকলিত গানগুলির মধ্যে সময় বা রচনাকালের যথেষ্ট পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশে অভিজাত রাগ ও তাল-সমন্বিত গান যে বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের সৃষ্টি ও বিকাশের বহুপূর্বেই বতর্মান ছিল তা আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষকদের অনুসারে খ্রীষ্ট্রীয় ১ম থেকে ৫ম শতকে দক্ষিণদেশীয় আড়বার সম্প্রদায়ের সৃষ্টি "দিব‍্যপ্রবন্ধ" এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া,ঝাড়গ্রাম, বাঁশপাহাড়ী, মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি স্থানে সংগৃহীত ঝুমুরগানগুলির গঠনশৈলী ও প্রকাশভঙ্গী লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। ডাক্তার আশুতোষ ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের প্রত‍্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের দানস্বরূপ 'লোকসঙ্গীত-রত্নাকর' গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ড থেকে উদ্ধৃত ক'রে বলি, "কালক্রমে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' এর লৌকিক ধারাটি বৈষ্ণব-পদাবলী দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও বৈষ্ণবপদাবলীর ধারার মধ্যে এটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে নাই।(নিবেদন)।*
                          *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস* 
          •••••••••••••••••••••••••••••••
*"লৌকিক প্রেমসঙ্গীত একদিন প্রচলিত ছিল,তাতে বৈষ্ণবধর্মের প্রভাব বিস্তারিত হবার ফলে রাধাকৃষ্ণের নাম গিয়ে প্রবেশ করেছিল।"।"মহাজন-পদাবলী রচনার অনুকরণে এক শ্রেণীর লৌকিক পদাবলী রচিত হয়েছিল,তাও ঝুমুর নামেই সাধারণভাবে পরিচিত ছিল। আদিবাসীর সঙ্গীতের নাম ঝুমুর। কিন্তু রাধাকৃষ্ণের বিষয়ক লৌকিক পদাবলীর সঙ্গে আদিবাসীর ঝুমুর অন্তর ও বহির্মুখী নানা পার্থক্য সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও তা ঝুমুর বলেই পরিচয় লাভ করিল।ক্রমে দেখতে পাওয়া গেল,বৈষ্ণব-মহাজন-পদাবলী রচনার যে একটি বিশিষ্ট রীতি গড়ে উঠেছিল,এতেও বাইরের দিক হতে সেই রীতিকে অনুসরণ করা হচ্ছে।" "এই ভাবে এই অঞ্চলে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক এক নূতন পদাবলী-সাহিত‍্য গড়ে উঠিল।" এটি বৈষ্ণব-পদাবলীর যথার্থ উত্তরাধিকারী না ☆ ☆ বৈষ্ণবপদাবলীতে যে ব্রজবুলিভাষা ব‍্যবহৃত হয়েছে,এতে তা ব‍্যবহৃত হয়নি।পরিশেষে ডাক্তার ভট্টাচার্য্য লিখেছেন, "কিন্তু স্মরণ রাখতে হবে, বৈষ্ণব-রসশাস্ত্র অনুযায়ী ইহা রচিত হয়নি, সুতরাং গৌরচন্দ্রিকা,পূর্বরাগ,অনুরাগ বলতে বৈষ্ণবরসশাস্ত্র যা বুঝিয়েছে,এতে তার সন্ধান পাওয়া যাবে না।*
*কিন্তু সে যাইহোক, বাঁশপাহাড়ী (মেদিনীপুর) থেকে সংগৃহীত গৌরচন্দ্রিকায়---*
*🌷এসো গৌর হে,গৌর হে,গৌর হে,*
            *তোমার ভাই নিতাইকে,*
   *সঙ্গে লইয়া একবার এসো হে।*
*ইত‍্যাদি গানেরও উল্লেখ পাওয়া যায়।তাছাড়া "বংশীখন্ড", 'শ্রীরাধার পূর্বরাগ', 'শ্রীরাধার অনুরাগ', "বাসকসজ্জা", 'খন্ডিতা', শীর্ষক ঝুমুরগানেরও উল্লেখ দেখা যায়। ঠিক সেভাবেই শ্রদ্ধেয় শ্রীযতীন্দ্র রামানুজদাস দক্ষিণদেশীয় (South Indian) বৈষ্ণব-সাধকসম্প্রদায় "আড়বার"-দের গানযুক্ত 'সহস্র-পদাবলী' নামে যে সংগ্রহগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন তার পরিশেষেও "অভিসারোৎকন্ঠা", "অভিসারিকা", "মান", 'কলহান্তরিতা', "গোষ্ঠকালীন বিরহ" প্রভৃতি পালাগান এবং মায়ুর,বরাড়ি,বিহগড়া,বেহাগ, মল্লার প্রভৃতি শাস্ত্রীয় রাগ এবং ডাঁসপেড়ে,জপতাল,কাটাদশকুশী,একতাল,ছুটা প্রভৃতি শাস্ত্রীয় কীর্তনাঙ্গ তালের সমাবেশ দেখা যায়।অবশ‍্য এ'ধরণের রাগ ও তাল সমাবেশের পূর্বাপরসম্পর্ক (পূর্বাপর=আগাগোড়া)উভয় গীতশ্রেণীর (বাংলার বৈষ্ণবপদাবলী ও দক্ষিণদেশীয় আড়বারদের ভক্তিপদাবলীর) মধ্যে কতটুকু ও কিভাবে আছে তা নির্ণয়সাপেক্ষ।তবে সব বাদানুবাদ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা ছেড়ে দিলেও উভয় দেশের শ্রীকৃষ্ণলীলা কাহিনীর মধ্যে ভাব,রস ও মাধুর্য‍্য-উপলব্ধির নিদর্শনের অভাব নাই।*
*পরিশেষে একথা সত‍্য যে, বাংলার বৈষ্ণবপদাবলীকীর্তন কেবলই রসমাধুর্য‍্যপূর্ণ ছন্দায়িত রাগ ও তালের এবং সঙ্গে সঙ্গে কীর্তনগানের সামগ্রিক আঙ্গিকের সমাবেশপূর্ণ শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার অপার্থিব প্রেমলীলা ও প্রেমাস্বাদনের রূপায়ণই সব-কিছু নয়, পরন্তু এই পদকীর্তন সাহিত‍্য,ছন্দ,রাগ,তাল,রস ও ভাবসম্পদের সমাবেশের সঙ্গে গৌড়ীয় মহাজন ও বৈষ্ণবাচার্য‍্যগণের রচিত গান বা কীর্তন যে অধ‍্যাত্ম-সাধনা ও রসানুভূতির অপূর্ব অবদান একথা স্বীকার করতেই হবে।*
*সেজন‍্য কীর্তনপদাবলীর অপার্থিব শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার বিচিত্র লীলাচরিত্রের সঙ্গে সঙ্গে সেই লীলাচরিত্রকে সাধক-হৃদয়ের নিবিড় অন্তর অনুভূতি দিয়ে গ্রহণ করতে হবে, সুতরাং গ্রহণ করার কাহিনীকেও গৌড়ীয় বৈষ্ণব-প্রেমসাধনা ও বৈষ্ণবদর্শনতত্ত্বের মধ‍্য দিয়ে পদাবলীর ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পরিস্ফূট করার সার্থকতা অবশ্যই থাকবে।মোটকথা বাংলার বৈষ্ণবপদাবলীকীর্তনের রস ও ভাবধারার সঙ্গে সঙ্গে বৈষ্ণবসাধক মরমিয়া মহাজনগণের ও পদকর্তাদের প্রেম নিবিড় জীবনানুভূতির দিব‍্যস্পর্শই পদাবলীকীর্তনের ইতিহাসকে সার্থক ক'রে তুলবে,কেন না,পরমরসস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ-ভগবানেরই নিবিড় অনুভূতির প্রতিছায়া বা প্রতিধ্বনিমাত্র এই পদাবলীকীর্তন।সব আঙ্গিক, সাহিত‍্য,লীলাকাহিনী এবং রাগ ও তালের সমাবেশ ইহবাহ‍্য,প্রেম অনুভূতি ও কীর্তনের রস অনুভূতিই পদাবলীকীর্তনের প্রাণকেন্দ্র ও ইহসর্বস্ব, সুতরাং কীর্তনের ইতিহাসের পাতায় সে সব সাক্ষ‍্যই বাংলার সরস ও প্রেম নিবিড় মরমী অন্তরের পরিচয় দান করবে।*
     *পূর্বাভাস এখানেই রইল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
            *কীর্তনগানের প্রসঙ্গে*
       ♻♻♻♻♻♻♻♻
*🍀বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ পদাবলীকীর্তন ভারতীয় অভিজাত বা ক্ল‍্যাসিক‍্যাল সঙ্গীতধারার এক অবিভক্ত রূপ।এর গীতরীতি,সাহিত‍্য ও সুরবিকাশের পেছনে ক্রমবিকাশ ও ঐতিহাসিক অভিব‍্যক্তির ধারা কিভাবে লীলায়িত তা সঙ্গীত-অনুসন্ধান করবার বিষয়। বিভিন্ন শ্রেণীর পদের সংগ্রহগ্রন্থের অসচ্ছ্বলতা নেই,প্রতিটি পদের সঙ্গে সাহিত্য,সুর,তাল ও ছন্দের সমাবেশ সুস্পষ্ট এবং সেই সমাবেশের মধ্যে তাদের পারস্পরিক সঙ্গতিও লক্ষ্য করার বিষয়। বর্তমানে বিচিত্র শৈলীর কীর্তনগান তাদের পূর্ববিকাশভঙ্গী থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন একথা যদি ধরে নেওয়া যায়, তাহলেও আসল কীর্তনগীতিরূপের বিলাস ও সমাদর বাংলার সমাজে আজও অব‍্যাহত আছে এবং চিরদিন থাকবে বলে বিশ্বাস করি।তবে সাধারণে তো বটেই,পন্ডিতসমাজেও ঐতিহাসিক পটভূমিকায় কীর্তনকে আলোচনা ক'রে দেখার আগ্রহের এখনো অভাব আছে বলে মনে করি। কেননা,সেভাবে আলোচনার আগ্রহ অব‍্যাহত বা অবাধ থাকলে সঙ্গীত-সমীক্ষকগণের সমাজে আজ কীর্তন কোন জাতির বা কোন শ্রেণীর,অভিজাত--কি দেশী এ'ধরণের সন্দেহের অবকাশ কোনভাবেই থাকত না।*
*পদাবলীকীর্তন বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ, কিন্তু ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মস্থান ও দেবায়নগুলিকে (দেবতাদের মন্দির গুলিকে) কেন্দ্র করে ভক্তিরসাত্মক "কীর্ত্তি"-গাঁথারূপ কীর্তনগানের প্রচলন এখনো অবাধ রয়েছে। বাংলাদেশের কীর্তনের বিষয়বস্তু রাধাকৃষ্ণলীলা কথা বা কাহিনীর অনুরূপ ঐ সব কীর্তনগানের সাহিত্যও রসভাব সমৃদ্ধ।উৎকলে বা উড়িষ‍্যায়, মহারাষ্ট্রে, রাজস্থানে,মধ‍্যভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ও দক্ষিণভারতে কীর্তনগানের যথেষ্ট প্রচলন আছে।তবে বাংলাদেশের বৈষ্ণব-পদকীর্তন বা পদাবলীকীর্তনের ধারা ভারতের অন‍্যান‍্য অঞ্চলের কীর্তনগান থেকে বেশী স্বতন্ত্র।মণিপুরে নৃত‍্যছন্দের সঙ্গে কীর্তনের প্রচলন আছে এবং তার সাহিত্যসম্পদও রাধাকৃষ্ণ লীলা মাধুর্য‍্যে রসায়িত। অনেকের অভিমতে,মণিপুরীকীর্তনের শৈলী (রচনা ধারা)ও উপাদান অনেক পরিমাণে ঋণী বাংলার ঠাকুর নরোত্তমদাসের কাছে, এবং তা অসম্ভবও নয়,এজন‍্য যে,তখন বৃহত্তরবঙ্গের চতুঃসীমা ছিল অখণ্ড বাংলা,বিহার,উড়িষ‍্যা ও সমগ্র আসাম ও তিব্বত (হিমালয়ের উত্তরস্থ সিন্ধুনদের উৎপত্তিস্থল হতে চীন সীমা এবং হিমালয় হতে গৌরীপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত পার্বত‍্য দেশ। ইহার রাজধানী "লাহসা" পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ নগর। প্রসিদ্ধ মানস সরোবর ইহার সীমান্তর্গত)।নিয়ে বিস্তৃত। কিন্তু একথা সত‍্য যে, বতর্মান রীতির মণিপুরীকীর্তন ঠাকুর নরোত্তম-প্রবর্তিত রীতি ও রূপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।তবে সব দেশের কীর্তনের আবেদন যে সমান ও সর্বজনীন একথা সত‍্য।*
*বৈষ্ণব-পদাবলীকে সাধারণভাবে বলে গীতিকবিতা, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বৈষ্ণব-কবিতাকে সুরে ছড়ার মত করে আবৃত্তি করে হয়।পদাবলী আসলে গান,গীতি বা সঙ্গীত।তাছাড়া পদের মুখ‍্য অর্থই গান।খ্রীষ্ট্রীয় দ্বিতীয় শতকে রচিত "ভরতের" নাট‍্যশাস্ত্রে "পদ"-শব্দে গান বা গীতিকেই লক্ষ্য করা হয়েছে।*

*খ্রীষ্টপূর্ব চারশো-দুশো শতকের মহাকাব‍্য রামায়ণ,মহাভারত ও হরিবংশে এবং এমনকি খ্রীষ্ট্রীয় শতকের প্রথম ভাগের পঞ্চরাত্রসংহিতা ও পুরাণ-সাহিত‍্যগুলিতে গান বা গীতির দ‍্যোতক (প্রকাশক) 'পদ'-শব্দের ব‍্যবহার দেখা যায়।রামায়ণে (বালখন্ড,৪র্থ সর্গ) "বিচিত্রার্থপদং সম‍্যগ্ গায়কৌ সমচোদয়‍ৎ" বা "অবগায়তাং মার্গবিধানসংপদা" শ্লোকাংশে "পদ-শব্দে গানকে বুঝিয়েছে।রামায়ণে পাঠ‍্য ও গান্ধর্ব-শব্দ-দু'টিও গান বা গীতি অর্থে ব‍্যবহৃত হয়েছে।"পাঠ‍্যে চ মধুবম্" (১|৪|৮), "তৌ তু গান্ধর্বতত্ত্বজ্ঞৌ"(১|৪|১০)। নাট‍্যশাস্ত্রে নিবদ্ধ ও অনিবদ্ধ কিংবা সতাল ও অতাল পদগুলি গান বা গীতি অর্থেই ব‍্যবহৃত। যেমন---*
*🌷যৎকিঞ্চিদক্ষরকৃতং তৎসর্বং পদসংজ্ঞিতম্।*
*🌷নিবদ্ধঞ্চানিবদ্ধঞ্চ তৎপদং দ্বিবিধং স্মৃতম্।।*
*🌷অতালঞ্চ সতালঞ্চ দ্বিপ্রকারঞ্চ তদ্ভবেৎ।*
*🌷অতালমণিবদ্ধঞ্চ পদং তু জ্ঞেয়মেব চ।।*
        *(নাট‍্যশাস্ত্র (কাশী সং)৩২|২৬-২৮)*
*🌻অথবা=======*
*🌷গান্ধবং যন্ময়া প্রোক্তং স্বরতালপদাত্মকম্।*
*🌷পদং তস‍্য ভবেদ্বস্তুঃস্বরতালানুভাবকম্।।*
                                     *(ঐ, ৩২|২৪)*
*🌹তাছাড়া আচার্য‍্য ভরত নাট‍্যশাস্ত্রের ২৮ অধ‍্যায়ে (কাশী সং) "গান্ধর্বমিতিবিজ্ঞেয় স্বরতালপদাশ্রয়ম্"১, ও "গান্ধর্বং ত্রিবিধং বিদ‍্যাৎ স্বরতালপদাত্মকম্"২, শ্লোকাংশ দুটিতেও গীতির অবয়ব বা গীতি অর্থে গ্রন্থকার "পদ" শব্দ ব‍্যবহার করেছেন।স্বর,তাল ও পদ এই তিন রকম আকারে ভরত গান্ধর্বগানের প্রকাশ ও অনুশীলন স্বীকার করেছে ও তারই জন্য তিনি বলেছেন, "গান্ধর্বং ত্রিবিধং বিদ‍্যাৎ" যদিও পদের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি পুনরায় বলেছেন, "ব‍্যঞ্জনানি স্বরাবর্ণাঃ। "ছন্দে বৃত্তানি জাত‍্যশ্চ নিত‍্যং পদগতাত্মকাঃ"।*
*🍀অনেকে ভরত-উক্তি "স্বরতালপদাশ্রয়ম্" শ্লোকাংশের 'পদ' শব্দকে ছন্দায়িত নৃত্যের প্রতিফলন বলেন। কিন্তু 'পদ' অর্থে নৃত্য না বুঝানোই সঙ্গত।আর যদিই বা 'পদ' অর্থে লাক্ষণিকভাবে 'নৃত‍্য' শব্দ বুঝায়, তাহলেও নৃত্য ত্রৌর্যত্রিক (গীত,বাদ‍্য ও নৃত্য ) সঙ্গীতেরই অবিভক্ত বা অপরিহার্য‍্য অংশ, সুতরাং 'পদ' শব্দ গীতের অনুবর্তী বা গীতির অবয়ব অথবা গানেরই দ‍্যোতক বা প্রকাশক।কবি কালিদাসের (খ্রীষ্ট্রীয় ১ম-৪র্থ শতক) কাব‍্য ও নাটক-গ্রন্থগুলির অনেক জায়গায় "পদ" শব্দে গান,গীতি বা সঙ্গীত অর্থে ব‍্যবহৃত দেখা যায়।মেঘদূতে (উত্তরমেঘ ৯১ শ্লোক) বিয়োগবিধুরা যক্ষপত্নী যখন বীণার তন্ত্রীতে গোত্রাঙ্কিত মূর্ছনার প্রয়োগ ক'রে আলাপ করতে উদ‍্যতা তখন সেই অভিচারিক(হিংসা করে ক্ষতি) প্রয়োগ নিষ্ফল হয়েছিল তাঁর চোখের জলে বীণার তন্ত্রী সিক্ত হ'য়ে।কালিদাস বীণা শব্দের প্রসঙ্গেই "পদ" শব্দ ব‍্যবহার করেছেন এবং তা গান,সুর বা সঙ্গীতের প্রকাশক।*

*টীকাকার মল্লিনাথও সেকথা স্বীকার করেছেন। মেঘদূতে কালিদাসের বর্ণনা এই---*
*🌷উৎসঙ্গে বা মলিনবসনে সৌম‍্য নিক্ষিপ‍্য বীণাং,*
*🌷মদ্ গোত্রাঙ্কং বিরচিতপদং গেয়মুদগাতুকামা।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷তন্ত্রীরার্দ্রা নয়ন-সলিলৈঃ সারয়িত্বা কথংচি---,*
*🌷দ্ভুয়ো ভূয়ঃ স্বয়মধিকৃতাং মূর্ছানাং বিস্মরয়ন্তী।।*
*🌻মল্লিনাথ টীকায় প্রকাশ করেছেন যে, গন্ধর্বকুলসম্ভূতা যক্ষপত্নী গান্ধারগ্রামের প্রয়োগরহস‍্য অবগত ছিলেন বা জানতেন।'বিরচিতপদং' শব্দের বিশ্লেষণ করে তাই তিনি বলেছেন, "বিরচিতানি পদানি যস‍্য তত্তথোক্তং গেয়ং গানার্হং প্রবন্ধাদি।☆☆☆☆ দেবযোনত্বাদগান্ধারগ্রামেণ গাতুকামেত‍্যর্থঃ "। তাছাড়া অন‍্যত্র কালিদাস "পদ" শব্দ গান বা গীতির উদ্দেশ্যে ব‍্যবহার করেছেন। "ত্বামুৎকন্ঠাবিরচিতপদম্"।মল্লিনাথ টীকায় "পদ" অর্থে বলেছেন "প্রবন্ধ" (প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগান অর্থে অঙ্গনিবদ্ধ গান।সিংহভূপাল বলেছেন, "চতুর্ভির্ধাতুভিঃ ষড়্ ভিশ্চাঙ্গৈর্যস্মাৎপ্রবধ‍্যতে তস্মাৎপ্রবন্ধ কথিতো গীতলক্ষণকোবিদৈঃ)।*
*প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগান বা গান। খ্রীষ্ট্রীয় অষ্টম-নবম শতকের রচিত নাথগীতি গাথা-প্রবন্ধগানের নিদর্শন।"আর্যা গাথাদ্বিপথকঃ" (শার্ঙ্গদেব রচিত সঙ্গীতরত্নাকর ৪|২৬ এবং ৪|২৩৩)। শার্ঙ্গদেব সূঢ়,আলি বা আলিসংশয় ও বিপ্রকীর্ণ এই তিন প্রকার প্রবন্ধের মধ্যে বর্ণ,বর্ণস্বর ও তাল প্রভৃতি ভেদে আলি বা আলিসংশয় প্রবন্ধগানের রূপ চব্বিশ রকম বলেছেন, "বর্ণাদয়স্তালার্ণবান্তাশ্চতুর্বিংশতি"। (সিংহ ভূপালের টীকা দ্রষ্টব‍্য।আসলে চর্যা "পদ" নয়--গান, এবং গান ও পদ সমানার্থক নয়।তবে সঙ্গীতে পদ গান অর্থেও ব‍্যবহৃত হয় )। সুতরাং মীননাথ, গোরক্ষনাথ প্রভৃতি যোগীসাধক-রচিত নাথগীতি অভিজাত প্রবন্ধগানেরই রূপ।*
*বাংলাসাহিত‍্যে পদাবলী প্রসঙ্গে আমরা দুইরকম ধারার সন্ধান পাই।একটি আধ‍্যাত্মগীতি ও অন‍্যটি নাথগীতি।নাথগীতির পর বজ্রযানি বৌদ্ধচর্যাপদগুলি আধ‍্যাত্মগীতির নিদর্শন।সঙ্গীতরত্নাকরে শার্ঙ্গদেব বলেছেন, "অধ‍্যাত্মগোচরা চর্যা" (৪|২৯২)। নাথগীতির কিছুটা নিদর্শন পাই কবি জয়দেফের অষ্টপদীপ্রবন্ধে বা গীতগোবিন্দগানে।*

*পরবর্তী রাগাত্মিক গান,বাউল এবং কর্তাভজাদের গানও অধ‍্যাত্মশ্রেণীর।দাশরথি রায়ের পাঁচালী,গোবিন্দ অধিকারীর যাত্রা এবং মধুসূদন কিন্নর বা মধুকানের ঢপ্ কীর্তন পদাবলীকীর্তনভাঙ্গা, কাহিনীমূলক নাটগানের নিদর্শন হলেও সেগুলি ভক্তিরসাত্মক রাধাকৃষ্ণ-লীলাগান ছাড়া অন‍্য কিছু নয়, সুতরাং আধ‍্যাত্মগীতিশ্রেণীর অন্তর্গত। খ্রীষ্ট্রীয় ১১শ-১২শ থেকে ১৮শ-১৯ শতকে রচিত এ ধরণের বিচিত্র শ্রেণীর বাংলাগানকে অধ‍্যাত্মগীতির পর্যায়ভুক্ত করা অসঙ্গত নয়।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
           *পদ---------পদাবলী*
         ◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀"পদ"শব্দে গান বা গীতিকবিতা বুঝায় কিনা এ প্রসঙ্গে ডঃ সুকুমার সেন বলেন, "বৈষ্ণব-গীতিকবিতাকে এখন 'পদ' বলা হয়।এই অর্থ অষ্টাদশ শতকের আগে প্রচলিত হয়নি।আগে 'পদ'বলতে দুই ছত্রের গান অথবা গানের দুই ছত্র বুঝাইত। চৈতন‍্যভাগবত ও চৈতন‍্যচরিতামৃত প্রভৃতিতে "তথাহি পদম্" বলে সাধারণত দুই ছত্র উদ্ধৃত হয়েছে। (ডাক্তার সেন "বাংলা সাহিত‍্যের ইতিহাস " প্রথম খন্ড,১৩৪৭ সাল, পৃষ্ঠা ২৭৮)। সঙ্গীত-রত্নাকরে শার্ঙ্গদেব (১৩শ শতকের প্রথমার্ধ)"পদ" শব্দকে অন‍্য অর্থে ব‍্যবহার করেছেন।তিনি বলেছেন,অর্থপ্রকাশক শব্দ-বিশেষের নামও "পদ" হতে পারে। "তাতাহন‍্যদ্বাচকং পদম্" (রত্নাকর ৪|১৬)। টীকাকার মল্লিনাথ ঐ প্রসঙ্গে বলেছেন, "অর্থপ্রকাশকং পদম্" অর্থ‍্যাৎ যা অর্থ প্রকাশ করে তাই পদ। কিন্তু শার্ঙ্গদেব ও মল্লিনাথ বা সঙ্গীত-রত্নাকরের অন‍‍্যান‍্য টীকাকাররা এই "পদ" শব্দের অর্থ-বিশ্লেষণ করেছেন রত্নাকরের প্রবন্ধ (রচনা) তথা প্রবন্ধগানের অধ‍্যায়ে।প্রবন্ধে ছয়টি অঙ্গের মধ্যে "পদ" একটি অঙ্গ। সুতরাং "পদ" শব্দ বা অঙ্গ সেখানে গানের প্রকৃতি-নির্দেশক, সুতরাং গানাঙ্গ তথা গান একথায় বুঝা যায়।*
*🍀'পদাবলী' শব্দ প্রসঙ্গেও ডঃ সুকুমার সেন বলেছেন,'পদাবলী'-শব্দটির প্রথম ব‍্যবহার পাই শ্রীজয়দেব গোস্বামীর "গীতগোবিন্দে--,"মধুরকোমলকান্তপদাবলীং শৃণু তদা জয়দেবসরস্বতীম্"। (শ্রদ্ধেয় হরিচরণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়-সংকলিত "বঙ্গীয়-শব্দকোষ" (শান্তিনিকেতন থেকে প্রকাশিত,১৩৫১ সাল) গ্রন্থেও পদাবলী প্রসঙ্গে গীতগোবিন্দের এই শ্লোকাংশটি উদ্ধৃত হয়েছে।পৃষ্ঠা=১৭৩৪)। পরে যখন "পদাবলী" শব্দের অর্থ দাঁড়াল গীতিকবিতার সমষ্টি, তার আগে "পদ" শব্দের অর্থ পরিবর্তন ঘটেছে। বৈষ্ণব-গীতা-কবিদের অধিকাংশই "মহাজন" বা "মহান্ত" (অর্থ‍্যাৎ সাধু-পুরুষ বা গুরু) ছিলেন।এইজন‍্য অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ হতে বৈষ্ণব-গীতিকবিতা "মহাজন-পদাবলী নামে খ‍্যাত হয়।(বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিহাস,প্রথম খন্ড,পৃঃ ১৭৮)।*

*পদাবলী-সাহিত‍্যের মধ্যে বৈষ্ণব-পদাবলীকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে ; *(১)রাধাকৃষ্ণ-পদাবলী, *(২)গৌর-পদাবলী, *(৩)ভজন-পদাবলী, *(৪)রাগাত্মিক-পদাবলী। সুতরাং "পদাবলী" শব্দটর বিশেষভাবে প্রচলন হয় সম্ভবত চর্যাপদগীতির কিছু পরে খ্রীষ্টীয় ৯ম-১২শ শতকে।ডঃ দীনেশ চন্দ্র সেন মোট ১৫৪ জন মহাজনের (পদকর্তার) নাম উল্লেখ করেছেন।তাঁদের মধ্যে এগার জন মুসলমান কবি ও তিনজন মহিলা কবি।এই ১৫৪ জন হিন্দু পদকর্তা মহাজনদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাস,বিদ‍্যাপতি,লোচনদাস, গোবিন্দদাস,জ্ঞানদাস,বলরামদাস, যদুনন্দন দাস,যদুনন্দন চক্রবর্তী, প্রেমদাস,বসন্ত রায়,রায় রামানন্দ,রায় শেখর,বাসুদেব ঘোষ,শশিশেখর প্রভৃতি আছেন।এখন বাংলা সাহিত‍্যের ক্রমবিকাশের দিক থেকে "পদ" শব্দে হয়ত দশম-এগার শতকেও couplet অর্থ‍্যাৎ গানের মাত্র দুটি ছত্র (লাইন) বুঝাতে ও তা গীতি বা গানের বোধক হয়েছিল সম্ভবত খ্রীষ্টীয় ১২ শতকের গোড়ার দিকে এবং তখনই ঠিক পরিপূর্ণ ভাবে "পদ" শব্দে গীতিকবিতা ও গানকে বোঝাত। কিন্তু আমরা আগেই আলোচনা করেছি যে,খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরত "পদ" শব্দে গীতি বা গানকে বুঝিয়েছেন (যদিও অবশ‍্য গীতি ও গান এই শব্দ-দুটির মধ্যে কিছু অর্থগত পার্থক্য আছে )।অভিনবগুপ্ত নাট্রশাস্ত্রের "অভিনবভারতী" টীকায় 'পদ' অর্থে গানকে লক্ষ্য করেছেন।প্রাচীন সংস্কৃত কাব‍্য ও নাটকগুলিতে 'পদ' শব্দে অধিকাংশ জায়গায় গানকে বুঝিয়েছে। সুতরাং প্রাচীন ধারার অনুবর্তনকারী বাংলার সাহিত‍্যিক ও কাব‍্যরচয়িতারা অন্তত নবম-দ্বাদশ শতকের চর্যাপদগুলিকে 'গীতি'পর্য‍্যায়েরই অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে মনে হয় হয়।হতে পারে যে,বাংলাসাহিত‍্যের গতি ও রূপায়ণভঙ্গি প্রাচীন সংস্কৃত নাটক,কাব‍্য ও সাহিত‍্যগুলির রচনাশৈলী ও প্রকৃতি থেকে বেশ একটু আলাদা এবং তারই জন্য দশম-একাদশ শতকের অথবা তারও পূর্ববতী বাংলাসাহিত‍্যের রচয়িতারা নতূনতার স্রষ্টা ও পথিকৃৎ হিসাবে পুরোপুরি ভাবে প্রাচীনতার অনুসরণ করেননি। কিন্তু ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষণে বিচার করলে একথা অবশ‍্যই স্বীকার করতে হয় যে, 'পদ' শব্দের সাঙ্গীতিক ইঙ্গিত আগে একবার ভারতীয় সাহিত‍্যে,কাব‍্যে বা নাটকে প্রচলিত হয়ে থাকলে পরে তার অনুসরণ হওয়াই স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত।তবে বাংলার সাহিত‍্যরচনার দৃষ্টি,সাহিত‍্যচিন্তা ও সাহিত‍্য-মন যে কিছুটা বৈশিষ্ট্যাবগাহী হবে না তা আমাদের বক্তব‍্য নয়।*
                 *ক্রমাগত*
🔷 🔷 🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
                *পদ--পদাবলী*

*🍀একথা স্বীকার করতেই হবে যে,নবম--দ্বাদশ শতকে চর্যাপদরচনা পদসাহিত‍্যের জগতে এক যুগান্তর সৃষ্টি করেছিল।বাংলাসাহিত‍্য বিকাশের তা চলমান যুগ।প্রাচীন বাংলায় সংস্কৃত সাহিত‍্যেরও অল্পতা ছিল না। বাংলাভাষার রূপসজ্জায় স্মৃতিসংহিতা, পুরাণ,তন্ত্র,রামায়ণ,মহাভারত ও ভাগবতের বাংলা সংস্করণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাংলা অনুবাদগ্রন্থ, অলঙ্কারশাস্ত্র, সঙ্গীতশাস্ত্র প্রভৃতি ছাড়াও সন্ধ‍্যাকর নন্দীর "রামচরিত" বা রামপালচরিত, গোবর্দ্ধন আচার্য‍্য-রচিত "আর্যাসপ্তশতী" ও শ্রীধর দাসের "সদুক্তিকর্ণামৃত" প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। হাল-রচিত "গাথাসপ্তশতী" খ্রীষ্টীয় প্রথম বা প্রথম-দ্বিতীয় শতকের গ্রন্থ। ন‍্যায়াচার্য ও বেদান্তবিদদের রচিত ন‍্যায়দর্শন ও বেদান্তদর্শনের গ্রন্থ যেমন একদিকে প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনরীতিকে সমৃদ্ধ করেছিল,তেমনি অন‍্যদিকে নব‍্য-সাহিত‍্য ও দর্শন-আলোচনা বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছিল।গুপ্ত ও পালযুগে বৌদ্ধসাহিত‍্য ও বৌদ্ধধর্মের প্লাবন ও বিস্তৃতি বাংলার সংস্কৃতি-প্রতিভায়,শিক্ষায়,ধর্মে ও অধ‍্যাত্ম-জীবনে এক নতূন উজ্জীবন ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।একথা সত‍্য যে, গৌতম-বুদ্ধের পরিনির্বাণের অনেক পরে বিভিন্ন বৌদ্ধধর্মমত ও সাধনধারার সৃষ্টি হয়েছিল বুদ্ধ-জীবন ও বুদ্ধবাণীকে কেন্দ্র ক'রে। সৃষ্টি হয়েছিল বোধিসত্ত্বযান ও বুদ্ধযান প্রভৃতি তত্ত্বমার্গ বুদ্ধ-জীবন বা বুদ্ধ-ব‍্যক্তিত্বকেই লক্ষ্য ক'রে। সৃষ্টি হয়েছিল হীনযান ও মহাযান ধর্মমতদুটি মহারাজ কণিষ্কের সময়ে চতুর্থ বৌদ্ধসঙ্গীতের অধিবেশনকালে এবং উদ্ভুত(উদিত) হয়েছিল বিচিত্র দর্শনমত, আচার-বিচার,ধর্মানুষ্ঠান ও সাধনা। হীনযানের(বৌদ্ধধর্মের প্রাচীন শাখা,পালি ত্রিপিটকে বর্ণিত বৌদ্ধমতের) ছায়াতলে দেখা দিল একদিকে যেমন বৈভাষিক(বৈকল্পিক বা বৌদ্ধ দর্শনের মত বিশেষ) ও সৌত্রান্তিক (তান্ত্রিক সূত্র-সংক্রান্ত) দর্শনমতবাদ, অন‍্যদিকে তেমনি মহাযানের(বৌদ্ধ সম্প্রদায় বিশেষ,নাগার্জুন নামক বৌদ্ধ শ্রমণ কর্তৃক প্রবর্তিত বৌদ্ধ দর্শন ও তার সমর্থক সম্প্রদায়) অনুসরণে আবির্ভূত হয়েছিল মাধ‍্যমিক ও যোগাচার দর্শনমত। এই সব দার্শনিক মতবাদের বৌদ্ধিক বিচার ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তত্ত্ববিশ্লেষণের পশ্চাতে একদিকে মহাযান-ধর্মমতে দেখা দিল যেমন বিচিত্র দেবদেবী,তাদের ধ‍্যান-চিন্তা, আচার-উপাসনাপদ্ধতি ও তত্ত্ববোধপ্রবৃত্তি, অন‍্যদিকে তেমনি হিন্দুপুরাণ,তন্ত্র ও শৈবশাস্ত্রসমর্থিত দেবদেবী এবং তাদের আচার ও সাধনতত্ত্বের হল উদ্ভব প্রতিদ্বন্দ্বীমূলক এক সংঘাত সৃষ্টি ক'রে। ক্রমে আত্মপ্রকাশ করল মন্ত্রযান ও তার শাখা কালচক্রযান, বজ্রযান প্রভৃতি। হিন্দুতন্ত্রের মন্ত্র ও আচার অনুষ্ঠানের অনুকরণে নববৌদ্ধধর্মে প্রবর্তিত হল দেবদেবীদের পূজা-অর্চনা ও তত্ত্বচিন্তা। বৈদিক ওঙ্কারের পাশাপাশি "হূং" প্রভৃতি তান্ত্রিক মন্ত্রবীজের সহযোগে জপ, অষ্টাঙ্গযোগসাধনা ও ধ‍্যানের অন্তর্প্রবেশ ঘটলো।*

*বাংলার সাধকসমাজে ও দার্শনিক-সমাজেও দেখা দিল এক অন্তর্দ্বন্দ্বের সূচনা।তবে এই দ্বন্দ্বপ্রবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে আবার আবির্ভূত হল হিন্দু ও বৌদ্ধ-সমাজে এক পারস্পরিক সমন্বয়ী দৃষ্টি ও মৈত্রীভাব।ক্রমে আত্মপ্রসারণের পথ ও প্রবৃত্তি হল প্রশস্ত।ফলে বৌদ্ধধর্মে অনুপ্রবেশ করল যেমন হিন্দুধর্মের সূক্ষ্ম ও স্থূল অনেক উপাদান, হিন্দুধর্মও আত্মসাৎ করেছিল, তেমনি বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধতত্ত্বের কিছু কিছু সামগ্রী।অবশ‍্য এই গ্রহণপ্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল উভয়েরই মধ্যে। কিন্তু মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী,ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন,বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি বিদগ্ধ পন্ডিতদের মতে, হিন্দুধর্মই নাকি পরিপুষ্ট করেছিল তার কলেবর বৌদ্ধধর্ম থেকে বিচিত্র তত্ত্ব ও উপাদান আহরণ ক'রে।তাঁদের মতে,ছদ্মবেশী হিন্দু-দেবদেবীরা বেশীর ভাগই ছিলেন বৌদ্ধদেবদেবী। হিন্দুদের সরস্বতী,কালী,বজ্রবারাহী,গণেশ, অপরাজিতা-দূর্গা প্রভৃতি তার নিদর্শন। অবশ‍্য এই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করার পক্ষে ও বিপক্ষে নতূন করে অনুশীলন ও বিচার করার দিন আবার এসেছে বলেই আমরা মনে করি, কেননা,হিন্দুতন্ত্র ও বৌদ্ধতন্ত্রের সৃষ্টি ঠিক একই সময়ে হয়নি, বরং ঐতিহাসিক তথ‍্য যে,হিন্দুতন্ত্রের বহুকাল পরে বৌদ্ধতন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছিল সমাজে প্রচলিত হিন্দুধর্মচিন্তার প্রতিক্রিয়ারূপে।হিন্দুতন্ত্র বেদের সমসাময়িক না হলেও বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানই ভিন্নভাবে তন্ত্রাচাররূপে তন্ত্রসাহিত‍্যে আত্মপ্রকাশ করেছিল। বৈদিক ধর্মাচার ও দেবদেবী যেমন পুরাণের যুগে কিছুটা ভিন্নভাবে রূপগ্রহণ করেছিল,তেমনি প্রকাশ‍্য বৈদিক যাগযজ্ঞাদি অনুষ্ঠান ও তার সিদ্ধিসাফল‍্যও বৈদিকোত্তর যুগে অপ্রকাশ‍্য গুপ্তানুষ্ঠান ও শক্তিসিদ্ধিরূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল। বেদ ও হিন্দুতন্ত্রের মধ্যে তখন এতটুকু বিরোধচিন্তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, বরং ছিল মৈত্রীসম্পর্কেরই বন্ধন।বৌদ্ধতন্ত্রের আচার-অনুষ্ঠান ও দেবদেবীচিন্তার বিকাশ হিন্দু-আচার ও দেবদেবীচিন্তারই অনেকটা প্রতিকূল এবং বৌদ্ধতন্ত্রে সিদ্ধিনাশক গণেশ ও হিন্দুতন্ত্রের সিদ্ধিদাতা গণেশই তার সামান্য একটি নিদর্শন। তবে উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যের ইঙ্গিতও যে ছিল না,তা নয়,কেননা হিন্দতন্ত্রের মন্ত্র,তন্ত্র,মুদ্রা ও মন্ডলের অনুরূপ প্রতিকৃতি ও অনুষ্ঠানই পাই আবার বৌদ্ধতন্ত্রের ভিতর।*
                *ক্রমাগত*
✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔✔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
                *পদ ও পদাবলী*

*🍀হিন্দুতন্ত্রের মতো বৌদ্ধতন্ত্রের উদ্দেশ্যও ছিল ইহলোকের সিদ্ধিলাভের মতো পারলৌকিক পরম সিদ্ধিলাভ, তা সে সামঞ্জস‍্য শিবশক্তি-সাযুজ‍্যই হোক,শিবত্ব প্রাপ্তিরূপ ব্রহ্মজ্ঞানস্থিতিই হোক, অথবা নির্বাণ বা শূন‍্যতায় প্রতিষ্ঠা লাভই হোক।বজ্রাচার্য‍্যগণ বজ্রবারাহীর কিম্বা শূন‍্যতার প্রতিফলন অবধূতিকা নৈরাত্মাদেবীর (বহুড়ী বা বধূ বা যোগিনী) উপাসনার অঙ্গরূপে সন্ধা বা অভিসদ্ধিসূচক ভাষায় রচনা করেছিলেন বজ্রগীতি ও চর্যাগীতি।(প্রকৃতপক্ষে বজ্রযানেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল চর্যা ও বজ্র-গীতি)।চর্যা ও বজ্র গান-রচনার পটভূমিকায় বিচিত্র বৌদ্ধধর্মমত ও বৌদ্ধসাধনচিন্তার একটি প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই স্বীকার্য।সমাজে, জীবনে,সব রকম চিন্তায়, ধর্মে কর্মে ও দর্শনচিন্তার উপরও দেখা যায় সমাজ, সামাজিক ধর্মসংস্কার ও মানুষের জীবনচিন্তার একটি প্রভাব। পারস্পরিক এই আদান-প্রদান বা দেওয়া-নেওয়ার ভিতর দিয়েই চিরদিন মানুষের বাহ‍্যিক ও আন্তর জীবনের হয় সংগঠন ও শুদ্ধপরিণতি সমাজে।*
*🍀শোনা যায়,তিব্বতের সিদ্ধাচার্য‍্যরাই ছিলেন বৌদ্ধ-সহজযানের প্রবর্তক ও প্রচারক এবং খ্রীষ্টীয় নবম-দ্বাদশ শতকে বা তার পূর্বে বৃহত্তর বাংলায় ঐ সহজযান মতবাদের হয়েছিল অনুপ্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা।আগেই উল্লেখ করেছি যে,বৃহত্তর বঙ্গের চতুঃসীমা ছিল তখন অখন্ড বঙ্গদেশ বা বাংলা,গিরিব্রজ বা বিহার,উৎকল বা উড়িষ‍্যা ও কামরূপ বা আসামকে নিয়ে সার্থক।বৃহত্তর বাংলার সমাজ-বিবর্তনে,ধর্মাচারে ও দৈনন্দিন জীবনচর্যায়, সাহিত‍্যে,নাটকে,কাব‍্যে, দর্শনচিন্তায় ও এমনকি অধ‍্যাত্মসাধনায় সহজযান-ধর্মমত এনেছিল এক নতূন আলোড়ন ও প্রেরণা।যদিও সেই আলোড়ন ও প্রেরণা বিশেষভাবে সীমাবদ্ধ ছিল বৌদ্ধ-সাধনাশ্রয়ী আচার্য‍্যদের ভিতর, তবুও হিন্দু-সর্বসাধারণের জীবনে,মনে ও তত্ত্বচিন্তায় সৃষ্টি হয়েছিল এক বিবর্তনী প্রবৃত্তি।ফলে হিন্দুসমাজ-মানসের কোন কোন অংশে প্রবেশলাভ করেছিল ক্রমে বৈষ্ণব-সহজিয়া,বাউল,গুরুসত‍্য,কর্তাভজা প্রভৃতি গুরুবাদী কায়-সাধকদের ধর্মমত ও সাধনা।(ক)(ডঃ শ্রীশশীভূষণ দাসগুপ্ত Obscure Religious Cults (কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয় ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ১৮৭-২০২ এবং পঞ্চম পরিচ্ছেদে,পৃষ্ঠা ১৩২-১৮২ ।*
*(খ)(ডঃ অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, বাংলা-সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত, প্রথম খন্ড, ১৯৫৯, পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫৬)।*
*🍀আচারী তান্ত্রিক বজ্রযানী ও সহজযানী আচার্য‍্যদের পদগানের (চর্যা ও বজ্রগীতির)বহিরঙ্গ স্থূলচিত্রকল্পের অনুরূপ আন্তর বা ভিতরের ও রহস‍্যময় গুপ্তসাধনা ও তত্ত্ববোধের অন্তর্নিবেশও ঘটেছিল সহজ সরল সাধারণ হিন্দুসমাজের অন্তর্ভুক্ত বৈষ্ণব-সহজিয়া, বাউল ও কর্তাভজা সম্প্রদায়ের ভিতর। বৌদ্ধ ও হিন্দু এই উভয় রচয়িতাদের গূঢ় দ্বৈতার্থবোধক পদ ও গানের ভাষা ছিল প্রায় তাই একই ধরণের। যেমন লুইপাদ রচিত পদ----*
*🌹মূল------------------*
*🌷কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল।*
*🌷চঞ্চল চীএ পইঠা (বা পইঠো) কাল।।*
*🌷দিঢ় (বা দিট)করিএ মহাসুহ পরিমাণ।*
*🌷লুই ভণই গুরু পুচ্ছিঅ জান।।*
*🌻অনুবাদ-----------*
*🌷কাযারূপ তরুবর পাঁচ তার ডাল।*
*🌷চঞ্চল চিত-মাঝে পশে আসি কাল।।*
*🌷দৃঢ় করি মহাসুখ কর পরিমাণ।*
*🌷লুই ভণে গুরুকে পুছিয়া ইহা জান।।*
*🛑কথবা গুন্ডরীপাদ রচিত---*
*🌻মূল------*
*🌷তিঅড্ডা চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী।*
*🌷কমলকুলিশ ঘান্টি (বা ঘান্ট) করহু বিআলী।।*
*🌷জোইনি তঁই বিনু খনহিঁন জীবমি।*
*🌷তো মুহ চুম্বী কমলরস পিবমী।।*
*🌻অনুবাদ------*
*🌷ত্রিনাড়ি যোগিনী চাপি দেয় অঙ্কবালী।*
*🌷 কমলকুলিশ যোগ করহ বিকালী।।*
*🌷তোমা বিনা যোগিনি গো,ক্ষণ নাহি জীব।*
*🌷 তোর মুখ চুম্বি রস কমলের পিব।।*
*🌹বাউল-কবি-রচিত পদগান---*
*🌷(আট)কুঠারি নয় দরজা আঁটা,*
*🌷মধ‍্যে মধ্যে ঝলকা কাটা।*
*🌷(তার)উপরে আছে সদর-কোঠা,*
*🌷আয়না-মহল তায়।*
*🌷খাঁচার মাঝে অচিন-পাখি,*
*🌷ক‍্যামনে আসে যায়।।*
*🌻তান্ত্রিক আচারী বৌদ্ধসাধনাত্মক গানদুটির অন্তরার্থ বা সাধনমর্মকথা প্রায় একই রকমের।চর্যাগানে "ডোম্বী" "বহুড়ী" "জোইনি বা"যোগিনী" প্রভৃতি শব্দে ""নৈরাত্মাদেবী""। (এখানে অধ‍্যাপক মণীন্দ্রমোহন বসুর চর্যাপদ-টীকা থেকে 'বহুড়ী' শব্দের অর্থ উদ্ধৃত হল,"বহুড়ী"। "অবধূতিশব্দসন্ধ‍্যায়া"--টীকা।অভিপ্রায় বা অভিসন্ধিসূচক সন্ধাভাষায় নৈরাত্মা-অবধূতিকাকেই বহুড়ী বা "বধূ" বলা হয়েছে।অন‍্যত্র তাকে যোগীন্দ্রস‍্য গৃহিণী নৈরাত্মা বলা হয়েছে।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *পদ ও পদাবলী*

*🍀পরিশুদ্ধ অবধূতিকা নৈরাত্মাদেবী শূন‍্যতা কিংবা সত্তাপক্ষে তথতার প্রতিছবি।বাউলগানের অচিনপাখী ভগবানও সহজ-মানুষ।বাউল ও চর্যা-সাধনতত্ত্বে সহজ-মানুষ সর্বময়লানির্মুক্ত দেহবাসী পরিপূর্ণ মানুষ এবং এই পরিপূর্ণ বা সহজ-মানুষই ভগবান কিম্বা আত্মা বা পরমাত্মা।কায়-সাধনায় স্থূলশরীরের মধ্যেই অচিন-পাখী সহজ-মানুষের (সহজানন্দের) আসন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং কায়াকে বা স্থূল রক্তমাংসের শরীরকে পরিশুদ্ধ ক'রে শরীরের দুঃখ-দৈন‍্য-জ্বরা-মরণ-বিহীন যে সহজ আনন্দ তার প্রতিষ্ঠা বা প্রাপ্তিই সহজিয়া-সাধক বাউলের উদ্দেশ্য।সহজদেবতাই সাধকদের পরম পরিশুদ্ধির আসনে প্রতিষ্ঠা করেন। চর্যাগানে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের উদ্দেশ্যেও বলা হয়েছে, "পরিশুদ্ধ-অবধূতিকা নৈরাত্মার প্রকৃতি এই যে,তিনি ললনা-বসনা-অবধূতিকা নামী শরীরের মধ্যে প্রধান তিনটি নাড়ীকে চেপে নিরাভাস করে অর্থ‍্যাৎ গ্রাহ‍্য-গ্রাহক গ্রহণ-ভাব বিলীন করে সাধককে নিজের অভিজ্ঞান অর্থ‍্যাৎ নৈরাত্মতা প্রদান করেন।" যোগ ও বেদান্ত-সাধনায় মুক্তির সঙ্গে সহজসাধনার নৈরাত্মপ্রাপ্তির অনৈক‍্য (বিরোধ) সামান্য। চর্যাগীতির ভাষা, শব্দযোজনা ও ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে বিচার করলে বলা যায়,তা প্রাচীন বাংলাভাষা।অনেকের মতে,সংস্কৃত ও অবহটঠ্ প্রভাবিত প্রাকৃত-বাংলায় চর্যার ভাষা।অনেকে আবার বলেন,চর্যা গৌড়বঙ্গ বা শৌরসেনী-অপভ্রংশ-পদগীতির নিদর্শন। কিন্তু একথা মোটেই অস্বীকার করার উপায় নাই যে, বতর্মান বাংলা সাহিত‍্যের মার্জিত বা সুসংস্কৃত ভাষার পূর্ব বা প্রাচীন রূপই চর্যাপদ বা চর্যাকবিতা অথবা চর্যাগান।*
*🍀পদাবলীকীর্তনের ঐতিহাসিক বিকাশ সম্পর্কে বৌদ্ধ-বজ্রযান ও সহজযান প্রভাবিত চর্যাগানের আলোচনায় আমরা চর্যার গায়নরীতি ও রাগরূপেরও পরিচয় দিবার চেষ্টা করব।*
⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *চর্যা ও নাথ-গীতি*

                       *এক*
*খ্রীষ্টীয় ১০ম-১১শ শতকে ধর্মে,সাহিত‍্যে, সঙ্গীতে ও অধ‍্যাত্ম-সাধনায় যে বৌদ্ধ-বজ্রযান ও সহজযান-সম্প্রদায়ের প্রভাব ও ভাবধারা অনুপ্রবিষ্ট হয়ে বাংলার সমাজে যে এক নতূন চিন্তাপ্লাবনের সৃষ্টি করেছিল সেকথা আগে কিছু আলোচনা করেছি। ঐ নতূন প্লাবন বা বিবর্তনের ফলস্বরূপ বৌদ্ধ, বৈষ্ণব ও সহজিয়া,বাউল,কর্তাভজা, গুরুসত‍্য প্রভৃতি সাধনমার্গে অধ‍্যাত্ম-পদগানের সৃষ্টি সম্ভব হয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অন‍্যতম জীবনালেখ‍্য রচয়িতা ডঃ শশীভূষণ ঘোষ (ইনি শ্রীরাকৃষ্ণের পরম সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন), বাংলার ধর্মসাধনায় বৌদ্ধ সহজযান-ধর্মমতের অনুপ্রবেশ সম্বন্ধে যেকথা বলেছেন এখানে তার উল্লেখ করা সমীচীন মনে করি--যদিও মতভেদ থাকা স্বাভাবিক।তিনি বলেছেন, কর্তাভজা ও বাউল-সম্প্রদায়ের স্ত্রীলোক (শক্তি) নিয়ে সাধনা সহজিয়া-বৈষ্ণবমতেরই অনুকরণ। আবার সহজিয়ামত বৌদ্ধ-তান্ত্রিকমতের রূপান্তরমাত্র।মহাযানমতাবলম্বী শূন‍্যবাদী বৌদ্ধেরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও তাদের এক শাখা মহাযান ধর্মসেবীরা বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বদের সাকারমূর্তি পূজা করিত।আবার মহাযানের আর এক সম্প্রদায় মহাযান বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের এক একটি দিব‍্যশক্তিকল্পনা করে শক্তিপূজার প্রচলন করেছিল।এই শক্তিপূজা হতেই বৌদ্ধতান্ত্রিকতার আরম্ভ।প্রাচ‍্যবিদ‍্যার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু ময়ূরভঞ্জ-রাজ‍্যের প্রত্নতাত্ত্বিক আলোচনা প্রসঙ্গে অনেকটা অনুরূপ মন্তব‍্যই করেছেন।তিনি বলেছেন--*
*"Thus Dr.Waddel says ; This intense mysticism of the Mahayana let about the fifth centuri,to importation into Buddhism of the pantheistic idea of the soul.(atman) and yoga or the ecstatic union of the individual with the universal spirit---a doctrine which had been introduced into Hinduism by patanjali (Hathayoga-pradipika). The Yogachara school also, in its later development, received and assimilated some magic circles with mantras or speels about 700 A.D., and hence received the new appellation of Mantrayana. But the Mahayana school.did not stop.there. Having once commenced the work of importation and asdimilation, it went on with it,with all its real and vigour, and was before long almost a new thing. About the seventh century A.D. .the development of the infatuating Tantrikism, which practically verges on sorcery claiming a religious basis, attracted the notice of the Mahayana school, and ere long the odolatrous cult of female energies was found grafted upon.theistic Mahayana and the pantheistic mysticism of yoga. And this Tantrika phase of the Mahayana school reached its climax when it adopted and assimlated with itse'f the theory of the Kalachakra. ☆☆ It wants to establish a mysterious union between the terrible goddess kali of the Tantrika system, and the Dhyani and Buddhas--- the Adi-Buddha himself, of the Buddhistic system and attempts to.explain creation and the secret agencies of nature in the light of this union.In the tenth century,the Kalachakra system of the Mantrayana school, as the result of further and further retrograde developments, passed into the system of the Vajrayana of the thunderbolt-vechile. This is the most depraved form, that Buddhistic doctrine on its downward course of importation, assimilation and comptomise,had ever assumed.*
*🍀The Archaeological Survey of Mayurabhanja, vol. 1 (1911)PP. CVI-CVI.*

*🌻বুদ্ধদেবের সময়েই স্ত্রীলোকদেরকে সন্ন‍্যাসে অধিকার দেওয়া হয়।"কালক্রমে সকল বৌদ্ধমঠে হাজার হাজার মুন্ডিতমস্তক শ্রমণ (বৌদ্ধ সন্ন‍্যাসী ভিক্ষু) ও ভিক্ষুণীগণের অবাধ একত্র অবস্থানের কুফল উৎপন্ন হয়েছিল।তাড়াতাড়ি এদের ভিতর বজ্রযান নামে নব-সম্প্রদায়ের অভ‍্যুদয় হয়।এরা এই মত গোপনে প্রচার করলেন যে,তাঁদের সাধনপথে ভোগসুখ করে সহজে নির্বাণপদ পাওয়া যায়। ☆☆ কামিনী-কাঞ্চনাসক্ত সাধারণের আসক্তির অনুরূপ নির্বাণ লাভের এই "সহজতত্ত্ব" তাঁদের উপাস‍্য ভগবান বজ্রসত্ত্ব ও তাঁর শক্তি বজ্রেশ্বরী একীভূত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন বলে বজ্রযান-সম্প্রদায় নানা "সহজ"-মতের তন্ত্রশাস্ত্র প্রচার করলেন। মোটকথা মহাযানের অন্তর্গত মন্ত্রনয় অথবা মন্ত্রযান-সম্প্রদায়ই বৌদ্ধতন্ত্রবাদের প্রবর্তন করে।মন্ত্রযানের অপরাপর বা অন‍্যান‍্য শাখাই বজ্রযান,কালচক্রযান ও সহজযান প্রভৃতি।*
                      *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
            *চর্যা ও নাথ-গীতি*

*🍀এখানে মনে রাখা উচিত যে,গৌতম-বুদ্ধের জীবদ্দশায়ই বৌদ্ধ ভিক্ষুণীরা ভিক্ষুদের মতো তাঁদের নিজেদের একটি পৃথক সঙ্ঘ সৃষ্টি করেছিলেন।বুদ্ধদেবের কঠোর অনুজ্ঞা ও অনুশাসন ছিল যে, কোন ভিক্ষুণীই কোনদিন কোন ভিক্ষুর সঙ্গে একত্র বিহার, একত্র কথোপকথন ও একত্র বাস করতে পারবে না।(ডঃ হাবম‍্যান ওন্ডেনবার্গ রচিত Buddha, His Life, His Doctrine, His Order গ্রন্থে The Oeders of Nuns শীর্ষক আলোচনা দ্রষ্টব‍্য,পৃষ্ঠা ৩৭৭-৩৮১), কিন্তু বুদ্ধদেবের তিরোভাবের বহু পরে কঠোর শাসননীতির বজ্রবাঁধন অবাধ মেলামেশায় সুযোগ দেখা দিয়েছিল। "ভিক্ষুপ্রাতিমোক্ষ" গ্রন্থে এই অবাধ মিলনের কলঙ্ক-পরিণতির সাক্ষ‍্য আছে। হিন্দুতন্ত্রের বামাচার-অনুপ্রবেশের ইতিকথাও তাই।তবে স্বেচ্ছাচারমূলক বামাচার হিন্দুতন্ত্রে আসল সাধনমার্গ নয়, তা অধ‍্যাত্মসাধনার বিকৃত রূপমাত্র। পরশুরামকল্পসূত্র, কৌলাবলীতন্ত্র, কৌল-উপনিষৎ,কুলার্ণব প্রভৃতি তন্ত্রে বামাচারকে "বাম" অর্থে কালী, সুতরাং আদ‍্যাশক্তি দক্ষিণাকালীর আচারবা উপাসনাবিধি বলা হয়েছে।মহাকালী মহাশক্তির আরাধনা ও উপাসনাবিধিই আসলে বামাচার নামে প্রচলিত।*
*🍀ডাঃ শশীভূষণ ঘোষ তাঁর আলোচনা প্রসঙ্গে পুনরায় বলেছেন, সহজিয়াবৈষ্ণবগণ বজ্রযানের বজ্রেশ্বরীকে "বাশুলী" নামে পূজা করতে লাগলেন এবং শ্রীশ‍্যামসুন্দর ও শ্রীরাধারাণীর যুগলরূপ শক্তি বা নায়িকাতে অধিষ্ঠিত বিশ্বাস করে পরকীয়াসাধনাই প্রবল রাখলেন।এদের মতে,মনুষ‍্যভজনই সাধনের প্রধান অঙ্গ।প্রথমে একটি পরকীয়া রমণী গ্রহণ করে তাঁরা সেই নায়িকার দেহই শ্রীবৃন্দাবন এবং তাঁতেই শ্রীশ‍্যামসুন্দর ও শ্রীরাধারাণী বিরাজিত ভেবে থাকেন।নায়িকাতে দেহ ও মন আরোপ করে সাধন করলে অচিরাৎ প্রেমরসসাধনে সিদ্ধিলাভ হয়।সহজিয়ারা নিজেদেরকে রসমার্গের পথিক রসিক ভক্ত বলে থাকেন।তাঁদের মতে, বিল্বমঙ্গল,বিদ‍্যাপতি, চন্ডীদাস, জয়দেব গোস্বামী,রায় রামানন্দ এই পাঁচজন রসিক ভক্ত সহজিয়াধর্ম সাধন করেছিলেন।(শ্রীরামকৃষ্ণদেব--(উদ্বোধন পৃষ্ঠা ৩১২)।*
*🍀অনেকের অভিমত যে, বৌদ্ধ-পালরাজাদের আমলে তান্ত্রিক অনুষ্ঠানের পূর্ণ-প্রাবল‍্যে দেখা দিয়েছিল।বাংলার ইতিহাস থেকে একথাও আবার সুস্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, অষ্টম শতকের শেষভাগে ধর্মপাল (প্রথম) গৌড়ের মসনদে যখন আরোহণ করেন তখন ধর্মাচারের মধ্যে অনেক-কিছু ময়লা তিনি দূর করেছিলেন নতূন পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টি করে।খ্রীষ্টীয় ১০১৫ থেকে ১০৬০ শতকে বাংলার সমাজে ধর্মপাল(দ্বিতীয়), মহীপাল (প্রথম) ও নয়পাল প্রভৃতি পালরাজগণের যখন প্রভাব বিস্তৃত,তখন ধর্মের পরিবেশ বেশ শান্ত ও পবিত্র ছিল। শ্রীজ্ঞান-দীপঙ্কর বা অতিশ-দীপঙ্কর, রামাই পন্ডিত,হাড়ি-পা বা হাঁড়িসিদ্ধ, কমলাকুশিল, নরেন্দ্র-শ্রীজ্ঞান,দান-রক্ষিত প্রভৃতি সাধকের সংস্পর্শে বৌদ্ধতন্ত্রাচার তখন সুনিয়ন্ত্রিত। বৌদ্ধতন্ত্রে প্রবৃত্তিমার্গের ধারা তখন বতর্মান থাকলেও নিবৃত্তির প্রসন্নতা ধীরে ধীরে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।নেপালের বৌদ্ধগণ বজ্রযানমতাবলম্বী ছিলেন।তিব্বতে বৌদ্ধ-তান্ত্রিকাচারেরই বিশেষ প্রভাব ছিল। বাংলাদেশেও তান্ত্রিক বামাচারের পাশাপাশি সিদ্ধান্তাচার,কুলাচার ও দিব‍্যাচার ও অন‍্যান‍্য তন্ত্রাচারের প্রবর্তন হয়।আচারবিলাসী তন্ত্রশাস্ত্র ছাড়া বেদান্তের সমপর্যায়ভুক্ত "মহানির্বাণতন্ত্র" প্রভৃতি গ্রন্থও সে সময়ে লিখিত ও প্রচারিত হয়। ক্রমে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কিছুটা স্তিমিত হয়ে ব্রাহ্মণ‍্যধর্মের পুনরভ‍্যুদ্বয় দেখা দিলেও বৌদ্ধতন্ত্রের সাধন ও চিন্তাধারা হিন্দুসমাজের শিরায় শিরায় অনুপ্রবিষ্ট হয়েছিল।ফলে নতূন রূপ ও নাম নিয়ে বৈষ্ণব-সহজিয়া,বাউল, গুরুসত‍্য,কর্তাভজা তথা মানুষরূপে গুরুপূজা কায় বা কায়সাধন প্রভৃতি সাধনতত্ত্বের উদ্ভব সম্ভব হয়েছিল একথা আগেই বলেছি।খ্রীষ্টীয় দশম-একাদশ শতকের চর্যা ও বজ্রগীতির রচয়িতা সহজযানী ও বজ্রযানী বৌদ্ধসাধকরাও ছিলেন ঐ রহস‍্যসাধনারই পথচারী এবং বাংলার পরবর্তী বৈষ্ণব-সহজিয়া সাধনচারীরাও ঐ বজ্রযানী ও সহজযানী বৌদ্ধসাধকদের কতকাংশে অথবা বহু অংশে অনুসারী ছিলেন।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds